সাইন আপ করুন সাইন আপ করুন

সাইন আপ করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে


আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

লগ ইন করুন লগ ইন করুন

লগিন করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

কোন একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন

রিসেট পাসওয়ার্ড

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।

আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

দুঃক্ষিত, প্রশ্ন করার অনুমতি আপনার নেই, প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে.

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

দুঃক্ষিত, ব্লগ লেখার অনুমতি আপনার নেই। লেখক হতে হলে addabuzzauthor@gmail.com ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে অনুমতি নিন। (Sorry, you do not have permission to add post. Please send a request mail to addabuzzauthor@gmail.com for giving permission.)

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?

সাইন ইনসাইন আপ

AddaBuzz.net

AddaBuzz.net Logo AddaBuzz.net Logo

AddaBuzz.net Navigation

  • হোমপেজ
  • ব্লগ
  • ইউজার
  • যোগাযোগ
সার্চ করুন
একটি প্রশ্ন করুন

Mobile menu

Close
একটি প্রশ্ন করুন
  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

বিজ্ঞান

শেয়ার করুন
  • Facebook
13 ফলোয়ার
116 উত্তর
485 প্রশ্ন
হোমপেজ/বিজ্ঞান/Page 2
অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • সাম্প্রতিক প্রশ্ন
  • সর্বাধিক উত্তর
  • উত্তর
  • অনুত্তরিত
  • সর্বাধিক দেখা
  • সর্বাধিক পছন্দকৃত
  • এলোমেলো
  1. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    দুটি চোখ থাকার সুবিধা কী ?

    jahanur
    jahanur পণ্ডিত
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    যেকোনো বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে দুটি চোখের প্রয়োজন। এর ফলে সেই বস্তুটির প্রকৃত অবস্থান, ত্রিমাত্রিক ধারণা, গভীরতাসহ আরও নানাকিছু বুঝতে পারা যায়। কোনো বস্তুর দিকে সামান্য দূরত্ব রেখে এক চোখ দিয়ে তাকালে সেই বস্তুটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না।

    যেকোনো বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে দুটি চোখের প্রয়োজন। এর ফলে সেই বস্তুটির প্রকৃত অবস্থান, ত্রিমাত্রিক ধারণা, গভীরতাসহ আরও নানাকিছু বুঝতে পারা যায়। কোনো বস্তুর দিকে সামান্য দূরত্ব রেখে এক চোখ দিয়ে তাকালে সেই বস্তুটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 1
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  2. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    গভীর সমুদ্রের প্রাণী গুলোকে এত অদ্ভুত লাগে কেন?

    Jasim
    Jasim নতুন
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    যা কিছু আমরা প্রথম দেখি সবগুলোই অদ্ভুত লাগে। সাগর অনেক গভীর। এর যত গভীরে যাবেন তাপমাত্রা ততই কমবে আর চাপ বাড়বে। তাই সেখানে টিকে থাকতে হলে প্রাণিদের বৈশিষ্ট্য আলাদা হতে হয়। আর আমরা গভীর সাগরের প্রাণিদের তেমন দেখতে পাইনা বিধায় আমাদের কাছে সেগুলোকে অদ্ভুত লাগে।

    যা কিছু আমরা প্রথম দেখি সবগুলোই অদ্ভুত লাগে। সাগর অনেক গভীর। এর যত গভীরে যাবেন তাপমাত্রা ততই কমবে আর চাপ বাড়বে। তাই সেখানে টিকে থাকতে হলে প্রাণিদের বৈশিষ্ট্য আলাদা হতে হয়। আর আমরা গভীর সাগরের প্রাণিদের তেমন দেখতে পাইনা বিধায় আমাদের কাছে সেগুলোকে অদ্ভুত লাগে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  3. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    Color Blind মানুষ কি জন্ম থেকেই Color Blind হয় না পরে হয়?

    mokbul
    mokbul পণ্ডিত
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    হ্যা এটি জন্মগত, কারণ এটি বংশগত। জন্মসূত্রে লাল-সবুজ রঙের অন্ধত্ব নারীদের তুলনায়, পুরুষকে প্রভাবিত করে অনেক বেশি। কারণ লাল ও সবুজ রং আলোকসংবেদীগুলির জন্য জিনগুলি এক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে উপস্থিত থাকে, যা পুরুষের মাত্র একটি এবং নারীর দুটি থাকে।

    হ্যা এটি জন্মগত, কারণ এটি বংশগত। জন্মসূত্রে লাল-সবুজ রঙের অন্ধত্ব নারীদের তুলনায়, পুরুষকে প্রভাবিত করে অনেক বেশি।
    color blind
    কারণ লাল ও সবুজ রং আলোকসংবেদীগুলির জন্য জিনগুলি এক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে উপস্থিত থাকে, যা পুরুষের মাত্র একটি এবং নারীর দুটি থাকে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  4. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    বিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপগুলোর নাম কি এবং সেগুলো কোথায় কোথায় স্থাপন করা হয়েছে?

    Babul Sutradhar
    Babul Sutradhar নতুন
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    বিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপগুলোর মধ্যে এই ৭ টি প্রধান। ১. গ্র্যান টেলিস্কোপিও ক্যানারিয়াস ২. কেক-১ ও কেক-২ টেলিস্কোপ ৩. সল্ট ৪. লার্জ বাইনোকুলার টেলিস্কোপ ৫. সুবারু টেলিস্কোপ ৬. ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ ৭. জেমিনি টেলিস্কোপ  

    বিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপগুলোর মধ্যে এই ৭ টি প্রধান।

    ১. গ্র্যান টেলিস্কোপিও ক্যানারিয়াস

    ২. কেক-১ ও কেক-২ টেলিস্কোপ

    ৩. সল্ট

    ৪. লার্জ বাইনোকুলার টেলিস্কোপ

    ৫. সুবারু টেলিস্কোপ

    ৬. ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ

    ৭. জেমিনি টেলিস্কোপ

     

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  5. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    জোনাকির মিটমিট আলোর রহস্য কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    রাতের আঁধারে জোনাকি পোকার মিট মিট আলো আমাদের অনেকের শৈশবেরই এক বিস্ময়কর স্মৃতি। বিশেষ করে যাদের শৈশব কেটেছে গ্রামে, তাদের কাছে জোনাকি পোকা ছিল একটি আবেগের বিষয়। তবে জোনাকির এমন আলো জ্বালানো দেখে আমাদের কৌতূহলও কিন্তু কম হত না। বিস্ময় ভরা চোখে অনেকেই ভাবতাম কিভাবে জোনাকি এই আলো জ্বালিয়ে থাকে। পোকার সবিস্তারিত পড়ুন

    রাতের আঁধারে জোনাকি পোকার মিট মিট আলো আমাদের অনেকের শৈশবেরই এক বিস্ময়কর স্মৃতি। বিশেষ করে যাদের শৈশব কেটেছে গ্রামে, তাদের কাছে জোনাকি পোকা ছিল একটি আবেগের বিষয়। তবে জোনাকির এমন আলো জ্বালানো দেখে আমাদের কৌতূহলও কিন্তু কম হত না। বিস্ময় ভরা চোখে অনেকেই ভাবতাম কিভাবে জোনাকি এই আলো জ্বালিয়ে থাকে।

    পোকার সংক্ষিপ্ত পরিচয় 

    প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীর থেকে জোনাকি পোকা এই দিক দিয়ে একদমই অনন্য। জলচর অনেক প্রাণীর এমন আলো জ্বালানোর ক্ষমতা থাকলেও, স্থলচর প্রাণীর মধ্যে জোনাকিই একমাত্র। বৈজ্ঞানিকভাবে জোনাকি পোকা  Lampyridae নামে পরিচিত।  আর ইংরেজিতে এই পোকাটির নাম আরও সুন্দর- Firefly। এদের প্রায় ২০০০ এর মত প্রজাতি আছে যাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক জোনাকি আলো জ্বালতে পারে। এরা মূলত নিশাচর প্রাণী এবং নেকটার বা পোলেন খেয়ে বেঁচে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে এরা ক্ষুদ্র লার্ভা এবং পতঙ্গও খেয়ে থাকে। 

    জোনাকি পোকা কিভাবে আলো জ্বালে?

    জোনাকি পোকার আলোর রহস্য হল একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। মূলত এদের দেহের পেছনের অংশে একটি বাক্সের মত অংশে এই বিক্রিয়াটি ঘটে থাকে। এখানে লুসিফেরিন নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ লুসিফেরাস নামক এনজাইমের উপস্থিতিতে অক্সিজেন ও শক্তি ব্যাবহার করে আলো উৎপন্ন করে থাকে। আর বিশেষ প্রক্রিয়ায় জোনাকি পোকা অক্সিজেনের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে যা মূলত মিট মিট করে আলো জ্বালার পেছনে ভূমিকা রাখে। অক্সিজেন সরবরাহের উপর নির্ভর করে থাকে কখন আলো জ্বলবে এবং নিভবে। যখন এরা অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তখন আলো নিভে যায় এবং অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হলে বিক্রিয়া শুরু হয়ে আলো জ্বলে উঠে। 

    বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Bioluminescence. তবে অন্যান্য আলোক উৎসের মত এ প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় না। এই বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত শক্তি তাপশক্তি উৎপন্নে ব্যয় না হয়ে শুধু আলো উৎপন্ন করে থাকে যাকে “Cold light” বলা হয়ে থাকে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেননা তাপ উৎপন্ন হলে তা জোনাকির শরিল পুড়িয়ে দিতে পারে। 

    জোনাকি পোকা কেন আলো জ্বেলে থাকে?

    জোনাকি পোকা সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে দেখা যায়। অন্ধকারে এরা মিটমিট করে আলো জ্বালতে থাকে। তাদের এই আলো জ্বালানোর পেছনে মূল কারণ হল বিপরীত লিঙ্গের জোনাকি কে আকর্ষণ করা। সাধারণত পুরুষ জোনাকি পোকা স্ত্রী জোনাকি পোকাকে আকর্ষণ করার জন্য এভাবে আলো জ্বেলে থাকে। আর স্ত্রী জোনাকিরা পুরুষ জোনাকির এরূপ আলো জ্বালানোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সঙ্গী নির্বাচন করে। এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে আলোর তীব্রতা, প্যাটার্ন এবং আলো জ্বালানোর হার। যে পুরুষ জোনাকি দ্রুত এবং উজ্জ্বল আলো জ্বালতে পারে স্ত্রী জোনাকিরা তাদের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়। 

    তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে যে স্ত্রী জোনাকিরা কি আলো জ্বালে? হ্যাঁ, স্ত্রী জোনাকিরাও আলো জ্বালে। আর তাদের আলো জ্বালানোর উদ্দেশ্য হল পুরুষ জোনাকির সংকেতে সম্মতি প্রদান করা। যে পুরুষ জোনাকিকে কোন স্ত্রী জোনাকির পছন্দ হয়, তাকে আলো জ্বালিয়ে নিজের সম্মতি প্রকাশ করে। 

    আবার জোনাকির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এই আলোক সংকেত চিনতে পারা। কাজেই কোন পুরুষ সঙ্গীকে কোন স্ত্রী সঙ্গীর পছন্দ হয়েছে বা কোন পুরুষ সঙ্গীর উদ্দেশ্যে স্ত্রী সঙ্গী সংকেত পাঠিয়েছে তা চিনতে এদের ভুল হয় না। 

    তবে কিছু গবেষণা মতে জোনাকি তাদের এই বৈশিষ্ট্য টি পেয়েছে মূলত শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পেতে। বিবর্তনের ধারায় অন্যান্য শিকারি প্রাণীদের তাড়াতে তারা এই আলো জ্বালানোর ক্ষমতা অর্জন করে।  

    জোনাকি পোকা কি বিষাক্ত? 

    কিছু কিছু জোনাকি পোকার প্রজাতি বেশ বিষাক্ত। জোনাকি পোকার প্রায় ২০০০ প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে কিছু প্রজাতি রয়েছে যারা লুসিবুফেগিন্স নামক এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন করে থাকে। এই রাসায়নিক পদার্থটি পাখি বা অন্যান্য শিকারি দের হাত থেকে জোনাকিদের রক্ষা করতে সহায়তা করে। 

    নগরায়নের পাল্লায় পড়ে বর্তমান সময়ে জোনাকির দেখা মেলা ভার। শহরাঞ্চলে এর দেখা পাওয়া যায় না বললেই চলে। তবে গ্রামের আঁধারে এখনো দেখা মেলে অদ্ভুত এই পোকাটির।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  6. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    কোন ৮টি আবিষ্কার বদলে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    শুরুর দিকে মানুষ ছিলো অনেক অসহায়। তারা বাস করতো বনে জঙ্গলে। বিভিন্ন পশুপাখি শিকার করে খাদ্য সংগ্রহ করতো। আস্তে আস্তে মানুষ বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার করলো। তৈরি করলো নানা জিনিস। ফলে মানুষের জীবন হলো আরো সহজ, আরো নিরাপদ। আদিম যুগের সেইসব আবিষ্কার থেকে আধুনিক যুগের নিত্যনতুন প্রযুক্তি, সবই মানব সভ্যতাবিস্তারিত পড়ুন

    শুরুর দিকে মানুষ ছিলো অনেক অসহায়। তারা বাস করতো বনে জঙ্গলে। বিভিন্ন পশুপাখি শিকার করে খাদ্য সংগ্রহ করতো। আস্তে আস্তে মানুষ বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার করলো। তৈরি করলো নানা জিনিস। ফলে মানুষের জীবন হলো আরো সহজ, আরো নিরাপদ। আদিম যুগের সেইসব আবিষ্কার থেকে আধুনিক যুগের নিত্যনতুন প্রযুক্তি, সবই মানব সভ্যতাকে দিয়েছে অন্য এক রূপ। মানুষ এমন কিছু জিনিস আবিষ্কার করেছে যেগুলো না থাকলে আজকের পৃথিবী আমরা যেমনটা দেখছি তেমনটা হয়তো হতো না। চলুন জেনে নেই ঠিক এমনই ৮টি আবিষ্কার সম্পর্কে যেগুলো বদলে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে।

    ১) লাঙল

    আধুনিক যুগের নিত্য নতুন নানা আবিষ্কারের কাছে লাঙল বা হাল আবিষ্কার অনেকের কাছেই কিছুটা তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু এই লাঙলের আবিষ্কার না হলে বর্তমান পৃথিবীর অনেক কিছুই হয়তো আমরা আজকে দেখতাম না। লাঙল হলো জমি চাষের অন্যতম প্রাচীন একটি যন্ত্র। জমিতে বীজ বপন কিংবা চারা লাগানোর জন্য মাটিকে প্রস্তুত করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

    প্রাচীন মিশরীয় চিত্রকর্মে লাঙলের মাধ্যমে চাষ; Source: wikimedia.org

    ঠিক কবে কিংবা কোথায় এই লাঙল আবিষ্কার হয়েছিলো তা সঠিক জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয় এটি এককভাবে কেউ আবিষ্কার করেনি, বরং অনেকের ক্রমাগত উন্নয়ন সাধনের ফলে তা বর্তমানের রূপ পেয়েছে।  প্রাগৈতিহাসিক যুগেও লাঙল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। লাঙল বা হাল আবিষ্কারের আগে মানুষ সাধারণত পশুপাখি শিকার করতো কিংবা বিভিন্ন গাছপালা থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে খেতো। মানুষ যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতো খাদ্যের সন্ধানে। কিন্তু জমি চাষ করতে শেখার পর মানুষের জীবনে স্থায়িত্ব এলো। তারা নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে জমি চাষের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন করতে লাগলো। তবে শুধু খালি হাতে জমি চাষ করা ছিলো অনেক কষ্টসাধ্য ও সময়ের ব্যাপার। লাঙল আবিষ্কারের ফলে মানুষের এই কষ্ট দূর হলো।

    লাঙল আবিষ্কারের ফলে খুব সহজে জমি চাষ করা সম্ভব হলো; Source: wikimedia.org

    লাঙল আবিষ্কারের ফলে মানুষ দ্রুত ও ব্যাপক পরিমাণে ফসল ফলাতে লাগলো। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফসল বিক্রির প্রচলন শুরু হলো। আর এর থেকেই মানুষ সংখ্যা, হিসাব ইত্যাদি শিখলো। শুরু করলো ব্যবসা। আর বিপুল পরিমাণ মানুষ যখন এসবে লিপ্ত হলো তখন গড়ে উঠলো বিভিন্ন শহর। এক লাঙল আবিষ্কারের মাধ্যমেই গড়ে উঠলো মানব সভ্যতা।

    ২) চাকা

    লাঙলের পর যে আবিষ্কারটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো চাকার আবিষ্কার। এটিও এতটাই পুরানো এক আবিষ্কার যে ঠিক কবে এই চাকার আবিষ্কার হয়েছিলো তা কেউ জানে না। তবে সবচেয়ে পুরানো চাকাটি পাওয়া গিয়েছিলো স্লোভেনিয়াতে খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ অব্দে।

    চাকার বিবর্তনের চিত্র; Source: mentalfloss.com

    চাকা এমনই এক জিনিস যা আবিষ্কার না হলে মানব সভ্যতা হয়তো থেমে থাকতো। পেত না কোনো গতি। চাকা আবিষ্কারের ফলে যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা হলো আরো সুবিধাজনক ও দ্রুত। ঘোড়ায় টানা গাড়ির সাথে চাকা যুক্ত করার ফলে মানুষ পেলো অন্যতম দ্রুত এক পরিবহন ব্যবস্থা।

    শুধু পরিবহন ক্ষেত্রে নয়, চাকা আবিষ্কারের মাধ্যমে আরো দশ হাজারের বেশি প্রযুক্তির সূচনা হলো। বিভিন্ন পাওয়ার মিল, ফ্যাক্টরি, বিভিন্ন গিয়ার ও যন্ত্রাংশ ইত্যাদি সবই চাকার আকারে তৈরি করা হয়। বহু আধুনিক প্রযুক্তি আজ চাকার উপর নির্ভরশীল। বাস, ট্রেন, উড়োজাহাজ, পাওয়ার প্লাট, ইলেকট্রিক মোটর, জেট ইঞ্জিন ইত্যাদি চাকা ছাড়া কল্পনা করা অসম্ভব।

    ৩) ছাপাখানা

    জোহান গুটেনবার্গ ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম ছাপাখানা আবিষ্কার করেন। এর আগেও মানুষ কাগজ ও ব্লক প্রিন্টিং পদ্ধতি জানতো। তবে ছাপাখানার মাধ্যমে বইয়ের মুদ্রণ প্রথম চালু করেন গুটেনবার্গ।

    ছাপাখানার জনক জোহান গুটেনবার্গ; Source: thefamouspeople.com

    গুটেনবার্গ ব্লক প্রিন্টিং ও স্প্রিং প্রেসের সমন্বয় ঘটান। এছাড়াও তিনি ধাতব প্রিন্টিং ব্লক চালু করেন যা আগের কাঠের তৈরি অক্ষরের ব্লকগুলোর থেকে ছিলো অনেক বেশি নিখুঁত ও টেকসই। তিনি মুদ্রণের কালি ও কাগজ তৈরিতেও আনেন অনন্য পরিবর্তন যা পরবর্তীতে মুদ্রণ ব্যবস্থায় আনে বিপ্লব।

    একটি ছাপাখানার চিত্র; thinglink.com

    ছাপাখানা আবিষ্কারের ফলে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও তা মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলো। ছাপাখানা আবিষ্কারের আগে যেসব বই মুদ্রিত হতো তা ছিলো অনেক দামী। শুধুমাত্র ধনীরাই এ ধরণের বই কিনে পড়তে পারতো। কিন্তু ছাপাখানা আবিষ্কারের মাধ্যমে মুদ্রিত বইয়ের দাম কমে গেলো। বই মানুষের কাছে হলো সহজলভ্য। ফলে জ্ঞান-বিজ্ঞানে মানুষ অগ্রগতি লাভ করলো। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের পর্যাপ্ত শিক্ষা লাভ করতে পারলো এই ছাপাখানার মাধ্যমে। তাই ছাপাখানা আবিষ্কার না হলে হয়তো পৃথিবীর অনেক অংশেই পৌঁছাত না শিক্ষার আলো।

    ৪) যোগাযোগ মাধ্যম

    যোগাযোগ মাধ্যমের মূল আবিষ্কারগুলো হলো টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, রেডিও ও টেলিভিশন। ১৮৩৬ সালে স্যামুয়েল মোর্সের টেলিগ্রাফ আবিষ্কারের পর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসে অনন্য পরিবর্তন। এরপর টেলিফোন আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ অন্য একজন মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর বহুদূরে বসেও শুনতে সক্ষম হয়। ফলে কমে যায় মানুষের মধ্যবর্তী দূরত্ব।

    আলেক্সজান্ডার গ্রাহামবেলের আবিষ্কৃত প্রথম টেলিফোন; Source: sutterstock.com

    বিশ শতকের শুরুতে গুগলিয়েলমো মার্কোনি ও নিকোলা টেসলা বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে তারবিহীন সংকেত প্রেরণের প্রচলন করেন। আবিষ্কার হয় রেডিও। এরপর শব্দের সাথে সাথে ছবিও তরঙ্গের আকারে প্রেরণ করতে সক্ষম হয় মানুষ। এর মাধ্যমে আবিষ্কার হয় টেলিভিশন। আর এ আবিষ্কারের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বার্তা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে একযোগে সম্প্রচার করা সম্ভব হয়ে উঠে।

    সপরিবারে টেলিভিশন দেখছে বিমান বাহিনীর একজন সদস্য; Source: mashable.com

    যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন উন্নয়নের ফলে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের মানুষের কাছাকাছি আসতে সক্ষম হয়। যেখানে আগে এক দেশ হতে অন্যদেশে খবর পাঠাতে লাগতো কয়েক সপ্তাহ সেখানে এসব প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে এখন পৃথিবী অন্য প্রান্তে কী ঘটছে তা আমরা এখন সরাসরি নিজ বাসায় বসে দেখতে পাই।

    ৫) স্টিম ইঞ্জিন

    স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কারের আগে কলকারখানার বেশিরভাগ পণ্যই হাতে তৈরি হতো। এছাড়া পানি চালিত কিংবা পশু টানা যন্ত্রগুলোই ছিলো শক্তির প্রধান উৎস। ১৭১২ সালে থমাস নিউকোমেন সর্বপ্রথম বাষ্পকে কাজে লাগিয়ে পানির পাম্পের ইঞ্জিন তৈরি করেন। এরপর ১৭৬৯ সালে জেমস ওয়াট নিউকোমেনের এই ইঞ্জিনের কিছু পরিবর্তন আনেন। তিনি ইঞ্জিনে পানি থেকে বাষ্প প্রস্তুতকারী যন্ত্র সংযুক্ত করেন। ফলে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা আরো বেড়ে যায় আর ইঞ্জিনটি হয় আরো ব্যবহারযোগ্য। তার তৈরি এই ইঞ্জিন ঘূর্ণন শক্তি উৎপন্ন করতে পারতো।

    স্টিম ইঞ্জিন চালিত একটি ট্রেন; Source: limelightmagazine.com.au

    জেমস ওয়াটের এই ইঞ্জিন আবিষ্কারের ফলে মানুষ ইঞ্জিন চালিত গাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হলো। সেই সাথে তৈরি হলো ইঞ্জিন চালিত রেলগাড়ি। ফলে দ্রুতগতিতে এক স্থান হতে অন্য স্থানে যেতে সক্ষম হলো মানুষ। রেলগাড়ি কিংবা মোটরগাড়িতে ব্যবহার ছাড়াও স্টিম ইঞ্জিন ব্যবহৃত হতে লাগলো বিভিন্ন কলকারখানায়। কলকারখানা উৎপাদনের পরিমাণ গেলো বেড়ে। মানব সভ্যতা পেলো অনন্য এক গতি। এই স্টিম ইঞ্জিনের ব্যবহার বর্তমান এই আধুনিক যুগেও বিদ্যমান রয়েছে। এখনো বহু পাওয়ার প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য স্টিম চালিত টার্বাইন ব্যবহার করা হয়।

    ৬) বৈদ্যুতিক বাতি

    টমাস আলভা এডিসনকে আমরা বৈদ্যুতিক বাতির জনক হিসেবে জানলেও ১৮৭০ সালের দিকে প্রায় এক ডজন লোক এটির আবিষ্কার নিয়ে কাজ করছিলেন। এডিসন এই বিদ্যুতিক বাতির অনেক উন্নয়ন সাধন করেন। ঠিক এই সময়ই ব্রিটেনে জোসেফ সোয়ান নামের একজন এই একই জিনিস নিয়ে কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে এডিসন ও সোয়ান দুজনে মিলে ‘এডিসোয়ান’ নামে বৈদ্যুতিক বাতি তৈরির একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

    বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারের ফলে সহজে দূর হয় আধার; Source: businessinsider.com

    বৈদ্যুতিক বাতিতে একটি ফিলামেন্ট বা সরু তারের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ চালনা করা হয়। ফলে ফিলামেন্টটি থেকে আলো ও তাপ নির্গত হয়। ফিলামেন্টটি যাতে দ্রুত জ্বলে না যায় তাই এটিকে উচ্চ রোধ বিশিষ্ট পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয় এবং একটি বায়ুহীন বাল্বের মধ্যে রাখা হয়।

    বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের ফলে ঘরে বাইরে, অফিসে সব খানে সহজে আলোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। এর আগে গ্যাস ল্যাম্পের মতো অন্যান্য আলোর উৎস থাকলেও বিদ্যুৎ বাতির মতো সহজে তা সবখানে ব্যবহার করা যেত না। বৈদ্যুতিক বাতিই পৃথিবীর বহু অংশে পৌছে দিয়েছে আলো।

    ৭) কম্পিউটার

    কম্পিউটার বলতে আমরা আজকাল ডেক্সটপ কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ বুঝি। কিন্তু কম্পিউটার হচ্ছে এমন এক যন্ত্র যাতে কোনো তথ্য বা উপাত্ত প্রবেশ করালে সেই তথ্যকে নিপুণভাবে ব্যবহার নতুন তথ্য বা ফলাফল পাওয়া যায়। কম্পিউটার মানে গণনাযন্ত্র। চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হলেও বহু মানুষের হাত ধরে কম্পিউটার আজকের অবস্থায় এসেছে। আঠার শতকের দিকে বহু মেকানিকাল কম্পিউটার থাকলেও ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার এসেছে বিশ শতকের দিকে।

    প্রায় সবধরনের কাজই করা যায় আজকের দিনের কম্পিউটার গুলো দিয়ে; Source: phonearena.com

    কী করা যায় না এই কম্পিউটার দিয়ে! কঠিন কঠিন গাণিতিক সমস্যা মুহূর্তের মধ্যেই সমাধান করে দিতে পারে কম্পিউটার। গান শোনা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা প্রভৃতি আমাদের প্রতিদিনের সাধারণ কাজের পাশাপাশি আরো বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয় এই কম্পিউটার। মহাকাশ গবেষণা, সামরিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় কম্পিউটারই একমাত্র ভরসা। কম্পিউটার আবিষ্কার না হলে মানব সভ্যতা অনেক বেশি পিছিয়ে থাকতো। মানব সভ্যতার বিশাল একটি অংশ এখন কম্পিউটারের উপর নির্ভরশীল।

    ৮) ইন্টারনেট

    যে আবিষ্কারটি গোটা বিশ্বকে সবচেয়ে বেশি বদলে দিয়েছে সেটি হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেট হলো গোটা পৃথিবী জুড়ে এমন এক নেটওয়ার্ক যা যুক্ত করেছে প্রতিটি মানুষকে। যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো তথ্য যে কেউ যখন খুশি তখন পেতে পারে। কোথায় নেই ইন্টারনেটের ছোঁয়া! ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিনোদন সব ক্ষেত্রেই ভূমিকা রেখেছে ইন্টারনেট।

    পুরো পৃথিবীকে যুক্ত করছে ইন্টারনেট; Source: capoliticalreview.com

    ১৯৬০ সালে DARPA (Defense Advanced Research Projects Agency) নামের আমেরিকান সামরিক বাহিনীর একটি অংশ ARPANET নামের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যাতে সামরিক কাজের জন্য ব্যবহৃত সকল কম্পিউটার যুক্ত ছিলো। এরপর ১৯৭০ সালের দিকে চালু হলো বিভিন্ন নেটওয়ার্ক। কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা তৈরি করলেন এমন এক নেটওয়ার্ক যাতে এক নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা এক কম্পিউটারকে অন্য নেটওয়ার্কে যুক্ত কম্পিটারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। এটাই ছিলো ইন্টারনেটের প্রাথমিক অবস্থা। এর পরবর্তী দশ বছরে ইন্টারনেটের বহু উন্নতি সাধিত হয়। ফলে ইন্টারনেট ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে।

    ইন্টারনেট এমনই শক্তিশালী একটি আবিষ্কার যার ফল আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে শুরু করেছি। মানব সভ্যতা বর্তমানে পুরোপুরি ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ডিজিটাল পৃথিবী সৃষ্টির পেছেনে মূল ভূমিকা ইন্টারনেটের। ইন্টারনেট গোটা পৃথিবীকে পরিণত করেছে ছোট্ট একটি গ্রামে, যেখানে মুহূর্তের মধ্যেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের সকল খবরাখবর নেওয়া যায়। বিভিন্ন তথ্য অনেক সহজলভ্য হয়েছে এই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই। এখন আমাদের একদিনও চলে না এই ইন্টারনেট ছাড়া। আমাদের জীবনধারাকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে এটি। সামনের দিনগুলোতেও ইন্টারনেট আমাদের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে এমনটাই আশা করেন ভবিষ্যতবিদরা।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  7. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    প্লাস্টিকখেকো ছত্রাক সত্যি সত্যি কি আছে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    পরিবেশ দূষণের অন্যতম একটি কারণের নাম বলতে বললে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরেই পলিথিনের নাম আসবে। মাটিতে না মেশা, মাটির উর্বরতা নষ্ট করা, আবার পুড়িয়ে ধ্বংসের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস উৎপাদন যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ; শুধু পলিথিন নয়, প্লাস্টিকজাতীয় সব বস্তুর ক্ষেত্রেই এসব তথ্য সত্য। প্রতি বছরবিস্তারিত পড়ুন

    পরিবেশ দূষণের অন্যতম একটি কারণের নাম বলতে বললে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরেই পলিথিনের নাম আসবে। মাটিতে না মেশা, মাটির উর্বরতা নষ্ট করা, আবার পুড়িয়ে ধ্বংসের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস উৎপাদন যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ; শুধু পলিথিন নয়, প্লাস্টিকজাতীয় সব বস্তুর ক্ষেত্রেই এসব তথ্য সত্য। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক তৈরি হচ্ছে এবং কাজের শেষে তাদের গন্তব্য হয় সাগর, নদী-নালা, নর্দমা বা মাটি। প্লাস্টিক যে ধ্বংস হয় না তা নয়, তবে সময় লাগবে বহু বছর। বহু বছর পর রায়ায়নিক বন্ধন শিথিল হয়ে টুকরো টুকরো হয়। এ সময় এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরিত হয় যেগুলো মাছ এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণীরা খাবার ভেবে বিভ্রান্ত হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিক নিয়ে মানুষের যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন সামান্য একটি ছত্রাক দেখাচ্ছে মুক্তির সম্ভাবনা।

    ইসলামাবাদের এমনই একটি ময়লার ভাগাড় থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষায় দেখা মেলে এই ছত্রাকের; source: glorilist.com

    হ্যাঁ, এমনই এক ছত্রাকের দেখা মিলেছে যেগুলো খুব সহজেই প্লাস্টিকের দৃঢ় বন্ধনগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারে কয়েক সপ্তাহেই! চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সের গবেষকগণ পাকিস্তানের বিজ্ঞানীদের সাথে একজোট হয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে আবিষ্কার করেছেন এই ছত্রাক। এর বৈজ্ঞানিক নাম Aspergillus tubingenesis (অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিস)। অনেকটা শকুনি দৃষ্টি দিয়ে গবেষকগণ নমুনা জোগাড় করেন ময়লার ভিতর থেকে। নানা প্রকারের ময়লা তারা সংগ্রহ করেন। বিশ্বাস একটিই, নিশ্চয়ই এমন কোনো অণুজীবের দেখা মিলবে যেটি প্লাস্টিককে মিশিয়ে দিতে।

    অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিস; source: zee news

    সংগৃহীত নমুনাগুলোকে অত্যাধুনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র এবং বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করে তারা একধরনের ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের দেখা পান, যেগুলো এদের দেহের মাইসেলিয়ার (অণুজীবের দেহ থেকে বের হওয়া শিকড়ের ন্যায় সূত্রবিশেষ) শক্তি ব্যবহার করে পলিমারকে ভেঙে দিতে পারে। গবেষকদল বলেন, প্রাকৃতিকভাবে পলিমার বন্ধন ভাঙতে যেখানে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে, সেখানে এই ছত্রাকগুলো কয়েক সপ্তাহেই ভেঙে দিতে পারে।

    অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিস

    অ্যাসপারগিলাস টুবেনজেনেসিস এমন একধরনের ছত্রাক যা সাধারণত মাটিতে থাকে। তবে গবেষণাগারে এগুলোকে প্লাস্টিকের উপর বেড়ে উঠতে দেখা গিয়েছে। ২০১৭ সালের এই গবেষণাটিতেই প্রথম জানা গেল এর সম্পর্কে তা কিন্তু নয়। ১৯৩০ সালে রাউওল মোজেরে নামক একজন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম এই ছত্রাকটির বর্ণনা দিয়েছিলেন। বৈজ্ঞানিক নামটিও মোজেরেরই দেওয়া। তার মতে, এই ছত্রাকটি ‘বর্ডারলাইন এক্সট্রেমোফাইল’ অর্থাৎ এটি অতি প্রতিকূলতায়ও বেঁচে থাকতে পারে। এটি অতিবেগুনী রশ্মি সহনশীল এবং অত্যাধিক তাপমাত্রা (৩০-৩৭ ডিগ্রি সে.) এর বৃদ্ধি ঘটে, যেখানে অন্যান্য প্রজাতিগুলো ২১-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছাড়া পারে না। তবে এর লৈঙ্গিক ধরণ সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কিছু জানা যায় নি। ধারণা করা হচ্ছে, অযৌন জনন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবৃদ্ধি ঘটে। তবে কালো অ্যাস্‌পারগিলাসদের সাথেও এটি সম্পর্কযুক্ত। শুধু তা-ই নয়, এর যৌন বৈশিষ্ট্যের সাথে পেক্টোমাইসিস গোত্রের যৌন বৈশিষ্ট্যেরও মিল পাওয়া গিয়েছে।

    a) জাপেক মিডিয়ামে ৭ দিন রাখার পর সৃষ্টি কলোনি, b) অ্যাগার মিডিয়ামের বিপরীত পাশে হলদে কলোনি, c) স্পোরোফোর, d) কনিডা এবং স্পোরাঞ্জিয়াম; source: foto-bass.com

    অ্যাস্‌পারগিলাস টুবিনজেনেসিস নামক ছত্রাকটির কনিডিয়াগুলোর ব্যাস মোটামুটি ৩-৫ মাইক্রোমিটার এবং সেগুলো খুব বেশি অমসৃণ। কখনো কখনো সাদাটে বা গোলাপী বর্ণের ০.৫-০.৮ মি.মি. ব্যাসবিশিষ্ট স্ক্লেরোশিয়ার সৃষ্টি হয়। এটি অক্রাটক্সিন, অ্যাসপারাজিন, পাইরানোগ্রিন এ, পারোফেন, ফিউনালেনান এবং কোটানিনের মতো এক্সটোলাইট তৈরি করতে পারে। এছাড়াও এই ছত্রাকগুলোকে ক্রিয়েটিন সুক্রোজ আগার (CREA) মাধ্যমে কালচার করলে খুব ভালভাবে এসিড সৃষ্টি করে এবং বৃদ্ধির গতিও মোটামুটি ভালোই থাকে। ১৫-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এরা মাইকোটক্সিন এবং অক্রাটক্সিন উৎপাদন করতে পারে।
    অ্যাসপারগিলাস গোত্রের আরেকটি সদস্য Aspergillus niger এর সাথে এর যথেষ্ঠ মিল থাকায় অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার না করে এদেরকে আলাদা করা কঠিন। এমনই একটি পদ্ধতি হলো এরলিক বিক্রিয়া (Ehrlich reacton)। এছাড়া অ্যাসপারজিন উৎপাদন দেখেও অ্যাসপারগিলাস গোত্রের অন্যান্য প্রজাতি থেকে টুবিনজেনেসিসকে আলাদা করা যায়।

    Aspergillus niger; source: inspq.qc.ca

    অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিস এর pH এর মান অনেক কম, অর্থাৎ এটি এসিডীয় এবং কম পানিযুক্ত স্থানকে বসবাসের জন্য উপযুক্ত মনে করে। থাইল্যান্ড এবং চীনে এর প্রাদুর্ভাব বেশি হলেও পৃথিবীর উষ্ণতম দেশগুলোতে দেখা মিলবে এই ছত্রাকের। কখনো কখনো ঘরের মধ্যেও দেখা দিতে পারে এই ছত্রাক, বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়া এবং তুরস্কে। এছাড়াও নেদারল্যান্ড, হাঙ্গেরি এবং আলজেরিয়াতেও এর উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।

    অর্থনৈতিক গুরুত্ব

    উপকারিতা

    – এই ছত্রাকটি যেহেতু মাইকোটক্সিন উৎপাদন করতে পারে তাই জৈবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এবং শৈল্পিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    – এছাড়াও এটি অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, গ্লুকোজ, গ্লুকোজ অক্সাইড, ফাইটেজ, জিলানেজ, এবং এসিড ফসফেটের মতো প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদানগুলো তৈরি করতে পারে। অবিশুদ্ধ পানি এবং চিটাগুড়ের অবশিষ্টাংশ থেকে বায়ো-ইথানল প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এই টুবেনজেনেসিসের উৎপাদিত অ্যামাইলেজ।

    – এ টুবেনজেনেসিস ছত্রাকটি কিছু জৈবিক এসিডও উৎপাদন করতে পারে, যেমন- সাইট্রিক এসিড, অ্যাসকরবিক এসিড ইত্যাদি, যেগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

    – শস্য উৎপাদনে, বিশেষ করে ভুট্টা উৎপাদনের জন্য মাটি প্রস্তুতিতে এটি খুবই কার্যকরী একটি ছত্রাক হিসেবে পরীক্ষিত। এটি মাটির ফসফেট মুক্ত করে এবং মাটির ক্ষারত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

    – টমেটো গাছকে প্যাথোজেনিক রোগসৃষ্টিকারী ছত্রাক থেকে মুক্ত রাখে এই টুবেনজেনেসিস। এছাড়াও আঙুর উৎপাদনেও রয়েছে এর উল্লেখযোগ্য উপকারী ভূমিকা।

    – বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ভূমিকা এই ছত্রাকটি পালন করছে তা হলো প্লাস্টিক ধ্বংস করা। প্লাস্টিকের মধ্যে যে অসংখ্য পলিমার বন্ধন আছে তা খুব সহজেই ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে পারে।

    প্লাস্টিকের উপর ছত্রাকগুলো রাখার পর সেগুলো এনজাইম ক্ষরণ করে পলিমার বন্ধন ভাঙা শুরু করে; source: forestfloornarrative.com

    অপকারিতা

    আশার পরেও রয়ে যায় হতাশা। খুব বেশি নয়, ভাবুন তো গত ৭০ বছরে ঠিক কত প্লাস্টিক, কত পলিমার বন্ধন পৃথিবীতে কৃত্রিম উপায়ে বানানো হয়েছে শুধুমাত্র মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাবার জন্য? প্লাস্টিকের বালতি, জগ, গামলা, মগ, চকলেটের কৌটা, ফোম, সিনথেটিক লেদার, রঙ, রেফ্রিজারেটরের ইনসুলেশন, পলিথিন ব্যাগ ইত্যাদি অসংখ্য প্লাস্টিক পণ্যে পলিমার বন্ধনের সংখ্যাও কম নয়। অথচ এই ক্ষুদ্র ছত্রাকগুলো সংখ্যা সর্বোচ্চ পাঁচ মিলিয়ন হবে। এছাড়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, সব ধরনের প্লাস্টিককে ভেঙে দেবার ক্ষমতাও এদের নেই।

    মানুষের উপর একেবারেই খারাপ প্রভাব নেই তা-ও নয়। যদিও আমেরিকার খাদ্য এবং ঔষধ প্রশাসন (FDA) এর তথ্যানুযায়ী এই ছত্রাকটি নিরাপদ। অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিসের দ্বারা ‘কেরাটাইটিস’ নামক কর্নিয়াল ইনফেকশন হবার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া এরা ম্যাক্সিলারি হাড়ে ইনফেকশনও সৃষ্টি করতে পারে যার প্রভাবে দাঁত পড়ে যেতে পারে বা তুলে ফেলতে হতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় ফুসফুসীয় রোগে আক্রান্ত রোগীদের শ্বাসনালীতে ধরা পড়েছে এই অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিস।

    source: forestfloornarrative.com

    শেষ কথা

    বিজ্ঞানীরা এখনো জোর গবেষণা চালাচ্ছেন। অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিসের মতো আরও প্রাকৃতিক অণুজীবের দেখা নিশ্চয়ই মিলবে, যেগুলোকে সম্মিলিতভাবে ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যার সমাধান করে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা যাবে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  8. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    নোবেল পুরষ্কার পাওয়া অপটিক্যাল টুইজার মূলত কী?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় নমুনা বা স্যাম্পল খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো কোনো নমুনা আছে অহরহ পাওয়া যায় সবখানে। কোনো নমুনা আছে খুব দুর্লভ আবার কোনো কোনো নমুনা আছে খুব ভঙ্গুর। নয় থেকে ছয় হয়ে গেলেই সে নমুনা নষ্ট হয়ে যায় কিংবা তার স্বাভাবিকতা হারায়। যেমন ডিএনএ কিংবা ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস। এগুলো জগতেবিস্তারিত পড়ুন

    বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় নমুনা বা স্যাম্পল খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো কোনো নমুনা আছে অহরহ পাওয়া যায় সবখানে। কোনো নমুনা আছে খুব দুর্লভ আবার কোনো কোনো নমুনা আছে খুব ভঙ্গুর। নয় থেকে ছয় হয়ে গেলেই সে নমুনা নষ্ট হয়ে যায় কিংবা তার স্বাভাবিকতা হারায়। যেমন ডিএনএ কিংবা ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস। এগুলো জগতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া গেলেও গবেষণার সময় পান থেকে চুন খসলেই এদের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হয়ে যাওয়া কোনো নমুনা থেকে যে ফলাফল আসবে তা তো আর সঠিক হবে না।

    ডিএনএ কিংবা ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসকে যদি কেউ পর্যবেক্ষণ করতে চায় তাহলে সেটিকে কোনো স্লাইড জাতীয় জিনিসের উপর রেখে করতে হবে। এরকম পর্যবেক্ষণে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কোনো নমুনাকে যদি এপিঠ-ওপিঠ, উপর-নিচ সবদিক থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হয় তাহলে ঝামেলা বেধে যায়। নমুনাকে অক্ষত রেখে উল্টে পাল্টে দেখা সম্ভব হয় না। দেখতে গেলে নমুনা নষ্ট হয়ে যায় কিংবা পূর্বের অবস্থা থেকে বিচ্যুত (manipulated) হয়ে যায়।

    স্লাইডে রেখে নমুনা পর্যবেক্ষণ করায় আছে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা; Source: 123RF
    এ পরিস্থিতিতে এমন কোনো উপায় কি বের করা সম্ভব যার মাধ্যমে নমুনাকে অক্ষত রেখেই উল্টে পাল্টে দেখা যাবে? এ বেলায় যেতে হবে পদার্থবিজ্ঞানের কাছে। হেন কোনো বিষয় নেই যা নিয়ে পদার্থবিজ্ঞান মাথা ঘামায় না। এর সমাধানও হয়তো মিলতে পারে পদার্থবিজ্ঞানের কাছে। পদার্থবিজ্ঞান হয়তো এমন কোনো চিমটা তৈরি করে দেবে না যেটা নমুনাকে ধরে রাখবে, তবে এমন কোনো পদ্ধতি তৈরি করে দেবে যা দিয়ে নমুনাকে ভাসিয়ে রেখে উল্টে পাল্টে দেখা যাবে।

    পদার্থবিজ্ঞান কীভাবে এ ক্ষেত্রে কাজে লাগলো সেটা জানতে হলে একদম মূল থেকে শুরু করতে হবে। প্রথমে বস্তুকে ধরে রাখার কথা চিন্তা করি। ক্যামেরা ধরে রাখার ট্রাইপড নিশ্চয় দেখেছেন। তিন দিকে তিনটা খুঁটি মিলে একটা জায়গায় স্থায়ী করে রাখে ক্যামেরাকে। এখন ট্রাইপডের খুঁটিগুলোকে সরু পাইপ বলে বিবেচনা করুন, যেগুলোর মধ্য দিয়ে একই বেগে বাতাস বের হয়ে আসছে। তিন দিকের বাতাস একটি বিন্দুতে মিলিত হচ্ছে। ঐ মিলন বিন্দুতে যদি একটি পাতলা বল রেখে দেওয়া হয় তাহলে তিন দিকের চাপে বলটি সেখানে ভাসতে থাকবে। ব্যাপারটি পরিষ্কার হবার জন্য নিচের ছবিটি দেখুন।

    Source: giphy
    একটা সময় জানা যায় ফোটন কোনো বস্তুকে ধাক্কা দিতে পারে। আমরা প্রতিনিয়তই ফোটনের মুখোমুখি হচ্ছি কিন্তু ধাক্কা অনুভব করছি না কেন? আসলে ধাক্কা আমরা ঠিকই পাই কিন্তু তার পরিমাণ এতই নগণ্য যে সেটা দৃশ্যমান কোনো ফলাফল দেয় না। তাছাড়া আমরা পৃথিবীর শক্তিশালী মহাকর্ষে বাধা। যেখানে এমন একটি বল টেনে রাখছে আমাদের সেখানে ফোটনের ধাক্কার কোনো ফল পাওয়া যাবে না এটাই স্বাভাবিক।

    যেখানে মহাকর্ষের শক্তিশালী প্রভাব নেই সেখানে ফোটনের ধাক্কার বিষয়টি ঠিকই পর্যবেক্ষণ করা যায়। ধূমকেতুর কথা হয়তো শুনে থাকবেন। এর ভারী অংশটাকে বলে নিউক্লিয়াস আর হালকা অংশটাকে বলে পুচ্ছ। ধূমকেতু যখন সূর্যের দিকে আসে কখনোই পুচ্ছের অংশটা সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে না। সবসময়ই সূর্যের বিপরীত দিকে অবস্থান কর। কারণ সূর্যের আলোকের ফোটনের ধাক্কায় হালকা পুচ্ছটি পেছনের দিকে সরে গিয়েছে।

    ধূমকেতুর পুচ্ছ সবসময় সূর্যের বিপরীত দিকে থাকে; Pinterest
    ফোটনের ধাক্কার বিষয়টিকে বিজ্ঞানীরা খুব গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। এমনকি একে ব্যবহার করে মহাকাশযানের ডিজাইনও করেন, যে যান ফোটনের ধাক্কায় এগিয়ে যাবে অল্প অল্প করে। ১৯৭৫ সালে যখন ভাইকিং মহাকাশযান পাঠানো হয় তখন ফোটনের ধাক্কার বিষয়টি হিসেবের মধ্যে আনা হয়। ফোটন কর্তৃক প্রদত্ত চাপ হিসেব করে ভাইকিংকে মঙ্গলের দিকে প্রেরণ করা হয়েছিল। যদি এই হিসাবটি করা না হতো তাহলে ভাইকিং যান গণনাকৃত দূরত্বের ১৫ হাজার কিলোমিটার বাইরে দিয়ে চলে যেতো।

    বিজ্ঞানীরা নৌকার পালের মতো করে এমন একটি মহাকাশযান ডিজাইন করেছেন যেটি আলোর (ফোটনের) ধাক্কায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। বিজ্ঞানীরা এই যানের নাম দিয়েছে LightSail বা আলোকপাল; Image: The Planetary Society
    তো এই ব্যাপারটাকে পৃথিবীতেও কাজে লাগানো যায় কিনা? পৃথিবীর কোনো ভারী বস্তুকে ফোটনের ধাক্কায় ভাসানো যাবে না, তা ঠিক আছে। কিন্তু খুবই ক্ষুদ্র কোনোকিছু যেমন কোনো অণু কিংবা কোনো অঙ্গাণু কিংবা কোনো এককোষী প্রাণী?

    এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে থাকেন আর্থার অ্যাশকিন নামের একজন মার্কিন গবেষক। তার সময়কালে স্টার ট্রেক সিরিজ কিংবা স্টার ওয়ার্স চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, না ছুঁয়ে না ধরে কীভাবে লেজার বিম ব্যবহার করে কীভাবে অনেক দূর থেকে শত্রুর যান উড়িয়ে ফেলা যায় যায়, মুহূর্তের মাঝে কোনো গ্রহাণু কিংবা এমনকি আস্ত গ্রহই ধ্বংস করে ফেলা যায়।

    সে সময়টায় লেজার উদ্ভাবিত হয়েছে। উদ্ভাবনের পরপরই তিনি লেজার নিয়ে গবেষণায় নেমে যান। শীঘ্রই তিনি অনুধাবন করতে পারেন ক্ষুদ্র বস্তুকে না ধরে না ছুঁয়ে ভাসিয়ে রাখার ক্ষেত্রে লেজার কাজে আসতে পারে। তিনি নেমে পড়লেন এই কাজে। কয়েক মাইক্রোমিটারের অতি ক্ষুদ্র স্বচ্ছ বল তৈরি করেন এবং দেখেন সেটিকে লেজারের রশ্মি ভাসিয়ে রাখছে। সে সময় তিনি লক্ষ করেন স্বচ্ছ বলগুলো লেজার বিমের একদম মাঝে এসে স্থায়ী হচ্ছে। মাঝে বলতে লেজারকে যদি প্রস্থচ্ছেদ করা হয় সেই প্রস্থচ্ছেদের মাঝে।

    এমনটা কেন হয় তার পেছনে পদার্থবিজ্ঞানের কিছু নিয়ম কাজ করে। জটিলতা পরিহার করে বললে পলা যায়, এই অংশটাতে লেজারের তীব্রতা বেশি থাকে। পাশের এলাকাগুলোতে তীব্রতার হেরফের হয়, যার কারণে স্বচ্ছ বলের অবস্থান নড়েবড়ে হয়ে যায়। তাই যে অংশে হেরফের হয় না সেখানেই এসে স্থায়ী হয়।

    এখানে আরেকটু সমস্যা আছে। লেজারের বিম যত দূর পর্যন্ত লম্বা, ততদূর পর্যন্ত বলটি চলাচল করতে পারে। হয়তো বিমের মাঝখানেই থাকে কিন্তু তারপরেও এক স্থানে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় আর্থার অ্যাশকিন বিমের মাঝে একটি লেন্স বসিয়ে দিলেন। লেন্সের কারণে আলো বেকে গিয়ে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়। যে অংশে সবগুলো আলোক রশ্মি মিলিত হয় সে অংশের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। আর ঐ অংশটি মাত্র একটি বিন্দু। তার মানে দাঁড়াচ্ছে ঐ বিন্দুতেই স্থির হয়ে আটকে থাকবে স্বচ্ছ বলটি। আর এর মাধ্যমেই তৈরি হয়ে গেল আলোকের ফাঁদ। ধরা লাগলো না, ছোঁয়া লাগলো না, বস্তুকে ভাসিয়ে রাখা গেল ঠিকই। একেই বলা হয় অপটিক্যাল টুইজার।

    বিশেষ প্রক্রিয়ায় এক জায়গায় ভাসিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে একটি বস্তুকে; Credit: Nobel Media
    এরপর এটি নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গেল। নানা বিজ্ঞানী নানাভাবে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর অণু পরমাণু নিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলেন। কিন্তু আর্থার অ্যাশকিন এই ব্যাপারটিকে দেখলেন অন্য দিক থেকে। তিনি জীববিজ্ঞানে এর প্রয়োগ নিয়ে মাথা ঘামালেন। অণু-পরমাণুর বদলে তিনি এই পরীক্ষায় ব্যবহার করলেন ক্ষুদ্র ভাইরাস। এক পর্যায়ে ভাইরাস থেকে যান ব্যাকটেরিয়ায়। ব্যাকটেরিয়ারা ভাইরাসের চেয়ে বড় ও ভারী। তার মানে এটিকে ফোটনের শক্তিতে ভাসিয়ে রাখা চ্যালেঞ্জিং। তিনি লক্ষ করেন ব্যাকটেরিয়াগুলো ভেসে থাকছে ঠিকই কিন্তু সেগুলো মারা যাচ্ছে।

    মারা গেলে তো আর পরীক্ষা সম্পন্ন করা যাবে না। মারা যাচ্ছে লেজারের তীব্রতার কারণে। এমতাবস্থায় তিনি ইনফ্রারেড আলোর হালকা লেজার ব্যবহার করলেন। এতে ব্যাকটেরিয়াগুলো ভেসেও থাকলো এবং টিকেও থাকলো। এভাবে পরীক্ষা করতে করতে তিনি এমন একটি উপায় বের করেন যেখানে ব্যাকটেরিয়ার গায়ের কোনো ক্ষতি না করে এমনকি কোষ ত্বক (প্লাজমা মেমব্রেনেরও) কোনো ক্ষতি না করে ভাসিয়ে রাখা যায়। এর মাধ্যমে নতুন একটি জগতে প্রবেশ করে জীববিজ্ঞান। পরীক্ষণের জন্য রাখা খুব স্পর্শকাতর নমুনাকে কোনো স্পর্শ ছাড়াই উপর-নিচ, নাড়াচাড়া, এদিক-সেদিক করা যায়।

    জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা, রসায়নের বিভিন্ন শাখা ও পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এই পদ্ধতি ব্যবহার হতে থাকে।

    নোবেল জয়ী অর্থার অ্যাশকিন; © Niklas Elmehed/Nobel Media
    ২০১৮ সালে আর্থার অ্যাশকিনের অবদানের জন্য তাকে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। পুরষ্কারের অর্ধেক পাবেন তিনি আর বাকি অর্ধেক পাবেন কানাডার ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড এবং ফ্রান্সের জেরার্ড মরো। লেজারের প্রয়োগ নিয়ে একটি জটিলতায় ভুগছিলেন বিজ্ঞানীরা। লেজার দিয়ে অনেক কিছু করা গেলেও একটা জায়গায় এসে আর কিছু করা যাচ্ছিল না, কোনোভাবেই সেই সীমাবদ্ধতা থেকে বের হওয়া যাচ্ছিল না। এই অংশটিকে কাজ করেন স্ট্রিকল্যান্ড ও মরো। তাদের কাজের ব্যাখ্যা করতে গেলে স্বতন্ত্র একটি লেখা লিখতে হবে। পরবর্তী কোনো লেখায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। নোবেল পুরষ্কার অর্জনের জন্য তাদেরকে অভিনন্দন। আর তাদের কাজের মাধ্যমে আমাদের জীবন যাপনকে উন্নত করার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  9. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    হেডফোনের তারে কেন প্যাঁচ লাগে? জুতোর ফিতে কেন খুলে যায়? কারন কি এক ই?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    যদি জিজ্ঞেস করা হয় “বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী গিঁট কীভাবে লাগাবেন?” তাহলে অনেকেই হয়তো অনেক পদ্ধতির কথা বলবেন। তবে এই প্রশ্নের উত্তরে বিখ্যাত কৌতুকাভিনেতা বিল মারে বলেছিলেন, “প্রথমে একটি হেডফোন পকেটে রেখে দিন, তারপর এক মিনিট অপেক্ষা করুন”। অর্থাৎ হেডফোনে লাগা প্যাঁচটাই হবে বিশ্বের সবচাইতে শক্ত গিঁট।বিস্তারিত পড়ুন

    যদি জিজ্ঞেস করা হয় “বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী গিঁট কীভাবে লাগাবেন?” তাহলে অনেকেই হয়তো অনেক পদ্ধতির কথা বলবেন। তবে এই প্রশ্নের উত্তরে বিখ্যাত কৌতুকাভিনেতা বিল মারে বলেছিলেন, “প্রথমে একটি হেডফোন পকেটে রেখে দিন, তারপর এক মিনিট অপেক্ষা করুন”। অর্থাৎ হেডফোনে লাগা প্যাঁচটাই হবে বিশ্বের সবচাইতে শক্ত গিঁট।

    অপরদিকে অনেকেই জুতো ব্যবহার করেন বা এই শীতে অনেকেই জুতো পরবেন। হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, আপনি যত শক্ত করেই জুতোর ফিতে বাঁধেন না কেন, কিছুদূর হাঁটাহাঁটি করলে বা দৌড়াদৌড়ি করলে হঠাৎ করেই ফিতে খুলে যায়। এর পেছনের রহস্যটা কী?

    চলুন আজ তাহলে দেখা যাক, কেন পকেটে থাকা হেডফোনের তারে আপনা আপনি প্যাঁচ লেগে যায়, অথচ শক্ত করে বাঁধলেও জুতোর ফিতে খুলে যায়?

    হেডফোনের তারে প্যাঁচ লাগার কারণ

    আমরা যারা গান শুনতে ভালোবাসি, তাদের জন্য হেডফোন একটি অবিচ্ছেদ্য সাথী। আর হেডফোন থাকলে হেডফোনের তারে প্যাঁচ লাগা দেখাটাও আমাদের জন্য একটা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। হেডফোন আছে অথচ হেডফোনের তারের প্যাঁচ খুলতে হয়নি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না কোথাও। আমরা কি কখনো এ সম্পর্কে ভেবে দেখেছি কেনই বা এমনটি হয়?

    ব্যাগের ভেতর নিজে নিজেই প্যাঁচ লেগে যায়; Source: s3.amazonaws.com

    আমরা অনেকেই হয়তো দোষটা আমাদের উপরেই দিয়ে থাকি এটা ভেবে যে, হয়তো এলোমেলোভাবে পকেটে ঢুকিয়ে রাখার কারণে হেডফোনের তারে প্যাঁচটা লেগেছে। কিন্তু দেখবেন আপনি সুন্দরভাবে গোল করে পেঁচিয়ে পকেটে ঢুকালেও কিন্তু তারে প্যাঁচ লাগে। তো এমন হবার কারণ বের করতে বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণাও কিন্তু করেছেন। প্রথমত তারা যে পরীক্ষা চালিয়েছেন তা হলো, তারা বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের কিছু তার একটি বাক্সে রেখে ভালভাবে ঝাঁকিয়েছেন এটা দেখতে যে তাদের মধ্যে প্যাঁচ লাগে কিনা! তারা এই পরীক্ষা একবার দু’বার করেননি, করেছেন মোট ৩,৪১৫ বার!

    বিভিন্ন রকমের প্যাঁচ; Source: indiegogo.com

    ডোরিয়ান এম. রেমার এবং ডগলাস ই. স্মিথ; দুজন গবেষক তাদের ‘Spontaneous knotting of an agitated string’ নামক গবেষণা পত্রে, খুব কম সময়ের মধ্যে যেকোন জটিল গিঁট লাগার দুটি মূল বিষয়ের উপরে আলোকপাত করেছেন। প্রথমটি হলো, ‘তারের তুলনামূলক দৈর্ঘ্য’ এবং দ্বিতীয়টি, ‘আলোড়ন সময়’। আলোড়ন বলতে এখানে ঝাঁকুনির ফলে তারগুলোর মধ্যে যে নড়াচড়ার সৃষ্টি হয় তা বুঝিয়েছেন।

    তাদের মতে, তার যত বড় হবে এবং সেখানে আলোড়ন যত বেশি হবে, তত তারের নিজেদের ভেতর আপনা-আপনি গিঁট লাগার সম্ভাবনাও বাড়বে। প্যাঁচ লাগার ক্ষেত্রে মাঝেমাঝে তারের গুণগত মান; যেমন তারের দৃঢ়তা এবং ব্যাসও দায়ী থাকে তবে তারের দৈর্ঘ্য এবং ঝাঁকির ফলে তাদের মাঝে সৃষ্ট আলোড়নই মূলত গিঁট লাগার পেছনে বেশি দায়ী। দুর্ভাগ্যবশত, এগুলোর খুব একটা সমাধানও নেই।

    তারের দৈর্ঘ্যের সাথে গিঁট লাগার সম্ভাব্যতা; Source: img.technews.tw

    রেমার এবং স্মিথ তাদের পরীক্ষায় বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের তার এবং তাদের মাঝে বিভিন্ন সময়ব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে দেখেছেন। দেখা গেছে, ৪৬ সেন্টিমিটার এবং এর থেকে ছোট তারে আপনা আপনি গিঁট লাগেনি এবং লাগার সম্ভাবনাও একদম নেই। কিন্তু ৪৬ সেন্টিমিটার থেকে যত বেশি দৈর্ঘ্যের তার নেয়া হয়েছে তত তাদের মধ্যে গিঁট লাগার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। সর্বোচ্চ ২ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত তারগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে গিঁট লাগিয়েছে। ২ মিটারের বড় তারগুলো সাধারণত বেশি দৈর্ঘ্যের কারণে পকেট জুড়ে থাকে। এজন্য ঝাঁকি পেলেও নিজেদের ভেতর আলোড়িত হবার মত জায়গা পায় না, তাই এদের মধ্যে আপনাআপনি গিঁট লাগে না।

    বর্তমানে প্রচলিত হেডফোনগুলো যেগুলোর গড়ে দৈর্ঘ্য ১৩৯ সেন্টিমিটার তাদের নিজেদের ভেতরে প্যাঁচ লাগার সম্ভাবনা ৫০%। অর্থাৎ আপনার পকেটসমান জায়গা আছে এমন আবদ্ধ স্থানে এরকম দৈর্ঘ্যের হেডফোন রাখলে প্রতি দুইবারে অন্তত একবার সেই হেডফোনের তারে প্যাঁচ লাগার সম্ভাবনা থেকে যায়।

    মুক্ত প্রান্ত শুধু একবার নিজের ভেতর ঢুকতে পারলেই তৈরি হয়ে যাবে শক্ত গিঁট; Source: news.in.gr

    রেমার এবং স্মিথ আরো দেখেছেন, Y আকারের হেডফোনগুলোয় প্যাঁচ লাগার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ এ ধরনের হেডফোনের শুধু একটি তারের মাথা নিজের ভেতর একবার ‘ডিগবাজি’ দেয়ার মতো করে ঢুকতে পারলেই জটিল প্যাঁচের সৃষ্টি করে ফেলে। দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমানে প্রচলিত সব তারের হেডফোনই দেখতে Y আকারের।

    তারা তাদের পরীক্ষায় তারগুলোর মধ্যে প্রায় ১২০ রকমের গিঁটের দেখা পেয়েছেন, যেখানে অধিকাংশ গিঁটে তারগুলো নিজেদের মধ্যেই প্রায় ৭ বার করে প্যাঁচ লাগিয়েছে।

    তাই এরপর থেকে কখনো পকেট থেকে হেডফোন বের করে যদি দেখেন সেটার তারগুলোয় প্যাঁচ লেগেছে, তাহলে অবশ্যই নিজেকে আর দোষ দেবেন না!

    জুতোর ফিতে কেন খুলে যায়?

    ফুটবল খেলায় দেখবেন মাঝে মাঝেই খেলোয়াড়রা তাদের জুতোর ফিতে ঠিক করছে। কারণ তাদের সব সময়ে দৌড়ের উপর থাকতে হয় এবং যার জন্য জুতোর ফিতের গিঁট একসময় আলগা হয়ে গিয়ে তা খুলে যায়। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়?

    ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের জুতোর ফিতে খুলে যায় প্রায়ই; Source: ©gettyimages

    বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর বের করতে পেরেছেন। গিঁট আলগা হয়ে হঠাৎ করে জুতোর ফিতে খুলে যাবার কারণ অনুসন্ধান করতে বিজ্ঞানীরা এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে একটি প্রামাণ্যচিত্রে রূপ দিয়েছিলেন, যা সম্ভব হয়েছিলো একটি ক্যামেরাতে স্লো-মোশন ভিডিও রেকর্ডের মাধ্যমে। তাদের মতে, জুতোর ফিতে খুলে যাওয়ার পেছনে একধরনের শক্তিশালী বল দায়ী।

    বাম পাশের মতো করে গিঁট দিলে ফিতে সহজে খুলবে না; Source: scontent.cdninstagram.com

    পরীক্ষাটি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রফেসর অলিভার ও’রেইলি। তিনি একটি উচ্চগতি সম্পন্ন ক্যামেরা ধার করেছিলেন। তারপর একজন দৌড়বিদকে জুতো পায়ে একটি ট্রেডমিলে দৌড়াতে বলেছিলেন। তিনি সেই দৌড়টা ভিডিও করেছেন। এ সম্পর্কে ও’রেইলি বলেন, “বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করার পরও কিছু ঘটলো না, তারপর হঠাৎ করেই একসময় ঘটে গেলো ব্যাপারটা! জুতোর ফিতে দুটো খুলে গেলো আপনা-আপনি। এতো দ্রুত ঘটে গেলো পুরো ব্যাপারটা যে আমরা এতে খুব অবাকই হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা আরও উৎসাহিত হলাম এর পেছনের কারণটা বের করার জন্য।”

    ফিতে বাঁধার প্রচলিত গিঁট; Source: dbstatic.no

    দৌড়ের ফলে কীভাবে জুতোর ফিতে খুলে গেলো সেটা বের করার জন্য তিনি একটি এক্সেলেরোমিটার ব্যবহার করলেন। সেটার সাহায্যে জুতোর উপর জি-ফোর্স বা মহাকর্ষীয় বল পরিমাপ করে দেখলেন। তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, জুতোর ফিতের সেই গিঁটের উপর যে মহাকর্ষীয় বল কাজ করছিলো, তা ৭ জি-এরও বেশি। ৭ জি কেমন শক্তিশালী বল সেটা বুঝাতে হলে পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিশালী রোলার-কোস্টার, জোহানসবার্গের ‘দ্য টাওয়ার অব টেরর’ এর কথা বলা যেতে পারে। যেটি সর্বোচ্চ ৬.৩ জি মহাকর্ষীয় বল সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ এর থেকে জুতোর ফিতের উপরে কাজ করা বলের পরিমাণই ছিল বেশি!

    এ থেকে বোঝা যায়, যত দৌড়ানো হয়, মহাকর্ষীয় বলের প্রভাব তত জুতোর ফিতে ও তার গিঁটের উপর গিয়ে পড়ে। এই প্রবল বলের প্রভাবে একসময় ফিতের গিঁট আলগা হয়ে যায়। পাশাপাশি, দৌড়াতে থাকলে ফিতে দু’টির মুক্ত প্রান্ত বার বার উপরে-নিচে এবং সামনে-পেছনে ঝাঁকি খেতে থাকে। মহাকর্ষীয় বল এবং এই ঝাঁকির ফলে ফিতে দুটির মুক্ত প্রান্তে একধরনের গতির সৃষ্টি হয়। এই গতিই ফিতে দুটির মাথায় এক অদৃশ্য হাতের কাজ করে, যা ফিতে দুটির মুক্ত প্রান্ত টেনে ধরে; ফলাফলস্বরূপ ফিতে দুটি পুরোপুরিভাবে খুলে যায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  10. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    আপনার রক্তের গ্রুপ অনাগত সন্তানের মৃত্যুশঙ্কার কারণ হতে পারে, কিন্তু কিভাবে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    মানুষের জন্মের এমন একটি পরিস্থিতি নিয়ে আজকের লেখায় আলোচনা করা হবে, যেটি জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলেও অনেকেই জানেন না। আমাদের দেশে বিয়ের সময় দুই পক্ষের অনেক কিছুই পরস্পরের বোঝাপড়ার বিষয় হয়ে থাকে, কিন্তু এই ব্যাপারটি উপেক্ষিত হয় সবসময়। শুরুতেই জানা যাক লেখার সেই মূল বিষয়টি- স্বামী-স্ত্রীবিস্তারিত পড়ুন

    মানুষের জন্মের এমন একটি পরিস্থিতি নিয়ে আজকের লেখায় আলোচনা করা হবে, যেটি জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলেও অনেকেই জানেন না। আমাদের দেশে বিয়ের সময় দুই পক্ষের অনেক কিছুই পরস্পরের বোঝাপড়ার বিষয় হয়ে থাকে, কিন্তু এই ব্যাপারটি উপেক্ষিত হয় সবসময়। শুরুতেই জানা যাক লেখার সেই মূল বিষয়টি- স্বামী-স্ত্রীর রক্তের একটি কম্বিনেশনে সন্তানের জন্ম হতে পারে মারাত্মক প্রাণঘাতী জন্ডিস রোগ নিয়ে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাকে বলা হয় ইরাইথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস (Erythroblastosis Fetalis)।

    মায়ের রক্ত নেগেটিভ আর গর্ভের সন্তানের রক্ত পজিটিভ; Source: http://www.medindia.net

    এই রোগটি সন্তানে কেবল তখনই হয়, যখন পিতার রক্ত হয় পজিটিভ গ্রুপের, আর মায়ের রক্ত নেগেটিভ গ্রুপের। Rh Factor-এর রক্তে উপস্থিতি-অনুপস্থিতির ভিত্তিতে এই পজিটিভ-নেগেটিভ নির্ণয় করা হয়ে থাকে। Rh Factor উপস্থিত থাকলে রক্তটি পজিটিভ গ্রুপের, অনুপস্থিত থাকলে রক্তটি নেগেটিভ। পজিটিভ রক্তবাহী স্বামী ও নেগেটিভ রক্তবাহী স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে সমস্যাটি দেখা দেয় না। তাছাড়া আমাদের দেশে নেগেটিভ রক্তবাহী খুবই কম, নারীর ক্ষেত্রে সেই হিসেব আরো কমে আসে। তাই না জেনে বিয়ে করলেও দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই পজিটিভ রক্তবাহী। আমাদের দেশের মানুষের জন্য বিষয়টি শাপে-বর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর যেহেতু সচরাচর চোখে পড়ে না মানুষের মাঝে রোগটি, আমরা রয়ে যাই অজ্ঞতার মাঝে। আমাদের আর জানা হয়ে উঠে না, আমাদেরই অবিবেচনায় সন্তানের শরীরে দেখা দিতে পারে প্রাণঘাতী এক রোগ, এই রোগ নিয়েই সে জন্মায়, আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যেখানে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। সন্তানের শরীরের পুরো রক্ত বদলে দিয়ে যদিও বাঁচানো সম্ভব, আপনিই ভেবে বলুন, এমন জটিল পদ্ধতি আপনার সন্তানের জন্য বেছে নেবেন কিনা। চিকিৎসা বিজ্ঞান চিকিৎসা বাতলে দিয়েছে, সমাধান দিয়েছে। তবে এই সমাধানের চেয়ে প্রতিরোধ করে নেওয়াটাই সর্বোত্তম।

    এই রোগের ব্যাপারটি বুঝতে হলে আপনাকে বুঝতে হবে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি বিষয়গুলো। এগুলো আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত। একজন মানুষের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী। আমরা প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ জীবাণু আর ধুলাবালি নাক-মুখ, হাত, খাবার, কিংবা পানির মাধ্যমে গ্রহণ করে থাকি, আমাদের এতদিন পর্যন্ত বাঁচা সম্ভব হতো না যদি শরীরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকতো। আমাদের যে সামান্য জ্বর হয়, যাকে আমরা রোগ বলে জানি, এটি আসলে রোগ নয়, রোগের লক্ষণ। শরীরের তৃতীয় এবং সর্বশেষ স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর একটি হলো এই জ্বর। জ্বর হলো শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে জীবাণুগুলো ধ্বংস করার একটি প্রক্রিয়া মাত্র। প্রতিরক্ষার ব্যাপারে বিস্তারিত বলা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। তবে আজকে যে রোগটি নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি তা পুরোপুরি বুঝতে হলে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি ব্যাপারগুলো নিয়ে ধারণা থাকা প্রয়োজন।

     

    এই রোগটি সন্তানে কেবল তখনই হয়, যখন পিতার রক্ত হয় পজিটিভ গ্রুপের, আর মায়ের রক্ত নেগেটিভ গ্রুপের; source: hotelwkrakowie.info

    শরীরের কোনো অংশ কিংবা অঙ্গ হলো শরীরের নিজস্ব সম্পত্তি। আপনি কারো শরীরের একটি কিডনি সরিয়ে অন্য কারো থেকে কিডনি নিয়ে বসিয়ে দিলেন। কিডনি তো কিডনি, তার তো আর বোধশক্তি নেই, সে কীভাবে বুঝবে তাকে অন্য শরীরে নেওয়া হয়েছে, সে তার মতো করে কাজ করে যাবে। কিন্তু কাজে বিঘ্ন ঘটাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি। দেহের T-lymphocyte তাকে শনাক্ত করে ফেলবে যে, এই বস্তু এই শরীরের নয়। তখন সেটি অ্যান্টিবডি সিস্টেমকে সজাগ করে তুলবে। অ্যান্টিবডি সিস্টেমকে নির্দেশ দেওয়াই আছে, কোনো বস্তুকে নিজস্ব সম্পত্তি বলে শনাক্ত না করা গেলেই সেটিকে ধ্বংস করে ফেলার উদ্যোগ নিতে হবে। শরীরে জীবাণু প্রবেশ করলে এভাবেই ব্যবস্থা নেয় অ্যান্টিবডি। এখন অ্যান্টিবডি কীভাবে বুঝবে যে, তার ভালোর জন্যেই খারাপ কিডনী পাল্টে ভালো কিডনী রাখা হয়েছে শরীরে, সে তো তার দায়িত্ব পালন করে যাবে।

    শরীরে বাইরে থেকে যা প্রবেশ করলো কিংবা প্রবেশ করানো হলো, জীবাণু হোক অথবা কোনো অঙ্গ, তারা হলো অ্যান্টিজেন। অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনকে শনাক্ত করা মাত্রই আর বাঁচতে দেবে না।

    এই অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডির সংঘর্ষেই তৈরি হয় Erythroblastosis Fetalis নামক রোগটি। বিষয়টি পুরোটাই রক্তের সাথে সম্পর্কিত।সন্তানের দেহে এই রোগ তৈরি হবে কিনা, তা নির্ভর করে পিতা-মাতার রক্তের গ্রুপের উপর। রক্তের গ্রুপগুলো তৈরি করে রক্তে অবস্থানকারী কিছু অ্যান্টিজেন। কথা উঠতে পারে যে, তাহলে এই অ্যান্টিজেনগুলো অবস্থান করে কীভাবে। সেটা অন্য ব্যাপার; সংক্ষেপে বলা যায়, শরীরের কিছু নিজস্ব অ্যান্টিজেন রয়েছে, যা মানুষে মানুষে ভিন্নরূপে থাকে, এগুলোকে শনাক্ত করে মনে রাখাটাও T-lymphocyte-এরই কাজ।

    মায়ের রক্তে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি গর্ভের সন্তানের রক্তে প্রবেশ; Source: citybeauty.info

    একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, পিতা-মাতার মাঝে যেকোনো একজন পজিটিভ রক্তবাহী হলেই সেটি সন্তানের রক্তে সঞ্চালিত হবে। এই কারণটিই সন্তানের রক্তে জটিলতা সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট। একজন নেগেটিভ রক্তবাহী নারীর অবশ্যই উচিৎ একজন নেগেটিভ রক্তবাহী পুরুষকে বিয়ে করা। কেবলমাত্র তখনই সন্তানের রক্ত সম্পর্কিত কোনো রোগের ঝুঁকি থাকে না। নেগেটিভ রক্তবাহী নারী যদি পজিটিভ রক্তবাহী পুরুষকে বিয়ে করে, তাহলে সন্তানের রক্তে জটিলতাটি দেখা দেয়। উল্টোটা যদি হয়, মানে পুরুষ নেগেটিভ, নারী পজিটিভ, তবে কোনো ভয় নেই। কেননা সন্তান থাকে মাতৃগর্ভে। সন্তানের রক্ত পজিটিভ গ্রুপের, মায়ের রক্তও পজিটিভ, এখানে অ্যান্টিবডি সিস্টেম কিছুই করতে পারবে না। কেননা সন্তানের রক্তে যেমন পজিটিভ সৃষ্টিকারী অ্যান্টিজেন রয়েছে, তা মায়ের রক্তেও রয়েছে। সুতরাং অ্যান্টিবডি সিস্টেম এখানে পার্থক্য করতে পারবে না।

    অ্যান্টিবডি সিস্টেম তখনই কার্যকর হয়, যখন সে কোনো অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি টের পায়। ধরা যাক, পিতার রক্ত পজিটিভ আর মায়ের রক্ত নেগেটিভ হওয়াতে সন্তানের রক্ত পজিটিভ। পজিটিভ রক্ত নিয়ে সন্তান মাতৃগর্ভে অবস্থান করে আছে। মায়ের সাথে সন্তানকে যুক্ত করে Placenta, Umbilical Cord দিয়ে। এই Umbilical Cord একপ্রান্তে মায়ের Placenta-তে আর অপরপ্রান্তে সন্তানের Umbilicus অর্থাৎ নাভীর সাথে যুক্ত থাকে। এটাই মাতৃগর্ভে আমাদের সবার পরিবহন ব্যবস্থা। মায়ের শরীর থেকে রক্ত-পুষ্টি সবই সন্তানে আসে এর দ্বারা। এখন এই অবস্থায় মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে আসা রক্ত যদি পুনরায় ফিরে যায় মায়ের প্রবাহে, তখনই বিপত্তি বাঁধে, এমনটা হয় সাধারণত সন্তান জন্মের সময়তেই।

    রক্তের লোহিত কণিকা মূলত প্রধান পরিবাহক রূপে কাজ করে থাকে; Source: wallpaperscraft.com

    প্রত্যেক জীবিত প্রাণীর শরীরে সবকিছু পরিবহনের দায়িত্ব পালন করে থাকে রক্ত। মা ও সন্তানে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের দু’জনের রক্ত। মায়ের রক্ত যখন নেগেটিভ আর সন্তানের রক্ত পজিটিভ, তখন মায়ের রক্ত সন্তানের রক্তে খাবার নিয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসবে এক নতুন অ্যান্টিজেনের তথ্য নিয়ে। অ্যান্টিবডি সিস্টেম কিন্তু এটা সহ্য করবে না। সেই অ্যান্টিজেনকে হত্যা করতে উপযুক্ত অ্যান্টিবডি তৈরিতে হাত দেবে। এটাই একমাত্র কারণ এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রথম সন্তানটির কোনো ক্ষতি না হওয়ার। কেননা পূর্ব থেকে অ্যান্টিবডি সিস্টেমের জানা নেই যে, এমন পজিটিভ কোনো অ্যান্টিজেন থাকতে পারে। সে অ্যান্টিজেনের সংস্পর্শে গিয়েই তবে চিনতে পারে, সাথে সাথে উপযুক্ত হত্যাকারী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শুরু করে। প্রথম সন্তানের অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করা কিছু সময়সাপেক্ষ ও ধীরগতির ব্যাপার। কিন্তু একই অবস্থায় দ্বিতীয় সন্তান হলে তখন কিন্তু আর অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের প্রয়োজন নেই, অ্যান্টিবডি আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা আছে।

    মানুষের এমন কিছু রোগ হয়, যেগুলো জীবনে একবার হলে আর হয় না। এমন অনেকগুলো রোগের নাম আপনারাই বলতে পারবেন। এই রোগগুলো শরীরে দেখা দিলে, অ্যান্টিবডি সিস্টেম উপযুক্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করে সেই রোগগুলোকে প্রতিহত করে। সেই সাথে রোগসৃষ্টিকারী জীবাণুগুলোকেও চিনে রাখে ভালোমতো। পরের বার এদের উপস্থিতি শরীর টের পেলেই ধ্বংস করে দেয়, কারণ অ্যান্টিবডি আগে থেকেই যে তৈরি হয়ে আছে।

    প্রথম সন্তান গর্ভে থাকাকালীন মায়ের রক্তে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, সেই অ্যান্টিবডি মায়ের রক্ত হয়ে দ্বিতীয় রক্তে প্রবেশ করছে; Source: nursetecmilenio.blogspot.com

    যে রোগটি নিয়ে আজকের লেখা, ফিরে আসি সেটির ব্যাপারে। রোগটি মূলত নবজাতকের দেহে জন্ডিস আর অ্যানিমিয়ার সংমিশ্রণ। মানুষের শরীরের রক্তে লোহিত কণিকা রয়েছে, এগুলোর কারণেই রক্ত লাল দেখায়। লোহিত কণিকা যদি পরিমাণে স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, তখন তাকে অ্যানিমিয়া বলা হয়। ইরাইথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিসের ক্ষেত্রেও লোহিত কণিকা কম থাকে। মা-সন্তানের পজিটিভ-নেগেটিভ জটিলতায় সন্তানের রক্তের লোহিত কণিকাগুলো ভাঙতে শুরু করে। লোহিত কণিকার ভেতর হিমোগ্লোবিন অবস্থান করে। হিমোগ্লোবিনগুলো মুক্ত হয়েই বিলিরুবিনে পরিবর্তিত হয়ে যায়। আর এই বিলিরুবিনের উপস্থিতি কীভাবে বোঝা যায়, সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই আপনাদের জানা আছে। বিলিরুবিনের রং হলুদ, তাই এটি ত্বকের নিচে যখন জমা হয়, ত্বক কিংবা চোখ হলুদ দেখি আমরা। বিলিরুবিনের উপস্থিতিতে হলুদ রঙের আবির্ভাবই কিন্তু জন্ডিস রোগ। মা-বাবার রক্তসংক্রান্ত জটিলতায় সন্তানটি মারাত্মক প্রাণঘাতী জন্ডিস রোগ নিয়ে জন্ম নেয় এভাবে। এই রোগ হলে অধিকাংশ সময়েই বাচ্চাকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। যদি সন্তান মাতৃগর্ভে থাকাকালীন টের পাওয়া যায় সন্তানে জন্ডিসের আবির্ভাব ঘটেছে, তখন বাচ্চাটিকে নির্দিষ্ট সময়ের যতটুকু পূর্বে সম্ভব ডেলিভারির ব্যবস্থা করা হয়, জন্মের পর তাকে বাঁচাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাতৃগর্ভে অবস্থানকারী একটি সন্তানের Viable Age হলো আটাশ সপ্তাহ। অর্থাৎ আটাশ সপ্তাহের পূর্বে সন্তান জন্মালে সেই সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।

    গর্ভবতী অবস্থায় যদি একজন নেগেটিভ রক্তবাহী নারী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, চিকিৎসক প্রথমেই রক্ত পরীক্ষা করতে চাইবেন। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে, পূর্ববর্তী সন্তান জন্মদানের কারণে রক্তে অ্যান্টি-Rh অ্যান্টিবডি রয়েছে কিনা। নারীর রক্তে যদি চিকিৎসক এই অ্যান্টিবডি খুঁজে পান, তবে তিনি বুঝে নেবেন, উনার বর্তমান সন্তান মৃত্যুঝুঁকির মাঝে রয়েছে, অতিসত্ত্বর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মাতৃগর্ভে অবস্থানকারী সন্তানকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফিটাস বলা হয়। ফিটাসের আটাশ সপ্তাহ পূর্ণ হলে, মায়ের রক্তে Rh Immunoglobulin ইনজেকশন দেয়া হয়। মায়ের শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টি-Rh-কে প্রতিহত করে এই ইনজেকশন। সন্তান জন্মের পর ৭২ ঘণ্টার মাঝে আবারো এই ইনজেকশন প্রদান করা হয়, এটি দেওয়া হয় নিশ্চিতকারকরূপে। কারণ সন্তান জন্মদানের সময় Umbilical Cord কাটার কারণে রক্তক্ষরণ হয়, তখন যেন মায়ের রক্তে অ্যান্টিবডি তৈরি না হতে পারে তাই ইনজেকশন আবার দেওয়া হয়।

    ইরাইথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস এর লক্ষণ; source: medindia.net

    আর একটি ফিটাসের যদি Viable Age এর আগেই অ্যানিমিয়া দেখা দেয়, তখন ফিটাসের শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা হয়। হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি এমন প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো গঠিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা হয়। এগুলো গঠিত হলেই ফিটাসের নির্দিষ্ট সময় পূর্বেই ডেলিভারি করা হয়।

    সন্তানকে বাঁচাতে সর্বশেষ যে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তা হলো শরীরের রক্ত পরিবর্তন। আগেই বলা হয়েছে, প্রথম সন্তানটি কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয় না এক্ষেত্রে। দ্বিতীয় সন্তানটি যদি প্রচণ্ড মাত্রায় জন্ডিস নিয়ে জন্মায়, পুরো শরীর হলুদ হয়ে থাকবে তার, দেখেই বোঝা যাবে। সেই সন্তানের রক্ত পজিটিভ গ্রুপের, প্রতিনিয়ত লোহিত কণিকা ভেঙে যাচ্ছি অ্যান্টিবডির উপস্থিতিতে। এমতাবস্থায় শিশুটিকে বাঁচাতে এক জটিল পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। শরীর সমস্ত রক্ত বের করে নেগেটিভ রক্ত দিয়ে পূর্ণ করা হয়; তবু যদি বাঁচানো যায়। সম্পূর্ণ রক্ত একেবারে বের করা হয় না, অল্প অল্প রক্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন করা হয়। এছাড়াও বেশ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়ে থাকে।

    দ্বিতীয় সন্তানটি যদি প্রচণ্ড মাত্রায় জন্ডিস নিয়ে জন্মাতে পারে; source: citybeauty.info

    মায়ের শরীরে যদি একবার অ্যান্টি-Rh উৎপন্ন হয়ে যায়, তাহলে Rh Immunoglobulin ইনজেকশন কোনো কাজে আসবে না। এটাই প্রথম চিকিৎসা, এর মাধ্যমে প্রতিহত করা মঙ্গলজনক। তাই স্বামী-স্ত্রীর রক্ত যদি এই পজিটিভ-নেগেটিভ কম্বিনেশনের হয়ে থাকে, তবে প্রথম থেকেই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিন।

    দিন যতই যাবে, বিজ্ঞান নিত্য-নতুন পদ্ধতি উপহার দেবে আমাদের। একসময় এর সমাধান ছিলো না, সন্তান তীব্র জন্ডিসের কারণে জন্মের পর পরই মারা যেত কিংবা মায়ের গর্ভপাত হয়ে যেত। এখন সমাধান এসেছে এই জটিল রোগের। বলছি না যে, সমাধানগুলো কার্যকর নয়, যথেষ্ট কার্যকর। তবু ঝুঁকি ও কৃত্রিমতা থেকে বেরিয়ে এসে সমস্যাটি প্রতিরোধ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  11. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    অনুশোচনায় ভোগা আবিষ্কারকের তালিকায় কার কার নাম রয়েছে? কেনইবা তারা অনুশোচনায় ভুগেছেন সারাজীবন?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে
    উত্তরটি এডিট করা হয়েছে।

    মানুষ নিত্যনতুন সমস্যার সমাধানের জন্য প্রতিনিয়তই নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করে চলছে। ছোটখাট আবিষ্কার থেকে বড় বড় আবিষ্কারগুলোও মানুষের জীবনযাত্রা করে তুলছে আরো সহজ। ক্ষুদ্র সেফটি পিনও আজকাল জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ। আবিষ্কারকদেরও তাই স্মরণ করা হয় শ্রদ্ধাভরে। তবে কিছু কিছু আবিষ্কারক নিজেদের আবিষ্কার নবিস্তারিত পড়ুন

    মানুষ নিত্যনতুন সমস্যার সমাধানের জন্য প্রতিনিয়তই নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করে চলছে। ছোটখাট আবিষ্কার থেকে বড় বড় আবিষ্কারগুলোও মানুষের জীবনযাত্রা করে তুলছে আরো সহজ। ক্ষুদ্র সেফটি পিনও আজকাল জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ। আবিষ্কারকদেরও তাই স্মরণ করা হয় শ্রদ্ধাভরে।

    তবে কিছু কিছু আবিষ্কারক নিজেদের আবিষ্কার নিয়ে ভুগেছেন হতাশায়। তাদের মতে, সেগুলো আবিষ্কার করাই ছিলো তাদের ভুল কাজ। আজ আমরা জানবো এমন সব আবিষ্কারের কথা, যেগুলোর জন্য পরবর্তীতে অনুতাপ করে গেছেন তারা।

    ইথান জুকারম্যান – পপ আপ

    এমআইটি’র অধ্যাপক ইথান জুকারম্যান তরুণ বয়সেই কোডিংয়ের উপর দক্ষ ছিলেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ট্রাইপড ডট কম নামে এক ইন্টারনেট স্টার্ট আপের সাথে কাজ শুরু করেন তিনি।

    ১৯৯৬ সালে জুকারম্যানকে নতুনভাবে সাইটে বিজ্ঞাপন দেখানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর তখনই তিনি তৈরি করে বসেন পপ আপ অ্যাডস। পপ আপ এর আভিধানিক অর্থ হছে আকস্মিক বা হঠাৎ দৃশ্যমান। পপ আপ অ্যাডগুলো যেকোনো মূহুর্তে আপনার ব্রাউজকৃত সাইটে অনুমতি ছাড়া চলে আসবে। আর তাতে করেই মানুষের বিরক্তির উদ্রেক হয়। বেশিরভাগ মানুষই পপ আপ অ্যাডে নিজেদের বিরক্তির কথা জানান। সেই পরিপেক্ষিতে অপেরা মিনি সর্বপ্রথম পপ আপ অ্যাড ব্লক করার অপশন চালু করে। পরবর্তীতে মজিলা ফায়ারফক্স ও অন্যান্য ব্রাউজারগুলোতেও পপ আপ অ্যাড ব্লক করার সুবিধা যুক্ত করা হয়।

    অবশ্য ইথান জুকারম্যান পরবর্তীতে নিজেই পপ আপ অ্যাড আবিষ্কারের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার কোডিংয়ের উদ্দেশ্য ছিলো ভিন্ন। কিন্তু শেষপর্যন্ত এভাবে ব্যাপারটা শেষ হওয়াও তিনি সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    মানুষের বিরক্তির উদ্রেক করা পপ আপ অ্যাডস; Image Source: The Times

    ওয়েলি কনরন – ল্যাব্রাডুডল

    অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল গাইড ডগ অ্যাসোসিয়েশন কুকুর ছানার বেড়ে তোলার জন্য এক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন ওয়েলি কনরন। ১৯৮০ সালে কনরনকে একজন অন্ধ মহিলাকে গাইড করানোর জন্য একটি নন শেডিং কুকুরছানার নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কনরন একটি গোল্ডেন ল্যাব্রাডরের সাথে একটি পোডল কুকুর ছানার সংকরায়নে ল্যাব্রাডুডল নামে নতুন এক প্রজাতির কুকুর ছানার আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ল্যাব্রাডুডল নামে নতুন এই প্রজাতির এই কুকুর হয়ে ওঠে সবচেয়ে আকাঙ্খিত কুকুর ছানা। আপনি হয়তো ভাবছেন, এতে কনরন অনেক খুশি হয়েছিলেন। আদতে মোটেও তা নয়।

    তার দেখাদেখি অন্য অনেকেই নতুন প্রজাতির কুকুর ছানা আবিষ্কারের নেশায় সব ধরনের প্রজাতির সংকরায়ণ শুরু করে। গোল্ডেনডুডল থেকে শুরু করে রোডলস, শিফুস ও আরো নানা জাতের হাইব্রিড কুকুরের উৎপত্তি হয়। যার ফলে নতুন প্রজাতির কুকুরগুলো বেশিরভাগই বিভিন্ন দৈহিক সমস্যা নিয়ে জন্মাতে শুরু করে।

    এই প্রসঙ্গে পরে কনরন বলেছেন, তিনি একটি প্যান্ডোরার বক্স খুলেছেন। আর শত শত মানুষ টাকার লোভে নানা প্রজাতির কুকুর ছানা সংকরায়ন শুরু করে। অথচ কেউই অক্ষম কুকুর জন্মানোর হারের দিকে কর্ণপাত করলো না। নিজের আবিষ্কার নিয়ে বাকি সময় ধরে অনুতাপই করে গেছেন কনরন।

    সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ল্যাব্রাডুডল কুকুর ছানা; Image Source: Wagberg

    আনা জারভিস – মাদার্স ডে

    উনিশ শতকের দিকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে বসবাসরত আনা জারভিস নামে এক ভদ্রমহিলা ‘মাদার্স ডে ওয়ার্কস ক্লাব’ নামে একটি সংঘ গড়ে তোলেন। সংঘটির দায়িত্ব ছিলো সন্তানদের কীভাবে দেখভাল করতে হবে তা শিখিয়ে দেওয়া। পরবর্তীতে এই সংঘটির দ্বারাই সূচিত হয় মাদার্স ডে পালন করার প্রথা।

    ১৯০৫ সালে আনা জারভিসের মায়ের মৃত্যুর পর তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপিত করেন। ১৯০৮ সালের ১০ মে আনা বিশেষভাবে তার মাকে স্মরণ করার জন্যে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার চার্চে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। ১০ মে-কে সরকারিভাবে মাদার্স ডে হিসেবে পালন করার জন্য ছুটিরও আবেদন করেন তিনি। ১৯১৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মাদার্স ডের জন্য সরকারি ছুটির ঘোষণা করেন।

    সারাজীবন ক্যালেন্ডারে মাদার্স ডে-কে স্থান দেওয়ার জন্য লড়ে যাওয়া আনা জারভিস কিছুদিন পরই বেঁকে বসেন। তিনি চেয়েছিলেন মাদার্স ডে পালিত হবে পরিবার সহ ঘরোয়াভাবে। কিন্তু ক্রমেই পুরো দিনটি হয়ে ওঠে বাণিজ্যিক। সবাই ফুল কিংবা উইশকার্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তিনি লোকজনকে এসব কিনতে নিষেধ করেন। কিন্তু সময়ের সাথে ব্যাপারটা হয়ে ওঠে আরো বাণিজ্যিক। ১৯২০ সালে তাই আবার সোচ্চার হয়ে ওঠেন জারভিস। এবার ঠিক উল্টো কারণে। আমেরিকান ক্যালেন্ডার থেকে মাদার্স ডে বাদ দেওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করেন তিনি। অবশেষে তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে ছুটির দিনটি উঠিয়ে নেওয়া হলেও মাদার্স ডে এখনো বিশ্বজুড়ে আড়ম্বরের সাথেই পালিত হয়।

    পুরো বিশ্বজুড়ে বেশ আড়ম্বরের সাথেই পালিত হয় মা দিবস; Image Source: India .com

    মিখাইল কালাশনিকভ – একে ৪৭

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মারণাস্ত্রের দিক দিয়ে জার্মানদের থেকে বেশ পিছিয়ে ছিলো রাশিয়ানরা। মিখাইল কালাশনিকভ নামে এক লোক, যিনি কি না ট্যাংক ইউনিটে কাজ করতেন, এক নতুন উদ্ভাবনী ক্ষমতা নিয়ে আবির্ভূত হন। ইতিমধ্যেই ট্যাংকের উন্নতি সাধন করে নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতার জানান দেন মিখাইল।

    নাৎসি বাহিনীর সাথে পাল্লা দেওয়ার জন্য মিখাইল তৈরি করেন নতুন এক ধরনের মারণাস্ত্র। স্বয়ংক্রিয় সেই অস্ত্রটি টেকসই এবং হালকা হওয়ায় ক্রমেই তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একে ৪৭ নামের এই অস্ত্রটি হয়ে ওঠে সন্ত্রাসীদের প্রধান হাতিয়ার।

    পরবর্তীতে নিজের এই আবিষ্কারের জন্য অনুতাপে ভোগেন মিখাইল। দ্যা গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিখাইল কালাশনিকভ বলেন, তিনি এমন যন্ত্র আবিষ্কারে খুশি হতেন যা লোকজন যুদ্ধে ব্যবহার করার পর প্রয়োজনে চাষাবাদেও ব্যবহার করতে পারতো।

    নিজের আবিষ্কার হাতে কালাশনিকভ; Image Source: Business Insider

    স্কট ফ্যালমান – ইমোটিকন

    আজকাল অনলাইন চ্যাটিংয়ে ইমোটিকন হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় একটি বিষয়। মানুষ এখন শব্দের চেয়ে সুন্দর একটি ইমোজি ব্যবহারকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। আর এই বহুল ব্যবহৃত ইমোজির উদ্ভাবক স্কট ফ্যালমান। তবে হঠাৎ করে প্রচুর জনপ্রিয়তা পাওয়া এই ইমোটিকন আবিষ্কার করে মোটেই খুশি নন এই ভদ্রলোক।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নিজেকে তার মাঝে মাঝে ডক্টর ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মতো মনে হয়। কিছু জায়গায় কথা বলা প্রয়োজন। কিন্তু মানুষ ইমোজি ব্যবহারে বেশিই আসক্ত হয়ে পড়েছে। যার জন্য নিজের আবিষ্কার নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন ফ্যালমান।

    ইমোটিকনের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে; Image Source: Wall Street Journal

    অ্যালবার্ট আইনস্টাইন – পারমাণবিক বোম

    পারমাণবিক বোমের সরাসরি আবিষ্কারক না হলেও স্বনামধন্য বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের বিখ্যাত সুত্র E = mc^2 এর উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে ভয়াবহ এটি। নিজের আবিষ্কারে প্রথমে খুশিই ছিলেন আইনস্টাইন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা তাকে মর্মাহত করে। বিশেষ করে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমটির বিস্ফোরণ পৃথিবীর অন্যান্য মানুষের মতো আইনস্টাইনকেও হতভম্ব করে দেয়।

    নিজের এই আবিষ্কার নিয়ে পরবর্তীতে অনুতাপও করেন বিংশ শতাব্দীর এই শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। ১৯৪৭ সালে নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারমাণবিক বোমের এই ভয়াবহতা আগে টের পেলে কখনোই এমন কিছু আবিষ্কার করতেন না তিনি।

    হিরোশিমাতে পারমাণবিক বোমা হামলার ভয়াবহতা; Image Source: Getty Image

    রবার্ট ওপেনহেইমার: পারমাণবিক বোমা আবিষ্কারে যার অন্যতম অবদান ছিল

    জে. রবার্ট ওপেনহেইমারকে বলা হয় ‘দ্য ফাদার অফ এটমিক বোম্ব’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ‘লস এলামস ল্যাব‘ এর পরিচালক ছিলেন। সে সময়ে এক দেশ আরেক দেশের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত ছিল এবং প্রত্যেকদিন প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছিলো। নিজেদের এবং দেশের নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব তৈরি করতে তারা আইনস্টাইনের ফর্মুলা ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিলেন। তারা ভেবেছিলেন এমন আবিষ্কারের ফলে হয়তো এক দেশ আরেক দেশকে আক্রমণ করার সাহস পাবে না।

    রবার্ট ওপেনহেইমার; Source: media.ws.irib.ir
    কিন্তু তাদের অনুশোচনার শেষ রইলো না যখন তারা দেখলেন তাদের এই বোমাটিকেই বরং ধ্বংসাত্মক কাজে জাপানে ব্যবহার করা হলো। লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেলো। তাই ওপেনহেইমার তার জীবনের শেষকালে অনুতাপ করে বলেছিলেন, যুদ্ধ তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি ভোতা করে দিয়েছিলো। তা না হলে এমন নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর বোমা বানানোর মত ভুল তারা কীভাবে করলেন!

    ডং গুয়েন: ফ্ল্যাপি বার্ড গেমের নির্মাতা

    চলুন এবার একটু কম গুরুতর বিষয়ের দিকে যাওয়া যাক। কয়েক বছর আগেই ইন্টারনেট জগতে এক ছোট্ট গেমের আগমন ঘটে যা পুরো বিশ্বকেই প্রায় গেমটির মাঝে আসক্ত করে ফেলে। গেমটির নাম ‘Flappy Bird’। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো ডং গুয়েন তার সৃষ্ট গেমটির বিশাল জনপ্রিয়তার জন্য উল্টো একেই ঘৃণা করা শুরু করেন। যেখানে অন্যান্য নির্মাতারা তাদের সৃষ্ট পণ্য জনপ্রিয় হলে সেটা উপভোগ করেন; গুয়েন ছিলেন তার একদম উল্টো।

    গুয়েন এবং ফ্ল্যাপি বার্ড; Source: static.standard.co.uk
    এমনকি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় গেমটি প্রতিদিন প্রায় ৫০,০০০ ডলার করেও আয় করছিলো, যা ছিল একজন ছোট এবং স্বাধীন গেম ডেভেলপারের জন্য বিরাট কিছু। তবুও তিনি গেমটি তৈরির জন্য নিজের প্রতিই ছিলেন বিরক্ত। কারণ ফ্ল্যাপি বার্ডের জনপ্রিয়তার জন্য তাকে সবাই আলাদা করে চেনা শুরু করে, বিভিন্ন মিডিয়া তার পেছনে ছুটতে শুরু করে। কিন্তু তিনি তার সরল সোজা জীবনকেই বেশি পছন্দ করতেন। তিনি অন্যদের মনোযোগ নিজের প্রতি টেনে আনতে চাননি। কিন্তু গেমটির জনপ্রিয়তা তার স্বাভাবিক জীবনযাপনকে শুধু ব্যাহতই করছিলো।

    কামরান লোমান: পিপার স্প্রের উদ্ভাবক

    (বামে) কামরান লোমান; Source: harrywalker.com

    কামরান লোমান আরেকজন ব্যক্তি যিনি তার উদ্ভাবিত পিপার স্প্রের অপব্যবহারে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি FBI এ কর্মরত থাকা অবস্থায় এই পিপার স্প্রের আবিষ্কারে মূল ভূমিকা রাখেন। সাময়িকভাবে কোনো দুষ্কৃতিকারীকে অকেজো এবং অন্ধ করে দেওয়ার জন্যই এটি আবিষ্কার করা হয়েছিল। পিপার স্প্রে প্রয়োগে প্রথমে ব্যক্তির চোখে প্রচণ্ড জ্বালা করে এবং পরে চোখ দিয়ে অনর্গল পানি পড়া শুরু হয়। ফলে যে কেউ নিজের আত্মরক্ষা করার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যেতে পারে।

    পুলিশের পিপার স্প্রের যাচ্ছেতাই ব্যবহার; Source: images.vice.com
     

    লোমান এমনকি একটি গাইডলাইনও লিখেছিলেন কীভাবে পিপার স্প্রে ব্যবহার করা উচিত। কারণ কিছু পরিস্থিতিতে এর প্রতিক্রিয়া বিপদজনকও হতে পারে। কিন্তু দেখা গেলো মানুষের থেকে পুলিশই পিপার স্প্রের বেশি অপব্যবহার করছে। শুধু সন্ত্রাসীদের কাবু করার ক্ষেত্রেই নয়, তারা বিভিন্ন মিছিল, মিটিং, বিভিন্ন প্রকারের আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতেও এর যাচ্ছেতাই ব্যবহার করছে। গাইডলাইন অনুসরণ না করেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে অনেকের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আরো ভয়াবহ। আবার অনেক সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারীরাও এটি পথচারীদের উপর ব্যবহার করা শুরু করে। ফলে লোমান মনে করেন তার পিপার স্প্রে আবিষ্কার করাটাই একটি ভুল পদক্ষেপ ছিল।

    আলফ্রেড নোবেল: ডিনামাইটের আবিষ্কারক


    আলফ্রেড নোবেল; Source: raikfcquaxqncofqfm.stackpathdns.com
    আলফ্রেড নোবেল ছিলেন মূলত একজন শিল্পপতি, প্রকৌশলী এবং আবিষ্কারক। ১৮৬০ সালে তিনি পাথর ভাঙার সহজ উপায় খুঁজতে গিয়ে নাইট্রো-গ্লিসারিনের সাথে সিলিকার মিশ্রণে একধরনের উদ্বায়ী পেস্ট তৈরি করেন যা ডিনামাইট নামে পরিচিত হয়। প্রাথমিকভাবে তার উদ্দেশ্য সফল হলেও পরবর্তীতে লক্ষ্য করে দেখলেন, যে কাজের জন্য তিনি ডিনামাইট আবিষ্কার করেছিলেন সে কাজের পরিবর্তে মানুষ বরং অপর মানুষকে পঙ্গু এবং হত্যা করার জন্যই তা বেশি ব্যবহার করছে। এসব দেখে তিনি খুবই ব্যথিত হন এবং ডিনামাইট আবিষ্কারের জন্য অনুতপ্ত হন।

    ডিনামাইট; Source: cdn-a.william-reed.com
    বিশ্বের জন্য ভাল কিছু করে যাবার তাগিদ থেকে তিনি তার দলিলে বলে যান, পুরো বিশ্বের কল্যাণে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রাখবে তাদেরকে যেন তার অধিকাংশ সম্পদ থেকে পুরষ্কৃত করা হয়। ফলে বর্তমানে তার ‘নোবেল অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন’ থেকে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানসূচক নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়। আলফ্রেড নোবেল বেঁচে থাকলে হয়তো দেখতে পেতেন কীভাবে নিজের সেই অনুশোচনাকে তিনি মানবজাতির জন্য এক বিশেষ সম্মান ও মর্যাদায় রূপান্তরিত করতে পেরেছেন।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  12. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    বর্ণালীবীক্ষণ’ বা Spectroscope কি ? এটা কি কাজে ব্যবহৃত হয়?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বা উদ্ভাবনগুলোর তালিকা করলে তার মাঝে অবশ্যই রাখতে হবে ‘বর্ণালীবীক্ষণ’ বা Spectroscope নামে একটি যন্ত্রকে। চাকা, প্রিন্টিং প্রেস, টেলিফোন, কম্পিউটার সহ অন্যান্য পরিচিত জিনিসের পাশে স্থান করে নেবে এটি। মানব সভ্যতার প্রেক্ষাপটে যন্ত্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানুষের কাবিস্তারিত পড়ুন

    পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বা উদ্ভাবনগুলোর তালিকা করলে তার মাঝে অবশ্যই রাখতে হবে ‘বর্ণালীবীক্ষণ’ বা Spectroscope নামে একটি যন্ত্রকে। চাকা, প্রিন্টিং প্রেস, টেলিফোন, কম্পিউটার সহ অন্যান্য পরিচিত জিনিসের পাশে স্থান করে নেবে এটি। মানব সভ্যতার প্রেক্ষাপটে যন্ত্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানুষের কাছে বেশি পরিচিত নয়। গণহারে মানুষ এই যন্ত্রটিকে ব্যবহার করে না বলে অনেকেই এর গুরুত্ব নিয়ে ভাবে না। কেন এটি সেরা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার-উদ্ভাবনের মাঝে থাকবে, তা এই লেখাটিতে পরিষ্কার হবে।

    রংধনু ও লাল সরণ

    বর্ণালীবীক্ষণকে বলা যায় এক প্রকার রংধনু তৈরি করার যন্ত্র। দূরবর্তী নক্ষত্র বা গ্যালাক্সি থেকে আগত আলোক রশ্মি এর ভেতরে প্রবেশ করলে এটি ঐ আলোকে বিস্তৃত বর্ণালীতে রূপান্তর করে দেয়। অনেকটা প্রিজমের মাধ্যমে সাদা আলো থেকে সাত রংয়ের আলোতে বিশ্লিষ্ট হবার মতো। তবে বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রটি নিউটনের প্রিজম থেকে আরো বেশি বিস্তৃত ও পরিশীলিত। এটি ব্যবহার করে এমনকি দূর-নক্ষত্রের আলো নিয়ে সূক্ষ ও সঠিক পরিমাপ করা যায়।

    একটি বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্র। ছবি: ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো

    কীসের পরিমাপ? রংধনু আর বর্ণালীতে আবার মাপামাপির কী আছে? এখান থেকেই মজার জিনিসটা শুরু হয়। ভিন্ন ভিন্ন নক্ষত্র থেকে আসা আলো ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষিতে, ভিন্ন ভিন্ন বর্ণালী তৈরি করে। বর্ণালীর এই বিষয়গুলো নক্ষত্র সম্পর্কে আমাদেরকে অনেক তথ্য প্রদান করে।

    সচরাচর আমরা যে রং দেখি তার বাইরে কি আরো রং থাকতে পারে? দূরের নক্ষত্রগুলো কি আমাদের পরিচিত কোনো রঙের চেয়ে ভিন্ন ও অচেনা কোনো রঙের হতে পারে? না, সাধারণ মানুষের ক্ষমতায় এমন দেখা সম্ভব নয়। চোখের পক্ষে যতটুকু দেখার সামর্থ্য আছে, তার বাইরে দেখা সম্ভব নয়। রংধনুর সাত রং বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল আমরা দেখতে পাই। এর বাইরেও অনেক বৈচিত্র্যময় রং দেখে থাকি, তবে এগুলো ভিন্ন কোনো রং নয়। তিনটি মৌলিক রংয়ের বিভিন্ন আনুপাতিক মিশ্রণের মাধ্যমে এরকম হাজার হাজার বৈচিত্র্যময় রং তৈরি করা যায়। জগতে যত ধরনের রং দেখি, তার সবই আসলে তিনটি মৌলিক রঙের বিভিন্ন আনুপাতিক সমাবেশ মাত্র। এমনকি রংধনুর অতিরিক্ত চারটি রংও এই তিন রং থেকে তৈরি করা যায়। মৌলিক রং তিনটি হচ্ছে লাল, নীল ও সবুজ।

    তিন মৌলিক রং লাল, নীল ও সবুজ (বড় বৃত্ত) এবং তাদের সমাবেশে তৈরি অন্যান্য রং (ছেদকৃত অংশ)। ছবি: স্টাডি ব্লু

    নক্ষত্রে আমরা ব্যতিক্রম কোনো রং দেখতে পাবো না, অথচ পূর্বে উল্লেখ করেছিলাম ভিন্ন ভিন্ন নক্ষত্র ভিন্ন ভিন্ন রংধনু-বর্ণালী প্রদান করে। তাহলে এই বাক্য দিয়ে কী বোঝানো হয়েছিল? নক্ষত্র থেকে আগত আলো যখন বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রের ভেতর দিয়ে বিশ্লিষ্ট হয় তখন বারকোডের (Barcode) মতো অনেকগুলো সরু লাইনের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন পণ্যের গায়ে পণ্যের পরিচিতি হিসেবে বারকোড ছাপানো থাকে। নক্ষত্রের আলো থেকে বিশ্লিষ্ট রেখা বর্ণালীকে আক্ষরিক অর্থেও ‘বারকোড’ বলা যায়। কারণ, বারকোড যেমন পণ্যের উৎপাদন, মেয়াদ, মূল্য, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে, তেমনই নক্ষত্রের আলোক বর্ণালী থেকেও নক্ষত্রের বয়স, গঠন, উপাদান ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

    বারকোড। ছবি: বারকোড গ্রাফিক্স

    এমন না যে শুধুমাত্র দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে আগত আলোক রশ্মিই বারকোড লাইন তৈরি করে, বিশেষ ক্ষেত্রে পৃথিবীতে উৎপন্ন আলোক রশ্মিও বারকোড লাইন তৈরি করতে পারে। সেই হিসেবে ল্যাবরেটরিতে এই আলোক রশ্মি বিশ্লেষণ করে আমরা কোনো অজানা পদার্থের পরিচয়ও বের করতে পারবো। এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বিভিন্ন অজানা পদার্থের পরিচয় বের করা হয়ও। যেমন, সোডিয়াম থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন আলোর বর্ণালীতে হলুদ রং বেশি প্রকট আকারে থাকে। সেই কারণে সোডিয়ামের আলো হলদেটে হয়ে থাকে।

    স্পেকট্রোস্কোপের বর্ণালী। ছবি: ই-মেইজ

    ঢাকার রাস্তায় রাতের বেলা ভ্রমণ করলে দেখা যাবে, অনেক স্থানে রাস্তা আলোকিত করে রেখেছে হলুদাভ একধরনের বাতি। কেউ যদি মাঝরাতে বিমানবন্দর থেকে রামপুরা যায়, তাহলে রাস্তা ফাঁকা পাবে। বাসে চড়লে একটার পর একটা হলুদ বাতি অতিক্রম করবে আর এর পেছনের বৈজ্ঞানিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবে। এই হলুদ বাতিগুলো মূলত সোডিয়াম বাষ্পের আলো প্রদান করে। অন্যান্য মৌল অন্য রংয়ের আলো প্রদান করে। মৌল ভেদে আলোর রংয়ের তারতম্য কেন ঘটে কিংবা বিশেষ উপায়ে এসব মৌল কেন বর্ণালী প্রদান করে তা আবার পদার্থবিজ্ঞানের আরেক গল্প।

    রাস্তায় ব্যবহার করা সোডিয়ামের আলোগুলো হলদেটে হয়ে থাকে। ছবি: নর্থ কোস্ট কারেন্ট

    প্রথম উদাহরণ হিসেবে হাইড্রোজেন বর্ণালীর দিকে খেয়াল করি। নিচের ছবিটি হাইড্রোজেনের বর্ণালী নির্দেশ করছে। এখান থেকে দেখা যাচ্ছে, হাইড্রোজেন চারটি রেখার সৃষ্টি করে। একটি বর্ণালীর বেগুনী অংশে, আরেকটি কালচে নীল অংশে, আরেকটি মলিন নীল অংশে এবং আরেকটি লাল অংশে।

    হাইড্রোজেন বর্ণালী। ছবি: ডেভ ম্যাককেইন

    বর্ণালীবীক্ষণ দিয়ে পরীক্ষা করলে কোন ধরনের বর্ণালী পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে উৎস কোন অবস্থায় আছে কিংবা কীসের সাথে সংযুক্ত আছে তার উপর। তবে এসব ছাপিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, নির্দিষ্ট কোনো মৌলের জন্য রেখাগুলো সবসময় একই অবস্থানে থাকে। রেখা রঙিন হোক আর কালো হোক, তার অবস্থান সবসময় বর্ণালীর একই অবস্থানে থাকে।

    বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে বসে সকল মৌলের বর্ণালী রেকর্ড করে রেখেছেন। তাই দূর নক্ষত্র থেকে আগত আলোক রশ্মির বর্ণালী বিশ্লেষণ করে এবং পরে তা রেকর্ড থেকে মিলিয়ে নিয়ে তারা বলে দিতে পারেন, নক্ষত্রটি কোন কোন উপাদান দিয়ে তৈরি।

    বিজ্ঞানীরা সকল মৌলের বর্ণালী নির্ণয় করে রেখেছেন। ছবি: জিওফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি

    তবে আপাত দৃষ্টিতে এখানে কিছু সমস্যার কথাও মনে হতে পারে। নক্ষত্র একাধিক মৌল দিয়ে গঠিত হতে পারে এবং এসব মৌল একসাথে তালগোল পাকিয়ে খিচুড়ি অবস্থা করে ফেলতে পারে। এমতাবস্থায় এদের থেকে আগত আলোক রশ্মি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে কিছু সমস্যা হবার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্র বিশেষ উপায়ে এদেরকে আলাদা করে নিতে পারে। ফলে বড় একটি সমস্যার একদম জলের মতো সহজ সমাধান আমরা পেয়ে যাই। স্বীকার না করে উপায় নেই যে, এটি খুবই চমৎকার একটি যন্ত্র!

    যে সকল নক্ষত্র আমরা দেখতে পাই, তাদের বেশিরভাগই আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত। রাতের আকাশে নক্ষত্রমণ্ডলীর বেশিরভাগই অবস্থিত আমাদের কাছাকাছিই অর্থাৎ আমাদের নিজেদের গ্যালাক্সিতে। অল্প কিছু উজ্জ্বল বস্তু দেখা যায়, যারা দূরের অন্য কোনো গ্যালাক্সিতে অবস্থিত। দূরের গ্যালাক্সির কোনো নক্ষত্রের সোডিয়াম বর্ণালী পরীক্ষা করে দেখলে অবাক করা কিছু পার্থক্য দেখা যাবে। নিচের ছবিটিতে তিনটি ভিন্ন স্থানের সোডিয়ামের বারকোড বর্ণালী দেখানো হয়েছে- উপরেরটি আমাদের পৃথিবীর, মাঝেরটি কাছের গ্যালাক্সির যেকোনো নক্ষত্রের এবং নিচেরটি দূরবর্তী নক্ষত্রের।

    তিনটি ভিন্ন অবস্থানে সোডিয়াম বর্ণালীর পার্থক্য। ছবি: ডেভ ম্যাককেইন

    উপরে পৃথিবীর বারকোডের সাথে নীচে দূরবর্তী নক্ষত্রের বারকোড তুলনা করলে তাদের অবস্থানের বেশ পার্থক্য দেখা যায়। অথচ উপরে বলা হয়েছিল বারকোডের অবস্থান সবসময় একই হবে। কিন্তু এখানে বারকোডের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন দেখাচ্ছে। এরকম হলে কীভাবে আমরা নিশ্চিত হবো যে, এগুলো আসলেই সোডিয়াম মৌলের বর্ণালী?

    এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার খেয়াল করতে হবে যে, বর্ণালীর রেখাগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব একই। দূরে সরলে সম্পূর্ণ প্যাটার্নটিই দূরে সরেছে, কিন্তু তাদের নিজেদের মধ্যবর্তী দূরত্ব আগের মতোই আছে। শুধু সোডিয়ামের বেলাতেই নয়, অন্যান্য মৌলের বেলাতেও এরকম হয়। দূরবর্তী নক্ষত্রের বেলায় সেসব মৌলের বর্ণালীর সবটাই দূরে সরে যায় কিন্তু তাদের নিজেদের মধ্যবর্তী দূরত্ব সবসময় ঠিকই থাকে। সেই হিসেবে বর্ণালীর রেখা বা বারকোডের মধ্যবর্তী দূরত্ব বিশ্লেষণ করেও কোনো অজানা মৌলের পরিচয় জানা সম্ভব।

    উপরের ছবিটির দিকে খেয়াল করলে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের দেখা পাওয়া যাবে। পৃথিবীর প্যাটার্নের নিচে, মাঝের প্যাটার্নটি আমাদের গ্যালাক্সির কাছের নক্ষত্রগুলোর। এই নক্ষত্রগুলো থেকে আগত বর্ণালীরেখা লাল রঙের দিকে সরে যাচ্ছে। যদিও কাছের নক্ষত্রগুলোর বর্ণালী লালের দিকে সরে যাবার পরিমাণ খুব বেশি নয়। অন্যদিকে দূরের নক্ষত্রগুলোর বর্ণালীও লালের দিকে সরে যাচ্ছে, আর এখানে সরে যাবার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।

    সোডিয়ামের পাশাপাশি অন্য কোনো মৌলকে নিয়ে বিশ্লেষণ করলেও একই ঘটনার দেখা পাওয়া যাবে। সকলেই লালের দিকে সরে যাবে। গ্যালাক্সি যত দূরে অবস্থিত হবে, তাদের বর্ণালী লালের দিকে সরে যাবার পরিমাণ তত বেশি হবে। নক্ষত্রের বর্ণালীরেখা লাল রঙের দিকে সরে যাবার এই ঘটনাকে বলা হয় ‘লাল সরণ’। একে Hubble Shift বা হাবল সরণও বলা হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবলের নামানুসারে এরকম নামকরণ করা হয়েছে। হাবলই দূরবর্তী নক্ষত্রের বেলায় প্রথম লাল সরণ আবিষ্কার করেছিলেন। বিভিন্ন গ্যালাক্সির অনেক বিখ্যাত ছবি হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে তোলা, হাবল টেলিস্কোপের নামকরণও করা হয়েছে এডউইন হাবলের নামানুসারে।

    এডউইন হাবল। ছবি: ই-মেইজ

    এই লাল সরণ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার সম্পর্কে আমাদেরকে ধারণা দেয়। ব্যাপারটি হচ্ছে বিগ ব্যাং। বিগ ব্যাংয়ের ফলে যে গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর দূরে সরে যাচ্ছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় লাল সরণ পর্যবেক্ষণ করে। গ্যালাক্সি যত দূরে অবস্থিত হবে, তার বর্ণালী লালের দিকে সরে যাবার পরিমাণও বেশি হবে। তাই কোনো গ্যালাক্সি যদি ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যেতে থাকে, তাহলে তার বর্ণালীও ধীরে ধীরে লালের দিকে সরে যেতে থাকবে। যদি কোনো গ্যালাক্সির বর্ণালী পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, এর বর্ণালী লালের দিকে সরে যাচ্ছে ধীরে ধীরে, তাহলে ধরে নিতে হবে যে এই গ্যালাক্সিটি দূরে সরে যাচ্ছে। বর্ণালী লালের দিকে যত দ্রুত অগ্রসর হয়, সেটি তত বেশি বেগে দূরে সরে যায়।

    বিজ্ঞানী এডউইন হাবল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখেছিলেন যে দূরবর্তী গ্যালাক্সির বর্ণালী লালের দিকে অগ্রসর হয়। গ্যালাক্সিগুলো যত দূরে অবস্থান করছে, লালের দিকে অগ্রসরের পরিমাণ তাদের তত বাড়ছে। তিনি ধরে নেন, যেহেতু লালের দিকে সরণ হচ্ছে, সেহেতু গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর দূরে সরে যাচ্ছে। এবং এটা হচ্ছে আনুপাতিক হারে। যেহেতু আনুপাতিক হারে সরে যাচ্ছে, তার মানে উল্টোদিকে গেলে এমন একটা সময়ের দেখা পাওয়া যাবে, যেখানে সমস্ত মহাবিশ্ব একত্রিত অবস্থায় ছিল। আর তাদের একত্র অবস্থা থেকে মহাবিশ্বের শুরু হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে।

    মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের চিন্তাধারাই পালটে দিয়েছিল এই আবিষ্কার। একই সাথে এ আবিস্কার মানুষের বাস্তবিক জগত এবং আত্মিক জগতেও অনেক প্রভাব রেখেছিল। আর অবশ্যই এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্র বা স্পেকট্রোস্কোপ, তাই চাকা, প্রিন্টিং প্রেস, টেলিফোন কিংবা কম্পিউটারের মতোই সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন বলা যায় এই যন্ত্রটিকে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  13. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    ‘পিংক মুন’ আসলে কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    আচ্ছা, ‘পিংক মুন’ বা গোলাপি চাঁদের নাম শুনেছেন কখনো? নাম শুনে কী মনে হয়? ব্লাড মুন যেভাবে নিজের নামের অর্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রক্তের মতো লাল রঙ নিয়ে আকাশে উদিত হয়, ঠিক তেমনি পিংক মুনও তার নামের সাথে মিল রেখে গোলাপি রঙ ছড়িয়ে উদিত হয়? সত্যি বলতে, পিংক মুনের সাথে ‘পিংক’ বা গোলাপি রঙের কোনো সম্পর্কইবিস্তারিত পড়ুন

    আচ্ছা, ‘পিংক মুন’ বা গোলাপি চাঁদের নাম শুনেছেন কখনো? নাম শুনে কী মনে হয়? ব্লাড মুন যেভাবে নিজের নামের অর্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রক্তের মতো লাল রঙ নিয়ে আকাশে উদিত হয়, ঠিক তেমনি পিংক মুনও তার নামের সাথে মিল রেখে গোলাপি রঙ ছড়িয়ে উদিত হয়?

    সত্যি বলতে, পিংক মুনের সাথে ‘পিংক’ বা গোলাপি রঙের কোনো সম্পর্কই নেই। একটি সাধারণ চাঁদ বা পূর্ণিমা দেখতে যেমন হয়, পিংক মুনও দেখতে ঠিক একই রকম। তবে নামের কারণ বা ভিন্নতা রয়েছে এই নাম দেওয়ার ইতিহাস বা তাৎপর্যের ক্ষেত্রে। এপ্রিলের পূর্ণিমাকেই বলা হয় ‘পিংক মুন’ বা ‘ফুল পিংক মুন’।

    এপ্রিলের পূর্ণিমাকেই বলা হয় ‘পিংক মুন’; Image source: narcity.com

    পিংক মুন নামটি যেভাবে এলো

    প্রাচীনকালে চন্দ্রপঞ্জিকা দেখেই মৌসুম বা মাস ঠিক করা হত। তখন সৌরপঞ্জিকার মতো স্থির কোনো পঞ্জিকা ছিল না যা দেখে সহজেই বারো মাসের হিসাব বোঝা যাবে।

    চন্দ্রপঞ্জিকা ২০১৯; Image source: vertex42.com
    পূর্ণিমা মানেই নতুন মাসের আগমন ধরে নেওয়া হত। সেই সময়ে জুলিয়ান বা গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা তারা অনুসরণ করতো না। এই ভিন্ন ভিন্ন পূর্ণিমার মাধ্যমেই তারা মাসের হিসাবটা করে নিত। যুগের পর যুগ ইউরোপ এবং আদি আমেরিকান আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো এই নিয়মই মেনে চলেছে। ইউরোপিয়ান বা স্থানীয় আমেরিকান জনগণ নিজেদের সুবিধার্থে প্রত্যেকটি পূর্ণিমার আলাদা আলাদা নামও নির্ধারণ করে দেয়। নামগুলো তারা উত্তর গোলার্ধে ঘটে যাওয়া সাধারণ ঘটনা বা কোনো মাসের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই ঠিক করা হয়। যেমন- জানুয়ারির ‘ফুল ওলফ মুন’, ফেব্রুয়ারির ‘ফুল স্নো মুন’, মার্চের ‘ফুল ওর্ম মুন’, এপ্রিলের ‘ফুল পিংক মুন’, মে মাসের ‘ফুল ফ্লাওয়ার মুন, জুনের ‘ফুল স্ট্রবেরি মুন’, জুলাইয়ের ‘ফুল বাক মুন’, আগস্টের ‘ফুল স্টার্জন মুন’, সেপ্টেম্বরের ‘ফুল কর্ন মুন’, অক্টোবরের ‘ফুল হান্টার্স মুন’, নভেম্বরের ‘ফুল বীবর মুন’ এবং ডিসেম্বেরের ‘ফুল কোল্ড মুন’। এগুলো ছাড়াও কোনো কোনো বছর ১৩টা ‘ফুল মুন’ বা পূর্ণিমা দেখা যায়। অতিরিক্ত একটি পূর্ণিমার নাম ‘ব্লু মুন’।

    কেন এই চাঁদকে ‘পিংক মুন’ বলা হয়?

    এপ্রিল মাসের পূর্ণিমাকে ‘পিংক মুন’ বলা হয়। তবে চাঁদটি দেখতে একদমই ‘পিংক’ বা ‘গোলাপি’ রঙের নয়। আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে হালকা হলুদ, কমলা, লাল বা সাদা হতে পারে।

    চাঁদটি দেখতে হালকা হলুদ, কমলা, লাল বা সাদা হতে পারে; Image source:wyso.org
    তবে গোলাপি কোনোভাবেই হবে না। নিতান্তই কাকতলীয় বিষয় হবে যদি কোনো বছর লাল এবং সাদা মিলে হালকা গোলাপি দেখায় এই ‘পিংক মুন’। স্বাভাবিক কারণেই তাহলে প্রশ্ন আসে- গোলাপি চাঁদ না হলে এর নাম ‘পিংক মুন’ হয় কেন? নামটি আসলে এই মাসের পারিপার্শ্বিক পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে আসে। বসন্তের এই সময়ে বিভিন্ন নতুন ও সুগন্ধি ফুলের আগমন ঘটে। এর মধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকায় ‘মস পিংক’ বা ‘ওয়াইল্ড গ্রাউন্ড ফ্লক্স’ ফুল ফোঁটা খুব সাধারণ একটি বিষয়। এটি আদি আমেরিকার একপ্রকার বন্য ফুল। সেকাল থেকে একাল পর্যন্ত প্রতি বছরই এ সময়ে এই ফুলে চারপাশের পরিবেশ ভরে ওঠে। আর এসব ফুলের গোলাপি রঙের আভা যেন এ সময়ে ভূমি থেকে আকাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।

    পিংক মুনের আধ্যাত্মিক অর্থ

    আধ্যাত্মিক অর্থে, পিংক মুন বা গোলাপি চাঁদ হলো পুনর্জাগরণ এবং নবজীবনের প্রতীক। মার্চের ফুল মুন বা পূর্ণিমাকে বলা হয় ফুল ওর্ম মুন। এটা হলো শীতের মৌসুমের শেষ পূর্ণিমা। একনাগাড়ে লম্বা সময়ের জন্য ঠাণ্ডা, বেরঙ, নীরস এবং করুণ শীতকালের কারণে পরিবেশটা কেমন জানি মরা মরা হয়ে যায়। ফলে এপ্রিল আসতে আসতে বসন্তের আগমন যে আনন্দ ও সৌন্দর্য আশেপাশের বাতাবরণে ছড়িয়ে দেয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই এপ্রিলের প্রথম পূর্ণিমা যে পরিবেশের নতুন জন্ম ও সৌন্দর্যের প্রতীক তা অনেকটা বোধগম্য। অনেকের বিশ্বাস, পিংক মুনের আলো সকলের শক্তি ও প্রাণ আবার ফিরিয়ে আনবে। পিংক মুন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবন হলো উত্থান-পতন, শীতযাপন এবং পুনর্জাগরণের একটি চক্র যা মৃত্যু অবধি চলতেই থাকে। যেমন- প্রতি বছর এই সময়ে গোলাপি রঙের ওয়াইল্ড গ্রাউন্ড ফ্লক্সের আগমন ঘটে এবং কিছু সময় পর তা চলে যায়। পরবর্তীতে নতুন রূপে ও নতুন সৌন্দর্যে আবার ফিরে আসে।

    ওয়াইল্ড গ্রাউন্ড ফ্লক্স; Image source:gardenia.net
    এই মুনের অন্য নামগুলো হলো স্প্রাউটিং গ্রাস মুন, হেয়ার মুন, ফিশ মুন ও এগ মুন। প্রত্যেকটি নামের পেছনেই এই মৌসুমের কোনো বৈশিষ্ট্যের ছাপ দেখা যায় । যেমন- এই সময়ে নতুন করে ঘাস গজানো শুরু করে। তাই এর নাম ‘স্প্রাউটিং গ্রাস মুন’। আরেক নাম ‘এগ মুন’, কারণ বসন্তে পাখিরা ডিম পাড়ে। ফিশ মুনও বলা হয়, কেননা মাছের ফলন এই মৌসুমে অধিক। খরগোশ এই ঋতুতেই সন্তান জন্ম দেয়। আর এজন্য এপ্রিলের পূর্ণিমাকে ‘হেয়ার মুন’ও বলা হয়। উল্লেখ্য যে, মে মাসের পূর্ণিমাকেও ‘হেয়ার মুন’ বলা হয়। তাছাড়া এপ্রিল মাসের এই প্রথম পূর্ণিমা যাজকীয় বা খ্রিস্টানদের পঞ্জিকায় ‘প্যাসচেল মুন’ নামেও পরিচিত। পিংক মুন খ্রিস্টানদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’র তারিখ নির্ধারণে সহায়তা করে বিধায় এর নাম ‘প্যাসচেল মুন’ দেওয়া হয়।

    পিংক মুন খ্রিস্টানদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’র তারিখ নির্ধারণে সহায়তা করে; Image source: visitrenotahoe.com
    এপ্রিলের পূর্ণিমার পর প্রথম যে রবিবার আসে সেই দিনই পালিত হয় ইস্টার সানডে। জ্যোতির্বিদরা বিশ্বাস করেন যে, প্রতিটি পূর্ণিমাই আমাদের উপর কোনো না কোনো প্রভাব ফেলে। সবসময় বিষয়টি আমরা বুঝতে না পারলেও প্রতিনিয়ত এরকমই হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। জ্যোতির্বিদ সিন্ডি ম্যাককিয়ান বলেন, “জ্যোতির্বিদ্যায় চাঁদ আমাদের অনুভূতি, চক্র, উর্বরতা এবং এরকম আরো কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে।” তিনি আরো বলেন, “এপ্রিলের পূর্ণিমা হলো উজ্জীবনের প্রতীক। এর প্রভাবে মানুষের মধ্যে স্থির অনুভূতি এবং আনন্দ পরিলক্ষিত হয়।” জ্যোতির্বিদ প্যাভলোভার মতে, “পিংক মুন আমাদের অনুভূতিকে মার্চের ফুল মুন থেকে অধিক প্রভাবিত করে। এ সময় সবকিছুতে একপ্রকার ভঙ্গুরতাও দেখা যায়, আবার একপ্রকার নতুনত্বও দেখা যায়। নতুন সম্পর্ক গড়ার এবং নতুন কোনো বিবর্তনও ঘটতে পারে এই সময়।” তার মতে, পিংক মুনের আলোর দরুণ সবকিছু একেবারে নতুন করে গড়তে শুরু করে।

    প্রতিটি পূর্ণিমাই কোনো না কোনো রাশিতে উদিত হয়। আর পিংক মুন বৃশ্চিক নক্ষত্রপুঞ্জে উদিত হয়। পূর্ণিমা সাধারণত কোনো কিছুর পরিপূর্ণতা লাভ করা বা পরিসমাপ্তি বোঝায়। আর বৃশ্চিক রাশির কথা বললে এই অর্থটি আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১২টি রাশিকে মোট চার ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- আগুন, মাটি, বায়ু এবং জল রাশি। এই বৃশ্চিক হলো জল রাশির অন্তর্ভুক্ত। তাই এটি স্বভাবতই জল রাশির সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো বহন করে। যথা- ইচ্ছাশক্তি, আত্মসংযম, অনুভূতির গভীরতা। অর্থাৎ এই বিষয়গুলো আমাদেরকে নির্দেশ করে যে মনের ভেতর যত দুঃখ বা অপ্রীতিকর ঘটনা চাপা পড়ে আছে তা ভুলে গিয়ে জীবনটাকে আবার নতুন করে শুরু করাই শ্রেয়। এপ্রিলের পূর্ণিমা যেন একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে যাওয়ার জন্যই বারবার পথপ্রদর্শন করে।

     ‘স্প্রিং ক্লিনিং’ বা বসন্তকালীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জীবনের আরম্ভ করা যায়; Image source: destorage.com
    বসন্তের আগমনে গাছপালার পাতা থেকে শুরু প্রায় সকল জীবজন্তুই নতুন করে নিজেদের জীবনটাকে সাজানো শুরু করে। আবার ‘পিংক’ বা গোলাপি রঙ হলো পুনর্জাগরণের রঙ। এসব কিছুর প্রেক্ষিতে বসন্তের এই ‘পিংক মুন’ও যে আমাদের নবজীবন শুরু করার দিকে যেতে বলে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যাপারটি যে শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক বা মনস্তাত্ত্বিক সেরকমও নয়। শুধু মনের মনের ময়লা দূর করার মধ্যেই ‘পিংক মুন’-এর ব্যাপারটি শেষ হয় না। ‘স্প্রিং ক্লিনিং’ বা বসন্তকালীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ঘরবাড়ি এবং আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রেখে নতুন এবং পরিচ্ছন্ন জীবনের আরম্ভ করা যায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  14. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    মানুষের মাথায় টাক পড়ার কারণ কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    দীঘল কালো চুল রমণীয় শোভার অলংকার হলেও ঘন চুলের আবেদন কিংবা প্রয়োজনীয়তা পুরুষদের নিকট কম নয় মোটেই। চুলের আবেদন ও প্রয়োজনীয়তা তারাও হাড়ে হাড়ে টের পান যখন মাথার ওপর দৃশ্যমান হয় আস্ত ফাঁকা ময়দান তথা আবির্ভাব হয় টাকের। ‘টেকো’ কিংবা ‘টাকলু’ উপাধি তো জোটেই, পাশাপাশি চুলবিহীন চেহারা ক্ষণে ক্ষণে ববিস্তারিত পড়ুন

    দীঘল কালো চুল রমণীয় শোভার অলংকার হলেও ঘন চুলের আবেদন কিংবা প্রয়োজনীয়তা পুরুষদের নিকট কম নয় মোটেই। চুলের আবেদন ও প্রয়োজনীয়তা তারাও হাড়ে হাড়ে টের পান যখন মাথার ওপর দৃশ্যমান হয় আস্ত ফাঁকা ময়দান তথা আবির্ভাব হয় টাকের। ‘টেকো’ কিংবা ‘টাকলু’ উপাধি তো জোটেই, পাশাপাশি চুলবিহীন চেহারা ক্ষণে ক্ষণে বয়ে আনে চাপা দীর্ঘশ্বাস। পৃথিবীর অধিকাংশ লোকেরই একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর চুল কমে যেতে থাকে। বছর পঞ্চাশের পর টাক পড়ে যায় অনেকেরই। কিন্তু এই টাকের আগমন বয়োবৃদ্ধদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। বছর ত্রিশের যুবাও টাকের প্যাঁচে ঘায়েল হয়েছে – এ নজিরও কিন্তু আজ মোটেই কম নয়।

    বস্তুত টাকঘটিত নানা দুঃখের পাশাপাশি টাকের নেপথ্যের কারণও নেহায়েত কম নয়। পৃথিবীর শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ মানুষ ত্রিশ বছরের মধ্যে মাথায় টাক গজিয়ে বসেন। টাকের কারণ, আর কেনই বা এর ভুক্তভোগীর তালিকায় সর্বাধিক অগ্রগণ্যতা পেয়েছে পুরুষ সে গল্প নিয়েই লেখা আজকের এই টাক সমাচার।

    টাকের বিড়ম্বনা! ছবিসূত্র- (cbsnews.com)

    প্রথমেই বলে রাখি, দিনে গড়ে প্রায় ১০০টির মতো চুল পড়া স্বাভাবিক এবং এটা প্রাকৃতিক ও সাধারণ নিয়মবশতই ঘটে। তবে এর বেশি চুল পড়তে থাকাটা খুব স্বাভাবিক না। টাক পড়ে যাওয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘Pattern Baldness’, বৈজ্ঞানিকভাবে যা অ্যানড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া (Androgenetic Alopecia), অ্যানড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া (Androgenic Alopecia) ইত্যাদি নামে পরিচিত। টাক পড়ার পেছনে দুটি কারণকে দায়ী করা হয়- জীনগত (জীন হলো মানুষের ক্রোমোজমের ডিএনএ এর সেই অংশ যা প্রোটিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে) এবং ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন নামক এক প্রকার অ্যানড্রোজেন হরমোন যা পুরুষের মধ্যে পাওয়া যায়। কারো কারো মাথার দু’পাশে কিংবা পেছনে কয়েক গোছা চুল রয়ে যায় ,আবার কারো কারো সম্পূর্ণ মাথাটাই হয়ে যায় ফাঁকা মাঠ।

    কেন পড়ে টাক?

    টাকের প্রক্রিয়া জানার আগে চুলের গোড়ার দিকে একটু আলোকপাত করা যাক। আমাদের প্রিয় চুলগুলো তৈরি হয় ‘হেয়ার ফলিকল’ নামক অংশে। এই হেয়ার ফলিকল মাথার চামড়ার নিচের একটি গহ্বর সদৃশ অংশ যেখানে চুল তৈরি হয়, সেখানে বৃদ্ধি পায় প্রায় ২ থেকে ৬ বছর, অতঃপর প্রকৃতির নিয়ম মেনে কিছুদিন বৃদ্ধি রহিত হয়ে স্থিতাবস্থায় থাকে এবং তারপর ঝরে পড়ে। এরপর সেখানে আবার নতুন চুল গজায় এবং চক্রটি পুনরায় চলতে থাকে। এভাবে চুল গজানো, বৃদ্ধি, ঝরে যাওয়া এবং আবারও গজানোর প্রক্রিয়া চলতে থাকে মানুষের জীবনে।

    মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ এনজাইমসমূহের ক্রিয়ায় পুরুষের দেহের হরমোন টেস্টোস্টেরন পরিণত হয় ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরনে। চর্মবিশেষজ্ঞ ও গবেষক কাটো মর্কের মতে, “এই ধরণের এনজাইমগুলো একজনের শরীরে কী পরিমাণে বিদ্যমান তার কারণ বংশগত। তবে এটি পিতার নাকি মাতার জীন কিংবা উভয়েই নির্ধারণ করে কিনা তা এখনও অজানা।” ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন এমন একটি হরমোন যা চুলের বৃদ্ধির স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত ও ধীর করে এবং চুলগুলোকে খাটো ও পাতলা করে দেয়। চুলগুলোকে কৃশকায় বানানোর পাশাপাশি ঝরে যাওয়া চুলকে নতুন চুল দিয়ে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াকেও ব্যাহত করে এই হরমোনটি।

    টাক পড়ার নানা ধাপ। ছবিসূত্র- independent.co.uk

    বিজ্ঞানীরা মনে করেন হরমোনটি তৈরিকারী এনজাইমগুলো এশিয়ান পুরুষে কম তৈরি হয় বিধায় তাদের চুল পড়ার হারও ককেশিয়ান পুরুষদের থেকে কম। এছাড়াও টাক পড়ে যাওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে মাথার ত্বকে কতগুলি রিসেপ্টর আছে তার ওপর। এই রিসেপ্টর যত বেশি হবে চুলও তত দ্রুত পড়বে। এমনকি পর্যাপ্ত পরিমানে ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন এবং এটি তৈরিকারী এনজাইম থাকা সত্ত্বেও এগুলোর গ্রহীতা রিসেপ্টরের অপ্রতুলতা থাকলে মাথায় টাক পড়বে না!  

    চুল পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় হেয়ার ফলিকলগুলোর ক্রমসংকোচনের মাধ্যমে। এই কুঁচকে যাবার দরুন ফলিকলগুলো স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অনেক ছোট হয়ে যায়। ফলে এখান থেকে গজানো চুলগুলোও হয় তুলনামূলকভাবে কৃশকায়। স্বাভাবিক চুলের চেয়ে তাড়াতাড়ি ঝরেও পড়ে এ চুলগুলো। এরূপে ধীরে ধীরে ফলিকলগুলো এতই সংকুচিত হয় যে, তাতে চুলের কিয়দংশ গজায় ঠিকই কিন্তু তা আর মাথার ত্বক অবধি আসে না। ফলাফল মাথার উপরিভাগে সূচনা হয় চুলহীনতার তথা টাকের।

    যদিও বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া জনিত টাকের পেছনে অনেকগুলো জীনের ভূমিকা রয়েছে, এখন পর্যন্ত একটি এমন জীন পাওয়া গেছে যার পরিবর্তনের সাথে টাকের সম্পর্ক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই জীনটি হলো ‘এআর’ জীন (AR) যা কিনা একপ্রকার অ্যানড্রোজেন রিসেপ্টর প্রোটিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই রিসেপ্টরগুলোই ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন এবং অন্যান্য অ্যানড্রোজেনের সাথে যুক্ত হয়ে ত্বরান্বিত করে টাক পড়া। এই এআর জীনের কোনো ধরণের পরিবর্তনই বাড়িয়ে দেয় চুল পড়া।

    টাকের ইতিবৃত্ত

    কারো টাক পড়ে মাথার উপরে পেছনভাগে, আবার কারো বা দুই চোখের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকেই হয় সূত্রপাত। কিছুক্ষে ত্রে ইংরেজি ‘এম’ হরফের ন্যায় অঞ্চল তৈরি হয় মাথায় আবার কারো ক্ষেত্রে পুরো মাথাই হয়ে যায় ফাঁকা। মূলত মাথার ত্বকের তিনটি অঞ্চলে চুল কমে যাওয়াটা বেশি লক্ষণীয়-

    ১) মাথার একদম সম্মুখভাগের চুলের সারি থেকে চুল পড়া শুরু হয় অনেকের। বলা হয় কিশোর থেকে যুবায় পরিণত হবার সময় মাত্র ৫% লোকেরই সেই কৈশোরকালীন প্রান্তীয় চুলের রেখা বজায় থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই চুল পড়ে যাবার হার মৃদু। তবে অনেকের ক্ষেত্রে দুই চোখের পার্শ্ববর্তী এলাকার চুলগুলো ঝরে যেতে থাকে এবং অনেকের ক্ষেত্রেই ইংরেজি ‘এম’ অক্ষরের ন্যায় চুলবিহীন অঞ্চল তৈরি হয়।

    মাথার সম্মুখভাগের টাক। ছবিসূত্র- independent.co.uk

    ২) মাথার পেছনের উপরিভাগে চুল কমে যায় অনেকের যা আস্তে আস্তে বিস্তৃত হতে থাকে চারিদিকে।

    মাথার পেছনের উপরিভাগে পড়া টাক। ছবিসূত্র- independent.co.uk

    ৩) মাথার মধ্য-সম্মুখভাগে চুল পাতলা হতে থাকা বিশেষত এশিয়ান পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এমনকি যে সকল মহিলাদের চুল পাতলা হয়ে যায় বয়সের সাথে, তাদের মধ্যেও এই প্রবণতা লক্ষ্যণীয়।

    মাথার মধ্য ও সম্মুখভাগে চুল পাতলা হয়ে যায়। ছবিসূত্র- arochahairrestoration.com

    এই টাকজনিত চুল পড়ে যাওয়া এক হেয়ার ফলিকল থেকে অন্য হেয়ার ফলিকলে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। মধ্যবর্তী কোনো অঞ্চলই এর থেকে রেহাই পায় না। এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যেন কোনো ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোনো রাসায়নিক বস্তু এটি ছড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু টাকের পেছনে দায়ী এমন কোনো রাসায়নিক পদার্থের হদিs পাওয়া যায়নি। এমনকি টাকসংলগ্ন মাথার চুলযুক্ত এলাকা থেকে কিছু অংশ শরীরের অন্য অংশে প্রতিস্থাপন করা হলেও চুলগুলোর ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে যাওয়াটা চলতে থাকে, দেখলে মনে হয় যেন তারা শরীরের অন্য কোনো অংশে নয় বরং এখনও মাথায়ই রয়ে গেছে। এতে বোঝা যায় যে হেয়ার ফলিকলগুলোর ডিএনএতেই এমন কোনো পরিবর্তন হয়েছে যা এগুলোকে এরূপ আচরণে বাধ্য করছে।

    চুল কমে যাবার এ ধারার বাইরেও অন্য এক প্রকারেও চুল কমে যায় যা সচরাচর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। মাথায় যে চুলগুলো গজায় তা দেহের অন্যত্র গজানো লোমগুলো থেকে আলাদা। অসংখ্য ফলিকল একক থেকে জন্মানো এক গুচ্ছ চুল একটি নির্দিষ্ট গহ্বর থেকে মাথার উপরিভাগে বের হয়। প্রতিটি গুচ্ছে ২-৫ টি চুল থাকে। প্রতিটি ফলিকল একক থেকে একটি প্রাথমিক চুল বের হয়। জন্মের সময় শুধু এই প্রাথমিক চুলগুলো থাকে বলেই নবজাতকের চুলগুলো পাতলা এবং নমনীয় হয়। পরবর্তী দু-তিন বছরে অন্য চুলগুলোও গজিয়ে গেলে চুলের ঘনত্ব ও আয়তন বেড়ে যায়।

    যেভাবে হেয়ার ফলিকল হতে চুল গজায়। ছবিসূত্র- independent.co.uk

    অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া হলে তা পরবর্তী সময়ে গজানো চুলগুলোর উপর সর্বপ্রথম প্রভাব ফেলে। চুলগুলো ছোট হতে হতে একসময় প্রতিটি গহ্বর থেকে একটি মাত্র চুল ছাড়া অন্যান্য কোনো চুলই আর অবশিষ্ট থাকে না। এভাবে চুল পাতলা হয়ে যায়। যখন সেই একমাত্র চুলটিরও একই পরিণতি হয় তখনই টাক পড়তে শুরু করে। এক্ষেত্রে এমনও হতে পারে যে মাথার চুলের শতকরা ৫০ ভাগ পড়ে যাওয়া সত্ত্বেও টাক নাও পড়তে পারে। মেয়েদের বেণী বা খোঁপার ঘনত্ব দেখে যদিওবা চুল পড়ে যাচ্ছে আঁচ করা যায়, ছেলেদের চুল ছোট হওয়ায় এক্ষেত্রে টাক পড়ার আগ পর্যন্ত সেটি বোঝা বেশ দুষ্কর। এক্ষেত্রে রোদে পোড়া মাথার ত্বক দেখে ব্যাপারটি আঁচ করা যেতে পারে।

    আগেই বলেছি এই দু’প্রকার চুল পড়ার পেছনে জীন ও বংশগত কারণই দায়ী। বংশগতভাবে কারো টাক থাকলে তারও টাকের ভুক্তভোগী হবার ঝুঁকি বেশি। আবার পরিবেশের প্রভাবও রয়েছে কিছুটা। সদৃশ জমজদের ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রায় একই বয়সে তাদের চুল পড়ে যায় এবং তা একই হারে ও ধাঁচে ঘটে। তবে অনেকক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগের কারণেও টাক পড়তে পারে। যেমন পুরুষের ক্ষেত্রে করোনারি হার্ট ডিজিজ, প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম হলে তা অ্যানড্রোজেন বাড়িয়ে দিতে পারে যা অ্যানড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়ার জন্য দায়ী।

    পুরুষই কেন হয় টেকোমাথা?

    অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়ার ভুক্তভোগী শুধুই ছেলেরা এ ধারণাটি ভুল। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে পুরো মাথায় চুল পড়ে গেলেও একেবারে টাক পড়তে সচরাচর দেখা যায় না। ক্ষেত্রবিশেষে মাথায় চুলহীন এলাকার উদ্ভব হলেও তা অনেক বেশি বয়সের আগে দেখা যায় না। কেন ভুক্তভোগীদের মধ্যে পুরুষের অগ্রগণ্যতা বেশি? উত্তর হলো- চুল পড়ে যাবার জন্য মূলত দায়ী টেস্টোস্টেরন যা পুরুষত্ব নির্ধারণকারী হরমোন। চর্মবিজ্ঞানী কাটো মর্কের মতে, “যেহেতু পুরুষদের হরমোন টেস্টোস্টেরনের চুলের ওপর সর্বোচ্চ প্রভাব আছে, তাই মেয়েরা ঠিক পুরুষদের মতো চুল হারায় না।” তবে মেনোপজের পরে মেয়েদের শরীরের মেয়েলি হরমোন ইস্ট্রোজেন কমে যায় বিধায় মেয়েদের শরীরে আগে থেকেই থাকা টেস্টোস্টেরন আরো বেশি সক্রিয় হয়ে চুল পড়ায় প্রভাব ফেলে। তবে পুরুষের মতো নির্দিষ্ট অঞ্চলে টাক পড়ার পরিবর্তে পুরো মাথায় চুলের ঘনত্ব কমে যাবার নজির পাওয়া যায়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে মেয়েদেরও টাক পড়তে দেখা যায়, যদিও তা অতিমাত্রায় বিরল।

    অ্যানড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়ার দরূণ মেয়েদের চুল পড়া

    “মেয়েরা যেমন মুটিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন, ছেলেরা তেমনি চুল পড়া নিয়ে”- বলেন প্রাণীবিদ পার জ্যাকবসেন। তবে ছেলেরা সান্ত্বনার বাণী হিসেবে জেনে রাখুন, প্রাণীকুলে কেবলমাত্র আপনারাই এর ভুক্তভোগী নন, বরং অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যেও পাওয়া যায় এর নজির। শিম্পাঞ্জি, ম্যাকাকুই (পুং ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়েই), পূর্ব কেনিয়ার সাভো সিংহের মধ্যেও টাকের নিদর্শন পাওয়া যায়। কিছু কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে চুলবিহীন পুরুষের আবেদনই স্ত্রী প্রাণীদের কাছে বেশি।

    টাক থেকে রেহাই পাবার উপায় কী?

    কোনো ফলপ্রসূ চিকিৎসা নেই যা এর নিরাময় করবে। তবে কিছু প্রচলিত পদ্ধতি আছে যেমন- ফিনাস্টেরাইডের মতো ঔষধ সেবন, মিনোক্সিডিল লোশনের ব্যবহার ইত্যাদি। তবে এগুলোর ব্যবহারের নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি নানা বিরূপ প্রভাব ও ঝুঁকি রয়েছে। এগুলোর ফলাফলও খুব কার্যকরী নয় বরং ব্যবহার বন্ধে আবারও ফিরে আসবে টাক। এছাড়াও অনেকেরই পুরো মাথার চুল পড়ে যায় না, বরং মাথার পেছনভাগে কিছু চুল থেকে যায়। অনেকেই এই মাথার পেছনভাগের চুল ও ত্বক নিয়ে মাথার অন্যান্য অংশে ‘হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট’ বা চুল প্রতিস্থাপন সার্জারির মাধ্যমে ফিরে পান নিজের চুল। টাক ঘুচিয়ে ফেলার একটি পন্থা এটি।

    চুল পড়ায় মিনোক্সিডিল লোশনের ব্যবহার। ছবিসূত্র- youtube.com

    একপ্রকার হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট পদ্ধতি। ছবিসূত্র- quora.com

    চুল পড়ে যাওয়া এবং টাকের উদ্ভব বয়ে আনে দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা। এই সমস্যাটির পাকাপাকি সমাধান আজ অবধি পাওয়া না গেলেও আধুনিক বিজ্ঞান ভবিষ্যতে হয়তো খুঁজে নিয়ে আসবে এর পেছনের প্রকৃত কারণ ও সমাধান।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  15. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    মানব মস্তিষ্ক  কি আসলেই  সুপারকম্পিউটারের চেয়ে শক্তিশালী ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    আমাদের গোটা শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে ধড়ের উপর বসে থাকা মস্তিষ্কটি। এত জটিল, অসাধারণ আর সুক্ষ্ম মস্তিষ্ক এত নিখুঁতভাবে আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে যে তার বর্ণনা শুনতে গেলে যে কারো চোয়াল ঝুলে পড়তে বাধ্য। তবে মস্তিষ্ক নিয়ে ভ্রান্ত ধারনাও কম নেই একেবারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সব কথা অবিশ্বাস্য তথ্য। মস্তিষবিস্তারিত পড়ুন

    আমাদের গোটা শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে ধড়ের উপর বসে থাকা মস্তিষ্কটি। এত জটিল, অসাধারণ আর সুক্ষ্ম মস্তিষ্ক এত নিখুঁতভাবে আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে যে তার বর্ণনা শুনতে গেলে যে কারো চোয়াল ঝুলে পড়তে বাধ্য। তবে মস্তিষ্ক নিয়ে ভ্রান্ত ধারনাও কম নেই একেবারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সব কথা অবিশ্বাস্য তথ্য।

    মস্তিষ্কের শরীরবৃত্ত

    মস্তিষ্কের মোট ওজন তিন পাউন্ডের মত। সারা শরীরের সাথে তুলনা করলে আমাদের শরীরের মোট ওজনের মাত্র দু’ভাগ দখল করে আছে মস্তিষ্ক। কিন্তু খরচের বেলায় সে মুক্তকচ্ছ। আমরা যে খাদ্য  গ্রহণ করি তার শতকরা ২০ শতাংশ একাই খরচ করে। এই খাদ্য এবং অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১,০৪০-৮০ লিটার রক্ত পরিবাহিত হয় চব্বিশ ঘণ্টায়।

    মস্তিষ্ক; source: buzzkeys.com

    সে কি শুধু খরচ করে? উহু, একদম নয়। প্রতিদিন মস্তিষ্কে ১২ থেকে ২৫ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। লো ভোল্টেজের LED জ্বালানোর জন্য যথেষ্ট নয় কি?

    মস্তিষ্কের অধিকাংশই পানি। পরিসংখ্যানে আনলে দাঁড়ায় ৭৩ শতাংশের মত। বাকি সাতাশ ভাগের ৬০ ভাগই আবার চর্বি। সত্যি বলতে কী, আমাদের দেহের সবচেয়ে ফ্যাটি অংশ এই মস্তিষ্কই। চর্বির কথা আরেকটু বলতে গেলে, আমরা সবসময় কোলেস্টেরল ছাড়া খাবার খুঁজি। কিন্তু শরীরের মোট সঞ্চিত কোলেস্টেরলের ২৫ ভাগ মানে প্রতি চার ভাগের এক ভাগই মস্তিষ্কের কোষে থাকে। এই কোলেস্টেরল এতই অত্যাবশ্যকীয় যে এগুলো ছাড়া নিউরন (স্নায়ু কোষ) মারা যাবে।

    বিভিন্ন কারণে আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। মস্তিষ্কে পানির পরিমাণ কমে গেলে আমরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারি না। দুই শতাংশ কমে গেলেই আমাদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়।

    একটি নিউরন প্রতি সেকেন্ডে ১,০০০ সংকেত পাঠাতে পারে। প্রতিটি নিউরন অন্যান্য নিউরন এর সাথে প্রায় দশ হাজার বন্ধন তৈরি করে।

    নিউরন কোষ source: livescience.com

    একটি গমের দানার সমপরিমাণ মস্তিষ্ক টিস্যুতে ১ লক্ষের মতো নিউরন থাকে, যেগুলো পরস্পরের সাথে এক বিলিয়ন বন্ধন তৈরি করে। তাহলে মোট নিউরনের সংখ্যা কত? নিখুঁত হিসেব এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানিদের ধারণা, সেটা ৮৬ বিলিয়নের কম না। এদের সবাই একরকম তা নয়। প্রায় ১০ হাজার বিভিন্ন রকম নিউরন রয়েছে।

    মস্তিষ্ক টিস্যু কিন্তু অক্সিজেনের উপরে খুবই নির্ভরশীল। পাঁচ মিনিট অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে নিউরন মারা যাওয়া শুরু করে। আর নিউরন মারা গেলে সাধারণত তার জায়গা নেয়ার জন্য নতুন কোনো নিউরন তৈরি হয় না। ধূমপান এই অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করার মূল কালপ্রিট। কি বলতে চাইছি বুঝতে পারছেন তো?

    বাচ্চাদের আমরা অনেক সময়ই বলি, এই থাম তো! তোর এখনো বোঝার বয়স হয়নি। ২ বছর বয়সে মস্তিষ্ক ৮০ ভাগ পূর্ণতা পায়। সম্পূর্ণ পূর্ণতা পেতে ২৫ বছর লেগে যায়। সুতরাং আপনি দুই-তিন বছর বয়সের বাচ্চার সামনে যা না তা-ই বলবেন আর ভাববেন সে কিছু বোঝে না, তাহলে কিন্তু ভুল ভাবছেন। বাচ্চারা সব বোঝে!

    আমাদের মস্তিষ্ককে সুরক্ষা প্রদান করার জন্য একটি পর্দা রয়েছে যার নাম ব্লাড-ব্রেইন-ব্যারিয়ার। রক্ত থেকে মস্তিষ্কে কী যাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে এই পর্দা। ক্ষতিকর পদার্থ এই পর্দা ভেদ করে সাধারণত যেতে পারে না। তবে নিকোটিন কিংবা অ্যালকোহলকে বাধা দিতে পারে না সে।

    সারাদিন পঞ্চাশ হাজার বারের বেশি চিন্তা করেন আপনি; source: buzzkeys.com

    আপনি সারাদিন সবচেয়ে বেশি কী করেন সেটা কি জানেন? চিন্তা করেন; শুধু চিন্তা করেন আর চিন্তা করেন। সারাদিন প্রায় পঞ্চাশ হাজার বার চিন্তা করেন আপনি! মানে বুঝেছেন? আপনি একজন বড় মাপের চিন্তাবিদ।

    কার মস্তিষ্ক কত বড়?

    ছেলেদের মস্তিষ্ক মেয়েদের চেয়ে প্রায় ১০ ভাগ বড়। এই তথ্যটি পড়ে ছেলেদের বড় করে হাসি দেয়ার কিছু নেই। যে অংশটি স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে, সেই হিপোক্যাম্পাস কিন্তু মেয়েদের তুলনামূলক বড়। অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মস্তিষ্ক অন্যদের চেয়ে খানিকটা ছোট ছিলো, প্রায় দশ শতাংশের মত। কিন্তু তাতে নিউরনের ঘনত্ব ছিলো স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে বেশি।

    বিগত বিশ হাজার বছরে আমাদের মস্তিষ্কের আকার ক্রমশ ছোট হয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে যতটুকু ছোট হয়েছে তা দিয়ে একটি টেনিস বল বানানো যাবে। ভালো কথা, নিয়ান্ডারথালদের মস্তিষ্ক মানুষের চেয়ে বড় ছিলো।

    লন্ডনের ট্যাক্সিক্যাব চালকদের হিপোক্যাম্পাস গড়পড়তা মানুষের চেয়ে বড়। কেন? তাদের প্রায় পঁচিশ হাজার রাস্তা মুখস্ত রাখতে হয় যে!

    ব্রেনের ক্ষয়

    প্রতিনিয়ত চেপে ধরা হতাশা এবং মানসিক অবসাদ মস্তিষ্ক সঙ্কুচিত করে তোলে। আমরা আধুনিক যে ফাস্টফুড খাই তাতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে না। এটি মস্তিষ্কের জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খেলে মস্তিষ্ক সঙ্কুচিত হয়ে যায়।

    এই আধুনিক যুগে আমরা একসাথে অনেকগুলো কাজ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু মস্তিষ্ক একসাথে দুটি কাজে মনোযোগ দিতে পারে না। ফলে কী হচ্ছে? চটজলদি একটি কাজ সমাধা করে অন্য কাজ মনোযোগ দিতে হচ্ছে। ফলে মনোযোগের সময়সীমা, সক্ষমতা, এমনকি দীর্ঘকালীন স্মৃতি কমে যাচ্ছে আমাদের।

    ২০০০ সালের দিকে মানুষের মনোযোগের সময়সীমা ছিলো ১২ সেকেন্ড; এখন সেটা কমে ৮ সেকেন্ডে নেমে আসছে।

    যখন প্রয়োজনীয় পুস্টি পায় না তখন মস্তিষ্ক কোষগুলো নিজদের ধ্বংস করে ফেলে। আমরা যখন অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার নিয়ন্ত্রণ করি, যেটাকে সবাই ডায়েট বলে, তখন এটা বেশি ঘটে। সুতরাং ডায়েট করার আগে সতর্ক থাকুন।

    মস্তিষ্ক নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা

    মস্তিষ্ক নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত কথাগুলোর একটি হচ্ছে, আমরা আমাদের মস্তিষ্কের ১০ ভাগ ব্যবহার করি। কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। আমরা আমাদের মস্তিষ্কের পুরোটাই ব্যবহার করি। এমনকি ঘুমের সময়ও আমাদের মস্তিষ্ক কার্যকর থাকে। তবে হ্যাঁ, আমরা চর্চার মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কের সক্ষমতা বাড়াতে পারি।

    অ্যালকোহল আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনকে ধ্বংস করে না। তবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল মস্তিষ্ক কোষের নিউরনের সাথে থাকা কানেকটিভ টিস্যুকে ধ্বংস করে। আরেকটি ব্যাপার আছে। আপনি যদি আগের দিন পার্টিতে গিয়ে মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরে ঘুম থেকে উঠে ভাবেন, “আরে তাই তো! কাল কী করেছিলাম মনে পড়ছে না কেন? কী মুশকিল!” এর মানে এই নয় যে, আপনি গতদিনের স্মৃতি ভুলে গেছেন। এর কারণ ভিন্ন। দেখা গেছে, অ্যালকোহলিক মস্তিষ্ক নতুন কিছু সঠিকভাবে শিখতে পারে না।

    মোজার্ট শুনলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বেড়ে যায়- প্রচলিত একটি কথা। শুধু মোজার্ট নয়; এ ধরনের সকল সুরই মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

    বলা হয়ে থাকে, মস্তিষ্কে প্রায় ১০ হাজার মাইল লম্বা রক্তনালী রয়েছে। কথাটি অতিরঞ্জিত। সঠিক হিসেবে এটা ৪০০ মাইলের মত। এটাও কিন্তু একেবারে কম নয়।

    স্মৃতি

    আমরা যখন একটি কাজ করি সেটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ একসাথে মিলে করে। সম্পূর্ণ কাজটি কয়েকটি অংশে ভাগ হয়ে বিভিন্ন অংশে সম্পন্ন হয় এবং শেষে একটি একক কাজ হিসেবে আউটপুট দেয়। আমাদের মস্তিষ্ক পূর্ণতা পাওয়ার পরপরই বুড়ো হতে শুরু করে, অর্থাৎ কম-বেশি পঁচিশ বছরের পর থেকে। সেই হিসেবে বলতে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর মস্তিষ্ক এই পঁচিশ বছর বয়সে পাওয়া যায়।

    হিপোক্যাম্পাস; source: buzzkeys.com

    তবে তার পরে যে মানুষ কোনো কাজে সর্বোচ্চ পরিমাণে নৈপুণ্য দেখাতে পারে না, তা নয়। যেমন মানুষের শব্দজ্ঞান সবচেয়ে পূর্ণতা পায় প্রায় ৭২ বছর বয়সে। দেখাই যাচ্ছে, মস্তিষ্কের দক্ষতার পেছনে অভিজ্ঞতার একটি বড় অবদান রয়েছে।

    পৃথিবীতে মিস আর্থ, মিস ইউনিভার্স এর পাশাপাশি আরেকটি প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে যাচাই করা হয় কার স্মৃতি সবচেয়ে বেশি প্রখর। এই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়নরা কিন্তু জন্মসূত্রে মহা স্মৃতিধর না। এটি তাদের চর্চা এবং কৌশলের ফলাফল। বুঝতেই পারছেন কী বলত চাইছি? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। আপনি চাইলে হতে পারেন দারুণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

    আমাদের প্রায়শই প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটা সত্যি যে, মস্তিষ্ক নিজে নিজের ব্যথা অনুভব করতে পারে না! সেই কারণে একজন সার্জন রোগীকে জাগিয়ে রেখেই মস্তিষ্কে অপারেশন করতে পারে। তাহলে ব্যথা অনুভূত হয় কীভাবে? এই ব্যথা মূলত আশেপাশের মাথার ত্বক, হাড়ের গিঁট, সাইনাস, মাংসপেশিতে থাকা স্নায়ু উত্তেজনার ফলে।

    অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী মানুষের মস্তিষ্কের প্যাটার্ন কিন্তু আলাদা। যারা অন্তর্মুখী তাদের মস্তিষ্কে গ্রে-ম্যাটারের পরিমাণ বেশি। আর যারা বহির্মুখী তাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন লেভেল বেশি কার্যকর।

    তুলনা

    কম্পিউটার থেকে এগিয়ে আছে মস্তিষ্ক; source: tbn-tv.com

    বিভিন্ন সময়ে যত তথ্য-প্রযুক্তিগত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয়েছে তাদের সাথে মস্তিষ্কের তুলনা হয়েছে। এভাবে তাকে সেই লম্বা সময় ধরে পরীক্ষা দিয়ে আসতে হয়েছে, কে বেশি দক্ষ? ঘড়ি নাকি মস্তিষ্ক? কম্পিউটার নাকি মস্তিষ্ক? ইন্টারনেট নাকি মস্তিষ্ক?

    সুখের কথা হলো, প্রতিবারই কেল্লাফতে করেছে আমাদের মস্তিষ্কই।

    আমাদের মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা কত? কয়েক গিগাবাইট কিংবা টেরাবাইট হবে- এমন ভাবছেন তো? তাহলে ভুল ভাবছেন। আমাদের মস্তিষ্কের কোনো মেমোরি কার্ডের মতো সীমাবদ্ধতা নেই। অর্থাৎ কখনো আমাদের মস্তিষ্ক স্মৃতিতে পরিপূর্ণ হয়ে শেষ  হয়ে যাবে না! সুতরাং যদি এমন কেউ থেকে থাকেন, যারা ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে অলস বসে থাকেন, তাহলে কাজে নেমে পড়ুন। যত ইচ্ছা ব্যবহার করুন তাকে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  16. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    কিভাবে বুঝবো পৃথিবী আসলেই গোলাকার?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    অবিশ্বাস্য মনে পারে, কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীতেও এমন কিছু মানুষ আছে, যারা মনে করে পৃথিবী গোলাকার না, বরং সমতল। এই তত্ত্বে বিশ্বাসীদের একটি সংগঠনও আছে, যার নাম দ্য ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি। এদের ধারণা অনুযায়ী, গোলাকার পৃথিবী সম্পর্কিত যত গবেষণা এবং ছবি বা ভিডিও প্রমাণ আছে, সব নাসা এবং উন্নত বিশ্বের সরকারবিস্তারিত পড়ুন

    অবিশ্বাস্য মনে পারে, কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীতেও এমন কিছু মানুষ আছে, যারা মনে করে পৃথিবী গোলাকার না, বরং সমতল। এই তত্ত্বে বিশ্বাসীদের একটি সংগঠনও আছে, যার নাম দ্য ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি। এদের ধারণা অনুযায়ী, গোলাকার পৃথিবী সম্পর্কিত যত গবেষণা এবং ছবি বা ভিডিও প্রমাণ আছে, সব নাসা এবং উন্নত বিশ্বের সরকারগুলোর ষড়যন্ত্র। বাস্তবে পৃথিবী একটি চাকতির মতো সমতল পৃষ্ঠ বিশিষ্ট, চন্দ্র এবং সূর্যের আকার খুব বেশি না, সেগুলো মাত্র কয়েকশ কিলোমিটার উপর দিয়ে পৃথিবীর উপর বিচরণ করে এবং পৃথিবী সহ সমগ্র মহাবিশ্ব প্রচন্ড বেগে উপরের দিকে ছুটে যায় বলেই মাধ্যাকর্ষণের সৃষ্টি হয়।

    ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটির সদস্যদের মতে পৃথিবী যেরকম; Source: videoblocks.com

    মজার ব্যাপার হচ্ছে, পৃথিবী যে আসলেই গোলাকার, সেটি বোঝার জন্য নাসা বা কোনো দেশের সরকারের উপর নির্ভর করার কোনো দরকার নেই। নাসা বা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই মানুষ জানত পৃথিবী গোলাকার। অনেকের ধারণা, আমেরিকা আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ক্রিস্টোফার কলম্বাস পৃথিবীকে গোলাকার প্রমাণ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে পৃথিবী যে গোলাকার, তা আরো আগে থেকেই মানুষ জানত। কোনো প্রকার জটিল বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই অতি সাধারণ কিছু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আপনিও সহজেই বুঝতে পারবেন পৃথিবী আসলে সমতল নয়, বরং গোলাকার।

    চাঁদ এবং অন্যান্য গ্রহের আকার

    আজ থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে, পিথাগোরাস সর্বপ্রথম লক্ষ্য করেন যে, চাঁদ বৃত্তাকার। সেখান থেকেই তিনি ধারণা করেন, পৃথিবী সহ অন্যান্য মহাকাশীয় বস্তুও বৃত্তাকার। এখনও যদি আমরা টেলিস্কোপের সাহায্যে অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করি, তাহলে নিশ্চিতভাবেই দেখতে পারব, মহাবিশ্বের প্রায় সকল বস্তুই মোটামুটি বৃত্তাকার। চাকতির মতো সমতল কোনো গ্রহের অস্তিত্ব কোথাও নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ধরে নিতে পারি, পৃথিবীর আকারও অন্যান্য গ্রহের মতোই হবে।

    চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ

    চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের উপর পৃথিবীর ছায়া; Source: Popsci.com

    পিথাগোরাসের মৃত্যুর প্রায় ১৫০ বছর পর, অ্যারিস্টটল সর্বপ্রথম বৃত্তাকার পৃথিবীর পক্ষে সবচেয়ে জোরালো যুক্তি দেখান। তিনি লক্ষ্য করেন, চন্দ্রগ্রহণের সময় যখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে, তখন ছায়ার আকার অর্ধবৃত্তাকার হয়ে থাকে। এ থেকেই তিনি সিদ্ধান্তে আসেন, পৃথিবী গোলাকার। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে চন্দ্রগহণের সময় মোটামুটি একই রকম অর্ধবৃত্তাকার ছায়া দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পৃথিবী শুধু গোলাকারই না, তা প্রায় নিরেট বৃত্তাকার।

    দিগন্তে জাহাজের আবির্ভাব

    সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে কেউ যদি দূর থেকে কোনো জাহাজের আগমন প্রত্যক্ষ করে, তাহলে তার কাছে মনে হবে জাহজটি যেন সমুদ্রের পানি থেকে উঠে আসছে। পৃথিবী যদি সমতল হতো, তাহলে এরকম মনে হতো না, বরং সেক্ষেত্রে জাহাজটি প্রথমে অস্পষ্ট থাকত এবং ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতো। কিন্তু পানি থেকে উঠে আসতে দেখা যাওয়ার ঘটনা থেকেই বোঝা যায় পৃথিবী বৃত্তাকার।

    ব্যাপারটি বোঝার জন্য খুব সহজ একটি পরীক্ষা করা যায়। বৃত্তাকার একটি ফুটবলের উপর একটি পিঁপড়াকে বসিয়ে ফুটবলটিকে ঘুরিয়ে পিঁপড়াটিকে দৃষ্টির বাইরে থেকে ধীরে ধীরে দৃষ্টির আওতায় আনতে থাকলে জাহাজের মতোই সেটিকে দিগন্ত থেকে উদিত হচ্ছে বলে মনে হবে। কিন্তু একই পিঁপড়াকে যদি সোজা একটি লম্বা রাস্তায় দূর থেকে ধীরে ধীরে কাছে আসতে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি অস্পষ্ট থেকে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকবে।

    জাহাজ হঠাৎ করে যেভাবে দৃশ্যমান হয়; Source: Popsci.com

    পরিবর্তনশীল নক্ষত্র

    আজ থেকে প্রায় ২,৩৫০ বছর পূর্বেই গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল লক্ষ্য করেন, বিষুবীয় রেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে যেতে থাকলে আকাশের নক্ষত্রগুলোর অবস্থান পরিবর্তিত হতে থাকে। যেসব নক্ষত্রকে বিষুবীয় অঞ্চলে ঠিক মাথার উপরে দেখা যায়, উত্তরে বা দক্ষিণে গেলে সেগুলো একদিকে হেলে পড়ে এবং বিপরীত দিক থেকে নতুন নতুন নক্ষত্রের আবির্ভাব ঘটতে থাকে।

    অ্যারিস্টটল যখন মিসর এবং সাইপ্রাস ভ্রমণ করেন, তখনই প্রথম তিনি ব্যাপারটি লক্ষ্য করেন। ভ্রমণ থেকে ফিরে এসে তিনি লিখেন, মিসর এবং সাইপ্রাসের আকাশে এমন কিছু তারা দেখা যায়, যেগুলো গ্রীসের আকাশে দেখা যায় না। তিনি সিদ্ধান্তে আসেন, পৃথিবীর পৃষ্ঠ গোলাকার হলেই কেবল এরকম ঘটনা ঘটতে পারে।

    পরিবর্তনশীল ছায়া

    পৃথিবী গোলাকার হওয়ার কারণে ছায়ার পার্থক্য; Source: futurism.com

    মাটির উপর একটি খুঁটি পুঁতে রাখলে তার ছায়া পড়বে। যেহেতু সূর্যের অবস্থান পৃথিবী থেকে অনেক দূরে এবং সূর্য থেকে আগত আলোক রশ্মিগুলো প্রায় সমান্তরাল, তাই পৃথিবী সমতল হলে পাশাপাশি দুটো এলাকায় একই সময়ে একই দৈর্ঘ্যের খুঁটির ছায়ার দৈর্ঘ্য একই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না।

    আজ থেকে প্রায় ২,২০০ বছর পূর্বে মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়া লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান এরাতোস্থেনেস সর্বপ্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তিনি একটি নির্দিষ্ট দিনে ঠিক দুপুর বেলা আলেক্সান্দ্রিয়া এবং কয়েকশ কিলোমিটার দূরবর্তী শহর সিয়েনে একই দৈর্ঘ্যের দুইটি খুঁটির ছায়া পরিমাপ করেন। সিয়েনে সূর্য ঠিক মাথার উপরে থাকার কারণে কোনো ছায়া পড়েনি, কিন্তু আলেক্সান্দ্রিয়ায় সামান্য একটু ছাড়া পড়ে। এ থেকে তিনি নিশ্চিত হন যে, পৃথিবী বৃত্তাকার।

    এরাতোস্থেনেস ছায়ার দৈর্ঘ্য থেকে সূর্যরশ্মির কোণ পরিমাপ করেন। শহর দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং তাদের ছায়ার কৌণিক পার্থক্য থেকে তিনি প্রায় নিখুঁতভাবে পৃথিবীর পরিধিও নির্ণয় করতে সক্ষম হন। এরাতোস্থেনেস পৃথিবীকে সম্পূর্ণ বৃত্তাকার মনে করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে পৃথিবী উত্তর-দক্ষিণ দিক একটু চাপা হওয়ায় তার হিসেবে সামান্য পরিমাণ ভুল ছিল।

    উঁচু স্থান থেকে দূরের দৃশ্য

    উঁচু স্থান থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়; Source: Popsci.com

    কোনো গাছ বা উঁচু ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে খালি চোখে অথবা দূরবীণের সাহায্য সর্বোচ্চ যতদূর পর্যন্ত দেখা যায়, সেই গাছের উপরে অথবা ভবনের ছাদে উঠে তাকালে তার চেয়েও দূর পর্যন্ত দেখা যায়। পৃথিবী সমতল হলে এটি সম্ভব হতো না। সমুদ্রের তীরে সূর্যাস্তের সময় খুব সহজেই এই পরীক্ষাটি করা সম্ভব। সূর্যাস্তের সময় মাটিতে শুয়ে থাকলে ঠিক যে মুহূর্তে সূর্য ডুবে গেছে বলে মনে হবে, তখন উঠে দাঁড়ালেই দেখা যাবে, সূর্য পুরোপুরি ডোবেনি, তার কিছু অংশ তখনও দৃশ্যমান। একই স্থানে যদি আরও উঁচুতে ওঠা যায়, তাহলে সম্পূর্ণ সূর্যাস্তটিই পুনরায় উপভোগ করা সম্ভব হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠ গোলাকার বলেই এটি সম্ভব।

    দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সময়ের পার্থক্য

    বাংলাদেশে যখন দুপুর ১২টা, অর্থাৎ সূর্য যখন ঠিক মাথার উপরে, বিশ্বের কিছু কিছু এলাকায়, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তখন রাত ১২টা। সূর্যের কোনো অস্তিত্বই সেখানে খুঁজে পাওয়া যায় না। পৃথিবী যদি সমতল হতো, তাহলে সময়ের খুবই সামান্য ব্যবধান হতো। এক দেশে রাত, অন্য দেশে দিন হতো না। পৃথিবী প্রায় বৃত্তাকার বলেই কোনো স্থানে সূর্য যখন মাথার উপরে থাকে, বিপরীত পৃষ্ঠ তখন সম্পূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে, অর্থাৎ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে দিন এবং রাতের আগমন ঘটে। এছাড়াও পৃথিবী গোলাকার বলেই বিষুবীয় অঞ্চলের সাথে উত্তর বা দক্ষিণ গোলার্ধে দিন এবং রাতের দৈর্ঘ্য পার্থক্য দেখা যায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  17. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    ব্যারোমিটার কি সত্যি বাতাসের চাপ মাপার যন্ত্র?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    আজ বাতাসের চাপ কেমন? বৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি? এসব জানার একটি সহজ উপায় হলো ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুচাপ নির্ণয়। কী এই ব্যারোমিটার? ব্যারোমিটার হলো মূলত বায়ুচাপ নির্ণয়ের একটি যন্ত্র। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর ব্যবহার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই আবিষ্কারের পেছনে একটি মজবিস্তারিত পড়ুন

    আজ বাতাসের চাপ কেমন? বৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি? এসব জানার একটি সহজ উপায় হলো ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুচাপ নির্ণয়। কী এই ব্যারোমিটার? ব্যারোমিটার হলো মূলত বায়ুচাপ নির্ণয়ের একটি যন্ত্র। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর ব্যবহার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই আবিষ্কারের পেছনে একটি মজার ইতিহাস আছে যা অনেকেরই অজানা। কী সেই ইতিহাস? চলুন জেনে নেয়া যাক।

    Image source: Britannica
    ‘ব্যারোমিটার’ শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘ব্যারোস’ এবং ‘মেট্রোন’ থেকে। ‘ব্যারোস’ শব্দের অর্থ ওজন এবং ‘মেট্রোন’ শব্দের অর্থ ‘পরিমাপ’। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইতালিতে অনেক বিজ্ঞানী স্বতন্ত্রভাবে ভ্যাকুয়াম এবং বায়ুচাপ সম্পর্কিত তত্ত্ব নিয়ে কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যেই একজন হলেন টরিসেলি। তাকেই মূলত ব্যারোমিটারের উদ্ভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়।

    গ্যালিলিও এর সেই বিখ্যাত ‘ টাওয়ার অব পিজা’-এর কথা নিশ্চয়ই মনে আছে? তিনি দেখিয়েছিলেন, বায়ুর বাধা না থাকলে ভারী এবং হালকা বস্তু একই সময়ে নিচে এসে পড়ে। এখান থেকে আমরা বায়ুচাপ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাই। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বায়ুচাপের তারতম্য দেখা যায়। সমুদ্র সমতলে বায়ুচাপ সবচেয়ে বেশি। যত উপরে ওঠা যায়, বায়ুচাপ ততই কমতে থাকে। এমনকি একটি স্থানের বায়ুচাপও কখনও ধ্রুবক থাকে না, পরিবর্তিত হতে থাকে। এর কারণ হলো পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ক্রমাগত ঘুরছে। ফলে বিভিন্ন স্থান বিভিন্ন পরিমাণ তাপ গ্রহণ করছে। টরিসেলি বায়ুচাপের তারতম্যের এ বিষয়টি খেয়াল করেন। বায়ুচাপকে যথাযথভাবে সংজ্ঞায়িত করলে প্রতি বর্গক্ষেত্রে প্রযুক্ত বলকে বোঝায়। এ থেকে বোঝা যায়, বায়ুরও ওজন আছে। টরিসেলি প্রকৃতপক্ষে বায়ুচাপকে ওজনে রূপান্তর করেই কাজ করেছিলেন।

    টরিসেলি; Image source: Wikimedia Commons
    কীভাবে টরিসেলি বায়ুচাপের তারতম্যের বিষয়টি বুঝেছিলেন? প্রকৃতপক্ষে গ্যালিলিও এ ধারণার সূচনা করেন। বহু শতাব্দী পূর্বে অ্যারিস্টটলসহ কয়েকজন প্রাচীন দার্শনিক মতবাদ দেন, প্রকৃতিতে ভ্যাকুয়াম বা বায়ুশূন্য ফাঁকা স্থান থাকা সম্ভব নয়। বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা এ ধারণার সাথে একমত পোষণ করে এসেছিলেন। কিন্তু সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে এ ধারণা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়। কী ছিল এই বিভ্রান্তির কারণ?

    চোষণ পাম্পে পানি উত্তোলন নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দেখা দেয় চিন্তাশীলতা। যেসকল বিজ্ঞানী পানির ঘনত্ব ও স্তম্ভের উচ্চতা সম্পর্কিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান, গ্যালিলিওকে তাদের মধ্যে অন্যতম ধরা হয়। শোনা যায়, তিনি একটি লম্বা টিউবকে কুয়ায় ডোবান যা একটি পাম্প দ্বারা চালনা করা হয়। কিন্তু তিনি বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করলেন, যত পরিশ্রমই করা হোক না কেন, ৯.৭ মিটারের বেশি উচ্চতায় পানি তোলা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি পরীক্ষায় একই ফলাফল পাওয়া যাচ্ছিল। তিনি উপলব্ধি করলেন, প্রকৃতপক্ষে বায়ুচাপই পানির পৃষ্ঠে বল প্রয়োগ করে পানি উত্তোলন করে থাকে। এজন্য প্রথমে পাম্প থেকে বাতাস অপসারণ করে ভ্যাকুয়াম অবস্থার সৃষ্টি করা দরকার।

    গ্যালিলিও; Image source: Biography
    গ্যালিলিওর শিক্ষার্থী হিসেবে টরিসেলি গ্যালিলিওর পরীক্ষা নিয়ে কাজের জন্য উঠে-পড়ে লাগলেন। তিনি মূলত গ্যালিলিওর ভ্যাকুয়াম তত্ত্ব নিয়েই কাজ করছিলেন। গ্যালিলিওর তত্ত্ব ব্যারোমিটারের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে অনেকটা সহায়ক ছিল। গ্যালিলিওই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি ভ্যাকুয়াম যন্ত্র নিয়ে কাজ করেন। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ‘ভ্যাকুয়াম তত্ত্ব’-এর অনুমোদন। তবে এক্ষেত্রে তিনি পরিবেশের বায়ুচাপের তারতম্য নির্ণয়ের জন্য কোনো প্রচেষ্টা চালাননি। যদিও তার ভ্যাকুয়াম নীতিই ব্যারোমিটারের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

    যা-ই হোক, টরিসেলি তার পরীক্ষায় প্রথমে একটি লম্বা টিউবকে পানিপূর্ণ করলেন। পরবর্তীতে তিনি এ টিউবকে উল্টিয়ে পানির একটি ধারকের মধ্যে রাখলেন। টিউবে পানির ধীর অপসারণ দেখে তিনি বুঝতে পারলেন, পানির উপর যে একমাত্র বল কাজ করছিল সেটি নিশ্চিতভাবে বায়ুর বল বা ওজন। তবে দু’ধরনের বলের মধ্যে ভারসাম্য কাজ করছিল-
    ১. পরিবেশের বাতাস দ্বারা পানিতে প্রযুক্ত বল।
    ২. টিউবের অভ্যন্তরে পানির বল।

     

    তবে টরিসেলি তার পরীক্ষার প্রথমেই বিপত্তির শিকার হন। কেননা, তখন তিনি তরল হিসেবে এ পরীক্ষায় পানি ব্যবহার করেন। পানি ব্যবহারে এখানে বিপত্তিটা কোথায়? পানি অপেক্ষাকৃত হালকা হওয়ায় টরিসেলির প্রথম ব্যারোমিটারটির উচ্চতা হওয়া প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৫ ফুট, যা তার বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়! এক্ষেত্রে তিনি তার বিশাল পানির স্তম্ভের উপর একটি পুতুল বসান যাতে তার নড়াচড়া থেকে পরিবেশের বায়ুচাপের তারতম্য নির্ণয় করতে পারেন।

    কিন্তু এটি আরেক সমস্যার সৃষ্টি করে। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবেশিরা গুজব শুরু করে। অনেকে সন্দেহ করে, টরিসেলি জাদুবিদ্যার চর্চা শুরু করে দিয়েছেন! এ ধরনের গুজবের মুখোমুখি হলে টরিসেলি উপলব্ধি করেন, তাকে আরও গোপনে কাজ করতে হবে এবং সেজন্য তাকে আরও ভারী কোনো তরল ব্যবহার করতে হবে। ভারী তরল পদার্থ হিসেবে তিনি বেছে নেন পারদ বা ‘মার্কারি’। ফলে এবার আর ৩৫ ফুট লম্বা স্তম্ভের দরকার হলো না, ৩২ ইঞ্চি ছোট টিউব দিয়েই কাজ হলো। এতে করে প্রতিবেশিদের অভিযোগ ছাড়াই গোপনে কার্যক্রম চালাতে পারলেন টরিসেলি।

    পারদ দ্বারা পরীক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি দেখলেন, টিউবের মধ্যে পারদ একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় এসে থেমে যায় এবং উপরে কিছু স্থান ফাঁকা থেকে যায়। এ থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায়, পারদের ভারসাম্য ততক্ষণই বজায় থাকে যতক্ষণ বায়ুর ওজন এবং পারদের ওজনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। টরিসেলি পরবর্তীতে উল্লেখ করেন, প্রতিদিন টিউবের পারদের উচ্চতা পরিবর্তিত হতো। এ থেকে তিনি সিদ্ধান্তে আসেন, প্রতিদিন পরিবেশে বায়ুচাপের পরিবর্তনের কারণে এ পরিবর্তন হয়। এ সম্পর্কে তিনি লেখেন, “প্রকৃতপক্ষে আমরা একটি বায়ুর সমুদ্রে বাস করি এবং নিঃসন্দেহে এ বায়ুর ওজন আছে।” এদিকে সে ময় অধিকাংশ বিজ্ঞানীই বিশ্বাস করতেন, বায়ুর কোনো ওজন নেই। তাই টরিসেলির এ ধারণা ছিল একেবারেই নতুন।
      barometer principal
    পারদ ব্যারোমিটার; Image source: johnvagabondscience.com
    তবে কেমন ছিল এই ব্যারোমিটারের বায়ুচাপ নির্ণয় প্রক্রিয়া? খুব সহজভাবে ব্যাখ্যা করলে কিছুটা এরকম- একটি বায়ুশূন্য গ্লাস টিউবকে একটি পারদপূর্ণ পাত্রে নেয়া হয়। পাত্রের পারদের উপর পরিবেশের বাতাস চাপের কারণে টিউবে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় পারদের স্তম্ভ থেমে যায়। এ উচ্চতা থেকে বায়ুচাপ নির্ণয় করা হয়। এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সূত্র ব্যবহৃত হয়,

    বায়ুচাপ = পারদের স্তম্ভের উচ্চতা × তরলের ঘনত্ব × অভিকর্ষজ ত্বরণ

    মজার ব্যাপার হচ্ছে, ১৬৪৬ সালের দিকে বিজ্ঞানী প্যাসকেলও টরিসেলির পরীক্ষা-কার্যক্রম নিয়ে কাজ শুরু করেন। কথিত আছে, তিনি তার এক আত্মীয়কে পাহাড়ের উপর নিয়ে ব্যারোমিটারের পারদের উচ্চতা নির্ণয় করতে বলেন। ফলাফলস্বরূপ দেখা যায়, পারদের উচ্চতা নিচে নেমে আসে। তবে এ পরীক্ষার তাৎপর্য কী ছিল? এ পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হয়েছে উঁচু স্থানে বায়ুচাপ কমে যায়। অর্থাৎ বায়ুর উল্লম্ব ওজন আছে।

    সেসময় বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের প্রায়ই সংঘর্ষ লেগে থাকত। সেই কারণে গ্যালিলিও বাইবেলের বিরুদ্ধে পৃথিবীর সূর্যের চারদিকে ঘূর্ণন নিয়ে মতবাদ দেয়ার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হন। এদিকে টরিসেলির এ উদ্ভাবনের সাথেও চার্চের সংঘর্ষের উপক্রম হয়েছিল। সেটা কীরকম?

    ভ্যাকুয়াম বা শূন্যস্থানের মতবাদ খ্রিস্টধর্মের সাথে সংঘাতপূর্ণ ছিল। কেননা, ধর্মের নীতি অনুযায়ী, সৃষ্টিকর্তার অবস্থান সব জায়গায়। এক্ষেত্রে ভ্যাকুয়াম বা শূন্যস্থান থাকার কোনো অবকাশ নেই। যা-ই হোক, টরিসেলি প্রায় একশো বছর পর তার উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পান।

    মেরিন ব্যারোমিটার; Image source: Zhuhai Weitong Import & Export Co., Ltd.
    ১৬৭০ সালের দিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের যন্ত্র হিসেবে ঘর-বাড়িতে ব্যারেমিটারের ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তী দু’শো বছরের মধ্যে মার্কারি ব্যারোমিটার ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। সমুদ্রযাত্রার জন্য ‘মেরিন ব্যারোমিটার’ নামে ব্যারোমিটারের ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। কালের বিবর্তনে বিভিন্ন রকম ব্যারোমিটারের উদ্ভাবন হয়। এমনকি উড়োজাহাজের যে প্রথম অ্যাল্টিমিটার বা উচ্চতা মাপার যন্ত্রবিশেষ, সেগুলো একপ্রকার ব্যারোমিটারই ছিল।

    বর্তমানে বিভিন্ন উন্নত সংস্করণের ব্যারোমিটারের ব্যবহার দেখা যায়, যার অধিকাংশই ‘অ্যানিরয়েড’। তবে ব্যারোমিটারের মৌলিক সংস্করণের উদ্ভাবনের জন্য টরিসেলিকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে। আর বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যে ব্যারোমিটারের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ তা তো বলাই বাহুল্য।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  18. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    নদীগুলো আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয় কেন ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়ে আসছে। এমন কোনো নদী নেই যেটা সোজা পথে প্রবাহিত হচ্ছে। বিজ্ঞানের ভাষায় নদীর এই সর্পিল পথকে Meandering বলা হয়ে থাকে। মাটি থেকে অনেক উপর থেকে বিশেষ করে বিমান কিংবা পাহাড়ের উপর থেকে নিচের দিকে খেয়াল করলে নদীর এই সাপের মতো এঁকেবেঁকে যাওয়া সহজেই বোঝা যায়বিস্তারিত পড়ুন

    পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়ে আসছে। এমন কোনো নদী নেই যেটা সোজা পথে প্রবাহিত হচ্ছে। বিজ্ঞানের ভাষায় নদীর এই সর্পিল পথকে Meandering বলা হয়ে থাকে। মাটি থেকে অনেক উপর থেকে বিশেষ করে বিমান কিংবা পাহাড়ের উপর থেকে নিচের দিকে খেয়াল করলে নদীর এই সাপের মতো এঁকেবেঁকে যাওয়া সহজেই বোঝা যায়। মাঝে মাঝে নদীর কোনো কোনো অংশ সোজা দেখা যায়। কিন্তু সেই সোজা অংশটিও সামনে এগিয়ে গিয়ে আবার বাঁকা পথ ধরে প্রবাহিত হতে থাকে। মাঝে মাঝে কিছু কিছু নদী এত তীব্রভাবে বেঁকে যায় যে নদীর প্রবাহ পথ থেকে অনেক সময় এই বাঁকা অংশ আলাদা হয়ে যায়। এই আলাদা হয়ে যাওয়া অংশকে বলা হয় Oxbow। এই অংশগুলোকে নদীর সর্পিল পথের পাশেই স্থান নিতে দেখা যায়। পৃথিবীর কম বেশি প্রায় প্রত্যেকটি নদীর পাশে Oxbow দেখা যায়।

    খুব স্বাভাবিক একটি প্রশ্ন এখানে চলে আসে, কেন নদীগুলো সোজা প্রবাহিত না হয়ে এঁকেবেঁকে নিজের গতিপথ নির্ধারণ করে? নদীর প্রবাহ পথের এরকম প্যাটার্ন কি নিছক সম্ভাবনা নাকি প্রাকৃতিক কোনো কারণ রয়েছে? যদি প্রাকৃতিক কারণ হয় তাহলে এর পেছনে কোন কোন বৈশিষ্ট্য প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে? আজকের এই লেখায় এই প্রশ্নগুলোর বৈজ্ঞানিক উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

    Meandering এবং Oxbow lake এর সমাবেশ; Image Source: Pinterest

    নদীর উৎপত্তি হবার পর নদীটি যে বেঁকে যাবে সেটা অনেকটাই নির্ধারিত। কিন্তু এই বেঁকে যাবার শুরুটা ঘটে দৈবক্রমে। নদী তার উৎপত্তির পরপর যেভাবে প্রবাহিত হয়ে বেঁকে যায় সেই গতির ব্যাখ্যা দেয়া খুবই জটিল। কারণ প্রক্রিয়াটির সাথে সম্ভাব্যতা (Probability) জড়িত থাকে। তরল গতিবিদ্যা (Fluid Dynamics) দিয়ে ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু এ ব্যাপারে ভিন্ন মত রয়েছে [১]।

    নদীর প্রবল স্রোত নদীর দুই তীরের নদীমাটির ক্ষয় সাধন করে। নদীর দিক পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া খুবই জটিল; Image Source: wyza.com.au

    নদীর প্রবল স্রোত এবং প্রবাহ বলের কারণে একবার যদি দিক পরিবর্তন শুরু হয় তাহলে সেই পরিবর্তনের হার খুবই দ্রুত হবে এটা ধরে নেয়া যায়। নদীর স্রোতের প্রবাহের এই পরিবর্তনের জন্য নদীর দুই তীরের মাটির ক্ষয়সাধন (Soil Erosion) হয়। নদীর দিক পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া খুবই জটিল এবং বিশেষ বিশেষ কিছু অবস্থার উপর নির্ভর করে। পদার্থবিজ্ঞানে খুব সহজ করে এই প্রক্রিয়ার একটি ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। ব্যাখ্যাটি এরকম-

    স্রোতের কারণে বেঁকে যাওয়া শুরুর প্রক্রিয়া বেশ জটিল। তবে একবার বেঁকে যাওয়ার পর, তা যত অল্পই হোক না কেন, নদীর পানি যখন এই বাঁকের মধ্যে প্রবেশ করে তখন পানির এই প্রবাহের উপর এক ধরনের বল কাজ করে যা পানির স্রোতকে বাইরের দিকে ঠেলে দিতে চায়। কখনো দোলনায় চড়লে খেয়াল করে দেখবেন, দোলনার ঘূর্ণনের সময় একটি বল আমাদেরকে বাইরে ঠেলে নিয়ে যেতে চায়- বিষয়টা অনেকটা এরকম। কিন্তু নদীর তীর এবং নদীর আশেপাশের মাটির কারণে পানি তীরের বাইরে চলে যেতে পারে না। কারণ নদীর পানি এবং তীরের মাটিগুলোর মধ্যে একধরনের ঘর্ষণ বল কাজ করে যা স্রোতকে বাইরে ঠেলতে বাধা দেয়। এই অবস্থায় নদীতে একধরনের প্রবাহ সৃষ্টি হয়, যা নদীর এক তীর থেকে আরেক তীরের দিকে প্রবাহমান হয়। এই প্রবাহকে Secondary Flow বলে [২]।

    Image Source: Colorado.com

    Secondary Flow কী সেটা পরিষ্কারভাবে এবং সহজ করে বুঝতে হলে চায়ের কাপে চামচ দিয়ে নাড়ানোর উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। চামচ দিয়ে যখন চায়ের কাপের চারদিকে আমরা নাড়াতে থাকি তখন কাপের ভিতরে চায়ের মিশ্রণের আচরণের দিকে একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, কাপের মাঝ বরাবর একটি ঘূর্ণন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘূর্ণনটি হয় কাপের উপরের দিকেই। নিচের দিকে এই ঘূর্ণন অনেক কম হয় কারণ কাপের তলানির সাথে এবং পাশের দেয়ালের সাথে ঘর্ষণের ফলে ঘূর্ণনের গতি কমে যায়।

    কাপের উপরে এবং নিচের দিকের ঘূর্ণনের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের জন্য উপর থেকে নিচের দিকে তরল চা প্রবাহিত হয়। চামচ দিয়ে ঘোরানোর ফলে প্রথমে ঘূর্ণন গতি বাইরের দিকে একটি বল অনুভব করবে, যে কারণে প্রবাহটি চায়ের উপরের পৃষ্ঠ বরাবর প্রথমে দেয়ালের দিকে যাবে। এরপর দেয়াল বরাবর নিচের দিকে গিয়ে কাপের তলানি বরাবর চারদিকে একবার ঘূর্ণন হবে এবং এই ঘূর্ণন কাপের মাঝ বরাবর উপরের দিকে উঠে যাবে। এই পুরো প্রবাহকে Secondary Flow বলা হয়ে থাকে। চায়ের উপরের দিকে মাঝখানে আমরা যে ঘূর্ণন দেখি, সেটা এই প্রক্রিয়াতেই তৈরি হয়।

    আমাজন বনে সৃষ্ট নদীর Meandering; Image Source: Pinterest

    নদী বেঁকে যাবার পর দুই তীরের মধ্যবর্তী এবং নদীর মাঝামাঝি জায়গায়ও একই প্রক্রিয়া ঘটে। পানির প্রচণ্ড স্রোত যখন বাঁকের ভিতর প্রবেশ করে তখন চায়ের কাপের ভিতরের অবস্থার অনুরূপ একটা ঘূর্ণন গতির সৃষ্টি হয়, যার দরুন নদীর স্রোতের কিছু অংশ নদীর বাহিরের দিকের তীর (Outer Bank) পর্যন্ত প্রবাহিত হয় এবং সেখান থেকে নদীর তীর ঘেঁষে নিচের দিকে গিয়ে নদীর তলার (River Bed) সাথে সমান্তরালে প্রবাহিত হতে থাকে। সেখান থেকে নদীর অপর পাশের ভিতরের দিকের তীর (Inner Bank) বরাবর উপরের দিকে উঠে যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি সেকেন্ডারি ফ্লোয়ের কারণে হয়।

    সেকেন্ডারি ফ্লো মেকানিজম; Image Source: Hindered Settling Blog

    এই প্রবাহের কারণে নদীর বাইরের দিকের তীর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে নদীর মাটি কণাগুলো আলাদা হয়ে যায়। আলাদা মাটির কণাগুলো সেকেন্ডারি ফ্লোয়ের কারণে যে প্রবাহের সৃষ্টি হয় তার দিক বরাবর নদীর পানির সাথে প্রবাহিত হতে থাকে। এভাবে পানির সাথে বহমান মাটির কণাগুলো তলানি হিসেবে কিছু নদীর পানির নিচে এবং কিছু নদীর ভিতরের দিকের তীরে গিয়ে জমা হয়। এভাবে বাইরের তীর থেকে মাটি সরে গিয়ে অপর তীর ক্ষতিগ্রস্থ করে। যে দিকের মাটি সরে যায় সেই দিক বরাবর নদীগুলো বেঁকে যেতে থাকে। একইভাবে নদীর দিক পরিবর্তন হয়ে নদীগুলো সর্পিল আকারে প্রবাহিত হতে থাকে। কোনো কোনো সময় অতিরিক্ত স্রোতের কারণে কিংবা মাটির গঠনের কারণে এই বাঁকগুলো অনেক দীর্ঘ এবং ঘন হতে পারে।

    নদীর এই বাঁকগুলো যখন একদিক থেকে গিয়ে আরেক দিকে আবারও বেঁকে যায় অর্থাৎ একটি লুপ তৈরি করে তখন কিছু কিছু নদীর ক্ষেত্রে এই বাঁকগুলো লুপ সহ আলাদা হয়ে যায়। আলাদা হয়ে গিয়ে এরা নদীর এক পাশেই অবস্থান করে। এ ধরনের লুপকে বলা হয় Oxbow Lake; Image Source: thoughtco.com

    নদীর এই বাঁকগুলো যখন একদিক থেকে অন্য দিকে আবারও বেঁকে যায় অর্থাৎ একটি লুপ তৈরি করে, তখন কিছু কিছু নদীর ক্ষেত্রে এই বাঁকগুলো লুপ সহ আলাদা হয়ে যায়। আলাদা হয়ে গিয়ে এরা নদীর এক পাশেই অবস্থান করে। এই ধরনের লুপকে বলা হয় Oxbow Lake, যেটা সম্পর্কে আগেই একটু বলা হয়েছিল। এটি দেখতে অনেকটা U আকৃতির হয়ে থাকে। এখানে পানি প্রবাহ থাকে না। পুকুরের মতো স্থির পানি দিয়ে ভরা থাকে। বিভিন্ন জায়গায় কৃত্রিমভাবে Oxbow Lake তৈরি করা হয়। জার্মানির রাইন নদী থেকে একবার এরকম Oxbow Lake তৈরি করা হয়েছিলো। এর ফলে সেই নদী পথে চলাচল করার জন্য সোজা পথ তৈরি হয়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  19. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    নীল রঙের যেসব জিনিস আমরা দেখি সেগুলো কি আসলেই নীল?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    প্রকৃতি সবসময়ই আমাদের কাছে এক বিস্ময়। রূপে-রঙে, বর্ণে-গন্ধে প্রকৃতি যেমন আমাদের মনকে ভরিয়ে রাখে তেমনই জীবন ধারণের উপকরণও আমরা পাই এই প্রকৃতি থেকে। মানব মনকে প্রকৃতি সবসময় তার রূপ-সৌন্দর্য দিয়ে আকৃষ্ট করে রাখে। এত রঙ চারদিকে; গাছের সবুজ পাতা, ফুল ও ফলের নানা বর্ণ, বর্ণিল পশুপাখি ইত্যাদি আমাদের মনকে নবিস্তারিত পড়ুন

    প্রকৃতি সবসময়ই আমাদের কাছে এক বিস্ময়। রূপে-রঙে, বর্ণে-গন্ধে প্রকৃতি যেমন আমাদের মনকে ভরিয়ে রাখে তেমনই জীবন ধারণের উপকরণও আমরা পাই এই প্রকৃতি থেকে। মানব মনকে প্রকৃতি সবসময় তার রূপ-সৌন্দর্য দিয়ে আকৃষ্ট করে রাখে। এত রঙ চারদিকে; গাছের সবুজ পাতা, ফুল ও ফলের নানা বর্ণ, বর্ণিল পশুপাখি ইত্যাদি আমাদের মনকে নির্মল রাখতে পালন করে এক অনবদ্য ভূমিকা।

    প্রকৃতির এত বর্ণিলতার মধ্যেও সামান্য হেরফের আছে। গবেষকরা দেখেছেন, প্রকৃতিতে নীল রঙের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুব কম। বিশেষ করে জীবজগতের মধ্যে এ প্রবণতা আরো বেশি। নিশ্চয়ই ভাবছেন যেসব নীল বর্ণ আপনি দেখে থাকেন ফুলে, ফলে কিংবা পাখির গায়ে সেসব কি ভুল? এমনকি মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলেও মনে হয় পুরো পৃথিবীটাই যেন নীল। সেগুলো কি মিথ্যা? আসলে সেসব মিথ্যাও নয়, আবার সত্যও নয়।

    প্রজাপতির ডানার নীল বর্ণও আসলে নীল নয়; Source: orkin.com

    পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর একভাগ স্থল।  জলের আধার সমুদ্রের পানিও নীল বর্ণের দেখায়। সমুদ্রের পানি কি তাহলে নীল রঙ ধারণ করে? সমুদ্রের পানি আসলে কোনো বর্ণ ধারণ করে না। তবে এর নীল বর্ণের কারণ আলোক বিজ্ঞান (Optics) দিয়ে ব্যখ্যা করা যায়। আকাশ যখন নীল থাকে তখন পানিতে আকাশের রঙ প্রতিফলিত হয়। সেজন্য আকাশের রঙে সমুদ্রকে নীল দেখায়।আবার পরিষ্কার পানির ধর্মই হচ্ছে বৃহৎ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ করবে এবং ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলিত করবে। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র। ফলে এটি নীল আলোকে প্রতিফলিত করে, যার কারণে সমুদ্রের পানি নীল মনে হয়।

    পরিষ্কার সমুদ্রের পানি সূর্যরশ্মির বৃহৎ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ করে আর ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলিত করে; Source: wonderopolis.org

    অন্যদিকে আকাশের দিকে তাকালেও দেখা যায়, পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত আকাশ নীল বর্ণের দেখায়। সূর্য থেকে আলোক রশ্মি যখন পৃথিবীর দিকে আসে তখন বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষিত হয়ে যায় এবং ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো অর্থাৎ নীল আলোকরশ্মি চারদিকে বিক্ষিপ্ত হতে থাকে। ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকলে একে আমরা সবসময় নীল দেখি। বৃহৎ পরিসরে আমরা যে নীল দেখি অর্থাৎ সাগরের পানি আর খোলা আকাশ সেখানে আসলে বিশেষ কোনো নীল বর্ণকণিকা নেই।

    সূর্যের আলোকরশ্মি বায়ুমণ্ডলে বিক্ষিপ্ত হয় এবং নীল হিসেবে আমাদের চোখে ধরা দেয়; Source: kabar6.com

    এবার চোখ ফেরানো যাক প্রকৃতির জীবন্ত উপাদানের দিকে। প্রথমেই আসে প্রকৃতির অপরিহার্য উপাদান বৃক্ষের কথা। গাছের পাতায় থাকে ক্লোরোফিল নামক বর্ণকণিকা (Pigment), যার কারণে গাছের পাতা সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। আবার ফুলের বিভিন্ন বর্ণের জন্য আছে দুটি রাসায়নিক উপাদান। সেগুলো হচ্ছে এন্থোসায়ানিন আর ক্যারোটিনয়েড। একাধিক রঙ যেমন একত্রে মিলিত হলে ভিন্ন রঙের সৃষ্টি হয়ে তেমনই এই উপাদানও যদি ভিন্ন ভিন্ন অনুপাতে একত্রে যুক্ত হয় তখন ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের সৃষ্টি হয়। এ কারণে দেখা যায় ফুলের রঙের অনেক বৈচিত্র্য আছে।

    এন্থোসায়ানিন রাসায়নিক গোত্রের মধ্যে মূলত লাল, পার্পেল (বা লালাভ বেগুনী) এবং কিছু মাত্রায় নীল বর্ণ রয়েছে। অন্যদিকে ক্যারোটিনয়েড গোত্রে আছে লাল, হলুদ ও কমলা রঙ। বোঝাই যাচ্ছে যে, এদের মধ্যে লাল বর্ণটি উভয়ের সাধারণ বর্ণ। ফলে এদের সমন্বয়ে যখন নতুন বর্ণ তৈরী হবে তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকবে লালের আধিক্য। বাস্তবেও আমরা দেখি যে অধিকাংশ ফুলের বর্ণই লাল বর্ণের বা লালাভ বর্ণের হয়ে থাকে।

    প্রাকৃতিকভাবে স্বল্প পরিমাণ পাওয়া যায় নীল বর্ণের ফুল। এর মধ্যে মধ্যে একটি হলো হাইড্রেনজিয়া (Hydrangeas); Source: mnn.com

    লাল বা লালাভ হওয়ার কারণে মৌমাছি বা অন্যান্য মধু আহরণকারী পোকা আকৃষ্ট হয় এবং একইসাথে ফুলের পরাগায়ন ঘটে। কাজেই লাল রঙ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ কারণেই যে নীল রঙের ফুল দেখা যাবে না এমন নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যদিও বা ফুল নীল বর্ণের হতে চায় তখনও অনেক বেশি পরিমাণ লাল রঙ থেকে যাবে লুকায়িত অবস্থায়। এন্থোসায়ানিন আর ক্যারোটিনয়েডের মিশ্রণের কারণে নীলাভ হয়তো দেখাবে, কিন্তু লাল রঙের উপাদান ভেতরে ভেতরে ঠিকই রয়ে যাবে। এর ফলে বিশুদ্ধ নীল পাওয়ার পরিবর্তে পাওয়া যাবে বেগুনী বা লালাভ বেগুনী বর্ণ। অর্থাৎ ফুলের ক্ষেত্রে সত্যিকার বিশুদ্ধ নীল বর্ণকণিকা বা নীল পিগমেন্ট বলতে আসলে কিছু নেই।

    তারপরও কথা হচ্ছে আমরা নীল বর্ণের ফুল দেখে থাকি। সেগুলো এলো কীভাবে? প্রশ্ন থেকেই যায়।সাধারণত যেসব ফুলকে আমরা নীল দেখে অভ্যস্ত সেসব ফুলের নীল বর্ণের পেছনে উদ্ভিদের এক গোপন কারসাজি আছে। উদ্ভিদ লাল বর্ণের এন্থোসায়ানিনকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিশেষায়িত করে নীল বর্ণ তৈরি করে।

    Plumbago auriculata একপ্রকার গুল্ম যা মূলত উষ্ণ তাপমাত্রা অঞ্চলে জন্মে এবং নীল বর্ণের ফুল ধারণ করে; Source: mnn.com

    যারা স্বাস্থ্যকর খাদ্যের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত তারা এন্থোসায়ানিন ভালো করে চেনেন। কারণ সায়ানিডিন-৩-গ্লুকোসাইড (C-3-G) হচ্ছে একটি অন্যতম এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং এটিই সাধারণ লাল বর্ণবিশিষ্ট এন্থোসায়ানিন। উদ্ভিদ আসলে এই C-3-G এন্থোসায়ানিনকেই বিভিন্ন উপায়ে রূপান্তরিত করে। যেমন পিএইচ পরিবর্তন করতে পারে, পিগমেন্ট, অণু বা আয়নের মিশ্রণ ঘটাতেও পারে। এই জটিল মিশ্রণ আর পরিবর্তন প্রক্রিয়া যখন পিগমেন্টের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত আলোর সাথে যুক্ত হয় তখন ফুলের পৃষ্ঠের বর্ণ নীল দেখা যায়।

    এমনিতে গবেষকগণ কৃত্রিমভাবে নীল রঙের ফুল তৈরির জন্যে গবেষণা করে যাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে জাপানের একদল বিজ্ঞানী এক্ষেত্রে নার্সারিতে নীল বর্ণের অর্কিড তৈরী করেছেন। কিন্তু আদতে তারা কোনো পিগমেন্ট ব্যবহার করে নয়, বরং জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডাই ব্যবহার করেই তৈরী করেছেন এই নীল অর্কিড।

    জিন প্রযুক্তির দ্বারা উদ্ভাবিত chrysanthemums প্রজাতির নীল ফুল; Source: nature.com

    কারমিট দ্য ফ্রগ-এর একটি গানে তিনি গেয়েছিলেন যে “It’s not that easy being green” (সবুজ হওয়া অতটা সহজ নয়)। সেই সূত্রে ফ্লোরিডা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যার অধ্যাপক ডেভিড লী বলেছিলেন যে “It’s even harder to be blue” (অর্থাৎ নীল হওয়া আরো বেশি কঠিন)।

    এবার উদ্ভিদ ছেড়ে এবার আমরা একটু প্রাণীদের দিকে আসি। এন্থোসায়ানিনের উপস্থিতি এবং উদ্ভিদের নিজস্ব পদ্ধতির দরুণ সেখানে নীলবর্ণ তৈরী করা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু প্রাণীদের ক্ষেত্রে কীভাবে নীলবর্ণ তৈরী করা সম্ভব? কারণ প্রাণীরা এই বর্ণকণিকা ধারণ করে না বা তৈরি করতে পারে না। তাহলে আমরা যে নীলরঙা পাখি বা প্রজাপতি দেখে থাকি সেগুলো কি তাহলে ভুল দেখি? আসলে ভুল দেখি না। সেখানেও আছে এক বিশেষ কারসাজি।

    প্রাণীর শরীরের নীলবর্ণ তাদের শরীরের কাঠামোগত প্রভাবের ফলাফল। খুব সহজ করে বলতে গেলে এই কাঠামোগত প্রভাব মূলত নির্দিষ্ট প্রকারের আলোকের প্রতিফলন ও চিত্রপ্রভার সৃষ্টি করে যা নীলবর্ণের দেখায়। উদাহরণ হিসেবে আমরা নীলকণ্ঠ পাখি বা Morpho প্রজাতির প্রজাপতির কথা বলতে পারি।

    নীলকণ্ঠ পাখির ক্ষেত্রে, এরা সাধারণত মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ তৈরী করে। মেলানিন মূলত কালো বা গাড় ধূসর বর্ণের হয়। ফলে এই পাখির বর্ণও কালো বা ধূসর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদের পালকের মাঝে মাঝে যে ছোট ছোট বায়ু কুঠুরী আছে আর সেখানে যে বায়ু আছে সেই বায়ুর কারণে আপতিত আলো বিক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের চোখে এসে নীলরূপে ধরা দেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘র‍্যালে স্ক্যাটারিং’।

    নীলকণ্ঠ পাখির শরীরের নীলবর্ণ আসলে নীল নয়; Source: mnn.com

    সাধারণত উভচর বা সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণী থেকে পাখি বা প্রজাপতির ক্ষেত্রেই এই বিক্ষেপণের পরিমাণ বেশি দেখা যায়। কারণ এই বিক্ষেপণ একদিকে যেমন বায়ুকণার দ্বারাও ঘটতে পারে অন্যদিকে তেমনি আঁশ বা লোমশ অংশ এবং পালকের ক্ষেত্রেও হতে পারে। কতিপয় ব্যাঙের প্রজাতি এবং নিউডিব্র্যাঙ্কিয়া (Nudibranchia) বর্গের সামুদ্রিক শামুকও নীল বর্ণের হয়।

    Morpho প্রজাপতি মূলত গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে পাওয়া যায়। এই প্রজাতির প্রজাপতি যখন বিশ্রাম করে তখন তাদের ডানা দুটি উপরের দিকে ভাঁজ করা থাকে যা মূলত ধূসর বর্ণের। প্রজাপতির বাদামী, হলুদ কিংবা কালো বর্ণের পেছনে পিগমেন্টের ভূমিকা আছে। কিন্তু নীল বর্ণের পেছনে আছে এদের কাঠামোগত প্রভাব অনেকটা নীলকণ্ঠ পাখির মতো।

    Morpho প্রজাতির প্রজাপতির নীল রঙের আড়ালে আছে ধূসর রঙের আঁশ; Source: laughingsquid.com

    প্রজাপতির ডানায় যে আঁশ থাকে সেগুলো আকারে খুবই ক্ষুদ্র এবং এগুলো একেকটি পিক্সেলের মতো কাজ করে, অনেকটা বড় মোজাইকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টাইলের মতো যারা কিছুটা একে অপরের উপর অবস্থান করে। এই অভিলেপিত আঁশের সারিগুলো পরে প্রিজমের মতো কাজ করে। অর্থাৎ এই পৃষ্ঠের উপর যখন আলো পতিত তখন সেখানে গঠনমূলক ব্যাতিচারের সৃষ্টি হয়। গঠনমূলক ব্যাতিচার হলে এসব অভিলেপিত সারিগুলো থেকে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রতিফলিত আলো একে অপরের সাথে মিশে যায় এবং বাকি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো একে অপরকে নাকচ করে দেয়। সাধারণত নীল বর্ণের আলোই এক্ষেত্রে অভিলেপিত হয় এবং আমাদের চোখে এসে তা ধরা দেয়।

    সব মিলিয়ে দেখা যায় যে, প্রকৃতিতে অন্যান্য অনেক বর্ণ কম বেশি থাকলেও নীল বর্ণকণিকা আসলেই কম। যেটুকু নীল আমরা দেখে থাকি সেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুভংকরের ফাঁকির মতো। তবে প্রকৃতিবিজ্ঞানীরা এখনও সঠিকভাবে তেমন কোনো কারণ খুঁজে পাননি যে কেন প্রকৃতিতে নীল বর্ণকণিকার পরিমাণ এত কম। কিছু তত্ত্ব পাওয়া যায় যেমন উদ্ভিদের ক্ষেত্রে লাল পিগমেন্টের আধিক্য কিংবা প্রাণীর দেহের পালক ও আঁশের মেলানিন নামক রঞ্জক। তারপরও অনেক প্রশ্ন থেকে যায়। সে প্রশ্নের উত্তর সে রহস্যের সমাধানের জন্য আমাদেরকে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  20. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    ফটোগ্রাফিক মেমোরি বলতে কি আসলেই কিছু আছে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    ধরুন, আগামীকাল আপনার কোনো একটা ফাইনাল পরীক্ষা, আপনি পড়ছেন, আরো পড়ছেন, কিন্তু সিলেবাস শেষ হচ্ছে না। যা-ই পড়ছেন, নতুন কিছু একটা শুরু করতে গিয়েই মনে হচ্ছে আগেরটা ভুলে গিয়েছেন। এমন অবস্থা তো আমাদের সবার জীবনেই হয়েছে, তা-ই না? তখন কি মনে হয় না, ইশ আমার যদি ফটোগ্রাফিক মেমোরি থাকতো, কতই না ভালো হতো! একবারবিস্তারিত পড়ুন

    ধরুন, আগামীকাল আপনার কোনো একটা ফাইনাল পরীক্ষা, আপনি পড়ছেন, আরো পড়ছেন, কিন্তু সিলেবাস শেষ হচ্ছে না। যা-ই পড়ছেন, নতুন কিছু একটা শুরু করতে গিয়েই মনে হচ্ছে আগেরটা ভুলে গিয়েছেন। এমন অবস্থা তো আমাদের সবার জীবনেই হয়েছে, তা-ই না? তখন কি মনে হয় না, ইশ আমার যদি ফটোগ্রাফিক মেমোরি থাকতো, কতই না ভালো হতো! একবার দেখতাম, সব ঢুকে যেত মাথায়, পরীক্ষায় গিয়ে শুধু উগড়ে দিয়ে আসতাম! তারপর একদম কেল্লা ফতে! সেরা ফলাফল আর ঠেকায় কে!

    শুনতে বেশ সিনেমাটিক লাগছে তাই না? সিনেমাটিকই বটে, সুপারম্যানের লেক্স লুথর, এক্স ম্যানের প্রোফেসর এক্সের মতো চরিত্রের মাঝে ফটোগ্রাফিক মেমোরি দেখতে দেখতেই আমাদের মনে গেঁথে গেছে ফটোগ্রাফিক মেমোরির অস্তিত্ব।

    কিন্তু পর্দার বাইরের বাস্তব জীবনে কি আসলেই ফটোগ্রাফিক মেমোরি বলে কিছু আছে? মানুষের ভালো স্মৃতিশক্তি তো আমরা অহরহই দেখতে পাই। দাবার গ্র্যান্ডমাস্টাররা দাবা বোর্ডের দিকে পাঁচ সেকেন্ড তাকিয়েই স্মৃতিতে গেঁথে নিতে পারেন সবার অবস্থান। রুবিক্স কিউব যারা অনেক দ্রুত মেলান, তারাও একবার তাকিয়ে মনে রাখতে পারেন সম্পূর্ণ কিউবটা কীভাবে আছে। অবশ্য তাদের এটা পারেন কারণ তাদের কাছে দাবার ঘুঁটির বিভিন্ন অবস্থান আর রুবিক্স কিউবের সজ্জা মাথায় প্যাটার্নের মতো গেঁথে আছে।  তারপর হাইপারথেসমিয়া বা ‘কিছু না ভোলার রোগ’ বলে একটা ব্যাধি আছে, এ রোগ থাকলে মানুষ দৈনন্দিন জীবনের কিছুই ভুলতে পারে না এবং এ ব্যাপারটার উপর সে রোগীর কোনো নিয়ন্ত্রণও থাকে না। কিন্তু ফটোগ্রাফিক মেমোরি বলতে আমরা বুঝি একটু অন্যরকম কিছু- কোনো একজন মানুষ কোনোকিছুর দিকে তাকালো, একটি মানসিক ছবি নিয়ে নিলো, পরে সম্পূর্ণ একটি ছবির মতোই সেই দৃশ্যটাকে মনে করে ফেললো।

    এধরনের ফটোগ্রাফিক মেমোরির আসলে কোনো নজির আছে কি না, তা জানতে আমরা একটু পেছনে তাকাই।

    ১৯৭০ সালে ‘ন্যাচার’ জার্নাল থেকে একটা স্টাডি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয় এলিজাবেথ নামক এক নারীর কথা, যিনি নাকি অনেকটাই ফটোগ্রাফিক মেমোরির অধিকারী। তার উপরে করা টেস্টটায় তাকে আলাদাভাবে এমন দুটো ডট প্যাটার্ন দেখানো হয়, যেগুলোকে এক করলে একটি পরিচিত চিহ্ন বা অক্ষর দেখা যাবে। এলিজাবেথকে সেগুলো দেখানোর পর তিনি বলে দিতে পারতেন, অক্ষর বা চিহ্নটি আসলে কী। তিনি নাকি বিদেশী ভাষা, অর্থাৎ যেই ভাষা তিনি জানেনই না, সে ভাষার কবিতাও মুখস্থ বলে দিতে পারতেন একবার দেখেই।

    এলিজাবেথের উপরে নেয়া হয়েছিল এমনই একটি মেমোরি টেস্ট, এ দুটোর লাল ডট মিলিয়ে ‘F’ অক্ষরটি তৈরি করে; image source: drawinglics.com
    এ স্টাডিটি তখন বিজ্ঞানীমহলে হৈচৈ ফেলে দেয়। অন্য বিজ্ঞানীরাও তখন ব্যাপারটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে জন মেরিট নামের আরেকজন গবেষক একটি ফটোগ্রাফিক মেমোরি টেস্ট তৈরি করে জনপ্রিয় পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

    প্রায় দশ লাখের মানুষ তার টেস্টটি সল্ভ করার চেষ্টা করেন, সফল হন মাত্র ৩০ জন। তাদের মধ্যে ১৫ জন মানুষের সাথে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করেন, কিন্তু সামনাসামনি সেই মানুষগুলো আর ফটোগ্রাফিক মেমোরির প্রমাণ দেখাতে পারেন না। তাই এলিজাবেথ তখনো অদ্বিতীয়ই থেকে যান।

    কিন্তু এই এলিজাবেথ গল্পের সত্যতা সম্পর্কেই আসলে কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার এই স্টাডিটি প্রকাশ হবার পর, তার উপর আরো টেস্ট করার প্রস্তাব করা হয়, কিন্তু তিনি আর রাজি হননি। এবং, স্টাডিটির লেখক আর এলিজাবেথ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কিছুদিনের মধ্যেই।

    সুতরাং, সেই গবেষণাটির ফলাফল যে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল ছাড়াও অন্য কোনো আবেগ দ্বারা প্রভাবিত ছিল না, তার নিশ্চয়তা কি আদৌ আছে?

    এই ঘটনার পরও, বেশকিছু মানুষই দাবি করেছেন যে তাদের ফটোগ্রাফিক মেমোরি আছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করার পর দেখা গেছে, তাদের কারোরই আসলে এধরনের কিছু ছিল না, কেউ হয়তো ক্ষেত্রবিশেষে খুব ভালো স্মৃতিশক্তির নজির দেখিয়ে ফেলেছিলেন, কারো দাবিটিই ছিল নিতান্ত মিথ্যে।

    তবে ফটোগ্রাফিক মেমোরির কাছাকাছি একটা ব্যাপার কিন্তু প্রকৃতিতে আছে। এর নাম ‘আইডেটিক ইমেজারি’। পুরোপুরি ফটোগ্রাফিক মেমোরির মতো না হলেও আইডেটিক ইমেজারি ব্যাপারটাও বেশ মজার।

    আইডেটিক ইমেজারি যাদের থাকে, তাদেরকে বলা হয় আইডেটিকারস। তারা বাস্তবে কোনো একটা ছবি দেখার পর চোখ সরিয়ে নিলেও সে ছবিটি দেখা চালিয়ে যেতে পারে, বিবরণ দিতে পারে খুব ছোট ছোট ডিটেইলের। তাদের সেই ছবি দেখার অভিজ্ঞতাও হয় একদম আসলটা যখন দেখেছিল, ঠিক তেমন। এছাড়াও মনের মধ্যেও তারা তৈরি করে ফেলতে পারে এরকম ছবি, যেটা দেখার অভিজ্ঞতার সাথে বাস্তব ছবি দেখার অভিজ্ঞতার কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু ছবিটা সাধারণত ধীরে ধীরে কয়েক মিনিটের মধ্যে উধাও হয়ে যায় চোখের সামনে থেকে, আর চোখ বন্ধ করলে বা পলক ফেললেও উধাও হয়ে যায় এমনিতেই। আর যদি একবার চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে যায়, তখন সেটা আর ফিরেও আসে না। এছাড়া যখন ছবিটা চোখের সামনে থাকেও, এমন না যে সেখান থেকে লেখা পড়ে লিখে ফেলা যাবে খুব, তাই আমরা ফটোগ্রাফিক মেমোরি দিয়ে যা করার কথা ভাবি, তা আসলে আইডেটিক ইমেজারি দিয়ে করা সম্ভব নয়।

    তবে অদ্ভুত বিষয় হলো, এই আইডেটিক ইমেজারিটা শুধুমাত্র শিশুদের মধ্যেই দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এর নজির এখনো একবারও পাওয়া যায়নি। আর শিশুদের জন্যেও, তারা যত বড় হতে থাকে, এই ইমেজ দেখার ক্ষমতা কমতে থাকে।  তাই গবেষকরা ভাবছেন, আইডেটিক ইমেজারি হারিয়ে যাওয়া সম্ভব স্বাভাবিক বিকাশেরই অংশ। তবে অনেকে এও বলেন যে, আমরা যত বড় হই, আমাদের চিন্তা তত ভাষাভিত্তিক হয়। আমরা শব্দে ভাবি, ছবিতে নয়। আর যখন কোনো একটা বস্তুর জন্য আমরা শব্দ তৈরি করে ফেলি, তখন সে বস্তুর আইডেটিক ইমেজ আর আমরা তৈরি করতে পারি না। এ কারণেই আইডেটিক ইমেজারি হারিয়ে যেতে থাকে ভাষায় দক্ষ হবার সাথে সাথেই।

    তবে একটি শিশুর ভাষার দক্ষতা বাড়ার সাথে সাথেই তার আইডেটিক ইমেজারি কমে যাচ্ছে, এটা সবসময়ই হয় না, কিছু স্টাডিতে এর ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। তাই এই ব্যাখ্যাটি ভুলও হতে পারে।

    আবার এও দেখা গেছে যে, আইডেটিক ইমেজারি মস্তিষ্কের অক্সিপিটাল লোবে আলফা-ওয়েভ অ্যাক্টিভিটির জন্ম দেয়। আলফা-ওয়েভ অ্যাক্টিভিটি সাধারণত মানুষের হয় জাগ্রত অবস্থায় চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেবার সময়, অথচ আইডেটিক ইমেজারি দেখবার সময় চোখ থাকে বন্ধ। এসব তথ্যে বিজ্ঞানীরা বেশ বিভ্রান্তই আছেন এখনো।

    আইডেটিক ইমেজারি মস্তিষ্কের অক্সিপিটাল লোবে আলফা-ওয়েভ অ্যাক্টিভিটির জন্ম দেয়; image source: imcreator.com
    তাই আইডেটিক ইমেজারির প্রকৃতি ও কারণ এখনো একদম নিশ্চিতভাবে বের করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

    কিন্তু ফটোগ্রাফিক মেমোরি যে আসলে বাস্তবে নেই, সেটা বিজ্ঞানীরা মোটামুটি নিশ্চিত। তাই এক ঝলকেই স্মৃতিতে গেঁথে ফেলব, এরকম শর্টকাটও আসলে নেই। স্মৃতিশক্তিকে তুখোড় করার উপায় তাই নিয়মিত অনুশীলন। এছাড়া নেমোনিক (Mnemonics) ব্যবহার করে মনে রাখাও একটা ভালো উপায়। নেমোনিক হচ্ছে ছড়া, ছন্দ বা কোনো গল্প- এধরনের বিভিন্ন স্মৃতিসহায়ক দিয়ে কিছু মনে রাখার পদ্ধতি। এই নেমোনিক ব্যবহারকে পাকাভাবে রপ্ত করেই বিভিন্ন স্মৃতিশক্তি প্রতিযোগিতার প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতায় সয়লাব করে থাকে। মোদ্দা কথা, চর্চা আর অধ্যবসায় আপনাকে করতেই হবে।  তবে এই প্রবন্ধ পড়ার পর থেকে নিশ্চয়ই আপনি আর আপনার ফটোগ্রাফিক মেমোরি থাকার আশা করবেন না। এ নিয়ে আফসোস করারও কিছু নেই, এটা আপনার যেমন নেই, তেমনি পৃথিবীর কারোরই নেই।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
Load More Answers

Sidebar

লগ ইন করুন
  • জনপ্রিয়
  • উত্তর
  • Mithun

    নির্মাণকাজে মরুভূমির বালু কেন ব্যবহার করা হয়না?

    • 12 টি উত্তর
  • Hina Khan

    Is Telegram MOD APK safe to use? What are the ...

    • 9 টি উত্তর
  • shanto

    ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন, লাইসেন্সের অনলাইন কপি ডাউনলোড, লাইসেন্স হয়েছে ...

    • 8 টি উত্তর
  • Admin

    নতুন ক্যাটাগরি "SEO" যুক্ত হলো আড্ডাবাজে!

    • 7 টি উত্তর
  • Mahmudul

    একটি ঘোর লাগানো ছবি দেখাতে পারবেন কি?

    • 6 টি উত্তর
  • mar7w7
    mar7w7 একটি উত্তর দিয়েছেন great post! জুন 15, 2026, সময়ঃ 2:56 পূর্বাহ্ন
  • M Sarah
    M Sarah একটি উত্তর দিয়েছেন তাফসীরুল কুরআনিল আযীম বা তাফসীরে ইবনে কাসীর ইসলামী বিশ্বের অন্যতম… জুন 10, 2026, সময়ঃ 9:18 পূর্বাহ্ন
  • rakib
    rakib একটি উত্তর দিয়েছেন ২০২৬ সালে বাংলাদেশে বিয়ের গহনার দাম নির্ভর করে সোনার ক্যারেট,… মে 3, 2026, সময়ঃ 10:32 পূর্বাহ্ন
  • Jesmin
    Jesmin একটি উত্তর দিয়েছেন HSC ২০২৬ পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ২… এপ্রিল 27, 2026, সময়ঃ 2:01 অপরাহ্ন
  • Sinclair
    Sinclair একটি উত্তর দিয়েছেন When shopping for best sex dolls, most buyers tend to… এপ্রিল 17, 2026, সময়ঃ 3:10 পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় গ্রুপ

  • মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    • 4 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 106 বার প্রদর্শিত
  • Knowledge World

    Knowledge World

    • 3 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 118 বার প্রদর্শিত
  • CT Game Review

    CT Game Review

    • 3 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 1,114 বার প্রদর্শিত
  • Earn Money

    • 3 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 156 বার প্রদর্শিত
  • WordPress Themes & Plugins

    WordPress Themes & Plugins

    • 2 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 209 বার প্রদর্শিত

চলতি মাসের সেরা ইউজার

M Sarah

M Sarah

  • 0 প্রশ্ন
  • 2 পয়েন্ট
নতুন
pooja ramola

pooja ramola

  • 1 প্রশ্ন
  • 2 পয়েন্ট
নতুন
wwwqrb.transfer702.pages.dev - WITHDRAW FUNDS 1.2809 BTC d

wwwqrb.transfer702.pages.dev - WITHDRAW FUNDS 1.2809 BTC d

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
wwwgsb.transfer702.pages.dev - BTC TRANSFER 94858 USDT m

wwwgsb.transfer702.pages.dev - BTC TRANSFER 94858 USDT m

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
wwwisr.transfer702.pages.dev - YOUR BALANCE 90353 USDC p

wwwisr.transfer702.pages.dev - YOUR BALANCE 90353 USDC p

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
লগ ইন করুন

Explore

  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

Footer

AddaBuzz.net

আড্ডাবাজ একটি সামাজিক প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিন। যেখানে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একে অপরের জ্ঞান আদান-প্রদান হয়। প্রশ্ন করুন, উত্তর দিন, জ্ঞান ভাগাভাগি করুন।

Adv 234x60

aalan

আমাদের সম্পর্কিত

  • আমাদের টিম
  • আমাদের লক্ষ্য

লিগ্যাল স্টাফ

  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions
  • Data Deletion Instructions

সাহায্য

  • Knowledge Base
  • Contact us

আমাদের ফলো করুন

© 2026 AddaBuzz. All Rights Reserved
With Love by AddaBuzz.net

✕
🔔 নোটিফিকেশন চালু করুন নতুন প্রশ্নোত্তর ও ব্লগ আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন