সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
বিমানের টিকিট কীভাবে কাটবেন – নিজে নাকি এজেন্সির মাধ্যমে?
এটা বলার আগে ট্রাভেল এজেন্সিরা ব্যবসা কিভাবে করে এটা বুঝা জরুরি। ওরা এয়ারলাইন্স এর কাছ থেকে বাল্ক এমাউন্ট এ টিকেট কিনে রাখে, যখন দাম কম থাকে তখন। এরপর এটাকে ওরা এয়ারলাইন্সের দামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেশী দামে বিক্রি করে। মানে ধরেন, আপনি আগস্টের ১৫ তারিখ কাতার এয়ারওয়েজ এর একটা টিকেট কাটতে চান ঢাকা টবিস্তারিত পড়ুন
এটা বলার আগে ট্রাভেল এজেন্সিরা ব্যবসা কিভাবে করে এটা বুঝা জরুরি। ওরা এয়ারলাইন্স এর কাছ থেকে বাল্ক এমাউন্ট এ টিকেট কিনে রাখে, যখন দাম কম থাকে তখন। এরপর এটাকে ওরা এয়ারলাইন্সের দামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেশী দামে বিক্রি করে।
মানে ধরেন, আপনি আগস্টের ১৫ তারিখ কাতার এয়ারওয়েজ এর একটা টিকেট কাটতে চান ঢাকা টু লন্ডন হিথ্রো, আজকে হচ্ছে জুন এর ১৫ তারিখ। আপনি কাতার এর ওয়েবসাইটে দেখলেন দাম লেখা ৫০ হাজার। এবার আপনি ট্রাভেল এজেন্সি কে যদি বলেন টিকেট এর কথা, তাহলে এজেন্সি বলবে দাড়ান দেখে জানাচ্ছি। এজেন্সি কাতার এয়ারওয়েজ এর ওয়েবসাইটে দেখবে এই টিকেট এর দাম কত দেখাচ্ছে, এরপর সে ওই দামের কাছাকাছি একটা দাম চাইবে। এজেন্সি আপনাকে বলতে পারে যে, এই টিকেট এর দাম ৪৮ হাজার টাকা। এখানে এজেন্সির লাভটা হচ্ছে, ওরা এই টিকেট কিনেছিল বেশ আগে, আরো অনেক কম দামে। এখন ওরা বেশী দামে বিক্রি করছে। টিকেটটা ধরেন আপনি নিলেন না, ভাবলেন আরো পরে নিবেন। আপনি জুলাই এর ১৫ তারিখে আবার চেক করলেন টিকেট প্রাইস। কাতার এর ওয়েবসাইটে দেখলেন দাম লেখা ৮০ হাজার। এজেন্সিতে যোগাযোগ করলেন, ওরা বললো ওরা ৭৫ হাজার টাকায় দিবে আপনাকে টিকেট, যদিও এক মাস আগে একই টিকেট ওরা আপনার কাছে ৪৮ হাজার টাকা চেয়েছিল এবং এটা ওরা কিনেছে আরো কম দামে।
টিকেট কীভাবে কাটবেন নিজে নাকি এজেন্সির মাধ্যমে- এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে যেখানে দাম কম পাবেন, সেখান থেকে কাটবেন। আপনার কাজ হবে অফিসিয়াল এয়ারলাইন্স এর ওয়েবসাইট, পছন্দের ট্র্যাভেল এজেন্সির বলা দামের সাথে তুলনা করে দেখা- এবং যেখানে কম দাম দেখবেন, ওখান থেকে কাটবেন।
বাংলাদেশের দুইটা ভাল কর্পোরেট টাইপের ট্রাভেল এজেন্সি হচ্ছে gozayaan আর sharetrip. ওদের ওয়েবসাইটে প্রায় সময় অফার থাকে বিভিন্ন ব্যাংক এর ক্রেডিট কার্ড + বিকাশ/নগদের। তাই যাচাই করে নিয়েন, ওদের থেকে নিলে বড় ডিসকাউন্ট পাবার সু্যোগ থাকে অনেক সময়।
টিকেট এর পেমেন্ট করা
প্লেনের টিকেট কাটার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে- পেমেন্ট করা। সরাসরি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে টিকেট কাটতে গেলে আপনি more or less দুইটা পেমেন্ট অপশন পাবেন – Credit/ Debit Card অথবা এয়ারলাইন্সের অফিসে যেয়ে পেমেন্ট করা। এয়ারলাইন্সের অফিসে যেয়ে পেমেন্ট করতে হলে Hold My Booking নামের একটা অপশন দেয়া ওরা- Qatar Airways এর বেলায় আপনি ১০ ডলার দিয়ে ২৪ ঘন্টার জন্যে ( কিংবা ২০/৩০ ডলার দিয়ে আরো বেশী সময়ের জন্য) টিকেটটা বুক করতে পারবেন, এই ২৪ ঘন্টার মধ্যে টিকেট এর দাম বাড়বেনা, এবং যেই দামে আপনি বুক করেছেন, ওই টাকাটাই এয়ারলাইন্সের অফিসে যেয়ে পে করে আসতে হবে। এই ১০/২০ ডলার নন-রিফান্ডেবল মানে আপনাকে এই টাকা আর ফেরত দেওয়া হবেনা এবং এটা টিকেট এর দাম থেকে কেটে রাখবেনা। অর্থাৎ এই টাকা আপনাকে এক্সট্রা দিতে হচ্ছে। Emirates এর বেলায় Hold my Booking অপশন সিলেক্ট করার জন্যে কোন আলাদা টাকা দিতে হয়না।
বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, কোন ডুয়াল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩০০ ডলার এর বেশী টাকা লেনদেন করা যায়না। করতে হলে আলাদা করে পারমিশন নিয়ে এরপর International Gateway open করতে হয়। এয়ারলাইন্স কে পেমেন্ট করার জন্যে gateway open করেনা। তাই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে সরাসরি এয়ারলাইন্স এর ওয়েবসাইটে পেমেন্ট করা যায়না। তবে, gozayaan বা sharetrip এ আপনি চাইলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন। এই ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে পেমেন্টে কোন সমস্যা হয়না। আবার যদি এজেন্সি দিয়ে টিকেট কাটেন তাহলে আপনি এজেন্ট কে সরাসরি বা এজেন্ট এর ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা দিয়ে দিতে পারবেন। অনেকে এটাকে কার্ড পেমেন্ট এর চেয়ে ঝামেলাহীন মনে করেন, তাদের জন্যে এজেন্সি ভাল অপশন।
টিকেট কি One-way কাটবেন নাকি Round Trip?
One way ticket কাটা মানে শুধু যাওয়ার টিকেট কাটা, আর Round Trip বা Round Ticket মানে যাওয়া-আসা দুটোর টিকেট কেটে ফেলা।
বেশিরভাগ মানুষ Visitor Visa তে PLAB2 দিতে যান, তাই ঝামেলা এড়ানোর জন্যে চেষ্টা করবেন Round Trip এর টিকেট কাটতে। অর্থাৎ, যাওয়া এবং আসা দুইটার টিকেটই কেটে ফেলতে। ঝামেলা বলতে কী বুঝাচ্ছি? শুধু যাওয়ার টিকেট কাটলে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন অফিসার, কিংবা ইউকে এর ইমিগ্রেশন অফিসার এমন ধারণা করতে পারেন যে আপনার উদ্দেশ্য খারাপ, আপনি হয়তো আর ফেরত আসবেন না। আপনি যেহেতু ভিজিটর ভিসায় যাচ্ছেন, এর মানে হচ্ছে আপনি ফেরত আসবেন, তাই ঝামেলা না পাকায়ে রিটার্ন টিকেট সহ কেটে ফেলা ভাল।
কোন এয়ারলাইন্স এর টিকেট কাটবেন?
একান্তই আপনার ব্যাপার। Middle East এর এয়ারলাইন্স কোম্পানি গুলোর রিভিউ ভাল- Qatar, Emirates এই দুটোর কথাই সবাই বলে। আমি নিজে Qatar Airlines এ ভ্রমণ করেছি, ওভার অল, ভালই। আমার অন্য এয়ারলাইন্স এর সাথে তুলনা করার মত অভিজ্ঞতা নাই। তবে কাতার এয়ারলাইন্স এর একটা সমস্যা হচ্ছে legroom কম। মানে সিটে বসার পর পা রাখার এ জায়গাটা এটা একটু কম৷ আমার পা রাখতে সমস্যা হয়েছে দুইবারই। আপনি চাইলেই এক্সট্রা legroom আছে এমন সিট নিতে পারবেন, এজন্যে আপনাকে এক্সট্রা পেমেন্ট করতে হবে।
কোন ক্লাস এর টিকেট কাটবেন?
টিকেট কাটতে গেলে আপনি কোন ‘ক্লাস’ এর টিকেট কাটবেন এটা জানতে চাইবে। এটার মানে হচ্ছে আপনার ফ্লাইটে আপনি কেমন ধরণের সুযোগ সুবিধা কিংবা বিলাসিতা চাচ্ছেন। সাধারণত দুই বা তিন ধরণের ক্লাস থাকে। Economy, Business and/or First Class. Economy class হচ্ছে সবচেয়ে কমদামী এবং বিলাসিতার দিক থেকে এটায় সুযোগ সুবিধা সবচেয়ে কম আর Business/First Class উল্টো। Economy এবং Business এর মধ্যেও আবার ভাগ আছে- যেমন কাতার এয়ারওয়েজ এ Economy Classic, Economy convenience, Economy Comfort আবার Business class এর মধ্যে আছে Business classic, Business Comfort এবং Business Elite – এই কয়েকটা ভাগ আছে।
ভাড়ার এবং বিলাসিতার দিক থেকেঃ Economy Classic < Economy convenience < Economy Comfort < Business classic < Business Comfort < Business Elite
Safetyর দিক থেকে ক্লাসগুলোর মধ্যে কোন বিভাজন নেই আমার জানামতে। তাই, অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করলে Economoy Class এর মধ্যে সবচেয়ে কমদামীটা অর্থাৎ Ecomomy Classic নেয়া ভাল।
ডিরেক্ট টিকেট কাটবেন নাকি ট্রানজিট/layover ওয়ালা টিকেট কাটবেন?
ট্রানজিট কি জিনিস? আপনার জার্নিটা এরকম হতে পারে, যে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উঠলেন, সরাসরি আপনার গন্তব্য Manchester পৌছে যাবেন। অথবা, আপনি ঢাকা থেকে ধরেন অন্য কোন একটা এয়ারপোর্টে যাবেন, এরপর ওখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন। তারপর নেক্সট বিমানে উঠে আপনি গন্তব্যে যাবেন। এইযে অপেক্ষা করা লাগতেছে, বা বিমান চেঞ্জ করে অন্যটাতে উঠা লাগতেছে এটাকে বলে Transit. পরবর্তী বিমানের জন্যে কতক্ষণ অপেক্ষা করা লাগবে এই সময়টাকে বলে Transit Time বা Layover Time.
আমার জানামতে, বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর বিমান সরাসরি London/Manchester যায়, বাকি সব এয়ারলাইন্স এরই কোথাও না কোথাও Transit থাকে। UK অভিমুখী ফ্লাইট গুলোর ক্ষেত্রে Qatar Airlines এর ট্রানজিট সাধারণত Dohaতে হয়, এবং Emirates এর ট্রানজিট সাধারণত দুবাই এ হয়। যারা প্রথমবার বিমানে চড়তে যাচ্ছেন, তারা Transit নিয়ে অযথাই ভয়ে থাকেন, ট্রানজিট নিয়ে ভয়ে অনেকে পছন্দের এয়ারলাইন্সে টিকেট কাটেন না। এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কোন কারণই নাই। ট্রানজিট একটা মজার জিনিস। আমার একবার ফ্লাইট মিস হয়েছিল। ৯ ঘন্টার layover ছিল, প্রায় পুরা সময়টাই আমি না ঘুমায়ে হেটে হেটে ঘুরে দেখেছি এয়ারপোর্ট। Hamad International Airport অনেক সুন্দর। ট্রানজিটের সময়টাতে আপনকে কোন হোটেল দিবেনা, তাই শাওয়ার নেয়া কিংবা আরাম করে ঘুমানো সম্ভব না। কিন্তু আপনি চাইলে এয়ারপোর্টে বিশ্রাম নিতে পারবেন, বসে বা আধশোয়া হয়ে ঘুমাতেও পারবেন৷ Hamad Airport এ Quiet Room আছে, এগুলো রেস্ট নেয়া বা ঘুমানোর জন্যে বেশ ভাল। অনেকে বলেছেন যে negotiate করলে অনেকসময় এয়ারলাইন্স থেকে হোটেল দেয়, কিন্তু আমার এই অভিজ্ঞতা নাই।
ক্যাশ কত পাউন্ড সাথে রাখতে পারবো? এজন্যে Endorsement করা লাগবে কী?
প্রথম কথা, Endorsement কি জিনিস? বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় আপনি যদি বিদেশী কোন মুদ্রা ব্যবহার করেন, কিংবা বাংলাদেশ থেকে টাকার বিনিময়ে অন্য দেশীয় কোন মুদ্রা ক্রয় করেন, তাহলে আপনাকে এটাকে আপনার পাসপোর্টে endorse করার মাধ্যমে authorize করে নিতে হবে- ওরা আপনার পাসপোর্টে একটা সিল মেরে দিবে এবং ওখানে আপনার কার্ড নাম্বার লেখা থাকবে এবং সর্বোচ্চ কত ডলার আপনি বছরে খরচ করতে পারবেন সেটার পরিমাণ উল্লেখ করা থাকবে। এনডোর্সমেন্ট এর পরিমাণ আপনি আপনার সুবিধামত করতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আপনি বছরে সর্বোচ্চ ১২০০০ ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা endorsement করে খরচ করতে পারবেন।
সোজা কথায় যদি বলি, আপনি যদি ক্রেডিট কার্ডের multiple currency segment এ কোন লেনদেন করতে চান, কিংবা দেশ থেকে ক্যাশ পাউন্ড/ডলার বা অন্য কোন কারেন্সি অন্য কোন দেশে নিয়ে যেতে চান তাহলে আপনাকে passport endorsement করাতে হবে। UK এর নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার সময় আপনি সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড ক্যাশ নিয়ে যেতে পারবেন endorsement ছাড়া- এজন্যে ইউকেতে আপনি কোন ধরণের সমস্যায় পরবেন না। বাংলাদেশের এরকম কোন নিয়ম নাই, সেজন্যে যেকোন পরিমাণ ক্যাশ পাউন্ড বা ডলার এর জন্যে আপনাকে জবাবদিহিতা করতে হতে পারে। সেজন্যে ঝামেলা এড়াতে চাইলে আপনার উচিত endorse করে ফেলা।
এয়ারপোর্টের জন্যে কী কী ডকুমেন্ট লাগবে?
এই জিনিসগুলা একটা waist bag বা একটা cross-arm Bag এর মধ্যে রাখবেন। বিশেষত আপনার পাসপোর্ট টা হাতের কাছে রাখা খুব জরুরি, কারণ এটা বারবার বের করা লাগবে এবং বিভিন্ন জায়গায় দেখানো লাগবে। এগুলো ফটোকপি করে এককপি আপনার হ্যান্ড লাগেজে রাখবেন, প্রতিটার ছবি ফোনে তুলে রাখবেন এবং ড্রাইভে আপলোড করে রাখবেন।
Luggage
প্রতিটা টিকেট এর গায়ে লেখা থাকে আপনি সর্বোচ্চ কত কেজি ওজনের লাগেজ নিতে পারবেন সাথে। লাগেজ দুই ধরণের হয়ে থাকে – Hand Luggage এবং Main Luggage বা checked luggage. প্রতিটার জন্যে একটা ওজন এর লিমিট থাকে, যে এর বেশি হলে আপনাকে এক্সট্রা টাকা দিতে হবে। সাধারণত Economy Class এর টিকেটে আপনাকে ৭ কেজি হ্যান্ড লাগেজ এবং এয়ারলাইন্স ভেদে ২৫/৩০/৪০ কেজি Main Luggage রাখতে দিবে। এটা টিকেট এ স্পষ্ট করে লেখা থাকে। এর বেশি ওজন হলে আপনাকে এক্সট্রা টাকা দিতে হবে। আপনি চাইলে টিকেট কাটার সময় এক্সট্রা লাগেজ ফ্যাসিলিটি কিনে নিতে পারেন কিংবা যাওয়ার দিন এয়ারপোর্টে আসার পর ওজন দিয়ে যদি দেখেন যে ওজন বেশী হয়েছে, তাহলে এটার জন্যে পেমেন্ট করে দিতে পারেন। সাধারণত টিকেট কাটার সময় এক্সট্রা লাগেজ কিনে নিলে খরচ কম পরে।
Checked luggage এয়ারপোর্টে ঢুকেই আপনাকে দিয়ে দিতে হবে এয়ারলাইন্স এর কাউন্টারে। এটা মেপে দেখবে এবং ওজন বেশি বলে এক্সট্রা পেমেন্ট করতে হবে, কিংবা ব্যাগ খুলে জিনিসপত্র কমাতে হবে। কখনো কখনো হ্যান্ড লাগেজ এর ওজনও মেপে দেখে, কিন্তু এটা সচরাচর হয়না। না মাপলে আপনার হ্যান্ড লাগেজ এর ওজন একটু আকটু বেশি হলেও সমস্যা নাই, কিন্তু যদি মাপে, তাহলে ওজন বেশি হলে ঝামেলা। অর্থাৎ এক্সট্রা টাকা দিতে হবে, নাহয় ওজন কমাতে হবে।
তাই আপনার কাপড় চোপড়-বই-খাতা- হাড়ি-পাতিল এগুলা রাখবেন checked luggage এ। Hand Luggage আপনার সাথেই থাকবে- সাধারণত ল্যাপটপ, ট্যাব, চার্জার এগুলা রাখে Hand Luggage এ। বিমানের যে সিটে বসবেন, তার উপরে রাখার জায়গা থাকবে, Overhead Locker বলে এইটাকে, ওখানে রাখবেন। Checked Luggage আর Hand Luggage এর কোনটাতে কী রাখবেন এটা নিয়ে প্রতিটা এয়ারলাইন্সের গাইডলাইন আছে আলাদা আলাদা, ফ্লাইটের আগে পরে দেখবেন। হ্যান্ড লাগেজ এ লিকুইড জাতীয় কিছু- পানি, খাবার এগুলা রাখা যায়না। সর্বোচ্চ ১০০ মিলি রাখা যায় কিছু কিছু এয়ারলাইন্সে।
On your flight date
Entering the airport
ফ্লাইটের দিন ফ্লাইটের আনুমানিক ৪ ঘন্টা আগে আপনি এয়ারপোর্ট পৌছাবেন। এয়ারপোর্টে অনেকগুলা টার্মিনাল আছে, টার্মিনাল মানে দরজা, সোজা কথায়। এগুলা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। টার্মিনালের সামনে দেখবেন ট্রলি রাখা আছে, আপনি এয়ারপোর্ট পৌছায়ে ট্রলি নিবেন, আপনার লাগেজগুলা ট্রলিতে উঠাবেন এবং এরপর ফ্যামিলির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কোন একটা টার্মিনাল দিয়ে ঢুকে পরবেন। টার্মিনালের সামনে বিরাট লম্বা লাইন থাকে, লাইনে না দাড়ায়ে চিপাচাপা দিয়ে ঢুকে পরাটা ভাল বুদ্ধি, নাইলে দাড়ায়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যাবেন। ঢুকে আপনার কাজ হচ্ছে আপনার এয়ারলাইন্স এর কাউন্টারে যাওয়া, এবং খোজ নেওয়া আপনার ফ্লাইট এর চেক-ইন শুরু হইছে কিনা।
Checking-in & getting Boarding Pass
‘চেক-ইন’ মানে হচ্ছে ধরেন পারসেন্টেজ দেওয়া৷ আনুমানিক ৩/৪ ঘন্টা আগে একেকটা ফ্লাইটের চেক ইন শুরু হয়। আপনি আপনার ফ্লাইট নাম্বার দেখবেন, দেখে চেক-ইন শুরু হলে এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে লাইনে দাড়াবেন। এখানে আপনার মেইন লাগেজ এবং কখনও কখনও হ্যান্ড লাগেজ এর ওজন মেপে দেখবে। সাধারণত হ্যান্ড লাগেজ এর ওজন মেপে দেখেনা। কিছু কিছু এয়ারলাইন্স এখন অনলাইনে চেক ইন এর ব্যবস্থা করেছে, আমার অভিজ্ঞতা নাই। এখানে আপনার checked luggage মেপে দেখবে, স্টিকার লাগাবে এবং ওরা নিয়ে নিবে, মেইন লাগেজ এর সাথে আপনার আর দেখা হবেনা। আপনি গন্তব্যে পৌছার পর মেইন লাগেজ কালেক্ট করবেন। হ্যান্ড লাগেজ আপনার সাথেই থাকবে। ব্যাগ নেওয়ার সাথে সাথে আপনাকে ওরা Boarding Pass দিবে- মানে যেখানে আপনার ফ্লাইট নাম্বার, সিট নাম্বার সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় লেখা থাকবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, কোনভাবেই হারাবেন না। পাসপোর্ট এবং Boarding Pass আপনার হাতের কাছে রাখবেন, এটা বিভিন্ন জায়গায় আপনার কাছ থেকে দেখতে চাইবে।
Immigration
চেক ইন হয়ে গেলে আপনি ইমিগ্রেশন এর দিকে যাবেন, ওখানে ইমিগ্রেশন অফিসার থাকবে, উনাকে আপনার পাসপোর্ট দিবেন, উনি আপনাকে দুয়েকটা প্রশ্ন করতে পারে – ঠিকঠাক জবাব দিবেন। ইমিগ্রেশন হয়ে গেলে আপনার কাজ কোন একটা জায়গায় যেয়ে বসা। আপাতত আপনার কোন কাজ নাই, আপনি বাসায় ফোন দিবেন, আত্মীয়স্বজনের সাথে কথা বলবেন, বিশ্রাম নিবেন।
Finding your Gate No
যেখানে বসে বিশ্রাম নিবেন, তার আশেপাশে খেয়াল করবেন যে ডিসপ্লে আছে- ডিসপ্লে তে বিভিন্ন ফ্লাইট নাম্বার এবং গেইট নাম্বার – “Gate No” লেখা আছে। একটা এয়ারপোর্ট থেকে অনেক বিমান ছেড়ে যায়, একেক বিমান একেক গেট থেকে ছেড়ে যায়। আপনার কাজ হচ্ছে আপনার ফ্লাইটের গেট নাম্বার দেয়া হয়েছে কিনা সেটা দেখা। আপনি যখন ইমিগ্রেশন পার করে যেয়ে বসেছেন তখন গেট নাম্বার দেওয়া নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আধা ঘন্টা পর আবার দেখবেন গেট নাম্বার দেওয়া হয়েছে কিনা। গেট নাম্বার দেওয়া হলে ওই গেটে চলে যাবেন। কোন গেট কোনদিকে এটার ডিরেকশন পুরো এয়ারপোর্টের বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া থাকে। গেট এর সামনে বসার জায়গা থাকবে, ওখানে বসে থাকবেন। কিছুক্ষণ পর এয়ারলাইন্স এর লোকজন এসে প্লেনে উঠার জন্যে ডাকবে। কে আগে উঠবে, কে পরে উঠবে এটা টিকেট এর ক্যাটাগরি অনুযায়ী ঠিক হয়- আগে বিজনেস ক্লাস এর যাত্রীরা উঠেন, এরপর ইকোনোমি। ইকোনোমি ক্লাস এর মধ্যে আবার Zone ভাগ করা থাকে সাধারণত আগে zone 1, এরপর zone 2 এরপর zone 3 এর যাত্রীদের উঠানো হয়। আপনার সিট কোন zone এ এটা boarding pass এ লেখা থাকে। এখানে আপনার পাসপোর্ট এবং বোর্ডিং পাস চেক করবে, তাই হাতের কাছে রাখুন।
During the flight
বিমানে উঠে প্রথম কাজ হলো Hand Luggage টা ভালভাবে রাখা এবং সিট নাম্বার খুজে বসে পরা, কেবিন ক্রুরা আপনাকে সাহায্য করবে, ভয় পাওয়ার কারণ নাই। বিমান ছাড়ার সময় sudden pressure difference এর জন্যে কানে তালা লাগে অনেক সময়, তাই ওই সময় দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরে রাখতে পারেন। বিমানের infotainment system খুব সুন্দর- অনেক মুভি, টিভি সিরিজ দেওয়া থাকে, যা খুশী দেখতে পারের, ঘুমাতে পারেন। যারা Qatar Airways এর Privilege club এর মেম্বার, তারা বিমান চলাকালীন সময়ে মোট ১ ঘন্টা ফ্রীতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। বিমান আকাশে উড়ন্ত অবস্থায়ই পারবেন, স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে। এর বেশি সময় নেট ব্যবহার করতে চাইলে পেমেন্ট করতে পারবেন। স্ক্রিনে দেখানো ইন্সট্রাকশন ফলো করলেই হবে। Privilege club এর মেম্বার হতে শুধু ফর্ম ফিলাপ করা লাগে, আর কিছু লাগেনা, এটা সম্পূর্ণ ফ্রী। বিমানে নেট চালানোর সময় পুরা সময় নেট অন রাখবেন কিনা ভেবে দেখবেন, আমার মতে কিছুক্ষণ সময় রেখে দেওয়া উচিত বিমান ল্যান্ড করার আগের সময়ের জন্যে। তখন বাসায় জানাতে পারবেন যে ল্যান্ড করার সময় হয়েছে। বিমানে খাবার দিবে, স্ন্যাক্স দিবে, আপনার কোন কিছু দরকার লাগলে চেয়ে নিতে পারেন। বিমানে toilet কে বলে Lavatory, এইটা মনে রাখবেন 😀। বিমান ল্যান্ড করার সময়ও কানে তালা লাগে অনেকের, তাই নামার সময় কান চেপে ধরতে পারেন, তাহলে অস্বস্তি লাগবেনা। ফ্লাইটের সময়টা আরেকটু উপভোগ্য করার জন্যে একটা noise cancelling earphone, ১টা travel pillow আরেকটা eye mask নিয়ে নিতে পারেন।
ট্রানজিট ফ্লাইট মিস হলে কী করবেন?
ধরেন, আপনার পরের ফ্লাইট ছিল ১টায়, কিন্তু প্রথম বিমান ছাড়তে দেরী হয়ে গেছে, পরের ফ্লাইট ধরতে পারবেন না বলে মনে হচ্ছে – কী করবেন? কিছু করা লাগবেনা। তাড়াহুড়া করবেন না, এই ফ্লাইট আপনি নিজে মিস করেন নাই, আপনার কোন দোষ ছিলোনা, তাই এটার জন্যে আপনাকে কোন ঝামেলায় পরতে হবেনা। এয়ারলাইন্স কোম্পানি আপনাকে পরবর্তী ফ্লাইটে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন। বিমান থেকে নেমে একটু সামনে গেলেই দেখবেন যে আপনার নাম লেখা প্ল্যাকার্ড ধরে কেউ একজন দাড়ায়ে আছে। সে আপনাকে বলবে যে, আপনার ফ্লাইট চলে গেছে, আপনি প্যারা নিয়েননা, আমরা আপনাকে নেক্সট ফ্লাইটে তুলে দিবো, আপনি তখন যাইতে পারবেন।
তার থেকে বিস্তারিত শুনে নিবেন- নেক্সট ফ্লাইট কখন, কয়টায় আপনাকে চেক ইন করতে হবে, এই সময়টাতে আপনি কই থাকবেন, খাবেন কই, খাবেন কী – এবং most importantly- আপনার বোর্ডিং পাস বুঝে নিবেন, যেটাতে আপনার ফ্লাইট নাম্বার লেখা থাকবে। এয়ারলাইন্স থেকে আপনাকে কিছু টাকা দিবে খাওয়ার জন্যে। এই টাকাটা আপনাকে ওরা হাতে দিবেনা, হেল্পডেস্কে জিজ্ঞেস করলে ওরা আপনার বোর্ডিং পাস স্ক্যান করে বলে দিবে কত টাকার খাবার আপনি খেতে পারবেন। আপনি চাইলেও এই টাকা ক্যাশ করে অন্য কাজে খরচ করতে পারবেন না। এয়ারপোর্টের ভিতরের যেকোন রেস্টুরেন্টে আপনার বোর্ডিং পাস দিলে ওরা আপনাকে খাবার দিবে, আপনার বোর্ডিং পাস স্ক্যান করে ওরা আপনার ফুড এলাউয়েন্স থেকে টাকা কেটে রাখবে। আপনি চাইলে এক দোকানে পুরা টাকা খরচ করে ফেলতে পারেন, বা অল্প অল্প করে কয়েকটা দোকানে যেতে পারেন। খুব বেশী টাকা দেয়না, আমার নেক্সট ফ্লাইট ছিল ৮ ঘন্টা পর, আমাকে ১৫ পাউন্ড এর মত দিয়েছিলো। তারা খাওয়ার জন্যে আপনাকে কত টাকা দিবে এর চেয়ে বেশী দামের আপনি কিছু খেতে চাইলে আপনাকে নিজে থেকে টাকা দিতে হবে বা ওদের দেয়া টাকার সাথে এড করতে হবে। ওখানকার কারেন্সি তো আপনার কাছে নাই, তাইলে কিভাবে কিনবেন? Endorse করা ডুয়াল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ড, কিংবা Endorse করা Multiple Currency Debit Card দিয়ে কিনতে পারবেন। আপনার যদি Priority Pass বা Loungekey এর মেম্বারশিপ থাকে, তাহলে layover time টা আপনি lounge এ বসে আরামে কাটাতে পারবেন। Priority Pass বা Loungkey হচ্ছে একটা সাবস্ক্রিপশন বেইজড সিস্টেম, যেটাতে আপনি annual fee প্রদান করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি যদি সরাসরি ওদের ওয়েবসাইট থেকে নিতে চান, তাহলে তাদের annual fee অনেক বেশি পড়বে। এর বিকল্প ব্যবস্থা হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড এর মাধ্যমে সাবস্ক্রিপশন নেয়া। বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক তাদের ক্রেডিট কার্ড এর সাথে priority pass বা loungekey subscription দিয়ে থাকে। সাধারণত এই সুবিধা নেওয়ার জন্যে আপনাকে platinum বা তার চেয়ে উপরের ক্যাটাগরির cardholder হতে হবে। Prioritypass কিংবা loungekey বাদেও আপনি এয়ারলাইন্স কোম্পানির lounge এ থাকতে পারবেন, এজন্যে আপনাকে আগে থেকে payment করতে হবে৷ Hamad International Airpor এ Qatar Airways এর অনেকগুলা লাউঞ্জ আছে – Al Maha Lounge, Oryx Lounge etc- আপনি payment এর মাধ্যমে এগুলোর সুবিধা নিতে পারবেন।
Ending your journey
বিমান ল্যান্ড করার কিছুক্ষণ আগে আপনাকে বলবে সিটবেল্ট বাধতে। ওই সময়ে সিটবেল্ট বেধে বসে থাকবেন। সিটবেল্ট খোলার সময় হলেও আপনাকে জানানো হবে, তখন সিট বেল্ট খুলবেন এবং overhead locker থেকে আপনার হ্যান্ড লাগেজ বের করে বিমান থেকে বের হবেন। পাসপোর্ট হাতের কাছেই রাখবেন, এটা দেখাতে হবে। ইমিগ্রেশন অফিসার আপনার পাসপোর্ট দেখতে চাইবেন, উনি জিজ্ঞেস করতে পারেন আপনি কেন ইউকে এসেছেন, কই থাকবেন- সব কথার সঠিক উত্তর দিবেন।
সংক্ষেপে দেখুনএরপর main luggage কালেক্ট করবেন। মেইন লাগেজ আর হ্যান্ড লাগেজ নিয়ে হাটা কষ্ট হলে একটা ট্রলি নিতে পারেন – সম্ভবত এক পাউন্ড এর কয়েন দিয়ে ট্রলি নিতে হয়। তাই চেষ্টা করবেন কয়েকটা এক পাউন্ড এর কয়েন সাথে রাখতে, যাতে প্রয়োজনের সময় বিপদে পরতে না হয়।
অফিস বা প্রতিষ্ঠানের চেয়ার গুলোতে তোয়ালে রাখা হয় কেন?
আমরা প্রায়শই দেখে থাকবো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বা অফিসের চেয়ার গুলোতে তোয়ালে রাখা হয় আজ আমরা এই তোয়ালের রহস্য উন্মেচন করবো! প্রথমেই ইতিহাস দিয়ে শুরু করবো তোয়ালে-সংস্কৃতির সূত্রপাত ব্রিটিশ আমলে। সে সময় কলকাতার উচ্চপদস্থ বাবুরা মাথায় চুবচুবা তেল মেখে অফিসে এসে চেয়ারে বসে পেছনে মাথা এলিয়ে দিতেন। ব্রিটিশরবিস্তারিত পড়ুন
আমরা প্রায়শই দেখে থাকবো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বা অফিসের চেয়ার গুলোতে তোয়ালে রাখা হয় আজ আমরা এই তোয়ালের রহস্য উন্মেচন করবো!
প্রথমেই ইতিহাস দিয়ে শুরু করবো তোয়ালে-সংস্কৃতির সূত্রপাত ব্রিটিশ আমলে। সে সময় কলকাতার উচ্চপদস্থ বাবুরা মাথায় চুবচুবা তেল মেখে অফিসে এসে চেয়ারে বসে পেছনে মাথা এলিয়ে দিতেন। ব্রিটিশরা দেখল, আয়েসি বাবুদের নিয়ে তো মহা বিপদ! কী করা যায়? লাগাও তোয়ালে। দামি চেয়ার নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তোয়ালের রঙ চটে গেলে ধুয়ে নেওয়া যাবে। আরেকটি ব্যাপার ছিল। গরমে বাবুদের যে ঘাম ঝরত, তা মুছে ফেলার জন্যও তোয়ালের দরকার ছিল। বিলেতি সাহেবদের অবশ্য তার প্রয়োজন হতো না, কারণ মাথায় তেল দেওয়া তাদের রীতিবিরুদ্ধ। আর তা ছাড়া, ব্রিটিশ সাহেবদের ঘরে টানাপাখার ব্যবস্থা ছিল, তাঁদের শরীর ঘামে ভিজত না।
ব্রিটিশ গেল, পাকিস্তান এল। পূর্ব বাংলার সাহেবরা সযত্নে তোয়ালে রক্ষা করে চললেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তোয়ালে অপরিহার্য হয়ে উঠল। কারণ, সদ্য স্বাধীন দেশে অফিসকক্ষের টানাটানি। স্বল্প পরিসরে অনেক সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিবদের বসে কাজ করতে হয়েছে। কোনো অতিথি এলে তাঁর পক্ষে বোঝা সম্ভব হতো না কে কোন পদমর্যাদার। তাই মর্যাদা অনুযায়ী চেয়ারে তোয়ালে ঝোলানো একটি উত্তম ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পেল।
পাকিস্তান তোয়ালের-সংস্কৃতি গ্রহণ করেনি। ভারতেও এখন সম্ভবত শুধু দক্ষিণাঞ্চলে এর চল আছে। বাংলাদেশে কমে আসছে। কোনো কোনো মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাঁদের চেয়ারে তোয়ালের ব্যবহার করেন না। শুধু তোয়ালে নয়, আমাদের দেশে বড় সাহেবরা বসেন সিংহাসনসম বড় চেয়ারে, আর টেবিলের সামনে অভ্যাগতদের জন্য থাকে ছোট চেয়ারের ব্যবস্থা। বিলেতে, আমেরিকায় কিন্তু সবার চেয়ার সমান।
সংক্ষেপে দেখুনএকদিন আমাদের দেশ থেকে ধীরে ধীরে চেয়ারে তোয়ালের চলন বিদায় নেবে।
শূন্য (০) সংখ্যা টি জোড়, নাকি বিজোড়?
শুন্য একটি জোড় সংখ্যা। আসুন জেনে নেই কেনো শুন্য জোড় সংখ্যা। যেসব সংখ্যার একক স্থানে, ২,৪,৬,৮ বা ০(!) থাকে সেগুলো হল জোড় সংখ্যা । আর বাকিগুলো বিজোড়। একক স্থানে শূন্য (০) থাকলে, কেন জোড় হবে? ধরি, ১০; এর একক স্থানে রয়েছে শূন্য (০), এবং ১০ একটি জোড় সংখ্যা। কারণ, একে জোড়া হিসেবে সাজানো যায়। আমরা ১০ কে ৫বিস্তারিত পড়ুন
শুন্য একটি জোড় সংখ্যা। আসুন জেনে নেই কেনো শুন্য জোড় সংখ্যা।
যেসব সংখ্যার
একক স্থানে, ২,৪,৬,৮ বা ০(!)
থাকে সেগুলো হল জোড় সংখ্যা ।
আর
বাকিগুলো বিজোড়।
একক স্থানে শূন্য (০) থাকলে, কেন
জোড়
হবে? ধরি, ১০; এর একক
স্থানে রয়েছে শূন্য
(০), এবং ১০ একটি জোড় সংখ্যা।
কারণ,
একে জোড়া হিসেবে সাজানো যায়।
আমরা ১০ কে ৫ জোড়ায়
সাজাতে পারি।
তাই ১০ হল জোড়। তাই একক
স্থানে শুন্য(০)
থাকলে, জোড় হয়।
কিন্তু, শূন্য (০) এর আগে,
যদি কোনো সংখ্যা না থাকে,
শুধুমাত্র শূন্য
(০) কি জোড় না বিজোড়?
সত্যি বলতে, শূন্য (০) আসলেই জোড়
সংখ্যা।
একটি জোড় সংখ্যা হওয়ার জন্য সকল
শর্তই
শূন্য (০) পালন করে।
জোড় সংখ্যা, হল সেসব সংখ্যা,
যেগুলো ২
দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য হয়।
যেমনঃ ৪/২ = ২; ৬/২ = ৩; অতএব, ৪,৬
এগুলো জোড় সংখ্যা। কিন্তু
আমরা যদি ৩
নেই, তাহলে কি পাব। ৩/২ = ১.৫;
এটি নিঃশেষে বিভাজ্য নয়। এখন
আমরা যদি, শূন্য (০) নেই,
তাহলে কি পাব?
০/২ = ০; এটি নিঃশেষে বিভাজ্য।
তাই
এটি জোড়!
ব্যাপারটা আরেকটু সহজ করি,
আমরা ২কে যেকোনো কিছু
দিয়ে গুন
দিলে যা পাব তাই জোড়।
যেমনঃ ২X১=২,
২x২=৪, ৩x২=৬, ৪x২=৮; ২,৪,৬,৮
এগুলো জোড়
সংখ্যা। এখন আমরা, ২ কে যদি শূন্য (০)
দিয়ে গুন দেই তাহলে কি পাব?
২x০=০;
অর্থাৎ, শূন্য (০) জোড়।
২/ শূন্য সংখ্যাটি জোড় সংখ্যা। কোন পূর্ণসংখ্যা জোড় হওয়া বলতে কী বোঝায়, তা ব্যাখ্যা করার বেশ কিছু উপায় আছে এবং শূন্য সংখ্যাটি এরকম সমস্ত সংজ্ঞাই সিদ্ধ করে: শুন্য ২ এর গুণিতক, ২ দিয়ে বিভাজ্য এবং নিজের সাথে একটি পূর্ণসংখ্যার যোগফলের সমান। এই সংজ্ঞাগুলি কেবল শূন্যের জন্যই ব্যতিক্রমীভাবে প্রযোজ্য নয়, বরং এগুলি জোড় সংখ্যার যোগফল ও গুণফলের সাধারণ নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। জোড় সংখ্যাগুলির মধ্যে শূন্য কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। শূন্য জোড় পূর্ণসংখ্যার পরিচয়সূচক উপাদান, এবং এটি পর্যায়ক্রমে আসা সকল উপাদানের ভিত্তি কেস। শূন্যের জোড় হবার প্রবণতার সরাসরি প্রয়োগের প্রমাণ আছে এবং এর কাঠামো জোড় সংখ্যার অনুরুপ। সাধারণভাবে, ০ সকল পূর্ণ সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্য, যার মধ্যে দুই এর সকল ঘাত আছে। ফলে, শূন্য সকল সংখ্যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জোড়।
৩/শূণ্য (০) একটি জোড় সংখ্যা। কারন, জোড়+জোড়=জোড়, বিজোড়+বিজোড়=জোড় অনুরুপভাবে, ০+০=০ অর্থাৎ একই ধরনের সংখ্যা যোগ করলে ঐ ধরনের সংখ্যা পাওয়া যায় একমাত্র জোড় সংখ্যার ক্ষেত্রে। অনুরুপভাবে বিয়োগের ক্ষেত্রে ও একই কথা প্রযোজ্য। জোড়-জোড়=জোড়, বিজোড়-বিজোড়=জোড় অনুরুপভাবে, ০-০=০ ।বাস্তব সংখ্যার ধারাবাহিকতায় দেখাযায় ৬,৪,২,০,-২,-৪,-৬ ইত্যাদি আবার ৭,৫,৩,১,-১,-৩,-৫,-৭ এখান থেকে দেখাযায় যে, শূণ্য (০) জোড় সংখ্যার দলভুক্ত। তাই শূণ্য অবশ্যই জোড় সংখ্যা হবে
সংক্ষেপে দেখুনকোন আট প্রজাতির জীব ছাড়া পৃথিবী অচল ?
পৃথিবীতে প্রতিটি জীবই বিশেষ কিছু ভূমিকা পালন করে৷ কিন্তু গ্রহে জীবন টিকিয়ে রাখতে কিছু প্রজাতির গুরুত্ব অন্যদের চেয়ে বেশি৷ দেখে নিন তেমনি কিছু জীবের নাম ও তাদের কাজ। মৌমাছি: রয়াল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি মৌমাছিকে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী বলে ঘোষণা দিয়েছিল৷ বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখতে দারুণ ভূমবিস্তারিত পড়ুন
পৃথিবীতে প্রতিটি জীবই বিশেষ কিছু ভূমিকা পালন করে৷ কিন্তু গ্রহে জীবন টিকিয়ে রাখতে কিছু প্রজাতির গুরুত্ব অন্যদের চেয়ে বেশি৷ দেখে নিন তেমনি কিছু জীবের নাম ও তাদের কাজ।
মৌমাছি: রয়াল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি মৌমাছিকে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী বলে ঘোষণা দিয়েছিল৷ বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখে এই প্রাণী৷ ফুলে ফুলে ঘুরে ঘুরে পরাগায়নের মাধ্যমে এবং নতুন জায়গায় বীজ ছড়ানোর মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে মৌমাছি৷ এমনকি আমরা যেসব শস্য খাই, সেগুলোর অনেকটিই মৌমাছির ওপর নির্ভরশীল৷
পিঁপড়া: অনেকসময় আমরা পিঁপড়াকে ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করি৷ কিন্তু এরা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা জানিও না৷ অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর সব মহাদেশেই রয়েছে এই প্রাণী৷ মাটিতে পুষ্টি ছড়িয়ে দেয়া, বীজ ছড়ানো এবং অন্য প্রাণীর মরদেহ খেয়ে পরিবেশ রক্ষা করার মতো কাজ করে এ প্রাণী৷
ছত্রাক: উদ্ভিদ নাকি প্রাণী, জীবাণু নাকি প্রোটোজোয়া, ছত্রাক নিয়ে প্রায়ই এমন দ্বিধায় ভোগেন বিজ্ঞানীরা৷ এজন্য একে কখনও কখনও ‘পৃথিবীর জীবনের পঞ্চম বিশ্ব’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়৷ পানিতে, মাটিতে, এমনকি বাতাসেও এদের উপস্থিতি দেখা যায়৷ ছত্রাক অনেকটা প্রাকৃতিক পুষ্টি পুনর্ব্যবহারকারী হিসাবে কাজ করে৷ ছত্রাকের কিছু প্রজাতি পারদ জাতীয় ক্ষতিকারক ধাতুও শোষণ করতে পারে, অনেক প্রজাতি এমনকি প্লাস্টিকও হজম করতে পারে৷
ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন: এই অণুজীবগুলি পৃথিবীর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝানো বেশ সহজ৷ গ্রহের বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেনের অর্ধেকের বেশি উৎপাদন করে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন৷ সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য শৃঙ্খলার ভিত্তিও এই অণুজীব৷
বাদুড়: কলা, বাওবাব গাছ আর টাকিলা- এই তিনটির মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পান? এই সবকটিই পরাগায়ন এবং কীটের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বাদুড়ের উপর নির্ভরশীল৷ একেক প্রজাতির বাদুড় একেকটি ফসলের ফলন অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ প্রতি বছর পোকা খেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে কীট দমন করে বাদুড়, ফলে বেঁচে যায় কয়েক মিলিয়ন ডলার৷ শক্তিশালী বাস্তুতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি এই প্রাণী৷
কেঁচো: এই প্রাণীকে অনেকে বাস্তুতন্ত্রের প্রকৌশলী হিসেবেও অভিহিত করেন৷ মাটি খুঁড়ে চলাচলের মাধ্যমে প্রাকৃতিক হালচাষের কাজ করে এ প্রাণী৷ তবে সঠিক পরিবেশের অভাবে বর্তমানে বেশ হুমকির মধ্যে রয়েছে এ প্রাণী৷
প্রাইমেট: প্রাণীজগতে মানুষের সবচেয়ে নিকট আত্মীয় এই প্রাইমেটরা৷ গ্রীষ্মমণ্ডলের নানা বনাঞ্চলে নানা উদ্ভিদের বীজ ছড়িয়ে দিয়ে প্রাকৃতিক বনায়নে সহায়তা করে প্রাইমেট৷
প্রবাল: প্রবালকে সমুদ্রের রেনফরেস্ট বলে আখ্যা দেয়া হয়৷ উপকূল রক্ষা, নতুন নতুন ভূমি গড়ে তুলে নতুন বাস্তুসংস্থান তৈরি করা, এমন নানা ভূমিকা পালন করে প্রবাল৷ মোট সামুদ্রিক জীবের চার ভাগের এক ভাগ খাবারের জন্য নানাভাবে প্রবালের ওপর নির্ভর করে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের৷
সংক্ষেপে দেখুনচাঁদকে ঘিরে এখনও অনেক রহস্য? সত্যি কি?
চাঁদকে ঘিরে এখনও অনেক রহস্য। পৃথিবীর এই উপগ্রহটি সম্পর্কে শোনা যায় নানা কথা। অনেক রোমান্টিক নামও আছে তার-ব্লু মুন, ক্রিসেন্ট মুন, ফুল মুন ইত্যাদি ইত্যাদি। রাতের আকাশে খালি চোখে দেখা এই উপগ্রহটি সম্পর্কে এখানে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো: ১. চাঁদ গোলাকার নয়: চাঁদের আকৃতি আসলে ডিমের মতো। আপনি যখন এর দিকেবিস্তারিত পড়ুন
চাঁদকে ঘিরে এখনও অনেক রহস্য। পৃথিবীর এই উপগ্রহটি সম্পর্কে শোনা যায় নানা কথা। অনেক রোমান্টিক নামও আছে তার-ব্লু মুন, ক্রিসেন্ট মুন, ফুল মুন ইত্যাদি ইত্যাদি। রাতের আকাশে খালি চোখে দেখা এই উপগ্রহটি সম্পর্কে এখানে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো:
১. চাঁদ গোলাকার নয়: চাঁদের আকৃতি আসলে ডিমের মতো। আপনি যখন এর দিকে তাকান তখন কিন্তু এর ছোট দুই প্রান্তের কোন একটিকে দেখতে পান। চাঁদের ভরের কেন্দ্র ঠিক এর জ্যামিতিক কেন্দ্রে অবস্থিত নয়। এটি জ্যামিতিক কেন্দ্র থেকে ১ দশমিক ২ মাইল দূরে।
২. সবসময় আমরা চাঁদের পুরোটা দেখতে পাই না: আমরা যখন চাঁদের দিকে তাকাই তখন এর ৫৯ শতাংশ দেখতে পাই। পৃথিবী থেকে চাঁদের বাকি ৪১ শতাংশ কখনোই দেখা যায় না। আপনি যদি এই তথ্য বিশ্বাস না করেন এবং এটা সত্য কিনা সেটা যাচাই করে দেখতে চাঁদের লুকিয়ে থাকা ওই ৪১ শতাংশের উপরে গিয়ে দাঁড়ান তাহলে কিন্তু সেখান থেকে আপনি এই পৃথিবীকে দেখতে পাবেন না।
৩. ব্লু মুন হয়েছে আগ্নেয়গিরি কারণে: ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাতের পর ১৮৮৩ সালে ‘ব্লু মুন’ পরিভাষার জন্ম হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সেসময় অগ্নুৎপাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে এতো বেশি ধুলো ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল যে মানুষ যখন পৃথিবী থেকে চাঁদের থেকে তাকিয়েছিল তখন তাকে দেখতে নীল মনে হয়েছিল। আর এ থেকেই তৈরি হয়েছে ‘ওয়ান্স ইন এ ব্লু মুন’ কথাটি। বিরল কোন ঘটনা বলতে এই বাক্যটি ব্যবহার করা হয়।
৪. চাঁদকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা: যুক্তরাষ্ট্র একবার সত্যিই সত্যিই চাঁদের উপর পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণের কথা চিন্তা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা। বিশেষ করে রাশিয়াকে ভয় দেখানো। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অত্যন্ত গোপনীয় এই পরিকল্পনার নাম ছিল ‘এ স্টাডি অফ লুনার রিসার্চ ফ্লাইটস’ অথবা ‘প্রজেক্ট এ১১৯।’
৫. ড্রাগনের কারণেই গ্রহণের ঘটনা: সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝে চাঁদ এসে পড়লে অথবা সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চাঁদ এসে দাঁড়ালে তখন সূর্য বা চাঁদের আলো সাময়িকভাবে ম্লান হয়ে যায়। একে বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ কিম্বা সূর্যগ্রহণ। একটি প্রাচীন চীনা বিশ্বাস হচ্ছে- একটি ড্রাগন যখন সূর্যকে গিলে খেয়ে ফেলে তখন সূর্যগ্রহণ হয়। তখন চীনারা তাদের পক্ষে যতোটা সম্ভব আওয়াজ সৃষ্টি করতে থাকে যাতে ড্রাগনটি ভয় পেয়ে দূরে চলে যায়। চীনারা একসময় আরো বিশ্বাস করতো যে চাঁদের গর্তের ভেতরে একটি বিশাল আকৃতির ব্যাঙ বসবাস করতো। চারশো কোটি বছর আগে মহাকাশ থেকে ছুটে যাওয়া একটি পাথর চাঁদকে আঘাত করলে ওই গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল।
৬. চাঁদের কারণে পৃথিবীর গতি ধীর হয়: চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চলে আসে, তখন জোয়ারের সৃষ্টি হয়। নতুন কিম্বা ফুল মুনের পরপরই এরকম হয়ে থাকে। তখন পৃথিবীর ঘূর্ণন শক্তিও চাঁদ চুরি করে নেয়। আর সেকারণে পৃথিবীর গতিও প্রতি ১০০ বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলি-সেকেন্ড করে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে।
৭. চাঁদের আলো: সূর্য একটি পূর্ণ চাঁদের চেয়েও ১৪ গুণ মাত্রায় বেশি উজ্জ্বল। সূর্যের মতো সমান উজ্জ্বলতায় জ্বলতে হলে প্রায় চার লাখ পূর্ণ চাঁদের প্রয়োজন। চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ যখন পৃথিবীর ছায়ার ভেতরে চলে যায় তখন চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দেড় ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ৫০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটও কমে যেতে পারে।
৮. লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বুঝেছিলেন ক্রিসেন্ট কি জিনিস: চাঁদকে আমরা যখন ক্রিসেন্টের আকারে বা অর্ধচন্দ্রাকৃতির মতো দেখি তখন আমরা চাঁদ থেকে ছিটকে আসা সূর্যের আলোকেই দেখতে পাই। চাঁদের বাকি অংশটা খুব অস্পষ্ট দেখা যায়। সেটাও নির্ভর করে আবহাওয়ার উপরে। শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চিই হলেন প্রথম কোন ব্যক্তি যিনি উপলব্ধি করতে পারছিলেন যে চাঁদ আসলে সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হচ্ছে না, বরং এর কিছু অংশ লুকানো থাকে।
৯. চাঁদ পনির দিয়ে তৈরি: চাঁদের আরো অনেক কিছুই আছে যা এখনও আমাদের অজানা। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় এনিয়ে একটি জরিপ চালানো হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে জরিপে অংশ নেওয়া লোকজনের ১৩ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে চাঁদ চীজ বা পনির দিয়ে তৈরি।
সংক্ষেপে দেখুনFacebook Marketplace : ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রতারিত হলে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি কি?
ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে ঢুকে পড়েছেন মার্কেটপ্লেসে? মনের মতো একটি সামগ্রী বেছে কিনেও ফেলেছেন? ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে সামগ্রী কিনতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন? জিনিস কিনতে গিয়ে ভুয়ো বিক্রেতার খপ্পরে পড়ে টাকা খুইয়েছেন? এই পরিস্থিতিতে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না? জেনে নিন কী ভাবে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস প্রতারবিস্তারিত পড়ুন
ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে ঢুকে পড়েছেন মার্কেটপ্লেসে? মনের মতো একটি সামগ্রী বেছে কিনেও ফেলেছেন? ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে সামগ্রী কিনতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন? জিনিস কিনতে গিয়ে ভুয়ো বিক্রেতার খপ্পরে পড়ে টাকা খুইয়েছেন? এই পরিস্থিতিতে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না? জেনে নিন কী ভাবে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস প্রতারণার জন্য মেটাতে রিপোর্ট করতে পারবেন।
Facebook Marketplace : ফেসবুক মার্কেটপ্লেস।
মার্কেটপ্লেসে প্রতারিত?
এই মার্কেটপ্লেসেই হরেক রকমের সামগ্রী কেনাবেচা করে থাকেন নেটিজেনরা। ফেসবুকের এই অপশনে ক্লিক করলেই চোখের সামনে খুলে যায় নানাবিধ সামগ্রীর সমাহার। জানা গিয়েছে, ফেসবুকের এই মার্কেটপ্লেসে বর্তমানে প্রায় ২৫ কোটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারী নিজেদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পান।
তবে এখানেই ঘাপটি মেরে লুকিয়ে রয়েছে বিপদের হাতছানি। ফেসবুক যেহেতু বিক্রেতার পরিচয় এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে না, তাই অনেক সময় মার্কেটপ্লেসে বিভিন্ন ধরণের প্রতারণার ঘটনা ঘটে। মার্কেটপ্লেসে কোনও জিনিস পছন্দ করে কিনতে গিয়ে আপনি যদি প্রতারণার শিকার হন তবে কোথায় এবং কী ভাবে অভিযোগ জানাবেন?
কী ভাবে রিপোর্ট করবেন?
আর এই পদ্ধতিগুলি পর পর যথাযথভাবে মেনে চললেই বিক্রেতার নামে অভিযোগ চলে যাবে মেটার কাছে।
ইউটিউবে কত ভিউতে কত টাকা পাওয়া যায়?
ইউটিউব থেকে আয় করাই কনটেন্ট নির্মাতাদের লক্ষ্য হয়ে থাকে। ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে কত ভিউ-এর প্রয়োজন জানুন। ইউটিউবে প্রতি 1000 ভিউ-তে কত টাকা পাওয়া যায় জেনে নিন। Youtube: ইউটিউব থেকে টাকা আয় করাই বেশির ভাগ কনটেন্ট নির্মাতাদের লক্ষ্য হয়ে থাকে। বর্তমানে অনেকেই Youtube Video থেকে নিজের কেরিয়ার তৈরি করতেবিস্তারিত পড়ুন
ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে কত ভিউ-এর প্রয়োজন?
সাধারণত আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিয়োর ভিউ 1000 হলেই আয় শুরু হয়। কিন্তু ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিয়োর ভিউ থেকে আয় শুরু করতে আপনার চ্যানেলের অবশ্যই ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। তবে ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিয়োর থেকে ভালো টাকা আয় করতে হলে কম পক্ষে 100,000 ভিউ-এর প্রয়োজন।
তবে ভিউ ছাড়াও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। তার জন্য আপনি ভিডিয়োর লিঙ্ক থেকে অন্য জিনিস বিক্রি করতে পারেন।
ইউটিউবে প্রতি 1 হাজার ভিউ-তে কত টাকা পাওয়া যায়?
ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিয়োর ভিউ থেকে আপনার আয় মূলত নির্ভর করে আপনার ভিডিয়োর কনটেন্টের উপর। বস্তুত ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিয়োর 1000 ভিউ-এর উপর 1 ডলার বা 82 টাকা থেকে 25 ডলার বা 2070 টাকা আয় হওয়া সম্ভব।
তথ্য অনুযায়ী ফাইন্যান্স এবং টেক সম্পর্কিত ভিডিয়ো নির্মাতারা ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিয়োর ভিউ-তে অন্যদের থেকে বেশি টাকা আয় করে থাকেন। মূলত এই বিষয় অ্যাডের সুযোগ থাকায় আয় বেশি হয়। এই ভিডিয়ো-তে অ্যাড দিয়ে ইউটিউবেরও লাভ হয়।
কীভাবে ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করবেন এবং আপনার ইউটিউব চ্যানেল নগদীকরণ করবেন ?
কিভাবে ইউটিউবে পেমেন্ট পাবেন 1K সাবস্ক্রাইবারে পৌঁছান এবং YouTube পার্টনার প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করুন অর্থ উপার্জন করতে ইউটিউবে কত ভিউ লাগে? তাহলে আপনি কখন YouTube এ অর্থ উপার্জন শুরু করবেন? এগিয়ে একটি দীর্ঘ রাস্তা মত শব্দ? একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হয়ে উঠুন ব্র্যান্ড ডিলের মাধ্যমে স্পনসবিস্তারিত পড়ুন
ক্রমবর্ধমান ক্রিয়েটর অর্থনীতি YouTube-এ অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন উপায় আবিষ্কার করেছে। যদিও কিছু কৌশলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের চেয়ে কম প্রবেশের বাধা রয়েছে, দুর্দান্ত বিষয়বস্তু এবং আগ্রহী দর্শক অপরিহার্য।
আপনি যদি আপনার সৃজনশীল দিকটি ব্যবহার করেন এবং অনেক প্রচেষ্টা করতে প্রস্তুত থাকেন তবে আপনি YouTube এ অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হতে পারেন। এখানে বিবেচনা করার জন্য কয়েকটি পন্থা রয়েছে।
কিভাবে ইউটিউবে পেমেন্ট পাবেন
1 হাজার সদস্যের কাছে পৌঁছান এবং YouTube পার্টনার প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করুন
একটি অনুমোদিত বিপণনকারী হন
ব্র্যান্ড ডিলের মাধ্যমে স্পনসর করা সামগ্রী তৈরি করুন
আপনার পণ্য বা পণ্যদ্রব্য তৈরি করুন এবং বিক্রি করুন
ঘুরো ক্রাউডফান্ডিং
1K সাবস্ক্রাইবারে পৌঁছান এবং YouTube পার্টনার প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করুন
প্রথম এবং সর্বাগ্রে, এর পথ থেকে এটি পেতে যাক. YouTube পার্টনার প্রোগ্রামে যোগদানের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ হল 1,000 সাবস্ক্রাইবার পাওয়া। তখন বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা সম্ভব হয়।
আপনি একজন অংশীদার হওয়ার আগে, আপনাকে অবশ্যই নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণ করতে হবে:
আপনার ফিল্মগুলিকে অবশ্যই সাইটের বিজ্ঞাপন বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে এবং আগের 4,000 মাসে 12 এরও বেশি বৈধ পাবলিক দেখার ঘন্টা জমা করেছে৷
আপনি একটি যোগ্যতা অবস্থানে বসবাস করতে হবে.
একটি Google AdSense অ্যাকাউন্ট অবশ্যই লিঙ্ক করতে হবে।
একবার আপনি প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণ করলে, আপনার প্রোফাইলে যান এবং “নগদীকরণ” এলাকাটি সন্ধান করুন৷
আপনি বিজ্ঞাপন, সদস্যতা সুবিধা এবং সুপার চ্যাটের মতো পরিষেবা বিক্রি করে অংশীদার হিসাবে অর্থ উপার্জন করতে পারেন, যা ব্যবহারকারীদের তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য অর্থ প্রদান করতে দেয়।
অর্থ উপার্জন করতে ইউটিউবে কত ভিউ লাগে?
প্রতিটি ভিডিও দেখার জন্য আপনাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। পরিবর্তে, কেউ আপনার ভিডিওতে একটি বিজ্ঞাপন দেখে বা ক্লিক করলে আপনি অর্থ প্রদান করেন।
ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং হাবের মতে, গড় ইউটিউব চ্যানেল প্রতি 18 বিজ্ঞাপন ভিউ প্রায় $1,000 জেনারেট করতে পারে। বিজ্ঞাপন দেখার হার বিবেচনা করলে প্রতি 3 ভিডিও ভিউ $5 থেকে $1,000 এর সাথে মিলে যায়।
তাহলে আপনি কখন YouTube এ অর্থ উপার্জন শুরু করবেন?
অনুমান করুন যে বিজ্ঞাপনগুলি দেখেছেন এমন দর্শকদের থেকে $1,000 উপার্জন করতে 4 ভিডিও ভিউ লাগে৷ এই বিজ্ঞাপনগুলি থেকে $100 পেতে, আপনার 25,000 ভিডিও ভিউ প্রয়োজন৷ একবার আপনার পরিমাণ $100 হিট হলে, আপনাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
আপনার যদি একটি ছোট চ্যানেল থাকে তবে আপনাকে প্রতি কয়েক মাসে অর্থ প্রদান করা যেতে পারে। আপনার আরও বোঝা উচিত যে Google, যেটি AdSense পেমেন্ট পরিচালনা করে, কীভাবে ট্যাক্স নেয়।
এগিয়ে একটি দীর্ঘ রাস্তা মত শব্দ?
1,000 সাবস্ক্রাইবার ছুঁয়ে যাওয়ার আগে উপার্জন করার বিকল্প উপায় নিচে দেওয়া হল।
একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হয়ে উঠুন
আপনি যদি পণ্য পর্যালোচনা ভিডিও প্রকাশ করতে চান তবে আপনার YouTube দর্শকদের নগদীকরণের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সবচেয়ে ব্যবহারিক পদ্ধতি হতে পারে। এটা এভাবে কাজ করে:
আপনি একটি ফার্ম বা বিক্রেতা দ্বারা পরিচালিত একটি অনুমোদিত প্রোগ্রামে যোগদানের জন্য আবেদন করেন, যেমন মর্দানী স্ত্রীলোক সহযোগী।
একবার আপনি গৃহীত হয়ে গেলে আপনি আপনার চলচ্চিত্রগুলিতে প্রদর্শন করতে চান এমন পণ্যগুলির নির্দিষ্ট লিঙ্ক তৈরি করতে আপনি তাদের প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করবেন।
আপনার YouTube ভিডিওগুলিতে, পণ্যগুলি প্রদর্শন করুন, মূল্যায়ন করুন বা উল্লেখ করুন এবং আপনি আপলোড করার সময় বর্ণনা বিভাগে আপনার ব্যক্তিগতকৃত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং লিঙ্ক(গুলি) পেস্ট করুন৷
যখন একজন দর্শক আপনার অনন্য লিঙ্কে ক্লিক করে এবং একটি পণ্য ক্রয় করে, আপনি একটি ব্র্যান্ড অ্যাফিলিয়েট হিসাবে একটি কমিশন পাবেন।
ব্র্যান্ড ডিলের মাধ্যমে স্পনসর করা সামগ্রী তৈরি করুন
YouTube-এ অর্থোপার্জনের আরেকটি পদ্ধতি হল একটি ব্র্যান্ড অংশীদারিত্ব তৈরি করা, যা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মতো: আপনার শ্রোতাদের প্রতি আগ্রহী কোম্পানিগুলি আপনার ভিডিওগুলিকে স্পনসর করতে পারে বা একটি চিৎকারের বিনিময়ে পণ্য প্লেসমেন্ট ডিল অফার করতে পারে৷
এখানে কীওয়ার্ডটি হল “শ্রোতা” যা পরামর্শ দেয় যে এই সুযোগগুলি নিজেরাই অফার করার সম্ভাবনা বেশি থাকে যখন আপনি অনুসরণ করেন। আপনার চ্যানেল প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে, আপনি সরাসরি ব্র্যান্ডগুলির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বা আপনার সামগ্রী শৈলীর পরিপূরক কর্পোরেট অংশীদারদের আবিষ্কার করতে উপরে উল্লিখিত বিপণন প্ল্যাটফর্মগুলির মতো সংস্থানগুলি ব্যবহার করতে পারেন৷
আপনি একমুঠো অর্থপ্রদান পেতে পারেন, প্রতি-বিক্রয় ভিত্তিতে কমিশন উপার্জন করতে পারেন, বা ব্র্যান্ড ডিসকাউন্ট সহ বিনামূল্যে পণ্য বা পরিষেবা পেতে পারেন।
আপনার পণ্য বা পণ্যদ্রব্য তৈরি করুন এবং বিক্রি করুন
আপনার যদি পণ্যদ্রব্য বা এমন একটি পরিষেবা থাকে যা আপনার দর্শকরা আগ্রহী হবে, তাদের সে সম্পর্কে বলুন এবং আপনার ভিডিওগুলিতে লিঙ্কগুলি অন্তর্ভুক্ত করুন৷
একটি শারীরিক পণ্য অফার করার জন্য আপনাকে উপকরণ কিনতে বা একজন প্রস্তুতকারক নিয়োগ করতে হতে পারে, তবে আপনি এটিও করতে পারেন বিক্রি করা ই-বুক, আর্ট প্রিন্ট বা ভার্চুয়াল ক্লাসের মতো ডাউনলোডযোগ্য। আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার আগে, নিশ্চিত হন যে আপনার কাছে একটি নিরাপদ অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা আছে।
যদিও আপনার পণ্য উৎপাদন করা অন্যান্য কোম্পানির পিচিংয়ের চেয়ে জটিল, আপনি এইভাবে আরও বেশি অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হতে পারেন কারণ আপনি পণ্যের মালিক হিসাবে আয়ের বেশিরভাগই রাখবেন।
ক্রাউডফান্ডিং–এ যান
আপনার চ্যানেল নগদীকরণের আরেকটি উপায় হল ক্রাউডসোর্সিং। পুনরাবৃত্ত এবং প্রকল্প-ভিত্তিক ক্রাউডফান্ডিং হল দুটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের ক্রাউডফান্ডিং। ট্র্যাকের অনুরাগীরা বিশেষাধিকারের জন্য একটি ছোট সদস্যতার মূল্য এবং প্রথমটিতে অ্যাক্সেসের একচেটিয়া স্তর প্রদান করে, যা বিষয়বস্তু নির্মাতাদের জন্য আরও উপযুক্ত।
আরও সাবস্ক্রিপশন আপনার পকেটে আরও অর্থের সমান। দর্শকরা একের পর এক ভিডিও কথোপকথন, বিশেষ ক্লাস বা পণ্যের মতো প্রণোদনা দিয়ে সাইন আপ করতে প্রলুব্ধ হতে পারে।
একটি প্রকল্প-ভিত্তিক ক্রাউডফান্ডিং প্রচারাভিযান হল একটি উপায় যা আপনার যদি এমন একটি প্রকল্পের জন্য ধারণা থাকে যার জন্য অর্থায়ন প্রয়োজন।
একটি শ্রোতা উপার্জন, এবং দীর্ঘ সময়ে আরো উপার্জন
YouTube প্রত্যেকের জন্য সুযোগ প্রদান করে, কিন্তু এটি একটি দ্রুত ধনী হওয়ার স্কিম নয়। YouTube-এ অর্থ উপার্জনের জন্য সময়, প্রচেষ্টা এবং একজন নিবেদিত শ্রোতা জড়িত। সুসংবাদ হল যে কিছুটা ইচ্ছা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে, আপনি লোভনীয় 1,000-সাবস্ক্রাইবার চিহ্নে পৌঁছানোর আগে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
আপনি শুরু করার সাথে সাথে নিম্নলিখিত পরামর্শগুলি মনে রাখবেন:
সংক্ষেপে দেখুনএটা কি সত্য যে চাঁদ পৃথিবী থেকে আরও দূরে চলে যাচ্ছে?
পৃথিবী থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে চাঁদ। তবে চাঁদের সরে যাওয়ার গতি এতটাই কম যে এখন পৃথিবীবাসীর পক্ষে সেটা আঁচ করা সম্ভব নয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়েক বছর পর পৃথিবী থেকে চাঁদকে আর দেখাই যাবে না। সম্প্রতি একটি স্টাডি-র পর এমনই জানিয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি দল। দ্য অটলান্টিক-এর রিপোর্ট বলছে, বিবিস্তারিত পড়ুন
পৃথিবী থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে চাঁদ। তবে চাঁদের সরে যাওয়ার গতি এতটাই কম যে এখন পৃথিবীবাসীর পক্ষে সেটা আঁচ করা সম্ভব নয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়েক বছর পর পৃথিবী থেকে চাঁদকে আর দেখাই যাবে না। সম্প্রতি একটি স্টাডি-র পর এমনই জানিয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি দল।
দ্য অটলান্টিক-এর রিপোর্ট বলছে, বিজ্ঞানীরা বিমিং লেজার্স-এর সাহায্যে লুনার রিট্রিট মেপেছেন। আর তাতেই ধরা পড়েছে, প্রতি বছর একটু একটু করে পৃথিবী থেকে দূরে চলে যাচ্ছে চাঁদ। বিজ্ঞানীদের মতে, সাড়ে চার কোটি বছর আগে চাঁদের উত্পত্তি। সেই সময় পৃথিবীর অনেক কাছে ছিল চাঁদ। এখন থেকে ১০ গুণ বেশি গতিতে সেই সময় চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করত। ফলে দিন হত মাত্র চার ঘণ্টার। পৃথিবীতে বাকি সময় রাত থাকত।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, উত্পত্তির পর থেকে চাঁদ প্রচণ্ড গরম থাকত। ফলে লাল গ্রহের মতো জ্বলজ্বল করত। একটা সময় পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে চাঁদ কাছাকাছি আসে। তার পর পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে শুরু করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এখন অন্য গ্রহ চাঁদকে আকর্ষণ করছে। সেই গ্রহের আকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর তুলনায় বেশি। ফলে প্রতি বছর প্রায় আট ইঞ্চি করে করে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে চাঁদ। যার জেরে চাঁদে বেশ কিছু ঘটনাও ঘটছে। তার মধ্যে প্রধান হল উল্কাবর্ষণ। চাঁদের এই পরিবর্তন পৃথিবীর আবহাওয়াতেও প্রভাব ফেলছে।
স্টাডি থেকে জানা গিয়েছে, গত ক.য়েক বছরে চাঁদের সরে যাওয়ার গতিতেও পরিবর্তন হয়েছে। তা ছাড়া পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার ক্ষেত্রে চাঁদের গতিও আগের থেকে কমেছে। ফলে দিনের মেয়াদ বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৬০০ মিলিয়ন বছর পর পৃথিবী থেকে চাঁদকে আর দেখা যাবে না। চাঁদ তখন পৃথিবীর কাছে একটি দূরের তারা হয়ে থাকবে। খালি চোখে চাঁদের সৌন্দর্য আর দেখাই হয়তো যাবে না।
অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার কি নোবেল পুরস্কার, নাকি ভিন্ন?
নোবেল পুরস্কারের ক্যাটাগরির প্রশ্নে আপনি নিঃসন্দেহে ছয়টি বিভাগের কথাই বলবেন হয়তো। তবে অর্থনীতিতে দেয়া পুরস্কার আদৌ নোবেল পুরস্কার কিনা- সেই ধারণা নিয়ে আছে দ্বিমত। কারণ আলফ্রেড নোবেল তার উইলে পাঁচটি বিষয়ে পুরস্কার রেখেছিলেন: রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি, পদার্থবিদ্যা, এবং শারীরবিদ্যা বা ওষুধ। তার স্মৃতিতেবিস্তারিত পড়ুন
নোবেল পুরস্কারের ক্যাটাগরির প্রশ্নে আপনি নিঃসন্দেহে ছয়টি বিভাগের কথাই বলবেন হয়তো। তবে অর্থনীতিতে দেয়া পুরস্কার আদৌ নোবেল পুরস্কার কিনা- সেই ধারণা নিয়ে আছে দ্বিমত। কারণ আলফ্রেড নোবেল তার উইলে পাঁচটি বিষয়ে পুরস্কার রেখেছিলেন: রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি, পদার্থবিদ্যা, এবং শারীরবিদ্যা বা ওষুধ। তার স্মৃতিতে অর্থনীতিতে পরবর্তীতে যে পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা চালু হয়, তা অপর পাঁচটির অনুরূপ কিনা এবং নতুন একটি বিষয় যুক্ত করার অন্তরালে ইতিহাস ও বিজয়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সাজানো আজকের এই লেখা।
শুরুর ইতিহাস
আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুসারে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল কমিটির আয়োজনে ধারাবাহিকভাবে পাঁচটি বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। তবে অর্থনীতিকে নতুন কোনো বিষয় হিসেবে যুক্ত করার পেছনে নোবেল কমিটির ভূমিকা নেই। বরং এই পুরস্কারের পেছনে রয়েছে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সরকারের কোন্দল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সুইডিশ আর্থিক ব্যবস্থা সরকারের স্বল্প সুদের হার নীতি দ্বারা পরিচালিত হতো। কম সুদের হারের লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নির্মাণকে উদ্দীপিত করা, যা ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়। তখন সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিশ্বের প্রাচীনতম কেন্দ্রীয় ব্যাংক, Sveriges Riksbank) সরাসরি নির্বাচিত সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল।


সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভারিয়াস রিকসব্যাংক
১৯৫৫ সালে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক প্রধানমন্ত্রী টেজ এরল্যান্ডার দ্বারা পার অ্যাসব্রিঙ্ক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিযুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী এরল্যান্ডারের আদেশের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হতে অ্যাসব্রিঙ্ক ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে সরকারের সাথে আলোচনা না করেই ঋণের ওপর সুদের হার ৪ থেকে ৫ এ উন্নীত করার মাধ্যমে ব্যাংকের স্বাধীনতা ঘোষণার চেষ্টা করেন। এটি ‘সুদের হার অভ্যুত্থান’ নামে পরিচিতি পায়। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এবং ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির অনেক সদস্য রিকসব্যাংকের গভর্নর হিসেবে অ্যাসব্রিঙ্কের পদত্যাগ দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে শক্ত কিছু শর্তারোপ করলে সেবারের মতো অ্যাসব্রিঙ্ক পিছিয়ে যান।
রিকসব্যাংকের গভর্নর পার অ্যাসব্রিংক
তবে তিনি রিকসব্যাংকের স্বাধীনতার আরেকটি সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করেন— সরকারি বন্ড হোল্ডিংয়ের থেকে প্রাপ্ত আয়। সুইডিশ পার্লামেন্ট ব্যাংককে সমস্ত অর্থ কোষাগারে হস্তান্তরের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু ব্যবসা ও ঋণ দেওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন, এই কারণ দেখিয়ে অ্যাসব্রিঙ্ক তা ফেরত দিতে আপত্তি জানান। এছাড়া একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ফাউন্ডেশন স্থাপন এবং ১৯৬৮ সালে ব্যাংকের ৩০০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও তিনি অবগত করেন। তদুপরি, পার্লামেন্ট কিছু অর্থ ব্যাংকের নিকট গচ্ছিত রেখে বেশিরভাগ ফেরত নিয়ে নেয়।
এত অর্থ হস্তান্তর অ্যাসব্রিঙ্কের মোটেই পছন্দ হয়নি। তিনি ছিলেন পরিবর্তনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং অভ্যুত্থানে বিশ্বাসী একজন মানুষ। পার্লামেন্টের সাথে তার টানাপোড়েনের মধ্যেই ব্যাংকের ৩০০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘনিয়ে আসে। অর্থনীতিতে অসামান্য অবদানকারীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদানে এই অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব কিনা এ বিষয়ে তিনি তোড়জোড় শুরু করলেন। পাঠকের হয়তো বুঝতে বাকি নেই, রিকসব্যাংকের তদানীন্তন গভর্নর পার অ্যাসব্রিঙ্কই অর্থনীতিতে নোবেল সম্মাননা সৃষ্টির মূল কারিগর। সরকারের সাথে অ্যাসব্রিংকের কলহের ইতিহাস ‘দ্য নোবেল ফ্যাক্টর: দ্য প্রাইজ ইন ইকোনমিক্স, সোশ্যাল ডেমোক্রেসি এন্ড দ্য মার্কেট টার্ন‘ বই থেকে এসেছে, যা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ অ্যাভনার অফার এবং উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাব্রিয়েল সোডারবার্গের লেখা।


সামাজিক গণতন্ত্র ক্রমশ বাজারব্যবস্থায় উদারনীতিতে রূপান্তরের ভূমিকা নিয়ে রচিত বই
অ্যাসব্রিঙ্কের মাথাতেই আলফ্রেড নোবেলের নাম যুক্ত করে অর্থনীতিতে পুরস্কারের ধারণা জন্ম নেয় এবং তিনি বিষয়টি একজন তরুণ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাসার লিন্ডবেকের কাছে ঘরোয়াভাবে উত্থাপন করেন। প্রস্তাব শোনার সঙ্গে সঙ্গে লিন্ডবেক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পেশ করেন। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সের সদস্যদের মধ্যে অর্থনীতিবিদরা এই ধারণা পছন্দ করলেও একাডেমির পদার্থবিদরা ঘোর আপত্তি জানান। অনেক বাদানুবাদ ও আলাপ-আলোচনার পর অবশেষে একাডেমির সভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সসের কার্যালয়
পরবর্তীতে প্রস্তাবটি নোবেল ফাউন্ডেশনের কাছে উত্থাপন করা হলে বোর্ড সদস্যদের ধারণাটি পছন্দ হয়, বিশেষ করে যখন রিকসব্যাংক পুরস্কারের অর্থ হস্তান্তরের পাশাপাশি (যা ৮ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার, বা ৯,৩০,০০০ ডলার) একটি বার্ষিক ফি প্রদানের প্রস্তাব দেয়। আয়োজনের সর্বশেষ ধাপ ছিল ডিনামাইট নির্মাতা আলফ্রেড নোবেলের বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত বংশধরের সম্মতি গ্রহণ, এবং তিনি তা দিয়েছিলেন, পাশাপাশি জোর দিয়ে বলেছিলেন, পুরস্কারটিকে বলা হবে, ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানের পুরস্কার’।
১৯৬৯ সালে রাগনার ফ্রিশ এবং জ্যান টিনবার্গেনকে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কারের মতো একই নীতি অনুসারে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সস, স্টকহোম, সুইডেন দ্বারা অর্থনীতি বিজ্ঞানে পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। এই পুরস্কারের পুরো নাম ‘The Sveriges Riksbank Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Nobel‘।
মনোনয়ন ও বাছাই প্রক্রিয়া
রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সের ইকোনমিক সায়েন্স প্রাইজ কমিটি অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে পুরস্কারের জন্য প্রার্থীদের নির্বাচন করে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নাম এবং মনোনয়ন সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পরবর্তী ৫০ বছর পর্যন্ত প্রকাশ করা হয় না। অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে পুরস্কারের জন্য তারাই প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন যারা যোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা মনোনীত এবং অর্থনৈতিক বিজ্ঞান পুরস্কার কমিটি থেকে বিবেচনার জন্য নাম জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন। কেউ নিজেকে মনোনয়ন দিতে পারে না। ইকোনমিক সায়েন্স প্রাইজ কমিটি এমন ব্যক্তিদের কাছে গোপনীয় ফর্ম পাঠায় যারা মনোনীত করার জন্য যোগ্য। যোগ্য মনোনয়নকারী সদস্যরা হলেন:
মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পুরস্কার বিতরণী সময়কাল
মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাসে মনোনয়ন ফর্ম পাঠানোর মাধ্যমে। ইকোনমিক সায়েন্সেস প্রাইজ কমিটি প্রায় তিন হাজার মনোনয়নকারীকে গোপনীয় ফর্ম পাঠায়। ফর্মগুলো পূরণ করে অবশ্যই পরের বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। কমিটি ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫০-৩০০ জন প্রার্থী বাছাই করে যাদের নাম একাধিক মনোনীতকারী জমা দেন। পরবর্তীতে ইকোনমিক সায়েন্সেস প্রাইজ কমিটি প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত প্রার্থীদের কাজের মূল্যায়নের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়। এই পর্যন্ত আসতে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময় লাগে।
জুন থেকে আগস্টের মধ্যে একাডেমিতে জমা দেওয়ার জন্য সুপারিশসহ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে কমিটির সকল সদস্যের স্বাক্ষর থাকে। সেপ্টেম্বরে কমিটি চূড়ান্ত প্রার্থীদের সুপারিশসহ প্রতিবেদন একাডেমির সদস্যদের কাছে জমা দেয়। একাডেমির অর্থনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের দুটি সভায় প্রতিবেদনটি নিয়ে আলোচনা হয়। অক্টোবরের শুরুতে, একাডেমি অব সায়েন্সেস সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয় এবং বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ডিসেম্বরের ১০ তারিখ ইকোনমিক সায়েন্স পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পুরস্কার বিজয়ীরা তাদের পুরস্কার পান, যার মধ্যে একটি নোবেল পুরস্কার পদক ও ডিপ্লোমা এবং পুরস্কারের পরিমাণ নিশ্চিত করে একটি ডকুমেন্ট থাকে।
ইকোনমিকস নোবেল আদতেই নোবেল?
আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুসারে ১৯০১ সাল থেকে যে পাঁচটি সুপ্রসিদ্ধ ও আকর্ষণীয় পুরস্কার দেয়া হয়, আর অর্থশাস্ত্রে প্রদত্ত এ পুরস্কার এক নয়। এর টাকাটাও ‘নোবেল’ ফাউন্ডেশনের মূল পুঁজি থেকে আসে না, আসে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া একটি বড় অনুদান থেকে। নোবেল ফাউন্ডেশন অনুষ্ঠান আয়োজন ও পুরস্কার প্রদানের দায়িত্বে থাকে। সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নামের সাথে নোবেল যুক্ত করে পুরস্কারকে অতিরিক্ত মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। এমনকি নোবেল ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে লেখা আছে:
অর্থনীতি নোবেল স্মারক পুরস্কার এবং নোবেল পুরস্কারের মেডেল ভিন্ন
অপর পাঁচটি পুরস্কারের মতো এ পুরস্কার সম্পর্কেও যাবতীয় তথ্য নোবেলপ্রাইজ ওয়েবসাইটে দেয়া হয়। অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে নোবেল মেমোরিয়াল মূল ধারার নোবেল প্রাইজের একই নীতি অনুসরণ করে প্রদান করা হয় বলে একে নোবেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সহজ ভাষায়, নোবেল ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত একই নীতিতে ভিন্ন একটি পুরস্কার। মিডিয়া ও অর্থনীতি পেশা একে নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা দেয়। তবে নিয়মের নাম যা-ই হোক, সারা বিশ্বে এটি নোবেল পুরস্কার নামেই পরিচিত।
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সুইডেনের আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক ঐক্যমতের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তার পরিধি ছিল অভ্যন্তরীণ, কিন্তু প্রভাব রেখেছিল বিশ্বব্যাপী। Sveriges Riksbank অবশেষে ১৯৯৯ সালে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে এবং সারা বিশ্বে নীতি নির্ধারকদের ফোকাস বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দিকে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকাররা আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
পাইরেট ব্ল্যাকবিয়ার্ড কেনো বিখ্যাত?
হলিউডের ‘পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান’ মুভি কিংবা ইউবিসফটের অ্যাসাসিন্স ক্রিড গেইম সিরিজের সুবাদে ‘পাইরেট’ বা জলদস্যু তকমাটা বেশ খ্যাতি পেয়ে গিয়েছে। ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো অনেকেরই ‘প্রিয়’ জলদস্যু। কিন্তু ঐতিহাসিক দিক থেকে চিন্তা করলে দস্যুপনা আদৌ কখনো ‘প্রিয়’ খেতাব পাবার কথা না। তবে প্রিয়-অপ্রিয় যেবিস্তারিত পড়ুন
হলিউডের ‘পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান’ মুভি কিংবা ইউবিসফটের অ্যাসাসিন্স ক্রিড গেইম সিরিজের সুবাদে ‘পাইরেট’ বা জলদস্যু তকমাটা বেশ খ্যাতি পেয়ে গিয়েছে। ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো অনেকেরই ‘প্রিয়’ জলদস্যু। কিন্তু ঐতিহাসিক দিক থেকে চিন্তা করলে দস্যুপনা আদৌ কখনো ‘প্রিয়’ খেতাব পাবার কথা না। তবে প্রিয়-অপ্রিয় যেমনই হোক না কেন, ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত জলদস্যু ছিল ব্ল্যাকবিয়ার্ড। আজকের লেখা তাকে ঘিরেই।
অ্যাসাসিন্স ক্রিড গেইমে চিত্রায়িত দস্যু ব্ল্যাকবিয়ার্ড
কেউ জানে না তার জন্ম কবে। যখন তিনি মারা যান তখন তার বয়স ছিল ৩৫ থেকে ৪০ এর মাঝে। সে হিসেবে তার জন্ম হতে পারে ১৬৮০ সালের দিকে এবং সেটা ইংল্যান্ডে। তার আসল নাম এডওয়ার্ড টিচ কিংবা এডওয়ার্ড থ্যাচ। কিন্তু আসলেই কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না তার পারিবারিক নাম আসলে কী ছিল। কারণ দস্যুরা দস্যিপনা শুরু করবার সময় নাম পরিবর্তন করে ফেলত যেন পারিবারিক নামের হানি না হয়।
যারা অ্যাসাসিন্স ক্রিড গেইম সিরিজের সাথে পরিচিত, তারা হয়ত গেমটির ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ পর্ব খেলতে গিয়ে ব্ল্যাকবিয়ার্ডের দেখা পেয়েছেন। তারা হয়ত এটাও মনে রেখেছেন যে, সে সময় দাস ব্যবসা খুবই প্রকটভাবে চলছিল। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বন্দর, যেখান থেকে দাস ব্যবসা চালানো হত। সেখানেই বেড়ে ওঠেন এডওয়ার্ড।
অ্যাসাসিন্স ক্রিড গেইমের ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ পর্বের প্রচ্ছদে ব্ল্যাকবিয়ার্ড
ধারণা করা হয় তিনি খুব উচ্চ বংশ থেকেই এসেছেন, লেখাপড়াও জানতেন। তার মৃত্যুর সময় পকেটে তাকে উদ্দেশ্য করে চিফ জাস্টিস অ্যান্ড সেক্রেটারির লেখা চিঠি পাওয়া গিয়েছিল!
বড় হয়ে এডওয়ার্ড ব্রিস্টল ত্যাগ করেন, চলে যান ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দিকে, যোগদান করেন প্রাইভেটিয়ার হিসেবে। [প্রাইভেটিয়ার হলো সে সকল জাহাজ/জাহাজবাসী যারা শত্রু জাহাজ লুট করে।] তিনি এক ইংলিশ প্রাইভেটিয়ার জাহাজে (কুইন অ্যান’স ওয়ার) কিছুদিন কাজ করেন। তখন তার কাজ ছিল জামাইকা থেকে তরী ছাড়া আর স্প্যানিশ বা ফ্রেঞ্চ জাহাজের সাথে যুদ্ধ করা, যেহেতু সে সকল দেশ ছিল যুদ্ধরত ইংল্যান্ডের শত্রু। সমস্যা দেখা গেল তখনই যখন ১৭১৩ সালে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেল এবং রাজা জর্জ প্রাইভেটিয়ারদের ফেরত আনলেন। তখন বেকার হয়ে পড়লেন এডওয়ার্ড।
তখন অনেক প্রাইভেটিয়ার পাইরেট বা জলদস্যু হয়ে গেল। তাদের সাথে এডওয়ার্ডও যোগ দিলেন। কাজ করতে লাগলেন জলদস্যু ক্যাপ্টেন বেঞ্জামিন হর্নিগোল্ডের অধীনে, জাহাজের নাম ছিল রেঞ্জার। এভাবে চার বছর দস্যিপনা করবার পর তিনি ১৭১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পেলেন নিজের জাহাজ, ‘রিভেঞ্জ’। সে জাহাজে করে নিজেই ক্রু নিয়ে জাহাজ আক্রমণ করা শুরু করে দিলেন ক্যারোলাইনাস, ভার্জিনিয়া এবং ডেলাওয়ারে।
নভেম্বরের ২৮ তারিখ এডওয়ার্ড এক ফ্রেঞ্চ জাহাজ দখল করেন। নাম ছিল সেটার ‘লা কনকরদ দে নান্তে’- তার দেখা সবচেয়ে বড় জাহাজ, জৌলুশপূর্ণ। তিনি সেটা নিজের জাহাজ করে ফেললেন, নাম দিলেন “কুইন অ্যান’স রিভেঞ্জ”। এখনও পর্যন্ত সেই জাহাজ ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত জলদস্যু জাহাজ!
“কুইন অ্যান’স রিভেঞ্জ” জাহাজের বিস্তারিত অনুমিত চিত্র
এ জাহাজ চালানো শুরু করবার পর এডওয়ার্ড দাড়ি রাখতে লাগলেন, লম্বা কালো দাড়ি। সে থেকেই তার নাম হলো ব্ল্যাকবিয়ার্ড (“কালো দাড়ি”)।
তখনকার সময় জলদস্যুরা ব্যবহার করত জলি-রজার পতাকা, যেখানে থাকত খুলি আর হাড়ের ছবি। যেমনটা নিচে দেখা যাচ্ছেঃ
ক’দিন পর সেইন্ট থমাস দ্বীপের কাছে ব্রিটিশ রয়াল নেভির দানবীয় জাহাজ এইচএমএস সীফোর্ড-এর দেখা পেয়ে যায় ব্ল্যাকবিয়ার্ডের বাহিনী। তাদের সামনে ব্ল্যাকবিয়ার্ডের জাহাজে উড়িয়ে দেয়া হয় ব্রিটিশ পতাকা যেন কেউ সন্দেহ না করে। সত্যি বলতে, ব্রিটিশরা আদৌ ধরতে পারে নি যে এটা কুখ্যাত ব্ল্যাকবিয়ার্ডের জাহাজ (সাথে আরো ছোটোখাটো জাহাজও ছিল তার) এবং তাদের চলে যেতে দেয়। কিন্তু গুজব ছড়িয়ে পড়ে কীভাবে ব্ল্যাকবিয়ার্ডের দল দানবীয় ব্রিটিশ জাহাজকেও কাবু করে ফেলেছে। এই মিথ্যে ঘটনা ব্ল্যাকবিয়ার্ডের যশ আরো বাড়িয়ে দেয়।
পরের কয়েক মাসে ব্ল্যাকবিয়ার্ড গোটা চল্লিশেক জাহাজ লুট করে নেন উত্তর আমেরিকার উপকূল আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ জুড়ে। যদি কোনো জাহাজ আত্মসমর্পণ করত, তাহলে তার ক্রুদের ছেড়ে দিতেন, কিন্তু বাধা দিলেই জাহাজসহ তাদের পুড়িয়ে ফেলতেন। তিনটি বড় জাহাজ নিয়ে তিনি কিউবা আর ফ্লোরিডার উপকূল চষে বেড়াতে লাগলেন।
১৭১৮ সালের মে মাসে সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লস্টন অবরোধ করেন তিনি। জিম্মি করেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নাগরিককে। তার দাবি ছিল অদ্ভুত- কিছু ওষুধ। ওষুধ আনতে তার প্রতিনিধিদের পাঠান তিনি, কিন্তু ওষুধ নিয়ে ফিরতে তাদের বহু দেরি হয়ে যায়। জিম্মিদের তিনি খুন প্রায় করেই ফেলেছিলেন, যখন শেষ মুহূর্তে ওষুধ এসে হাজির হয়। সে ওষুধ নিয়ে তিনি ফিরে যান। আর হ্যাঁ, জিম্মিদের তিনি ছেড়ে দিয়েছিলেন।
অদ্ভুত এক ব্যাপার হলো, ব্ল্যাকবিয়ার্ড নিজের জাহাজ আর ক্রুদের নিজেই ধ্বংস করতেন। এমনকি কুইন অ্যান’স রিভেঞ্জসহ তিনটি জাহাজ তিনি নিজেই ডুবিয়ে দেন, যেন তার সম্পদে তার ক্রুরা ভাগ বসাতে না আসে। নর্থ ক্যারোলাইনাতে এসে তিনি অবশেষে রাজকীয় ক্ষমা পান এবং সেখানের গভর্নরের উপস্থিতিতে ১৪তম বিবাহ করেন, যেখানে তার ১২ জন স্ত্রী তখনও জীবিত।
পরবর্তীতে ক্ষমার ধার ধারেন নি ব্ল্যাকবিয়ার্ড, তিনি ফিরে যান আবারও দস্যিপনায়। নিজের জাহাজ “অ্যাডভেঞ্চার”-এ করে লুট করতে লাগলেন সমুদ্র জুড়ে।
যখন যুদ্ধ শুরু হতো, তখন ব্ল্যাকবিয়ার্ড তার চুলের গোড়ায় ধীরে ধীরে নেভা আগুন জ্বালিয়ে দিতেন, তাকে দেখে মনে হত তার মাথায় আগুন জ্বলছে কিন্তু তার কিছুই হচ্ছে না- শত্রুরা এমনিতেই ভড়কে যেত যুদ্ধে নামার আগেই।
১৭১৮ সালের নভেম্বরে ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যালেক্সান্ডার স্পটসউড তার মাথার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন। লেফটেন্যান্ট রবার্ট মেয়নার্ড-এর নেতৃত্বে ২২ নভেম্বর এক নাটকীয় যুদ্ধে পরাস্ত হয় ব্ল্যাকবিয়ার্ডের বাহিনী। চাতুর্যের প্রয়োগে জয় হয় মেয়নার্ডের। মারা যায় ১২ জলদস্যু আর মেয়নার্ডের ৮ জন ক্রু।
ব্ল্যাকবিয়ার্ডের লাশ পরীক্ষা করে দেখা গেল তার দেহে পাঁচটি গুলি লেগেছিল আর বিশটির মতো তরবারির আঘাত। তার পকেটে পাওয়া গেল চিঠি। তার লাশ থেকে মাথা ছিন্ন করে ফেলা হয় এবং জাহাজের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হয় প্রদর্শনের জন্য। বাকি দেহ ফেলে দেয়া হয় সাগরে। গুজব আছে, তার মাথাকাটা লাশ মেয়নার্ডের জাহাজের চারদিকে তিনবার প্রদক্ষিণ করে, এরপর ডুবে যায়। তারপর থেকে হাজারো কুসংস্কার চালু হয়ে যায় তাকে নিয়ে ক্যারিবীয় নাবিকদের মাঝে।
১৯৯৬ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার আটলান্টিক বিচের নিকটে গভীর সমুদ্র থেকে ব্ল্যাকবিয়ার্ডের জাহাজ কুইন অ্যান’স রিভেঞ্জ-এর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। তবে তখনোও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এটিই সে জাহাজ কিনা। নিশ্চিত হওয়া যায় অবশেষে ২০১১ সালে।
অসংখ্য সিনেমা কিংবা বই হয়েছে ব্ল্যাকবিয়ার্ডের ওপর, আর ইতিহাস রচনা তো হয়েছে বটেই। রবার্ট লুই স্টিভেনসনের বিখ্যাত ক্লাসিক “ট্রেজার আইল্যান্ড”-এও উপস্থিত ব্ল্যাকবিয়ার্ডের নাম। পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান আর অ্যাসাসিন্স ক্রিড-এর কথা তো আগেই বলা হয়ে গিয়েছে। এখনও তার নাম আর কুখ্যাতি রয়ে গেছে, এত শতাব্দী পরেও। আর সেই যে তার গুপ্তধনগুলো ব্ল্যাকবিয়ার্ড লুকিয়ে গেছেন কারো সাথে ভাগাভাগি করবেন না বলে, সেগুলোর খোঁজ আজও পাওয়া যায়নি। হয়ত কোনো একদিন দেখা মিলবে অজস্র সেই সম্পদের…
রঙ ও ডাই এর আবিষ্কার হয় কবে ?
লেখার শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে- রঙ আবার কে আবিষ্কার করতে পারে? পৃথিবীর প্রথম থেকেই তো নানা রকম রঙ ছিলো। প্রকৃতপক্ষে, আবিষ্কার শব্দের আভিধানিক অর্থ দুটি। একটির অর্থ যা পৃথিবীতে আগে ছিলো না, কোনো উদ্ভাবক সেটা তৈরি করেছেন। একে আবিষ্কারের থেকে উদ্ভাবন (Invention) বলাটাই ভালো হবে। অন্য একটি অর্থ হলো ‘Diবিস্তারিত পড়ুন
লেখার শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে- রঙ আবার কে আবিষ্কার করতে পারে? পৃথিবীর প্রথম থেকেই তো নানা রকম রঙ ছিলো। প্রকৃতপক্ষে, আবিষ্কার শব্দের আভিধানিক অর্থ দুটি। একটির অর্থ যা পৃথিবীতে আগে ছিলো না, কোনো উদ্ভাবক সেটা তৈরি করেছেন। একে আবিষ্কারের থেকে উদ্ভাবন (Invention) বলাটাই ভালো হবে। অন্য একটি অর্থ হলো ‘Discovery’, যা পৃথিবীতে আগে থেকেই ছিলো, কিন্তু ছিলো অজানা, কোনো এক আবিষ্কারক সেটা খুঁজে বের করেছেন। রঙ বা ডাই বা পিগমেন্ট যা-ই বলি না কেন, এদের আবিষ্কার মূলত এই দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। বাস্তবে আমরা রঙের অস্তিত্ব অনুভব করি তখনই যখন কোনো বস্তু সূর্যরশ্মির নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলিত করে।
ভৌতিক রঙ বা ডাই এর আবিষ্কার হচ্ছে মূলত সেসব বস্তুর আবিষ্কার, যেসব বস্তু নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় ও প্রয়োজনীয় বর্ণের প্রদর্শন করে। এসব রং বা ডাইয়ের ব্যবহার আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য, যেমন শার্ট-প্যান্ট, শাড়ি, লিপস্টিক থেকে শুরু করে খাবারদাবার, মাথার হেয়ার ডাই পর্যন্ত অনেক কিছুর সাথেই জড়িত আছে।
এতটুকু পড়ার পরেই আমাদের মনে এখন প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে এই রঙ বা ডাই এর আবিষ্কার হলো কীভাবে? কে বা কারা এটা আবিষ্কার করলো? এখন আমরা সেসব নিয়েই জানবো।
রঙকে আমরা দুভাগে ভাগ করতে পারি; প্রথমত প্রাকৃতিক রঙ এবং দ্বিতীয়ত সিন্থেটিক রঙ। প্রাকৃতিক রঙ সাধারণত প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায়। এসব উৎসের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছের পাতা, ফুল, ফল, বাকল, শিকড়; বিভিন্ন ধরনের প্রাণী থেকে, যেমন- সামুদ্রিক ঝিনুক-শামুক; পোকামাকড় কিংবা খনিজ উৎস থেকে, যেমন- পাথর বা কোনো আকরিক প্রভৃতি। ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের সময়ে এ দেশে যে নীলের চাষ হতো, সেটি এই প্রাকৃতিক রঙের মধ্যে পড়ে।


প্রাকৃতিক ডাই
অন্যদিকে সিন্থেটিক রঙ মূলত কোনো গবেষণাগারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার দ্বারা তৈরি করা হয়।
সিন্থেটিক ডাই
প্রাকৃতিক রঙের উৎপত্তি
রাসায়নিকভাবে রঙ বা ডাই তৈরির পূর্বে প্রাকৃতিক উৎসই ছিলো ডাই এর প্রধান উৎস। আমাদের পূর্বপুরুষেরা এসব প্রাকৃতিক উৎস থেকে রঙ আহরণ ও প্রস্তুত করতো। ঠিক কোন সময়ে এই প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার শুরু হয়েছে তা নিয়ে সঠিক কোনো ধারণা পাওয়া যায় না। কারো কারো মতে, ২৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে প্রথম প্রাকৃতিক ডাই এর ব্যবহারের নিদর্শন পাওয়া যায়। আবার অন্যদিকে স্পেনের ‘এল কাস্টিলো’ (El Castillo) গুহার ভেতরে আবিষ্কৃত রঙিন গুহাচিত্র থেকে জানা যায় যে, প্রায় ৪০,০০০ বছর আগে এসব গুহাচিত্র চিত্রিত হয়েছিলো। জর্জিয়া অঞ্চলে ফ্লাক্স ফাইবারে ব্যবহার করা ডাই থেকে জানা যায় যে, এটি প্রায় ৩৪,০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রঙিন করা হয়েছিলো।


নীল গাছ এবং প্রাপ্ত নীল বা ইন্ডিগো ডাই
প্রাকৃতিক ডাই এর ক্ষেত্রে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হচ্ছে একেক ভৌগোলিক অঞ্চলে ব্যবহৃত ডাই মূলত সেই অঞ্চলের গাছপালা কিংবা প্রাণী-পোকামাকড় থেকে তৈরি করা হয়। যেমন- ইন্ডিগো (Indigo) বা নীল নামক রঙের উৎস হচ্ছে নীলগাছ (Indigofera), যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারতবর্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে ওক গাছের পোকা থেকে তৈরি করা হয় ক্রিমসন ডাই, ককিনিয়াল (Cochineal) নামক একপ্রকার পতঙ্গ থেকে পাওয়া যায় কারমিন (Carmine) নামক লাল পিগমেন্ট।
ক্যাকটাসের উপর ককিনিয়াল কলোনি এবং প্রাপ্ত কারমিন ডাই
প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত কয়েকটি ডাই এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
ইন্ডিগো বা নীল – যা নীলগাছ থেকে পাওয়া যায় এবং নীল বর্ণ ধারণ করে। একে সবচেয়ে প্রাচীন ও বহুল ব্যবহৃত রং হিসেবে ধরা হয়।
অ্যালিজারিন (Alizarin) – অ্যালিজারিন মূলত ম্যাডার (Madder) নামক লতাবিশেষ গাছ থেকে প্রস্তুত করা লাল ডাই। এই লাল ডাই আবার ক্রেমিস বা ককিনিয়াল নামক পতঙ্গ থেকে আহরণ করা হয়।
টিরিয়ান পার্পল (Tyrian Purple) – এই রঙের মূল উৎস বিশেষ প্রকার শামুকের গ্রন্থি।
হলুদ – হলুদই মনে হয় প্রকৃতিতে প্রাপ্ত ডাই এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এর মূল উৎস বিভিন্ন ধরনের গাছের শিকড়, বাকল কিংবা ফুল।



সামুদ্রিক শামুক থেকে প্রস্তুত টিরিয়ান পারপাল
যদিও এসব ডাই প্রকৃতিতে প্রাপ্ত ও সহজলভ্য, কিন্তু এসব ডাই এর প্রস্তুতি খুবই সময়সাপেক্ষ এবং একইসাথে ব্যয়বহুল। যেমন- ধরা যাক টিরিয়ান পারপালের কথা। এটি সামুদ্রিক শামুকের গ্রন্থি থেকে তৈরি করা হয়। সামুদ্রিক শামুক অবশ্যই সহজলভ্য। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, প্রায় ১২,০০০ শামুক থেকে আহরণ করা ডাই এর পরিমাণ হবে মাত্র ১.৪ গ্রাম। এ কারণে এই ডাই খুবই দামী এবং সেসময়ের রাজপরিবারেই এই ডাই দিয়ে রঙ করা পোষাক ব্যবহার করা হত। অন্যদিকে ১,৫০,৫০০টি ককিনিয়াল পতঙ্গের শুষ্ক দেহ থেকে ১ কেজি কারমিন ডাই প্রস্তুত করা যায়।
আরো কিছু প্রাকৃতিক ডাই এবং তাদের উৎস
অষ্টাদশ শতাব্দীতে জার্মান রসায়নবিদ জোহান জ্যাকব ডিজবাখ ককিনিয়াল থেকে প্রাপ্ত কারমিন ডাই নিয়ে গবেষণাগারে কাজ করছিলেন। তিনি একপর্যায়ে এই অনুসিদ্ধান্তে আসেন যে, তিনি এই লাল কারমিন ডাই এর সাথে অ্যালাম, আয়রন বা পটাশ মেশালে একপ্রকার বিবর্ণ লাল রঙ পাওয়া যাবে। অ্যালাম এবং আয়রন দিয়ে তিনি মোটামুটি সঠিক রঙ পেলেন। কিন্তু পটাশ মেশানোর পর তিনি দেখেন যে, আরো মূল্যবান সামুদ্রিক নীল (Ocean blue) বর্ণ তৈরি হয়েছে। পটাশ মিশ্রণের পরে এটি কারমিন ডাই এর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটিয়েই নীল রঙ ধারণ করেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে নীল রঙ খুবই দুষ্প্রাপ্য। সেখানে এই নীল রঙের আবির্ভাব সত্যিই চমকপ্রদ। ডিজবাখের আবিষ্কৃত এই ডাই প্রুশিয়ান ব্লু (Prussian Blue) নামেও পরিচিত।
জোহান জ্যাকব ডিজবাখ এবং তার আবিষ্কৃত প্রুশিয়ান ব্লু
এই ঘটনার (বা দুর্ঘটনার) পর থেকে আস্তে আস্তে আরো নানা রঙের আবিষ্কার হতে থাকে। তবে প্রাকৃতিক ডাই এর ঝামেলাপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ প্রস্তুত প্রণালীর কারণে এই ডাই এর দাম ও স্বল্পতা থেকেই যায়। প্রাকৃতিক ডাই এর আরেকটি সমস্যা হচ্ছে এটি সাধারণভাবে ব্যবহার করতে গেলে আরেকটি মধ্যবর্তী যৌগের প্রয়োজন পড়ে, যাদের বলা হয় মর্ডান্ট। মর্ডান্ট ব্যবহার করার ফলে প্রাকৃতিক ডাই ব্যবহৃত বস্তুতে লেগে থাকতে পারে। কিন্তু এর ব্যবহারের ফলে অনেক সময় রঙের রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে অন্য রঙের আবির্ভাব ঘটতে পারে। আবার মর্ডান্ট ব্যবহার করা হলেও কিছুদিন পরেই প্রাকৃতিক ডাই বিবর্ণ হতে শুরু করে। ফলে প্রয়োজন হয়ে পড়ে নতুন কোনো পদ্ধতি, যার সাহায্যে সহজে ডাই প্রস্তুত করা যায় এবং যার স্থায়িত্ব হবে আরো বেশি।
সিন্থেটিক রঙের উৎপত্তি
প্রাকৃতিক ডাই এর এসব নানা সমস্যার কারণে নতুন কোনো পদ্ধতিতে রঙ বা ডাই প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়ে পড়লেও সেটি নিয়ে তখনকার কোনো রসায়নবিদ ততটা মাথা ঘামাননি। সিন্থেটিক ডাই এরও উৎপত্তি হয়েছে বলা যায় একপ্রকার দুর্ঘটনার মাধ্যমেই। আর এই দুর্ঘটনা যিনি ঘটিয়েছিলেন তিনি স্যার ঊইলিয়াম হেনরি পার্কিন।



স্যার উইলিয়াম হেনরি পার্কিন
১৮৫৬ সালে ১৮ বছর বয়সী তরুণ পার্কিন নিজের ল্যাবে কাজ করছিলেন। তিনি মূলত ম্যালেরিয়া রোগের মহৌষধ কুইনাইন নিয়ে কাজ করছিলেন যে, কীভাবে রাসায়নিকভাবে কুইনাইন তৈরি করা যায়। কারণ তখন সিঙ্কোনা উদ্ভিদ থেকে কুইনাইন প্রস্তুত করা হতো। সিঙ্কোনার পরিমাণ অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু ল্যাবে কুইনাইন তৈরি হওয়ার পরিবর্তে তার বীকারে জমা হয় থকথকে আঠালো ময়লা। তিনি যখন বীকার পরিষ্কারের জন্য এর মধ্যে অ্যালকোহল ঢেলে দেন, তখনই ঘটে সেই অবাক করা ঘটনা। তিনি দেখেন, বীকারের মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে উজ্জ্বল ফুকসিয়া-পারপাল (Fuchsia-purple) ডাই। এই দুর্ঘটনার মাধ্যমেই প্রথম সিন্থেটিক ডাই এর আবির্ভাব ঘটে। পার্কিন এই রঙের নাম দেন ‘মভেইন’ (Mauveine)। মভেইন পূর্বের প্রাকৃতিক ডাই এর থেকে অনেক বেশি স্থায়ী ছিলো।
স্যার পার্কিনের প্রস্তুতকৃত মভেইন
অষ্টাদশবর্ষী পার্কিন তার এই আবিষ্কারকে কেন্দ্র করে ব্যবসার চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করেন। তিনি এই আবিষ্কারের পেটেন্ট করেন এবং লন্ডনে নিজের ডাই ওয়ার্কশপ খুলে ফেলেন। ১৮৬২ সালে রানী ভিক্টোরিয়াও মভেইন দিয়ে ডাই করা পোষাক পরিধান করেন।
মভেইনে ডাই করা সিল্ক ফেব্রিক
স্যার পার্কিন মভেইন ছাড়াও পার্কিন’স গ্রীন নামক টার্কিস রঙ এবং ব্রিটানিয়া ভায়োলেট নামক অন্য একধরনের রঙ আবিষ্কার করেন। অ্যালিজারিন ক্রিমসন নামক পিগমেন্টের নতুন প্রস্তুত পদ্ধতি আবিষ্কারেও তিনি সহযোগিতা করেন।
মূলত স্যার পার্কিনের এই আবিষ্কারের পরে আস্তে আস্তে বিজ্ঞানীরা সিন্থেটিক ডাই তৈরির কাজ শুরু করেন। আর এখন শত-সহস্র সিন্থেটিক ডাই প্রস্তুত হচ্ছে যা খুবই স্থায়ী। কিন্তু এই ডাই এর আবিষ্কার হয়েছে দুর্ঘটনার মাধ্যমেই।
সংক্ষেপে দেখুনভুল ভুলাইয়া’ নামটির অর্থ কি? কোত্থেকেই বা আসলো এই নাম?
ভুল ভুলাইয়া নামটা শুনে অনেকের মানসপটেই হয়তো ভেসে উঠেছে অক্ষয় কুমারের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘ভুল ভুলাইয়া’ সিনেমাটির কথা। সিনেমাটির নামকরণ করা হয়েছিল ভারতের লক্ষ্মৌ রাজ্যের বড় ইমামবাড়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি গোলকধাঁধা ভুল ভুলাইয়ার নাম অনুসারে। কাবাব এবং নবাবদের শহর লক্ষ্ণৌয়ের এই গোলকধাঁধাটি ঐতিহাসিকবিস্তারিত পড়ুন
ভুল ভুলাইয়া নামটা শুনে অনেকের মানসপটেই হয়তো ভেসে উঠেছে অক্ষয় কুমারের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘ভুল ভুলাইয়া’ সিনেমাটির কথা। সিনেমাটির নামকরণ করা হয়েছিল ভারতের লক্ষ্মৌ রাজ্যের বড় ইমামবাড়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি গোলকধাঁধা ভুল ভুলাইয়ার নাম অনুসারে। কাবাব এবং নবাবদের শহর লক্ষ্ণৌয়ের এই গোলকধাঁধাটি ঐতিহাসিক দিক থেকে বেশ বিখ্যাত।
প্রায় হাজারখানি অলিগলি দিয়ে ঘেরা এই গোলকধাঁধা বিভিন্ন দেশের অভিযাত্রীদের পাশাপাশি স্থপতিদেরও আকৃষ্ট করে আসছে প্রায় দু’শ বছর ধরে। অযোধ্যার চতুর্থ নবাব আসাফ-উদ্-দৌলা ১৭৮৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় সাধারণ মানুষের থাকার একটু জায়গা করে দেয়ার জন্য বড় ইমামবাড়া তৈরি করেন। বাড়িটির কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই তা লক্ষ্ণৌয়ের গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়ে আছে। দুর্ভিক্ষ পরবর্তী সময়ে নবাবরা তাদের বিবিদের সাথে লুকোচুরি খেলতে ইমামবাড়ার অভ্যন্তরে তৈরি করেন এই গোলকধাঁধার জটিল রাজ্য। কত শত মানুষ যে ঘুরতে এসে এই গোলকধাঁধায় পথ হারায় তা গুনে শেষ করা যাবে না! একবার এক তরুণ মাতাল অবস্থায় বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে একা ঐ গোলকধাঁধায় প্রবেশ করে পথ হারিয়ে ফেলে। প্রায় দু’দিন পর ভেতরের দিকের এক গলিতে খুঁজে পাওয়া যায় তার লাশ। ইমামবাড়ার অভ্যন্তরে তাই গাইড নিয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বড় ইমামবাড়া
অনেকেই প্রশ্ন করেন ‘ভুল ভুলাইয়া’ নামটির অর্থ কি? কোত্থেকেই বা আসলো এই নাম? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া খুব একটা সহজ কাজ না। মজার ব্যাপার হলো অন্য কোনো ভাষায় এই নামটির অনুবাদ করলেও তা ঠিক যথার্থ হয় না। বাংলা ভাষায় ‘ভুল ভুলাইয়া’র অনুবাদ করার চেষ্টা করুন তো? ভুলিয়ে দেয়া বা এ ধরনের কোনো আক্ষরিক অনুবাদই এক্ষেত্রে যুতসই হবে না। ‘ভুল ভুলাইয়া’ বলতে আসলে এমন একটি জায়গার কথা বলা হয় যেখানে সহজেই যে কেউ পথ হারিয়ে ফেলবে, দিক খুঁজে পাবে না আর পরিচিত দুনিয়ায় ফেরার পথও ভুলে যাবে।
শিল্পীর তুলিতে নবাব আসাফ-উদ্-দৌলা
‘ভুল ভুলাইয়া’ সম্পর্কে জানতে হলে এর নির্মাতাদের কথা অর্থাৎ নবাবদের সম্পর্কে জানাটা খুব জরুরি। আমাদের অনেকের মধ্যেই একটা ভুল ধারণা রয়েছে। আমরা নবাব আর রাজাদের সমগোত্রীয় ভেবে ভুল করি। অনেকে বলেন মোঘল রাজারা যখন মনের সুখে রাজ্য শাসন করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই দিল্লীর আশেপাশে থেকে রাজাদের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে সুখে-শান্তিতে রাজত্ব করছিলেন নবাবরা। কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। ‘নবাব’ শব্দটি এসেছে ফার্সি শব্দ ‘নাইব’ থেকে, উৎপত্তিগত দিক থেকে যার অর্থ ‘সহকারী’। ‘নবাব’ ছিল একটি উপাধি, উত্তর ভারতের মুঘল রাজারা তাদের সহকারীদের কাজে খুশি হয়ে তাদেরকে এই উপাধিতে ভূষিত করতেন। এই উপাধিটি শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য ছিল, নারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো ‘বেগম’ খেতাবটি। বেগমদের মধ্যে তখন সবচেয়ে নামকরা ছিলেন ‘বেগম নাজরাত মহল’।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর নবাব এবং তাদের ক্ষমতা উভয়েই বিলুপ্ত হয়ে যায়, শুধু রয়ে যায় তাদের কেতাবি খেতাবটুকু। পরবর্তীতে এটি পারিবারিক পদবীতেও পরিণত হয়। এখনো পর্যন্ত লক্ষ্ণৌতে গেলে প্রকৃত নবাবদের দেখা পাওয়া যায়, যদিও তাদের ক্ষমতা আর অর্থবিত্ত অনেকটাই কমে গেছে। বলিউডের অন্যতম খ্যাতিমান তারকা সাইফ আলী খানের পিতা মনসুর আলী খান পতৌদী, যিনি ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ছিলেন, ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পতৌদীর নবাব হিসেবে সিংহাসন অলংকৃত করেন। পরবর্তীতে ভারতীয় সংবিধানের ২৬ তম সংশোধনীর মাধ্যমে নবাবদের এই উপাধি বর্জন করা হয় এবং তাদের ক্ষমতা লুপ্ত করা হয়।
অযোধ্যার প্রথম নবাব ছিলেন নবাব সাদাত খান (১৭২২-১৭৩৯)। এরপর যথাক্রমে নবাব হন নবাব সফদার জং (১৭৩৯-১৭৫৪), নবাব সুজাউদ্দৌলা (১৭৫৪-১৭৭৫) এবং নবাব আসাফ-উদ্-দৌলা (১৭৭৫-১৭৯৮)। এরপর নবাব ওয়াজের আলী, সাদাত আলী খান, নাসিরুদ্দিন হায়দারসহ আরও অনেকে নবাব হন। আমরা বরং ‘ভুল ভুলাইয়া’র নির্মাতা আসাফ-উদ্-দৌলার দিকে নজর দিই। আসাফ-উদ্-দৌলা সিংহাসনে আরোহণ করার পর থেকে অযোধ্যার রাজনীতিতে বহুবিধ পরিবর্তন আসে। ১৭৭৫ সালে তিনি অযোধ্যার দরবার ফায়জাবাদ থেকে স্থানান্তরিত করে লক্ষ্ণৌতে নিয়ে আসেন। তখনকার দিনে অখ্যাত লক্ষ্ণৌ ক্রমেই শিয়াদের সংস্কৃতিতে নতুন রূপে সজ্জিত হতে থাকে। শিয়া গোত্রীয় এই নবাবরা ইরান এবং ইরাকের অনুসরণে বেশ দাপটের সাথে একটি শিয়াভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলে। অচিরেই ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর শিয়াদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে লক্ষ্ণৌ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার দিক থেকেও বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করে শহরটি। দৌলত খানা, আসফি মসজিদ, রুমি দরোজা, বড় ইমামবাড়া, ভুল ভুলাইয়া, বিবিয়াপুর কোঠি, চিনহুট কোঠি এগুলো সব তারই কীর্তি। ক্লড মার্টিনের কনস্ট্যানিয়া ভবনটি দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নবাব। দশ লক্ষ স্বর্ণ মুদ্রার বিনিময়ে ভবনটি কিনে নিতে চান তিনি। সেই সওদা পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৭৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন নবাব আসাফ-উদ্-দৌলা।
ভুল ভুলাইয়ার অভ্যন্তরে
ভুল ভুলাইয়ার ইতিহাস জানতে হলে ভ্রমণ শুরু করতে হবে বড় ইমামবাড়ার ইতিহাস থেকে। ইমামবাড়া না কোনো মসজিদ, না দরগাহ। ইমামবাড়া এমন একটি হল যেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিয়া মুসলিমরা একত্রিত হয়, বিশেষ করে মহররম স্মরণে সেখানে ‘মাতম’-এর আয়োজন করা হয়। এশিয়ার অন্যান্য অংশে; যেমন- বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান প্রভৃতি জায়গায়ও ইমামবাড়া আছে, কিন্তু বড় ইমামবাড়া শিয়াদের মধ্যে বেশ প্রসিদ্ধ। ভুল ভুলাইয়ার সাথে মিশে আছে বড় ইমামবাড়ার অস্তিত্ব। ১৮ শতকের শেষদিকে অযোধ্যা দারুণ দুর্ভিক্ষ আর বেকারত্বের সাথে যুঝছিল। জনগণের অন্তত মাথা গোঁজার ঠাই সুনিশ্চিত করতে নবাব আসাফ-উদ্-দৌলা নির্মাণ করান বড় ইমামবাড়া। এটাকে অনেকটা এমজিএনআরইজিএ (মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট)-এর সাথে তুলনা করা যায়। এই একই কারণে ভারতে আরও বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ নির্মিত হয় যার মধ্যে রয়েছে পুনের আগা খাঁর প্রাসাদও।
চৌদ্দ বছর সময় নিয়ে ইমামবাড়া নির্মাণ করা হয়। এরপর হাত দেয়া হয় ভুল ভুলাইয়ার নির্মাণকাজে। বড় ইমামবাড়া এবং ভুল ভুলাইয়ার নির্মাণকাজে অংশ নেয়া শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করে অর্থ সংকট থেকে মুক্তি দেয়াই ছিল নবাব আসাফ-উদ্-দৌলার প্রধান উদ্দেশ্য। একটি কথা প্রচলিত আছে যে, “আম আদমিরা সারাদিন যা গড়তো রাতে রইস আদমিরা তা ধ্বংস করতো।” কথাটি হয়তো নিছকই কথার কথা, তা নাহলে মাত্র ছয় বছরে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। অনেকে আবার ইমামবাড়াকেই ‘ভুল ভুলাইয়া’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। এর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতা এতোই বিশাল যে লেখার মাধ্যমে তা হয়তো পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। ভিন্ন ভিন্ন নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে ইমামবাড়ার আটটি ঘরে। প্রতিটি ঘরেই গম্বুজ রয়েছে। ইমামবাড়ার মূল আকর্ষণ অবশ্য এর কেন্দ্রীয় ঘরটি। ৫০x১৬x১৫ মিটার আকৃতির এই ঘরে কোনো খিলান নেই, থাম নেই, কোনো লোহা বা কংক্রিট এতে ব্যবহৃত হয়নি। দেয়ালগুলোর ভার অনেক বেশি হওয়ায় ভেতরটা ফাঁপা রাখা হয়েছে যেহেতু এদের ভার নেয়ার জন্য কোনো পিলারের ব্যবস্থা করা হয়নি। দেয়ালের এই ফাঁপা জায়গাগুলোর ভেতরে ৪৮৯টি গলিপথ তৈরি করা হয়েছে, যা ‘ভুল ভুলাইয়া’ নামে পরিচিত। ১৮৫৭ সালের পর থেকে এই গলিপথগুলো লুকোচুরি খেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে।
ভুল ভুলাইয়ার অভ্যন্তরে ঘুরে বেড়ানো অভিযাত্রীরা
লুকোচুরি খেলার আদর্শ এই জায়গাটি এতোটাই চোরাগোপ্তা উপায়ে তৈরি যে, পরবর্তীতে বড় ইমামবাড়াকে ছাপিয়ে পর্যটকদের সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নেয় ‘ভুল ভুলাইয়া’। অনেকে আবার গোলকধাঁধার পাশেই একটি সুড়ঙ্গের অবস্থানও নিশ্চিত করেছেন। নবাবরা তাদের হেরেমের জেনানাদের সাথে এখানে মৌজমাস্তি করতে আসতেন বলে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজের ‘বাদশাহি আংটি’ গল্পে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংক্ষেপে দেখুনকুকুর কিভাবে মানুষের বন্ধু হলো?
ক্যাপ্টেন নামের একটি জার্মান শেফার্ড কুকুর টানা ১১ বছর ধরে রাত হলেই মনিব মিগুয়েল গুজমানের কবরের পাশে শুয়ে থাকতো। কুকুরটি প্রায়ই তার মনিবের কবরের পাশে চুপচাপ বিষণ্ণ ভঙ্গিতে বসে থাকতো। প্রভুভক্তির দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কুকুরটিকে কখনো প্রয়াত প্রভুর সমাধি থেকে আলাদা করা যেতো না। মানুষ আর কুকুরের এই গভীরবিস্তারিত পড়ুন
ক্যাপ্টেন নামের একটি জার্মান শেফার্ড কুকুর টানা ১১ বছর ধরে রাত হলেই মনিব মিগুয়েল গুজমানের কবরের পাশে শুয়ে থাকতো। কুকুরটি প্রায়ই তার মনিবের কবরের পাশে চুপচাপ বিষণ্ণ ভঙ্গিতে বসে থাকতো। প্রভুভক্তির দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কুকুরটিকে কখনো প্রয়াত প্রভুর সমাধি থেকে আলাদা করা যেতো না। মানুষ আর কুকুরের এই গভীর অনুভূতির সম্পর্কটা প্রভু-ভৃত্য বা মনিব-মান্য দিয়ে বিশেষায়িত করলে একটু কমই হয়ে যাবে।
এমন মানবিক একটি সম্পর্ক কেবল দুই বন্ধুর মাঝেই থাকতে পারে। কিন্তু কুকুরের মতো একটি প্রাণী কীভাবে মানুষের এত কাছাকাছি এলো? কীভাবে তারা মনিবের জন্য প্রাণ দিতে শিখলো? কেন তারা এত প্রভুভক্ত? কত বছরের পরিক্রমায় মানুষের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে? কে সর্বপ্রথম কুকুরকে পোষ মানিয়েছিল?

মিগুয়েল গুজম্যানের কবরের পাশে তার কুকুর ক্যাপ্টেন
কুকুরকে পোষ মানানোর ইতিহাস জানতে হলে, প্রাচীনকাল থেকে মানুষ এবং কুকুরের মধ্যকার যে পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে সেই গল্প আগে জানতে হবে। প্রথমদিকে মানুষের শিকার কাজে সঙ্গ দিতে, জিনিসপত্র দেখাশোনার কাজে, পূর্বাভাস ও সংকেত প্রাপ্তির জন্য, খাদ্যের উৎস খোজার কাজে কুকুরের সহযোগিতার সূত্র ধরে মানুষের সাথে এই প্রাণীটির সখ্যতার শুরু হয়। দিনে দিনে তা ভালবাসা এবং বন্ধুত্বে রূপ নিয়েছে। কিন্তু ঠিক কবে থেকে এই সখ্যতা বা বন্ধুত্বের শুরু তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে।
কুকুরের বিবর্তন পরীক্ষা করার জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ (mtDNA) ব্যবহার করা হয়েছে। এই গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আজ থেকে প্রায় এক লক্ষ বছর আগে নেকড়ে এবং কুকুর দুটি আলাদা প্রজাতিতে বিভক্ত হয়েছিল। এই গবেষণার আলোকে আরো ধারণা করা হচ্ছে, কুকুরকে পোষ মানানোর প্রথা সর্বপ্রথম চালু হয়েছিল আজ থেকে ৪০ হাজার বছর আগে। কিন্তু গবেষকরা এই ফলাফলের সাথে একমত হতে পারছেন না। কিছু পরীক্ষার বিশ্লেষণ মতে, কুকুরকে পোষ মানানোর সর্বপ্রথম প্রচেষ্টাটি গৃহীত হয়েছিল পূর্ব এশিয়ায়। আবার অনেক বিশ্লেষকের মতে, কুকুরকে সবার আগে পোষ মানানো হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যে এবং পরবর্তীতে ইউরোপে কুকুরকে পোষ মানানোর প্রথা চালু হয়েছিল।

প্রাচীন রোমান গ্রাফিতিতে কুকুর
দুটি স্থানে পোষা কুকুরের উৎপত্তি?
২০১৬ সালে জীব প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী গ্রেগর লারসনের নেতৃত্বে একটি গবেষণা দল এমটিডিএনএ গবেষণা প্রকাশ করেছিল। এই গবেষণাপত্রে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, কুকুরকে পোষ মানানোর আদিম রীতির উৎপত্তি একটি স্থানে না। বরং দুটি স্থানে একইসাথে কুকুরকে পোষ মানানোর চেষ্টা চলছিল। একটি ছিল পূর্ব ইউরেশিয়া অঞ্চল, আরেকটি পশ্চিম ইউরেশিয়া অঞ্চল।
প্রকাশিত গবেষণার বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, এশিয়া অঞ্চলের কুকুরগুলো এশিয়ার নেকড়েদের বংশধর। প্রায় ১২,০০০ বছর আগে এই নেকড়েদেরকে পোষ মানানোর মাধ্যমে এশীয় কুকুরদের আগমন হয়। অন্যদিকে ইউরোপের কুকুরদের আদি বংশধর হচ্ছে পুরাতন প্রস্তর যুগের ইউরোপিয়ান নেকড়ে, যাদেরকে ১৫ হাজার বছর পূর্বে মানুষ বশ্যতা স্বীকার করানোর চেষ্টা করেছিল এবং সময়ের পরিক্রমায় সেগুলো আজকের ইউরোপিয়ান কুকুরে পরিণত হয়েছে। এরপর এশিয়ান কুকুরগুলো মানুষের মাধ্যমেই ইউরোপে পৌঁছেছে এবং ইউরোপিয়ান প্রস্তরযুগের কুকুরকে ধীরে ধীরে প্রতিস্থাপিত করেছে।
এবার তাহলে ব্যাখ্যা করা যাক, আগের ডিএনএ পরীক্ষাগুলো কেন বলেছে যে নেকড়ে থেকে কুকুরের বিবর্তন এবং কুকুর পালনের ঘটনা সর্বপ্রথম শুধু একটি স্থানেই ঘটেছে এবং লারসনের গবেষণা কেন বলছে এই প্রক্রিয়া দুটি স্থানে দু’ভাবে শুরু হয়েছিল! লারসনের মতবাদ অনুসারে, প্রাচীন প্রস্তরযুগে দুই ধরনের কুকুরের অস্তিত্ব ছিল। এদের মধ্যে ইউরোপিয়ান প্রাচীন প্রস্তরযুগের কুকুরগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। কারণ সেগুলো এশিয়ান কুকুর দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে গিয়েছিল। আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। যেমন- প্রাচীন আমেরিকান কুকুরের তথ্য কোনো গবেষণায় পাওয়া যায় না কেন? গবেষক ফ্রানতস এবং অন্যান্যরা বলেন, কুকুরের বিবর্তনের উৎস হিসেবে যে দুটি প্রজাতিকে বলা হচ্ছে তাদের আদি বংশধর একই প্রজাতির নেকড়ে এবং এই দুটো ধীরে ধীরে কমে এসেছে এবং এখন অনেকটাই বিলুপ্ত।

কুকুরের এমটিডিএনএ গবেষক গ্রেগর লারসন
কুকুরের বিবর্তন নিয়ে গবেষণায় অবতীর্ণ অন্যান্য পণ্ডিতরা তদন্ত করে দেখেছেন, এশিয়া অঞ্চলের কিছু কুকুরের অভিবাসন বা মাইগ্রেশনের কিছু প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু সেগুলো ইউরোপের কুকুরকে পুরোপুরিভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারেনি। তাই তারা কুকুরের আদি জন্মস্থান হিসেবে ইউরোপকে অগ্রাহ্যও করে পারেননি।
কুকুর পোষার গোড়াপত্তন
স্বীকৃত তথ্য এবং গবেষণালব্ধ উপাত্ত অনুসারে, পোষা কুকুরের সন্ধান সর্বপ্রথম পাওয়া গিয়েছিল ১৪ হাজার বছরের পুরনো জার্মানির বন-ওবারকাসেলের একটি কবরস্থানে, যেখানে মানুষ এবং কুকুরকে কবর দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। চীনে সর্বপ্রথম পোষা কুকুরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ৭০০০-৫৮০০ খ্রিস্টপূর্বে নব্য প্রস্তরযুগে হেনান প্রদেশে। তবে মানুষ এবং কুকুরের সহাবস্থানের সর্বপ্রথম সন্ধান পাওয়া যায় ইউরোপের প্রস্তরযুগীয় উত্তরাঞ্চলে। সেই কুকুরগুলো যে অবধারিতভাবে পোষ্য কুকুর ছিল এমনটি না-ও হতে পারে। এসব অঞ্চলের মধ্যে বেলজিয়ামের গোয়েত গুহা, ফ্রান্সের চাউভেত গুহা, চেক-রিপাবলিকের প্রেডমস্তি অন্যতম।
ইউরোপে মধ্য প্রস্তরযুগের কিছু কবরস্থানে, যেমন- সুইডেনের স্কটহোমে কুকুরের সমাধির (খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫০-৩৭০০) সন্ধান পাওয়া যায়। অর্থাৎ তখন থেকেই শিকারীদের সাথে কুকুরের বন্ধুত্ব রয়েছে।

মানুষের পাশে কবরে সমাধিস্থ কুকুরের ফসিল
দক্ষিণ আমেরিকার উতাহ অঞ্চলের ডেঞ্জার গুহায় ১১ হাজার বছর আগের একটি সমাধিতে একটি কুকুরের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, কুকুরের এই প্রজাতিটিই এশিয়ান কুকুরদের পূর্বসূরি। নেকড়ের সাথে চলমান সংকরায়নের ফলে কুকুরের একটি চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য আমেরিকান কালো নেকড়ের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল। কালো পশম কুকুরের বৈশিষ্ট্য, নেকড়ের নয়।
আদিকালে কুকুরেরও ব্যক্তিত্ব ছিল!
সাইবেরিয়ার সিস বাইকল অঞ্চলে মধ্য প্রস্তরযুগ এবং নব্য প্রস্তরযুগের কিতোই সময়ের কিছু কুকুরের কবর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কুকুরকে সেই সময়ে মানুষের মতো ব্যক্তিত্ব মর্যাদা (person-hood) দেয়া হতো এবং কুকুরের সাথে মানুষের মতোই আচরণ করা হতো। শামানাকা অঞ্চলের একটি কবরস্থানে মধ্যবয়স্ক একটি কুকুরের সমাধি পাওয়া গিয়েছিল। কুকুরটি মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছিল, আঘাত থেকে সেরেও উঠেছিল সম্ভবত। প্রায় ৬,২০০ বছরের পুরনো সেই সমাধিক্ষেত্রে কুকুরটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। একই উপায়ে সমাধিক্ষেত্রটিতে মানুষকেও সমাধিস্থ করা হতো।
লোকোমোটিভ রাইসোভেতের প্রায় ৭,৩০০ বছরের পুরোনো সমাধিক্ষেত্রে একটি নেকড়ের কবর আছে। এই নেকড়েটি ছিল পুরুষ নেকড়ে। নেকড়েটির রেডিও-কার্বন পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এর খাদ্যাভ্যাসে হরিণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নেকড়েটির দাঁতে কোনো দাগ বা ক্ষত ছিল না। ফলে নেকড়েটি তৎকালীন মানব জনগোষ্ঠী ও কুকুর সম্প্রদায়ের অংশ ছিল কি না তার সরাসরি কোনো প্রমাণ নেই। তবে নেকড়েটিকেও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।

রয়্যাল বেলজিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ন্যাচারাল সায়েন্সে একটু প্রাচীন কুকুরের খুলি
এই কবরগুলো ব্যতিক্রম হলেও তেমন একটা বিরল নয়। এরকম আরো কিছু কবর রয়েছে। বৈকাল হ্রদ অঞ্চলের কিছু ঢিবিতে কুকুর এবং নেকড়ের হাড়ের দেহাবশেষ দেখা যায়। ধারণা করা হয়, সেখানকার মৎস্য শিকারিরা তাদের সাথে কুকুর রাখতেন। প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী রবার্ট লুসাই এবং তার সহকারীরা এই গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন, তারা ধারণা করেন, এইসব কবর এবং প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্ন প্রমাণ করে যে, অন্তত এইসব কুকুরগুলোকে তখনকার সময়ে মানুষের মর্যাদা দিয়েছিল।
আধুনিক প্রজাতি এবং প্রাচীন প্রজাতির তুলনা
ইউরোপিয়ান প্রস্তরযুগের কিছু অঞ্চলে কুকুরে প্রজাতিগত বৈচিত্র্যর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ১৫,৫০০-১১,০০০ বছরের পুরনো মধ্যম আকারের কুকুরের অস্তিত্ব অদূর প্রাচ্যের নাটুফিয়ান অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছিল। ১৭,০০০ থেকে ১৩,০০০ বছরের পুরনো মধ্যম বা বড় আকারের কিছু কুকুরের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল জার্মানি, রাশিয়া এবং ইউক্রেনে। ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডের কিছু জায়গায় ১৫,০০০ থেকে ১২,৩০০ বছরের পুরনো ছোট আকৃতির কিছু কুকুরের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসএনপি (সিংগেল নিউক্লিওটাইড পলিমরফিজম) নামক একধরনের ডিএনএ গবেষণা ২০১২ সালে কুকুরের প্রজাতি এবং বিবর্তন সম্পর্কে একটি চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছিল। এই গবেষণায় বলা হয়েছিল, প্রাচীনকালের বিভিন্ন আকৃতির কুকুরের অস্তিত্বের যে প্রমাণ পাওয়া যায় তার সাথে আধুনিক প্রজাতির কুকুরের কোনো সম্পর্কই নেই! আধুনিক কুকুরের যেসব প্রজাতি দেখা যায় তার মধ্যে সবচাইতে পুরনো প্রজাতিটি খুব বেশি হলে ৫০০ বছরের পুরনো এবং কম করে হলেও ১৫০ বছরের পুরনো প্রজাতি।

অক্সফোর্ড মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে বিভিন্ন আকার আকৃতির কুকুরের হাড় এবং দাঁত
আধুনিক কুকুরের বংশগতি তত্ত্ব
বর্তমানে আমরা কুকুরের যেসব প্রজাতি দেখতে পাই তাদের বেশির ভাগেরই বিকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এ নিয়ে অবশ্য গবেষকদের মধ্যে তেমন একটা দ্বিমত নেই। তবে কুকুরের প্রজাতিতে যেসব বিশেষ ভিন্নতা দেখা যায় সেটি তাদের আদি প্রজাতির রূপ হিসেবেই ধরা হয়ে থাকে। কুকুরের প্রজাতি আকার এবং আকৃতিতে বিভিন্ন সাইজের এবং ওজনের হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির আবার মুখাবয়ব, মাথার গড়ন, ঠোঁট আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। দক্ষতার দিক থেকেও একেক প্রজাতির কুকুর একেক রকমের হয়ে থাকে। কোনো কোনো প্রজাতি শিকার শনাক্ত করতে পারদর্শী, কোনোটি ঘ্রাণশক্তিতে দক্ষ, কোনোটি আবার সহকারী হিসেবে দক্ষ।

চারিত্রিক এবং গঠনগত দিক দিয়ে নেকড়ে থেকে আগত আধুনিক কুকুরের প্রকারভেদ
কুকুরের প্রজাতিতে এরকম ভিন্নতা থাকার একটি কারণ হতে পারে প্রাচীনকাল থেকে শিকারী জনগোষ্ঠীর সাথে বসবাস এবং একেক সময়ে একেক স্থানে স্থানান্তরিত হয়ে যাওয়া। তারপর মানুষ এবং কুকুর একইসাথে ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে বিকশিত হতে থাকে। প্রাচীনকালে অল্প সংখ্যক কুকুরের প্রজাতি বিকশিত হলেও, সভ্যতা যত এগিয়েছে এবং মানুষের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়েছে, সেই সাথে বেড়েছে কুকুরের প্রজাতিও।
কারণ মানুষ যখনই এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়েছে, এক কাজ থেকে আরেক কাজে নিজেদের নিয়োগ করেছে, তখনই এই বন্ধুপ্রতীম প্রাণীটিকে তারা সাথে রেখেছে। ফলে কুকুরের প্রজাতির বিকাশও বেড়েছে আগের চাইতে বেশি হারে। পোষা কুকুরের বিকাশ কবে কোথায় কীভাবে শুরু হয়েছিল তা নিয়ে গবেষকদের নানা রকমের মতামত থাকলেও কুকুর যে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের বন্ধু হিসেবে মানুষকে ভালবেসেছে এবং ভালবাসা পেয়েছে তা নিয়ে কারো দ্বিমত থাকবে না।
সংক্ষেপে দেখুনক্যালকুলাসের প্রথম আবিষ্কারক নিউটন নাকি লিবনিজ?
বিজ্ঞানের হাজার বছরের ইতিহাসে অনেক তত্ত্বই যুগপৎভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে। যেমন- মাইকেল ফ্যারাডে ও জোসেফ হেনরির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন আবিষ্কার ছিল সমসাময়িক। এরপর চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস একই সময়ে ‘প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন’ তত্ত্বের ধারণা প্রদান করেন। এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন
বিজ্ঞানের হাজার বছরের ইতিহাসে অনেক তত্ত্বই যুগপৎভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে। যেমন- মাইকেল ফ্যারাডে ও জোসেফ হেনরির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন আবিষ্কার ছিল সমসাময়িক। এরপর চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস একই সময়ে ‘প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন’ তত্ত্বের ধারণা প্রদান করেন।
এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর একটিও আইজ্যাক নিউটন ও গটফ্রেড লিবনিজের ক্যালকুলাস তত্ত্বের মতো বিতর্কিত হয়নি। বর্তমানে নিউটন ও লিবনিজ দুজনকেই ক্যালকুলাসের জনক বলা হয়। কিন্তু একসময় এই তত্ত্ব নিয়ে দুই গণিতবিদ বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। তাদের দুজনের মধ্যে কে সবার আগে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছেন, সেটি ছিল বিবাদের মূল কারণ। এই বিতর্ককে ঘিরে বেশ কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি হয়েছিল, যেটা বেশ কয়েক বছর চলমান ছিল।

গণিতের বিতর্কিত এক অধ্যায়ের সাথে জড়িয়ে আছে নিউটন ও লিবনিজের নাম
ব্যারো নামে আইজ্যাক নিউটনের একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ক্যালকুলাস সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু ধারণা প্রদান করেন। কিন্তু তিনি তখন ক্যালকুলাসের তাৎপর্য বুঝতে পারেননি। সেই কারণে তিনি এই বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেননি এবং তার প্রাথমিক ধারণাগুলোও জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি। কিন্তু নিউটন যেহেতু ব্যারোর ছাত্র ছিলেন, সেই সূত্রে তিনি তার শিক্ষকের কাছে থেকে ক্যালকুলাসের সামান্য কিছু ধারণা পান। পরবর্তীতে তিনি তার শিক্ষকের দেয়া ধারণাকে কাজে লাগিয়ে ক্যালকুলাসের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।
কিন্তু আইজ্যাক নিউটন প্রথম থেকেই কিছুটা প্রচারবিমুখ ছিলেন। তিনি তার আবিষ্কৃত বিভিন্ন তত্ত্ব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন না। একই কাজ তিনি ক্যালকুলাসের ক্ষেত্রেও করেন। সপ্তদশ শতকের ষাটের দশক থেকে তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন এবং ১৬৬৪-৬৬ সালের মধ্যে তিনি ক্যালকুলাসের মূল বিষয়গুলো আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। এরপর নিউটন ১৬৬৯, ১৬৭১ ও ১৬৭৬ সালে ক্যালকুলাস নিয়ে ৩টি আলাদা গবেষণাপত্র লেখেন। কিন্তু তিনি সেগুলোর একটিও সেই সময়ে প্রকাশ করেননি। ১৬৬৯ সালে তিনি যে তত্ত্ব লেখেন, সেটি প্রকাশ হয় ১৭১১ সালে, অর্থাৎ ৪২ বছর পর। দ্বিতীয় গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয় ১৭৩৬ সালে, তার মৃত্যুরও ৯ বছর পর। তবে সর্বশেষ তত্ত্বকোষটি তিনি ১৭০৪ সালে প্রকাশ করেন।


স্যার আইজ্যাক নিউটন
অষ্টাদশ শতকের আগে ক্যালকুলাস নিয়ে নিউটনের কোনো তত্ত্বই জনসম্মুখে প্রকাশ হয়নি। তবে ১৬৮৪ সালে লেইপজিগ সাময়িকীতে তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে ‘অ্যাক্টা এরুডিটোরাম‘ নামে একটি অসমাপ্ত গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি তার আবিষ্কৃত তত্ত্বসমূহ গোপনে বন্ধুদের মাঝে চিঠি আকারেও বিলি করতেন। এই চিঠিগুলোর একটি লিবনিজও পেয়েছিলেন। তবে সেই চিঠিতে নিউটন ক্যালকুলাস সম্পর্কে যা লিখেছিলেন, সেটি পুরো অস্পষ্ট ছিল। এছাড়া অনেক বিষয় তিনি ইচ্ছা করে এড়িয়ে যান, যাতে কেউ তার তত্ত্ব চুরি করতে না পারে। অন্যদিকে, সপ্তদশ শতকের সত্তরের দশকের মাঝামাঝিতে লিবনিজও ক্যালকুলাস আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। ১৬৭৪ সালে তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে তার চিন্তাভাবনাকে প্রকাশ করতে শুরু করেন এবং ১৬৮৪ তিনি এই বিষয়ে লিখিত আকারে তত্ত্ব প্রকাশ করেন। কিন্তু তার ছয় পৃষ্ঠার সেই তত্ত্বটি বেশ অস্পষ্ট এবং অনেকের কাছে বোধগম্য ছিল না। তবে সেই সময়ে ক্যালকুলাস নিয়ে তার তত্ত্বটি সঠিক ছিল।
গটফ্রেড লিবনিজ
বিতর্কের আদ্যোপান্ত
প্রথমদিকে নিউটন ও লিবনিজ দুজনেই একে অপরকে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে সম্মান করতেন। কিন্তু তাদের একজন বন্ধু বিখ্যাত দুই গণিতবিদকে মুখোমুখি দাঁড় করান। ১৬৯৬ সালে লিবনিজের একজন বন্ধু নিউটনকে তার ক্যালকুলাস তত্ত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। তিনি ভেবেছিলেন, নিউটন তার উত্থাপিত সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। কিন্তু নিউটন ও লিবনিজ উভয়ই সেই সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হন। কিন্তু এই ঘটনার পর লিবনিজ এক প্রবন্ধে নিউটনের এক বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক এবং এ বিষয়ে নিউটন তার শিষ্য। নিউটনের বন্ধু বিষয়টি পুরোপুরি হজম করতে পারেননি। তিনি বেশ রাগের সাথে পূর্বে উত্থাপিত সমস্যার বিচার বিশ্লেষণ তুলে ধরেন এবং পরোক্ষভাবে লিবনিজের বিরুদ্ধে নিউটনের লেখা চুরির অভিযোগ করেন।
তিনি প্রমাণ হিসেবে বহু বছর আগে লিবনিজের কাছে ক্যালকুলাস নিয়ে নিউটনের পাঠানো চিঠিকে সামনে আনেন। কিন্তু মূলত সেই চিঠিতে নিউটন ক্যালকুলাস নিয়ে নিজের তত্ত্বের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যাই প্রদান করেননি। এরপর বেশ কয়েক বছর এই বিষয়টি চাপা পড়ে ছিল। কিন্তু ১৭০৫ সালে লিবনিজ নিউটনের ক্যালকুলাস সম্পর্কিত কিছু কাজ রিভিউ করে নিজেদের দুজন বিজ্ঞানীর সাথে তুলনা করেন, যারা উন্নততর কিছু আবিষ্কারের উদ্দেশ্য জুটি বেঁধেছিলেন। কিন্তু নিউটনের একজন বন্ধু লিবনিজের এই বিষয়টিকে লেখা চুরির নতুন ফন্দি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। সম্ভবত লিবনিজ যে দুজন বিজ্ঞানীর উদাহরণ টেনেছিলেন, তারা একে অপরের তত্ত্ব চুরি করেছিলেন।

লন্ডনের বিখ্যাত রয়্যাল সোসাইটি
এই ঘটনার কিছুদিন পরেই নিউটনের সেই বন্ধু লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি থেকে একটি দলিল প্রকাশ করেন এবং সেখানে তিনি নিউটনকে সন্দেহাতীতভাবে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই সাথে তিনি লেখেন, লিবনিজ নিউটনের তত্ত্ব চুরি করেছেন এবং কিছু কাটছাঁট করে নিজের নামে তা প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি লিবনিজের জন্য ছিল চরম অপমানজনক। তিনি বেশ ক্রুদ্ধ হয়ে রয়্যাল সোসাইটি বরাবর চিঠি লিখে ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু ক্ষমা তো দূরে থাক, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লিবনিজকে প্রতি আক্রমণ করে চিঠি পাঠানো হয় এবং সেখানে তার প্রতি সমস্ত অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জবাবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চেয়ে লিবনিজ আরো একটি চিঠি পাঠান।
রয়্যাল সোসাইটি লিবনিজের দাবির পক্ষে সাড়া দেয়। তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই সময়ে রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি ছিলেন আইজ্যাক নিউটন। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি সেই কমিটির সদস্য হিসেবে না থাকলেও, তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেটি পুরোপুরি তার পক্ষে ছিল। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদনটি নিউটন নিজ হাতে লিখেছিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে তুলে ধরেন এবং লিবনিজ তার তত্ত্ব চুরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে লেখেন।

এ নিয়ে রয়েছে অনেক রম্য কার্টুন
লিবনিজ ও তার বন্ধুদের জন্য এটি ছিল অনেক বড় পরাজয়। তারা নিউটনের বিপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করে নিজেদের দাবির পক্ষে লিফলেট প্রকাশ করে প্রচার করেন। এর বেশ কয়েক বছর পরও গণিতশাস্ত্রের অন্যতম সেরা দুই বিজ্ঞানী একে অপরের বিপক্ষে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ অব্যাহত রাখেন এবং পূর্বে প্রকাশিত যুক্তিতর্কগুলো পরিমার্জন করে প্রকাশ করতে থাকেন। এমনকি লিবনিজের মৃত্যুর পরও তার বিরুদ্ধে নিউটনের তত্ত্ব চুরির অভিযোগের উপর বিভিন্ন যুক্তিতর্ক ও প্রমাণ প্রচার করা হয়।
এত বিতর্কের পরও বিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত নিউটন ও লিবনিজ উভয়কে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে মানা হতো। কিন্তু গত শতাব্দীতে এসে বিজ্ঞানীরা একমত হন যে, নিউটন সর্বপ্রথম ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছেন। তিনি ১৬৬৫-৬৬ সালে দিকে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেন। তবে লিবনিজ নিউটনের সাথে কোনো যোগাযোগ ব্যতিরেকে নিজ প্রচেষ্টায় ১৬৭৫-৭৬ সালে ক্যালকুলাসের মূল নীতিসমূহ আবিষ্কার করেন।

ক্যালকুলাস বিতর্ক নিয়ে ট্রল
তবে দিন শেষে প্রকৃত বিজয় হয়েছে লিবনিজেরই। কারণ নিউটন যে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন, সেটি ছিল বড্ড সেকেলে। ফলে সেটি ইতোমধ্যে জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। তবে লিবনিজের ক্যালকুলাস ছিল বাস্তবভিত্তিক। বর্তমানে স্কুল-কলেজে যে ক্যালকুলাস চর্চা করা হয়, তার শতকরা ১০০ ভাগই লিবনিজের আবিষ্কৃত ক্যালকুলাস। ফলে তিনি ক্যালকুলাসের দ্বিতীয় আবিষ্কারক হলেও তার সৃষ্টিকর্মই স্থায়ীত্ব লাভ করেছে।
বিজ্ঞানের সূচনালগ্ন থেকেই হয়তো নানা বিষয়ে নানা বিজ্ঞানী বা গবেষকের মধ্যে মতামত কিংবা তত্ত্বের অমিল হয়েছে, কিংবা কারো কারো ক্ষেত্রে তাঁদের একজনের গবেষণার সাথে হয়তো আরেকজনের গবেষণা কাজের মধ্যে অনেক মিল লক্ষ করা গেছে। এই নিয়ে হয়তো তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বও হয়েছে বেশ। এরকমটা হতেই পারে। বিজ্ঞানের ইতিহাস ঘাঁটলে এরকম অনেকগুলো তত্ত্ব বা আবিষ্কার পাওয়া যাবে যা নিয়ে হয়তো দুই গবেষক বা বিজ্ঞানীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছে যে, কে সেই তত্ত্ব বা আবিষ্কারের আসল জনক?
সেরকম এক বিতর্কের জন্ম হয়েছিলো ১৭ শতকে। বিষয় হলো ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক কে এই নিয়ে। যারা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে বা পড়েছে, কিংবা অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন, তারাই ক্যালকুলাস সম্বন্ধে জ্ঞান রাখেন। অনেকের কাছেই গণিতের এই শাখা খুবই জটিল বলে বিবেচিত হয়। তো যে জিনিসের আবিষ্কারক নিয়েই বিতর্ক, সেটা জটিল হলে বেমানান হবে না একেবার। আগের কথায় ফিরে আসা যাক। ১৭ শতকের দিকে বিজ্ঞানী নিউটন ও গণিতবিদ লিবনিজের মধ্যে ইনফিনিটেসিমাল ক্যালকুলাস আবিষ্কার নিয়েই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নিউটন ও লিবনিজ তাঁদের পরবর্তী জীবনে এই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় মোটামুটি একধরনের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে পড়েন।
মহামতি নিউটন
বর্তমানে আমরা সাধারণত কোনো গবেষণাপত্র যিনি আগে প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রকাশ করেন, তিনিই হন ঐ গবেষণার স্বত্বাধিকারী। কিন্তু সেসময়ে, অর্থাৎ ১৭ শতকে কিন্তু এই সুযোগ ছিলো না। ফলে সেসময়ে নিউটন এবং লিবনিজের উভয়ের মধ্যে স্বত্বাধিকার নিয়ে ভীতি অবশ্যই ছিলো। আর তাছাড়া সেসময়ে এক গবেষকের লেখা গবেষণাপত্র আরেক নীতিহীন গবেষক হয়তো চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দিতেন। কাজেই নিজেদের গবেষণাপত্র নিয়ে বিজ্ঞানীগণ থাকতেন ভীত।
গণিতবিদ লিবনিজ
তো সেসময়ে কে হবেন গবেষণার জনক, এই বিষয়ে নীতি ছিলো যে নিকট বন্ধু কিংবা সহকর্মীর কাছে এই গবেষণার কথা বলা এবং কখনো কখনো নিজের ব্যক্তিগত নোটটিও দেখানো। এখন সেখানেও রচনা চুরির একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। এসবের কারণেই মূলত নিউটন এবং লিবনিজের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। তাঁরা দুজনেই মনে করতেন যে একজন আরেকজনের গবেষণা চুরি করেছেন। চলুন জানা যাক যে আসলে কে আবিষ্কার করলো ক্যালকুলাস; নিউটন? নাকি লিবনিজ?
ক্যালকুলাসের সূচনা যেখান থেকে
যদিও এখানে বলা হচ্ছে যে, ক্যালকুলাস আবিষ্কার নিয়ে নিউটন এবং লিবনিজের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিন্তু তাঁরা আসলে কেউই ক্যালকুলাসকে নিজেদের বুদ্ধিমত্তার দ্বারা আবিষ্কার করেননি। কারণ ক্যালকুলাস আবিষ্কৃত হয়েছে আরো অনেক আগে। বরং বলা যায় যে, পূর্বতন গণিতবিদ, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কৃত কাজের শেষ পরিণতি দিয়েছেন নিউটন এবং লিবনিজ। তাঁরা ছড়ানো ছিটানো বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছেন এবং একটি পরিপূর্ণ গণিতভিত্তিক রূপ প্রদান করেছেন।
প্রাচীনকালের অনেক গণিতবিদের চিন্তাধারাই ইন্টিগ্র্যাল ক্যালকুলাস বা সমাকলনের ধারণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলো। যদিও সেই ধারণা যথাযথ সুসঙ্গত ও নিয়মতান্ত্রিক ছিলো না। খ্রিস্টপূর্ব ১৮২০ সালের দিকে মিশরে (Egyptian Moscow Papyrus) ক্ষেত্রফল ও আয়তন নির্ণয়ের জন্য ক্যালকুলাসের মতোই পদ্ধতি ব্যবহৃত হত। কিন্তু সূত্রগুলো ছিলো গুটিকয়েক বাস্তবসংখ্যার প্রেক্ষিতে, অর্থাৎ বাস্তবিক কোনো সূত্র ছিলো না। কিছু কিছু পদ্ধতি আপেক্ষিকভাবে সঠিক ছিলো, কিন্তু সেগুলোর সঠিক প্রতিপাদনও ছিলো না। খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতকে ভারতীয় উপমহাদেশের গণিতবিদগণ ত্রিকোণমিতিকে অনেক সমৃদ্ধ করেছিলেন যা ‘সুল্বা সূত্র’ নামক গ্রন্থভুক্ত করা হয়। তাঁরা কয়েকটি ত্রিকোণমিতিক ফাংশনের প্রায় সঠিক ডিফারেন্সিয়েশন বা ব্যবকলন করতে সক্ষম হন।
বৃত্তের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের জন্য আর্কিমিডিসের পদ্ধতি
গ্রিসে ইউডক্সাস ‘মেথড অব এক্সাশন’ বা অবসাদ পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষেত্রফল ও আয়তন নির্ণয়ের জন্য লিমিট ধারণার সূত্রপাত করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস এই ধারণাকে আরো সুসংবদ্ধ ও উন্নত করেন এবং ‘হিউরিস্টিক’ (ন্যায়শাস্ত্রগত অনুসন্ধানবিদ্যা) প্রণয়ন করেন, যা ছিলো সমাকলনেরই প্রতিচ্ছবি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি বৃত্তের অন্তর্গত ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতে সক্ষম হন। আর্কিমিডিস প্রথম অনিয়মিত বক্ররেখার স্পর্শক নির্ণয়ের জন্য এমন এক পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যা ব্যবকলনের সদৃশ। যখন তিনি সর্পিলাকার বক্ররেখা নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন তিনি পয়েন্ট মোশন বা বিন্দুগতিকে ২টি অংশে ভাগ করেন- (১) ব্যাসার্ধ গতি এবং (২) বৃত্তীয় গতি এবং উভয় প্রকার গতিকে সংযুক্ত করতে থাকেন। এভাবে বক্ররেখাটির স্পর্শক বের করেন।
চতুর্থ শতকে চীনে লিউ হু কর্তৃক মেথড অব এক্সাশন পুনরাবিষ্কৃত হয়। পঞ্চম শতকে Zu Chongzhi কর্তৃক আরো এক পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়, যা পরবর্তীতে ক্যাভেলিয়ারি’স প্রিন্সিপাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই নীতির সাহায্যে গোলকের আয়তন নির্ণয় করা সম্ভব ছিলো।
প্রায় ১৭ শতক পর্যন্ত যতদিন না ‘Method of Indivisible’ আবিষ্কৃত হয় এবং সর্বোপরি নিউটন কর্তৃক সমাকলনের কাঠামো হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না হয়, ততদিন বিজ্ঞানীরা একে গ্রহণ করেননি।
নিউটন? নাকি লিবনিজ?
নিউটনের শিক্ষক এবং পূর্বসূরী ছিলেন ক্যামব্রিজের গণিত বিভাগের লুকাসিয়ান অধ্যাপক আইজ্যাক ব্যারো। ব্যারো তাঁর ‘জিওমেট্রিক্যাল লেকচারস’ গ্রন্থে ক্যালকুলাসের মৌলিক ধারণার কথা লিখে গেছেন। পরবর্তীতে নিউটন সেই নীতিগুলো সূত্রবদ্ধ করতে শুরু করেন। বিজ্ঞানী নিউটন ছিলেন গবেষণাপত্রের আবিষ্কার নিয়ে যেকোনো ধরনের বিতর্কবিরোধী। কিন্তু এই মনোভাবের ফলেই তিনি আসলে শেষপর্যন্ত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ১৬৬০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিজ্ঞানী নিউটন ক্যালকুলাস সম্বন্ধে তাঁর ধারণাগুলো সূত্রবদ্ধ করা শুরু করেন। ১৬৬৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ‘ফ্লাক্সিওন’ সম্পর্কিত তাঁর তত্ত্ব লিপিবদ্ধ করেন। তিনি এরপর ক্যালকুলাসের উপর বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র তৈরি করেন, কিন্তু তিনি সেগুলো কোথাও প্রকাশ করেননি তখন। ক্যালকুলাস সম্পর্কিত তাঁর অধিকাংশ গবেষণাপত্রই তখন অপ্রকাশিত থেকে যায়, যা প্রকাশিত হয় ১৮ শতকের শুরুর দিকে এসে। কিছু কিছু গবেষণাপত্র তাঁর মৃত্যুর পরেও প্রকাশিত হয়।
তো গবেষণা ও গবেষণাপত্রের কথা বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, বিজ্ঞানী নিউটন বেশ আগেই ক্যালকুলাস সম্বন্ধে তাঁর গবেষণা ও অনুসন্ধান শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাঁর গবেষণাপত্রগুলো ১৮ শতকের আগে প্রকাশ হয়নি। যদিও তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মীদের তাঁর কাজের সম্বন্ধে বলতেন। এখন ১৬৬৫-৬৬ সালে যখন নিউটন তাঁর ফ্লাক্সিওন তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন, তখন লিবনিজের বয়স ছিলো ২০ বছরের মতো। কাজেই তাঁর তখন গণিতের সত্যিকার জ্ঞান থাকা কিছুটা অসম্ভব। অন্ততপক্ষে ক্যালকুলাসের মতো একটা জটিল শাখা নিয়ে গবেষণা করা তো আরো অসম্ভব। তবে কি লিবনিজ নিউটনের গবেষণার মূল ধারণা চুরি করেছিলেন?
কে আবিষ্কার করলেন ক্যালকুলাস- নিউটন? নাকি লিবনিজ?
নিউটনের অনুসারীদের কথা বাদ দিয়ে যদি আমরা নিরপেক্ষ ইতিহাস পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখা যাবে যে আসলে লিবনিজ নিউটনের কোনো তত্ত্ব বা ধারণা চুরি করেননি। তিনি স্বতন্ত্রভাবেই ক্যালকুলাস সম্পর্কে তাঁর ধারণা ও সূত্রসমূহ লিপিবদ্ধ করেন। তিনি এ সম্পর্কে গবেষণা শুরু করেন ১৬৭০ সাল থেকে এবং ১৬৭৪ সালে তিনি এই সম্পর্কে তিনি সবাইকে বলেন। তিনি যে গবেষণাপত্রটি তৈরি করেছিলেন, সেটি প্রকাশিত হয় ১৬৮৪ সালে এসে। অর্থাৎ, প্রায় ১০ বছর পরে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। তাঁর গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিলো ‘A New Method for Maxima and Minima, as Well Tangents, Which is not Obstructed by Fractional or Irrational Quantities’ ৬ পৃষ্ঠার এই গবেষণাপত্রটি ছিলো বেশ অস্পষ্ট এবং দুর্বোধ্য।
কিন্তু চিন্তার ব্যাপার হচ্ছে যে, একদিকে নিউটন লিবনিজের বেশ কয়েক বছর আগেই তাঁর গবেষণা কাজ লিপিবদ্ধ করেছিলেন কিন্ত সেগুলো প্রকাশ পেয়েছিলো ১৮ শতকে এসে। অন্যদিকে লিবনিজ কাজ শুরু করেছিলেন নিউটনের বেশ কয়েক বছর পরে এসে। অথচ গবেষণাপত্র প্রকাশ করে ফেললেন নিউটনের আগে। ব্যাপারটা এখানে গোলমেলে হয়ে গেলো। কিন্তু নিউটন এবং লিবনিজ উভয়েই স্বতন্ত্রভাবে ক্যালকুলাস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখন নিউটন যেহেতু আগে গবেষণা শুরু করেছিলেন, সেহেতু তাঁকে ধরা হলো প্রথম আবিষ্কারক এবং লিবনিজ ২য় আবিষ্কারক। সেটাও অমীমাংসিত থেকে গেলো। কারণ এখানে দুইজনেই আলাদা আলাদা ভাবে আবিষ্কার করেছে ক্যালকুলাস। কাজেই প্রথম কিংবা দ্বিতীয় বলা হলে তাঁদের কোনো একজনকে হেয় করা হয়। বরং আমরা বলতে পারি তাঁরা দুইজন ক্যালকুলাসের সহ-আবিষ্কারক।
কিন্তু সেসময়ে মহামতি নিউটনের অনুসারীরা লিবনিজের বিরুদ্ধে গবেষণা চুরির অভিযোগ করেন। কেউ কেউ তাঁকে জার্মানির একজন বৈজ্ঞানিক গুপ্তচর হিসেবেও আখ্যায়িত করেন, যিনি কিনা জার্মানির বাইরের বিজ্ঞানীদের গবেষণা চুরি করে জার্মানিতে নিয়ে যান। লিবনিজ লন্ডনে এসেছিলেন কয়েকবার। এই ঘটনাকে তাঁরা গুপ্তচরবৃত্তির কারণ হিসেবেও দেখালেন নিউটনপন্থীরা। এভাবে ১৭ শতকের শেষের দিকে এসে এই দুই বিজ্ঞানী ক্যালকুলাস আবিষ্কার নিয়ে দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হন।
এই বিতর্ক খুব জটিল হয়ে ওঠে একসময়। কিন্তু নিউটন সম্পর্কে লিবনিজ বলেন যে,
নিউটনের কাছে লেখা লিবনিজের চিঠি
লিবনিজ মাঝে মধ্যেই লন্ডনে আসতেন। নিউটন তাঁর গবেষণা সম্বন্ধে তাঁর নিকট বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে যে কথা বলতেন সে সম্পর্কে আগেই বলা হয়েছে। এঁদের অনেকেই ছিলো লিবনিজের ঘনিষ্ঠ। কাজেই নিউটনের অনুসারীরা মনে করেন যে লিবনিজ এঁদের কাছে ক্যালকুলাস সম্পর্কে নিউটনের কাজ সম্বন্ধে জেনেছেন। মজার ব্যাপার হলো, নিউটন এবং লিবনিজের মাঝে একসময় চিঠির আদান-প্রদান হতো নিয়মিত। তাঁরা তাঁদের চিঠিতে গণিত সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা করতেন। নিউটন চিঠিতে লিবনিজকে তাঁর গবেষণা সম্বন্ধেও জানাতেন। যা-ই হোক, লিবনিজের অপ্রকাশিত গবেষণাপত্র পরীক্ষা করে জানা যায় যে নিউটনের সাথে সাহচর্য থাকার পরেও তিনি ক্যালকুলাসের গবেষণা করেছেন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, যেখানে নিউটনের গবেষণার প্রভাব নেই।
লিবনিজ যখন গণিতের একজন শিক্ষানবিশ, তখন তিনি লন্ডনে আসেন। সেখানে তিনি নিউটনের সম্বন্ধে অল্প অল্প শোনেন। যদিও তিনি সরাসরি তখন নিউটনের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। কিন্তু রয়্যাল সোসাইটিতে নিউটনের দুজন বিশেষ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, হেনরি ওল্ডেনবার্গ এবং জন কলিনসের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তখনো নিউটনের কাজ প্রিন্ট মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। কাজেই লিবনিজ নিউটনের কাজ চাক্ষুষ দেখেননি। হতে পারে যে তিনি ওল্ডেনবার্গ ও কলিনসের আছে নিউটনের কাজ সম্পর্কে শুনেছিলেন।
লিবনিজ লন্ডন থেকে আইজ্যাক ব্যারোর ‘জিওমেট্রিক্যাল লেকচারস’ বইটি কিনে নিয়ে আসেন। পূর্বেই বলা হয়েছে যে ব্যারো ছিলেন নিউটনের শিক্ষক। তিনি এই বইতে ট্যানজেন্ট সম্পর্কে তাঁর ধারণা ও সূত্র লিপিবদ্ধ করেন যা মূলত ডিফারেন্সিয়াল ক্যালকুলাসের সাথে সম্পর্কিত। কাজেই নিউটনের অনুসারীরা লিবনিজকে এই দোষেও দোষারোপ করে যে তিনি ব্যারোর বই থেকে সাহায্য নিয়েছেন। অন্যদিকে লিবনিজের অনুসারীরা বলে যে, লিবনিজ এই বই পড়ার আগেই ক্যালকুলাস সম্বন্ধে গবেষণা শুরু করেছিলেন।
১৬৭৬ সালের জুন মাসে নিউটন ওল্ডেনবার্গের কাছে একটি চিঠি লেখেন। এই চিঠিতে তিনি তাঁর দ্বিপদী উপপাদ্য সম্পর্কে বিবৃত করেন, যেখানে তিনি দেখান যে সকল রাশিকে অসীম সংখ্যক অংশে বিভক্ত করা যায়। তিনি এই সূত্রানুসারে বলেন যে, সকল বক্ররেখাকেও অসীম সিরিজে ভাগ করা যায় এবং এর সাহায্যে পদার্থের ক্ষেত্রফল, দৈর্ঘ্য, আয়তন ও এর পৃষ্ঠতল পরিমাপ করা যায়। এই চিঠিতে নিউটন ফ্লাক্সিওন সম্পর্কে কিছুই লিখেননি। যেহেতু তিনি এই সম্পর্কে কোনো কিছুই জানাননি চিঠিতে, কাজেই গাণিতিক ধারা সম্পর্কে তাঁর কাজ এবং লিবনিজ তাঁর নিজের কাজের মধ্যে তেমন কোনো মিল পেলেন না। তিনি নিউটনকে চিঠি লিখলেন এই সম্পর্কে।
এই প্রতিউত্তরে লিবনিজ ধারা সম্পর্কে তাঁর কৃত কাজের বর্ণনা দিলেন এবং প্রথম চিঠিতে নিউটন আসলে ঠিক কোন বিষয়ে মতামত দিয়েছেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে জানাতে বললেন। নিউটন এই চিঠির প্রতিউত্তরে জানালেন যে, তিনি ট্যানজেন্ট অংকনের একটি সাধারণ সূত্র আবিষ্কার করেছেন এবং ম্যাক্সিমা-মিনিমা নির্ণয় করারও পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। গবেষণার বাকি বিষয়ে তিনি জানাতে চান না।
লিবনিজের ব্যক্তিগত নোটে দেখা যায় যে তিনি ইন্টিগ্রেশনে জন্য বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করেন, যা এখনো ব্যবহার হচ্ছে
১৭১৫ সালে, লিবনিজের মৃত্যুর প্রায় বছরখানেক আগে, লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি স্যার আইজ্যাক নিউটনকে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে ঘোষণা করে। এটাও বলা হয় যে, লিবনিজ নিউটনের কতিপয় চিঠি ও গবেষণার প্রেক্ষিতে ক্যালকুলাস নিয়ে গবেষণা করেন। এর বেশ কয়েক বছর পরে লিবনিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় রয়্যাল সোসাইটি নিউটন ও লিবনিজ উভয়কেই ক্যালকুলাসের স্বতন্ত্র আবিষ্কারক হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু তখন লিবনিজ আর জীবিত নেই।
প্রকৃতপক্ষে লিবনিজের মৃত্যুর পরও এই নিয়ে অনেক বিতর্ক তখনো থেকে গিয়েছিলো। এমনকি নিউটন এবং তাঁর অনুসারীরা লন্ডনের কূটনৈতিক পৌরসভায় তাঁর গবেষণার পাণ্ডুলিপি ও লিবনিজের কাছে পাঠানো চিঠি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রস্তাব দেন। লিবনিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিলো এই যে, তিনি ক্যালকুলাসে বিকল্প চিহ্নের ব্যবহার করেন। তিনি সমাকলনের জন্য S এর বর্ধিত রূপ এবং ব্যবকলনের জন্য d চিহ্নের ব্যবহার করেন, যা এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জোহান বার্নোলি আবার লিবনিজের পক্ষ নিয়ে নিউটনের কাজের সমালোচনা করেন এবং বলেন যে নিউটন লিবনিজের গবেষণার ধারণা চুরি করেছেন। তিনি একটি প্রতিযোগিতামূলক সমস্যার অবতারণা করেন যা ব্র্যাকিস্টোক্রোন প্রব্লেম নামে পরিচিত। এই সমস্যা তিনি প্রেরণ করেন নিউটনের কাছে। এই সমস্যার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন লিবনিজ। সেই প্রতিবেদনে তিনি লেখেন যে যারা ‘তাঁদের’ গবেষণার সাথে পরিচিত কেবল তাঁরাই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
এখানে ‘তাঁদের’ শব্দের অবতারণা করার কারণে একটি নতুন চরিত্রের উদয় হয়। সেই চরিত্রটি ছিলো ফ্যাটিও ডি ডুইলার, একজন সুইস গণিতবিদ। ইনি পূর্বে লিবনিজ এবং হাইগেনস এর কয়েকটি কাজে তাঁদের সহযোগী ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি লিবনিজের বিক্ষেপিত আচরণের কারণে নিউটনীয় দলে যোগ দেন। লিবনিজপন্থীরা মনে করেন যে, নিউটন ডুইলারের থেকে লিবনিজের কাজ সম্বন্ধে জেনেছেন। কিন্তু ডুইলার বলেন যে, ক্যালকুলাস সম্বন্ধে নিউটনের কাজ মৌলিক এবং নিউটন লিবনিজের আগেই সেটি আবিষ্কার করেন। এভাবে এই বিতর্ক আসলে জটিল হতে শুরু করে। কারণ একদিকে নিউটনপন্থীরা, অন্যদিকে লিবনিজপন্থীরা। তারা একদল আরেকদলকে দোষারোপ করতে থাকেন।
দুজনের কাজ একই বিষয়ে হলেও কাজের পথ এবং ফলাফল ছিলো আলাদা
এখন গণিতবিদ ও গবেষকদের গবেষণায় দেখা যায় যে, নিউটন তাঁর আবিষ্কৃত পদ্ধতির দ্বারা কোনো বক্ররেখার অন্তর্গত ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতে পারতেন। তাঁর এই গবেষণার মূলভিত্তি ছিলো গতি (Motion)। তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে গবেষণা শুরু করেন মূলত পদার্থবিজ্ঞানে কাজের লাগানোর জন্য। অন্যদিকে লিবনিজ নিজের গবেষণার ক্ষেত্রে গতিকে ব্যবহার করেননি, বরং ব্যবহার করেছেন যোগ ও বিয়োগের ধারণাকে। তাঁর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় জ্যামিতির ক্ষেত্রে।
তো শেষপর্যন্ত এতসব দ্বন্দ্ব-বিরোধ-বিতর্কের পর রয়্যাল সোসাইটি নিউটন এবং লিবনিজ উভয়কেই স্বতন্ত্রভাবে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেন। যদিও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী সমাজ নিউটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং তাঁরা প্রায় এক শতক পর্যন্ত নিজেদের আত্মমর্যাদার কারণে লিবনিজের গবেষণা গ্রহণ করেননি। তাঁরা শুধুমাত্র নিউটনের গবেষণাকেই গ্রহণ করেছিলেন এবং লিবনিজের তত্ত্বকে গ্রহণ করেননি। তাঁরা কেবল নিউটনের গবেষণারই চর্চা করতেন। যদিও পরবর্তীতে তাঁরা লিবনিজের কাজকে স্বীকৃতি দেন। কিন্তু এখনো ক্যালকুলাস কে আবিষ্কার করেছেন, এ নিয়ে নিউটনপন্থী ও লিবনিজপন্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকেই গেছে।
সংখ্যা আবিষ্কারের ইতিহাস কি?
হিসাবের দুনিয়ায় সংখ্যা ছাড়া আমাদের কি জীবন চলে? দিন, মাস, বছরের হিসাব রাখা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটা কাজে সংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম। আর তাই তো সংখ্যার মাহাত্ম্যে মুগ্ধ হয়ে অনেক প্রাচীন সভ্যতায় মানুষ সংখ্যার সাথে ঐশী সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। কিছু সংখ্যাকে মানুষ মনে করত পবিত্র, আবার কিছুবিস্তারিত পড়ুন
হিসাবের দুনিয়ায় সংখ্যা ছাড়া আমাদের কি জীবন চলে? দিন, মাস, বছরের হিসাব রাখা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটা কাজে সংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম। আর তাই তো সংখ্যার মাহাত্ম্যে মুগ্ধ হয়ে অনেক প্রাচীন সভ্যতায় মানুষ সংখ্যার সাথে ঐশী সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে।
কিছু সংখ্যাকে মানুষ মনে করত পবিত্র, আবার কিছু সংখ্যা ছিল মানুষের কাছে আতঙ্ক। এমনকি পাশ্চাত্যে আজও অনেক জায়গায় সেই বিশ্বাস টিকে আছে। Unlucky 13 কিংবা Lucky 7 এর মতো বিষয়গুলো অদ্যাবধি অনেক মানুষ বিশ্বাস করে। তবে নিরীহ গোবেচারা সংখ্যাদের মাঝে আদৌ কোনো শুভত্ব বা অশুভত্ব লুকিয়ে আছে কিনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে সেই বিশ্বাস খণ্ডন করা যতটা না আকর্ষণীয়, তার চেয়ে ঢের আকর্ষণীয় সংখ্যা ও গণনা পদ্ধতির ক্রমবিকাশ ও বৈচিত্র্যময় ইতিহাস সম্পর্কে জানা। এই ফিচারটি সাজানো হয়েছে সংখ্যার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নিয়ে।
শুরুর কথা
সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই গণনার প্রয়োজনীয়তা মানুষ উপলব্ধি করেছে। শিকার করা প্রাণীর সংখ্যা কিংবা দ্রব্য বিনিময় যুগে লেনদেনের সুবিধার্থে হিসাব নিকাশের ধারণা অর্জন করা মানুষের জন্য ছিল অপরিহার্য। তবে শুরুর দিকে সংখ্যা নিয়ে মানুষের ধারণা বেশ অস্পষ্ট ছিল। সংখ্যাগুলো সর্বদাই বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকত, যেমন- একটি পাখি, এক জোড়া জানোয়ার, দুটো হাত, এক হাঁড়ি মাছ।
আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে এক-দুশো বছর আগেও সংখ্যা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিলো না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার হটেনটট আদিবাসীর কথা। তাদের ভাষায় শুধু এক থেকে চার পর্যন্ত সংখ্যা ছিল এবং চারের চেয়ে বড় সব সংখ্যাই তাদের ভাষায় অনেক! আবার অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী কামিলারই গোত্রের মানুষ তিনের চেয়ে বড় কোনো সংখ্যা বোঝাতে সেই সংখ্যাকে এক থেকে তিন পর্যন্ত সংখ্যাগুলোর যোগফল আকারে প্রকাশ করত। যেমন তাদের কাছে মাল মানে এক, বুলান মানে দুই, গুলিবা মানে তিন। তাই চারকে তারা বলত বুলান-বুলান (দুই-দুই) পাঁচকে বুলান-গুলিবা (দুই-তিন) আর ছয়কে (গুলিবা-গুলিবা)।
এখন প্রশ্ন চলে আসে কামিলারাই গোত্রের ভাষায় একশ কিংবা এক হাজারকে কীভাবে বলা যায়? খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে হটেনটট কিংবা কামিলারাই গোত্রের গণনা পদ্ধতি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। কিন্তু এতে তাদের কিছুই আসে যায়নি, কারণ একশ পর্যন্ত গণনা করার দরকারই হয়ত তাদের ছিল না। তবে নবপোলীয় যুগে উন্নত সভ্যতাগুলোর বিকাশের সাথে সাথে প্রয়োজন পড়ল আরও উন্নত গণনা পদ্ধতির।
অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী
মিশরীয় গণনা পদ্ধতি
মানব সভ্যতা বিকাশের পেছনে মিশরীয়দের অবদান অনস্বীকার্য। প্রাচীন মিশরে ব্যবসা-বাণিজ্য, স্থাপত্য এবং জীবন যাত্রায় প্রভূত উন্নতির সাথে সাথে একটি উন্নত গণনা পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। আর সেই প্রয়োজনীয়তা থেকে বিকশিত হয়েছিল মিশরীয় সংখ্যা পদ্ধতি। প্রকান্ড পিরামিডগুলো নির্মাণের সময় হাজার হাজার শ্রমিকের খোরাক এবং বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রীর পাকা হিসাব রাখতে তারা সংখ্যা প্রতীক ব্যবহার করত। তবে ধারণা করা হয় মিশরীয়দের সংখ্যা পদ্ধতির সূচনা হয়েছিল পিরামিডেরও আগে, খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের দিকে।
মিশরীয় সংখ্যা পদ্ধতি
কিন্তু আমাদের এখনকার মতো ছিল না মিশরীয়দের সেই সংখ্যাপদ্ধতি। সেখানে ছিল না শুন্যের ব্যবহার। বরং ১০ এর বিভিন্ন গুনিতকের জন্য ছিল আলাদা আলাদা প্রতীক। ধরা যাক, মিশরীয় পদ্ধতিতে আমরা ৮৩৭২ লিখতে চাই। এক্ষেত্রে আমাদের ৮ টি ০০০, ৭টি ১০০, ৩টি ১০ এবং ২টি ১ পাশাপাশি লিখতে হবে। ফলে ৮৭৩২ সংখ্যার প্রাচীন মিশরীয় রূপটি হবে নিচের ছবিটির মতো।
মিশরীয় পদ্ধতিতে ৮৭৩২
ব্যাবিলনীয় পদ্ধতি
গণিতশাস্ত্রে ব্যাবিলনীয়দের অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। একদিকে জ্যামিতি শাস্ত্র বিকাশিত হয়েছিল মিশরে, আর অন্যদিকে পাটিগণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যা বিকাশিত হয়েছিল ব্যাবিলনে। ব্যাবিলনীয় বিজ্ঞানের সুদূরপ্রসারী প্রভাব আজও আমাদের মাঝে বিদ্যমান। বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রি কোণে বিভক্তকরণ এবং ৬০ মিনিটে ১ ঘন্টা ও ১২ ঘন্টায় ১ দিনের প্রচলন কিন্তু ব্যাবিলনীয়রাই করেছিল অর্থাৎ ব্যাবিলনীয় ১ মিনিট ছিল আমাদের এখনকার ২ মিনিটের সমান। তবে ব্যাবিলনীয়দের অর্জিত জ্ঞানের বেশিরভাগই কালের বিবর্তনের হারিয়ে গেলেও মৃতপাত্রে অঙ্কিত ও পাথরের ফলকে খোদাই করা লেখা থেকে জানা যায় ব্যাবিলনীয়রা পিথাগোরাসের উপপাদ্য ও দ্বিপদী উপপাদ্য সম্পর্কে অবগত ছিল।
মিশরীয়দের মতো ব্যাবিলনীয়রাও শুন্যের ব্যবহার জানত না। তবে মিশরীয়দের সাথে ব্যাবিলনীয়দের সংখ্যা পদ্ধতির মূল পার্থক্য হলো- মিশরীয়রা কোনো সংখ্যাকে প্রকাশ করত ১০ এর গুণিতক আকারে অর্থাৎ উপরে যেটা আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি। অন্যদিকে ব্যাবিলনীয়রা সেই কাজটিই করত ৬০ এর গুণিতক আকারে প্রকাশ করে। তাই ব্যাবিলনীয় সংখ্যা পদ্ধতিকে ষাটমূলক পদ্ধতিও বলা হয়।
ব্যাবিলনীয় ষাটমূলক সংখ্যা পদ্ধতি
উপর্যুক্ত চিহ্নগুলো ছাড়াও তারা আরও বেশকিছু শর্টকাট পদ্ধতি ব্যবহার করত। এখানে একটি প্রশ্ন অবধারিতভাবে চলে আসে- ব্যাবিলনীয়দের ৬০ প্রীতির কারণটা কী? এর কোনো সরাসরি উত্তর পাওয়া যায় না। অনেকগুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ব্যাপার এর সাথে জড়িয়ে আছে। প্রথমত, ৬০ হচ্ছে এমন একটি সংখ্যা যেটি ১,২,৩,৪,৫,৬,১০,১২,১৫,২০ এবং ৩০ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য। তাই ভগ্নাংশ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা সমাধানে ৬০ বেশ কাজের সংখ্যা।
ধরা যাক, একটি ব্যবসায় ৩ জন অংশীদার এমনভাবে চুক্তি করল যে তারা প্রত্যেকে যথাক্রমে মোট লাভের ১/২, ১/৩ এবং ১/৬ অংশ পাবে। তাহলে যদি ৬০ টাকা লাভ হয় প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়জন যথাক্রমে ৩০, ২০, ১০ টাকা পাবে। অর্থাৎ লাভ যত টাকাই হোক না কেন, সেটাকে যদি ৬০ এর গুণিতক আকারে প্রকাশ করা হয়, তাহলে হিসাবটা দাঁড়ায় বেশ সোজা। যদি ১০০০ টাকা লাভ হয় (১৬×৬০+৪০=১০০০), তাহলে প্রথমজন পাবে ১৬টি ৩০ টাকা বা ৪৮০ এবং সাথে বাকি ৪০ টাকার অর্ধেক ২০ টাকা। দ্বিতীয়জন পাবে ১৬টি ২০ টাকা এবং তৃতীয়জন পাবে ১৬টি ১০ টাকা এবং প্রথমজন ৪০ টাকা থেকে অর্ধেক টাকা নেবার পর বাকি অর্ধেক টাকা থেকে দুজনই এমন ভাবে ভাগ পাবে যাতে দ্বিতীয়জন তৃতীয়জনের দ্বিগুণ টাকা পায়। খুব সহজেই কোনো গুণ ভাগ করা ছাড়াই হয়ে গেল নির্ভুল বন্টন।
এখানে একটি জিনিস মনে রাখতে হবে- আমাদের মতো চমৎকার গুণ-ভাগ করার পদ্ধতি সেসময়ে জানা ছিল না। বর্তমানে আমরা যে দশমিক অঙ্কপাতন পদ্ধতিতে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ করি, সেটা আবিষ্কৃত হয়েছে ব্যাবিলনের আরও ৩০০০-৩৫০০ বছর পরে ভারতবর্ষে। এছাড়া ব্যাবিলনীয়রা এক সৌর বৎসরের দৈর্ঘ্য হিসাব করেছিল ৩৬০ দিন, যেটা প্রকৃত দৈর্ঘ্য ৩৬৫ দিনের বেশ কাছাকাছি। তাদের ১২ ঘন্টায় ১ দিন, ৬০ মিনিটে ঘন্টার কথা তো আগেই জেনেছি আমরা। আর এসব কারণে ব্যাবিলনীয়রা ষাটমূলক পদ্ধতিকেই বেছে নিয়েছিল বলে বিজ্ঞজনেরা মনে করেন।
ব্যাবিলনীয়দের খোদাই করা শিলা লিপি
গ্রীক ও রোমান পদ্ধতি
ব্যাবিলন ও মিশরের মতো গ্রীক ও রোমানরাও শুন্যের ব্যবহার জানত না। এর একটি বড় কারণ গ্রীক ও রোমানরা অনেক ব্যাপারেই তাদের দ্বারা প্রভাবিত। ১০০, ২০০ প্রভৃতি সংখ্যাকে আজকের জামানার মতো এক বা দুইয়ের পিঠে দুই শুন্য এভাবে না লিখে তারা বরং ব্যাবিলন ও মিশরের মতো আলাদা প্রতীক ব্যবহার করত। তবে গ্রীকরা সংখ্যার জন্য কোনো আলাদা প্রতীক উদ্ভাবন করেনি, বরং গ্রীক বর্ণমালার অক্ষরের সাহায্যে তারা সংখ্যা প্রকাশ করত। আর রোমান পদ্ধতিতে সংখ্যা লেখা আজও প্রাথমিক স্কুলগুলোতে শেখানো হয়। তাই সেটা নিয়ে নতুন করে বলাই বাহুল্য।
গ্রীক সংখ্যার সারণী
উপরের সারণি থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি λ (উচ্চারণ ল্যাম্বডা) দ্বারা বোঝানো হত ৩০ (কারণ λ এর অবস্থান ৩ নম্বর সারিতে এবং ১০ এর কলামে) এবং β (উচ্চারণ বিটা) দ্বারা বোঝানো হত ২। তাই গ্রীক পদ্ধতিতে ৩২ লিখতে চাইলে আমাদের লিখতে হবে λ β। কিন্তু সমস্যা হলো সারণি থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি ১ থেকে ৯৯৯৯ পর্যন্ত সংখ্যা লিখতেই গ্রীকরা ৩৬টি আলাদা আলাদা অক্ষর ব্যবহার করত। একইভাবে একলক্ষ পর্যন্ত লিখতে ৪৬টি, দশলক্ষ পর্যন্ত লিখতে ৫৫ এবং এক কোটি পর্যন্ত লিখতে ৬৪টি আলাদা আলাদা হরফ ব্যবহার করতে হত যেখানে আধুনিক পদ্ধতিতে আমরা পৃথিবীর সকল সংখ্যাকেই ০-৯ এই দশটি প্রতীকের সাহায্যে লিখতে পারি। এতগুলো ভিন্ন ভিন্ন অক্ষর মনে রাখা একদিকে যেমন দুষ্কর, অন্যদিকে তাদের যোগ,বিয়োগ,গুণ,ভাগ করাও কষ্টসাধ্য।
রোমানদের পদ্ধতিটি ছিল অনেকটা মিশরীয়দের মতো। যেমন কেউ রোমান পদ্ধতিতে ২০১৭ লিখতে চাইলে তাকে দুটি এক হাজার (M), একটি দশ (X) এবং সাত (VII) পাশাপাশি লিখতে হবে। তাই রোমান পদ্ধতিতে ২০১৭ হল MMXVII
মায়া সভ্যতার গণনা পদ্ধতি
এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা যেসব সভ্যতার নাম্বার সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করলাম, সেগুলো প্রত্যেকটি প্রত্যেকের সাথে কোনো না কোনোভাবে সম্পর্কযুক্ত ছিল অথবা প্রভাবিত হয়েছিল। তবে এই লিস্টের ব্যতিক্রম হলো মায়া সভ্যতা। ল্যাটিন আমেরিকার এই সভ্যতাটি সম্পর্কে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মানুষের জানতে পেরেছে মাত্র ৫০০ বছর আগে। অথচ মায়া সভ্যতার বিকাশকাল আজ থেকে প্রায় পনেরশ বছর আগে। মায়া সভ্যতা সম্পর্কে লোকমুখে অনেক রহস্যময় কাহিনী প্রচলিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ক্যালেন্ডারের জন্য মায়া সভ্যতা সবচেয়ে বেশি পরিচিত। মজার ব্যাপার হল তাদের ক্যালেন্ডারে ২০১২ সালের পর আর কোন সাল ছিল না। এর বাখ্যা অনেকে এইভাবে দিলেন যে মায়ানরা বিশ্বাস করত ২০১২ সালের পর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, যদিও অনেক গবেষক এই মতের সাথে দ্বিমতপোষণ করেছেন। সে যা-ই হোক, মায়া সভ্যতায় সংখ্যা পদ্ধতির বিকাশ ঘটেছিল একদম স্বতন্ত্রভাবে। তাদের সংখ্যাপদ্ধতি ছিল ৫ ভিত্তিক এবং অবাক করা ব্যাপার হলো মায়ারা শুন্যের জন্য আলাদা প্রতীক ব্যবহার করত। শুন্য, এক ও পাঁচ এই তিনটি সংখ্যার জন্য তারা শুধু তারা আলাদা প্রতীক ব্যবহার করত। বাকি সকল সংখ্যাগুলো লিখত এই তিনটি প্রতীক ব্যবহার করে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে আধুনিক পদ্ধতির অনেক কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মায়ানরা। তবে যোগ-বিয়োগের জন্য মায়াদের পদ্ধতিও বিশেষ সুবিধের ছিল না।
মায়া সভ্যতায় ব্যবহৃত সংখ্যা প্রতীক
আধুনিক পদ্ধতি
বর্তমানে যে পদ্ধতিতে আমরা সংখ্যা লিখি সেটা প্রাচীন ভারতীয় এবং আরবদের সম্মিলিত অবদানের ফসল। আহুন্য থেকে নয় পর্যন্ত মোট দশটি প্রতীক ব্যবহার করে যেকোনো সংখ্যা লিখতে পারার বর্তমান পদ্ধতিটি ভারতীয়রা আবিষ্কার করেছিল প্রায় ৬০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। যদিও খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতক থেকেই এই পদ্ধতির যাত্রা শুরু হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন, তবে ৬০০ খ্রিস্টাব্দের আগের কোনো লিপিবদ্ধ প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
সে যা-ই হোক, ব্যবসা বাণিজ্য এবং ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে আরবদের আনাগোনা সেই সময় থেকেই ছিল। ভারতীয় পদ্ধতিতে যোগ-বিয়োগের হিসাব সে সময়ে আরবে প্রচলিত সিস্টেমের চেয়ে ছিল অনেক সহজ ও কার্যকরী। এই দারুণ পদ্ধতিটি তাই আরবদের মনে ধরে গেল খুব সহজে। ভারত থেকে শিখে আসা পদ্ধতি আরবরা ছড়িয়ে দিল সারা বিশ্বে। আরবীতে শুন্যকে বলা হয় সিফর। আরব বনিকদের কাছে শেখা শূন্য বা সিফরকে ইতালিয়রা ল্যাটিনে বলত জেপিরো। আর ল্যাটিন জেপিরো থেকেই এসেছে ইংরেজি জিরো শব্দটি। যদিও ইতালিয় বনিকরা জানত ইন্দো-আরবীয় পদ্ধতিতে হিসাব নিকাশ খুব সহজে করা যায়, তারপরও ভিনদেশীদের পদ্ধতি বলে বাণিজ্য ছাড়া আর অন্য কোনো কাজে তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চাইত না। তবে অচিরেই ইউরোপে জনপ্রিয়তা লাভ করে ইন্দো-আরবীয় পদ্ধতি। আর এই জনপ্রিয়করণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন যে মানুষটি তার নাম লিওনার্দো ফিবোনাচি(১১৭০-১২৫০)। এই ফিবোনাচির নামানুসারেই কিন্তু নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত ফিবোনাচি সিরিজের, যদিও সংস্কৃত ছন্দ প্রকরণে ফিবোনাচি সিরিজের ব্যবহার বহু শতাব্দী আগে থেকেই ছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না ফিবোনাচি সেখান থেকেই আকৃষ্ট হয়েছিলেন এই ধারাটির প্রতি। সর্বপ্রথম ছন্দ প্রকরণে ফিবোনাচি ধারা ব্যবহার করেন খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের ভারতীয় পন্ডিত পিঙ্গলা। আর এটাই আদ্যবধি জানা ফিবোনাচি সিরিজ ব্যবহারের প্রাচীনতম নজির।
লিওনার্দো ফিবোনাচি
নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায় মানবসভ্যতার আজকের এই অভাবনীয় উন্নতির পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে যে শাস্ত্রটি তার নাম বিজ্ঞান। গণিতকে বলা হয় বিজ্ঞানের ভাষা। আর এতক্ষণ আমরা সেই ভাষার প্রতীক “সংখ্যা”র সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জানার চেষ্টা করলাম।
একটি কথা আমাদের মনে রাখা উচিত, কোনো সভ্যতার পক্ষেই সম্পূর্ণ শুন্য জ্ঞান থেকে জ্ঞানের সুউচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। প্রতিটি সভ্যতাই কোনো না কোনো ভাবে পূর্বতন সভ্যতাগুলোর কাছে ঋণী। কিন্তু ইতিহাসের ফাঁকতালে হারিয়ে গেছে এদের অনেকের নাম; হারিয়ে গেছে তাদের অবদান। হয়ত তাদেরই কোনো আবিষ্কার অন্য কেউ পুনরাবিষ্কার করে হয়ে গেছেন জগৎবিখ্যাত কিন্তু মূলচিন্তকের নাম পৃথিবীর মানুষ বেমালুম ভুলে গেছে। এ প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন চলে আসা উচিত, গণিত ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের জন্য ইতিহাসে অমর থাকা আদৌ কি খুব জরুরী? হয়ত ইতিহাসের জন্য জরুরী তবে ক্রমবিকাশমান সভ্যতার কাছে সেটি নেহাত কৌতূহল নিবারক তথ্য। কারণ প্রাচীন সভ্যতার অনেক প্রতিভাধর বিজ্ঞানী ও গণিতবেত্তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে গেছে, কিন্তু তাদের সুদূর প্রসারী প্রভাব আজও অনুভব করে চলেছে মানবসভ্যতা। তাহলে ইতিহাসের গুরুত্ব কতটুকুই বা রইল? অবশ্যই সেটা ভেবে দেখার বিষয় এবং সেই গুরু দায়িত্ব ন্যস্ত করা হল পাঠকের উপরই।
সংক্ষেপে দেখুনইতিহাসের বিখ্যাত পাঁচটি তরবারির নাম কি?
মানুষের ইতিহাসে তরবারির ব্যবহার শুরু হয় ব্রোঞ্জ যুগে। সর্বপ্রাচীন তরবারির যে নমুনাটি পাওয়া যায় সেটি খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ সালে তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। একসময়কার খাবার সংগ্রহ ও আত্মরক্ষার প্রয়োজনীতা থেকে মানুষ অস্ত্র নির্মাণ করলেও সময়ের সাথে সাথে অস্ত্রের ব্যবহার হয়ে দাঁড়ায় মানুষের কী ভালো কী মনবিস্তারিত পড়ুন
মানুষের ইতিহাসে তরবারির ব্যবহার শুরু হয় ব্রোঞ্জ যুগে। সর্বপ্রাচীন তরবারির যে নমুনাটি পাওয়া যায় সেটি খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ সালে তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। একসময়কার খাবার সংগ্রহ ও আত্মরক্ষার প্রয়োজনীতা থেকে মানুষ অস্ত্র নির্মাণ করলেও সময়ের সাথে সাথে অস্ত্রের ব্যবহার হয়ে দাঁড়ায় মানুষের কী ভালো কী মন্দ, কী ন্যয় কী অন্যায়- যাবতীয় চাহিদা পূরণের জন্য ব্যবহৃত অন্যতম উপায়। আগ্নেয়াস্ত্র আবিস্কারের আগ পর্যন্ত তরবারিই ছিল মুখোমুখি যুদ্ধের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত হাতিয়ার। এই লেখায় তুলে ধরা হল পৃথিবীর ইতিহাসে ব্যবহৃত পাঁচটি তরবারির কথা যেগুলো বিখ্যাত হয়েছিল এদের তরবারিসুলভ গুণ ও একই সাথে এদের ব্যবহারকারীর খ্যাতির কারণে।
জুলফিকার
জুলফিকার ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী ইবনে আবু তালিব (রা) এর ব্যবহৃত তরবারি। উহুদ এর যুদ্ধে হযরত মুহাম্মদ (সা) তার চাচাতো ভাই আলী-কে এই তরবারি দিয়েছিলেন।
ইসলামিক বর্ণনা থেকে জানা যায়, উহুদের যুদ্ধে মক্কার সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধার ঢাল ও শিরস্ত্রাণ এক আঘাতে দ্বিখণ্ডিত করেন আলী (রা)। এই আঘাতে তার তরবারিটিও ভেঙে যায়। এই ঘটনার পর হযরত মুহাম্মাদ (সা) তার নিজ তরবারি জুলফিকার আলীকে দেন। শিয়া মতাদর্শ অনুযায়ী, মুসলমানদের বারোতম ইমাম মুহাম্মাদ আল মাহদী’র নিকট সংরক্ষিত ইসলামের ঐতিহাসিক জ্ঞান ও হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর যুদ্ধাস্ত্রের এক গোপন সংগ্রহ যা ‘আল জাফর’ নামে পরিচিত সেখানে এই তরবারিটি রাখা আছে।
মূল জুলফিকার তরবারিটির প্রকৃত অবয়ব জানা যায় না। তবে ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনায় এটিকে চিত্রায়িত করা হয়েছে দুইটি দীর্ঘ ব্লেড জোড়া লাগানো অবস্থায়, যার অগ্রভাগ অনেকটা কাঁচির মত দ্বিখণ্ডিত। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় একে দুটো দীর্ঘ ব্লেড V আকৃতিতে জোড়া লাগানো অবস্থায় চিত্রায়িত করা হয়।
জুলফিকার। মুঘল আমলে তৈরি রেপ্লিকা
অটোমান পতাকায় V আকৃতির জুলফিকার
মধ্য প্রাচ্যীয় যুদ্ধাস্ত্রের বর্ণনায় জুলফিকার-এর এর কথা অবধারিতভাবেই আসে। এর আকৃতির অনুকরণে এক সময় প্রাচ্যের অঞ্চলগুলোতে তরবারি তৈরির সময় অগ্রভাগ দ্বিখণ্ডিত রাখা হত।
অটোমান সাম্রাজ্যের পতাকায় জুলফিকার এর বহুল চিত্রায়ন দেখা যায়। বিশেষত ষোল ও সতের শতকের অশ্বারোহী বাহিনী ‘জেনিসারি’র পতাকায় এর ছবি অঙ্কিত হত। এমনকি জুলফিকার এর নাম সম্বলিত কবচের ব্যবহারও ছিল যা এখনও বিদ্যমান। কবচে খোদাই করা লেখাগুলোর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত দুটো লাইন ছিল- “আলী অদ্বিতীয়, জুলফিকার তরবারি অদ্বিতীয়।”
শিল্পীর কল্পনায়, মুঘল সম্রাট শাহজাহান মুঘল বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উপরের বাম দিকে যুদ্ধের প্রশিক্ষিত হাতি বহন করছে জুলফিকার এর প্রতীক
জুলফিকার এর একটি রেপ্লিকা;
ইতিহাসের বিভিন্ন সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ দল, যুদ্ধে ব্যবহৃত জাহাজ এমনকি একটি ট্যাঙ্ক এর নামও জুলফিকারের নাম অনুসারে রাখা হয়েছে। বসনিয়ার যুদ্ধের সময় বসনিয়ান সৈন্যদের একটি বিশেষ ইউনিটের নাম ছিল জুলফিকার।
ওয়ালেস সোর্ড
ওয়ালেস সোর্ড ছিল স্কটিশ স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা উইলিয়াম ওয়ালেস এর তরবারি। স্কটিশদের স্বাধীনতার দাবিতে ১২৯৭ সালের স্টার্লিং এর যুদ্ধ ও ১২৯৮ সালের ফলক্রিক এর যুদ্ধে ওয়ালেস এই তরবারিটি ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা যায়।
ওয়ালেস তরবারিটি সবচেয়ে বিখ্যাত এর বিশাল আকার ও ওজনের জন্য। ৪ ফুট ৪ ইঞ্চি দীর্ঘ ব্লেড সহ পুরো তরবারির দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি! এর ব্লেডের প্রস্থ ২.২৫ ইঞ্চি আর অগ্রভাগে ০.৭৫ ইঞ্চি। বিশালাকার এই তরবারির ওজন প্রায় ৩ কেজি!
ওয়েলস মনুমেন্টে সংরক্ষিত ওয়ালেস সোর্ড
স্কটল্যান্ডের স্টার্লিং এর ওয়ালেস মনুমেন্ট এ সংরক্ষিত এই তরবারিটির আকার ও এর গঠনপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে এটি সত্যিকারের উলিয়াম ওয়ালেস এর ব্যবহৃত তরবারি কিনা তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করেন, সংরক্ষিত তরবারিটি তৈরি করা হয়েছে কয়েকটি তরবারির ভিন্ন ভিন্ন অংশ একসাথে করে। সংরক্ষিত তরবারিটি দুই হাতে ধরে ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে তৈরি করা। আর গবেষকদের মতে, এটি ব্যবহারের জন্য উইলিয়াম ওয়ালেস এর উচ্চতা হতে হত অন্তত ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি! অথচ ১৩ শতকের স্কটল্যান্ডের মানুষের গড় উচ্চতা ছিল ৫ ফুট। তাই কথা উঠে, হয় ওয়ালেস সে সময়ের তুলনায় একজন দানবাকৃতির মানুষ ছিলেন নতুবা সংরক্ষিত এই তরবারিটি তার ব্যবহৃত নয়।
ব্রেভহার্ট সিনেমায় উইলিয়াম ওয়ালেস এর ভূমিকায় মেল গিবসন
জানা যায়, ফলক্রিক এর যুদ্ধে আটককৃত ওয়ালেসকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর ১৩০৫ সালে ডুম্বার্টন ক্যাসল এর গভর্নরের নিকট এই তরবারিটি ছিল। যদিও এর কোনো রেকর্ড পাওয়া যায় নি। দু’শো বছর পর ১৫০৫ সালে জানা যায়, স্কটল্যান্ডের রাজা চতুর্থ জেমস এর নির্দেশে তরবারিটির খাপ, হাতল ও বেল্ট পরিবর্তন করা হয়, কেননা তখন জনশ্রুতি ছিল ওয়ালেস এর তরবারিতে এগুলো তৈরি করা হয়েছিল স্টার্লিং এর যুদ্ধের ইংরেজ কমান্ডার হিউ ক্রেসিংহাম এর চামড়া থেকে। ১৮৮৮ সালে ওয়ালেস মনুমেন্টে সংরক্ষণের জন্য তরবারিটি দেয়া হয়।
হনজো মাসামুনে
হনজো মাসামুনে সর্বকালের সেরা তরবারিগুলোর একটি হিসেবে খ্যাত যার নির্মাতা ছিলেন মাসামুনে। মাসামুনে ছিলেন একজন জাপানি তরবারি নির্মাতা যাকে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধাতুবিদ্যাবিশারদ বলা হয়। আনুমানিক ১২৮৮ সাল থেকে ১৩২৮ সাল পর্যন্ত তার কাজের পরিধি সম্পর্কে জানা যায়। সুক্ষতম ধার ও সৌন্দর্যের কারণে মাসামুনের নির্মিত তরবারিগুলোর মান কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছিল।
অস্ট্রিয়ার জাদুঘরে সংরক্ষিত মাসামুন নির্মিত একটি তরবারি
ধারণা করা হয় হনজো মাসামুনে নামটি এসেছে হনজো শিগেনাগা নামক এক জাপানি যোদ্ধার নাম থেকে। হনজো শিগেনাগা ছিলেন ১৬ শতকের উয়েসুগি ক্ল্যান এর একজন জেনারেল। উমানোসুকে নামক একজন বিখ্যাত যোদ্ধার আক্রমণে শিগেনাগার শিরস্ত্রাণ টুকরো হয়ে যায়। কিন্তু তিনি বেঁচে যান সেই লড়াইয়ে এবং পুরস্কার হিসেবে তাকে যে তরবারি দিয়ে আঘাত করা হয় সেটি রেখে দেন। তরবারিটি এর আগে অনেক বিখ্যাত যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল। পরবর্তীতে অর্থাভাবের কারণে তয়োতমি ক্ল্যান এর নিকট তরবারিটি বিক্রি করে দেন শিগেনাগা।
মাসামুনে নির্মিত একটি তরবারি
তয়োতমি ক্ল্যান এর পতনের পর তরবারিটি জাপানের তকুগাওয়া পরিবারের নিকট আসে। জাপানের ‘শগুন’ শাসনামলের অন্যতম শাসক ছিল তকুগাওয়া পরিবার। এই তরবারিটি পরিবারের এক শাসকের পর আরেকজনের নিকট শাসনের প্রতীক হিসেবে দেয়া হত। তকুগাওয়া পরিবারের শাসনামল শেষ হবার পরেও তারা তরবারিটি রেখে দেয়। ১৯৩৯ সালে হনজো মাসামুনেকে জাপানের জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে এর সর্বশেষ মালিকানা ছিল তকুগাওয়া লেমাসা’র নিকট। যুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পনের পর ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরে হনজো মাসামুনে সহ আরও ১৪টি তরবারি জাপানের মেজিরো পুলিশ স্টেশনে জমা দেন তকুগাওয়া লেমাসা। ১৯৪৬ সালে পুলিশ এই তরবারিগুলো সার্জেন্ট কোল্ডি বাইমোর নামক একজনের কাছে দেয় বলে জানা যায়। সেই থেকে এই তরবারিটির আর কোনো হদিশ পাওয়া যায় নি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে সার্জেন্ট কোল্ডি বাইমোর নামক কোনো ব্যক্তি তরবারিগুলো গ্রহণ করেছেন এমন তথ্যের কোনো রেকর্ড জাপানের কোথাও নেই। জাপানের এমন হারিয়ে যাওয়া অনেকগুলো বিখ্যাত তরবারির মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান ছিল হনজো মাসামুনে।
জোয়ায়ুস
শার্লেম্যান, যিনি চার্লস দ্য গ্রেট নামেও পরিচিত, তার ব্যবহৃত তরবারির নাম জোয়ায়ুস। শার্লেম্যান মধ্যযুগের শুরুতে ইউরোপের একটি বড় অংশের নেতৃত্ব দেন যার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে আজকের ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম ইত্যাদি রাষ্ট্রগুলো। ৭৭৪ সালে তিনি ছিলেন ইতালির রাজা। ৮০০ সালে তিনি রোমান সম্রাট হয়েছিলেন। এর তিন শতক আগে পশ্চিম ইউরোপ সাম্রাজ্যের পতনের পর তিনিই ছিলেন প্রথম স্বীকৃত সম্রাট।
ল্যুভর মিউজিয়ামে সংরক্ষিত জোয়ায়ুস
কথিত আছে, ক্রুশবিদ্ধ যিশু মৃত কিনা তা যাচাইয়ের জন্য যে বর্শা ব্যবহৃত হয়েছিল সে ‘পবিত্র বর্শা’ থেকে নেয়া উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে জোয়ায়ুস এর হাতলে। ১৮৬৭ সালে বিখ্যাত ‘বুলফিঞ্চ’স মিথোলজি’ বইয়ে দেখানো হয় শার্লেম্যান জোয়ায়ুস দিয়ে কোর্সাবল নামক একজন আরব সেনানায়কের শিরশ্ছেদ করছেন এবং আরেক বিখ্যাত যোদ্ধা ওজিয়েরের কাঁধে এটি ছুঁয়ে নাইট উপাধি প্রদান করছেন।
১২৭০ থেকে ১৮২৪ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের সম্রাটদের অভিষেক অনুষ্ঠানে জোয়ায়ুস তরবারিটি প্রদর্শিত হত। ১৭৯৩ সালে এটিকে ল্যুভর মিউজিয়ামে নিয়ে আসা হয়।
শিল্পীর কল্পনায় শার্লেম্যান, হাতে জোয়ায়ুস
প্রায় ছয় শতাব্দী ধরে এসব অভিষেক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য জোয়ায়ুসের গঠনে পরিবর্তন এসেছে অনেকবার। কোনো গবেষক বলছেন এর ব্লেডটিই কেবল মূল জোয়ায়ুসের ব্লেড, কেউ বলেন ১০ শতকে এর ব্লেড পরিবর্তন করা হয়েছে, কেউ বলেন ১৩ শতকে। আবার কারো মতে, ১০ শতকে পরিবর্তিত ব্লেডটিও ১৮০৪ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের অভিষেক অনুষ্ঠানের সময় পাল্টে ফেলা হয়েছিল। ল্যুভরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বর্তমানে প্রদর্শিত জোয়ায়ুস এর হাতলের মাথাটি তৈরি হয়েছে ১০-১১ শতকে, হাতল ও ব্লেডের সংযোগস্থল ক্রসগার্ডটি তৈরি হয়েছে ১২ শতকে এবং তরবারির খাপ তৈরি হয়েছে ১৩ শতকে।
নেপোলিয়নের তরবারি
মানব ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত এবং একই সাথে বিতর্কিত যোদ্ধা নেপোলিয়ন বোনাপার্ট অমর তার অসামান্য যুদ্ধ পরিকল্পনার জন্য। ফরাসী বিপ্লবের ধারক এবং ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়নের জীবনাবসান ঘটে আটলান্টিক মহাসাগরের সেইন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত হয়ে।
নেপোলিয়নের ব্যবহৃত তরবারিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত তার স্বর্ণখচিত তরবারি যেটি ২০০৭ সালে ফ্রান্সের একটি নিলামে সাড়ে ৬ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। ১৮০০ সালে নেপোলিয়ন ইতালির আলেসান্দ্রিয়াতে মারেঙ্গোর যুদ্ধে এই তরবারিটি শেষবারের মত ব্যবহার করেছিলেন অস্ট্রিয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। অস্ট্রিয় বাহিনীর অপ্রস্তুত অবস্থায় হঠাৎ আক্রমণ করে এই যুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিলেন নেপোলিয়ন।
নেপোলিয়নের স্বর্ণখচিত তরবারি
তরবারির প্রায় ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি দীর্ঘ ও সামান্য বাঁকানো ব্লেডটিতে স্বর্ণের কারুকাজ করা আছে। ধারণা করা হয়, এটিই নেপোলিয়নের সর্বশেষ তরবারি যেটি সাধারণ মানুষের মালিকানায় আছে।
তরবারিটির ডিজাইনের পেছনে আছে নেপোলিয়নের মিশর অভিযানের সময়কার অভিজ্ঞতা। তিনি দেখেন সেখানকার ব্যবহৃত তরবারিগুলো সামান্য বাঁকানো থাকায় এগুলো ব্যবহারে সুবিধাজনক। এরপর তিনি নিজের জন্য এই ডিজাইনের তরবারি তৈরি করেন।
নিলামে প্রদর্শিত হচ্ছে নেপোলিয়নের তরবারি
মারেঙ্গোর যুদ্ধের পর তার ছোট ভাই জেরোমি বোনাপার্টের বিয়েতে তরবারিটি উপহার দেন নেপোলিয়ন। এরপর থেকে বংশপরম্পরায় তরবারিটি তাদের কাছে ছিল।
১৯৭৮ সালে তরবারিটিকে ফ্রান্সের জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করা হয়। নিয়ম করা হয় ফরাসী নাগরিক নন এমন কেউ এটি কিনলে তার অবশ্যই ফ্রান্সে একটি ঠিকানা থাকতে হবে যেখানে তরবারিটি বছরের অন্তত ৬ মাস রাখতে হবে।
এতক্ষণ পৃথিবীর বিখ্যাত পাঁচটি তরবারি সম্পর্কে জানলেন। এই তরবারিগুলোর কোনোটি ব্যবহৃত হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামে, কোনোটি মতাদর্শ প্রচারে, কোনোটি সাম্রাজ্য বিস্তারে। তবে তরবারির মূল কাজ কিন্তু একটাই, মানুষের উপর ব্যবহৃত হওয়া। ‘ফাদার অব ইউরোপ’ খ্যাত শার্লেম্যান এর তরবারি জোয়ায়ুস এর শাব্দিক অর্থ হল উৎফুল্ল! ভাবা যায়, একটা তরবারির নাম উৎফুল্ল! আজকের যুগে তরবারি কেবল সৈন্যদের সাইডআর্ম কিংবা ক্রীড়া সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হলেও একটা সময় এটাই ছিল মানুষের বিধ্বংসী কাজের প্রতীক, কারও কারও কাছে যা ছিল কেবলই উৎফুল্ল হবার নিয়ামক।
সংক্ষেপে দেখুনপ্রথম কে উড়েছিলেন আকাশে ?
পাখির প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়েই হয়ত মানুষ উড়তে চেয়েছিল ডানা মেলে। ইতিহাস যখন থেকে টিকে আছে, তার আগেও হয়তো কত মানুষ চেষ্টা করে গেছেন উড়তে। জানার উপায় নেই কেউ সফলও হয়েছিলেন কি না কিংবা জানা যাবে না কোনো ব্যর্থতার গল্পও। আকাশে ওড়ার ইতিহাসে স্মরণীয় যারা মানুষের আকাশে ওড়ার প্রচেষ্টা নিয়ে জড়িয়ে আছে নানা মানুষবিস্তারিত পড়ুন
পাখির প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়েই হয়ত মানুষ উড়তে চেয়েছিল ডানা মেলে। ইতিহাস যখন থেকে টিকে আছে, তার আগেও হয়তো কত মানুষ চেষ্টা করে গেছেন উড়তে। জানার উপায় নেই কেউ সফলও হয়েছিলেন কি না কিংবা জানা যাবে না কোনো ব্যর্থতার গল্পও।
আকাশে ওড়ার ইতিহাসে স্মরণীয় যারা
মানুষের আকাশে ওড়ার প্রচেষ্টা নিয়ে জড়িয়ে আছে নানা মানুষের নাম। গ্রিক উপকথায় ইকারাসের আকাশে ওড়ার কাহিনী হয়তো কম-বেশি সবার জানা। এরকম নানা উপকথা ছড়িয়ে আছে মানুষের আকাশে ওড়া নিয়ে। উপকথাগুলো আজ না হয় থাক চলুন ঘুরে আসি বাস্তবেই কিছু প্রচেষ্টার কথা।
পঞ্চম শতাব্দীতে ঘুড়ির উদ্ভাবন ঘটে চীনে। ছয় শতাব্দীতে ইয়ান হাংটাও এর কথা জানা যায়, যাকে বিশালাকারের ঘুড়ির সাথে বেধে উড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
তবে প্রথম সফলভাবে আকাশে ডানা মেলেন আব্বাস ইবনে ফিরনাস ৯ম শতকে। ইবনে ফিরনাসের আকাশে ওড়ার কাহিনী নিয়েই আলোচনা করবো। তার আগে জানা যাক আরো কিছু কাহিনী।

শিল্পীর কল্পনায় ইবনে ফিরনাসের আকাশে ওড়া
সম্ভবত ইবনে ফিরনাসের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই পরের শতকে ওড়ার চেষ্টা করেছিলেন আল জহুরী। ১০০৭ খ্রিস্টাব্দে আল জহুরী তুর্কিস্থানের উলু মসজিদের ১,০০২ ফুট উঁচু মিনার হতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওড়ার প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
পশ্চিমে একাদশ শতকে ইংল্যান্ডের ইলমার অব মালমেসবুরি প্রায় ১,০০০ ফুট উচু থেকে গ্লাইডিংয়ের মাধ্যমে ওড়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তিনি আংশিক সফলতা পেলেও দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন।




দ্য ভিঞ্চির আঁকা অর্নিথপটারের নকশা
ফিরনাসের প্রায় ৭০০ বছর পর লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি আঁকেন উড্ডয়ন যন্ত্রের নকশা অর্নিথপটার। যদিও জীবদ্দশায় ভিঞ্চি কখনো সে যন্ত্রের পরীক্ষামূলক ব্যবহার করেননি, তবুও ভিঞ্চিকে উড্ডয়ন যন্ত্রের আধুনিক চিন্তক হিসেবে ধরা হয়। দ্য ভিঞ্চি ইবনে ফিরনাসের উড্ডয়ন যন্ত্র সম্পর্কে জেনেছিলেন কি না তা জানার উপায় নেই। যদি না জেনে থাকেন, তবে বলতে হয় কয়েকশ বছর ব্যবধানে থেকেও দুজন বিজ্ঞানী একই প্রশ্নের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, আর তা হলো কিভাবে পাখির আকাশে ওড়ার দক্ষতা মানুষের মধ্যে প্রতিস্থাপন করা যায়।
গ্যালাটা টাওয়ার হতে গ্লাইডিং করে বসফরাস পাড়ি দিয়েছিলেন আহমেদ সেলেবি
১৬৩০ খ্রিস্টাব্দে ওসমানীয় শাসনামলে আহমেদ সেলেবি ইস্তাবুলের গালাটা টাওয়ার হতে গ্লাইডিং করে বসফরাস পাড়ি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। আহমদ সেলেবির সাফল্যে অণুপ্রাণিত হয়ে তার তিন বছর পর ১৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে আহমেদ সেলেবির ভাই লাগারি হাসান সেলেবি গানপাউডার দিয়ে রকেট বানিয়ে তোপকাপি প্রাসাদের নিকটে সফলভাবে আকাশের দিকে প্রায় তিনশ মিটার উপরে উঠে যান। তার রকেটের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তিনি এখনকার প্যারাস্যুটের মতো পাখার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বসফরাসের পানিতে নেমে আসেন।
শিল্পীর কল্পনায় লাগারি হাসান সেলেবির রকেট
১৮০০ সালের দিকে স্যার জর্জ কেলি প্রথম পাখির মতো ঝাপটানো ডানার বদলে স্থির ডানার কথা বলেছিলেন। বাতাসের চেয়ে ভারী বস্তু কী কী অবস্থায় বাতাসে ভাসতে পারে, তার বৈজ্ঞানিক শর্তাবলী তিনিই প্রথম খুঁটিয়ে দেখেন। অ্যারোডাইনামিকস বা বায়ুগতিবিদ্যার জন্ম তার হাত ধরেই।
১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রথম আকাশে ওড়েন রাইট ভ্রাতৃদ্বয়
যদিও রাইট ভ্রাতৃদ্বয়কেই প্রথম যন্ত্রচালিত উড়োজাহাজ উদ্ভাবনের কৃতিত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু তার আগেও অনেকেই এই লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। এমনকি ১৯০১ সালে গুস্তাভ হোয়াইটহেড এবং ১৯০২ সালে রিচার্ড পিয়ার্স উড়োজাহাজ উদ্ভাবনে সফল হয়েছিলেন বলেও মেনে নেন অনেকেই। ১৯০৩ সালেই রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের কয়েক মাস আগে যন্ত্রচালিত উড্ডয়ন যন্ত্রের উদ্ভাবনের দাবি করেন জার্মান উদ্ভাবক কার্ল জথো।
এর আরো আগে ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে মন্টগোলফায়ার ভ্রাতৃদ্বয় বেলুনের সাহায্যে সফলভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন। আর ১৮৫২ সালে হেনরি গিফার্ড তার উদ্ভাবিত এয়ারশিপে করে পাক্কা ২৭ কিলোমিটার পাড়ি দেন। বাষ্পশক্তিতে চলতো তার জাহাজের প্রপেলার। তাছাড়া যার কথা না বললেই নয় তিনি অটো লিলিয়েনথাল, আধুনিক উড়োজাহাজ উদ্ভাবনের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। উনবিংশ শতাব্দীতে এই অটো লিলিয়েনথালের আকাশে ওড়ার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা ও তার গবেষণালব্ধ ফল পরবর্তীতে রাইট ভ্রাতৃদ্বয়কে উদ্বুদ্ধ করেছিল উড়োজাহাজ উদ্ভাবনের জন্য। লিলিয়েনথাল তার উদ্ভাবিত গ্লাইডারে ওড়ার সময় দুর্ঘটনায় মারা যান ১৮৯৬ সালে।

হেনরি গ্রিফার্ড ও তার এয়ারশিপ
যা-ই হোক, ১৭০০ সাল থেকে ১৯০৩ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ব্যক্তি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন আকাশে উড়তে। তাদের প্রায় অনেকের প্রচেষ্টাই ইতিহাসে সমুজ্জ্বল। এবার চলুন আবার ফিরে যাই ৯ম শতকে ইবনে ফিরনাসের কাছে!
ইবনে ফিরনাস: প্রথম যিনি মেলেছিলেন ডানা
ইতিহাসে প্রথম সফলভাবে আকাশে ডানা মেলেছিলেন যিনি তিনি হচ্ছেন আব্বাস ইবনে ফিরনাস। তিনি ৯ম শতাব্দীতে উমাইয়া খিলাফতের সময় স্পেনের আন্দালুসিয়ার একজন পলিম্যাথ বা বহুশাস্ত্র বিশারদ ছিলেন। তার উড্ডয়ন প্রচেষ্টা সম্পর্কে ঐতিহাসিক ফিলিপ কে. হিট্টি তার হিস্ট্রি অব আরব গ্রন্থে মন্তব্য করেন, “ইবনে ফিরনাসই প্রথম ব্যক্তি যিনি আকাশে ওড়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন বৈজ্ঞানিকভাবে।”
ইবনে ফিরনাসের পরিচয়
আব্বাস ইবনে ফিরনাসের পুরো নাম আব্বাস আবু আলকাসিম ইবনে ফিরনাস ইবনে ইরদাস আল তাকুরিনি। তার জম্ম ৮১০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন মুসলিম জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র স্পেনে। তিনি ছিলেন একাধারে একজন প্রকৌশলী, উদ্ভাবক, উড্ডয়ন বিশারদ, চিকিৎসক, কবি, সুরকার, পদার্থবিদ, সঙ্গীতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী।

বাগদাদে ইবনে ফিরনাসের ভাস্কর্য
তার জম্মস্থান ছিল স্পেনের রোনদায়। রোনদা এখন স্পেনের একটি পর্যটন শহর। তিনি যদিও রোনদায় জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু জ্ঞানের প্রতি তার আসক্তি থেকে তিনি রোনদা থেকে কর্ডোবায় গমন করেন। তবে তার আগে তিনি কিছু সময় ইরাকে ব্যয় করেন। তখন বাগদাদের দারুল হিকমাহ ছিল মুসলিম জ্ঞানপিপাসুদের তীর্থস্থান। তিনি সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান আহরণ করেন ও ফিরে এসে কর্ডোবায় বসবাস শুরু করেন।
ইবনে ফিরনাসের উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব
যদিও ইবনে ফিরনাস ভালো মানের কবি ছিলেন, কিন্তু প্রথম আকাশে ওড়ার কৃতিত্বের জন্য তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
পি. কে. হিট্টি তার হিস্ট্রি অব আরব গ্রন্থে লিখেছেন, “আবু আল কাসিম জাহরাবীর পর স্পেনে প্রাচ্য সংগীত জনপ্রিয় করার পেছনে ইবনে ফিরনাসের অনবদ্য ভূমিকা ছিল। তার উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পাথর থেকে গ্লাস তৈরি। তিনি একটি সৌরমডেলও তৈরি করেছিলেন, যেখানে নক্ষত্র, মেঘ, এমনকি বজ্রপাতের অবস্থাও দেখানো হয়েছিল।”
তিনি আল মাকাতা নামক জলঘড়ির উদ্ভাবন করেছিলেন। প্ল্যানিস্ফিয়ার নামক যন্ত্র ও পাঠের উপযোগী লেন্সও প্রস্তুত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তার বাসস্থানের একটি কক্ষে তিনি গ্রহ-নক্ষত্রের এমন একটি মডেল তৈরি করেছিলেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘূর্ণায়মান ছিল।
তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো পাথরের স্ফটিককে কাটার প্রক্রিয়া। স্পেনে এটি তখন সম্ভব হতো না বিধায় স্পেন এ বিষয়ে মিশরের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ইবনে ফিরনাসের এই উদ্ভাবনের ফলে স্পেন এই নির্ভরশীলতা থেকে রেহাই পায়।
আরমেন ফিরমেন ও ইবনে ফিরনাস
আরমেন ফিরমেন ৮৫২ খ্রিস্টাব্দে কর্ডোবার একটি মসজিদের মিনার হতে নিজের উদ্ভাবিত পোশাক পরে ওড়ার চেষ্টা করেন। যদিও তা সফল হয়নি, কিন্তু তারপরেও তার পোশাক নিচের দিকে তার পতনের গতিকে কমিয়ে দেওয়ায় তিনি খুব বেশি আঘাত পাননি।

শিল্পীর কল্পনায় কর্ডোবার মসজিদের মিনার হতে আরমেন ফিরম্যানের উড্ডয়ন প্রচেষ্টা
কেউ কেউ মনে করেন, ইবনে ফিরনাস ছিলেন সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং এ ঘটনাই ইবনে ফিরনাসকে আকাশে উড়তে অনুপ্রাণিত করে।
আবার অনেকেই এই মতের বিরোধিতা করেন এবং তারা মনে করেন আরমেন ফিরমেন ও ইবনে ফিরনাস একই ব্যক্তি ছিলেন এবং আরমেন ফিরমেন ইবনে ফিরনাসের নামেরই ল্যাটিন সংস্করণ। তারা মনে করেন, ইবনে ফিরনাস এই ঘটনার পর তার উড্ডয়ন যন্ত্র উন্নয়নে মনোযোগ দেন ও দীর্ঘ ২৩ বছর পর তিনি আবারো আকাশে উড়ার প্রচেষ্টা চালান।
ইবনে ফিরনাসের উড্ডয়ন প্রচেষ্টা
বেশ কিছু সূত্রে ইবনে ফিরনাসের উড্ডয়ন প্রচেষ্টা বর্ণিত হলেও তার উড্ডয়ন প্রচেষ্টার বিস্তারিত পাওয়া যায় ঐতিহাসিক আল মাকারির লেখায়। তবে আল মাকারি ইবনে ফিরনাসের সমসাময়িক ছিলেন না। তিনি ফিরনাসের বিষয়ে লেখেন প্রায় ৭৫০ বছর পর। তবে ইবনে ফিরনাসের উড্ডয়ন প্রচেষ্টার সফলতার বিষয়ে প্রায় সব ঐতিহাসিকই একমত।

শিল্পীর কল্পনায় আব্বাস ইবনে ফিরনাস
ইবনে ফিরনাসের উড্ডয়ন প্রসঙ্গে মন্তব্য পাওয়া যায় সমসাময়িক কর্ডোবার আমির প্রথম মুহাম্মদের রাজকবি মুমিন ইবনে সাইদের কবিতায়। ইবনে সাইদ ফিরনাস সম্পর্কে কবিতায় লিখেন, “শকুনের পালক দ্বারা আবৃত হলে তিনি ফিনিক্সের চেয়েও দ্রুত ওড়েন।”
ইবনে ফিরনাস তার উদ্ভাবিত উড্ডয়ন যন্ত্রে পালক ও সিল্কের ব্যবহার করেছিলেন। পঁয়ষট্টি বছর বয়সে তিনি স্পেনের কর্ডোবার নিকটবর্তী রুসাফা এলাকার আরুস পর্বত থেকে তার উদ্ভাবিত উড্ডয়নযন্ত্র সহকারে শূন্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
কর্ডোবা থেকে অনেক মানুষ তার আকাশে ওড়া দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন। ইবনে ফিরনাস তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এখান থেকে ওড়ার পর যদি সব ঠিক থাকে তবে আমি এখানেই আবার ফিরে আসব। তার উড্ডয়নযন্ত্র সফলভাবেই কাজ করে এবং প্রায় দশ মিনিট তিনি তার যন্ত্রের সাহায্যে উড়তে সমর্থ হন। কিন্তু সফলভাবে উড়লেও তিনি একটু ভুল করেছিলেন।

দুবাইয়ের ইবনে বতুতা শপিংমলে ফিরনাসের রেপ্লিকা
আল মাকারি উল্লেখ করেন, তিনি তার শরীরকে পালক দ্বারা আবৃত করেন এবং তার শরীরে কয়েকটি পাখা যোগ করেন। তারপর শূন্যে ভেসে পড়েন। যারা তার এই উড্ডয়ন প্রত্যক্ষ করেছেন তাদের লেখনীতে পাওয়া যায়, তিনি পাখার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য দূরত্ব অতিক্রম করেন এবং যেখান থেকে উড্ডয়ন শুরু করেছিলেন আবার সেখানে ফিরে আসেন। কিন্তু সফলভাবে অবতরণ করতে ব্যর্থ হন। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন।
ইবনে ফিরনাস প্রাণে বেঁচে গেলেও পিঠে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। তার বয়স তখন পঁয়ষট্টি বছর। এরপর তিনি তার উড্ডয়নযন্ত্রে ঠিক কী ভুল ছিল তা শনাক্তকরনে মনোনিবেশ করেন। তিনি উপলদ্ধি করেন, পাখি অবতরণের সময় লেজ এবং ডানাগুলোর সমন্বিতভাবে কার্যক্ষমের মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু তিনি তার যন্ত্রে গতি কমানোর জন্য সেরকম কোনো লেজ বা বিকল্প পদ্ধতি রাখেননি।
তারপরেও তিনি প্রায় ১২ বছর বেঁচে ছিলেন। কিন্তু তার পক্ষে আর আকাশে ওড়া সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি আর আগের মতো সুস্থতা লাভ করেননি। ৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে ইবনে ফিরনাস ইন্তেকাল করেন।

ইবনে ফিরনাস শিল্পীর চোখে
ইবনে ফিরনাস মানুষের উড্ডয়নের ইতিহাসে কিংবা আকাশে ওড়ার পেছনে মানুষের যে প্রচেষ্টা তার একজন সফল স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে স্বরণীয় হয়ে আছেন। তার প্রচেষ্টাকে বলা যায় আধুনিক উড়োজাহাজ আবিষ্কারের প্রথম ধাপ। মানুষকে ডানা মেলে ওড়ার স্বপ্ন দেখানো ইবনে ফিরনাস তাই ইতিহাসে অমর।
আকাশে ওড়ার এই স্বপ্নদ্রষ্টাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাঁদের একটি জ্বালামুখের নামকরণ করা হয়েছে তার নামে। ২০১৩ সালে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোলস রয়েস ইবনে ফিরনাসের নামে তাদের একটি গাড়ির সংস্করণ বের করে, যার নাম দেয় ইবনে ফিরনাস মোটিফ। স্পেনের কর্ডোবায় ইবনে ফিরনাস সেতু, বাগদাদে ইবনে ফিরনাসের ভাস্কর্য, দুবাইয়ের ইবনে বতুতা মলে ফিরনাসের রেপ্লিকা ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় হয়তো ইবনে ফিরনাসের নামের সাথে পরিচয় ঘটতে পারে আপনার। তিনি বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ ধরে, তার যুগের চাইতে এগিয়ে থাকা একজন মানুষ হিসেবে ।
সংক্ষেপে দেখুনওষুধের আড়ালে বিষ ! কোনগুলো?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্রমোন্নতির সাথে সাথে মানুষের অসুখ সারানোর কাজটাও সহজ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু একটা সময় ছিল পৃথিবীতে মানুষ দৈনন্দিন চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এমন সব ওষুধের শরাণাপন্ন হত, যেগুলো রোগ সারানোর চেয়ে বরং তাদের শরীরে তৈরি করত বিরূপ প্রতিক্রিয়া। আজকের লেখায় অতীতের এমন কিছু ওষুবিস্তারিত পড়ুন
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্রমোন্নতির সাথে সাথে মানুষের অসুখ সারানোর কাজটাও সহজ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু একটা সময় ছিল পৃথিবীতে মানুষ দৈনন্দিন চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এমন সব ওষুধের শরাণাপন্ন হত, যেগুলো রোগ সারানোর চেয়ে বরং তাদের শরীরে তৈরি করত বিরূপ প্রতিক্রিয়া। আজকের লেখায় অতীতের এমন কিছু ওষুধের কথা জানাবো যেগুলোর ক্ষতিকর দিকের কথা চিকিৎসকদের জানতে সময় লেগেছে বহু বছর।
তামাক
সতের এবং আঠারো শতকে চিকিৎসকেরা মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের চিকিৎসায় কী ব্যবহার করত জানেন? তামাক! জীবন বাঁচানোর জন্য ব্যক্তির পায়ুপথ দিয়ে তামাকের মিশ্রণের ধোঁয়া প্রবেশ করিয়ে দিতেন তারা! আর এজন্য রীতিমতো একটা যন্ত্রও তৈরি করা হয়েছিল যার নলটি প্রবেশ করানো হত পায়ুপথে, যেটার মাধ্যমে ধোঁয়া গিয়ে একেবারে ধাক্কা দিত ফুসফুসে।
যে ধরনের যন্ত্র দিয়ে ধোঁয়া দেয়া হত তার একটি রেপ্লিকা।
আসলে তামাকের ধোঁয়া শরীরের ভেতরে গেলে সেটা মুহূর্তের মধ্যে প্রায়-মৃত শরীরে স্পন্দন সৃষ্টি করত এবং দ্রুত হয়ে যেত ঐ ব্যক্তির শ্বাস-প্রশাস প্রক্রিয়া। প্রথমদিকে পানিতে ডুবে যাওয়াদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলেও, পরবর্তীতে ঠাণ্ডা লাগা, মাথাব্যথা, হার্নিয়া, টাইফয়েড জ্বর, কলেরা ইত্যাদি সারানোর কাজেও এটি কার্যকরী বলে ধারণা করা হত। এমনকি মৃত্যুর হাত থেকে পর্যন্ত মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে এটি, এমন ধারণাও বিদ্যমান ছিল।
এভাবেই পায়ুপথ দিয়ে দেয়া হত তামাকের ধোঁয়া।
মূল ব্যাপারটি আসলে নিহিত ছিল তামাকের একটি উপাদান ‘নিকোটিন’ এর ভেতরে। নিকোটিন এমন এক সক্রিয় উপাদান, যেটি শরীরে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এটি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলোকে উদ্দীপ্ত করে এগুলোতে এপিনেফ্রিন হরমোন তথা অ্যাড্রিনালিন উৎপন্ন করতে সহায়তা করে। তামাকের ব্যবহার যে আসলে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সেটা নির্ণয় করতে অনেক সময় লেগেছিল গবেষকদের। ১৮১১ সালে নিকোটিনের বিষাক্ত প্রভাবগুলো আবিস্কৃত হবার পর থেকে এই অভিনব চিকিৎসাপদ্ধতিটি বন্ধ হয়।
মরফিন
ব্যথানাশক ওষুধের উপাদান হিসেবে চিকিৎসাশাস্ত্রের পরিচিত নাম মরফিন। এই লেখার তালিকার মধ্যে একমাত্র মরফিনই এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে চিকিৎসার কাজে, যদিও প্রাচীনকালে এর ব্যবহারপদ্ধতি ছিল অনেক ভয়ানক।
মানুষের মানুষের মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড নিয়ে যে প্রধান স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে তার উপরে সরাসরি প্রভাব ফেলে ব্যথার অনুভূতি কমানোর কাজ করে মরফিন। একই সাথে মানুষকে এতে আসক্ত করে তোলে এবং নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত করে ফেলে বলে এর ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণও বটে। প্রথমবারের মতো ১৮১৭ সালে মরফিন বাজারজাত করেছিলেন ফ্রেডেরিখ সার্টার্নার।
মরফিন ইনজেকশনের শিশি।
গ্রিক পুরাণের স্বপ্নের দেবতা মর্ফিয়াসের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় মরফিন। আজ থেকে ২০০ বছর আগে ব্যবহার শুরু হওয়া এই ওষুধ এখনো প্রতি বছর ২৩০ টনেরও বেশি উৎপাদিত হয়। পপি গাছ থেকে যে আফিম পাওয়া যায় তার অন্যতম প্রধান উপাদান মরফিন। অথচ প্রথমবার বাজারে আনার পর ব্যথার ওষুধের পাশাপাশি এর পরিচিতি ছিল আফিম ও অ্যালকোহলের প্রতি আসক্তির প্রতিষেধক হিসেবেও!
পপি গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় মরফিন।
পরবর্তীতে জানা যায়, মরফিন আসলে আফিম বা অ্যালকোহলের চেয়েও বেশি নেশা উদ্রেক করে। ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর পার্শ্বঝুঁকি মারাত্মক। কোষ্ঠকাঠিন্য, চুলকানি, বমি বমি ভাব ইত্যাদি দেখা দেয় মরফিন গ্রহীতার শরীরে।
যুদ্ধের ইতিহাসে মরফিনের ব্যবহার হয়েছে ব্যাপক পরিমাণে। মার্কিন সিভিল ওয়ার এবং বিশ্বযুদ্ধে সৈনিকদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হত এটি। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটত উনিশ শতকের শেষ ও বিংশ শতকের শুরুর দিকে। যে যার ইচ্ছেমতো কিনতে পারত মরফিন সমৃদ্ধ ওষুধ। এগুলোর ব্যবহারে ছিল না কোনো বিধি-নিষেধ। ঠাণ্ডা, ঘুমের সমস্যা থেকে মাসিকের খিঁচুনি পর্যন্ত সকল রকমের যন্ত্রণা উপশমের জন্য মানুষ গিলত এসব ওষুধ। মরফিন ভরা ইনজেকশন পাওয়া যেত, যে কেউ ইচ্ছে করলেই সেটা কিনে নিয়ে ঢুকিয়ে দিতে পারত শরীরে।
মিসেস উইনস্লো’স সুদিং সিরাপ এর বিজ্ঞাপন।
এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশুদেরকে পর্যন্ত মরফিন দেয়া হত ঘুম পাড়ানোর জন্য! মরফিন সমৃদ্ধ ‘মিসেস উইনস্লো’স সুদিং সিরাপ’ নামক সিরাপ শিশুদের খাওয়ানো হত ঘুম পাড়ানোর কিংবা দাঁত ওঠার জন্য। এমন ভয়াবহ নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্যের কী যাচ্ছেতাই ব্যবহার!
রেডিয়াম
১৮৯৮ সালে রেডিয়াম আবিস্কার করেন মেরি কুরি এবং পিয়েরে কুরি। ১৯০৩ সালে এ আবিস্কারের জন্য তারা দুজন নোবেল পুরস্কার পান। আবিস্কারের এক যুগের মধ্যেই রেডিয়ামের অদ্ভুত সব ব্যবহার শুরু হয় বিভিন্ন ব্যবহার্য পণ্য, খাদ্য ও পানীয়র মধ্যে একে মিশ্রিত করবার মধ্য দিয়ে, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
রেডিয়াম সমৃদ্ধ পানি।
বিকিরণের কারণে শরীরে কী ধরনের ক্ষতি হয় তা সম্পর্কে জানা না থাকার কারণে রেডিয়ামের যথেচ্ছ ব্যবহার চলত সেসময়। এর রোগ সারাবার জাদুকরি ক্ষমতা নিয়ে অতিকথন চালু হয়ে যায় এবং মানুষ রেডিয়াম সমৃদ্ধ বিভিন্ন দ্রব্য ব্যবহারের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠে।
মানসিক সমস্যা সারানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয় রেডিয়ামের ব্যবহার। ডায়রিয়া এবং ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবেও ডাক্তাররা একে বেছে নেন। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যপার ছিল, বার্ধক্য রোধের কথিত ক্ষমতার জন্যও রেডিয়াম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। রেডিয়াম শরীরের কোষের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে যৌবন ধরে রাখে, এই ছিল যুক্তি।
রেডিয়াম সমৃদ্ধ মাখন।
রেডিয়াম সমৃদ্ধ চকলেট।
আর্থ্রাইটিস কিংবা জনন অক্ষমতার প্রতিকারেও একে ভাবা হত মোক্ষম ওষুধ। রেডিয়াম মিশ্রিত পানি, চকলেট, টুথপেস্ট ব্যবহার করত মানুষ। সাপোজিটরি, সেঁক দেবার কাজে ব্যবহৃত প্যাড, প্রসাধন সামগ্রীতে চলত রেডিয়ামের ব্যবহার। ত্বক ভালো রাখতে রেডিয়াম মিশ্রিত পানি দিয়ে মালিশ করার চলও তৈরি হয়েছিল।
বামপাশের ছবির মতো এভাবে এককালে তেজস্ক্রিয় পানির বিজ্ঞাপন দেয়া হত। ডানের ছবির মত পানির পাত্র রাখা হত বিভিন্ন দোকানে যেখান থেকে ইচ্ছেমত রেডিয়াম সমৃদ্ধ পানি পান করা যেত।
আজকের যুগে আমরা জানি, মানুষ রেডিয়াম গলাধঃকরণ করলে এর শতকরা আশি ভাগ শরীর নিজেই রেচন করে ফেললেও, বিশ ভাগ রয়ে যায় শরীরের ভেতরেই। শরীরের হাড়, রক্ত ও টিস্যুর মধ্যে এই রেডিয়ামের বিকিরণের ফলে ক্যানসার, লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা ইত্যাদি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ। সেসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেডিয়াম সমৃদ্ধ পণ্য ব্যবহার করে ভয়ানক ক্ষতির শিকার হয়ে পরবর্তীতে মারা গিয়েছিল অনেকে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোড়ন তুলেছিল ‘দ্য রেডিয়াম গার্লস’ নামক পাঁচ নারীর ঘটনা, কারণ তারা মৃত্যুর আগে রেডিয়াম মিশ্রিত পণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে জরিমানা পেয়েছিল। রেডিয়ামের বিকিরণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানার পর বন্ধ হয় এর কল্পিত ঔষধি গুণাগুণ আহরণের ভয়ানক পদ্ধতিগুলো।
পারদ
চীনের উপকথায় হুয়াং অ্যান নামক এক ব্যক্তির গল্প আছে যে কিনা খনিজ সিনাবার খাওয়ার কারণে বেঁচে ছিল ১০,০০০ বছর! খনিজ সিনাবার বা মার্কারি সালফাইড হলো পারদের আকরিক উৎস।
কক্ষ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে এমন একমাত্র ধাতু হলো পারদ।
গবেষকরা ধারণা করেন, চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং, যিনি অমরত্ব লাভের চেষ্টা করেছিলেন, তিনি মারা গিয়েছিলেন মদ ও মধুর সাথে সিনাবার মিশিয়ে খাওয়ার কারণে। পারদের বিষক্রিয়ার কারণে মারা যাবার পর তাকে সমাহিত করা হয় মাটির তৈরি বিখ্যাত টেরাকোটা আর্মি দিয়ে ঘেরা অবস্থায়। সেই সমাধিস্থলের নকশা করা হয়েছিল তৎকালীন চীন সাম্রাজ্যের অনুকরণে, আর এর মধ্যে চীনের নদীর অনুকরণে যে নদীগুলো তৈরি করা হয়েছিল তাতে বইয়ে দেয়া হয়েছিল পারদের নহর।
কিন শি হুয়াং এর সমাধিস্থলের টেরাকোটা আর্মি।
ইতিহাসে এই বিষাক্ত পারদকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের ভয়ঙ্কর সব নজির রয়েছে। চর্মরোগের প্রতিষেধক এবং পচননিবারক হিসেবে ব্যবহৃত হত পারদ। বিশেষ পানীয়, প্রসাধনী ইত্যাদিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মধ্যেও ব্যবহার করা হত এটি। ১৯৪০ এর দশকের আগ পর্যন্ত সিফিলিসের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হত পারদ সমৃদ্ধ মলম, বড়ি কিংবা পানীয়।
চিকিৎসায় এককালে ব্যবহৃত পারদ সমৃদ্ধ ক্যালোমেল।
দাঁতের চিকিৎসা, টাইফয়েড জ্বর কিংবা শরীরে পরজীবী আক্রমণের চিকিৎসাসহ আরও বিভিন্ন রকমের রোগ সারানোর কাজ করা হত পারদ মিশ্রিত ওষুধ দিয়ে। দাঁত পড়ে যাওয়া, মুখের ভেতর জ্বালাপোড়া, ডায়রিয়া, রক্তশূন্যতা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, হৃদরোগ, রক্তচাপ কমে যাওয়া, চর্মরোগ, দুর্বলতা, নিদ্রাহীনতাসহ হেন কোনো ঘটনা নেই যা এই দীর্ঘমেয়াদী পারদ গ্রহণের কারণে ঘটত না। স্লো পয়জনিং এর মতো ধীরে ধীরে পারদ ধ্বংস করে দিত এর সেবনকারীদের। আঠারো, উনিশ আর বিশ শতক মিলিয়ে অন্তত দেড়শ বছর চিকিৎসকেরা তাদের কাজে অজ্ঞতাবশত ব্যবহার করে গেছেন বিষাক্ত পারদ।
মৃতদেহ ভক্ষণ
আজকের যুগে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘটনা চিকিৎসা জগতে বিস্ময়কর অগ্রগতি এনে দিচ্ছে, এই পদ্ধতি নিয়ে চলছে ক্রমাগত গবেষণা। কিন্তু একটা সময় ছিল দুনিয়াতে সম্পদশালী মানুষ রোগমুক্তির জন্য সরাসরি খেয়ে ফেলত মৃত মানুষের শরীরের নানা অংশ! দ্বাদশ থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত চলেছে এই ধরনের চিকিৎসা।
শিল্পীর কল্পনায় মৃতদেহের অংশ ভক্ষণের ছবি।
বিশেষত মিশরীয় মমির গুঁড়ো ওষুধ হিসেবে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে উঠেছিল ইউরোপে। মাথা ব্যথা হলে কঙ্কাল থেকে নেওয়া হাড়ের গুঁড়ো খাওয়া, মৃগীরোগের ওষুধ হিসেবে শুকিয়ে যাওয়া হৃৎপিণ্ড খাওয়া, রক্তপাত বন্ধ করা ও নতুন চামড়া তৈরির জন্য মৃতদেহের ক্ষতস্থানে চামড়া লাগানো, বধিরতা কাটানোর জন্য মৃতদেহের শুকিয়ে যাওয়া পিত্তথলী গুঁড়ো করে মদের সাথে মিশিয়ে খাওয়া- এমন অদ্ভুত সব চিকিৎসা পদ্ধতি চালু ছিল সেই আমলের ইউরোপে।
মিশরে এক ব্যক্তি বিক্রির জন্য মমি নিয়ে বসে আছে।
মমিকে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ওষুধের উৎস হিসেবে ধরা হত তখন। কোনো আঘাতের কারণে শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হলে তা সারানোর ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হত হট চকলেটের মধ্যে কঙ্কালের খুলির গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়া। এমনকি ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস নিজেই ‘কিংস ড্রপস’ নামক একটি বিশেষ পানীয় পান করতেন যেটা বানানো হত অ্যালকোহলের সাথে মাথার খুলির গুঁড়ো মিশিয়ে। জার্মানির ডাক্তাররা এমনও ভাবতেন, মৃতদেহের চর্বির সাথে ব্যান্ডেজ ঘষে সেটা গেঁটেবাত আক্রান্ত রোগীর আক্রান্ত স্থানে লাগালে বাতের ব্যথা দূর হবে।
এভাবেই বিক্রি হত বোতলজাত মমির গুঁড়ো।
এসব ভুল ধারণার উৎপত্তি ঘটেছিল মূলত একটি শব্দগত ভুল বোঝাবুঝির কারণে। প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যায় ব্যবহৃত বিটুমিনের একটি পারসিক প্রতিশব্দ ছিল ‘মামিয়া’। এদিকে মিশরীয়রা মমি বানানোর সময় রেসিন বা রজন হিসেবে একটি উপাদান ব্যবহার করত যার নাম ‘মামিয়া’, সেটি অবশ্য বিটুমিন ছিল না। ভুল করে বিটুমিন ভেবেই এই মামিয়া সংগ্রহের জন্য প্রাচীন মিশরীয় কবর থেকে মমি তোলা হত। আর মমিগুলো মামিয়ার উৎস হিসেবে বিক্রি করা হত। মমির সংকট দেখা দিলে কেউ কেউ আবার নতুন লাশকে মমি বানিয়ে ভুয়া মমি হিসেবে বিক্রি করত। এভাবে মমি বিক্রি একটা বড় লাভজনক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেকে ভাবত, এই মৃতদেহের অংশ খাওয়ার সময় এর মধ্যকার আত্মাই রোগ সারানোর জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে!
সংক্ষেপে দেখুনবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম কি কি?
বিশ্বের সর্বপ্রথম মোটরগাড়িটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮০৮ সালে। এরপর প্রযুক্তির বহু উন্নয়ন ঘটেছে, জন্ম নিয়েছে বহু মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে গোটা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ মিলিয়ন গাড়ি তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে নানা রকম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ গাড়িগুলো তৈরি করে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গত কবিস্তারিত পড়ুন
বিশ্বের সর্বপ্রথম মোটরগাড়িটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮০৮ সালে। এরপর প্রযুক্তির বহু উন্নয়ন ঘটেছে, জন্ম নিয়েছে বহু মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে গোটা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ মিলিয়ন গাড়ি তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে নানা রকম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ গাড়িগুলো তৈরি করে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গত কয়েক বছরেই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, আবার কারো কারো বর্তমানের এই অবস্থায় আসতে সময় লেগে গেছে কয়েকশো বছর! এসব প্রতিষ্ঠানের নাম আমরা জানলেও তাদের এই অবস্থায় আসার পেছনের গল্প আমরা অনেকেই জানি না। চলুন আজকে জেনে নিই এখনও পর্যন্ত চালু থাকা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন কয়েকটি মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে।
১. রোলস-রয়েস
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯০৬ সাল

বিলাসবহুল গাড়ির জগতে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় গাড়ির নাম রোলস-রয়েস। ১৯০৬ সালে ইঞ্জিনিয়ার হেনরি রয়েস ও যুক্তরাজ্যের প্রথম মোটরগাড়ি ডিলারশিপের মালিক চার্লস রোলস মিলে এই রোলস-রয়েস কোম্পানির সূচনা করেন।
রোলস-রয়েসের প্রথমদিকের গাড়ি ‘সিলভার ঘোস্ট’ এর মাধ্যমেই তাদের কোম্পানির সফলতার দৌড় শুরু হয়। অনেকগুলো রেকর্ড ভাঙা এই গাড়িটি সেসময় ‘বিশ্বের সেরা মোটরগাড়ি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই গাড়িটি একটানা ২৭ বার লন্ডন থেকে গ্লাসগো ভ্রমণ করে মোট ১৪,৩৭১ মাইল পাড়ি দেয়। এর ফলে বিলাসবহুল গাড়িতে চড়ে একটানা সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড করে এই গাড়িটি। বর্তমানে রোলস-রয়েস বিশ্বের আরেক জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডাব্লিউ এর সাথে যুক্ত হয়েছে। এখনও বিশ্বের অন্যতম সম্মানীত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয় রোলস-রয়েসকে।
২. ক্যাডিলাক
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯০১ সাল

মোটরগাড়ির জগতে অন্যতম এক নাম ক্যাডিলাক। মজার ব্যাপার হলো, এই কোম্পানির জন্ম হয় কিন্তু বিশ্বের অন্যতম এক জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ডের মালিক হেনরি ফোর্ডের হাত ধরে। ১৯০১ সালে হেনরি ফোর্ড দ্বিতীয় আরেকটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘হেনরি ফোর্ড কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই কোম্পানির আর্থিক সাহায্যকারী লিমুয়েল বোয়েন ও উইলিয়াম মার্ফির সাথে কিছু মতের মিল না হওয়ায় হেনরি ফোর্ড এই কোম্পানি ছেড়ে চলে যান।
মার্ফি এবং ব্রাউন প্রথমে হেনরির এই কোম্পানির যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেয়ার কথা চিন্তা করেন। তবে পরবর্তীতে তারা তা বিক্রি না করে নতুনভাবে গাড়ি নির্মাণ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯০২ সালে নতুন এই কোম্পানি নামকরণ করা হয় ক্যাডিলাক। ১৯০৯ সালে এই কোম্পানিটি জেনারেল মোটরস কিনে নেয়।
এরপর থেকে বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্যাডিলাক ভালোই সুনাম অর্জন করেছে। ১৯০৮ ও ১৯১২ সালে সম্মানজনক ‘ডেওয়ার ট্রফি’ লাভ করে তারা।
৩. ফিয়াট
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৯৯ সাল

ইতালির সবচেয়ে বড় মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফিয়াটের জন্ম হয় ১৮৯৯ সালে। ফিয়াট (FIAT) এর পূর্ণরূপ ‘Fabbrica Italiana Automobili Torino’, যার অর্থ ‘ইতালীয় মোটরগাড়ি ফ্যাক্টরি, তুরিন’। ফিয়াট তাদের প্রথম গাড়িটি নির্মাণ করে ১৮৯৯ সালে। এরপর ১৯১০ সালের দিকে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিওভানি অ্যানেল্লি হেনরি ফোর্ডের গাড়ি নির্মাণ কারখানাটি দেখতে আসেন। তিনি ফোর্ডের কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপনা দেখে মুগ্ধ হন এবং পরবর্তীতে নিজের কারখানাতেও একই পদ্ধতি চালু করেন।
ফিয়াটের সবচেয়ে জনপ্রিয় গাড়িগুলো প্রধানত ‘সিটি কার’ ও ‘সুপারমিনি’ এ দুই শ্রেণীর। ১৯৭০ সালে ফিয়াট ইলেকট্রিক যানবাহন তৈরি শুরু করে। বর্তমানে মোটরগাড়ি ছাড়াও অস্ত্র নির্মাণে অংশ নিয়েছে ফিয়াট।
৪. ল্যান্ড রোভার
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৯৬ সাল

১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রথমে ছিল ‘ল্যানক্যাশিয়ার স্টিম মোটর কোম্পানি’। এরপর বহুবার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে এই কোম্পানিটির। প্রথমদিকে এই কোম্পানিটি শুধুমাত্র বাষ্পীয় ঘাস কাটার যন্ত্র তৈরি করতো। এরপর তারা বাষ্পীয় মালবাহী গাড়ি নির্মাণ শুরু করে। ১৯০৭ সালে কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে ‘লেল্যান্ড মোটরস’ করা হয়।
১৯৭৮ সালে আরো অনেক ধাপ নাম পরিবর্তনের পর শেষমেশ কোম্পানির নাম রাখা হয় ‘ল্যান্ড রোভার’। ১৯৪৮ সালে কোম্পানিটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল ‘রোভার’ এর নির্মাণ শুরু করে লেল্যান্ড মোটরস। ব্রিটিশ আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে প্রচলিত এই মডেলের উৎপাদন চালু রয়েছে এখন পর্যন্ত। ১৯৫১ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ কর্তৃক একটি রাজকীয় সনদ লাভ করে ল্যান্ড রোভার কোম্পানি।
৫. মার্সিডিজ-বেঞ্জ
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৮৩ সাল

বিপুল জনপ্রিয় মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্সিডিজ বেঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৬ সালে। পুরনো দুটি ভিন্ন মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একীভূত হয়েই কিন্তু গঠিত হয়েছে এই কোম্পানিটি।
এই দুটি প্রতিষ্ঠানের একটি ‘ডাইমলার মোটোরেন গেসেলস্ক্রাফট’। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি প্রথমদিকে শুধুমাত্র পেট্রোল ইঞ্জিন প্রস্তুত করতো। এরপর তারা ছোটখাট রেস কার তৈরি শুরু করে এবং পরবর্তীতে মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের নানা মডেল নির্মাণে যোগ দেয়।
একইভাবে, ‘বেঞ্জ অ্যান্ড কোম্পানিজ’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয় ১৮৮৩ সালে। প্রথমদিকে তারা গ্যাস ইঞ্জিন ও শিল্পকারখানার বিভিন্ন যন্ত্র নির্মাণ করতো। এরপর কোম্পানির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কার্ল বেঞ্জ তার বহুদিনের স্বপ্নের মোটরগাড়ি নির্মাণের দিকে মন দেন। ১৮৮৬ সালে তিনি বিশ্বের সর্বপ্রথম পেট্রোল চালিত মোটরগাড়ি নির্মাণ করেন।
১৯২৬ সালে এই দুটি কোম্পানি একত্রিত হয়ে মার্সিডিজ-বেঞ্জ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে।
৬. টাট্রা
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৫০ সাল

অন্যতম প্রাচীন মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাট্রার সূচনা হয় ঘোড়ায়টানা গাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে। ১৮৯১ সালে তারা রেলপথে চলার উপযোগী গাড়ি নির্মাণ শুরু করে।
এরপর ১৮৯৭ সালে টাট্রার প্রযুক্তিগত পরিচালক হুগো ফিশার নিজের ব্যবহারের জন্য একটি বেঞ্জ মোটরগাড়ি কেনেন। আর এই গাড়ি থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি পরের বছরেই তার কোম্পানির প্রথম মোটরগাড়ি ‘প্রাসিডেন্ট’ নির্মাণ করেন।
গাড়ি ছাড়াও টাট্রা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনাবাহিনীর জন্য ট্যাংক ইঞ্জিন ও ট্রাক তৈরি করতো। তবে এই ট্রাকগুলো চলার সময় এত দ্রুত মোড় নিতো যে বহু জার্মান সৈন্য এই গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। ফলে পরবর্তীতে জার্মান সৈন্যদের এই টাট্রা ট্রাকগুলো ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
১৯৯৯ সালে এই কোম্পানি তাদের যাত্রীবাহী গাড়ি নির্মাণ বন্ধ ঘোষণা করে। তবে এখনো পর্যন্ত টাট্রা ট্রাক নির্মাণ করে আসছে।
৭. পিউজো
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮১০ সাল

আজকের প্রাচীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তালিকার সবেচেয়ে পুরানো প্রতিষ্ঠানটি হলো পিউজো। প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটির শুরু হয় ১৮১০ সালে এক কফি গুঁড়ো করার মিল হিসেবে। ১৮৩০ সালে তারা বাইসাইকেল নির্মাণ শুরু করে। এরপর ১৮৪২ সালে তারা লবণ, মরিচ ও কফি গুঁড়ো করার মেশিন নির্মাণ শুরু করে। তবে এসবের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পিউজোর মোটরগাড়ি নির্মাণের প্রতি ছিল ব্যাপক আগ্রহ। ফলে ১৮৮২ সালের দিকে তিনি মোটরগাড়ি নির্মাণ শুরু করেন।
১৮৮৯ সালে লিওন সারপোলেটের সহযোগিতায় পিউজোর প্রথম গাড়ি বাজারে আসে। এটি ছিল একধরনের বাষ্পচালিত তিন চাকার গাড়ি। তবে ব্যাপক আকারে উৎপাদনের জন্য এটি ছিল অনুপযোগী। ফলে ১৮৯০ সালে কিছু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটির উন্নত মডেল বাজারে আনা হয়।
পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে পিউজো তার পূর্বের কোম্পানি ত্যাগ করেন এবং ‘সোসাইটি ডেস অটোমোবাইলস পিউজো’ নামে ১৮৯৬ সালে আরেকটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। এর দু’বছর আগে তিনি গাড়ির পাশাপাশি মোটরসাইকেল নির্মাণ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল নির্মাণের জন্য দুটি ভিন্ন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এ পর্যন্ত বহু পুরষ্কার ও সম্মাননা জিতে নেয়া পিউজো এখনো পর্যন্ত চালু থাকা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান
সংক্ষেপে দেখুন