লাইলাতুল কদর ২০২৬ সালে ১৬ মার্চ, সোমবার দিবাগত রাতে পালিত হবে, যা রমজানের ২৭তম রাত। তবে কুরআন-হাদিসের আলোকে লাইলাতুল কদর কেবল ২৭ রমজানে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাতে হতে পারে। রমজানের রাত ইংরেজি তারিখ সম্ভাবনা ২১তম রাত ১০ মার্চ (মঙ্গলবার দিবাগত) ⭐ সম্ভব ২৩তম রাত ১২ মার্চ (বৃবিস্তারিত পড়ুন
লাইলাতুল কদর ২০২৬ সালে ১৬ মার্চ, সোমবার দিবাগত রাতে পালিত হবে, যা রমজানের ২৭তম রাত। তবে কুরআন-হাদিসের আলোকে লাইলাতুল কদর কেবল ২৭ রমজানে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাতে হতে পারে।
| রমজানের রাত | ইংরেজি তারিখ | সম্ভাবনা |
|---|---|---|
| ২১তম রাত | ১০ মার্চ (মঙ্গলবার দিবাগত) | ⭐ সম্ভব |
| ২৩তম রাত | ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার দিবাগত) | ⭐ সম্ভব |
| ২৫তম রাত | ১৪ মার্চ (শনিবার দিবাগত) | ⭐⭐ বেশি সম্ভব |
| ২৭তম রাত ✨ | ১৬ মার্চ (সোমবার দিবাগত) | ⭐⭐⭐ সর্বোচ্চ সম্ভাবনা |
| ২৯তম রাত | ১৮ মার্চ (বুধবার দিবাগত) | ⭐ সম্ভব |
কুরআনে লাইলাতুল কদরের বর্ণনা:
আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন — “নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি কদর রজনিতে। আপনি কি জানেন মহিমান্বিত কদর রজনি কী? কদর রজনি হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা জিবরাইল (আ.)-সহ অবতরণ করেন — সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে, এ শান্তির ধারা অব্যাহত থাকে উষার উদয় পর্যন্ত।” (সূরা কদর, আয়াত: ১-৫)
হাদিসের দলিল:
রাসুল (সা.) বলেছেন — “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১৭)
সাহাবি উবাই ইবনে কাব (রা.) কসম খেয়ে বলতেন, ২৭তম রাতটি লাইলাতুল কদর। (মুসলিম: ২৬৬৮)
শবে কদর বা লাইলাতুল কদর কোন রাতের সম্ভাবনা কতটুকু — আলেমদের মত:
অধিকতর সম্ভাবনার দিক দিয়ে প্রথম হলো ২৭ রমজান, দ্বিতীয় ২৫ রমজান, তৃতীয় ২৯ রমজান, চতুর্থ ২১ রমজান এবং পঞ্চম ২৩ রমজান।
ইমাম মালিক, আহমদ, ইসহাক, সুফিয়ান সাওরি, ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম নববি, ইবনু হাজার, ইবনু উসাইমিন (রহ.) সহ বড় ইমামদের মত হলো – লাইলাতুল কদর শেষ দশ রাতের যেকোনো রাতে হতে পারে, তবে তা প্রতি বছর নির্দিষ্ট একটি দিনে নয়, বিভিন্ন বছরে ভিন্ন ভিন্ন দিনে হয়।
লাইলাতুল কদর চেনার আলামত:
হাদিস শরিফে কদরের রাত চেনার কিছু আলামতের কথা বলা হয়েছে। রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না। রাতটি নাতিশীতোষ্ণ – অধিক ঠান্ডা বা গরম নয়। মৃদু বাতাস প্রবাহিত থাকবে। সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত বেশি তৃপ্তিবোধ করবে। এছাড়া পরদিন সকালে সূর্য অধিক উজ্জ্বল হয়ে উদয় হবে।
শবে কদরের রাতে কী আমল করবেন:
কদরের রাতে নির্দিষ্ট কোনো ওয়াজিব বা সুন্নত নামাজ নেই। মানুষ ইচ্ছামতো নফল নামাজ পড়তে পারবে। তবে নামাজ পড়াকে আবশ্যকীয় মনে করা যাবে না।
এই রাতে যা করবেন:
১. বিশেষ দোয়া পড়ুন: হযরত আয়েশা (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কদরের রাতে কী দোয়া পড়ব? তিনি বললেন এই দোয়া পড়তে:
আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো — অতএব আমাকে ক্ষমা করে দাও। (তিরমিযি)
২. নফল নামাজ পড়ুন — তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ
৩. কুরআন তিলাওয়াত করুন — বিশেষত সূরা কদর বারবার পড়ুন
৪. বেশি বেশি ইস্তেগফার করুন — “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়তে থাকুন
৫. পরিবারকে জাগান — হাদিসে বর্ণিত, লাইলাতুল কদরের রজনীতে যে আল্লাহর আরাধনায় মুহ্যমান থাকবে, আল্লাহ তার ওপর থেকে দোজখের আগুন হারাম করে দেবেন।
সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ কোনটি:
শবে কদর রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাতে হতে পারে। তাই একজন প্রকৃত মুসলিমের উচিত শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদত করা। শুধু ২৭ রমজানের রাত ধরে বসে না থেকে প্রতিটি বিজোড় রাতেই পূর্ণ ইবাদত করুন, এটাই নবীজি (সা.)-এর আদর্শ ছিল।
সংক্ষেপেঃ
✅ ২০২৬ সালে সরকারিভাবে শবে কদর: ১৬ মার্চ (২৭ রমজান)
✅ সম্ভাব্য সব রাত: ১০, ১২, ১৪, ১৬, ১৮ মার্চ (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রমজান)
✅ সেরা আমল: আয়েশা (রা.)-এর শেখানো দোয়া, নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত
✅ সবচেয়ে জরুরি কথা: শুধু একটি রাত নয়, শেষ দশকের সব বিজোড় রাতেই ইবাদত করুন
ভালোলাগলে আপভোট দিন। কোন মতামত থাকলে এখানে মন্তব্য করে ফেলুন, আমি উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। ✌️
সংক্ষেপে দেখুন



২০২৬ সালে (১৪৪৭ হিজরি) বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। খাদ্যপণ্য পরিমাণ ফিতরার হার গম বা আটা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম (আধা সা') ১১০ টাবিস্তারিত পড়ুন
২০২৬ সালে (১৪৪৭ হিজরি) বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উল্লিখিত যেকোনো একটি পণ্য বা তার বাজারমূল্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন।
ফিতরা কার উপর ওয়াজিব:
সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি।
সহজ কথায় – নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানোর পর ঈদের দিন যার কাছে অতিরিক্ত সম্পদ আছে, তার উপর ফিতরা ওয়াজিব। এই সম্পদ নগদ টাকা, সোনা, রুপা বা যেকোনো ধরনের হতে পারে।
পরিবারের ফিতরা হিসাব করার নিয়ম:
পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য আলাদাভাবে ফিতরা আদায় করতে হয়। পরিবারের কর্তা নিজের এবং নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করবেন। পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে যদি একই পণ্যের মূল্যে ফিতরা দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে কারো পক্ষ থেকে খেজুরের মূল্যে এবং কারো পক্ষ থেকে আটার মূল্যে দিলেও আদায় হয়ে যাবে।
ফিতরা কখন দিতে হবে:
ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরার টাকা পরিশোধ করতে হয়। তবে রমজানের শেষ দিকে আদায় করলে দরিদ্ররা ঈদের আগেই টাকা পেয়ে যান, যা ইসলামের মূল উদ্দেশ্য। ঈদের নামাজের পর দিলে ফিতরা হিসেবে গণ্য হয় না, সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হয়।
ফিতরা কাকে দেওয়া যাবে:
ফিতরা ওই সব মানুষকে দেওয়া যাবে যারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন। addabuzz গরিব আত্মীয়, প্রতিবেশী, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন যারা নিসাবের মালিক নন — তাদের দেওয়া যাবে। সম্পদশালী ব্যক্তি, মা-বাবা, সন্তান, স্বামী-স্ত্রীকে ফিতরা দেওয়া যাবে না।
স্থানীয় বাজারমূল্যে দিলেও চলবে:
ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্যগুলোর খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য থাকতে পারে। আপনার স্থানীয় বাজারের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী হিসাব করে ফিতরা দিলেও তা আদায় হয়ে যাবে। CEIC
সংক্ষেপে মনে রাখুন:
✅ সর্বনিম্ন ফিতরা: ১১০ টাকা (আটা হিসাবে)
সংক্ষেপে দেখুন✅ সর্বোচ্চ ফিতরা: ২,৮০৫ টাকা (পনির হিসাবে)
✅ ৫ সদস্যের পরিবারে সর্বনিম্ন: ১১০ × ৫ = ৫৫০ টাকা
✅ আদায়ের সময়: ঈদের নামাজের আগেই দিতে হবে
✅ সামর্থ্য অনুযায়ী: যেকোনো একটি পণ্যের হিসাবে দিলেই আদায় হবে