সাইন আপ করুন সাইন আপ করুন

সাইন আপ করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে


আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

লগ ইন করুন লগ ইন করুন

লগিন করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

কোন একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন

রিসেট পাসওয়ার্ড

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।

আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

দুঃক্ষিত, প্রশ্ন করার অনুমতি আপনার নেই, প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে.

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

দুঃক্ষিত, ব্লগ লেখার অনুমতি আপনার নেই। লেখক হতে হলে addabuzzauthor@gmail.com ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে অনুমতি নিন। (Sorry, you do not have permission to add post. Please send a request mail to addabuzzauthor@gmail.com for giving permission.)

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?

সাইন ইনসাইন আপ

AddaBuzz.net

AddaBuzz.net Logo AddaBuzz.net Logo

AddaBuzz.net Navigation

  • হোমপেজ
  • ব্লগ
  • ইউজার
  • যোগাযোগ
সার্চ করুন
একটি প্রশ্ন করুন

Mobile menu

Close
একটি প্রশ্ন করুন
  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

মনস্তাত্ত্বিক

Psychological questions

শেয়ার করুন
  • Facebook
5 ফলোয়ার
89 উত্তর
273 প্রশ্ন
হোমপেজ/মনস্তাত্ত্বিক/Page 11
অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • সাম্প্রতিক প্রশ্ন
  • সর্বাধিক উত্তর
  • উত্তর
  • অনুত্তরিত
  • সর্বাধিক দেখা
  • সর্বাধিক পছন্দকৃত
  • এলোমেলো

AddaBuzz.net Latest প্রশ্ন

ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

ভয় পেয়ে বুকে থুতু দিলে ভয় কমে কথাটা কতটুকু সতি?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 21 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

আপনি যদি নিজেকে খুব জোরে ঘুসি মেরে ব্যাথ্যা পান তাহলে আপনি কি দুর্বল না শক্তিশালী?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 22 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

মাছের কলিজা খেলে সাহস বাড়ে, আমের পোঁকা খেলে গাছে চড়া শেখা যায় এবং পিঁপড়া খেলে সাঁতার শেখা যায় আসলেই কি সত্যি?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 26 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

যদি পিঁপড়া খেলে সাঁতার শেখা যায় তাহলে পিঁপড়া খেলে পিঁপড়ার মতো দেওয়াল বেয়ে উঠা যায়না কেন?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 34 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

লেডিস সাইকেলের সামনে রড থাকেনা কেন?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 21 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

ব্যাথা পেয়ে চিৎকার করলে ব্যাথা তুলনামূলক কম অনুভূত হয় কেন?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 24 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

সন্তানের প্রতি মা বাবা কঠোর হলেও নাতি নাতনীর বেলায় তারা কেন সদয় হন?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 19 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

ভালোবাসা ভালো নয়,মুরব্বিরা বলে তাহলে ভালোবাসা ছাড়া পৃথিবী অচল কেন ?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 13 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

আমরা "পৃথিবীর ভিতরে" বাস করি নাকি পৃথিবীর পৃষ্ঠে বাস করি ?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 14 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

সবকিছু বুঝেও কেন আমরা পিছুটানেই পড়ে থাকি?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 32 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
Babul Sutradhar
Babul Sutradharনতুন
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

জ্ঞান ও বিশ্বাস

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 20 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

শূন্য একটি রহস্যময় সংখ্যা কেবলই অনুভব করা যায় কেনো?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 22 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

আনন্দের সময়গুলো দ্রুত কেটে যায় কেন?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 20 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

বিয়ের আগে কনের কি কি প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন?

  • 0
  • 0 টি উত্তর
  • 21 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

কেউ কেউ ডানহাতি আবার কেউ কেউ বামহাতি কেন হয়?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    সারা পৃথিবীতেই মানুষের মধ্যে জাতিগত, বর্ণগত কিংবা অভ্যাসগত পার্থক্য আছে। এসব মুখ্য পার্থক্যের পাশাপাশি কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্যও আছে। মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পার্থক্যও এরকমই একটি। পরিসংখ্যান বলছে মানুষের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশই ডানহাতি। তাহলে সাধারণ গণিতের হিসেবে বাকি ১০-১৫ শতাংশ বামহাতি হওয়ার কবিস্তারিত পড়ুন

    সারা পৃথিবীতেই মানুষের মধ্যে জাতিগত, বর্ণগত কিংবা অভ্যাসগত পার্থক্য আছে। এসব মুখ্য পার্থক্যের পাশাপাশি কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্যও আছে। মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পার্থক্যও এরকমই একটি। পরিসংখ্যান বলছে মানুষের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশই ডানহাতি। তাহলে সাধারণ গণিতের হিসেবে বাকি ১০-১৫ শতাংশ বামহাতি হওয়ার কথা।

    প্রাচীন যুগ থেকেই মানব সমাজে ডানহাতি মানুষ যেমন ছিল, কিছু সংখ্যক বামহাতি মানুষও ছিল। যদিও বামহাতি হওয়ার কারণে তাদের অনেককেই পোহাতে হয়েছে নানা ধরনের অত্যাচার। কারণ কোনো ব্যক্তি বামহাতি হলে ধারণা করা হত যে, ওই ব্যক্তি শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত। কারণ বিভিন্ন সময়ে শয়তানকে বামহাতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ‘Sinister’ বা ‘অশুভ’ শব্দটি এসেছে ‘Left’ শব্দটি থেকে।

    ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষ ডানহাতি, বাকিরা বামহাতি হয়; Source: catholiccharities-sbc.org
    মধ্যযুগে বামহাত দিয়ে কোনো ব্যক্তিকে লিখতে বা খাবার খেতে দেখলে তাকেও শয়তানের দ্বারা আক্রান্ত, কিংবা শয়তানের বন্দনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। আধুনিক যুগ যদিও শিক্ষা-সংস্কৃতিতে অনেকদূর এগিয়ে গেছে এবং কুপ্রথা ও কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসেছে, তথাপি বামহাতি ব্যক্তিদের প্রতি সবারই আলাদা একপ্রকার মনোভাব আছে।

    তো এই যে, মানুষের মাঝে ডানহাতি কিংবা বামহাতি বৈশিষ্ট্যের দেখা মেলে, এই বৈশিষ্ট্যের মূল রহস্য কী? কেন মানুষ হয় ডানহাতি অথবা বামহাতি হয়?

    মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পেছনে বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ প্রধানত দুইটি তত্ত্বের কথা বলেন। প্রথমটি প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব এবং অপরটি জিন-তত্ত্ব। যদিও দুইটি তত্ত্ব কিছুটা ভিন্নরকম মতামত দেয়, কিন্তু দুইটি তত্ত্বের কোনো একটিকে ভুল প্রমাণ করার মতো তথ্য-উপাত্ত এই মুহূর্তে নেই। অর্থাৎ দুইটি তত্ত্বই তাদের ‘পয়েন্ট অফ ভিউ’ থেকে সঠিক। এদেরকে একে অপরের পরিপূরকও বলা চলে।

    প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব অনুসারে, মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হয়েছে মূলত মানুষের ভাষা ও কথা বলার ক্ষমতার কারণে। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আসতে পারে যে ভাষা কিংবা সেই ভাষায় কথা বলার কারণে মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার কী সম্পর্ক! সম্পর্ক আছে, বরং আরো বলা চলে ভাষা এবং সেই ভাষায় কথা বলা ছাড়াও লেখার ক্ষমতার কারণে এই ডানহাতি-বামহাতি স্বভাব সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু কীভাবে?

    একজন ডানহাতি মানুষের মস্তিষ্কের গঠন; Source: guernseydonkey.com
    মানুষ তার আদি থেকে যোগাযোগের জন্য সংকেত ব্যবহার করতো। সেই সংকেত কালক্রমে ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে। আধুনিক মানুষের ভাষা বাস্তবে কিছু ধ্বনি বা সংকেত ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে বেশিরভাগ মানুষের মস্তিষ্কের বাম অংশ ভাষা বা সংকেত প্রক্রিয়াকরণ করে। বাম মস্তিষ্ক আবার একই সাথে ডান হাতের পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। কেবল ডান হাতের পেশীই নয়, ডান চোখ, ডান কান, ডান পা-ও নিয়ন্ত্রণ করে বাম মস্তিষ্ক।

    ফলাফল দাঁড়াচ্ছে এই যে, ভাষা যেমন বলার সময় প্রথমে মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াকরণ হয়, তারপর মুখে আসে, তেমনি লেখার সময় ভাষা প্রথমে মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াকরণ হয় তারপর হাতে আসে। তাহলে, যাদের ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয় বাম মস্তিষ্কে, তাদের ডানহাত হবে কার্যকরী হাত। কারণ লেখার সময় ডান হাতের উপরই থাকবে লেখার ভার।

    আগেই হিসেব দেওয়া হয়েছে যে, প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষ ডানহাতি। অর্থাৎ, এই ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষের বাম মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়। বাকি ১০-১৫ শতাংশের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ডান অংশে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়। এবং ডান মস্তিষ্ক বাম হাতের পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ, তাদের ক্ষেত্রে বামহাতই হয় মুখ্য হাত। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণের উপরই নির্ভর করে ব্যক্তি ডানহাতি হবে নাকি বামহাতি হবে।

    বামহাতি মানুষের ডান মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়; Source: webmd.com
    জিন তত্ত্ব, মানুষের শারীরিক কিংবা মানসিক সকল প্রকার বৈশিষ্ট্যের ধারক এবং বাহক হচ্ছে জিন। কারো চোখ কালো, কারো আবার বাদামী, কারো সাদা অথবা কারো চুলের রঙ কালো, কারো লাল, কারো আবার সোনালী কিংবা কেউ নীল রঙ পছন্দ করে, কেউ সবুজ ইত্যাদি- এইসব শারীরিক বা মানসিক বৈশিষ্ট্যের মূল কারণ আলাদা আলাদা জিন।

    মানুষের ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের কোনো জিনের অবদান আছে বলে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা মনে করেন। এক্ষেত্রে জেনেটিক মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন অন্যতম ভূমিকা পালন করে।

    সাধারণত একটি লোকেশনে একটি জিনের দুইটি অনুলিপি থাকে। এই অনুলিপিদ্বয়ের একটিকে অপরটির ‘অ্যালীল’ (allele) বলা হয়। ডান-বাম অসমতার ক্ষেত্রে একটি অ্যালীলকে বলা হয় D জিন। এই D এসেছে ‘Dextral’ শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘Right’। অপর অ্যালীলটিকে বলা হয় C জিন। C এসেছে ‘Chance’ শব্দ থেকে। অ্যালীল জিন কীভাবে কাজ করে সেটি আগে জানা প্রয়োজন। একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বোঝা যাক।

    ধরা যাক, কোনো মানুষের চোখের মনি বাদামী হওয়ার পেছনে একটি জিন কাজ করে। এর জিনোটাইপ ধরা যাক (Bb)। এখানে বাদামী বর্ণের জন্য দায়ী B জিনটি, কালো বর্ণের জন্য দায়ী b জিনের উপর প্রকট। বাদামী বর্ণের জন্য দায়ী জিন এসেছে পিতার জনন কোষ থেকে এবং কালো বর্ণের জন্য দায়ী জিন এসেছে মাতার জনন কোষ থেকে। তাহলে এই দুইটি জিন হচ্ছে একে অপরের অ্যালীল। এখানে যেহেতু B জিনটি প্রকট এবং b জিনটি প্রচ্ছন্ন, তাই সন্তানের চোখের মণির বর্ণ হয়েছে বাদামী।

    ঠিক একইভাবে ডানহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রকট জিন হচ্ছে D জিন। বেশিরভাগ ডানহাতি মানুষের ক্ষেত্রে ডানহাতি হওয়ার জন্য মূলত এই D জিনের ভূমিকা থাকে। বামহাতিদের ক্ষেত্রে থাকে C জিনের ভূমিকা। তবে মানুষের মধ্যে D জিনের প্রকটতা বেশি থাকায় অধিক সংখ্যক মানুষ ডানহাতি হয়ে থাকে। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে যে, কেবল C জিন প্রকট থাকলেও সেখানে বামহাতি হওয়ার সম্ভাবনা ৫০-৫০।

    ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার জিনগত তত্ত্ব; Source: Edited
    এখানে আরো একটি হাইপোথিসিস আছে। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে আমরা জানি যে, মানুষের মস্তিষ্কের যে অংশ ভাষা প্রক্রিয়াকরণ করে, তার বিপরীত হাত হয় মানুষের কর্তৃত্বপূর্ণ হাত। অর্থাৎ, বাম মস্তিষ্ক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ করলে মানুষ হয় ডানহাতি। এখানে জেনেটিক মিউটেশনের কিছু ব্যাপার আছে।

    ডিসলেক্সিয়া নামক একপ্রকার রোগ আছে। সহজ কথায় এই রোগের উপসর্গ হচ্ছে কোনো কিছু পড়ার অক্ষমতা। কথা বলার ভাষার সাথে বর্ণ এবং অক্ষরের সামঞ্জস্য বুঝতে না পারাটাই হচ্ছে ডিসলেক্সিয়া রোগীর বৈশিষ্ট্য। কারণ ডিসলেক্সিয়া রোগটি মস্তিষ্কের সেই অংশকে আক্রান্ত করে যে অংশ ভাষার প্রক্রিয়াকরণ করে।

    সাধারণ মস্তিষ্ক বনাম ডিসলেক্সিয়াগ্রস্ত মস্তিষ্ক; Source: brainconnection.brainhq.com
    এই রোগের কারণ মূলত জেনেটিক মিউটেশন। অ্যালীল সম্বন্ধে জিন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি অ্যালীল জিনের ক্ষেত্রে দুইবার মিউটেশনের সুযোগ থাকে। জিনের এই মিউটেশনের পর অনেক ক্ষেত্রেই আসল বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

    যেহেতু ডিসলেক্সিয়া মস্তিষ্কের ভাষা প্রক্রিয়াকরণ অংশে আক্রমণ করে, ফলে ব্যক্তির ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রেও এর কোনো ভূমিকা থাকতে পারে। ডিসলেক্সিয়া রোগের জন্য পিসিএসকে-৬ (PCSK-6) নামক একটি জিনকে দায়ী করা হয়। মানুষের ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে এই বিশেষ জিনের কোনো ভূমিকা আছে কিনা তা নিয়ে গবেষকরা অনেক গবেষণা করেছে।

    গবেষকরা বলছে যে, ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার জন্য পিসিএসকে-৬ জিনকে এককভাবে দায়ী করা যায় না, বরং এর সাথে সহযোগী হিসেবে আরো কতিপয় জিনের অবদান আছে। একত্রে এসব জিন মানুষের ডান-বাম অসমতার জন্য দায়ী। যেহেতু এখানে মিউটেশনের ব্যাপার আছে। কাজেই সর্বশেষ মিউটেশনের পরেই জানা যায় যে, আসলে ডান অংশ প্রধান, নাকি বাম অংশ।

    এখানে আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যাপার আছে। ডান-বাম অসমতার জন্য দায়ী জেনেটিক প্রক্রিয়া যখন কোনো কারণে বিঘ্নিত হয়, তখন গুরুতর কিছু শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে। যেমন, মানব শরীরের ডান অংশের অঙ্গ বা অঙ্গাণুগুলো বাম অংশে অবস্থান নিতে পারে এবং এর বিপরীত ঘটনাও ঘটতে পারে।

    এই ঘটনাকে বলা হয় সাইটাস ইনভার্সাস (Situs Inversus)। এই জিনগত পরিবর্তনের ফলেই অনেকের হৃৎপিণ্ড শরীরের বামপাশের পরিবর্তে ডানপাশে অবস্থান করে। এখন যদি ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ঘটনা শারীরিক অসমতার ফলাফল হয়, সেক্ষেত্রে সাইটাস ইনভার্সাসকে দায়ী করা যেতে পারে। কিন্তু এটি এখনো একটি হাইপোথিসিস এবং এটি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

    সাইটাস ইনভার্সাস; Source: healthjade.net
    আধুনিক গবেষণা আরো তথ্য দিচ্ছে আমাদের। যেমন আধুনিক গবেষকরা বলছে যে, ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মস্তিষ্ক নয় বরং স্পাইনাল কর্ডই দায়ী। মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স অঞ্চলে হাত ও পায়ের সঞ্চালন প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোটর কর্টেক্স এই সিগন্যাল স্পাইনাল কর্ডে প্রেরণ করে। স্পাইনাল কর্ড তখন এই সিগন্যালকে পেশী সঞ্চালন রূপান্তরিত করে।

    মানুষ যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন থেকেই কিন্তু এই ডান-বাম অসমতা লক্ষ্য করা যায়। গর্ভবতী মায়েদের উপর আল্ট্রাসনোগ্রাফির দ্বারা পরীক্ষা করে জানা যায় যে, গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রায় ১৩ সপ্তাহ পর থেকেই বাচ্চার মধ্যে হাত চোষার প্রবণতা দেখা যায়। অর্থাৎ, কোনো বাচ্চা ডান হাত চোষে, কোনো বাচ্চা চোষে বাম হাত।

    কিন্তু ১৫ সপ্তাহের আগে মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স এবং স্পাইনাল কর্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র তৈরি হয় না। তাহলে কীভাবে ১৩ সপ্তাহের বাচ্চার মধ্যে ডান-বাম অসমতা লক্ষ্য করা যায়?

    গবেষকদের গবেষণায় উঠে আসে সেই তথ্য। স্পাইনাল কর্ডের জিনগত বৈশিষ্ট্যই মূলত এখানে দায়ী। স্পাইনাল কর্ডের জিনের কার্যক্রমের কারণেই ডান-বাম অসমতার সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, তাদের গবেষণা মতে মস্তিষ্ক নয় বরং স্পাইনাল কর্ডের জিনগত বৈশিষ্ট্যই ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।

    ডান-বাম অসমতা অর্থাৎ, ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়া ছাড়াও ‘Ambidextrous’ বা সব্যসাচী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষের সন্ধানও পাওয়া যায়। যদিও এই সংখ্যা খুবই নগণ্য। ১ শতাংশেরও কম মানুষের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। যেটি আসলে একপ্রকার ব্যতিক্রম ঘটনা এবং খুবই দুর্লভ।

    ‘Ambidextrous’ মানুষের দুই হাতই সমান কর্তৃত্বপূর্ণ; Source: britannica.com
    Ambidextrous বা সব্যসাচী বলতে বোঝায়, যেসব মানুষের ডান-বাম অসমতা নেই। অর্থাৎ যারা তাদের দুইটি হাতই সমানভাবে এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম, তারাই সব্যসাচী। যদি প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের নিউরোলজিক্যাল ব্যাখ্যা দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে সব্যসাচী মানুষের ক্ষেত্রে তাদের মস্তিষ্কের ডান এবং বাম অংশ উভয়ই সমানভাবে কার্যকর।

    যদিও ডানহাতি বা বামহাতি কিংবা উভয়হাতি অর্থাৎ সব্যসাচী হওয়ার ক্ষেত্রে তত্ত্ব ও হাইপোথিসিস দেয়া হয়েছে বেশ, তথাপি এক্ষেত্রে কোন তত্ত্বটি সঠিক বা কোনটি নয় সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। কখনো কখনো গবেষকরা বলছেন যে, উভয় তত্ত্বই সঠিক। তত্ত্বগুলো একে অপরের পরিপূরক। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে বিস্তারিত জানা যাবে এদের সম্পর্ক।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 67 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

আমরা মস্তিষ্কের কত শতাংশ ব্যবহার করি?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    সুবিশাল এই জীবজগতে অন্যান্য প্রাণিদের সাথে মানুষের সবথেকে বড় পার্থক্য হলো মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের গঠন, কার্যপদ্ধতি, নিউরন ঘনত্বের আধিক্য আর দেহের অন্যান্য অঙ্গের সাথে এর প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষকে অনন্যতা দান করেছে। অস্তিত্বের সূচনালগ্ন থেকে মানুষ এই মস্তিষ্ক ব্যবহার করে বুদ্ধবিস্তারিত পড়ুন

    সুবিশাল এই জীবজগতে অন্যান্য প্রাণিদের সাথে মানুষের সবথেকে বড় পার্থক্য হলো মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের গঠন, কার্যপদ্ধতি, নিউরন ঘনত্বের আধিক্য আর দেহের অন্যান্য অঙ্গের সাথে এর প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষকে অনন্যতা দান করেছে। অস্তিত্বের সূচনালগ্ন থেকে মানুষ এই মস্তিষ্ক ব্যবহার করে বুদ্ধিকৌশল প্রয়োগে করেছে কালজয়ী সব আবিষ্কার, রচনা করেছে ইতিহাস আর পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়েছে আরো উন্নত জীবন। চিন্তার খোরাক থেকে নতুন কিছু সৃষ্টি করে জন্ম হয়েছে কত কিংবদন্তির।

    কিন্তু যে মস্তিষ্ককে ব্যবহার করে করা হয়েছে এত কিছু, সেই মস্তিষ্কের অনেক রহস্য এখনও অধরাই থেকে গেছে বিজ্ঞানীদের কাছে। যুগে যুগে আমরা পেয়েছি মস্তিষ্কের অনেক নতুন নতুন তথ্য, যার কোনোটি আবার পুরানোকে সরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে অন্যগুলো প্রমাণের ভিত্তিতে এখনও টিকে আছে। আর তাই এত সংশয়ের জন্যই জন্ম হয়েছে অনেকে গুজব আর আজব সব মিথের। আবার সেসব মিথের অনেকগুলোই অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে ভুল প্রমাণিত হয়েছে, আবার কোনোটির এখনও প্রমাণ মিলেনি।

    Source: Visually

    পূর্ণবয়স্ক একজন স্বাভাবিক মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা কত বলতে পারবেন? উত্তরটা হলো প্রায় ৮৬ বিলিয়ন। আর এতগুলো নিউরনের প্রতিটিতে আছে প্রায় ১০ হাজার সিন্যাপটিক যোগাযোগ। আর সব মিলিয়ে মোট সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১০০ ট্রিলিয়নে, যার সর্বোচ্চ হিসেবটা গিয়ে ঠেকতে পারে ১,০০০ ট্রিলিয়নে। এত এত নিউরন আর সিন্যাপসগুলো বৈদ্যুতিক আর রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে মস্তিষ্কের সাথে সারা দেহের যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে প্রতি মুহূর্তে।

    Source: Slide Player

    আচ্ছা, কোনো গাণিতিক সমস্যা সমাধান কিংবা কঠিন কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সময় ভেবেছেন কি আপনি নিজের মস্তিষ্কের কতটুকু অংশ ব্যবহার করছেন? হয়তো কোনো মোটিভেশনাল স্পিচে, জনপ্রিয় কোনো মুভি, বই কিংবা কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি দেখে থাকতে পারেন ‘মানুষ কেবল নিজের মস্তিষ্কের দশ শতাংশ ব্যবহার করে!’

    আচ্ছা তাহলে তাহলে বাকি নব্বই শতাংশ কি অলস হয়ে বসে থাকে? নাকি কোনো অদৃশ্য দেয়াল তাদের আলাদা করে রেখেছে আপনার মস্তিষ্কের কার্যকর অংশ থেকে? যদি একশো শতাংশই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকত তবে কি আপনি আপনার পছন্দের সুপারহিরো হয়ে যেতে পারতেন! নাকি টেলিকাইনেটিক শক্তির মতো অতিপ্রাকৃতিক কোনো ক্ষমতার জন্ম হতো আপনার মধ্যে! নাকি আইনস্টাইন আর নিউটনের মতো সেরা বিজ্ঞানীগণ একশো ভাগই ব্যবহার করতে তাদের মস্তিষ্কের!

    Source: Ted Ed

    মস্তিষ্কের আরো কিছু প্রচলিত মিথের মধ্যে মানব মস্তিষ্কের এই দশ শতাংশের মিথটিও বেশ প্রচলিত। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো এই মিথ কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আর প্রায় অর্ধেক সংখ্যক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বিশ্বাস করেন।

    এই মিথের জন্মদাতা কে তা স্পষ্টভাবে কারোরই জানা নেই। তবে ঊনবিংশ শতাব্দীর আশির দশকে আমেরিকার বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমস একটি ছেলের আইকিউ পরীক্ষার পর বলেন মানুষ তার মস্তিষ্কের সবটুকুই সঠিকভাবে ব্যবহার করে না। আর এই বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যায় মানুষের মনে মস্তিষ্কের সেই দশ শতাংশের ব্যবহার আরো দৃঢ়তা পায়। বিভিন্ন প্রচারণা মাধ্যম, ম্যাগাজিন আর লোকমুখে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই অপরীক্ষিত অদ্ভুত তত্ত্ব। শুধু তা-ই নয় লুসি, লিমিটলেস, ফ্লাইট অব দ্য নেভিগেটর এর মতো বিখ্যাত কিছু হলিউড মুভিতেও এই তত্ত্বের দেখা মেলে।

    Source: Ted Ed

    আদতে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন আমরা অনেকেই আমাদের চিন্তা-ভাবনার কাজে মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে উদ্দীপ্ত করতে পারি না বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। আবার শোনা যায় কালজয়ী বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের নামও জড়িয়ে আছে এই ঘটনা অনেকটা এই ধরনের বক্তব্যের জন্য।

    কিন্তু আমরা সকলেই আসলে দিনশেষে মস্তিষ্কের একশ শতাংশই ব্যবহার করি। কীভাবে? তার আগে দেখা যাক প্রচলিত এই মিথটি কেন ভুল?

    Source: Slide Share

    আচ্ছা মস্তিষ্কের নব্বই ভাগই যদি কোনো কাজে না আসে তবে সেগুলোতে আঘাত লাগলে বা ক্ষতি হলেও তো আমাদের শারীরিক বা মানসিকভাবে কোনো সমস্যা হবার কথা না। কিন্তু সত্যিই কি তাই?

    ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি এখনকার মতো অত্যাধুনিক ছিল না। তাই বেশ দীর্ঘ একটা সময় পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা জানতেন না আমাদের মস্তিষ্কের বিশাল একটি জায়গা ফ্রন্টাল লোব এবং প্যারাইটাল লোবের ভূমিকা কি ছিল! কোনো ধরনের আঘাতে মস্তিষ্কের স্নায়বিক উদ্দীপনায় কোনো প্রকার প্রভাব না ফেলায় তারা ধরেই নিয়েছিলেন এগুলোর কোনো কাজ নেই। আর তাই কয়েক দশক ধরেই এগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে ‘নীরব অঞ্চল’ বা সাইলেন্ট এরিয়া নামেই পরিচিত ছিল, যাতে অনেকে ভেবেছিলেন দশ শতাংশ ব্যবহারের ধারণা বুঝি তাই সত্যি।

    কিন্তু এখন আমরা জানি যে এই অঞ্চলগুলো আমাদের যুক্তিবিচারে, পরিকল্পনায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে আর পরিস্থিতিনির্ভর অভিযোজনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। আর আমাদের পরিপূর্ণভাবে মানুষ হিসেবে প্রকাশ করে। আবার কোনো মস্তিষ্কের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্বাভাবিক জীবনে এর প্রভাব আমরা না দেখলেও আদতে তা কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা তৈরি করে।

    Source: Dreamstime;

    সাধারণত মানব মস্তিষ্ক ওজনের দিক থেকে পুরো শরীরের তুলনায় মাত্র দুই শতাংশ। কিন্তু এই মস্তিষ্ক সারা শরীরের মোট গ্লুকোজের প্রায় বিশ শতাংশই ব্যবহার করে নিজের জ্বালানি হিসেবে। আর একটি শিশুর ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ ৫০ শতাংশ এবং একটি নবজাতকের জন্য ৬০ শতাংশ, যেখানে রোডেন্ট এবং কুকুরের প্রজাতিরা পুরো শরীরের মোট গ্লুকোজের প্রায় পাঁচ শতাংশ আর বানর দশ শতাংশ শক্তি ব্যবহার করে। তাহলে যদি নব্বই ভাগই অযথা অব্যবহৃত থাকে তবে এই বিশ শতাংশ শক্তি মস্তিষ্ক কী করে? এত পরিমাণ শক্তি মস্তিষ্কের মাত্র দশ শতাংশের কাজের তুলনায় ঢের বেশি।

    Source: Karen Carr Studios;

    মানুষের মস্তিষ্কের ওজন আনুমানিক ১.৫ কিলোগ্রাম, যেখানে একটা হাতির মস্তিষ্ক ৫ কিলোগ্রাম আর তিমির ৯ কিলোগ্রাম। কিন্তু এই ১.৫ কিলোগ্রাম মস্তিষ্কে ৮৬ বিলিয়ন নিউরনের উপস্থিতি মস্তিষ্কের ঘনত্ব অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আর সেটাই আমাদের করেছে আরো বেশি চৌকশ।

    Source: Ted Ed

    কিন্তু চৌকশ এই মস্তিষ্কের জন্য অনেক বেশি পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন তা আগেই বলেছি। প্রতি মিনিটে ৩.৪×১০২১ মলিকিউল এটিপি। এটিপি (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট) হলো দেহের জ্বালানি।

    Source: Wikimedia Commons;

    আর স্পার্স কোডিং পদ্ধতির মাধ্যমে কম শক্তি খরচ করে বেশি তথ্য আদানপ্রদান করে মস্তিষ্ক। আর নব্বই ভাগকে অকার্যকর রেখে কখনোই এত পরিমাণ শক্তির দরকার হবে না। এছাড়া মস্তিষ্কের কোনো অংশ অপ্রয়োজনীয় হলে জিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সেই অংশটুকু অনেক আগেই বাদ পড়ে যেত।

    কিন্তু মস্তিষ্ক কখনোই একইসাথে একশ ভাগ ব্যবহার করে না। নির্দিষ্ট কাজের জন্য মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ উদ্দীপ্ত হয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে মস্তিষ্কের এক থেকে ষোল শতাংশ কার্যকর পাওয়া যাব। এমনকি ঘুমানোর সময়ও যে মস্তিষ্ক সচল থাকে তা-ও পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আপনি যখন যে কাজটি করবেন আপনার মস্তিষ্কের সেই অংশটির সাথে যোগাযোগ ঐ মুহূর্তে বেশি হবে। আর তাই একইসাথে আপনি দুইয়ের অধিক কাজ করতে গেলে কোনোটিই ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন না, কারণ আপনার মস্তিষ্ক একসাথে দুটি কাজের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ মনোযোগের যোগান দিতে পারে না।

    একবিংশ শতাব্দীর তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে জীবন্ত মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণার সু্যোগ আমাদের এই এত এত ভুল ভাঙ্গাতে সক্ষম হয়েছে। ইইজি, পিইটি, এফএমআরআই এর মাধ্যমে আমরা মস্তিষ্কের কোন অঞ্চল কী কাজে সাড়া দেয় তা আমরা জানি এখন। কীভাবে সেই ব্রেইন স্ক্যানিং করা হয় তা না হয় অন্য আরেকদিনের জন্য তোলা থাকুক। মস্তিষ্কের আরো অনেক প্রচলিত মিথ নিয়ে জানতে পড়ে আসতে পারেন রোর বাংলার এই লেখাটি।

    তাই নিজের মস্তিষ্ককে অলস বা অকার্যকর ভেবে সময় নষ্ট বন্ধ করুন। ৮৬ বিলিয়নের এই দল আপনাকে কোনো অতিপ্রাকৃতিক শক্তি না দিলেও এরা যথেষ্ট চৌকশ যেকোনো অসাধ্যসাধনে। তাই আর দেরি কেন? ক্ষুধার্ত এই নিউরনগুলোর শক্তির ব্যবস্থা করুন আর কাজে নেমে পড়ুন নতুন উদ্যমে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 47 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

অশুভ ঘটনাগুলো কি আসলেই আপনার কপালে লেগে থাকে?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    কখনো কি এরকম মনে হয়, দুনিয়ায় যত অলক্ষুণে আর অশুভ জিনিস আছে তার সব ঘটে আপনার সাথেই? এমন প্রশ্ন কখনো কি করেন, “দুর্ভাগ্যগুলো এই মরার কপাল ছাড়া অন্যদেরকে কি দেখে না? আমার কপালেই কেন একের পর এক ‘মরা’ লেগে থাকবে?” আসলে আপনি একা নন, সবার সাথেই এমন ঘটে এবং সবাই-ই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেকে দুনিয়ার সবিস্তারিত পড়ুন

    কখনো কি এরকম মনে হয়, দুনিয়ায় যত অলক্ষুণে আর অশুভ জিনিস আছে তার সব ঘটে আপনার সাথেই? এমন প্রশ্ন কখনো কি করেন, “দুর্ভাগ্যগুলো এই মরার কপাল ছাড়া অন্যদেরকে কি দেখে না? আমার কপালেই কেন একের পর এক ‘মরা’ লেগে থাকবে?” আসলে আপনি একা নন, সবার সাথেই এমন ঘটে এবং সবাই-ই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে অভাগা আর পোড়া কপালের অধিকারী বলে মনে করে। কিন্তু আসলেই কি সবাই অভাগা?

    অশুভ ঘটনা তো পরের কথা, যদি বলি কোনো ঘটনা কেন ঘটে তার উত্তর কী হবে? শুনতে মামুলী মনে হলেও প্রশ্নটা একেবারেই বেয়াড়া। এর উত্তর কী হবে? ভালোই জটিল বলে মনে হচ্ছে। এর উত্তর জটিল হলেও শিরোনামের প্রশ্নের চেয়ে কিছুটা বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন বলে মনে হবে। কেন এমন কথা বললাম? অশুভ ঘটনা কেন ঘটে, এমন প্রশ্ন করা কি বিচার বুদ্ধিহীন? এখানে এর উত্তর খুঁজে দেখবো।

    সত্যি কথা বলতে, সাধারণ ঘটনা ও অশুভ ঘটনা ঘটার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। অশুভ ঘটনাও এক প্রকার ঘটনা। একে আলাদা করে হিসেব করার কোনো কারণ নেই। যদি মনে হয়ে থাকে খারাপ জিনিসগুলো শুধু আপনার বেলাতেই হয়, তাহলে এখানে ব্যাপারটিকে ব্যাখ্যা করতে হবে। ‘মার্ফির সূত্র’ নামে একটি নিয়ম আছে। অনেকে একে ‘সডের সূত্র’ও বলে থাকে। অশুভ ঘটনার ক্ষেত্রে তামাশার ছলে মানুষ এই সূত্রটি ব্যবহার করে।

    এই সূত্র অনুসারে, মাখন মাখানো কোনো পাউরুটি যদি নিচে পড়ে যায়, তাহলে সবসময় মাখনের পাশটিই নিচের দিকে পড়বে। মেঝেতে যদি রুটিটি পড়ে আর মাখন যদি উপরের দিকে থাকে তাহলে ক্ষেত্রবিশেষে এটি তুলে নিয়ে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু মাখন নিচের দিকে পড়ে মেঝেতে লেপ্টে গেলে তা আর ব্যবহার করার উপায় থাকে না। খেয়াল করলে দেখা যাবে, মানুষের বেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন ঘটে। এজন্য তারা মনে মনে বলে, “আমার কপালেই যত নেতিবাচক ঘটনা ঘটে।”

    অনেকেই ভাবেন, ‘কপাল পোড়া’ হলে হাত থেকে খসে রুটি পড়ে গেলে মাখনের দিকটাই সবসময় লেপ্টে যায়। ছবি: দ্য মিরর/গেটি

    যারা মাঝে মাঝে টেলিভিশনের জন্য প্রামাণ্যচিত্র বা নাটক-সিনেমা নির্মাণ করেন, তাদের কাজে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে শুটিং চলাকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ। অনেক দূর দিয়ে যদি কোনো উড়োজাহাজ উড়ে যায় তাহলেও তাদেরকে কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। এটি চলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারপর কাজ শুরু করতে হয়। চলমান কোনো কাজে যদি এরকম বাধা কয়েকবার দেখা দেয়, তাহলে তা হয় চরম বিরক্তিকর। অনেকটা বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে দেবার মতোই।

    এখন উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনাকাঙ্ক্ষিত শন্দ অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। কিন্তু আগের দিনে সিনেমা নির্মাণে এই সুযোগ ছিল না। এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দের কারণে মাঝে মাঝে পুরো সিনেমাই নষ্ট হয়ে যেত। চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের মাঝে একটি কুসংস্কার প্রচলিত আছে- যখন সিনেমার কোনো মুহূর্তে নীরবতা খুবই প্রয়োজন ,তখন উড়োজাহাজ উড়ে গিয়ে শব্দের জ্বালাতন করবেই করবে। এরকম কিছু ঘটে গেলে তারা বলে সডের সূত্র অনুসারে এই ঘটনা ঘটেছে।

    আগে অপ্রত্যাশিত ‘নয়েজ’-এর কারণে পুরো সিনেমাই বরবাদ হয়ে যেতো। ছবি: দ্য ফিল্ম বুক/সিনেফিলিয়া/সিনিসাইন

    একজন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতার কথা বলি। তিনি মাঝে মাঝে গবেষণামূলক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। একটি প্রামাণ্যচিত্রের শুটিংয়ের জন্য তারা একটি স্থান নির্ধারণ করেছেন। স্থানটি হলো ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড অঞ্চলের বিস্তৃত এক তৃণভূমি। তাদের ধারণা ছিল, দিনের বেলায় গেলে সেখানে অবশ্যই কোনো না কোনো শব্দ থাকবে। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, সকলে মিলে খুব ভোরে চলে যাবেন। ভোরে শব্দ থাকার কথা নয়। যখন তারা সেখানে পৌঁছালেন, তখন আবিষ্কার করলেন, একজন লোক সেখানে একাকী বসে বসে বেলুনের বাঁশি বাজাচ্ছে! সম্ভবত তার স্ত্রীর সাথে রাতের বেলা ঝগড়া হয়েছে এবং স্ত্রী তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তাই উপায় না দেখে সে উদাস হয়ে ফুঁ দিয়ে বেলুনে বাতাস ভরছে এবং সেই বাতাসে বাঁশি বাজাচ্ছে। আর এই ঘটনাটা ঘটতে হলো তাদের একান্ত প্রয়োজনের সময়টিতেই। তাদের যখন একান্ত নীরবতা প্রয়োজন তখনই এই ‘কুফা’ এসে লাগলো। সডের সূত্র দেখা যায় আসলেই সত্য!

    আসলে এখানে অশুভ বা অলক্ষুণে বা কুফা বলতে কিছু নেই। সত্যিকার বাস্তবতা হচ্ছে, এখানে বেশিরভাগ সময়ই শব্দের উৎপাত থাকে। এই শব্দগুলো আমরা খেয়াল করি না বা খেয়াল করার প্রয়োজন হয় না। খেয়াল তখনই করি, যখন এটি আমাদের নিজেদের কোনো কিছুতে ব্যাঘাত ঘটায়। যেমন- সিনেমার জন্য ভিডিও করার সময় অপ্রয়োজনীয় ছায়া ভেসে উঠতে পারে পর্দায়। এর আগে এটির অস্তিত্ব থাকলেও আমাদের নজরে আসে না তেমন। মানুষের একটি জন্মগত স্বভাব হচ্ছে বিরক্তিকর জিনিসকে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলা। এরকম কোনোকিছু কয়েক বার ঘটলেই আমরা ধরে নেই, সমস্ত পৃথিবীর সবকিছুই বুঝি আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে। কোনোকিছু করতে গেলে তারা কোনো না কোনো দিক থেকে ঝামেলা পাকাবেই।

    পৃথিবীর সবকিছুই বুঝি আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে! ছবি: 123RF

    আসলে সত্যিকার অবস্থা এমন না। অসামঞ্জস্যতা সবখানেই থাকে। সবসময়ই থাকে। প্রয়োজন না পড়লে আমরা তা দেখতে পাই না। প্রয়োজন পড়লে অর্থাৎ কাজের সময় আমরা তা দেখতে পাই। মাখন মাখানো রুটির কথাই বিবেচনা করি। মাখন লাগানো অংশটা কেন বেশিরভাগ সময় নিচের দিকে পড়ে, তা উদ্ধার করা খুব কঠিন কিছু নয়। হাতে বা টেবিলে মাখন লাগানো অংশটি উপরের দিকে থাকে। হাত বা টেবিল থেকে পড়ে গেলে এটি অর্ধেক বার ঘোরার সময় পায়। সম্পূর্ণ একবার ঘোরার সময় খুব কম ক্ষেত্রেই পায়। মেঝে বা ভূমি থেকে হাত কিংবা টেবিলের উচ্চতাও সবসময় প্রায় একই থাকে। তাই যখনই রুটি হাত ফসকে নিচে পড়ে যায়, তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাখন লাগানো অংশটি নিচের দিকে থাকে। একাধিকবার এরকম হলে আমরা একে রংচঙ দিয়ে বলি, যত কুফা আর অশুভ জিনিস আছে আমার কপালে!

    টেবিল সমান উচ্চতা থেকে পড়লে মাত্র অর্ধেক বার ঘোরার সময় পায় রুটি। তাই মাখনের অংশটিই নিচে পড়ে যায়। ছবি: ডেভ ম্যাককেইন

    সডের সূত্রের জন্য শুটিং কিংবা পাউরুটির উদাহরণ বাদ দিয়ে সরল একটি উদাহরণ বিবেচনা করতে পারি। কয়েন দিয়ে। যখন কোনোকিছু টস করি, তখন হেড চাইলে ওঠে টেল আর টেল চাইলে ওঠে হেড- নির্মম ভাগ্য। আবার কেউ কেউ আছে আশাবাদী বা ইতিবাচক। তাদের অনুভূতি অনেকটা এরকম, আমি খেলায় যে দলকে মনে মনে সাপোর্ট করি সেই দলই টসে জিতে। আমি ‘সুফা’, আমি অমুক কালারের টি-শার্ট পরলে পক্ষের দল ছক্কা মারে আর বিপক্ষ দলের উইকেট পড়ে। চাহিদামতো ইতিবাচক ঘটার ব্যাপারটিকে বলা হয় ‘পলিয়ানার সূত্র’। কিন্তু সত্যিকার বাস্তবতার কথা বিবেচনা করলে দেখা যাবে, সডের সূত্র আর পলিয়ানার সূত্রের উভয়েই আসলে অযৌক্তিক ব্যাপার।

    কুফা সুফা বলতে কিছু নেই। ছবি: ‘নতুন শব্দ‘ নামক ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

    কার মন কী চাইছে, তা টসের কয়েন কিংবা পাউরুটির পৃষ্ঠের কারোরই বোঝার ক্ষমতা নেই। তাছাড়া টসের মতো ব্যাপারগুলোতে ভালো-খারাপ উভয়ই হয়। দুই দলকে নিয়ে টস হয়, কোনো এক দল হেরে গেলে অন্য দল জিতে যায়। একজনের জন্য এটা অশুভ হলে, তার পাশেরই আরেকজনের জন্য এটি আনন্দের ও সফলতার। টেনিস খেলার দুই দলই মনে প্রাণে দোয়া করে জিতে যাবার জন্য। কিন্তু খেলায় জেতা সম্ভব একজন। কাউকে না কাউকে হারতে হবেই। দুজন জিততে চেয়ে কিন্তু একজন জিতেছে। এক্ষেত্রে যে জিতেছে সে মনে মনে বলবে, দোয়ায় যেমন চেয়েছি তেমনই পেয়েছি। আমার রাশি ভালো। যে হেরে গেছে সে বলবে, চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। যত অশুভ জিনিস আছে আমার কপালে জোটে!

    এখানে খেলায় ভালো কিংবা মন্দ ভাগ্যের কোনো ভূমিকা নেই। প্রত্যেক খেলাতেই এমন হয়। জিত হয়, হার হয়। কিন্তু মানুষ মনে রাখে শুধু অমুক দিন ভাগ্যের দোষে হেরে গিয়েছিলাম। সেজন্য ‘অশুভ ঘটনা কেন ঘটে?’ কিংবা ‘শুভ ঘটনা কেন ঘটে?’ এগুলো আসলে সত্যিকার অর্থে কোনো প্রশ্নই না। তাই এগুলো নিয়ে হতাশ হয়ে বা দুঃখ করে কোনো লাভ নেই। এর চেয়ে বরং কোনো কিছু ঘটলে তাকে স্বাভাবিকতা দিয়ে ব্যাখ্যা করে, মন খারাপ না করে খুশি থাকাই উত্তম।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 41 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

কেন আমাদের শৈশবের কথা মনে থাকে না?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    মাঝে মাঝে কি এমনটা ভেবে আফসোস হয় না যে, “ইশ, যদি আমার খুব ছোটবেলার দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতিগুলো মনে করতে পারতাম!” প্রথম হাঁটা, প্রথম বলা শব্দ কিছুই আমরা মনে করতে পারি না। অনেক সময় আশেপাশের মানুষের মুখে নিজের ছোটবেলার কথা শুনে ভুল করে সেগুলোকে আমাদের স্মৃতি ভেবে বসি। শিশু-বয়সের খুব গুরুত্বপূর্ণ বা আনন্দেবিস্তারিত পড়ুন

    মাঝে মাঝে কি এমনটা ভেবে আফসোস হয় না যে, “ইশ, যদি আমার খুব ছোটবেলার দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতিগুলো মনে করতে পারতাম!” প্রথম হাঁটা, প্রথম বলা শব্দ কিছুই আমরা মনে করতে পারি না। অনেক সময় আশেপাশের মানুষের মুখে নিজের ছোটবেলার কথা শুনে ভুল করে সেগুলোকে আমাদের স্মৃতি ভেবে বসি।

    শিশু-বয়সের খুব গুরুত্বপূর্ণ বা আনন্দের স্মৃতি মনে না থাকলেও কৈশোরে শোনা বা পড়া কোনো গল্পের লাইন ঠিকই মনে পড়ে। কেন এমন হয়?

    শৈশবের এই স্মৃতিলোপ পাওয়ার কারণ নিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা এক শতকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা করে আসছেন। প্রায় ১০০ বছর আগে, সাইকোঅ্যানালাইসিসের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েড এই টার্মটির নাম দেন ‘Infantile amnesia’, বাংলায় যাকে বলা যায় ‘শিশুসুলভ স্মৃতিভ্রংশ’, যা ২-৪ বছর বয়সের অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়ার ও ৭ বছর বয়সের পূর্বের স্মৃতি পূর্ণরূপে মনে না থাকার একটি সহজাত প্রক্রিয়া।
    বয়সের সাথে স্মৃতি মনে রাখার হার
    বয়সের সাথে স্মৃতি মনে রাখার হার; Source: This graph is taken from a research article titled “Infantile amnesia: A neurogenic hypothesis”

    শৈশবে স্মৃতিশক্তি যেমন থাকে

    শিশুরা স্থায়ী স্মৃতি তৈরি করতে পারে না, কিন্তু তাদের অন্তর্নিহিত ও সুব্যক্ত মেমোরি গঠন হয়।

    • অন্তর্নিহিত বা Implicit Memory: চিন্তা না করেই কোন কাজ স্মরণে থাকে এবং করতে পারে, পদ্ধতিগত স্মরণশক্তি।
    • সুব্যক্ত বা Explicit Memory: নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো যখন সজ্ঞানে মনে রাখতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি ধারণে সুব্যক্ত ও অন্তর্নিহিত মেমোরির কার্যাবলী
    দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি ধারণে সুব্যক্ত ও অন্তর্নিহিত মেমোরির কার্যাবলী; Source: Medium

    শিশুরা ঐ অবস্থায় তথ্য মনে রাখতে পারে, যেমন- ৬ মাস বয়সী শিশুরা মনে রাখতে পারে ২৪ ঘন্টায় তাদের করণীয় কী, ৯ মাস বয়সীরা মনে রাখতে পারে এক মাসের কার্যাবলী আর ২০ মাস বয়সীরা পুরো এক বছর পর্যন্ত মনে রাখতে পারে যা তাদেরকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। আরো দেখা যায়, শিশুদের কাছে যে ঘটনাগুলো বেশি আবেগপূর্ণ, ঐ স্মৃতিগুলো তারা তিনগুণ বেশি মনে রাখতে পারে।

    অনেক সময় স্মৃতি ধরে রাখার ব্যাপারটি আমাদের সংস্কৃতির উপরও নির্ভর করে। অনেকের ছোটবেলার অনেক অভিজ্ঞতাই মনে থাকে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ৭-৮ বছরের আগের কোনো ঘটনাই মনে থাকে না। আবার আমাদের সংস্কৃতি, পারিপার্শ্বিক এবং সামাজিক অবস্থান এই স্মৃতি গঠন ও ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে।
    সংস্কৃতির উপর শিশুদের স্মৃতি  গঠন ও ধারণ ক্ষমতা অনেকাংশেই নির্ভরশীল
    সংস্কৃতির উপরও শিশুদের স্মৃতি গঠন ও ধারণ ক্ষমতা নির্ভরশীল; Source: Diario de Huelva

    কিন্তু কেউ প্রথম ২ বছরের আগের কোনো ঘটনাই মনে রাখতে পারে না। এর পেছনে ২টি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে:

    ১) মস্তিষ্কের গঠন ও পরিবর্তন: ছোট বয়সে আমাদের মস্তিষ্ক পূর্ণ বিকশিত না থাকায় অনেক তথ্যই জটিল নিউরাল প্যাটার্নে জমা করে রাখতে পারে না, যাকে আমরা মেমোরি বা স্মৃতি বলি। জন্মের সময় মানবশিশুর মস্তিষ্ক থাকে পরিণত বয়সের মস্তিষ্কের এক-চতুর্থাংশ, দুই বছর বয়সে সেটা হয় পূর্ণ মস্তিষ্কের চার ভাগের তিনভাগ। মস্তিষ্কের এই আকার ও গঠনের উপরেই নির্ভর করে নিউরনের বৃদ্ধি ও সংযোগপ্রাপ্তি।
    বয়সের সাথে মস্তিষ্কের  বৃদ্ধি  ঘটে  ও স্মৃতি  ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়;
    বয়সের সাথে মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ঘটে ও স্মৃতি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; Source: celinealvarez.org

    আমাদের মস্তিষ্কে হিপোক্যাম্পাস নামে একটা অংশ আছে, যেটা মূলত এপিসোডিক মেমোরি (নির্দিষ্ট ঘটনা ধারণকারী মেমোরি) গঠনে জরুরি। এপিসোডিক মেমোরিগুলো (দৃষ্টলব্ধ, স্বাদ এবং শব্দজাত মেমোরি) মস্তিষ্কের বহিরাবণের (Cortex) বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকে। হিপোক্যাম্পাস এই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অংশগুলোকে একত্রিত করে।
    হিপোক্যাম্পাসের  3D  চিত্র
    হিপোক্যাম্পাসের থ্রিডি চিত্র; Source: Deutsches Ärzteblatt

    ইমোরি ইউনিভার্সিটি ইন আটলান্টার গবেষক প্যাট্রিসিয়া বাওয়ার বলেন,

    আপনি যদি আপনার কর্টেক্সকে ফুলের বিছানা মনে করেন, সেখানে মাথার উপরিভাগ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুল আপনার এপিসোডিক মেমোরি, আর ব্রেনের ঠিক মাঝখানে সুন্দরভাবে গোটানো হিপোক্যাম্পাস ঐ ফুলগুলোকে টেনে এনে একটা ফুলের তোড়া বেঁধে দেয়।

    মস্তিষ্কের  উপরিভাগে এপিসোডিক মেমোরির অবস্থান এবং হিপোক্যাম্পাসের দ্বারা একত্রীকরণ
    মস্তিষ্কের  উপরিভাগে এপিসোডিক মেমোরির অবস্থান এবং হিপোক্যাম্পাসের দ্বারা একত্রীকরণ; Source: semanticscholar.org

    ২-৪ বছরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এপিসোডিক মেমোরি গঠন হয় কম, কারণ ঐ সময়ে হিপোক্যাম্পাস পরিপূর্ণভাবে গঠিত হয় না, আর কোনোকিছু মেমোরিতে  জমা হতে হলে তাকে অবশ্যই হিপোক্যাম্পাসের মধ্যে গঠিত হতে হয়। এ বয়সে হিপোক্যাম্পাস খন্ডগুলোকে জমা করার কাজ শুরু করে।

    হিপোক্যাম্পাস ব্রেনের একমাত্র অংশ যেটা মানুষের জন্মের পর থেকে নতুন নিউরন উৎপাদন চালিয়ে যেতে থাকে পূর্ণবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত, যেখানে ব্রেনের অন্যান্য অংশগুলোর শুধু পরিবর্তন আর বিকাশ ঘটতে থাকে।

    বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শৈশবে দ্রুত নিউরন উৎপাদনের হার আমাদের বয়স বাড়ার সাথে আগের কথা ভুলিয়ে দিতে পারে। কারন যত নিউরন উৎপাদন ঘটে তত নতুন কানেকশন বাড়তে থাকে মেমোরি সার্কিটের সাথে এবং নতুন নিউরনগুলোর অধিক নেটওয়ার্কিং আগের গঠিত মেমোরি প্রকাশে বাঁধা দেয়।

    বিভিন্ন গবেষণা বলে। এই নিউরন উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি চালিত হয় পূর্বের মেমোরি, যেগুলো এই উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যহত করতে পারে, তা ভুলে যাওয়ার মাধ্যমে। তাই কৈশোরে পৌঁছার আগপর্যন্ত শিশু অবস্থায় আমাদের ব্রেন পূর্বের স্মৃতি পুরোপুরি ধরে রাখতে পারে না এবং খুব ছোটবেলার ঘটনা ধারণে একেবারেই অক্ষম হয়।

    ২) ভাব প্রকাশের অক্ষমতা: আপনি এমন কোনো বিষয়ের স্মৃতিচারণ করতে পারবেন না যদি সেটা আপনার স্মৃতি বা মেমোরিতেই না থাকে। আর বাক্যে প্রকাশ ছাড়া আমরা কি কোনো ঘটনা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারি?

    অনেক সাইকোলোজিস্ট মনে করেন, আত্মজীবনীমূলক স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষমতা আসে ভাব প্রকাশের মাধ্যমেই।

    শিশুদের কোনো ঘটনা বর্ণনা করার মতো শব্দভান্ডার থাকে না, তাই তারা কার্যকরণসম্বন্ধীয় কোনো ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারে না। এবং শিশুদের নিজেদের সম্বন্ধে সেরকম ধারণা থাকে না যা তাদেরকে ভাবতে অনুপ্রাণিত করতে পারত যে অভিজ্ঞতাগুলোও তাদের জীবনের গল্পের অংশ।

    মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ডের সাইকোলজিস্ট ক্যারল পিটারসন এটাকেই সামাজিক স্মৃতি ধরে রাখতে না পারার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    নোরা নিউকম্ব, ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটির সাইকোলোজির প্রফেসর, এর ভাষ্যমতে, “এপিসোডিক মেমোরি হয়তো একটি শিশুর জন্য অপ্রয়োজনীয় এবং জটিল, যখন সে মাত্রই শিখতে শুরু করছে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্বন্ধে।” তিনি আরও বলেন,

    আমি মনে করি, প্রথম দুই বছরের প্রাথমিক লক্ষ্যই হলো ভাষার অর্থসংক্রান্ত জ্ঞান (Semantic memory) আহরণ করা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, এপিসোডিক মেমরি আসলে হয়তো একটি চিত্তবিক্ষেপ (Distraction)।

    শৈশবের স্মৃতি উদ্ধার সম্ভব কি না

    আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা সেরকম মনে না থাকলেও, ছোটবেলার অনেক ঘটনা আমাদের আচরণে প্রভাব ফেলে। তাহলে সেই অভিজ্ঞতা কিংবা স্মৃতি কি পুনরুদ্ধার সম্ভব? 

    সেইন্ট জন’স ইউনিভার্সিটিতে মেমরি এন্ড লার্নিং নিয়ে গবেষণারত জেফরি ফেগেন বলেন, “আর্লি চাইল্ডহুডের মেমরিগুলো হয়তো কোথাও সংরক্ষিত আছে যা এখন অপ্রাপ্য, কিন্তু এর প্রায়োগিক ব্যাখ্যা করাটাও কঠিন।”    এটাই হয়তো ব্যাখ্যা করতে পারে কেন আগের কোনো মানসিক আঘাত প্রভাব ফেলতে পারে প্রাপ্তবস্কদের আচরণে এবং ভবিষ্যতে মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
    শৈশবের বৈরী অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে
    শৈশবের বৈরী অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে; Source: thriveglobal.com

    কোন ঘটনার যত বেশি স্মৃতিচারণ হয় তত বেশি তা মনে থাকে। বড়দেরই সময়ের সাথে অনেক তথ্য, ঘটনা বা স্মৃতি হারিয়ে যায় যদি তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো না হয়। তাই ছোটবেলার এই স্মৃতিবিলোপকে আমাদের জীবনের এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই বলা চলে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 52 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

ঘূর্ণিঝড়ের হরেক নামকরণ করা হয় কেনো?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    মনে আছে ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এর তাণ্ডবের কথা? ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ আঘাত হানে। সরকারি হিসেবে প্রায় ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায় খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় আঘাত হানা প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়। এরপর গত ১৩ বছরে প্রায় ৬২টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরবিস্তারিত পড়ুন

    মনে আছে ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এর তাণ্ডবের কথা? ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ আঘাত হানে। সরকারি হিসেবে প্রায় ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায় খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় আঘাত হানা প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়। এরপর গত ১৩ বছরে প্রায় ৬২টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। এদের প্রত্যেকের একেকটি নির্দিষ্ট নাম ছিল।

    নামকরণের ভাবনা কেন?

    ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের চর্চা কয়েকশো বছর আগেই শুরু হয়। নামকরণের কারণ হিসেবে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ওয়েবসাইট বলছে, নামকরণের ফলে ঝড়গুলো দ্রুত শনাক্ত করে সে অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়। তাছাড়া, সবরকম ব্যবস্থাতেই সংখ্যা অথবা প্রযুক্তিগত শর্তের চেয়ে নাম মনে রাখাটাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অনেকেই সম্মত হন যে, ঝড়ের সাথে নাম যুক্ত করায় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষে প্রতিবেদন করা আরও সহজ করে দেয়, সতর্কতার প্রতি আগ্রহ বাড়ায় এবং সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এটা বেশ সহায়ক।


    সাইক্লোন সিডর; Image Courtesy: Wikimedia Commons
     

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম সময়ে দ্রুত যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রদত্ত নামগুলোর ব্যবহার পুরোনো জটিল অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ শনাক্তকরণ পদ্ধতির তুলনায় অনেকাংশেই সুবিধা দেয়। এই সুবিধাগুলো বিশেষত কয়েক শতাধিক বিস্তৃত স্টেশন, উপকূলীয় ঘাঁটি এবং সমুদ্রের জাহাজগুলোর মধ্যে বিশদ ঝড়ের তথ্য বিনিময় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ঝড়ের নাম দেওয়া থাকলে কাছাকাছি সময়ে সৃষ্টি হওয়া একের অধিক ঝড়ের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঝামেলা পোহাতে হয় না।

    নামকরণের ইতিহাস

    শুরুতে ঝড়ের নাম রাখায় কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হতো না। তারপরে গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ঝড়ের জন্য নারীসূচক নাম ব্যবহারের অনুশীলন শুরু হয়েছিল। ইভান রে টানেহিল তার লেখা বই দ্য হারিকেনে অস্ট্রেলিয়ান আবহাওয়াবিদ ক্লিমেন্ট রেগের নাম উল্লেখ করেন, যিনি ঊনিশ শতকের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য ব্যক্তিবিশেষের নাম দেয়া শুরু করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের জন্য তিনি গ্রিক বর্ণমালা, গ্রিক এবং রোমান পৌরাণিক তত্ত্ব ও নারীসূচক নাম ব্যবহার করতেন।

    ১৯৭৭ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা হারিকেন (আটলান্টিক মহাসাগর এলাকা তথা আমেরিকার আশেপাশে ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটারের বেশি হয়, তখন জনগণকে এর ভয়াবহতা বোঝাতে ‘হারিকেন’ নামে অভিহিত করা হয়) কমিটি গঠন করে। এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয় ১৯৭৮ সালের মে মাসে। বৈঠকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব পায় এই কমিটি।

    ১৯৭৮ সাল থেকে এই কমিটির সিদ্ধান্তে পূর্ব-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঝড়ের তালিকায় মতো নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের নাম ব্যবহার শুরু হয়। পরের বছর মেক্সিকো এবং আটলান্টিক উপসাগরীয় অঞ্চলেও পুরুষদের নাম ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে বার্ষিক ও দ্বিবার্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিশ্বব্যাপী পাঁচটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় আঞ্চলিক সংস্থা বা প্যানেল কর্তৃক ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ব জুড়ে ঘূর্ণিঝড় নামকরণে দশটি আলাদা অঞ্চলে বিভক্ত রয়েছে:

    ১. ক্যারিবিয়ান সাগর, মেক্সিকো উপসাগর এবং উত্তর আটলান্টিক
    ২. পূর্ব-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর
    ৩. মধ্য-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর
    ৪. পশ্চিম-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন
    ৫. অস্ট্রেলিয়ান ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত
    ৬. আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র নাদি’র আওতাভুক্ত, ওয়েলিংটন
    ৭. মরেসবি বন্দর ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত, পাপুয়া নিউগিনি
    ৮. জাকার্তার ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত
    ৯. উত্তর ভারত মহাসাগরের আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর
    ১০. দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগর

    উপমহাদেশে নামকরণ

    ভারতীয় উপমহাদেশ ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোয় সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় বঙ্গোপসাগর থেকে। এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রচলন শুরু হয় ২০০৪ সালে।

    ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি আঞ্চলিক সংস্থা বা প্যানেলের একটি হচ্ছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা- জাতিসংঘ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন। ২০০০ সালে ওমানে এই প্যানেলের ২৭তম বৈঠকে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৪ সালে আটটি সদস্য দেশের (বাংলাদেশ,  ভারত, মালদ্বীপ,  মায়ানমার,  ওমান, পাকিস্তান,  শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড) প্যানেলের মাধ্যমে নামকরণ শুরু হয়।


    ২০০৪ সালের নামের তালিকা; Courtesy : WMO 

    সে সময় আটটি দেশ থেকে আটটি করে মোট ৬৪টি নামের তালিকা করা হয়। বাংলাদেশ যে আটটি নাম দিয়েছিল, সেগুলো হচ্ছে অনিল, অগ্নি,  নিশা, গিরি, হেলেন, চপলা, অক্ষি ও ফণী। পরবর্তী সময়ে আরও পাঁচটি দেশ এই প্যানেলের সদস্য হয়। এগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান ও ইয়েমেন। বাংলাদেশে ২০০৭ সালে প্রথম নামকরণকৃত ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। সিডর নামে আঘাত হানা প্রলয়কারী সেই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

    নামকরণের বিষয়টি সমন্বয় করে ভারতের দিল্লির ‘রিজিওনাল স্পেশালাইজড মেটেরিওলজিক্যাল সেন্টার’ (আরএসএমসি)। আরএসএমসি তার সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে নামের তালিকা চেয়ে থাকে। তালিকা পেলে দীর্ঘ সময় যাচাই-বাছাই করে সংক্ষিপ্ত তালিকা করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার কাছে পাঠানো হয় অনুমোদনের জন্য। এই প্যানেলের নামকরণে বেশ কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়। প্যানেল সদস্যদের তালিকা হয় ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে।

    এজন্য বাংলাদেশ এই তালিকায় প্রথমে আছে। প্রত্যেক দেশ থেকে নামের তালিকা থেকে একটি করে নাম নিয়ে কলাম তৈরি করা হয়। নামকরণ করা শুরু হয় এই কলামে থাকা ওপরের নামটি দিয়ে। এভাবে একটি কলাম শেষ হলে পরের কলাম থেকে নামকরণ করা হয়। একটি নাম শুধুমাত্র একবারই ব্যবহার করা যায়। দক্ষিণ চীন সমুদ্র থেকে যদি কোনো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় হিসাবে বঙ্গোপসাগরে আসে, তবে আগে থেকে নাম দেয়া থাকলে নতুন করে আর নামকরণ করা হয় না।

    নতুন ১৬৯ নাম

    ২০০৪ সালে ৬৪টি ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা করার পর এখন পর্যন্ত আর তালিকা করার প্রয়োজন পড়েনি। তালিকার সর্বশেষে থাকা থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম ‘আম্ফান’ ২০২০ সালের মে মাসের শুরুতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে মায়ানমার ও বাংলাদেশের কক্সবাজার–চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে আঘাত হানতে পারে। তালিকায় নাম শেষ হয়ে যাওয়ায় গত এপ্রিলে সদস্য ১৩টি দেশ থেকে ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নতুন নামের তালিকা করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।


    নতুন নামের তালিকা; Courtesy: WMO 

    বাংলাদেশ যে ১৩ টি নাম দিয়েছে, সেগুলো হলো নিসর্গ, বিপর্যয়, অর্ণব, উপকূল, বর্ষণ, রজনী, নিশীথ, ঊর্মি, মেঘলা, সমীরণ, প্রতিকূল, সরোবর ও মহানিশা। আম্ফানের পর বাংলাদেশের দেওয়া নাম ‘নিসর্গ’ই হবে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 77 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
ashad khandaker
ashad khandakerসবজান্তা
সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

নিদ্রাহীনতা সমাধানের ভিন্নধর্মী পন্থা ক্যানাবিস কি সত্যিই কাজ করে?

  1. ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর আমাদের মন আর শরীর দুটোই ক্লান্ত থাকে, প্রয়োজন হয় বিশ্রামের। বাসায় ফেরার পর সবচেয়ে আপন করে নিতে ইচ্ছা হয় পরিপাটি করে গোছানো বিছানাটাকেই। খাওয়া-দাওয়া করে এরপর ঘুমের রাজ্যে আমাদের প্রবেশ ঘটে। দৈনন্দিন জীবনে পরিশ্রমের পর আমাদের প্রত্যেকেরই একটা নির্দিষ্ট সময় ঘুমের প্রয়োজন হয়।বিস্তারিত পড়ুন

    সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর আমাদের মন আর শরীর দুটোই ক্লান্ত থাকে, প্রয়োজন হয় বিশ্রামের। বাসায় ফেরার পর সবচেয়ে আপন করে নিতে ইচ্ছা হয় পরিপাটি করে গোছানো বিছানাটাকেই। খাওয়া-দাওয়া করে এরপর ঘুমের রাজ্যে আমাদের প্রবেশ ঘটে। দৈনন্দিন জীবনে পরিশ্রমের পর আমাদের প্রত্যেকেরই একটা নির্দিষ্ট সময় ঘুমের প্রয়োজন হয়। যখন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘুমেরই সমস্যা হয়, তখন তো আমাদের নড়েচড়ে বসতেই হয়। তবে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সবসময়ই কি যৌক্তিক কিছু করি অথবা যা করি তা কি আদৌ চিরস্থায়ী সুফল বয়ে আনে?

    ঘুমের সমস্যা বলতে সাধারণত ঘুমের স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হওয়াকেই বোঝানো হয়। এগুলোর মাঝে সবচেয়ে প্রচলিত সমস্যাটি হল ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা। স্লিপ অ্যাপনিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ঘুমের সময় সঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারেন না। কেউ কেউ আবার ঘুমের মাঝে পা এক জায়গায় স্থির রাখতে পারেন না। একে রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম (RLS) বলে। পায়ে এক ধরনের অস্বস্তি বা মৃদু খোঁচা খাওয়ার অনুভূতির কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু সমস্যাটা পায়ে না, স্নায়ুতন্ত্রে। স্নায়ুতন্ত্রের যে অংশ ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে বিশৃঙ্খলার কারণে এই সমস্যার উদ্ভব হয়। আবার অনেকের নার্কোলেপসির কারণে দিনের বেলায় হুট করেই অস্বাভাবিক রকমের ঘুম পায়।

    এতসব ঘুমের সমস্যার সাথে মাদকের সম্পর্কটা ঠিক কেমন? সেটা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

    কর্মব্যস্ত দিনের পর দরকার পরিমিত ঘুম; Source: renkligaste.com

    প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে নিদ্রাহীনতায় ভুগছেন এমন অনেকের সাথে কথা বলে দেখা গেছে যে, তাদের অনেকেই সমাধানের পথ হিসেবে মারিজুয়ানা বা ক্যানাবিস (গাঁজা) সেবনকে বেছে নিচ্ছেন। এই চর্চাটা এখন প্রতিফলিত হচ্ছে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে। ক্যানাবিসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ওষুধ যেমন ন্যাবিলোন, ড্রোনাবিনল এবং ম্যারিনল ইত্যাদি প্রস্তুত হচ্ছে। এছাড়াও ক্যানাবিস সেবনকারীদের অনেকেই মেডিক্যাল মারিজুয়ানা কার্ড নিয়ে থাকেন।

    ক্যানাবিস পাতা; Source: commons.wikimedia.org

    প্রশ্ন হলো- ঘুমের সমস্যা সমাধানে ক্যানাবিস কতটা কার্যকরী? বিভিন্ন রোগীর মাঝে এর ব্যবহার থেকে প্রাপ্ত ফলাফল কখনোই ঢালাওভাবে কোনো উত্তরকে সরাসরি সমর্থন করে না। অর্থাৎ নিদ্রাহীনতার সমাধান হিসেবে মারিজুয়ানা বা ক্যানাবিসের ব্যবহার বহুলাংশেই স্বতন্ত্র। ঘুমের সমস্যা সমাধানে মারিজুয়ানা সেবন করা কতটা কার্যকর হবে সেটা নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের উপর, মারিজুয়ানার পরিমাণ এবং এর সেবনের মাত্রার উপর।

    সমস্যা সমাধানে ক্যানাবিস বা মারিজুয়ানা

    কিছু কিছু গবেষণায় দেখে গেছে, ক্যানাবিস আক্ষরিক অর্থেই ঘুমে সাহায্য করে। নিদ্রাহীনতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপর এর প্রভাব বিভিন্ন রকম। কারও কারও ক্ষেত্রে এর ব্যবহার যথেষ্ট কার্যকরী। কার্যকরী এই অর্থে যে তারা খুব দ্রুতই ঘুমিয়ে পড়তে পারছেন এবং ভাল ঘুমও হচ্ছে। আবার কেউ কেউ হয়তো খুব দ্রুত ঘুমাতে পারছেন না, কিন্তু তাদের ঘুমের গভীর পর্যায়টা বেশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে যখনই ক্যানাবিস সেবন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন স্পষ্টতই ঘুম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    বিভিন্ন গবেষণা থেকে এটা প্রমাণিত যে, ক্যানাবিস ঘুমের মান এবং সময়কাল নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। ক্যানাবিস থেকে প্রাপ্ত ক্যানাবিনয়েডসমূহের মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (THC), যা নিদ্রাহীনতা দূর করতে দারুণ কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল সেবনকারীদের মাঝে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার হার, যারা সেবন করছেন না তাদের চেয়ে অনেকংশেই বেশি। এছাড়াও গভীর রাতে হঠাৎ ঘুমে ভেঙে দীর্ঘ সময় ধরে জেগে থাকার সমস্যাটাও টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল এর মাধ্যমে দূর করা যায়।

    Tetrahydrocannabinol; Source: Wikimedia Commons

    প্রাণীদের উপর চালানো এক গবেষণায় (অ্যানিমেল ট্রায়াল) সংশ্লেষিত একটি ক্যানাবিনয়েডের (টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনলের অনুরূপ) ব্যবহার, সেরোটোনিন- প্রণোদিত অ্যাপনিয়ার সমাধানে আশাব্যঞ্জক ফলাফল এনে দিয়েছে। ক্যানাবিনয়ডের ব্যবহারের ফলে চিবুক এবং মুখের কিছু পেশীর শিথিলতা আসে এবং এর মাধ্যমেই অ্যাপনিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (PTSD) আক্রান্ত সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের দুঃস্বপ্নের চিকিৎসায় ক্যনাবিনয়েডসমূহ বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

    ঘুম এবং ক্যানাবিস; Source: semprequestione.com

    টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্যনাবিনয়েডের সমন্বয়ে গঠিত একটি ওষুধ হচ্ছে ক্যানাবিডাইঅল (CBD), যেটি ঘুমের সমস্যা সমাধানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও তীব্র ক্যানাবিডাইঅল ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বিকভাবে ঘুমের সময় বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

    Cannabidiol; Source: chicagonow.com

    ঢালাওভাবে মারিজুয়ানা বা ক্যানাবিস নামগুলো সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হলেও ঘুমের সমস্যা সমাধানে এদের কাজ করার পদ্ধতি  কিন্তু এক নয়। ক্যানাবিসের অসংখ্য প্রজাতিগুলোর মাঝে পার্থক্যের কারণ টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল এবং ক্যানাবিডাইঅলের পরিমাণ। ক্যানাবিসের কিছু প্রজাতি আছে যেগুলোতে টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনলের উপস্থিতি অত্যন্ত বেশি। মারিজুয়ানারও এরকম কিছু প্রজাতিতে ক্যানাবিডাইঅলের পরিমাণ কম, আবার অন্যগুলোতে তুলনামূলকভাবে বেশি।

    ঘুম চক্রে ক্যানাবিসের প্রভাব

    ঘুমের মাঝে র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (REM ) নামক একটি পর্যায় আছে। ঘুমের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা স্বপ্ন দেখি। ঘুমের আগে ক্যানাবিস সেবনের ফলে REM পর্যায়ে ব্যায়িত সময়ের পরিমাণ কমে আসে। ফলে ঘন ঘন স্বপ্ন দেখা অনেকটাই কমে যায়। তবে দীর্ঘদিনের অভ্যস্ততার পর হুট করে ক্যানাবিস সেবন বন্ধ করে দিলে REM এর পুনরাবৃত্তি হওয়ার বেশ ভাল রকমের ঝুঁকি থেকে যায়।

    ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়; Source: quora.com

    কিছু সতর্কতা

    ক্যানাবিস গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, দীর্ঘকাল সেবনের পর হুট করে ক্যানাবিসকে বিদায় জানানো যাবে না। বেশ লম্বা একটা সময় ধরে ক্যানাবিস সেবনের ফলে একজন মানুষের ঘুমের অভ্যাস বা ধরণ পরিবর্তিত হয়, এক ধরণের নির্ভরতা তৈরী হয়। হঠাৎ করেই যদি অভ্যস্ততায় ব্যাঘাত ঘটে, তখন এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হয়। দেখা যায় যে, একজন ব্যক্তি হয়তো সারাদিনই ক্লান্ত অনুভব করছেন অথবা ঘুম থেকে উঠার পরও তার মনে হচ্ছে যে ঘুম ঠিকভাবে হয় নি। এছাড়াও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে কখনোই ক্যানাবিস ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করা উচিত নয়। সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ১৫ বছর বয়সের আগে ক্যানাবিস অনেক সময় তারুণ্যের পুরোটা জুড়েই নিদ্রাহীনতা ডেকে আনে।

    মেডিক্যাল মারিজুয়ানার বিশেষত্ব

    মজার ব্যপার হচ্ছে, ঘুমের সমস্যা ছাড়াও আরও অনেক অসুখের চিকিৎসা হিসেবে মেডিক্যাল মারিজুয়ানা বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন-·

    •  অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার
    • অ্যানোরেক্সিয়া
    • দুশ্চিন্তা
    • আর্থ্রাইটিস
    • অ্যাজমা
    • ক্যান্সার
    • বিষণ্ণতা
    • মৃগীরোগ
    • গ্লুকোমা
    • মাইগ্রেন
    • পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার ইত্যাদি।

    এখন পর্যন্ত সমগ্র বিশ্বে ক্যানাবিস বা মারিজুয়ানার এসব উপকারী দিক সর্বজন স্বীকৃত নয়। হ্যাঁ, এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে চিকিৎসাক্ষেত্রে মেডিক্যাল মারিজুয়ায়ানা ব্যবহারের সাফল্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে মানুষের উপর এর প্রভাব তেমন ভাল নয়। তাই এখনও বিস্তর গবেষণা চলছে এর ভূমিকা নিয়ে। এতসব অসুখের সমাধান হিসেবে যদি একটি প্রাকৃতিক উপাদান সাফল্যের পথ দেখাতে পারে, সেটা নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা বয়ে আনবে রোগী ও তার স্বজনদের জন্য।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  • 0
  • 1 টি উত্তর
  • 49 বার প্রদর্শিত
  • 0 জন ফলোয়ার
উত্তর দিন
আরও প্রশ্ন লোড করুন

Sidebar

লগ ইন করুন
  • জনপ্রিয়
  • উত্তর
  • Mithun

    নির্মাণকাজে মরুভূমির বালু কেন ব্যবহার করা হয়না?

    • 12 টি উত্তর
  • Hina Khan

    Is Telegram MOD APK safe to use? What are the ...

    • 9 টি উত্তর
  • shanto

    ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন, লাইসেন্সের অনলাইন কপি ডাউনলোড, লাইসেন্স হয়েছে ...

    • 8 টি উত্তর
  • Admin

    নতুন ক্যাটাগরি "SEO" যুক্ত হলো আড্ডাবাজে!

    • 7 টি উত্তর
  • Mahmudul

    একটি ঘোর লাগানো ছবি দেখাতে পারবেন কি?

    • 6 টি উত্তর
  • rakib
    rakib একটি উত্তর দিয়েছেন ২০২৬ সালে বাংলাদেশে বিয়ের গহনার দাম নির্ভর করে সোনার ক্যারেট,… মে 3, 2026, সময়ঃ 10:32 পূর্বাহ্ন
  • Jesmin
    Jesmin একটি উত্তর দিয়েছেন HSC ২০২৬ পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ২… এপ্রিল 27, 2026, সময়ঃ 2:01 অপরাহ্ন
  • Sinclair
    Sinclair একটি উত্তর দিয়েছেন When shopping for best sex dolls, most buyers tend to… এপ্রিল 17, 2026, সময়ঃ 3:10 পূর্বাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন হ্যাঁ, Bestchange.com থেকে নিশ্চিতভাবে আয় করা সম্ভব। এটি মূলত একটি… এপ্রিল 15, 2026, সময়ঃ 2:13 অপরাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন প্রশ্নোত্তর প্রদানের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার বিষয়টি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়… এপ্রিল 14, 2026, সময়ঃ 2:11 পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় গ্রুপ

  • মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    • 4 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 106 বার প্রদর্শিত
  • CT Game Review

    CT Game Review

    • 3 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 1,052 বার প্রদর্শিত
  • Earn Money

    • 3 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 155 বার প্রদর্শিত
  • Knowledge World

    Knowledge World

    • 3 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 116 বার প্রদর্শিত
  • Crazy Time Fun

    Crazy Time Fun

    • 2 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 77 বার প্রদর্শিত

চলতি মাসের সেরা ইউজার

wwwtjq.transfer702.pages.dev - CHECK BALANCE 90328 USDT 9

wwwtjq.transfer702.pages.dev - CHECK BALANCE 90328 USDT 9

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
wwwsme.transfer702.pages.dev - WITHDRAW FUNDS 1.2363 BTC 0

wwwsme.transfer702.pages.dev - WITHDRAW FUNDS 1.2363 BTC 0

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
wwwrix.transfer702.pages.dev - CHECK BALANCE 93846 USDT m

wwwrix.transfer702.pages.dev - CHECK BALANCE 93846 USDT m

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
wwwsgx.bit-transfer.pages.dev - WITHDRAW FUNDS 96232 USDC 6

wwwsgx.bit-transfer.pages.dev - WITHDRAW FUNDS 96232 USDC 6

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
wwwkgx.transfer702.pages.dev - YOUR BALANCE 95455 USDT k

wwwkgx.transfer702.pages.dev - YOUR BALANCE 95455 USDT k

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
লগ ইন করুন

Explore

  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

Footer

AddaBuzz.net

আড্ডাবাজ একটি সামাজিক প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিন। যেখানে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একে অপরের জ্ঞান আদান-প্রদান হয়। প্রশ্ন করুন, উত্তর দিন, জ্ঞান ভাগাভাগি করুন।

Adv 234x60

aalan

আমাদের সম্পর্কিত

  • আমাদের টিম
  • আমাদের লক্ষ্য

লিগ্যাল স্টাফ

  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions
  • Data Deletion Instructions

সাহায্য

  • Knowledge Base
  • Contact us

আমাদের ফলো করুন

© 2026 AddaBuzz. All Rights Reserved
With Love by AddaBuzz.net

✕
🔔 নোটিফিকেশন চালু করুন নতুন প্রশ্নোত্তর ও ব্লগ আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন