আমাদের দেশের জনগণ যে সকল দাঁতের সমস্যা নিয়ে ডেন্টিস্টদের কাছে অথবা ডেন্টাল হাসপাতালে আসেন সেগুলো হচ্ছে প্রথমত দাঁতের ডেন্টাল ক্যারিস – মানে রোগী দাঁতের তীব্র ব্যাথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন।
তারা অনুভব করতে পারে দাঁতের মধ্যে গর্ত হয়েছে, তারা বুঝতে পারে দাঁতের মধ্যে খাদ্য জমে যায়, আবার রোগীরা বুঝতে পারে দাঁত শিরশির করে অথবা ঠাণ্ডা বা মিষ্টি খেলে দাঁত শিরশির করে – এসব সমস্যা নিয়ে ডেন্টিস্টের কাছে আসতে পারে।
এছাড়া আরো সমস্যা নিয়ে আসতে পারে যেমন তারা অনুভব করতে পারে মুখে দুর্গন্ধ হয়, মুখে পাথরজনিত সমস্যা নিয়ে আসতে পারে এবং তারা এমন সমস্যা নিয়েও আসে যে দাঁত নড়ছে অথবা পড়ে যাবে অথবা তারা আঁকাবাঁকা দাঁতের সমস্যা নিয়েও আসে। বা মুখে খাদ্য জমে যাচ্ছে – এই সমস্যা নিয়েও আসতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের মুখ ও দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসতে পারে এবং দেখা যায় যে, রোগী ভাঙা দাঁত অথবা ভাঙা চোয়াল বা দুর্ঘটনাজনিত বিষয় নিয়ে চেম্বারে বা ডেন্টিস্টদের কাছে এসে থাকে।
ডেন্টাল ক্যারিস বলতে কী বুঝায় এবং এটা কাদের বেশি হয়ে থাকে ?
ডেন্টাল ক্যারিস বলতে সাধারণ জনগণ বুঝে দাঁতে পোকা; আসলে দাঁতে পোকা বলতে কিছুই নেই। যেটা আছে সেটাকে আমরা (চিকিৎসকরা) ব্যাক্টেরিয়া বলে থাকি। আমাদের মুখে হাজারো ধরনের ব্যাক্টেরিয়া থাকে, তার মধ্যে ডেন্টাল ক্যারিস যেটা হচ্ছে দন্ত ক্ষয় রোগ – এইটার জন্যে যে ব্যাক্টেরিয়া দায়ী সেটা হলো ল্যাক্টোবেসিলাস এবং চেপলোকোকাস মিউটেন্ট। আমরা যে খাবার খাই সেই খাবারগুলোর দাঁতের সাথে লেগে থাকলে এই ব্যাক্টেরিয়াগুলো ফ্লাইবারের উপস্থিতিতে আমাদের দাঁতের ক্ষয় করতে থাকে। এই ক্ষয়টার কারণ হলো সেখানে ল্যাক্টিক এ্যাসিড। ব্যাক্টেরিয়াগুলো ফ্লাইবারের উপস্থিতিতে তৈরি হয় ল্যাক্টিক এ্যাসিড। সেটাই দাঁতের ক্ষয় করে।
এখন এই ডেন্টাল ক্যারিসটা কাদের হয়? ডেন্টাল ক্যারিসটা হওয়ার কোন বয়স নেই, ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত যা কারোই হতে পারে। তবে সাধারণত দেয়া যায় যে যাদের দন্ত ক্ষয় রোগের সম্ভাবনা আছে বা বংশগতভাবেও হতে পারে এবং যাদের এনামেল যাদের দুর্বল এবং এনামেলের গঠনগত দুর্বলতা থাকে তাদের ডেন্টাল ক্যারিসটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
দেখা যায়, অনেকে বিভিন্ন ধরনের প্রসেস ব্যবহার করে এবং সেই প্রসেসে যদি কোন প্রকার ফল্ট থেকে থাকে তবে তখন ক্ষয় হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় যে আঁকাবাঁকা দাঁত থাকে, সেই আঁকাবাঁকা দাঁত মানুষ ঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারে না– সেখানে খাদ্য জমে যায় আর খাদ্য জমে গিয়ে ডেন্টাল ক্যারিস হতে পারে।
এছাড়া দাঁত পরিষ্কার করার নিয়ম আছে তিন বেলা খাবারের পরে, যারা এসব নিয়ম মেনে চলে না তাদের ডেন্টাল ক্যারিস হতে পারে।




হঠাৎ হঠাৎ পেটে ব্যথা বা মাথার যন্ত্রণা কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যেতেই তিনি বলে দিচ্ছেন তেমন কিছুই হয়নি আপনার। সারাদিন শরীরে অ্স্বস্তি বোধ লেগেই রয়েছে। এটার কারণ একটাই হতে পারে, আর সেটা হল কৃমি। কিন্তু পেট ব্যথা আর মাথা যন্ত্রণাই শুধু নয়, আপনার শরীরে যে কৃমি বাসা বেঁধেছে, তা বোঝার জন্য আরও কয়েকটি উপসর্গবিস্তারিত পড়ুন
হঠাৎ হঠাৎ পেটে ব্যথা বা মাথার যন্ত্রণা কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যেতেই তিনি বলে দিচ্ছেন তেমন কিছুই হয়নি আপনার। সারাদিন শরীরে অ্স্বস্তি বোধ লেগেই রয়েছে। এটার কারণ একটাই হতে পারে, আর সেটা হল কৃমি। কিন্তু পেট ব্যথা আর মাথা যন্ত্রণাই শুধু নয়, আপনার শরীরে যে কৃমি বাসা বেঁধেছে, তা বোঝার জন্য আরও কয়েকটি উপসর্গ রয়েছে।
কি সেই উপসর্গগুলো?
• অস্থিরতা, অকারণে অতিরিক্ত চিন্তা, অবসাদে ভোগা, আত্মহত্যাপ্রবণ হওয়া।
• মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার অতিরিক্ত ইচ্ছা।
• রক্তাল্পতা এবং আয়রন ডেফিশিয়েন্সি। কৃমি থাকলে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমতে কমতে অ্যানিমিয়া পর্যন্ত হতে পারে।
• ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়া, র্যাশ, অ্যাকনে, চুলকুনি ইত্যাদি হওয়া।
• মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া।
• ঘুমনোর সময়ে মুখ থেকে লালা পড়া।
• ফুড অ্যালার্জি।
• খিদে না পাওয়া।
• মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলে সমস্যা।
• অকারণে ক্লান্ত হয়ে পড়া।
• গা-হাত-পা ব্যথা।
• নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া,স্মৃতিভ্রম হওয়া।
উপসর্গগুলি পড়ে অনেকেই নিজেদের সমস্যার সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন, কারণ সমীক্ষা বলেছে ৮৫ শতাংশ মানুষের পেটে কৃমি থাকে। কিন্তু কীভাবে মুক্তি পাবেন কৃমির হাত থেকে! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক আব্রাম বের জানিয়েছেন, ওষুধ নয়, কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিতেই কৃমি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।[1]
+কাঁচা রসুন— কাঁচা রসুন অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। রসুন প্রায় ২০ ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ৬০ ধরনের ফাংগাস মেরে ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত কুচনো কাঁচা রসুন খান অথবা রসুনের জুস করে খান।
+লবঙ্গ— লবঙ্গ কলেরা, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মাকে প্রতিরোধ করতে পারে। এ ছাড়া রোজ লবঙ্গ খেলে ব্যাকটেরিয়া,ভাইরাস, ফাংগাস ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
+আদা— আদা হজমের সমস্ত রকমের সমস্যা মেটাতে সক্ষম। হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, পেটে ইনফেকশন, ইত্যাদি দূর করতে আদার জুড়ি মেলা ভার। এই সমস্যাগুলিও কৃমি থেকে তৈরি হয়। তাই এই ধরনের সমস্যা দূর করতে কাঁচা আদার রস খান খালি পেটে।
+শসার বীজ— ফিতাকৃমি রুখতে শসার দানা সর্বশ্রেষ্ঠ। শসার দানা গুঁড়ো করে নিন। প্রতিদিন এক চা-চামচ করে খান।
+পেঁপে— পেটের সমস্যা দূর করতে পেঁপের থেকে ভাল কিছু হয় না। যে কোনও ধরনের কৃমি তাড়াতে পেঁপের বীজ শ্রেষ্ঠ। ভাল ফল পেতে পেঁপে এবং মধু খান।
+কাঁচা হলুদ— কাঁচা হলুদ অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে।
কৃমি আকারে খুবই ছোট। প্রায় দেখাই যায় না। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, এ রকম একটি কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে দিনে শূন্য দশমিক ২ মিলিলিটার রক্ত শুষে নেয়। অনেক কৃমি শরীরে থাকলে প্রতিদিনই বেশ কিছু পরিমাণ রক্ত হারিয়ে যায়। ফলে শিশুরা অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতায় ভোগে। বড়রাও কম ভোগেন না।কৃমি দূর করতে হলে প্রথমেই জানা দরকার এটি কেন হয়? নোংরা পরিবেশ, অনিরাপদ পানি পান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, খালি পায়ে হাঁটা কৃমি সংক্রমণের জন্য দায়ী।
কৃমি হলেও ওষুধের মাধ্যমে দূর করার উপায় আছে। কিন্তু অনেকে নানা ভুল ধারণার জন্য ভয়ে কৃমির ওষুধ খান না। শিশুদেরও খাওয়াতে চান না। কিন্তু ওষুধ নিয়ম মেনে খেলে আর সহজ কিছু উপায় মেনে চললে সহজেই কৃমি দূর করা যায়।
জেনে নেওয়া যাক সহজ কিছু উপায়:[2]
১. প্রতি তিন মাস পরপর পরিবারের সবাই একটি করে অ্যালবেনডাজল বড়ি সেবন করতে পারেন। মেবেনডাজল হলে খেতে হবে পরপর তিন দিন। সাত দিন পর আরেকটা ডোজ খাওয়া যায়। শিশুদেরও একইভাবে সিরাপ খাওয়াতে হবে। দুই বছরের নিচে কোনো শিশুকে খাওয়াতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. চিনি খেলে বা মিষ্টি খেলে কৃমি হবে বলে যে ধারণা প্রচলিত, তা ঠিক নয়। মিষ্টি বা চিনি খাওয়ার সঙ্গে কৃমির কোনো সম্পর্ক নেই। বরং নোংরা হাতে বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে কৃমি হবে।
৩. কৃমি হলে পায়ুপথ চুলকায় বলে শিশুরা সেখানে হাত দেয়। পরে আবার সেই হাত মুখে দেয়। এভাবেই সংক্রমণ ছড়াতে থাকে। তবে পায়ুপথ চুলকানো মানেই কৃমি সংক্রমণ নাও হতে পারে। কৃমি সংক্রমণের আরও উপসর্গ আছে। যেমন: ওজন না বাড়া, পেট ফাঁপা, পেট কামড়ানো, আমাশয়, অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি।
৪. গরমকালে কৃমিনাশক খাওয়া যাবে না—এমন ধারণারও কোনো ভিত্তি নেই। গরম, শীত, বর্ষা যেকোনো সময়ই কৃমিনাশক খাওয়া যাবে। তবে খাওয়ার পর বা ভরা পেটে খাওয়া ভালো।
৫. কৃমিনাশক নিরাপদ ওষুধ। এর তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে কারও কারও পেট ফাঁপা বা বমি ভাব হতে পারে। অনেক সময় কৃমিনাশক খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার যে খবর পাওয়া যায়, তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অজ্ঞতা ও কুসংস্কারজনিত।
৬. পানি অবশ্যই ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে পান করবেন। শাকসবজি ও মাংস খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের আগে ভালো করে হাত ধুতে হবে। শিশুদের খাওয়ার আগে ও শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে কীভাবে ভালো করে হাত কচলে ধুতে হয়, তা শেখানো জরুরি।
৭. বাইরের খোলা অপরিচ্ছন্ন খাবার না খাওয়াই ভালো। মাঠঘাটে শিশুদের খালি পায়ে খেলতে দেবেন না।
৮. কেবল গ্রামে বা রাস্তায় থাকা শিশুদের কৃমি হয়—এই ধারণাও ভুল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে-কারও কৃমি সংক্রমণ হতে পারে। তাই অপুষ্টি এড়াতে নিয়মিত কৃমিনাশক খাওয়াই ভালো।
সংক্ষেপে দেখুন