সাইন আপ করুন সাইন আপ করুন

সাইন আপ করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে


আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

লগ ইন করুন লগ ইন করুন

লগিন করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

কোন একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন

রিসেট পাসওয়ার্ড

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।

আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

দুঃক্ষিত, প্রশ্ন করার অনুমতি আপনার নেই, প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে.

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

দুঃক্ষিত, ব্লগ লেখার অনুমতি আপনার নেই। লেখক হতে হলে addabuzzauthor@gmail.com ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে অনুমতি নিন। (Sorry, you do not have permission to add post. Please send a request mail to addabuzzauthor@gmail.com for giving permission.)

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?

সাইন ইনসাইন আপ

AddaBuzz.net

AddaBuzz.net Logo AddaBuzz.net Logo

AddaBuzz.net Navigation

  • হোমপেজ
  • ব্লগ
  • ইউজার
  • যোগাযোগ
সার্চ করুন
একটি প্রশ্ন করুন

Mobile menu

Close
একটি প্রশ্ন করুন
  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

ইতিহাস

Question related on history should be listed here.

শেয়ার করুন
  • Facebook
8 ফলোয়ার
84 উত্তর
215 প্রশ্ন
হোমপেজ/ইতিহাস/Page 2
অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • সাম্প্রতিক প্রশ্ন
  • সর্বাধিক উত্তর
  • উত্তর
  • অনুত্তরিত
  • সর্বাধিক দেখা
  • সর্বাধিক পছন্দকৃত
  • এলোমেলো

AddaBuzz.net Latest প্রশ্ন

ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

দাসপ্রথার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কৃষ্ণাঙ্গরা না শ্বেতাঙ্গরাও দাস ছিলো । কি সেই ইতিহাস ?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    শ্বেতাঙ্গ দাস: ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা এক অধ্যায় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো প্রথার একটি হচ্ছে দাসপ্রথা। খ্রীস্টপূর্ব অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রাচীন ব্যবিলিয়নে দাস প্রথার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। তারও আগে প্রাচীন মিশরে আজ থেকে (৩.৫ থেকে ৪ হাজার) বছর আগে দাসপ্রথার প্রচলন ছিল বলে গুঞ্জন শুনা যায়, তবে সেই গুঞ্বিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing শ্বেতাঙ্গ দাস: ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা এক অধ্যায়

    শ্বেতাঙ্গ দাস: ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা এক অধ্যায়

    পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো প্রথার একটি হচ্ছে দাসপ্রথা। খ্রীস্টপূর্ব অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রাচীন ব্যবিলিয়নে দাস প্রথার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। তারও আগে প্রাচীন মিশরে আজ থেকে (৩.৫ থেকে ৪ হাজার) বছর আগে দাসপ্রথার প্রচলন ছিল বলে গুঞ্জন শুনা যায়, তবে সেই গুঞ্জন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

    দাসপ্রথার কথা শুনলেই প্রথমেই চোখে ভাসে একদল কৃষ্ণাঙ্গের মুখ, যাদেরকে আটলান্টিক পাড়ি দিতে হয়েছিলো সাদা চামড়ার লোকদের অধীনে গতর খাটাবার জন্য? ইউরোপীয়রা নিজেদের উপনিবেশগুলোকে আরও চাঙ্গা করে তুলতে অন্ধকার মহাদেশ থেকে যাদের ধরে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলেছিল এক নতুন বিশ্বে। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে উনবিংশ শতাব্দীর প্রায় শেষদশক পর্যন্ত চলা এই নির্মম দাস ব্যবসার শিকার হয়েছিলো প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ কৃষ্ণাঙ্গ।

    তবে ইতিহাসের পাতায় যে শুধু কৃষ্ণাঙ্গরাই দাসত্বের শিকার হয়েছিলেন তা কিন্তু নয়। সপ্তদশ (১৬০০-১৬৯৯) শতকে বিশ্বে কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের চেয়ে শেতাঙ্গ দাস বেশি বিক্রি হয়েছে এবং শ্বেতাঙ্গ দাসদের মৃত্যুর হার ছিল শতকরা ৩৭ থেকে ৫০ ভাগ। শেতাঙ্গ দাস ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়, যা ইতিহাসের বইতে লেখা নেই।

    কিন্তু এই শ্বেতাঙ্গ দাস ব্যবস্থার দিকে ইতিহাসবিদেরা তেমন একটা দৃষ্টিপাত করেনি কেন?

    কারণ হিসেবে ইতিহাসবিদ রবার্ট ডেভিস তার বইয়ে ব্যাখ্যা করেছেন,

    “ইতিহাস শ্বেতাঙ্গদেরকে শোষণকারী ঔপনিবেশিক হিসেবেই তুলে ধরতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছে, যতটা না করেছে দাসব্যবস্থার শিকার হিসেবে।”

    আমেরিকায় দাসপ্রথা শুরু হয়েছিল শেতাঙ্গদের দিয়ে। ১৬১৯ সালের ইস্টারে আমেরিকায় কয়েকটি ব্রিটিশ উপনিবেশে সর্বপ্রথম ১০০ শেতাঙ্গ শিশুকে দাস হিসেবে আনা হয়। এর প্রায় চার মাস পর কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের প্রথম জাহাজটি আমেরিকায় পৌঁছায়। অবশ্য মূলধারার ইতিহাসবিদরা এসব শেতাঙ্গ শিশুদেরকে দাস হিসেবে মানতে নারাজ। বরং এদেরকে তারা ‘চুক্তিভিত্তিক কর্মী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অনেক ইতিহাসবিদই মনে করেন, শেতাঙ্গ এসব দাসদের শ্রমের বিনিময়ে ধনসম্পদ ও অধিকার আদায়ের সুযোগ ছিল। যদিও শেতাঙ্গ দাসদের বেশিরভাগই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবর্ণনীয় নির্যাতনের কারণে মারা যেত। এ সময় আমেরিকায় হাজার হাজার শেতাঙ্গ দাস রপ্তানি হয়েছে। যাদের মধ্যে নারী, শিশু এমন-কি অল্প বয়সী বাচ্চারাও ছিল।

    কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের উপর যেসব নির্যাতন চলত, তার সবই চলত শ্বেতাঙ্গদের উপরও। দাস মালিকরা সবচেয়ে জঘন্য উপায়ে তাদির শাস্তি দিত। নিজের হাতে ফাঁসি কার্যকর করত, শাস্তি হিসেবে হাত ও পা পুড়িয়ে ফেলত। কোনো কোনো শেতাঙ্গ দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং বাজারে বিক্রির সময় তাদের মাথার উপর বর্শা ধরে রাখা হতো, উদ্দেশ্য অন্যান্য বন্দিদের সতর্ক করা।

    এসব শেতাঙ্গ দাসদের সবাই ছিল আইরিশ। ব্রিটেনের রাজা ষষ্ঠ জেমস ও রাজা প্রথম চার্লস আইরিশদের দাস হিসেবে বিক্রি করার এ নিয়ম চালু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লর্ড অলিভার ক্রোমওয়েলও এ ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন।

    রাজা ষষ্ঠ জেমস ৩০ হাজার আইরিশ বন্দিকে নিউ ওয়ার্ল্ডের (ব্রিটিশরা যখন পৃথিবীর পশ্চিমাঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তৃত করছিল, তখন তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নিউ ওয়ার্ল্ড’। যেটি এখন ‘আমেরিকা’ নামে পরিচিত) কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করে আইরিশ দাস বাণিজ্য শুরু করেন। পশ্চিম ভারতীয় দীপপুঞ্জে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) বসবারসরত ইংরেজদের কাছে ১৬২৫ জন আইরিশ রাজনৈতিক বন্দিকেও দাস হিসেবে বিক্রির ঘোষণা দেন জেমস।

    সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে অ্যান্টিগা ও মন্টসেরাতের দাসদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল আইরিশরা। এমন-কি এ সময় মন্টসেরাতের মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগই ছিল আইরিশ দাস।



    রাজা ৬ ষ্ঠ জেমস
    অতি দ্রুতই ইংরেজ বণিকদের কাছে দাসদের অন্যতম উৎসে পরিণত হলো আয়ারল্যান্ড। নিউ ওয়ার্ল্ডের প্রথমদিকের দাসদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শেতাঙ্গ আইরিশ।

    ১৬৪১ থেকে ১৬৫২ সালের মধ্যে ইংরেজরা প্রায় পাঁচ লাখ আইরিশদের হত্যা করে এবং ৩০ হাজার বন্দিকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়। মাত্র এক দশকেই আয়ারল্যান্ডের জনস্যংখ্যা ১৫ লাখ থেকে নেমে দাঁড়ায় মাত্র ৬ লাখে।

    আইরিশ নাগরিকদের মধ্যে যখন বাবাদেরকে ব্রিটিশরা আমেরিকায় নিয়ে যেত, তখন তাদের সাথে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিতে দিত না। ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য ছিল, পরে বাড়িহীন অসহায় এসব আইরিশ নারী ও শিশুদেরকেও দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া।

    ১৬৫০ সালের মধ্যে ১ লাখেরও বেশি অাইরিশ শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পশ্চিম ভারতীয় দীপপুঞ্জ, ভার্জিনিয়া ও নিউ ইংল্যান্ডে বসবাসরত ইংরেজদের কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয় ব্রিটিশরা। ১৭ শতকের পঞ্চাশের দশকে অন্তত ৫২ হাজার অাইরিশকে ভার্জিনিয়া ও বার্বাডোসে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল নারী ও শিশু। ১৬৫৬ সালে লর্ড ক্রোমওয়েল দুই হাজার আইরিশ শিশুকে জ্যামাইকায় বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে দাস হিসেবে বিক্রির আদেশ দেয়। অনেকেই এখন এসব আইরিশদের দাস হিসেবে স্বীকার না করলেও ১৭ ও ১৮ শতকে তাদের অবস্থা ছিল ‘মানুষরূপী গৃহপালিত পশু’র মতোই। ১৭ শতকের গোড়ার দিকে শেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ দাস বাণিজ্য প্রায় একইসাথে শুরু হয়েছিল এবং কৃষ্ণাঙ্গ দাসরা ছিল শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল। এমনকি আইরিশ দাসদের তুলনায় আফ্রিকান দাসদের প্রতি ভালো ব্যবহার করা হতো।

    ১৭ শতকের শেষ দিকে আফ্রিকান দাসরা ছিল অনেক ব্যয়বহুল (৫০ স্টার্লিং পাউন্ড), যেখানে আইরিশ দাসদের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৫ স্টার্লিং পাউন্ড। কম দাম হওয়ায় তাদের হত্যায়ও মালিকদের বেশি ক্ষতি হতো না বা তাদের হত্যাকে বড় অপরাধ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো না।

    ইংরেজরা এক পর্যায়ে আইরিশ নারী ও শিশুদের ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া দিতে শুরু করল। এতে তাদের দুদিক দিয়ে ‘লাভ’ হলো। এসব নারীদের দিয়ে তারা নিজেদের যৌন ক্ষুধাও মেটাত, আবার তাদের দিয়ে উৎপাদনও বাড়ত। যদি কখনও কোনো নারী দাসত্ব থেকে মুক্তিও পেত, তারপরও দেখা যেত তার সন্তানরা এখনও দাস হিসেবে রয়ে গেছে। অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এসব আইরিশ নারীরা সন্তানের মায়া না ছাড়তে পেরে পুনরায় দাসত্ব গ্রহণ করত।

    পরে ইংরেজরা আইরিশ নারী ও আফ্রিকান পুরুষদের ব্যবহার করে আরও বেশি মুনাফা অর্জন করতে চাইল। তারা আইরিশ নারী ও আফ্রিকান পুরুষদের দিয়ে বেশি বেশি সন্তান উৎপাদন করত, যাতে নতুন করে অর্থ খরচ করে তাদেরকে আর দাস ক্রয় করতে না হয়। আবার আইরিশ-আফ্রিকান সংমিশ্রণে যেসব শিশু জন্মলাভ করত, তাদের দামও ছিল অনেক চড়া। এ ধারা কয়েক দশক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ১৬৮১ সালে বাণিজ্যিক স্বার্থে এভাবে সন্তান উৎপাদনকে নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাশ হয়। কিন্তু এ আইনের পেছনের মূল ঘটনা হচ্ছে, স্থানীয় ইংরেজরা এভাবে সন্তান উৎপাদন করতে থাকায় একটি বৃহৎ দাস পরিবহন কোম্পানির আয় কমে যাচ্ছিল। আইনটি বাস্তবায়নের পেছনে এ কোম্পানিটির হাত ছিল।


    ইংরেজরা এক শতাব্দী ধরে আইরিশদের দাস হিসেবে বিক্রির ধারা চালু রেখেছিল। ইতিহাস বলে ১৭৯৮ সালের আইরিশ বিপ্লবের পরও হাজার হাজার আইরিশকে আমেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়ায় দাস হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছিল ব্রিটিশরা। আফ্রিকান ও আইরিশ দাসদের প্রতি ভয়ানক আচরণ করেছে ইংরেজরা। একবার আটলান্টিক মহাসাগরে ১৩শ’র বেশি দাসকে জাহাজ থেকে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যাতে জাহাজের ক্রুদের খাবারের সঙ্কট না হয়। ১৮৩৯ সালে অবশেষে ব্রিটেন দাস পরিবহনের মতো এ ঘৃণ্য কাজ থেকে সরে আসে। অবশ্য জলদস্যুরা তারপরও এ কাজে লিপ্ত ছিল। পরে নতুন আইনের মাধ্যমে অাইরিশদের এ দুঃখ অাস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে আসে।

    কিন্তু কেউ যদি মনে করে দাসপ্রথা শুধু কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যেই ছিল, তা হবে পুরোপুরি ভুল। আইরিশদের দুর্দশাকে তাহলে খাটো করে দেখা হবে। আইরিশদের এ দুর্দশরা কথা অবশ্যই ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থানের যোগ্য।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 62 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

বাংলাদেশ নামকরণ কিভাবে হয়েছে ?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    “বিশ্বকবির সোনার বাংলা নজরুলের বাংলাদেশ জীবনানন্দের রূপসি বাংলা রূপের যে তার নেইকো শেষ বাংলাদেশ” গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের রচিত এই গীতটির মতো বঙ্কিমচন্দ্রও এই বাংলা অঞ্চলকে ‘বঙ্গদেশ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়  ও সত্যজিৎ রায় সবসময় ‘বাংলাদেশ লিখেছেন বলেছেন। সাহিত্য বা কাব্য ভাষায় যে নামেই করা হোক না কেন বিবিস্তারিত পড়ুন

    “বিশ্বকবির সোনার বাংলা

    নজরুলের বাংলাদেশ

    জীবনানন্দের রূপসি বাংলা

    রূপের যে তার নেইকো শেষ বাংলাদেশ”

    গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের রচিত এই গীতটির মতো বঙ্কিমচন্দ্রও এই বাংলা অঞ্চলকে ‘বঙ্গদেশ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়  ও সত্যজিৎ রায় সবসময় ‘বাংলাদেশ লিখেছেন বলেছেন। সাহিত্য বা কাব্য ভাষায় যে নামেই করা হোক না কেন বিশ্বে ভাষার নামে দেশের নামে পরিচিতি কেবল আজ বাংলাদেশই।

    লাল—৩০ লাখ শহিদের রক্ত ও সবুজ—শ্যামল বাংলার প্রতিনিধি।

    ভাষা সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ নিয়ামত। কিন্তু সেই ভাষা অর্জনেই দেশ বিভাগের পরই পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় পশ্চিম-পাকিস্তান। ’৫২ তে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার অধিকার পাওয়ার পর পূর্ব-পাকিস্তান কেন পূর্ব-বাংলা হবে না? সে প্রশ্নটি বাংলার নায়কেরা (বঙ্গবন্ধু, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী প্রমুখ) উত্থাপন করেন। নানান প্রতিঘাতের পর পূর্ণতা পায় ‘বাংলাদেশ। ভাষার নাম ও দেশের নামে পূর্ণতা পায় পুণ্যভূমি।

    নামকরণের ইতিহাসের ইতিকথা

    ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ নামকরণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় ঘোষিত নাম কিংবা দেশটির ইতিহাস তো অর্ধশত বছরের নয়। সেই ইতিহাস হাজার-হাজার বছর আগের। ড. মোহাম্মদ হান্নান রচিত ‘বাঙালির ইতিহাস বইয়ে গোলাম হোসেন সেলিম জইদ পুরির ‘রিয়াজ-উজ-সালাতিন গ্রন্থ থেকে বঙ্গ নামের বিশ্লেষণে বলেন, মহাপ্লাবনের পর হযরত নূহ (আ), তাঁর স্ত্রী, সন্তানসহ ৮০ জন নর-নারী আল্লাহর হুকুমে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বংশ বৃদ্ধিতে নিয়োজিত থাকেন। নূহ (আ) এর পরবর্তী বংশধরগণই করে পৃথিবী সাজিয়েছেন।

    নূহ (আ)-র এক পুত্র হাম এশিয়া অঞ্চলে বংশ বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন। হামের পুত্র হিন্দ-র নামানুসারে হিন্দুস্থান সিন্দ-র নামানুসারে ‘হিন্দুস্থান বা ‘সিন্দু এবং হিন্দের পুত্র ‘বঙ্গ-এর নামানুসারে  বঙ্গদেশ। এই সূত্রমতে, নূহ (আ)-এর পৌত্র বা নাতির নামানুসারে বঙ্গ বা বাংলাদেশ।

    ‘রিয়াজ-উজ-সালাতিন’ মলাট ছবি।

    অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, বঙ্গ নামের উৎপত্তি জানতে ‘বংশী ও ‘বাঙালি নদীর ইতিহাস উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। ১৯৪৭ সাল থেকেই আদি বাংলার পশ্চিম অংশ পূর্ব থেকে ছিন্ন হয়ে যায়; যা বর্তমান ভারতের একটি রাজ্য। প্রাচীন যুগেই বাংলা মূলত দুভাগে বিভক্ত হয়ে পরে। গুপ্ত শাসনের পতন হলে ৫৫১ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ববাংলা এলাকা নিয়ে বঙ্গ-সমতট রাজ্য ও বঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে গৌড় নামে আলাদা রাজ্য গড়ে ওঠে। সেই যে ৫৫১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গ রাজ্য দুভাগে বিভক্ত হলো সুদীর্ঘ দেড় হাজার বছরেও বাংলা এক হতে পারেনি।

    প্রাচীন বাংলা ভাষাভাষীদের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ১০ হাজার বছরের অতীত বলে ধারণা করেন ইতিহাসবেত্তা ও প্রত্নতাত্ত্বিকবিদের অনেকে। সেই সভ্যতা ‘গঙ্গা-রিদি সভ্যতা নামে পরিচিত ছিল। পদ্মা (বাংলাদেশে) ও গঙ্গা (ভারতে) নদীর তীরে এ সভ্যতার গোড়াপত্তন। গ্রিক ইতিহাসবেত্তারা বাংলাকে উল্লেখ করেছেন ‘গঙ্গারিডাই হিসেবে। গঙ্গারিডাই (গঙ্গারিডাই, গঙ্গারিডেই এবং গঙ্গারিদুম শব্দরূপগুলির উৎপত্তি গঙ্গারিড (Gangarid) থেকে।

    ধারণা করা হয় যে, গঙ্গারিড হলো ভারতীয় ‘গঙ্গাহূদ শব্দের গ্রিক রূপ। এর অর্থ ‘যে ভূমির বক্ষে গঙ্গা প্রবাহিত (গঙ্গাহূদ> গঙ্গারিদ> গঙ্গারিডাই, গঙ্গারিড-এর বহুবচনার্থে), যা ‘পেরিপ্লাস গ্রন্থের লেখকের বর্ণিত গাঙ্গে দেশের সাথে বেশ মানিয়ে যায়।) প্রথম খ্রিষ্টপূর্ব থেকে দ্বিতীয় খ্রিষ্টাব্দ মধ্যবর্তী সময়ে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখায় একটি জনগোষ্ঠী ও একটি দেশের নাম হিসেবে উল্লিখিত। ক্লাসিক্যাল লেখকদের বর্ণনায় ‘গঙ্গারিডাই এবং এর রূপভেদে ‘গঙ্গারিডেই (Gangaridae), ‘গঙ্গারিদুম (Gangariridum) ও ‘গঙ্গারাইডেস (Gangarides) শব্দগুলি পাওয়া যায়।

    ‘গঙ্গারিডাই’ অঞ্চল।

    আলেকজান্ডার ৩২৫-৩২৬ খ্রিষ্টপূর্বে (কারও মতে খ্রিষ্টপূর্ব ও খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে) মোট ১৯ মাস ভারত আক্রমণ চালান। গঙ্গারিডি রাজা আলেকজান্ডারকে বাধা দিতে দিতে ৮০,০০০ অশ্বারোহী, ২ লাখ পদাতিক, ৮,০০০ রথ, ৬০০০ যুদ্ধ হস্তি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু মহামতি আলেকজান্ডার বাংলায় না এসে বিপাশা নদী তীর থেকে ব্যবলিনে ফিরে যান। চন্দ্রগুপ্ত নামে এক বাঙালির সাথে পাঞ্জাবে আলেকজান্ডারের সাক্ষাৎ হয়েছিল। দশ হাজার বছর পূর্বের গঙ্গা-রিদি সভ্যতার ‘প্যালিওথিক ও মাইক্রোলিথিক অস্ত্র পশ্চিমবঙ্গে পাওয়া গেছে। তা থেকে আর অপেক্ষা থাকে না প্রাচীন কালে বাংলাদেশ কতটা শক্তিশালী ছিল। এবং এই সম্পর্কে বাংলাপিডিয়া বলছে, আলেকজান্ডার ও তাঁর সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ডিওডোরাস (৬৯ খ্রিষ্টপূর্ব-১৬ খ্রিষ্টাব্দ) সিন্ধু পরবর্তী দেশ সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, গঙ্গা পেরিয়ে যে অঞ্চল সেখানে ‘প্রাসিয়ই (Prasioi) ও গঙ্গারিডাই-দের আধিপত্য।

    টলেমি (দ্বিতীয় খ্রিষ্টাব্দ) গঙ্গারিডাই-এর অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, গঙ্গার পাঁচটি মুখ সংলগ্ন প্রায় সমস্ত এলাকা গঙ্গারিডাইগণ দখল করে রেখেছিল,  গাঙ্গে (Gange) নগর ছিল এর রাজধানী। যদিও টলেমি গঙ্গার পাঁচটি মুখের অবস্থানের অক্ষ ও দ্রাঘিমা-সহ নাম উল্লেখ করেছেন, তথাপি সেগুলি সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি মাপ নির্ভুল না হওয়ার কারণে। তবুও তার বর্ণনাকৃত চারটি দ্রাঘিমা ডিগ্রি সমুদ্র উপকূলের সর্বপশ্চিম থেকে সর্বপূর্বের নদীমুখ পর্যন্ত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করছে। কার্যত এর অর্থ হলো ‘গঙ্গারিডাই বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী গঙ্গার সর্বপশ্চিম এবং সর্বপূর্বের নদীমুখ পর্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল।

    কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো যে, ভাগীরথীর (তমলুক-এর নিকটে) এবং পদ্মার (চট্টগ্রামের নিকটে) নদীমুখের দ্রাঘিমা রেখার পার্থক্য ৩.৫ ডিগ্রির সামান্য কিছু বেশি। তাই টলেমির তথ্যানুযায়ী গঙ্গারিডাই-কে শনাক্ত করা যায় বর্তমান ভারতের পশ্চিমবাংলা ও বাংলাদেশে গঙ্গার প্রধান দুটি শাখার মধ্যবর্তী অঞ্চলটিতে। তবে তথ্য অপ্রতুলতার কারণে ‘গাঙ্গে  (Gange) নগরটির অবস্থান শনাক্ত করা যায় না।

    বর্তমান সুন্দরবনের হরিণঘাটাকে ‘গঙ্গে বলে কল্পনা করা হয়। প্রাচীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুরের কালিগঙ্গা নদীর পশ্চিমতীরে এবং পদ্মা বা গঙ্গা নদীর পূর্বতীরে গঙ্গানগর নামে একটি প্রাচীন নগরের অবস্থান বিক্রমপুরের মানচিত্রে সার্ভেয়ার জেনারেল এফআরএস দেখিয়েছেন। পদ্মার দিক পরিবর্তনে নগরটি বিলীন হয়ে গেছে। প্রাচীন বাংলায় স্বর্ণের খনি ছিল বলেও গ্রিক ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন বাংলায় বা বর্তমান বাংলাদেশে কোন সোনার খনি নেই। তবে প্রাচীন বাংলার বিক্রমপুরে সোনারং, স্বর্ণ গ্রাম, সোনারগাঁও, সোনাকান্দ এখনো বিদ্যমান। মহারাজ চৈতন্য গুপ্ত (৫০৭-৫০৮ খ্রিষ্টাব্দ) পূর্ব বাংলা অঞ্চল শাসন করতেন। তিনি বাংলায় স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেন।

    এছাড়া সমাচার দেব নামক বাংলার আরও একজন রাজা স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেছিলেন। বাংলাদেশে যদি স্বর্ণের খনি না থাকতো তা হলে এত স্বর্ণমুদ্রা কীভাবে তৈরি হতো। প্রাচীনকালে বাংলার কোথাও হয়তো স্বর্ণের খনি ছিল। আমাদের সভ্যতার ইতিহাস প্রাচীন ও রোমঞ্চকরও বটে। এসময়ের ইতিহাসবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, সংস্কৃত বঙ্গ থেকে বাংলা শব্দটি আসে এবং আর্যরাও বঙ্গ নামেই ডাকতেন এই অঞ্চলকে। বঙ্গে বসবাসকারী মুসলমানরা এই বঙ্গ শব্দটির সাথে  ফারসি আল প্রত্যয় যোগ করে বলতেন  বাঙালবা বাঙ্গালাহ্। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী ‘আল শব্দের অর্থ জমির সীমা নির্দেশক বাঁধ।

    ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের মতে, “মুসলমান শাসনামলে বিশেষ করে ১৩৩৬ থেকে ১৫৭৬ সাল পর্যন্ত সুলতানি আমলে এবং ১৫৭৬ সালে মোঘলরা বাংলা দখল করার পরে এই অঞ্চলটি বাঙাল বা বাঙালাহ্ নামেই পরিচিতি পায়। তবে বাংলা, বাঙাল বা দেশ এই তিনটি শব্দই ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। কোনটিই বাংলা শব্দ নয়।

    স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলাও বাংলা, আসাম, বিহার, উড়িষ্যার মতো কয়েকটি প্রেসিডেন্সি নিয়ে ‘বঙ্গ নাম দেন। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসকরা নবাবকে ছলনায় হত্যা তথাপি ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলাকে ‘বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি নাম দেয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গে গোটা বাংলা একটি প্রশাসনিক বিভাজন হয়। বঙ্গের পশ্চিম অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্বাংশ পূর্ব-বাংলা। ব্রিটিশ তাদের শাসন গুটিয়ে নিলে ১৯৪৭-র পর পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সাথে যুক্ত হয় ধর্ম বিবেচনায়।

    বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি-র মানচিত্র (রক্তিম অংশ)।

    পাকিস্তানের শোষকেরা এই অঞ্চলের নাম পূর্ব-পাকিস্তান দিতে চাইলে ১৯৫৭ সালে করাচিতে পাকিস্তানের গণপরিষদের তরুণ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান বক্তৃতা দেওয়ার সময় “পূর্ব পাকিস্তান নামটির প্রতিবাদ করে বলেন,

    “পূর্ব-বাংলা নামের একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্য আছে। আর যদি পূর্ব-পাকিস্তান নাম রাখতেই হয়, তাহলে বাংলার মানুষের জনমত যাচাই করতে হবে। তারা নামের এই পরিবর্তন মেনে নিবে কি-না সেজন্য গণভোট নিতে হবে।”

    ১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে নিউক্লিয়াস নামে ছাত্রলীগের একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা পায়। যারা স্বাধীনতার পক্ষে চিন্তাভাবনা করতো। তারা এই অঞ্চলকে বলতেন স্বাধীন পূর্ব-বাংলা।

    স্বাধীনতা আসার আগেও প্রেরণার জ্বলন্ত নাম ‘বাংলা দেশ’।

    ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানেই আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে স্লোগানে ‘বাংলাদেশ ধ্বনি প্রথম প্রস্ফুটিত হয় আন্দোলনকারীদের মুখে বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এরপরই ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন,

    “আমাদের স্বাধীন দেশটির নাম হবে বাংলাদেশ।”

    ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন। পরে শেখ মুজিবুর রহমান ‘বাংলাদেশ’ নামটি প্রস্তাব করলে তাতে সবাই একবাক্যে সায় দেন। এই নাম দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৫২ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বাংলা ভাষা থেকে বাংলা এরপর স্বাধীন দেশের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দেশ। এই দুটো ইতিহাস ও সংগ্রামকে এক করে ‘বাংলাদেশ নামকরণ করা হয়।

    ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর ঘোষণা করেন ‘বাংলাদেশ’। বঙ্গবন্ধুর বাণী সমগ্র

    স্বাধীন হওয়ার আগপর্যন্ত মুখে মুখেই জনপ্রিয় হয় ‘বাংলাদেশ। মনের ভেতরে প্রোথিত হয় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ভাষণে।

    বাংলা অনুবাদ করলে হয়, “ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।

    —শেখ মুজিবুর রহমান

    ২৬ মার্চ ১৯৭১”

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা দলিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র

    সেখানে স্পষ্ট করে পূর্ব-পাকিস্তান বা পূর্ব-বাংলা না বলে ‘বাংলাদেশ বলেছেন। সে সময় স্বাধীন বাংলার বিরোধিতাকারীরা দেশের নামেরও বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তবুও লাভ হয়নি কোনো। বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর সংবিধানেও প্রণীত ও গৃহীত হয় ‘বাংলাদেশ। তবে সীমান্তে একটি দুঃখ থেকে যায় ৪৮ বছর। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘সীমান্ত পিলার থেকে PAKISTAN/PAK লেখা অপসারণ করে BANGLADESH/BD লেখার কার্যক্রম সম্পন্ন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২০১৯ থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কোনো পিলারে PAKISTAN/PAK লেখা নেই; থাকবে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের নাম।

    সীমান্ত পিলারে এখন বাংলাদেশ/বিডি লেখা।

    আর এভাবেই চূড়ান্ত রূপ পায় আমাদের সোনার বাংলাদেশ।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 62 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

কবে থেকে বাংলা ভাষায় ফারসি শব্দের আধিপত্য শুরু হয় ?

  1. allaboutsubha
    allaboutsubha শিক্ষক https://www.youtube.com/allaboutsubha/
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    কথ্য ভাষায় ফারসি শব্দের ব্যবহারকে অনেক বেশি মনস্তাত্ত্বিক বলে মনে করেন ড. মনজুর। তার মতে, বাংলা ভাষায় ফারসি শব্দ বেশি ঢুকেছে মধ্যযুগের শেষদিকে, অর্থাৎ ১৭শ থেকে ১৮শ সালের দিকে।

    কথ্য ভাষায় ফারসি শব্দের ব্যবহারকে অনেক বেশি মনস্তাত্ত্বিক বলে মনে করেন ড. মনজুর। তার মতে, বাংলা ভাষায় ফারসি শব্দ বেশি ঢুকেছে মধ্যযুগের শেষদিকে, অর্থাৎ ১৭শ থেকে ১৮শ সালের দিকে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 61 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

খ্রিস্টান ধর্ম কখন এবং কেন খতনা প্রথা ত্যাগ করেছে?

  1. allaboutsubha
    allaboutsubha শিক্ষক https://www.youtube.com/allaboutsubha/
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    https://www.bbc.com/bengali/articles/cldgxx2wv3vo

    https://www.bbc.com/bengali/articles/cldgxx2wv3vo

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 59 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

ক্যালকুলাসের প্রথম আবিষ্কারক নিউটন নাকি লিবনিজ?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে
    উত্তরটি এডিট করা হয়েছে।

    বিজ্ঞানের হাজার বছরের ইতিহাসে অনেক তত্ত্বই যুগপৎভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে। যেমন- মাইকেল ফ্যারাডে ও জোসেফ হেনরির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন আবিষ্কার ছিল সমসাময়িক। এরপর চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস একই সময়ে ‘প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন’ তত্ত্বের ধারণা প্রদান করেন। এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন

    বিজ্ঞানের হাজার বছরের ইতিহাসে অনেক তত্ত্বই যুগপৎভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে। যেমন- মাইকেল ফ্যারাডে ও জোসেফ হেনরির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন আবিষ্কার ছিল সমসাময়িক। এরপর চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস একই সময়ে ‘প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন’ তত্ত্বের ধারণা প্রদান করেন।

    এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর একটিও আইজ্যাক নিউটন ও গটফ্রেড লিবনিজের ক্যালকুলাস তত্ত্বের মতো বিতর্কিত হয়নি। বর্তমানে নিউটন ও লিবনিজ দুজনকেই ক্যালকুলাসের জনক বলা হয়। কিন্তু একসময় এই তত্ত্ব নিয়ে দুই গণিতবিদ বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। তাদের দুজনের মধ্যে কে সবার আগে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছেন, সেটি ছিল বিবাদের মূল কারণ। এই বিতর্ককে ঘিরে বেশ কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি হয়েছিল, যেটা বেশ কয়েক বছর চলমান ছিল।

    গণিতের বিতর্কিত এক অধ্যায়ের সাথে জড়িয়ে আছে নিউটন ও লিবনিজের নাম
    ব্যারো নামে আইজ্যাক নিউটনের একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ক্যালকুলাস সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু ধারণা প্রদান করেন। কিন্তু তিনি তখন ক্যালকুলাসের তাৎপর্য বুঝতে পারেননি। সেই কারণে তিনি এই বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেননি এবং তার প্রাথমিক ধারণাগুলোও জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি। কিন্তু নিউটন যেহেতু ব্যারোর ছাত্র ছিলেন, সেই সূত্রে তিনি তার শিক্ষকের কাছে থেকে ক্যালকুলাসের সামান্য কিছু ধারণা পান। পরবর্তীতে তিনি তার শিক্ষকের দেয়া ধারণাকে কাজে লাগিয়ে ক্যালকুলাসের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।

    কিন্তু আইজ্যাক নিউটন প্রথম থেকেই কিছুটা প্রচারবিমুখ ছিলেন। তিনি তার আবিষ্কৃত বিভিন্ন তত্ত্ব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন না। একই কাজ তিনি ক্যালকুলাসের ক্ষেত্রেও করেন। সপ্তদশ শতকের ষাটের দশক থেকে তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন এবং ১৬৬৪-৬৬ সালের মধ্যে তিনি ক্যালকুলাসের মূল বিষয়গুলো আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। এরপর নিউটন ১৬৬৯, ১৬৭১ ও ১৬৭৬ সালে ক্যালকুলাস নিয়ে ৩টি আলাদা গবেষণাপত্র লেখেন। কিন্তু তিনি সেগুলোর একটিও সেই সময়ে প্রকাশ করেননি। ১৬৬৯ সালে তিনি যে তত্ত্ব লেখেন, সেটি প্রকাশ হয় ১৭১১ সালে, অর্থাৎ ৪২ বছর পর। দ্বিতীয় গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয় ১৭৩৬ সালে, তার মৃত্যুরও ৯ বছর পর। তবে সর্বশেষ তত্ত্বকোষটি তিনি ১৭০৪ সালে প্রকাশ করেন।

    স্যার আইজ্যাক নিউটন
    অষ্টাদশ শতকের আগে ক্যালকুলাস নিয়ে নিউটনের কোনো তত্ত্বই জনসম্মুখে প্রকাশ হয়নি। তবে ১৬৮৪ সালে লেইপজিগ সাময়িকীতে তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে ‘অ্যাক্টা এরুডিটোরাম‘ নামে একটি অসমাপ্ত গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি তার আবিষ্কৃত তত্ত্বসমূহ গোপনে বন্ধুদের মাঝে চিঠি আকারেও বিলি করতেন। এই চিঠিগুলোর একটি লিবনিজও পেয়েছিলেন। তবে সেই চিঠিতে নিউটন ক্যালকুলাস সম্পর্কে যা লিখেছিলেন, সেটি পুরো অস্পষ্ট ছিল। এছাড়া অনেক বিষয় তিনি ইচ্ছা করে এড়িয়ে যান, যাতে কেউ তার তত্ত্ব চুরি করতে না পারে। অন্যদিকে, সপ্তদশ শতকের সত্তরের দশকের মাঝামাঝিতে লিবনিজও ক্যালকুলাস আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। ১৬৭৪ সালে তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে তার চিন্তাভাবনাকে প্রকাশ করতে শুরু করেন এবং ১৬৮৪ তিনি এই বিষয়ে লিখিত আকারে তত্ত্ব প্রকাশ করেন। কিন্তু তার ছয় পৃষ্ঠার সেই তত্ত্বটি বেশ অস্পষ্ট এবং অনেকের কাছে বোধগম্য ছিল না। তবে সেই সময়ে  ক্যালকুলাস নিয়ে তার তত্ত্বটি সঠিক ছিল।

    গটফ্রেড লিবনিজ

    বিতর্কের আদ্যোপান্ত

    প্রথমদিকে নিউটন ও লিবনিজ দুজনেই একে অপরকে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে সম্মান করতেন। কিন্তু তাদের একজন বন্ধু বিখ্যাত দুই গণিতবিদকে মুখোমুখি দাঁড় করান। ১৬৯৬ সালে লিবনিজের একজন বন্ধু নিউটনকে তার ক্যালকুলাস তত্ত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। তিনি ভেবেছিলেন, নিউটন তার  উত্থাপিত সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। কিন্তু নিউটন ও লিবনিজ উভয়ই সেই সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হন। কিন্তু এই ঘটনার পর লিবনিজ এক প্রবন্ধে নিউটনের এক বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক এবং এ বিষয়ে নিউটন তার শিষ্য। নিউটনের বন্ধু বিষয়টি পুরোপুরি হজম করতে পারেননি। তিনি বেশ রাগের সাথে পূর্বে উত্থাপিত সমস্যার বিচার বিশ্লেষণ তুলে ধরেন এবং পরোক্ষভাবে লিবনিজের বিরুদ্ধে নিউটনের লেখা চুরির অভিযোগ করেন।

    তিনি প্রমাণ হিসেবে বহু বছর আগে লিবনিজের কাছে ক্যালকুলাস নিয়ে নিউটনের পাঠানো চিঠিকে সামনে আনেন। কিন্তু মূলত সেই চিঠিতে নিউটন ক্যালকুলাস নিয়ে নিজের তত্ত্বের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যাই প্রদান করেননি। এরপর বেশ কয়েক বছর এই বিষয়টি চাপা পড়ে ছিল। কিন্তু ১৭০৫ সালে লিবনিজ নিউটনের ক্যালকুলাস সম্পর্কিত কিছু কাজ রিভিউ করে নিজেদের দুজন বিজ্ঞানীর সাথে তুলনা করেন, যারা উন্নততর কিছু আবিষ্কারের উদ্দেশ্য জুটি বেঁধেছিলেন। কিন্তু নিউটনের একজন বন্ধু লিবনিজের এই বিষয়টিকে লেখা চুরির নতুন ফন্দি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। সম্ভবত লিবনিজ যে দুজন বিজ্ঞানীর উদাহরণ টেনেছিলেন, তারা একে অপরের তত্ত্ব চুরি করেছিলেন।

    লন্ডনের বিখ্যাত রয়্যাল সোসাইটি
    এই ঘটনার কিছুদিন পরেই নিউটনের সেই বন্ধু লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি থেকে একটি দলিল প্রকাশ করেন এবং সেখানে তিনি নিউটনকে সন্দেহাতীতভাবে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই সাথে তিনি লেখেন, লিবনিজ নিউটনের তত্ত্ব চুরি করেছেন এবং কিছু কাটছাঁট করে নিজের নামে তা প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি লিবনিজের জন্য ছিল চরম অপমানজনক। তিনি বেশ ক্রুদ্ধ হয়ে রয়্যাল সোসাইটি বরাবর চিঠি লিখে ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু ক্ষমা তো দূরে থাক, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লিবনিজকে প্রতি আক্রমণ করে চিঠি পাঠানো হয় এবং সেখানে তার প্রতি সমস্ত অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জবাবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চেয়ে লিবনিজ আরো একটি চিঠি পাঠান।

    রয়্যাল সোসাইটি লিবনিজের দাবির পক্ষে সাড়া দেয়। তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই সময়ে রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি ছিলেন আইজ্যাক নিউটন। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি সেই কমিটির সদস্য হিসেবে না থাকলেও, তদন্ত কমিটি যে  প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেটি পুরোপুরি তার পক্ষে ছিল। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদনটি নিউটন নিজ হাতে লিখেছিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে তুলে ধরেন এবং লিবনিজ তার তত্ত্ব চুরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে লেখেন।

    এ নিয়ে রয়েছে অনেক রম্য কার্টুন
    লিবনিজ ও তার বন্ধুদের জন্য এটি ছিল অনেক বড় পরাজয়। তারা নিউটনের বিপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করে নিজেদের দাবির পক্ষে লিফলেট প্রকাশ করে প্রচার করেন। এর বেশ কয়েক বছর পরও গণিতশাস্ত্রের অন্যতম সেরা দুই বিজ্ঞানী একে অপরের বিপক্ষে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ অব্যাহত রাখেন এবং পূর্বে প্রকাশিত যুক্তিতর্কগুলো পরিমার্জন করে প্রকাশ করতে থাকেন। এমনকি লিবনিজের মৃত্যুর পরও তার বিরুদ্ধে নিউটনের তত্ত্ব চুরির অভিযোগের উপর বিভিন্ন যুক্তিতর্ক ও প্রমাণ প্রচার করা হয়।

    এত বিতর্কের পরও বিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত নিউটন ও লিবনিজ উভয়কে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে মানা হতো। কিন্তু গত শতাব্দীতে এসে বিজ্ঞানীরা একমত হন যে, নিউটন সর্বপ্রথম ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছেন। তিনি ১৬৬৫-৬৬ সালে দিকে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেন। তবে লিবনিজ নিউটনের সাথে কোনো যোগাযোগ ব্যতিরেকে নিজ প্রচেষ্টায় ১৬৭৫-৭৬ সালে ক্যালকুলাসের মূল নীতিসমূহ আবিষ্কার করেন।

    ক্যালকুলাস বিতর্ক নিয়ে ট্রল
    তবে দিন শেষে প্রকৃত বিজয় হয়েছে লিবনিজেরই। কারণ নিউটন যে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন, সেটি ছিল বড্ড সেকেলে। ফলে সেটি ইতোমধ্যে জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। তবে লিবনিজের ক্যালকুলাস ছিল বাস্তবভিত্তিক। বর্তমানে স্কুল-কলেজে যে ক্যালকুলাস চর্চা করা হয়, তার শতকরা ১০০ ভাগই লিবনিজের আবিষ্কৃত ক্যালকুলাস। ফলে তিনি ক্যালকুলাসের দ্বিতীয় আবিষ্কারক হলেও তার সৃষ্টিকর্মই স্থায়ীত্ব লাভ করেছে।

    বিজ্ঞানের সূচনালগ্ন থেকেই হয়তো নানা বিষয়ে নানা বিজ্ঞানী বা গবেষকের মধ্যে মতামত কিংবা তত্ত্বের অমিল হয়েছে, কিংবা কারো কারো ক্ষেত্রে তাঁদের একজনের গবেষণার সাথে হয়তো আরেকজনের গবেষণা কাজের মধ্যে অনেক মিল লক্ষ করা গেছে। এই নিয়ে হয়তো তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বও হয়েছে বেশ। এরকমটা হতেই পারে। বিজ্ঞানের ইতিহাস ঘাঁটলে এরকম অনেকগুলো তত্ত্ব বা আবিষ্কার পাওয়া যাবে যা নিয়ে হয়তো দুই গবেষক বা বিজ্ঞানীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছে যে, কে সেই তত্ত্ব বা আবিষ্কারের আসল জনক?

    সেরকম এক বিতর্কের জন্ম হয়েছিলো ১৭ শতকে। বিষয় হলো ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক কে এই নিয়ে। যারা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে বা পড়েছে, কিংবা অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন, তারাই ক্যালকুলাস সম্বন্ধে জ্ঞান রাখেন। অনেকের কাছেই গণিতের এই শাখা খুবই জটিল বলে বিবেচিত হয়। তো যে জিনিসের আবিষ্কারক নিয়েই বিতর্ক, সেটা জটিল হলে বেমানান হবে না একেবার। আগের কথায় ফিরে আসা যাক। ১৭ শতকের দিকে বিজ্ঞানী নিউটন ও গণিতবিদ লিবনিজের মধ্যে ইনফিনিটেসিমাল ক্যালকুলাস আবিষ্কার নিয়েই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নিউটন ও লিবনিজ তাঁদের পরবর্তী জীবনে এই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় মোটামুটি একধরনের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে পড়েন।

    মহামতি নিউটন

    বর্তমানে আমরা সাধারণত কোনো গবেষণাপত্র যিনি আগে প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রকাশ করেন, তিনিই হন ঐ গবেষণার স্বত্বাধিকারী। কিন্তু সেসময়ে, অর্থাৎ ১৭ শতকে কিন্তু এই সুযোগ ছিলো না। ফলে সেসময়ে নিউটন এবং লিবনিজের উভয়ের মধ্যে স্বত্বাধিকার নিয়ে ভীতি অবশ্যই ছিলো। আর তাছাড়া সেসময়ে এক গবেষকের লেখা গবেষণাপত্র আরেক নীতিহীন গবেষক হয়তো চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দিতেন। কাজেই নিজেদের গবেষণাপত্র নিয়ে বিজ্ঞানীগণ থাকতেন ভীত।

    গণিতবিদ লিবনিজ

    তো সেসময়ে কে হবেন গবেষণার জনক, এই বিষয়ে নীতি ছিলো যে নিকট বন্ধু কিংবা সহকর্মীর কাছে এই গবেষণার কথা বলা এবং কখনো কখনো নিজের ব্যক্তিগত নোটটিও দেখানো। এখন সেখানেও রচনা চুরির একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। এসবের কারণেই মূলত নিউটন এবং লিবনিজের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। তাঁরা দুজনেই মনে করতেন যে একজন আরেকজনের গবেষণা চুরি করেছেন। চলুন জানা যাক যে আসলে কে আবিষ্কার করলো ক্যালকুলাস; নিউটন? নাকি লিবনিজ?

    ক্যালকুলাসের সূচনা যেখান থেকে

    যদিও এখানে বলা হচ্ছে যে, ক্যালকুলাস আবিষ্কার নিয়ে নিউটন এবং লিবনিজের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিন্তু তাঁরা আসলে কেউই ক্যালকুলাসকে নিজেদের বুদ্ধিমত্তার দ্বারা আবিষ্কার করেননি। কারণ ক্যালকুলাস আবিষ্কৃত হয়েছে আরো অনেক আগে। বরং বলা যায় যে, পূর্বতন গণিতবিদ, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কৃত কাজের শেষ পরিণতি দিয়েছেন নিউটন এবং লিবনিজ। তাঁরা ছড়ানো ছিটানো বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছেন এবং একটি পরিপূর্ণ গণিতভিত্তিক রূপ প্রদান করেছেন।

    প্রাচীনকালের অনেক গণিতবিদের চিন্তাধারাই ইন্টিগ্র্যাল ক্যালকুলাস বা সমাকলনের ধারণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলো। যদিও সেই ধারণা যথাযথ সুসঙ্গত ও নিয়মতান্ত্রিক ছিলো না। খ্রিস্টপূর্ব ১৮২০ সালের দিকে মিশরে (Egyptian Moscow Papyrus) ক্ষেত্রফল ও আয়তন নির্ণয়ের জন্য ক্যালকুলাসের মতোই পদ্ধতি ব্যবহৃত হত। কিন্তু সূত্রগুলো ছিলো গুটিকয়েক বাস্তবসংখ্যার প্রেক্ষিতে, অর্থাৎ বাস্তবিক কোনো সূত্র ছিলো না। কিছু কিছু পদ্ধতি আপেক্ষিকভাবে সঠিক ছিলো, কিন্তু সেগুলোর সঠিক প্রতিপাদনও ছিলো না। খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতকে ভারতীয় উপমহাদেশের গণিতবিদগণ ত্রিকোণমিতিকে অনেক সমৃদ্ধ করেছিলেন যা ‘সুল্বা সূত্র’ নামক গ্রন্থভুক্ত করা হয়। তাঁরা কয়েকটি ত্রিকোণমিতিক ফাংশনের প্রায় সঠিক ডিফারেন্সিয়েশন বা ব্যবকলন করতে সক্ষম হন।

    বৃত্তের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের জন্য আর্কিমিডিসের পদ্ধতি

    গ্রিসে ইউডক্সাস ‘মেথড অব এক্সাশন’ বা অবসাদ পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষেত্রফল ও আয়তন নির্ণয়ের জন্য লিমিট ধারণার সূত্রপাত করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস এই ধারণাকে আরো সুসংবদ্ধ ও উন্নত করেন এবং ‘হিউরিস্টিক’ (ন্যায়শাস্ত্রগত অনুসন্ধানবিদ্যা) প্রণয়ন করেন, যা ছিলো সমাকলনেরই প্রতিচ্ছবি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি বৃত্তের অন্তর্গত ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতে সক্ষম হন। আর্কিমিডিস প্রথম অনিয়মিত বক্ররেখার স্পর্শক নির্ণয়ের জন্য এমন এক পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যা ব্যবকলনের সদৃশ। যখন তিনি সর্পিলাকার বক্ররেখা নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন তিনি পয়েন্ট মোশন বা বিন্দুগতিকে ২টি অংশে ভাগ করেন- (১) ব্যাসার্ধ গতি এবং (২) বৃত্তীয় গতি এবং উভয় প্রকার গতিকে সংযুক্ত করতে থাকেন। এভাবে বক্ররেখাটির স্পর্শক বের করেন।

    চতুর্থ শতকে চীনে লিউ হু কর্তৃক মেথড অব এক্সাশন পুনরাবিষ্কৃত হয়। পঞ্চম শতকে Zu Chongzhi কর্তৃক আরো এক পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়, যা পরবর্তীতে ক্যাভেলিয়ারি’স প্রিন্সিপাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই নীতির সাহায্যে গোলকের আয়তন নির্ণয় করা সম্ভব ছিলো।

    প্রায় ১৭ শতক পর্যন্ত যতদিন না ‘Method of Indivisible’ আবিষ্কৃত হয় এবং সর্বোপরি নিউটন কর্তৃক সমাকলনের কাঠামো হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না হয়, ততদিন বিজ্ঞানীরা একে গ্রহণ করেননি।

    নিউটন? নাকি লিবনিজ?

    নিউটনের শিক্ষক এবং পূর্বসূরী ছিলেন ক্যামব্রিজের গণিত বিভাগের লুকাসিয়ান অধ্যাপক আইজ্যাক ব্যারো। ব্যারো তাঁর ‘জিওমেট্রিক্যাল লেকচারস’ গ্রন্থে ক্যালকুলাসের মৌলিক ধারণার কথা লিখে গেছেন। পরবর্তীতে নিউটন সেই নীতিগুলো সূত্রবদ্ধ করতে শুরু করেন। বিজ্ঞানী নিউটন ছিলেন গবেষণাপত্রের আবিষ্কার নিয়ে যেকোনো ধরনের বিতর্কবিরোধী। কিন্তু এই মনোভাবের ফলেই তিনি আসলে শেষপর্যন্ত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ১৬৬০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিজ্ঞানী নিউটন ক্যালকুলাস সম্বন্ধে তাঁর ধারণাগুলো সূত্রবদ্ধ করা শুরু করেন। ১৬৬৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ‘ফ্লাক্সিওন’ সম্পর্কিত তাঁর তত্ত্ব লিপিবদ্ধ করেন। তিনি এরপর ক্যালকুলাসের উপর বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র তৈরি করেন, কিন্তু তিনি সেগুলো কোথাও প্রকাশ করেননি তখন। ক্যালকুলাস সম্পর্কিত তাঁর অধিকাংশ গবেষণাপত্রই তখন অপ্রকাশিত থেকে যায়, যা প্রকাশিত হয় ১৮ শতকের শুরুর দিকে এসে। কিছু কিছু গবেষণাপত্র তাঁর মৃত্যুর পরেও প্রকাশিত হয়।

    তো গবেষণা ও গবেষণাপত্রের কথা বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, বিজ্ঞানী নিউটন বেশ আগেই ক্যালকুলাস সম্বন্ধে তাঁর গবেষণা ও অনুসন্ধান শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাঁর গবেষণাপত্রগুলো ১৮ শতকের আগে প্রকাশ হয়নি। যদিও তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মীদের তাঁর কাজের সম্বন্ধে বলতেন। এখন ১৬৬৫-৬৬ সালে যখন নিউটন তাঁর ফ্লাক্সিওন তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন, তখন লিবনিজের বয়স ছিলো ২০ বছরের মতো। কাজেই তাঁর তখন গণিতের সত্যিকার জ্ঞান থাকা কিছুটা অসম্ভব। অন্ততপক্ষে ক্যালকুলাসের মতো একটা জটিল শাখা নিয়ে গবেষণা করা তো আরো অসম্ভব। তবে কি লিবনিজ নিউটনের গবেষণার মূল ধারণা চুরি করেছিলেন?

    কে আবিষ্কার করলেন ক্যালকুলাস- নিউটন? নাকি লিবনিজ?

    নিউটনের অনুসারীদের কথা বাদ দিয়ে যদি আমরা নিরপেক্ষ ইতিহাস পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখা যাবে যে আসলে লিবনিজ নিউটনের কোনো তত্ত্ব বা ধারণা চুরি করেননি। তিনি স্বতন্ত্রভাবেই ক্যালকুলাস সম্পর্কে তাঁর ধারণা ও সূত্রসমূহ লিপিবদ্ধ করেন। তিনি এ সম্পর্কে গবেষণা শুরু করেন ১৬৭০ সাল থেকে এবং ১৬৭৪ সালে তিনি এই সম্পর্কে তিনি সবাইকে বলেন। তিনি যে গবেষণাপত্রটি তৈরি করেছিলেন, সেটি প্রকাশিত হয় ১৬৮৪ সালে এসে। অর্থাৎ, প্রায় ১০ বছর পরে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। তাঁর গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিলো ‘A New Method for Maxima and Minima, as Well Tangents, Which is not Obstructed by Fractional or Irrational Quantities’ ৬ পৃষ্ঠার এই গবেষণাপত্রটি ছিলো বেশ অস্পষ্ট এবং দুর্বোধ্য।

    কিন্তু চিন্তার ব্যাপার হচ্ছে যে, একদিকে নিউটন লিবনিজের বেশ কয়েক বছর আগেই তাঁর গবেষণা কাজ লিপিবদ্ধ করেছিলেন কিন্ত সেগুলো প্রকাশ পেয়েছিলো ১৮ শতকে এসে। অন্যদিকে লিবনিজ কাজ শুরু করেছিলেন নিউটনের বেশ কয়েক বছর পরে এসে। অথচ গবেষণাপত্র প্রকাশ করে ফেললেন নিউটনের আগে। ব্যাপারটা এখানে গোলমেলে হয়ে গেলো। কিন্তু নিউটন এবং লিবনিজ উভয়েই স্বতন্ত্রভাবে ক্যালকুলাস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখন নিউটন যেহেতু আগে গবেষণা শুরু করেছিলেন, সেহেতু তাঁকে ধরা হলো প্রথম আবিষ্কারক এবং লিবনিজ ২য় আবিষ্কারক। সেটাও অমীমাংসিত থেকে গেলো। কারণ এখানে দুইজনেই আলাদা আলাদা ভাবে আবিষ্কার করেছে ক্যালকুলাস। কাজেই প্রথম কিংবা দ্বিতীয় বলা হলে তাঁদের কোনো একজনকে হেয় করা হয়। বরং আমরা বলতে পারি তাঁরা দুইজন ক্যালকুলাসের সহ-আবিষ্কারক।

    কিন্তু সেসময়ে মহামতি নিউটনের অনুসারীরা লিবনিজের বিরুদ্ধে গবেষণা চুরির অভিযোগ করেন। কেউ কেউ তাঁকে জার্মানির একজন বৈজ্ঞানিক গুপ্তচর হিসেবেও আখ্যায়িত করেন, যিনি কিনা জার্মানির বাইরের বিজ্ঞানীদের গবেষণা চুরি করে জার্মানিতে নিয়ে যান। লিবনিজ লন্ডনে এসেছিলেন কয়েকবার। এই ঘটনাকে তাঁরা গুপ্তচরবৃত্তির কারণ হিসেবেও দেখালেন নিউটনপন্থীরা। এভাবে ১৭ শতকের শেষের দিকে এসে এই দুই বিজ্ঞানী ক্যালকুলাস আবিষ্কার নিয়ে দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হন।

    এই বিতর্ক খুব জটিল হয়ে ওঠে একসময়। কিন্তু নিউটন সম্পর্কে লিবনিজ বলেন যে,

    “পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে নিউটনের সময় পর্যন্ত গণিতকে নিয়ে নিউটন যে পর্যায়ে গণিতকে উন্নত করেছেন, সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং অপেক্ষাকৃত বেশি গ্রহণযোগ্য”

    নিউটনের কাছে লেখা লিবনিজের চিঠি

    লিবনিজ মাঝে মধ্যেই লন্ডনে আসতেন। নিউটন তাঁর গবেষণা সম্বন্ধে তাঁর নিকট বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে যে কথা বলতেন সে সম্পর্কে আগেই বলা হয়েছে। এঁদের অনেকেই ছিলো লিবনিজের ঘনিষ্ঠ। কাজেই নিউটনের অনুসারীরা মনে করেন যে লিবনিজ এঁদের কাছে ক্যালকুলাস সম্পর্কে নিউটনের কাজ সম্বন্ধে জেনেছেন। মজার ব্যাপার হলো, নিউটন এবং লিবনিজের মাঝে একসময় চিঠির আদান-প্রদান হতো নিয়মিত। তাঁরা তাঁদের চিঠিতে গণিত সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা করতেন। নিউটন চিঠিতে লিবনিজকে তাঁর গবেষণা সম্বন্ধেও জানাতেন। যা-ই হোক, লিবনিজের অপ্রকাশিত গবেষণাপত্র পরীক্ষা করে জানা যায় যে নিউটনের সাথে সাহচর্য থাকার পরেও তিনি ক্যালকুলাসের গবেষণা করেছেন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, যেখানে নিউটনের গবেষণার প্রভাব নেই।

    লিবনিজ যখন গণিতের একজন শিক্ষানবিশ, তখন তিনি লন্ডনে আসেন। সেখানে তিনি নিউটনের সম্বন্ধে অল্প অল্প শোনেন। যদিও তিনি সরাসরি তখন নিউটনের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। কিন্তু রয়্যাল সোসাইটিতে নিউটনের দুজন বিশেষ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, হেনরি ওল্ডেনবার্গ এবং জন কলিনসের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তখনো নিউটনের কাজ প্রিন্ট মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। কাজেই লিবনিজ নিউটনের কাজ চাক্ষুষ দেখেননি। হতে পারে যে তিনি ওল্ডেনবার্গ ও কলিনসের আছে নিউটনের কাজ সম্পর্কে শুনেছিলেন।

    লিবনিজ লন্ডন থেকে আইজ্যাক ব্যারোর ‘জিওমেট্রিক্যাল লেকচারস’ বইটি কিনে নিয়ে আসেন। পূর্বেই বলা হয়েছে যে ব্যারো ছিলেন নিউটনের শিক্ষক। তিনি এই বইতে ট্যানজেন্ট সম্পর্কে তাঁর ধারণা ও সূত্র লিপিবদ্ধ করেন যা মূলত ডিফারেন্সিয়াল ক্যালকুলাসের সাথে সম্পর্কিত। কাজেই নিউটনের অনুসারীরা লিবনিজকে এই দোষেও দোষারোপ করে যে তিনি ব্যারোর বই থেকে সাহায্য নিয়েছেন। অন্যদিকে লিবনিজের অনুসারীরা বলে যে, লিবনিজ এই বই পড়ার আগেই ক্যালকুলাস সম্বন্ধে গবেষণা শুরু করেছিলেন।

    ১৬৭৬ সালের জুন মাসে নিউটন ওল্ডেনবার্গের কাছে একটি চিঠি লেখেন। এই চিঠিতে তিনি তাঁর দ্বিপদী উপপাদ্য সম্পর্কে বিবৃত করেন, যেখানে তিনি দেখান যে সকল রাশিকে অসীম সংখ্যক অংশে বিভক্ত করা যায়। তিনি এই সূত্রানুসারে বলেন যে, সকল বক্ররেখাকেও অসীম সিরিজে ভাগ করা যায় এবং এর সাহায্যে পদার্থের ক্ষেত্রফল, দৈর্ঘ্য, আয়তন ও এর পৃষ্ঠতল পরিমাপ করা যায়। এই চিঠিতে নিউটন ফ্লাক্সিওন সম্পর্কে কিছুই লিখেননি। যেহেতু তিনি এই সম্পর্কে কোনো কিছুই জানাননি চিঠিতে, কাজেই গাণিতিক ধারা সম্পর্কে তাঁর কাজ এবং লিবনিজ তাঁর নিজের কাজের মধ্যে তেমন কোনো মিল পেলেন না। তিনি নিউটনকে চিঠি লিখলেন এই সম্পর্কে।

    এই প্রতিউত্তরে লিবনিজ ধারা সম্পর্কে তাঁর কৃত কাজের বর্ণনা দিলেন এবং প্রথম চিঠিতে নিউটন আসলে ঠিক কোন বিষয়ে মতামত দিয়েছেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে জানাতে বললেন। নিউটন এই চিঠির প্রতিউত্তরে জানালেন যে, তিনি ট্যানজেন্ট অংকনের একটি সাধারণ সূত্র আবিষ্কার করেছেন এবং ম্যাক্সিমা-মিনিমা নির্ণয় করারও পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। গবেষণার বাকি বিষয়ে তিনি জানাতে চান না।

    লিবনিজের ব্যক্তিগত নোটে দেখা যায় যে তিনি ইন্টিগ্রেশনে জন্য বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করেন, যা এখনো ব্যবহার হচ্ছে

    ১৭১৫ সালে, লিবনিজের মৃত্যুর প্রায় বছরখানেক আগে, লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি স্যার আইজ্যাক নিউটনকে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে ঘোষণা করে। এটাও বলা হয় যে, লিবনিজ নিউটনের কতিপয় চিঠি ও গবেষণার প্রেক্ষিতে ক্যালকুলাস নিয়ে গবেষণা করেন। এর বেশ কয়েক বছর পরে লিবনিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় রয়্যাল সোসাইটি নিউটন ও লিবনিজ উভয়কেই ক্যালকুলাসের স্বতন্ত্র আবিষ্কারক হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু তখন লিবনিজ আর জীবিত নেই।

    প্রকৃতপক্ষে লিবনিজের মৃত্যুর পরও এই নিয়ে অনেক বিতর্ক তখনো থেকে গিয়েছিলো। এমনকি নিউটন এবং তাঁর অনুসারীরা লন্ডনের কূটনৈতিক পৌরসভায় তাঁর গবেষণার পাণ্ডুলিপি ও লিবনিজের কাছে পাঠানো চিঠি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রস্তাব দেন। লিবনিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিলো এই যে, তিনি ক্যালকুলাসে বিকল্প চিহ্নের ব্যবহার করেন। তিনি সমাকলনের জন্য S এর বর্ধিত রূপ এবং ব্যবকলনের জন্য d চিহ্নের ব্যবহার করেন, যা এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে জোহান বার্নোলি আবার লিবনিজের পক্ষ নিয়ে নিউটনের কাজের সমালোচনা করেন এবং বলেন যে নিউটন লিবনিজের গবেষণার ধারণা চুরি করেছেন। তিনি একটি প্রতিযোগিতামূলক সমস্যার অবতারণা করেন যা ব্র্যাকিস্টোক্রোন প্রব্লেম নামে পরিচিত। এই সমস্যা তিনি প্রেরণ করেন নিউটনের কাছে। এই সমস্যার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন লিবনিজ। সেই প্রতিবেদনে তিনি লেখেন যে যারা ‘তাঁদের’ গবেষণার সাথে পরিচিত কেবল তাঁরাই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

    এখানে ‘তাঁদের’ শব্দের অবতারণা করার কারণে একটি নতুন চরিত্রের উদয় হয়। সেই চরিত্রটি ছিলো ফ্যাটিও ডি ডুইলার, একজন সুইস গণিতবিদ। ইনি পূর্বে লিবনিজ এবং হাইগেনস এর কয়েকটি কাজে তাঁদের সহযোগী ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি লিবনিজের বিক্ষেপিত আচরণের কারণে নিউটনীয় দলে যোগ দেন। লিবনিজপন্থীরা মনে করেন যে, নিউটন ডুইলারের থেকে লিবনিজের কাজ সম্বন্ধে জেনেছেন। কিন্তু ডুইলার বলেন যে, ক্যালকুলাস সম্বন্ধে নিউটনের কাজ মৌলিক এবং নিউটন লিবনিজের আগেই সেটি আবিষ্কার করেন। এভাবে এই বিতর্ক আসলে জটিল হতে শুরু করে। কারণ একদিকে নিউটনপন্থীরা, অন্যদিকে লিবনিজপন্থীরা। তারা একদল আরেকদলকে দোষারোপ করতে থাকেন।

    দুজনের কাজ একই বিষয়ে হলেও কাজের পথ এবং ফলাফল ছিলো আলাদা

    এখন গণিতবিদ ও গবেষকদের গবেষণায় দেখা যায় যে, নিউটন তাঁর আবিষ্কৃত পদ্ধতির দ্বারা কোনো বক্ররেখার অন্তর্গত ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতে পারতেন। তাঁর এই গবেষণার মূলভিত্তি ছিলো গতি (Motion)। তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে গবেষণা শুরু করেন মূলত পদার্থবিজ্ঞানে কাজের লাগানোর জন্য। অন্যদিকে লিবনিজ নিজের গবেষণার ক্ষেত্রে গতিকে ব্যবহার করেননি, বরং ব্যবহার করেছেন যোগ ও বিয়োগের ধারণাকে। তাঁর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় জ্যামিতির ক্ষেত্রে।

    তো শেষপর্যন্ত এতসব দ্বন্দ্ব-বিরোধ-বিতর্কের পর রয়্যাল সোসাইটি নিউটন এবং লিবনিজ উভয়কেই স্বতন্ত্রভাবে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেন। যদিও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী সমাজ নিউটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং তাঁরা প্রায় এক শতক পর্যন্ত নিজেদের আত্মমর্যাদার কারণে লিবনিজের গবেষণা গ্রহণ করেননি। তাঁরা শুধুমাত্র নিউটনের গবেষণাকেই গ্রহণ করেছিলেন এবং লিবনিজের তত্ত্বকে গ্রহণ করেননি। তাঁরা কেবল নিউটনের গবেষণারই চর্চা করতেন। যদিও পরবর্তীতে তাঁরা লিবনিজের কাজকে স্বীকৃতি দেন। কিন্তু এখনো ক্যালকুলাস কে আবিষ্কার করেছেন, এ নিয়ে নিউটনপন্থী ও লিবনিজপন্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকেই গেছে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 59 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা ব্ল্যাক ডেথের ইতিহাস কি?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    ব্ল্যাক ডেথ : মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা ব্ল্যাক ডেথ ছিল ‘বিউবোনিক প্লেগের’ একটি বিধ্বংসী বৈশ্বিক মহামারী, যা ১৩শ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় আঘাত হানে। ১৩৪৭ সালের অক্টোবর মাসে ‘প্লেগ’ প্রথম ইউরোপে এসে পৌঁছায়। যখন সমুদ্রপথ থেকে ১২ টি জাহাজ মেসিনার সিসিলিয়ান বন্দেরে নোঙর ফেলে। জাহাজে অবসবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing ব্ল্যাক ডেথ : মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা

    ব্ল্যাক ডেথ : মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা

    ব্ল্যাক ডেথ ছিল ‘বিউবোনিক প্লেগের’ একটি বিধ্বংসী বৈশ্বিক মহামারী, যা ১৩শ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় আঘাত হানে। ১৩৪৭ সালের অক্টোবর মাসে ‘প্লেগ’ প্রথম ইউরোপে এসে পৌঁছায়। যখন সমুদ্রপথ থেকে ১২ টি জাহাজ মেসিনার সিসিলিয়ান বন্দেরে নোঙর ফেলে। জাহাজে অবস্থানরত লোকেদের তখন বিস্ময়ের সাথে দেখা হচ্ছিল। জাহাজের বেশিরভাগ নাবিকই মারা গিয়েছিল এবং যারা এখনও জীবিত ছিল তারা গুরুতর অসুস্থ ছিল এবং তাদের পুরো শরীর কালো ফোঁড়ায় আবৃত ছিলো যা দিয়ে ক্রমাগত রক্ত এবং পুঁজ বের হচ্ছিল।
    সিসিলিয়ান কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে বন্দর থেকে এই ‘মৃত্যুবাহী জাহাজ’ এর বহরের আদেশ দিয়েছিল, কিন্তু তা করতে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল। আর যার ফল হিসেবে আগামী ৫ বছরে, ব্ল্যাক ডেথ ইউরোপে ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। যা তখনকার ইউরোপ মহাদেশের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ!


    প্লেগের শুরু কখন হয়েছিল?

    সিসিলিয়ান বন্দরের সেই ‘মৃত্যুবাহী জাহাজ’ এর অনেক আগেই অনেক ইউরোপীয়রা ‘মহা মহামারী’ সম্পর্কে গুজব শুনেছিল। যা নিকটবর্তী এবং দূর প্রাচ্যের বাণিজ্য রুট জুড়ে একটি মারাত্মক ভয় সংকীর্ণতা কাজ করছিল বণিকদের মধ্যে।
    প্রকৃতপক্ষে ১৩৪০ এর দশকের গোড়ার দিকে, এই রোগটি সর্বপ্রথম চীন, ভারত, পারস্য, সিরিয়া এবং মিশরে আঘাত হেনেছিল।

    প্লেগের উৎপত্তি এশিয়ায় আজ থেকে ২০০০ বছর আগে হয়েছিল বলে মনে করা হয় এবং সম্ভবত এটি কোনো ব্যবসায়িক জাহাজের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, যে ব্ল্যাক ডেথের জন্য দায়ী ‘প্যাথোজেনটি’ ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের প্রথম দিকে ইউরোপেই বিদ্যমান থাকতে পারে

    প্লেগের লক্ষ্মণ

    ব্ল্যাক এর ভয়াবহতা মোকাবেলা করতে তখন খুব কম ইউরোপীয়রাই সতর্ক সচেতন ছিলো।

    ইতালিয়ান কবি ‘জিওভান্নি বোকাসিও লিখেছেন

    পুরুষ ও মহিলা উভয়ই সমানভাবে সংক্রমিত হচ্ছে, অসুখের শুরুতে শরীরের কিছু ফুলে যায়, (বিশেষকরে কুঁচকিতে বা বগলের নীচে)
    ফুলা অংশটি কারো কারো আপেল সাইজের, আবার কারো ক্ষেত্রে ডিম আকৃতির, কোনোটা বেশি আবার কোনোটা কম, আর এগুলোর নাম প্লেগ ফোঁড়া।

    এই অদ্ভুত ধরনের ফোলাগুলি থেকে ক্রমাগত রক্ত এবং পুঁজ বের হতো, আর এর সঙ্গে যুক্ত হতো জ্বর, ঠাণ্ডা, বমি, ডায়রিয়া, ভয়ানক মাথা ব্যথা এবং সবশেষে হতো মৃত্যু।

    বিউবোনিক প্লেগ ‘লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে’ আক্রমণ করে, যার ফলে ‘লিম্ফ নোডগুলি’ ফুলে যায়। যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে এর সংক্রমণ খুব দ্রুত রক্ত বা ফুসফুসে ছড়িয়ে পরে

    প্লেগ কিভাবে ছড়িয়ে পড়লো?

    বিউবোনিক প্লেগ ভয়ঙ্কররকম সংক্রমক ছিলো। জিওভান্নি বোকাসিও লিখেছেন,
    মমে হয় এটা কোনো সুস্থ মানুষ কোনো প্লেগ আক্রান্তের জামা কাপড় ছুলে সেও সংক্রমিত হয়ে যায়। এমনও দেখেছি কোনো সংক্রমিত ব্যাক্তি রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে বেশ সুস্থ ছিল কিন্তু ভোর বেলায় জানা গেলো সে আর বেঁচে নেই!

    আজ, বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন যে ‘ব্ল্যাক ডেথ’, যা এখন প্লেগ নামে পরিচিত,তা মূলত ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামক ব্যাসিলাস দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে। (ফরাসি জীববিজ্ঞানী ‘আলেকজান্ডার ইয়ারসিন’ ১৯ শতকের শেষের দিকে এই জীবাণুটি আবিষ্কার করেছিলেন)

    বিউবনিক প্লেগ হল Xenopsylla cheopis নামক সংক্রমিত ফ্লির কামড়ের ফলে সৃষ্ট লসিকাতন্ত্রের একটি সংক্রমণ। খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে যেমন সেপটিসেমিক প্লেগ, সরাসরি সংক্রমিত টিস্যু বা আরেকজন সংক্রমিত ব্যক্তির কফের সংস্পর্শে আসলে রোগটি ছড়াতে পারে। মক্ষিকাটি গৃহ ও ক্ষেতের ইঁদুরের দেহে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং তার পোষকটি মারা গেলে আরেকটি শিকারের সন্ধান করে। ব্যাক্টেরিয়াটি মক্ষিকার কোনো ক্ষতি করে না যা এক পোষক থেকে আরেক পোষকে জীবাণুর বিস্তারে সহায়তা করে।

    ব্যাসিলাস বাতাসের মাধ্যমে এমনকি সংক্রামিত মাছি এবং ইঁদুরের কামড়ের মাধ্যমে একজন থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। এই উভয় ধরনের কীটপতঙ্গ মধ্যযুগীয় ইউরোপের প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যেত। তবে এরা বিশেষত সব ধরণের জাহাজে বাড়িতেই ছিল। ফলে এই প্লেগ গুলো শুরতে বন্দর শহরগুলো থেকেই ছড়াতে আরম্ভ করে।

    মেসিনাতে প্রথম সংক্রমণ শুরু হওয়ার কিছুদিন পরেই ‘ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ’ ফ্রান্সের মার্সেই বন্দর এবং উত্তর আফ্রিকার তিউনিস বন্দরে ও ছড়িয়ে পড়ে। তারপর এটি রোম এবং ফ্লোরেন্সে পৌঁছেছে,যা ছিলো বাণিজ্য রুটের একটি বিস্তৃত ওয়েবের একদম কেন্দ্রে অবস্থিত দুটি শহর। ১৩৪৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে, ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ প্যারিস, বোর্দো, লিয়ন এবং লন্ডনেও সংক্রমণ হয়েছিল।

    আজকের এই সময়ে প্রযুক্তির এতো উন্নয়নের পরও আমরা করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে কতোটা বেগ পেতে হচ্ছে। একবার ভাবুন ৬০০ বছর আগে সেসময়কার অবস্থা কতটা ভয়ঙ্কর ছিল!

    ব্ল্যাক ডেথ কীভাবে একজন রোগী থেকে অন্য রোগীতে সংক্রমিত হযচ্ছিল তা কেউই জানত না এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা যায় তাও কেউ জানত না।

    সেসময়কার একজন ডাক্তারের দেওয়া একটি বক্তব্য শুনুন,

    মাত্রই মৃত্যু হওয়া ব্যাক্তির দিকে তাকালে মনে হতো সেই অসুস্থ ব্যাক্তিরই আত্মা তার পাশে থাকা সুস্থ মানুষটির শরীরের ঢুকে যাচ্ছে আর সুস্থ মানুষটিও প্লেগে সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছে।

    কিভাবে প্লেগের চিকিৎসা করতো?

    তখন চিকিৎসকরা অশোধিত এবং অপ্রত্যাশিত কৌশলগুলির উপর নির্ভর করতেন যেমন রক্তপাত এবং ফোঁড়াগুলো কে সুচ বা কাপড় দিয়ে গেলে ফেলতো (এই অভ্যাসগুলি বিপজ্জনক এবং অস্বাস্থ্যকর ছিল)। এছাড়াও কুসংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড ও প্রচলওত ছিলো, যেমনঃ- সুগন্ধযুক্ত ভেষজ পোড়ানো এবং গোলাপজল বা ভিনেগারে গোসল করা।

    এই পোশাক আর মুখোশ পড়ে ডাক্তাররা চিকিৎসা করতে আসতো

    এদিকে এই আতঙ্কের মধ্যে, সুস্থ লোকেরা অসুস্থদের এড়াতে তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল। ডাক্তাররা রোগী দেখতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল; পুরোহিতরা মৃতের শেষকৃত্য পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি করেছিলেন; এবং দোকানিরা তাদের দোকান বন্ধ করে দিয়েছিল, অনেকে বাঁচতে নিজের রক্তের মানুষদেরও ত্যাগ করেছিল।
    অনেক লোক শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চলে পালিয়েছিল, কিন্তু সেখানেও তারা এই রোগ থেকে বাঁচতে পারেনি। শুধু মানুষ নয়! গরু, ভেড়া, ছাগল, শুকর এবং মুরগিরাও সংক্রমিত হয়েছিল। সেসময় এতো ভেড়া সংক্রমিত হয়েছিলো যে পুরো ইউরোপ জুড়ে উলের সংকট তৈরি হয়েছিল।

    ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ কি স্রষ্টার শাস্তি?

    সেসময়ের মানুষজন বায়োলজি সম্পর্কে জ্ঞান ছিলো না। অনেক লোক বিশ্বাস করেছিল যে ‘ব্ল্যাক ডেথ বা কালো মৃত্যু’ হল এক ধরনের ঐশ্বরিক শাস্তি। লোভ, পরনিন্দা, ধর্মদ্রোহিতা, ব্যভিচার এর মতো পাপ বেড়ে যাওয়ায় স্রষ্টা এই শাস্তি দিয়েছে।

    এই যুক্তি দ্বারা, প্লেগ কাটিয়ে ওঠার একমাত্র উপায় ছিল ঈশ্বরের ক্ষমা লাভ করা। কিছু লোক বিশ্বাস করত যে এটি করার উপায় হল তাদের সম্প্রদায়কে বিধর্মী এবং অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টিকারীদের থেকে মুক্ত করা। ফলে তারা ১৩৪৮-১৩৪৯ সালে হাজার হাজার ইহুদিকে গণহত্যা করা হয়েছিল।

    ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ এর শেষ কিভাবে হয়েছিল?

    প্লেগ সত্যিই শেষ হয় নি এবং এটি কিছু বছর পর পরই ফিরে আসে। তবে বন্দর নগরী কর্মকর্তারা আগত নাবিকদের কিছুদিন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখে এর বিস্তারকে ধীর করতে সক্ষম হয়েছিলেন যতক্ষণ না এটি স্পষ্ট হয় যে তারা রোগটি বহন করছে না।
    নাবিকদের প্রাথমিকভাবে তাদের জাহাজে ৩০ দিন ধরে রাখা হয়েছিল (একটি ট্রেন্টিনো),একসময় সময়কাল ৪০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এই ৪০ কে ইতালিয়ান ভাষায় বলা হয় ‘কোয়ারিন্টিন’ আর কোয়ারেন্টাইন শব্দটি এখান থেকেই এসেছে। যা আজও ব্যবহৃত হয়।

    প্লেগ কি এখনও আছে?

    ব্ল্যাক ডেথ মহামারীটি ১৩৫০ এর দশকের গোড়ার দিকেও তার তান্ডব চালিয়েছিল। ১৩৫০ এর পর এর ভয়াবহতা কমে গেলেও এর পরবর্তী কয়েক শতাব্দী প্লেগ পুনরায় আবির্ভূত হয়েছিল। আধুনিক স্যানিটেশন এবং জনস্বাস্থ্য অনুশীলনগুলি এই রোগের সংক্রমণ কে ব্যাপকভাবে প্রশমিত করেছে কিন্তু এটি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।।

    অবশ্য এখন ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এখনও প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ১০০০ থেকে ৩০০০ টি প্লেগ রোগের ঘটনা পাওয়া যায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 59 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

কোন এক সময়ে আলুকে মনে করা হতো শয়তানের আপেল, কেনো ?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    আজকের দিনে আলু ছাড়া জীবন অসহায়। যে কোনো খাবারের আলুর মিশ্রণ থাকবেই। তবে শুনে হয়তো অবাক হবেন ইউরোপীয়রা একটা দীর্ঘ সময় আলু খেতে ভয় পেতো। আপনার মন কি এ ব্যাপারে জানতে খচমচ করছে? চলুন একটু ইতিহাসের পাতায় ডুব দেই… ইতিহাসের পাতা উল্টােলে দেখায় যায় আলুর উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১০ হাজার বছর আগে দক্ষিণবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing আলুর ইতিহাস: আলুকে মনে করা হতো শয়তানের আপেল

    আজকের দিনে আলু ছাড়া জীবন অসহায়। যে কোনো খাবারের আলুর মিশ্রণ থাকবেই। তবে শুনে হয়তো অবাক হবেন ইউরোপীয়রা একটা দীর্ঘ সময় আলু খেতে ভয় পেতো। আপনার মন কি এ ব্যাপারে জানতে খচমচ করছে? চলুন একটু ইতিহাসের পাতায় ডুব দেই…

    ইতিহাসের পাতা উল্টােলে দেখায় যায় আলুর উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১০ হাজার বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার পেরুতে।

    ১৬ শতকে স্প্যানিশরা এই আলুকে সর্বপ্রথম ইউরোপে নিয়ে আসে। তবে আলু খাওয়া শিখতে ইউরোপীয়দের লেগে গেছে ২ শতাব্দী! ১৮ শতকে আলু ইউরোপে প্রচুর জনপ্রিয় হয়ে উঠে, সাথে এই গ্রহের প্রধান খাদ্যর একটি।

    শুরুতে, আলু জনপ্রিয় ছিল না। মানুষজনের আলুকে এড়িয়ে যাওয়ার অনেক কারণ ছিল।উদাহরণস্বরূপ বলা যায় স্প্যানিশরা বিশ্বাস করত যে আলু তাদের জন্য অযোগ্য এবং শুধুমাত্র নেটিভ আমেরিকানদের খাওয়া উচিত।

    অনেকে আবার বিশ্বাস করতো আলুগুলো খ্রিস্টান নয়। এগুলো খেলে পাপ হবে।
    হাসি পাচ্ছে এসব শুনে?
    তাহলে আরো শুনুন, রাশিয়ানরা এই আলুকে বলতো শয়তানের আপেল! চমকে যাচ্ছেন? চমকে যাবার মতোই তথ্য বটে।
    যেহেতু আলু মাটির নিচে জন্মাতো তাই রাশিয়ানদের মনে এমন উদ্ভট চিন্তা ভর করেছিল, শয়তানের আপেল খাওয়া মানে শয়তান কে সঙ্গ দেওয়াই তাই রাশিয়ানরা আলু থেকে সবসময় দূরেই রেখেছে।

    ফ্রান্সে ১৭৪৮ সাল থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত আলু অবৈধ ছিল। ফরাসিরা বিশ্বাস করতো আলু মানুষের শরীরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে কুষ্ঠ রোগ!



    ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেণ্ট ভ্যানগগ এর বিখ্যাত চিত্রকর্ম আলু খাদক
    ইউরোপে দীর্ঘ একটা সময় আলু কেবল পশু প্রাণীদের খাদ্য ছিলো। খাদ্য হিসেবে প্রাণীদের এটা বেশ পছন্দের ছিল।
    অল্প জায়গায় অধিক ফলনের ফলে বিশেষ করে ১৮ ও ১৯ শতকে কোটি মানুষকে ক্ষুধা থেকে মুক্তি দিয়েছে আলু। আর সময় বাড়ার সাথে সাথে আলু হয়ে উঠেছে মানুষের রন্ধনপ্রণালীর একটি প্রধান উপাদান।

    আলু প্রতি একরে ১৪ মিলিয়ন ক্যালরি দেয় যেখানে গম দেয় ৪ মিলিয়ন ক্যালোরি। ক্যালোরি ছাড়াও, তাদের প্রচুর প্রোটিন, ফাইবার এবং এমনকি ভিটামিন সি রয়েছে।

    দেহকে শক্তিশালী করতে বিশেষ করে প্লীহা আর পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা বাড়াতে আলু বিশেষ কার্যকর। এছাড়াও বৃক্কের কার্যক্ষমতায় ঘাটতির সমস্যায় এই উদ্ভিদ কাজে লাগে। রাতকানা রোগের ক্ষেত্রেও এর উপকারিতা লক্ষ করা যায়। সে ক্ষেত্রে রোগীকে প্রাণীর, বিশেষ করে খাসির কলিজার সাথে মিষ্টি আলু খাওয়াতে হয়। গ্রামে, এমন কি শহরেও আগুনে পুড়িয়ে কিছুটা পোড়া পোড়া করে মিষ্টি আলু খাওয়ার প্রচলন আছে। এই পদ্ধতি সাধারণ সর্দি-কাশির উপশমে কার্যকর।

    প্রুশিয়ান (বর্তমানে এটি জার্মানির একটি অঙ্গরাজ্য) রাজা ফ্রেডেরিক দ্য গ্রেট (১৭১২-১৭৮৬) এবং ফরাসি ফার্মাসিস্ট আন্টোইন পারমেন্টিয়ার (১৭৩৭-১৮১৩) সর্বপ্রথম আলুর উৎপাদন ও সম্ভাবনা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্ররিশ্রম করেছেন। তারা মানুষের মধ্যে আলুর সম্পর্কে থাকা ভুল ধারণা গুলো ভাঙতে চেয়েছিলেন।

    রাজা ফ্রেডেরিক দ্য গ্রেট আলু চাষের জন্য আদেশ জারি করেছিলেন,এজন্য তিনি ‘পটেটো কিং’ উপাধি মানু আলু রাজা ডাকনাম অর্জন করেছিলেন। নিজেকে “আলু রাজা” ডাকনাম অর্জন করেছিলেন।

    রাজা ফেড্রিক আলু চাষের তদারকি করছেন
    ফরাসি সেনাবাহিনীর ফার্মাসিস্ট এন্টোইন পারমেন্টিয়ার সাত বছরের যুদ্ধে (১৭৫৬-১৭৬৩) প্রুশিয়ানদের দ্বারা বন্দী হন। কারাগারে থাকাকালীন, তাকে আলু খাওয়ানো হয়েছিল এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে আলু মোটেও বিষাক্ত নয়। মুক্তি পেয়ে ফ্রান্সে ফিরে আসার পর, আলুর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করা তার লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

    ফার্মাসিস্ট এন্টোইন পারমেন্টিয়ার 
    পারমেন্টিয়ার বেশ কিছু কৌশল ব্যবহার করেছিলেন যেমন আলুর চাষ বাড়ানো এবং আলু ক্ষেত পাহারা দেওয়ার জন্য সৈন্য নিয়োগ করা। যাতে লোকজনের মনে হতে থাকে আলু খুবই মুল্যবান একটি খাদ্য।

    এমনকি তিনি বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের মতো উল্লেখযোগ্য অতিথিদের সাথে বিখ্যাত ডিনারের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে খাবার হিসেবে শুধুমাত্র আলু পরিবেশন করা হয়েছিল

    আলু সম্পর্কে প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের এমন ধ্যানধারনা হওয়ার মূল কারণ ছিলো, এটি সম্পূর্ণ এককালে ফ্রান্সে, আলু অবৈধ ছিল। আজকাল, তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় আলুর খাবারের নাম ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।

    জাতিসংঘ এফএও-এর রিপোর্ট মতে সারা পৃথিবীতে আলু উৎপাদন ২০১৩ সালে ছিল ৩৬৮ মিলিয়ন টন। একজন ব্যক্তি প্রতিবছর প্রায় ৩৩ কেজি আলু খায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 57 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

কীভাবে হয় লিপ ইয়ার ? এর ইতিহাস কী, ফেব্রুয়ারিতেই কেন লিপ ইয়ার?

  1. allaboutsubha
    allaboutsubha শিক্ষক https://www.youtube.com/allaboutsubha/
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ, মানে যে বছরে থাকে একটা অতিরিক্ত দিন। কিন্তু পুরোপুরি জ্যোর্তিবিজ্ঞানের কারণেই ২৯ ফেব্রুয়ারি ‘লিপ ডে’ হলেও, এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক আগ্রহ বেশ কমই দেখা যায়। কীভাবে হয় লিপ ইয়ার, এর ইতিহাস কী, আর ফেব্রুয়ারিতেই কেন? এই একটি দিন ঘিরে আছে এমন নানা প্রশ্ন। সে সবের উত্তর খোঁজা যাক- ১. লিপ ইয়বিস্তারিত পড়ুন

    লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ, মানে যে বছরে থাকে একটা অতিরিক্ত দিন। কিন্তু পুরোপুরি জ্যোর্তিবিজ্ঞানের কারণেই ২৯ ফেব্রুয়ারি ‘লিপ ডে’ হলেও, এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক আগ্রহ বেশ কমই দেখা যায়।

    কীভাবে হয় লিপ ইয়ার, এর ইতিহাস কী, আর ফেব্রুয়ারিতেই কেন? এই একটি দিন ঘিরে আছে এমন নানা প্রশ্ন। সে সবের উত্তর খোঁজা যাক-

    ১. লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত দিনটা জরুরি আমাদের সৌরজগতের ‘বিশৃঙ্খল’ অবস্থার জন্যই। কারণ এক বছরে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে একটা সম্পূর্ণ কক্ষপথ ঘুরে আসতে কিন্তু ঠিক পুরোপুরি ৩৬৫ দিন লাগে না। বরং সব মিলে সময়টা ৩৬৫.২৪২২ দিনের মতো। ফলে প্রতি বছর আসলে এক দিনের চার ভাগের প্রায় এক ভাগ সময় যোগ হয়। যা প্রতি চার বছরে একটা বাড়তি দিন যোগ করে।

    ২. জুলিয়াস সিজার রোমের ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত ৩৫৫ দিনে বছর, এমন ক্যালেন্ডারই সবাই মেনে চলত – যেখানে প্রতি ২ বছর পরপর একটা অতিরিক্ত ২২ দিনের মাস যুক্ত হতো। কিন্তু এটা আসলে সমস্যার একটা জটিল সমাধান ছিল এবং উৎসবের দিনগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে যেতে শুরু করে। তাই সিজার তার জ্যোতির্বিজ্ঞানী সোসিজেনেসকে বিষয়টি সহজ করার নির্দেশ দেন।

    সোসিজেনেস তখন ৩৬৫ দিনে বছর করে যে অতিরিক্ত ৬ ঘণ্টার মতো থেকে যায় সেটা মিলিয়ে নিতে ৪ বছর পরপর একটা অতিরিক্ত দিন ক্যালেন্ডারে যুক্ত করেন। আর এভাবেই ২৯শে ফেব্রুয়ারির জন্ম। যা পরবর্তীতে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি সূক্ষ্ম পরিমার্জন করেন।

    ৩. আঙুলের হিসেবে প্রতি ৪ বছর পরপর আসে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ। কিন্তু কথা এখানেই শেষ না। যেই বছরটাকে ১০০ দিয়ে ভাগ করা যায় কিন্তু আবার ৪০০ দিয়ে করা যায় না, সেটা লিপ ইয়ার নয়। সে কারণেই গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকাবর্ষ অনুযায়ী আমরা ২০০০ সালে লিপ ইয়ার পেয়েছি, ১৬০০ সালে লিপ ইয়ার ছিল, কিন্তু আবার ১৭০০, ১৮০০ ও ১৯০০ লিপ ইয়ার নয়।

    ৪. ফেব্রুয়ারির ২৯ই কেন? অন্য সব মাসেই আছে ৩০ বা ৩১ দিন করে, কিন্তু ইয়ান স্টুয়ার্ট জানাচ্ছেন রোমান সম্রাট সিজার অগাস্টাসের ব্যক্তিগত ইচ্ছের কাছে বলি হয়েছে ফেব্রুয়ারি।

    জুলিয়াস সিজারের অধীনে কিন্তু ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের মাস ছিল। কিন্তু সিজার অগাস্টাস যখন সম্রাট হন, তখন তিনি তার নিজের নামাঙ্কিত মাস আগস্ট ২৯ দিনের হওয়ায় খানিকটা বিরক্ত হন। কারণ তার আগের সম্রাট জুলিয়াসের নামাঙ্কিত মাস – জুলাই – ছিল ৩১ দিনের।

    ৫. লিপ ইয়ারের রাজধানী বলে স্বীকৃত টেক্সাসের অ্যান্থনি শহর। ১৯৮৮ সালে এই শহরের বাসিন্দা ও লিপ ইয়ারে জন্ম নেয়া ম্যারি অ্যান ব্রাউন চেম্বার অফ কমার্সের কাছে যান শহরে একটা লিপ ইয়ার উৎসবের আবেদন নিয়ে। তার সেই আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং অ্যান্থনিকে ঘোষণা দেয়া হয় বিশ্বের লিপ ইয়ার রাজধানী হিসেবে। তার পর থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বের লিপাররা টেক্সাসের এই শহরে জড়ো হয়ে প্যারেডে অংশ নেন, একসাথে বার্থডে ডিনার, নাচানাচি এবং হট এয়ার বেলুনে চড়েন সবাই।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 57 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

রাজধানী ঢাকার বয়স কত?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    উত্সব আয়োজনে বর্ণিল হয়ে ওঠা রকমারি উদযাপনে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত একটি প্রপঞ্চ ‘চারশ বছরের ঢাকা’। এ ডামাডোলে হারিয়ে গেছে রাজধানী ঢাকার প্রকৃত বয়স। সাভারে রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি থেকে আরম্ভ করে এ শহর ও আশপাশের অনেক প্রাচীন কীর্তি এবং ইতিহাস যে তথ্য তুলে ধরছে, তাতে ঢাকার হাজার বছরের অতীতের কথা জানা যায়। সবিস্তারিত পড়ুন

    উত্সব আয়োজনে বর্ণিল হয়ে ওঠা রকমারি উদযাপনে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত একটি প্রপঞ্চ ‘চারশ বছরের ঢাকা’। এ ডামাডোলে হারিয়ে গেছে রাজধানী ঢাকার প্রকৃত বয়স। সাভারে রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি থেকে আরম্ভ করে এ শহর ও আশপাশের অনেক প্রাচীন কীর্তি এবং ইতিহাস যে তথ্য তুলে ধরছে, তাতে ঢাকার হাজার বছরের অতীতের কথা জানা যায়। সেক্ষেত্রে ‘ঢাকার চারশ বছর’ শিরোনামে রচনাগুলো আমাদের আজকের রাজধানীর অতীতকে সংক্ষিপ্ত করে তার গৌরব অনেক ক্ষেত্রে মলিন করে দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার ইতিহাস নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যপ্রমাণে ভিত্তি করে বাস্তবসম্মত যেসব গবেষণা করা হচ্ছে, তাতে কিন্তু ঢাকার প্রকৃত বয়স যে অন্তত হাজার বছর, তার ঢের প্রমাণ মেলে। কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্র বিশ্লেষণ করলে বোঝা সম্ভব রাজধানী ঢাকার বয়স কত আর এর ঐতিহ্যের শিকড়টা ইতিহাসের কতটা গহিনে প্রোথিত।

    ইতিহাস বিচার করতে গেলে আমরা দেখি ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ প্রথমত বাংলায় একজন স্বাধীন সুলতান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আর তার হাত ধরেই সোনারগাঁয়ে শুরু হয় ২০০ বছরব্যাপী বাংলার স্বাধীন সালতানাতের যাত্রা, যা দিল্লির সালতানাত থেকে ছিল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন, এক কথায় বিদ্রোহী। এ সময়কাল থেকেই একটি ছোট্ট শহর হিসেবে ঢাকার অস্তিত্ব ইতিহাসের সূত্রে পাওয়া যায়, যা কালক্রমে বিকশিত হয়ে আমাদের আজকের রাজধানী শহর— যানজট, আবাসন সংকট আর নানা সমস্যায় জর্জরিত হলেও সবার ভালোবাসা ও গর্বের ঢাকা। ইতিহাসের সূত্রের দিকে দৃষ্টি দিতে গেলে ১৭ শতকের শুরুতে অর্থাত্ ঢাকায় মোগল অধিকার প্রতিষ্ঠার আগে বাহারিস্তান-ই-গায়েবিতে মির্জা নাথান ঢাকার যে অবস্থার বর্ণনা করেছেন, তা অনেকটা এমন— বুড়িগঙ্গার পূর্ব তীরে প্রতিষ্ঠিত একটি সুন্দর নগরী ছিল, যা ছিল অনেক জাঁকজমকপূর্ণ। ইতিহাসকে ভিত্তি করে এর অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করা হলে বর্তমান বাবুবাজারের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে কয়েক মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এ সুন্দর নগরটি, যাকে আমরা ঢাকা নামে চিনি।

    সেন আমলের কথা ভাবলে দেখি, বর্তমান পুরান ঢাকার অনেক স্থানের নাম হিন্দু নামে দীর্ঘকাল ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে, যা এখানে প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দু বসতি ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে স্থানটির পরিচিতি প্রদান করে। ইতিহাস ও সাহিত্যিক সূত্রেও এমন প্রমাণ পাওয়া যায়। ঢাকাবিষয়ক অন্যতম চিন্তাবিদ ও ঢাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের গুণী ব্যক্তিত্ব হাকিম হাবিবুর রহমান উর্দু ভাষায় লেখা তার ‘ঢাকা পাচাস বরস প্যাহলে’ গ্রন্থে বলেছেন, বিক্রমপুর যখন সেন রাজাদের রাজধানী, তখন থেকেই ঢাকার দক্ষিণাংশে হিন্দু বসতি গড়ে উঠতে শুরু করে, যা প্রচলিত ধারার ইতিহাস চর্চাকারীদের চিন্তাধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তত্কালীন সময়ের স্মৃতি হিসেবে আমরা বর্তমান রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নামকরণ লক্ষ করি। এসব অঞ্চলের নামকরণের কারণ অনুসন্ধানে ইতিহাস বিশ্লেষণ, প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ কিংবা জাতিতাত্ত্বিক অনুসন্ধান প্রভৃতি ঢাকার প্রকৃত প্রাচীনত্বের সূত্রের সন্ধান দেয়।

    লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, সূত্রাপুর, জালুনগর, বানিয়ানগর, গোয়ালনগর, তাঁতীবাজার, সুতারনগর, কামারনগর, পাটুয়াটুলি, কুমারটুলি ইত্যাদি এলাকার নামকরণের কথা বলা যায়। এ নামগুলো মোগল-পূর্ব যুগে হিন্দু প্রভাবাধীন নানা পেশাজীবীর ঢাকায় অবস্থান প্রমাণ করছে। রাজধানী সোনারগাঁয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় বাণিজ্য বিস্তার করতে গিয়ে ঢাকার এ অঞ্চলে ক্রমে নাগরিক জীবনের বিস্তার ঘটে। সোনারগাঁ থেকে ঢাকার নগরায়ণের পথ প্রশস্ত হয় নদীপথের যোগাযোগ থাকায়।

    প্রাক-মোগল যুগে ঢাকার দক্ষিণ ও পূর্ব সীমা নির্ধারণ করে যথাক্রমে বুড়িগঙ্গা এবং ধোলাইখাল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে প্রাক-মোগল ঢাকার পশ্চিম সীমানা নির্ধারণ করা কঠিন। ১৬১০ সালে সুবাদার ইসলাম খাঁ বার ভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকায় মোগল রাজধানী প্রতিষ্ঠা করার আগেই বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগার অঞ্চলে ‘ঢাকা দুর্গ’ নামে একটি দুর্গ ছিল। দুর্গের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা তীরের ঘাটটির নাম ছিল চণ্ডীঘাট। বাহারিস্তান-ই-গাইবির বক্তব্য অনুযায়ী, এ অংশে তখন দুটি অঞ্চলের বিকাশ ঘটে। এ চণ্ডীঘাটটিই পরে চকবাজার নামে পরিচিত হয়। দুর্গ থেকে চণ্ডীঘাট পর্যন্ত বাজারের বিস্তার ছিল। ঢাকা নগরীর বিস্তারের যুগে ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি.) এখানে রাজধানী স্থাপন করেন এবং সম্রাটের নাম অনুসরণে এর নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এক শতকের চেয়ে সামান্য বেশি সময় ঢাকা প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত ছিল। এ সময় প্রশাসনিক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিকাশ অব্যাহত থাকে।

    ঢাকার প্রশাসনিক গুরুত্বের প্রাচীনত্ব অনুসন্ধান করতে হলে সোনারগাঁয়ের দিকেই ফিরে তাকাতে হয়। সেন শাসন যুগে বিক্রমপুর যখন রাজধানী, তখন ঢাকার কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিল সোনারগাঁ। সোনারগাঁ কেন্দ্রের অবস্থান শীতলক্ষ্যা নদীর আনুমানিক আট কিলোমিটার পূর্বে। বখতিয়ার খলজির হাতে নদীয়া পতনের আগে সোনারগাঁ ছিল সেনদের অন্যতম শাসনকেন্দ্র।

    নদীয়া থেকে বিতাড়িত লক্ষ্মণ সেন বিক্রমপুরে চলে আসার পরও সোনারগাঁ গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। ফার্সি গ্রন্থ তবকাত-ই-নাসিরির লেখক মিনহাজ-ই-সিরাজের বর্ণনা অনুযায়ী ১২৬০ খ্রিস্টাব্দেও ‘বঙ্গ’ লক্ষ্মণ সেনের উত্তরসূরিদের শাসনাধীনে ছিল। তবকাত-ই-নাসিরিতে সোনারগাঁয়ের নাম উল্লিখিত হয়। মধ্যযুগের শুরু থেকেই সোনারগাঁ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শাসনকেন্দ্র। ঢাকা যে ফখরউদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ শাসনকেন্দ্র হিসেবে নিজ অবস্থান তৈরি করেছিল, ঢাকা নগরীতে প্রাপ্ত দুটি শিলালিপি তার সাক্ষ্য দেয়। শিলালিপিতে উত্কীর্ণ তারিখ ফখরউদ্দিনের সময়কালের শতাধিক বছর পরের। কিন্তু লিপি বক্তব্যের সূত্রে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৪৩৬-১৪৫৯ খ্রি.) সময় উত্কীর্ণ এ শিলালিপি দুটির একটি থেকে স্পষ্টতই ধারণা করা যায়, ঢাকা তখন ‘ইকলিম মুবারকাবাদের’ অন্তর্গত ছিল। ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ স্বাধীনতা ঘোষণার পর সোনারগাঁ রাজ্যের অন্তর্গত ‘ইকলিম মুবারকাবাদ’ নামটি ব্যবহার হতে থাকে। মুবারকাবাদের অবস্থান সম্পর্কে এইচ ই স্টাপলটন যে ধারণা দিয়েছেন, তার উদ্ধৃতি পাওয়া যায় ড. আহমদ হাসান দানীর বক্তব্যে। দানীর বক্তব্যে পূর্ব বাংলার একটি বড় প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল মুবারকাবাদ। সুলতানি বাংলার শিলালিপিতে দুটি ইকলিম অর্থাত্ প্রদেশের নাম পাওয়া যায়। একটি ইকলিম মুয়াজ্জমাবাদ, যা বর্তমান সোনারগাঁয়ের পূর্ব-উত্তরে মহজমপুর থেকে শুরু করে ময়মনসিংহ অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

    আর অন্যটি ইকলিম মুবারকাবাদ। ইকলিম মুবারকাবাদ নামাঙ্কিত শিলালিপিটি পাওয়া গেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের কিছুটা পশ্চিমে গিরিদাকিল্লা নামের মহল্লায়— নাসওয়ালা গলি মসজিদের সামনের একটি তোরণের গায়ে। মসজিদ আর তোরণের অস্তিত্ব এখন নেই। শিলালিপি সূত্রে জানা যায়, মসজিদটি ৮৬৩ হিজরি অর্থাত্ ১৪৫৯ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটি সরকারি উদ্যোগে নির্মিত হওয়ায় সমকালীন সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের নাম উত্কীর্ণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে খাজা জাহান নাম লেখা হয়েছে। আর নির্মাণ অঞ্চল হিসেবে লেখা হয়েছে ‘ইকলিম মুবারকাবাদ’। অর্থাত্ পনেরো শতকের মাঝপর্বে পুরান ঢাকা ইকলিম মুবারকাবাদের রাজধানী ছিল এবং গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন খাজা জাহান উপাধিধারী কেউ।

    বাংলায় স্বাধীন সালতানাতের অবসান ঘটে ১৫৩৮ সালে। এ সময় শেষ স্বাধীন সুলতান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহ মোগল সম্রাট হুমায়ুনের কাছে পরাজিত হন। কিন্তু বাংলায় মোগল আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। হুমায়ুন গৌড় অধিকার করে মাত্র ছয় মাস টিকে থাকতে পেরেছিলেন। এ পর্যায়ে বিহার অঞ্চলের আফগান শাসক শের খান হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সৈন্য পরিচালনা করেন। ১৫৩৯ সালের জুলাইয়ে হুমায়ুন বিতাড়িত হন। বাংলা আফগান শাসনের অধীনে চলে আসে। দিল্লির মোগল শাসন যুগে বাংলা বিচ্ছিন্ন হয়ে একধরনের স্বাধীন অঞ্চলে পরিণত হয়। এভাবে দীর্ঘকাল বাংলা মোগল অধিকারের বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা করছিল। ভাটি বা নিচু অঞ্চল বলে পূর্ববাংলা বরাবরই বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগ পেয়েছে। স্বাধীন সুলতানি যুগের পরও তাই পূর্ববাংলা তার স্বাধীন সত্তা নিয়ে টিকে ছিল। এ পর্বে পূর্ববাংলায় একক কোনো রাজ্য গড়ে ওঠেনি। অনেক বড় বড় জমিদারের অধীনে বিভক্ত ছিল বাংলার এ অংশটি।

    এরা সাধারণভাবে ‘বার ভূঁইয়া’ নামে পরিচিত। এ বার ভূঁইয়ারা একযোগে মোগলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সম্রাট আকবরের আমলে বার ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান মসনদ-ই-আলা। মোগল সুবাদার ইসলাম খানের ঢাকা দখলের সাধারণ কারণ বার ভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা। মোগলরা উত্তরে তাণ্ডা থেকে পূর্ববাংলার দিকে অগ্রসর হয়। পথে অনেক জমিদার মোগল বশ্যতা স্বীকার করে। বার ভূঁইয়াদের শেষ ঘাঁটি শীতলক্ষ্যা নদী। সোনারগাঁয়ের কাছে কাতরাবোতে ছিল মুসা খাঁর শাসনকেন্দ্র। বর্তমান নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থিত মোগল জলদুর্গ হাজিগঞ্জ দুর্গ শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্থিত। হাজিগঞ্জ দুর্গ বরাবর নদীর পূর্বপাড়ে নবীগঞ্জ। এখানেই ছিল মুসা খানের সামরিক ছাউনি। আর শীতলক্ষ্যা নদীতে ছিল বার ভূঁইয়াদের রণতরী। তাই বার ভূঁইয়াদের শেষ শক্তিতে আঘাত করার জন্য এর কাছাকাছি অঞ্চল ঢাকাকে বেছে নিতে হয়েছে মোগল সুবাদারকে।

    মোগল আগমনের আগে ঢাকার নাগরিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা যায়। আগেই বলা হয়েছে, বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় একটি দুর্গ ছিল। আফগানদের বা স্থানীয় জমিদারদের গড়া এ দুর্গ। ঢাকা দুর্গ নামে পরিচিত এ দুর্গ সংস্কার করে এখানে সুবাদার ইসলাম খাঁর আবাসস্থল বানানো হয়। এ দুর্গ মোগল অধিকারের আগে ঢাকার নাগরিক জীবনের কথাই মনে করিয়ে দেয়। ঢাকা অধিকারের পর ইতিমাম খাঁ ও মির্জা নাথানকে ডেমরা খালের মোহনার দুই পাশে অবস্থিত বেগ মুরাদ খাঁর দুর্গ দুটির দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। এ বর্ণনায় ঢাকার অভ্যন্তরে ঢাকা দুর্গ এবং উপকণ্ঠ ডেমরায় দুটি দুর্গের অবস্থানও বার ভূঁইয়াদের সময় ঢাকার গুরুত্বকে নির্দেশ করে।

    তিনটি প্রাদেশিক কাঠামো বা ইকলিমের মধ্যে ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলা দিল্লির নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শুরু হয় বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন। দিল্লির শাসন কাঠামো থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকার পরও এই কালপর্বেই বাংলায় শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সার্বিক বিকাশ ঘটে। সুলতানি পর্বে পূর্ব বাংলায় সোনারগাঁ ও উত্তর বাংলার গৌড় বা লক্ষেৗতি ছিল স্বাধীন সুলতানি বাংলার রাজধানী। গোটা বাংলায় সুলতানি যুগে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল গড়ে উঠেছিল। ঢাকা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহের বারবাজার, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চলে পাওয়া সুলতানি স্থাপনা ও লিপিসাক্ষ্য এর প্রামাণ্য দলিল হয়ে আছে। দীর্ঘ বিরতির পর ১৬০৮ থেকে ১৬১০-এর মধ্যে মোগল সুবাদার ইসলাম খাঁর হাতে ঢাকার পতন এ স্বাধীনতার চূড়ান্ত অবসান ঘটায়। বাংলা পরিপূর্ণভাবে মোগল সুবার অন্তর্ভুক্ত হয়। সুবাদার ইসলাম খাঁ ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী করেন। সম্রাটের নামে ঢাকার নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এভাবে প্রায় আড়াইশ বছর পর বাংলা আবার দিল্লির প্রদেশে পরিণত হয়। আর দ্বিতীয়বারের মতো প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা পায় ঢাকা।

    অনেকে বলেন, ঢাকা নগরীর বর্তমান বয়স রাজধানী হিসেবে ৪০০ বছর। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণনির্ভর সাম্প্রতিক গবেষণার মাধ্যমে আমরা যে তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি, তার আলোকে দেখতে গেলে প্রায় ৮০০ বছর আগেই ঢাকায় নাগরিক জীবনের সূচনা ঘটে এবং লিপিসাক্ষ্যে স্পষ্ট যে, প্রায় ৬০০ বছর আগে সুলতানি যুগে স্বাধীন বাংলার একটি ইকলিম বা প্রদেশের রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায়। নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থান থেকে শুরু করে ঢাকার আশপাশে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, যেগুলো রাজধানী ঢাকার ইতিহাসকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কয়েক হাজার বছর। বিশেষ করে ঢাকার ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে বঙ্গ জনপদের ইতিহাসকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    সেসঙ্গে জনপদের যুগে বাংলাদেশের ইতিহাসকেও প্রতিতুলনা করার চেষ্টা করতে হবে। এভাবে হিসাব করলে রাজধানী ঢাকার প্রকৃত বয়স মাত্র ৪০০ বছর নয়, কয়েক হাজার বছরের। সাভারের রাজাসন, হরিশচন্দ্র রাজার ঢিবি থেকে শুরু করে ডগরমুড়া প্রত্নস্থানের ঐতিহাসিকতা যেহেতু বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, সেহেতু রাজধানী ঢাকার ইতিহাস রচনা করলে অবশ্যই কমপক্ষে পাল যুগ থেকে শুরু করতে হবে। আর সেভাবে চিন্তা করলে রাজধানী ঢাকার ইতিহাসকে পিছিয়ে নিতে হবে আট শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এতে স্বাভাবিকভাবেই রাজধানী ঢাকার বয়স গিয়ে দাঁড়াচ্ছে কমপক্ষে হাজার বছরেরও বেশি।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 57 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

সেপ্পুকু বা হারা-কিরি এর ইতিহাস কি?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    শত্রুর হাতে ধরা পড়ার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়- এই মানসিকতা বেশ পুরনো। ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে, অনেক ঐতিহ্যবাহী রীতি আছে, যেখানে পরাজিত যোদ্ধারা শত্রুর হাতে বন্দিত্বের অপমান সহ্যের চেয়ে আত্মহত্যাকে হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছিলেন। এমনই এক আনুষ্ঠানিক আত্মহত্যা পদ্ধতি হল ‘সেপ্পুকু’ , যা অনেক ক্ষেত্রে ‘হারা-কিরি’বিস্তারিত পড়ুন

    শত্রুর হাতে ধরা পড়ার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়- এই মানসিকতা বেশ পুরনো। ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে, অনেক ঐতিহ্যবাহী রীতি আছে, যেখানে পরাজিত যোদ্ধারা শত্রুর হাতে বন্দিত্বের অপমান সহ্যের চেয়ে আত্মহত্যাকে হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছিলেন। এমনই এক আনুষ্ঠানিক আত্মহত্যা পদ্ধতি হল ‘সেপ্পুকু’ , যা অনেক ক্ষেত্রে ‘হারা-কিরি’ নামেও পরিচিত।

    আত্মহত্যার এই রীতি আনুষ্ঠানিকভাবে সেপ্পুকু হিসেবেই পরিচিত জাপানের অধিবাসীদের কাছে, হারা-কিরি নামটি জাপানের বাইরের মানুষদের কাছেই বেশি প্রচলিত। তবে নাম দুটি ভিন্ন হলেও অর্থ একই। সেপ্পুকু বা হারা-কিরি অর্থ হল পেট কেটে ফেলা। হ্যাঁ, এই রীতিতে নিজেই নিজের পেট কেটে মৃত্যুবরণ করে আত্মহত্যাকারী।

    সেপ্পুকুতে পেট কাটার বিভিন্ন ধরন

    স্বেচ্ছামৃত্যুর এই রীতির উৎস জাপান। জাপানের সামুরাই গোষ্ঠীর নাম শোনেনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। জাপানিজ যোদ্ধাদের বলা হতো ‘সামুরাই’। সামুরাই নামটি অভিজাত যোদ্ধাদের চিহ্নিত করার জন্য মূলত ব্যবহৃত হতো শুরুতে। তবে ১২ শতাব্দীতে জাপানের ক্ষমতায় উত্থিত হওয়া যোদ্ধা গোষ্ঠীর সকলের জন্যই এই নামটি ব্যবহৃত হয়। এই সামুরাই গোষ্ঠীতেই মর্যাদাসূচক জীবনদানের এই পদ্ধতির প্রচলন হয়।

    কেন পেট কেটেই মারা যাওয়ার এই রীতি? প্রাচীন জাপানে ধারণা করা হতো, মানুষের আত্মার বাস হল পেটে। তাই পেট সম্পূর্ণ চিরে মৃত্যুটাকে ধরা হতো মারা যাওয়ার সবচেয়ে অকপট ও সাহসী উপায়। আর তাই এই বিশেষ অধিকার কেবল অভিজাত সামুরাই গোত্রেরই ছিল। সাধারণ জনগণ স্বেচ্ছায় মৃত্যু বেছে নিলে ফাঁসিতে ঝুলে বা পানিতে ডুবে মারা যেতে পারত, সামুরাই গোত্রের মেয়েরা নিজের গলা কেটে মৃত্যুবরণ করতে পারত, সেই পদ্ধতিকে বলা হত ‘জিগাই (Jigai)’, কিন্তু সেপ্পুকু পালনের অধিকার ও মর্যাদা একমাত্র সামুরাই পুরুষ যোদ্ধাদের জন্যই সংরক্ষিত ছিল। একমাত্র সেপ্পুকু পালনের মাধ্যমেই একজন সামুরাই যোদ্ধা তার এবং পরিবারের সম্মান বাঁচাতে বা বজায় রাখতে পারতেন বলে মনে করা হতো। পরাজিত বা অসম্মানিত সামুরাই, যে আত্মহত্যার বদলে আত্মসমর্পণ বেছে নিত, সে সমাজের কাছে তিরস্কারের পাত্রে পরিণত হতো।

    সেপ্পুকু রীতি

    হারা-কিরির প্রথম নজির দেখা গিয়েছিল ১১৮০ সালে, ‘ইউজি (Uji)’র যুদ্ধের পর। প্রথম হারা-কিরি কার্যকর করেন মিনামোটো নো ইয়োরিমাশা। তিনি শত্রুর হাতে ধরা পড়ে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে মূল্যবান তথ্য দেয়ার চেয়ে মৃত্যুকে বেছে নেন। এর আগপর্যন্ত সামুরাইদের মধ্যে এই ধারণা অত প্রচলিত ছিল না। কিন্তু এর পর থেকেই প্রাণত্যাগের এই নিয়মের প্রতি এক অসুস্থ জনপ্রিয়তা দেখা যায়। এমন পদ্ধতি আমাদের কাছে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু মান-সম্মানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া জাপানের ঐতিহ্যে এটি খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

    মিনামোটো নো ইয়োরিমাশার প্রতিকৃতি

    মোটামুটি ১২ শতাব্দীর দিকে সেপ্পুকু বেশ বড় পরিসরে পরিচিতি পায়। কিন্তু ১৭ শতাব্দী পর্যন্ত এই রীতি বেশ অগোছালোভাবেই পালিত হত। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম মেনে করা হতো না, মৃত্যুর প্রক্রিয়াও মানুষভেদে বিভিন্ন ছিল। সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি ছিল ‘ট্যানটো’ নামে ছোট একধরনের ধারালো ছুরি ব্যবহার করে লম্বালম্বিভাবে পেট চিরে ফেলা, আর সবচেয়ে কম প্রচলিত পদ্ধতি ছিল যেকোনো ছুরিকে এক জায়গায় বসিয়ে তার উপর পতিত হওয়া। এই অসামঞ্জস্যের আমূল পরিবর্তন আসে ‘এডো’ পিরিয়ডে (প্রায় ১৬০৩ থেকে ১৮৬৮ সাল পর্যন্ত)। অর্থাৎ যেসময় তোকুগাওয়া শোগুনেট আর তাদের অধীনস্ত প্রায় ৩০০ ‘দাইমিয়ো’দের রাজত্ব ছিল জাপানিজ সমাজে।

    সেপ্পুকুতে ব্যবহৃত একটি ট্যানটো

    এই সময়ে এসে সমাজের উপর স্তরের বাসিন্দারা বিভিন্ন জটিল ধাপ সংযোজনের মাধ্যমে সেপ্পুকুকে বেশ কঠোর একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত করে। প্রথম সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে সেপ্পুকু কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে জায়গা নিয়ে। সাধারণত সেপ্পুকু পালন করার কথা যুদ্ধক্ষেত্রে, যখন যুদ্ধ জেতার সকল আশা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এডো পিরিয়ডে এই ব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মহত্যার পরিবর্তে পরাজিত যোদ্ধাকে পরে বিশাল জনসমাগমে সেপ্পুকু পালন করতে হতো। এই ধরনের সেপ্পুকু ছিল বাধ্যতামূলক। অসম্মান থেকে পরাজিত সামুরাই যোদ্ধাকে বাঁচাতে মুখ্য শাস্তি হিসেবে এটি পালন করা হতো। বেশ আয়োজন করেই পালিত হতো এই রীতি। প্রথমে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় সাদা কুশন বিছানো হতো। পরাজিত যোদ্ধাকে ধবধবে সাদা একটি কিমোনো (জাপানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক) পরে কুশনের উপর হাঁটু গেড়ে বসতে হতো। তাকে তার প্রিয় খাবার দেয়া হতো শেষ খাবার হিসেবে। পাশে ‘ট্যানটো’ অর্থাৎ পেট চেরার জন্য ছুরিটি নিয়ে শান্তভাবে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে করতে যোদ্ধা লিখত ‘মৃত্যু-কবিতা’, যা তার শেষ কথা ও সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হতো। এর পূর্বেই যোদ্ধা একজন ‘কাইশাকুনিন’ বা সাহায্যকারী বেছে নিতেন, যে তার পেছনে বামদিকে তলোয়ার নিয়ে প্রস্তুত থাকত। ট্যানটো দিয়ে পেট কাটার সাথে সাথেই কাইশাকুনিন মাথার পেছন দিকে তলোয়ারের আঘাতের মাধ্যমে যোদ্ধার মৃত্যু নিশ্চিত করত।

    কাইশাকুনিনকে হতে হত বেশ দক্ষ তলোয়ারবাজ, কেননা তাকে মাথাটা এমনভাবে কাটতে হতো যেন সম্পূর্ণ মাথা ধড় থেকে আলাদা না হয়ে পড়ে। কিছুটা মাংস ধড়ের সাথে যুক্ত থেকে এমনভাবে মাথার অবস্থান নিশ্চিত করতে হতো যেন দেখে মনে হয় পরাজিত ঐ যোদ্ধা সামনের দিকে মাথা নত করে আছে। ১৮০০ সালের দিকে পুরো সেপ্পুকু পদ্ধতির কেন্দ্রীয় চরিত্রে চলে আসে কাইশাকুনিন। যদিও নিয়ম ছিল, প্রথমে যোদ্ধা পেট কাটবে এবং এর নির্দিষ্ট সময় পর কাইশাকুনিন তার মাথার পেছনে আঘাত করবে, কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যেত, পেটে আঘাতের সাথে সাথেই মাথায় আঘাত হয়ে গেছে। যত সময় যেতে লাগল, দেখা গেল যে যোদ্ধা তার পেটে ছুরি বসানোর আগেই কাইশাকুনিন মাথায় আঘাত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দিচ্ছে।

    শিল্পীর তুলিতে কাইশাকুনিনের তলোয়ার

    বাধ্যতামূলক সেপ্পুকুর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিদর্শন বলা যায় ৪৭ রনিনের ঘটনাকে। রনিন বলা হত প্রভুহীন সামুরাই যোদ্ধাদের, যারা প্রায়ই থাকত ভবঘুরে ও সক্রিয়ভাবে বিদ্রোহী। ৪৭ রনিন প্রভুহীন হয়ে পড়ে, যখন তাদের প্রভু ‘আসানো নাগানোরি’কে বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে হত্যা করা হয়। আসানোকে হত্যার জন্য তারা শোগুন (জাপানের তৎকালীন সামরিক একনায়ক) তোকুগাওয়া সুনায়োশির অধীনস্ত দাইমিয়ো ‘কিরা ইয়োশিনাকা’কে দায়ী ধরে তাকে হত্যা করে। এই ঘটনার পর শোগুন সেই ৪৭ রনিনকে সেপ্পুকু পালনের নির্দেশ দেয়।

    প্রভুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়া ৪৭ রনিনের সমাধি

    আরেক ধরনের সেপ্পুকু ছিল স্বেচ্ছাকৃত। এটি ছিল মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত যোদ্ধাদের শত্রুর হাতে পড়ার চেয়ে মৃত্যু বেছে নেয়া। ধীরে ধীরে কোনো সামুরাই তার প্রভুর প্রতি বিশ্বস্ততার নজির হিসেবে কিংবা কোনো সরকার বা রাজনৈতিক নেতার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে বা নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে স্বেচ্ছায় সেপ্পুকু পালন শুরু করে। আধুনিক জাপানেও স্বেচ্ছা সেপ্পুকুর বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য নজির আছে, যার একটি হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর বেশ কিছু সামরিক সেনার সেপ্পুকু পালনের মাধ্যমে মৃত্যুকে বরণ করে নেয়া। প্রায় ১৫ সেন্টিমিটারের একটি চাকু দিয়ে পেটের বাম থেকে ডান দিকে কাটার মাধ্যমে তারা আত্মহত্যা করেন।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এক সেনার সেপ্পুকু পালন

    আরেকটি বিখ্যাত সেপ্পুকুর ঘটনা ঘটে ১৯৭০ সালে, যখন জাপানের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক মিশিমা ইউকিয়ো নিজের পেট কেটে জনসম্মুখে মৃত্যুবরণ করেন। জাপানের ঐতিহ্যের মূল্য হারানোর ব্যাপারে তার চিন্তাভাবনাকে সমর্থন দিতেই তিনি এই পথ বেছে নেন।

    মিশিমা ইউকিয়ো

    বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু চলচ্চিত্র, লেখা ও নাটকে সেপ্পুকুর বিভিন্ন রূপ উঠে এসেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করলে স্বেচ্ছা সেপ্পুকুকে আরো কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। সাধারণত চলচ্চিত্রে এই সেপ্পুকুর নতুন একটি ধরন প্রকাশ পায়, যাকে বলা হত ‘কানশি’, যেখানে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ভূস্বামীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে সেপ্পুকু পালন করা হতো। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ সেপ্পুকুর চেয়ে পার্থক্য থাকত যে, এক্ষেত্রে সামুরাই যোদ্ধারা পেটে বেশ গভীর ক্ষত সৃষ্টি করত এবং যত দ্রুত সম্ভব তা ব্যান্ডেজ করে ফেলত। পরবর্তীতে জনতার সামনে সে তার বক্তব্য রাখত এবং সেই ক্ষত উন্মোচন করত প্রতিবাদের প্রতি তার একাত্মতা হিসেবে।

    এই ধরনটি ‘ফুনশি’ বা ধিক্কারের মৃত্যু থেকে একদম আলাদা। ফুনশিকে ধরা হত সেপ্পুকুর বিশেষভাবে চিত্রায়িত করা এক মাধ্যম। কোনো অসন্তোষ বা প্রতিবাদের পক্ষে শক্তিশালী পক্ষ রাখতে গিয়ে সামুরাই যোদ্ধারা এই সেপ্পুকু পালন করত। জাপানের নাট্যশালায় আবার সেপ্পুকুর এক কল্পিত সংস্করণ ছিল, যাকে ‘কাজিবারা’ বলা হত। আবার কিছু সামুরাই ‘জুমোঞ্জি গিরি’ নামে সেপ্পুকুর এক ধরন বেছে নিত। এই পদ্ধতিতে কোনো কাইশাকুনিন মঞ্জুর করা হতো না। পেট আনুভূমিকভাবে কেটে ট্যানটো দিয়ে আবার বুক থেকে নিচের দিকে লম্বা ক্ষত করা হয় এ পদ্ধতিতে। এটি বিশেষভাবে সেপ্পুকুর বেদনাদায়ক পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত, কারণ এতে ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটে।

    সম্রাট মেইজি (Meiji) দ্বারা মেইজি সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের পর ১৮৭৩ সালের দিকে বিচারিক শাস্তি হিসেবে সেপ্পুকুর প্রচলন একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে প্রশাসনিকভাবে প্রচলিত না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে এর অনুশীলন জাপানে চলতেই থাকে।

    যদিও সামুরাই গোত্রে সেপ্পুকু বা হারা-কিরি বেশ সম্মানজনক মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু বেশ অনেকবারই প্রশ্ন ওঠে যে আসলেই এটি সম্মানজনক নাকি নিছকই ঠুনকো গর্ব বজায় রাখার চেষ্টা? পরিচালক কোবায়াশি পরিচালিত ‘হারা-কিরি’ নামের চলচ্চিত্রে হারা-কিরি বা সেপ্পুকুর অন্য আরেকটি রূপ ফুটে ওঠে। প্রভুহীন সামুরাই যোদ্ধা অর্থাৎ রনিনদের অবর্ণনীয় দুঃখ দুর্দশা পরিচালক চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তোলেন। চলচ্চিত্রটিতে দেখা যায়, মোটোমি নামক এক তরুণ রনিন লি গোত্রের প্রাসাদের সামনে সেপ্পুকু পালনের অনুমতি চায়।

    হারা-কিরি চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য

    তখনকার সময়ে রনিনদের অবস্থা বেশ করুণ ছিল, কাজ নেই, তাই নেই উপার্জনও। মোটোমি শুনেছিল, আগে একজন রনিন এভাবে সেপ্পুকু পালন করতে চাওয়ায় তাকে বেশকিছু পয়সাকড়ি দিয়ে বিদায় করে দেয়া হয়। অসুস্থ স্ত্রী ও বাচ্চার চিকিৎসার জন্য সে একইভাবে কিছু অর্থ পাওয়ার আশায় এই কাজটি করে। কিন্তু এরকম রনিনদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে ও তা কমানোর জন্য একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে- এমন চিন্তা থেকে গোত্রের তিন বয়োজ্যেষ্ঠ সামুরাই মোটমিকে শিক্ষা দেয়ার চিন্তা করেন। তাকে জোর করা হয় সেপ্পুকু পালনে। তার বাঁশের তলোয়ার দিয়েই তাকে সেপ্পুকু পালনে বাধ্য করা হয়। আসলেই সেপ্পুকু বা হারা-কিরির মর্যাদা রক্ষা ব্যাপারটি কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা-ই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। জোর করে বা শাস্তি হিসেবে এই পীড়াদায়ক পদ্ধতিতে কাউকে মরতে বাধ্য করা কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল সে প্রশ্ন রয়েই যায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 57 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

ভয়নিচ পান্ডুলিপি কি? কেন এর রহস্য ভেদ করা যায়নি ?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে
    উত্তরটি এডিট করা হয়েছে।

    এটি একটি অজানা ভাষায় হাতে লেখা চিত্রিত ভলিয়মের পান্ডুলিপি। ১৫ শতকের শুরুতে এটি লেখা হয়েছিল এবং এটির নামকরণ করা হয় আলফ্রেড ভয়নিচের নামানুসারে। তিনি মূলত ১৯১২ সালে বইটি ক্রয় করেছিলেন। এটি অসংখ্য বার পড়া হয়েছে কিন্তু এর কোড কেউ ভেদ করতে পারেনি। পান্ডুলিপি টি ৬টি বিভাগে বিভক্ত। হারবাল, জ্যোতির্বিদ্যা,বিস্তারিত পড়ুন

    এটি একটি অজানা ভাষায় হাতে লেখা চিত্রিত ভলিয়মের পান্ডুলিপি। ১৫ শতকের শুরুতে এটি লেখা হয়েছিল এবং এটির নামকরণ করা হয় আলফ্রেড ভয়নিচের নামানুসারে। তিনি মূলত ১৯১২ সালে বইটি ক্রয় করেছিলেন। এটি অসংখ্য বার পড়া হয়েছে কিন্তু এর কোড কেউ ভেদ করতে পারেনি। পান্ডুলিপি টি ৬টি বিভাগে বিভক্ত। হারবাল, জ্যোতির্বিদ্যা, জৈবিক, মহাজাগতিক, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং রেসিপি।

    কিছু পাতা হারানো গেলেও, এর বর্তমান সংস্করণে প্রায় ২৩৪টি পাতা রয়েছে যার অধিকাংশই চিত্রালংকরণের সাথে গঠিত। পান্ডুলিপিটির অনেক বর্ণনাতে সে সময়ের ভেষজ পান্ডুলিপি, গাছপালার চিত্রালংকরণ এবং তাদের সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে – আঁকা উদ্ভিদের অনেকগুলোই কোনো পরিচিত প্রজাতির অনুরূপ না। তারা যৌগিক বলে মনে হয়। কেউ কেউ এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন যে, এটি একটি ফাঁকি কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন এটি খুব জটিল এবং অত্যাধুনিক। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এটি একটি মেডিক্যাল ভলিউম যা এখনো রহস্যের আধার।

    বাধ্য হয়ে পকেট থেকে আরো কয়েকটা মুদ্রা বের করে টেবিলের উপর রাখলেন উইলফ্রিড ভয়নিচ। বইটি তিনি হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না। দোকানি মুদ্রাগুলো পরীক্ষা করে বইখানা ভয়নিচের হাতে দিয়ে দিলেন। সেটি নিজের ব্যাগের ভেতর ভরে বাসার দিকে রওয়ানা দিলেন ভয়নিচ।

    ব্যবসার জন্য বই কিনতে বের হয়ে প্রথম তার চোখে পড়ে এই অদ্ভুত হাতে লেখা বইটি। হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ পরখ করে দেখার পরেই কৌতূহলী হয়ে ওঠেন তিনি। কারণ তিনি বইয়ের লেখা কিছুই পড়তে পারছেন না। ভয়নিচ নিজে অনেক ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু এরকম বর্ণমালা এর আগে কখনো দেখেননি। তাই দেরি না করে কিনেই ফেললেন বইটি।

    বাসায় এসে বইটি নেড়েচেড়ে দেখছিলেন তিনি। হঠাৎ বইয়ের ভেতর থেকে একটি খাম মাটিতে পড়ে গেল। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেন ভয়নিচ। বইয়ের ভেতর এই চিঠিটা আবার কার?

    একদিকে অচেনা বর্ণমালার গোলকধাঁধা, অপরদিকে খামে ভরা একটি রহস্যময় চিঠি। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম  অমীমাংসিত রহস্য ভয়নিচ পাণ্ডুলিপির গল্পের শুরুটা ঠিক এখান থেকেই।

    ১৯২১ সালে বই বিক্রেতা উইলফ্রিড ভয়নিচ কর্তৃক পাণ্ডুলিপিগুলো জনসম্মুখে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এটি গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসে। শুরু হয় এর পাঠোদ্ধারের কাজ। অথচ আবিষ্কারের প্রায় ৮০ বছরের কাছাকাছি এসেও  এর পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি কেউ। কেউই পড়তে পারেননি ভয়নিচের বিস্ময়কর বইটি। আমাদের আজকের আলোচনা সেই বিখ্যাত ভয়নিচ পাণ্ডুলিপিকে ঘিরে।

    ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি কী?

    ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে একটি। এটি মধ্যযুগে লেখা একটি বই। কিন্তু অন্যান্য বই থেকে একে আলাদা করেছে এর লেখার ধরন এবং বর্ণমালার দুর্বোধ্যতা। বইটির অনুসন্ধানদাতা উইলফ্রিড ভয়নিচের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় Voynich Manushcript বা ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি হিসেবে।

    উইলফ্রিড ভয়নিচ

    চামড়া দ্বারা বাঁধাইকৃত বইটির সর্বমোট পৃষ্ঠার সংখ্যা প্রায় ২৩৪। গবেষকদের মতে কিছু পৃষ্ঠা আবিষ্কৃত হওয়ার পূর্বে হারিয়ে গেছে।  বইটি লেখা হয়েছে অদ্ভুত বর্ণমালার সাহায্যে। ইতিহাস ঘেঁটে এরূপ কোনো বর্ণমালার অস্তিত্ব বের করতে ব্যর্থ হন ইতিহাসবিদরা। আধুনিক কম্পিউটারের সাহায্যে পরীক্ষা চালানোর পরেও এর বর্ণমালার রহস্যের সমাধান করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আর সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হচ্ছে, পাণ্ডুলিপির বর্ণমালায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার ধরনের বর্ণের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়াও লিখিত বর্ণনার সাথে বিভিন্ন হাতে আঁকা ছবির সংযোজন বইটিকে আরো রহস্যময় করে তুলেছে।

    আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বইটি থেকে আলাদা ৪টি পৃষ্ঠা নিয়ে কার্বন ডেটিং করা হয়। কার্বন ডেটিং এর ফলাফল অনুযায়ী বইটি সম্ভবত ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের সময় লেখা হয়েছিলো। বইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন কালির মধ্যে বড় রকমের কোনো পার্থক্য নেই। অন্যান্য বইয়ের মতো এর শুরুতে লেখকের নাম-স্বাক্ষর নেই। তাই সুনির্দিষ্টভাবে এর লেখকের নাম জানা যায়নি।

    ক্রয় করার প্রায় ৯ বছর পর ভয়নিচ বইটি College of Physicians of Philadelphia-এর একটি সভাতে প্রদর্শন করেন। এরপর থেকে একে নিয়ে শুরু হয় গবেষণা। বের হতে থাকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

    রহস্যময় চিঠি এবং পাণ্ডুলিপির ইতিহাস

    উইলফ্রিড ভয়নিচ বইটি ক্রয় করার পর এর ভেতরে একটি চিঠিসহ একটি খামের সন্ধান পান। খামের উপর প্রেরক প্রাপকের ঘরে নাম ঠিকানা লেখা ছিল। বইসহ চিঠিটি ১৬৬৫ সালে বিজ্ঞানী জোয়ানাস মার্কাস মার্সি সুদূর ইতালিতে তার বন্ধু আথানাসিয়াস কার্চারকে প্রেরণ করেন। চিঠিতে তিনি এই বইয়ের অর্থ বের করে দেওয়ার জন্য আথানাসিয়াসকে অনুরোধ করেন। চিঠি অনুযায়ী বইটি হাবসবার্গের রাজা দ্বিতীয় রুডলফের মালিকানাধীন ছিল। পরবর্তীকালে বইয়ের ভেতর রাজা দ্বিতীয় রুডলফের এক সভাসদের স্বাক্ষর পাওয়া গেলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হয়।

    এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, বিজ্ঞানী জোয়ানাস কীভাবে বইটি পেয়েছিলেন? এর প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে থাকা গবেষকরা বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমর্থিত ব্যাখ্যাটি তুলে ধরা হলো।

    ছবি এবং বর্ণমালার সংযোজন পাণ্ডুলিপিটিকে রহস্যময় করে তুলেছে

    ইতিহাস থেকে জানা যায় রাজা দ্বিতীয় রুডলফের শাসনকাল ছিল ১৫৭৬ সাল থেকে ১৬১১ সাল পর্যন্ত। কিন্তু বইয়ের উৎপত্তি আরো ২০০ বছর আগে।  এর মানে রুডলফ ঠিক বইটির প্রথম মালিক নন। জোয়ানাসের চিঠি অনুযায়ী তিনি বইটি ৬০০ ডুকাটের মাধ্যমে ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু উৎপত্তি থেকে রুডলফের সভা পর্যন্ত প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসের কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি গবেষকরা। সম্ভবত জন ডি নামক এক ব্যক্তি বইটি রাজার দরবারে প্রদর্শন করেছিলেন।

    তারপর বইটির মালিকানা বদল হয়। কিন্তু পরবর্তী মালিকের কোনো পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। সম্ভবত রুডলফের কোনো সভাসদ তার পতনের পর বইটি নিজের সংগ্রহে রেখেছিলেন। কিন্তু এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

    রাজা দ্বিতীয় রুডলফ

    এরপর বইটি স্থান পায় জর্জ বারেশের লাইব্রেরিতে। পাগলাটে রসায়নবিদ বারেশ কীভাবে বইটি সংগ্রহ করেন তা কেউ জানে না। বারেশ বইটির রহস্যভেদের জন্য অনেক গবেষণা করেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন।

    তিনি তখন আথানাসিয়াস কার্চারের নাম জানতে পারেন। কার্চার হায়ারোগ্লিফিক লিপি নিয়ে কাজ করতেন। কিছু দুর্বোধ্য হায়ারোগ্লিফিক লিপির পাঠোদ্ধার করে তিনি তখন বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। বারেশ বইটির কিছু অংশ কার্চারকে প্রেরণ করেন। কিন্তু কার্চার বারেশকে কোনো সমাধান দিতে পারেননি।

    বারেশের মৃত্যুর পর বইটি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোয়ানাস মার্সির মালিকানায় চলে আসে। বারেশের উইল অনুযায়ী তিনি বইটি কার্চারের কাছে প্রেরণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে কার্চারকে তার গবেষণার অগ্রগতির কথা জিজ্ঞাসা করে কোনো আশানুরূপ উত্তর পাননি মার্সি। কার্চারের মৃত্যুর পর তার সংগ্রহে থাকা অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি কলেজিও রোমানোর জাদুঘরে স্থানান্তর করা হয়। এদের মধ্যে ভয়নিচ পাণ্ডুলিপিও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হয়।

    ভয়নিচের পাণ্ডুলিপির স্থান হয় কলেজিও রোমানোর জাদুঘরে

    কিন্তু হঠাৎ করে সমাজব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন চলে আসে। কলেজিও রোমানোসহ বিভিন্ন বড় বড় সংগ্রহশালায় রুল জারি করা হলো ‘যিশু সমাজ’ সঙ্ঘ থেকে। রুল অনুযায়ী হাজার হাজার পাণ্ডুলিপি সরিয়ে ফেলার আদেশ দেওয়া হয়। অনেক পাণ্ডুলিপি ধ্বংস করে ফেলা হলো। তবে গুটিকয়েক পাণ্ডুলিপি ভ্যাটিকানের পোপের গোপন লাইব্রেরিতে স্থানান্তরের জন্য মনোনীত করা হয়। কিন্তু পাণ্ডুলিপিগুলো নথিপত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রায় নয় বছর লেগে গেলো।

    ঠিক তখনই ইতিহাসের মঞ্চে ত্রাণকর্তা উইলফ্রিড ভয়নিচের পদার্পণ হয়। তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তি করে কিছু পাণ্ডুলিপি অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে নিজের মালিকানায় নিয়ে আসেন। তবে শর্ত ছিলো, এগুলো তিনি বাইরে প্রকাশ করতে পারবেন না। ভয়নিচও রাজি হয়ে যান। সেই রহস্যময় পাণ্ডুলিপিসহ আরো অনেক নথি ভয়নিচ ক্রয় করে ফ্লোরেন্সে পাঠিয়ে দেন। তিনি সংগৃহীত নথিগুলোর মধ্যে সেই ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু তিনি এর রহস্যের কোনো কূলকিনারাই করতে পারেননি। তবে চুক্তির শর্ত মোতাবেক ইউরোপে থাকা অবস্থায় ভয়নিচ কখনো পাণ্ডুলিপির কথা প্রকাশ করেননি।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভয়নিচ সপরিবারে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে যাওয়ার পর তিনি বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে তার পাণ্ডুলিপির কথা জানান। তারা ভীষণ কৌতূহলী হয়ে পড়েন ভয়নিচের  কথায়। শেষপর্যন্ত ১৯২১ সালে ফিলাডেলফিয়াতে তিনি তার পাণ্ডুলিপি নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এরপর তার অনুমতি নিয়ে অনেকেই সেটার রহস্য সমাধান করার চেষ্টা করেন। লোকমুখে তখন এই বইয়ের নাম হয়ে যায় ‘ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি’।

    কেউ পড়তে পারেনি এই বইটি

    ভয়নিচ ১৯৩০ সালে মৃত্যুবরণ করার পরে তার পরিবার বইটি ওয়াশিংটনে অবস্থিত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেনরি হায়ভারনেটের নিকট হস্তান্তর করেন। এরপর আরো কয়েক দফা মালিকানা বদলের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে ভয়নিচের সেই বইয়ের কথা। এদিকে ওদিকে গুঞ্জন উঠে, “সেই অদ্ভুত বইয়ের কথা শুনেছো? সেটা নাকি কেউই পড়তে পারে না!”

    রহস্যের গন্ধ পেয়ে উৎসাহীরা এগিয়ে আসেন। শুরু হয় গবেষণা।

    পাণ্ডুলিপির ভেতর কী লেখা?

    ভয়নিচ পাণ্ডুলিপির মূল রহস্য এর বইয়ের পাতায় লেখা বর্ণগুলো। এক অজানা ভাষায় লেখা হয়েছে পুরো বইটি। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম কোনো বর্ণমালার অস্তিত্ব না পেয়ে বিজ্ঞানীরা ধরে নেন, বর্ণগুলো সাংকেতিক বর্ণ। প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২/৩ টি করে অনুচ্ছেদ রয়েছে।

    পাণ্ডুলিপির লেখা

    এরপরের রহস্য এর মধ্যে আঁকা বিভিন্ন চিত্রগুলো নিয়ে। হাতে আঁকা এসব ছবি দেখে একবার মনে হয়, এটা কোনো বিজ্ঞানীর নোটখাতা। কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পরেই আপনার ভুল ভাঙবে। তখন মনে হবে এটা হয়তো কোনো জ্যোতিষীর ভাগ্যগণনার সহায়িকা। যতই পাতা উল্টাতে থাকবেন, ততই দ্বিধায় ভুগবেন।

    কিছু কিছু পাতায় আবার বৃত্ত, অর্ধবৃত্ত, ত্রিভুজ ইত্যাদি জ্যামিতিক নকশায় গুটি গুটি অক্ষরে বাক্য রচনা করা হয়েছে। শেষের দিকের পৃষ্ঠাগুলোয় লেখা বাক্যগুলো লেখা হয়েছে জাপানীদের মতো লম্বভাবে।

    বিভিন্ন জ্যামিতিক আকারে লেখা বাক্য

    সম্প্রতি ভাষাবিদরা জানান বইটির বেশকিছু বর্ণে গ্রিক বর্ণমালার ছাপ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ বর্ণমালা দেখতে প্রাচীন রসায়নবিদদের ব্যবহৃত বিভিন্ন চিহ্নের মতো মনে হয়। প্রাচীনকালে প্রাপ্ত অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রায়ই বাক্যে ভুলের কারণে কেটে দিয়ে সংশোধন করার নমুনা রয়েছে। কিন্তু এই রহস্যময় বইটিতে ভুলের সংখ্যা কত জানেন? শূন্য!

    একটি বাক্যও সংশোধন করতে হয়নি লেখককে। বিভিন্ন রঙের কালির ব্যবহারে লেখা পুরো বইয়ে বর্ণমালার সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। শুধু এই সংখ্যাটুকুই গবেষকদের ঘুম নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট!

    পাণ্ডুলিপির কিছু বর্ণের ছবি

    এরপর আসা যাক ছবির কথায়। বইয়ের ভেতর ফুল, ফল, পাতা, মানুষ, চিহ্নসহ আঁকা ছবিগুলোকে গবেষকরা ৭ বিভাগে ভাগ করেছেন। ভেষজ, জ্যোতির্বিদ্যা, মহাজাগতিক বস্তু, রাশিচক্র, জীবজগৎ, সাংকেতিক চিহ্ন এবং চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত ছবি রয়েছে। কিছু কিছু ছবির সাথে জুড়ে দেয়া সংক্ষিপ্ত বাক্য পাওয়া যায়। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, এর মধ্যে চীনা পৌরাণিক প্রাণী ড্রাগনের ছবিও পাওয়া যায়।

    পাঠোদ্ধারে কোনো আশানুরূপ অগ্রগতি না পাওয়ায়, অনেকেই হাল ছেড়ে দেন। কয়েকজন বিজ্ঞানী পুরো বইটিকেই বানোয়াট বলে দাবি করেন। তাদের মতে এটি অর্থলাভের আশায় ভয়নিচের বানানো তামাশা ব্যতীত আর কিছু নয়। একটা সময় সবাই প্রায় মেনে নিয়েছিলেন, এর কোনো অর্থ হয়তো নেই। কিন্তু তখন লন্ডনের কিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতবিদ গর্ডন রাগ নতুন এক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি ভয়নিচের আদলে আরেকটি সাংকেতিক ভাষা তৈরি করে সে অনুযায়ী বাক্য রচনা করে দেখান। তিনি গাণিতিক উপায়ে প্রমাণ করেন, ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি অর্থবোধক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদের ছবি দেখা যাচ্ছে

    সংখ্যা কখনো মিথ্যা বলে না। তাই বিজ্ঞানীরা আর পূর্বের মতো এক কথায় একে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিতে পারেন না। এ ব্যাপারে রাগ বিবিসির একটি সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন,

    “I don’t think there’s much chance that the Voynich manuscript is simply an unidentified language, because there are too many features in its text that are very different from anything found in any real language.”

    পান্ডুলিপির লেখক কে?

    ভয়নিচ যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন তিনি বিশ্বাস করতেন এই বইয়ের লেখক বিখ্যাত দার্শনিক রজার বেকন। কারণ বইয়ের সাথে পাওয়া খামের ভেতর বিজ্ঞানী জোয়ানাস মার্সি বইটি রজার বেকন কর্তৃক লেখা হতে পারে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এ ব্যাপারে ভয়নিচ একমত ছিলেন। তার মতে, রজার বেকনের ব্যক্তিগত নথিপত্রের দায়িত্বে থাকা জন ডি রাজা দ্বিতীয় রুডলফের দরবারে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। জন ডি সেই পাণ্ডুলিপি রুডলফের নিকট বিক্রয় করেন বলে ধারণা করা হয়। তাই ভয়নিচ বিশ্বাস করতেন জন ডি বইখানা রজার বেকনের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।

    দার্শনিক রজার বেকন

    ভয়নিচের মৃত্যুর পর কলা বিশেষজ্ঞ এরউইন পেনফস্কি বইয়ের পৃষ্ঠা পরীক্ষা করে এই ধারণা ভুল প্রমাণ করেন। কারণ এ ধরনের পৃষ্ঠা ব্যবহার শুরু হওয়ার অনেক আগেই রজার বেকন মৃতুবরণ করেন।

    পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা পরীক্ষা করছেন একজন গবেষক

    যদি বেকন বইটির লেখক না হন, তাহলে কে ছিলেন? এক্ষেত্রে রাফায়েল নিশোভস্কিকে এগিয়ে রাখেন গবেষকরা। তিনি ছিলেন জোয়ানাস মার্সির ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার জীবদ্দশায় তিনি একবার দাবি করেছিলেন যে, তিনি এমন সাংকেতিক ভাষা আবিষ্কার করেছেন যা কখনই কেউ বুঝতে পারবে না। কথিত আছে, বইয়ের লেখক হিসেবে রজার বেকনের সম্ভাবনার কথা তিনিই প্রথম তুলে ধরেন মার্সির কাছে। গবেষকরা মনে করেন, রাফায়েল তার সাংকেতিক ভাষার সাহায্যে পাণ্ডুলিপিটি রচনা করেন এবং তার সাংকেতিক ভাষার অভেদ্যতা পরীক্ষার জন্য বিষয়টি গোপন রাখেন।

    এছাড়াও অনেকের মতে, এই বইয়ের লেখক কোনো ইহুদি চিকিৎসক। আবার অনেকের মতে, বইটি ভয়নিচেরই লেখা। অর্থলাভের আশায় তিনি বইটি রচনা করে রহস্যের সৃষ্টি করেন। এই তত্ত্বে বিশ্বাসীরা পুরো ব্যাপারটি ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেয়ার দলে।

    পাঠোদ্ধারে অগ্রগতি এবং রুশ গণিতবিদদের বাজিমাত

    ১৯২১ সালে শুরু হওয়া গবেষণায় বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ, ভাষাবিদ যোগ দেন। কিন্তু কেউই এর পাঠোদ্ধারে সফল হতে পারেননি। এমনকি গোয়েন্দা সংস্থা FBI এবং CIA এর কর্মকর্তারাও এর গবেষণায় লিপ্ত আছেন।  পাঠোদ্ধার করতে ব্যর্থ হলেও গবেষকরা বিভিন্ন সময় বেশ কিছু তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে।

    এক্ষেত্রে সবার প্রথমে চলে আসে উইলিয়াম নিউবোল্ডের নাম। তিনি শেষের দিকে আঁকা একটি বৃত্তাকার নকশার সাথে মহাকাশে অবস্থিত একটি ছায়াপথের মিল খুঁজে পান। তিনি আরো একটি চিত্রের সাথে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখা কোষের সাদৃশ্য প্রমাণ করেন। কিন্তু তার এই তত্ত্ব বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি। তার তত্ত্বের পুরোটাই ভুল প্রমাণ করেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জন ম্যানলি।

    বৃত্তাকার নকশার সাথে ছায়াপথের মিল খুঁজে পান নিউবোল্ড

    এরপর রবার্ট ব্রাম্বো নামক এক বিজ্ঞানী ল্যাটিন বর্ণমালার সাহায্যে এর পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি বেশিদূর যেতে পারেননি। তার তত্ত্ব গবেষকরা বাতিল করে দেন। এরপর আরো অনেকেই নানা তত্ত্ব প্রদান করলেও কেউই এর পাঠোদ্ধারের কাছাকাছি যেতে পারেননি।

    একবিংশ শতাব্দীতে ইন্টারনেটের সাহায্যে এর রহস্য মীমাংসা করার চেষ্টা করেন FBI এর গবেষকরা। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হন।

    ১৯৭৮ সালে জন স্টকিও নামক এক গবেষক  তার বই ‘Letters to God’s Eye’-তে ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি নিয়ে তার গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, বইটিতে কোনো স্বরবর্ণের ব্যবহার করা হয়নি। তার এই তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে রীতিমত বাজিমাত করে ফেলেন রুশ গণিতবিদরা। RAS Institute of Applied Mathematics এর গণিতবিদরা এক অদ্ভুত উপায় অবলম্বন করে। তারা পৃথিবীর বিখ্যাত ভাষাগুলোর বর্ণমালা সংগ্রহ করেন। এরপর সেখান থেকে সব স্বরবর্ণ বাদ দিয়ে গবেষণা শুরু করেন। স্লাভিক, জার্মান, ইংরেজি, রোমান, বাক, গ্রিক, ল্যাটিন প্রভৃতি ভাষার প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরি করা বিশেষ কোডের সাহায্যে তারা একটি বাক্যের বেশ কিছু শব্দের অর্থ বের করতে সক্ষম হন। বাক্যটির প্রায় ৬০ ভাগ লেখায় ইংরেজি, জার্মান এবং রোমান ভাষার সংমিশ্রণ ছিল। কিন্তু তার পরেও যেন কিছুই বের করা হয়নি। কারণ,এখনো অনেক পথ বাকি। কিন্তু তারপরেও আবিষ্কারকরা এই ঘটনাকে বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। গবেষকদের প্রধান ইউরি অরলভ মন্তব্য করেন,

    “We now know that this can be done.”

    এর মাধ্যমে গবেষকরা আশার আলো দেখতে পান। ঝিমিয়ে পড়া গবেষকরা ফের নতুন উদ্দীপনায় কাজে লেগে যান।

    ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি

    বর্তমানে ভয়নিচের পাণ্ডুলিপিটি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।

    বিভিন্ন প্রকাশনা এবং গ্রন্থসমূহ

    ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি নিয়ে কয়েকশত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন সাহিত্যিক পাণ্ডুলিপির রহস্যে বিমোহিত হয়ে রচনা করেন কল্পকাহিনী। ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রবিন ওয়াসারম্যান এর ‘Book of Blood and Shadow’, জোনাথান মেবেরির ‘Assasin’s Code’ এবং মাইকেল কর্ডির ‘The Source’ পাঠকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়।

    পাণ্ডুলিপির চিত্র অনুলিপি

    এছাড়া ইয়েল বিশ্ববিদ্যায়ের উদ্যোগে ২০০৪ সালে এই রহস্যময় বইটির সম্পূর্ণ চিত্র অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এর ফলে পৃথিবীর যে কেউ ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই পুরো পাণ্ডুলিপি ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করতে পারবে।

    ভয়নিচের পাণ্ডুলিপির দুর্বোধ্যতা যা আধুনিক প্রযুক্তিকেও হার মানাচ্ছে, নিঃসন্দেহে প্রাচীনকালের জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতাকে তুলে ধরেছে। এখনও পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজারো রহস্য অমীমাংসিত অবস্থায় আছে। তবে গবেষকরা মনে করেন, সেদিন আর বেশিদূরে নেই, যেদিন পুরো পাণ্ডুলিপির রহস্য সমাধান করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাহায্যে হয়তো একদিন ঠিকই আমরা এর রহস্যভেদ করতে পারবো। তখন জানা যাবে পাণ্ডুলিপির পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে কোন অজানা তথ্য।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 56 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

প্রাচীন রোমের নারীরা রূপচর্চায় কি ব্যাবহার করতো?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    সৌন্দর্যের ধারনা মানুষের ভেতরে প্রাচীন কালেই বিকশিত হয়েছিল তা আজ অবধি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের নান্দনিক আবেদনের পছন্দগুলিকে আকার দেয়। প্রাচীন রোমের মানুষদের কাছে সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্য ছিলো ফর্সা বর্ণ, বদামী চোখ। আর মহিলাদের অসাধারণ ফিগারের সাথে স্বর্ণকেশী চুল। সেসময় সৌন্দর্য রক্ষার্থে সাজগোছ করারবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing প্রাচীন রোমের নারীদের রূপচর্চা: রূপচর্চার অদ্ভুত ৮ টি পদ্ধতি

    সৌন্দর্যের ধারনা মানুষের ভেতরে প্রাচীন কালেই বিকশিত হয়েছিল তা আজ অবধি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের নান্দনিক আবেদনের পছন্দগুলিকে আকার দেয়।

    প্রাচীন রোমের মানুষদের কাছে সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্য ছিলো ফর্সা বর্ণ, বদামী চোখ। আর মহিলাদের অসাধারণ ফিগারের সাথে স্বর্ণকেশী চুল।

    সেসময় সৌন্দর্য রক্ষার্থে সাজগোছ করার জন্য বিভিন্ন প্রসাধনী ও পদ্ধতি ব্যবহার করতো। তবে আজকেই দিনে যে কোনো সাধারণ মানুষ তা করতে পারে কিন্তু প্রাচীন রোমে আর আট দশটা সাধারণ মানুষ রূপচর্চা করতে পারতো না। প্রাচীন রেমের মেকআপ কেবলমাত্র ধনী শ্রেণীর মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। যদি কোনো নিম্ন শ্রেণির নারী মেকাপ করতো তাহলে তাকে প্রায়শই তিরস্কার করতো মানুষজন।

    চলুন আজ প্রাচীন রোমের মানুষদের রূপচর্চা বেশ কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে জানি।

    ১. ত্বকের সৌন্দযের জন্য দুধ দিয়ে স্নান করতেন

    প্রাচীন রোমে গায়ের রং ফর্সা হওয়ার গুরুত্ব ছিলো বেশি, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য। আর বেশিরভাগ পুরুষই বিয়ের জন্য ফর্সা ত্বকের নারীর খোঁজ করতো।

    আর তাই সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে নারীরা বিশেষ যত্ন নিতেন। ত্বকে দাগ মুক্ত, বালি মুক্ত ও মসৃণ রাখতে মহিলারা বাড়ির বাহিরে খুব একটা বের হতেন না। সারাদিন তারা বাড়ির অন্দরমহলেই কাটিয়ে দিতেন। আবার বের হলে তারা মুখে বিশেষ মাস্ক পড়ে বের হতেন।

    বেশ কিছু ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে তারা মুখের উপর সালভ, আনগুয়েন্টস এবং তেলের ব্যবহার সাধারণ বিষয় ছিল। এই উপাদানগুলির প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, বেশিরভাগ উপাদানগুলিকে মিক্স করে একটি পেস্ট তৈরি করে তা মুখে লাগিয়ে রাখতো।

    ধনী মহিলারা তাদের ত্বকে যত্নের সাথে দুধ ব্যবহার করতো, অনেক ধনী নারীরা আবার দুধ দিয়ে স্নান ও করতো। দুধে ত্বক সৌন্দর্য করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে কথিত আছে তাই সেসব কথা তারা সহজেই বিশ্বাস করতো।



    প্রাচীন রোম কিংবদন্তি অনুসারে, সম্রাট নিরোর স্ত্রী পপ্পা সাবিনা এত বেশি পরিমাণে দুধ ব্যবহার করতেন যে যখনই তিনি ভ্রমণ করতেন তখন গাধার একটি বাহিনী তার সাথে থাকত। বলা হয় যে তিনি দুধ এবং ময়দাযুক্ত তার নিজস্ব একটি রেসিপি তৈরি করতেন যা তিনি তার ত্বকে উপর প্রচুর পরিমানে প্রয়োগ করতেন।

    ২. চোখের পাপড়ি যত বড় হবে বিয়ের প্রস্তাবের তালিকা তত দীর্ঘ হবে
    প্রাচীন রোমে লম্বা দোররা একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হিসাবে বিবেচিত হত, এবং মহিলারা বড় পাপড়ি নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যকর, এবং কখনও কখনও অস্বাস্থ্যকর মাধ্যম অবলম্বন করত।

    আর সেজন্য তারা চোখে বিভিন্ন প্রকার কালি ব্যবহার করতো তা ছিলো শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।

    ৩. চোখের মেকাপ

    বলা হয় যে উজ্জ্বল ঝকঝকে রঙগুলি মহিলারা তাদের চোখের আকার বাড়ানোর জন্য আইশ্যাডো হিসাবে ব্যবহার করতেন। রঙিন সবুজ, হলুদ এবং নীলগুলি প্রাকৃতিক খনিজ থেকে সূক্ষ্ম পাউডার তৈরি করা হয়েছিল এবং চোখের পাতায় প্রয়োগ করা হয়েছিল।

    একটি কাঠকয়লা ধূসর পাউডার চোখের রূপরেখার জন্য কোহল হিসাবে ব্যবহার করার জন্য দূরবর্তী দেশগুলি থেকে আনা হয়েছিল। এটা বলা হয় যে কোহল চোখের প্রাকৃতিক রঙ বাড়াবে এবং তাদের বড় এবং উজ্জ্বল দেখাবে।

    কোহল জাফরান, ছাই, কাঁচ বা অ্যান্টিমনি থেকেও তৈরি করা হয়েছিল। এই সূক্ষ্ম পাউডারটি প্রয়োগ করার জন্য, হাড়ের কাঠিগুলিকে প্রায়শই তেল বা জলে ডুবিয়ে, তারপর কোহল পাউডারে ডুবিয়ে চোখের উপর ব্যবহার করা হতো।

    একজনের ভ্রুর মাঝখানে কালো কালি ব্যবহার করে প্রায়শই একটি ভ্রু আঁকা হযতো আর এটিকে প্রাচীনকালে সৌন্দর্যের চিহ্ন হিসাবে বিবেচনা করা হত।


    ৪. গোলাপী গাল

    সৌন্দর্য বাড়াতে মহিলারা লাল গোলাপী বিভিন্ন রঙ নিজেদের গালে ব্যবহার করে। এই কাজটি প্রাচীন রোমের নারীরাও করতেন। তবে তারা কিছু অদ্ভুত পদ্ধতি অবলম্বন করতেন।

    রোমান নারীরা তাদের গাল রঙ করতে গোলাপের পাপড়ি ছিড়ে ফেলতেন এবং সেগুলো ঢলে গালে লাগিয়ে গালের রঙ গোলাপি করতেন।
    এছাড়াও তারা আরো বেশ কিছু পদার্থ ও ব্যবহার করতেন গাল লাল করতে যেমন লাল চক, অ্যালকানেট এবং কুমিরের মূত্র।



    ৫. চুল কোঁকড়া ও রঙ করা

    প্রাচীন যুগের একটি প্রবাদ আছে, একজন মহিলার মহিলার সৌন্দর্য্য হচ্ছে তার চুল।
    আর তেমনি প্রাচীন রোমে মহিলাদের জন্য চুলের গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তারা তাদের পছন্দসই চুলের ধরন পেতে অদ্ভুত সব কান্ড করেছেন।

    প্রাচীন রোমের নারীরা চুল কোঁকড়া করতে ব্রোঞ্জের রড ব্যবহার করতেন। এই ব্রোঞ্জের রড কে হালকা গরম করে তা দিয়ে চুল গুলোকে রোলিং করে দীর্ঘক্ষণ রাখা হতো। সাথে অলিভ ওয়েল ও ব্যবহার করতো।

    আর যেহেতু সেসময় স্বর্ণকেশী এবং লাল চুলের উচ্চ চাহিদা ছিল, তাই তারা চলের উপর হালকা আস্তরণের রঙ ব্যবহার করতেন। এই রংগুলির বেশিরভাগই শাকসবজি এবং প্রাণীজ পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়েছিল। আর সেই রংগুলো জল এবং তেল দিয়ে ধুয়ে ফেলা যেতে পারতো।

    ৬. সুন্দর হাসির জন্য চাই সুন্দর দাঁত

    এ যুগের মানুষের কাঙ্ক্ষিত বহু জিনিসগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ফকফকে সাদা দাঁত। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন সাদা দাঁত অর্জনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি বিদ্যমান আছে।

    যাইহোক, প্রাচীন রোমানরা পশুর হাড়ের ছাই বা দাঁতের ছাই দিয়ে তৈরি তাদের নিজস্ব টুথপেস্ট তৈরি করত।
    যদি একজন ব্যক্তি একটি দাঁত হারিয়ে ফেলতেন, তাহলে সবচেয়ে ভালো হাতির দাঁত বা হাড় থেকে তৈরি একটি কৃত্রিম দাঁত একটি সোনার তারের মাধ্যমে তাদের মুখে পূঃণস্থাপন করা হতো।

    ৭. ঘনঘন মেকাপ নেওয়া

    যেহেতু সেসময় ফর্সা ত্বকের চাহিদা ছিল অত্যন্ত প্রচুর তাই সেসময় একধরনের সাদা ক্রিম ব্যবহার করা হতো ত্বকের জন্য। এই ক্রিমটির প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে সীসা।

    হ্যাঁ, সীসা বিষাক্ত। তবুও তারা সেটি ব্যবহার করতেন এই ভেবে যে এটি তাদের ত্বকের রঙের পরিবর্তন করবে। বিশেষ করে ধনী নারীরা এই ক্রিম বেশি ঘনঘন ব্যবহার জরতেন। এ জন্য অবশ্য তাদের ত্বকের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতো। তবুও তারা সেসবের কোনো তোয়াক্কা করতেন না।

    সেসম রোমান নারীরা এখনকার মতো নেইল পালিশ ও ব্যবহার করতেন! সেসময় নেইল পালিশ তৈরি করা হতো পশুর চর্বি ব্যবহার করে।
    পশুর চর্বি একটি হালকা গোলাপী রঙ উৎপন্ন করে যা নখকে সূক্ষ্ম ও উৎকৃষ্ট দেখাতো।

    ৮. সুগন্ধি ব্যবহার

    প্রাচীন রোমানরা শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে বিশেষ যত্ন নিতেন। আর মহিলাদের সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি শরীর থেকে সুগন্ধি প্রস্ফুটিত হওয়া ছিলো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    প্রাচীন রোমেও বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি তৈরি করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে কিছু তরল পদার্থের ছিলো। আর অন্যগুলি আঠালো কঠিন পদার্থের ছিল।

    এই সুগন্ধিগুলি ফুল এবং পাতা থেকে তৈরি করা হয়েছিল। জলপাই এবং আঙ্গুরের রস থেকে তৈরি অনফেসিওর ছিলো পারফিউমের মূল উপাদান। আর সেই পারফিউম কে রঙিন করতে মেশানো হতো বিভিন্ন রঙ।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 56 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের নাম কেন এমন হল?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    গ্রিনল্যান্ড সবুজে ঢাকা কোনো জায়গা নয় এবং আইসল্যান্ডও নামের মতোই বরফাবৃত নয়। শুনলে সত্যিই অবাক হবেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮০ ভাগ অঞ্চলই স্থায়ী বরফে আবৃত। অন্যদিকে, আইসল্যান্ডের মাত্র ১১ ভাগ অংশ বরফে ঢাকা। গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের এই ‘প্যারাডক্স’ ধরনের নাম ও বৈশিষ্ট্য খুব স্বাভাবিক কারণেই বিখ্যাতবিস্তারিত পড়ুন

    গ্রিনল্যান্ড সবুজে ঢাকা কোনো জায়গা নয় এবং আইসল্যান্ডও নামের মতোই বরফাবৃত নয়। শুনলে সত্যিই অবাক হবেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮০ ভাগ অঞ্চলই স্থায়ী বরফে আবৃত। অন্যদিকে, আইসল্যান্ডের মাত্র ১১ ভাগ অংশ বরফে ঢাকা। গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের এই ‘প্যারাডক্স’ ধরনের নাম ও বৈশিষ্ট্য খুব স্বাভাবিক কারণেই বিখ্যাত গোটা পৃথিবী জুড়ে। আপনি কি কখনো ভেবেছেন, কেন এই রকম অদ্ভুত নামকরণ?

    স্যাটেলাইট থেকে আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড যেমন দেখা যায়

    নামকরণের এই ব্যাপারটি ছিলো সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত। ভাইকিংরা যখন প্রথম এই ভূখণ্ড দুটিতে পা রাখে, তখনই নিজেদের খাতিরে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে সবকিছু বিপরীত দিকে পরিচালিত করলো। ভাইকিংরা সবুজ ভূখণ্ডটির নাম দিলো আইসল্যান্ড। কারণ উর্বর ও অনুকূল আবহাওয়ার অঞ্চলটি যেন সকলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এবং খুব বেশি লোকারণ্যে পরিণত না হয়। অন্যদিকে কঠিন বরফে আবৃত ভূখণ্ডটির নামকরণ করা হলো গ্রিনল্যান্ড, এই প্রতিকূল পরিবেশের দ্বীপটি কে দখল করতে গেলো কিংবা বসবাস করতে লাগলো তা নিয়ে খুব একটা মাথা না ঘামালেও চলতো। কিন্তু বাস্তবতা মাত্র তিন-চার বাক্যের মতোই সহজ নয়, নামকরণের পিছনে রয়েছে জটিল ঘটনাবলী, যার সাথে জড়িত রয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তন ও ভাইকিং প্রথা। নামকরণের এই উপাখ্যান লোকগাঁথা ও উপকথার মতো প্রচলিত।

    গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের নামকরণ হয়েছে ভাইকিংদের ইতিহাস থেকে

    নরওয়েজিয়ান ভাইকিংদের প্রথা ছিলো, প্রথমে যা তাদের দৃষ্টিগোচর হবে, সেই অনুসারে তার নামকরণ করা। ভূখণ্ডের নামকরণের ক্ষেত্রে শেষে শুধুমাত্র ‘ল্যান্ড’ যুক্ত করে দিলেই হলো। যেমন বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ভাইকিং এরিক দ্য রেডের ছেলে লিফ এরিকসন কানাডার একটি অঞ্চলের নামকরণ করেছিলো ভিনল্যান্ড (Vinland)। ‘Vin’ শব্দটি এসেছে ফরাসি ভাষা থেকে, যার অর্থ ওয়াইন। সম্ভবত যে অংশে এরিকসন প্রথম নোঙর করেছিলেন সেখানে প্রচুর বন্য আঙুর দেখতে পেয়েছিলেন। তাই এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

    লিফ এরিকসনের কল্পিত চিত্র

    উত্তর আটলান্টিক সাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র আইসল্যান্ড, মোট আয়তন ১,০২,৭৭৫ বর্গ কিলোমিটার। উপসাগরীয় প্রবাহের দরুন আইসল্যান্ডের সাধারণ তাপমাত্রা যথেষ্ট উষ্ণ। বর্তমানে আইসল্যান্ডের তাপমাত্রা ফেব্রুয়ারিতে সাধারণত গড়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও জুলাই থেকে আগস্টে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করে। আইসল্যান্ড এক সময় ছিলো বিরান ভূমি। লোককাহিনী অনুসারে, ভাইকিংদের হাত ধরে সেখানে জনপদ গড়ে উঠেছিলো।

    আইসল্যান্ড নামকরণের ইতিহাস নবম থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যে নিহিত। লোককাহিনী অনুযায়ী, নরওয়েজিয়ান ভাইকিং নাদাদর প্রথম আইসল্যান্ড আবিষ্কার করেন এবং যখন এই দ্বীপের উপকূলে তিনি পৌঁছান তখন সেখানে তুষারপাত হচ্ছিলো। প্রথা অনুযায়ী, নাদাদর দ্বীপটির নামকরণ করলেন ‘Snow land‘। নাদাদরের পর আইসল্যান্ডে পা রাখেন সুইডিশ ভাইকিং গারোর সভাভারোসন। সভাভারোসন বসতি স্থাপন করার পর সেটি নিজের নামে নামকরণ করেন ‘Garðarshólmur‘ বা গারোর দ্বীপ (Garðar’s Isle)। আজও এই নাম টিকে রয়েছে, আইসল্যান্ড আরেকটি যে নামে পরিচিত তা হলো ‘Garðarshólmur‘। গারোর পরে দ্বীপে যে ভাইকিং বসতি স্থাপন করেছিলেন, তার ভাগ্য ছিলো দুঃখ-দুর্দশায় পূর্ণ।

    গারোর সভাভারোসন

    আইসল্যান্ডের পথে ভাইকিং ফ্লোকি ভিলগারোরসন পাড়ি জমানোর পথে তার মেয়ে নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে ডুবে মৃত্যুবরণ করে। যতদিনে আইসল্যান্ডে পৌঁছান ফ্লোকি, ততদিনে দ্বীপের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া সকল পশু-পাখিও মারা যায়। সবকিছু হারিয়ে খুবই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ফ্লোকি। প্রচলিত উপকথা অনুসারে, এরপর সমুদ্রের ধারে কোনো এক পর্বতশীর্ষে আরোহণ করেন ফ্লোকি। পর্বতের চূড়ায় দাঁড়িয়ে এক বিশাল বরফ খণ্ড নজরে আসে ফ্লোকির। রাগে ও হতাশায় নিঃস্ব ফ্লোকি তখন দ্বীপটির নাম বদলে নতুন নাম দেন আইসল্যান্ড। সেই থেকে আজও এই নামেই পরিচিত উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপটি।

    যেখানে সব হারিয়েছেন ফ্লোকি, সেখানে আর কোনো ধরনের বসতি গড়ে উঠুক তা বোধ হয় আর চাননি তিনি। তাই মাতৃভূমি নরওয়েতে ফিরে গিয়ে ফ্লোকি গুজব রটাতে থাকে দ্বীপটি বসবাসের একেবারে অনুপযোগী ও বরফে ঢাকা। কিন্তু ফ্লোকির সাথে থাকা নাবিকদলের একজন থরোফ প্রচার করে বেড়ায় যে দ্বীপটি দারুণ উর্বর এবং সবুজ ঘাসে ভরপুর। ক্রমেই লোকারণ্যে পরিণত হয় আইসল্যান্ড। ফ্লোকির পরে যারা আইসল্যান্ডে বসতি স্থাপন করেন, তারা আর পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করেননি।

    সমুদ্র অভিযানে ভাইকিংদের নৌকা

    আইসল্যান্ডের নামকরণ নিয়ে আরেকটি উপকথা প্রচলিত রয়েছে। নরওয়েজিয়ান ভাইকিংদের দুই দলের মধ্যে যুদ্ধ সংগঠিত হয়। যুদ্ধ থেকে একদল পালিয়ে নৌকায় পাড়ি জমায়, শেষপর্যন্ত তারা সত্যিকার অর্থেই সবুজ এক দ্বীপে পৌঁছায়। ভাইকিংদের এই দলটির আশংকা ছিলো শত্রুপক্ষ ও বিরোধীগুলো এমন সবুজ দ্বীপের কথা জানতে পারলে বার বার আক্রমণ করে দখল করা চেষ্টা করবে।

    তাই তারা দ্বীপটির নাম দিলো আইসল্যান্ড এবং বাইরের পৃথিবীতে গুজব রটিয়ে দিলো যে দ্বীপটি বরফাচ্ছাদিত ও বসবাসের অযোগ্য। বিরোধী দলগুলোকে তাদের সবুজ দ্বীপ থেকে আরও দূরে সরিয়ে রাখতে তারা আরও প্রচার করেছিলো যে দূরে দারুণ সুন্দর সবুজ ও বিশাল একটি দ্বীপ রয়েছে। আসলে বিশাল এই দ্বীপটি ছিলো বরফে ঢাকা ও খুবই প্রতিকূল ভূখণ্ড। এই বিশাল দ্বীপটিই আজ গ্রিনল্যান্ড নামে পরিচিত।

    আইসল্যান্ডের সবুজে ঢাকা পাহাড়, পুরো আইসল্যান্ডে বরফাঞ্চল মাত্র ১১ ভাগ

    ২১,৬৬,০৮৬ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে থাকা গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ। গ্রিনল্যান্ড যদিও উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত কিন্তু দ্বীপটির প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ইউরোপের হাতে। গ্রিনল্যান্ডের তাপমাত্রা আজকে যত কম, একসময় এত হিমশীতল ছিলো না। বরফ ও শামুকের খোলসের প্রাপ্ত অংশ নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৮০০-১৩০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ অংশ বর্তমানের তুলনায় অনেক উষ্ণ ছিলো।

    কঠিন বরফে ঢাকা গ্রিনল্যান্ড, দ্বীপটির ৮০ ভাগ অঞ্চলই বরফে আবৃত

    ‘ভিনল্যান্ড’ নামকরণের হোতা ভাইকিং এরিকসনরের বাবা এরিক দ্য রেডের আসল নাম এরিক থরভালদসন। এরিকই ছিলো প্রথম ইউরোপিয়ান যিনি সর্বপ্রথম পা রাখেন গ্রিনল্যান্ডে এবং সেখানে বসতি স্থাপন করে। গ্রিনল্যান্ডে এরিকের পা রাখার ঘটনা ছিলো ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। প্রচলিত রয়েছে, নরওয়েতে থাকাকালীন সময়ে কোনো এক বিবাদে জড়িয়ে তিনজনকে হত্যা করে এরিক। তৎকালীন আইনানুসারে, হত্যার শাস্তি ছিলো মৃত্যদন্ড কিংবা নির্বাসন। এরিক বেছে নিয়েছিলেন নির্বাসন, যা তাকে পথ দেখিয়েছিলো সমুদ্র অভিযানে এবং নতুন ভূখণ্ড আবিষ্কারের।

    এরিক তার দলবল নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের যে অংশে পা রাখেন, তা ছিলো দ্বীপটির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ এবং সময়টি ছিলো গ্রীষ্মকাল। এই উষ্ণ অংশটি একেবারে কঠিন বরফে আবৃত ছিলো না। যদিও বসবাসের জন্য এটি কিছুটা অনুকূলে থাকলেও, একেবারে সহজও ছিলো না এখানে বসতি স্থাপন করা। উষ্ণ তাপমাত্রা ফসল ও সবুজ প্রকৃতির জন্য সহায়ক ছিলো। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ অংশে জুন মাসের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবিষ্কারের সময়, ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে গ্রিনল্যান্ডের ঘাস হয়তো যথেষ্ট সবুজ ছিলো। এই বিবেচনায় ভাইকিংদের দেওয়া এই নাম সম্ভবত সময়ের বিবেচনায় সঠিক ছিলো। অবশ্য উপকথা অনুযায়ী, বসতি স্থাপনের জন্য এরিক তখন অন্যান্যদের আকৃষ্ট করার জন্য দ্বীপটির নাম দিয়েছিলো গ্রিনল্যান্ড।

    এরিক দ্য রেড

    কিন্তু চৌদ্দ শতকের দিকে দ্বীপটির তাপমাত্রা কমে যেতে থাকে, তখন বাইরে থেকে এসে সেখানে বসতি স্থাপন করা লোকদের সংখ্যা কমে গেলো।  গ্রিনল্যান্ডে মাসের উষ্ণতম সময়েও তাপমাত্রা ০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের আশেপাশে বিরাজ করে। শীতকালে উত্তর-পূর্ব উপকূলের তাপমাত্রা -৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে আসে, অনেক সময় এটি -৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াসও হয়। ভাইকিংরা বসতি স্থাপনের আগে থেকেই গ্রিনল্যান্ডে বসবাস করতো সেখানকার স্থানীয় জাতিগোষ্ঠী ইনুয়িত। স্থানীয় ইনুয়িতদের কাছে গ্রিনল্যান্ড পরিচিত ‘কালালিত নুনাত’, অর্থ ‘দ্য ল্যান্ড অব দ্য পিপল’।

    জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের কারণে ক্রমেই গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলতে শুরু করেছে, অন্যদিকে আইসল্যান্ডের দিকে উপসাগরীয় উষ্ণ প্রবাহও ধীর গতির হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হাজার বছর পূর্বে ভাইকিংদের দেওয়া নাম হয়তো সার্থকতা পাবে অদূর ভবিষ্যতে। কারণ তাহলে আইসল্যান্ডের তাপমাত্রা কমে হিমাংকের নিচে নামবে ও কঠিন বরফ জমতে শুরু করবে সমুদ্র উপকূলে। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড উষ্ণ হতে শুরু করবে, বরফ গলে যাবে এবং হয়তো আরও বেশি সবুজের সমারোহ দেখা যাবে। কিন্তু এমন আমূল পরিবর্তন বয়ে আনবে বিশাল বিপর্যয়, যা হবে কল্পনাতীত।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 56 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
biplob
biplobনতুন
সময়ঃ 1 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ কে?

  1. sumi
    সেরা উত্তর
    sumi নতুন
    উত্তর দিয়েছেন 1 বছর আগে
    উত্তরটি এডিট করা হয়েছে।

    পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষঃ পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ বা "অত্যন্ত মন্দ" মানুষ হিসেবে সাধারণভাবে অ্যাডলফ হিটলারের নামই সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য। তিনি ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত নাৎসি জার্মানির একনায়ক ছিলেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ও হলোকাস্টের জন্য সরাসরি দায়ী। অ্যাডলফ হিটলারের অপরাধসমূহ হলবিস্তারিত পড়ুন

    পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষঃ

    পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ বা “অত্যন্ত মন্দ” মানুষ হিসেবে সাধারণভাবে অ্যাডলফ হিটলারের নামই সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য। তিনি ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত নাৎসি জার্মানির একনায়ক ছিলেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ও হলোকাস্টের জন্য সরাসরি দায়ী।

    অ্যাডলফ হিটলারের অপরাধসমূহ

    হলোকাস্ট: হিটলারের নেতৃত্বে প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদি এবং আরও কয়েক লক্ষ রোমা, সমকামী, প্রতিবন্ধী ও রাজনৈতিক বিরোধীকে হত্যা করা হয়। এই গণহত্যা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা: ১৯৩৯ সালে পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেন, যার ফলে প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রাণ হারায়।

    জাতিগত বিদ্বেষ ও বর্ণবাদ: হিটলারের আদর্শে “আর্য জাতি”কে শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে “অবাঞ্ছিত” হিসেবে চিহ্নিত করে নিধনযজ্ঞ চালানো হয়।

    রাজনৈতিক দমন-পীড়ন: তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেন, যার ফলে বহু মানুষ কারাবন্দি বা নিহত হন।

    অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খলনায়ক

    জোসেফ স্টালিন

    সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা, যিনি গণহত্যা, গুলাগ ক্যাম্প, দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটান।

    মাও সেতুং

    চীনের কমিউনিস্ট নেতা, যাঁর “গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড” ও “কালচারাল রেভল্যুশন” নীতির ফলে কয়েক কোটি মানুষ প্রাণ হারান।

    পল পট

    কম্বোডিয়ার খেমার রুজ নেতা, যাঁর শাসনামলে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ নিহত হন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

    কিং লিওপোল্ড II

    বেলজিয়ামের রাজা, যিনি কঙ্গোতে উপনিবেশিক শাসনের নামে প্রায় ১ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটান।

    ইভান দ্য টেরিবল

    রাশিয়ার প্রথম জার, যিনি নিষ্ঠুরতা ও গণহত্যার জন্য পরিচিত ছিলেন।

    “সবচেয়ে খারাপ মানুষ” নির্ধারণ করা একটি জটিল ও বিতর্কিত বিষয়, তবে অ্যাডলফ হিটলারের অপরাধের মাত্রা, পরিসর ও প্রভাবের কারণে ইতিহাসবিদদের মধ্যে তিনি সাধারণত এই তালিকার শীর্ষে থাকেন। তাঁর শাসনামল মানব ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

    এই বিষয়ে আরও জানতে, আপনি উত্তরের সাথে এটাচড ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 3 টি উত্তর
  • 56 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

ইতিহাস বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন কে তৈরী করেন এবং এর পরবর্তী ইতিহাস কি?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

      প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে চিরভাস্বর অম্লান করে ধরে রাখার জন্য বিশ্বখ্যাত তাজমহল নির্মাণ করেন সম্রাট শাহজাহান।  তাজমহলের স্থাপত্য সৌকর্য শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষের মনে একই রকম বিস্ময় জাগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিখ্যাত ও আলোচিত ময়ূর সিংহাসন সম্পর্কে না জানলে যেন সম্রাট শাহজাহানকে জানাবিস্তারিত পড়ুন

    ফাইল ছবি

     

    প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে চিরভাস্বর অম্লান করে ধরে রাখার জন্য বিশ্বখ্যাত তাজমহল নির্মাণ করেন সম্রাট শাহজাহান। 

    তাজমহলের স্থাপত্য সৌকর্য শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষের মনে একই রকম বিস্ময় জাগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিখ্যাত ও আলোচিত ময়ূর সিংহাসন সম্পর্কে না জানলে যেন সম্রাট শাহজাহানকে জানা অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

     

    শাহজাহানের শিল্পানুরাগের আরো একটি বিখ্যাত নিদর্শন হল জগৎ বিখ্যাত এই ময়ূর সিংহাসন। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি সিংহাসন মনে করা হয়। সেজন্য ইতিহাসের পাতায় অন্য সব সিংহাসন ছাপিয়ে এটি আলোচিত ও বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। মোগল স্থাপত্যের এই অনুপম নিদর্শনটি তৈরি হয় শিল্পের সমঝদার ও মুঘল সাম্রাজ্যের সোনার অলঙ্কার তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান বেবাদল খাঁ’র সরাসরি তত্ত্বাবধানে।

    বেবাদল খাঁর তত্ত্বাবধানে ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় আট বছর তৎকালীণ আট কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে সে সময়ে আগ্রার তাজমহলের চেয়েও দ্বিগুণ অর্থ ব্যয়ে শাহজাহান নির্মাণ করেন এই অপূর্ব সিংহাসনটি। ফারসিতে একে বলা হতো ‘তখত-ই-তাউস’। তখত মানে সিংহাসন, আর তাউস শব্দের অর্থ হল ময়ূর। কিন্তু সিংহাসনের নাম ‘ময়ূর সিংহাসন’ কেন? কারণ সিংহাসনের পেছনে অনিন্দ্যসুন্দর পেখম ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দু’টি ময়ূরের ছবি ছিল।

    ময়ূর সিংহাসন ছিল মূল্যবান স্বর্ণ, হীরা ও দূর্লভ মরকত মনি খচিত। সিংহাসনের চারটি পায়া নিরেট স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত ছিল এবং বারোটি মরকত মনি স্তম্ভের ওপর চন্দ্রতাপ ছাদ আচ্ছাদন করা হয়। ছাদের চারদিকে মিনা করা মণি মুক্তা বসানো ছিল। এর ভেতরের দিকের সবটাই মহামূল্যবান চুন্নি ও পান্না দ্বারা মুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। প্রত্যেক স্তম্ভের মাথায় মণি-মাণিক্য খচিত এক জোড়া ময়ূর মুখোমুখি বসানো হয়েছিল এবং প্রতি জোড়া ময়ূরের মধ্যস্থলে একেকটি মণি মাণিক্য নির্মিত গাছ এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল যেন ময়ূর দুটি ঠুকরে গাছের ফল খাচ্ছে এরূপ প্রতীয়মান হয়।

    পুরো সিংহাসনে অসংখ্যা নকশার মধ্যে ফাঁকা অংশটুকু কারুকার্য করা হয় ক্ষুদ্রাকৃতির হীরা দিয়ে। হীরা পান্না দ্বারা সুসজ্জিত তিনটি সিঁড়ির সাহায্যে ওঠানামার ব্যবস্থা ছিল। সিংহাসনের অপরের চাঁদোয়ার চারকোণে বসানো হয়েছিল সারিবদ্ধ মুক্তা। চাঁদোয়াটির নিচেও ছিল হীরা আর মুক্তার বাহারি নকশা। রকমারি জহরত দিয়ে সাজানো ময়ূরগুলোর লেজ ছিল নীল রঙের মণি দিয়ে তৈরি। এক একটি বিরাট আকারের চুনি বসানো ছিল ময়ূরের বুকে। সেখান থেকে ৫০ ক্যারটের একটি হলুদ রঙের মুক্তা ঝুলে থাকতো। সিংহাসনটিতে বসবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দিকে অগণিত মনি মুক্তা শোভা পেত।

    ১৫৮৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে পারস্যের মহামান্য সম্রাট আব্বাস তৎকালীন এক লাখ টাকা মূল্যের একটা হিরা বাদশাহকে উপহার দেন। সম্রাট শাহজাহান পিতার এই উপহার প্রাপ্ত অত্যন্ত দামি হীরাটিও সিংহাসনে যোগ করেন। এই ময়ূর সিংহাসনের নির্মাণ ব্যয় নিয়ে দুটি তথ্য পাওয়া যায়। সেকালে এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৮ কোটি টাকা, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে তৎকালীন ইউরোপীয় পর্যটক টাভার্নিয়ার উল্লেখ করেছেন, এই শিল্পমণ্ডিত বহুমূল্য রত্নখচিত সিংহাসনটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছিল পাঁচ কোটি টাকার হীরা-মুক্তা-পান্না, ৯০ লাখ টাকার জহরত, ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ তোলা ওজনের স্বর্ণ।

    এই মহামূল্যবান ময়ূর সিংহাসনটি ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট মোহাম্মদ শাহের শাসনামলে, পারস্য সম্রাট নাদির শাহের ভারতবর্ষ অভিযানকালে লুণ্ঠিত হয়। এর অবর্ণনীয় সৌন্দর্যৈ পাগলপারা হয়ে নাদির শাহ সিংহাসনটি সঙ্গে নিয়ে যান নিজ দেশ পারস্যে (বর্তমান ইরান)। পরে এই ময়ূর সিংহাসনের জন্য তার প্রতিপক্ষের কাছে নিদারুণভাবে খুন হন তিনি। ১৭৪৭ সালে নাদির শাহ আততায়ীর হাতে নিহত হন। এরপরই আসল ময়ূর সিংহাসনটি হারিয়ে যায়। নাদির শাহের মৃত্যুর ফলে সৃষ্ট গোলযোগের মধ্যে হয় এটি চুরি হয়ে গিয়েছিল, নয়তো এর বিভিন্ন অংশ খুলে আলাদা করা হয়েছিল। এটাও ধারণা করা হয়, সিংহাসনটি হয়তো ওসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতানদেরকে দেয়া হয়েছিল।

    যা-ই হোক, পরবর্তী ইতিহাসে পারস্য সাম্রাজ্যের সিংহাসনগুলোকে ভুলক্রমে ‘ময়ূর সিংহাসন’ নামে ডাকা হতো, যেগুলোর সঙ্গে আসল ময়ূর সিংহাসনের মিল ছিল না। আবার ১৮১২ সালে আলী শাহ কাজার কিংবা ১৮৩৬ সালে মোহাম্মদ শাহ কাজারের তৈরি সিংহাসনের সঙ্গে মুঘল চিত্রকলাতে প্রাপ্ত আসল ময়ূর সিংহাসনের কিছুটা মিল দেখা যায়। ইতিহাসবিদদের ধারণা, হয়তো মূল ময়ূর সিংহাসনের অংশ বিশেষ এগুলো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।

    আজ ভারতে কেন পারস্যেও নেই এই সিংহাসনটি। অনেক রাজার রাজত্বে হাত বদল হয়ে কালের গর্ভে ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশ্বখ্যাত কোহিনূর হীরা ময়ূর সিংহাসনে বসানো ছিল। পরে ব্রিটিশের হাতে কোহিনূর হীরাটি চলে যায়। এক সময় ইংল্যান্ডের রানী মহারানী ভিক্টোরিয়ার মুকুটে সেটা শোভা পায়। বংশপরম্পরায় ইংল্যান্ডের বর্তমান রানী মহারানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মুকুটেও শোভা পেয়েছিল এটি।

    প্রাচীনকালের সুন্দরী কুমারীর মতো ময়ূর সিংহাসনে স্থান পাওয়া দূর্লভ রত্ন বিখ্যাত কোহিনূর হীরাটিও বিভিন্ন রাজা বাদশাহ ও শাসকের হাত ঘুরে এখন স্থান পেয়েছে ইংল্যান্ডের টাওয়ার অফ লন্ডনে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 55 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম কি কি?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    বিশ্বের সর্বপ্রথম মোটরগাড়িটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮০৮ সালে। এরপর প্রযুক্তির বহু উন্নয়ন ঘটেছে, জন্ম নিয়েছে বহু মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে গোটা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ মিলিয়ন গাড়ি তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে নানা রকম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ গাড়িগুলো তৈরি করে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গত কবিস্তারিত পড়ুন

    বিশ্বের সর্বপ্রথম মোটরগাড়িটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮০৮ সালে। এরপর প্রযুক্তির বহু উন্নয়ন ঘটেছে, জন্ম নিয়েছে বহু মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে গোটা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ মিলিয়ন গাড়ি তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে নানা রকম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ গাড়িগুলো তৈরি করে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গত কয়েক বছরেই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, আবার কারো কারো বর্তমানের এই অবস্থায় আসতে সময় লেগে গেছে কয়েকশো বছর! এসব প্রতিষ্ঠানের নাম আমরা জানলেও তাদের এই অবস্থায় আসার পেছনের গল্প আমরা অনেকেই জানি না। চলুন আজকে জেনে নিই এখনও পর্যন্ত চালু থাকা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন কয়েকটি মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে।

    ১. রোলস-রয়েস

    প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯০৬ সাল

    বিলাসবহুল গাড়ির জগতে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় গাড়ির নাম রোলস-রয়েস। ১৯০৬ সালে ইঞ্জিনিয়ার হেনরি রয়েস ও যুক্তরাজ্যের প্রথম মোটরগাড়ি ডিলারশিপের মালিক চার্লস রোলস মিলে এই রোলস-রয়েস কোম্পানির সূচনা করেন।

    রোলস-রয়েসের প্রথমদিকের গাড়ি ‘সিলভার ঘোস্ট’ এর মাধ্যমেই তাদের কোম্পানির সফলতার দৌড় শুরু হয়। অনেকগুলো রেকর্ড ভাঙা এই গাড়িটি সেসময় ‘বিশ্বের সেরা মোটরগাড়ি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই গাড়িটি একটানা ২৭ বার লন্ডন থেকে গ্লাসগো ভ্রমণ করে মোট ১৪,৩৭১ মাইল পাড়ি দেয়। এর ফলে বিলাসবহুল গাড়িতে চড়ে একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড করে এই গাড়িটি। বর্তমানে রোলস-রয়েস বিশ্বের আরেক জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডাব্লিউ এর সাথে যুক্ত হয়েছে। এখনও বিশ্বের অন্যতম সম্মানীত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয় রোলস-রয়েসকে।

    ২. ক্যাডিলাক

    প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯০১ সাল

    মোটরগাড়ির জগতে অন্যতম এক নাম ক্যাডিলাক। মজার ব্যাপার হলো, এই কোম্পানির জন্ম হয় কিন্তু বিশ্বের অন্যতম এক জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ডের মালিক হেনরি ফোর্ডের হাত ধরে। ১৯০১ সালে হেনরি ফোর্ড দ্বিতীয় আরেকটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘হেনরি ফোর্ড কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই কোম্পানির আর্থিক সাহায্যকারী লিমুয়েল বোয়েন ও উইলিয়াম মার্ফির সাথে কিছু মতের মিল না হওয়ায় হেনরি ফোর্ড এই কোম্পানি ছেড়ে চলে যান।

    মার্ফি এবং ব্রাউন প্রথমে হেনরির এই কোম্পানির যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেয়ার কথা চিন্তা করেন। তবে পরবর্তীতে তারা তা বিক্রি না করে নতুনভাবে গাড়ি নির্মাণ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯০২ সালে নতুন এই কোম্পানি নামকরণ করা হয় ক্যাডিলাক। ১৯০৯ সালে এই কোম্পানিটি জেনারেল মোটরস কিনে নেয়।

    এরপর থেকে বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্যাডিলাক ভালোই সুনাম অর্জন করেছে। ১৯০৮ ও ১৯১২ সালে সম্মানজনক ‘ডেওয়ার ট্রফি’ লাভ করে তারা।

    ৩. ফিয়াট

    প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৯৯ সাল

    ইতালির সবচেয়ে বড় মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফিয়াটের জন্ম হয় ১৮৯৯ সালে। ফিয়াট (FIAT) এর পূর্ণরূপ ‘Fabbrica Italiana Automobili Torino’, যার অর্থ ‘ইতালীয় মোটরগাড়ি ফ্যাক্টরি, তুরিন’। ফিয়াট তাদের প্রথম গাড়িটি নির্মাণ করে ১৮৯৯ সালে। এরপর ১৯১০ সালের দিকে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিওভানি অ্যানেল্লি হেনরি ফোর্ডের গাড়ি নির্মাণ কারখানাটি দেখতে আসেন। তিনি ফোর্ডের কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপনা দেখে মুগ্ধ হন এবং পরবর্তীতে নিজের কারখানাতেও একই পদ্ধতি চালু করেন।

    ফিয়াটের সবচেয়ে জনপ্রিয় গাড়িগুলো প্রধানত ‘সিটি কার’ ও ‘সুপারমিনি’ এ দুই শ্রেণীর। ১৯৭০ সালে ফিয়াট ইলেকট্রিক যানবাহন তৈরি শুরু করে। বর্তমানে মোটরগাড়ি ছাড়াও অস্ত্র নির্মাণে অংশ নিয়েছে ফিয়াট।

    ৪. ল্যান্ড রোভার

    প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৯৬ সাল

    ১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রথমে ছিল ‘ল্যানক্যাশিয়ার স্টিম মোটর কোম্পানি’। এরপর বহুবার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে এই কোম্পানিটির। প্রথমদিকে এই কোম্পানিটি শুধুমাত্র বাষ্পীয় ঘাস কাটার যন্ত্র তৈরি করতো। এরপর তারা বাষ্পীয় মালবাহী গাড়ি নির্মাণ শুরু করে। ১৯০৭ সালে কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে ‘লেল্যান্ড মোটরস’ করা হয়।

    ১৯৭৮ সালে আরো অনেক ধাপ নাম পরিবর্তনের পর শেষমেশ কোম্পানির নাম রাখা হয় ‘ল্যান্ড রোভার’। ১৯৪৮ সালে কোম্পানিটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল ‘রোভার’ এর নির্মাণ শুরু করে লেল্যান্ড মোটরস। ব্রিটিশ আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে প্রচলিত এই মডেলের উৎপাদন চালু রয়েছে এখন পর্যন্ত। ১৯৫১ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ কর্তৃক একটি রাজকীয় সনদ লাভ করে ল্যান্ড রোভার কোম্পানি।

    ৫. মার্সিডিজ-বেঞ্জ

    প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৮৩ সাল

    বিপুল জনপ্রিয় মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্সিডিজ বেঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৬ সালে। পুরনো দুটি ভিন্ন মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একীভূত হয়েই কিন্তু গঠিত হয়েছে এই কোম্পানিটি।

    এই দুটি প্রতিষ্ঠানের একটি ‘ডাইমলার মোটোরেন গেসেলস্ক্রাফট’। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি প্রথমদিকে শুধুমাত্র পেট্রোল ইঞ্জিন প্রস্তুত করতো। এরপর তারা ছোটখাট রেস কার তৈরি শুরু করে এবং পরবর্তীতে মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের নানা মডেল নির্মাণে যোগ দেয়।

    একইভাবে, ‘বেঞ্জ অ্যান্ড কোম্পানিজ’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয় ১৮৮৩ সালে। প্রথমদিকে তারা গ্যাস ইঞ্জিন ও শিল্পকারখানার বিভিন্ন যন্ত্র নির্মাণ করতো। এরপর কোম্পানির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কার্ল বেঞ্জ তার বহুদিনের স্বপ্নের মোটরগাড়ি নির্মাণের দিকে মন দেন। ১৮৮৬ সালে তিনি বিশ্বের সর্বপ্রথম পেট্রোল চালিত মোটরগাড়ি নির্মাণ করেন।

    ১৯২৬ সালে এই দুটি কোম্পানি একত্রিত হয়ে মার্সিডিজ-বেঞ্জ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে।

    ৬. টাট্রা

    প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৫০ সাল

    অন্যতম প্রাচীন মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাট্রার সূচনা হয় ঘোড়ায়টানা গাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে। ১৮৯১ সালে তারা রেলপথে চলার উপযোগী গাড়ি নির্মাণ শুরু করে।

    এরপর ১৮৯৭ সালে টাট্রার প্রযুক্তিগত পরিচালক হুগো ফিশার নিজের ব্যবহারের জন্য একটি বেঞ্জ মোটরগাড়ি কেনেন। আর এই গাড়ি থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি পরের বছরেই তার কোম্পানির প্রথম মোটরগাড়ি ‘প্রাসিডেন্ট’ নির্মাণ করেন।

    গাড়ি ছাড়াও টাট্রা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনাবাহিনীর জন্য ট্যাংক ইঞ্জিন ও ট্রাক তৈরি করতো। তবে এই ট্রাকগুলো চলার সময় এত দ্রুত মোড় নিতো যে বহু জার্মান সৈন্য এই গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। ফলে পরবর্তীতে জার্মান সৈন্যদের এই টাট্রা ট্রাকগুলো ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

    ১৯৯৯ সালে এই কোম্পানি তাদের যাত্রীবাহী গাড়ি নির্মাণ বন্ধ ঘোষণা করে। তবে এখনো পর্যন্ত টাট্রা ট্রাক নির্মাণ করে আসছে।

    ৭. পিউজো

    প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮১০ সাল

    আজকের প্রাচীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তালিকার সবেচেয়ে পুরানো প্রতিষ্ঠানটি হলো পিউজো। প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটির শুরু হয় ১৮১০ সালে এক কফি গুঁড়ো করার মিল হিসেবে। ১৮৩০ সালে তারা বাইসাইকেল নির্মাণ শুরু করে। এরপর ১৮৪২ সালে তারা লবণ, মরিচ ও কফি গুঁড়ো করার মেশিন নির্মাণ শুরু করে। তবে এসবের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পিউজোর মোটরগাড়ি নির্মাণের প্রতি ছিল ব্যাপক আগ্রহ। ফলে ১৮৮২ সালের দিকে তিনি মোটরগাড়ি নির্মাণ শুরু করেন।

    ১৮৮৯ সালে লিওন সারপোলেটের সহযোগিতায় পিউজোর প্রথম গাড়ি বাজারে আসে। এটি ছিল একধরনের বাষ্পচালিত তিন চাকার গাড়ি। তবে ব্যাপক আকারে উৎপাদনের জন্য এটি ছিল অনুপযোগী। ফলে ১৮৯০ সালে কিছু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটির উন্নত মডেল বাজারে আনা হয়।

    পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে পিউজো তার পূর্বের কোম্পানি ত্যাগ করেন এবং ‘সোসাইটি ডেস অটোমোবাইলস পিউজো’ নামে ১৮৯৬ সালে আরেকটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। এর দু’বছর আগে তিনি গাড়ির পাশাপাশি মোটরসাইকেল নির্মাণ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল নির্মাণের জন্য দুটি ভিন্ন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

    এ পর্যন্ত বহু পুরষ্কার ও সম্মাননা জিতে নেয়া পিউজো এখনো পর্যন্ত চালু থাকা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 55 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

বাঙালির বংশ পদবীর ইতিহাস কি?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    অধিকাংশ ব্যক্তি নামের শেষে একটি পদবী যুক্ত হয়ে আছে। যেমন উপাধি, উপনাম কিংবা বংশসূচক নামকে সাধারণ ভাবে পদবী বলা হয়। বাঙালির বংশ পদবীর ইতিহাস খুব বেশি প্রাচীন নয়। মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার ফলে পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমান্তরালে বাঙালির পদবীর বিকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হয়।বিস্তারিত পড়ুন

    অধিকাংশ ব্যক্তি নামের শেষে একটি পদবী যুক্ত হয়ে আছে। যেমন উপাধি, উপনাম কিংবা বংশসূচক নামকে সাধারণ ভাবে পদবী বলা হয়।

    বাঙালির বংশ পদবীর ইতিহাস খুব বেশি প্রাচীন নয়। মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার ফলে পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমান্তরালে বাঙালির পদবীর বিকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হয়।

    বাঙালির জমি- জমা বিষয় সংক্রান্ত কিছু পদবী যেমন- হালদার, মজুমদার, তালুকদার, পোদ্দার, সরদার, প্রামাণিক, হাজরা, হাজারী, মন্ডল, মোড়ল, মল্লিক, সরকার, বিশ্বাস ইত্যাদি বংশ পদবীর রয়েছে হিন্দু -মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের একান্ত রূপ।

    বাঙালি মুসলমানের শিক্ষক পেশার পদবী হলো-খন্দকার, আকন্দ, নিয়াজী ইত্যাদি।

    আর বাঙালি হিন্দুর শিক্ষক পদবী হচ্ছে দ্বিবেদী, ত্রিবেদী, চর্তুবেদী ইত্যাদি।

    এবার আপনাদের জানাবো বাঙালির কিছু বিখ্যাত বংশ পদবীর ইতিহাস।  যেমন-শিকদার, সৈয়দ, শেখ, মীর, মিঞা, মোল্লা, দাস, খন্দকার, আকন্দ, চৌধুরী, ভুইয়া, মজুমদার, তরফদার, তালুকদার, সরকার, মল্লিক, মন্ডল, পন্নী, ফকির, আনসারী, দত্ত ইত্যাদি।

    শিকদার: সুলতানি আমলে কয়েকটি মহাল নিয়ে গঠিত ছিল এক একটি শিক। আরবি শিক হলো একটি খন্ড এলাকা বা বিভাগ। এর সঙ্গে ফারসি দার যুক্ত হয়ে শিকদার বা সিকদার শব্দের উদ্ভব হয়েছে। এরা ছিলেন রাজস্ব আদায়কারী রাজকর্মচারী। শব্দকোষে যাকে বলা হয়েছে শান্তিরক্ষক কর্মচারী। এরা শিক বন্দুক বা ছড়ি বন্দুক ব্যবহার করতো বলে শিকদার উপাধী পেয়েছিল; সেই থেকে বংশ পরমপরায় শিকদার পদবীর বিকাশ ঘটে।

    সৈয়দ: সৈয়দ পদবী মূলত এসেছে নবী নন্দিনী হজরত ফাতেমা ও হজরত আলীর বংশ ধর থেকে। প্রায় দেড় হাজার বছর আগের এই বংশের সঙ্গে কোনা যোগসূত্র না থাকলেও বাংলাদেশের অনেক মুসলমান পরিবার সৈয়দ বংশ পদবী ব্যবহার করে নিজেদের সম্ভ্রান্ত ও কুলীন মুসলমান বলে দাবি করে থাকেন। বাঙালি মুসলমান সমাজে সৈয়দ পদবীর অপব্যবহার ও পক্ষেপণ ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। প্রকৃত পক্ষে সৈয়দ নন এবং পারিবারিক কোনো কুলীন পদবীও নেই, অথবা পূর্ব পদবী ঐতিহ্য পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুক এমন অনেক বংশ গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বিশেষে বাংলাদেশে সৈয়দ পদবী আরোপিতভাবে ব্যবহার শুরু করেছিলেন।

    শেখ: শেখ আরবি থেকে আগত পদবী। সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের সম্মানসূচক বংশ পদবী শেখ। যিনি সম্মানিত বৃদ্ধ অথবা যিনি গোত্র প্রধান, তাকেই বলা হতো শেখ। হজরত মোহাম্মাদ (সা.) সরাসরি যাকে বা যাদের ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন, তিনি বা তার বংশ ধরও শেখ নামে অভিষিক্ত হতেন অথবা শেখ পদবী লাভ করতেন। বাঙালি মুসলমান সমাজে যারা শেখ পদবী ধারণ করেন, তারা এ রকম ধারণা পোষণ করেন না যে, তারা বা তাদের পূর্ব পুরুষরা এসেছিলেন সৌদী আরব থেকে। বাঙালি সৈয়দ পদবী ধারীদের থেকে শেখ পদবীধারীদের এখানে একটা মৌলিক তাৎপর্যগত পার্থক্য রয়েছে। শেখ পদবী গ্রহণের নেপথ্যে রয়েছে ওই পূর্বোক্ত চেতনা। নবীর হাতে মুসলমান না হলেও বাংলায় ইসলাম ধর্ম আর্বিভাবের সঙ্গে সঙ্গে যারা নতুন ধর্মকে গ্রহণ করে নেন; নও মুসলমান’ হিসেবে প্রাচীন ও মধ্যযুগে তারাই শেখ পদবী ধারণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাদের বংশের উত্তর সূরীরাই শেখ পদবী ব্যবহার করে এসেছেন। এমনিতে অন্য ধর্মের লোকের কাছে মুসলমান মানেই শেখ বা সেক। কেউ কেই শেখ কেউ সেক কিংবা কেউ বা শেখ এর রূপান্তর শাইখও ব্যবহার করে থাকেন।

    মীর: মির বা মীর শব্দটি এসেছে আরবি থেকে। আরবি শব্দ আমীর’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে মীর। সেই অর্থে মীর অর্থ দলপতি বা নেতা, প্রধান ব্যক্তি, সরদার ইত্যাদি। জিতে নেয়া বা জয়ী হওয়া অর্থে মীর শব্দের ব্যবহার হতো। তবে মীর বংশীয় লোককে সম্ভ্রান্ত এবং সৈয়দ বংশীয় পদবীধারীর একটি শাখা বলে গবেষকরা মনে করেন।

    মিঞা: মিঞা মুসলিম উচ্চ পদস্থ সামাজিক ব্যক্তিকে সম্বোধন করার জন্য ব্যবহৃত সম্ভ্রম সূচক শব্দ। এক অর্থে সকল মুসলমানের পদবীই হচ্ছে মিঞা। বাঙালি হিন্দুর মহাশয়’ এর পরিবর্তে বাঙালি মুসলমান মিয়া শব্দ ব্যবহার করে থাকে। মিঞা’ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। প্রভু বা প্রধান ব্যক্তি বুঝাতেও মিয়া শব্দের প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তবে গ্রামীন প্রধান বা সর্দার অর্থের মিঞা পদবী হিসেবে বাঙালি মুসলমান সমাজে ঠাঁই পেয়েছে।

    মোল্লা: মোল্লা এবং মুন্সী বাঙালির দুটো জনপ্রিয় পদবী। তাদের প্রসার প্রায় দেশব্যাপী। বঙ্গীয় শব্দকোষ এ মোল্লা শব্দের অর্থ করা হয়েছে মুসলমান পুরোহিত। বস্তুত এভাবে মসজিদে নামাজ পরিচালনার কারণেও অনেকে মোল্লা উপাধি পেয়েছিল। প্রকৃত পক্ষে, মোল্লা হচ্ছে তুর্কি ও আরবি ভাষার মোল্লা থেকে আগত একটি শব্দ যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে পরিপূর্ণ জ্ঞান বিশিষ্ট মহাপন্ডিত ব্যক্তি। অন্য অর্থে মুসলিম পন্ডিত বা ব্যবস্থাপক বা অধ্যাপক হলেন মোল্লা। পরবর্তী কালে মসজিদে নামাজ পরিচারলনাকারী মাত্রই মোল্লা নামে অভিহিত হতে থাকে। এখান থেকেই সাধারণত বংশ পদবী হিসেবে তা ব্যবস্থার হওয়া শুরু হয়। তারা সকল জ্ঞানের জ্ঞানী না হওয়া সত্ত্বেও মোল্লা পদবী ধারণ করে। যার ফলে মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত’ প্রবাদের উৎপত্তি হয়েছে।

    দাস: বাঙালি হিন্দু সমাজে দাস বা দাশ বংশ পদবীর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। যে সমস্ত হিন্দু সম্পদায়ের মানুষ পদবীতে দাশ লিখেন তাদের পেশা ধীবর থেকে এসেছে বলে গবেষকরা মনে করেন। আর যারা দাস লেখেন তাদের পদবী স্রষ্টার ভূত্য চেতনা থেকে এসেছেন।

    খন্দকার: মুসলিম সমাজের ফারসি শিক্ষক হিসেবে খোন্দকার বা খন্দকারের পরিচয় পাওয়া যায় । অন্য দিকে খোন্দকারের ‘ পদবী এসেছে সামন্ত সমাজ থেকে পেশাজীবী হিসেবে। সাধারণ ভাবে খোন্দকার বা খন্দকার অর্থ হচ্ছে কৃষক বা চাষাবাদকারী । মনে করা হয় ফারসি কনদহ ‘ এর যার অর্থ কৃষি’সাথেকার যুক্ত হয়ে কনদহকার> খনদহকার>খন্দকার হয়েছে। ভিন্ন মতে, খন্দকারের মূল উৎপত্তি সংস্কৃত কন্দ> খন্দ যার অর্থ ফসল বলা হয়েছে। এই খন্দ এর সঙ্গে কার যুক্ত হয়েও খন্দকার> খোন্দকার হতে পারে। এবং এতেও পূর্বের খন্দকার’ শব্দের উৎসের অর্থের তারতম্য ঘটছে না। আবার ফারসি ভাষায়, খোন্দকার বলে একটি শব্দ আছে যার অর্থ শিক্ষক। সেখান থেকেও খোন্দকার পদবী আসা বিচিত্র কিছু নয়। অথবা খোন্দকার শব্দের যে ভিন্নভিন্ন অর্থ তার সবগুলো মিলিত তাৎপর্য থেকেই বিভিন্নভাবে খন্দকার পদবীর উৎপত্তি হয়েছে।

    আখন্দ: খন্দকার ও আখন্দ বা আকন সমার্থক। আখন্দ ও আকন নামে যে সব পদবী তাও সম্ভবত খন্দকার পদবীরই রূপভেদ। খন্দকার>আখন্দ> আকন হয়ে থাকতে পারে। আবার ফারসি আখুন্দ থেকেও আখন্দ এসে থাকতে পারে। যার অর্থ শিক্ষক। তবে আকন্দ এসেছে আখন্দ থেকেই।

    চৌধুরী: সংস্কৃত চতুধারী শব্দ থেকে এসেছে বাংলা চৌধুরী শব্দ। এর অর্থ চর্তুসীমানার অন্তগর্ত অঞ্চলের শাসক। বাংলাদেশের বেশির ভাগ জমিদারদের পদবী হচ্ছে চৌধুরী। আবার অনেকে মনে করেন চৌথহারী’ যার অর্থ এক চতুথাংশ রাজস্ব আদায়কারী, সেখান থেকে উচ্চারণ পরিবর্তনের মাধ্যমে এসেছে চৌধুরী’। সেদিক থেকে চৌথ আদায়কারী বা রাজস্ব আদায়কারী পদ সৃষ্টি হয়েছিল বাংলার রাষ্ট্র ব্যবস্থার। বঙ্গীয় শব্দকোষ বলছে, চতুর’ যার অর্থ তাকিয়া বা মসনদ, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধর’ (অর্থ ধারক) এবং এই দুয়ে মিলে হয়েছে চৌধরী’ আর তার থেকেই চৌধুরী’। তবে তা মূলত হিন্দী ও মারাঠি শব্দ। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে চৌধুরী বংশ পদবী ব্যবহার করা হয় এদেশে। বৃটিশ-ভারতের প্রায় সর্বত্র এ পদবীর অস্তিত্ব ছিল। কারণ চৌধুরী ছিল সামন্ত রাজার পদবী।

    ভূঁইয়া: এই বংশ পদবীটি এসেছে খোদ ভূমির মালিকানা অর্থ থেকে। বাঙালি হিন্দু-মুসলিম উভয় এর মধ্যে এ পদবীর প্রচলন আছে। বাঙালি হিন্দু সমাজে যারাই ভৌমিক’ বাঙালি মুসলমান সমাজে তারা ভূঁইয়া’ হিসেবে পদবী ধারণ করেছেন। মূল সংস্কৃত শব্দ ভৌমিক > (প্রাকৃত) ভূমিকা > (বাংলা) ভূঁইয়া > থেকে ভূঁইয়া বা ভূঁঞা এসেছে। প্রাচীন বড় জমিদার বা সামন্ত রাজার উপাধিও ছিল ভূঁইয়া। প্রকৃত পক্ষে কুলীন বংশ পদবীই ছিল তা। আবার যে সব মানুষ আগে স্থান বিশেষে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে বসতি ও চাষাবাদের পত্তন করেছে তারা স্থানীয় জমিদার রাজার কাছ থেকে ভূঁইয়া নামে অভিহিত হয়ে ঐসব জমি জমার স্বত্ব লাভ করেছে।

    মজুমদার: মজুমদার’ পদবী মূল আসলে মজুনদার’। এর মূল ফারসি শব্দ হচ্ছে মজমু আনদার’। রাষ্ট্রের ও জমিদারির দলিল পত্রাদির রক্ষক রাজকর্মচারীর জন্যে এই পদবী সংরক্ষিত ছিল। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশে মজুমদার’ পদবীর ব্যবহার লক্ষনীয়।

    তরফদার: আরবি তরফ’ এবং ফারসি দার’ মিলে তরফদার শব্দের সৃষ্টি। রাজ্যের খাজনা আদায়ের মহালে তদারককারী বা খাজনা আদায়কারীর উপাধী ছিল তরফদার। এই পদবী ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর পূর্ব পুরুষরা রাজকার্য পরিচালনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, সেখান থেকেই এই বংশ পদবী উৎপত্তি ও প্রচলন। অন্যমতে তরফদার তরফের রাজস্ব আদায়কারী লোক; তরফের মালিক; পদবী বিশেষ।

    তালুকদার: আমাদের দেশে পরিচিত একটি বংশ পদবী। বাংলাদেশে জমিদারির পরই তালুক ভূ-সম্পত্তির একটি বিভাগ। মোগল ও বৃটিশ আমলে রাজস্ব ও ভুমি সংক্রান্ত বিষয়াদি থেকে যে সমস্ত পদবীর উৎপত্তি ও বিস্তার তার মধ্যে তালুকদার’ হচ্ছে অন্যতম পদবী। তালুক’ শব্দ থেকেও এই পদবীর মর্মাথ উপলব্ধি করা সম্ভব। আরবি শব্দ তা’ আল্লুক’ যার অর্থ ভূ-সম্পত্তি এবং এর সাথে ফারসি দার’ যুক্ত হয়ে (তা’আল্লুক+দার) তালুকদার’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে, যিনি তালুকদার, তিনি জমি ও ক্ষুদ্র ভূ-সম্পত্তি বন্দোবস্ত নিতেন সরকারের কাছ থেকেও যেমন, তেমনি জমিদারের কাছে থেকেও। ফলে তিনি হতেন উপজমিদার সেই অর্থেই এসেছে তালুকদার’।

    সরকার: সরকার’ শব্দটি ফারসি থেকে আগত। এর অর্থ প্রভূ, মালিক, ভূস্বামী, শাসনকর্তা, রাজা। অর্থ আদায় ও ব্যয় সংক্রান্ত কর্মচারি ও সরকার। মোগল আমলে এদেশের স্থানীয় রাজকর্মচারিদের এ পদবী দেয়া হতো। মোট কথা প্রধান কর্মচারি এবং সম্পত্তি দেখা-শুনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিকে সরকার বলা হতো। বাঙালি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই এ পদবীর ব্যবহার আছে।

    মল্লিক: আরবি মালিক’ বা মলিক’ শব্দ থেকে এসেছে মল্লিক’ বংশ পদবী। ফারসি মালিক শব্দজাত মল্লিক ভূম্যাধিকারী বা জোতদারের উপাধি। গ্রাম প্রধান বা সমাজের প্রধান ব্যক্তি মালিক। আবার লিপিকুশল রাজকর্মচারিকে মোগল আমলে মল্লিক বা সুলেখক আখ্যা দেয়া হত বলেও আমরা জানতে পারি। হয়তোবা সেই থেকে মল্লিক বংশ পদবী এসেছে।

    মন্ডল: বাঙালি হিন্দু-মুসলিম সমাজে সমান ভাবে ব্যবহৃত হয় মন্ডল পদবী। বাংলাদেশে অতীত কাল থেকে গ্রামের অনানুষ্ঠানিক এবং সাধারণ ভাবে গ্রাম- প্রধানকে বলা হয় মন্ডল। বাংলা মন্ডলরা আগে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। মন্ডলীয় কাজ করে তারা অনেক অধিকার ভোগ করতেন। খাজনা আদায়কারী ও রায়তদের মধ্যস্থতা করা কিংবা গ্রামীন বিবাদ আপোস মীমাংসা করতে মন্ডলরা কার্যকরী ভূমিকা পালন করতেন। কোনো কোনো সময় তাদের অধীনে পাটোয়ারি, তহসিলদার, চৌকিদার ইত্যাদি কর্মচারী কাজ করতেন। সরকার ও রায়তদের মধ্যবর্তী মানুুষ হিসেবে মন্ডলরা অধিক পরিচিত ছিল।

    ফকির: মুসলমানদের মধ্যে সন্ন্যাসবৃত্তি’ থেকেই এসেছে ফকির’ পদবী। মরমী সাধকরা গ্রহণ করতেন ফকির’ পদবী। এটি আরবি শব্দ, যার মূল অর্থ নি:স্ব। আবার আরবি ফকর শব্দের অর্থ দারিদ্র। এ থেকে ফকির শব্দের উৎপত্তি। ফকির এবং পার্শি দরবেশ ব্যক্তিগণ সাধারণত এদেশে ফকির নামে পরিচিত। বিশেষ কোনো ধর্ম মতের একান্ত অনুসারী না হয়ে যারা সকল ধর্মের মূলনীতি নিয়ে আত্মতত্ত্বের সন্ধান করেন তাদেরকেও ফকির বলা হয়। আবার সুফি বা বাউল তত্বের ধারকরাও ফকির।

    ঠাকুর: বাংলা শব্দের বিশেষজ্ঞ হরিচরণ বন্দ্যোপধ্যায়ের মতে- ঠাকুর শব্দের মূল হচ্ছে (সংস্কৃত) ঠাক্কুর’ তার থেকে > (প্রকৃত) ঠকুর > (বাংলা) ঠাকুর এসেছে। পদবীগত দিক থেকে তা ব্রাক্ষণের পদবী বিশেষ, এমনকি ক্ষত্রিয়েরও উপাধি এটি। মধ্য যুগের কাব্য চৈতন্য ভাগবত’ উদ্ধৃত করে লেখক বলেছেন, তা বৈঞ্চবেরও উপাধি। যেমন, হরিদাস ঠাকুর। পাচক ব্রাক্ষণও এক প্রকার ঠাকুর বলে পরিচিত। তবে আহমদ শরীফ সম্পাদিত সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান’ বলছে, সংস্কৃত ঠক্কুর থেকে ঠাকুর আসলেও এর মূলে ছিল তুর্কী শব্দ। বাঙালি হিন্দু-মুসলমান উভয়েই এই পদবী ব্যবহার করে।

    এরকম শতাধিক বংশ পদবী রয়েছে আমাদের দেশে। বাঙালির পদবীর ইতিহাস বৈচিত্র পথ ও মতের এক অসাধারণ স্মারক হিসেবে চিহিৃত।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 54 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

মানুষ কখন ও কেন কথা বলতে শিখলো? কী বলেছিল প্রথমে?

  1. allaboutsubha
    allaboutsubha শিক্ষক https://www.youtube.com/allaboutsubha/
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    https://www.bbc.com/bengali/news-48757640

    https://www.bbc.com/bengali/news-48757640

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 54 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

পেন্ডোরার বাক্স এর রহস্য কি?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    প্যান্ডোরার বাক্স: যে বাক্স পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে দুঃখ দূর্দশা গ্রীক মিথলজি মতে প্যান্ডোরা হলেন পৃথিবীর প্রথম নারী। আর এই মিথের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় খ্রীস্টপূর্ব ৭০০ বছর আগের গ্রীক লেখক হেসিওদের লেখা থেকে। অলিম্পাসের দেবতারা যখন টাইটানদের কাছ থেকে স্বর্গ ছিনিয়ে নেয়, তার ও কিছু কাল পরে জিউস ওবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing প্যান্ডোরার বাক্স: যে বাক্স পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে দুঃখ দূর্দশা

    প্যান্ডোরার বাক্স: যে বাক্স পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে দুঃখ দূর্দশা

    গ্রীক মিথলজি মতে প্যান্ডোরা হলেন পৃথিবীর প্রথম নারী। আর এই মিথের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় খ্রীস্টপূর্ব ৭০০ বছর আগের গ্রীক লেখক হেসিওদের লেখা থেকে।

    অলিম্পাসের দেবতারা যখন টাইটানদের কাছ থেকে স্বর্গ ছিনিয়ে নেয়, তার ও কিছু কাল পরে জিউস ও অন্যান্য দেবতারা পৃথিবীতে নতুন প্রাণী সৃষ্টি করার কথা ভাবে। আর এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুই টাইটান এপিমেথেউস ও প্রমিথিউস নামের দুই ভাইকে। প্রমিথিউস সৃষ্টি করতে থাকেন মানুষ আর তার ভাই এপিমেথিউস সৃষ্টি করতে থাকেন অন্যান্য প্রাণী। জেনে রাখা ভালো প্রমিথিউস যেসব মানুষ সৃষ্টি করেছিলেন সবই ছিলো পুরুষ মানুষ, পৃথিবীতে তখন কোনো নারী মানুষ সৃষ্টি করা হয়নি। প্রমিথিউস মানুষদের খুব ভালোবাসতেন আর এই অতিরিক্ত মানবপ্রেম জিউস একদমই পছন্দ করতেন না। প্রমিথিউস এজন্য দেবতাদের সভায় এ নিয়ে দেবতা জিউসকে অপমান ও করতেন।

    মানব সৃষ্টির পর পৃথিবীতে মানুষের জন্য আগুন খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠে। প্রমিথিউস যেহেতু মানুষদের খুব ভালোবাসতেন তাই স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে মানুষদের হাতে তুলে দিলেন। দেবতা জিউস মানুষদের হাতে আগুন দেওয়াটা একদমই পছন্দ করেননি। কারন মানুষের হাতে আগুন গেলে পুরো পৃথিবী তারা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাঁড়খাড় করে দেবে। আর এজন্য ক্রুদ্ধ হয়ে জিউস প্রমিথিউস কে শৃঙ্খলে বদ্ধ করে রাখলেন। জিউসের ক্রোধ তাতেও শেষ হয়নি। যে মানব জাতীর জন্য প্রমিথিউস জিউসকে এতো অপমান করেছেন। তিনি সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে সৃষ্টি করতে চাইলেন এক নারী মানুষের।

    জিউস বিশ্বকর্মা হেফাস্টাসকে আদেশ দিলেন এক নারী মানুষ তৈরি করতে। হেফাস্টাস কাদামাটি দিয়ে তৈরি করলেন এক অপূর্ব মানবীর, তারপর তাতে প্রাণ সঞ্চার করলেন। দেবলোকের প্রত্যেক দেবতাই এই নারী মানবীর তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। এই নারী মানবীকে তৈরি করার সময় বিশ্বকর্মা হেফাস্টাস প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি কে মডেল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

    নারী মানব সৃষ্টির পর প্রত্যেক দেব দেবী সেই নারীকে কিছুনা কিছু উপহার দিয়েছেন। দেবী আফ্রোদিতি দিয়েছিলেন সৌন্দর্য্য, লাবন্য আর আকাঙ্খা। দেবতা হার্মিস দিয়েছেন চাতুর্য ও দৃঢ়তা, অ্যাপোলো তাকে সঙ্গীত শিখিয়েছেন। এমনিভাবেই প্রত্যেক দেবতাই তাকে কোনো না কোনো উপহার দিয়েছেন। সর্বশেষে দেবতা জিউসের স্ত্রী হেরা উপহার দেয় কৌতুহল। আর এই অপরূপ সুন্দরী মানবীর নাম দেওয়া হয় পেন্ডোরা। গ্রীক ভাষায় পেন্ডোরা অর্থ সবার উপহার। কারণ সব দেবতার উপহার দিয়েই এই নারীর সৃষ্টি করা হয়েছে। দেবতা জিউসের এই অসাধারণ সুন্দরী ও কোমল মেয়েকে দেখে দেবলোকের সবাই মুগ্ধ হন।



    গ্রীক মিথলজির মতে পেন্ডোরা পৃথিবীর প্রথম নারী। ছবিতে দান্তে গ্যাব্রিয়েলের আঁকা প্যান্ডোরা 
    প্রমিথিউসের প্রতি প্রতিশোধের ভাসনায় দেবতা জিউস সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি পেন্ডোরাকে প্রমিথিউসের ভাই এপিমিথিউসের সাথে বিবাহ দেবেন। এপিমিথিউস এই প্রস্তাব শুনে বুঝতে পারলেন দেবতা জিউসের নিশ্চয়ই কোনো খারাপ অভিসন্ধি আছে। কিন্তু অপরুপ সুন্দরী মানবী পেন্ডোরাকে দেখে তিনি পেন্ডোরার প্রেমে পড়ে যান এবং জিউসের দেওয়া বিবাহের প্রস্তাবে রাজী হয়ে যান।

    এরপর প্রচন্ড জাঁকজমকভাবে দেবতা এপিমিথিউসের সাথে প্রথম মানবী পেন্ডোরার বিয়ে হয়ে যায়। সবার উপহার দিয়ে অপূর্ব সাজে সাজেন প্যান্ডোরা। প্রবেশ করেন এপিমিথিউসের গৃহে অর্থাৎ দেবলোক থেকে পৃথিবীতে।

    এপিমিথিউসকে তার ভাই প্রমিথিউস অনেক আগেই জিউসের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছিল, আর তাই বিয়েতে সে জিউস থেকে কোনে উপহার গ্রহণ করে নি। এপিমিথিউস কোনো উপহার গ্রহণ না জরলেও জিওস তার মানব কন্যা পেনৃডোরাকে একটি অদ্ভুত বাক্স উপহার দেন। পরবর্তীকালে এই বাক্সই পরিচিতি পেয়েছে পেন্ডোরার বাক্স।

    জিউসের দেওয়া এই বাক্সটি ছিলো খুবই অদ্ভুত। অদ্ভুত এই কারনে বলছি যে বাক্সে লেখা ছিলো ‘কখনে খোলো না’ জিউস এই বাক্সের সাথে একটি চাবিও পেন্ডোরার হাতে তুলে দেয়। কারণ জিউস নিজেই চাইছিলেন পেন্ডোরা কৌতুহলী হয়ে সেই বাক্সটি খুলুক।

    বিয়ের পর প্যানডোরা-এপিমিথিউস দম্পতি পৃথিবীতে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলো। কিন্তু একদিন সেই সুখের সমাপ্তি ঘটে সেই সাথে নেমে আসে পুরো মানবজাতির উপর অভিশাপ।

    এপিমিথিউস একদিন কাজের জন্য ঘরের বাহিরে গিয়েছেন। পেন্ডোরা তখন ঘরে একা। দেবতা জিউসের দেওয়া সেই অদ্ভুত বাক্স নিয়ে সে ভাবছে কি থাকতে পারে এই বাক্সে? নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানবজাতীয় কৌতূহল সবসময়ই বেশি। পেন্ডোরা তার কৌতূহল আর ধরে রাখতে পারলেন না। চাবি দিয়ে খুলে ফেললেন বাক্সটির মুখ। ঠিক এরপরেই বাক্স থেকে বেরিয়ে এলো শক্তি,হিংসা,ঘৃণা,দুঃখ জরা, শোকের মতো অশুভ সব শক্তিগুলো। পেন্ডোরা সাথে সাথেই বাক্সটি বন্ধ করে দিলেন কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। এসব অশুভ শক্তিগুলি ততক্ষণে মিশে গেছে পুরো পৃথিবীতে মানুষদের মনের অন্তরে।


    এপিমিথিউস ঘরে ফিরে দেখলেন তার স্ত্রী পেন্ডোরা কাঁদছে। এপিমিথিউসকে এই ঘটনা দেখানোর জন্য প্যান্ডোরা আবারো বাক্স খুললেন। এবার বাক্স থেকে বেরিয়ে এলো শুভ শক্তি আশা। আশা পেন্ডোরা তাকে মুক্ত করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মিশে গেলো পুরো পৃথিবীর মানুষের মাঝে।

    আর এই আশাই মানুষকে এতো দুঃখ শোক আর প্রতিকূলতা থেকে মানুষকে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে টিকিয়ে রেখেছে। এই আশার জন্যই মানুষ বেঁচে আছে।

    যে মানবের জন্য প্রমিথিউস দেবতা জিউসকে অপমান করেছে ভৎসনা করেছেন। তাদের উপর এবং প্রমিথিউসের উপর এমন ছল চাতুরী ও সূক্ষ্মতার মাধ্যমেই জিউস তার রাগের প্রতিশোধ নিলেন।  গ্রীক মিথলজির পেন্ডোরার বাক্স মূলত আমাদের নির্দেশ করে নারীদের অতিরিক্ত কৌতূহল সম্পর্কে। আর এই অতিরিক্ত কৌতূহলই জিউসকে সু্যোগ করে দিয়েছে মাবজাতীর জন্য চির অশুভকে দুয়ার খুলে দিতে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 53 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

বাংলায় প্রথম ‘বৈদ্যুতিক পাখা’ আসার ইতিহাস কি?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    শরীরের নাম মহাশয় যাহা সহাবে তাহাই সয়- এই কথাটি কিন্তু বাস্তব। আজ মানুষের জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্য এমন স্তরে পৌঁছেছে। তার জন্য অবশ্যই ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ভূমিকা কম নয়। এজন্য বৈদ্যুতিক পাখা, এয়ার কন্ডিশন, কুলার ইত্যাদি ঘর ঠান্ডা রাখার উপায় বের হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন এসব কিছুই ছিল না। তার মানে এই নয়, যেবিস্তারিত পড়ুন

    270878

    শরীরের নাম মহাশয় যাহা সহাবে তাহাই সয়- এই কথাটি কিন্তু বাস্তব। আজ মানুষের জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্য এমন স্তরে পৌঁছেছে। তার জন্য অবশ্যই ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ভূমিকা কম নয়।
    এজন্য বৈদ্যুতিক পাখা, এয়ার কন্ডিশন, কুলার ইত্যাদি ঘর ঠান্ডা রাখার উপায় বের হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন এসব কিছুই ছিল না। তার মানে এই নয়, যে তখন গরম ছিল না।

    তখন সরকারি অফিসে নিয়োগ হতো পাঙ্খা পুলার। আর এই পাঙ্খা পুলার সরকারি অফিসে সাহেবদের মাথার উপর এক বিশাল কাপড়ের পাখা থাকতো। পাখা সঙ্গে দড়ি লাগিয়ে টানতো বাইরে থেকে পাঙ্খা পুলার। তবে তাতে তেমন জোরে বাতাস হত না, তা বৈদ্যুতিক পাখার থেকে খুবই দুর্বল ছিল।

    তাই আসে বৈদ্যুতিক পাখা। কাজ হারায় ওই কর্মীর দল। এবার আসি কলকাতার প্রথম দেশীয় বৈদ্যুতিক পাখা কোম্পানির কথায়। যা বিদেশি কোম্পানিগুলোর তৎকালীন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর সেটিও নির্মাণ করেছিলেন এক স্বাধীনতা সংগ্রামী। কে তিনি ? আর কোথায় এই কোম্পানি? আজ জানাবো সে সম্পর্কে-

    এককথায় বলা চলে নতুন হাওয়া তৈরির কারিগর। নাম তার ক্ষীরোদ বিহারী চক্রবর্তী। প্রথম এই শহরে হাওয়ার জন্যই পাঙ্খাকুলি নিয়োগ হতো। তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সে অচল হয়ে পড়ে। আর সেই সময় দেশের মানুষকে তাদের আয়ত্ত্বের মধ্যেই ঠান্ডা হওয়ার স্বাদ আস্বাদন করিয়ে দিয়েছিলেন ক্ষীরোদ বিহারী।

    হাতে টেনে নয় সুইচ দিলেই বিদ্যুতে সেই হাওয়া চলত শনশোনিয়ে। তাতে জন্ম হয়েছিল ক্লাইড কোম্পানি। বাঙালির তৈরি কলকাতার প্রথম বৈদ্যুতিক পাখার কোম্পানি। জায়গাটি কিন্তু বেশ পরিচিত। কলকাতার এলিট সিনেমা হলের পাশে হিন্দুস্থান ইন্সিওরেন্স কোম্পানির বিশাল অফিস। আর এই সিনেমা হলের এক পাশে ছিল ক্লাইড এঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।

    ১৯১৯ সালে এই ক্লাইড এঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড তৈরি ফ্যান প্রথম হাওয়া এনেছিল কলকাতায়। ক্ষীরোদবিহারীকে এই কোম্পানি গড়তে সাহায্য করেছিলেন ময়মনসিংহের মহারাজা রাজেন্দ্রকিশোর, পাইকপাড়ার কুমার অরুণ সিংহ প্রমুখ ধনী ব্যক্তিরা। ক্ষীরোদবিহারী ছিলেন ব্রিটিশ-বিরোধী।

    তার বাড়ি পূর্ব বাংলার নারায়ণগঞ্জের বন্দর গ্রামে। জলপাইগুড়িতে স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন ক্ষীরোদ বিহারী। কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্সে উচ্চশিক্ষা লাভ করার সময় তার সেই কার্যকলাপ আরো দৃঢ় হয়।

    পুলিশ ধাওয়া করা শুরু করে। অগত্যা দেশ ছেড়ে পালান ক্ষীরোদবিহারী। একটি কার্গো জাহাজে পে-মাস্টারের চাকরি নেন তিনি। সেখানে ইলেকট্রিকের কারিগরদের থেকেই ওয়ারিং, ফ্যান মেরামতি ইত্যাদি কাজ শিখে অর্থ সঞ্চয় করেন। এরপর কলকাতায় ফিরে ১৯১৮ সালে ইলেকট্রিক ফ্যানের কারখানা নির্মাণ করেন।

    ক্লাইড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি অন্যান্য বিদেশি কোম্পানিকে বেশ বিপাকে ফেলে দেয়। চাহিদা ও উৎপাদনের বৃদ্ধির সঙ্গে বকুল বাগান রোডে তৈরি হয় অ্যাপ্রেনটিস ট্রেনিং স্কুল। ছেলেরা তো ট্রেনিং নিতই পরবর্তীতে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সূক্ষ্মকাজ শিখতো।

    বাঙালি যুবকের তৈরি স্বদেশি যুগের হাওয়ায় তখন দেশবাসী মজে। তবে পরপর যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অবক্ষয় ছাপ ফেলে ক্লাইড এঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে। এরপর দেনার দায়ে বিক্রি করে দিতে হয় কোম্পানিটিকে। তবে সংগ্রামী মানসিকতা এতো সহজে ভাঙার নয়।

    তাই ১৯৩২ সালে তিনি হিন্দুস্তান পার্কের একটি জমিতে তৈরি করেন নিজস্ব ফ্যান তৈরির কারখানা ক্যালকাটা ফ্যান। অনেক ঝড়ঝাপটার পরেও ক্যালকাটা ফ্যান চলেছিল দেড় বছর। চিরকাল কোনোকিছুই স্থায়ী হয় না। আয়ু ফুরায়। তবে ক্ষীরোদবিহারী নিরলস প্রচেষ্টা সত্যিই আশ্চর্য করে দেয়।

    ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় ফ্যান কোম্পানির বিশাল বাজারে যেভাবে সে টিকে ছিল তা শেখার মতোই। বারবার তিনি সব হারিয়েছেন। আর বারবারই উঠে এসেছেন নতুন কিছু করার স্বপ্নে বুঁদ হয়ে। ইংরেজদের দূরে ঠেলে বাংলাকে নতুন আলো দেখিয়েছিলেন তিনি। তা শুধু ব্যক্তিগত তাগিদে নয়। দেশ গড়ার প্রবল প্রেরণায়।

    বাঙালি ব্যবসায়ীদের ইতিহাস নিশ্চয়ই লেখা হবে একদিন। সেদিন ক্ষীরোদ বিহারীর অবদান নিশ্চিত অনেক বড় করে লেখা থাকবে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 51 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
আরও প্রশ্ন লোড করুন

Sidebar

লগ ইন করুন
  • জনপ্রিয়
  • উত্তর
  • Mithun

    নির্মাণকাজে মরুভূমির বালু কেন ব্যবহার করা হয়না?

    • 12 টি উত্তর
  • Hina Khan

    Is Telegram MOD APK safe to use? What are the ...

    • 9 টি উত্তর
  • shanto

    ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন, লাইসেন্সের অনলাইন কপি ডাউনলোড, লাইসেন্স হয়েছে ...

    • 8 টি উত্তর
  • Admin

    নতুন ক্যাটাগরি "SEO" যুক্ত হলো আড্ডাবাজে!

    • 7 টি উত্তর
  • Mahmudul

    একটি ঘোর লাগানো ছবি দেখাতে পারবেন কি?

    • 6 টি উত্তর
  • jahanur
    jahanur একটি উত্তর দিয়েছেন You can definitely use Instagram downloaders on both your phone… জুলাই 26, 2026, সময়ঃ 1:11 অপরাহ্ন
  • ঝুমুর হাসান
    ঝুমুর হাসান একটি উত্তর দিয়েছেন কাকরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party) কাকরোচ জনতা পার্টি (CJP)… জুলাই 22, 2026, সময়ঃ 12:58 অপরাহ্ন
  • Fist Name
    Fist Name একটি উত্তর দিয়েছেন https://jojoji.com এই লিংক থেকে পোস্ট বা প্রশ্ন উত্তর করে সহজেই… জুলাই 13, 2026, সময়ঃ 1:50 পূর্বাহ্ন
  • mar7w7
    mar7w7 একটি উত্তর দিয়েছেন great post! জুন 15, 2026, সময়ঃ 2:56 পূর্বাহ্ন
  • M Sarah
    M Sarah একটি উত্তর দিয়েছেন তাফসীরুল কুরআনিল আযীম বা তাফসীরে ইবনে কাসীর ইসলামী বিশ্বের অন্যতম… জুন 10, 2026, সময়ঃ 9:18 পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় গ্রুপ

  • মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    • 4 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 110 বার প্রদর্শিত
  • Earn Money

    • 3 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 159 বার প্রদর্শিত
  • Knowledge World

    Knowledge World

    • 3 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 120 বার প্রদর্শিত
  • CT Game Review

    CT Game Review

    • 3 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 1,151 বার প্রদর্শিত
  • Crazy Time Fun

    Crazy Time Fun

    • 2 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 81 বার প্রদর্শিত

চলতি মাসের সেরা ইউজার

SA Samim

SA Samim

  • 13 প্রশ্ন
  • 3 পয়েন্ট
এডিটর
Fist Name

Fist Name

  • 0 প্রশ্ন
  • 2 পয়েন্ট
নতুন
Alice Moto

Alice Moto

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
john151564

john151564

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
Saimon1

Saimon1

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
লগ ইন করুন

Explore

  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

Footer

AddaBuzz.net

আড্ডাবাজ একটি সামাজিক প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিন। যেখানে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একে অপরের জ্ঞান আদান-প্রদান হয়। প্রশ্ন করুন, উত্তর দিন, জ্ঞান ভাগাভাগি করুন।

Adv 234x60

aalan

আমাদের সম্পর্কিত

  • আমাদের টিম
  • আমাদের লক্ষ্য

লিগ্যাল স্টাফ

  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions
  • Data Deletion Instructions

সাহায্য

  • Knowledge Base
  • Contact us

আমাদের ফলো করুন

© 2026 AddaBuzz. All Rights Reserved
With Love by AddaBuzz.net

✕
🔔 নোটিফিকেশন চালু করুন নতুন প্রশ্নোত্তর ও ব্লগ আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন