মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের একটি লেখায় পড়েছি, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ একটি খুব সুন্দর কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন প্রত্যেক মানুষের তিনটি করে মা থাকে। একটি জন্মদাত্রী মা, একটি মাতৃভাষা এবং আরেকটি হচ্ছে মাতৃভূমি। এটি ফেব্রুয়ারী মাস, একুশে ফেব্রুয়ারী শুধু আমাদের নয়, এখন সারা পৃথিবীর মাতৃভাষা-দিবস। আমাবিস্তারিত পড়ুন
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের একটি লেখায় পড়েছি,
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ একটি খুব সুন্দর কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন প্রত্যেক মানুষের তিনটি করে মা থাকে। একটি জন্মদাত্রী মা, একটি মাতৃভাষা এবং আরেকটি হচ্ছে মাতৃভূমি। এটি ফেব্রুয়ারী মাস, একুশে ফেব্রুয়ারী শুধু আমাদের নয়, এখন সারা পৃথিবীর মাতৃভাষা-দিবস। আমাদের মাতৃভাষাটি কত মধুর সেটি জানতে চাও? খুব সহজ একটা উদাহরণ দিয়ে তোমাদের মনে করিয়ে দিতে পারি। আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম লাইনটি হচ্ছে, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। এর শেষ তিনটি শব্দ দিয়েও একটি বাক্য হতে পারে, সেটি হচ্ছে, ‘আমি তোমায় ভালোবাসি’। এই তিনটি শব্দ দিয়ে পারমুটেশান করে সব মিলিয়ে আমরা ছয়ভাবে বাক্যটি লিখতে পারি:
- আমি তোমায় ভালোবাসি
- আমি ভালোবাসি তোমায়
- তোমায় আমি ভালোবাসি
- তোমায় ভালোবাসি আমি
- ভালোবাসি আমি তোমায়
- ভালোবাসি তোমায় আমি!
তোমরা কী লক্ষ্য করেছ, এই ছয়টি বাক্যের প্রতিটি কিন্তু শুদ্ধ বাক্য?
এবারে ইংরেজীর সাথে তুলনা করি? I Love you এটাকে কী অন্য কোনোভাবে বলা সম্ভব? I you love? Love I you কিংবা Love you I? কিংবা You I love? You love I? চেষ্টা করে দেখো, মূল বাক্যটি ছাড়া অন্য কোনোটি কিন্তু গ্রহণযোগ্য নয়! এই ছোট উদাহরণটি দিয়েই কিন্তু তোমরা বুঝতে পারবে, আমাদের মাতৃভাষা কতো সাবলীল, কতো ছন্দময়। (সে কারণে আমার মনে হয় বাঙ্গালি তরুণ তরুণীদের মাঝে কবি সবচেয়ে বেশি!) এরকম অনেক উদাহরণ দেয়া সম্ভব। তোমরা নিজেরাই সেগুলো খুঁজে বের করতে পারবে। ইংরেজী ভাষার আগ্রাসনে আমরা যখন ব্যতিব্যস্ত, তখন ভাষার মাসে প্রিয় মাতৃভাষার জন্যে কী আমরা একটুখানি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি না?
সংক্ষেপে দেখুন
আমরা প্রায়ই বাসা এবং বাড়ির মধ্যে পার্থক্য নিয়ে কনফিউশনে পড়ে যাই । কোনটাকে বাসা বলবো আর কোনটাকে বাড়ি বলবো তা ঠিক করতে পারিনা । মাঝে মাঝে তো কাউকে যদি প্রশ্ন করি, ভাই বাড়ি কোথায় ? উত্তর আসে - বাসা কুমিল্লা । এমনটা হওয়ার কারণ, আমরা বাসা-বাড়ির মাঝে যে পার্থক্য আছে, তা জানি না। চলুন জেনে নেই বাসার ববিস্তারিত পড়ুন
আমরা প্রায়ই বাসা এবং বাড়ির মধ্যে পার্থক্য নিয়ে কনফিউশনে পড়ে যাই । কোনটাকে বাসা বলবো আর কোনটাকে বাড়ি বলবো তা ঠিক করতে পারিনা । মাঝে মাঝে তো কাউকে যদি প্রশ্ন করি, ভাই বাড়ি কোথায় ? উত্তর আসে – বাসা কুমিল্লা । এমনটা হওয়ার কারণ, আমরা বাসা-বাড়ির মাঝে যে পার্থক্য আছে, তা জানি না।
চলুন জেনে নেই বাসার বাড়ির মধ্যে পার্থক্য।
আসলে বাসা (house) হচ্ছে অস্থায়ী আবাস আর বাড়ি (home) হচ্ছে স্থায়ী আবাস । আপনি যদি শহরে ভাড়া থাকেন তবে এটি আপনার বাসা । কারণ এটি অস্থায়ী । আবার আপনার যদি গ্রামে নিজেদের ঘরবাড়ি থাকে তাহলে ওইটা হচ্ছে আপনাদের বাড়ি ।
তবে বাসা এবং বাড়ি একই জিনিস হতে পারে । মনে করুন, আপনি যেখানে ভাড়া আছেন সেটি আপনার জন্য অস্থায়ী সুতরাং সেটি আপনার জন্য বাসা । আবার ওই বাড়িটির যিনি মালিক তার জন্য সেটি কিন্তু স্থায়ী । তাই আপনার বাসাটিই ওই মালিকের জন্য বাড়ি। কারণ মালিক আপনাকে যেকোন সময় তুলে দিতে পারে এবং নিজেও ওই বাড়িটি ব্যবহার করতে পারে ।
ঠিক একই কারণে আমরা সব সময় পাখিদের ক্ষেত্রে বাসা বলি বাড়ি বলি না। কারণ পাখিদের আবাসস্থল অস্থায়ী। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে তাদের আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা তাদেরকে তাদের আবাসস্থল পরিবর্তন করতে হতে পারে। তাদের স্থায়ী কোনো আবাসস্থল নেই। এজন্যই আমরা পাখিদের ক্ষেত্রে সব সময় বাসা বলি ।
আশা করি বাসা এবং বাড়ির মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারছেন। এখন থেকে নিজ বাড়িতে থেকে আর কাউকে কখনো বলবেন না, ভাই আমি তো বাসায় আছি!
ভালো লাগলে আপভোট দিবেন।
সংক্ষেপে দেখুন