আমরা যখন আমেরিকার লাস ভেগাসের কথা চিন্তা করি, তখন আমাদের চোখে ভেসে ওঠে দামী ক্যাসিনো, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা আর সারারাত জেগে থাকা এক আনন্দময় শহর। পর্যটকদের কাছে এটি স্বপ্নের শহর। কিন্তু এই বিলাসবহুল হোটেলের কয়েক তলা নিচেই লুকিয়ে আছে এক চরম বাস্তবতা, যা শুনলে যেকোনো মানুষের বুক শিউরে উঠবে।
মাটির নিচে প্রায় ২০০ মাইল দীর্ঘ এক অন্ধকার সুড়ঙ্গ পথ, আর সেখানে বাস করে কয়েক হাজার মানুষ। যাদের পৃথিবীটা কেবল অন্ধকার, ময়লা আর প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ভয়ে ঘেরা। এদের বলা হয় ‘মোল পিপল’ (Mole People)।
কেন এই সুড়ঙ্গ পথ?
লাস ভেগাস মূলত মরুভূমি এলাকা। সেখানে যখন হঠাৎ বৃষ্টি হয়, তখন পাহাড় থেকে প্রচণ্ড বেগে পানি নেমে আসে। সেই বন্যার পানি দ্রুত শহর থেকে বের করে দেওয়ার জন্য মাটির নিচে বিশাল এক ড্রেনেজ বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই পানি চলাচলের পথই হয়ে উঠেছে হাজার হাজার মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল।
কেমন তাদের জীবন?
এই সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরে সূর্যের কোনো আলো পৌঁছায় না। সেখানে সব সময় একটা ভ্যাপসা গরম আর নর্দমার পানির তীব্র দুর্গন্ধ থাকে। সুড়ঙ্গের বাসিন্দারা আবর্জনার স্তূপ থেকে কুড়িয়ে আনা জিনিস দিয়ে ছোট ছোট ঘর বানিয়েছেন। কেউ হয়তো ভাঙা একটি তোশক পেতেছেন, কেউ আবার প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে টেবিল বানিয়েছেন।
সেখানে বসবাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অন্ধকার। টর্চলাইট বা মোমবাতি ছাড়া সেখানে এক পা-ও চলা সম্ভব নয়। নেই কোনো বিদ্যুৎ, নেই কোনো টয়লেট বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। এই মানবেতর পরিবেশে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন নারী, পুরুষ এমনকি বৃদ্ধরা।
মুহূর্তের মধ্যেই মৃত্যুফাঁদ
সুড়ঙ্গের জীবনে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হলো বৃষ্টি। মরুভূমিতে বৃষ্টি খুব কম হলেও যখন হয়, তখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই সুড়ঙ্গগুলো পানিতে ভরে যায়। পানির স্রোত এতই তীব্র হয় যে মানুষের আসবাবপত্র, বিছানা এমনকি মানুষ পর্যন্ত ভেসে যায়। অনেক সময় মানুষ ঘুমানোর অবস্থায় থাকে এবং পালানোর সুযোগও পায় না। প্রতি বছরই অনেক ‘মোল পিপল’ এভাবে সুড়ঙ্গের ভেতর ডুবে মারা যান।
কেন তারা এখানে থাকেন?
অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, কেন তারা এই নরকবাস বেছে নিলেন? এর পেছনে রয়েছে কিছু করুণ কারণ:
১. চরম দারিদ্র্য: আমেরিকায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি। যারা কাজ হারিয়েছেন বা ঘর ভাড়া দিতে পারছেন না, তাদের জন্য শেষ জায়গা হলো এই মাটির নিচে।
২. পরিচয়হীনতা: অনেকের কাছে কোনো আইডি কার্ড বা প্রয়োজনীয় কাগজ নেই। ফলে তারা মূল সমাজে কোনো কাজ বা সরকারি সাহায্য পান না।
৩. নেশা ও মানসিক সমস্যা: অনেকে ড্রাগসের নেশায় পড়ে বা মানসিক ট্রমার কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।
একবার এই সুড়ঙ্গের জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গেলে বা বাইরের পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, পুনরায় মূল জীবনে ফিরে আসা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মানবিক দিক
লাস ভেগাসের এই সুড়ঙ্গগুলোতে যারা থাকেন, তারা একে অপরের খবর রাখেন। অভাবের মাঝেও তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত সমাজ গড়ে উঠেছে। কেউ হয়তো সুড়ঙ্গের দেয়ালে ছবি এঁকে নিজের মনের কষ্ট প্রকাশ করেন, কেউ আবার কুড়িয়ে আনা বিড়াল বা কুকুরকে সঙ্গী করে দিন কাটান।
তবে এই অন্ধকার জগতের আড়ালে মাদক এবং গ্যাংদের সহিংসতাও নিত্যদিনের ঘটনা। তাই প্রতিটি মুহূর্ত কাটে এক অজানা আতঙ্কে।
শেষ কথা
লাস ভেগাসের ওপরতলার রঙিন আলো আর নিচতলার এই ঘুটঘুটে অন্ধকার আমাদের জীবনের এক চরম বৈষম্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেখানে লাখ লাখ ডলার বাজি ধরা হয় ক্যাসিনোতে, ঠিক তার নিচেই হয়তো কেউ একবেলা খাবারের অভাবে ধুঁকছেন। মাটির নিচের এই মানুষগুলো আমাদের মতোই রক্ত-মাংসের মানুষ, কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে তাদের নাম হয়ে গেছে ‘মোল পিপল’।

tadalafil dosage rates
tadalafil dosage rates
doxycycline hyclate humans
doxycycline hyclate humans
vardenafil half life
vardenafil half life
vidalista 20 uk
vidalista 20 uk
trimox
trimox
doxycycline 100 mg for sinus infection
doxycycline 100 mg for sinus infection
finasteride for
finasteride for