সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
কারেকশন ফ্লইড: জানেন কি ভুল থেকেই আবিষ্কার হয়েছিল জিনিসটি?
কারেকশন ফ্লুইড ভুল থেকে আবিষ্কার হয়েছিল পেন্সিলে লেখার সুবিধা হলো ভুল করলেই সেটা ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যায়। কিন্তু কলমে এই সুবিধাটা নেই। সরাসরি ভুল হওয়া অংশটাই কেটে দিতে হয়। সেই ভুলটা যদি অফিসিয়াল কোনো দরকারি কাগজে হয় কিংবা কোনো অ্যাসাইনমেন্টে, তাহলে আবার ঝামেলা। তখন আমরা না কেটে বরং ‘ফ্লুইড’ দিয়ে সবিস্তারিত পড়ুন
কারেকশন ফ্লুইড ভুল থেকে আবিষ্কার হয়েছিল
পেন্সিলে লেখার সুবিধা হলো ভুল করলেই সেটা ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যায়। কিন্তু কলমে এই সুবিধাটা নেই। সরাসরি ভুল হওয়া অংশটাই কেটে দিতে হয়। সেই ভুলটা যদি অফিসিয়াল কোনো দরকারি কাগজে হয় কিংবা কোনো অ্যাসাইনমেন্টে, তাহলে আবার ঝামেলা। তখন আমরা না কেটে বরং ‘ফ্লুইড’ দিয়ে সেটাকে ঢেকে দেই। এরপর সাদা রঙের সেই ফ্লুইডটা শুকিয়ে গেলে ওটার উপর কলম চালাই। সিম্পল কাহিনী।
সাদা রঙের যে লিকুইডটাকে আমরা সিম্পলি ‘ফ্লুইড’ বলে চালিয়ে দিচ্ছি কিংবা দোকানে গিয়ে এই নাম বললেই দোকানদারও আমাদের হাতে কাঙ্ক্ষিত পণ্যই তুলে দিচ্ছে, ওটার আসল নাম কিন্তু ফ্লুইড না। এর প্রকৃত নাম হচ্ছে ‘কারেকশন ফ্লুইড’।এই কারেকশন ফ্লুইডের সাধারণত দুটো রুপের সাথে আমরা পরিচিত। একটি টিউব আকৃতির, যার ভেতর থেকে তুলির মতো একটি অংশের সাহায্যে আমরা অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে দেই। আরেকটি কলমের মতো, তবে সাধারণ কলমের আকৃতির না, একটু মোটা ও লম্বা।
আচ্ছা আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন এই কারেকশন ফ্লুইড কিভাবে আবিষ্কার হয়ে আমাদের হাতে আসলো?
না শুনে থাকলে চলেন, আপনাকে সেই গল্পই শোনাই।
সময়টা ১৯৫১ সাল। বেটি নেস্মিথ গ্রাহাম নাম্নী এক মহিলা চাকরি পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ব্যাংক এন্ড ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডব্লিউ ডব্লিউ ওভারটনের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হিসেবে। সিঙ্গেল মাদার তিনি, ফলে এই চাকরি পেয়ে যেন তিনি সোনার হরিণই পেয়ে গেলেন।
আজকের দিনের মতো তখন ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারের চল ছিল না অফিসগুলোতে, বরং সেখানে রাজত্ব করতো টাইপ রাইটারের খটাখট শব্দই। তবে কম্পিউটারে টাইপের বেলায় কোনো ভুল হলে যেমন ব্যাকস্পেসে চাপ দিলেই কাজ সেরে যাচ্ছে, টাইপ রাইটারের বেলায় তেমনটা ছিল না। কখনও কখনও মেশিনে জ্যাম লেগে যেত, কখনও আবার হুট করেই লেখাটা ভুল লাইনেও চলে যেত।
বর্তমান সময়ে লেখালেখিতে আমরা কিন্তু খুব চমৎকার একটা সুবিধা পাই। প্রথমে আমরা পিসিতে সফটকপিতে লিখছি। কোনো ভুল হলে সেখানেই তা সংশোধন করে নিতে পারছি। এরপর সেই সংশোধিত লেখাটাই আমরা প্রিন্ট আউট করে কাগজে পাচ্ছি। ফলে চেকিংয়ে ভুল না হলে প্রিন্ট হওয়া কাগজে ভুল না থাকার নিশ্চয়তা শতভাগ। কিন্তু যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন টাইপ হতো সরাসরি কাগজেই। ফলে কেউ যদি একটা ভুলও করত, কিংবা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি দেখা দিত, তাহলে সেই পেজটি বের করে আবারও শুরু থেকে টাইপ করতে হতো, যা ছিল নিঃসন্দেহে বেশ পরিশ্রমসাধ্য একটি কাজ।
গ্রাহামের ভুল হতো প্রায়ই, ভুল হতো তার সহকর্মীদেরও। কিন্তু কোনো উপায় তারা খুঁজে পাচ্ছিলেন না যার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ মিলতে পারে। ফলে এভাবেই দিনগুলো কেটে যেতে থাকলো।
একদিনের কথা। সেদিন অফিসের জানালাগুলোতে রঙ করছিল কয়েকজন রংমিস্ত্রী। গ্রাহামও কাজের ফাঁকে সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ এক মিস্ত্রী এক জায়গায় ভুল রঙ দিয়ে ফেললো। কিন্তু এটা নিয়ে তেমন একটা মাথা না ঘামিয়ে তারা বরং এর উপর আরও কয়েক স্তর রঙ বসিয়ে দিল ব্রাশ দিয়ে। ব্যাস ঝামেলা শেষ। নতুন করে রঙ দেয়ার বদলে তারা বরং ভুলটাকেই পুরোপুরি ঢেকে দিল।
বেটি নেস্মিথ গ্রাহাম
আর এটা দেখেই গ্রাহামের মাথায় আইডিয়া এসে গেল। বাসায় ফিরেই রান্নাঘরে থাকা সাদা টেম্পেরা পেইন্ট নিয়ে পরীক্ষা শুরু করে দিলেন তিনি, কারণ ওগুলো খুব দ্রুত শুকিয়ে যেত, আবার টিকতোও বেশি দিন। সফলও হলেন তিনি তার পরীক্ষায়। এরপর থেকে তিনি অফিসে একটি বোতলে করে সেই রঙ নিয়ে যেতে থাকলেন। এখন আর ভুল হলে তাকে পুরো কাগজ ফেলে দেয়া লাগে না, বরং সেখানে এই নতুন সাদা রঙ মাখিয়ে দিলেই হয়ে যাচ্ছে।
গ্রাহামের এই অদ্ভুত আইডিয়ার কথা সহকর্মীদের মাধ্যমে আস্তে আস্তে চারদিকে ছড়াতে লাগলো। নতুন এই লিকুইডকে তখন সবাই ‘মিসটেক আউট’ নামে চেনে। ১৯৫৬ সাল নাগাদ তার কাছে এজন্য নিয়মিত বিক্রির অর্ডারও আসা শুরু হলো। এবার তিনি বুঝলেন, তার সামনে আসলে সম্ভাবনার এক নতুন দ্বার উন্মোচন হতে শুরু করেছে, যেটা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে জীবিকা নিয়ে তার হয়তো আর কোনো চিন্তা থাকবে না।
মিসটেক আউটের উন্নতি ঘটাতে গ্রাহাম তাই শরণাপন্ন হলেন তার ছেলেরই কেমিস্ট্রি টিচারের, যার সাহায্যে টাইটেনিয়াম ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করে লিকুইডটাকে আরও দ্রুত শুকানোর ব্যবস্থা করা গেল। নতুন এই প্রোডাক্টের নাম তিনি দিলেন ‘লিকুইড পেপার’। এরপর এর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও মার্কেটিংয়ের দিকে নজর দিলেন তিনি। পাশাপাশি চলছিল তার সেক্রেটারির চাকরিও।
কিন্তু খুব বেশি দিন জীবিকার্জনের দুই নৌকায় একসাথে পা রাখতে পারলেন না গ্রাহাম। যে টাইপিং মিস্টেক এড়াতে তিনি লিকুইড পেপার এনেছিলেন, একদিন সেই ভুলের কারণেই চাকরি চলে যায় তার। তিনি নিজের ব্যবসার চিন্তায় এতটাই অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলেন যে টাইপ করতে গিয়ে কাগজের উপরে ব্যাংকের নামের জায়গায় নিজের কোম্পানির নাম লিখে বসেন। ফলে চাকরি চলে যায় তার। অবশ্য ততদিনে লিকুইড পেপারের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এই চাকরিচ্যুতি শাপেবর হয়ে আসে তার জন্য। নিজের ব্যবসায় পূর্ণ মনোযোগ দেয়া শুরু করলেন তিনি।
লিকুইড পেপারের ফর্মুলা নিজের নামে পেটেন্ট করিয়ে নিলেন গ্রাহাম। এমনকি এর বাজার বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগের আশায় ১৯৫৭ সালে আইবিএম-এ নিজের পণ্যটি উপস্থাপনও করেন তিনি, দুর্ভাগ্যক্রমে তাকে সেখান থেকে খালি হাতেই ফেরত আসতে হয়। তবে তারপরও কাজ থামাননি। যার ফলশ্রুতিতে মাত্র এক বছর পরেই তার ফ্যাক্টরি থেকে দিনে ১০ হাজার বোতল লিকুইড পেপার তৈরি হতো!
১৯৮০ সালে মৃত্যু হয় গ্রাহামের। এর এক বছর আগে জিলেটের কাছে এই প্রোডাক্টের স্বত্ব বিক্রি করে দিয়ে যান তিনি। তার মৃত্যুর প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও আজও কদর কমেনি তার উদ্ভাবিত লিকুইড পেপার ওরফে কারেকশন ফ্লুইড ওরফে ফ্লুইড এর। আজও প্রিন্ট বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো লেখালেখিতে ভুল হলেই আমরা হাত বাড়াই সেই ফ্লুইডের দিকেই।
ঢাকা শহরের কোন কোন পেশা হারিয়ে গেছে ?
সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে কিছু পেশা। প্রযুক্তির উন্নয়ন কিংবা চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে হারিয়েছে সেসব পেশা। সেসব পেশাজীবীদের ক্ষণিক সময়ের জন্য সমস্যায় নিশ্চয়ই পড়তে হয়েছে, তবে তারা নতুন করে মানিয়ে নিয়েছেন অন্য কোনো পেশায়। আজ আপনাদের জানাবো আমাদরে রাজধানী শহর ঢাকা থেকে হারিয়ে যাওয়াবিস্তারিত পড়ুন
সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে কিছু পেশা। প্রযুক্তির উন্নয়ন কিংবা চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে হারিয়েছে সেসব পেশা। সেসব পেশাজীবীদের ক্ষণিক সময়ের জন্য সমস্যায় নিশ্চয়ই পড়তে হয়েছে, তবে তারা নতুন করে মানিয়ে নিয়েছেন অন্য কোনো পেশায়।
আজ আপনাদের জানাবো আমাদরে রাজধানী শহর ঢাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া এমন কিছু পেশা সম্পর্কে।
বাইজি
বাইজিদের সম্পর্কে সাধারণ ঢাকাবাসীদের মধ্যে কৌতুহল ছিল। বাইজিদের বিশেষ ধরনের জীবনযাপন,কঠোর পর্দার মধ্যে বসবাস এবং প্রহরীদের প্রহরায় ঘোড়াগাড়ীতে যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের সম্পর্কে অনেক কৌতুহল ছিল। পাটুয়াটুলীর বাইজিরা সঙ্গীদের নিয়ে হেঁটে খুব সকালে অদূরে বুড়িগঙ্গা নদীতে গোসলে যেত। তখন বুড়ীগঙ্গা নদীর পানি ছিল খুবই স্বচ্ছ ও সুপেয়। গোসল পর্ব শেষে বাইজিরা যখন ফিরতো তখন লোকজন গলির মুখে দাড়িয়ে থেকে সিক্ত বসনা বাইজিদের দেখে পুলকিত হতো। কারণ এছাড়া সাধারন মানুষের পক্ষে বাইজিদের দেখার আর কোন সুযোগ ছিল না।
ইংরেজ শাসন স্থায়ী হওয়ার পর বাইজি পেশায় ধীরে ধীরে ধস নামে। ঢাকার বাইজি পাড়ায়ও লাগে এর হাওয়া। নবাব,জমিদারদের আয়ের উৎস কমে যেতে থাকে। তাদের পৃষ্টপোষকতা করা আর সম্ভব হয়নি। তখন ঢাকায় নব্য ধনি শ্রেনীর জন্ম হয়,এরা বাইজিদের নাচ-গান উপভোগের চেয়ে শ্বেতাঙ্গ রমনীদের সঙ্গে বলড্যান্স উপভোগ করতে অধিক অর্থ ব্যয় করতে উৎসাহী হয়ে উঠেন। এভাবেই ঢাকা শহর থেকে বাইজিরা হারিয়ে যেতে থাকে।
ভিস্তিওয়ালা
১৮৭৮ সালে ঢাকা শহরে আধুনিক সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়। এর আগে ঢাকায় খাবার পানির উৎস ছিল পুকুর,কুয়া,নদী।সে সময় কিছু লোক টাকার বিনিময়ে মশক (চামড়ার ব্যাগ)-এ করে ঢাকা শহরের বাসায় বাসায় খাবার পানি পৌঁছে দিতো। এ ধরনের পেশাজীবীদের বলা হত ‘ভিস্তিওয়ালা’ বা ‘সুক্কা’। আর ভিস্তিওয়ালা বা সুক্কা-রা পুরান ঢাকার যে এলাকায় বাস করতো সেটা কালক্রমে ‘সিক্কাটুলি’ নামে পরিচিত হয়।

বাতিওয়ালা
বর্তমানে বাতিওয়ালা ঢাকার বিলুপ্ত পেশাজীবী। একসময় রাত হলেই ঢাকা তখন ঘুটঘুটে এক অন্ধকার শহরে পরিনত হত। ঢাকার রাস্তার পাশে কেরোসিনের বাতি জ্বালানো শুরু হয় ১৮৭৭ সালে। হঠাৎ করেই ঢাকা শহরে এক নতুন পেশাদার শ্রেণির উদ্ভব হয়। বাতিওয়ালারা প্রতি সন্ধ্যায় মই বেয়ে ল্যাম্প পোস্টে উঠে সঙ্গে আনা কেরোসিন ভরে সেগুলোতে আলো জ্বালিয়ে দিয়ে যেত। ঢাকার শেষ বাতিওয়ালার নাম দক্ষিণারঞ্জন রাউত। ১৯৫২-১৯৫৩ সালের পরে এই ব্যবস্থা উঠে যাওয়ার পর তিনি ওই পেশা থেকে অবসর নেন। ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজলভ্য হয়ে উঠায় এই পেশাও আজ কালের অতীত।

পাঙ্খাওয়ালা
হাতপাখা নির্ভর এই পেশাজীবীদের অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। রাজা-জমিদারদের আমলে এই পেশাজীবীদের অনেক কদর ছিল।বড় আকারের তালপাখার নাম ছিল আরানি,ছোটগুলোর নাম আরবাকি। আর তা দিয়ে তারা ক্রমাগত বাতাস করে যেতো। জমিদারি প্রথার পতন সেই সাথে বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পাখার আগমনের ফলে এই পেশাও কালের গর্ভে হারিয়ে যায়।

ধুনারি
তুলা ধুনা একটি অতি প্রাচীন পেশা। তুলা ধুনা করা পেশাজীবীরা লেপ,বালিশ ও তোষক প্রস্তুত করত। অতীতে এরা গ্রামে-শহরে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তুলা ধুনা এবং লেপ, বালিশ ইত্যাদি তৈরির কাজ নিত। বর্তমানে ঢাকা শহরে এই পেশা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে, তারা এখন লেপ-তোষক ইত্যাদি তৈরির বড় বড় দোকানে শ্রমিকের কাজ করে থাকে। ঢাকা শহরের ধুনারিরা,যারা মুসলমান ছিল,তারা বিহার থেকে এসেছিল বলে জানা যায়।

নৈচাবন্দ ও টিকাওয়ালা
ঢাকা শহরে সবাই ধূমপানের জন্য সিগারেটকেই বেছে নেন।সময়ের সাথে সাথে হুঁকা নামের ধূমপানের বস্তুটি হারিয়ে গেছে।কিন্তু একসময় এই ঢাকা শহরেই ছিল উপমহাদেশের বৃহত্তম হুঁকা বানানোর শিল্প।এই হুঁকার নল যারা বানাতো তাদের বলা হতো নৈচাবন্দ।ঢাকার নৈচাবন্দরা মূলত আসতো সিলেট থেকে।শিশু, জাম,জারুল,শিমুল কাঠ দিয়ে নৈচা বানানো হতো।
আজকের ঢাকার যে টিকাটুলি এলাকা তা ছিল মূলত হুঁকার টিকাদারদের আবাসস্থল।টিকাটুলির এই টিকাদাররা অতিসাধারণ টিকিয়াকে অসাধারণ শিল্পে পরিণত করেছিলো। তাদের তৈরি টিকিয়ার কোন তুলনা ছিলো না। এগুলো এতো হাল্কা ও দাহ্য ছিলো যে,দিয়াশলাইয়ের একটা শলা দিয়েই অনেকগুলো টিকিয়াতে আগুন ধরানো যেতো।
ঢাকার নৈচার কারিগররা যেখানে বসবাস করতেন তা নৈচাবন্দটোলা নামে পরিচিত ছিল।এর অবস্থান ছিল বর্তমান সদরঘাটের কাছে।পরে তা বুড়িগঙ্গার বক্ষে বিলীন হয়ে যায়।পরে আস্তে আস্তে হুকোর জায়গা সস্তা ও সহজে বহনযোগ্য বিড়ি দখল করে নেয়।আস্তে আস্তে ঢাকা থেকে নৈচা তৈরির কারিগররা সম্পূর্ন বিলুপ্ত হয়ে যায়।
সংক্ষেপে দেখুনজিপসি.. পথে পথে ঘুরে বেড়ানো যাদের নেশা তাদের প্রকৃত ইতিহাস কি?
জিপসি শব্দের মানে হলো নাম বা ঠিকানাহীন রহস্যময় লোক বা যাযাবর। জিপসিরা মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার এক প্রকার যাযাবর জাতি। রোমানি বা রোমাদেরকে জিপসি বলা হয়। রোমানিরা মূলত ভারতীয়-আর্য বংশোদ্ভূত। জিপসিরা নিজেদেরকে বলে ‘রোম’ যার অর্থ মানুষ। কিংবা ‘রোমানিচল’ যার অর্থ মানুষের সন্তান। মূলত খ্রিস্টাব্দ ৪৩০ এ পাবিস্তারিত পড়ুন
জিপসি শব্দের মানে হলো নাম বা ঠিকানাহীন রহস্যময় লোক বা যাযাবর। জিপসিরা মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার এক প্রকার যাযাবর জাতি। রোমানি বা রোমাদেরকে জিপসি বলা হয়। রোমানিরা মূলত ভারতীয়-আর্য বংশোদ্ভূত। জিপসিরা নিজেদেরকে বলে ‘রোম’ যার অর্থ মানুষ। কিংবা ‘রোমানিচল’ যার অর্থ মানুষের সন্তান।
মূলত খ্রিস্টাব্দ ৪৩০ এ পারস্যের রাজা পঞ্চম বারহামকে “জাট” গোত্র থেকে ১২ হাজার শিল্পীকে উপহার দেওয়া হয় তৎকালীন কোন এক ভারতীয় রাজা থেকে। পরে সিরিয়াতে বাইজেন্টাইন দের হাতে তারা সবাই ধরা পড়েন এবং তাদের সেখানে হত্যা-খুন লুট করা হয়। পরে তারা পালিয়ে যান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। সেখান থেকেই মূলত তাদের ইতিহাস শুরু হয়।

জিপসিদের মাইগ্রেশন ম্যাপ
আনুমানিক ৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ভারতে আরব, ইউরোপীয়, মঙ্গোলীয়, তুর্কীস আক্রমণ শুরু হলে তখন থেকে রোমানিরা ভারত ছাড়তে থাকে। ইউরোপে গিয়ে ছোটখাট কাজ করা শুরু করেন। এবং সেখানে তাদের দাস হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় করা হত। তারা সেখানে অবর্ণনীয় নির্যাতন নিপীড়ন এর শিকার হন। অনেকেই আবার চুরি ডাকাতি রাহাজানির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যান। তাদের গায়ের রং সাদা না হওয়ার কারণে তাদের নিচু শ্রেণীর লোক হিসেবে গণ্য করা হতো। তাদের যেখানে পাওয়া যেত হত্যা করা হতো কিংবা দাস হিসেবে আটক করা হতো। তাই তারা জীবন ও জীবিকার তাগিদে সর্বদায় এখান থেকে ওখানে ছুটে বেড়িয়েছেন।
জিপসি উপকথা
জিপসি উপকথায় প্রচলিত আছে রোমান সৈন্যরা যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য এক মিস্ত্রি কে ৪ টি পেরেক তৈরির দায়িত্ব দেন। কিন্তু চতুর্থটি সম্পন্ন হওয়ার আগেই তারা তিনটি পেরেক নিয়ে চলে যায় আর বাকি একটি পেরেক সন্ধ্যায় নিয়ে যাবে এই কথা দেয়।
মিস্ত্রি পেরেক টি তৈরি শেষে গরম পেরেকে ঠান্ডা পানি ঢেলে দিলো। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার পেরেক ঠান্ডা হলো না বরং আরো টকটকে লাল হয়ে উঠলো। সাথে কি প্রচন্ড তাপ! মিস্ত্রি ভয়ে দৌড়ে পালাতে শুরু করলো, সে দৌড়ে একটি কুয়োর সামনে এসে দাড়ালো। দেখলো তার চারপাশ আলোয় আলোকিত! একি সেই পেরেক যে তার সামনে দাড়িয়ে আছে! আর সেই আলো সেই পেরেক থেকেই বের হচ্ছে।
মিস্ত্রি পাগলের মতো কুয়ো থেকে জল তুলে পেরেকে ঢালতে লাগলো কিন্তু পেরেক আর ঠান্ডা হচ্ছে না। পানি ঢালতে ঢালতে মিস্ত্রি পুরো কুয়োর পানি খালি করে ফেললো তবুও সেই পেরেক ঠান্ডা হলো না। পরে মিস্ত্রি সেই পেরেক কে মরুভূমিতে বালু চাপা দিয়ে পালালো।

ক্রুশবিদ্ধ যীশু I
জিপসিরা বলে তারা সেই পালানো মিস্ত্রির বংশধর। সেই একটি পেরেকের ভয়েই তারা ছুটে চলেছে দেশ থেকে দেশান্তরে।
যীশুকে ৩ পেরেকে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা প্রথম দেখা যায় বাইজানন্টাইন শিল্পে সেটাি দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতে সেই হিসেবে এই উপকথা কে বানোয়াট ই বলা চলে।
জিপসিদের আদিনিবাস কোথায় তা নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন থাকলেও তারা যে মূলত ভারতীয় যাযাবর তা অনেকাংশেই প্রমানিত সত্য।
ইউরোপে জিপসি
জিপসিরা ইউরোপে আসে চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে। ইউরোপীয়রা তাদের মনে করতো ইজিপশিয়ান অর্থাৎ মিশরীয় যাযাবর। যেহেতু তাদের পোশাকআশাক ও চালচলনে মিশরীয়দের সাথে মিল রয়েছে তাই এমনটা ভেবে নিয়েছে, আর জিপসিরাও তাদের সাথে সম্মতিসূচক মাথা নারিয়েছে।
ইউরোপে জিপসি নারীরা হাত দেখা, জরিবটি দিয়ে ঔষধ পথ্য বানিয়ে বাজারে বিক্রি করা, গান করা কিংবা সার্কাস দেখিয়ে নিজেদের রোজগার করতো। আর পুরুষরা সাধারণত বিভিন্ন কাজের কারিগর হতেন।

জিপসি নারী ও পুরুষ
তবে কালো চামড়া হবার কারণে ইউরোপে রোমানিদের (জিপসিদের) সবসময় হেয় করা হয়। ধারণা করা হয় তারা খুবই চতুর, চোর এবং রহস্যময় প্রকৃতির। জিপসিরা ভবিষ্যৎ বলতে পারে আর নতুন কোন জায়গায় চলে যাবার আগে তারা অনেক কিছু চুরি করে নিয়ে যায় বলেও মনে করা হয়।
জিপসিরা সবসময় ভ্রমণের উপরে থাকে। এরা কখনো এক জায়গায় থিতু হয় না। এদের কিছু ক্যারাভ্যান, ওয়াগন এবং আরভি (রিক্রিয়েশনাল ভিহিকল) রয়েছে যেগুলোতে তারা বসবাস করে এবং এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়। এগুলোই জিপসিদের ঘরবাড়ি এবং যানবাহন। এগুলোকেই তারা ভেতরে পরিবর্তন করে বসবাসের উপযোগী করে নিয়েছে। তাদের এরকম স্থানান্তরিত হবার কারণে এরা স্কুলে যেতে পারে না এবং একারণে এদের শিক্ষার হারও কম।


নৃত্যরত জিপসি নারী ও তার সাথে ২ জিপসি শিশু
মধ্যযুগের ইউরোপে জিপসিরা ইউরোপীয়দের দ্বারা প্রচুর নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। মধ্যযুগের প্লেগ মহামারীর কারন হিসেবে ইউরোপীয়রা ইহুদি ও জিপসীদের কে দায়ি করতো। এজন্য তারা হাজার হাজার জিপসি নিধন করেছে। এছাড়াও জিপসীদের অদ্ভুত জীবনযাপনের জন্য জিপসি নারীদের ডাঈনী অভিযোগে পুড়িয়ে ও হত্যা করেছে। এছাড়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর চক্ষুশূল ছিল ইহুদিদের পরেই জিপসিরা, আনুমানিক ৪-৫ লক্ষ জিপসি হলোকাস্টের শিকার হয়েছিল।
জার্মানিদের হলোকাস্টে জিপসি
জিপসিদের একেক দেশে এক নাম। বেলুচিস্তান, ইরাকে ওদের নাম ‘লুরি’। পারস্যে ‘কাকরি’ ও ‘জাঙ্গি’, আফগানিস্তানে ‘কাউলি’, তুরস্কে ও সিরিয়ায় ‘চিনঘানিজ’ কিংবা ‘চিনগানেস’ গ্রীসে তার পরিচিত ‘কাটসিভেলই’, সিগানোস কিংবা অ্যাটসিনকানোই।
ষোড়শ শতকে ফ্রান্সে তাদের নাম ছিল ‘রাবোঁয়া’ যার অর্থ ‘শয়তান স্বয়ং’। ফ্রান্সে জিপসি বলতে আরো অনেক নামে বোঝানো হতো যেমন বিউরদিনদি, কাম্প-ভোলান্ত, বোহেমিয়ান ইত্যাদি।
ইংরেজিতে সাহিত্যে শেক্সপীয়ার ও স্পেনসার দুজনই জিপসীদেরকে নিজেদের রচনায় ব্যবহার করেছেন। ফরাসী লেখক ভিক্তর হুগোর লেখাতেও রোমানিদের কথা আছে। হুগো ওদের বলেছেন ঈজিপ্টাইন বা মিশরী।
লোক ঠকানোতে জিপসীদের অনেক কুখ্যাতি আছে। একবার একজন লেখক লিখেছেনঃ- কয়েকটি মেয়ে দোকানে গিয়ে মাসে কিনল। বেশ পছন্দসই মাসে। অনেক দাম। দেখে আমি ভাবছি, এত পয়সা আছে ওদের? মাংস একটা পাত্রে রাখা হল। দোকানির বউ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েদের দিকে। বোধহয় সে হাত সাফাইয়ে জিপসীদের দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। পয়সা দিতে গিয়ে একটি মেয়ে বলল — এই যা, টাকার খলিটা তো আনতে ভুলে গেছি। আচ্ছা, এই রইল তোমার মাংস, আমি এক ছুটে পয়সা নিয়ে আসছি। অন্যরাও তার পিছু পিছু ছুটল। কিন্তু তারা আর ফেরে না। দোকানির বউ বিরক্ত হয়ে বলল – নাও, এবার মাংসটা তুলে রাখ। দোকানি পাত্রের ঢাকনা খুলে দেখে তার তলা নেই । সে একদিকে যখন মাংস ওজন করে। দিয়েছে, অন্যদিকে মাংস চালান হয়ে গেছে ঠিক অন্য কোনও গলিতে।
হাঙ্গেরিতেও জিপসীর বিরুদ্ধে নানা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শোনা গেল। ওরা জবরদস্তি করে ভদ্রমেয়েদের ইজ্জত নাশ করছে , ওরা শিশু চুরি করছে, ওরা— নরখাদক। বোহেমিয়ার চুরি বা প্রতারণার অভিযোগ প্রথমে জিপসীর বাঁ কান কাটা যেত, দ্বিতীয়বার নালিশ উঠলে – ডান কান, তৃতীয় বারে কাটা পড়ত মাথা।
১৭৮২ সনে হাঙ্গেরিতে একচল্লিশজন মেয়ে এবং পুরুষকে ফাঁসি দেওয়া হয় নরমাংস খাওয়ার অপরাধে। ওরা নাকি পঁয়তাল্লিশ জন মানুষকে খেয়ে ফেলেছে। বলা নিষ্প্রয়োজন তখন এসব অভিযোগে তখন প্রমাণের প্রশ্ন উঠত না। পরবর্তীতে দেখা গেছে তারা সকলেই ছিল নির্দোষ।
জিপসিদের সামাজ
জিপসি সমাজে বয়স্করা সবচেয়ে সম্মানিত। জিপসিদের দলের দলপতি সেখানকার প্রধান তিনিই সকল সমস্যা মোকাবেলা করার মূল সিদ্ধান্ত নেন। জিপসিদের নিজেদের মধ্যে কোনো ঝামেলা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে তার বিচার দলপতিই করেন, বাহিরের পুলিশ আইনসের সাহায্য জিপসি রা নেয় না।
জিপসিদের মধ্যে বাল্য বিবাহের মাত্রা প্রচুর। সাধারণত ছেলেমেয়েদের ১৩ বছর এর মধ্যেই বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের ক্ষেত্রে জিপসিরা ভারতীয় সমাজের মতোই গোঁড়া। তারা নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যেই ছেলে মেয়েদের বিবাহ দেয়।
বিবাহের পর কোনো জিপসি মেয়ে মা হতে না পারলে তাকে জিপসি সমাজের মানুষের দ্বারা প্রচুর ভোগান্তির শিকার হতে হয়। মেয়ে অলক্ষুণে তাই সন্তান হচ্ছে না, এমন কুসংস্কার রয়েছে জিপসিদের মধ্যে। আর তাই সন্তান লাভের আশায় জিপসি নারীরা বিভিন্ন ব্রত পালন করে। বিচিত্র সে সব আচার অনুষ্ঠান। আর একবার যদি মাতৃত্বের লক্ষণ প্রকাশ পায়, তখনও আবার হরেক অনুষ্ঠান। স্বামী থেকে শুরু করে দলের সবাই তার জন্য রীতিমতো ব্যস্ত সমস্ত। অনেক সময় তার চোখের সামনে দেখতে সুন্দর এমন কারও ছবি ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওদের ধারণা, এ সময়ে মনের মধ্যে সে যেমন মূর্তি ধ্যান করবে , সেরকম সন্তানই ভূমিষ্ঠ হবে।
জিপসীরা সুযোগ পেলেই গৃহস্থের ছেলেময়ে চুরি করে, এটা অপবাদ মাত্র। জিপসীর আস্তানায় শিশুর মেলা। সবই নিজেদেরই সন্তান। ঘরে যাদের এত ছেলেপুলে তারা অন্যের ছেলে চুরি করতে যাবে কোন দুঃখে। জিপসীদের এ দায় থেকে মুক্তি দেওয়াই ভালো।
স্বামী – স্ত্রীর সম্পর্কে জিপসী কোনও ফাঁকি সহ্য করতে রাজি নয়। একে অন্যের প্রতি জীবনভর অনুরক্ত এবং অনুগত থাকবে, এটা ধরে নেওয়াই নিয়ম। যদি তার ব্যতিক্রম ঘটে, জিপসী পুরুষ যদি অন্য কোনও নারীর প্রতি কোনও দুর্বলতা প্রকাশ করে, কিংবা স্ত্রীকে যদৃচ্ছভাবে ব্যবহার করতে চায়, তবে ই অনায়াসে তাকে পরিত্যাগ করতে পারে।
অন্যদিকে স্ত্রী যদি বিশ্বাসের মর্যাদা না রাখে , যদি সে ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে গোপনে ভালোবাসা লেনদেন করে, তবে তার জন্য প্রাপ্য কঠোর সাজা। তার দাঁত ভেঙে দেওয়া হতে পারে, নাক কিংবা কান কেটে দেওয়া যেতে পারে, অথবা অন্য কোনও শাস্তি ধার্য হতে পারে। এমনকি মাথা মুড়িয়ে দেওয়ার মতো শাস্তি ও রয়েছে। জিপসী মেয়ের কাছে সেটা প্রায় মৃত্যুদণ্ডের শামিল। যে মেয়ের মাথায় চুল নেই, তার জীবনই তো বৃথা।
ফলে কোনও কোনও মেয়ে ছুটে যায় পুলিশের কাছে। গিয়ে ইনিয়ে – বিনিয়ে বলে আমি চুরি করেছি , অমাকে সাজা দাও। আমাকে জেলে দাও। পরে মেয়েটি আসলে সমাজের ব্যঙ্গ – বিদ্রূপ আর ঘৃণা থেকে পালাতে চেয়েছিল। দেওয়ালের আড়ালে আত্মগোপন করে মাথায় আবার চুল ফিরিয়ে আনাই ছিল জানা যায়, তার বাসনা!
জিপসিদের ধর্ম
জিপসিদের নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম নেই, তারা যে অঞ্চলে যায় সেই অঞ্চলের ধর্মই চর্চা করে। ইউরোপে যেসব জিপসি রয়েছে তাদের প্রায় সকলেই খ্রিস্টান কিন্তু সেই সাথে তারা অনেক দেব-দেবীর আরাধনা ও করে, যা খ্রীস্টধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট না। বলা চলে জিপসিদের কোনো ধর্ম নেই, বরং ঘুরেবেড়ানোই তাদের ধর্ম এটা বলাই অধিক শ্রেয়।
জিপসিদের সংস্কৃতি
জিপসিদের সংস্কৃতি বা কালচার অনেক বেশি বর্ভাঢ্য। তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান, কবিতা রয়েছে। তারা অত্যন্ত বিনোদন প্রিয় মানুষ। তারা সর্বদায় সঙ্গীতসন্ধ্যা আয়োজন করে সেখানে তাদের ঐতিহ্যবাহী ক্লাসিকাল গান ও অন্যান্য গান পরিবেশন করা হয়। তাদের স্বভাবজাত গুণ ও রয়েছে, তারা কথায় কথায় গানের পদ তৈরি করে তাতে সুর দিয়ে আপনাকে গেয়ে শুনিয়ে ও দিতে পারবে।
বর্তমানে পুরো পৃথিবীতে প্রায় ১.৫ কোটি জিপসি বিভিন্ন দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তবে জিপসিদের বেশিরভাগই ইউরোপ ও আমেরিকায় বাস। ইউরোপে জিপসি আছে প্রায় ১০ মিলিয়ন, তাদের বেশিরভাগই আছে ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডে। আর ধারনা করা হয় আমেরিকায় জিপসি আছে প্রায় ২ মিলিয়ন।

জিপসিরা সবসময় ভ্রমণ করায় তাদের সন্তানরা লেখাপড়ার সুযোগ খুব একটা পায় না। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের চেষ্টা করছেন কোনো স্থায়ী করে জায়গায় স্থিতিশীল করার। তবে এখন বহু জিপসী এই ভবঘুরে জীবন থেকে সরে দাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপনের চেষ্টা করছে। যেহেতু ভ্রমণ তাদের মজ্জায় তাই মাঝেমধ্যেই ভদ্রসমাজের জিপসীরা ভ্রমণ করতে বিভিন্ন দেশে চলে যান কিছুদিনের জন্য।
জিপসিরা এখনো বিভিন্ন রকমের হয়রানির শিকার। তবে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জিপসিরা সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে তাদের অবস্থা সবচেয়ে ভালো।
সংক্ষেপে দেখুনবাজারে আলুর দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। জানেন কি পৃথিবীতে একবার আলুর দূর্ভিক্ষ হয়েছিলো ! কি সেই ইতিহাস?
আয়ারল্যান্ডের (আইরিশ) মানুষদের শর্করার প্রধান উৎস আলু। এটিই তাদের প্রধান খাদ্য। যেমটা আমাদের দেশে ভাত। আইরিশদের ইতিহাসের দূর্ভাগ্যের অনেকটা জুড়ে রয়েছে আলুর দুর্ভিক্ষ, যা পটাটো ফ্যামাইন নামে অধিক প্রসিদ্ধ। আলুর জন্য ঘটে যাওয়া এই দুর্ভিক্ষ পরিচিত বৃহৎ এক ক্ষুধা নামে যা সংঘটিত হয়েছিল ১৮৪৫ সালে। সেসময় Pবিস্তারিত পড়ুন
আয়ারল্যান্ডের (আইরিশ) মানুষদের শর্করার প্রধান উৎস আলু। এটিই তাদের প্রধান খাদ্য। যেমটা আমাদের দেশে ভাত। আইরিশদের ইতিহাসের দূর্ভাগ্যের অনেকটা জুড়ে রয়েছে আলুর দুর্ভিক্ষ, যা পটাটো ফ্যামাইন নামে অধিক প্রসিদ্ধ।
আলুর জন্য ঘটে যাওয়া এই দুর্ভিক্ষ পরিচিত বৃহৎ এক ক্ষুধা নামে যা সংঘটিত হয়েছিল ১৮৪৫ সালে। সেসময় Phytophthora Infestense নামের এক ধরনের ফাঙ্গাস দাবানলের চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিলো পুরো আয়ারল্যান্ডের জমি জুড়ে। এই ছত্রাকটির উপদ্রবে ধ্বংস হয়ে যায় আইরিশদের প্রধান খাদ্য আলুর প্রায় ৮০ শতাংশ জমি।
সে সময় আয়ারল্যান্ডের প্রজা কৃষকেরা গ্রেট ব্রিটেনের উপনিবেশ হিসেবে নিয়ন্ত্রিত হতো এবং তাদের একমাত্র খাদ্যের নির্ভরশীলতা ছিলো আলুর উপর। হঠাৎ এই বিপত্তিতে অসহায় হয়ে পড়ে আইরিশরা। যার প্রভাব পড়ে আয়ারল্যান্ড এবং আইরিশদের উপর। সেসময় আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়। আয়ারল্যান্ডের সেসময় বেশিরভাগ মানুষই ছিলো কৃষক, তারা জমিতে অন্যান্য শাকসবজি চাষের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। একই সাথে ছিলো পশুর প্রাণীর সংকট। আয়ারল্যান্ডে তখন শেয়ালের উৎপাত এতোটাই বেড়ে গিয়েছিল যে শেয়ালগুলোর থেকে হাঁস, মুরগী কিংবা ভেড়া কেউই রক্ষা পেতো না।

সেসময় আইরিশ মানুষরা যেহেতু পুরোপুরি আলুর উপর নির্ভরশীল ছিলো তাই সব মানুষকে অর্ধাহারে বা অনাহারে দিন কাটাতে হয়েছিল। আয়ারল্যান্ডের জমিতে Phytophthora Infestense দীর্ঘ ৭ বছর স্থায়ী ছিলো, এবং ধীরে ধীরে বিদায় নেয়। ১৮৪৫ সাল থেকে ১৮৫২ সাল পর্যন্ত চলা এই দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারায় ১০ লক্ষ আইরিশ, যা সংখ্যায় সেসময়কার আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। আর ঘরবাড়ি হাটায় আরো ১০ লক্ষ মানুষ, সেসব মানুষ শূণ্য হাতে অভিবাসী হয়ে অন্য দেশে পারি জমায়।
কেনো আইরিশদের এমন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের শিকার হতে হয়েছিলো তার জন্য আমাদের কে আরেকটু পেছনে যেতে হবে।
১৮০১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অনুযায়ী আয়ারল্যান্ড গ্রেট ব্রিটেনের উপনিবেশ হিসেবে ছিলো বিংশ শতাব্দীর স্বাধীনতা যুদ্ধের আগ পর্যন্ত৷ ততদিন একত্রে এই রাষ্ট্রের নাম ছিলো ইউনাইটেড কিংডম অব গ্রেট ব্রিটেন এন্ড আয়ারল্যান্ড। তখনকার আয়ারল্যান্ডের যাবতীয় রাষ্ট্রীয় কার্য পরিচালনায় থাকতো ব্রিটেনের জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট।

সে সময় হাউজ অব কমন্সের জন্য আয়ারল্যান্ড পাঠিয়েছিলো প্রায় ১০৫ জন প্রতিনিধি এবং হাউজ অব লর্ডসের জন্য পাঠানো হয়েছিলো ২৮ জন সহকর্মী। কিন্ত এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এতো প্রতিনিধি আইরিশ থাকলেও তাদের জমির মালিক থাকতো ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত পুত্ররা। সে সময়ে পেনাল’ল অনুযায়ী যে সমস্ত আইরিশ জনসংখ্যা ক্যাথলিক চর্চা করতো তারা জমির মালিক হওয়া থেকে শুরু করে ভোট দিতে পারতো না।
১৮২৯ সালে এই পেনাল’ল আইরিশদের মাধ্যমে তীব্রভাবে অপগত ঘোষিত হলো। যার প্রভাব পড়ে আইরিশ সমাজ ব্যবস্থায়৷ সব জমি দখল করতে থাকলো ব্রিটিশ ও অ্যাংলো আইরিশরা।
বেশিরভাগ ক্যাথলিক সমর্থকদের জোড় করে জমির কৃষক প্রজারূপে ন্যস্ত করা হলো এবং জমির মালিকদের জবরদস্তি করে কর প্রদানের জন্য বাধ্য করা হলো। আয়ারল্যান্ড দুর্ভিক্ষের প্রায় ১০০ বছর আগে আয়ারল্যান্ড ভদ্র সমাজে পরিচিত ছিলো তাদের আলু চাষের মাধ্যমে।
অথচ কী নিদারুণ কষ্ট তা সত্ত্বেও এর পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ চাপে শুধুমাত্র এক প্রকারের আলু চাষ করা হতো। ক্রমশ এটি হয়ে উঠলো দরিদ্রের একমাত্র প্রধান খাদ্য, বিশেষত শীতের দিনগুলোতে।

জীবাণুতে আক্রান্ত আলু
Phytophthora Infestense জীবাণুর কারণে যখন আয়ারল্যান্ড ভূমির সবধরণের ফসল ধ্বংস হতে শুরু হলো। আয়ারল্যান্ডের ডাব্লিন শহরের নেতারা ব্রিটিশ কুইন ভিক্টোরিয়া ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সাহায্য প্রার্থনা করলে তারা তৎক্ষণাত তা মঞ্জুর করে এবং শস্য আইন নাকচ করে দেয়।
কিন্তু এই ক্ষতিপূরণ দেয়া সত্ত্বেও আলু ফসলের কোনো ধরণের উন্নতি হয় না। দিনের পর দিন শেষে বাড়তে থাকে প্রত্যেকের খাদ্য চাহিদা আর অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে কমতে থাকে প্রধান খাদ্যের পরিমাণ। কৃষকেরা নিজেদের ফসলের খরচ বহন করার মতো যথেষ্ট পরিমাণ ফসল উৎপাদনে ব্যর্থ হতে থাকে। মাসের শেষে হাজার হাজার মানুষ ক্ষুধার্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করতে থাকে। ক্ষুধার্থের পীড়ায় অসুখে ভুগতে থাকে আরো শ’খানেক।
ফসলের এই রোগ থাকাকালীন সময়েও আইরিশদের বেশ পরিমাণ ফসল দিয়ে দিতে হতো গ্রেট ব্রিটেন অর্থাৎ ব্রিটিশদের।
১৮৫২ সাল পর্যন্ত আলু বীজের জমি জীবাণু থেকে মুক্ত হতে পারছিলো না। পূর্বে বিভিন্ন তথ্যমতে, তখন প্রায় ১ মিলিয়ন নারী পুরুষ সহ শিশু মারা গেছে। আরো ১ মিলিয়ন জনসংখ্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হয়ে দেশ ছেড়েছে।
১৮৪৯ সালে অনেক আইরিশ পরিবার সম্ভাব্য যেকোনো উপায়ে বেঁচে থাকার জন্য ইংল্যান্ডে অভিবাসন শুরু করে। কেউ কেউ বেঁচে থাকার জন্য উত্তর আমেরিকায় পর্যন্ত অভিবাসী হয়েছিল। ইংল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকায় অভিবাসী হতে গিয়ে বিভিন্ন কারণে আরো ৫০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
সংক্ষেপে দেখুনপৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ কে ছিলেন?
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ ছিলেন তারারে। তারারের জন্ম ১৭৭২ সালে ফ্রান্সের লিঁওর একটি ছোট মফস্বল শহরে। তারারে যে সময়টায় জন্মেছিলেন তখন ফরাসি বিদ্রোহ চলছিলো পুরোদমে। তারারে কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে যে কোনো প্রাণী জীবন্ত গিলে ফেলতে পারতো। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি কিশোর বয়সেই প্রতিদিন প্রায়বিস্তারিত পড়ুন
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ ছিলেন তারারে।
তারারের জন্ম ১৭৭২ সালে ফ্রান্সের লিঁওর একটি ছোট মফস্বল শহরে। তারারে যে সময়টায় জন্মেছিলেন তখন ফরাসি বিদ্রোহ চলছিলো পুরোদমে।
তারারে কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে যে কোনো প্রাণী জীবন্ত গিলে ফেলতে পারতো। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি কিশোর বয়সেই প্রতিদিন প্রায় একটি ষাঁড়ের চারভাগের একভাগ খেয়ে ফেলতো তারারে, যা ছিলো প্রায় তার ওজনের সমান। এমন অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত খাবার খেতে পারা মানুষটি বেঁচেছিলেন মাত্র ২৬ বছর।
সার্কাসের দলে যোগদান
তারারের পরিবার ছিলো মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। তাদের পক্ষে তার এই বিশাল পরিমান খাদ্যের যোগান দেওয়া ছিলো অসম্ভব। আর তাই পেটের ক্ষুধার দায়ে ঘর ছাড়েন তারারে। পেটের ক্ষুধার জন্য তিনি রাস্তায় খাবার ভিক্ষা করতে শুরু করেন, কখনওবা ক্ষুধার জ্বালায় ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া মানুষের উৎচিষ্ঠ ও পচা খাবারগুলোই খুঁজে খেতে শুরু করেন। বেশ কিছুকাল এভাবে চলার পর তারারে যোগ দেন একটি সার্কাস পার্টিতে। এই সার্কাস দলটি ছিলো পকেট মারদের। তারা সাধারণ মানুষদের সার্কাস দেখানোর ছলনায় তাদের পকেট মারতো।

বেশ কয়েকদিনের মধ্যেই তারারে সেই সার্কাস দল মানে পকেটমার দলের সকলের চোখের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেন। সে মঞ্চে উঠে যে কোনো কিছু খেয়ে ফেলে সাধারণ দর্শকদের দেখাতো। তারারে পাথর থেকে শুরু করে কর্ক এমনকি সে ১ ডজন আপেলও গিলে ফেলতো নিমিষেই।
বেশ কিছুকাল সার্কাসে এই কাজ করার পর তারারের পরিপাকতন্ত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর তাকে ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানে হয়। তার শরীরের অবস্থার কথা ভেবে ডাক্তার তাকে পরামর্শ দেয় সার্কাসে এই কাজ করা ছেড়ে দিতে। শেষমেশ তারারে সার্কাসের কাজটি ছেড়ে দেয়।
এতো এতো খাবার খাওয়ার পরও তারারের শরীরের ওজন ছিলো খুবই সাধারণ। ১৭ বছরে তার ওজন ছিলো মাত্র ১০০ পাউন্ড (প্রায় ৪৬ কেজি)। তবে তার পুরো শরীরের চামড়া ছিলো ঝুলে পড়া চামড়া। যখন সে খাবার খেতো তখন চামড়াগুলো বেলুনের মতো ফুলে উঠতো। তার মুখখানা ছিলো অস্বাভাবিক রকমের বড়। এক সাথে ১ ডজন ডিম কিংবা আপেল মুখে নিয়ে রাখতে পারতো তারারে।

তারারের শরীর ছিলো খুবই দূর্গন্ধ। তার আশেপাশে দিয়ে গিয়ে হেঁটেও যেতো না। খাবার খাওয়ার পর সেই দুর্গন্ধ বেড়ে যেতো আরো কয়েকগুণ। খাবার খাওয়ার পর তারারের শরীর প্রচন্ড ঘামতে শুরু করতো, আর চোখগুলো হয়ে যেতো রক্তবর্ণ। অনেকের ভাষ্যমতে খাবার খাওয়ার পর তারারের শরীর থেকে বাষ্প বের হতে শুরু করতো। এতো এতো খাবার খাওয়ার পরেও তারারের ওজন কখনো বাড়েনি। এমনকি তাকে কখনে বমিও করতে দেখা যায় নি। তবে ছোটবেলা থেকেই তার ডায়রিয়ার সমস্যা ছিলো।
সেনাবাহিনীতে তারারে
সার্কাসের কাজ ছেড়ে তারারে ফরাসী বিপ্লবী সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তারারের অতিরিক্ত খেতে পারার সুযোগটাই কাজে লাগায় সেনাবাহিনী। তাকে কুরিয়ার হিসে ব্যবহার করা হয়, এজন্য সে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ বা নথিপত্রগুলো গিলে ফেলতো। তবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার পর তারারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠে খাবার। সেনাবাহিনীতে প্রত্যেক সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট পরিমান রেশন বরাদ্দ থাকে। কিন্তু যে পরিমান খাবার তারারে কে দেওয়া হতো তা ছিলো খুবই নগন্য। আর তাই খাবারের জন্য তারারে অন্য সৈনিকদের কাজ করে দিতেন।
পেটের ক্ষুধার জ্বালা নিবারন করতে তারারে ঘাস, টিকটিকি, সাপ কিংবা পোকামাকড় খাওয়া শুরু করেন। তারারের এই ক্ষুধা সমস্যা দেখে ফরাসী আর্মি তার রেশন ৪ গুন করে দিয়েছিলো। তবুও তার ক্ষুধা মেটেনি। তারারে মাঝে মাঝেই খাওয়ার অভাবে মিলিটারি হসপিটালে ভতি হতেন।
মিলিটারি হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলেন ব্যারন পার্সি নামের এক মিলিটারি ডাক্তার। তারারের কর্মকান্ড দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। ব্যারন পার্সি ঠিক করেন, তিনি তারারেকে নিয়ে পরীক্ষা করবেন। আর এজন্য হাসপাতালের ১৫ জন মানুষের রান্না করা খাবার তাকে খেতে দেন।
ডাক্তারের ভাষ্যমতে, প্রায় দুটি ষাঁড়ের মাংস দিয়ে বানানো বড় বড় পাই ও চার গ্যালন দুধ একাই খেয়ে শেষ করেন তিনি। খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়েন তারারে। সেই সময় পার্সি তার বেলুনের মতো ফুলে যাওয়া পাকস্থলির রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেননি।
সেনাবাহিনীর কুরিয়ার তারারে
সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার পরেই তারারের রাইন তীরের ফরাসী আর্মি ক্যাম্পে ডাক পরে তারারের। সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করার জন্য তারা তারারের অতিরিক্ত খেতে পারার ক্ষমতাকে ব্যবহার করার চিন্তা করে। এজন্য সেনাবাহিনীর জেনারেল আলেকজান্দ্রে ডি বিউহার্নাইস একটি নথি কাঠের বাক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে তারারের হাতে দেন এবং তা খেয়ে ফেলতে বলেন। তারা সেই কাঠের বাক্সটি গিলে ফেলেন, এর দুই দিন পর তা তার মূত্রনালী দিয়ে বের হয়ে আসে। বক্সের মধ্যে থাকা নথিটি তখনও পাঠযোগ্য অবস্থায় ছিলো।
আর এইভাবে একজন সামরিক কুরিয়ার হিসাবে কাজ করতে থাকেন তারারে, যেনো শত্রু অঞ্চলের মাধ্যমে নিরাপদে নথিপত্র বহন করতে পারে যাতে তাকে তল্লাশি করা হলে সেগুলি খুঁজে পাওয়া না যায়।
তারারের এই অদ্ভুত ও অসামান্য গুণের জন্য ফরাসি সেনাবাহিনী তাকে পুরষ্কার হিসেবে ষাঁড়ের ১৪ কেজি কাঁচা ফুসফুস দেওয়া হয়। আর তা তৎক্ষনাৎ সবার সামনে খেয়ে ফেলেন
দীর্ঘ ১ বছর তারারে সাফল্যের সাথে কুরিয়ার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছিল। এরপরই একদিন তারারে বর্ডারে প্রুসিয়ান আর্মিদের হাতে ধরা পড়েন। তারারেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন ফরাসি কর্নেলের কাছে একটি বার্তা বহন করার জন্য। তাকে বলা হয়েছিল যে নথিগুলি অত্যন্ত সামরিক তাৎপর্যপূর্ণ, কিন্তু বাস্তবে, ডি বিউহারনাইস শুধুমাত্র একটি নোট লিখেছিলেন কর্নেল নিশ্চিত করুন যে বার্তাটি সফলভাবে গৃহীত হয়েছে, এবং যদি তাই হয়, প্রুশিয়ান সৈন্যদের গতিবিধি সম্পর্কে সম্ভাব্য দরকারী তথ্যের উত্তর দিতে।
তারারে জার্মান কৃষকের ছদ্মবেশে তারারে অন্ধকারের আড়ালে প্রুশিয়ান বডার অতিক্রম করেছিলেন। যেহেতু তারারে জার্মান বলতে পারতেন না। শীঘ্রই সে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহের শিকার হয়। স্থানীয় মানুষজন প্রুশিয়ান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন এবং প্রুসিয়ান সেনাবাহিনী তাকে বন্দী করেন।
প্রুসিয়ান সেনাবাহিনী তার শরীরে তল্লাশি চালিয়েও সন্দেহজনক কিছু পায়নি। কথা বের করার জন্য তারা তারারেকে চাবুক দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। প্রচন্ড মার খেয়েও তারারে কোনো কথা বলেন নি। অনেক মারধর করার পর তাকে তারা একটি ল্যাট্রিনে বেঁধে রেখেছিলো। বেশ কিছুদিন প্রহার করার পর তারারেকে প্রুসিয়ানরা বর্ডারের কাছাকাছি ফেলে রেখে দেয়।
তারারের ক্ষুধা নিরাময়ের চেষ্টা
এই ঘটনার পর তারারে সেনাবাহিনীতে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এরপর তিনি মিলিলিটারি হাসপাতালে ফেরত আসেন। তারারে ডাক্তার পার্সিকে অনুরোধ করেন, তাকে চিকিৎসা করে সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক করে দেওয়ার জন্য। পার্সি এই কাজে আগ্রহী ছিলেন তাই তারারের প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান।
ক্ষুধা কমানোর জন্য ডাক্তার পার্সি তারারে কে প্রথমে ক্ষুধা নিবৃত্তিকারক লুডেনাম খাওয়ান। কিন্তু এতে কাজ না হলে তাকে প্রচুর মদ ও ভিনেগার খাওয়ানো হয়। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় তাকে প্রচুর পরিমানে নরম সেদ্ধ ডিম খাওয়ানো হয় ক্ষুধা কমানোর জন্য। এতো কিছু করার পরেও তার ক্ষুধা নিভৃত করতে ব্যর্থ হন ডাক্তার পার্সি।
তারারে হাসপাতালের বাহিরে লুকিয়ে কসাইদের ফেলে দেওয়া পঁচা মাংস খেতে থাকেন। ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া খাবার খাওয়ার জন্য তিনি কুকুরদের সাথে রিতীমত লড়াই করতেন। এছাড়াও হাসপাতালের বেশ কয়েকজন রুগীর শরীরের রক্ত পান ও করেছিলো তারারে। বেশ কয়েকবার হাসপাতালের মর্গের লাশ খেতে চাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারারে। হাসপাতালের অন্য ডাক্তাররা তাকে মানসিক বিকারগস্ত মনে করছিলো তাই তাকে কোনো পাগলাগারদে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু ডাক্তার পার্সি তারারেকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন, তাই তারারে মিলিটারি হাসপাতালেই ছিলেন।
এর কিছুকাল পরে হাসপাতাল থেকে ১৪ মাস বয়সী একটি শিশু হারিয়ে যায়। হাসপাতালের সকলেই এর পিছনে ধারণা করছিলো তারারে শিশুটিকে খেয়ে ফেলেছে। এই ঘটনার পর ডাক্তার পার্সির পক্ষে তারারেকে বাঁচানো ছিলো অসম্ভব। হাসপাতালের কর্মীরা তারারেকে ধাওয়া করলে সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়, এরপর সে আর কখনো সেই মিলিটারি হাসপাতালে ফেরত আসেনি।
তারারের মৃত্যু
এই ঘটনার ৪ বছর পর ১৭৯৮ সালে ভার্সাই হাসপাতাল থেকে একজন ডাক্তার পার্সির সাথে যোগাযোগ করেন, তিনি ডাক্তার পার্সিকে জানান যে তাদের একজন রোগী তার সাথে দেখা করতে চায়। সেই রোগীটি আর কেউ নয়, সে ছিলো তারারে। তারারে ততোদিনে শরীর ভেঙে দূর্বল হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে বিছানায় পরে আছেন।
ডাক্তার পার্সিকে তারারে বলেন ২ বছর আগে তিনি একটি সোনার কাঁটা চামচ গিলে ফেলে ছিলেন আর তার জন্যই আজকে শরীরের এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারারে আশা করছিলেন পার্সি তাকে এই অবস্থা থেকে নিরাময় করে তুলতে পারে। পার্সি পরীক্ষা করে দেখেন তারারের প্রচন্ড যক্ষ্মা হয়পছে। এর একমাস পর প্রচন্ড যক্ষ্মা আর সেই সাথে ডায়রিয়া হয়ে মৃত্যু হয় তারারের।
তারারের মৃত্যুর পর তারারের শরীরের অটোসপি করতে কোনো সার্জেন রাজি ছিলেন না। কিন্তু সেই হাসপাতালের একজন ডাক্তার টেসিয়ার কৌতুহলী ছিলেন তারারের শরীরে আদৌও কোনে সোনার কাঁটা চামচ আছে কিনা। তাই তিনি তারারের অটোসপি করতে রাজি হন। তারারের শরীর কেটে দেখা যায় তার পেট সাধারণ মানুষের তুলনায় অধিক প্রশস্ত। তারারের পাকস্থলি, খাদ্যনালী, যকৃত ও পিত্তকোষ অস্বাভাবিক রকমের বড়। আলসারে পরিপূর্ণ পাকস্থলীর সাথে পুরো শরীরের ভেতর পুঁজে ভরা ছিলো। তবে অবাক করা বিষয় হলো, তার পেটের ভেতরে থাকা সেই সোনালী কাঁটা চামচটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় ছিলো, তারারের শরীর অন্য সাধারণ মানুষের তুলনায় খুব দ্রুতই পচতে শুরু করেছিলো।
মাত্র ২৬ বছর বয়সেই মৃত্যু হয় এই অদ্ভুত মানুষটির। কেনো তার এতো ক্ষুধা ছিলো সেই রহস্য কেউ ভেদ করতে পারে নি।
সংক্ষেপে দেখুনপৃথিবীতে কত ধরনরে ভাষা রয়েছে?
আদিম যুগে মানুষ যখন শিকার করতো, গুহায় বসবাস করতো তখনো তারা অনুভব করে ভাষার। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে ভাষার প্রচলন হয়েছি আজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ বছর আগে। সময়ের সাথে সাথে ভাষা হয়ে উঠেছে একটি জাতির সংস্কৃতি। যা সবাইকে বেঁধে রাখে এক সুতোয়। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। চলুন জেনে নেই ভাষা সম্পর্কে ১০ টি চমবিস্তারিত পড়ুন
আদিম যুগে মানুষ যখন শিকার করতো, গুহায় বসবাস করতো তখনো তারা অনুভব করে ভাষার। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে ভাষার প্রচলন হয়েছি আজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ বছর আগে। সময়ের সাথে সাথে ভাষা হয়ে উঠেছে একটি জাতির সংস্কৃতি। যা সবাইকে বেঁধে রাখে এক সুতোয়।
আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। চলুন জেনে নেই ভাষা সম্পর্কে ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য।
চাঁটগাঁইয়া ভাষা (চট্টগ্রাম অঞ্চলের) বাংলাদেশের বৃহত্তম আঞ্চলিক ভাষা। বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ চাঁটগাঁইয়া ভাষায় কথা বলে। ২০২০ সালে কানাডাভিত্তিক ওয়েবসাইট ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টে প্রকাশিত বিশ্বের ১০০টি কথ্য ভাষার তালিকায় স্থান পায় চাঁটগাঁইয়া ভাষা। ১ কোটি ৩০ লাখ কথ্য ভাষাভাষী মানুষ নিয়ে পৃথিবীর ৮৮ তম বৃহত্তম ভাষা ও বাংলাদেশে কথ্য ভাষার দিক দিয়ে ১ম বৃহত্তম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। একই তালিকায় বিশ্বে ৯৭তম স্থানে রয়েছে সিলেটি ভাষা, যেটি বাংলাদেশে আঞ্চলিক ভাষার দিক দিয়ে ২য় বৃহত্তম ভাষা।
পুরো পৃথিবী জুড়ে মোট ভাষার সংখ্যা ৩.৫ হাজার। আঞ্চলিক/ উপভাষা সহ সেই সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি।
সবচেয়ে বেশি বর্ণ চীনা (মান্দারিন) ভাষায়। মান্দারিন ভাষার বর্ণ সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। আপনি যদি মান্দারিন ভাষায় কোনো সংবাদপত্র পড়তে চান, তার জন্য কম করে হলেও ২ হাজার বর্ণ জানতে হবে।
বাইবেল পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনুবাদিত গ্রন্থ। পৃথিবী জুড়ে প্রায় ২,৪৫৪ টি ভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়েছে বাইবেলের।লেখক হিসেবে সবচেয়ে বেশি বই অনুবাদ হয়েছে ইংরেজ গোয়েন্দা লেখিকা আগাথা ক্রিস্টির। আনুমানিক ১০০ এর অধিক ভাষায় আগাথা ক্রিস্টির বই অনুবাদিত হয়েছে।
প্রতি ২ সপ্তাহে ১ টি ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পৃথিবী থেকে আনুমানিক ২৩১ টি ভাষা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর পুরো পৃথিবী জুড়ে প্রায় ২৪০০ টি ভাষা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে।
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভাষার দেশ পাপুয়া নিউ গিনি, সেখানে ৮৫০টিরও বেশি ভাষা রয়েছে। এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সেখানে ৬৭০টি ভাষার চল লোকমুখে রয়েছে।
বর্তমানে পৃথিবীতে টিকে থাকা সবচেয়ে প্রাচীন ভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে সংস্কৃত, সুমেরীয়, হিব্রু, গ্রীক ও আরবি। এই সবগুলো ভাষাই ৩.৫-৫ হাজার বছর পুরণো।
একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করলে আপনার স্মার্টনেস বেড়ে যায়। অনেক বিজ্ঞানী একমত যে একাধিক ভাষা শিখলে মস্তিষ্ক বেশি সচল থাকে এবং স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। কিছু কিছু গবেষণার তথ্যমতে কেউ একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করলে তার বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে।
সারা পৃথিবী জুড়ে কেবলমাত্র ২০০ এর মতো ভাষা বই, টেলিভিশন, সংবাদপত্র,সিনেমা কিংবা রেডিওতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পৃথিবীর মোট ৭ হাজার ভাষার মধ্যে ৩ ভাগের ২ ভাগ অর্থাৎ ৪৫০০+ এর বেশি ভাষার সৃষ্টি শুধুমাত্র এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশেই হয়েছে।
কথা বলার জন্য গড়ে সকল দেশের মানুষই আনুমানিক ৫ হাজার শব্দ ব্যবহার করে। কিন্তু গড়ে পৃথিবীর সকল ভাষার শব্দসংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি।
পৃথিবীতে ৭ হাজারের বেশি অধিক ভাষা রয়েছে। শুধু এবং একমাত্র বাংলা ভাষার জন্যই মানুষের প্রাণ দিতে হয়েছে।
সংক্ষেপে দেখুনইতিহাসের কোন ভুলগুলো পরবর্তীতে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে ?
বিখ্যাত আইরিশ সাহিত্যিক জেমস জয়েস এর একটি উক্তি আছে, “ভুল আবিস্কারের দরজা খুলে দেয়।” কথায় বলে মানুষ ভুল করেই মানুষ শেখে। প্রতি সপ্তাহে আমরা কমবেশি সবাই ডজনখানেক ভুল করি, যদিও সেসব ছোটখাটো তুচ্ছ ভুল। আমাদের বেশিরভাগ ভুলই আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করে না। মাত্র কয়েকটি ভুল কদাচিৎ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে ব্বিস্তারিত পড়ুন
কথায় বলে মানুষ ভুল করেই মানুষ শেখে। প্রতি সপ্তাহে আমরা কমবেশি সবাই ডজনখানেক ভুল করি, যদিও সেসব ছোটখাটো তুচ্ছ ভুল। আমাদের বেশিরভাগ ভুলই আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করে না। মাত্র কয়েকটি ভুল কদাচিৎ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইতিহাসেও তেমনি কিছু ভুল ঘটনা ঘটেছে যা পরবর্তীতে পৃথিবীর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আজ তেমনি ৪ টি ভুল আপনাকে জানাচ্ছি।
১. অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেও ডাচরা জানতো না তারা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেছে!
বইপত্রে আপনি হয়তো পড়েছেন ইংরেজ জাহাজ ক্যাপ্টেন জেমস কুক অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেছেন। তথ্যটি আসলে ভুল! জেমস কুক অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করার আরো প্রায় ২ শতাব্দী বছর আগেই ডাচরা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেছে।

১৮০২ সালে ইউরোপীয়দের অস্ট্রেলিয়া ম্যাপ
১৬০৬ সালে ডাল ক্যাপ্টেন উইলেম জ্যান্সজুন তার জাহাজ ডুইফকেনে যাত্রা করেন এবং কেপ ইয়র্ক উপদ্বীপের পশ্চিম দিকে ২০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব অন্বেষণ করেন এবং অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেন। অন্যান্য অনেক ডাচ একই এলাকার পশ্চিম ও দক্ষিণ উপকূল অন্বেষণ করে এবং এই জায়গার নামকরণ করেন নিউ হল্যান্ড। তবে, ডাচরা এই এলাকাটি উপনিবেশ বা সেখানে বসতি স্থাপনের কোন প্রচেষ্টা করেনি। এর ফলে ১৭৭০ সালে ইংরেজ ক্যাপ্টেন কুক তার দাবি দাখিল না করা পর্যন্ত তাদের আবিষ্কার দীর্ঘকাল অজানা ছিল।
২. হ্যাবসবার্গের প্রহসন যুদ্ধ
১৭৮৮ সালে অস্ট্রো-তুর্কি যুদ্ধ শুরু হলে উসমানীয় এবং হ্যাবসবার্গের মধ্যে একটি ভুল-বোঝাবুঝি ঘটনা ঘটে।
আর এই ঘটনাটি অটোমানদের ক্ষমতায় একটি অপ্রত্যাশিত ঊর্ধ্বগতি দেয়। সেই বছরের সেপ্টেম্বরে, অস্ট্রিয়ান হুসাররা তুর্কি পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য একটি নদী পার হয়েছিল। তবে, তারা শত্রু পক্ষ থেকে কাউকে খুঁজে পায়নি; এবং পরিবর্তে কয়েকজন স্থানীয়কে দেখা গেল যারা মদ বিক্রি করছিল।

Image source: Wikimedia Commons
অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় কিনে মাতাল হয়ে পড়ে। নদীর অপর প্রান্তে, অস্ট্রিয়ান কমান্ডার ধৈর্য ধরে ক্যাম্পে তাদের শত্রু সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন।
হুসাররা ফিরে না এলে কমান্ডার কয়েকজন অফিসারকে তাদের খোঁজ করতে পাঠান। সেখানে গিয়ে তারা মাতাল সৈন্যদের আবিষ্কার করে। দেখা যাচ্ছে, অস্ট্রিয় সৈন্যদল মাতাল হয়ে দুটি আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং একে অপরকে তুর্কী শত্রু ভাবতে শুরু করেছে।
একজন আর্টিলারি অফিসার দূর থেকে লড়াইটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন যে তারা তুর্কী সৈন্য; তারা হয়তো অস্ট্রিয়ান ক্যাম্পে আক্রমণের অপেক্ষায় রয়েছে, তাই তিনি তার সৈন্যদের গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে সেই আক্রমণে ১ হাজারেরও বেশি সৈন্যের মৃত্যু হয়।
অবশেষে, যখন অটোমানরা এই স্থানে পৌঁছায়, তখন তারা অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর বেশ কিছু হতাহত দেখতে পায় এবং কোন যুদ্ধ ছাড়াই কারানসেব দখল করে নেয়।
৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়ার আলাস্কা বিক্রি
যখন ক্রিমিয়ান যুদ্ধ শুরু হয়, তুরস্ক, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স তাদের অভিন্ন শত্রু রাশিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। সেই সময়ের পরিস্থিতি রাশিয়ার জন্য ছিল জটিল। দূরত্বের জন্য তারা আর তাদের আলাস্কান অঞ্চলকে সামরিক সমর্থন করতে পারছিল না। সুতরাং, তাদের একমাত্র শক্তিশালী সমর্থন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তখন রাশিয়ার সাহায্যে এসেছিল।

ক্রিমিয়ান যুদ্ধ Image Source: Wikimedia Commons
দুই দেশ তখন সিদ্ধান্ত নেয় যে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলাস্কাকে ‘বেচবে’। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্বজুড়ে সমালোচনা সত্ত্বেও, ১৮৬৭ সালের মার্চ মাসে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, চুক্তি অনুসারে রাশিয়া মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলাস্কা বিক্রি করে।
সেসময় রাশিয়া হয়তো আন্দাজই করতে পারেনি তারা কি ভুলটিই না করেছে। তবে সেই ভুল বুঝতে বেশিদিন লাগে নি রাশিয়ার,১৮৮০ ও ১৮৯০ এর দশকে এই অঞ্চলে সোনার খনি আবিষ্কার করে মার্কিনরা। যা মার্কিন অর্থনীতিতে লক্ষ লক্ষ ডলার এনেছিল এবং আমেরিকান অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলে।
৪. দুর্ঘটনাবশত ল্যাবরেটরিতে আবিষ্কৃত হয়েছিল পৃথিবীর প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন।
সেন্ট মেরিস হাসপাতালের জীবাণুবিদ আলেকজান্ডার ফ্লেমিং গ্রীষ্মের ছুটি কাটিয়ে যখন স্কটল্যান্ডে নিজের কর্মস্থলে ফেরেন, পুরো ল্যাবরেটরি তখন ধুলোভর্তি অবস্থায়। একটু পরিষ্কার করে কাজ শুরু করতে গিয়ে খেয়াল করলেন, তাঁর পেট্রি ডিশে (ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত একধরনের ছোট গোল স্বচ্ছ পাত্র) রাখা স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়াগুলোতে পেনিসিলিয়াম নোটাটাম নামক একধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ হয়েছে।

আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
কৌতূহলী বিজ্ঞানী ফ্লেমিং সংক্রমিত সেই পেট্রি ডিশকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রাখতেই খেয়াল করলেন, পেনিসিলিয়াম নোটাটাম ছত্রাকটি স্ট্যাফাইলোকক্কির স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা তৈরি করছে।
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং আরও কয়েক সপ্তাহ সময় নিয়ে বেশ কিছু পেনিসিলিয়াম ছত্রাক জোগাড় করে পরীক্ষা করে দেখেন, পেনিসিলিয়ামের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যেগুলো শুধু ব্যাকটেরিয়ার স্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই বাধা দেয় না, সংক্রামক অনেক রোগ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে।
পেনিসিলিয়াম ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন আবিষ্কারের পেছনে অবশ্য বিজ্ঞানী ফ্লেমিংয়ের চেয়ে জার্মান বংশোদ্ভূত ইংরেজ প্রাণরসায়নবিদ আর্নেস্ট চেইনের (১৯০৬-৭৯) কৃতিত্ব বেশি। এই বিজ্ঞানী ১৯৩৮ সাল থেকে চেষ্টা চালাতে থাকেন কীভাবে মানুষের শরীরের উপযোগী একটি অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা যায়। চেষ্টার ফল মেলে ১৯৪২ সালের মার্চ মাসে। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের নিউ হ্যাভেন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে থাকা অ্যান মিলারের ওপর সফলভাবে পেনিসিলিন প্রয়োগ করা হয়। বেঁচে যান অ্যান মিলার। আর্নেস্ট চেইনের মতোই অস্ট্রেলীয় জীববিজ্ঞানী হাওয়ার্ড ফ্লোরিও (১৮৯৮-১৯৬৮) পেনিসিলিনের অগ্রগতিতে বিশাল অবদান রেখেছেন। অবদান রেখেছেন বলেই তো ১৯৫৫ সালে এই তিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
সংক্ষেপে দেখুনকোন বিখ্যাত উপন্যাস আমেরিকার ইতিহাস পরিবর্তন করে দিয়েছিলো?
আঙ্কেল টম’স কেবিন কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার করার পর। দলে দলে ইউরোপের শেতাঙ্গরা সেখানে গিয়ে নিজেদের উপনিবেশ গড়ে তোলে। নতুন নতুন উপনিবেশ তৈরির সময় তারা দেখল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চলের মাটি তুলোর চাষের পক্ষে খুব উৎকৃষ্ট। এই তুলোর চাষের অঞ্চলে প্রয়োজন পড়লো অতি অল্প খরচে অধিক শ্রমবিস্তারিত পড়ুন
আঙ্কেল টম’স কেবিন
কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার করার পর। দলে দলে ইউরোপের শেতাঙ্গরা সেখানে গিয়ে নিজেদের উপনিবেশ গড়ে তোলে। নতুন নতুন উপনিবেশ তৈরির সময় তারা দেখল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চলের মাটি তুলোর চাষের পক্ষে খুব উৎকৃষ্ট।
এই তুলোর চাষের অঞ্চলে প্রয়োজন পড়লো অতি অল্প খরচে অধিক শ্রমদানকারী অসংখ্য মানুষের, যারা চিরদিনের মতো কেনা গোলাম হয়ে দৈহিক নিপীড়নের ভয়ে বিনা পারিশ্রমিকে আমৃত্যু শ্রমদান করবে। আর তাই এই ধরনের শ্রমিক শিকার করা হলো আফ্রিকার দুর্বল অসহায় কালো মানুষদের গ্রামকে গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে, আর ওদের খাঁচায় পুরে শেকলে বেঁধে নিজেদের দেশ ও সমাজ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আসা হলো কামান আর বন্দুকের ভয় দেখিয়ে সমুদ্রের পরপারে আমেরিকায়।
আর হয়ে গেলো ওরা আজন্ম ক্রীতদাস। ওদের সন্তান-সন্তুতিদের নিয়ে, আর যারা ওদের শিকার করেছিলো সেসব ক্রীতদাস-ব্যবসায়ীরা ওদের বেচতে লাগলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চলের ওই সব শ্বেতাঙ্গ তুলো-চাষীদের কাছে। যে-সব শ্বেতাঙ্গ ওদের কিনতো, তারা ওদের মৃত্যু ঘটালেও আইনের চোখে অপরাধী হোতো না, কেননা ওরা আইনের বলে সর্বপ্রকার মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এক ধরনের পণ্যসামগ্রী।
লেখিকা হ্যারিয়েট বিচার স্টো ও মার্কিন গৃহযুদ্ধ
হ্যারিয়েটের লেখা আঙ্কেল টমস কেভিল কে মনে করা হয় আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার ভিত্তি স্তম্ভ। বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হওয়ার প্রথম বছরেই বইটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রি হয় প্রায় ৩ লক্ষেরও অধিক কপি আর গ্রেট ব্রিটেনে তার সংখ্যা ১ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। সে সময়ে কোনো বই এতো বিশাল সংখ্যক পরিমাণে বিক্রি ছিলো কেবলই কল্পনা। শুধুমাত্র বাইবেল বিক্রির সংখ্যাই এই উপন্যাসের কাছাকাছি ছিলো।
একজন লেখক যে শুধুমাত্র লেখকই নয় তিনি চাইলে তার কলমের জোড়ে পুরো একটা সমাজ বা রাষ্ট্রের পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন হ্যারিয়েট বিচার স্টো তার পারফেক্ট উদাহরণ।

হ্যারিয়েট বিচার স্টো ১৮৩০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ওয়াইয়োতে থাকতেন। সে সময়ে তার বেশ কিছু মুক্তি পাওয়া কিংবা পালিয়ে আসা ক্রিতদাসদের সাক্ষাৎকার নেন। তার মুখেই জানতে পারেন ক্রীতদাসদের ভয়াবহ জীবনের কথা। হ্যারিয়েট বিচার স্টো সবসময়ই বলেছেন উপন্যাসের আঙ্কেল টমস কোনো নির্দিষ্ট ক্রীতদাসের জীবনের উপর ভিত্তি করে লেখা উপন্যাস নয়।
তবে এই উপন্যাস লেখার ব্যাপারে হ্যারিয়েট আগ্রহী হয়ে উঠেন যখন তিনি জোসিয়া হ্যানসন নামক এক নিগ্রো ক্রীতদাসের লেখা নিজের আত্মজীবনী ‘দ্য লাইফ অব জোসিয়া হ্যানসন’ পড়েন। এই আত্মজীবনীটি প্রকাশিত হয়েছিলো আঙ্কেল টমস কেবিন প্রকাশ হওয়ার ৩ বছর আগে; ১৮৪৯ সালে।
জোসিয়া হ্যানসন তার আত্মজীবনীতে লেখেন আইজ্যাক ম্যারিল্যান্ডে তে রিলে নামের এক ব্যবসায়ীর ৩৭০০ একর জমিতে তিনি তামাক চাষ করতেন। অতিরিক্ত পরিশ্রম ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ১৮৩০ সালে তিনি সেখান থেকে তিনি পালিয়ে কানাডায় চলে যান। তবে একা পালান নি সঙ্গে আরো অনেক ক্রীতদাসদের সাথে নিয়ে পালিয়ে ছিলেন। নিজের ক্রীতদাস জীবনের ভয়ংকর রোমাঞ্চকর স্মৃতিচারণ করেই নিজের আত্মজীবনী লিখে ফেলেন। আর এই বইটি হ্যারিয়েট বিচার স্টো কে আঙ্কেল টমস কেভিন উপন্যাস লেখার রসদ জুগিয়ে ছিলো। সঙ্গে ছিলো বহু বছরে পাওয়া অনেক কৃতদাসদের নেওয়া সাক্ষাৎকার।
১৮৫২ সালে হ্যারিয়েট বিচার স্টো যখন আঙ্কেল টমস কেবিন প্রকাশ করেন, তখন আমেরিকায় ক্রীতদাস প্রথা বাতিল করার কোনো সম্ভাবনাই ছিলো না। খুব দ্রুত বইটি জনপ্রিয় হতে শুরু করায় সাধারণ মানুষজন নতুন করে কৃতদাসদের ব্যাপারে ভাবতে শুরু করে। ফলে মানুষের মধ্যে দাসপ্রথা বিরোধী মনোভাবের সৃষ্টির শুরু হয়। কিন্তু আমেরিকার দক্ষিণের রাজ্যগুলো ছিলো পুরোপুরি দাস নির্ভর ফলে উত্তর ও দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে শুরু হয়ে যায় দ্বন্দ্ব এবং ১৮৬০ এ শুরু হয় যায় ৪ বছরের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।
সংক্ষেপে আঙ্কেল টমস কেবিন উপন্যাসের কাহিনী
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আঙ্কেল টমস মালিক আর্থার শেলভি ফার্মের একজন কৃতদাস। আর্থার শেলভি মানুষ হিসেবে ছিলেন খুবই ভালো। তিনি কৃতদাসদের উপর জুলুম নির্যাতন করতেন না। শেলভি ঋনগ্রস্থ ছিলেন। এতোটাই খারাপ অবস্থা যে ফার্ম বন্ধ করে দিতে হবে। শেলভির স্ত্রী এমিলি শেলভি স্বামীকে পরামর্শ দেন যেনো টাকা জোগান দেওয়ার জন্য তাদের ক্রীতদাস টমকে ও আরেক ক্রীতদাসী এলিজার ছেলে সন্তান হ্যারি কে বিক্রি করে দেন। শেলভির ছেলে জর্জ শেলভি আঙ্কেল টমকে বিক্রি করার বিষয়টি কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারেন নি। সে টমের কোলেপিঠে বড় হয়েছে, টমকে সে খুব ভালোবাসতো। অপরদিকে এলিজা যখন বুঝতে পেরেছে তালের মালিক টাকার অভাবে টমের সঙ্গে তার ছোট ছেলে শিশুকেও বিক্রি করে দিবে তাই ঝুঁকি নিয়ে সেই রাতেই ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
আঙ্কেল টমসকে বিক্রি করে দেওয়া হয় হেলী নামক এক দাস ব্যবসায়ীর কাছে। সেই সাথে হ্যালি গুন্ডাদেরকেও এলিজাকে ও তার ছেলে হ্যারিকে যেনো খুঁজে ধরে নিয়ে আসে। বিক্রির পর শুরু হয় টমের উপর শারিরীক প্রহার। টমকে বিক্রি করার জন্য জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। সেই জাহাজ থেকে ইভা নামের একটি মেয়ে শিশু পানিতে পড়ে প্রায় মরতে বসে। টম নিজের ঝুঁকি নিয়ে লাফ দিয়ে ইভার জীবন বাঁচায়। আর তাই ইভার বাবা ক্লেয়ার টমকে অনেক দাম দিয়ে কিনে নেন। টমের সাথে ইভার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। এতোটাই ভালো বন্ধুত্ব যে ইভা নিজের মা থেকে টমকেই বেশি ভালোবাসতো।

চিত্রশিল্পীর তুলিতে আঙ্কেল টম
২ বছর সুন্দর ও সুখী ভাবেই জীবন কেটে যায় টমের। একসময় অসুস্থ হয়ে ইভা অল্প বয়সেই মারা যায়। মারা যাওয়ার আগে ইভা তার বাবাকে অনুরোধ করে গিয়েছিল যেনো সে আঙ্কেল টমকে কৃতদাস থেকে মুক্তি দিয়ে দেয়। ইভার বাবা টমকে মুক্তি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। এরই মধ্যে ইভার বাবা আততায়ীর হাতে খুন হন।
ইভার মা টমকে একদম পছন্দ করতেন না কারন তার মেয়ে বেঁচে থাকতে তার থেকে টমকেই বেশি ভালোবাসতেন। আর তাই তিনি টমের উপর ক্রুদ্ধ ছিলেন। টমকে তিনি সিমন লেগ্রি নামক এক পাষণ্ড দাস ব্যাবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। সিমন লেগ্রি তাকে নিয়ে যায় লুসিয়ানায় তার তুলোর বাগানে। সিমনের অত্যাচারে ক্রীতদাসেরা মারাও যেতো সেখানে আইন কানুন বলে কিছু ছিলো না। হতো না কোনো অপরাধের বিচার।
সিমন আঙ্কেল টমকে দিয়ে অন্য কৃতদাসদের নির্যাতন করতে চাইলে টম তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে সীমন ক্ষেপে যায় টমের উপর সে প্রহার করতে শুরু করে। টম ছিলো ঈশ্বরে বিশ্বাসী সেটা সিমন একদম পছন্দ করতো না। টম বলতো এই শরীর তোমার তুমি যা কিছু করতে পারো কিন্তু আমার আত্মা আমি কেবল যীশু কে উৎসর্গ করেছি। এসব শুনে সিমন লেগ্রি আরো ক্ষেপে টমকে প্রহার করতো।
এরই মাঝে আঙ্কেল টম ক্যাসি ও ইমেলি নামে দুই ক্রীতদাসও দাসীকে বাগান থেকে পালাতে সাহায্য করেন। আর এটা সীমন কোনোভাবেই সহ্য করতে পারে নি। সে আঙ্কেল টমকে এতোটাই প্রহার শুরু করে যে আঙ্কেল টমস প্রায় মৃত্যু শয্যায় চলে যায়। মৃত্যুর আগে টমের প্রথম মালিকে শেলভির জেলে জর্জের সাথে দেখা হয়। জর্জ টমকে বলে সে তাকে মুক্ত করতে এসেছে। টম জর্জকে বলে যীশু তাকে মুক্তির জন্য ডাকছে। এর কিছুক্ষণ পর টম পরলোকগমন করেন। টমের মৃত্যুতে শোকাহত শেলভি পরিবার তাদের সকল ক্রীতদাসদের মুক্তি ঘোষণা করে। অপর দিকে এলিজা ও তার ছেলে হ্যারিকে নিয়ে নিজের পলাতক কৃতদাস স্বামীর সাথে পালিয়ে কানায় চলে যেতে সক্ষম হন। আর মুক্তি পান ক্রীতদাসের জঘন্যময় জীবন থেকে।
সংক্ষেপে দেখুনকোন প্রথা টিকিয়ে রাখতে পবিত্র বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছিল ?
দ্য স্লেভ বাইবেল, বা ক্রীতদাস বাইবেল হচ্ছে খ্রীস্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের আমেরিকান ক্রীতদাসদের জন্য তৈরিকৃত বাইবেল এর এক নতুন সংস্করণ। মূল বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্ট মিলিয়ে চ্যপ্টার ছিল ১১৮৯ টি, আর স্লেভ বাইবেল এ তার সংখ্যা মাত্র ২৩২ টি। মূল বাইবেল এর একটি বৃহৎ অংশই বাদ দেওবিস্তারিত পড়ুন
দ্য স্লেভ বাইবেল, বা ক্রীতদাস বাইবেল হচ্ছে খ্রীস্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের আমেরিকান ক্রীতদাসদের জন্য তৈরিকৃত বাইবেল এর এক নতুন সংস্করণ। মূল বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্ট মিলিয়ে চ্যপ্টার ছিল ১১৮৯ টি, আর স্লেভ বাইবেল এ তার সংখ্যা মাত্র ২৩২ টি।
মূল বাইবেল এর একটি বৃহৎ অংশই বাদ দেওয়া হয়েছিল স্লেভ বাইবেল বা কৃতদাসের বাইবেলে। বিশেষ করে এমন সকল অধ্যায় বা কাহিনী বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা কৃতদাসদের তাদের দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে। আর এই কাটছাঁট করা নতুন সংস্করণের এই বাইবেল দিয়েই দীর্ঘ ২০০ বছরের অধিক সময় ধরে কৃতদাসদের ক্রীস্টধর্মে দীক্ষা দেওয়া হতো।

আমেরিকায় কৃষ্ণরা
কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার করার পর। দলে দলে ইউরোপের শেতাঙ্গরা সেখানে গিয়ে নিজেদের উপনিবেশ গড়ে তোলে। নতুন নতুন উপনিবেশ তৈরির সময় তারা দেখল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চলের মাটি তুলোর চাষের পক্ষে খুব উৎকৃষ্ট।
এই তুলোর চাষের অঞ্চলে প্রয়োজন পড়লো অতি অল্প খরচে অধিক শ্রমদানকারী অসংখ্য মানুষের, যারা চিরদিনের মতো কেনা গোলাম হয়ে দৈহিক নিপীড়নের ভয়ে বিনা পারিশ্রমিকে আমৃত্যু শ্রমদান করবে। আর তাই এই ধরনের শ্রমিক শিকার করা হলো আফ্রিকার দুর্বল অসহায় কালো মানুষদের গ্রামকে গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে, আর ওদের খাঁচায় পুরে শেকলে বেঁধে নিজেদের দেশ ও সমাজ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আসা হলো কামান আর বন্দুকের ভয় দেখিয়ে সমুদ্রের পরপারে আমেরিকায়।

আর হয়ে গেলো ওরা আজন্ম ক্রীতদাস। ওদের সন্তান-সন্তুতিদের নিয়ে, আর যারা ওদের শিকার করেছিলো সেসব ক্রীতদাস-ব্যবসায়ীরা ওদের বেচতে লাগলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চলের ওই সব শ্বেতাঙ্গ তুলো-চাষীদের কাছে। যে-সব শ্বেতাঙ্গ ওদের কিনতো, তারা ওদের মৃত্যু ঘটালেও আইনের চোখে অপরাধী হোতো না, কেননা ওরা আইনের বলে সর্বপ্রকার মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এক ধরনের পণ্যসামগ্রী।
সে সময়টায় যেহেতু খ্রীস্ট ধর্মের প্রচার চলছিলো তাই এই শ্বেতাঙ্গ মালিকরা তাদের কৃষ্ণাঙ্গ দাসদেরকেও খ্রীস্ট ধর্মে দীক্ষিত করার সিদ্ধান্ত নিলো। তৎকালীন সময়ের আমেরিকায় ‘সোসাইটি ফর দি কনভার্সন এন্ড রিলিজিয়াস ইন্সট্রাকশন অব নিগ্রো স্লেভস ইন দ্য ব্রিটিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ নামে একটি ব্রিটিশ মিশনারী সংস্থা ছিল। আর তারাই এই সদ্য খ্রিস্টধর্ম গ্রহন করা কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য এই নতুন ধরনের বাইবেল তৈরি করেছিলেন।
যেসব অংশ বাদ দেওয়া হয়েছিলো
১. ঐশ্বরিক নেতৃত্বে স্বাধীনতা
এক্সোডাসের এই অংশটিতে মূলত মিশরে ইসরায়েলাইটদের অবরুদ্ধ দশা এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুত ভূমিতে তাদের মুক্তির কথা বলা আছে। ক্রীতদাস প্রথার শিকার হওয়া আফ্রিকানরা যে বাইবেলের এই অংশটির প্রতি আকৃষ্ট হতেন, তার ঐতিহাসিক কারণ ছিল। কারণ এই ইজরায়েলাইটদের সঙ্গে তারা নিজেদের অনেক মিল দেখতে পেতেন।
কারণ তারাও তো অন্য একটি দেশে বন্দী অবস্থায় ছিলেন। তারাও মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। তারা ভাবতেন, আমরা যদি ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রাখি, আমরাও একদিন মুক্তি পাব। ঈশ্বর আমাদের মুক্তি দেবেন। কাজেই এই কাহিনী তাদের নিজেদের কাহিনির সঙ্গে খুবই মিলে যায়। দাস প্রথার শিকার এই আফ্রিকানদের মধ্য থেকে যে আধ্যাত্মিক নেতারা তৈরি হবেন, তাদের অনেকেই কিন্তু এ থেকে অনুপ্রেরণা নেবেন।
২. দ্য স্টোরি অব জোসেফ
এর পরের অনুপ্রেরণা গল্পটি জোসেফ এর (ইসলাম ধর্মে তাকে ডাকা হয় ইউসুফ নবী নামে)। জোসেফ এর এই গল্প জেনেসিস ৩৭ থেকে ৫০ পর্যন্ত। যেখানে রয়েছে পারিবারিক প্রতারণা, বিভিন্ন পরীক্ষা ও সবশেষে চূড়ান্ত বিজয়।
জোসেফ কে তার ভাইরা হিংসে করে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়। সেই ক্রীতদাস থেকে জোসেফ একসময় হয়ে উঠেন মিশরের ফেরাউন এর পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি।
এই গল্পটি কৃতদাসদের মধ্যে আশার আলোর সঞ্চালন করতে পারে ভেবে কৃতদাস বাইবেলে এই গল্পের পুরোটাই বাদ দেওয়া হয়।
৩. হামুরাবির কোড
বাইবেল এর ওল্ড টেস্টামেন্টে হামুরাবির কোডেরও উল্লেখ আছে। হামুবারি কোড হচ্ছে প্রাচীন ব্যাবিলনের প্রাচীনতম আইন এর মধ্যে একটি। এই আইনের একটি অংশ বাইবেল এর মধ্যেও ছিল। এই আইন ধারা সেসময় সমাজে ন্যায়বিচার করা হতো ধনী, গরীর কিংবা দাস নির্বিশেষে।
আইনের এই অংশটি দাসদের নাগরিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের ধারণা দিতে পারে। এমনকি সম্ভাব্য ভিন্নমত এবং অস্থিরতার বীজ বপন করতে পারে। আর তাই এই অংশটিও ক্রীতদাস বাইবেল থেকে বাদ দেওয়া হয়।
৪. সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য ঈশ্বরের দূত বা নবীদের বিচার
বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে, আমোস, ইশাইয়া এবং জেরেমিয়ার মতো নবীরা সামাজিক ন্যায়বিচারের অটল ছিলেন। তারা বারবার সামাজিক বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।
আমোসের এই শক্তিশালী উদ্ধৃতি এবং অন্যান্য নবীদের অনুরূপ শিক্ষাগুলি বিদ্রোহের জন্য অনুঘটক হিসাবে কাজ করতে পারে। আর তাই এই অংশগুলোকে বাদ দিয়ে ক্রীতদাসেরর বাইবেল সংকলকেরা ক্রীতদাসদের সামাজিক নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করার কোনও চিন্তাভাবনাকে প্রশমিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
৫. ড্যানিয়েলের গল্প
ক্রীতদাসের বাইবেল থেকে আরো একটি শক্তিশালী ও অনুপ্রেরণা গল্প বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেটি প্রোফেট ড্যানিয়েল এর গল্প। প্রোফেট ড্যানিয়েল ছিলেন, ব্যাবিলনের রাজার দরবারে সেবারত একজন ইহুদি, ঈশ্বরের প্রতি তার বিশ্বাস বজায় রাখতে রাজার প্রতি প্রার্থনা করার আদেশ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আর সেই অপরাদে রাজা তাকে একটি সিংহের খাঁচায় নিক্ষেপ করেন, আর সেখান থেকে দানিয়েল সুস্থভাবে বেরিয়ে আসেন।
এই ঘটনাকে গুলো ক্রীতদাসদের মনে আশার আলো ও বিদ্রোহের স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি করতে পারে তাই এই গল্পগুলোও স্লেভ বাইবেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
১৮ শতকের মাঝামাঝিতে ক্রীতদাস প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী খ্রিস্টান মিশনারী ও বুর্জোয়া শ্রেণীর মানুষেরা এই নতুন সংস্করণের বাইবেল কে নিপীড়ন এর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
সংক্ষেপে দেখুনরক্ত সম্পর্কে ১০ টি চমৎকার তথ্য জানেন কি ?
রক্ত হল মানুষের এবং উচ্চশ্রেণীর মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের এক প্রকার তরল সংবহনতন্ত্র যা কোষে প্রয়োজনীয় পদার্থ যেমন পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকীয় বর্জ্যপদার্থ গুলোকে একই কোষ থেকে দূরীভূত করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আজকের এই আর্টিকেলে থাকছে রক্ত সম্পর্কে ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য; যা হয়বিস্তারিত পড়ুন
রক্ত হল মানুষের এবং উচ্চশ্রেণীর মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের এক প্রকার তরল সংবহনতন্ত্র যা কোষে প্রয়োজনীয় পদার্থ যেমন পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকীয় বর্জ্যপদার্থ গুলোকে একই কোষ থেকে দূরীভূত করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
আজকের এই আর্টিকেলে থাকছে রক্ত সম্পর্কে ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য; যা হয়তো আপনি আগে কখনোই শোনেন নি!
১. মানব দেহে ১ গ্যালন রক্ত থাকে
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে সাধারণত ১.২ থেকে ১.৫ গ্যালন পর্যন্ত রক্ত থাকতে পারে (লিটারে তা ৫ থেকে ৬ লিটার) তবে বেশ কিছু কারণের উপর ভিত্তি করে রক্তের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গর্ভবতী মহিলাদের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বেশি রক্ত থাকতে পারে পারে। আর একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরের ওজনের প্রায় ১০% রক্ত তৈরি করে।
২. গর্ভাবস্থার জন্য শ্বেত রক্তকণিকা অপরিহার্য
আমরা সবাই জানি যে শ্বেত রক্তকণিকা অপরিহার্য। একজন মহিলার গর্ভধারণের জন্য ম্যাক্রোফেজ নামক বিশেষ শ্বেত রক্তকণিকা প্রয়োজন হয়।

ম্যাক্রোফেজগুলি প্রজনন সিস্টেমের টিস্যুতে পাওয়া যায়। তারা ডিম্বাশয়ে রক্তনালী নেটওয়ার্ক গঠনে সাহায্য করে। এই রক্তনালীগুলি প্রোজেস্টেরন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। জরায়ুতে ভ্রূণ রোপনের জন্য প্রজেস্টেরন প্রয়োজন।
৩. আপনার রক্তে সোনা আছে!
ঠিকই শুনছেন। মানব দেহের রক্তে বিভিন্ন ধাতু রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে আয়রন, ক্রোমিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা, তামা এবং সীসা। এর সাথে রয়েছে সামান্য পরিমাণে সোনা। সোনার পরিমান বেশি নয়! একজন ৭০ কিলোগ্রাম ওজনের মানুষের শরীরে ০.২ মিলিগ্রাম সোনা থাকতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানিদের মতে এই অল্প পরিমাণ সোনা আমাদের শরীরের জয়েন্টগুলির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৪. মশাদের পছন্দ O গ্রুপের রক্ত
মশারা আমাদের রক্তের গ্রাণ নিতে পারে। বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে মশারা O গ্রুপের ব্লাড গ্রুপ কে মশারা অন্যান্য গ্রুপের ব্লাড গ্রুপের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি পছন্দ করে।

যাইহোক, এখানে আরও কিছু অতিরিক্ত কারণ জড়িত থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শরীরের গন্ধ মশাকে আকর্ষণ করা ও একটি অপরিহার্য কারণ।
৫. রক্তকণিকা স্টেম সেল থেকে আসে
মানুষের শরীরের সমস্ত রক্তকণিকা হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল থেকে জন্ম নেয়।
আর সমগ্র শরীরের রক্ত কণিকাগুলির প্রায় ৯৫ শতাংশ অস্থি মজ্জাতে তৈরি হয়।
অস্থি মজ্জা সাধারণত স্তনের হাড় এবং মেরুদণ্ড এবং শ্রোণী অঞ্চলের হাড়ের মধ্যে ঘনীভূত হয়। আরও বেশ কিছু অঙ্গ শরীরে রক্ত কণিকা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
৬. রক্ত কণিকার ভিন্ন জীবনকাল
দেহের পরিপক্ক রক্তকণিকার প্রতিটিরই বিভিন্ন জীবন চক্র থাকে। যেমন লোহিত রক্ত কণিকার জীবন শরীরে চার মাস স্থায়ী থাকে। অণুচক্রিকা মাত্র নয় দিন বাঁচতে সক্ষম। আর শ্বেত রক্তকণিকা কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন বেঁচে থাকতে পারে।
৭. রক্তের প্রোটিন কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে
কার্বন মনোক্সাইড বর্ণহীন এবং বিষাক্ত। এটি জ্বালানী-বার্নিং ডিভাইস সহ সেলুলার প্রক্রিয়াগুলির একটি উপ-পণ্য হিসাবে উৎপাদিত হয়।
স্বাভাবিক কোষের কার্যকারিতা দ্বারা উৎপাদিত কার্বন মনোক্সাইড কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার তুলনায় অনেক কম। কার্বন মনোক্সাইডের সাহায্যে অক্সিজেন থেরাপি ব্যবহার করা হয়।
মানুষ যখন কার্বন মনোক্সাইড শ্বাস নেয়, তখন এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের সাথে আবদ্ধ হয়, যা সারা শরীরে অক্সিজেন সঞ্চালনের জন্য দায়ী।
৮. শ্বেত রক্তকণিকা আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষায় সবার প্রথমে থাকে
শ্বেত রক্তকণিকা আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। এই রক্তকণিকা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য সম্ভাব্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
শ্বেত রক্তকণিকা ক্যান্সার কোষ এবং অন্যান্য অবাঞ্ছিত উপাদান যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
৯. রক্তচাপের পিছনে বিজ্ঞান।
রক্তনালীর দেয়ালে রক্তের চাপকে রক্তচাপ বলে। উচ্চ রক্তচাপ একটি স্ট্রোক এবং একটি সম্ভাব্য কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের বর্ধিত ঝুঁকি নির্দেশ করে।
সাধারণ রক্তচাপ ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়। যাইহোক, গড় রক্তচাপ সাধারণত 112/64 mmHg হয়।
১০. সকল প্রাণীর লাল রক্ত নয়!
হিমোগ্লোবিনের আয়রনের কারণে মানুষ এবং অন্যান্য প্রজাতির রক্ত লাল থাকে। যাইহোক, এটি প্রতিটি প্রজাতির জন্য সত্য নয়।
মাকড়সা এবং অন্যান্য আর্থ্রোপডদের নীল রক্ত থাকে। তাদের রক্তে উপস্থিত তামা-ভিত্তিক হেমোসায়ানিনের কারণে নীল রঙ হয়। আর ওসিলেটেড আইসফিশের রক্তের কোনো বর্ণই নেই।

সংক্ষেপে দেখুনকাক, কবুতর, বেড়াল সিআইএ এজেন্ট জানেন কি?
সুউচ্চ বিলাসবহুল ভবনের এক এপার্টমেন্টে কয়েকজন ব্যক্তি বসে আছে। তারা এখানে একটি গোপন মিটিং করছে। মিটিংয়ের বিষয়বস্তু খুবই স্পর্শকাতর। আর তাই গোপনীয়তা রাখতে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মিটিং এর আগে ভালো করে সার্চ করে দেখা হলো কোনো গোপন ডিভাইস বা সন্দেহজন কিছুর উপস্তিতি আছে কিনা! সবদিক নিশ্চিত হবিস্তারিত পড়ুন
সুউচ্চ বিলাসবহুল ভবনের এক এপার্টমেন্টে কয়েকজন ব্যক্তি বসে আছে। তারা এখানে একটি গোপন মিটিং করছে। মিটিংয়ের বিষয়বস্তু খুবই স্পর্শকাতর। আর তাই গোপনীয়তা রাখতে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মিটিং এর আগে ভালো করে সার্চ করে দেখা হলো কোনো গোপন ডিভাইস বা সন্দেহজন কিছুর উপস্তিতি আছে কিনা!
সবদিক নিশ্চিত হয়েই এরপরে বৈঠকে বসেছেন মিটিংয়ের সেই লোকগুলো। মিটিং এর শলাপরামর্শ যখন একেবারে তুঙ্গে তখন সেই বিশাল ভবনে তাদের ডেই কক্ষের জানালায় উপস্থিত হলো একটি কাক। কাককটা কেমন যেনো গম্ভীর হয়ে বসে আসে। মিটিংয়ে বসা কয়েকজন ব্যক্তি নজর করে দেখলেন কাকটা যেনো ঝিমাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই শেষ হয়ে গেলো মিটিং। কাকটাও মিটিং এর একপর্যায়ে উড়ে চলে গেলো। এর কিছুদিন বাদেই সেই মিটিংয়ের খবর গণমাধ্যম ফাঁস হয়ে গেলো। কিন্তু কিভাবে ফাঁস হলো সব তথ্য! মিটিংয়ে তো কেউ কোনো ডিভাইস খুঁজে পায় নি। তথ্য পাচার করার মতো কোনো লোকও রুমে উপস্থিত ছিলো না। বলার মতো কেবল সেসময় রুমের জানালার পাশে একটা কাক এসে বসেছিল। তাহলে কি সেই কাকটাই এই বিশাল কান্ড ঘটিয়েছে!
কাক দিয়ে গোয়েন্দার কাজ করার খবর প্রথম পাওয়া যায় নর্স মিথলজির দেবতা ওডিনের মধ্যে। এই পৌরাণিক কাহিনি থেকেই ১প৬০ এর দশকে আমেরিকার সিআইএ এর মধ্যে এই আইডিয়া এসেছিলো। আমরাও তো কাক কে স্পাই হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। দুই দেশের মধ্যে তখন একজন থেকে আরেকজনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। সেটা রাজনৈতিক, সামরিক, প্রযুক্তিগত থেক খেলাধুলাতেও একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার যুদ্ধ।
আর এর জন্যে যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে, তা যতই উদ্ভট হোক না কেন। ফলে কে কাকে টেক্কা দিবে – এই প্রশ্নে যখন কাকের আবির্ভাব ঘটলো, তখন সেটাকে লুফে নেয়া হলো। সিআইএ এর আগে অবশ্য ‘একোস্টিক বিড়াল’ নিয়েও কাজ চালিয়েছিলো। বিড়ালের শরীরে লিসেনিং ডিভাইস বসিয়ে সেটাকে পর্যাপ্ত ট্রেনিং দিয়ে ছেড়ে দেয়া, যাতে কোনো গোপন মিটিংস্থলে গিয়ে বসে চুপচাপ জিভ দিয়ে নিজের পা চাটতে চাটতে সবার কথা শুনে যেতে পারে।

যাই হোক, সিআইএর পক্ষ থেকে ডাকা হলো হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির দুই অ্যানিমেল সাইকোলজিস্টকে – বি এফ স্কিনার এবং বব বেইলি। দুইজনেই এনিমেল বিহেভিয়ারিস্ট। এর মধ্যে স্কিনারের এই লাইনে ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ‘পিজন মিসাইল’ প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে ছিলেন!
তিনি এমন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছিলেন, যেটায় কবুতরেরা একটা মিসাইলকে উড়িয়ে নিয়ে যায় লক্ষ্যবস্তু বরাবর। সাধারণ মিসাইলে যেকোনো কারণেই সিগন্যাল জ্যামিং ঘটতে পারে। কিন্তু ‘কবুতর ক্ষেপণাস্ত্র’-তে এই সমস্যা নেই। কবুতরেরা মিসাইলের ভিতরে খোপের মধ্যে বসে স্ক্রিনে ঠোঁট ঠুকে ঠুকে একটা পয়েন্টারকে (যেটা মূলত মিসাইলের লক্ষ্যবস্তু) কেন্দ্রে রাখার চেষ্টা করে। বিনিময়ে তাদের শস্যদানা খেতে দেয়া হয়। ঐ ক’টা দানার লোভেই “শান্তির প্রতীক” নামধারী কবুতরেরা এমন ভয়াবহ ক্যারিয়ার বাছাই করেছিলো (বা তাদের বাধ্য করা হয়েছিলো বাছাই করতে)। তবে এই প্রজেক্ট বেশিদূর আগানো যায়নি। কারণ ট্রেনিং প্রাপ্ত কবুতরেরা মারা যেতো। আর প্রতিটা মিসাইলের জন্যে এতো বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কবুতর যোগান দেয়াও সম্ভব ছিলো না।
সে যাই হোক, ২য় বিশ্বযুদ্ধের কবুতরদের ছেড়ে ফিরে আসি স্নায়ু যুদ্ধকালীন কাকদের কথায়। এই দুই বিশেষজ্ঞ মিলে কাকদের ট্রেনিং দিলেন। তাদের শেখালেন – কী করে একটা লিসেনিং ডিভাইস বহন করে সেটা কোনো রুমের জানালার চিপায় রেখে আসতে হয়, কী করে জানালার শার্সিতে একটা বিশেষ ধরণের ক্যামেরা ঠোকর মেরে সেটাতে রুমের ভিতরের পরিষ্কার ফটো খিঁচতে হয় ইত্যাদি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে স্পাই হিসেবে ব্যবহার করা হতো কবুতরকে
এই সব কাককে এছাড়াও শিখানো হয়েছিলো কী করে শত্রুপক্ষ কোথাও ওঁত পেতে বসে থাকলে সেটার তথ্য পৌঁছাতে হয়। ধরা যাক শত্রুপক্ষের কোনো স্নাইপার ঝোপের ভিতরে বসে আছে। স্পাই কাকটা একটা ডিভাইস বহন করে নিয়ে উড়তে থাকলো। উড়তে উড়তে সে দেখলো একটা মানুষ ঝোপের ভিতরে বসে আছে। কাকটা তার প্রশিক্ষণ অনুযায়ী উড়ে গিয়ে বসে পড়লো সেই ঝোপের পাশের কোনো গাছের মগডালে। কাকটা যতক্ষণ উড়ছিলো, ততক্ষণ তার অবস্থান রাডারে সিগন্যাল হিসাবে ভেসে আসছিলো। সে বসে পড়তেই সিগন্যাল বন্ধ হয়ে গেলো, আর শত্রুর অবস্থান মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেলো।
১৯৭০-এর দশকে এই প্রজেক্টটা বন্ধ করে দেয়া হয়। মনে হয় কাক নিয়ে সিআইএর সব ফ্যান্টাসি উড়ে গিয়েছিলো ঐসময়। তবে বব বেইলি দাবী করেন বেশ কয়বার নাকি স্পাই কাক ব্যবহার করা হয়েছিলো বিভিন্ন গোপন মিশনে।
বেইলির মতে, কবুতরেরা আসলে তেমন চালাক নয়। পেঁচারাও তেমন স্মার্ট নয়। বিভিন্ন জনপ্রিয় সাহিত্যে পেঁচাদের জ্ঞানী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তারা জ্ঞানী কিনা জানা নেই, তবে তারা চালাক-চতুর নয়। কিন্তু কাক হচ্ছে পক্ষীকুলের মধ্যে প্রতিভাধর এক প্রজাতি। তারা ভীষণ ধূর্ত।
সংক্ষেপে দেখুনএর সাথে আছে তাদের বেসিক কিছু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দক্ষতা, যেটা ঐ প্রোগ্রামে বেশ প্রয়োজন ছিলো।
ভয়নিচ পান্ডুলিপি কি? কেন এর রহস্য ভেদ করা যায়নি ?
এটি একটি অজানা ভাষায় হাতে লেখা চিত্রিত ভলিয়মের পান্ডুলিপি। ১৫ শতকের শুরুতে এটি লেখা হয়েছিল এবং এটির নামকরণ করা হয় আলফ্রেড ভয়নিচের নামানুসারে। তিনি মূলত ১৯১২ সালে বইটি ক্রয় করেছিলেন। এটি অসংখ্য বার পড়া হয়েছে কিন্তু এর কোড কেউ ভেদ করতে পারেনি। পান্ডুলিপি টি ৬টি বিভাগে বিভক্ত। হারবাল, জ্যোতির্বিদ্যা,বিস্তারিত পড়ুন
এটি একটি অজানা ভাষায় হাতে লেখা চিত্রিত ভলিয়মের পান্ডুলিপি। ১৫ শতকের শুরুতে এটি লেখা হয়েছিল এবং এটির নামকরণ করা হয় আলফ্রেড ভয়নিচের নামানুসারে। তিনি মূলত ১৯১২ সালে বইটি ক্রয় করেছিলেন। এটি অসংখ্য বার পড়া হয়েছে কিন্তু এর কোড কেউ ভেদ করতে পারেনি। পান্ডুলিপি টি ৬টি বিভাগে বিভক্ত। হারবাল, জ্যোতির্বিদ্যা, জৈবিক, মহাজাগতিক, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং রেসিপি।
কিছু পাতা হারানো গেলেও, এর বর্তমান সংস্করণে প্রায় ২৩৪টি পাতা রয়েছে যার অধিকাংশই চিত্রালংকরণের সাথে গঠিত। পান্ডুলিপিটির অনেক বর্ণনাতে সে সময়ের ভেষজ পান্ডুলিপি, গাছপালার চিত্রালংকরণ এবং তাদের সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে – আঁকা উদ্ভিদের অনেকগুলোই কোনো পরিচিত প্রজাতির অনুরূপ না। তারা যৌগিক বলে মনে হয়। কেউ কেউ এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন যে, এটি একটি ফাঁকি কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন এটি খুব জটিল এবং অত্যাধুনিক। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এটি একটি মেডিক্যাল ভলিউম যা এখনো রহস্যের আধার।
বাধ্য হয়ে পকেট থেকে আরো কয়েকটা মুদ্রা বের করে টেবিলের উপর রাখলেন উইলফ্রিড ভয়নিচ। বইটি তিনি হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না। দোকানি মুদ্রাগুলো পরীক্ষা করে বইখানা ভয়নিচের হাতে দিয়ে দিলেন। সেটি নিজের ব্যাগের ভেতর ভরে বাসার দিকে রওয়ানা দিলেন ভয়নিচ।
ব্যবসার জন্য বই কিনতে বের হয়ে প্রথম তার চোখে পড়ে এই অদ্ভুত হাতে লেখা বইটি। হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ পরখ করে দেখার পরেই কৌতূহলী হয়ে ওঠেন তিনি। কারণ তিনি বইয়ের লেখা কিছুই পড়তে পারছেন না। ভয়নিচ নিজে অনেক ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু এরকম বর্ণমালা এর আগে কখনো দেখেননি। তাই দেরি না করে কিনেই ফেললেন বইটি।
বাসায় এসে বইটি নেড়েচেড়ে দেখছিলেন তিনি। হঠাৎ বইয়ের ভেতর থেকে একটি খাম মাটিতে পড়ে গেল। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেন ভয়নিচ। বইয়ের ভেতর এই চিঠিটা আবার কার?
একদিকে অচেনা বর্ণমালার গোলকধাঁধা, অপরদিকে খামে ভরা একটি রহস্যময় চিঠি। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য ভয়নিচ পাণ্ডুলিপির গল্পের শুরুটা ঠিক এখান থেকেই।
১৯২১ সালে বই বিক্রেতা উইলফ্রিড ভয়নিচ কর্তৃক পাণ্ডুলিপিগুলো জনসম্মুখে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এটি গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসে। শুরু হয় এর পাঠোদ্ধারের কাজ। অথচ আবিষ্কারের প্রায় ৮০ বছরের কাছাকাছি এসেও এর পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি কেউ। কেউই পড়তে পারেননি ভয়নিচের বিস্ময়কর বইটি। আমাদের আজকের আলোচনা সেই বিখ্যাত ভয়নিচ পাণ্ডুলিপিকে ঘিরে।
ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি কী?
ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে একটি। এটি মধ্যযুগে লেখা একটি বই। কিন্তু অন্যান্য বই থেকে একে আলাদা করেছে এর লেখার ধরন এবং বর্ণমালার দুর্বোধ্যতা। বইটির অনুসন্ধানদাতা উইলফ্রিড ভয়নিচের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় Voynich Manushcript বা ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি হিসেবে।
উইলফ্রিড ভয়নিচ
চামড়া দ্বারা বাঁধাইকৃত বইটির সর্বমোট পৃষ্ঠার সংখ্যা প্রায় ২৩৪। গবেষকদের মতে কিছু পৃষ্ঠা আবিষ্কৃত হওয়ার পূর্বে হারিয়ে গেছে। বইটি লেখা হয়েছে অদ্ভুত বর্ণমালার সাহায্যে। ইতিহাস ঘেঁটে এরূপ কোনো বর্ণমালার অস্তিত্ব বের করতে ব্যর্থ হন ইতিহাসবিদরা। আধুনিক কম্পিউটারের সাহায্যে পরীক্ষা চালানোর পরেও এর বর্ণমালার রহস্যের সমাধান করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আর সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হচ্ছে, পাণ্ডুলিপির বর্ণমালায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার ধরনের বর্ণের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়াও লিখিত বর্ণনার সাথে বিভিন্ন হাতে আঁকা ছবির সংযোজন বইটিকে আরো রহস্যময় করে তুলেছে।
আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বইটি থেকে আলাদা ৪টি পৃষ্ঠা নিয়ে কার্বন ডেটিং করা হয়। কার্বন ডেটিং এর ফলাফল অনুযায়ী বইটি সম্ভবত ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের সময় লেখা হয়েছিলো। বইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন কালির মধ্যে বড় রকমের কোনো পার্থক্য নেই। অন্যান্য বইয়ের মতো এর শুরুতে লেখকের নাম-স্বাক্ষর নেই। তাই সুনির্দিষ্টভাবে এর লেখকের নাম জানা যায়নি।
ক্রয় করার প্রায় ৯ বছর পর ভয়নিচ বইটি College of Physicians of Philadelphia-এর একটি সভাতে প্রদর্শন করেন। এরপর থেকে একে নিয়ে শুরু হয় গবেষণা। বের হতে থাকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
রহস্যময় চিঠি এবং পাণ্ডুলিপির ইতিহাস
উইলফ্রিড ভয়নিচ বইটি ক্রয় করার পর এর ভেতরে একটি চিঠিসহ একটি খামের সন্ধান পান। খামের উপর প্রেরক প্রাপকের ঘরে নাম ঠিকানা লেখা ছিল। বইসহ চিঠিটি ১৬৬৫ সালে বিজ্ঞানী জোয়ানাস মার্কাস মার্সি সুদূর ইতালিতে তার বন্ধু আথানাসিয়াস কার্চারকে প্রেরণ করেন। চিঠিতে তিনি এই বইয়ের অর্থ বের করে দেওয়ার জন্য আথানাসিয়াসকে অনুরোধ করেন। চিঠি অনুযায়ী বইটি হাবসবার্গের রাজা দ্বিতীয় রুডলফের মালিকানাধীন ছিল। পরবর্তীকালে বইয়ের ভেতর রাজা দ্বিতীয় রুডলফের এক সভাসদের স্বাক্ষর পাওয়া গেলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হয়।
এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, বিজ্ঞানী জোয়ানাস কীভাবে বইটি পেয়েছিলেন? এর প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে থাকা গবেষকরা বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমর্থিত ব্যাখ্যাটি তুলে ধরা হলো।
ছবি এবং বর্ণমালার সংযোজন পাণ্ডুলিপিটিকে রহস্যময় করে তুলেছে
ইতিহাস থেকে জানা যায় রাজা দ্বিতীয় রুডলফের শাসনকাল ছিল ১৫৭৬ সাল থেকে ১৬১১ সাল পর্যন্ত। কিন্তু বইয়ের উৎপত্তি আরো ২০০ বছর আগে। এর মানে রুডলফ ঠিক বইটির প্রথম মালিক নন। জোয়ানাসের চিঠি অনুযায়ী তিনি বইটি ৬০০ ডুকাটের মাধ্যমে ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু উৎপত্তি থেকে রুডলফের সভা পর্যন্ত প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসের কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি গবেষকরা। সম্ভবত জন ডি নামক এক ব্যক্তি বইটি রাজার দরবারে প্রদর্শন করেছিলেন।
তারপর বইটির মালিকানা বদল হয়। কিন্তু পরবর্তী মালিকের কোনো পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। সম্ভবত রুডলফের কোনো সভাসদ তার পতনের পর বইটি নিজের সংগ্রহে রেখেছিলেন। কিন্তু এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
রাজা দ্বিতীয় রুডলফ
এরপর বইটি স্থান পায় জর্জ বারেশের লাইব্রেরিতে। পাগলাটে রসায়নবিদ বারেশ কীভাবে বইটি সংগ্রহ করেন তা কেউ জানে না। বারেশ বইটির রহস্যভেদের জন্য অনেক গবেষণা করেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন।
তিনি তখন আথানাসিয়াস কার্চারের নাম জানতে পারেন। কার্চার হায়ারোগ্লিফিক লিপি নিয়ে কাজ করতেন। কিছু দুর্বোধ্য হায়ারোগ্লিফিক লিপির পাঠোদ্ধার করে তিনি তখন বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। বারেশ বইটির কিছু অংশ কার্চারকে প্রেরণ করেন। কিন্তু কার্চার বারেশকে কোনো সমাধান দিতে পারেননি।
বারেশের মৃত্যুর পর বইটি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোয়ানাস মার্সির মালিকানায় চলে আসে। বারেশের উইল অনুযায়ী তিনি বইটি কার্চারের কাছে প্রেরণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে কার্চারকে তার গবেষণার অগ্রগতির কথা জিজ্ঞাসা করে কোনো আশানুরূপ উত্তর পাননি মার্সি। কার্চারের মৃত্যুর পর তার সংগ্রহে থাকা অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি কলেজিও রোমানোর জাদুঘরে স্থানান্তর করা হয়। এদের মধ্যে ভয়নিচ পাণ্ডুলিপিও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
ভয়নিচের পাণ্ডুলিপির স্থান হয় কলেজিও রোমানোর জাদুঘরে
কিন্তু হঠাৎ করে সমাজব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন চলে আসে। কলেজিও রোমানোসহ বিভিন্ন বড় বড় সংগ্রহশালায় রুল জারি করা হলো ‘যিশু সমাজ’ সঙ্ঘ থেকে। রুল অনুযায়ী হাজার হাজার পাণ্ডুলিপি সরিয়ে ফেলার আদেশ দেওয়া হয়। অনেক পাণ্ডুলিপি ধ্বংস করে ফেলা হলো। তবে গুটিকয়েক পাণ্ডুলিপি ভ্যাটিকানের পোপের গোপন লাইব্রেরিতে স্থানান্তরের জন্য মনোনীত করা হয়। কিন্তু পাণ্ডুলিপিগুলো নথিপত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রায় নয় বছর লেগে গেলো।
ঠিক তখনই ইতিহাসের মঞ্চে ত্রাণকর্তা উইলফ্রিড ভয়নিচের পদার্পণ হয়। তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তি করে কিছু পাণ্ডুলিপি অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে নিজের মালিকানায় নিয়ে আসেন। তবে শর্ত ছিলো, এগুলো তিনি বাইরে প্রকাশ করতে পারবেন না। ভয়নিচও রাজি হয়ে যান। সেই রহস্যময় পাণ্ডুলিপিসহ আরো অনেক নথি ভয়নিচ ক্রয় করে ফ্লোরেন্সে পাঠিয়ে দেন। তিনি সংগৃহীত নথিগুলোর মধ্যে সেই ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু তিনি এর রহস্যের কোনো কূলকিনারাই করতে পারেননি। তবে চুক্তির শর্ত মোতাবেক ইউরোপে থাকা অবস্থায় ভয়নিচ কখনো পাণ্ডুলিপির কথা প্রকাশ করেননি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভয়নিচ সপরিবারে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে যাওয়ার পর তিনি বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে তার পাণ্ডুলিপির কথা জানান। তারা ভীষণ কৌতূহলী হয়ে পড়েন ভয়নিচের কথায়। শেষপর্যন্ত ১৯২১ সালে ফিলাডেলফিয়াতে তিনি তার পাণ্ডুলিপি নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এরপর তার অনুমতি নিয়ে অনেকেই সেটার রহস্য সমাধান করার চেষ্টা করেন। লোকমুখে তখন এই বইয়ের নাম হয়ে যায় ‘ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি’।
কেউ পড়তে পারেনি এই বইটি
ভয়নিচ ১৯৩০ সালে মৃত্যুবরণ করার পরে তার পরিবার বইটি ওয়াশিংটনে অবস্থিত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেনরি হায়ভারনেটের নিকট হস্তান্তর করেন। এরপর আরো কয়েক দফা মালিকানা বদলের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে ভয়নিচের সেই বইয়ের কথা। এদিকে ওদিকে গুঞ্জন উঠে, “সেই অদ্ভুত বইয়ের কথা শুনেছো? সেটা নাকি কেউই পড়তে পারে না!”
রহস্যের গন্ধ পেয়ে উৎসাহীরা এগিয়ে আসেন। শুরু হয় গবেষণা।
পাণ্ডুলিপির ভেতর কী লেখা?
ভয়নিচ পাণ্ডুলিপির মূল রহস্য এর বইয়ের পাতায় লেখা বর্ণগুলো। এক অজানা ভাষায় লেখা হয়েছে পুরো বইটি। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম কোনো বর্ণমালার অস্তিত্ব না পেয়ে বিজ্ঞানীরা ধরে নেন, বর্ণগুলো সাংকেতিক বর্ণ। প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২/৩ টি করে অনুচ্ছেদ রয়েছে।
পাণ্ডুলিপির লেখা
এরপরের রহস্য এর মধ্যে আঁকা বিভিন্ন চিত্রগুলো নিয়ে। হাতে আঁকা এসব ছবি দেখে একবার মনে হয়, এটা কোনো বিজ্ঞানীর নোটখাতা। কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পরেই আপনার ভুল ভাঙবে। তখন মনে হবে এটা হয়তো কোনো জ্যোতিষীর ভাগ্যগণনার সহায়িকা। যতই পাতা উল্টাতে থাকবেন, ততই দ্বিধায় ভুগবেন।
কিছু কিছু পাতায় আবার বৃত্ত, অর্ধবৃত্ত, ত্রিভুজ ইত্যাদি জ্যামিতিক নকশায় গুটি গুটি অক্ষরে বাক্য রচনা করা হয়েছে। শেষের দিকের পৃষ্ঠাগুলোয় লেখা বাক্যগুলো লেখা হয়েছে জাপানীদের মতো লম্বভাবে।
বিভিন্ন জ্যামিতিক আকারে লেখা বাক্য
সম্প্রতি ভাষাবিদরা জানান বইটির বেশকিছু বর্ণে গ্রিক বর্ণমালার ছাপ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ বর্ণমালা দেখতে প্রাচীন রসায়নবিদদের ব্যবহৃত বিভিন্ন চিহ্নের মতো মনে হয়। প্রাচীনকালে প্রাপ্ত অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রায়ই বাক্যে ভুলের কারণে কেটে দিয়ে সংশোধন করার নমুনা রয়েছে। কিন্তু এই রহস্যময় বইটিতে ভুলের সংখ্যা কত জানেন? শূন্য!
একটি বাক্যও সংশোধন করতে হয়নি লেখককে। বিভিন্ন রঙের কালির ব্যবহারে লেখা পুরো বইয়ে বর্ণমালার সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। শুধু এই সংখ্যাটুকুই গবেষকদের ঘুম নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট!
পাণ্ডুলিপির কিছু বর্ণের ছবি
এরপর আসা যাক ছবির কথায়। বইয়ের ভেতর ফুল, ফল, পাতা, মানুষ, চিহ্নসহ আঁকা ছবিগুলোকে গবেষকরা ৭ বিভাগে ভাগ করেছেন। ভেষজ, জ্যোতির্বিদ্যা, মহাজাগতিক বস্তু, রাশিচক্র, জীবজগৎ, সাংকেতিক চিহ্ন এবং চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত ছবি রয়েছে। কিছু কিছু ছবির সাথে জুড়ে দেয়া সংক্ষিপ্ত বাক্য পাওয়া যায়। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, এর মধ্যে চীনা পৌরাণিক প্রাণী ড্রাগনের ছবিও পাওয়া যায়।
পাঠোদ্ধারে কোনো আশানুরূপ অগ্রগতি না পাওয়ায়, অনেকেই হাল ছেড়ে দেন। কয়েকজন বিজ্ঞানী পুরো বইটিকেই বানোয়াট বলে দাবি করেন। তাদের মতে এটি অর্থলাভের আশায় ভয়নিচের বানানো তামাশা ব্যতীত আর কিছু নয়। একটা সময় সবাই প্রায় মেনে নিয়েছিলেন, এর কোনো অর্থ হয়তো নেই। কিন্তু তখন লন্ডনের কিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতবিদ গর্ডন রাগ নতুন এক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি ভয়নিচের আদলে আরেকটি সাংকেতিক ভাষা তৈরি করে সে অনুযায়ী বাক্য রচনা করে দেখান। তিনি গাণিতিক উপায়ে প্রমাণ করেন, ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি অর্থবোধক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদের ছবি দেখা যাচ্ছে
সংখ্যা কখনো মিথ্যা বলে না। তাই বিজ্ঞানীরা আর পূর্বের মতো এক কথায় একে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিতে পারেন না। এ ব্যাপারে রাগ বিবিসির একটি সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন,
“I don’t think there’s much chance that the Voynich manuscript is simply an unidentified language, because there are too many features in its text that are very different from anything found in any real language.”
পান্ডুলিপির লেখক কে?
ভয়নিচ যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন তিনি বিশ্বাস করতেন এই বইয়ের লেখক বিখ্যাত দার্শনিক রজার বেকন। কারণ বইয়ের সাথে পাওয়া খামের ভেতর বিজ্ঞানী জোয়ানাস মার্সি বইটি রজার বেকন কর্তৃক লেখা হতে পারে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এ ব্যাপারে ভয়নিচ একমত ছিলেন। তার মতে, রজার বেকনের ব্যক্তিগত নথিপত্রের দায়িত্বে থাকা জন ডি রাজা দ্বিতীয় রুডলফের দরবারে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। জন ডি সেই পাণ্ডুলিপি রুডলফের নিকট বিক্রয় করেন বলে ধারণা করা হয়। তাই ভয়নিচ বিশ্বাস করতেন জন ডি বইখানা রজার বেকনের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।
দার্শনিক রজার বেকন
ভয়নিচের মৃত্যুর পর কলা বিশেষজ্ঞ এরউইন পেনফস্কি বইয়ের পৃষ্ঠা পরীক্ষা করে এই ধারণা ভুল প্রমাণ করেন। কারণ এ ধরনের পৃষ্ঠা ব্যবহার শুরু হওয়ার অনেক আগেই রজার বেকন মৃতুবরণ করেন।
পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা পরীক্ষা করছেন একজন গবেষক
যদি বেকন বইটির লেখক না হন, তাহলে কে ছিলেন? এক্ষেত্রে রাফায়েল নিশোভস্কিকে এগিয়ে রাখেন গবেষকরা। তিনি ছিলেন জোয়ানাস মার্সির ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার জীবদ্দশায় তিনি একবার দাবি করেছিলেন যে, তিনি এমন সাংকেতিক ভাষা আবিষ্কার করেছেন যা কখনই কেউ বুঝতে পারবে না। কথিত আছে, বইয়ের লেখক হিসেবে রজার বেকনের সম্ভাবনার কথা তিনিই প্রথম তুলে ধরেন মার্সির কাছে। গবেষকরা মনে করেন, রাফায়েল তার সাংকেতিক ভাষার সাহায্যে পাণ্ডুলিপিটি রচনা করেন এবং তার সাংকেতিক ভাষার অভেদ্যতা পরীক্ষার জন্য বিষয়টি গোপন রাখেন।
এছাড়াও অনেকের মতে, এই বইয়ের লেখক কোনো ইহুদি চিকিৎসক। আবার অনেকের মতে, বইটি ভয়নিচেরই লেখা। অর্থলাভের আশায় তিনি বইটি রচনা করে রহস্যের সৃষ্টি করেন। এই তত্ত্বে বিশ্বাসীরা পুরো ব্যাপারটি ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেয়ার দলে।
পাঠোদ্ধারে অগ্রগতি এবং রুশ গণিতবিদদের বাজিমাত
১৯২১ সালে শুরু হওয়া গবেষণায় বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ, ভাষাবিদ যোগ দেন। কিন্তু কেউই এর পাঠোদ্ধারে সফল হতে পারেননি। এমনকি গোয়েন্দা সংস্থা FBI এবং CIA এর কর্মকর্তারাও এর গবেষণায় লিপ্ত আছেন। পাঠোদ্ধার করতে ব্যর্থ হলেও গবেষকরা বিভিন্ন সময় বেশ কিছু তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে।
এক্ষেত্রে সবার প্রথমে চলে আসে উইলিয়াম নিউবোল্ডের নাম। তিনি শেষের দিকে আঁকা একটি বৃত্তাকার নকশার সাথে মহাকাশে অবস্থিত একটি ছায়াপথের মিল খুঁজে পান। তিনি আরো একটি চিত্রের সাথে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখা কোষের সাদৃশ্য প্রমাণ করেন। কিন্তু তার এই তত্ত্ব বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি। তার তত্ত্বের পুরোটাই ভুল প্রমাণ করেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জন ম্যানলি।
বৃত্তাকার নকশার সাথে ছায়াপথের মিল খুঁজে পান নিউবোল্ড
এরপর রবার্ট ব্রাম্বো নামক এক বিজ্ঞানী ল্যাটিন বর্ণমালার সাহায্যে এর পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি বেশিদূর যেতে পারেননি। তার তত্ত্ব গবেষকরা বাতিল করে দেন। এরপর আরো অনেকেই নানা তত্ত্ব প্রদান করলেও কেউই এর পাঠোদ্ধারের কাছাকাছি যেতে পারেননি।
একবিংশ শতাব্দীতে ইন্টারনেটের সাহায্যে এর রহস্য মীমাংসা করার চেষ্টা করেন FBI এর গবেষকরা। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হন।
১৯৭৮ সালে জন স্টকিও নামক এক গবেষক তার বই ‘Letters to God’s Eye’-তে ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি নিয়ে তার গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, বইটিতে কোনো স্বরবর্ণের ব্যবহার করা হয়নি। তার এই তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে রীতিমত বাজিমাত করে ফেলেন রুশ গণিতবিদরা। RAS Institute of Applied Mathematics এর গণিতবিদরা এক অদ্ভুত উপায় অবলম্বন করে। তারা পৃথিবীর বিখ্যাত ভাষাগুলোর বর্ণমালা সংগ্রহ করেন। এরপর সেখান থেকে সব স্বরবর্ণ বাদ দিয়ে গবেষণা শুরু করেন। স্লাভিক, জার্মান, ইংরেজি, রোমান, বাক, গ্রিক, ল্যাটিন প্রভৃতি ভাষার প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরি করা বিশেষ কোডের সাহায্যে তারা একটি বাক্যের বেশ কিছু শব্দের অর্থ বের করতে সক্ষম হন। বাক্যটির প্রায় ৬০ ভাগ লেখায় ইংরেজি, জার্মান এবং রোমান ভাষার সংমিশ্রণ ছিল। কিন্তু তার পরেও যেন কিছুই বের করা হয়নি। কারণ,এখনো অনেক পথ বাকি। কিন্তু তারপরেও আবিষ্কারকরা এই ঘটনাকে বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। গবেষকদের প্রধান ইউরি অরলভ মন্তব্য করেন,
“We now know that this can be done.”
এর মাধ্যমে গবেষকরা আশার আলো দেখতে পান। ঝিমিয়ে পড়া গবেষকরা ফের নতুন উদ্দীপনায় কাজে লেগে যান।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি
বর্তমানে ভয়নিচের পাণ্ডুলিপিটি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।
বিভিন্ন প্রকাশনা এবং গ্রন্থসমূহ
ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি নিয়ে কয়েকশত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন সাহিত্যিক পাণ্ডুলিপির রহস্যে বিমোহিত হয়ে রচনা করেন কল্পকাহিনী। ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রবিন ওয়াসারম্যান এর ‘Book of Blood and Shadow’, জোনাথান মেবেরির ‘Assasin’s Code’ এবং মাইকেল কর্ডির ‘The Source’ পাঠকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়।
পাণ্ডুলিপির চিত্র অনুলিপি
এছাড়া ইয়েল বিশ্ববিদ্যায়ের উদ্যোগে ২০০৪ সালে এই রহস্যময় বইটির সম্পূর্ণ চিত্র অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এর ফলে পৃথিবীর যে কেউ ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই পুরো পাণ্ডুলিপি ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করতে পারবে।
ভয়নিচের পাণ্ডুলিপির দুর্বোধ্যতা যা আধুনিক প্রযুক্তিকেও হার মানাচ্ছে, নিঃসন্দেহে প্রাচীনকালের জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতাকে তুলে ধরেছে। এখনও পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজারো রহস্য অমীমাংসিত অবস্থায় আছে। তবে গবেষকরা মনে করেন, সেদিন আর বেশিদূরে নেই, যেদিন পুরো পাণ্ডুলিপির রহস্য সমাধান করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাহায্যে হয়তো একদিন ঠিকই আমরা এর রহস্যভেদ করতে পারবো। তখন জানা যাবে পাণ্ডুলিপির পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে কোন অজানা তথ্য।
সংক্ষেপে দেখুনজিহ্বার রং বদলে যাওয়া আর জিহ্বায় ফাটল দেখা দেয় কেন? এসব কোন কোন রোগের ইঙ্গিত দেয়? করনীয় কি?
জিহ্বা দেখেই চিকিৎসকরা বলে দিতে পারেন কে কোন সমস্যায় ভুগছেন। এর কারণ হলো শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলে তার প্রভাব জিহ্বাতেও পড়ে। এক্ষেত্রে জিহ্বার রং বদলে যায়। একটি স্বাস্থ্যকর জিহ্বার আদর্শ রং হালকা গোলাপি। তবে এর চেয়ে বেশি হালকা, ধূসর, সাদা, লাল, হলুদ কিংবা বেগুনি দেখলে তা হতে পারে বিভিন্ন রোগবিস্তারিত পড়ুন
জিহ্বা দেখেই চিকিৎসকরা বলে দিতে পারেন কে কোন সমস্যায় ভুগছেন। এর কারণ হলো শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলে তার প্রভাব জিহ্বাতেও পড়ে। এক্ষেত্রে জিহ্বার রং বদলে যায়।
একটি স্বাস্থ্যকর জিহ্বার আদর্শ রং হালকা গোলাপি। তবে এর চেয়ে বেশি হালকা, ধূসর, সাদা, লাল, হলুদ কিংবা বেগুনি দেখলে তা হতে পারে বিভিন্ন রোগের ইঙ্গিত। এই রঙের পরিবর্তনগুলো যদি কয়েক দিনের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে তবে আপনাকে চিন্তা করতে হবে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক, জিহ্বার রং বদলে যাওয়া কীভাবে বিভিন্ন রোগের ইঙ্গিত দেয়-
গোলাপি জিহ্বা
জিহ্বার প্রাকৃতিক রং হলো সামান্য সাদা আবরণসহ গোলাপি। এমন জিহ্বা থাকলে বুঝে নেবেন আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও শরীর স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
একটি সুস্থ জিহ্বায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছোট ছোট মাংসল বাম্প থাকবে, যা জিহ্বাকে একটি মোটা টেক্সচার দেবে।
হলুদ জিহ্বা
একটি হলুদ জিহ্বা প্রায়ই পেটের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। হজম বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে আপনার জিহ্বা হলুদ বর্ণের হবে।
ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায়ও দাবি করা হয়েছে, হলুদ জিহ্বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে।
আবার হলুদ জিহ্বা জন্ডিস এমনকি খারাপ মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির কারণেও হতে পারে। এর অর্থ হলো আপনার জিহ্বায় ব্যাকটেরিয়া জমেছে।
সাদা বা ধূসর
জিহ্বায় সাধারণত একটি সাদা আবরণ থাকে, তবে কিছু ধূসর অংশের সঙ্গে যদি এটি স্বাভাবিকের চেয়ে সাদা মনে হয় তাহলে বুঝবেন এটি শরীরে ইস্ট সংক্রমণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবার ধূমপানের ফলে বা অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য সেবনের কারণেও জিহ্বায় সাদা দাগও লক্ষ্য করা যায়। যাকে বলা হয় লিউকোপ্লাকিয়া।
বেগুনি
শরীরের রক্ত সঞ্চালন খারাপ হলে জিহ্বা বেগুনি হয়ে যায়। ফুসফুস বা হার্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনুপযুক্ত রক্ত সঞ্চালন হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই যদি জিহ্বার রং বেগুনি দেখেন তাহলে বুঝবেন আপনি হৃদরোগে ভুগছেন।
লাল জিহ্বা
একটি উজ্জ্বল লাল জিহ্বা সাধারণত ফোলা ও আঁশযুক্ত হয়। চিকিৎসকরা একে ‘স্ট্রবেরি জিহ্বা’ হিসাবে অভিহিত করেন।
এটি প্রায়ই রক্তের ব্যাধি বা হার্টের সমস্যা নির্দেশ করে। ভিটামিন বি এর ঘাটতি বা স্কারলেট ফিভারের ইঙ্গিতও হতে পারে লাল জিহ্বা।
শরীরের ভেতরের বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ কিন্তু ফুটে ওঠে জিহ্বায়। আর এ কারণেই চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি রোগীর জিহ্বা পরীক্ষা অবশ্যই করেন। জিহ্বায় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলেই বুঝতে হবে শরীরে হয়তো কোনো রোগ বাসা বেঁধেছে।
জিহ্বায় ঘা হওয়া থেকে শুরু করে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর তেমনই একটি সমস্যা হলো জিহ্বায় ফাটল দেখা দেওয়া। অনেকে হয়তো এ সমস্যাকে সাধারণভাবে দেখেন, তবে এটি কিন্তু একটি গুরুতর লক্ষণ। শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি হলে জিহ্বায় ফাটল দেখা দিতে পারে। একে স্ক্রোটাল টাং বলা হয়।
স্ক্রোটাল টাং বা স্ক্রোটাল জিহ্বা কী?
এ ক্ষেত্রে জিহ্বায় ফাটল দাগ দেখা দিতে পারে কিংবা খাঁজকাটা বা কুঁচকে যেতে পারে। ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন বি ৯ (ফোলেট) ও ফেরিটিন (লোহা সঞ্চয় করে এমন একটি প্রোটিন) এর ঘাটতির কারণে এই অবস্থা ঘটতে পারে।
জিহ্বায় এমন ফাটল দেখা দিলে অস্বস্তি হয়, বিশেষ করে মসলাদার খাবার খাওয়ার সময় জ্বালাপোড়া হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে সাইট্রাস ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন।
স্ক্রোটাল জিহ্বা হলে কী করবেন?
এক্ষেত্রে মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। জিহ্বা পরিষ্কার করার রুটিন অনুসরণ করতে হবে। তবে স্ক্রোটাল জিহ্বা দেখা দিলে প্রথমে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে। কী কী খাবেন জেনে নিন-
ভিটামিন বি ১২এর ঘাটতি মেটাতে গরুর মাংস, কলিজা, মুরগির মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, মাখন, পনির ইত্যাদি খেতে হবে। চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করতে পারেন।
ভিটামিন বি ৯ কে ফোলেট বলা হয়। ব্রাসেলস স্প্রাউট, ছোলা, কিডনি বিনস, বাঁধাকপি, কেল ও পালং শাক ইত্যাদি শাক-সবজিতে পাওয়া যায় এই ভিটামিন। ফলিক অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্টও খেতে পারেন এক্ষেত্রে।
কুঁচকানো বা ফাটা জিহ্বা ছাড়াও, ফোলেটের ঘাটতির কারণে ক্লান্তি, শক্তির অভাব, হাত পায়ে ঝি ঝি ধরা, জিহ্বায় ঘা, মুখের আলসার, পেশী দুর্বলতা ও দৃষ্টি বিঘ্নিত হতে পারে।
এছাড়া মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা যেমন- বিভ্রান্তি, বিষণ্নতা, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, বোঝাপড়া ও বিচারের মতো সমস্যা হতে পারে।
ভিটামিন বি ৯ এর ঘাটতির কারণে হার্টেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এমনকি হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা, অস্থায়ী বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভাবস্থার সমস্যা হতে পারে এই ভিটামিনের ঘাটতিতে।
সংক্ষেপে দেখুনদাঁত ফাঁকা আর মুখে দুর্গন্ধ হলে করণীয় কি ?
নিয়মিত পরিষ্কার না করলে, যত্ন না নিলে দাঁত আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়, ক্ষয় হয়ে যায়। - প্রতীকী ছবি দাঁতের ওপরের দিকে ফাঁকা হলে আমরা ডাক্তারের কাছে যাবো। ওনারা এক্ষেত্রে এক্সরে করবেন। যদি ডাক্তারের কাছে মনে হয়, এটা ফিলিং করলে ভালো হবে, তাহলে তাই করবেন। আর যদি ডাক্তাররা দেখেন যে দাঁতের পাশে ফাঁকাবিস্তারিত পড়ুন
নিয়মিত পরিষ্কার না করলে, যত্ন না নিলে দাঁত আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়, ক্ষয় হয়ে যায়। – প্রতীকী ছবি
দাঁতের ওপরের দিকে ফাঁকা হলে আমরা ডাক্তারের কাছে যাবো। ওনারা এক্ষেত্রে এক্সরে করবেন। যদি ডাক্তারের কাছে মনে হয়, এটা ফিলিং করলে ভালো হবে, তাহলে তাই করবেন। আর যদি ডাক্তাররা দেখেন যে দাঁতের পাশে ফাঁকা হয়েছে সে ক্ষেত্রেও একই চিকিৎসা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে এটা ফিলিং করিয়ে রাখতে হবে।
এমন যদি হয় যে, দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা এবং সেখানে খাবার আটকায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে আমরা ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করবো। ডেন্টাল ফ্লস হচ্ছে প্লাস্টিকের মতো এক ধরনের সাদা সুতার মতো। আমরা টুথপিকের জায়গায় এখন ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে বলি। ডেন্টাল ফ্লস আপনারা যে কোনো জায়গায় পাবেন- মার্কেটে বা ফার্মেসিতে।
আপনার যদি দুই দাঁতের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় খাবার আটকে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনি ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করলে, সেখানে আর খাবার আটকে থাকবে না এবং সেখানে আর দুর্গন্ধ হবে না। ফলে খাদ্যকণা জমে সেই জায়গায় আর ক্ষয় হবে না।
আর মুখে দুর্গন্ধ হলে আমি পরামর্শ দেব যে, ছয় মাস পরপর স্কেলিং করাবেন। নিয়ম অনুযায়ী দাঁত ব্রাশ করবেন। যেমন- সকালে নাস্তা করার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করবেন। মাউথওয়াশ ব্যবহার করবেন।
অনেকে বলেন যে, স্কেলিং করালে দাঁতের কোনো ক্ষতি হবে কিনা কিংবা মাড়ির কোনো ক্ষতি হবে কিনা। একদমই না। সেক্ষেত্রে দাঁত বা মাড়ির কোনো ক্ষতি হবে না।
আমাদের কোনো জিনিসপত্রে যদি ময়লা জমে থাকে, ধুলাবালি জমে থাকে, আমরা যদি সেটা পরিষ্কার না করি, যত্ন না করি, তাহলে সেটা অনেকদিন ধরে ময়লা জমতে জমতে নষ্ট হয়ে যায়, সেটা ক্ষয় হয়ে যায়। তো আমাদের দাঁতও ঠিক এরকমই। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে, যত্ন না নিলে দাঁত আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়, ক্ষয় হয়ে যায়।
আমরা প্রতিদিন নিয়মিত দুইবার দাঁত ব্রাশ করবো এবং আমাদের টুথব্রাশ ছয় মাস পরপর বদলাবো। আমরা দাঁত ওপর থেকে নিচে ঘষে ব্রাশ করবো। এতে এক দাঁত থেকে আরেক দাঁতের মাঝে ছোট ফাঁকা জায়গায় যদি ময়লা থাকে, তাহলে সেটা বেরিয়ে যাবে। আমরা দাঁতের ভেতরে আরও ভালো করে ব্রাশ করবো।
কখন দাঁতের রুট ক্যানেল করতে হয়?
দাঁতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এবং সেটি কোন পর্যায়ে গেলে রুট ক্যানেল করা প্রয়োজন তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন। - প্রতীকী ছবি একেক জনের দাঁতে একেক রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর এ সমস্যার বিভিন্ন পর্যায় থাকে। দাঁতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এবং সেটি কোন পর্যায়ে গেলে রুট ক্যানেল করা প্রয়োজন তা চিকিৎসকই ঠিকবিস্তারিত পড়ুন
দাঁতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এবং সেটি কোন পর্যায়ে গেলে রুট ক্যানেল করা প্রয়োজন তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন। – প্রতীকী ছবি
একেক জনের দাঁতে একেক রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর এ সমস্যার বিভিন্ন পর্যায় থাকে। দাঁতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এবং সেটি কোন পর্যায়ে গেলে রুট ক্যানেল করা প্রয়োজন তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন।
অনেক সময় দেখা যায়, দাঁতের উপরের অংশে একটা ছোট দাগ পড়ে সেটা আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। তখনই দন্তক্ষয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তখন দাঁতে ব্যথাও শুরু হয়।
আমাদের দাঁতের ভেতরের একটা লাল ধরনের আবরণ থাকে, যেখানে রক্ত প্রবাহিত হয়। বাইরের দৃশ্যমান অংশকে আমরা বলি এনামেল। ভেতরের অংশটাকে আমরা বলি ডেন্টিন।
ছোট কালো অংশটি যখন হয়ে থাকে, সাধারণত আমরা (চিকিৎসকরা) এটা ফেলে দেই। এটা ফেলে দিয়ে ফিলিং করে দিলেই হয়। কিন্তু এটা যখন চিকিৎসা করাতে দেরি হয়, আস্তে আস্তে ভিতরে চলে যায়, ডেন্টিনে চলে যায়।
যখন ওপরের সাদা অংশতে কালো হয়ে গিয়ে আস্তে আস্তে ডেন্টিনকেও আক্রান্ত করে ফেলে, তখনই ব্যথা শুরু হয়; প্রচুর ব্যাথা হয়। রুট ক্যানেল করতে হয় তখন। ডেন্টিনের লাল অংশটা ফেলে দিয়ে ওখানে কিছু ম্যাটেরিয়ালস বসিয়ে চিকিৎসা করতে হয়। এর পরবর্তীতে আমাদের দাঁতের আবরণটা কেটে ক্যাপ বসাতে হয়।
প্রতিটি দাঁতের নির্দিষ্ট শক্তি থাকে, যা কাটলে ক্ষয় হয়ে যায়। তখন শক্ত খাবার খেলে দাঁত ভেঙে যায়। আর যার জন্যই রুট ক্যানেল করার পর ক্যাপ বসানো হয়।
দাঁত উঁচু-নিচু ও আঁকাবাঁকা হওয়া কিভাবে ঠেকানো যায় ?
যদি দাঁত একটার ওপর আরেকটা ওঠে, তাহলে সেক্ষেত্রে সেখানে খাদ্যকণা জমে থাকে এবং দাঁত আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে যায়। - প্রতীকী ছবি দাঁত উঁচু-নিচু এবং আঁকাবাঁকা যে কারও জন্ম থেকে শুরু হতে পারে। মুখের অনেক রকম অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। সেটা শিশু জন্ম থেকে নিয়ে আসতে পারে অথবা সেটা ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে। তো যেটাবিস্তারিত পড়ুন
যদি দাঁত একটার ওপর আরেকটা ওঠে, তাহলে সেক্ষেত্রে সেখানে খাদ্যকণা জমে থাকে এবং দাঁত আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে যায়। – প্রতীকী ছবি
দাঁত উঁচু-নিচু এবং আঁকাবাঁকা যে কারও জন্ম থেকে শুরু হতে পারে। মুখের অনেক রকম অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। সেটা শিশু জন্ম থেকে নিয়ে আসতে পারে অথবা সেটা ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে। তো যেটা মানুষ জন্ম থেকে নিয়ে আসে, সেটার কারেকশন আস্তে আস্তে হবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে। যখন অভিভাবকের মনে হবে, বাচ্চার মুখে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, তখন অবশ্যই বাচ্চাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন।
কিছু জিনিস তৈরি হয় ছোটবেলায় আমাদের বদ অভ্যাস বা কিছু ভুলের কারণে। ফলে দেখা যায়ে, যে দাঁত ফাঁকা হওয়ার কথা ছিল না, সেটা ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। যে দাঁতগুলো উঁচু-নিচু হওয়ার কথা ছিল না, সেগুলো দেখা যায় ধীরে ধীরে এ রকম হয়ে যাচ্ছে।
তো এটা আমরা কীভাবে প্রতিরোধ করতে পারি? এক্ষেত্রে আমরা মায়েরা অথবা বাচ্চার অভিভাবকেরা বাচ্চাকে অবশ্যই আঙুল চুষতে দেবো না। কারণ, বাচ্চারা ছোটকাল থেকে যদি আঙুল চুষতে থাকে, এর ফলে দেখা যায় যে দাঁতগুলো উঁচু হয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে ফাঁকা হতে থাকে। তো বাচ্চাদের এই অভ্যাসটাকে আমরা বাড়তে দেবো না। আমরা চেষ্টা করবো বাচ্চা যখনই মুখে আঙুল দেবে, সেটাকে সরিয়ে দিতে।
সব বাচ্চাদের মোটামুটি তিন বছর বয়সের মধ্যে দুধ দাঁত উঠে যায়। সেই বেলায় আমরা কী করবো? এই দাঁতগুলোকে আমরা কীভাবে সুন্দর করলে পরবর্তীতে দাঁতগুলো উঁচু-নিচু বা আঁকাবাঁকা হবে না, দাঁত একটার ওপরে আরেকটা উঠবে না?
যদি দাঁত একটার ওপর আরেকটা ওঠে, তাহলে সেক্ষেত্রে সেখানে খাদ্যকণা জমে থাকে এবং দাঁত আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে যায়। হয়তো পরবর্তীতে সেই দাঁত ফেলেও দিতে হতে পারে। বাচ্চাদের দাঁত ওঠার যেমন একটা নির্দিষ্ট সময় আছে, ঠিক তেমনি বাচ্চাদের দাঁত পড়ারও একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। তো আমরা যেটা করবো, সেটা হলো- নির্দিষ্ট সময়ে আমরা দাঁতটা যেন ফেলতে পারি, সেদিকে খেয়াল রাখবো। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে নির্দিষ্ট সময়ের আগে যেন দাঁত না পড়ে। যেমন একটা দাঁতে একটু ক্ষয় হয়েছে, সেটা আমরা সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিলাম ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া। এই কাজটা একদমই করা যাবে না।
অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তাররা অভিভাবকদের বোঝান, এভাবে দাঁত ফেলে দিলে পরবর্তীতে সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অভিভাবকরা নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে দাঁতগুলো ফেলবেন না। প্রত্যেকটা দাঁত পড়ার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। আমরা যদি নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এই দুধ দাঁত ফেলে দেই, তখন দেখা যাবে যে দাঁতটা ফেলে দেওয়া হয়েছে, তার পাশের দাঁত হেলে পড়েছে। পরবর্তীতে যেই দাঁতটা উঠবে, সেটা তখন আর জায়গা পায় না। তখন সেই দাঁতটা হয়তো সামনে দিয়ে উঠবে, নয়তো পেছন দিয়ে উঠবে, অথবা একটু কাত হয়ে উঠবে। তার মানে সেই দাঁত তার জায়গা না পাওয়াতে সে ঠিকমতো উঠতে পারে না। আর উঠলেও দেখা যায় দাঁত আঁকাবাঁকা হয়ে ওঠে, নয়তো দেখা যায় সেই দাঁত আর উঠতেই পারল না।
অনেক সময় দেখা যায়, বাচ্চাদের দুধ দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমরা চিকিৎসা করি না। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই দাঁতটা ফিলিং করিয়ে ফেলতে হবে। আবার কিছু দাঁত আছে সময় মতো পড়ছে না, দাঁতটা অনেকদিন ধরে রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে দুধ দাঁত যদি অনেকদিন ধরে রয়ে যায়, সেক্ষেত্রে স্থায়ী যে দাঁত আছে সেটা আর উঠতে পারে না। তখন সেই দুধদাঁত ডাক্তারের কাছে গিয়ে ফেলে আসতে হয়।
ধরনের সমস্যার কারণে বাচ্চাদের দাঁত উঁচু-নিচু, আঁকাবাঁকা, দাঁত একটার ওপর আরেকটা ওঠা- এরকম হয়ে থাকে। সমস্যা যাই হোক তার একটা স্থায়ী সমাধান আছে। এটা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ ডাক্তারের কাছে আসলে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ডাক্তাররা চিকিৎসা শুরু করেন। শিশুবেলায় চোয়াল যদি একটু উঁচু হয় বা নিচু হয় বা সামনে আগানো থাকে বা পেছানো থাকে, তখন ছোট বাচ্চাদের কমবয়সে চিকিৎসা শুরু করা হয়। আবার দেখা যায়, যখন স্থায়ী দাঁত উঠে যায় ১৩ বছরের দিকে, তখন সে চিকিৎসা করা হয়। আবার সব চিকিৎসা যে ১৩ বছরে করতে হয় তা নয়। এসব ক্ষেত্রে ছয় মাস পর পর ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। ডাক্তারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হয়।
শিশুদের ফাঁকা দাঁত কতটা দুশ্চিন্তার?
বাচ্চাদের দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা দেখা যায়। এটা নিয়ে খুব বেশি টেনশন করবেন না। - প্রতীকী ছবি অনেক সময় আমরা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখি, দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা দেখা যায়। এটা নিয়ে খুব বেশি টেনশন করবেন না। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৩ বছরের মাঝখানে যে সময়টা, এই সময়টাতে বেশি চিন্তা করেন মা-বাবারা। আমাদের ১৩ ববিস্তারিত পড়ুন
বাচ্চাদের দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা দেখা যায়। এটা নিয়ে খুব বেশি টেনশন করবেন না। – প্রতীকী ছবি
অনেক সময় আমরা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখি, দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা দেখা যায়। এটা নিয়ে খুব বেশি টেনশন করবেন না। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৩ বছরের মাঝখানে যে সময়টা, এই সময়টাতে বেশি চিন্তা করেন মা-বাবারা।
আমাদের ১৩ বছরের সময় একটা দাঁত ওঠে, যে দাঁতটা অন্য দাঁতাগুলোর গোড়ায় প্রেসার দিয়ে উঠে। এর কারণে সামনে দাঁতগুলো ফাঁকা দেখা যায়। ১৩ বছরের সময়ে ফাঁকা জায়গাটা আস্তে আস্তে পূরণ হতে শুরু করে।
এছাড়াও ছোট বাচ্চাদের সবগুলো দাঁতের মাঝখানে যদি কিছু ফাঁকা ফাঁকা জায়গা থাকে, এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ স্থায়ী দাঁতগুলো উঠার জন্য এই ফাঁকা স্থানগুলো দরকার রয়েছে।
তবে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে- অনেকদিন ধরে যদি বাচ্চার আঙুল চোষা সমস্যাটা থাকে, সে ক্ষেত্রে ওপরের মাড়িটা উঁচু হয়ে যায়। ওপরের দাঁতগুলো উঁচু হয়ে যায়। দাঁত ফাঁকা হতে থাকে। নিচের চোয়ালটা ভেতরের দিকে চলে যায়। বাচ্চাকে এ অভ্যাস থেকে বিরত রাখতে হবে।
আক্কেল দাঁত কি প্রয়োজনীয়, ফেলে দিলে কোনো সমস্যা হয়?
শুধু আক্কেল দাঁত নয়, আমাদের যেকোন দাঁত সম্পর্কে আমাদের একটা ভুল ধারণা রয়েছে। - প্রতীকী ছবি আক্কেল দাঁতগুলো সাধারণত ১৮ বছরের পরে ওঠে। তখন আমাদের মাড়ির টিস্যু একটু পুরু ও শক্ত হয়ে যায়। দাঁতটিকে মাড়ি একটু চিরে উঠতে হয়। ফলে ওঠার সময় চাপ হয় এবং মাড়িকে একটু কেটে কেটে সে বের হয়। এজন্য দাঁত ওঠার সময় খুব ববিস্তারিত পড়ুন
শুধু আক্কেল দাঁত নয়, আমাদের যেকোন দাঁত সম্পর্কে আমাদের একটা ভুল ধারণা রয়েছে। – প্রতীকী ছবি
আক্কেল দাঁতগুলো সাধারণত ১৮ বছরের পরে ওঠে। তখন আমাদের মাড়ির টিস্যু একটু পুরু ও শক্ত হয়ে যায়। দাঁতটিকে মাড়ি একটু চিরে উঠতে হয়। ফলে ওঠার সময় চাপ হয় এবং মাড়িকে একটু কেটে কেটে সে বের হয়। এজন্য দাঁত ওঠার সময় খুব ব্যথা লাগে।
মেডিকেলের ভাষায় আক্কেল দাঁতকে উইজডম টিথ বা থার্ড মোলার বলা হয়ে থাকে। আক্কেল দাঁতের কোনো প্রয়োজনীয়তা আমাদের মুখে নাই। আপনাকে এ দাঁতগুলো ফেলে দিতে হবে। এ দাঁতগুলো যদি আপনি সার্জারি করে ফেলে দেন, তাহলে আর অস্বস্তি থাকবে না।
শুধু আক্কেল দাঁত নয়, আমাদের যেকোন দাঁত সম্পর্কে আমাদের একটা ভুল ধারণা রয়েছে। দাঁত ফেললে চোখ অন্ধ হবে বা সমস্যা হবে। এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা।
আক্কেল দাঁতের ক্ষেত্রে অনেকেই মায়া দেখায়। যদিও এ দাঁতের কোনো প্রয়োজন নেই আমাদের। যদি আক্কেল দাঁত ঠিকমতো না উঠে, এই দাঁত দিয়ে যদি সমস্যা হয়, এটা ফেলে দেওয়াই হচ্ছে ভালো।
শিশুর দাঁতের যত্ন কীভাবে নেবেন, কখন টুথব্রাশ দেবেন?
অনেকেই মনে করেন, বাচ্চা বড় হলে টুথপেস্ট, টুথব্রাশ ব্যবহার করবে। কিন্তু বিষয়টা একেবারে তেমন নয়। - প্রতীকী ছবি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কত বছর থেকে আমরা দাঁত ব্রাশ করাবো অনেকেই তা জানতে চান। অনেকেই মনে করেন, বাচ্চা বড় হলে টুথপেস্ট, টুথব্রাশ ব্যবহার করবে। কিন্তু বিষয়টা একেবারে তেমন নয়। অনেক বাচ্চার ক্ষেত্বিস্তারিত পড়ুন
অনেকেই মনে করেন, বাচ্চা বড় হলে টুথপেস্ট, টুথব্রাশ ব্যবহার করবে। কিন্তু বিষয়টা একেবারে তেমন নয়। – প্রতীকী ছবি
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কত বছর থেকে আমরা দাঁত ব্রাশ করাবো অনেকেই তা জানতে চান। অনেকেই মনে করেন, বাচ্চা বড় হলে টুথপেস্ট, টুথব্রাশ ব্যবহার করবে। কিন্তু বিষয়টা একেবারে তেমন নয়।
অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা মায়ের পেট থেকে দাঁত নিয়ে আসে। অনেক ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে শুরু করে তিন বছর পর্যন্ত পুরোপুরি দাঁতগুলো উঠে। ছয় বছর পর্যন্ত দুধ দাঁতগুলো পুরোপুরি থাকে।
ছয় বছরের পর থেকে স্থায়ী দাঁত আসা শুরু করে। দুধ দাঁতের সবচেয়ে পেছনের ওপরে এবং নিচে চারটি স্থায়ী দাঁত আসে। এটাকে ফাস্ট মোলার বলে।
অনেক সময় আমাদের ভেতরে ভয় কাজ করে বলে বাচ্চাদের টুথপেস্ট দেওয়া যায় না, ব্রাশ দেওয়া যায় না। কারণ যদি তারা টুথপেস্ট খেয়ে ফেলে। এজন্য আমরা আঙুলের মাথায় একটা গজ কাপড়ের মতো পেঁচিয়ে নেবো। পেঁচিয়ে নিয়ে তাদের দাঁত হালকা করে পরিষ্কার করে দেবো। তারা যেহেতু সব সময় দুধ খায়, এজন্য আঙুল দিয়ে ওটা পরিষ্কার করে দিতে হবে।
বাচ্চার বয়স যখন দেড় থেকে দুই বছরে যাবে, তখন থেকে দাঁত ব্রাশ করা যায়। বাচ্চাদের জন্য ছোট ছোট টুথব্রাশ আছে। ওদের জন্য টুথপেস্টও রয়েছে, যেগুলো খেয়ে ফেললেও অনেক সময় সমস্যা হয় না।
এছাড়াও বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কিছু কিছু অভ্যাস বন্ধ রাখতে হবে। যেমন- চকোলেট খাওয়ানো। কিন্তু যে বাচ্চা সব সময় চকোলেট খায়, তার ক্ষেত্রে চকোলেট খাওয়ার পরে দাঁত ব্রাশটা করিয়ে নেবেন। অন্তত যেন কুলিটা করে।
বাচ্চারা যেহেতু রাতের বেলা দুধ খেয়ে ঘুমায়, দুধের আবরণটা দাঁতের মধ্যে লেগে থাকে। তার প্রভাবে সবগুলো দাঁত ক্ষয় হতে শুরু করে। যেটা অত্যন্ত ক্ষতিকারক তাদের জন্য।
যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা কাদের বেশি?
ফুল এবং শিশু পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি, সবচেয়ে কোমল, সবচেয়ে নিষ্পাপ। সন্তান জন্মলাভ তাই একটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তার মধ্যে যদি আবার হয় যমজ সন্তান তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই, আনন্দের যেন শেষই হয় না।তবে এই ব্যাপারটা যতটা না আনন্দের ততোটা ঝুঁকিরও। যমজ সন্তান গর্ভধারণ তো সবার হবিস্তারিত পড়ুন
ফুল এবং শিশু পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি, সবচেয়ে কোমল, সবচেয়ে নিষ্পাপ। সন্তান জন্মলাভ তাই একটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তার মধ্যে যদি আবার হয় যমজ সন্তান তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই, আনন্দের যেন শেষই হয় না।তবে এই ব্যাপারটা যতটা না আনন্দের ততোটা ঝুঁকিরও।
যমজ সন্তান গর্ভধারণ তো সবার হয় না। তো এরকম কী রয়েছে যে, কোন ফ্যাক্টর এখানে কাজ করে। অর্থাৎ, কাদের যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি?
যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা কাদের সম্ভাবনা বেশি এ বিষয়ে জানার জন্য একটু বিস্তারিত বলতে হবে। যমজ সন্তান দুই ধরনের হয়। একটা হচ্ছে যারা হুবহু একই রকম দেখতে। তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটা অনেকটা একই রকম। ওদেরকে আমরা বলি আইডেন্টিক্যাল টুইন। আরেকটা হচ্ছে হুবহু দেখতে একই রকম না, ভাইবোন যেমন হয় বা বোন-বোন বা ভাই-ভাই যেমন হয় সেইরকম। তো যেটা প্রথমে বললাম সেটা হচ্ছে আইডেন্টিক্যাল টুইন আর যারা দেখতে এক রকম না বা তাদের বৈশিষ্ট্য একরকম নাও হতে পারে সেটা হচ্ছে ফ্যাটার্ন্যাল টুইন।
আইডেন্টিক্যাল টুইনের কারণ খুব বেশি একটা জানা যায় না। যেমন একটা ডিম্বাণু দিয়ে যদি একটি শুক্র কীটের মিলন হয়। একটা ভ্রুণ তৈরি হয় তখন যদি ওইটা হার্ড হয়ে যায় তখন হবে হুবহু এক রকম দেখতে জমজ বাচ্চা। ওদের কারণ বেশি একটা জানা যায় না।
তবে ফ্যাটারম্যান টুইন বা দেখতে ভাই বোনের মত ওদের ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, জাতিগত কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন আফ্রিকানরা। আফ্রিকানদের অনেক বেশি জমজ বাচ্চা হয় এশিয়ানদের চাইতে। এছাড়া মায়ের বয়সটা একটা ব্যাপার যেমন মায়ের বয়স ৩০-৩৫ এর মধ্যে হয় তাহলেও জমজ বাচ্চা হবার সম্ভাবনা থাকে। অথবা আজকাল যেটা বেশি দেখতে পাচ্ছি যে, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার জন্য যে ঔষধগুলো প্রয়োগ করা হয় এটার জন্য অনেক জমজ বাচ্চা আমারা দেখতে পাচ্ছি।
কারণ ওই ওষুধগুলোর কাজ হচ্ছে একটু বেশি বেশি ডিম ফুটানো। আমরা জানি যে, প্রতিটা মেয়েরই মাসিক হওয়ার পর প্রতি মাসে একটা করে ডিম ফুটবে। এই ওষুধগুলোর দ্বারা একটু বেশি বেশি ডিম ফুটে। যার জন্য জমজ বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা ওদের একটু বেশি। সাধারণ মানুষের মাঝে একধরনের মিথ আছে যে, জোড়া কলা বা জয়েন্ট কলা খেলে নাকি যমজ সন্তান হয়। এটা আমরা আগে শুনতাম এটা খাওয়া যাবে না। এরকম কিছু কুসংস্কার আমাদের মাঝে ছিল। হ্যাঁ। তবে আরেকটা সায়েন্টিফিক কারণ হচ্ছে জমজ মায়ের মেয়ের জমজ বাচ্চা হতে পারে। কারণ ওখানে কিন্তু একটা জন্মগত ধারা আসে। মায়ের যদি সেই জিনটা থাকে, সেই জিনটা যদি মেয়ের থাকে,যেটা থেকে ডিম একটু বেশি ফুটবে।তাহলে যে মায়ের যমজ সন্তান থাকে সে মায়ের মেয়েরও যমজ সন্তান হতে পারে। মানে জন্মগত একটা দিকও আছে। আর জোড়া কলা বা জয়েন্ট কলা খেলে নাকি যমজ সন্তান হয়- এমন ধারণা নিতান্তই কুসংস্কার।