বাংলাদেশের অনেকেই এখন মাশরুম খেতে ভালবাসেন। কিন্তু কতজন জানেন মাশরুমের সম্পূর্ণ গুণাগুণ, মাশরুম চাষ পদ্ধতি ও উপকারিতা? এই লেখায় আমরা জানাব মাশরুমের বিভিন্ন ধরন, তার চাষের পদ্ধতি, উপকারিতা ও মাশরুম বিক্রির বিষয়ে তথ্য। এই লেখা থেকে শেখে নিন মাশরুম কি, তার উপকারিতা কত এবং আপনিও চাইলে মাশরুম চাষ করে অর্থ সঞ্চয় করতে পারেন।
মাশরুম কি?
মাশরুম হল একধরনের পরজীবী সমাঙ্গদেহী জীব। এটি ক্লোরোফিল বা সবুজ কণা না থাকায় নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। তাই মাশরুম অন্য পদার্থের উপর নির্ভর করে বেঁচে। বাংলাদেশে প্রধানত খেতে ব্যবহৃত মাশরুমের ধরন হচ্ছে- বোতাম, ঝিনুক, পোরসিনি এবং চ্যান্টেরেল।
মাশরুমের পুষ্টি গুণ
মাশরুমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ১০০গ্রাম মাশরুমে ২৫-৩৫গ্রাম প্রোটিন, ৫৭-৬০গ্রাম ভিটামিনসহ নানা পুষ্টিকর খনিজ পাওয়া যায়। এছাড়া মাশরুম সাদা খাবার হিসেবে অন্য খাবারের চেয়ে কম ক্যালোরি খায়। এজন্য মাশরুম খাওয়া অনেকের জন্য অনুকূল। বিশেষ করে ডায়েটের জন্য মাশরুম অত্যন্ত উপকারি।
মাশরুম এর উপকারিতা
– হৃদরোগ ঠেকানো: মাশরুমে ক্যালসিয়াম, পোটাশিয়াম পাওয়া যায় যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
– রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: মাশরুমে পাওয়া পোটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
– ক্যান্সার প্রতিরোধ: মাশরুমের কেঁদুর প্রোটিন ক্যান্সারের কোষ গঠনকে রোধ করে। বিশেষ করে স্তন, প্রোস্টেট ও কর্মস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধে উপকারি।
– ডায়াবেটিস নিযমন: মাশরুমের অল্প গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনুকূল।
– ওজন কমানো: মাশরুমে ক্যালোরি কম থাকায় তা খেলে ওজন কমানো সহজ।
– হাড়ের ক্ষয় রোধ: মাশরুমে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম রয়েছে যা হাড়ের ক্ষয় রোধ করে।
– ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা: মাশরুমের অ্যান্টিঅকসিডেন্ট গুণ ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
মাশরুমের ধরন এবং তার গুণাগুণ
বোতাম – এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং অ্যান্টিঅকসিডেন্ট গুণে সমৃদ্ধ। অস্ত্রোসার্কোমা এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে উপকারি।
ঝিনুক – এটি পৌষ্টিক গুণে অন্যতম। রক্তচাপ, কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
পোরসিনি – এটিও পুষ্টিকর এবং রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়। হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় উপকারী।
চ্যান্টেরেল – এটি অ্যান্টিঅকসিডেন্টে সমৃদ্ধ ও ক্যান্সার প্রতিরোধে উপকারী।
মাশরুম চাষ পদ্ধতি
আলাদা আলাদা ধরনের মাশরুম চাষ করার জন্য আলাদা আলাদা তাপমাত্রা প্রয়োজন। বোতাম ও ঝিনুক মাশরুমের জন্য তাপমাত্রা ২০-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অনুকূল। পরবর্তীতে সাবুদ থেকে উৎপাদিত মাশরুমকে বের করে বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।
প্রকারভেদ ও মাশরুম বীজের দাম
বোতাম – এককিলো বোতামের দাম হয় বর্তমানে প্রায় ২০০-৩০০ টাকা।
ঝিনুক – এককিলো ঝিনুকের দাম হয় ১৫০-২০০ টাকা।
পোরসিনি – এককিলো পোরসিনির দাম হয় ২৫০-৩০০ টাকা।
চ্যান্টেরেল – এককিলো চ্যান্টেরেলের দাম হয় ৩০০-৪০০ টাকা।
মাশরুম কোথায় বিক্রি করা যায়
বিক্রির জন্য মাশরুম সবই মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরের বাজারের মধ্যে বিক্রি করা যায়। তবে অন্যান্য এলাকায়ও মাশরুম বিক্রি করা হয়।
সুতরাং মাশরুম চাষ করে অর্থ সঞ্চয় করা যায়। এজন্য মাশরুম প্রজনক বীজ কিনে নিজের বাড়িতে মাশরুম চাষ করা যায়।
মাশরুমের অনেক পুষ্টি ও চিকিৎসকীয় গুণ রয়েছে। তাছাড়া এটি চাষ করে অর্থ উৎপন্ন করা যায়। আপনিও মাশরুম চাষ করে আয় করুন এবং স্বাস্থ্য রক্ষা করুন।



