সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
Psychological questions
নীল রং কেন আমাদের ভীষণ প্রিয় ?
আমার কাছে মনেহয় দিনের বেশিরভাগ সময় আমরা আকাশকে নীল দেখি। আবার আমাদের সমুদ্র ভালোলাগে আর সমুদ্রের পানি নীল। সকল রংএর মধ্যে নীল রং দেখতে দেখতে আমরা বড় হই। এজন্য বেশিরভাগ মানুষের নীল রঙ পছন্দের রং।
আমার কাছে মনেহয় দিনের বেশিরভাগ সময় আমরা আকাশকে নীল দেখি। আবার আমাদের সমুদ্র ভালোলাগে আর সমুদ্রের পানি নীল। সকল রংএর মধ্যে নীল রং দেখতে দেখতে আমরা বড় হই। এজন্য বেশিরভাগ মানুষের নীল রঙ পছন্দের রং।
সংক্ষেপে দেখুনহালাল সনদ নীতিমালা কি? কেন এই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার ?
হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেছেন, “খাদ্য, ভোগ্যপণ্য, প্রসাধনী এবং ওষুধের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়া যেন মেনে চলা হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেছেন, “খাদ্য, ভোগ্যপণ্য, প্রসাধনী এবং ওষুধের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়া যেন মেনে চলা হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
সংক্ষেপে দেখুনরোযা রেখে টিভি দেখা গান শোনা বা মেয়েদের অশ্লীল ছবি দেখলে রোযা হবে কি?
রোজা রেখে অশ্লীল ভিডিও দেখা যাবে না বরং এ অবস্থায় নাটক-সিনেমা ও নাচ-গানও বর্জন করা জরুরি। কারণ রমজানের উদ্দেশ্য হলো, তাকওয়া-পরহেজগারি বা আল্লাহভীতি ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত নাটক-সিনেমা ও নাচ-গান সাধারণত তাকওয়া অর্জনে বিরুদ্ধ কাজ। এগুলোর বেশির ভাগই রোজার শিক্ষা ও উদ্দেশবিস্তারিত পড়ুন
রোজা রেখে অশ্লীল ভিডিও দেখা যাবে না বরং এ অবস্থায় নাটক-সিনেমা ও নাচ-গানও বর্জন করা জরুরি। কারণ রমজানের উদ্দেশ্য হলো, তাকওয়া-পরহেজগারি বা আল্লাহভীতি ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত নাটক-সিনেমা ও নাচ-গান সাধারণত তাকওয়া অর্জনে বিরুদ্ধ কাজ। এগুলোর বেশির ভাগই রোজার শিক্ষা ও উদ্দেশ্যের বিপরীত। তাই এসব পরিহার করা উচিত।
সংক্ষেপে দেখুনসৈনিকেরা প্রথমে বাঁ পা দিয়ে মার্চ শুরু করে কেন?
বাঁ পায়ের সঙ্গে ডান হাতের এবং ডান পায়ের সঙ্গে বাঁ হাতের ছন্দোবদ্ধ ও সমন্বিত সক্রিয়তা রয়েছে। তাই প্রথমে বাঁ পা এগিয়ে দিলে একই সঙ্গে ডান হাত সক্রিয় অবস্থানে তৈরি থাকে এবং ডান হাতের অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করা সহজ হয়।
বাঁ পায়ের সঙ্গে ডান হাতের এবং ডান পায়ের সঙ্গে বাঁ হাতের ছন্দোবদ্ধ ও সমন্বিত সক্রিয়তা রয়েছে। তাই প্রথমে বাঁ পা এগিয়ে দিলে একই সঙ্গে ডান হাত সক্রিয় অবস্থানে তৈরি থাকে এবং ডান হাতের অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করা সহজ হয়।
সংক্ষেপে দেখুনট্রাকের সামনের অংশ হলুদরঙা হয় কেন?
আমাদের দেশে বেশির ভাগ ট্রাক রাতের বেলায় পণ্য পরিবহন করে থাকে। ট্রাকের সামনের অংশ হলুদরঙা হওয়ার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির চালক স্পষ্টভাবে ট্রাকের গতিবিধি বুঝতে পারেন। কারণ এটা দূর থেকেও নজরে পড়ে। হলুদ রঙ কে ইংরেজিতে বলে Most visible color at dark । দিনের বেলায় আমাদের চোখে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় ধরবিস্তারিত পড়ুন
আমাদের দেশে বেশির ভাগ ট্রাক রাতের বেলায় পণ্য পরিবহন করে থাকে। ট্রাকের সামনের অংশ হলুদরঙা হওয়ার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির চালক স্পষ্টভাবে ট্রাকের গতিবিধি বুঝতে পারেন। কারণ এটা দূর থেকেও নজরে পড়ে। হলুদ রঙ কে ইংরেজিতে বলে Most visible color at dark ।

সংক্ষেপে দেখুনদিনের বেলায় আমাদের চোখে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় ধরা দেয় সবুজ রং কিন্তু রাতের অন্ধকারে সবুজের চেয়ে হলুদ রং বেশ দ্রুত আমাদের চোখে ধরা পড়ে। কারণ সূর্যের আলোতে সবুজ আলোর ফ্রিকোয়েন্সি (তরঙ্গ দৈর্ঘ্য) বেশি। অন্যদিকে রাতের কৃত্রিম আলোতে হলুদ রঙের ফ্রিকোয়েন্সি বেশি মাত্রায় ধরা দেয়। রাতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাকের সামনের অংশ হলুদরঙা করা হয়।
কলার খোসায় পা পিছলে যায় কেন?
যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুতে ঘর্ষণ বা ফ্রিকশন হলে দুটি বলের উদ্ভব ঘটে। ঘর্ষণজনিত বল এবং উল্লম্ব বল। আমাদের জুতার তলা এবং কলার খোসার ঘর্ষণজনিত গুণাঙ্কের মাত্রা হয় মাত্র দশমিক শূন্য ছয় (০.০৬৬)। সেজন্য কলার খোসায় পা পড়লে সহজেই পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুতে ঘর্ষণ বা ফ্রিকশন হলে দুটি বলের উদ্ভব ঘটে। ঘর্ষণজনিত বল এবং উল্লম্ব বল।

সংক্ষেপে দেখুনআমাদের জুতার তলা এবং কলার খোসার ঘর্ষণজনিত গুণাঙ্কের মাত্রা হয় মাত্র দশমিক শূন্য ছয় (০.০৬৬)। সেজন্য কলার খোসায় পা পড়লে সহজেই পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আমরা স্বপ্ন রঙীন না দেখে সাদাকালো কেন দেখি?
স্বপ্নের রং আসলে যে কি এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা হয়ে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়ে বলা যায়নি স্বপ্নের রং। শুরুর দিকে করা স্টাডিগুলোর রিপোর্টে বলা হত যে স্বপ্ন খুব সম্ভবত সাদা কালো। কিন্তু নতুন করা স্টাডিগুলোর রিপোর্টে বলা হচ্ছে মানুষ যে শুধু সাদা কালো স্বপ্নই দেখে তা নয়, মানুষ রঙিন স্বপ্নবিস্তারিত পড়ুন
স্বপ্নের রং আসলে যে কি এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা হয়ে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়ে বলা যায়নি স্বপ্নের রং। শুরুর দিকে করা স্টাডিগুলোর রিপোর্টে বলা হত যে স্বপ্ন খুব সম্ভবত সাদা কালো। কিন্তু নতুন করা স্টাডিগুলোর রিপোর্টে বলা হচ্ছে মানুষ যে শুধু সাদা কালো স্বপ্নই দেখে তা নয়, মানুষ রঙিন স্বপ্নও দেখতে পারে।
সাধারনত স্বপ্নের ব্যাপারে তথ্য যোগাড় করা হয়ে থাকে আরেকজনের কাছ থেকে তার স্বপ্নের কথা শুনে অথবা তার ব্রেইন এক্টিভিটি মনিটর করে। এগুলো করা সম্ভব। কিন্তু স্বপ্নটা সে কি রঙিন স্বপ্ন না সাদাকালো অথবা ধূসর দেখছে এটা বলা সত্যিই একটু কঠিন বটে। অন্যের মাথার মধ্যে ঢুকে তো আর দেখা যায়না ব্যাটা কি স্বপ্ন দেখছে! তারপরেও বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছে আপন গতিতে। কে জানে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে “ইনসেপশন” মুভিটার মতই স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে!
সংক্ষেপে দেখুনকেউ কেউ ডানহাতি আবার কেউ কেউ বামহাতি কেন হয়?
সারা পৃথিবীতেই মানুষের মধ্যে জাতিগত, বর্ণগত কিংবা অভ্যাসগত পার্থক্য আছে। এসব মুখ্য পার্থক্যের পাশাপাশি কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্যও আছে। মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পার্থক্যও এরকমই একটি। পরিসংখ্যান বলছে মানুষের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশই ডানহাতি। তাহলে সাধারণ গণিতের হিসেবে বাকি ১০-১৫ শতাংশ বামহাতি হওয়ার কবিস্তারিত পড়ুন
সারা পৃথিবীতেই মানুষের মধ্যে জাতিগত, বর্ণগত কিংবা অভ্যাসগত পার্থক্য আছে। এসব মুখ্য পার্থক্যের পাশাপাশি কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্যও আছে। মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পার্থক্যও এরকমই একটি। পরিসংখ্যান বলছে মানুষের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশই ডানহাতি। তাহলে সাধারণ গণিতের হিসেবে বাকি ১০-১৫ শতাংশ বামহাতি হওয়ার কথা।
প্রাচীন যুগ থেকেই মানব সমাজে ডানহাতি মানুষ যেমন ছিল, কিছু সংখ্যক বামহাতি মানুষও ছিল। যদিও বামহাতি হওয়ার কারণে তাদের অনেককেই পোহাতে হয়েছে নানা ধরনের অত্যাচার। কারণ কোনো ব্যক্তি বামহাতি হলে ধারণা করা হত যে, ওই ব্যক্তি শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত। কারণ বিভিন্ন সময়ে শয়তানকে বামহাতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ‘Sinister’ বা ‘অশুভ’ শব্দটি এসেছে ‘Left’ শব্দটি থেকে।

৮৫-৯০ শতাংশ মানুষ ডানহাতি, বাকিরা বামহাতি হয়; Source: catholiccharities-sbc.org
মধ্যযুগে বামহাত দিয়ে কোনো ব্যক্তিকে লিখতে বা খাবার খেতে দেখলে তাকেও শয়তানের দ্বারা আক্রান্ত, কিংবা শয়তানের বন্দনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। আধুনিক যুগ যদিও শিক্ষা-সংস্কৃতিতে অনেকদূর এগিয়ে গেছে এবং কুপ্রথা ও কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসেছে, তথাপি বামহাতি ব্যক্তিদের প্রতি সবারই আলাদা একপ্রকার মনোভাব আছে।
তো এই যে, মানুষের মাঝে ডানহাতি কিংবা বামহাতি বৈশিষ্ট্যের দেখা মেলে, এই বৈশিষ্ট্যের মূল রহস্য কী? কেন মানুষ হয় ডানহাতি অথবা বামহাতি হয়?
মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পেছনে বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ প্রধানত দুইটি তত্ত্বের কথা বলেন। প্রথমটি প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব এবং অপরটি জিন-তত্ত্ব। যদিও দুইটি তত্ত্ব কিছুটা ভিন্নরকম মতামত দেয়, কিন্তু দুইটি তত্ত্বের কোনো একটিকে ভুল প্রমাণ করার মতো তথ্য-উপাত্ত এই মুহূর্তে নেই। অর্থাৎ দুইটি তত্ত্বই তাদের ‘পয়েন্ট অফ ভিউ’ থেকে সঠিক। এদেরকে একে অপরের পরিপূরকও বলা চলে।
প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব অনুসারে, মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হয়েছে মূলত মানুষের ভাষা ও কথা বলার ক্ষমতার কারণে। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আসতে পারে যে ভাষা কিংবা সেই ভাষায় কথা বলার কারণে মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার কী সম্পর্ক! সম্পর্ক আছে, বরং আরো বলা চলে ভাষা এবং সেই ভাষায় কথা বলা ছাড়াও লেখার ক্ষমতার কারণে এই ডানহাতি-বামহাতি স্বভাব সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু কীভাবে?

একজন ডানহাতি মানুষের মস্তিষ্কের গঠন; Source: guernseydonkey.com
মানুষ তার আদি থেকে যোগাযোগের জন্য সংকেত ব্যবহার করতো। সেই সংকেত কালক্রমে ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে। আধুনিক মানুষের ভাষা বাস্তবে কিছু ধ্বনি বা সংকেত ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে বেশিরভাগ মানুষের মস্তিষ্কের বাম অংশ ভাষা বা সংকেত প্রক্রিয়াকরণ করে। বাম মস্তিষ্ক আবার একই সাথে ডান হাতের পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। কেবল ডান হাতের পেশীই নয়, ডান চোখ, ডান কান, ডান পা-ও নিয়ন্ত্রণ করে বাম মস্তিষ্ক।
ফলাফল দাঁড়াচ্ছে এই যে, ভাষা যেমন বলার সময় প্রথমে মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াকরণ হয়, তারপর মুখে আসে, তেমনি লেখার সময় ভাষা প্রথমে মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াকরণ হয় তারপর হাতে আসে। তাহলে, যাদের ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয় বাম মস্তিষ্কে, তাদের ডানহাত হবে কার্যকরী হাত। কারণ লেখার সময় ডান হাতের উপরই থাকবে লেখার ভার।
আগেই হিসেব দেওয়া হয়েছে যে, প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষ ডানহাতি। অর্থাৎ, এই ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষের বাম মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়। বাকি ১০-১৫ শতাংশের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ডান অংশে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়। এবং ডান মস্তিষ্ক বাম হাতের পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ, তাদের ক্ষেত্রে বামহাতই হয় মুখ্য হাত। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণের উপরই নির্ভর করে ব্যক্তি ডানহাতি হবে নাকি বামহাতি হবে।

বামহাতি মানুষের ডান মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়; Source: webmd.com
জিন তত্ত্ব, মানুষের শারীরিক কিংবা মানসিক সকল প্রকার বৈশিষ্ট্যের ধারক এবং বাহক হচ্ছে জিন। কারো চোখ কালো, কারো আবার বাদামী, কারো সাদা অথবা কারো চুলের রঙ কালো, কারো লাল, কারো আবার সোনালী কিংবা কেউ নীল রঙ পছন্দ করে, কেউ সবুজ ইত্যাদি- এইসব শারীরিক বা মানসিক বৈশিষ্ট্যের মূল কারণ আলাদা আলাদা জিন।
মানুষের ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের কোনো জিনের অবদান আছে বলে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা মনে করেন। এক্ষেত্রে জেনেটিক মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন অন্যতম ভূমিকা পালন করে।
সাধারণত একটি লোকেশনে একটি জিনের দুইটি অনুলিপি থাকে। এই অনুলিপিদ্বয়ের একটিকে অপরটির ‘অ্যালীল’ (allele) বলা হয়। ডান-বাম অসমতার ক্ষেত্রে একটি অ্যালীলকে বলা হয় D জিন। এই D এসেছে ‘Dextral’ শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘Right’। অপর অ্যালীলটিকে বলা হয় C জিন। C এসেছে ‘Chance’ শব্দ থেকে। অ্যালীল জিন কীভাবে কাজ করে সেটি আগে জানা প্রয়োজন। একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বোঝা যাক।
ধরা যাক, কোনো মানুষের চোখের মনি বাদামী হওয়ার পেছনে একটি জিন কাজ করে। এর জিনোটাইপ ধরা যাক (Bb)। এখানে বাদামী বর্ণের জন্য দায়ী B জিনটি, কালো বর্ণের জন্য দায়ী b জিনের উপর প্রকট। বাদামী বর্ণের জন্য দায়ী জিন এসেছে পিতার জনন কোষ থেকে এবং কালো বর্ণের জন্য দায়ী জিন এসেছে মাতার জনন কোষ থেকে। তাহলে এই দুইটি জিন হচ্ছে একে অপরের অ্যালীল। এখানে যেহেতু B জিনটি প্রকট এবং b জিনটি প্রচ্ছন্ন, তাই সন্তানের চোখের মণির বর্ণ হয়েছে বাদামী।
ঠিক একইভাবে ডানহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রকট জিন হচ্ছে D জিন। বেশিরভাগ ডানহাতি মানুষের ক্ষেত্রে ডানহাতি হওয়ার জন্য মূলত এই D জিনের ভূমিকা থাকে। বামহাতিদের ক্ষেত্রে থাকে C জিনের ভূমিকা। তবে মানুষের মধ্যে D জিনের প্রকটতা বেশি থাকায় অধিক সংখ্যক মানুষ ডানহাতি হয়ে থাকে। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে যে, কেবল C জিন প্রকট থাকলেও সেখানে বামহাতি হওয়ার সম্ভাবনা ৫০-৫০।

ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার জিনগত তত্ত্ব; Source: Edited
এখানে আরো একটি হাইপোথিসিস আছে। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে আমরা জানি যে, মানুষের মস্তিষ্কের যে অংশ ভাষা প্রক্রিয়াকরণ করে, তার বিপরীত হাত হয় মানুষের কর্তৃত্বপূর্ণ হাত। অর্থাৎ, বাম মস্তিষ্ক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ করলে মানুষ হয় ডানহাতি। এখানে জেনেটিক মিউটেশনের কিছু ব্যাপার আছে।
ডিসলেক্সিয়া নামক একপ্রকার রোগ আছে। সহজ কথায় এই রোগের উপসর্গ হচ্ছে কোনো কিছু পড়ার অক্ষমতা। কথা বলার ভাষার সাথে বর্ণ এবং অক্ষরের সামঞ্জস্য বুঝতে না পারাটাই হচ্ছে ডিসলেক্সিয়া রোগীর বৈশিষ্ট্য। কারণ ডিসলেক্সিয়া রোগটি মস্তিষ্কের সেই অংশকে আক্রান্ত করে যে অংশ ভাষার প্রক্রিয়াকরণ করে।

সাধারণ মস্তিষ্ক বনাম ডিসলেক্সিয়াগ্রস্ত মস্তিষ্ক; Source: brainconnection.brainhq.com
এই রোগের কারণ মূলত জেনেটিক মিউটেশন। অ্যালীল সম্বন্ধে জিন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি অ্যালীল জিনের ক্ষেত্রে দুইবার মিউটেশনের সুযোগ থাকে। জিনের এই মিউটেশনের পর অনেক ক্ষেত্রেই আসল বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
যেহেতু ডিসলেক্সিয়া মস্তিষ্কের ভাষা প্রক্রিয়াকরণ অংশে আক্রমণ করে, ফলে ব্যক্তির ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রেও এর কোনো ভূমিকা থাকতে পারে। ডিসলেক্সিয়া রোগের জন্য পিসিএসকে-৬ (PCSK-6) নামক একটি জিনকে দায়ী করা হয়। মানুষের ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে এই বিশেষ জিনের কোনো ভূমিকা আছে কিনা তা নিয়ে গবেষকরা অনেক গবেষণা করেছে।
গবেষকরা বলছে যে, ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার জন্য পিসিএসকে-৬ জিনকে এককভাবে দায়ী করা যায় না, বরং এর সাথে সহযোগী হিসেবে আরো কতিপয় জিনের অবদান আছে। একত্রে এসব জিন মানুষের ডান-বাম অসমতার জন্য দায়ী। যেহেতু এখানে মিউটেশনের ব্যাপার আছে। কাজেই সর্বশেষ মিউটেশনের পরেই জানা যায় যে, আসলে ডান অংশ প্রধান, নাকি বাম অংশ।
এখানে আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যাপার আছে। ডান-বাম অসমতার জন্য দায়ী জেনেটিক প্রক্রিয়া যখন কোনো কারণে বিঘ্নিত হয়, তখন গুরুতর কিছু শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে। যেমন, মানব শরীরের ডান অংশের অঙ্গ বা অঙ্গাণুগুলো বাম অংশে অবস্থান নিতে পারে এবং এর বিপরীত ঘটনাও ঘটতে পারে।
এই ঘটনাকে বলা হয় সাইটাস ইনভার্সাস (Situs Inversus)। এই জিনগত পরিবর্তনের ফলেই অনেকের হৃৎপিণ্ড শরীরের বামপাশের পরিবর্তে ডানপাশে অবস্থান করে। এখন যদি ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ঘটনা শারীরিক অসমতার ফলাফল হয়, সেক্ষেত্রে সাইটাস ইনভার্সাসকে দায়ী করা যেতে পারে। কিন্তু এটি এখনো একটি হাইপোথিসিস এবং এটি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

সাইটাস ইনভার্সাস; Source: healthjade.net
আধুনিক গবেষণা আরো তথ্য দিচ্ছে আমাদের। যেমন আধুনিক গবেষকরা বলছে যে, ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মস্তিষ্ক নয় বরং স্পাইনাল কর্ডই দায়ী। মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স অঞ্চলে হাত ও পায়ের সঞ্চালন প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোটর কর্টেক্স এই সিগন্যাল স্পাইনাল কর্ডে প্রেরণ করে। স্পাইনাল কর্ড তখন এই সিগন্যালকে পেশী সঞ্চালন রূপান্তরিত করে।
মানুষ যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন থেকেই কিন্তু এই ডান-বাম অসমতা লক্ষ্য করা যায়। গর্ভবতী মায়েদের উপর আল্ট্রাসনোগ্রাফির দ্বারা পরীক্ষা করে জানা যায় যে, গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রায় ১৩ সপ্তাহ পর থেকেই বাচ্চার মধ্যে হাত চোষার প্রবণতা দেখা যায়। অর্থাৎ, কোনো বাচ্চা ডান হাত চোষে, কোনো বাচ্চা চোষে বাম হাত।
কিন্তু ১৫ সপ্তাহের আগে মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স এবং স্পাইনাল কর্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র তৈরি হয় না। তাহলে কীভাবে ১৩ সপ্তাহের বাচ্চার মধ্যে ডান-বাম অসমতা লক্ষ্য করা যায়?
গবেষকদের গবেষণায় উঠে আসে সেই তথ্য। স্পাইনাল কর্ডের জিনগত বৈশিষ্ট্যই মূলত এখানে দায়ী। স্পাইনাল কর্ডের জিনের কার্যক্রমের কারণেই ডান-বাম অসমতার সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, তাদের গবেষণা মতে মস্তিষ্ক নয় বরং স্পাইনাল কর্ডের জিনগত বৈশিষ্ট্যই ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
ডান-বাম অসমতা অর্থাৎ, ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়া ছাড়াও ‘Ambidextrous’ বা সব্যসাচী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষের সন্ধানও পাওয়া যায়। যদিও এই সংখ্যা খুবই নগণ্য। ১ শতাংশেরও কম মানুষের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। যেটি আসলে একপ্রকার ব্যতিক্রম ঘটনা এবং খুবই দুর্লভ।

‘Ambidextrous’ মানুষের দুই হাতই সমান কর্তৃত্বপূর্ণ; Source: britannica.com
Ambidextrous বা সব্যসাচী বলতে বোঝায়, যেসব মানুষের ডান-বাম অসমতা নেই। অর্থাৎ যারা তাদের দুইটি হাতই সমানভাবে এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম, তারাই সব্যসাচী। যদি প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের নিউরোলজিক্যাল ব্যাখ্যা দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে সব্যসাচী মানুষের ক্ষেত্রে তাদের মস্তিষ্কের ডান এবং বাম অংশ উভয়ই সমানভাবে কার্যকর।
যদিও ডানহাতি বা বামহাতি কিংবা উভয়হাতি অর্থাৎ সব্যসাচী হওয়ার ক্ষেত্রে তত্ত্ব ও হাইপোথিসিস দেয়া হয়েছে বেশ, তথাপি এক্ষেত্রে কোন তত্ত্বটি সঠিক বা কোনটি নয় সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। কখনো কখনো গবেষকরা বলছেন যে, উভয় তত্ত্বই সঠিক। তত্ত্বগুলো একে অপরের পরিপূরক। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে বিস্তারিত জানা যাবে এদের সম্পর্ক।
আমরা মস্তিষ্কের কত শতাংশ ব্যবহার করি?
সুবিশাল এই জীবজগতে অন্যান্য প্রাণিদের সাথে মানুষের সবথেকে বড় পার্থক্য হলো মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের গঠন, কার্যপদ্ধতি, নিউরন ঘনত্বের আধিক্য আর দেহের অন্যান্য অঙ্গের সাথে এর প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষকে অনন্যতা দান করেছে। অস্তিত্বের সূচনালগ্ন থেকে মানুষ এই মস্তিষ্ক ব্যবহার করে বুদ্ধবিস্তারিত পড়ুন
সুবিশাল এই জীবজগতে অন্যান্য প্রাণিদের সাথে মানুষের সবথেকে বড় পার্থক্য হলো মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের গঠন, কার্যপদ্ধতি, নিউরন ঘনত্বের আধিক্য আর দেহের অন্যান্য অঙ্গের সাথে এর প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষকে অনন্যতা দান করেছে। অস্তিত্বের সূচনালগ্ন থেকে মানুষ এই মস্তিষ্ক ব্যবহার করে বুদ্ধিকৌশল প্রয়োগে করেছে কালজয়ী সব আবিষ্কার, রচনা করেছে ইতিহাস আর পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়েছে আরো উন্নত জীবন। চিন্তার খোরাক থেকে নতুন কিছু সৃষ্টি করে জন্ম হয়েছে কত কিংবদন্তির।
কিন্তু যে মস্তিষ্ককে ব্যবহার করে করা হয়েছে এত কিছু, সেই মস্তিষ্কের অনেক রহস্য এখনও অধরাই থেকে গেছে বিজ্ঞানীদের কাছে। যুগে যুগে আমরা পেয়েছি মস্তিষ্কের অনেক নতুন নতুন তথ্য, যার কোনোটি আবার পুরানোকে সরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে অন্যগুলো প্রমাণের ভিত্তিতে এখনও টিকে আছে। আর তাই এত সংশয়ের জন্যই জন্ম হয়েছে অনেকে গুজব আর আজব সব মিথের। আবার সেসব মিথের অনেকগুলোই অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে ভুল প্রমাণিত হয়েছে, আবার কোনোটির এখনও প্রমাণ মিলেনি।
Source: Visually
পূর্ণবয়স্ক একজন স্বাভাবিক মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা কত বলতে পারবেন? উত্তরটা হলো প্রায় ৮৬ বিলিয়ন। আর এতগুলো নিউরনের প্রতিটিতে আছে প্রায় ১০ হাজার সিন্যাপটিক যোগাযোগ। আর সব মিলিয়ে মোট সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১০০ ট্রিলিয়নে, যার সর্বোচ্চ হিসেবটা গিয়ে ঠেকতে পারে ১,০০০ ট্রিলিয়নে। এত এত নিউরন আর সিন্যাপসগুলো বৈদ্যুতিক আর রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে মস্তিষ্কের সাথে সারা দেহের যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে প্রতি মুহূর্তে।
Source: Slide Player
আচ্ছা, কোনো গাণিতিক সমস্যা সমাধান কিংবা কঠিন কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সময় ভেবেছেন কি আপনি নিজের মস্তিষ্কের কতটুকু অংশ ব্যবহার করছেন? হয়তো কোনো মোটিভেশনাল স্পিচে, জনপ্রিয় কোনো মুভি, বই কিংবা কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি দেখে থাকতে পারেন ‘মানুষ কেবল নিজের মস্তিষ্কের দশ শতাংশ ব্যবহার করে!’
আচ্ছা তাহলে তাহলে বাকি নব্বই শতাংশ কি অলস হয়ে বসে থাকে? নাকি কোনো অদৃশ্য দেয়াল তাদের আলাদা করে রেখেছে আপনার মস্তিষ্কের কার্যকর অংশ থেকে? যদি একশো শতাংশই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকত তবে কি আপনি আপনার পছন্দের সুপারহিরো হয়ে যেতে পারতেন! নাকি টেলিকাইনেটিক শক্তির মতো অতিপ্রাকৃতিক কোনো ক্ষমতার জন্ম হতো আপনার মধ্যে! নাকি আইনস্টাইন আর নিউটনের মতো সেরা বিজ্ঞানীগণ একশো ভাগই ব্যবহার করতে তাদের মস্তিষ্কের!
Source: Ted Ed
মস্তিষ্কের আরো কিছু প্রচলিত মিথের মধ্যে মানব মস্তিষ্কের এই দশ শতাংশের মিথটিও বেশ প্রচলিত। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো এই মিথ কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আর প্রায় অর্ধেক সংখ্যক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বিশ্বাস করেন।
এই মিথের জন্মদাতা কে তা স্পষ্টভাবে কারোরই জানা নেই। তবে ঊনবিংশ শতাব্দীর আশির দশকে আমেরিকার বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমস একটি ছেলের আইকিউ পরীক্ষার পর বলেন মানুষ তার মস্তিষ্কের সবটুকুই সঠিকভাবে ব্যবহার করে না। আর এই বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যায় মানুষের মনে মস্তিষ্কের সেই দশ শতাংশের ব্যবহার আরো দৃঢ়তা পায়। বিভিন্ন প্রচারণা মাধ্যম, ম্যাগাজিন আর লোকমুখে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই অপরীক্ষিত অদ্ভুত তত্ত্ব। শুধু তা-ই নয় লুসি, লিমিটলেস, ফ্লাইট অব দ্য নেভিগেটর এর মতো বিখ্যাত কিছু হলিউড মুভিতেও এই তত্ত্বের দেখা মেলে।
Source: Ted Ed
আদতে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন আমরা অনেকেই আমাদের চিন্তা-ভাবনার কাজে মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে উদ্দীপ্ত করতে পারি না বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। আবার শোনা যায় কালজয়ী বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের নামও জড়িয়ে আছে এই ঘটনা অনেকটা এই ধরনের বক্তব্যের জন্য।
কিন্তু আমরা সকলেই আসলে দিনশেষে মস্তিষ্কের একশ শতাংশই ব্যবহার করি। কীভাবে? তার আগে দেখা যাক প্রচলিত এই মিথটি কেন ভুল?
Source: Slide Share
আচ্ছা মস্তিষ্কের নব্বই ভাগই যদি কোনো কাজে না আসে তবে সেগুলোতে আঘাত লাগলে বা ক্ষতি হলেও তো আমাদের শারীরিক বা মানসিকভাবে কোনো সমস্যা হবার কথা না। কিন্তু সত্যিই কি তাই?
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি এখনকার মতো অত্যাধুনিক ছিল না। তাই বেশ দীর্ঘ একটা সময় পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা জানতেন না আমাদের মস্তিষ্কের বিশাল একটি জায়গা ফ্রন্টাল লোব এবং প্যারাইটাল লোবের ভূমিকা কি ছিল! কোনো ধরনের আঘাতে মস্তিষ্কের স্নায়বিক উদ্দীপনায় কোনো প্রকার প্রভাব না ফেলায় তারা ধরেই নিয়েছিলেন এগুলোর কোনো কাজ নেই। আর তাই কয়েক দশক ধরেই এগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে ‘নীরব অঞ্চল’ বা সাইলেন্ট এরিয়া নামেই পরিচিত ছিল, যাতে অনেকে ভেবেছিলেন দশ শতাংশ ব্যবহারের ধারণা বুঝি তাই সত্যি।
কিন্তু এখন আমরা জানি যে এই অঞ্চলগুলো আমাদের যুক্তিবিচারে, পরিকল্পনায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে আর পরিস্থিতিনির্ভর অভিযোজনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। আর আমাদের পরিপূর্ণভাবে মানুষ হিসেবে প্রকাশ করে। আবার কোনো মস্তিষ্কের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্বাভাবিক জীবনে এর প্রভাব আমরা না দেখলেও আদতে তা কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা তৈরি করে।
Source: Dreamstime;
সাধারণত মানব মস্তিষ্ক ওজনের দিক থেকে পুরো শরীরের তুলনায় মাত্র দুই শতাংশ। কিন্তু এই মস্তিষ্ক সারা শরীরের মোট গ্লুকোজের প্রায় বিশ শতাংশই ব্যবহার করে নিজের জ্বালানি হিসেবে। আর একটি শিশুর ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ ৫০ শতাংশ এবং একটি নবজাতকের জন্য ৬০ শতাংশ, যেখানে রোডেন্ট এবং কুকুরের প্রজাতিরা পুরো শরীরের মোট গ্লুকোজের প্রায় পাঁচ শতাংশ আর বানর দশ শতাংশ শক্তি ব্যবহার করে। তাহলে যদি নব্বই ভাগই অযথা অব্যবহৃত থাকে তবে এই বিশ শতাংশ শক্তি মস্তিষ্ক কী করে? এত পরিমাণ শক্তি মস্তিষ্কের মাত্র দশ শতাংশের কাজের তুলনায় ঢের বেশি।
Source: Karen Carr Studios;
মানুষের মস্তিষ্কের ওজন আনুমানিক ১.৫ কিলোগ্রাম, যেখানে একটা হাতির মস্তিষ্ক ৫ কিলোগ্রাম আর তিমির ৯ কিলোগ্রাম। কিন্তু এই ১.৫ কিলোগ্রাম মস্তিষ্কে ৮৬ বিলিয়ন নিউরনের উপস্থিতি মস্তিষ্কের ঘনত্ব অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আর সেটাই আমাদের করেছে আরো বেশি চৌকশ।
Source: Ted Ed
কিন্তু চৌকশ এই মস্তিষ্কের জন্য অনেক বেশি পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন তা আগেই বলেছি। প্রতি মিনিটে ৩.৪×১০২১ মলিকিউল এটিপি। এটিপি (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট) হলো দেহের জ্বালানি।
Source: Wikimedia Commons;
আর স্পার্স কোডিং পদ্ধতির মাধ্যমে কম শক্তি খরচ করে বেশি তথ্য আদানপ্রদান করে মস্তিষ্ক। আর নব্বই ভাগকে অকার্যকর রেখে কখনোই এত পরিমাণ শক্তির দরকার হবে না। এছাড়া মস্তিষ্কের কোনো অংশ অপ্রয়োজনীয় হলে জিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সেই অংশটুকু অনেক আগেই বাদ পড়ে যেত।
কিন্তু মস্তিষ্ক কখনোই একইসাথে একশ ভাগ ব্যবহার করে না। নির্দিষ্ট কাজের জন্য মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ উদ্দীপ্ত হয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে মস্তিষ্কের এক থেকে ষোল শতাংশ কার্যকর পাওয়া যাব। এমনকি ঘুমানোর সময়ও যে মস্তিষ্ক সচল থাকে তা-ও পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আপনি যখন যে কাজটি করবেন আপনার মস্তিষ্কের সেই অংশটির সাথে যোগাযোগ ঐ মুহূর্তে বেশি হবে। আর তাই একইসাথে আপনি দুইয়ের অধিক কাজ করতে গেলে কোনোটিই ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন না, কারণ আপনার মস্তিষ্ক একসাথে দুটি কাজের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ মনোযোগের যোগান দিতে পারে না।
একবিংশ শতাব্দীর তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে জীবন্ত মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণার সু্যোগ আমাদের এই এত এত ভুল ভাঙ্গাতে সক্ষম হয়েছে। ইইজি, পিইটি, এফএমআরআই এর মাধ্যমে আমরা মস্তিষ্কের কোন অঞ্চল কী কাজে সাড়া দেয় তা আমরা জানি এখন। কীভাবে সেই ব্রেইন স্ক্যানিং করা হয় তা না হয় অন্য আরেকদিনের জন্য তোলা থাকুক। মস্তিষ্কের আরো অনেক প্রচলিত মিথ নিয়ে জানতে পড়ে আসতে পারেন রোর বাংলার এই লেখাটি।
তাই নিজের মস্তিষ্ককে অলস বা অকার্যকর ভেবে সময় নষ্ট বন্ধ করুন। ৮৬ বিলিয়নের এই দল আপনাকে কোনো অতিপ্রাকৃতিক শক্তি না দিলেও এরা যথেষ্ট চৌকশ যেকোনো অসাধ্যসাধনে। তাই আর দেরি কেন? ক্ষুধার্ত এই নিউরনগুলোর শক্তির ব্যবস্থা করুন আর কাজে নেমে পড়ুন নতুন উদ্যমে।
সংক্ষেপে দেখুনঅশুভ ঘটনাগুলো কি আসলেই আপনার কপালে লেগে থাকে?
কখনো কি এরকম মনে হয়, দুনিয়ায় যত অলক্ষুণে আর অশুভ জিনিস আছে তার সব ঘটে আপনার সাথেই? এমন প্রশ্ন কখনো কি করেন, “দুর্ভাগ্যগুলো এই মরার কপাল ছাড়া অন্যদেরকে কি দেখে না? আমার কপালেই কেন একের পর এক ‘মরা’ লেগে থাকবে?” আসলে আপনি একা নন, সবার সাথেই এমন ঘটে এবং সবাই-ই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেকে দুনিয়ার সবিস্তারিত পড়ুন
কখনো কি এরকম মনে হয়, দুনিয়ায় যত অলক্ষুণে আর অশুভ জিনিস আছে তার সব ঘটে আপনার সাথেই? এমন প্রশ্ন কখনো কি করেন, “দুর্ভাগ্যগুলো এই মরার কপাল ছাড়া অন্যদেরকে কি দেখে না? আমার কপালেই কেন একের পর এক ‘মরা’ লেগে থাকবে?” আসলে আপনি একা নন, সবার সাথেই এমন ঘটে এবং সবাই-ই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে অভাগা আর পোড়া কপালের অধিকারী বলে মনে করে। কিন্তু আসলেই কি সবাই অভাগা?
অশুভ ঘটনা তো পরের কথা, যদি বলি কোনো ঘটনা কেন ঘটে তার উত্তর কী হবে? শুনতে মামুলী মনে হলেও প্রশ্নটা একেবারেই বেয়াড়া। এর উত্তর কী হবে? ভালোই জটিল বলে মনে হচ্ছে। এর উত্তর জটিল হলেও শিরোনামের প্রশ্নের চেয়ে কিছুটা বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন বলে মনে হবে। কেন এমন কথা বললাম? অশুভ ঘটনা কেন ঘটে, এমন প্রশ্ন করা কি বিচার বুদ্ধিহীন? এখানে এর উত্তর খুঁজে দেখবো।
সত্যি কথা বলতে, সাধারণ ঘটনা ও অশুভ ঘটনা ঘটার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। অশুভ ঘটনাও এক প্রকার ঘটনা। একে আলাদা করে হিসেব করার কোনো কারণ নেই। যদি মনে হয়ে থাকে খারাপ জিনিসগুলো শুধু আপনার বেলাতেই হয়, তাহলে এখানে ব্যাপারটিকে ব্যাখ্যা করতে হবে। ‘মার্ফির সূত্র’ নামে একটি নিয়ম আছে। অনেকে একে ‘সডের সূত্র’ও বলে থাকে। অশুভ ঘটনার ক্ষেত্রে তামাশার ছলে মানুষ এই সূত্রটি ব্যবহার করে।
এই সূত্র অনুসারে, মাখন মাখানো কোনো পাউরুটি যদি নিচে পড়ে যায়, তাহলে সবসময় মাখনের পাশটিই নিচের দিকে পড়বে। মেঝেতে যদি রুটিটি পড়ে আর মাখন যদি উপরের দিকে থাকে তাহলে ক্ষেত্রবিশেষে এটি তুলে নিয়ে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু মাখন নিচের দিকে পড়ে মেঝেতে লেপ্টে গেলে তা আর ব্যবহার করার উপায় থাকে না। খেয়াল করলে দেখা যাবে, মানুষের বেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন ঘটে। এজন্য তারা মনে মনে বলে, “আমার কপালেই যত নেতিবাচক ঘটনা ঘটে।”
অনেকেই ভাবেন, ‘কপাল পোড়া’ হলে হাত থেকে খসে রুটি পড়ে গেলে মাখনের দিকটাই সবসময় লেপ্টে যায়। ছবি: দ্য মিরর/গেটি
যারা মাঝে মাঝে টেলিভিশনের জন্য প্রামাণ্যচিত্র বা নাটক-সিনেমা নির্মাণ করেন, তাদের কাজে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে শুটিং চলাকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ। অনেক দূর দিয়ে যদি কোনো উড়োজাহাজ উড়ে যায় তাহলেও তাদেরকে কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। এটি চলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারপর কাজ শুরু করতে হয়। চলমান কোনো কাজে যদি এরকম বাধা কয়েকবার দেখা দেয়, তাহলে তা হয় চরম বিরক্তিকর। অনেকটা বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে দেবার মতোই।
এখন উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনাকাঙ্ক্ষিত শন্দ অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। কিন্তু আগের দিনে সিনেমা নির্মাণে এই সুযোগ ছিল না। এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দের কারণে মাঝে মাঝে পুরো সিনেমাই নষ্ট হয়ে যেত। চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের মাঝে একটি কুসংস্কার প্রচলিত আছে- যখন সিনেমার কোনো মুহূর্তে নীরবতা খুবই প্রয়োজন ,তখন উড়োজাহাজ উড়ে গিয়ে শব্দের জ্বালাতন করবেই করবে। এরকম কিছু ঘটে গেলে তারা বলে সডের সূত্র অনুসারে এই ঘটনা ঘটেছে।
আগে অপ্রত্যাশিত ‘নয়েজ’-এর কারণে পুরো সিনেমাই বরবাদ হয়ে যেতো। ছবি: দ্য ফিল্ম বুক/সিনেফিলিয়া/সিনিসাইন
একজন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতার কথা বলি। তিনি মাঝে মাঝে গবেষণামূলক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। একটি প্রামাণ্যচিত্রের শুটিংয়ের জন্য তারা একটি স্থান নির্ধারণ করেছেন। স্থানটি হলো ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড অঞ্চলের বিস্তৃত এক তৃণভূমি। তাদের ধারণা ছিল, দিনের বেলায় গেলে সেখানে অবশ্যই কোনো না কোনো শব্দ থাকবে। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, সকলে মিলে খুব ভোরে চলে যাবেন। ভোরে শব্দ থাকার কথা নয়। যখন তারা সেখানে পৌঁছালেন, তখন আবিষ্কার করলেন, একজন লোক সেখানে একাকী বসে বসে বেলুনের বাঁশি বাজাচ্ছে! সম্ভবত তার স্ত্রীর সাথে রাতের বেলা ঝগড়া হয়েছে এবং স্ত্রী তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তাই উপায় না দেখে সে উদাস হয়ে ফুঁ দিয়ে বেলুনে বাতাস ভরছে এবং সেই বাতাসে বাঁশি বাজাচ্ছে। আর এই ঘটনাটা ঘটতে হলো তাদের একান্ত প্রয়োজনের সময়টিতেই। তাদের যখন একান্ত নীরবতা প্রয়োজন তখনই এই ‘কুফা’ এসে লাগলো। সডের সূত্র দেখা যায় আসলেই সত্য!
আসলে এখানে অশুভ বা অলক্ষুণে বা কুফা বলতে কিছু নেই। সত্যিকার বাস্তবতা হচ্ছে, এখানে বেশিরভাগ সময়ই শব্দের উৎপাত থাকে। এই শব্দগুলো আমরা খেয়াল করি না বা খেয়াল করার প্রয়োজন হয় না। খেয়াল তখনই করি, যখন এটি আমাদের নিজেদের কোনো কিছুতে ব্যাঘাত ঘটায়। যেমন- সিনেমার জন্য ভিডিও করার সময় অপ্রয়োজনীয় ছায়া ভেসে উঠতে পারে পর্দায়। এর আগে এটির অস্তিত্ব থাকলেও আমাদের নজরে আসে না তেমন। মানুষের একটি জন্মগত স্বভাব হচ্ছে বিরক্তিকর জিনিসকে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলা। এরকম কোনোকিছু কয়েক বার ঘটলেই আমরা ধরে নেই, সমস্ত পৃথিবীর সবকিছুই বুঝি আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে। কোনোকিছু করতে গেলে তারা কোনো না কোনো দিক থেকে ঝামেলা পাকাবেই।
পৃথিবীর সবকিছুই বুঝি আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে! ছবি: 123RF
আসলে সত্যিকার অবস্থা এমন না। অসামঞ্জস্যতা সবখানেই থাকে। সবসময়ই থাকে। প্রয়োজন না পড়লে আমরা তা দেখতে পাই না। প্রয়োজন পড়লে অর্থাৎ কাজের সময় আমরা তা দেখতে পাই। মাখন মাখানো রুটির কথাই বিবেচনা করি। মাখন লাগানো অংশটা কেন বেশিরভাগ সময় নিচের দিকে পড়ে, তা উদ্ধার করা খুব কঠিন কিছু নয়। হাতে বা টেবিলে মাখন লাগানো অংশটি উপরের দিকে থাকে। হাত বা টেবিল থেকে পড়ে গেলে এটি অর্ধেক বার ঘোরার সময় পায়। সম্পূর্ণ একবার ঘোরার সময় খুব কম ক্ষেত্রেই পায়। মেঝে বা ভূমি থেকে হাত কিংবা টেবিলের উচ্চতাও সবসময় প্রায় একই থাকে। তাই যখনই রুটি হাত ফসকে নিচে পড়ে যায়, তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাখন লাগানো অংশটি নিচের দিকে থাকে। একাধিকবার এরকম হলে আমরা একে রংচঙ দিয়ে বলি, যত কুফা আর অশুভ জিনিস আছে আমার কপালে!
টেবিল সমান উচ্চতা থেকে পড়লে মাত্র অর্ধেক বার ঘোরার সময় পায় রুটি। তাই মাখনের অংশটিই নিচে পড়ে যায়। ছবি: ডেভ ম্যাককেইন
সডের সূত্রের জন্য শুটিং কিংবা পাউরুটির উদাহরণ বাদ দিয়ে সরল একটি উদাহরণ বিবেচনা করতে পারি। কয়েন দিয়ে। যখন কোনোকিছু টস করি, তখন হেড চাইলে ওঠে টেল আর টেল চাইলে ওঠে হেড- নির্মম ভাগ্য। আবার কেউ কেউ আছে আশাবাদী বা ইতিবাচক। তাদের অনুভূতি অনেকটা এরকম, আমি খেলায় যে দলকে মনে মনে সাপোর্ট করি সেই দলই টসে জিতে। আমি ‘সুফা’, আমি অমুক কালারের টি-শার্ট পরলে পক্ষের দল ছক্কা মারে আর বিপক্ষ দলের উইকেট পড়ে। চাহিদামতো ইতিবাচক ঘটার ব্যাপারটিকে বলা হয় ‘পলিয়ানার সূত্র’। কিন্তু সত্যিকার বাস্তবতার কথা বিবেচনা করলে দেখা যাবে, সডের সূত্র আর পলিয়ানার সূত্রের উভয়েই আসলে অযৌক্তিক ব্যাপার।
কুফা সুফা বলতে কিছু নেই। ছবি: ‘নতুন শব্দ‘ নামক ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত
কার মন কী চাইছে, তা টসের কয়েন কিংবা পাউরুটির পৃষ্ঠের কারোরই বোঝার ক্ষমতা নেই। তাছাড়া টসের মতো ব্যাপারগুলোতে ভালো-খারাপ উভয়ই হয়। দুই দলকে নিয়ে টস হয়, কোনো এক দল হেরে গেলে অন্য দল জিতে যায়। একজনের জন্য এটা অশুভ হলে, তার পাশেরই আরেকজনের জন্য এটি আনন্দের ও সফলতার। টেনিস খেলার দুই দলই মনে প্রাণে দোয়া করে জিতে যাবার জন্য। কিন্তু খেলায় জেতা সম্ভব একজন। কাউকে না কাউকে হারতে হবেই। দুজন জিততে চেয়ে কিন্তু একজন জিতেছে। এক্ষেত্রে যে জিতেছে সে মনে মনে বলবে, দোয়ায় যেমন চেয়েছি তেমনই পেয়েছি। আমার রাশি ভালো। যে হেরে গেছে সে বলবে, চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। যত অশুভ জিনিস আছে আমার কপালে জোটে!
এখানে খেলায় ভালো কিংবা মন্দ ভাগ্যের কোনো ভূমিকা নেই। প্রত্যেক খেলাতেই এমন হয়। জিত হয়, হার হয়। কিন্তু মানুষ মনে রাখে শুধু অমুক দিন ভাগ্যের দোষে হেরে গিয়েছিলাম। সেজন্য ‘অশুভ ঘটনা কেন ঘটে?’ কিংবা ‘শুভ ঘটনা কেন ঘটে?’ এগুলো আসলে সত্যিকার অর্থে কোনো প্রশ্নই না। তাই এগুলো নিয়ে হতাশ হয়ে বা দুঃখ করে কোনো লাভ নেই। এর চেয়ে বরং কোনো কিছু ঘটলে তাকে স্বাভাবিকতা দিয়ে ব্যাখ্যা করে, মন খারাপ না করে খুশি থাকাই উত্তম।
সংক্ষেপে দেখুনকেন আমাদের শৈশবের কথা মনে থাকে না?
মাঝে মাঝে কি এমনটা ভেবে আফসোস হয় না যে, “ইশ, যদি আমার খুব ছোটবেলার দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতিগুলো মনে করতে পারতাম!” প্রথম হাঁটা, প্রথম বলা শব্দ কিছুই আমরা মনে করতে পারি না। অনেক সময় আশেপাশের মানুষের মুখে নিজের ছোটবেলার কথা শুনে ভুল করে সেগুলোকে আমাদের স্মৃতি ভেবে বসি। শিশু-বয়সের খুব গুরুত্বপূর্ণ বা আনন্দেবিস্তারিত পড়ুন
মাঝে মাঝে কি এমনটা ভেবে আফসোস হয় না যে, “ইশ, যদি আমার খুব ছোটবেলার দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতিগুলো মনে করতে পারতাম!” প্রথম হাঁটা, প্রথম বলা শব্দ কিছুই আমরা মনে করতে পারি না। অনেক সময় আশেপাশের মানুষের মুখে নিজের ছোটবেলার কথা শুনে ভুল করে সেগুলোকে আমাদের স্মৃতি ভেবে বসি।
শিশু-বয়সের খুব গুরুত্বপূর্ণ বা আনন্দের স্মৃতি মনে না থাকলেও কৈশোরে শোনা বা পড়া কোনো গল্পের লাইন ঠিকই মনে পড়ে। কেন এমন হয়?
শৈশবের এই স্মৃতিলোপ পাওয়ার কারণ নিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা এক শতকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা করে আসছেন। প্রায় ১০০ বছর আগে, সাইকোঅ্যানালাইসিসের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েড এই টার্মটির নাম দেন ‘Infantile amnesia’, বাংলায় যাকে বলা যায় ‘শিশুসুলভ স্মৃতিভ্রংশ’, যা ২-৪ বছর বয়সের অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়ার ও ৭ বছর বয়সের পূর্বের স্মৃতি পূর্ণরূপে মনে না থাকার একটি সহজাত প্রক্রিয়া।

বয়সের সাথে স্মৃতি মনে রাখার হার; Source: This graph is taken from a research article titled “Infantile amnesia: A neurogenic hypothesis”
শৈশবে স্মৃতিশক্তি যেমন থাকে
শিশুরা স্থায়ী স্মৃতি তৈরি করতে পারে না, কিন্তু তাদের অন্তর্নিহিত ও সুব্যক্ত মেমোরি গঠন হয়।
দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি ধারণে সুব্যক্ত ও অন্তর্নিহিত মেমোরির কার্যাবলী; Source: Medium
শিশুরা ঐ অবস্থায় তথ্য মনে রাখতে পারে, যেমন- ৬ মাস বয়সী শিশুরা মনে রাখতে পারে ২৪ ঘন্টায় তাদের করণীয় কী, ৯ মাস বয়সীরা মনে রাখতে পারে এক মাসের কার্যাবলী আর ২০ মাস বয়সীরা পুরো এক বছর পর্যন্ত মনে রাখতে পারে যা তাদেরকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। আরো দেখা যায়, শিশুদের কাছে যে ঘটনাগুলো বেশি আবেগপূর্ণ, ঐ স্মৃতিগুলো তারা তিনগুণ বেশি মনে রাখতে পারে।
অনেক সময় স্মৃতি ধরে রাখার ব্যাপারটি আমাদের সংস্কৃতির উপরও নির্ভর করে। অনেকের ছোটবেলার অনেক অভিজ্ঞতাই মনে থাকে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ৭-৮ বছরের আগের কোনো ঘটনাই মনে থাকে না। আবার আমাদের সংস্কৃতি, পারিপার্শ্বিক এবং সামাজিক অবস্থান এই স্মৃতি গঠন ও ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সংস্কৃতির উপরও শিশুদের স্মৃতি গঠন ও ধারণ ক্ষমতা নির্ভরশীল; Source: Diario de Huelva
কিন্তু কেউ প্রথম ২ বছরের আগের কোনো ঘটনাই মনে রাখতে পারে না। এর পেছনে ২টি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে:
১) মস্তিষ্কের গঠন ও পরিবর্তন: ছোট বয়সে আমাদের মস্তিষ্ক পূর্ণ বিকশিত না থাকায় অনেক তথ্যই জটিল নিউরাল প্যাটার্নে জমা করে রাখতে পারে না, যাকে আমরা মেমোরি বা স্মৃতি বলি। জন্মের সময় মানবশিশুর মস্তিষ্ক থাকে পরিণত বয়সের মস্তিষ্কের এক-চতুর্থাংশ, দুই বছর বয়সে সেটা হয় পূর্ণ মস্তিষ্কের চার ভাগের তিনভাগ। মস্তিষ্কের এই আকার ও গঠনের উপরেই নির্ভর করে নিউরনের বৃদ্ধি ও সংযোগপ্রাপ্তি।

বয়সের সাথে মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ঘটে ও স্মৃতি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; Source: celinealvarez.org
আমাদের মস্তিষ্কে হিপোক্যাম্পাস নামে একটা অংশ আছে, যেটা মূলত এপিসোডিক মেমোরি (নির্দিষ্ট ঘটনা ধারণকারী মেমোরি) গঠনে জরুরি। এপিসোডিক মেমোরিগুলো (দৃষ্টলব্ধ, স্বাদ এবং শব্দজাত মেমোরি) মস্তিষ্কের বহিরাবণের (Cortex) বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকে। হিপোক্যাম্পাস এই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অংশগুলোকে একত্রিত করে।

হিপোক্যাম্পাসের থ্রিডি চিত্র; Source: Deutsches Ärzteblatt
ইমোরি ইউনিভার্সিটি ইন আটলান্টার গবেষক প্যাট্রিসিয়া বাওয়ার বলেন,
মস্তিষ্কের উপরিভাগে এপিসোডিক মেমোরির অবস্থান এবং হিপোক্যাম্পাসের দ্বারা একত্রীকরণ; Source: semanticscholar.org
২-৪ বছরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এপিসোডিক মেমোরি গঠন হয় কম, কারণ ঐ সময়ে হিপোক্যাম্পাস পরিপূর্ণভাবে গঠিত হয় না, আর কোনোকিছু মেমোরিতে জমা হতে হলে তাকে অবশ্যই হিপোক্যাম্পাসের মধ্যে গঠিত হতে হয়। এ বয়সে হিপোক্যাম্পাস খন্ডগুলোকে জমা করার কাজ শুরু করে।
হিপোক্যাম্পাস ব্রেনের একমাত্র অংশ যেটা মানুষের জন্মের পর থেকে নতুন নিউরন উৎপাদন চালিয়ে যেতে থাকে পূর্ণবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত, যেখানে ব্রেনের অন্যান্য অংশগুলোর শুধু পরিবর্তন আর বিকাশ ঘটতে থাকে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শৈশবে দ্রুত নিউরন উৎপাদনের হার আমাদের বয়স বাড়ার সাথে আগের কথা ভুলিয়ে দিতে পারে। কারন যত নিউরন উৎপাদন ঘটে তত নতুন কানেকশন বাড়তে থাকে মেমোরি সার্কিটের সাথে এবং নতুন নিউরনগুলোর অধিক নেটওয়ার্কিং আগের গঠিত মেমোরি প্রকাশে বাঁধা দেয়।
বিভিন্ন গবেষণা বলে। এই নিউরন উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি চালিত হয় পূর্বের মেমোরি, যেগুলো এই উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যহত করতে পারে, তা ভুলে যাওয়ার মাধ্যমে। তাই কৈশোরে পৌঁছার আগপর্যন্ত শিশু অবস্থায় আমাদের ব্রেন পূর্বের স্মৃতি পুরোপুরি ধরে রাখতে পারে না এবং খুব ছোটবেলার ঘটনা ধারণে একেবারেই অক্ষম হয়।
২) ভাব প্রকাশের অক্ষমতা: আপনি এমন কোনো বিষয়ের স্মৃতিচারণ করতে পারবেন না যদি সেটা আপনার স্মৃতি বা মেমোরিতেই না থাকে। আর বাক্যে প্রকাশ ছাড়া আমরা কি কোনো ঘটনা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারি?
অনেক সাইকোলোজিস্ট মনে করেন, আত্মজীবনীমূলক স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষমতা আসে ভাব প্রকাশের মাধ্যমেই।
মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ডের সাইকোলজিস্ট ক্যারল পিটারসন এটাকেই সামাজিক স্মৃতি ধরে রাখতে না পারার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নোরা নিউকম্ব, ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটির সাইকোলোজির প্রফেসর, এর ভাষ্যমতে, “এপিসোডিক মেমোরি হয়তো একটি শিশুর জন্য অপ্রয়োজনীয় এবং জটিল, যখন সে মাত্রই শিখতে শুরু করছে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্বন্ধে।” তিনি আরও বলেন,
শৈশবের স্মৃতি উদ্ধার সম্ভব কি না
আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা সেরকম মনে না থাকলেও, ছোটবেলার অনেক ঘটনা আমাদের আচরণে প্রভাব ফেলে। তাহলে সেই অভিজ্ঞতা কিংবা স্মৃতি কি পুনরুদ্ধার সম্ভব?
সেইন্ট জন’স ইউনিভার্সিটিতে মেমরি এন্ড লার্নিং নিয়ে গবেষণারত জেফরি ফেগেন বলেন, “আর্লি চাইল্ডহুডের মেমরিগুলো হয়তো কোথাও সংরক্ষিত আছে যা এখন অপ্রাপ্য, কিন্তু এর প্রায়োগিক ব্যাখ্যা করাটাও কঠিন।” এটাই হয়তো ব্যাখ্যা করতে পারে কেন আগের কোনো মানসিক আঘাত প্রভাব ফেলতে পারে প্রাপ্তবস্কদের আচরণে এবং ভবিষ্যতে মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শৈশবের বৈরী অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে; Source: thriveglobal.com
কোন ঘটনার যত বেশি স্মৃতিচারণ হয় তত বেশি তা মনে থাকে। বড়দেরই সময়ের সাথে অনেক তথ্য, ঘটনা বা স্মৃতি হারিয়ে যায় যদি তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো না হয়। তাই ছোটবেলার এই স্মৃতিবিলোপকে আমাদের জীবনের এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই বলা চলে।
সংক্ষেপে দেখুনঘূর্ণিঝড়ের হরেক নামকরণ করা হয় কেনো?
মনে আছে ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এর তাণ্ডবের কথা? ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ আঘাত হানে। সরকারি হিসেবে প্রায় ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায় খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় আঘাত হানা প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়। এরপর গত ১৩ বছরে প্রায় ৬২টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরবিস্তারিত পড়ুন
মনে আছে ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এর তাণ্ডবের কথা? ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ আঘাত হানে। সরকারি হিসেবে প্রায় ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায় খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় আঘাত হানা প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়। এরপর গত ১৩ বছরে প্রায় ৬২টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। এদের প্রত্যেকের একেকটি নির্দিষ্ট নাম ছিল।
নামকরণের ভাবনা কেন?
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের চর্চা কয়েকশো বছর আগেই শুরু হয়। নামকরণের কারণ হিসেবে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ওয়েবসাইট বলছে, নামকরণের ফলে ঝড়গুলো দ্রুত শনাক্ত করে সে অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়। তাছাড়া, সবরকম ব্যবস্থাতেই সংখ্যা অথবা প্রযুক্তিগত শর্তের চেয়ে নাম মনে রাখাটাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অনেকেই সম্মত হন যে, ঝড়ের সাথে নাম যুক্ত করায় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষে প্রতিবেদন করা আরও সহজ করে দেয়, সতর্কতার প্রতি আগ্রহ বাড়ায় এবং সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এটা বেশ সহায়ক।
সাইক্লোন সিডর; Image Courtesy: Wikimedia Commons
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম সময়ে দ্রুত যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রদত্ত নামগুলোর ব্যবহার পুরোনো জটিল অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ শনাক্তকরণ পদ্ধতির তুলনায় অনেকাংশেই সুবিধা দেয়। এই সুবিধাগুলো বিশেষত কয়েক শতাধিক বিস্তৃত স্টেশন, উপকূলীয় ঘাঁটি এবং সমুদ্রের জাহাজগুলোর মধ্যে বিশদ ঝড়ের তথ্য বিনিময় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ঝড়ের নাম দেওয়া থাকলে কাছাকাছি সময়ে সৃষ্টি হওয়া একের অধিক ঝড়ের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঝামেলা পোহাতে হয় না।
নামকরণের ইতিহাস
শুরুতে ঝড়ের নাম রাখায় কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হতো না। তারপরে গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ঝড়ের জন্য নারীসূচক নাম ব্যবহারের অনুশীলন শুরু হয়েছিল। ইভান রে টানেহিল তার লেখা বই দ্য হারিকেনে অস্ট্রেলিয়ান আবহাওয়াবিদ ক্লিমেন্ট রেগের নাম উল্লেখ করেন, যিনি ঊনিশ শতকের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য ব্যক্তিবিশেষের নাম দেয়া শুরু করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের জন্য তিনি গ্রিক বর্ণমালা, গ্রিক এবং রোমান পৌরাণিক তত্ত্ব ও নারীসূচক নাম ব্যবহার করতেন।
১৯৭৭ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা হারিকেন (আটলান্টিক মহাসাগর এলাকা তথা আমেরিকার আশেপাশে ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটারের বেশি হয়, তখন জনগণকে এর ভয়াবহতা বোঝাতে ‘হারিকেন’ নামে অভিহিত করা হয়) কমিটি গঠন করে। এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয় ১৯৭৮ সালের মে মাসে। বৈঠকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব পায় এই কমিটি।
১৯৭৮ সাল থেকে এই কমিটির সিদ্ধান্তে পূর্ব-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঝড়ের তালিকায় মতো নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের নাম ব্যবহার শুরু হয়। পরের বছর মেক্সিকো এবং আটলান্টিক উপসাগরীয় অঞ্চলেও পুরুষদের নাম ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে বার্ষিক ও দ্বিবার্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিশ্বব্যাপী পাঁচটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় আঞ্চলিক সংস্থা বা প্যানেল কর্তৃক ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ব জুড়ে ঘূর্ণিঝড় নামকরণে দশটি আলাদা অঞ্চলে বিভক্ত রয়েছে:
১. ক্যারিবিয়ান সাগর, মেক্সিকো উপসাগর এবং উত্তর আটলান্টিক
২. পূর্ব-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর
৩. মধ্য-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর
৪. পশ্চিম-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন
৫. অস্ট্রেলিয়ান ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত
৬. আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র নাদি’র আওতাভুক্ত, ওয়েলিংটন
৭. মরেসবি বন্দর ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত, পাপুয়া নিউগিনি
৮. জাকার্তার ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত
৯. উত্তর ভারত মহাসাগরের আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর
১০. দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগর
উপমহাদেশে নামকরণ
ভারতীয় উপমহাদেশ ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোয় সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় বঙ্গোপসাগর থেকে। এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রচলন শুরু হয় ২০০৪ সালে।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি আঞ্চলিক সংস্থা বা প্যানেলের একটি হচ্ছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা- জাতিসংঘ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন। ২০০০ সালে ওমানে এই প্যানেলের ২৭তম বৈঠকে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৪ সালে আটটি সদস্য দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড) প্যানেলের মাধ্যমে নামকরণ শুরু হয়।
২০০৪ সালের নামের তালিকা; Courtesy : WMO
সে সময় আটটি দেশ থেকে আটটি করে মোট ৬৪টি নামের তালিকা করা হয়। বাংলাদেশ যে আটটি নাম দিয়েছিল, সেগুলো হচ্ছে অনিল, অগ্নি, নিশা, গিরি, হেলেন, চপলা, অক্ষি ও ফণী। পরবর্তী সময়ে আরও পাঁচটি দেশ এই প্যানেলের সদস্য হয়। এগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান ও ইয়েমেন। বাংলাদেশে ২০০৭ সালে প্রথম নামকরণকৃত ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। সিডর নামে আঘাত হানা প্রলয়কারী সেই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।
নামকরণের বিষয়টি সমন্বয় করে ভারতের দিল্লির ‘রিজিওনাল স্পেশালাইজড মেটেরিওলজিক্যাল সেন্টার’ (আরএসএমসি)। আরএসএমসি তার সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে নামের তালিকা চেয়ে থাকে। তালিকা পেলে দীর্ঘ সময় যাচাই-বাছাই করে সংক্ষিপ্ত তালিকা করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার কাছে পাঠানো হয় অনুমোদনের জন্য। এই প্যানেলের নামকরণে বেশ কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়। প্যানেল সদস্যদের তালিকা হয় ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে।
এজন্য বাংলাদেশ এই তালিকায় প্রথমে আছে। প্রত্যেক দেশ থেকে নামের তালিকা থেকে একটি করে নাম নিয়ে কলাম তৈরি করা হয়। নামকরণ করা শুরু হয় এই কলামে থাকা ওপরের নামটি দিয়ে। এভাবে একটি কলাম শেষ হলে পরের কলাম থেকে নামকরণ করা হয়। একটি নাম শুধুমাত্র একবারই ব্যবহার করা যায়। দক্ষিণ চীন সমুদ্র থেকে যদি কোনো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় হিসাবে বঙ্গোপসাগরে আসে, তবে আগে থেকে নাম দেয়া থাকলে নতুন করে আর নামকরণ করা হয় না।
নতুন ১৬৯ নাম
২০০৪ সালে ৬৪টি ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা করার পর এখন পর্যন্ত আর তালিকা করার প্রয়োজন পড়েনি। তালিকার সর্বশেষে থাকা থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম ‘আম্ফান’ ২০২০ সালের মে মাসের শুরুতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে মায়ানমার ও বাংলাদেশের কক্সবাজার–চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে আঘাত হানতে পারে। তালিকায় নাম শেষ হয়ে যাওয়ায় গত এপ্রিলে সদস্য ১৩টি দেশ থেকে ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নতুন নামের তালিকা করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
নতুন নামের তালিকা; Courtesy: WMO
বাংলাদেশ যে ১৩ টি নাম দিয়েছে, সেগুলো হলো নিসর্গ, বিপর্যয়, অর্ণব, উপকূল, বর্ষণ, রজনী, নিশীথ, ঊর্মি, মেঘলা, সমীরণ, প্রতিকূল, সরোবর ও মহানিশা। আম্ফানের পর বাংলাদেশের দেওয়া নাম ‘নিসর্গ’ই হবে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম।
সংক্ষেপে দেখুননিদ্রাহীনতা সমাধানের ভিন্নধর্মী পন্থা ক্যানাবিস কি সত্যিই কাজ করে?
সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর আমাদের মন আর শরীর দুটোই ক্লান্ত থাকে, প্রয়োজন হয় বিশ্রামের। বাসায় ফেরার পর সবচেয়ে আপন করে নিতে ইচ্ছা হয় পরিপাটি করে গোছানো বিছানাটাকেই। খাওয়া-দাওয়া করে এরপর ঘুমের রাজ্যে আমাদের প্রবেশ ঘটে। দৈনন্দিন জীবনে পরিশ্রমের পর আমাদের প্রত্যেকেরই একটা নির্দিষ্ট সময় ঘুমের প্রয়োজন হয়।বিস্তারিত পড়ুন
সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর আমাদের মন আর শরীর দুটোই ক্লান্ত থাকে, প্রয়োজন হয় বিশ্রামের। বাসায় ফেরার পর সবচেয়ে আপন করে নিতে ইচ্ছা হয় পরিপাটি করে গোছানো বিছানাটাকেই। খাওয়া-দাওয়া করে এরপর ঘুমের রাজ্যে আমাদের প্রবেশ ঘটে। দৈনন্দিন জীবনে পরিশ্রমের পর আমাদের প্রত্যেকেরই একটা নির্দিষ্ট সময় ঘুমের প্রয়োজন হয়। যখন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘুমেরই সমস্যা হয়, তখন তো আমাদের নড়েচড়ে বসতেই হয়। তবে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সবসময়ই কি যৌক্তিক কিছু করি অথবা যা করি তা কি আদৌ চিরস্থায়ী সুফল বয়ে আনে?
ঘুমের সমস্যা বলতে সাধারণত ঘুমের স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হওয়াকেই বোঝানো হয়। এগুলোর মাঝে সবচেয়ে প্রচলিত সমস্যাটি হল ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা। স্লিপ অ্যাপনিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ঘুমের সময় সঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারেন না। কেউ কেউ আবার ঘুমের মাঝে পা এক জায়গায় স্থির রাখতে পারেন না। একে রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম (RLS) বলে। পায়ে এক ধরনের অস্বস্তি বা মৃদু খোঁচা খাওয়ার অনুভূতির কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু সমস্যাটা পায়ে না, স্নায়ুতন্ত্রে। স্নায়ুতন্ত্রের যে অংশ ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে বিশৃঙ্খলার কারণে এই সমস্যার উদ্ভব হয়। আবার অনেকের নার্কোলেপসির কারণে দিনের বেলায় হুট করেই অস্বাভাবিক রকমের ঘুম পায়।
এতসব ঘুমের সমস্যার সাথে মাদকের সম্পর্কটা ঠিক কেমন? সেটা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।
কর্মব্যস্ত দিনের পর দরকার পরিমিত ঘুম; Source: renkligaste.com
প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে নিদ্রাহীনতায় ভুগছেন এমন অনেকের সাথে কথা বলে দেখা গেছে যে, তাদের অনেকেই সমাধানের পথ হিসেবে মারিজুয়ানা বা ক্যানাবিস (গাঁজা) সেবনকে বেছে নিচ্ছেন। এই চর্চাটা এখন প্রতিফলিত হচ্ছে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে। ক্যানাবিসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ওষুধ যেমন ন্যাবিলোন, ড্রোনাবিনল এবং ম্যারিনল ইত্যাদি প্রস্তুত হচ্ছে। এছাড়াও ক্যানাবিস সেবনকারীদের অনেকেই মেডিক্যাল মারিজুয়ানা কার্ড নিয়ে থাকেন।
ক্যানাবিস পাতা; Source: commons.wikimedia.org
প্রশ্ন হলো- ঘুমের সমস্যা সমাধানে ক্যানাবিস কতটা কার্যকরী? বিভিন্ন রোগীর মাঝে এর ব্যবহার থেকে প্রাপ্ত ফলাফল কখনোই ঢালাওভাবে কোনো উত্তরকে সরাসরি সমর্থন করে না। অর্থাৎ নিদ্রাহীনতার সমাধান হিসেবে মারিজুয়ানা বা ক্যানাবিসের ব্যবহার বহুলাংশেই স্বতন্ত্র। ঘুমের সমস্যা সমাধানে মারিজুয়ানা সেবন করা কতটা কার্যকর হবে সেটা নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের উপর, মারিজুয়ানার পরিমাণ এবং এর সেবনের মাত্রার উপর।
সমস্যা সমাধানে ক্যানাবিস বা মারিজুয়ানা
কিছু কিছু গবেষণায় দেখে গেছে, ক্যানাবিস আক্ষরিক অর্থেই ঘুমে সাহায্য করে। নিদ্রাহীনতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপর এর প্রভাব বিভিন্ন রকম। কারও কারও ক্ষেত্রে এর ব্যবহার যথেষ্ট কার্যকরী। কার্যকরী এই অর্থে যে তারা খুব দ্রুতই ঘুমিয়ে পড়তে পারছেন এবং ভাল ঘুমও হচ্ছে। আবার কেউ কেউ হয়তো খুব দ্রুত ঘুমাতে পারছেন না, কিন্তু তাদের ঘুমের গভীর পর্যায়টা বেশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে যখনই ক্যানাবিস সেবন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন স্পষ্টতই ঘুম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিভিন্ন গবেষণা থেকে এটা প্রমাণিত যে, ক্যানাবিস ঘুমের মান এবং সময়কাল নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। ক্যানাবিস থেকে প্রাপ্ত ক্যানাবিনয়েডসমূহের মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (THC), যা নিদ্রাহীনতা দূর করতে দারুণ কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল সেবনকারীদের মাঝে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার হার, যারা সেবন করছেন না তাদের চেয়ে অনেকংশেই বেশি। এছাড়াও গভীর রাতে হঠাৎ ঘুমে ভেঙে দীর্ঘ সময় ধরে জেগে থাকার সমস্যাটাও টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল এর মাধ্যমে দূর করা যায়।
Tetrahydrocannabinol; Source: Wikimedia Commons
প্রাণীদের উপর চালানো এক গবেষণায় (অ্যানিমেল ট্রায়াল) সংশ্লেষিত একটি ক্যানাবিনয়েডের (টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনলের অনুরূপ) ব্যবহার, সেরোটোনিন- প্রণোদিত অ্যাপনিয়ার সমাধানে আশাব্যঞ্জক ফলাফল এনে দিয়েছে। ক্যানাবিনয়ডের ব্যবহারের ফলে চিবুক এবং মুখের কিছু পেশীর শিথিলতা আসে এবং এর মাধ্যমেই অ্যাপনিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (PTSD) আক্রান্ত সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের দুঃস্বপ্নের চিকিৎসায় ক্যনাবিনয়েডসমূহ বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
ঘুম এবং ক্যানাবিস; Source: semprequestione.com
টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্যনাবিনয়েডের সমন্বয়ে গঠিত একটি ওষুধ হচ্ছে ক্যানাবিডাইঅল (CBD), যেটি ঘুমের সমস্যা সমাধানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও তীব্র ক্যানাবিডাইঅল ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বিকভাবে ঘুমের সময় বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
Cannabidiol; Source: chicagonow.com
ঢালাওভাবে মারিজুয়ানা বা ক্যানাবিস নামগুলো সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হলেও ঘুমের সমস্যা সমাধানে এদের কাজ করার পদ্ধতি কিন্তু এক নয়। ক্যানাবিসের অসংখ্য প্রজাতিগুলোর মাঝে পার্থক্যের কারণ টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল এবং ক্যানাবিডাইঅলের পরিমাণ। ক্যানাবিসের কিছু প্রজাতি আছে যেগুলোতে টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনলের উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি। মারিজুয়ানারও এরকম কিছু প্রজাতিতে ক্যানাবিডাইঅলের পরিমাণ কম, আবার অন্যগুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি।
ঘুম চক্রে ক্যানাবিসের প্রভাব
ঘুমের মাঝে র্যাপিড আই মুভমেন্ট (REM ) নামক একটি পর্যায় আছে। ঘুমের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা স্বপ্ন দেখি। ঘুমের আগে ক্যানাবিস সেবনের ফলে REM পর্যায়ে ব্যায়িত সময়ের পরিমাণ কমে আসে। ফলে ঘন ঘন স্বপ্ন দেখা অনেকটাই কমে যায়। তবে দীর্ঘদিনের অভ্যস্ততার পর হুট করে ক্যানাবিস সেবন বন্ধ করে দিলে REM এর পুনরাবৃত্তি হওয়ার বেশ ভাল রকমের ঝুঁকি থেকে যায়।
ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়; Source: quora.com
কিছু সতর্কতা
ক্যানাবিস গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, দীর্ঘকাল সেবনের পর হুট করে ক্যানাবিসকে বিদায় জানানো যাবে না। বেশ লম্বা একটা সময় ধরে ক্যানাবিস সেবনের ফলে একজন মানুষের ঘুমের অভ্যাস বা ধরণ পরিবর্তিত হয়, এক ধরণের নির্ভরতা তৈরী হয়। হঠাৎ করেই যদি অভ্যস্ততায় ব্যাঘাত ঘটে, তখন এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হয়। দেখা যায় যে, একজন ব্যক্তি হয়তো সারাদিনই ক্লান্ত অনুভব করছেন অথবা ঘুম থেকে উঠার পরও তার মনে হচ্ছে যে ঘুম ঠিকভাবে হয় নি। এছাড়াও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে কখনোই ক্যানাবিস ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করা উচিত নয়। সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ১৫ বছর বয়সের আগে ক্যানাবিস অনেক সময় তারুণ্যের পুরোটা জুড়েই নিদ্রাহীনতা ডেকে আনে।
মেডিক্যাল মারিজুয়ানার বিশেষত্ব
মজার ব্যপার হচ্ছে, ঘুমের সমস্যা ছাড়াও আরও অনেক অসুখের চিকিৎসা হিসেবে মেডিক্যাল মারিজুয়ানা বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন-·
এখন পর্যন্ত সমগ্র বিশ্বে ক্যানাবিস বা মারিজুয়ানার এসব উপকারী দিক সর্বজন স্বীকৃত নয়। হ্যাঁ, এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে চিকিৎসাক্ষেত্রে মেডিক্যাল মারিজুয়ায়ানা ব্যবহারের সাফল্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে মানুষের উপর এর প্রভাব তেমন ভাল নয়। তাই এখনও বিস্তর গবেষণা চলছে এর ভূমিকা নিয়ে। এতসব অসুখের সমাধান হিসেবে যদি একটি প্রাকৃতিক উপাদান সাফল্যের পথ দেখাতে পারে, সেটা নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা বয়ে আনবে রোগী ও তার স্বজনদের জন্য।
সংক্ষেপে দেখুনপৃথিবী থেকে মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে কী ঘটবে ?
কোথাও কেউ নেই। পরিত্যক্ত শহরে বাতাসে উড়ে বেড়ানো কিছু কাগজপত্র আর পলিথিনের ব্যাগের শব্দ ছাড়া অন্য কোনো শব্দও নেই। একটু পরপর ভূতুড়ে কঙ্কালের মতো যেন দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নদশার পরিত্যক্ত বহুতল ভবনগুলো। মাঝে মাঝে এ গলি থেকে ও’ গলিতে দ্রুতগতিতে ছুটে যাচ্ছে হ্যামেলিনের গল্পের মতো বিশালাকৃতির ইঁদুর অথবা অন্য কোনবিস্তারিত পড়ুন
কোথাও কেউ নেই। পরিত্যক্ত শহরে বাতাসে উড়ে বেড়ানো কিছু কাগজপত্র আর পলিথিনের ব্যাগের শব্দ ছাড়া অন্য কোনো শব্দও নেই। একটু পরপর ভূতুড়ে কঙ্কালের মতো যেন দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নদশার পরিত্যক্ত বহুতল ভবনগুলো। মাঝে মাঝে এ গলি থেকে ও’ গলিতে দ্রুতগতিতে ছুটে যাচ্ছে হ্যামেলিনের গল্পের মতো বিশালাকৃতির ইঁদুর অথবা অন্য কোনো নাম না জানা বিদঘুটে প্রাণী। আর এই পরিত্যক্ত শহরেই হয়তো বাঁচার চেষ্টা করছে বিচ্ছিন্ন একটি-দুটি পরিবার।

শিল্পীর দৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বিশ্ব যেরকম হবে; Image Source: Entertainment One
এই দৃশ্য আমাদের অত্যন্ত পরিচিত। শত শত পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক চলচ্চিত্র আছে, যেখানে এ ধরনের দৃশ্য দেখানো হয়। কোনো ভাইরাসের আক্রমণে, রহস্যময় কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে, কিংবা বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক দুর্ঘটনায় বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের মৃত্যুর পর অল্প কিছু বেঁচে থাকা মানুষের ভাগ্যে কী ঘটতে পারে, সেটাই এ ধরনের চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সত্যিই যদি কখনো হঠাৎ করে বিশ্বের সব মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তাহলে পৃথিবীতে কী কী ঘটতে পারে? মানব সভ্যতা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হতে কীরকম সময় লাগতে পারে?
উৎসাহী বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সময় এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গবেষকের সাহায্যে মনুষ্য পরবর্তী যুগের পৃথিবীর চিত্র আঁকার চেষ্টা করেছেন। সামান্য কিছু পার্থক্য থাকলেও তারা অধিকাংশই মোটামুটি একই ধরনের সম্ভাবনা এবং আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন। চলুন জেনে নিই কী ঘটতে পারে পৃথিবীর ভাগ্যে, যদি আমরা হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যাই।

শিল্পীর দৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বিশ্ব যেরকম হবে; Image Source: tokyogenso
মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পৃথিবীর অধিকাংশ এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যাবে। বিশ্বের অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় জ্বালানি তেলের মাধ্যমে। মানুষ না থাকলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করার মতো কেউ না থাকায় কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই বিশ্বের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। কেবলমাত্র উইন্ডমিল, সোলার প্যানেল এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরবরাহকৃত এলাকাতেই বিদ্যুৎ প্রবাহ অবিচ্ছিন্ন থাকবে।
উইন্ডমিলের লুব্রিক্যান্ট শেষ হয়ে গেলে এবং সোলার প্যানেলের উপর ধুলোবালি পড়ে তা আচ্ছাদিত হয়ে গেলে কয়েক মাসের মধ্যে সেগুলোও অকার্যকর হয়ে যাবে। শেষপর্যন্ত শুধুমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকতে পারে। এগুলো কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পর্যন্তও কার্যকর থাকতে পারে। অব্যবস্থাপনায় সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেলে কয়েক শত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পৃথিবী সম্পূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে।

শিল্পীর দৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বিশ্ব যেরকম হবে; Image Source: tokyogenso
প্রথম কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আরেকটি বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে। বিশ্বের তেল এবং গ্যাস শোধনাগারগুলোতে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হবে। নিয়ন্ত্রণ করার কেউ না থাকায় সেগুলো মাসের পর মাস ধরে জ্বলতে পারে। লোকালয় কিংবা বনাঞ্চল থেকে বেশি দূরে অবস্থিত না হলে অগ্নিকান্ড ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়াও প্রথম ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই শক্তি গ্রহণের মাত্রায় ব্যাপক হ্রাস হওয়ায় বিশ্বের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেফ মোডে চলে যাবে।
দুই-তিন দিনের মধ্যেই বিশ্বের অধিকাংশ ভূগর্ভস্থ রেললাইন এবং টানেল পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে যাবে। নিয়মিত পানি নিষ্কাশনের জন্য অধিকাংশ ভূগর্ভস্থ রেললাইন এবং টানেলেই পাম্প ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এবং জেনারেটরের জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে এবং পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব না হওয়ায় ধীরে ধীরে ভূগর্ভস্থ পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়বে।

শিল্পীর দৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বিশ্ব যেরকম হবে; Image Source: wallpapercave.com
১০ দিনের মধ্যেই অধিকাংশ পোষা প্রাণী অনাহারে মৃত্যুবরণ করবে। ইলেক্ট্রিক গেটগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্বের শত কোটি গরু, ছাগল, শূকর, মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী তাদের খামার থেকে বেরিয়ে পড়বে। যারা বের হতে পারবে না, তারা খামারের ভেতরেই মারা যাবে। আর যারা বের হতে পারবে, তারাও বাইরের পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত না হওয়ায় এবং খাবারের সংকট থাকায় ধীরে ধীরে মারা পড়বে। বেঁচে থাকবে কেবল আগে থেকেই বাইরে থাকা হিংস্র বন্য পশুরা। বিভিন্ন জাতের ইঁদুর এবং তেলাপোকা বেঁচে থাকলেও যেগুলো মানুষের ফেলে দেওয়া ময়লার উপর নির্ভরশীল ছিল, খাদ্যের অভাবে তাদের সংখ্যাও বিপুলভাবে হ্রাস পাবে।
এক মাসের মধ্যেই নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরগুলোকে ঠান্ডা করার জন্য ব্যবহৃত পানি বাষ্পীভূত হয়ে যাওয়ার ফলে রিঅ্যাক্টরগুলোতে বিস্ফোরণ শুরু হবে। নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এর প্রতিক্রিয়া হবে চেরনোবিল এবং ফুকুশিমার সম্মিলিত বিপর্যয়ের চেয়েও মারাত্মক। বিশাল এলাকা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে যাবে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত পৃথিবীর বড় একটি অংশ জুড়ে এর প্রভাব বজায় থাকবে। আশেপাশের এলাকার প্রচুর প্রাণী দীর্ঘকাল পর্যন্ত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।

শিল্পীর দৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বিশ্ব যেরকম হবে; Image Source: wallpapercave.com
নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ছাড়াও প্রাকৃতিক কারণেও নিয়মিত অগ্নিকান্ড ঘটবে। সামান্য বজ্রপাতের কারণে কোনো এলাকায় অগ্নিকান্ডের সূচনা হলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামের পর গ্রাম, শহরের পর শহর পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। অগ্নিকান্ডের কারণে বিশ্বের প্রচুর গ্রামের কাঠের নির্মিত ঘরবাড়ি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আগুনের হাত থেকে বেঁচে গেলেও কাঠের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ধীরে ধীরে ঘুণপোকা এবং ছারপোকার আক্রমণে ধ্বসে পড়তে থাকবে। মোটামুটি ৭৫ বছরের মধ্যে কাঠের বিম এবং কলামগুলো ভেঙে পড়তে শুরু করবে এবং ১০০ বছরের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ কাঠের স্থাপনা ধ্বসে পড়বে।
২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে ফুটপাথ এবং রাস্তাঘাটগুলোতে ফাটল ধরে সেখানে আগাছা এবং গাছপালা জন্মাতে থাকবে। এ সময়ের মধ্যে ফুটপাত এবং খোলা চত্বরগুলোর তিন-চতুর্থাংশই ঘাস এবং আগাছায় আবৃত হয়ে যাবে। বিশ্বের অনেক রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাবে। শীত প্রধান দেশে শীতকালে পানি জমে বরফ হয়ে যাবে এবং গরমকালে আবার বরফ গলে পানিতে রূপান্তরিত হবে। এই তারতম্যের কারণে রাস্তাঘাটের ভাঙণ ত্বরান্বিত হবে। বৃষ্টির পানি ছাদের উপর জমে কনক্রিটের ভবনগুলোরও একই দশা সৃষ্টি করবে। মোটামুটি ২০০ বছরের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ কনক্রিটের বিল্ডিং ভেঙে পড়তে শুরু করবে।

শিল্পীর দৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বিশ্ব যেরকম হবে; Image Source: wallpapercave.com
ব্যবস্থাপনার অভাবে স্টিলের তৈরি ভবন এবং ব্রিজগুলোতে বৃষ্টির পানি এবং বাতাসের অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় মরচে ধরতে শুরু করবে। মোটামুটি ৩০০ বছরের মধ্যে আইফেল টাওয়ার, গোল্ডেন গেট ব্রিজসহ বিশ্বের অধিকাংশ স্টিলের স্থাপনা ভেঙে পড়তে শুরু করবে। মরুভূমিতে এই প্রক্রিয়া একটু মন্থর হবে, কিন্তু তার আগেই আরব আমিরাত, কাতারসহ বিশ্বের অধিকাংশ মরুময় এলাকা পুনরায় বালিতে ডুবে যাবে। যত মজবুতই হোক, ব্যবস্থাপনা না থাকায় কয়েকশো বছরের মধ্যে বাঁধগুলোও ভেঙে পড়বে এবং প্রচুর এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে। প্রকৃতি ধীরে ধীরে মানব সভ্যতাকে গ্রাস করে নিতে থাকবে।
মানুষের কারণে যেসব বন্যপ্রাণী, পাখি এবং সামুদ্রিক মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল, তাদের সংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। চিড়িয়াখানা থেকে বের হয়ে যাওয়া বন্য এবং বিরল প্রজাতির প্রাণীরাও নতুন করে বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করবে। মানুষের অনুপস্থিতিতে দূষণ হ্রাস পাবে, বায়ুমন্ডল পরিষ্কার হয়ে উঠতে থাকবে। কয়েক হাজার বছর পরে মানুষের নির্মিত শহরগুলোর খুব কম চিহ্নই অবশিষ্ট থাকবে। শহরের রাস্তাগুলো নদীতে এবং শহরগুলো বনাঞ্চলে পরিণত হয়ে যাবে। প্রকৃতি ধ্বংস করে মানুষ যে কৃত্রিম আবাসস্থল তৈরি করেছিল, প্রকৃতি সেগুলো আবার অধিগ্রহণ করে নিবে।

সংক্ষেপে দেখুনশিল্পীর দৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বিশ্ব যেরকম হবে; Image Source: wallpapercave.com
মানুষের নির্মিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে শেষপর্যন্ত টিকে থাকবে প্রাচীনকালে পাথর কেটে তৈরি করা বিশালাকৃতির স্থাপনাগুলোই। ১০ হাজার বছর পর কেবলমাত্র চীনের মহাপ্রাচীর, মিসরের পিরামিড এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট রাশমোর ন্যাশনাল মেমোরিয়াল ছাড়া বলতে গেলে মানুষের নির্মিত আর কোনো স্থাপনাই টিকে থাকবে না। মাউন্ট রাশমোরে পাহাড় কেটে প্রেসিডেন্টদের তৈরি মূর্তিগুলোই হয়তো সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হবে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে সেগুলো সাত মিলিয়ন বছর পর্যন্ত অক্ষত থাকতে পারবে। দশ থেকে পনেরো মিলিয়ন বছর পর যদি কোনো এলিয়েন পৃথিবীতে ভ্রমণ করে, তবে কেবলমাত্র কিছু প্লাস্টিকের অবশেষ ছাড়া মানুষের তৈরি কোনো কিছুই তারা খুঁজে পাবে না।
পৃথিবীটা যদি সমতল হতো তাহলে কেমন হতো?
কেমন হতো যদি আমাদের পৃথিবীটা বর্তুলাকার না হয়ে সমতল চাকতির মতো হতো? যেরকমটি ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটির সদস্যরা বিশ্বাস করে থাকে? আমাদের জীবনে এই সমতল চাকতির মতো পৃথিবীর প্রভাব কীরকম হতো? আমরা যদি হাঁটতে হাঁটতে সেই চাকতির একেবারে প্রান্তে পৌঁছে যেতাম, তাহলে কি সেখান থেকে বাইরের মহাশূন্যে ছিটকে পড়ে যেতাম?বিস্তারিত পড়ুন
কেমন হতো যদি আমাদের পৃথিবীটা বর্তুলাকার না হয়ে সমতল চাকতির মতো হতো? যেরকমটি ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটির সদস্যরা বিশ্বাস করে থাকে? আমাদের জীবনে এই সমতল চাকতির মতো পৃথিবীর প্রভাব কীরকম হতো? আমরা যদি হাঁটতে হাঁটতে সেই চাকতির একেবারে প্রান্তে পৌঁছে যেতাম, তাহলে কি সেখান থেকে বাইরের মহাশূন্যে ছিটকে পড়ে যেতাম?
পৃথিবী বা অন্য কোনো গ্রহের পক্ষেই আসলে সমতল হওয়া সম্ভব না। মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবেই গ্রহ-নক্ষত্রগুলো প্রায় বৃত্তাকার হতে বাধ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গ্রহ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেভ স্টিভেনসনের মতে, এই মুহূর্তে যদি পৃথিবীকে জোর করে প্যানকেকের মতো সমতল করে দেওয়া হয়, তাহলে যা ঘটবে তা হচ্ছে, মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে এটি আবার গোলকে রূপান্তরিত হওয়ার চেষ্টা করবে। সমতল বানিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথেই পৃথিবী এত প্রবলভাবে গোলক রূপে ফিরে যেতে চাইবে যে, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এমন কোনো পদার্থ নেই, যা দিয়ে পৃথিবীর পুনরায় গোলকে রূপান্তরিত হওয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে রাখা যাবে। তার মতে, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পৃথিবী গোলকে রূপান্তরিত হতে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।
সমতল পৃথিবীর প্রান্ত থেকে বাইরে পড়ে যাওয়ার ধারণা @ Antar Dayal / Getty
লন্ডনের রয়্যাল অবজারভেটরির জ্যোতির্বিজ্ঞানী ম্যারেক কুকুলাও স্টিভেনসনের মতো একই ধারণা পোষণ করেন। তার মতে, পৃথিবীকে যদি সমতল অবস্থায় রাখতে হয়, তাহলে এমন একটি সুইচের প্রয়োজন হবে, যার মাধ্যমে মহাকর্ষকে গায়েব করে দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে পৃথিবীতে বায়ুমণ্ডল বলে কিছু থাকবে না; বায়ুমণ্ডল সহ পৃথিবীর সাথে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত নয়, এমন সব কিছুই ভাসতে ভাসতে মহাশূন্যে উড়ে যাবে। তাছাড়া বায়ুমণ্ডল না থাকায় অক্সিজেনের অভাবে সেখানে কোনো প্রাণীর পক্ষে বেঁচে থাকাও সম্ভব হবে না।
কিন্তু তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয় যে, কোনো অলৌকিক ক্ষমতা বলে পৃথিবীকে সমতল করে ফেলা হলো এবং এর আকর্ষণ শক্তিও বজায় রাখা হলো, সেক্ষেত্রে কী ঘটতে পারে?
মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রকৃতি
গোলাকার পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দিক; Source: TheHUB
সমতল পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দিক; Source: TheHUB
সমতল পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কেন্দ্র হবে চাকতিটির পৃষ্ঠের কেন্দ্রবিন্দুতে। ফলে আপনি যদি চাকতির মতো আকৃতি বিশিষ্ট পৃথিবী পৃষ্ঠের কেন্দ্রে বা এর আশেপাশে অবস্থান করেন, তাহলে অনেকটা এখনকার মতোই আকর্ষণ অনুভব করবেন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে যত দূরে যেতে থাকবেন, পৃথিবী সমতল হওয়ার কারণে মাধ্যাকর্ষণ বল আপনাকে তত তীর্যকভাবে আকর্ষণ করতে থাকবে। ফলে আপনার হাঁটতে কষ্ট হবে এবং মনে হবে, আপনি বুঝি ঢালু পথ বেয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করছেন। কেন্দ্র থেকে যত বেশি প্রান্তের দিকে যেতে থাকবেন, আপনার কাছে ঘর-বাড়ি, পাহাড়-পর্বত সব কিছুকে তীর্যকভাবে তৈরি বলে মনে হতে থাকবে।
পৃথিবী পৃষ্ঠের পুরুত্বের উপর নির্ভর করে কেন্দ্রের দিকে অভিকর্ষের মান মোটামুটি স্বাভাবিক হতে পারে। চাকতিটির পুরুত্ব কীরকম হতে পারে, সেটি নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। তবে এর পুরুত্ব বর্তমান পৃথিবীর ব্যাসার্ধের এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ২,১২৩ কিলোমিটার ধরে নেওয়া যায়। এর কারণ হচ্ছে, গোলকের পৃষ্ঠকে যদি ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ব্যাসার্ধের এক-তৃতীয়াংশ পুরুত্ব নিলেই কেবল গোলকের সমান আয়তন পাওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে পৃথিবীর কেন্দ্র অভিকর্ষের মান বর্তমানের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হতে পারে। তবে কেন্দ্র থেকে দূরে যেতে থাকলে এই মান ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকবে।
পৃথিবীর প্রান্ত থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়া
পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরে যেতে থাকলে পথগুলোকে ঢালু মনে হবে; Source: VSauce/YouTube
পৃথিবীর একেবারে প্রান্তে পৌঁছানো আপনার পক্ষে অসম্ভব না হলেও খুবই কঠিন একটি কাজ হবে। কারণ, একেবারে প্রান্তে পৃথিবীর অভিকর্ষ বল প্রায় ভূমির সমান্তরালে কাজ করবে। ফলে আপনি যদি প্রান্তের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, তাহলে আপনার কাছে মনে হবে, আপনি বুঝি একেবারে খাড়া পাহাড় বেয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।
যদি কোনোভাবে আপনি পৃথিবী নামক চাকতিটির একেবারে প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারেন, তাহলে আপনি তো বাইরের মহাশূন্যে ছিটকে পড়বেনই না, বরং সম্ভাবনা আছে কেন্দ্রের দিক থেকে ভূমির সমান্তরাল আকর্ষণ শক্তির প্রভাবে আপনি ভেতরের দিকেই পড়ে যাবেন। আর একবার যদি চাকতির প্রান্তের ধারের উপর উঠে যেতে পারেন, তাহলে আপনার কাছে সেটিকেই স্বাভাবিক মাটি বলে হবে। সেখানে আপনি খুবই স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবেন, অনেকটা এখনকার মতোই।
পৃথিবীর প্রান্তে পৌঁছালে ভেতর দিকে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে; Source: VSauce/YouTube
দিবারাত্রির পরিবর্তন
পৃথিবী গোলক হওয়ায় নিজ অক্ষের উপর আবর্তের ফলে দিবারাত্রি সংঘটিত হয়। কিন্তু পৃথিবী যদি সমতল হয়, তাহলে দিন বা রাত বলে পৃথক কিছু থাকবে না। সবসময় সমগ্র পৃথিবী একই রকমের আলো পাবে। অবশ্য আমরা যদি কল্পনা করে নেই যে, পৃথিবী না, বরং সূর্যই পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে, সেক্ষেত্রে অবশ্য ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে দিন এবং রাত সংঘটিত হবে ঠিকই, কিন্তু সমগ্র পৃথিবীতে একই সাথে দিন হবে, আবার একই সাথে রাত হবে।
ঋতু পরিবর্তন
পৃথিবী তার অক্ষের উপর তীর্যকভাবে হেলে থাকা অবস্থায় সূর্যের চারদিকে আবর্তন করার ফলে দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে এবং ঋতু পরিবর্তিত হয়। কিন্তু পৃথিবী সমতল হলে ঋতুর কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। পুরো বছর জুড়ে পৃথিবীর সকল স্থান একই রকম সূর্যের আলো পাবে। ফলে গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল বা শীতকাল বলে পৃথক পৃথক কোনো ঋতু থাকবে না। সমগ্র পৃথিবীর তাপমাত্রা মোটামুটি একই রকম থাকবে। উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু নামে কিছু না থাকায় কোথাও কোনো বরফও থাকবে না।
সাগর-মহাসাগরের অবস্থান
গোলাকার পৃথিবী বনাম সমতল পৃথিবী; Source: TheHUB/ Youtube
যেহেতু পৃথিবী নামক চাকতিটি সবকিছুকে তার কেন্দ্র বরাবর আকর্ষণ করবে, তাই পৃথিবীর সব সাগর-মহাসারের অবস্থান হবে পৃথিবীর কেন্দ্রে। অন্য কোথাও কোনো জলাধারের অস্তিত্ব থাকবে না। অর্থাৎ পুরো পৃথিবীর শুধুমাত্র যে দুটো জায়গায় স্বাভাবিক মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বিরাজ করবে, তার একটি (কেন্দ্র) হবে মহাসাগর, আর অন্যটি (চাকতির প্রান্তের ধারের উপর) হবে পানিবিহীন সম্পূর্ণ মরুময়।
দৃষ্টিসীমা
পৃথিবী গোল হওয়ার কারণে আমরা মাটিতে থাকা অবস্থায় যতদূর পর্যন্ত দেখতে পারি, উঁচু স্থানে উঠলে তার চেয়ে আরো অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পারি। কিন্তু পৃথিবী সমতল হলে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে খুব বেশি লাভ হবে না। পৃথিবী গোল বলেই সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়ালে দূর থেকে কোনো জাহাজ যখন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়, তখন আমরা প্রথমে তার মাস্তুলের চূড়াটি দেখি, এরপর পুরো জাহাজটির বিভিন্ন অংশ উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে। কিন্তু সমতল পৃথিবীর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জাহাজ একসাথে আমাদের চোখের সামনে ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকবে। এখন যেরকম প্লেনে চড়লে আমরা পৃথিবীর বক্রতা বুঝতে পারি, তখন সেরকম ঘটবে না। প্লেন থেকেও দিগন্তকে সমতল বলে মনে হবে।
প্লেন থেকে দেখলে পৃথিবীর বক্রতা বোঝা যায়: Source: TheHUB
চন্দ্রগ্রহণ
সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবী যদি একই সমান্তরালে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়লে সেটাকে আমরা চন্দ্রগ্রহণ বলি। পৃথিবী গোলাকার বলেই পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে দিন বা রাতের যেকোনো সময় চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করার সময় চাঁদের উপর গোলাকার পৃথিবীর ছায়া পড়তে দেখা যায়। কিন্তু যদি পৃথিবী সমতল হয়, তাহলে চাঁদের উপর গোলাকার ছায়া পড়ার ঘটনাটি, অর্থাৎ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে খুবই বিরল ঘটনা।
কারণ, অধিকাংশ সময়ই পৃথিবী-চন্দ্র-সূর্য একই সমান্তরালে আসার পরেও দেখা যাবে, পৃথিবীর সাথে তাদের অবস্থান এমন এক কৌণিক তলে যে, চাঁদের উপর গোলাকার পৃথিবীর ছায়া পড়া পড়ছে না, কেবলমাত্র একটি সরু দাগ দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে পূর্ণ গ্রহণ কেবলমাত্র তখনই ঘটবে, যখন এদের অবস্থান একই সমান্তরালে অবস্থিত হবে এবং একইসাথে সূর্যের অবস্থান হবে পৃথিবীর উপরি পৃষ্ঠের ঠিক বিপরীত দিকে। অর্থাৎ পূর্ণগ্রহণ হবে শুধুমাত্র মাঝরাতে।
খেলাধুলার উপর প্রভাব
পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরে যেতে থাকলে অভিকর্ষ তীর্যকতর হতে থাকবে; Source: VSauce/YouTube
পৃথিবী সমতল হলে খেলাধুলার উপরেও বিশাল প্রভাব পড়বে। ফুটবল খেলার সময় বল যেদিকেই নিক্ষেপ করা হোক না কেন, মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে সেটি সব সময়ই গড়িয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠের কেন্দ্রের দিকে ছুটে চলে আসতে চাইবে। কাজেই মাঠগুলোর দিক যদি হয় পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে এর প্রান্তের মধ্যবর্তী ব্যাসার্ধের অভিমুখে, তাহলে যে দল প্রান্তের দিকে থাকে থাকবে, তারা বেশি সুবিধা পাবে। ফলে সবগুলো মাঠের দিক হতে হবে ব্যাসার্ধের সাথে লম্ব অভিমুখে।
গাছপালার বৃদ্ধি
পৃথিবীতে গাছপালা বৃদ্ধি পায় মাধ্যাকর্ষণ বলের বিপরীত দিক অভিমুখে। ঋণাত্মক গ্র্যাভিট্রোপিজম নামক এক প্রকার বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ঘটে থাকে। পৃথিবী সমতল হলে কেবলমাত্র কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত গাছপালার বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবে হবে। কেন্দ্র থেকে দূরত্ব যত বেশি হবে, গাছপালা তত তীর্যকভাবে বেড়ে উঠতে থাকবে।
সংক্ষেপে দেখুনকিভাবে সান্ত্বনা দেবেন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে ?
কখনো কি খুব হতাশাগ্রস্ত কোনো ব্যক্তির সান্নিধ্যে এসেছেন? নিশ্চয়ই এসেছেন। এই দুঃখময় জগতে হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা তো নেহাত কম নয়। মাঝেমধ্যেই আমাদের আশেপাশের অনেক ব্যক্তিকে চরম হতাশাগ্রস্ত সময় পার করতে হয়। আমাদের কোনো বন্ধু হয়তো পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সিজিপিএ অর্জন করতে পারেনি, কোনো সহকর্মীর হয়তো প্রেমবিস্তারিত পড়ুন
কখনো কি খুব হতাশাগ্রস্ত কোনো ব্যক্তির সান্নিধ্যে এসেছেন? নিশ্চয়ই এসেছেন। এই দুঃখময় জগতে হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা তো নেহাত কম নয়। মাঝেমধ্যেই আমাদের আশেপাশের অনেক ব্যক্তিকে চরম হতাশাগ্রস্ত সময় পার করতে হয়। আমাদের কোনো বন্ধু হয়তো পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সিজিপিএ অর্জন করতে পারেনি, কোনো সহকর্মীর হয়তো প্রেমিকা বা স্ত্রীর সাথে বাদানুবাদ হয়েছে, কিংবা কোনো নিকটাত্মীয়ের হয়তো হঠাৎ করেই মৃত স্বামীর কথা ভেবে খুব মন খারাপ হয়ে গেছে।
এরকম পরিস্থিতিতে যদি আমরা তাদের কাছাকাছি থাকি, কিংবা অন্য কোনোভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ ঘটে, তখন প্রচন্ড বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তারা তাদের দুঃখের কথা আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়, এবং আশা করে আমরা হয়তো তাদেরকে যথাযথ সান্ত্বনা দিতে পারব, তাদের মন হালকা করতে পারব।
কিন্তু আমরা সবাই কি তা পারি? হতাশাগ্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা দেয়া এমন একটি শিল্প, যেটির উপর আমাদের অধিকাংশেরই ভালো দখল নেই। আমরা হয়তো বুঝি ঠিকই যে মানুষটা কষ্ট পাচ্ছে, তার পাশে আমাদের থাকা উচিৎ, তাকে মানসিক সমর্থন যোগানো উচিৎ। কিন্তু ঠিক কীভাবে যে সেটি সম্ভব, তা বুঝে উঠতে পারি না। ফলে তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে উল্টো এমন কিছু একটা বলে বসি, যাতে তার মন ভালো হওয়ার পরিবর্তে আরো বিষিয়ে যায়।
আর কোনো ব্যক্তিকে যদি তার দুঃসময়ে আমরা সান্ত্বনা দিতে না পারি, তবে তার মনে আমাদের ব্যাপারে বেশ খারাপ একটা ধারণা জন্মে যায়, এবং পরবর্তীতে সে আমাদেরকে আর নিজের খুব আপন কেউ বলে ভাবতে পারে না। এভাবেই একসময় যার সাথে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা বা আত্মীয়তা ছিল, তার সাথেই আমাদের দূরত্ব তৈরি হয়ে যেতে শুরু করে।
এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে আমরা একজন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দিতে পারি? তার সকল দুঃখ-কষ্ট দূর করতে না-ই বা পারলাম, কীভাবে অন্তত তাকে কিছুটা হলেও ভালো বোধ করাতে পারি? এ লেখায় আমরা সে বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করব।

প্রথমে শুনতে হবে; Image Source: WikiHow
শোনা
কাউকে সান্ত্বনা দেয়া বা ভালো বোধ করানোর প্রাথমিক শর্ত হলো, তাকে মন খুলে কথা বলতে দেয়া, এবং মনোযোগ দিয়ে তা শোনা। অধিকাংশ ব্যক্তিই কষ্ট পায় নিজের মনের কথা কাউকে খুলে বলতে পারে না বলে। তাই আমাদের উচিৎ হবে, তাকে এমনটা বোঝানো যে আমরা তার ব্যাপারে আসলেই জানতে চাই, এবং সে নিঃসংকোচে নিজের সকল সমস্যার কথা আমাদের সাথে ভাগ করে নিতে পারে।
যদি সে নিজে থেকে বলতে না চায়, তাহলে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে টুকটাক প্রশ্ন করে আমরা সে সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা লাভ করতে পারি। তাছাড়া, সাধারণত দেখা যায় যে, আগ্রহী শ্রোতা পেলে যেকোনো মানুষই নিজেকে মেলে ধরে।
সুতরাং আমাদের কর্তব্য হবে আগ্রহ প্রকাশ করা, সে কথা বলতে শুরু করলে মাঝেমধ্যে ‘হ্যাঁ’, ‘ঠিক’, ‘তাই তো’ জাতীয় কথা বলে তাল দেওয়া, এবং সে কোনো কথা বলতে গিয়ে মাঝপথে থেমে গেলে বিভিন্ন প্রশ্ন করে বিষয়টি সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেয়া।
যদি কোনো হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তি একজন আগ্রহী ও বিশ্বাসী শ্রোতার কাছে নিজের সমস্যার কথা কোনো রাখঢাক না রেখেই প্রকাশ করতে পারে, তাহলে তার খারাপ লাগার প্রায় অর্ধেকই দূর হয়ে যায়।

দেখাতে হবে সঠিক প্রতিক্রিয়া; Image Source: WikiHow
সঠিক প্রতিক্রিয়া দেখানো
একজন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তি যখন আমাদেরকে বিশ্বাস করে তার সব মনের কথা খুলে বলল, তখন কিন্তু আমাদের দায়িত্বও বহুগুণে বেড়ে গেল। ওই ব্যক্তির যখন নিজের তরফ থেকে সব বলা শেষ হয়ে যাবে, তখন সে অপেক্ষা করতে থাকবে আমাদের কী প্রতিক্রিয়া তা জানার। সুতরাং প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষেত্রে বিচক্ষণ হতে হবে।
অনেক সময় এমন হতে পারে যে, ওই ব্যক্তির সমস্যাটা আমাদের কাছে তেমন বেশি গুরুতর মনে হলো না। এটি খুবই স্বাভাবিক, কেননা সকলের বিবেচনাবোধ তো আর সমান নয়। তবে মনে রাখতে হবে যে, আমাদের কাছে যা-ই মনে হোক না কেন, ওই ব্যক্তি কিন্তু এই সমস্যাটি নিয়েই পীড়িত হয়ে আছে।
তাই কোনোভাবেই এমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না যাতে মনে হয়, “আরে, এটা কোনো সমস্যা হলো নাকি!” বরং জোর দিয়ে তাকে বলতে হবে, “হ্যাঁ, সমস্যাটা আসলেই গুরুতর, এবং কষ্ট পাবার মতোও।”

হতে হবে সহানুভূতিশীল; Image Source: WikiHow
সহানুভূতিশীল হওয়া
হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির মানসিক অবস্থা যদি আমরা উপলব্ধি করতে না পারি, তাহলে সকল চেষ্টাই মাঠে মারা যাবে। তাই এবার আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে, তার জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে ভাবা, “আমার সাথে এমন কিছু হলে আমি কেমন বোধ করতাম।”
যখন আমরা তৃতীয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ছেড়ে ওই ব্যক্তির জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে নতুন করে সমস্যাটি নিয়ে ভাবতে পারব, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কাছে বিষয়টির গুরুত্ব বেড়ে যাবে। শুরুতে যেটিকে হয়তো আমাদের কাছে নিতান্তই হাস্যকর মনে হয়েছিল, সেটিকেই এখন বৃহত্তর কোনো সমস্যা বলে মনে হবে।
এই ব্যাপারটির নামই হলো সহানুভূতি। এবং এই সহানুভূতি কেবল নিজের ভেতর চেপে রাখলেই হবে না, বরং ওই ব্যক্তির সামনে তা দেখাতেও হবে। তাকে বলতে হবে, “আমি বুঝতে পারছি তুমি কতটা কষ্ট পাচ্ছো। তোমার মনের জোরের তারিফ করতেই হয়। তোমার জায়গায় আমি থাকলে কিছুতেই এত কষ্ট সহ্য করতে পারতাম না।”
মনে রাখবেন, আমাদের এই কথায় তার সমস্যা মিটে যাবে না ঠিকই, কিন্তু নিজের উপর কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস সে ফিরে পাবে। এই মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস যে তার খুবই প্রয়োজন।

দিতে হবে ভরসা; Image Source: WikiHow
ভরসা দেওয়া
এবার হলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন আমরা হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে ভরসা দিতে শুরু করব, সব ঠিক হয়ে যাবার আশ্বাস দেব।
কিন্তু এই পর্যায়ে এসেই অনেকে ভুলটা করে বসে। তারা কিছুই হয়নি এমন একটা ভাব দেখিয়ে বলে, “আরে, এটা নিয়ে চিন্তা করার কোনো দরকারই নেই। সব ঠিক হয়ে যাবে।” অনেকে তো আরো এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বিভিন্ন অসম্ভব সমাধানও বাতলে দিতে শুরু করে।
আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, হতাশাগ্রস্ত মানুষের মনে জেঁকে বসা দুঃখ-কষ্ট এত পলকা না যে আমাদের দুই-একটা কথাতেই তা দূর হয়ে যাবে। তাছাড়া আমরা হুট করে যেসব সমাধান বাতলে দিচ্ছি, ওই ব্যক্তি নিজে কি সেগুলো নিয়ে আগে ভেবে দেখেনি? অবশ্যই দেখেছে, এবং তার কাছে সেগুলোকে ভরসাযোগ্য মনে হয়নি। তাই নতুন করে সেগুলোই তাকে বললে, তার মানসিক অবস্থার বিন্দুমাত্র উন্নতি হবে না।
তাহলে আমাদের করণীয় কী? আমাদের করণীয় হলো খুবই বুঝে শুনে পা ফেলা। এভাবে বলা, “সমস্যাটা তো যথেষ্ট জটিল। চাইলেই সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু তাই বলে সমাধান যে অসম্ভব, এমনটাও নয়। চলো, কী সমাধান বের করা যায় তা নিয়ে আমরা ভাবতে থাকি।”
এরপর আমাদেরকে বাস্তবিকই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে, এবং শেষ পর্যন্ত যেটিকে সবচেয়ে জোরালো বলে মনে হয়, সেটি তার সামনে উপস্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি যে, হুট করে বের করা সমাধান হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির উপর যতটা প্রভাব ফেলবে, ভেবেচিন্তে বের করা সমাধান সে তুলনায় অনেক বেশি প্রভাব ফেলবে।”

প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা বলতে হবে; Image Source: WikiHow
কথা বলা
কখনো কখনো এমন হয় যে, অনেক খুঁজে-পেতেও কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা যায় না। এমন ক্ষেত্রে অনেকেই চেষ্টা করেন প্রসঙ্গ বদলে ফেলার। তাদের ধারণা, সমস্যার কথা ভুলে গিয়ে অন্য কিছু নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে হয়তো হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির ভালো লাগবে।
কিন্তু আদতে তা ঘটে না। সমস্যাটি যেহেতু আমাদের নিজেদের না, তাই আমরা চাইলেই যত সহজে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিতে পারব, ওই ব্যক্তি কিন্তু তা পারবে না। তার অবচেতন মনে ওই সমস্যাটির কথাই বারবার ঘুরপাক খেতে থাকবে। এমতাবস্থায় যখন সে খেয়াল করবে আমরা তার সমস্যাটিকে পাশ কাটিয়ে অন্য প্রসঙ্গে কথা বলতে শুরু করেছি, তখন তার মনে হবে, আমরা হয়তো তার সমস্যাটিকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না। এমন মনে হওয়ার ফলে সে আরো বেশি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
তাই কোনো অবস্থাতেই পলায়নপর মানসিকতা দেখানো চলবে না। অন্য প্রসঙ্গে আলোচনার বদলে, আমাদের উচিৎ হবে সমস্যাটি নিয়েই টুকটাক আলাপ করতে থাকা, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির উপর আলোকপাত করা। এতে ওই ব্যক্তির মনের চাপ যেমন ধীরে ধীরে কমতে থাকবে, তেমনই জোরালো সম্ভাবনা থাকবে আলোচনার একপর্যায়েই কোনো একটি সমাধান বের হয়ে আসার।
তাই আবারো বলছি, সমস্যা থেকে পালিয়ে বেড়ালে চলবে না, সেটিকে মোকাবেলা করতে হবে কথার মাধ্যমে।

কিছু সময় নীরবতাও কাম্য; Image Source: WikiHow
নীরবতা
আগের ধাপটি অনুসরণের ক্ষেত্রেও কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। যদি এমন দেখা যায় যে কথা অব্যহত রেখেও কোনো সমাধান খুঁজে বের করা যাচ্ছে না, বরং হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির উপর তা আরো চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন আমাদেরকে থেমে যেতে হবে। জোর করে কিছু করা যাবে না। এমনও হতে পারে যে, এই মুহূর্তে ওই ব্যক্তির কিছুটা নীরবতা কাম্য। তাকে সেই নীরবতা লাভের সুযোগ করে দিতে হবে। এমন হতে পারে যে, সে আমাদেরকে তার পাশে চাচ্ছে, কিন্তু একই সাথে সে আর কথা চালিয়ে যেতে আগ্রহী নয়। সেক্ষেত্রে আমাদের উচিৎ হবে নিশ্চুপ হয়ে তার পাশে বসে থেকে, তাকে নীরব সমর্থন যোগানো।

আলিঙ্গনে মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়; Image Source: WikiHow
স্পর্শ
মৌখিক সান্ত্বনা যখন আর কাজ করে না, তখন শারীরিক স্পর্শ বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো, হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিটির সাথে আমাদের সম্পর্ক কতটা গভীর, এবং কী ধরনের।
যদি তার সাথে আমাদের সম্পর্ক এমন হয় যে তাকে আমরা জড়িয়ে ধরলেও সে বিব্রতবোধ করবে না, তাহলে তাকে জড়িয়ে ধরা যেতে পারে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানসিক চাপে ভুগতে থাকা ব্যক্তিকে জড়িয়ে ধরলে, তার চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।
কিন্তু যদি এমন হয় যে ওই ব্যক্তির সাথে আমাদের এমন সম্পর্ক যে তাকে জড়িয়ে ধরা উপযুক্ত নয়? তাহলে আমরা তার কাঁধে হাত রাখতে পারি, কিংবা নিজেদের কাঁধ তার দিকে বাড়িয়ে দিতে পারি। কাঁধ হলো নির্ভরতার প্রতীক। কারো কাঁধে হাত রাখা মানে হলো নীরবে এমনটি বলা যে, “চিন্তা কোরো না, আমি তোমার পাশে আছি।” আবার নিজের কাঁধে কাউকে মাথা রাখতে দেয়া মানেও তার ভরসাস্থল হয়ে ওঠা।
কিন্তু সম্পর্কের খাতিরে যদি এগুলোও উপযুক্ত না হয়? সেক্ষেত্রে আমরা অন্তত তার হাত ধরতে পারি। হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির হাত ধরে কিছুক্ষণ বসে থাকলেও তার যন্ত্রণা অনেকাংশে লাঘব হয়।

ফোনে কিংবা ফেসবুকে যোগাযোগ রাখতে হবে; Image Source: WikiHow
যোগাযোগ বজায় রাখা
এমনটা হতেই পারে যে, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির মন ভালো করতে পারলাম না। তার সমস্যা শুরুতে যেমন ছিল, শেষ পর্যন্ত তা-ই থাকল। কিন্তু এখন সময় হয়ে গেছে আমাদের ওই স্থান ত্যাগ করার, কিংবা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার।
সেক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলো, কিছু সময় পর আবারো তার সাথে যোগাযোগ করা। অন্তত তাকে ফোন করা কিংবা ফেসবুকে নক দেওয়া, এবং তার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া।
আমাদের মনে রাখতে হবে, হতাশাগ্রস্ত মানুষ যদি অনেক লম্বা সময় ধরে একা থাকে, তাহলে তার মধ্যে অবসাদ আরো জেঁকে বসে, এমনকি তার ভেতর আত্মহত্যার প্রবণতাও জাগতে পারে। তাই যোগাযোগ বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।
আমরা তার সমস্যার সমাধান করতে পারিনি কিংবা তার মন ভালো করতে পারিনি, তাতে কী হয়েছে! অন্তত আমরা যে তার সমস্যাটি নিয়ে চিন্তিত, তার ভালো-মন্দ নিয়ে আমরা ভাবিত, এই বিষয়গুলো বোঝাতে পারলেও তাকে অনেক নেতিবাচক চিন্তা থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব।
সংক্ষেপে দেখুনপৌরাণিক গল্পের অস্তিত্ব নেই কেন?
মানবজাতির ইতিহাসে মানুষ কাজে ব্যস্ত থেকেছে, অলসতায় সময় কাটিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করেছে। আশেপাশে কোনো ঘটনা ঘটলে সেগুলোর কারণ উদঘাটন করে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তখন বিজ্ঞান ছিল না, তাই স্বভাবতই সেসব ব্যাখ্যা পরবর্তীতে অযৌক্তিক হিসেবে গণ্য হয়েছে। ব্যাখ্যাগুলো যৌক্তিক দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য হলেও শবিস্তারিত পড়ুন
মানবজাতির ইতিহাসে মানুষ কাজে ব্যস্ত থেকেছে, অলসতায় সময় কাটিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করেছে। আশেপাশে কোনো ঘটনা ঘটলে সেগুলোর কারণ উদঘাটন করে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তখন বিজ্ঞান ছিল না, তাই স্বভাবতই সেসব ব্যাখ্যা পরবর্তীতে অযৌক্তিক হিসেবে গণ্য হয়েছে। ব্যাখ্যাগুলো যৌক্তিক দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য হলেও শিল্পমানে অনন্য ছিল। একজন লেখক যখন ফ্যান্টাসি গল্প ও কল্পবিজ্ঞান লিখেন, তখন আমরা পাঠকেরা সেগুলো পড়ে বিমোহিত হই, লেখককে বাহবা দেই, কারণ সেগুলো শিল্পমানে উন্নত। হোক না কাল্পনিক, কিন্তু মনের আনন্দের খোরাক তো জোগায়। তেমনই প্রাচীনকালের মানুষদের ব্যাখ্যাগুলো বিজ্ঞানের দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য হলেও, সেগুলো এখন পর্যন্ত বেঁচে রয়েছে শিল্প-সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে। সেগুলো টিকে আছে উপকথা ও পৌরাণিক কাহিনী হিসেবে।
জগতে ঘটমান অনেক ক্ষেত্রেই পৌরাণিক গল্প-কাহিনীর দেখা পাওয়া যায়। যেমন- পৃথিবীতে মানুষ কীভাবে আসলো তা নিয়ে গ্রিক, তাসমানীয়, ভাইকিং প্রভৃতি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে। প্রাণের বৈচিত্র্য কেন আছে, তা নিয়ে উত্তর আমেরিকার হোপি, নাভাহো, পিউরো প্রভৃতি অঞ্চলে নানা উপকথা প্রচলিত আছে। মানুষ কেন এত এত ভাষায় কথা বলে তা নিয়েও পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে। শীত কেন আছে, গ্রীষ্ম কেন আছে, শীত-গ্রীষ্ম কেন চক্রাকারে চলতে থাকে, রাত কেন আছে, দিন কেন আছে, রাত-দিনের কেন সুনির্দিষ্ট চক্র আছে- এসব নিয়ে অস্ট্রেলীয়, কানাডীয়, গ্রিক প্রভৃতি অঞ্চলে আলাদা আলাদা উপকথা প্রচলিত আছে। সূর্য আসলে কী, সূর্য কেন উঠে, চাঁদ কেন আকৃতিতে সূর্যের সমান হয়েও সূর্যের মতো তীব্র নয় তা নিয়েও অনেক অঞ্চলে অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে। রংধনু, মহাবিশ্বের উৎপত্তি, ধূমকেতু, সমুদ্র, নদী, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি, বন্যা, খরা ইত্যাদি অনেক কিছু নিয়েই পৌরাণিক উপকথা বিদ্যমান আছে।
ইকারাস, উড়োজাহাজ সম্পর্কিত উপকথার নায়ক; Credit: Musée Antoine Vivenel
কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে যেগুলো সম্পর্কে অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও কোনোপ্রকার পৌরাণিক উপকথার দেখা পাওয়া যাবে না। এমন অনেক অনেক বিষয়ের উদাহরণ দেয়া যায়। এর মধ্যে চমৎকার একটি হচ্ছে, ক্ষুদ্র জগৎ তথা মাইক্রোস্কোপিক লেভেল। ক্ষুদ্র জগৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পৌরাণিক কাহিনী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। যে সকল প্রাচীন মানুষ পৌরাণিক কাহিনীগুলোর জন্ম দিয়েছিল, তাদের ধারণাতেই আসেনি ক্ষুদ্র জগৎও চমৎকারিত্বে ভরা এবং এই জগৎ নিয়েও প্রচুর কাহিনী তৈরি করা যায়। এই ব্যাপারটি নিয়ে যদি চিন্তা-ভাবনা করা হয়, তাহলে দেখতে পাবো, এটি খুব একটা অবাক করা বিষয় নয় যে, কেন তাদের মনে ক্ষুদ্র জগৎ নিয়ে কোনো কাহিনীর জন্ম হয়নি।
রোগ শোক তথা ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস, যৌগ, মৌল, অণু, পরমাণু ইত্যাদির ক্ষুদ্র জগৎও যে চমৎকার একটি মহাবিশ্ব, এ সম্বন্ধে জানার কোনো উপায় ছিল না তখনকার মানুষের। পৌরাণিক কাহিনী তৈরি হয়েছে বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে। যেহেতু তখনকার মানুষ ক্ষুদ্র জগত সম্বন্ধে জানতোই না, সেহেতু এই জগতের ব্যাখ্যারও প্রয়োজন পড়েনি এবং তাই কোনো পৌরাণিক কাহিনীরও জন্ম হয়নি।
ক্ষুদ্র জগত সম্বন্ধে জানার কোনো উপায় ছিল না তখনকার মানুষের; source: Chemical Oceanography Unit
ষোড়শ শতাব্দীতে অণুবীক্ষণ যন্ত্র (মাইক্রোস্কোপ) উদ্ভাবনের আগ পর্যন্ত ক্ষুদ্র পরিমণ্ডলে বিস্তার করা এই জগৎ সম্পর্কে কেউই জানতো না। ষোড়শ শতাব্দীর পরে মানুষ আবিষ্কার করেছে যে, পুকুর-ডোবা-খাল, মাটি-ধূলো-বালি এমনকি আমাদের নিজেদের শরীরে অতিক্ষুদ্র প্রাণেরা বসবাস করছে। এগুলো এতটাই ক্ষুদ্র যে, এদের আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। কিন্তু তারপরেও এরা প্রাণ বা জীব, ক্ষুদ্র বলে এদের গঠনও যে সরল হয়ে যাবে এমন না। যথেষ্ট পরিমাণ জটিল এদের গঠন ও কর্মপ্রক্রিয়া। আর এদের সকলেই বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে সৌন্দর্যময় কিংবা ভয়ঙ্কর। সুন্দর দেখাবে নাকি ভয়ঙ্কর দেখাবে, তা নির্ভর করবে আমরা তাদেরকে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি তার উপর।
নিচের ছবির জীবটি ধূলোবালিতে বাস করা একধরনের অতিক্ষুদ্র প্রাণ (Mites)। শারীরিক গঠনে কিছুটা মাকড়সার মতো কিন্তু ক্ষুদ্র বলে, এদেরকে কণা বা ফুটকীর মতো বলে মনে হয়। এরকম হাজার হাজার ক্ষুদ্র জীব বাস করছে আমাদের ঘরে, কার্পেটে, বিছানায়।
ধূলোর পোকা; source: NerdHeist
আদিম মানুষেরা যদি তাদের সম্পর্কে জানতো বা ধারণা রাখতো, তাহলে এটা বলা বাহুল্য যে, তারা কী পরিমাণ পৌরাণিক গল্প আর উপকথার জন্ম দিতো এদেরকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে। কিন্তু মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, ক্ষুদ্র স্কেলে এমন আশ্চর্য এক জগৎ লুকিয়ে আছে আমাদেরই চারপাশে।
এই জীবগুলো অনেক ক্ষুদ্র হলেও এরা একশত ট্রিলিয়নেরও বেশি পরিমাণ পরমাণু ধারণ করে। এর থেকে অনুমান করা যায় পরমাণু কতটা ক্ষুদ্র। দৃষ্টিগোচর হবার জন্য ধূলোর পোকা যথেষ্ট ক্ষুদ্র হলেও, এর চেয়েও অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণের অস্তিত্ব আছে। যেমন- ব্যাকটেরিয়া, এরাও একধরনের জীব এবং এরা ধূলিপোকার দেহের অভ্যন্তরে বসবাস করে। আমাদের দেহেও এরকম ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া আছে প্রচুর পরিমাণে। ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও আরো ক্ষুদ্র প্রাণের অস্তিত্ব আছে এবং এসব ক্ষুদ্র প্রাণ প্রচুর পরিমাণে বাসও করছে আমাদের শরীরে। শুধু আমাদের শরীর কেন, ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়ার শরীরেও বাস করছে আরো ক্ষুদ্র ভাইরাস।
কথায় আছে, বাঘের উপরেও টাগ থাকে। ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়ার ভেতরেও বাস করে ক্ষুদ্রতর ভাইরাস; source: John Creech Scientific
পুরো পৃথিবীটাই অবিশ্বাস্য রকমের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণ দিয়ে পরিপূর্ণ। এদের কাউকেই খালি চোখে দেখা যায় না এবং পৃথিবীর কোনো পৌরাণিক গল্পেই এদের কোনো ব্যাখ্যা নেই। প্রাচীন মানুষেরা বিশ্বাস করতো, পৃথিবীর সমস্ত প্রাণবৈচিত্র্যই তৈরি করেছেন মর্ত্য ও নক্ষত্রলোকে বসবাসকারী এবং সর্ববিষয়ে জ্ঞানী দেব-দেবীরা। তাদের পুঁথিতে ক্ষুদ্র জগৎ সম্পর্কে কোনো কিছুরই কোনো দেখা নেই।খেয়াল করলে দেখা যাবে, আধুনিক বিজ্ঞানের আবিস্কার-উদ্ভাবনগুলোর কোনো উল্লেখই নেই দেবতাদের গল্প-কাহিনীতে। দেব-দেবীদের গল্প বা গ্রন্থগুলো বলে না বা বলতে পারে না যে, এই মহাবিশ্ব কত বড় কিংবা এই মহাবিশ্ব কত বছর বয়সী; তারা বলে না কীভাবে ক্যান্সারের প্রতিরোধ করতে হয়; তারা মহাকর্ষের কোনো ব্যাখ্যা দেয় না; অন্তর্দহন ইঞ্জিনের কার্যপ্রণালীর ধারণা দেয় না; তারা আমাদেরকে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বা নিউক্লিয়ার ফিশন বা বিদ্যুৎ বা এনেস্থেটিক সম্পর্কে কোনোকিছুই বলে না।
সত্যি কথা বলতে কী, এসব গল্পকাহিনী বা গ্রন্থগুলো যখন কারো দ্বারা রচিত হয়েছিল, এগুলো তখনকার সময়ের পরের কোনো তথ্যই ধারণ করে না। রচয়িতাদের পক্ষে ভবিষ্যৎ জ্ঞানের কোনোকিছু লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়। ঐ গ্রন্থগুলোতে যা আছে তা তখন পর্যন্ত প্রাপ্ত জ্ঞানের বাইরে নয়। আর ঐ সময়গুলোতে বিজ্ঞানের কোনো অগ্রগতিই ছিল না, তাই এটি খুবই স্বাভাবিক যে, এসব গ্রন্থ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে খুব একটা গ্রহণযোগ্য বা নির্ভুল হবে না। বাস্তবেও দেখা যায় সেটি, পৌরাণিক গল্পকাহিনীগুলোতে প্রচুর বৈজ্ঞানিক অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়।
পৌরাণিক রচনায় পরবর্তী সময়ের তথ্য বা ব্যাখ্যা না থাকাটাই স্বাভাবিক; source: CILIP
আবার অন্যদিকে বিজ্ঞানও কোনো আরাধ্য বিষয় নয়। বিজ্ঞানের সাথে কোনো কিছু না মিললে সেটা অচ্ছুৎ হয়ে যাবে ব্যাপারটা এমন নয়। পৌরাণিক কাহিনীগুলো বেঁচে থাকবে তাদের কল্পনা-শিল্প-সাহিত্যের আবেদনের মাধ্যমেই। আর আধুনিক যে যে বিষয়ের উপকথা নেই, সেগুলো নিয়ে যে উপকথা তৈরি হবে না তা কিন্তু নয়। প্রশ্ন আসতে পারে, এই আধুনিক কালেও কীভাবে পুরাণ আর উপকথার জন্ম হতে পারে? আসলে উপকথা তো কোনো না কোনো কালের মানুষেরাই বানায়। প্রাচীনকালে জন্ম নেয়া উপকথাগুলোও তো তাদের সময় ‘আধুনিক’ ছিল। তাদের সময়ের প্রেক্ষিতে সেগুলো ছিল ‘বর্তমান’। এখন আমরা সেগুলোর বাস্তবতা-অবাস্তবতা নিয়ে হাসাহাসি করি। ঠিক একইভাবে আমাদের আজকের যুগের কোনো অন্ধবিশ্বাসও তো হতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হাস্যকর উপকথা।
সংক্ষেপে দেখুনসবুজ পৃথিবীর স্বপ্নে বাগানের ধারণা কতটা গুরুত্ব রাখে?
ছোটবেলায় ইংরেজি বিষয়ে অনুচ্ছেদ লেখায় যখন শখের কথা বলতে হতো আমাদের, তখন একটি বহুল প্রচলিয় শখের কথা শোনা যেত মুখে মুখে- বাগান করা। বাড়ির সামনে একটি ছোট্ট বাগান, সেখানে নানা রঙের ফুল আর সবজির সমারোহ। এমন ভাবনা স্বপ্নে দেখা আর সেটা সত্যি করে তোলায় আজকাল ফারাক থেকে যায় শহুরে বাস্তবতায়। কংক্রিটের নগরীতে সবিস্তারিত পড়ুন
ছোটবেলায় ইংরেজি বিষয়ে অনুচ্ছেদ লেখায় যখন শখের কথা বলতে হতো আমাদের, তখন একটি বহুল প্রচলিয় শখের কথা শোনা যেত মুখে মুখে- বাগান করা। বাড়ির সামনে একটি ছোট্ট বাগান, সেখানে নানা রঙের ফুল আর সবজির সমারোহ। এমন ভাবনা স্বপ্নে দেখা আর সেটা সত্যি করে তোলায় আজকাল ফারাক থেকে যায় শহুরে বাস্তবতায়। কংক্রিটের নগরীতে সংকীর্ণ জায়গায় বাগান করার ধারণা বেশ চ্যালেঞ্জের ব্যাপার ঠেকে। কিন্তু পৃথিবী যখন জলবায়ু সংকটের মতো ভয়াবহ এক পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তখন সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন বাস্তব করে তোলা বেশ জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই ভাবনায় বাগান করা ঠিক কতটা গুরুত্ব বহন করতে পারে- এই লেখায় জানা যাক সেই ব্যাপারে।
গাছ লাগানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
গাছের ছাউনিগুলো একটি শারীরিক ছাকঁনি হিসেবে কাজ করে। এরা ধুলো আটকায়, এবং বায়ু থেকে দূষক শোষণ করে। গাছ সৌর বিকিরণ থেকে ছায়া প্রদান করে এবং শব্দ কমায়।
গবেষণা বলছে, আপনি যদি গাছ এবং সবুজে ঘেরা স্থানে মিনিটখানেকও অবস্থান করেন, তাহলে আপনার রক্তচাপ কমতে থাকবে, এবং হৃদস্পন্দন ধীর হবে। একইসাথে আপনাকে মানসিক প্রশান্তিও এনে দিতে সক্ষম গাছ।

আপনি যদি গাছ এবং সবুজে ঘেরা স্থানে মিনিটখানেকও অবস্থান করেন তাহলে মানসিক প্রশান্তি পাবেন। Image Courtesy : http://www.birstall.co.uk Caption
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি গাছ লাগানোর মতো উদ্যোগ জলবায়ু সংকট মোকাবেলা করার জন্য বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করে নেওয়ার সবচেয়ে বড়, এবং সুলভ উপায়গুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিটি পৃথক গাছ প্রতি বছর ১.৭ কেজি পর্যন্ত কার্বন অপসারণ করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গাছ লাগানোর উদ্যোগে ফসলি জমির ক্ষতি করা যাবে না। শহুরে এলাকায় বাস্তবায়ন করতে হবে সবুজায়নের এই প্রচেষ্টা। বাগান করা তাই হতে পারে এই উদ্যোগের সহজ সমাধান।
কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হয়। মানুষের নানা কার্যকলাপের দরুন বায়ুমন্ডলে এর উপস্থিতি ক্রমশই বাড়ছে। একটি গাছ যত বড় হতে থাকে, এই কার্বন ডাইঅক্সাইড সঞ্চয় ও শোষণের ক্ষমতা বাড়তে থাকে তার।
গাছ বাতাসের গতি কমিয়ে একে শীতল করে। এর পাতা সূর্যের তাপ প্রতিফলিত করে। এতে কমে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা। অনুমান করা হয়, গাছ একটি শহরের তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে পারে।

গাছ শহরের তাপমাত্রাও কমাতে সক্ষম; Image Courtesy : Asean Foundation
শুধুই গাছ লাগানো বাগান করা নয়
দেখতে যেমনই হোক, পৃথিবীর সকল বাগানই প্রায় একই ভিত্তির উপরই তৈরি। বাগান করার মূল উপাদানগুলো সেখানে থাকবেই।
বাগান করার অর্থ শুধু চারা লাগানোই নয়। কিংবা সৌন্দর্যের ভাবনা থেকেই বাগান করা হয়- এমন ভাবনাও অমূলক। বরং এর সংজ্ঞা বেশ বিস্তৃত পরিসর জুড়ে ছড়িয়ে আছে। সংশ্লিষ্ট স্থানের মাটি, পোকামাকড়, পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ এসব কিছুই একটি বাগানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। একটি বাগান স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের উন্নতিতে দারুণ প্রভাব রাখতে পারে। একইসাথে এটি দূষণ কমাতে এবং উষ্ণায়নের বিরুদ্ধেও বেশ কার্যকর। প্রকৃতির প্রতিটি বিষয়ের সাথে নিবিড় সম্পর্কে মিশে থাকে বাগানের নাম।
এ কারণেই যদি আপনার লক্ষ্য হয়ে থাকে শুধু গাছের বৃদ্ধি, তাহলে সেটি হবে হতাশার। কারণ সেখানে অর্থনৈতিক চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ ফুটে ওঠে। কিন্তু প্রকৃতির ভাবনায় লক্ষ্যের জায়গাতে আনতে হবে পরিবর্তন, চিন্তার পরিধিকে করে তুলতে হবে বিস্তৃত। জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে এবং সবুজ পৃথিবীর স্বপ্নকে সত্যি করে তুলতে বাগানকে করে তুলতে হবে পরিবেশ ও প্রাণীবান্ধব।
বাগানে গাছ লাগানো কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে?
বৈশ্বিক উষ্ণতা কার্বন ডাইঅক্সাইডের মতো অত্যধিক গ্রিনহাউজ গ্যাসের কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই গ্যাস বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখে। সময়ের সাথে সাথে এই উষ্ণতা ব্যাপক জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান রাখে, যার ফলে বরফের টুকরো গলে যেতে পারে, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে, এবং ক্রমবর্ধমান তীব্র ঝড় ও দাবানল হতে পারে।
আপনার ছোট্ট জমিতে কয়েকটি গাছ, গুল্ম, ফুল এবং শাকসবজি রোপণ করা এই প্রভাবকে প্রশমিত করতে সহায়তা করতে পারে। বাড়ির উঠোনে করা বাগানের গাছগুলো পরিমাণে কম হলেও কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণে সক্ষম। এমন ছোট্ট জায়গায় বপন করা গাছের চারা খুব একটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে না। কিন্তু আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে আছি, সেটা আমলে নিলে প্রতিটি সামান্য পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

একটি গাছের চারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে; Image Courtesy : Billion Tree Initiative
যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বনভূমি সংরক্ষণ বিষয়ক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘উডল্যান্ড ট্রাস্ট’ এর উডল্যান্ড আউটরিচ ডিরেক্টর জন টাকার বলছেন, “একটি গাছের চারা হয়তো কোনো পার্থক্য তৈরি করবে না, কিন্তু যদি ১ কোটি মানুষ একটি করে গাছ লাগায় তাহলে সেটি অবশ্যই পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম। ” লোকেরা যদি মনে করে যে তারা কিছু করতে চায়, তাহলে সঠিক জায়গায় একটি গাছ লাগানো একটি ভালো কাজ বলে মত দিয়েছেন টাকার।
আপনার নিজের জন্য খাদ্যের জোগান দেওয়া আপনার পরিবেশগত প্রভাবকেও কমিয়ে দিতে পারে, কারণ এর অর্থ হলো মুদি দোকানে কম যেতে হয়। বাজারে কিংবা সুপারশপ থেকে কেনা সবজি ও ফল প্রায়ই দূরের এলাকা থেকেই আসে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করা পণ্যের চেয়ে পরিবেশের জন্য সর্বদা ভাল।
এগুলোর পরিবহনে জ্বালানী শক্তি ব্যয় হয়। এটি একইসাথে উচ্চ কার্বন ফুটপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিবেশে দূষণ ছড়াচ্ছে। কিন্তু নিজের বাগানেই যদি সেই সবজি বা ফল উৎপাদন করা সম্ভব হয়, তাহলে নিজের খাবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিবেশেও রাখা যাবে ইতিবাচক প্রভাব।
জন টাকার মানুষকে আমদানির মাধ্যমে এসেছে এমন গাছ কেনা থেকে বিরত থেকে নিজ দেশ বা এলাকায় জন্মানো গাছের চারা লাগানোর উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলছেন, “আমদানী করা গাছ কিনতে লোকেদের উৎসাহিত করা এড়াতে চাই। কারণ এটি রোগের ঝুঁকি নিয়ে আসে।”
চাইলেই বাগানে সব গাছ লাগানো যায় না। আবার বাগানের আকারভেদেও চারা লাগানো নির্ভর করে। আপনি যেখানে থাকেন, সেখানে কোন প্রজাতির গাছের বৃদ্ধি ভালো হবে, এবং এটি কত বড় হতে পারে সেই সম্পর্কে আপনাকে ভাবতে হবে। জন টাকার বলছেন, “আপনার পেছনের দরজার বাইরে দুই ফুট একটি ওক গাছ লাগিয়ে কোনো লাভ নেই- এটি আপনার বাড়ির ক্ষতি করবে।”

বাগানে কী গাছ লাগাচ্ছেন সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত; Image Courtesy :cwf-fcf
তার মতে, বাগান করার ক্ষেত্রে বাড়ির ভিত্তি, ভূগর্ভস্থ ড্রেন, ওভারহেড পাওয়ার লাইন সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে, এবং নিশ্চিত করতে হবে যে গাছটি এমন জায়গায় থাকবে যেখানে এটি বাড়তে পারে, এবং কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। আপনার প্রতিবেশীদের উপর প্রভাব সম্পর্কেও চিন্তা করতে হবে। ছোট প্রজাতির মধ্যে আপেল গাছ বা রোয়ান অন্তর্ভুক্ত।
শুধু রোপণের কাজকে এই প্রক্রিয়ার শেষ হিসেবে দেখা উচিত নয়। সদ্য রোপণ করা গাছের জন্য পরিচর্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যত্ন ছাড়াই আমরা এমন অনেক গাছ রোপণ করতে পারি যেগুলো অকালেই মারা যায়, বা এমন আকারে বাড়ে না যেখানে তারা কার্বন শোষণ করার মতো সুবিধা প্রদান করতে পারে।
সংক্ষেপে দেখুনসময় পরিভ্রমণ কি সম্ভব?
কেমন হতো, যদি টাইম মেশিনে করে সহজেই ফিরে যেতে পারতাম ছেলেবেলায়। আবার পেতাম নির্ঝঞ্ঝাট সহজ-সরল জীবন। কিংবা যদি এক লাফে দশ বছর পরের ভবিষ্যতে চলে যেতাম, আর পড়াশোনার ঝামেলায় পড়তে হতো না, তা-ই না? কিন্তু, সেরকম কি আসলে সম্ভব? ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া সাড়া জাগানো মুভি Predestination নিশ্চয়ই অনেকেই দেখেছেন। বিস্তারিত পড়ুন
কেমন হতো, যদি টাইম মেশিনে করে সহজেই ফিরে যেতে পারতাম ছেলেবেলায়। আবার পেতাম নির্ঝঞ্ঝাট সহজ-সরল জীবন। কিংবা যদি এক লাফে দশ বছর পরের ভবিষ্যতে চলে যেতাম, আর পড়াশোনার ঝামেলায় পড়তে হতো না, তা-ই না? কিন্তু, সেরকম কি আসলে সম্ভব?
২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া সাড়া জাগানো মুভি Predestination নিশ্চয়ই অনেকেই দেখেছেন। টাইম মেশিনে করে সহজেই কীভাবে অনেক বছর অতীতে চলে যাওয়া যায়, কীভাবে নিজের বাচ্চাকালকে চোখের সামনে দেখা যায়। যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই ধরেই নিয়েছেন যে, এসব নিছকই সায়েন্স ফিকশন! বাস্তবে অতীত বা ভবিষ্যতে আবার যাওয়া যায় নাকি! সে প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজবো আজ আমরা। বিজ্ঞানের আলোকে বোঝার চেষ্টা করবো- আসলেও সময় পরিভ্রমণ সম্ভব কি না।

সময় পরিভ্রমণ- সম্ভাবনা ও বাস্তবতা; image source: writeup.in
সময় পরিভ্রমণ বলতে সহজ ভাষায় অতীতে বা ভবিষ্যতে যেতে পারাকে বোঝায়। আমি যদি ২০০০ সালে ফিরে যেতে পারি বা ২০৩০ সালের পৃথিবীতে চলে যেতে পারি, তবে তাকে সময় পরিভ্রমণ বলবে। শুনতে যতটা সহজ লাগছে বাস্তবে কিন্তু সেটা ততটা সহজ না। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন! ততটা সহজ না, তবে অসম্ভব কিছুও না! টাইম ট্রাভেল কীভাবে সম্ভব তা জানতে হলে আমাদের একটু গভীরে যেতে হবে। জেনে আসতে হবে সময় পরিভ্রমণ নিয়ে বিজ্ঞানের কিছু তত্ত্ব।
সময় পরিভ্রমণ বোঝার জন্য আপনাকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা ও আলোর গতিসূত্র বুঝতে হবে। আইনস্টাইন সময় জিনিসটাকে আলোর মাধ্যমে ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছেন। কোনো বস্তু যত দ্রুত গতিতে চলবে, তার সাপেক্ষে সময় তত স্থির হয়ে থাকবে। অর্থাৎ, আপনি যদি আলোর কাছাকাছি গতিতে চলতে পারেন, তবে আপনার সাপেক্ষে সময় প্রায় স্থির থাকবে। আপনি দুই ঘন্টা ভ্রমণ করে আসার পর দেখবেন পৃথিবীতে হয়তো এর মাঝে দুই বছর সময় চলে গিয়েছে! এ তো গেল আলোর কাছাকাছি গতিতে ভ্রমণ করতে পারলে কী হবে সেই কথা। আর আলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে যেতে পারলে আপনি সময়কেই অতিক্রম করে ফেলতে পারবেন!
একটি সহজ উদাহরণ দেয়া যাক। মনে করুন, আপনি পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে এক লক্ষ আলোকবর্ষ দূরের কোনো একটি নক্ষত্রকে টেলিস্কোপ দিয়ে দেখছেন। এই মুহূর্তে আপনি যে জ্বলজ্বলে নক্ষত্রটি দেখছেন সেটি কিন্তু নক্ষত্রটির বর্তমান অবস্থা না। আমরা কোনো বস্তু তখন দেখতে পাই যখন সেটি থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়ে। অর্থাৎ, এক লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে থাকা সেই নক্ষত্রটি থেকে আলো এসে পৃথিবীতে পৌঁছাতে এক লক্ষ বছর লেগেছে। আপনি এই মুহুর্তে নক্ষত্রটিকে যেমন দেখছেন সেটি আপনার কাছে বর্তমান হলেও, নক্ষত্রটির কাছে সেটি এক লক্ষ বছর অতীতের ঘটনা।
এখন, কল্পনা করে নিন, সেই নক্ষত্রটি ব্ল্যাকহোলে হারিয়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সেখানে বাস করা একটি এলিয়েন ১ লক্ষ আলোকবর্ষ/সেকেন্ড গতিতে পৃথিবীতে চলে আসলো। সে আসার পরও কিন্তু সে নক্ষত্রটিকে একই অবস্থায় দেখতে পাবে পৃথিবী থেকে। তারও এক লক্ষ বছর পর পৃথিবীবাসীরা সেই নক্ষত্রকে ব্ল্যাকহোলে হারিয়ে যেতে দেখবে। তাহলে এ থেকে আমরা কী বুঝলাম? পৃথিবীবাসীরা যা এক লক্ষ বছর পর দেখবে, যা তাদের কাছে এক লক্ষ বছর ভবিষ্যতের ঘটনা, সেই ঘটনাটি পৃথিবীতে চলে আসা এলিয়েনের কাছে নিকট অতীত!

স্পেস-টাইম ফেব্রিক; image source: nasa.org
এখন, এখানে একটি ছোট সমস্যা রয়ে গেছে। উদাহরণ দিতে গিয়ে তো খুব করে বললাম, এলিয়েনটি এক লক্ষ আলোকবর্ষ দূরত্ব এক সেকেন্ডে চলে আসবে। কিন্তু, তা কি আদৌ সম্ভব? উত্তর, সম্ভব নয়। আইনস্টাইনের সূত্রমতে, আলোর গতি ধ্রুব এবং কোনো কিছুই আলোর চেয়ে অধিকতর গতিশীল হতে পারবে না। সেই হিসেবে এক লক্ষ আলোকবর্ষ দূরত্বও এক মুহূর্তে অতিক্রম করা সম্ভব না। তাহলে ভবিষ্যতে পরিভ্রমণ করার উপায় কী? আসুন, এবারে আর দ্বিধায় না রেখে সহজে বুঝিয়ে দেই।
আমরা কোনো বিন্দুর অবস্থান বের করি XYZ অক্ষ দ্বারা। অর্থাৎ, দৈর্ঘ্য নির্ণয়ে X, প্রস্থ নির্ণয়ে Y আর উচ্চতা নির্ণয়ে Z অক্ষ ব্যবহার করি। কিন্তু কোনো ঘটনার প্রকৃত অবস্থান জানতে এ তিনটি মাত্রা বাদেও আরেকটি মাত্রার প্রয়োজন। তা হলো সময়। এ চতুর্থ মাত্রাকে আইনস্টাইন স্পেস-টাইম বলেছেন। এখন, মহাবিশ্বে জালের মতো ছড়ানো যে স্পেস টাইম ফেব্রিক রয়েছে, তা দিয়ে সময়/আলো প্রবাহিত হয়। যেহেতু আলোর গতিকে অতিক্রম করা সম্ভব না, সেহেতু আমাদের সময় পরিভ্রমণের জন্য বিকল্প উপায় খুঁজতে হবে। একটি ব্যবহারিক উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি। একটি কাগজের পৃষ্ঠা হাতে নিন। পৃষ্ঠাটির বরাবর উপরে নিচের দুই প্রান্তে দুটি আলাদা ফুটো করুন। এবারে মাঝ বরাবর পৃষ্ঠাটি দুই ভাঁজ করে কী দেখতে পেলেন? ফুটো দুটি একসাথে লেগে আছে, তাই তো? এবার পৃষ্ঠাটি আবার আগের মতো খুলে ধরুন। খুলে রাখা পৃষ্ঠায় দুটি ছিদ্র যতটা দূরে, ভাঁজ করা পৃষ্ঠার ক্ষেত্রে বলতে গেলে তা একদমই নেই।

ওয়ার্মহোল; image source: sciencenews.uk
এখন যদি এই পৃষ্ঠাটিকে আমরা একটি স্পেস-টাইম ফেব্রিক হিসেবে কল্পনা করি তাহলে বুঝতে পারি, স্বাভাবিকভাবে দুটি ঘটনা বিন্দু অনেক দূরত্বে থাকলেও, ফেব্রিকের সংকোচনের ফলে দুটি ঘটনা বিন্দুকে খুব অল্প দূরত্বে নিয়ে আসা সম্ভব। অর্থাৎ, সাধারণভাবে যে ঘটনা বিন্দুটি অনেক পরে দেখতে পাওয়ার কথা, সেখানে শর্টকাটে অনেক আগেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। এ ধারণার উপর ভিত্তি করেই ওয়ার্মহোল বা সময় সুড়ঙ্গের ধারণাটি এসেছে।
ওয়ার্মহোল হচ্ছে এমন একটি ক্ষুদ্র সুড়ঙ্গ, যা অনেক অনেক আলোকবর্ষ দূরের দুটি ঘটনা বিন্দুকেও স্পেস ফেব্রিকের সংকোচনের মাধ্যমে খুব কাছাকাছি দূরত্বে নিয়ে আসে। সুতরাং, ওয়ার্মহোলের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে আলোর অধিক গতিবেগ ছাড়াই ভবিষ্যৎ পরিভ্রমণ সম্ভব। প্রশ্ন থাকতে পারে, এখন পর্যন্ত কেউ ওয়ার্মহোলে করে কেন তাহলে ভবিষ্যত ভ্রমণ করেনি। এর উত্তর হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, মহাবিশ্বে ওয়ার্মহোল খুব মাঝে মাঝে সামান্য কিছু সময়ের জন্য আবির্ভূত হয়। তাছাড়াও এ ওয়ার্মহোলগুলোর ব্যাস হয় এক সেন্টিমিটারের লক্ষ কোটি ভাগের কম। সুতরাং এত কম সময় স্থায়ী ও এত ক্ষুদ্র ওয়ার্মহোলের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করা প্রায় অসম্ভব! সুতরাং, ভবিষ্যত পরিভ্রমণ তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও বাস্তবিকভাবে এখন পর্যন্ত ভবিষ্যত পরিভ্রমণ করার মতো প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি।

চতুর্থ মাত্রা; image source: space.org
ভবিষ্যত পরিভ্রমণ নিয়ে আলোচনা গেল। এবার আসা যাক অতীত পরিভ্রমণে। তাহলে তো অতীত পরিভ্রমণও একইভাবে ওয়ার্মহোলের ভেতর দিয়ে করা যাবে, তাই না? উত্তর, না। এখানে দুটি ঝামেলা আছে। এই ঝামেলাগুলোকে ‘সেলফ কনসিস্টেন্সি থিওরি’ ও ‘গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স থিওরি’ বলে।
আমি ভবিষ্যতে গিয়ে যদি সব ভেঙেচুরে একাকার করে ফেলি, তাহলে সেটি বড় কোনো প্রাকৃতিক সমস্যা দাঁড় করাবে না। আমি ১০০ বছর ভবিষ্যতে গিয়ে ভাংচুর করে চলে আসার পর, স্বাভাবিকভাবে ১০০ বছর পরের ভবিষ্যতে এই ঘটনাটিই হবে। কিন্তু সমস্যা হবে অতীতে গিয়ে কোনো অদ্ভুত ঘটনা ঘটালে। মনে করুন, ১৯৪৬ সালের ৬ জুলাইয়ে আমি গিয়ে যদি সদ্য জন্ম নেয়া জর্জ বুশকে মেরে ফেলি, তাহলে আবার বর্তমানে এসে বুশকে কীভাবে দেখবো? সে তো জন্মের দিনই মারা গিয়েছিল, তা-ই না? জটিল লাগছে খুব? এ প্রশ্নের উত্তরই আছে দুটি থিওরিতে।
আসুন দেখে নেই থিওরি দুটির মূলকথা।
সেলফ কনসিস্টেন্সি থিওরি: এ থিওরি অনুযায়ী, কেউ অতীত ভ্রমণ করলেও সে প্রকৃতির কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না। প্রকৃতি তাকে কোনো ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে দেবে না। কেউ চাইলে ওয়ার্মহোলে করে অতীতে গিয়ে ঘুরে আসতে পারবে, সবকিছু দেখতে পারবে, কিন্ত কোনো ঘটনায় প্রভাব রাখতে পারবে না। ছায়ার মতো শুধুই দর্শনার্থী হয়ে থাকতে হবে। সুতরাং, এক্ষেত্রে কোনো ঘটনার পরিবর্তন বা কোনো ধরনের প্যারাডক্স সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

প্যারালাল ইউনিভার্স; image source: space.com
গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স: ধরে নিচ্ছি, আমি ৮০ বছর অতীতে গিয়ে দেখলাম আমার দাদা কাদা মাখামাখি করে হা-ডু-ডু খেলছে। এখন, আমি যদি সাথে করে নিয়ে যাওয়া রিভলবার দিয়ে আমার দাদাকে গুলি করে মেরে ফেলি, তাহলে আমি আসবো কোথা থেকে? আমার দাদা যদি শিশু বয়সে মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তো তার আর বিয়েও হবে না। তার ছেলে, মানে আমার বাবাও পৃথিবীতে আসবে না কোনোদিন। আমার বাবা যদি জন্মই না নেয় তাহলে তো আমারও জন্ম নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্ত আমি তো আছি! তাহলে আমি আসলাম কোথা থেকে! অতীত পরিভ্রমণ সম্পর্কিত এই গোলমেলে সমস্যাকে বলে গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স।
এ সমস্যা সামনে আসার পর বিজ্ঞানীরা এর আপাত সমাধান হিসেবে প্যারালাল ইউনিভার্সের কথা বলেছেন। প্যারালাল ইউনিভার্স থিওরি মতে, প্রতিটি ঘটনার অসংখ্য সম্ভাবনা থাকতে পারে। অর্থাৎ, একই ধরনের ঘটনা আরো অনেকগুলো ইউনিভার্সে থাকা সম্ভব। দুটি সমান্তরাল রেখার যেভাবে কখনো দেখা হয় না, একইভাবে দুটি প্যারালাল ইউনিভার্সেরও কখনো দেখা হবে না। দুটি সমান্তরাল রেখার মাঝে ছোট আরেকটি রেখা টেনে যেভাবে দুটি রেখাকে যুক্ত করা যায়, একইভাবে ওয়ার্মহোলের মাধ্যমে দুটি প্যারালাল ইউনিভার্সের মাঝে ভ্রমণ করা হয়। সুতরাং, আপনি অতীতে যেতে চাইলে কখনোই আপনার নিজের ইউনিভার্সের অতীতে যেতে পারবেন না। আপনি ওয়ার্মহোলে ঢোকামাত্র অন্য কোনো প্যারালাল ইউনিভার্সে চলে যাবেন। সেখানে গিয়ে আপনি আপনার দাদাকে হত্যা করলেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ সেই ইউনিভার্সের ভবিষ্যতে আপনার কোনো অস্তিত্বই নেই!

গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স; image source: alltop.com
এই ছিলো মোটামুটি সময় পরিভ্রমণ নিয়ে আলোচনা। XYZ অক্ষের মতো হয়তো বা একদিন সময়কেও মানুষ নিজের মতো করে ভ্রমণের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। বিজ্ঞানের বহুর্মুখী অগ্রযাত্রার নিরিখে বলতে পারি, আপাতত সম্ভব না হলেও, হয়তো সেই দিন আর বেশি দূরে নয়!
পৃথিবীতে যা কিছু দুষ্প্রাপ্য, তা-ই কি মূল্যবান?
বিখ্যাত লেখক রলফ ডবেলি (Rolf Dobelli) একবার এক বন্ধুর বাসায় কফির দাওয়াতে গেলেন। সেখানে একদিকে বড়রা মিলে গল্প করছিল, আরেক দিকে তিনটে গ্যাদাপোনা এক অন্যের সাথে কোস্তাকুস্তি করছিল। তার সাথে তো কিছু মার্বেল ছিল। তার মনে হলো মার্বেলগুলো দিয়ে যদি বাচ্চাগুলোকে ঠাণ্ডা করা যায় তাহলে মন্দ হয় না। মার্বেলগুলো তবিস্তারিত পড়ুন
বিখ্যাত লেখক রলফ ডবেলি (Rolf Dobelli) একবার এক বন্ধুর বাসায় কফির দাওয়াতে গেলেন। সেখানে একদিকে বড়রা মিলে গল্প করছিল, আরেক দিকে তিনটে গ্যাদাপোনা এক অন্যের সাথে কোস্তাকুস্তি করছিল। তার সাথে তো কিছু মার্বেল ছিল। তার মনে হলো মার্বেলগুলো দিয়ে যদি বাচ্চাগুলোকে ঠাণ্ডা করা যায় তাহলে মন্দ হয় না। মার্বেলগুলো তিনি ছড়িয়ে দিলেন মেঝেতে। ভাবলেন, এবার শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
কীসের কী? অশান্তি আরো বাড়লো। বাচ্চাগুলো নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়ল। কেন এই বিবাদ? দেখা গেল, মার্বেলগুলোর মধ্যে একটার রঙ নীল। আর বাচ্চারা সেটা নিয়েই কাড়াকাড়ি করছে। সবগুলো মার্বেলের আকার, আকৃতি, ঔজ্জ্বল্য একইরকম ছিল। নীল মার্বেলটার তাহলে বিশেষত্ব কী ছিল? একটাই বিশেষত্ব ছিল। নীল মার্বেলটা ছিল অন্যগুলো থেকে আলাদা। আর কোনো নীল মার্বেল ছিল না সেখানে। এই শিশুসুলভ আচরণ দেখে তিনি মনে মনে হেসে দিলেন। আর ভাবলেন, শিশুদের চিন্তাভাবনা কতই না মজার আর অযৌক্তিক হয়।
এই ঘটনা যে তার নিজের জীবনেও আসবে, এটা তখন তিনি ভাবেননি। কয়েক বছর পর। ২০০৫ সাল। সোশ্যাল মিডিয়া না আসলেও ইন্টারনেট তখন পুরোদমে মানুষের জীবনে জায়গা করে নিচ্ছে। ইমেইল সার্ভিস বলতে তখনো ইয়াহু, হটমেইল এদের বোঝাতো। গুগল তখনো মাঠে নামেনি। আগস্ট মাসে গুগল ঘোষণা দেয়, তারা নিজস্ব ইমেইল সার্ভিস চালু করবে। এ খবর শোনামাত্রই রলফ ডবেলি একটা জিমেইল একাউন্টের জন্য পাগল হয়ে গেলেন।
সে সময় জিমেইল একাউন্ট খোলাতে ছিল খুব কড়াকড়ি। আগে থেকে একাউন্ট আছে এমন কারো ইনভাইটেশন পেলেই কেবল এখানে একাউন্ট খোলা যেত। এ কারণে জিনিসটা আরো মহার্ঘ হয়ে গেল। এমন না যে তার সে সময় কোনো ইমেইল একাউন্ট ছিল না। এমনও না যে জিমেইল তার সার্ভিসের দিক দিয়ে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল। কেবল অল্প কিছু মানুষ বিশেষ এই সুবিধা পাচ্ছে- এই ভাবনাই মানুষকে এর জন্য আরো বেশি করে লালায়িত হতে প্রণোদিত করে। এই ঘটনা মনে করে তিনি এখনো মনে মনে হেসে উঠেন, আর ভাবেন, সেদিনের সেই শিশুদের তুলনায় তিনি ব্যতিক্রম কিছু নন। আমাদের সবার মধ্যেই হয়তো একটা শিশু সত্ত্বা লুকিয়ে আছে।

প্রথম দিকে জিমেইলের লুক; Image: Time.com
Rara sunt cara নামে রোমান একটা বচন আছে। যা কিছু দুষ্প্রাপ্য, তা-ই মূল্যবান। Scarcity error বা দুষ্প্রাপ্যতার ভ্রান্তি মানুষের ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। আপনি একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্টের কাছে গেলেন ঢাকার অদূরে একটা প্লট কিনতে। জায়গাটা এখন পানির নিচে। কিন্তু সে আপনাকে বললো, পাঁচ বছরের মধ্যে এখানে বাড়ি তো বাড়ি, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল সব গজিয়ে উঠবে। সে আপনাকে আরো বললো, এই প্লট গতকালই আমেরিকায় বসবাসরত এক ইঞ্জিনিয়ার এসে দেখে গেছে। আপনি কি তার কথা বিশ্বাস করবেন? সে হয়তো শুধুমাত্র আপনাকে বাজিয়ে দেখার জন্যই এই মিথ্যেটুকু বলেছে। মিথ্যেটুকু হয়তো সামান্য, কিন্তু এর প্রভাব ব্যাপক। আপনি বাসায় এসে কই মাছের ঝোল আর ইলিশের ডিমটুকু তাড়িয়ে তাড়িয়ে খেতে পারবেন না। চোখের সামনে আপনি দেখতে পাবেন, এক টুকরো পছন্দ করা জমি কোথাকার কোন এক ইঞ্জিনিয়ার এসে নিয়ে যাচ্ছে। তড়িঘড়ি করে আপনি তখন প্লটটা বুকিং দিয়ে দেবেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমি আর আমার স্ত্রী, দু’জনেরই টক খুব পছন্দ। আমরা যখন আমড়া মাখা বা কাঁচা আম মাখা বা এরকম কিছু খেতে বসি, আমাদের মনোমালিন্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মাখার শেষ অংশুটুকু। শুরুটকুও নয়, মাঝের টুকুও নয়। পাতের শেষ ঝোলটুকু খাবার যে মজা, তা আর কোন কিছুর সাথেই তুলনীয় নয়।
দুষ্প্রাপ্যতার ভ্রান্তি পরীক্ষা করার জন্য উদ্যোগ নেন অধ্যাপক স্টিভেন ওরচেল। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের দুই ভাগে ভাগ করলেন। প্রথম গ্রুপকে পুরো এক বাক্স বিস্কুট খেতে দিলেন। আর দ্বিতীয় গ্রুপকে দিলেন মাত্র দুটি বিস্কুট। খাওয়া শেষে অংশগ্রহণকারীদের বললেন, বিস্কুটকে রেটিং দিতে। দেখা গেলো, দ্বিতীয় গ্রুপের লোকজন বিস্কুট খেয়ে বেশি মজা পেয়েছে। এই পরীক্ষা বেশ কয়েক বার করা হলো। প্রতিবারই একই ফলাফল পাওয়া গেল।
বিশেষ কোনো ইভেন্টের পোস্টার আমাদের বলে, ‘শুধু মাত্র আজকের জন্য’। আর্ট গ্যালারির মালিকরা এই দুষ্প্রাপ্যতার ভ্রান্তির সুযোগ নেয়। তারা অধিকাংশ পেইন্টিংইয়ের উপর লাল মার্কারে করে ‘Sold’ লিখে রাখে। এর ফলে বাকি পেইন্টিংগুলোকে আমাদের কাছে মনে হয় খুব দামী আর দুষ্প্রাপ্য কিছু।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তাদের ব্রশিউরে লিখে রাখে, ‘শেষ সুযোগ বিরল প্রজাতির এক জলহস্তী দেখার’। আপনার কিন্তু কখনোই জলহস্তি দেখার কোনো শখ ছিল না। বিরল প্রজাতির জলহস্তী তো নয়-ই। কিন্তু শেষ সুযোগ বলে কথা। এই শেষ সুযোগের ফাঁদে পড়ে আপনি প্লেনের টিকেট করে তানজানিয়া চলে গেলেন জলহস্তী দেখতে।
আমরা ডাকটিকেট, কয়েন, পুরানো গাড়ি সংগ্রহ করি। জানি যে এগুলো কোন কাজের না। পোস্ট অফিস পুরানো ডাকটিকেট নেয় না, ব্যাঙ্ক পুরানো কয়েন নেয় না, পুরানো গাড়ি নিয়ে রাস্তায় চলা যায় না। তারপরও আমরা এগুলো কিনি। একটাই কারণ- এদের যোগান কম।


দুষ্প্রাপ্যতা দাম বাড়িয়ে দেয় চিত্রকর্মের; Painting by Harish Bhoyar
আরেকটা পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের বলা হলো, দশটা পোস্টারকে আকর্ষণীয়তার ভিত্তিতে র্যাংক করতে। র্যাংক করা হয়ে গেলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পুরস্কারস্বরূপ তারা একটা পোস্টার নিজেদের কাছে রেখে দিতে পারবে। পাঁচ মিনিট পর বলা হলো, যে পোস্টারটি র্যাংকিংয়ে তিন নম্বরে আছে, তা কাউকে দেওয়া হবে না। এখন তোমরা আবার দশটা পোস্টারকে র্যাংক করো। যে পোস্টারটি সরিয়ে ফেলা হলো, হঠাৎ করে সেটাই সবার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা দিল। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় Reactance। কোনোকিছু যখন আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়, হঠাৎ সেটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা দেয়। বিখ্যাত ইংরেজি টিভি সিরিজ FRIENDS-এর শুরুর দিকে র্যাচেল রসকে খুব একটা পাত্তা দিত না। যখনই রস অন্য একজনের প্রেমে পড়লো, তখনই র্যাচেল তার প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া শুরু করলো।
FRIENDS সিরিজে রস ও র্যাচেল; Image: Bustle.com
এই ঘটনাকে রোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট ইফেক্টও বলা হয়। ভালোবাসা মানে না কোন বাঁধা। আর যা কিছু নিষিদ্ধ, তার প্রতি ভালবাসাও জন্মায় বেশি। কেবল যে ভালোবাসার ক্ষেত্রেই এটা হয়, তা না। আমেরিকায় আন্ডারগ্র্যাড ছাত্রদের পার্টিগুলোতে মদ্যপানের এতো ছড়াছড়ি কেন? বেসামাল মদ্যপের সংখ্যাই বা এতো বেশি কেন এই পার্টিগুলোতে? সেই একই কারণ। ২১ বছরের নিচে এখানে মদ্যপান করা নিষেধ। আর যা কিছু নিষেধ, তার প্রতি আকর্ষণও তো বেশি।
দুষ্প্রাপ্যতা ভ্রান্তির কারণে আমরা পরিষ্কার মাথায় চিন্তা করতে পারি না। পণ্য হোক আর সেবাই হোক, মূল্যায়ন হওয়া উচিত কেবল তার দাম আর সে কী উপযোগিতা দিচ্ছে আমাকে, তার উপর। পণ্যটা দ্রুত মার্কেট থেকে আউট হয়ে যাচ্ছে কিনা, এর ভিত্তিতে না।
সংক্ষেপে দেখুন