সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
মগের মুল্লুকের সীমানা কতটুকু ছিল? ইতিহাস কী বলে ?
সময়টা ২৭ জানুয়ারি বুধবার, ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দ। চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে মোগল সুবেদার শায়েস্তা খানের পুত্র বুজুর্গ উমিদ খানের নেতৃত্বে মোগল বাহিনীর হাতে আরাকান ম্রাউক-উ রাজ্যের বাহিনী পরাজিত হয়।১ যার ফলে নাফ নদী পর্যন্ত বাংলার সীমানা আবার পুনরুদ্ধার হয়। ম্রাউক-উ রাজ্যের শাসন আমল যবিস্তারিত পড়ুন
সময়টা ২৭ জানুয়ারি বুধবার, ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দ। চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে মোগল সুবেদার শায়েস্তা খানের পুত্র বুজুর্গ উমিদ খানের নেতৃত্বে মোগল বাহিনীর হাতে আরাকান ম্রাউক-উ রাজ্যের বাহিনী পরাজিত হয়।১ যার ফলে নাফ নদী পর্যন্ত বাংলার সীমানা আবার পুনরুদ্ধার হয়। ম্রাউক-উ রাজ্যের শাসন আমল যাকে দুঃশাসন আর চরম অত্যাচারের কারণে এ অঞ্চলকে মগের মুল্লুক নামে অভিহিত করা হতো। ফেনী নদী থেকে সমগ্র আরাকান পর্যন্ত এ রাজ্যটি বিস্তৃত ছিল।
বঙ্গের সুলতানদের হটিয়ে মধ্যযুগে প্রায় শত বছর চট্টগ্রামে মগ রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। এ বিজয়ের পর থেকে আর কখনো বাংলার প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক আওতার বাইরে যায়নি চট্টগ্রাম। মোগল, ব্রিটিশ, পাকিস্তানি, স্বাধীন বাংলাদেশ যখনই যার শাসন ছিল না কেনো এই ভূখন্ডে, চট্টগ্রাম সবসময়ই ছিল বাংলার সাথে, বাংলার প্রবেশদ্বার হিসেবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। বাণিজ্যের কারণে যুগে যুগে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রয়োজনীয়তা ছিল। আরাকানিদের শাসনামলে চট্টগ্রামে বলা যায় এক ধরনের অরাজকতা বিদ্যমান ছিল। স্থানীয় অধিবাসীদের দাস হিসেবে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া, দস্যুতা, লুণ্ঠন এসব নানাবিধ ব্যাপার নিত্যনৈমিত্তিক ছিল। কবি আলাওলও দাস হিসেবে বিক্রি হয়ে পরে নিজগুণে আরাকানের রাজসভায় জায়গা করে নিয়েছিলেন।
নানা অরাজকতায় আরাকানি বা মগদের সহায়তা করত পর্তুগিজ বা ফিরিঙ্গিরা। এছাড়া ওলন্দাজ যা তৎকালীন ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে অভিহিত ছিল, তাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল মগদের। ইতিহাসবিদরা পর্তুগিজ ও মগদের নৃশংসতার বর্ণনা এভাবে দিয়েছেন “আরাকানের মগ এবং ফিরিঙ্গি জলদস্যুরা উভয়ই প্রতিনিয়ত বাংলা (ঢাকা হইতে চট্টগ্রাম অঞ্চল) লুণ্ঠন করত। তারা যেসকল হিন্দু ও মুসলমানদের আটক করতে পারত, তাদের হাতের তালুতে ছিদ্র করে গর্তের মধ্য দিয়ে পাতলা বেতের ফিতা ঢুকিয়ে বাঁধত এবং তাদের জাহাজের ডেকের নীচে একসাথে আটকে রাখত। প্রতিদিন সকালে তারা উপর থেকে বন্দীদের জন্য কিছু কাঁচা চাল ছুড়ে দিত, যেমনটি পাখিকে খাবার ছুড়ে দেয়া হয়। তাদের দাক্ষিণাত্যের বন্দরে ডাচ, ইংরেজ ও ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করা হত। কখনও কখনও তারা তাদের বন্দীদেরকে উচ্চ মূল্যে বিক্রির জন্য তমলুক এবং বালেশ্বরে নিয়ে আসত। শুধুমাত্র ফিরিঙ্গিরা তাদের বন্দীদের বিক্রি করত, কিন্তু মগরা বন্দীদের আরাকানে কৃষি ও অন্যান্য পেশায় বা গৃহকর্মী ও উপপত্নী হিসাবে নিয়োগ করত”২। ইতিহাসবিদরা যদিও আরাকানিদের এই শাসনামল বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরাকানিরা ফিরিঙ্গিদের সাহায্যপুষ্ট হয়ে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল এবং তাদের শক্তিশালী নৌ বাহিনী ছিল, তাদের উৎখাত করা খুব একটা সহজসাধ্য ব্যাপার ছিল না।
কবি আলাওল আরাকান রাজের শক্তি-প্রতীক নৌবহরের বর্ণনা তার কাব্যগ্রন্থ সিকান্দরনামায় (যা পূর্ণাঙ্গভাবে ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত হয়) বর্ণনা করেছেন:
অসংখ্যাত নৌকাপাঁতি নানা জাতি নানা ভাতি
সুচিত্র বিচিত্র বাহএ।
জরশি-পাট-নেত লাঠিত চামর যূত
সমুদ্র পূর্ণিত নৌকামএ।৩
১৬১৭ এবং ১৬২১ খ্রিস্টাব্দে দুইটি মোগল অভিযান ব্যর্থ হয়।
১৬৫৭ সালে মোগল সিংহাসন নিয়ে বাদশাহ শাহজাহানের চারপুত্রের মধ্যে সংঘটিত ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের কাছে তার অপর ভাইয়েরা পরাজিত হন।
আওরঙ্গজেব আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাইদের একজন হলেন শাহজাদা সুজা। শাহজাদা সুজা ১৬৪০ সাল থেকে ১৬৬০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর বাংলার সুবেদার ছিলেন।
ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে পরাজয়ের পর শাহজাদা সুজার লক্ষ্য ছিল নোয়াখালী থেকে জাহাজে করে সমুদ্র পথে মক্কা অথবা ইস্তাম্বুলে চলে যাবেন। কিন্তু বর্ষাকাল এসে যাওয়ায় তা আর হয়ে ওঠেনি। এদিকে বাদশাহ আওরঙ্গজেবের বাহিনী প্রতিনিয়ত খোঁজ করছে শাহজাদা সুজার।
আওরঙ্গজেবের হাত থেকে রক্ষা পেতে তাই শাহজাদা সুজা পার্শ্ববর্তী আরাকান রাজ্যে বিপুল সংখ্যক ধনরত্ন (প্রায় ২৩ টন ওজনের)৪ নিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে চলে যান। ১৬৬০ সালের আগস্ট মাসে এককালের পরাক্রমশালী বাঙলার সুবেদার শাহজাদা সুজার ঠাঁই হলো আরাকান রাজ্যে।
কিন্তু ছয় মাসের মাথায় শাহজাদা সুজাকে খুন করে আরাকান রাজা। শাহজাদার পরিবারের মেয়েদের করা হয় লাঞ্ছিত এবং ছেলেদের করা হয় কারারুদ্ধ। মোগল শাহজাদার এই বিয়োগান্ত সংবাদ অচিরেই পৌঁছে যায় দিল্লি বাদশাহ তথা সুজার ভাই আওরঙ্গজেব আলমগীরের কাছে। মোগল সম্রাট তার ভাই শাহ সুজা এর সন্তানাদি এবং ধনরত্ন ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে পরপর দুইজন দূতকে আরাকান রাজদরবারে পাঠান। আরাকানিরা প্রথম দূতকে বন্দি করে দাস হিসেবে পাঠিয়ে দেয়। দ্বিতীয় দূতকে আরাকানের রাজদরবার গ্রহণ করে কিন্তু ইতিমধ্যে সমস্ত সন্তানাদিকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের সম্পদ হাতছাড়া হয়েছে, তাই কোন সদুত্তর মেলেনি।৫
নিজ ভাই হলেও হয়তোবা ক্ষমতার প্রশ্নে কখনোই সুজার প্রতি সহানুভূতি দেখাতেন না বাদশাহ আওরঙ্গজেব। কিন্তু তাই বলে ভিনদেশী কারো হাতে ভাইয়ের খুন!
আরাকান রাজের হাতে নিজ ভাইয়ের খুনের প্রতিশোধ নিতে তাই নিজ মামা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর শায়েস্তা খাঁকে বাংলার সুবেদার করে পাঠান দিল্লি বাদশাহ আওরঙ্গজেব।
যুদ্ধ এড়ানো যাবেনা মনে করে আরাকানিরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে আরাকানিরা পর্তুগিজদের সহায়তায় উল্টো ঢাকা আক্রমণ করে বসে এবং ১৬০ টির মতো নৌযান ধ্বংস করে। মোগল সম্রাটের নির্দেশে শায়েস্তা খান যুদ্ধের পরিকল্পনায় নেমে পড়েন।৬ তিনি ৩০০ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করে নৌ সেনাপতি ইবনে হোসেইন এর হাতে দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। এর সাথে শায়েস্তা খান ওলন্দাজ এবং ফিরিঙ্গিদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং ফিরিঙ্গিদের সাথে আরাকানিদের বিবাদের সুবিধা নেন।
১৬৬৫ সালের শীতকাল। সুবেদার শায়েস্তা খাঁ এক সুসজ্জিত সেনাবাহিনী গঠন করলেন মগদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের এই মিশনে প্রধান সেনানায়ক হিসেবে যোগ দিলেন সুবেদার শায়েস্তা খাঁর সুযোগ্য পুত্র বুজুর্গ উমেদ খাঁ।
মোগলরা ওলন্দাজ কূটনৈতিক সমর্থন ও সামরিক সাহায্যের আশ্বাস নিয়ে ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে সন্দ্বীপ দখল করে। বাংলার নৌপথ সম্বন্ধে অভিজ্ঞ পর্তুগিজ ক্যাপ্টেন মুর এর নেতৃত্বে ৪০টি জাহাজ মোগল নৌ বহরের সাথে যুক্ত হলে নৌযুদ্ধ অন্য মাত্রা লাভ করে।৭ ইতিমধ্যে শায়েস্তা খানের পুত্র বুজুর্গ উমিদ খানের নেতৃত্বে ৬৫০০ সংখ্যক মোগল বাহিনী ফেনী নদী পেরিয়ে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। মোগলদের জয়লাভের পূর্বে চট্টগ্রামকে তখন বলা হত পাহাড় এবং গাছের জঙ্গল। ঐতিহাসিকরা উপমা দিয়ে লিখেছেন বন এত ঘন ছিল যে পিঁপড়ে চলাচলের পথ ছিল না।৮ মোগল বাহিনীর জন্য ঢাকা থেকে বিপুল সংখ্যক কুড়াল সরবরাহ করা হয়েছিল যা দিয়ে তারা বন পরিষ্কার করে চট্টগ্রামের উপকণ্ঠে এসে হাজির হয়। ইতিহাসবিদরা মোগলদের এই তৈরি করা রাস্তা বর্তমান ঢাকা চট্টগ্রাম ট্রাঙ্ক রোডের সূত্রপাত বলে অভিহিত করেন।৯
দ্বিমুখী আক্রমণে ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারির ২৭ তারিখে তিন দিন অবরুদ্ধ থেকে প্রায় বিনা বাধায় এ অঞ্চলের আরাকানিদের কেন্দ্র চাটগছার কিল্লা বা আন্দরকিল্লার পতন হয়।১০ শায়েস্তা খান এর কূটনৈতিক সাফল্যের কারণে শক্তিশালী আরাকানিদের বিরুদ্ধে মোগলদের এই অসম্ভব জয় সম্ভব হয়।
আলমগীরনামায় লিপিবদ্ধ তথ্য অনুসারে অনুমিত হয় ভূতপূর্ব ম্রাউক-উ রাজা সিরিসূধম্মারাজা এর পুত্র এই মোগল বাহিনীর সাথে ছিলেন এবং মোগলদের অভিপ্রায় ছিল আরাকান দখলের পর তাঁকে রাজা হিসাবে অধিষ্ট করা।১১ কিন্তু অপ্রতুল রসদ ও বর্ষা সমাগমের কারণে তারা নাফ নদীর তীর পর্যন্ত তাদের অগ্রযাত্রা সীমিত করে।১২ মোগলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের পর বিলুপ্ত হয় দাসপ্রথা এবং পর্তুগিজদের দাপট কমে যায়।
বুজুর্গ উমিদ খান আন্দরকিল্লা পতনের পর চট্টগ্রামের নামকরণ ইসলামাবাদ করেন এবং পরবর্তী বছরে কিল্লার উপরে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন যেটি বর্তমানে আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদের প্রবেশদ্বারের উপরে দুইটি প্রস্তর খন্ডে ফারসি ভাষায় কিছু লিখা আছে, দ্বিতীয় লেখাটির অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘হে জ্ঞানী! তুমি জগৎবাসীকে বলে দাও, আজ এ দুনিয়ায় দ্বিতীয় কাবা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার প্রতিষ্ঠাকাল ১০৭৮ হিজরি।’
বাংলার এই অঞ্চল পুনর্দখলের জন্য রাখাইনরা এর পরে অনেক চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। পরবর্তীতে মোগলরা চট্টগ্রামে বহু স্থাপনা, মসজিদ, মন্দির নির্মাণ করে। রহমতগঞ্জ, হামজারবাগ, ঘাট ফরহাদবেগ, আসকার দীঘি, বাগমনিরাম, মোগলটুলী, পাঠানটুলী, বাগ-ই-হামজাহ মসজিদ, মিসকিন শাহ মসজিদ, কদম মুবারক মসজিদ, বায়েজিদ বোস্তামি মসজিদ, ওয়ালী খান মসজিদ সহ অনেক স্থাপনা চট্টগ্রামের আনাচে-কানাচে মোগলদের উপস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। মূলত ফেনী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এর বিস্তৃতি দেখা যায়। এগুলি চট্টগ্রামকে অনেক ঐতিহ্যবাহী করে তুলেছে। আমরা যেন এই কীর্তিগুলি সংরক্ষণ করি যাতে তা ইতিহাস মনে রাখতে সাহায্য করবে।
ফেনী নদী থেকে আরাকান পর্যন্ত ছিল ‘মগের মুল্লুক’
২৭ জানুয়ারি ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দ। রোজ বুধবার। চট্টগ্রামের ইতিহাসে দিনটি বেশ স্মরণীয় হয়ে আছে আজও। এই দিনে মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খানের পুত্র বুজুর্গ উমিদ খানের নেতৃত্বে মুঘল বাহিনীর হাতে আরাকান ম্রাউক-উ রাজ্যের বাহিনী পরাজিত হয়। যার ফলে নাফ নদী পর্যন্ত বাংলার সীমানা আবার পুনরুদ্ধার হয়।
ম্রাউক-উ রাজ্যের শাসন আমলকে বলা হতো দুঃশাসনের শেষ পন্থা! তাই তো চরম অত্যাচারের কারণে এ অঞ্চলকে ‘মগের মুল্লুক’ নামে অভিহিত করা হতো। ফেনী নদী থেকে সমগ্র আরাকান পর্যন্ত এ রাজ্যটি বিস্তৃত ছিল।
মগ কারা?
মগের মুলুক—শব্দটা পড়ে কী ভাবছেন? বিশৃঙ্খল অবস্থা, অরাজক দেশ; তাই তো? কিন্তু বলুন তো এই ‘মগ’ কী জিনিস? আর মুলুকটা মগদেরই বা কেন হলো? বিষয়টি নিয়ে কতশত প্রশ্ন মানুষের মনে। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইতিহাস আর মগের মুলুক ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বঙ্গের সুলতানদের হটিয়ে মধ্যযুগে প্রায় শত বছর চট্টগ্রামে মগ রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। এ বিজয়ের পর থেকে আর কখনো বাংলার প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক আওতার বাইরে যায়নি চট্টগ্রাম। মুঘল, ব্রিটিশ, পাকিস্তানি, স্বাধীন বাংলাদেশেএসব জায়গায় যখনই যার শাসন ছিল না কেন; এই ভূখণ্ডে চট্টগ্রাম সবসময়ই ছিল বাংলার সঙ্গে, বাংলার প্রবেশদ্বার হিসেবে।
ভৌগোলিকভাবে আরাকান বা বর্তমানের মিয়ানমার রাজ্যটি হলো মগদের দেশ। আক্ষরিক অর্থে মিয়ানমার হলো মগের মুলুক। তবে মগদের সঙ্গে যুক্ত এই কথাটি ব্যবহার করা হয় যথেচ্ছাচার আর অরাজকতার বিষয়টি বোঝাতে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। বাণিজ্যের কারণে যুগে যুগে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রয়োজনীয়তা ছিল। আরাকানিদের শাসনামলে চট্টগ্রামে বলা যায় এক ধরনের অরাজকতা বিদ্যমান ছিল। স্থানীয় অধিবাসীদের দাস হিসেবে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া, দস্যুতা, লুণ্ঠন এসব নানাবিধ ব্যাপার নিত্যনৈমিত্তিক ছিল। কবি আলাওলও দাস হিসেবে বিক্রি হয়ে পরে নিজগুণে আরাকানের রাজসভায় জায়গা করে নিয়েছিলেন।
১৬২৫ সালের দিকে আমাদের বঙ্গভূমি ছিল খুব সমৃদ্ধশালী। তখন পর্তুগিজ আর মগ জলদস্যুরা পূর্ব ও নিম্ন বঙ্গের অনেক স্থানে খুব লুটপাট চালায়। এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে তাদের ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তখন এ ভূখণ্ড শাসন করতেন মুঘল সুবেদাররা। তারা এসেছিলেন সেই আফগান ভূমি থেকে আর তাদের শাসনের কেন্দ্র ছিল দিল্লি। ফলে জলস্থান মানে সমুদ্র বা নৌপথে যুদ্ধ করতে পারতেন না তারা।
এদিকে মগেরা ছিল ভয়ংকর জলদস্যু। তারা নৌপথের যুদ্ধে খুব পটু। তাই মুঘল সুবেদাররা কখনোই মগদের সঙ্গে পেরে ওঠেননি। তখন খান-ই-দুরান ছিলেন ঢাকার সুবেদার। কথিত আছে, মানুষ হিসেবে তিনি একটু দুর্বলচিত্তের অধিকারী ছিলেন। মগ জলদস্যুদের ভয়ে তিনি রাজমহলে পালিয়ে যান। এই সুযোগে মগরা এই অঞ্চলে ইচ্ছেমতো লুটপাট, অত্যাচার নির্যাতন করে।
মগেরা ছিল ভয়ংকর জলদস্যু। ছবি: সংগৃহীত
নানা অরাজকতায় আরাকানি বা মগদের সহায়তা করত পর্তুগিজ বা ফিরিঙ্গিরা। এছাড়া ওলন্দাজ যা তৎকালীন ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে অভিহিত ছিল, তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল মগদের। ইতিহাসবিদরা যদিও আরাকানিদের এই শাসনামল বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরাকানিরা ফিরিঙ্গিদের সাহায্যপুষ্ট হয়ে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল এবং তাদের শক্তিশালী নৌবাহিনী ছিল। তাই তাদের উৎখাত করা খুব একটা সহজসাধ্য ব্যাপার ছিল না।
মগদের বিরুদ্ধে অভিযান
১৬১৭ এবং ১৬২১ খ্রিষ্টা দুটি মুঘল অভিযান ব্যর্থ হয়। ১৬৫৭ সালে মুঘল সিংহাসন নিয়ে বাদশাহ শাহজাহানের চার পুত্রের মধ্যে সংঘটিত ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের কাছে তার অপর ভাইয়েরা পরাজিত হন। আওরঙ্গজেব আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাইদের একজন হলেন শাহজাদা সুজা। তিনি ১৬৪০ সাল থেকে ১৬৬০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর বাংলার সুবেদার ছিলেন।
ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে পরাজয়ের পর শাহজাদা সুজার লক্ষ্য ছিল নোয়াখালী থেকে জাহাজে করে সমুদ্র পথে মক্কা অথবা ইস্তাম্বুলে চলে যাবেন। কিন্তু বর্ষাকাল এসে যাওয়ায় তা আর হয়ে ওঠেনি। এদিকে বাদশাহ আওরঙ্গজেবের বাহিনী প্রতিনিয়ত খোঁজ করছে শাহজাদা সুজার। আওরঙ্গজেবের হাত থেকে রক্ষা পেতে শাহজাদা সুজা পার্শ্ববর্তী আরাকান রাজ্যে বিপুলসংখ্যক ধনরত্ন নিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে চলে যান। ১৬৬০ সালের আগস্ট মাসে এককালের পরাক্রমশালী বাঙলার সুবেদার শাহজাদা সুজার ঠাঁই হলো আরাকান রাজ্যে।
ছয় মাসের মাথায় শাহজাদা সুজাকে খুন করেন আরাকান রাজা। শাহজাদার পরিবারের মেয়েদের করা হয় লাঞ্ছিত এবং ছেলেদের করা হয় কারারুদ্ধ। মুঘল শাহজাদার এই বিয়োগান্ত সংবাদ অচিরেই পৌঁছে যায় দিল্লি বাদশাহ তথা সুজার ভাই আওরঙ্গজেব আলমগীরের কাছে। মুঘল সম্রাট তার ভাই শাহ সুজার সন্তানাদি এবং ধনরত্ন ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে পরপর দুজন দূতকে আরাকান রাজদরবারে পাঠান। আরাকানিরা প্রথম দূতকে বন্দি করে দাস হিসেবে পাঠিয়ে দেয়। দ্বিতীয় দূতকে আরাকানের রাজদরবার গ্রহণ করে, কিন্তু এরই মধ্যে সব সন্তানাদিকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের সম্পদ হাতছাড়া হয়েছে, তাই কোনো সদুত্তর মেলেনি।
নিজ ভাই হলেও হয়তোবা ক্ষমতার প্রশ্নে কখনোই সুজার প্রতি সহানুভূতি দেখাতেন না বাদশাহ আওরঙ্গজেব। কিন্তু তাই বলে ভিনদেশি কারো হাতে ভাইয়ের খুন! আরাকান রাজের হাতে নিজ ভাইয়ের খুনের প্রতিশোধ নিতে তাই নিজ মামা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর শায়েস্তা খাঁকে বাংলার সুবেদার করে পাঠান দিল্লি বাদশাহ আওরঙ্গজেব।
যুদ্ধ এড়ানো যাবে না মনে করে আরাকানিরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে আরাকানিরা পর্তুগিজদের সহায়তায় উল্টো ঢাকা আক্রমণ করে বসে এবং ১৬০টির মতো নৌযান ধ্বংস করে। মুঘল সম্রাটের নির্দেশে শায়েস্তা খান যুদ্ধের পরিকল্পনায় নেমে পড়েন। তিনি ৩০০ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করে নৌ সেনাপতি ইবনে হোসেইনের হাতে দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। পাশাপাশি শায়েস্তা খান ওলন্দাজ এবং ফিরিঙ্গিদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং ফিরিঙ্গিদের সঙ্গে আরাকানিদের বিবাদের সুবিধা নেন।
১৬৬৫ সালের শীতকাল। সুবেদার শায়েস্তা খাঁ এক সুসজ্জিত সেনাবাহিনী গঠন করলেন মগদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের এই মিশনে প্রধান সেনানায়ক হিসেবে যোগ দিলেন সুবেদার শায়েস্তা খাঁর সুযোগ্য পুত্র বুজুর্গ উমেদ খাঁ। মুঘলরা ওলন্দাজ কূটনৈতিক সমর্থন ও সামরিক সাহায্যের আশ্বাস নিয়ে ১৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপ দখল করে। বাংলার নৌপথ সম্পর্কে অভিজ্ঞ পর্তুগিজ ক্যাপ্টেন মুরের নেতৃত্বে ৪০টি জাহাজ মুঘল নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত হলে নৌযুদ্ধ অন্যমাত্রা লাভ করে।
মুগল সুবেদার শায়েস্তা খানের পুত্র বুজুর্গ উমিদ খানের নেতৃত্বে মুগল বাহিনীর হাতে আরাকান ম্রাউক–উ রাজ্যের বাহিনী পরাজিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
এরই মধ্যে শায়েস্তা খাঁর পুত্র বুজুর্গ উমিদ খাঁর নেতৃত্বে ৬ হাজার ৫০০ সংখ্যক মুঘল বাহিনী ফেনী নদী পেরিয়ে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। মুঘলদের জয়লাভের পূর্বে চট্টগ্রামকে তখন বলা হতো পাহাড় এবং গাছের জঙ্গল। ঐতিহাসিকরা উপমা দিয়ে লিখেছেন- বন এত ঘন ছিল যে পিঁপড়ে চলাচলের পথ ছিল না। মুঘল বাহিনীর জন্য ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক কুড়াল সরবরাহ করা হয়েছিল, যা দিয়ে তারা বন পরিষ্কার করে চট্টগ্রামের উপকণ্ঠে এসে হাজির হয়। ইতিহাসবিদরা মুঘলদের এই তৈরি করা রাস্তা বর্তমান ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাঙ্ক রোডের সূত্রপাত বলে অভিহিত করেন।
দ্বিমুখী আক্রমণে ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারির ২৭ তারিখে তিন দিন অবরুদ্ধ থেকে প্রায় বিনা বাধায় এ অঞ্চলের আরাকানিদের কেন্দ্র চাটগছার কিল্লা বা আন্দরকিল্লার পতন হয়। শায়েস্তা খাঁর কূটনৈতিক সাফল্যের কারণে শক্তিশালী আরাকানিদের বিরুদ্ধে মুঘলদের এই অসম্ভব জয় সম্ভব হয়।
আলমগীরনামায় লিপিবদ্ধ তথ্য অনুসারে অনুমিত হয় ভূতপূর্ব ম্রাউক-উ রাজা সিরিসূধম্মারাজার পুত্র এই মোগল বাহিনীর সাথে ছিলেন এবং মুগলদের অভিপ্রায় ছিল আরাকান দখলের পর তাকে রাজা হিসাবে অধৃষ্ট করা। কিন্তু অপ্রতুল রসদ ও বর্ষা সমাগমের কারণে তারা নাফ নদীর তীর পর্যন্ত তাদের অগ্রযাত্রা সীমিত করে। মুগলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের পর বিলুপ্ত হয় দাসপ্রথা। এর পাশাপাশি পর্তুগিজদের দাপটও কমে যায়।
বুজুর্গ উমিদ খান আন্দরকিল্লা পতনের পর চট্টগ্রামের নামকরণ ইসলামাবাদ করেন এবং পরবর্তী বছরে কিল্লার উপরে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন যেটি বর্তমানে আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদের প্রবেশদ্বারের উপরে দুইটি প্রস্তর খণ্ডে ফারসি ভাষায় কিছু লিখা আছে, দ্বিতীয় লেখাটির অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘হে জ্ঞানী! তুমি জগৎবাসীকে বলে দাও, আজ এ দুনিয়ায় দ্বিতীয় কাবা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার প্রতিষ্ঠাকাল ১০৭৮ হিজরি।’
অত্যাচার অব্যাহত ছিল মুঘল আমলের শেষেও
মুঘল আমলের শেষেও মগদের এই অত্যাচার অব্যাহত ছিল। পুরো বাংলা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে, তারা আসামেও অনেক অত্যাচার করে। ১৮২৪ সালের দিকে এই অত্যাচার চরম আকার ধারণ করে। তারপর তাদের সঙ্গে শাসক এবং সাধারণ মানুষের অনেকগুলো যুদ্ধ হয়। ১৮২৪, ১৮৫২ এবং ১৮৮৫ সালের যুদ্ধের পরে মগদের শক্তি বেশ কমে আসে। এভাবে আস্তে আস্তে তাদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পায় এই ভূখণ্ডের মানুষ।
যদিও এক সময় ঠিকই মগদের অত্যাচার কমেছে, তবু প্রায় দু’শ বছর সহ্য করতে হয়েছিল এই অত্যাচার। আর সেই তখন থেকেই যথেচ্ছাচার আর অরাজকতার অবস্থাকে বোঝাতে এই প্রবাদ ব্যবহার করা হয়। আজও যখন আমাদের সমাজে কেউ যেমন-তেমনভাবে অন্যের ওপর প্রভাব খাটায়, অত্যাচার করে, দুর্বল মানুষকে কষ্ট দেয় তখন মগদের সময়ের কথার সঙ্গে সেটা তুলনা করা হয় আর বলা হয়, মগের মুলুক।
বাংলার এই অঞ্চল পুনর্দখলের জন্য রাখাইনরা এরপর অনেকবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। পরবর্তীতে মুগলরা চট্টগ্রামে বহু স্থাপনা, মসজিদ, মন্দির নির্মাণ করে। রহমতগঞ্জ, হামজারবাগ, ঘাট ফরহাদবেগ, আসকার দীঘি, বাগমনিরাম, মুগলটুলী, পাঠানটুলী, বাগ-ই-হামজাহ মসজিদ, মিসকিন শাহ মসজিদ, কদম মুবারক মসজিদ, বায়েজিদ বোস্তামি মসজিদ, ওয়ালী খান মসজিদসহ অনেক স্থাপনা চট্টগ্রামের আনাচে-কানাচে মুগলদের উপস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। মূলত ফেনী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এর বিস্তৃতি দেখা যায়। এগুলো চট্টগ্রামকে অনেক ঐতিহ্যবাহী করে তুলেছে।
মুগলদের এই বিজয় না হলে হয়তো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মতো ফেনী নদীর তীরে হয়তো আমাদেরও দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হতো।
মোগলদের এই বিজয় না হলে হয়তো এখন রোহিঙ্গাদের মতো ফেনী নদীর তীরে আমাদেরও দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হতো।
সংক্ষেপে দেখুনআপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ভয় কি?
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তি
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তি
সংক্ষেপে দেখুন1K= ?, 1M=?, 1B=?, 1T= ? 1Q=? ‘ এগুলোর মানে কি?
1 K = 1 Kilo= 1000 ( one Thousand) 1M = 1 Million = ( 1000 x 1000) = 10,000,00 ( Ten Laks) 1B= 1 Billion = ( 1000 x 1000 x 1000) = 100,000,000 ( 100 Crore ) 1 T= 1 Trillion = ( 1000 x 1000 x 1000 x 1000 ) = 1,000,000,000,000 ( 10 Laks thousands crore) 1 Q = 1 Quadrillion = (1000 x 1000 x 1000বিস্তারিত পড়ুন
1 K = 1 Kilo= 1000 ( one Thousand)
1M = 1 Million = ( 1000 x 1000) = 10,000,00 ( Ten Laks)
1B= 1 Billion = ( 1000 x 1000 x 1000) = 100,000,000 ( 100 Crore )
1 T= 1 Trillion = ( 1000 x 1000 x 1000 x 1000 ) = 1,000,000,000,000 ( 10 Laks thousands crore)
1 Q = 1 Quadrillion = (1000 x 1000 x 1000 x 1000 x 1000) = 10,000,000,000,000,00 ( 10 Crore Crore)
সূচক আকারে
1 K= 103
1M = 106
1B = 109
1T= 1012
1Q = 1015
সংক্ষেপে দেখুনDiploma ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোন বিষয় নিয়ে পড়লে চাকরী পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে?
সিভিল
সিভিল
সংক্ষেপে দেখুনবাংলাদেশের কোন এলাকা রূপসী বাংলাদেশ’ ঘোষণা দেয়া হয়েছে?
বরেন্দ্র জাদুঘর এলাকাকে, সোঁনারগাঁওয়ের জাদুঘর এলাকাকে, নেত্রকোণার বিরিশিরি এলাকাকে, ফেনীর মহুরী প্রজেক্ট এলাকাকে
বরেন্দ্র জাদুঘর এলাকাকে, সোঁনারগাঁওয়ের জাদুঘর এলাকাকে, নেত্রকোণার বিরিশিরি এলাকাকে, ফেনীর মহুরী প্রজেক্ট এলাকাকে
সংক্ষেপে দেখুনজীবনের কঠিন সত্যিগুলি কী কী?
দিল্লিকা লাড্ডু জো খায়া ও পস্তায়ে, জো নেহি খায়া ও ভি পস্তায়ে
দিল্লিকা লাড্ডু জো খায়া ও পস্তায়ে, জো নেহি খায়া ও ভি পস্তায়ে
সংক্ষেপে দেখুনজীবনের কোন ভুলটি দ্বিতীয়বার করতে চান না আপনি? কেন চান না?
বিবাহ
বিবাহ
সংক্ষেপে দেখুনএ বছরের পল্লী বিদ্যুৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কোথায় পাবো? সার্কুলার দেখার নিয়ম
https://www.iiri.info/%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A7%80-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A7%8E-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%8B%E0%A6%97-2024/ Link for 2024 Circular
https://www.iiri.info/%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A7%80-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A7%8E-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%8B%E0%A6%97-2024/
Link for 2024 Circular
সংক্ষেপে দেখুনস্নাতক পাশের আগেই শিক্ষার্থীরা কোন কোন চাকরি করতে পারে ?
পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করে একজন শিক্ষার্থী মাসে ৮০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বা তার বেশিও উপার্জন করতে পারে। যেমন: স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে আপনার নেটওয়ার্ক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকা উপার্জনের সুযোগ পাবেন। নেটওয়ার্কিং, বিভিন্ন কল সেন্টারে এক্সিকিউটিভ পদে। সাধারণত, এই কাজের মূল দায়িত্বগুলো হলো: অনবিস্তারিত পড়ুন
পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করে একজন শিক্ষার্থী মাসে ৮০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বা তার বেশিও উপার্জন করতে পারে।
যেমন: স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে আপনার নেটওয়ার্ক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকা উপার্জনের সুযোগ পাবেন। নেটওয়ার্কিং, বিভিন্ন কল সেন্টারে এক্সিকিউটিভ পদে। সাধারণত, এই কাজের মূল দায়িত্বগুলো হলো: অনলাইনে গ্রাহকের কথা শুনে সে অনুযায়ী সঠিক সেবা নিশ্চিত করা, ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া এবং তাদের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করা।
কখনও কখনও তাদেরকে প্রতিবেদন তৈরি করা এবং ম্যানেজমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য কাজও করতে হয়।
টেলিকম শিল্প, হাসপাতাল, হোটেল, ব্যাংক ও ই-কমার্সভিত্তিক সংস্থাগুলোসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য কল সেন্টার চালু রাখে।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানে সেলস এক্সিকিউটিভ বা বিক্রয় নির্বাহী পদে, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, বর্তমানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে তাদের উপস্থিতি বজায় রাখতে বাধ্য। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো ভিজ্যুয়াল আবেদন তৈরি (ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে), আর এখানেই গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের কাজ।
অনলাইন বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বেসিক সার্টিফিকেট থাকলে যে কেউ এই চাকরির আবেদন করতে পারে।
মৌসুমি মেলায় চাকরি, স্টুডেন্ট কনসালট্যান্ট বা শিক্ষা পরামর্শক,
সোশ্যাল মিডিয়া মডারেটর, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এই সংস্থাগুলো বা ব্র্যান্ডগুলোর অনলাইন উপস্থিতি পরিচালনা করতে এই মডারেটররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রিজারভেশন ও টিকিটিং, আমাদের দেশে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি আছে যারা রিজারভেশন ও টিকিটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে ফুলটাইম ও পার্টটাইম চাকরির সুযোগ দিচ্ছে।এই কাজের মধ্যে রয়েছে রিজারভেশন প্রক্রিয়া পরিচালনা ও তদারকি করা এবং এয়ারলাইন্সের টিকিটিং কার্যক্রম, দক্ষ ও নির্ভুল বুকিং, ইস্যু করা এবং গ্রাহক পরিষেবা নিশ্চিত করা।
ফ্রন্ট ডেস্ক এক্সিকিউটিভ বা রিসেপশনিস্ট।
সংক্ষেপে দেখুনঅপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসলে কিভাবে তার পরিচয় বের করতে পারি? আর অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসা বন্ধ করার কোন উপায় আছে কি?
ধান ৩টি উপায়ের মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে, বিভিন্ন এপস বা ওয়েবসাইট থেকে অচেনা মোবাইল নাম্বারের পরিচয় বের করার মাধ্যম। এপস বা ওয়েবসাইট দিয়ে পরিচয় বের করতে চাইলে, সেক্ষেত্রে True Caller খুবই জনপ্রিয় একটি এপস। আপনারা হয়তো অনেকে এটার নাম জানেন। তবুও যারা জানেন না, তাদের জন্য আবার বলব আজ। True Caller ছাড়াও আরওবিস্তারিত পড়ুন
ধান ৩টি উপায়ের মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে, বিভিন্ন এপস বা ওয়েবসাইট থেকে অচেনা মোবাইল নাম্বারের পরিচয় বের করার মাধ্যম। এপস বা ওয়েবসাইট দিয়ে পরিচয় বের করতে চাইলে, সেক্ষেত্রে True Caller খুবই জনপ্রিয় একটি এপস। আপনারা হয়তো অনেকে এটার নাম জানেন। তবুও যারা জানেন না, তাদের জন্য আবার বলব আজ।
True Caller ছাড়াও আরও ৫টি এপস বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করতে পারবেন। ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে একদম ফ্রিতেই পরিচয় বের করা সম্ভব। আসুন এপস/ওয়েবসাইটগুলোর নাম ও কাজ সম্পর্কে জানা যাক।
ট্রু কলার এপ (True Caller)
True Caller হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল নাম্বার ট্রাকিং এপসগুলোর মধ্যে একটি। এই এপসটি কেনো এত জনপ্রিয়? আসুন সংক্ষেপে জানা যাক।
ধরুন, আপনি কারো মোবাইল নাম্বার জানার জন্য এপসটি ডাউনলোড করলেন। তারা আপনাকে ফ্রি সার্ভিসের মাধ্যমে মোবাইল নাম্বার থেকে অচেনা লোকটির নাম জানিয়ে দিল। কিন্তু দুনিয়ায় কি কেউ ফ্রি ফ্রি কাজ করে দেয়? নিশ্চয়ই না। তাহলে ট্রু-কলার কেনো দিল? কারণ, তারা আপনাকে মোবাইল নাম্বার থেকে পরিচয় জানানোর বিনিময়ে, আপনার ফোনের সব মোবাইল নাম্বার তাদের সার্ভারে সেইভ করে নিয়েছে।
আসল রহস্য আসা করি বুঝেছেন। বর্তমানে তাদের ৮৮+ মিলিয়ন ব্যবহারকারী আছে। তাহলে তাদের কাছে কতগুলো মোবাইল নাম্বার সেইভ করা আছে, একটু ভাবুন।
যাই হোক, আপনি True Caller দিয়ে অচেনা নাম্বার সহজে বের করতে পারবেন। এটা ছাড়াও আরও কিছু এপসের কথা নিচে বলছি, তবে একটা কথা। ট্রু-কলার নামানোর আগে, বন্ধু-বান্ধবির নাম্বারগুলো সুন্দরভাবে সেভ করে নিন। নইলে সবার নাম্বার কুত্তা-বিলাই নামে অটোমেটিক সেইভ হয়ে যাবে তাদের সার্ভারে। গুগল প্লে স্টোরে এপসটি সহজেই পেয়ে যাবেন।
মোবাইল নাম্বার লোকেটর (Mobile Number Locator)
Mobile Number Locator হচ্ছে মোবাইল নাম্বার জানার ও তার অবস্থান জানার একটি এপস। বিশেষ করে ট্রাকিং এর জন্য এটির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। এই এপসটি Incoming & Outgoing Call এর সময়, মোবাইল নাম্বারের পরিচয় জানিয়ে দিতে পারে অনেকসময়। অর্থাৎ, অচেনা কেউ কল দিলেই তারনাম স্ক্রিনে ভেসে উঠতে পারে।
আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এটি চালাতে প্রায়ই সময় ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হয়না। তবে Google MAP এর মাধ্যমে এই এপস থেকে মোবাইল নাম্বারের লোকেশন জানতে অবশ্যই ডাটা কানেকশন লাগবে
হুসকল (Whoscall)
Whoscall হচ্ছে True Caller এর মত ২য় এপস। ২০১৯ সালে মার্কেটে এসেও, এদের বর্তমান ব্যবহারকারী প্রায় ৭০+ মিলিয়ন। অর্থাৎ খুবই জনপ্রিয় একটি এপস। এটি আপনারা গুগল প্লে-স্টোরে পেয়ে যাবেন।এই Whoscall এপসটি Spam Call কে সহজেই Block করে দিতে পারে। এছাড়াও এর আলাদা কিছু ফিচার আছে। এপস নামালেই বুঝতে পারবেন।
ফাইন্ড এড ট্রেস (Find And Trace)
Find and Trace একটি ওয়েবসাইট, এটি কোন App নয়। এই ওয়েবসাইটটি শুধু মোবাইল নাম্বারই নয়; পাশাপাশি গাড়ি, ল্যান্ডলাইন, STD, ISD Code সহ ইত্যাদি খুব সহজেই খুঁজে দিতে পারে।
এই ওয়েবসাইটে ঢুকে আপনাকে বিরক্ত করা অচেনা মোবাইল নাম্বারটি লিখে সার্চ করলেই কাংখিত তথ্য পেয়ে যেতে পারেন। তবে এটি আগের দুটি এপস এর মত জনপ্রিয় না। তাই অনেকসময় অচেনা নাম্বারের তথ্য নাও পেতে পারেন।
এই এপস বা ওয়েবসাইটগুলো ছাড়াও আরো কিছু এপস এর মধ্যে রয়েছে Call App, Eyecon, Sync ইত্যাদি। তবে বাংলাদেশি অনেকে Eyecon ব্যবহার করে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচয় বের করু
অনেকসময় সামাজিক যোগাযোগ এর মাধ্যমেও খুব সহজেই পরিচয় বের করা যায়। কারণ, এসবে একাউন্ত খুলতে মোবাইল নাম্বারের প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য এপসগুলো হচ্ছে – Facebook, IMO, Vibre, Telegram, Whatsapp ইত্যাদি।
Facebook এর মাধ্যমে পরিচয় তেমন জানা যায়না, তবুও সার্চ করে দেখতে পারেন। অনেকসময় অনেকে নাম্বার হাইড করে রাখেনা। সেক্ষেত্রে আপনি সহজেই তাকে প্রোফাইলসহ গ্রেফতার করতে পারবেন, মানে পরিচয় জানতে পারবেন।
IMO তে পরিচয় জানা খুবই সহজ।
কারণ, বিশ্বের প্রায় ৪ (চার) কোটি মানুষ ইমো ব্যবহার করেন। তার মানে পৃথিবীর ৪ কোটি মানুষের নাম্বার ইমোতে সেভ করা আছে। তাও আবার ছবিসহ। আপনি যে নাম্বারটির পরিচয় জানতে চান, সেটিকে ইমোতে সার্চ করুন এবং পরিচয় ছবিসহ জেনে নিন।
Vibre, Telegram, Whatsapp এ মোবাইল নাম্বার জানতে হলে, অচেনা মোবাইল নাম্বারটি যেকোনো নামে মোবাইলে সেইভ করুন। সেই অচেনা নাম্বারে যদি সেসব একাউন্ট থাকে, তাহলে আপনি তার পরিচয় জেনে নিতে পারবেন।
ডিবি পুলিশ এর সরনাপন্ন হোন অথবা থানায় যান
যদি আপনাকে কেউ অতিরিক্ত বিরক্ত করে, তাহলে সোজা পুলিশের কাছে চলে যান। দেশের মধ্যে একমাত্র পুলিশই মোবাইল নাম্বারের পরিচয়সহ লোকেশন বের করতে ১০০% সক্ষম। তাই থানায় গিয়ে তাদেরকে আপনার সমস্যার কথা বলুন। তারা সর্বোচ্চ ৩ দিনের মধ্যেই অপরিচিত ব্যাক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।
আর আপনাকে যদি ফোনে কেউ হুমকি দেয়, তাহলেও আপনি থানায় গিয়ে জিডি করতে পারেন। জিডি খরচ একদম ‘ফ্রি’।
সংক্ষেপে দেখুনdaraz customer care number for online shopping Bangladesh
Contact Daraz customer care staff/ Daraz hotline number by calling at 16492
Contact Daraz customer care staff/ Daraz hotline number by calling at 16492
সংক্ষেপে দেখুনআমাদের সৌরজগৎ কিভাবে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি পরিভ্রমণ করে?
আমাদের গ্যালাকটিক হোম হল মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা, যার মধ্যে অবস্থান করছে সূর্য এবং পুরো সৌরজগৎ পরিবার। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বয়স প্রায় ১৩.৬ বিলিয়ন বছর। আর মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। তাই মহাবিশ্বের বয়স যখন খুব অল্প ছিল, তখনই মিল্কিওয়ের উদ্ভব হয়। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির আচরণ অনেকটা ‘বিস্তারিত পড়ুন
আমাদের গ্যালাকটিক হোম হল মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা, যার মধ্যে অবস্থান করছে সূর্য এবং পুরো সৌরজগৎ পরিবার। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বয়স প্রায় ১৩.৬ বিলিয়ন বছর। আর মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। তাই মহাবিশ্বের বয়স যখন খুব অল্প ছিল, তখনই মিল্কিওয়ের উদ্ভব হয়। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির আচরণ অনেকটা ‘রাক্ষসের’ মত বলে মনে করেন অনেক বিজ্ঞানী। কেননা মিল্কিওয়ে গঠনের সময় এটি অনেক ছোট ছোট গ্যালাক্সি গ্রাস করে ফেলেছিল। এভাবে মিল্কিওয়ে বিস্তৃত হয়ে আজকের আকারে এসেছে। ১০০-৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের মিল্কিওয়ে সৃষ্টির ইতিহাস কেমন? কী কী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই গ্যালাক্সির? চলুন জেনে নেই আমাদের সৌরজগতের আশ্রয়স্থল এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি সম্পর্কে।
শিল্পীর তুলিতে চিত্রিত মিল্কিওয়ে।
লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসের মতে, অ্যারিস্টটলের সময়ে ধারণা করা হত “Milkyway is such a spot where the celestial spheres came into contact with the terrestrial spheres.” অর্থাৎ ‘মিল্কিওয়ে এমন একটি জায়গা যেখানে মহাজাগতিক বস্তুরা পার্থিব বস্তুর সংস্পর্শে এসে মিলিত হয়।’ কিন্তু মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার আসল পরিচয় উদঘাটন করতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ২০ শতক পর্যন্ত সময় লেগে যায় এবং তারা খুঁজে পান আকাশের অসংখ্য গ্যালাক্সির মধ্যে আকাশগঙ্গাও একটি! মহাবিশ্বের একদম শুরুর দিকে কোনো গ্যালাক্সি বা নক্ষত্র ছিল না। বিগ ব্যাঙের পর মহাবিশ্ব ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত – তখন ছিল না কোনো পদার্থের অস্তিত্ব। ধীরে ধীরে মহাবিশ্ব শীতল হতে থাকে ও চারদিকে গ্যাস বিস্তৃত হতে থাকে। এর মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় গ্যাস বেশি পরিমাণে সমবেত হতে থাকে এবং গ্যাসের গোলা তৈরি করতে থাকে। এক পর্যায়ে নক্ষত্রের উদ্ভব হয় ও নক্ষত্রগুলো একে অপরকে মহাকর্ষীয় বলে আকর্ষণ করে প্রকাণ্ড গুচ্ছের মত গঠন করে। এভাবে সৃষ্টি হয় একেকটি গ্যালাক্সি। শুরুর দিকের এমন নক্ষত্রের গুচ্ছকে বলা হয় Globular cluster (বর্তুলাকার স্তবক বা গ্লোবুলার স্তবক)। ধারণা করা হয়, মিল্কিওয়ের কিছু কিছু ক্লাস্টার একদম প্রাথমিক মহাবিশ্বে গঠিত হয়েছিল। অনেকগুলো ক্লাস্টার গ্যালাক্সির কোর গঠন করার পরেই মিল্কিওয়ে গঠিত হয়েছিল। এগুলোর দ্রুত ঘূর্ণনগতির ফলে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি একটি চ্যাপ্টা ডিস্কের মত আকৃতি ধারণ করে। অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে দুটি কাঠামোর উদ্ভব হয় – প্রথমত গোলাকার ‘হ্যালো’ ও পরবর্তীতে ঘন, উজ্জ্বল ডিস্ক। আমাদের সৌরজগতের অবস্থান এই ডিস্কের ভেতর। রাতের আকাশে মিল্কিওয়ের প্রান্তে যে দুধের মত সাদা ব্যান্ডটি দেখা যায় তা আসলে অসংখ্য অগণিত তারার সমষ্টি। আমাদের এই গ্যালাক্সিকে রোমানরা ‘Via Lactea’ বলতো যার অর্থ ‘The road of milk’। এমনকি দুধের গ্রীক পারিভাষিক শব্দ থেকে গ্যালাক্সি শব্দের উদ্ভব। যদিও এর পেছনে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই যে ঠিক এই কারণেই মিল্কিওয়ের এমন নামকরণ করা হয়েছিল।
মিল্কিওয়ের সবচেয়ে পুরোনো নক্ষত্রগুলির অবস্থান হল গ্যালাকটিক হ্যালোর ভেতরে এবং তুলনামূলক নতুন নক্ষত্রগুলোর অবস্থান ডিস্কের মধ্যে। এটি প্রমাণ করে যে মিল্কিওয়ে যখন ভর অর্জন করতে থাকে তখন নক্ষত্রগুলোর এই দুই ধরণের অবস্থানের কারণে পারস্পারিক কক্ষপথের সৃষ্টি হয় এবং গ্যালাক্সির ঘূর্ণনের ওপর তা প্রভাব ফেলে। ফলে মিল্কিওয়ে একটি সর্পিল আকৃতি লাভ করে। এজন্য মিল্কিওয়েকে ‘Barred Spiral Galaxy’ বলা হয়। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ৪টি মুখ্য স্পাইরাল বাহু রয়েছে – নরমা এবং সিগন্যাস, সাজিটারিয়াস, স্কিউটাম-ক্রাক্স, পারসিয়াস। স্পাইরাল বাহু এটি গ্যালাক্সির নতুন নক্ষত্র উৎপাদনের প্রধান জায়গা। স্পাইরাল বাহু নতুন, নীলাভ, উজ্জ্বল নক্ষত্র ও নেবুলা দ্বারা সজ্জিত থাকায় স্পষ্টত দৃশ্যমান। এই গ্যালাক্সিতে বছরে ৭টার বেশি নক্ষত্রের জন্ম হয়। এর কেন্দ্রে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল Sagittarius A* বিদ্যমান।
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ব্যাস প্রায় ১০০০০০ আলোকবর্ষ এবং সূর্য এর কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৬০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। সূর্য তার পরিবারসহ গ্যালাক্সির দুটো মুখ্য স্পাইরাল বাহু পারসিয়াস ও সাজিটারিয়াস বাহুর মধ্যবর্তী গৌণ অরিয়ন-সিগন্যাস বাহুর ভেতরের প্রান্তে অবস্থিত। সূর্যের প্রায় ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর লাগে গ্যালাক্সির চারদিকে একবার ঘুরে আসতে। ধারণা করা হয়, প্রোটোস্টার (খুব অল্প বয়সী তারকা) অবস্থা থেকে অর্থাৎ সূর্যের জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ বার এই গ্যালাক্সি ভ্রমণ করেছে। তাই কসমিক ইয়ার অনুযায়ী সূর্যের বয়স মাত্র ২০ বছর!
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বহু বছর পূর্বে একটি বড়সড় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল, যার ফলে এতে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়। এটি ‘Gaia Sausage’ নামে পরিচিত। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮-১০ বিলিয়ন বছর আগে মিল্কিওয়ের সাথে একটি বামন গ্যালাক্সির সংঘর্ষ হয় এবং বামন গ্যালাক্সিটি এই সংঘর্ষে টিকে থাকতে পারে নি। ফলে এর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো মিল্কিওয়ের মধ্যে। সসেজ আকৃতির হওয়ায় এটিকে বলা হয় ‘Sausage’ গ্যালাক্সি যার সর্বমোট ভর ছিল সূর্যের ভরের ১০ বিলিয়ন গুণেরও বেশি। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় অন্তত ৮টি বৃহদাকার ক্লাস্টার মিল্কিওয়েতে এসেছে Sausage গ্যালাক্সি থেকে। মনে করা হয়, Sausage গ্যালাক্সি থেকে যেসব অবজেক্ট মিল্কিওয়েতে এসেছে সেগুলো মিল্কিওয়ের ভর ১০% বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংঘর্ষের ফলে মিল্কিওয়ের ডিস্কের ব্যাপক পরিবর্তন হয়। এর ফলে গ্যালাকটিক ডিস্কটির দুটি অংশ সৃষ্টি হয়। একটি পাতলা ডিস্ক ও আরেকটি পুরু ডিস্ক। পুরু ডিস্কের নক্ষত্রগুলো গ্যালাকটিক সমতলের সাপেক্ষে পাতলা ডিস্কের নক্ষত্রগুলোর চেয়ে গড়ে ২০ কিলোমিটার/সেকেন্ড বেশি গতিসম্পন্ন। প্রায় ১০ বিলিয়ন বছরের পুরনো নক্ষত্রগুলোর অবস্থান পুরু ডিস্কে, অন্যদিকে তুলনামূলক কম বয়সী নক্ষত্রগুলোর অবস্থান পাতলা ডিস্কে।
European Space Agency-র একটি স্পেস অবজারভেটরি হল ‘Gaia satellite’ যা মিল্কিওয়ের নক্ষত্রগুলোর ম্যাপিং ও খুঁটিনাটি বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও এর আদি অবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা অনেক তথ্যই দিয়েছেন। তবে মিল্কিওয়ের অনেক অজানা ঘটনা ও ১৩.৬ বিলিয়ন বছর আগে ঠিক কীভাবে শুরু হয়েছিল মিল্কিওয়ের যাত্রা সেসব রহস্য উদ্ধার করা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। এখন পর্যন্ত সেই ‘কসমিক ডার্ক এইজ’- যখন মহাবিশ্বে কোনো স্টার বা গ্যালাক্সি ছিল না, তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে ও বিজ্ঞানের আরও অগ্রযাত্রার সাথে সাথে আমরা হয়ত ভবিষ্যতে মিল্কিওয়ের একদম শুরুর দিকের অবস্থা জানতে পারব!
সংক্ষেপে দেখুনবাংলাদেশে অচিরেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনিবন্ধিত সব মোবাইল হ্যান্ডসেট । কিভাবে নিবন্ধন করবেন আপনার মোবাইল?
নিবন্ধনহীন মোবাইল খুব তাড়াতাড়ি দেশের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল হ্যান্ডসেট অনিবন্ধিত থাকলে খুব সহজেই তা নিবন্ধন করে নেয়া যায়। মোবাইল ফোন মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন পৃথিবীকে একেবারে মানুষের হাতেরবিস্তারিত পড়ুন
নিবন্ধনহীন মোবাইল খুব তাড়াতাড়ি দেশের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল হ্যান্ডসেট অনিবন্ধিত থাকলে খুব সহজেই তা নিবন্ধন করে নেয়া যায়।
মোবাইল ফোন মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন পৃথিবীকে একেবারে মানুষের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। বিশ্বে বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাতশো কোটিরও বেশি। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় একানব্বই শতাংশ মানুষের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। বাংলাদেশে মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি ছাড়িয়েছে। প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি এবং প্রায় দুই কোটি মোবাইল ফোন দেশেই সংযোজিত হচ্ছে।
দেশে গ্রাহকদের হাতে থাকা সচল কিন্তু অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের আওতায় আনতে চায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন(বিটিআরসি)। অবৈধ/নকল মোবাইল আমদানি, চুরি/প্রতারণা বন্ধে, অপরাধীদের সহজে চিহ্নিত করতে, গ্রাহকদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিবন্ধনবিহীন সকল মোবাইল ফোন বন্ধে পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নির্দেশনা দেন।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটকালে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানান।
আপনার মোবাইল ফোন কেনার আগে সেটার বৈধতা যাচাই করে নিতে হবে। যদি সেটটি অবৈধ হয় তাহলে সেটা না কেনার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি। আবার হ্যান্ডসেটটি কিনে আনার পর যদি দেখেন এটি অবৈধ তাহলে তিনি ক্রয় রশিদ দেখিয়ে হ্যান্ডসেটটি পূর্ণ দামে ফেরত দিতে পারবেন। যদি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ফেরত নিতে না চায় তাহলে বিষয়টি বিটিআরসিকে অবহিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
বর্তমানে বিটিআরসির ডাটাবেজে সবগুলো মোবাইল অপারেটর থেকে পাওয়া আইএমইআই নম্বর এর মাইগ্রেশন কার্যক্রম চলছে। সেজন্য গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিদেশ থেকে কেনা বা উপহার পাওয়া মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন প্রক্রিয়া জানিয়েছে বিটিআরসি। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেটগুলো নিবন্ধনের আওতায় আনা যাবে। জেনে নিন যেভাবে বিদেশ থেকে কেনা বা উপহার পাওয়া হ্যান্ডসেট নিবন্ধন করবেন।
যে কোন মাধ্যমে (বিক্রয় কেন্দ্র, অনলাইন বিক্রয় কেন্দ্র, ই-কমার্স) মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে নিম্ন বর্ণিত উপায়ে বৈধতা যাচাই করার পাশাপাশি ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
ধাপ-১: মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD১৫ ডিজিটের IMEI নম্বরটি লিখুন। উদাহরণ স্বরূপ: KYD 123456789012345
ধাপ-২: IMEI নম্বরটি লিখার পর ১৬০০২ নম্বরে প্রেরণ করুন।
ধাপ-৩: ফিরতি ম্যাসেজ এর মাধ্যমে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বৈধতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
ওয়েবসাইটে মোবাইল ফোন যেভাবে যাচাই করবেন
প্রথমে neir.btrc.gov.bd লিংকে ভিজিট করে আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করুন। এরপর পোর্টালের Special Registration সেকশনে গিয়ে মোবাইল হ্যান্ডসেট এর IMEI নম্বরটি দিন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ছবি/স্ক্যান কপি(যেমনঃ পাসপোর্টের ভিসা/ইমিগ্রেশন তথ্যাদি, ক্রয় রশিদ ইত্যাদি) আপলোড করুন এবং Submit বাটনটি প্রেস করুন।
হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। হ্যান্ডসেটটি বৈধ না হলে এসএমএস এর মাধ্যমে গ্রাহককে জানিয়ে পরীক্ষাকালীন সময়ের জন্য নেটওয়ার্কে সংযুক্ত রাখা হবে।
সেই সময় পার হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের সাহায্যেও এই সেবা নেয়া যাবে।
বর্তমানের ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী একজন ব্যক্তি বিদেশ থেকে শুল্কবিহীন সর্বোচ্চ দুইটি এবং শুল্কপ্রদান করে আরও ছয়টি হ্যান্ডসেট সাথে আনতে পারেন।
যেভাবে ব্যবহৃত মোবাইল হ্যান্ডসেটের বর্তমান অবস্থা যাচাই করবেন
আপনার ব্যবহৃত মোবাইল হ্যান্ডসেটের বর্তমান অবস্থাও আপনি যাচাই করে নিতে পারেন কয়েকটি ধাপ মেনে।
প্রথমে মোবাইল হ্যান্ডসেট থেকে *১৬১৬১# নম্বরে ডায়াল করুন। স্ক্রিনে দেখানো অপশন থেকে Status Check অপশন সিলেক্ট করুন।
এরপর অটোমেটিক বক্স আসলে সেখানে হ্যান্ডসেটের ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বরটি লিখে সেন্ড করুন। হ্যাঁ/না অপশন সম্বলিত একটি অটোমেটিক বক্স আসলে হ্যাঁ Select করে নিশ্চিত করুন।
ফিরতি মেসেজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের হালনাগাদ অবস্থা জানানো হবে।
মোবাইল ফোন সেটের আইএমইআই নম্বর জানা না থাকলে ডায়াল অপশনে গিয়ে *#০৬# চাপলে আইএমইআই নম্বর পাওয়া যাবে। এছাড়া মোবাইলের বক্সে কিংবা মোবাইলের পেছনে একটি স্টিকারেও এটি লেখা থাকে।
neir.btrc.gov.bd ওয়েব লিংকে গিয়ে বিদ্যমান সিটিজেন পোর্টাল এবং মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারেও এই সেবা পাবেন গ্রাহকরা। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সম্পর্কে আরও জানতে ডায়াল করুন বিটিআরসি’র হেল্পডেস্ক নম্বর ১০০ অথবা মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার নম্বর ১২১।
সংক্ষেপে দেখুনকিছু বাংলা শব্দের অর্থ বলতে পারবেন যা আমরা নিজেদের অজান্তেই ভুল ভাবে বলে থাকি?
তাপানুকূল, বাতানুকূল: ইংরেজি ‘Air-Conditioned’-এর বাংলা ‘বাতানকূল’ বা ‘শীতাতপনিয়ন্ত্রিত’ কিন্তু লেখা হচ্ছে ‘তাপানুকূল’। ‘তাপানুকূল’ শব্দের ইংরেজি হচ্ছে ‘Thermo-Conditioned’। দেই, দিই: ক্রিয়াপদ হিসেবে ‘দেই’ শব্দটি আঞ্চলিক বা কথ্যরীতির। এর পরিবর্তে লেখ্যরীতিতে ‘দিই’ , ক্রিয়াপদ হিসেবে এ রকম অশুদ্ধ শববিস্তারিত পড়ুন
তাপানুকূল, বাতানুকূল: ইংরেজি ‘Air-Conditioned’-এর বাংলা ‘বাতানকূল’ বা ‘শীতাতপনিয়ন্ত্রিত’ কিন্তু লেখা হচ্ছে ‘তাপানুকূল’। ‘তাপানুকূল’ শব্দের ইংরেজি হচ্ছে ‘Thermo-Conditioned’।
দেই, দিই: ক্রিয়াপদ হিসেবে ‘দেই’ শব্দটি আঞ্চলিক বা কথ্যরীতির। এর পরিবর্তে লেখ্যরীতিতে ‘দিই’ , ক্রিয়াপদ হিসেবে এ রকম অশুদ্ধ শব্দ ‘নেই’; শুদ্ধ ‘নিই’। যেমন: আমরা পাঁচ বছর পর ভোট ‘দিই’।
দেয়া, দেওয়া: ‘দেওয়া’ শব্দের স্থানে ‘দেয়া’ লেখা হচ্ছে। ‘দেওয়া’ শব্দের অর্থ প্রদান করা। অপরদিকে ‘দেয়া’ শব্দের অর্থ মেঘ বা বৃষ্টি। কাজেই আমরা আদেশ ‘দেওয়া’ হলো লিখব। ‘দেয়া’ কথ্যরীতির শব্দ। লেখ্য ভাষায় বেমানান। সুতরাং সাধু ও চলিতে ‘দেওয়া’ লিখব। এ রকম একটি শব্দ ‘নেয়া’ নয়; ‘নেওয়া’ হবে।
ধরন, ধারণ: ‘ধরন’ শব্দটি তদ্ভব বা খাঁটি বাংলা শব্দ। কাজেই এখানে ‘ণ’ হবে না। যেমন: তোমার ব্যবসায়ের ‘ধরন’ কী? কিন্তু ‘ধারণ’ শব্দে ‘ণ’ হবে। কারণ এটি তৎসম শব্দ। ণত্ব বিধানে বলা হয়েছে, সাধারণত তৎসম শব্দে র, ঋ, ষ এর পরে ‘ণ’ ব্যবহার হয়। যেমন: ধারণক্ষমতা, কারণ কী, করুণ দৃশ্য প্রভৃতি। কিন্তু ক্রিয়াপদে ‘র’ থাকলেও ‘ন’ হবে। যেমন: এখন কাজটি করুন।
পদক্ষেপ: ‘পদক্ষেপ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘পা ফেলা’ বা ‘পদার্পণ’/ ‘পদচারণা’/ ‘হাঁটা’। ‘ব্যবস্থা গ্রহণ’ অর্থে ‘পদক্ষেপ’ শব্দটির প্রয়োগ প্রচলিত হলেও সংগত নয়। এ ক্ষেত্রে ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ না-বলে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ বলা যেতে পারে।
ফলশ্রুতি, ফলশ্রুতিতে: ‘ফলশ্রুতি’ শব্দের একটি অর্থ হলো কর্মের ফল, শ্রবণ, অর্থাৎ কোনো পুণ্যকর্ম করলে যে ফল হয় তা শোনা এবং তার বিবরণ। অন্যদিকে, পুণ্যকাহিনি শ্রবণে যে ফল পাওয়া যায় তা-ও ফলশ্রুতি। ফলশ্রুতি শ্রবণে মানুষের মনে ধর্মভাবের উন্মেষ ঘটে। এ উন্মেষ ঘটাও ফলশ্রুতি। তাই ‘ফলে’ কথাটির পরিবর্তে ফলশ্রুতিতে
লেখা ঠিক না।
ইদানীংকাল: ‘ইদানীং’ শব্দের অর্থ বর্তমান সময়। তাই ইদানীংয়ের সঙ্গে ‘কাল’ শব্দটির প্রয়োগ ভুল।
ইতিপূর্বে, ইতিমধ্যে: সংস্কৃতে ‘ইত’ একটি অব্যয়, যার অর্থ এই, এই স্থানে। ইতঃ-এর সঙ্গে পূর্বে ও মধ্যে শব্দের সন্ধি করলে সন্ধির নিয়মে ইতঃপূর্বে ও ইতোমধ্যে হয়। এই কারণে শব্দদ্বয় অশুদ্ধ।
উপরোক্ত: উপরে লেখা হয়েছে এমন বোঝাতে প্রায়ই উপরোক্ত শব্দটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সংস্কৃত ব্যাকরণের সন্ধির নিয়মে ‘উপর্যুক্ত’ বা ‘উপরিউক্ত’ শব্দটি শুদ্ধ। উপরোক্ত শব্দটি প্রচলিত হলেও ভুল।
গণপ্রজাতন্ত্রী: শব্দটি ভুল। বিশেষণের শুদ্ধ প্রয়োগ‑ ‘গণতান্ত্রিক’ বা ‘গণপ্রজাতান্ত্রিক’ দেশ।
ছাত্র–ছাত্রীরা: ‘ছাত্র-ছাত্রী’ শব্দটিই বহুবচনজ্ঞাপক। সুতরাং এরপর ‘রা’ যুক্ত করার আবশ্যকতা নেই।
তবুও: তবুও শব্দটির ‘ও’ প্রত্যয় আধিক্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। শব্দটি প্রচলিত হলেও ভুল। শুদ্ধ শব্দটি ‘তবু’।
ভাষাভাষী: ভাষা ব্যবহারকারী অর্থে ভাষীই যথার্থ। তাই ভাষাভাষী প্রয়োগ অশুদ্ধ।
শুধুমাত্র: ‘শুধু’ শব্দের সঙ্গে ‘মাত্র’ যোগ করলে একই অর্থে বাহুল্য দোষে অশুদ্ধ হবে। শুদ্ধরূপ ‘শুধু’ অথবা ‘মাত্র’। যেমন: রাজু শুধু কোরআন পড়তে পারে, কিন্তু আরবি লিখতে পারে না। কিন্তু টাকার চেকে লিখতে হবে‑ এক লক্ষ টাকা মাত্র। এখানে শুধু শব্দ লেখা যাবে না।
সৌজন্যতা: ‘সৌজন্য’ শব্দটিই বিশেষ্য। অতিরিক্ত ‘তা’ প্রত্যয় যোগে বিশেষ্য করা বাহুল্য।
সৌন্দর্যতা: ‘সৌন্দর্য’ শব্দটিই বিশেষ্য। অতিরিক্ত ‘তা’ প্রত্যয় যোগে বিশেষ্য করা অশুদ্ধ।
হার/শতাংশ: ‘আমদানি শুল্কের হার ৩০ শতাংশ’ এই বাক্যটি ভুল। কারণ হার এবং শতাংশ একই অর্থবোধক শব্দ। তাই শুদ্ধ বাক্য হবে ‘আমদানি শুল্কের পরিমাণ ৩০ শতাংশ’।
থাকাকালীন সময়: থাকাকালীন শব্দের অর্থই থাকার সময়ে। অতিরিক্ত ‘সময়’ এখানে বাহুল্য দোষ।
অন্যতম: ‘অন্যতম’ শব্দটির অর্থ অনেকের মধ্যে একজন। ব্যক্তি বা মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার ঠিক। কিন্তু বস্তুর ক্ষেত্রে যেমন‑ অন্যতম খাদ্য, অন্যতম কাপড় ইত্যাদি ব্যবহার করা ভুল।
আলস্যতা, অলসতা‑ আলস্য শব্দের পর অতিরিক্ত ‘তা’ প্রত্যয় যোগে বিশেষ্য শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া এ ক্ষেত্রে অনাবশ্যক। ‘আলস্য’ নিজেই একটি বিশেষ্য পদ ও শুদ্ধ শব্দ। তবে ‘অলস’ শব্দটি বিশেষণ হওয়ায় ‘তা’ প্রত্যয় যোগ করে বিশেষ্য ‘অলসতা’ শব্দটি শুদ্ধ হবে।
হত / হতো: নিহত অর্থে ‘হত’ আর ক্রিয়াবাচক শব্দ হিসেবে ‘হতো’ ব্যবহৃত হয়।
বুঝা / বোঝা: ক্রিয়া অর্থে ‘বুঝা’ আর বিশেষ্য অর্থে ‘বোঝা’ হবে। কিছু উদাহরণ দেখে নেওয়া যেতে পারে: ১. এটি তোমার বুঝার ভুল। ২. ভাষা বলতে কী বুঝায়? ৩. বুঝতে পারছি না, শেষ পর্যন্ত আমি তোমার বোঝা হয়ে দাঁড়াই কি না।
ওঠে / উঠে : বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়ার বর্তমান কাল বুঝাতে ‘ওঠে’ আর অসমাপিকা ক্রিয়া বুঝাতে কিংবা সমাপিকা ক্রিয়ার পূর্ববর্তী অসমাপিকা ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ‘উঠে’ ব্যবহৃত হবে।
যেমন: ১. সে ভোরে ঘুম থেকে ওঠে। ২. সূর্য পূর্ব দিকে
উঠে পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। তবে অতীত এবং ভবিষ্যৎকাল বুঝাতে সমাপিকা ক্রিয়ায় ‘উ’ থাকবে। যেমন: ১. তপু উঠত সবার আগে। ২. আমি এবার একাদশ শ্রেণিতে উঠব।
অনেকগুলো: অনেক বহুবচন শব্দ। তাই আবার ‘গুলো’ বহুবচন শব্দ লিখে বাহুল্য দোষ করা ঠিক হবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, গাছে অনেকগুলো আম আছে। শুদ্ধ হবে—গাছে অনেক আম আছে।
সংক্ষেপে দেখুনকোন বই পড়ার পর আপনার অনেক আফসোস হয়েছিল যে, কেন এই বইটি আরও আগে পড়েন নি?
পূর্ব-পশ্চিম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পূর্ব-পশ্চিম
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সংক্ষেপে দেখুনবিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপগুলোর নাম কি এবং সেগুলো কোথায় কোথায় স্থাপন করা হয়েছে?
সেগুলো কোথায় কোথায় স্থাপন করা হয়েছে?
সেগুলো কোথায় কোথায় স্থাপন করা হয়েছে?
সংক্ষেপে দেখুনহযরত আদম (আঃ) থেকে হযরত মোহাম্মদ (সা%) এর বংশ তালিকা কেউ জানেন কি?
পৃথিবীর প্রথম মানব ও মানবী হযরত আদম (আ) ও মা হাওয়া (আ)। এই দুজনের মাধ্যমে পৃথিবীতে শুরু হয় মানুষের বংশবিস্তার। সীরাত রচয়িতা ও বংশধারা বিশেষজ্ঞগন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পুরো বংশধারা বের করার চেষ্টা করেছেন। যা অনেকদূর পর্যন্ত অনেকটাই নির্ভূল বলে সবাই একমত। চলুন তাহলে আজ দেখে নেই হযরবিস্তারিত পড়ুন
পৃথিবীর প্রথম মানব ও মানবী হযরত আদম (আ) ও মা হাওয়া (আ)। এই দুজনের মাধ্যমে পৃথিবীতে শুরু হয় মানুষের বংশবিস্তার।
সীরাত রচয়িতা ও বংশধারা বিশেষজ্ঞগন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পুরো বংশধারা বের করার চেষ্টা করেছেন। যা অনেকদূর পর্যন্ত অনেকটাই নির্ভূল বলে সবাই একমত। চলুন তাহলে আজ দেখে নেই হযরত আদম (আ) থেকে মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত পুরো বংশ পরম্পরাটি কিভাবে এসেছে।
হযরত আদম (আ)-
তাঁর পুত্র শীশ (আ)
তার পুত্র আনুশা-
তার পুত্র কায়নান-
তার পুত্র মাহলায়েল-
তার পুত্র ইয়াদ-
তার পুত্র আখনুখ/ইদরিস (আঃ)-
তাঁর পুত্র মাতুশালাখ-
তার পুত্র লামেক-
তার পুত্র নূহ (আঃ)-
তাঁর পুত্র সাম-
তার পুত্র আরফাখশাদ-
তার পুত্র শালেখ-
তার পুত্র আবের-
তার পুত্র ফালেজ-
তার পুত্র রাউ-
তার পুত্র ছারুদা (সারুগ)-
তার পুত্র নাহুব-
তার পুত্র তারাহ (আযর)-
তার পুত্র ইবরাহীম (আ)
হযরত ইবরাহিম (আঃ)-
তাঁর পুত্র ইসমাঈল-
তাঁর পুত্র কায়দার-
তার পুত্র আরাম-
তার পুত্র আওযা-
তার পুত্র মাযি-
তার পুত্র সুমাই-
তার পুত্র জারাহ-
তার পুত্র নাহেছ-
তার পুত্র মাকছার-
তার পুত্র আইহাম-
তার পুত্র আফনাদ-
তার পুত্র আইশার-
তার পুত্র যায়শান-
তার পুত্র আই-
তার পুত্র আরউই-
তার পুত্র ইয়ালহান-
তার পুত্র ইয়াহাজান-
তার পুত্র ইয়াসরেবী-
তার পুত্র সুনবর-
তার পুত্র হামদান-
তার পুত্র আদদায়া-
তার পুত্র ওবায়েদ-
তার পুত্র আবকার-
তার পুত্র আয়েয-
তার পুত্র মাখি-
তার পুত্র নাহেশ-
তার পুত্র জাহেম-
তার পুত্র তারেখ-
তার পুত্র ইয়াদলাফ-
তার পুত্র বালদাস-
তার পুত্র হাজা-
তার পুত্র নাশেদ-
তার পুত্র আওয়াম-
তার পুত্র উবাই-
তার পুত্র কামোয়াল-
তার পুত্র পোজ-
তার পুত্র আওছ-
তার পুত্র ছালামান-
তার পুত্র হামিছা-
তার পুত্র আওফ-
তার পুত্র আদনান
আদনান-
তার পুত্র মায়া’দ-
তার পুত্র নাযার-
তার পুত্র মোদার-
তার পুত্র ইলিয়াস-
তার পুত্র মাদরেকা (আমের)-
তার পুত্র খোযায়মা-
তার পুত্র কেনানা-
তার পুত্র নযর কায়েস-
তার পুত্র মালেক-
তার পুত্র ফাহার (কোরায়েশ উপাধি এবং তাঁর নামে কোরায়েশ গোত্র) –
তার পুত্র গালেব-
তার পুত্র লোয়াই-
তার পুত্র কা’ব-
তার পুত্র মাররা-
তার পুত্র কেলাব-
তার পুত্র কুসাই (যায়েদ)-
তার পুত্র আবদ মাননাফ (মুগীরা)-
তার পুত্র হাশেম (আমর)-
তার পুত্র আবদুল মোত্তালেব (শায়বা)-
তার পুত্র আবদুল্লাহ-
তার পুত্র মোহাম্মদ (সাঃ)
সংক্ষেপে দেখুনজোনাকির মিটমিট আলোর রহস্য কি?
রাতের আঁধারে জোনাকি পোকার মিট মিট আলো আমাদের অনেকের শৈশবেরই এক বিস্ময়কর স্মৃতি। বিশেষ করে যাদের শৈশব কেটেছে গ্রামে, তাদের কাছে জোনাকি পোকা ছিল একটি আবেগের বিষয়। তবে জোনাকির এমন আলো জ্বালানো দেখে আমাদের কৌতূহলও কিন্তু কম হত না। বিস্ময় ভরা চোখে অনেকেই ভাবতাম কিভাবে জোনাকি এই আলো জ্বালিয়ে থাকে। পোকার সবিস্তারিত পড়ুন
রাতের আঁধারে জোনাকি পোকার মিট মিট আলো আমাদের অনেকের শৈশবেরই এক বিস্ময়কর স্মৃতি। বিশেষ করে যাদের শৈশব কেটেছে গ্রামে, তাদের কাছে জোনাকি পোকা ছিল একটি আবেগের বিষয়। তবে জোনাকির এমন আলো জ্বালানো দেখে আমাদের কৌতূহলও কিন্তু কম হত না। বিস্ময় ভরা চোখে অনেকেই ভাবতাম কিভাবে জোনাকি এই আলো জ্বালিয়ে থাকে।
পোকার সংক্ষিপ্ত পরিচয়
প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীর থেকে জোনাকি পোকা এই দিক দিয়ে একদমই অনন্য। জলচর অনেক প্রাণীর এমন আলো জ্বালানোর ক্ষমতা থাকলেও, স্থলচর প্রাণীর মধ্যে জোনাকিই একমাত্র। বৈজ্ঞানিকভাবে জোনাকি পোকা Lampyridae নামে পরিচিত। আর ইংরেজিতে এই পোকাটির নাম আরও সুন্দর- Firefly। এদের প্রায় ২০০০ এর মত প্রজাতি আছে যাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক জোনাকি আলো জ্বালতে পারে। এরা মূলত নিশাচর প্রাণী এবং নেকটার বা পোলেন খেয়ে বেঁচে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে এরা ক্ষুদ্র লার্ভা এবং পতঙ্গও খেয়ে থাকে।
জোনাকি পোকা কিভাবে আলো জ্বালে?
জোনাকি পোকার আলোর রহস্য হল একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। মূলত এদের দেহের পেছনের অংশে একটি বাক্সের মত অংশে এই বিক্রিয়াটি ঘটে থাকে। এখানে লুসিফেরিন নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ লুসিফেরাস নামক এনজাইমের উপস্থিতিতে অক্সিজেন ও শক্তি ব্যাবহার করে আলো উৎপন্ন করে থাকে। আর বিশেষ প্রক্রিয়ায় জোনাকি পোকা অক্সিজেনের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে যা মূলত মিট মিট করে আলো জ্বালার পেছনে ভূমিকা রাখে। অক্সিজেন সরবরাহের উপর নির্ভর করে থাকে কখন আলো জ্বলবে এবং নিভবে। যখন এরা অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তখন আলো নিভে যায় এবং অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হলে বিক্রিয়া শুরু হয়ে আলো জ্বলে উঠে।
বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Bioluminescence. তবে অন্যান্য আলোক উৎসের মত এ প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় না। এই বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত শক্তি তাপশক্তি উৎপন্নে ব্যয় না হয়ে শুধু আলো উৎপন্ন করে থাকে যাকে “Cold light” বলা হয়ে থাকে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেননা তাপ উৎপন্ন হলে তা জোনাকির শরিল পুড়িয়ে দিতে পারে।
জোনাকি পোকা কেন আলো জ্বেলে থাকে?
জোনাকি পোকা সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে দেখা যায়। অন্ধকারে এরা মিটমিট করে আলো জ্বালতে থাকে। তাদের এই আলো জ্বালানোর পেছনে মূল কারণ হল বিপরীত লিঙ্গের জোনাকি কে আকর্ষণ করা। সাধারণত পুরুষ জোনাকি পোকা স্ত্রী জোনাকি পোকাকে আকর্ষণ করার জন্য এভাবে আলো জ্বেলে থাকে। আর স্ত্রী জোনাকিরা পুরুষ জোনাকির এরূপ আলো জ্বালানোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সঙ্গী নির্বাচন করে। এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে আলোর তীব্রতা, প্যাটার্ন এবং আলো জ্বালানোর হার। যে পুরুষ জোনাকি দ্রুত এবং উজ্জ্বল আলো জ্বালতে পারে স্ত্রী জোনাকিরা তাদের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়।
তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে যে স্ত্রী জোনাকিরা কি আলো জ্বালে? হ্যাঁ, স্ত্রী জোনাকিরাও আলো জ্বালে। আর তাদের আলো জ্বালানোর উদ্দেশ্য হল পুরুষ জোনাকির সংকেতে সম্মতি প্রদান করা। যে পুরুষ জোনাকিকে কোন স্ত্রী জোনাকির পছন্দ হয়, তাকে আলো জ্বালিয়ে নিজের সম্মতি প্রকাশ করে।
আবার জোনাকির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এই আলোক সংকেত চিনতে পারা। কাজেই কোন পুরুষ সঙ্গীকে কোন স্ত্রী সঙ্গীর পছন্দ হয়েছে বা কোন পুরুষ সঙ্গীর উদ্দেশ্যে স্ত্রী সঙ্গী সংকেত পাঠিয়েছে তা চিনতে এদের ভুল হয় না।
তবে কিছু গবেষণা মতে জোনাকি তাদের এই বৈশিষ্ট্য টি পেয়েছে মূলত শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পেতে। বিবর্তনের ধারায় অন্যান্য শিকারি প্রাণীদের তাড়াতে তারা এই আলো জ্বালানোর ক্ষমতা অর্জন করে।
জোনাকি পোকা কি বিষাক্ত?
কিছু কিছু জোনাকি পোকার প্রজাতি বেশ বিষাক্ত। জোনাকি পোকার প্রায় ২০০০ প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে কিছু প্রজাতি রয়েছে যারা লুসিবুফেগিন্স নামক এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন করে থাকে। এই রাসায়নিক পদার্থটি পাখি বা অন্যান্য শিকারি দের হাত থেকে জোনাকিদের রক্ষা করতে সহায়তা করে।
নগরায়নের পাল্লায় পড়ে বর্তমান সময়ে জোনাকির দেখা মেলা ভার। শহরাঞ্চলে এর দেখা পাওয়া যায় না বললেই চলে। তবে গ্রামের আঁধারে এখনো দেখা মেলে অদ্ভুত এই পোকাটির।
সংক্ষেপে দেখুনকোন ৮টি আবিষ্কার বদলে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে ?
শুরুর দিকে মানুষ ছিলো অনেক অসহায়। তারা বাস করতো বনে জঙ্গলে। বিভিন্ন পশুপাখি শিকার করে খাদ্য সংগ্রহ করতো। আস্তে আস্তে মানুষ বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার করলো। তৈরি করলো নানা জিনিস। ফলে মানুষের জীবন হলো আরো সহজ, আরো নিরাপদ। আদিম যুগের সেইসব আবিষ্কার থেকে আধুনিক যুগের নিত্যনতুন প্রযুক্তি, সবই মানব সভ্যতাবিস্তারিত পড়ুন
শুরুর দিকে মানুষ ছিলো অনেক অসহায়। তারা বাস করতো বনে জঙ্গলে। বিভিন্ন পশুপাখি শিকার করে খাদ্য সংগ্রহ করতো। আস্তে আস্তে মানুষ বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার করলো। তৈরি করলো নানা জিনিস। ফলে মানুষের জীবন হলো আরো সহজ, আরো নিরাপদ। আদিম যুগের সেইসব আবিষ্কার থেকে আধুনিক যুগের নিত্যনতুন প্রযুক্তি, সবই মানব সভ্যতাকে দিয়েছে অন্য এক রূপ। মানুষ এমন কিছু জিনিস আবিষ্কার করেছে যেগুলো না থাকলে আজকের পৃথিবী আমরা যেমনটা দেখছি তেমনটা হয়তো হতো না। চলুন জেনে নেই ঠিক এমনই ৮টি আবিষ্কার সম্পর্কে যেগুলো বদলে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে।
১) লাঙল
আধুনিক যুগের নিত্য নতুন নানা আবিষ্কারের কাছে লাঙল বা হাল আবিষ্কার অনেকের কাছেই কিছুটা তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু এই লাঙলের আবিষ্কার না হলে বর্তমান পৃথিবীর অনেক কিছুই হয়তো আমরা আজকে দেখতাম না। লাঙল হলো জমি চাষের অন্যতম প্রাচীন একটি যন্ত্র। জমিতে বীজ বপন কিংবা চারা লাগানোর জন্য মাটিকে প্রস্তুত করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
প্রাচীন মিশরীয় চিত্রকর্মে লাঙলের মাধ্যমে চাষ; Source: wikimedia.org
ঠিক কবে কিংবা কোথায় এই লাঙল আবিষ্কার হয়েছিলো তা সঠিক জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয় এটি এককভাবে কেউ আবিষ্কার করেনি, বরং অনেকের ক্রমাগত উন্নয়ন সাধনের ফলে তা বর্তমানের রূপ পেয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগেও লাঙল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। লাঙল বা হাল আবিষ্কারের আগে মানুষ সাধারণত পশুপাখি শিকার করতো কিংবা বিভিন্ন গাছপালা থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে খেতো। মানুষ যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতো খাদ্যের সন্ধানে। কিন্তু জমি চাষ করতে শেখার পর মানুষের জীবনে স্থায়িত্ব এলো। তারা নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে জমি চাষের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন করতে লাগলো। তবে শুধু খালি হাতে জমি চাষ করা ছিলো অনেক কষ্টসাধ্য ও সময়ের ব্যাপার। লাঙল আবিষ্কারের ফলে মানুষের এই কষ্ট দূর হলো।
লাঙল আবিষ্কারের ফলে খুব সহজে জমি চাষ করা সম্ভব হলো; Source: wikimedia.org
লাঙল আবিষ্কারের ফলে মানুষ দ্রুত ও ব্যাপক পরিমাণে ফসল ফলাতে লাগলো। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফসল বিক্রির প্রচলন শুরু হলো। আর এর থেকেই মানুষ সংখ্যা, হিসাব ইত্যাদি শিখলো। শুরু করলো ব্যবসা। আর বিপুল পরিমাণ মানুষ যখন এসবে লিপ্ত হলো তখন গড়ে উঠলো বিভিন্ন শহর। এক লাঙল আবিষ্কারের মাধ্যমেই গড়ে উঠলো মানব সভ্যতা।
২) চাকা
লাঙলের পর যে আবিষ্কারটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো চাকার আবিষ্কার। এটিও এতটাই পুরানো এক আবিষ্কার যে ঠিক কবে এই চাকার আবিষ্কার হয়েছিলো তা কেউ জানে না। তবে সবচেয়ে পুরানো চাকাটি পাওয়া গিয়েছিলো স্লোভেনিয়াতে খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ অব্দে।
চাকার বিবর্তনের চিত্র; Source: mentalfloss.com
চাকা এমনই এক জিনিস যা আবিষ্কার না হলে মানব সভ্যতা হয়তো থেমে থাকতো। পেত না কোনো গতি। চাকা আবিষ্কারের ফলে যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা হলো আরো সুবিধাজনক ও দ্রুত। ঘোড়ায় টানা গাড়ির সাথে চাকা যুক্ত করার ফলে মানুষ পেলো অন্যতম দ্রুত এক পরিবহন ব্যবস্থা।
শুধু পরিবহন ক্ষেত্রে নয়, চাকা আবিষ্কারের মাধ্যমে আরো দশ হাজারের বেশি প্রযুক্তির সূচনা হলো। বিভিন্ন পাওয়ার মিল, ফ্যাক্টরি, বিভিন্ন গিয়ার ও যন্ত্রাংশ ইত্যাদি সবই চাকার আকারে তৈরি করা হয়। বহু আধুনিক প্রযুক্তি আজ চাকার উপর নির্ভরশীল। বাস, ট্রেন, উড়োজাহাজ, পাওয়ার প্লাট, ইলেকট্রিক মোটর, জেট ইঞ্জিন ইত্যাদি চাকা ছাড়া কল্পনা করা অসম্ভব।
৩) ছাপাখানা
জোহান গুটেনবার্গ ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম ছাপাখানা আবিষ্কার করেন। এর আগেও মানুষ কাগজ ও ব্লক প্রিন্টিং পদ্ধতি জানতো। তবে ছাপাখানার মাধ্যমে বইয়ের মুদ্রণ প্রথম চালু করেন গুটেনবার্গ।
ছাপাখানার জনক জোহান গুটেনবার্গ; Source: thefamouspeople.com
গুটেনবার্গ ব্লক প্রিন্টিং ও স্প্রিং প্রেসের সমন্বয় ঘটান। এছাড়াও তিনি ধাতব প্রিন্টিং ব্লক চালু করেন যা আগের কাঠের তৈরি অক্ষরের ব্লকগুলোর থেকে ছিলো অনেক বেশি নিখুঁত ও টেকসই। তিনি মুদ্রণের কালি ও কাগজ তৈরিতেও আনেন অনন্য পরিবর্তন যা পরবর্তীতে মুদ্রণ ব্যবস্থায় আনে বিপ্লব।
একটি ছাপাখানার চিত্র; thinglink.com
ছাপাখানা আবিষ্কারের ফলে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও তা মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলো। ছাপাখানা আবিষ্কারের আগে যেসব বই মুদ্রিত হতো তা ছিলো অনেক দামী। শুধুমাত্র ধনীরাই এ ধরণের বই কিনে পড়তে পারতো। কিন্তু ছাপাখানা আবিষ্কারের মাধ্যমে মুদ্রিত বইয়ের দাম কমে গেলো। বই মানুষের কাছে হলো সহজলভ্য। ফলে জ্ঞান-বিজ্ঞানে মানুষ অগ্রগতি লাভ করলো। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের পর্যাপ্ত শিক্ষা লাভ করতে পারলো এই ছাপাখানার মাধ্যমে। তাই ছাপাখানা আবিষ্কার না হলে হয়তো পৃথিবীর অনেক অংশেই পৌঁছাত না শিক্ষার আলো।
৪) যোগাযোগ মাধ্যম
যোগাযোগ মাধ্যমের মূল আবিষ্কারগুলো হলো টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, রেডিও ও টেলিভিশন। ১৮৩৬ সালে স্যামুয়েল মোর্সের টেলিগ্রাফ আবিষ্কারের পর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসে অনন্য পরিবর্তন। এরপর টেলিফোন আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ অন্য একজন মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর বহুদূরে বসেও শুনতে সক্ষম হয়। ফলে কমে যায় মানুষের মধ্যবর্তী দূরত্ব।
আলেক্সজান্ডার গ্রাহামবেলের আবিষ্কৃত প্রথম টেলিফোন; Source: sutterstock.com
বিশ শতকের শুরুতে গুগলিয়েলমো মার্কোনি ও নিকোলা টেসলা বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে তারবিহীন সংকেত প্রেরণের প্রচলন করেন। আবিষ্কার হয় রেডিও। এরপর শব্দের সাথে সাথে ছবিও তরঙ্গের আকারে প্রেরণ করতে সক্ষম হয় মানুষ। এর মাধ্যমে আবিষ্কার হয় টেলিভিশন। আর এ আবিষ্কারের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বার্তা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে একযোগে সম্প্রচার করা সম্ভব হয়ে উঠে।
সপরিবারে টেলিভিশন দেখছে বিমান বাহিনীর একজন সদস্য; Source: mashable.com
যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন উন্নয়নের ফলে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের মানুষের কাছাকাছি আসতে সক্ষম হয়। যেখানে আগে এক দেশ হতে অন্যদেশে খবর পাঠাতে লাগতো কয়েক সপ্তাহ সেখানে এসব প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে এখন পৃথিবী অন্য প্রান্তে কী ঘটছে তা আমরা এখন সরাসরি নিজ বাসায় বসে দেখতে পাই।
৫) স্টিম ইঞ্জিন
স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কারের আগে কলকারখানার বেশিরভাগ পণ্যই হাতে তৈরি হতো। এছাড়া পানি চালিত কিংবা পশু টানা যন্ত্রগুলোই ছিলো শক্তির প্রধান উৎস। ১৭১২ সালে থমাস নিউকোমেন সর্বপ্রথম বাষ্পকে কাজে লাগিয়ে পানির পাম্পের ইঞ্জিন তৈরি করেন। এরপর ১৭৬৯ সালে জেমস ওয়াট নিউকোমেনের এই ইঞ্জিনের কিছু পরিবর্তন আনেন। তিনি ইঞ্জিনে পানি থেকে বাষ্প প্রস্তুতকারী যন্ত্র সংযুক্ত করেন। ফলে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা আরো বেড়ে যায় আর ইঞ্জিনটি হয় আরো ব্যবহারযোগ্য। তার তৈরি এই ইঞ্জিন ঘূর্ণন শক্তি উৎপন্ন করতে পারতো।
স্টিম ইঞ্জিন চালিত একটি ট্রেন; Source: limelightmagazine.com.au
জেমস ওয়াটের এই ইঞ্জিন আবিষ্কারের ফলে মানুষ ইঞ্জিন চালিত গাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হলো। সেই সাথে তৈরি হলো ইঞ্জিন চালিত রেলগাড়ি। ফলে দ্রুতগতিতে এক স্থান হতে অন্য স্থানে যেতে সক্ষম হলো মানুষ। রেলগাড়ি কিংবা মোটরগাড়িতে ব্যবহার ছাড়াও স্টিম ইঞ্জিন ব্যবহৃত হতে লাগলো বিভিন্ন কলকারখানায়। কলকারখানা উৎপাদনের পরিমাণ গেলো বেড়ে। মানব সভ্যতা পেলো অনন্য এক গতি। এই স্টিম ইঞ্জিনের ব্যবহার বর্তমান এই আধুনিক যুগেও বিদ্যমান রয়েছে। এখনো বহু পাওয়ার প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য স্টিম চালিত টার্বাইন ব্যবহার করা হয়।
৬) বৈদ্যুতিক বাতি
টমাস আলভা এডিসনকে আমরা বৈদ্যুতিক বাতির জনক হিসেবে জানলেও ১৮৭০ সালের দিকে প্রায় এক ডজন লোক এটির আবিষ্কার নিয়ে কাজ করছিলেন। এডিসন এই বিদ্যুতিক বাতির অনেক উন্নয়ন সাধন করেন। ঠিক এই সময়ই ব্রিটেনে জোসেফ সোয়ান নামের একজন এই একই জিনিস নিয়ে কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে এডিসন ও সোয়ান দুজনে মিলে ‘এডিসোয়ান’ নামে বৈদ্যুতিক বাতি তৈরির একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।
বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারের ফলে সহজে দূর হয় আধার; Source: businessinsider.com
বৈদ্যুতিক বাতিতে একটি ফিলামেন্ট বা সরু তারের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ চালনা করা হয়। ফলে ফিলামেন্টটি থেকে আলো ও তাপ নির্গত হয়। ফিলামেন্টটি যাতে দ্রুত জ্বলে না যায় তাই এটিকে উচ্চ রোধ বিশিষ্ট পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয় এবং একটি বায়ুহীন বাল্বের মধ্যে রাখা হয়।
বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের ফলে ঘরে বাইরে, অফিসে সব খানে সহজে আলোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। এর আগে গ্যাস ল্যাম্পের মতো অন্যান্য আলোর উৎস থাকলেও বিদ্যুৎ বাতির মতো সহজে তা সবখানে ব্যবহার করা যেত না। বৈদ্যুতিক বাতিই পৃথিবীর বহু অংশে পৌছে দিয়েছে আলো।
৭) কম্পিউটার
কম্পিউটার বলতে আমরা আজকাল ডেক্সটপ কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ বুঝি। কিন্তু কম্পিউটার হচ্ছে এমন এক যন্ত্র যাতে কোনো তথ্য বা উপাত্ত প্রবেশ করালে সেই তথ্যকে নিপুণভাবে ব্যবহার নতুন তথ্য বা ফলাফল পাওয়া যায়। কম্পিউটার মানে গণনাযন্ত্র। চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হলেও বহু মানুষের হাত ধরে কম্পিউটার আজকের অবস্থায় এসেছে। আঠার শতকের দিকে বহু মেকানিকাল কম্পিউটার থাকলেও ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার এসেছে বিশ শতকের দিকে।
প্রায় সবধরনের কাজই করা যায় আজকের দিনের কম্পিউটার গুলো দিয়ে; Source: phonearena.com
কী করা যায় না এই কম্পিউটার দিয়ে! কঠিন কঠিন গাণিতিক সমস্যা মুহূর্তের মধ্যেই সমাধান করে দিতে পারে কম্পিউটার। গান শোনা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা প্রভৃতি আমাদের প্রতিদিনের সাধারণ কাজের পাশাপাশি আরো বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয় এই কম্পিউটার। মহাকাশ গবেষণা, সামরিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় কম্পিউটারই একমাত্র ভরসা। কম্পিউটার আবিষ্কার না হলে মানব সভ্যতা অনেক বেশি পিছিয়ে থাকতো। মানব সভ্যতার বিশাল একটি অংশ এখন কম্পিউটারের উপর নির্ভরশীল।
৮) ইন্টারনেট
যে আবিষ্কারটি গোটা বিশ্বকে সবচেয়ে বেশি বদলে দিয়েছে সেটি হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেট হলো গোটা পৃথিবী জুড়ে এমন এক নেটওয়ার্ক যা যুক্ত করেছে প্রতিটি মানুষকে। যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো তথ্য যে কেউ যখন খুশি তখন পেতে পারে। কোথায় নেই ইন্টারনেটের ছোঁয়া! ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিনোদন সব ক্ষেত্রেই ভূমিকা রেখেছে ইন্টারনেট।
পুরো পৃথিবীকে যুক্ত করছে ইন্টারনেট; Source: capoliticalreview.com
১৯৬০ সালে DARPA (Defense Advanced Research Projects Agency) নামের আমেরিকান সামরিক বাহিনীর একটি অংশ ARPANET নামের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যাতে সামরিক কাজের জন্য ব্যবহৃত সকল কম্পিউটার যুক্ত ছিলো। এরপর ১৯৭০ সালের দিকে চালু হলো বিভিন্ন নেটওয়ার্ক। কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা তৈরি করলেন এমন এক নেটওয়ার্ক যাতে এক নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা এক কম্পিউটারকে অন্য নেটওয়ার্কে যুক্ত কম্পিটারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। এটাই ছিলো ইন্টারনেটের প্রাথমিক অবস্থা। এর পরবর্তী দশ বছরে ইন্টারনেটের বহু উন্নতি সাধিত হয়। ফলে ইন্টারনেট ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে।
ইন্টারনেট এমনই শক্তিশালী একটি আবিষ্কার যার ফল আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে শুরু করেছি। মানব সভ্যতা বর্তমানে পুরোপুরি ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ডিজিটাল পৃথিবী সৃষ্টির পেছেনে মূল ভূমিকা ইন্টারনেটের। ইন্টারনেট গোটা পৃথিবীকে পরিণত করেছে ছোট্ট একটি গ্রামে, যেখানে মুহূর্তের মধ্যেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের সকল খবরাখবর নেওয়া যায়। বিভিন্ন তথ্য অনেক সহজলভ্য হয়েছে এই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই। এখন আমাদের একদিনও চলে না এই ইন্টারনেট ছাড়া। আমাদের জীবনধারাকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে এটি। সামনের দিনগুলোতেও ইন্টারনেট আমাদের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে এমনটাই আশা করেন ভবিষ্যতবিদরা।
সংক্ষেপে দেখুনকেউ কেউ ডানহাতি আবার কেউ কেউ বামহাতি কেন হয়?
সারা পৃথিবীতেই মানুষের মধ্যে জাতিগত, বর্ণগত কিংবা অভ্যাসগত পার্থক্য আছে। এসব মুখ্য পার্থক্যের পাশাপাশি কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্যও আছে। মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পার্থক্যও এরকমই একটি। পরিসংখ্যান বলছে মানুষের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশই ডানহাতি। তাহলে সাধারণ গণিতের হিসেবে বাকি ১০-১৫ শতাংশ বামহাতি হওয়ার কবিস্তারিত পড়ুন
সারা পৃথিবীতেই মানুষের মধ্যে জাতিগত, বর্ণগত কিংবা অভ্যাসগত পার্থক্য আছে। এসব মুখ্য পার্থক্যের পাশাপাশি কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্যও আছে। মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পার্থক্যও এরকমই একটি। পরিসংখ্যান বলছে মানুষের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশই ডানহাতি। তাহলে সাধারণ গণিতের হিসেবে বাকি ১০-১৫ শতাংশ বামহাতি হওয়ার কথা।
প্রাচীন যুগ থেকেই মানব সমাজে ডানহাতি মানুষ যেমন ছিল, কিছু সংখ্যক বামহাতি মানুষও ছিল। যদিও বামহাতি হওয়ার কারণে তাদের অনেককেই পোহাতে হয়েছে নানা ধরনের অত্যাচার। কারণ কোনো ব্যক্তি বামহাতি হলে ধারণা করা হত যে, ওই ব্যক্তি শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত। কারণ বিভিন্ন সময়ে শয়তানকে বামহাতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ‘Sinister’ বা ‘অশুভ’ শব্দটি এসেছে ‘Left’ শব্দটি থেকে।

৮৫-৯০ শতাংশ মানুষ ডানহাতি, বাকিরা বামহাতি হয়; Source: catholiccharities-sbc.org
মধ্যযুগে বামহাত দিয়ে কোনো ব্যক্তিকে লিখতে বা খাবার খেতে দেখলে তাকেও শয়তানের দ্বারা আক্রান্ত, কিংবা শয়তানের বন্দনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। আধুনিক যুগ যদিও শিক্ষা-সংস্কৃতিতে অনেকদূর এগিয়ে গেছে এবং কুপ্রথা ও কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসেছে, তথাপি বামহাতি ব্যক্তিদের প্রতি সবারই আলাদা একপ্রকার মনোভাব আছে।
তো এই যে, মানুষের মাঝে ডানহাতি কিংবা বামহাতি বৈশিষ্ট্যের দেখা মেলে, এই বৈশিষ্ট্যের মূল রহস্য কী? কেন মানুষ হয় ডানহাতি অথবা বামহাতি হয়?
মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পেছনে বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ প্রধানত দুইটি তত্ত্বের কথা বলেন। প্রথমটি প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব এবং অপরটি জিন-তত্ত্ব। যদিও দুইটি তত্ত্ব কিছুটা ভিন্নরকম মতামত দেয়, কিন্তু দুইটি তত্ত্বের কোনো একটিকে ভুল প্রমাণ করার মতো তথ্য-উপাত্ত এই মুহূর্তে নেই। অর্থাৎ দুইটি তত্ত্বই তাদের ‘পয়েন্ট অফ ভিউ’ থেকে সঠিক। এদেরকে একে অপরের পরিপূরকও বলা চলে।
প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব অনুসারে, মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হয়েছে মূলত মানুষের ভাষা ও কথা বলার ক্ষমতার কারণে। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আসতে পারে যে ভাষা কিংবা সেই ভাষায় কথা বলার কারণে মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার কী সম্পর্ক! সম্পর্ক আছে, বরং আরো বলা চলে ভাষা এবং সেই ভাষায় কথা বলা ছাড়াও লেখার ক্ষমতার কারণে এই ডানহাতি-বামহাতি স্বভাব সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু কীভাবে?

একজন ডানহাতি মানুষের মস্তিষ্কের গঠন; Source: guernseydonkey.com
মানুষ তার আদি থেকে যোগাযোগের জন্য সংকেত ব্যবহার করতো। সেই সংকেত কালক্রমে ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে। আধুনিক মানুষের ভাষা বাস্তবে কিছু ধ্বনি বা সংকেত ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে বেশিরভাগ মানুষের মস্তিষ্কের বাম অংশ ভাষা বা সংকেত প্রক্রিয়াকরণ করে। বাম মস্তিষ্ক আবার একই সাথে ডান হাতের পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। কেবল ডান হাতের পেশীই নয়, ডান চোখ, ডান কান, ডান পা-ও নিয়ন্ত্রণ করে বাম মস্তিষ্ক।
ফলাফল দাঁড়াচ্ছে এই যে, ভাষা যেমন বলার সময় প্রথমে মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াকরণ হয়, তারপর মুখে আসে, তেমনি লেখার সময় ভাষা প্রথমে মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াকরণ হয় তারপর হাতে আসে। তাহলে, যাদের ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয় বাম মস্তিষ্কে, তাদের ডানহাত হবে কার্যকরী হাত। কারণ লেখার সময় ডান হাতের উপরই থাকবে লেখার ভার।
আগেই হিসেব দেওয়া হয়েছে যে, প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষ ডানহাতি। অর্থাৎ, এই ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষের বাম মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়। বাকি ১০-১৫ শতাংশের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ডান অংশে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়। এবং ডান মস্তিষ্ক বাম হাতের পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ, তাদের ক্ষেত্রে বামহাতই হয় মুখ্য হাত। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণের উপরই নির্ভর করে ব্যক্তি ডানহাতি হবে নাকি বামহাতি হবে।

বামহাতি মানুষের ডান মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়; Source: webmd.com
জিন তত্ত্ব, মানুষের শারীরিক কিংবা মানসিক সকল প্রকার বৈশিষ্ট্যের ধারক এবং বাহক হচ্ছে জিন। কারো চোখ কালো, কারো আবার বাদামী, কারো সাদা অথবা কারো চুলের রঙ কালো, কারো লাল, কারো আবার সোনালী কিংবা কেউ নীল রঙ পছন্দ করে, কেউ সবুজ ইত্যাদি- এইসব শারীরিক বা মানসিক বৈশিষ্ট্যের মূল কারণ আলাদা আলাদা জিন।
মানুষের ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের কোনো জিনের অবদান আছে বলে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা মনে করেন। এক্ষেত্রে জেনেটিক মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন অন্যতম ভূমিকা পালন করে।
সাধারণত একটি লোকেশনে একটি জিনের দুইটি অনুলিপি থাকে। এই অনুলিপিদ্বয়ের একটিকে অপরটির ‘অ্যালীল’ (allele) বলা হয়। ডান-বাম অসমতার ক্ষেত্রে একটি অ্যালীলকে বলা হয় D জিন। এই D এসেছে ‘Dextral’ শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘Right’। অপর অ্যালীলটিকে বলা হয় C জিন। C এসেছে ‘Chance’ শব্দ থেকে। অ্যালীল জিন কীভাবে কাজ করে সেটি আগে জানা প্রয়োজন। একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বোঝা যাক।
ধরা যাক, কোনো মানুষের চোখের মনি বাদামী হওয়ার পেছনে একটি জিন কাজ করে। এর জিনোটাইপ ধরা যাক (Bb)। এখানে বাদামী বর্ণের জন্য দায়ী B জিনটি, কালো বর্ণের জন্য দায়ী b জিনের উপর প্রকট। বাদামী বর্ণের জন্য দায়ী জিন এসেছে পিতার জনন কোষ থেকে এবং কালো বর্ণের জন্য দায়ী জিন এসেছে মাতার জনন কোষ থেকে। তাহলে এই দুইটি জিন হচ্ছে একে অপরের অ্যালীল। এখানে যেহেতু B জিনটি প্রকট এবং b জিনটি প্রচ্ছন্ন, তাই সন্তানের চোখের মণির বর্ণ হয়েছে বাদামী।
ঠিক একইভাবে ডানহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রকট জিন হচ্ছে D জিন। বেশিরভাগ ডানহাতি মানুষের ক্ষেত্রে ডানহাতি হওয়ার জন্য মূলত এই D জিনের ভূমিকা থাকে। বামহাতিদের ক্ষেত্রে থাকে C জিনের ভূমিকা। তবে মানুষের মধ্যে D জিনের প্রকটতা বেশি থাকায় অধিক সংখ্যক মানুষ ডানহাতি হয়ে থাকে। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে যে, কেবল C জিন প্রকট থাকলেও সেখানে বামহাতি হওয়ার সম্ভাবনা ৫০-৫০।

ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার জিনগত তত্ত্ব; Source: Edited
এখানে আরো একটি হাইপোথিসিস আছে। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে আমরা জানি যে, মানুষের মস্তিষ্কের যে অংশ ভাষা প্রক্রিয়াকরণ করে, তার বিপরীত হাত হয় মানুষের কর্তৃত্বপূর্ণ হাত। অর্থাৎ, বাম মস্তিষ্ক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ করলে মানুষ হয় ডানহাতি। এখানে জেনেটিক মিউটেশনের কিছু ব্যাপার আছে।
ডিসলেক্সিয়া নামক একপ্রকার রোগ আছে। সহজ কথায় এই রোগের উপসর্গ হচ্ছে কোনো কিছু পড়ার অক্ষমতা। কথা বলার ভাষার সাথে বর্ণ এবং অক্ষরের সামঞ্জস্য বুঝতে না পারাটাই হচ্ছে ডিসলেক্সিয়া রোগীর বৈশিষ্ট্য। কারণ ডিসলেক্সিয়া রোগটি মস্তিষ্কের সেই অংশকে আক্রান্ত করে যে অংশ ভাষার প্রক্রিয়াকরণ করে।

সাধারণ মস্তিষ্ক বনাম ডিসলেক্সিয়াগ্রস্ত মস্তিষ্ক; Source: brainconnection.brainhq.com
এই রোগের কারণ মূলত জেনেটিক মিউটেশন। অ্যালীল সম্বন্ধে জিন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি অ্যালীল জিনের ক্ষেত্রে দুইবার মিউটেশনের সুযোগ থাকে। জিনের এই মিউটেশনের পর অনেক ক্ষেত্রেই আসল বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
যেহেতু ডিসলেক্সিয়া মস্তিষ্কের ভাষা প্রক্রিয়াকরণ অংশে আক্রমণ করে, ফলে ব্যক্তির ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রেও এর কোনো ভূমিকা থাকতে পারে। ডিসলেক্সিয়া রোগের জন্য পিসিএসকে-৬ (PCSK-6) নামক একটি জিনকে দায়ী করা হয়। মানুষের ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে এই বিশেষ জিনের কোনো ভূমিকা আছে কিনা তা নিয়ে গবেষকরা অনেক গবেষণা করেছে।
গবেষকরা বলছে যে, ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার জন্য পিসিএসকে-৬ জিনকে এককভাবে দায়ী করা যায় না, বরং এর সাথে সহযোগী হিসেবে আরো কতিপয় জিনের অবদান আছে। একত্রে এসব জিন মানুষের ডান-বাম অসমতার জন্য দায়ী। যেহেতু এখানে মিউটেশনের ব্যাপার আছে। কাজেই সর্বশেষ মিউটেশনের পরেই জানা যায় যে, আসলে ডান অংশ প্রধান, নাকি বাম অংশ।
এখানে আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যাপার আছে। ডান-বাম অসমতার জন্য দায়ী জেনেটিক প্রক্রিয়া যখন কোনো কারণে বিঘ্নিত হয়, তখন গুরুতর কিছু শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে। যেমন, মানব শরীরের ডান অংশের অঙ্গ বা অঙ্গাণুগুলো বাম অংশে অবস্থান নিতে পারে এবং এর বিপরীত ঘটনাও ঘটতে পারে।
এই ঘটনাকে বলা হয় সাইটাস ইনভার্সাস (Situs Inversus)। এই জিনগত পরিবর্তনের ফলেই অনেকের হৃৎপিণ্ড শরীরের বামপাশের পরিবর্তে ডানপাশে অবস্থান করে। এখন যদি ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ঘটনা শারীরিক অসমতার ফলাফল হয়, সেক্ষেত্রে সাইটাস ইনভার্সাসকে দায়ী করা যেতে পারে। কিন্তু এটি এখনো একটি হাইপোথিসিস এবং এটি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

সাইটাস ইনভার্সাস; Source: healthjade.net
আধুনিক গবেষণা আরো তথ্য দিচ্ছে আমাদের। যেমন আধুনিক গবেষকরা বলছে যে, ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মস্তিষ্ক নয় বরং স্পাইনাল কর্ডই দায়ী। মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স অঞ্চলে হাত ও পায়ের সঞ্চালন প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোটর কর্টেক্স এই সিগন্যাল স্পাইনাল কর্ডে প্রেরণ করে। স্পাইনাল কর্ড তখন এই সিগন্যালকে পেশী সঞ্চালন রূপান্তরিত করে।
মানুষ যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন থেকেই কিন্তু এই ডান-বাম অসমতা লক্ষ্য করা যায়। গর্ভবতী মায়েদের উপর আল্ট্রাসনোগ্রাফির দ্বারা পরীক্ষা করে জানা যায় যে, গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রায় ১৩ সপ্তাহ পর থেকেই বাচ্চার মধ্যে হাত চোষার প্রবণতা দেখা যায়। অর্থাৎ, কোনো বাচ্চা ডান হাত চোষে, কোনো বাচ্চা চোষে বাম হাত।
কিন্তু ১৫ সপ্তাহের আগে মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স এবং স্পাইনাল কর্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র তৈরি হয় না। তাহলে কীভাবে ১৩ সপ্তাহের বাচ্চার মধ্যে ডান-বাম অসমতা লক্ষ্য করা যায়?
গবেষকদের গবেষণায় উঠে আসে সেই তথ্য। স্পাইনাল কর্ডের জিনগত বৈশিষ্ট্যই মূলত এখানে দায়ী। স্পাইনাল কর্ডের জিনের কার্যক্রমের কারণেই ডান-বাম অসমতার সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, তাদের গবেষণা মতে মস্তিষ্ক নয় বরং স্পাইনাল কর্ডের জিনগত বৈশিষ্ট্যই ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
ডান-বাম অসমতা অর্থাৎ, ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়া ছাড়াও ‘Ambidextrous’ বা সব্যসাচী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষের সন্ধানও পাওয়া যায়। যদিও এই সংখ্যা খুবই নগণ্য। ১ শতাংশেরও কম মানুষের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। যেটি আসলে একপ্রকার ব্যতিক্রম ঘটনা এবং খুবই দুর্লভ।

‘Ambidextrous’ মানুষের দুই হাতই সমান কর্তৃত্বপূর্ণ; Source: britannica.com
Ambidextrous বা সব্যসাচী বলতে বোঝায়, যেসব মানুষের ডান-বাম অসমতা নেই। অর্থাৎ যারা তাদের দুইটি হাতই সমানভাবে এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম, তারাই সব্যসাচী। যদি প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের নিউরোলজিক্যাল ব্যাখ্যা দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে সব্যসাচী মানুষের ক্ষেত্রে তাদের মস্তিষ্কের ডান এবং বাম অংশ উভয়ই সমানভাবে কার্যকর।
যদিও ডানহাতি বা বামহাতি কিংবা উভয়হাতি অর্থাৎ সব্যসাচী হওয়ার ক্ষেত্রে তত্ত্ব ও হাইপোথিসিস দেয়া হয়েছে বেশ, তথাপি এক্ষেত্রে কোন তত্ত্বটি সঠিক বা কোনটি নয় সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। কখনো কখনো গবেষকরা বলছেন যে, উভয় তত্ত্বই সঠিক। তত্ত্বগুলো একে অপরের পরিপূরক। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে বিস্তারিত জানা যাবে এদের সম্পর্ক।