বাংলাদেশের বাঙ্গালী আর ভারতীয় বাংগালীরা কাদের বংশধর?
শেয়ার করুন
সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
@ashadkhandaker ভাইকে ধন্যবাদ সুন্দর প্রশ্নটি করার জন্য। যদিও এর উত্তর আমরা অনেকেই জানি অথবা পাঠ্যবইয়ে পড়েছি। তবুও আমি আরও সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছি। সংক্ষেপে বললে, বাংলাদেশের বাঙ্গালী এবং ভারতীয় বাঙ্গালীরা (পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালী) একই জাতিগত গোষ্ঠীর মানুষ। তাদের বংশধর বা পূর্বপুরুষ একই। ১৯৪৭ সালের দেশভবিস্তারিত পড়ুন
ashad khandaker ভাইকে ধন্যবাদ সুন্দর প্রশ্নটি করার জন্য। যদিও এর উত্তর আমরা অনেকেই জানি অথবা পাঠ্যবইয়ে পড়েছি। তবুও আমি আরও সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছি।
সংক্ষেপে বললে, বাংলাদেশের বাঙ্গালী এবং ভারতীয় বাঙ্গালীরা (পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালী) একই জাতিগত গোষ্ঠীর মানুষ। তাদের বংশধর বা পূর্বপুরুষ একই। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের কারণে তারা রাজনৈতিকভাবে দুটি ভিন্ন দেশের নাগরিক হয়েছেন, কিন্তু তাদের জাতিগত উৎস একই।
বাঙ্গালী জাতি কোনো একটি একক গোষ্ঠী থেকে আসেনি। এটি একটি সংকর জাতি (Mixed ethnicity), যা হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মিশ্রণে তৈরি হয়েছে।
বাঙ্গালীদের পূর্বপুরুষদের প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়, যারা বিভিন্ন সময়ে এই ব-দ্বীপ অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করেছে:
১. অস্ট্রো-এশিয়াটিক (Austro-Asiatic) বা অস্ট্রিক
এরাই বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন জনগোষ্ঠী। প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার বছর আগে তারা এই অঞ্চলে আসে। ধারণা করা হয়, আজকের দিনের সাঁওতাল, মুন্ডা, খাসি প্রভৃতি আদিবাসীরা এই ধারার মানুষ। বাঙ্গালীর মূল ভিত্তি বা কাঠামো এই অস্ট্রিক জনগোষ্ঠীই তৈরি করেছিল।
২. দ্রাবিড় (Dravidian)
অস্ট্রিকদের পরে এই অঞ্চলে দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর আগমন ঘটে। সিন্ধু সভ্যতার (হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো) পতনের পর দ্রাবিড়রা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে বাংলাও ছিল। অস্ট্রিকদের সাথে দ্রাবিড়দের মিশ্রণ ঘটে, যা বাঙ্গালী জাতি গঠনের দ্বিতীয় ধাপ।
৩. ইন্দো-আর্য (Indo-Aryan)
খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৫০০ অব্দের দিকে বা তার কিছু পরে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আর্যরা বাংলায় প্রবেশ করতে শুরু করে। আর্যরা তাদের সাথে নিয়ে আসে সংস্কৃত ভাষা, যা থেকেই পরবর্তীতে পালি, প্রাকৃত এবং অপভ্রংশের মাধ্যমে আজকের ‘বাংলা’ ভাষার জন্ম হয়েছে। আর্যরা বাংলার আদি জনগোষ্ঠীর (অস্ট্রিক ও দ্রাবিড়) সাথে মিশে যায়।
৪. তিব্বতি-বর্মী (Tibeto-Burman)
বাংলার উত্তর এবং পূর্ব দিক (হিমালয়ের পাদদেশ, মিয়ানমার) থেকে মঙ্গোলয়েড বা তিব্বতি-বর্মী গোষ্ঠীর মানুষরাও বিভিন্ন সময়ে এসে মূল বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর সাথে মিশেছে। চাকমা, মারমা, গারো ইত্যাদি জনগোষ্ঠী এই ধারার উদাহরণ এবং তাদের প্রভাবও মূল বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কমবেশি দেখা যায়।
সহজ কথায়…
বাঙ্গালী জাতি হলো একটি মিশ্র জাতি। এর ভিত্তি তৈরি করেছে অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় জনগোষ্ঠী। পরবর্তীতে এর সাথে মিশেছে উত্তর থেকে আসা ইন্দো-আর্য এবং পূর্ব থেকে আসা তিব্বতি-বর্মী জনগোষ্ঠী।
তাই, আমাদের ভাষা (বাংলা) এসেছে ইন্দো-আর্য গোষ্ঠী থেকে, কিন্তু আমাদের রক্ত বা জাতিগত পরিচয় এই চারটি প্রধান ধারার এক জটিল ও হাজার বছরের পুরোনো মিশ্রণ।
সংক্ষেপে দেখুন