যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ইন্টারনেট জগতের নতুন বিপ্লব। বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটির মধ্য দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করলো মানবসভ্যতা। আর এখান থেকে এআই প্রতিনিয়ত দ্রুত গতিতে অধিকতর বুদ্ধিমান এবং শক্তিশালী হবিস্তারিত পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ইন্টারনেট জগতের নতুন বিপ্লব। বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটির মধ্য দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করলো মানবসভ্যতা। আর এখান থেকে এআই প্রতিনিয়ত দ্রুত গতিতে অধিকতর বুদ্ধিমান এবং শক্তিশালী হতে থাকবে।
সে যা-ই হোক, চ্যাটজিপিটির আগমনের পর থেকেই একে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। ভারতের এক কোম্পানি তো রীতিমতো চ্যাটজিপিটিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঘোষণা করে সাড়া ফেলেছে। সেটিকে অবশ্য ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ বলেই মনে করছেন অধিকাংশ। তবে আপনি যদি আক্ষরিক অর্থেই আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের কথা ভেবে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য।
বাজার যাচাই
ব্যবসায় সাফল্যের জন্য কেবল নিজের ব্যবসাটা বুঝলেই চলবে না, বুঝতে হবে বাজারের হালহাকিকত, প্রতিযোগীদের অবস্থান এবং কৌশল। চ্যাটজিপিটি এক্ষেত্রে বিনামূল্যে (যদি প্রিমিয়াম ব্যবহার না করা হয়) চমৎকার সেবা প্রদান করতে পারে। চ্যাটজিপিটির শক্তিশালী মেশিন লার্নিং ক্ষমতা এবং ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং ফিচার বাজার সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত তুলনা ও বিশ্লেষণ করে তা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কৌশলগত সিদ্ধান্ত তৈরি করে দিতে পারে।
কন্টেন্ট তৈরি
ওয়েব ৩.০’র যুগে যেকোনো ব্যবসার দ্রুত প্রসারণ এবং সাফল্যের জন্য চাই ভার্চুয়াল জগতে উপস্থিতি। আর সেজন্য প্রয়োজন হয় কন্টেন্টের। চ্যাটজিপিটি আপনার এ কাজ ভীষণ সহজ করে দেবে। কেবল কন্টেন্ট লেখাই নয়, কন্টেন্ট তৈরির উদ্ভাবনী সব বুদ্ধিও দিতে পারবে এই এআই চালিত চ্যাটবট। কোম্পানির প্রচারণা সংক্রান্ত কন্টেন্ট থেকে শুরু করে ব্রশিয়ার লেখা, ওয়েবসাইট উপযোগী কন্টেন্ট কিংবা জনসংযোগের জন্য নিউজলেটার লেখা, সবই করতে পারবে চ্যাটজিপিটি। আপনার দায়িত্ব হবে দুটি- চ্যাটজিপিটিকে পর্যাপ্ত কিওয়ার্ড প্রদান করা এবং তৈরি কন্টেন্ট সম্পাদনা করা।
বিজ্ঞাপনী কৌশল নির্ধারণ
চ্যাটজিপিটিকে সৃজনশীল বিজ্ঞাপনী কৌশল তৈরি করে দিতে বললে চ্যাটজিপিটি এ কাজও করে দেবে, যদিও তা নিখুঁত হবে না। তথাপি, আপনি যে পণ্যটি বিক্রয় করতে চান তার যথাযথ বর্ণনা এবং কীরকম বিজ্ঞাপন চান সেসব তথ্য চ্যাটজিপিটিকে জানালে এই চ্যাটবট দারুণ সব কৌশল এনে হাজির করবে। অবশ্যই সেসব কৌশল অন্ধের মতো অনুকরণ করা চলবে না। কিন্তু সেগুলো থেকে আইডিয়া গ্রহণ করে দারুণ সব বিজ্ঞাপনী কৌশল নিজেই তৈরি করে ফেলতে পারবেন।
প্রাতিষ্ঠানিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল
যেকোনো মাঝারি থেকে বড় আকারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেরই আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থিতি জরুরি। ফেসবুক, লিংকডইন বা টুইটারে কোম্পানিগুলো আজকাল নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান, সাফল্য এবং পণ্য সম্পর্কে প্রচার প্রচারণা করে থাকে। এক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগ কিংবা আউটসোর্সিংয়েই ভরসা করে কোম্পানিগুলো। তবে চ্যাটজিপিটির আগমনে বিষয়টি এখন আপনারই হাতে। যেকোনো পণ্যের যথার্থ বর্ণনা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি সে লিখে দেবে দক্ষতার সাথে। শুধু তা-ই নয়, লেখাটি কোন মাধ্যমের জন্য করছেন সেটি উল্লেখ করে দিলে চ্যাটজিপিটি ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বাচনভঙ্গিতে কন্টেন্ট লিখে দেবে।
কাস্টমার সাপোর্ট
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ইমেজ রক্ষার্থে এবং ক্রেতাবান্ধব সেবাপ্রদানের জন্য কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি হতে পারে গেমচেঞ্জার। আপনার ওয়েবসাইটে কিংবা এপ্লিকেশনে চ্যাটজিপিটি ইন্টিগ্রেট করতে পারলে ক্রেতারা চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেই পেয়ে যাবে তাৎক্ষণিক নির্ভরযোগ্য সমাধান। আপনার প্রাথমিক কাজ হবে পাবলিক ডোমেইনে (ইন্টারনেটে) আপনার কোম্পানি সম্পর্কিত সকল তথ্যাদি এবং ক্রেতাদের সাধারণ প্রশ্নাবলী ও সমস্যা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর মজুদ রাখা।
নীতিনির্ধারণী সহায়তা
নীতিনির্ধারণের মতো ব্যাপারে চ্যাটবটের সহায়তা নেয়ার ব্যাপারটা অমূলক মনে হতে পারে। কিন্তু চ্যাটজিপিটির বিস্ময়করভাবে বৃহৎ তথ্যভাণ্ডারে ব্যবসায়িক নীতিনির্ধারণ, মানবসম্পদ তথা এইচআর কৌশল, কোম্পানির সিএসআর পলিসি, কাজের পরিবেশ সুরক্ষা সম্পর্কিত পরামর্শ, সবই উপস্থিত আছে। সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করলেই চলে আসবে উত্তর।
করণিক কাজকর্ম
ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে সময়ে ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্লানিং) ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। আপনার কোম্পানির ইআরপি সফটওয়্যারে চ্যাটজিপিটি ইন্টিগ্রেট করে নিলে এই ব্যবস্থা কয়েকগুণ শক্তিশালী এবং কার্যকর হয়ে যাবে। মেমো তৈরি করা, পণ্যের অর্ডার সংক্রান্ত কোট তৈরি করা, মাসিক বা বাৎসরিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট তৈরি করায় সহায়ক হতে পারে চ্যাটজিপিটি।
সবমিলিয়ে, ব্যবসা পরিচালনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হবার ক্ষমতা রয়েছে চ্যাটজিপিটির। একে যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং কিওয়ার্ড প্রদান করতে পারলে যেকোনো মানবসম্পদের চেয়ে কোনো অংশে কম দক্ষ হবে না এই সর্বাধুনিক এআই বিস্ময়।
সংক্ষেপে দেখুন
















ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কারণ এটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভুল তথ্য ছড়ানো, জাল খবর তৈরি করা কিংবা অন্যের ভুয়ো পরিচয় তৈরি করা- সবই সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক আশ্চর্য প্রযুক্তির সাহায্যে অন্যের শরীরে এমন নিখুঁতভাবে জুড়ে দেওয়া হয় আরেকজনেরবিস্তারিত পড়ুন
ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কারণ এটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভুল তথ্য ছড়ানো, জাল খবর তৈরি করা কিংবা অন্যের ভুয়ো পরিচয় তৈরি করা- সবই সম্ভব।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক আশ্চর্য প্রযুক্তির সাহায্যে অন্যের শরীরে এমন নিখুঁতভাবে জুড়ে দেওয়া হয় আরেকজনের মুখ, যে তা বোঝার কোনও উপায়ই নেই। বরং ভিডিওতে এমনভাবেই হাসছেন, কথা বলছেন যে সন্দেহেরও জায়গা নেই, ভিডিওতে দেখা যাওয়া মানুষটি আদৌ তিনি নন। এই প্রযুক্তির নাম হল ‘ডিপফেক’।
ডিপফেকের মাধ্যমে রীতিমতো অসাধ্যসাধন করা যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআইকে কাজে লাগিয়ে। নেটিজেনরা ফটোশপ শব্দটির সঙ্গে কমবেশি সকলেই পরিচিত। ফটোশপের সাহায্যে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তিকর ছবিতে অন্যের মুখের ছবি জুড়ে দিয়ে নতুন ছবি তৈরি করে ব্ল্যাকমেল সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ চলে আসছে। তবে ডিপফেক প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে আরও বহুগুণ উন্নত, এবং ঠিক সেই কারণেই তা বেশি আশঙ্কার কারণও বটে।
কী এই এআই ডিপফেক? এই প্রযুক্তির সাহায্যে ঠিক কতটা বিপদে ফেলতে পারে এইআই? কীভাবেই বা বাঁচবেন এই ফাঁদ থেকে?
ডিপফেক হল এমন একটি প্রযুক্তি, যার সাহায্যে মিথ্যে ছবি, ভিডিও, এমনকী অডিও-ও তৈরি করা যায়। সেই ছবি-ভিডিও কিংবা অডিও দেখে আপাতভাবে বোঝার উপায়ই নেই যে সেগুলি আসল নয়। ডিপফেকের মাধ্যমে জাল অডিও তৈরি করে কারও কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করা যায়। যাঁর সঙ্গে এমনটা ঘটছে, তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষরাও অনেক সময় সেই মিথ্যা ধরতে পারেন না।
কীভাবে তৈরি করা হয় জাল কন্টেন্ট?
ডিপফেক নির্মাতারা সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ‘টার্গেট’-এর ব্যাপারে যথেষ্ট পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করে শুরু করে। এরপরে সেই সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করতে এবং শিখতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সেই প্রযুক্তির সাহায্যে মুখের বৈশিষ্ট, অভিব্যক্তি, ভয়েস প্যাটার্ন এবং অন্যান্য ‘ইউনিক’ বৈশিষ্ট শনাক্ত করে এবং ম্যাপ করে। তারপরে অন্য ভিডিও বা ছবিতে নতুন পুনর্গঠিত ডেটা ম্যানিপুলেট করে অর্থাৎ জুড়ে দিলেই তৈরি নতুন জাল কন্টেন্ট।
এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কারণ এটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভুল তথ্য ছড়ানো, জাল খবর তৈরি করা কিংবা অন্যের ভুয়ো পরিচয় তৈরি করা- সবই সম্ভব। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়াই ডিপফেকের জন্য তথ্য সংগ্রহের মূল জায়গা, তাই কীভাবে সমাজমাধ্যমে নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব, সেই নিয়েও জানার আগ্রহ বাড়ছে মানুষের।
কীভাবে বাঁচবেন এআই-এর পাতা ফাঁদ থেকে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় উপলব্ধ ব্যক্তিগত তথ্য যথাসম্ভব কম করাই ডিপফেকের খপ্পর থেকে বাঁচার সহজতম উপায়। ছবি ভিডিও সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা কন্টেন্ট ‘পাবলিক’ না রাখাই ভাল। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলও ‘প্রাইভেট’ করে রাখা যেতে পারে। ইনস্টাগ্রামে বিজনেস অ্যাকাউন্ট থাকলে ব্যক্তিগত চ্যাট, ভিডিও আর্কাইভে রাখা যেতে পারে। অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলিকে সুরক্ষিত করার জন্য শক্তপোক্ত, কঠিন পাসওয়ার্ড দেওয়া জরুরি।