সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
মাটির নীচে, আবার আগ্নেয়গিরির উপরে, পৃথিবীর সাতটি আজব জনবসতি ? কোথায় সেগুলো?
একবিংশ শতাব্দীতে লোকেরা আকাশ ছোঁয়া ইমারতে নিজেদের স্বপ্নের আশিয়ানা তৈরি করতে চান। কিন্তু পৃথিবীর মধ্যে এমন কিছু আজব জায়গা রয়েছে, যেখানে বসতি এবং জীবনযাপনের আদব-কায়দা আপনাকে অবাক করে দেবে। শুধু অবাক হলে হবে না, অদ্ভুত তাদের বস্তি। মানুষতো সেখানে থাকেই পাশাপাশি এখানকার জনপ্রিয়তার কারণে এখানে ট্যবিস্তারিত পড়ুন
একবিংশ শতাব্দীতে লোকেরা আকাশ ছোঁয়া ইমারতে নিজেদের স্বপ্নের আশিয়ানা তৈরি করতে চান। কিন্তু পৃথিবীর মধ্যে এমন কিছু আজব জায়গা রয়েছে, যেখানে বসতি এবং জীবনযাপনের আদব-কায়দা আপনাকে অবাক করে দেবে। শুধু অবাক হলে হবে না, অদ্ভুত তাদের বস্তি। মানুষতো সেখানে থাকেই পাশাপাশি এখানকার জনপ্রিয়তার কারণে এখানে ট্যুরিষ্ট ঝাঁকে ঝাঁকে হাজির হয়। এমন কিছু অদ্ভুত জায়গা কোথায় সেগুলো?
কুয়রপেরি
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কুয়ারপেরি নামে একটি বিচিত্র গ্রাম আছে। যেখানে গ্রামে মাটির নীচে বসে রয়েছে দা মাইনিং টাউন নামে বিখ্যাত এই গ্রামটির মানুষ। সাধারণ শহর বা জনপদের মত নয়। তবে এখানে চার্চ, মিউজিয়াম, আর্ট গ্যালারি, বার, হোটেল, শুটিং স্পট মল এবং আরও বেশ কিছু আলিশান ঘর রয়েছে। এখানে মাটির নীচে তাপমাত্রা অত্যন্ত কম থাকে। যার কারণে অত্যন্ত ঠান্ডা।
হুয়াকাচাইনা
হুয়াকাচাইনা নামে একটি ছোট কসবা রয়েছে। যেখানকার চারিদিকে বালির টিলা দিয়ে ঘেরা। স্বর্গের মতো দেখতে এই জনপদের মরুভূমির ঠিক মাঝখানে এর মত শস্য-শ্যামলা সবুজ জনপদ। এখানকার নীল জল এর সুন্দর সুইমিংপুল রয়েছে। হুয়াকাচাইনাতে স্টুডেন্ট লাইব্রেরি দোকান এবং লাইব্রেরির সুবিধা রয়েছে। এখানকার বাসিন্দারা এটাকে স্বর্গের চেয়ে কম বলে মনে করেন না।
হ্যাঙ্গিং মনেস্ট্রি
ভারতের পড়শি দেশ চিনে পাঁচটি খতরনাক পাহাড় রয়েছে। যার মধ্যে একটি সানজি প্রান্তের হ্যাঙ্গিং মাউন্টেন। পাহাড়ের কোনায় হাওয়াতে ঝুলন্ত বাড়ি বানানো হয়েছে। যে যেখানে হ্যাঙ্গিং নামে একটি প্রসিদ্ধ মাউন্টেন এর পাশে গোল্ডেন নদী হয়ে বয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে এই বাড়িগুলো অনেক উঁচুতে বানানো হয়েছে। যাতে বন্যার সময় কোথাও কোনো ক্ষতি না হয়।
আঙ্গাসিমা
ফিলিপাইন সাগরের মধ্যে অবস্থিত এই আইল্যান্ডে থাকা আঙ্গাসিমা দুনিয়ার সবচেয়ে বাহাদুর গ্রাম রূপে নিজেদের চিহ্নিত করে ফেলেছে। এর উচ্চতা ৪২৩ মিটার এবং এটি প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। বলা হয় যে এটি ১৭৮০ সালে এখানে ফেটে যাওয়া আগ্নেয়গিরি এখানকার লোকেদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছিল। কিন্তু এই দুর্ঘটনার প্রায় পঞ্চাশ বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও ফের এখানে লোক ফিরে এসে বাড়ি বানিয়েছে।
আন্ডিডল
এই শহরের গণনা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এবং রঙিন শহরের মধ্যে করা হয়। ঝিলের ঠিক মাঝামাঝি থাকা এই ঘরের কাঠের ঘর এখানে অত্যন্ত আকর্ষনীয় দেখতে। ১৯৮৮ সালের আগে পর্যন্ত কেবল নৌকায় যাওয়া সম্ভব ছিল। এখন এখানে লম্বা-চওড়া সড়ক তৈরি করা হয়েছে। যাতে বাইরের দুনিয়ার লোকেরা এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এখানে আসা টুরিস্ট বোটিং এর মাধ্যমে শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
আইসারটাক
গ্রিনল্যান্ডের আইসারটাক একটি স্বপ্নের মতো নগর। যেখানে পৃথিবীর ভিড়ভাড় থেকে আলাদা দূরে নির্জন জায়গায় এখানে জনবসতি তোলা সহজ ছিল না। এখানকার বাসিন্দারা খাওয়ার জন্য শুধু মাংসের উপরই নির্ভরশীল ছিল। কারণ এখানে চাষাবাদ করা পরিস্থিতি নেই। কিন্তু আজ এখানে সুপার মার্কেট থেকে নিয়ে সমস্ত সুবিধা উপলব্ধ রয়েছে।
গোরম
গোরম আসলে একটি open-air মিউজিয়াম। যেখানে আপনার পাথরের ভেতরে তৈরি হওয়া চার্চ এবং ঘর দেখতে পাওয়া যাবে । তুর্কির এই ঐতিহাসিক জায়গা কাপাসিয়া প্রান্তে অবস্থিত। একটি প্রাচীন মাল্টিলেভেল আন্ডারগ্রাউন্ড
সংক্ষেপে দেখুনদ্য ক্রাইং বয় পেইন্টিং কেন অভিশপ্ত ?
দ্য ক্রাইং বয় পেইন্টিং: অভিশপ্ত পেইন্টিং দ্য ক্রাইং বয় পেইন্টিংটি জিওভান ব্রাগোলিন নামে একজন ইতালীয় চিত্রশিল্পী দ্বারা আঁকা হয়েছিল; যা ছিল তার স্প্যানিশ ছদ্মনাম। তার আসল নাম ব্রুনো আমাডিও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ৭০/৮০ এর দশক পর্যন্ত এই পেইন্টিং গুলো খুবই জনপ্রিয় উঠেছিল। কমবেশি সবার ঘরেই এই পেইন্টবিস্তারিত পড়ুন
দ্য ক্রাইং বয় পেইন্টিং: অভিশপ্ত পেইন্টিং
দ্য ক্রাইং বয় পেইন্টিংটি জিওভান ব্রাগোলিন নামে একজন ইতালীয় চিত্রশিল্পী দ্বারা আঁকা হয়েছিল; যা ছিল তার স্প্যানিশ ছদ্মনাম। তার আসল নাম ব্রুনো আমাডিও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ৭০/৮০ এর দশক পর্যন্ত এই পেইন্টিং গুলো খুবই জনপ্রিয় উঠেছিল। কমবেশি সবার ঘরেই এই পেইন্টিং থাকতো।
৮০ এর দশকে এসে এই পেন্টিং অভিশপ্ত হওয়ার কুখ্যাতি লাভ করে। ৮০ এর দশকে বেশকিছু বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়, কিন্তু সেসব বাড়িতে থাকা এই পেইন্টিং অক্ষত থেকে যায়। দমকল বাহিনী সেসময় একটি তথ্য দেয় যে তারা এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ টি পুড়ে যাওয়া বাড়িতে এই চিত্রকর্মটি পেয়েছে। সেসব বাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও ছবিটি অক্ষত ছিল। আর তখন মানুষজনের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মে যে এই চিত্রটি অভিশপ্ত।
কান্নারত ছবির স্কেচ করছেন চিত্রশিল্পী
ক্রাইং বয় পেইন্টিংগুলি ১৯৫০-৮০ এর দশকে ব্যাপকভাবে ছাপা হচ্ছিল, এবং সমগ্র যুক্তরাজ্য জুড়ে ব্যাপকভাবে বিক্রি ও হয়েছিল।
৪ সেপ্টেম্বর,১৯৮৫
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য সান’ একটি সংবাদ প্রকাশ করে, রন এবং মে হল নামের এক দম্পতি সম্পর্কে, এই দম্পতির বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল এবং তারা এরজন্য ক্রাইং ভয় পেইন্টিং কে দায়ী করছিল। কারণ ঐ বাড়িতে পেইন্টিং টি ছাড়া আর বাকি সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।
পেইন্টিং এর ছেলেটি কে?
জিওভানও এই রকম ক্রাইং বয় নিয়ে অসংখ্য পেইন্টিং তৈরি করেছিলেন। কিছু পত্রিকা প্রচার কে যে তিনি একটি স্প্যানিশ এতিমখানার শিশুদের ছবি আঁকছিলেন যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরেকটি গল্প প্রচলিত আছে যে জর্জ ম্যালরি নামে একজন স্কুল শিক্ষক এই ছবির চিত্রশিল্পী কে খুঁজে বের করেছিলেন এবং তাকে পেইন্টিং করা ছেলেটির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তাকে জিওভানও বলেছিলেন,যে ছেলেটি ‘ডন বনিলো’ নামে একটি স্প্যানিশ পথশিশু ছিল।
জিওভানওর বাচ্চাটির সাথে ১৯৪৯ সালে মাদ্রিদে তার সাথে দেখা হয়েছিল। বিশ্বযুদ্ধের শেষের পরে ইতালি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরে যার বাবা-মা রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে মারা গিয়েছিল এবং তাই লোকেরা তাকে ‘এল ডায়াবলো’ নামে ডাকতে শুরু করেছিল, এর মানে ছিল শয়তান। তাই এজন্য কেউ তাকে দত্তক নিতে চায়নি। সে নাকি যেখানে যেতো সেখানেই আগুন লেগে যেত।
ছেলেটিকে একজন পুরোহিতের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জিওভান দত্তক নিয়েছিলেন এবং তার চিত্রকর্ম এঁকে তাকে অপব্যবহার করতে শুরু করেন। ছোট্ট দুঃখি অনাথের চিত্রগুলি তাকে ধনী করে তোলে। কিন্তু একদিন হঠাৎই তার স্টুডিওটি রহস্যজনকভাবে পুড়ে যায় এবং জিওভান এই অগ্নিসংযোগের জন্য দায়ী করে সেই ছেলেটিকে, এবং ছেলেটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এর কয়েক বছর পর, বার্সেলোনায় একটি গাড়ি বিস্ফোরণে সেই ছেলেটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ডঃ ডেভিড ক্লার্ক নামের এক সাংবাদিক এই রহস্য সম্পর্কে গবেষণা করেছিলেন, তিনি বলেন যে তিনি কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি; যে জর্জ ম্যালরির, জিওভানির সঙ্গে কখনো দেখা হয়েছিল। হয়তো এগুলো তিনি বানিয়ে বলেছিলেন, খবরে আসার জন্য।
ডঃ ডেভিড ক্লার্ক আরও বলেন যে জিওভান হয়ত ২০-৩০ জন কান্নাকাটিকারী ছেলেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভেনিসে দেখার পর এঁকেছিলেন। যার প্রিন্ট ১৯৭৯ এর দশকে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলিতে প্রচুর পরিমানে বিক্রি হয়েছিল।
৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ সালে, ‘দ্য সান’ পত্রিকায় ক্রাইং বয় পেইন্টিং নিয়ে ‘ক্রাইং বয় জলন্ত অভিশাপ’ শিরোনামটি পাঠকদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করেছিল। যেটি ছিল রণ ও মে হল দম্পতির বাড়ি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা।
‘দ্য সান’ এই নিউজ প্রকাশ করে তখন জনপ্রিয়তার একদম তুঙ্গে। তখন তারা পাঠকদেরকে তাদের বাড়িতে থাকা এই অভিশপ্ত পেইন্টিং টি সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেয়। ক্রাইং বয় এর প্রায় ২৫০০ টি প্রিন্ট ’সান’ এর অফিসে পাঠানো হয়েছিল। যার ফলে নিউজ রুমে ১২ ফুট উঁচু একটি স্তুপের সৃষ্টি হয়েছিল।
এর এক সপ্তাহ পরে ‘দ্য সান’, ‘ক্রয়িং-বয় কার্স স্ট্রাইকস এগেইন’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। যেখানে তারা একটি তরুণের পরিবারের বাড়ি আগুনে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছিল, কিন্তু সেই বাড়িতে শুধুমাত্র পেইন্টিংটি অক্ষত ছিল।
‘দ্য সান’ এই বিষয়ে তাদের শেষ নিউজ কাভার করেছিল ‘Crying Flame’ শিরোনামে। যা হ্যালোউইনে প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে তারা দাবি করেছিল যে তারা টেমস নদীর কাছে, তাদের সংগ্রহিত করা সকল পেইন্টিং তারা একটি বিশাল বনফায়ারে পুড়িয়ে দিয়েছে।
এই পেইন্টিং গুলো পুড়িয়ে দেয়ার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা ‘ব্যারি ডেভিস’ নামের এক ফায়ার অফিসার বলেন যে
বাড়িগুলোতে আগুন কেনো লাগতো?
বেশ কিছু তদন্তের পর দেখা গেছে যে এই আগুন লাগার বেশিরভাগেরই স্বাভাবিক কারণ ছিল। যেমনঃ- সিগারেট, ত্রুটিপূর্ণ তারের বা অপ্রত্যাশিত ডিপ-ফ্রাইং প্যান।
বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা
প্রিন্টগুলি অগ্নি-প্রতিরোধী বার্নিশ দিয়ে প্রলেপিত ছিল। ফলে এটি সহজেই পুড়ে যাওয়া বাড়িতে অক্ষত ছিল।
ডঃ ডেভিড ক্লার্ক আরও আবিষ্কার করেছিলেন যে পেইন্টিংটি একটি সংকুচিত বোর্ডে মুদ্রিত হয়েছিল যা এটি পোড়াতে অসুবিধা করে।
চিত্রকর্মটি কি সত্যিই অভিশপ্ত ছিল?
যেহেতু পেইন্টিংগুলিতে কেন আগুন ধরে না তার একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, তাই এটিকে অভিশপ্ত বলা চলে না। তবুও অনেকে বিশ্বাস করে যে চিত্রটি অভিশপ্ত এবং তারা এই জাতীয় চিত্রগুলি বাড়ির দেয়ালে ঝুলিয়ে না রাখার পরামর্শ দেয়।
জিওভান ব্রাগোলিন ১৯৮১ সালে মারা যান এবং এই গল্পের সত্যটিও তার সাথে চলে গেছে এবং এটি একটি নিছক কাকতালীয় ঘটনা যে সমস্ত ঘর পুড়ে গেছে তাদের দেয়ালে এই চিত্রগুলি সাজানো ছিল এবং তাই লোকেরা ভেবেছিল যে চিত্রটি অভিশপ্ত। আর রন ও মে দম্পতির ঘটনার এমন রসালো হেডলাইন সান পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর চিত্রটি দ্রুত হয়ে ওঠে গল্প করার জন্য একটি মুখরোচক বিষয়। যা সম্পর্কে এখনো মানুষের আগ্রহের শেষ হয়নি।
আচ্ছা আপনি কি আপনার বাড়িতে এই পেইন্টিং টাঙানোর সাহস করবেন?
কেন লেক নেট্রোনে কোনো প্রাণি পড়লে তা পাথরের মূর্তিতে পরিনত হয়?
লেক নেট্রোনের অজানা কথা কেন লেক নেট্রোনে কোনো প্রাণি পড়লে তা পাথরের মূর্তিতে পরিনত হয়? ২০১১ সাল, ব্রিটিশ ফোটোগ্রাফার নিক ব্র্যান্ড ছবি তুলছিলেন পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়ার সীমান্তের পাশে। এক সময় তিনি প্রবেশ করে তানজানিয়ার আরুশা অঞ্চলে। তিনি একটি হৃদ দেখতে পান যার নাম ন্যাট্রন হৃদ। এই হৃদটা অন্যান্য হৃদ থবিস্তারিত পড়ুন
লেক নেট্রোনের অজানা কথা
কেন লেক নেট্রোনে কোনো প্রাণি পড়লে তা পাথরের মূর্তিতে পরিনত হয়?
২০১১ সাল, ব্রিটিশ ফোটোগ্রাফার নিক ব্র্যান্ড ছবি তুলছিলেন পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়ার সীমান্তের পাশে। এক সময় তিনি প্রবেশ করে তানজানিয়ার আরুশা অঞ্চলে। তিনি একটি হৃদ দেখতে পান যার নাম ন্যাট্রন হৃদ। এই হৃদটা অন্যান্য হৃদ থেকে সম্পুর্ন আলাদা। কিন্তু বিস্ময়ের এখানেই শেষ নই। কেননা, এর তীরের দিকে অনেক পশু পাখির মৃত দেহ এবং সেগুলো প্রাকৃতিক উপায়ে মমি করে রাখা। মিশরীয়রা যেমন করে মমী করতো।
লেক নেট্রোন এর অবস্থান আফ্রিকার তানজানিয়াতে। জায়গাটা খুবই দুর্গম প্রান্তে হওয়ায়, এতো কাল লেক নেট্রোনটা মানুষের অগোচরেই ছিল। ২০১১ সালে ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার নিক ব্র্যান্ড পৃথিবির সামনে আনে লেক নেট্রোন এর রহস্য। যা সবাইকে হতবাক করে দেয়।
লেকটির তলদেশ তৈরি হয় ২৬ লক্ষ বছর আগে প্লাইসটোসিন যুগে।
লেকটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম কার্বনেট এবং সোডা। যার কারনে লেকটি অত্যাধিক ক্ষারীয় ( ক্ষারীয় মাত্রা গড়ে ১০.৫ পিএইচ)। যা কোনো শরির কে পুড়িয়ে ফেলতে সক্ষম। মানুষের বসবাস নেই বললেই চলে। তবে প্রচুর পাখি ও অন্যান্য প্রাণি দেখতে পাওয়া যায়। পাখি বা অন্যান্য প্রাণি কোনো ক্রমে পানিতে পড়ে গেলে, পানির অত্যাধিক ক্ষারীয়তার জন্য তাদের শরির পুড়ে যায়। এবং পানিতে থাকা সোডা সময়ের সাথে সাথে জমে শক্ত হয়ে যায়। যার ফলে ওই প্রাণিটি মমিতে পরিনত হয়। ঠিক যেমন পক্রিয়ায় মমি করা হতো মিশরীদের।
সোডিয়াম ও পটাশিয়াম কার্বনেটের জন্য লেকটিতে সায়ানোব্যাকটেরিয়া জম্মায়। যার ফলে লেকটির পানি দেখতে রক্তিম। তাছারাও লেকটিতে এক প্রকার তেলাপিয়া মাছও দেখা যায়।
বছরের অনেকটা সময়ে লেকটিতে প্রজননের জন্য ফ্লেমিঙ্গ পাখির দেখা পাওয়া যায়। যা সংখ্যার দিক দিয়ে কয়েক লাখের উপর। কিন্তু ঔ পাখিদের কোনো ক্ষতি হয় না। বিজ্ঞানীদের ধারনা, ফ্লেমিঙ্গ পাখিদের পায়ের কিছু অংশ তাদের প্রজননের সুবিধার জন্য এমন ভাবে বিবর্তন হয়েছে, যার জন্য লেকটির কঠিন ক্ষারকীয় পরিবেশে তারা স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে।
২০১৩ সালে নিক ব্র্যান্ড লেক নেট্রোন সম্পর্কে Across the Ravaged Land নামে একটি বইও লেখেন।
বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় কই মাছ কেন মাটিতে উঠে আসে ?
আমাদের দেশেও বর্ষাকালে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়। আষাঢ়-শ্রাবণে দিকে যখন প্রচন্ড বৃষ্টি হয়, আশেপাশের পুকুর, খাল-বিল থেকে কই মাছ মাটিতে উঠে আসে। জীবন্ত কই মাছ মাটির ওপর লাফালাফি করে। এই ঘটনাকে গ্রামের মানুষ বলে ‘মাছ উজানোউজান হলো স্রোতের বিপরীত দিকে যাওয়া। কেন এমন হয়? নিশ্চয়ই প্রশ্নটা আপনার মনেও এবিস্তারিত পড়ুন
আমাদের দেশেও বর্ষাকালে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়। আষাঢ়-শ্রাবণে দিকে যখন প্রচন্ড বৃষ্টি হয়, আশেপাশের পুকুর, খাল-বিল থেকে কই মাছ মাটিতে উঠে আসে।
জীবন্ত কই মাছ মাটির ওপর লাফালাফি করে। এই ঘটনাকে গ্রামের মানুষ বলে ‘মাছ উজানোউজান হলো স্রোতের বিপরীত দিকে যাওয়া। কেন এমন হয়? নিশ্চয়ই প্রশ্নটা আপনার মনেও এসেছে। ইন্টারনেট কিংবা খুব বেশি বইতে এই বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য নেই। এই বিষয়ে জানতে হলে প্রথমে ট্যাক্সিস সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
ট্যাক্সিস একটা টার্ম; যার অর্থ প্রাণীর দিকমুখিতা। সহজভাবে বললে, বিভিন্ন পরিবেশে (যেমন- তাপ, চাপ, আলো, শব্দ) প্রাণীর ছুটে চলা। যখন বিভিন্ন পরিবেশের দিকে প্রাণী ছুটে চলে, তখন তাকে পজেটিভ ট্যাক্সিস বলা হয়। কই মাছের ট্যাক্সিস হলো পজিটিভ ট্যাক্সিস।
কোনো প্রাণী স্রোতের দিকে চললে তাকে রিওট্যাক্সিস বলে। যা এক প্রকার পজিটিভ ট্যাক্সিস। বৃষ্টি হলে পুকুর বা নদীতে পানি বেড়ে যায়। তখন স্রোতের দিকে কই মাছ চলতে শুরু করে; বিষয়টিকে অনেকেই নতুন পানিতে যাওয়া বলে থাকেন। আর কই মাছের পাখনা বেশ শক্ত. তাই তারা মাটির উপরেও নড়াচড়া করতে পারে।
আরেকটি কারণও আছে অবশ্য। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে পুকুর বা জলাশয়ের পানিতে অক্সিজেন এবং খাবারের ঘাটতি তৈরি হয়। কই মাছ বৃষ্টির পানি পাওয়ায় সে অক্সিজেন ও খাবারের জন্য স্রোতের সঙ্গে রিওট্যাক্সিসে সাড়া দেয়। শুধু কই-ই নয়; শিং, মাগুর, গুতুম মাছও বৃষ্টির সময় স্রোতের দিকে এবং পুকুর পাড়ে উঠে আসে।
অনেক দেশেই মাছ বৃষ্টি হয়। বিশেষ করে হন্ডুরাসে। গত বছর মাছ বৃষ্টির অভিজ্ঞতা লাভ করেছে শ্রীলঙ্কাও। উপরের ব্যাখ্যাটা খুব সুন্দরভাবে মিলে যেতে পারত হান্ডুরাস বা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। কিন্তু কেউ কেউ মাছগুলোকে দেখে শনাক্ত করে যে, এগুলো তাদের এলাকার মাছ নয়। তাই এটারও আলাদা ব্যাখ্যা রয়েছে, যা নিয়ে অন্য একদিন আলোচনা করা হবে।
সংক্ষেপে দেখুনসকালে সঙ্গীর ঘুম ভাঙাবেন কোন পদ্ধতিতে ?
দম্পতিদের মধ্যে সবচাইতে সুন্দর মুহূর্ত হচ্ছে সকাল। আদর সোহাগ আর কিছু দুষ্টামি সবকিছু মিলিয়ে সঙ্গীর ঘুম ভাঙানোর মুহূর্তটা সত্যি অতুলনীয়। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি যে, আপনার ঘুম ভাঙানোর পদ্ধতিতে যেন সঙ্গী বিরক্ত না হয়। উল্টো আপনার ঘুম ভাঙানোর কৌশলটি এমন হওয়া চাই, যা আপনার সঙ্গীর জন্য হবে আনন্দদায়ক আবিস্তারিত পড়ুন
দম্পতিদের মধ্যে সবচাইতে সুন্দর মুহূর্ত হচ্ছে সকাল। আদর সোহাগ আর কিছু দুষ্টামি সবকিছু মিলিয়ে সঙ্গীর ঘুম ভাঙানোর মুহূর্তটা সত্যি অতুলনীয়। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি যে, আপনার ঘুম ভাঙানোর পদ্ধতিতে যেন সঙ্গী বিরক্ত না হয়। উল্টো আপনার ঘুম ভাঙানোর কৌশলটি এমন হওয়া চাই, যা আপনার সঙ্গীর জন্য হবে আনন্দদায়ক আর তৃপ্তির।
ভারতের জনপ্রিয় জীবনধারা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকালে সঙ্গীকে জাগাতে কিছু প্রচেষ্টা তো থাকতেই হবে আর তার প্রতি থাকতে হবে ভালোবাসার প্রকাশ। কিছু আদরণীয় উপায়ও বর্ণিত হয়েছে সে প্রতিবেদনে, চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেই কৌশলগুলো-
বাহুবন্ধনে রাখুন
সকালে আপনি সঙ্গীকে জড়িয়ে ধরতে পারেন। সঙ্গীর শরীরে আলতো করে আঙুল বোলাতে পারেন। তার কপালে আলতো করে চুমু দিতে পারেন। এটা তাকে বিশেষ অনুভূতি এনে দেবে এবং তার সকালটা সুন্দর হবে। যদি রাতে আপনার সঙ্গীর ঘুম ভালো না-ও হয়, তবু এটা তার অনুভূতিকে নাড়িয়ে দেবে।
আলতো চুমু দিন
সঙ্গী ঘুমিয়ে আছে, এ সময় তাকে আলতো চুমু দেওয়ার চেয়ে সুন্দর মুহূর্ত আর কী হতে পারে। সঙ্গীকে সকালে জাগিয়ে তোলার অন্যতম সুন্দর উপায় এটি। আপনি তার গাল ও কপালে আলতো করে চুমু দিতে পারেন। আমরা নিশ্চিত, এতে সঙ্গী খুব খুশি হবে।
কানে ফিসফিস করে কিছু বলুন
সঙ্গীকে এটা অনুভব করতে দিন, তাকে পেয়ে আপনি কতটা সুখী। তার কানে ফিসফিস করে এমন কিছু বলুন, যা তার মনে রোমান্টিক অনুভব এনে দেবে। এতে জেগে উঠবে আপনার সঙ্গী আর এর পরের ভালোবাসাটুকু আপনাদের জন্য তোলা রইল।
মধুর খুদেবার্তা পাঠান
সঙ্গীকে মুঠোফোনে কল দিতে পারেন, বলতে পারেন আবেগময় কিছু কথা। অথবা পাঠাতে পারেন মিষ্টি খুদেবার্তা। ঘুম থেকে জেগে সঙ্গী যখন ওই বার্তা পড়বে, তখন তার হৃদয়ে সুখানুভূতি নিশ্চয়ই জাগ্রত হবে। এতে আপনাদের সম্পর্ক হবে আরও গাঢ়।
সঙ্গীর প্রিয় নাস্তা তৈরি করুন
আপনি জানেন, আপনার সঙ্গী সকালে কী খেতে পছন্দ করে। তো, প্রস্তুত করুন। আর কানে ফিসফিস করে বলুন- তোমার পছন্দের খাবার তৈরি। এবার ওঠো। আমরা নিশ্চিত, এতে আপনার সঙ্গী খুব খুশি হবে। জেগে উঠবে পরম তৃপ্তি নিয়ে।
গোসলের নিমন্ত্রণ
সকালে আপনারা চাইলে একসঙ্গে গোসল করতে পারেন। সে জন্য সঙ্গীর ঘুম ভাঙান। আর এ আমন্ত্রণে নিশ্চয়ই সঙ্গী বিরক্ত হবে না। গোসলের মুহূর্তটি আপনাদের সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে, প্রেমময় করবে।
হতে পারে দুর্দান্ত মিলন
সংক্ষেপে দেখুনএটা সঙ্গীর ঘুম ভাঙানোর দুর্দান্ত কৌশল। ভালোবাসা, পারস্পরিক আবেগ ও শারীরিক লিপ্ততার চাইতে সুন্দর মুহূর্ত আর কী হতে পারে যৌথ জীবনে? সকালে সঙ্গীকে সেই আবেগ দিয়ে জাগিয়ে তুলুন। দেখবেন, আপনার সঙ্গী একটুও বিরক্ত বোধ করছে না। বরং আপনার মানসিক ও শারীরিক ছোঁয়া তাকে এনে দেবে পরম পুলক-মুহূর্ত।
টাটকা ইলিশ মাছ চেনার উপায় কি?
বাজারভর্তি মাছ। সব যে টাটকা নয় তা আর বলে দিতে হবে না। টাটকা মাছ কিনতে গিয়ে অনেকে বাসি-পঁচা মাছ বেশি দাম দিয়ে কিনে আনেন। কেউ কেউ তো অভিযোগ করেন, ইলিশের সেই স্বাদ কি আর আছে? সাগর ও নদী থেকে ইলিশ মাছ সংগ্রহ করা হয় এবং এই দুই উৎসস্থলের মধ্যে নদীর ইলিশই বেশি সুস্বাদু। অভিজ্ঞরা তো বলেন উজ্জ্বল রুপালি ইলিশবিস্তারিত পড়ুন
বাজারভর্তি মাছ। সব যে টাটকা নয় তা আর বলে দিতে হবে না। টাটকা মাছ কিনতে গিয়ে অনেকে বাসি-পঁচা মাছ বেশি দাম দিয়ে কিনে আনেন। কেউ কেউ তো অভিযোগ করেন, ইলিশের সেই স্বাদ কি আর আছে?
সাগর ও নদী থেকে ইলিশ মাছ সংগ্রহ করা হয় এবং এই দুই উৎসস্থলের মধ্যে নদীর ইলিশই বেশি সুস্বাদু। অভিজ্ঞরা তো বলেন উজ্জ্বল রুপালি ইলিশ কিনতে পারলেই হবে। সে যাই হোক। আপনার যদি টাটকা ইলিশ কেনার ইচ্ছে থাকে তাহলে এই কটি কৌশল মাথায় রাখুন।
ইলিশ মাছটি পর্যবেক্ষণ করুন
ইলিশ মাছ অত্যন্ত নরম হলে বুঝবেন মাছটি পুরোনো। অনেক সময় তা বোঝা নাও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে দেখুন হাতে নেওয়ার পর যদি মাছের মাথা ও লেজ ঝুলে যায় বুঝবেন ইলিশ টাটকা নয়।
কানকো দেখে নেবেন
মাছের কানকো দেখলেই বোঝা যায় সেটি তাজা কি না। ইলিশের ক্ষেত্রেও এমনটা সত্য। কানকো লাল থাকলে বুঝবেন তা টাটকা। আজকাল কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কানকোতে রঙ করেন। সেটা নিশ্চিত হবেন। কানকো বাদামি কিংবা ধূসর হলে বুঝবেন মাছ বেশ পুরোনো।
সরু মুখের ইলিশ কিনুন
যে ইলিশ মাছের মুখ সরু তার স্বাদ ভালো হয়। অর্থাৎ মাছের মাথা যত সরু তার স্বাদ তত বেশি। এজন্যে বাজারে সরু মাথার ইলিশ কিনবেন।
মাছের চোখ দেখুন
ইলিশের চোখ স্বচ্ছ, নীল কিংবা উজ্জ্বল হলে কিনে ফেলতে পারেন। এগুলো তাজা ইলিশের লক্ষণ। ইলিশ মাছ অনেক সময় হিমঘরে রাখা হয়। এদের স্বাদ ভাল হয় না। হিমঘরের মাছ চিনবেন কিভাবে? দেখুন ইলিশের চোখ ভেতরের দিকে ঢুকে আছে কিনা।
ইলিশের গন্ধ
সংক্ষেপে দেখুনইলিশ মাছ কেনার সময় তাতে তীব্র গন্ধ আছে কি না তা যাচাই করে দেখতে হবে। গন্ধ দিয়েও ইলিশ তাজা কি না বিচার করা সম্ভব।
নখে সাদা দাগ হয় কেন ?
আমাদের শরীরের তথা হাতের একটি গুরুত্ব পূর্ণ অংশ নখ৷ কিন্তু মাঝে মধ্যেই আমরা দেখতে পাই নখে বেশ কিছু সাদা দাগ রয়েছে৷ অনেকেই বলেন, শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব নখে সাদা দাগ হয়৷ আর তাতেই আমরা ভয় পেয়ে যাই৷ কিন্তু সত্যিই কি ভয়ের কিছু রয়েছে?চিকিৎসা বিজ্ঞানে নখের সাদা দাগের নাম ‘punctate leukonychia। অধিকাংবিস্তারিত পড়ুন
আমাদের শরীরের তথা হাতের একটি গুরুত্ব পূর্ণ অংশ নখ৷ কিন্তু মাঝে মধ্যেই আমরা দেখতে পাই নখে বেশ কিছু সাদা দাগ রয়েছে৷ অনেকেই বলেন, শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব নখে সাদা দাগ হয়৷
আর তাতেই আমরা ভয় পেয়ে যাই৷ কিন্তু সত্যিই কি ভয়ের কিছু রয়েছে?চিকিৎসা বিজ্ঞানে নখের সাদা দাগের নাম ‘punctate leukonychia। অধিকাংশ সময়ে এই দাগের আবির্ভাব হয় নখে ধাক্কা বা চোট লাগলে৷ তবে এই আঘাত যে খুব গুরুতর নাও হতে পারে৷
টেবিলে ক্রমাগত নখ দিয়ে আওয়াজ করা বা দাঁত দিয়ে নখ কাটাও এই সাদা দাগ উদ্ভবের কারণ হতে পারে৷ আসলে এই সাদা দাগগুলো হল নখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ৷
কিন্তু আপনার নখটি যদি পুরো সাদা হয়ে যায় তাহলে তা গুরুতর হতে পারে৷ কারণ পুরোপুরি সাদা নখ শরীরের অন্য কোন বড় সমস্যার জানান দিতে পারে৷ যেমন-লিভার সমস্যা, কিডনী সমস্যা অথবা হার্টের সমস্যা৷
এছাড়া যখন এই সাদা দাগগুলো সারি দিয়ে থাকে তখন তা রক্তে প্রোটিনের স্বল্পতাকেই ইঙ্গিত করে৷ তাই সাদা দাগ যদি পুরো নখ জুড়ে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন৷
সংক্ষেপে দেখুনউত্তর কোরিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবস্থা কেনো পুরোপুরি ভিন্ন?
বর্তমান দুনিয়ায় ইন্টারনেট ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না। তবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি এরকম নয়। সেখানে হাতে গোনা কিছু অঞ্চল ব্যতীত অধিকাংশ জায়গায় ইন্টারনেট সুবিধা নেই। ইন্টারনেটের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন সেরকম হয়নি। তাছাড়া ইন্টারনেটের জন্য ডিভাইস কিনতে গেলে লাইসেন্সসহ অনেক বাধার সম্মুখবিস্তারিত পড়ুন
পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা কলার নাম কি?
প্লান্টেন কলা হলো এমন এক জাতের কলা যা মূলত আফ্রিকার স্থানীয় তবে এখন মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান এবং এশিয়া সহ বিশ্বের অনেক জায়গায় জন্মে। এ জাতের কলা স্টার্চযুক্ত এবং খাওয়ার আগে রান্না করা হয়ে থাকে। বিশ্বের অনেক অংশে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যের তালিকায় প্লান্টেন কলাকে রাখা হয়। মিষ্টি কলা থেকেবিস্তারিত পড়ুন
প্লান্টেন কলা হলো এমন এক জাতের কলা যা মূলত আফ্রিকার স্থানীয় তবে এখন মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান এবং এশিয়া সহ বিশ্বের অনেক জায়গায় জন্মে। এ জাতের কলা স্টার্চযুক্ত এবং খাওয়ার আগে রান্না করা হয়ে থাকে। বিশ্বের অনেক অংশে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যের তালিকায় প্লান্টেন কলাকে রাখা হয়।
মিষ্টি কলা থেকে এ জাতটির সাইজ বেশ বড় এবং কাঁচা অবস্থায় সবুজ বা হলদে রঙ্গের হয়ে থাকে। এটি ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং এর ত্বক বেশি ঘন হয়। এ কলার খোসা ছাড়ানো বেশ কঠিন।
প্লান্টেন কলার দুটি প্রধান জাত হচ্ছে সবুজ এবং হলুদ রঙের কলা। সবুজ রঙের জাতটি অপরিপক্ক এবং স্টার্চ এর ফ্লেভার পাবেন কিন্তু হলুদ রঙের কলাগুলি সাধারণত পাকা হয় এবং মিষ্টি স্বাদযুক্ত হয়ে থাকে।
প্লান্টেন কলা কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং পটাশিয়ামের ভাল উৎস। এ খাদ্যে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং আয়রন রয়েছে। প্ল্যান্টেন কলায় ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এ খাদ্য আপনার হজমে সাহায্য করতে পারে।
হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিকসের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে প্লান্টেন কলা। এ জাতের কলায় ক্যালরির পরিমাণ বেশি এবং পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
বিভিন্ন জাতের খাবারের ডিশ হিসেবে প্লান্টেন কলা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ জাতের কলা অনেক জায়গায় আলু বা ভাতের পরিবর্তে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি সাইড ডিশ হিসাবে এ কলা পরিবেশন করা হয়ে থাকে।
তাছাড়া প্লান্টেন কলা ডেজার্ট খাদ্যের তালিকায় ব্যবহার করা হতে পারে। এমনকি চিপস হিসেবেও এটি বেশ জনপ্রিয়। লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নিয়মিত খাদ্য হিসেবে প্লান্টেন কলা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এই খাবারকে ভাজা হয় এবং স্ন্যাক অথবা সাইড ডিশ হিসেবে পরিবেশন করা হয়। বিভিন্ন খাবারের বহুমুখী উপাদান হিসেবে প্লান্টেন কলার জনপ্রিয়তা রয়েছে। খাদ্য তালিকায় সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর সংযোজন হিসেবে প্লান্টেন কলার গুরুত্ব রয়েছে।
সংক্ষেপে দেখুনপৃথিবীর সব থেকে ভয়ংকর খাদ্য কোনগুলো ?
বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া জরুরি। কিন্তু কেমন লাগবে যদি কোনো খাবার খাওয়ার সময় জীবনের শঙ্কা থাকে! অদ্ভুত শোনালেও সত্যি, পৃথিবীতে বেশ কিছু জনপ্রিয় খাদ্য আছে যা কি না সাবধানতার সঙ্গে না খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগতে হতে পারে। এমনকি ঘটতে পারে মৃত্যুও। বিজনেস ইনসাইডার আর এমএসএন ডটকম থেকে পাওয়া গেল এমন কিবিস্তারিত পড়ুন
বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া জরুরি। কিন্তু কেমন লাগবে যদি কোনো খাবার খাওয়ার সময় জীবনের শঙ্কা থাকে!
অদ্ভুত শোনালেও সত্যি, পৃথিবীতে বেশ কিছু জনপ্রিয় খাদ্য আছে যা কি না সাবধানতার সঙ্গে না খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগতে হতে পারে। এমনকি ঘটতে পারে মৃত্যুও। বিজনেস ইনসাইডার আর এমএসএন ডটকম থেকে পাওয়া গেল এমন কিছু বিপজ্জনক খাদ্যের নাম :
আফ্রিকান বুলফ্রগ
ব্যাঙের পা বিশ্বের অনেক দেশেই একটি উপাদেয় খাবার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু পশ্চিম আফ্রিকার কিছু দেশে মানুষ ‘আফ্রিকান বুলফ্রগ’ নামের এক ধরনের বড় আকারের ব্যাঙ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। পা নয়, গোটা ব্যাঙ-টাই একটা উপাদেয় খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। তবে সাবধানে রান্না না করলে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে যদি কমবয়েসি ব্যাঙ হয়।
অক্টোপাস
জীবন্ত কোনো প্রাণীকে গিলে খাওয়ার ব্যাপারটি একটু বিচিত্র শোনালেও, কোরিয়ায় কিন্তু এটি বেশ জনপ্রিয় রীতি। অক্টোপাস জ্যান্ত গিলে খাওয়া কোরীয়দের কাছে নিতান্তই ডালভাত। তবে কায়দা করে না গিললে বিপত্তি হতে পারে। অক্টোপাসের শুঁড়গুলোতে আছে অসংখ্য শোষক, যা ভক্ষকের দম আটকে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
আকি
জ্যামাইকার জনপ্রিয় ফল আকি দেখতে যতই চমৎকার হোক, চট করে খেয়ে ফেললে পস্তাতে হবে। পরিপক্ব অবস্থায় না খেলে ভয়াবহ বমি হতে পারে, যার ফলে ঘটতে পারে মৃত্যুও।
ক্যাসাভা
আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মানুষদের কাছে ক্যাসাভা খুবই জনপ্রিয় খাদ্য। তবে ভালো করে রান্না করে না খেলে মৃত্যু হতে পারে। কাঁচা ক্যাসাভা চিবিয়ে খেলে ক্যাসাভার এনজাইম পরিণত হতে পারে সায়ানাইডে, যা কি না মারাত্মক বিষ।
ডুরিয়ান
ভয়াবহ দুর্গন্ধযুক্ত এই ফল পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে খুবই জনপ্রিয়। সাইক্লোপ্রোপেন এসিডে ভরপুর এই ডুরিয়ান কাঁচা অবস্থায় খেলে মারাত্মক অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে। আর কেউ যদি ফলটি খাওয়ার সাথে সাথে মদ্যপান করে, তবে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
বানরের মস্তিষ্ক
পূর্ব এশিয়ার বেশকিছু দেশে বানরের মস্তিষ্ক খাওয়া হয়। এটা কাঁচা, ভাজি করে অথবা রান্না করে খাওয়া হয়ে থাকে। দুর্লভ এই খাবার নিয়মিত খেলে ‘জ্যাকব ডিজিজ’ নামের অসুখ হতে পারে, যাতে কি না মানুষের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ভয়াবহভাবে হ্রাস পায়।
ফুগু
জাপানে ফুগু নামের এই মাছ বেশ প্রচলিত খাবার। বহু বছরের দক্ষ বাবুর্চি ছাড়া এই মাছ রান্না করা বিপজ্জনক। ফুগু মাছের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোতে থাকে টেট্রোডোটক্সিন নামের ভয়াবহ বিষ, যা কি না সায়ানাইডের থেকেও এক হাজার ২০০ গুণ বেশি ক্ষতিকর। ফুগু মাছ খেলে প্যারালাইসিস হতে পারে। তবে এই আশঙ্কা উপেক্ষা করেই জাপানিরা প্রতিবছর ১০ হাজার টন ফুগু ভক্ষণ করে থাকে।
কাজু বাদাম
কাজু বাদাম অনেকেরই খুব পছন্দের। কিন্তু এটা হয়তো খুব বেশি লোক জানে না যে, কাঁচা কাজু বাদাম বেশি পরিমাণে খেলে ভয়াবহ চর্মরোগ থেকে শুরু করে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এজন্য দোকানে কাঁচা কাজু বাদাম নামে যেসব বাদাম বিক্রি করা হয়, সেগুলো অল্প আঁচে ভেজে নেওয়া থাকে যাতে কারো ক্ষতি না হয়।
ফেয়ারফোন … কি রয়েছে এ স্মার্টফোনে?
ফেয়ারফোন: যে টেকসই স্মার্টফোন খুলে নিজেই ঠিক করতে পারবেন ব্যবহারকারী ফেয়ারফোন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনগুলোর বিভিন্ন অংশ খুলে নিয়ে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই নতুন অংশ লাগিয়ে সারাই করতে পারবেন। এতে অন্য ব্র্যান্ডের তুলনায় খরচও কম পড়ে। কার্বন নিঃসরণ ও ই-বর্জ্য কমানো এ কোম্পানিটির অন্যতম লক্ষ্য। তবে স্মবিস্তারিত পড়ুন
ফেয়ারফোন: যে টেকসই স্মার্টফোন খুলে নিজেই ঠিক করতে পারবেন ব্যবহারকারী
ছোট্ট, চৌকোনো একটি বস্তু উঁচিয়ে ধরে বাস ভ্যান অ্যাবেল বললেন, ‘এটা আমার ফোনের ক্যামেরা।’ একটু আগে ছোট একটা স্ক্রুড্রাইভার দিয়ে নিজের স্মার্টফোন থেকে জিনিসটা বের করেছেন তিনি।
‘মোট আটটা কম্পোনেন্ট আছে, সবগুলো খুলে নেওয়া যায়, নতুন লাগানো যায়,’ নিজের ফোনটাকে খুলতে খুলতে বললেন তিনি। একে একে ফোন থেকে বের হলো ব্যাটারি, ইউএসবি পোর্ট, পর্দা, ও লাউডস্পিকার।
ডাচ সামাজিক উদ্যোগ ফেয়ারফোন-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ভ্যান অ্যাবেল। এ ফোন কোম্পানিটির দাবি, এটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে টেকসই স্মার্টফোন’ তৈরি করে। কিন্তু একটি স্মার্টফোন কতটা টেকসই হতে পারে?
২০১৩ সালে আমস্টারডামে পথচলা শুরু করে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেয়ারফোন। এ ব্র্যান্ডের তৈরি ফোনগুলো সহজেই বদলানো, পরিবর্তন, ও সারাই করানো যায়। আর ব্যবহারকারীরা নিজেরাই এ কাজগুলো করতে পারেন।
হালকা কোনো ত্রুটির কারণে ফোন ফেলে দেওয়ার বদলে এভাবে ফোন ঠিক করার উৎসাহ দিয়ে ইলেকট্রনিক বর্জ্য কমাতে সহায়তা করছে ফেয়ারফোন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৫০ মিলিয়ন টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মাত্র ২০ শতাংশ রিসাইকেল করা হয়।
ই-বর্জ্য বাড়ার অন্যতম কারণ হলো বহনযোগ্য ডিভাইস ও স্মার্টফোনের চাহিদাবৃদ্ধি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ বার্ষিক ই-বর্জ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে ১২০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে।
২০২২ সালে ৫৩০ কোটি মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি ১৮ মাস অন্তর মানুষ তাদের ফোন বদলান। এসব ডিভাইসের বেশিরভাগই খোলার কোনো উপায় রাখা হয় না — তাই এগুলো ঠিক করানো খুবই কঠিন ও খরুচে কাজ।
আর দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে এমন ফোন বিক্রি করার মাধ্যমে এ পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে ফেয়ারফোন।
ভ্যান অ্যাবেল বলেন, ‘আমরা ফোনকে সারাই করার মতো উপযুক্ত করে তৈরি করি যাতে মানুষ সেটা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করতে পারেন।’ যুক্তরাজ্যের একটি অলাভজনক সংস্থা দ্য রিস্টার্ট প্রজেক্ট-এর অনুমান, একটি স্মার্টফোনের জীবনকাল ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো গেলে, তা থেকে আয়ারল্যান্ডের মোট বার্ষিক নিঃসরণের সমান পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমানো যাবে।
ভ্যান অ্যাবেল জানান, ‘আমরা আমাদের সব ফোনে শতভাগ রিসাইকেল করা প্লাস্টিক এবং ফেয়ারট্রেডের মাধ্যমে কেনা সোনা ও রুপা ব্যবহার করি।’
তবে ফেয়ারফোনের ফোনগুলোর সব উপাদান টেকসই নয়। ফেয়ারফোন ৫-এ ৪০টি আলাদা উপাদান রয়েছে, তবে কেবল ১৪টি উপাদান (ফোনের মোট ওজনের ৪২ শতাংশ) টেকসইভাবে ও এথিক্যালি সংগ্রহ করা হয়। ১৪টি কাঁচামালের কেবল ৭০ শতাংশ ফেয়ারট্রেড বা রিসাইকেল উৎস থেকে আসে।
ফেয়ারফোনের আরেকটি লক্ষ্য হলো সমগ্র সরবরাহ চেইনে এথিক্যাল কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো। ডিআর কঙ্গোর সংঘাতপূর্ণ খনিগুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরি করার লক্ষ্যে কোম্পানিটি ২০০৯ সালে একটি অ্যাক্টিভিজম ক্যাম্পেইন শুরু করে। বর্তমানে কোম্পানিটি ডিআর কঙ্গোর সংঘাতমুক্ত খনি থেকে টিন ও টাইটানিয়াম সংগ্রহ করে।
এত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও মোবাইল ফোনের বাজারে এখনো ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ফেয়ারফোন। শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লাখ ফোন বিক্রি করতে পেরেছে এটি। তুলনা বোঝানোর জন্য, কেবল ২০২২ সালেই বিশ্বে ২৩২ মিলিয়নের বেশি আইফোন বিক্রি করেছে অ্যাপল।
টেকসই-এর সঙ্গে দামটাও বেশি পড়ে। ফেয়ারফোনের সর্বশেষ মডেলটির দাম ৬৯৯ ডলার। ভ্যান অ্যাবেল জানান, এর একটা কারণ হলো ফেয়ারফোনকে সবকিছু নিজেদেরই তৈরি করতে হয়। অ্যাবেল বলেন, ‘আমাদেরকে নিজেদেরই সফটওয়্যার আপডেট করতে হয়, কারণ দুনিয়ার কোনো কোম্পানিই দীর্ঘমেয়াদি ফোনের পক্ষে না।’
তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের তুলনায় ফেয়ারফোনের সারাইয়ের খরচ অনেক কম। যেমন ফেয়ারফোন ৫-এর একটি নতুন ব্যাটারির দাম পড়ে ৪৯ ডলার, যেখানে আইফোন ১৫-এর ব্যাটারি বদলাতে অ্যাপল নেয় ৯৯ ডলার আর গ্যালাক্সি এস২৩-এর জন্য স্যামসাং ১৩৫ ডলার। ফোনের নতুন পর্দা লাগাতে ফেয়ারফোনে দরকার হয় ১১২ ডলার, অ্যাপলে ৩৫৯ ডলার ও স্যমাসাংয়ে ২৯৭ ডলার।
যেসব ফোন আর সারাই করা সম্ভব হয় না, সেগুলোর জন্য একটি রিসাইক্লিং প্রোগ্রামও রয়েছে ফেয়ারফোনের। রিসাইক্লিং করার পর ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উপদান সংগ্রহ করা যায়। রিসাইক্লিংকে শেষ উপায় হিসেবে বিবেচনা করে ফেয়ারফোন।
যুক্তরাজ্যের ডিজাইন কাউন্সিল-এর প্রধান ডিজাইন অফিসার ক্যাট ড্রু বলেন, বেশিরভাগ স্মার্টফোনের নকশার কারণে এগুলো সারাই করতে উৎসাহবোধ করেন না ব্যবহারকারী। ফোনের ডিজাইন সহজে খোলার মতো করা হয় না। আবার হালকা, পাতলা ফোনগুলো খোলাও মুশকিল।
ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি সারাইয়ের খরচের কারণেও মানুষ আর পুরোনো জিনিস ঠিক করান না। ‘একটা ল্যাপটপের ডিসপ্লে ঠিক করাতে অনেক সময় নতুন ল্যাপটপের দামের চেয়ে বেশি খরচ করতে হয়,’ বলেন ড্রু।
স্মার্টফোন সারাইয়ের ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ হলো ইলেকট্রনিক্স শিল্পের ব্যবসায়িক মডেলের পরিবর্তন আনা। দশকের পর দশক ধরে এ শিল্পের সরবরাহ চেইন গড়ে উঠেছে, চাহিদা ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। সেটায় পরিবর্তন আনা, এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলোর পক্ষে কঠিন।
এক্ষেত্রে মার্কেটিংও আরেকটি বড় সমস্যা। ভ্যান অ্যাবেল বলেন, ‘পুরো ব্যবসা মডেলটিই গড়ে উঠেছে প্রবৃদ্ধি ও বেশি বেশি ফোন বিক্রির ওপর। যেসব জিনিসের আমাদের দরকার নেই, সেগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করার ক্ষেত্রে মার্কেটিং দারুণ সফল।’
ঐতিহ্যবাহী পোশাক কেফিয়াহ কিভাবে ফিলিস্তিনের জাতীয় প্রতীক হয়ে উঠে ?
১৯৩৬-১৯৩৯-এর দিকে অর্থাৎ আরব বিদ্রোহের সময়, ফিলিস্তিনিরা যখন ব্রিটিশ দখলদারিত্বের অবসান ঘুচিয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, তখন তারা শান্তি এবং সংহতির প্রতীক হিসেবে সাদা-কালো কেফিয়াহ পরিধান করত। কেফিয়াহ পরিহিত দুই ফিলিস্তিনি। সপ্তাহান্তের ছুটির দিনে তিনজন ফিলিস্তিনি কলেজ শবিস্তারিত পড়ুন
সপ্তাহান্তের ছুটির দিনে তিনজন ফিলিস্তিনি কলেজ শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। যাদের মধ্যে দুইজন কেফিয়াহ (স্কার্ফ) পরিহিত ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্রই কেফিয়াহ পরা হয়, কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলোতে কেফিয়াহকে ফিলিস্তিনিদের জাতীয় পরিচয় ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসাবে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে চলা ইসরায়েল এবং হামাস যুদ্ধের মধ্যেও ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের গলায় এই কেফিয়াহ স্কার্ফ পরতে দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে মুখ ঢেকে রাখতেও ব্যবহার করেছেন।
“এই কেফিয়াহ যাযাবর বেদুইন, কৃষক এবং রাখালরা পরে বহু যুগ ধরেই। কিন্তু এখন এই কেফিয়াহই এই সময়ে এসে, বিশ্বব্যাপী ঔপনিবেশিকতাবাদ-বিরোধী অনেক বিপ্লবী ও কর্মীদের কাছে একটি আইকনিক পোশাক হয়ে দাঁড়িয়েছে”, কথাগুলো বলেছেন মজিদ মালহাস নামে একজন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান সাংবাদিক। তিনি কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন পিএইচডি শিক্ষার্থীও।
কেফিয়াহ বলতে যা বোঝায়
কেফিয়াহকে অনেক সময় ইংরেজিতে বলা হয় কুফিয়া বা কাফিয়াহ। ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব অঞ্চলের লোকজনই একে নিত্যই ব্যবহার করে। বেশিরভাগ কেফিয়াহ সাদা-কালো বা লাল-সাদা’র। তবে সুতার ব্যবহার বিভিন্ন প্যাটার্নের হয়।
ফিলিস্তিনের পোশাক ইতিহাসের জন্য সুপরিচিত বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ওয়াফা ঘনাইম সিএনএনকে বলেন, ১৯২০ সাল পর্যন্ত কেফিয়াহকে হাত্তা বা শামাঘ বলা হতো যা ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ যাযাবর বেদুইন পুরুষরা পরিধান করতেন।
ঘনাইম সিএনএনকে আরও বলেন, উনিশ শতকের দিকে কেফিয়াহ সাধারণত তুলা, সিল্ক এবং সূক্ষ্ম উল দিয়ে তৈরি করা হতো যা সাদা, কালো, সবুজ ও লাল সূতা দিয়ে মোড়ানো থাকতো।
“মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলোর পুরুষ কিংবা মহিলা সকলকেই হেডড্রেস পরিধান করতে দেখা যেত। বেদুইনদের তুলনায় গ্রাম এবং শহরে বসবাসকারী লোকদের হেডড্রেসের ধরন আলাদা-আলাদা ছিল,” ব্যাখ্যা করে বলেন গবেষক ঘনাইম। বেদুইনরা কেফিয়াহকে আড়াআড়িভাবে ভাঁজ করে মাথায় পরতো এবং মাথায় সুরক্ষিতভাবে রাখার জন্য একটি রজ্জুও ব্যবহার করত।
এছাড়া, মরুভূমির তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতেও এই কেফিয়াহ পরা হয়।
সাংবাদিক মালহাস বলেন, “প্রতিটি কেফিয়াহর বুনন ফিলিস্তিনের একেকটি দিককে প্রতিফলিত করে। যেমন জলপাই গাছ এবং ফিশনেট।”
সাদা এবং কালো কেফিয়াহকে জর্ডানের জাতীয়তাবাদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করা হয়, কারণ ব্রিটিশ কমান্ডাররা ডেজার্ট প্যাট্রোলের সময় ইউনিফর্মের অংশ হিসেবে এটিকে ব্যবহার করতো। কিন্তু মালহাসের মতে, ফিলিস্তিনের কর্মী-সমর্থক এবং প্রতিরোধ যোদ্ধারা সব রঙের কেফিয়াহ পরিধান করেছে।
ফিলিস্তিনিদের কাছে কেফিয়াহ অর্থ কী
বিশ্বের অনেক ফিলিস্তিনি এবং আরব বংশোদ্ভূত মানুষেরা ভাবেন যে, কেফিয়াহ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিরই একটি অংশ।
ফিলিস্তিনের ব্র্যান্ড কৌশলবিদ ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ডালিয়া জ্যাকবের মতে, যখন তিনি বাইরের কোনো দেশ ভ্রমণে যান, তখন তার শহর হেব্রনের তৈরি করা কেফিয়াহ পরতে কখনো ভুল করেন না।
এই স্কার্ফকে প্রতিরোধ এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, “যখন আমি কেফিয়াহ পরিধান করে কোথাও ঘুরতে বের হই, তখন মনে হয় সেই জায়গাতে নিজের ঠিকানাকে সঙ্গে বহন করে নিয়ে যাচ্ছি।”
ঘনাইম বলেন, “আমার সুন্দর স্মৃতিগুলোর বেশিরভাগই এই কেফিয়াহকে ঘিরে। যখন এটি গলায় কিংবা মাথায় পরি তখন খুব গর্ব আর আনন্দ অনুভব করি।”
যেভাবে কেফিয়াহ প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে
সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক ছাড়াও এই কেফিয়াহ রাজনীতিতে যুক্ত করেছে এক নতুন মাত্রা। ব্যাপারটি কিছুটা সাংস্কৃতিক কিংবা ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং জাতীয়তাবাদের সঙ্গে মিশে থাকা অন্যান্য পোশাকের মতোই।
ঘনাইমের মতে, ১৯৩৬-১৯৩৯-এর দিকে অর্থাৎ আরব বিদ্রোহের সময়, ফিলিস্তিনিরা যখন ব্রিটিশ দখলদারিত্বের অবসান ঘুচিয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, তখন তারা শান্তি এবং সংহতির প্রতীক হিসেবে সাদা-কালো কেফিয়াহ পরিধান করত।
১৯৬০-এর দশকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে কেফিয়ার আরও এক পুনরুত্থান ঘটে। সে সময় পুরুষ-মহিলা সবাই কেফিয়াহ স্কার্ফ পরতেন। আর ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশনের প্রধান ইয়াসির আরাফাতকে প্রায়ই সাদা এবং কালো কেফিয়াহ পরিধান করতে দেখা যেত যা ফিলিস্তিনের জাতীয় সংগ্রামকে নির্দেশ করত সেই সময়।
প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের একজন সাবেক কর্মী ও যোদ্ধা লায়লা খালেদ ১৯৬৯ সালের দিকে বিমান ছিনতাইয়ের জন্য ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তিনিও ফিলিস্তিনের জাতীয় সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে মাথায় এবং গলায় কেফিয়াহ জুড়িয়ে রাখতেন।
কারা কেফিয়াহ পরিধান করতে পারে?
কেফিয়াহকে জাতীয় পরিচয় ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে মনে করা হলেও এটিকে এখন মূলধারার ফ্যাশনের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বের নামকরা এবং মূলধারার পোশাক বিক্রেতারা এটিকে এখন ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবেই বিক্রয় করছে।
ঘনাইম বলেন, “গত ১০ বছরে কেফিয়াহ কোনো সাংস্কৃতিক পরিচয় আরোপ ছাড়াই মূলধারার ফ্যাশন হিসেবে বিশ্বে জায়গা দখল করে নিয়েছে।”
তিনি একে ব্যাখ্যা করে বলেন, “সাংস্কৃতিক দখল অনেক সময় সংস্কৃতিকে মুছে দিতে পারে। তাই এই স্কার্ফ পরার আগে সবার উচিত ইতিহাস কিংবা উত্থান সম্পর্কে জানা। এটি আসলে এমন একটি পোশাক যা সংহতি, মুক্তি এবং স্বাধীনতার প্রতীকও।”
অন্যদিকে, মালহাস বলেন, বেদুইনদের ঐতিহ্যবাহী স্টাইলে এই কেফিয়াহ পরিধান করার সময় অ-ফিলিস্তিনিদের এটা জানা উচিত যে, (অ-ফিলিস্তিনিদের) এই পোশাক পরার অর্থ “এক মহান সংহতি”র সঙ্গে ঐক্য প্রকাশ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
অক্সফোর্ড-এর ২০২৩ সালের বর্ষসেরা শব্দ ”রিজ” মানে কি?
ধারণা করা হয়, ইংরেজি ‘কারিজমা’-এর সংক্ষিপ্ত রূপই এই ‘রিজ’। মূলত অনলাইন দুনিয়াতেই এ শব্দটি বেশি ব্যবহার করা হয়। অভিনেতা টম হল্যান্ড দাবি করেছেন, তার কোনো 'রিজ নেই'। সম্ভাব্য প্রেমিকার সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যেতে কি আপনি পাকা? অথবা আপনার দারুণ 'ফ্লার্টিং' দক্ষতা আছে? তাহলে হয়তো আপনার মধ্যে 'রিজ' আছে, হয়বিস্তারিত পড়ুন
সম্ভাব্য প্রেমিকার সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যেতে কি আপনি পাকা? অথবা আপনার দারুণ ‘ফ্লার্টিং’ দক্ষতা আছে? তাহলে হয়তো আপনার মধ্যে ‘রিজ’ আছে, হয়তো আপনি জানেনই না।
এ বছরের অক্সফোর্ড-এর বর্ষসেরা শব্দের খেতাব জিতেছে রিজ। ইন্টারনেট দুনিয়ার প্রচলিত এ শব্দটির অর্থ রোমান্টিক আবেদন বা চার্ম। মূলত তরুণেরাই এ শব্দটি বেশি ব্যবহার করেন।
এ বছর বর্ষসেরা শব্দের তালিকার সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে মোট আটটি শব্দ। পাবলিক ভোটের পর চূড়ান্ত শব্দটি নির্বাচন করেছেন অক্সফোর্ড-এর অভিধানকারেরা।
প্রতিযোগিতায় অন্য শব্দগুলোর মধ্যে ছিল সুইফটি, বিজ ফ্ল্যাগ, সিচুয়েশনশিপ ইত্যাদি।
তবে জেন জি (জেনারেশন জেড) না হলে রিজ-এর আপনার কাছে কোনো অর্থ নাও থাকতে পারে।
মূলত অনলাইন দুনিয়াতেই এ শব্দটি বেশি ব্যবহার করা হয়। টিকটক-এ ‘রিজ’ হ্যাশট্যাগ-এর কয়েক বিলিয়ন ভিউ রয়েছে।
অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি’র প্রকাশক অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস-এর দেওয়া রিজ-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, এটি মানুষের স্টাইল, চার্ম বা চটক এবং রোমান্টিক বা সেক্সুয়াল পার্টনার আকর্ষণের সক্ষমতাকে বোঝায়।
ধারণা করা হয়, ইংরেজি ‘কারিজমা’-এর সংক্ষিপ্ত রূপই এই ‘রিজ’। এটি ক্রিয়াপদ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
‘রাইস ব্যাংক কি? কোথায় অবস্থিত এ ব্যাংক ? কিভাবে কাজ করে?
খাদ্য সংকটে পড়লে রাইস ব্যাংক থেকে ৫০ হাঁড়ি পর্যন্ত ধান ধার নিতে পারে যে কেউ। পরের বছর জুমের ধান তোলার পর ১০ হাঁড়ির বিপরীতে ১৩ হাঁড়ি করে (১০ হাঁড়ি ধান নিলে বাড়তি ৩ হাঁড়ি দিয়ে শোধ করতে হয়) ধান শোধ করতে হয়। থানচির দুর্গম এলাকায় একটি বিশাল জুমক্ষেত বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের বড়মদক এলাকাবিস্তারিত পড়ুন
বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের বড়মদক এলাকায় ‘রাইস ব্যাংক’ -এর মাধ্যমে খাদ্য সংকট মোকাবেলা করে থাকেন জুমচাষীরা। বড়মদক মূলত মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা। থানচি উপজেলা সদর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সেখানে যেতে লাগে চার ঘণ্টার মতো সময়। সেখানে এক পাড়ায় এখনও দুটি রাইস ব্যাংক চালু রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে ১৮ বছর আগে এই দুটি রাইস ব্যাংক চালু করা হয় বলে জানিয়েছেন চাষীরা।
প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট মাসে খাদ্য সংকটে পড়ে অধিকাংশ জুমচাষী। জুন-জুলাই মাসে একদিকে যেমন থাকে ভরা বর্ষাকাল। বাইরে কাজের তেমন সুযোগ পায় না। অন্যদিকে জুমের নতুন ধান গোলায় উঠতেও দেরী। এসময় খাদ্য সংকটে পড়ে ধারদেনা করে চলতে হয় অনেক জুমিয়াদের। দুর্গম এলাকায় অনেকেই উপায় না পেয়ে ‘দাঁদন টাকা’ নেন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। ‘দাঁদন’ টাকা নেওয়ার পর ওই নির্দিষ্ট টাকার পরিমাণে জুমের ধান, তিল, কাউন কিংবা যে কোন জুমের ফসল দিয়ে পরিশোধ করতে হয়।
জুমের নতুন ধান ঘরে তোলার পর সবাই মিলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান জমা করে রাখা হত একটি ঘরে। যাতে জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত আপদকালীন খাদ্য সংকট মোকাবেলা করতে পারে জুমচাষীরা। দুর্গম এলাকায় এভাবে গড়ে উঠেছিল ‘রাইস ব্যাংক’ ধারণাটি। খাদ্য সংকটে পড়লে সেখান থেকে দশ থেকে পঞ্চাশ হাঁড়ি পর্যন্ত ধান ধার নিতে পারে যে কেউ। পরের বছর জুমের ধান তোলার পর দশ হাঁড়ির বিপরীতে তের হাঁড়ি করে (১০ হাঁড়ি ধান নিলে বাড়তি ৩ হাঁড়ি দিয়ে শোধ করতে হয়) ধান শোধ করতে হয়। এছাড়া তুলনামূলক কম টাকায় কিনতে পারে এই ধানও। সবকিছু কাগজে-কলমের মাধ্যমে সে হিসাব রাখে রাইস ব্যাংক পরিচালনা কমিটি।
একসময় রাইস ব্যাংক পরিচালনার জন্য নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছিল জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা-ইউএনডিপি। সে সময় বান্দরবানের সাত উপজেলায় বিভিন্ন পাড়ায় ইউএনডিপির উদ্যোগে ৫৮৪টি রাইস ব্যাংক গড়ে উঠেছিল। তবে পাহাড়ে অধিকাংশ এলাকায় দিন দিন জুমের আবাদ কমে যাচ্ছে। জুমচাষীর সংখ্যাও কমে আসায় সেই রাইস ব্যাংক আগের মত চালু নেই। অনেক জায়গায় একেবারে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু কিছু কিছু দুর্গম এলাকায় ‘রাইস ব্যাংক’ এখনও ভালোভাবে টিকে আছে। বিশেষ করে রাইস ব্যাংকের কারণে আপদকালীন খাদ্য সংকট মোকাবেলা করতে পারে অনেক জুমচাষী।
তবে কেবল জুমচাষী নয়, পাড়ার অন্যান্য যে কেউ খাদ্য সংকটে পড়লে রাইস ব্যাংক থেকে ধান ধার নিতে পারে। এমনকি ধার নিতে পারে নগদ টাকাও। ধান ও নগদ টাকা ধারদেনার হিসাব করে রাখেন রাইস ব্যাংক পরিচালনা কমিটি।
সম্প্রতি বড়মদক ভিতরপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অল্প কয়েক গজের ব্যবধানে দুটি রাইস ব্যাংক রয়েছে। দুটি ‘রাইস ব্যাংক’ বাঁশের বেড়া দিয়ে টিনের ছাউনি ঘর। মাটি থেকে সামান্য উপর করে তৈরি করা হয়েছে ঘর দুটি। একটি রাইস ব্যাংকে ১০০-১৫০ হাঁড়ির মত ধান রয়েছে। অপরটিতে কোন ধান অবশিষ্ট নেই। জুমচাষীরা যে যার চাহিদা অনুযায়ী ধার করে নিয়েছে।
বড়মদক ভিতরপাড়া বাসিন্দা সিংদাই মারমা নামে এক নারী জুমচাষি বলেন, এ বছর মে-জুন মাসের দিকে ঘরের খাবার একটু টান পড়ে যায়। রাইস ব্যাংক থেকে ৩০ হাঁড়ি ধার নিয়েছি। নতুন ফসল তোলার পর শোধ করে দিয়েছি। ৩০ হাঁড়ি ধানে বাড়তি হিসেবে আরও ৯ হাঁড়ি ধান দিতে হয়েছে। আবার টাকা থাকলে ধানও কেনা যায়। এক হাঁড়ি ধান ২৫০ টাকা করে কিনতে পাওয়া যায়।
বড়মদক ভিতরপাড়ার আরেক বাসিন্দা স্ইুলুংমং মারমা বলেন, জুলাই মাসে স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছি। হঠাৎ টাকা প্রয়োজন। রাইস ব্যাংক কমিটি থেকে ১৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছি। এ বছর ঠিকমত জুমচাষও করা যায়নি। আগামী বছর এক সাথে সব টাকা পরিশোধ করা হবে।
এবারে ভারী বৃষ্টিতে জুমক্ষেত নষ্ট হয়েছে। কোনরকমে খাওয়ার মত ধান পেয়েছে্ন। ৩০ হাঁড়ি ধান রাইস ব্যাংক থেকে ধার নেওয়া ছিল। ভাল ধান না পাওয়ায় এ বছর পরিশোধ করা যায়নি। আগামী বছর জুমধান পেলে পরিশোধ করা হবে বলে জানান মংমং মারমা নামে বড়মদক পাড়ার আরেক জুমচাষী।
মংদাক মারমা নামে আরেক জুমচাষী জানান, তিনিও এ বছর ২০ হাঁড়ি ধান ধার নিয়েছেন। ফসল ঘরে তোলার পর ২৬ হাঁড়ির (১০ হাঁড়িতে বাড়তি ৩ হাঁড়ি ধান পরিশোধ করতে হয়) ধান পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। জুমের ধান ঘরে তোলার আগে কোন কোন বছর খাবারের একটু টান পড়ে। আবার কোন বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ধান সব নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় একমাত্র ভরসা রাইস ব্যাংক।
অংথোয়াইসা মারমা নামে আরেক জুমচাষি জানিয়েছেন, তিনিও এ বছর জুলাই মাসে ১০ হাঁড়ি ধান নিয়েছিলেন। জুমের ধান তোলার পর পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জুমচাষ করে আগের মত ভাল ধান পাওয়া যায় না। অনেক দূরে গিয়ে চাষ করতে হয়। কোন কোন সময় বছর খোরাকি ধান উঠে না। এ কারণে বাধ্য হয়ে রাইস ব্যাংক থেকে ধান ধার করে চলতে হয়।
রেমাক্রি ইউনিয়নের বড়মদক ভিতরপাড়ায় ১৫০টির মত পরিবার রয়েছে। দুর্গম এ পাড়ায় অধিকাংশই জুমচাষের মাধ্যমে জীবন নির্বাহ করে থাকে। সেখানে দুটি রাইস ব্যাংক পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা দুটি কমিটিও। কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে মোট চারজন সদস্য রয়েছে।
পাড়ার একটি ‘রাইস ব্যাংক’ কমিটির সভাপতি সাচিংপ্রু মারমা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ধার দেওয়া ধান সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ বলতে যারা ধার নিয়েছে তারা নিজেরাই এসে দিয়ে যায়। কারণ এ সময় সবাই জুমের নতুন ফসল ও ধান ঘরে তুলে। কেউ দশ হাঁড়ি ধান নিলে পরের বছর বাড়তি তিন হাঁড়ি ধান শোধ করতে হয়। এভাবে করে কেউ বিশ হাঁড়ি ধান নিলে পরের বছর ওই বিশ হাঁড়িসহ বাড়তি আরও ছয় হাঁড়ি ধান শোধ করতে হবে। অনেকেই জুমের ধান খারাপ হলে ঠিকমত পরিশোধ করতে পারে না। তখন আমরা পরের বছর নিয়ে থাকি।”
”বছরে একটা বিশেষ সময় খাদ্য সংকট মোকাবেলা করার জন্য এই রাইস ব্যাংক চালু হয়েছে। আবার কেউ নগদ টাকা ধার নিয়ে থাকলে টাকাও সংগ্রহ করি। টাকা শোধ করতে হয় প্রতি হাজারে ১০০ টাকা বাড়তি করে। ধান হলে যে কোন বছর যে কেউ পরিশোধ করতে পারে। কারণ সবাই জুমচাষ করে। তবে নগদ টাকা ধার দেওয়ার সময় একটু হিসাব করে দিই। তবে পাড়াবাসী হিসেবে আমরা সবাইকে চিনি কার কেমন সামর্থ্য। কাকে কত টাকা দেওয়ার দরকার সে হিসাব করে টাকা দিয়ে থাকি”, বলেন তিনি।
“বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণত চার-পাঁচ হাজার টাকার বেশি দেওয়া হয় না। টাকা কিংবা ধান একেবারে কেউ পরিশোধ করেনি এরকম কখনও হয়নি। জুমের ফসল ভাল না পেলে হয়ত কোন বছর সময়মত টাকা দিতে পারেনা। কিন্তু পরের বছর ঠিকই পরিশোধ করে”, বলেন কমিটির সভাপতি সাচিংপ্রু মারমা।
বড়মদক ভিতরপাড়ার আরেকটি ‘রাইস ব্যাংক’ -এর পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিংমং মারমা জানান, “আমাদের রাইস ব্যাংকে মোট দুই হাজার হাঁড়ি পর্যন্ত ধান রাখা যায়। তবে বছরে সবসময় এক হাজার হাঁড়ি পর্যন্ত ধান জমা থাকে। সেখান থেকে যার যার চাহিদা অনুযায়ী ধান ধার দেওয়া হয়। এগুলো লিখিতভাবে হিসাব করে রাখি। জুমধান ঘরে তোলার পর নিজেদের উদ্যোগে ধান পরিশোধ করে থাকে তারা।”
”সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বরে পরিশোধ করার কথা থাকলেও অনেকেই দেরী করে পরিশোধ করে। কারণ এলাকা থেকে দূরে গিয়ে জুমচাষ করতে হয়। ঘরে নিয়ে আসতে অনেক দেরী হয়। তবে রাইস ব্যাংক চালু হওয়ার ১৮ বছরের মধ্যে ধান পরিশোধ করেনি এরকম মাত্র চার-পাঁচজন রয়েছে। তাদেরকে সমিতি থেকে একেবারে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
রেমাক্রি ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, জুমচাষী ও পাড়াবাসীরা রাইস ব্যাংক থেকে উপকৃত হচ্ছে। বছরে বিশেষ একটা সময় জুমধান কাটার আগে দুই থেকে তিন মাস অনেকে খাবারের অভাবে থাকে। তখন রাইস ব্যাংক থেকে ধান ধার করে চলতে পারে। দুর্গম এলাকায় এভাবে খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাইস ব্যাংক ভূমিকা রাখে। আর ভূমিকা রাখে বলেই রাইস ব্যাংকটি ১৮ বছর ধরে চালু আছে।
তিনি বলেন, ”ইউএনডিপি থাকতে তাদের সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকায় রাইস ব্যাংক চালু ছিল। কিন্তু নানা কারণে পাড়াবাসীরা চালু রাখতে পারেনি। বড়মদক পাড়ায় দুটি রাইস ব্যাংক টিকে আছে। এছাড়া বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আরও থাকতে পারে”।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এম এম শাহ নেওয়াজ বলেন, “দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে যেখানে জুমচাষীরা রয়েছে তারা নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনে ‘রাইস ব্যাংক’ গড়ে তুলেছে। তবে সেখানে কৃষি বিভাগের কোন সংশ্লিষ্টতা নাই।”
২০৫০ সালের মধ্যে আমরা কোনসব খাবার খেতে শুরু করবো?
এই মুহূর্তে আমাদের ক্যালরির ৯০ শতাংশ আসছে মাত্র ১৫টি খাদ্যশস্য থেকে। তাই মানবজাতির খাদ্যের উৎস নিশ্চিত করতে লন্ডনের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনের বিশেষজ্ঞরা এখন নতুন খাদ্য উপাদান খুঁজছেন। মাত্র তিনটি শস্য বিশ্বের ৪০০ কোটির বেশি মানুষের প্রধান খাদ্যের উৎস। ২০২২ সালে যেসব খাদ্য আপনার মেন্যুতে রয়েছে, ২০৫০ সবিস্তারিত পড়ুন
২০২২ সালে যেসব খাদ্য আপনার মেন্যুতে রয়েছে, ২০৫০ সাল আসতে আসতে তার মধ্যে ঘটতে পারে বেশকিছু পরিবর্তন। আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ হতে পারে নতুন ধরনের গাছগাছড়া, ফল থেকে শুরু করে নকল কলা পর্যন্ত! হ্যাঁ, এমনটাই দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।
এতদিন ধরে বিশ্বের সিংহভাগ মানুষের কাছেই অজানা ছিল, এমন কয়েকটি গাছের তালিকা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, ভবিষ্যতে এগুলোই হয়ে উঠতে পারে মানুষের খাদ্য।
কিন্তু হঠাৎ বিজ্ঞানীদের এই অনুসন্ধানের কারণ কী?
কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ববাসীকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্ববাজারে কেনাবেচা হয় এমন গুটিকয়েক খাদ্যশস্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে থাকা কতটা বিপজ্জনক।
এই মুহূর্তে আমাদের ক্যালরির ৯০ শতাংশ আসছে মাত্র ১৫টি খাদ্যশস্য থেকে। তাই মানবজাতির খাদ্যের উৎস নিশ্চিত করতে লন্ডনের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনের বিশেষজ্ঞরা এখন নতুন খাদ্য উপাদান খুঁজছেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ‘ফুড শক’ এর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে, যেখানে উৎপাদিত শস্য মানুষের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রধান খাদ্যের দাম দ্রুত বেড়েই চলেছে।
লন্ডনের গবেষক ড. স্যাম পিরিনন বলেন, খাদ্যোপাদানে বৈচিত্র্য আনলে এটি ক্ষুধার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করবে। তিনি আরো বলেন, “আমরা জানি যে দুনিয়াজুড়ে হাজার হাজার রকমের এডিবল (খাওয়ার যোগ্য) প্ল্যান্ট বা গাছপালা রয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এগুলো খাচ্ছে। আর এখানেই আমরা ভবিষ্যতের খাদ্য সমস্যার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় খুঁজবো।”
বিশ্বের ৭ হাজারেরও বেশি ভক্ষণযোগ্য গাছপালার মধ্যে মাত্র ৪১৭টি মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পান্ডানুস
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ থেকে শুরু করে ফিলিপাইনের উপকূলবর্তী অঞ্চলে জন্মানো ছোট আকৃতির একটি গাছ হলো পান্ডানুস। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় মিষ্টি ও মুখরোচক খাবারে স্বাদ আনতে এই গাছের পাতা ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, এর আনারসের মতো দেখতে ফলটি কাঁচা অথবা রান্না করে খাওয়া যায়।
খরা, তীব্র ঝড়ো হাওয়া এবং সল্ট-স্প্রে সহ নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও পান্ডানুস গাছ টিকে থাকতে পারে, জানান আরেক গবেষক ড. ম্যারিবেল সোটো গোমেজ।
তিনি বলেন, “এটা জলবায়ু সহনশীল এবং পুষ্টিকর একটা খাবার যা খেতে বেশ মজাও বটে। পুষ্টিকর এবং প্রতিকূল পরিবেশেও জন্মানো সম্ভব, এমন একটি খাবার আমাদের ফুড পোর্টফোলিওতে যোগ করলে খাদ্যাভাসে বৈচিত্র্য আসবে।”
স্থানীয় লোকেদের খাদ্যের উৎস বিঘ্নিত না করেই যদি পান্ডানুসকে টেকসইভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে আমাদের উচিত এই গাছটি বড় পরিসরে জন্মানো, বলেন এই গবেষক।
নানান জাতের শিম
শিম বা বিনসকে বলা হয় ‘প্রকৃতির খাদ্য’। এগুলো দামে সস্তা, প্রোটিন ও ভিটামিন-বি তে ভরপুর এবং সমুদ্র থেকে আরম্ভ করে পাহাড়ি ঢাল, সব রকম পরিবেশেই জন্মানো সম্ভব।
শিম বা শুঁটি জাতীয় খাবারের ২০,০০০ প্রজাতি রয়েছে সারা বিশ্বে। কিন্তু এর মধ্যে হাতেগোণা কয়েকটি প্রজাতি মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বাইরেও, বনজঙ্গলে আরো কয়েক শত প্রজাতি রয়েছে যেগুলো এখনো বিজ্ঞানীদের অজানা।
মোরামা শিমের বীজ (টাইলোসেমা এসকিউলেনটাম) বতসোয়ানা, নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের মানুষদের একটি প্রধান খাদ্য। এসব অঞ্চলের মানুষেরা ভূট্টার সাথে মোরামা বীজ সেদ্ধ করে অথবা গুড়া করে পরিজ বা কোকোর মতো পানীয় বানিয়ে খায়। যদিও সব ধরনের শিম বীজ ভক্ষণযোগ্য নয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন প্রজাতির বীজ পর্যবেক্ষণ করে দেখছেন কোনগুলোর মধ্যে পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং খাওয়ার উপযুক্ত হতে পারে।
বুনো শস্যদানা
শস্যদানার মধ্যেও রয়েছে ১০ হাজারের বেশি প্রজাতি এবং মানুষের খাদ্যতালিকায় যুক্ত হবার মতো উপাদানও এগুলোর মধ্যে প্রচুর।
ফনিও (ডিজিটারিয়া এক্সিলিস) একটি পুষ্টিকর আফ্রিকান শস্যদানা যা কুসকুস (আফ্রিকান খাবার), পরিজ এবং পানীয় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে এটি শস্য হিসেবে আবাদ করা হয় এবং শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যেও এই গাছটি টিকে থাকতে পারে।
নকল কলা
এনসেট বা ‘ফলস বানানা’ কলারই একটি ঘনিষ্ঠ প্রজাতি, কিন্তু শুধুমাত্র ইথিওপিয়ার একটি অংশে এই খাবার খাওয়া হয়।
এনসেট গাছের ফল কলার মতো দেখতে। কিন্তু এই ফল খাওয়া না গেলেও এই গাছের শ্বেতসারবহুল কান্ড এবং মূল গাজন প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে খাওয়া যায়। এছাড়াও এটি পরিজ ও রুটি তৈরিতে ব্যবহার করে ইথিওপিয়ানরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই পৃথিবীতে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে খাওয়ানোর সক্ষমতা রয়েছে কলার মতো দেখতে এই শস্যটির।
ভূমিকম্প…. আমরা কতটা সতর্ক?
ভূমিকম্প নিয়ে কমবেশি আতঙ্ক সবার মধ্যেই আছে। ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে ১/২ মিনিট স্থায়ী হয়। তবে খুবই কমসংখ্যক কিছু ভূমিকম্প ৮-১০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মাঝে মাঝে কম্পন এত দুর্বল হয় যে, তা অনুভবও করা যায় না। কিন্তু শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্বিস্তারিত পড়ুন
ভূমিকম্প নিয়ে কমবেশি আতঙ্ক সবার মধ্যেই আছে। ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে ১/২ মিনিট স্থায়ী হয়। তবে খুবই কমসংখ্যক কিছু ভূমিকম্প ৮-১০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মাঝে মাঝে কম্পন এত দুর্বল হয় যে, তা অনুভবও করা যায় না। কিন্তু শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে।
রেকর্ড হওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প
জাপানের উপকূলে ২০১১ সালে ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল যার কারণে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, এর কারণে সুনামি হয়েছিল এবং উপকূলের কাছে থাকা একটি পারমাণবিক কেন্দ্রে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়েছে ১৯৬০ সালে চিলিতে। সেখানে ৯.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।
ভূকম্পনের মাত্রা রেকর্ড হয় যেভাবে
ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট কম্পন বা কম্পনের ঢেউ রেকর্ড করা হয় সিসমোমিটার দিয়ে।
এই কম্পনের মাত্রা দিয়ে যে রেখাচিত্র তৈরি করা হয়, তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।
ভূকম্পনের সময় যে সিসমিক ঢেউ তৈরি হয়, সেটি বিশ্বজুড়ে কম বা বেশি মাত্রায় প্রবাহিত হয়।
পৃথিবীর যে কোনো স্থানে মাটির নিচের কম্পন সৃষ্টি হলে তা সিসমোগ্রাফে মাপা হয়।
সিসমোগ্রাফ স্টেশনে রেকর্ড হওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, সময়কাল ও স্থায়িত্বকাল নির্ধারণ করা হয়।
ছবির মতো সুন্দর তুরস্কে ভূমিকম্পে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশেও অনেকে আতঙ্কে ভুগতে পারেন। এতটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, ওই ভূমিকম্পের প্রভাব আর যা–ই হোক, বাংলাদেশে পড়বে না। তুরস্কের আনাতোলিয়ায় যে ভূগর্ভস্থ চ্যুতি বা ফল্ট রয়েছে, সেখান থেকে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ওই ফল্ট বেশ সক্রিয়। সেখান থেকে এ ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টির সম্ভাবনা বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছিলেন।
তবে ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে এ সম্পর্কে সচেতন হওয়া বেশি জরুরি। ভবন বানানোর সময় যথাযথ বিল্ডিং কোড মেনে চলা, সর্বোপরি ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে করণীয় কী, সেসব জানা জরুরি।ভূমিকম্প হচ্ছে ভূমির কম্পন।ভূ অভ্যন্তরে যখন একটি শিলা অন্য একটি শিলার উপরে উঠে আসে তখন ভূমি কম্পন হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠের অংশবিশেষের হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন বা আন্দোলনই ভূমিকম্পন। হঠাৎ যদি ঘরের কোনো জিনিস দুলতে শুরু করে—যেমন, দেয়ালঘড়ি, টাঙানো ছবি বা খাটসহ অন্য যেকোন আসবাব—বুঝতে হবে ভূমিকম্প হচ্ছে। সহজ কথায় পৃথিবীর কেঁপে ওঠাই ভূমিকম্প।
আজকের বিষয় নিয়ে কলাম লিখেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট গবেষক ডা.এম এম মাজেদ তার কলামে লিখেন- ভূমিকম্প এটি এমন একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ, যার পূর্বাভাস দেয়ার উপায় এখনো বিজ্ঞানীরা বের করতে পারেনি। আমাদের দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে মানুষ বাড়ার পাশাপাশি আবাসিক-অনাবাসিক স্থাপনা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। কিন্তু সেইসব স্থাপনা কতটা মান সম্পন্ন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে সেগুলো টিকে থাকবে কি না এই আশঙ্কা প্রবল। ভূমিকম্পের মতো দূর্যোগে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গাও নেই আমাদের বড় শহরগুলোতে। অভিযোগ রয়েছে, দেশে ভবন নির্মানে বিল্ডিং কোড মানা হয় না। ফলে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পও মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। আর বড় ধরনের ভূমিকম্প ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। তাই ভূমিকম্পের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের স্থাপনা এ দূর্যোগ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
সারা পৃথিবীতে বছরে গড়ে ছয় হাজার ভূমিকম্প হয়। এগুলোর বেশিরভাগই মৃদু, যেগুলো আমরা টের পাই না। সাধারণত তিন ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে—প্রচণ্ড, মাঝারি ও মৃদু। আবার উৎসের গভীরতা অনুসারে ভূমিকম্পকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—অগভীর, মধ্যবর্তী ও গভীর ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভূ-পৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে অগভীর, ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে মধ্যবর্তী এবং ৩০০ কিলোমিটারের নিচে হলে তাকে গভীর ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ভূমিকম্প কেন হয়
ভূ-অভ্যন্তরে স্থিত গ্যাস যখন ভূ-পৃষ্ঠের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে তখন সেই গ্যাসের অবস্থানটি ফাঁকা হয়ে পড়ে আর পৃথিবীর উপরের তলের চাপ ওই ফাঁকা স্থানে দেবে গিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। তখনই ভূ-পৃষ্ঠে প্রবল কম্পনের অনুভব হয় যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়ে থাকে—ভূ-পৃষ্ঠের হঠাৎ পরিবর্তন জনিত কারণে, আগ্নেয়গিরি সংঘটিত হওয়ার কারণে ও শিলাচ্যুতি জনিত কারণে।
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। ভূমিকম্পের মাত্রা অনুযায়ী ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তার নাম রিখটার স্কেল। রিখটার স্কেলে এককের সীমা ১ থেকে ১০ পর্যন্ত। এই স্কেলে মাত্রা ৫-এর বেশি হওয়া মানেই ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা। ভূমিকম্প এক ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে এর মাত্রা ১০ থেকে ৩২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা—৫ – ৫.৯৯ মাঝারি, ৬ – ৬.৯৯ তীব্র, ৭ – ৭.৯৯ ভয়াবহ এবং ৮-এর উপর অত্যন্ত ভয়াবহ।
ভূমিকম্পের মাত্রা/তীব্রতা
একটা সাধারণ ভুল ধারণা হচ্ছে – “উৎপত্তিস্থল থেকে যত দূরে যাওয়া যাবে, ভূমিকম্পের মাত্রা তত কমবে।” কিন্তু সেটা আসলে সত্যি নয়। ২০১৬ এর ১৩ই এপ্রিলের ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিলো মায়ানমার। এটার মাত্রা বলা হলো ৬.৯। তাহলে কি বাংলাদেশে আসতে আসতে বা কলকাতায় পৌঁছুতে পৌঁছুতে এটার মাত্রা কমে গেছে? জ্বি না। ভূমিকম্পের মাত্রা একটাই, এবং সেটা বিচার করা হয় উৎপত্তিস্থলেই। অনেক আগে উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছিলাম, সূর্যের তাপমাত্রা মাপতে গেলে কিন্তু আমরা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা পরিমাপ করি অথবা কেন্দ্রের তাপমাত্রা পরিমাপ করি। পৃথিবীতে যে তাপটুকু আসে, সেটাকে ধরে নিয়ে কিন্তু সূর্যের তাপমাত্রা হিসাব করি না।
তাহলে কেন উৎপত্তিস্থলে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়? কেন উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়? কিছু একটা নিশ্চয়ই কমে যায়! হ্যাঁ, কমে যায়, আর সেটাই হচ্ছে ভূমিকম্পের তীব্রতা। কেন্দ্রে এই তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে এবং কেন্দ্র/উৎপত্তিস্থল থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, ভূমিকম্পের তীব্রতা (intensity) তত কমতে থাকে। ২০১৫ সালের এপ্রিলের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নেপালে ছিলো বলে ওখানে তীব্রতা বেশি ছিলো, ক্ষতিও হয়েছে বেশি। বাংলাদেশে তীব্রতা ছিলো কম, ক্ষতি হয়েছে কম। এটা আমাদের সবার জানা রিখটার দিয়ে পরিমাপ করা হয় না। অন্য একটা স্কেল আছে, সেটার ব্যাপারে যথাসময়ে আসছি।
রিখটার স্কেল
রিখটার স্কেলের উদ্ভাবক চার্লস এফ রিখটার। ১৯৩৫ সালে মার্কিন এই ভূকম্পবিদ ও পদার্থবিদ ভূমিকম্প পরিমাপের স্কেল তৈরি করেন। তার নামেই এর নাম রাখা হয় রিখটার স্কেল।
রিখটার তখন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কর্মরত ছিলেন।
রিখটার স্কেল ছাড়াও ভূমিকম্প মাপার জন্য অন্যান্য অনেক পদ্ধতি রয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে রিখটার স্কেলই ভূমিকম্পের পরিমাপক হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।
বিবিসি বলছে, রিখটার স্কেলের ১ এবং ২ মাত্রার ভূমিকম্প প্রায় সময়ই হতে পারে এবং এটা খুব স্বাভাবিকভাবেই ঘটে কিন্তু মানুষ টের পায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর মতো জায়গায় প্রায় প্রতিদিনই ১ থেকে ২ মাত্রার ভূকম্পন হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।
তবে এসব ভূমিকম্পের মাত্রা এতটাই হালকা যে তা অনুভূত হয় না, তবে সিসমোমিটারে তা ধরা পড়ে।
রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা যদি ৭ কিংবা ৮ হয় তবে সেটা প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হয়।
এই মাত্রার ভূমিকম্পগুলো তীব্রভাবে অনুভূত হয় এবং এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি হয়।
১৯৩৫ সালে, ভূমিকম্পের আসল মাত্রা নির্ণয়ের চেষ্টা করেছিলেন চার্লস রিখটার এবং বেনো গুটেনবার্গ, দুজনেই ক্যালটেকের ভূমিকম্পবিদ। সীসমোগ্রাফ (যে গ্রাফ বা লেখচিত্রে মাটির কম্পন ধরা পড়ে)- এর মধ্যে তরঙ্গ আসে, সেটার লগারিদম নিয়ে রিখটার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, মূলত কতটুকু কাঁপছে আমাদের সীসমোগ্রামের ঠিক নির্দিষ্ট বিন্দুতে, সেটাই আর কী! রিখটার স্কেলের ৪ মাত্রার ভূমিকম্পতে ৩ মাত্রার চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাঁপে, একইভাবে ৫ মাত্রার ভূমিকম্পতে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাঁপে। এই স্কেলকে এখন লোকাল ম্যাগনিচিউড (local magnitude) স্কেল বলে।
এখন, খেয়াল করার মত বিষয় হচ্ছে ক্যালটেক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়াতে। ক্যালিফোর্নিয়ার মত যেসব জায়গায় মাটির ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমিকম্প হয়, সেগুলোর জন্য এই স্কেল ডিজাইন করা হয়েছিলো। কিন্তু সারা পৃথিবীর ভূমিকম্প যাচাই করে দেখা গেছে, এটার কেন্দ্র ০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার নিচ পর্যন্ত হতে পারে। আধুনিক যুগের যন্ত্রপাতি পৃথিবীর যে কোনো জায়গার কম্পন সঠিকভাবে হিসেব করতে পারে, তাই আসল রিখটার স্কেলের পুনঃর্নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছিলো।
রিখটার আসলে মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড
মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড (moment magnitude) স্কেল, নির্মাণ করা হয়েছিলো ১৯৭০ এর দিকে, করেছিলেন ক্যালটেকেরই বেশ কিছু বিজ্ঞানী। এটা ভূমিকম্পের প্রভাব আরো ভালো করে হিসেব করতে পারে। এই স্কেল কম্পনের ভ্রামক (moment) এবং শক্তি দুটোই ব্যবহার করে, এবং ভূমিকম্পের মোট উৎসারিত শক্তি নির্ণয় করে। বিভিন্ন দূরত্বে তরঙ্গের বিভিন্ন আকৃতি এবং দিকের তথ্য থেকে ফাটল প্রণালীর জ্যামিতি (fault geometry) নির্ণয় করা হয়। এই তরঙ্গের মানগুলো থেকেই ভূমিকম্পের ভ্রামক নির্ধারণ করা হয়।
এই স্কেলের মানকে এডজাস্ট করা হয়েছিলো, যাতে রিখটার স্কেলের সাথে মিলে যায়, কারণ রিখটার ততদিনে অনেক জনপ্রিয়। এখনো যখন আমরা বলি যে, রিখটার স্কেলে এতো মাত্রা, তখন কিন্তু আসলে আমরা মডিফায়েড মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেলের কথাই বলছি।
মার্কেলি ম্যাগনিচিউড স্কেল
কম্পনের উৎস, মাত্রা, গভীরতা, ফাটলের দিক, এলাকার স্থাপত্য – এসব বিবেচনা করে আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) একটা স্কেল প্রণয়ন করেছিলো, যাকে মার্কেলি ম্যাগনিচিউড স্কেল (Mercalli magnitude scale) বলে। এই স্কেলের কাজ হচ্ছে, একটা এলাকার মানুষের ওপর ঐ ভূমিকম্পের কেমন প্রভাব পড়বে, সেটা পরিমাপ করা। এটার একটা সংস্কারকৃত সংস্করণ হচ্ছে মডিফায়েড মার্কেলি ইন্টেনসিটি স্কেল (Modified Mercalli Intensity scale বা MMI)। এই স্কেল দিয়েই ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। ভূপৃষ্ঠে, মানুষের উপর, প্রকৃতিতে এবং মনুষ্য সৃষ্ট জিনিসপত্রের উপর ভূমিকম্পের প্রভাবকে MMI দ্বারা নির্ণয় করা হয়। এই স্কেলের সর্বনিম্ন মান হচ্ছে I, অর্থাৎ কিছুই অনুভূত হয়নি; সর্বোচ্চ মান হচ্ছে XII, অর্থাৎ সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।
তুরস্ক ও সিরিয়া ভূমিকম্প
তুরস্ক-সিরিয়ায় চলতি শতাব্দীর ভয়াবহতম ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছুঁইছুঁই করছে। কেবল তুরস্কেই প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১০৮ জন। আর সিরিয়ায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওযা গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে এই মুহূর্তে নিহতের সংখ্যা ৯ হাজার ৫৭৮ জন।
ভূমিকম্পের প্রায় ৬০ ঘণ্টা পরেও চলছে উদ্ধারকাজ। এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া বিরূপ আবহাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্কবার্তা দিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াতে পারে।
এখন ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার কাজ। ধসে পড়া হাজার হাজার ভবনের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন আরও বহু মানুষ। আটকে পড়া অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন।
এর আগে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইং) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেসময় দেশ দুটির অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন।
এরপর ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এবং বেশ কয়েকটি আফটারশকে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সিরিয়ার একটি অঞ্চল। এছাড়া তুরস্কের অন্তত ১০টি শহর বিধ্বস্ত হয়। এরই মধ্যে এসব শহরে তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট রিপেস তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য বলছে, তুরস্ক, সিরিয়ার পাশাপাশি সাইপ্রাস, লেবানন, ইসরায়েল, মিশরেও অনুভূত হয়েছে ভূমিকম্পটি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার কম্পনসহ শতাধিক আফটারশক আঘাত হেনেছে ওই অঞ্চলে
তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, আহত হয়েছে আরও হাজার হাজার মানুষ।
এ ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই এলাকার মাটির নীচে থাকা অ্যারাবিয়ান প্লেটটি উত্তর দিকে সরে গিয়ে আনাতোলিয়ান প্লেটে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের তৈরি হয়।
একই কারণে ১৮২২ সালেও এখানেই একদফা ভূমিকম্প হয়েছিল। বিশ্বের যেসব এলাকা ভূমিকম্প প্রবণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তুরস্কের এই এলাকাটি তার অন্যতম।
ভূমিকম্প কীভাবে হয়
‘’পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ট আলাদা আলাদা বিট বা প্লেট টেকটোনিক দিয়ে তৈরি হয়েছে, যা নিচের নরম পদার্থের ওপরে ভাসছে। সারা পৃথিবীতে এরকম বড় সাতটি প্লেট এবং অসংখ্য ছোট ছোট সাব-প্লেট রয়েছে। ‘’
‘’এগুলো যখন সরে যায় বা নড়াচড়া করতে থাকে বা একটি অন্যদিকে ধাক্কা দিতে থাকে, তখন ভূ-তত্ত্বের মাঝে ইলাস্টিক এনার্জি শক্তি সঞ্চিত হতে থাকে। সেটা যখন শিলার ধারণ ক্ষমতার পেরিয়ে যায়, তখন সেই শক্তি কোন বিদ্যমান বা নতুন ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসে। তখন ভূ-পৃষ্টে কম্পন তৈরি হয়, সেটাই হচ্ছে ভূমিকম্প।‘’
যেসব স্থানে একটি প্লেট এসে আরেকটি প্লেটের কাছাকাছি মিশেছে বা ধাক্কা দিচ্ছে বা ফাটলের তৈরি হয়েছে, সেটাকে বলা হয় ফল্ট লাইন।
বর্তমানে উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মি. আখতার বলছেন, ‘’প্লেট বাউন্ডারি যেখানে তৈরি হয়েছে, সেটাকে আমরা বলি ফল্টলাইন। এর আশেপাশের দেশগুলো ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে।’’
বিশ্বের ভূমিকম্প প্রবণ এলাকাগুলো শনাক্ত করতে জাতিসংঘ গ্লোবাল সিসমিক হ্যাজার্ড অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম নামে একটি কর্মসূচী চালু করেছিল। সেটার উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি মানচিত্র তৈরি করা, যাতে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে।
সেই প্রকল্পের আওতায় অতীতে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের তথ্য এবং গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্বকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের যেসব এলাকা বিজ্ঞানীদের বিশেষ নজরে রয়েছে:
বাংলাদেশ
ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কয়েকটি প্লেট থাকার কারণে এসব এলাকা ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভু-তত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন, ‘’উত্তরে তিব্বত সাব-প্লেট, ইন্ডিয়ান প্লেট এবং দক্ষিণে বার্মা সাব-প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। ফলে সিলেট-সুনামগঞ্জ হয়ে, কিশোরগঞ্জ চট্টগ্রাম হয়ে একেবারে দক্ষিণ সুমাত্রা পর্যন্ত চলে গেছে।‘’
সেখানে দেখা গেছে, ইন্ডিয়া প্লেট ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে দীর্ঘসময় ধরে কোন ভূমিকম্পের শক্তি বের হয়নি। ফলে সেখানে ৪০০ থেকে হাজার বছর ধরে শক্তি জমা হয়ে রয়েছে।
ইন্ডিয়া প্লেট পূর্ব দিকে বার্মা প্লেটের নীচে তলিয়ে যাচ্ছে আর বার্মা প্লেট পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে সেখানে যে পরিমাণ শক্তি জমা হচ্ছে, তাতে আট মাত্রার অধিক ভূমিকম্প হতে পারে।
এটা যেমন একবারে হতে পারে, আবার কয়েকবারেও হতে পারে। তবে যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে সাত বা আট মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে থাকে। কিন্তু কবে বা কখন সেটা হবে, তা এখনো বিজ্ঞানীদের এখনো ধারণা নেই।’
বাংলাদেশে সর্বশেষ ১৮২২ এবং ১৯১৮ সালে মধুপুর ফল্টে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৮৮৫ সালে ঢাকার কাছে মানিকগঞ্জে ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে।
ভারত ও নেপাল
সারা বিশ্ব অনেকগুলো টেকটোনিক প্লেটের মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। যখন এসব প্লেট নড়াচড়া করে, যেসব দেশ বা এলাকা সেই প্লেটগুলোর ওপরে অবস্থিত, সেখানে ভূমিকম্প দেখা যায়।
হিমালয়ের পাদদেশে নেপাল যে টেকটোনিক প্লেটের ওপরে বসে রয়েছে, সেটার ওপরেই রয়েছে ভারতের উত্তর অংশ।
ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের কর্মকর্তা রজার মুসন বিবিসি নিউজবিটকে বলেছেন, ‘’সেখানে কোন ভূমিকম্প হলে শনিবারের তুরস্কের ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।‘’
বিশেষ করে কাঠমান্ডুর মতো শহরগুলো বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এই শহরটি নরম শিলা পাথরের পুরু স্তরের ওপরে তৈরি হয়েছে। ফলে ভূমিকম্প হলে সেখানে কম্পন বেশি অনুভূত হবে।
২০১৫ সালে ইন্ডিয়ান প্লেট এবং তিব্বত প্লেটের সংঘর্ষে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পে ৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু আর এক লাখের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল।
তুরস্ক
তুরস্ক হচ্ছে আরেকটি দেশ যা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের শিকার হয়েছে।
উত্তর আনাতোলিয়ান ফল্ট লাইনটি তুরস্কের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে।
সেখানে অ্যারাবিয়ান প্লেটটি উত্তর দিকে সরে গিয়ে আনাতোলিয়ান প্লেটকে ধাক্কা দিয়ে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনাটি ঘটে।
বিশেষ করে ইস্তানবুলের একটি অংশ এই ফল্ট লাইনের কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে দুইটি প্লেট একে অপরের সঙ্গে প্রায়ই ঘষা লাগছে এবং বিভিন্ন সময়ে ওঠানামা করছে।
ফলে এই এলাকায় মাঝেমাঝেই ভূমিকম্প তৈরি হচ্ছে।
এই এলাকাতেই ১৮২২ সালে ভয়াবহ ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল।
ইরান
ইরানের রাজধানী তেহরান বসে রয়েছে আরেকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন, অ্যারাবিয়ান প্লেটের ওপরে।
ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের গবেষক জন ইলিয়ট বলেছেন, ‘’এই শহরটি ফল্ট লাইনের একেবারে চূড়ায় বসে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার এই ফল্টলাইনটি নড়াচড়া করেছে এবং ভবিষ্যতেও ভূমিকম্পের কারণ হয়ে উঠতে পারে।‘’
২০০৩ সালে ইরানের বাম শহরের কাছাকাছি ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়, যার ফলে ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হয়েছিল বহু মানুষ।
ইরানের এই ফল্ট লাইনটি কৃষ্ণসাগরের পূর্ব তীর থেকে শুরু করে কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ উপকূল পর্যন্ত চলে গেছে।
চীন
ভারত আর ইউরেশিয়ান মাঝে প্লেটের সংঘর্ষের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে চীন।
২০০৮ সালে ওয়েনচুয়ান ভূমিকম্পে ৯০ হাজার মানুষ হতাহত হয়েছিল। সেই সময় প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছিল।
‘’এখানে ভূমিকম্পের প্রবণতা কিছুটা অগভীর হয়, ফলে শক্তিশালী কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়,‘’ বলেছেন লিভারপুল ইউনিভার্সিটি ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ স্টিফেন হিক্স।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকার পরেও সেসব এলাকার বাড়িঘরগুলো ভূমিকম্প সহনীয়ভাবে তৈরি করা হয় না। ফলে এ ধরনের এলাকায় ভূমিকম্প দেখা দেয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয় এবং উদ্ধারকাজেও নানা সমস্যা দেখা যায়।
১৯৫০ সালে তিব্বতে ৮০৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যদিও সেটার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
জাপান
টোকিও শহরের কাছাকাছি বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে বলে অনেকদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। যদিও জন্য জাপানিরা ভালোমতোই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
২০১১ সালে টোকিওতে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে ভূকম্পনে যতো না মানুষ হতাহত হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি মারা গেছে সুনামির কারণে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, টোকিও শহরের নীচে অগভীরে বেশ কয়েকটি টেকটোনিক প্লেট এসে মিশেছে। বিশেষ করে প্যাসিফিক প্লেটের পশ্চিম দিকে জাপান রয়েছে। ফলে এসব প্লেট নড়াচড়া করলেই সেখানে ভূকম্পন অনুভূত হয়।
পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় জাপানে সবচেয়ে বেশি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়ে থাকে।
ইন্দোনেশিয়া
জাপানের মতো ইন্দোনেশিয়া, ফিজি এবং টঙ্গার মতো দেশগুলো প্রতিবছরই ছোট ছোট ভূমিকম্প রেকর্ড করে থাকে।
কারণ অস্ট্রেলিয়ান প্লেটটি ইন্দোনেশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের চারপাশে জড়িয়ে রয়েছে। জাপানেও এর অংশ বিশেষ পড়েছে।
২০১৪ সালে সুমাত্রার পশ্চিম উপকূলে যখন ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, তখন সেটি রেকর্ড তৈরি করে এবং ইতিহাসের বৃহত্তম সুনামির জন্ম দেয়। সেই সুনামিতে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও জাপান, ফিলিপিন্স সেই সুনামির শিকার হয়েছিল।
ইউরোপ
গ্লোবাল সিসমিক হ্যাজার্ড অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী, তুরস্ক এবং ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের কিছু অংশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি রয়েছে।
কারণ এখানে আফ্রিকান মহাদেশীয় প্লেট অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের নীচে ইউরেশিয়ান প্লেটটিকে উপরের দিকে ঠেলতে থাকে বলে ভূমিকম্পের তৈরি হয়। এই কারণে মধ্য ইতালি ও পশ্চিম তুরস্কেও ভূমিকম্প দেখা যায়।
১৯৫৫ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের জন্য একটি রেকর্ড।
২০১৬ সালে ইতালির অ্যামাট্রিসা শহরে মাঝারি মাত্রার তিন দফা ভূমিকম্পে তিনশোর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।
নেপালে
নেপালে ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে রাজধানী কাঠমান্ডুর বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ওয়াশিংটন এবং কানাডার একটি অংশ বড় একটি ফল্ট লাইনের কাছাকাছি রয়েছে।
এই ফল্ট লাইনে দুইটি প্লেট একে অপরের বিপরীত ঘেঁসে রয়েছে। এই প্লেট দুটি হলো হুয়ান ডে ফুকা প্লেট বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট এবং নর্থ আমেরিকান প্লেট।
এই ফল্ট লাইনের আশেপাশে যে বড় শহরগুলো রয়েছে, সেগুলো ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলস, সানফ্রানসিসকো, সিয়াটল এবং ভ্যাঙ্কুবার।
ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের গবেষক স্টিফেন হিকস বলছেন, ‘’এই ফল্টটি বেশ অনেক সময়ের জন্য শান্ত রয়েছে।‘’
তবে তিনি জানিয়েছেন, ২০১১ সালের জাপানের সুনামির পর এই ফল্ট কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে বড় ধরনের গবেষণা করা হচ্ছে।
১৯৬৪ সালে আলাস্কায় ৯ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত করেছিল।
চিলি
দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের সঙ্গে বেশ কয়েকটি মহাদেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখা যায়।
বিশেষ করে কলম্বিয়া এবং ভেনেজুয়েলার ক্যারিবিয়ান উপকূল একটি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা রয়েছে।
এই এলাকায় সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৬০ সালে। সেই সময় চিলির সালভেদরের কাছে ৯ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। তখন বাস্তুচ্যুত হয়েছিল ২০ লাখের বেশি মানুষ।
এরপর ২০১০ সালে কনসেপসিওন শহরের কাছে আরেকটি ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। সেবার নিহত হয়েছিল প্রায় ৫০০ মানুষ। সেই ভূমিকম্পে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এর বাইরেও বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছে, যা বিজ্ঞানী বা গবেষকদের ধারণায় ছিল না।
যেমন ২০১১ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চে ভূমিকম্পের পরেই বিজ্ঞানীরা প্রথম জানতে পারেন যে, সেই শহরের নীচে একটি ফল্ট লাইন রয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় কী করবেন
* ভূমিকম্প হচ্ছে টের পেলে বা খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা ও উন্মুক্ত স্থানে আশ্রয় নিন।
* উঁচু ভবনে থাকলে এবং বের হতে না পারলে জানালা বা দেয়ালের পাশে অবস্থান না নিয়ে শক্ত কোনো বীম, টেবিলের নিচে অবস্থান নিন।
* হতবিহ্বল না হয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন।
* বহুতল ভবনে একই জায়গায় অনেক মানুষ একসঙ্গে না থেকে ভাগ হয়ে আশ্রয় নিন।
* আপনার মুঠোফোনে ফায়ার সাভির্স এবং দরকারি মোবাইল নম্বরগুলো আগাম সতর্কতা হিসেবে আগেই রেখে দিন। বিপদের সময় আপনার কাজে লাগবে।
* দ্রুত নামার জন্য ভবন থেকে লাফিয়ে পড়বেন না।
* ভূমিকম্পের সময় সম্ভব হলে মাথার ওপর শক্তকরে বালিশ অথবা অন্য কোনো শক্ত বস্তু [কাঠবোর্ড, নরম কাপড় চোপড়ের কুণ্ডলি] ধরে রাখুন।
* গ্যাস এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে অবস্থান নিন।
* উচু ভবন থেকে দ্রুত নামার জন্য লিফট ব্যবহার করবেন না।
* ভূমিকম্পের সময় গাড়িতে থাকলে গাড়ি খোলা জায়গায় থামিয়ে গাড়িতেই থাকুন।
* একবার ভূমিকম্পের পরপরই আরেকটা ছোট ভূমিকম্প হয় যাকে ‘আফটার শক’ বলে।
নিজেকে বিপদমুক্ত রাখতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্য এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সরকারকেই এ বিষয়ে মুখ্য দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে থাকে। একটি ভবন নির্মাণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সব নিয়ম মেনে করছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারক করতে হবে।পরিশেষে বলতে চাই, মানুষ মানুষের জন্য। বিপদের সময় আপনার মনুষ্যত্ব যেন আপন মহিমায় আলো ছড়ায়। নিজের নিরপত্তা নিশ্চিত করে প্রতিবেশীদের প্রতিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বিপদ থেকে রক্ষার পাশাপাশি বিপদে ভয় না পেয়ে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করার চেষ্টা করতে হবে। বড় ধরনের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে তা বলা মুশকিল, তবে প্রস্তুতি থাকলে মোকাবিলা করতে সুবিধা হবে। জাতীয় পর্যায়ে লজিস্টিক্যালি ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের সক্ষমতা হয়তো খুবই অপ্রতুল। কিন্তু ব্যক্তিগত বা দলবদ্ধভাবে উপরের গাইড লাইনগুলো মেনে চললে প্রাণহানি বা আহত হবার ঘটনা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।মানুষ মানুষের জন্য।
বিপদের সময় আপনার মনুষ্যত্ব যেন আপন মহিমায় আলো ছড়ায়। নিজের নিরপত্তা নিশ্চিত করে প্রতিবেশীদের প্রতিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বিপদ থেকে রক্ষার পাশাপাশি বিপদে ভয় না পেয়ে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করার চেষ্টা করতে হবে। বড় ধরনের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে তা বলা মুশকিল, তবে প্রস্তুতি থাকলে মোকাবিলা করতে সুবিধা হবে। জাতীয় পর্যায়ে লজিস্টিক্যালি ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের সক্ষমতা হয়তো খুবই অপ্রতুল। কিন্তু ব্যক্তিগত বা দলবদ্ধভাবে উপরের গাইড লাইনগুলো মেনে চললে প্রাণহানি বা আহত হবার ঘটনা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
সংক্ষেপে দেখুনঅ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ৪.১ বা তার থেকেও পুরোনো ভার্সনে ২৪ অক্টোবরের পর আর চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ। কেন?
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এই অ্যাপের সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও তুলনামূলক অনেক বেশি। তবে এবার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। অসংখ্য ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসবিস্তারিত পড়ুন
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এই অ্যাপের সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও তুলনামূলক অনেক বেশি।
তবে এবার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। অসংখ্য ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা। কিছুদিন পর পরই আপডেট দেয় হোয়াটসঅ্যাপ। উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষিত রাখা। সঙ্গে বেশ কিছু নতুন ফিচার দেওয়া হয়।
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ৪.১ বা তার থেকেও পুরোনো ভার্সনে ২৪ অক্টোবরের পর আর চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ। স্যামসাং, সনি, মটোরোলা-এর অসংখ্য ফোন আছে এই তালিকায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক কোন ফোনগুলোতে আর ব্যবহার করতে পারবেন না হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ-
স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব ১০.১, অ্যাকর আইকনিক ট্যাব এ৫০০৩, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস, এইচটিসি ডিজাইয়ার এইচডি, এলজি অপটিমাস ২এক্স, সনি এক্সপেরিয়া আর্ক৩, স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ২, এইচটিসি ওয়ান, সনি এক্সপেরিয়া জেড, এলজি অপটিমাস জি প্রো, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২, স্যামসাং গ্যালাক্সি, এইচটিসি সেনসেশন, মটোরোলা ড্রয়েড রেজার, সনি এক্সপেরিয়া এস২, মটোরোলা জুম।
এর আগে এ বছরে কয়েক দফায় পুরোনো অনেক ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাক্সেস বন্ধ করেছে সংস্থাটি। মূলত কিছু দিন পর পরই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপের মিনিমাস সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট আপডেট করে। যার ফলে কিছু কিছু স্মার্টফোনে হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করে না।
পৃথিবীর কিছু অজানা তথ্য কি কেউ দিতে পারবে?
পৃথিবী একটি মহাদেশ। পৃথিবী নগরী অসংখ্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এবং আবাসস্থলের সাথে পূর্ণ আছে। একটি মহাদেশ সবচেয়ে বড় মহাদেশ হল আফ্রিকা। পৃথিবীতে অনেক চালাকির মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। নিচে পৃথিবীর ১০০টি মজার তথ্য দেয়া হলো: পৃথিবীর ব্যাসের পরিমাণ প্রায় ১২,৭৬৭ কিলোমিটার। পৃথিবীর পূর্ণাঙ্গবিস্তারিত পড়ুন
পৃথিবী একটি মহাদেশ। পৃথিবী নগরী অসংখ্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এবং আবাসস্থলের সাথে পূর্ণ আছে। একটি মহাদেশ সবচেয়ে বড় মহাদেশ হল আফ্রিকা। পৃথিবীতে অনেক চালাকির মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। নিচে পৃথিবীর ১০০টি মজার তথ্য দেয়া হলো:
- পৃথিবীর ব্যাসের পরিমাণ প্রায় ১২,৭৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবীর পূর্ণাঙ্গ চক্রাকারের বাইরের মধ্যে কিছু দেশ বা অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত নেই। সেগুলোকে অর্থনৈতিক মানেই “অঞ্চলের হলম” বলা হয়।
- পৃথিবীর সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড মৌসুমগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে, যেখানে বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় ২৬,৪৭৪ মিমি।
- পৃথিবীর সর্বাধিক উচ্চ পর্বত হল মাউন্ট এভারেস্ট, যা নেপাল ও চীনের মধ্যে অবস্থিত। এর উচ্চতা ৮,৮৪৮ মিটার।
- পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থান দল হল মরিয়ানা তলের গাহি, যা ম্যারিয়ানা খনিজ কণার বিপুল পরিমাণের কারণে প্রসিদ্ধ।
- পৃথিবীর সর্বাধিক দীর্ঘ নদী আমাজন নদী, যা দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত। এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭,০০০ কিলোমিটার।
- পৃথিবীতে সবচেয়ে গরম স্থান আফ্রিকার কেব্যার সাহারা এবং সবচেয়ে ঠাণ্ডা স্থান মহাদেশের উত্তর পোল।
- পৃথিবীর মাঝখানে একটি পৃথিবীর স্বর্গ নামে পরিচিত জায়গা রয়েছে, যাকে ফ্রান্সের জিনিব্রা নামক একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত হয়েছে।
- পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় মাত্রা ধরে রয়েছে পৃথিবীর মধ্যবর্তী সময় মূল্য (GMT), যা লন্ডন শহরের উপর ভিত্তি করে হয়।
- পৃথিবী বৃত্তাকার আকৃতির একটি দৈর্ঘ্য অঞ্চল, যা পূর্ণাঙ্গ চক্রাকার এর একটি অংশ। এটি নামকরণ হয়েছে “অবিভক্ত সারিতে”।
- পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১২,৭৭৯ কিলোমিটার।
- পৃথিবীর বৃত্তাকার আকৃতির জন্য দৈর্ঘ্য অঞ্চল প্রায় ৪০,০৭৫ কিলোমিটার।
- পৃথিবীর সর্বাধিক উঁচু পর্বত মাউন্ট চোমোলংমা, নেপাল ও চীনের মধ্যে অবস্থিত, যার উচ্চতা ৮,৯৮৫ মিটার।
- পৃথিবীর সর্বাধিক গভীর সমুদ্রতল মারিয়ানা গ্রাটাসের মধ্যে অবস্থিত, যার গভীরতা ১০,৯১০ মিটার।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রাণীজগতের দাদাগিরি বাণিজ্যিক পণ্য হল তিতলির মাথা।
- পৃথিবীতে একমাত্র স্থান যেখানে সময় নেই, সেটা দ্য লান্ড অফ নাওয়া হয়।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃষ্টি পান হয় মঙ্গোলিয়ার হালহেন নগরে।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক জনবহুল দেশ চীন, যেখানে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মানুষ বাস করে।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক জলস্থান মহাসাগর, যা পৃথিবীর মোট জলপ্রাণীদের বাসস্থান।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃষ্টি পান হয় পশ্চিম আফ্রিকার কুরিয়া নগরে।
- পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থান দল মরিয়ানা তলের গাহি, যার গভীরতা ১০,৯৯১ মিটার।
- পৃথিবীর সর্বাধিক দেশ কেবেক, যা ১৭,০৮৮,২৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা অবশিষ্ট করে।
- পৃথিবীর সর্বাধিক ভূকম্প সন্ধান করা যায় প্যাসিফিক রিং অঞ্চলে।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বৃহত্তম দেশ রাশিয়া, যা মোট মাত্রা অনুযায়ীও প্রশাসিত হয়।
- পৃথিবীর সর্বাধিক ছোট দেশ ভ্যাটিকান সিটি, যা শ্রীপদের উপর অবস্থিত।
- পৃথিবীতে আরও অজানা প্রাণী বিদ্যমান, যেমন সুন্দরবনের গোলজার সাপ, কমোডো ড্র্যাগন, গহপা জাতীয় উদ্ভিদ, ওমানের জলবিহীন মাছ, আইরিশ বিক্টরিয়া, সোলেবোক উদ্ভিদ, ভ্লাডির জাতীয় প্রাণী।
- পৃথিবীতে প্রথম মানুষ চাঁদে পড়ার অনুভব করেন আপোলো ১১ মিশনের মূল উপস্থাপক নিল আর্মস্ট্রং।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিদ্যুৎপরিবহন ব্যবহার করা হয় চীনে।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বৃহত্তম বিদ্যুৎ প্রদানকারী প্রকল্প থাকছে থ্রি গোর্জেস হাইড্রোইলেকট্রিক প্রকল্প, যা ব্রাজিলে অবস্থিত।
- পৃথিবীর সর্বাধিক মাত্রায় পর্যবেক্ষক উড়ানো উপকরণ বিমান।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক দ্বীপসমূহ অস্ট্রেলিয়া ও সুন্দরবনে অবস্থিত।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিদ্যুৎপালিত রেলওয়ে নেটওয়ার্ক অবলম্বন করে ভারতের রেলওয়ে।
- পৃথিবীর সর্বনিম্ন বিন্দু আমাজন নদীর পশ্চিমের কিলিমানজারো নগরে, যেখানে নদীর স্তর নিচের সাথে আঁত ঘটে।
- পৃথিবীতে বৃহত্তম গরুর প্রজাতি ব্রাহ্মণ গরু।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বিদ্যুৎপালিত নগরী তোকিও, জাপানের রাজধানী।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছাপে প্রকাশিত বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘গ্রামের কণ্ঠ’।
- পৃথিবীর সর্বাধিক ছাপে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা ‘চীন ডেইলি’।
- পৃথিবীর সর্বাধিক দীর্ঘ নদী আমাজন নদী।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বৃহত্তম বিদ্যুৎসংযোগ নেটওয়ার্ক মিশরের লেক নাস্র।
- পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল নগরী তোকিও, জাপানের রাজধানী।
- পৃথিবীর সর্বাধিক পরিবাহিত ভূমি চান্দের কণা।
- পৃথিবীতে একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ যানবাহন মঙ্গলযান ।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বৃহত্তম উপগ্রহ জুপিটার।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চ পর্বত এভারেস্ট।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক গভীর মহাসাগর মেরিয়ানা গ্রেভ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক দীর্ঘ রেলপথ ট্যানজানিয়ার তাজারা রেলপথ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম পাকিস্তান।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া আকাশপথ বহুতলয়।
- পৃথিবীতে একমাত্র মানব সংখ্যা যাবতীয় একটি দ্বীপ মালদ্বীপ।
- পৃথিবীতে একটি মিউজিয়াম থেকে দুইটি মিউজিয়ামের সামরিক যুদ্ধ হয়েছে।
- পৃথিবীর সর্বাধিক গভীর বিমানবন্দর বুয়েনস আয়ারপোর্ট, অর্জেনটিনা।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বিচিত্র মুদ্রা ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া।
- পৃথিবীতে একটি দেশ মঙ্গল দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, সয়ুজিন পাকিস্তান।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির অংগকার উপস্থিত ভারতের ভিশাল শ্রীলঙ্কা বিহার।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম শান্তিনিকেতন লংকা দ্বীপ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক অদ্ভুত পাহাড় ছুই নাগ পাহাড়, নেপাল-ভারত সীমান্ত এলাকায়।
- পৃথিবীতে একমাত্র মানব নগরী মাকাও।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বৃহত্তম বাংলাদেশ।
- পৃথিবীর সর্বাধিক উচ্চ বিচিত্র বিজ্ঞান কেন্দ্র নাসা রাকেট এঞ্জিন ল্যাবরেটরি।
- পৃথিবীর সর্বাধিক উচ্চ বিমানবন্দর টেনজিন শোয়ান্গ বিমানবন্দর, ভুটান।
- পৃথিবীর সর্বাধিক ছারা পানামা চানাল।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বিচিত্র উচ্চতম উড়ানো ব্রিজ মিলাউকি ব্রিজ, নিউজিল্যান্ড।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক দীর্ঘ সময় চলন্ত গরু বাফলো।
- পৃথিবীতে একমাত্র দেশ এস্টোনিয়া, যা ১০০% ই-গভর্নমেন্ট দ্বারা চালিত।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রাচীন ভাষা সংস্কৃত।
- পৃথিবীতে একমাত্র দেশ ভারত, যা সারাদিন অফিসিয়ালি কোন টাইম জোন ব্যবহার করে না।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিচিত্র রাস্তা এক্সিবিতি তার্মিনালের রাস্তা, নেদারল্যান্ডস।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম স্ট্রেচ লিমোজিন, জীপ স্ট্রেচ লিমোজিন।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছোট্ট দেশ ভাটিকান সিটি।
- পৃথিবীতে প্রথম ইউনিকোড বুক এমবিআই হলো “Emoji: A Collector’s Guide”।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম ফটোগ্রাফ কম্পিটিশন ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বাড়ি পরিস্কারতম দেশ জাপান।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রাচীন গণতান্ত্রিক সরকার সান মারিনো।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে লিবিয়ায় আল’আজ়াইজাহ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিচিত্র সড়ক দুর্ঘটনা বাইক রেসিং উপলক্ষে ঘটেছে, ইতালির আমিয়া নগরে।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিচিত্র হট স্প্রিংস তেল জল।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক সেলফি নেওয়া হয়েছে হিমালয় পর্বত শিখরে।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক দীর্ঘ বিচিত্র জলপ্রপাত আঙ্গেল ফলস।
- পৃথিবীতে একমাত্র দেশ কুয়েত, যার কোন নদী নেই।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বালুকাচ্ছ অঞ্চল বিহার, বাংলাদেশ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম লোহার মহাদেশ আফ্রিকা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চতম বিচিত্র ট্যান্ডেম বাংগালি ভাষা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রচুর পানির সংগ্রহস্থল আমাজন নদী মহাসাগর।
- পৃথিবীতে একমাত্র দেশ মঙ্গোলিয়া, যার এখনো কোন জনসংখ্যা নেই।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক সময় দীর্ঘ হাওয়ায় উড়ানো বিমানের পর্যটক ফ্লাইট সিংগাপুর এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম আকারের মেয়েদের বস্ত্র শোপিং মল দাবাও মল, সৌদি আরব।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিচিত্র হোটেল হ্যালোসান্ড হোটেল, সৌদি আরব।
- পৃথিবীর সর্বাধিক দূরে থাকা জাতীয় উদ্যান আইসল্যান্ডের জ্ঞোতকাল উদ্যান।
- পৃথিবীর সর্বাধিক উচ্চ বৃহত্তম জেল হিমালয়ের মাউন্ট এভারেস্ট।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক মারা যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার দেশ লিবিয়া।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া বিমান দূর্ঘটনার দেশ ভানুয়াটু।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম জানবর মাছ উলেলিয়া মৎস্য মেলামড়া, ফিলিপাইনসের তার্তীব মাছের মেলা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চ বিচিত্র রাস্তা উপলক্ষে স্কাইওয়াক, নিউজিল্যান্ডের মানাকৌর রাস্তা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রাণী উল্লেখযোগ্য জীব নীলকন্ঠ মোরঘ, হয়দরাবাদ দেশের মাছ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছোট্ট জাতীয় উদ্যান মন্টসের্রাট, সন মারিনো।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া সিমেট্রিক উপবৃত্ত পৃষ্ঠের জন্য পর্যবেক্ষণার্থ গৃহীত রাজধানী চন্দ্রগান্ধি ইনটারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টার, ইন্দোনেশিয়া।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিচিত্র অদ্ভুত সমাপ্তি পথ মাচু পিচ্চু, পেরুর পথ।
- পৃথিবীর সর্বাধিক দীর্ঘ উচ্চতম সমুদ্র সৈকত মারিয়ানা ট্রেঞ্চ।
- পৃথিবীর সর্বাধিক প্রাণী উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা সম্পন্ন এলিফ্যান্ট আফ্রিকান সাভানা।
- পৃথিবীর সর্বাধিক প্রাণী উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা সম্পন্ন ছোট পাখি কমোডো পেংগুইন।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বায়ুমণ্ডলীয় পর্যটক গন্তব্য ফ্রান্সের ঐফেল টাওয়ার।
- পৃথিবীর সর্বাধিক প্রচুরভাবে উপভোগ্য ফল হাঁসকেল, চাইনা দেশে প্রচুরতম উৎপাদিত ফলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক সুন্দর স্থান প্রিয়দর্শনী সানফ্রান্সিস্কো সিটি, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বৃহত্তম সন্ধ্যা জীব মৃত্যুদণ্ড সঙ্গে তারকা বান্ধব প্রজাপতি।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিচিত্র অদ্ভুত মন্দির কাজেন একো, জাপানের মন্দির।
- পৃথিবীর সর্বাধিক প্রাচীন অবশিষ্ট মহানগর মোহেনজোদারো।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক দীর্ঘ নদী আমাজন, দক্ষিণ আমেরিকার মানাউস নদীর মাধ্যমে বাহীত হয়।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বৃহত্তম ভূকম্প সংঘটিত হয়েছে চিলির ভূকম্প।
- পৃথিবীর সর্বাধিক আয়তনশীল এলাকা রাশিয়ার সাইবেরিয়া।
- পৃথিবীর সর্বাধিক দীর্ঘ রেল লাইন ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ে, রাশিয়ায় অবস্থিত।
- পৃথিবীর সর্বাধিক প্রাণী উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা সম্পন্ন পাখি স্টারলিং।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিচিত্র নদী দক্ষিণ আফ্রিকার ওগোয়ে নদী।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রাণী উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা সম্পন্ন প্রাণী ইন্দ্রিয়ান গাণ্ডজেন্টা।
- পৃথিবীর সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া গ্রনাইট শিলা নেশকতার দেশ স্রীলঙ্কা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম সিমেট্রিক সরবরাহের দ্বার রয়টানবের্গ গর্ত চীনের চংশা।
- পৃথিবীর সর্বাধিক কর্ণেলিয়াস রাস্তা লাক কন্ডিমেন্টাল, ভারতের আদিম রাস্তা নামে পরিচিত।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রাচীন বাণিজ্যিক বন বাংলাদেশের সুন্দরবন।
- পৃথিবীর সর্বাধিক গভীর অবস্থানে অবস্থিত গাহ্যপথ মেরিয়ানা পাতাল।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বড় তাপমাত্রা স্থান লাভাগ হট স্প্রিংস, আরিজোনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- পৃথিবীর সর্বাধিক প্রাণী উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা সম্পন্ন কৃষি জন্তু মাদু।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বিচিত্র ক্ষেত্র ডিয়ে লা মুয়ের্টে, বলিভিয়া।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বায়ুমণ্ডলীয় গ্রাম্য জনসংখ্যা সম্পন্ন দেশ মন্টেনিগ্রো।
- পৃথিবীর সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া পানির সংগ্রহস্থল বৃহত্তম জলাশয়, কানাদায়।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চ জলপায়ু এভারেস্ট পর্বত, নেপাল ও তিব্বতে।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রাচীন বায়ুয়ান মাদুরাই গুহা, ফিলিস্তিন।
- পৃথিবীর সর্বাধিক উচ্চ নদী ধৌলাগিরি, তিব্বত ও চীনের মধ্যে প্রবাহিত হয়।
- পৃথিবীর সর্বাধিক কর্ণেলিয়াস সামরিক বাণিজ্যিক নৌকার নৌকা ব্ল্যাক পিরামিড, মিশর।
- পৃথিবীতে বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল শহর মুম্বই, ভারতে অবস্থিত।
- পৃথিবীর সর্বাধিক প্রাচীন বাণিজ্যিক কেন্দ্র মেলাকা, মালয়শিয়া।
- পৃথিবীর সর্বাধিক বৃহত্তম গ্রীনল্যান্ডের সুন্দরবন।
- পৃথিবীর সর্বাধিক প্রাণী উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা সম্পন্ন প্রাণী ইউরানুস ভাদ্রবাহু সাপ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিচিত্র পর্বত আয়ার্স রক, এম্ব্রেস নামেও পরিচিত।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া জলাভূমি মাদাগ্যাস্কার।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বিচিত্র সাহারা রেজিস্টারটেড বাণিজ্যিক অঙ্গ মধ্যে একটি সাহারা হেলিকপ্টার।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম বস্তু ভোল্কান মাওনা লোফটি, তানজানিয়া এবং জিনিওয়া রেজার্ভ, কংগো সংস্কৃতি।
- পৃথিবীর সর্বাধিক উচ্চ ট্রাম্পলিন জাম্প জলপায়ু হোট এয়ার বেলুন, বোসটন, মাসাচুসেটস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক মহাসাগরিক পানি সংগ্রহস্থল বৃহত্তম মহাসাগর তারাওয়া, ভারতীয় মহাসাগর, বাংলাদেশ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া পানির সংগ্রহস্থল বৃহত্তম জলাশয়, কানাডা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বড় জলমার্গ আমেজন নদী, দক্ষিণ আমেরিকা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম স্বাধীন অঞ্চল আন্টার্কটিকা মহাদেশ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট, নেপাল ও তিব্বতে।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রাণী উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা সম্পন্ন কৃষি জন্তু মাদু।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া পানির সংগ্রহস্থল গাহ্যপথ মেরিয়ানা পাতাল।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক মহাসাগরিক পানি সংগ্রহস্থল বৃহত্তম মহাসাগর এটলান্টিক মহাসাগর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চ ট্রাম্পলিন জাম্পিং স্পট হিমালয় স্পীক, নেপাল ও তিব্বতে।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক মহাসাগরিক বন্দর পার্কিং স্থল মালে বজার, লস আঞ্জেলেস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম জীবজন্তু বিহার অঙ্গ মধ্যে একটি বৃহত্তম বিহার মাহাভোধি, স্রীলঙ্কা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া সুন্দর আলোর বিমান নর্থার্ন লাইটস, উত্তর ধ্রুবতারা এলাকা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রাণী উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা সম্পন্ন কুয়াকেপু আপেলশেল মাছ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া গ্রীনল্যান্ডের বরফ দ্বীপ কুঙ্গসক্রুশেলা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া জলমার্গ মহাকাশ অংশগুলি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (ISS) থেকে দেখা যায়।
- পৃথিবীর সর্বাধিক সমৃদ্ধ মাটি কিনেকটিকাট, নিউজিল্যান্ড।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বড় নদী আমাজন নদী, দক্ষিণ আমেরিকা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম স্বাধীন অঞ্চল আর্টিক মহাসাগর।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক মহাসাগরিক পানি সংগ্রহস্থল পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর প্যাসিফিক মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর, ও পশ্চিম মহাসাগর।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চ ট্রাম্পলিন জাম্পিং স্পট ব্লেউ মাউন্টেন, নিউ জিল্যান্ড।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক মহাসাগরিক বন্দর পার্কিং স্থল নিউ যর্ক শহরের পিয়ার ৯৫ পার্কিং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক ছড়িয়ে যাওয়া মানবদেহের অংশ মালাইসিয়ান হাইল্যান্ডার মাম্মাল।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চ জরিপ মাউন্ট এভারেস্ট, নেপাল ও তিব্বতে।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক গভীর সমুদ্র জল মারিয়ানা দ্বীপ, প্রশান্ত মহাসাগর।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বড় পরিমাণ বরফ জমিয়ে রাখা হলো এনটারটিকা মহাদেশের বরফপাহাড়।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম নদী আমাজন নদী, দক্ষিণ আমেরিকা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম স্বাধীন অঞ্চল গ্রীনল্যান্ড, ডেনমার্কের একটি অঞ্চল।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চ অঞ্চল তিব্বত, চীনের একটি প্রদেশ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক প্রাণী উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা সম্পন্ন চীতা মাছ।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক পরিমাণ বৃহত্তম জলপ্রপাত আঞ্চল আঙ্গেল ফলস, ভেনিজুয়েলা।
- পৃথিবীতে সর্বাধিক বৃহত্তম ভূপৃষ্ঠ গ্রনল্যান্ড, ডেনমার্কের একটি অঞ্চল।
- মহাকাশের অবস্থানে আছে একটি মহাদ্বীপ যা সোনার মহাদ্বীপ নামে পরিচিত।
- শহরের নিচে মহাসাগরের আকারের একটি গভীর খাদ আছে, যা দুর্নীতি কোণে পরিচিত।
- আদিশ ভাস্করণ হলো একটি বৈজ্ঞানিক সম্পদ, যেখানে আপনি মহাকাশের দূরত্বকে শীঘ্রই জানতে পারেন।
- পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় জলমানবশ্য হলো ব্লু হোয়েল।
- মহাকাশের আকাশগঙ্গা একটি অদ্ভুত দৃশ্য, যেখানে অন্তরিক্ষের রঙিন গ্যাস, তারাদের ওপর আকার করে দেখা যায়।
- একটি বিজ্ঞানী আবিস্কার করেছেন নাইট্রোফাইলিয়া, যেটি জীবাশ্মকে পদার্থবিজ্ঞানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ করেছে।
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুন্দর স্থান হলো উত্তর পশ্চিম মালদ্বীপ।
- মহাকাশে একটি ব্ল্যাক হোল আছে যা আপনি যদি প্রবেশ করেন, তবে সময় ধ্বংস হয়ে যাবে।
- পৃথিবীতে একটি মানুষ কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণ করেছেন যার নাম অরামিস।
- পৃথিবীতে একটি উত্তপ্ত প্রাণী আছে, যার নাম ফায়ার এন্ট।
- মহাকাশে একটি বিমান পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা কখনোই নিষ্ক্রিয় হয়নি।
- আকাশে প্রতিমিনিটে প্রায় ১০ টি ব্রহ্মাণ্ড জন্ম নেয়।
- পৃথিবীর পারমাণবিক স্বরণ হলো ৪.৫ বিলিয়ন বছর।
- সৌরজগতে সবচেয়ে ঠান্ডা গ্রহটি হলো নেপচুন।
- পৃথিবীতে আবারো দুটি ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে পরস্পর সংঘর্ষ হতে পারে, যা গ্রহাণুমূলক সংঘর্ষ নামে পরিচিত।
- একটি শার্টকাট থেকে ব্লু হোয়েল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- পৃথিবীতে বিভিন্ন স্থানে অদ্ভুত স্থান দ্বারা পরিচিত, যেমন বাংলাদেশের সান্দ্বীপ, এলসালভাদ ক্রেটার, সাউদি আরবের মারশাল কভেল ইত্যাদি।
- পৃথিবীর সান্দ্বীপের উপর একটি গাছের পাতা ফেললে সেটি পান্ডিট্য নামে পরিচিত হয়।
- পৃথিবীতে চুম্বন দিতে নিষেধ করা হয় ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তহীন তাপমাত্রা ব্যবস্থা রয়েছে।
- পৃথিবীর মধ্যবর্তী বিন্দুতে সময় চলে অতিবাহিত ভাবে সমাপ্ত হয়ে যায়।
- পৃথিবীতে বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণ নদীর তীরে একটি গাছের গাছ আছে যা হলো অদ্ভুত সবুজ গাছ বা মেগাট্রি।
- পৃথিবীতে বৃহত্তম নদী হলো আমেজন নদী, যা মহাসাগরের পান্ডিচেরা থেকে আগত জলের পরিমাণে অনুপাতিক দ্বিতীয়।
- বাংলাদেশে রয়েছে দুটি প্রাকৃতিক অদ্ভুত ঝর্ণা, যাদের নাম হলো জাফলং ঝর্ণা এবং মেঘলাল ঝর্ণা।
- পৃথিবীতে একটি অদ্ভুত জন্তু আছে যা হলো ব্যাটম্যান জন্তু। এটি একমাত্র জন্তু যা বৃহত্তম সংখ্যক পেশী ব্যবহার করে যাত্রা করতে পারে।
- পৃথিবীতে বিভিন্ন স্থানে অদ্ভুত সাগর কৃষি দেখা যায়, যেমন বাংলাদেশের কক্সবাজারের প্রাসাদ ক্রেটার সাগর।
- পৃথিবীতে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের ভেতরে উত্তপ্ত লাভা খুঁজে পাওয়া হয়, যা বাতাস দিয়ে প্রকাশিত হয়ে থাকে।
- পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম জলাধান সমুদ্র হলো প্রশান্ত মহাসাগর। এর মধ্যে অনেক বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত।
- পৃথিবীর সর্বাধিক উঁচু পর্বত হলো মাউন্ট এভারেস্ট, যা হিমালয় পর্বতশৃঙ্গে অবস্থিত।
- পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে মহান সার্কাস থাকে, যেমন রাশিয়ার মহান মশিক সার্কাস এবং আমেরিকার বার্নাম বেলিস।
- পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে বিখ্যাত মাঠ দেখা যায়, যেমন ব্রাজিলের মারাকানা মাঠ এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট মাঠ।
- পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে রয়েছে অন্তরিক্ষে পাঠালী করা ট্রেন। ভারতের দক্ষিণপূর্বের চেন্নাই থেকে তামিলনাড়ুর উত্তরপূর্বের বিক্রমবট শহরে চলে যায় জিওসিংস পৃথিবীর অন্তর্গতির মধ্যে।
- পৃথিবীতে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের ভেতরে উত্তপ্ত লিলি পাপল বয়ে থাকে। এই বিস্ফোরণময় পাপলগুলি সময়ের সাথে পাথরে শঙ্কিত হয়ে থাকে।
-

সংক্ষেপে দেখুনকত সব আজব তথ্য, বস্তু, নিয়ম, রীতি-নীতি ছড়িয়ে আছে তামাম পৃথিবী জুড়ে! তার কতগুলোইবা আমরা জানি! কিন্তু এসব আজব ফ্যাক্ট বা তথ্য জানা থাকলে জ্ঞানের পরিধি ও যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি বন্ধু মহলে এসব তথ্য জাহির করে আসর জমিয়ে দেয়া যায়! দ্য ফ্যাক্ট সাইট ঘেঁটে এমনই কিছু এলোমেলো ফ্যাক্ট হাজির করা হলো-
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস সবার আগে পেয়ে থাকে বিষধর সাপেরা। তারা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের প্রায় ৭৫ মাইল বা ১২১ কিলোমিটার দূরে থেকেও অন্তত ৫ দিন আগে থেকেই আসন্ন ভূমিকম্প আন্দাজ করতে পারে!
এ পর্যন্ত মাত্র দু’টি প্রাণঘাতী রোগ দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় করা সম্ভব হয়েছে। একটি হলো গুটি বসন্ত অন্যটি গোমড়ক। পৃথিবীতে সর্বশেষ গুটি বসন্তের রোগী পাওয়া গেছে সেই ১৯৭৭ সালে, আজ থেকে প্রায় ৪২ বছর পূর্বে! অন্যদিকে, পৃথিবীতে সর্বশেষ গোমড়কের রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে ২০০১ সালে।
কলার গড়ন বাঁকা হয় কেন জানেন? কলা গাছে কলা ভূমির দিকে নিম্নমুখী হয়ে জন্মায়। কিন্তু কলা সূর্যের প্রতি খুবই সংবেদনশীল।এ কারণে সে সূর্যের দিকে বাড়তে চায়। সেজন্যই তার গড়ন লম্বা না হয়ে বেঁকে যায়। এ ব্যাপারটিকে বলা হয় নেগেটিভ জিওট্রপিজম।
পাঠা বা পুরুষ ছাগলেরা নিজেরাই নিজেদের উপর মূত্রত্যাগ করে, সাধারণত গ্রীষ্মের শেষ ভাগ থেকে শরৎকাল পর্যন্ত। তারা এ কাজ করে যাতে তাদের গায়ে গন্ধ ছড়ায় এবং স্ত্রী ছাগলরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মানুষের জন্য যদিও গন্ধটা খুব একটা সুখকর নয়!
মানুষ তার জীবদ্দশায় এত পরিমাণ লালা উৎপন্ন করে যে তা থেকে দু’টি অলিম্পিক সুইমিং পুল ভরাট করা যেতে পারে! একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে ২ লিটার লালা রস উৎপন্ন করে, বছরের সর্বোচ্চ ৭৩০ লিটার। তাই কোনো মানুষ যদি ৭০ বছর বাঁচতে পারে, সে তার পুরোটা জীবনকালে ৫১ হাজার ১০০ লিটার লালা রস উৎপন্ন করে, যা দু’টি সুইমিং পুল ভর্তি করার জন্য যথেষ্ট।
রাজা অষ্টম হেনরি ঘুমানোর সময় তার পাশে সব সময় একটি ধারালো কুড়াল নিয়ে ঘুমাতেন। কেবল এই কুড়ালটিই নয়, তার অস্ত্রের ভান্ডার ছিল যে কোনো রাজাদের জন্যই ঈর্ষনীয়। তার সংগ্রহে হ্যান্ডগানই ছিল সাড়ে ৬ হাজার এর বেশি ! স্থির থাকা অবস্থায় ক্যাঙ্গারুর লেজ সবসময় মাটিতে শায়িত থাকে। আপনি যদি একটি ক্যাঙ্গারুর লেজ কোনোরকমে মাটি থেকে তুলে ধরতে পারেন, তাহলে সে শত চেষ্টা করলেও লাফাতে পারবে না! কারণ ক্যাঙ্গারুরা লাফানোর সময় ভারসাম্য রক্ষার জন্য লেজের ওপর নির্ভর করে।
শুরুর দিকে কোনো মুভি শেষ হওয়ার পর তার ট্রেইলার দেখানোর প্রচলন ছিল। কিন্তু পরে দেখা গেল কেউই ছবি শেষ হওয়ার পর ট্রেইলার দেখার জন্য বসে থাকছে না। এরপর থেকে ছবির প্রচারণার কাজে ছবি মুক্তির আগে থেকেই ট্রেইলার দেখানোর রীতি চালু হয়।
ঈগলকে আমরা সবাই শিকারি পাখি হিসেবেই চিনি। কিন্তু আমরা কি জানি এই পাখিটির শক্তি কত বেশি হতে পারে? একটি ঈগলের পক্ষে মাঝারি সাইজের একটি হরিণকে হত্যা করে তাকে নিয়ে উড়ে যাওয়া সম্ভব, ঈগল এতটাই শক্তিধর!
বর্তমানে যত মানুষ সমুদ্রের দানব শার্কের আক্রমণে মারা যায়, তার থেকে অনেক বেশি প্রাণ হারায় সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনায়। হ্যাঁ, পরিসংখ্যান তাই বলে। ২০১৭ সালে শার্ক অ্যাটাকে মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ৬, যেখানে সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় একই বছরে মৃত্যুবরণ করেন ৩৫ জন মানুষ।
বিশ্বযুদ্ধের অজানা কিছু তথ্য কেউ দিতে পারবে?
১.প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে ব্রিটিশ সৈন্যদের শরীর গরম রাখতে কাপড়ের পোশাকের বদলে কাগজের পোশাক দেওয়া হয়েছিলো। ২.প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অসীম বীরত্বের জন্য ১৫৩ জন ভারতীয় ও পাকিস্তানি ভিক্টোরিয়া ক্রস পুরষ্কার জেতেন।যাদের মধ্যে অমর হয়ে আছেন তৎকালীন ভারত এবং বর্তমান পাকিস্তানের সুবেদার খুদাদাদ খান। তিনিই প্রথম এশিবিস্তারিত পড়ুন
১.প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে ব্রিটিশ সৈন্যদের শরীর গরম রাখতে কাপড়ের পোশাকের বদলে কাগজের পোশাক দেওয়া হয়েছিলো।
২.প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অসীম বীরত্বের জন্য ১৫৩ জন ভারতীয় ও পাকিস্তানি ভিক্টোরিয়া ক্রস পুরষ্কার জেতেন।যাদের মধ্যে অমর হয়ে আছেন তৎকালীন ভারত এবং বর্তমান পাকিস্তানের সুবেদার খুদাদাদ খান। তিনিই প্রথম এশিয়ান এবং মুসলিম যিনি এই সম্মান লাভ করেন।
৩.প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ই বর্তমান স্নাইপার দের ক্যামোফ্লেজ আবিষ্কার করা হয়।অনেক সময় আর্টিস্টরা স্নাইপার বা স্কাউটদের জন্য নো ম্যানস ল্যান্ডে নকল গাছ কিংবা নকল মৃত ঘোড়া বানিয়ে দিত।যার ফলে সৈনিকরা সেই মরা গাছে বসে স্নাইপিং করতে পারতো কিংবা শত্রুদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে পারতো।ফরাসি আর্টিস্টরা এই জিনিস আবিষ্কার করে।মাঝে মাঝে তো ওগুলো এত বাস্তব মনে হতো যে যুদ্ধ শেষ হবার পরেও তারা কিছুই বুঝতে পারতো না।জার্মানরা ও ওই পদ্ধতি দ্রুত রপ্ত করে নেয়।
৪. Battle of Somme,Battle of Ypres এবং Battle of verdun বিশ্ব যুদ্ধের সব থেকে ক্ষয়ক্ষতি সম্পন্ন যুদ্ধ।শুধু মাত্র সম এর যুদ্ধেই ১০ লাখ মানুষ মারা যায় এবং আহত হয়।
৫. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সর্ব প্রথম কানাডিয়ানরা জার্মানদের ক্লোরিন গ্যাস থেকে বাঁচতে প্রস্রাব দিয়ে রুমাল ভিজিয়ে গ্যাস মাস্ক বানায়।Sounds Funny। কিন্তু এটা জীবন মরণের প্রশ্ন ছিল।
৬. ব্রিটিশরা সর্ব প্রথম যুদ্ধ ট্যাঙ্ক বানায়।অদ্ভুত ব্যাপার হলো।তখন বড় ট্যাঙ্ক গুলোকে ছেলে আর ছোটো ট্যাংক গুলোকে মেয়ে ধরা হতো।
৭. ১৯১৪ সালে জার্মানি আর ব্রিটেনের অনেক সৈন্যরা একসাথে বড়দিন পালন করে। সিগারেটে আর বিভিন্ন উপহার বিনিময় ও হয় তাদের মধ্যে।শুরুটা কিন্তু করে জার্মানরা।
৮. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শত্রু পক্ষের রেজিমেন্ট ব্যানার ছিল সংগ্রহ করার মত এক অনন্য বস্তু। শত্রুপক্ষের ব্যানার কব্জা করা মানেই বিশাল বড় ব্যাপার।তাই কোনো রেজিমেন্ট হেরে গেলে তারা সাথে সাথে ব্যানার লুকিয়ে ফেলত।
৯.ফ্রান্স এবং মিত্র পক্ষের জন্য প্রায় ৯ লক্ষ মুসলমান যুদ্ধ করে।যার ৭২০০০ মৃত্যু বরণ করেছিলেন ফ্রান্স এর জন্যে।মাত্রই ৫৯৬ জনেরই কবর আছে লরেতে দে ফ্রান্স এ।যেখানে প্রথম বিশ্বধুদ্ধে নিহত ৪০০০০ হাজার সেনাকে কবর দেওয়া হয়।
(ফ্রান্সে মুসলিম সেনাদের কবর)
১০. অটোমানরা মরণপণ যুদ্ধ করে তাদের মাতৃভূমি তুর্কি রক্ষা করতে।তাদের ২৫ লাখের ভেতর ১৫ লাখ সেনা মারা যায় বা যুদ্ধাহত হয়।পৃথিবির অনেক জায়গা থেকে মুসলমানরা যোগ দেন অত্তমানদের জন্য লড়াই করতে।
১১.প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১৯১৫ সালে কাইজার উইলহেলম মুসলমানদের জার্মানির দলে টানার জন্য wünsdorf মসজিদ তৈরি করেন।ওটাই জার্মানির প্রথম মসজিদ।
১২.প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে রাশিয়া,ফ্রান্স আর ব্রিটেনের অনেক শিশু কিশোর নিজেদের বয়স লুকিয়ে যুদ্ধে যোগ দেয়।যদিও একজন সৈনিকের বয়স সর্বনিন্ম ১৮ ছিল তবুও অনেক ১৫-১৬ এমনকি ১৩-১৪ বছরের শিশুরাও যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল।যারা মূলত উত্তেজনা এবং অ্যাডভেঞ্চার এর গন্ধে গিয়ে ছিল ফ্রন্টগুলোট।তবে সিডনি লুইস বিখ্যাত হয়ে থাকবেন সর্বদা কেননা তিনি সর্ব কনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন।যুদ্ধকালীন সময়ে তার বয়স ছিল ১২ বছর মাত্র।প্রায় ১৯০০০ শিশু সেনা বা বয় সোলজার মারা গিয়ে ছিল।
১৩.এমনও হতো যে ফ্রান্সে হাওয়া গোলাগুলির আওয়াজ ব্রিটেনে শোনা যেত।
১৪.প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে ডগফাইট বা বায়ু যুদ্ধে সব থেকে বেশি কিলের রেকর্ড ছিল জার্মানির রেড ব্যারন/দার ফ্রিহের মানফ্রেড ভন রিচট্ হফেন এর।৮০ টি কিল ছিল তার খাতায়। তার দলের নাম ছিল জস্টা ১১।তার দলে ৩২ জন সদস্য ছিল যাদের মধ্যে শুধু একা লোথার ভন রিচ্টফেন বেঁচে ছিলেন যুদ্ধ শেষে।যিনি ছিলেন তার চাচাতো ভাই।১৯১৫-১৯১৮ এর এপ্রিল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন।তার মৃত্যু হয় ১৯১৮ এর ১৮ এপ্রিল।এরপর ও কেউ তার রেকর্ড ভাঙতে পারেনি।
১৫.
ছবিটা বৃটিশদের বিখ্যাত এক প্রোপাগান্ডা পোস্টার।ছবির ব্যাক্তিটি লর্ড কিচেনারের।ছবিটা মোনালিসার মত।যেদিকে তাকাবেন চোখ জোড়া আপনাকে অনুসরণ করবে।
১৬.প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানরা এক রাশিয়ান দুর্গ আক্রমণ করে ক্লোরিন গ্যাস দিয়ে।তিন দিন লাগে গ্যাস পরিষ্কার হতে। তারপর যখন জার্মানরা দুর্গে ঢুকতে যায় হঠাৎ করেই মুখে রক্তে রাঙা রুমাল পেঁচানো ৫০-৬০ জন রাশিয়ান সেনা বেরিয়ে আসে।জার্মান সেনারা ওদের ভুত ভেবে পালিয়ে যায়।
১৭.জার্মানরা মেক্সিকান দের কাছে অনুরোধ করে গোপন বার্তা পাঠায় যাতে তারা আমেরিকা আক্রমণ করে।কিন্তু সেই বার্তা ব্রিটিশ দের কাছে পৌঁছে যায়।
১৮.যুদ্ধ ক্ষেত্রে ওষুধ আর গুরুত্বপূর্ণ চিঠি বহন করত কুকুরেরা।আর পায়েরা প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো চিঠি আদান প্রদানের জন্য।জার্মানরা ওই পায়রাদের ধরতে আবার বাজ পাখি পুষত।
১৯.প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বেশির ভাগ সৈনিক মারা যায় রোগে।
২০.আমেরিকানরা তাদের সৈন্যদের কনডম প্রদান না করায় প্রায় ৪০০ সৈনিক সিফিলিস এ মারা যায়।
২১.প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শেল শক এবং ট্রেঞ্চ ফুট ছিল সবচে কমন রোগ।ট্রেঞ্চ ফুট হতো কারণ সৈন্যরা ভেজা পায়েই অনেকক্ষন যুদ্ধ করতো।যার ফলে তাদের পায়ে পচন ধরত।আর শেল শক হতো আর্টিলারি বোম্বিং এর জন্য।
২২.প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কিন্তু চলছিল সার্বিয়া এবং অস্ট্রো- হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের সাথে। জার্মানি, রাশিয়া কিংবা আর যতগুলো দেশ আছে তার সবই ছিল ওই দুই দেশের মিত্র কিংবা শত্রু পক্ষ।
২৩.ইতিহাসে জার্মানরাই প্রথম স্পেশাল ফোর্স তৈরি করে।যার নাম ছিল stromtrüppen। এদের কাজ ছিল ট্রেঞ্চ অ্যাসল্ট বা ট্রেঞ্চ এ হামলা করা।
২৪.জার্মানরা সর্বপ্রথম ফ্লেমথ্রোয়ার তৈরি করে।যা দিয়ে আগুন ছুড়লে প্রায় ১৫০ ফুট সামনে থাকা জিনিস পর্যন্ত ভস্মিভূত করতে পারতো।
২৫.অনেকে মনে করে ট্রেঞ্চ বুঝি লম্বা এক সরল রৈখিক পরিখা।কিন্তু আসলে ট্রেঞ্চ থাকতো আঁকা বাকা।যাতে শত্রু পক্ষ ট্রেঞ্চ এ নেমেই সবাইকে এক লাইনে গুলি করে মারতে না পারে।
২৬.ইউরোপের সব চেয়ে বড়ো ট্রেঞ্চ ছিল অষ্ট্র হাঙ্গেরির সীমানায় রাশিয়ার সাথে।
২৭.কখনো কখনো ট্রেঞ্চ গুলোর মধ্যে এত কম দূরত্ব থাকতো যে তা প্রায় ৫০-৩০ মিটার এর মত হতো।সেই সময় হতো কি রাতে যুদ্ধ বিরতির সময় দুই দল একে অপরকে গালাগালি করা শুরু করতো।রাতভর চলতো মাঝে মাঝে।যে কত বাজে গালি দিতে পারে তার কদর তত বেশি।
২৮.প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পুরুষদের বীর্য দিয়ে চিঠি লেখার ধুম পরে যায়।কারন বীর্য দিয়ে লেখা চিঠির অক্ষর গুলো অদৃশ্য মনে হতো।ওই জিনিস আবিষ্কার করেন এক ব্রিটিশ অফিসার।
২৯.প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শত্রু পক্ষের ট্রেঞ্চ বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া খুব কার্যকরী একটি পদক্ষেপ ছিল।কিন্তু কাজটা অনেক কষ্ট সাধ্য ছিল।মাটির নিচে সুরঙ্গ খুড়ে শত্রু পক্ষের ট্রেঞ্চ এর নিচে যেতে হতো তারপর ডিনামাইট বিছিয়ে দিতে হতো ট্রেঞ্চ এর নিচে। এমনও হতো যে,দুই পক্ষই সুরঙ্গ খুড়ে একই দিন ডিনামাইট ফাটালো।কিংবা সুরঙ্গ খুড়তে গিয়ে দুই পক্ষেরই মোলাকাত হতো।
২য় বিশ্বযুদ্ধের কিছু জানা অজানা তথ্য
১.হিটলার এর নাৎসি বাহিনীর পতাকাকে বলা হতো “ব্লত ফেহেন” বা Blut Fehen।ওই পতাকা তৈরির পেছনে ইতিহাস আছে।একবার নাৎসি পার্টির কিছু কর্মীকে গুলি করে মারা হয়।হিটলার প্রেসিডেন্ট হবার আগে।তো ওই কর্মীদের গুলি করা হয় এক মিছিলের সময়।সেই কর্মীদের হাতে থাকা একটা পতাকা ওই কর্মীদের রক্তে লাল হয়ে যায়।হিটলার ওই পতাকা সযত্নে রেখে দেন ওই পতাকা তার অফিসে শোভা পেত।তিনি কর্মীদের ত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে চাইছিলেন।যার জন্য বড় বড় অনুষ্ঠানে ওই পতাকা বহন করে নেওয়া হতো।আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে।পতাকাটি যুদ্ধের শেষের দিকে লুকিয়ে ফেলা হয়।এখনও কেউ খুঁজে পায়নি ওই পতাকা।কেউ না।
২.হিটলারের সৎ ভাই এর ছেলে আমেরিকান নেভিতে ছিলেন ২য় বিশ্বযুদ্ধে।তার বংশধররা এখনও থাকেন লং আইল্যান্ড এ।এমনকি লুফট ওয়্যাফে এর প্রধান হেরমান গোয়েরিং এর আপন ভাতিজা ছিলেন আমেরিকান এয়ার ফোর্সে।তারা উভয়ই আমেরিকায় জন্মায়।
৩.স্টালিন গ্রাদের যুদ্ধে জার্মানরা হেরে যায় শীতের কারনে।হিটলারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি তার সৈন্যদের জন্য কোনটি পাঠাবেন, গোলা বারুদ,খাবার না শীতের জামা। জী হা,উনি গোলা বারুদ বেছে নেন।
৪.জার্মানরা পোলন্ড দখল করার পর ২২০০০ হাজার লোকের এক গণকবর আবিষ্কার করেন।জার্মানরা এই গণহত্যা দেখে অবাক হয়। কারন তারা এটা করেনি।তারা মিত্র পক্ষকে এই বিষয়ে অবহিত করলে ও তারা জার্মানদের দোষ দেয়।যুদ্ধের পরে রেড আর্মি এক জার্মান অফিসারকে অত্যাচার করে এটা স্বীকার করায় যে তারাই গণহত্যার জন্য দায়ী।কিন্তু আসলে দায়ী ছিল সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ।
৫.জার্মানিতে শুধু শুদ্ধ আর্য রক্তের শিশু তৈরির জন্যে এক বুদ্ধি করা হয়েছিল।সেখানে নারী ও পুরুষদের কাজ ছিল শুধু প্রজনন।একে নাৎসি বেবি ফ্যাক্টরি বলা হয়।
৬.সবাই ভাবে,আরে জার্মনরা তো সেই লেভেলের মানুষ!!! কত বড়ো ট্যাঙ্ক আর অর্মড ভেহিকেল তারা বানায়।কিন্তু আসলে যুদ্ধের প্রথম দিকে সব থেকে কম আধুনিক অস্ত্র ছিল জার্মানির কাছে।ফ্রান্স ক্যাম্পেইন এ তাদের সৈন্যরা ঘোড়া ব্যাবহার করছিল।এত ট্যাঙ্ক আর আর্মড ভেহিকেল বানানো হয় সব রাশিয়া,ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের থেকে জব্দ করা ট্যাঙ্ক থেকে।
৭.জার্মানরা গণহত্যা করলেও কিন্তু ধর্ষনের রেকর্ড তাদের ভালো না।রাশিয়ানরা নারীদের যুদ্ধে নিয়ে আসে।অনেক নারীই জার্মানদের হতে বন্দী হতো।কিন্তু জার্মানরা তাদের সাথে ভদ্র আচরণ করতো।যেখানে রাশিয়ান ও মিত্র পক্ষ প্রায় ২৯ লাখ ধর্ষনের জন্য দায়ী।
৮. ১ জন জার্মান সেনা প্রায় সব দিক দিয়েই ১০ জন রাশিয়ান সেনা এবং ৪ জন আমেরিকান সেনার সমান ছিল।
৯.২য় বিশ্বযুদ্ধেও শ্রেষ্ঠ পাইলট ছিল একজন জার্মান।প্রায় ৩০০ এর মত তার কিল রেকর্ড।তার নাম এরিখ হার্টমান।
১০.জাপান ২য় বিশ্বযুদ্ধের আগে চিনে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ হত্যা করে।আর ধর্ষনের কেস নাই বললাম।
১১.জাপান কোরিয়া দখল করার পর সেখান থেকে হাজার হাজার মেয়ে নিয়ে যায় তাদের সাথে।এদের সাথে চলতো বিকৃত যৌন কর্মকাণ্ড।এদের ডাকা হতো কমফোর্ট ওমেন নামে।
১২.২য় বিশ্বযুদ্ধে নর্মান্ডি ল্যান্ডিং পৃথিবির ইতিহাসে সব থেকে বড় সামরিক উভচর অভিযান।যেখানে ৫০০০ আলজেরিয়ান সৈনিক অংশ নেয় ফ্রান্সের হয়ে।অথচ তাদের নাম প্রায় নেই বললেই চলে।
১৩. জার্মানির এক মেশিন গানার প্রায় ৩০০০ আমেরিকান মারেন নর্মাণ্ডি লান্ডিংয়ের সময়।তাকে বলা হয় বিস্ট অফ ওমাহা।
১৪.একবার জাপানি নেভিদের এক পার্টিতে মাংসের ঘাঁটিতে দেখা দিলে।তারা তাদের বন্দীদের শরীর থেকে মাংস কেটে খায়।ওই বন্দীরা সকলেই আমেরিকান পাইলট ছিলেন ।৯ জন pilot ভূপাতিত হন।৮ জনকেই জাপানিরা ধরে ফেলে।সৌভাগ্বশত,১ জন বেঁচে যায়।যে কিনা পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়।উনি জর্জ বুশ সিনিওর।
১৫. নোলান এর Dunkirk দেখেছেন মনে হয়।সেখানে একটা জিনিস কিন্তু দেখানো হয় নি।প্রায় ৫০০০ সেনেগালি সৈন্য মারা গেছিলো সেই যুদ্ধে।
১৬.ফ্রেঞ্চ আর্টিস্টরা পুরো পারী শহরের মত নকল শহর বানান।যাতে জার্মান বোম্বাররা পারীর বদলে সেখানে বোমা ফেলে।কাজ হয় তাতে।
১৭. জার্মনারা জানতই না নর্মন্ডি তে মিত্র পক্ষ আক্রমণ করবে।
১৮.জার্মানির বার্লিনে সর্ব প্রথম প্রবেশ করে মাতাল রেড আর্মি।আর সর্ব প্রথম সোভিয়েতদের পতাকা তোলা হয় ইসমাইল কাদিরভ নামের এক মুসলমান রেড আর্মির সৈনিক দ্বারা।কিন্তু সোভিয়েত সরকার কৃতিত্ব দেয় এক খ্রিস্টান জর্জিয়ান সেনাকে।
বার্লিনে রেড আর্মির পতাকা ওড়াচ্ছেন ইসমাইল।
১৯.অনেক জাপানি যুদ্ধ করে আমেরিকার জন্য। যাদের জন্ম হয় আমেরিকাতেই।
২০.হিটলারের বাহিনীতে শুধু জার্মানিরই না,ব্রিটিশ,আমেরিকান,ফ্রেঞ্চ এমনকি অনেক রুশী নাগরিক যুদ্ধ করে।এদের জন্য ছিল আলাদা আলাদা ডিভিশন।
২১.আপনি কি জানেন,পাঞ্জাবিরা ss বাহিনীতে ঢুকতে পারতো?কারন বিশুদ্ধ আর্য রক্তের ওই ss বাহিনী তে আর্য জাতির লোক হলেই ঢোকা সম্ভব ছিল।আর পাঞ্জাবিরা আর্য।
২২. হিটলারের বাহিনীতে মাউন্টেন ডিভিশন হিসেবে ছিল SS Bosnian Handschar নামের একটি দল।যাদের প্রায় সবাই ছিল মুসলমান।এরা কমিউনিস্ট রাশিয়া আর ইউগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভের জন্য হিটলারের বাহিনীতে যোগ দেয়।
২৩.জার্মানির টাইগার ট্যাঙ্ক একাই ৩৫ টা আমেরিকন Sherman Medium tank এর সাথে যুদ্ধ করতে পারতো।
২৪.সিসিলি জয়ের পর বিস্কারিতে একজন আমেরিকান সার্জেন্ট আর ৩ জন প্রাইভেট ৭৫ জন ইটালিয়ান আর ১৫ জন জার্মান হত্যা করে।যারা সবাই আত্মসমর্পন করেছিল।
২৫.আমেরিকান সৈন্যরা জাপানিদের খুলি,হাত পায়ের হাড় কিংবা নাক কানের মত অংশ কেটে নিজেদের কাছে রেখে দিত সৌভেনীর বা স্বারক হিসেবে।
২৬.নূর ইনায়াত খান নামে এক পাকিস্তানি ফ্রেঞ্চ পুলিশ ইহুদীদের রক্ষায় নিজের প্রাণ দেন।ফ্রান্সের মসজিদগুলো ইহুদীদের ভুয়া মুসলিম আইডি কার্ড দিয়ে জার্মান গেস্টাপো পুলিশদের থেকে বাঁচায়।
২৭. ডের ফূহরের ডের থার্ড রেইখ হিটলার এর সাইন্টিস্টরা যুদ্ধের শেষ পর্যায় ইউরোপ এবং আমেরিকাতে বায়োলজিক্যাল ওয়েপন ব্যাবহার করার পরামর্শ দেন।সেই বায়োলজিকাল ওয়াপনে ছিল মারাত্বক সব রোগের জীবাণু।এতে নিঃসন্দেহে মিত্র পক্ষ শেষ হয়ে যেত।কিন্তু হিটলার এরম করতে কঠোর ভাবে মানা করেন।
২৮ রঙ্গুনে গৌরাঙ্গ নামে এক গুর্খা একাই ২০০ জন জাপানির সাথে লড়াই করেন এবং ৩৫ জনকে হত্যা করেন।
২৯. জার্মানি কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ শুরু করতে চায়নি।তাদের লক্ষ ছিল ইউরপের কয়েকটা দেশ দখল করা।কিন্তু মিত্র পক্ষই ইউরোপের এই যুদ্ধকে বিশ্ব যুদ্ধে রূপান্তরিত করে।
৩০.মিসরে জার্মান জেনারেল ডিজার্ট ফক্স এরউইন রোমেলে এর গুপ্তচর ছিলেন ছিলেন অনওয়ার সাদাত। হা,ঠিক ধরেছেন,ইনি পরবর্তীতে মিসরের প্রেসিডেন্ট হন।যাকে পিস মেকার উপাধি দেয় আমেরিকা ও ইসরাইল।
৩১.এটা একটা আশ্চর্যজনক ঘটনা। ফিনল্যান্ড থেকে অনেক ইহুদী পুরুষ জার্মান আর্মিতে যোগ দেয়। আবার অনেকে ফিনল্যান্ডের হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করেন।একজন তো এর মধ্যে আবার জার্মানি সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্যতম সেরা পুরষ্কার iron cross first class মেডেল পান।তারা আসলে ফিনল্যান্ডের প্রতি তাদের অনুগত্য দেখাতে চাইছিল।
৩২.হিটলারকে মারার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয় প্রায় ২৪-২৫ বার।এর মধ্যে সব থেকে আলোচিত হচ্ছে ২০ জুলাই প্লট।অনেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্ম কর্তা হিটলারের মৃত্যু চাইতেন। ১৯৪৪ সালের ২০ জুলাই এক সামরিক কর্মকর্তা ক্লাউস ভন স্টুফেনবুরগ হিটলারের টেবিলের নিচে ব্রিফ কেস রেখে দেয়। যাতে বোম ছিল।তিনি বাথরুমে যাবেন বলে উঠে যান এবং হিটলারের সৌভাগ্যক্রমে অন্য এক জেনারেল যখন ওই চেয়ার এ বসে তখন তার পায়ের লাথি খেয়ে সরে যায় টেবিলের এক পায়ার কাছে।যার ফলে যখন বোম বিস্ফোরিত হয় তখন হিটলার ওই টেবিলের জন্য বেঁচে যান। ৪ জন সামরিক কর্মকর্তা মারা যায়। হিটলার তার হাতে আর নিতম্বে ব্যাথা পায়। তার কানের পর্দা ও ফেটে যায়। তিনি জড়িত থাকা সকল সেনা কর্মকর্তাকে ফাঁসি দেন। আর এর মধ্যে ছিলেন ফিল্ড মার্শাল এরউইন রোমেল। তাকে বিষ পানে বাধ্য করা হয়।
৩৩. মরক্কোর সৈনিকরা মন্টে ক্যাসিনোর যুদ্ধে জয়ের পর ইতালিতে গণ ধর্ষণ চালায়।
৩৪.শুধু মাত্র স্ট্যালিনের ইচ্ছাকৃত গাফিলতির কারণে ২০ লাখ রুশী নাগরিক প্রাণ হারায়।
৩৫.জাপানি অফিসাররা বা সৈনিকরা হারার পর আত্মসমর্পণ না করে আত্মহত্যা করত সম্মান বাঁচতে।
৩৬.তিন জন জাপানি সৈনিক জাপান আত্মসমর্পণের ২০ বছর পরেও যুদ্ধ চালিয়ে যায়।
৩৭.হলিউড ছবি তো দেখেন।হিরো একাই ৫০-৬০ জন গুন্ডা মেরেপিটে বাঁচান সবাইকে।ভাবছেন এসব বাস্তবে হয় নাকি।হ্যা হয়,একজন কানাডিয়ান গুপ্তচর একাই ৪০ জনের একটা জার্মান দলকে হারিয়ে ছোটো এক মফঃসল শহর জার্মান মুক্ত করেন।
সংক্ষেপে দেখুনচাঁদের রঙ কি?
প্রথমে আমি ভেবেছিলাম প্রশ্নটি তুচ্ছ, কিন্তু পরে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এটি বেশ গভীর প্রশ্ন। আমাদের বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন চাঁদকে প্রভাবিত করে না, তবে আমরা কীভাবে চাঁদ দেখি সেটাকে প্রভাবিত করে। চাঁদের রঙ কি? এটি রাতের উপর নির্ভর করে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে, প্রতিফলিত সূর্যালোক দ্বারা আলোকিত অন্ধকবিস্তারিত পড়ুন