সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
দাঁতে পোকা বলতে সত্যিই কি কিছু আছে?
আসলে দাঁতে পোকা বলতে কিছুই নেই - প্রতীকী ছবি আমাদের দেশের জনগণ যে সকল দাঁতের সমস্যা নিয়ে ডেন্টিস্টদের কাছে অথবা ডেন্টাল হাসপাতালে আসেন সেগুলো হচ্ছে প্রথমত দাঁতের ডেন্টাল ক্যারিস – মানে রোগী দাঁতের তীব্র ব্যাথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন। তারা অনুভব করতে পারে দাঁতের মধ্যে গর্ত হয়েছে, তারা বুঝতে পারে দাবিস্তারিত পড়ুন
আসলে দাঁতে পোকা বলতে কিছুই নেই – প্রতীকী ছবি
আমাদের দেশের জনগণ যে সকল দাঁতের সমস্যা নিয়ে ডেন্টিস্টদের কাছে অথবা ডেন্টাল হাসপাতালে আসেন সেগুলো হচ্ছে প্রথমত দাঁতের ডেন্টাল ক্যারিস – মানে রোগী দাঁতের তীব্র ব্যাথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন।
তারা অনুভব করতে পারে দাঁতের মধ্যে গর্ত হয়েছে, তারা বুঝতে পারে দাঁতের মধ্যে খাদ্য জমে যায়, আবার রোগীরা বুঝতে পারে দাঁত শিরশির করে অথবা ঠাণ্ডা বা মিষ্টি খেলে দাঁত শিরশির করে – এসব সমস্যা নিয়ে ডেন্টিস্টের কাছে আসতে পারে।
এছাড়া আরো সমস্যা নিয়ে আসতে পারে যেমন তারা অনুভব করতে পারে মুখে দুর্গন্ধ হয়, মুখে পাথরজনিত সমস্যা নিয়ে আসতে পারে এবং তারা এমন সমস্যা নিয়েও আসে যে দাঁত নড়ছে অথবা পড়ে যাবে অথবা তারা আঁকাবাঁকা দাঁতের সমস্যা নিয়েও আসে। বা মুখে খাদ্য জমে যাচ্ছে – এই সমস্যা নিয়েও আসতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের মুখ ও দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসতে পারে এবং দেখা যায় যে, রোগী ভাঙা দাঁত অথবা ভাঙা চোয়াল বা দুর্ঘটনাজনিত বিষয় নিয়ে চেম্বারে বা ডেন্টিস্টদের কাছে এসে থাকে।
ডেন্টাল ক্যারিস বলতে কী বুঝায় এবং এটা কাদের বেশি হয়ে থাকে ?
ডেন্টাল ক্যারিস বলতে সাধারণ জনগণ বুঝে দাঁতে পোকা; আসলে দাঁতে পোকা বলতে কিছুই নেই। যেটা আছে সেটাকে আমরা (চিকিৎসকরা) ব্যাক্টেরিয়া বলে থাকি। আমাদের মুখে হাজারো ধরনের ব্যাক্টেরিয়া থাকে, তার মধ্যে ডেন্টাল ক্যারিস যেটা হচ্ছে দন্ত ক্ষয় রোগ – এইটার জন্যে যে ব্যাক্টেরিয়া দায়ী সেটা হলো ল্যাক্টোবেসিলাস এবং চেপলোকোকাস মিউটেন্ট। আমরা যে খাবার খাই সেই খাবারগুলোর দাঁতের সাথে লেগে থাকলে এই ব্যাক্টেরিয়াগুলো ফ্লাইবারের উপস্থিতিতে আমাদের দাঁতের ক্ষয় করতে থাকে। এই ক্ষয়টার কারণ হলো সেখানে ল্যাক্টিক এ্যাসিড। ব্যাক্টেরিয়াগুলো ফ্লাইবারের উপস্থিতিতে তৈরি হয় ল্যাক্টিক এ্যাসিড। সেটাই দাঁতের ক্ষয় করে।
এখন এই ডেন্টাল ক্যারিসটা কাদের হয়? ডেন্টাল ক্যারিসটা হওয়ার কোন বয়স নেই, ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত যা কারোই হতে পারে। তবে সাধারণত দেয়া যায় যে যাদের দন্ত ক্ষয় রোগের সম্ভাবনা আছে বা বংশগতভাবেও হতে পারে এবং যাদের এনামেল যাদের দুর্বল এবং এনামেলের গঠনগত দুর্বলতা থাকে তাদের ডেন্টাল ক্যারিসটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
দেখা যায়, অনেকে বিভিন্ন ধরনের প্রসেস ব্যবহার করে এবং সেই প্রসেসে যদি কোন প্রকার ফল্ট থেকে থাকে তবে তখন ক্ষয় হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় যে আঁকাবাঁকা দাঁত থাকে, সেই আঁকাবাঁকা দাঁত মানুষ ঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারে না– সেখানে খাদ্য জমে যায় আর খাদ্য জমে গিয়ে ডেন্টাল ক্যারিস হতে পারে।
এছাড়া দাঁত পরিষ্কার করার নিয়ম আছে তিন বেলা খাবারের পরে, যারা এসব নিয়ম মেনে চলে না তাদের ডেন্টাল ক্যারিস হতে পারে।
শিশুদের কী কী ধরনের ক্যান্সার হতে পারে?
প্রতীকী ছবি শিশুদের ক্যান্সার অনেক ধরনের হতে পারে। যেমন ব্লাড ক্যন্সার, হাড়ে ক্যান্সার ( অষ্ট সারকোমা), ব্রেন ক্যান্সার, মাংস পেশির ক্যান্সার (একুইডাপ্টেমা সারকোমা) বাচ্চার কিডনিতে ক্যান্সার, চোখে ক্যান্সার, জনন কোষের ক্যান্সার। এখানে আবার মেয়ে বাচ্চা ও ছেলে বাচ্চাদের আলাদা আলাদা নাম আছে। তাছাড়াবিস্তারিত পড়ুন
প্রতীকী ছবি
শিশুদের ক্যান্সার অনেক ধরনের হতে পারে। যেমন ব্লাড ক্যন্সার, হাড়ে ক্যান্সার ( অষ্ট সারকোমা), ব্রেন ক্যান্সার, মাংস পেশির ক্যান্সার (একুইডাপ্টেমা সারকোমা) বাচ্চার কিডনিতে ক্যান্সার, চোখে ক্যান্সার, জনন কোষের ক্যান্সার। এখানে আবার মেয়ে বাচ্চা ও ছেলে বাচ্চাদের আলাদা আলাদা নাম আছে। তাছাড়া আরো অনেক ধরনের ক্যান্সার যা অল্প পরিমাণে হয়। যেমন লিম্প নুডের ক্যান্সার বা লিম্পুমা-এটা কমন একটা ক্যান্সার।
কী কারণে শিশুদের ক্যান্সার হয়?
ক্যান্সারের সঠিক কারণ আসলে জানা যায় না। বেশিরভাগ ক্যন্সার অজানা। তবে কিছু কিছু পরিমাণে ডিসঅর্ডারের কারণে ক্যান্সার হতে পারে। তাছাড়া কিছু ডাই আছে, কিছু ড্রাকস আছে, রেডিয়েশন আছে এই ধরনের কারণেও ক্যান্সার হতে পারে।
ক্যান্সারের লক্ষ্মণগুলো কী কী?
একেক ক্যান্সারের একেক ধরনের লক্ষণ হতে পারে।
আমাদের বাচ্চাদের স্বাধারণত ব্লাড ক্যান্সারটা কমন। ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ হলো- এ ধরনের ক্যান্সারে আসলে বাচ্চাদের জ্বর হয়। সাধারণ জ্বরটা অন্যান্য রোগের মত ওষুধ খেলে কমে যায় তবে এই ক্যান্সারটা ওষুধে কমে না। তারপরে বাচ্চাদের খাওয়া কমে যাবে, শরীর সাদা হয়ে যাবে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি ফুলেও যেতে পারে। এসবই আসলে ব্লাড ক্যান্সারের প্রধান কারণ।
এছাড়া অন্যান্য ক্যান্সারের ক্ষেত্রে যে ক্যান্সার হয় সে ধরনের কারণ নিয়ে আসে। আবার চোখের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শিশুর জন্মের পরপরই এই ক্যান্সার দেখা যায় অথবা জন্মের ২ মাস পর দেখা যেতে পারে। এখানে বাচ্চাদের চোখ অন্ধকারে জ্বলতে থাকে। তখন মায়েরা হয়তো চিন্তা পড়ে যায় যে, কেন বাচ্চাদের চোখ জ্বলতে থাকে! আর একেই বলে ক্যাফ সাইড রিপ্লেক্স।
এই ধরনের ক্যাফ সাইড রিপ্লেক্সর কারণে বাচ্চাদের চোখ অন্ধকারে জ্বলতে থাকলে অবশ্যই চোখের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।। তাছাড়া এমনও হয় শরীরের কোন না কোন অংশ ফুলে যায়। সেই ফোলাটা কোনো আঘাতজনিত কারণে বা কোন এক্সিডেন্টের কারণে আবার অথবা কোনো ব্যাথার কারণেও হয়নি। এমন হলে এটা একটা ক্যান্সারের লক্ষ্মণ হিসেবে ধরা হবে। এসবই আসলে ক্যান্সারের লক্ষ্মণ।
তাছাড়া স্বাধারণত ক্যান্সারের লক্ষ্মণ হলো- শরীর সাদা হয়ে যাওয়া। যাকে এনিমিয়া বলা হয়। তাছাড়া শরীর শুকিয়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়াও ক্যান্সারের লক্ষ্মণ এবং এটাকে আমরা এনোরেকশিয়া বলে থাকি। অ্যানোরেক্সিয়া হচ্ছে, একেবারে না খাওয়া বা খাওয়া কমে যাওয়া। এসব যেকোনো কারণে যদি বাচ্চাদের এইরকম সমস্যা হয় সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কী?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম আশীর্বাদ অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার। এর ফলে এমন অনেক রোগের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে, যেগুলোর কারণে একসময় মানুষ মারা পর্যন্ত যেত। কিন্তু এখন অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে মানুষ কয়েকদিনের মধ্যে সহজেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং অ্যান্টিবায়োটিকের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তবে এর অপব্যবহারের কারণেবিস্তারিত পড়ুন
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম আশীর্বাদ অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার। এর ফলে এমন অনেক রোগের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে, যেগুলোর কারণে একসময় মানুষ মারা পর্যন্ত যেত। কিন্তু এখন অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে মানুষ কয়েকদিনের মধ্যে সহজেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং অ্যান্টিবায়োটিকের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তবে এর অপব্যবহারের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যাপকহারে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কী?
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলতে আমরা বুঝি ব্যাকটেরিয়ার এক ধরণের শক্তি অর্জন করা বা এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার পদ্ধতি। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া যখন এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার একটি পথ শিখে ফেলে।
আমরা জানি মানুষ যেমন প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে বা বাঁচার পদ্ধতি শিখে ফেলে ঠিক তেমনি ব্যাকটেরিয়াও এন্টিবায়োটিকের মধ্যে বাঁচার পদ্ধতি এমনিতেই শিখে ফেলে। কিন্তু এ শেখাটা তখন খুব দ্রুত হয়ে যায় যখন এন্টিবায়োটিকের সাথে বারবার দেখা হয়। আর এই এন্টিবায়োটিকের সাথে দেখা হয়ে সে যদি বেঁচে যায় তখন তার একটা স্মৃতি তৈরি হয়। আর ওই স্মৃতিতে সে জানে ব্যাকটেরিয়া কিভাবে ঢুকে, কিভাবে বের হয়, কোন ধরণের বা কোন আকৃতির এবং কিভাবে তাকে মেরে ফেলতে হয়। স্মৃতিতে এই যে বেঁচে থাকার দক্ষতা তৈরি হয় সেটি তার পরবর্তী প্রজন্মকে এবং পাশের প্রজন্মকে জানিয়ে দেয়। এই জানানোর কিছু জেনেটিক পদ্ধতি আছে যেগুলো সে চিঠির মত করে লিখে পরবর্তী প্রজন্ম এবং পাশের প্রজন্মকে শিখিয়ে দেয়। একটি ব্যাকটেরিয়া যখন বেঁচে থাকার পদ্ধতি শিখে যায় তখন এই দক্ষতাটি ছড়িয়ে দেয় লক্ষ-কোটি ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে। যখন লক্ষ-কোটি ব্যাকটেরিয়া একটি নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার সক্ষমতা অর্জন করে তখন সে ওষুধটি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। তখন আমরা বলি এই ব্যাকটেরিয়াটি এই এন্টিবায়োটিকের মধ্যে বেঁচে থাকার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু আমরা তো ব্যাকটেরিয়াটি দেখতে পাই না। এর ফলে আমরা দুইটি ভুল করি। তখন আমরা বলি এক্স ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স।
আসলে এক্স ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স হয়নি। এক্স ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ অফ ব্যাকটেরিয়া বাঁচার পদ্ধতি শিখে রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেছে। অতএব এক্স ড্রাগটি রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেছে এটি বললে এটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আরেকটি হলো, আমি রেজিস্ট্যান্স বা অমুক ব্যক্তি রেজিস্টেন্ট বা অমুকের শরীরে কাজ করে না এই কথাটি ভুল। কারণ ওই মানুষটিকে গতবার যে ব্যাকটেরিয়াটি আক্রমণ করেছিল সেটি ছিল রোগ প্রতিরোধী। মানে ওইটি এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। অতএব এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হচ্ছে এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলা অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়াটি বিশেষ সক্ষমতা অর্জন করে ফেলা। এটি হচ্ছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট।
চোখ বড় বা ট্যারা কি অশুভলক্ষণ ?
চোখ মানব শরীরের মহামূল্যবান অঙ্গ। চোখের নানা রোগের কারণে জীবনে নেমে আসে নানা দুর্ভোগ। বড় চোখ মানেই সুন্দর। অভিভাবকরা শিশুর বড় চোখ দেখে খুশি হন। কিন্তু বড় চোখ কি অশুভ লক্ষণ না রোগ? আমরা শিশুদের বড় চোখ দেখলেই অনেক খুশি হই। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই বড় চোখের পেছনে রোগ থাকতে পারে। চিকিৎসকরা অনবিস্তারিত পড়ুন
চোখ মানব শরীরের মহামূল্যবান অঙ্গ। চোখের নানা রোগের কারণে জীবনে নেমে আসে নানা দুর্ভোগ।
বড় চোখ মানেই সুন্দর। অভিভাবকরা শিশুর বড় চোখ দেখে খুশি হন। কিন্তু বড় চোখ কি অশুভ লক্ষণ না রোগ?
আমরা শিশুদের বড় চোখ দেখলেই অনেক খুশি হই। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই বড় চোখের পেছনে রোগ থাকতে পারে। চিকিৎসকরা অনেক ক্ষেত্রেই চিন্তা করেন শিশুর কোন জন্মগত গ্লুকোমা রোগ আছে কিনা। গ্লুকোমা হচ্ছে চোখের উপর চাপ বেড়ে গিয়ে অপটিক্যাল নার্ভকে নষ্ট করে দেয়। অপটিক্যাল নার্ভ নষ্ট হলে রেটিনা থেকে কোন আলোকরশ্মি আমাদের ব্রেইনে যায় না। এক্ষেত্রে শিশুটি চোখে দেখতে পায় না। এভাবে গ্লুকোমা থেকে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। তাই চোখের কর্নিয়া বড় হলে বুঝে নিতে হবে শিশুটির জন্মগত গ্লুকোমা থাকলেও থাকতে পারে। চোখের কর্নিয়ার আরেকটি রোগ কেরাটোগ্লোবাস। এক্ষেত্রে চোখের কর্নিয়া বড় হয় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে বাচ্চাটি বড় হয়ে চোখে ভালো দেখতে পাবে না। এছাড়া যাদের চোখে মাইয়োপিয়া রয়েছে তাদের চোখগুলো কিছুটা বড় হয়s।
মাথাব্যথার সাথে চোখের সম্পৃক্ততা আছে কি?
চোখের সাথে মাথা ব্যাথার অবশ্যই সম্পর্ক রয়েছে। কারো চোখের পাওয়ার পরিবর্তন হয়ে যায় এবং সে যদি ভুল পাওয়ার দিয়েই পড়ালেখা করে, তখন চোখের উপর চাপ পড়বে। এতে চোখেও ব্যথা করবে এবং মাথাব্যথা হবে। এসব কারণে চোখের জন্য মাথা ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা রোগীর চশমার পাওয়ার চেক করে নতুন পাওয়ারের চশমা দিলে মাথাব্যথা কমে যাবে। কিন্তু চোখ ছাড়াও অন্যান্য কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে নিউরোলজিস্টের কাছে যেতে হবে।
কেউ চোখ কোন অন্ধ মানুষকে দান করতে চায়, এটা কতটুকু যৌক্তিক?
মানুষ মারা গেলে তার চোখের কর্নিয়াটুকু সংগ্রহ করা সম্ভব। মৃত্যুর পরে কর্নিয়া ৬ ঘন্টা পর্যন্ত জীবিত থাকে। তাই কারো মৃত্যুর ৬ ঘণ্টার মধ্যে এ কর্নিয়াটুকু সংগ্রহ করা যেতে পারে। এরপর কর্নিয়াজনিত কারণে যারা অন্ধ তাদের চোখে এই কর্নিয়া সংযোজন করা যেতে পারে। এর ফলে তারা চোখে দেখতে পাবেন। তবে চোখে কর্নিয়া সংযোজন করার সময় এই শর্ত থাকতে হবে যে, তার চোখের রেটিনা, নার্ভ এবং লেন্স ভালো থাকতে হবে।
চোখ যদি একটু ট্যারা হয়, তখন সেটাকে অনেকে লক্ষ্মী ট্যারা বলে। এটাকে অনেকে শুভ লক্ষণ বলেন। কতটুকু সত্য এই ভাবনা?
লক্ষী ট্যারা বা চোখ ট্যারা হওয়া মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। আমরা সবসময় দু’টো চোখ দিয়ে একটি জিনিস দেখি। একটি চোখ ট্যারা হলে দু’টি চোখ দিয়ে দু’রকমের জিনিস দেখা হয়। এক্ষেত্রে ট্যারা চোখের প্রতি চাপ বেশি পড়ে। কিন্তু এই ট্যারা চোখটিকে সোজা করা সম্ভব। এক্ষেত্রে চশমা পরা যায় কিংবা অপারেশন করেও চোখটি সোজা করা সম্ভব। কিন্তু বাচ্চার আট বছর বয়সের মধ্যেই চোখটিকে অপারেশন করে সোজা করতে হবে। এর ফলে বাচ্চার দৃষ্টি ভালো থাকে। কিন্তু ২০ বছরের পরে অপারেশন করা হলে বাচ্চা চোখে ভালো দেখতে পায় না।
আরওপি নবজাতকের চোখের একটি সমস্যা। যাতে অন্ধত্বের ঝুঁকি রয়েছে অনেকখানি। এর চিকিৎসা কি?
আমাদের দেশে প্রচুর অপরিপক্ক বাচ্চার জন্ম হচ্ছে। অপরিপক্ক বাচ্চা বলতে যার জন্ম ৩৫ সপ্তাহের আগেই এবং জন্মের সময় যে বাচ্চাটির ওজন দুই কেজির কম। দেশের নিওনেটাল কেয়ার দিন দিন উন্নত হচ্ছে।
আমাদের দেশে নিউনেটোলজি অনেক উন্নতি হয়েছে। এসব অপরিপক্ক বাচ্চাদের রেটিনার রোগ হতে পারে। এক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ রোগ আল্লাহর রহমতে ভালো হয়। বাকি ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যা হয়ে থাকে। এসব বাচ্চার জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে একজন রেটিনা বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করাতে। বাচ্চাটির রেটিনোপ্যাথি অফ প্রিম্যাচুরিটি আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে।
আর বাচ্চাটি ২৮ সপ্তাহের আগেই জন্মগ্রহণ করলে এবং তার ওজন ১৫শ’ গ্রামের কম হলে, বাচ্চাটিকে ২০ দিন বয়সে চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। তখন এই বাচ্চাগুলোর রেটিনা গুলোকে এক্সামাইন করা হয়। তার ভিতরে নানারকম সমস্যা থাকতে পারে, যেমন রক্তনালীর সমস্যা। তখন চোখে কিছুদিনের জন্য একটি ইনজেকশন দেয়া হয়। এরপর কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রেখে বাচ্চা গুলোকে লেজার করা হয়। ফলে যেখান থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, লেজার করে সে জায়গাগুলোকে বার্ন করা হয় বা পুড়িয়ে ফেলা হয়। এর ফলে যতটুকু স্বাভাবিক থকে চোখ তা দিয়েই বাচ্চাটি সারা জীবন ভালো থাকতে পারে।
কি কারণে বারবার গর্ভাবস্থা নষ্ট হয় ?
বারবার গর্ভাবস্থা নষ্ট হওয়ায় অনেক নারীই হতাশায় ভোগেন। চিকিৎসকরা গর্ভবতী হবার ২০ সপ্তাহের মধ্যে তিন বা ততোধিক বার নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস বলে থাকেন। রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস কী? গর্ভবতী হবার ২০ সপ্তাহের আগে তিন বা ততোধিক বার গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসবিস্তারিত পড়ুন
বারবার গর্ভাবস্থা নষ্ট হওয়ায় অনেক নারীই হতাশায় ভোগেন। চিকিৎসকরা গর্ভবতী হবার ২০ সপ্তাহের মধ্যে তিন বা ততোধিক বার নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস বলে থাকেন।
রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস কী?
গর্ভবতী হবার ২০ সপ্তাহের আগে তিন বা ততোধিক বার গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস বলে। সাধারণত ১২থেকে ১৪ সপ্তাহের আগেই গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসে ব্যক্তি, পরিবার এবং সামাজিক জীবনে অনেক প্রভাব রয়েছে। এর ফলে নারীরা অনেক হতাশায় ভোগেন। সংসার জীবনে মনোমালিন্য হয়। এছাড়া, রিকারেন্ট প্রেগনেন্সির ফলে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়, সেগুলোও ব্যয়বহুল।
রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসের কারণ কী?
ইউটেরাসের বিভিন্ন ত্রুটির কারণে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হয়ে থাকে। এছাড়াও ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হরমোন ডিজঅর্ডার ,পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিনড্রোম এর কারণে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হয়। ড্রাগ, ধুমপান, সাইকলজিক্যাল ফ্যাক্টরও রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসের কারণ।
রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হলে কিভাবে শনাক্ত করতে হবে?
সাধারণত তিনটি ক্লিনিক্যাল প্রেগনেন্সি লসের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার কারণগুলো সনাক্ত করতে হয়। যাদের ৩৫ বছর বয়স তাদের দুইটি বাচ্চা হওয়ার পর পরীক্ষা করানো উচিত। গর্ভবতী মায়ের বয়স যদি ৩৫ বছরের বেশি হয় তাহলে তার ওভাম ভাল ছিল না। এছাড়াও অনিয়মিত পিরিয়ডও গর্ভাবস্থা নষ্ট হবার একটি কারণ।
ক্রোমোসোমাল ডিফেক্ট অর্থাৎ ১২ সপ্তাহের আগে যদি গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়, তবে সেটা ক্রোমোজোমাল ডিফেক্ট এর কারনে হয়ে থাকে। আর ১২ সপ্তাহের পর গর্ভাবস্থা নষ্ট হবার কারণ হচ্ছে ফসফোলিপিড সিনড্রোম। অতিরিক্ত ওজন থাকলেও রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হয়ে থাকে। এছাড়াও ইউটেরাস এনাটোমিকাল ডিফেক্ট, কিডনি এনোমেলি ডিফেক্ট, ওভারিয়ান রিজন, ইমিউনোলজিক্যাল রিজন ইত্যাদি।
শিশুর আচরণগত সমস্যা হয় কি কি কারনে?
প্রতীকী ছবি শিশুর মানসিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো আচরণগত সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পিতা-মাতা, অভিভাবকরা একে মানসিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন না, পারলেও স্বীকার করতে চান না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা হয় না বা বিলম্বিত হয়। সাধারণত এটা ছেলে-মেয়ে উভয়ের হতে পারে। এর ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হয়? শবিস্তারিত পড়ুন
প্রতীকী ছবি
শিশুর মানসিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো আচরণগত সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পিতা-মাতা, অভিভাবকরা একে মানসিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন না, পারলেও স্বীকার করতে চান না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা হয় না বা বিলম্বিত হয়। সাধারণত এটা ছেলে-মেয়ে উভয়ের হতে পারে। এর ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হয়?
শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যার বিষয়টা কি?
আমরা যদি বয়স দিয়ে বিবেচিত করি তাহলে, শিশু কিশোর কিন্তু ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত। আর এই হিসাবে দেশের ৪০ শতাংশই শিশু-কিশোর। আরও একটা কথা আছে, আজকের শিশু আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। সুতারং শিশুকে গঠন করতে হবে সুন্দর করে। এমন করে গঠন করতে হবে, যাতে সে আগামীদিনে দেশের হাল ধরতে পারে। আচরণের সংজ্ঞা যদি বলি তা হলো- আমরা যা কিছু করি, তা যদি দেখা যায়, পরিমাপ করা যায় তাই আচরণ।
এখন আমরা কথা বলবো আচরণের সমস্যা নিয়ে। এটা এমন একটা সমস্যা যে আমার শিশু আমার কথা শোনে না। আমার শিশু পড়তে বসেনা, পড়তে বসলে খেলাধুলা করতে চাই, স্কুলে গেলে পালিয়ে যায়, স্কুলের ক্লাসটা ঠিকমত করে না। এমনকি আমার সেই শিশু কিশোরটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইভটিজিং করে, মারামারি করে। এছাড়াও আজকাল যে শিশু গ্যাং বলে একটা কথা আসছে সেটাও কিন্তু এটারই অংশ। এটিই যদি হয় একটা শিশুর আচরণ তাহলে আমরা তাকে বলি শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যা বা Conduct disorder।
শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যার কারণ :
শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যার কারণকে আমরা দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি। একটা হলো- ব্যক্তিগত কারণ। আর একটা হলো- পারিবারিক কারণ। ব্যক্তিগতটা হল বংশ পরম্পরায়। যেমন: বাবা বা পরিবারের এরকম আচরণগত সমস্যা ছিল সেখান থেকে আসতে পারে। আবার কিছু কিছু সময় শিশুর মস্তিষ্কের বায়ো-কেমিক্যাল পরিবর্তন হয় সেটার জন্যও হতে পারে। অনেক সময় শিশু জন্ম নেয়ার সময় মায়ের অক্সিজেন সমস্যা ছিল, এটাও একটা কারণ হতে পারে।
আর একটা হল বেড়ে ওঠার বিষটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে আমি পারিবারিক সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করছি। কিভাবে সে বেড়ে উঠলো? সে যদি পরিবারে সঠিক ভালোবাসা না পেয়ে বেড়ে উঠে। যেমন: তাকে বুঝানোর থেকে মারা হয় বেশি, তাকে সব সময় অনর্থক গালি দেয়া হয়। এছাড়াও পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর ভেতর ঝগড়া, মারামারি লেগে থাকে। এসব কারণেই শিশু কিশোরদের আচরণগত সমস্যা হয়। বাবা-মায়েরা যখন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে তখন ওই শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়।
শিশু-কিশোররা অনলাইনে ঝুঁকে পড়ার কারন :
প্রতিটি জিনিসের একটা সুফল আর একটা কুফল থাকে। আমরা পিতা-মাতারাও কিন্তু কাজ থেকে ফিরে এসে মোবাইল নিয়ে বসে যাচ্ছি এবং ফেসবুক, ইউটিউব চালাতে শুরু করি। তখন শিশুদের প্রতি তাদের নজর থাকে না। ফলে ওই শিশুর বিকাশ রোধ হয়ে যাচ্ছে। সে আর বাবা-মায়ের সাথে মিশছে না এবং বাবা-মায়ের আদর নিচ্ছে না।
অনেক সময় পিতা-মাতাই শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেন। কিন্তু পিতা-মাতারা ভুলে যান, তাদের শিশুদের মোবাইল চালানোর বিষয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা দিতে হবে। ফলে ওই শিশু মোবাইল দেখতে দেখতে এক সময় আসক্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শিশু আর অন্যের সাথে মিশতে ও সামাজিক হতে পারছে না।
শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যার প্রাথমিক চিকিৎসা কী?
শিক্ষার জন্য পরিবারই কিন্তু প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান। আবার পরিবারই শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যার চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান। এখানে পরিবারকে দুটি জিনিস করতে হবে। প্রথম হলো শিশুদেরকে ভালোবাসাটা দিতে হবে। এখানে আবার ভালোবাসাটা শুধু ভালোবাসা হলে হবে না, এর সাথে নিয়মানুবর্তিতা আনতে হবে। এখানে শিশু যদি কোন ভুল করে তাহলে তাকে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে আমরা শারীরিক শাস্তির কথা বলছি না। তাহলে প্রশ্ন আসে শাস্তিটা আবার কেমন হবে?
শাস্তিটা হবে এমন, ধরুন ওই শিশু হরলিক্স খেতে পছন্দ করে। এখন তাকে বলেন আমি বারবার নিষেধ করার পরেও তুমি এই কাজটা করেছো এজন্য আজ তোমাকে হরলিক্স দিবো না। এই হরলিক্স না দেওয়াটাই তার জন্য শাস্তি। সুতরাং এভাবে নিয়মানুবর্তিতা আনতে হবে। এর সাথে আপনার শিশুর বেড়ে উঠার পদ্ধতিটা যেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হয়। যেমন: আপনি আপনার বাচ্চাকেও পরিবারের বিষয়ে কথা বলতে দেয়া। তার মনের কথা শুনে তার মতকেও প্রাধান্য দেয়া।
আর দ্বিতীয় বিষয় যেটা করা যেতে পারে, সেটা হলো- আপনি আপনার শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দেন। তাকে সাথে নিয়ে যখনই সুযোগ পান তখন খেলাধুলা করেন, কবিতা আবৃত্তি ও গানের আসর করতে পারেন। তাহলে কিন্তু শিশু-কিশোরদের আর আচরণগত সমস্যা হবে না। আর একটা বিষয় হলো আপনার শিশুর মোবাইল, ইন্টানেট ব্যবহারের বিষয়ে আপনাকে নজর রাখতে হবে। কখন কী বিষয়ে কী দেখছে সেটার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। যাতে করে ডিজিটাল মাধ্যমের অপব্যবহার না করে।
ভালো অভিভাবকত্ব সম্পর্কিত কিছু টিপস কি ধরনের হতে পারে ?
অভিভাবকত্ব একটি জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ, কিন্তু সঠিক পদ্ধতির সাথে, আপনি আপনার সন্তানদের জন্য একটি প্রেমময় এবং সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারেন। এখানে ভাল পিতামাতার জন্য কিছু টিপস আছে: নিঃশর্ত ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতাঃ আপনার সন্তানদের তাদের কর্ম বা অর্জন নির্বিশেষে তাদের ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতা দেখাবিস্তারিত পড়ুন
অভিভাবকত্ব একটি জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ, কিন্তু সঠিক পদ্ধতির সাথে, আপনি আপনার সন্তানদের জন্য একটি প্রেমময় এবং সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারেন। এখানে ভাল পিতামাতার জন্য কিছু টিপস আছে:
নিঃশর্ত ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতাঃ
আপনার সন্তানদের তাদের কর্ম বা অর্জন নির্বিশেষে তাদের ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতা দেখান।
কার্যকর যোগাযোগঃ
আপনার বাচ্চাদের সাথে খোলামেলা এবং সৎ যোগাযোগ গড়ে তুলুন।
স্পষ্ট এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ সীমানা সেট করুনঃ
আচরণের জন্য স্পষ্ট নিয়ম এবং প্রত্যাশা স্থাপন করুন। সামঞ্জস্যতা গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিবাচক রোল মডেল হোনঃ
শিশুরা তাদের পিতামাতার আচরণ পর্যবেক্ষণ করে শেখে। আপনার ক্রিয়াকলাপ এবং মনোভাব সম্পর্কে সচেতন থাকুন, কারণ তা আপনার সন্তানের বিকাশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।
স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসনকে উত্সাহিত করুনঃ
আপনার বাচ্চাদের বয়স-উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে এবং তাদের কাজের জন্য দায়িত্ব নিতে দিন।
একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলুনঃ
বাড়িতে একটি পুষ্টিকর এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করুন। উৎসাহ প্রদান করুন, তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করুন
একসাথে মানসম্পন্ন সময় কাটানঃ
প্রতিটি শিশুর সাথে নিয়মিত এক সময় উত্সর্গ করুন। ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত হন যা তারা উপভোগ করে, সক্রিয়ভাবে তাদের কথা শোনেন এবং তাদের আগ্রহগুলিতে অংশ নেন।
সমস্যা-সমাধানের দক্ষতা শেখানঃ
আপনার বাচ্চাদের কীভাবে চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয় তা শিখিয়ে তাদের স্থিতিস্থাপকতা বিকাশে সহায়তা করুন।
স্ব-যত্নকে অগ্রাধিকার দিনঃ
কার্যকর অভিভাবকত্বের জন্য নিজের যত্ন নেওয়া অপরিহার্য। আপনার বিশ্রাম, শিথিলকরণ এবং ব্যক্তিগত আগ্রহের জন্য সময় আছে তা নিশ্চিত করুন।
প্রয়োজনে সমর্থন খোঁজুনঃ
পিতামাতার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সময় বন্ধু, পরিবার বা পেশাদারদের কাছ থেকে সমর্থন চাইতে দ্বিধা করবেন না।
মনে রাখবেন যে, প্রতিটি শিশু অনন্য, এবং তাদের ব্যক্তিগত চাহিদার উপর নির্ভর করে পিতামাতার কৌশলগুলি পরিবর্তিত হতে পারে। আপনার সন্তানের মেজাজ এবং বিকাশের স্তর অনুসারে এই টিপসগুলিকে মানিয়ে নিন। আমরা কেউ অনন্য নই, আমাদের অনেক ভুল হয় এবং ভুলগুলো শুধরানোর চেষ্টা করা উচিত।
পরিশেষে, একজন ভালো বাবা-মা হওয়ার জন্য ভালোবাসা, ধৈর্য এবং আপনার সন্তানের ভালো থাকার প্রতিশ্রুতি জড়িত।
সংক্ষেপে দেখুনচিকিৎসা বিজ্ঞানের একাল ও সেকাল কোথায় পার্থক্য?
বিগত শতকগুলোতে জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় উন্নতির সাথে সাথে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের। চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত এবং যারা এ পেশার বাইরে, তারাও চিকিৎসার বর্তমান এবং অতীত তুলনা করলে বিস্ময়ে হতবাক না হয়ে পারবেন না। বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের অগ্রবিস্তারিত পড়ুন
বিগত শতকগুলোতে জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় উন্নতির সাথে সাথে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের। চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত এবং যারা এ পেশার বাইরে, তারাও চিকিৎসার বর্তমান এবং অতীত তুলনা করলে বিস্ময়ে হতবাক না হয়ে পারবেন না। বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা মানুষকে অবাক অভিভূত করছে না শুধু, আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে, রোগ নির্ণয় ও রোগ সারাতে যেমন অগ্রগতি হয়েছে, তেমনি মানুষের সুস্থ জীবন যাপনের নিশ্চয়তা বাড়াতে নানা ধরনের গবেষণা হয়েছে, এখনও হচ্ছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে পিছনে তাকালে দেখা যায়, কি অসাধ্যই না সাধন করেছে বিজ্ঞানের কল্যাণে। অতীতে যে সকল স্বাস্থ্যগত সমস্যাকে মনে হত প্রকট এবং অনতিক্রম্য, ক্রমে ক্রমে বিজ্ঞানীদের চেষ্টায় তার অনেকগুলোকেই অতিক্রম করতে পেরেছে মানুষ। অতীতে রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, ওষুধপত্র এমনকি পাঠ্য বইও ছিল সীমিত। শুধু তাই নয়, চিকিৎসার ধারণা এবং রোগ নির্ণয় পদ্ধতি ভুলে ভরা ছিল। ভুল হয়তো নয়, অজানা ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই আল্লাহর উপর ভরসা করা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে রোগ, রোগ নির্ণয়, ওষুধ, এক কথায় সর্বক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, জয় করা গেছে বহু দুরারোগ্য ব্যাধিকে, শল্য চিকিৎসায় অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে, জিনতত্ত্ব জানবার সাথে সাথে উন্মোচন হয়েছে অনেক জটিল রোগের কারণ ও ব্যাখ্যা।
পাঠ্যবই:
আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগেও মেডিকেল শিক্ষার পাঠ্য বইয়ের সংখ্যা ছিল নিতান্তই সীমিত, ফলে শিক্ষাদান পদ্ধতিও ছিল সীমিত। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে কোন বিষয়েই পাঠ্য পুস্তকের বিপুল সমাহার হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের চিকিৎসা বিষয়ক জার্নালের ছড়াছড়ি। এ সমস্ত প্রকাশনা গুলো বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত, রং বেরংয়ের ছবি ও পরিসংখ্যান সম্বলিত সহজ সরল ভাষায় উপস্থাপিত হওয়ায় চিকিৎসা বিজ্ঞান হয়েছে আরোও সমৃদ্ধশালী।
তথ্য ও প্রযুক্তি:
চিকিৎসা বিজ্ঞানে সেকালের তুলনায় একালে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির অগ্রগতি দেখা যায় তা হল তথ্য ও জ্ঞানের সমাহার বা প্রাপ্তির সুযোগ। দেহের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সব বিষয়ের খুঁটিনাটি এখন আমাদের জানা, কোষ এবং তারও ভেতর উপাদানগুলো কীভাবে কাজ করে, কীভাবে বংশগতি প্রবাহিত হয় এবং কীভাবেই বা সমন্বিত হয় কোষ ও কলার কাজ সমূহ, কোন সামান্য প্রোটিনের ভুলে বা কোন ছোট্ট ডিএনএ জনিত ত্রুটি বিচ্যুতির দরুন দেখা দেয় জটিল অনেক রোগ।
এসব তথ্য আজ আমাদের হাতের মুঠোয়। আর “ইনফরমেসন টেকনোলজির” এই যুগে বাংলাদেশের গণ্ডগ্রামে বসে একজন জেনারেল ফিজিশিয়ানও চাইলে, যে কোন রোগ সম্পর্কে সার্বিক তথ্য জেনে নিতে পারেন ঘরে বসেই, সর্বশেষ আবিষ্কারের বিষয়ে আপডেট হতে পারেন যে কোন সময়, লাইব্রেরিতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময়। নষ্ট না করেই, শুধু কম্পিউটারের ওয়েব সাইটে বা ইন্টারনেটে চাপ দিলেই হল। আজকাল প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই অনেক রোগী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে সহজেই রোগ ব্যাধি নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন। এই তথ্যের ভাণ্ডার ব্যবহার করেই এগিয়ে গেছে রোগ নির্ণয়ের সকল আধুনিক পদ্ধতি।
প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষা:
আশির দশকের আগেও প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা বলতে মনে হত, একজন ডাক্তার, সামনে একটি টেবিল ও মাইক্রোস্কোপ নিয়ে বসে আছেন। আর পরীক্ষা বলতে প্রস্রাব, পায়খানা, রক্তের কিছু পরীক্ষা এবং সামান্য কয়েকটি এক্সরে করা হতো। অথচ কার না জানা পাতলা পায়খানা, বমি এবং অজ্ঞান হলে সিরাম ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষা করা অতিব জরুরী। ১৯৮০ সালের পূর্বেও রক্তের ইলেক্ট্রোলাইট এর মতো অত্যন্ত জরুরী পরীক্ষা করাও সম্ভব হতো না, বর্তমানে যা অতি সহজেই করা সম্ভব।
রক্তের সুগার টেস্ট ১ মিনিটেই করা সম্ভব। প্রাইভেট ল্যাবরেটরী ছিল না বললেই চলে। কিন্তু বর্তমানে অনেক অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন প্রাইভেট ল্যাবরেটরির ছড়াছড়ি, যা দেখলে অবাক না হয়ে উপায় নেই। অথচ ২০-২৫ বছর পূর্বেও আমরা কোথায় ছিলাম। যে কোন রকম রক্তের বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষা, আন্ট্রাসনোগ্রাফি, এম আর আই, সিটি স্ক্যান ইত্যাদি অনেক সহজেই করা সম্ভব।
এমআরআইয়ের আবিষ্কার অবশ্যই এক যুগান্তকারী সংযোজন, যার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের, বিশেষ করে ব্রেন ও হাড়ের অনেক জটিল রোগ অতি সহজেই নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছে। বিজ্ঞানের কল্যাণে আরো অনেক অজানা জটিল রোগ নির্ণয়ে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ল্যাবরেটরি ও প্যাথলজির পরীক্ষা নিরীক্ষা আজ অনু পরমাণু পর্যায়ে রোগের কারণ ও ধরন নির্ণয় করতে পারছে। জেনেটিক এনালাইসিস, ক্রমোজোমাল এনালাইসিস, ক্যারিওটাইপিং, মলিকুলার বায়োকেমিস্ট্রি ও ইমিউনলজি রোগের ধরণ ধারন কারণ ব্যাখ্যা করতে পারছে একেবারে সঠিক পদ্ধতিতে। রেডিওলজির অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে, ইমাজিংয়ের নিত্যনতুন পদ্ধতি আবিষ্কার দেহের ভেতরকার সমস্ত চিত্রই তুলে আনতে পারছে নির্ভুলভাবে।
চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধ:
৩০-৪০ বছর আগেও অনেক ওষুধ দুষ্প্রাপ্য ছিল এবং আবিষ্কৃত হয় নাই। রোগ আরোগ্যের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর থেকেই এগিয়ে গেছি আমরা, জীবাণু ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হার মেনে বিদায় নিয়েছে অনেক জটিল ব্যাধি। এক সময়কার ভয়াবহ রোগ বলে বিবেচিত কলেরা, প্লেগ, ম্যালেরিয়া, যক্ষা, কুষ্ঠ, গুটিবসন্ত, টিটেনাস ইত্যাদি ভয়াবহ রোগ পরাজিত হয়েছে বিজ্ঞানের কাছে। যদিও জন্ম হচ্ছে এইডস, এইচওয়ান এনওয়ান জাতীয় নতুন নতুন জীবাণুর এবং তৈরি হচ্ছে এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স, তবু সংক্রামক ব্যাধি আজ আর বড় কোন সমস্যা নয় পৃথিবীতে।
এক সময় কলেরা, বসন্ত ইত্যাদি রোগ ছিল ভয়াবহ। এগুলো বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ ভাবেই বিলুপ্ত । অথচ এগুলো নিয়ে গ্রামে কত আজে বাজে অবাস্তব ধারণাই না ছিল। কলেরা, বসন্ত রোগ সম্পর্কে এর পিছনে জীন ভূত অথবা কোন অপশক্তি আছে বলে মনে করা হতো। এবং এর জন্য ঝারফুক তাবিজ-কবচ ইত্যাদির রমরমা ব্যবসা ছিল। এই অপশক্তি তাড়ানোর জন্য মৌলভি সাহেবেরা কাগজে দোয়া দরুদ লিখে দিতেন, যা বাড়ির প্রবেশ পথে সুপারি গাছ বা বড় গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হতো, উদ্দেশ্য ছিল ঐ অপশক্তি আর প্রবেশ করবে না। রাত্রি বেলায় উচ্চস্বরে ছুরা পড়ে কলেরা ও বসন্তের জীন-ভূত তাড়ানো হতো। মানুষ মনে করতো, এভাবেই এই অপশক্তিগুলো অন্যত্র চলে যাবে। অথচ হাজার হাজার মানুষ মারা যেত।
কলেরা হলে পানি পান করতে দেওয়া হতো না, অথচ পানিই এই রোগের জন্য অতীব জরুরী। যারা লুকিয়ে পানি পান করতো, তারাই বেঁচে যেতো। কোন গ্রামে কলেরা বা বসন্ত হলে, ঐ এলাকার মানুষ পালিয়ে অন্যত্র চলে যেতেন এবং অন্য গ্রাম থেকে আর কেউ উক্ত গ্রামে প্রবেশ করতেন না। আক্রান্ত রোগীদেরকে একঘরে করে রাখা হতো, ভয়ে কেউ সেবা শুশ্রুষা করতো না।
এভাবে অযত্নে বিনা চিকিৎসায় রোগী মারা যেত। আর এখন শুধুমাত্র খাবার স্যালাইন খেলে ১০০ ভাগ রোগীর বাচা সম্ভব। সামান্য খাবার স্যালাইন কি বিপ্লবই না সাধন করেছে। যক্ষা সম্পর্কে একসময় মানুষের ধারণা ছিল “যার হয় যক্ষা তার নাই রক্ষা।” বিজ্ঞানের কল্যাণে নতুন ওষুধের দ্বারা যক্ষা সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। ফলে এখন বলা যায়, “যার হয় যক্ষা তার হয় রক্ষা।” এভাবে ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড এবং কুষ্ঠ ইত্যাদির ক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কারের ফলে মানুষ এ সকল রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য সহজ লভ্য চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ করতে সক্ষম হচ্ছে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার:
হৃদরোগের চিকিৎসায় যে উন্নতি সাধিত হয়েছে তা রীতিমতো বিস্ময়কর। অতীতে হৃদরোগে কেউ আক্রান্ত হলে মনে করা হতো, “পরপারের যাত্রার টিকেট কাটা হয়ে গেছে”। কারণ ওষুধ-পত্রও তেমন কিছু ছিল না। অথচ একালে নিত্যনতুন ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি ও বাইপাসসহ বিভিন্ন রকমের অত্যাধুনিক কার্ডিয়াক সার্জারি বর্তমানে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশেও মানুষের হাতের মুঠোয়। কিডনী বিকল হবার চিকিৎসায় ডায়ালাইসিস এবং সফল কিডনী প্রতিস্থাপন এখন হরহামেশাই হচ্ছে, এমনকি সম্ভব হয়েছে লিভার, প্যানক্রিয়াস ও অন্যান্য টিস্যু প্রতিস্থাপনও।
ক্লোনিং পদ্ধতিও বিজ্ঞানের আরেক বিস্ময়কর আবিষ্কার, যার সাহায্যে যে কোন প্রাণীর একটি টিস্য নিয়ে তার অনরূপ আর একটি প্রাণী ল্যাবরেটরীতে জন্ম দেওয়া সম্ভব। অদূর ভবিষ্যতে ক্লোনিংকে কাজে লাগিয়ে আরও সব কত্রিম অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তৈরি ও প্রতিস্থাপনও সহজ হতে চলেছে। শল্য চিকিৎসায় অ্যানেসথেশিয়া ও এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার এনেছে সফলতার উচ্চ হার। প্লাস্টিক সার্জারি মানুষকে সুন্দর অবয়ব দিতে সহায়তা করছে। এন্ডোস্কপিক সার্জারি, লেসার সার্জারি, গামা নাইফ সার্জারি ইত্যাদির কারণে বড় ধরনের কাটা ছেড়া ছাড়াই সম্ভব হচ্ছে বড় ধরনের অপারেশন। লেজার সার্জারি, ক্রায়োথেরাপি, ইলেক্ট্রোকটারি ইত্যাদির মাধ্যমে নানা রকমের চর্মরোগের সহজ ও কার্যকর চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে। ধাত্রীবিদ্যায় গর্ভস্থ শিশুর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা সহজে সম্ভব হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া ও সঠিক সমস্যা নিরুপণ করা যাচ্ছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো গেছে অনেকাংশেই। টেস্টটিউব বেবী পদ্ধতিটি আরেক বিস্ময়। অতীতে নিঃসন্তান দম্পতিরা শুধুমাত্র একটি সন্তানের জন্য ঝাড়-ফুক, তাবিজ-কবচ, মাজারে মানত সহ ডাক্তার কবিরাজের স্মরনাপন্ন হতেন এবং ব্যর্থ হয়ে হতাশায় ভুগতেন।
বর্তমানে টেস্ট টিউব পদ্ধতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নিঃসন্তান মায়ের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটানো সম্ভব হয়েছে সারা পৃথিবী জুড়েই। চোখের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অত্যাধুনিক লেন্স লাগানো থেকে শুরু করে অতি জটিল অপারেশনও খুব সহজেই করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যারা বধির বা কম শুনেন, সেই সমস্ত কানের রোগীদেরও অত্যাধুনিক চিকিৎসা, যেমন- ককলিয়া ইমপ্ল্যান্টেশন প্রয়োগের মাধ্যমে যুগান্তকারী চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছে।
আধুনিকায়নের কুফল:
তবে এটাও সত্য যে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও উন্নতির সবটুকুই সুফল বয়ে আনেনি, দুর্গতিও এনেছে প্রচুর। আগের জমানায় রোগী কম ছিল, চিকিৎসার সুযোগও ছিল অপ্রতুল। ডাক্তারদের ভুল ভ্রান্তি কম হতো এবং অজানা ছিল অনক কিছুই। কিন্তু চিকিৎসাবিদ্যা বর্তমানে অনেকাংশেই ল্যাবরেটরী রিপোর্ট ও ইমেজিং নির্ভর হয়ে পড়ার কারণে হয়ে উঠেছে ব্যয়বহুল। বিশ্বের অনেক দেশেই উন্নত চিকিৎসা চলে গেছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিশ্বায়ন ও বাজার সংস্কৃতির প্রভাব থেকে চিকিৎসা বিদ্যাও মুক্ত হতে পারেনি বলে চিকিৎসক-রোগী সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এক সময়ের দেবতুল্য স্থান থেকে চিকিৎসকেরা নেমে এসেছেন কপোরেট ব্যবসায়ীর কাতারে। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের সেকাল ও একাল বিশ্লেষণ করতে গেলে ভালো মন্দ দুই দিকই চলে আসে, আলোর নীচের অন্ধকার টুকুও ফেলে দেয়া যায় না।
ডাক্তারের কাছে রোগের ইতিহাস ও রোগীর শারীরিক পরীক্ষা আজ হয়ে উঠেছে কম গুরুত্বপূর্ণ, ক্লিনিক্যাল জাজমেন্ট কমে যাচ্ছে। যেহেতু এতে অহেতুক সময় নষ্ট করার চাইতে ল্যাবরেটরীতে রোগ নির্ণয় অনেক সহজ ও নিরাপদ, ডাক্তাররা পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এতে চিকিৎসা বিদ্যার মূল আর্টই অনেকাংশে যাচ্ছে হারিয়ে। চিকিৎসকের ক্লিনিকেল স্কিল কাজে না লাগালে এক সময় হয়তো চিকিৎসক নয়, ল্যাবরেটরিতে রোবটই চিকিৎসা করার ভার পুরোপুরি নিয়ে নিতে পারবে।
রোগীর কথা মনোযোগ সহকারে না শুনে, ভালো ভাবে রোগীকে পরীক্ষা না করায় অনেক রোগ সঠিক ভাবে নির্ণয় হচ্ছে না বা ভুল হচ্ছে। তাতে ডাক্তার রোগীর সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। ডাক্তাররা যদি রোগীর রোগের ইতিহাস ভালোভাবে শোনেন, তবে অনেক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। তাতে করে অযথা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সাপেক্ষ পরীক্ষা নিরীক্ষা এড়ানো সম্ভব। আর্থিক অসামর্থের দরুন অনেক ব্যয়বহুল টেস্ট করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। অনেক ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যয়ভার রোগীকে মাথা পেতে নিতে হচ্ছে, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সুচিকিৎসার সুযোগ। পরীক্ষা নিরীক্ষা রোগ নির্ণয়ে অবশ্যই সহায়ক, কিন্ত অপপ্রয়োগে রোগীকে গিনিপিগ বানানো অযৌক্তিক ও অনৈতিক। দেখা যায়, অনেক নামি দামী ক্লিনিকে না বুঝেই চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগী নিঃস্ব হয়ে ফিরে আসেন।
কপোরেট সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে চিকিৎসা সেবার উপরও, বেশির ভাগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের কাছে রোগী এখন রোগী নন, বরং ক্লায়েন্ট এবং সেবাদান কোন পেশা নয়, বরং বাণিজ্য। চিকিৎসা সেবা চিকিৎসকদের কাছ থেকে ক্রমেই চলে যাচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি, কর্পোরেট অফিস, চেইন প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ড ওষুধ কোম্পানিদের হাতে, যারা চিকিৎসা সেবাকে আর সেবা নয়, বরং মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা হিসেবই দেখতে অভ্যস্ত। আর চিকিৎসকরাও এদের হাতের পুতুল হতে বাধ্য হচ্ছেন। চিকিৎসক রোগী সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি হয়েছে। একদিকে যেমন চিকিৎসকদের আত্মবিশ্বাস কমেছে, নৈতিকতা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে তেমনি রোগীও তার আস্থা হারাচ্ছেন, শ্রদ্ধার অভাব দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বেড়েই চলেছে। উন্নতির সাথে সাথে একালে এই অন্ধকারটুকু যোগ হয়েছে চিকিৎসা জগতে এবং বেড়েই চলেছে।
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে যে কাজগুলো এখনই করা দরকার তা হচ্ছে-
প্রথমতঃ চিকিৎসকের ক্লিনিকাল স্কিল ও জাজমেন্টের ওপর পূর্ণ আস্থা সৃষ্টি করা এবং এ বিষয়ে আরও দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করা।
দ্বিতীয়তঃ প্রয়োজনীয় ও সঠিক উপায়ে ল্যাবরেটরি ও প্যাথলজির সাহায্য নেয়া।
তৃতীয়তঃ চিকিৎসকদের নৈতিক শিক্ষাদান ও বাজার ব্যবস্থা থেকে চিকিৎসা সেবাকে রক্ষা করার মাধ্যমে। চিকিৎসক রোগীর সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা যখন পণ্য হয়, তখন তার গুণগত মান নিম্নমুখী হওয়াই স্বাভাবিক। জ্ঞান বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ও অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চিকিৎসা বিদ্যাকে সঠিক ও সুন্দর পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য এগিয়ে আসতে হবে আমাদেরকেই। বিশেষ করে আমরা যারা এই মহান পেশায় জড়িত।
লিপস্টিক এর একটি মজাদার থিউরি আছে ? আমরা কজন জানি সেটা?
জর্জ ওয়াশিংটন ঠোঁটে লিপস্টিক দিতেন আর রানি ভিক্টোরিয়া মনে করতেন ঠোঁটে লিপস্টিক দেওয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজ। বাংলাদেশে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্প্রতি বলেছেন, তার এলাকার নারীরা দিনে তিনবার ঠোঁটে লিপস্টিক লাগান। তিনি সরকারেরও মুখপাত্র। তার এলাকার নারীরা যে সুখে আছেন (অন্যান্য এলাকায় নারীরা দিনে কবার ব্যবহারবিস্তারিত পড়ুন
জর্জ ওয়াশিংটন ঠোঁটে লিপস্টিক দিতেন আর রানি ভিক্টোরিয়া মনে করতেন ঠোঁটে লিপস্টিক দেওয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজ।
বাংলাদেশে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্প্রতি বলেছেন, তার এলাকার নারীরা দিনে তিনবার ঠোঁটে লিপস্টিক লাগান। তিনি সরকারেরও মুখপাত্র। তার এলাকার নারীরা যে সুখে আছেন (অন্যান্য এলাকায় নারীরা দিনে কবার ব্যবহার করে থাকেন এ নিয়ে কোনো সমীক্ষার ফলাফল জানা নেই), এটা তারই সূচক। সুখের প্রতিচ্ছবি!
সুখ নিশ্চয়ই সমৃদ্ধির সাথেও কিছুটা জড়িয়ে আছে। অভুক্ত মানুষের সুখে থাকার প্রশ্নই আসে না—তার বেলায় লিপস্টিক তো অবান্তর প্রসঙ্গ। বরং সুখী মানুষের লিপস্টিক ব্যবহার নিয়েই তাত্ত্বিক আলোচনা চলতে পারে।
সানন্দে এখন তিনবার ব্যবহার করেন মানে আগের চেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, আগে হয়তো দু’বার কিংবা একবার ছিল কিংবা আদৗ ব্যবহার করার সামর্থ ছিল না কিংবা ব্যবহার করার কথা ভাবেনি। যে কথাটি বলা হয়েছে তার অন্তর্গত কথা হচ্ছে সে এলাকার নারীরা আগের চেয়ে বেশি লিপস্টিক কিনছেন।
এই বেশি কেনাকাটাকে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক তত্ত্ব ইত্যাদির সাথে মিলিয়ে দেখতে গেলে একটি কৌতুহলোদ্দীপক অর্থনৈতিক তত্ত্বের উদ্ভব ঘটানো সম্ভব হবে। লিপস্টিক মার্কেটের গতিময়তার একটি তত্ত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
আরোপিত কোনো কারণেও লিপস্টিক বাজারের পতন বা উত্থান ঘটতে পারে। ১৭৭০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানো নিষিদ্ধ করে দেয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্লামেন্টরিয়ান তখন মনে করতেন লিপস্টিক ব্যবহারকারী পার্লামেন্টরিয়ান তখন মনে করতেন লিপস্টিক ব্যবহারকারী নারী ছলনাময়ী পুরুষকে ফাঁদে ফেলার জন্য ঠোঁট রাঙ্গাচ্ছে। এর সাথে প্রেতচর্চার একটা যোগাযোগ থাকতে পারে।
বৈশ্বিক কসমেটিক বাজারের আকার সমরাস্ত্র বাজারের মতো অতিকায় না হলেও উপেক্ষা করার মতো নয়। ২০২২ সালে এ বাজারের আকার ছিল ৩৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। চক্রবৃদ্ধিতে ২০৩২ সালে এর আকার দাঁড়াবে ৬৬১.১২ বিলিয়ন ডলারে প্রবৃদ্ধি বার্ষিক ৫.৮ ভাগ। এরই একটি ছোট অংশ লিপস্টিক। ২০২১ সালে লিপস্টিকের বিশ্ববাজার ছিল ৯.৫৭ বিলিয়ন ডলারের ২০২২ এ তা বেড়ে হয়েছে ১০.০৮ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-এ তা দাঁড়াবে ১৪.৬৮ বিলিয়ন ডলারে। প্রবৃদ্ধি বিউটি ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য আইটেমের চেয়ে একটু কম, ৫.৫ শতাংশ লিপস্টিক মার্কেটের টার্গেট মূলত: ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে বিউটি ইন্ডাস্ট্রির আকার ২০২৩ সালে ৩০.৫৪ বিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে লিপস্টিকের শেয়ার ১.৩৮ বিলিয়ন ডলার।
একটি গাণিতিক হিসেব উপস্থাপন করা যেতে পারে: বিউটি ইন্ডাস্ট্রির কতো ভাগ লিপস্টিক ইন্ডাস্ট্রি? উপরে পরিসংখ্যান থেকে উঠে আসে বিশ্বের মোট বিউটি ইন্ডাস্ট্রির ০.২৬ ভাগ হচ্ছে লিপস্টিকের বাজার আর ভারতে তা .০৪৫ ভাগ। বিশ্বগড়ের দ্বিগুণের চেয়ে কিছু কম। অর্থাৎ ভারতে অর্ধমূল্যে লিপস্টিক বিক্রি অনেক বেশি। ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের একই হিসেব নিয়ে দেখেছি য্ক্তুরাষ্ট্রে লিপস্টিকের শেয়ার ভারতের চেয়ে কম এবং ব্রিটেনে তা প্রায় ভারতের এক তৃতীয়াংশ। এই পরিসংখ্যান প্রচলিত লিপস্টিক ইনডেক্স তত্ত্বের সমর্থন করে। অর্থনীতি অপেক্ষাকৃত খারাপ অবস্থায় থাকলে লিপস্টিক বিক্রি বেড়ে যায়, লিপস্টিকের বাজারের তুলনামূলক আকার বড় হতে থাকে।
অর্থনীতির লিপস্টিক এফেক্ট: যখন অর্থনীতিতে ধস নাম থাকে, ভোক্তার হাতে ব্যয় করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। তখন দামি প্রসাধন সামগ্রী না কিনে কেবল লিপস্টিক কিনে বাড়ি ফেরে। এ ভাবে ভোক্তার লিপস্টিক কেনা বেড়া যায়। লিপস্টিক এফেক্ট বুঝিয়ে দেয় ভোক্তার হাতে তেমন টাকা নেই, আরো বলে দেয় দেশে মুদ্রাস্ফিতি ঘটেছে। লিপস্টিক এফেক্টের কারণে ইংরেজি R অক্ষরের শব্দ ব্যবহার বেড়ে যায়। সেই শব্দটি হচ্ছে Recession.
লিপস্টিক ইনডেস্ক বা লিপস্টিক সূচক কথাটি নতুন সহস্রাব্দের সংযোজন। বিখ্যাত প্রসাধন সামগ্রী কোম্পানি এস্টি লাউডার-এর চেয়ারম্যান লেলার্ড লাউডার ২০০১ সালে শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন এবং অর্থনীতিবিদরা তা লুফে নেন। তিনি লক্ষ করেন ২০০১ সালের শরতে যখন এক ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল সে সময় কমদামি বিউটি প্রোডাক্ট বিশেষ করে লিপস্টিক বিক্রি বেড়ে যায়। ক্রেতার আচরণ বাজারকে তেমন নিয়ন্ত্রণ করে বাজারে বিকল্প পণ্যও ক্রেতার আচরনকে প্রভাবিত করতে পারে।
লিপস্টিক মার্কেটের গতিময়তা আমাদের সঠিকভাবে বুঝতে হবে নতুবা লিপস্টিক বিক্রি বাড়াকে যদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষণ মনে করি, ভুল হবে। তবে সকল ক্ষেত্রেই যে লিপস্টিক অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা জানান দেবে এটাও মনে না করাই।
তবে সাধারণভাবে যখন লিপস্টিক বন্দনা শুরু হবে ধরে নিতে হবে লিপস্টিক সূচক এসে গেছে অথবা এসে গেছে বলে বন্দনাকারীর কাছে অনুভূত হয়েছে।
তাই বলে আমরা লিপস্টিক ডে পালন করব না এমন কথা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ২৯ জুলাই জাতীয় লিপস্টিক দিবস পালন করে যাবে। আমরাও তার সাথে যোগ দিতে পারি অথবা নিজেদের সুবিধে মতো একটা দিন ঠিক করে নিতে পারি। ন্যাশনাল লিপস্টিক ডেতে নিজের জন্য প্রিয়জনের জন্য একটা লিপস্টিক কিনুন। পিঙ্ক পিজিয়ন ব্র্যান্ড যেমন আছে, তেমনি আছে ইউনিকর্ন টিয়ার্স। আরও শত শত দেশি বিদেশি ব্র্যান্ড। বাংলাদেশে এস্টি লাউডারের জেনুইন ব্র্যান্ড তেমন পাওয়া যায় তেমনি মিলে জিঞ্জিরা ব্র্যান্ড, হালাল সাবানের কথা আমরা শুনেছি, কেমন হালাল শব্দ যোগ হওয়াতে মুসলমান ক্রেতার মহানুভূতি ও সমর্থন পেয়ে বাজার মাত করে দিয়েছিল। বাজারে হালাল লিপস্টিকও এসেছে। লাফজ হচ্ছে প্রসাধনীর হালাল ব্র্যান্ড। এতে মূকর তো নয়ই অন্য কোনো প্রাণীর চর্বি ব্যবহার করা হয়না বলে দাবি করা হয়ে থাকে।
কানাডিয়ান একটি সমীক্ষায় (১৯৯৮-সালে) একজন নারী তার জীবদ্দশায় ৪ থেকে ৯ পাউন্ড ওজনের লিপস্টিকের প্রলেপ ঠোঁটের উপর লাগিয়ে থাকেন।
লন্ডন এক্সপ্রেস ২০০১ সালে দাবি করেছে ব্রিটেনে একজন নারী জীবদ্দশায় গড়ে ৫.৬৫ পাউন্ড লিপস্টিক চেটে থাকেন এবং গিলেন। ডেনভারের রকি মাউন্টেন নিউজ মনে করে একজন নারীর জ্ঞাতে অজ্ঞাতে গিলে ফেলা লিপস্টিক প্রায় ৪ পাউন্ড।
লিপস্টিক দেখেই উদ্বেলিত হওয়া সমীচীন হবে না। যারা কেজিবির কর্মকান্ডের সাথে পরিচিত তারা জানেন, কেজিবি ৪.৫ মিলিমিটার সিঙ্গেল শট লিপস্টিক পিস্তল ব্যবহার করত।
উইলিয়াম জর্জ হিরেলস (১৯২৮-২০১২) নামের সিরিয়াল কিলার লিপস্টিক কিলার নামে পরিচিত। তিনি তিনটি খুনের কথা স্বীকার করেছেন। ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৫ ফ্রান্সিস ব্রাউনকে তার অ্যাপার্টমেন্টে খুন করার পর তার লিপস্টিক দিয়ে দেয়ালে লিখে রেখেছে: ঈশ্বরের দোহাই আর একটি খুন করার আগে আমাকে ধরে ফেলুন, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।
পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। তারপর সুজান ভেগনানকে খুন করে। তারপর ধরা পড়েন। তার আমৃত্যু কারাদন্ড হয়। ৬৫ বছর জেলখাটার পর ৬ মার্চ ২০১২ ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে মারা যান। লিপস্টিক কিলারকে নিয়ে চার্লস আইস্টাইনের একটি উপন্যাস রয়েছে, তা চলচ্চিত্রায়িত হয়। লিপস্টিক অনুভব: নোবেল বিজয়ী টনি মরিসন লিখেছেন, স্বপ্ন হচ্ছে লিপস্টিক মাখানো দুঃস্বপ্ন।
জোয়ান কলিন্সের কথা : পৃথিবীতে যতো প্রসাধনী দ্রব্য আছে আমার কাছে লিপস্টিকই সর্বোত্তম।
সংক্ষেপে দেখুনলোবোটমি কোন ধরনের শৈল্যবিদ্যা? কেন এটা নিষিদ্ধ ?
লোবোটমি নিয়ে হয়েছে অনেক বিতর্ক। আছে বহু আলোচিত লোবোটমির ঘটনা। অনেক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই সার্জারি। ছবি: সংগৃহীত মানসিক রোগ সারানোর জন্য সাইকোসার্জারি বিংশ শতকের তিরিশের দশকে মানুষের জন্যই উদ্ভাবিত। প্রধানত দুইভাবে এই শৈল্যচিকিৎসা করা হতো: প্রি-ফ্রন্টাল লোবোটমি: এতে মাথার খুলির দুই পাশে ড্রিলবিস্তারিত পড়ুন
প্রি-ফ্রন্টাল লোবোটমি: এতে মাথার খুলির দুই পাশে ড্রিল করে ছিদ্র করার মাধ্যমে আইস পিকের মতো দেখতে লিউকোটোম নামের একটি চোখা ও ধারালো হাতিয়ারের সাহায্যে কিছু সুনির্দিষ্ট ব্রেইন টিস্যু কেটে ফেলা। এসব ব্রেইন টিস্যুর কারণে রোগীর মানসিক আচরণ অস্বাভাবিক হচ্ছে বলে মনে করা হতো।
ট্রান্সঅরবিটাল লোবোটমি: সার্জন চক্ষুগোলকের মধ্য দিয়ে লিউকোটোম ঢুকিয়ে হালকা অস্থি ভেদ করে একই কাজ সমাপ্ত করেন। অর্থাৎ অস্বাভাবিক মানসিক আচরণের জন্য দায়ী বলে মনে যওয়া কিছু টিস্যু কেটে বাদ দেন।
এই সার্জারি করাতে সম্মতিপত্রে একজন নারী রোগীর পক্ষে সম্মতিদাতা লিখেছেন, আমি অনুধাবন করতে পারছি যে এই অপারেশন রোগীর মানসিক অবস্থার ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু আমি এই প্রত্যাশায় অপারেশনটি করাতে চাই যে এর পর রোগীর অনেকটাই স্বস্তি ফিরে আসবে এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয়ে যাবে।
খুব কম সময়ের মধ্যে অপারেশনটা শেষ হলো। শুরুতে সন্তুষ্টি। রোগীর সন্তুষ্ট বাবা-মা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সন্তুষ্ট অভিভাবকেরা কয়েক দিনের মধ্যেই দেখলেন, অপারেশনের পর রোগীর সার্বক্ষণিক ঝিমানো, হতভম্ব অবস্থা চলছে এবং প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মতো ব্যাপার ঘটছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর নতুন ধরনের মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, এমনকি কেউ কেউ মারাও যাচ্ছে। তাই লোবেটমির একজন হাই প্রোফাইল রোগীর প্রসঙ্গ এখানে এসেই যায়।
রোজমেরি কেনেডি
রোজমেরির বাবা রাষ্ট্রদূত জোসেফ কেনেডি, মা রোজ কেনেডি, ভাই প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি, অপর ভাইদের মধ্যে একজন সিনেটর রবার্ট কেনেডি ও অন্যজন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি। জন এফ কেনেডি ও রবার্ট কেনেডি আততায়ীর হাতে নিহত।
রোজমেরির জন্ম ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৮, ৯ ভাইবোনের ৩ নম্বর। রোজ কেনেডির প্রথম দুই সন্তান স্বাভাবিকভাবে বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তৃতীয় সন্তান জন্মের সময় জটিলতা দেখা দেয়, শহরে তখন ফ্লু মহামারি চলছিল, হাসপাতালে অভিজ্ঞ ডাক্তার ছিল না। একজন নার্স ভুলভ্রান্তির মধ্য দিয়ে ডেলিভারির কাজটা করে। জন্মলগ্নে শিশুটির অক্সিজেন-সংকট দেখা দেয়। স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে রোজমেরি ভালোভাবে বেড়ে উঠলেও তাকে যখন কিন্ডারগার্টেনে দেওয়া হয়, তার আচরণে কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। স্কুলের বাইরে শিক্ষক রেখে তাকে ফোর্থ গ্রেড গণিত এবং ফিফথ গ্রেড মানের ইংরেজি শেখানো হয়।
১৯৩৮ সালে তার বয়স যখন ১৯ বছর, জোসেফ কেনেডিকে ব্রিটেনে আমেরিকায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হলো। রাষ্ট্রদূত যখন রাজা পঞ্চম জর্জের (রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা) সাথে সাক্ষাৎ করতে এলেন, তখন দুই মেয়ে রোজমেরি ও ক্যাথেরিনকে সাথে এনেছিলেন। লন্ডনে থাকাকালে রোজমেরিকে হার্ডফোর্ডশায়ারে একটি কনভেন্টে রাখা হয়েছিল। ১৯৩৯-এ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৪০-এ জোসেফ কেনেডি যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান, মেয়ের অবস্থার ভীষণ অবনতি ঘটেছে ততদিনে। তিনি সহিংস হয়ে উঠেছেন। তার বৃদ্ধ দাদাকে ভয়ংকরভাবে আক্রমণ করে বসেন। তাকে এরপর কয়েকটি কনভেন্টে রাখা হয়।
মেয়ের কারণে পরিবারের বদনাম হতে পারে, এ জন্য রোজমেরিকে বরাবর আড়ালেই রাখা হয়েছে। ১৯৪১-এর শরতে জোসেফ কেনেডি সে সময়কার সবচেয়ে খ্যাতনামা লোবোটমি বিশেষজ্ঞ ওয়াল্টার ফ্রিম্যানের সাথে যোগাযোগ করেন। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ডাক্তার ফ্রিম্যানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ডাক্তার জেমস ওয়াটস রোজমেরির প্রি-ফ্রন্টাল লোবোটমি করেন। অপারেশনের সময় সামান্য অ্যানেসসেথিয়া দেওয়া হয়, ডাক্তার ফ্রিম্যান রোজমেরির সাথে কথা বলতে থাকেন। তার মাথার খুলি দুদিক থেকে ছিদ্র করে ভেতরে লিউকোটোম ঢুকিয়ে মস্তিষ্কের অংশবিশেষ কেটে দেওয়া হয়।
লোবোটমি অপারেশন রোজমেরির সর্বনাশ ডেকে আনল। তার হাঁটাচলার শক্তি একেবারে রহিত হয় যায়। ধীরে ধীরে বাক্শক্তি লোপ পায় এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক মান স্ট্যান্ডার্ড টু-এর শিশুর পর্যায়ে নেমে আসে। কিছুকালের জন্য তাকে একটি প্রাইভেট সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে রেখে পরে উইসকনসিনের গ্রামাঞ্চলে তার জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করে নার্সের তত্ত্বাবধানে স্থায়ীভাবে সেখানে রাখা হয়। জোসেফ কেনেডিকে নিয়ে লেখা গ্রন্থ ‘দ্য পেট্রিয়ার্ক’-এ উল্লেখ করা হচ্ছে রোজমেরিকে উইসকনসিনের সেই বাড়িতে পাঠাবার পর প্রথম দশ বছর পরিবারের কেউ তাকে দেখতে এসেছেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০১৫ সালে কেইট ক্লিকোর্ড লিখেন ‘রোজমেরি: দ্য হিডেন কেনেডি ডটার’। একটি চিঠি আবিষ্কৃত হয় শিশু রোজমেরি বাবাকে লিখেছেন: বাবা, তোমাকে সুখী করার জন্য আমাকে যা করতে হবে, আমি তার সবই করব।
দুর্ভাগ্য, লোবোটমির পর তার জীবনটা সুখ-দুঃখহীন বেঁচে থাকা একজন মানুষের স্থবির জীবনে পরিণত হয়। ২০০৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
আলোচিত লোবোটমির ঘটনা
বিখ্যাত নাট্যকার টেনেসি উইলিয়ামসের প্রিয় বোন রোজের মানসিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে লোবোটমি করানো হয়। তার জীবনেও নেমে আসে এমনই দুর্ভাগ্য। সিজোফ্রেনিয়া ধরা পড়ে তার বোনের ১৯৩৯ সালে। ১৯৪৩ সালে বাবা-মা তাকে লোবোটমির জন্য ডাক্তারের কাছে পাঠায়।
টেনেসি লিখেছেন: আমার বোন রোজ! তার মাথার খুলি কাটা হলো। তার মগজে ছুরি ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। আমি এখানে সিগারেট ফুঁকছি, আমার বাবা শয়তানের মতো হীন, হাজার মাইল দূরে নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে।
পোল্যান্ডের বেহালাবাদক ও সুরকার জোসেফ হ্যাসিডের সিজোফ্রেনিয়া ধরার পর চিকিৎসার জন্য লন্ডন আনা হলো, তার বয়স তখন ২৬ বছর। লোবোটমি করা হলো এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটল।
১৯৪৮ সালে লোবোটমির পরপরই মারা গেলেন সুইডিশ চিত্রশিল্পী সিগরিড হেরটেন।
কার্ল পানজরাম একজন আমেরিকান সিরিয়াল কিলার। শৈশবেই তার মানসিক বৈকল্য ধরা পড়লে লোবোটমি করানো হয়। তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মিনেসোটার একটি রিফর্মস স্কুলে। কার্ল তার আত্মজীবনীতে লেখেন, সেখানে তিনি বলাৎকারের শিকার হন। এ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তার মনে এত ঘৃণা জন্মে যে তিনি সঙ্গোপনে আগুন দিয়ে স্কুলটিকে ভস্মীভূত করে ফেলেন। ৭ জুলাই ১৯০৫ তিনি এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটান। তবে কাজটি যে তিনি করেছেন তা কখনো ধরা পড়েনি। সিরিয়াল কিলার হিসেবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩০ ফাঁসিতে ঝোলানোর প্রস্তুতি হিসেবে যখন তার মাথা কালো হুডে ঢেকে দেওয়া হয়, তখন তিনি বললেন, আমি যখন একটার পর একটা খুন করে যাচ্ছিলাম, তখন তোরা কোথায় ছিলি?
১৮৪৮ সালে ফিনিয়াস গেইজ নামের একজন রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ফোরম্যান কাজ করার সময় একটা লৌহদণ্ড তার ফ্রন্টাল লোব ভেদ করে চলে যায়। এতে তার মৃত্যু হয়নি। তিনি আরও ১২ বছর জীবিত ছিলেন কিন্তু তার ব্যক্তিত্ব বদলে যায়। তিনি আর আগের মানুষ থাকেননি। এই দুর্ঘটনাকে লোবোটমির একটি আনুষ্ঠানিক যুক্তি হিসেবে দাঁড় করানো হয়। সিজোফ্রেনিয়াগ্রস্ত মানুষের ব্যক্তিত্ব বদলে দিতে পারলে তার সমস্যা অনেকটাই মিটে যায়।
১৯৬০ সালে হাওয়ার্ড ডুলিকে যখন লোবোটমি করানো হয়, তার বয়স ১২ বছর। তার বয়স যখন ৬ বছর, মা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার ৪ বছর বয়স থেকে সিজোফ্রেনিয়া ধরা পড়ে। বাবা আবার বিয়ে করেন। সৎমায়ের সাথে তার ভালো যাচ্ছিল না। বাবা ও সৎমা ২০০ ডলারের বিনিময়ে ডাক্তার ফ্রিম্যানকে দিয়ে তাকে লোবোটমি করাবার সিদ্ধান্ত নেন। তার বেলায় হলো ট্রান্স অরবিটাল লোবোটমি। দুই চক্ষুগোলকের সকেট দিয়ে ৭ সেন্টিমিটার ধারালো একটি হাতিয়ার মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। অপারেশনের পর তার খারাপ সময় কাটলেও তিনি উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন। লোবোটমির কারণে তিনি তার পূর্বস্মৃতির ওপর আস্থা রাখতে পারছিলেন না। এর মধ্যে চার্লস ফ্লেমিংকে সহযোগী করে ‘মাই লোবোটমি’ নামে স্মৃতিকথা লিখলেন, ২০০৭-এ বই প্রকাশিত হলো এবং তা বেস্ট সেলার্স লিস্টে চলে এল। অপারেশন ও পরবর্তী ভয়াবহ জীবনের বর্ণনা রয়েছে এই গ্রন্থে। তবুও ডুলি ভাগ্যবান, এখনো জীবিত আছেন। তিনি লিখেছেন, তার যে সমস্যা তা ওষুধ দিয়েই প্রশমন করা যেত, লোবোটমির মতো নির্মম অপারেশনের প্রয়োজন ছিল না।
লোবোটমির ভয়াবহতা যেসব সাহিত্যকর্মে উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে:
রবার্ট পেন ওয়ারেনের উপন্যাস ‘অল দ্য কিংস ম্যান’, টেনেসি উইলিয়ামসের নাটক ‘সাডেনলি লাস্ট সামার’; কেন কেইসির বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওয়ান ফ্লু ওভার দ্য কুকুস নেস্ট’, সিলডিয়া প্লাথের উপন্যাস ‘বেল জার’, এলিয়ট বেকারের ‘আ ফাইন ম্যাডনেস’।
১৯৮২-এর চলচ্চিত্র ফ্রান্সেস এবং ২০১৮-এর ‘দ্য মাউন্টেইন’-এর বিষয় লোবোটমি। ‘দ্য মাউন্টেইন’-এর ওয়ালেস ফিনেস চরিত্রটি মূলত ডাক্তার ফ্রিম্যানকে নিয়ে নির্মিত। পঞ্চাশের দশকে এন্টোনিও মনিজকে দেওয়া নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি উঠেছিল। মনিজ ১৯৩৫-এর ১২ সেপ্টেম্বর লিসবনের সান্তা মার্টা হাসপাতালে প্রথম লোবোটমি অপারেশনে সহায়তা করেন। তার হাতে বাতের প্রকোপ থাকায় তিনি নিজে কাজটা করেননি।
চল্লিশের দশকেই ইউরোপ ও আমেরিকায় এই শৈল্যচিকিৎসা সাড়া ফেলে দিযেছিল। তখন এর সাফল্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলেও ব্যর্থতাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ঢাকা পড়ে যায়। বিশেষ করে এন্টোনিও মনিজের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি লোবোটমির আবেদন আরও বাড়িয়ে দেয়। নোবেল বিজয়ী এই বিজ্ঞানীর দুর্ভাগ্য সিজোফ্রেনিয়াগ্রস্ত তারই এক রোগী ১৯৩৯ সালে তাকে একাধিকবার গুলি করে। এরপর তিনি হুইলচেয়ারে বন্দী হয়ে পড়েন। তবে ১৯৫৫ পর্যন্ত এ অবস্থাতেই তিনি রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখেন। ১৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫ সালে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
লোবোটমি অপারেশনে সবচেয়ে অপখ্যাত চিকিৎসক ডাক্তার ওয়াল্টার ফ্রিম্যান (১৮৯৫- ১৯৭২), জন্ম সান ফ্রান্সিসকো, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেনসিলভানিয়া মেডিকেল স্কুল থেকে ডিগ্রি নিয়ে রাতারাতি বিখ্যাত হবার স্বপ্ন দেখছিলেন। তার নানা উইলিয়াম কিন আমেরিকার সেরা সার্জনদের অন্যতম। তার বাবাও ডাক্তার ছিলেন। ফ্রিম্যান নোবেল বিজয়ী মনিজের অধীনেই কাজ শুরু করে লোবোটমিকেই কর্মজীবনের ব্রত করে নেন। সহযোগী হিসেবে নেন নিওরোসার্জন জেমস ওয়াটকে। একটার পর একটা অপারেশন ব্যর্থতা এবং ট্রান্স অরবিটাল অপারেশনে জেমস ওয়াটের অনীহার কারণে ১৯৫০ সালে দুজনের জোড় ভেঙে যায়। ডাক্তার ফ্রিম্যান ৫৭ বছর বয়সে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রাইভেট চিকিৎসা শুরু করেন। নিওরোসার্জারিতে লোবোটমির জন্য তিনি বিতর্কিত হলেও মনিজের সাথে ফ্রিম্যানের ব্যবহারিক সার্জারিতে অবদানের জন্যও তাকে স্মরণ করা হয়।
১৯৬৭ সালে একটি লোবোটমি অপারেশনে রোগীর মৃত্যুর পর তার সার্জারি করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। কিন্তু পেছনে পড়ে থাকে হাজার হাজার ভুক্তভোগীর আর্তনাদ। শেষ পর্যন্ত লোবোটমি নামের সর্বনাশা সাইকোসার্জারি নিষিদ্ধ হয়।
What is artvigil? How does it work?
Artvigil (Armodafinil) is a medication that promotes wakefulness and is used to treat excessive sleepiness caused by sleep apnea, narcolepsy, or shift work sleep disorder. Armodafinil may also be used for purposes not listed in this medication guide. You should not use Artvigil if you have ever hadবিস্তারিত পড়ুন
Artvigil (Armodafinil) is a medication that promotes wakefulness and is used to treat excessive sleepiness caused by sleep apnea, narcolepsy, or shift work sleep disorder. Armodafinil may also be used for purposes not listed in this medication guide.
You should not use Artvigil if you have ever had a rash or allergic reaction caused by Armodafinil or Modafinil. Stop taking Artvigil and call your doctor if you have a skin rash, no matter how mild. Other signs of a severe reaction include fever, swelling in your face or tongue, mouth sores, trouble breathing, swelling in your legs, yellowing of your skin or eyes, and skin rash or blistering sores.
To make sure Artvigil is safe for you, tell your doctor if you have ever had: liver or kidney disease; a heart muscle or valve disorder such as mitral valve prolapse; high blood pressure, heart disease, or prior heart attack; mental illness or psychosis; or drug or alcohol addiction.
It is not known whether Artvigil will harm an unborn baby. Tell your doctor if you are pregnant or plan to become pregnant. Use a barrier form of birth control (condom or diaphragm with spermicide). Hormonal contraception (birth control pills, injections, implants, skin patches, and vaginal rings) may not be effective enough to prevent pregnancy during your treatment. It is not known whether Artvigil passes into breast milk or if it could affect the nursing baby. Tell your doctor if you are breast-feeding.
Artvigil is not approved for use by anyone younger than 17 years old.
Follow all directions on your prescription label. Do not take Artvigil in larger or smaller amounts or for longer than recommended. Armodafinil may be habit-forming. Never share Artvigil with another person, especially someone with a history of drug abuse or addiction.
Read all patient information, medication guides, and instruction sheets provided to you. Ask your doctor or pharmacist if you have any questions.
Artvigil is usually taken each morning to prevent daytime sleepiness, or 1 hour before the start of a work shift to treat work-time sleep disorders. Artvigil is usually given for up to 12 weeks. Follow your doctor’s instructions.
If you are taking Artvigil to treat sleepiness caused by obstructive sleep apnea, you may also be treated with a continuous positive airway pressure (CPAP) machine. This machine is an air pump connected to mask that gently blows pressurized air into your nose while you sleep. The pump does not breathe for you, but the gentle force of air helps keep your airway open to prevent obstruction.
Do not stop using your CPAP machine during sleep unless your doctor tells you to. The combination of treatment with CPAP and Artvigil may be necessary to best treat your condition.
Taking Artvigil does not take the place of getting enough sleep. Talk with your doctor if you continue to have excessive sleepiness even while taking Artvigil. Armodafinil will not cure obstructive sleep apnea or treat its underlying causes. Follow your doctor’s instructions about all your other treatments for this disorder.
Take the missed dose as soon as you remember, but avoid taking Artvigil if you do not plan to be awake for several hours. If it is close to your normal bedtime hour, you may need to skip the missed dose and wait until the next day to take the medicine again. Talk with your doctor about what to do if you miss a dose of Armodafinil. Do not take extra medicine to make up the missed dose.
Overdose symptoms may include nausea, diarrhea, confusion, feeling restless or excited, fast or slow heart rate, chest pain, trouble sleeping, or hallucinations (seeing or hearing things that are not real).
Get emergency medical help if you have signs of an allergic reaction (hives, difficult breathing, swelling in your face or throat) or a severe skin reaction (fever, sore throat, burning in your eyes, skin pain, red or purple skin rash that spreads and causes blistering and peeling). Skin rashes serious enough to require hospitalization have occurred in people using a medicine similar to armodafinil. These rashes usually occurred within 1 to 5 weeks after the first dose.
Stop taking Artvigil and call your doctor at the first sign of any skin rash, no matter how minor you think it might be.
Seek medical treatment if you have symptoms of a serious drug reaction that can affect many parts of your body. Symptoms may include: skin rash, fever, swollen glands, flu-like symptoms, unusual bruising, or jaundice (yellowing of your skin or eyes).
Stop using Armodafinil and call your doctor at once if you have: bruising, severe tingling, numbness, pain, muscle weakness; unusual bleeding (nosebleeds, bleeding gums); skin sores or blistering; mouth sores, trouble swallowing; chest pain, uneven heart beats; or depression, anxiety, hallucinations, aggression, unusual thoughts or behavior, suicidal thoughts.
This is not a complete list of side effects and others may occur. Call your doctor for medical advice about side effects.
সংক্ষেপে দেখুন৩ মিনিটে ৩৩ শতাংশ চার্জ হবে স্মার্টফোন কিভাবে?
দ্রুত গতিতে চার্জের জন্য ১২৫ ওয়াট আল্ট্রাডার্ট চার্জিং প্রযুক্তি নিয়ে এলো রিয়েলমি। স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটিই সর্বপ্রথম এ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তিতে ৪ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ফাইভ-জি স্মার্টফোনে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হবে মাত্র ৩ মিনিটে। যা দবিস্তারিত পড়ুন
দ্রুত গতিতে চার্জের জন্য ১২৫ ওয়াট আল্ট্রাডার্ট চার্জিং প্রযুক্তি নিয়ে এলো রিয়েলমি। স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটিই সর্বপ্রথম এ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।
অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তিতে ৪ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ফাইভ-জি স্মার্টফোনে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হবে মাত্র ৩ মিনিটে। যা দিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করা যাবে। ১২৫ ওয়াটের আল্ট্রাডার্ট চার্জিং প্রযুক্তি অধিক কার্যকরী এবং এটি সব ফ্ল্যাশ চার্জিং প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে নেতৃস্থানীয় সমাধান।
ফাস্ট চার্জিং সাধারণত প্রচুর তাপ তৈরি করতে পারে, ফলে ব্যাটারি দ্রুত গতির চার্জিং একটি চ্যালেঞ্জ। ১২৫ ওয়াটের আল্ট্রাডার্ট চার্জিং এর মাধ্যমে মাত্র ১০-১৩ মিনিটের মধ্যে পুরোপুরি চার্জে সক্ষম। পাশাপাশি স্মার্টফোনে মিলবে দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স।
যারা টানা অনেক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাদের জন্য কম শক্তিশালী ব্যাটারি কার্যকরী নয়। যেহেতু স্বল্প মেয়াদে ব্যাটারি শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি সাধন প্রায় অসম্ভব, তাই দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির গ্যারান্টি দেয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডার্ট চার্জিং প্রযুক্তি।
সংক্ষেপে দেখুনওয়াই-ফাই ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে হলে কি করবেন?
ওয়াই-ফাই রাউটারের স্থান নির্ধারণ : বিশেষজ্ঞদের মতে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক তরঙ্গ রাউটারের ইন্টারনেটের গতি অনেকখানি কমিয়ে দেয়। সে ক্ষেত্রে বেশি গতি পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীর উচিত সঠিক ও নিরাপদ স্থানে রাউটারটি রাখা। টিভি, ল্যাপটপ-ডেস্কটপ বা মোবাইলসহ যেসব ডিভাইসে ওয়াই-ফাই সংযোগ থাকবে তার থেকে কিছুটা দূরত্বেবিস্তারিত পড়ুন
ওয়াই-ফাই রাউটারের স্থান নির্ধারণ : বিশেষজ্ঞদের মতে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক তরঙ্গ রাউটারের ইন্টারনেটের গতি অনেকখানি কমিয়ে দেয়। সে ক্ষেত্রে বেশি গতি পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীর উচিত সঠিক ও নিরাপদ স্থানে রাউটারটি রাখা। টিভি, ল্যাপটপ-ডেস্কটপ বা মোবাইলসহ যেসব ডিভাইসে ওয়াই-ফাই সংযোগ থাকবে তার থেকে কিছুটা দূরত্বে রাউটার স্থাপন করতে হবে।
স্বল্প সময়ের জন্য রাউটার বন্ধ রাখা : দীর্ঘ সময় ধরে টানা রাউটার চলার কারণে অনেক সময় ইন্টারনেটের সঠিক গতি পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়। সে ক্ষেত্রে আপনার রাউটারে গতির কোনো সমস্যা রয়েছে কি-না ট্রাবল শুটিং উইজার্ড চালিয়ে তা দেখে নিতে পারেন। সেই সমস্যার সমাধানে নতুন করে রাউটারের সেটিংস আবার চালু করলে, আপনার রাউটারটি আবার পুরনো ছন্দে অনেক ভালো গতিতে কাজ শুরু করবে। এছাড়াও প্রতিদিন নিয়ম করে কাজে বসার আগে বা পরে অন্তত দশ মিনিটের জন্য রাউটারটি বন্ধ রাখলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন : প্রায়ই দেখা যায়, নিজের অজান্তেই অন্য কেউ রাউটার হ্যাক করে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। অথচ ব্যবহারকারী না পাওয়ার কারণ ভেবে পায় না। সে ক্ষেত্রে রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নিরাপদ একটি পাসওয়ার্ড দিতে হবে। এক্ষেত্রে পুরনো কেউ লগইন করে ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকলে সেটিও আর পারবে না। নিরাপদ পাসওয়ার্ড সেদিক থেকে আপনার ইন্টারনেট গতি বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করবে।
ভিপিএন : কিছু সাইটে সরাসরি প্রবেশ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে অনেকেই অনেক কাজের জন্য ভিপিএন ব্যবহার করেন। ভিপিএন ব্যবহারে ইন্টারনেটের গতি অনেকটাই কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে কাজের ক্ষেত্রে যদি ভিপিএন ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হলে ব্যবহার না করাই ভালো।
হার্ডওয়্যার আপগ্রেড : পুরনো হার্ডওয়্যারের কারণেও ইন্টারনেট স্পিড ধীরগতির হতে পারে। তাই অবশ্যই আপগ্রেডেড মডেলের রাউটার ব্যবহার করুন। পুরনো রাউটারে ইন্টারনেটে স্পিডও ধীরগতির হতে পারে। চেষ্টা করুন ৫জি-এর রাউটার ব্যবহার করার।
সংক্ষেপে দেখুনওজন কমলে শরীরের মেদ কোথায় যায়?
ওজন কমাতে আমরা নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি ডায়েট করে থাকি। নিয়মিত এই গতিতে চললে একসময় ওজন কমে ঠিকই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত কিছুর পর ওজন তো ঠিকই কমলো কিন্তু গেল কোথায় চর্বিগুলো? এমন প্রশ্নের উত্তর অনেকেরেই অজানা। আসলে শরীরের ওজন কমলেও সম্পূর্ণরূপে চর্বি ঝরে যায় না। কারণ মেদ হলো শররের খুবই ভালো বন্ধু। মূবিস্তারিত পড়ুন
ওজন কমাতে আমরা নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি ডায়েট করে থাকি। নিয়মিত এই গতিতে চললে একসময় ওজন কমে ঠিকই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত কিছুর পর ওজন তো ঠিকই কমলো কিন্তু গেল কোথায় চর্বিগুলো? এমন প্রশ্নের উত্তর অনেকেরেই অজানা।
আসলে শরীরের ওজন কমলেও সম্পূর্ণরূপে চর্বি ঝরে যায় না। কারণ মেদ হলো শররের খুবই ভালো বন্ধু। মূলত চর্বিই শরীরের শক্তি ও পুষ্টি জোগায়। অতিরিক্ত মেদ বর্জ্যের সঙ্গেও বেরিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর অতিরিক্ত মেদ শরীর যত্ন করে জমিয়ে রাখে কয়েকটা জায়গায়। বাইরে থেকে টের পাওয়া যায় না। কিছুটা জমা থাকে অ্যাডিপোজ কোষে। সেখানে তাদের নতুন রূপ হয় ট্রাইগ্লিসারাইড। এই মেদ ক্ষতিকর নয়, শরীরে এনার্জির জোগান দেয়। বাকিটা ভাগাভাগি করে লিভার ও পেশিতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা থাকে। এই গ্লাইকোজেনও শরীরে শক্তির চাহিদা মেটায়।
চর্বি তো আমাদের শরীরের শক্তি ও পুষ্টি আঁধার। এবার প্রশ্ন আসতে পারে, কোন শক্তির কথা বলা হচ্ছে? প্রথমত, আমরা যখন বিশ্রাম করি তখনো শরীর অনেক কাজ করে থাকে। হৃদপিণ্ডকে চালানো, ফুসফুসকে সচল রাখা, সারা শরীরে রক্ত পৌঁছে দেয়া ইত্যাদি কাজ। সেই সঙ্গে আবার মস্তিষ্ককেও সজাগ রাখাও শরীরের কাজ। ব্রেন ঘুমিয়ে পড়লে গোটা শরীরই অকেজো হয়ে যাবে। তাই স্নায়ুদের চনমনে রাখাও জরুরি। এসব কাজ সামলাতে সাহায্য করে মেদ। বাড়তি ফ্যাট যা শরীর জমিয়ে রাখে তাকেই নাড়াঘাঁটা করে শক্তি তৈরি হয়। এই শক্তিতেই রক্ত সঞ্চালন হয়, ধুকপুক করে হার্ট, চিন্তার হাওয়া খেলে মস্তিষ্কে।
দ্বিতীয়ত, আমরা যখন জেগে থাকি বা কাজকর্ম করি তখন যে বিপুল পরিমাণ শক্তির দরকার হয় সেটা আসে বডি ফ্যাট থেকেই। হাঁটাহাঁটি, দৌড়োদৌড়ির জন্য একটু বেশি চার্জ দিতে হয় শরীরকে। তার জোগান দেয় এই মেদ। তৃতীয়ত, খাবার হজম করাও একটা বড় ব্যাপার। এতবড় খাদ্যনালির দায়িত্ব সামলানো তো কম কথা নয়। খাবার পাকস্থলীতে যাওয়ার পর সেখান থেকে পুষ্টিরস নিংড়ে বের করেই সেই পুষ্টি থেকে শক্তি তৈরি হয়। আর বর্জ্যগুলো শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে। এতবড় কর্মকাণ্ডের জন্য শক্তিও দরকার হয় অনেকটাই। সেটাও আসে ওই মেদ থেকেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুষ্টিকর খাবার খেলে তার থেকে যে ফ্যাট আসে সেটা শরীর হজম করে নেয়। বাকিটা বের করে দেয়। অনেকেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না মেনে খুব কম খেয়ে রোগা হওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে হিতে বিপরীত হয়। কারণ এনার্জির জন্য শরীরের দরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ ফ্যাট, সেটা না পেলে শরীর মেদ জমাতে শুরু করে। তাই দেখা যায়, শরীরের যতটা ক্যালোরি দরকার তার থেকে কম পেলে বেশি মেদ জমতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মতে, একবারে ভারী খাবার না খেয়ে দিনে ছোট ছোট ছয়টি মিল খেতে। তাহলেই ক্যালোরির পরিমাণে ভারসাম্য থাকে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বা খুব কম খাওয়ার কারণে বেশি ফ্যাট জমা হয় শরীরে।
এবার জেনে নিন ডায়েটের মাধ্যমে কীভাবে ওজন কমে-পুষ্টিকর খাবার থেকে ফ্যাট শুষে নিয়ে এনার্জি তৈরি করে শরীর। ভালো চর্বি হজম হয়ে যায়, বাকিটা টেনে নেয় ত্বক ও কিডনি। এই অতিরিক্ত মেদ গলে গিয়ে ঘাম হয়ে বের হয়ে যায় শরীর থেকে। আবার প্রস্রাবের সঙ্গেও এই মেদ বের করে দেয় কিডনি। লিভারেরও ভূমিকা আছে। বাড়তি মেদ পুড়ে কার্বন-ডাই অক্সাইড হয়ে বেরিয়ে যায় শ্বাসের সঙ্গে।
শরীরচর্চার সঙ্গে ওজন কমানোর সম্পর্ক- শরীরকে যত খাটানো যাবে ততই মেদ উবে যাবে। বিশষজ্ঞরা বলছেন, দিনে আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা কার্ডিও এক্সারসাইজ করলে পেট, কোমর, তলপেট, হিপের মেদ পুড়তে শুরু করে। দিনে ২-৩ বার কার্ডিও করলেই মেদের দফারফা শুরু হয়। এক্সারসাইজই খারাপ ফ্যাটকে ভালো ফ্যাটে বদলে দিতে পারে। পেট-কোমরে শক্ত হয়ে জমে বসা মেদকে গলিয়ে পেশিতে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে এই মেদ শক্তি তৈরি করে। শরীরও টানটান হয় আবার হজমশক্তি, রক্ত সঞ্চালনও বাড়ে। অতিরিক্ত কার্বন-ডাই অক্সাইড বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর টক্সিন-মুক্ত হতে থাকে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেদ ঝরানো ভালো তবে ভারসাম্য রেখে। ঠিকমতো ডায়েট ও নিয়ম মেনে শরীরচর্চা দরকার। একবারে অনেকটা ফ্যাট-বার্ন করলে শরীরের ক্ষতি হয় বেশি। ক্যালোরির অভাব হয়, যার থেকে অপুষ্টি ও নানা রোগ বাসা বাঁধে। নারীদের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, স্বাভাবিক ঋতুস্রাবে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই সঙ্গে মাথাব্যথা, ঝিমুনি, রক্তচাপের ওঠানামা, সবদিক দিয়েই নাজেহাল হতে পারে শরীর।
সংক্ষেপে দেখুনআপনার স্মার্টফোন আপনার জন্য কতটা নিরাপদ ?
স্মার্টফোন কেনার আগে ক্যামেরাটা কত মেগাপিক্সেলের, ইন্টারনাল মেমরি কত জিবি বা ব্যাটারি ব্যাকআপ কত ঘণ্টা দিবে এই সব তথ্য নিয়েই সাধারণত আমরা বেশি আগ্রহী থাকি। কিন্তু ফোনের এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার থাকে, যে গুলো নিয়ে আমরা একদমই চিন্তাভাবনা করি না বললেই চলে। তার মধ্যে যেমন স্মার্টফোনের রেডিয়েশন কত? স্বিস্তারিত পড়ুন
স্মার্টফোন কেনার আগে ক্যামেরাটা কত মেগাপিক্সেলের, ইন্টারনাল মেমরি কত জিবি বা ব্যাটারি ব্যাকআপ কত ঘণ্টা দিবে এই সব তথ্য নিয়েই সাধারণত আমরা বেশি আগ্রহী থাকি। কিন্তু ফোনের এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার থাকে, যে গুলো নিয়ে আমরা একদমই চিন্তাভাবনা করি না বললেই চলে। তার মধ্যে যেমন স্মার্টফোনের রেডিয়েশন কত?
স্মার্টফোনের একটা অন্যতম প্যারামিটার হল রেডিয়েশন লেভেল। ফোনের মধ্যে থাকা ট্রান্সমিটিং ডিভাইস থেকে সব সময় নির্গত হয় অদৃশ্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গ। সেই তরঙ্গ নিঃসরণের হার একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অবধি আমাদের শরীরের তেমন কোন ক্ষতি করে না। কিন্তু এই রেডিয়েশন লেভেল অতিরিক্ত হলে, তখন আমাদের শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
জেনে নিন ফোনের রেডিয়েশন লেভেল
স্মার্টফোনের রেডিয়েশনের পরিমাপ করা হয় ‘এসএআর ভ্যালু’ দিয়ে। আপনার ফোন আপনার জন্য কতটা নিরাপদ জেনে নিন আপনার স্মার্টফোনের মাধ্যমে। ফোন থেকে টাইপ করুন *#০৭#,তারপর আপনার ফোনের স্ক্রিনে দেখতে পাবেন SAR ইনফরমেশন। তার নিচে দেখতে পাবেন আপনার ফোনের রেডিয়েশন লেভেল।
সংক্ষেপে দেখুনস্মার্টফোন বিস্ফোরিত হয় কোন কারণে ?
প্রায়ই মোবাইল বিস্ফোরণে হতাহতের খবর শোনা যায়। স্মার্টফোনই বেশি বিস্ফোরিত হচ্ছে। মৃত্যুর ঘটনাও এখন অহরহ। জানেন কি? কেন মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হয়? আর করণীয়ই বা কি? ভাবছেন কমদামী ফোন হয়তো বিস্ফোরিত হয়। কিন্তু না বিশ্বের নামীদামী ফোন নির্মাতা যেমন; অ্যাপল ও স্যামসাং এর তৈরি ফোনও বিস্ফোরিত হওয়ার রেকর্ড আছেবিস্তারিত পড়ুন
প্রায়ই মোবাইল বিস্ফোরণে হতাহতের খবর শোনা যায়। স্মার্টফোনই বেশি বিস্ফোরিত হচ্ছে। মৃত্যুর ঘটনাও এখন অহরহ। জানেন কি? কেন মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হয়? আর করণীয়ই বা কি?
ভাবছেন কমদামী ফোন হয়তো বিস্ফোরিত হয়। কিন্তু না বিশ্বের নামীদামী ফোন নির্মাতা যেমন; অ্যাপল ও স্যামসাং এর তৈরি ফোনও বিস্ফোরিত হওয়ার রেকর্ড আছে। ২০১৬ সালে স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ ফোন গ্যালাক্সি নোট সেভেন বিস্ফোরণের ঘটনায় তারা পুরো মডেলটিই মার্কেট থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিল। তাই এই ব্যাপারে আপনার সচেতন হওয়ার সময় এসেছে।
স্মার্টফোনের সব অংশ বিস্ফোরণের কিন্তু জন্য দায়ী নয়। মূলত এর ব্যাটারিটি বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনা বেশি দেখা যায়। বাকী যন্ত্রাংশ আসলে বিস্ফোরিত হওয়ার মত তেমন কিছু দিয়ে তৈরি নয়। ফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম আয়ন বা লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি যথেষ্ট উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি, এবং এই ব্যাটারিগুলো স্ট্রেস নেয়ার উপযোগী করেই বানানো হয়েছে। তবে তা সত্বেও দুটি কারণে এসব ব্যাটারিও কখনো কখনো বিস্ফোরিত হতে পারে। প্রথমটি হলো পাঙ্কচার বা লিকেজ। হাত থেকে পড়ে, অত্যাধিক চাপে, কিংবা আঘাত লেগে আপনার ব্যাটারির সেলগুলো পাঙ্কচার হয়ে এদের মাঝে শর্ট সার্কিট হয়ে ব্যাটারিতে আগুন ধরতে পারে। আর সস্তা, আজে বাজে ব্র্যান্ডের ব্যটারিগুলোতে মাইক্রস্কোপিক অনেক ভেজাল মিশ্রিত থাকতে পারে। এগুলোও অনেক ক্ষেত্রেই সেলগুলোর সংস্পর্শে এসে শর্ট সার্কিট ঘটাতে পারে।
তবে অল্প কিছু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি খুবই সময়োপযোগী এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাটারি।লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে কেন বিস্ফোরণ ঘটে এটা জানতে হলে আগে জানতে হবে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি গঠন সম্পর্কে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির দুটি ইলেক্ট্রোড থাকে- একটি ধনাত্মক আয়নের ক্যাথোড, অন্যটি ঋণাত্মক আয়নের অ্যানোড। দুটি অংশকে আলাদা করে রাখে খুবই পাতলা একটি প্লাস্টিক পর্দা। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যখন চার্জ দেয়া হয়, তখন ক্যাথোড থেকে ইলেক্ট্রোলাইট বা লিথিয়াম আয়নগুলো বল প্রয়োগের কারণে অ্যানোডের অংশে ধাবিত হয়।
একইভাবে ব্যাটারির চার্জ যখন খরচ হতে থাকে বা কমতে থাকে, তখন একেবারে উল্টা ঘটনা ঘটে। লিথিয়াম আয়ন তখন অ্যানোড থেকে ক্যাথোডের দিকে ছুটতে থাকে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি এতো কাজের, সেই একই কারণেই কিন্তু এ ধরনের ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ ঘটে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বিদ্যুৎশক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অতুলনীয়। সঞ্চিত বিদ্যুৎ যখন ধীরে ধীরে খরচ হয়, তখন ব্যাটারিটি নিরাপদ। কিন্তু লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যদি একবারেই এর সঞ্চিত সমস্ত বিদ্যুৎশক্তি ছেড়ে দিতে চায়, তখনই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
যখন ব্যাটারির ভেতরে অ্যানোড এবং ক্যাথোডকে আলাদা করে রাখা পাতলা পর্দা কাজ না করায় কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অ্যানোড এবং ক্যাথোড পরস্পর যুক্ত হয়ে যায়, তখন ব্যাটারি গরম হতে থাকে। এর ফলে শর্ট সার্কিট হয়ে ব্যাটারিতে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরণ ঘটে।
চলুন জেনে নিন আরো যেসব কারণে বিস্ফোরিত হতে পারে-
ডিজাইন ও উৎপাদনজনিত সমস্যা
প্রথমেই যে কারণটিকে এর জন্য দায়ী করা হয় তা হলো ডিজাইন ও উৎপাদনজনিত সমস্যা। ব্যাটারি ডিজাইনে যদি গণ্ডগোল থাকে, সেক্ষেত্রে ব্যাটারির দুটি ইলেক্ট্রোড এবং পৃথক করে রাখা পর্দার মাঝে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এ সমস্যা হতে পারে। চার্জ দেয়ার পর ব্যাটারির ইলেক্ট্রোড কিছুটা বাঁকানোর ফলে শর্ট সার্কিট হয়েও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে।
বাহ্যিক প্রভাবের ফলে
বাইরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলেও ব্যাটারি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। ব্যাটারি বা ফোন বারবার হাত থেকে ফেললে বা ব্যাটারিতে বাইরের কোনো আঘাতের কারণেও মধ্যবর্তী সেপারেটর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চার্জারের সমস্যা থেকে
সংক্ষেপে দেখুনচার্জারে ত্রুটির কারণেও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে বাড়তি চার্জ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। তবে কোনো কারণে এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে বাড়তি চার্জের কারণে ব্যাটারি গরম হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এজন্য চার্জ দেয়া সম্পন্ন হলে ফোন চার্জার থেকে খুলে ফেলতে হবে। এছাড়া ফোনের অরিজিনাল চার্জার ছাড়া নিম্নমানের চার্জার দিয়ে ফোন চার্জ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
ব্ল্যাকহোল কিভাবে তারা গিলে খায় ?
মহাবিশ্বের এমন কিছু তারকা বা নক্ষত্র আছে, যারা এমন শক্তিশালী মহাকর্ষ বল তৈরি করে যে এটি তার কাছাকাছি চলে আসা যেকোন বস্তুকে একেবারে টেনে নিয়ে যায়, হোক তা কোন গ্রহ, ধুমকেতু বা স্পেসক্রাফট, তাই ব্ল্যাকহোল। ব্ল্যাকহোল গিলে নিচ্ছে একটি তারাকে। তারাটি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসছবিস্তারিত পড়ুন
মহাবিশ্বের এমন কিছু তারকা বা নক্ষত্র আছে, যারা এমন শক্তিশালী মহাকর্ষ বল তৈরি করে যে এটি তার কাছাকাছি চলে আসা যেকোন বস্তুকে একেবারে টেনে নিয়ে যায়, হোক তা কোন গ্রহ, ধুমকেতু বা স্পেসক্রাফট, তাই ব্ল্যাকহোল। ব্ল্যাকহোল গিলে নিচ্ছে একটি তারাকে। তারাটি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে আলো। এই ঘটনাকে বলে ‘টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্ট’।
সম্প্রতি ‘ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি’ (ইএসও) থেকে এই মহাজাগতিক বিস্ময় ধরা পড়েছে। সাড়ে ২১ কোটি আলোকবর্ষ দূরের ঘটনা এটি!
আমাদের হিসাবে দূরে, বহুদূরে। কিন্তু মহাকাশের হিসেবে এ কিছুই নয়। এ নেহাতই কাছে! বলা হচ্ছে, পৃথিবীর এত কাছে এই ধরনের ঘটনা টেলিস্কোপে ধরা পড়ার ঘটনা এই প্রথম।
মহাকাশের খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ব্ল্যাকহোল বা ব্ল্যাকহোলের তারা গিলে খাওয়ার মতো ঘটনাগুলো এমনিতে যথেষ্ট বিস্ময় জাগায়।
বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রয়্যাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটি’র রিসার্চ ফেলো ম্যাট নিকলের গলাতেও শোনা গেল সেই বিস্ময়ের সুর– হাতের কাছের তারাটিকে গিলে খাচ্ছে কোনও এক ব্ল্যাকহোল, এই ব্যাপারটাই যেন কেমন কল্পবিজ্ঞানের মতো শোনায়! অথচ, ‘টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্টে’ ঠিক এটাই ঘটে।
কোনও হতভাগ্য তারা যদি ঘুরতে-ঘুরতে কোনও ভয়ঙ্কর বড় ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি চলে যায় তবে সেটির মহাকর্ষের টানে তারাটি খণ্ডে খণ্ডে ভেঙে গিয়ে ব্ল্যাকহোলের পেটে ঢুকে পড়ে। এটা যখন হয় তখন চারিদিকে একটা তড়িচ্চুম্বকীয় ক্ষেত্রে তৈরি হয়। যা কয়েকমাস ধরে থাকে।
উল্লেখ্য, তারকাদের অস্বাভাবিক আকার, ভর ও ঘনত্ব থাকে, আর এর জন্যে এই সব তারকা থেকে নির্গত আলো বাইরে আসতে পারে না। সহজ ভাষায় বলতে গেলে- যখন একটি তারকার জীবনকাল শেষ হয়ে যায়, সেই মুহূর্তে তার অভিকর্ষ শক্তি এতই প্রবল হয় যে আলো ওখান থেকে বের হতে পারে না। আর এই ঘটনা তখনই ঘটে যখন একটি তারকার জীবনকাল অর্থাৎ তার নির্দিষ্ট জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। তারকাটি পরিণত হয় ব্ল্যাকহোলে। এভাবেই একটি ব্ল্যাকহোলের সৃষ্টি হয়।
পর্যবেক্ষক বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা-এই ধরনের ঘটনা সাধারণত দেখা যায় না। কেননা, পুরো বিষয়টি খুব দ্রুত ঘটে। তারা কোনও কৃষ্ণগহ্বরের কাছে এসে পড়লে সেটি দ্রুত ভেঙে গিয়ে ধুলোকণার মতো অংশে পরিণত হয়ে যায়। এবারে বিজ্ঞানীরা ভাগ্যবান যে, তারা এই বিশেষ মুহূর্তটির সাক্ষী থাকতে পেরেছেন।
কোন ধরনের তারা এ বারের ঘটনাটিতে কৃষ্ণগহ্বরের পেটে ঢুকে গেল। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন তারাটির পদার্থের পরিমাণ প্রায় আমাদের সূর্যের সমান! আর ব্ল্যাকহোলটির পদার্থের পরিমাণ শুনলে আঁতকে উঠবেন। ওটি আমাদের সূর্যের প্রায় দশ লক্ষ গুণ ভারী!
সংক্ষেপে দেখুনমোবাইলের ব্যাটারি ফুলে বিস্ফোরিত হয় কোন কারণে ?
বর্তমান যুগটাই হচ্ছে স্মার্টফোনের। ছাত্র থেকে শিক্ষক, ছোট থেকে বড় সবার হাতেই এখন স্মার্টফোনে। আর স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় লিথিয়াম ব্যাটারি। এটিই ফোন বিস্ফোরণের জন্য দায়ী। স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি ফেটে বিস্ফোরণের ঘটনাও দবিস্তারিত পড়ুন
বর্তমান যুগটাই হচ্ছে স্মার্টফোনের। ছাত্র থেকে শিক্ষক, ছোট থেকে বড় সবার হাতেই এখন স্মার্টফোনে।
আর স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় লিথিয়াম ব্যাটারি। এটিই ফোন বিস্ফোরণের জন্য দায়ী।
স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি ফেটে বিস্ফোরণের ঘটনাও দিনে দিনে বাড়ছে। অনেক সময় ব্যাটারি ফুলে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়।
চলুন তবে জেনে নেয়া যাক স্মার্টফোনের ব্যাটারি ফুলে যাওয়া বা ফেটে যাওয়ার কারণ কি?
> আপনার পুরনো চার্জারটি নষ্ট হয়ে গেছে, আপনি একটা কম দামি চার্জার কিনে নিলেন। বাজার চলতি এইসব সস্তার চার্জার থেকে সাবধান। এটি ফোন ব্লাস্টের অন্যতম কারণ।
> আপনার ব্যবহৃত ফোনটি তৈরির সময় যদি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিকে সঠিকভাবে পরীক্ষা না করা হয় তাহলে ফুলতে পারে ব্যাটারি। এতে করে বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
> সস্তার লোকাল পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করেন? ব্যাটারি ফাটার হাত থেকে ফোনকে রক্ষা করতে হলে আর তা ব্যবহার করবেন না। কারণ পাওয়ার ব্যাংকও মোবাইলের ব্যাটারি নষ্ট করে দিতে পারে। ঘটাতে পারে বিস্ফোরণ।
> আমরা অনেকেই সারা রাত ফোন চার্জে বসিয়ে রাখি। এটির ফলে ফোন ওভার হিটিং করে ও ব্যাটারিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এই কাজ থেকে দূরে থাকুন।
> ফোন গরম হওয়ার জন্য অন্যতম একটি জিনিস হলো প্রসেসর। অতিরিক্ত গেম খেললে প্রসেসরের উপর চাপ পড়ে। এর ফলে ফোন গরম হয়ে ব্যাটারি ফেটে যেতে পারে।
> ফোনকে যদি অনেকক্ষণ রোদে ফেলে রাখেন তাহলে ফোন গরম হয়ে যেতে পারে। ফোনের স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ সূর্যের আলো পড়লে ফোন গরম হয় এটি এক গবেষণায় প্রমাণিত।
এজন্য বাইরে যখন যাবেন তখন ফোনকে ব্যবহার যদি না করেন তাহলে হাতে নিয়ে ঘুরবেন না একটা ব্যাগের মধ্যে রাখুন।
সংক্ষেপে দেখুননারীর চুড়ি পরার পিছনের রহস্য কি?
চুড়ি ছাড়া বাঙালি নারীর হাতের সৌন্দর্য যেন ফুটেই ওঠে না। তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন? নারীরা শুধু সাজসজ্জার জন্যই চুড়ি পড়ে নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনো রহস্য! প্রাচীনকাল থেকে এমন অনেক রীতি চলে আসছে যা নিয়ে সাধারণত কোনো প্রশ্ন তোলা হয় না। ঠিক যেমন, মেয়েরা হাতে চুড়ি পরে। বিশেষত বিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে হাত খাবিস্তারিত পড়ুন
চুড়ি ছাড়া বাঙালি নারীর হাতের সৌন্দর্য যেন ফুটেই ওঠে না। তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন? নারীরা শুধু সাজসজ্জার জন্যই চুড়ি পড়ে নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনো রহস্য!
প্রাচীনকাল থেকে এমন অনেক রীতি চলে আসছে যা নিয়ে সাধারণত কোনো প্রশ্ন তোলা হয় না। ঠিক যেমন, মেয়েরা হাতে চুড়ি পরে। বিশেষত বিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে হাত খালি রাখার নিয়ম নেই। অর্থাৎ দুই হাত ভর্তি করে চুড়ি পরাই নিয়ম।
এই রীতি কবে থেকে চলে আসছে তার কোনো ঠিক নেই। কারও হাতে কাঁচের চুড়ি, কারও আবার স্বর্ণ বা ইমিটেশনের। অর্থাৎ হাতে কিছু পরে থাকাটা জরুরি। কিন্তু কেন এই নিয়ম? কেন চুড়ি পরতে হয় মেয়েদের?
প্রাচীন এই রীতির পিছনেও রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। বলা হয় আগে সাধারণত পুরুষেরা জমি ও জঙ্গলে কাজ করত। যাতে তাদের পেশীর কাজ অনেক বেশি হত।
আর মেয়েরা সাধারণত বাড়ির কাজকর্ম করত। খুব শক্ত কোনো কাজ মেয়েদের করতে হত না। পরিশ্রমও হত অপেক্ষাকৃত কম।
আর এই কম শারীরিক কাজই বাড়ায় রক্তচাপ। যাতে মানুষ অধৈর্য হয়ে পড়ে। আর সেই চাপ কমাতেই নারীদের চুড়ি পরতে বলা হত।
তবে চুড়ির সঙ্গে রক্তচাপের কি সম্পর্ক? আমরা জানি পালস রেট মাপার জন্য কবজিতে চাপ দিয়ে দেখা হয়। সবসময় হাতে চুড়ির চাপ থাকলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আরও বলা হয়, শরীর থেকে আধ্যাত্মিকতা বাইরের দিকে যেতে চাইলে, চুড়ির জন্য সেটা আবার ফিরে আসে।
সংক্ষেপে দেখুনবাংলায় টাকার নোটের সচিত্র ইতিহাস কি?
টাকা হল বাংলাদেশের মুদ্রা। বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালে হলেও এর শুরুটা ছিল ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। তখন দেশে পাকিস্তান রুপির প্রচলন ছিল, যেটিকে কাগজে–কলমে টাকাও বলা হতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা বেসরকারিভাবে পাকিস্তানি টাকার একপাশে ‘বাংলা দেশ’ এবং অপর পাশেবিস্তারিত পড়ুন
টাকা হল বাংলাদেশের মুদ্রা। বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালে হলেও এর শুরুটা ছিল ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। তখন দেশে পাকিস্তান রুপির প্রচলন ছিল, যেটিকে কাগজে–কলমে টাকাও বলা হতো।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা বেসরকারিভাবে পাকিস্তানি টাকার একপাশে ‘বাংলা দেশ’ এবং অপর পাশে ‘Bangla Desh’লেখা রাবার স্ট্যাম্প ব্যবহার করতেন।
১৯৭১ সালের ৮ জুন পাকিস্তান সরকার এই রাবার স্ট্যাম্পযুক্ত টাকাকে অবৈধ এবং মূল্যহীন ঘোষণা করে। এরপর ১৯৭৩ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত অবশ্য এই টাকা সারাদেশে চালুছিল। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভের পর নতুন মুদ্রা প্রচলনের ঘোষণা দেয়া হয়। সে সময় পাকিস্তানি ১, ৫ এবং ১০ রূপি ব্যবহৃত হয় যা পরের দিকে সরকার বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ৪ঠা মার্চ প্রথম নোট চালু হয়। প্রথমে ১, ৫, ১০ এবং ১০০ টাকার নোট ছাপা হয়। তবে চলুন বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যতগুলো নোট এবং কয়েন বাজারে ছাড়া হয়েছে তার সচিত্র ইতিহাস তুলে ধরা হল।
এক টাকা
বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর কিছু দিন পাকিস্তানি ১ রুপি প্রচলিত ছিল।
পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ৪ঠা মার্চ বাংলাদেশী ১ টাকার নোট ইস্যু হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ১ টাকার কাগজের মুদ্রা। এতে দেশের মানচিত্রের মধ্যে বিন্দুর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে রাজধানী ঢাকার অবস্থান।
১৯৭৩ সালের ২রা মার্চ প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক সম্বলিত ১ টাকার নোট ইস্যু হয়। যার সামনে মুঠো ভর্তি ধানের শীষ ও পিছনে শাপলা প্রতীক রয়েছে। এর রং ছিল কমলা ও নীল। এই নোটটি ডিসেম্বর ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত চালু ছিল, বর্তমানে অপ্রচলিত এগুলো।
এরপর ১৯৭৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর পুনরায় আরেকটি ১ টাকার নোট ইস্যু হয়। যার সামনে এক নারীর ধান ভানার চিত্র ও পেছনে মুঠো ভর্তি ধানের শীষ ও জাতীয় ফুল শাপলার ছবি রয়েছে। এর রং ছিল কমলা ও নীল। এই নোটটি ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। তবে বর্তমানে অপ্রচলিত।
পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর “রয়েল বেঙ্গল টাইগার”-এর জলছাপ সম্বলিত ১ টাকার নোট ইস্যু হয়। এরপর আর কোনো ১ টাকার কাগুজে নোট ইস্যু হয়নি।
মাঝে ১৯৭৫ সালে “নিকেল-কপার” দ্বারা তৈরী ১ টাকার কয়েন ইস্যু হয়েছিল। এরপর ১৯৯৩ সালের ৯ই মে পুনরায় ১ টাকার কয়েন ইস্যু হয়। পরবর্তীতে এর আকৃতি এবং রঙ ৩ বার পরিবর্তন করা হয়।
দুই টাকা
১৯৮৮ সালের ২৯ই ডিসেম্বর দ্বিতীয় “সরকারী নোট” ২ টাকা ইস্যু হয়। এরপর আর কোন ২ টাকার কাগুজে নোট ইস্যু হয়নি।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালে “স্টীল”-এর তৈরী ২ টাকার কয়েন ইস্যু হয়
পাঁচ টাকা
১৯৭২ সালের ৪ঠা মার্চ প্রথম ৫ টাকার নোট ইস্যু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর এবং ১৯৭৪ সালে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান”-এর ছবি সম্বলিত আরো দু’টি নোট ইস্যু হয়।
১৯৭৬ সালের ১১ই অক্টোবর “তারা মসজিদ”-এর ছবি সম্বলিত নোট ইস্যু হয়।১৯৭৮ সালের ২রা মে “তারা মসজিদ”-এর পরিবর্তে “কুসুম বাগ মসজিদের মেহরাব”-এর ছবি সম্বলিত নোট ইস্যু হয়।
২০০৬ সালের ৮ই অক্টোবর, ১৯৭৮ সালের নোটটি ইস্যু হয়। পার্থক্য হল নোটটিতে ৩মিমি চওড়া নিরাপত্তা সূতা ব্যবহার করা হয়। মাঝে ১৯৯৩ সালের ১লা অক্টোবর ৫ টাকার কয়েন ইস্যু হয়।
সংক্ষেপে দেখুন