সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
পৃথিবীর সব বরফ যদি গলে যায় তাহলে কী ঘটবে?
প্রকৃতির প্রতিশোধে যদি পৃথিবীর সব বরফ একসাথে গলে যায় তাহলেও কি আমরা পরিবেশ দূষণ বন্ধ করব? সে প্রশ্নের উত্তর অদৃষ্টের উপরেই ছেড়ে দেই। তবে আশা করছি আমাদের সাথে এমন কিছু হবে না, কিন্তু যদি হয়ে যায় তাহলে কি আপনি পুরো শহর সহ পানিতে ডুবে যাবেন? আসুন জেনে নেই পরিবেশ দূষণের প্রভাবে পৃথিবীর সমস্ত বরফ গলে গেলবিস্তারিত পড়ুন
প্রকৃতির প্রতিশোধে যদি পৃথিবীর সব বরফ একসাথে গলে যায় তাহলেও কি আমরা পরিবেশ দূষণ বন্ধ করব? সে প্রশ্নের উত্তর অদৃষ্টের উপরেই ছেড়ে দেই। তবে আশা করছি আমাদের সাথে এমন কিছু হবে না, কিন্তু যদি হয়ে যায় তাহলে কি আপনি পুরো শহর সহ পানিতে ডুবে যাবেন?
আসুন জেনে নেই পরিবেশ দূষণের প্রভাবে পৃথিবীর সমস্ত বরফ গলে গেলে আমাদের সাথে ঠিক কী হতে যাচ্ছে?
বেড়ে যাবে পানির উচ্চতা
আমাদের পৃথিবীর বেশ বড় একটা অংশ বরফে ঢাকা। রাতারাতি যদি সব বরফ গলে যায় তাহলে সমুদ্রের পানি প্রায় ২৫০ ফুট উপরে উঠে যাবে। আর এটুকুই যথেষ্ট আমাদের দেশের বড় বড় সব ব্রিজগুলো পুরোপুরি পানিতে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য। এরই সাথে সাথে ভারত এবং বাংলাদেশের অনেক বড় বড় শহর মুম্বাই, গোয়া, চট্টগ্রাম, সিলেট এগুলোর সাথে আরো সাত মহাদেশের অনেকগুলো শহর পুরোপুরি পানিতে ডুবে যাবে। আর তখন না থাকবে মায়ামি শহর আর না থাকবে লন্ডন! এমনকি অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা পানিতে ডুবে যাবে। এছাড়া আচমকা চলে আসা এই জলস্রোতে ভেনিস এবং নেদারল্যান্ড পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই একদম ডুবে যাবে।
আফ্রিকা হয়ে যাবে জনমানবশূন্য
আফ্রিকাকে অন্যান্য দেশের মতো অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে না। আদতে যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো, আফ্রিকার অবস্থা তার থেকেও খারাপ অবস্থা হবে। হুট করেই সব বরফ গলে গেছে! তার মানে হলো পানির সাথে সাথে গরমও অনেক বেড়ে গেছে। আর এই অতিরিক্ত তাপমাত্রার সবচেয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে আফ্রিকার উপর। অস্বাভাবিক রকম গরম থাকার কারণে আফ্রিকা মহাদেশের অনেকগুলো অংশ একদম জনমানবশূন্য, এমনকি প্রাণীশূন্যও হয়ে যাবে। অত্যধিক গরমের কারণে সেখানে অনেক প্রাণীই বেঁচে থাকতে পারবে না।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
অবশ্য এমন অনেক জায়গা থেকে যাবে পৃথিবীতে যেগুলো পুরোপুরি পানিতে ডুবে যাবে না তবে সেই জায়গাগুলোকে অনেক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হবে। আপনার কি মনে হয়? এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কি মানব সভ্যতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে? না, ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। তবে এই দুর্যোগ থেকে যারা বেঁচে থাকবে তাদেরকে অনেক ধরনের প্রতিকূলতার সামনাসামনি করতে হবে। সব বরফ গলে যাওয়ার পর বাতাসে কার্বনডাইঅক্সাইড বেড়ে যাবে আর এর ফলাফলস্বরূপ বেঁচে থাকা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীদের নিঃশ্বাস নিতে অনেক সমস্যায় ভুগতে হবে।
অনেক সামুদ্রিক প্রাণী বিলুপ্ত হতে থাকবে ধীরে ধীরে
এদিকে সমুদ্রের স্রোত তার গতিপথ বদলে ফেলবে, যার প্রভাব সামুদ্রিক প্রাণীদের উপরেও যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান থাকবে। এই আচমকা পরিবর্তনের মধ্যে তারা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে না, এরই মধ্যে অনেক প্রাণী এই পরিবর্তনের কারণে মারা পর্যন্ত যাবে। ফলাফল স্বরূপ অনেক সামুদ্রিক পানি এবং পোলার এনিমেল অর্থাৎ বরফে বাস করা প্রাণীরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর যারা বেঁচে থাকবে তাদের নিজেদের ঠিকানা এবং অভ্যাস বদলাতে হবে অবশ্যই।
ফুড চেনের উপর সরাসরি প্রভাব!
আর প্রকৃতির এই হাজারো পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি আমাদের ফুড সাপ্লাই চেনের উপরে এসে পড়বে। না আমরা নিজেদের জন্য শস্য উৎপাদন করতে পারব আর না অন্য প্রাণীদেরকে নিজেদের খাবারে রূপান্তর করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে প্রাণী খুঁজে পাব। কেননা পুরো প্রকৃতিই বরফ গলার সাথে সাথে অন্য রকম রূপ ধারণ করবে। মরুভূমিতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হতে থাকবে আর যে সব জায়গায় আগে বৃষ্টি হতো সেখানে বৃষ্টি হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। যার কারণে আমাদের কৃষি কাজ আচমকা বাঁধার সম্মুখীন হবে এবং যার কারণে পুরো বিশ্বে খাদ্যের অভাব পড়ে যাবে।
সুনামির সংখ্যা বেড়ে যাবে
এদিকে বাতাসের গতি প্রকৃতিও পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে যাবে, সমুদ্রে বরফ না থাকার কারণে সূর্যের কিরণ প্রতিফলিত হবে না, যার ফলে সমুদ্রের পানি অনেক গরমের কারণে মেঘ হয়ে আকাশে থাকবে আর সব মেঘ পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে একত্র হয়ে সেখানে ভারী বর্ষণের সৃষ্টি করবে। আর এই ভারী বর্ষণ পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে নিয়ে আসবে অতিরিক্ত বন্যা। আবার এদিকে সমুদ্রের উপর একের পর এক তুফান এবং সাইক্লোনের সৃষ্টি হতে থাকবে, যার ফলে নিচু এলাকাগুলোকেও প্রচুর পরিমাণ বন্যার শিকার হতে হবে। এই ধরনের এলাকাগুলোতে ছোটখাটো একটা ভূমিকম্প অনেক বড় ধরনের সুনামি তৈরি করবে, আর সেই সুনামি আশেপাশের সব এলাকাকে পুরোপুরি নাস্তানাবুদ করে দিবে।
যেই দুনিয়াকে আজ আমরা দেখছি, সেটা ধ্বংসের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। অন্যান্য প্রাণীদের কথা বলা মুশকিল তবে মানব জাতি এভাবে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে আশার কথা হলো, সবগুলো বরফ এক রাতের মধ্যেই গলে যাচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, খুব দ্রুততার সাথেই সব বরফ গলা শুরু করেছে। এমনকি আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফ এলাকা যেটা পুরো পৃথিবীর জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করছে, সেটাও গলা শুরু করেছে।
আর ঠিক এই কারণেই আমাদের এখনই থামতে হবে, আমরা যদি এখনই পরিবেশ দূষণ না থামিয়ে দেই তাহলে এই ধ্বংস কোনো ভাবেই থামানো যাবে না। আগামী পাঁচ হাজার বছরের মধ্যেই পৃথিবীর সবগুলো বরফ গলে যাবে। এমনিতে তো পাঁচ হাজার বছর অনেক বড় একটা সময়, তার আগেই কে জানে আমাদের পৃথিবীর উপর যদি কোনো উল্কাপিণ্ডের আঘাত আসে অথবা সমুদ্রের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। কোনো কিছুই পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না।
সংক্ষেপে দেখুনমানুষ খর্বাকৃতি বা বামন হয় কেন?
‘হ্যারি পটার’ এর বামনদের কথা মনে আছে? কিংবা ‘তিন গোয়েন্দা’র রত্মদানোর কথা? শুধু গল্পে বা রূপকথাতেই নয়, বাস্তবেও হরহামেশাই দেখা মেলে খর্বাকৃতির কিছু লোকজনের। হয়তো আপনার পাশের বাসার বন্ধুটি আপনার সমবয়সী হওয়ার পরও আপনার তুলনায় যথেষ্ট খাটো। অথবা আপনার থেকে বয়সে বড় আপনার কাছের কোনো আত্মীয় এই অবস্থার শিকাবিস্তারিত পড়ুন
‘হ্যারি পটার’ এর বামনদের কথা মনে আছে? কিংবা ‘তিন গোয়েন্দা’র রত্মদানোর কথা? শুধু গল্পে বা রূপকথাতেই নয়, বাস্তবেও হরহামেশাই দেখা মেলে খর্বাকৃতির কিছু লোকজনের। হয়তো আপনার পাশের বাসার বন্ধুটি আপনার সমবয়সী হওয়ার পরও আপনার তুলনায় যথেষ্ট খাটো। অথবা আপনার থেকে বয়সে বড় আপনার কাছের কোনো আত্মীয় এই অবস্থার শিকার। রাস্তায় বেরোলে এরকম মাথা বড়, অস্বাভাবিক খাটো লোকজনদের দেখে আমরা কখনো হাসি, কখনো ব্যঙ্গ করি, কটুক্তি ছুড়ে দিই, কখনোবা অবাক চোখে তাকাই। মানুষ হিসেবে মানবিক আচরণ করতে হয়তো ভুলে যাই ক্ষণিকের জন্য।
এরকম কোনো মানুষকে চোখে পড়লে তাদের প্রতি কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার ফাঁকে কখনো কি আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, আপনার তুলনায় লক্ষ্যণীয় কম উচ্চতার এসব মানুষজনের খর্বাকৃতির হওয়ার কারণ কি? এই লেখাটিতে জানার চেষ্টা করব এই বিষয়েই।
বামনত্ব (Dwarfism) হলো একটি হরমোনঘটিত রোগ, যা মূলত দেহে বৃদ্ধি হরমোনের অভাবে হয়ে থাকে। বৃদ্ধি হরমোন হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের হরমোন, যা শরীরের সব ধরনের কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোষ বিভাজনের মাত্রা বাড়িয়ে কোষকে সংখ্যায় এবং আকারে বৃদ্ধি করে। এই হরমোনের কারণেই মানুষ ছোট থেকে বড় হয়, মানুষের শরীর আকার-আয়তনে বৃদ্ধি পায়। কোনো কারণে যদি শরীরে পর্যাপ্ত বৃদ্ধি হরমোন উৎপন্ন হতে না পারে, তাহলে শরীরের বৃদ্ধি শ্লথ হয়ে আসে। এই সমস্যাটি সাধারণত শৈশবে শুরু হয় আর স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় বয়ঃসন্ধিকালে। তবে যেকোনো বয়সেই নানা কারণে বৃদ্ধি হরমোন কমে যেতে পারে এবং একজন ব্যক্তি বৃদ্ধি হরমোনঘটিত কোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
শৈশবেই বামনত্ব বোঝা যায়; Source: Gazette Live
বৃদ্ধি হরমোন আপনার মাথার পেছনে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই পিটুইটারি গ্রন্থির আছে দুটো ভাগ- অগ্র পিটুইটারি এবং পশ্চাৎ পিটুইটারি। আমাদের আলোচ্য বৃদ্ধি হরমোন অগ্র পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত হয়। অগ্র পিটুইটারি থেকে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের ক্ষরণ ঘটে থাকে। যেমন- এড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH), থাইরয়েড স্টিম্যুলেটিং হরমোন (TSH), ফলিকল স্টিম্যুলেটিং হরমোন (FSH) প্রভৃতি।
শরীরের বৃদ্ধি প্রক্রিয়া শুরু হয় মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে। অন্যভাবে বললে, বৃদ্ধি হরমোন নিঃসরণের ক্ষেত্রে হাইপোথ্যালামাসের বিশেষ ভূমিকা আছে। হাইপোথ্যালামাস থেকে Growth Hormone Stimulating Hormone ক্ষরিত হয়, যা অগ্র পিটুইটারিকে বৃদ্ধি হরমোন (Growth Hormone) নিঃসরণের জন্য উদ্দীপ্ত করে। ফলে বৃদ্ধি হরমোন নিঃসৃত হয়ে রক্তপ্রবাহে চলে আসে এবং যকৃতে পৌঁছে আরেকটি হরমোন Insulin like growth factor-1 ক্ষরণে উদ্দীপনা যোগায়। এই IGF-1 হরমোনটি প্রত্যক্ষভাবে হাড় এবং মাংসপেশীর বৃদ্ধি ঘটায়। বৃদ্ধির পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল বলে এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধাপে যেকোনো সমস্যা যথাযথ বৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে পারে।
পিটুইটারি গ্রন্থি; Source: slideshare
বামনত্বের কারণ
বামনত্বের কারণ বড়ই বিচিত্র। বিভিন্ন কারণেই এটি হতে পারে। যেমন-
আরো অজানা (Idiopathic) নানা কারণে বামনত্ব হতে পারে।
বামনত্বের কারণ বিভিন্ন হতে পারে; Source: Starcasm
বামনত্বের প্রকারভেদ
উপসর্গ, বৃদ্ধির ধরন, শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা, রোগের কারণ প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করে বামনত্বকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-
প্যানহাইড্রোপিটুইটারিজ
পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত বেশিরভাগ হরমোনই অগ্র পিটুইটারি থেকে আসে। কয়েকটির নামও উল্লেখ করা হয়েছে উপরে। কোনো কারণে যদি পিটুইটারি গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তাহলে শুধু বৃদ্ধি হরমোনই নয়,অগ্র পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত সব হরমোনেরই অভাব দেখা যায়। ফলে শরীরের বৃদ্ধি হ্রাস পায়। উচ্চতা কম হয়, হাত-পা, বাহু শরীরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ছোট হয়। কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আশানুরুপ বাড়তে পারে না, নির্দিষ্ট কাজের উপযোগী হতে পারে না। এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের বয়ঃসন্ধি দেরিতে হয়। প্রজনন অঙ্গগুলো পরিণত না হওয়ার কারণে ব্যক্তি বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। মাথায় বড় ধরনের কোনো আঘাত লাগলে কিংবা পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার হলে এই রোগ হতে পারে।
বৃদ্ধি হরমোনের অভাবজনিত বামনত্ব
এই রোগ হয় শরীরে শুধুমাত্র বৃদ্ধি হরমোনের অভাব থাকলে। বৃদ্ধি হরমোন যথেষ্ট পরিমাণে থাকে না বলে আক্রান্ত ব্যক্তি উচ্চতায় বাড়ে না। অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকারও ছোট হয়। তবে এরা প্রজননে সক্ষম হয়ে থাকে।
লেভিলরেন বামনত্ব
শরীরে যদি বৃদ্ধি হরমোনের জোয়ারও বয়ে যায়, তবু এটি কাজ করতে পারবে না যদি সোমাটোমেডিন সি (IGF-1) এর অভাব থাকে। লেভিলরেন বামনদের শরীরে যথেষ্ট গ্রোথ হরমোন থাকে, তবে থাকে না IGF-1। ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়, গ্রোথ হরমোন শরীরের সব জায়গায় পৌঁছে যায় ঠিকই, তবে শরীর তা কাজে লাগাতে পারে না। ফলে বৃদ্ধি হ্রাস পায়। পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বাকার আফ্রিকার পিগমি আদিবাসীরা এই শ্রেণীর বামন।
কোনো কোনো বামনত্বের ক্ষেত্রে শরীরের সব অঙ্গ একই অনুপাতে বাড়ে। মাথা, হাত-পা সবকিছুরই বৃদ্ধি রহিত হয়। সবগুলো অঙ্গই ছোট হয়। আবার কখনো দেখা যায়, শরীর ঠিকঠাক বাড়ছে কিন্তু হাত-পা ছোট, মাথা বড়।
কীভাবে বুঝবেন আপনার শিশু বামনত্ব রোগে ভুগছে কিনা?
স্বাভাবিক বাচ্চাদের থেকে বৃদ্ধি হরমোনের ঘাটতি থাকা বাচ্চারা সাধারণত ২০-২৫ শতাংশ কম বাড়ে। ২-৪ বছর বয়সেই ব্যাপারটি বোঝা যায়। হাত-পা অতিরিক্ত খাটো হয়। মুখমণ্ডল ছোট হয়, কারণ মুখমণ্ডলের হাড় ম্যাক্সিলা ও ম্যান্ডিবল তেমন একটা বাড়ে না। দাঁতগুলোও পরিপক্ক হয় না। নাক ছোট হয়, চোখ দুটো কাছাকাছি মনে হয়। শরীরে প্রোটিন উৎপাদন কম হওয়ায় মাংসপেশী কম তৈরি হয়। শরীরে অস্বাভাবিক চর্বি জমতে দেখা যায়। প্রজনন অঙ্গ সুগঠিত হয় না। চামড়া কুঁচকানো হতে পারে। বুদ্ধিমত্তা সাধারণত স্বাভাবিকই থাকে। তবে বিষন্নতা, হীনমন্যতার মতো মানসিক জটিলতা কাজ করতে পারে।
বামনত্বে আক্রান্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ; Source: thinglink
আপনার বাচ্চার মধ্যে উপরের লক্ষণগুলো যদি দেখা যায়, তাহলে কি সে আসলেই বামনত্বে ভুগছে? ভাবছেন, এটি নিশ্চত হবেন কীভাবে? কিছু কিছু পরীক্ষা আছে, যেগুলো করলে বোঝা সম্ভব আপনার বাচ্চা সত্যিই বামনত্বে ভুগছে কিনা। হাতের মুষ্টির এক্স-রে তার মধ্যে একটি। এই এক্স-রে করলে হাতের হাড়ের বয়স (Bone Age) নির্ণয় করা যায়। হাড়ের বয়স এবং বাচ্চার বয়সের তুলনা করে বোঝা যায় শিশুর বামনত্ব আছে কিনা। সাধারণত বামনত্বে আক্রান্ত বাচ্চাদের হাড়ের বয়স মূল বয়সের চেয়ে দু’বছর কম হয়। যেমন- বাচ্চার বয়স ১০ বছর হলে হাড়ের বয়স হবে ৮ বছর।
বামনত্বের প্রতিকার
বৃদ্ধি হরমোন ইনজেকশন; Source: perimeter institute
বয়সের তুলনায় অল্প বাড়া শিশুদের যদি অল্প বয়সে ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রোথ হরমোনের ডোজ দেওয়া হয়, তাহলে বামনত্ব সেরে যায়। শিশুটি স্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। অনেকেই জানেন নিশ্চয়ই, জনপ্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকেও বৃদ্ধি হরমোনের অভাব সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগতে হয়েছিল। ছোটবেলায় যখন তার রোগটি ধরা পড়ে, তখন তার উচ্চতা ছিল ৪ ফুট ২ ইঞ্চি। তারপর বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাবের আলোচিত চিকিৎসার পর তার বর্তমান উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, যা গড়পড়তা আর্জেন্টাইনদের চেয়েও বেশি!
আগে মৃতদেহ থেকে বৃদ্ধি হরমোন সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু এতে ভয়ানক একটি রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকায় আর এভাবে বৃদ্ধি হরমোন সংগ্রহ করা হয় না। এখন রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া কোষ থেকে বৃদ্ধি হরমোন উৎপাদন করা হয়। এছাড়া কিছু কিছু ওষুধ আছে, যেগুলো গ্রহণ করলে শরীরের অভ্যন্তরেই বৃদ্ধি হরমোন উৎপাদন বাড়ে।
লিওনেল মেসি; Source: ESPN
আপনার শিশু যদি বামনত্বে আক্রান্ত হয়েই থাকে, তাহলে ভয় পাবেন না। যথাযথ চিকিৎসায় বামনত্ব ভাল হতেও পারে। আর আপনার চারপাশের খর্বাকার লোকদের প্রতি খারাপ আচরণ করবেন না। তাদের এই অবস্থার পেছনে তারা কোনভাবেই দায়ী নন, তারা একটি রোগের শিকার মাত্র।
সংক্ষেপে দেখুনরংধনু কত রকমের হয়?
ঝলমলে আলো সমৃদ্ধ কোনো দিনে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টির পর আমরা আকাশে বর্ণালীর যে পট্টি বা ব্যান্ড দেখে থাকি এটাই আসলে রংধনু বা রামধনু। অনেকটা ধনুকের মতো বাঁকা (বাস্তবে বৃত্তচাপের ন্যায়) হওয়ায় এবং বর্ণালীর আলোর পট্টি থাকায় রংধনু নামকরণের সার্থকতা নিহিত। রংধনু গঠনের পেছনে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা এখন বিস্তৃতবিস্তারিত পড়ুন
ঝলমলে আলো সমৃদ্ধ কোনো দিনে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টির পর আমরা আকাশে বর্ণালীর যে পট্টি বা ব্যান্ড দেখে থাকি এটাই আসলে রংধনু বা রামধনু। অনেকটা ধনুকের মতো বাঁকা (বাস্তবে বৃত্তচাপের ন্যায়) হওয়ায় এবং বর্ণালীর আলোর পট্টি থাকায় রংধনু নামকরণের সার্থকতা নিহিত।
রংধনু গঠনের পেছনে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা এখন বিস্তৃত হয়েছে। কারণ বিজ্ঞানী নিউটন প্রমাণ করে দিয়েছেন যে সূর্যের আলো মূলত বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর যৌগিক রূপ। তিনি অন্ধকার ঘরে প্রিজমের মধ্যে দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করিয়ে দেখতে পান যে সূর্যের আলো প্রতিসরিত হয়ে পর্দার উপর বর্ণালীর ব্যান্ড তৈরী করে।
রংধনুও মূলত এই নীতির উপরেই গঠিত হয়। সাধারণত এক পশলা বৃষ্টির পরে পানির কণা বায়ুমণ্ডলে ভেসে বেড়াতে থাকে। যখন সূর্যের আলো এসব পানি কণার মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করে তখন প্রতিটি পানি কণা একেকটি প্রিজমের মতো আচরণ করে। যদিও এক্ষেত্রে পানির কণার মধ্যে দিয়ে আলোর প্রতিসরণই রংধনু গঠন করে না। পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলনের ফলেই সেটা দুবার প্রতিসরণের মাঝে একবার প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে রংধনু হিসেবে ধরা দেয়।
রংধনু গঠনের কৌশল; সূত্র: rebeccapaton.net
যেহেতু বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর প্রতিসরণ ক্ষমতা বা পথ একই নয়, সেহেতু যৌগিক সূর্যালোক বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বিভক্ত হয় এবং আলোর পট্টি তৈরী করে।
দশকের পর দশক ধরে বিজ্ঞানীরা পানিকণার উপর ভিত্তি করে রংধনুকে শ্রেণীবিভাগ করে আসছেন। কিন্তু আসলে কেবল এই একটি বিষয়ে শ্রেণীবিভাগ করাটা ঠিক পোষায় না। পরবর্তীতে গবেষকরা বিভিন্ন রংধনুর ছবি সংগ্রহ করে এদের প্রায় বারোটি প্রজাতিতে ভাগ করেছেন। অর্থাৎ আমাদের দেখা সাধারণ একপ্রকার রংধনুর বাইরেও আরো প্রায় এগারো প্রজাতির রংধনুর দেখা মেলে। আমরা কি সেসব সম্পর্কে আদৌ জানি? চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব রংধনু সম্পর্কে।
মুখ্য বা প্রাথমিক রংধনু
প্রাথমিক রংধনু; সূত্র: freedawn.co.uk
মূলত এই ধরনের রংধনুই সচরাচর আমরা দেখে অভ্যস্ত। প্রাথমিক রংধনু হচ্ছে অর্ধবৃত্তাকার এবং এতে বেগুনী থেকে লাল পর্যন্ত (অর্থাৎ বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল) একক বর্ণালী বা পট্টি দেখা যায়। এক পশলা বৃষ্টির পরেই সাধারণত প্রাথমিক ধরনের রংধনু গঠিত হয়ে থাকে। এ ধরনের রংধনুর উজ্জ্বলতা নির্ভর করে পানিকণার কত বড় বা ছোট তার উপর।
গৌণ রংধনু
গৌণ রংধনু; সূত্র: fullhdwall.com
যদি আপনি প্রাথমিক রংধনু দেখে থাকেন তাহলে আপনার গৌণ রংধনু দেখার সম্ভাবনা অনেক। অর্থাৎ আপনি মুখ্য বা প্রাথমিক রংধনুর সাথে সাথে গৌণটিও দেখে থাকতে পারেন। এদেরকে কখনো কখনো আবার ‘ডাবল রেইনবো’ বা দ্বৈত রংধনুও বলা হয়ে থাকে। মূলত মুখ্য রংধনুর সাথেই এটি গঠিত হয় যখন সূর্যের আলোক রশ্মি ভাসমান পানি কণার মধ্যে দিয়ে একবারের পরিবর্তে দুবার প্রতিফলিত হয়। মুখ্য রংধনুর উপরে বা বাইরের দিকে এই রংধনু গঠিত হয় এবং এদের বর্ণক্রম সাধারণত মুখ্য রংধনুর ঠিক উল্টো। মুখ্য রংধনুর থেকে আকারের দিক থেকে দ্বিগুণ হলেও এদের উজ্জ্বলতা প্রায় এক-দশমাংশ।
আলেক্সান্ডার’স ডার্ক ব্যান্ড
মাঝের কালো ব্যান্ড-ই আলেক্সান্ডার’স ডার্ক ব্যান্ড; সূত্র: flickr.com
যদিও আলেক্সান্ডার’স ডার্ক ব্যান্ডকে বাস্তবিক অর্থে ঠিক রংধনু হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। কিন্তু এই ব্যান্ডে মুখ্য ও গৌণ রংধনুর মতো ব্যান্ড দেখা যায়। মূলত মুখ্য ও গৌণ রংধনুর মধ্যবর্তী এলাকাতেই এই ডার্ক ব্যান্ড গঠিত হয় এবং আকাশের বাকি অংশ থেকে এই অংশ একটু বেশি অন্ধকার দেখা যায়। মুখ্য রংধনু এর ভেতরের অংশ এবং গৌণ রংধনু এর বাইর দিকের অংশ আলোকিত করে রাখে। ফলে আমাদের কাছে আলেক্সান্ডার’স ডার্ক ব্যান্ডকে কালো মনে হয়।
সুপারনিউমেরারি রেইনবো
সুপারনিউমেরারি রংধনু- মুখ্য রংধনুর ভেতরে একাধিক দুর্বল রংধনু; সূত্র: justfunfacts.com
সুপারনিউমেরারি শব্দের অর্থ সংখ্যায় স্বাভাবিকের থেকে অতিরিক্ত। এ ধরনের রংধনুকে স্ট্যাকার রংধনুও বলা হয়ে থাকে যাদের খুব কমই দেখা যায়। স্ট্যাকার রংধনু মূলত গঠিত হয় একাধিক দুর্বল প্রজাতির রংধনুর সমষ্টি নিয়ে যারা প্রাথমিক রংধনুর অভ্যন্তরীণ অংশে অবস্থান করে। এই অংশে পানির কণাগুলোর আকার অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র হলেও আকৃতি একই রকম। সূর্যের আলো যখন একবার প্রতিফলিত হয় তখন সাধারণ পথে না গিয়ে এরা একটু অন্যপথে গমন করে, ফলে দুর্বল প্রকৃতির একাধিক রংধনু গঠন করে।
মনোক্রোমাটিক রংধনু
মনোক্রোমাটিক রেইনবো; সূত্র: digitaljournal.com
মনোক্রোমাটিক রেইনবো অনেক সময় রেড রেইনবো নামেও পরিচিত। মূলত সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময়টিতে এক পশলা বৃষ্টির পর এই ধরনের রংধনু গঠিত হয়ে থাকে। সাধারণত এই সময়ে বর্ণালীর ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো, যেমন নীল বা সবুজ বায়ু ও ধূলিকণা দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। এর ফলে তুলনামূলক বৃহৎ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো অর্থাৎ লাল ও হলুদ বর্ণী আলোই এই ধরনের রংধনু গঠন করে। সূর্য যখন অস্তগামী হয় তখন এই রংধনু গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।
ক্লাউড রেইনবো
ক্লাউড রেইনবো; সূত্র: listverse.com
নামের দ্বারাই বোঝা যায় যে এই ধরনের রংধনুর সাথে মেঘ জড়িত। এই ধরনের রংধনু গঠিত হয় যখন আর্দ্র পরিবেশ বিরাজ করে এবং একইসাথে মেঘের ভেতর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণা অবস্থান করে। এই পানির কণাগুলো বৃষ্টির পানির কণা থেকেও ক্ষুদ্র হয়ে থাকে সাধারণত। ফলে ক্লাউড রেনবো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাদা বর্ণের মতো হয়ে থাকে। কারণ আমরা জানি পানি কণার আকৃতি যত বড় হবে, বর্ণালীর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলন ক্ষমতাও তত বাড়বে। এরা সাধারণ রংধনু থেকে আকৃতিতে বড় হয়ে থাকে। সচরাচর এরা কোনো বড় জলাশয়ের উপরই গঠিত হয়।
ফগ রেইনবো; সূত্র: kathyandmikeadventure2012.wordpress.com
তবে পাতলা কুয়াশার কারণে এদের স্থলভাগেও দেখা যেতে পারে। এদের ফগ বো বা গোস্ট রেইনবোও বলা হয়ে থাকে।
যমজ রংধনু
যমজ রংধনু; সূত্র: listverse.com
যমজ রংধনু বা টুইনড রেইনবো কে ঠিক দ্বৈত রংধনু বলা চলে না। এ ধরনের রংধনু বেশ বিরল হয়ে থাকে। যমজ রংধনু বলতে বোঝায় যখন দুটি রংধনু একই পাদবিন্দু থেকে গঠিত হয়, কিন্তু আলাদা দুটি বৃত্ত তৈরী করে। যমজ রংধনু গঠিত হওয়ার পেছনে পানি কণার আকৃতি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ, ক্ষুদ্র ও অপেক্ষাকৃত বড় পানি কণা যখন একইসাথে অবস্থান করে এবং যেহেতু এদের প্রতিফলন ক্ষমতা একই রকম নয়। আবার বড় পানিকণাগুলো বাতাসের চাপে সমতলীয় হতে শুরু করে আর অন্যদিকে ক্ষুদ্র কণাগুলো এদের পৃষ্ঠটানের জন্য একসাথে থাকে। ফলে এরা দুটি রংধনু গঠন করে, কিন্তু এদের পাদবিন্দু থাকে একই।
প্রতিফলিত রংধনু এবং প্রতিফলন রংধনু
প্রতিফলিত ও প্রতিফলন রংধনু; সূত্র: listverse.com
যদিও এদের নাম প্রায় একই রকম হলেও এরা আসলে এক প্রজাতি নয়। সাধারণত কোনো বড় জলাশয়ের উপরই এদের দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিফলিত রংধনু আসলে প্রাথমিক রংধনুর মতোই, কিন্তু এরা প্রথমে পানির কণার মধ্যে দিয়ে বিচ্ছুরিত হয়ে আমাদের চোখের পৌঁছানোর আগেই পানিতে প্রতিফলিত হয়।
অন্যদিকে প্রতিফলন রংধনুর ক্ষেত্রে বিষয়টা উল্টো হয়ে যায়। অর্থাৎ আগে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে তারপর সেটা পানির কণার মধ্যে দিয়ে বিচ্ছুরিত হয় এবং তারপর আমাদের চোখে এসে পৌঁছায়। তবে এদের উজ্জ্বলতা প্রতিফলিত রংধনুর মত নয়।
রেইনবো হুইল
রেইনবো হুইলের একাংশ; সূত্র: listverse.com
রেইনবো হুইল গঠিত হয় যখন ঘন কালো মেঘ বা ঘন বৃষ্টিপাতের কারণে সূর্যের আলো আমাদের চোখে পৌছাতে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। এই বৃষ্টির ফোটাগুলোর কারণেই রংধনুর বর্ণসমূহ আমরা দেখতে পারি না। ফলে এই ধরণের রংধনু অনেকটা বড় স্পোকওয়ালা ওয়াগন হুইলের মত দেখা যায় যারা একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দু থেকে আসছে বলে মনে হয়। মজার ব্যাপার হলো যখন ঘন মেঘ সরে যেতে থাকে তখন মনে হয় রংধনুর এই হুইলটি যেন ঘুরছে।
লুনার রেইনবো
লুনার রেইনবো; সূত্র: victoriafalls-guide.net
আমরা সচরাচর দিনের বেলাতেই রংধনু দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু কেমন হয় যদি রাতের বেলায় রংধনু দেখা যায়। লুনার রেইনবো সেরকমই এক বিরল প্রজাতির রংধনু। মূলত জ্যোৎস্নালোকিত রাতে এই ধরনের রংধনুর দেখা পাওয়া যায়। যেহেতু জ্যোৎস্নার আলো ঠিক ততটা শক্তিশালী নয় কাজেই লুনার রেইনবো খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। এ ধরনের রংধনু দেখার উপযুক্ত সময় হলো যখন উজ্জ্বল পূর্ণিমা রাতে বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সময়ে আকাশ অবশ্যই কালো হতে হয়। ফলে লুনার রেইনবো কিছুটা বিবর্ণ দেখায়, কারণ এ সময়ে রাত আমাদের রেটিনার কোন কোষগুলোকে উদ্দীপিত করতে সক্ষম হয় না।
পূর্ণ বৃত্তীয় রংধনু
পূর্ণ বৃত্তীয় রংধনু; সূত্র: sciencenews.org
যখন সূর্যের আলো আর পানির কণা মিলে রংধনু গঠন করে তখন এরা পুরোপুরি একটি বৃত্তের আকারেও রংধনু তৈরী করতে পারে। তবে এ ধরনের রংধনু বেশ বিরলতর। কারণ এজন্য প্রয়োজন হয় আকাশের উপযুক্ত পরিবেশ। তবে এ ধরনের রংধনু দেখার জন্য সমতল থেকে কিছুটা উপরে ওঠার প্রয়োজন হয়। কারণ সমতলে থাকাকালীন অবস্থায় দিগন্তরেখা কারণে পুরো বৃত্ত দেখা যায় না।
তো আমরা সচরাচর যে রংধনু দেখে থাকি সেটি মুখ্য বা প্রাইমারি রংধনু। কিন্তু এর বাইরেও আছে আরো অনেক প্রজাতির রংধনু। সব পরিবেশে বা সবসময়ে এদের দেখা মেলা খুবই কঠিন। তবে বায়ুতে যদি কোনো প্রকারে ভাসমান পানি কণার উপস্থিতি থাকে সেখানেই রংধনু দেখার সম্ভাবনা সর্বাধিক।
সংক্ষেপে দেখুনঅসীম কত বড়?
অসীম কত বড়? অসীমের বিশালত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা অসহায় হয়ে দেখবো আমাদের চিন্তার পরিধি কত ছোট! আমাদের তুচ্ছতা আর বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিশালত্ব নিয়ে চিন্তা করলে নিজেদের যে কতটা অসহায় মনে হয়, তার একটা ছোট্ট উদাহরণ এটি। অসীমের বিশালত্ব উপলব্ধি করার জন্য পাঠকের গভীর গাণিতিক জ্ঞান দরকার নেই, তবে নিঃসন্বিস্তারিত পড়ুন
অসীমের বিশালত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা অসহায় হয়ে দেখবো আমাদের চিন্তার পরিধি কত ছোট! আমাদের তুচ্ছতা আর বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিশালত্ব নিয়ে চিন্তা করলে নিজেদের যে কতটা অসহায় মনে হয়, তার একটা ছোট্ট উদাহরণ এটি। অসীমের বিশালত্ব উপলব্ধি করার জন্য পাঠকের গভীর গাণিতিক জ্ঞান দরকার নেই, তবে নিঃসন্দেহে গভীরতম চিন্তাশক্তির প্রয়োজন!
লেখকের ছোটবেলার একটা অভিজ্ঞতা দিয়েই শুরু করা যাক। খুব ছোটবেলায় আমার এক বন্ধুর সাথে একবার তর্ক লেগে গেল, কার কয়টা খেলনা আছে। আমি অনেক কষ্টে গুনে বললাম, আমার সব মিলিয়ে আটটি খেলনা আছে। বন্ধু বলল তার দশটি। এবার তো পড়ে গেলাম বিপাকে! বন্ধুর কাছে হেরে যাওয়া যায় না, আমি বললাম আমার পনেরটা! এবার বন্ধুও চিন্তায় পড়ে গেল! অনেক ভেবে বলল, আমার গুনতে একটু ভুল হয়ে গেছে, আমার আসলে বিশটা! এবার অনেক ভেবে বললাম, আমার একশটা!
আমি তখন মোটে গুনতে পারি বিশ পর্যন্ত! একশো বলে খুব খুশি হয়ে গেলাম। এবার বন্ধু খুব চিন্তায় পড়ে গেল। ঐ বয়সে একশ অনেক বড় সংখ্যা, এর থেকে বড় কোনো সংখ্যা আছে কি না আমাদের কারোরই জানা নেই। এবার বন্ধু একটু চালাকি করে ফেলল! বলল, আমার যতগুলো খেলনা আছে, বন্ধুর নাকি তার চেয়ে এক বেশি! এর পরে আর কোনো কথা থাকে না। মন খারাপ করে বাড়ি ফিরলাম। মাকে জিজ্ঞেস করলাম, একশোর চেয়ে বড় আর কী আছে?
অর্থাৎ একটা শিশু খুব চিন্তা করেও তার পরিধি একশো থেকে বড় করতে পারেনি! আমাদের পূর্বপুরুষদের সংখ্যার ধারণা ছিল এক আর অনেক! গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, অনেক প্রাণী তিন পর্যন্ত গুনতে পারে! আসুন দেখি, আমরা কত পর্যন্ত গুনতে পারি!

খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শিম্পাঞ্জীরা সংখ্যার ধারণা কাজে লাগায়; Image source: bbc.com
আমাদের পৃথিবী কিন্তু অনেক বড়, প্রায় ৫১০ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার। এবার সূর্যের দিকে তাকান। সূর্যের মধ্যে আপনি এক মিলিয়ন পৃথিবী রাখতে পারবেন। আরেকটু বড় পরিসরে ভাবুন, আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে সূর্যের মতো প্রায় ৪০০ বিলিয়ন তারা আছে। আর আমাদের জানা মতে, মহাবিশ্বে ১০০ বিলিয়ন শনাক্ত করা যায় এমন গ্যালাক্সি আছে, শনাক্ত করা যায়নি, এমন গ্যালাক্সির সংখ্যা নিশ্চয়ই আরও বেশি। আর আপনি জানেন কি, ইদানীং কিছু গবেষণামতে, মহাবিশ্বও কিন্তু একটি নয়। স্ট্রিং থিওরি মতে, মোটামুটি 10^500 টি (১ এর পর ৫০০টি শূন্য)! তবে এই সংখ্যাটি নিশ্চিত নয়। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন,
আপনি কি ভাবতে পারেন, এই সংখ্যাগুলো কত বড়? এদের কাছে আমরা কতটা তুচ্ছ? আসুন, এবার আমাদের প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। অসীম এই সংখ্যাগুলোর চেয়েও বড়!

মহাবিশ্বে গ্যালাক্সির সঠিক সংখ্যা আমরা আজও জানি না; Iamge source: earthsky.org
আপনাকে যদি বলা হয়, পৃথিবীতে যতগুলো জোড় সংখ্যা আছে, ততগুলোই স্বাভাবিক সংখ্যা আছে, আপনি কি মানবেন? নিশ্চয়ই না (১-১০ এর মধ্যে জোড সংখ্যা ৫টি, স্বাভাবিক সংখ্যা ১০টি)! কিন্তু আমাদের ভাবনার জগত কেবল গণনাযোগ্য সংখ্যা নিয়ে কাজ করে বলেই এটা মানতে আপনার কষ্ট হচ্ছে। আপনি না গুনে কীভাবে বুঝবেন আপনার দু’হাতে সমান সংখ্যক আঙুল আছে? আপনি প্রতিটি আঙুলের বিপরীতে আরেকটি আঙুল রাখতে পারবেন, তাই এরা সমান। একে গণিতে বলে One-one correspondence। এই পদ্ধতিতেই আমরা প্রমাণ করতে পারি, জোড় সংখ্যার সংখ্যা আর মোট সংখ্যার সংখ্যা সমান। (২-১, ৪-২, ৬-৩, ৮-৪….. এরকম জোড়া কিন্তু চলতেই থাকবে)
2 4 6 8 10 12 ……….
1 2 3 4 5 6 ………..
এভাবে প্রতিটি সংখ্যার বিপরীতে আরেকটি জোড় সংখ্যা পাওয়া যাবে, মানে আমাদের বিষয়টি প্রমাণ হয়ে গেল। কিন্তু এখানে একটা ‘কিন্তু’ থেকেই গেল! মোট জোড় সংখ্যা আছে অসীম সংখ্যক। আবার মোট স্বাভাবিক সংখ্যাও আছে অসীম সংখ্যক। আপনার যদি ওপরের প্রমাণে ‘কিন্তু’টাই পছন্দ হয়ে থাকে, তাহলে এই দুই অসীম সমান না! অর্থাৎ অসীমেরও ছোট-বড় আছে, সব অসীম অন্য অসীমের সমান নয়!
অসীমগুলো যে অন্য অসীম থেকে আলাদা এরকম প্রস্তাবনা প্রথম দেন জর্জ ক্যান্টর (তিনি সেট তত্ত্বের জনক)। এর নাম The Continuum Hypothesis।

“Continuum Hypothesis” এর প্রস্তাবনাকারী জর্জ ক্যান্টর; Image source: wikipedia.org
এই তত্ত্বে বলা হয়, প্রত্যেক অসীম অন্য অসীম থেকে আলাদা। এক অসীম অন্য অসীম থেকে ছোট-বড় হতে পারে। ডেভিড হিলবার্টের মতে, গণিতে এই তত্ত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপ্রমাণিত সমস্যা। কেন? কারণ কার্ল গোডেল প্রমাণ করেছেন, এই তত্ত্ব কখনও মিথ্যা প্রমাণ করা যাবে না। অন্যদিকে পল কোহেন প্রমাণ করেছেন, একে সত্য প্রমাণ করাও সম্ভব নয়! এটা প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞানে বা গণিতে এখনও অনেক উত্তর দেয়া সম্ভব হয়নি এমন প্রশ্নের অস্তিত্ব রয়েছে!
এবার আমাদের চিন্তাশক্তির আরেকটু উচ্চস্তরে যাওয়া যাক। এর নাম The infinity Paradox, এর প্রস্তাবনাকারী ডেভিড হিলবার্ট।
চিন্তা করুন একটি হোটেলের কথা যেখানে রুমের সংখ্যা অসীম। কোনো এক রাতে প্রত্যেকটি রুম ভর্তি, কোনো রুম ফাঁকা নেই। হোটেলের নাম আমরা ধরে নিই ইনফিনিটি হোটেল, আর হোটেলের ম্যানেজার গণিতবিদ জেফ্রি। হোটেল ভর্তি করে জেফ্রি রাতে ঘুমিয়েছেন। হঠাৎ একজন নতুন অতিথি আসলো, যে আরেকটা রুম চায়। গণিতবিদ জেফ্রি কিন্তু তাকে ফিরে যেতে দেননি, তার জন্যও ইনফিনিটি হোটেলে আরেকটি রুমের বরাদ্দ করা হলো। কীভাবে? জেফ্রি এক নম্বর রুমের লোককে বলল দুই নম্বরে যেতে, দুই নম্বর রুমের লোককে বলা হলো তিন নম্বর রুমে যেতে। মানে সব রুমের লোককে তার ঠিক পাশের রুমে যেতে বলা হল। এখন আপনি ভাবতে পারেন, শেষ রুমের লোকটি কোথায় যাবে? কিন্তু এটা তো কোনো চল্লিশ রুমের হোটেল না, এটি ইনফিনিটি হোটেল। এখানে শেষ রুম বলে কোনো কথা নেই। n তম রুমের লোকটি n+1 তম রুমে চলে গেল, এক নম্বর রুম খালি করে নতুন লোকটিকে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হলো।

হিলবার্টের ইনফিনিটি প্যারাডক্স; Image source: ed.ted.com
এবার জেফ্রির জন্য আরেকটু কঠিন সমস্যা, এবার একটা বাস এলো চল্লিশজন মানুষ নিয়ে, এরা আরও চল্লিশটা রুম চায়। চট করে জেফ্রি সমাধান করে ফেলল, এক নম্বর রুমের লোককে বলা হলো একচল্লিশ নম্বর রুমে, দুই থেকে বিয়াল্লিশ নম্বর রুমে, n রুমের লোক চলে গেল (n+40) নম্বর রুমে, চল্লিশটি রুম ফাঁকা হয়ে গেল, চল্লিশজনের জায়গা হয়ে গেল!
আসুন, জেফ্রিকে আরেকটু কঠিন সমস্যা দেয়া যাক। দেখি এবার জেফ্রি কী করে! এবার তার হোটেলে একটা বাস পাঠানো হলো, যেখানে লোকের সংখ্যা অসীম। এবার কী করে তাদের জায়গা দেওয়া হবে? এবার কিন্তু আর জেফ্রি যোগের ধারণা দিয়ে এত লোকের জন্য রুম খালি করতে পারবে না, কারণ n+∞ কোনো নির্দিষ্ট রুমের নম্বর না, জেফ্রি কাউকে গিয়ে হুট করে সেই রুমে যেতে বলতে পারে না। এবার কিছুক্ষণ ভেবে এক অভিনব বুদ্ধি বের করল। এক নম্বর রুমের লোককে বলা হল দুই নম্বরে যেতে, দুই নম্বরের লোক গেল চারে, তিন নম্বর রুম থেকে পাঠানো হল ছয় নম্বর রুমে। n নম্বর রুম থেকে 2n নম্বর রুমে পাঠিয়ে দিলে সব জোড় সংখ্যার রুম ভরে গেল, আর বিজোড় সংখ্যার রুম ফাঁকা হয়ে গেল। এখন নিশ্চয়ই জানেন বিজোড় সংখ্যা আছে মোট অসীম সংখ্যক, তাই অসীম সংখ্যক লোকের জায়গা হয়ে গেল।
পাঠক, এবার সময় এসেছে আপনার সিট বেল্ট টাইট করে নেয়ার। কারণ এবার আঘাত আসবে স্বাভাবিক মানুষের চিন্তার প্রায় সর্বোচ্চ স্তরে! জেফ্রি এবার তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে! এবার অসীম সংখ্যক লোক নিয়ে একটি-দুটি নয়, পুরো অসীম সংখ্যক বাস চলে এসেছে, সবাই গণিতবিদ জেফ্রির কাছে ইনফিনিটি হোটেলে জায়গা চায়!
এবার জেফ্রি পড়ে গেল মহাবিপদে। অনেক চিন্তা করে তার মনে পড়লো গুরু ইউক্লিডের কথা। তিনি বলেছেন, মৌলিক সংখ্যা আছে অসীম সংখ্যক। জেফ্রি আইডিয়া পেয়ে গেল! এক নম্বর রুমের লোককে পাঠানো হলো দুই নম্বর রুমে, দুই নম্বর রুম থেকে চার নম্বর রুমে, তিন থেকে আটে, চার থেকে ষোলতে… বুঝতে পারছেন? এখানে n নম্বর রুমের লোককে 2^n নম্বর রুমে পাঠানো হলো। দুইয়ের ঘাত বাদে সব রুম কিন্তু ফাঁকা হয়ে গেল।
প্রথম বাসের সব লোককে এবার বলা হলো ১ নম্বর ঘরে যেতে। পরের বাসের লোককে পাঠানো হলো ৩, ৯, ২৭, ৮১, …3^n… নাম্বার রুমে। পরের মৌলিক সংখ্যা পাঁচের ঘাতে, পরের বাসে সাতের ঘাতে। এভাবে প্রতিটি বাসের জন্য একটি করে মৌলিক সংখ্যার ঘাতে তাদের জায়গা হলো। অসীম সংখ্যক মৌলিক সংখ্যা থাকায় অসীম সংখ্যক বাসের লোকদের জায়গা হলো। এভাবে জেফ্রি তার অসীমের মধ্যে অসীম সংখ্যক অসীমের জায়গা করে দিল!
কী! প্যাঁচ লেগে গেল? আরেকবার পড়ুন। তা-ও না বুঝলে চিন্তার কারণ নেই, কারণ You are not alone!

ইউক্লিড প্রমাণ করেছিলেন, মৌলিক সংখ্যার সংখ্যা অসীম। তাঁর বই “Elements” এর একটি খণ্ডিত অংশ; Image source: wikipedia.org
এবার আমরা জেফ্রির আয়ের কথা ভাবি, তার তো অনেক বড়লোক হয়ে যাবার কথা। যদি প্রতি রুমের জন্য জেফ্রি এক টাকা করে পায়, তাহলে রাতের শুরুতে জেফ্রির ছিল অসীম টাকা, কিন্তু রাতের শেষেও তার আয় অসীম টাকাই!
আপনি কি আন্দাজ করতে পারছেন, অসীম কত বড়? এতক্ষণ আমরা যে অসীম নিয়ে আলোচনা করলাম, তা হলো অসীমের সর্বনিম্ন স্তর, কারণ আমরা কেবল স্বাভাবিক সংখ্যার ভেতরেই অসীম নিয়ে আলোচনা করেছি! আপনারা যদি অসীম সম্পর্কে সামান্য ধারণাও পেয়ে থাকেন, অসীমের বিশালত্ব আপনাকে নাড়া দেয়, তাহলেই লেখার স্বার্থকতা!
এখন আসুন, আমরা আমাদের প্রশ্ন নিয়ে শেষবারের মতো ভাবি। অসীম তাহলে কত বড়? এর উত্তর আসলে খুবই সহজ। কারণ এর উত্তর হলো,
সংক্ষেপে দেখুনকালের বিবর্তনে বইয়ের পৃষ্ঠার রং কেন হলুদ হয়ে যায়?
বাড়িতে বইয়ের তাকে পড়ে থাকা পুরনো বই, স্টোররুমে সংগ্রহে থাকা পুরনো পত্রিকা কিংবা পুরনো বইয়ের দোকান থেকে কিনে আনা বইগুলোর পৃষ্ঠাগুলো কেমন যেন হলুদাভ রং ধারণ করে, কখনো লক্ষ্য করেছেন? উজ্জ্বল সাদা বইয়ের পাতা সময়ের আবর্তে হলুদ হয়ে যায়, কিংবা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে, এ ঘটনার সাথে মোটামুটি সকলেই পরিচিতবিস্তারিত পড়ুন
বাড়িতে বইয়ের তাকে পড়ে থাকা পুরনো বই, স্টোররুমে সংগ্রহে থাকা পুরনো পত্রিকা কিংবা পুরনো বইয়ের দোকান থেকে কিনে আনা বইগুলোর পৃষ্ঠাগুলো কেমন যেন হলুদাভ রং ধারণ করে, কখনো লক্ষ্য করেছেন? উজ্জ্বল সাদা বইয়ের পাতা সময়ের আবর্তে হলুদ হয়ে যায়, কিংবা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে, এ ঘটনার সাথে মোটামুটি সকলেই পরিচিত। কিন্তু এরকমটি কেন ঘটে তা ভেবে দেখেন খুব কম সংখ্যক মানুষই। কিংবা বইয়ের পাতার হলুদ হয়ে যাওয়া যে ঠেকানো সম্ভব তাও জানেন না অনেকেই। আর এসব বিষয় জানতে হলে আপনাকে জানতে হবে বইয়ে ব্যবহৃত কাগজের বিকাশ সম্বন্ধে। কারণ বর্তমানে কাগজ যে প্রক্রিয়ায় উৎপাদন করা হয়, একসময় তা এমন ছিল না। আর কাগজ উৎপাদের প্রক্রিয়ার সাথে কাগজের হলুদ হবার আছে সরাসরি সম্পর্ক।

হলুদাভ বর্ণ ধারণ করেছে পুরনো পত্রিকা; Image Source: scoopwhoop.com
অধিকাংশ ইতিহাসবিদই কাগজের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চীনের কথাই বলে থাকেন। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ১০০ অব্দের দিকে চীনে কাগজ তৈরি শুরু হয়। প্রথমদিকে কাগজ তৈরির মূল উপকরণ ছিল ভেজা শণ। শণের সাথে গাছের গুঁড়ির বাকল (শল্ক), বাঁশ আর কয়েক প্রজাতির উদ্ভিদের আঁশ দিয়ে একপ্রকার মণ্ড তৈরি করা হতো। এই মণ্ড যত মিহি হতো, কাগজের মান হতো তত উন্নত।
চীনাদের এই উদ্ভাবন এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় নেয়নি। তবে ইউরোপে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল অনেক। একাদশ শতকে প্রথম ইউরোপে কাগজ উৎপাদন শুরু হয়। ইতিহাসবিদগণের বিশ্বাস, ‘মিসাল অব সাইলস’ নামক স্প্যানিশ বইটি ইউরোপের প্রাচীনতম কাগুজে দলিল। আর এই বইটিও একাদশ শতকের। তবে এই বইয়ের কাগজ মোটেও চীনাদের প্রথম দিকের কাগজের মতো ছিল না। সাইলসের কাগজগুলো তৈরি করা হয় পাটের আঁশ থেকে। গুটেনবার্গের ছাপাখানা আবিষ্কারের পর কাগজ উৎপাদনের ধরনে আবারো কিছু পরিবর্তন আসে। তখনকার কাগজগুলো তৈরি হতো পাটের আঁশের সাথে তুলা, ছেঁড়া বস্ত্রাদি আর অন্যান্য আঁশের মিশ্রণে।
সবচেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে ১৯ শতকে। কানাডার নোভা স্কটিয়ায় বসবাসকারী উদ্ভাবক চার্লস ফেনার্টি কাগজের ব্যবসা করতেন তখন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ কমদামে দীর্ঘমেয়াদি কাগজ তৈরির চেষ্টা করে আসছিলেন। কাগজের ব্যবসার পাশাপাশি তার ছিল কাঠ চেরাইয়ের ব্যবসা। কাঠের ব্যবসা থেকেই তার মাথায় এলো কাগজ উৎপাদনে কাঠ ব্যবহারের কথা। কাঠের সহজলভ্যতা এবং কম দামের কথা মাথায় রেখে তিনি কাঠ থেকে কাগজ উৎপাদনের একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন।
১৮৪৪ সালের অক্টোবরে ফেনার্টি প্রথম কাঠ দিয়ে কাগজ তৈরি করলেন। সেই কাগজের কিছু নমুনা তিনি পাঠিয়ে দিলেন শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত পত্রিকা ‘দ্য আকাডিয়ান রেকর্ডার’ এ। সাথে চিঠিতে লিখে দিলেন তার নতুন উৎপাদিত কাগজের দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই এবং স্বল্প খরুচে গুণের কথা। পত্রিকাটি আগ্রহভরেই ফেনার্টির নতুন কাগজ গ্রহণ করলো। সেই থেকে কাঠ দিয়ে কাগজ উৎপাদনের শুরু।
এ পর্যায়ে এসে একটি বিশেষ তথ্য উল্লেখ না করলেই নয়। অধিকাংশ ইতিহাসবিদই বর্তমানে কাঠ দিয়ে কাগজ উৎপাদনের জন্য জার্মান উদ্ভাবক ফ্রেডরিখ কেলারকে স্মরণ করে থাকেন। কিন্তু কাঠ দিয়ে কাগজ উৎপাদনের প্রক্রিয়া মূলত ফেনার্টিই প্রথমে আবিষ্কার করেছিলেন। সমসাময়িক সময়েই কেলার স্বতন্ত্রভাবে গবেষণা করে কাঠ দিয়ে কাগজ উৎপাদনের একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন। কিন্তু পার্থক্য গড়ে দেয় পেটেন্ট। ১৮৪৫ সালে কেলার তার তৈরি কাগজের জন্য একটি জার্মান পেটেন্ট লাভ করেন। আর তাতেই কপাল পোড়ে বেচারা ফেনার্টির!

কাগজ প্রস্তুতের জন্য ফেনার্টির কাঠ পেষণ যন্ত্র; Image Source: wikipedia.org
কাগজের রঙ হলুদ হবার পেছনে যে কারণ রয়েছে তার ঐতিহাসিক পটভূমি আমরা জানলাম। এবার রাসায়নিক আলোচনা শুরু করা যাক। তুলা বা পাট, উভয় উপাদানের চেয়েই কাঠ সস্তা এবং সহজলভ্য। আবার কাঠ দিয়ে তৈরি কাগজ অপরাপর কাগজের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদিও ছিল।
কিন্তু সমস্যা ছিল সূর্যালোক আর অক্সিজেনে। কাঠের তৈরি কাগজ বাতাসে আর সূর্যালোকে বেশ ভালোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এর কারণ লুকিয়ে আছে কাঠের মধ্যে। কাঠ মূলত দুইটি উপাদান থেকে তৈরি। একটি হচ্ছে সেলুলোজ, অপরটি লিগনিন। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে সহজলভ্য জৈব পদার্থটি হচ্ছে সেলুলোজ। বর্ণহীন এবং অস্বচ্ছ এ বস্তুটি এর উপর পতিত আলোর প্রায় পুরোটাই শুষে নেয় এবং সামান্য অংশ প্রতিফলিত করে। ফলে সেলুলোজকে দেখতে সাদা দেখায়।
সেলুলোজের একটি রাসায়নিক গুণ হচ্ছে এটি জারণধর্মী। ফলে সূর্যালোকে থাকে সূর্যরশ্মি শোষণের ফলে সেলুলোজে জারণ ঘটে। আর জারণ ঘটা মানে কিছু ইলেকট্রনের নিঃসরণ। ইলেকট্রন নিঃসরিত হবার এই প্রক্রিয়া দ্রুতই কাগজকে দুর্বল করে দেয়। একসময় এর ঔজ্জ্বল্যও কমে আসে। ঔজ্জ্বল্য কমে যাবার সাথে হলুদাভ হয়ে ওঠার সামান্য থাকলেও প্রকৃত হোতা হলো লিগনিন।
লিগনিন হচ্ছে একপ্রকার জটিল জৈব পলিমার যা সাধারণ বিভিন্ন উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরে থাকে। লিগনিনের জন্যই কোষ প্রাচীর কঠিন ও দৃঢ় হয়। কাগজেও লিগনিন একই দায়িত্ব পালন করে। দালান নির্মাণে ইট, বালু আর সুরকির সাথে সিমেন্ট না দিলে যেমন তা কখনোই শক্ত হয়ে জমাট বাঁধবে না, ঠিক তেমনি কাগজে সেলুলোজের সাথে লিগনিন না থাকলে সেলুলোজের আঁশগুলো একত্রে থাকবে না।


সেলুলোজ; Image Source: amateurfooddetective.blogspot.com
তবে লিগনিন সেলুলোজের মতো উজ্জ্বল বর্ণ ধারণ করতে পারে না। লিগনিনের রঙ কালো। এ কারণেই হার্ড বোর্ড কিংবা কার্ডবোর্ডের রঙ কালো হয়। কারণ অধিক শক্ত করার জন্য সেগুলোতে অধিক লিগনিন ব্যবহার করা হয় যা রঙ পরিবর্তন করে। তবে মূল সমস্যা হলো, লিগনিনও সক্রিয় জারণক্ষম রাসায়নিক। সূর্যালোকের সংস্পর্শেই এর জারণ ঘটে এবং আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয়। ফলে লিগনিন দ্বারা প্রতিফলিত আলোর বর্ণালীতে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তিত তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবুজ ও হলুদ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মাঝামাঝি অবস্থান করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হলুদ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাথে মিলে যায় এবং বইয়ের পাতা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে।
লিগনিনের রাসায়নিক গঠনের একটি ডায়াগ্রাম; Image Source: researchgate.net
আরেকটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা যাক। লিগনিন হচ্ছে একটি পলিমার। পলিমার সাধারণ একই অণুর পৌনঃপুনিক জটিল বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। উপরে লিগনিনের রাসায়নিক গঠনের একটি ডায়াগ্রাম দেয়া হলো। এতে দেখা যাচ্ছে যে, লিগনিনের পৌনঃপুনিক অণুটি হচ্ছে অ্যালকোহল। এখন অ্যালকোহলে একাধিক অক্সিজেন অণু রয়েছে। আবার, জারণ বিক্রিয়ার সময় লিগনিনও একাধিক অক্সিজেন অণু গ্রহণ করে।
অতিরিক্ত অক্সিজেন অণুগুলো লিগনিনের পলিমার গঠনে বিকৃতি ঘটায়, অ্যালকোহল সাবইউনিটগুলোর বন্ধন ভেঙে সে স্থলে ‘ক্রোমোফোরেস’ সৃষ্টি করে। গ্রিক শব্দ ক্রোমোফোরেস অর্থ ‘রঙবাহী’। এই ক্রোমোফোরেসই সূর্যরশ্মির প্রতিফলনের সময় বর্ণালীর দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের যেকোনো একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলিত করে। লিগনিনের ক্ষেত্রে সে তরঙ্গদৈর্ঘ্যটি হলুদ রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য। তবে কখনো কখনো একটু কমে সবুজের কাছাকাছি চলে এলে বাদামী রঙেরও হয়। ঠিক যেমনটি হয় এক টুকরো কাটা আপেল খোলা অবস্থায় রেখে দিলে। আপেলে বিদ্যমান পলিফেনল অক্সিডেজ নামক এনজাইমের জারণের ফলে এতে ক্রোমোফোরেস সৃষ্টি হয় এবং বাদামী বর্ণ ধারণ করে।

লিগনিনের জারণ প্রক্রিয়া; Image Source: pubs.rsc.org
সময়ের আবর্তে কাগজ হলুদ বর্ণ ধারণ করার এ প্রক্রিয়া বইয়ের চেয়ে বেশি পত্রিকার ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। কারণ স্বল্প খরচে কাগজ উৎপাদনে তুলা বা পাটের বদলে কাঠই বেশি ব্যবহৃত হয়। ফলে তাতে লিগনিন থাকে বেশি। তাই পত্রিকার পাতার হলুদাভ হবার প্রবণতা বেশি। তাই জরুরী কাগজপত্র, বই কিংবা পত্রিকার হলুদ বর্ণ ধারণ করা ঠেকাতে একে সূর্যালোক এবং অক্সিজেন থেকে দূরে রাখা যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে।
জাদুঘরে পুরনো দলিল দস্তাবেজ ও প্রাচীন সাহিত্যের কাগজগুলো অল্প আলোয়, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার মধ্যে বায়ুরোধী কাঁচের বাক্সে সংরক্ষণ করা হয়। বাসায় এতকিছু সম্ভব না হলে বইটি পলিথিনে ভরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে না এমন ঠাণ্ডা স্থানে রেখে দিলেও চলে। তাছাড়া, কাগজ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোও আজকাল চেষ্টা করেন সর্বনিম্ন পরিমাণ লিগনিন ব্যবহার করে কাগজ তৈরি। সবকিছু দিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়ে গেলে সেটাকে কাগজে রূপান্তরিত করার আগে যথেষ্ট পরিমাণ ব্লিচ করে নিলেই লিগনিনের পরিমাণ কমে যায়। তবে লিগনিনের পরিমাণ বেশি কমে গেলে কাগজের মানও কমে যায়। তাই প্রস্তুতকারকদের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হওয়া জরুরী।
বিজ্ঞানীরা দূরবর্তী গ্রহ-নক্ষত্রের দূরত্ব নির্ণয় করেন কীভাবে?
পত্র পত্রিকায় খবর আসছে, প্রতিনিয়ত গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি প্রভৃতি আবিষ্কৃত হচ্ছে। কোটি কোটি কিলোমিটার কিংবা শত শত আলোক বর্ষ দূরে এসব মহাকাশীয় বস্তুর অবস্থান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এরা যে এত দূরে অবস্থান করে তা কীভাবে নির্ণয় করেন বিজ্ঞানীরা? বেশ নিশ্চিত হয়ে বিজ্ঞানীরা কীভাবে বলেন “এত আলোক বর্ষ দূরে অববিস্তারিত পড়ুন
পত্র পত্রিকায় খবর আসছে, প্রতিনিয়ত গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি প্রভৃতি আবিষ্কৃত হচ্ছে। কোটি কোটি কিলোমিটার কিংবা শত শত আলোক বর্ষ দূরে এসব মহাকাশীয় বস্তুর অবস্থান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এরা যে এত দূরে অবস্থান করে তা কীভাবে নির্ণয় করেন বিজ্ঞানীরা? বেশ নিশ্চিত হয়ে বিজ্ঞানীরা কীভাবে বলেন “এত আলোক বর্ষ দূরে অবস্থান করছে অমুক গ্যালাক্সিটি”?
দূরের গ্রহ নক্ষত্রের দূরত্ব বোঝাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘আলোক বর্ষ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। সৌরজগতের বাইরে মহাকাশের বস্তুগুলোর দূরত্ব মাপতে সাধারণ কিলোমিটার একক ব্যবহার করা সুবিধাজনক নয়। এত বিশাল দূরত্ব পরিমাপ করতে ‘আলোক বর্ষ’ নামক বিশেষ এই এককটি ব্যবহার করা হয়। আলোক বর্ষের (Light year) বিশালত্ব মানুষের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়। আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার। আলো যদি এই বেগে টানা এক বছর ভ্রমণ করে, তাহলে যে দূরত্ব অতিক্রম করবে, তাকে বলে এক আলোক বর্ষ। কিলোমিটারের মাধ্যমে আলোক বর্ষকে প্রকাশ করলে দাঁড়াবে, এক আলোক বর্ষ সমান ৯ মিলিয়ন মিলিয়ন কিলোমিটার (৯×১০^১২ কিলোমিটার)। আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারির দূরত্ব ৪.২ আলোক বর্ষ। দূরের গ্যালাক্সিগুলো শত শত কিংবা হাজার হাজার আলোক বর্ষ পর্যন্ত দূরে অবস্থান করে। এত বিশাল দূরত্ব মাপার কৌশলটা কী?
সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের দূরত্বও ৪ আলোকবর্ষের চেয়ে বেশি। ছবি: ন্যাশনাল স্কুল অবজারভেটরি ইউকে
অকল্পনীয় দূরে অবস্থান করলেও আমাদের পক্ষে এদের দূরত্ব পরিমাপ করা সম্ভব। গ্যালাক্সিগুলোতে অবস্থান না করেও চমৎকার কিছু কৌশল ব্যবহার করে তাদের দূরত্ব বের করে ফেলা যায়। তুলনামূলকভাবে নিকটবর্তী নক্ষত্রগুলোর দূরত্ব পরিমাপে ‘প্যারালাক্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। শব্দটি শুনতে অন্যরকম মনে হলেও, এটি আসলে একদমই সহজ একটি ট্রিক। এই ট্রিকটি হাতে কলমে এখনই আমরা শিখে ফেলতে পারি।
প্রথমে মুখের সামনে হাতের একটি আঙুল তুলে ধরতে হবে। এরপর বাম চোখ বন্ধ করে শুধুমাত্র ডান চোখ দিয়ে আঙুলটির দিকে তাকাতে হবে। এরপর আবার ডান চোখ বন্ধ রেখে বাম চোখ দিয়ে আঙুলের দিকে তাকাতে হবে। একবার ডান চোখ আরেকবার বাম চোখ, এভাবে কয়েকবার করলে মনে হবে আঙুলটির অবস্থান এদিক ওদিক হচ্ছে। আদতে আঙুলটি কিন্তু একই স্থানে আছে, দুই চোখের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের কারণে আঙুলটিও ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে আছে বলে মনে হয়।
বুড়ো আঙুলের সাহায্যে প্যারালাক্স। ছবি: এস্ট্রোনমি নোটস
আঙুলকে চোখের আরো কাছে নিয়ে আসলে আঙুলের নড়াচড়া আরো বেড়ে যাবে। কাছে না এনে যদি আঙুলকে দূরে নেয়া হয় তাহলে নড়াচড়া অল্প স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। এখান থেকে আমরা বুঝতে পারছি, দুই চোখের দুই ভিন্ন অবস্থানের সাপেক্ষে আঙুলের অবস্থান পাল্টে যাবার পরিমাণ বেশি হলে, সেটি নিকটে অবস্থিত আর অবস্থান পরিবর্তনের পরিমাণ কম হলে, সেটি দূরে অবস্থিত। যদি কোনোভাবে আমরা দুই চোখের পারস্পরিক দূরত্ব ও লক্ষ্যবস্তুর বিচ্যুত হবার পরিমাণ বের করতে পারি, তাহলে ত্রিকোণমিতির সূত্র প্রয়োগ করে বের করতে পারবো লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব কত। নক্ষত্রদের বেলাতেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের দূরত্ব পরিমাপ করা সম্ভব।
এই পদ্ধতিতে নক্ষত্রের দূরত্ব পরিমাপ করার জন্য আঙুলের বদলে নক্ষত্রকে লক্ষ্য করে ডান চোখ ও বাম চোখ দিয়ে তাকালে দেখা যাবে, কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। কারণ নক্ষত্র এতই বেশি দূরে অবস্থান করে যে, দুই চোখের কাছাকাছি অবস্থান তেমন কোনো কৌণিক বিচ্যুতি তৈরি করতে পারে না। দুই চোখ যদি পরস্পর থেকে কয়েক মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করতো, তাহলে এদের দ্বারা প্যারালাক্স পদ্ধতিতে নক্ষত্রদের দূরত্ব পরিমাপ করা যেত।
খালি চোখে নক্ষত্রের প্যারালাক্স পর্যবেক্ষণ করতে হলে দুই চোখকে পরস্পর থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করতে হবে। ছবি: মাই কিউট গ্রাফিক্স
চোখকে হয়তো মিলিয়ন মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করানো সম্ভব না, কিন্তু বিজ্ঞানীরা এর বিকল্প পদ্ধতি খুঁজে নিয়েছেন। আসলে কোনো কিছুকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার বিশ্লেষণ করলে, তার মধ্যে হাজার রকমের সমস্যা দেখা দেয় এবং এসব সমস্যার বিপরীতে হাজার রকমের চমকপ্রদ সমাধানও এসে ধরা দেয়। বিজ্ঞানীরা মহাকাশীয় বস্তুর দূরত্ব মাপতে পৃথিবীর কক্ষপথীয় ঘূর্ণনকে ব্যবহার করেন। সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর কক্ষপথের ব্যাস ১৮৬ মিলিয়ন মাইল। আজকে পৃথিবী কক্ষপথের যে অবস্থানে আছে এবং ঠিক ছয় মাস পরে যে অবস্থানে থাকবে তাদের পারস্পরিক দূরত্ব হবে ১৮৬ মাইল। এটি মোটামুটি যথেষ্ট লম্বা দূরত্ব। এত পরিমাণ দূরত্বে দূরবর্তী নক্ষত্রের প্যারালাক্স অনায়াসেই শনাক্ত করা যাবে।
কক্ষপথের কোনো অবস্থান থেকে নক্ষত্রের অবস্থানের মাপ নিয়ে, ছয় মাস পর আবারো ঐ নক্ষত্রের মাপ নিলে প্যারালাক্স পদ্ধতির মাধ্যমে তার দূরত্ব নির্ণয় করা যাবে। এখানে যেহেতু ছয় মাস আগে ও ছয় মাস পরে পৃথিবীর দুই অবস্থানের দূরত্ব জানা আছে এবং নক্ষত্রের অবস্থান চ্যুতি জানা আছে, তাই ত্রিকোণমিতির সূত্রের মাধ্যমে এখান থেকে নক্ষত্রের দূরত্ব বের করা খুব কঠিন কিছু নয়।
বড় পড়িসরে প্যারালাক্স। ছবি: ইএসএ ইন্টারন্যাশনাল
কিন্তু এত বিশাল দূরত্বকে ব্যবহার করার পরেও সকল নক্ষত্রের দূরত্ব এর মাধ্যমে বের করা যায় না। এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র নিকট দূরের নক্ষত্রগুলোর দূরত্ব পরিমাপ করা যায়। অতীব দূরের নক্ষত্রগুলোর বেলায় এই পদ্ধতিতে দূরত্ব বের করা যায় না। এরা এতটাই দূরে যে, ১৮৬ মিলিয়ন মাইলের প্যারালাক্স দুূরত্বও এখানে কিছু না।
এদের দূরত্ব পরিমাপ করতে হলে প্যারালাক্স পদ্ধতির বিকল্প কিছু একটা ভাবতে হবে। এর বিকল্প হতে পারে উজ্জ্বলতা। কোনো নক্ষত্র বা কোনো গ্যালাক্সি কতটুকু উজ্জ্বল তার মাধ্যমে দূরত্ব বের করা যেতে পারে। কোনো নক্ষত্র যদি কাছে থাকে তাহলে তাকে অধিক উজ্জ্বল দেখাবে আর কোনো নক্ষত্র যদি দূরে থাকে তাহলে তাকে কিছুটা অনুজ্জ্বল দেখাবে।
উজ্জ্বলতা বিবেচনা করে দূরত্ব পরিমাপ করার ব্যাপারটি আপাতভাবে সুন্দর হলেও, এতে বেশ কিছু ঝামেলা আছে। সব নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা সমান নয়। নক্ষত্রের আকার ও ভরের উপর তার উজ্জ্বলতা নির্ভর করে। অনুজ্জ্বল নক্ষত্রটি যদি কাছে থাকে আর উজ্জ্বল নক্ষত্রটি যদি দূরে থাকে, তখন এই ব্যাপারটির মীমাংসা কীভাবে করা হবে? মৃদু উজ্জ্বল মোমবাতি যদি কাছে থাকে আর অধিক উজ্জ্বল মোমবাতি যদি দূরে থাকে, তাহলে আপেক্ষিকভাবে তাদের উজ্জ্বলতা সমান বলে মনে হতে পারে। কিংবা এমনও হতে পারে, অবস্থানের কারণে হালকা উজ্জ্বলতার মোমবাতিটিকেই বেশি উজ্জ্বল বলে প্রতিভাত হচ্ছে। নক্ষত্রদের বেলাতেও এরকম ব্যাপার প্রযোজ্য। তাই উজ্জ্বলতা দিয়ে দূরত্ব পরিমাপ করতে গেলে তা সমস্যার সৃষ্টি করবে।
সৌভাগ্যক্রমে, বিজ্ঞানীরা বিশেষ ধরনের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে দূরবর্তী নক্ষত্রের দূরত্ব পরিমাপ করতে পারেন। তারা বিশেষ কিছু নক্ষত্রকে ‘প্রমাণ নক্ষত্র’ হিসেবে ধরে নেন এবং এদের সাপেক্ষে অন্য নক্ষত্রের দূরত্ব পরিমাপ করতে পারেন। এসব নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা ও তীব্রতা নির্দিষ্ট থাকে। বিজ্ঞানীরা এও জানেন, কীভাবে এরকম প্রমাণ নক্ষত্র (Variable Star) খুঁজে বের করতে হবে। এরকম নক্ষত্রের সাহায্যে, প্রতিষ্ঠিত কিছু গাণিতিক সূত্রাবলি প্রয়োগ করে বের করা যায় দূরবর্তী নক্ষত্রগুলো কত দূরে অবস্থিত।
ট্রিফিড নীহারিকায় কয়েকটি প্রমাণ নক্ষত্র। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স/ESO/D. Minniti
গ্যালাক্সি বা নক্ষত্র যত দূরেই থাকুক, কোনো না কোনো ভাবে আমরা তাদের অবস্থান ও দূরত্ব বের করতে পারি। নিকটবর্তী নক্ষত্রের জন্য আমাদের আছে প্যারালাক্স পদ্ধতি আর দূরবর্তী নক্ষত্রের জন্য আমাদের আছে ‘প্রমাণ নক্ষত্র’ পদ্ধতি।
বিজ্ঞান এই একটা দিক থেকে অনন্য। কোনো একটা ব্যাপার যতই ধরাছোঁয়ার বাইরে হোক না কেন, বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে মানুষ কিছু একটা উপায় ঠিকই খুঁজে নেয়। বিজ্ঞানের মারপ্যাঁচে সমস্যার সমাধান বের হয়ে যায় ঠিকই।
সংক্ষেপে দেখুনসূর্য কিভাবে পৃথিবীর সকল জীবকে বাঁচিয়ে রাখছে?
বেঁচে থাকতে এবং বেঁচে থাকার তাগিদে করা প্রত্যেকটি কাজের পেছনে আছে সূর্যের হাত। দৈনন্দিন জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো না কোনো এক দিক থেকে সূর্যের উপস্থিতি পাওয়া যাবেই। আমাদের জীবন ধারণ করতে সূর্য কেমন ভূমিকা পালন করছে সে সম্পর্কে সামান্য আলোকপাত করা হবে এখানে। আমরা এখনো জানি নাবিস্তারিত পড়ুন
বেঁচে থাকতে এবং বেঁচে থাকার তাগিদে করা প্রত্যেকটি কাজের পেছনে আছে সূর্যের হাত। দৈনন্দিন জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো না কোনো এক দিক থেকে সূর্যের উপস্থিতি পাওয়া যাবেই। আমাদের জীবন ধারণ করতে সূর্য কেমন ভূমিকা পালন করছে সে সম্পর্কে সামান্য আলোকপাত করা হবে এখানে।
আমরা এখনো জানি না পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বের কোনো স্থানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা। তবে এটা জানি, যদি বহির্বিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব থেকে থাকে তাহলে তা অবশ্যই হবে কোনো নক্ষত্রের কাছাকাছি কোনো স্থানে। অন্তত এটা বলা যায়, পৃথিবীতে যে ধরনের প্রাণ আছে সে ধরনের প্রাণ যদি বাইরের বিশ্বে থাকে তাহলে তারা তাদের নক্ষত্রের কাছে থাকবে। কারণ এরকম প্রাণের টিকে থাকতে হলে নিকটবর্তী নক্ষত্র থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে হবে। শক্তি ছাড়া কোনো প্রাণ টিকে থাকতে পারে না, শক্তি ছাড়া কোনো সভ্যতার বিকাশ হতে পারে না।
পৃথিবী যেমন সূর্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে অনেকটা তেমনই কাছে অবস্থান করবে প্রাণ ধারণকারী সেই গ্রহটি। কাছাকাছি বলতে একদম নিকটে বোঝানো হয়নি, আপেক্ষিকভাবে কাছাকাছি থাকবে অর্থাৎ প্রাণবান্ধব এলাকার মাঝে অবস্থান করবে। খুব কাছেও নয়, যার কারণে অধিক উত্তাপে পানি বাষ্প হয়ে উবে যাবে, আবার খুব দূরেও নয় যার কারণে অধিক শীতলতায় পানি সর্বদা বরফ হয়ে থাকবে। এরকম এলাকাই হচ্ছে প্রাণ ধারণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ।
প্রাণবান্ধব অঞ্চলটি দূরবর্তী কক্ষপথেও থাকতে পারে, আবার কাছের কক্ষপথেও হতে পারে। যেমন R136a1 নামে একটি নক্ষত্র আছে, যা আকারে বেশ বড়। নক্ষত্রের প্রাণ ধারণকারী গ্রহটির অবস্থান হবে এর থেকে দূরে, কারণ বড় বলে তার উত্তাপ বেশি হবে, তাই এমন দূরত্বে থাকতে হবে যেন উত্তাপে প্রাণ কোনো হুমকির মুখে না পড়ে। আবার সূর্যের চেয়েও ছোট কোনো নক্ষত্রের বেলায় প্রাণ ধারণকারী গ্রহ থাকবে নক্ষত্রের একদম কাছে, কারণ এর চেয়ে বেশি দূরে চলে গেলে গ্রহের পরিবেশ হবে অত্যধিক শীতল।
নক্ষত্রের আকার অনুসারে প্রাণ বান্ধব অঞ্চলের অবস্থান (গাঢ় আকাশী রঙ), মূল ছবি: পেগাসাস/বাংলায় রূপান্তর: লেখক
এবার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নে প্রবেশ করা যাক। প্রাণ ধারণকারী গ্রহকে কেন নক্ষত্রের কাছাকাছি অবস্থান করতে হবে? কারণ প্রত্যেক প্রাণেরই টিকে থাকার জন্য শক্তি দরকার। আর শক্তির চমৎকার ও সহজলভ্য উৎস হচ্ছে নক্ষত্র। কোনো প্রকার কর্মযজ্ঞ ও অর্থ বিনিয়োগ না করেই নক্ষত্র বছরের পর বছর ধরে শক্তি সরবরাহ করে যায়। ফ্রি ফ্রি পাওয়া উন্নতমানের সুবিধা, এটার সদ্ব্যবহার করাই বেশি যৌক্তিক।
পৃথিবীর কথা বিবেচনা করি। পৃথিবীতে উদ্ভিদেরা সূর্যালোক থেকে শক্তি সংগ্রহ করে এবং তা সরবরাহ করে সমগ্র জীবজগতকে। উদ্ভিদ সূর্যালোক থেকে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে। খাদ্য তৈরির জন্য অবশ্য সূর্যের আলোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইডেরও প্রয়োজন হয়। এদের পাশাপাশি মাটির নিচ থেকে পানি ও খনিজেরও দরকার হয়। মূল শক্তিটুকু সূর্যের আলো থেকেই সংগ্রহ করে এবং এর সাহায্যেই স্যুগার বা চিনি তৈরি করে। চিনির শক্তিকে ভেঙেই সকল প্রাণী ও উদ্ভিদেরা চলাফেরা ও নড়াচড়া করে।
পাতার মধ্যে ঘটে যাওয়া প্রক্রিয়াগুলো হাজার হাজার সোলার প্যানেলের সমন্বয়ে তৈরি বিশাল এক ফ্যাক্টরির মতো। বাড়তি উপযোগ পাবার জন্য পাতাগুলো চ্যাপ্টা হয়ে থাকে। চ্যাপ্টা হলে এর ক্ষেত্রফলের পরিমাণ বাড়ে, ক্ষেত্রফল বাড়লে তাতে অধিক পরিমাণ সূর্যালোক আপতিত হয়। ফলে অধিক পরিমাণ খাদ্য উৎপন্ন হয়। বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে, ভূগর্ভ থেকে পানি ও খনিজ নিয়ে সূর্যের আলোকে ব্যবহার করে যে রেসিপির প্রক্রিয়া করা হয় তার চূড়ান্ত উৎপাদ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের চিনি।
পাতায় উৎপন্ন হওয়া বিভিন্ন ধরনের চিনি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় চলে যায় উদ্ভিদের সমগ্র দেহে। দেহের বিভিন্ন অংশ আবার চিনি থেকে স্টার্চ বা শ্বেতসার তৈরি করে। শক্তি হিসেবে এটি আবার চিনি থেকেও বেশি সুবিধাজনক। উদ্ভিদের দেহের এই শ্বেতসার ও চিনি থেকে তৈরি হওয়া শক্তি ব্যবহার করেই বেঁচে থাকে দুনিয়ার সকল প্রাণী।
সূর্যালোকের শক্তির সাহায্যে বেঁচে থাকে উদ্ভিদ, আর উদ্ভিদের পাতায় উৎপন্ন হওয়া শক্তি ব্যবহার করে বেঁচে থাকে তাবৎ প্রাণিজগৎ। ছবি: গুড হাউজ কিপিং
তৃণভোজী (হার্বিভোরাস) কোনো প্রাণী, যেমন হরিণ বা খরগোশ, যখন কোনো উদ্ভিদকে খায়, তখন উদ্ভিদের শক্তিগুলোও তাদের দেহে যায়। এসব প্রাণীরা তাদের দেহ ও পেশি গঠন করতে শক্তিগুলো কাজে লাগায়। দেহের ও পেশির মাঝে শক্তিগুলো দরকার হয় মূলত খাদ্য সংগ্রহ করা, সঙ্গীর সাথে মিলন করা, বিপদে দৌড় দেয়া, অন্যের সাথে যুদ্ধ করা ইত্যাদি কাজে। এই শক্তিগুলোর আদি বা মূল উৎস হচ্ছে সূর্য, যা উদ্ভিদকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে তাদের মাঝে এসেছে।
মাংসভোজী (কার্নিভোরাস) প্রাণীরা আবার তৃণভোজী প্রাণীদেরকে খায়। ফলে এখানেও তৃণভোজী প্রাণীর শক্তি স্থানান্তরিত হয়ে চলে আসছে মাংসভোজী প্রাণীর মাঝে। এই শক্তিও মাংসভোজী প্রাণীর দেহ ও পেশি গঠন করতে কাজে লাগে। তারাও বিবাদে, দৌড়ে, মিলনে, গাছের চরণে শক্তি ব্যয় করে। মাংসভূক প্রাণীটি যদি স্তন্যপায়ী হয়, তাহলে তার কিছুটা শক্তি শিশুর জন্য দুধ উৎপাদন করতেও চলে যায়। এখানেও শক্তির মূল উৎস হিসেবে থাকছে সূর্য। যদিও এই শক্তি বেশ কতগুলো ধাপ পার হয়ে এই অবস্থানে আসে।
অন্যান্য প্রাণী ও পরজীবীরা মাংসভোজী প্রাণীর দেহে বসবাস করে আরো পরোক্ষভাবে শক্তি সংগ্রহ করে। এখানেও পরজীবীর শক্তির মূল উৎস হচ্ছে সূর্য।
জীবন অতিক্রম করে যখন কোনোকিছু মারা যায়, হোক সেটা প্রাণী, উদ্ভিদ, মাংসভোজী, তৃণভোজী কিংবা কোনো পরজীবী- তারা মৃত্যুর পর মাটিতে বিয়োজিত হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো আবর্জনাভূক প্রাণীরা এদের দেহাবশেষ খেয়ে ফেলে। এমন ধরনের আবর্জনাভূক প্রাণীর উদাহরণ হচ্ছে গোবরে পোকা। ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকও মৃতদেহটিকে খেয়ে শেষ করে ফেলতে পারে। ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকও মূলত এক প্রকার আবর্জনাভূক। এখানেও সেই আগের কথা, শক্তির মূল উৎস হচ্ছে সূর্য। এ কারণেই কম্পোস্টের স্তুপগুলো গরম হয়ে থাকে। কম্পোস্ট মূলত এক ধরনের জৈব সার। গোবর, আবর্জনা, বর্জ্য ইত্যাদি একত্র করে কোনো গর্তে ফেলে ঢেকে রাখলে কয়েকদিন পর যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তা-ই কম্পোস্ট। বছরখানেক আগে যে শক্তি উদ্ভিদের পাতায় আটকা পড়েছিল, সেটি এখন টগবগ করছে পচা কম্পোস্টের স্তূপে।
আবর্জনাভুক গুবরে পোকা, ছবি: esquire.com
‘মেগাপড’ নামে অস্ট্রেলীয় অঞ্চলের একটি পাখি আছে, এরা এদের ডিমে তা দেয় কম্পোস্ট স্তূপের তাপকে ব্যবহার করে। অন্যসব পাখিদের থেকে এরা একটু ব্যতিক্রম। অন্যান্য পাখিরা ডিমের উপর বসে নিজের গায়ের তাপ ব্যবহার করে ডিমে তা দেয়, কিন্তু অস্ট্রেলীয় মেগাপড পাখি তা দেবার জন্য বিচিত্র কারণে কম্পোস্টের স্তূপকে বেছে নেয়। এর জন্য তারা প্রথমে কম্পোস্টের একটি ক্ষেত্র তৈরি করে নেয় এবং পরে তার উপর ডিম পাড়ে। প্রয়োজন অনুসারে তারা তাপমাত্রার নিয়ন্ত্রণও করে। যখন তাপমাত্রা বাড়ানো দরকার, তখন উপর থেকে আরো কম্পোস্ট এনে যোগ করে, যখন তাপমাত্রা কমিয়ে ফেলা দরকার, তখন কিছু পরিমাণ কম্পোস্ট সরিয়ে নেয়। পাখিগুলো এখানেও কিন্তু আদতে সূর্যের শক্তিকেই ব্যবহার করছে।
অস্ট্রেলীয় মেগাপড, ছবি: ডি কাউয়েল/উইকিমিডিয়া কমন্স
আবর্জনার স্তূপ থেকে মেগাপডের ডিম সংগ্রহ করছেন একজন ব্যক্তি, ছবি: মাইকেল রাংকেল
মাঝে মাঝে কিছু গাছ অনেকদিন ধরে টিকে থাকে। এই গাছগুলো বিয়োজিত হয় না বা কেউ এদের খেয়ে ফেলে না। তবে কারো খাদ্য না হলেও এরা স্তরীভূত অঙ্গারে পরিণত হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলমান এই প্রক্রিয়ায় স্তরের উপর স্তর জমা হয়ে বড় স্তর গঠন করে। পশ্চিম আয়ারল্যান্ড সহ অন্যান্য অঞ্চলের মানুষেরা বড় ইটের আকৃতিতে এসব অঙ্গার কেটে কেটে তুলে নিয়ে আসে।
ইট আকৃতির অঙ্গারগুলো তারা শীতের দিনে ঘর গরম রাখতে ব্যবহার করে। বরফের দেশগুলোতে ঘর গরম রাখতে ঘরের ভেতরে কিছু না কিছু জ্বালাতে হয়, বাংলাদেশ বা উষ্ণ অঞ্চলীয় দেশগুলোতে এভাবে জ্বালাতে হয় না। ঘরের ভেতর ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচতে তাপের যে শক্তি ব্যবহার করা হয় তার মূল উৎসও সূর্য, যা হাজার হাজার বছর আগে গাছের পাতায় আটকা পড়েছিল।
এই অঙ্গারগুলো উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রভাবকের মধ্যে যদি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে থাকে, তাহলে সেগুলো কয়লায় পরিণত হয়। কয়লা অঙ্গারের চেয়ে ভালো মানের জ্বালানী। কয়লা পুড়িয়ে অধিক পরিমাণ উত্তাপ পাওয়া যায়। কয়লার এমন তাপীয় উপযোগিতার কারণেই আঠারো ও ঊনিশ শতকে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।
তেল, গ্যাস ও কয়লার শক্তি আদতে সূর্যেরই শক্তি; ছবি: সিটি অব পিটস্টোন
স্টিল মিলের উত্তপ্ত মেশিনের চালিকাশক্তি, স্টিম ইঞ্জিনের ধোঁয়া উড়ানো প্রবল বেগ, পানি কেটে জাহাজের ছুটে চলা এগুলোর সমস্ত শক্তিই আসলে আসছে সূর্য থেকে। হোক প্রত্যক্ষভাবে কিংবা হোক পরোক্ষভাবে। হতে পারে সেই শক্তি ১ হাজার বছর আগে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে কিংবা হতে পারে সেই শক্তির প্রক্রিয়াকাল ৩০০ মিলিয়ন বছর আগের।
শিল্প বিপ্লবের শুরুর দিকে কিছু কিছু ইন্ডাস্ট্রি চলতো স্টিম ইঞ্জিনে। বাদ বাকি অধিকাংশ কটন মিলই চলতো পানি চালিত এক ধরনের যন্ত্রের মাধ্যমে। এই যন্ত্রকে বলা হয় ‘ওয়াটার হুইল’। এই যন্ত্রে চালিত মিল-ফ্যাক্টরিগুলো স্থাপন করা হতো তীব্র স্রোত সম্পন্ন নদীর পাশে। স্রোতের পানির মধ্যে হুইলকে বসানো হতো, এই স্রোতে হুইল ঘুরতো। এই শক্তিকে ব্যবহার করেই চলতো পুরো ফ্যাক্টরি। এখানে ইঞ্জিনের শক্তি কোথা থেকে আসছে? দেখতে সূর্যের সাথে সম্পর্কহীন মনে হলেও আসলে এখানেও শক্তি আসছে মূলত সূর্য থেকেই। কীভাবে?
চাকা বা হুইল ঘুরে পানির স্রোতে, পানির স্রোত তৈরি হয় অভিকর্ষীয় শক্তির প্রভাবে- যার মানে হচ্ছে পানিকে নীচে থেকে উপরে উঠতে হয়। কারণ নীচের পানি উপরে না গেলে উপরে পানির যে সাপ্লাই আছে তা কয়েক দিনেই শেষ হয়ে যাবে। পানিগুলো উপরে উঠতে হলে অবশ্যই বাষ্পে রূপ নিয়ে বায়ুতে ভর করে উঠতে হবে। আর পানি থেকে বাষ্প তৈরি করার কাজটা করে সূর্যের তাপশক্তি। সুতরাং যে ইঞ্জিনই হোক, আর যে শক্তিই হোক- সকল শক্তির উৎসই হচ্ছে মূলত সূর্য।
ওয়াটার হুইলের শক্তিও ঘুরে ফিরে সূর্য থেকেই আসে, ছবি: হামাহিস্ট্রি
কয়লার মাধ্যমে শিল্প বিপ্লব সাধিত হলে কটন মিলগুলো পানির পরিবর্তে কয়লা ব্যবহার করে ইঞ্জিন চালানো শুরু করেছিল। কয়লাও মূলত সূর্যেরই শক্তি। এখন এদের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে, এ প্রকার শক্তি তৈরি হয়েছিল মিলিয়ন বছর আগে, আর আরেক প্রকার শক্তি সঞ্চিত হয়েছিল মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃষ্টি আকারে ঝরে পড়ে কিংবা পর্বতের চূড়া থেকে বরফ হতে গলে পড়ে। এ ধরনের শক্তিকে বলা হয় ‘বিভব শক্তি’। নিচে থেকে উপরে উঠানোর ফলে এতে শক্তি জমা হয় বা বিভব জমা হয় বলে একে বিভব শক্তি বলে। বস্তু যত উপরে উঠবে, অভিকর্ষের প্রভাবে ভূমির সাপেক্ষে তার বিভব শক্তি ততই বাড়বে।
পুরো বিশ্ব কীভাবে সূর্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এর মাধ্যমে আমরা তা বুঝতে পারি। উদ্ভিদ যখন আলোর উপস্থিতিতে খাদ্য-চিনি উৎপন্ন করে, তখন সূর্য সাহায্য করছে। যখন কোনো তৃণভোজী বা মাংসভোজী প্রাণী খাদ্য হিসেবে অন্য প্রাণী বা উদ্ভিদকে খাচ্ছে, তখনও শক্তির উৎস হিসেবে থাকছে সূর্য।
আমরা যদি আমাদের আশেপাশে মাটি, পানি, পাতা, লতা, কাঠ, কয়লা, তেল কাগজ, কাপড়, ফার্নিচার, হিটার, ফ্যান ইত্যাদির দিকে তাকাই, তাহলে সবখানেই দেখতে পাবো সূর্যের অবদানের উপস্থিতি। প্রত্যেকটা মিনিটে মিনিটে আমরা সূর্যের অবদানের কাছে ঋণী। পৃথিবীর সকল প্রাণই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূর্যের কাছে ঋণী। সূর্য যে এতকিছু উপহার দিচ্ছে মানুষকে তার অল্প স্বল্পও হয়তো মানুষ জানতো, তার কারণেই সূর্যকে পূজা করতো প্রাগৈতিহাসিক মানুষেরা। অ্যাজটেকরা সূর্যকে খুশি করার জন্য হাজার হাজার মানুষকে ভয়াবহভাবে বলিদান করেছিল।
সূর্য কোনো দেবতা নয়, তবে দেবতা না হলেও পৃথিবীর মানুষকে যা উপকার করছে তা হাজার দেবতাকেও হার মানায়; ছবি: নাসা
আমরা আজকের মানুষেরা সত্যিই ভাগ্যবান। সূর্যকে আমাদের পূজা করতে হচ্ছে না। বিজ্ঞানের কল্যাণে আজ আমরা জানি সূর্য আসলে একটা মহাজাগতিক বস্তু মাত্র, যা পদার্থবিজ্ঞানের কিছু নিয়ম কানুন মেনে তৈরি হয়েছিল এবং পদার্থবিজ্ঞানেরই কিছু নিয়মের প্রভাবে এক সময় মরে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।
সংক্ষেপে দেখুনকাঁচ একটি কঠিন পদার্থ হওয়া সত্ত্বেও স্বচ্ছ কেন?
কাচ স্বচ্ছ পদার্থ, এটি স্বচ্ছ বলেই এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি ভেদ করে চলে যেতে পারে। কাচ, আয়না কিংবা কাচের সামগ্রী আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য পদার্থ। কাচের এত ব্যবহার হবার একটিই কারণ, এটি সহজলভ্য। কিন্তু কখনো কি আমাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কাচ কেন স্বচ্ছ? কেন এর ভেতর দিয়ে আলোকরশ্মি অনায়াসে পার হয়ে যবিস্তারিত পড়ুন
কাচ স্বচ্ছ পদার্থ, এটি স্বচ্ছ বলেই এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি ভেদ করে চলে যেতে পারে। কাচ, আয়না কিংবা কাচের সামগ্রী আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য পদার্থ। কাচের এত ব্যবহার হবার একটিই কারণ, এটি সহজলভ্য। কিন্তু কখনো কি আমাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কাচ কেন স্বচ্ছ? কেন এর ভেতর দিয়ে আলোকরশ্মি অনায়াসে পার হয়ে যেতে পারে?
ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির স্মার্টফোনে কাচের ব্যবহার; Source: inverse.com
কাচ কেন স্বচ্ছ এবং আলোকরশ্মি কেন একে ভেদ করে চলে যেতে সক্ষম এটি বুঝতে হলে বুঝতে হবে একটি কাচের গঠন সম্পর্কে। কাচ তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে বালু। বালুর সাথে আরো অন্যান্য উপাদান মেশানো হয়। সামান্য অবাক লাগছে কি? বালুর মতো পদার্থ দিয়ে তৈরি হচ্ছে অতি প্রয়োজনীয় কাচ! বালুকে নিকৃষ্ট ভাববেন না, বালুও একটি প্রয়োজনীয় পদার্থ। বালুর প্রধান উপাদান হলো সিলিকা অর্থাৎ সিলিকন-ডাই-অক্সাইড। এই সিলিকার সাথেই সোডা অ্যাশ আর লাইমস্টোন মিশিয়ে ১,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলানো হয়। এই উপাদানগুলোর সাথে কাচে বাড়তি কোনো রঙ কিংবা বৈশিষ্ট্য যোগ করতে নির্দিষ্ট বস্তুকে যুক্ত করা যেতে পারে। গলিত পদার্থটি পুরোপুরি তরলের ন্যায় আচরণ করে না, বিশেষ ধরনের কঠিন পদার্থে পরিণত হয় তখন এটি, যাকে বলা হয় ‘অ্যামোরফাস সলিড’।
১,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চলছে গলানোর কাজ; Source: darkroom.baltimoresun.com
কাচের গঠন থেকে সরে এসে এবার একে ভেদনকারী আলোকরশ্মি নিয়ে বলা যাক। আলোকরশ্মি কণা নাকি তরঙ্গ, সেদিকে না গিয়ে আলোচনার সুবিধার্থে ধরা যাক, আলোকরশ্মি হলো কণা, অর্থাৎ একক পরিমাণ শক্তি সম্বলিত ফোটন। কাচ ভেদ করে আলো চলে যাচ্ছে মানে হলো, ফোটনগুলো গতিশীল অবস্থায় কাচে কোনো বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে না, কিংবা কাচ ফোটনটিকে শোষণ করে রেখে না দিয়ে নিজের ভেতর দিয়ে সঞ্চালিত হবার সুযোগ দিচ্ছে।
দৃশ্যমান আলোকরশ্মির ফোটনগুলো শোষিত হচ্ছে না। কারণ, কাচের মাঝে এমন কোনো পদার্থ নেই যা দৃশ্যমান আলোকরশ্মিকে শোষণে সক্ষম। অদৃশ্যমান আলোকরশ্মিগুলো আবার ক্ষেত্র বিশেষে ভিন্ন আচরণ করে থাকে। আমাদের দেহ কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে কোনো স্বচ্ছ পদার্থ নয়, এক্স-রশ্মির নিকট আবার আমাদের দেহ একটি প্রায় স্বচ্ছ পদার্থ, এক্স-রশ্মি আমাদের দেহকে ভেদ করে যেতে পারে। স্কায়াগ্রাফের মাধ্যমে খুব সহজেই এক্স-রশ্মি ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের অংশ দেখা যায়।
Source: commons.wikimedia.org
আলো আসলে দ্বৈত আচরণ করে, একই সঙ্গে কণা ও তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে থাকে আলো। যেহেতু আলোকরশ্মি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, সেহেতু অবশ্যই এর একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকবে। তরঙ্গদৈর্ঘ্য কিংবা কম্পাঙ্ক হিসেব করে বলা যায় একটি ফোটন কী পরিমাণ শক্তি বহন করছে কিংবা করবে। একটি ফোটন কী পরিমাণ শক্তি পরিবহন করছে, সেই পরিমাণকে ভিত্তি করেই বলে দেওয়া সম্ভব কোন পদার্থ এই ফোটনকে শোষণ করবে আর কোনটি করবে না।
বাম পাশে দেখা যাচ্ছে কাচের গঠন, অণুগুলো এলোমেলোভাবে সজ্জিত হয়ে আছে, সাধারণত একটি অস্বচ্ছ কঠিন পদার্থে অণুগুলো ডান পাশের মতো সুসজ্জিত হয়ে থাকে; Source: acs.org
আর শুরুতেই বলা হয়েছে যে, কাচ একটি কঠিন পদার্থ, কঠিন পদার্থ মানেই আমাদের চোখে হয়তো খুব শক্ত, অস্বচ্ছ পদার্থের ছবি ভেসে উঠবে। প্রথম সেকেন্ডেই কাচের কথা মনে হবে না যে, এটি একটি কঠিন পদার্থ। কাচ কোনো তরল কিংবা গ্যাসীয় পদার্থ নয়, এটি একটি বিশেষ ধরনের কঠিন পদার্থ, আগে যাকে উল্লেখ করা হয়েছে ‘অ্যামোরফাস সলিড’ হিসেবে।
গলিত সিলিকা; Source: italyxp.com
গলিত সিলিকা থেকে প্রস্তুত করা হচ্ছে কাচের বোতল; Source: youtube.com
কঠিন পদার্থের সংজ্ঞা নিশ্চয়ই মনে আছে, অণুগুলো পরস্পরের সবথেকে কাছে অবস্থান করে। অণুগুলোর আন্তঃআণবিক দূরত্ব কম এবং এরা একটি সুনির্দিষ্ট সজ্জায় সজ্জিত হয়ে পাশাপাশি সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। কিন্তু কাচের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি হয় উল্টো। আন্তঃআণবিক দূরত্ব কম বলে কঠিন পদার্থ হবার যোগ্যতা কাচের রয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রম হলো, অণুগুলোর অবস্থানে কোনো সুনির্দিষ্ট সজ্জা নেই। কাচের মাঝে অণুগুলো অবস্থান করে এলোমেলোভাবে। এলোমেলোভাবে অবস্থান করেও আন্তঃআণবিক দূরত্ব একটি কঠিন পদার্থের ন্যায় সর্বনিম্ন হওয়ায় কাচ একটি কঠিন পদার্থ, আর কাচ সহজেই ভেঙে যাবার পেছনেও দায়ী অণুগুলোর এলোমেলো অবস্থান।
একটি পরমাণুর গ্রাফিক্যাল চিত্র; Source: chemistryworld.com
স্কুল পর্যায়ে রসায়নে শেখা কিছু তথ্য এবার মনে করতে হবে। রসায়ন বইতে আমাদের শেখানো হয়েছিলো পরমাণুর গঠন সম্পর্কে। পরমাণুর কেন্দ্রে রয়েছে একটি অতি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করেই চারপাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে রয়েছে বিভিন্ন বৃত্তাকার শক্তিস্তর। শক্তিস্তর অনুযায়ী সেখানে আবর্তন করছে ইলেকট্রন। নিলস বোরের সংশোধিত পারমাণবিক গঠনের তথ্যানুযায়ী, একটি ইলেকট্রনকে যদি শক্তি প্রদান করা হয় তবে সেটি সেই শক্তি শোষণ করে আরো উচ্চ শক্তির স্তরে আরোহণ করবে। আবার ইলেকট্রন যদি শক্তি বিকিরণ করে, তবে ইলেকট্রনটি অবস্থানরত শক্তিস্তর ছেড়ে দিয়ে নিচের দিকে নিম্নশক্তির স্তরে গমন করবে।
বোর পারমাণবিক মডেল অনুযায়ী ইলকট্রন শক্তি শোষণ করে উত্তেজিত অবস্থায় উচ্চ শক্তিস্তরে গমন করে কিংবা শক্তি বিকিরণের মাধ্যমে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করে; Source: youtube.com
বোরতত্ত্বের ভিত্তিতে একটি পরমাণু একটি ফোটনের সাথে তিন ধরনের আচরণ করতে পারে।
১) ফোটন যে পরিমাণ শক্তি বয়ে নিয়ে এলো পরমাণুর ইলেকট্রনের কাছে, ইলেকট্রনটি সেই পরিমাণ শক্তিকে শোষণ করে নিয়ে উচ্চ শক্তিস্তরে আরোহণ করতে পারে, আর বাহিত শক্তি দান করে ফোটনটিও নিঃশেষ হয়ে যায়।
২) এক্ষেত্রেও প্রথম ঘটনাটি ঘটে থাকে, তবে ফোটনটি নিঃশেষ হয়ে যাবার সাথে সাথে অপর একটি ফোটন তৈরি হয়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায় আলোকরশ্মির উৎসের দিকে। অর্থাৎ একটি আলোকরশ্মি শোষিত না হয়ে প্রতিফলনের সৃষ্টি করে।
৩) এক্ষেত্রে একটি পরমাণু আলোকরশ্মিকে পুরোপুরি অপরিবর্তিত অবস্থায় সঞ্চালিত হতে দেয়। এর কারণ হলো, ফোটনের শক্তি পরমাণুর কোনো ইলেকট্রন শোষণ করে নেয়নি, আলোকরশ্মিটি ততক্ষণই গতিশীল থাকবে, যতক্ষণ এর ফোটনগুলোর মাঝে শক্তি বিরাজমান থাকবে।
এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন, তিন নম্বর ঘটনাটিই ঘটে থাকে একটি কাচের মধ্যে। কাচের অণু কিংবা পরমাণুগুলো আলোকরশ্মিকে শোষণ না করে চলমান রাখে। এমনটি হয় কেবলমাত্র এই কারণে যে, ফোটনে যে পরিমাণ শক্তি রয়েছে, কাচের মাঝে উপস্থিত পরমাণুগুলোকে শক্তি দিয়ে উত্তেজিত করার মাধ্যমে উচ্চস্তরে প্রেরণের জন্য তা যথেষ্ট নয়। পদার্থবিজ্ঞানে এই ব্যাপারটি সুন্দরমতো ব্যাখ্যার জন্য ‘ব্যান্ড তত্ত্ব’ ব্যবহার করা হয়। এই তত্ত্বের বিস্তারিত বলা হবে না এখানে, শুধু এটুকু বলা যায় যে, এই তত্ত্বানুযায়ী যে পদার্থের ব্যান্ড গ্যাপ যত বেশি, তার মধ্য দিয়ে তত ভালোভাবে আলোকরশ্মি সঞ্চালিত হয়ে যাবে। কাচও একটি এমন পদার্থ। কাচের পরমাণুগুলোকে উত্তেজিত করতে হলে অধিক শক্তির প্রয়োজন, যা দৃশ্যমান আলোর ফোটনের থাকে না। ফলে দৃশ্যমান আলোকরশ্মি অতি সহজেই কোনোরূপ শোষণ কিংবা বিকিরণ না ঘটিয়ে কাচকে ভেদ করে চলে যায়।
তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালী, এতে দৃশ্যমান আলোকরশ্মির সাথে অন্যান্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকরশ্মিও দেখানো হয়েছে; Source: civilengineerlearn.blogspot.com
দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য সম্পন্ন আলোকরশ্মি হলো অতিবেগুণী রশ্মি, এক্স-রশ্মি ও গামা রশ্মি। এই রশ্মিগুলোর ফোটনে একটি ইলেকট্রনকে উত্তেজিত করবার মতো পর্যাপ্ত শক্তি বিরাজ করে। তাই এই রশ্মিগুলো কাচকে ভেদ করে যেতে সক্ষম নয়। কাচ এই রশ্মিগুলোর কাছে অস্বচ্ছ পদার্থ।
সংক্ষেপে দেখুনসৌরজগতের জন্ম হয়েছিল কিভাবে ?
চীনের উপকথায় প্যান গু নামের এক দেবতার উল্লেখ পাওয়া যায়। আকৃতিতে তিনি মানুষের মতো, মুখটি তার কুকুরের মতো, সারা দেহ লোমে আবৃত। মহাবিশ্ব সৃষ্টির আগে স্বর্গ ও মর্তের সকল কিছু একটি ডিমের ভেতর আবদ্ধ ছিল। তিনি নিজেও ডিমের ভেতর ঘুমন্ত ছিলেন টানা আঠারো বছর। ঘুম ভাঙলে তিনি সেখান থেকে বের হতে চাইলেন। হাতে থাকাবিস্তারিত পড়ুন
চীনের উপকথায় প্যান গু নামের এক দেবতার উল্লেখ পাওয়া যায়। আকৃতিতে তিনি মানুষের মতো, মুখটি তার কুকুরের মতো, সারা দেহ লোমে আবৃত। মহাবিশ্ব সৃষ্টির আগে স্বর্গ ও মর্তের সকল কিছু একটি ডিমের ভেতর আবদ্ধ ছিল। তিনি নিজেও ডিমের ভেতর ঘুমন্ত ছিলেন টানা আঠারো বছর। ঘুম ভাঙলে তিনি সেখান থেকে বের হতে চাইলেন। হাতে থাকা একটি কুঠার দিয়ে সজোরে আঘাত করলেন ডিমের দেয়ালে। ডিম ভেঙে গেলে তিনি সেখান থেকে বের হন। ডিম থেকে কিছু দৃঢ় ও থলথলে পদার্থও বের হয়। দৃঢ় পদার্থ দিয়ে তৈরি হয় পৃথিবী।
ডিম থেকে বেরিয়ে দেখেন পৃথিবী আর আকাশ একসাথে লেগে যাচ্ছে। তাই তিনি শক্ত করে আকাশকে ধরে উপরের দিকে ঠেলে রাখছিলেন। এতে তার সকল শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। মৃত্যুর পর তার দুই চোখ থেকে চাঁদ ও সূর্যের জন্ম হয়। নিঃশ্বাস থেকে বায়ুমণ্ডল, কণ্ঠ থেকে বজ্রপাত, পেশি থেকে উর্বর ভূমি, শিরা থেকে নদী ও রাস্তা তৈরি হয়।
পৃথিবী ও সূর্য তথা সৌরজগতের জন্ম নিয়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নানা ধরনের পৌরাণিক উপকথা প্রচলিত আছে। সেগুলো শুনতে আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবতার সাথে মিল বহুদূর। বাস্তবতা জানতে হলে অনুসন্ধান করতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক কারণ।

প্যান গু’র এক চোখ থেকে তৈরি হয়েছে সূর্য আর এক চোখ থেকে তৈরি হয়েছে চাঁদ; Credit: Devine Art/testabuddy05
সৌরজগতের উৎপত্তি নিয়ে এখন পর্যন্ত যে মতবাদ প্রচলিত আছে তা অনেকটা এরকম- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহ জন্মের আগে বিস্তৃত এলাকা ব্যাপী গ্যাসীয় মেঘ হিসেবে বিদ্যমান ছিল। একদম শুরুতে কয়েক আলোক বর্ষ ব্যাপী এলাকা নিয়ে মহাজাগতিক গ্যাস ও ধূলি বিদ্যমান ছিল। কয়েক আলোক বর্ষ এই এলাকাটা কতটুকু বিশাল? শুনতে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এর বিশালতা ব্যাপক। আলো এক সেকেন্ডে অতিক্রম করে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। ১ মিনিটে যায় এর ৬০ গুণ। এক ঘণ্টায়? আরো ৬০ গুণ। এক দিনে? এক মাসে এক বছরে? এভাবে গুণ গিয়ে আসলে দেখা যাবে কল্পনাতীত পরিমাণ বড় এক এলাকা নিয়ে ছিল সৌরজগতের প্রাথমিক গাঠনিক উপাদানগুলো।
এরপর কিছু একটা হলো যার কারণে গ্যাসের মেঘগুলো পরস্পরের কাছে আসতে শুরু করলো। কী হতে পারে সেটা? হতে পারে পাশ দিয়ে ভারী কোনো নক্ষত্র অতিক্রম করে গিয়েছে যার মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণে চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বস্তুগুলো একটা দিকে এসে একত্রিত হওয়া শুরু করেছিল। কিংবা এমনও হতে পারে কোনো শক ওয়েভের ধাক্কায় বস্তুগুলো একদিকে সংকুচিত হওয়া শুরু করেছিল। শক ওয়েভ যেদিক দিয়ে যায় সেদিকের বস্তুগুলোকেও নাড়িয়ে যায় কিংবা সাথে নিয়ে যায়। ভূমিকম্পের সময় মাটিতে আন্দোলন হয় শক ওয়েভের কারণেই। সেখানে কীভাবে শক ওয়েভ তৈরি হতে পারে? সুপারনোভা বিস্ফোরণের ফলে কিংবা বড় কোনো মহাজাগতিক ঘটনায় শক ওয়েভ তৈরি হতে পারে।

বিস্তৃত মহাজাগতিক মেঘ একত্রিত হয়ে তৈরি করেছিল সৌরজগৎ; Credit: NASA, ESA/Hubble
তো একত্রীকরণের পেছনে যে কারণই থাকুক, কোনোএকভাবে বস্তুগুলো একত্রিত হওয়া শুরু করেছিল। এরপর আর কিছু করতে হয়নি। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে নিজেই গঠন করে ফেলেছে সৌরজগৎ। একবার পথ দেখানোর পর পথিক নিজেই নিজের আলোতে বাকি পথ চিনে নিয়েছে।
যখন বস্তুগুলো একটুখানি কাছে আসা শুরু করেছে তখন একটির সাথে আরেকটি মিলে বড় বস্তু তৈরি করেছে। এখানে কাজ করেছে মহাকর্ষ। বস্তু ভর কম হলেও মহাশূন্যে কম ভরের আকর্ষণেরও ভালো প্রভাব থাকে। এখন বস্তুটি একটু বড় বা ভারী হওয়া মানে এর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ আরো বেশি হবে। ফলে আশেপাশের আরো বস্তুকে নিজের দিকে টেনে নিতে পারবে। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র বলছে বস্তুর ভর যত বেশি হবে আকর্ষণের পরিমাণ তত বেশি হবে। ফলে একসময় ভারী হতে হতে বিস্তৃত এলাকা ব্যাপী মহাকর্ষীয় প্রভাব বিস্তার করবে।
সৌরজগতের ক্ষেত্রে যে অংশে সবচেয়ে বেশি বস্তু জমা হয়েছিল সেটি বর্তমানে সূর্য। সূর্যের মধ্যে এত বেশি বস্তু জমা হয়েছিল যে প্রবল মহাকর্ষের চাপে ভেতরের বস্তুগুলো আর স্বাভাবিক থাকতে পারেনি। সংঘটিত হওয়া বস্তুগুলোর মাঝে বেশিরভাগই হাইড্রোজেন গ্যাস। প্রবল চাপে পড়ে তারা উত্তপ্ত হয়ে উঠে। গ্যাসের সূত্র অনুসারে চাপ বাড়লে তাপমাত্রা বাড়ে। এখানে সেটিই হয়েছে। তাপমাত্রা বেড়ে এতই উত্তপ্ত হয়ে গিয়েছিল যে এক পরমাণু আরেক পরমাণুর ভেতর ঢুকে ফিউশন বিক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিল।
ফিউশন বিক্রিয়ায় প্রচুর তাপ ও আলোক শক্তি অবমুক্ত হয়। তার ফলে সূর্যটি জ্বলে উঠে। সেই যে জ্বলেছে এখনো নেভেনি। ভেতরে ফিউশন বিক্রিয়া ঘটাবার মতো জ্বালানি শেষ হবার আগ পর্যন্ত জ্বলতেই থাকবে।
সূর্য ছাড়া অন্য কোনো গ্রহেরও সুযোগ ছিল জ্বলে উঠার। যেমন বৃহস্পতি, এর ভর তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। কিন্তু জ্বলে উঠতে হলে ন্যূনতম যে ভর অর্জন করতে হয় তা অর্জন করতে পারেনি সে। তাই আর জ্বলে উঠতে পারেনি। যদি বৃহস্পতি গ্রহও জ্বলে উঠতো তাহলে সৌরজগতে সূর্য থাকতো দুটি। আর একে বলা হতো বাইনারি স্টেলার সিস্টেম। মহাবিশ্বে এরকম যুগল নক্ষত্রের অনেক উদাহরণ আছে। স্টার ওয়ার্স চলচ্চিত্রগুলোতে এরকম যুগল নক্ষত্র দেখা যায় প্রায়ই।

সূর্যের মতো তাপ ও আলো ছড়ানোর একটি সম্ভাবনা ছিল বৃহস্পতি গ্রহের; Credit: JAXA / ISAS / DARTS / Damia Bouic
সূর্য যখন চারপাশ থেকে বস্তু ধারণ করছিল তখন তার পাশাপাশি অন্যান্য স্থানেও টুকটাক ছোট ছোট বস্তুর সংগ্রহ হতে থাকে। যে যার মতো করে পেরেছে নিজের দিকে আকর্ষণ করেছে। এদের মধ্যে যারা বেশি ভারী হয়ে গিয়েছিল তারা গ্রহ কিংবা উপগ্রহ হিসেবে বিদ্যমান আছে। আর যারা খুব বেশি ভারী হতে পারেনি তারা শেষমেশ সূর্যে গিয়ে ঠেকেছে কিংবা পার্শ্ববর্তী গ্রহে গিয়ে মিশেছে। উদাহরণ, পৃথিবীতে প্রায় সময় ঘটে যাওয়া উল্কাপাত।
সূর্য তো গ্রহগুলোকে আকর্ষণ করছে, তাহলে গ্রহগুলো কেন সূর্যের বুকে পড়ে যায় না কিংবা উপগ্রহগুলো কেন গ্রহে গিয়ে ঠেকে না? আসলে গ্রহদের দিক থেকে গ্রহগুলো ঠিকই সূর্যের উপর পড়ছে কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের একটা নিয়মের প্রভাবে সেই পড়া আর সূর্যের গা পর্যন্ত যায় না। খুব সহজ করে বললে এভাবে বলা যায়, সৌরজগৎ গঠনের সময় গ্রহগুলোতে একটি বহির্মুখী বল তৈরি হয়, আবার অন্যদিকে সূর্যের আকর্ষণের ফলে একটি কেন্দ্রমুখী বলও বিদ্যমান। দুই বলের টানাটানিতে গ্রহগুলো না যেতে পারে বাইরের দিকে না আসতে পারে ভেতরের দিকে।
দুই বল (ভেক্টর রাশি) যদি দুই দিকে টানাটানি করে তাহলে বস্তুটি দুই দিকের কোনো দিকে না গিয়ে ৩য় একটি দিকে যাবে (লব্ধি ভেক্টর)। এটা পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম। গ্রহগুলোর ঘূর্ণনের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়। দুই বলের টানাটানিতে লব্ধি হিসেবে ঘুরতে থাকে।

সংক্ষেপে দেখুনপৃথিবী সহ অন্য গ্রহগুলো কেন সূর্যে পতিত হয় না? Source: shodor.org
পৃথিবী গঠনের পর এতে কোনো পানি ছিল না। গনগনে উত্তপ্ত ছিল পুরো গ্রহ। গ্রহাণু ধূমকেতুরা এসে আছড়ে পড়তে লাগলো পৃথিবীর পৃষ্ঠে। ধূমকেতুতে প্রচুর পানি ও বরফ থাকে। এই পানি ও বরফের প্রভাবে শীতল হয়ে এলো পৃথিবীর উপরিপৃষ্ঠ। শুধু শীতলই হয়নি, সাগর মহাসাগরের পানিগুলোর উৎসও এরাই। অন্তত সাম্প্রতিক গবেষণা তা-ই বলে। পানি থাকাতে তার মাঝে প্রাণ ধারণ করার পরিবেশ অনুকূল হয়। সেখানে জন্ম নেয় এক কোষী প্রাণ। তারপর ধীরে ধীরে পুরো পৃথিবী ছেয়ে যায় প্রাণিবৈচিত্র্যে। সেখানে বাস করছি আমরা মানুষেরা।
উদ্ভিদরা নাকি রান্না-বান্না করে খায়!! ঘটনা কি সত্যি ?
উদ্ভিদের রান্না-বান্না? নিশ্চয়ই অদ্ভুত লাগছে? কিন্তু সত্যিই উদ্ভিদের রয়েছে নিজস্ব রসুইঘর বা রান্নাঘর। যেখানে রান্না হয় উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদনের জন্য। আমাদের রান্নাঘরের মতো সে রান্নায়ও প্রয়োজন হয় নানা উপাদানের। রান্নার প্রয়োজনে উদ্ভিদকেও বাজার সারতে হয়, মানে খাবারের কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয়। সেটাকে আবাবিস্তারিত পড়ুন
উদ্ভিদের রান্না-বান্না? নিশ্চয়ই অদ্ভুত লাগছে? কিন্তু সত্যিই উদ্ভিদের রয়েছে নিজস্ব রসুইঘর বা রান্নাঘর। যেখানে রান্না হয় উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদনের জন্য। আমাদের রান্নাঘরের মতো সে রান্নায়ও প্রয়োজন হয় নানা উপাদানের। রান্নার প্রয়োজনে উদ্ভিদকেও বাজার সারতে হয়, মানে খাবারের কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয়। সেটাকে আবার রান্নাঘরেও পৌঁছে দিতে হয়। সেই রান্নায় তাপের প্রয়োজন হয়, প্রয়োজন হয় জ্বালানীরও।
তো কোথায় সেই রসুইঘর? কীভাবেই বা রান্না হয় তাতে? আর জীবজগৎ সেই রান্নার উপর নির্ভরশীলই বা কীভাবে?
উদ্ভিদের রসুইঘরের অবস্থান উদ্ভিদের পাতায়। বাজার মানে খাদ্য সংগ্রহ করে উদ্ভিদের শেকড়। আর বিভিন্ন কোষ-কলা তা পৌঁছে দেয় রান্নাঘর মানে পাতায়। সেখানে সূর্যের তাপে চলে রান্না। সেই রান্নায় জ্বালানীর মতো প্রয়োজন হয় কার্বন ডাই অক্সাইড। সেই রান্না থেকেই উৎপাদিত হয় অক্সিজেন মানে আমাদের নিঃশ্বাস!
জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু: খাবার আনা নেওয়া যাদের কাজ
তো বলছিলাম উদ্ভিদকে বাজার করতে হয়, আবার সে বাজার যেমন পাতায় পৌঁছে দিতে হয়, তেমনি পাতা থেকে সরবরাহ করতে হয় পুরো উদ্ভিদের আনাচে-কানাচে। এই কাজটি করে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু। জাইলেম টিস্যুগুলোকে বলা হয় জটিল টিস্যু, কারণ এই টিস্যুগুলো নির্দিষ্ট কোনো কাজ নিয়ে বসে থাকে না, বরং একাধিক কাজ করে থাকে। জাইলেম শব্দটি এসেছে গ্রিক Xylos থেকে, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘কাঠ’। উদ্ভিদের কাণ্ডকে দৃঢ়তা দেওয়ার জন্য এই টিস্যুর ভূমিকা আছে। জাইলেম টিস্যু মাটি থেকে শেকড়ের সংগ্রহ করা পানি ও খনিজ পাতায় বহন করে নিয়ে আসে।

উদ্ভিদের বিভিন্ন জায়গায় জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর অবস্থান; Image Source: bbc.co.uk
আবার ফ্লোয়েম টিস্যুুর কাজ হচ্ছে পাতায় উৎপাদিত খাবার উদ্ভিদের আনাচে-কানাচে পৌঁছে দেওয়া। জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুুকে একত্রে বলা হয় ভাস্কুলার বান্ডল বা সংবহনতন্ত্র। আর এই সংবহনতন্ত্র যে পদ্ধতিতে খাবার পৌঁছে দেয়, সে পদ্ধতিকে বলা হয় অসমোসিস বা অভিস্রবণ পদ্ধতি।
স্টোমেটা: রসুইঘরের দুয়ার
স্টোমেটা (একবচনে স্টোমা) হচ্ছে পাতার উপরে এবং নিচের ত্বকে অবস্থিত সূক্ষ্ম দুয়ার, বাংলায় যাকে বলা হয় পত্ররন্ধ। এই পত্ররন্ধ দুইটি রক্ষীকোষ দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে। উদ্ভিদের বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যেমন- প্রস্বেদন ও সালোকসংশ্লেষণ সমাধা হওয়ার পেছনে এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। স্টোমেটার মাধ্যমেই উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ভেতরে নেয় এবং উৎপাদিত অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলে পাঠায়। আবার এর মাধ্যমেই উদ্ভিদের শ্বসন বা প্রস্বেদন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়।

চিত্রের ছোট ছোট দুয়ারগুলোই স্টোমেটা; Image Source: socratic.org
সালোকসংশ্লেষণ: উদ্ভিদের রান্নার রেসিপি
সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিসকে তুলনা করা যায় উদ্ভিদের রান্নার রেসিপি হিসেবে। এককথায় উদ্ভিদের খাবার তৈরির পদ্ধতিকেই বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ। যদিও সালোকসংশ্লেষণের দু’টি পদ্ধতি আছে, অক্সিজেনিক ও অ্যানোক্সিজেনিক, তবে অ্যানোক্সিজেনিক পদ্ধতির ব্যবহার নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়া ছাড়া অন্য কোথাও দেখা যায় না। এবার তাহলে জানা যাক অক্সিজেনিক সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের খাবার তৈরির কথা।

যেভাবে উৎপাদিত হয় উদ্ভিদের খাবার; Image Source: ducksters.com
উদ্ভিদের খাবার রান্নায় যা যা প্রয়োজন হয়,
১) কার্বন ডাই অক্সাইড,
২) পানি,
৩) সূর্যের আলো।
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ছয় অণু কার্বন ডাই অক্সাইড ও বারো অণু পানির সাথে সূর্যালোকের সংশ্লেষণের পর উৎপন্ন হয় এক অণু কার্বোহাইড্রেট বা গ্লুকোজ, ছয় অণু পানি ও ছয় অণু অক্সিজেন। বিক্রিয়াটি হচ্ছে-
এখানে দেখা যাচ্ছে, উদ্ভিদ যে কয়টি কার্বন ডাই অক্সাইড অণু গ্রহণ করেছে, তার সমপরিমাণ অক্সিজেনে রূপান্তরিত হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পেছনে অন্যতম প্রভাবক হলো ক্লোরোফিল। এর অবস্থান ক্লোরোপ্লাস্ট নামক সবুজ প্লাস্টিডের অভ্যন্তরে। তবে সবুজ বর্ণের উদ্ভিদ ছাড়া অন্য উদ্ভিদগুলো আরো বিভিন্ন ধরনের যৌগ- ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল ইত্যাদির মাধ্যমে সালোকসংশ্লেষণ ঘটাতে পারে।
ক্লোরোপ্লাস্ট: উদ্ভিদের রান্নাঘর
ক্লোরোপ্লাস্টকে তুলনা করা যায় রান্নার সুপরিকল্পিত কাঠামো কিংবা রান্নাঘরের সাথে, যেখানে উদ্ভিদের খাবার উৎপাদনের মূল কার্যটি সমাধা হয়। ক্লোরোপ্লাস্টের অবস্থান পাতার মেসোফিল টিস্যুর ভেতরে। মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন প্রায় একই রকম। এর রয়েছে তিনটি মেমব্রেন সিস্টেম- আউটার মেমব্রেন, ইনার মেমব্রেন ও থাইলাকোয়েড মেমব্রেন। আউটার মেমব্রেন ও ইনার মেমব্রেনের মধ্য সামান্য ফাঁকা জায়গা থাকে, যাকে বলা হয় ইন্টারমেমব্রেন স্পেস। আর থাইলাকোয়েড মেমব্রেনটি জটিল আকারে ভাঁজ হয়ে ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করে, যাকে বলা হয় থাইলাকোয়েড। বেশকিছু থাইলাকোয়েড স্তুপাকারে টেবিলে সাজিয়ে রাখা বইয়ের আকার ধারণ করে, একে একত্রে বলা হয় গ্রানাম।

ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন; Image Source: venngage.com
ক্লোরোপ্লাস্টের এই থাইলাকোয়েডগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ অবস্থান করে। উদ্ভিদের রান্নার মূল কারিগর তারাই। এই ক্লোরোফিলের সবুজ রঙের জন্যই ক্লোরোপ্লাস্ট এমনকি গাছের পাতার রং সবুজ দেখায়।
ক্লোরোফিল: রান্নার মূল কারিগর
উদ্ভিদের রান্নার আয়োজনে ক্লোরোফিলের ভূমিকা মুখ্য। ক্লোরোফিলের দু’টি অংশের একটি হচ্ছে পোরফাইরিন রিং। এই রিং গঠিত হয় চারটি নাইট্রোজেন পরমাণু ও একটি ম্যাগনেসিয়াম পরমাণুর সমন্বয়ে। ম্যাগনেসিয়াম পরমাণুটি অবস্থান করে চারটি নাইট্রোজেন পরমাণুর কেন্দ্রে। আরেকটি অংশ হচ্ছে হাইড্রোকার্বন লেজ। এই লেজের মাধ্যমে ক্লোরোফিল থাইলাকোয়েড ঝিল্লির সাথে যুক্ত থাকে।


ক্লোরোফিলের গঠন; Image Source: chem.ucla.edu
থাইলাকোয়েড ঝিল্লির উপর তিন থেকে চারশো’ ক্লোরোফিল এবং অন্য কিছু রঞ্জক অণু মিলে একটি স্বতন্ত্র ফটোসিস্টেম তৈরি করে। প্রতিটি ফটোসিস্টেমে থাকে একটি রিঅ্যাকশন সেন্টার বা বিক্রিয়া কেন্দ্র।
ক্লোরোফিলের একটি ফটোসিস্টেম; Image Source: writeopinions.com
ক্লোরোফিল প্রথমত যে কাজটি করে, তা হচ্ছে সূর্যের আলো থেকে ফোটন শোষণ। ক্লোরোফিলের ইলেকট্রনগুলো যখন ফোটন শোষণ করে, তখন সেগুলোর শক্তিস্তরে পরিবর্তন আসে এবং ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তরে উন্নীত হয়।
এসময় উচ্চ শক্তিস্তরে থাকা ইলেকট্রনগুলো তাদের অতিরিক্ত শক্তি ফোটন আকারে বের করে দেয় এবং পাশের ক্লোরোফিলগুলো সেই ফোটন গ্রহণ করে। এই গ্রহণকৃত ফোটন আবার তারাও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আরেকটি ক্লোরোফিলের দিকে ছুঁড়ে দেয়। ছোঁড়াছুঁড়ির এক পর্যায়ে তা এসে পৌঁছায় ফটোসিস্টেমের বিক্রিয়া কেন্দ্রে, যেখানে রয়েছে বিশেষ ধরনের রঙ্গক অণু প্রাথমিক ইলেকট্রন গ্রাহক (Primary electron acceptor)। এখানে ফোটন পৌঁছার সাথে সাথে বিজারণ বিক্রিয়া শুরু হয়। এই বিক্রিয়ার ফলে বিক্রিয়া কেন্দ্রের ক্লোরোফিলগুলো প্রাইমারি ইলেকট্রন গ্রাহকের দিকে ফোটনের বদলে ইলেকট্রন ছুঁড়ে দেয়। যার ফলে সূর্যের আলোর বিপরীতে পাওয়া যায় ইলেকট্রন।

কেলভিন সাইকেলের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার পর উৎপাদিত হয় গ্লুকোজ; Image Source: nationalgeographic.org
এভাবেই এগিয়ে চলে খাদ্য উৎপাদনের প্রথম ধাপের কাজ। এই ধাপকে বলা হয় লাইট রিঅ্যাকশন (Light reaction), এ ধাপে উদ্ভিদ সূর্যালোকের ফোটন থেকে শক্তি উৎপাদন করে। তারপরের ধাপের নাম ডার্ক রিঅ্যাকশন যা কেলভিন চক্র (Calvin cycle) নামে পরিচিত। এই ধাপে সূর্যালোক থেকে পাওয়া শক্তি কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে জটিল প্রক্রিয়ায় জি৩পিতে (Glyceraldehyde 3-phosphate) রূপান্তরিত করা হয়। তারপর কেলভিন চক্রের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে উৎপন্ন হয় উদ্ভিদের খাবার গ্লুকোজ (C6H12O6)। সেই সাথে উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয় অক্সিজেন।
যেভাবে জীবজগৎ টিকে আছে এই রান্নার উপর
যদিও এই রান্নায় সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিতে হয় সূর্যকে, কারণ গ্লুকোজ উৎপাদনে উদ্ভিদ যে শক্তি ব্যয় করে, তা উৎপাদিত গ্লুকোজের শক্তির থেকেও বেশি!
যা-ই হোক, যদি কোনো কারণে উদ্ভিদের এই খাদ্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, তবে প্রথমত উদ্ভিদ নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে গেলে মানুষ কিংবা অন্যান্য প্রাণীদেরও ধ্বংসের পরিণতি নেমে আসবে, কারণ জীবজগৎ শ্বাসকার্য পরিচালনার জন্য অক্সিজেন ও খাবারের জন্য নির্ভরশীল উদ্ভিদের উপর। জীবজগৎ উদ্ভিদের এই রান্নার উপর প্রচণ্ডরকম ঋণী। প্রকৃতির সৃশৃঙ্খল চক্রে উদ্ভিদের এই রান্নার ঋণ বেড়েই চলছে শুধু।
সংক্ষেপে দেখুনট্যাক্সিডার্মি কি?
রুন আপনার আদরের পোষা প্রাণীটি মারা গেল। মৃত্যু প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম হলেও মন মানতে নারাজ। ভাবলেন কোনো উপায় কি নেই যার সাহায্যে প্রাণীটিকে সারাজীবন চোখের সামনে রেখে দেওয়া সম্ভব? আছে, এর নাম ট্যাক্সিডার্মি। মৃত প্রাণীর শরীরকে (প্রধাণত চামড়াকে) কেমিক্যাল ও ট্যানিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া ও তাকবিস্তারিত পড়ুন
রুন আপনার আদরের পোষা প্রাণীটি মারা গেল। মৃত্যু প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম হলেও মন মানতে নারাজ। ভাবলেন কোনো উপায় কি নেই যার সাহায্যে প্রাণীটিকে সারাজীবন চোখের সামনে রেখে দেওয়া সম্ভব? আছে, এর নাম ট্যাক্সিডার্মি। মৃত প্রাণীর শরীরকে (প্রধাণত চামড়াকে) কেমিক্যাল ও ট্যানিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া ও তাকে জীবন্তের ন্যায় দেখানোর উপায়কেই বলা হয় ট্যাক্সিডার্মি।
সাধারণত গবেষণা বা পাঠদানের উদ্দেশ্যে এটা করা হয়ে থাকে। ট্যাক্সিডার্মি শব্দের উৎপত্তি গ্রিক শব্দ ‘ট্যাক্সি’ ও ‘ডার্মা’ থেকে। ট্যাক্সি মানে সংরক্ষণ আর ডার্মা মানে চামড়া। তাহলে ট্যাক্সিডার্মির মানে দাঁড়ায় চামড়ার সংরক্ষণ। স্তন্যপয়ী, পাখি, মাছ, সরিসৃপ সহ অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর উপর ট্যাক্সিডার্মি প্রয়োগ করা হয়। এদের পাশাপাশি বড় আকৃ্তির কীট-পতঙ্গের উপরও প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।
জাদুঘরগুলোতে ট্যাক্সিডার্মিকৃত প্রাণীগুলো মূলত বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত। তবে আজকাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোষা প্রাণীর স্মৃতি সংরক্ষণেও ব্যবহৃত হয় এ প্রক্রিয়া।
উৎপত্তি
সর্বপ্রথম ১৭৪৮ সালে ফ্রান্সের রিয়াউমুর পাখির দেহ সংরক্ষণের মাধ্যমে ট্যাক্সিডার্মির আবির্ভাব ঘটান। এরপর ১৯৫২ সালে এম. বি. স্টলাস ট্যাক্সিডার্মির আরো কিছু পদ্ধতি আবিস্কার করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক, ইংল্যান্ডসহ আরো কয়েকটি দেশের অগ্রদূতদের আবির্ভাব ঘটে। ঊনিশ শতকের শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রায় সব শহরেই চামড়ার ব্যাবসা শুরু হয়। সে সময় শিকারীরা তাদের শিকার করা পশুপাখি গৃহসজ্জাসামগ্রীর দোকানগুলোতে দিয়ে আসতো। তারা সেগুলো চামড়া ছাড়িয়ে ভিতরে খড় ও তুলা দিয়ে ভরে সেলাই করতো।পরবর্তীতে সময়ের সাথে সাথে এতে বিভিন্ন কেমিক্যালের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।

ট্যাক্সিডার্মির শুরু মূলত ভিক্টোরিয়ান যুগ থেকেই
চর্মসংস্কার ও প্রাণীদেহ প্রস্তুতি
ট্যাক্সিডার্মিস্টরা বর্তমানে গড়ে বছরে ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছেন। ট্যাক্সিডার্মির প্রক্রিয়াগুলো যুগের সাথে সাথে আরো উন্নত ও আধুনিক হচ্ছে। শুরুতে মৃত পশুর চামড়া ছাড়িয়ে নেওয়া হয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। এরপর চামড়ার মানের উপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল প্রয়োগ করা হয়। চামড়া ও লোমকে পোকামাকড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে বোরাক্স পাউডার অথবা সোডিয়াম বোরাট ব্যবহৃত হয়।
পরবর্তীতে এটিকে কাঠ অথবা তার এর সাহায্য ম্যানিকুইন বানিয়ে রাখা হয়। এই ম্যানিকুইনকে বলা হয় Voodoo doll। চোখের আকৃ্তির জন্য সাধারণত চীনামাটি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ছোট আকৃতির প্রাণীর ট্যাক্সিডার্মি তৈরিতে ৩-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। তুলনামূলক বড় আকৃতির প্রাণীর ক্ষেত্রে ৫-৭ দিন সময় লেগে যায়। ট্যাক্সিডার্মিস্টরা দক্ষতা ও অভিনবত্বের মাধ্যমে তাদের কাজকে আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।


স্কটল্যান্ডের কেল্ভিনগ্রোভ মিউজিয়ামে শিশুরা অবাক দৃষ্টিতে দেখছে ট্যাক্সিডার্মিকৃত প্রাণী;
ট্যাক্সিডার্মিস্টদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলেই কাজগুলো নিখুঁত হয়
ট্যাক্সিডার্মির অতীত ও বর্তমান
ট্যাক্সিডার্মির স্বর্ণযুগ বলা হয় ভিক্টোরিয়ান যুগকে। তখন এমন জীবন্তের ন্যায় দেখানো প্রাণীগুলোকে অন্দরমহলের শোপিস হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যেত। পরবর্তীতে অবশ্য এসব ট্যাক্সিডার্মিগুলোকে অন্দরমহলে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয় এবং শুধুমাত্র গবেষণার কাজেই ব্যবহার করা হতো। ইংরেজি পক্ষীবিজ্ঞানী জন হ্যানককে আধুনিক ট্যাক্সিডার্মির জনক বলা হয়। তিনি নিজে পাখি শিকার করতেন এবং পরবর্তীতে সেগুলোকে কাদামাটি ও প্লাস্টারের সাহায্য আকৃতি দিতেন। তিনি ১৮৫১ সালে লন্ডনে এক এক্সিবিশনের আয়োজন করেন যেখানে নিজের হাতে তৈরি ট্যাক্সিডার্মি পাখি প্রদর্শিত করেন। স্বয়ং রানি ভিক্টোরিয়া সেগুলো দেখে অভিভূত হয়েছিলেন।

সংক্ষেপে দেখুনএকুশ শতকের তরুণরা অনেকেই ট্যাক্সিডার্মিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন
বর্তমানে ট্যাক্সিডার্মির জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন দেশের তরুণেরা ট্যাক্সিডার্মিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে। ট্যাক্সিডার্মিস্ট হতে গেলে আলাদা করে কোনো ডিগ্রী লাগে না তবে কিছু নিদিষ্ট ডিপ্লোমা ও কোর্স করতে হয়। এছাড়া যে স্টেট বা শহরে কাজ করতে আগ্রহী সেখানকার লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। মোটকথা ট্যাক্সিডার্মি হলো আর্ট ও বিজ্ঞানের এক অনন্য সংমিশ্রণ যা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীকুলের পরিচিতি ও তথ্য সম্পর্কে জানতে সাহায্য করছে।
ভূমিকম্প…. আমরা কতটা সতর্ক?
ভূমিকম্প নিয়ে কমবেশি আতঙ্ক সবার মধ্যেই আছে। ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে ১/২ মিনিট স্থায়ী হয়। তবে খুবই কমসংখ্যক কিছু ভূমিকম্প ৮-১০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মাঝে মাঝে কম্পন এত দুর্বল হয় যে, তা অনুভবও করা যায় না। কিন্তু শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্বিস্তারিত পড়ুন
ভূমিকম্প নিয়ে কমবেশি আতঙ্ক সবার মধ্যেই আছে। ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে ১/২ মিনিট স্থায়ী হয়। তবে খুবই কমসংখ্যক কিছু ভূমিকম্প ৮-১০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মাঝে মাঝে কম্পন এত দুর্বল হয় যে, তা অনুভবও করা যায় না। কিন্তু শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে।
রেকর্ড হওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প
জাপানের উপকূলে ২০১১ সালে ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল যার কারণে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, এর কারণে সুনামি হয়েছিল এবং উপকূলের কাছে থাকা একটি পারমাণবিক কেন্দ্রে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়েছে ১৯৬০ সালে চিলিতে। সেখানে ৯.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।
ভূকম্পনের মাত্রা রেকর্ড হয় যেভাবে
ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট কম্পন বা কম্পনের ঢেউ রেকর্ড করা হয় সিসমোমিটার দিয়ে।
এই কম্পনের মাত্রা দিয়ে যে রেখাচিত্র তৈরি করা হয়, তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।
ভূকম্পনের সময় যে সিসমিক ঢেউ তৈরি হয়, সেটি বিশ্বজুড়ে কম বা বেশি মাত্রায় প্রবাহিত হয়।
পৃথিবীর যে কোনো স্থানে মাটির নিচের কম্পন সৃষ্টি হলে তা সিসমোগ্রাফে মাপা হয়।
সিসমোগ্রাফ স্টেশনে রেকর্ড হওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, সময়কাল ও স্থায়িত্বকাল নির্ধারণ করা হয়।
ছবির মতো সুন্দর তুরস্কে ভূমিকম্পে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশেও অনেকে আতঙ্কে ভুগতে পারেন। এতটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, ওই ভূমিকম্পের প্রভাব আর যা–ই হোক, বাংলাদেশে পড়বে না। তুরস্কের আনাতোলিয়ায় যে ভূগর্ভস্থ চ্যুতি বা ফল্ট রয়েছে, সেখান থেকে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ওই ফল্ট বেশ সক্রিয়। সেখান থেকে এ ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টির সম্ভাবনা বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছিলেন।
তবে ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে এ সম্পর্কে সচেতন হওয়া বেশি জরুরি। ভবন বানানোর সময় যথাযথ বিল্ডিং কোড মেনে চলা, সর্বোপরি ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে করণীয় কী, সেসব জানা জরুরি।ভূমিকম্প হচ্ছে ভূমির কম্পন।ভূ অভ্যন্তরে যখন একটি শিলা অন্য একটি শিলার উপরে উঠে আসে তখন ভূমি কম্পন হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠের অংশবিশেষের হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন বা আন্দোলনই ভূমিকম্পন। হঠাৎ যদি ঘরের কোনো জিনিস দুলতে শুরু করে—যেমন, দেয়ালঘড়ি, টাঙানো ছবি বা খাটসহ অন্য যেকোন আসবাব—বুঝতে হবে ভূমিকম্প হচ্ছে। সহজ কথায় পৃথিবীর কেঁপে ওঠাই ভূমিকম্প।
আজকের বিষয় নিয়ে কলাম লিখেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট গবেষক ডা.এম এম মাজেদ তার কলামে লিখেন- ভূমিকম্প এটি এমন একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ, যার পূর্বাভাস দেয়ার উপায় এখনো বিজ্ঞানীরা বের করতে পারেনি। আমাদের দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে মানুষ বাড়ার পাশাপাশি আবাসিক-অনাবাসিক স্থাপনা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। কিন্তু সেইসব স্থাপনা কতটা মান সম্পন্ন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে সেগুলো টিকে থাকবে কি না এই আশঙ্কা প্রবল। ভূমিকম্পের মতো দূর্যোগে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গাও নেই আমাদের বড় শহরগুলোতে। অভিযোগ রয়েছে, দেশে ভবন নির্মানে বিল্ডিং কোড মানা হয় না। ফলে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পও মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। আর বড় ধরনের ভূমিকম্প ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। তাই ভূমিকম্পের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের স্থাপনা এ দূর্যোগ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
সারা পৃথিবীতে বছরে গড়ে ছয় হাজার ভূমিকম্প হয়। এগুলোর বেশিরভাগই মৃদু, যেগুলো আমরা টের পাই না। সাধারণত তিন ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে—প্রচণ্ড, মাঝারি ও মৃদু। আবার উৎসের গভীরতা অনুসারে ভূমিকম্পকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—অগভীর, মধ্যবর্তী ও গভীর ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভূ-পৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে অগভীর, ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে মধ্যবর্তী এবং ৩০০ কিলোমিটারের নিচে হলে তাকে গভীর ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ভূমিকম্প কেন হয়
ভূ-অভ্যন্তরে স্থিত গ্যাস যখন ভূ-পৃষ্ঠের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে তখন সেই গ্যাসের অবস্থানটি ফাঁকা হয়ে পড়ে আর পৃথিবীর উপরের তলের চাপ ওই ফাঁকা স্থানে দেবে গিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। তখনই ভূ-পৃষ্ঠে প্রবল কম্পনের অনুভব হয় যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়ে থাকে—ভূ-পৃষ্ঠের হঠাৎ পরিবর্তন জনিত কারণে, আগ্নেয়গিরি সংঘটিত হওয়ার কারণে ও শিলাচ্যুতি জনিত কারণে।
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। ভূমিকম্পের মাত্রা অনুযায়ী ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তার নাম রিখটার স্কেল। রিখটার স্কেলে এককের সীমা ১ থেকে ১০ পর্যন্ত। এই স্কেলে মাত্রা ৫-এর বেশি হওয়া মানেই ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা। ভূমিকম্প এক ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে এর মাত্রা ১০ থেকে ৩২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা—৫ – ৫.৯৯ মাঝারি, ৬ – ৬.৯৯ তীব্র, ৭ – ৭.৯৯ ভয়াবহ এবং ৮-এর উপর অত্যন্ত ভয়াবহ।
ভূমিকম্পের মাত্রা/তীব্রতা
একটা সাধারণ ভুল ধারণা হচ্ছে – “উৎপত্তিস্থল থেকে যত দূরে যাওয়া যাবে, ভূমিকম্পের মাত্রা তত কমবে।” কিন্তু সেটা আসলে সত্যি নয়। ২০১৬ এর ১৩ই এপ্রিলের ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিলো মায়ানমার। এটার মাত্রা বলা হলো ৬.৯। তাহলে কি বাংলাদেশে আসতে আসতে বা কলকাতায় পৌঁছুতে পৌঁছুতে এটার মাত্রা কমে গেছে? জ্বি না। ভূমিকম্পের মাত্রা একটাই, এবং সেটা বিচার করা হয় উৎপত্তিস্থলেই। অনেক আগে উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছিলাম, সূর্যের তাপমাত্রা মাপতে গেলে কিন্তু আমরা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা পরিমাপ করি অথবা কেন্দ্রের তাপমাত্রা পরিমাপ করি। পৃথিবীতে যে তাপটুকু আসে, সেটাকে ধরে নিয়ে কিন্তু সূর্যের তাপমাত্রা হিসাব করি না।
তাহলে কেন উৎপত্তিস্থলে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়? কেন উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়? কিছু একটা নিশ্চয়ই কমে যায়! হ্যাঁ, কমে যায়, আর সেটাই হচ্ছে ভূমিকম্পের তীব্রতা। কেন্দ্রে এই তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে এবং কেন্দ্র/উৎপত্তিস্থল থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, ভূমিকম্পের তীব্রতা (intensity) তত কমতে থাকে। ২০১৫ সালের এপ্রিলের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নেপালে ছিলো বলে ওখানে তীব্রতা বেশি ছিলো, ক্ষতিও হয়েছে বেশি। বাংলাদেশে তীব্রতা ছিলো কম, ক্ষতি হয়েছে কম। এটা আমাদের সবার জানা রিখটার দিয়ে পরিমাপ করা হয় না। অন্য একটা স্কেল আছে, সেটার ব্যাপারে যথাসময়ে আসছি।
রিখটার স্কেল
রিখটার স্কেলের উদ্ভাবক চার্লস এফ রিখটার। ১৯৩৫ সালে মার্কিন এই ভূকম্পবিদ ও পদার্থবিদ ভূমিকম্প পরিমাপের স্কেল তৈরি করেন। তার নামেই এর নাম রাখা হয় রিখটার স্কেল।
রিখটার তখন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কর্মরত ছিলেন।
রিখটার স্কেল ছাড়াও ভূমিকম্প মাপার জন্য অন্যান্য অনেক পদ্ধতি রয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে রিখটার স্কেলই ভূমিকম্পের পরিমাপক হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।
বিবিসি বলছে, রিখটার স্কেলের ১ এবং ২ মাত্রার ভূমিকম্প প্রায় সময়ই হতে পারে এবং এটা খুব স্বাভাবিকভাবেই ঘটে কিন্তু মানুষ টের পায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর মতো জায়গায় প্রায় প্রতিদিনই ১ থেকে ২ মাত্রার ভূকম্পন হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।
তবে এসব ভূমিকম্পের মাত্রা এতটাই হালকা যে তা অনুভূত হয় না, তবে সিসমোমিটারে তা ধরা পড়ে।
রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা যদি ৭ কিংবা ৮ হয় তবে সেটা প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হয়।
এই মাত্রার ভূমিকম্পগুলো তীব্রভাবে অনুভূত হয় এবং এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি হয়।
১৯৩৫ সালে, ভূমিকম্পের আসল মাত্রা নির্ণয়ের চেষ্টা করেছিলেন চার্লস রিখটার এবং বেনো গুটেনবার্গ, দুজনেই ক্যালটেকের ভূমিকম্পবিদ। সীসমোগ্রাফ (যে গ্রাফ বা লেখচিত্রে মাটির কম্পন ধরা পড়ে)- এর মধ্যে তরঙ্গ আসে, সেটার লগারিদম নিয়ে রিখটার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, মূলত কতটুকু কাঁপছে আমাদের সীসমোগ্রামের ঠিক নির্দিষ্ট বিন্দুতে, সেটাই আর কী! রিখটার স্কেলের ৪ মাত্রার ভূমিকম্পতে ৩ মাত্রার চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাঁপে, একইভাবে ৫ মাত্রার ভূমিকম্পতে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাঁপে। এই স্কেলকে এখন লোকাল ম্যাগনিচিউড (local magnitude) স্কেল বলে।
এখন, খেয়াল করার মত বিষয় হচ্ছে ক্যালটেক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়াতে। ক্যালিফোর্নিয়ার মত যেসব জায়গায় মাটির ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমিকম্প হয়, সেগুলোর জন্য এই স্কেল ডিজাইন করা হয়েছিলো। কিন্তু সারা পৃথিবীর ভূমিকম্প যাচাই করে দেখা গেছে, এটার কেন্দ্র ০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার নিচ পর্যন্ত হতে পারে। আধুনিক যুগের যন্ত্রপাতি পৃথিবীর যে কোনো জায়গার কম্পন সঠিকভাবে হিসেব করতে পারে, তাই আসল রিখটার স্কেলের পুনঃর্নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছিলো।
রিখটার আসলে মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড
মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড (moment magnitude) স্কেল, নির্মাণ করা হয়েছিলো ১৯৭০ এর দিকে, করেছিলেন ক্যালটেকেরই বেশ কিছু বিজ্ঞানী। এটা ভূমিকম্পের প্রভাব আরো ভালো করে হিসেব করতে পারে। এই স্কেল কম্পনের ভ্রামক (moment) এবং শক্তি দুটোই ব্যবহার করে, এবং ভূমিকম্পের মোট উৎসারিত শক্তি নির্ণয় করে। বিভিন্ন দূরত্বে তরঙ্গের বিভিন্ন আকৃতি এবং দিকের তথ্য থেকে ফাটল প্রণালীর জ্যামিতি (fault geometry) নির্ণয় করা হয়। এই তরঙ্গের মানগুলো থেকেই ভূমিকম্পের ভ্রামক নির্ধারণ করা হয়।
এই স্কেলের মানকে এডজাস্ট করা হয়েছিলো, যাতে রিখটার স্কেলের সাথে মিলে যায়, কারণ রিখটার ততদিনে অনেক জনপ্রিয়। এখনো যখন আমরা বলি যে, রিখটার স্কেলে এতো মাত্রা, তখন কিন্তু আসলে আমরা মডিফায়েড মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেলের কথাই বলছি।
মার্কেলি ম্যাগনিচিউড স্কেল
কম্পনের উৎস, মাত্রা, গভীরতা, ফাটলের দিক, এলাকার স্থাপত্য – এসব বিবেচনা করে আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) একটা স্কেল প্রণয়ন করেছিলো, যাকে মার্কেলি ম্যাগনিচিউড স্কেল (Mercalli magnitude scale) বলে। এই স্কেলের কাজ হচ্ছে, একটা এলাকার মানুষের ওপর ঐ ভূমিকম্পের কেমন প্রভাব পড়বে, সেটা পরিমাপ করা। এটার একটা সংস্কারকৃত সংস্করণ হচ্ছে মডিফায়েড মার্কেলি ইন্টেনসিটি স্কেল (Modified Mercalli Intensity scale বা MMI)। এই স্কেল দিয়েই ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। ভূপৃষ্ঠে, মানুষের উপর, প্রকৃতিতে এবং মনুষ্য সৃষ্ট জিনিসপত্রের উপর ভূমিকম্পের প্রভাবকে MMI দ্বারা নির্ণয় করা হয়। এই স্কেলের সর্বনিম্ন মান হচ্ছে I, অর্থাৎ কিছুই অনুভূত হয়নি; সর্বোচ্চ মান হচ্ছে XII, অর্থাৎ সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।
তুরস্ক ও সিরিয়া ভূমিকম্প
তুরস্ক-সিরিয়ায় চলতি শতাব্দীর ভয়াবহতম ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছুঁইছুঁই করছে। কেবল তুরস্কেই প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১০৮ জন। আর সিরিয়ায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওযা গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে এই মুহূর্তে নিহতের সংখ্যা ৯ হাজার ৫৭৮ জন।
ভূমিকম্পের প্রায় ৬০ ঘণ্টা পরেও চলছে উদ্ধারকাজ। এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া বিরূপ আবহাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্কবার্তা দিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াতে পারে।
এখন ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার কাজ। ধসে পড়া হাজার হাজার ভবনের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন আরও বহু মানুষ। আটকে পড়া অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন।
এর আগে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইং) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেসময় দেশ দুটির অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন।
এরপর ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এবং বেশ কয়েকটি আফটারশকে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সিরিয়ার একটি অঞ্চল। এছাড়া তুরস্কের অন্তত ১০টি শহর বিধ্বস্ত হয়। এরই মধ্যে এসব শহরে তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট রিপেস তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য বলছে, তুরস্ক, সিরিয়ার পাশাপাশি সাইপ্রাস, লেবানন, ইসরায়েল, মিশরেও অনুভূত হয়েছে ভূমিকম্পটি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার কম্পনসহ শতাধিক আফটারশক আঘাত হেনেছে ওই অঞ্চলে
তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, আহত হয়েছে আরও হাজার হাজার মানুষ।
এ ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই এলাকার মাটির নীচে থাকা অ্যারাবিয়ান প্লেটটি উত্তর দিকে সরে গিয়ে আনাতোলিয়ান প্লেটে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের তৈরি হয়।
একই কারণে ১৮২২ সালেও এখানেই একদফা ভূমিকম্প হয়েছিল। বিশ্বের যেসব এলাকা ভূমিকম্প প্রবণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তুরস্কের এই এলাকাটি তার অন্যতম।
ভূমিকম্প কীভাবে হয়
‘’পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ট আলাদা আলাদা বিট বা প্লেট টেকটোনিক দিয়ে তৈরি হয়েছে, যা নিচের নরম পদার্থের ওপরে ভাসছে। সারা পৃথিবীতে এরকম বড় সাতটি প্লেট এবং অসংখ্য ছোট ছোট সাব-প্লেট রয়েছে। ‘’
‘’এগুলো যখন সরে যায় বা নড়াচড়া করতে থাকে বা একটি অন্যদিকে ধাক্কা দিতে থাকে, তখন ভূ-তত্ত্বের মাঝে ইলাস্টিক এনার্জি শক্তি সঞ্চিত হতে থাকে। সেটা যখন শিলার ধারণ ক্ষমতার পেরিয়ে যায়, তখন সেই শক্তি কোন বিদ্যমান বা নতুন ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসে। তখন ভূ-পৃষ্টে কম্পন তৈরি হয়, সেটাই হচ্ছে ভূমিকম্প।‘’
যেসব স্থানে একটি প্লেট এসে আরেকটি প্লেটের কাছাকাছি মিশেছে বা ধাক্কা দিচ্ছে বা ফাটলের তৈরি হয়েছে, সেটাকে বলা হয় ফল্ট লাইন।
বর্তমানে উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মি. আখতার বলছেন, ‘’প্লেট বাউন্ডারি যেখানে তৈরি হয়েছে, সেটাকে আমরা বলি ফল্টলাইন। এর আশেপাশের দেশগুলো ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে।’’
বিশ্বের ভূমিকম্প প্রবণ এলাকাগুলো শনাক্ত করতে জাতিসংঘ গ্লোবাল সিসমিক হ্যাজার্ড অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম নামে একটি কর্মসূচী চালু করেছিল। সেটার উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি মানচিত্র তৈরি করা, যাতে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে।
সেই প্রকল্পের আওতায় অতীতে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের তথ্য এবং গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্বকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের যেসব এলাকা বিজ্ঞানীদের বিশেষ নজরে রয়েছে:
বাংলাদেশ
ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কয়েকটি প্লেট থাকার কারণে এসব এলাকা ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভু-তত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন, ‘’উত্তরে তিব্বত সাব-প্লেট, ইন্ডিয়ান প্লেট এবং দক্ষিণে বার্মা সাব-প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। ফলে সিলেট-সুনামগঞ্জ হয়ে, কিশোরগঞ্জ চট্টগ্রাম হয়ে একেবারে দক্ষিণ সুমাত্রা পর্যন্ত চলে গেছে।‘’
সেখানে দেখা গেছে, ইন্ডিয়া প্লেট ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে দীর্ঘসময় ধরে কোন ভূমিকম্পের শক্তি বের হয়নি। ফলে সেখানে ৪০০ থেকে হাজার বছর ধরে শক্তি জমা হয়ে রয়েছে।
ইন্ডিয়া প্লেট পূর্ব দিকে বার্মা প্লেটের নীচে তলিয়ে যাচ্ছে আর বার্মা প্লেট পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে সেখানে যে পরিমাণ শক্তি জমা হচ্ছে, তাতে আট মাত্রার অধিক ভূমিকম্প হতে পারে।
এটা যেমন একবারে হতে পারে, আবার কয়েকবারেও হতে পারে। তবে যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে সাত বা আট মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে থাকে। কিন্তু কবে বা কখন সেটা হবে, তা এখনো বিজ্ঞানীদের এখনো ধারণা নেই।’
বাংলাদেশে সর্বশেষ ১৮২২ এবং ১৯১৮ সালে মধুপুর ফল্টে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৮৮৫ সালে ঢাকার কাছে মানিকগঞ্জে ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে।
ভারত ও নেপাল
সারা বিশ্ব অনেকগুলো টেকটোনিক প্লেটের মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। যখন এসব প্লেট নড়াচড়া করে, যেসব দেশ বা এলাকা সেই প্লেটগুলোর ওপরে অবস্থিত, সেখানে ভূমিকম্প দেখা যায়।
হিমালয়ের পাদদেশে নেপাল যে টেকটোনিক প্লেটের ওপরে বসে রয়েছে, সেটার ওপরেই রয়েছে ভারতের উত্তর অংশ।
ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের কর্মকর্তা রজার মুসন বিবিসি নিউজবিটকে বলেছেন, ‘’সেখানে কোন ভূমিকম্প হলে শনিবারের তুরস্কের ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।‘’
বিশেষ করে কাঠমান্ডুর মতো শহরগুলো বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এই শহরটি নরম শিলা পাথরের পুরু স্তরের ওপরে তৈরি হয়েছে। ফলে ভূমিকম্প হলে সেখানে কম্পন বেশি অনুভূত হবে।
২০১৫ সালে ইন্ডিয়ান প্লেট এবং তিব্বত প্লেটের সংঘর্ষে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পে ৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু আর এক লাখের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল।
তুরস্ক
তুরস্ক হচ্ছে আরেকটি দেশ যা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের শিকার হয়েছে।
উত্তর আনাতোলিয়ান ফল্ট লাইনটি তুরস্কের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে।
সেখানে অ্যারাবিয়ান প্লেটটি উত্তর দিকে সরে গিয়ে আনাতোলিয়ান প্লেটকে ধাক্কা দিয়ে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনাটি ঘটে।
বিশেষ করে ইস্তানবুলের একটি অংশ এই ফল্ট লাইনের কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে দুইটি প্লেট একে অপরের সঙ্গে প্রায়ই ঘষা লাগছে এবং বিভিন্ন সময়ে ওঠানামা করছে।
ফলে এই এলাকায় মাঝেমাঝেই ভূমিকম্প তৈরি হচ্ছে।
এই এলাকাতেই ১৮২২ সালে ভয়াবহ ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল।
ইরান
ইরানের রাজধানী তেহরান বসে রয়েছে আরেকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন, অ্যারাবিয়ান প্লেটের ওপরে।
ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের গবেষক জন ইলিয়ট বলেছেন, ‘’এই শহরটি ফল্ট লাইনের একেবারে চূড়ায় বসে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার এই ফল্টলাইনটি নড়াচড়া করেছে এবং ভবিষ্যতেও ভূমিকম্পের কারণ হয়ে উঠতে পারে।‘’
২০০৩ সালে ইরানের বাম শহরের কাছাকাছি ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়, যার ফলে ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হয়েছিল বহু মানুষ।
ইরানের এই ফল্ট লাইনটি কৃষ্ণসাগরের পূর্ব তীর থেকে শুরু করে কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ উপকূল পর্যন্ত চলে গেছে।
চীন
ভারত আর ইউরেশিয়ান মাঝে প্লেটের সংঘর্ষের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে চীন।
২০০৮ সালে ওয়েনচুয়ান ভূমিকম্পে ৯০ হাজার মানুষ হতাহত হয়েছিল। সেই সময় প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছিল।
‘’এখানে ভূমিকম্পের প্রবণতা কিছুটা অগভীর হয়, ফলে শক্তিশালী কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়,‘’ বলেছেন লিভারপুল ইউনিভার্সিটি ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ স্টিফেন হিক্স।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকার পরেও সেসব এলাকার বাড়িঘরগুলো ভূমিকম্প সহনীয়ভাবে তৈরি করা হয় না। ফলে এ ধরনের এলাকায় ভূমিকম্প দেখা দেয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয় এবং উদ্ধারকাজেও নানা সমস্যা দেখা যায়।
১৯৫০ সালে তিব্বতে ৮০৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যদিও সেটার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
জাপান
টোকিও শহরের কাছাকাছি বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে বলে অনেকদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। যদিও জন্য জাপানিরা ভালোমতোই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
২০১১ সালে টোকিওতে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে ভূকম্পনে যতো না মানুষ হতাহত হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি মারা গেছে সুনামির কারণে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, টোকিও শহরের নীচে অগভীরে বেশ কয়েকটি টেকটোনিক প্লেট এসে মিশেছে। বিশেষ করে প্যাসিফিক প্লেটের পশ্চিম দিকে জাপান রয়েছে। ফলে এসব প্লেট নড়াচড়া করলেই সেখানে ভূকম্পন অনুভূত হয়।
পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় জাপানে সবচেয়ে বেশি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়ে থাকে।
ইন্দোনেশিয়া
জাপানের মতো ইন্দোনেশিয়া, ফিজি এবং টঙ্গার মতো দেশগুলো প্রতিবছরই ছোট ছোট ভূমিকম্প রেকর্ড করে থাকে।
কারণ অস্ট্রেলিয়ান প্লেটটি ইন্দোনেশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের চারপাশে জড়িয়ে রয়েছে। জাপানেও এর অংশ বিশেষ পড়েছে।
২০১৪ সালে সুমাত্রার পশ্চিম উপকূলে যখন ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, তখন সেটি রেকর্ড তৈরি করে এবং ইতিহাসের বৃহত্তম সুনামির জন্ম দেয়। সেই সুনামিতে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও জাপান, ফিলিপিন্স সেই সুনামির শিকার হয়েছিল।
ইউরোপ
গ্লোবাল সিসমিক হ্যাজার্ড অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী, তুরস্ক এবং ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের কিছু অংশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি রয়েছে।
কারণ এখানে আফ্রিকান মহাদেশীয় প্লেট অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের নীচে ইউরেশিয়ান প্লেটটিকে উপরের দিকে ঠেলতে থাকে বলে ভূমিকম্পের তৈরি হয়। এই কারণে মধ্য ইতালি ও পশ্চিম তুরস্কেও ভূমিকম্প দেখা যায়।
১৯৫৫ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের জন্য একটি রেকর্ড।
২০১৬ সালে ইতালির অ্যামাট্রিসা শহরে মাঝারি মাত্রার তিন দফা ভূমিকম্পে তিনশোর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।
নেপালে
নেপালে ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে রাজধানী কাঠমান্ডুর বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ওয়াশিংটন এবং কানাডার একটি অংশ বড় একটি ফল্ট লাইনের কাছাকাছি রয়েছে।
এই ফল্ট লাইনে দুইটি প্লেট একে অপরের বিপরীত ঘেঁসে রয়েছে। এই প্লেট দুটি হলো হুয়ান ডে ফুকা প্লেট বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট এবং নর্থ আমেরিকান প্লেট।
এই ফল্ট লাইনের আশেপাশে যে বড় শহরগুলো রয়েছে, সেগুলো ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলস, সানফ্রানসিসকো, সিয়াটল এবং ভ্যাঙ্কুবার।
ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের গবেষক স্টিফেন হিকস বলছেন, ‘’এই ফল্টটি বেশ অনেক সময়ের জন্য শান্ত রয়েছে।‘’
তবে তিনি জানিয়েছেন, ২০১১ সালের জাপানের সুনামির পর এই ফল্ট কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে বড় ধরনের গবেষণা করা হচ্ছে।
১৯৬৪ সালে আলাস্কায় ৯ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত করেছিল।
চিলি
দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের সঙ্গে বেশ কয়েকটি মহাদেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখা যায়।
বিশেষ করে কলম্বিয়া এবং ভেনেজুয়েলার ক্যারিবিয়ান উপকূল একটি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা রয়েছে।
এই এলাকায় সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৬০ সালে। সেই সময় চিলির সালভেদরের কাছে ৯ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। তখন বাস্তুচ্যুত হয়েছিল ২০ লাখের বেশি মানুষ।
এরপর ২০১০ সালে কনসেপসিওন শহরের কাছে আরেকটি ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। সেবার নিহত হয়েছিল প্রায় ৫০০ মানুষ। সেই ভূমিকম্পে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এর বাইরেও বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছে, যা বিজ্ঞানী বা গবেষকদের ধারণায় ছিল না।
যেমন ২০১১ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চে ভূমিকম্পের পরেই বিজ্ঞানীরা প্রথম জানতে পারেন যে, সেই শহরের নীচে একটি ফল্ট লাইন রয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় কী করবেন
* ভূমিকম্প হচ্ছে টের পেলে বা খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা ও উন্মুক্ত স্থানে আশ্রয় নিন।
* উঁচু ভবনে থাকলে এবং বের হতে না পারলে জানালা বা দেয়ালের পাশে অবস্থান না নিয়ে শক্ত কোনো বীম, টেবিলের নিচে অবস্থান নিন।
* হতবিহ্বল না হয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন।
* বহুতল ভবনে একই জায়গায় অনেক মানুষ একসঙ্গে না থেকে ভাগ হয়ে আশ্রয় নিন।
* আপনার মুঠোফোনে ফায়ার সাভির্স এবং দরকারি মোবাইল নম্বরগুলো আগাম সতর্কতা হিসেবে আগেই রেখে দিন। বিপদের সময় আপনার কাজে লাগবে।
* দ্রুত নামার জন্য ভবন থেকে লাফিয়ে পড়বেন না।
* ভূমিকম্পের সময় সম্ভব হলে মাথার ওপর শক্তকরে বালিশ অথবা অন্য কোনো শক্ত বস্তু [কাঠবোর্ড, নরম কাপড় চোপড়ের কুণ্ডলি] ধরে রাখুন।
* গ্যাস এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে অবস্থান নিন।
* উচু ভবন থেকে দ্রুত নামার জন্য লিফট ব্যবহার করবেন না।
* ভূমিকম্পের সময় গাড়িতে থাকলে গাড়ি খোলা জায়গায় থামিয়ে গাড়িতেই থাকুন।
* একবার ভূমিকম্পের পরপরই আরেকটা ছোট ভূমিকম্প হয় যাকে ‘আফটার শক’ বলে।
নিজেকে বিপদমুক্ত রাখতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্য এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সরকারকেই এ বিষয়ে মুখ্য দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে থাকে। একটি ভবন নির্মাণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সব নিয়ম মেনে করছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারক করতে হবে।পরিশেষে বলতে চাই, মানুষ মানুষের জন্য। বিপদের সময় আপনার মনুষ্যত্ব যেন আপন মহিমায় আলো ছড়ায়। নিজের নিরপত্তা নিশ্চিত করে প্রতিবেশীদের প্রতিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বিপদ থেকে রক্ষার পাশাপাশি বিপদে ভয় না পেয়ে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করার চেষ্টা করতে হবে। বড় ধরনের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে তা বলা মুশকিল, তবে প্রস্তুতি থাকলে মোকাবিলা করতে সুবিধা হবে। জাতীয় পর্যায়ে লজিস্টিক্যালি ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের সক্ষমতা হয়তো খুবই অপ্রতুল। কিন্তু ব্যক্তিগত বা দলবদ্ধভাবে উপরের গাইড লাইনগুলো মেনে চললে প্রাণহানি বা আহত হবার ঘটনা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।মানুষ মানুষের জন্য।
বিপদের সময় আপনার মনুষ্যত্ব যেন আপন মহিমায় আলো ছড়ায়। নিজের নিরপত্তা নিশ্চিত করে প্রতিবেশীদের প্রতিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বিপদ থেকে রক্ষার পাশাপাশি বিপদে ভয় না পেয়ে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করার চেষ্টা করতে হবে। বড় ধরনের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে তা বলা মুশকিল, তবে প্রস্তুতি থাকলে মোকাবিলা করতে সুবিধা হবে। জাতীয় পর্যায়ে লজিস্টিক্যালি ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের সক্ষমতা হয়তো খুবই অপ্রতুল। কিন্তু ব্যক্তিগত বা দলবদ্ধভাবে উপরের গাইড লাইনগুলো মেনে চললে প্রাণহানি বা আহত হবার ঘটনা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
সংক্ষেপে দেখুনসংকট কোন ও প্রতিফলন কোন কাকে বলে ?
এখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন কোন কাকে বলে হবে
এখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন কোন কাকে বলে হবে
সংক্ষেপে দেখুননিকোলা টেসলারের আলোর মুখ দেখতে না পাওয়া আবিষ্কার কোনগুলো?
নিকোলা টেসলার আবিষ্কার: আলোর মুখ দেখতে না পাওয়া আবিষ্কার গত শতাব্দীতে মানুষ যখন বিদ্যুৎ কে রহস্য মনে করে ভয় পেতো, তিনি তখন বিদ্যুৎ কে নিয়ন্ত্রণ করেছেন হাতের তালুতে রেখে। পৃথিবীতে তিনিই প্রথম শুরু করেছিলেন সহজলভ্য বিদ্যুৎশক্তির যুগ, যাঁর উদ্ভাবিত এসি জেনারেটর ও মোটরের শক্তি দিয়ে শুরু হয় ব্যাপক শিল্পবিস্তারিত পড়ুন
নিকোলা টেসলার আবিষ্কার: আলোর মুখ দেখতে না পাওয়া আবিষ্কার
গত শতাব্দীতে মানুষ যখন বিদ্যুৎ কে রহস্য মনে করে ভয় পেতো, তিনি তখন বিদ্যুৎ কে নিয়ন্ত্রণ করেছেন হাতের তালুতে রেখে।
পৃথিবীতে তিনিই প্রথম শুরু করেছিলেন সহজলভ্য বিদ্যুৎশক্তির যুগ, যাঁর উদ্ভাবিত এসি জেনারেটর ও মোটরের শক্তি দিয়ে শুরু হয় ব্যাপক শিল্পোৎপাদন। তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়েছে রোবট ও অটোমেশনের যুগ, যা মানুষের কায়িক শ্রম হ্রাস করে যন্ত্রকে মানুষের দাসে পরিণত করেছে।
আজ কথা বলবো বিদ্যুৎ মানবের এমন কিছু প্রকল্প নিয়ে যা তিনি অর্থের অভাব ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারনে বাস্তবায়ন করতে পারেন নি।
ভূমিকম্প যন্ত্র
১৮৯৩ সালে টেসলা একটি বাষ্প-চালিত যান্ত্রিক অসিলেটর পেটেন্ট করেছিলেন, যা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে উচ্চ গতিতে উপরে এবং নীচে কম্পন সৃষ্টি করবে।
তার আবিষ্কারের পেটেন্ট করার কয়েক বছর পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে একদিন তার নিউ ইয়র্ক সিটির গবেষণাগারে থাকা বিল্ডিংয়ের কম্পনের সাথে তার যান্ত্রিক অসিলেটরটি মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করার সময় তিনি ভূমি কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
পরীক্ষার সময় তিনি দেখতে পান তার আশেপাশের জিনিসপত্র নড়তে শুরু করে দিয়েছে। আশেপাশের বিল্ডিং গুলোতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সাথে সাথেই সেখানে পুলিশ, এম্বুলেন্স ও মানুষের হট্টগোল লেগে যায়। টেসলা তার সহকারীদের চুপ থাকতে বলেছিল এবং পুলিশকে বলেছিল যে এটি অবশ্যই একটি ভূমিকম্প ছিল।
টেসলা পরবর্তীতে এই যন্ত্রটি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেন। বড় পরিসরে এই যন্ত্র ব্যবহার করে পুরো পৃথিবীতেই ভূমিকম্প সৃষ্টি করা সম্ভব হতো। কিন্তু এই আবিষ্কারে কেবল ধ্বংসই হতো। মানব জাতির ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি নিজের আবিষ্কার নিজেই ধ্বংস করেছেন।
চিন্তা রেকডিং করা ক্যামেরা
১৮৯৩ সালে নিজের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষানিরীক্ষা করার সময় ‘থট ক্যামেরা’-র তৈরির কথা ভেবেছিলেন টেসলা। যদিও তার দীর্ঘকাল পরে এ নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে টেসলা বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত যে আমাদের চিন্তা-ভাবনার ছবি চোখের মণিতে ফুটে ওঠে।’’ তর্কের খাতিরে টেসলার কথায় বিশ্বাস করা গেল। তবে সে ছবি কী ভাবে ক্যামেরাবন্দি করা যাবে? সে উত্তরও দিয়েছেন টেসলা। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দ্বারাই আমাদের চিন্তা-ভাবনার ছবি মণিতে দেখা যায়। যথাযথ যন্ত্রের সাহায্য সেই ছবি দেখা সম্ভব।
কী সেই যন্ত্র? এখানেই ‘থট ক্যামেরা’র প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন টেসলা। তিনি জানিয়েছেন, চোখের মণিতে ভেসে ওঠা মনের ভাবনার প্রতিচ্ছবি একটি কৃত্রিম অক্ষিপটে (রেটিনায়) ফেলে তার ছবি তোলা যায়। এবং সেই ছবি কোনও পর্দায় ভাসিয়ে দিলে ওই মানুষটির মনের কথা জেনে ফেলা সম্ভব।‘থট ক্যামেরা’ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে টেসলা বলেছেন, ‘‘যদি মনের ছবি এ ভাবে পর্দায় ভাসিয়ে তোলা যায়, তবে ওই মানুষটি কী চিন্তা-ভাবনা করছেন তা সহজেই জেনে ফেলা যাবে।’’
অনেকের দাবি, ১৮৯৩ সালে নয়, গত শতকের তিরিশের দশকে ‘থট ক্যামেরা’-র কথা ভেবেছিলেন টেসলা। ওই ক্যামেরার সাহায্যে মানবমনের চিন্তা-ভাবনার ছবিও স্লাইডশোয়ের মতো দেখা যাবে। সাল-তারিখ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে টেসলার এই উদ্ভাবনী চিন্তা যে অভূতপূর্ব, তা নিয়ে দ্বিমত ছিল না। টেসলার কথায়, ‘‘এ ধরনের ক্যামেরার সাহায্যে প্রতিটি মানুষের মনের কথা পড়ে ফেলা যাবে। এবং তা করা গেলে আমাদের মন আক্ষরিক অর্থেই খোলা বইয়ের আকার নেবে। যা সকলেই পড়তে পারবেন।’’ যদিও টেসলার এই ভাবনা সাফল্য পায়নি।
তারবিহীন বিদ্যুৎ
১৯০১ সালে টেসলা টেসলা লং আইল্যান্ডের উত্তর তীরে একটি ১৮৫ ফুট লম্বা, মাশরুম আকৃতির টাওয়ার নির্মাণের জন্য আমেরিকান অর্থলগ্নিকারী জেপি মরগানের থেকে ১,৫০,০০০ মার্কিন ডলার নেন। তার লক্ষ ছিলো বাতাসের মাধ্যমে পুরো শহরে বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া। কিন্তু এই টাওয়ারের অর্ধেক কাজ চলার সময় মর্গান অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেন। কারণ ছিলো সেসময় যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরবরাহ করতো তারা প্রচুর দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে জনগণের কাছ থেকে বিশাল মুনাফা আয় করতো।

টেসলার সেই টাওয়ার যা ১৯১৭ সালে ভেঙে দেওয়া হয়
টেসলার এই প্রজেক্ট সফল হলে তাদের ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যেতো। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তারা টেসলার অর্থের যোগান বন্ধ করে দেন, যেনো সে সফল হতে না পারে।
১৯০৬ সালে টেসলা এই প্রজেক্টে হাত দিয়েছিলেন আর বেশকিছুদিন পরই তা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯১৭ সালে টেসলার তারবিহীন বিদ্যুৎ এর ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার ভেঙে দেওয়া হয়।
কৃত্রিম জোয়ার ঢেউ
নিকোলা টেসলা বিশ্বাস করতেন যে যুদ্ধ প্রতিরোধে বিজ্ঞানের শক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৯০৭ সালে নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড টেসলার আরেকটি সামরিক উদ্ভাবনের বিষয়ে তথ্য দেয়, সেখানে বলা হয় ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফি সমুদ্রে উচ্চ বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে যাতে এত বিশাল জোয়ারের তরঙ্গ তৈরি হয় যে তা শত্রুর সমস্ত নৌবহরকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

সংবাদপত্রটি আরো জানিয়েছে যে কৃত্রিম জলোচ্ছ্বাস নৌবাহিনীকে কাগজের নৌকার মতো অকেজো করে তুলতে পারার সক্ষমতা থাকবে। অনেকটা শিশুদের বাথটব বা পুকুরে কাগজের নৌকোর মতো।
দুর্ভাগ্যক্রমে সে সময় মার্কিন নৌবাহিনীর গবেষণা প্রধান ছিলেন টমাস আলভা এডিসন। তিনি ‘এটি কোনো কাজে লাগবে না’ বলে নাকচ করে দেন। ১৯৩০-এর দশকে এমিলি গিয়ারডিউ একই নীতিতে রাডার (জঅউঅজ) উদ্ভাবন করেন।
বৈদ্যুতিক চালিত সুপারসনিক এয়ারশিপ
নিকোলা টেসলা চিন্তা-ভাবনায় তার সময়ের থেকে কয়েক দশক এগিয়ে ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বর্তমান সময়ে আমাদের প্রজন্ম তাদের ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোনগুলো ওয়্যারলেস টেকনোলজিতে চার্জ দিতে পেরে ভাবছে এটি একটি প্রযুক্তির যুগান্তকারী ব্যবহার; কিন্তু, সেই ১৯১৯ সালে টেসলায় মাথায় খেলা করেছিল কিভাবে এমন একটি সুপারসনিক বিমান বানানো যেগুলোকে বিনা তারের বৈদ্যুতিক চার্জ দেয়া যেতে পারে।
মোবাইলের টাওয়ারের মাধ্যমে রেডিও সিগন্যাল ব্রডকাস্টের ধাঁচে বিদ্যুৎকেও ওয়্যারলেসের মাধ্যমে ঐ বিমানগুলোকে চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা – এটাই ছিল নিকোলা টেসলার পরিকল্পনা।
বিমানগুলো ভূপৃষ্ট হতে ৪০,০০০ হাজার ফুট উপরে ঘণ্টায় ১,০০০ মাইল বেগে চলার উপযোগী করে তৈরী করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল – এই গতিতে ছুটে নিউইয়র্ক থেকে রওয়ানা দিয়ে লন্ডন পৌঁছাতে সময় লাগত ৪ ঘণ্টারও কম।
দ্য ডেথ রে (মৃত্যুর রশ্মি)
টেসলার সৃজনশীল মন তার জীবনের শেষের দিকে নতুন এক ভাবনা জাগিয়েছিল। তিনি তার ৭৮ তম জন্মদিনে, ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে তিনি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি নিয়ে এসেছেন। যা “লক্ষ লক্ষ সৈন্যদলকে তাদের ট্র্যাকে মারা যেতে পারে।

আবিষ্কারটি? একটি সামরিক অস্ত্র যা একটি ভ্যাকুয়াম চেম্বারের অভ্যন্তরে শব্দের 48 গুণ গতিতে পারদ কণাকে ত্বরান্বিত করবে এবং একটি উচ্চ-বেগের রশ্মিকে “মুক্ত বাতাসের মধ্য দিয়ে গুলি করবে, এমন প্রচণ্ড শক্তিতে যে এটি মুহূর্তে ১০,০০০ শত্রু বিমানের বহরকে নিমেষে শেষ করে দেবে।
প্রেস মিডিয়া তাদের সংবাদপত্রে এটিকে “মৃত্যুর রশ্মি” বলে অভিহিত করেছেিল। কিন্তু টেসলা এই রশ্মির নাম দিয়েছিলেন “শান্তির রশ্মি” বা Peace Ray।
পৃথিবী যদি গোল না হয়ে সমতল হত, তবে এই রশ্মি সক্ষমতা ছিল পৃথিবীর পরিধি ভেদ করে যেতে পারত সুদূরে; আর এর সামনে যা পড়ত, সবই ধূলিসাৎ হয়ে যেত।
তার এই নতুন আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য তিনি অনেকের দারস্ত হয়েছিলেন; এমনকি তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কোন এক গবেষণাগারে ১৯৩৯ সালে এটির পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। কিন্তু, বিধি বাম! তার এই আইডিয়াকে তিনি সফলতার মুখ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
আধুনিক তড়িৎ বিজ্ঞানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামটি তার- নিকোলা টেসলা। সমগ্র জীবনব্যাপী সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে থাকা এক মহৎ হৃদয়ের মহাপুরুষ টেসলা। তাকে ধরা হয় পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবকদের একজন। পৃথিবীর কথিত শক্তি সংকট (Power Crisis) ধারণার অবসান ঘটিয়ে মানুষের জীবন আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে একজন টেসলাই যথেষ্ট ছিলেন; যদিও চিরন্তন পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা তা হতে দেয় নি।
নিকোলা টেসলা, বিদ্যুতের বিস্ময়
১৮৫৬ সালের ১০ জুলাই, এক ভয়াল ঝড়বৃষ্টি আর বজ্রপাতের রাতে টেসলার জন্ম। পরিবেশের ভয়াবহতা দেখে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধাত্রী বলেছিলো, “এ বাচ্চা হবে অন্ধকারের সন্তান” কিন্তু সদ্যোজাত টেসলার ফুটফুটে মুখটার দিকে তাকিয়ে তার মা বলেছিলেন, “না, এ হবে আলোর সন্তান।” প্রকৃতই এই সন্তান পরিণতকালে গোটা বিশ্বে আলো ছড়িয়ে দিয়েছিলো।
টেসলার জন্ম বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার মিলজান নামক স্থানে। তার পিতা মিলুটিন টেসলা ছিলেন সার্বিয়ান প্রথাগত চার্চের যাজক ও লেখক। বাবার ইচ্ছে ছিলো ছেলেকেও যাজক হিসেবে তৈরী করা, কিন্তু টেসলার বরাবরই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ছিলো। টেসলার মা জুকা ম্যান্ডিক ছিলেন গৃহিনী। গৃহস্থালির কাজের সুবিধার্থে তার মায়ের ছোটখাটো উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রয়োগ পরবর্তীকালের একজন সফল উদ্ভাবক টেসলার উপরে যথেষ্ট প্রভাব রেখেছিলো।
অস্ট্রিয়াতে গ্র্যাজ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় টেসলা তড়িৎচৌম্বকক্ষেত্র ও এসি কারেন্ট চালিত মোটর নিয়ে ভাবতে থাকেন। জীবনের পরবর্তী ছয়টি বছর তিনি এই ভাবনাতে নিমগ্ন থাকেন। ১৮৭০ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ প্রাগে পড়াশুনা শুরু করেন। এখানে প্রতিদিন টানা দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণার কাজ করতে গিয়ে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, পড়াশোনারও ব্যাঘাত হতে থাকে। এক সময় টেসলা জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বছরে পড়াশুনার খরচ সব জুয়ায় হারিয়ে আর প্রস্তুতির অভাবে পরীক্ষা দিতে না পেরে টেসলা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পড়াশুনা শেষ না করেই ১৮৮১ সালে বুদাপেস্ট চলে যান। সেখানে সেন্ট্রাল টেলিগ্রাফ অফিসে কর্মরত অবস্থায় তার মাথায় প্রথম আবেশী মোটর (Induction Motor) এর ধারণা আসে। এখানেই তিনি ঘূর্ণায়মান তড়িৎক্ষেত্রের মূলনীতির একটি স্কেচ তৈরী করেন, যা আজও বহু বৈদ্যূতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার এই সাফল্য তাকে দিকপরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ বা এসি কারেন্টসহ ভবিষ্যতের আরও অনেক উদ্ভাবনের ভিত্তি গড়ে দেয়।
২৩ বছর বয়সী টেসলা, ১৮৭৯
১৮৮৪ সালের জুনে, টেসলা টমাস আলভা এডিসনের সাথে কাজ করার জন্যে নিউ ইয়র্ক পাড়ি জমান। তার পকেটে ছিলো শুধু ৪ সেন্ট আর একটা সুপারিশপত্র। সুপারিশপত্রটি লিখেছিলেন এডিসনের প্রাক্তন নিয়োগকর্তা চার্লস ব্যাচেলর। এতে লিখা ছিলো, “প্রিয় এডিসন, আমি দুজন মহান ব্যাক্তিকে চিনি। একজন আপনি, আরেকজন এই তরুণ।”
এডিসন ছিলেন একই সাথে একজন সফল উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী। অপরদিকে টেসলা উদ্ভাবনে যতটা ভালো ছিলেন, ঠিক ততোটাই দুর্বল ছিলেন ব্যবসায়। ডিসি কারেন্টের ব্যবসা করে এডিসন তখন রীতিমত একজন সফল পুঁজিপতি। সঙ্গত কারণেই এডিসনের সাথে টেসলার পদ্ধতিগত ও নীতিগত বিরোধ লেগেই থাকতো। টেসলার এসি কারেন্ট প্রকৌশল নিয়ে এডিসনের সন্দেহ থাকলেও তিনি তাকে ৫০,০০০ ডলার দেবার শর্তে এই প্রকল্প শেষ করার একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। কয়েক মাসের মধ্যেই কাজ সেরে ফেলার পরে প্রাপ্য অর্থ দাবী করলে এডিসন বলেন, “ওটা তো কৌতুক ছিলো। তুমি আমেরিকান কৌতুক বোঝো না। যখন পুরোদস্তুর আমেরিকান হয়ে উঠবে, তখন ঠিক বুঝবে।” টেসলা তৎক্ষণাৎ এডিসনের চাকরী ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। অবশ্য পারষ্পারিক বিভেদের দেয়াল ছাড়িয়ে এই দুই মহান উদ্ভাবক একে অপরের যথেষ্ট গুণগ্রাহী ছিলেন, একজন আরেকজনের কাজের প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
‘টাইম’ ম্যাগাজিনের কভারে এডিসন ও টেসলা
এডিসনের কোম্পানি থেকে বেরিয়ে আসার পর অবশ্য তার মূল্যবান প্রকল্পে অর্থলগ্নী করার লোকের অভাব পড়ে নি। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন কোম্পানী, এডিসনের অফিসের অনতিদূরেই টেসলার জন্যে একটি ল্যাব এর ব্যবস্থা করে দেয়। সেখানে টেসলা তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনা পরিচালনা করেন। এখানে তিনি এক্স-রে প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক অনুনাদ, তারবিহীন তথ্য সরবরাহ পদ্ধতিসহ আরও অনেক উদ্ভাবনা নিয়ে কাজ করেন। এখানেই টেসলা এসি মোটর আর এসি পাওয়ার সিস্টেমের উন্নতি ঘটিয়ে নিজের নামে পেটেন্ট করে দেন। এই পেটেন্ট এর ফলে তিনি ৬০,০০০ ডলার ও আরও কিছু আনুষঙ্গিক সুবিধা লাভ করেন। এডিসন ও তার মাঝে চলা “কারেন্টের যুদ্ধ” তিনি অনতিবিলম্বে জিতে যান। ডিসি কারেন্ট এর চেয়ে এসি কারেন্ট অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এসি কারেন্ট ছিলো অপেক্ষাকৃত সহজলভ্য আর সস্তা। প্রায় বিনামূল্যে এক বিশাল এলাকাজুড়ে জনসাধারণের জন্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রকল্পও তৈরি করেছিলেন তিনি, যদিও তা আর হয়ে ওঠে নি। ১৯০১ সালে এই নিমিত্তে তিনি ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার নির্মান করেন, যা পরে অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার
আধুনিক উদ্ভাবনগুলোর কোনটিতে হাত নেই তার! ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব থেকে শুরু করে এক্স-রে, লেজার, ইলেকট্রিক মোটর, রিমোট কন্ট্রোল, ওয়্যারলেস বা তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা, রোবটিক্স, এমনকি আধুনিক স্মার্টফোনের প্রাথমিক ধারণাও তার দেয়া। সমগ্র পৃথিবী ভালোভাবে তারযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা লাভ করার আগেই তিনি তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার চিন্তা শুরু করে ফেলেছিলেন। নিজের সময়ের থেকে অনেক বেশি অগ্রসর ছিলেন টেসলা। এখনও তার বিভিন্ন মূলনীতি আর সূত্র অনুসরণ করে নিত্য নতুন উদ্ভাবনা চলছে। মার্কনীর অন্তত ৬ বছর আগে টেসলা বেতার সম্প্রচারে সফল হন। তার বেশিরভাগ উদ্ভাবনী ধারণাই অন্যেরা নিজের নামে চালিয়ে পেটেন্ট করে নিয়েছে। তাদের সম্পর্কে টেসলা বলেন, “তারা আমার ধারণা চুরি করুক, এতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি শুধু বলি, তাদের নিজেদের কোনো ধারণা আসে না কেন?”
টেসলার ছিলো এক অনন্য সাধারণ ক্ষমতা। যেকোনো ডিজাইন তৈরী হবার আগে তিনি সেটির ত্রিমাত্রিক একটি প্রতিরুপ মানসচক্ষে দেখতে পেতেন। বুদাপেস্টে থাকাকালীন একদিন পার্কে বন্ধুর সাথে হাঁটছিলেন আর কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। অকস্মাৎ তার মনে একটি ছবি ভেসে উঠলো। সেখানেই কাঠি দিয়ে ধূলোর উপরে এঁকেছিলেন তার অনেক সাধনার ধন, সেই বিখ্যাত এসি মোটরের চিত্র। পরবর্তীতে এসি মোটর উদ্ভাবনের পর তিনি বলেছিলেন, তিনি আসলে নতুন কিছু করেন নি, তার সেই মানসপটের প্রতিলিপিকেই বাস্তব রুপ দান করেছেন মাত্র!
টেসলার হাতে ছিলো এই মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্যের চাবি। তিনি জানতেন এর গোপনীয়তার গোপনতর সূত্র। আর সে রহস্য উন্মোচনের মূলমন্ত্রও তিনি বলে গেছেন। তিনি বলেন, “যদি তুমি ৩, ৬, ৯ এই তিনটি সংখ্যার মাহাত্ম্য বোঝ, তো তোমার হাতে মহাবিশ্বের চাবি থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি মহাবিশ্বের রহস্য জানতে চাও, তাহলে শক্তি, কম্পন আর কম্পাঙ্কের ব্যাপারে চিন্তা করো।”
নিউ ইয়র্কে নিকোলা টেসলা কর্ণার
আজীবন অবিবাহিত টেসলা কখনো কোনো নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে জানা যায় নি। নারীদের তিনি সবদিক দিয়ে পুরুষের চেয়ে উচ্চতর মনে করতেন। নিজেকে কখনো কোনো নারীর যোগ্য মনে করেন নি তিনি। আর তাছাড়া তার মতো কাজপাগল মানুষের জন্যে একটি একাকী জীবন জরুরীও ছিলো। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যবিহীন টেসলা সারা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন শুধু মানুষের কল্যাণের জন্য। তাই উদ্ভাবনে তৎকালীন সবার সেরা হলেও আর্থিক দিক দিয়ে তিনি স্বচ্ছল ছিলেন না। ১৯৪৩ সালের ৭ জানুয়ারি, ঋণবদ্ধ ও একাকী অবস্থায়, নিউ ইয়র্কার হোটেলের ৩৩২৭ নাম্বার কক্ষে টেসলা মৃত্যুবরণ করেন।
বেলগ্রেডে রক্ষিত টেসলার দেহভস্ম
টেসলা ছিলেন মানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ এক মহতী আত্মা। তার একমাত্র প্রচেষ্টা ছিলো প্রকৃতির নিগুঢ়তম রহস্য আবিষ্কার করে মানুষের জীবনকে সহজতর করা। কোনো ব্যবসায়িক লক্ষ্য নিয়ে তিনি কখনো চালিত হন নি। বিদ্যুতকে অপেক্ষাকৃত সহজ ব্যবহার্য বস্তুতে পরিণত করে তিনি এক জাদুকরী পরিবর্তনের সূচনা করেন। বিস্ময়কর কল্পনাশক্তি আর অমূল্য মেধার দ্বারা যুগ যুগ ধরে কল্পনাপ্রবণ ও আত্মত্যাগী মানুষদের অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন নিকোলা টেসলা।
আগুন নেভাতে পানি ব্যবহার করা হয় কেন?
কোথাও আগুন লেগেছে। চারপাশে ভয়ার্ত চিৎকার। এর মধ্যে কিছু মানুষকে দেখবেন চিৎকার না করে বালতি হাতে ছুটছে, পানি এনে ছুড়ে দিচ্ছে আগুনে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ঢালার পর দেখা যায়, একসময় পানি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নিভে যায় আগুন। কিন্তু পানি দিলে আগুন নিভে যায় কেন? প্রথমেই একটা কথা বলে নিই, সব আগুন পানিতে নেভে নাবিস্তারিত পড়ুন
কোথাও আগুন লেগেছে। চারপাশে ভয়ার্ত চিৎকার। এর মধ্যে কিছু মানুষকে দেখবেন চিৎকার না করে বালতি হাতে ছুটছে, পানি এনে ছুড়ে দিচ্ছে আগুনে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ঢালার পর দেখা যায়, একসময় পানি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নিভে যায় আগুন। কিন্তু পানি দিলে আগুন নিভে যায় কেন?
প্রথমেই একটা কথা বলে নিই, সব আগুন পানিতে নেভে না। বলতে পারেন, আগুনের আবার রকমফের হয় নাকি? এমনিতে আগুন সব একই। কিন্তু কিসে আগুন লাগছে সেটাও একটা ব্যাপার।
কাঠ, বাঁশ, কাপড়, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার—এসব বস্তুতে আগুন লাগলে পানি দিলে নেভে। বৈদ্যুতিক বা তেলের কারণে যেসব আগুন জ্বলে সেগুলো পানিতে নেভে না। কেন নেভে না, সে আলোচনা পরে হবে। এখন বরং কেন পানিতে আগুন নেভে, সে বিষয়টা দেখে নেওয়া যাক।
আগুন জ্বলার তিনটি শর্ত আছে। অক্সিজেন, তাপ আর দাহ্য বস্তু। এই তিনটির যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে আগুন জ্বলবে না। তেমনি আগুন জ্বলার পর এই তিনটির যেকোনো একটিকে সরিয়ে দিতে পারলেই আগুন নিভে যায়। আগুন নেভানোর সময় তাই এই চেষ্টাটাই করা হয়। কটি পানির অণুতে আছে দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন পরমাণু। হাইড্রোজেন নিজে একটি দাহ্য পদার্থ। অন্যদিকে অক্সিজেন নিজে জ্বলে না, কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে। এই হিসেবে পানি দিলে আগুন আরো বেশি জ্বলার কথা, উল্টো নিভে যায় কেন?
পানিতে অক্সিজেন আর হাইড্রোজেনের মধ্যে শক্তিশালী বিদ্যুৎচুম্বকীয় বন্ধন রয়েছে। বিশেষ কিছু প্রক্রিয়াতেই পানি শুধু অন্য পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। কিন্তু আগুন জ্বলার যে শর্ত তাতে অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন মুক্তভাবে থাকলেই কেবল তা দিয়ে আগুন জ্বালানো যেত। কিন্তু পানিতে শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করে থাকে বলে এরা সরাসরি জ্বলন্ত আগুনে সক্রিয়তা দেখাতে পারে না। বরং উল্টো আগুন নেভাতে সাহায্য করে।
আগেই বলেছি, আগুন জ্বালাতে গেলে অবশ্যই তাপ, অক্সিজেন আর দাহ্য পদার্থ—এই তিনটা জিনিস একসঙ্গে থাকতে হবে। এই তিনের কোনোটা অনুপস্থিত থাকলে আর আগুন জ্বলবে না, নিভে যাবে। ধরা যাক, কাঠে আগুন লেগেছে। তার মানে তিনটি শর্তই এখানে উপস্থিত। আপনি এখন পানি ঢালবেন। আমাদের সবারই জানা, পানিতে তাপ দিলে তা একসময় বাষ্পে পরিণত হয়। আপনি যখন কাঠে পানি ঢালছেন, তখন সেই পানি আগুনের তাপে বাষ্পীভূত হচ্ছে। আর এ জন্য তাপ দরকার, সেই তাপ পানি কাঠ থেকে টেনে নিচ্ছে। ফলে কাঠের তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। সুতরাং আগুনের তেজ খানিকটা হলেও কমবে এ ক্ষেত্রে। অন্যদিকে পানি বাষ্পীভূত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে কাঠের চারপাশে। ফলে আশপাশের অক্সিজেন কাঠের কাছ পর্যন্ত পৌঁছতে পারছে না। অর্থাৎ অক্সিজেনের প্রবাহ খুব কমে যাচ্ছে। আর অক্সিজেন না থাকলে কখনোই আগুন জ্বলতে পারবে না। সুতরাং আগুন একসময় নিভে যাবে।
সংক্ষেপে দেখুনএই কৌশলেই পানি আগুন নিভতে সাহায্য করে। তবে সাবধান, তেল বা বিদ্যুৎ থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পানি ঢালবেন না, তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
শীতকালে পানি কমে যায় কেন?
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে (বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে)। ফলে বাতাস শুষ্ক হয়। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বজায় রাখতে জামাকাপড়, ঠোঁট, খাল-বিল, নদী বা পানির উৎস যেখানে আছে সেখান থেকে বাতাস পানি শোষণ করতে থাকে। শীতকালে শীতল বাতাসের থেকে পুকুর, নদী ইত্যাদির জল উষ্ণ হওয়ায় তা বাষ্পিভূত হয়ে ববিস্তারিত পড়ুন
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে (বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে)। ফলে বাতাস শুষ্ক হয়। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বজায় রাখতে জামাকাপড়, ঠোঁট, খাল-বিল, নদী বা পানির উৎস যেখানে আছে সেখান থেকে বাতাস পানি শোষণ করতে থাকে।
শীতকালে শীতল বাতাসের থেকে পুকুর, নদী ইত্যাদির জল উষ্ণ হওয়ায় তা বাষ্পিভূত হয়ে বাতাসের জলীয় বাষ্পের সাথে মিশে বড় বড় কনায় পরিণত হয় যা কুয়াশার মতো দেখতে হয়। তাই শীতকালে পুকুর, নদী ইত্যাদির জল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এভাবে পানির উৎসগুলো থেকে পানি কমে যেতে থাকে।
আবার শীতকালে বৃষ্টিপাত কম হয় বা একেবারেই হয় না। ফলে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পায়না। একারণে পানি কমে গেলে তা আর পূরণ হয়না।
সংক্ষেপে দেখুন‘রক্ত’ রঙের রহস্য কি?
মানুষের রক্তের রং লাল, সব সময়ই কী তাই? শরীরের কোনো স্থান যখন কেটে যায় তখন লাল বর্ণের রক্তই দেখা যায়। ক্ষতস্থানে টিস্যু পেপার রাখলে রক্ত এক সময় বাতাসে শুকিয়ে যায়। তখন তা গাঢ় বাদামি বর্ণ ধারণ করে। কিন্তু এমনটা কেন হয়? আবার চামড়ার ওপর দিয়ে হাতের যে শিরা-উপশিরা দেখা যায়, তা দেখলে মনে হয় শরীরবিস্তারিত পড়ুন
মানুষের রক্তের রং লাল, সব সময়ই কী তাই? শরীরের কোনো স্থান যখন কেটে যায় তখন লাল বর্ণের রক্তই দেখা যায়। ক্ষতস্থানে টিস্যু পেপার রাখলে রক্ত এক সময় বাতাসে শুকিয়ে যায়। তখন তা গাঢ় বাদামি বর্ণ ধারণ করে।
কিন্তু এমনটা কেন হয়? আবার চামড়ার ওপর দিয়ে হাতের যে শিরা-উপশিরা দেখা যায়, তা দেখলে মনে হয় শরীরে যেন নীল রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। রক্তের এমন রঙের পেছনের কারণটা কী? বিষয়টি বুঝতে প্রথমে জানতে হবে কীভাবে আমরা রং দেখি! কোনো বস্তুর ওপর আলো পড়লে বস্তুটির দ্বারা আলোর কিছু অংশ শোষিত হয়। আর কিছু অংশ প্রতিফলিত হয়। এই প্রতিফলিত আলো চোখের রেটিনার ‘কোণ’ কোষে পড়লে সেখানে উপস্থিত রঞ্জক পদার্থ ওই আলো শোষণ করে। এরপর বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংশ্লিষ্ট রঙের দেখার অনুভূতি হয়।
মানুষসহ প্রায় সব মেরুদন্ডী প্রাণীর রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় আছে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ। এটি উজ্জ্বল লাল বর্ণের আলোকে প্রতিফলিত করে। হিমোগ্লোবিনের মূল কাজ অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস হৃৎপিণ্ড থেকে কোষে এবং কোষ থেকে হৃৎপিন্ডে বহন করা। হিমোগ্লোবিন একটি জটিল যৌগ। হিমোগ্লোবিনে চার অণু প্রস্থেটিক গ্রুপ ‘হিম’, এক অণু গ্লোবিন নামক সরল প্রোটিন এবং লৌহ অণু ফেরাস আয়ন অবস্থায় থাকে। এক একটি হিমে কার্বন পরমাণুগুলো পরিবর্তনশীল একক ও দ্বিবন্ধনে যুক্ত হয়। এমন পরিবর্তনশীল কার্বন-কার্বন বন্ধনের জন্য হিম দৃশ্যমান আলোর কিছু অংশ শোষণ করে। লৌহ বা আয়রন রক্তে আলোর এই শোষণকে প্রভাবিত করে এবং উজ্জ্বল লাল তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলিত করে। ফলে এই আলো চোখে পৌঁছালে মস্তিষ্কে লাল রং দেখার অনুভূতি হয়। অক্সিজেনসমৃদ্ধ হিমোগ্লোবিনের রং লাল এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ হিমোগ্লোবিনের রং কালচে লাল। এই হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনসমৃদ্ধ হিমোগ্লোবিনের চেয়ে অধিক লাল আলো শোষণ করে। তাই সেখান থেকে প্রতিফলিত হয়ে চোখে আসা আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য লাল আলোর মত থাকে না বরং কিছুটা কালচে হয়।
শিরার মধ্য দিয়ে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, তার রং বাইরে থেকে নীল দেখায়। একসময় রাজপরিবার বা অভিজাত পরিবারের মানুষদের বলা হতো নীল রক্তের মানুষ। এর পেছনের কারণটি হচ্ছে, এসব অভিজাত পরিবারের সদস্যরা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বা বিলাসবহুল প্রাসাদে বাস করতেন। কেউ কেউ হয়তো সূর্যের মুখও দেখতেন না। তাতে তাদের ত্বক থাকতো অনেক বেশি ফর্সা। অনেকটা ইট বা মাটিচাপা ঘাসের মতো। এর ফলে তাদের শিরার প্রবাহিত রক্ত ত্বকের বাইরে থেকেই বেশ বোঝা যেত। সে যাই হোক, শিরার রক্ত নীল দেখা যাওয়ার কারণটি হচ্ছে দৃশ্যমান আলো শিরা এবং শিরা ঘিরে থাকা ত্বকীয় আবরণ উভয়ের দ্বারাই প্রভাবিত হয়। লাল আলো নীল আলোর তুলনায় ত্বকীয় কলাগুছ বা টিস্যুর বেশি গভীরে প্রবেশ করতে পারে। অপরদিকে শিরায় কার্বন-ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয় যা বেশি লাল আলো শোষণ করে। নীল আলো অধিক গভীরে প্রবেশ না করে অশোষিত অবস্থায় প্রতিফলিত হয় এবং শিরাতে নীল রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে বলে মনে হয়। আবার টিস্যু পেপারে রক্ত যখন শুকিয়ে যায় তখন মূলত রক্তের হিমোগ্লোবিনের আয়রন অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ফেরাস অবস্থা থেকে জারিত হয়ে ফেরিক অবস্থায় চলে যায়। হিমোগ্লোবিনের এই রাসায়নিক গঠনের পরিবর্তনের জন্য তার আলো শোষণ এবং প্রতিফলনের মাত্রাও বদলে যায়। ফলে রক্ত তখন গাঢ় বাদামি দেখায়।
কিছু অমেরুদন্ডী প্রাণীর রক্তে হিমোগ্লোবিন ছাড়াও থাকে বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থ। সেজন্য তাদের রক্তের রংও ভিন্ন হয়। যেমন মাকড়সা, স্কুইড, কিছু মলাস্কাদের (শামুক,ঝিনুক) রক্তে রঞ্জক হিসেবে থাকে হিমোসায়ানিন। এতে আয়রনের পরিবর্তে তামা থাকে। তাই এদের রক্তের স্বাভাবিক বর্ণ নীল হয়। হিমোসায়ানিনের রাসায়নিক গঠনের ভিন্নতার কারণে এটা নীল আলো প্রতিফলিত করে। কেঁচো, কৃমি প্রভৃতি প্রাণীর রক্তে রয়েছে ক্লোরোকুওরিন নামক রঞ্জক পদার্থ । সেজন্য এদের রক্তের রং সবুজ। কিছু সামুদ্রিক প্রাণীতে হিমোরিথ্রিন নামক রঞ্জকের জন্য তাদের রক্তের রং বেগুনি। অর্থাৎ রক্তের রং শুধু লালই নয়, বিভিন্ন রঞ্জকের উপস্থিতি, তাদের রাসায়নিক গঠন, আলোর শোষণ ও প্রতিফলনের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রক্ত বিভিন্ন রঙের হতে পারে।
চুম্বক বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী আবিস্কার।
ছোটবেলায় যে চুম্বক আমাদের কাছে রহস্য হয়ে ধরা দিতো, আজ তার আদ্যোপান্ত জেনে নেয়া যাক- যেকোনো চুম্বক বা চুম্বকীয় বস্তুর দু’টি মেরু থাকে। একটি উত্তর মেরু ও অন্যটি দক্ষিণ মেরু। এই মেরুগুলো চৌম্বক পদার্থসমূহকে আকর্ষণ করে। দু’টি বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে, কিন্তু দু’টি সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। একাবিস্তারিত পড়ুন
ছোটবেলায় যে চুম্বক আমাদের কাছে রহস্য হয়ে ধরা দিতো, আজ তার আদ্যোপান্ত জেনে নেয়া যাক-
যেকোনো চুম্বক বা চুম্বকীয় বস্তুর দু’টি মেরু থাকে। একটি উত্তর মেরু ও অন্যটি দক্ষিণ মেরু। এই মেরুগুলো চৌম্বক পদার্থসমূহকে আকর্ষণ করে। দু’টি বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে, কিন্তু দু’টি সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। একারণেই দক্ষিণ মেরুকে সহজেই উত্তর মেরুর সঙ্গে মেলানো যায়, কিন্তু উত্তর মেরুকে অন্য একটি উত্তর মেরুর দিকে কিংবা একটি দক্ষিণ মেরুকে অন্য একটি দক্ষিণ মেরুর দিকে আনতে গেলেই ঘটে বিপত্তি।
এসবই জানা কথা, তাই না? চুম্বকের রয়েছে বহু প্রকারভেদ। এগুলোর মধ্যে একটি হলো প্রাকৃতিক চুম্বক পদার্থ, যেমন: আলনিকো। আলনিকো হলো লোহার একটি সঙ্কর। আরো রয়েছে তড়িৎ চুম্বক বা ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটস।
বৈদ্যুতিক তারের কুণ্ডলী পাকিয়ে তার মধ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে এ ধরণের চুম্বক তৈরি করা হয়। প্রাকৃতিক চুম্বকের মতো এ চুম্বকের চুম্বকত্ব স্থায়ী নয়। বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধের সঙ্গে তড়িৎ চুম্বকের চুম্বকত্ব লোপ পায়। আধুনিক বিশ্বে মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে গাড়ি পর্যন্ত সব জায়গাতেই চুম্বকের ব্যবহার দৃশ্যমান।
চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এমআরআই এর মতো যন্ত্রগুলোতে চুম্বকের যথেষ্ট ব্যবহার রয়েছে। তবে আমাদের চারপাশে থাকা চুম্বকের চৌম্বকত্বের পরিমাণও কিন্তু চিন্তার বিষয়! বিশেষ করে স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যার পেছনে অতিরিক্ত চৌম্বকত্বের প্রভাব থাকতে পারে। যেমন: কারো হৃদযন্ত্রে যদি পেসমেকার বসানো থাকে তবে চারপাশের শক্তিশালী কোনো চুম্বক ক্ষেত্র থেকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে।
ভুলক্রমে উচ্চ চুম্বকত্বের কোনো পদার্থ সেবন করে ফেললেও তা স্বাস্থ্য ঝুঁকির সৃষ্টি করে। অনুমেয়ভাবেই সবার প্রথমে যে চুম্বক আবিষ্কার হয় তা ছিলো প্রাকৃতিক চুম্বক। ম্যাগনেটাইট বা লোডস্টোন নামক পাথরের ভেতর সর্বপ্রথম চুম্বকের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। কেউ কেউ বলেন, কোনো এক ব্যক্তির জুতার ধাতব অংশে ম্যাগনেটাইট লেগে গেলে এই রহস্যময় পাথরের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মানুষ অবগত হয়। আবার অনেকে এ পাথর আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেন গ্রীক বা মেসিডোনীয়দের। তবে আবিষ্কারক যারাই হোক না কেন সর্বপ্রথম চুম্বক যে প্রাকৃতিক উৎস থেকেই উদ্ধার করা হয় এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।
চুম্বক নিয়ে মজার সব তথ্য!
এ পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া সবচেয়ে বড় চুম্বকটি পাওয়া যায় সুইজারল্যান্ডে, নাম ‘লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার’। সাধারণ ফ্রিজ ম্যাগনেটের তুলনায় যেটির চুম্বকত্ব ৪০০ গুণ বেশি। অন্যদিকে, সবচেয়ে শক্তিশালী চুম্বকের আকার কিন্তু হ্যাড্রন কোলাইডারের থেকে অনেক ছোট, সেটি পাওয়া গেছে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সবচেয়ে শক্তিশালী ওই চুম্বকটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ ডলারের বিনময়ে। আড়াই হাজার ফ্রিক ম্যাগনেটের সমান শক্তি ধারণ করে আছে চুম্বকটি! অন্য একটি চমকপ্রদ ব্যাপার হলো পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে প্রাকৃতিক চুম্বক পাওয়া যায় স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলে।
একটি কাঠের তক্তার সঙ্গে চুম্বক সংযুক্ত করে যদি পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়, তবে তার উত্তর মেরু পৃথিবীর উত্তর মেরুর দিকে মুখ করে থাকবে। চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রতি কিছু কিছু প্রাণী বেশ সংবেদনশীল। মৌমাছির যোগাযোগ প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার কাজে চুম্বক ব্যবহার করা হয়। সমুদ্রের হাঙরের দল চৌম্বক ক্ষেত্র আন্দাজ করতে পারলে দূরে সরে যায়। অন্যদিকে, পাখিসহ আরো বেশ কিছু প্রাণী চুম্বকক্ষেত্র দ্বারা আকর্ষিত হয়। মহাকাশে রয়েছে ম্যাগনেটার নামের একটি তারা যেটি সুপারনোভা বিষ্ফোরণের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। এর চুম্বকত্ব এত বেশি যে, পৃথিবীর মতো দু’তিনটি গ্রহ এর কাছ দিয়ে গেলে তা এদের গ্রাস করতে সক্ষম!
সংক্ষেপে দেখুনবৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরীর পেছনে কিসের ভূমিকা রয়েছে?
বৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরীর পেছনে ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা বা বিদ্যুত চমকানো ইত্যাদির ভূমিকা আছে। আমি সুঘ্রাণ তৈরিতে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যে একটি প্রশ্নের উত্তর লিখেছি। তাই সেটার পুনরাবৃত্তি করছিনা। চাইলে এখানে ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন। এই উত্তরে সুঘ্রাণ তৈরীর পেছনে গাছপালা এবং বিদ্যুত চমকানোরবিস্তারিত পড়ুন
বৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরীর পেছনে ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা বা বিদ্যুত চমকানো ইত্যাদির ভূমিকা আছে।
আমি সুঘ্রাণ তৈরিতে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যে একটি প্রশ্নের উত্তর লিখেছি। তাই সেটার পুনরাবৃত্তি করছিনা। চাইলে এখানে ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন।
এই উত্তরে সুঘ্রাণ তৈরীর পেছনে গাছপালা এবং বিদ্যুত চমকানোর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবো।
গাছপালার ভূমিকা
গাছে যেসব রাসায়নিক সুগন্ধ তৈরীর কাজ করে সেগুলো অনেকসময় পাতার মধ্যে তৈরী হয়। শুকনা ভেষজ গুড়া করলে যেমন তার ঘ্রাণ বৃদ্ধি পায়, তেমনি দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের পর বৃষ্টি হলে গাছের শুকিয়ে যাওয়া অংশগুলো থেকে নতুনভাবে সুবাস তৈরী হয়।
বৃষ্টির সময় গাছপালা নতুন সজীবতা পায় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে সুঘ্রাণ ছড়িয়ে দেয়।
বজ্রপাতের ভূমিকা
বর্ষার সময় বাতাসে সুঘ্রাণ তৈরীর পেছনে বজ্রপাতেরও ভূমিকা রয়েছে।
বজ্রপাতের সময় বায়ুমন্ডলে বৈদ্যুতিক আবেশ তৈরী হওয়ায় প্রকৃতিতে ওজোন গ্যাসের একধরণের গন্ধ প্রতীয়মান হয়। বৃষ্টির ফলে বাতাস পরিষ্কার হয় সাথে বিদ্যুৎ চমকানোর ফলে সৃষ্ট ওজন গ্যাসের গন্ধ অন্যান্য গন্ধগুলোর সাথে মিশে স্নায়ুতে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরী করে।
সংক্ষেপে দেখুনআপনি যখন মাটির সোঁদা গন্ধ পান তখন আসলে বিশেষ একধরণের ব্যাকটেরিয়ার তৈরী করা অণু গন্ধ পান ।ঐ অণুর নাম কি যা সাধারণত উর্বর মাটিতে উপস্থিত থাকে ?
শুধু ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও গাছপালা বা বিদ্যুত চমকানো ইত্যাদি মাটির সোঁদা গন্ধ তৈরির জন্য দায়ী। তবে প্রশ্নে যেহেতু ব্যাকটেরিয়া সম্বন্ধীয় তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে তাই সেটাই উল্লেখ করছি। ইংরেজিতে এই সুঘ্রাণ কে 'পেট্রিকোর' (Petrichor) বলে। মাটিতে থাকা বিশেষ একধরণের ব্যাকটেরিয়ার তৈরী করা অণু জিওসমিন এই গন্ধবিস্তারিত পড়ুন
শুধু ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও গাছপালা বা বিদ্যুত চমকানো ইত্যাদি মাটির সোঁদা গন্ধ তৈরির জন্য দায়ী। তবে প্রশ্নে যেহেতু ব্যাকটেরিয়া সম্বন্ধীয় তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে তাই সেটাই উল্লেখ করছি।
ইংরেজিতে এই সুঘ্রাণ কে ‘পেট্রিকোর‘ (Petrichor) বলে। মাটিতে থাকা বিশেষ একধরণের ব্যাকটেরিয়ার তৈরী করা অণু জিওসমিন এই গন্ধ তৈরি করে। জিওসমিন অনু তৈরি হয় স্ট্রেপটোমাইস দিয়ে, যা সাধারণত উর্বর মাটিতে উপস্থিত থাকে।
যখন বৃষ্টির পানির ফোঁটা মাটি স্পর্শ করে, তখন মাটিতে উপস্থিত জিওসমিন বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পর আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। এখন সুগন্ধি তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে জিওসমিনের ব্যবহার বাড়ছে।
সংক্ষেপে দেখুন