সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
গ্রীক মিথলজির সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ কে ছিলেন?
অ্যাডোনিস: গ্রীক মিথলজির সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ অ্যাডোনিস গ্রীক মিথলজির সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ, তিনি এতোটাই সুন্দর ছিলেন যে প্রেমের দেবী আফ্রোদিতিও সেই সৌন্দর্যে ডুবে ছিলেন। তবে তাদের এই প্রেম দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বন্য জন্তুর আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন অ্যাডোনিস। অ্যাডোনিসের এমন আকষ্মিক মৃত্যুতে দীর্ঘদিন বিবিস্তারিত পড়ুন
অ্যাডোনিস: গ্রীক মিথলজির সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ
অ্যাডোনিস গ্রীক মিথলজির সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ, তিনি এতোটাই সুন্দর ছিলেন যে প্রেমের দেবী আফ্রোদিতিও সেই সৌন্দর্যে ডুবে ছিলেন। তবে তাদের এই প্রেম দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বন্য জন্তুর আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন অ্যাডোনিস। অ্যাডোনিসের এমন আকষ্মিক মৃত্যুতে দীর্ঘদিন বিষাদে ডুবে ছিলেন স্বয়ং প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি।
অ্যাডোনিসের জন্ম ও মৃত্যু খুবই আশ্চর্যজনক ও বিষ্ময়কর। এজন্য আমাদের যেতে হবে গ্রীক উপকথায়। যে উপকথার জগতে রয়েছে অজাচার,অলৌকিকতা, প্রেম, কিংবা করুন মৃত্যুর এক আশ্চর্য সমাহার।
অ্যাডোনিসের জন্ম হয়েছিলে অজাচারের মাধ্যমে
গ্রীক মিথলজিতে অজাচার খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তেমনই স্মার্না নামে একটি তরুণী বাবার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। স্মার্নার বাবার নাম সিনাইরাস, কারও কারও মতে তার নাম থিয়াস। সে কালের পুরুষেরা ছিল বহু নারীর দ্বারা তুষ্ট। বোধহয় এই আধুনিক যুগেও পুরুষরা তার ব্যাতিক্রম মানুষিকতা খুবই কম পোষণ করেন। যাই হোক থিয়াসের এক ঘনিষ্ট সেবিকা ছিল। সেই সেবিকার নাম ছিল হিপ্পোলিটা। হিপ্পোলিটার মনে বিপর্যস্ত স্মার্নাকে দেখে দয়ার উদ্রেক হয়। হিপ্পোলিটা বুদ্ধি খাটিয়ে স্মার্নার সুপ্ত বাসনা পূর্ণ করবার একটা উপায় বের করেন।
অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত্রিবেলায় স্মার্না কে থিয়াস এর ঘরে নিয়ে যায় হিপ্পোলিটা… এবং ছল করে কন্যাকে বাবার শয্যায় উঠিয়ে দেয়। অন্ধকার ঘরে মদ পান করছিল থিয়াস। হিপ্পোলিটা থিয়াস-এর কাছে যায় এবং ফিসফিসে আদুরে কন্ঠে বলে: প্রভু, আপনার শয্যায় একজন অপেক্ষা করছেন। থিয়াস কৌতুহলী হয়ে উঠে। হিপ্পোলিটা মৃদু হেসে বলে সে আপনাকে ভালোবাসে।
নতুন নারীদেহের লোভে থিয়াস পানপাত্র রেখে শয্যার দিকে যেতে থাকে। অতপর নিজ আপন কন্যার সঙ্গে মিলিত হয়। পরপর কয়েক রাত মদ্যপ বাবার সাথে মেয়ের নিষিদ্ধ যৌনসুখ চলতে থাকে। এই ঘটনা চাপা থাকেনি। থিয়াস যখন জানতে পারে সে তার কন্যার সুপ্ত মনোবাসনার শিকার হয়েছে, তখন সে ক্রোধে উম্মাদ হয়ে ওঠে এবং দ্রুত তরবারী টেনে নেয়। তারপর মেয়েকে ধাওয়া করে। আর সেই দৃশ্য দেখে মৃদুহাসি হাসছিল হিপ্পোলিটা স্মার্না প্রাণ ভয়ে ছুটছে। ছুটন্ত স্মার্না প্রার্থনায় রত হয়। যেন সে হতে পারে অদৃশ্য, যেন বাবা তাকে না দেখতে পারে। হয়ত স্বর্গের দেবদেবীগন মেয়েটিকে ভালোবাস। দেবতাগন দয়ার বশবর্তী হয়ে ছুটন্ত মেয়েটিকে একটি স্মার্না বৃক্ষে রূপান্তরিত করে দেন।
গ্পরীক উপকথার কাহিনী অনুসারে ধারণা করা হয় এই ঘটনাটি বর্তমানকালের সিরিয়া-লেবাননের কোথাও ঘটেছিল। যাই হোক দশ মাস পর বৃক্ষটি বিস্ফোরিত হয় ও একটি সুন্দর শিশুপুত্র বেরিয়ে আসে। আর এই হল অ্যাডোনিস-এর জন্মকথা।
অ্যাডোনিস এর জন্ম হয়েছিলো যে বৃক্ষ হতে তার পাশেই সদ্য জন্মানো শিশু অ্যাডোনিস কে ঘিরে গ্রীক দেবতারা
মানচিত্রে লেবানন। এখানেই ছিল প্রাচীন ফিনিসিয় সভ্যতা। বিবলস নগর। অ্যাডোনিস নামে একটি নদী, যে নদীর উৎপত্তি স্থলে এককালে সুগন্ধী স্মার্না বৃক্ষ বিস্ফোরিত হয়ে অ্যাডোনিস এর জন্ম হয়েছিল।
এই ঘটনার পর গ্রীক দেবতাদের মধ্যে হুলুস্থুল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
একটি সুগন্ধী স্মার্না বৃক্ষের কাছে সদ্য প্রসূত একটি শিশুকে কে দেখতে পান দেবী। থমকে যান দেবী। শিশুটি দেখতে অসম্ভব ফুটফুটে ছিল। দেবীর বুক কাঁপে। একে যেন দেবতারা কোনওমতেই দেখতে না পায়। এই ভেবে আফ্রোদিতি শিশুটিকে একটি আলমারীর ভিতরে লুকিয়ে রাখে। তবে অ্যাডোনিস নামটি দেবী আফ্রোদিতি রেখেছেন কিনা সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
এরকম চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা চেপে রাখতে ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিল দেবীর। কথাটা শেষমেশ দেবী ফাঁস করে দেয় পাতালের রানী পার্সিফোনে-র কাছে। পার্সিফোনে যখন অ্যাডোনিস কে দেখল তখন আফ্রোদিতি থেকে অ্যাডোনিস থেকে কেড়ে নিল! আর ফেরৎ দিল না।
বিচারের আশায় বিবাদমান দু’পক্ষ জিউসএর দরবারে গেল। বিজ্ঞ জিউস এই বিচারের ভার দেন আর্ফিউসের উপর। আর্ফিউস বৎসরকে ভাগ করলেন তিন ভাগে। এক ভাগ অ্যাডোনিস-এর নিজের। অপর ভাগে দেবী আফ্রোদিতি আর অ্যাডোনিস একত্রে থাকবে ; এবং শেষ ভাগে পাতালের রানী পার্সিফোনে আর অ্যাডোনিস একত্রে থাকবে। এই রায়ের ফলে আফ্রোদিতি ক্রোধে উন্মক্ত হয়ে যায়। অর্ফিউস সে সময় ছিল থ্রাসে । থ্রাসের নারীদের ওপর আফ্রোদিতির ছিল দারুণ প্রভাব। অর্ফিউস এর বিরুদ্ধে থ্রাসের নারীদের লেলিয়ে দেয়। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন করে ফেলে।
যাই হোক বিচারে বৎসরে যে তিনটি ভাগ হয়েছিল। তারমধ্যে নিজের ভাগটি অবশ্য অ্যাডোনিস ভালোবেসে দিল দেবী আফ্রোদিতি কে। এই কারণেই অ্যাডোনিস কে দেবলোকের একজন মনে করা হয়। একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন এই সময়টায় অ্যাডোনিস আর শিশুটি নেই, তিনি হয়ে উঠেছে সুন্দর তরুণ।

প্রেমিক প্রেমিকার মতোই অ্যাডোনিস ও আফ্রোদিতি বহুবছর একত্রে কাটিয়েছিল। বনপাহাড়ে শিকার করে করে আর একে অন্যকে নানারকম গল্প বলে বলে।
অ্যাডোনিস ও দেবী আফ্রোদিতি
এর পরের ঘটনা ভীষণ রকম বাঁক নিল। মনে রাখতে হবে রায়ের ফলে আফ্রোদিতি ক্রোধে উন্মক্ত হয়ে যায়। অর্ফিউস সে সময় ছিল থ্রাসে । থ্রাসের নারীদের ওপর আফ্রোদিতির ছিল দারুণ প্রভাব। অর্ফিউস এর বিরুদ্ধে থ্রাসের নারীদের লেলিয়ে দেয়। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। …গ্রিক উপকথায় দেখতে পাই একের পর এক প্রতিশোধের পালা।
এবার আফ্রোদিতির দুঃখ পাবার সময় হল!
কী কারণে আফ্রোদিতি হিংস্র বন্য জন্তু শিকার করতে নিষেধ করেছিল অ্যাডোনিস কে। কেবল নিরাপদ জন্তু শিকার করতে বলেছিল। যেমন, খরগোশ, হরিণ ইত্যাদি। হায়। বনাঞ্চলে একদিন একটি বন্য শূকর দেখামাত্র অ্যাডোনিস প্রলুব্দ হয়। অ্যাডোনিস ধারালো বর্শা ফলক ছুড়ে শূকরটিকে আহত করে। শূকরটিও বিদ্যুৎ গতিতে প্রতিআক্রমন করে। ফলে অ্যাডোনিস ক্ষতবিক্ষত হয়। সে আর্ত চিৎকার করে। তার গোঙ্গানি শুনে ছুটে আসে আফ্রোদিতি । রক্তাক্ত প্রেমিককে দেখে বিলাপ করল।

অ্যাডোনিসের মৃত্যু
আফ্রোদিতির বাহুতে মাথা রেখে মৃত্যুবরণ করে অ্যাডোনিস ।
মৃত্যুর পর অ্যাডোনিস-এর রক্ত নির্যাস ও অ্যানিমোন ফুলের সঙ্গে মিশিয়ে ছিটিয়ে দেয় শোর্কাত দেবী…আফ্রোদিতি ও অ্যাডোনিস এর মিলনে এক কন্যার জন্ম হয়েছিল। সে কন্যার নাম বিরৌ।লেবাননের বৈরুত নগরের নাম সেই কন্যার নামেই নাকি রাখা হয়েছিল। এবং দেবতা ডায়ানিসাস ও পোসাইদোন সে মেয়ের প্রেমে পড়েছিল।ফিনিসিয় নগর বিবলসের নিকট অ্যাডোনিস নামে একটি নদী আছে।
প্রতি বসন্তে সে নদীর জল লাল হয়ে ওঠে। ওই অঞ্চলের লোকের বিশ্বাস অ্যাডোনিস নদীর উৎপত্তি স্থলেই নাকি এককালে সুগন্ধী স্মার্না বৃক্ষ বিস্ফোরিত হয়ে অ্যাডোনিস এর জন্ম হয়েছিল।
নিকোলা টেসলারের আলোর মুখ দেখতে না পাওয়া আবিষ্কার কোনগুলো?
নিকোলা টেসলার আবিষ্কার: আলোর মুখ দেখতে না পাওয়া আবিষ্কার গত শতাব্দীতে মানুষ যখন বিদ্যুৎ কে রহস্য মনে করে ভয় পেতো, তিনি তখন বিদ্যুৎ কে নিয়ন্ত্রণ করেছেন হাতের তালুতে রেখে। পৃথিবীতে তিনিই প্রথম শুরু করেছিলেন সহজলভ্য বিদ্যুৎশক্তির যুগ, যাঁর উদ্ভাবিত এসি জেনারেটর ও মোটরের শক্তি দিয়ে শুরু হয় ব্যাপক শিল্পবিস্তারিত পড়ুন
নিকোলা টেসলার আবিষ্কার: আলোর মুখ দেখতে না পাওয়া আবিষ্কার
গত শতাব্দীতে মানুষ যখন বিদ্যুৎ কে রহস্য মনে করে ভয় পেতো, তিনি তখন বিদ্যুৎ কে নিয়ন্ত্রণ করেছেন হাতের তালুতে রেখে।
পৃথিবীতে তিনিই প্রথম শুরু করেছিলেন সহজলভ্য বিদ্যুৎশক্তির যুগ, যাঁর উদ্ভাবিত এসি জেনারেটর ও মোটরের শক্তি দিয়ে শুরু হয় ব্যাপক শিল্পোৎপাদন। তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়েছে রোবট ও অটোমেশনের যুগ, যা মানুষের কায়িক শ্রম হ্রাস করে যন্ত্রকে মানুষের দাসে পরিণত করেছে।
আজ কথা বলবো বিদ্যুৎ মানবের এমন কিছু প্রকল্প নিয়ে যা তিনি অর্থের অভাব ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারনে বাস্তবায়ন করতে পারেন নি।
ভূমিকম্প যন্ত্র
১৮৯৩ সালে টেসলা একটি বাষ্প-চালিত যান্ত্রিক অসিলেটর পেটেন্ট করেছিলেন, যা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে উচ্চ গতিতে উপরে এবং নীচে কম্পন সৃষ্টি করবে।
তার আবিষ্কারের পেটেন্ট করার কয়েক বছর পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে একদিন তার নিউ ইয়র্ক সিটির গবেষণাগারে থাকা বিল্ডিংয়ের কম্পনের সাথে তার যান্ত্রিক অসিলেটরটি মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করার সময় তিনি ভূমি কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
পরীক্ষার সময় তিনি দেখতে পান তার আশেপাশের জিনিসপত্র নড়তে শুরু করে দিয়েছে। আশেপাশের বিল্ডিং গুলোতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সাথে সাথেই সেখানে পুলিশ, এম্বুলেন্স ও মানুষের হট্টগোল লেগে যায়। টেসলা তার সহকারীদের চুপ থাকতে বলেছিল এবং পুলিশকে বলেছিল যে এটি অবশ্যই একটি ভূমিকম্প ছিল।
টেসলা পরবর্তীতে এই যন্ত্রটি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেন। বড় পরিসরে এই যন্ত্র ব্যবহার করে পুরো পৃথিবীতেই ভূমিকম্প সৃষ্টি করা সম্ভব হতো। কিন্তু এই আবিষ্কারে কেবল ধ্বংসই হতো। মানব জাতির ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি নিজের আবিষ্কার নিজেই ধ্বংস করেছেন।
চিন্তা রেকডিং করা ক্যামেরা
১৮৯৩ সালে নিজের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষানিরীক্ষা করার সময় ‘থট ক্যামেরা’-র তৈরির কথা ভেবেছিলেন টেসলা। যদিও তার দীর্ঘকাল পরে এ নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে টেসলা বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত যে আমাদের চিন্তা-ভাবনার ছবি চোখের মণিতে ফুটে ওঠে।’’ তর্কের খাতিরে টেসলার কথায় বিশ্বাস করা গেল। তবে সে ছবি কী ভাবে ক্যামেরাবন্দি করা যাবে? সে উত্তরও দিয়েছেন টেসলা। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দ্বারাই আমাদের চিন্তা-ভাবনার ছবি মণিতে দেখা যায়। যথাযথ যন্ত্রের সাহায্য সেই ছবি দেখা সম্ভব।
কী সেই যন্ত্র? এখানেই ‘থট ক্যামেরা’র প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন টেসলা। তিনি জানিয়েছেন, চোখের মণিতে ভেসে ওঠা মনের ভাবনার প্রতিচ্ছবি একটি কৃত্রিম অক্ষিপটে (রেটিনায়) ফেলে তার ছবি তোলা যায়। এবং সেই ছবি কোনও পর্দায় ভাসিয়ে দিলে ওই মানুষটির মনের কথা জেনে ফেলা সম্ভব।‘থট ক্যামেরা’ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে টেসলা বলেছেন, ‘‘যদি মনের ছবি এ ভাবে পর্দায় ভাসিয়ে তোলা যায়, তবে ওই মানুষটি কী চিন্তা-ভাবনা করছেন তা সহজেই জেনে ফেলা যাবে।’’
অনেকের দাবি, ১৮৯৩ সালে নয়, গত শতকের তিরিশের দশকে ‘থট ক্যামেরা’-র কথা ভেবেছিলেন টেসলা। ওই ক্যামেরার সাহায্যে মানবমনের চিন্তা-ভাবনার ছবিও স্লাইডশোয়ের মতো দেখা যাবে। সাল-তারিখ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে টেসলার এই উদ্ভাবনী চিন্তা যে অভূতপূর্ব, তা নিয়ে দ্বিমত ছিল না। টেসলার কথায়, ‘‘এ ধরনের ক্যামেরার সাহায্যে প্রতিটি মানুষের মনের কথা পড়ে ফেলা যাবে। এবং তা করা গেলে আমাদের মন আক্ষরিক অর্থেই খোলা বইয়ের আকার নেবে। যা সকলেই পড়তে পারবেন।’’ যদিও টেসলার এই ভাবনা সাফল্য পায়নি।
তারবিহীন বিদ্যুৎ
১৯০১ সালে টেসলা টেসলা লং আইল্যান্ডের উত্তর তীরে একটি ১৮৫ ফুট লম্বা, মাশরুম আকৃতির টাওয়ার নির্মাণের জন্য আমেরিকান অর্থলগ্নিকারী জেপি মরগানের থেকে ১,৫০,০০০ মার্কিন ডলার নেন। তার লক্ষ ছিলো বাতাসের মাধ্যমে পুরো শহরে বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া। কিন্তু এই টাওয়ারের অর্ধেক কাজ চলার সময় মর্গান অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেন। কারণ ছিলো সেসময় যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরবরাহ করতো তারা প্রচুর দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে জনগণের কাছ থেকে বিশাল মুনাফা আয় করতো।

টেসলার সেই টাওয়ার যা ১৯১৭ সালে ভেঙে দেওয়া হয়
টেসলার এই প্রজেক্ট সফল হলে তাদের ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যেতো। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তারা টেসলার অর্থের যোগান বন্ধ করে দেন, যেনো সে সফল হতে না পারে।
১৯০৬ সালে টেসলা এই প্রজেক্টে হাত দিয়েছিলেন আর বেশকিছুদিন পরই তা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯১৭ সালে টেসলার তারবিহীন বিদ্যুৎ এর ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার ভেঙে দেওয়া হয়।
কৃত্রিম জোয়ার ঢেউ
নিকোলা টেসলা বিশ্বাস করতেন যে যুদ্ধ প্রতিরোধে বিজ্ঞানের শক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৯০৭ সালে নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড টেসলার আরেকটি সামরিক উদ্ভাবনের বিষয়ে তথ্য দেয়, সেখানে বলা হয় ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফি সমুদ্রে উচ্চ বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে যাতে এত বিশাল জোয়ারের তরঙ্গ তৈরি হয় যে তা শত্রুর সমস্ত নৌবহরকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

সংবাদপত্রটি আরো জানিয়েছে যে কৃত্রিম জলোচ্ছ্বাস নৌবাহিনীকে কাগজের নৌকার মতো অকেজো করে তুলতে পারার সক্ষমতা থাকবে। অনেকটা শিশুদের বাথটব বা পুকুরে কাগজের নৌকোর মতো।
দুর্ভাগ্যক্রমে সে সময় মার্কিন নৌবাহিনীর গবেষণা প্রধান ছিলেন টমাস আলভা এডিসন। তিনি ‘এটি কোনো কাজে লাগবে না’ বলে নাকচ করে দেন। ১৯৩০-এর দশকে এমিলি গিয়ারডিউ একই নীতিতে রাডার (জঅউঅজ) উদ্ভাবন করেন।
বৈদ্যুতিক চালিত সুপারসনিক এয়ারশিপ
নিকোলা টেসলা চিন্তা-ভাবনায় তার সময়ের থেকে কয়েক দশক এগিয়ে ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বর্তমান সময়ে আমাদের প্রজন্ম তাদের ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোনগুলো ওয়্যারলেস টেকনোলজিতে চার্জ দিতে পেরে ভাবছে এটি একটি প্রযুক্তির যুগান্তকারী ব্যবহার; কিন্তু, সেই ১৯১৯ সালে টেসলায় মাথায় খেলা করেছিল কিভাবে এমন একটি সুপারসনিক বিমান বানানো যেগুলোকে বিনা তারের বৈদ্যুতিক চার্জ দেয়া যেতে পারে।
মোবাইলের টাওয়ারের মাধ্যমে রেডিও সিগন্যাল ব্রডকাস্টের ধাঁচে বিদ্যুৎকেও ওয়্যারলেসের মাধ্যমে ঐ বিমানগুলোকে চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা – এটাই ছিল নিকোলা টেসলার পরিকল্পনা।
বিমানগুলো ভূপৃষ্ট হতে ৪০,০০০ হাজার ফুট উপরে ঘণ্টায় ১,০০০ মাইল বেগে চলার উপযোগী করে তৈরী করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল – এই গতিতে ছুটে নিউইয়র্ক থেকে রওয়ানা দিয়ে লন্ডন পৌঁছাতে সময় লাগত ৪ ঘণ্টারও কম।
দ্য ডেথ রে (মৃত্যুর রশ্মি)
টেসলার সৃজনশীল মন তার জীবনের শেষের দিকে নতুন এক ভাবনা জাগিয়েছিল। তিনি তার ৭৮ তম জন্মদিনে, ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে তিনি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি নিয়ে এসেছেন। যা “লক্ষ লক্ষ সৈন্যদলকে তাদের ট্র্যাকে মারা যেতে পারে।

আবিষ্কারটি? একটি সামরিক অস্ত্র যা একটি ভ্যাকুয়াম চেম্বারের অভ্যন্তরে শব্দের 48 গুণ গতিতে পারদ কণাকে ত্বরান্বিত করবে এবং একটি উচ্চ-বেগের রশ্মিকে “মুক্ত বাতাসের মধ্য দিয়ে গুলি করবে, এমন প্রচণ্ড শক্তিতে যে এটি মুহূর্তে ১০,০০০ শত্রু বিমানের বহরকে নিমেষে শেষ করে দেবে।
প্রেস মিডিয়া তাদের সংবাদপত্রে এটিকে “মৃত্যুর রশ্মি” বলে অভিহিত করেছেিল। কিন্তু টেসলা এই রশ্মির নাম দিয়েছিলেন “শান্তির রশ্মি” বা Peace Ray।
পৃথিবী যদি গোল না হয়ে সমতল হত, তবে এই রশ্মি সক্ষমতা ছিল পৃথিবীর পরিধি ভেদ করে যেতে পারত সুদূরে; আর এর সামনে যা পড়ত, সবই ধূলিসাৎ হয়ে যেত।
তার এই নতুন আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য তিনি অনেকের দারস্ত হয়েছিলেন; এমনকি তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কোন এক গবেষণাগারে ১৯৩৯ সালে এটির পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। কিন্তু, বিধি বাম! তার এই আইডিয়াকে তিনি সফলতার মুখ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
আধুনিক তড়িৎ বিজ্ঞানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামটি তার- নিকোলা টেসলা। সমগ্র জীবনব্যাপী সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে থাকা এক মহৎ হৃদয়ের মহাপুরুষ টেসলা। তাকে ধরা হয় পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবকদের একজন। পৃথিবীর কথিত শক্তি সংকট (Power Crisis) ধারণার অবসান ঘটিয়ে মানুষের জীবন আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে একজন টেসলাই যথেষ্ট ছিলেন; যদিও চিরন্তন পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা তা হতে দেয় নি।
নিকোলা টেসলা, বিদ্যুতের বিস্ময়
১৮৫৬ সালের ১০ জুলাই, এক ভয়াল ঝড়বৃষ্টি আর বজ্রপাতের রাতে টেসলার জন্ম। পরিবেশের ভয়াবহতা দেখে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধাত্রী বলেছিলো, “এ বাচ্চা হবে অন্ধকারের সন্তান” কিন্তু সদ্যোজাত টেসলার ফুটফুটে মুখটার দিকে তাকিয়ে তার মা বলেছিলেন, “না, এ হবে আলোর সন্তান।” প্রকৃতই এই সন্তান পরিণতকালে গোটা বিশ্বে আলো ছড়িয়ে দিয়েছিলো।
টেসলার জন্ম বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার মিলজান নামক স্থানে। তার পিতা মিলুটিন টেসলা ছিলেন সার্বিয়ান প্রথাগত চার্চের যাজক ও লেখক। বাবার ইচ্ছে ছিলো ছেলেকেও যাজক হিসেবে তৈরী করা, কিন্তু টেসলার বরাবরই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ছিলো। টেসলার মা জুকা ম্যান্ডিক ছিলেন গৃহিনী। গৃহস্থালির কাজের সুবিধার্থে তার মায়ের ছোটখাটো উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রয়োগ পরবর্তীকালের একজন সফল উদ্ভাবক টেসলার উপরে যথেষ্ট প্রভাব রেখেছিলো।
অস্ট্রিয়াতে গ্র্যাজ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় টেসলা তড়িৎচৌম্বকক্ষেত্র ও এসি কারেন্ট চালিত মোটর নিয়ে ভাবতে থাকেন। জীবনের পরবর্তী ছয়টি বছর তিনি এই ভাবনাতে নিমগ্ন থাকেন। ১৮৭০ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ প্রাগে পড়াশুনা শুরু করেন। এখানে প্রতিদিন টানা দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণার কাজ করতে গিয়ে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, পড়াশোনারও ব্যাঘাত হতে থাকে। এক সময় টেসলা জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বছরে পড়াশুনার খরচ সব জুয়ায় হারিয়ে আর প্রস্তুতির অভাবে পরীক্ষা দিতে না পেরে টেসলা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পড়াশুনা শেষ না করেই ১৮৮১ সালে বুদাপেস্ট চলে যান। সেখানে সেন্ট্রাল টেলিগ্রাফ অফিসে কর্মরত অবস্থায় তার মাথায় প্রথম আবেশী মোটর (Induction Motor) এর ধারণা আসে। এখানেই তিনি ঘূর্ণায়মান তড়িৎক্ষেত্রের মূলনীতির একটি স্কেচ তৈরী করেন, যা আজও বহু বৈদ্যূতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার এই সাফল্য তাকে দিকপরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ বা এসি কারেন্টসহ ভবিষ্যতের আরও অনেক উদ্ভাবনের ভিত্তি গড়ে দেয়।
২৩ বছর বয়সী টেসলা, ১৮৭৯
১৮৮৪ সালের জুনে, টেসলা টমাস আলভা এডিসনের সাথে কাজ করার জন্যে নিউ ইয়র্ক পাড়ি জমান। তার পকেটে ছিলো শুধু ৪ সেন্ট আর একটা সুপারিশপত্র। সুপারিশপত্রটি লিখেছিলেন এডিসনের প্রাক্তন নিয়োগকর্তা চার্লস ব্যাচেলর। এতে লিখা ছিলো, “প্রিয় এডিসন, আমি দুজন মহান ব্যাক্তিকে চিনি। একজন আপনি, আরেকজন এই তরুণ।”
এডিসন ছিলেন একই সাথে একজন সফল উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী। অপরদিকে টেসলা উদ্ভাবনে যতটা ভালো ছিলেন, ঠিক ততোটাই দুর্বল ছিলেন ব্যবসায়। ডিসি কারেন্টের ব্যবসা করে এডিসন তখন রীতিমত একজন সফল পুঁজিপতি। সঙ্গত কারণেই এডিসনের সাথে টেসলার পদ্ধতিগত ও নীতিগত বিরোধ লেগেই থাকতো। টেসলার এসি কারেন্ট প্রকৌশল নিয়ে এডিসনের সন্দেহ থাকলেও তিনি তাকে ৫০,০০০ ডলার দেবার শর্তে এই প্রকল্প শেষ করার একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। কয়েক মাসের মধ্যেই কাজ সেরে ফেলার পরে প্রাপ্য অর্থ দাবী করলে এডিসন বলেন, “ওটা তো কৌতুক ছিলো। তুমি আমেরিকান কৌতুক বোঝো না। যখন পুরোদস্তুর আমেরিকান হয়ে উঠবে, তখন ঠিক বুঝবে।” টেসলা তৎক্ষণাৎ এডিসনের চাকরী ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। অবশ্য পারষ্পারিক বিভেদের দেয়াল ছাড়িয়ে এই দুই মহান উদ্ভাবক একে অপরের যথেষ্ট গুণগ্রাহী ছিলেন, একজন আরেকজনের কাজের প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
‘টাইম’ ম্যাগাজিনের কভারে এডিসন ও টেসলা
এডিসনের কোম্পানি থেকে বেরিয়ে আসার পর অবশ্য তার মূল্যবান প্রকল্পে অর্থলগ্নী করার লোকের অভাব পড়ে নি। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন কোম্পানী, এডিসনের অফিসের অনতিদূরেই টেসলার জন্যে একটি ল্যাব এর ব্যবস্থা করে দেয়। সেখানে টেসলা তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনা পরিচালনা করেন। এখানে তিনি এক্স-রে প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক অনুনাদ, তারবিহীন তথ্য সরবরাহ পদ্ধতিসহ আরও অনেক উদ্ভাবনা নিয়ে কাজ করেন। এখানেই টেসলা এসি মোটর আর এসি পাওয়ার সিস্টেমের উন্নতি ঘটিয়ে নিজের নামে পেটেন্ট করে দেন। এই পেটেন্ট এর ফলে তিনি ৬০,০০০ ডলার ও আরও কিছু আনুষঙ্গিক সুবিধা লাভ করেন। এডিসন ও তার মাঝে চলা “কারেন্টের যুদ্ধ” তিনি অনতিবিলম্বে জিতে যান। ডিসি কারেন্ট এর চেয়ে এসি কারেন্ট অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এসি কারেন্ট ছিলো অপেক্ষাকৃত সহজলভ্য আর সস্তা। প্রায় বিনামূল্যে এক বিশাল এলাকাজুড়ে জনসাধারণের জন্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রকল্পও তৈরি করেছিলেন তিনি, যদিও তা আর হয়ে ওঠে নি। ১৯০১ সালে এই নিমিত্তে তিনি ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার নির্মান করেন, যা পরে অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার
আধুনিক উদ্ভাবনগুলোর কোনটিতে হাত নেই তার! ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব থেকে শুরু করে এক্স-রে, লেজার, ইলেকট্রিক মোটর, রিমোট কন্ট্রোল, ওয়্যারলেস বা তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা, রোবটিক্স, এমনকি আধুনিক স্মার্টফোনের প্রাথমিক ধারণাও তার দেয়া। সমগ্র পৃথিবী ভালোভাবে তারযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা লাভ করার আগেই তিনি তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার চিন্তা শুরু করে ফেলেছিলেন। নিজের সময়ের থেকে অনেক বেশি অগ্রসর ছিলেন টেসলা। এখনও তার বিভিন্ন মূলনীতি আর সূত্র অনুসরণ করে নিত্য নতুন উদ্ভাবনা চলছে। মার্কনীর অন্তত ৬ বছর আগে টেসলা বেতার সম্প্রচারে সফল হন। তার বেশিরভাগ উদ্ভাবনী ধারণাই অন্যেরা নিজের নামে চালিয়ে পেটেন্ট করে নিয়েছে। তাদের সম্পর্কে টেসলা বলেন, “তারা আমার ধারণা চুরি করুক, এতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি শুধু বলি, তাদের নিজেদের কোনো ধারণা আসে না কেন?”
টেসলার ছিলো এক অনন্য সাধারণ ক্ষমতা। যেকোনো ডিজাইন তৈরী হবার আগে তিনি সেটির ত্রিমাত্রিক একটি প্রতিরুপ মানসচক্ষে দেখতে পেতেন। বুদাপেস্টে থাকাকালীন একদিন পার্কে বন্ধুর সাথে হাঁটছিলেন আর কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। অকস্মাৎ তার মনে একটি ছবি ভেসে উঠলো। সেখানেই কাঠি দিয়ে ধূলোর উপরে এঁকেছিলেন তার অনেক সাধনার ধন, সেই বিখ্যাত এসি মোটরের চিত্র। পরবর্তীতে এসি মোটর উদ্ভাবনের পর তিনি বলেছিলেন, তিনি আসলে নতুন কিছু করেন নি, তার সেই মানসপটের প্রতিলিপিকেই বাস্তব রুপ দান করেছেন মাত্র!
টেসলার হাতে ছিলো এই মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্যের চাবি। তিনি জানতেন এর গোপনীয়তার গোপনতর সূত্র। আর সে রহস্য উন্মোচনের মূলমন্ত্রও তিনি বলে গেছেন। তিনি বলেন, “যদি তুমি ৩, ৬, ৯ এই তিনটি সংখ্যার মাহাত্ম্য বোঝ, তো তোমার হাতে মহাবিশ্বের চাবি থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি মহাবিশ্বের রহস্য জানতে চাও, তাহলে শক্তি, কম্পন আর কম্পাঙ্কের ব্যাপারে চিন্তা করো।”
নিউ ইয়র্কে নিকোলা টেসলা কর্ণার
আজীবন অবিবাহিত টেসলা কখনো কোনো নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে জানা যায় নি। নারীদের তিনি সবদিক দিয়ে পুরুষের চেয়ে উচ্চতর মনে করতেন। নিজেকে কখনো কোনো নারীর যোগ্য মনে করেন নি তিনি। আর তাছাড়া তার মতো কাজপাগল মানুষের জন্যে একটি একাকী জীবন জরুরীও ছিলো। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যবিহীন টেসলা সারা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন শুধু মানুষের কল্যাণের জন্য। তাই উদ্ভাবনে তৎকালীন সবার সেরা হলেও আর্থিক দিক দিয়ে তিনি স্বচ্ছল ছিলেন না। ১৯৪৩ সালের ৭ জানুয়ারি, ঋণবদ্ধ ও একাকী অবস্থায়, নিউ ইয়র্কার হোটেলের ৩৩২৭ নাম্বার কক্ষে টেসলা মৃত্যুবরণ করেন।
বেলগ্রেডে রক্ষিত টেসলার দেহভস্ম
টেসলা ছিলেন মানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ এক মহতী আত্মা। তার একমাত্র প্রচেষ্টা ছিলো প্রকৃতির নিগুঢ়তম রহস্য আবিষ্কার করে মানুষের জীবনকে সহজতর করা। কোনো ব্যবসায়িক লক্ষ্য নিয়ে তিনি কখনো চালিত হন নি। বিদ্যুতকে অপেক্ষাকৃত সহজ ব্যবহার্য বস্তুতে পরিণত করে তিনি এক জাদুকরী পরিবর্তনের সূচনা করেন। বিস্ময়কর কল্পনাশক্তি আর অমূল্য মেধার দ্বারা যুগ যুগ ধরে কল্পনাপ্রবণ ও আত্মত্যাগী মানুষদের অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন নিকোলা টেসলা।
ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়া ৬ টি ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড কোনগুলো?
ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়া ৬ টি ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড মানুষ সময়ের সাথে সাথে সভ্য হয়েছে। কিন্তু অতীতে এমন সব প্রথা বা পদ্ধতি প্রচলন ছিলো যা তখনকার সময়ে ছিলো স্বাভাবিক কিন্তু বর্তমান সময়ে তা আমাদের কাছে এখন তা মনে হবে নৃশংস ও নিষ্ঠুর। সময়ের সাথে সাথে অতীতের সেই ঘটনা গুলোও প্রায় ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে চলেছে।বিস্তারিত পড়ুন
ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়া ৬ টি ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড
মানুষ সময়ের সাথে সাথে সভ্য হয়েছে। কিন্তু অতীতে এমন সব প্রথা বা পদ্ধতি প্রচলন ছিলো যা তখনকার সময়ে ছিলো স্বাভাবিক কিন্তু বর্তমান সময়ে তা আমাদের কাছে এখন তা মনে হবে নৃশংস ও নিষ্ঠুর। সময়ের সাথে সাথে অতীতের সেই ঘটনা গুলোও প্রায় ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে চলেছে।
আজ ইতিহাস থেকে তেমনই ৬ টি প্রায় হারিয়ে যেতে চলেছে এমন নেতিবাচক বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানাচ্ছি।
হারিয়ে যাওয়া ধর্ম
Manichaeism একটি বিলুপ্ত ধর্ম। যা এখন সাধারণ মানুষের কাছে একটি প্রাচীন ইতিহাস মাত্র। এই ধর্ম সে সময়ে মানুষ কে কতোটা প্রভাবিত করেছিলো তা সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই জানে না।
ব্যাবিলন (বর্তমান ইরাক) এর একজন নবী, ‘মানি’, তিনি এক অদ্ভুত ভাবধারায় বিশ্বাস নিয়ে তার ধর্ম প্রচার করতে শুরু করেন।
ধর্ম এক দেবতা বা শয়তানের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। তার পরিবর্তে তিনি জগতের ভালে ও মন্দ বিষয়গুলো কিভাবে কাজ করে তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
সেসময় এই ধর্ম প্রচারের জন্য রাজার আদেশে মণি কে বন্দী করা হয়। ২৬ দিন বন্দী থাকার পর তাকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়। কিন্তু তার মৃত্যুর পরেও শত বছর ধরে মানুষ তার শিক্ষা গ্রহণ করে চলছিল। মণির মতে, জগৎ হচ্ছে ভালো এবং মন্দের মধ্যে পছন্দের বিষয়ে, এবং এটিই ঐশ্বরিক। এই ধর্ম দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং অনেক লোক তা অনুসরণ করতে শুরু করে।
পারস্য থেকে শুরু করে মিশর, রোম, ফ্রান্স হয়ে সমস্ত পথ মানুষ ধর্মের বিশ্বাস অনুসরণ করতে থাকে। এটি সমস্ত খ্রিস্টানদের জন্য একটি প্রতিদ্বন্দ্বী কারণ হয়ে ওঠে কারণ তাদের একেশ্বরবাদের বিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছিল, এবং লোকেরা নতুন ধর্মের প্রতি বিশ্বাস নিয়ে ধর্মান্তরিত হতে শুরু করেছিল।
এই ধর্মের প্রচার শতাব্দী থেকে শতাব্দী পর্যন্ত চলছিল। সেসময় রেমান সম্রাট থেওডোসিয়াস প্রথম ঘোষণা করেন, যে বা যারা এই ধর্ম পালন করবে তাকে হত্যা করা হবে। এই আদেশ জারি করার ফলে এই ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা কমতে থাকে। সম্রাট থিওডোসিয়াস সেসময় এই ধর্ম পালনে জড়িত লোকদের সমস্ত নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন। অনেকের ধারণা মতে এই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে চীনে তাদের সংখ্যা ছিলো সবচেয়ে বেশি।
মানব চর্বি বিক্রি
শুনতে অদ্ভুত ও ভীতিকর মনে হলেও এটা সত্যি! যে ১৬ শতকের ইউরোপেও মানুষের চর্বি বিক্রি হতো এবং তার চাহিদা ও উচ্চ ছিল। মানুষের এই চর্বি সেসময় Axungia Hominis বা “দরিদ্র পাপের চর্বি” নামেও পরিচিত ছিল।
সেসময় যারা বন্দী ছিলো যাদের মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করে তাদের দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে তাদের শরীর থেকে চর্বি আলাদা করা হতো। এবং সেই চর্বি বিক্রি করা হতো। যারা প্রচুর অর্থের মালিক ছিলেন, কেবল তারাই এই চবি কেনার সামর্থ্য রাখতেন।
এই চর্বি প্রধানত চিকিৎসা উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো। তাই বেশিরভাগ চর্বিই ফার্মেসিতে পাঠানো হতো এবং তা দিয়ে শরীর ও দাঁতের ব্যথা, বাতের মতো রোগ ইত্যাদির জন্য ওষুধ তৈরি করতে ব্যবহার করা হতো। সহজ কথায়, এটি তখন হাড় মজবুত করার জন্য একটি শক্তিশালী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হতো
সেসময় ডাক্তার ও শল্যচিকিৎসকরা এই চর্বির জন্য যুদ্ধে মৃত সৈন্যকে এই কাজে ব্যবহার করতেন। ধারণা করা হয় ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়েও এই জঘন্য প্রথাটি প্রচলিত ছিল।
নরখাদক ইউরোপীয়
ইউরোপের ইতিহাসের প্রচুর অন্ধকার দিক রয়েছে। প্রাচীন ইউরোপের মানুষরা নিজেদের স্ত্রী কে নিলামে বিক্রি করা থেকে শুরু করে নরখাদক হওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।
১২ শতক থেকে ১৯ শতকের গোড়ার দিক পর্যন্ত প্রায় ৬০০ বছর ইউরোপীয়রা প্রকাশ্যে নরমাংস ভক্ষন করতো।
প্রথমে, তারা মিশর থেকে সংরক্ষিত মমি নিয়ে যেতো এবং সেগুলোকে শুষ্ক ত্বক পাউডার এর মতো করত। এই পাউডার তারা খেতো ও গায়েও মাখতো। এর স্বাদ ছিলো অতি ভয়ানক! তা সত্ত্বেও মাথাব্যথা থেকে শুরু করে ক্ষত নিরাময় পর্যন্ত প্রায় সমস্ত কিছুর নিরাময় বলে মনে তা তারা ব্যবহার করতো।
মমি খাওয়া থেকে শুরু হয় সত্যি সত্যি মানুষ খাওয়ার অভ্যাস, তাও প্রকাশ্যে। যারা নরমাংস খেতো তাদের ধারণা ছিলো যে ব্যক্তির মৃত্যু যত বেশি নৃশংস হবে, তার মাংস তত বেশি শক্তিশালী হবে।
সে সময় চিকিৎসার জন্য রক্ত বন্ধ করার জন্য মানুষের রক্ত ব্যবহার করা হতো, কিংবা মানুষের চর্বি এবং মাথার খুলি গুঁড়ো করে মাইগ্রেন এবং মাথাব্যথার ওষুধ তৈরি করা হত।
ইংল্যান্ডের রাণী ভিক্টোরিয়ার সময়েও এই কর্মকাণ্ড প্রচলিত ছিল। সাধারণ মানুষ থেকে রাজসভার সদস্যরাও নরখাদকের সাথে জড়িত ছিলো। এমনকি প্লেগ রোগের থেকেও নিরাময় পেতে মানব অঙ্গ ভক্ষণ করা হতো।
স্ত্রী কে নিলামে বিক্রি করা
বর্তমানে স্ত্রী কে নিলামে তোলা ঘোরতর অপরাধ বলা হবে। কিন্তু মধ্যযুগ থেকে শুরু করে রাণী ভিক্টোরিয়ার সময়েও স্ত্রী কে নিলামে তোলে বিক্রি করা ছিলো অতি সাধারণ বিষয়।
ইংল্যান্ডে বিবাহবিচ্ছেদ তখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল, এবং শুধুমাত্র ক্ষমতাশালী এবং ধনী লোকেরাই সেই ব্যায়ভার বহন করতে পারতো।
যে স্বামী তার স্ত্রীকে নিলামে তুলতো তাকে প্রথমে স্ত্রীকে পণ্য হিসেবে নথিভুক্ত করতে হতো। তারপর সেই নারীকে একটি জনসভার মাঝে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হতো।
নিলামগুলো সাধারণত সরাইখানা, মেলা বা বাজারের মতো সর্বজনীন স্থানে করা হতো। কিছু পুরুষ তাদের স্ত্রীদের গলায় দড়ি দিয়ে বাঁধা হতো, এ যেনো ছিলো কোনো কোনো পশুকে বাজারে বিক্রি করার মতো ব্যাপার!
নিলামে তোলার আগে ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করা হতো। নিলামের সভাপতিত্ব করার জন্য একজন নিলামকারীও উপস্থিত থাকতো।
নিলামের সময় সাক্ষীদের উপস্থিতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্বামী নিলামের সময় দর্শকদের কাছে তার স্ত্রীর গুণাবলী গুলো জোরে চিৎকার করে ঘোষণা করতো।
অনেক ব্যবসায়ী ও দালাল সেই নিলামে অংশ নিতো। দালালরা বিশেষত নিলামে কিনে তাকে আবার কোনো ধনী ব্যাবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিত যৌনদাসী হিসেবে।
কখনও কখনও, স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাও সেই দর্শকদের ভিড়ের অংশ হয়ে যেতো। আবার কোনো কোনো মহিলার প্রেমিক থাকলে সে নিলামের মাধ্যমে সেই মহিলাকে কিনেও নিতো।
নববধূ কে অন্যের সাথে শেয়ার করা
মেসোপটেমিয়ায় (আধুনিক ইরাক) জুস প্রাইমা নকটিস নামে একটি প্রথা ছিল, যার অর্থ “প্রথম রাতের অধিকার”, এই প্রথায় ধনী প্রভু বা রাজারা তাদের প্রজা বা ভৃত্যের বিবাহিত স্ত্রীর সাথে বিয়ের দিন রাতে তাকে শয্যাসঙ্গী করতেন।
অর্থাৎ স্বামীর সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির আগেই, অন্য পুরুষ তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক সৃষ্টি করতে বাধ্য করতো।
এই অভ্যাসটি সেই সময়ে পুরুষ শক্তি এবং আধিপত্যের প্রতিফলন ছিল; যাইহোক, এর অনুশীলনের কোন বিশিষ্ট প্রমাণ বা রেকর্ড নেই।
অনেক লোক এটাকে প্রতারণা এবং বানোয়াট গুজব বলে বিশ্বাস করে। যদি অনুশীলনটি সত্যিই ঘটে থাকে তবে এটি অবশ্যই সর্বকালের সবচেয়ে খারাপ কর্মকান্ডগুলোর একটি ছিল।
জোহান ডি উইট
জোহান ডি উইট ছিলেন নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে মহান ও সমৃদ্ধশালী নেতা। তার বাবাও একজন মহান নেতা ছিলেন। তার বাবা ছিলেন নেদারল্যান্ডসের একটি শহরের মেয়র, সকলেই তার খুব প্রশংসা করতো।
জোহান ১৬২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের সময় ডাচদের ক্ষমতা ও গৌরব ছিলো একদম শীর্ষে। জোহান ১৬৫৩ সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে একজন কাউন্সেল হন। তিনি এতটাই মহান নেতা ছিলেন যে তিনি তিনবার তার পদের জন্য পুনর্নির্বাচিত হন।
জোহানের সময়ে নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের মধ্যে সম্পর্ক ছিলো না। কিন্তু জোহান তার প্রচেষ্টা ও আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
সেসময় নেদারল্যান্ডসে ‘হাউস অব অরেঞ্জ’ নামে একটি প্রভাবশালী পরিবার ছিলো। তারা জোহান তার বাবাকে প্রচন্ড ঘৃণা করতেন। পরিবারটি তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বছরের পর বছর ধরে কখনোই একত্রিত হয়নি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে গেছে।
বেশকিছু বছর ধরে পরিস্থিতি ভাল ছিল, এবং লোকেরা জোহানের প্রচেষ্টার জন্য প্রশংসা এবং ভালবাসত, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ইংল্যান্ড ১৬৬৫ সালে ডাচদের সাথে যুদ্ধ শুরু করে।
শীঘ্রই, ফ্রান্স এই যুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৬৭২ সালে রাজা লুই চতুর্দশ নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি এবং জনগণের চাপ এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে জোহান একই বছর আগস্টে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
সাধারণ জনগণ নেদারল্যান্ডস এর সাথে এই যুদ্ধের জন্য জোহানকে দোষারোপ করতে শুরু করে এবং সাধারণ জনগণ হাউস অফ অরেঞ্জের সদস্য উইলিয়াম তৃতীয়কে তাদের নেতা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
জোহানের ভাই কর্নেলিয়াসকে উইলিয়ামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। জোহান তার ভাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য কারাগারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ক্ষিপ্ত জনতা তার ভাই জোহান উভয়কেই আক্রমণ করে এবং শরীর টুকরো টুকরো করে হত্যা করে।
তারা তাদের (দুই ভাই) নগ্ন দেহ টেনে নিয়েছিল, তাদের হত্যা করেছিল এবং তাদের মাংস ও খেয়েছিল। এককালের বিখ্যাত ও শ্রদ্ধেয় এই নেতার মৃত্যু হয় এক কলঙ্কজনক ও ভয়াবহ মৃত্যু।
তিনশ বছর পরে, তাদের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য তাদের অনুশোচনা দেখানোর জন্য, ডাচরা মহান নেতাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বেশ কয়েকটি মূর্তি তৈরি করেছিল এবং তাকে দেখানো হয়েছিল যে তারা তার সাথে যা ঘটেছে তার জন্য তারা কতটা গভীরভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
এপ্রিল ফুলের প্রকৃত ইতিহাস কি?
এপ্রিল ফুলের ইতিহাস: মুসলিমদের ভুল বিশ্বাস ও আসল সত্যি ঘটনা পহেলা এপ্রিল সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘এপ্রিল ফুলস ডে’। এই দিনের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে নিজের আশেপাশের মানুষদের সাথে প্রাঙ্ক করা মানে বোকা বানানো। তবে বোকা বানানোর এই পশ্চিমা সংস্কৃতি নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমবিস্তারিত পড়ুন
এপ্রিল ফুলের ইতিহাস: মুসলিমদের ভুল বিশ্বাস ও আসল সত্যি ঘটনা
পহেলা এপ্রিল সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘এপ্রিল ফুলস ডে’। এই দিনের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে নিজের আশেপাশের মানুষদের সাথে প্রাঙ্ক করা মানে বোকা বানানো। তবে বোকা বানানোর এই পশ্চিমা সংস্কৃতি নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের মাঝে বেশ কিছু গল্প প্রচলিত আছে। এই গল্প গুলো মোটেই সত্যি নয়।
সচরাচর এপ্রিল ফুল নিয়ে ঘুরেফিরে ৩ এটি গল্প শোনা যায়।
গল্প ১
৭১১ সাল থেকে স্পেনে মুসলিমদের দখলে যাওয়ার পর থেকেই স্পেন জ্ঞান- বিজ্ঞান ও সভ্যতায় ইউরোপের অন্য অঞ্চলে তুলনায় বহুগুণে এগিয়ে যায়। দীর্ঘ দিন মুসলিম শাসনের পর প্রায় ৮০০ বছর পর ১৫ শতকের শেষ দিকে রাজা ফার্ডিনান্ড ও রাণী ইসাবেলার নেতৃত্বে স্পেনের বিভিন্ন শহর দখন করে নিতে থাকে সৈন্যরা। তবে প্রায় সব শহর হাতছাড়া হয়ে গেলে গ্রানাডা তখনো মুসলিমদের দখলেই ছিল।
রাজা ফার্ডিনান্ড
রাণী ইসাবেলা
দীর্ঘদিন শহরে অবরুদ্ধ থাকার পর ১৪৯২ সালে মুসলিম শাসকগণ সিদ্ধান্ত নেন তারা আত্মসমর্পণ করবেন। আত্মসমর্পণের সময় স্প্যানিশদের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসকল মুসলিম মসজিদে আশ্রয় নেবে। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। ফলে দলে দলে মুসলিম রা মসজিদে প্রবেশ করে। আর স্পেনিশরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিয়ে মসজিদে আগুন দিয়ে লক্ষ লক্ষ মুসলিম পুড়িয়ে মারে। আর বাহিরে আনন্দে চিৎকার করতে থাকে বোকাদের দল! বোকাদের দল।
মুসলমানদের বোকা বানিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ইউরোপ থেকে মুসলিমদের বিতাড়িত করার দিন হিসেবে এখনো এপ্রিলের ১ তারিখকে বোকা বানাবার দিন হিসেবে পালন করে পশ্চিমারা।
গল্প ২
দীর্ঘদিন যুদ্ধ করেও যখন স্পেনিশরা গ্রানাডা দখল করতে পারছিলো না, তখন স্পেনিশরা ভারী চিন্তায় পড়ে যায়। তখন তারা শুরু করে এক ষড়যন্ত্রের। তারা নানান ছলচাতুরী করে শহরে ভেতর প্রচুর মদ ও সিগারেট শহরের ভেতর পাঠায়। এসব মদ সিগারেট পেয়ে মুসলিমরা নেশায় বুদ হয়ে যায়। একসময় আল্লাহর উপর ভয়ভীতি ও হারিয়ে ফেলে।
এরপর এপ্রিলের ১ তারিখ গ্রানাডার পতন হয়। মুসলমানদের পানীয় এবং সিগারেট দিয়ে বোকা বানিয়ে গ্রানাডা দখল করার দিবস হিসেবে পশ্চিমারা এখনো এই দিনটিকে ‘এপ্রিল ফুল’স ডে’ হিসেবে পালন করে।
গল্প ৩
১৪৯২ সালে রাজা ফার্ডিনান্দ ও রাণী ইসাবেলার বাহিনী গ্রানাডা প্রবেশের আগে মুসলিমদের সাথে চুক্তি করে যে তাদেরকে জাহাজে করে আরবে পাঠিয়ে দেয়া হবে। পরে শহর দখল করে যখন জাহাজে করে সবাইকে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছিল ভূমধ্যসাগর দিয়ে, তখন মাঝসাগরে এসে সবগুলো জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়। লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে সাগরে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।
কোথাও কোথাও বলা হয় জাহাজেই স্প্যানিশরা সব মুসলিমকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেয়। দিনটি ছিল ১ এপ্রিল। এখনো পশ্চিমারা মুসলমানদের বোকা বানাবার দিনকে ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ হিসেবে পালন করে।
যেভাবে স্পেন থেকে মুসলিমদের পতন ও গ্রানাডা দখল হয়েছিল
৭১১ সাল থেকে শুরু করে ১৫ শতক পর্যন্ত প্রায় ৮০০ বছর স্পেন শাসন করেছে মুসলিমরা। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই ক্ষমতা আর জৌলুশও হারাতে থাকে। ক্ষমতা হারানোর নেপথ্যে ছিলো রাজা ফার্ডিনান্ড ও রাণী ইজাবেলার যৌথ শক্তি। ১৪৮২ সাল থেকে ফার্ডিনান্ড ও ইজাবেলা ইউরোপের অন্য দেশগুলো থেকে আর্থিক ও সৈন্য সাহায্য নিয়ে একে একে স্পেনের বিভিন্ন শহর দখল করতে থাকেন।
প্রায় সব শহর দখল করে ফেললেও গ্রানাডা দখল করতে পারছিল না। গ্রানাডা তখনো তৎকালীন মুসলিম শাসক দ্বাদশ মুহাম্মদের অধীনে ছিল।
১৪৯১ সালে গ্রানাডার বিভিন্ন জায়গা দখল করতে করতে তার শহরের প্রধান গেটের সম্মুখে চলে আসে। বেশ কিছুদিন অবরুদ্ধ থাকার পর দ্বাদশ মুহাম্মদ আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারি ইসাবেলা এবং ফার্ডিনান্দ শহরে প্রবেশ করেন এবং দ্বাদশ মুহাম্মদের কাছ থেকে নগরের চাবি নেন।
দ্বাদশ মোহাম্মদ
এপ্রিল ফুল সত্য নাকি মিথ্যা?
পেগি লিসের লেখা ‘ইসাবেল দ্য কুইন’, জন এডওয়ার্ডের লেখা ‘ফার্ডিনান্দ এন্ড ইসাবেলা’ কিংবা আই.এল.প্লাঙ্কেটের লেখা ‘আ হিস্ট্রি অফ মেডিভাল স্পেন’ এসব বই থেকে জানা যায় যে, ২ জানুয়ারিতেই গ্রানাডা নগরীর পতন হয়। ঐদিন মসজিদে মানুষদের আটকিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়ার কোন প্রমাণ কোথাও পাওয়া যায়নি। এমনকি ঐদিন কোন গণহত্যা হয়েছে সেটাও কোন সমর্থিত সূত্র থেকে কখনো পাওয়া যায়নি।
মানব ইতিহাসের যখনি কোনো শহরে আক্রমণ হয়েছে তখনি রক্তপাত হয়েছে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে বেশ কিছু সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায় ১৬০৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলমানদের একটা অংশকে স্পেন থেকে ফেরত পাঠানো শুরু হয়। তবে অনেককে জোর করে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রচেষ্টাও চলেছে বেশ অনেক জায়গায়।
এপ্রিল ফুল নিয়ে যে জাহাজ ডুবি, মসজিদে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে হত্যা এসবের কোনো প্রমান নেই। এমনকি মদ সিগারেট দিয়ে মুসলিমদের পথভ্রষ্ট করার ঘটনাটিও মিথ্যা। মদ্যপানের সাথে বাকি পৃথিবীর মতো আরবরাও পরিচিত ছিল হাজার বছরের বেশি সময় ধরে। আর সিগারেট তো সেদিনের আবিষ্কার।
এপ্রিল ফুল তাহলে কিভাবে এলো?
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্যমতে প্রাচীন রোমান উৎসব হিলারিয়া (যা উদযাপিত হত ২৫শে মার্চ) থেকেই এপ্রিল ফুল’স ডের উৎপত্তি।
জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে বছর শুরু হত ২৫ মার্চ। আর টানা ৮ দিনের উৎসবের শেষ দিন অর্থাৎ এপ্রিলের ১ তারিখ নববর্ষ উদযাপন হত। এরপর ষোল শতকে যখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু হয়, তখন নববর্ষ সরে যায় ১ জানুয়ারি। কোন কোন সূত্রমতে, ক্যালেন্ডার বদলাবার খবর অনেকেই না জানায় তারা ১ এপ্রিলেই নববর্ষ উদযাপন করতে যেয়ে বোকা বনে যায়। তখন থেকেই এই এপ্রিলের ১ তারিখে নিজেরা নিজেদের বোকা বানিয়ে মজা নেয়।
নারকীয় হত্যাযজ্ঞ দ্য রেপ অব নানকিন কোথায় ও কবে সংঘটিত হয়?
দ্য রেপ অব নানকিন: চীনের উপর চালানো জাপানিদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চ্যাং ঝি কিয়াং; বয়স মাত্র নয় বছর। মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। পথে তাদেরকে আটকে ফেলে জাপানি সৈন্যরা। তার মাকে ওরা (জাপানি সৈন্যরা) ধর্ষণ করতে চায়। কিয়াং বাধা দিলে তাকে ধরে ছুঁড়ে ফেলে দেয় সৈনিকরা। তারা তার মাকে বিবস্ত্র হতবিস্তারিত পড়ুন
দ্য রেপ অব নানকিন: চীনের উপর চালানো জাপানিদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ
চ্যাং ঝি কিয়াং; বয়স মাত্র নয় বছর। মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। পথে তাদেরকে আটকে ফেলে জাপানি সৈন্যরা। তার মাকে ওরা (জাপানি সৈন্যরা) ধর্ষণ করতে চায়। কিয়াং বাধা দিলে তাকে ধরে ছুঁড়ে ফেলে দেয় সৈনিকরা। তারা তার মাকে বিবস্ত্র হতে বলে। কিয়াংয়ের মা তা না করলে তাকে স্তনে বেয়োনেটে দিয়ে সজোরে আঘাত করে আর তার মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মৃত ভেবে সৈন্যরা চলে গেলে কিয়াং গিয়ে তার মাকে ডেকে তোলার চেষ্টা করে। তাঁর বুকের ক্ষত পরিমাপ করতে বস্তু সরাতেই ক্ষুধার্ত ছোট ভাইটি মায়ের স্তনে মুখ দেয়। কিন্তু তার মুখ ভরে উঠে রক্তে। ততক্ষণে তাঁর মা সত্যিই না ফেরার দেশে চলে গেছে।
ঘটনাটি ১৯৩৭ সালের, চীনের নানকিন শহরের। শুধু এটিই নয়, এটি শুধুমাত্র চীনে জাপানিদের চালানো লক্ষ লক্ষ হত্যা ধর্ষণের মাত্র একটি ঘটনা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হওয়ার ২ বছর আগে ১৯৩৭ সালের শেষদিকে চীনের পূর্ব জিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী শহর নানকিং এ হামলা শুরু করে। হামলায় শহরের সৈন্য এবং নিরীহ বেসামরিক সহ হাজার হাজার লোককে হত্যা করে; আর মহিলাদের করা হয় ধর্ষণ ও নির্যাতন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের মিত্র জাপানীদের চালানো এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের নাম ‘দ্য রেইপ অব নানকিং’। এই তান্ডবকে নানকিং ম্যাসাকার ও বলা হয়ে থাকে।
আক্রমণের প্রস্তুতি
চিন ও জাপানের রক্তাক্ত লড়াইয়ে জাপানীদের হাতে সাংহাইয়ের পতন হওয়ার পর চীনা সৈন্যরা পিছু হটতে শুরু করে। জাপানীদের হাতে পুরো সৈন্য বাহিনী হারানোর ভয়ে চীনা সৈন্যদের নানকিং থেকে সরিয়ে আরও ভেতরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। জাপানীদের এগিয়ে আসার খবর শুনে নানকিংয়ের অধিবাসীরা পালাতে শুরু করলে চীনা সরকার তাতে বাঁধা দেয়। জাপানীরা যখন নানকিং এসে পৌঁছায়, তখন শহরের ভেতর ৫ লক্ষ অধিবাসী বসবাস করছিল।
নানকিন আক্রমণ করার আগে জাপানিরা পথ যা পেয়েছে তাই হামলা করে ধ্বংস করেছে। পথেঘাটে সকল গ্রামের বাড়ি জ্বালিয়ে পুরিয়ে ছাড়খাড় করেছে। মহিলাদের ধর্ষণ করেছে, আর পুরুষদের কোনো কথা ছাড়াই হত্যা করেছে। মহিলাদের ধর্ষণ করার পর নির্যাতন করে হত্যা করেছে। যুবতী মেয়েদের দিনে ৬ থেকে ৭ বার ধর্ষণ করেছে।
জাপানি সৈনিকরা এক প্রকার হাটতে হাটতে নানকিন দখল করেছে। তবুও কেনো তাদের এতো নিঃসংশতা তার কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন বিচিত্র উপায়ে তারা বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করতো।
মুকাই এবং নদার নামে ২ জাপানিজ নিজেদের মাঝে ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতাও শুরু করেছিলেন।
এই প্রতিযোগিতায় কে কয়টি খুন করেছে তার অগ্রগতির প্রতিবেদন শীর্ষস্থানীয় জাপানী পত্রিকাগুলো প্রতিদিনের আর্কষণীয় সংবাদ হিসেবে প্রচার করেছিল, এ যেন ছিল এক আন্তর্জাতিক খেলার ফলাফল।
সেই বর্বর দুই সেনা অফিসার মুকাই এবং নদা
১৯৩৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর নানকিন দখলের পর টানা ৬ সপ্তাহ জাপানিজরা সেখানে দানবীয় তান্ডব চালিয়েছে। এই ৬ সপ্তাহে তারা প্রায় ৮০,০০০ নারী ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণ করার পর তারা তাদের খুন করেছে অধিকাংশ কে। আর পুরুষদের সামনে পেলে সরাসরি হত্যা করেছে।
কেবল খুন করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। খুনের আগে যতভাবে মহিলাদের কষ্ট দেওয়া সম্ভব তার প্রায় সব বর্বরতাই জাপানীরা দেখিয়েছিল। গর্ভবতী মহিলাদের পেট কেটে খালি হাতে গর্ভের শিশুকে বের করে ফেলতো সৈন্যরা। যুবতী মেয়েদের দিনে ছয়-সাতবারও ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। তরুণীদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহারের জন্য নানকিং থেকে বিভিন্ন জাপানী ক্যাম্পে প্রেরণ করা হয়েছিল। শিশুরাও জাপানী বর্বরতা থেকে রেহাই পায়নি। বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বহু শিশুকে হত্যা করা হয়।
জাপানিরা শহরটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ, নানজিংয়ের অর্ধেক ভবন লুট ও পুড়িয়ে ফেলেছিল তারা। তারা প্রথমে সম্মত হয়েছিল যে তারা নানজিং শহরের সেফটি এরিয়ায় আক্রমণ করবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, তারা তা করেনি।
রবার্ট ও. উইলসন, সেফটি জোনে কর্মরত একজন ডাক্তার তার পরিবারকে একটি চিঠিতে লিখেছেন,
বেসামরিকদের হত্যা ভয়ঙ্কর। আমি প্রায় বিশ্বাসের বাইরে ধর্ষণ এবং নৃশংসতার ঘটনাগুলি কয়েকশত পৃষ্ঠায় বর্ণনা করলেও শেষ করতে পারবো না। জাপানিজরা আমার ৭ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মধ্যে ৫ জনকেই মেরে ফেলেছে। আর ২ জন বেয়নেট এর আঘাতে আধমরা হয়ে আছে।
এছাড়াও গত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চীনা স্টাফ সদস্যের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় এবং দুই নারী, তার আত্মীয়কে ধর্ষণ করে জাপানি সৈনিকরা। একটি ৮ বছরের বাচ্চা ছেলেকে বেয়নেট দিয়ে মেরেছে। ছেলেটির শরূরে ৫ টি বেয়নেটের ক্ষত ছিল যার একটি তার পেটে প্রবেশ করেছিল, ওমেন্টামের একটি অংশ পেটের বাইরে ছিল। আমি মনে করি সে বাঁচবে।
১৯৩৮ সালের জানুয়ারিতে জাপানি বাহিনী ঘোষণা করে যে নানজিং-এ আদেশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা নিরাপত্তা অঞ্চলটি ভেঙে দিয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত হত্যা-ধর্ষণ বন্ধ হয়নি। শহরটির নিয়ন্ত্রণ একটি পুতুল সরকারকে দেওয়া হয়েছিল যেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ অবধি শাসন করেছিল।
ভবিষ্যৎ ফলাফল
আজ অবধি, নানজিং গণহত্যায় নিহতের সঠিক সংখ্যা আমাদের কাছে নেই। অনুমান করা হয় প্রায় ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ নিরীহ মানুষ হত্যা করেছিল জাপানি সৈনিকরা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার কিছুদিম পরে, দূরপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক সামরিক ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধের জন্য মাতসুই এবং তার লেফটেন্যান্ট তানি হিসাওকে বিচার করে দোষী সাব্যস্ত করে।
নানজিং-এর ঘটনা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও বিতৃষ্ণা আজ পর্যন্ত চীন-জাপান সম্পর্ককে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।
জাপান সরকার বহু বছর এ বর্বরতার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। বরং বিভিন্ন সময় চীনের প্রকাশিত সংবাদ ও তথ্যকে একপেশে হিসেবে দাবী করেছে। ১৯৯৫ সালের ১৫ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের পঞ্চাশ বছর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন জাপান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তমিচি মুরায়ামা চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাপান যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল তার জন্য আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু জাপান কখনোই লিখিতভাবে নানকিং গণহত্যার জন্য চীনের কাছে দুঃখ প্রকাশ কিংবা ক্ষমা চায়নি।
২০১৫ সালে জাপানী প্রধানমন্ত্রী শিনজো এ্যাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির ৭০ বছর উপলক্ষ্যে যে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন তাতে চীনে জাপানের এই বর্বরতার বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়, যা চীন-জাপান সর্ম্পকে টানাপোড়ন সৃষ্টি করে।
চীন ও জাপানের সম্পর্কের টানা পোড়নে আজও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানী গণহত্যার প্রভাব সুস্পষ্ট।
নকার-আপার্স বা মানব অ্যালার্ম ঘড়ির ইতিহাস কি?
নকার-আপার্স : মানব অ্যালার্ম ঘড়ির ইতিহাস আজকের এই সময়ে দাড়িয়ে আপনি খুব ভোরে উঠতে চাইলে কি করবেন? হয়তো মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম সেট করবেন কিংবা অ্যালার্ম ঘড়িতে আপনার নির্দিষ্ট সময়ে অ্যালার্ম সেট করবেন। আচ্ছা কখনো কি আপনার মনে এই প্রশ্নটি উঁকি মেরেছে? যখন এলার্মঘড়ি বা মোবাইল ফোন ছিলো না তখন মানুষ কিভাবেবিস্তারিত পড়ুন
নকার-আপার্স : মানব অ্যালার্ম ঘড়ির ইতিহাস
আজকের এই সময়ে দাড়িয়ে আপনি খুব ভোরে উঠতে চাইলে কি করবেন? হয়তো মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম সেট করবেন কিংবা অ্যালার্ম ঘড়িতে আপনার নির্দিষ্ট সময়ে অ্যালার্ম সেট করবেন।
আচ্ছা কখনো কি আপনার মনে এই প্রশ্নটি উঁকি মেরেছে? যখন এলার্মঘড়ি বা মোবাইল ফোন ছিলো না তখন মানুষ কিভাবে ঘুম থেকে উঠতো।
আমার দাদা-দাদিরা ঘড়ির শব্দে ঘুম থেকে উঠতেন ঘড়ির টিক, টিক, টিক শব্দ শুনে কিংবা তারা নিজেদের অধিকাংশ সমই গ্রামে কাটিয়েছেন, তাই মোরগের শব্দ শুনেও ঘুম ভেঙেছে। গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গেলে আমার নিজের ঘুমই খুব ভোরে মোরগের ডাকেই ভাঙে।
আচ্ছা সেদিকে আর কথা না বাড়াই। আচ্ছা আগের শতকে তো শহরাঞ্চলের মানুষদের ঘুম ভাঙার জন্য এলার্মঘড়ি বা শহরাঞ্চলের মানুষদের ঘরে মোরগ ও ছিলো না। তাদের অ্যালার্ম কে দিত? উত্তর টা হলো ‘মানুষ আগে অ্যালার্ম ঘড়ি ছিল’।
১৮ ও ১৯ শতকে ব্রিটেন এবং আয়ারল্যান্ডে বিশেষ কর্মীরা সকালে মানুষকে ঘুম থেকে জাগাতেন, তাদের বলা হত নকার-আপার।
চলুন পুরানো যুগের মানব ঘড়ির ইতিহাসে একটু ডুব দেওয়া যাক!
নকার-আপার্স কারা ছিলেন?
শিল্প বিপ্লবের সময় নকার-আপার ছিল ১৮ শতকের মাঝামাঝি থেকে ১৯ শতকের মাঝামাঝি শতকের একটি পেশা যখন অ্যালার্ম ঘড়ি জনপ্রিয় ছিল না এবং সেগুলি সস্তা বা নির্ভরযোগ্যও ছিল না। ব্রিটেনের কারখানার শ্রমিকদের সেসময় অ্যালার্ম ঘড়ি ক্রয় করা ছিলো দুঃসাধ্য ব্যপার। যেহেতু সেসময়টায় শিল্পায়ন ক্রমবর্ধমান ছিলো তাই কল-কারখানাগুলি আরও বেশি শ্রমিক এবং আরও বেশি ওয়ার্কিং আওয়ারের প্রয়োজন অনুভব করে।

সেসময় শ্রমিকরা খুবই ন্যূনতম মজুরিতে কাজ করত এবং কাজে যোগ দেয়ার সময়ের ব্যাপারে কল-কারখানা গুলো কঠিন ছিল। দেরি করলে চাকরি চলে যাওয়া কিংবা মাইনে থেকে বেতন কেটে নেয়ার ভয় ছিল, এমনিতেই ছিল অল্প বেতনের চাকরি, জরিমা কেটে নিলে বেতনের থাকেই বা কি? তাই খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতে তারা ভাড়া করতো নকার- আপারদের।
নকার-আপাররা প্রধানত বড় শহর বা ব্রিটেন এবং আয়ারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে কাজ করত।
প্রথমে, নক-আপাররা দরজায় ধাক্কা মেরে মানুষকে জাগিয়ে তুলত কিন্তু এটি ছিলো অকার্যকর এবং ভুল পদ্ধতি। দরজায় ধাক্কা দেয়ার ফলে ঐ পরিবারের সবার ঘুম ভেঙে যেতো, এমনকি প্রতিবেশীরাও অভিযোগ করতে থাকে এ ব্যাপারে। কারণ তাদের ভোর ৫-৬ টা বাজে ঘুম থেকে উঠার কোনো প্রয়োজন নেই। পরবর্তীতে তারা শ্রমিকদের জাগানোর একটি ভাল উপায় খুঁজে পেয়েছিল। যেহেতু বেশিরভাগ শ্রমিকদের বেডরুম উপরের তলায় অবস্থিত ছিল, তারা একটি দীর্ঘ লাঠি ব্যবহার করে এবং সেই শ্রমিকের জানালায় সেই লাঠি দিয়ে আঘাত করতো। কিছু নকার আপার জানালায় দু-তিনবার ধাক্কা দিয়ে চলে যেতো আবার কেউ ধাক্কা দিতেই থাকতো যতক্ষণ না কর্মী জানালায় উঠে এসে জানালা খুলতো। প্রতিটি নকার-আপার প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ জনকে জাগিয়ে তুলতেন।
কয়েকজন নকার-আপারের নাম এবং তারা কত উপার্জন করতো?

চার্লস নেলসন: চার্লস নেলসন ২৫ বছর ধরে নকার-আপার হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি ইস্ট-লন্ডনের কর্মীদের যেমন ডাক্তার, বাজারের ব্যবসায়ী এবং ড্রাইভারদের জাগিয়ে তুলতেন।
ডরিস উইগ্যান্ড: তিনি ছিলেন ব্রিটিশ রেলওয়ের প্রথম নকার-আপার। তিনি শর্ট নোটিশে শ্রমিকদের জানাতেন যাদের শিফটে জরুরি প্রয়োজন ছিল।
মেরি স্মিথ: তিনি শ্রমিকদের জাগানোর জন্য আরেকটি কৌশল ব্যবহার করেছিলেন। তিনি ইস্ট-লন্ডনে শ্রমিকদের জাগানোর জন্য তাদের জানালায় শুকনো মটর ছুঁড়ে মারতেন। তিনি সপ্তাহে ছয় পেন্স আয় করতেন। অন্যান্য সমস্ত নকার-আপাররা প্রতি সপ্তাহে কয়েক পয়সা উপার্জন করতো।
যাইহোক, তখনকার প্রতিটি কর্মী তাদের নিয়োগ করা নকার-আপারের কাছে কৃতজ্ঞ ছিল না, তারা তাদেরকে কখনো পাত্তা দিত না। মাঝেমাঝে তারা উপর থেকে নকার-আপারের উপর বালতি দিয়ে পানি নিক্ষেপ করত।
নক আপার কে জাগিয়ে তুলতো?
কর্মীদের জাগানোর জন্য একজন নকার-আপারকে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হতো। কিন্তু তারা কিভাবে এতো ভোরে ঘুম থেকে উঠতো?
নকার-আপাররা তাদের সকালের দায়িত্ব শেষ করে তারা দিনের বেলা সারাদিন ঘুমাতো আর পেঁচার মতো সারারাত জেগে থাকতো। ১৯৪০ ও ৫০ এর দশকে অ্যালার্ম ঘড়ি কেনা সহজলভ্য হলে নকার আপার রা তাদের চাকরি হারায়।
১৯৭০এর দশক পর্যন্ত উত্তর ইংল্যান্ডের কিছু শহরে নকার-আপারদের নিয়োগ করেছিল, যাতে এই পেশাটা কালের স্রোতে হারিয়ে না যায়।
১৮ ও ১৯ শতকের মানুষরা এভাবেই জেগে উঠত। নকার-আপারের পুরানো ইতিহাস চিরকাল স্মরণীয়। কারণ তাদের কাজটি তখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যা ইংল্যান্ডের লোকেদের সময়মতো কাজে পাঠানোর ভূমিকা পালন করতো।
পেন্ডোরার বাক্স এর রহস্য কি?
প্যান্ডোরার বাক্স: যে বাক্স পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে দুঃখ দূর্দশা গ্রীক মিথলজি মতে প্যান্ডোরা হলেন পৃথিবীর প্রথম নারী। আর এই মিথের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় খ্রীস্টপূর্ব ৭০০ বছর আগের গ্রীক লেখক হেসিওদের লেখা থেকে। অলিম্পাসের দেবতারা যখন টাইটানদের কাছ থেকে স্বর্গ ছিনিয়ে নেয়, তার ও কিছু কাল পরে জিউস ওবিস্তারিত পড়ুন
প্যান্ডোরার বাক্স: যে বাক্স পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে দুঃখ দূর্দশা
গ্রীক মিথলজি মতে প্যান্ডোরা হলেন পৃথিবীর প্রথম নারী। আর এই মিথের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় খ্রীস্টপূর্ব ৭০০ বছর আগের গ্রীক লেখক হেসিওদের লেখা থেকে।
অলিম্পাসের দেবতারা যখন টাইটানদের কাছ থেকে স্বর্গ ছিনিয়ে নেয়, তার ও কিছু কাল পরে জিউস ও অন্যান্য দেবতারা পৃথিবীতে নতুন প্রাণী সৃষ্টি করার কথা ভাবে। আর এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুই টাইটান এপিমেথেউস ও প্রমিথিউস নামের দুই ভাইকে। প্রমিথিউস সৃষ্টি করতে থাকেন মানুষ আর তার ভাই এপিমেথিউস সৃষ্টি করতে থাকেন অন্যান্য প্রাণী। জেনে রাখা ভালো প্রমিথিউস যেসব মানুষ সৃষ্টি করেছিলেন সবই ছিলো পুরুষ মানুষ, পৃথিবীতে তখন কোনো নারী মানুষ সৃষ্টি করা হয়নি। প্রমিথিউস মানুষদের খুব ভালোবাসতেন আর এই অতিরিক্ত মানবপ্রেম জিউস একদমই পছন্দ করতেন না। প্রমিথিউস এজন্য দেবতাদের সভায় এ নিয়ে দেবতা জিউসকে অপমান ও করতেন।
মানব সৃষ্টির পর পৃথিবীতে মানুষের জন্য আগুন খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠে। প্রমিথিউস যেহেতু মানুষদের খুব ভালোবাসতেন তাই স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে মানুষদের হাতে তুলে দিলেন। দেবতা জিউস মানুষদের হাতে আগুন দেওয়াটা একদমই পছন্দ করেননি। কারন মানুষের হাতে আগুন গেলে পুরো পৃথিবী তারা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাঁড়খাড় করে দেবে। আর এজন্য ক্রুদ্ধ হয়ে জিউস প্রমিথিউস কে শৃঙ্খলে বদ্ধ করে রাখলেন। জিউসের ক্রোধ তাতেও শেষ হয়নি। যে মানব জাতীর জন্য প্রমিথিউস জিউসকে এতো অপমান করেছেন। তিনি সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে সৃষ্টি করতে চাইলেন এক নারী মানুষের।
জিউস বিশ্বকর্মা হেফাস্টাসকে আদেশ দিলেন এক নারী মানুষ তৈরি করতে। হেফাস্টাস কাদামাটি দিয়ে তৈরি করলেন এক অপূর্ব মানবীর, তারপর তাতে প্রাণ সঞ্চার করলেন। দেবলোকের প্রত্যেক দেবতাই এই নারী মানবীর তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। এই নারী মানবীকে তৈরি করার সময় বিশ্বকর্মা হেফাস্টাস প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি কে মডেল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
নারী মানব সৃষ্টির পর প্রত্যেক দেব দেবী সেই নারীকে কিছুনা কিছু উপহার দিয়েছেন। দেবী আফ্রোদিতি দিয়েছিলেন সৌন্দর্য্য, লাবন্য আর আকাঙ্খা। দেবতা হার্মিস দিয়েছেন চাতুর্য ও দৃঢ়তা, অ্যাপোলো তাকে সঙ্গীত শিখিয়েছেন। এমনিভাবেই প্রত্যেক দেবতাই তাকে কোনো না কোনো উপহার দিয়েছেন। সর্বশেষে দেবতা জিউসের স্ত্রী হেরা উপহার দেয় কৌতুহল। আর এই অপরূপ সুন্দরী মানবীর নাম দেওয়া হয় পেন্ডোরা। গ্রীক ভাষায় পেন্ডোরা অর্থ সবার উপহার। কারণ সব দেবতার উপহার দিয়েই এই নারীর সৃষ্টি করা হয়েছে। দেবতা জিউসের এই অসাধারণ সুন্দরী ও কোমল মেয়েকে দেখে দেবলোকের সবাই মুগ্ধ হন।
গ্রীক মিথলজির মতে পেন্ডোরা পৃথিবীর প্রথম নারী। ছবিতে দান্তে গ্যাব্রিয়েলের আঁকা প্যান্ডোরা
প্রমিথিউসের প্রতি প্রতিশোধের ভাসনায় দেবতা জিউস সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি পেন্ডোরাকে প্রমিথিউসের ভাই এপিমিথিউসের সাথে বিবাহ দেবেন। এপিমিথিউস এই প্রস্তাব শুনে বুঝতে পারলেন দেবতা জিউসের নিশ্চয়ই কোনো খারাপ অভিসন্ধি আছে। কিন্তু অপরুপ সুন্দরী মানবী পেন্ডোরাকে দেখে তিনি পেন্ডোরার প্রেমে পড়ে যান এবং জিউসের দেওয়া বিবাহের প্রস্তাবে রাজী হয়ে যান।
এরপর প্রচন্ড জাঁকজমকভাবে দেবতা এপিমিথিউসের সাথে প্রথম মানবী পেন্ডোরার বিয়ে হয়ে যায়। সবার উপহার দিয়ে অপূর্ব সাজে সাজেন প্যান্ডোরা। প্রবেশ করেন এপিমিথিউসের গৃহে অর্থাৎ দেবলোক থেকে পৃথিবীতে।
এপিমিথিউসকে তার ভাই প্রমিথিউস অনেক আগেই জিউসের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছিল, আর তাই বিয়েতে সে জিউস থেকে কোনে উপহার গ্রহণ করে নি। এপিমিথিউস কোনো উপহার গ্রহণ না জরলেও জিওস তার মানব কন্যা পেনৃডোরাকে একটি অদ্ভুত বাক্স উপহার দেন। পরবর্তীকালে এই বাক্সই পরিচিতি পেয়েছে পেন্ডোরার বাক্স।
জিউসের দেওয়া এই বাক্সটি ছিলো খুবই অদ্ভুত। অদ্ভুত এই কারনে বলছি যে বাক্সে লেখা ছিলো ‘কখনে খোলো না’ জিউস এই বাক্সের সাথে একটি চাবিও পেন্ডোরার হাতে তুলে দেয়। কারণ জিউস নিজেই চাইছিলেন পেন্ডোরা কৌতুহলী হয়ে সেই বাক্সটি খুলুক।
বিয়ের পর প্যানডোরা-এপিমিথিউস দম্পতি পৃথিবীতে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলো। কিন্তু একদিন সেই সুখের সমাপ্তি ঘটে সেই সাথে নেমে আসে পুরো মানবজাতির উপর অভিশাপ।
এপিমিথিউস একদিন কাজের জন্য ঘরের বাহিরে গিয়েছেন। পেন্ডোরা তখন ঘরে একা। দেবতা জিউসের দেওয়া সেই অদ্ভুত বাক্স নিয়ে সে ভাবছে কি থাকতে পারে এই বাক্সে? নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানবজাতীয় কৌতূহল সবসময়ই বেশি। পেন্ডোরা তার কৌতূহল আর ধরে রাখতে পারলেন না। চাবি দিয়ে খুলে ফেললেন বাক্সটির মুখ। ঠিক এরপরেই বাক্স থেকে বেরিয়ে এলো শক্তি,হিংসা,ঘৃণা,দুঃখ জরা, শোকের মতো অশুভ সব শক্তিগুলো। পেন্ডোরা সাথে সাথেই বাক্সটি বন্ধ করে দিলেন কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। এসব অশুভ শক্তিগুলি ততক্ষণে মিশে গেছে পুরো পৃথিবীতে মানুষদের মনের অন্তরে।
এপিমিথিউস ঘরে ফিরে দেখলেন তার স্ত্রী পেন্ডোরা কাঁদছে। এপিমিথিউসকে এই ঘটনা দেখানোর জন্য প্যান্ডোরা আবারো বাক্স খুললেন। এবার বাক্স থেকে বেরিয়ে এলো শুভ শক্তি আশা। আশা পেন্ডোরা তাকে মুক্ত করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মিশে গেলো পুরো পৃথিবীর মানুষের মাঝে।
আর এই আশাই মানুষকে এতো দুঃখ শোক আর প্রতিকূলতা থেকে মানুষকে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে টিকিয়ে রেখেছে। এই আশার জন্যই মানুষ বেঁচে আছে।
যে মানবের জন্য প্রমিথিউস দেবতা জিউসকে অপমান করেছে ভৎসনা করেছেন। তাদের উপর এবং প্রমিথিউসের উপর এমন ছল চাতুরী ও সূক্ষ্মতার মাধ্যমেই জিউস তার রাগের প্রতিশোধ নিলেন। গ্রীক মিথলজির পেন্ডোরার বাক্স মূলত আমাদের নির্দেশ করে নারীদের অতিরিক্ত কৌতূহল সম্পর্কে। আর এই অতিরিক্ত কৌতূহলই জিউসকে সু্যোগ করে দিয়েছে মাবজাতীর জন্য চির অশুভকে দুয়ার খুলে দিতে।
কোন এক সময়ে আলুকে মনে করা হতো শয়তানের আপেল, কেনো ?
আজকের দিনে আলু ছাড়া জীবন অসহায়। যে কোনো খাবারের আলুর মিশ্রণ থাকবেই। তবে শুনে হয়তো অবাক হবেন ইউরোপীয়রা একটা দীর্ঘ সময় আলু খেতে ভয় পেতো। আপনার মন কি এ ব্যাপারে জানতে খচমচ করছে? চলুন একটু ইতিহাসের পাতায় ডুব দেই… ইতিহাসের পাতা উল্টােলে দেখায় যায় আলুর উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১০ হাজার বছর আগে দক্ষিণবিস্তারিত পড়ুন
আজকের দিনে আলু ছাড়া জীবন অসহায়। যে কোনো খাবারের আলুর মিশ্রণ থাকবেই। তবে শুনে হয়তো অবাক হবেন ইউরোপীয়রা একটা দীর্ঘ সময় আলু খেতে ভয় পেতো। আপনার মন কি এ ব্যাপারে জানতে খচমচ করছে? চলুন একটু ইতিহাসের পাতায় ডুব দেই…
ইতিহাসের পাতা উল্টােলে দেখায় যায় আলুর উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১০ হাজার বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার পেরুতে।
১৬ শতকে স্প্যানিশরা এই আলুকে সর্বপ্রথম ইউরোপে নিয়ে আসে। তবে আলু খাওয়া শিখতে ইউরোপীয়দের লেগে গেছে ২ শতাব্দী! ১৮ শতকে আলু ইউরোপে প্রচুর জনপ্রিয় হয়ে উঠে, সাথে এই গ্রহের প্রধান খাদ্যর একটি।
শুরুতে, আলু জনপ্রিয় ছিল না। মানুষজনের আলুকে এড়িয়ে যাওয়ার অনেক কারণ ছিল।উদাহরণস্বরূপ বলা যায় স্প্যানিশরা বিশ্বাস করত যে আলু তাদের জন্য অযোগ্য এবং শুধুমাত্র নেটিভ আমেরিকানদের খাওয়া উচিত।
অনেকে আবার বিশ্বাস করতো আলুগুলো খ্রিস্টান নয়। এগুলো খেলে পাপ হবে।
হাসি পাচ্ছে এসব শুনে?
তাহলে আরো শুনুন, রাশিয়ানরা এই আলুকে বলতো শয়তানের আপেল! চমকে যাচ্ছেন? চমকে যাবার মতোই তথ্য বটে।
যেহেতু আলু মাটির নিচে জন্মাতো তাই রাশিয়ানদের মনে এমন উদ্ভট চিন্তা ভর করেছিল, শয়তানের আপেল খাওয়া মানে শয়তান কে সঙ্গ দেওয়াই তাই রাশিয়ানরা আলু থেকে সবসময় দূরেই রেখেছে।
ফ্রান্সে ১৭৪৮ সাল থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত আলু অবৈধ ছিল। ফরাসিরা বিশ্বাস করতো আলু মানুষের শরীরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে কুষ্ঠ রোগ!
ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেণ্ট ভ্যানগগ এর বিখ্যাত চিত্রকর্ম আলু খাদক
ইউরোপে দীর্ঘ একটা সময় আলু কেবল পশু প্রাণীদের খাদ্য ছিলো। খাদ্য হিসেবে প্রাণীদের এটা বেশ পছন্দের ছিল।
অল্প জায়গায় অধিক ফলনের ফলে বিশেষ করে ১৮ ও ১৯ শতকে কোটি মানুষকে ক্ষুধা থেকে মুক্তি দিয়েছে আলু। আর সময় বাড়ার সাথে সাথে আলু হয়ে উঠেছে মানুষের রন্ধনপ্রণালীর একটি প্রধান উপাদান।
আলু প্রতি একরে ১৪ মিলিয়ন ক্যালরি দেয় যেখানে গম দেয় ৪ মিলিয়ন ক্যালোরি। ক্যালোরি ছাড়াও, তাদের প্রচুর প্রোটিন, ফাইবার এবং এমনকি ভিটামিন সি রয়েছে।
দেহকে শক্তিশালী করতে বিশেষ করে প্লীহা আর পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা বাড়াতে আলু বিশেষ কার্যকর। এছাড়াও বৃক্কের কার্যক্ষমতায় ঘাটতির সমস্যায় এই উদ্ভিদ কাজে লাগে। রাতকানা রোগের ক্ষেত্রেও এর উপকারিতা লক্ষ করা যায়। সে ক্ষেত্রে রোগীকে প্রাণীর, বিশেষ করে খাসির কলিজার সাথে মিষ্টি আলু খাওয়াতে হয়। গ্রামে, এমন কি শহরেও আগুনে পুড়িয়ে কিছুটা পোড়া পোড়া করে মিষ্টি আলু খাওয়ার প্রচলন আছে। এই পদ্ধতি সাধারণ সর্দি-কাশির উপশমে কার্যকর।
প্রুশিয়ান (বর্তমানে এটি জার্মানির একটি অঙ্গরাজ্য) রাজা ফ্রেডেরিক দ্য গ্রেট (১৭১২-১৭৮৬) এবং ফরাসি ফার্মাসিস্ট আন্টোইন পারমেন্টিয়ার (১৭৩৭-১৮১৩) সর্বপ্রথম আলুর উৎপাদন ও সম্ভাবনা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্ররিশ্রম করেছেন। তারা মানুষের মধ্যে আলুর সম্পর্কে থাকা ভুল ধারণা গুলো ভাঙতে চেয়েছিলেন।
রাজা ফ্রেডেরিক দ্য গ্রেট আলু চাষের জন্য আদেশ জারি করেছিলেন,এজন্য তিনি ‘পটেটো কিং’ উপাধি মানু আলু রাজা ডাকনাম অর্জন করেছিলেন। নিজেকে “আলু রাজা” ডাকনাম অর্জন করেছিলেন।


রাজা ফেড্রিক আলু চাষের তদারকি করছেন
ফরাসি সেনাবাহিনীর ফার্মাসিস্ট এন্টোইন পারমেন্টিয়ার সাত বছরের যুদ্ধে (১৭৫৬-১৭৬৩) প্রুশিয়ানদের দ্বারা বন্দী হন। কারাগারে থাকাকালীন, তাকে আলু খাওয়ানো হয়েছিল এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে আলু মোটেও বিষাক্ত নয়। মুক্তি পেয়ে ফ্রান্সে ফিরে আসার পর, আলুর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করা তার লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
ফার্মাসিস্ট এন্টোইন পারমেন্টিয়ার
পারমেন্টিয়ার বেশ কিছু কৌশল ব্যবহার করেছিলেন যেমন আলুর চাষ বাড়ানো এবং আলু ক্ষেত পাহারা দেওয়ার জন্য সৈন্য নিয়োগ করা। যাতে লোকজনের মনে হতে থাকে আলু খুবই মুল্যবান একটি খাদ্য।
এমনকি তিনি বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের মতো উল্লেখযোগ্য অতিথিদের সাথে বিখ্যাত ডিনারের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে খাবার হিসেবে শুধুমাত্র আলু পরিবেশন করা হয়েছিল
আলু সম্পর্কে প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের এমন ধ্যানধারনা হওয়ার মূল কারণ ছিলো, এটি সম্পূর্ণ এককালে ফ্রান্সে, আলু অবৈধ ছিল। আজকাল, তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় আলুর খাবারের নাম ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।
জাতিসংঘ এফএও-এর রিপোর্ট মতে সারা পৃথিবীতে আলু উৎপাদন ২০১৩ সালে ছিল ৩৬৮ মিলিয়ন টন। একজন ব্যক্তি প্রতিবছর প্রায় ৩৩ কেজি আলু খায়।
‘ভিক্টোরিয়ান’ যুগের মানুষ তাদের চোখের জল বোতলের মধ্যে রাখতো কেনো?
‘ভিক্টোরিয়ান’ যুগের মানুষ তাদের চোখের জল বোতলের মধ্যে রাখতো ঐতিহাসিক কিছু তথ্য অনুসারে, ‘Tear Catcher’ ( যে বোতলে চোখের জল রাখা হতো) এর ব্যবহার প্রায় ৩ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো, প্রাচীন রোমেও এটির বেশ প্রচলন ছিল। এই বোতল শোক/ দুঃখের পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হত এবং আর যখন সেই বোতলের চোখের পানি বাষ্পীভূত হবিস্তারিত পড়ুন
‘ভিক্টোরিয়ান’ যুগের মানুষ তাদের চোখের জল বোতলের মধ্যে রাখতো
ঐতিহাসিক কিছু তথ্য অনুসারে, ‘Tear Catcher’ ( যে বোতলে চোখের জল রাখা হতো) এর ব্যবহার প্রায় ৩ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো, প্রাচীন রোমেও এটির বেশ প্রচলন ছিল।
এই বোতল শোক/ দুঃখের পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হত এবং আর যখন সেই বোতলের চোখের পানি বাষ্পীভূত হয়ে একেবারে উড়ে যাবে, এর মানে হলো যে ব্যাক্তির দূর্ঘটনা বা মৃত্যুর জন্য শোক করা হচ্ছিল। তাকে নিয়ে শোক/ দুঃখ করার সমাপ্তি হয়েছে।
একটি ‘Tear Catcher’ বোতল
‘Tear Catcher’ এর ব্যবহার মাঝখানে শতবছর ধরে অপ্রচলিত থাকলে তা ভিক্টোরিয়ান যুগে এসে পুনরায় প্রচলন শুরু হয়। সেসময় বেশিদিন শোক পালনের জন্য অনেকে টিয়ার দীর্ঘ সময়ের জন্য কালো পোশাক পরিধান করতো।
কালো কাপড় পড়ে শোক পালন
মৃত ব্যাক্তির জন্য শোক পালন করার সময় তারা সূক্ষ্ণ কাঁচের বোতল ব্যবহার করতো। তারা শোক পালনের সময় মৃত ব্যাক্তির জন্য যতটুকু চোখের জল ফেলতো সেটাকে সেই কাঁচের বোতলে রেখে দিতো।
এই বোতল টি সেসময় মানুষজনের কাছে ‘Tear Catcher’ নাম ছাড়াও ‘Lachrymatory’ নামে বেশ প্রচলিত ছিল।

বিভিন্ন ডিজাইনের ‘Tear Catcher’
ভিক্টোরিয়ানরা ছাড়াও, প্রাচীন মিশর এবং রোমের বাসিন্দারাও টিয়ার বোতল ব্যবহার করত। তখন প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, যে ব্যাক্তির চোখের জল বেশি পরিমাণ হবে এর মানে হলো মৃত ব্যক্তি বেঁচে থাকাকালীন তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কিছু ‘আমেরিকার গৃহযুদ্ধের’ গল্পেও উল্লেখ করা হয়েছে, যে যুদ্ধে যাওয়া সৈন্যদের কিছু স্ত্রী ‘Tear Catcher’বেতলে তাদের চোখের জল জমাতেন যতদিন না তাদের স্বামীরা ঘরে ফিরে আসে। আর যদি স্বামী যুদ্ধে মারা যেতো, যখন বিধবা তাদের মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকীতে স্বামীর কবরে তার চোখের জল ছিটিয়ে দিতো।
‘Tear Catcher’ বোতলে কি সত্যিই চোখের জল ছিল নাকি শুধুমাত্র সুগন্ধি বোতল ছিল?
বছরের পর বছর ধরে, কিছু ইতিহাসবিদ কাঁচের বোতলগুলিতে আসলেই অশ্রু ছিল কিনা তা নিয়ে তারা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। অনেকেই এই ব্যাপারগুলো সহজভাবে নিতে পারেন না।
সত্যি বলতে ‘Tear Catcher’ আসলেই চোখের জল রাখার জন্য ব্যবহার হতো কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ অবশ্যই রয়েছে।
এই বোতলগুলিতে রাসায়নিক পরীক্ষা করে, কিছু বিজ্ঞানী দাবি করেছেন যে বোতলগুলিতে সুগন্ধি রয়েছে, যদিও সেসকল বিজ্ঞানীরা এই সত্যটি অস্বীকার করেছেন যে সেগুলি চোখের জল সংগ্রহ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
এই বোতলগুলি সম্পর্কে সেসময়কার লেখা কোনো বিশ্বাসযোগ্য নথি পাওয়া যায় না। বর্তমানে আমরা জানি তা হয়তো অর্ধসত্য বা পুরোপুরি সত্য কিংবা অন্য কিছু।
ভিক্টোরিন যুগে ‘Tear Catcher’ এর ব্যবহার সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহের জায়গা থাকলেও, এটি নিয়ে সন্দেহ নেই যে ভিক্টোরিয়ান যুগে বোতলগুলির বেশ গুরুত্বপূর্ণতা ছিল।
বেবি কেইজ কি?
বেবি কেইজ: শিশুর খাঁচার মর্মান্তিক ইতিহাস ১৯৩০ এর দশকে ব্রিটেনের উঁচু দালানগুলোর জানালার বাহিরে খাঁচার ভেতরে শিশুদের ঢুকিয়ে রাখা সাধারণ একটি বিষয়। এই পদ্ধতিটি গত শতাব্দীর সবচেয়ে অদ্ভুত আবিষ্কার গুলোর একটি। এটি আবিষ্কার করার মূল কারণ ছিল গত শতাব্দী শুরু থেকে ব্রিটেনে বহুতল ভবনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তেবিস্তারিত পড়ুন
বেবি কেইজ: শিশুর খাঁচার মর্মান্তিক ইতিহাস
১৯৩০ এর দশকে ব্রিটেনের উঁচু দালানগুলোর জানালার বাহিরে খাঁচার ভেতরে শিশুদের ঢুকিয়ে রাখা সাধারণ একটি বিষয়। এই পদ্ধতিটি গত শতাব্দীর সবচেয়ে অদ্ভুত আবিষ্কার গুলোর একটি।
এটি আবিষ্কার করার মূল কারণ ছিল গত শতাব্দী শুরু থেকে ব্রিটেনে বহুতল ভবনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত বহুতল ভবনে থাকা দম্পতিরা তাদের নবজাতক শিশুদের নিয়ে চিন্তিত ছিল। এর কারণ ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতো না, যা নবজাতকের জন্য খুব প্রয়োজনীয়।
এই খাঁচার মাধ্যমে মায়েরা তাদের নবজাত শিশুদের খাঁচার মধ্যে ঢুকিয়ে বাহিরে ঝুলিয়ে রাখতো। এই ধরনের খাঁচা গুলো ‘The window crib’ নামে বেশি পরিচিত ছিল।
এই খাঁচা গুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল যা শিশুদের জন্য হামাগুড়ি দেওয়া এবং তাজা বাতাস গ্রহণ করা সহজ করে তোলে। অনেক মা তাদের সন্তানদের বাইরে রাখার সুবিধাজনক উপায় হিসাবে এটির উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল। অনেক মহিলারা তাদের বাচ্চাদের জানালার বাইরে ঝুলিয়ে রাখত যাতে তারা গৃহস্থালির অন্যান্য কাজ করতে পারে।
খাঁচায় বন্দী শিশু
ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে এর অতিরিক্ত জনপ্রিয়তার কারণে সিটি কাউন্সিল এই ধরনের খাঁচা ব্যবহারের স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেসময় ‘দ্য চেলসি বেবি ক্লাব’ নামে একটি চিল্ড্রেন ডে কেয়ার নামক এই সংস্থা এই খাঁচা ব্যবহারের জন্য মানুষদের উৎসাহিত করেছিল। এর ব্যবহার বাড়াতে তারা খাঁচা বিতরণ ও করেছিল।
কিভাবে প্রচলন শুরু এই খাঁচা গুলোর?
আগেই বলেছি খাঁচা গুলোর প্রতি মায়েদের আগ্রহ হওয়ার কারণ ছিলো তারা বহুতল ভবনে থাকতো। আর পর্যাত আলো বাতাস পাওয়ার উদ্দেশ্যে এগুলোর ব্যবহার করতেন।
এছাড়াও, শিশুর যত্ন গ্রহণের জন্য দায়ী আরেকটি প্রধান কারণ হল এটি আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছিল এবং শিশুদেরকে তাদের সম্ভাব্য সর্বোত্তম উপায়ে বাইরের শিথিলকরণের জন্য কিছুটা সময় দিতো। এছাড়া যেহেতু এপার্টমেন্ট গুলো ছোট ছিল, আর বাচ্চার জায়গা তৈরির জন্য ঘরের চলাচলে জায়গাও চোট হয়ে যেতো। অনেক বাবা মা সেই খাচায় পর্দা টেনে দিতেন। ফলে বাচ্চারা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তো।
শিশুদের খাঁচা ব্যবহারের সাথে আরও বেশ কিছু সুবিধাও যুক্ত ছিল। উদাহরণস্বরূপঃ ১৮৮৪ সালে, লুথার এমমেট হল্ট একটি বইয়ে লিখেছিলেন যা তাদের বাচ্চাদের সাথে নতুন মায়েদের সাহায্য করেছিল।
একটি চ্যাপ্টারের শিরোনাম ছিল ‘শিশুদের যত্ন এবং খাওয়ানো’। এই বইটি তখন ছোট বাচ্চাদের সাথে পিতামাতার জন্য একটি জনপ্রিয় গাইড হয়ে উঠেছে।

লুথার এমমেট হল্ট
হোল্টের বইয়ের একটি অংশে উল্লেখ করেছেন এই প্রক্রিয়ার ফলে ছোট বাচ্চাদের নিয়মিত তাজা বাতাস পেতে দেওয়ার গুরুত্বের উপর জোর দেয়।
হল্টের এই লেখাগুলো লন্ডনের অনেক মাকে বিশ্বাস করতে পরিচালিত করেছিল যে তাদের বাচ্চাদের বাতাসের মাধ্যমে ঠান্ডা তাপমাত্রায় প্রকাশ করা রক্ত পরিশোধনে সহায়তা করে এবং তাদের অনাক্রম্যতা তৈরি করে।
এই খাঁচাগুলো আবিষ্কার করেছিলেন ‘এমা রিড’ নামে একজন মহিলা ১৯২২ সালে দেয়া তার এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন,
এই খাঁচা গুলো কে তখনকার কোনো বাবা মাই খারাপ মনে করতো না। তাদের সকলেরই প্রতিক্রিয়া ছিল বাহিরে ঘুমানোর ফলে বাহিরের আলো বাতাসে তাদের শিশু আরো বেশি সুস্থ ও স্বাস্থবান হয়ে উঠছে।
কিভাবে খাঁচা ব্যবহার করা হয়?
শিশুর খাঁচাগুলো পোষা প্রাণীর খাচার মতো ছিল। খাঁচাগুলো তার দিয়ে তৈরি ছিল। আর সেগুলো জানালার ফ্রেমের বাহিরের অংশের সাথে সংযুক্ত ছিল। নরম কাপড় বা ঝুড়ি সাধারণত জানালার ফ্রেমের বাইরে ঝুলিয়ে রাখার আগে শিশুর খাঁচায় রাখা হতো। যেখানে এই খাঁচাগুলি ছিল সেই সামান্য জায়গাটিকে আজ যেখানে জানালা-ভিত্তিক এয়ার কন্ডিশনারগুলি রাখা হয়েছে তার সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
মহিলা এবং তত্ত্বাবধায়করা তাদের বাচ্চাদেরকে সেই খাঁচায় রাখতো তখন যখন তারা গৃহস্থালি কাজে ব্যাস্ত থাকতো। অনেকে বাচ্চার হাতে খেলনা ও দিতেন।
এক মা তার খাঁচায় রাখা শিশুকে দেখভাল করছেন
লন্ডন শহরের অনেক বিল্ডিং এর মালিক তার বিল্ডিং এর এপার্টমেন্ট গুলোতে বাচ্চার খাঁচা রাখার জন্য ব্যবস্থা করেছিলেন। যেনো মানুষরা তার বাসা ভাড়া নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়।
এই খাঁচার ব্যাপারে কারো অভিযোগ ছিলো না একেবারেই তা নয়। ১৯০৬ সালে, এলেনর রুজভেল্ট একটি খাঁচা কিনে এনে তার নিউইয়র্কের এপার্টমেন্টে তার কন্যা আনাকে রাখার জন্য। আনাকে সেই খাঁচায় রাখার ফলে সে চিৎকার করতো। আনার চিৎকারে প্রতিবেশীরা অভিযোগ করা শুরু করে। আনার মা সহ অনেক প্রতিবেশী তখন এই খাঁচার ব্যাপারে ভাবতে শুরু করেন। শোনা যায় তারা নাকি এই খাঁচার বিষয়ে একটি অভিযোগ ও জমা করেছিলেন Prevention of Cruelty Towards Children এর কাছে।
খাঁচা ব্যবহারের সমাপ্তি
যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, তখন শিশুর খাঁচা ব্যবহার ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। যদিও যুদ্ধের পরে এর জনপ্রিয়তা আবার বৃদ্ধি পায়, তবে ১৯৫০ এর দশকে এর ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
আশ্চর্যজনকভাবে, শিশুর খাঁচা ব্যবহার করার ফলে আঘাতের কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। যদিও নিচ থেকে বা উপর থেকে দেখে খাঁচা গুলোকে ঝুকিপূর্ণ মনে হতো।
যাইহোক, আইনের বিকাশ হওয়ার সাথে সাথে, শিশু যত্ন এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সময়ের সাথে সাথে যা অভিভাবকদের আরও সচেতন করে তোলে এবং তারা এই অভ্যাসটি বন্ধ করে দেয়।
নিরাপত্তার উদ্বেগের পাশাপাশি, বৈজ্ঞানিক বৈধতার অভাবও শিশুর খাঁচা ব্যবহারে ব্যাপক হ্রাস ঘটায়।
মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা ব্ল্যাক ডেথের ইতিহাস কি?
ব্ল্যাক ডেথ : মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা ব্ল্যাক ডেথ ছিল ‘বিউবোনিক প্লেগের’ একটি বিধ্বংসী বৈশ্বিক মহামারী, যা ১৩শ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় আঘাত হানে। ১৩৪৭ সালের অক্টোবর মাসে ‘প্লেগ’ প্রথম ইউরোপে এসে পৌঁছায়। যখন সমুদ্রপথ থেকে ১২ টি জাহাজ মেসিনার সিসিলিয়ান বন্দেরে নোঙর ফেলে। জাহাজে অবসবিস্তারিত পড়ুন
ব্ল্যাক ডেথ : মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা
ব্ল্যাক ডেথ ছিল ‘বিউবোনিক প্লেগের’ একটি বিধ্বংসী বৈশ্বিক মহামারী, যা ১৩শ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় আঘাত হানে। ১৩৪৭ সালের অক্টোবর মাসে ‘প্লেগ’ প্রথম ইউরোপে এসে পৌঁছায়। যখন সমুদ্রপথ থেকে ১২ টি জাহাজ মেসিনার সিসিলিয়ান বন্দেরে নোঙর ফেলে। জাহাজে অবস্থানরত লোকেদের তখন বিস্ময়ের সাথে দেখা হচ্ছিল। জাহাজের বেশিরভাগ নাবিকই মারা গিয়েছিল এবং যারা এখনও জীবিত ছিল তারা গুরুতর অসুস্থ ছিল এবং তাদের পুরো শরীর কালো ফোঁড়ায় আবৃত ছিলো যা দিয়ে ক্রমাগত রক্ত এবং পুঁজ বের হচ্ছিল।
সিসিলিয়ান কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে বন্দর থেকে এই ‘মৃত্যুবাহী জাহাজ’ এর বহরের আদেশ দিয়েছিল, কিন্তু তা করতে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল। আর যার ফল হিসেবে আগামী ৫ বছরে, ব্ল্যাক ডেথ ইউরোপে ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। যা তখনকার ইউরোপ মহাদেশের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ!
প্লেগের শুরু কখন হয়েছিল?
সিসিলিয়ান বন্দরের সেই ‘মৃত্যুবাহী জাহাজ’ এর অনেক আগেই অনেক ইউরোপীয়রা ‘মহা মহামারী’ সম্পর্কে গুজব শুনেছিল। যা নিকটবর্তী এবং দূর প্রাচ্যের বাণিজ্য রুট জুড়ে একটি মারাত্মক ভয় সংকীর্ণতা কাজ করছিল বণিকদের মধ্যে।
প্রকৃতপক্ষে ১৩৪০ এর দশকের গোড়ার দিকে, এই রোগটি সর্বপ্রথম চীন, ভারত, পারস্য, সিরিয়া এবং মিশরে আঘাত হেনেছিল।
প্লেগের উৎপত্তি এশিয়ায় আজ থেকে ২০০০ বছর আগে হয়েছিল বলে মনে করা হয় এবং সম্ভবত এটি কোনো ব্যবসায়িক জাহাজের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, যে ব্ল্যাক ডেথের জন্য দায়ী ‘প্যাথোজেনটি’ ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের প্রথম দিকে ইউরোপেই বিদ্যমান থাকতে পারে
প্লেগের লক্ষ্মণ
ব্ল্যাক এর ভয়াবহতা মোকাবেলা করতে তখন খুব কম ইউরোপীয়রাই সতর্ক সচেতন ছিলো।
এই অদ্ভুত ধরনের ফোলাগুলি থেকে ক্রমাগত রক্ত এবং পুঁজ বের হতো, আর এর সঙ্গে যুক্ত হতো জ্বর, ঠাণ্ডা, বমি, ডায়রিয়া, ভয়ানক মাথা ব্যথা এবং সবশেষে হতো মৃত্যু।
বিউবোনিক প্লেগ ‘লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে’ আক্রমণ করে, যার ফলে ‘লিম্ফ নোডগুলি’ ফুলে যায়। যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে এর সংক্রমণ খুব দ্রুত রক্ত বা ফুসফুসে ছড়িয়ে পরে
প্লেগ কিভাবে ছড়িয়ে পড়লো?
বিউবোনিক প্লেগ ভয়ঙ্কররকম সংক্রমক ছিলো। জিওভান্নি বোকাসিও লিখেছেন,
মমে হয় এটা কোনো সুস্থ মানুষ কোনো প্লেগ আক্রান্তের জামা কাপড় ছুলে সেও সংক্রমিত হয়ে যায়। এমনও দেখেছি কোনো সংক্রমিত ব্যাক্তি রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে বেশ সুস্থ ছিল কিন্তু ভোর বেলায় জানা গেলো সে আর বেঁচে নেই!
আজ, বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন যে ‘ব্ল্যাক ডেথ’, যা এখন প্লেগ নামে পরিচিত,তা মূলত ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামক ব্যাসিলাস দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে। (ফরাসি জীববিজ্ঞানী ‘আলেকজান্ডার ইয়ারসিন’ ১৯ শতকের শেষের দিকে এই জীবাণুটি আবিষ্কার করেছিলেন)
বিউবনিক প্লেগ হল Xenopsylla cheopis নামক সংক্রমিত ফ্লির কামড়ের ফলে সৃষ্ট লসিকাতন্ত্রের একটি সংক্রমণ। খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে যেমন সেপটিসেমিক প্লেগ, সরাসরি সংক্রমিত টিস্যু বা আরেকজন সংক্রমিত ব্যক্তির কফের সংস্পর্শে আসলে রোগটি ছড়াতে পারে। মক্ষিকাটি গৃহ ও ক্ষেতের ইঁদুরের দেহে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং তার পোষকটি মারা গেলে আরেকটি শিকারের সন্ধান করে। ব্যাক্টেরিয়াটি মক্ষিকার কোনো ক্ষতি করে না যা এক পোষক থেকে আরেক পোষকে জীবাণুর বিস্তারে সহায়তা করে।
ব্যাসিলাস বাতাসের মাধ্যমে এমনকি সংক্রামিত মাছি এবং ইঁদুরের কামড়ের মাধ্যমে একজন থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। এই উভয় ধরনের কীটপতঙ্গ মধ্যযুগীয় ইউরোপের প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যেত। তবে এরা বিশেষত সব ধরণের জাহাজে বাড়িতেই ছিল। ফলে এই প্লেগ গুলো শুরতে বন্দর শহরগুলো থেকেই ছড়াতে আরম্ভ করে।
মেসিনাতে প্রথম সংক্রমণ শুরু হওয়ার কিছুদিন পরেই ‘ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ’ ফ্রান্সের মার্সেই বন্দর এবং উত্তর আফ্রিকার তিউনিস বন্দরে ও ছড়িয়ে পড়ে। তারপর এটি রোম এবং ফ্লোরেন্সে পৌঁছেছে,যা ছিলো বাণিজ্য রুটের একটি বিস্তৃত ওয়েবের একদম কেন্দ্রে অবস্থিত দুটি শহর। ১৩৪৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে, ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ প্যারিস, বোর্দো, লিয়ন এবং লন্ডনেও সংক্রমণ হয়েছিল।
আজকের এই সময়ে প্রযুক্তির এতো উন্নয়নের পরও আমরা করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে কতোটা বেগ পেতে হচ্ছে। একবার ভাবুন ৬০০ বছর আগে সেসময়কার অবস্থা কতটা ভয়ঙ্কর ছিল!
ব্ল্যাক ডেথ কীভাবে একজন রোগী থেকে অন্য রোগীতে সংক্রমিত হযচ্ছিল তা কেউই জানত না এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা যায় তাও কেউ জানত না।
কিভাবে প্লেগের চিকিৎসা করতো?
তখন চিকিৎসকরা অশোধিত এবং অপ্রত্যাশিত কৌশলগুলির উপর নির্ভর করতেন যেমন রক্তপাত এবং ফোঁড়াগুলো কে সুচ বা কাপড় দিয়ে গেলে ফেলতো (এই অভ্যাসগুলি বিপজ্জনক এবং অস্বাস্থ্যকর ছিল)। এছাড়াও কুসংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড ও প্রচলওত ছিলো, যেমনঃ- সুগন্ধযুক্ত ভেষজ পোড়ানো এবং গোলাপজল বা ভিনেগারে গোসল করা।

এই পোশাক আর মুখোশ পড়ে ডাক্তাররা চিকিৎসা করতে আসতো
এদিকে এই আতঙ্কের মধ্যে, সুস্থ লোকেরা অসুস্থদের এড়াতে তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল। ডাক্তাররা রোগী দেখতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল; পুরোহিতরা মৃতের শেষকৃত্য পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি করেছিলেন; এবং দোকানিরা তাদের দোকান বন্ধ করে দিয়েছিল, অনেকে বাঁচতে নিজের রক্তের মানুষদেরও ত্যাগ করেছিল।
অনেক লোক শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চলে পালিয়েছিল, কিন্তু সেখানেও তারা এই রোগ থেকে বাঁচতে পারেনি। শুধু মানুষ নয়! গরু, ভেড়া, ছাগল, শুকর এবং মুরগিরাও সংক্রমিত হয়েছিল। সেসময় এতো ভেড়া সংক্রমিত হয়েছিলো যে পুরো ইউরোপ জুড়ে উলের সংকট তৈরি হয়েছিল।
ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ কি স্রষ্টার শাস্তি?
সেসময়ের মানুষজন বায়োলজি সম্পর্কে জ্ঞান ছিলো না। অনেক লোক বিশ্বাস করেছিল যে ‘ব্ল্যাক ডেথ বা কালো মৃত্যু’ হল এক ধরনের ঐশ্বরিক শাস্তি। লোভ, পরনিন্দা, ধর্মদ্রোহিতা, ব্যভিচার এর মতো পাপ বেড়ে যাওয়ায় স্রষ্টা এই শাস্তি দিয়েছে।
এই যুক্তি দ্বারা, প্লেগ কাটিয়ে ওঠার একমাত্র উপায় ছিল ঈশ্বরের ক্ষমা লাভ করা। কিছু লোক বিশ্বাস করত যে এটি করার উপায় হল তাদের সম্প্রদায়কে বিধর্মী এবং অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টিকারীদের থেকে মুক্ত করা। ফলে তারা ১৩৪৮-১৩৪৯ সালে হাজার হাজার ইহুদিকে গণহত্যা করা হয়েছিল।
ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ এর শেষ কিভাবে হয়েছিল?
প্লেগ সত্যিই শেষ হয় নি এবং এটি কিছু বছর পর পরই ফিরে আসে। তবে বন্দর নগরী কর্মকর্তারা আগত নাবিকদের কিছুদিন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখে এর বিস্তারকে ধীর করতে সক্ষম হয়েছিলেন যতক্ষণ না এটি স্পষ্ট হয় যে তারা রোগটি বহন করছে না।
নাবিকদের প্রাথমিকভাবে তাদের জাহাজে ৩০ দিন ধরে রাখা হয়েছিল (একটি ট্রেন্টিনো),একসময় সময়কাল ৪০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এই ৪০ কে ইতালিয়ান ভাষায় বলা হয় ‘কোয়ারিন্টিন’ আর কোয়ারেন্টাইন শব্দটি এখান থেকেই এসেছে। যা আজও ব্যবহৃত হয়।
প্লেগ কি এখনও আছে?
ব্ল্যাক ডেথ মহামারীটি ১৩৫০ এর দশকের গোড়ার দিকেও তার তান্ডব চালিয়েছিল। ১৩৫০ এর পর এর ভয়াবহতা কমে গেলেও এর পরবর্তী কয়েক শতাব্দী প্লেগ পুনরায় আবির্ভূত হয়েছিল। আধুনিক স্যানিটেশন এবং জনস্বাস্থ্য অনুশীলনগুলি এই রোগের সংক্রমণ কে ব্যাপকভাবে প্রশমিত করেছে কিন্তু এটি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।।
অবশ্য এখন ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এখনও প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ১০০০ থেকে ৩০০০ টি প্লেগ রোগের ঘটনা পাওয়া যায়।
পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস কোনটি?
দ্য টেল অফ গেঞ্জিঃ পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস গল্প উপন্যাস পড়তে আমরা কমবেশি সবাই ভালোবাসি। আমাদের বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা ‘আলালের ঘরের দুলাল’। সেটি ১৮৫৮ সালে লিখেছিলেন তিনি। আজ থেকে প্রায় ১৬৩ বছর আগে! অথচ বিশ্বের প্রথম উপন্যাস লেখা হয়েছিল আজ থেকে ১০১২ বছর আগে জাপানি ভাষায়। আবিস্তারিত পড়ুন
দ্য টেল অফ গেঞ্জিঃ পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস
গল্প উপন্যাস পড়তে আমরা কমবেশি সবাই ভালোবাসি। আমাদের বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা ‘আলালের ঘরের দুলাল’। সেটি ১৮৫৮ সালে লিখেছিলেন তিনি। আজ থেকে প্রায় ১৬৩ বছর আগে!
অথচ বিশ্বের প্রথম উপন্যাস লেখা হয়েছিল আজ থেকে ১০১২ বছর আগে জাপানি ভাষায়। আর সেই উপন্যাস লিখেছিলেন একজন নারী, ভাবা যায়?
আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে ১০০৭ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থটিতে চরিত্র ছিল মোট ৩৫০টি আর ছিল অসংখ্য আবেগময় কবিতা। ‘দ্য টেল অফ গেঞ্জি’ নামে এ উপন্যাসটিতে এক রাজপুত্রের ভালোবাসার কাহিনী বিধৃত হয়েছে; এ রাজপুত্র অসংখ্য নারীর সঙ্গ পছন্দ করতেন। উপন্যাসটি রচনা করেছিলেন জাপানের নারী ঔপন্যাসিক মুরাসাকি শিকিবু। এটিই বিশ্বের প্রথম উপন্যাস।
মুরাসাকি শিকিবু
৯৭৮ (মতান্তরে ৯৭৩) খ্রিষ্টাব্দে জাপানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্বসাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক মুরাসাকি শিকিবু। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১০১৪ খ্রিষ্টাব্দে। এক অভিজাত পরিবারে জন্ম। বাবা ছিলেন হেইয়ান সাম্রাজ্যের প্রাদেশিক গভর্নর। পদটি সম্মানজনক হলেও রাজধানীর রাজ-অমাত্যদের মতো সমান মর্যাদার ছিল না। অথচ নবম শতক থেকে তাদের অভিজাত গোষ্ঠীর ফুজিওয়ারারা সম্রাটদের পারিষদ হিসেবে দরবার আলোকিত করেছেন এবং প্রভাব খাটিয়েছেন। ফুজিওয়ারা ললনারা সম্রাজ্ঞী হয়েছেন। দশম শতকের শেষ এবং একাদশ শতকের শুরুতে শুধু ফুজিওয়ারা নো মিচিনাগা তাঁর চার কন্যাকে সম্রাটদের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। এই ফুজিওয়ারা গোষ্ঠীর প্রভাব-প্রতিপত্তি তখন হেইয়ান সাম্রাজ্যে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল। মুরাসাকির জন্মের আগে জাপান বন্ধুহীন এবং বিচ্ছিন্ন এক সাম্রাজ্য ছিল। চীনের তেঙ সম্রাটদের আমলে (সপ্তম থেকে নবম শতক) জাপান থেকে ২০টি দল চীনে নানা মিশনে যায়। এরা ফিরে এসে জাপানের পুরো সাংস্কৃতিক পরিম-লে পরিবর্তন আনে। এতে চীনা ভাষা এবং সংস্কৃতির সংস্পর্শে গিয়ে জাপানের জাতীয় সংস্কৃতির এক শক্তিশালী উত্থান ঘটে। জাপানিরা ক্রমান্বয়ে কানা ভাষাকে চায়নিজ ভাষার বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ করে তুলতে থাকে। মুরাসাকির সময়ে পুরুষেরা চায়নিজ ভাষায় লিখতেন আর মেয়েরা কানা ভাষায়। দুই ভাষায়ই জাপানি সাহিত্য সমৃদ্ধ হতে থাকে।
মুরাসাকি শিকিবুর প্রতিকৃতি
মুরাসাকি সে-সময়কার সৌভাগ্যবতীদের একজন। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে চায়নিজ ক্লাসিক্যাল ভাষা এবং সাহিত্যে শিক্ষা লাভ করেছেন। মুরাসাকি শিকিবুর লেখা ডায়েরি থেকে জানা যায়, তাঁর ছোট ভাইকে এক গৃহশিক্ষক এ-ভাষা শেখাতেন। শুনে-শুনে মুরাসাকি এ-ভাষা শিখে ফেলেন। তাঁর ভাষা শেখার দক্ষতা দেখে তাঁর পিতা বলেছিলেন, তুই যদি আমার ছেলে হতিস, আমার জন্য তা হতো বড় সৌভাগ্যের। মনে করা হয়, তিনি ঐতিহ্যগতভাবে সাহিত্যের পাশাপাশি সংগীত, লিখনশৈলী এবং চিত্রকলায়ও সমান ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। তবে তাঁর শিক্ষাটা সাধারণ্যে গৃহীতব্য ছিল না। কারণ তাতে প্রচলিত গোঁড়ামির প্রশ্রয় ছিল না।
মুরাসাকির বর ছিল তাঁর পিতার এক বন্ধু। পিতার প্রায় সমবয়সী। নাম ফুজিওয়ারা নো নোবুতাকা (৯৫০-১০০১ খ্রি.)। একই বংশ। সম্রাটের দরবারে চাকুরে, আমলা। অনুষ্ঠান-উৎসববিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন। পোশাক-আশাকে অপচয়কারী। তবে প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী। তাঁর অনেক বাড়িঘর, আর ছিল অজ্ঞাতসংখ্যক স্ত্রী এবং রক্ষিতা। মুরাসাকির সঙ্গে বিয়ের পরও এ-ভদ্রলোক অন্যদের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। প্রথা অনুসারে মুরাসাকি পিত্রালয়ে অবস্থান করতেন। স্বামী মাঝেমধ্যে সেখানে মিলিত হতেন। নোবুতাকা একাধিক প্রদেশের গভর্নর ছিলেন এবং বিপুল সম্পদের অধিকারী হন। তাদের এক কন্যা কেনসি (কাতাইকো) ৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করে। এর দুবছর পর নোবুতাকা কলেরায় মারা যান।
স্বামীর মৃত্যুতে মুরাসাকি ভেঙে পড়েন। তিনি তাঁর ডায়েরিতে সে-সময়কার অনুভূতির কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে – ‘আমি মানসিক চাপের মধ্যে বিষাদগ্রস্ত হয়ে গেলাম। দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং সিদ্ধান্তহীনতা পেয়ে বসল আমাকে। কয়েক বছর এতটাই উদাসীন হয়ে রইলাম যে, সময় আর পোশাক-পরিচ্ছদের কোনোই ঠিক-ঠিকানা রইল না। আমার অশেষ নিঃসঙ্গতা এক সময় খুবই অসহ্য হয়ে উঠল। মুরাসাকি শিকিবু স্বামীর মৃত্যুর পর ইম্পেরিয়াল লেডি-ইন-ওয়েটিং হিসেবে সম্রাটের অমত্মঃপুরে প্রবেশ করেন। তাঁকে জাপানের রানি ‘লেডি-ইন ওয়েটিং’ করবার জন্য অনুমোদন করেছিলেন। রানি আকিকো তাঁর এই বিদ্যানুরাগের খবর পেয়েছিলেন হয়তো।
উপন্যাসের প্লট
তিনি রাজদরবারে গিয়ে ওখানে থাকতে শুরু করেন। তারপর ভালোমতো এই রাজদরবারের ইতিহাস নিয়ে খোঁজখবর করেন। এছাড়া প্রতিদিন সেখানে কী ঘটছে তার একটা ডায়েরিও রাখতেন। যে ডায়েরি আজো আছে। সেই গোপন জগতের সব ঘটনা যা দেখেছেন, যা শুনেছেন সব লিখে রাখেন। ঠিক সেইসময় তিনি একটি উপন্যাস লিখতে শুরু করেন। এইভাবে লিখতে লিখতে চুয়ান্ন পর্ব লেখা হয়ে যায়। আর এটিই পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস।
উপন্যাসের কাহিনি খুব সংক্ষেপে এরকমঃ-
সম্রাট কিরিতসুবোর দ্বিতীয় সন্তান গেঞ্জি। তিন বছর বয়সে গেঞ্জির মাতৃবিয়োগ ঘটে। উপপত্নীর সন্তান হলেও সম্রাট তাকে খুব পছন্দ করতেন। সম্রাট তাঁর সন্তানের মায়ের কথা ভুলতে পারেন না। সম্রাট এমন এক রমণীর কথা শুনলেন, যে কিনা দেখতে তাঁর পরলোকগত উপপত্নী, গেঞ্জির মায়ের মতো। এই মহিলার নাম ফুজিতসুবো। তিনি পূর্ববর্তী এক সম্রাটের কন্যা। সম্রাট তাঁকে বিয়ে করলেন। গেঞ্জি এ-মহিলাকে মান্য করে। তাঁর কাছে লালিত-পালিত হয়। যৌবনে উপনীত হয় গেঞ্জি। অত্যন্ত সুদর্শন, ‘হিকারো’ বা সাইনিং গেঞ্জি। তবে রাজনৈতিক কারণে অবনমিত মর্যাদায় নিম্ন পর্যায়ের রাজকর্মচারী হিসেবে তাকে কর্মজীবন শুরু করতে হয়। এ সময় হিকারো গেঞ্জি তাঁর সৎমা ফুজিতসুবোর প্রেমে পড়ে যায়। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তার আগে নো অয়ী নামের এক যুবতীর সঙ্গে বিয়ে হয় গেঞ্জির। সৎমায়ের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে গেলে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গেঞ্জির সঙ্গে ফুজিতসুবোর অবৈধ সম্পর্কের কথা প্রকাশ পেয়ে গেলে গেঞ্জি খুব হতাশ হয়ে পড়ে। স্ত্রীর সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ। তখন সে অনেক নারীর সঙ্গে অতৃপ্ত ও অসম্পূর্ণ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে অবজ্ঞা ও বোকামির শিকার হতে হয়। কেউ-কেউ তাকে হতাশ করে অসময়ে মারাও যায়। একবার সে দেখতে পায় এক সুন্দরী মহিলা তার জানালায় দাঁড়িয়ে আছে। গেঞ্জি অনুমতি ছাড়াই তার কক্ষে প্রবেশ করে। মহিলাকে বিছানায় যেতে বাধ্য করে। ক্ষমতাধর ব্যক্তি বলে মহিলা গেঞ্জিকে বাধা দেয় না।
আরেকবার গেঞ্জি উত্তর পল্লির কিতাইয়ামা পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে যায়। কিতাইয়ামা কিয়োটোতে অবস্থিত। সেখানে সে দশ বছর বয়সী এক মেয়েকে দেখতে পায়। মেয়েটি দেখতে ঠিক ফুজিতসুবোর মতো। সে এ-বালিকাকে অপহরণ করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে এবং ফুজিতসুবোর মতো তাকে শিক্ষিত ও মার্জিতভাবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। মেয়েটির নাম মুরাসাকি। এ-সময় গেঞ্জি গোপনে সম্রাজ্ঞী ফুজিতসুবোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তাতে সম্রাজ্ঞী সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে এই ছেলের নাম রাখা হয় রেইঝেই। এরা দুজন ছাড়া সবাই জানে এই ছেলের পিতা সম্রাট কিরিতসুবো। পরে এই ছেলে ক্রাউনপ্রিন্স এবং লেডি ফুজিতসুবো সম্রাজ্ঞী হন। গেঞ্জি এবং ফুজিতসুবো প্রতিজ্ঞা করে যে, এরা এ গোপন তথ্য কখনো ফাঁস করবে না। সবকিছু গোপন রাখবে।
এ গোপনীয়তার মধ্যে গেঞ্জি এবং তার স্ত্রী অয়ীর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। তার স্ত্রী একটি সন্তান জন্ম দেয়। তবে সন্তানটি মারা যায়। গেঞ্জি দুঃখ পেয়ে আবার হতাশ হয়ে পড়ে। দুঃখ ভুলে যাওয়ার জন্য গেঞ্জি এবার মুরাসাকিকে কাছে পায়। তাকে নিয়ে ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে ওঠে এবং এক সময় তাকে বিয়ে করে।
গেঞ্জির পিতা সম্রাট কিরিতসুবো এ-সময় মারা যান। তার বড় ছেলে সুজেকো সম্রাট হন। সম্রাটের মাতা কোকিডেন কিরিতসুবোর রাজনৈতিক শত্রম্নদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পুত্রের ক্ষমতা সংহত করেন।
গেঞ্জি রাজদ–র ব্যাপারে মোটেও উৎসাহী নয়। এ-সময় তার আরেকটি গোপন প্রেমের তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ে। সম্রাট সুজেকো গেঞ্জির সঙ্গে তার এক রক্ষিতার মিলনদৃশ্য দেখে ফেলেন। সম্রাটের এই গোপন রক্ষিতার কথা শুধু গেঞ্জি জানত।
এদিকে রাজধানীতে সম্রাট সুজেকো তার বাবাকে স্বপ্নে দেখে মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হন। তার হৃদয় ভেঙে যায়। মা কোকিডেন অসুস্থ। তার সিংহাসন ধরে রাখার ক্ষমতা নেই। এই মানসিক অবস্থায় সম্রাট গেঞ্জিকে ক্ষমা করে দেন। গেঞ্জি রাজধানী কিয়োটোতে প্রত্যাবর্তন করে। এ পর্যায়ে সম্রাটের ভ্রাতা রেইঝেই সম্রাট হন। গেঞ্জি রাজকর্মচারীর কাজে ইস্তফা দেয়। এক সময় নতুন সম্রাট জানতে পারেন যে, গেঞ্জিই তার আসল পিতা। সম্রাট পিতার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে গেঞ্জিকে সর্বোচ্চ রাজপদ প্রদান করেন।
বয়সের কারণে গেঞ্জির স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করে। দুর্বল স্বাস্থ্যের জন্য রাজকীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হলেও গেঞ্জির প্রেম ও আবেগময় জীবনে ধীরে-ধীরে অধঃপতন নেমে আসে। সে আরেকটি বিয়ে করে। তাকে ‘ওন্যা সান নো মিয়া’ অর্থাৎ থার্ড প্রিন্সেস বা তৃতীয় রাজকুমারী বলা হয় (এ-নামে জাপানের কানসাইতে একটি শহর রয়েছে)। এই রাজকুমারীর সঙ্গে গেঞ্জির ভাইপোর প্রেম এবং দৈহিক সম্পর্ক তৈরি হয়। তাতে জন্ম হয় প্রিন্স কাওরোর। সবাই জানে কাওরো গেঞ্জির সন্তান, আসলে তা নয়।
বৃদ্ধ বয়সে গেঞ্জির বিয়ে মুরাসাকির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটায়। মুরাসাকি ‘বিকুনি’র (সন্ন্যাসিনী) জীবন বেছে নেন। সন্ন্যাসিনী অবস্থায় মুরাসাকি মারা যান। এ মৃত্যু গেঞ্জিকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। জীবনের কি তা হলে এই পরিণতি? মৃত্যুচিন্তা তাকে পেয়ে বসে। গেঞ্জি এক সময় মারা যায়।
উপন্যাসটি এখানে শেষ হতে পারত। কিন্তু তা বাড়ানো হয়েছে গেঞ্জির পরবর্তী আরো দুই প্রজন্ম পর্যন্ত। উপন্যাসের ৪৫ থেকে ৫৪ অধ্যায় পর্যন্ত তার ব্যাপ্তি। এ অধ্যায়গুলোকে বলা হয় ‘টেন উজি চ্যাপ্টার’। উজির পটভূমিতে এ অধ্যায়গুলো রচিত বলে এরকম নাম। এ অধ্যায়গুলোও প্রেম আর বিরহের।
অ্যালকোহলের সেকাল ও অ্যালকোহলের একালের পানীয় কি একি রকম ?
নেশা মানুষ প্রায় সৃষ্টির শুরু থেকেই করে আসছে। নেশা বলতে বুঝি কোনো একটি নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি আসক্ত বা আকৃষ্ট হয়ে পড়া। আর নেশা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মাধ্যম হচ্ছে পানীয়। বর্তমানে কত রকমের পানীয়ই না প্রচলিত আছে। প্রাচীন যুগেও কিন্তু ব্যাতিক্রম ছিলো না। চলুন আজ কিছু প্রাচীন যুগের পানীয়ের সাথে পরিচিত হই।বিস্তারিত পড়ুন
নেশা মানুষ প্রায় সৃষ্টির শুরু থেকেই করে আসছে। নেশা বলতে বুঝি কোনো একটি নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি আসক্ত বা আকৃষ্ট হয়ে পড়া। আর নেশা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মাধ্যম হচ্ছে পানীয়। বর্তমানে কত রকমের পানীয়ই না প্রচলিত আছে। প্রাচীন যুগেও কিন্তু ব্যাতিক্রম ছিলো না। চলুন আজ কিছু প্রাচীন যুগের পানীয়ের সাথে পরিচিত হই।
১. পুলক
এই পানীয়টি মেক্সিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় এবং এটি টাকিলার একটি প্রাচীন পূর্বপুরুষ হিসেবে কাজ করে। এই পানীয়টি ম্যাগুইয়ের রস পাতানোর পরিবর্তে গাঁজন করে তৈরি করা হয় যা সাধারণত অ্যাগেভ নামেও পরিচিত। এটি একটি টক খামিরের মতো স্বাদ সহ একটি দুধের রঙের পানীয় তৈরি করে এবং এতে প্রচুর স্বাস্থ্যকর প্রোবায়োটিক রয়েছে।
পৌরাণিক কাহিনীতে, এই পানীয় একটি হারিয়ে যাওয়া ঐশ্বরিক স্বর্গে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হয় এবং পানীয়কে ঘিরে পৌরাণিক কাহিনীগুলি ম্যাগুয়ের দেবী ‘মায়াহুয়েল’ জড়িত। এটি প্রধানত ধারণা করা হয়েছিল যে উদ্ভিদের মাঝখানে অ্যাগুয়ামিল সংগ্রহ করা মূলত তার রক্ত। পুলক পানীয়ের ব্যবহার হচ্ছে ২ হাজারেরো অধিক সময় ধরে, এবং এই পানীয় কে ঘিরে বেশ কিছু পৌরাণিক উৎস রয়েছে।
২. সোমা
সোমা ছিল একটি পানীয় যা সাধারণত প্রাচীন ভারতে বৈদিক সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত হতো। বেশ কিছু পুস্তকে উল্লেখ আছে এই পানীয়টি পান করার ফলে হ্যালুসিনেশন হয়। সোমা ছিলেন একজন দেবতা যাকে চাঁদের সাথে বাঁধা নিরাময়কারী এবং একটি নিষিক্ত শক্তি হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
বেশ কিছু লিপি অনুসারে, ঋগ্বেদ সোমা তৈরি করা হয়েছিল গাছের ডাঁটা থেকে তরল নিংড়ে যা দুধ এবং জলের সাথে মিশ্রিত করে তৈরি করা হয়েছিল। এই পানীয়টির নাম এসেছে বৈদিক সংস্কৃত শব্দ থেকে যার অর্থ পাতন, নির্যাস এবং ছিটিয়ে দেওয়া।
৩. শেদেহ
এটি একটি রহস্যময় প্রাচীন মিশরীয় পানীয় যার বিষয়বস্তু এখনও ইতিহাস গবেষকদের মধ্যে অনেক তর্ক বিতর্ক সৃষ্টি করে চলছে। একটা সময় বিশ্বাস করা হতো এই মদ বা পানীয় টি সৃষ্টি করা হয়েছিল এটি ডালিম ফল থেকে সৃষ্ট, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এটি লাল আঙ্গুর থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়।
এই শেদেহ প্রাচীন মিশরের ফারাওদের অতি পছন্দের পানীয় ছিল। প্রাচীন মিশরের রাজা তুতেনখামেনের সমাধিতে এই তরল প্রচুর পরিমাণে ছিল।
৪. কনডিটাম
এটি একটি প্রাচীন রোমানদের মশলাযুক্ত ওয়াইন ছিল। কনডিটামের অনুবাদ করলে এর অর্থ দাঁড়ায় মসলাযুক্ত এবং মধু দিয়ে সিদ্ধ করে তৈরি করা পানীয়। এই ওয়াইন/ পানীয় রোমান সময় থেকে বাইজেন্টাইন যুগ এবং তার পরেও খুব জনপ্রিয় ছিল বলে মনে করা হয়।
এই পানীয় তৈরিতে আরো যোগ করা হতো খেজুরের বীজ, জাফরান, লরেল, গোলমরিচ, ভেজানো খেজুর সহ আরো অনেক কিছু। এটি সেসময় ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে বহুল প্রচলিত পানীয় ছিল।
৫. ফ্যালারিয়ান ওয়াইন
রোমানরা এই পানীয় পছন্দ করতো। এই মদের তিনটি ধরন ছিল একটি শুষ্ক, একটি মিষ্টি আরেকটি হালকা। এই ওয়াইনটি একটি শক্তিশালী হোয়াইট ওয়াইন ছিল যা এখন মাউন্ট ম্যাসিকো অঞ্চলে পাওয়া আঙ্গুর থেকে তৈরি হয়েছিল।আঙ্গুরের মৌসুম শেষে তারা সেগুলো সংগ্রহ করে রোদে শুকাতো। তারা মনে করতো আঙ্গুর গুলো শুকালে তার স্বাদ বেড়ে যাবে পানীয় তৈরির সময়।
প্রাচীন রোমে এই পানীয় এই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, কিছু লোক বাজারে নকল পানীয় ফ্যালারিন ওয়াইনের নাম করে চালিয়ে দিয়েছিল।এমনকি রেমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারকে স্পেনে তার বিজয়ের উদযাপন হিসাবে এই ওয়াইনটির ব্যবহার করেছিলেন।
৬. মিশরীয় বিয়ার
এই পানীয়টি ছিল প্রাচীন মিশরের শ্রমিক শ্রেণির পানীয়। তারা খামির দিয়ে বার্লি গাঁজন করে এবং তা ছেঁকে বিয়ার তৈরি করতো। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে এই বিয়ারের প্রচলিত হয় ৩১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, তার মানে আজ থেকে ৫ হাজার বছর আগে!
মুসলমানরা মিশরের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর সেখানে এসব পানীয় পানের ব্যাপারে ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তবে এখনো টিকে আছে, এবং এখনো তা সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমানে মিশরের মিশরে অ্যালকোহল সেবনের ৫৪% ই এই মিশরীয় বিয়ার।
৭. কাইকেয়ন
এই পানীয়টি ছিল একটি সাইকেডেলিক পানীয় যা প্রাচীন গ্রীস থেকে এসেছিল এবং এর বিষয়বস্তু এবং এতে কী ছিল তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। যাইহোক, বলা হয় যে এতে বার্লি, পনির এবং ওয়াইনের এক অদ্ভুত মিশ্রণ ছিল।
এই ওয়াইনটিকে সেসম একটি যাদুকরী ওষুধ হিসাবে বিবেচনা করা হত এবং এটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল দেবী ডিমিটার এবং এলিউসিসের জন্য। অনুষ্ঠান পালনকারী ও অংশগ্রহণকারীরা এই পানীয় পান করতো দেবীর দর্শন লাভের উদ্দেশ্যে।
৮. রেটসিনা
গ্রীক রেটসিনা হল একটি সাদা বা লাল ওয়াইন যা তার অস্বাভাবিক টারপেনটাইন স্বাদের জন্য পরিচিত যা অ্যালকোহলে উপস্থিত পাইন রজন থেকে আসে। চশমা আবিষ্কারের আগে, ওয়াইনকে পাইন রেজিনে রাখা হয়েছিল যাতে এটি খারাপ হতে না পারে এবং পরে ৩য় শতাব্দীতে, রোমানরা এটিকে ব্যারেলে যুক্ত করে।
এই ওয়াইনটি ৩-৪ হাজার বছর আগের এবং রোমান যুগে এটি একটি খুব জনপ্রিয় ওয়াইন ছিল এবং তা আজ পর্যন্ত সেবন করা হচ্ছে।
৯. পসকা
পসকা প্রাচীন রোমান পানীয়গুলির মধ্যে সবচেয়ে সহজলভ্য পানীয় ছিল। পানি, ভিনেগার,লবন ও ভেষজ যোগ করে এই পানীয় তৈরি হতো। তৃষ্ণা নিবারনের জন্য এই পানীয়টি সেসময়ের সেরা পানীয় ছিল।
তবে এই পানীয় সৃষ্টির উৎস আজে অজানা। তবে এটি ল্যাটিন শব্দ পোটর যার অর্থ পান করা বা গ্রীক শব্দ ইপোক্সিস থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয় যার অর্থ খুব তীক্ষ্ণ।
এই পানীয়টি সেসময় রোমের উচ্চ শ্রেণীর মানুষের দ্বারা তুচ্ছ করা হতো এবং এটি দাস ও শ্রমিক শ্রেণীর জন্য একটি পানীয় ছিল বলে ভাবা হতো।
প্রাচীন রোমের নারীরা রূপচর্চায় কি ব্যাবহার করতো?
সৌন্দর্যের ধারনা মানুষের ভেতরে প্রাচীন কালেই বিকশিত হয়েছিল তা আজ অবধি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের নান্দনিক আবেদনের পছন্দগুলিকে আকার দেয়। প্রাচীন রোমের মানুষদের কাছে সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্য ছিলো ফর্সা বর্ণ, বদামী চোখ। আর মহিলাদের অসাধারণ ফিগারের সাথে স্বর্ণকেশী চুল। সেসময় সৌন্দর্য রক্ষার্থে সাজগোছ করারবিস্তারিত পড়ুন
সৌন্দর্যের ধারনা মানুষের ভেতরে প্রাচীন কালেই বিকশিত হয়েছিল তা আজ অবধি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের নান্দনিক আবেদনের পছন্দগুলিকে আকার দেয়।
প্রাচীন রোমের মানুষদের কাছে সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্য ছিলো ফর্সা বর্ণ, বদামী চোখ। আর মহিলাদের অসাধারণ ফিগারের সাথে স্বর্ণকেশী চুল।
সেসময় সৌন্দর্য রক্ষার্থে সাজগোছ করার জন্য বিভিন্ন প্রসাধনী ও পদ্ধতি ব্যবহার করতো। তবে আজকেই দিনে যে কোনো সাধারণ মানুষ তা করতে পারে কিন্তু প্রাচীন রোমে আর আট দশটা সাধারণ মানুষ রূপচর্চা করতে পারতো না। প্রাচীন রেমের মেকআপ কেবলমাত্র ধনী শ্রেণীর মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। যদি কোনো নিম্ন শ্রেণির নারী মেকাপ করতো তাহলে তাকে প্রায়শই তিরস্কার করতো মানুষজন।
চলুন আজ প্রাচীন রোমের মানুষদের রূপচর্চা বেশ কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে জানি।
১. ত্বকের সৌন্দযের জন্য দুধ দিয়ে স্নান করতেন
প্রাচীন রোমে গায়ের রং ফর্সা হওয়ার গুরুত্ব ছিলো বেশি, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য। আর বেশিরভাগ পুরুষই বিয়ের জন্য ফর্সা ত্বকের নারীর খোঁজ করতো।
আর তাই সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে নারীরা বিশেষ যত্ন নিতেন। ত্বকে দাগ মুক্ত, বালি মুক্ত ও মসৃণ রাখতে মহিলারা বাড়ির বাহিরে খুব একটা বের হতেন না। সারাদিন তারা বাড়ির অন্দরমহলেই কাটিয়ে দিতেন। আবার বের হলে তারা মুখে বিশেষ মাস্ক পড়ে বের হতেন।
বেশ কিছু ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে তারা মুখের উপর সালভ, আনগুয়েন্টস এবং তেলের ব্যবহার সাধারণ বিষয় ছিল। এই উপাদানগুলির প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, বেশিরভাগ উপাদানগুলিকে মিক্স করে একটি পেস্ট তৈরি করে তা মুখে লাগিয়ে রাখতো।
ধনী মহিলারা তাদের ত্বকে যত্নের সাথে দুধ ব্যবহার করতো, অনেক ধনী নারীরা আবার দুধ দিয়ে স্নান ও করতো। দুধে ত্বক সৌন্দর্য করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে কথিত আছে তাই সেসব কথা তারা সহজেই বিশ্বাস করতো।
প্রাচীন রোম কিংবদন্তি অনুসারে, সম্রাট নিরোর স্ত্রী পপ্পা সাবিনা এত বেশি পরিমাণে দুধ ব্যবহার করতেন যে যখনই তিনি ভ্রমণ করতেন তখন গাধার একটি বাহিনী তার সাথে থাকত। বলা হয় যে তিনি দুধ এবং ময়দাযুক্ত তার নিজস্ব একটি রেসিপি তৈরি করতেন যা তিনি তার ত্বকে উপর প্রচুর পরিমানে প্রয়োগ করতেন।
২. চোখের পাপড়ি যত বড় হবে বিয়ের প্রস্তাবের তালিকা তত দীর্ঘ হবে
প্রাচীন রোমে লম্বা দোররা একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হিসাবে বিবেচিত হত, এবং মহিলারা বড় পাপড়ি নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যকর, এবং কখনও কখনও অস্বাস্থ্যকর মাধ্যম অবলম্বন করত।
আর সেজন্য তারা চোখে বিভিন্ন প্রকার কালি ব্যবহার করতো তা ছিলো শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।
৩. চোখের মেকাপ
বলা হয় যে উজ্জ্বল ঝকঝকে রঙগুলি মহিলারা তাদের চোখের আকার বাড়ানোর জন্য আইশ্যাডো হিসাবে ব্যবহার করতেন। রঙিন সবুজ, হলুদ এবং নীলগুলি প্রাকৃতিক খনিজ থেকে সূক্ষ্ম পাউডার তৈরি করা হয়েছিল এবং চোখের পাতায় প্রয়োগ করা হয়েছিল।
একটি কাঠকয়লা ধূসর পাউডার চোখের রূপরেখার জন্য কোহল হিসাবে ব্যবহার করার জন্য দূরবর্তী দেশগুলি থেকে আনা হয়েছিল। এটা বলা হয় যে কোহল চোখের প্রাকৃতিক রঙ বাড়াবে এবং তাদের বড় এবং উজ্জ্বল দেখাবে।
কোহল জাফরান, ছাই, কাঁচ বা অ্যান্টিমনি থেকেও তৈরি করা হয়েছিল। এই সূক্ষ্ম পাউডারটি প্রয়োগ করার জন্য, হাড়ের কাঠিগুলিকে প্রায়শই তেল বা জলে ডুবিয়ে, তারপর কোহল পাউডারে ডুবিয়ে চোখের উপর ব্যবহার করা হতো।
একজনের ভ্রুর মাঝখানে কালো কালি ব্যবহার করে প্রায়শই একটি ভ্রু আঁকা হযতো আর এটিকে প্রাচীনকালে সৌন্দর্যের চিহ্ন হিসাবে বিবেচনা করা হত।
৪. গোলাপী গাল
সৌন্দর্য বাড়াতে মহিলারা লাল গোলাপী বিভিন্ন রঙ নিজেদের গালে ব্যবহার করে। এই কাজটি প্রাচীন রোমের নারীরাও করতেন। তবে তারা কিছু অদ্ভুত পদ্ধতি অবলম্বন করতেন।
রোমান নারীরা তাদের গাল রঙ করতে গোলাপের পাপড়ি ছিড়ে ফেলতেন এবং সেগুলো ঢলে গালে লাগিয়ে গালের রঙ গোলাপি করতেন।
এছাড়াও তারা আরো বেশ কিছু পদার্থ ও ব্যবহার করতেন গাল লাল করতে যেমন লাল চক, অ্যালকানেট এবং কুমিরের মূত্র।
৫. চুল কোঁকড়া ও রঙ করা
প্রাচীন যুগের একটি প্রবাদ আছে, একজন মহিলার মহিলার সৌন্দর্য্য হচ্ছে তার চুল।
আর তেমনি প্রাচীন রোমে মহিলাদের জন্য চুলের গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তারা তাদের পছন্দসই চুলের ধরন পেতে অদ্ভুত সব কান্ড করেছেন।
প্রাচীন রোমের নারীরা চুল কোঁকড়া করতে ব্রোঞ্জের রড ব্যবহার করতেন। এই ব্রোঞ্জের রড কে হালকা গরম করে তা দিয়ে চুল গুলোকে রোলিং করে দীর্ঘক্ষণ রাখা হতো। সাথে অলিভ ওয়েল ও ব্যবহার করতো।
আর যেহেতু সেসময় স্বর্ণকেশী এবং লাল চুলের উচ্চ চাহিদা ছিল, তাই তারা চলের উপর হালকা আস্তরণের রঙ ব্যবহার করতেন। এই রংগুলির বেশিরভাগই শাকসবজি এবং প্রাণীজ পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়েছিল। আর সেই রংগুলো জল এবং তেল দিয়ে ধুয়ে ফেলা যেতে পারতো।

৬. সুন্দর হাসির জন্য চাই সুন্দর দাঁত
এ যুগের মানুষের কাঙ্ক্ষিত বহু জিনিসগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ফকফকে সাদা দাঁত। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন সাদা দাঁত অর্জনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি বিদ্যমান আছে।
যাইহোক, প্রাচীন রোমানরা পশুর হাড়ের ছাই বা দাঁতের ছাই দিয়ে তৈরি তাদের নিজস্ব টুথপেস্ট তৈরি করত।
যদি একজন ব্যক্তি একটি দাঁত হারিয়ে ফেলতেন, তাহলে সবচেয়ে ভালো হাতির দাঁত বা হাড় থেকে তৈরি একটি কৃত্রিম দাঁত একটি সোনার তারের মাধ্যমে তাদের মুখে পূঃণস্থাপন করা হতো।
৭. ঘনঘন মেকাপ নেওয়া
যেহেতু সেসময় ফর্সা ত্বকের চাহিদা ছিল অত্যন্ত প্রচুর তাই সেসময় একধরনের সাদা ক্রিম ব্যবহার করা হতো ত্বকের জন্য। এই ক্রিমটির প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে সীসা।
হ্যাঁ, সীসা বিষাক্ত। তবুও তারা সেটি ব্যবহার করতেন এই ভেবে যে এটি তাদের ত্বকের রঙের পরিবর্তন করবে। বিশেষ করে ধনী নারীরা এই ক্রিম বেশি ঘনঘন ব্যবহার জরতেন। এ জন্য অবশ্য তাদের ত্বকের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতো। তবুও তারা সেসবের কোনো তোয়াক্কা করতেন না।
সেসম রোমান নারীরা এখনকার মতো নেইল পালিশ ও ব্যবহার করতেন! সেসময় নেইল পালিশ তৈরি করা হতো পশুর চর্বি ব্যবহার করে।

পশুর চর্বি একটি হালকা গোলাপী রঙ উৎপন্ন করে যা নখকে সূক্ষ্ম ও উৎকৃষ্ট দেখাতো।
৮. সুগন্ধি ব্যবহার
প্রাচীন রোমানরা শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে বিশেষ যত্ন নিতেন। আর মহিলাদের সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি শরীর থেকে সুগন্ধি প্রস্ফুটিত হওয়া ছিলো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রাচীন রোমেও বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি তৈরি করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে কিছু তরল পদার্থের ছিলো। আর অন্যগুলি আঠালো কঠিন পদার্থের ছিল।
এই সুগন্ধিগুলি ফুল এবং পাতা থেকে তৈরি করা হয়েছিল। জলপাই এবং আঙ্গুরের রস থেকে তৈরি অনফেসিওর ছিলো পারফিউমের মূল উপাদান। আর সেই পারফিউম কে রঙিন করতে মেশানো হতো বিভিন্ন রঙ।

কোথা থেকে এলো টয়লেট পেপার ?
টয়লেট পেপার বা টয়লেট টিস্যু যে নামেই বলেন না কেন, এই পেপারের কাজ কিন্তু সবারই জানা। রেস্টুরেন্ট কিংবা চলতি পথে, নানা কাজে টিস্যু পেপার এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, টিস্যু পেপার ছাড়া এখন কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান চলেই না। খাবারের শেষে, কপালের ঘাম মুছতে, হাতমুখ ধোয়া শেষে টিস্যু পেপার দিবিস্তারিত পড়ুন
টয়লেট পেপার বা টয়লেট টিস্যু যে নামেই বলেন না কেন, এই পেপারের কাজ কিন্তু সবারই জানা। রেস্টুরেন্ট কিংবা চলতি পথে, নানা কাজে টিস্যু পেপার এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, টিস্যু পেপার ছাড়া এখন কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান চলেই না।
খাবারের শেষে, কপালের ঘাম মুছতে, হাতমুখ ধোয়া শেষে টিস্যু পেপার দিয়ে মুখ না মুছলে যেন চলেই না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক জায়গা থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান পর্যন্ত টিস্যু পেপার এনেছে বড় পরিবর্তন। পরিচ্ছনতার ধারণা বদলে দিয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এনেছে নতুন মাত্রা।তবে মলমূত্র ত্যাগের পর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য টয়লেট টিস্যুর বিকল্প আর কিছুই নেই।
আধুনিক টয়লেট পেপার আবিষ্কার হওয়ার পূর্বে মানুষ কি ব্যবহার করতো?
বর্তমানে যে আধুনিক টয়লেট পেপার পাওয়া যায় তার সৃষ্টির সময়কাল আনুমানিক ২০০ বছর। ঠিক কবে থেকে টয়লেট পেপার ব্যবহার শুরু হয়েছে তার সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না।
প্রাচীন চীন
প্রাচীন চীনের মানুষরা টয়লেট এর শেষে কাগজ ব্যবহার করত। এই কাগজ সাধারণ কাগজের চেয়ে তুলনামূলক নরম ছিলো। তবে রাজ আদালতের সদস্যরা যেসব কাগজ ব্যবহার করতেন তা আবার সুগন্ধিযুক্ত ছিল।
চীনে টয়লেট পেপার ব্যবহারের প্রথম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় ৫৮৯ খ্রিস্টাব্দে। যাইহোক, যেহেতু চীনারা খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দীতে কাগজ আবিষ্কার করেছিল, তাই তারা নিশ্চিতভাবে ৫৮৯ খ্রিস্টাব্দের আগেও টয়লেটের উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করে থাকতে পারেন।
ইতিহাস বলছে, ষষ্ঠ খ্রিস্টাব্দে চীনে টয়লেট পেপার ব্যবহার করার রীতি চালু ছিল। এরপর চতুর্দশ শতকে মিং বংশের শাসনকালে চীনের রাজ প্রাসাদে এই কাগজের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়। ১৩৯৩ সালে শুধুমাত্র রাজ পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য বছরে ৭,২০,০০০ টুকরো টয়লেট পেপার দরকার হত। প্রতিটি টুকরোর মাপ ছিল ৬০ সেমি X ৯০ সেমি।
প্রাচীন চীনের কাগজ
প্রাচীন রোম
প্রাচীন রোমানরা একটি লাঠিতে একটি স্পঞ্জ ব্যবহার করত, যাকে বলা হয় জাইলোস্পনজিয়াম। এই নরম ডিভাইসটি ব্যবহার শেষে ভিনেগারে ভরা একটি বালতিতে ফেরত দিতে হতো, যেনো পরবর্তী তে অন্য কোনো ব্যক্তি সেটি ব্যবহার করতে পারে।
প্রাচীন গ্রীক
প্রাচীন গ্রীকরা মোছার জন্য সিরামিক টুকরো ব্যবহার করত। (বলাই বাহুল্য, সেই পাথর ও ছিদ্রের কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া এবং অর্শ্বরোগ হয়)। এই সিরামিকে তারা নিজেদের শত্রুর নাম লিখে রাখতো।
সিরামিকে শত্রুর নাম খোদাই করে গ্রীকরা তা ব্যবহার করতো
এই সিরামিকের টুকরোকে বলা হত পেসসোই। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা গ্রীক সাম্রাজ্যের পাওয়া বিভিন্ন নথি থেকে এটি আবিষ্কার করেছিলেন। এমনকি একবার একটি গুহায় পাওয়া যায় সেই সময়কার মানুষের মল। যা পরীক্ষার পর পেসোইয়ের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।
সেসময়ে পাবলিক টয়লেটগুলোতে গ্রীকরা পেসসোই রেখে দিত। যেই এই টয়লেট ব্যবহার করবে সেই তার শত্রুর বিরুদ্ধে কিছু করতে পারল বলে ভেবে নিতে পারবে। অর্থাৎ এটিও তাদের এক ধরনের যুদ্ধ বলা যায়। শত্রুর বিরুদ্ধে কিছু করা।
প্রাচীন গ্রীসের কিছু পেসসোই
প্রাচীন জাপান
অষ্টম শতাব্দীর দিকে জাপানীরা তাদের মলদ্বারের বাইরের এবং অভ্যন্তর পরিষ্কার করার জন্য এক ধরণের কাঠের কাঠি ব্যবহার করত। যেটার নাম ছিল চুগি। এছাড়াও পানি, পাতা, ঘাস, পাথর, পশুর চামড়া এবং ঝিনুক ব্যবহার করত। এটি ছিল প্রাচীনকালের মানুষের কথা। আর মধ্যযুগে মরিসন জাতিরা ব্যবহার করত শ্যাওলা, গাছের ছাল, খড়, এবং কাপড়ের টুকরো।
লোকেরা এতসব জিনিস ব্যবহার করেছিল যে একজন ফরাসী ঔপন্যাসিক ফ্রান্সোইস রাবেলাইস ষোড়শ শতাব্দীতে এই বিষয়টি নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখেছিলেন। তার কবিতা পশ্চিমা বিশ্বে টয়লেট পেপারের প্রথম উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন এদের শুধু হাঁসের মাথা ব্যবহার করাই বাদ আছে।
আধুনিক টয়লেট পেপারের ইতিহাস
১৮৫৭ সালে, জোসেফ সি. গেয়েটি টয়লেট পেপারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কাগজ বিক্রি শুরু করেন। তার পণ্য একটি বাক্সে কাগজের পৃথক শীট দ্বারা গঠিত। তিনি অ্যালোভেরার নির্যাস দিয়ে এটিকে মিশ্রিত করেন এবং তার উপাধির সাথে একটি জলছাপ যুক্ত করেছিলেন।
১৮৭১ সালে, শেঠ হুইলার রোল্ড এবং ছিদ্রযুক্ত টয়লেট পেপার পেটেন্ট করেছিলেন।
১৮৯০ সালে, স্কট পেপার কোম্পানি একটি রোলে টয়লেট পেপার বিক্রি শুরু করে।
১৯৩০ সালে, নর্দার্ন টিস্যু কোম্পানি স্প্লিন্টার-মুক্ত টয়লেট পেপার বিক্রি শুরু করে। এটি সমস্ত ব্যবহারকারীদের জন্য কি একটি স্বস্তিদায়ক বিষয় ছিল!
১৯৪২সালে, আরেকটি বিপ্লব ঘটেছিল। ইংল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুস পেপার মিল অ্যান্ড্রেক্স প্রবর্তন করেছিল, প্রথম টু-প্লাই টয়লেট পেপার।
১৯৫৪ সালে, নর্দান টিস্যু কোম্পানি প্রথম রঙিন টয়লেট পেপার বিক্রি শুরু করে।
১৯৫৫ সালে, স্কট পেপার কোম্পানি প্রথমবারের মতো টিভিতে টয়লেট পেপারের বিজ্ঞাপন দেয়।
২০২০ সালের মার্চ মাসে, COVID-19 মহামারী চলাকালীন, একাধিক দেশ টয়লেট পেপার কেনার আতঙ্কের কথা জানিয়েছে, যা এর ঘাটতির কারণ হয়েছিল।
যাইহোক, এটি প্রথম টয়লেট পেপার সংকট ছিল না।
১৯৭৩ সালে প্রথম টয়লেট পেপার এর সংকট দেখা দিয়েছিল।
১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে তেলের সংকট দেখা দেয়; যা জাপানে গুজব ছড়িয়ে দেয় যে দেশটি টয়লেট পেপার ফুরিয়ে যাচ্ছে।
জাপানি গৃহিণীরা টয়লেট পেপার কেনার উন্মাদনায় সাড়া দিয়েছিল। প্রতিদিন শত শত দোকানের সামনে অপেক্ষা করত যতটা সম্ভব রোল হাতে পাওয়ার জন্য।
১৯ শে ডিসেম্বর, ১৯৭৩-এ, জনি কারসন, একজন জনপ্রিয় আমেরিকান কৌতুক অভিনেতা, টয়লেট পেপার ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য টুনাইট শো-তে রসিকতা করেছিলেন, যা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল এবং টয়লেট পেপারের প্রকৃত ঘাটতি ছিল।
কারসন পরে তার রসিকতার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং আশা প্রকাশ করেছিলেন যে লোকেরা তাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসাবে মনে করবে না; যে টয়লেট পেপারের সংকট সৃষ্টি করেছিল।
টয়লেট পেপার উৎপাদন পরিবেশের উপর একটি বিশাল প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন, টয়লেট পেপার তৈরির জন্য পর্যাপ্ত কাঠ সরবরাহ করতে প্রায় ২৭,০০০ এর ও বেশি গাছ কাটা হয়।
দাসপ্রথার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কৃষ্ণাঙ্গরা না শ্বেতাঙ্গরাও দাস ছিলো । কি সেই ইতিহাস ?
শ্বেতাঙ্গ দাস: ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা এক অধ্যায় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো প্রথার একটি হচ্ছে দাসপ্রথা। খ্রীস্টপূর্ব অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রাচীন ব্যবিলিয়নে দাস প্রথার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। তারও আগে প্রাচীন মিশরে আজ থেকে (৩.৫ থেকে ৪ হাজার) বছর আগে দাসপ্রথার প্রচলন ছিল বলে গুঞ্জন শুনা যায়, তবে সেই গুঞ্বিস্তারিত পড়ুন
শ্বেতাঙ্গ দাস: ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা এক অধ্যায়
পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো প্রথার একটি হচ্ছে দাসপ্রথা। খ্রীস্টপূর্ব অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রাচীন ব্যবিলিয়নে দাস প্রথার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। তারও আগে প্রাচীন মিশরে আজ থেকে (৩.৫ থেকে ৪ হাজার) বছর আগে দাসপ্রথার প্রচলন ছিল বলে গুঞ্জন শুনা যায়, তবে সেই গুঞ্জন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
দাসপ্রথার কথা শুনলেই প্রথমেই চোখে ভাসে একদল কৃষ্ণাঙ্গের মুখ, যাদেরকে আটলান্টিক পাড়ি দিতে হয়েছিলো সাদা চামড়ার লোকদের অধীনে গতর খাটাবার জন্য? ইউরোপীয়রা নিজেদের উপনিবেশগুলোকে আরও চাঙ্গা করে তুলতে অন্ধকার মহাদেশ থেকে যাদের ধরে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলেছিল এক নতুন বিশ্বে। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে উনবিংশ শতাব্দীর প্রায় শেষদশক পর্যন্ত চলা এই নির্মম দাস ব্যবসার শিকার হয়েছিলো প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ কৃষ্ণাঙ্গ।
তবে ইতিহাসের পাতায় যে শুধু কৃষ্ণাঙ্গরাই দাসত্বের শিকার হয়েছিলেন তা কিন্তু নয়। সপ্তদশ (১৬০০-১৬৯৯) শতকে বিশ্বে কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের চেয়ে শেতাঙ্গ দাস বেশি বিক্রি হয়েছে এবং শ্বেতাঙ্গ দাসদের মৃত্যুর হার ছিল শতকরা ৩৭ থেকে ৫০ ভাগ। শেতাঙ্গ দাস ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়, যা ইতিহাসের বইতে লেখা নেই।
কিন্তু এই শ্বেতাঙ্গ দাস ব্যবস্থার দিকে ইতিহাসবিদেরা তেমন একটা দৃষ্টিপাত করেনি কেন?
কারণ হিসেবে ইতিহাসবিদ রবার্ট ডেভিস তার বইয়ে ব্যাখ্যা করেছেন,
আমেরিকায় দাসপ্রথা শুরু হয়েছিল শেতাঙ্গদের দিয়ে। ১৬১৯ সালের ইস্টারে আমেরিকায় কয়েকটি ব্রিটিশ উপনিবেশে সর্বপ্রথম ১০০ শেতাঙ্গ শিশুকে দাস হিসেবে আনা হয়। এর প্রায় চার মাস পর কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের প্রথম জাহাজটি আমেরিকায় পৌঁছায়। অবশ্য মূলধারার ইতিহাসবিদরা এসব শেতাঙ্গ শিশুদেরকে দাস হিসেবে মানতে নারাজ। বরং এদেরকে তারা ‘চুক্তিভিত্তিক কর্মী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অনেক ইতিহাসবিদই মনে করেন, শেতাঙ্গ এসব দাসদের শ্রমের বিনিময়ে ধনসম্পদ ও অধিকার আদায়ের সুযোগ ছিল। যদিও শেতাঙ্গ দাসদের বেশিরভাগই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবর্ণনীয় নির্যাতনের কারণে মারা যেত। এ সময় আমেরিকায় হাজার হাজার শেতাঙ্গ দাস রপ্তানি হয়েছে। যাদের মধ্যে নারী, শিশু এমন-কি অল্প বয়সী বাচ্চারাও ছিল।
কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের উপর যেসব নির্যাতন চলত, তার সবই চলত শ্বেতাঙ্গদের উপরও। দাস মালিকরা সবচেয়ে জঘন্য উপায়ে তাদির শাস্তি দিত। নিজের হাতে ফাঁসি কার্যকর করত, শাস্তি হিসেবে হাত ও পা পুড়িয়ে ফেলত। কোনো কোনো শেতাঙ্গ দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং বাজারে বিক্রির সময় তাদের মাথার উপর বর্শা ধরে রাখা হতো, উদ্দেশ্য অন্যান্য বন্দিদের সতর্ক করা।
এসব শেতাঙ্গ দাসদের সবাই ছিল আইরিশ। ব্রিটেনের রাজা ষষ্ঠ জেমস ও রাজা প্রথম চার্লস আইরিশদের দাস হিসেবে বিক্রি করার এ নিয়ম চালু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লর্ড অলিভার ক্রোমওয়েলও এ ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন।

রাজা ষষ্ঠ জেমস ৩০ হাজার আইরিশ বন্দিকে নিউ ওয়ার্ল্ডের (ব্রিটিশরা যখন পৃথিবীর পশ্চিমাঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তৃত করছিল, তখন তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নিউ ওয়ার্ল্ড’। যেটি এখন ‘আমেরিকা’ নামে পরিচিত) কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করে আইরিশ দাস বাণিজ্য শুরু করেন। পশ্চিম ভারতীয় দীপপুঞ্জে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) বসবারসরত ইংরেজদের কাছে ১৬২৫ জন আইরিশ রাজনৈতিক বন্দিকেও দাস হিসেবে বিক্রির ঘোষণা দেন জেমস।
সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে অ্যান্টিগা ও মন্টসেরাতের দাসদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল আইরিশরা। এমন-কি এ সময় মন্টসেরাতের মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগই ছিল আইরিশ দাস।
রাজা ৬ ষ্ঠ জেমস
অতি দ্রুতই ইংরেজ বণিকদের কাছে দাসদের অন্যতম উৎসে পরিণত হলো আয়ারল্যান্ড। নিউ ওয়ার্ল্ডের প্রথমদিকের দাসদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শেতাঙ্গ আইরিশ।
১৬৪১ থেকে ১৬৫২ সালের মধ্যে ইংরেজরা প্রায় পাঁচ লাখ আইরিশদের হত্যা করে এবং ৩০ হাজার বন্দিকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়। মাত্র এক দশকেই আয়ারল্যান্ডের জনস্যংখ্যা ১৫ লাখ থেকে নেমে দাঁড়ায় মাত্র ৬ লাখে।
আইরিশ নাগরিকদের মধ্যে যখন বাবাদেরকে ব্রিটিশরা আমেরিকায় নিয়ে যেত, তখন তাদের সাথে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিতে দিত না। ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য ছিল, পরে বাড়িহীন অসহায় এসব আইরিশ নারী ও শিশুদেরকেও দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া।

১৬৫০ সালের মধ্যে ১ লাখেরও বেশি অাইরিশ শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পশ্চিম ভারতীয় দীপপুঞ্জ, ভার্জিনিয়া ও নিউ ইংল্যান্ডে বসবাসরত ইংরেজদের কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয় ব্রিটিশরা। ১৭ শতকের পঞ্চাশের দশকে অন্তত ৫২ হাজার অাইরিশকে ভার্জিনিয়া ও বার্বাডোসে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল নারী ও শিশু। ১৬৫৬ সালে লর্ড ক্রোমওয়েল দুই হাজার আইরিশ শিশুকে জ্যামাইকায় বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে দাস হিসেবে বিক্রির আদেশ দেয়। অনেকেই এখন এসব আইরিশদের দাস হিসেবে স্বীকার না করলেও ১৭ ও ১৮ শতকে তাদের অবস্থা ছিল ‘মানুষরূপী গৃহপালিত পশু’র মতোই। ১৭ শতকের গোড়ার দিকে শেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ দাস বাণিজ্য প্রায় একইসাথে শুরু হয়েছিল এবং কৃষ্ণাঙ্গ দাসরা ছিল শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল। এমনকি আইরিশ দাসদের তুলনায় আফ্রিকান দাসদের প্রতি ভালো ব্যবহার করা হতো।
১৭ শতকের শেষ দিকে আফ্রিকান দাসরা ছিল অনেক ব্যয়বহুল (৫০ স্টার্লিং পাউন্ড), যেখানে আইরিশ দাসদের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৫ স্টার্লিং পাউন্ড। কম দাম হওয়ায় তাদের হত্যায়ও মালিকদের বেশি ক্ষতি হতো না বা তাদের হত্যাকে বড় অপরাধ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো না।
ইংরেজরা এক পর্যায়ে আইরিশ নারী ও শিশুদের ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া দিতে শুরু করল। এতে তাদের দুদিক দিয়ে ‘লাভ’ হলো। এসব নারীদের দিয়ে তারা নিজেদের যৌন ক্ষুধাও মেটাত, আবার তাদের দিয়ে উৎপাদনও বাড়ত। যদি কখনও কোনো নারী দাসত্ব থেকে মুক্তিও পেত, তারপরও দেখা যেত তার সন্তানরা এখনও দাস হিসেবে রয়ে গেছে। অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এসব আইরিশ নারীরা সন্তানের মায়া না ছাড়তে পেরে পুনরায় দাসত্ব গ্রহণ করত।
পরে ইংরেজরা আইরিশ নারী ও আফ্রিকান পুরুষদের ব্যবহার করে আরও বেশি মুনাফা অর্জন করতে চাইল। তারা আইরিশ নারী ও আফ্রিকান পুরুষদের দিয়ে বেশি বেশি সন্তান উৎপাদন করত, যাতে নতুন করে অর্থ খরচ করে তাদেরকে আর দাস ক্রয় করতে না হয়। আবার আইরিশ-আফ্রিকান সংমিশ্রণে যেসব শিশু জন্মলাভ করত, তাদের দামও ছিল অনেক চড়া। এ ধারা কয়েক দশক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ১৬৮১ সালে বাণিজ্যিক স্বার্থে এভাবে সন্তান উৎপাদনকে নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাশ হয়। কিন্তু এ আইনের পেছনের মূল ঘটনা হচ্ছে, স্থানীয় ইংরেজরা এভাবে সন্তান উৎপাদন করতে থাকায় একটি বৃহৎ দাস পরিবহন কোম্পানির আয় কমে যাচ্ছিল। আইনটি বাস্তবায়নের পেছনে এ কোম্পানিটির হাত ছিল।
ইংরেজরা এক শতাব্দী ধরে আইরিশদের দাস হিসেবে বিক্রির ধারা চালু রেখেছিল। ইতিহাস বলে ১৭৯৮ সালের আইরিশ বিপ্লবের পরও হাজার হাজার আইরিশকে আমেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়ায় দাস হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছিল ব্রিটিশরা। আফ্রিকান ও আইরিশ দাসদের প্রতি ভয়ানক আচরণ করেছে ইংরেজরা। একবার আটলান্টিক মহাসাগরে ১৩শ’র বেশি দাসকে জাহাজ থেকে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যাতে জাহাজের ক্রুদের খাবারের সঙ্কট না হয়। ১৮৩৯ সালে অবশেষে ব্রিটেন দাস পরিবহনের মতো এ ঘৃণ্য কাজ থেকে সরে আসে। অবশ্য জলদস্যুরা তারপরও এ কাজে লিপ্ত ছিল। পরে নতুন আইনের মাধ্যমে অাইরিশদের এ দুঃখ অাস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে আসে।
কিন্তু কেউ যদি মনে করে দাসপ্রথা শুধু কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যেই ছিল, তা হবে পুরোপুরি ভুল। আইরিশদের দুর্দশাকে তাহলে খাটো করে দেখা হবে। আইরিশদের এ দুর্দশরা কথা অবশ্যই ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থানের যোগ্য।
প্রাচীন কালেও ছিলো ভূয়া ডাক্তার । স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাচীন কালের কিছু জঘন্য পদ্ধতিও ছিলো। পদ্ধতিগুলো কি?
স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাচীন কালের কিছু জঘন্য পদ্ধতি মানুষ মাথার টাক পড়া আটকাতে মাথায় রাজহাঁসের মল লাগাতো, দাঁত সাদা করার জন্য মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করতো, গর্ভনিরোধক হিসাবে কুমিরের গোবর, এবং আরও অনেক কিছু… আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল কী কাজ করেবিস্তারিত পড়ুন
স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাচীন কালের কিছু জঘন্য পদ্ধতি
মানুষ মাথার টাক পড়া আটকাতে মাথায় রাজহাঁসের মল লাগাতো, দাঁত সাদা করার জন্য মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করতো, গর্ভনিরোধক হিসাবে কুমিরের গোবর, এবং আরও অনেক কিছু…
আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল কী কাজ করে এবং কী করে না সে সম্পর্কে জ্ঞান। দ্বিতীয়টি হল টয়লার পেপার এবং টুথপেস্টের মতো ক্ষুদ্র উদ্ভাবন যা আমাদের জীবনের মান অনেক উন্নত করেছে।
তৃতীয়টি হল যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের গৃহস্থালীর পণ্যগুলির উৎপাদনের খরচের পরিমাণ কমিয়ে এনেছে, যার খরচ প্রায় সকল সাধারণ মানুষের বহনের সক্ষমতা আছে।
বর্তমানে আমরা টুথব্রাশ, টুথপেষ্ট কিংবা টয়লেট পেপার যা-কিছু ব্যবহার করছি তা ব্যবহারের সময় ২০০ বছরের বেশি নয়।
আজ আপনাকে আমাদের আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস সম্পর্কে জানাবো। ব্যাপারগুলো হয়তো ভয়ঙ্কর শোনাতে পারে, কিন্তু সত্যিই সেগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছিল।
১. মুখ ধৌত করতে মানুষের প্রস্রাব
সময়ের সাথে সাথে, প্রস্রাব অ্যামোনিয়াতে পচে যায়, যার মধ্যে ব্লিচিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রাচীন রোমানরা পুরানো হয়ে যাওয়া মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করত এবং এটি দিয়ে তাদের মুখ ধুয়ে ফেলতে।
প্রস্রাবের অ্যামোনিয়া দাগ দূর করে এবং রোমানদের হাসিকে আরও সুন্দর করে তোলে। প্রস্রাবে অনেক দুর্গন্ধ থাকার পরেও রোমানরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে গেছে
পম্পেই নগরীতে পাওয়া প্রস্রাব রাখার পাত্র
ধনী রোমানরা পর্তুগিজদের মূত্র কিনে এনেছিল, সেসময় রোমান সাম্রাজ্যের মানুষজন মনে করতো, পর্তুগিজদের মূত্রের মান ভালো ও আরো ভালো বেশি ভালো কাজ করে।
২. অপরিচিত মানুষদের সাথে বাট ব্রাশ শেয়ার করা
প্রাচীন রোমানরা ছিলো চমৎকার নির্মাতা। সেই হাজার বছর আগেই তারা পাবলিক টয়লেট তৈরি করেছিল, এমনকি সেই পাবলিক টয়লেটে জলের প্রবাহও ছিল। পাবলিক টয়লেটগুলির লক্ষ্য ছিল রোমের মতো বড় রোমান শহরগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি উন্নত করা।
যাইহোক, মলত্যাগের পরে মলদ্বার মুছার জন্য জাইলোস্পনজিয়াম (ল্যাটিন ভাষায় একটি লাঠিতে স্পঞ্জ) ব্যবহার করতো।
ব্যবহারের পরে, জাইলোস্পনজিয়ামকে একটি ভিনেগার বা লবণ জলে ভরা বালতিতে রেখে দিতো যাতে পরবর্তীতে অন্য ব্যক্তি এটি ব্যবহার করতে পারে।
বলা বাহুল্য, আর এজন্যই শীঘ্রই সমস্ত রোমানরা কৃমি এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
৩. গর্ভধারণ আটকাতে কুমিরের মূত্রের ব্যবহার
১৮৮৯ সালে, প্রত্নতাত্ত্বিকরা কাহুন গাইনোকোলজিকাল প্যাপিরাস খুঁজে পান, যা প্রাচীন মিশরীয়দের চিকিৎসা পাঠ্য। আর এটি ছিল ১৮৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (প্রায় ৪ হাজার বছর পূর্বে)।
অন্যান্য জিনিসের মধ্যে, প্যাপিরাসে গর্ভাবস্থা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে তিনটি নির্দেশিকা রয়েছে।
একটি পদ্ধতি প্রাচীন মিশরীয় নারীদের কুমিরের গোবর নিতে এবং যৌন মিলনের আগে যোনিতে মিশ্রণটি ঢোকানোর নির্দেশ দেয়।
যেহেতু গোবরে ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাই এটি শুক্রাণুনাশক হিসাবে কাজ করতে পারে।
যাইহোক, এই গর্ভনিরোধ পদ্ধতির কোন পরীক্ষামূলক প্রমাণ নেই, তাই এটি চেষ্টা করবেন না।
৪. পশুর মল দিয়ে টাক পড়া নিরাময় করা
সৃষ্টির শুরু থেকেই টাক পড়া নিয়ে পুরুষদের উদ্বেগ ছিল। এমনকি ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান পুরুষরাও টাক থেকে রেহাই পাননি।
উদাহরণস্বরূপ, জুলিয়াস সিজার তার চুলের অভাব লুকানোর জন্য তার মাথায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ফ্রান্সের লুই চতুর্দশ পরচুলা তৈরি করার জন্য নিজের একটি ছোট বাহিনী তৈরি করেছিলেন যাতে নিজের টাক লুকিয়ে রাখতে পারেন।
আপনি কি কখনো নিজের টাক সমস্যা দূর করতে মুরগীর মূত্র মাথায় লাগাতে রাজি হবেন?
স্বাভাবিকভাবেই টাক সমস্যা দূর করতে সেসময়েও ডাক্তার ও ঔষধের শরণাপন্ন হতো। বিখ্যাত গ্রীক চিকিত্সক হিপোক্রেটিস (৪৬০-৩৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) কবুতরের বিষ্ঠা, আফিম, হর্সরাডিশ, বিটরুট এবং মশলার মিশ্রণ মাথায় মাখতে পরামর্শ দিতেন।
দশম শতাব্দীতে, শক্তিশালী ভাইকিং যোদ্ধারা, যারা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং চেহারা সম্পর্কে খুব সংবেদনশীল ছিল, তারা তাদের মাথায় রাজ হংসের মূত্র ঘষে টাক পড়া আটকাতে চাইতো।
আর ১৭ শতকে ইংরেজরা তাদের মাথায় মুরগির মূত্র এবং লাই (সাবান তৈরির উপাদান) এর মিশ্রণ প্রয়োগ করেছিল।
৫. নকল দাঁত
মানুষজন যখন নিজেদের দাঁত হারাতে শুরু করেছিলো, তখনই সেটির প্রতিস্থাপনের উপায় খুঁজে বের করতে চেষ্টা করতে শুরু করেছিল। আর তাই দাঁতের ডাক্তাররা নকল দাঁত তৈরির জন্য হাতির দাঁত, কিংবা পশুপাখির দাঁত দিয়ে দাঁতের অভাব পূরণের চেষ্টা করেছিলেন।
শুনতে হয়তো ভয়ংকর লাগতে পারে, তবে ডেন্টিস্টরা জানতেন যে নকল দাঁত তৈরির জন্য মানুষের দাঁতই সেরা দাঁত।
আর এজন্য কখনও কখনও, ধনীরা দরিদ্রদের দাঁত তুলে নেয়ার জন্য অর্থ প্রদান করতো।
এজন্য সবচেয়ে ভালো উদাহরণ আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন (১৭৩২-১৭৯৯)। ওয়াশিংটন এর দাঁত সবগুলোই কম বয়সেই পড়ে গিয়েছিলো, আর তাই তিনি দাঁতের অভাব পূরণ করতে আফ্রিকান আমেরিকান ক্রীতদাসদের কাছ থেকে দাঁত কিনেছিলেন।
জর্জ ওয়াশিংটন এর দাঁত
এই নকল দাঁতের ঘটনা আরও বিভৎস রূপ ধারণ করে যখন মানুষ মৃত মানুষের দেহ থেকে দাঁত তুলে ফেলতো।
১৮১৫ সালে ওয়াটারলুতে যুদ্ধের পরে মৃতদের থেকে দাঁত ব্যবহার করা সবচেয়ে কুখ্যাত ঘটনাগুলির মধ্যে একটি। মেথরকারীরা তাদের দাঁত সহ মৃত সৈন্যদের সবকিছু লুট করে নিয়েছিল।
ওয়াটারলু থেকে মৃত সৈন্যদের দাঁত দিয়ে তৈরি দাঁতগুলি “ওয়াটারলু দাঁত” নামে পরিচিত হয়।
৬. জোঁক দিয়ে চিকিৎসা
প্রাচীন মিশরীয়দের সময় থেকে, ডাক্তাররা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা হিসাবে জোঁক ব্যবহার করতেন। এই জোঁকের ব্যবহার সপ্তদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতেও ব্যবহার হয়েছে সামান্য।
সেসময় চিকিৎসকরা বিশ্বাস করতো মানুষের শরীরে রোগ হয় দেহের চারটি মৌলিক রসবোধের ভারসাম্যহীনতার কারনে। যদি তখন একজন ব্যক্তির গাল লাল থাকতো তাকে প্রদাহ এবং জ্বর সহ, রক্তপাতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
রক্তপাতের একটি সাধারণ পদ্ধতি ছিল ব্যক্তির ত্বকে জোঁক প্রয়োগ করা।
অনাকাঙ্ক্ষিত বা অদ্ভুত আচরণের চিকিৎসার জন্যও জোঁক ব্যবহার করা হতো। যদি একজন ব্যক্তি খুব প্রফুল্ল বা খুব উচ্চস্বরেকথা বলতো তাকেও শান্ত করার জন্য জোঁকের থেরাপি দেয়া হতো।
কিন্তু আজ আমরা জানি যে একজন রোগীকে তার রক্ত দিতে দিলেই তাকে দুর্বল করে দেয়।
জোঁক থেরাপি
৭. প্রচুর পরিমাণে মধু মিশিয়ে মানুষের মাংস খাওয়া
প্রাচীন চীনের নথি ঘাটলে ‘হানি পার্সন’ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। যা ছিলো একটি আশ্চর্য ঔষধ যা ভাঙা অঙ্গ এবং ক্ষত নিরাময় করতে দারুণ কাজ করতো।
এই ঔষধটি তৈরির প্রক্রিয়া একটু অদ্ভুত ধরনের ছিল। সেসময় যারা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন তারা বৃহত্তর ভালো স্বার্থের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করতেন। সেজন্য তারা প্রচুর পরিমাণে মধু খেতেন, এবং একটা সময়ে মধু খাওয়ার ফলেই তাদের মৃত্যু হতো। মৃত্যুর পর তাদের দেহ মধু দিয়ে স্নান করিয়ে মধূতে ভর্তি কোনো কফিনে তাদের দেহ রেখে দেওয়া হতো। আর ১০০ বছর পর সেই মৃতদেহ ও মধুর মিশ্রণে সেই অসাধারণ ঔষধটি প্রস্তুত হতো।
সবশেষে কিছু কথা
এই অদ্ভুত ও অস্বাস্থ্যকর কিছু পদ্ধতির মধ্যে বেশ কিছু আসলেই কাজ করেছিল।
এই ধরুন প্রস্রাবে অ্যামোনিয়া থাকে, তাই আমাদের দাঁত সাদা করে। কুমিরের গোবর আসলে ক্ষারীয়, যা শুক্রাণুকে ধ্বংস করে এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
এছাড়া মানুষের দাঁত দিয়ে নকল দাঁত বানানোও আধুনিক চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন এনেছে।
তবে বাট ব্রাশ শেয়ার করে নেওয়া, মানুষের মৃতদেহকে মধু দিয়ে খাওয়া, জোঁক দেওয়া বা মাথায় পাখির মল ছড়িয়ে টাক নিরাময় করা, এই পদ্ধতি গুলো কেবল ঘৃণ্যই নয়, সম্পূর্ণ অকার্যকরও।
প্রাচীন ও মধ্যযুগের রহস্যময় কোন বইগুলো ?
প্রত্নতাত্ত্বিকরা সর্বদা এমন সকল জিনিসের সন্ধানের সন্ধানে থাকেন, যা বিশ্বের রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করে। কখনো কখনো তারা গুপ্তধন ছাড়াও বই কিংবা ছোটখাটো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে বের করেন, যা তাদেরকেই বিস্মিত করে। আর এই ধরনের আবিষ্কার গুলো ইতিহাসের গতিপথের পরিবর্তন ও পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে। দবিস্তারিত পড়ুন
প্রত্নতাত্ত্বিকরা সর্বদা এমন সকল জিনিসের সন্ধানের সন্ধানে থাকেন, যা বিশ্বের রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করে।
কখনো কখনো তারা গুপ্তধন ছাড়াও বই কিংবা ছোটখাটো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে বের করেন, যা তাদেরকেই বিস্মিত করে। আর এই ধরনের আবিষ্কার গুলো ইতিহাসের গতিপথের পরিবর্তন ও পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে।
দ্য এন্সিয়েন্ট বুক অব ব্রেথিং
এই বইটি ১৯ শতকের গোড়ার দিকে আবিষ্কৃত হয়। এই বইটি প্রাচীন মিশরের একটি বই। বইটি মূলত মৃত্যুর পরবর্তী জীবন অর্থাৎ পরকালের রহস্য নিয়ে লেখা। কিভাবে একজন মানুষ মারা যায় আর কিভাবে তার পরবর্তী জীবন অর্থাৎ পরকালের জীবন শুরু হবে তার বিশদ বিবরণ উল্লেখ আছে।
বইয়ের কথাগুলো প্রাচীন মিশরের মানুষেরা বিশ্বাস করতো, এবং তারা মনে করতো তারা জানে মৃত্যুর পর তাদের আত্মার সাথে কি ঘটবে।
বইটি মিশরের টলেমাইক রাজবংশের সময়ে লেখা, বইটি লেখা হয়েছিল আনুমানিক ৩৩২ খ্রীস্টপূর্বাব্দে। এবং সেই বইয়ে পরকালের সমস্ত ঘটনাকে ম্যাপ আকারে বর্ণনা ও করা হয়েছে।
মিশরীয়রা এই বইটির একটি কপি সদ্য মৃত ব্যক্তির মাথার নিচে রাখতো আরেকটি কপি রাখতো পায়ের নিচে। তারা বিশ্বাস করতো এই বইগুলো মৃতদের মৃত্যু পরবর্তী জীবনে পথ খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।
বইটিতে ব্যবহৃত বানান ও ভাষা প্রাচীন মিশরের বইয়ের মতোই। বইটি বর্তমানে Field Museum of Natural History জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। বইটি একজন ব্যবসায়ী জাদুঘরে দান করেছিলেন। তিনি ভ্রমণ করার সময় এই বইটি খুঁজে পেয়ে কিনেছিলেন।
বইটি গভীরভাবে অধ্যায়ন করে বিশেষজ্ঞরা মতামত দেয়, বইটি সেসময়ের কোনো মিশরীয় পুরোহিতের দ্বারা লেখা হয়ে থাকতে পারে। এবং তিনি হয়তো এই বিষয়ে পুরো একটি সিরিজ লিখেছিলেন। এছাড়া বইটিতে সেসময়কার মিশরীয় রাজবংশ ও সেইসময়ের সংস্কৃতি নিয়েও লেখা আছে। যা মিশরীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।

দ্য টেল অব টু লাভার (দুই প্রেমিকের গল্প)
দ্য টেল অব টু লাভার বইটি ১৫ শতকের এনিয়া সিলভিও বার্তোলোমিও পিকোলোমিনির লেখা একটি প্রেমের উপন্যাস। এনিয়া ১৪০৫ সালের অক্টোবর মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব কাটে তার পিতামাতার সাথে একটি খামারে। যখন তার বয়স ১৮ তে পৌঁছায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন খামার ছেড়ে স্বাধীনভাবে নিজে কিছু করার। আর তাই তিনি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে পারি জমান। ফ্লোরেন্স এসে বিয়ে করেন এবং তার একটি সন্তান ও হয়েছিল।
ফ্লোরেন্স আসার পর তিনি লেখালেখিতে মনযোগ দেন, এবং খুব দ্রুতই তার লেখা গল্পগ্রন্থ গুলো জনপ্রিয় হতে শুরু করে। তবে একটি গল্প তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেয় যা তাকে তার বাকি জীবনে আর সুখ দেয় নি।
গল্পটি লুক্রেটিয়া এবং ইউরিয়ালাস নামে দুই ব্যক্তিকে নিয়ে, যারা একে অপরকে দেখে প্রেমে পড়েছিল। তাদের দুজনের দেখা হয়েছিল একটি অন্তেষ্টিক্রিয়ায়। সেই প্রথম দেখায় প্রেম সবশেষে রোমান্সে রূপ নেয়।
সেই সময়ের মানুষের জন্য কামোত্তেজক উপন্যাস লেখা অস্বাভাবিক ছিল। অতএব, লোকেরা এনিয়ার প্রত্যাশার বাইরে বইটির প্রশংসা করেছে।
অতিরিক্ত প্রশংসা ও পরিচিতি এনিয়ার জীবনকে নাজুক করে তুলেছিলো তাই নিজের জীবনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন এনিয়া। আর তাই তিনি পোপ হওয়ার পথ বেছে নেমন। ১৪৫৮ সালে তাকে পোপের মুকুট দেয়া হয় এবং তার নাম দেয়া হয় ‘পোপ পিয়াস দ্বিতীয়’
তার বিপুল জনপ্রিয়তা তাকে প্রথম পোপ বানিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় সময়ের বিপরীতে গিয়ে সাহসী ও বিপরীত ধর্মী লেখা লিখেছেন তিনি। লেখক হিসাবে তিনি তার পরিচয় ঢেকে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু ব্যর্থ হন কারণ লোকেরা তাকে ইতিমধ্যেই ভালভাবে চিনতো।
দ্য অ্যাসাসেন্স কেভিনেট অব পয়জন্স
একটি বইয়ের মতো বাক্স, আঠালো-একসাথে কাগজ দিয়ে তৈরি যা খোলা হলে, স্টোরেজের জন্য ছোট ড্রয়ার সহ একটি ছোট ক্যাবিনেট বলে মনে হয়। অদ্ভুত এই বইটি ১৬৮২ সালে তৈরি হয়েছিল।
বাক্সের ভিতরে একটি লেবেল সহ ছোট ড্রয়ার ছিল। কিছু জিনিসের মধ্যে ছিল ওল্ফসবেন, শয়তানের ফাঁদ, বেলা ডোনা, আফিম পপি ইত্যাদি। বাক্সটির নাম ছিল The Assassin’s Cabinet of Poisons বা “বিষের ঘাতক ক্যাবিনেট।
এটিতে প্রতিটি বাক্সের বিষয়বস্তু চিহ্নিত করে হাতে লেখা কাগজের লেবেল ছিল।
প্রায় ৪০০ বছর পুরানো বইটির রহস্য কেউ উদঘাটন করতে পারে নি। এবং কে এটি তৈরি করেছিলো তা কেউই জানে না। ১১ টি ছোট ড্রয়ার এবং ক্যাবিনেটের মতো বইয়ের বাম কোণে থাকা একটি ছোট কাচের বয়াম গুপ্তহত্যার উদ্দেশ্যে বা ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, রোমান সাম্রাজ্যে বেলা ডোনার খুব চাহিদা ছিল কারণ এটি মানুষকে হত্যা করতে ব্যবহৃত হত এবং একই সাথে পেশী ব্যথার জন্য একটি নিরাময় ছিল। একইভাবে, আফিম পোস্ত মাদকদ্রব্যের একটি ভিত্তি এবং হাঁপানি এবং পেটের সমস্যাগুলির জন্য ওষুধ।
অদ্ভুত বইটি কোথা থেকে এসেছে, কারা এটি তৈরি করেছে বা কী উদ্দেশ্যে এটি পরিবেশন করেছে তা স্পষ্ট নয়, তবে এটি মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল।

দ্য থিয়েটার অব লেসার লিভিং ক্রিয়েটার্স
এই চমৎকার বইটি আছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে। এই বইটি একই সাথে অদ্ভুত এবং রহস্যময়। বইটি পোকামাকড় এবং তারা সময়ের সাথে কীভাবে বিকাশ করে তার উপর একটি বই। বইয়ের শিরোনামটি ল্যাটিন ভাষায় লেখা, যার অর্থ “ছোট্ট জীবন্ত প্রাণীর থিয়েটার।”
বইটি লাইব্রেরিতে দান করেছিলেন লরেন্স স্ট্র্যাংম্যান নামে একজন বই সংগ্রাহক। শিরোনাম পৃষ্ঠায় চারজন লেখকের নাম রয়েছে, এডওয়ার্ড ওয়াটন, লোনভাড গার্স্টনার, থমাস পেনি এবং টমাস মফেট।

বইটি থমাস পেনির মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পরে ১৬৩৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
বইয়ের চার লেখকেরই পোকামাকড় সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তাদের কেউ জীবিত অবস্থায় তাদের প্রকাশিত বই দেখে যেতে পারেন নি।
দ্য বুক অব কেলস (কেলসের বই)
৬ষ্ঠ শতাব্দী থেকে ৮ম শতাব্দীতে খ্রিস্টান সন্ন্যাসীদের দ্বারা লেখা একটি মাস্টারপিস বই, যা মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ধন বা আবিষ্কার হিসেবেও পরিচিত। অনেকে এই বইটিকে রঙিন বাইবেল নামে ও ডাকেন।
যে সন্ন্যাসীরা বইটি তৈরি করেছিলেন তারা সংসার থেকে দূরে, পরিত্যাগে বসবাস করতেন। এই সন্ন্যাসী ও ভিক্ষুরা প্রত্যন্ত স্কটিশ দ্বীপে বসবাস করতো। কারণ তারা সবসময় ভাইকিং আক্রমণের ভয়ে তটস্থ থাকত।
তাদের জীবনযাত্রার অবস্থা কঠোর ছিল, কিন্তু তারা এখনও একটি সুন্দর শিল্প তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল যা এখনও ট্রিনিটি কলেজের লাইব্রেরিতে (আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরের একটি কলেজ) সংরক্ষিত আছে। বইটির ৬০ টি পৃষ্ঠা কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে হবে বাকি অংশটুকু ঠিকঠাক আছে।
The Book of Kells
এ লিটল বুক ফর লিটল চিল্ড্রেন ( শিশুদের জন্য ছোট্ট বই)
বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মাত্র ১২ টি! আনুমানিক ৫০০ বছর আগে এই বইটি লেখা হয়েছিল। তবে লেখকের নাম অজানাই রয়ে গেছে।
বইটি শিশুদের আচার-আচরণ, আদব-কায়দা ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে শেখায়। এই বইয়ে উপদেশ এবং সতর্কবাণী ছিল যেমন বাচ্চাদের হাসতে বা হাসাতে হবে না, খাবার পরিবেশন করার সময় লোভী হওয়া উচিত নয়। হলি ওয়াটার পান করার আগে নাক চেপে ধরতে হবে এবং খুব বেশি পান করতে হবে।
এই ধরনের বই ইউরোপের মানুষদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত এবং চাহিদা ছিল উচ্চ বলে বলা হয়। বইটির লেখক ধর্মের সাথে ভালোভাবেই সংযুক্ত ছিলেন। আর তাই শিশুদের সাথে শিষ্টাচার ও ধর্মের সংযোজন করে শিষ্টাচারে পূর্ণ জীবন যাপন করা লক্ষে বইটি লিখেছিলেন।
মৃত্যুদন্ডের ইতিহাস ও বিবর্তনের ইতিহাস কি?
মৃত্যুদন্ডের ইতিহাস ও বিবর্তন মৃত্যুদন্ড হলো গুরুতর অপরাধের জন্য কোনো ব্যাক্তিকে প্রমাণ সাপেক্ষে বিচারের মাধ্যমে আদালত বা রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত একটি অনুমোদিত আইনি দণ্ডের একটি রূপ। এরপর দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিক মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদন্ড পৃথিবীর প্রাচীন প্রথা গুলবিস্তারিত পড়ুন
মৃত্যুদন্ডের ইতিহাস ও বিবর্তন
মৃত্যুদন্ড হলো গুরুতর অপরাধের জন্য কোনো ব্যাক্তিকে প্রমাণ সাপেক্ষে বিচারের মাধ্যমে আদালত বা রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত একটি অনুমোদিত আইনি দণ্ডের একটি রূপ। এরপর দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিক মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদন্ড পৃথিবীর প্রাচীন প্রথা গুলোর মধ্যে একটি। বর্তমানে প্রায় ৫৮ টি দেশে গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়ে থাকে। বেশিদিন আগের কথা নয়, কিছুকাল আগে ইউরোপে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড প্রচলিত আইন ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তারা এসব থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে।
বর্তমানে মৃত্যুদন্ডাদেশ হিসেবে সাধারণত ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। আরব দেশগুলোতে অবশ্য শিরশ্ছেদ প্রথার কথা প্রায়ই শোনা যায়।
তবে আজ কথা বলবো মৃত্যুদন্ডের ইতিহাস নিয়ে, কিভাবে মৃত্যুদন্ড প্রথা চালু হলো আর সেই মৃত্যুদন্ডের মাধ্যম কিভাবে বিবর্তনের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে এসেছে তা নিয়ে।
মৃত্যুদণ্ডের উৎপত্তি
মৃত্যুদন্ডের প্রথম লিপিবদ্ধ প্রমাণ পাওয়া যায় ১৮০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দের প্রথমার্ধে ব্যবিলনের রাজা হাম্বুরাবির কোডে।
হাম্বুরাবির কোড বা আইনের ভিত্তি ছিল ‘ চোখের বদলে চোখ’। অর্থাৎ কেউ খুন করলে তার শাস্তি হিসেবে সেও খুন হতো। কেউ কারো হাত ভাঙ্গলে তাকেও হাত ভেঙে দেওয়া হতো।
হাম্বুরাবি কোডে প্রায় ২৮২ টি বিচারের ঘটনা লিপিবদ্ধ ছিল। তার মধ্যে ২০ টি অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল।
তবে বিচারের ক্ষেত্রে বৈষম্য লক্ষ করা যায়। প্রায়শই সেসময় অভিজাতদের মৃত্যুদন্ড থেকে অব্যাহতি পেতো, কিন্তু যারা দাস ছিলো তাদের কোনো মুক্তি ছিলো না।

হাম্বুরাবি কোড পাথরে লিপিবদ্ধ, এমন আরো ১১ টি মিলে ১২ টি শিলায় ২৮২ টি বিচার লিপিবদ্ধ আছে।
হাম্বুরাবি কোড বা আইনের মতো আরেকটি আইন ছিল যার নাম হিট্টাইট কোড। তবে এই আইনটি হাম্বুরাবি কোডের চেয়ে তুলনামূলক নমনীয় ছিল তবে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত শাস্তি ছিল।
ইতিহাসের প্রথম ধর্ষণের অপরাধের কারণে মৃত্যুদন্ডও প্রথম দেখা যায় এই কোডে। এই হিট্টোহাইট কোড চালু ছিল ১৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
প্রাচীন যুগ
খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতাব্দীর এথেন্সের ড্রাকোনিয়ান কোড বা আইন সকল কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সাধারণত ছোটখাটো অপরাধের জন্য ও এই আইনে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হতো। ড্রাকোনিয়ান কোডের ‘ড্রাকোনিয়ান’ শব্দটি মূলত শাস্তির তীব্রতা বুঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই আইনে আপেল চুরির মতো ছোটখাটো অপরাধের জন্য একজন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। এই আইনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সাধারণ ধরনগুলির মধ্যে রয়েছে অপরাধীকে অনেক উঁচু থেকে ফেলে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা, তৃষ্ণা বা অনাহারে মারা না যাওয়া পর্যন্ত একজন ব্যক্তিকে একটি তক্তায় বেঁধে রাখা এবং হেমলক বিষ পান করানো।
মৃত্যুদন্ড পাওয়া ব্যক্তির মৃতদেহ তার পরিজনদের কাছে দেওয়া হতো না, তবে দন্ডিত ব্যক্তি কোন অভিজাত বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হলে সেই হিসেব আলাদা।
মৃত্যুদন্ড দেয়ার আরেকটি বিশেষ উপায় ছিল হেমলকের বিষ পান করিয়ে মৃত্যু কার্যকর করা। হেমলক একটি বিষাক্ত উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদের রস পাত্রে নিয়ে অপরাধীকে দেয়া হতো যাতে তা পান করে আত্মহত্যা করতে পারে।
এই পদ্ধতিতে ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল। যুবকদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়ানো ও দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সক্রেটিস কে হেমলক দেওয়া হয়েছিল যাতে সে তা পান করে আত্মহত্যা করতে পারে।
সক্রেটিস হেমলকের বিষাক্ত রস পান করছেন
প্রাচীন রোমে ও অপরাধের শেষ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড কে বেছে নেয়া হয়েছিল। সাধারণত ঘোরতর অপরাধের জন্য অপরাধীকে অন্ধকার জেলে আটকে রেখে মারা হতো। কাউকে পানিতে ডুবিয়ে, কাউকে শিরশ্ছেদ করে, কাউকে আগুনে পুড়িয়ে এবং ক্রুশবিদ্ধ করেও মৃত্যুদন্ড দেয়ার প্রচলন ছিল।
খ্রিস্টীয় ১ম শতাব্দীতে যীশু খ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধকরণ সম্ভবত মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য ব্যবহৃত রোমান ক্রস আজ খ্রিস্টধর্মের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মধ্যযুগ
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে মধ্যযুগীয় ইউরোপে অপরাধ ও অপরাধী দুটোই দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। তাই প্রায়শই ছোটখাটো অপরাধের জন্য অপরাধীরা মৃত্যুদন্ডও পেতো।
১০ম শতাব্দীতে ল ব্রিটেনে ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড একটি সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি হয়ে উঠে। এছাড়া শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড ও প্রচলিত ছিল এবং অপরাধীর দেহ কয়েক টুকরো করা হতো।
মধ্যযুগীয় ইউরোপের বেশিরভাগ অপরাধের মৃত্যুদন্ডের কারন ছিল ধর্মীয় বিধিনিষেধ না মানা কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। মধ্যযুগে পুরো ইউরোপে তখন খ্রিস্টধর্মের প্রচার ও প্রসার চলছিল। সে সময় বিচারকার্য পুরোটাই ধর্মীয় গুরুরা দেখতেন। আর সেই ধারায় চার্চের ধর্মীয় গুরুরা একটি নতুন আইন প্রনয়ণ করেন, কোনো খ্রিস্টান যদি কোনো ইহুদি নারী বা পুরুষ কে বিয়ে করে তাকে অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হতো।
এছাড়াও মধ্যযুগের ইউরোপে জাদুবিদ্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল ১৩ শতক থেকে প্রায় ১৮ শতক পর্যন্ত ইউরোপীয়রা সন্দেহভাজন নারীদের ডাঈনি উপাধি দিয়ে সাধারণ জনগণের সামনে আগুনে জীবন্ত পুড়ে দাহ করা হতো।
ইসলাম ধর্ম আবির্ভাবের সাথে সাথে যৌনতা ও ব্যভিচারের অপরাধে খলিফারা অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পদ্ধতি চালু করেন।
ব্যভিচার, ব্যভিচার বা ধর্ষণের জন্য দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার প্রাথমিক উপায় ছিল পাথর মেরে হত্যা।
আধুনিক যুগ
ঔপনিবেশিকতা আমেরিকা সহ বিশ্বের বাকি অংশে মৃত্যুদণ্ডের ধারা প্রবর্তন করেছিল। আমেরিকায় পুঁজির অপরাধ উপনিবেশ অনুসারে পরিবর্তিত হয় তবে সাধারণত জাতিগত বা ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একবিবাহ অস্বীকার করা এবং ভারতীয়দের সাথে ব্যবসা করা মতো কারনেও মৃত্যুদন্ড দেওয়ার খবর পাওয়া যায়।
১৯৭২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদন্ড স্থগিত করে দিয়েছিল। এর পেছনে তারা যুক্তি দিয়েছিল এটি কিছু ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক ছিল। যাইহোক, ১৯৭৬ সালে এটি শীঘ্রই পরিবর্তিত হয় যখন এটি পুনঃস্থাপিত হয়, তবে অপরাধের তালিকা সংক্ষিপ্ত করা হয় মৃত্যুদন্ডের জন্য।
বিংশ শতাব্দীতে বিভিন্ন কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য বা ক্ষমতাসীন দলকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য দোষী ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। নাৎসি জার্মানিতে সামরিক অবাধ্যতা বা পরিত্যাগ একটি ঘোরতর অপরাধ হিসাবে স্বীকৃত ছিল।
আগ্নেয়াস্ত্র ক্রমবর্ধমান সাধারণ হয়ে উঠলে, ফায়ারিং স্কোয়াড দ্বারা মৃত্যু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হয়ে ওঠে।
হিটলার, স্ট্যালিন এবং মুসোলিনির মতো স্বৈরাচারী নেতারা রাজনৈতিক নিপীড়নের জন্য এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদন্ডদেশ দিতেন।
জোসেফ স্তালিনের শুদ্ধিকরণের ফলে প্রায় ১ মিলিয়নেরও বেশি সোভিয়েতকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যেখানে মাও সেতুং-এর শাসনে চীনের বিপ্লবের সময় ৮ লক্ষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল।
মৃত্যুদণ্ডের এই নির্লজ্জ অপব্যবহার উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে, এবং বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা এই প্রথাটি বাতিল বা কঠোরভাবে সীমিত করার প্রচেষ্টায় তাদের আওয়াজ তুলেছে।
বর্তমান সময়ে মৃত্যুদন্ড
বর্তমানে পৃথিবীর ১০৯ টি দেশ সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুদন্ড বিলুপ্ত করেছে। এরমধ্যে অনেকগুলো দেশ মৃত্যুদন্ড বিলুপ্ত করার কার্যক্রম চালাচ্ছে (গত ১০ বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি এবং কাউকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার নীতি রয়েছে)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ রাজ্য মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে বা এর ব্যবহারকে ব্যাপকভাবে সীমিত করেছে।
বেলারুশই একমাত্র ইউরোপীয় দেশ যারা এখনও মৃত্যুদণ্ডের অনুশীলন করে, যেখানে রাশিয়া এই পদ্ধতি থেকে সরে দাড়িয়েছে।
তবে বর্তমানে বাংলা ভারতের মতো অনেক দেশই যুদ্ধাপরাধ ও টেররিজমের মতো ভয়ংকর অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড চালু রেখেছে।
হিউম্যান রাইটস কোড এবং সংস্থাগুলি প্রতিষ্ঠার ফলে এটির ব্যবহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে এর অনুশীলনের জন্য জনসমর্থন হ্রাস পেয়েছে। তা সত্ত্বেও, অনেক দেশ প্রকাশ্যে বিভিন্ন অপরাধের জন্য এটি ব্যবহার করে।
মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দিক দিয়ে বর্তমানে শীর্ষে আছে সৌদি আরব, চীন, ইরান, মিশর এবং ইরাক।
মানব ইতিহাসের দীর্ঘতম বছর ছিলো কোনটি?
আপনার কি মাঝেমধ্যে মনে হয় এইতো সেদিন নিউ ইয়ার পালন করলাম আর এখন ডিসেম্বর মাস চলে এলো! এতো তাড়াতাড়ি সময়গুলো শেষ হয়ে গেলো!! বছরটা আরেকটু দীর্ঘ হলে তো মন্দ হতো না? কিংবা দিনটা যদি ২৪ ঘন্টা থেকে টেনে ৩০ ঘন্টা যেতো কিংবা বছরটাকে ৩৬৫/৬৬ দিন থেকে টেনে ৪০০+ দিন করতে পারলে ব্যাপারটা বেশ দারুণ হতো। কিন্তু এ যবিস্তারিত পড়ুন
আপনার কি মাঝেমধ্যে মনে হয় এইতো সেদিন নিউ ইয়ার পালন করলাম আর এখন ডিসেম্বর মাস চলে এলো! এতো তাড়াতাড়ি সময়গুলো শেষ হয়ে গেলো!! বছরটা আরেকটু দীর্ঘ হলে তো মন্দ হতো না? কিংবা দিনটা যদি ২৪ ঘন্টা থেকে টেনে ৩০ ঘন্টা যেতো কিংবা বছরটাকে ৩৬৫/৬৬ দিন থেকে টেনে ৪০০+ দিন করতে পারলে ব্যাপারটা বেশ দারুণ হতো।
কিন্তু এ যুগে এমন ইচ্ছে কেবল আপনার কল্পনাতেই সম্ভব। তবে ইতিহাসের পাতায় কিন্তু এমন একটা বছর রয়ে গেছে!
সালটি ছিল ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ এবং এই দীর্ঘতম বছরটি বিখ্যাত রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার তৈরি করেছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সাল ছিল ৪৪৫ দিনের!
রোমান ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণ জগাখিচুড়ি ছিল
রোমান ক্যালেন্ডার বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত ছিল। তবে এটি এতোটাই বিভ্রান্তিকর ছিল, বেশিরভাগই রোমান এই দিন তারিখের খবর খুব একটা রাখতো না।
রোমান ক্যালেন্ডারের ১২ মাস এবং ৩৫৫ দিন ছিল। রোমানরা জানত যে সৌর বছর ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা দীর্ঘ, তাই তাদের অধিবর্ষ (২ বছর পর অধিবর্ষ হতো তখন) কে সৌর বছরের সাথে মেলাতে অতিরিক্ত ২২/২৩ দিন যোগ করতো।
ফলস্বরূপ, রোমান ক্যালেন্ডারো বছরের দিন সংখ্যা হতো ৩৫৫ দিন, ৩৭৭ বা ৩৭৮ দিন।

রোমান ক্যালেন্ডারের নমুনা
এর সঙ্গে নতুন এক বিভ্রান্তির সংযোগ করেন তখনকার রোমান পুরোহিত পন্টিফেক্স ম্যাক্সিমাস। তিনি অধিবর্ষে আরেকটি নতুন সংযোজন করেন। যখন তার মিত্র দল শাসন করবে তখন তিনি অধিবর্ষ কে দীর্ঘ করে দেন, আর বিরোধীদল শাসনে আসলে তা ছোট করে দিতেন।
বিখ্যাত রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার ক্ষমতায় এসে একটি নতুন ক্যালেন্ডার তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন, যা সকল সাধারণ মানুষের জন্য যুতসই হবে।
৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, তিনি একটি নতুন ক্যালেন্ডার তৈরি করতে রোমে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদদের ডেকে পাঠান যা রোমান ক্যালেন্ডারকে প্রতিস্থাপন করবে যা ইতিমধ্যে সৌর বছরের চেয়ে ৮০ দিন পিছিয়ে ছিল।
সম্রাট জুলিয়াস সিজার সৃষ্টি করেন ইতিহাসের দীর্ঘতম বছর
নতুন এই ক্যালেন্ডারে বছর করা হয় ৩৬৫ দিনে আর যেহেতু সৌরবছর ৩৬৫ দিনের সাথে ৬ ঘন্টা অতিরিক্ত থাকতো তাই ৪ বছর পর পর লীপ ইয়ার যোগ করেন।

জুলিয়াস সিজার
জুলিয়াস সিজার চেয়েছিলেন বছরের শুরু হোক মার্চ মাস দিয়ে, জানুয়ারি মাস নয়। কারণ রোমান ক্যালেন্ডারের প্রথা ছিল মার্চ মাস দিয়ে শুরু হওয়ার।
আর তাই তিনি সাম্যতা আনতে ৯০ দিন অতিরিক্ত যোগ করেন, সেই বছর হয়ে যায় ৪৪৫ দিনের!
আর তাই রোমানরা এই বছরের নাম দেন ‘বিভ্রান্তির বছর’!
গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সংশোধন
১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি প্রবর্তন করেন নতুন এক বর্ষপঞ্জির। তিনি হিসাব করে বের করে দেখেন, জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রতিবছর ১১ মিনিটের গরমিল থাকায় ইস্টার ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছিল।

পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরী
এই গরমিল সমাধানের জন্য গির্জার পক্ষ থেকে ১১ দিন যোগ করে প্রবর্তন করা হয় গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি, যা এখন আমরা অনুসরণ করি।
গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির বিষয়ে বেশ কিছু মজাদার তথ্য আছে। ১৭ শতাব্দী পর্যন্ত ফ্রান্স ব্রিটেন কিংবা জার্মানি এরা কেউ এই নতুন ক্যালেন্ডার গ্রহন করেনি। তারা মনে করতো এগুলো সব ক্যাথলিকদের ষড়যন্ত্র।
আর রাশিয়াতে তো ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের আগ পর্যন্ত জুলিয়ান ক্যালেন্ডার ছিল রাশিয়ার সরকারী ক্যালেন্ডার।
সংক্ষেপে দেখুন