অ্যারাকনোফোবিয়া বা মাকড়শার ভয়। এই ভয়ে ভুগে থাকেন পৃথিবীর প্রতি দশজন মানুষের মধ্যে একজন। কিন্তু কেন? আমাদের চারপাশের পরিচিত মাকড়শাগুলোর কোনোটাই কামড়ে দিচ্ছে না, বিষাক্তও না। তাহলে তাদের দেখলেই কেন শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে যায় আমাদের?

মাকড়শা যে ভয়ের, সেটা আপনার মাথায় এমনিতেই গেঁথে রেখেছে প্রকৃতি
এমন ভয়ই বা কেন জন্ম নিচ্ছে আমাদের মধ্যে মাকড়শাকে দেখলেই?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয়টা শুধু মাকড়শা নিয়েই নয়, পোকামাকড় ও এর কাছাকাছি প্রাণী, যেমন– সাপ, বাদুড় ইত্যাদি সবকিছু ঘিরেই এমন ভয় কাজ করে মানুষের মধ্যে। আর আমাদের মধ্যে যারা উপরের তালিকার যেকোনো একটি প্রাণীকে ভয় পান, তারা অন্যান্য পোকা, সরীসৃপ ইত্যাদি দেখেও ভয় পান। চলুন, আজ অ্যারাকনোফোবিয়া নিয়েই বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
মাকড়শা থেকে শুরু করে মাকড়শাল জাল: ভয়টা কোথায়?
মাকড়শাকে ভয় পাওয়া আর মাকড়শার জালকে ভয় পাওয়া, দুটোই একই ফোবিয়ার মধ্যে পড়ে। ঠিক ধরেছেন। অ্যারাকনোফোবিয়ার কথাই বলছি। অন্যান্য অনেক ফোবিয়ার চেয়ে অনেক বেশি এককেন্দ্রীক ভীতি এটা, যা তৈরি হতে পারে যে কারো মধ্যেই। এখানে আসল মাকড়শাও যে থাকতে হবে তা না, অ্যারাকনোফোবিয়ার ভুক্তভোগী হিসেবে শুধু জাল দেখেই মাকড়শা আশেপাশে থাকতে পারে সেই ভীতিতে পড়তেই পারেন।
‘অ্যারাকনে’ আর ‘ফোবোস’ নামের দুটো গ্রিক শব্দকে জুড়ে এই ভয়ের জন্ম। কালের পরিক্রমায় নানারকম ক্ষতিকর প্রাণীর প্রতি সহজাতভাবেই ভয় তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে। এই যেমন সাপ, যা আগেও বিষাক্ত ছিল, এখনও তা-ই। কিন্তু বিষ নেই এমন একটা সাপকেও আশেপাশে দেখলে আপনার শরীর ভয়ে কেঁপে উঠবে। এমন কেন? কারণ, আপনি জানেন, আপনার শরীরের ডিএনএ জানে যে সাপ বিষাক্ত। অনেকটা সহজাত প্রতিক্রিয়া চলে আসে তাই আপনার মধ্যে।

মাকড়শাকে ভয় পাওয়ার জন্য আপনাকে মাকড়শার কামড় খেতে হবে এমনটা কিন্তু না;
একই ঘটনা ঘটে মাকড়শার বেলায়ও। মাকড়শা থেকে বিষ, বিষ থেকে অসুস্থতা- এই চিন্তা থেকেই শুরু হয় অ্যারাকনোফোবিয়া। অনেকটা প্রাকৃতিকভাবেই। কাজেই, মাকড়শাকে ভয় পাওয়ার জন্য আপনাকে মাকড়শার কামড় খেতে হবে এমনটা কিন্তু না। মাকড়শা যে ভয়ের, সেটা আপনার মাথায় এমনিতেই গেঁথে রেখেছে প্রকৃতি। সেখান থেকেই আপনি হয়ে যাচ্ছে অ্যারাকনোফোবিয়ার ভুক্তভোগী।
এই থিওরিকে সামনে ধরেই জার্মানিতে একটি গবেষণা চালানো হয়। শিশুদের মাছ, ফুল, সাপ, মাকড়শা ইত্যাদি দেখানো হয়। আর তাতে দেখা যায় যে, মাকড়শা আর সাপের বেলাতেই বাচ্চাদের চোখের মণির আকৃতি বদলাচ্ছে। ভয় পাচ্ছে তারা। এই ভয় কিন্তু মাকড়শাকে আগে থেকে না দেখেই ওদের মধ্যে তৈরি হয়েছে।
অবশ্য, ভয় ছাড়াও বিরক্তি আর অস্বস্তিও হতে পারে অ্যারাকনোফোবিয়ার কারণ। আপনি শুধু মাকড়শাকে ভয় পেয়ে ওই জায়গা থেকে সরে যান বা মাকড়শাটাকে তাড়িয়ে দেন? এই ভীতির কবলে পড়ে অনেকে নিজের বাসাও ছাড়তে বাধ্য হন কখনো কখনো। মজার ব্যাপার হলো, আজ এই সময়ে এসে ব্যাপারটাকে শুধু একটা ভীতি মনে হলেও এই ভয়ই কিন্তু একটা সময় মানবজাতিকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে অনেক মাকড়শার মধ্যেই মানুষকে আক্রান্ত করার মতো বিষাক্ত তরল থাকলেও সেটা মানুষের শরীরে প্রবেশ করানোর মতো ধারালো আর লম্বা হুল থাকে না। পৃথিবীর ৬৩,০০০ প্রজাতির মাকড়শার মধ্যেও শুধু ২ শতাংশই মানুষের জন্য বিষাক্ত।

ভয় ছাড়াও বিরক্তি আর অস্বস্তিও হতে পারে অ্যারাকনোফোবিয়ার কারণ
আর হ্যাঁ, এসব বাদেও আপনার পরিবেশটাও আপনার মধ্যে অ্যারাকনোফোবিয়া তৈরি করতে পারে। বাবা-মা, চারপাশের মানুষ যেটাকে ভয় পাচ্ছে, সেটাকে আপনি কেন ভয় পাবেন না? নিজে নিজেই তাই আগে থেকে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও মানুষ হয়ে পড়তে পারেন এই আদিম ফোবিয়ার ভুক্তভোগী!
আপনার অ্যারাকনোফোবিয়া আছে কি?
মাকড়শাকে টুকটাক ভয় পাওয়া কিন্তু যায়ই। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি সেটা। কিন্তু সেই ভয় যে প্রচন্ড ফোবিয়া হয়ে আপনাকে আক্রমণ করেছে, তার লক্ষণ স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব।

অ্যারাকনোফোবিয়া তৈরি হলে একজন মানুষ এই ভয়কে মোকাবেলা করতে মাকড়শা আছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলেন
শারীরিকভাবে অ্যারাকনোফোবিয়ার ক্ষেত্রে ভয় বৃদ্ধি পেলে আপনি:
- মাথা ঘোরা
- হজমে সমস্যা
- বমিভাব
- গা ঘেমে যাওয়া
- হাত-পা কাঁপুনি
- শ্বাসকষ্ট
- হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি
- কান্না
ইত্যাদি দেখতে পারেন নিজের মধ্যে। শুধু তা-ই না, অ্যারাকনোফোবিয়া তৈরি হলে একজন মানুষ এই ভয়কে মোকাবেলা করতে মাকড়শা আছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলেন। কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। সামাজিক নানা ব্যাপার থেকে অনেকটা দূরে চলে যেতে একপ্রকার বাধ্য হন।
ভয় কমাবেন কীভাবে?
মাকড়শার প্রতি এই প্রচন্ড ভীতি কমাতে কিছু ব্যাপার খুব ইতিবাচকভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। টুকটাক সমস্যার পাশাপাশি আপনি যদি দেখতে পান অ্যারাকনোফোবিয়ার কারণে আপনি বাইরে যেতেই ভয় পাচ্ছেন, কাজ করতে পারছেন না, রাতে জেগে থাকছেন বা কিছুক্ষণ পর পর চিন্তায় ডুবে যাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে আপনার উচিৎ হবে-
১) চিকিৎসকের সাথে কথা বলা। চিকিৎসকেরা এই ভীতির কারণে কোনো ওষুধ দিতে চান না। তবে কাউন্সেলিং করে ভয়কে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসেন।

বারবার মাকড়শাকে সামনে থেকে দেখাটাও অ্যারাকনোফোবিয়া কমিয়ে আনে
২) অন্য অনেক ফোবিয়ার মতো থেরাপি নেওয়ার মাধ্যমেও ধীরে ধীরে ভয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন আপনি। ভার্চুয়াল রিয়ালিটি থেরাপি এক্ষেত্রে বেশ ভালো কাজ করে। বার বার মাকড়শাকে সামনে থেকে দেখাও অ্যারাকনোফোবিয়া কমিয়ে আনে।
মজার ব্যাপার হলো, স্পাইডারম্যান মুভিও অনেক অ্যারাকনোফোবিয়ার ভুক্তভোগীকে মাকড়শার ভয় কাটাতে সাহায্য করেছে। তাই আপনার মধ্যে বাস করা মাকড়শাকে নিয়ে ভীতিটা ঠিক কোন উপায়ে চলে যাবে সেটা বলা কঠিন। তবে পুরো ব্যাপারটাই যেহেতু আপনি মাকড়শাকে কেমন চোখে দেখছেন তার উপরে নির্ভর করছে, কাউন্সেলিং বা থেরাপি বা অন্য যেকোনো উপায়ে, সেটাকেই যে আপনার বদলাতে হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই!

সিল্কের কথা বললেই একটি উপকথার গল্প চলে আসে মনে। চীনের সম্রাট হুয়াং তাই বা ইয়েলো এমপেরর-এর স্ত্রী সম্রাজ্ঞী লেই জু যখন বাগানে বসে চা পান করছিলেন তখন উপরের তুঁত গাছ থেকে একটি রেশম পোকার কোকুন এসে পড়ে সম্রাজ্ঞীর চায়ের পেয়ালায়। সম্রাজ্ঞী যখন এটি ধরে বের করে আনতে চাইলেন তখনই ঘটলো আসল ঘটনা। যতই টানেন ততই কোকুন থেকে একনাগাড়ে বেরিয়ে আসতে থাকে সুতা।
ধারণা করা হয়, সম্রাজ্ঞী লেই জু দুর্ঘটনাক্রমে সিল্ক আবিষ্কার করেন
নব্য প্রস্তর যুগের শেষ দিকের ঘটনা। অন্তত ইতিহাস আর ঐতিহাসিকগণ এমনটাই বলেন। তবে কাহিনীটি সত্য না উপকথা এ নিয়েও মতভেদ আছে। তারপরও চীন সিল্ককে নিজেদের একচেটিয়া অধিকারে রাখে প্রায় তিন হাজার বছর। সেই সিল্ক চীনকে এনে দিয়েছিল অনন্য সম্ভাবনার সুযোগ। যদিও পরে নানাভাবে নানা উপায়ে সিল্ক ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়।
সিল্কের কথা সকলেই কমবেশ জানে। প্রাকৃতিক এই সুতাই একমাত্র সুতা যা পুরো কোকুন জুড়েই অবিচ্ছিন্ন থাকে। কোকুনের কথায় চলে আসে রেশম পোকা আর তুঁত গাছের কথা। কারণ রেশম পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়েই একসময় কোকুন তৈরী করে এবং এরপর সেখান থেকেই আসে সিল্ক সুতা।
সিল্ক মূলত প্রোটিন ভিত্তিক প্রাকৃতিক তন্তু যা বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার পর সুতা হিসেবে পাওয়া যায়। তবে শুনে অবাক লাগতে পারে, সিল্কের মতো এমন সুতা মাকড়সা থেকেও পাওয়া যেতে পারে। কিছুটা অবাস্তব আর আষাঢ়ে গল্পের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু এটি সত্য যে, মাকড়সা থেকে প্রাপ্ত সুতা স্টিলের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়। চলুন জানা যাক মাকড়সার সিল্ক সম্পর্কে দারুণ কিছু তথ্য।
মাকড়সার সুতাও হতে পারে সিল্কের অন্যতম উৎস
রেশম পোকা ছাড়াও সিল্ক উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সঠিকতা আর পূর্ণাঙ্গতার অভাব রয়ে গেছে এখনও। সব প্রজাতির মাকড়সা থেকে সিল্ক প্রস্তুত করা যাবে এমনটা নয়। বিশেষ প্রজাতির মাকড়সাই এক্ষেত্রে শক্তিশালী সিল্ক তৈরী করতে পারে। মাকড়সার বিশেষত্ব হলো অবিরত সুতা তৈরীর কৌশল ও অসাধারণ জ্যামিতিক জ্ঞান সম্বলিত জাল বোনার ক্ষমতা। এই সূত্রক একইসাথে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত অন্যান্য ফাইবারের থেকে অনেকগুণ বেশি শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক। এমনকি কেভলার নামক কৃত্রিম সুতা, যা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট তৈরীতে কাজে লাগে, তার থেকেও স্পাইডার সিল্ক বেশি দৃঢ়।
আসুন জানা যাক কীভাবে মাকড়সা জাল বোনার জন্য সুতা তৈরী করে। মাকড়সার সুতা কীভাবে উৎপাদিত হয় সেটি নিয়ে গবেষকগণ অনেক গবেষণা করেছেন এ পর্যন্ত। মূলত মাকড়সার উদরের বিশেষ একপ্রকার গ্রন্থি থেকে এই সুতার জন্ম হয়। মাকড়সা সবসময় কেবল একই ধরনের সুতাই তৈরী করে না। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রকার সুতা তৈরী করে থাকে। উদরে উৎপন্ন এই সুতা মূলত প্রাথমিকভাবে তরল অবস্থায় থাকে এবং স্পিনারেট নামক অঙ্গাণুর সূক্ষ্ম মুখনলের মধ্যে দিয়ে বের হয়ে আসে।
স্পিনারেট সাধারণত উদরের পেছনের দিকে অবস্থান করে এবং দেখতে কোণাকার অথবা হাতের আঙুলের মতো। অধিকাংশ মাকড়সার পশ্চাৎদেশে প্রায় দুই জোড়া অর্থাৎ ৪টির মতো (প্রজাতিভেদে ২ থেকে ৮টি পর্যন্ত) স্পিনারেট থাকে। প্রতিটি স্পিনারেটে থাকে স্পিগট নামক অংশ যার মধ্যে দিয়ে এই সূত্রক বের হয়। কিন্তু তরল প্রোটিনের সুতা দিয়ে তো আর জাল বোনা সম্ভব নয়। তাই এদের স্পিনারেটে পরবর্তীতে এমন একটি পালিশ করার ব্যবস্থা থাকে, যার ফলে এই তরল প্রোটিনের আণবিক গঠনের পরিবর্তন ঘটে ও নতুন করে বিন্যস্ত হয়। এই পরিবর্তনের ফলেই বেরিয়ে আসে কঠিন সূত্রক।
এ অংশে যখন তরল প্রোটিন প্রবেশ করে তখন এ অংশের কোষগুলো প্রোটিন থেকে পানি বের করে ফেলে এবং হাইড্রোজেনকে আলাদা করে ফেলে। ফলে সেটি একপ্রকার অম্লীয় মাধ্যমে পরিণত হয়। এর কারণে তরল প্রোটিন পরিণত হয় কঠিন প্রোটিনে। সাধারণত মাকড়সা নিজেদের আবাসস্থল কিংবা আহারাদির ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে জাল বুনে থাকে। কাজেই এই জাল বা জালের সুতা এমন হতে হবে যেন পোকামাকড় যখন এতে আঘাত করবে তখন সেটা সর্বোচ্চ পরিমাণ আঘাত শোষণ করতে পারে। মূলত প্রকৃতিরই এক বিশেষ আশীর্বাদ বলা যায় একে। আর এই বিশেষ গুণই একে অন্যান্য ফাইবার থেকে আলাদা করেছে।
পাশাপাশি এর আরো একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সূক্ষ্মতা। অর্থাৎ অন্যান্য ফাইবারের তুলনায় এটি খুবই সূক্ষ্ম এবং এর ভরও অনেক হালকা। এতটাই হালকা যে পুরো পৃথিবী একবার বেষ্টন করতে মাকড়সার যে একটানা লম্বা সূত্রকের প্রয়োজন হবে তার ভর হবে খুব বেশি হলে মাঝারি আকৃতির একটি সাবান খণ্ডের ভরের সমান!
প্রাকৃতিক স্পাইডার সিল্ক দিয়ে তৈরী ফেব্রিক
মাকড়সার সুতা যে শক্তিশালী এবং স্থিতিস্থাপক সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। মুশকিল হচ্ছে এই সুতা আহরণ ও উৎপাদন করার যায় কীভাবে সেটা নিয়ে। সাধারণ রেশম পোকা যেমন আমরা চাষ করতে পারি মাকড়সার চাষ করা আসলে ততটা সহজ নয়। কারণ একে তো সব প্রজাতির মাকড়সাই এই শক্তিশালী সুতা তৈরী করতে পারে না, অন্যদিকে মাকড়সা সবসময় একই প্রকার সুতা প্রদানও করতে পারে না। সবচেয়ে কঠিন সমস্যা এই যে মাকড়সা কলোনিভুক্ত প্রাণী নয়। কাজেই এদের একত্রে চাষ করা অসম্ভব।
অন্যদিকে গবেষকগণও কৃত্রিমভাবে মাকড়সার সুতা গবেষণাগারে তৈরী করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তরল প্রোটিনকে কঠিন ও দৃঢ় করাটাই এখন তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এটি মাকড়সার দেহে ঘটে এক বিশেষ প্রক্রিয়ায়। সেটা কৃত্রিমভাবে তৈরী করতে গেলে আমাদের এখনো অনেক গবেষণা করতে হবে এবং অপেক্ষা করতে হবে।
এখন প্রশ্ন থাকতে পারে যে, আমরা তাহলে স্পাইডার সিল্ক পাবো কীভাবে। কারণ একদিকে মাকড়সা থেকে সবসময় সিল্ক পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, আবার গবেষণাগারে এখনো ঠিক সেভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এটার আসলে এখনই কোনো উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।
দুর্লভ এই সোনালী ফেব্রিক তৈরী করা হয়েছে এক মিলিয়ন মাকড়সার সুতা দিয়ে
তবু অনেকেই এই মাকড়সার সুতা আহরণে চেষ্টা করেছেন এবং সেই সিল্ক দিয়ে ফেব্রিকও বোনা হয়েছে। ছবিতে যে সোনালী ফেব্রিক দেখানো হয়েছে সেটি প্রস্তুত করতে প্রায় ৭০ জন মানুষের সময় লেগেছে ৪ বছর। এই ফেব্রিক তৈরী করা হয়েছে প্রায় এক মিলিয়ন Golden orb প্রজাতির স্ত্রী মাকড়সা হতে প্রাপ্ত সিল্ক থেকে। ব্যাপারটা মোটেও সহজ ছিল না।
এই ৭০ জন মানুষ প্রায় ৪ বছর ধরে মাদাগাস্কারের বিভিন্ন এলাকার টেলিফোন পোল থেকে মাকড়সা সংগ্রহ করেছেন এবং আরো প্রায় ১২ জন মানুষ এসব মাকড়সা থেকে আহরণ করেছে সিল্ক। প্রতিটি মাকড়সা থেকে আহরণ করা হয়েছে প্রায় ৮০ ফুটের মতো সুতা যা ব্যবহার করে তৈরী হয়েছে এই ১১ ফুট দৈর্ঘ্য আর ৪ ফুট প্রস্থের ফেব্রিকখানি। মূলত এটিই প্রথম ফেব্রিক যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক মাকড়সার সুতা দিয়ে তৈরী করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে মাকড়সা থেকে সুতা আহরণের যে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি একসাথে ২৪টি মাকড়সার সুতা আহরণ করতে পারে। মাকড়সার কোনো ক্ষতি না করেই করা হয় এই আহরণ কর্ম। আহরিত সুতা হতে দেখা যায় যে, ১৪ হাজার মাকড়সা থেকে যে পরিমাণ সুতা পাওয়া যায় তার ভর খুব বেশি হলে এক আউন্সের মতোই হবে এবং বয়নকৃত ঐ ফেব্রিকের ভর ছিল প্রায় ২.৬ পাউন্ডের মতো। অর্থাৎ এরা অন্যান্য ফাইবার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হালকা হবে।
মাকড়সা থেকে যেভাবে সিল্ক আহরণ করা হয়
কিন্তু এত বিশেষ সব বৈশিষ্ট্য থাকার পরও মাকড়সা চাষ করার কোনো পদ্ধতি আবিষ্কৃত না হওয়ার কারণে কেবল প্রাকৃতিক মাকড়সার উপর নির্ভর করতে হয় আমাদের। আবার প্রাকৃতিক মাকড়সা থেকে একনাগাড়ে সুতা আহরণ করা হলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সুতা আহরণ করার পর থেকে যে সুতা পাওয়া যায় তা আগের সুতার মতো কঠিন ও স্থিতিস্থাপক থাকে না।
মাকড়সা আহরণের জন্যও উপযুক্ত মানুষের প্রয়োজন। কারণ মাকড়সার দংশনের ভয়ও থাকে যথেষ্ট। আবার বর্ষার মৌসুম ছাড়া এই বিশেষ প্রজাতির মাকড়সা তাদের বিশেষ ধরনের সিল্ক তৈরী করে না। একবার সিল্ক আহরণ করার পর মাকড়সা প্রায় এক সপ্তাহ সময় নেয় নতুন করে একই প্রকার শক্তিশালী সুতা তৈরী করার জন্য।
গবেষকগণ তাই অবিরত চেষ্টা করে যাচ্ছেন কীভাবে গবেষণাগারে তৈরী করা যায় স্পাইডার সিল্ক। কিন্তু কিছু সমস্যা থেকেই যায়। কারণ এই সিল্কের প্রকৃত জীন অনুক্রম এখনো পুরোপুরি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে সমর্থ্য হননি। যদি সেটা পাওয়া যায় তবে সেটা অন্যান্য অণুজীবের শরীরে স্থাপন করে হয়তো প্রচুর পরিমাণে সিল্ক পাওয়া সম্ভব হবে যা হবে একই সাথে শক্তিশালী ও সহজলভ্য।














































মনে আছে ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এর তাণ্ডবের কথা? ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ আঘাত হানে। সরকারি হিসেবে প্রায় ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায় খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় আঘাত হানা প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়। এরপর গত ১৩ বছরে প্রায় ৬২টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরবিস্তারিত পড়ুন
মনে আছে ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এর তাণ্ডবের কথা? ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ আঘাত হানে। সরকারি হিসেবে প্রায় ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায় খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় আঘাত হানা প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়। এরপর গত ১৩ বছরে প্রায় ৬২টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। এদের প্রত্যেকের একেকটি নির্দিষ্ট নাম ছিল।
নামকরণের ভাবনা কেন?
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের চর্চা কয়েকশো বছর আগেই শুরু হয়। নামকরণের কারণ হিসেবে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ওয়েবসাইট বলছে, নামকরণের ফলে ঝড়গুলো দ্রুত শনাক্ত করে সে অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়। তাছাড়া, সবরকম ব্যবস্থাতেই সংখ্যা অথবা প্রযুক্তিগত শর্তের চেয়ে নাম মনে রাখাটাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অনেকেই সম্মত হন যে, ঝড়ের সাথে নাম যুক্ত করায় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষে প্রতিবেদন করা আরও সহজ করে দেয়, সতর্কতার প্রতি আগ্রহ বাড়ায় এবং সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এটা বেশ সহায়ক।
সাইক্লোন সিডর; Image Courtesy: Wikimedia Commons
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম সময়ে দ্রুত যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রদত্ত নামগুলোর ব্যবহার পুরোনো জটিল অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ শনাক্তকরণ পদ্ধতির তুলনায় অনেকাংশেই সুবিধা দেয়। এই সুবিধাগুলো বিশেষত কয়েক শতাধিক বিস্তৃত স্টেশন, উপকূলীয় ঘাঁটি এবং সমুদ্রের জাহাজগুলোর মধ্যে বিশদ ঝড়ের তথ্য বিনিময় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ঝড়ের নাম দেওয়া থাকলে কাছাকাছি সময়ে সৃষ্টি হওয়া একের অধিক ঝড়ের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঝামেলা পোহাতে হয় না।
নামকরণের ইতিহাস
শুরুতে ঝড়ের নাম রাখায় কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হতো না। তারপরে গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ঝড়ের জন্য নারীসূচক নাম ব্যবহারের অনুশীলন শুরু হয়েছিল। ইভান রে টানেহিল তার লেখা বই দ্য হারিকেনে অস্ট্রেলিয়ান আবহাওয়াবিদ ক্লিমেন্ট রেগের নাম উল্লেখ করেন, যিনি ঊনিশ শতকের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য ব্যক্তিবিশেষের নাম দেয়া শুরু করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের জন্য তিনি গ্রিক বর্ণমালা, গ্রিক এবং রোমান পৌরাণিক তত্ত্ব ও নারীসূচক নাম ব্যবহার করতেন।
১৯৭৭ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা হারিকেন (আটলান্টিক মহাসাগর এলাকা তথা আমেরিকার আশেপাশে ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটারের বেশি হয়, তখন জনগণকে এর ভয়াবহতা বোঝাতে ‘হারিকেন’ নামে অভিহিত করা হয়) কমিটি গঠন করে। এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয় ১৯৭৮ সালের মে মাসে। বৈঠকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব পায় এই কমিটি।
১৯৭৮ সাল থেকে এই কমিটির সিদ্ধান্তে পূর্ব-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঝড়ের তালিকায় মতো নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের নাম ব্যবহার শুরু হয়। পরের বছর মেক্সিকো এবং আটলান্টিক উপসাগরীয় অঞ্চলেও পুরুষদের নাম ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে বার্ষিক ও দ্বিবার্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিশ্বব্যাপী পাঁচটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় আঞ্চলিক সংস্থা বা প্যানেল কর্তৃক ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ব জুড়ে ঘূর্ণিঝড় নামকরণে দশটি আলাদা অঞ্চলে বিভক্ত রয়েছে:
১. ক্যারিবিয়ান সাগর, মেক্সিকো উপসাগর এবং উত্তর আটলান্টিক
২. পূর্ব-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর
৩. মধ্য-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর
৪. পশ্চিম-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন
৫. অস্ট্রেলিয়ান ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত
৬. আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র নাদি’র আওতাভুক্ত, ওয়েলিংটন
৭. মরেসবি বন্দর ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত, পাপুয়া নিউগিনি
৮. জাকার্তার ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত
৯. উত্তর ভারত মহাসাগরের আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর
১০. দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগর
উপমহাদেশে নামকরণ
ভারতীয় উপমহাদেশ ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোয় সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় বঙ্গোপসাগর থেকে। এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রচলন শুরু হয় ২০০৪ সালে।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি আঞ্চলিক সংস্থা বা প্যানেলের একটি হচ্ছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা- জাতিসংঘ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন। ২০০০ সালে ওমানে এই প্যানেলের ২৭তম বৈঠকে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৪ সালে আটটি সদস্য দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড) প্যানেলের মাধ্যমে নামকরণ শুরু হয়।
২০০৪ সালের নামের তালিকা; Courtesy : WMO
সে সময় আটটি দেশ থেকে আটটি করে মোট ৬৪টি নামের তালিকা করা হয়। বাংলাদেশ যে আটটি নাম দিয়েছিল, সেগুলো হচ্ছে অনিল, অগ্নি, নিশা, গিরি, হেলেন, চপলা, অক্ষি ও ফণী। পরবর্তী সময়ে আরও পাঁচটি দেশ এই প্যানেলের সদস্য হয়। এগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান ও ইয়েমেন। বাংলাদেশে ২০০৭ সালে প্রথম নামকরণকৃত ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। সিডর নামে আঘাত হানা প্রলয়কারী সেই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।
নামকরণের বিষয়টি সমন্বয় করে ভারতের দিল্লির ‘রিজিওনাল স্পেশালাইজড মেটেরিওলজিক্যাল সেন্টার’ (আরএসএমসি)। আরএসএমসি তার সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে নামের তালিকা চেয়ে থাকে। তালিকা পেলে দীর্ঘ সময় যাচাই-বাছাই করে সংক্ষিপ্ত তালিকা করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার কাছে পাঠানো হয় অনুমোদনের জন্য। এই প্যানেলের নামকরণে বেশ কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়। প্যানেল সদস্যদের তালিকা হয় ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে।
এজন্য বাংলাদেশ এই তালিকায় প্রথমে আছে। প্রত্যেক দেশ থেকে নামের তালিকা থেকে একটি করে নাম নিয়ে কলাম তৈরি করা হয়। নামকরণ করা শুরু হয় এই কলামে থাকা ওপরের নামটি দিয়ে। এভাবে একটি কলাম শেষ হলে পরের কলাম থেকে নামকরণ করা হয়। একটি নাম শুধুমাত্র একবারই ব্যবহার করা যায়। দক্ষিণ চীন সমুদ্র থেকে যদি কোনো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় হিসাবে বঙ্গোপসাগরে আসে, তবে আগে থেকে নাম দেয়া থাকলে নতুন করে আর নামকরণ করা হয় না।
নতুন ১৬৯ নাম
২০০৪ সালে ৬৪টি ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা করার পর এখন পর্যন্ত আর তালিকা করার প্রয়োজন পড়েনি। তালিকার সর্বশেষে থাকা থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম ‘আম্ফান’ ২০২০ সালের মে মাসের শুরুতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে মায়ানমার ও বাংলাদেশের কক্সবাজার–চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে আঘাত হানতে পারে। তালিকায় নাম শেষ হয়ে যাওয়ায় গত এপ্রিলে সদস্য ১৩টি দেশ থেকে ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নতুন নামের তালিকা করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
নতুন নামের তালিকা; Courtesy: WMO
বাংলাদেশ যে ১৩ টি নাম দিয়েছে, সেগুলো হলো নিসর্গ, বিপর্যয়, অর্ণব, উপকূল, বর্ষণ, রজনী, নিশীথ, ঊর্মি, মেঘলা, সমীরণ, প্রতিকূল, সরোবর ও মহানিশা। আম্ফানের পর বাংলাদেশের দেওয়া নাম ‘নিসর্গ’ই হবে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম।
সংক্ষেপে দেখুন