সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
Psychological questions
পুরুষবিদ্বেষ বা মিস্যান্ড্রি: কী এবং কেন?
কল্পচিত্র- এক বিয়ের ব্যাপারে চরম অনাগ্রহী ফারজানা। অফিসে সহকর্মীদের বিবাহিত জীবনের গল্পে তাকে কালেভদ্রে পাওয়া যায়, আর সবসময়ই বিরক্তিসূচক প্রতিক্রিয়া দেন ফারজানা। তবে লক্ষণীয় দিক হচ্ছে, ফারজানার বিরক্তির সবটা জুড়েই থাকে বর মশাইটি! অর্থাৎ দম্পতির পুরুষ সদস্যের প্রতিই তার যত বিতৃষ্ণা, বিরূপ মনোভাব। সবকবিস্তারিত পড়ুন
কল্পচিত্র- এক
বিয়ের ব্যাপারে চরম অনাগ্রহী ফারজানা। অফিসে সহকর্মীদের বিবাহিত জীবনের গল্পে তাকে কালেভদ্রে পাওয়া যায়, আর সবসময়ই বিরক্তিসূচক প্রতিক্রিয়া দেন ফারজানা। তবে লক্ষণীয় দিক হচ্ছে, ফারজানার বিরক্তির সবটা জুড়েই থাকে বর মশাইটি! অর্থাৎ দম্পতির পুরুষ সদস্যের প্রতিই তার যত বিতৃষ্ণা, বিরূপ মনোভাব। সবকিছুতে পুরুষ জাতটাকে শাপ-শাপান্ত না করলে তার শান্তি হয় না।
কল্পচিত্র- দুই
ওদিকে মায়াকে নিয়ে তার পরিবারের মানুষজন ভীষণ বিপাকে পড়ে আছে। মায়ার কথাবার্তা, আচরণে সর্বদা ছেলেদের প্রতি কটাক্ষ স্পষ্ট থাকে! একই কাজে কোনো মেয়ে ভুল করলে মায়ার কাছ থেকে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো ছেলে যদি ঐ কাজে সামান্য ভুল করে বসে, মায়া তাকে কথা শোনাতে ছাড়বেই না! এই আচরণের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছে না মায়ার ঘরের মানুষেরা। কিন্তু তারা বুঝতে চাচ্ছে, মেয়ের সমস্যাটা ঠিক কোথায়। কেন এমন আচরণ তার ছেলেদের প্রতি?
কল্পচিত্র- তিন
নীরা সদ্য বিবাহিত। পারিবারিকভাবে সম্বন্ধ করেই বিয়ে হয়েছে তার। নীরার বর নীরাকে বুঝে উঠতে পারছে না। কেন কথায় কথায় নীরা তাকে কটাক্ষ করছে, তার কাজকে নিজের কাজের তুলনায় তুচ্ছজ্ঞান করছে, কোনো প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে না! বেচারা বর হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে নতুন বৌয়ের হাবভাব বুঝতে।
পুরুষজাতির প্রতি নারীর এই বিরূপ মনোভাব, ঘৃণা, তীব্র নেতিবাচকতা, এগুলো কি খুব স্বাভাবিক বিষয়?
পুরুষবিদ্বেষ বা মিস্যান্ড্রি
উপরের কল্পচিত্রগুলোর পেছনে কারণটা অহেতুক ভালো না লাগা নয়। আরেকটু বেশি কিছু। আর সেটা হতে পারে পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ , যা চরম অপছন্দ অথবা ঘৃণার সম পর্যায়ের।
পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ, কেন?
পুরুষজাতির উপর বিদ্বেষ, ব্যাপারটা ঠিক কী? সেটা জানার আগে মনে করিয়ে দেয়া যাক, বিপরীতে আরেকটা ব্যাপার রয়েছে ‘নারীবিদ্বেষ’ বলে, আর এটা বেশ জানাশোনা একটা ব্যাপার। নারীবিদ্বেষী বা নারীর প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে আলোচনার খাতা যতটা পরিপূর্ণ, উল্টোটা সেই তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে বলতে হয়।
সাইকোলজি টুডের এক প্রতিবেদনে এই ঘৃণার কিছু কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার মধ্য থেকে কয়েকটি কারণ এখানে তুলে ধরা হলো। ভিনদেশ বা ভিন্ন সময়ের প্রেক্ষিতে হলেও এই কারণগুলো বেশ জোরদার, যা পুরুষবিদ্বেষের বিষয়টাকে বুঝতে সাহায্য করবে।
ক্রিয়ার ফল প্রতিক্রিয়া
বাস্তবিকভাবে এটা বলা হচ্ছে যে নারীবিদ্বেষ তার বিপরীতে পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ জন্ম দেয়। বিষয়টা অনেকটা নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মতো। আপনি আপনার কাজের সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া অবশ্যই পাবেন। আর তাই আপনার আচরণে যদি নারীবিদ্বেষ থাকে, তবে সেটা আর কারো মনে আপনার প্রতি বিদ্বেষ জন্মাতে যথেষ্ট। হতে পারে আপনার খুব কাছের একজন নারীও ধীরে ধীরে আপনার প্রতি অতিরিক্ত বিরূপ মনোভাব পুষতে আরম্ভ করেছে এবং সেটা তার মনে অন্যান্য পুরুষের জন্যও ঘৃণার সূত্রপাত ঘটাচ্ছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বড় একটা কারণ, যেকোনো বাজে অনুভূতির পেছনেই এটা বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সবচেয়ে বড় যে ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া এটি হতে পারে, ক্রমশ নারীকে গৃহবাসী করে ফেলা, নারীকে মনোরঞ্জনের বস্তু হিসেবে দেখা ও উপস্থাপন করা, নারীর মানবসত্তাকে দীর্ঘদিন পাথরচাপা করে রাখা ইত্যাদি তার মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে, সেগুলো হয়তো একটা সময় তীব্র পুরুষবিদ্বেষে রূপ নেয়।
নারীবিদ্বেষ ও পুরুষবিদ্বেষ, ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া
ইতিহাসের পাঠগ্রহণ
আমরা ইতিহাস পড়ি, জানি, একই তথ্য গ্রহণ করি কিন্তু সেটার অন্তর্নিহিত পাঠ? মানুষভেদে সে পাঠ পাল্টায় বটে। কারো কাছে ওসামা বিন লাদেন বীর, কারো কাছে সন্ত্রাসী। হিটলারের বেলায়ও একই কথা খাটে, তাকে অপছন্দ করা বহু মানুষের বিপরীতে পছন্দ করা মানুষও আছে পৃথিবীতে। বিশ্বের যুদ্ধবিগ্রহের যত ইতিহাস, তার বেশিরভাগেই খলচরিত্র পুরুষের। আর এটা খুব বড় একটা কারণ হতে পারে অনেক নারীর মনে পুরুষের প্রতি ঘৃণা জন্মানোর। অথচ, খলনায়কদের ভিড়ে বীরদের সংখ্যাও এখানে অনেক! কিন্তু অনেকেই খারাপটাকে যতটা গভীরভাবে অনুভব করে, মনে রাখে বা নিজের ভেতর ধরে রাখে, ভালোটাকে সেভাবে মনে রাখে না। পুরুষদের প্রতি বিরূপ মনোভাব হবার পেছনে এই আচরণকেও কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে এখানে।
সমসাময়িক অরাজকতা
সমসাময়িক দুর্ঘটনা নির্দিষ্ট সময় নির্দেশ করে দেখানো হয়েছে যে ঘটমান সিংহভাগ হত্যাকাণ্ড, অরাজকতা পুরুষদের দ্বারা সংঘটিত হয়। এফবিআই এর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়ও পুরুষজাতির সরব উপস্থিতি। পুরুষবিদ্বেষের সূত্রপাত ঘটাতে এসব বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু, অনেকটা ক্ষার ও ক্ষারকের চিরচেনা সেই বাক্যের মতো এটাও সত্য যে, সব হত্যাকারী পুরুষ হতে পারে কিন্তু তাতে সব পুরুষ হত্যাকারী হয়ে যাচ্ছে না!
অরাজকতায় পুরুষের সম্পৃক্ততা বেশি
ব্যক্তিজীবনের তিক্ততা
যেটা নারীবিদ্বেষী হবার পেছনেও বড় একটা কারণ, ব্যক্তিজীবনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা, সেটাই পুরুষবিদ্বেষী হবার জন্য বড় কারণ বটে। একজন নারী যদি ব্যক্তিজীবনে পুরুষের দ্বারা বাজেভাবে আক্রান্ত হয়ে থাকে, শারীরিক এবং মানসিকভাবেও, সে পরবর্তীতে পুরুষবিদ্বেষী হতেই পারে। ভালোবাসার মানুষটা, নিকটাত্মীয়, সহকর্মী কিংবা যেকোনো অচেনা পুরুষ, একজন নারী যে কারো দ্বারাই তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হতে পারে। এবং তারপর তার কাছে সমগ্র পুরুষ জাতিই মন্দ হয়ে যায়! এখানে বিষয়টা এরকম, দোষ একজনই করছে, কিন্তু তার ফলস্বরূপ ঐ জাতির সবাই নারীর কাছে দোষী হয়ে থাকলো।
ব্যক্তিগত তিক্ততা বাজে অনুভূতির জন্ম দেয়
সাইকোলজি টুডের একটি প্রতিবেদনে একজন নারীবিদ্বেষীর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছিলো, তার আলোকে বিপরীতভাবে পুরুষবিদ্বেষীর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে আরেকটি প্রতিবেদনে।
পুরুষ অপছন্দ করা একজন নারী প্রাথমিকভাবে কোনো পুরুষের প্রতি মোহনীয় আচরণ করতে পারে। সে চাইতে পারে পুরুষটি তার প্রতি আকৃষ্ট হোক এবং তার অধীনস্থ হয়ে পড়ুক। এবং তারপর ধীরে ধীরে ঐ নারী নিজের কর্তৃত্ব ফলাতে থাকবে, সে প্রায় সবকিছুতেই তার সঙ্গীকে শাসন করার মনোভাব দেখাবে। সঙ্গীকে অসম্মান করার মতো ভাষাও ব্যবহার করবে যখন ইচ্ছা।
পুরুষকে দেয়া কথা রাখার ব্যাপারে এমন একজন নারী উদাসীন থাকবে। এবং তাতেও সে পুরুষকেই দায়বদ্ধ রাখার চেষ্টা করবে। বিষয়টা হাস্যকর বটে! এমন নারী নিজের পুরুষ সঙ্গীকে দেখা করার জন্য অযথা অপেক্ষা করাবে এবং আগে থেকে ঠিক করে রাখা পরিকল্পনা বাতিলও করবে, হতে পারে একদম শেষ মুহূর্তে। এইসব আচরণের পেছনে কারণ সেটাই, পুরুষকে অপদস্থ করা। একজন পুরুষবিদ্বেষী নারীর ভেতরে এই জিনিসগুলো থাকা বেশ স্বাভাবিক।
পুরুষকে অপদস্থ করাই যখন উদ্দেশ্য
অপ্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতেও একজন পুরুষবিদ্বেষী নারী নিজেকে কোনো পুরুষের কাছে অরক্ষিত, বিপদগ্রস্ত মনে করবে। এবং সেটা সে প্রকাশ করতেও পারে। কর্মক্ষেত্রে একজন পুরুষকর্মীকে সমতার নজরে দেখাটা তার কাছে স্বাভাবিক হবে না। পুরুষকে মাত্রাতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেয়াটা বরং অতি সাধারণ তার কাছে। প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে এরকম একজন নারী নিজের অধীনস্ত পুরুষকর্মীদের অধিক শাসনে রাখতে পছন্দ করবে, তাদের জরুরি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় রাখতে চাইবে না।
পুরুষসঙ্গী যদি তাকে একভাবে দখে, সে তার বিপরীতটা চাইবে। অধিক মনোযোগ দেখালে সে চাইবে সেটা কম হোক, আর পুরুষ কম মনোযোগী হলে সেটাকেই ঢাল বানাবে পুরুষের বিপক্ষে। অর্থাৎ সবকিছুতে পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ করাই তার উদ্দেশ্য হবে। পুরুষের বিরোধিতা করাটা ধীরে ধীরে এমন নারীর অভ্যাসে পরিণত হবে এবং এই কাজটি সে উপভোগ করবে।
পুরুষকে অকারণে ‘মেয়েলি’ বলে তাচ্ছিল্য করা, পুরুষের আবেগ দেখানোর স্বভাবকে বিচ্ছিরি বলে অভিহিত করা, একজন পুরুষ ঘরোয়া স্বভাবের হলে তাকে হাসিঠাট্টা করা এসবই পুরুষবিদ্বেষের লক্ষণ। নারীবিদ্বেষীর মতোই পুরুষবিদ্বেষীর সংখ্যাও নিতান্তই কম নয়। খুঁজে দেখলে আশেপাশেই দেখা মিলতে পারে এ স্বভাবের কোনো নারীর, পুরুষরা যার লক্ষ্যে থাকে নিগ্রহ করার বিষয় হিসেবে। এবং বলাই বাহুল্য, বিদ্বেষের এই জিনিসখানা সর্বক্ষেত্রেই খারাপ, হোক তা নারীর প্রতি আর হোক, আর তা পুরুষের প্রতি।
সংক্ষেপে দেখুনআপনার অতি আবেগপ্রবণ সন্তানকে সামলাবেন কিভাবে ?
সায়েম আর সিয়াম দুই ভাই, দুজনেরই বয়স ১০ বছরের কাছাকাছি। সায়েম একদিন দৌড়াতে গিয়ে পড়ে হাঁটুতে ব্যথা পেলো। সে উঠে গিয়ে ব্যথা পাওয়া জায়গাটা পরিষ্কার করে ফেললো, বাসায় এসেও তেমন কিছু জানালো না। যদিও পড়ে যাওয়ার পর তার বন্ধুরা অনেক হাসাহাসি করছিল। আর অন্যদিকে সিয়ামও একদিন খেলতে গিয়ে ব্যথা পেলো, অন্যদের হাসাহবিস্তারিত পড়ুন
সায়েম আর সিয়াম দুই ভাই, দুজনেরই বয়স ১০ বছরের কাছাকাছি। সায়েম একদিন দৌড়াতে গিয়ে পড়ে হাঁটুতে ব্যথা পেলো। সে উঠে গিয়ে ব্যথা পাওয়া জায়গাটা পরিষ্কার করে ফেললো, বাসায় এসেও তেমন কিছু জানালো না। যদিও পড়ে যাওয়ার পর তার বন্ধুরা অনেক হাসাহাসি করছিল। আর অন্যদিকে সিয়ামও একদিন খেলতে গিয়ে ব্যথা পেলো, অন্যদের হাসাহাসি দেখে তার কান্না পেলো ভীষণ। তারপর বাসায় এসে মাকে জানিয়ে আরেক দফা কান্না জুড়ে দিলো।
আমরা সিয়ামের কথাই বলছি, তার সংবেদশীলতা বেশি! অন্যান্য ছেলে-মেয়েরা যখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, সে তখন তার চারপাশের সবকিছু মনোযোগ দিয়ে দেখছে। মানুষের আচরণ, তাদের অভিব্যক্তি, আশপাশের শব্দ, রঙ কিংবা তার সঙ্গে অন্যদের ব্যবহার সে দারুণভাবে বিশ্লেষণ করে। সে সামান্যতেই বিরক্ত হয়, চুপচাপ নিজের মতো থাকতে পছন্দ করে। তার সঙ্গ পেতে হলে তার মন বুঝতে হয়, নইলে বন্ধুত্ব সম্ভব নয় তার সঙ্গে! তার সমবয়সী অনেক বাচ্চা যখন সবকিছু নিয়ে মেতে থাকছে, তখন সে কেবল নিজের পছন্দের ব্যক্তি আর খেলনা নিয়েই খেলছে।
পিতা-মাতা হিসেবে এমন ‘অদ্ভুত‘ আচরণ হয়তো আপনি বরদাশত করবেন না। সবকিছুতে সংবেদনশীল এমন সন্তানকে লালন-পালন একটু কষ্টই বৈকি। কিন্তু এটা তার একার বৈশিষ্ট্য নয়, বাড়ন্ত শিশুদের ভেতর ১৫-২০ শতাংশের ভেতর এমন আচরণ দেখা যায়! এসব শিশুরা যথেষ্ট সামাজিক, সৃজনশীল, সহানুভূতিশীল আর কৌতূহলী স্বভাবের হয়ে থাকে, তবে সেটা তার খোলসের আড়ালেই ঢাকা থাকে। যতক্ষণ না আপনি তাকে খোলসের বাইরে বের করে না আনেন। এরকম সন্তানদের মানুষ করতে হলে একটু ভিন্নভাবেই আচরণ করা উচিত, সেগুলো নিয়েই আজকের লেখাটি।
আবেগপ্রবণতা মেনে নিন
আপনি যদি বুঝতে পারেন যে, আপনার সন্তানটি আসলে একটু বেশিই আবেগপ্রবণ, তাহলে সেটা সমস্যা মনে না করে স্বাভাবিক হিসেবেই নিন। এটাই হবে তার জন্য আপনার নেওয়া সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত। তার উপর যখন-তখন রেগে যাবেন না। তাহলে একসময় আপনার সঙ্গে বিষয়গুলো শেয়ার না করে নিজের ভেতর লুকাতে শুরু করবে। পরিণতিতে একটা সময় সে বিষণ্নতায় ভুগবে।

তাকে তার আবেগগুলো সহজাত ভঙ্গিতে প্রকাশ করতে দিন। আপনি বরং তার অনুভূতি প্রকাশের প্যাটার্ন লক্ষ্য করুন। আবেগ প্রকাশকালে প্রথমে তার কথা শুনুন। তারপর সমাধান দিন, এর সাথে সাথে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে পড়লে আবেগকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটা শিখিয়ে দিন। প্রথমদিকে এটা কাজ না করলেও সে একটা সময় গিয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণে আপনার পরামর্শ মেনে চলতে শুরু করবে। মনে রাখতে হবে, অতি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াটা তার একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য। এটাকে দূর করার চেষ্টা না করে বরং কীভাবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটাই তাকে শেখাতে হবে। তবেই সে স্বনির্ভর হবে আবেগ প্রকাশের দিক দিয়ে, পরিস্থিতি সামাল দিতেও আপনাকে তার সবসময় প্রয়োজন পড়বে না।
সন্তানের বন্ধু হোন
আবেগপ্রবণ সন্তানদের দেখে রাখা আপনার জন্য সহজ হতে পারে যদি আপনি তার বন্ধু হতে পারেন। শুধু মুখের কথায় নয়, আপনি তার বন্ধু হয়েছেন কি না সেটা সে আচরণের মাধ্যমেই প্রকাশ করবে। একবার তার বন্ধু হতে পারলে তার কর্মকাণ্ডগুলো সহজেই দেখে নিতে পারবেন। কারণ এমন সন্তানরা সাধারণত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আপনাকে জানাবে। যেখানে স্বাধীনচেতা আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারা সন্তানরা আপনার অনুমতির তেমন তোয়াক্কা করবে না।

আবেগপ্রবণ সন্তানরা যেহেতু পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়; বিশেষ করে উজ্জ্বল আলো, চিৎকার-চেঁচামেচি কিংবা অগোছালো পরিবেশের প্রতি তারা খুবই সংবেদনশীল। এমন পরিবেশে সে বেশিক্ষণ থাকতে চাইবে না, বরং নীরবতাই তার জন্য উপযুক্ত তখন। আপনার বাচ্চার আশপাশে যদি এমন পরিবেশ তৈরি হয় তবে বেশিক্ষণ সেখানে না রেখে বরং জায়গা বদলে ফেলুন। তাকে বই পড়তে দিন (যদি পড়তে পারে), ব্রিদিং এক্সারসাইজ করান কিংবা শান্ত করার জন্য ঘুম পাড়াতে পারেন। বাচ্চা রেগে গেলে তার জন্য ব্রিদিং এক্সারসাইজ খুবই কার্যকরী, বিশেষ করে সে যখন আপনার কাছাকাছি থাকে না।
নিয়মানুবর্তিতা শেখান
বাচ্চাদের ভেতর নিয়মানুবর্তিতা তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ! আর সন্তান যদি হয় আবেগপ্রবণ, তবে তার ভেতর নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস করানোটা আরও জরুরি। ইমোশনাল সন্তানরা যেহেতু বাবা-মায়ের প্রতি বেশি নির্ভরশীল হয়, তাদের ভেতর নিয়ম তৈরি করে দেওয়াটা আরও সহজ। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, নিয়মগুলো যেন তাকে আবার রাগিয়ে না দেয়, কিংবা নিয়মের ভারে সে যেন সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। বরং এমন কিছু অভ্যাসের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে যেগুলো তার জন্য তার আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। সেইসাথে আপনিও তাকে সময় দিতে পারেন, যখন সে বাইরের পরিবেশের সঙ্গে মিশে। প্রতিনিয়ত একটা ছন্দ পেলে সে নিজের উপর কনফিডেন্স তৈরি করতে পারবে।
সন্তানের চেষ্টাকে সমর্থন জানানো
স্বাভাবিকভাবে আপনার আবেগপ্রবণ সন্তান সহজে কিছু করতে চাইবে না, কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে মিশতে চাইবে না। বিশেষ করে এমন পরিবেশে, যেখানে সে একবার অপদস্থ হয়েছে। তার ছোট ছোট চেষ্টাগুলোকে তাই সমর্থন জানাতে হবে, যত বিচ্ছিন্ন চেষ্টাই হোক না। যেমন, সে যদি ছবি আঁকতে গিয়ে অন্যদের মতো না পারে, অর্থবোধক আঁকিবুকি না করে, তবে তাকে বকা দেবেন না। বরং তাকে জানাতে হবে, সে যেটা চেষ্টা করছে এটা দারুণ! তবে ছবিটা এভাবে আঁকলে আরও সুন্দর হতে পারে। সে তখন আপসেট না হয়ে কিংবা রেগে না গিয়ে নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করবে। এটা মনে রাখতে হবে যে, আবেগপ্রবণ সন্তানরা সাধারণত কষ্টকর কিংবা যেসব কাজে সে ব্যর্থ সেগুলো থেকে তার মনোযোগ সরিয়ে নেয়। এটা করার ব্যাপারে সে হয়তো আপনাকে মিথ্যে বলতে পারে, যদি না তার চেষ্টাগুলোকে আপনি সমর্থন জানান।
সন্তানকে পুরষ্কৃত করুন
যেকোনো বাচ্চাই উপহার হিসেবে কিছু পেলে খুশি হয়। আর সেনসিটিভ বাচ্চা যদি উপহার পায়, তবে তো কথাই নেই! যে ভয়, অপমানবোধ তাকে পিছে ঠেলে দেয়, সেগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখানো যাবে আপনার বাচ্চাকে পুরষ্কৃত করার মাধ্যমে। তাকে যথাসাধ্য কাজের ফলাফল হিসেবে উপহার দিন। তারপর তাকে জানান, সে অমুক কাজটা ঠিকভাবে (অন্তত চেষ্টা) করার জন্য পুরষ্কারটা পেয়েছে। এতে তার কাজের উদ্যম বহুগুণ বেড়ে যাবে। তার কাজের ফলাফল হিসেবে উপহার প্রদানে ভিন্নতা আনুন। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আপনার উপস্থিতিও তার জন্য বড় উপহার হতে পারে। তাই তার পছন্দ-অপছন্দ, শক্তি-দূর্বলতার জায়গাগুলো জেনে নিন আগে থেকে।
অল্প কথায় আবেগ প্রকাশ
আবেগপ্রবণ বাচ্চারা যত সহজে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, তত সহজে সেগুলোকে প্রকাশ করতে পারে না। তাই তার আবেগতাড়িত অনুভূতিগুলোকে সংজ্ঞায়িত করতে সহায়তা করুন। কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে, কতটুকু আবেগ প্রকাশ করতে হবে, সেটা তাকে শেখানো গেলে পরবর্তীতে আর দ্বিধায় ভুগবে না সে। আবার নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে তার পরবর্তী জীবনে।
সন্তানের সমস্যার সমাধান করুন
সবসময় সন্তানের সব আবদার আর অভিযোগ শোনার মানসিকতা আপনার না-ও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রেগে না গিয়ে বরং সন্তানের কাছে সময় চেয়ে নিন, তাকে আশ্বস্ত করুন। রেগে গিয়ে যদি শাস্তি দিতে যান, তবে আপনার সব শিক্ষা বিফলে যেতে পারে! শাস্তির চেয়ে ডিসিপ্লিন শেখালে সে আরও অর্থপূর্ণ আচরণ করবে ভবিষ্যতে। আপনি নিজেকে গুছিয়ে নিতে সময় নিন, অবশ্যই আপনার সন্তান যেনো বুঝতে না পারে তাকে গোছাতে গিয়ে আপনিও অগোছালো হয়ে পড়েছেন!

সংক্ষেপে দেখুনআপনাকে সবসময় একটা সত্য মেনে চলতে হবে, আপনি অতিসংবেদনশীল বাচ্চা বড় করে তুলছেন। সে আপনারই অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাকে বাদ দিয়ে আপনার জীবন অপূর্ণ। তাই তাকে বড় করে তোলাটা সমস্যা হিসেবে না দেখে, স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। হয়তো সবকিছু সময়মতো হবে না, তবে একদিন হবে- এই বিশ্বাস আর ধৈর্য নিয়ে এগোতে পারলেই তবে সন্তানকে আগামীর জন্য উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।
২১ শতকে টিকে থাকলত হলে আপনার কেমন দক্ষতা থাকা প্রয়োজন ?
“ভবিষ্যতে রোবটরা আপনার চাকরিকে নিয়ে নেবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার মস্তিষ্ককে হ্যাক করে ফেলবে- এবং এই ভবিষ্যতটাও খুব দূরে নয়”, বিখ্যাত ঐতিহাসিক এবং লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারি এমনটাই বলছেন তার নতুন বই ‘টুয়েন্টি ওয়ান লেসন্স ফর দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’-তে। কিন্তু আপনি কেন তাকে বিশ্বাস করবেন? কারবিস্তারিত পড়ুন
“ভবিষ্যতে রোবটরা আপনার চাকরিকে নিয়ে নেবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার মস্তিষ্ককে হ্যাক করে ফেলবে- এবং এই ভবিষ্যতটাও খুব দূরে নয়”, বিখ্যাত ঐতিহাসিক এবং লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারি এমনটাই বলছেন তার নতুন বই ‘টুয়েন্টি ওয়ান লেসন্স ফর দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’-তে।
কিন্তু আপনি কেন তাকে বিশ্বাস করবেন? কারণ তিনি তার পুরো ক্যারিয়ারই গড়ে তুলেছেন ইতিহাসকে পড়ে, মানুষ নিয়ে গবেষণা করে। হিব্রু ইউনিভার্সিটি অফ জেরুজালেমের এই ইতিহাসের প্রফেসর ইতোমধ্যে তিন-তিনটি আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার বই লিখে ফেলেছেন শুধু মানুষকে নিয়েই। তিনি তার প্রথম বই ‘সেপিয়েন্স’-এ দুনিয়া কাঁপিয়েছেন মানবজাতির ইতিহাসকে সহজ ভাষায় লিপিবদ্ধ করে, তার পরের বই ‘হোমো ডিউস’-এ তিনি লিখেছেন আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে, এবং তার এই বইটি কথা বলছে বর্তমান নিয়ে, কী হচ্ছে এই বর্তমানে এবং তা আমাদের জন্য কী অর্থ বহন করে।
তার মতে, প্রযুক্তির নতুনত্ত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এতটাই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে যে, এর দূরপাল্লার ফলাফল কেমন হতে পারে সেই সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই নেই। (১৫ বছর আগে ফেসবুক বলে কিছু ছিলই না, সেই ফেসবুকই এখন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে, ঘটিয়ে ফেলছে আরব বসন্তের মতো ঐতিহাসিক বিপ্লব। ভেবে দেখুন, আরও ১৫ বছর পরে এই ফেসবুকের প্রভাব কোথায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে।) তিনি বলছেন, অটোমেশনের মুখে আমরা আমাদের বর্তমান চাকরিকে একসময় হারিয়ে ফেলবো। তারপর যে চাকরিই নেই না কেন, অটোমেশন সেই চাকরি একসময় কেড়ে নিবেই। একসময় আমাদের জীবনের সম্পূর্ণটাই নিয়ন্ত্রণ করবে অ্যালগরিদম, আমাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব বা সত্ত্বাই হারিয়ে যাবে।
আর এসব হুমকির মুখে আমাদের কী কী দক্ষতা প্রয়োজন? দরকার এমন মানসিক নমনীয়তা এবং সংস্কারহীনতা, যাতে প্রতি দশকে আমরা নতুন করে আবিষ্কার করতে পারি নিজেদেরকে। আরও দরকার নিজেকে এমনভাবে জানা যে, প্রযুক্তি আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে।

লেখক ও ঐতিহাসিক ইউভাল নোয়াহ হারারি
এসব নিয়েই ইউভাল নোয়াহ হারারি কথা বলেছিলেন ‘জিকিউ’ ম্যাগাজিনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে।
আপনার লেখায় আপনি বলছেন, বর্তমান পৃথিবীর ভবিষ্যত সম্পর্কে একমাত্র নিশ্চিত ব্যাপার হচ্ছে এটি অনিশ্চিত। এই অনিশ্চয়তার প্রভাব আমাদের উপর কেমন হতে পারে?
আপনি যদি খুব বেশি বৃদ্ধ না হয়ে থাকেন, এটা খুবই সম্ভাব্য যে আপনার পরবর্তী দশকগুলোতে নিজেকে বারবার নতুন করে আবিষ্কার করতে হবে, পেশা পরিবর্তন করতে হবে বেশ কয়েকবার।
অনেকে ভাবেন, দুনিয়া হয়তো একবারই পরিবর্তন হবে, বড়সড় বিপ্লব হয়ে যাবে কোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে। ধরুন, সেটা ২০২৫, যেখানে আমরা দেখবো রোবটরা আমাদের ৬০% চাকরি নিয়ে নিয়েছে। তারপর কয়েকবছর আমাদের একটু কষ্ট করতে হবে, তারপর দেখবো আবার নতুন নতুন চাকরি তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে, একসময় অর্থনীতি একটি নতুন ধরনের সাম্যাবস্থায় চলে আসবে।
কিন্তু এই চিন্তার সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে, এখানে ধরে নেয়া হচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার সর্বোচ্চ ক্ষমতায় পৌঁছে যাবে ২০২৫ এই। তারপরও যে পরিবর্তন হতে পারে, সেটা ভাবা হচ্ছে না। হ্যাঁ, ২০২৫ সালে গিয়ে আমরা দেখবো অনেক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ২০৩৫ সালের পরিবর্তন হবে তার থেকেও বড়, ২০৪৫ সালেরটা তার থেকেও, আর মানুষকে এই প্রত্যেকটি পরিবর্তনের সাথে নিজেকে সমন্বিত করে নিতে হবে।

রোবটদের হাতে চলে যেতে পারে আমাদের চাকরিগুলো
একে মোকাবেলা করা জন্য আপনি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে আসলে এ ধরনের সমস্যার সামনে আমাদের ক্ষমতা খুবই সীমিত। আপনি যদি অনেক বিত্তবান হন, তখন হয়তো আপনার এসব সমস্যার প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে অনেক পুঁজি আছে, সম্পদ আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আসলে এক্ষেত্রে অনেক সাহায্যের দরকার। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে হচ্ছে পর্যাপ্ত ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এবং মানসিক ভারসাম্য, কারণ সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো এক্ষেত্রে হবে মনস্তাত্ত্বিক।
রোবটদের কাছে চাকরি হারিয়ে আপনি যদি নতুন চাকরিও পান, কিংবা সরকারই আপনাকে ভরণপোষণ করে, তখনও এ ধরনের পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে আপনার প্রচুর মানসিক শক্তি থাকতে হবে। কৈশোরে বা তারুণ্যে পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা ভালো থাকে। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর, অর্থাৎ যখন আপনার বয়স ৪০ বা ৫০, তখন কিন্তু পরিবর্তন আপনার জন্য বেশ পীড়াদায়ক হবে। এ সময় আপনার মানসিক শক্তি যদি সাথে থাকে, তবেই আপনি পারবেন ৩০, ৪০ বা ৫০ বছর বয়স পেরোবার সময় প্রতিবারই নতুন একটি পৃথিবীর মুখোমুখি হতে। এখন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ আসলে কোনো নির্দিষ্ট দক্ষতা নয়, কম্পিউটার কোডিং পারা বা ম্যান্দারিন ভাষায় দক্ষ হওয়ার চেয়ে মানসিকভাবে নমনীয় হওয়া এবং নিজের ব্যক্তিত্বকে পরিবর্তনের প্রতি স্বচ্ছন্দ করে তোলা অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখন।
কিন্তু এরকম মনস্তত্ত্ব একজন মানুষ কীভাবে তৈরি করতে পারেন?
আমি ধ্যান করি, বিপাস্যনা (একধরনের বৌদ্ধিক ধ্যান) করি। আমি প্রতিদিন দু’ঘণ্টা করে ধ্যান করে থাকি। আমি প্রায়ই প্রশান্তির জন্য নিভৃতে চলে যাই, প্রতি বছরে ৬০ দিন আমার ধরা থাকে এর জন্য। আমার জন্য এ ব্যাপারটি কাজ করে। তবে আমার জন্য কাজ করে বলেই সবার জন্য কাজ করবে ব্যাপারটি সেরকম নয়। একেকজনের জন্য কার্যকরী হবে একেকটি প্রক্রিয়া। কেউ কেউ থেরাপি নেন, কেউ শিল্পে মনোনিবেশ করেন, কেউ খেলাধুলায়। এমনও হতে পারে আপনি এক সপ্তাহ পাহাড়ে হাইকিং করলেন এবং এতেই মনে হলো আপনার মন অনেক নমনীয় হয়েছে আগের থেকে। সুতরাং এই ব্যাপারটি পুরোই ব্যক্তিসাপেক্ষ, আমার মনে হয় না সার্বজনীন কোনো উত্তর আছে এখানে।

মেডিটেশন আপনার মনস্তত্ত্বকে নমনীয় করে তুলতে পারে
তবে আমাদের সবসময়ই এগুলোর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিজেদের কাছে পরিষ্কার থাকতে হবে- আমরা আমাদেরকে নিজেদেরকে আরো ভালো করে জানার চেষ্টা করছি এবং মানসিক নমনীয়তা অর্জনের চেষ্টা করছি। এটা আমাদের কোনো শখ হিসেবে না, জীবনের অন্যতম একটি মূল কাজ হিসেবেই করা উচিত। আগামী দশকগুলোতে এই দক্ষতাই আপনার জন্য হবে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
এখানে একটি বাস্তবিক উদাহরণ আমি যদি না দেই তবে এই কথাগুলো শুনতে খুব বেশি তাত্ত্বিক শোনাতে পারে। ধরুন, আপনি একটি ব্যাংকে কাজ করেন এবং বেশ সফল ক্যারিয়ারও গড়ে ফেলেছেন আপনি ইতোমধ্যে। কিন্তু আজ থেকে ১০ বছর পর আপনি দেখলেন আপনার কাজগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার থেকে বেশি পাকা হয়ে গিয়েছে। আপনি স্টক এক্সচেঞ্জের হিসাব নিকাশ করতেন, কিন্তু অ্যালগরিদম সেই হিসাব এখনো আরো নিখুঁতভাবে কম সময়ে করতে পারে এবং তাকে কোনো বেতনও দেয়া লাগে না। সুতরাং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাার কাছে আপনি আপনার চাকরি হারিয়ে ফেললেন। তখন আপনার অন্য কোনো চাকরিতে যেতে গেলে গত ১০ বছরে যা কিছু অর্জন করেছেন সব ভুলে গিয়ে নতুন করে অনেক কিছু শিখতে হবে। শুধু দক্ষতার দিক দিয়েই না, আপনাকে পিছনে ফিরে যেতে হবে আরো অনেক অনেক দিক থেকে। এমন অবস্থাও দাঁড়াতে পারে যে আপনি যা শিখেছেন এবং অর্জন করেছেন তা ত্যাগ করলেও হচ্ছে না, আপনার নিজের প্রতি নিজের যে ধারণা ছিল, তাও বদলাতে হচ্ছে। আপনি তখন আর জানেন না আপনি আসলে কী করেন, সমাজে আপনার পরিচয় কী। তাই এসব পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য আপনার প্রচুর মানসিক নমনীয়তা এবং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স দরকার।

আপনার ব্যাংকের হিসাবনিকাশের কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরো নিখুঁতভাবে করতে পারবে
আপনার কাজ প্রযুক্তির সাথে আপনার সম্পর্ককে কীভাবে পরিবর্তিত করেছে?
আমি কোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করি না। আমার মনোযোগ আমার কাছে আমার অন্যতম বড় একটি সম্পদ এবং সেই মনোযোগকে আমার নিজের নিয়ন্ত্রণ থেকে কেড়ে নেবার জন্য এই স্মার্টফোনটি সবসময় মুখিয়ে থাকে। সবসময়ই সেখানে নতুন কিছু না কিছু আসছে।
আমি প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ব্যবহারের উদ্দেশ্য কি আমি নিজে ঠিক করছি নাকি প্রযুক্তিই ঠিক করে দিচ্ছে সে ব্যাপারটি সবসময় খেয়াল করি। প্রযুক্তি কিন্তু প্রায়ই ঠিক করে দেয় আমরা কী উদ্দেশ্যে তাকে ব্যবহার করছি। ধরুন, আপনার একটু অবসর আছে, ইউটিউব খুললেন, দু’ঘন্টা পর দেখা যাবে আপনি এখনো ইউটিউবেই পড়ে আছেন, দেখছেন ফানি ভিডিও বা গাড়ির এক্সিডেন্ট বা এ ধরনের কিছু। আপনি কিন্তু কখনোই সিদ্ধান্ত নেননি যে পরবর্তী দু’ঘন্টা আপনি এসব ভিডিও দেখে কাটাবেন, প্রযুক্তিই আপনার হয়ে সে সিদ্ধান্ত নিয়ে দিয়েছে। আপনার মনোযোগকে তারা এত নিপুণভাবে কেড়ে নিয়েছে যে আপনি টেরই পাননি।
এই মনোযোগ কেড়ে নেয়া প্রযুক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখাটা আপনার জীবনমানকে কীভাবে বদলে দিয়েছে?
আমার জীবনে এখন অনেক সময়। এবং সেই সময়টা শান্তিপূর্ণও বটে। আসলে এটা তো গোপন কোনো ব্যাপার নয়। প্রযুক্তি তো কোনো শান্তিপূর্ণ আবেগ দিয়ে আপনার মনোযোগ কাড়তে পারবে না, তারা এটা করবে আপনাকে উত্তেজিত করে, আপনার মনে ভয়, ঘৃণা বা ক্রোধের উদ্রেক করার মাধ্যমে, কিংবা আপনার লোভকে ইন্ধন দেবার মাধ্যমে। ধরুন, কেউ যদি ইমিগ্র্যান্টদের মনে মনে ভয় পায় বা ঘৃণা করে, প্রযুক্তির অ্যালগরিদম ইমিগ্র্যান্টদের নেতিবাচক দিক নিয়ে একের পর এক ভিডিও দেখাতে থাকবে। আবার, কেউ ধরুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একদমই পছন্দ করে না, তারা প্রযুক্তির বশবর্তী হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রাম্পের খারাপ কাজের ভিডিও দেখবে এবং তার ক্রোধ বাড়তেই থাকবে, বাড়তেই থাকবে। এবং এই খবরগুলো যে সত্য হওয়া লাগবে এমনও না- একজন যদি হেডলাইন দেখে যে “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন পৃথিবী সমতল”, তারা সেই নিউজে বা ভিডিওতে ক্লিক করবেই।
এসব আপনার মনোযোগ কেড়ে নিতে বাধ্য, কারণ মানুষ হিসেবে এখানেই আপনার দুর্বলতা। কিন্তু আপনি যদি আপনার দুর্বলতার কাছে হেরে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা এগুলোই পড়ে বা দেখে কাটিয়ে দেন তবে প্রকৃতপক্ষে আপনি নিজেই নিজেকে রাগান্বিত এবং ঘৃণাপূর্ণ করে তুলছেন। আর এই ব্যাপারটা আরো ভয়ংকর হয় তখনই যখন আপনি যেসব ভিডিও দেখছেন বা খবর পড়ছেন এগুলো যদি বেশিরভাগই সত্য না হয়। কিন্তু এটাই বাস্তবতা, সামাজিক মাধ্যমে যেসব খবর আপনি পাচ্ছেন তার অনেকটুকুই সত্য নয়, বানোয়াট। অথচ আপনি শুধু শুধুই কয়েক ঘন্টা ধরে নিজের মাঝে ঘৃণা এবং রাগের উদ্রেক করেছেন।
লোভের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একইরকম। আপনি যদি খুব করে একটা কিছু চান, একটি আলিশান বাড়ি বা সুন্দর গাড়ি, তখন আপনি এগুলো নিয়ে বানানো ভিডিও দেখবেন এবং সেগুলোকে আরো বেশি করে চাবেন। কিন্তু আপনার যেহেতু সেসব থাকবে না, আপনার নিজেকে নিয়ে হীনম্মন্যতা আরো বাড়তে থাকে যে আপনার এরকম বাড়ি নেই, এরকম গাড়ি নেই। সুতরাং দেখা যাবে আপনি আপনার লোভকে এক ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে আরো বাড়ালেন, যে ব্যাপারটি আপনার জন্য মোটেও ভালো হলো না।

আপনার জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে স্মার্টফোন
আপনি নিজেকে যতটা ভালো করে জানবেন, প্রযুক্তির এই ভয়াল থাবা থেকে নিজেকে ততটা নিরাপদ রাখতে পারবেন আপনি। আপনি যদি জানেন যে আপনার কী কী দুর্বলতা আছে, কী কী লোভ আছে, এই রাগ ঘৃণা লোভের বশবর্তী অবশ্যই তুলনামূলকভাবে কম হবেন আপনি। অ্যালকোহলিক বা ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে যেমন নেশামুক্ত হবার প্রথম ধাপ হচ্ছে নিজের কাছে স্বীকার করা যে, “আমি ধূমপায়ী বা অ্যালকোহলিক এবং এটা আমার জন্য খারাপ”, এ ব্যাপারটিও অনেক তেমনই।
তাহলে আপনি খবর পান কোথা থেকে?
প্রতিদিনের নিউজ আমি খুব কমই অনুসরণ করি। আমি বরং নিজেদের পছন্দের জায়গাগুলো নিয়ে বড় বড় বই পড়ে থাকি। চীনা অর্থনীতি সম্পর্কে ১০০টা ছোট ছোট খবর পড়ার থেকে আমার কাছে চীনা অর্থনীতি সম্পর্কে লেখা একটি বড় বই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলাকে বেশি ভালো মনে হয়। সেক্ষেত্রে আমি হয়তো প্রতিদিনের খবরে থাকা অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিটেইল মিস করবো, কিন্তু আমি তো কোনো রাজনীতিবিদ নই, সাংবাদিকও নই, তাই অতটুকু মিস করাটা আমার কাছে তেমন বড় সমস্যা বলে মনে হয় না।
কিন্তু আমরা কেন আমাদের নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে এতটা অপারগ বলে আপনি মনে করেন? প্রশ্নটা করতে গিয়ে সম্প্রতি গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে প্রকাশিত হওয়া নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের একটি ইস্যুর কথা মনে পড়লো আমার। ১৯৮০ সালেই আমরা জানতাম আজকে পৃথিবী এই অবস্থায় আসবে, কিন্তু আমরা কোনো পদক্ষেপ নেইনি, আজ আমরাই ভুক্তভোগী হচ্ছি। আমার কাছে বর্তমান সময়টাও অনেকটা একই বলে মনে হচ্ছে, আমরা জানি প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জন্য অনেক সমস্যা নিয়ে আসবে, তারপরও আমরা এর থেকে নিজেদের নিরস্ত করতে পারছি না।
একটা কারণ হচ্ছে আর্টিফিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাঝে লুকিয়ে থাকা অনেক অনেক ইতিবাচক সম্ভাবনা। যদি পুরো ব্যাপারটাই খারাপ হতো, তবে তো আর এর উপর গবেষণার পেছনে এত এত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হতো না। সত্য ঘটনা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন আমাদের মানবজাতিকে বেকার করে দিতে পারে, উদ্দেশ্যহীন করে দিতে পারে, তেমনি অনেক সুবিধাজনক ব্যাপারও নিয়ে আসতে পারে।
যেমন ধরুন, সেলফ ড্রাইভিং গাড়ির কথা। এ ব্যাপারটি কিন্তু প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। বর্তমানে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং এগুলোর প্রায় পুরোটাই মানবিক ভুলের কারণে, যেসব ভুল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করবে না। তাই এই যে লক্ষ প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ, এ ব্যাপারটা সুন্দর। কিন্তু এটা করতে গেলে আপনার মানুষের আচার-আচরণ এবং আবেগকে হ্যাক করতে হবে। রাস্তার মাথায় নব্বই ডিগ্রি বাঁক নিতে অ্যালগরিদম সহজেই পারবে, সেটা তেমন কঠিন কিছু নয়। কিন্তু একটা বাচ্চা যদি কোনো বল ধরার জন্য হঠাৎ গাড়ির সামনে লাফ দেয়, সেক্ষেত্রে বাচ্চাটাকে বাঁচাবে কোন অ্যালগরিদম?
সুতরাং সেলফ ড্রাইভিং গাড়ির আইডিয়াকে সম্পূর্ণ বাস্তব করতে হলে আমাদের এমন গাড়ি তৈরি করতে হবে যা একটা বাচ্চার অনুভূতি, চিন্তা-ভাবনাকে বুঝতে পারে। অর্থাৎ মানুষের আচরণকে, তার কাজকর্মের প্যাটার্নকে হ্যাক করতে হবে, তাই না? সোশ্যাল মিডিয়াই বর্তমানে এই প্রযুক্তির উদাহরণ, যেখানে তারা আমাদের আবেগকে হ্যাক করে ঘন্টার পর ঘন্টা আমাদের বসিয়ে রাখতে পারে তাদের সামনে। সুতরাং যেই প্রযুক্তি আমাদের মনোযোগকে কেড়ে নিয়ে আমাদের জীবনকে অসুখী করে তুলছে, যে প্রযুক্তিই আবার বছরে লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচাতে পারে। তাই “শুধু সমস্যাই আসবে” এরকমটা এত সহজে বলা যায় না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আশীর্বাদ হতে পারে সেলফ ড্রাইভিং গাড়ি
হ্যাঁ, মুদ্রার তো দুটি পিঠ থাকবেই। আচ্ছা ভবিষ্যত প্রযুক্তির শুধু ভালোগুলোকে গ্রহণ করে খারাপগুলোকে প্রতিহত করে রাখার কি কোনো উপায় আছে?
আশা করি কার্যকর সরকারী আইন, মানুষের নিজেকে জানা, যারা অ্যালগরিদম তৈরি করছে তাদের অভিপ্রায়গুলো ঠিক থাকা, এগুলো সব মিলিয়েই ভবিষ্যত হয়তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যারা প্রযুক্তিতে কাজ করছে- প্রকৌশলীরা, বিজ্ঞানীরা- তাদের কারোরই আসলে অভিপ্রায় খারাপ নয়। হয়তো কারো কারো খারাপ থাকতে পারে, কিন্তু কেউই তো আর মানবজাতির ধ্বংস ডেকে আনতে চাচ্ছে না। কিন্তু সত্য ঘটনা হচ্ছে, বিজ্ঞানী বা প্রকৌশলীরা প্রযুক্তি তৈরি করতে পটু হলেও সম্পূর্ণ মানবজাতির জন্য তাদের কাজের ফলাফল কী হতে পারে, তা বুঝতে খুবই অপটু। সুতরাং আমরা যদি প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য কেমন ভবিষ্যত আনতে পারে, তা নিয়ে আরো কথা বলি, সচেতনতা তৈরি করি, এই প্রযুক্তিগত উন্নতিকে আমরা ঠিকঠাক দিকে হয়তো রাখতে পারবো।
আমার কাছে আমার বইটি কিন্তু কোনো ভবিষ্যদ্বাণীর বই নয় যে, হ্যাঁ, আমাদের ধ্বংস আসছেই এবং এখানে আমাদের কিছুই করার থাকবে না। যদি কিছুই করার না থাকে, তবে এই বই লেখারই তো কোনো সার্থকতা নেই। আমার আইডিয়াটা হচ্ছে মানুষকে জানানো, এসব নিয়ে কথা বলতে শেখানো। প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চাকরির বাজারকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, আমাদের মনস্তত্ত্বের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, আমাদের সম্পর্কগুলোকে কীভাবে বদলে দিতে পারে- এসব নিয়ে অবশ্যই আমাদেরকে কথা বলতে হবে। যেমন আমেরিকায় মিডটার্ম ইলেকশন হবে কিছুদিনের মধ্যেই, আপনি যদি এমন কাউকে দেখেন যে কংগ্রেসের জন্য নির্বাচিত হতে চাচ্ছে, অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জব মার্কেটের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন? প্রযুক্তির তৈরি জগত শিশুদের মনস্তত্ত্বকে কীভাবে বদলে দিচ্ছে বলে আপনি মনে করেন? আপনাকে যদি আমরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি, এগুলোর জন্য আপনি কী কী পদক্ষেপ নিবেন?”
আপনার “সেপিয়েন্স” বইটাতে আপনি একটি আইডিয়া দিয়েছিলেন যে আমরা মানুষেরা আমাদের প্রয়োজনে সংঘবদ্ধভাবে অনেক কল্পনাপ্রসূত গল্পে বিশ্বাস করে আসছি, এই বইটিতেও সে কথা এসেছে। বর্তমান সময়ে আমাদের বিশ্বাস করা সবচেয়ে বিপদজনক কল্পনাপ্রসূত গল্প বলে আপনার কোনগুলোকে মনে হয়?
এরকম বিপদজনক গল্প এখন আছে দুটো, একটি আরেকটির বিপরীত। একটি হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। সব দেশেই আমরা দেখছি, অতীতকে উপজীব্য করে অনেক অনেক নেতা উঠে আসছেন। তারা ভবিষ্যত নিয়ে কথা না বলে বলছেন অতীত নিয়ে, “আমাকে যদি তোমরা ভোট দাও, আমি তোমাদের দেশে সোনালী যুগ ফিরিয়ে আনবো।” যা অসম্ভব, সব সোনালী যুগই আসলে আমাদের তৈরি ফ্যান্টাসি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলোর অবস্থান একটি নির্দিষ্ট ঘরানার ইতিহাসবিদের বইতে, অথচ আসল চিত্রটা যেখানে পুরোই আলাদা। যেখানে তাদের কথা বলার কথা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে, প্রযুক্তির সামনে আমাদের পদক্ষেপ নিয়ে, সেখানে অতীত নিয়ে কথা বলে তারা ভোট বাগিয়ে নিচ্ছে, আর আমরাও আমাদের নস্টালজিয়ার বশবর্তী হয়ে তাদের বিশ্বাস করছি।
এটা খুবই বিপদজনক, কারণ নতুন সমস্যাগুলোর সমাধান না ভেবে অতীতকে টেনে আনতে গেলে এই নেতারা সবাই ব্যর্থ হবে। এই নেতারা সেসব ব্যর্থতার ভার কখনোই নিজেরা নিবেন না, অন্যদের উপর দোষ চাপাবেন। কিন্তু প্রযুক্তি এগোতে এগোতে আমরা হঠাৎ ভয়ংকর অর্থনৈতিক ধ্বসের সামনে পড়ব বা সম্পূর্ণ মানবজাতি উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলবে, কিন্তু তখন দেখা যাবে আমরা সেসব সমস্যা নিয়ে ভাবিইনি। ইতিহাসে এরকম হতে আমরা আগেও দেখেছি।
আরেকটি, এর বিপরীত গল্পটি হচ্ছে, “ভবিষ্যত নিজের থেকেই ভারসাম্যে চলে আসবে। আমাদের শুধু একের পর এক নতুন প্রযুক্তি বানাতে হবে তাতেই আমরা পৃথিবীতে স্বর্গ তৈরি করতে পারবো।” এই গল্পে প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের অসুখী করে তুলতে পারে বা চাকরিহারা করতে পারে তা ভাবা হচ্ছে না। আমাদের এসব গল্পের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সংক্ষেপে দেখুনকোন রংয়ের টাই কেমন ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে?
একটি গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। কিছুদিন আগে একজন চাকুরিপ্রার্থী বিসিএস ভাইভা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই প্রস্তুতি শুধু পড়ালেখার নয়, পোশাক-পরিচ্ছদেরও। ভাইভার জন্য সহজভাবেই সাদা রংয়ের শার্টের অর্ডার দিলেন। প্যান্টেও সমস্যা হলো না। সাদা শার্টের সঙ্গে কালোকেই বেছে নেয়া হলো। কিন্তু বিপদে পড়তে হলো টবিস্তারিত পড়ুন
একটি গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। কিছুদিন আগে একজন চাকুরিপ্রার্থী বিসিএস ভাইভা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই প্রস্তুতি শুধু পড়ালেখার নয়, পোশাক-পরিচ্ছদেরও। ভাইভার জন্য সহজভাবেই সাদা রংয়ের শার্টের অর্ডার দিলেন। প্যান্টেও সমস্যা হলো না। সাদা শার্টের সঙ্গে কালোকেই বেছে নেয়া হলো। কিন্তু বিপদে পড়তে হলো টাই কিনতে গিয়ে। সেখানে রং শুধু সাদা-কালোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রং যেমন বিভিন্ন, আছে বিভিন্ন ডিজাইনও। আর বিপদটা এখানেই।
অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন, টাই একটা হলেই হয়, রং কোনো বিষয় না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইয়ের রং আপনার ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। একই স্যুটের সাথে বিভিন্ন রংয়ের টাই একজন মানুষ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাঠায় দর্শকদের কাছে। তাই নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য টাইয়ের রং বাছাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা যদি হয় চাকরির সাক্ষাৎকার বা কোনো সন্ধি-আলোচনার ক্ষেত্রে (নেগোসিয়েশন), তাহলে তো কোনো কথাই নেই।
দর্শক যিনিই হোন না কেন, তার সামনে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে সবাই চান। আর এজন্য রংয়ের রসায়নটা ভালোভাবেই জানা উচিত। এ বিষয় ‘Color Your Style’ বইয়ের লেখক ডেভিড জিলা বলেছেন, “রং নির্দিষ্ট সংকেত পাঠায়।” নিউইয়র্কভিত্তিক এই লেখক আরো বলেছেন, “একই স্যুটে ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের টাই, ভিন্ন ভিন্ন বার্তা বয়ে বেড়ায় ও ভিন্ন ফল নিয়ে আসে।”
এবার তাহলে দেখা যাক কোন রংয়ের টাই কোন ধরনের বার্তা নিয়ে আসে আর কেমন ব্যক্তিত্বই বা প্রকাশ করে।
সব ক্ষমতাবানের রং লাল
একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো, বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদই হালকা রংয়ের শার্ট ও গাঢ় স্যুটের সঙ্গে লাল রংয়ের টাই পরেন। আসলে ব্যাপারটা কাকতালীয় নয়। “ক্ষমতার টাইয়ের রং লাল”-কথাটি বলেছেন ফ্যাশন বিশ্লেষক মার্ক উডম্যান।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের লরেলে ‘রং’ নিয়ে গবেষণা করা এই বিশ্লেষক আরো বলেছেন, “লাল এর মধ্যে এমন কিছু আছে, যা সব সময় ক্ষমতা ও অধীর আগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।”
জনসমক্ষে কথা বলার সময় জেপি মর্গানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন লাল রংয়ের টাই পরিধান করেন। ছবি: Getty Images
তবে লালের মাত্রাটা পার্থক্য সৃষ্টি করে। গাঢ় লাল বা টকটকে লাল টাই বিশ্বাস স্থাপন করাতে সাহায্য করে। আর হালকা লাল বা গোলাপি রং নিজের ব্যক্তিগত স্টাইল প্রকাশ করে, যা সৃজনশীলতার দিকে ইঙ্গিত করে। তবে গত দশক থেকে গোলাপি টাই মাঝে মাঝে নারীর প্রতি সংহতি প্রকাশেরও সংকেত বহন করে।
আপনি যখন কোনো প্রকল্পে নেতৃত্ব দিতে চান অথবা কোনো উচ্চাশা প্রকাশ করতে চান, তখন গাঢ় চকচকে লাল রংয়ের টাই বেছে নেয়াটা উত্তম। আর ক্ষমতা প্রকাশের সূক্ষ্ম মাধ্যম হিসেবে অনুজ্জ্বল অথবা ছাপার লাল রংয়ের টাই বেছে নিতে পারেন।
রাজকীয় রং বেগুনি
নিউইয়র্কে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের একজন নির্বাহী হিসেবে চাকরি করেন রস নাভর। যখন তিনি কোনো ব্যবসায়িক মিটিং করেন, তখন লাল টাই না পরে বেগুনি রংয়ের টাই পরেন। কারণ এই রং আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে এবং প্রথম ইমপ্রেশনটা দীর্ঘায়িত করতে সাহায্য করে।
তবে ঐতিহ্যবাহী রংয়ের টাই পরার আগে সচেতন হওয়া উচিত। আপনার ক্লায়েন্টের সামনে কথা বলার সময় অথবা কারো সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে তার সামনে কম ঐতিহ্যবাহী রংয়ের টাই পরিধান করা উচিত। এটা প্রকাশ করে আপনি তার গায়ের বরণ নিয়ে ততটা ভাবেন না।
বেগুনি রংয়ের টাইয়ে আত্মবিশ্বাসী আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার। ছবি: Getty Images
হংকংয়ে ‘ইমেজ কনসাল্টেন্ট’ হিসেবে কাজ করা ইভ রোথ লিন্ডসে বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে রাজকীয়তা ও অর্থ-প্রতিপত্তির পরিচায়ক বেগুনি রং। সাধারণত কর্মক্ষেত্রে এই রংয়ের টাই বেশি গ্রহণযোগ্য।
তার মতে, পুরুষরা সাধারণত হালকা বেগুনি রংয়ের শেডের শার্ট এবং গাঢ় বেগুনি রংয়ের শেডের টাই পরিধান করে। হাজার মানুষের মধ্যে নিজেকে কিছুটা সাহসী হিসেবে প্রকাশ করার জন্য এর যেকোনো একটি বেছে নেয়াটা মন্দ হবে না।
কালো রংয়ের ব্যাপারটাই আলাদা
কোনো এক্সিকিউটিভ মিটিংয়ে আপনি কালো রংয়ের টাই নিয়মিত না পরলেও কোনো পার্টিতে বা বিশেষ কোনো ডিনারে কালো টাই পরতে পারেন। এটি আপনাকে আধুনিকতার অনুভূতি দেবে-কথাগুলো বলেছেন ‘Color Your Style’ বইয়ের লেখক ডেভিড জিলা।
কালো রংয়ের টাই পরা অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও।
তিনি কালো টাই পরার ক্ষেত্রে সতর্কও করেছেন। কারণ ফরমাল কালো টাই অনেক সময় উদ্ধত ভাব প্রকাশ করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতি বেশভূষাও মনে হয়। জিলা বলেছেন, “যদি কর্মক্ষেত্রে এখনও অনেক উপরে উঠার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে কালো রংয়ের টাই এড়িয়ে চলুন।”
এদিকে বিশ্লেষক উডম্যান বলেছেন, ধূসর শেডের টাই তুলনামূলক বেশি মানানসই। এমন টাইয়ে দাম্ভিক ভাব প্রকাশ করা না, তবে ঠিকই আধুনিকতার ছোঁয়ায় পরিপাটি মনে হয়।
সবুজ টাইয়ে কেমন লাগে
সবুজ রং অনেক কিছুই বোঝায়। এটি দ্বারা একদিকে পুনর্জন্ম বোঝায়। আবার অন্য দিকে কোনো কোনো দেশে টাকার রং বোঝায়। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এটা অতি মাত্রায় দৃষ্টি-আকর্ষণকারী হয়ে যায়।
কখনো কখনো পরা যায় সবুজ টাই।
আপনি যদি চান, টাইয়ের রংয়ের কারণে কেউ আপনাকে স্মরণ করুক, তাহলে ঠিক সবুজ রং বেছে নেয়াটা ঠিক হবে না। উডম্যানের মতে, উজ্জ্বল সবুজ যেমন বিরক্তিকর লাগে, তেমনি এর সঙ্গে মিলিয়ে স্যুট বা শার্ট পাওয়াও কঠিন। তবে হালকা সবুজের সঙ্গে সূক্ষ্ম ছাপার টাই অন্য কোনো রংয়ের শার্টের সঙ্গে পরিধান করতে পারেন।
হলুদের কদর কম না
ইংল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশে ঐতিহ্যবাহী টাইয়ের রং হলুদ। এটি দীপ্তি ও জীবনীশক্তির সঙ্গে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে। সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সময় হলুদ রংয়ের টাই পরতে পারেন।
এ বিষয় রোথ লিন্ডসে বলেছেন, জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করে হলুদ রংয়ের টাই।
তবে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে দেশভেদে টাইয়ের রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। কারণ ভারতে হলুদ রংয়ের টাই পরলে তাকে বণিক মনে করা হয়। আর চীনে শোকের সময় সাদা রংয়ের টাই পরা হয়।
নিরাপদ রং নীল
টাইয়ের রংয়ে ভুল বার্তা পাঠানোর ভয়ে পড়ে গেলেন? তাহলে সব চিন্তা বাদ দেন। যে বার্তাই পাঠাতে চান না কেন, নীল রংয়ের টাই বেছে নেন।
“নীল রং মানুষকে আকাশ ও সমুদ্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ফলে মানুষের মনকে শান্ত করে দেয়।” – বলেছেন ‘ইমেজ কনসাল্টেন্ট’ রোথ লিন্ডসে। তার মতে, “নীল রং পরিধান করাই সবচেয়ে নিরাপদ।”
নীল রংয়ে টাই পরিহিত বিশ্ব নেতারা।
ডিজাইন করা নীল টাই আপনার মধ্যে প্রফেশনাল অনুভূতি যোগাবে। বৈশ্বিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের ভুল বার্তা দিবে না। লিন্ডসে বলেছেন, “সূক্ষ্ম নীল টাই বোঝায় আপনি কোমল ও অন্তর্বীক্ষণপ্রবণ (যে নিজের চিন্তা ও অনুভূতি পরীক্ষা করে)। অন্যদিকে গাঢ় নীল বোঝায় আপনি অসাধারণ একজন।”
তার মতে, নেভি ব্লু আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগায় আর গাঢ় নীল স্মরণ করিয়ে দেয় অতি সম্মানের পাইলট-ইউনিফর্মের কথা।
মিশে যান প্রকৃতির সঙ্গে
লিন্ডসের মতে, বিক্রয়কর্মী, শিক্ষক, সেবা প্রতিষ্ঠানের মানুষের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তাম্র, বাদামি, মাটি, গোলাপি-কমলা বা হলুদ রং বেছে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, বাদামি রংয়ের টাই যদি একেবারে মিহি মনে না হয়, তাহলে সেটা নিষ্প্রভ ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে।
বাদামী রংয়ের টাইয়ে অভিনেতা নিকোলাস কোস্টার ওয়ালদাউ’র মতো বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হতে পারে আপনাকেও।
তিনি আরো বলেন, ধূসর রংয়ের টাই অনেক সময় অতি মাত্রায় নিরুদ্বেগ ভাব প্রকাশ করে। আর মাটি রংয়ের শার্টের সঙ্গে মাটি রংয়ের টাই সবসময় এড়িয়ে চলা উচিত। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির আশা থাকলে এটা একেবারেই পরিহার করা উচিত।
সংক্ষেপে দেখুনভয়কে জয় করবেন কিভাবে?
ঝড়কে আমি করব মিতে, ডরব না তার ভ্রুকুটিতে। ঝড়কে মিতে করতে বলছি না, বলছি ভয়কে মিতে করার কথা। আমরা যখন কোনো কারণে বা কোনো কিছুতে ভয় পাই, তখন সেই বিষয়গুলো আমাদের কেন যেন পেছনে আটকে রাখতে চায়। ভয় কখন বা কীভাবে আমাদের পেয়ে বসবে সেটা আমরা জানি না। সেই ভয় অতিক্রম করা কিন্তু সহজসাধ্য নয়। যেমন ধরুন, আপনি পড়াশবিস্তারিত পড়ুন
ঝড়কে মিতে করতে বলছি না, বলছি ভয়কে মিতে করার কথা। আমরা যখন কোনো কারণে বা কোনো কিছুতে ভয় পাই, তখন সেই বিষয়গুলো আমাদের কেন যেন পেছনে আটকে রাখতে চায়। ভয় কখন বা কীভাবে আমাদের পেয়ে বসবে সেটা আমরা জানি না। সেই ভয় অতিক্রম করা কিন্তু সহজসাধ্য নয়।
যেমন ধরুন, আপনি পড়াশোনায় বেশ সফল; বরাবর ভাল ফলাফল করেই আসছেন এযাবত। কিন্তু হঠাৎ করে আপনার মনে একটা আতংক কাজ করছে, যদি এবার আপনি ভাল না করতে পারেন? যদি এতদিনের সফলতা একমুহুর্তে উবে যায়? ভয় বা আতংক সবচেয়ে বড় মূলক, যা আমাদের পেছন থেকে টেনে রাখে, সামনে এগোতে দেয় না।
আমাদের জীবনে অনেক রকম মানসিক বাধাবিপত্তি আছে। ভয় হলো সেসবের মাঝে শীর্ষস্থানীয়, আর এটা আমাদের যেভাবে পেছনে টানে, সেই টান ছিড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আজ আমরা আলাপ করব এই অহেতুক, অযাচিত আতংক কীভাবে আমরা দূর করা যায়, কীভাবে ভয়ের ভ্রুকুটি অগাহ্য করে করে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় সেই ব্যাপারে।

ভয় পেলে আমরা কী করি?
যখন হঠাৎ করে আমরা ভই পাই, আমাদের হাত-পা শির শির করে, মাথা কাজ করে না, মাথা ঘুরে যায়, সব কিছু কেমন যেন অন্ধকার লাগে। জ্বর আসে, অনেকে তো গো গো করে অজ্ঞানও হয়ে যায়! আমরা সেই সময়ে বুঝে উঠতে পারি না কী করা উচিত, কার কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। যে জিনিস ঘটবে না, সেটা ভেবে অজানা আতংকে সারা হয়ে উঠি। আতংকে অনেক সময় এমন কিছু ভুল করে বসি, যা ব্যর্থ হবার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। ভয়ের মুখোমুখি না হয়ে কী হবে, সেই ভেবে কাজ করলে ভয় তো কাটবেই না, বরং আরো বেশি জেঁকে বসবে। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা কী করতে পারি তার কিছু উপায় এখন তুলে ধরছি। হয়তো এটা পড়লেই ভয় পুরোপুরি কেটে যাবে না, তবে ধীরে ধীরে সেই ভয়কে জয় করার রাস্তা আপনি ঠিকই খুঁজে পাবেন।
বিরতি নিন
টানা একই ধরনের কাজ বা একই কাজ বার বার করতে গেলে কিছুটা বিরক্তি এসে ভর করে। যদি কোনো ধরনের ভয় বা উদ্বিগ্নতা আপনার মাঝে ভর করে, তাহলে প্রতিদিনের একঘেয়ে কাজ থেকে বিরতি নিন। চা বা কফি ব্রেক নিতে পারেন। হাতে সময় থাকলে একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসতে পারেন। অফিস বা পড়াশোনা থেকে একটু ছুটি নিন। যা নিয়ে আপনার ভয় বেশি কাজ করে, কিছু সময়ের জন্য সেই ভয়ের আশপাশ দিয়ে চলা বন্ধ করে দিন। দেখবেন- কিছু সময় পর আপনার বেশ ফুরফুরে লাগবে, আপনি নতুন করে সব শুরু করতে পারবেন। এ ধরনের বিরতি মাঝে মাঝেই নিলে আপনার মনের ভয় আস্তে আস্তে কমে আসবে বলে আশা করা যায়।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন
যখন ভয় আপনার সব ইন্দ্রিয়কে ঘিরে ধরছে, তখন নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। আস্তে আস্তে, কিন্তু বেশ বড় করেই শ্বাস নিন। এমন এক জায়গায় বসুন, যেখানে প্রচুর অক্সিজেন আছে। আস্তে আস্তে সময় নিয়ে শ্বাস নিন। কিছু সময় শ্বাস ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। দেখবেন নিজেকে বেশ হালকা লাগবে। শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বেশি হলে নিজের ভেতরের অস্বস্তি অনেকাংশে কমে যায়। শরীর এবং মন- দুটোই ভালো থাকার জন্য নিঃশ্বাসের ব্যায়াম বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে অন্তরের ভীতি দূর করতে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে যোগব্যায়াম বেশ ভালো কাজ করে।

যোগব্যায়াম ভয় দূর করতে বেশ সাহায্য করে
ভয়ের মুখোমুখি হোন
ধরুন, আপনার উচ্চতাভীতি রয়েছে। উঁচু বিল্ডিং কিংবা ফ্লাইওভারে উঠে নিচে তাকালে আপনার পৃথিবী দুলে ওঠে। মনে হয়, এখনই পড়ে যাবেন। এখন যদি আপনি প্রতিদিন একটু একটু করে উপরে ওঠেন, আর নিচের দিকে দেখার চেষ্টা করেন, আপনার ভয় কেটে যাবে আস্তে আস্তে। অনেক ক্ষেত্রে এই ফোবিয়া দূর করতে বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন পড়ে।

উচ্চতাভীতি আমাদের সবার কম-বেশি সবার আছে
সেরা হবার চেষ্টা করবেন না
আমাদের ভয় পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ কি জানেন? আমি যদি না পারি, যদি হেরে যাই- এমনটা আমরা কেন ভাবি জানেন? কারণ, আমরা সেরা হতে চাই। আমরা চাই- আমাদের যেন কেউ হারাতে না পারে। এটা আমাদের জীবনের অন্যতম বড় ভুল। কারণ, আমরা কেউ সেরা না, কেউ অলরাউন্ডার হতেও পারব না। আমরা যা না, সেটা হতে চাওয়ার চেষ্টা করা উচিত না। তাই, আমরা যা, সেটাই আমাদের হওয়া উচিত। যখন আমরা আমাদের আশার অতিরিক্ত কিছু হতে চাইব, পরাজয়ের ভয়, ব্যর্থতার ভয় আমাদের মাঝে জেঁকে বসবে।
নিজের ভালো লাগার কাজগুলো করুন
যে বিষয়গুলো আপনাকে ভালো রাখে, সেসব বিষয়ের কথা ভাবুন, সেই সময়ের কথা ভাবুন। নিজের যেসব কাজ ভালো লাগে, সেই কাজগুলো করুন। বই পড়তে ভালো লাগলে, একঘেয়ে কাজ থেকে নিজেকে একটু দূরে রেখে কিছু সময়ের জন্য বই পড়ুন। বাগান করতে ভালো লাগলে সেটাই করুন। এক কাপ কফির সাথে প্রতিদিন বিকেলে বারান্দায় সময় কাটান। ছাদে একটু হেঁটে আসুন। সকালবেলা ওঠার চেষ্টা করুন। যে সময়ে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন, সেই সময়ের কথা মনে করুন।

বই পড়ুন, কফি পান করুন, নিজেকে সময় দিন
অর্থাৎ, নিজের সাথে সময় কাটান। নিজের প্রিয় জিনিস নিজেকেই উপহার দিন। যেমন- আপনার ঘড়ির শখ থাকলে একটা সুন্দর ঘড়ি কিনুন। স্ব স্ব ধর্মীয় আচার পালন করুন। এই কাজগুলো ভয় কাটাতে বেশ সাহায্য করে।
ভয় নিয়ে কথা বলুন
আমাদের অনেক বড় একটা ভুল হলো- যে বিষয় নিয়ে আমাদের ভয়, সেই বিষয়ই আমরা লুকিয়ে রাখতে চাই। “লোকে কী বলবে” ভেবে আমরা সেই কথাগুলো নিজেদের মধ্যে চেপে রাখি। এই চেপে রাখা ধীরে ধীরে আমাদের ভেতরটা কুড়ে কুড়ে খায়। ভয়ের বেশ বড়সড় এক দেয়াল আমাদের চারপাশে ঘিরে থাকে, যা ভেদ করে আমরা নিজেরাই বের হতে পারি না।
বন্ধু, পরিবার, প্রয়োজনবোধে ডাক্তারের সাথে কথা বলা দরকার হতে পারে এক্ষেত্রে। কথা শেয়ার করলে আমাদের আশেপাশের ভয়ের দেয়াল আস্তে আস্তে সরে যেতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে, ভয়ের মাত্রা একটু বেশি হলেও ওষুধ বা থেরাপির দরকার হতে পারে।

ভয়ের মুখোমুখি হোন
যারা ভয়ের রাজ্যে ঘুরপাক খান, তাদেরকে এই বিষয়গুলো সামনে যেতে দেয় না। বার বার পেছনে টেনে রাখে। আমাদের জীবনে যেমন সবকিছু পারফেক্ট না, তেমনই সবকিছুকে ভয় গ্রাস করবে তা তো হতে পারে না। যে ভয়ই আসুক না কেন, পেছন ফিরে না দেখে তার মুখোমুখি হতে হবে। পরীক্ষায় ফেল করলে কী হবে এটা ভেবে পরীক্ষা না দেয়ার বদলে ভাবতে হবে, আমার সাধ্য অনুযায়ী পরীক্ষায় উত্তর দেব। যা ফলাফল আসবে, তা-ই মেনে নেব। এই মনোভাব প্রতিটি ভয়ের বিষয়ের ক্ষেত্রে ভাবলে দেখা যাবে, আস্তে আস্তে ভয় কেটে যাবে। ভয় খুব বেশি গ্রাস করলে, আর কিছু না পারলে অন্তত কাছের কারো সাথে কথাগুলো শেয়ার করবেন।
আমাদের পরামর্শ হয়তো আপনার ভয় দূর করতে পারবে না, কিন্তু নিজের ভয় নিজে কীভাবে দূর করবেন, সেই বিষয়ে একটা পথ দেখাতে পারে। দেখুন তো চেষ্টা করে, ভয়কে মিতে করতে পারেন কিনা!
সংক্ষেপে দেখুনএকজন মিথ্যাবাদীকে কীভাবে পাকড়াও করবেন?
“সদা সত্য কথা বলিবে।” ছোটবেলা থেকে এটিই শেখানো হয়েছে আমাদেরকে। এমনকি পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে ধর্মগ্রন্থ, সবখানেই বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে সত্যবাদিতার উপর। কিন্তু তারপরও, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই প্রায় প্রতিটি মানুষই কম বেশি মিথ্যার সাথে বসবাস করতে শুরু করে। অনেকে তো আবার সেই শৈশব থেকেই মিথ্যা বলার বদভ্বিস্তারিত পড়ুন
“সদা সত্য কথা বলিবে।” ছোটবেলা থেকে এটিই শেখানো হয়েছে আমাদেরকে। এমনকি পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে ধর্মগ্রন্থ, সবখানেই বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে সত্যবাদিতার উপর। কিন্তু তারপরও, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই প্রায় প্রতিটি মানুষই কম বেশি মিথ্যার সাথে বসবাস করতে শুরু করে।
অনেকে তো আবার সেই শৈশব থেকেই মিথ্যা বলার বদভ্যাস গড়ে তোলে। যেমনটি আমরা দেখেছিলাম শিশুতোষ ছড়ায়- জনিকে তার বাবা জিজ্ঞেস করছে, সে চিনি খেয়েছে কি না। শুরুতে কিন্তু জনি অস্বীকার করে, তবে মুখ খুলতে তার মিথ্যাটা ধরা পড়ে যায়। এভাবেই, অধিকাংশ শিশুরই ছোটখাট বিভিন্ন বিষয়ে সত্য কথা অস্বীকার করার মাধ্যমে মিথ্যার জগতে হাতেখড়ি হয়। এবং যতই দিন যায়, তাদের মিথ্যার প্রবণতা বাড়তেই থাকে।
এবং চমকে যাওয়ার মতো তথ্য হলো, একজন মানুষের প্রায় ৮০ শতাংশ মিথ্যাই অচিহ্নিত থেকে যায়, যদি না মানুষটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিশ্বব্যাপী পরিচিত কেউ হয়। বেচারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাগ্য নিতান্তই খারাপ, তাই তার প্রতিদিন প্রকাশ্যে বলা সকল কথাই বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। এবং তার মাধ্যমে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর ৮২৭ দিনেই তিনি প্রকাশ্যে ১০,০০০ তম মিথ্যা কথাটি বলে ফেলেছেন। অর্থাৎ তিনি প্রতিদিন প্রকাশ্যে গড়ে ১২টি করে মিথ্যা কথা বলেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১০,০০০টির বেশি মিথ্যা বলা ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
কিন্তু যেমনটি বলছিলাম, আপনি যেহেতু ডোনাল্ড ট্রাম্প নন, তাই আপনার মিথ্যা ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এবং আপনি যদি নিতান্তই সাধারণ কোনো ব্যক্তি হন, তাহলে আপনার প্রতি ৫টি মিথ্যার মধ্যে ৪টিই হয়তো কেউ ধরতে পারবে না। এমনকি পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টরের পক্ষেও কোনো মিথ্যা ধরতে পারার সম্ভাবনা মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ। সুতরাং, এই পৃথিবীতে মিথ্যা কথা বলেও পার পেয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব।
কিন্তু এবার মুদ্রার অপর দিকটি চিন্তা করে দেখুন। হয়তো আপনি কখনোই মিথ্যা কথা বলেন না, বরং আপনাকে অন্যের মিথ্যার শিকার হতে হয়। আপনি হয়তো খুবই সহজ-সরল, কিংবা আপনি মানুষের উপর বিশ্বাস রাখতে পছন্দ করেন। আর সেই সুযোগে অনেকেই আপনাকে মিথ্যা বলে ধোঁকা দিতে পারে। এভাবে দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত আপনাকে ঠকতে হয় বা বোকা বনতে হয়।
কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কোনো মিথ্যাবাদীকে কীভাবে পাকড়াও করা সম্ভব? সরাসরি তাকে “তুমি মিথ্যা বলছো না তো?” ধরনের প্রশ্ন করে বিশেষ লাভ হবে না। কারণ, নিজ মুখে মিথ্যা স্বীকার করবে, এমন সৎ সাহস খুব কম মানুষেরই আছে। তার চেয়ে বরং নিজে একটু সচেতন থাকলেই মিথ্যাবাদীদের কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। চলুন, জেনে নিই একজন মিথ্যাবাদীকে শনাক্ত করা কিংবা কেউ সত্য না মিথ্যা বলছে তা বুঝতে পারার কার্যকরী ধাপগুলো সম্পর্কে।

অধিকাংশ মিথ্যাই থেকে যায় অচিহ্নিত
শুরু করুন নিরপেক্ষ বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন দিয়ে
একজন মানুষ সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে, তা ধরতে পারার একদম প্রাথমিক ধাপ হলো তাকে খুবই প্রাথমিক, সাদামাটা কিছু প্রশ্ন করা। হতে পারে সেটি আজকের আবহাওয়া নিয়ে, দুপুরে কী দিয়ে ভাত খেয়েছে সে সম্পর্কে, কিংবা সন্ধ্যায় তার কী করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ তাকে এমন সব প্রশ্ন করতে হবে, যেগুলোর উত্তর দিতে তাকে কোনো মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে না, সাধারণভাবেই উত্তরগুলো সে দিতে পারবে। এবং যখন সে উত্তরগুলো দেবে, তখন কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে- সে কি নড়েচড়ে বসছে? সে কি বারবার এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে? আপনার দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থা থেকে চোখ সরিয়ে বা নামিয়ে ফেলছে? এভাবে আপনি তার সাধারণ আলাপচারিতার ঢং বা প্যাটার্ন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এবার করুন স্পর্শকাতর প্রশ্ন
নিরীহ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ঢং সম্পর্কে জানা হয়ে গেলে, এবার ধীরে ধীরে স্পর্শকাতর প্রশ্নের তালিকায় প্রবেশ করুন। তার সাথে পূর্ব-পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে এমন সব প্রশ্ন করুন, যেগুলোর উত্তর দেয়ার ব্যাপারে তার মধ্যে অনীহা বা অস্বস্তি কাজ করতে পারে। এবং এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে তার অঙ্গভঙ্গি, মৌখিক অভিব্যক্তি, চোখের নড়াচড়া, বাক্যগঠন প্রভৃতি দিকে বিশেষ নজর দিন। কারণ, এসব প্রশ্নের উত্তরে সে সত্যি বা মিথ্যা যা-ই বলুক না কেন, তবু যেহেতু তাকে সচেতনভাবে উত্তরটা নির্ধারণ করতে হচ্ছে বা মনে মনে কথাগুলো গুছিয়ে নিতে হচ্ছে, তাই তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন খুব স্বাভাবিকভাবেই পরিলক্ষিত হবে। এবার যাচাই করে নিন, সাধারণ প্রশ্নের উত্তরের সাথে এসব অস্বস্তিকর প্রশ্নের উত্তরে তার মধ্যে ঠিক কী কী পরিবর্তন এসেছে। বলাই বাহুল্য, এসব পরিবর্তন মিথ্যা বলার ক্ষেত্রেও তার মধ্যে দেখা যাবে। যাচাই সম্পন্ন হলো, এবার তার সাথে শুরু করুন মূল আলাপচারিতাটি।

অঙ্গভঙ্গির পরিবর্তন মিথ্যাবাদিতার লক্ষণ
খেয়াল করুন অঙ্গভঙ্গি
মিথ্যা বলার সময় একজন ব্যক্তি অবচেতন মনেই কিছু অঙ্গভঙ্গির পরিবর্তন করে ফেলে। যেমন তাকে গুটিয়ে যেতে দেখা যায়। এর মাধ্যমে সে চায়, তাকে যেন অপেক্ষাকৃত কম লক্ষ্য করা যায়। অনেকে আবার শরীর মোচড়াতে শুরু করে, অস্বস্তিতে হাতের আঙ্গুল লুকানোর চেষ্টা করতে থাকে। অনেককে কাঁধ ঝাঁকাতেও দেখা যায়। সাধারণ আলাপচারিতার একপর্যায়ে কাউকে যদি হঠাৎ করে এগুলো করতে দেখা যায়, তাহলে ধরে নেয়া যেতে পারে সে কথাগুলো বলতে স্বস্তিবোধ করছে না, কিংবা সরাসরি মিথ্যাই বলছে।
নজর রাখুন সূক্ষ্ম মৌখিক অভিব্যক্তিতে
মিথ্যা কথা বলার সময় অবশ্যই একজন মানুষের মৌখিক অভিব্যক্তিতে কিছু পরিবর্তন আসে। কিন্তু যারা মিথ্যা বলায় পটু, তারা মুখ একদম স্বাভাবিক রেখেও মিথ্যা বলে যেতে পারে। তারপরও, কিছু কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন তার অভিব্যক্তিতে আসতে বাধ্য। যেমন: কিছু মানুষের মুখের রঙ মিথ্যা বলার সময় ঈষৎ গোলাপী বর্ণ ধারণ করে। কারো আবার নাকের পাটা খুব ধীরে ধীরে কাঁপতে থাকে। কেউ আবার তাদের ঠোঁট কামড়ে ধরে, ঘেমে যায়, কিংবা চোখের পাতা দ্রুত হারে খুলতে ও বন্ধ করতে থাকে। একজন মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন তার মস্তিষ্কে কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়, এবং মৌখিক অভিব্যক্তির এসব পরিবর্তন মস্তিষ্কের ওই ব্যস্ততারই লক্ষণ।
তাছাড়া মিথ্যা বলার সময় হাসিরও একটি গভীর যোগসাজশ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি হয়তো সাধারণভাবে খুবই হাসিখুশি। কিন্তু মিথ্যা বলতে গিয়ে সে খানিকক্ষণের জন্য হাসতে ভুলে যেতে পারে। আবার এমনও হতে পারে যে, মিথ্যাকে ঢাকার জন্য সে পূর্বাপেক্ষা হাসির পরিমাণ বাড়িয়েও দিতে পারে। সুতরাং, কম হাসা বা বেশি হাসা থেকেও সত্য-মিথ্যা যাচাই করা যেতে পারে।

মৌখিক অভিব্যক্তি সাহায্য করে মিথ্যা চিহ্নিতকরণে
মনোযোগ দিন বাচনভঙ্গি, গলার স্বর ও বাক্যের গঠনশৈলীতে
যেহেতু প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আসার আগে আপনি সাধারণ আলাপ করে এসেছেন, তাই হঠাৎ করে তার কন্ঠস্বরে কোনো পরিবর্তন এলে সেটিও আপনার ধরতে পারার কথা। একজন মানুষ মিথ্যা বলার সময় প্রায়ই তার গলার স্বর ও বাচনভঙ্গিতে পরিবর্তন চলে আসে। কেউ পূর্বাপেক্ষা দ্রুত কথা বলতে থাকে, আবার কেউ ধীরে ধীরে কথা বলতে থাকে। গলার স্বরও হয় আগের থেকে জোরালো হয়, কিংবা দুর্বল হয়।
তাছাড়া মিথ্যা বলার সময় বাক্যের গঠনশৈলীও আগের থেকে অনেক জটিল হয়ে যায়। আগে হয়তো সে তিন-চারটি শব্দে একেকটা বাক্য শেষ করছিল। কিন্তু এখন সে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাক্যাংশ একসাথে করে বেশ বড় ও জটিল একটি বাক্য তৈরি করছে, এবং সেই বাক্যে ‘যদি’, ‘কিন্তু’, ‘তাছাড়া’ প্রভৃতি যুক্ত করছে। এর কারণ হলো, সত্য কথা বলার সময় মানুষের মস্তিষ্কে খুব বেশি চাপ পড়ে না। সে ইতিমধ্যেই যা জানে, সেগুলোই নিজের মতো করে বলতে শুরু করে। কিন্তু মিথ্যা বলার সময় তাকে পুরো বিষয়টিকে নতুন করে তৈরি করতে হয়। অনেকগুলো ব্যাপার একসাথে তার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে, এবং বলার সময় সে চায় একবাক্যেই সবগুলো ব্যাপারে কথা বলে ফেলতে।
আবার এমনও হতে পারে যে, নিজের মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সে বারবার একই কথার পুনরাবৃত্তিও করতে পারে। এর কারণ হলো, সে নিজেই নিশ্চিত নয় যে মিথ্যা বলে আপনাকে সেটি বিশ্বাস করাতে পারছে কি না। তাই নিজে নিশ্চিত হওয়ার জন্যই সে বারবার একই কথা বলতে থাকে, এবং প্রতিবার তার মধ্যে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে বেশি মরিয়া হতে দেখা যায়।
দেখুন সে নিজের ব্যাপারে কথা বলা থামিয়ে দিল কি না
মানুষ যখন সত্য কথা বলে, তখন তার বিবরণী অনেক সাবলীল থাকে, এবং বর্ণিত ঘটনায় যদি সে নিজে উপস্থিত থাকে, তাহলে মূল প্রসঙ্গের বাইরে গিয়েও সে নিজের কিংবা নিজের অনুভূতির ব্যাপারে বিভিন্ন কথা বলতে থাকে। এর কারণ মানুষের আত্মপ্রেম বা আত্মনিমগ্নতা, যে কারণে সে স্বাভাবিকভাবেই সবকিছুর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চায়। কিন্তু যখন সে মিথ্যা কথা বলে, তখন তাকে অনেক সাবধান হয়ে যেতে হয়। মূল ঘটনাটি হয়তো সে নিজের মতো করে পাল্টে নিতে পারে, কিন্তু নিজের অনুভূতির স্মৃতিকে পরিবর্তন করা মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। সেটি করতে গিয়ে বেফাঁস কিছু একটা বলে ফেলার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই মিথ্যাবাদী ব্যক্তি তার বিবরণ থেকে নিজেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেয়। তখন তার কথায় আর আগের মতো বারবার ‘আমি’, ‘আমাকে’, ‘আমার’ প্রভৃতি উত্তম পুরুষ বা আত্মবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় না।
মনোবিদদের আরো একটি বিশ্বাস হলো, মানুষ যখন কোনো ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে, সেটির থেকে নিজেকে দূরে রাখার এক অদ্ভূত প্রবণতা তার মধ্যে কাজ করে। এ কারণেই মিথ্যা বলার সময় সে আর নিজের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করতে চায় না।

খুঁটিনাটি প্রশ্ন বিপাকে ফেলে দিতে পারে মিথ্যাবাদীকে
খুঁটিনাটি প্রশ্ন করুন
মিথ্যা বলার উপর্যুক্ত লক্ষণগুলো কারো মধ্যে দেখা গেলেই যে সে মিথ্যা বলছে, এমন ধরে নেয়াটা ঠিক হবে না। কারণ অন্য কোনো কারণেও একজন ব্যক্তির মধ্যে ঐসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। প্রথমত, সে হয়তো মিথ্যা বলছে না, শুধুই অস্বস্তিবোধ করছে। দ্বিতীয়ত, অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণেও আকস্মিকভাবে তার মধ্যে এসব পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নিশ্চিত হওয়ার সর্বশেষ ও সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো তাকে খুঁটিনাটি বিভিন্ন প্রশ্ন করা।
একজন ব্যক্তি প্রথমে নিজের মতো করে কোনো একটি মনগড়া মিথ্যা কথা বলে দিতেই পারে। কিন্তু তাকে বিপাকে পড়তে হয় ঐ ব্যাপারে আরো খুঁটিনাটি বর্ণনা দিতে গিয়ে। আপনি তাকে ঘটনা সংশ্লিষ্ট একেবারেই অবান্তর কিংবা খুবই অগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করে বসতে পারেন, যেগুলোর উত্তর হয়তো সে আগে থেকে ঠিক করে রাখেনি। আপনার প্রশ্ন শুনে হঠাৎ করে যদি সে উত্তরটি বানাতে যায়, তাহলে সেই নবনির্মিত উত্তরের সাথে তার আগের উত্তরের কিছু পার্থক্য থাকা খুবই স্বাভাবিক। এভাবে বারবার তাকে বিভিন্ন খুঁটিনাটি প্রশ্ন করতে থাকলে, একবার না একবার সে এমন কোনো একটি উত্তর দিয়ে বসবেই, যার সাথে তার আগের বলা কথার কোনো মিল নেই। এবং এভাবেই হাতেনাতে ধরে ফেলা যাবে তার মিথ্যাটি।
সংক্ষেপে দেখুনঅবসর সময় কিভাবে কাটানো যায়?
প্রায়ই অবসর সময়ে বসে আমরা ভাবি,“কী করা যায়?” করার মতো নির্দিষ্ট কিছু খুঁজে না পেয়ে দেখা যায় যে, শুয়ে-বসেই কেটে যায় অবসরটা। কিন্ত এই অবসর সময়টাকে যদি স্মার্টভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে মন্দ হয় না। চলুন দেখা যাক কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন আপনার অবসরটাকে। ১। নতুন নতুন ভাষা শিখুন পড়াশোনা আর চাকরির সুবাদেবিস্তারিত পড়ুন
প্রায়ই অবসর সময়ে বসে আমরা ভাবি,“কী করা যায়?” করার মতো নির্দিষ্ট কিছু খুঁজে না পেয়ে দেখা যায় যে, শুয়ে-বসেই কেটে যায় অবসরটা। কিন্ত এই অবসর সময়টাকে যদি স্মার্টভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে মন্দ হয় না। চলুন দেখা যাক কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন আপনার অবসরটাকে।
১। নতুন নতুন ভাষা শিখুন
পড়াশোনা আর চাকরির সুবাদে আমাদের প্রায় সবারই কম-বেশি ইংরেজি ভাষা জানা আছে। সেই সাথে আপনার যদি আরও কয়েকটি ভাষা জানা থাকে, তাহলে বিভিন্ন সময়ে আপনার কাজে লাগতে পারে আর সেই সাথে নিজের আত্মবিশ্বাসটাও বাড়বে অনেকখানি।
সেক্ষেত্রে যে ভাষাটি শিখতে চাচ্ছেন, সে ভাষার সাবটাইটেলসহ সিনেমা দেখলে ভাষাটি অনেক সহজেই আয়ত্বে আনতে পারবেন। এছাড়া ভাষা শেখার জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ রয়েছে; যেমন- মেম্রাইজ (memrise.com), ডুওলিঙ্গো (duolingo.com) এবং হ্যালোটক (hellotalk.com)।
নিজের পছন্দের অথবা প্রয়োজন হতে পারে এমন নতুন নতুন ভাষা শিখুন
২। ডকুমেন্টারি দেখুন
নতুন কিছু সম্পর্কে সহজেই এবং কম সময়ে জানার জন্য ডকুমেন্টারি দেখার তুলনা নেই। কারণ কোনো কিছু দেখে শেখার বা জানার অভিজ্ঞতাটাই অন্যরকম! ধরুন, আপনি ইস্তানবুল শহর সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে আপনি ডকুমেন্টারি দেখে খুব সহজেই পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন এবং এই দেখে জানতে পারা ও শেখা থেকেই ইস্তানবুল শহর সম্পর্কে আপনার ধারণাটা একেবারে মনে গেঁথে যাবে। আপনার ল্যাপটপ, ট্যাব অথবা মোবাইলে ডাউনলোড করে রাখলে জ্যামে অযথা বসে না থেকে ডকুমেন্টারিগুলো দেখতে পারবেন এবং সময়টাকে কাজে লাগাতে পারবেন।
পছন্দের কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে দেখে নিতে পারেন ডকুমেন্টারি
৩। লিস্টে রাখতে পারেন অডিও বুক
বইপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি জিনিস হলো এই অডিও বুক। একবার ভেবে দেখুন তো, আপনি যে বইটি পছন্দ করেন, তা যদি চোখ বন্ধ করে ঘুমাতে যাবার সময় শুনে নিতে পারেন, তাহলে কেমন হয়? হ্যাঁ, আপনার এই ইচ্ছাটি বাস্তবে আসলেই সম্ভব! আর আপনার এই ইচ্ছাটি পূরণ করবে অডিও বুক! নিশ্চয় জানতে চাচ্ছেন যে, কোথায় পাবেন এই অডিও বুকগুলো? তাহলে দেখে নিন অডিও বুকের কয়েকটি সাইটের লিংক:
অডিও বুক সাথে থাকলে চলাফেরায়ও উপভোগ করতে পারবেন আপনার প্রিয় বইটি
৪। বিভিন্ন ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো শিখুন
বক্তা হিসেবে টেড টকে গবেষক আনিতা কলিন্স বলেছেন, “গান শোনার সময় আপনার মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সাড়া দেয় ও কাজ করা শুরু করে। কিন্তু আপনি যখন কোনো ইন্সট্রুমেন্ট বাজান, তখন আপনার পুরো শরীর মস্তিষ্কের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করে।”
তাই আপনি আপনার পছন্দের যেকোনো ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো শিখে ফেলতে পারেন অবসরে। এতে করে যে আপনার সময়টাই শুধু ভালো কাটবে তা-ই নয়, বরং মস্তিষ্কও কাজ করবে ভিন্নভাবে! নির্দিষ্ট কোনো ইন্সট্রুমেন্ট নয়, শিখে নিতে পারেন যেকোনো ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট। কোথাও কোর্স না করেও বাসায় বসে ইউটিউবে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখেও শিখে নিতে পারেন আপনার প্রিয় ইন্সট্রুমেন্ট বাজানোর পদ্ধতি!
ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে বা কোর্স করে শিখে ফেলুন যেকোনো ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো
৫। মেডিটেশন করুন
মেডিটেশন বা ধ্যান করার শুধু একটি, দুটি নয় বরং অনেক সুবিধা রয়েছে। মেডিটেশন আপনার মনোযোগ বাড়াবে, উদ্বেগ কমাবে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করবে। আপনি আরও সচেতন হবেন এবং ভেতর থেকে আপনি একটি অন্যরকম অনুভূতি পাবেন। কাজের চাপে অনেক সময় চিন্তা ভাবনাগুলো এলোমেলো হয়ে যায় যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মেডিটেশন আপনার জন্য ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। আপনার ঘরের খোলা জায়গায় যেখানে আলো বাতাস আছে সেখানে, কোনো একটি রুমের কর্নারে এবং যেখানে লোকের চলাফেরা কম সেই জায়গাটি মেডিটেশনের জন্য বেছে নিন। মেডিটেশনের জন্য মনোযোগ ধরে রাখা খুব জরুরী। তাই আপনার ঘরের শান্ত জায়গাটিই বেছে নিন এর জন্য!
ঘরে বসেই ইউটিউবে অথবা বিভিন্ন সাইট; যেমন- meditationoasis.com, openyourheart.ws, onlinemeditation.org/ থেকে শিখতে পারেন এবং এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন।
মেডিটেশন আপনার ভেতর থেকে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়াবে
৬। পার্সোনাল ডায়েরি লিখুন
স্কুল-কলেজে থাকতে অনেকেরই ডায়েরি লেখার অভ্যাসটা থাকে। কিন্তু আস্তে আস্তে কাজের চাপে আর ব্যস্ততায় হারিয়ে যায় এই শখটি। ডায়েরি লেখার বিষয়টি আপনাকে অনেকভাবে উপকৃত করবে। নিয়মিত ডায়েরি লিখলে আপনি সেখানে ‘টু ডু লিস্ট’ লিখতে পারবেন যা পরবর্তীতে আপনার কাজের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বিশেষ মুহূর্তগুলো সম্পর্কে লিখে তার কিছু ছবিও সাথে রাখতে পারবেন, আপনার সাফল্য ও ব্যর্থতার কথা লিখে রাখবেন যা পরবর্তীতে আপনার সেলফ্ ডেভেলপমেন্ট হিসেবে কাজ করবে। আর লেখালেখির অভ্যাসটা গড়ে উঠলে আপনার লেখার চর্চা ঝালাই হবে, লেখা ও বানানের ভুল সংশোধন করতে পারবেন এবং রাইটিং স্কিলও বাড়বে। এছাড়া পার্সোনাল ডায়েরি লেখার অভ্যাসটি আপনার থেরাপি হিসেবে কাজ করবে এবং আপনার মনও হালকা হবে।
নিয়মিত পার্সোনাল ডায়েরি লেখা আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে
৭। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন
মোটা অংকের টাকা খরচ করে জিমে না যেয়ে হাঁটার অভ্যাস করুন। এতে করে আপনি শুধু ফিটনেসই পাবেন না, বরং এর চেয়েও বেশি কিছু পাবেন। হাঁটলে আপনার মন-মেজাজ ভালো থাকবে, আপনি সৃজনশীল হবেন, ব্ল্যাড সার্কুলেশন বাড়বে, শরীর সুস্থ থাকবে এবং যৌবনটাকেও ধরে রাখতে পারবেন। এছাড়া হাঁটলে আপনার মস্তিষ্ক সচল থাকে এবং ঘুম না হওয়ার সমস্যাটাও আর থাকে না। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন বাসার আশেপাশে কোনো পার্ক থাকলে সেখানে অথবা যেখানে আপনার ভালো লাগে সেখানে হাঁটার চেষ্টা করুন।
প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করলে আপনার শরীর ও মন মানসিকতা ভালো হবে
৮। কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসুন
কম-বেশি আমরা সবাই জানি যে, ঘোরাঘুরি করলে মনটা শুধু ফ্রেশই হয় না, বরং জ্ঞানও বাড়ে। কিন্তু অলসতা আমাদের এই সুন্দর অভ্যাসটি থেকে দূরে রাখে অনেক সময়েই। সম্ভব হলেই বেরিয়ে পড়ুন আর ঘুরে আসুন আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বা ঐতিহাসিক জায়গা থেকে। বাইরে কোথাও ঘুরে আসলে আপনার একঘেয়েমি কাটবে এবং জ্ঞানও বাড়বে
৯। ক্রাফটিং শিখুন এবং করুন
ক্রাফটিং শিখে আপনি নিজেই নিজের পছন্দের ডিজাইন অনুযায়ী পেন্সিল ব্যাগ, পেন স্ট্যান্ড, ফুলদানি সহ আরও অনেক কিছু বানাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ইউটিউবে বিভিন্ন চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে পারেন যেখানে নিয়মিত ক্রাফটিং-এর টিউটোরিয়াল আপলোড করা হয় অথবা যে বিষয়ে শিখতে চাচ্ছেন তা গুগলে সার্চ করলে হাতে-কলমে শেখার মতো অনেক লিংক পাবেন। নিজের পছন্দমতো জিনিস তৈরি করে ব্যবহার করার মজাই আলাদা
প্রিয় কয়েকটি জায়গার লিস্ট তৈরি করে রাখতে পারেন
১০। বাগান করুন
আপনার বাসার ছাদে অথবা ঘরের ভেতর ছোট ছোট টবে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগাতে পারেন। জানালার পাটাতনে, ড্রেসিং টেবিলে অথবা ঘরের বিভিন্ন কর্নারে ছোট ছোট টবে পাতাবাহার, বনসাই, মানিপ্ল্যান্ট ছাড়াও বিভিন্ন রকমের গাছ রাখতে পারেন। চারপাশে গাছপালা থাকলে আপনার মন যে শুধু প্রফুল্ল হবে তা-ই নয়, বরং এতে করে আপনি পরিবেশের অনেকটা কাছাকাছিও চলে যাবেন।
বাসায় বাগান করলে আপনার মনটাও ভালো লাগবে আর পরিবেশটাও সুন্দর থাকবে
এই সবকিছুর বাইরেও আপনার পছন্দসই যেকোনো কাজ আপনি করতে পারেন আপনার অবসরে। তাহলে আজ থেকে অবসর সময়টা আর অযথা নষ্ট না করে স্মার্টভাবে কাজে লাগানো শুরু করে দিন। বেছে নিন এবং চর্চা করুন আপনার পছন্দের বিষয়টি, হয়ে উঠুন আরো স্মার্ট!
সংক্ষেপে দেখুনঅবরোধের সময় আমরা কি কি করতে পারি?
বাংলাদেশে এখন চলছে হরতাল/অবরোধ সিজন। সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই আমরা ছোঁয়া পাচ্ছি তাদের। তবে, শুধু ছোঁয়া পেলেই হবে না। আমাদের নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে। আসুন জেনে নেই কী এই দায়িত্ব কর্তব্যগুলো। ১# বাসা থেকে বের হওয়ার আগে দুই লিটার পানির বোতল নিয়ে বের হবেন। এক লিটার পানি আপনি নিজে খাবেন বাকি একবিস্তারিত পড়ুন
১#
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে দুই লিটার পানির বোতল নিয়ে বের হবেন। এক লিটার পানি আপনি নিজে খাবেন বাকি এক লিটার আগুন লাগা বাসকে খাওয়াবেন। চাইলে আপনি এক লিটার না খেয়ে সেটাও বাসকে খাওয়াতে পারেন। কারণ আপনার থেকে তার পানির দরকার বেশি।
২#
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই ফোনের সবধরনের লক আনলক করে বের হবেন। রাস্তায় আপনাকে পুলিশ আটকাবে, আপনি লক খুলবেন, তারপর মোবাইল দেখবে। এতে অনেক সময় লস হবে। লক খোলা থাকলে ওই একই সময়ে ৩টা মোবাইল চেক করতে পারবে।
৩#
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন, কার জন্য যাচ্ছেন, আপনার পরিচয় কী, এগুলো রেকর্ড করে নিয়ে নেবেন। জায়গায় জায়গায় বলার থেকে রেকর্ড চালিয়ে ফেলা উত্তম।
৪#
অবরোধ ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে কিনা জানার জন্য একটু পর পর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঢুঁ মেরে আসবেন। তারপর এসে ফেসবুকে পোস্ট করে জানাবেন, ‘জিগাতলায় অবরোধ নেই, আপনার এলাকার কী খবর?’
৫#
আগেই ৪টা/৫টা ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দৌড়ে আসবেন। কারণ বাইরে বের হলে কখন কোন দলের ধাওয়া পালটা ধাওয়া শুরু হয়ে যায় বলা যায় না।
কাপলদের জন্য কিছু মজার শীতকালীন টিপস কি হতে পারে?
এসে গেছে শীতকাল। সিঙ্গেলদের জন্য নতুন কোনো সমস্যার উদ্রেক না করলেও কাপলদের জন্য নিত্য নতুন সমস্যা নিয়ে আসার জন্য বিখ্যাত এই ঋতু। ফ্যান চালাতে না পারার কারণে ফোনে কথা বলা থেকে শুরু করে একসাথে ঘুমানো সব ক্ষেত্রেই আসে প্রতিকূলতা। তাই আজকের আয়োজনে আমাদের কাপল পাঠকদের জন্য থাকছে কিছু শীতকালীন টিপস।বিস্তারিত পড়ুন
এসে গেছে শীতকাল। সিঙ্গেলদের জন্য নতুন কোনো সমস্যার উদ্রেক না করলেও কাপলদের জন্য নিত্য নতুন সমস্যা নিয়ে আসার জন্য বিখ্যাত এই ঋতু। ফ্যান চালাতে না পারার কারণে ফোনে কথা বলা থেকে শুরু করে একসাথে ঘুমানো সব ক্ষেত্রেই আসে প্রতিকূলতা। তাই আজকের আয়োজনে আমাদের কাপল পাঠকদের জন্য থাকছে কিছু শীতকালীন টিপস।
১) প্রথম টিপসটি সদ্য সম্পর্কে যাওয়া প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য, যারা প্রতি রাত ফুসুর ফুসুর করে কথা বলা ছাড়া থাকতেই পারেন না। প্রেমিকার বাসায় আবার জানাজানি হলেও প্যারা । তাহলে শীতকালে কী করবেন? কাজটি বেশ সহজ। বাতাস দিবে না, কিন্তু শুধু শব্দ হবে এরকম একটা নষ্ট ফ্যান কিনুন। চালু করে রাখুন কথা বলার সময়। কথা শেষ হলে বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ুন।
২) যদি নষ্ট ফ্যান কেনার টাকা না থাকে, তাহলে আপনার জন্য থাকছে আরও সহজ পদ্ধতি। লাউডস্পীকারে গান ছেড়ে আনন্দ করার দিন শেষ। এ মেথড অত্যন্ত পুরোনো। বরং আপনি যেটা করতে পারেন তা হলো, ইউটিউব থেকে ফ্যান চলার শব্দ প্লে করে লাউডস্পিকারে দিয়ে দিন।
৩) শীতকালে অনেক দম্পতির বিছানার শব্দ গুরুজন কিংবা তাদের নিজেদের কাছেও বিব্রতকর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা শীতকাল আসি আসি করা মাত্রই বিছানার নিচে স্প্রিং সেট করে নিতে পারেন। এতে করে বিছানার উপর কোনো এক্সট্রা চাপও পড়বে না, শব্দও হবে না। প্রয়োজনে ব্যাপারটি আরও প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করতে চাইলে ‘ম্যালেনা’ সিনেমাটি দেখুন।
৪) শীতকাল আসার আগেই ব্রেকাপ করে ফেলুন। অথবা সিজনাল রিলেশনশীপে চলে যেতে পারেন। অর্থাৎ গরমকাল আসলে আপনারা একসাথে থাকবেন শীতকাল আসলে আলাদা হয়ে যাবেন। আবার গরমকাল আসলে একসাথে থাকবেন। এতে ফ্যান নিয়ে বাড়তি চিন্তা যেমন করতে হবে না, শীতকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করার প্যারাও নাই।
৫) সবসময় যে খাটেই করা উত্তম এটা কেউ কোথাও কখনও বলে যাননি। তাই আপনি রুমে থাকা চেয়ার, ফ্লোরের ব্যবহার শিখুন। আওয়াজও নাই কাজও হলো।
৬) আপনি আপনার জীবনের সময়চক্র ঘুরিয়ে ফেলতে পারেন। রাতের কাজ দিনে করা শুরু করতে পারেন। দিনেরবেলা এম্নিতেও নানান আওয়াজ থাকে, এত আওয়াজ পেছনে ফেলে কেউ আপনার আওয়াজ শুনতে আসবেই না।
৭) শীতের দিন ফিসফিস করে কথা বললে সবাই সন্দেহ করে। কিন্তু কাশলে কেউ সন্দেহ করে না। তাই আপনারা সাংকেতিক ভাষা হিসেবে কাশির ব্যবহার করুন। যেমন, একবার কাশলে কী করো, দুইবার কাশলে আই লাভ ইউ, তিনবার কাশলে মিস ইউ।
৮) প্রেম, বিয়ের মতো এতোসব খারাপ কাজ করারই দরকার নাই। সব ভুলে আলোর পথে চলে আসুন।
সংক্ষেপে দেখুনকথায় কথায় হাসলে কী কী উপকার মেলে?
enefits Of Smiling: হাসির রয়েছে একাধিক চমকে দেওয়া উপকার। নিয়মিত হাসলে স্ট্রেস কমে, সুগার-প্রেশার থাকে নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও হাসির কী কী গুণ রয়েছে? হাসলেই কেল্লাফতে মুন্না ভাই এমবিবিএস ছবিতে মুন্না রূপী সঞ্জয় দত্তের চাপে পড়ে খিল খিল করে হেসে উঠতেন ডা: জে সি আস্থানা বা বমন ইরানি। এবার আপনার মনে প্রশ্নবিস্তারিত পড়ুন
enefits Of Smiling: হাসির রয়েছে একাধিক চমকে দেওয়া উপকার। নিয়মিত হাসলে স্ট্রেস কমে, সুগার-প্রেশার থাকে নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও হাসির কী কী গুণ রয়েছে?
হাসলেই কেল্লাফতে
মুন্না ভাই এমবিবিএস ছবিতে মুন্না রূপী সঞ্জয় দত্তের চাপে পড়ে খিল খিল করে হেসে উঠতেন ডা: জে সি আস্থানা বা বমন ইরানি। এবার আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে, হঠাৎ চাপে পড়ে এমন খিলখিল করে হেসে উঠতেন কেন মানুষটি?
কমবে স্ট্রেস
আসলে উচ্চ শিক্ষিত ডা: জে সি আস্থানা খুব ভালো করেই জানতেন যে চাপের মুহূর্তে হেসে উঠলে মস্তিষ্কে কিছু খুশির হরমোন নির্গত হয়। যার ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই চাপ কাটিয়ে আবার মানসিক স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই তিনি মুন্নার চাপে দন্ত বিকশিত করে হেসে উঠতেন।
রয়েছে আরও উপকার
তবে শুধু চাপ কাটানো নয়, বরং শরীর ও স্বাস্থ্যের উপর হাসির একাধিক উপকার রয়েছে। তাই বিশ্ব হাসি দিবসের দিন এই প্রতিবেদন থেকে হাসির একাধিক উপকার সম্পর্কে জেনে নিন।
বাড়বে আয়ু
আপনার কি শতায়ু হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে? তাহলে আজ থেকেই হাসিখুশি জীবন কাটানোর চেষ্টা করুন। কারণ একাধিক গবেষণায় এই বিষয়টা একদম প্রমাণিত যে হাসিখুশি জীবন কাটাতে পারলে দীর্ঘায়ু লাভ করা সম্ভব।
হার্টের হাল ফিরবে
আজকাল হার্টের রোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প বয়সেই প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। তাই সুস্থ থাকতে হৃৎপিণ্ডের যত্ন নিতেই হবে। আর এই কাজেও আপনাকে সাহায্য করতে পারে হাসি। কারণ গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, নিয়মিত হাসলে শরীরে এইচডিএল বা উপকারী কোলেস্টরলের মাত্রা বাড়ে। ফলে সুস্থ থাকে হার্ট।
হাসির সময় মস্তিষ্কে ডোপিমিন, এন্ডোরফিন এবং সেরোটোনিনের মতো ফিল গুড নিউরোট্রান্সমিটার নির্গত হয়। আর এইসব নিউরোট্রান্সমিটার কিন্তু ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধহস্ত। তাই হাই প্রেশারের রোগীরা হাসিখুশি জীবন কাটালেই উপকার পাবেন।
চাঙ্গা হবে ইমিউনিটি
ইমিউনিটি চাঙ্গা থাকলে একাধিক রোগের ফাঁদ এড়িয়ে চলা যায়। তাই যেন তেন প্রকারেণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেই হবে। আর এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে হাসিখুশি জীবনযাত্রা। কারণ হাসির সময় মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে যা কিনা ইমিউনিটিকে চাঙ্গা করার কাজে সিদ্ধহস্ত।
সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে
ডায়াবিটিসের সঙ্গে স্ট্রেসের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তাই হাই ব্লাড সুগারের রোগীদের দুশ্চিন্তার ফাঁদ এড়িয়ে চলতেই হবে। আর এই কাজটি করতে চাইলে দিনে কিছুটা সময় হেসে কাটান। তাহলেই উপকার মিলবে। আপনার ব্লাড সুগার আর বিপদসীমা পেরবে না।
মুড হবে চাঙ্গা
কোনও কারণে খুব চাপে রয়েছেন? কিছুই ভালো লাগছে না? এই পরিস্থিতিতে খুব কাছের মানুষের সঙ্গে দু-দণ্ড হেসে কথা বলুন। হলফ করে বলতে পারি, আপনার মুডের বদল হবেই।
মানসিক রোগ (উৎকণ্ঠা) কেন হয়? কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিন
ৎকণ্ঠিত বা উৎকণ্ঠা হবার মানুষের অনেক যথার্থ কারন থাকে। যেমন আপনার পরিবারের কেউ হঠাৎ কিছু না বলে মোবাইল ফোন বন্ধ করে কোন কারন ছাড়াই যদি বাসায় না ফেরে তাহলে আপনি উৎকন্ঠিত হবেন। অথবা আগামিকাল আপনার একটি জটিল অপারেশন অথবা কোন ধরণের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক হুমকি, বিপদ বা অনাকাঙ্খিত ঘটনার আভাস পেলে আপনবিস্তারিত পড়ুন
ৎকণ্ঠিত বা উৎকণ্ঠা হবার মানুষের অনেক যথার্থ কারন থাকে। যেমন আপনার পরিবারের কেউ হঠাৎ কিছু না বলে মোবাইল ফোন বন্ধ করে কোন কারন ছাড়াই যদি বাসায় না ফেরে তাহলে আপনি উৎকন্ঠিত হবেন।
অথবা আগামিকাল আপনার একটি জটিল অপারেশন অথবা কোন ধরণের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক হুমকি, বিপদ বা অনাকাঙ্খিত ঘটনার আভাস পেলে আপনি সতর্কিত হবেন, সেটি মোকাবেলা করার জন্য উৎকণ্ঠিত হবেন এটাই স্বাভাবিক।
প্রকৃত কারণে উৎকন্ঠিত হওয়াটা কোন অস্বাভাবিকতা নয় বা এটি কোন রোগও নয়। উৎকন্ঠা (Anxiety) বা এংজাইটি দুই রকম ভাবে হতে পারে।
প্রথমত- উৎকন্ঠিত হবার মতো যথার্থ কোন কারন কোন আসন্ন বিপদ বা ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ মনগড়া কারনে অযথা ভীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন।
যেমন স্কুল থেকে আপনার সন্তানটি হারিয়ে যাবে বা কিডনাপ হবে ভেবে স্কুলের গেটের কাছে বসে বসে ঘামেন বা স্কুলের ছাঁদ থেকে পড়ে যাবে ভেবে আপনার সন্তানকে স্কুলেই পাঠানো বন্ধ করে দেন।
দ্বিতীয়ত- ভয় পাওয়ার কারন রয়েছে, কারন অপেক্ষা ও উৎকন্ঠার পরিমান অস্বাভাবিক বেশি। যেমন- আপনার পাশের ফ্লাটে অল্প বয়সি একজনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে শুনে ভাবতে থাকেন আমারও তো বুকে ব্যথা হয়, আমারও হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে।
অথবা কোন বাড়ীতে চুরি হয়েছে শুনে চোরের ভায়ে চারটে কলাপসিবল গেটে আটটি তালা ঝুলিয়েও রাতে ঘুম আসছে না। দিনের পর দিন এভাবে চলতে চলতে আপনি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন।
উৎকণ্ঠা বা এংজাইটিংর প্রকারভেদ:
১. জেনারেলাইজড এংজাইটি ডিসর্ডার:
যেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় সবসময় সবকিছু নিয়ে উৎকন্ঠিত হন।
২. ফোবিক এংজাইটি ডিসর্ডার:
কোন বিশেষ বস্তু, প্রানী, পরিবেশ, পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে উৎকন্ঠায় আক্রান্ত হওয়া। যেমন অনেক লোকের ভীড়ে গেলে উৎকন্ঠিত হওয়া, তাই ভীড়ের জায়গা এড়িয়ে চলেন তারা। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি ঐ বস্তু বা পরিস্থিতির সম্মুখীন না হলে উৎকন্ঠিত হন না।
৩. প্যানিক ডিসর্ডার:
কোন বস্তু বা পরিস্থিতির সম্মুখীন না হয়েও মাঝে মাঝে নিজের কল্পনা প্রসুত কারনে উৎকন্ঠিত হওয়া। যেমন রাতে শুয়ে আছে, হঠাৎ আজ রাতে যদি আমার হার্ট অ্যাটাক হয় এটা ভেবেই নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দিলেন। এক্ষেত্রে উৎকন্ঠিত হবার মত নূন্যতম কোন বস্ত্ত বা ঘটনাই উপস্থিত নেই।
উৎকণ্ঠা বা এংজাইটির লক্ষণসমুহ:
১. ভীতি গ্রস্থ হওয়া;
২. খিটখিটে মেজাজ;
৩. সামান্য শব্দে উত্তেজিত হওয়া;
৪. অস্থিরতা;
৫. মনোযোগের অভাব;
৬. ভুল পথে চিন্তা করা;
৭. মুখ-জিহবা শুকিয়ে যাওয়া ও পানি পিপাসা পাওয়া;
৮. ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া;
৯. পেটে অস্বস্তি বোধ করা;
১০. পেট ফাঁপা ভাব;
১২. বারবার বাথরুমে যাওয়া;
১৩. বুকে চাপ অনুভব করানিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া;
১৪. বুক ধরফর করা;
১৫. মেয়েদের পিরিয়ডের সমস্যা হওয়া;
১৬. হাত পা এর কাপুঁনি হওয়া – বিশেষত হাতের আঙ্গুল কাঁপা;
১৭. মাথা ব্যথা, গা ব্যথা, হাত পা জ্বালা করা;
১৮. ইনসমনিয়া (ঘুম কম হওয়া), হঠাৎ ঘুমের মধ্যে ভয় পেয়ে জেগে উঠা, দুঃশ্চিন্তা করা;
১৯. দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানো;
২০. বসে বসে পা নাড়ানো;
২১. ক্ষিধে কমে যাওয়া;
২২. বিষন্নতা;
২৩. অবসেশন;
বিশেষ কিছু নিয়ে ক্রমাগত ও বারবার চিন্তা করা (রাতে শোবার পর কয়েকবার উঠে দেখা যে, দরজা বন্ধ করা হয়েছে কি না);
উৎকন্ঠায় আক্রান্ত হওয়ার কারন:
১. বিশেষ বস্তু, প্রাণী, ভীড়, সামাজিকতা ইত্যাদি এড়িয়ে চলা;
২. ঘাম হওয়া, বমি বমি ভাব হওয়া;
৩. হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসা;
৪. মৃত্যুভয় পাওয়া ইত্যাদি;
সবগুলো লক্ষণ যে একই ব্যক্তির মধ্যে একসাথে পাওয়া যাবে তা কিন্তু নয়, বরং উৎকন্ঠার প্রকারভেদে কিছু লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন সময় দেখা যায়।
মানসিক অসুস্থতার মধ্যে উৎকন্ঠা বা Anxiety নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তবে কেবলমাত্র ওষুধ প্রয়োগ করে এ রোগের লক্ষণগুলো কমিয়ে রাখা যায় কিন্তু পুরোপুরি নিরাময় করবার জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়া অনুসরন করা যেতে পারে। যেমন-
১. সাইকোথেরাপি বা মনোচিকিৎসা – মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে;
২. আচরণ পরবর্তন করার প্রক্রিয়া;
৩. শিথিলায়ন প্রক্রিয়া;
৪. মেডিটেশন;
৫. আত্মসম্মোহন;
৬. যোগব্যায়াম করতে হবে কমপক্ষে বিশ মিনিট করে প্রতিদিন;
৭. প্রয়োজন মতো ঘুমানো;
৮. খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন – সহজপাচ্য খবার ও প্রচুর পানি পান করা;
৯. ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় পরিহার করা ও অতিরিক্ত মদ্যপান কমানো;
১১. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এন্টি-এংজাইটি ওষুধ সেবন;
১২. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কারনে অকারনে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা;
মনে রাখতে হবে একজন উৎকন্ঠিত রোগীর জন্য উপসর্গ, রোগীর বয়স ইত্যাদি ভেদে উপরের প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে বাছাই করে চিকিৎসা পদ্ধতি প্রদান করা হয়।
এংজাইটি থেকে সৃষ্টি হতে পারে বিষন্নতার মতো কঠিন মানসিক ব্যাধি, এছাড়া এংজাইটি আমাদের যাপিত জীবনের গুণগত মান কমিয়ে দেয় বহুলাংশে। তাই উৎকন্ঠা নিয়ে উৎকন্ঠিত হবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
তাই দেরি না করে উৎকন্ঠা কমানোর জন্য মেনে চলুন কিছু নিয়ম কানুন, মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম চর্চা করতে পারেন আর প্রয়োজনে সহায়তা নিন চিকিৎসকের।
সংক্ষেপে দেখুনফেসবুক এর প্রতি আপনি কি আসক্ত? বোঝার কিছু উপায় জেনে নিন
ফেসবুক এর প্রতি আসক্তি বর্তমানে অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এই আসক্তি মানুষকে কখনো ভালোর দিকে নিয়ে যেতে পারে না। কেবলমাত্র নিকট মানুষ কিংবা সামাজিকভাবে মানুষটিকে দূরে নিয়ে যায়। আসক্তিকে ঠিক নেশা বললেও ভুল হবে না। কেননা, নেশা আমাদের সবারই খুব পরিচিত একটা শব্দ। আমরা হরহামেশাই শুনি, অমুক ভাইয়ের খেলা দেখারবিস্তারিত পড়ুন
ফেসবুক এর প্রতি আসক্তি বর্তমানে অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এই আসক্তি মানুষকে কখনো ভালোর দিকে নিয়ে যেতে পারে না।
কেবলমাত্র নিকট মানুষ কিংবা সামাজিকভাবে মানুষটিকে দূরে নিয়ে যায়। আসক্তিকে ঠিক নেশা বললেও ভুল হবে না।
কেননা, নেশা আমাদের সবারই খুব পরিচিত একটা শব্দ। আমরা হরহামেশাই শুনি, অমুক ভাইয়ের খেলা দেখার খুব নেশা। কিংবা তমুক আপুর হিন্দী সিরিয়াল দেখার নেশা। আবার অমুকের মদের নেশা আছে, তমুকের ড্রাগস এর নেশা, এসবও আমরা শুনি।
এই নেশার জগতে সর্বশেষ জনপ্রিয় এবং “ডিজিটাল” সংযোজন হলো “ফেসবুক” এর নেশা। যত দিন যাচ্ছে, এই নেশা ততই ব্যাপক আকারে দেখা দিচ্ছে।
এমনকি চিকিৎসকেরাও একে “Facebook Addiction Disorder” নামে একটি রোগে সংজ্ঞায়িত করেছেন। এ রোগের চিকিৎসা মূলত মানসিকভাবেই করতে হবে।
এই নেশায় অথবা রোগে আপনি ভয়ংকরভাবে আসক্ত কিনা, কিভাবে বুঝবেন? আজ মূলত এই ব্যাপারেই আলোচনা করবো। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।
১. সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনার সর্বপ্রথম কাজ হলো ফেসবুকে ঢুকে চেক করা। এমনকি খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়েও আগে ফেসবুকে ঢোকা। আবার ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও আপনার সর্বশেষ কাজ যদি হয় ফেসবুক চেক করা।
২. ফেসবুক ছাড়া আপনার কাছে বাকি সব অর্থহীন মনে হয়। আপনি কোন কিছুতে আনন্দ পান না, মজা পান না। মনে হয় সব মজা যেন ফেইসবুকেই।
দিনের অল্প কিছু সময়ও যদি আপনি ফেসবুকে না ঢুকতে পারেন, আপনার বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন- ঘুম না আসা, অস্থির লাগা, ঘাম হওয়া, অল্পতেই রেগে যাওয়া ইত্যাদি।
৩. ফেসবুকে সারাদিন আপনার বসে থাকতে ভালো লাগে। একারণে আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, অফিসের মিটিং এ আপনি অংশ নেন না, পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানে আপনি যান না। অথচ এসবে আপনার কোন বিকার নেই। আপনি নির্বিকার।
৪. কয়েকদিনের জন্য হলেও যদি আপনাকে ফেসবুক থেকে দূরে থাকার জন্য জোর করা হয়, হতে পারে আপনার পরিবার থেকে, কিংবা অফিসের পিসিতে ফেসবুক ব্যবহার করা না যায়, আপনার ভিতরে চরিত্রগত কিছু অস্বাভাবিকতা আসে।
আপনি কোন কাজেই আগ্রহ পান না। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এমনকি ফেসবুক ব্যবহার করার জন্য যদি আপনার নিজের পিসিও না পান, আপনি দরকার হলে আপনার বন্ধুর এমনকি অপরিচিত লোকেরও মোবাইল অথবা পিসিতে ফেসবুকে ঢোকার চেষ্টা করেন। ফেসবুকের আপডেট আপনার চাই ই চাই। চিকিৎসকেরা একে সনাক্ত করেছেন “Facebook Withdrawal Syndrome” নামে।
৫. ফেসবুকে আপনার কোন নোটিফিকেশন নেই। ইনবক্সে কোন মেসেজ নেই। আপনি চ্যাটও করছেন না। তারপরও আপনি ঘন্টার পর ঘণ্টা ফেসবুকের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই থাকেন।
৬. বাস্তব জীবনে আপনি মোটেও সুখী নন। কিন্তু ফেসবুকে আপনি সবাইকে দেখাতে চান, আপনি অনেক মজায় আছেন, আনন্দে আছেন। একটা ফ্যান্টাসির জগৎ সৃষ্টি করতে চান আপনি।
৭. ফেসবুকে সারাদিন, সারারাত থাকার কারণে আপনার রাতে ঘুমও ঠিকমত হয় না। শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অথচ আপনি নির্বিকার।
৮. ফেসবুকে ঢুকলেই আপনি নস্টালজিয়ায় ভোগেন অথবা ভুগতে চান। পুরোন প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা বন্ধুদের ছবি দেখতে চান, তাদের প্রোফাইলে ঢুঁ মারতে চান।
আগে আপনার জীবন কেমন ছিল, এখন কেমন আছেন এসব ভেবে উদাস হয়ে যান। আর সবচেয়ে বড় কথা, এই উদাস থাকতে বা নস্টালজিয়ায় ভুগতেই আপনার ভালো লাগে।
৯. ফেসবুকে আপনার হাজার হাজার বন্ধু থাকার পরও যদি আপনি নিঃসঙ্গ বোধ করেন। আপনি ভাবেন, আমার কোন ভালো বন্ধু নেই।
পরিশেষে বলা যায়, ফেসবুকের সদব্যবহার করার মাধ্যমে অনেকেই হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছেন। তারা কিন্তু আসক্ত নয়। তারা কাজের সময় কাজ করে ফেসবুক থেকে বেরিয়ে পড়ছেন।
আপনি যে ফেসবুক ব্যবহার করবেন না তা নয়। বর্তমানে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের খবর সর্বপ্রথম ফেসবুকেই পাওয়া যায়।
তাই ফেসবুক আপনি অবশ্যই ব্যবহার করবেন তবে সেটা লিমিটেড। যখন আনলিমিটেড করবেন তখনই সেটা আসক্তি হিসেবে প্রকাশ পাবে।
অনেক ছেলেমেয়েই এভাবে পড়াশোনা বাদ দিয়ে ফেসবুকে আসক্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নিজের দিকে তাকান, নিজেকে প্রশ্ন করুন আর উপরে দেয়া তথ্যগুলোর সাথে নিজেকে মিলিয়ে নিন। আপনি ফেসবুকের প্রতি আসক্ত কিনা বুঝতে পারবেন।
সংক্ষেপে দেখুনকারও ফাঁসি হলে ফাঁসির আগে জল্লাদ আসামীর কানে ফিস ফিস করে কি বলে?
জানা গেছে, ফাঁসির দিন অপরাধীকে খুব ভোরে ঘুম থেকে তোলা হয়। এরপর তাকে পছন্দের খাবার খাওয়ানো হয়। তারপর তাকে গোসল করানো হয়। এরপর ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাঁসি কার্যকরের সময় আসামির সবচেয়ে কাছে থাকে জল্লাদ। জল্লাদ প্রথমে আসামির কানের কাছে গিয়ে মুসলিম হলে সালাম দেয় আর হিন্দু হলে রাম রাম বলে। এরপর জল্লাবিস্তারিত পড়ুন
জানা গেছে, ফাঁসির দিন অপরাধীকে খুব ভোরে ঘুম থেকে তোলা হয়। এরপর তাকে পছন্দের খাবার খাওয়ানো হয়। তারপর তাকে গোসল করানো হয়।
এরপর ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাঁসি কার্যকরের সময় আসামির সবচেয়ে কাছে থাকে জল্লাদ। জল্লাদ প্রথমে আসামির কানের কাছে গিয়ে মুসলিম হলে সালাম দেয় আর হিন্দু হলে রাম রাম বলে।
এরপর জল্লাদ আসামির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। আসামিকে কর্তব্যের কাছে তিনি বাঁধা বলেও জানিয়ে দেন। এরপর আসামির ফাঁসি কার্যকর করেন।
সংক্ষেপে দেখুনমহিলাদের জন্য সেরা পরামর্শটি কী হতে পারে?
ক্যামস্ক্যাম থেকে সাবধান থাকুন। চেঞ্জিং রুমে ঢোকার আগে কোথাও কোনও লুকানো ক্যামেরা আছে কিনা তা একবার পরীক্ষা করে দেখে নিন। আপনার কয়েকটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তই আপনার গোপনীয়তা সুরক্ষিত করতে পারে। আপনারা হামেশাই শুনে থাকবেন কী রকম করে কিছু ঘৃণ্য মানসিকতার লোকেরা উঁকি ঝুঁকি মেরে মেয়েদের গোপনীয়তা নষ্ট কবিস্তারিত পড়ুন
ক্যামস্ক্যাম থেকে সাবধান থাকুন। চেঞ্জিং রুমে ঢোকার আগে কোথাও কোনও লুকানো ক্যামেরা আছে কিনা তা একবার পরীক্ষা করে দেখে নিন।
আপনার কয়েকটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তই আপনার গোপনীয়তা সুরক্ষিত করতে পারে। আপনারা হামেশাই শুনে থাকবেন কী রকম করে কিছু ঘৃণ্য মানসিকতার লোকেরা উঁকি ঝুঁকি মেরে মেয়েদের গোপনীয়তা নষ্ট করে। তাই এই ব্যাপারটি সবসময় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করুন।
সংক্ষেপে দেখুনবাড়ছে একাকীত্ব নাকি মানসিক অবসাদ?
মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা শুধু তার শরীরের সুস্থতায় নয়। মনের সুস্থতাও জরুরি। কারো জীবনে আনন্দের বহিঃপ্রকাশের সঙ্গে তার মনের সম্পর্ক রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক জানান, বাংলাদেশের মানসিক চিকিৎসকরা বলছেন, যদিও আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু এখনো দেশবিস্তারিত পড়ুন
বাড়ছে একাকীত্ব নাকি মানসিক অবসাদ
সারাবিশ্বেই হৃদরোগের ঝুঁকি মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়ছে। হৃদরোগের মধ্যে কিশোররাও বাদ নেই। কিশোরদের এই হৃদরোগের ঝুঁকির পেছনে অবশ্যই মানসিক অবসাদের প্রভাব রয়েছে। প্রজন্মের বিশাল একটি অংশ অনলাইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। এই নির্ভরশীলতা থেকে তারা বের হতে পারছে না। যেহেতু বের হতে পারছে না তাই তারা একসময় একঘেয়েমিতে ভুগে। এই একঘেয়েমিই মূলত তাদের যন্ত্রণার কারণ।
কোন রঙ নারীদের ঠোঁটে বেশি মানায়?
খুব বেশি চড়া মেকআপ পছন্দ করেন না? বিয়েবাড়ি হোক বা বড়দিন উদযাপন, হালকা মেক আপেই স্বচ্ছন্দবোধ করেন। নিখুঁত মেকআপে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ঠোঁটের মেকআপ ঠিকঠাক হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পছন্দের লিপস্টিকটি যদি হয় নজরকাড়া এবং পরার কায়দায় যদি থাকে নতুনত্ব, তবেই আর পাঁচজনের ভিড়েও আপনার উপস্থিতি টের পাবিস্তারিত পড়ুন
কোন রঙ নারীদের ঠোঁটে বেশি মানায়?
হরেক ব্র্যান্ডের লিপস্টিকের নতুন সম্ভারে ভরে ওঠে প্রসাধনের জগত। কোন তিন রঙের লিপস্টিক আপনার সম্ভারে থাকতেই হবে, রইল তার হদিস। খবর আনন্দ বাজারের।
কোন রঙ নারীদের ঠোঁটে বেশি মানায়?
কোন রঙ নারীদের ঠোঁটে বেশি মানায়?
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণীয় বিশেষ গুণগুলো কি কি?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র কোরআনুল কারিমের ঘোষণায় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয় আপনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী।’ তিনি ছিলেন বিশ্ববাসীর জন্য অনুসরনীয় ও অনুকরণীয় আদর্শ। অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ববিস্তারিত পড়ুন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
পবিত্র কোরআনুল কারিমের ঘোষণায় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয় আপনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী।’ তিনি ছিলেন বিশ্ববাসীর জন্য অনুসরনীয় ও অনুকরণীয় আদর্শ।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।’ গুরুত্বসহকারে আমাদের জানতে হবে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণীয় গুণগুলো কি কি? ব্যক্তি চরিত্রে উত্তম গুণাবলী অর্জনের জন্যই তা একান্ত আবশ্যক।
মানুষ যখন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারিত্রিক গুণাবলী নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে, তখনই মানুষ ইহ ও পরকালে সফলকাম হবে। দুনিয়াতেই রচিত হবে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ সমাজ।
মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সব গুণগুলোই অনুসরণ ও অনুকরণ করা আবশ্যক। কেননা তিনি উম্মতের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আমি উত্তম চারিত্রিক গুণাবলীর অধিকারী হয়েই প্রেরিত হয়েছি।’
বিশ্বনবীর (সা.)-এর সব গুণগুলোর মধ্যে দৈনন্দিন জীবনের গুণগুলো অনুসরণ করা একান্ত জরুরি। এখানে তাঁর কিছু চারিত্রিক গুণাবলী তুলে ধরা হলো-
১. কোনো মজলিশে কেউ কথা বলতে বসলে সে ব্যক্তি উঠা না পর্যন্ত বিশ্বনবী (সা.) উঠতেন না।
২. সব সময় আল্লাহ তাআলার ভয়ে ভীত থাকতেন।
৩. বেশিরভাগ সময় তিনি নিরব থাকতেন।
৪. বিনা প্রয়োজনে কথা বলতেন না।
৫. কথা বলার সময় সুস্পষ্টভাবে বলতেন; যাতে শ্রবনকারী সহজেই তাঁর কথা বুঝে নিতে পারে।
৬. আলোচনা করার সময় তা দীর্ঘস্থায়ী করতেন না যাতে শ্রোতারা বিরক্ত হয়ে যায়। আবার এত সংক্ষিপ্তও করতেন না যাতে কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
৭. কথা, কাজ ও লেন-দেনে কঠোরতা অবলম্বন করতেন না।
৮. বিনয় ও নম্রতাকে তিনি অত্যন্ত পছন্দ করতেন।
৯. তাঁর দরবারে আগত কোনো ব্যক্তিকেই অবহেলা করতেন না।
১০. কারো সাথে কথা-বার্তায় অযথা তর্ক সৃষ্টি করতেন না।
১১. ইসলামি শরিয়ত পরিপন্থী কোনো কথা হলে তা থেকে বিরত থাকতেন বা সেখান থেকে উঠে যেতেন।
১২. আল্লাহ তাআলার প্রতিটি নিয়ামতকে তিনি সম্মান করতেন।
১৩. কোনো খাদ্য দ্রব্যের দোষ ধরতেন না। মন চাইলে খেতেন; অন্যথায় খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন।
১৪. ক্ষমা করাকে পছন্দ করতেন।
১৫. যেকোনো প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতেন; যাতে প্রশ্নকারী ব্যক্তি সে সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে অবগত হতে পারে।
১৬. সব সময় তিনি ধৈর্য্য ধারণ করতে ভালোবাসতেন। ধৈর্য্য ছিল তাঁর অন্যতম গুণ।
১৭. বিশ্বনবীর কাছে হাদিয়াসহ যা কিছুই আসতো; তিনি তা আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুনিয়ার পুরো জিন্দেগিই ছিলো গুণাবলীতে ভরপুর। তাঁর সব গুণাবলী লিখে শেষ করা যাবে না। কোনো মানুষ যদি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উল্লেখিত গুণগুলো নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করেন- তিনি হবেন পৃথিবীর সেরা মানুষ।
রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারিত্রিক গুণের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
যৌনতা বিষয়ে কোন জিনিসগুলো জেনে রাখা জরুরি ?
শারীরিক তৃপ্তিতে যৌনতার কোন বিকল্প নেই ঠিক তেমনি যৌনতা নিয়ে মানুষের জানার কোনও শেষ নেই! স্বাভাবিক শরীরবৃত্তিয় ঘটনা এটি। ফলে, না জানাটাই অপরাধ। কারণ নিত্যনতুন গবেষণায় উঠে আসে একাধিক তথ্য। আর তা অবশ্য যৌন সংক্রান্ত। যদিও এই সমস্ত তথ্যের মধ্যে রয়েছে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা জেনে রাখাটা জরুরি। আর সেই মতোবিস্তারিত পড়ুন
শারীরিক তৃপ্তিতে যৌনতার কোন বিকল্প নেই ঠিক তেমনি যৌনতা নিয়ে মানুষের জানার কোনও শেষ নেই! স্বাভাবিক শরীরবৃত্তিয় ঘটনা এটি। ফলে, না জানাটাই অপরাধ। কারণ নিত্যনতুন গবেষণায় উঠে আসে একাধিক তথ্য। আর তা অবশ্য যৌন সংক্রান্ত। যদিও এই সমস্ত তথ্যের মধ্যে রয়েছে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা জেনে রাখাটা জরুরি। আর সেই মতো অবস্যই এই ১১ টি তথ্য জানুন-
১) যখন কোন যুগল এক অপরজনকে চুম্বন দেয় তখন তারা একে অপরের সঙ্গে ১০ মিলিয়ন এবং ১ মিলিয়ন ব্যক্টেরিয়া বিনিময় করে।
২) গড়ে ২০ থেকে ৭০ বছর বয়সের মাঝে একজন মানুষ ৬০০ ঘন্টা সময় যৌন মিলনের পিছনে ব্যয় করে।
৩) যৌন মিলন এক ধরণের ভাল ব্যায়াম। এক ঘন্টায় প্রায় ৩৬০ ক্যালরি বার্ন হয়।
৪) যারা অতিরিক্ত কাজের চাপ, চিন্তা এবং হতাশায় ভোগে তাদের মাঝে সেক্স আসক্তি বেশি হয়।
৫) গড়ে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ প্রতি সাত সেকেন্ডে একবার সেক্সের কথা চিন্তা করেন।
৬) এক চা চামচ বীর্যতে – ৩০০ মিলিয়ন শুক্রাণু, জিঙ্ক এবং ক্যালসিয়াম, দাঁতের ক্ষয় রোধ করে এবং সাত ক্যালরি থাকে।
৭) বীর্যপাতের বেগ প্রায় ২৮ মাইল প্রতি ঘন্টা।
৮) পুরুষের অরগ্যাসম প্রায় ৬ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
৯) ৩২ বছর বয়সে মহিলাদের ক্লিটোরিস বয়ঃসন্ধি থেকে প্রায় চার গুন বেড়ে যায়।
১০)।যখন মহিলারা উত্তেজিত হন তখন তাদের স্তন প্রায় ২৫% প্রশস্ত হতে পারে।
১১) মহিলাদেরও স্বপ্ন দোষ হতে পারে।
সংক্ষেপে দেখুনহ্যালুসিনেশন আসলে কী, রোগ না অন্য কিছু?
ধরুন, হঠাৎ করে আপনার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলো কিংবা ভাইব্রেট হলো, কিন্তু পকেট থেকে বের করেই দেখলেন, না, ফোনটা বাজছেও না আবার ভাইব্রেটও হচ্ছে না! হ্যাঁ, ঠিক তখনই আপনার হ্যালুসিনেশন হয়েছে! হ্যালুসিনেশন কেনো হয়? হ্যালুসিনেশন শব্দটির সঙ্গে আমরা পরিচিত। অনেকে ইলিউশন বা দৃষ্টিভ্রমকে হ্যালুসিনেশনেবিস্তারিত পড়ুন
ধরুন, হঠাৎ করে আপনার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলো কিংবা ভাইব্রেট হলো, কিন্তু পকেট থেকে বের করেই দেখলেন, না, ফোনটা বাজছেও না আবার ভাইব্রেটও হচ্ছে না! হ্যাঁ, ঠিক তখনই আপনার হ্যালুসিনেশন হয়েছে!
হ্যালুসিনেশন কেনো হয়?
হ্যালুসিনেশন শব্দটির সঙ্গে আমরা পরিচিত। অনেকে ইলিউশন বা দৃষ্টিভ্রমকে হ্যালুসিনেশনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। ইলিউশন ও হ্যালুসিনেশন বিস্তৃত আঙ্গিকে বোঝার জন্য ইলিউশন সম্পর্কে একদম স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার। হ্যালুসিনেশন আর ইলিউশন দু’টোই একধরণের বিভ্রান্তি। তবে ইলিউশনে উদ্দীপক থাকবে, হ্যালুসিনেশনে এমন কোনো উদ্দীপক থাকবে না। সামনের ঝুলে থাকা দড়ি যদি কারো কাছে সাপ মনে হয় তাহলে এটি ইলিউশন। যদি কোনো দড়ির অস্তিত্ব ছাড়াই সাপ দেখতে পায় তাহলে তা হ্যালুসিনেশন।
হ্যালুসিনেশন শব্দটি উচ্চারণে যেমন একটা মজা আছে তেমনি কৌতুহল তৈরি করার মতো এর নানাবিধ উপস্থাপনাও দেখা যায়। কেউ বিষয়টিকে দেখেন একটা মজার বিষয় হিসেবে, কেউ রহস্যময়, কেউ এটাকে নাটক বা উপন্যাসের বিশেষ উপকরণ হিসেবে কেউ আবার বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্তির সঙ্গে হ্যালুসিনেশনকে তুলনাও করে থাকেন। কিন্তু আর যাই হোক, এটি মোটেই মজার কোনো বিষয় নয়। এটি এমন এক দশা যখন কেউ মিথ্যা জালের ভেতরে বসবাস করে অজান্তেই। আসলে মিথ্যার জগতে বসবাস করে কেউ ভাবে সে বাস্তব জগতে বসবাস করছে। এটি এক ধরনের অস্বাভাবিক এবং অদ্ভুত অনুভূতি। এ অনুভূতি স্বাভাবিক অনুভূতির মতোই ঘটে থাকে।
হ্যালুসিনেশন কোনো রোগ নয়, এটি অন্য রোগের উপসর্গ। এটি সাধারণত মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তবে কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থেকেও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। তাই কেবল হ্যালুসিনেশন দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন কারণে হ্যালুসিনেশন ঘটতে দেখা যায়-
(১) সিজোফ্রেনিয়া, সিভিয়ার মুড ডিসঅর্ডার, ডিল্যুশনাল ডিসঅর্ডারে রোগীর প্রায়ই হ্যালুসিনেশন হতে পারে
(২) মাত্রাতিরিক্ত ড্রাগস বা অ্যালকোহল সেবনের কারণে
(৩) মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং ইন্দ্রিয়ের সমস্যায় হ্যালুসিনেশন হতে পারে।
(৪) শরীরে লবণের তারতম্যের জন্যও স্বল্পমেয়াদের হ্যালুসিনেশন দেখা দিতে পারে।
(৫) প্রচণ্ড জ্বর হলে বিশেষ করে শিশুদের হ্যালুসিনেশন হয়। মৃগীরোগ, বিষন্নতা, হিস্টিরিয়া এমনকি ব্রেইন টিউমারের বেলাতেও হ্যালুসিনেশন ঘটতে পারে।
(৬) লিভার বা কিডনির সমস্যা প্রভৃতি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে।
হ্যালুসিনেশন হলো এমনি একটি মানসিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি কোনো প্রকার উদ্দীপনা ছাড়াই বিশেষ ইন্দ্রিয়ানুভূতি লাভ করে। এ অনুভূতির সঞ্চার স্বাভাবিক অনুভূতির মতোই ঘটে। ধরা যাক, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে এমন ঘটছে, সে বিশেষ সময়ে কোন ধরণের গায়েবি কথা শুনছেন। তার মানে ঐ ব্যক্তির শ্রবণেন্দ্রিয়ের হ্যালুসিনেশন ঘটছে। এ গায়েবি কথা খুব হাল্কাভাবে ঘটে কিংবা তাতে অস্পষ্টতা থাকে এমন নয় কিন্তু। আশপাশের লোকজনের কথা সে যেমনভাবে শুনতে পায়, কানের মধ্যে আসা গায়েবি কথাও ঠিক তেমনভাবেই তার সঙ্গে ঘটে থাকে। হ্যালুসিনেশন দেহের প্রতিটি ইন্দ্রিয়তে ঘটতে পারে।
হ্যালুসিনেশনকে দু’টি শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে হিপনেজোগিক হ্যালুসিনেশন যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তার দশ সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে যা ঘটে থাকে, আর অন্যটি হচ্ছে হিপনোপমপিক হ্যালুসিনেশন যখন মানুষ জেগে উঠে তারপর যা ঘটে থাকে। তবে আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে হ্যালুসিনেশন হয়ে থাকার কারণে ইন্দ্রিয়ের ওপর ভিত্তি করে হ্যালুসিনেশনের বেশ কিছু ধরনকে বিশেষজ্ঞরা শণাক্ত করতে পেরেছেন। যেমন :
ভিজুয়াল বা দৃষ্টিতে হ্যালুসিনেশন: এক্ষেত্রে এমন কিছু দেখা, যার কোনো বাস্তবিক ভিত্তি নেই। হতে পারে সেটা কোনো আকারের-বর্ণের কিংবা আলোর ছটা, যা অবাস্তব মানব আকৃতি বিশেষ। যেমন মনে হতে পারে পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। অথচ তখন পেছনে বা আড়ালে বস্তুত কেউই নেই।
অডিটরি বা শ্রুতিগত হ্যালুসিনেশন: এমন কোনো শব্দ, মিউজিক হইচই কিংবা কণ্ঠস্বর শোনা, যা নিতান্তই অলীক। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যেটা হয়ে থাকে, তা হলো ক্ষতিকর গায়েবি কথা, আদেশমূলক কিংবা নিষেধমূলক কথা শোনা। এসব কথা মস্তিষ্কের ভেতর বা বাইরে থেকে হতে পারে। পুরুষ কিংবা নারীকণ্ঠ হতে পারে, অপরিচিত কিংবা পরিচিত মনে হতে পারে। সিজোফ্রেনিয়া রোগীর ক্ষেত্রে অডিটরী হ্যালুসিনেশন বেশি হয়ে থাকে।
অলফ্যাক্টরি বা ঘ্রাণজনিত হ্যালুসিনেশন: এক্ষেত্রে হ্যালুসিনেশনে আক্রান্ত ব্যক্তি এমন কিছু জিনিসের ঘ্রাণ অর্থাৎ গন্ধ পাবে, যার কোনো সত্যতাই নেই, শুধুই একটি ভ্রান্ত ধারণা। যেমন: হঠাৎ করে পঁচা মাছের গন্ধ, বমি, প্রস্রাব, সিগারেট এমনকি পঁচা লালার গন্ধও পেতে পারে। এটি মূলত হয়ে থাকে অলফ্যাক্টরি সিস্টেমের স্নায়ুকোষের ক্ষতিগুলো থেকে, যা ভাইরাস ইনফেকশন ব্রেন টিউমার ট্রমা, সার্জারি কিংবা ওষুধের কারণে হয়ে থাকে।
গ্যাস্টেটরি বা স্বাদজনিত হ্যালুসিনেশন: কোনো কিছুর স্বাদকে মুখে বিস্বাদ লবণাক্ত বা মেটালিক মনে হয়, সম্পূর্ণটাই ভুল ধারণা। সাধারণত এপিলেপসি রোগে এ ধরনের হ্যালুসিনেশন হয়ে থাকে। টমেটো, আলু, বেগুন, মরিচ জাতীয় খাবারে ‘সোলানিন’ নামক উপাদান থাকে যেটি হ্যালুসিনেশনে প্রভাব রাখতে পারে। তাছাড়া কফি অতিরিক্ত পান করলেও হ্যালুসিনেশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
সোমাটিক বা স্পর্শগত হ্যালুসিনেশন: এক্ষেত্রে কোনোকিছুর স্পর্শ অনুভূত হওয়া, যা বাস্তবিকভাবে ঘটেনি। যেমন হঠাৎ করে শরীরের ভেতর বা উপরে কিছু উঠে আসছে মনে হওয়া। অন্ধকার ঘরে মনে হবে কেউ স্পর্শ করছে অথচ ঘরে তখন কেউ নেই। এটি মূলত একটি মেডিকেল ডিসঅর্ডার।
কারো প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলে কিংবা প্রিয় কোনো মানুষকে হারিয়ে ফেললে সেই মানুষটিকে নিয়ে হ্যালুসিনেশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে বলে পরীক্ষা করে দেখা গেছে। হ্যালুসিনেশনের রোগীদের সঙ্গে এমনো হতে পারে, কাছের কোনো একজন মানুষের নাম ধরে গায়েবি কথাবার্তায় সে শুনতে পায়। ক্রমাগত হ্যালুসিনেশন হওয়ায় ঘটে যাওয়া কিংবা শোনা সবকিছুকেই মানুষটি সত্যি মনে করতে থাকে। যার জন্য অনেক বিপদও ঘটে থাকে। সুতরাং এসব বিষয়গুলোকে দ্রুত বুঝে শণাক্ত করা খুবই জরুরি। যত তাড়াতাড়ি তাদের চিকিৎসার আওতায় আনা যায় ততই মঙ্গল।
সংক্ষেপে দেখুনদম্পতিদের সম্পর্ক ভালো রাখার উপায় কি কি?
প্রায় সব বিবাহিত দম্পতি তাদের বিয়ের বন্ধন শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শের খোঁজ করেন। যখন বোঝাপড়ার চেয়ে ঝগড়াঝাটি বেড়ে যায়, তখন দম্পতিরা সাধারণ বিয়ে সংক্রান্ত উপদেশ মেনে সমস্যা সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে। কিন্তু স্টেরিওটাইপিক্যাল পরামর্শ সবসময় সহায়ক হয় না, বিশেষ করে যদি সমস্যাটিবিস্তারিত পড়ুন
প্রায় সব বিবাহিত দম্পতি তাদের বিয়ের বন্ধন শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শের খোঁজ করেন। যখন বোঝাপড়ার চেয়ে ঝগড়াঝাটি বেড়ে যায়, তখন দম্পতিরা সাধারণ বিয়ে সংক্রান্ত উপদেশ মেনে সমস্যা সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে।
কিন্তু স্টেরিওটাইপিক্যাল পরামর্শ সবসময় সহায়ক হয় না, বিশেষ করে যদি সমস্যাটি বড় এবং জটিল হয়। নতুন দম্পতিদের বিয়ে সংক্রান্ত উপদেশগুলো মন দিয়ে মানতে হবে, যা তাদের অত্যন্ত সাহায্য করবে। দম্পত্তিরা সম্ভবত আগে শোনেনি, এমন কিছু কার্যকরী পরামর্শ এখানে প্রকাশ করা হলো-
উদ্দেশ্য : কাজ কিংবা কথা নয়, এর পেছনের উদ্দেশ্য দেখুন। সব সময় মনে রাখুন এবং ধরে নিন যে আপনার সঙ্গী আপনাকে আঘাত করার মতো কিছু করবে না। এতে হতাশা, দোষারোপ এবং অপরাধবোধ অনেকাংশে কমে যাবে। আপনার সঙ্গীর সব কাজ ইচ্ছাকৃত নয় তা জানা থাকলে ঝগড়াঝাটির সময় বলা কথা নিয়ে পরবর্তীতে ঝামেলা হবে না। যদি জানেন যে তিনি আপনার প্রতি ইতিবাচক, তবে তাকে ক্ষমা করাও সহজ হবে।
অর্থ নিয়ে ঝগড়া নয় : টাকা নিয়ে ঝগড়া করবেন না। দম্পতিদের মধ্যে ঝগড়াঝটির সবচেয়ে বড় কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো অর্থ। দম্পতিরা একে অপরের ব্যয়ের অভ্যাস নিয়ে ঝগড়া করার বদলে দুজন মিলে সমাধান খুঁজতে পারে। এতে দুজনেরই কিছু কিছু ছাড় দিতে হতে পারে। তবে দিনশেষে সম্পর্ক সুন্দর থাকবে।
কৃতজ্ঞতা দেখাতে হবে : দম্পতিদের একে অপরের প্রতি আরো কৃতজ্ঞতা দেখাতে হবে, এমনকি ঝগড়াঝাটি করে বা তর্ক করার সময়েও। একসঙ্গে খারাপ এবং ভালো মুহূর্তগুলোকে সমানভাবে উপলব্ধি করতে শিখুন। এটি বুঝতে সাহায্য করে যে বিয়ের সম্পর্ক সফল হতে উভয় পক্ষের সমর্থন ও পরিশ্রম থাকা চাই।
ছাড় দেওয়া : কখনো কখনো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একজনকে ছাড় দিতে হতে পারে। একজনই সব সময় প্রভাব ধরে রাখতে পারে না। দক্ষতার ওপর নির্ভর করে দায়িত্বের বন্টন করা যেতে পারে। সম্পর্কে ভালোবাসা থাকলে একে অপরকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হবে না।
সময় কাটানো : স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের সঙ্গে আরো বেশি করে সময় কাটানো উচিত। এটি অনুভূতির ভুল ব্যাখ্যার সম্ভাবনা হ্রাস করে। ক্লান্তিকর দিনের পরে যখন তার কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করবেন, দিনটি কেমন ছিল? তখন সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার অনুভূতি প্রকাশ করবে।
সংক্ষেপে দেখুন