সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
বাংলায় প্রথম ‘বৈদ্যুতিক পাখা’ আসার ইতিহাস কি?
শরীরের নাম মহাশয় যাহা সহাবে তাহাই সয়- এই কথাটি কিন্তু বাস্তব। আজ মানুষের জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্য এমন স্তরে পৌঁছেছে। তার জন্য অবশ্যই ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ভূমিকা কম নয়। এজন্য বৈদ্যুতিক পাখা, এয়ার কন্ডিশন, কুলার ইত্যাদি ঘর ঠান্ডা রাখার উপায় বের হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন এসব কিছুই ছিল না। তার মানে এই নয়, যেবিস্তারিত পড়ুন
শরীরের নাম মহাশয় যাহা সহাবে তাহাই সয়- এই কথাটি কিন্তু বাস্তব। আজ মানুষের জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্য এমন স্তরে পৌঁছেছে। তার জন্য অবশ্যই ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ভূমিকা কম নয়।
এজন্য বৈদ্যুতিক পাখা, এয়ার কন্ডিশন, কুলার ইত্যাদি ঘর ঠান্ডা রাখার উপায় বের হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন এসব কিছুই ছিল না। তার মানে এই নয়, যে তখন গরম ছিল না।
তখন সরকারি অফিসে নিয়োগ হতো পাঙ্খা পুলার। আর এই পাঙ্খা পুলার সরকারি অফিসে সাহেবদের মাথার উপর এক বিশাল কাপড়ের পাখা থাকতো। পাখা সঙ্গে দড়ি লাগিয়ে টানতো বাইরে থেকে পাঙ্খা পুলার। তবে তাতে তেমন জোরে বাতাস হত না, তা বৈদ্যুতিক পাখার থেকে খুবই দুর্বল ছিল।
তাই আসে বৈদ্যুতিক পাখা। কাজ হারায় ওই কর্মীর দল। এবার আসি কলকাতার প্রথম দেশীয় বৈদ্যুতিক পাখা কোম্পানির কথায়। যা বিদেশি কোম্পানিগুলোর তৎকালীন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর সেটিও নির্মাণ করেছিলেন এক স্বাধীনতা সংগ্রামী। কে তিনি ? আর কোথায় এই কোম্পানি? আজ জানাবো সে সম্পর্কে-
এককথায় বলা চলে নতুন হাওয়া তৈরির কারিগর। নাম তার ক্ষীরোদ বিহারী চক্রবর্তী। প্রথম এই শহরে হাওয়ার জন্যই পাঙ্খাকুলি নিয়োগ হতো। তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সে অচল হয়ে পড়ে। আর সেই সময় দেশের মানুষকে তাদের আয়ত্ত্বের মধ্যেই ঠান্ডা হওয়ার স্বাদ আস্বাদন করিয়ে দিয়েছিলেন ক্ষীরোদ বিহারী।
হাতে টেনে নয় সুইচ দিলেই বিদ্যুতে সেই হাওয়া চলত শনশোনিয়ে। তাতে জন্ম হয়েছিল ক্লাইড কোম্পানি। বাঙালির তৈরি কলকাতার প্রথম বৈদ্যুতিক পাখার কোম্পানি। জায়গাটি কিন্তু বেশ পরিচিত। কলকাতার এলিট সিনেমা হলের পাশে হিন্দুস্থান ইন্সিওরেন্স কোম্পানির বিশাল অফিস। আর এই সিনেমা হলের এক পাশে ছিল ক্লাইড এঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।
১৯১৯ সালে এই ক্লাইড এঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড তৈরি ফ্যান প্রথম হাওয়া এনেছিল কলকাতায়। ক্ষীরোদবিহারীকে এই কোম্পানি গড়তে সাহায্য করেছিলেন ময়মনসিংহের মহারাজা রাজেন্দ্রকিশোর, পাইকপাড়ার কুমার অরুণ সিংহ প্রমুখ ধনী ব্যক্তিরা। ক্ষীরোদবিহারী ছিলেন ব্রিটিশ-বিরোধী।
তার বাড়ি পূর্ব বাংলার নারায়ণগঞ্জের বন্দর গ্রামে। জলপাইগুড়িতে স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন ক্ষীরোদ বিহারী। কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্সে উচ্চশিক্ষা লাভ করার সময় তার সেই কার্যকলাপ আরো দৃঢ় হয়।
পুলিশ ধাওয়া করা শুরু করে। অগত্যা দেশ ছেড়ে পালান ক্ষীরোদবিহারী। একটি কার্গো জাহাজে পে-মাস্টারের চাকরি নেন তিনি। সেখানে ইলেকট্রিকের কারিগরদের থেকেই ওয়ারিং, ফ্যান মেরামতি ইত্যাদি কাজ শিখে অর্থ সঞ্চয় করেন। এরপর কলকাতায় ফিরে ১৯১৮ সালে ইলেকট্রিক ফ্যানের কারখানা নির্মাণ করেন।
ক্লাইড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি অন্যান্য বিদেশি কোম্পানিকে বেশ বিপাকে ফেলে দেয়। চাহিদা ও উৎপাদনের বৃদ্ধির সঙ্গে বকুল বাগান রোডে তৈরি হয় অ্যাপ্রেনটিস ট্রেনিং স্কুল। ছেলেরা তো ট্রেনিং নিতই পরবর্তীতে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সূক্ষ্মকাজ শিখতো।
বাঙালি যুবকের তৈরি স্বদেশি যুগের হাওয়ায় তখন দেশবাসী মজে। তবে পরপর যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অবক্ষয় ছাপ ফেলে ক্লাইড এঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে। এরপর দেনার দায়ে বিক্রি করে দিতে হয় কোম্পানিটিকে। তবে সংগ্রামী মানসিকতা এতো সহজে ভাঙার নয়।
তাই ১৯৩২ সালে তিনি হিন্দুস্তান পার্কের একটি জমিতে তৈরি করেন নিজস্ব ফ্যান তৈরির কারখানা ক্যালকাটা ফ্যান। অনেক ঝড়ঝাপটার পরেও ক্যালকাটা ফ্যান চলেছিল দেড় বছর। চিরকাল কোনোকিছুই স্থায়ী হয় না। আয়ু ফুরায়। তবে ক্ষীরোদবিহারী নিরলস প্রচেষ্টা সত্যিই আশ্চর্য করে দেয়।
ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় ফ্যান কোম্পানির বিশাল বাজারে যেভাবে সে টিকে ছিল তা শেখার মতোই। বারবার তিনি সব হারিয়েছেন। আর বারবারই উঠে এসেছেন নতুন কিছু করার স্বপ্নে বুঁদ হয়ে। ইংরেজদের দূরে ঠেলে বাংলাকে নতুন আলো দেখিয়েছিলেন তিনি। তা শুধু ব্যক্তিগত তাগিদে নয়। দেশ গড়ার প্রবল প্রেরণায়।
বাঙালি ব্যবসায়ীদের ইতিহাস নিশ্চয়ই লেখা হবে একদিন। সেদিন ক্ষীরোদ বিহারীর অবদান নিশ্চিত অনেক বড় করে লেখা থাকবে।
সংক্ষেপে দেখুনমানুষ কী করে অন্য প্রাণীর দুধ খেতে শিখলো?
বিবর্তনের প্রথম দিকে মানুষের অন্য প্রাণীর দুধ হজম করতে পারতো না। কিন্তু এখন অনেক জনগোষ্ঠীই গরু, উট, বা ছাগলের দুধ খায়। কিভাবে মানুষের শরীরে অন্য প্রাণীর দুধ হজম করার ক্ষমতা তৈরি হলো? ইদানীং বাজারে প্রাণীর দুধের নানা ‘প্রতিযোগী’ এসে গেছে। যেমন সয়া দুধ, আমন্ড বাদামের দুধ – এগুলো বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উবিস্তারিত পড়ুন
বিবর্তনের প্রথম দিকে মানুষের অন্য প্রাণীর দুধ হজম করতে পারতো না। কিন্তু এখন অনেক জনগোষ্ঠীই গরু, উট, বা ছাগলের দুধ খায়। কিভাবে মানুষের শরীরে অন্য প্রাণীর দুধ হজম করার ক্ষমতা তৈরি হলো? ইদানীং বাজারে প্রাণীর দুধের নানা ‘প্রতিযোগী’ এসে গেছে। যেমন সয়া দুধ, আমন্ড বাদামের দুধ – এগুলো বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উঠছে। যারা ‘ভেগান’ – তাদের জন্য, অথবা যাদের দুধে এ্যালার্জি আছে – তাদের জন্য এই বিকল্পগুলো বেশ সুবিধাজনক। কিন্তু এগুলো এখনো জনপ্রিয়তার দিক থেকে প্রাণীজ দুধের কাছাকাছি আসতে পারে নি।
বিবিসির মাইকেল মার্শাল এক রিপোর্টে লিখছেন, প্রাণীজ দুধের সাথে মানুষের সম্পর্ক হাজার হাজার বছরের পুরোনো। এর ইতিহাসও অতি বিচিত্র উত্থান-পতনে ভরা। মানুষ হয়ে অন্য প্রাণীর দুধ খাওয়াটা কি একটা ‘আজব’ ব্যাপার? দুধ খাওয়াটা মানুষের কাছে এতই স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে যে কেউ যদি বলে – এটা একটা আজব কাজ – তাহলে এ কথা যে বলবে তাকেই বরং আপনার একটা উদ্ভট লোক বলে বনে হবে। কারণ আমরা কখনো এভাবে চিন্তা করি না। একটি গরু বা অন্য কোন প্রাণীর দেহে দুধ তৈরি হয় – তার বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য। কিন্তু মানুষ কি করছে? তারা গরুটার বাঁট টিপে টিপে সেই দুধ বের করে নিয়ে নিজেরা খাচ্ছে। এটা কি একটা আজব ব্যাপার নয়?
কিন্তু এমন সংস্কৃতিও আছে, যেখানে প্রাণীর দুধ খাবার কথা অনেকেরই প্রায় অজানা। এই সেদিন, ২০০০ সালে চীনে একটা প্রচারাভিযান শুরু হয়েছিল যাতে লোকে স্বাস্থ্যগত কারণেই আরো বেশি করে দুধ এবং দুধজাত খাবার খায়। এই প্রচারাভিযানটিকে চীনের বয়স্ক লোকদের দিক থেকে গভীর সন্দেহের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। দুধ থেকে যে পনির তৈরি হয় তা এখনও চীনের অনেক মানুষকে অসুস্থ করে ফেলতে পারে। বলা হয়, মানব প্রজাতির ইতিহাস মোটামুটি তিন লক্ষ বছরের। সে তুলনায় দুধ খাবার ইতিহাসকে প্রায় ‘নতুন’ বলা যায়। মোটামুটি ১০ হাজার বছর আগেও মানুষ দুধ প্রায় খেতোই না।
সংক্ষেপে দেখুনডিজিজ এক্স কি? এর ভয়াবহতা কি?
করোনা বিশ্বজুড়ে ২ কোটির ওপর মানুষের প্রাণ কেড়েছে বলা হচ্ছে। কিন্তু সেটা কিছুই নয়। এবার যে অতিমারি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা কেড়ে নিতে পারে ৫ কোটির ওপর মানুষের প্রাণ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এর অর্ধেক সংখ্যক মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। এই অতিমারি যদি আসে তা ১৯১৯-২০ সালের অতিমারি স্প্যানিশ ফ্লুয়ের মতই প্রাণঘাতীবিস্তারিত পড়ুন
করোনা বিশ্বজুড়ে ২ কোটির ওপর মানুষের প্রাণ কেড়েছে বলা হচ্ছে। কিন্তু সেটা কিছুই নয়। এবার যে অতিমারি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা কেড়ে নিতে পারে ৫ কোটির ওপর মানুষের প্রাণ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এর অর্ধেক সংখ্যক মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। এই অতিমারি যদি আসে তা ১৯১৯-২০ সালের অতিমারি স্প্যানিশ ফ্লুয়ের মতই প্রাণঘাতী হতে চলেছে।এই প্রাণঘাতী জীবাণুর নামকরণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। নাম দেওয়া হয়েছে ডিজিজ এক্স। এ এমনই প্রাণঘাতী হবে যে তার কোনও ওষুধ নেই। ব্রিটেনের ভ্যাক্সিন টাস্ক ফোর্সের প্রাক্তন প্রধান কেট ব্রিংহ্যাম পুরো বিষয়টি নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করেছেন। যে কোনও সময় হানা দিতে পারে ডিজিজ এক্স। আর হানা দিলে কিন্তু মৃত্যু মিছিল শুরু হয়ে যাবে। কারণ এতে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর হার ইবোলা-র মতই প্রাণঘাতী হবে। ইবোলায় মৃত্যু সম্ভাবনা ৬৭ শতাংশ। আবার এটি ভয়ংকর ছোঁয়াচেও হবে। ফলে তা ছড়াতে সময় লাগবেনা।
এ থেকে বাঁচার তাহলে উপায় কি? কেট জানাচ্ছেন, একবার এটি হানা দিলে তখন কিন্তু এই অতিমারিকে ঠেকানো মুশকিল। তাই আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাই যত দ্রুত সম্ভব এর টিকাকরণ শুরু করে দিতে হবে। আর তা যত দ্রুত যতজন মানুষকে দেওয়া যায় ততই মঙ্গল। ফলে করোনার হাত থেকে কিছুটা রেহাই মিললেও বিশ্ববাসীর হাঁফ ছাড়ার আর উপায় রইল না। এখন আবার মাথার ওপর ঝুলছে ডিজিজ এক্স। যা কখন কোথায় হানা দেবে তা অজানা। কেট ব্রিংহ্যাম এও জানিয়েছেন যে ডিজিজ এক্স এমন এক অতিমারি হয়ে সামনে আসতে চলেছে যে তা কখন বিশ্বজুড়ে হানা দেবে তা অজানা। কিছুদিনের মধ্যেও হতে পারে, আবার কিছু সময় পর।
সংক্ষেপে দেখুনমহিলাদের জামায় পকেট থাকেনা, এর পিছনে বিশেষ কারণ কি?
পুরুষদের শার্টে সাধারণত বুকপকেট থাকে। কিন্তু মহিলাদের শার্টে পকেট থাকেনা। কেন থাকেনা তার একাধিক কারণ রয়েছে। যা জানা প্রয়োজন। পুরুষরা তো শার্ট পরেই থাকেন। কিন্তু আধুনিক জীবনে মহিলারাও শার্ট পরায় স্বচ্ছন্দ। পুরুষদের শার্টের সঙ্গে মহিলাদের শার্টের ফারাক হল পুরুষদের শার্টে বুকপকেট থাকে। কিন্তু মহিলাদেরবিস্তারিত পড়ুন
পুরুষদের শার্টে সাধারণত বুকপকেট থাকে। কিন্তু মহিলাদের শার্টে পকেট থাকেনা। কেন থাকেনা তার একাধিক কারণ রয়েছে। যা জানা প্রয়োজন।
পুরুষরা তো শার্ট পরেই থাকেন। কিন্তু আধুনিক জীবনে মহিলারাও শার্ট পরায় স্বচ্ছন্দ। পুরুষদের শার্টের সঙ্গে মহিলাদের শার্টের ফারাক হল পুরুষদের শার্টে বুকপকেট থাকে। কিন্তু মহিলাদের শার্টে কোনও পকেট থাকেনা। মহিলাদের শার্টে পকেট রাখার চেষ্টা কিছু ডিজাইনার করলেও তা খুব একটা জনপ্রিয় হয়নি। তাই এখন মহিলারা যে শার্টই পরুন না কেন তাতে পকেট থাকেনা।
তাই মহিলাদের জামায় কখনও পকেট থাকেনা। পকেটের একটি প্রয়োজন থাকে। যাতে কিছু জিনিস রাখা যায়। যা মহিলাদের প্রয়োজন পড়েনা।
তাই এখনও বিশ্বজুড়েই মহিলাদের জামায় পকেট থাকেনা। কর্পোরেট দুনিয়াতেও মহিলারা অনেকেই জামায় অভ্যস্ত। অফিসে জামা পরেন অনেকে। কিন্তু পকেট ছাড়াই হয় সেসব জামা।
পুরুষবিদ্বেষ বা মিস্যান্ড্রি: কী এবং কেন?
কল্পচিত্র- এক বিয়ের ব্যাপারে চরম অনাগ্রহী ফারজানা। অফিসে সহকর্মীদের বিবাহিত জীবনের গল্পে তাকে কালেভদ্রে পাওয়া যায়, আর সবসময়ই বিরক্তিসূচক প্রতিক্রিয়া দেন ফারজানা। তবে লক্ষণীয় দিক হচ্ছে, ফারজানার বিরক্তির সবটা জুড়েই থাকে বর মশাইটি! অর্থাৎ দম্পতির পুরুষ সদস্যের প্রতিই তার যত বিতৃষ্ণা, বিরূপ মনোভাব। সবকবিস্তারিত পড়ুন
কল্পচিত্র- এক
বিয়ের ব্যাপারে চরম অনাগ্রহী ফারজানা। অফিসে সহকর্মীদের বিবাহিত জীবনের গল্পে তাকে কালেভদ্রে পাওয়া যায়, আর সবসময়ই বিরক্তিসূচক প্রতিক্রিয়া দেন ফারজানা। তবে লক্ষণীয় দিক হচ্ছে, ফারজানার বিরক্তির সবটা জুড়েই থাকে বর মশাইটি! অর্থাৎ দম্পতির পুরুষ সদস্যের প্রতিই তার যত বিতৃষ্ণা, বিরূপ মনোভাব। সবকিছুতে পুরুষ জাতটাকে শাপ-শাপান্ত না করলে তার শান্তি হয় না।
কল্পচিত্র- দুই
ওদিকে মায়াকে নিয়ে তার পরিবারের মানুষজন ভীষণ বিপাকে পড়ে আছে। মায়ার কথাবার্তা, আচরণে সর্বদা ছেলেদের প্রতি কটাক্ষ স্পষ্ট থাকে! একই কাজে কোনো মেয়ে ভুল করলে মায়ার কাছ থেকে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো ছেলে যদি ঐ কাজে সামান্য ভুল করে বসে, মায়া তাকে কথা শোনাতে ছাড়বেই না! এই আচরণের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছে না মায়ার ঘরের মানুষেরা। কিন্তু তারা বুঝতে চাচ্ছে, মেয়ের সমস্যাটা ঠিক কোথায়। কেন এমন আচরণ তার ছেলেদের প্রতি?
কল্পচিত্র- তিন
নীরা সদ্য বিবাহিত। পারিবারিকভাবে সম্বন্ধ করেই বিয়ে হয়েছে তার। নীরার বর নীরাকে বুঝে উঠতে পারছে না। কেন কথায় কথায় নীরা তাকে কটাক্ষ করছে, তার কাজকে নিজের কাজের তুলনায় তুচ্ছজ্ঞান করছে, কোনো প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে না! বেচারা বর হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে নতুন বৌয়ের হাবভাব বুঝতে।
পুরুষজাতির প্রতি নারীর এই বিরূপ মনোভাব, ঘৃণা, তীব্র নেতিবাচকতা, এগুলো কি খুব স্বাভাবিক বিষয়?
পুরুষবিদ্বেষ বা মিস্যান্ড্রি
উপরের কল্পচিত্রগুলোর পেছনে কারণটা অহেতুক ভালো না লাগা নয়। আরেকটু বেশি কিছু। আর সেটা হতে পারে পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ , যা চরম অপছন্দ অথবা ঘৃণার সম পর্যায়ের।
পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ, কেন?
পুরুষজাতির উপর বিদ্বেষ, ব্যাপারটা ঠিক কী? সেটা জানার আগে মনে করিয়ে দেয়া যাক, বিপরীতে আরেকটা ব্যাপার রয়েছে ‘নারীবিদ্বেষ’ বলে, আর এটা বেশ জানাশোনা একটা ব্যাপার। নারীবিদ্বেষী বা নারীর প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে আলোচনার খাতা যতটা পরিপূর্ণ, উল্টোটা সেই তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে বলতে হয়।
সাইকোলজি টুডের এক প্রতিবেদনে এই ঘৃণার কিছু কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার মধ্য থেকে কয়েকটি কারণ এখানে তুলে ধরা হলো। ভিনদেশ বা ভিন্ন সময়ের প্রেক্ষিতে হলেও এই কারণগুলো বেশ জোরদার, যা পুরুষবিদ্বেষের বিষয়টাকে বুঝতে সাহায্য করবে।
ক্রিয়ার ফল প্রতিক্রিয়া
বাস্তবিকভাবে এটা বলা হচ্ছে যে নারীবিদ্বেষ তার বিপরীতে পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ জন্ম দেয়। বিষয়টা অনেকটা নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মতো। আপনি আপনার কাজের সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া অবশ্যই পাবেন। আর তাই আপনার আচরণে যদি নারীবিদ্বেষ থাকে, তবে সেটা আর কারো মনে আপনার প্রতি বিদ্বেষ জন্মাতে যথেষ্ট। হতে পারে আপনার খুব কাছের একজন নারীও ধীরে ধীরে আপনার প্রতি অতিরিক্ত বিরূপ মনোভাব পুষতে আরম্ভ করেছে এবং সেটা তার মনে অন্যান্য পুরুষের জন্যও ঘৃণার সূত্রপাত ঘটাচ্ছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বড় একটা কারণ, যেকোনো বাজে অনুভূতির পেছনেই এটা বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সবচেয়ে বড় যে ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া এটি হতে পারে, ক্রমশ নারীকে গৃহবাসী করে ফেলা, নারীকে মনোরঞ্জনের বস্তু হিসেবে দেখা ও উপস্থাপন করা, নারীর মানবসত্তাকে দীর্ঘদিন পাথরচাপা করে রাখা ইত্যাদি তার মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে, সেগুলো হয়তো একটা সময় তীব্র পুরুষবিদ্বেষে রূপ নেয়।
নারীবিদ্বেষ ও পুরুষবিদ্বেষ, ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া
ইতিহাসের পাঠগ্রহণ
আমরা ইতিহাস পড়ি, জানি, একই তথ্য গ্রহণ করি কিন্তু সেটার অন্তর্নিহিত পাঠ? মানুষভেদে সে পাঠ পাল্টায় বটে। কারো কাছে ওসামা বিন লাদেন বীর, কারো কাছে সন্ত্রাসী। হিটলারের বেলায়ও একই কথা খাটে, তাকে অপছন্দ করা বহু মানুষের বিপরীতে পছন্দ করা মানুষও আছে পৃথিবীতে। বিশ্বের যুদ্ধবিগ্রহের যত ইতিহাস, তার বেশিরভাগেই খলচরিত্র পুরুষের। আর এটা খুব বড় একটা কারণ হতে পারে অনেক নারীর মনে পুরুষের প্রতি ঘৃণা জন্মানোর। অথচ, খলনায়কদের ভিড়ে বীরদের সংখ্যাও এখানে অনেক! কিন্তু অনেকেই খারাপটাকে যতটা গভীরভাবে অনুভব করে, মনে রাখে বা নিজের ভেতর ধরে রাখে, ভালোটাকে সেভাবে মনে রাখে না। পুরুষদের প্রতি বিরূপ মনোভাব হবার পেছনে এই আচরণকেও কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে এখানে।
সমসাময়িক অরাজকতা
সমসাময়িক দুর্ঘটনা নির্দিষ্ট সময় নির্দেশ করে দেখানো হয়েছে যে ঘটমান সিংহভাগ হত্যাকাণ্ড, অরাজকতা পুরুষদের দ্বারা সংঘটিত হয়। এফবিআই এর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়ও পুরুষজাতির সরব উপস্থিতি। পুরুষবিদ্বেষের সূত্রপাত ঘটাতে এসব বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু, অনেকটা ক্ষার ও ক্ষারকের চিরচেনা সেই বাক্যের মতো এটাও সত্য যে, সব হত্যাকারী পুরুষ হতে পারে কিন্তু তাতে সব পুরুষ হত্যাকারী হয়ে যাচ্ছে না!
অরাজকতায় পুরুষের সম্পৃক্ততা বেশি
ব্যক্তিজীবনের তিক্ততা
যেটা নারীবিদ্বেষী হবার পেছনেও বড় একটা কারণ, ব্যক্তিজীবনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা, সেটাই পুরুষবিদ্বেষী হবার জন্য বড় কারণ বটে। একজন নারী যদি ব্যক্তিজীবনে পুরুষের দ্বারা বাজেভাবে আক্রান্ত হয়ে থাকে, শারীরিক এবং মানসিকভাবেও, সে পরবর্তীতে পুরুষবিদ্বেষী হতেই পারে। ভালোবাসার মানুষটা, নিকটাত্মীয়, সহকর্মী কিংবা যেকোনো অচেনা পুরুষ, একজন নারী যে কারো দ্বারাই তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হতে পারে। এবং তারপর তার কাছে সমগ্র পুরুষ জাতিই মন্দ হয়ে যায়! এখানে বিষয়টা এরকম, দোষ একজনই করছে, কিন্তু তার ফলস্বরূপ ঐ জাতির সবাই নারীর কাছে দোষী হয়ে থাকলো।
ব্যক্তিগত তিক্ততা বাজে অনুভূতির জন্ম দেয়
সাইকোলজি টুডের একটি প্রতিবেদনে একজন নারীবিদ্বেষীর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছিলো, তার আলোকে বিপরীতভাবে পুরুষবিদ্বেষীর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে আরেকটি প্রতিবেদনে।
পুরুষ অপছন্দ করা একজন নারী প্রাথমিকভাবে কোনো পুরুষের প্রতি মোহনীয় আচরণ করতে পারে। সে চাইতে পারে পুরুষটি তার প্রতি আকৃষ্ট হোক এবং তার অধীনস্থ হয়ে পড়ুক। এবং তারপর ধীরে ধীরে ঐ নারী নিজের কর্তৃত্ব ফলাতে থাকবে, সে প্রায় সবকিছুতেই তার সঙ্গীকে শাসন করার মনোভাব দেখাবে। সঙ্গীকে অসম্মান করার মতো ভাষাও ব্যবহার করবে যখন ইচ্ছা।
পুরুষকে দেয়া কথা রাখার ব্যাপারে এমন একজন নারী উদাসীন থাকবে। এবং তাতেও সে পুরুষকেই দায়বদ্ধ রাখার চেষ্টা করবে। বিষয়টা হাস্যকর বটে! এমন নারী নিজের পুরুষ সঙ্গীকে দেখা করার জন্য অযথা অপেক্ষা করাবে এবং আগে থেকে ঠিক করে রাখা পরিকল্পনা বাতিলও করবে, হতে পারে একদম শেষ মুহূর্তে। এইসব আচরণের পেছনে কারণ সেটাই, পুরুষকে অপদস্থ করা। একজন পুরুষবিদ্বেষী নারীর ভেতরে এই জিনিসগুলো থাকা বেশ স্বাভাবিক।
পুরুষকে অপদস্থ করাই যখন উদ্দেশ্য
অপ্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতেও একজন পুরুষবিদ্বেষী নারী নিজেকে কোনো পুরুষের কাছে অরক্ষিত, বিপদগ্রস্ত মনে করবে। এবং সেটা সে প্রকাশ করতেও পারে। কর্মক্ষেত্রে একজন পুরুষকর্মীকে সমতার নজরে দেখাটা তার কাছে স্বাভাবিক হবে না। পুরুষকে মাত্রাতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেয়াটা বরং অতি সাধারণ তার কাছে। প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে এরকম একজন নারী নিজের অধীনস্ত পুরুষকর্মীদের অধিক শাসনে রাখতে পছন্দ করবে, তাদের জরুরি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় রাখতে চাইবে না।
পুরুষসঙ্গী যদি তাকে একভাবে দখে, সে তার বিপরীতটা চাইবে। অধিক মনোযোগ দেখালে সে চাইবে সেটা কম হোক, আর পুরুষ কম মনোযোগী হলে সেটাকেই ঢাল বানাবে পুরুষের বিপক্ষে। অর্থাৎ সবকিছুতে পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ করাই তার উদ্দেশ্য হবে। পুরুষের বিরোধিতা করাটা ধীরে ধীরে এমন নারীর অভ্যাসে পরিণত হবে এবং এই কাজটি সে উপভোগ করবে।
পুরুষকে অকারণে ‘মেয়েলি’ বলে তাচ্ছিল্য করা, পুরুষের আবেগ দেখানোর স্বভাবকে বিচ্ছিরি বলে অভিহিত করা, একজন পুরুষ ঘরোয়া স্বভাবের হলে তাকে হাসিঠাট্টা করা এসবই পুরুষবিদ্বেষের লক্ষণ। নারীবিদ্বেষীর মতোই পুরুষবিদ্বেষীর সংখ্যাও নিতান্তই কম নয়। খুঁজে দেখলে আশেপাশেই দেখা মিলতে পারে এ স্বভাবের কোনো নারীর, পুরুষরা যার লক্ষ্যে থাকে নিগ্রহ করার বিষয় হিসেবে। এবং বলাই বাহুল্য, বিদ্বেষের এই জিনিসখানা সর্বক্ষেত্রেই খারাপ, হোক তা নারীর প্রতি আর হোক, আর তা পুরুষের প্রতি।
সংক্ষেপে দেখুনচ্যাটজিপিটিকে কিভাবে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা যাবে ?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ইন্টারনেট জগতের নতুন বিপ্লব। বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটির মধ্য দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করলো মানবসভ্যতা। আর এখান থেকে এআই প্রতিনিয়ত দ্রুত গতিতে অধিকতর বুদ্ধিমান এবং শক্তিশালী হবিস্তারিত পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ইন্টারনেট জগতের নতুন বিপ্লব। বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটির মধ্য দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করলো মানবসভ্যতা। আর এখান থেকে এআই প্রতিনিয়ত দ্রুত গতিতে অধিকতর বুদ্ধিমান এবং শক্তিশালী হতে থাকবে।
সে যা-ই হোক, চ্যাটজিপিটির আগমনের পর থেকেই একে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। ভারতের এক কোম্পানি তো রীতিমতো চ্যাটজিপিটিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঘোষণা করে সাড়া ফেলেছে। সেটিকে অবশ্য ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ বলেই মনে করছেন অধিকাংশ। তবে আপনি যদি আক্ষরিক অর্থেই আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের কথা ভেবে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য।
বাজার যাচাই
ব্যবসায় সাফল্যের জন্য কেবল নিজের ব্যবসাটা বুঝলেই চলবে না, বুঝতে হবে বাজারের হালহাকিকত, প্রতিযোগীদের অবস্থান এবং কৌশল। চ্যাটজিপিটি এক্ষেত্রে বিনামূল্যে (যদি প্রিমিয়াম ব্যবহার না করা হয়) চমৎকার সেবা প্রদান করতে পারে। চ্যাটজিপিটির শক্তিশালী মেশিন লার্নিং ক্ষমতা এবং ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং ফিচার বাজার সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত তুলনা ও বিশ্লেষণ করে তা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কৌশলগত সিদ্ধান্ত তৈরি করে দিতে পারে।
কন্টেন্ট তৈরি
ওয়েব ৩.০’র যুগে যেকোনো ব্যবসার দ্রুত প্রসারণ এবং সাফল্যের জন্য চাই ভার্চুয়াল জগতে উপস্থিতি। আর সেজন্য প্রয়োজন হয় কন্টেন্টের। চ্যাটজিপিটি আপনার এ কাজ ভীষণ সহজ করে দেবে। কেবল কন্টেন্ট লেখাই নয়, কন্টেন্ট তৈরির উদ্ভাবনী সব বুদ্ধিও দিতে পারবে এই এআই চালিত চ্যাটবট। কোম্পানির প্রচারণা সংক্রান্ত কন্টেন্ট থেকে শুরু করে ব্রশিয়ার লেখা, ওয়েবসাইট উপযোগী কন্টেন্ট কিংবা জনসংযোগের জন্য নিউজলেটার লেখা, সবই করতে পারবে চ্যাটজিপিটি। আপনার দায়িত্ব হবে দুটি- চ্যাটজিপিটিকে পর্যাপ্ত কিওয়ার্ড প্রদান করা এবং তৈরি কন্টেন্ট সম্পাদনা করা।
বিজ্ঞাপনী কৌশল নির্ধারণ
চ্যাটজিপিটিকে সৃজনশীল বিজ্ঞাপনী কৌশল তৈরি করে দিতে বললে চ্যাটজিপিটি এ কাজও করে দেবে, যদিও তা নিখুঁত হবে না। তথাপি, আপনি যে পণ্যটি বিক্রয় করতে চান তার যথাযথ বর্ণনা এবং কীরকম বিজ্ঞাপন চান সেসব তথ্য চ্যাটজিপিটিকে জানালে এই চ্যাটবট দারুণ সব কৌশল এনে হাজির করবে। অবশ্যই সেসব কৌশল অন্ধের মতো অনুকরণ করা চলবে না। কিন্তু সেগুলো থেকে আইডিয়া গ্রহণ করে দারুণ সব বিজ্ঞাপনী কৌশল নিজেই তৈরি করে ফেলতে পারবেন।
প্রাতিষ্ঠানিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল
যেকোনো মাঝারি থেকে বড় আকারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেরই আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থিতি জরুরি। ফেসবুক, লিংকডইন বা টুইটারে কোম্পানিগুলো আজকাল নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান, সাফল্য এবং পণ্য সম্পর্কে প্রচার প্রচারণা করে থাকে। এক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগ কিংবা আউটসোর্সিংয়েই ভরসা করে কোম্পানিগুলো। তবে চ্যাটজিপিটির আগমনে বিষয়টি এখন আপনারই হাতে। যেকোনো পণ্যের যথার্থ বর্ণনা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি সে লিখে দেবে দক্ষতার সাথে। শুধু তা-ই নয়, লেখাটি কোন মাধ্যমের জন্য করছেন সেটি উল্লেখ করে দিলে চ্যাটজিপিটি ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বাচনভঙ্গিতে কন্টেন্ট লিখে দেবে।
কাস্টমার সাপোর্ট
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ইমেজ রক্ষার্থে এবং ক্রেতাবান্ধব সেবাপ্রদানের জন্য কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি হতে পারে গেমচেঞ্জার। আপনার ওয়েবসাইটে কিংবা এপ্লিকেশনে চ্যাটজিপিটি ইন্টিগ্রেট করতে পারলে ক্রেতারা চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেই পেয়ে যাবে তাৎক্ষণিক নির্ভরযোগ্য সমাধান। আপনার প্রাথমিক কাজ হবে পাবলিক ডোমেইনে (ইন্টারনেটে) আপনার কোম্পানি সম্পর্কিত সকল তথ্যাদি এবং ক্রেতাদের সাধারণ প্রশ্নাবলী ও সমস্যা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর মজুদ রাখা।
নীতিনির্ধারণী সহায়তা
নীতিনির্ধারণের মতো ব্যাপারে চ্যাটবটের সহায়তা নেয়ার ব্যাপারটা অমূলক মনে হতে পারে। কিন্তু চ্যাটজিপিটির বিস্ময়করভাবে বৃহৎ তথ্যভাণ্ডারে ব্যবসায়িক নীতিনির্ধারণ, মানবসম্পদ তথা এইচআর কৌশল, কোম্পানির সিএসআর পলিসি, কাজের পরিবেশ সুরক্ষা সম্পর্কিত পরামর্শ, সবই উপস্থিত আছে। সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করলেই চলে আসবে উত্তর।
করণিক কাজকর্ম
ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে সময়ে ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্লানিং) ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। আপনার কোম্পানির ইআরপি সফটওয়্যারে চ্যাটজিপিটি ইন্টিগ্রেট করে নিলে এই ব্যবস্থা কয়েকগুণ শক্তিশালী এবং কার্যকর হয়ে যাবে। মেমো তৈরি করা, পণ্যের অর্ডার সংক্রান্ত কোট তৈরি করা, মাসিক বা বাৎসরিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট তৈরি করায় সহায়ক হতে পারে চ্যাটজিপিটি।
সবমিলিয়ে, ব্যবসা পরিচালনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হবার ক্ষমতা রয়েছে চ্যাটজিপিটির। একে যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং কিওয়ার্ড প্রদান করতে পারলে যেকোনো মানবসম্পদের চেয়ে কোনো অংশে কম দক্ষ হবে না এই সর্বাধুনিক এআই বিস্ময়।
সংক্ষেপে দেখুনআপনার অতি আবেগপ্রবণ সন্তানকে সামলাবেন কিভাবে ?
সায়েম আর সিয়াম দুই ভাই, দুজনেরই বয়স ১০ বছরের কাছাকাছি। সায়েম একদিন দৌড়াতে গিয়ে পড়ে হাঁটুতে ব্যথা পেলো। সে উঠে গিয়ে ব্যথা পাওয়া জায়গাটা পরিষ্কার করে ফেললো, বাসায় এসেও তেমন কিছু জানালো না। যদিও পড়ে যাওয়ার পর তার বন্ধুরা অনেক হাসাহাসি করছিল। আর অন্যদিকে সিয়ামও একদিন খেলতে গিয়ে ব্যথা পেলো, অন্যদের হাসাহবিস্তারিত পড়ুন
সায়েম আর সিয়াম দুই ভাই, দুজনেরই বয়স ১০ বছরের কাছাকাছি। সায়েম একদিন দৌড়াতে গিয়ে পড়ে হাঁটুতে ব্যথা পেলো। সে উঠে গিয়ে ব্যথা পাওয়া জায়গাটা পরিষ্কার করে ফেললো, বাসায় এসেও তেমন কিছু জানালো না। যদিও পড়ে যাওয়ার পর তার বন্ধুরা অনেক হাসাহাসি করছিল। আর অন্যদিকে সিয়ামও একদিন খেলতে গিয়ে ব্যথা পেলো, অন্যদের হাসাহাসি দেখে তার কান্না পেলো ভীষণ। তারপর বাসায় এসে মাকে জানিয়ে আরেক দফা কান্না জুড়ে দিলো।
আমরা সিয়ামের কথাই বলছি, তার সংবেদশীলতা বেশি! অন্যান্য ছেলে-মেয়েরা যখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, সে তখন তার চারপাশের সবকিছু মনোযোগ দিয়ে দেখছে। মানুষের আচরণ, তাদের অভিব্যক্তি, আশপাশের শব্দ, রঙ কিংবা তার সঙ্গে অন্যদের ব্যবহার সে দারুণভাবে বিশ্লেষণ করে। সে সামান্যতেই বিরক্ত হয়, চুপচাপ নিজের মতো থাকতে পছন্দ করে। তার সঙ্গ পেতে হলে তার মন বুঝতে হয়, নইলে বন্ধুত্ব সম্ভব নয় তার সঙ্গে! তার সমবয়সী অনেক বাচ্চা যখন সবকিছু নিয়ে মেতে থাকছে, তখন সে কেবল নিজের পছন্দের ব্যক্তি আর খেলনা নিয়েই খেলছে।
পিতা-মাতা হিসেবে এমন ‘অদ্ভুত‘ আচরণ হয়তো আপনি বরদাশত করবেন না। সবকিছুতে সংবেদনশীল এমন সন্তানকে লালন-পালন একটু কষ্টই বৈকি। কিন্তু এটা তার একার বৈশিষ্ট্য নয়, বাড়ন্ত শিশুদের ভেতর ১৫-২০ শতাংশের ভেতর এমন আচরণ দেখা যায়! এসব শিশুরা যথেষ্ট সামাজিক, সৃজনশীল, সহানুভূতিশীল আর কৌতূহলী স্বভাবের হয়ে থাকে, তবে সেটা তার খোলসের আড়ালেই ঢাকা থাকে। যতক্ষণ না আপনি তাকে খোলসের বাইরে বের করে না আনেন। এরকম সন্তানদের মানুষ করতে হলে একটু ভিন্নভাবেই আচরণ করা উচিত, সেগুলো নিয়েই আজকের লেখাটি।
আবেগপ্রবণতা মেনে নিন
আপনি যদি বুঝতে পারেন যে, আপনার সন্তানটি আসলে একটু বেশিই আবেগপ্রবণ, তাহলে সেটা সমস্যা মনে না করে স্বাভাবিক হিসেবেই নিন। এটাই হবে তার জন্য আপনার নেওয়া সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত। তার উপর যখন-তখন রেগে যাবেন না। তাহলে একসময় আপনার সঙ্গে বিষয়গুলো শেয়ার না করে নিজের ভেতর লুকাতে শুরু করবে। পরিণতিতে একটা সময় সে বিষণ্নতায় ভুগবে।

তাকে তার আবেগগুলো সহজাত ভঙ্গিতে প্রকাশ করতে দিন। আপনি বরং তার অনুভূতি প্রকাশের প্যাটার্ন লক্ষ্য করুন। আবেগ প্রকাশকালে প্রথমে তার কথা শুনুন। তারপর সমাধান দিন, এর সাথে সাথে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে পড়লে আবেগকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটা শিখিয়ে দিন। প্রথমদিকে এটা কাজ না করলেও সে একটা সময় গিয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণে আপনার পরামর্শ মেনে চলতে শুরু করবে। মনে রাখতে হবে, অতি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াটা তার একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য। এটাকে দূর করার চেষ্টা না করে বরং কীভাবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটাই তাকে শেখাতে হবে। তবেই সে স্বনির্ভর হবে আবেগ প্রকাশের দিক দিয়ে, পরিস্থিতি সামাল দিতেও আপনাকে তার সবসময় প্রয়োজন পড়বে না।
সন্তানের বন্ধু হোন
আবেগপ্রবণ সন্তানদের দেখে রাখা আপনার জন্য সহজ হতে পারে যদি আপনি তার বন্ধু হতে পারেন। শুধু মুখের কথায় নয়, আপনি তার বন্ধু হয়েছেন কি না সেটা সে আচরণের মাধ্যমেই প্রকাশ করবে। একবার তার বন্ধু হতে পারলে তার কর্মকাণ্ডগুলো সহজেই দেখে নিতে পারবেন। কারণ এমন সন্তানরা সাধারণত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আপনাকে জানাবে। যেখানে স্বাধীনচেতা আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারা সন্তানরা আপনার অনুমতির তেমন তোয়াক্কা করবে না।

আবেগপ্রবণ সন্তানরা যেহেতু পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়; বিশেষ করে উজ্জ্বল আলো, চিৎকার-চেঁচামেচি কিংবা অগোছালো পরিবেশের প্রতি তারা খুবই সংবেদনশীল। এমন পরিবেশে সে বেশিক্ষণ থাকতে চাইবে না, বরং নীরবতাই তার জন্য উপযুক্ত তখন। আপনার বাচ্চার আশপাশে যদি এমন পরিবেশ তৈরি হয় তবে বেশিক্ষণ সেখানে না রেখে বরং জায়গা বদলে ফেলুন। তাকে বই পড়তে দিন (যদি পড়তে পারে), ব্রিদিং এক্সারসাইজ করান কিংবা শান্ত করার জন্য ঘুম পাড়াতে পারেন। বাচ্চা রেগে গেলে তার জন্য ব্রিদিং এক্সারসাইজ খুবই কার্যকরী, বিশেষ করে সে যখন আপনার কাছাকাছি থাকে না।
নিয়মানুবর্তিতা শেখান
বাচ্চাদের ভেতর নিয়মানুবর্তিতা তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ! আর সন্তান যদি হয় আবেগপ্রবণ, তবে তার ভেতর নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস করানোটা আরও জরুরি। ইমোশনাল সন্তানরা যেহেতু বাবা-মায়ের প্রতি বেশি নির্ভরশীল হয়, তাদের ভেতর নিয়ম তৈরি করে দেওয়াটা আরও সহজ। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, নিয়মগুলো যেন তাকে আবার রাগিয়ে না দেয়, কিংবা নিয়মের ভারে সে যেন সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। বরং এমন কিছু অভ্যাসের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে যেগুলো তার জন্য তার আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। সেইসাথে আপনিও তাকে সময় দিতে পারেন, যখন সে বাইরের পরিবেশের সঙ্গে মিশে। প্রতিনিয়ত একটা ছন্দ পেলে সে নিজের উপর কনফিডেন্স তৈরি করতে পারবে।
সন্তানের চেষ্টাকে সমর্থন জানানো
স্বাভাবিকভাবে আপনার আবেগপ্রবণ সন্তান সহজে কিছু করতে চাইবে না, কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে মিশতে চাইবে না। বিশেষ করে এমন পরিবেশে, যেখানে সে একবার অপদস্থ হয়েছে। তার ছোট ছোট চেষ্টাগুলোকে তাই সমর্থন জানাতে হবে, যত বিচ্ছিন্ন চেষ্টাই হোক না। যেমন, সে যদি ছবি আঁকতে গিয়ে অন্যদের মতো না পারে, অর্থবোধক আঁকিবুকি না করে, তবে তাকে বকা দেবেন না। বরং তাকে জানাতে হবে, সে যেটা চেষ্টা করছে এটা দারুণ! তবে ছবিটা এভাবে আঁকলে আরও সুন্দর হতে পারে। সে তখন আপসেট না হয়ে কিংবা রেগে না গিয়ে নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করবে। এটা মনে রাখতে হবে যে, আবেগপ্রবণ সন্তানরা সাধারণত কষ্টকর কিংবা যেসব কাজে সে ব্যর্থ সেগুলো থেকে তার মনোযোগ সরিয়ে নেয়। এটা করার ব্যাপারে সে হয়তো আপনাকে মিথ্যে বলতে পারে, যদি না তার চেষ্টাগুলোকে আপনি সমর্থন জানান।
সন্তানকে পুরষ্কৃত করুন
যেকোনো বাচ্চাই উপহার হিসেবে কিছু পেলে খুশি হয়। আর সেনসিটিভ বাচ্চা যদি উপহার পায়, তবে তো কথাই নেই! যে ভয়, অপমানবোধ তাকে পিছে ঠেলে দেয়, সেগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখানো যাবে আপনার বাচ্চাকে পুরষ্কৃত করার মাধ্যমে। তাকে যথাসাধ্য কাজের ফলাফল হিসেবে উপহার দিন। তারপর তাকে জানান, সে অমুক কাজটা ঠিকভাবে (অন্তত চেষ্টা) করার জন্য পুরষ্কারটা পেয়েছে। এতে তার কাজের উদ্যম বহুগুণ বেড়ে যাবে। তার কাজের ফলাফল হিসেবে উপহার প্রদানে ভিন্নতা আনুন। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আপনার উপস্থিতিও তার জন্য বড় উপহার হতে পারে। তাই তার পছন্দ-অপছন্দ, শক্তি-দূর্বলতার জায়গাগুলো জেনে নিন আগে থেকে।
অল্প কথায় আবেগ প্রকাশ
আবেগপ্রবণ বাচ্চারা যত সহজে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, তত সহজে সেগুলোকে প্রকাশ করতে পারে না। তাই তার আবেগতাড়িত অনুভূতিগুলোকে সংজ্ঞায়িত করতে সহায়তা করুন। কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে, কতটুকু আবেগ প্রকাশ করতে হবে, সেটা তাকে শেখানো গেলে পরবর্তীতে আর দ্বিধায় ভুগবে না সে। আবার নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে তার পরবর্তী জীবনে।
সন্তানের সমস্যার সমাধান করুন
সবসময় সন্তানের সব আবদার আর অভিযোগ শোনার মানসিকতা আপনার না-ও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রেগে না গিয়ে বরং সন্তানের কাছে সময় চেয়ে নিন, তাকে আশ্বস্ত করুন। রেগে গিয়ে যদি শাস্তি দিতে যান, তবে আপনার সব শিক্ষা বিফলে যেতে পারে! শাস্তির চেয়ে ডিসিপ্লিন শেখালে সে আরও অর্থপূর্ণ আচরণ করবে ভবিষ্যতে। আপনি নিজেকে গুছিয়ে নিতে সময় নিন, অবশ্যই আপনার সন্তান যেনো বুঝতে না পারে তাকে গোছাতে গিয়ে আপনিও অগোছালো হয়ে পড়েছেন!

সংক্ষেপে দেখুনআপনাকে সবসময় একটা সত্য মেনে চলতে হবে, আপনি অতিসংবেদনশীল বাচ্চা বড় করে তুলছেন। সে আপনারই অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাকে বাদ দিয়ে আপনার জীবন অপূর্ণ। তাই তাকে বড় করে তোলাটা সমস্যা হিসেবে না দেখে, স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। হয়তো সবকিছু সময়মতো হবে না, তবে একদিন হবে- এই বিশ্বাস আর ধৈর্য নিয়ে এগোতে পারলেই তবে সন্তানকে আগামীর জন্য উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।
বিশ্বনেতাদের ব্যবহৃত অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত প্লেনগুলো কেমন?
সাধারণ মানুষ প্লেনে ইকোনমিক ক্লাস সিট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। যাদের আরো একটু আরাম আয়েশের দরকার হয়, তারা বিজনেস ক্লাস বা ফার্স্ট ক্লাস সিটের টিকেট কিনতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের কর্ণধাররা? তাদের জন্য থাকে সম্পূর্ণ পৃথক প্লেন এবং তাতে থাকে অত্যাধুনিক সব সুযোগ সুবিধা। এগুলোর মূল্যও হয় সাধারণ যাত্রীবাহী বিমাবিস্তারিত পড়ুন
সাধারণ মানুষ প্লেনে ইকোনমিক ক্লাস সিট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। যাদের আরো একটু আরাম আয়েশের দরকার হয়, তারা বিজনেস ক্লাস বা ফার্স্ট ক্লাস সিটের টিকেট কিনতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের কর্ণধাররা? তাদের জন্য থাকে সম্পূর্ণ পৃথক প্লেন এবং তাতে থাকে অত্যাধুনিক সব সুযোগ সুবিধা। এগুলোর মূল্যও হয় সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের চেয়ে অনেক বেশি।
অবশ্য একে খুব একটা অপচয় হয়তো বলা যাবে না। কেননা, রাষ্ট্রের প্রধানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সেটা অনেক সময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তার উপরও হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই রাষ্ট্রের স্বার্থেই রাষ্ট্রপ্রধানরা অতিরিক্ত নিরাপত্তার খাতিরে বিশেষ কিছু সুযোগ সুবিধা পাওয়ার দাবি রাখেন। চলুন তবে দেখে নিই, বিশ্বের ক্ষমতাবান কয়েকজন রাষ্ট্র প্রধানের ব্যবহৃত প্লেনগুলো, তাদের মূল্য এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
এয়ার ফোর্স ওয়ান
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানের নাম এয়ার ফোর্স ওয়ান। এয়ার ফোর্স ওয়ানের অধীনে হুবহু একই রকম দুটি প্লেন আছে। এগুলো মূলত বোয়িং ৭৪৭- ২০০বি (Boeing 747-200B) প্লেনের পরিবর্তিত সংস্করণ, যদিও সামরিক পরিভাষায় এগুলো ভিসি-২৫এ (VC25A) নামে পরিচিত। এই প্লেনটির দৈর্ঘ্য ৭০ মিটার, অভ্যন্তরীন প্রস্থ বা ফিউজলেজ ৬.৫ মিটার এবং দুই ডানা পর্যন্ত প্রস্থ ৬৫ মিটার। কোনো এয়ারপোর্ট যদি বিশালাকার এই প্লেনকে ল্যান্ড করানোর জন্য উপযোগী না হয়, তখন প্রেসিডেন্ট অপেক্ষাকৃত ছোট একটি প্লেন বোয়িং সি-৩২ ব্যবহার করেন।
ভিসি-২৫এ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত অত্যাধুনিক একটি প্লেন। ডাবল ডেকার এই প্লেনটিতে আছে একটি যোগাযোগ কেন্দ্র, যেখানে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে কয়েকটি জরুরী ফোন লাইন সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকে। এতে অস্ত্রোপচারে সক্ষম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মেডিক্যাল ইউনিট আছে। প্রেসিডেন্টের থাকার জন্য আছে ৩৭০ বর্গ মিটারের একটি ভিআইপি কেবিন, যাতে বেডরুম এবং বাথরুম ছাড়াও একটি জিম এবং একটি অফিসরুম আছে। প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের জন্য এতে পৃথক পৃথক অফিস আছে। এছাড়াও ভ্রমণের সঙ্গী হওয়া সাংবাদিকদের জন্যও আছে পৃথক একটি কেবিন।
এয়ার ফোর্স ওয়ানের ভেতরের গঠন
ভিসি-২৫এ প্লেনগুলো ঘন্টায় ১,০০০ কিলোমিটার বেগে টানা ১৪,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। এগুলো মাঝ আকাশে থাকা অবস্থাতেই জ্বালানি ভরতে সক্ষম। প্রথম ভিসি-২৫এ এর ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছিলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি ন্যান্সি রিগ্যান। ন্যান্সি হোয়াইট হাউজের অনেকগুলো অংশকে নতুন করে সাজানোর জন্য বিখ্যাত ছিলেন। গত কয়েক দশকে প্লেনটিতে অনেক নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হলেও মূল নকশা এখনও অনেকটাই অপরিবর্তিত আছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানের প্রতিটি প্লেনের মূল্য আনুমানিক ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার।
ভ্লাদিমির পুতিন
ভ্লাদিমির পুতিনের আইএল-৯৬-৩০০পিইউ প্লেন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বহনকারী প্লেনটি হচ্ছে রাশিয়ার নির্মিত আইএল-৯৬-৩০০পিইউ (IL-96-300PU) মডেলের একটি বিশালাকৃতির প্লেন, যাকে প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে নেওয়া হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ মিটার এবং এটি ২৭০ টন ভার বহনে সক্ষম। প্লেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৯০০ কিলোমিটার।
বাইরে থেকে দেখতে একই মডেলের যাত্রীবাহী বিমানগুলোর মতো হলেও প্রেসিডেন্টকে বহনকারী প্লেনের ভেতরে অত্যাধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আছে। এর কেবিনগুলো অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ পর্দা এবং স্বর্ণের আচ্ছাদন দ্বারা আবৃত। একটি টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র ছাড়াও এতে আছে প্রশস্ত একটি অফিস, বেডরুম এবং সব ধরনের ব্যবস্থা সহ অত্যাধুনিক একটি জিম।
পুতিনের প্লেনের ইনফোগ্রাফ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বহনকারী প্লেনটিতে রাডার জ্যাম করে দেওয়ার প্রযুক্তি এবং বিমান বিধ্বংসী মিসাইল বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। অধিকতর নিরাপত্তার জন্য হুবহু একই রকমের চারটি প্লেনের ব্যবস্থা আছে। প্রেসিডেন্ট কোথাও যেতে চাইলে সবগুলো প্লেনকে একই সাথে প্রস্তুত করা হয়। শেষ মুহূর্ত ছাড়া কেউ জানতে পারে না, ঠিক কোন প্লেনটি যাত্রা করবে। এবং যাত্রা শুরুর পর প্লেনটির সাথে সাথে অন্তত একটি, এবং কখনো কখনো চারটি প্লেনই যাত্রা করে। প্লেনগুলোর প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।
অ্যাঙ্গেলা মার্কেল
অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের কনরাড অ্যাডেনয়্যার
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের ব্যবহারের জন্য অনেকগুলো প্লেন আছে। কিন্তু তার সবচেয়ে পছন্দের এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্লেনটি হলো একটি এয়ারবাস এ৩৪০-৩১৩এক্স (Airbus A340-313X) ভিআইপি প্লেন, যেটি জার্মানির যুদ্ধ পরবর্তী প্রথম চ্যান্সেলরের নামানুসারে ‘কনরাড অ্যাডেনয়্যার’ নামে পরিচিত। এটির হুবহু আরেকটি সংস্করণ আছে, যা জার্মানির প্রথম প্রেসিডেন্টের নামানুসারে ‘থিওডোর হয়েস’ নামে পরিচিত। ২০১১ সালে প্লেন দুটোকে চ্যান্সেলরের ব্যবহারের জন্য বিমান বাহিনীতে নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এগুলো লুফথানসা এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
কনরাড অ্যাডেনয়্যার প্লেনটিকে চ্যান্সেলের জন্য উপযোগী করে সংস্কার করা হয়েছে। এতে একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট, বেডরুম, অফিস ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সিং এর সুবিধা সম্বলিত একটি কনফারেন্স হল এবং জরুরী আলোচনার জন্য একটি শব্দ নিরোধক কক্ষ আছে। এতে মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। একনাগাড়ে ১৩,৫০০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম প্লেনটিতে চড়ে কোনো বিরতি ছাড়াই বার্লিন থেকে ওয়াশিংটন, বেইজিং বা রিও ডি জেনিরোতে পৌঁছানো যায়। প্লেনটির আনুমানিক মূল্য ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ঝি জিনপিং
ঝি জিনপিংয়ের ব্যবহৃত প্লেন
অন্যান্য বিশ্বনেতাদের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের নেতা, কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব ঝি জিনপিংয়ের নিজস্ব কোনো বিশেষ প্লেন নেই। ভ্রমণের জন্য তিনি দুটি বোয়িং ৭৪৭-৪০০ (Boeing 747-400) প্লেন ব্যবহার করেন, যেগুলো মূলত এয়ার চীন এয়ারলাইন্সের সম্পত্তি। সাধারণ অবস্থায় প্লেনগুলো যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু জিনপিং যখন কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তখন রাষ্ট্রীয় বিশেষ নিরাপত্তাবাহিনী প্লেনগুলোকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করে এবং এর আসনগুলো সরিয়ে সেসব স্থানে অস্থায়ী বেডরুম, অফিস এবং অন্যান্য কেবিন স্থাপন করে। ভ্রমণ শেষে প্লেন দুটোকে পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং এয়ারলাইন্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চীনের নেতার ব্যবহৃত প্লেনগুলোর প্রতিটির মূল্য ২৫০ মিলিয়ন ডলার। তবে প্লেনগুলোর ভেতরে কী ধরনের আসবাবপত্র বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকে, সে ব্যাপারে চীনের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয় না। রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাথে মিল রেখে চীনও তাদের নেতার জন্য একাধিক পৃথক প্লেন ক্রয় করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্যান অ্যান্টনিও এয়ারপোর্টের কাছে হস্তান্তর করেছিল সেগুলোকে মেরামত করার জন্য। কিন্তু বাস্তবে চীনের নেতারা কখনোই সেগুলো ব্যবহার করেননি। ধারণা করা হয়, নিরাপত্তাই এর প্রধান কারণ।
ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো
ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর ব্যবহৃত প্লেন
ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি ব্যবহার করতেন একটি এয়ারবাস এ৩১৯। কিন্তু একবার উড্ডয়নের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে প্লেনটির একটি ইঞ্জিন অকেজো হয়ে যাওয়ায় তার পরিবর্তে একটি এয়ারবাস এ৩৩০-২০০ (Airbus A330-200) কেনা হয়। সারকোজির পর এই প্লেনটি প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ ব্যবহার করেছিলেন, এবং বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোও একই প্লেন ব্যবহার করছেন।
বিশাল আকারের বেডরুম, বাথরুম, ড্রেসিংরুম, কিচেন, একটি অফিস কক্ষ, শব্দনিরোধক আলোচনা কক্ষ ছাড়াও এতে আছে সেনাবাহিনী সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের উপযোগী একটি যোগাযোগ কক্ষ। এতে এমন সব অত্যাধুনিক যোগাযোগ যন্ত্রপাতি আছে, যা সাংকেতিক ভাষায় রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য প্রেরণ, গ্রহণ এবং সেগুলোর মর্ম উদ্ধার করতে পারে। প্লেনটির আনুমানিক মূল্য ২৭০ মিলিয়ন ডলার।
তামিম বিন হামাদ আল-থানি
কাতার আমিরি ফ্লাইটের বিমানবহর
ক্ষুদ্র উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্রগুলোর একটি। এর আমির তামিম বিন হামাদ আল-থানি বিশ্বের সেরা ধনীদের মধ্যে অন্যতম। স্বভাবতই তাকে এবং তার রাজপরিবারের সদস্যদেরকে বহনকারী প্লেনও হবে পুরো দুনিয়াকে তাক লাগানো। কাতারের আমির যখন বিদেশে যান, তখন প্রায় সময়ই তার সফরসঙ্গীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। এবং তাদের সাথে থাকা ব্যক্তিগত গাড়ি সহ অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর মোট ওজন কয়েক টন ছাড়িয়ে যায়। ফলে মাত্র একটি প্লেনের পক্ষে তাদেরকে বহন করা সম্ভব হয় না। তিনি যখন জাপান সফরে গিয়েছিলেন, তখন তার সাথে গিয়েছিল ১০টি প্লেনের বিশাল বহর।
কাতারের রাজপরিবারের সদস্যদেরকে বহন করার জন্য “কাতার আমিরী ফ্লাইট” নামে পৃথক একটি ভিআইপি এয়ারলাইন আছে। ২০১৬ সালের আগস্টের এক হিসেব অনুযায়ী এতে মোট ১৪টি প্লেন আছে। পৃথক পৃথকভাবে এগুলোর প্রতিটির মূল্য গড়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার হলেও একত্রে এগুলোর সর্বমোট মূল্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
সংক্ষেপে দেখুন২১ শতকে টিকে থাকলত হলে আপনার কেমন দক্ষতা থাকা প্রয়োজন ?
“ভবিষ্যতে রোবটরা আপনার চাকরিকে নিয়ে নেবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার মস্তিষ্ককে হ্যাক করে ফেলবে- এবং এই ভবিষ্যতটাও খুব দূরে নয়”, বিখ্যাত ঐতিহাসিক এবং লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারি এমনটাই বলছেন তার নতুন বই ‘টুয়েন্টি ওয়ান লেসন্স ফর দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’-তে। কিন্তু আপনি কেন তাকে বিশ্বাস করবেন? কারবিস্তারিত পড়ুন
“ভবিষ্যতে রোবটরা আপনার চাকরিকে নিয়ে নেবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার মস্তিষ্ককে হ্যাক করে ফেলবে- এবং এই ভবিষ্যতটাও খুব দূরে নয়”, বিখ্যাত ঐতিহাসিক এবং লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারি এমনটাই বলছেন তার নতুন বই ‘টুয়েন্টি ওয়ান লেসন্স ফর দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’-তে।
কিন্তু আপনি কেন তাকে বিশ্বাস করবেন? কারণ তিনি তার পুরো ক্যারিয়ারই গড়ে তুলেছেন ইতিহাসকে পড়ে, মানুষ নিয়ে গবেষণা করে। হিব্রু ইউনিভার্সিটি অফ জেরুজালেমের এই ইতিহাসের প্রফেসর ইতোমধ্যে তিন-তিনটি আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার বই লিখে ফেলেছেন শুধু মানুষকে নিয়েই। তিনি তার প্রথম বই ‘সেপিয়েন্স’-এ দুনিয়া কাঁপিয়েছেন মানবজাতির ইতিহাসকে সহজ ভাষায় লিপিবদ্ধ করে, তার পরের বই ‘হোমো ডিউস’-এ তিনি লিখেছেন আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে, এবং তার এই বইটি কথা বলছে বর্তমান নিয়ে, কী হচ্ছে এই বর্তমানে এবং তা আমাদের জন্য কী অর্থ বহন করে।
তার মতে, প্রযুক্তির নতুনত্ত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এতটাই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে যে, এর দূরপাল্লার ফলাফল কেমন হতে পারে সেই সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই নেই। (১৫ বছর আগে ফেসবুক বলে কিছু ছিলই না, সেই ফেসবুকই এখন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে, ঘটিয়ে ফেলছে আরব বসন্তের মতো ঐতিহাসিক বিপ্লব। ভেবে দেখুন, আরও ১৫ বছর পরে এই ফেসবুকের প্রভাব কোথায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে।) তিনি বলছেন, অটোমেশনের মুখে আমরা আমাদের বর্তমান চাকরিকে একসময় হারিয়ে ফেলবো। তারপর যে চাকরিই নেই না কেন, অটোমেশন সেই চাকরি একসময় কেড়ে নিবেই। একসময় আমাদের জীবনের সম্পূর্ণটাই নিয়ন্ত্রণ করবে অ্যালগরিদম, আমাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব বা সত্ত্বাই হারিয়ে যাবে।
আর এসব হুমকির মুখে আমাদের কী কী দক্ষতা প্রয়োজন? দরকার এমন মানসিক নমনীয়তা এবং সংস্কারহীনতা, যাতে প্রতি দশকে আমরা নতুন করে আবিষ্কার করতে পারি নিজেদেরকে। আরও দরকার নিজেকে এমনভাবে জানা যে, প্রযুক্তি আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে।

লেখক ও ঐতিহাসিক ইউভাল নোয়াহ হারারি
এসব নিয়েই ইউভাল নোয়াহ হারারি কথা বলেছিলেন ‘জিকিউ’ ম্যাগাজিনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে।
আপনার লেখায় আপনি বলছেন, বর্তমান পৃথিবীর ভবিষ্যত সম্পর্কে একমাত্র নিশ্চিত ব্যাপার হচ্ছে এটি অনিশ্চিত। এই অনিশ্চয়তার প্রভাব আমাদের উপর কেমন হতে পারে?
আপনি যদি খুব বেশি বৃদ্ধ না হয়ে থাকেন, এটা খুবই সম্ভাব্য যে আপনার পরবর্তী দশকগুলোতে নিজেকে বারবার নতুন করে আবিষ্কার করতে হবে, পেশা পরিবর্তন করতে হবে বেশ কয়েকবার।
অনেকে ভাবেন, দুনিয়া হয়তো একবারই পরিবর্তন হবে, বড়সড় বিপ্লব হয়ে যাবে কোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে। ধরুন, সেটা ২০২৫, যেখানে আমরা দেখবো রোবটরা আমাদের ৬০% চাকরি নিয়ে নিয়েছে। তারপর কয়েকবছর আমাদের একটু কষ্ট করতে হবে, তারপর দেখবো আবার নতুন নতুন চাকরি তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে, একসময় অর্থনীতি একটি নতুন ধরনের সাম্যাবস্থায় চলে আসবে।
কিন্তু এই চিন্তার সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে, এখানে ধরে নেয়া হচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার সর্বোচ্চ ক্ষমতায় পৌঁছে যাবে ২০২৫ এই। তারপরও যে পরিবর্তন হতে পারে, সেটা ভাবা হচ্ছে না। হ্যাঁ, ২০২৫ সালে গিয়ে আমরা দেখবো অনেক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ২০৩৫ সালের পরিবর্তন হবে তার থেকেও বড়, ২০৪৫ সালেরটা তার থেকেও, আর মানুষকে এই প্রত্যেকটি পরিবর্তনের সাথে নিজেকে সমন্বিত করে নিতে হবে।

রোবটদের হাতে চলে যেতে পারে আমাদের চাকরিগুলো
একে মোকাবেলা করা জন্য আপনি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে আসলে এ ধরনের সমস্যার সামনে আমাদের ক্ষমতা খুবই সীমিত। আপনি যদি অনেক বিত্তবান হন, তখন হয়তো আপনার এসব সমস্যার প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে অনেক পুঁজি আছে, সম্পদ আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আসলে এক্ষেত্রে অনেক সাহায্যের দরকার। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে হচ্ছে পর্যাপ্ত ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এবং মানসিক ভারসাম্য, কারণ সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো এক্ষেত্রে হবে মনস্তাত্ত্বিক।
রোবটদের কাছে চাকরি হারিয়ে আপনি যদি নতুন চাকরিও পান, কিংবা সরকারই আপনাকে ভরণপোষণ করে, তখনও এ ধরনের পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে আপনার প্রচুর মানসিক শক্তি থাকতে হবে। কৈশোরে বা তারুণ্যে পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা ভালো থাকে। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর, অর্থাৎ যখন আপনার বয়স ৪০ বা ৫০, তখন কিন্তু পরিবর্তন আপনার জন্য বেশ পীড়াদায়ক হবে। এ সময় আপনার মানসিক শক্তি যদি সাথে থাকে, তবেই আপনি পারবেন ৩০, ৪০ বা ৫০ বছর বয়স পেরোবার সময় প্রতিবারই নতুন একটি পৃথিবীর মুখোমুখি হতে। এখন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ আসলে কোনো নির্দিষ্ট দক্ষতা নয়, কম্পিউটার কোডিং পারা বা ম্যান্দারিন ভাষায় দক্ষ হওয়ার চেয়ে মানসিকভাবে নমনীয় হওয়া এবং নিজের ব্যক্তিত্বকে পরিবর্তনের প্রতি স্বচ্ছন্দ করে তোলা অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখন।
কিন্তু এরকম মনস্তত্ত্ব একজন মানুষ কীভাবে তৈরি করতে পারেন?
আমি ধ্যান করি, বিপাস্যনা (একধরনের বৌদ্ধিক ধ্যান) করি। আমি প্রতিদিন দু’ঘণ্টা করে ধ্যান করে থাকি। আমি প্রায়ই প্রশান্তির জন্য নিভৃতে চলে যাই, প্রতি বছরে ৬০ দিন আমার ধরা থাকে এর জন্য। আমার জন্য এ ব্যাপারটি কাজ করে। তবে আমার জন্য কাজ করে বলেই সবার জন্য কাজ করবে ব্যাপারটি সেরকম নয়। একেকজনের জন্য কার্যকরী হবে একেকটি প্রক্রিয়া। কেউ কেউ থেরাপি নেন, কেউ শিল্পে মনোনিবেশ করেন, কেউ খেলাধুলায়। এমনও হতে পারে আপনি এক সপ্তাহ পাহাড়ে হাইকিং করলেন এবং এতেই মনে হলো আপনার মন অনেক নমনীয় হয়েছে আগের থেকে। সুতরাং এই ব্যাপারটি পুরোই ব্যক্তিসাপেক্ষ, আমার মনে হয় না সার্বজনীন কোনো উত্তর আছে এখানে।

মেডিটেশন আপনার মনস্তত্ত্বকে নমনীয় করে তুলতে পারে
তবে আমাদের সবসময়ই এগুলোর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিজেদের কাছে পরিষ্কার থাকতে হবে- আমরা আমাদেরকে নিজেদেরকে আরো ভালো করে জানার চেষ্টা করছি এবং মানসিক নমনীয়তা অর্জনের চেষ্টা করছি। এটা আমাদের কোনো শখ হিসেবে না, জীবনের অন্যতম একটি মূল কাজ হিসেবেই করা উচিত। আগামী দশকগুলোতে এই দক্ষতাই আপনার জন্য হবে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
এখানে একটি বাস্তবিক উদাহরণ আমি যদি না দেই তবে এই কথাগুলো শুনতে খুব বেশি তাত্ত্বিক শোনাতে পারে। ধরুন, আপনি একটি ব্যাংকে কাজ করেন এবং বেশ সফল ক্যারিয়ারও গড়ে ফেলেছেন আপনি ইতোমধ্যে। কিন্তু আজ থেকে ১০ বছর পর আপনি দেখলেন আপনার কাজগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার থেকে বেশি পাকা হয়ে গিয়েছে। আপনি স্টক এক্সচেঞ্জের হিসাব নিকাশ করতেন, কিন্তু অ্যালগরিদম সেই হিসাব এখনো আরো নিখুঁতভাবে কম সময়ে করতে পারে এবং তাকে কোনো বেতনও দেয়া লাগে না। সুতরাং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাার কাছে আপনি আপনার চাকরি হারিয়ে ফেললেন। তখন আপনার অন্য কোনো চাকরিতে যেতে গেলে গত ১০ বছরে যা কিছু অর্জন করেছেন সব ভুলে গিয়ে নতুন করে অনেক কিছু শিখতে হবে। শুধু দক্ষতার দিক দিয়েই না, আপনাকে পিছনে ফিরে যেতে হবে আরো অনেক অনেক দিক থেকে। এমন অবস্থাও দাঁড়াতে পারে যে আপনি যা শিখেছেন এবং অর্জন করেছেন তা ত্যাগ করলেও হচ্ছে না, আপনার নিজের প্রতি নিজের যে ধারণা ছিল, তাও বদলাতে হচ্ছে। আপনি তখন আর জানেন না আপনি আসলে কী করেন, সমাজে আপনার পরিচয় কী। তাই এসব পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য আপনার প্রচুর মানসিক নমনীয়তা এবং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স দরকার।

আপনার ব্যাংকের হিসাবনিকাশের কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরো নিখুঁতভাবে করতে পারবে
আপনার কাজ প্রযুক্তির সাথে আপনার সম্পর্ককে কীভাবে পরিবর্তিত করেছে?
আমি কোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করি না। আমার মনোযোগ আমার কাছে আমার অন্যতম বড় একটি সম্পদ এবং সেই মনোযোগকে আমার নিজের নিয়ন্ত্রণ থেকে কেড়ে নেবার জন্য এই স্মার্টফোনটি সবসময় মুখিয়ে থাকে। সবসময়ই সেখানে নতুন কিছু না কিছু আসছে।
আমি প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ব্যবহারের উদ্দেশ্য কি আমি নিজে ঠিক করছি নাকি প্রযুক্তিই ঠিক করে দিচ্ছে সে ব্যাপারটি সবসময় খেয়াল করি। প্রযুক্তি কিন্তু প্রায়ই ঠিক করে দেয় আমরা কী উদ্দেশ্যে তাকে ব্যবহার করছি। ধরুন, আপনার একটু অবসর আছে, ইউটিউব খুললেন, দু’ঘন্টা পর দেখা যাবে আপনি এখনো ইউটিউবেই পড়ে আছেন, দেখছেন ফানি ভিডিও বা গাড়ির এক্সিডেন্ট বা এ ধরনের কিছু। আপনি কিন্তু কখনোই সিদ্ধান্ত নেননি যে পরবর্তী দু’ঘন্টা আপনি এসব ভিডিও দেখে কাটাবেন, প্রযুক্তিই আপনার হয়ে সে সিদ্ধান্ত নিয়ে দিয়েছে। আপনার মনোযোগকে তারা এত নিপুণভাবে কেড়ে নিয়েছে যে আপনি টেরই পাননি।
এই মনোযোগ কেড়ে নেয়া প্রযুক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখাটা আপনার জীবনমানকে কীভাবে বদলে দিয়েছে?
আমার জীবনে এখন অনেক সময়। এবং সেই সময়টা শান্তিপূর্ণও বটে। আসলে এটা তো গোপন কোনো ব্যাপার নয়। প্রযুক্তি তো কোনো শান্তিপূর্ণ আবেগ দিয়ে আপনার মনোযোগ কাড়তে পারবে না, তারা এটা করবে আপনাকে উত্তেজিত করে, আপনার মনে ভয়, ঘৃণা বা ক্রোধের উদ্রেক করার মাধ্যমে, কিংবা আপনার লোভকে ইন্ধন দেবার মাধ্যমে। ধরুন, কেউ যদি ইমিগ্র্যান্টদের মনে মনে ভয় পায় বা ঘৃণা করে, প্রযুক্তির অ্যালগরিদম ইমিগ্র্যান্টদের নেতিবাচক দিক নিয়ে একের পর এক ভিডিও দেখাতে থাকবে। আবার, কেউ ধরুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একদমই পছন্দ করে না, তারা প্রযুক্তির বশবর্তী হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রাম্পের খারাপ কাজের ভিডিও দেখবে এবং তার ক্রোধ বাড়তেই থাকবে, বাড়তেই থাকবে। এবং এই খবরগুলো যে সত্য হওয়া লাগবে এমনও না- একজন যদি হেডলাইন দেখে যে “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন পৃথিবী সমতল”, তারা সেই নিউজে বা ভিডিওতে ক্লিক করবেই।
এসব আপনার মনোযোগ কেড়ে নিতে বাধ্য, কারণ মানুষ হিসেবে এখানেই আপনার দুর্বলতা। কিন্তু আপনি যদি আপনার দুর্বলতার কাছে হেরে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা এগুলোই পড়ে বা দেখে কাটিয়ে দেন তবে প্রকৃতপক্ষে আপনি নিজেই নিজেকে রাগান্বিত এবং ঘৃণাপূর্ণ করে তুলছেন। আর এই ব্যাপারটা আরো ভয়ংকর হয় তখনই যখন আপনি যেসব ভিডিও দেখছেন বা খবর পড়ছেন এগুলো যদি বেশিরভাগই সত্য না হয়। কিন্তু এটাই বাস্তবতা, সামাজিক মাধ্যমে যেসব খবর আপনি পাচ্ছেন তার অনেকটুকুই সত্য নয়, বানোয়াট। অথচ আপনি শুধু শুধুই কয়েক ঘন্টা ধরে নিজের মাঝে ঘৃণা এবং রাগের উদ্রেক করেছেন।
লোভের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একইরকম। আপনি যদি খুব করে একটা কিছু চান, একটি আলিশান বাড়ি বা সুন্দর গাড়ি, তখন আপনি এগুলো নিয়ে বানানো ভিডিও দেখবেন এবং সেগুলোকে আরো বেশি করে চাবেন। কিন্তু আপনার যেহেতু সেসব থাকবে না, আপনার নিজেকে নিয়ে হীনম্মন্যতা আরো বাড়তে থাকে যে আপনার এরকম বাড়ি নেই, এরকম গাড়ি নেই। সুতরাং দেখা যাবে আপনি আপনার লোভকে এক ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে আরো বাড়ালেন, যে ব্যাপারটি আপনার জন্য মোটেও ভালো হলো না।

আপনার জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে স্মার্টফোন
আপনি নিজেকে যতটা ভালো করে জানবেন, প্রযুক্তির এই ভয়াল থাবা থেকে নিজেকে ততটা নিরাপদ রাখতে পারবেন আপনি। আপনি যদি জানেন যে আপনার কী কী দুর্বলতা আছে, কী কী লোভ আছে, এই রাগ ঘৃণা লোভের বশবর্তী অবশ্যই তুলনামূলকভাবে কম হবেন আপনি। অ্যালকোহলিক বা ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে যেমন নেশামুক্ত হবার প্রথম ধাপ হচ্ছে নিজের কাছে স্বীকার করা যে, “আমি ধূমপায়ী বা অ্যালকোহলিক এবং এটা আমার জন্য খারাপ”, এ ব্যাপারটিও অনেক তেমনই।
তাহলে আপনি খবর পান কোথা থেকে?
প্রতিদিনের নিউজ আমি খুব কমই অনুসরণ করি। আমি বরং নিজেদের পছন্দের জায়গাগুলো নিয়ে বড় বড় বই পড়ে থাকি। চীনা অর্থনীতি সম্পর্কে ১০০টা ছোট ছোট খবর পড়ার থেকে আমার কাছে চীনা অর্থনীতি সম্পর্কে লেখা একটি বড় বই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলাকে বেশি ভালো মনে হয়। সেক্ষেত্রে আমি হয়তো প্রতিদিনের খবরে থাকা অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিটেইল মিস করবো, কিন্তু আমি তো কোনো রাজনীতিবিদ নই, সাংবাদিকও নই, তাই অতটুকু মিস করাটা আমার কাছে তেমন বড় সমস্যা বলে মনে হয় না।
কিন্তু আমরা কেন আমাদের নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে এতটা অপারগ বলে আপনি মনে করেন? প্রশ্নটা করতে গিয়ে সম্প্রতি গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে প্রকাশিত হওয়া নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের একটি ইস্যুর কথা মনে পড়লো আমার। ১৯৮০ সালেই আমরা জানতাম আজকে পৃথিবী এই অবস্থায় আসবে, কিন্তু আমরা কোনো পদক্ষেপ নেইনি, আজ আমরাই ভুক্তভোগী হচ্ছি। আমার কাছে বর্তমান সময়টাও অনেকটা একই বলে মনে হচ্ছে, আমরা জানি প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জন্য অনেক সমস্যা নিয়ে আসবে, তারপরও আমরা এর থেকে নিজেদের নিরস্ত করতে পারছি না।
একটা কারণ হচ্ছে আর্টিফিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাঝে লুকিয়ে থাকা অনেক অনেক ইতিবাচক সম্ভাবনা। যদি পুরো ব্যাপারটাই খারাপ হতো, তবে তো আর এর উপর গবেষণার পেছনে এত এত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হতো না। সত্য ঘটনা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন আমাদের মানবজাতিকে বেকার করে দিতে পারে, উদ্দেশ্যহীন করে দিতে পারে, তেমনি অনেক সুবিধাজনক ব্যাপারও নিয়ে আসতে পারে।
যেমন ধরুন, সেলফ ড্রাইভিং গাড়ির কথা। এ ব্যাপারটি কিন্তু প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। বর্তমানে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং এগুলোর প্রায় পুরোটাই মানবিক ভুলের কারণে, যেসব ভুল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করবে না। তাই এই যে লক্ষ প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ, এ ব্যাপারটা সুন্দর। কিন্তু এটা করতে গেলে আপনার মানুষের আচার-আচরণ এবং আবেগকে হ্যাক করতে হবে। রাস্তার মাথায় নব্বই ডিগ্রি বাঁক নিতে অ্যালগরিদম সহজেই পারবে, সেটা তেমন কঠিন কিছু নয়। কিন্তু একটা বাচ্চা যদি কোনো বল ধরার জন্য হঠাৎ গাড়ির সামনে লাফ দেয়, সেক্ষেত্রে বাচ্চাটাকে বাঁচাবে কোন অ্যালগরিদম?
সুতরাং সেলফ ড্রাইভিং গাড়ির আইডিয়াকে সম্পূর্ণ বাস্তব করতে হলে আমাদের এমন গাড়ি তৈরি করতে হবে যা একটা বাচ্চার অনুভূতি, চিন্তা-ভাবনাকে বুঝতে পারে। অর্থাৎ মানুষের আচরণকে, তার কাজকর্মের প্যাটার্নকে হ্যাক করতে হবে, তাই না? সোশ্যাল মিডিয়াই বর্তমানে এই প্রযুক্তির উদাহরণ, যেখানে তারা আমাদের আবেগকে হ্যাক করে ঘন্টার পর ঘন্টা আমাদের বসিয়ে রাখতে পারে তাদের সামনে। সুতরাং যেই প্রযুক্তি আমাদের মনোযোগকে কেড়ে নিয়ে আমাদের জীবনকে অসুখী করে তুলছে, যে প্রযুক্তিই আবার বছরে লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচাতে পারে। তাই “শুধু সমস্যাই আসবে” এরকমটা এত সহজে বলা যায় না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আশীর্বাদ হতে পারে সেলফ ড্রাইভিং গাড়ি
হ্যাঁ, মুদ্রার তো দুটি পিঠ থাকবেই। আচ্ছা ভবিষ্যত প্রযুক্তির শুধু ভালোগুলোকে গ্রহণ করে খারাপগুলোকে প্রতিহত করে রাখার কি কোনো উপায় আছে?
আশা করি কার্যকর সরকারী আইন, মানুষের নিজেকে জানা, যারা অ্যালগরিদম তৈরি করছে তাদের অভিপ্রায়গুলো ঠিক থাকা, এগুলো সব মিলিয়েই ভবিষ্যত হয়তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যারা প্রযুক্তিতে কাজ করছে- প্রকৌশলীরা, বিজ্ঞানীরা- তাদের কারোরই আসলে অভিপ্রায় খারাপ নয়। হয়তো কারো কারো খারাপ থাকতে পারে, কিন্তু কেউই তো আর মানবজাতির ধ্বংস ডেকে আনতে চাচ্ছে না। কিন্তু সত্য ঘটনা হচ্ছে, বিজ্ঞানী বা প্রকৌশলীরা প্রযুক্তি তৈরি করতে পটু হলেও সম্পূর্ণ মানবজাতির জন্য তাদের কাজের ফলাফল কী হতে পারে, তা বুঝতে খুবই অপটু। সুতরাং আমরা যদি প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য কেমন ভবিষ্যত আনতে পারে, তা নিয়ে আরো কথা বলি, সচেতনতা তৈরি করি, এই প্রযুক্তিগত উন্নতিকে আমরা ঠিকঠাক দিকে হয়তো রাখতে পারবো।
আমার কাছে আমার বইটি কিন্তু কোনো ভবিষ্যদ্বাণীর বই নয় যে, হ্যাঁ, আমাদের ধ্বংস আসছেই এবং এখানে আমাদের কিছুই করার থাকবে না। যদি কিছুই করার না থাকে, তবে এই বই লেখারই তো কোনো সার্থকতা নেই। আমার আইডিয়াটা হচ্ছে মানুষকে জানানো, এসব নিয়ে কথা বলতে শেখানো। প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চাকরির বাজারকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, আমাদের মনস্তত্ত্বের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, আমাদের সম্পর্কগুলোকে কীভাবে বদলে দিতে পারে- এসব নিয়ে অবশ্যই আমাদেরকে কথা বলতে হবে। যেমন আমেরিকায় মিডটার্ম ইলেকশন হবে কিছুদিনের মধ্যেই, আপনি যদি এমন কাউকে দেখেন যে কংগ্রেসের জন্য নির্বাচিত হতে চাচ্ছে, অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জব মার্কেটের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন? প্রযুক্তির তৈরি জগত শিশুদের মনস্তত্ত্বকে কীভাবে বদলে দিচ্ছে বলে আপনি মনে করেন? আপনাকে যদি আমরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি, এগুলোর জন্য আপনি কী কী পদক্ষেপ নিবেন?”
আপনার “সেপিয়েন্স” বইটাতে আপনি একটি আইডিয়া দিয়েছিলেন যে আমরা মানুষেরা আমাদের প্রয়োজনে সংঘবদ্ধভাবে অনেক কল্পনাপ্রসূত গল্পে বিশ্বাস করে আসছি, এই বইটিতেও সে কথা এসেছে। বর্তমান সময়ে আমাদের বিশ্বাস করা সবচেয়ে বিপদজনক কল্পনাপ্রসূত গল্প বলে আপনার কোনগুলোকে মনে হয়?
এরকম বিপদজনক গল্প এখন আছে দুটো, একটি আরেকটির বিপরীত। একটি হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। সব দেশেই আমরা দেখছি, অতীতকে উপজীব্য করে অনেক অনেক নেতা উঠে আসছেন। তারা ভবিষ্যত নিয়ে কথা না বলে বলছেন অতীত নিয়ে, “আমাকে যদি তোমরা ভোট দাও, আমি তোমাদের দেশে সোনালী যুগ ফিরিয়ে আনবো।” যা অসম্ভব, সব সোনালী যুগই আসলে আমাদের তৈরি ফ্যান্টাসি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলোর অবস্থান একটি নির্দিষ্ট ঘরানার ইতিহাসবিদের বইতে, অথচ আসল চিত্রটা যেখানে পুরোই আলাদা। যেখানে তাদের কথা বলার কথা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে, প্রযুক্তির সামনে আমাদের পদক্ষেপ নিয়ে, সেখানে অতীত নিয়ে কথা বলে তারা ভোট বাগিয়ে নিচ্ছে, আর আমরাও আমাদের নস্টালজিয়ার বশবর্তী হয়ে তাদের বিশ্বাস করছি।
এটা খুবই বিপদজনক, কারণ নতুন সমস্যাগুলোর সমাধান না ভেবে অতীতকে টেনে আনতে গেলে এই নেতারা সবাই ব্যর্থ হবে। এই নেতারা সেসব ব্যর্থতার ভার কখনোই নিজেরা নিবেন না, অন্যদের উপর দোষ চাপাবেন। কিন্তু প্রযুক্তি এগোতে এগোতে আমরা হঠাৎ ভয়ংকর অর্থনৈতিক ধ্বসের সামনে পড়ব বা সম্পূর্ণ মানবজাতি উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলবে, কিন্তু তখন দেখা যাবে আমরা সেসব সমস্যা নিয়ে ভাবিইনি। ইতিহাসে এরকম হতে আমরা আগেও দেখেছি।
আরেকটি, এর বিপরীত গল্পটি হচ্ছে, “ভবিষ্যত নিজের থেকেই ভারসাম্যে চলে আসবে। আমাদের শুধু একের পর এক নতুন প্রযুক্তি বানাতে হবে তাতেই আমরা পৃথিবীতে স্বর্গ তৈরি করতে পারবো।” এই গল্পে প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের অসুখী করে তুলতে পারে বা চাকরিহারা করতে পারে তা ভাবা হচ্ছে না। আমাদের এসব গল্পের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সংক্ষেপে দেখুনকোন রংয়ের টাই কেমন ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে?
একটি গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। কিছুদিন আগে একজন চাকুরিপ্রার্থী বিসিএস ভাইভা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই প্রস্তুতি শুধু পড়ালেখার নয়, পোশাক-পরিচ্ছদেরও। ভাইভার জন্য সহজভাবেই সাদা রংয়ের শার্টের অর্ডার দিলেন। প্যান্টেও সমস্যা হলো না। সাদা শার্টের সঙ্গে কালোকেই বেছে নেয়া হলো। কিন্তু বিপদে পড়তে হলো টবিস্তারিত পড়ুন
একটি গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। কিছুদিন আগে একজন চাকুরিপ্রার্থী বিসিএস ভাইভা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই প্রস্তুতি শুধু পড়ালেখার নয়, পোশাক-পরিচ্ছদেরও। ভাইভার জন্য সহজভাবেই সাদা রংয়ের শার্টের অর্ডার দিলেন। প্যান্টেও সমস্যা হলো না। সাদা শার্টের সঙ্গে কালোকেই বেছে নেয়া হলো। কিন্তু বিপদে পড়তে হলো টাই কিনতে গিয়ে। সেখানে রং শুধু সাদা-কালোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রং যেমন বিভিন্ন, আছে বিভিন্ন ডিজাইনও। আর বিপদটা এখানেই।
অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন, টাই একটা হলেই হয়, রং কোনো বিষয় না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইয়ের রং আপনার ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। একই স্যুটের সাথে বিভিন্ন রংয়ের টাই একজন মানুষ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাঠায় দর্শকদের কাছে। তাই নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য টাইয়ের রং বাছাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা যদি হয় চাকরির সাক্ষাৎকার বা কোনো সন্ধি-আলোচনার ক্ষেত্রে (নেগোসিয়েশন), তাহলে তো কোনো কথাই নেই।
দর্শক যিনিই হোন না কেন, তার সামনে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে সবাই চান। আর এজন্য রংয়ের রসায়নটা ভালোভাবেই জানা উচিত। এ বিষয় ‘Color Your Style’ বইয়ের লেখক ডেভিড জিলা বলেছেন, “রং নির্দিষ্ট সংকেত পাঠায়।” নিউইয়র্কভিত্তিক এই লেখক আরো বলেছেন, “একই স্যুটে ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের টাই, ভিন্ন ভিন্ন বার্তা বয়ে বেড়ায় ও ভিন্ন ফল নিয়ে আসে।”
এবার তাহলে দেখা যাক কোন রংয়ের টাই কোন ধরনের বার্তা নিয়ে আসে আর কেমন ব্যক্তিত্বই বা প্রকাশ করে।
সব ক্ষমতাবানের রং লাল
একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো, বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদই হালকা রংয়ের শার্ট ও গাঢ় স্যুটের সঙ্গে লাল রংয়ের টাই পরেন। আসলে ব্যাপারটা কাকতালীয় নয়। “ক্ষমতার টাইয়ের রং লাল”-কথাটি বলেছেন ফ্যাশন বিশ্লেষক মার্ক উডম্যান।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের লরেলে ‘রং’ নিয়ে গবেষণা করা এই বিশ্লেষক আরো বলেছেন, “লাল এর মধ্যে এমন কিছু আছে, যা সব সময় ক্ষমতা ও অধীর আগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।”
জনসমক্ষে কথা বলার সময় জেপি মর্গানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন লাল রংয়ের টাই পরিধান করেন। ছবি: Getty Images
তবে লালের মাত্রাটা পার্থক্য সৃষ্টি করে। গাঢ় লাল বা টকটকে লাল টাই বিশ্বাস স্থাপন করাতে সাহায্য করে। আর হালকা লাল বা গোলাপি রং নিজের ব্যক্তিগত স্টাইল প্রকাশ করে, যা সৃজনশীলতার দিকে ইঙ্গিত করে। তবে গত দশক থেকে গোলাপি টাই মাঝে মাঝে নারীর প্রতি সংহতি প্রকাশেরও সংকেত বহন করে।
আপনি যখন কোনো প্রকল্পে নেতৃত্ব দিতে চান অথবা কোনো উচ্চাশা প্রকাশ করতে চান, তখন গাঢ় চকচকে লাল রংয়ের টাই বেছে নেয়াটা উত্তম। আর ক্ষমতা প্রকাশের সূক্ষ্ম মাধ্যম হিসেবে অনুজ্জ্বল অথবা ছাপার লাল রংয়ের টাই বেছে নিতে পারেন।
রাজকীয় রং বেগুনি
নিউইয়র্কে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের একজন নির্বাহী হিসেবে চাকরি করেন রস নাভর। যখন তিনি কোনো ব্যবসায়িক মিটিং করেন, তখন লাল টাই না পরে বেগুনি রংয়ের টাই পরেন। কারণ এই রং আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে এবং প্রথম ইমপ্রেশনটা দীর্ঘায়িত করতে সাহায্য করে।
তবে ঐতিহ্যবাহী রংয়ের টাই পরার আগে সচেতন হওয়া উচিত। আপনার ক্লায়েন্টের সামনে কথা বলার সময় অথবা কারো সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে তার সামনে কম ঐতিহ্যবাহী রংয়ের টাই পরিধান করা উচিত। এটা প্রকাশ করে আপনি তার গায়ের বরণ নিয়ে ততটা ভাবেন না।
বেগুনি রংয়ের টাইয়ে আত্মবিশ্বাসী আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার। ছবি: Getty Images
হংকংয়ে ‘ইমেজ কনসাল্টেন্ট’ হিসেবে কাজ করা ইভ রোথ লিন্ডসে বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে রাজকীয়তা ও অর্থ-প্রতিপত্তির পরিচায়ক বেগুনি রং। সাধারণত কর্মক্ষেত্রে এই রংয়ের টাই বেশি গ্রহণযোগ্য।
তার মতে, পুরুষরা সাধারণত হালকা বেগুনি রংয়ের শেডের শার্ট এবং গাঢ় বেগুনি রংয়ের শেডের টাই পরিধান করে। হাজার মানুষের মধ্যে নিজেকে কিছুটা সাহসী হিসেবে প্রকাশ করার জন্য এর যেকোনো একটি বেছে নেয়াটা মন্দ হবে না।
কালো রংয়ের ব্যাপারটাই আলাদা
কোনো এক্সিকিউটিভ মিটিংয়ে আপনি কালো রংয়ের টাই নিয়মিত না পরলেও কোনো পার্টিতে বা বিশেষ কোনো ডিনারে কালো টাই পরতে পারেন। এটি আপনাকে আধুনিকতার অনুভূতি দেবে-কথাগুলো বলেছেন ‘Color Your Style’ বইয়ের লেখক ডেভিড জিলা।
কালো রংয়ের টাই পরা অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও।
তিনি কালো টাই পরার ক্ষেত্রে সতর্কও করেছেন। কারণ ফরমাল কালো টাই অনেক সময় উদ্ধত ভাব প্রকাশ করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতি বেশভূষাও মনে হয়। জিলা বলেছেন, “যদি কর্মক্ষেত্রে এখনও অনেক উপরে উঠার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে কালো রংয়ের টাই এড়িয়ে চলুন।”
এদিকে বিশ্লেষক উডম্যান বলেছেন, ধূসর শেডের টাই তুলনামূলক বেশি মানানসই। এমন টাইয়ে দাম্ভিক ভাব প্রকাশ করা না, তবে ঠিকই আধুনিকতার ছোঁয়ায় পরিপাটি মনে হয়।
সবুজ টাইয়ে কেমন লাগে
সবুজ রং অনেক কিছুই বোঝায়। এটি দ্বারা একদিকে পুনর্জন্ম বোঝায়। আবার অন্য দিকে কোনো কোনো দেশে টাকার রং বোঝায়। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এটা অতি মাত্রায় দৃষ্টি-আকর্ষণকারী হয়ে যায়।
কখনো কখনো পরা যায় সবুজ টাই।
আপনি যদি চান, টাইয়ের রংয়ের কারণে কেউ আপনাকে স্মরণ করুক, তাহলে ঠিক সবুজ রং বেছে নেয়াটা ঠিক হবে না। উডম্যানের মতে, উজ্জ্বল সবুজ যেমন বিরক্তিকর লাগে, তেমনি এর সঙ্গে মিলিয়ে স্যুট বা শার্ট পাওয়াও কঠিন। তবে হালকা সবুজের সঙ্গে সূক্ষ্ম ছাপার টাই অন্য কোনো রংয়ের শার্টের সঙ্গে পরিধান করতে পারেন।
হলুদের কদর কম না
ইংল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশে ঐতিহ্যবাহী টাইয়ের রং হলুদ। এটি দীপ্তি ও জীবনীশক্তির সঙ্গে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে। সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সময় হলুদ রংয়ের টাই পরতে পারেন।
এ বিষয় রোথ লিন্ডসে বলেছেন, জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করে হলুদ রংয়ের টাই।
তবে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে দেশভেদে টাইয়ের রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। কারণ ভারতে হলুদ রংয়ের টাই পরলে তাকে বণিক মনে করা হয়। আর চীনে শোকের সময় সাদা রংয়ের টাই পরা হয়।
নিরাপদ রং নীল
টাইয়ের রংয়ে ভুল বার্তা পাঠানোর ভয়ে পড়ে গেলেন? তাহলে সব চিন্তা বাদ দেন। যে বার্তাই পাঠাতে চান না কেন, নীল রংয়ের টাই বেছে নেন।
“নীল রং মানুষকে আকাশ ও সমুদ্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ফলে মানুষের মনকে শান্ত করে দেয়।” – বলেছেন ‘ইমেজ কনসাল্টেন্ট’ রোথ লিন্ডসে। তার মতে, “নীল রং পরিধান করাই সবচেয়ে নিরাপদ।”
নীল রংয়ে টাই পরিহিত বিশ্ব নেতারা।
ডিজাইন করা নীল টাই আপনার মধ্যে প্রফেশনাল অনুভূতি যোগাবে। বৈশ্বিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের ভুল বার্তা দিবে না। লিন্ডসে বলেছেন, “সূক্ষ্ম নীল টাই বোঝায় আপনি কোমল ও অন্তর্বীক্ষণপ্রবণ (যে নিজের চিন্তা ও অনুভূতি পরীক্ষা করে)। অন্যদিকে গাঢ় নীল বোঝায় আপনি অসাধারণ একজন।”
তার মতে, নেভি ব্লু আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগায় আর গাঢ় নীল স্মরণ করিয়ে দেয় অতি সম্মানের পাইলট-ইউনিফর্মের কথা।
মিশে যান প্রকৃতির সঙ্গে
লিন্ডসের মতে, বিক্রয়কর্মী, শিক্ষক, সেবা প্রতিষ্ঠানের মানুষের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তাম্র, বাদামি, মাটি, গোলাপি-কমলা বা হলুদ রং বেছে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, বাদামি রংয়ের টাই যদি একেবারে মিহি মনে না হয়, তাহলে সেটা নিষ্প্রভ ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে।
বাদামী রংয়ের টাইয়ে অভিনেতা নিকোলাস কোস্টার ওয়ালদাউ’র মতো বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হতে পারে আপনাকেও।
তিনি আরো বলেন, ধূসর রংয়ের টাই অনেক সময় অতি মাত্রায় নিরুদ্বেগ ভাব প্রকাশ করে। আর মাটি রংয়ের শার্টের সঙ্গে মাটি রংয়ের টাই সবসময় এড়িয়ে চলা উচিত। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির আশা থাকলে এটা একেবারেই পরিহার করা উচিত।
সংক্ষেপে দেখুনভয়কে জয় করবেন কিভাবে?
ঝড়কে আমি করব মিতে, ডরব না তার ভ্রুকুটিতে। ঝড়কে মিতে করতে বলছি না, বলছি ভয়কে মিতে করার কথা। আমরা যখন কোনো কারণে বা কোনো কিছুতে ভয় পাই, তখন সেই বিষয়গুলো আমাদের কেন যেন পেছনে আটকে রাখতে চায়। ভয় কখন বা কীভাবে আমাদের পেয়ে বসবে সেটা আমরা জানি না। সেই ভয় অতিক্রম করা কিন্তু সহজসাধ্য নয়। যেমন ধরুন, আপনি পড়াশবিস্তারিত পড়ুন
ঝড়কে মিতে করতে বলছি না, বলছি ভয়কে মিতে করার কথা। আমরা যখন কোনো কারণে বা কোনো কিছুতে ভয় পাই, তখন সেই বিষয়গুলো আমাদের কেন যেন পেছনে আটকে রাখতে চায়। ভয় কখন বা কীভাবে আমাদের পেয়ে বসবে সেটা আমরা জানি না। সেই ভয় অতিক্রম করা কিন্তু সহজসাধ্য নয়।
যেমন ধরুন, আপনি পড়াশোনায় বেশ সফল; বরাবর ভাল ফলাফল করেই আসছেন এযাবত। কিন্তু হঠাৎ করে আপনার মনে একটা আতংক কাজ করছে, যদি এবার আপনি ভাল না করতে পারেন? যদি এতদিনের সফলতা একমুহুর্তে উবে যায়? ভয় বা আতংক সবচেয়ে বড় মূলক, যা আমাদের পেছন থেকে টেনে রাখে, সামনে এগোতে দেয় না।
আমাদের জীবনে অনেক রকম মানসিক বাধাবিপত্তি আছে। ভয় হলো সেসবের মাঝে শীর্ষস্থানীয়, আর এটা আমাদের যেভাবে পেছনে টানে, সেই টান ছিড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আজ আমরা আলাপ করব এই অহেতুক, অযাচিত আতংক কীভাবে আমরা দূর করা যায়, কীভাবে ভয়ের ভ্রুকুটি অগাহ্য করে করে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় সেই ব্যাপারে।

ভয় পেলে আমরা কী করি?
যখন হঠাৎ করে আমরা ভই পাই, আমাদের হাত-পা শির শির করে, মাথা কাজ করে না, মাথা ঘুরে যায়, সব কিছু কেমন যেন অন্ধকার লাগে। জ্বর আসে, অনেকে তো গো গো করে অজ্ঞানও হয়ে যায়! আমরা সেই সময়ে বুঝে উঠতে পারি না কী করা উচিত, কার কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। যে জিনিস ঘটবে না, সেটা ভেবে অজানা আতংকে সারা হয়ে উঠি। আতংকে অনেক সময় এমন কিছু ভুল করে বসি, যা ব্যর্থ হবার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। ভয়ের মুখোমুখি না হয়ে কী হবে, সেই ভেবে কাজ করলে ভয় তো কাটবেই না, বরং আরো বেশি জেঁকে বসবে। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা কী করতে পারি তার কিছু উপায় এখন তুলে ধরছি। হয়তো এটা পড়লেই ভয় পুরোপুরি কেটে যাবে না, তবে ধীরে ধীরে সেই ভয়কে জয় করার রাস্তা আপনি ঠিকই খুঁজে পাবেন।
বিরতি নিন
টানা একই ধরনের কাজ বা একই কাজ বার বার করতে গেলে কিছুটা বিরক্তি এসে ভর করে। যদি কোনো ধরনের ভয় বা উদ্বিগ্নতা আপনার মাঝে ভর করে, তাহলে প্রতিদিনের একঘেয়ে কাজ থেকে বিরতি নিন। চা বা কফি ব্রেক নিতে পারেন। হাতে সময় থাকলে একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসতে পারেন। অফিস বা পড়াশোনা থেকে একটু ছুটি নিন। যা নিয়ে আপনার ভয় বেশি কাজ করে, কিছু সময়ের জন্য সেই ভয়ের আশপাশ দিয়ে চলা বন্ধ করে দিন। দেখবেন- কিছু সময় পর আপনার বেশ ফুরফুরে লাগবে, আপনি নতুন করে সব শুরু করতে পারবেন। এ ধরনের বিরতি মাঝে মাঝেই নিলে আপনার মনের ভয় আস্তে আস্তে কমে আসবে বলে আশা করা যায়।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন
যখন ভয় আপনার সব ইন্দ্রিয়কে ঘিরে ধরছে, তখন নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। আস্তে আস্তে, কিন্তু বেশ বড় করেই শ্বাস নিন। এমন এক জায়গায় বসুন, যেখানে প্রচুর অক্সিজেন আছে। আস্তে আস্তে সময় নিয়ে শ্বাস নিন। কিছু সময় শ্বাস ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। দেখবেন নিজেকে বেশ হালকা লাগবে। শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বেশি হলে নিজের ভেতরের অস্বস্তি অনেকাংশে কমে যায়। শরীর এবং মন- দুটোই ভালো থাকার জন্য নিঃশ্বাসের ব্যায়াম বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে অন্তরের ভীতি দূর করতে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে যোগব্যায়াম বেশ ভালো কাজ করে।

যোগব্যায়াম ভয় দূর করতে বেশ সাহায্য করে
ভয়ের মুখোমুখি হোন
ধরুন, আপনার উচ্চতাভীতি রয়েছে। উঁচু বিল্ডিং কিংবা ফ্লাইওভারে উঠে নিচে তাকালে আপনার পৃথিবী দুলে ওঠে। মনে হয়, এখনই পড়ে যাবেন। এখন যদি আপনি প্রতিদিন একটু একটু করে উপরে ওঠেন, আর নিচের দিকে দেখার চেষ্টা করেন, আপনার ভয় কেটে যাবে আস্তে আস্তে। অনেক ক্ষেত্রে এই ফোবিয়া দূর করতে বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন পড়ে।

উচ্চতাভীতি আমাদের সবার কম-বেশি সবার আছে
সেরা হবার চেষ্টা করবেন না
আমাদের ভয় পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ কি জানেন? আমি যদি না পারি, যদি হেরে যাই- এমনটা আমরা কেন ভাবি জানেন? কারণ, আমরা সেরা হতে চাই। আমরা চাই- আমাদের যেন কেউ হারাতে না পারে। এটা আমাদের জীবনের অন্যতম বড় ভুল। কারণ, আমরা কেউ সেরা না, কেউ অলরাউন্ডার হতেও পারব না। আমরা যা না, সেটা হতে চাওয়ার চেষ্টা করা উচিত না। তাই, আমরা যা, সেটাই আমাদের হওয়া উচিত। যখন আমরা আমাদের আশার অতিরিক্ত কিছু হতে চাইব, পরাজয়ের ভয়, ব্যর্থতার ভয় আমাদের মাঝে জেঁকে বসবে।
নিজের ভালো লাগার কাজগুলো করুন
যে বিষয়গুলো আপনাকে ভালো রাখে, সেসব বিষয়ের কথা ভাবুন, সেই সময়ের কথা ভাবুন। নিজের যেসব কাজ ভালো লাগে, সেই কাজগুলো করুন। বই পড়তে ভালো লাগলে, একঘেয়ে কাজ থেকে নিজেকে একটু দূরে রেখে কিছু সময়ের জন্য বই পড়ুন। বাগান করতে ভালো লাগলে সেটাই করুন। এক কাপ কফির সাথে প্রতিদিন বিকেলে বারান্দায় সময় কাটান। ছাদে একটু হেঁটে আসুন। সকালবেলা ওঠার চেষ্টা করুন। যে সময়ে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন, সেই সময়ের কথা মনে করুন।

বই পড়ুন, কফি পান করুন, নিজেকে সময় দিন
অর্থাৎ, নিজের সাথে সময় কাটান। নিজের প্রিয় জিনিস নিজেকেই উপহার দিন। যেমন- আপনার ঘড়ির শখ থাকলে একটা সুন্দর ঘড়ি কিনুন। স্ব স্ব ধর্মীয় আচার পালন করুন। এই কাজগুলো ভয় কাটাতে বেশ সাহায্য করে।
ভয় নিয়ে কথা বলুন
আমাদের অনেক বড় একটা ভুল হলো- যে বিষয় নিয়ে আমাদের ভয়, সেই বিষয়ই আমরা লুকিয়ে রাখতে চাই। “লোকে কী বলবে” ভেবে আমরা সেই কথাগুলো নিজেদের মধ্যে চেপে রাখি। এই চেপে রাখা ধীরে ধীরে আমাদের ভেতরটা কুড়ে কুড়ে খায়। ভয়ের বেশ বড়সড় এক দেয়াল আমাদের চারপাশে ঘিরে থাকে, যা ভেদ করে আমরা নিজেরাই বের হতে পারি না।
বন্ধু, পরিবার, প্রয়োজনবোধে ডাক্তারের সাথে কথা বলা দরকার হতে পারে এক্ষেত্রে। কথা শেয়ার করলে আমাদের আশেপাশের ভয়ের দেয়াল আস্তে আস্তে সরে যেতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে, ভয়ের মাত্রা একটু বেশি হলেও ওষুধ বা থেরাপির দরকার হতে পারে।

ভয়ের মুখোমুখি হোন
যারা ভয়ের রাজ্যে ঘুরপাক খান, তাদেরকে এই বিষয়গুলো সামনে যেতে দেয় না। বার বার পেছনে টেনে রাখে। আমাদের জীবনে যেমন সবকিছু পারফেক্ট না, তেমনই সবকিছুকে ভয় গ্রাস করবে তা তো হতে পারে না। যে ভয়ই আসুক না কেন, পেছন ফিরে না দেখে তার মুখোমুখি হতে হবে। পরীক্ষায় ফেল করলে কী হবে এটা ভেবে পরীক্ষা না দেয়ার বদলে ভাবতে হবে, আমার সাধ্য অনুযায়ী পরীক্ষায় উত্তর দেব। যা ফলাফল আসবে, তা-ই মেনে নেব। এই মনোভাব প্রতিটি ভয়ের বিষয়ের ক্ষেত্রে ভাবলে দেখা যাবে, আস্তে আস্তে ভয় কেটে যাবে। ভয় খুব বেশি গ্রাস করলে, আর কিছু না পারলে অন্তত কাছের কারো সাথে কথাগুলো শেয়ার করবেন।
আমাদের পরামর্শ হয়তো আপনার ভয় দূর করতে পারবে না, কিন্তু নিজের ভয় নিজে কীভাবে দূর করবেন, সেই বিষয়ে একটা পথ দেখাতে পারে। দেখুন তো চেষ্টা করে, ভয়কে মিতে করতে পারেন কিনা!
সংক্ষেপে দেখুন‘মা দিবস’ ভিন্ন ভিন্ন দেশ কেন ভিন্ন ভিন্ন দিনে পালন করে?
মা দিবস ব্যাপারটি ঠিক আমাদের কাছে মায়েদের জন্য রাখা সময়কে কেবল একটি দিনে আটকে দেয় না। তাই মা দিবস কেন একটি স্থানে একটি নির্দিষ্ট দিনে পালিত হয়, আর কেন অন্য স্থানে অন্য দিনে পালিত হয় সেই প্রশ্ন অবান্তর। তবে কৌতূহল মেটানোর জন্য মা দিবসের ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পালিত হওয়ার ব্যাপারটিবিস্তারিত পড়ুন
মা দিবস ব্যাপারটি ঠিক আমাদের কাছে মায়েদের জন্য রাখা সময়কে কেবল একটি দিনে আটকে দেয় না। তাই মা দিবস কেন একটি স্থানে একটি নির্দিষ্ট দিনে পালিত হয়, আর কেন অন্য স্থানে অন্য দিনে পালিত হয় সেই প্রশ্ন অবান্তর। তবে কৌতূহল মেটানোর জন্য মা দিবসের ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পালিত হওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলাই যায়। তবে মা দিবসের দিনক্ষণ নিয়ে কথা বলার আগে কেন এবং কখন, কে মা দিবস প্রথম পালন করেছিলেন, এই দিবসটির জন্ম দিয়েছিলেন সেটি জানা খুব প্রয়োজন।
মা দিবস আমাদের সবারই খুব ভালোবাসার একটি দিবস
মা দিবসের শুরু যেভাবে
মা দিবসের চিন্তা প্রথম আসে অ্যানা জারভিসের মাথায়। অ্যান রিভস জারভিস ছিলেন অ্যানার মা। তিনি শিক্ষকতা করতেন। মায়েদের জন্য ‘মাদার্স ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ গড়ে তুলেছিলেন অ্যান। উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে মায়েদের আরো বেশি জানানো। ১৮৭৬ সালের কথা সেটা। অ্যানার মনে ছিল, মা একদিন তার প্রার্থনা শেষে বলেছিলেন এমন একটা সময় যদি আসে যেদিন কেউ একজন ‘মা দিবস’ নামে কোনো দিবস তৈরি করবে। ১৪ বছর বয়সী অ্যানা এসব কিছুই ভোলেননি। মা মারা যান ১৯০৫ সালে। তার অনেক পরের কথা। ৪০ বছর বয়সী অ্যানার মাথায় মায়ের ওই ইচ্ছেটুকু নাড়া দিয়ে যায় বারবার। মা চেয়েছিলেন, কেউ একজন মা দিবস নামে মায়েদের জন্য একটি দিবস তৈরি করুক। কাজে নেমে পড়েন অ্যানা। মা পারেননি তো কী হয়েছে, মায়ের জন্য এটুকু তো করতেই পারেন অ্যানা। পরের একটি বছর তিনি শান্তিতে সময় কাটাতে পারেননি। প্রচুর চিঠি পাঠান তিনি প্রশাসনের কাছে। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস হিসেবে পালন করার ব্যাপারে। দিনটি ছিল অ্যানার মায়ের মৃত্যুদিনের সবচাইতে কাছের রবিবার। মার্ক টোয়েন, থিওডর রুজভেল্ট থেকে শুরু করে যত প্রভাবশালী মানুষ ছিলেন সেসময়, তাদের সবাইকে সাধ্যমতো চিঠি পাঠান অ্যানা। ১৯০৮ সালের এক স্নিগ্ধ সকাল। গ্রাফটনে অবস্থিত সেইন্ট এন্ড্রুর মেথোডিকাল চার্চে প্রথমবারের মতো পালিত হয় মা দিবস। পূরণ হয় অ্যানার স্বপ্ন।
অ্যানা জারভিস
বছর দুয়েক পরের কথা। জারভিসের কথানুসারে পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে দিনটিকে মেনে নিয়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জারভিস তাতে থেমে থাকেননি। তিনি সবখানে ভ্রমণ করেন, সবাইকে চিঠি পাঠান। অ্যানা জারভিস চেয়েছিলেন দিনটি, তার মায়ের মৃত্যুর দিনটি যেন জাতীয় ছুটির দিন হয়। ১৯১৪ সালের ৮ই মে। অবশেষে কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস হিসেবে মেনে নিয়ে বিল পাস করে। প্রথম মা দিবসটিকে উৎসর্গ করা হয় সেসব মায়েদের, যারা কিনা যুদ্ধে তাদের সন্তানকে হারিয়েছেন। কিন্তু এসবেও জারভিসের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। অ্যানা জারভিস কেবল চেয়েছিলেন তার মা, পৃথিবীর সমস্ত মা সম্মান পাক। সেই সম্মানটুকু পাক, যেটি তাদের প্রাপ্য। কিন্তু ব্যাপারটা পুরোপুরি তা হয়নি। সবার কাছে দিবসটি হয়ে উঠেছিল ব্যবসা করার এক নতুন মাধ্যম। কার্ড, ফুল, উপহার সামগ্রীর মাধ্যমে ব্যবসা করে নিচ্ছিলো সবাই। আর সেই ব্যাপারটিকে থামানোর জন্য উঠেপড়ে লাগেন জারভিস। তাতে কতটা লাভ হয়েছে সেটা অবশ্য চিন্তার ব্যাপার। কারণ এখনো পর্যন্ত মা দিবসকে ঘিরে এমন অনেক পণ্য কেনাবেচার হিড়িক পড়ে যায় দিনটি এলেই!
মায়ের জন্য একটি আলাদা দিবসের কথা ভাবেন প্রথম অ্যানা
মা দিবস কেন ভিন্ন ভিন্ন তারিখে হয়?
শুরুটা হয়েছিল মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে কেন্দ্র করে। তবে এই বছর যুক্তরাজ্য দিনটি উদযাপন করবে ১১ই মার্চ। অন্যদিকে বেশ কিছু দেশে সেটা পালিত হবে ১৩ই মে। প্রতিটি দেশই চায় মা দিবস পালন করতে, মায়েদের প্রতি সম্মান জানাতে। তবে এই ক্ষেত্রে তাদের সম্মান জানানোর দিনটিতে থাকে ভিন্নতা। কেন? অন্য দেশের যদি মা দিবস মে মাসের রবিবারে পালিত হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যে কেন সেটা মার্চ মাসে? প্রশ্নটি কেবল আপনার নয়। আরো অনেকের মাথাতেই এসেছে এই জিজ্ঞাসা। কারণটা খুব স্বাভাবিক এবং সহজ।
মা দিবস হয়ে গেছে ব্যবসার আরেকটি ভালো মাধ্যম
যুক্তরাজ্যের মা দিবসের আসল নাম ‘মাদারিং সানডে’। আর এই ব্যাপারটির সাথে মা দিবসের কিংবা আমাদের মায়েদের কোনো সংযোগ নেই। ভাবছেন, তাহলে মা দিবস কেন পালিত হয় সেখানে এই দিনে? কারণ আর কিছু না, পৃথিবীর আর অন্যের দেশের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নেওয়া। আপনিই ভাবুন, আপনার পাশের দেশ যখন মা দিবস পালন করছে তখন আপনিই বা সেই স্রোতে গা ভাসাবেন না কেন? মাদারিং সানডে ব্যাপারটি এসেছে ১৬ শতক থেকে। সেই সময় ‘মাদার’ চার্চে যাওয়ার একটি ব্যাপার ছিল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। আর এই দিন পড়তো লেন্টে। লেন্টের চতুর্থ রবিবার পালিত হত দিনটি। লেন্ট অর্থ ইস্টারের সেই সময় যখন মানুষ তাদের কোনো না কোনো খারাপ অভ্যাস ছেড়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে। এছাড়া কোনো খাবার বা পানীয়ে সমস্যা থাকলে সেটাও ছেড়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে। মাদারিং ডে-তে সবাই তার নিজের পরিবার পরিজনের সাথে সময় কাটানো এবং আচার অনুষ্ঠান পালন করবে এমনটাই নিয়ম ছিল প্রাচীনকালে। সেই নিয়ম এখনো মানা হয়। বাড়ির কর্মচারীদের ছুটি দেওয়া হয় এই দিনে নিজের পরিবারের সাথে মিলিত হয়ে প্রার্থনা এবং সমস্ত আচার অনুষ্ঠান পালন করার জন্য। তবে খুব দ্রুত এই মাদারিং সানডেকে আরেকটু পাল্টে নিয়ে মায়েদের শুভেচ্ছা জানানো এবং উপহার দেওয়ার মাধ্যমে মা দিবসও পালন করে ফেলে এখন যুক্তরাজ্য একই দিনে। মা কতটা কাজ করছে, সেটির প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই দিনটি এখন পালিত হয় যুক্তরাজ্যেও। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দেখাদেখি বাকি দেশগুলো মে মাসেই পালন করে মা দিবস।
মেক্সিকোতে মা দিবস পালিত হয় একটু আগেই
এদিক দিয়ে নরওয়ে অবশ্য একটু আলাদা। মার্চ কিংবা মে মাস নয়, সরাসরি ফেব্রুয়ারি মাসেই পালন করে ফেলে দেশটি মা দিবস। এই দিবস পালনের প্রক্রিয়া অবশ্য অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে নরওয়েতে। তাই দিনের হিসেবে একটু ভিন্নতা থাকলেও সেটা নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই। শুধু তা-ই নয়, নরওয়েতে মা দিবস একেকটি বছর একেক দিনে পালিত হয়। যদিও মাস বদল হয় না। মাস থেকে যায় নির্দিষ্ট স্থানেই। মা দিবসের ক্ষেত্রে ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ আর অনেক দেশ আমেরিকাকে অনুসরণ করে। কিন্তু নরওয়ে আর যুক্তরাজ্যের মতো এই দিবস পালনে ভিন্নতা আছে মেক্সিকোর ক্ষেত্রেও। মেক্সিকোকে মে মাসের ১০ তারিখে পালিত হয় মা দিসব। ফলে একটু পাল্টে যায় পুরো ব্যাপারটি। যেমন, এই বছরে, অর্থাৎ ২০১৮ সালে আমেরিকায় যখন মা দিবস পালিত হবে দ্বিতীয় রবিবার, তখন মেক্সিকোতে সেটা পালিত হবে কিছুদিন আগেই। দিন নয়, বরং তারিখ দেখে দেশটি মা দিবস পালন করে। কেন? কারণ জানতে হলে যেতে হবে ১৯২০ সালের দিকে।
সেসময় হুট করে সবার নজরে পড়ে যে, নারীরা মাতৃত্বকে নয়, বরং অন্যদিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মাতৃত্ব যে অসম্ভব সম্মানজনক ব্যাপার, তা নারীদের বোঝাতেই শুরু হয় মেক্সিকোর মা দিবস। তবে কেবল এই দুটো একটি দেশ নয়। এছাড়াও ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ইত্যাদি দেশে মা দিবস পালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের চাইতে ভিন্ন দিনে। এখন প্রশ্ন হল, দিন কি আসলেই এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ? একদম নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল, মাকে আমরা কতটা ভালোবাসি সেটা। তাই কোনো নির্দিষ্ট দিন নয়, বরং মাকে ভালোবাসুন আর ভালোবাসার কথা জানান বছরের প্রতিটি দিন।
সংক্ষেপে দেখুনএকজন মিথ্যাবাদীকে কীভাবে পাকড়াও করবেন?
“সদা সত্য কথা বলিবে।” ছোটবেলা থেকে এটিই শেখানো হয়েছে আমাদেরকে। এমনকি পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে ধর্মগ্রন্থ, সবখানেই বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে সত্যবাদিতার উপর। কিন্তু তারপরও, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই প্রায় প্রতিটি মানুষই কম বেশি মিথ্যার সাথে বসবাস করতে শুরু করে। অনেকে তো আবার সেই শৈশব থেকেই মিথ্যা বলার বদভ্বিস্তারিত পড়ুন
“সদা সত্য কথা বলিবে।” ছোটবেলা থেকে এটিই শেখানো হয়েছে আমাদেরকে। এমনকি পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে ধর্মগ্রন্থ, সবখানেই বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে সত্যবাদিতার উপর। কিন্তু তারপরও, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই প্রায় প্রতিটি মানুষই কম বেশি মিথ্যার সাথে বসবাস করতে শুরু করে।
অনেকে তো আবার সেই শৈশব থেকেই মিথ্যা বলার বদভ্যাস গড়ে তোলে। যেমনটি আমরা দেখেছিলাম শিশুতোষ ছড়ায়- জনিকে তার বাবা জিজ্ঞেস করছে, সে চিনি খেয়েছে কি না। শুরুতে কিন্তু জনি অস্বীকার করে, তবে মুখ খুলতে তার মিথ্যাটা ধরা পড়ে যায়। এভাবেই, অধিকাংশ শিশুরই ছোটখাট বিভিন্ন বিষয়ে সত্য কথা অস্বীকার করার মাধ্যমে মিথ্যার জগতে হাতেখড়ি হয়। এবং যতই দিন যায়, তাদের মিথ্যার প্রবণতা বাড়তেই থাকে।
এবং চমকে যাওয়ার মতো তথ্য হলো, একজন মানুষের প্রায় ৮০ শতাংশ মিথ্যাই অচিহ্নিত থেকে যায়, যদি না মানুষটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিশ্বব্যাপী পরিচিত কেউ হয়। বেচারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাগ্য নিতান্তই খারাপ, তাই তার প্রতিদিন প্রকাশ্যে বলা সকল কথাই বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। এবং তার মাধ্যমে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর ৮২৭ দিনেই তিনি প্রকাশ্যে ১০,০০০ তম মিথ্যা কথাটি বলে ফেলেছেন। অর্থাৎ তিনি প্রতিদিন প্রকাশ্যে গড়ে ১২টি করে মিথ্যা কথা বলেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১০,০০০টির বেশি মিথ্যা বলা ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
কিন্তু যেমনটি বলছিলাম, আপনি যেহেতু ডোনাল্ড ট্রাম্প নন, তাই আপনার মিথ্যা ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এবং আপনি যদি নিতান্তই সাধারণ কোনো ব্যক্তি হন, তাহলে আপনার প্রতি ৫টি মিথ্যার মধ্যে ৪টিই হয়তো কেউ ধরতে পারবে না। এমনকি পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টরের পক্ষেও কোনো মিথ্যা ধরতে পারার সম্ভাবনা মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ। সুতরাং, এই পৃথিবীতে মিথ্যা কথা বলেও পার পেয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব।
কিন্তু এবার মুদ্রার অপর দিকটি চিন্তা করে দেখুন। হয়তো আপনি কখনোই মিথ্যা কথা বলেন না, বরং আপনাকে অন্যের মিথ্যার শিকার হতে হয়। আপনি হয়তো খুবই সহজ-সরল, কিংবা আপনি মানুষের উপর বিশ্বাস রাখতে পছন্দ করেন। আর সেই সুযোগে অনেকেই আপনাকে মিথ্যা বলে ধোঁকা দিতে পারে। এভাবে দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত আপনাকে ঠকতে হয় বা বোকা বনতে হয়।
কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কোনো মিথ্যাবাদীকে কীভাবে পাকড়াও করা সম্ভব? সরাসরি তাকে “তুমি মিথ্যা বলছো না তো?” ধরনের প্রশ্ন করে বিশেষ লাভ হবে না। কারণ, নিজ মুখে মিথ্যা স্বীকার করবে, এমন সৎ সাহস খুব কম মানুষেরই আছে। তার চেয়ে বরং নিজে একটু সচেতন থাকলেই মিথ্যাবাদীদের কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। চলুন, জেনে নিই একজন মিথ্যাবাদীকে শনাক্ত করা কিংবা কেউ সত্য না মিথ্যা বলছে তা বুঝতে পারার কার্যকরী ধাপগুলো সম্পর্কে।

অধিকাংশ মিথ্যাই থেকে যায় অচিহ্নিত
শুরু করুন নিরপেক্ষ বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন দিয়ে
একজন মানুষ সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে, তা ধরতে পারার একদম প্রাথমিক ধাপ হলো তাকে খুবই প্রাথমিক, সাদামাটা কিছু প্রশ্ন করা। হতে পারে সেটি আজকের আবহাওয়া নিয়ে, দুপুরে কী দিয়ে ভাত খেয়েছে সে সম্পর্কে, কিংবা সন্ধ্যায় তার কী করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ তাকে এমন সব প্রশ্ন করতে হবে, যেগুলোর উত্তর দিতে তাকে কোনো মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে না, সাধারণভাবেই উত্তরগুলো সে দিতে পারবে। এবং যখন সে উত্তরগুলো দেবে, তখন কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে- সে কি নড়েচড়ে বসছে? সে কি বারবার এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে? আপনার দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থা থেকে চোখ সরিয়ে বা নামিয়ে ফেলছে? এভাবে আপনি তার সাধারণ আলাপচারিতার ঢং বা প্যাটার্ন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এবার করুন স্পর্শকাতর প্রশ্ন
নিরীহ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ঢং সম্পর্কে জানা হয়ে গেলে, এবার ধীরে ধীরে স্পর্শকাতর প্রশ্নের তালিকায় প্রবেশ করুন। তার সাথে পূর্ব-পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে এমন সব প্রশ্ন করুন, যেগুলোর উত্তর দেয়ার ব্যাপারে তার মধ্যে অনীহা বা অস্বস্তি কাজ করতে পারে। এবং এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে তার অঙ্গভঙ্গি, মৌখিক অভিব্যক্তি, চোখের নড়াচড়া, বাক্যগঠন প্রভৃতি দিকে বিশেষ নজর দিন। কারণ, এসব প্রশ্নের উত্তরে সে সত্যি বা মিথ্যা যা-ই বলুক না কেন, তবু যেহেতু তাকে সচেতনভাবে উত্তরটা নির্ধারণ করতে হচ্ছে বা মনে মনে কথাগুলো গুছিয়ে নিতে হচ্ছে, তাই তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন খুব স্বাভাবিকভাবেই পরিলক্ষিত হবে। এবার যাচাই করে নিন, সাধারণ প্রশ্নের উত্তরের সাথে এসব অস্বস্তিকর প্রশ্নের উত্তরে তার মধ্যে ঠিক কী কী পরিবর্তন এসেছে। বলাই বাহুল্য, এসব পরিবর্তন মিথ্যা বলার ক্ষেত্রেও তার মধ্যে দেখা যাবে। যাচাই সম্পন্ন হলো, এবার তার সাথে শুরু করুন মূল আলাপচারিতাটি।

অঙ্গভঙ্গির পরিবর্তন মিথ্যাবাদিতার লক্ষণ
খেয়াল করুন অঙ্গভঙ্গি
মিথ্যা বলার সময় একজন ব্যক্তি অবচেতন মনেই কিছু অঙ্গভঙ্গির পরিবর্তন করে ফেলে। যেমন তাকে গুটিয়ে যেতে দেখা যায়। এর মাধ্যমে সে চায়, তাকে যেন অপেক্ষাকৃত কম লক্ষ্য করা যায়। অনেকে আবার শরীর মোচড়াতে শুরু করে, অস্বস্তিতে হাতের আঙ্গুল লুকানোর চেষ্টা করতে থাকে। অনেককে কাঁধ ঝাঁকাতেও দেখা যায়। সাধারণ আলাপচারিতার একপর্যায়ে কাউকে যদি হঠাৎ করে এগুলো করতে দেখা যায়, তাহলে ধরে নেয়া যেতে পারে সে কথাগুলো বলতে স্বস্তিবোধ করছে না, কিংবা সরাসরি মিথ্যাই বলছে।
নজর রাখুন সূক্ষ্ম মৌখিক অভিব্যক্তিতে
মিথ্যা কথা বলার সময় অবশ্যই একজন মানুষের মৌখিক অভিব্যক্তিতে কিছু পরিবর্তন আসে। কিন্তু যারা মিথ্যা বলায় পটু, তারা মুখ একদম স্বাভাবিক রেখেও মিথ্যা বলে যেতে পারে। তারপরও, কিছু কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন তার অভিব্যক্তিতে আসতে বাধ্য। যেমন: কিছু মানুষের মুখের রঙ মিথ্যা বলার সময় ঈষৎ গোলাপী বর্ণ ধারণ করে। কারো আবার নাকের পাটা খুব ধীরে ধীরে কাঁপতে থাকে। কেউ আবার তাদের ঠোঁট কামড়ে ধরে, ঘেমে যায়, কিংবা চোখের পাতা দ্রুত হারে খুলতে ও বন্ধ করতে থাকে। একজন মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন তার মস্তিষ্কে কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়, এবং মৌখিক অভিব্যক্তির এসব পরিবর্তন মস্তিষ্কের ওই ব্যস্ততারই লক্ষণ।
তাছাড়া মিথ্যা বলার সময় হাসিরও একটি গভীর যোগসাজশ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি হয়তো সাধারণভাবে খুবই হাসিখুশি। কিন্তু মিথ্যা বলতে গিয়ে সে খানিকক্ষণের জন্য হাসতে ভুলে যেতে পারে। আবার এমনও হতে পারে যে, মিথ্যাকে ঢাকার জন্য সে পূর্বাপেক্ষা হাসির পরিমাণ বাড়িয়েও দিতে পারে। সুতরাং, কম হাসা বা বেশি হাসা থেকেও সত্য-মিথ্যা যাচাই করা যেতে পারে।

মৌখিক অভিব্যক্তি সাহায্য করে মিথ্যা চিহ্নিতকরণে
মনোযোগ দিন বাচনভঙ্গি, গলার স্বর ও বাক্যের গঠনশৈলীতে
যেহেতু প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আসার আগে আপনি সাধারণ আলাপ করে এসেছেন, তাই হঠাৎ করে তার কন্ঠস্বরে কোনো পরিবর্তন এলে সেটিও আপনার ধরতে পারার কথা। একজন মানুষ মিথ্যা বলার সময় প্রায়ই তার গলার স্বর ও বাচনভঙ্গিতে পরিবর্তন চলে আসে। কেউ পূর্বাপেক্ষা দ্রুত কথা বলতে থাকে, আবার কেউ ধীরে ধীরে কথা বলতে থাকে। গলার স্বরও হয় আগের থেকে জোরালো হয়, কিংবা দুর্বল হয়।
তাছাড়া মিথ্যা বলার সময় বাক্যের গঠনশৈলীও আগের থেকে অনেক জটিল হয়ে যায়। আগে হয়তো সে তিন-চারটি শব্দে একেকটা বাক্য শেষ করছিল। কিন্তু এখন সে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাক্যাংশ একসাথে করে বেশ বড় ও জটিল একটি বাক্য তৈরি করছে, এবং সেই বাক্যে ‘যদি’, ‘কিন্তু’, ‘তাছাড়া’ প্রভৃতি যুক্ত করছে। এর কারণ হলো, সত্য কথা বলার সময় মানুষের মস্তিষ্কে খুব বেশি চাপ পড়ে না। সে ইতিমধ্যেই যা জানে, সেগুলোই নিজের মতো করে বলতে শুরু করে। কিন্তু মিথ্যা বলার সময় তাকে পুরো বিষয়টিকে নতুন করে তৈরি করতে হয়। অনেকগুলো ব্যাপার একসাথে তার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে, এবং বলার সময় সে চায় একবাক্যেই সবগুলো ব্যাপারে কথা বলে ফেলতে।
আবার এমনও হতে পারে যে, নিজের মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সে বারবার একই কথার পুনরাবৃত্তিও করতে পারে। এর কারণ হলো, সে নিজেই নিশ্চিত নয় যে মিথ্যা বলে আপনাকে সেটি বিশ্বাস করাতে পারছে কি না। তাই নিজে নিশ্চিত হওয়ার জন্যই সে বারবার একই কথা বলতে থাকে, এবং প্রতিবার তার মধ্যে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে বেশি মরিয়া হতে দেখা যায়।
দেখুন সে নিজের ব্যাপারে কথা বলা থামিয়ে দিল কি না
মানুষ যখন সত্য কথা বলে, তখন তার বিবরণী অনেক সাবলীল থাকে, এবং বর্ণিত ঘটনায় যদি সে নিজে উপস্থিত থাকে, তাহলে মূল প্রসঙ্গের বাইরে গিয়েও সে নিজের কিংবা নিজের অনুভূতির ব্যাপারে বিভিন্ন কথা বলতে থাকে। এর কারণ মানুষের আত্মপ্রেম বা আত্মনিমগ্নতা, যে কারণে সে স্বাভাবিকভাবেই সবকিছুর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চায়। কিন্তু যখন সে মিথ্যা কথা বলে, তখন তাকে অনেক সাবধান হয়ে যেতে হয়। মূল ঘটনাটি হয়তো সে নিজের মতো করে পাল্টে নিতে পারে, কিন্তু নিজের অনুভূতির স্মৃতিকে পরিবর্তন করা মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। সেটি করতে গিয়ে বেফাঁস কিছু একটা বলে ফেলার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই মিথ্যাবাদী ব্যক্তি তার বিবরণ থেকে নিজেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেয়। তখন তার কথায় আর আগের মতো বারবার ‘আমি’, ‘আমাকে’, ‘আমার’ প্রভৃতি উত্তম পুরুষ বা আত্মবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় না।
মনোবিদদের আরো একটি বিশ্বাস হলো, মানুষ যখন কোনো ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে, সেটির থেকে নিজেকে দূরে রাখার এক অদ্ভূত প্রবণতা তার মধ্যে কাজ করে। এ কারণেই মিথ্যা বলার সময় সে আর নিজের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করতে চায় না।

খুঁটিনাটি প্রশ্ন বিপাকে ফেলে দিতে পারে মিথ্যাবাদীকে
খুঁটিনাটি প্রশ্ন করুন
মিথ্যা বলার উপর্যুক্ত লক্ষণগুলো কারো মধ্যে দেখা গেলেই যে সে মিথ্যা বলছে, এমন ধরে নেয়াটা ঠিক হবে না। কারণ অন্য কোনো কারণেও একজন ব্যক্তির মধ্যে ঐসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। প্রথমত, সে হয়তো মিথ্যা বলছে না, শুধুই অস্বস্তিবোধ করছে। দ্বিতীয়ত, অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণেও আকস্মিকভাবে তার মধ্যে এসব পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নিশ্চিত হওয়ার সর্বশেষ ও সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো তাকে খুঁটিনাটি বিভিন্ন প্রশ্ন করা।
একজন ব্যক্তি প্রথমে নিজের মতো করে কোনো একটি মনগড়া মিথ্যা কথা বলে দিতেই পারে। কিন্তু তাকে বিপাকে পড়তে হয় ঐ ব্যাপারে আরো খুঁটিনাটি বর্ণনা দিতে গিয়ে। আপনি তাকে ঘটনা সংশ্লিষ্ট একেবারেই অবান্তর কিংবা খুবই অগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করে বসতে পারেন, যেগুলোর উত্তর হয়তো সে আগে থেকে ঠিক করে রাখেনি। আপনার প্রশ্ন শুনে হঠাৎ করে যদি সে উত্তরটি বানাতে যায়, তাহলে সেই নবনির্মিত উত্তরের সাথে তার আগের উত্তরের কিছু পার্থক্য থাকা খুবই স্বাভাবিক। এভাবে বারবার তাকে বিভিন্ন খুঁটিনাটি প্রশ্ন করতে থাকলে, একবার না একবার সে এমন কোনো একটি উত্তর দিয়ে বসবেই, যার সাথে তার আগের বলা কথার কোনো মিল নেই। এবং এভাবেই হাতেনাতে ধরে ফেলা যাবে তার মিথ্যাটি।
সংক্ষেপে দেখুনকেন খাবার লবণেই আয়োডিন মেশানো হয়?
আয়োডিনের কথা আমরা সকলেই কমবেশি শুনেছি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না এটি আসলে কী, বা আমাদের শরীরের জন্য এটি কেন এত জরুরি। “আয়োডিন ও লবণ রিসার্চ সেন্টার” এর গবেষকদের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষই আয়োডিন স্বল্পতার শিকার। আর ৩ কোটি মানুষ জানে না, তারা আয়োডিন ঘাটতির শিকার হয়ে স্বল্বিস্তারিত পড়ুন
আয়োডিনের কথা আমরা সকলেই কমবেশি শুনেছি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না এটি আসলে কী, বা আমাদের শরীরের জন্য এটি কেন এত জরুরি।
“আয়োডিন ও লবণ রিসার্চ সেন্টার” এর গবেষকদের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষই আয়োডিন স্বল্পতার শিকার। আর ৩ কোটি মানুষ জানে না, তারা আয়োডিন ঘাটতির শিকার হয়ে স্বল্পবুদ্ধি ও শিখন ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছে।
তাই শুরুতেই আমরা জেনে নিতে পারি, আয়োডিন কী। আয়োডিন হলো একটি মৌলিক পদার্থ, যার সংকেত I (আই), পারমাণবিক সংখ্যা ৫৩। পৃথিবীতে আয়োডিনের প্রধান উৎস হলো মহাসাগর এবং সমুদ্রের পানি, যেখানে দ্রবণীয় অবস্থায় আয়োডিন পাওয়া যায় আয়ন I− রূপে। অন্যান্য হ্যালোজেনের ন্যায় মুক্ত আয়োডিন দ্বিপরমাণুক।

আয়োডিন যেমন দেখতে হয়
কিন্তু আয়োডিন কীভাবে স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত হলো? শুধু বাংলাদেশই নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই কেন আয়োডিনের ঘাটতি খুব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো? কেন আয়োডিনের অভাবে দেখা দেয় নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক সমস্যা?
আমাদের থাইরয়েড হরমোন ও হজমের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আয়োডিন। এর অভাবে শারীরিক বৃদ্ধি বা গঠনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। অনেকেই মনে করেন, আয়োডিনের অভাবে বুঝি কেবল ঘ্যাগ বা গলগণ্ড রোগই হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আয়োডিনের অভাবে সৃষ্ট সমস্যার তালিকা অনেক বড়।
গর্ভবতী মায়ের শরীরে আয়োডিনের ঘাটতির ফলে গর্ভপাত কিংবা বিকলাঙ্গ সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও স্নায়বিক দুর্বলতা, বধিরতা, বাকশক্তিহীনতা, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, বামনত্ব, বিভিন্ন শারীরিক ত্রুটি এবং শিশুর স্বাভাবিক মস্তিষ্ক গঠন ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয় আয়োডিন ঘাটতির ফলে।
মাথার চুল কমে যাওয়া, পড়াশোনায় মন না বসা, স্মরণশক্তি হ্রাস পাওয়া, বারবার ধৈর্যচ্যুতি ঘটা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া ইত্যাদির পেছনেও দায় রয়েছে আয়োডিন ঘাটতির।

আয়োডিন ঘাটতি দায়ী শরীরের নানা সমস্যার জন্য
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, এসব শারীরিক ও মানসিক সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে দরকার আমাদের শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি পূরণ। কীভাবে তা সম্ভব? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ১৫০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিন গ্রহণ করা উচিৎ। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সেটি সর্বোচ্চ ৩০০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্তও হতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, কোথা থেকে পাবো আমরা প্রয়োজনীয় আয়োডিন? সামুদ্রিক মাছ (তাজা/শুঁটকি), সামুদ্রিক আগাছা প্রভৃতিতে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন পাওয়া যায়। সমুদ্রের পানির এ আয়োডিন কিন্তু রোদের কারণে বাষ্পীভূত হয়ে আকাশে চলে যায়, এবং তারপর বৃষ্টির পানির মাধ্যমে মাটিতে মিশে মাটিকে আয়োডিন সমৃদ্ধ করে। পানি ও মাটিতে পর্যাপ্ত আয়োডিন থাকলে উদ্ভিদজাত ও প্রাণিজ খাবার থেকেও প্রয়োজনীয় আয়োডিন পাওয়া যায়।

আয়োডিন সমৃদ্ধ উদ্ভিদজাত ও প্রাণিজ খাবার হতে পারে প্রয়োজনীয় আয়োডিনের উৎস
কিন্তু সমস্যার বিষয় হলো, ভূমিবেষ্টিত এলাকায় সব সময় সমুদ্র ছুঁয়ে আসা বৃষ্টি হয় না। আবার যারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল, তারাও সব খাবারে আয়োডিন পায় না। এরকম ঘটনা ঘটে থাকে আল্পস, পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকাগুলো কিংবা ইতালি, রাশিয়া, মধ্য আফ্রিকার পাহাড়ি এলাকাগুলোয়।
কেউ যদি ভেবে থাকেন যে আমাদের বাংলাদেশের পাশেই যেহেতু রয়েছে বঙ্গোপসাগর, তাই আমাদের দেশের মাটিতে আয়োডিনের ঘাটতি নেই, তাহলে খুব বড় ভুল করছেন। আমাদের দেশের মাটিতে আয়োডিন ঘাটতির প্রধান কারণ হলো বন্যা। দেশের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বন্যার পানি মাটির আয়োডিন ধুয়ে নিয়ে যায়, ফলে সেসব অঞ্চলে উদ্ভিদজাত কিংবা প্রাণিজ খাবারে আয়োডিন পাওয়া যায় না। বস্তুত আমাদের দেশের কোনো অঞ্চলকেই পুরোপুরি আয়োডিনের ঘাটতিমুক্ত বলা যাবে না। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল তথা রংপুর, দিনাজপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে আয়োডিনের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়।
কিন্তু দৈনন্দিন আহার্য খাবারে আয়োডিনের ঘাটতি থাকায় কি আমাদের দেহ প্রয়োজনীয় আয়োডিন থেকে বঞ্চিত হবে? তাহলে তো আমাদের বড় ও শিশুদেরও বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। সেজন্য সম্ভব হলে বেশি বেশি সাদা মাছ ও ঠাণ্ডা দুধ খাওয়া যেতে পারে, কারণ সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণ আয়োডিন আছে।

আয়োডিনের অভাবে বড় হয়ে যায় থাইরয়েড গ্রন্থি
তবে এসব খাবার খেয়েও যে আয়োডিনের ঘাটতি দূর করা সম্ভব হবে, সেরকম কোনো নিশ্চয়তা কিন্তু দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া অর্থনৈতিক কারণে সবার পক্ষে নিয়মিত এসব খাবার খাওয়া সম্ভবও নয়। আবার অন্যান্য নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণেও অনেক মানুষের দুধ, মাংস প্রভৃতি খাবার খাওয়া বারণ থাকতে পারে। এবং তারা যদি মাছ বা শাকসবজি থেকেও পর্যাপ্ত আয়োডিন না পায়, সেক্ষেত্রে কী করণীয়?
বাংলাদেশের মতো একটি দেশে যেহেতু এসব সমস্যার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তাই এদেশে মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত আয়োডিনের যোগান নিশ্চিত করার সবচেয়ে সহজ, সুলভ ও কার্যকরী উপায় হলো আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা। যেহেতু প্রতিদিনের খাবার তালিকায় লবণ অবধারিতভাবে থাকে, তাই লবণের সাথে যুক্ত করা আয়োডিন গ্রহণের মাধ্যমেই দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যাগুলো থেকে রক্ষা পেতে পারে।

আয়োডিন ঘাটতি মেটাতে লবণের সাথে মেশানো হয় আয়োডিন
আগেই বলা হয়েছে, আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনেক পিছিয়ে রয়েছে আমাদের দেশ। দেশের অধিকাংশ মানুষই আয়োডিনযুক্ত লবণ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের প্রকৃত উপায় সম্পর্কে অবগত নয়, যার ফলে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করার পরও অনেকের শরীরের প্রয়োজনীয় আয়োডিনের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে।
সকলের জেনে রাখা প্রয়োজন, লবণে মিশ্রিত আয়োডিন হলো একটি উদ্বায়ী পদার্থ। তাই লবণ খোলা বাতাসে রাখলে আয়োডিন উড়ে যায়। ফলে বাজারে যেসব খোলা লবণকে আয়োডিনযুক্ত লবণের নামে চালিয়ে দেওয়া হয়, সেগুলোতে আদতে আয়োডিন থাকে না বললেই চলে। তাই প্রকৃত আয়োডিনযুক্ত লবণ পেতে হলে অবশ্যই প্যাকেটজাত লবণই কিনতে হবে।

প্রকৃত আয়োডিনযুক্ত লবণ পেতে হলে অবশ্যই প্যাকেটজাত লবণই কিনতে হবে
দোকান থেকে প্যাকেটজাত, প্রকৃত আয়োডিনযুক্ত লবণ কিনলেই যে দায়িত্ব শেষ, তেমনটিও কিন্তু নয়। সেই লবণ সঠিকভাবে সংরক্ষণ হলো পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অনেকেরই লবণ খোলা অবস্থায় রেখে দেয়ার অভ্যাস রয়েছে। এমনটি করা হলে লবণের উদ্বায়ী আয়োডিন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাতাসে হারিয়ে যায়। তাই লবণ কিনে আনার পর, প্যাকেট থেকে ঢেলে সেটিকে কোনো ঢাকনাওয়ালা কৌটা বা বয়ামে সংরক্ষণ করতে হবে, এবং প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করে সেটির মুখ পুনরায় ভালো করে আটকেও রাখতে হবে। কৌটা বা বয়ামটিকে চুলার খুব কাছে রাখা ঠিক হবে না। দূরে রাখতে হবে জলীয় বাষ্প, সূর্যের আলো এবং উচ্চ তাপমাত্রা থেকেও।
ঘরেই লবণের আয়োডিন পরীক্ষার জন্য নানারকম পরীক্ষা আছে, শিশুরা বেশ মজা পাবে সেগুলোতে। এই পরীক্ষাগুলো শিখিয়ে দিন শিশুদের, শেখাতে শেখাতে তাদের জানান আয়োডিনের গুরুত্বের কথা, যাতে ভয়ঙ্কর সব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম।
সংক্ষেপে দেখুনঅবসর সময় কিভাবে কাটানো যায়?
প্রায়ই অবসর সময়ে বসে আমরা ভাবি,“কী করা যায়?” করার মতো নির্দিষ্ট কিছু খুঁজে না পেয়ে দেখা যায় যে, শুয়ে-বসেই কেটে যায় অবসরটা। কিন্ত এই অবসর সময়টাকে যদি স্মার্টভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে মন্দ হয় না। চলুন দেখা যাক কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন আপনার অবসরটাকে। ১। নতুন নতুন ভাষা শিখুন পড়াশোনা আর চাকরির সুবাদেবিস্তারিত পড়ুন
প্রায়ই অবসর সময়ে বসে আমরা ভাবি,“কী করা যায়?” করার মতো নির্দিষ্ট কিছু খুঁজে না পেয়ে দেখা যায় যে, শুয়ে-বসেই কেটে যায় অবসরটা। কিন্ত এই অবসর সময়টাকে যদি স্মার্টভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে মন্দ হয় না। চলুন দেখা যাক কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন আপনার অবসরটাকে।
১। নতুন নতুন ভাষা শিখুন
পড়াশোনা আর চাকরির সুবাদে আমাদের প্রায় সবারই কম-বেশি ইংরেজি ভাষা জানা আছে। সেই সাথে আপনার যদি আরও কয়েকটি ভাষা জানা থাকে, তাহলে বিভিন্ন সময়ে আপনার কাজে লাগতে পারে আর সেই সাথে নিজের আত্মবিশ্বাসটাও বাড়বে অনেকখানি।
সেক্ষেত্রে যে ভাষাটি শিখতে চাচ্ছেন, সে ভাষার সাবটাইটেলসহ সিনেমা দেখলে ভাষাটি অনেক সহজেই আয়ত্বে আনতে পারবেন। এছাড়া ভাষা শেখার জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ রয়েছে; যেমন- মেম্রাইজ (memrise.com), ডুওলিঙ্গো (duolingo.com) এবং হ্যালোটক (hellotalk.com)।
নিজের পছন্দের অথবা প্রয়োজন হতে পারে এমন নতুন নতুন ভাষা শিখুন
২। ডকুমেন্টারি দেখুন
নতুন কিছু সম্পর্কে সহজেই এবং কম সময়ে জানার জন্য ডকুমেন্টারি দেখার তুলনা নেই। কারণ কোনো কিছু দেখে শেখার বা জানার অভিজ্ঞতাটাই অন্যরকম! ধরুন, আপনি ইস্তানবুল শহর সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে আপনি ডকুমেন্টারি দেখে খুব সহজেই পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন এবং এই দেখে জানতে পারা ও শেখা থেকেই ইস্তানবুল শহর সম্পর্কে আপনার ধারণাটা একেবারে মনে গেঁথে যাবে। আপনার ল্যাপটপ, ট্যাব অথবা মোবাইলে ডাউনলোড করে রাখলে জ্যামে অযথা বসে না থেকে ডকুমেন্টারিগুলো দেখতে পারবেন এবং সময়টাকে কাজে লাগাতে পারবেন।
পছন্দের কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে দেখে নিতে পারেন ডকুমেন্টারি
৩। লিস্টে রাখতে পারেন অডিও বুক
বইপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি জিনিস হলো এই অডিও বুক। একবার ভেবে দেখুন তো, আপনি যে বইটি পছন্দ করেন, তা যদি চোখ বন্ধ করে ঘুমাতে যাবার সময় শুনে নিতে পারেন, তাহলে কেমন হয়? হ্যাঁ, আপনার এই ইচ্ছাটি বাস্তবে আসলেই সম্ভব! আর আপনার এই ইচ্ছাটি পূরণ করবে অডিও বুক! নিশ্চয় জানতে চাচ্ছেন যে, কোথায় পাবেন এই অডিও বুকগুলো? তাহলে দেখে নিন অডিও বুকের কয়েকটি সাইটের লিংক:
অডিও বুক সাথে থাকলে চলাফেরায়ও উপভোগ করতে পারবেন আপনার প্রিয় বইটি
৪। বিভিন্ন ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো শিখুন
বক্তা হিসেবে টেড টকে গবেষক আনিতা কলিন্স বলেছেন, “গান শোনার সময় আপনার মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সাড়া দেয় ও কাজ করা শুরু করে। কিন্তু আপনি যখন কোনো ইন্সট্রুমেন্ট বাজান, তখন আপনার পুরো শরীর মস্তিষ্কের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করে।”
তাই আপনি আপনার পছন্দের যেকোনো ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো শিখে ফেলতে পারেন অবসরে। এতে করে যে আপনার সময়টাই শুধু ভালো কাটবে তা-ই নয়, বরং মস্তিষ্কও কাজ করবে ভিন্নভাবে! নির্দিষ্ট কোনো ইন্সট্রুমেন্ট নয়, শিখে নিতে পারেন যেকোনো ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট। কোথাও কোর্স না করেও বাসায় বসে ইউটিউবে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখেও শিখে নিতে পারেন আপনার প্রিয় ইন্সট্রুমেন্ট বাজানোর পদ্ধতি!
ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে বা কোর্স করে শিখে ফেলুন যেকোনো ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো
৫। মেডিটেশন করুন
মেডিটেশন বা ধ্যান করার শুধু একটি, দুটি নয় বরং অনেক সুবিধা রয়েছে। মেডিটেশন আপনার মনোযোগ বাড়াবে, উদ্বেগ কমাবে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করবে। আপনি আরও সচেতন হবেন এবং ভেতর থেকে আপনি একটি অন্যরকম অনুভূতি পাবেন। কাজের চাপে অনেক সময় চিন্তা ভাবনাগুলো এলোমেলো হয়ে যায় যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মেডিটেশন আপনার জন্য ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। আপনার ঘরের খোলা জায়গায় যেখানে আলো বাতাস আছে সেখানে, কোনো একটি রুমের কর্নারে এবং যেখানে লোকের চলাফেরা কম সেই জায়গাটি মেডিটেশনের জন্য বেছে নিন। মেডিটেশনের জন্য মনোযোগ ধরে রাখা খুব জরুরী। তাই আপনার ঘরের শান্ত জায়গাটিই বেছে নিন এর জন্য!
ঘরে বসেই ইউটিউবে অথবা বিভিন্ন সাইট; যেমন- meditationoasis.com, openyourheart.ws, onlinemeditation.org/ থেকে শিখতে পারেন এবং এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন।
মেডিটেশন আপনার ভেতর থেকে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়াবে
৬। পার্সোনাল ডায়েরি লিখুন
স্কুল-কলেজে থাকতে অনেকেরই ডায়েরি লেখার অভ্যাসটা থাকে। কিন্তু আস্তে আস্তে কাজের চাপে আর ব্যস্ততায় হারিয়ে যায় এই শখটি। ডায়েরি লেখার বিষয়টি আপনাকে অনেকভাবে উপকৃত করবে। নিয়মিত ডায়েরি লিখলে আপনি সেখানে ‘টু ডু লিস্ট’ লিখতে পারবেন যা পরবর্তীতে আপনার কাজের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বিশেষ মুহূর্তগুলো সম্পর্কে লিখে তার কিছু ছবিও সাথে রাখতে পারবেন, আপনার সাফল্য ও ব্যর্থতার কথা লিখে রাখবেন যা পরবর্তীতে আপনার সেলফ্ ডেভেলপমেন্ট হিসেবে কাজ করবে। আর লেখালেখির অভ্যাসটা গড়ে উঠলে আপনার লেখার চর্চা ঝালাই হবে, লেখা ও বানানের ভুল সংশোধন করতে পারবেন এবং রাইটিং স্কিলও বাড়বে। এছাড়া পার্সোনাল ডায়েরি লেখার অভ্যাসটি আপনার থেরাপি হিসেবে কাজ করবে এবং আপনার মনও হালকা হবে।
নিয়মিত পার্সোনাল ডায়েরি লেখা আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে
৭। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন
মোটা অংকের টাকা খরচ করে জিমে না যেয়ে হাঁটার অভ্যাস করুন। এতে করে আপনি শুধু ফিটনেসই পাবেন না, বরং এর চেয়েও বেশি কিছু পাবেন। হাঁটলে আপনার মন-মেজাজ ভালো থাকবে, আপনি সৃজনশীল হবেন, ব্ল্যাড সার্কুলেশন বাড়বে, শরীর সুস্থ থাকবে এবং যৌবনটাকেও ধরে রাখতে পারবেন। এছাড়া হাঁটলে আপনার মস্তিষ্ক সচল থাকে এবং ঘুম না হওয়ার সমস্যাটাও আর থাকে না। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন বাসার আশেপাশে কোনো পার্ক থাকলে সেখানে অথবা যেখানে আপনার ভালো লাগে সেখানে হাঁটার চেষ্টা করুন।
প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করলে আপনার শরীর ও মন মানসিকতা ভালো হবে
৮। কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসুন
কম-বেশি আমরা সবাই জানি যে, ঘোরাঘুরি করলে মনটা শুধু ফ্রেশই হয় না, বরং জ্ঞানও বাড়ে। কিন্তু অলসতা আমাদের এই সুন্দর অভ্যাসটি থেকে দূরে রাখে অনেক সময়েই। সম্ভব হলেই বেরিয়ে পড়ুন আর ঘুরে আসুন আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বা ঐতিহাসিক জায়গা থেকে। বাইরে কোথাও ঘুরে আসলে আপনার একঘেয়েমি কাটবে এবং জ্ঞানও বাড়বে
৯। ক্রাফটিং শিখুন এবং করুন
ক্রাফটিং শিখে আপনি নিজেই নিজের পছন্দের ডিজাইন অনুযায়ী পেন্সিল ব্যাগ, পেন স্ট্যান্ড, ফুলদানি সহ আরও অনেক কিছু বানাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ইউটিউবে বিভিন্ন চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে পারেন যেখানে নিয়মিত ক্রাফটিং-এর টিউটোরিয়াল আপলোড করা হয় অথবা যে বিষয়ে শিখতে চাচ্ছেন তা গুগলে সার্চ করলে হাতে-কলমে শেখার মতো অনেক লিংক পাবেন। নিজের পছন্দমতো জিনিস তৈরি করে ব্যবহার করার মজাই আলাদা
প্রিয় কয়েকটি জায়গার লিস্ট তৈরি করে রাখতে পারেন
১০। বাগান করুন
আপনার বাসার ছাদে অথবা ঘরের ভেতর ছোট ছোট টবে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগাতে পারেন। জানালার পাটাতনে, ড্রেসিং টেবিলে অথবা ঘরের বিভিন্ন কর্নারে ছোট ছোট টবে পাতাবাহার, বনসাই, মানিপ্ল্যান্ট ছাড়াও বিভিন্ন রকমের গাছ রাখতে পারেন। চারপাশে গাছপালা থাকলে আপনার মন যে শুধু প্রফুল্ল হবে তা-ই নয়, বরং এতে করে আপনি পরিবেশের অনেকটা কাছাকাছিও চলে যাবেন।
বাসায় বাগান করলে আপনার মনটাও ভালো লাগবে আর পরিবেশটাও সুন্দর থাকবে
এই সবকিছুর বাইরেও আপনার পছন্দসই যেকোনো কাজ আপনি করতে পারেন আপনার অবসরে। তাহলে আজ থেকে অবসর সময়টা আর অযথা নষ্ট না করে স্মার্টভাবে কাজে লাগানো শুরু করে দিন। বেছে নিন এবং চর্চা করুন আপনার পছন্দের বিষয়টি, হয়ে উঠুন আরো স্মার্ট!
সংক্ষেপে দেখুনগতানুগতিক পেশার বাইরে আমরা আর কি কি পেশার নাম জানি?
সময়ের সাথে সাথে বদলে যায় মানুষের আচার-আচরণ, সামাজিক প্রথা, খাদ্যাভাস ইত্যাদি সবই। জীবিকার্জনের পন্থাও এর ব্যতিক্রম নয়। আগেকার দিনে মানুষ যেসব কাজ করে অর্থোপার্জন করে পেট চালাতো, তার অনেকগুলোই আজকের দিনে অদ্ভুত লাগবে যে কারো কাছেই। কোনো কোনোটি পড়ে যেমন বিস্ময়ে মুখ হাঁ হয়ে যেতে পারে, তেমনি কোনোটি সম্পবিস্তারিত পড়ুন
সময়ের সাথে সাথে বদলে যায় মানুষের আচার-আচরণ, সামাজিক প্রথা, খাদ্যাভাস ইত্যাদি সবই। জীবিকার্জনের পন্থাও এর ব্যতিক্রম নয়। আগেকার দিনে মানুষ যেসব কাজ করে অর্থোপার্জন করে পেট চালাতো, তার অনেকগুলোই আজকের দিনে অদ্ভুত লাগবে যে কারো কাছেই। কোনো কোনোটি পড়ে যেমন বিস্ময়ে মুখ হাঁ হয়ে যেতে পারে, তেমনি কোনোটি সম্পর্কে জানার পর হাসিও উঠতে পারে বিস্তর। পুরোনো দিনের পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু পেশা।
নকার-আপ
আজকের দিনে ঘুম থেকে সময়মতো ওঠার জন্য মোবাইলের অ্যালার্মের কোনো বিকল্প নেই। এককালে এ জায়গায় ছিলো এলার্ম ঘড়ি। কিন্তু এ এলার্ম ঘড়ি আসার আগে মানুষ তাহলে সময়মতো ঘুম থেকে ওঠার জন্য কী করতো? তখন আসলে অদ্ভুত এক পেশা ছিলো যার নাম ‘নকার-আপ’ কিংবা ‘নকার-আপার’। নারী-পুরুষ উভয়েই এ পদ্ধতিতে জীবিকা নির্বাহ করতো। যে ব্যক্তির বাড়িতে যেদিন তাদের ডিউটি, সেদিন সেই বাড়িতে গিয়ে তার বেডরুমের জানালায় বড় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকতো একজন নকার-আপার। গ্রাহক ঘুম থেকে উঠেছে নিশ্চিত করেই সে পরের গ্রাহকের দিকে ছুটতো।
লিঙ্ক বয়
রাতের বেলায় ঘর থেকে বেরোলেই রাস্তায় জ্বলা বিদ্যুতবাতি আমাদের পথ আলোকিত করে দেয়। আর কোনো কারণে লোডশেডিং হলে টর্চ কিংবা স্মার্টফোনের টর্চলাইটের অপশন তো আছেই। তবে বিদ্যুতের এমন সহজলভ্যতার আগের জীবন কিন্তু অতটা সহজ ছিলো না। তখন রাতের বেলায় পথ চলতে গেলে অন্ধকার দূরীকরণে কাজ করতো কম বয়সী ছেলেরা যাদের বলা হতো লিঙ্ক বয়। হাতে একটি মশাল ধরে তারা পথচারীদের পথকে আলোকিত করে তুলতো, সাথে জুটতো সামান্য কিছু অর্থ। রাস্তায় বিদ্যুতবাতি আসার আগে ইংল্যান্ডে এ লিঙ্ক বয়দের দেখা মিলতো।
পিম্প মেকার
একসময় লন্ডন ও এর আশেপাশের এলাকায় পিম্প মেকার নামের এ পেশাটির চল ছিলো। পিম্প (Pimp) একটি ইংরেজি শব্দ যার অর্থ বেশ্যালয়ের দালাল। তাই প্রথমে যে কেউ ‘পিম্প মেকার’ দেখে ভাবতে পারে, অতীতে হয়তো ট্রেনিং দিয়ে পিম্পদের প্রস্তুত করা হতো! আসল ঘটনা এর ধারেকাছেও নেই। লন্ডন এবং তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে ব্যবহৃত এক আঞ্চলিক শব্দ ছিলো পিম্প, যার অর্থ তাদের কাছে ছিলো জ্বালানী কাঠের স্তুপ। যে ব্যক্তি বিক্রির জন্য কাঠ সংগ্রহ করতো তাকেই তারা পিম্প মেকার বলতো।
টোশার
টোশারদের তুলনা করা যায় আমাদের দেশের টোকাইদের সাথে। তবে টোকাইদের দেখা মেলে ডাস্টবিনগুলোর আশেপাশে। আর টোশারদের দেখা মিলতো লন্ডনের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কাছাকাছি জায়গায়। সব জায়গা থেকে আসা ময়লায় তারা অক্ষত কিন্তু দরকারী জিনিস খুঁজে বেড়াতো। তারপর কিছু পেলে সেটা পরিষ্কার করে বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করতো তারা।
গং-ফার্মার
আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মানববর্জ্যের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। তাই প্রাকৃতিক কর্মাদি সেরে টয়লেটের ফ্লাশ ব্যবহার করলেই হয়ে যায়। আর সেপটিক ট্যাঙ্কে জমা হওয়া ময়লার জন্যও আছে বিশেষ ট্রাক যা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেই ময়লাগুলো বের করে আনতে পারে মানুষের হাতের স্পর্শ ছাড়া। তবে আগেকার দিনে এ কাজের জন্য যখন যন্ত্র ছিলো না তখন কিন্তু মানুষই ছিলো একমাত্র ভরসা। টয়লেটের যাবতীয় আবর্জনা খালি হাতেই পরিষ্কার করা এ মানুষগুলো গং-ফার্মার বা নাইট সয়েল ম্যান হিসেবেই পরিচিত ছিলো। রাতের বেলায় মূলত তারা কাজ সারতেন বলেই তাদের নাইট সয়েল ম্যান বলা হতো। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতেন বলে তাদের অনেকেই মারা যেতেন শ্বাসরোধ হয়ে।
জিমনারসিয়াখ
জিমনেশিয়াম বলতে আমরা চিনি ব্যায়ামাগারকে। আর এ জিমনেশিয়ামের সাথেই সম্পর্ক রয়েছে জিমনারসিয়াখের। প্রাচীন গ্রীসে প্রচলিত ছিলো এ পেশাটি। রেসলিং, ব্যায়ামাগারে ব্যায়াম সারা কিংবা অন্যান্য খেলাধুলার পর একজন অ্যাথলেটের গায়ে লেগে থাকা ঘাম পরিষ্কার করা, তার শরীর মুছে দেয়া এবং তেল মাখিয়ে দেয়াই ছিলো এ পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তির প্রধান কাজ। শুনতে কিছুটা অদ্ভুত আর গা ঘিনঘিনে হলেও তখনকার গ্রীসে কিন্তু পেশাটিকে বেশ সম্মানের চোখে দেখা হতো। আবেদনকারীর বয়স হওয়া লাগতো ৩০-৬০ এর ভেতর। একইসাথে সম্ভ্রান্ত বংশীয় হওয়াও ছিলো পেশাটিতে ঢুকতে পারার পূর্বশর্ত।
শেষকৃত্যানুষ্ঠানের ভাঁড়
একজন মানুষের শেষকৃত্যানুষ্ঠান শোকের চাদরে মোড়া থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রাচীন রোম যেন এ স্বাভাবিক নিয়মটিও মানতে চায় নি। তাই কারো শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও তারা নিয়োগ দিতো বিভিন্ন ভাঁড়কে। তারা রং-বেরঙয়ের পোষাক পরে এসে করতো নানা মজাদার অঙ্গভঙ্গি, অনুকরণের চেষ্টা করতো মৃতের নানা কথাবার্তা-চালচলন। এসবের উদ্দেশ্য ছিলো মৃতের আত্মাকে শান্তি দেয়া এবং জীবিত শোকার্ত আত্মীয় ও কাছের মানুষদেরকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তোলা। এসব করে তাদের অর্থোপার্জনও বেশ ভালোই হতো।
ফুলার
ফুলিং বলতে বোঝায় কাপড় পরিষ্কার করার প্রক্রিয়াকে। প্রাচীন রোমে এ কাজটি করতো ক্রীতদাসেরা। এজন্য গোড়ালি সমান মূত্রের মাঝে দাঁড়িয়ে কাপড় ধোয়া লাগতো তাদের! কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। তখনকার দিনে তো আর এখনকার মতো কাপড় ধোয়ার জন্য এত সাবান কিংবা গুঁড়া সাবানের প্রচলন ছিলো না। মূত্রে থাকা অ্যামোনিয়াম লবণ পরিষ্কারক ক্ষমতাসম্পন্ন। এজন্যই মূলত মূত্রের দ্বারস্থ হয়েছিলো রোমের মানুষেরা। সেই মূত্রের মাঝে মূলত মানুষের মূত্রই থাকতো।
গ্রুম অব স্টুল
আজ প্রাচীন পৃথিবীর যেসব অদ্ভুত পেশার কথা আলোচনা করলাম, তার মাঝে সবচেয়ে অদ্ভুত সম্ভবত এটিই। একজন ইংরেজ রাজার সভাসদদের মাঝে তার সবচেয়ে কাছের লোক থাকতেন এ গ্রুম অব স্টুল। তার কাজ ছিলো রাজার হাত-পা ধুইয়ে দেয়া এবং সেই সাথে প্রকৃতির বড় ডাকে সাড়া দেয়ার পর তার পশ্চাদ্দেশ পরিষ্কার করে দেয়া! শারীরিকভাবে রাজার এত কাছে আসার কারণেই রাজা তাকে এতটা বিশ্বাস করতেন, রাজ্যের নানা গোপনীয় কথাবার্তাও শেয়ার করতেন তার সাথে। বর্তমান দুনিয়ায় কাজটি যতই অদ্ভুত এবং অপমানজক মনে হোক না কেন, তখনকার দিনে কিন্তু একজন গ্রুম অব স্টুলকে বেশ সম্মানের চোখে দেখা হতো।
পিন সেটার
১৯৩৬ সালে গটফ্রিড স্মিট যান্ত্রিক পিন সেটার উদ্ভাবনের আগপর্যন্ত বোলিং পিনগুলো সাজাতে, পড়ে যাওয়া পিনগুলো সরাতে এবং বলটি খেলোয়াড়ের হাতে দিয়ে আসতে এসব কমবয়সী ছেলেদের কাজে লাগানো হতো।
ফ্রেনোলজিস্ট
বর্ণবাদ এবং অপবিজ্ঞানের দায় মাথায় নিয়ে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে এ পেশাটি। মানুষ এককালে ফ্রেনোলজিস্টের কাছে গেলে তিনি একজনের মাথার আকার দেখে তার বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারতেন!
পাউডারমাঙ্কি
অতীতের নৌপথের যুদ্ধগুলোতে কমবয়সী যে ছেলেগুলো কামানে গানপাউডার ভরে দিতো তাদেরকে বলা হতো পাউডারমাঙ্কি।
লেক্টর
ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে করতে শ্রমিকদের মাঝে যাতে একঘেয়েমি জেঁকে না বসে সেজন্য নিয়োগ দেয়া হতো লেক্টরদের। তাদের কাজ ছিলো উচ্চস্বরে বিভিন্ন খবর এবং সাহিত্যকর্ম পড়ে যাওয়া।
র্যাট ক্যাচার
এখন তো ইঁদুর মারার জন্য কত রকমের ওষুধের কথাই শোনা যায় রাস্তার বের হলে। কিন্তু এককালে যখন এসব ওষুধ ছিলো না, তখন এসব র্যাট ক্যাচাররাই ইঁদুর ধরার দায়িত্বটি নিষ্ঠার সাথে পালন করতেন।
সংক্ষেপে দেখুনশীত কালে কোন কোন ফুল চাষ করবেন ?
শীতকালীন ফুল চাষ – শীত মানেই প্রাণের ছোঁয়া। হিমের কনকনে ঠাণ্ডা আর চারিদিক কুয়াশাচ্ছন্ ঢাকা প্রকৃতি, সঙ্গে পুলিপিঠে। যেন এক অপূর্ব পরিবেশের মেল বন্ধন। তার সঙ্গে বাড়তি পাওনা বাহারি রঙের শীতকালীন ফুল। এমন কোন মানুষ নেই যে ফুল ভালবাসে না। ফুল হল পবিত্রতা ও ভালবাসার প্রতীক। শীতকালীন ফুল লাগানোর উপযুক্বিস্তারিত পড়ুন
শীতকালীন ফুল চাষ – শীত মানেই প্রাণের ছোঁয়া। হিমের কনকনে ঠাণ্ডা আর চারিদিক কুয়াশাচ্ছন্ ঢাকা প্রকৃতি, সঙ্গে পুলিপিঠে। যেন এক অপূর্ব পরিবেশের মেল বন্ধন। তার সঙ্গে বাড়তি পাওনা বাহারি রঙের শীতকালীন ফুল। এমন কোন মানুষ নেই যে ফুল ভালবাসে না।
ফুল হল পবিত্রতা ও ভালবাসার প্রতীক। শীতকালীন ফুল লাগানোর উপযুক্ত সময় হল নভেম্বর মাস। শীতকালে বিভিন্ন ধরণের নাম না জানা, রঙিন ফুল ফোটে। অনেকেই টবে বা বাগানে রঙিন ফুল লাগাতে পছন্দ করেন। ফুল প্রেমিকদের জন্য রইল কিছু রঙিন শীতকালীন ফুল এর বৈশিষ্ট।
কি কি ফুল চাষ করবেন শীত কালে ?
ডালিয়া ফুল (Dahlia flowers)
শীতকালীন ফুল এর মধ্যে ডালিয়া খুব বিখ্যাত। বর্ণ বৈচিত্র, বড় আকারের ও নিবাসের জন্য এটি জনপ্রিয়। ডালিয়া গাছের উচ্চতা ১০০ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। ডালিয়া বিভিন্ন রঙের হতে পারে। সিঙ্গেল, ডবল শো ফ্যান্সি, রেড মনার্ক, ক্যাকটাস, স্টার প্রভৃতি উন্নত মানের ডালিয়া। এই ফুলগুলি সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে।
বাড়ির টবে ডালিয়া ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
এরপর ধীরে ধীরে গাছটি বেড়ে উঠবে, এবং কিছু দিনের মদ্ধেই খুব সুন্দর ফুল ফুটবেসূর্যমুখী (Sunflower)
এটি শীতকালীন ফুল। এটি দেখতে সূর্যের মতো। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকার জন্য এর নাম সূর্যমুখী। এর বীজ হাঁস, মুরগী খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়। পৃথিবী বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক চাষ হয়। এই তেল অন্যান্য রান্নার তেলের তুলনায় ভালো। এই গাছ ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বাড়ির টবে সূর্যমুখী ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
২ মাস পরিচর্যা করলেই গাছ বড় হবে, এবং খুব সুন্দর ফুল ফুটবে কিছু দিনের মধ্যেচন্দ্রমল্লিকা (Chandramallika)
সাধারণত অক্টোবর – নভেম্বর মাসে এই গাছের ফুল ফোটে। এই ফুল প্রায় সাড়ে তিন হাজারেরে ধরনের হয়ে থাকে। এই গাছের ফুল প্রায় ২০-২৫ দিন তাজা থাকে। এই গাছ ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। চন্দ্রমল্লিকার আদি নিবাস চীনে। চীনে এটি ঔষুধিগাছ হিসেবে পরিচিত। ফুলগুলি সাধারণত গোলাকার, পুরু ধরনের হয়ে থাকে। পাঁপড়িগুলি লম্বা, উঁচু ও সরু হয়ে থাকে।
বাড়ির টবে চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
প্রতিদিন প্রয়োজন মতো নিয়ম করে জল ও সার কসমস (Cosmos)
কসমস বাহারি রঙের শীতের ফুল। এগুলি অধিকাংশ বিদেশি ফুল। কসমস গাছের ফুলগুলি বাগানে সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হল ” কসমস বিপিন্নাতুস”। এই ফুলগুলি বৈশিষ্ট হল একই গাছে বিভিন্ন রঙের ফুল ফোটে ( যেমন- সাদা, গোলাপি, বেগুনি, লাল, কমলা, হলুদ ইত্যাদি। ফুলগুলি হালকা সুগন্ধি বিশিষ্ট। ফুলগুলি ৩-৪ সেন্টিমিটার চওড়া হয়ে থাকে। পাতাগুলি খাঁজকাটা হয়।
বাড়ির টবে কসমস ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
বেশি রোদ থাকলে গাছটিতে ফুল ভালো হবজিনিয়া (Zinnia)
ধুসর সবুজ রঙের ক্ষুদ্রাকৃতি এই ফুল বেশ নজরকড়া। এই ফুলের গাছ ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। লাল, গোলাপি, বেগুনি, সাদা রঙের বৈচিত্রময়। এর আদি নিবাস মেক্সিকো।
বাড়ির টবে জিনিয়া ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
গাঁদা (Marigold)
এই ফুলটি খুব জনপ্রিয়। বেশিরভাগ বাড়ির টবে বা বাগানে এই ফুল দেখা যায়। শীত হোক বা গরম সব সময় এই ফুল ফোটে। কিন্তু শীতকালে এর চাষটা বেশি। লাল, হলুদ, কমলা রঙের হয়ে থাকে। গাঁদা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন- চায়না গাঁদা, রক্ত গাঁদা, দেশি গাঁদা, বড় ইনকা গাঁদা প্রভৃতি।
বাড়ির টবে গাঁদা ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
প্রতিদিন সকাল- বিকেল প্রয়োজন মতো জল দিন ধীরে ধীরে গাছ বৃদ্ধি পাবে এবং ফুল ফুটবেগোলাপ (Rose)
গোলাপ সারাবছর এ চাষ হয়ে থাকে। ফুল প্রেমীদের পছন্দের ফুলের তালিকায় গোলাপ শীর্ষ স্থান দখল করে। লাল গোলাপ ভালবাসার প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত। এছাড়াও গোলাপ ফুল ভিন্ন রঙের হয়ে থাকে।
অধিকাংশ ফুল প্রেমীরা বাড়ির টবে, বাগানে এই সুগন্ধি যুক্ত ফুল লাগান। বিদেশি গোলাপের মধ্যে – এলিজাবেথ, ব্ল্যাক প্রিন্স, রানি এলিজাবেথ, ইরান, রোজ গুজার্ড, কুইন এলিজাবেথ, জুলিয়াস রোজ জনপ্রিয়।
বাড়ির টবে গোলাপ ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
দু-তিনদিন অন্তর অন্তর প্রয়োজন মতো জল দিতে হবে। তবে গাছের গোড়ায় যেন জল না জমে সে দিকে নজর রাখতে হবক্যামেলিয়া (Camellia)
এটি একটি বিদেশি ফুল। সাধারণত ফুলটি সাদা ও লাল রঙের হয়ে থাকে। অনেকটা দেখতে গোলাপের মতো। এক স্তর বা বহু স্তর পাপড়ি যুক্ত হয়ে থাকে। চা গাছের মতো এর পরিচর্যা করতে হয়। এই ফুলটি সাধারণত বছরে একবারই ফোটে। একবছর সময় লাগে ফুল ফুটতে।
বাড়ির টবে ক্যামেলিয়া ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
প্রতিদিন সকাল- বিকেল প্রয়োজন মতো জল দিন ধীরে ধীরে গাছ বৃদ্ধি পাবে এবং ফুল ফুটপ্যান্সি (Pansy)
শীতের সব চাইতে সুন্দর ফুল হল প্যান্সি। এটি দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। এর গঠনটা অনেকটা আলাদা ধরনের, ফুলের নিচের দিকে তিনটি পাপড়ি থাকে আর উপরের দিকে দুটি।সাধারণত টবে এটি ভালো ফোটে। বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে এই ফুলটি অসাধারণ।
বাড়ির টবে প্যান্সি ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
- প্রথমে নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে আনতে হবে।
- দো-আঁশ মাটি, গোবর সার বা কম্পোস্ট, পাতা পচা সার, একত্রে মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে।
- মিশ্রিত মাটি প্রায় এক সপ্তাহ রেখে দিন কোন খোলা জায়গায়।
- তারপর টবে মাটি ভরে চারাটি বসিয়ে দিন।।
- দু-তিনদিন অন্তর অন্তর প্রয়োজন মতো জল দিতে হবে। তবে গাছের গোড়ায় যেন জল না জমে সে দিকে নজর রাখতে হবে।
সংক্ষেপে দেখুনকোন মাসে কোন সবজি ও ফল চাষ করবেন ?
বারোমাসি সবজি তালিকা – ছয় ঋতুর দেশ হিসাবে পরিচিত আমাদের এই দেশ। ঋতু বৈচিত্রের কারনে এ দেশের মাটিতে ফলে নানা রকম ফল ও সবজি। আর আমাদের দেশের কৃষির মৌসুম তিনটি- খরিফ-১, খরিফ-২ ও রবি। উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে যদিও কৃষি মৌসুমকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে, কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া, জলবায়ু এবং আমাদেরবিস্তারিত পড়ুন
বারোমাসি সবজি তালিকা – ছয় ঋতুর দেশ হিসাবে পরিচিত আমাদের এই দেশ। ঋতু বৈচিত্রের কারনে এ দেশের মাটিতে ফলে নানা রকম ফল ও সবজি। আর আমাদের দেশের কৃষির মৌসুম তিনটি- খরিফ-১, খরিফ-২ ও রবি। উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে যদিও কৃষি মৌসুমকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে, কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া, জলবায়ু এবং আমাদের প্রয়োজনের তাগিদে প্রতি মাসের প্রতিটি দিনই কিছু না কিছু কৃষি কাজ করতে হয়।
বৈশাখ মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
বৈশাখ (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে):
জ্যৈষ্ঠ মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
জ্যৈষ্ঠ (মধ্য মে-মধ্য জুন):
আষাঢ় মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
আষাঢ় (মধ্য জুন-মধ্য জুলাই):
শ্রাবন মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
শ্রাবণ (মধ্য জুলাই-মধ্য আগস্ট):
ভাদ্র মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
ভাদ্র (মধ্য আগস্ট-মধ্য সেপ্টেম্বর):
আশ্বিন মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
আশ্বিন (মধ্য সেপ্টেম্বর-মধ্য অক্টোবর):
কার্তিক মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
কার্তিক (মধ্য অক্টোবর-মধ্য নভেম্বর):
অগ্রাহায়ণ মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
অগ্রহায়ণ (মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর):
পৌষ মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
পৌষ (মধ্য ডিসেম্বর-মধ্য জানুয়ারি):
মাঘ মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
মাঘ (মধ্য জানুয়ারি-মধ্য ফেব্রম্নয়ারি):
ফাগুন মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
ফাগুন (মধ্য ফেব্রম্নয়ারি-মধ্য মার্চ):
চৈত্র মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
চৈত্র (মধ্য মাৰ্চ মধ্য-এপ্রিল):
- গ্রীষ্মকালীন বেগুন, টমেটো, মরিচের বীজবপন বা চারা রোপণ করা দরকার।
- নাবী জাতের বীজতলা তৈরি ও বীজবপন করতে হবে।
- যে সব সবজির চারা তৈরি হয়েছে সেগুলো মূল জমিতে রোপণ করতে হবে।
- সবজি ক্ষেতের আগাছা দমন, সেচ ও সার প্রয়োগ, কুমড়া জাতীয় সবজির পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
- নাবী রবি সবজি উঠানো, বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে।
- মাটিতে রসের ঘাটতি হলে ফলের গুটি বা কড়া ঝরে যায়। তাই এ সময় প্রয়োজনীয় সেচ প্রদান, পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন করা জরুরি।
সংক্ষেপে দেখুনসেক্স করার নিয়ম কি
সেক্স করার নিয়ম কি ? এটা অতান্ত্য ব্যাক্তিগত ব্যাপার। প্রশ্নটা করার মধ্যে আপনি কি দেখাতে চাচ্ছেন? ঘরে বসে বসে নিজে চেষ্টা করে দেখুন উত্তর পেয়ে যাবেন।
সেক্স করার নিয়ম কি ? এটা অতান্ত্য ব্যাক্তিগত ব্যাপার। প্রশ্নটা করার মধ্যে আপনি কি দেখাতে চাচ্ছেন? ঘরে বসে বসে নিজে চেষ্টা করে দেখুন উত্তর পেয়ে যাবেন।
সংক্ষেপে দেখুনবিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের নাম কি?
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের নাম সূর্যডিম। টকটকে লাল রঙ ও আকারে বড় হওয়ায় এই আমি এগ অব দ্য সান' বা সূর্যডিম নামে পরিচিত। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে চাষ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম, যার প্রতি কেজি খুচরা বাজারে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই আম ৫০০বিস্তারিত পড়ুন
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের নাম
সূর্যডিম।
টকটকে লাল রঙ ও আকারে বড় হওয়ায় এই আমি এগ অব দ্য সান’ বা সূর্যডিম নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে চাষ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম, যার প্রতি কেজি খুচরা বাজারে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই আম ৫০০০-৬০০০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।
যেখানে বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত আমের দাম প্রতি কেজি জাতভেদে ৪০ থেকে ১০০ টাকাতেই পাওয়া যায়।
দামি এই আমটি বাংলাদেশের কোন জাত নয়। আমটি জাপানি প্রজাতির বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তবে এটি বিভিন্ন দেশে চাষ হচ্ছে।
জাপানি ভাষায় আমটিকে বলা হয় ‘মিয়াজাকি’। বিশ্ববাজারে এটি ‘রেড ম্যাঙ্গো’ বা ‘এগ অব দ্য সান’ নামেও পরিচিত।
তবে বাংলায় এই আমটি পরিচিতি পেয়েছে “সূর্যডিম” নামে।
এই আমের গড়ন সাধারণ আমের চাইতে বড় ও লম্বা, স্বাদে মিষ্টি এবং আমের বাইরের আবরণ দেখতে গাঢ় লাল অথবা লাল-বেগুনির মিশ্রণে একটি রঙের।
একেকটি আমের ওজন ৩৫০ থেকে ৪৫০ গ্রামের মতো বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
সে হিসেবে বাংলাদেশের বাজারে একেকটি আমের দামই পড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
মূলত চাহিদা মোতাবেক যোগান কম থাকা, মিষ্টা স্বাদ, ভিন্ন রঙ এবং চাষপদ্ধতির কারণে আমটির দাম এতো বেশি।
দামি এই আমটি চাষ করে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছেন খাগড়াছড়ির কৃষক হ্ল্যাশিংমং চৌধুরী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে কৃষিকাজকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে মহলছড়ি উপজেলা। ওই উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় ১২শ ফুট উঁচুতে ৩৫ একর জায়গাজুড়ে নিজ উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন হরেক রকম ফলের বাগান। নাম দিয়েছেন ‘ক্রা এএ এগ্রো ফার্ম’।
সেই বাগানের একটি অংশেই চাষ করছেন ‘সূর্যডিম’ আম।
০১৭ সালে তিনি প্রথম ভারত থেকে এই আমের ১০/১৫টি চারা কিনে নিজ বাগানে রোপণ করেন। দুই বছরের গাছ বড় হয়ে ওঠে এবং ২০১৯ সাল থেকে তিনি আম তোলা শুরু করেছেন।
তিনি জানান, মা গাছ থেকে চারা রোপণ করে বাগানের পরিধি বাড়িয়েছেন। এখন তার বাগানে সূর্যডিমের ১২০টির মতো গাছ রয়েছে। যেগুলোর উচ্চতা ৬/৭ ফুটের মতো।
চারাগুলো যত্ন করে পালন করায় এরমধ্যে প্রায় ৫০টি গাছে তিন চার বছর ধরে ফলন হচ্ছে, যা থেকে প্রতি বছর ৩শ থেকে ৪শ কেজি আম হয় বলে জানিয়েছেন মি. হ্ল্যাশিংমং।
যদিও বিরূপ আবহাওয়া এবং পানি স্বল্পতার কারণে এই আম চাষে তাকে বেশ বেগ পেতে হয় বলে তিনি জানান।
সূর্যডিম আম সাধারণত মে মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখে পাকা শুরু হয় এবং জুনের ১৫ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত পাওয়া যায়।
চলতি বছর একটি লম্বা সময় খরা মৌসুম থাকায় এবার আম চলে এসেছে সময়ের আগেই।
তিনি বলেন, এই আম চাষে নিতে হয় বিশেষ যত্ন। পরিমিত আলো, পানি, ছায়া সরবরাহের পাশাপাশি, প্রতিটি আম প্যাকেট দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়।
আম তোলার পর গরমের কারণে সেগুলো বেশিক্ষণ নিজের কাছে রাখতে পারেন না। দ্রুত বিক্রি করে দিতে হয়।
এখনও এই আমের ক্রেতা খুব হাতে গোনা কিছু সৌখিন আমপ্রিয় মানুষ বলে জানা গেছে।
মি. হ্ল্যাশিংমং কিছু আম উপহার হিসেবে দিয়ে দেন এবং কিছু আম অনলাইনের বিভিন্ন পেইজে বিক্রি করেন।
প্রতি কেজি আম ৩০০ থেকে ৫০০টাকায় বিক্রি করলেও এই আম খুচরা বাজারে গিয়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
হ্ল্যাশিংমং তার বাগানে প্রায় ৬০ জাতের আম সেইসঙ্গে ড্রাগনফল, রামবুটান, থাইলংগান, মালটাসহ প্রায় ১৫০ জাতের প্রচলিত-অপ্রচলিত-বিলুপ্ত জাতের ফল চাষ করে আসছেন।
তবে পাহাড়ে ‘সূর্যডিম’ আমের চাষ এবারই প্রথম।
সরকারিভাবেও পুরষ্কৃত কৃষক মি. হ্ল্যাশিংমং-এর পরিকল্পনা- এই আমের ফলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে একে একটি রপ্তানিযোগ্য পণ্যে পরিণত করা।
তিনি বলেন, “আমি চাই এই ফলের আবাদ সারা বাংলাদেশে হোক। আমি কৃষকদের বিনা পয়সায় বা নামমাত্র দামে চারা দিচ্ছি। সবাই যদি চাষ করে এই আমের ফলন বাড়ায়, তাহলেই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব না।”
প্রতিটি আম গাছে থাকা অবস্থাতেই প্যাকেট করে রাখতে হয়।
তবে তার বাগানে যে আমের ফলন হচ্ছে সেটা বিশ্বমানের কিনা, এর স্বাদ জাপানের উৎপাদিত মিয়াজাকি আমের মতো কিনা, সেটা তিনি বিশেষজ্ঞদের কাছে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন।
সেখান থেকে ফলাফল এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা তিনি জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া মিয়াজাকির ফলনের জন্য উপযোগী। এই আম আরও কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফলানো হচ্ছে।