সাইন আপ করুন সাইন আপ করুন

সাইন আপ করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে


আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

লগ ইন করুন লগ ইন করুন

লগিন করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

কোন একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন

রিসেট পাসওয়ার্ড

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।

আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

দুঃক্ষিত, প্রশ্ন করার অনুমতি আপনার নেই, প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে.

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

দুঃক্ষিত, ব্লগ লেখার অনুমতি আপনার নেই। লেখক হতে হলে addabuzzauthor@gmail.com ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে অনুমতি নিন। (Sorry, you do not have permission to add post. Please send a request mail to addabuzzauthor@gmail.com for giving permission.)

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?

সাইন ইনসাইন আপ

AddaBuzz.net

AddaBuzz.net Logo AddaBuzz.net Logo

AddaBuzz.net Navigation

  • হোমপেজ
  • ব্লগ
  • ইউজার
  • যোগাযোগ
সার্চ করুন
একটি প্রশ্ন করুন

Mobile menu

Close
একটি প্রশ্ন করুন
  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

মনস্তাত্ত্বিক

Psychological questions

শেয়ার করুন
  • Facebook
5 ফলোয়ার
89 উত্তর
273 প্রশ্ন
হোমপেজ/মনস্তাত্ত্বিক/Page 2
অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • সাম্প্রতিক প্রশ্ন
  • সর্বাধিক উত্তর
  • উত্তর
  • অনুত্তরিত
  • সর্বাধিক দেখা
  • সর্বাধিক পছন্দকৃত
  • এলোমেলো

AddaBuzz.net Latest প্রশ্ন

ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 1 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

শুনলে রংহীন কিন্তু দেখলে প্রচুর রং, কী সেটা?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 57 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

কুকুর কিভাবে মানুষের বন্ধু হলো?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    ক্যাপ্টেন নামের একটি জার্মান শেফার্ড কুকুর টানা ১১ বছর ধরে রাত হলেই মনিব মিগুয়েল গুজমানের কবরের পাশে শুয়ে থাকতো। কুকুরটি প্রায়ই তার মনিবের কবরের পাশে চুপচাপ বিষণ্ণ ভঙ্গিতে বসে থাকতো। প্রভুভক্তির দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কুকুরটিকে কখনো প্রয়াত প্রভুর সমাধি থেকে আলাদা করা যেতো না। মানুষ আর কুকুরের এই গভীরবিস্তারিত পড়ুন

    ক্যাপ্টেন নামের একটি জার্মান শেফার্ড কুকুর টানা ১১ বছর ধরে রাত হলেই মনিব মিগুয়েল গুজমানের কবরের পাশে শুয়ে থাকতো। কুকুরটি প্রায়ই তার মনিবের কবরের পাশে চুপচাপ বিষণ্ণ ভঙ্গিতে বসে থাকতো। প্রভুভক্তির দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কুকুরটিকে কখনো প্রয়াত প্রভুর সমাধি থেকে আলাদা করা যেতো না। মানুষ আর কুকুরের এই গভীর অনুভূতির সম্পর্কটা প্রভু-ভৃত্য বা মনিব-মান্য দিয়ে বিশেষায়িত করলে একটু কমই হয়ে যাবে।

    এমন মানবিক একটি সম্পর্ক কেবল দুই বন্ধুর মাঝেই থাকতে পারে। কিন্তু কুকুরের মতো একটি প্রাণী কীভাবে মানুষের এত কাছাকাছি এলো? কীভাবে তারা মনিবের জন্য প্রাণ দিতে শিখলো? কেন তারা এত প্রভুভক্ত? কত বছরের পরিক্রমায় মানুষের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে? কে সর্বপ্রথম কুকুরকে পোষ মানিয়েছিল?

    মিগুয়েল গুজম্যানের কবরের পাশে তার কুকুর ক্যাপ্টেন
    কুকুরকে পোষ মানানোর ইতিহাস জানতে হলে, প্রাচীনকাল থেকে মানুষ এবং কুকুরের মধ্যকার যে পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে সেই গল্প আগে জানতে হবে। প্রথমদিকে মানুষের শিকার কাজে সঙ্গ দিতে, জিনিসপত্র দেখাশোনার কাজে, পূর্বাভাস ও সংকেত প্রাপ্তির জন্য, খাদ্যের উৎস খোজার কাজে কুকুরের সহযোগিতার সূত্র ধরে মানুষের সাথে এই প্রাণীটির সখ্যতার শুরু হয়। দিনে দিনে তা ভালবাসা এবং বন্ধুত্বে রূপ নিয়েছে। কিন্তু ঠিক কবে থেকে এই সখ্যতা বা বন্ধুত্বের শুরু তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে।

    কুকুরের বিবর্তন পরীক্ষা করার জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ (mtDNA) ব্যবহার করা হয়েছে। এই গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আজ থেকে প্রায় এক লক্ষ বছর আগে নেকড়ে এবং কুকুর দুটি আলাদা প্রজাতিতে বিভক্ত হয়েছিল। এই গবেষণার আলোকে আরো ধারণা করা হচ্ছে, কুকুরকে পোষ মানানোর প্রথা সর্বপ্রথম চালু হয়েছিল আজ থেকে ৪০ হাজার বছর আগে। কিন্তু গবেষকরা এই ফলাফলের সাথে একমত হতে পারছেন না। কিছু পরীক্ষার বিশ্লেষণ মতে, কুকুরকে পোষ মানানোর সর্বপ্রথম প্রচেষ্টাটি গৃহীত হয়েছিল পূর্ব এশিয়ায়। আবার অনেক বিশ্লেষকের মতে, কুকুরকে সবার আগে পোষ মানানো হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যে এবং পরবর্তীতে ইউরোপে কুকুরকে পোষ মানানোর প্রথা চালু হয়েছিল।
    roman dog graffiti
    প্রাচীন রোমান গ্রাফিতিতে কুকুর

    দুটি স্থানে পোষা কুকুরের উৎপত্তি?

    ২০১৬ সালে জীব প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী গ্রেগর লারসনের নেতৃত্বে একটি গবেষণা দল এমটিডিএনএ গবেষণা প্রকাশ করেছিল। এই গবেষণাপত্রে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, কুকুরকে পোষ মানানোর আদিম রীতির উৎপত্তি একটি স্থানে না। বরং দুটি স্থানে একইসাথে কুকুরকে পোষ মানানোর চেষ্টা চলছিল। একটি ছিল পূর্ব ইউরেশিয়া অঞ্চল, আরেকটি পশ্চিম ইউরেশিয়া অঞ্চল।

    প্রকাশিত গবেষণার বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, এশিয়া অঞ্চলের কুকুরগুলো এশিয়ার নেকড়েদের বংশধর। প্রায় ১২,০০০ বছর আগে এই নেকড়েদেরকে পোষ মানানোর মাধ্যমে এশীয় কুকুরদের আগমন হয়। অন্যদিকে ইউরোপের কুকুরদের আদি বংশধর হচ্ছে পুরাতন প্রস্তর যুগের ইউরোপিয়ান নেকড়ে, যাদেরকে ১৫ হাজার বছর পূর্বে মানুষ বশ্যতা স্বীকার করানোর চেষ্টা করেছিল এবং সময়ের পরিক্রমায় সেগুলো আজকের ইউরোপিয়ান কুকুরে পরিণত হয়েছে। এরপর এশিয়ান কুকুরগুলো মানুষের মাধ্যমেই ইউরোপে পৌঁছেছে এবং ইউরোপিয়ান প্রস্তরযুগের কুকুরকে ধীরে ধীরে প্রতিস্থাপিত করেছে।

    এবার তাহলে ব্যাখ্যা করা যাক, আগের ডিএনএ পরীক্ষাগুলো কেন বলেছে যে নেকড়ে থেকে কুকুরের বিবর্তন এবং কুকুর পালনের ঘটনা সর্বপ্রথম শুধু একটি স্থানেই ঘটেছে এবং লারসনের গবেষণা কেন বলছে এই প্রক্রিয়া দুটি স্থানে দু’ভাবে শুরু হয়েছিল! লারসনের মতবাদ অনুসারে, প্রাচীন প্রস্তরযুগে দুই ধরনের কুকুরের অস্তিত্ব ছিল। এদের মধ্যে ইউরোপিয়ান প্রাচীন প্রস্তরযুগের কুকুরগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। কারণ সেগুলো এশিয়ান কুকুর দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে গিয়েছিল। আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। যেমন- প্রাচীন আমেরিকান কুকুরের তথ্য কোনো গবেষণায় পাওয়া যায় না কেন? গবেষক ফ্রানতস এবং অন্যান্যরা বলেন, কুকুরের বিবর্তনের উৎস হিসেবে যে দুটি প্রজাতিকে বলা হচ্ছে তাদের আদি বংশধর একই প্রজাতির নেকড়ে এবং এই দুটো ধীরে ধীরে কমে এসেছে এবং এখন অনেকটাই বিলুপ্ত।
    Larson
    কুকুরের এমটিডিএনএ গবেষক গ্রেগর লারসন
    কুকুরের বিবর্তন নিয়ে গবেষণায় অবতীর্ণ অন্যান্য পণ্ডিতরা তদন্ত করে দেখেছেন, এশিয়া অঞ্চলের কিছু কুকুরের অভিবাসন বা মাইগ্রেশনের কিছু প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু সেগুলো ইউরোপের কুকুরকে পুরোপুরিভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারেনি। তাই তারা কুকুরের আদি জন্মস্থান হিসেবে ইউরোপকে অগ্রাহ্যও করে পারেননি।

    কুকুর পোষার গোড়াপত্তন

    স্বীকৃত তথ্য এবং গবেষণালব্ধ উপাত্ত অনুসারে, পোষা কুকুরের সন্ধান সর্বপ্রথম পাওয়া গিয়েছিল ১৪ হাজার বছরের পুরনো জার্মানির বন-ওবারকাসেলের একটি কবরস্থানে, যেখানে মানুষ এবং কুকুরকে কবর দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। চীনে সর্বপ্রথম পোষা কুকুরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ৭০০০-৫৮০০ খ্রিস্টপূর্বে নব্য প্রস্তরযুগে হেনান প্রদেশে। তবে মানুষ এবং কুকুরের সহাবস্থানের সর্বপ্রথম সন্ধান পাওয়া যায় ইউরোপের প্রস্তরযুগীয় উত্তরাঞ্চলে। সেই কুকুরগুলো যে অবধারিতভাবে পোষ্য কুকুর ছিল এমনটি না-ও হতে পারে। এসব অঞ্চলের মধ্যে বেলজিয়ামের গোয়েত গুহা, ফ্রান্সের চাউভেত গুহা, চেক-রিপাবলিকের প্রেডমস্তি অন্যতম।

    ইউরোপে মধ্য প্রস্তরযুগের কিছু কবরস্থানে, যেমন- সুইডেনের স্কটহোমে কুকুরের সমাধির (খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫০-৩৭০০) সন্ধান পাওয়া যায়। অর্থাৎ তখন থেকেই শিকারীদের সাথে কুকুরের বন্ধুত্ব রয়েছে।
    dog fossil
    মানুষের পাশে কবরে সমাধিস্থ কুকুরের ফসিল
    দক্ষিণ আমেরিকার উতাহ অঞ্চলের ডেঞ্জার গুহায় ১১ হাজার বছর আগের একটি সমাধিতে একটি কুকুরের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, কুকুরের এই প্রজাতিটিই এশিয়ান কুকুরদের পূর্বসূরি। নেকড়ের সাথে চলমান সংকরায়নের ফলে কুকুরের একটি চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য আমেরিকান কালো নেকড়ের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল। কালো পশম কুকুরের বৈশিষ্ট্য, নেকড়ের নয়।

    আদিকালে কুকুরেরও ব্যক্তিত্ব ছিল!

    সাইবেরিয়ার সিস বাইকল অঞ্চলে মধ্য প্রস্তরযুগ এবং নব্য প্রস্তরযুগের কিতোই সময়ের কিছু কুকুরের কবর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কুকুরকে সেই সময়ে মানুষের মতো ব্যক্তিত্ব মর্যাদা (person-hood) দেয়া হতো এবং কুকুরের সাথে মানুষের মতোই আচরণ করা হতো। শামানাকা অঞ্চলের একটি কবরস্থানে মধ্যবয়স্ক একটি কুকুরের সমাধি পাওয়া গিয়েছিল। কুকুরটি মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছিল, আঘাত থেকে সেরেও উঠেছিল সম্ভবত। প্রায় ৬,২০০ বছরের পুরনো সেই সমাধিক্ষেত্রে কুকুরটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। একই উপায়ে সমাধিক্ষেত্রটিতে মানুষকেও সমাধিস্থ করা হতো।

    লোকোমোটিভ রাইসোভেতের প্রায় ৭,৩০০ বছরের পুরোনো সমাধিক্ষেত্রে একটি নেকড়ের কবর আছে। এই নেকড়েটি ছিল পুরুষ নেকড়ে। নেকড়েটির রেডিও-কার্বন পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এর খাদ্যাভ্যাসে হরিণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নেকড়েটির দাঁতে কোনো দাগ বা ক্ষত ছিল না। ফলে নেকড়েটি তৎকালীন মানব জনগোষ্ঠী ও কুকুর সম্প্রদায়ের অংশ ছিল কি না তার সরাসরি কোনো প্রমাণ নেই। তবে নেকড়েটিকেও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।

    রয়্যাল বেলজিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ন্যাচারাল সায়েন্সে একটু প্রাচীন কুকুরের খুলি
    এই কবরগুলো ব্যতিক্রম হলেও তেমন একটা বিরল নয়। এরকম আরো কিছু কবর রয়েছে। বৈকাল হ্রদ অঞ্চলের কিছু ঢিবিতে কুকুর এবং নেকড়ের হাড়ের দেহাবশেষ দেখা যায়। ধারণা করা হয়, সেখানকার মৎস্য শিকারিরা তাদের সাথে কুকুর রাখতেন। প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী রবার্ট লুসাই এবং তার সহকারীরা এই গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন, তারা ধারণা করেন, এইসব কবর এবং প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্ন প্রমাণ করে যে, অন্তত এইসব কুকুরগুলোকে তখনকার সময়ে মানুষের মর্যাদা দিয়েছিল।

    আধুনিক প্রজাতি এবং প্রাচীন প্রজাতির তুলনা

    ইউরোপিয়ান প্রস্তরযুগের কিছু অঞ্চলে কুকুরে প্রজাতিগত বৈচিত্র্যর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ১৫,৫০০-১১,০০০ বছরের পুরনো মধ্যম আকারের কুকুরের অস্তিত্ব অদূর প্রাচ্যের নাটুফিয়ান অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছিল। ১৭,০০০ থেকে ১৩,০০০ বছরের পুরনো মধ্যম বা বড় আকারের কিছু কুকুরের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল জার্মানি, রাশিয়া এবং ইউক্রেনে। ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডের কিছু জায়গায় ১৫,০০০ থেকে ১২,৩০০ বছরের পুরনো ছোট আকৃতির কিছু কুকুরের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।

    এসএনপি (সিংগেল নিউক্লিওটাইড পলিমরফিজম) নামক একধরনের ডিএনএ গবেষণা ২০১২ সালে কুকুরের প্রজাতি এবং বিবর্তন সম্পর্কে একটি চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছিল। এই গবেষণায় বলা হয়েছিল, প্রাচীনকালের বিভিন্ন আকৃতির কুকুরের অস্তিত্বের যে প্রমাণ পাওয়া যায় তার সাথে আধুনিক প্রজাতির কুকুরের কোনো সম্পর্কই নেই! আধুনিক কুকুরের যেসব প্রজাতি দেখা যায় তার মধ্যে সবচাইতে পুরনো প্রজাতিটি খুব বেশি হলে ৫০০ বছরের পুরনো এবং কম করে হলেও ১৫০ বছরের পুরনো প্রজাতি।

    অক্সফোর্ড মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে বিভিন্ন আকার আকৃতির কুকুরের হাড় এবং দাঁত

    আধুনিক কুকুরের বংশগতি তত্ত্ব

    বর্তমানে আমরা কুকুরের যেসব প্রজাতি দেখতে পাই তাদের বেশির ভাগেরই বিকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এ নিয়ে অবশ্য গবেষকদের মধ্যে তেমন একটা দ্বিমত নেই। তবে কুকুরের প্রজাতিতে যেসব বিশেষ ভিন্নতা দেখা যায় সেটি তাদের আদি প্রজাতির রূপ হিসেবেই ধরা হয়ে থাকে। কুকুরের প্রজাতি আকার এবং আকৃতিতে বিভিন্ন সাইজের এবং ওজনের হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির আবার মুখাবয়ব, মাথার গড়ন, ঠোঁট আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। দক্ষতার দিক থেকেও একেক প্রজাতির কুকুর একেক রকমের হয়ে থাকে। কোনো কোনো প্রজাতি শিকার শনাক্ত করতে পারদর্শী, কোনোটি ঘ্রাণশক্তিতে দক্ষ, কোনোটি আবার সহকারী হিসেবে দক্ষ।

    চারিত্রিক এবং গঠনগত দিক দিয়ে নেকড়ে থেকে আগত আধুনিক কুকুরের প্রকারভেদ
    কুকুরের প্রজাতিতে এরকম ভিন্নতা থাকার একটি কারণ হতে পারে প্রাচীনকাল থেকে শিকারী জনগোষ্ঠীর সাথে বসবাস এবং একেক সময়ে একেক স্থানে স্থানান্তরিত হয়ে যাওয়া। তারপর মানুষ এবং কুকুর একইসাথে ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে বিকশিত হতে থাকে। প্রাচীনকালে অল্প সংখ্যক কুকুরের প্রজাতি বিকশিত হলেও, সভ্যতা যত এগিয়েছে এবং মানুষের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়েছে, সেই সাথে বেড়েছে কুকুরের প্রজাতিও।

    কারণ মানুষ যখনই এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়েছে, এক কাজ থেকে আরেক কাজে নিজেদের নিয়োগ করেছে, তখনই এই বন্ধুপ্রতীম প্রাণীটিকে তারা সাথে রেখেছে। ফলে কুকুরের প্রজাতির বিকাশও বেড়েছে আগের চাইতে বেশি হারে। পোষা কুকুরের বিকাশ কবে কোথায় কীভাবে শুরু হয়েছিল তা নিয়ে গবেষকদের নানা রকমের মতামত থাকলেও কুকুর যে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের বন্ধু হিসেবে মানুষকে ভালবেসেছে এবং ভালবাসা পেয়েছে তা নিয়ে কারো দ্বিমত থাকবে না।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 56 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

নীল রং কেন আমাদের ভীষণ প্রিয় ?

  1. maya
    maya নতুন
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আমার কাছে মনেহয় দিনের বেশিরভাগ সময় আমরা আকাশকে নীল দেখি। আবার আমাদের সমুদ্র ভালোলাগে আর সমুদ্রের পানি নীল। সকল রংএর মধ্যে নীল রং দেখতে দেখতে আমরা বড় হই। এজন্য বেশিরভাগ মানুষের নীল রঙ পছন্দের রং।

    আমার কাছে মনেহয় দিনের বেশিরভাগ সময় আমরা আকাশকে নীল দেখি। আবার আমাদের সমুদ্র ভালোলাগে আর সমুদ্রের পানি নীল। সকল রংএর মধ্যে নীল রং দেখতে দেখতে আমরা বড় হই। এজন্য বেশিরভাগ মানুষের নীল রঙ পছন্দের রং।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 1
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 56 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

ভুল ভুলাইয়া’ নামটির অর্থ কি? কোত্থেকেই বা আসলো এই নাম?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    ভুল ভুলাইয়া নামটা শুনে অনেকের মানসপটেই হয়তো ভেসে উঠেছে অক্ষয় কুমারের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘ভুল ভুলাইয়া’ সিনেমাটির কথা। সিনেমাটির নামকরণ করা হয়েছিল ভারতের লক্ষ্মৌ রাজ্যের বড় ইমামবাড়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি গোলকধাঁধা ভুল ভুলাইয়ার নাম অনুসারে। কাবাব এবং নবাবদের শহর লক্ষ্ণৌয়ের এই গোলকধাঁধাটি ঐতিহাসিকবিস্তারিত পড়ুন

    ভুল ভুলাইয়া নামটা শুনে অনেকের মানসপটেই হয়তো ভেসে উঠেছে অক্ষয় কুমারের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘ভুল ভুলাইয়া’ সিনেমাটির কথা। সিনেমাটির নামকরণ করা হয়েছিল ভারতের লক্ষ্মৌ রাজ্যের বড় ইমামবাড়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি গোলকধাঁধা ভুল ভুলাইয়ার নাম অনুসারে। কাবাব এবং নবাবদের শহর লক্ষ্ণৌয়ের এই গোলকধাঁধাটি ঐতিহাসিক দিক থেকে বেশ বিখ্যাত।

    প্রায় হাজারখানি অলিগলি দিয়ে ঘেরা এই গোলকধাঁধা বিভিন্ন দেশের অভিযাত্রীদের পাশাপাশি স্থপতিদেরও আকৃষ্ট করে আসছে প্রায় দু’শ বছর ধরে। অযোধ্যার চতুর্থ নবাব আসাফ-উদ্-দৌলা ১৭৮৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় সাধারণ মানুষের থাকার একটু জায়গা করে দেয়ার জন্য বড় ইমামবাড়া তৈরি করেন। বাড়িটির কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই তা লক্ষ্ণৌয়ের গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়ে আছে। দুর্ভিক্ষ পরবর্তী সময়ে নবাবরা তাদের বিবিদের সাথে লুকোচুরি খেলতে ইমামবাড়ার অভ্যন্তরে তৈরি করেন এই গোলকধাঁধার জটিল রাজ্য। কত শত মানুষ যে ঘুরতে এসে এই গোলকধাঁধায় পথ হারায় তা গুনে শেষ করা যাবে না! একবার এক তরুণ মাতাল অবস্থায় বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে একা ঐ গোলকধাঁধায় প্রবেশ করে পথ হারিয়ে ফেলে। প্রায় দু’দিন পর ভেতরের দিকের এক গলিতে খুঁজে পাওয়া যায় তার লাশ। ইমামবাড়ার অভ্যন্তরে তাই গাইড নিয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

    বড় ইমামবাড়া

    অনেকেই প্রশ্ন করেন ‘ভুল ভুলাইয়া’ নামটির অর্থ কি? কোত্থেকেই বা আসলো এই নাম? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া খুব একটা সহজ কাজ না। মজার ব্যাপার হলো অন্য কোনো ভাষায় এই নামটির অনুবাদ করলেও তা ঠিক যথার্থ হয় না। বাংলা ভাষায় ‘ভুল ভুলাইয়া’র অনুবাদ করার চেষ্টা করুন তো? ভুলিয়ে দেয়া বা এ ধরনের কোনো আক্ষরিক অনুবাদই এক্ষেত্রে যুতসই হবে না। ‘ভুল ভুলাইয়া’ বলতে আসলে এমন একটি জায়গার কথা বলা হয় যেখানে সহজেই যে কেউ পথ হারিয়ে ফেলবে, দিক খুঁজে পাবে না আর পরিচিত দুনিয়ায় ফেরার পথও ভুলে যাবে।

    শিল্পীর তুলিতে নবাব আসাফ-উদ্-দৌলা

    ‘ভুল ভুলাইয়া’ সম্পর্কে জানতে হলে এর নির্মাতাদের কথা অর্থাৎ নবাবদের সম্পর্কে জানাটা খুব জরুরি। আমাদের অনেকের মধ্যেই একটা ভুল ধারণা রয়েছে। আমরা নবাব আর রাজাদের সমগোত্রীয় ভেবে ভুল করি। অনেকে বলেন মোঘল রাজারা যখন মনের সুখে রাজ্য শাসন করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই দিল্লীর আশেপাশে থেকে রাজাদের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে সুখে-শান্তিতে রাজত্ব করছিলেন নবাবরা। কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। ‘নবাব’ শব্দটি এসেছে ফার্সি শব্দ ‘নাইব’ থেকে, উৎপত্তিগত দিক থেকে যার অর্থ ‘সহকারী’। ‘নবাব’ ছিল একটি উপাধি, উত্তর ভারতের মুঘল রাজারা তাদের সহকারীদের কাজে খুশি হয়ে তাদেরকে এই উপাধিতে ভূষিত করতেন। এই উপাধিটি শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য ছিল, নারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো ‘বেগম’ খেতাবটি। বেগমদের মধ্যে তখন সবচেয়ে নামকরা ছিলেন ‘বেগম নাজরাত মহল’।

    ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর নবাব এবং তাদের ক্ষমতা উভয়েই বিলুপ্ত হয়ে যায়, শুধু রয়ে যায় তাদের কেতাবি খেতাবটুকু। পরবর্তীতে এটি পারিবারিক পদবীতেও পরিণত হয়। এখনো পর্যন্ত লক্ষ্ণৌতে গেলে প্রকৃত নবাবদের দেখা পাওয়া যায়, যদিও তাদের ক্ষমতা আর অর্থবিত্ত অনেকটাই কমে গেছে। বলিউডের অন্যতম খ্যাতিমান তারকা সাইফ আলী খানের পিতা মনসুর আলী খান পতৌদী, যিনি ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ছিলেন, ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পতৌদীর নবাব হিসেবে সিংহাসন অলংকৃত করেন। পরবর্তীতে ভারতীয় সংবিধানের ২৬ তম সংশোধনীর মাধ্যমে নবাবদের এই উপাধি বর্জন করা হয় এবং তাদের ক্ষমতা লুপ্ত করা হয়।

    অযোধ্যার প্রথম নবাব ছিলেন নবাব সাদাত খান (১৭২২-১৭৩৯)। এরপর যথাক্রমে নবাব হন নবাব সফদার জং (১৭৩৯-১৭৫৪), নবাব সুজাউদ্দৌলা (১৭৫৪-১৭৭৫) এবং নবাব আসাফ-উদ্-দৌলা (১৭৭৫-১৭৯৮)। এরপর নবাব ওয়াজের আলী, সাদাত আলী খান, নাসিরুদ্দিন হায়দারসহ আরও অনেকে নবাব হন। আমরা বরং ‘ভুল ভুলাইয়া’র নির্মাতা আসাফ-উদ্-দৌলার দিকে নজর দিই। আসাফ-উদ্-দৌলা সিংহাসনে আরোহণ করার পর থেকে অযোধ্যার রাজনীতিতে বহুবিধ পরিবর্তন আসে। ১৭৭৫ সালে তিনি অযোধ্যার দরবার ফায়জাবাদ থেকে স্থানান্তরিত করে লক্ষ্ণৌতে নিয়ে আসেন। তখনকার দিনে অখ্যাত লক্ষ্ণৌ ক্রমেই শিয়াদের সংস্কৃতিতে নতুন রূপে সজ্জিত হতে থাকে। শিয়া গোত্রীয় এই নবাবরা ইরান এবং ইরাকের অনুসরণে বেশ দাপটের সাথে একটি শিয়াভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলে। অচিরেই ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর শিয়াদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে লক্ষ্ণৌ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার দিক থেকেও বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করে শহরটি। দৌলত খানা, আসফি মসজিদ, রুমি দরোজা, বড় ইমামবাড়া, ভুল ভুলাইয়া, বিবিয়াপুর কোঠি, চিনহুট কোঠি এগুলো সব তারই কীর্তি। ক্লড মার্টিনের কনস্ট্যানিয়া ভবনটি দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নবাব। দশ লক্ষ স্বর্ণ মুদ্রার বিনিময়ে ভবনটি কিনে নিতে চান তিনি। সেই সওদা পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৭৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন নবাব আসাফ-উদ্-দৌলা।

    ভুল ভুলাইয়ার অভ্যন্তরে

    ভুল ভুলাইয়ার ইতিহাস জানতে হলে ভ্রমণ শুরু করতে হবে বড় ইমামবাড়ার ইতিহাস থেকে। ইমামবাড়া না কোনো মসজিদ, না দরগাহ। ইমামবাড়া এমন একটি হল যেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিয়া মুসলিমরা একত্রিত হয়, বিশেষ করে মহররম স্মরণে সেখানে ‘মাতম’-এর আয়োজন করা হয়। এশিয়ার অন্যান্য অংশে; যেমন- বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান প্রভৃতি জায়গায়ও ইমামবাড়া আছে, কিন্তু বড় ইমামবাড়া শিয়াদের মধ্যে বেশ প্রসিদ্ধ। ভুল ভুলাইয়ার সাথে মিশে আছে বড় ইমামবাড়ার অস্তিত্ব। ১৮ শতকের শেষদিকে অযোধ্যা দারুণ দুর্ভিক্ষ আর বেকারত্বের সাথে যুঝছিল। জনগণের অন্তত মাথা গোঁজার ঠাই সুনিশ্চিত করতে নবাব আসাফ-উদ্-দৌলা নির্মাণ করান বড় ইমামবাড়া। এটাকে অনেকটা এমজিএনআরইজিএ (মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট)-এর সাথে তুলনা করা যায়। এই একই কারণে ভারতে আরও বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ নির্মিত হয় যার মধ্যে রয়েছে পুনের আগা খাঁর প্রাসাদও।

    চৌদ্দ বছর সময় নিয়ে ইমামবাড়া নির্মাণ করা হয়। এরপর হাত দেয়া হয় ভুল ভুলাইয়ার নির্মাণকাজে। বড় ইমামবাড়া এবং ভুল ভুলাইয়ার নির্মাণকাজে অংশ নেয়া শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করে অর্থ সংকট থেকে মুক্তি দেয়াই ছিল নবাব আসাফ-উদ্-দৌলার প্রধান উদ্দেশ্য। একটি কথা প্রচলিত আছে যে, “আম আদমিরা সারাদিন যা গড়তো রাতে রইস আদমিরা তা ধ্বংস করতো।” কথাটি হয়তো নিছকই কথার কথা, তা নাহলে মাত্র ছয় বছরে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। অনেকে আবার ইমামবাড়াকেই ‘ভুল ভুলাইয়া’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। এর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতা এতোই বিশাল যে লেখার মাধ্যমে তা হয়তো পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। ভিন্ন ভিন্ন নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে ইমামবাড়ার আটটি ঘরে। প্রতিটি ঘরেই গম্বুজ রয়েছে। ইমামবাড়ার মূল আকর্ষণ অবশ্য এর কেন্দ্রীয় ঘরটি। ৫০x১৬x১৫ মিটার আকৃতির এই ঘরে কোনো খিলান নেই, থাম নেই, কোনো লোহা বা কংক্রিট এতে ব্যবহৃত হয়নি। দেয়ালগুলোর ভার অনেক বেশি হওয়ায় ভেতরটা ফাঁপা রাখা হয়েছে যেহেতু এদের ভার নেয়ার জন্য কোনো পিলারের ব্যবস্থা করা হয়নি। দেয়ালের এই ফাঁপা জায়গাগুলোর ভেতরে ৪৮৯টি গলিপথ তৈরি করা হয়েছে, যা ‘ভুল ভুলাইয়া’ নামে পরিচিত। ১৮৫৭ সালের পর থেকে এই গলিপথগুলো লুকোচুরি খেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

    ভুল ভুলাইয়ার অভ্যন্তরে ঘুরে বেড়ানো অভিযাত্রীরা

    লুকোচুরি খেলার আদর্শ এই জায়গাটি এতোটাই চোরাগোপ্তা উপায়ে তৈরি যে, পরবর্তীতে বড় ইমামবাড়াকে ছাপিয়ে পর্যটকদের সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নেয় ‘ভুল ভুলাইয়া’। অনেকে আবার গোলকধাঁধার পাশেই একটি সুড়ঙ্গের অবস্থানও নিশ্চিত করেছেন। নবাবরা তাদের হেরেমের জেনানাদের সাথে এখানে মৌজমাস্তি করতে আসতেন বলে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজের ‘বাদশাহি আংটি’ গল্পে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 56 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

পৃথিবীতে যা কিছু দুষ্প্রাপ্য, তা-ই কি মূল্যবান?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    বিখ্যাত লেখক রলফ ডবেলি (Rolf Dobelli) একবার এক বন্ধুর বাসায় কফির দাওয়াতে গেলেন। সেখানে একদিকে বড়রা মিলে গল্প করছিল, আরেক দিকে তিনটে গ্যাদাপোনা এক অন্যের সাথে কোস্তাকুস্তি করছিল। তার সাথে তো কিছু মার্বেল ছিল। তার মনে হলো মার্বেলগুলো দিয়ে যদি বাচ্চাগুলোকে ঠাণ্ডা করা যায় তাহলে মন্দ হয় না। মার্বেলগুলো তবিস্তারিত পড়ুন

    বিখ্যাত লেখক রলফ ডবেলি (Rolf Dobelli) একবার এক বন্ধুর বাসায় কফির দাওয়াতে গেলেন। সেখানে একদিকে বড়রা মিলে গল্প করছিল, আরেক দিকে তিনটে গ্যাদাপোনা এক অন্যের সাথে কোস্তাকুস্তি করছিল। তার সাথে তো কিছু মার্বেল ছিল। তার মনে হলো মার্বেলগুলো দিয়ে যদি বাচ্চাগুলোকে ঠাণ্ডা করা যায় তাহলে মন্দ হয় না। মার্বেলগুলো তিনি ছড়িয়ে দিলেন মেঝেতে। ভাবলেন, এবার শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

    কীসের কী? অশান্তি আরো বাড়লো। বাচ্চাগুলো নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়ল। কেন এই বিবাদ? দেখা গেল, মার্বেলগুলোর মধ্যে একটার রঙ নীল। আর বাচ্চারা সেটা নিয়েই কাড়াকাড়ি করছে। সবগুলো মার্বেলের আকার, আকৃতি, ঔজ্জ্বল্য একইরকম ছিল। নীল মার্বেলটার তাহলে বিশেষত্ব কী ছিল? একটাই বিশেষত্ব ছিল। নীল মার্বেলটা ছিল অন্যগুলো থেকে আলাদা। আর কোনো নীল মার্বেল ছিল না সেখানে। এই শিশুসুলভ আচরণ দেখে তিনি মনে মনে হেসে দিলেন। আর ভাবলেন, শিশুদের চিন্তাভাবনা কতই না মজার আর অযৌক্তিক হয়।

    এই ঘটনা যে তার নিজের জীবনেও আসবে, এটা তখন তিনি ভাবেননি। কয়েক বছর পর। ২০০৫ সাল। সোশ্যাল মিডিয়া না আসলেও ইন্টারনেট তখন পুরোদমে মানুষের জীবনে জায়গা করে নিচ্ছে। ইমেইল সার্ভিস বলতে তখনো ইয়াহু, হটমেইল এদের বোঝাতো। গুগল তখনো মাঠে নামেনি। আগস্ট মাসে গুগল ঘোষণা দেয়, তারা নিজস্ব ইমেইল সার্ভিস চালু করবে। এ খবর শোনামাত্রই রলফ ডবেলি একটা জিমেইল একাউন্টের জন্য পাগল হয়ে গেলেন।

    সে সময় জিমেইল একাউন্ট খোলাতে ছিল খুব কড়াকড়ি। আগে থেকে একাউন্ট আছে এমন কারো ইনভাইটেশন পেলেই কেবল এখানে একাউন্ট খোলা যেত। এ কারণে জিনিসটা আরো মহার্ঘ হয়ে গেল। এমন না যে তার সে সময় কোনো ইমেইল একাউন্ট ছিল না। এমনও না যে জিমেইল তার সার্ভিসের দিক দিয়ে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল। কেবল অল্প কিছু মানুষ বিশেষ এই সুবিধা পাচ্ছে- এই ভাবনাই মানুষকে এর জন্য আরো বেশি করে লালায়িত হতে প্রণোদিত করে। এই ঘটনা মনে করে তিনি এখনো মনে মনে হেসে উঠেন, আর ভাবেন, সেদিনের সেই শিশুদের তুলনায় তিনি ব্যতিক্রম কিছু নন। আমাদের সবার মধ্যেই হয়তো একটা শিশু সত্ত্বা লুকিয়ে আছে।

    প্রথম দিকে জিমেইলের লুক; Image: Time.com
    Rara sunt cara নামে রোমান একটা বচন আছে। যা কিছু দুষ্প্রাপ্য, তা-ই মূল্যবান। Scarcity error বা দুষ্প্রাপ্যতার ভ্রান্তি মানুষের ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। আপনি একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্টের কাছে গেলেন ঢাকার অদূরে একটা প্লট কিনতে। জায়গাটা এখন পানির নিচে। কিন্তু সে আপনাকে বললো, পাঁচ বছরের মধ্যে এখানে বাড়ি তো বাড়ি, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল সব গজিয়ে উঠবে। সে আপনাকে আরো বললো, এই প্লট গতকালই আমেরিকায় বসবাসরত এক ইঞ্জিনিয়ার এসে দেখে গেছে। আপনি কি তার কথা বিশ্বাস করবেন? সে হয়তো শুধুমাত্র আপনাকে বাজিয়ে দেখার জন্যই এই মিথ্যেটুকু বলেছে। মিথ্যেটুকু হয়তো সামান্য, কিন্তু এর প্রভাব ব্যাপক। আপনি বাসায় এসে কই মাছের ঝোল আর ইলিশের ডিমটুকু তাড়িয়ে তাড়িয়ে খেতে পারবেন না। চোখের সামনে আপনি দেখতে পাবেন, এক টুকরো পছন্দ করা জমি কোথাকার কোন এক ইঞ্জিনিয়ার এসে নিয়ে যাচ্ছে। তড়িঘড়ি করে আপনি তখন প্লটটা বুকিং দিয়ে দেবেন।

    ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমি আর আমার স্ত্রী, দু’জনেরই টক খুব পছন্দ। আমরা যখন আমড়া মাখা বা কাঁচা আম মাখা বা এরকম কিছু খেতে বসি, আমাদের মনোমালিন্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মাখার শেষ অংশুটুকু। শুরুটকুও নয়, মাঝের টুকুও নয়। পাতের শেষ ঝোলটুকু খাবার যে মজা, তা আর কোন কিছুর সাথেই তুলনীয় নয়।

    দুষ্প্রাপ্যতার ভ্রান্তি পরীক্ষা করার জন্য উদ্যোগ নেন অধ্যাপক স্টিভেন ওরচেল। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের দুই ভাগে ভাগ করলেন। প্রথম গ্রুপকে পুরো এক বাক্স বিস্কুট খেতে দিলেন। আর দ্বিতীয় গ্রুপকে দিলেন মাত্র দুটি বিস্কুট। খাওয়া শেষে অংশগ্রহণকারীদের বললেন, বিস্কুটকে রেটিং দিতে। দেখা গেলো, দ্বিতীয় গ্রুপের লোকজন বিস্কুট খেয়ে বেশি মজা পেয়েছে। এই পরীক্ষা বেশ কয়েক বার করা হলো। প্রতিবারই একই ফলাফল পাওয়া গেল।

    বিশেষ কোনো ইভেন্টের পোস্টার আমাদের বলে, ‘শুধু মাত্র আজকের জন্য’। আর্ট গ্যালারির মালিকরা এই দুষ্প্রাপ্যতার ভ্রান্তির সুযোগ নেয়। তারা অধিকাংশ পেইন্টিংইয়ের উপর লাল মার্কারে করে ‘Sold’ লিখে রাখে। এর ফলে বাকি পেইন্টিংগুলোকে আমাদের কাছে মনে হয় খুব দামী আর দুষ্প্রাপ্য কিছু।

    চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তাদের ব্রশিউরে লিখে রাখে, ‘শেষ সুযোগ বিরল প্রজাতির এক জলহস্তী দেখার’। আপনার কিন্তু কখনোই জলহস্তি দেখার কোনো শখ ছিল না। বিরল প্রজাতির জলহস্তী তো নয়-ই। কিন্তু শেষ সুযোগ বলে কথা। এই শেষ সুযোগের ফাঁদে পড়ে আপনি প্লেনের টিকেট করে তানজানিয়া চলে গেলেন জলহস্তী দেখতে।

    আমরা ডাকটিকেট, কয়েন, পুরানো গাড়ি সংগ্রহ করি। জানি যে এগুলো কোন কাজের না। পোস্ট অফিস পুরানো ডাকটিকেট নেয় না, ব্যাঙ্ক পুরানো কয়েন নেয় না, পুরানো গাড়ি নিয়ে রাস্তায় চলা যায় না। তারপরও আমরা এগুলো কিনি। একটাই কারণ- এদের যোগান কম।

    দুষ্প্রাপ্যতা দাম বাড়িয়ে দেয় চিত্রকর্মের; Painting by Harish Bhoyar
    আরেকটা পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের বলা হলো, দশটা পোস্টারকে আকর্ষণীয়তার ভিত্তিতে র‍্যাংক করতে। র‍্যাংক করা হয়ে গেলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পুরস্কারস্বরূপ তারা একটা পোস্টার নিজেদের কাছে রেখে দিতে পারবে। পাঁচ মিনিট পর বলা হলো, যে পোস্টারটি র‍্যাংকিংয়ে তিন নম্বরে আছে, তা কাউকে দেওয়া হবে না। এখন তোমরা আবার দশটা পোস্টারকে র‍্যাংক করো। যে পোস্টারটি সরিয়ে ফেলা হলো, হঠাৎ করে সেটাই সবার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা দিল। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় Reactance। কোনোকিছু যখন আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়, হঠাৎ সেটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা দেয়। বিখ্যাত ইংরেজি টিভি সিরিজ FRIENDS-এর শুরুর দিকে র‍্যাচেল রসকে খুব একটা পাত্তা দিত না। যখনই রস অন্য একজনের প্রেমে পড়লো, তখনই র‍্যাচেল তার প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া শুরু করলো।

    FRIENDS সিরিজে রস ও র‍্যাচেল; Image: Bustle.com
    এই ঘটনাকে রোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট ইফেক্টও বলা হয়। ভালোবাসা মানে না কোন বাঁধা। আর যা কিছু নিষিদ্ধ, তার প্রতি ভালবাসাও জন্মায় বেশি। কেবল যে ভালোবাসার ক্ষেত্রেই এটা হয়, তা না। আমেরিকায় আন্ডারগ্র্যাড ছাত্রদের পার্টিগুলোতে মদ্যপানের এতো ছড়াছড়ি কেন? বেসামাল মদ্যপের সংখ্যাই বা এতো বেশি কেন এই পার্টিগুলোতে? সেই একই কারণ। ২১ বছরের নিচে এখানে মদ্যপান করা নিষেধ। আর যা কিছু নিষেধ, তার প্রতি আকর্ষণও তো বেশি।

    দুষ্প্রাপ্যতা ভ্রান্তির কারণে আমরা পরিষ্কার মাথায় চিন্তা করতে পারি না। পণ্য হোক আর সেবাই হোক, মূল্যায়ন হওয়া উচিত কেবল তার দাম আর সে কী উপযোগিতা দিচ্ছে আমাকে, তার উপর। পণ্যটা দ্রুত মার্কেট থেকে আউট হয়ে যাচ্ছে কিনা, এর ভিত্তিতে না।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 55 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

কলার খোসায় পা পিছলে যায় কেন?

  1. masudrana
    masudrana নতুন
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    কলার খোসায় পলিস্যাকারাইড ফলিকুকার জেলজাতীয় নামক পদার্থ থাকে । এজন্য মুলত কলার খোসায় পা পিছলে পরে যায়। তা ছাড়া কলার খোসায় পা দিলে ঘর্ষণ বল অনেক কমে যায়। কলার খোসায় পা পিছলে পরে গেলে ঘর্ষণ বল ও উলম্ব বল কাজ করে।

    কলার খোসায় পলিস্যাকারাইড ফলিকুকার জেলজাতীয় নামক পদার্থ থাকে । এজন্য মুলত কলার খোসায় পা পিছলে পরে যায়। তা ছাড়া কলার খোসায় পা দিলে ঘর্ষণ বল অনেক কমে যায়। কলার খোসায় পা পিছলে পরে গেলে ঘর্ষণ বল ও উলম্ব বল কাজ করে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 2 টি উত্তর
  • 55 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

হালাল সনদ নীতিমালা কি? কেন এই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার ?

  1. jahanur
    jahanur পণ্ডিত
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেছেন, “খাদ্য, ভোগ্যপণ্য, প্রসাধনী এবং ওষুধের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়া যেন মেনে চলা হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

    হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেছেন, “খাদ্য, ভোগ্যপণ্য, প্রসাধনী এবং ওষুধের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়া যেন মেনে চলা হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 1
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 54 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

রোযা রেখে টিভি দেখা গান শোনা বা মেয়েদের অশ্লীল ছবি দেখলে রোযা হবে কি?

  1. jahanur
    jahanur পণ্ডিত
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    রোজা রেখে অশ্লীল ভিডিও দেখা যাবে না বরং এ অবস্থায় নাটক-সিনেমা ও নাচ-গানও বর্জন করা জরুরি। কারণ রমজানের উদ্দেশ্য হলো, তাকওয়া-পরহেজগারি বা আল্লাহভীতি ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করা।  ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত নাটক-সিনেমা ও নাচ-গান সাধারণত তাকওয়া অর্জনে বিরুদ্ধ কাজ। এগুলোর বেশির ভাগই রোজার শিক্ষা ও উদ্দেশবিস্তারিত পড়ুন

    রোজা রেখে অশ্লীল ভিডিও দেখা যাবে না বরং এ অবস্থায় নাটক-সিনেমা ও নাচ-গানও বর্জন করা জরুরি। কারণ রমজানের উদ্দেশ্য হলো, তাকওয়া-পরহেজগারি বা আল্লাহভীতি ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করা।  ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত নাটক-সিনেমা ও নাচ-গান সাধারণত তাকওয়া অর্জনে বিরুদ্ধ কাজ। এগুলোর বেশির ভাগই রোজার শিক্ষা ও উদ্দেশ্যের বিপরীত। তাই এসব পরিহার করা উচিত।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 1
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 54 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

কেন আমাদের শৈশবের কথা মনে থাকে না?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    মাঝে মাঝে কি এমনটা ভেবে আফসোস হয় না যে, “ইশ, যদি আমার খুব ছোটবেলার দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতিগুলো মনে করতে পারতাম!” প্রথম হাঁটা, প্রথম বলা শব্দ কিছুই আমরা মনে করতে পারি না। অনেক সময় আশেপাশের মানুষের মুখে নিজের ছোটবেলার কথা শুনে ভুল করে সেগুলোকে আমাদের স্মৃতি ভেবে বসি। শিশু-বয়সের খুব গুরুত্বপূর্ণ বা আনন্দেবিস্তারিত পড়ুন

    মাঝে মাঝে কি এমনটা ভেবে আফসোস হয় না যে, “ইশ, যদি আমার খুব ছোটবেলার দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতিগুলো মনে করতে পারতাম!” প্রথম হাঁটা, প্রথম বলা শব্দ কিছুই আমরা মনে করতে পারি না। অনেক সময় আশেপাশের মানুষের মুখে নিজের ছোটবেলার কথা শুনে ভুল করে সেগুলোকে আমাদের স্মৃতি ভেবে বসি।

    শিশু-বয়সের খুব গুরুত্বপূর্ণ বা আনন্দের স্মৃতি মনে না থাকলেও কৈশোরে শোনা বা পড়া কোনো গল্পের লাইন ঠিকই মনে পড়ে। কেন এমন হয়?

    শৈশবের এই স্মৃতিলোপ পাওয়ার কারণ নিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা এক শতকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা করে আসছেন। প্রায় ১০০ বছর আগে, সাইকোঅ্যানালাইসিসের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েড এই টার্মটির নাম দেন ‘Infantile amnesia’, বাংলায় যাকে বলা যায় ‘শিশুসুলভ স্মৃতিভ্রংশ’, যা ২-৪ বছর বয়সের অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়ার ও ৭ বছর বয়সের পূর্বের স্মৃতি পূর্ণরূপে মনে না থাকার একটি সহজাত প্রক্রিয়া।
    বয়সের সাথে স্মৃতি মনে রাখার হার
    বয়সের সাথে স্মৃতি মনে রাখার হার; Source: This graph is taken from a research article titled “Infantile amnesia: A neurogenic hypothesis”

    শৈশবে স্মৃতিশক্তি যেমন থাকে

    শিশুরা স্থায়ী স্মৃতি তৈরি করতে পারে না, কিন্তু তাদের অন্তর্নিহিত ও সুব্যক্ত মেমোরি গঠন হয়।

    • অন্তর্নিহিত বা Implicit Memory: চিন্তা না করেই কোন কাজ স্মরণে থাকে এবং করতে পারে, পদ্ধতিগত স্মরণশক্তি।
    • সুব্যক্ত বা Explicit Memory: নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো যখন সজ্ঞানে মনে রাখতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি ধারণে সুব্যক্ত ও অন্তর্নিহিত মেমোরির কার্যাবলী
    দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি ধারণে সুব্যক্ত ও অন্তর্নিহিত মেমোরির কার্যাবলী; Source: Medium

    শিশুরা ঐ অবস্থায় তথ্য মনে রাখতে পারে, যেমন- ৬ মাস বয়সী শিশুরা মনে রাখতে পারে ২৪ ঘন্টায় তাদের করণীয় কী, ৯ মাস বয়সীরা মনে রাখতে পারে এক মাসের কার্যাবলী আর ২০ মাস বয়সীরা পুরো এক বছর পর্যন্ত মনে রাখতে পারে যা তাদেরকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। আরো দেখা যায়, শিশুদের কাছে যে ঘটনাগুলো বেশি আবেগপূর্ণ, ঐ স্মৃতিগুলো তারা তিনগুণ বেশি মনে রাখতে পারে।

    অনেক সময় স্মৃতি ধরে রাখার ব্যাপারটি আমাদের সংস্কৃতির উপরও নির্ভর করে। অনেকের ছোটবেলার অনেক অভিজ্ঞতাই মনে থাকে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ৭-৮ বছরের আগের কোনো ঘটনাই মনে থাকে না। আবার আমাদের সংস্কৃতি, পারিপার্শ্বিক এবং সামাজিক অবস্থান এই স্মৃতি গঠন ও ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে।
    সংস্কৃতির উপর শিশুদের স্মৃতি  গঠন ও ধারণ ক্ষমতা অনেকাংশেই নির্ভরশীল
    সংস্কৃতির উপরও শিশুদের স্মৃতি গঠন ও ধারণ ক্ষমতা নির্ভরশীল; Source: Diario de Huelva

    কিন্তু কেউ প্রথম ২ বছরের আগের কোনো ঘটনাই মনে রাখতে পারে না। এর পেছনে ২টি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে:

    ১) মস্তিষ্কের গঠন ও পরিবর্তন: ছোট বয়সে আমাদের মস্তিষ্ক পূর্ণ বিকশিত না থাকায় অনেক তথ্যই জটিল নিউরাল প্যাটার্নে জমা করে রাখতে পারে না, যাকে আমরা মেমোরি বা স্মৃতি বলি। জন্মের সময় মানবশিশুর মস্তিষ্ক থাকে পরিণত বয়সের মস্তিষ্কের এক-চতুর্থাংশ, দুই বছর বয়সে সেটা হয় পূর্ণ মস্তিষ্কের চার ভাগের তিনভাগ। মস্তিষ্কের এই আকার ও গঠনের উপরেই নির্ভর করে নিউরনের বৃদ্ধি ও সংযোগপ্রাপ্তি।
    বয়সের সাথে মস্তিষ্কের  বৃদ্ধি  ঘটে  ও স্মৃতি  ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়;
    বয়সের সাথে মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ঘটে ও স্মৃতি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; Source: celinealvarez.org

    আমাদের মস্তিষ্কে হিপোক্যাম্পাস নামে একটা অংশ আছে, যেটা মূলত এপিসোডিক মেমোরি (নির্দিষ্ট ঘটনা ধারণকারী মেমোরি) গঠনে জরুরি। এপিসোডিক মেমোরিগুলো (দৃষ্টলব্ধ, স্বাদ এবং শব্দজাত মেমোরি) মস্তিষ্কের বহিরাবণের (Cortex) বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকে। হিপোক্যাম্পাস এই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অংশগুলোকে একত্রিত করে।
    হিপোক্যাম্পাসের  3D  চিত্র
    হিপোক্যাম্পাসের থ্রিডি চিত্র; Source: Deutsches Ärzteblatt

    ইমোরি ইউনিভার্সিটি ইন আটলান্টার গবেষক প্যাট্রিসিয়া বাওয়ার বলেন,

    আপনি যদি আপনার কর্টেক্সকে ফুলের বিছানা মনে করেন, সেখানে মাথার উপরিভাগ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুল আপনার এপিসোডিক মেমোরি, আর ব্রেনের ঠিক মাঝখানে সুন্দরভাবে গোটানো হিপোক্যাম্পাস ঐ ফুলগুলোকে টেনে এনে একটা ফুলের তোড়া বেঁধে দেয়।

    মস্তিষ্কের  উপরিভাগে এপিসোডিক মেমোরির অবস্থান এবং হিপোক্যাম্পাসের দ্বারা একত্রীকরণ
    মস্তিষ্কের  উপরিভাগে এপিসোডিক মেমোরির অবস্থান এবং হিপোক্যাম্পাসের দ্বারা একত্রীকরণ; Source: semanticscholar.org

    ২-৪ বছরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এপিসোডিক মেমোরি গঠন হয় কম, কারণ ঐ সময়ে হিপোক্যাম্পাস পরিপূর্ণভাবে গঠিত হয় না, আর কোনোকিছু মেমোরিতে  জমা হতে হলে তাকে অবশ্যই হিপোক্যাম্পাসের মধ্যে গঠিত হতে হয়। এ বয়সে হিপোক্যাম্পাস খন্ডগুলোকে জমা করার কাজ শুরু করে।

    হিপোক্যাম্পাস ব্রেনের একমাত্র অংশ যেটা মানুষের জন্মের পর থেকে নতুন নিউরন উৎপাদন চালিয়ে যেতে থাকে পূর্ণবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত, যেখানে ব্রেনের অন্যান্য অংশগুলোর শুধু পরিবর্তন আর বিকাশ ঘটতে থাকে।

    বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শৈশবে দ্রুত নিউরন উৎপাদনের হার আমাদের বয়স বাড়ার সাথে আগের কথা ভুলিয়ে দিতে পারে। কারন যত নিউরন উৎপাদন ঘটে তত নতুন কানেকশন বাড়তে থাকে মেমোরি সার্কিটের সাথে এবং নতুন নিউরনগুলোর অধিক নেটওয়ার্কিং আগের গঠিত মেমোরি প্রকাশে বাঁধা দেয়।

    বিভিন্ন গবেষণা বলে। এই নিউরন উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি চালিত হয় পূর্বের মেমোরি, যেগুলো এই উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যহত করতে পারে, তা ভুলে যাওয়ার মাধ্যমে। তাই কৈশোরে পৌঁছার আগপর্যন্ত শিশু অবস্থায় আমাদের ব্রেন পূর্বের স্মৃতি পুরোপুরি ধরে রাখতে পারে না এবং খুব ছোটবেলার ঘটনা ধারণে একেবারেই অক্ষম হয়।

    ২) ভাব প্রকাশের অক্ষমতা: আপনি এমন কোনো বিষয়ের স্মৃতিচারণ করতে পারবেন না যদি সেটা আপনার স্মৃতি বা মেমোরিতেই না থাকে। আর বাক্যে প্রকাশ ছাড়া আমরা কি কোনো ঘটনা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারি?

    অনেক সাইকোলোজিস্ট মনে করেন, আত্মজীবনীমূলক স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষমতা আসে ভাব প্রকাশের মাধ্যমেই।

    শিশুদের কোনো ঘটনা বর্ণনা করার মতো শব্দভান্ডার থাকে না, তাই তারা কার্যকরণসম্বন্ধীয় কোনো ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারে না। এবং শিশুদের নিজেদের সম্বন্ধে সেরকম ধারণা থাকে না যা তাদেরকে ভাবতে অনুপ্রাণিত করতে পারত যে অভিজ্ঞতাগুলোও তাদের জীবনের গল্পের অংশ।

    মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ডের সাইকোলজিস্ট ক্যারল পিটারসন এটাকেই সামাজিক স্মৃতি ধরে রাখতে না পারার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    নোরা নিউকম্ব, ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটির সাইকোলোজির প্রফেসর, এর ভাষ্যমতে, “এপিসোডিক মেমোরি হয়তো একটি শিশুর জন্য অপ্রয়োজনীয় এবং জটিল, যখন সে মাত্রই শিখতে শুরু করছে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্বন্ধে।” তিনি আরও বলেন,

    আমি মনে করি, প্রথম দুই বছরের প্রাথমিক লক্ষ্যই হলো ভাষার অর্থসংক্রান্ত জ্ঞান (Semantic memory) আহরণ করা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, এপিসোডিক মেমরি আসলে হয়তো একটি চিত্তবিক্ষেপ (Distraction)।

    শৈশবের স্মৃতি উদ্ধার সম্ভব কি না

    আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা সেরকম মনে না থাকলেও, ছোটবেলার অনেক ঘটনা আমাদের আচরণে প্রভাব ফেলে। তাহলে সেই অভিজ্ঞতা কিংবা স্মৃতি কি পুনরুদ্ধার সম্ভব? 

    সেইন্ট জন’স ইউনিভার্সিটিতে মেমরি এন্ড লার্নিং নিয়ে গবেষণারত জেফরি ফেগেন বলেন, “আর্লি চাইল্ডহুডের মেমরিগুলো হয়তো কোথাও সংরক্ষিত আছে যা এখন অপ্রাপ্য, কিন্তু এর প্রায়োগিক ব্যাখ্যা করাটাও কঠিন।”    এটাই হয়তো ব্যাখ্যা করতে পারে কেন আগের কোনো মানসিক আঘাত প্রভাব ফেলতে পারে প্রাপ্তবস্কদের আচরণে এবং ভবিষ্যতে মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
    শৈশবের বৈরী অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে
    শৈশবের বৈরী অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে; Source: thriveglobal.com

    কোন ঘটনার যত বেশি স্মৃতিচারণ হয় তত বেশি তা মনে থাকে। বড়দেরই সময়ের সাথে অনেক তথ্য, ঘটনা বা স্মৃতি হারিয়ে যায় যদি তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো না হয়। তাই ছোটবেলার এই স্মৃতিবিলোপকে আমাদের জীবনের এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই বলা চলে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 54 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

আমরা স্বপ্ন রঙীন না দেখে সাদাকালো কেন দেখি?

  1. masudrana
    masudrana নতুন
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আমি সাদা-কালো এবং রঙিন উভয় রঙের স্বপ্নই দেখেছি। আগে বিভিন্ন রিসার্চে পড়ে মনে বিশ্বাস জন্মেছিল যে স্বপ্নের রং সাদা-কালো। কিন্তু যখন নিজেই একদিন রঙিন স্বপ্ন দেখলাম সেদিন থেকে এই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙ্গে যায়। প্রথম রঙিন স্বপ্ন দেখার পর অনেক যুক্তি দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করেছিলাম যে আদৌ স্বপ্নটি রঙিন ছিলো কিনা!বিস্তারিত পড়ুন

    আমি সাদা-কালো এবং রঙিন উভয় রঙের স্বপ্নই দেখেছি। আগে বিভিন্ন রিসার্চে পড়ে মনে বিশ্বাস জন্মেছিল যে স্বপ্নের রং সাদা-কালো। কিন্তু যখন নিজেই একদিন রঙিন স্বপ্ন দেখলাম সেদিন থেকে এই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙ্গে যায়। প্রথম রঙিন স্বপ্ন দেখার পর অনেক যুক্তি দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করেছিলাম যে আদৌ স্বপ্নটি রঙিন ছিলো কিনা! এবং সব যুক্তি আমাকে মানতে বাধ্য করিয়েছিল যে স্বপ্নটি ১০০% রঙিন ছিল। আমি যদিও বিজ্ঞানকে সম্মান করি (এবং আমার বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্লগ সাইট রয়েছে যেখানে বিজ্ঞানের গবেষণা নিয়েই আমি লেখালেখি করি) তবুও যদি বিজ্ঞান আমাকে বলে স্বপ্নের রঙ সাদা-কালো অন্ততঃ আমি এটা মেনে নিতে পারবো না। কারণ আমি এর সাক্ষী।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 2 টি উত্তর
  • 54 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

দম্পতিদের সম্পর্ক ভালো রাখার উপায় কি কি?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    প্রায় সব বিবাহিত দম্পতি তাদের বিয়ের বন্ধন শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শের খোঁজ করেন। যখন বোঝাপড়ার চেয়ে ঝগড়াঝাটি বেড়ে যায়, তখন দম্পতিরা সাধারণ বিয়ে সংক্রান্ত উপদেশ মেনে সমস্যা সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে। কিন্তু স্টেরিওটাইপিক্যাল পরামর্শ সবসময় সহায়ক হয় না, বিশেষ করে যদি সমস্যাটিবিস্তারিত পড়ুন

    প্রায় সব বিবাহিত দম্পতি তাদের বিয়ের বন্ধন শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শের খোঁজ করেন। যখন বোঝাপড়ার চেয়ে ঝগড়াঝাটি বেড়ে যায়, তখন দম্পতিরা সাধারণ বিয়ে সংক্রান্ত উপদেশ মেনে সমস্যা সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে।

    কিন্তু স্টেরিওটাইপিক্যাল পরামর্শ সবসময় সহায়ক হয় না, বিশেষ করে যদি সমস্যাটি বড় এবং জটিল হয়। নতুন দম্পতিদের বিয়ে সংক্রান্ত উপদেশগুলো মন দিয়ে মানতে হবে, যা তাদের অত্যন্ত সাহায্য করবে। দম্পত্তিরা সম্ভবত আগে শোনেনি, এমন কিছু কার্যকরী পরামর্শ এখানে প্রকাশ করা হলো-

    উদ্দেশ্য : কাজ কিংবা কথা নয়, এর পেছনের উদ্দেশ্য দেখুন। সব সময় মনে রাখুন এবং ধরে নিন যে আপনার সঙ্গী আপনাকে আঘাত করার মতো কিছু করবে না। এতে হতাশা, দোষারোপ এবং অপরাধবোধ অনেকাংশে কমে যাবে। আপনার সঙ্গীর সব কাজ ইচ্ছাকৃত নয় তা জানা থাকলে ঝগড়াঝাটির সময় বলা কথা নিয়ে পরবর্তীতে ঝামেলা হবে না। যদি জানেন যে তিনি আপনার প্রতি ইতিবাচক, তবে তাকে ক্ষমা করাও সহজ হবে।

    অর্থ নিয়ে ঝগড়া নয় : টাকা নিয়ে ঝগড়া করবেন না। দম্পতিদের মধ্যে ঝগড়াঝটির সবচেয়ে বড় কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো অর্থ। দম্পতিরা একে অপরের ব্যয়ের অভ্যাস নিয়ে ঝগড়া করার বদলে দুজন মিলে সমাধান খুঁজতে পারে। এতে দুজনেরই কিছু কিছু ছাড় দিতে হতে পারে। তবে দিনশেষে সম্পর্ক সুন্দর থাকবে।

    কৃতজ্ঞতা দেখাতে হবে : দম্পতিদের একে অপরের প্রতি আরো কৃতজ্ঞতা দেখাতে হবে, এমনকি ঝগড়াঝাটি করে বা তর্ক করার সময়েও। একসঙ্গে খারাপ এবং ভালো মুহূর্তগুলোকে সমানভাবে উপলব্ধি করতে শিখুন। এটি বুঝতে সাহায্য করে যে বিয়ের সম্পর্ক সফল হতে উভয় পক্ষের সমর্থন ও পরিশ্রম থাকা চাই।

    ছাড় দেওয়া : কখনো কখনো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একজনকে ছাড় দিতে হতে পারে। একজনই সব সময় প্রভাব ধরে রাখতে পারে না। দক্ষতার ওপর নির্ভর করে দায়িত্বের বন্টন করা যেতে পারে। সম্পর্কে ভালোবাসা থাকলে একে অপরকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হবে না।

    সময় কাটানো : স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের সঙ্গে আরো বেশি করে সময় কাটানো উচিত। এটি অনুভূতির ভুল ব্যাখ্যার সম্ভাবনা হ্রাস করে। ক্লান্তিকর দিনের পরে যখন তার কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করবেন, দিনটি কেমন ছিল? তখন সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার অনুভূতি প্রকাশ করবে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 54 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 1 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

কাক এর সাথে আকার যোগ করলে কাকা হয়, তাহলে কি বিয়োগ করলে গরু হয়?

  1. নুসরাত জাহান
    নুসরাত জাহান নতুন nai
    উত্তর দিয়েছেন 1 বছর আগে

    ইংলিশে Crow, মানে কাক। তাহলে Crow থেকে "r" কে বাদ দিলে হয় Cow, মানে গরু। তাহলে এখানে কাকের থেকে "r" বাদ দিলে গরু হবে।

    ইংলিশে Crow, মানে কাক। তাহলে Crow থেকে “r” কে বাদ দিলে হয় Cow, মানে গরু। তাহলে এখানে কাকের থেকে “r” বাদ দিলে গরু হবে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 1
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 54 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

আমাদের পছন্দের জিনিস আছে বলেই পছন্দের রং আছে। পছন্দের রং নির্বাচিত হয় কীভাবে?

  1. Adnan bin zaman
    Adnan bin zaman পণ্ডিত ...................................
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    একটি প্রিয় রঙ নির্বাচন করা প্রায়শই ব্যক্তিগত পছন্দের বাইরে যায় এবং বিভিন্ন কারণ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে: 1. মানসিক সংযোগ: রং শক্তিশালী আবেগ এবং স্মৃতি জাগাতে পারে। কেউ একটি রঙ পছন্দ করতে পারে কারণ এটি তাদের একটি সুখী অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেয়, একটি জায়গা তারা পছন্দ করে, অথবা তারা যে ব্যক্তিবিস্তারিত পড়ুন

    একটি প্রিয় রঙ নির্বাচন করা প্রায়শই ব্যক্তিগত পছন্দের বাইরে যায় এবং বিভিন্ন কারণ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে:

    1. মানসিক সংযোগ: রং শক্তিশালী আবেগ এবং স্মৃতি জাগাতে পারে। কেউ একটি রঙ পছন্দ করতে পারে কারণ এটি তাদের একটি সুখী অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেয়, একটি জায়গা তারা পছন্দ করে, অথবা তারা যে ব্যক্তিকে লালন করে।

    2. সাংস্কৃতিক প্রভাব: সাংস্কৃতিক পটভূমি রঙ পছন্দের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন সংস্কৃতি বিভিন্ন অর্থ এবং প্রতীকের সাথে রঙকে যুক্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, লাল কিছু সংস্কৃতিতে ভাগ্য এবং সমৃদ্ধির প্রতীক হতে পারে, যখন এটি অন্যদের মধ্যে বিপদ বা সতর্কতার প্রতীক হতে পারে।

    3. মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: রঙ ব্যক্তির উপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে। লাল, কমলা এবং হলুদের মতো উষ্ণ রঙগুলি উষ্ণতা, শক্তি এবং উত্তেজনার অনুভূতি জাগাতে পারে, যখন নীল এবং সবুজের মতো শীতল রঙগুলি প্রশান্তি এবং শিথিলতাকে উন্নীত করতে পারে।

    4. ফ্যাশন এবং প্রবণতা ফ্যাশন, অভ্যন্তরীণ নকশা এবং মিডিয়ার প্রবণতা রঙ পছন্দকে প্রভাবিত করতে পারে। সেলিব্রিটি অনুমোদন, বিজ্ঞাপন বা মৌসুমী প্রবণতার কারণে কিছু রঙ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

    5. ব্যক্তিত্ব এবং অভিব্যক্তি: কিছু লোক এমন রং বেছে নেয় যা তাদের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের সাথে সারিবদ্ধ হয় বা তারা কীভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, বহির্গামী ব্যক্তিরা সাহসী এবং প্রাণবন্ত রঙের দিকে আকর্ষণ করতে পারে, যখন অন্তর্মুখীরা নরম এবং আরও দমিত টোন পছন্দ করতে পারে।

    6. জৈবিক ফ্যাক্টর: প্রমাণ থেকে বোঝা যায় যে জৈবিক কারণ যেমন জেনেটিক্স এবং বিবর্তনীয় ইতিহাস রঙ পছন্দের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারে। জৈবিক অভিযোজনের উপর ভিত্তি করে কিছু রঙ আরও দৃষ্টিকটু হতে পারে বা পার্থক্য করা সহজ।

    সামগ্রিকভাবে, একটি প্রিয় রঙের পছন্দ একটি অনন্য এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত যা এই কারণগুলির সংমিশ্রণ দ্বারা গঠিত, যা এটিকে মানব মনোবিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির একটি আকর্ষণীয় দিক করে তোলে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 54 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

দিল্লিকা লাড্ডু জো খায়া ও পস্তায়ে, জো নেহি খায়া ও ভি পস্তায়ে …. কারণ ?

  1. নুসরাত জাহান
    নুসরাত জাহান নতুন nai
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    কারণ দিল্লির লাড্ডুর অসাধারণ স্বাদ। তাই যে খায়নি সে তো পস্তাবেই। কিন্তু যদি কেউ খেয়ে ফেলে তাহলে এর অনন্য স্বাদের জন্য অনেক লাড্ডু খেয়ে ফেলবে। ফলে পেটে সমস্যা দেখা দিবে। ঘন ঘন বাথরুম যেতে হতে পারে। এজন্যই বলাহয়, দিল্লির লাড্ডু যে খাবে সে পস্তাবে আর যে খাবেনা সেও পস্তাবে।

    কারণ দিল্লির লাড্ডুর অসাধারণ স্বাদ। তাই যে খায়নি সে তো পস্তাবেই। কিন্তু যদি কেউ খেয়ে ফেলে তাহলে এর অনন্য স্বাদের জন্য অনেক লাড্ডু খেয়ে ফেলবে। ফলে পেটে সমস্যা দেখা দিবে। ঘন ঘন বাথরুম যেতে হতে পারে। এজন্যই বলাহয়, দিল্লির লাড্ডু যে খাবে সে পস্তাবে আর যে খাবেনা সেও পস্তাবে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 53 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

জলদানব নেসি কি সত্যিই আছে?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    বিচিত্র পৃথিবীতে রয়েছে অবারিত রহস্যের হাতছানি। বারমুডা ট্রায়াঙ্গল, এরিয়া-৫১‘র মতো বাস্তবিক রহস্য যেমন রয়েছে, তেমনি আছে ইয়েতি, ক্রাকেন, সাসকোয়াশ, বুনিপ, লক নেস মনস্টার, চুপাকাবরা ইত্যাদির মতো রহস্যময় কল্পদানব। এদের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে না থাকলেও মানুষ এদের নিয়ে সবসময় উৎসাহ দেখিয়েছে। জাঁবিস্তারিত পড়ুন

    বিচিত্র পৃথিবীতে রয়েছে অবারিত রহস্যের হাতছানি। বারমুডা ট্রায়াঙ্গল, এরিয়া-৫১‘র মতো বাস্তবিক রহস্য যেমন রয়েছে, তেমনি আছে ইয়েতি, ক্রাকেন, সাসকোয়াশ, বুনিপ, লক নেস মনস্টার, চুপাকাবরা ইত্যাদির মতো রহস্যময় কল্পদানব। এদের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে না থাকলেও মানুষ এদের নিয়ে সবসময় উৎসাহ দেখিয়েছে। জাঁকজমক করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এদের খোঁজার জন্য। কিন্তু চিরকালই অধরা থেকে গেছে এই কিংবদন্তিতুল্য জীবগুলো, তারপরও এদের সম্পর্কে মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি হয়নি।

    স্কটল্যান্ডের ইনভার্নেসের কাছে এক বিশাল হ্রদের নাম নেস। স্কটিশ গেলিক ভাষায় হ্রদকে লক (Loch) বলা হয়, আর উচ্চারণ করা হয় ‘লখ’। এই লক নেসেই এক রহস্যময় কল্পিত দানবের বাস বলে কিংবদন্তী প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই তাকে দেখেছে বলে দাবি করলেও প্রাণীটির অস্তিত্ব সম্বন্ধে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নেস হ্রদের এই দানবকে ‘নেসি’ বলেও ডাকা হয়। নেসি শব্দের অর্থ হলো ‘পবিত্র’। লক নেস মনস্টারকে আক্ষরিক বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘নেস হ্রদের দানব’। গ্রেট ব্রিটেইনের স্বাদুপানির সবচেয়ে একক বৃহত্তম উৎস এ হ্রদটির আয়তন ২২ বর্গ কিলোমিটার, গভীরতা ৮০০ ফুটেরও বেশি।

    নেসি’র উৎস

    নেসি’র কিংবদন্তির উৎস খুঁজতে হলে আমাদেরকে অনেক পেছনে ফিরে যেতে হবে, একেবারে সেই প্রথম শতকে। রোমানরা নর্দার্ন স্কটল্যান্ডে পদার্পণ করার পর স্থানীয় পিক্ট জাতির তৈরি পাথরচিত্রে তারা এক অচেনা প্রাণী দেখতে পায়। রোমানরা প্রাণীটিকে বর্ণনা করে ‘পায়ের বদলে ফ্লিপার (সাঁতার কাটার ডানা) বিশিষ্ট দীর্ঘচঞ্চু অদ্ভুত জানোয়ার’ হিসেবে। সে সময় অবশ্য স্কটল্যান্ডে নেসি’র মতো আরও অনেক জলদানবের উপস্থিতির কথা জানা যায়। পুরনো অনেক নথিপত্রেই সাগরে বাস করা বিশালকার সাপ, কেলপি (ঘোড়াকৃতির প্রেতাত্মা), সাগরচারী ঘোড়া ইত্যাদি কাল্পনিক জন্তুর উল্লেখ পাওয়া যায়।

    নেসি’র প্রথম লিখিত উল্লেখ দেখা যায় আজ থেকে ১,৫০০ বছর আগে সন্ত কলম্বা নামক এক মিশনারির জীবনীতে। ষষ্ঠ শতকে এ ধর্মপ্রচারক স্কটল্যান্ডে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেন। তিনি দানবটির মোকাবেলা করেন বলে তার জীবনীগ্রন্থে বর্ণনা করা আছে। একদিন ইনভার্নেসের কাছে নর্দার্ন পিক্টের রাজার সাথে দেখা করতে যাওয়ার পথে সেইন্ট কলম্বা নেস লকের ধারে কয়েকজন লোককে একটি লাশ কবর দিতে দেখেন। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে সঙ্গীরা সেই লকের কোনো এক দানবকে দায়ী করে। সাধুবাবা ‘মন্ত্রবলে’ মৃত লোকটিকে জীবিত করে দেন। এরপর তিনি তার এক চেলাকে সাঁতরে লক পাড়ি দিয়ে অপর পাড় থেকে একটি নৌকা আনতে আদেশ করেন। শিষ্যটি সাঁতার কাটতে গিয়ে সেই জলদানবের মুখে পড়ে।

    এবার আবারও নিজের শক্তি দেখান কলম্বা। প্রার্থনার জোরে তিনি দানবটিকে বশ করেন। তার হুকুমে জলদানব শিষ্যকে ছেড়ে দিয়ে গভীর পানিতে অন্তর্ধান করে। চোখের সামনে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা দেখে উপস্থিত লোকজন তৎক্ষণাৎ সাধুর চরণে আশ্রয় নিয়ে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়। তবে সেইন্ট কলম্বা’র এ ঘটনার কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। কলম্বাকে স্কটল্যান্ডে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কৃতিত্ব দেওয়া হয়। মনে করা হয়- তাকে মহৎ, অলৌকিক, শক্তিশালীরূপে প্রচার করার জন্য তার জীবনীতে এমন একটি জলদানবের মিথ্যে গল্প ফাঁদা হয়েছে।

     লক নেস
    আধুনিক সময়ে নেসিকে নিয়ে আবারও আলোড়ন সৃষ্টি হয় ১৯৩৩ সালে। সে বছর লক নেসের পাড় ঘেসে একটি নতুন রাস্তা তৈরি করা হয়। মে মাসের দুই তারিখ স্থানীয় পত্রিকা দ্য ইনভার্নেস কুরিয়ার এক প্রতিবেদনে জানায়, এক দম্পতি ওই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় নেসিকে দেখেছেন। ব্যবসায়ী জর্জ স্পাইসার ও তার স্ত্রী’র ভাষ্যে-

    “তিমির মতো বিশালদেহী এক জানোয়ার পানির ওপর ঘুরপাক খেয়ে হ্রদের শান্ত পানিকে উত্তাল করে তুলছে।”

    কয়েক সপ্তাহ পরে আরেক মোটরসাইকেল আরোহী একই দাবি তোলেন। এরপর স্বভাবতই চারদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। এক সার্কাস-মালিক তো বিশ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেন দানবটি জ্যান্ত ধরে দেওয়ার জন্য। লন্ডনের পত্রিকাগুলো লক নেস এলাকায় সাংবাদিক পাঠাতে শুরু করে। ডেইলি মেইল শিকারী মার্মাডুক ওয়েদেরেলকে নিয়োগ করে নেসিকে ধরবার জন্য। কিছুদিন সন্ধান করার পরে ওয়েদেরেল, ‘নরম পা বিশিষ্ট প্রায় কুড়ি ফুট দীর্ঘ খুব শক্তিশালী’ চৌপেয়ে এক প্রাণীর বড় আকারের পায়ের ছাপ পাওয়ার কথা জানান। তার ওপর ভিত্তি করে ডেইলি মেইল খবর ছাপে এরূপ শিরোনামে: MONSTER OF LOCH NESS IS NOT LEGEND BUT A FACT

    পরে অবশ্য ওয়েদেরেলের পায়ের ছাপগুলো ব্রিটিশ মিউজিয়াম অভ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে জানা যায়, সেগুলো আসলে জলহস্তীর পায়ের ছাপ। একই বছরের নভেম্বর মাসে হিউ গ্রে নামক আরেকজন ব্যক্তি নেসি’র আরেকটি ছবি তোলেন। ছবিটিতেও লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট কোনো বড় আকারের প্রাণীর অস্পষ্ট অবয়ব ফুটে ওঠে। সমালোচকেরা দাবি করেন, এটি ছিল মুখে লাঠি আঁকড়ে ধরে কোনো কুকুরের সাঁতার কাটার ছবি।

    হিউ গ্রে’র তোলা ছবি
    পরের বছর আবারও নেসি’র ‘দেখা’ মেলে। এবার ডেইলি মেইলে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপানো হয় ১৯৩৪ সালের ২১ এপ্রিল। পত্রিকাটির প্রথম পাতায় ছাপানো ‘সার্জনের ফটোগ্রাফ’ নামে খ্যাত এ ছবিতে দেখা যায়, লম্বা ঘাড়সম্বলিত একটি সরু আকৃতির মাথা পানির ওপরে উত্থিত হয়ে আছে। ছবিটি ডেইলি মেইলকে সরবরাহ করেন লন্ডনের সেই সময়ের বিখ্যাত ডাক্তার রবার্ট কেনেথ উইলসন। এ ছবি দেখেই অনেকে নেসিকে প্লেসিওসর বলে মনে করেন। প্লেসিওসর হচ্ছে একধরনের সামুদ্রিক সরীসৃপ। ২০৫ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়ালেও ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে ডাইনোসরদের সাথে এই প্রজাতিটিও বিলুপ্ত হয়ে যায়।

    নেসি হয়তো কোনোক্রমে ওই গণবিলুপ্তি থেকে বেঁচে গিয়েছে। কিন্তু এখানেও একটি প্রশ্ন থেকে যায়। প্লেসিওসররা ছিল শীতল রক্তের প্রাণী। তাই লক নেসের বরফশীতল পানিতে এ প্রাণীটির এত বছর টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। যা-ই হোক, অনেক বছর পরে ১৯৯৪ সালে প্রমাণিত হয়, ছবিটি আসলে ভুয়া ছিল। সে আরেক গল্প!

    ক্রিস্টিয়ান স্পার্লিং নামক এক ব্যক্তি জানান যে, ছবিটি ভুয়া এবং তিনি ঘটনাটির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। আসলে এই স্পার্লিং ছিলেন দানোশিকারী মার্মাডুক ওয়েদেরেলের সৎপুত্র। ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম যখন তার ছবিকে জলহস্তীর বলে প্রমাণ করে, তখন ওয়েদেরেলকে মানুষের অনেক দুয়ো শুনতে হয়। এমনকি খোদ ডেইলি মেইল পত্রিকায়ও তাকে উপহাস করা হয়। রাগে, দুঃখে বেচারা জনসমক্ষে আসা বন্ধ করে দেন। অপমানের শোধ নেওয়ার জন্য তিনি এক দুষ্টু ফন্দি আঁটেন। উলওয়র্থসের দোকান থেকে কেনা খেলনা টিনের সাবমেরিনের সাথে নকল ঘাড় ও মাথা সংযুক্ত করে সেটিকে লক নেসে স্থাপন করে নিজের পুত্র ইয়ান ও সৎপুত্র স্পার্লিংয়ের সহায়তায় একটি ছবি তোলেন। ছবি তোলার পর মডেলটি ডুবে যায় এবং খুব সম্ভবত এটি এখনো হ্রদের তলায় কোথাও ঘুমিয়ে আছে।

    কিন্তু সে ছবি ডাক্তার উইলসনের কাছে কী করে পৌঁছাল? আসলে রবার্ট উইলসন তখনকার বিখ্যাত ডাক্তার ছিলেন। তাই গণমাধ্যমে ছবিটি পাঠানোর জন্য ওয়েদেরেল তাকেই নির্বাচন করেন। কিন্তু ডাক্তার কেন এই মজায় নিজেকে শরিক করলেন, তা রহস্যই থেকে গেছে।

    বাঁয়ে ডেইলি মেইলে প্রকাশিত ক্রপ করা ‘সার্জনের ফটোগ্রাফ’, ডানে মূল ছবি

    দেখতে কেমন নেসি?

    “মেদহীন লম্বা সবুজ রঙের দেহের ওপর কালো কুঁজের ছাপ, লেজবিশিষ্ট, সর্পাকৃতির মাথাওয়ালা আর একটু একটু লাজুক।”

    ভিজিটস্কটল্যান্ড ওয়েবসাইটে নেসি’র এমন বর্ণনাই দেওয়া আছে। কিন্তু যেহেতু নেসিকে স্পষ্টভাবে দেখার কোনো প্রমাণ নেই বা কোনো বিশ্বাসযোগ্য ছবিও আজ অব্দি কেউ তুলতে পারেনি, তাই নেসি যে আদতে কী জন্তু- তা জানা অসম্ভব। তবে স্পাইসার দম্পতি নেসিকে লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট বলে উল্লেখ করেছিলেন। স্কটিশ দ্য ইনভার্নেস কুরিয়ার পত্রিকার সম্পাদক ইভান ব্যারন তাদের প্রতিবেদনে নেসিকে ‘দানব’ হিসেবে অ্যাখ্যা করেন বলে নেসি’র পরিচয় আজও জলদানবই রয়ে গেছে।

    জলদানবের খোঁজে

    সেই ১৯৩৪ সালেই সংগঠিত হয়ে নেসিকে খোঁজা আরম্ভ হয়। ২০ জন লোককে দৈনিক দুই পাউন্ড করে দেওয়া হয়েছিল দানবটিকে ‘পাহারা’ দেওয়ার জন্য। কিন্তু কেউই কিছু দেখতে পায়নি। তারপরও নেসি’র পেছনে আরও অনেক অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অনেক শৌখিন তদন্তকারী প্রায় বিরামহীন রাত্রিজাগরণ করে নেসিকে খুঁজেছেন। ১৯৬০-এর দশকে অনেক ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় সোনার (Sonar) প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেকটিতে অভিযান পরিচালনা করে। অকাট্যভাবে কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলেও সোনার যন্ত্রে পানির নিচে এমন সব বড় মাপের বস্তুর নড়াচড়া ধরা পড়েছিল, যার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    এরপর ১৯৭৫ সালে বোস্টনের অ্যাকাডেমি অভ অ্যাপ্লাইড সায়েন্স আরেকটি উল্লেখযোগ্য অভিযান পরিচালনা করে। এবার সোনারের পাশাপাশি আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। একটি ছবি বিশ্লেষণ করার পর প্লেসিওসরের মতো কোনো প্রাণীর বিশালাকৃতির ফ্লিপারসদৃশ বস্তু ধরা পড়ে। ১৯৮০ ও ‘৯০-এর দশকে আরও সোনার সন্ধান করেও এ রহস্যের কোনো মীমাংসা হয়নি। ২০০৩ সালে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (বিবিসি) আগ্রহ ও অর্থায়নে ৬০০টি সোনার বিম ব্যবহার করেও কারও ভাগ্যে কোনো শিকে ছেঁড়েনি। কেলডোনিয়ান খাল নামক একটি প্রশস্ত চ্যানেলের মাধ্যমে লক নেস উত্তর সাগরের সাথে সংযুক্ত থাকায় অনেকে মনে করেন, নেসি বা নেসিসদৃশ প্রাণী হয়তো সাগরে চলে গেছে।

    প্লেসিওসর

    ডিএনএ গবেষণা

    নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক লক নেসের পানি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তার ডিএনএ পরীক্ষা করেন। এনভায়রনমেন্টাল ডিএনএ শনাক্তের এ পদ্ধতিতে সাবজেক্ট জলাশয়ের বিভিন্ন অংশ থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়। পানিতে বাস করা জীবগুলো যখন চলাচল করে তখন এগুলো শরীরের ত্বক, আঁশ, লোম, মল, প্রস্রাব ইত্যাদি থেকে ডিএনএ’র ক্ষুদ্র অংশ পেছনে রেখে যায়। এরপর এই ডিএনএগুলো বিদ্যমান বৃহৎ তথ্যভাণ্ডারের সাথে মিলিয়ে দেখে জানা যায়, জলাশয়ে কী কী জীব বাস করছে।

    অধ্যাপক নিল গেমেলের নেতৃত্বে লক নেসের পরীক্ষায় তিন হাজার ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। এগুলোর বেশিরভাগই ছোট ছোট প্রাণী। এর বাইরে মানুষ, শূকর, হরিণ, কুকুর, গবাদিপশু, পাখি, খরগোশ ইত্যাদির ডিএনএ-ও পাওয়া যায়। কিন্তু প্লেসিওসর বা এরকম কোনো প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর ডিএনএ পাওয়া যায়নি। একইভাবে ক্যাটফিশ বা হাঙরের দাবিও ধোপে টেকে না।

    ডিএনএ পরীক্ষায় বোঝা যায়, লক নেসে যথেষ্ট পরিমাণে ইল মাছের উপস্থিতি রয়েছে। এ থেকেই গবেষকেরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, লক নেস মনস্টার আসলে একটি বিশালাকৃতির ইল। অধ্যাপক গেমেল বলেন,

    “মানুষ রহস্য পছন্দ করে। আমরা বিজ্ঞানকে ব্যবহার করেছি লক নেস রহস্যে আরেকটি অধ্যায় যোগ করতে।”

    তিনি বলেন,

    “আমাদের প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক প্লেসিওসরের ধারণাটি সম্ভব নয়। তেমনিভাবে আমাদের তথ্যভাণ্ডারে কোনো হাঙরের ডিএনএ-ও নেই। নেই ক্যাটফিশ বা স্টার্জনের (বৃহৎ সামুদ্রিক মৎস্যবিশেষ) ডিএনএ।”

    ইল প্রসঙ্গে তার মত হলো,

    “আমাদের গবেষণায় যথেষ্ট পরিমাণ ইলের ডিএনএ পাওয়া গেছে। বলা যায়, প্রতিটি স্থানভিত্তিক নমুনাতেই ইলের ডিএনএ’র উপস্থিতি রয়েছে- এগুলো হতে পারে হয়তো অসংখ্য ইলের ডিএনএ অথবা বিশালকার কোনো একক ইলের ডিএনএ। যেহেতু এর আকৃতি সম্বন্ধে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই, তাহলে এত এত ডিএনএ পাওয়ার একটা অর্থ হতে পারে যে, লক নেসে কোনো দানবতুল্য ইল মাছের আস্তানা রয়েছে। সুতরাং, আমাদের লক নেস মনস্টার একটা বিশাল আকারের ইউরোপিয়ান ইল, এ ধারণাটি একেবারে অগ্রাহ্য করা যায় না।”


    অধ্যাপক নিল গেমেল
    কিন্তু ওই হ্রদে কখনো কোনো বিশাল ইল ধরা পড়েনি। আর সবচেয়ে বড় আকারের ধৃত ইউরোপিয়ান ইলটির ওজন ৫.৩৮ কিলোগ্রাম। গেমেলের অভিমত, হয়তো ইলের আকার আশ্চর্যজনকরকম বড় নয়; কিন্তু তাদের গবেষণায় যে ফলাফল পাওয়া গিয়েছে, তাতে সম্ভাবনাটিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    তবে দানব পাওয়া যাক বা না যাক, লক নেসের সবরকম প্রজাতির একটি শক্তিশালী তথ্যভাণ্ডার যে গবেষণাটির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, তাতে আর সন্দেহ নেই। এ হ্রদের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে এখন আরও বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য আহরণ করা সম্ভব হয়েছে গবেষণাটি দ্বারা।

    দাবি নাকচ

    লক নেস মনস্টার একটি দানবাকৃতির ইল মাছ- এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন স্টিভ ফেল্থাম নামক একজন ‘পেশাদার দানো-শিকারী’। ১৯৯১ সাল থেকে নেসি’র খোঁজ করছেন এই ভদ্রলোক। ২৯ বছর ধরে চোখে বাইনোকুলার আর টেলিস্কোপ লাগিয়ে নেসি’র খোঁজে লক নেস তন্নতন্ন করে ফেলার জন্য গিনেস বইয়েও নাম উঠেছে তার। ৫৬ বছর বয়সী এই অনুসন্ধিৎসু নতুন গবেষণাটিকে ‘অ্যান্টি-ডিসকভারি’ বলে অভিহিত করেছেন।

    “লক নেসে ইল আছে বলার মানে দাঁড়ায় অনেকটা এরকম যে ‘আমরা দু বছর গবেষণা করে জেনেছি এ হ্রদে মাছ পাওয়া যায়।’ যে কেউ হ্রদে জাল ফেললে বলতে পারবে এখানে ইল পাওয়া যায়। আমি ১২ বছর বয়সে এ হ্রদ থেকে ইল ধরেছিলাম।”

    টাইমস অভ লন্ডনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অবশ্য তিনি জানান, জীবনের ২৯ বছর নেসি’র পেছনে ব্যয় করেও তার এতটুকু আফসোস নেই। ফেল্থামের মতে, নেসি খুব সম্ভবত ওয়েলসের স্থানীয় জাতের ক্যাটফিশ, যেটি দৈর্ঘ্যে ১৩ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    স্টিভ ফেল্থাম
    উল্লেখ্য, রিভার মনস্টার্স টিভি সিরিজের জেরেমি ওয়েডের বিশ্বাস লক নেসে গ্রিনল্যান্ড শার্কের আবাস রয়েছে। এ হাঙর ২০ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে আর এদের কোনো পৃষ্ঠপাখনা থাকে না।

    লক নেসে সাঁতার কাটতে চান?

    চাইলেও পারবেন না। কে জানে, যদি নেসি এসে পা কামড়ে ধরে! অবশ্য আপনি যদি দুঃসাহসী হন, নেসিকে কুছ পরোয়া না করেন, তবুও এ হ্রদে সাঁতার কাটা খুব একটা সম্ভব হবে না। কারণ, নেসের পানি আপনার হাড় কাঁপিয়ে দেবে। বছরে এখানে গড় তাপমাত্রা থাকে ৫° সেলসিয়াস। এ নিম্ন তাপমাত্রার পানিতে সাঁতার কাটতে গেলে নেসি’র কামড় না খেলেও হাইপোথার্মিয়া ঠিক জেঁকে বসবে।

    নেসি’র দর্শন পাওয়ার আশা নিয়ে প্রতি বছর প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ লক নেসে ঘুরতে যান। স্কটল্যান্ডের অর্থনীতিতে তা বছরে প্রায় ৪১ মিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখে। আপনিও লক নেস দেখতে যেতে পারেন, কিন্তু খুব সম্ভবত নেসি’র সাথে মোলাকাত হবে না। তাতে ষোলকলা পূর্ণ না হলেও লেকপাড়ের হরিৎশোভা আর লেকের ‘কাকচক্ষুর ন্যায় টলটলে’ পানির অনিন্দ্যসৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। সেইসাথে ছবির মতো সুন্দর, সবুজে মোড়া স্থানীয় গ্রামগুলোতো আছেই।

    তবে আপনার কপালগুনে যদি নেসি’র দেখা পেয়ে যান, তাহলে ‘লক নেস মনস্টার সাইটিং রেজিস্টার’-এ তা লিখে রাখতে ভুলবেন না যেন। ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে গ্যারি ক্যাম্পবেল নামক এক ভদ্রলোক নেসি’র সঙ্গে মোলাকাত করেন। পানিতে আলোড়ন দেখে তার বিশ্বাস জন্মে, ওটা নেসি’র অবদান। সে দর্শনের কথা লিখে রাখতে গিয়ে তিনি একটি ওয়েবসাইট চালু করেন। তার এই রেজিস্টারে এখন পর্যন্ত ১১১৮টি দর্শনের কথা উল্লেখ করেছেন বিভিন্নজন। এগুলোর মধ্যে নিউজপেপার রিপোর্ট, পুরনো নথিপত্র, সরাসরি দেখার রিপোর্ট রয়েছে।

    ‘দ্য প্রাইভেট লাইফ অভ শার্লক হোমস’ (১৯৬৯) সিনেমায় দেখানো নেসি

    অবিনাশী নেসি

    গেমেলের পরীক্ষাতে লক নেস দানবের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যান্য পরীক্ষার মতো এর ফলও ‘নেগেটিভ’ এসেছে। তার ফলে নেসি’র অস্তিত্বের সম্ভাবনা আরও ফিকে হয়ে গেছে। কিন্তু তাই বলে নেসিকে প্রামাণিকভাবে বাতিল করে দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়াম অভ ন্যাচারাল হিস্ট্রি’র মতে, আজ পর্যন্ত নেসি’র অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেই যে তার সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দিতে হবে, তা কিন্তু মোটেও নয়। কারণ, একজন বৈজ্ঞানিক বা অনুসন্ধিৎসু মানুষ হিসেবে যথেষ্ট পোক্ত প্রমাণ ছাড়া কোনোকিছুরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। স্মিথসোনিয়ান এনসাইক্লোপিডিয়ায় লেখা আছে, দানবটির কঙ্কাল বা জীবিত আটক হওয়ার মতো শক্ত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 53 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

নিদ্রাহীনতা সমাধানের ভিন্নধর্মী পন্থা ক্যানাবিস কি সত্যিই কাজ করে?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর আমাদের মন আর শরীর দুটোই ক্লান্ত থাকে, প্রয়োজন হয় বিশ্রামের। বাসায় ফেরার পর সবচেয়ে আপন করে নিতে ইচ্ছা হয় পরিপাটি করে গোছানো বিছানাটাকেই। খাওয়া-দাওয়া করে এরপর ঘুমের রাজ্যে আমাদের প্রবেশ ঘটে। দৈনন্দিন জীবনে পরিশ্রমের পর আমাদের প্রত্যেকেরই একটা নির্দিষ্ট সময় ঘুমের প্রয়োজন হয়।বিস্তারিত পড়ুন

    সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর আমাদের মন আর শরীর দুটোই ক্লান্ত থাকে, প্রয়োজন হয় বিশ্রামের। বাসায় ফেরার পর সবচেয়ে আপন করে নিতে ইচ্ছা হয় পরিপাটি করে গোছানো বিছানাটাকেই। খাওয়া-দাওয়া করে এরপর ঘুমের রাজ্যে আমাদের প্রবেশ ঘটে। দৈনন্দিন জীবনে পরিশ্রমের পর আমাদের প্রত্যেকেরই একটা নির্দিষ্ট সময় ঘুমের প্রয়োজন হয়। যখন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘুমেরই সমস্যা হয়, তখন তো আমাদের নড়েচড়ে বসতেই হয়। তবে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সবসময়ই কি যৌক্তিক কিছু করি অথবা যা করি তা কি আদৌ চিরস্থায়ী সুফল বয়ে আনে?

    ঘুমের সমস্যা বলতে সাধারণত ঘুমের স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হওয়াকেই বোঝানো হয়। এগুলোর মাঝে সবচেয়ে প্রচলিত সমস্যাটি হল ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা। স্লিপ অ্যাপনিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ঘুমের সময় সঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারেন না। কেউ কেউ আবার ঘুমের মাঝে পা এক জায়গায় স্থির রাখতে পারেন না। একে রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম (RLS) বলে। পায়ে এক ধরনের অস্বস্তি বা মৃদু খোঁচা খাওয়ার অনুভূতির কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু সমস্যাটা পায়ে না, স্নায়ুতন্ত্রে। স্নায়ুতন্ত্রের যে অংশ ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে বিশৃঙ্খলার কারণে এই সমস্যার উদ্ভব হয়। আবার অনেকের নার্কোলেপসির কারণে দিনের বেলায় হুট করেই অস্বাভাবিক রকমের ঘুম পায়।

    এতসব ঘুমের সমস্যার সাথে মাদকের সম্পর্কটা ঠিক কেমন? সেটা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

    কর্মব্যস্ত দিনের পর দরকার পরিমিত ঘুম; Source: renkligaste.com

    প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে নিদ্রাহীনতায় ভুগছেন এমন অনেকের সাথে কথা বলে দেখা গেছে যে, তাদের অনেকেই সমাধানের পথ হিসেবে মারিজুয়ানা বা ক্যানাবিস (গাঁজা) সেবনকে বেছে নিচ্ছেন। এই চর্চাটা এখন প্রতিফলিত হচ্ছে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে। ক্যানাবিসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ওষুধ যেমন ন্যাবিলোন, ড্রোনাবিনল এবং ম্যারিনল ইত্যাদি প্রস্তুত হচ্ছে। এছাড়াও ক্যানাবিস সেবনকারীদের অনেকেই মেডিক্যাল মারিজুয়ানা কার্ড নিয়ে থাকেন।

    ক্যানাবিস পাতা; Source: commons.wikimedia.org

    প্রশ্ন হলো- ঘুমের সমস্যা সমাধানে ক্যানাবিস কতটা কার্যকরী? বিভিন্ন রোগীর মাঝে এর ব্যবহার থেকে প্রাপ্ত ফলাফল কখনোই ঢালাওভাবে কোনো উত্তরকে সরাসরি সমর্থন করে না। অর্থাৎ নিদ্রাহীনতার সমাধান হিসেবে মারিজুয়ানা বা ক্যানাবিসের ব্যবহার বহুলাংশেই স্বতন্ত্র। ঘুমের সমস্যা সমাধানে মারিজুয়ানা সেবন করা কতটা কার্যকর হবে সেটা নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের উপর, মারিজুয়ানার পরিমাণ এবং এর সেবনের মাত্রার উপর।

    সমস্যা সমাধানে ক্যানাবিস বা মারিজুয়ানা

    কিছু কিছু গবেষণায় দেখে গেছে, ক্যানাবিস আক্ষরিক অর্থেই ঘুমে সাহায্য করে। নিদ্রাহীনতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপর এর প্রভাব বিভিন্ন রকম। কারও কারও ক্ষেত্রে এর ব্যবহার যথেষ্ট কার্যকরী। কার্যকরী এই অর্থে যে তারা খুব দ্রুতই ঘুমিয়ে পড়তে পারছেন এবং ভাল ঘুমও হচ্ছে। আবার কেউ কেউ হয়তো খুব দ্রুত ঘুমাতে পারছেন না, কিন্তু তাদের ঘুমের গভীর পর্যায়টা বেশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে যখনই ক্যানাবিস সেবন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন স্পষ্টতই ঘুম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    বিভিন্ন গবেষণা থেকে এটা প্রমাণিত যে, ক্যানাবিস ঘুমের মান এবং সময়কাল নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। ক্যানাবিস থেকে প্রাপ্ত ক্যানাবিনয়েডসমূহের মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (THC), যা নিদ্রাহীনতা দূর করতে দারুণ কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল সেবনকারীদের মাঝে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার হার, যারা সেবন করছেন না তাদের চেয়ে অনেকংশেই বেশি। এছাড়াও গভীর রাতে হঠাৎ ঘুমে ভেঙে দীর্ঘ সময় ধরে জেগে থাকার সমস্যাটাও টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল এর মাধ্যমে দূর করা যায়।

    Tetrahydrocannabinol; Source: Wikimedia Commons

    প্রাণীদের উপর চালানো এক গবেষণায় (অ্যানিমেল ট্রায়াল) সংশ্লেষিত একটি ক্যানাবিনয়েডের (টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনলের অনুরূপ) ব্যবহার, সেরোটোনিন- প্রণোদিত অ্যাপনিয়ার সমাধানে আশাব্যঞ্জক ফলাফল এনে দিয়েছে। ক্যানাবিনয়ডের ব্যবহারের ফলে চিবুক এবং মুখের কিছু পেশীর শিথিলতা আসে এবং এর মাধ্যমেই অ্যাপনিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (PTSD) আক্রান্ত সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের দুঃস্বপ্নের চিকিৎসায় ক্যনাবিনয়েডসমূহ বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

    ঘুম এবং ক্যানাবিস; Source: semprequestione.com

    টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্যনাবিনয়েডের সমন্বয়ে গঠিত একটি ওষুধ হচ্ছে ক্যানাবিডাইঅল (CBD), যেটি ঘুমের সমস্যা সমাধানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও তীব্র ক্যানাবিডাইঅল ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বিকভাবে ঘুমের সময় বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

    Cannabidiol; Source: chicagonow.com

    ঢালাওভাবে মারিজুয়ানা বা ক্যানাবিস নামগুলো সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হলেও ঘুমের সমস্যা সমাধানে এদের কাজ করার পদ্ধতি  কিন্তু এক নয়। ক্যানাবিসের অসংখ্য প্রজাতিগুলোর মাঝে পার্থক্যের কারণ টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল এবং ক্যানাবিডাইঅলের পরিমাণ। ক্যানাবিসের কিছু প্রজাতি আছে যেগুলোতে টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনলের উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি। মারিজুয়ানারও এরকম কিছু প্রজাতিতে ক্যানাবিডাইঅলের পরিমাণ কম, আবার অন্যগুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি।

    ঘুম চক্রে ক্যানাবিসের প্রভাব

    ঘুমের মাঝে র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (REM ) নামক একটি পর্যায় আছে। ঘুমের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা স্বপ্ন দেখি। ঘুমের আগে ক্যানাবিস সেবনের ফলে REM পর্যায়ে ব্যায়িত সময়ের পরিমাণ কমে আসে। ফলে ঘন ঘন স্বপ্ন দেখা অনেকটাই কমে যায়। তবে দীর্ঘদিনের অভ্যস্ততার পর হুট করে ক্যানাবিস সেবন বন্ধ করে দিলে REM এর পুনরাবৃত্তি হওয়ার বেশ ভাল রকমের ঝুঁকি থেকে যায়।

    ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়; Source: quora.com

    কিছু সতর্কতা

    ক্যানাবিস গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, দীর্ঘকাল সেবনের পর হুট করে ক্যানাবিসকে বিদায় জানানো যাবে না। বেশ লম্বা একটা সময় ধরে ক্যানাবিস সেবনের ফলে একজন মানুষের ঘুমের অভ্যাস বা ধরণ পরিবর্তিত হয়, এক ধরণের নির্ভরতা তৈরী হয়। হঠাৎ করেই যদি অভ্যস্ততায় ব্যাঘাত ঘটে, তখন এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হয়। দেখা যায় যে, একজন ব্যক্তি হয়তো সারাদিনই ক্লান্ত অনুভব করছেন অথবা ঘুম থেকে উঠার পরও তার মনে হচ্ছে যে ঘুম ঠিকভাবে হয় নি। এছাড়াও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে কখনোই ক্যানাবিস ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করা উচিত নয়। সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ১৫ বছর বয়সের আগে ক্যানাবিস অনেক সময় তারুণ্যের পুরোটা জুড়েই নিদ্রাহীনতা ডেকে আনে।

    মেডিক্যাল মারিজুয়ানার বিশেষত্ব

    মজার ব্যপার হচ্ছে, ঘুমের সমস্যা ছাড়াও আরও অনেক অসুখের চিকিৎসা হিসেবে মেডিক্যাল মারিজুয়ানা বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন-·

    •  অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার
    • অ্যানোরেক্সিয়া
    • দুশ্চিন্তা
    • আর্থ্রাইটিস
    • অ্যাজমা
    • ক্যান্সার
    • বিষণ্ণতা
    • মৃগীরোগ
    • গ্লুকোমা
    • মাইগ্রেন
    • পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার ইত্যাদি।

    এখন পর্যন্ত সমগ্র বিশ্বে ক্যানাবিস বা মারিজুয়ানার এসব উপকারী দিক সর্বজন স্বীকৃত নয়। হ্যাঁ, এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে চিকিৎসাক্ষেত্রে মেডিক্যাল মারিজুয়ায়ানা ব্যবহারের সাফল্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে মানুষের উপর এর প্রভাব তেমন ভাল নয়। তাই এখনও বিস্তর গবেষণা চলছে এর ভূমিকা নিয়ে। এতসব অসুখের সমাধান হিসেবে যদি একটি প্রাকৃতিক উপাদান সাফল্যের পথ দেখাতে পারে, সেটা নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা বয়ে আনবে রোগী ও তার স্বজনদের জন্য।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 52 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

লিপস্টিক এর একটি মজাদার থিউরি আছে ? আমরা কজন জানি সেটা?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    জর্জ ওয়াশিংটন ঠোঁটে লিপস্টিক দিতেন আর রানি ভিক্টোরিয়া মনে করতেন ঠোঁটে লিপস্টিক দেওয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজ। বাংলাদেশে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্প্রতি বলেছেন, তার এলাকার নারীরা দিনে তিনবার ঠোঁটে লিপস্টিক লাগান। তিনি সরকারেরও মুখপাত্র। তার এলাকার নারীরা যে সুখে আছেন (অন্যান্য এলাকায় নারীরা দিনে কবার ব্যবহারবিস্তারিত পড়ুন

    জর্জ ওয়াশিংটন ঠোঁটে লিপস্টিক দিতেন আর রানি ভিক্টোরিয়া মনে করতেন ঠোঁটে লিপস্টিক দেওয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজ।

    বাংলাদেশে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্প্রতি বলেছেন, তার এলাকার নারীরা দিনে তিনবার ঠোঁটে লিপস্টিক লাগান। তিনি সরকারেরও মুখপাত্র। তার এলাকার নারীরা যে সুখে আছেন (অন্যান্য এলাকায় নারীরা দিনে কবার ব্যবহার করে থাকেন এ নিয়ে কোনো সমীক্ষার ফলাফল জানা নেই), এটা তারই সূচক। সুখের প্রতিচ্ছবি!

    সুখ নিশ্চয়ই সমৃদ্ধির সাথেও কিছুটা জড়িয়ে আছে। অভুক্ত মানুষের সুখে থাকার প্রশ্নই আসে না—তার বেলায় লিপস্টিক তো অবান্তর প্রসঙ্গ। বরং সুখী মানুষের লিপস্টিক ব্যবহার নিয়েই তাত্ত্বিক আলোচনা চলতে পারে।

    সানন্দে এখন তিনবার ব্যবহার করেন মানে আগের চেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, আগে হয়তো দু’বার কিংবা একবার ছিল কিংবা আদৗ ব্যবহার করার সামর্থ ছিল না কিংবা ব্যবহার করার কথা ভাবেনি। যে কথাটি বলা হয়েছে তার অন্তর্গত কথা হচ্ছে সে এলাকার নারীরা আগের চেয়ে বেশি লিপস্টিক কিনছেন।

    এই বেশি কেনাকাটাকে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক তত্ত্ব ইত্যাদির সাথে মিলিয়ে দেখতে গেলে একটি কৌতুহলোদ্দীপক অর্থনৈতিক তত্ত্বের উদ্ভব ঘটানো সম্ভব হবে। লিপস্টিক মার্কেটের গতিময়তার একটি তত্ত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

    আরোপিত কোনো কারণেও লিপস্টিক বাজারের পতন বা উত্থান ঘটতে পারে। ১৭৭০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানো নিষিদ্ধ করে দেয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্লামেন্টরিয়ান তখন মনে করতেন লিপস্টিক ব্যবহারকারী পার্লামেন্টরিয়ান তখন মনে করতেন লিপস্টিক ব্যবহারকারী নারী ছলনাময়ী পুরুষকে ফাঁদে ফেলার জন্য ঠোঁট রাঙ্গাচ্ছে। এর সাথে প্রেতচর্চার একটা যোগাযোগ থাকতে পারে।

    বৈশ্বিক কসমেটিক বাজারের আকার সমরাস্ত্র বাজারের মতো অতিকায় না হলেও উপেক্ষা করার মতো নয়। ২০২২ সালে এ বাজারের আকার ছিল ৩৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। চক্রবৃদ্ধিতে ২০৩২ সালে এর আকার দাঁড়াবে ৬৬১.১২ বিলিয়ন ডলারে প্রবৃদ্ধি বার্ষিক ৫.৮ ভাগ। এরই একটি ছোট অংশ লিপস্টিক। ২০২১ সালে লিপস্টিকের বিশ্ববাজার ছিল ৯.৫৭ বিলিয়ন ডলারের ২০২২ এ তা বেড়ে হয়েছে ১০.০৮ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-এ তা দাঁড়াবে ১৪.৬৮ বিলিয়ন ডলারে। প্রবৃদ্ধি বিউটি ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য আইটেমের চেয়ে একটু কম, ৫.৫ শতাংশ লিপস্টিক মার্কেটের টার্গেট মূলত: ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে বিউটি ইন্ডাস্ট্রির আকার ২০২৩ সালে ৩০.৫৪ বিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে লিপস্টিকের শেয়ার ১.৩৮ বিলিয়ন ডলার।

    একটি গাণিতিক হিসেব উপস্থাপন করা যেতে পারে: বিউটি ইন্ডাস্ট্রির কতো ভাগ লিপস্টিক ইন্ডাস্ট্রি? উপরে পরিসংখ্যান থেকে উঠে আসে বিশ্বের মোট বিউটি ইন্ডাস্ট্রির ০.২৬ ভাগ হচ্ছে লিপস্টিকের বাজার আর ভারতে তা .০৪৫ ভাগ। বিশ্বগড়ের দ্বিগুণের চেয়ে কিছু কম। অর্থাৎ ভারতে অর্ধমূল্যে লিপস্টিক বিক্রি অনেক বেশি। ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের একই হিসেব নিয়ে দেখেছি য্ক্তুরাষ্ট্রে লিপস্টিকের শেয়ার ভারতের চেয়ে কম এবং ব্রিটেনে তা প্রায় ভারতের এক তৃতীয়াংশ। এই পরিসংখ্যান প্রচলিত লিপস্টিক ইনডেক্স তত্ত্বের সমর্থন করে। অর্থনীতি অপেক্ষাকৃত খারাপ অবস্থায় থাকলে লিপস্টিক বিক্রি বেড়ে যায়, লিপস্টিকের বাজারের তুলনামূলক আকার বড় হতে থাকে।

    অর্থনীতির লিপস্টিক এফেক্ট: যখন অর্থনীতিতে ধস নাম থাকে, ভোক্তার হাতে ব্যয় করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। তখন দামি প্রসাধন সামগ্রী না কিনে কেবল লিপস্টিক কিনে বাড়ি ফেরে। এ ভাবে ভোক্তার লিপস্টিক কেনা বেড়া যায়। লিপস্টিক এফেক্ট বুঝিয়ে দেয় ভোক্তার হাতে তেমন টাকা নেই, আরো বলে দেয় দেশে মুদ্রাস্ফিতি ঘটেছে। লিপস্টিক এফেক্টের কারণে ইংরেজি R অক্ষরের শব্দ ব্যবহার বেড়ে যায়। সেই শব্দটি হচ্ছে Recession.

    লিপস্টিক ইনডেস্ক বা লিপস্টিক সূচক কথাটি নতুন সহস্রাব্দের সংযোজন। বিখ্যাত প্রসাধন সামগ্রী কোম্পানি এস্টি লাউডার-এর চেয়ারম্যান লেলার্ড লাউডার ২০০১ সালে শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন এবং অর্থনীতিবিদরা তা লুফে নেন। তিনি লক্ষ করেন ২০০১ সালের শরতে যখন এক ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল সে সময় কমদামি বিউটি প্রোডাক্ট বিশেষ করে লিপস্টিক বিক্রি বেড়ে যায়। ক্রেতার আচরণ বাজারকে তেমন নিয়ন্ত্রণ করে বাজারে বিকল্প পণ্যও ক্রেতার আচরনকে প্রভাবিত করতে পারে।

    লিপস্টিক মার্কেটের গতিময়তা আমাদের সঠিকভাবে বুঝতে হবে নতুবা লিপস্টিক বিক্রি বাড়াকে যদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষণ মনে করি, ভুল হবে। তবে সকল ক্ষেত্রেই যে লিপস্টিক অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা জানান দেবে এটাও মনে না করাই।

    তবে সাধারণভাবে যখন লিপস্টিক বন্দনা শুরু হবে ধরে নিতে হবে লিপস্টিক সূচক এসে গেছে অথবা এসে গেছে বলে বন্দনাকারীর কাছে অনুভূত হয়েছে।

    তাই বলে আমরা লিপস্টিক ডে পালন করব না এমন কথা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ২৯ জুলাই জাতীয় লিপস্টিক দিবস পালন করে যাবে। আমরাও তার সাথে যোগ দিতে পারি অথবা নিজেদের সুবিধে মতো একটা দিন ঠিক করে নিতে পারি। ন্যাশনাল লিপস্টিক ডেতে নিজের জন্য প্রিয়জনের জন্য একটা লিপস্টিক কিনুন। পিঙ্ক পিজিয়ন ব্র্যান্ড যেমন আছে, তেমনি আছে ইউনিকর্ন টিয়ার্স। আরও শত শত দেশি বিদেশি ব্র্যান্ড। বাংলাদেশে এস্টি লাউডারের জেনুইন ব্র্যান্ড তেমন পাওয়া যায় তেমনি মিলে জিঞ্জিরা ব্র্যান্ড, হালাল সাবানের কথা আমরা শুনেছি, কেমন হালাল শব্দ যোগ হওয়াতে মুসলমান ক্রেতার মহানুভূতি ও সমর্থন পেয়ে বাজার মাত করে দিয়েছিল। বাজারে হালাল লিপস্টিকও এসেছে। লাফজ হচ্ছে প্রসাধনীর হালাল ব্র্যান্ড। এতে মূকর তো নয়ই অন্য কোনো প্রাণীর চর্বি ব্যবহার করা হয়না বলে দাবি করা হয়ে থাকে।

    কানাডিয়ান একটি সমীক্ষায় (১৯৯৮-সালে) একজন নারী তার জীবদ্দশায় ৪ থেকে ৯ পাউন্ড ওজনের লিপস্টিকের প্রলেপ ঠোঁটের উপর লাগিয়ে থাকেন।

    লন্ডন এক্সপ্রেস ২০০১ সালে দাবি করেছে ব্রিটেনে একজন নারী জীবদ্দশায় গড়ে ৫.৬৫ পাউন্ড লিপস্টিক চেটে থাকেন এবং গিলেন। ডেনভারের রকি মাউন্টেন নিউজ মনে করে একজন নারীর জ্ঞাতে অজ্ঞাতে গিলে ফেলা লিপস্টিক প্রায় ৪ পাউন্ড।

    লিপস্টিক দেখেই উদ্বেলিত হওয়া সমীচীন হবে না। যারা কেজিবির কর্মকান্ডের সাথে পরিচিত তারা জানেন, কেজিবি ৪.৫ মিলিমিটার সিঙ্গেল শট লিপস্টিক পিস্তল ব্যবহার করত।

    উইলিয়াম জর্জ হিরেলস (১৯২৮-২০১২) নামের সিরিয়াল কিলার লিপস্টিক কিলার নামে পরিচিত। তিনি তিনটি খুনের কথা স্বীকার করেছেন। ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৫ ফ্রান্সিস ব্রাউনকে তার অ্যাপার্টমেন্টে খুন করার পর তার লিপস্টিক দিয়ে দেয়ালে লিখে রেখেছে: ঈশ্বরের দোহাই আর একটি খুন করার আগে আমাকে ধরে ফেলুন, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।

    পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। তারপর সুজান ভেগনানকে খুন করে। তারপর ধরা পড়েন। তার আমৃত্যু কারাদন্ড হয়। ৬৫ বছর জেলখাটার পর ৬ মার্চ ২০১২ ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে মারা যান। লিপস্টিক কিলারকে নিয়ে চার্লস আইস্টাইনের একটি উপন্যাস রয়েছে, তা চলচ্চিত্রায়িত হয়। লিপস্টিক অনুভব: নোবেল বিজয়ী টনি মরিসন লিখেছেন, স্বপ্ন হচ্ছে লিপস্টিক মাখানো দুঃস্বপ্ন।

    জোয়ান কলিন্সের কথা : পৃথিবীতে যতো প্রসাধনী দ্রব্য আছে আমার কাছে লিপস্টিকই সর্বোত্তম।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 52 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

ছাত্ররা পরীক্ষায় চিটিং বা টুকলি করে কেন?

  1. allaboutsubha
    allaboutsubha শিক্ষক https://www.youtube.com/allaboutsubha/
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ছাত্ররা পরীক্ষায় চিটিং বা টুকলি করার বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে, এবং এগুলো ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পরিবেশগত নানা ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। কিছু সাধারণ কারণের মধ্যে: ### ১. **আত্মবিশ্বাসের অভাব** অনেক ছাত্রই পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নিজেদের ওপর যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস অনুভব করেন না। তাদের মনে থাকে যে, তবিস্তারিত পড়ুন

    ছাত্ররা পরীক্ষায় চিটিং বা টুকলি করার বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে, এবং এগুলো ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পরিবেশগত নানা ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। কিছু সাধারণ কারণের মধ্যে:

    ### ১. **আত্মবিশ্বাসের অভাব**
    অনেক ছাত্রই পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য নিজেদের ওপর যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস অনুভব করেন না। তাদের মনে থাকে যে, তারা পড়াশোনা করতে পারেননি বা পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে পারেননি। ফলে তারা পরীক্ষায় চিটিং করে নিজের ফলাফল ভালো করার চেষ্টা করে।

    ### ২. **অতিরিক্ত চাপ বা দুশ্চিন্তা**
    বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য ছাত্রদের ওপর অনেক চাপ থাকে। কিছু ছাত্র এই চাপ সামলাতে না পেরে, বা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে চিটিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল উন্নত করতে চায়।

    ### ৩. **অধ্যয়ন পদ্ধতির সমস্যা**
    যে ছাত্ররা নিয়মিত পড়াশোনা করে না বা ভুল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করে, তারা পরীক্ষার আগে চাপ অনুভব করে এবং মনে করে যে, পড়াশোনা ছাড়া তারা কোনোভাবে পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে না। এই ধরনের ছাত্রেরা চিটিং করার পন্থা খুঁজে নেন।

    ### ৪. **প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ**
    অনেক সময় ছাত্ররা বন্ধুদের বা সহপাঠীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ার ভয় পেয়ে চিটিং করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচুর প্রতিযোগিতা থাকলে, ছাত্ররা মনে করে যে, পরীক্ষায় ভালো ফল না করলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

    ### ৫. **অনুশীলন বা মনোযোগের অভাব**
    কিছু ছাত্র পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি নেয়, কিন্তু তারা পর্যাপ্ত সময় বা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। ফলে তারা টুকলি বা চিটিংয়ের মাধ্যমে সময় বাঁচানোর চেষ্টা করে।

    ### ৬. **শিক্ষকের বা পরীক্ষার পরিবেশের দুর্বলতা**
    যদি পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অবহেলা থাকে, যেমন শিক্ষক বা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা যথাযথভাবে নজরদারি না করেন, তখন ছাত্ররা চিটিংয়ের সুযোগ পেয়ে যায়। কিছু পরীক্ষায় এমন পরিবেশ তৈরি হয় যেখানে ছাত্রদের চিটিং করা সহজ হয়ে যায়।

    ### ৭. **নৈতিক মূল্যবোধের অভাব**
    কিছু ছাত্রের নৈতিক মূল্যবোধ বা শৃঙ্খলা কম হতে পারে। তারা মনে করে যে, চিটিং করে যদি ভালো ফল পাওয়া যায়, তবে এটি তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে না। এই ধরনের ছাত্রদের মধ্যে নিজেদের কর্তব্য বা সঠিক পথ অনুসরণের প্রতি আগ্রহ কম হতে পারে।

    ### ৮. **বিশ্বস্ততার অভাব**
    অন্য একটি কারণ হতে পারে শিক্ষাপদ্ধতিতে আস্থা বা বিশ্বাসের অভাব। ছাত্ররা যদি মনে করেন যে, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল শুধুমাত্র সঠিকভাবে পড়াশোনা করলেই পাওয়া যায় না, বা মূল্যায়ন পদ্ধতি যথাযথ নয়, তবে তারা মনে করে যে চিটিং করলেই ফলাফল ভালো হবে।

    ### ৯. **অনুশীলনের জন্য উপযুক্ত উৎসের অভাব**
    কিছু ছাত্রের কাছে প্রয়োজনীয় শিক্ষণ উপকরণ বা গাইড বই না থাকলে, তারা হয়তো বাইরে থেকে কপি বা টুকলি করে নিজের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায়।

    ### সমাধান:
    পরীক্ষায় চিটিংয়ের প্রবণতা কমানোর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির উচিত:
    – শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতির মনোভাব পোষণ করা এবং তাদের সমস্যা বুঝে সমাধান করা।
    – সঠিক পড়াশোনার পদ্ধতি শেখানো এবং চাপ কমানোর জন্য মানসিক সহায়তা প্রদান।
    – পরীক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ রাখা।
    – নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া।

    বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাছে সঠিক গাইডলাইন এবং অভ্যন্তরীণ সহায়তার মাধ্যমে চিটিংয়ের প্রবণতা কমানো সম্ভব।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 52 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

ভালো অভিভাবকত্ব সম্পর্কিত কিছু টিপস কি ধরনের হতে পারে ?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    অভিভাবকত্ব একটি জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ, কিন্তু সঠিক পদ্ধতির সাথে, আপনি আপনার সন্তানদের জন্য একটি প্রেমময় এবং সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারেন। এখানে ভাল পিতামাতার জন্য কিছু টিপস আছে: নিঃশর্ত ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতাঃ আপনার সন্তানদের তাদের কর্ম বা অর্জন নির্বিশেষে তাদের ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতা দেখাবিস্তারিত পড়ুন

    অভিভাবকত্ব একটি জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ, কিন্তু সঠিক পদ্ধতির সাথে, আপনি আপনার সন্তানদের জন্য একটি প্রেমময় এবং সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারেন। এখানে ভাল পিতামাতার জন্য কিছু টিপস আছে:

    নিঃশর্ত ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতাঃ

    আপনার সন্তানদের তাদের কর্ম বা অর্জন নির্বিশেষে তাদের ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতা দেখান।

    কার্যকর যোগাযোগঃ

    আপনার বাচ্চাদের সাথে খোলামেলা এবং সৎ যোগাযোগ গড়ে তুলুন।

    স্পষ্ট এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ সীমানা সেট করুনঃ

    আচরণের জন্য স্পষ্ট নিয়ম এবং প্রত্যাশা স্থাপন করুন। সামঞ্জস্যতা গুরুত্বপূর্ণ।

    ইতিবাচক রোল মডেল হোনঃ

    শিশুরা তাদের পিতামাতার আচরণ পর্যবেক্ষণ করে শেখে। আপনার ক্রিয়াকলাপ এবং মনোভাব সম্পর্কে সচেতন থাকুন, কারণ তা আপনার সন্তানের বিকাশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।

    স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসনকে উত্সাহিত করুনঃ 

    আপনার বাচ্চাদের বয়স-উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে এবং তাদের কাজের জন্য দায়িত্ব নিতে দিন।

    একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলুনঃ

    বাড়িতে একটি পুষ্টিকর এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করুন। উৎসাহ প্রদান করুন, তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করুন

    একসাথে মানসম্পন্ন সময় কাটানঃ

    প্রতিটি শিশুর সাথে নিয়মিত এক সময় উত্সর্গ করুন। ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত হন যা তারা উপভোগ করে, সক্রিয়ভাবে তাদের কথা শোনেন এবং তাদের আগ্রহগুলিতে অংশ নেন।

    সমস্যা-সমাধানের দক্ষতা শেখানঃ

    আপনার বাচ্চাদের কীভাবে চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয় তা শিখিয়ে তাদের স্থিতিস্থাপকতা বিকাশে সহায়তা করুন।

    স্ব-যত্নকে অগ্রাধিকার দিনঃ

    কার্যকর অভিভাবকত্বের জন্য নিজের যত্ন নেওয়া অপরিহার্য। আপনার বিশ্রাম, শিথিলকরণ এবং ব্যক্তিগত আগ্রহের জন্য সময় আছে তা নিশ্চিত করুন।

    প্রয়োজনে সমর্থন খোঁজুনঃ

    পিতামাতার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সময় বন্ধু, পরিবার বা পেশাদারদের কাছ থেকে সমর্থন চাইতে দ্বিধা করবেন না।

    মনে রাখবেন যে, প্রতিটি শিশু অনন্য, এবং তাদের ব্যক্তিগত চাহিদার উপর নির্ভর করে পিতামাতার কৌশলগুলি পরিবর্তিত হতে পারে। আপনার সন্তানের মেজাজ এবং বিকাশের স্তর অনুসারে এই টিপসগুলিকে মানিয়ে নিন। আমরা কেউ অনন্য নই, আমাদের অনেক ভুল হয় এবং ভুলগুলো শুধরানোর চেষ্টা করা উচিত।

    পরিশেষে, একজন ভালো বাবা-মা হওয়ার জন্য ভালোবাসা, ধৈর্য এবং আপনার সন্তানের ভালো থাকার প্রতিশ্রুতি জড়িত।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 51 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

মানসিক রোগ (উৎকণ্ঠা) কেন হয়? কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিন

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    ৎকণ্ঠিত বা উৎকণ্ঠা হবার মানুষের অনেক যথার্থ কারন থাকে। যেমন আপনার পরিবারের কেউ হঠাৎ কিছু না বলে মোবাইল ফোন বন্ধ করে কোন কারন ছাড়াই যদি বাসায় না ফেরে তাহলে আপনি উৎকন্ঠিত হবেন। অথবা আগামিকাল আপনার একটি জটিল অপারেশন অথবা কোন ধরণের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক হুমকি, বিপদ বা অনাকাঙ্খিত ঘটনার আভাস পেলে আপনবিস্তারিত পড়ুন

    ৎকণ্ঠিত বা উৎকণ্ঠা হবার মানুষের অনেক যথার্থ কারন থাকে। যেমন আপনার পরিবারের কেউ হঠাৎ কিছু না বলে মোবাইল ফোন বন্ধ করে কোন কারন ছাড়াই যদি বাসায় না ফেরে তাহলে আপনি উৎকন্ঠিত হবেন।

    অথবা আগামিকাল আপনার একটি জটিল অপারেশন অথবা কোন ধরণের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক হুমকি, বিপদ বা অনাকাঙ্খিত ঘটনার আভাস পেলে আপনি সতর্কিত হবেন, সেটি মোকাবেলা করার জন্য উৎকণ্ঠিত হবেন এটাই স্বাভাবিক।

    প্রকৃত কারণে উৎকন্ঠিত হওয়াটা কোন অস্বাভাবিকতা নয় বা এটি কোন রোগও নয়। উৎকন্ঠা (Anxiety) বা এংজাইটি দুই রকম ভাবে হতে পারে।

    প্রথমত- উৎকন্ঠিত হবার মতো যথার্থ কোন কারন কোন আসন্ন বিপদ বা ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ মনগড়া কারনে অযথা ভীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন।

    যেমন স্কুল থেকে আপনার সন্তানটি হারিয়ে যাবে বা কিডনাপ হবে ভেবে স্কুলের গেটের কাছে বসে বসে ঘামেন বা স্কুলের ছাঁদ থেকে পড়ে যাবে ভেবে আপনার সন্তানকে স্কুলেই পাঠানো বন্ধ করে দেন।

    দ্বিতীয়ত- ভয় পাওয়ার কারন রয়েছে, কারন অপেক্ষা ও উৎকন্ঠার পরিমান অস্বাভাবিক বেশি। যেমন- আপনার পাশের ফ্লাটে অল্প বয়সি একজনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে শুনে ভাবতে থাকেন আমারও তো বুকে ব্যথা হয়, আমারও হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে।

    অথবা কোন বাড়ীতে চুরি হয়েছে শুনে চোরের ভায়ে চারটে কলাপসিবল গেটে আটটি তালা ঝুলিয়েও রাতে ঘুম আসছে না। দিনের পর দিন এভাবে চলতে চলতে আপনি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন।

    উৎকণ্ঠা বা এংজাইটিংর প্রকারভেদ:

    ১. জেনারেলাইজড এংজাইটি ডিসর্ডার:

    যেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় সবসময় সবকিছু নিয়ে উৎকন্ঠিত হন।

     ২. ফোবিক এংজাইটি ডিসর্ডার:

    কোন বিশেষ বস্তু, প্রানী, পরিবেশ, পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে উৎকন্ঠায় আক্রান্ত হওয়া। যেমন অনেক লোকের ভীড়ে গেলে উৎকন্ঠিত হওয়া, তাই ভীড়ের জায়গা এড়িয়ে চলেন তারা। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি ঐ বস্তু বা পরিস্থিতির সম্মুখীন না হলে উৎকন্ঠিত হন না।

    ৩. প্যানিক ডিসর্ডার:

    কোন বস্তু বা পরিস্থিতির সম্মুখীন না হয়েও মাঝে মাঝে নিজের কল্পনা প্রসুত কারনে উৎকন্ঠিত হওয়া। যেমন রাতে শুয়ে আছে, হঠাৎ আজ রাতে যদি আমার হার্ট অ্যাটাক হয় এটা ভেবেই নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দিলেন। এক্ষেত্রে উৎকন্ঠিত হবার মত নূন্যতম কোন বস্ত্ত বা ঘটনাই উপস্থিত নেই।

    উৎকণ্ঠা বা এংজাইটির লক্ষণসমুহ:

    ১. ভীতি গ্রস্থ হওয়া;

    ২. খিটখিটে মেজাজ;

    ৩. সামান্য শব্দে উত্তেজিত হওয়া;

    ৪. অস্থিরতা;

    ৫. মনোযোগের অভাব;

    ৬. ভুল পথে চিন্তা করা;

    ৭. মুখ-জিহবা শুকিয়ে যাওয়া ও পানি পিপাসা পাওয়া;

    ৮. ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া;

    ৯. পেটে অস্বস্তি বোধ করা;

    ১০. পেট ফাঁপা ভাব;

    ১২. বারবার বাথরুমে যাওয়া;

    ১৩. বুকে চাপ অনুভব করানিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া;

    ১৪. বুক ধরফর করা;

    ১৫. মেয়েদের পিরিয়ডের সমস্যা হওয়া;

    ১৬. হাত পা এর কাপুঁনি হওয়া – বিশেষত হাতের আঙ্গুল কাঁপা;

    ১৭. মাথা ব্যথা, গা ব্যথা, হাত পা জ্বালা করা;

    ১৮. ইনসমনিয়া (ঘুম কম হওয়া), হঠাৎ ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে জেগে উঠা, দুঃশ্চিন্তা করা;

    ১৯. দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানো;

    ২০. বসে বসে পা নাড়ানো;

    ২১. ক্ষিধে কমে যাওয়া;

    ২২. বিষন্নতা;

    ২৩. অবসেশন;

    বিশেষ কিছু নিয়ে ক্রমাগত ও বারবার চিন্তা করা (রাতে শোবার পর কয়েকবার উঠে দেখা যে, দরজা বন্ধ করা হয়েছে কি না);

    উৎকন্ঠায় আক্রান্ত হওয়ার কারন:

    ১. বিশেষ বস্তু, প্রাণী, ভীড়, সামাজিকতা ইত্যাদি এড়িয়ে চলা;

    ২. ঘাম হওয়া, বমি বমি ভাব হওয়া;

    ৩. হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসা;

    ৪. মৃত্যুভয় পাওয়া ইত্যাদি;

    সবগুলো লক্ষণ যে একই ব্যক্তির মধ্যে একসাথে পাওয়া যাবে তা কিন্তু নয়, বরং উৎকন্ঠার প্রকারভেদে কিছু লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন সময় দেখা যায়।

    মানসিক অসুস্থতার মধ্যে উৎকন্ঠা বা Anxiety নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তবে কেবলমাত্র ওষুধ প্রয়োগ করে এ রোগের লক্ষণগুলো কমিয়ে রাখা যায় কিন্তু পুরোপুরি নিরাময় করবার জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়া অনুসরন করা যেতে পারে। যেমন-

    ১. সাইকোথেরাপি বা মনোচিকিৎসা – মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে;

    ২. আচরণ পরবর্তন করার প্রক্রিয়া;

    ৩. শিথিলায়ন প্রক্রিয়া;

    ৪. মেডিটেশন;

    ৫. আত্মসম্মোহন;

    ৬. যোগব্যায়াম করতে হবে কমপক্ষে বিশ মিনিট করে প্রতিদিন;

    ৭. প্রয়োজন মতো ঘুমানো;

    ৮. খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন – সহজপাচ্য খবার ও প্রচুর পানি পান করা;

    ৯. ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় পরিহার করা ও অতিরিক্ত মদ্যপান কমানো;

    ১১. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এন্টি-এংজাইটি ওষুধ সেবন;

    ১২. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কারনে অকারনে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা;

    মনে রাখতে হবে একজন উৎকন্ঠিত রোগীর জন্য উপসর্গ, রোগীর বয়স ইত্যাদি ভেদে উপরের প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে বাছাই করে চিকিৎসা পদ্ধতি প্রদান করা হয়।

    এংজাইটি থেকে সৃষ্টি হতে পারে বিষন্নতার মতো কঠিন মানসিক ব্যাধি, এছাড়া এংজাইটি আমাদের যাপিত জীবনের গুণগত মান কমিয়ে দেয় বহুলাংশে। তাই উৎকন্ঠা নিয়ে উৎকন্ঠিত হবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

    তাই দেরি না করে উৎকন্ঠা কমানোর জন্য মেনে চলুন কিছু নিয়ম কানুন, মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম চর্চা করতে পারেন আর প্রয়োজনে সহায়তা নিন চিকিৎসকের।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 51 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
আরও প্রশ্ন লোড করুন

Sidebar

লগ ইন করুন
  • জনপ্রিয়
  • উত্তর
  • Mithun

    নির্মাণকাজে মরুভূমির বালু কেন ব্যবহার করা হয়না?

    • 12 টি উত্তর
  • Hina Khan

    Is Telegram MOD APK safe to use? What are the ...

    • 9 টি উত্তর
  • shanto

    ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন, লাইসেন্সের অনলাইন কপি ডাউনলোড, লাইসেন্স হয়েছে ...

    • 8 টি উত্তর
  • Admin

    নতুন ক্যাটাগরি "SEO" যুক্ত হলো আড্ডাবাজে!

    • 7 টি উত্তর
  • Mahmudul

    একটি ঘোর লাগানো ছবি দেখাতে পারবেন কি?

    • 6 টি উত্তর
  • mar7w7
    mar7w7 একটি উত্তর দিয়েছেন great post! জুন 15, 2026, সময়ঃ 2:56 পূর্বাহ্ন
  • M Sarah
    M Sarah একটি উত্তর দিয়েছেন তাফসীরুল কুরআনিল আযীম বা তাফসীরে ইবনে কাসীর ইসলামী বিশ্বের অন্যতম… জুন 10, 2026, সময়ঃ 9:18 পূর্বাহ্ন
  • rakib
    rakib একটি উত্তর দিয়েছেন ২০২৬ সালে বাংলাদেশে বিয়ের গহনার দাম নির্ভর করে সোনার ক্যারেট,… মে 3, 2026, সময়ঃ 10:32 পূর্বাহ্ন
  • Jesmin
    Jesmin একটি উত্তর দিয়েছেন HSC ২০২৬ পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ২… এপ্রিল 27, 2026, সময়ঃ 2:01 অপরাহ্ন
  • Sinclair
    Sinclair একটি উত্তর দিয়েছেন When shopping for best sex dolls, most buyers tend to… এপ্রিল 17, 2026, সময়ঃ 3:10 পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় গ্রুপ

  • মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    • 4 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 106 বার প্রদর্শিত
  • Knowledge World

    Knowledge World

    • 3 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 118 বার প্রদর্শিত
  • CT Game Review

    CT Game Review

    • 3 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 1,121 বার প্রদর্শিত
  • Earn Money

    • 3 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 156 বার প্রদর্শিত
  • WordPress Themes & Plugins

    WordPress Themes & Plugins

    • 2 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 209 বার প্রদর্শিত

চলতি মাসের সেরা ইউজার

Alice Moto

Alice Moto

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
Better display

Better display

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
www.linkfree7.pages.dev - CLAIM MORE CASH SUPPORT dsz

www.linkfree7.pages.dev - CLAIM MORE CASH SUPPORT dsz

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
www.linkfree7.pages.dev - REVEAL YOUR MEGA SURPRISE an8

www.linkfree7.pages.dev - REVEAL YOUR MEGA SURPRISE an8

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
www.linkfree7.pages.dev - GRAB YOUR BONUS SURPRISE z68

www.linkfree7.pages.dev - GRAB YOUR BONUS SURPRISE z68

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
লগ ইন করুন

Explore

  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

Footer

AddaBuzz.net

আড্ডাবাজ একটি সামাজিক প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিন। যেখানে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একে অপরের জ্ঞান আদান-প্রদান হয়। প্রশ্ন করুন, উত্তর দিন, জ্ঞান ভাগাভাগি করুন।

Adv 234x60

aalan

আমাদের সম্পর্কিত

  • আমাদের টিম
  • আমাদের লক্ষ্য

লিগ্যাল স্টাফ

  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions
  • Data Deletion Instructions

সাহায্য

  • Knowledge Base
  • Contact us

আমাদের ফলো করুন

© 2026 AddaBuzz. All Rights Reserved
With Love by AddaBuzz.net

✕
🔔 নোটিফিকেশন চালু করুন নতুন প্রশ্নোত্তর ও ব্লগ আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন