জরিপের ফলাফল
ভোট দেয়ার এবং ফলাফল জানার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগ ইন করতে হবে।
সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
দুঃক্ষিত, প্রশ্ন করার অনুমতি আপনার নেই, প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে.
দুঃক্ষিত, ব্লগ লেখার অনুমতি আপনার নেই। লেখক হতে হলে addabuzzauthor@gmail.com ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে অনুমতি নিন। (Sorry, you do not have permission to add post. Please send a request mail to addabuzzauthor@gmail.com for giving permission.)
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
Question related on history should be listed here.
পারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রাল তৈরিতে সময় লেগেছিল ২০০ বছরেরও বেশি।
পারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রাল তৈরিতে সময় লেগেছিল ২০০ বছরেরও বেশি।
সংক্ষেপে দেখুনলিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ, মানে যে বছরে থাকে একটা অতিরিক্ত দিন। কিন্তু পুরোপুরি জ্যোর্তিবিজ্ঞানের কারণেই ২৯ ফেব্রুয়ারি ‘লিপ ডে’ হলেও, এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক আগ্রহ বেশ কমই দেখা যায়। কীভাবে হয় লিপ ইয়ার, এর ইতিহাস কী, আর ফেব্রুয়ারিতেই কেন? এই একটি দিন ঘিরে আছে এমন নানা প্রশ্ন। সে সবের উত্তর খোঁজা যাক- ১. লিপ ইয়বিস্তারিত পড়ুন
কীভাবে হয় লিপ ইয়ার, এর ইতিহাস কী, আর ফেব্রুয়ারিতেই কেন? এই একটি দিন ঘিরে আছে এমন নানা প্রশ্ন। সে সবের উত্তর খোঁজা যাক-
১. লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত দিনটা জরুরি আমাদের সৌরজগতের ‘বিশৃঙ্খল’ অবস্থার জন্যই। কারণ এক বছরে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে একটা সম্পূর্ণ কক্ষপথ ঘুরে আসতে কিন্তু ঠিক পুরোপুরি ৩৬৫ দিন লাগে না। বরং সব মিলে সময়টা ৩৬৫.২৪২২ দিনের মতো। ফলে প্রতি বছর আসলে এক দিনের চার ভাগের প্রায় এক ভাগ সময় যোগ হয়। যা প্রতি চার বছরে একটা বাড়তি দিন যোগ করে।
২. জুলিয়াস সিজার রোমের ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত ৩৫৫ দিনে বছর, এমন ক্যালেন্ডারই সবাই মেনে চলত – যেখানে প্রতি ২ বছর পরপর একটা অতিরিক্ত ২২ দিনের মাস যুক্ত হতো। কিন্তু এটা আসলে সমস্যার একটা জটিল সমাধান ছিল এবং উৎসবের দিনগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে যেতে শুরু করে। তাই সিজার তার জ্যোতির্বিজ্ঞানী সোসিজেনেসকে বিষয়টি সহজ করার নির্দেশ দেন।
সোসিজেনেস তখন ৩৬৫ দিনে বছর করে যে অতিরিক্ত ৬ ঘণ্টার মতো থেকে যায় সেটা মিলিয়ে নিতে ৪ বছর পরপর একটা অতিরিক্ত দিন ক্যালেন্ডারে যুক্ত করেন। আর এভাবেই ২৯শে ফেব্রুয়ারির জন্ম। যা পরবর্তীতে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি সূক্ষ্ম পরিমার্জন করেন।
৩. আঙুলের হিসেবে প্রতি ৪ বছর পরপর আসে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ। কিন্তু কথা এখানেই শেষ না। যেই বছরটাকে ১০০ দিয়ে ভাগ করা যায় কিন্তু আবার ৪০০ দিয়ে করা যায় না, সেটা লিপ ইয়ার নয়। সে কারণেই গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকাবর্ষ অনুযায়ী আমরা ২০০০ সালে লিপ ইয়ার পেয়েছি, ১৬০০ সালে লিপ ইয়ার ছিল, কিন্তু আবার ১৭০০, ১৮০০ ও ১৯০০ লিপ ইয়ার নয়।
৪. ফেব্রুয়ারির ২৯ই কেন? অন্য সব মাসেই আছে ৩০ বা ৩১ দিন করে, কিন্তু ইয়ান স্টুয়ার্ট জানাচ্ছেন রোমান সম্রাট সিজার অগাস্টাসের ব্যক্তিগত ইচ্ছের কাছে বলি হয়েছে ফেব্রুয়ারি।
জুলিয়াস সিজারের অধীনে কিন্তু ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের মাস ছিল। কিন্তু সিজার অগাস্টাস যখন সম্রাট হন, তখন তিনি তার নিজের নামাঙ্কিত মাস আগস্ট ২৯ দিনের হওয়ায় খানিকটা বিরক্ত হন। কারণ তার আগের সম্রাট জুলিয়াসের নামাঙ্কিত মাস – জুলাই – ছিল ৩১ দিনের।
৫. লিপ ইয়ারের রাজধানী বলে স্বীকৃত টেক্সাসের অ্যান্থনি শহর। ১৯৮৮ সালে এই শহরের বাসিন্দা ও লিপ ইয়ারে জন্ম নেয়া ম্যারি অ্যান ব্রাউন চেম্বার অফ কমার্সের কাছে যান শহরে একটা লিপ ইয়ার উৎসবের আবেদন নিয়ে। তার সেই আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং অ্যান্থনিকে ঘোষণা দেয়া হয় বিশ্বের লিপ ইয়ার রাজধানী হিসেবে। তার পর থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বের লিপাররা টেক্সাসের এই শহরে জড়ো হয়ে প্যারেডে অংশ নেন, একসাথে বার্থডে ডিনার, নাচানাচি এবং হট এয়ার বেলুনে চড়েন সবাই।
সংক্ষেপে দেখুনবাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, ও আর্য জাতীর সংমিশ্রনে। তবে এর প্রধান অংশটুকু গড়ে উঠে অস্ট্রিক জাতি থেকে। অস্ট্রিক জাতিকে আদি অস্ট্রেলিও বা অস্ট্রালয়েডও বলা হয়। প্রাচীন সাহিত্যে এদের “নিষাদ” নামে উল্লেখ পাওয়া যায়। বাঙালি জাতিকে প্রাক আর্য বা অনার্য জনগোষ্ঠি এবং আর্য জনগোষ্ঠি এই দুই ভাগে ভাগবিস্তারিত পড়ুন
বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, ও আর্য জাতীর সংমিশ্রনে। তবে এর প্রধান অংশটুকু গড়ে উঠে অস্ট্রিক জাতি থেকে। অস্ট্রিক জাতিকে আদি অস্ট্রেলিও বা অস্ট্রালয়েডও বলা হয়। প্রাচীন সাহিত্যে এদের “নিষাদ” নামে উল্লেখ পাওয়া যায়।
বাঙালি জাতিকে প্রাক আর্য বা অনার্য জনগোষ্ঠি এবং আর্য জনগোষ্ঠি এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠি প্রাধানত চার ভাগে বিভক্ত যথাঃ ১. নেগ্রিটো ২. অস্ট্রিক ৩. দ্রাবিড় ৪. মঙ্গোলীয় বা ভোটচীনীয়।
বিভিন্ন জাতি মিলে মিশে হাজার বছরে আমাদের বাঙালি জাতি তৈরি হয়েছে। তাই বাঙালি জাতিকে সংকর জাতি বলা হয়।
সংক্ষেপে দেখুনদ্য টেল অফ গেঞ্জিঃ পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস গল্প উপন্যাস পড়তে আমরা কমবেশি সবাই ভালোবাসি। আমাদের বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা ‘আলালের ঘরের দুলাল’। সেটি ১৮৫৮ সালে লিখেছিলেন তিনি। আজ থেকে প্রায় ১৬৩ বছর আগে! অথচ বিশ্বের প্রথম উপন্যাস লেখা হয়েছিল আজ থেকে ১০১২ বছর আগে জাপানি ভাষায়। আবিস্তারিত পড়ুন

গল্প উপন্যাস পড়তে আমরা কমবেশি সবাই ভালোবাসি। আমাদের বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা ‘আলালের ঘরের দুলাল’। সেটি ১৮৫৮ সালে লিখেছিলেন তিনি। আজ থেকে প্রায় ১৬৩ বছর আগে!
অথচ বিশ্বের প্রথম উপন্যাস লেখা হয়েছিল আজ থেকে ১০১২ বছর আগে জাপানি ভাষায়। আর সেই উপন্যাস লিখেছিলেন একজন নারী, ভাবা যায়?
আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে ১০০৭ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থটিতে চরিত্র ছিল মোট ৩৫০টি আর ছিল অসংখ্য আবেগময় কবিতা। ‘দ্য টেল অফ গেঞ্জি’ নামে এ উপন্যাসটিতে এক রাজপুত্রের ভালোবাসার কাহিনী বিধৃত হয়েছে; এ রাজপুত্র অসংখ্য নারীর সঙ্গ পছন্দ করতেন। উপন্যাসটি রচনা করেছিলেন জাপানের নারী ঔপন্যাসিক মুরাসাকি শিকিবু। এটিই বিশ্বের প্রথম উপন্যাস।
মুরাসাকি শিকিবু
৯৭৮ (মতান্তরে ৯৭৩) খ্রিষ্টাব্দে জাপানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্বসাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক মুরাসাকি শিকিবু। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১০১৪ খ্রিষ্টাব্দে। এক অভিজাত পরিবারে জন্ম। বাবা ছিলেন হেইয়ান সাম্রাজ্যের প্রাদেশিক গভর্নর। পদটি সম্মানজনক হলেও রাজধানীর রাজ-অমাত্যদের মতো সমান মর্যাদার ছিল না। অথচ নবম শতক থেকে তাদের অভিজাত গোষ্ঠীর ফুজিওয়ারারা সম্রাটদের পারিষদ হিসেবে দরবার আলোকিত করেছেন এবং প্রভাব খাটিয়েছেন। ফুজিওয়ারা ললনারা সম্রাজ্ঞী হয়েছেন। দশম শতকের শেষ এবং একাদশ শতকের শুরুতে শুধু ফুজিওয়ারা নো মিচিনাগা তাঁর চার কন্যাকে সম্রাটদের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। এই ফুজিওয়ারা গোষ্ঠীর প্রভাব-প্রতিপত্তি তখন হেইয়ান সাম্রাজ্যে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল। মুরাসাকির জন্মের আগে জাপান বন্ধুহীন এবং বিচ্ছিন্ন এক সাম্রাজ্য ছিল। চীনের তেঙ সম্রাটদের আমলে (সপ্তম থেকে নবম শতক) জাপান থেকে ২০টি দল চীনে নানা মিশনে যায়। এরা ফিরে এসে জাপানের পুরো সাংস্কৃতিক পরিম-লে পরিবর্তন আনে। এতে চীনা ভাষা এবং সংস্কৃতির সংস্পর্শে গিয়ে জাপানের জাতীয় সংস্কৃতির এক শক্তিশালী উত্থান ঘটে। জাপানিরা ক্রমান্বয়ে কানা ভাষাকে চায়নিজ ভাষার বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ করে তুলতে থাকে। মুরাসাকির সময়ে পুরুষেরা চায়নিজ ভাষায় লিখতেন আর মেয়েরা কানা ভাষায়। দুই ভাষায়ই জাপানি সাহিত্য সমৃদ্ধ হতে থাকে।

মুরাসাকি শিকিবুর প্রতিকৃতি
মুরাসাকি সে-সময়কার সৌভাগ্যবতীদের একজন। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে চায়নিজ ক্লাসিক্যাল ভাষা এবং সাহিত্যে শিক্ষা লাভ করেছেন। মুরাসাকি শিকিবুর লেখা ডায়েরি থেকে জানা যায়, তাঁর ছোট ভাইকে এক গৃহশিক্ষক এ-ভাষা শেখাতেন। শুনে-শুনে মুরাসাকি এ-ভাষা শিখে ফেলেন। তাঁর ভাষা শেখার দক্ষতা দেখে তাঁর পিতা বলেছিলেন, তুই যদি আমার ছেলে হতিস, আমার জন্য তা হতো বড় সৌভাগ্যের। মনে করা হয়, তিনি ঐতিহ্যগতভাবে সাহিত্যের পাশাপাশি সংগীত, লিখনশৈলী এবং চিত্রকলায়ও সমান ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। তবে তাঁর শিক্ষাটা সাধারণ্যে গৃহীতব্য ছিল না। কারণ তাতে প্রচলিত গোঁড়ামির প্রশ্রয় ছিল না।
মুরাসাকির বর ছিল তাঁর পিতার এক বন্ধু। পিতার প্রায় সমবয়সী। নাম ফুজিওয়ারা নো নোবুতাকা (৯৫০-১০০১ খ্রি.)। একই বংশ। সম্রাটের দরবারে চাকুরে, আমলা। অনুষ্ঠান-উৎসববিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন। পোশাক-আশাকে অপচয়কারী। তবে প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী। তাঁর অনেক বাড়িঘর, আর ছিল অজ্ঞাতসংখ্যক স্ত্রী এবং রক্ষিতা। মুরাসাকির সঙ্গে বিয়ের পরও এ-ভদ্রলোক অন্যদের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। প্রথা অনুসারে মুরাসাকি পিত্রালয়ে অবস্থান করতেন। স্বামী মাঝেমধ্যে সেখানে মিলিত হতেন। নোবুতাকা একাধিক প্রদেশের গভর্নর ছিলেন এবং বিপুল সম্পদের অধিকারী হন। তাদের এক কন্যা কেনসি (কাতাইকো) ৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করে। এর দুবছর পর নোবুতাকা কলেরায় মারা যান।
স্বামীর মৃত্যুতে মুরাসাকি ভেঙে পড়েন। তিনি তাঁর ডায়েরিতে সে-সময়কার অনুভূতির কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে – ‘আমি মানসিক চাপের মধ্যে বিষাদগ্রস্ত হয়ে গেলাম। দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং সিদ্ধান্তহীনতা পেয়ে বসল আমাকে। কয়েক বছর এতটাই উদাসীন হয়ে রইলাম যে, সময় আর পোশাক-পরিচ্ছদের কোনোই ঠিক-ঠিকানা রইল না। আমার অশেষ নিঃসঙ্গতা এক সময় খুবই অসহ্য হয়ে উঠল। মুরাসাকি শিকিবু স্বামীর মৃত্যুর পর ইম্পেরিয়াল লেডি-ইন-ওয়েটিং হিসেবে সম্রাটের অমত্মঃপুরে প্রবেশ করেন। তাঁকে জাপানের রানি ‘লেডি-ইন ওয়েটিং’ করবার জন্য অনুমোদন করেছিলেন। রানি আকিকো তাঁর এই বিদ্যানুরাগের খবর পেয়েছিলেন হয়তো।
উপন্যাসের প্লট
তিনি রাজদরবারে গিয়ে ওখানে থাকতে শুরু করেন। তারপর ভালোমতো এই রাজদরবারের ইতিহাস নিয়ে খোঁজখবর করেন। এছাড়া প্রতিদিন সেখানে কী ঘটছে তার একটা ডায়েরিও রাখতেন। যে ডায়েরি আজো আছে। সেই গোপন জগতের সব ঘটনা যা দেখেছেন, যা শুনেছেন সব লিখে রাখেন। ঠিক সেইসময় তিনি একটি উপন্যাস লিখতে শুরু করেন। এইভাবে লিখতে লিখতে চুয়ান্ন পর্ব লেখা হয়ে যায়। আর এটিই পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস।
উপন্যাসের কাহিনি খুব সংক্ষেপে এরকমঃ-
সম্রাট কিরিতসুবোর দ্বিতীয় সন্তান গেঞ্জি। তিন বছর বয়সে গেঞ্জির মাতৃবিয়োগ ঘটে। উপপত্নীর সন্তান হলেও সম্রাট তাকে খুব পছন্দ করতেন। সম্রাট তাঁর সন্তানের মায়ের কথা ভুলতে পারেন না। সম্রাট এমন এক রমণীর কথা শুনলেন, যে কিনা দেখতে তাঁর পরলোকগত উপপত্নী, গেঞ্জির মায়ের মতো। এই মহিলার নাম ফুজিতসুবো। তিনি পূর্ববর্তী এক সম্রাটের কন্যা। সম্রাট তাঁকে বিয়ে করলেন। গেঞ্জি এ-মহিলাকে মান্য করে। তাঁর কাছে লালিত-পালিত হয়। যৌবনে উপনীত হয় গেঞ্জি। অত্যন্ত সুদর্শন, ‘হিকারো’ বা সাইনিং গেঞ্জি। তবে রাজনৈতিক কারণে অবনমিত মর্যাদায় নিম্ন পর্যায়ের রাজকর্মচারী হিসেবে তাকে কর্মজীবন শুরু করতে হয়। এ সময় হিকারো গেঞ্জি তাঁর সৎমা ফুজিতসুবোর প্রেমে পড়ে যায়। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তার আগে নো অয়ী নামের এক যুবতীর সঙ্গে বিয়ে হয় গেঞ্জির। সৎমায়ের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে গেলে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গেঞ্জির সঙ্গে ফুজিতসুবোর অবৈধ সম্পর্কের কথা প্রকাশ পেয়ে গেলে গেঞ্জি খুব হতাশ হয়ে পড়ে। স্ত্রীর সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ। তখন সে অনেক নারীর সঙ্গে অতৃপ্ত ও অসম্পূর্ণ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে অবজ্ঞা ও বোকামির শিকার হতে হয়। কেউ-কেউ তাকে হতাশ করে অসময়ে মারাও যায়। একবার সে দেখতে পায় এক সুন্দরী মহিলা তার জানালায় দাঁড়িয়ে আছে। গেঞ্জি অনুমতি ছাড়াই তার কক্ষে প্রবেশ করে। মহিলাকে বিছানায় যেতে বাধ্য করে। ক্ষমতাধর ব্যক্তি বলে মহিলা গেঞ্জিকে বাধা দেয় না।
আরেকবার গেঞ্জি উত্তর পল্লির কিতাইয়ামা পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে যায়। কিতাইয়ামা কিয়োটোতে অবস্থিত। সেখানে সে দশ বছর বয়সী এক মেয়েকে দেখতে পায়। মেয়েটি দেখতে ঠিক ফুজিতসুবোর মতো। সে এ-বালিকাকে অপহরণ করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে এবং ফুজিতসুবোর মতো তাকে শিক্ষিত ও মার্জিতভাবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। মেয়েটির নাম মুরাসাকি। এ-সময় গেঞ্জি গোপনে সম্রাজ্ঞী ফুজিতসুবোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তাতে সম্রাজ্ঞী সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে এই ছেলের নাম রাখা হয় রেইঝেই। এরা দুজন ছাড়া সবাই জানে এই ছেলের পিতা সম্রাট কিরিতসুবো। পরে এই ছেলে ক্রাউনপ্রিন্স এবং লেডি ফুজিতসুবো সম্রাজ্ঞী হন। গেঞ্জি এবং ফুজিতসুবো প্রতিজ্ঞা করে যে, এরা এ গোপন তথ্য কখনো ফাঁস করবে না। সবকিছু গোপন রাখবে।
এ গোপনীয়তার মধ্যে গেঞ্জি এবং তার স্ত্রী অয়ীর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। তার স্ত্রী একটি সন্তান জন্ম দেয়। তবে সন্তানটি মারা যায়। গেঞ্জি দুঃখ পেয়ে আবার হতাশ হয়ে পড়ে। দুঃখ ভুলে যাওয়ার জন্য গেঞ্জি এবার মুরাসাকিকে কাছে পায়। তাকে নিয়ে ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে ওঠে এবং এক সময় তাকে বিয়ে করে।
গেঞ্জির পিতা সম্রাট কিরিতসুবো এ-সময় মারা যান। তার বড় ছেলে সুজেকো সম্রাট হন। সম্রাটের মাতা কোকিডেন কিরিতসুবোর রাজনৈতিক শত্রম্নদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পুত্রের ক্ষমতা সংহত করেন।
গেঞ্জি রাজদ–র ব্যাপারে মোটেও উৎসাহী নয়। এ-সময় তার আরেকটি গোপন প্রেমের তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ে। সম্রাট সুজেকো গেঞ্জির সঙ্গে তার এক রক্ষিতার মিলনদৃশ্য দেখে ফেলেন। সম্রাটের এই গোপন রক্ষিতার কথা শুধু গেঞ্জি জানত।
এদিকে রাজধানীতে সম্রাট সুজেকো তার বাবাকে স্বপ্নে দেখে মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হন। তার হৃদয় ভেঙে যায়। মা কোকিডেন অসুস্থ। তার সিংহাসন ধরে রাখার ক্ষমতা নেই। এই মানসিক অবস্থায় সম্রাট গেঞ্জিকে ক্ষমা করে দেন। গেঞ্জি রাজধানী কিয়োটোতে প্রত্যাবর্তন করে। এ পর্যায়ে সম্রাটের ভ্রাতা রেইঝেই সম্রাট হন। গেঞ্জি রাজকর্মচারীর কাজে ইস্তফা দেয়। এক সময় নতুন সম্রাট জানতে পারেন যে, গেঞ্জিই তার আসল পিতা। সম্রাট পিতার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে গেঞ্জিকে সর্বোচ্চ রাজপদ প্রদান করেন।
বয়সের কারণে গেঞ্জির স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করে। দুর্বল স্বাস্থ্যের জন্য রাজকীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হলেও গেঞ্জির প্রেম ও আবেগময় জীবনে ধীরে-ধীরে অধঃপতন নেমে আসে। সে আরেকটি বিয়ে করে। তাকে ‘ওন্যা সান নো মিয়া’ অর্থাৎ থার্ড প্রিন্সেস বা তৃতীয় রাজকুমারী বলা হয় (এ-নামে জাপানের কানসাইতে একটি শহর রয়েছে)। এই রাজকুমারীর সঙ্গে গেঞ্জির ভাইপোর প্রেম এবং দৈহিক সম্পর্ক তৈরি হয়। তাতে জন্ম হয় প্রিন্স কাওরোর। সবাই জানে কাওরো গেঞ্জির সন্তান, আসলে তা নয়।
বৃদ্ধ বয়সে গেঞ্জির বিয়ে মুরাসাকির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটায়। মুরাসাকি ‘বিকুনি’র (সন্ন্যাসিনী) জীবন বেছে নেন। সন্ন্যাসিনী অবস্থায় মুরাসাকি মারা যান। এ মৃত্যু গেঞ্জিকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। জীবনের কি তা হলে এই পরিণতি? মৃত্যুচিন্তা তাকে পেয়ে বসে। গেঞ্জি এক সময় মারা যায়।
উপন্যাসটি এখানে শেষ হতে পারত। কিন্তু তা বাড়ানো হয়েছে গেঞ্জির পরবর্তী আরো দুই প্রজন্ম পর্যন্ত। উপন্যাসের ৪৫ থেকে ৫৪ অধ্যায় পর্যন্ত তার ব্যাপ্তি। এ অধ্যায়গুলোকে বলা হয় ‘টেন উজি চ্যাপ্টার’। উজির পটভূমিতে এ অধ্যায়গুলো রচিত বলে এরকম নাম। এ অধ্যায়গুলোও প্রেম আর বিরহের।
বিশ্বের সর্বপ্রথম মোটরগাড়িটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮০৮ সালে। এরপর প্রযুক্তির বহু উন্নয়ন ঘটেছে, জন্ম নিয়েছে বহু মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে গোটা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ মিলিয়ন গাড়ি তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে নানা রকম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ গাড়িগুলো তৈরি করে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গত কবিস্তারিত পড়ুন
বিশ্বের সর্বপ্রথম মোটরগাড়িটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮০৮ সালে। এরপর প্রযুক্তির বহু উন্নয়ন ঘটেছে, জন্ম নিয়েছে বহু মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে গোটা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ মিলিয়ন গাড়ি তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে নানা রকম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ গাড়িগুলো তৈরি করে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গত কয়েক বছরেই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, আবার কারো কারো বর্তমানের এই অবস্থায় আসতে সময় লেগে গেছে কয়েকশো বছর! এসব প্রতিষ্ঠানের নাম আমরা জানলেও তাদের এই অবস্থায় আসার পেছনের গল্প আমরা অনেকেই জানি না। চলুন আজকে জেনে নিই এখনও পর্যন্ত চালু থাকা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন কয়েকটি মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে।
১. রোলস-রয়েস
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯০৬ সাল

বিলাসবহুল গাড়ির জগতে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় গাড়ির নাম রোলস-রয়েস। ১৯০৬ সালে ইঞ্জিনিয়ার হেনরি রয়েস ও যুক্তরাজ্যের প্রথম মোটরগাড়ি ডিলারশিপের মালিক চার্লস রোলস মিলে এই রোলস-রয়েস কোম্পানির সূচনা করেন।
রোলস-রয়েসের প্রথমদিকের গাড়ি ‘সিলভার ঘোস্ট’ এর মাধ্যমেই তাদের কোম্পানির সফলতার দৌড় শুরু হয়। অনেকগুলো রেকর্ড ভাঙা এই গাড়িটি সেসময় ‘বিশ্বের সেরা মোটরগাড়ি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই গাড়িটি একটানা ২৭ বার লন্ডন থেকে গ্লাসগো ভ্রমণ করে মোট ১৪,৩৭১ মাইল পাড়ি দেয়। এর ফলে বিলাসবহুল গাড়িতে চড়ে একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড করে এই গাড়িটি। বর্তমানে রোলস-রয়েস বিশ্বের আরেক জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডাব্লিউ এর সাথে যুক্ত হয়েছে। এখনও বিশ্বের অন্যতম সম্মানীত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয় রোলস-রয়েসকে।
২. ক্যাডিলাক
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯০১ সাল

মোটরগাড়ির জগতে অন্যতম এক নাম ক্যাডিলাক। মজার ব্যাপার হলো, এই কোম্পানির জন্ম হয় কিন্তু বিশ্বের অন্যতম এক জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ডের মালিক হেনরি ফোর্ডের হাত ধরে। ১৯০১ সালে হেনরি ফোর্ড দ্বিতীয় আরেকটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘হেনরি ফোর্ড কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই কোম্পানির আর্থিক সাহায্যকারী লিমুয়েল বোয়েন ও উইলিয়াম মার্ফির সাথে কিছু মতের মিল না হওয়ায় হেনরি ফোর্ড এই কোম্পানি ছেড়ে চলে যান।
মার্ফি এবং ব্রাউন প্রথমে হেনরির এই কোম্পানির যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেয়ার কথা চিন্তা করেন। তবে পরবর্তীতে তারা তা বিক্রি না করে নতুনভাবে গাড়ি নির্মাণ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯০২ সালে নতুন এই কোম্পানি নামকরণ করা হয় ক্যাডিলাক। ১৯০৯ সালে এই কোম্পানিটি জেনারেল মোটরস কিনে নেয়।
এরপর থেকে বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্যাডিলাক ভালোই সুনাম অর্জন করেছে। ১৯০৮ ও ১৯১২ সালে সম্মানজনক ‘ডেওয়ার ট্রফি’ লাভ করে তারা।
৩. ফিয়াট
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৯৯ সাল

ইতালির সবচেয়ে বড় মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফিয়াটের জন্ম হয় ১৮৯৯ সালে। ফিয়াট (FIAT) এর পূর্ণরূপ ‘Fabbrica Italiana Automobili Torino’, যার অর্থ ‘ইতালীয় মোটরগাড়ি ফ্যাক্টরি, তুরিন’। ফিয়াট তাদের প্রথম গাড়িটি নির্মাণ করে ১৮৯৯ সালে। এরপর ১৯১০ সালের দিকে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিওভানি অ্যানেল্লি হেনরি ফোর্ডের গাড়ি নির্মাণ কারখানাটি দেখতে আসেন। তিনি ফোর্ডের কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপনা দেখে মুগ্ধ হন এবং পরবর্তীতে নিজের কারখানাতেও একই পদ্ধতি চালু করেন।
ফিয়াটের সবচেয়ে জনপ্রিয় গাড়িগুলো প্রধানত ‘সিটি কার’ ও ‘সুপারমিনি’ এ দুই শ্রেণীর। ১৯৭০ সালে ফিয়াট ইলেকট্রিক যানবাহন তৈরি শুরু করে। বর্তমানে মোটরগাড়ি ছাড়াও অস্ত্র নির্মাণে অংশ নিয়েছে ফিয়াট।
৪. ল্যান্ড রোভার
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৯৬ সাল

১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রথমে ছিল ‘ল্যানক্যাশিয়ার স্টিম মোটর কোম্পানি’। এরপর বহুবার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে এই কোম্পানিটির। প্রথমদিকে এই কোম্পানিটি শুধুমাত্র বাষ্পীয় ঘাস কাটার যন্ত্র তৈরি করতো। এরপর তারা বাষ্পীয় মালবাহী গাড়ি নির্মাণ শুরু করে। ১৯০৭ সালে কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে ‘লেল্যান্ড মোটরস’ করা হয়।
১৯৭৮ সালে আরো অনেক ধাপ নাম পরিবর্তনের পর শেষমেশ কোম্পানির নাম রাখা হয় ‘ল্যান্ড রোভার’। ১৯৪৮ সালে কোম্পানিটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল ‘রোভার’ এর নির্মাণ শুরু করে লেল্যান্ড মোটরস। ব্রিটিশ আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে প্রচলিত এই মডেলের উৎপাদন চালু রয়েছে এখন পর্যন্ত। ১৯৫১ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ কর্তৃক একটি রাজকীয় সনদ লাভ করে ল্যান্ড রোভার কোম্পানি।
৫. মার্সিডিজ-বেঞ্জ
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৮৩ সাল

বিপুল জনপ্রিয় মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্সিডিজ বেঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৬ সালে। পুরনো দুটি ভিন্ন মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একীভূত হয়েই কিন্তু গঠিত হয়েছে এই কোম্পানিটি।
এই দুটি প্রতিষ্ঠানের একটি ‘ডাইমলার মোটোরেন গেসেলস্ক্রাফট’। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি প্রথমদিকে শুধুমাত্র পেট্রোল ইঞ্জিন প্রস্তুত করতো। এরপর তারা ছোটখাট রেস কার তৈরি শুরু করে এবং পরবর্তীতে মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের নানা মডেল নির্মাণে যোগ দেয়।
একইভাবে, ‘বেঞ্জ অ্যান্ড কোম্পানিজ’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয় ১৮৮৩ সালে। প্রথমদিকে তারা গ্যাস ইঞ্জিন ও শিল্পকারখানার বিভিন্ন যন্ত্র নির্মাণ করতো। এরপর কোম্পানির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কার্ল বেঞ্জ তার বহুদিনের স্বপ্নের মোটরগাড়ি নির্মাণের দিকে মন দেন। ১৮৮৬ সালে তিনি বিশ্বের সর্বপ্রথম পেট্রোল চালিত মোটরগাড়ি নির্মাণ করেন।
১৯২৬ সালে এই দুটি কোম্পানি একত্রিত হয়ে মার্সিডিজ-বেঞ্জ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে।
৬. টাট্রা
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৫০ সাল

অন্যতম প্রাচীন মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাট্রার সূচনা হয় ঘোড়ায়টানা গাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে। ১৮৯১ সালে তারা রেলপথে চলার উপযোগী গাড়ি নির্মাণ শুরু করে।
এরপর ১৮৯৭ সালে টাট্রার প্রযুক্তিগত পরিচালক হুগো ফিশার নিজের ব্যবহারের জন্য একটি বেঞ্জ মোটরগাড়ি কেনেন। আর এই গাড়ি থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি পরের বছরেই তার কোম্পানির প্রথম মোটরগাড়ি ‘প্রাসিডেন্ট’ নির্মাণ করেন।
গাড়ি ছাড়াও টাট্রা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনাবাহিনীর জন্য ট্যাংক ইঞ্জিন ও ট্রাক তৈরি করতো। তবে এই ট্রাকগুলো চলার সময় এত দ্রুত মোড় নিতো যে বহু জার্মান সৈন্য এই গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। ফলে পরবর্তীতে জার্মান সৈন্যদের এই টাট্রা ট্রাকগুলো ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
১৯৯৯ সালে এই কোম্পানি তাদের যাত্রীবাহী গাড়ি নির্মাণ বন্ধ ঘোষণা করে। তবে এখনো পর্যন্ত টাট্রা ট্রাক নির্মাণ করে আসছে।
৭. পিউজো
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮১০ সাল

আজকের প্রাচীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তালিকার সবেচেয়ে পুরানো প্রতিষ্ঠানটি হলো পিউজো। প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটির শুরু হয় ১৮১০ সালে এক কফি গুঁড়ো করার মিল হিসেবে। ১৮৩০ সালে তারা বাইসাইকেল নির্মাণ শুরু করে। এরপর ১৮৪২ সালে তারা লবণ, মরিচ ও কফি গুঁড়ো করার মেশিন নির্মাণ শুরু করে। তবে এসবের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পিউজোর মোটরগাড়ি নির্মাণের প্রতি ছিল ব্যাপক আগ্রহ। ফলে ১৮৮২ সালের দিকে তিনি মোটরগাড়ি নির্মাণ শুরু করেন।
১৮৮৯ সালে লিওন সারপোলেটের সহযোগিতায় পিউজোর প্রথম গাড়ি বাজারে আসে। এটি ছিল একধরনের বাষ্পচালিত তিন চাকার গাড়ি। তবে ব্যাপক আকারে উৎপাদনের জন্য এটি ছিল অনুপযোগী। ফলে ১৮৯০ সালে কিছু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটির উন্নত মডেল বাজারে আনা হয়।
পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে পিউজো তার পূর্বের কোম্পানি ত্যাগ করেন এবং ‘সোসাইটি ডেস অটোমোবাইলস পিউজো’ নামে ১৮৯৬ সালে আরেকটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। এর দু’বছর আগে তিনি গাড়ির পাশাপাশি মোটরসাইকেল নির্মাণ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল নির্মাণের জন্য দুটি ভিন্ন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এ পর্যন্ত বহু পুরষ্কার ও সম্মাননা জিতে নেয়া পিউজো এখনো পর্যন্ত চালু থাকা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান
সংক্ষেপে দেখুন