চোখ মানব শরীরের মহামূল্যবান অঙ্গ। চোখের নানা রোগের কারণে জীবনে নেমে আসে নানা দুর্ভোগ।
বড় চোখ মানেই সুন্দর। অভিভাবকরা শিশুর বড় চোখ দেখে খুশি হন। কিন্তু বড় চোখ কি অশুভ লক্ষণ না রোগ?
আমরা শিশুদের বড় চোখ দেখলেই অনেক খুশি হই। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই বড় চোখের পেছনে রোগ থাকতে পারে। চিকিৎসকরা অনেক ক্ষেত্রেই চিন্তা করেন শিশুর কোন জন্মগত গ্লুকোমা রোগ আছে কিনা। গ্লুকোমা হচ্ছে চোখের উপর চাপ বেড়ে গিয়ে অপটিক্যাল নার্ভকে নষ্ট করে দেয়। অপটিক্যাল নার্ভ নষ্ট হলে রেটিনা থেকে কোন আলোকরশ্মি আমাদের ব্রেইনে যায় না। এক্ষেত্রে শিশুটি চোখে দেখতে পায় না। এভাবে গ্লুকোমা থেকে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। তাই চোখের কর্নিয়া বড় হলে বুঝে নিতে হবে শিশুটির জন্মগত গ্লুকোমা থাকলেও থাকতে পারে। চোখের কর্নিয়ার আরেকটি রোগ কেরাটোগ্লোবাস। এক্ষেত্রে চোখের কর্নিয়া বড় হয় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে বাচ্চাটি বড় হয়ে চোখে ভালো দেখতে পাবে না। এছাড়া যাদের চোখে মাইয়োপিয়া রয়েছে তাদের চোখগুলো কিছুটা বড় হয়s।
মাথাব্যথার সাথে চোখের সম্পৃক্ততা আছে কি?
চোখের সাথে মাথা ব্যাথার অবশ্যই সম্পর্ক রয়েছে। কারো চোখের পাওয়ার পরিবর্তন হয়ে যায় এবং সে যদি ভুল পাওয়ার দিয়েই পড়ালেখা করে, তখন চোখের উপর চাপ পড়বে। এতে চোখেও ব্যথা করবে এবং মাথাব্যথা হবে। এসব কারণে চোখের জন্য মাথা ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা রোগীর চশমার পাওয়ার চেক করে নতুন পাওয়ারের চশমা দিলে মাথাব্যথা কমে যাবে। কিন্তু চোখ ছাড়াও অন্যান্য কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে নিউরোলজিস্টের কাছে যেতে হবে।
কেউ চোখ কোন অন্ধ মানুষকে দান করতে চায়, এটা কতটুকু যৌক্তিক?
মানুষ মারা গেলে তার চোখের কর্নিয়াটুকু সংগ্রহ করা সম্ভব। মৃত্যুর পরে কর্নিয়া ৬ ঘন্টা পর্যন্ত জীবিত থাকে। তাই কারো মৃত্যুর ৬ ঘণ্টার মধ্যে এ কর্নিয়াটুকু সংগ্রহ করা যেতে পারে। এরপর কর্নিয়াজনিত কারণে যারা অন্ধ তাদের চোখে এই কর্নিয়া সংযোজন করা যেতে পারে। এর ফলে তারা চোখে দেখতে পাবেন। তবে চোখে কর্নিয়া সংযোজন করার সময় এই শর্ত থাকতে হবে যে, তার চোখের রেটিনা, নার্ভ এবং লেন্স ভালো থাকতে হবে।
চোখ যদি একটু ট্যারা হয়, তখন সেটাকে অনেকে লক্ষ্মী ট্যারা বলে। এটাকে অনেকে শুভ লক্ষণ বলেন। কতটুকু সত্য এই ভাবনা?
লক্ষী ট্যারা বা চোখ ট্যারা হওয়া মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। আমরা সবসময় দু’টো চোখ দিয়ে একটি জিনিস দেখি। একটি চোখ ট্যারা হলে দু’টি চোখ দিয়ে দু’রকমের জিনিস দেখা হয়। এক্ষেত্রে ট্যারা চোখের প্রতি চাপ বেশি পড়ে। কিন্তু এই ট্যারা চোখটিকে সোজা করা সম্ভব। এক্ষেত্রে চশমা পরা যায় কিংবা অপারেশন করেও চোখটি সোজা করা সম্ভব। কিন্তু বাচ্চার আট বছর বয়সের মধ্যেই চোখটিকে অপারেশন করে সোজা করতে হবে। এর ফলে বাচ্চার দৃষ্টি ভালো থাকে। কিন্তু ২০ বছরের পরে অপারেশন করা হলে বাচ্চা চোখে ভালো দেখতে পায় না।
আরওপি নবজাতকের চোখের একটি সমস্যা। যাতে অন্ধত্বের ঝুঁকি রয়েছে অনেকখানি। এর চিকিৎসা কি?
আমাদের দেশে প্রচুর অপরিপক্ক বাচ্চার জন্ম হচ্ছে। অপরিপক্ক বাচ্চা বলতে যার জন্ম ৩৫ সপ্তাহের আগেই এবং জন্মের সময় যে বাচ্চাটির ওজন দুই কেজির কম। দেশের নিওনেটাল কেয়ার দিন দিন উন্নত হচ্ছে।
আমাদের দেশে নিউনেটোলজি অনেক উন্নতি হয়েছে। এসব অপরিপক্ক বাচ্চাদের রেটিনার রোগ হতে পারে। এক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ রোগ আল্লাহর রহমতে ভালো হয়। বাকি ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যা হয়ে থাকে। এসব বাচ্চার জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে একজন রেটিনা বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করাতে। বাচ্চাটির রেটিনোপ্যাথি অফ প্রিম্যাচুরিটি আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে।
আর বাচ্চাটি ২৮ সপ্তাহের আগেই জন্মগ্রহণ করলে এবং তার ওজন ১৫শ’ গ্রামের কম হলে, বাচ্চাটিকে ২০ দিন বয়সে চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। তখন এই বাচ্চাগুলোর রেটিনা গুলোকে এক্সামাইন করা হয়। তার ভিতরে নানারকম সমস্যা থাকতে পারে, যেমন রক্তনালীর সমস্যা। তখন চোখে কিছুদিনের জন্য একটি ইনজেকশন দেয়া হয়। এরপর কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রেখে বাচ্চা গুলোকে লেজার করা হয়। ফলে যেখান থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, লেজার করে সে জায়গাগুলোকে বার্ন করা হয় বা পুড়িয়ে ফেলা হয়। এর ফলে যতটুকু স্বাভাবিক থকে চোখ তা দিয়েই বাচ্চাটি সারা জীবন ভালো থাকতে পারে।



























সঠিক উপায়ে চুল আঁচড়ান Hair Brush: চুল ভালো রাখার জন্যে নিয়মিত যত্ন নেন প্রত্যেকে। চুল পরিপাটি করে রাখতে নিয়মিত হেয়ার ব্রাশও করেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, দিনে ঠিক কতবার চুল আঁচড়ানো উচিত? বিস্তারিত জেনে নিন। সবাই চুল পরিপাটি রাখতে চান চুল পরিপাটি করে সুন্দর রাখতে চুল আঁচড়ানো প্রয়োজন। তাই প্রত্যেকেইবিস্তারিত পড়ুন
সঠিক উপায়ে চুল আঁচড়ান
Hair Brush: চুল ভালো রাখার জন্যে নিয়মিত যত্ন নেন প্রত্যেকে। চুল পরিপাটি করে রাখতে নিয়মিত হেয়ার ব্রাশও করেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, দিনে ঠিক কতবার চুল আঁচড়ানো উচিত? বিস্তারিত জেনে নিন।
সবাই চুল পরিপাটি রাখতে চান
চুল পরিপাটি করে সুন্দর রাখতে চুল আঁচড়ানো প্রয়োজন। তাই প্রত্যেকেই সাধের চুলকে গুছিয়ে রাখতে বারবার চুল আঁচড়ান। একাধিক হেয়ার ব্রাশও ব্যবহার করেন।
আঁচড়ালেই ভালো থাকবে চুল?
অনেকেই ভাবেন যে, চুল ভালো রাখতে বুঝি বারবার হেয়ার ব্রাশ করা জরুরি। চুল আঁচড়ালে জটমুক্ত থাকবে। তাই হেয়ার ফলও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এই ধারণার সত্যতা তাঁরা বিচার করেন না। দিনের পর দিন এই ভ্রান্ত ধারণাকে আশ্রয় করেই চলতে চান। কিন্তু আপনি কি জানেন এই কথা কতটা সত্যি ?
বারবার চুল আঁচড়ালে চুল ভালো থাকে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এতে চুল জটমুক্ত থাকে ঠিকই। কিন্তু এর সঙ্গে হেয়ার ফল কমার কোনও সংযোগ নেই। বরং বারবার চুল আঁচড়ালে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বাড়ে।
মাথা ফাঁকা হয়ে যেতে পারে
চুলে বারবার চিরুনি দিলে ঘষা লাগে। ফলে, চুল ভেঙে যায়। এমনকী গোড়া থেকে আলগা হয়ে উঠতেও আসতে পারে।
ভিজে চুল আঁচড়াবেন না
ভিজে চুলে তো চিরুনি দেওয়াই উচিত নয়। এতে চুলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে ষোলোআনা। তাই সব দিক বিবেচনা করে নিজের চুলকে ভালো রাখার জন্যে প্রয়োজন মতো চুল আঁচড়ানোই ভালো।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দিনে কতবার চুল আঁচড়ালে উপকার মিলবে? দিনে একাধিক বার চুল আঁচড়াতে পারেন আপনি। তবে ২-৩ বারের বেশি চুল আঁচড়ানো উচিত নয়। এতে চুলের ক্ষতি হতে পারে।
শীতের আগেই নিন চুলের যত্ন
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকে। এর প্রভাব পড়ে চুলেও। বাতাসে দূষণের মাত্রা বেশি থাকায় চুলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে। তাই তো শীতকালে চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন অধিকাংশই!
আপনি চাইলে এই সমস্যা এড়িয়েও যেতে পারেন। তবে এর জন্যে বেশি পরিশ্রম করার প্রয়োজনও নেই। শীত পড়ার আগে আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময় থেকেই কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাহলেই মুঠো মুঠো চুল ওঠা প্রতিরোধ করতে পারবেন আপনি।
শ্যাম্পু করতে ভুলবেন না
সপ্তাহে ৩ দিন শ্যাম্পু করুন। শীতে চুল ভালো রাখার জন্যে স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অপরিষ্কার স্ক্যাল্পে খুশকির সমস্যা বাড়তে পারে, তখন স্বাভাবিকভাবেই চুল পড়াও বাড়বে।
ডিপ কন্ডিশনিং করতে ভুলবেন না। কারণ, এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা কম থাকে। আর তার ফলে চুলও রুক্ষ হতে শুরু করে। তাই ডিপ কন্ডিশনিং করে চুলের আর্দ্রতা ঠিক রাখা জরুরি।
হট অয়েল থেরাপি জরুরি
প্রোটিন হেয়ার মাস্ক মাস্ট
স্টাইলিং টুল ব্যবহার করবেন না
সবশেষে ডায়েটের দিকেও নজর ফেরান। স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপান করাও জরুরি। হাইড্রেটেড থাকলে চুলও ভালো থাকবে।