সাইন আপ করুন সাইন আপ করুন

সাইন আপ করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে


আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

লগ ইন করুন লগ ইন করুন

লগিন করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

কোন একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন

রিসেট পাসওয়ার্ড

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।

আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

দুঃক্ষিত, প্রশ্ন করার অনুমতি আপনার নেই, প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে.

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে।

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

দুঃক্ষিত, ব্লগ লেখার অনুমতি আপনার নেই। লেখক হতে হলে addabuzzauthor@gmail.com ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে অনুমতি নিন। (Sorry, you do not have permission to add post. Please send a request mail to addabuzzauthor@gmail.com for giving permission.)

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?

সাইন ইনসাইন আপ

AddaBuzz.net

AddaBuzz.net Logo AddaBuzz.net Logo

AddaBuzz.net Navigation

  • হোমপেজ
  • ব্লগ
  • ইউজার
  • যোগাযোগ
সার্চ করুন
একটি প্রশ্ন করুন

Mobile menu

Close
একটি প্রশ্ন করুন
  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

ashad khandaker

সবজান্তা
প্রশ্ন করুন ashad khandaker
526 বার প্রদর্শিত
2 ফলোয়ার
2,496 প্রশ্ন
হোমপেজ/ ashad khandaker/উত্তর
অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • সম্পর্কিত
  • প্রশ্ন
  • উত্তর
  • অনুরোধের প্রশ্ন
  • সেরা উত্তর
  • পছন্দ তালিকা
  • ফলোকৃত প্রশ্ন
  • ফলোয়ার
  • ফলো করছেন
  • জরিপ
  • ব্লগ
  • ব্লগ মন্তব্য
  • ফলোকৃতদের প্রশ্ন
  • ফলোকৃতদের উত্তর
  • ফলোয়ারদের ব্লগ
  • ফলোকৃত/ফলোয়ারদের ব্লগ মন্তব্য
  1. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

    ফিজিওথেরাপি সঠিক না হলে ঘটতে পারে হিতে বিপরীত’ কিভাবে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    চিকিৎসা সেবায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে এই চিকিৎসা তৃণমূল পর্যন্ত না পৌঁছলেও বড় বড় শহরের অনেক সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সেবা দেওয়া হয়। তবে এর সঠিক চিকিৎসা নিয়ে রোগীদের মধ্যে এখনো অনেক শঙ্কা রয়েছে। থেরাপির সঠিক প্রয়োগ না হলে রোগীর ক্ষেত্রে হতে পারে হিতে বিপরীত। এখন জেনেবিস্তারিত পড়ুন

    ফাইল ফটো

    চিকিৎসা সেবায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে এই চিকিৎসা তৃণমূল পর্যন্ত না পৌঁছলেও বড় বড় শহরের অনেক সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সেবা দেওয়া হয়। তবে এর সঠিক চিকিৎসা নিয়ে রোগীদের মধ্যে এখনো অনেক শঙ্কা রয়েছে। থেরাপির সঠিক প্রয়োগ না হলে রোগীর ক্ষেত্রে হতে পারে হিতে বিপরীত।

    এখন জেনে নেয়া যাক ফিজিওথেরাপি কি এবং কেন প্রয়োজন?

    ফিজিও (শারীরিক) ও থেরাপি (চিকিৎসা)- এ দুইটি শব্দ থেকে এসেছে ফিজিওথেরাপি শব্দটি। এটি একটি স্বতন্ত্র চিকিৎসাব্যবস্থা, যেখানে শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। শুধু ওষুধ সব রোগের পরিপূর্ণ সুস্থতা দিতে পারে না। বিশেষ করে বিভিন্ন মেকানিক্যাল সমস্যা থেকে যে সব রোগের সৃষ্টি হয়, তার পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভের উপায় ফিজিওথেরাপি।

    ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অন্যতম এবং অপরিহার্য শাখা। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক স্বাধীনভাবে রোগীর বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা (প্রধানত বাত-ব্যথা, আঘাত জনিত ব্যথা, প্যারালাইসিস, সড়ক দুর্ঘটনা, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, বিকলাঙ্গতা, পক্ষাঘাত ও বড় কোনো অস্ত্রোপচারের পর রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাসহ বিভিন্ন ধরনের বাত, মাথা, ঘাড়, কাঁধ, পিঠ,কোমর ও হাঁটুর ব্যথা এবং স্পোর্টস ইনজুরিতে পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপি (ডব্লিউসিপিটি)-এর মতে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক প্রফেশনাল ডিগ্রিধারীরাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্ট এবং স্বাধীনভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারেন।

    ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি

    একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেস্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেস্ট, প্রয়োজন সাপেক্ষে বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেস্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেস্ট এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় বা ডায়াগ্নোসিস করে থাকেন। অতঃপর রোগীর সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা অথবা ট্রিটমেন্ট প্লান করেন এবং সেই অনুযায়ী নিচের পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করে থাকেন।

    -ম্যানুয়াল থেরাপি
    -ম্যানিপুলেটিভ থেরাপি
    -মোবিলাইজেশন
    -মুভমেন্ট উইথ মোবিলাইজেশন
    -থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ
    -ইনফিলট্রেশন বা জয়েণ্ট ইনজেকশন
    -পশ্চারাল এডুকেশন
    -আরগোনমিক্যাল কনসালটেন্সি
    -হাইড্রোথেরাপি
    -ইলেকট্রোথেরাপি বা অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে চিকিৎসা (যেমন: TENS, IRR, Traction ইত্যাদি)। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাতে মেশিনের ব্যবহার খুবই নগন্য। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ড্রাগ্স বা ঔষধও ব্যবহার করতে হয়।

    বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি

    ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭৩ সালে আরআইএইচডি (বর্তমানে নিটোর) ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের (এমবিবিএস ও বিডিএস একই অনুষদের অধিভুক্ত) অধীন স্নাতক ডিগ্রি চালু করা হয়। বর্তমানে নিটোর, সিআরপি, পিপলস ইউনিভার্সিটি, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্সসহ ৭টি ইনস্টিটিউটে ফিজিওথেরাপি গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু রয়েছে।

    কোথায় চিকিৎসা নিবেন?

    বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এর মধ্যে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পায় না এবং অপচিকিৎসার শিকার হন। আমাদের দেশে এই চিকিৎসাসেবাটি বিভিন্ন মহলের অপপ্রচার (ব্যায়াম ও স্যাক) ও অপব্যবহারের (কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিস্ট ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসক কর্তৃক ফিজিওথেরাপি পরামর্শ দেওয়া) কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও পরামর্শ নেয়ার জন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে বা ক্লিনিকে ভর্তি থেকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে হয়। সেক্ষেত্রে রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।

    তবে আশার ব্যাপার হলো- মানুষ এখন সচেতন হচ্ছে। তাই তারা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও পরামর্শ নেয়ার জন্য একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের খোঁজ করে তার তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিতে চান।

    এ বিষয়ে স্প্রিং ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের চিফ কনসালটেন্ট ড. আবু মোহাম্মদ মুসা বলেন, বাংলাদেশে সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপি দেওয়ার বিষয়টা সেই অর্থে নেই। দেশে স্বায়ত্তশাসিত ও প্রাইভেটলি এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক প্রফেশনাল ডিগ্রিধারীরাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্ট হতে পারেন। দেশে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপিস্ট ছাড়াই এই থেরাপি দেওয়া হয়। এতে রোগীরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    সঠিক ফিজিওথেরাপি প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ধরুন কারো হাতে ব্যথা হয়েছে। হাতের বিভিন্ন অংশ রয়েছে। সেক্ষেত্রে হাতের ঠিক কোন অংশে ব্যথা হয়েছে সেটি নির্ণয় করা। পরে সেই অংশের জন্য থেরাপি দেওয়া। অন্যথায় হাতের অন্যান্য অংশেও আক্রান্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগীর ঘাড়ে ব্যথা হয়েছে। এর সঠিক থেরাপি না হওয়ায় মেরুদণ্ডও আক্রান্ত হয়েছে। অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট না হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঐসব প্রতিষ্ঠানগুলোর যন্ত্রগুলো নিয়েও প্রশ্ন থাকে। এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে রোগীদের সঠিক সেবা দিতে আমরা স্প্রিং ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু করেছি। এখানে সব আধুনিক যন্ত্রপাতি ও মেশিন আনা হয়েছে। এখানে রোগীরা তাদের শতভাগ সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন। দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট রয়েছেন। রোগীদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে চিকিৎসা উপযোগী মনোরম পরিবেশ রয়েছে।

    আরো অনেক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকতে রোগীরা কেন ফিজিওথেরাপি নেবে— এমন প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী ড. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের এই কনসালট্যান্ট বলেন, বেশির ভাগ চিকিৎসা ব্যবস্থা ওষুধ ব্যবহার করা হয়। অপারেশন করাতে হয়, শরীরের বিভিন্ন অংশ কাটা-ছেড়া করা লাগে। এসবের নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু সঠিক ফিজিওথেরাপির কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। অপারেশন করা লাগে না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সামান্য ওষুধ প্রয়োগ লাগতে পারে। তাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ব্যবস্থায় অত্যন্ত নির্ভরতার জায়গা।

    খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. আবু মোহাম্মদ মুসা বলেন, চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা আছে। ধরেন কোনো রোগে অপারেশন করা লাগলো। সেখানে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশন আরো ব্যয়বহুল হয়ে যায়। কিন্তু ফিজিওথেরাপির ক্ষেত্রে এই খরচটা এত হয় না। হিসাব করলে তুলনামূলক অনেক কম খরচ হয়। থেরাপির ওপর নির্ভর করে ২৫০০-৩০০০ টাকা লাগে। তবে কয়েক সেশনে এই থেরাপি প্রয়োগ করতে হয়। রোগীকে থেরাপির ধরনের ওপর নির্ভর করে কখনো ১৫ দিনের সেশন দেওয়া হয়, কখনো ১০ অথবা সাতদিনের সেশনও দেওয়া হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে সঠিক থেরাপিটা পাচ্ছেন কিনা সেদিকে রোগীকে সচেতন থাকতে হবে। এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোগীর মাথা ব্যথা হলে পেটে ব্যথার চিকিৎসা দেওয়া হলে এটি হিতে বিপরীত ঘটবে। এর জন্য স্প্রিং ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার একটি নির্ভরতার জায়গা।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  2. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    যৌনতা বিষয়ে কোন জিনিসগুলো জেনে রাখা জরুরি ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    শারীরিক তৃপ্তিতে যৌনতার কোন বিকল্প নেই ঠিক তেমনি যৌনতা নিয়ে মানুষের জানার কোনও শেষ নেই! স্বাভাবিক শরীরবৃত্তিয় ঘটনা এটি। ফলে, না জানাটাই অপরাধ। কারণ নিত্যনতুন গবেষণায় উঠে আসে একাধিক তথ্য। আর তা অবশ্য যৌন সংক্রান্ত। যদিও এই সমস্ত তথ্যের মধ্যে রয়েছে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা জেনে রাখাটা জরুরি। আর সেই মতোবিস্তারিত পড়ুন

    শারীরিক তৃপ্তিতে যৌনতার কোন বিকল্প নেই ঠিক তেমনি যৌনতা নিয়ে মানুষের জানার কোনও শেষ নেই! স্বাভাবিক শরীরবৃত্তিয় ঘটনা এটি। ফলে, না জানাটাই অপরাধ। কারণ নিত্যনতুন গবেষণায় উঠে আসে একাধিক তথ্য। আর তা অবশ্য যৌন সংক্রান্ত। যদিও এই সমস্ত তথ্যের মধ্যে রয়েছে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা জেনে রাখাটা জরুরি। আর সেই মতো অবস্যই এই ১১ টি তথ্য জানুন-

    ১) যখন কোন যুগল এক অপরজনকে চুম্বন দেয় তখন তারা একে অপরের সঙ্গে ১০ মিলিয়ন এবং ১ মিলিয়ন ব্যক্টেরিয়া বিনিময় করে।
     
    ২) গড়ে ২০ থেকে ৭০ বছর বয়সের মাঝে একজন মানুষ ৬০০ ঘন্টা সময় যৌন মিলনের পিছনে ব্যয় করে।

    ৩) যৌন মিলন এক ধরণের ভাল ব্যায়াম। এক ঘন্টায় প্রায় ৩৬০ ক্যালরি বার্ন হয়।

    ৪) যারা অতিরিক্ত কাজের চাপ, চিন্তা এবং হতাশায় ভোগে তাদের মাঝে সেক্স আসক্তি বেশি হয়।

    ৫) গড়ে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ প্রতি সাত সেকেন্ডে একবার সেক্সের কথা চিন্তা করেন।

    ৬) এক চা চামচ বীর্যতে – ৩০০ মিলিয়ন শুক্রাণু, জিঙ্ক এবং ক্যালসিয়াম, দাঁতের ক্ষয় রোধ করে এবং সাত ক্যালরি থাকে।

    ৭) বীর্যপাতের বেগ প্রায় ২৮ মাইল প্রতি ঘন্টা।

    ৮) পুরুষের অরগ্যাসম প্রায় ৬ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

    ৯) ৩২ বছর বয়সে মহিলাদের ক্লিটোরিস বয়ঃসন্ধি থেকে প্রায় চার গুন বেড়ে যায়।

    ১০)।যখন মহিলারা উত্তেজিত হন তখন তাদের স্তন প্রায় ২৫% প্রশস্ত হতে পারে।

    ১১) মহিলাদেরও স্বপ্ন দোষ হতে পারে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  3. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    হ্যালুসিনেশন আসলে কী, রোগ না অন্য কিছু?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    ধরুন, হঠাৎ করে আপনার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলো কিংবা ভাইব্রেট হলো, কিন্তু পকেট থেকে বের করেই দেখলেন, না, ফোনটা বাজছেও না আবার ভাইব্রেটও হচ্ছে না! হ্যাঁ, ঠিক তখনই আপনার হ্যালুসিনেশন হয়েছে! হ্যালুসিনেশন কেনো হয়? হ্যালুসিনেশন শব্দটির সঙ্গে আমরা পরিচিত। অনেকে ইলিউশন বা দৃষ্টিভ্রমকে হ্যালুসিনেশনেবিস্তারিত পড়ুন

    ধরুন, হঠাৎ করে আপনার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলো কিংবা ভাইব্রেট হলো, কিন্তু পকেট থেকে বের করেই দেখলেন, না, ফোনটা বাজছেও না আবার ভাইব্রেটও হচ্ছে না! হ্যাঁ, ঠিক তখনই আপনার হ্যালুসিনেশন হয়েছে!

    হ্যালুসিনেশন কেনো হয়?

    হ্যালুসিনেশন শব্দটির সঙ্গে আমরা পরিচিত। অনেকে ইলিউশন বা দৃষ্টিভ্রমকে হ্যালুসিনেশনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। ইলিউশন ও হ্যালুসিনেশন বিস্তৃত আঙ্গিকে বোঝার জন্য ইলিউশন সম্পর্কে একদম স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার। হ্যালুসিনেশন আর ইলিউশন দু’টোই একধরণের বিভ্রান্তি। তবে ইলিউশনে উদ্দীপক থাকবে, হ্যালুসিনেশনে এমন কোনো উদ্দীপক থাকবে না। সামনের ঝুলে থাকা দড়ি যদি কারো কাছে সাপ মনে হয় তাহলে এটি ইলিউশন। যদি কোনো দড়ির অস্তিত্ব ছাড়াই সাপ দেখতে পায় তাহলে তা হ্যালুসিনেশন।

    হ্যালুসিনেশন শব্দটি উচ্চারণে যেমন একটা মজা আছে তেমনি কৌতুহল তৈরি করার মতো এর নানাবিধ উপস্থাপনাও দেখা যায়। কেউ বিষয়টিকে দেখেন একটা মজার বিষয় হিসেবে, কেউ রহস্যময়, কেউ এটাকে নাটক বা উপন্যাসের বিশেষ উপকরণ হিসেবে কেউ আবার বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্তির সঙ্গে হ্যালুসিনেশনকে তুলনাও করে থাকেন। কিন্তু আর যাই হোক, এটি মোটেই মজার কোনো বিষয় নয়। এটি এমন এক দশা যখন কেউ মিথ্যা জালের ভেতরে বসবাস করে অজান্তেই। আসলে মিথ্যার জগতে বসবাস করে কেউ ভাবে সে বাস্তব জগতে বসবাস করছে। এটি এক ধরনের অস্বাভাবিক এবং অদ্ভুত অনুভূতি। এ অনুভূতি স্বাভাবিক অনুভূতির মতোই ঘটে থাকে।

    হ্যালুসিনেশন কোনো রোগ নয়, এটি অন্য রোগের উপসর্গ। এটি সাধারণত মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তবে কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থেকেও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। তাই কেবল হ্যালুসিনেশন দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন কারণে হ্যালুসিনেশন ঘটতে দেখা যায়-

    (১) সিজোফ্রেনিয়া, সিভিয়ার মুড ডিসঅর্ডার, ডিল্যুশনাল ডিসঅর্ডারে রোগীর প্রায়ই হ্যালুসিনেশন হতে পারে

    (২) মাত্রাতিরিক্ত ড্রাগস বা অ্যালকোহল সেবনের কারণে

    (৩) মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং ইন্দ্রিয়ের সমস্যায় হ্যালুসিনেশন হতে পারে।

    (৪) শরীরে লবণের তারতম্যের জন্যও স্বল্পমেয়াদের হ্যালুসিনেশন দেখা দিতে পারে।

    (৫) প্রচণ্ড জ্বর হলে বিশেষ করে শিশুদের হ্যালুসিনেশন হয়। মৃগীরোগ, বিষন্নতা, হিস্টিরিয়া এমনকি ব্রেইন টিউমারের বেলাতেও হ্যালুসিনেশন ঘটতে পারে।

    (৬) লিভার বা কিডনির সমস্যা প্রভৃতি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে।

    হ্যালুসিনেশন হলো এমনি একটি মানসিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি কোনো প্রকার উদ্দীপনা ছাড়াই বিশেষ ইন্দ্রিয়ানুভূতি লাভ করে। এ অনুভূতির সঞ্চার স্বাভাবিক অনুভূতির মতোই ঘটে। ধরা যাক, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে এমন ঘটছে, সে বিশেষ সময়ে কোন ধরণের গায়েবি কথা শুনছেন। তার মানে ঐ ব্যক্তির শ্রবণেন্দ্রিয়ের হ্যালুসিনেশন ঘটছে। এ গায়েবি কথা খুব হাল্কাভাবে ঘটে কিংবা তাতে অস্পষ্টতা থাকে এমন নয় কিন্তু। আশপাশের লোকজনের কথা সে যেমনভাবে শুনতে পায়, কানের মধ্যে আসা গায়েবি কথাও ঠিক তেমনভাবেই তার সঙ্গে ঘটে থাকে। হ্যালুসিনেশন দেহের প্রতিটি ইন্দ্রিয়তে ঘটতে পারে।

    হ্যালুসিনেশনকে দু’টি শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে হিপনেজোগিক হ্যালুসিনেশন যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তার দশ সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে যা ঘটে থাকে, আর অন্যটি হচ্ছে হিপনোপমপিক হ্যালুসিনেশন যখন মানুষ জেগে উঠে তারপর যা ঘটে থাকে। তবে আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে হ্যালুসিনেশন হয়ে থাকার কারণে ইন্দ্রিয়ের ওপর ভিত্তি করে হ্যালুসিনেশনের বেশ কিছু ধরনকে বিশেষজ্ঞরা শণাক্ত করতে পেরেছেন। যেমন :

    ভিজুয়াল বা দৃষ্টিতে হ্যালুসিনেশন: এক্ষেত্রে এমন কিছু দেখা, যার কোনো বাস্তবিক ভিত্তি নেই। হতে পারে সেটা কোনো আকারের-বর্ণের কিংবা আলোর ছটা, যা অবাস্তব মানব আকৃতি বিশেষ। যেমন মনে হতে পারে পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। অথচ তখন পেছনে বা আড়ালে বস্তুত কেউই নেই।

    অডিটরি বা শ্রুতিগত হ্যালুসিনেশন: এমন কোনো শব্দ, মিউজিক হইচই কিংবা কণ্ঠস্বর শোনা, যা নিতান্তই অলীক। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যেটা হয়ে থাকে, তা হলো ক্ষতিকর গায়েবি কথা, আদেশমূলক কিংবা নিষেধমূলক কথা শোনা। এসব কথা মস্তিষ্কের ভেতর বা বাইরে থেকে হতে পারে। পুরুষ কিংবা নারীকণ্ঠ হতে পারে, অপরিচিত কিংবা পরিচিত মনে হতে পারে। সিজোফ্রেনিয়া রোগীর ক্ষেত্রে অডিটরী হ্যালুসিনেশন বেশি হয়ে থাকে।

    অলফ্যাক্টরি বা ঘ্রাণজনিত হ্যালুসিনেশন: এক্ষেত্রে হ্যালুসিনেশনে আক্রান্ত ব্যক্তি এমন কিছু জিনিসের ঘ্রাণ অর্থাৎ গন্ধ পাবে, যার কোনো সত্যতাই নেই, শুধুই একটি ভ্রান্ত ধারণা। যেমন: হঠাৎ করে পঁচা মাছের গন্ধ, বমি, প্রস্রাব, সিগারেট এমনকি পঁচা লালার গন্ধও পেতে পারে। এটি মূলত হয়ে থাকে অলফ্যাক্টরি সিস্টেমের স্নায়ুকোষের ক্ষতিগুলো থেকে, যা ভাইরাস ইনফেকশন ব্রেন টিউমার ট্রমা, সার্জারি কিংবা ওষুধের কারণে হয়ে থাকে।

    গ্যাস্টেটরি বা স্বাদজনিত হ্যালুসিনেশন: কোনো কিছুর স্বাদকে মুখে বিস্বাদ লবণাক্ত বা মেটালিক মনে হয়, সম্পূর্ণটাই ভুল ধারণা। সাধারণত এপিলেপসি রোগে এ ধরনের হ্যালুসিনেশন হয়ে থাকে। টমেটো, আলু, বেগুন, মরিচ জাতীয় খাবারে ‘সোলানিন’ নামক উপাদান থাকে যেটি হ্যালুসিনেশনে প্রভাব রাখতে পারে। তাছাড়া কফি অতিরিক্ত পান করলেও হ্যালুসিনেশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

    সোমাটিক বা স্পর্শগত হ্যালুসিনেশন: এক্ষেত্রে কোনোকিছুর স্পর্শ অনুভূত হওয়া, যা বাস্তবিকভাবে ঘটেনি। যেমন হঠাৎ করে শরীরের ভেতর বা উপরে কিছু উঠে আসছে মনে হওয়া। অন্ধকার ঘরে মনে হবে কেউ স্পর্শ করছে অথচ ঘরে তখন কেউ নেই। এটি মূলত একটি মেডিকেল ডিসঅর্ডার।

     

    কারো প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলে কিংবা প্রিয় কোনো মানুষকে হারিয়ে ফেললে সেই মানুষটিকে নিয়ে হ্যালুসিনেশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে বলে পরীক্ষা করে দেখা গেছে। হ্যালুসিনেশনের রোগীদের সঙ্গে এমনো হতে পারে, কাছের কোনো একজন মানুষের নাম ধরে গায়েবি কথাবার্তায় সে শুনতে পায়। ক্রমাগত হ্যালুসিনেশন হওয়ায় ঘটে যাওয়া কিংবা শোনা সবকিছুকেই মানুষটি সত্যি মনে করতে থাকে। যার জন্য অনেক বিপদও ঘটে থাকে। সুতরাং এসব বিষয়গুলোকে দ্রুত বুঝে শণাক্ত করা খুবই জরুরি। যত তাড়াতাড়ি তাদের চিকিৎসার আওতায় আনা যায় ততই মঙ্গল।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  4. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    ইতিহাস বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন কে তৈরী করেন এবং এর পরবর্তী ইতিহাস কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

      প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে চিরভাস্বর অম্লান করে ধরে রাখার জন্য বিশ্বখ্যাত তাজমহল নির্মাণ করেন সম্রাট শাহজাহান।  তাজমহলের স্থাপত্য সৌকর্য শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষের মনে একই রকম বিস্ময় জাগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিখ্যাত ও আলোচিত ময়ূর সিংহাসন সম্পর্কে না জানলে যেন সম্রাট শাহজাহানকে জানাবিস্তারিত পড়ুন

    ফাইল ছবি

     

    প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে চিরভাস্বর অম্লান করে ধরে রাখার জন্য বিশ্বখ্যাত তাজমহল নির্মাণ করেন সম্রাট শাহজাহান। 

    তাজমহলের স্থাপত্য সৌকর্য শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষের মনে একই রকম বিস্ময় জাগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিখ্যাত ও আলোচিত ময়ূর সিংহাসন সম্পর্কে না জানলে যেন সম্রাট শাহজাহানকে জানা অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

     

    শাহজাহানের শিল্পানুরাগের আরো একটি বিখ্যাত নিদর্শন হল জগৎ বিখ্যাত এই ময়ূর সিংহাসন। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি সিংহাসন মনে করা হয়। সেজন্য ইতিহাসের পাতায় অন্য সব সিংহাসন ছাপিয়ে এটি আলোচিত ও বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। মোগল স্থাপত্যের এই অনুপম নিদর্শনটি তৈরি হয় শিল্পের সমঝদার ও মুঘল সাম্রাজ্যের সোনার অলঙ্কার তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান বেবাদল খাঁ’র সরাসরি তত্ত্বাবধানে।

    বেবাদল খাঁর তত্ত্বাবধানে ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় আট বছর তৎকালীণ আট কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে সে সময়ে আগ্রার তাজমহলের চেয়েও দ্বিগুণ অর্থ ব্যয়ে শাহজাহান নির্মাণ করেন এই অপূর্ব সিংহাসনটি। ফারসিতে একে বলা হতো ‘তখত-ই-তাউস’। তখত মানে সিংহাসন, আর তাউস শব্দের অর্থ হল ময়ূর। কিন্তু সিংহাসনের নাম ‘ময়ূর সিংহাসন’ কেন? কারণ সিংহাসনের পেছনে অনিন্দ্যসুন্দর পেখম ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দু’টি ময়ূরের ছবি ছিল।

    ময়ূর সিংহাসন ছিল মূল্যবান স্বর্ণ, হীরা ও দূর্লভ মরকত মনি খচিত। সিংহাসনের চারটি পায়া নিরেট স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত ছিল এবং বারোটি মরকত মনি স্তম্ভের ওপর চন্দ্রতাপ ছাদ আচ্ছাদন করা হয়। ছাদের চারদিকে মিনা করা মণি মুক্তা বসানো ছিল। এর ভেতরের দিকের সবটাই মহামূল্যবান চুন্নি ও পান্না দ্বারা মুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। প্রত্যেক স্তম্ভের মাথায় মণি-মাণিক্য খচিত এক জোড়া ময়ূর মুখোমুখি বসানো হয়েছিল এবং প্রতি জোড়া ময়ূরের মধ্যস্থলে একেকটি মণি মাণিক্য নির্মিত গাছ এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল যেন ময়ূর দুটি ঠুকরে গাছের ফল খাচ্ছে এরূপ প্রতীয়মান হয়।

    পুরো সিংহাসনে অসংখ্যা নকশার মধ্যে ফাঁকা অংশটুকু কারুকার্য করা হয় ক্ষুদ্রাকৃতির হীরা দিয়ে। হীরা পান্না দ্বারা সুসজ্জিত তিনটি সিঁড়ির সাহায্যে ওঠানামার ব্যবস্থা ছিল। সিংহাসনের অপরের চাঁদোয়ার চারকোণে বসানো হয়েছিল সারিবদ্ধ মুক্তা। চাঁদোয়াটির নিচেও ছিল হীরা আর মুক্তার বাহারি নকশা। রকমারি জহরত দিয়ে সাজানো ময়ূরগুলোর লেজ ছিল নীল রঙের মণি দিয়ে তৈরি। এক একটি বিরাট আকারের চুনি বসানো ছিল ময়ূরের বুকে। সেখান থেকে ৫০ ক্যারটের একটি হলুদ রঙের মুক্তা ঝুলে থাকতো। সিংহাসনটিতে বসবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দিকে অগণিত মনি মুক্তা শোভা পেত।

    ১৫৮৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে পারস্যের মহামান্য সম্রাট আব্বাস তৎকালীন এক লাখ টাকা মূল্যের একটা হিরা বাদশাহকে উপহার দেন। সম্রাট শাহজাহান পিতার এই উপহার প্রাপ্ত অত্যন্ত দামি হীরাটিও সিংহাসনে যোগ করেন। এই ময়ূর সিংহাসনের নির্মাণ ব্যয় নিয়ে দুটি তথ্য পাওয়া যায়। সেকালে এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৮ কোটি টাকা, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে তৎকালীন ইউরোপীয় পর্যটক টাভার্নিয়ার উল্লেখ করেছেন, এই শিল্পমণ্ডিত বহুমূল্য রত্নখচিত সিংহাসনটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছিল পাঁচ কোটি টাকার হীরা-মুক্তা-পান্না, ৯০ লাখ টাকার জহরত, ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ তোলা ওজনের স্বর্ণ।

    এই মহামূল্যবান ময়ূর সিংহাসনটি ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট মোহাম্মদ শাহের শাসনামলে, পারস্য সম্রাট নাদির শাহের ভারতবর্ষ অভিযানকালে লুণ্ঠিত হয়। এর অবর্ণনীয় সৌন্দর্যৈ পাগলপারা হয়ে নাদির শাহ সিংহাসনটি সঙ্গে নিয়ে যান নিজ দেশ পারস্যে (বর্তমান ইরান)। পরে এই ময়ূর সিংহাসনের জন্য তার প্রতিপক্ষের কাছে নিদারুণভাবে খুন হন তিনি। ১৭৪৭ সালে নাদির শাহ আততায়ীর হাতে নিহত হন। এরপরই আসল ময়ূর সিংহাসনটি হারিয়ে যায়। নাদির শাহের মৃত্যুর ফলে সৃষ্ট গোলযোগের মধ্যে হয় এটি চুরি হয়ে গিয়েছিল, নয়তো এর বিভিন্ন অংশ খুলে আলাদা করা হয়েছিল। এটাও ধারণা করা হয়, সিংহাসনটি হয়তো ওসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতানদেরকে দেয়া হয়েছিল।

    যা-ই হোক, পরবর্তী ইতিহাসে পারস্য সাম্রাজ্যের সিংহাসনগুলোকে ভুলক্রমে ‘ময়ূর সিংহাসন’ নামে ডাকা হতো, যেগুলোর সঙ্গে আসল ময়ূর সিংহাসনের মিল ছিল না। আবার ১৮১২ সালে আলী শাহ কাজার কিংবা ১৮৩৬ সালে মোহাম্মদ শাহ কাজারের তৈরি সিংহাসনের সঙ্গে মুঘল চিত্রকলাতে প্রাপ্ত আসল ময়ূর সিংহাসনের কিছুটা মিল দেখা যায়। ইতিহাসবিদদের ধারণা, হয়তো মূল ময়ূর সিংহাসনের অংশ বিশেষ এগুলো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।

    আজ ভারতে কেন পারস্যেও নেই এই সিংহাসনটি। অনেক রাজার রাজত্বে হাত বদল হয়ে কালের গর্ভে ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশ্বখ্যাত কোহিনূর হীরা ময়ূর সিংহাসনে বসানো ছিল। পরে ব্রিটিশের হাতে কোহিনূর হীরাটি চলে যায়। এক সময় ইংল্যান্ডের রানী মহারানী ভিক্টোরিয়ার মুকুটে সেটা শোভা পায়। বংশপরম্পরায় ইংল্যান্ডের বর্তমান রানী মহারানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মুকুটেও শোভা পেয়েছিল এটি।

    প্রাচীনকালের সুন্দরী কুমারীর মতো ময়ূর সিংহাসনে স্থান পাওয়া দূর্লভ রত্ন বিখ্যাত কোহিনূর হীরাটিও বিভিন্ন রাজা বাদশাহ ও শাসকের হাত ঘুরে এখন স্থান পেয়েছে ইংল্যান্ডের টাওয়ার অফ লন্ডনে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  5. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    দম্পতিদের সম্পর্ক ভালো রাখার উপায় কি কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    প্রায় সব বিবাহিত দম্পতি তাদের বিয়ের বন্ধন শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শের খোঁজ করেন। যখন বোঝাপড়ার চেয়ে ঝগড়াঝাটি বেড়ে যায়, তখন দম্পতিরা সাধারণ বিয়ে সংক্রান্ত উপদেশ মেনে সমস্যা সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে। কিন্তু স্টেরিওটাইপিক্যাল পরামর্শ সবসময় সহায়ক হয় না, বিশেষ করে যদি সমস্যাটিবিস্তারিত পড়ুন

    প্রায় সব বিবাহিত দম্পতি তাদের বিয়ের বন্ধন শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শের খোঁজ করেন। যখন বোঝাপড়ার চেয়ে ঝগড়াঝাটি বেড়ে যায়, তখন দম্পতিরা সাধারণ বিয়ে সংক্রান্ত উপদেশ মেনে সমস্যা সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে।

    কিন্তু স্টেরিওটাইপিক্যাল পরামর্শ সবসময় সহায়ক হয় না, বিশেষ করে যদি সমস্যাটি বড় এবং জটিল হয়। নতুন দম্পতিদের বিয়ে সংক্রান্ত উপদেশগুলো মন দিয়ে মানতে হবে, যা তাদের অত্যন্ত সাহায্য করবে। দম্পত্তিরা সম্ভবত আগে শোনেনি, এমন কিছু কার্যকরী পরামর্শ এখানে প্রকাশ করা হলো-

    উদ্দেশ্য : কাজ কিংবা কথা নয়, এর পেছনের উদ্দেশ্য দেখুন। সব সময় মনে রাখুন এবং ধরে নিন যে আপনার সঙ্গী আপনাকে আঘাত করার মতো কিছু করবে না। এতে হতাশা, দোষারোপ এবং অপরাধবোধ অনেকাংশে কমে যাবে। আপনার সঙ্গীর সব কাজ ইচ্ছাকৃত নয় তা জানা থাকলে ঝগড়াঝাটির সময় বলা কথা নিয়ে পরবর্তীতে ঝামেলা হবে না। যদি জানেন যে তিনি আপনার প্রতি ইতিবাচক, তবে তাকে ক্ষমা করাও সহজ হবে।

    অর্থ নিয়ে ঝগড়া নয় : টাকা নিয়ে ঝগড়া করবেন না। দম্পতিদের মধ্যে ঝগড়াঝটির সবচেয়ে বড় কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো অর্থ। দম্পতিরা একে অপরের ব্যয়ের অভ্যাস নিয়ে ঝগড়া করার বদলে দুজন মিলে সমাধান খুঁজতে পারে। এতে দুজনেরই কিছু কিছু ছাড় দিতে হতে পারে। তবে দিনশেষে সম্পর্ক সুন্দর থাকবে।

    কৃতজ্ঞতা দেখাতে হবে : দম্পতিদের একে অপরের প্রতি আরো কৃতজ্ঞতা দেখাতে হবে, এমনকি ঝগড়াঝাটি করে বা তর্ক করার সময়েও। একসঙ্গে খারাপ এবং ভালো মুহূর্তগুলোকে সমানভাবে উপলব্ধি করতে শিখুন। এটি বুঝতে সাহায্য করে যে বিয়ের সম্পর্ক সফল হতে উভয় পক্ষের সমর্থন ও পরিশ্রম থাকা চাই।

    ছাড় দেওয়া : কখনো কখনো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একজনকে ছাড় দিতে হতে পারে। একজনই সব সময় প্রভাব ধরে রাখতে পারে না। দক্ষতার ওপর নির্ভর করে দায়িত্বের বন্টন করা যেতে পারে। সম্পর্কে ভালোবাসা থাকলে একে অপরকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হবে না।

    সময় কাটানো : স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের সঙ্গে আরো বেশি করে সময় কাটানো উচিত। এটি অনুভূতির ভুল ব্যাখ্যার সম্ভাবনা হ্রাস করে। ক্লান্তিকর দিনের পরে যখন তার কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করবেন, দিনটি কেমন ছিল? তখন সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার অনুভূতি প্রকাশ করবে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  6. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    আম খেলেই ঘুম পায় কি কারণে ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    আমাদের মাঝে অনেকে গরমকাল পছন্দ করেন শুধু মাত্র আমের কারণেই। এসময় আম খাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই আম দিয়ে বানিয়ে নেন নিত্যনতুন পদও। গরমে গলা ভেজাতে আমের শরবতও বেশ জনপ্রিয়। আম খাওয়ার পর হালকা ঝিমুনি ভাব আসে। ঘুম পায়। আম খাওয়ার পর অনেকেরই এমন হয়। কিন্তু এর কারণ জানেন না বহু মানুষই। পাকা আম খেলে ঘুম পায় যে কাবিস্তারিত পড়ুন

    আমাদের মাঝে অনেকে গরমকাল পছন্দ করেন শুধু মাত্র আমের কারণেই। এসময় আম খাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই আম দিয়ে বানিয়ে নেন নিত্যনতুন পদও।

    গরমে গলা ভেজাতে আমের শরবতও বেশ জনপ্রিয়। আম খাওয়ার পর হালকা ঝিমুনি ভাব আসে। ঘুম পায়। আম খাওয়ার পর অনেকেরই এমন হয়। কিন্তু এর কারণ জানেন না বহু মানুষই।

    পাকা আম খেলে ঘুম পায় যে কারণে

    পাকা আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ট্রিপটোফ্যান। আম খেয়ে ঘুম পাওয়ার অন্যতম কারণ এটি।

    কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল সমৃদ্ধ আম শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এই ইনসুলিন ট্রিপটোফ্যান মস্তিষ্কে পাঠায়। মস্তিষ্কে ট্রিপটোফ্যান থেকে বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটার সিনথেসিস হয়। এগুলির মধ্যে অন্যতম সেরোটোনিন। মস্তিষ্ক শীতল ও ঠাণ্ডা রাখে সেরোটোনিন।

    মস্তিষ্ক ঠান্ডা হলে শরীরও নিস্তেজ হতে থাকে। ফলে ঘুম পায়। আম খাওয়ার পর ঘুম পাওয়ার কারণ এটাই।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  7. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    ঝাড়-ফুঁকে সাপ কামড়ানো রোগী কি ‘ভালো হয়?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    সাপে কামড়ানো রোগীকে নিয়ে  সচরাচর যা হয়: রোগীকে নিয়ে ঝারফুক, পা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাধা হয়। যখন রোগীর চোখে সমস্যা শুরু হয় (একটি জিনিস দুইটি দেখে) তখন হাস্পাতালে নিয়ে আসে। এতক্ষনে রোগীর আরও সমস্যা শুরু হয়, চোখের পাতা পড়ে যায় (ptosis), রোগী ঘাড় শক্ত করে রাখতে পারে না (broken neck sign) হয়। রোগী সাপের বিবিস্তারিত পড়ুন

    সাপে কামড়ানো রোগীকে নিয়ে  সচরাচর যা হয়:

    রোগীকে নিয়ে ঝারফুক, পা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাধা হয়। যখন রোগীর চোখে সমস্যা শুরু হয় (একটি জিনিস দুইটি দেখে) তখন হাস্পাতালে নিয়ে আসে। এতক্ষনে রোগীর আরও সমস্যা শুরু হয়, চোখের পাতা পড়ে যায় (ptosis), রোগী ঘাড় শক্ত করে রাখতে পারে না (broken neck sign) হয়। রোগী সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করার ঔষধ (polyvalent antisnake venom)দেয়া হয়। কিছুক্ষন পর রোগীর শাসকষ্ট শুরু হয়।

    এরপর রোগীর O2 এর মাত্রা অনেক কমে যায়, রোগীকে কৃত্রিমভাবে শাস-প্রস্বাস দেবার ব্যাবস্থা করা হয়। আমি রোগীকে অনেক ভালো দেখলাম, রোগী অনেকটা response করছে। আরও এক ডোজ সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করার ঔষধ (polyvalent antisnake venom) দেয়ার ডিসিশন দেয়া হল এবং সাথে inj. Atropine and inj. Neostigmine.

    আমি বিষাক্ত সাপদংশনের প্রায় ৫০ জনের মতো রোগীর চিকিৎসা করেছিলাম। আমার past experience থেকে মনে হয় রোগীটি ভালো হয়ে যাবে। সবাই রোগীর জন্য দোয়া করবেন।

    সাপ কামড়ানোর ঘটনাগুলো সাধারনত এরকম-
    ১। রাতের বেলা মাঠে মাছ ধরতে গিয়ে সাপ কামড়ায়।
    ২। বরষার সময় চারিদিকে যখন পানি থাকে তখন সাপ শুকনো জায়গার জন্য বাসার ভিতরে আশ্রয় নেয়। সাধারনত খড়ি রাখার জায়গায়, বিছানায়, রান্না ঘরে, আলনায় সাপ আশ্রয় নেয়। এসব জায়গায় অন্ধকারে/শব্দহীনভাবে গেলে সাপ কামড়ানোর ঝুঁকি অনেক থাকে।
    ৩। রাতের বেলা অন্ধকার রাস্তায় চলার সময়। (কারণ, সাপ সাধারণত রাতের বেলা চলাচল বেশি করে)।
    ৪। মুরগী বা হাঁসের ঘরে।
    ৫। গরমের সময় বারান্দায় ঘুমানোর সময়।

    সাপ দংশন থেকে প্রতিকার পেতে কি করা উচিত?

    আমাদের দেশে সাপ দংশনের ঘটনাগুলো সাধারণত মে থেকে অক্টোবর মাসে হয়ে থাকে। কারণ, এই সময় বৃষ্টি হয়, চারিদিকে পানি হয়। সাপ সাধারণত পানিতে থাকতে চায় না। তাই শুকনো জায়গার জন্য বাসাবাড়িতে আসে। সেখানে কোনোভাবে মানুষের সাথে কন্ট্যাক্ট হলে, সাপ নিজেকে threatened মনে করলে তখন দংশন করে।

    ১। রাতের বেলা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মাঠে যাবেন না। গেলে অবশ্যই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করে যাবেন। যাবার সময় বড় একটা লাঠি নিয়ে সাম্নের জায়গায় লাঠি দিয়ে শব্দ করে যাবেন। শব্দ শুনলে সাপ অবশ্যই চলে যাবে।
    ২। খড়ি আনতে যাবার সময় লাঠি দিয়ে আগে শব্দ করে তারপর খড়ি নিতে যাবেন।
    ৩। রাতে রাস্তায় চলাচলের জন্য টরচ লাইট অবশ্যই সংগে রাখুন।
    ৪। মুরগী বা হাসের ঘরে লাঠি দিয়ে শব্দ করে পরযাপ্ত আলোর ব্যবসহা করে যাবেন।
    ৫। গ্রামের বিছানায় শোবার আগে কোন কিছু দিয়ে শব্দ করুন, ভালো করে দেখে বিছানায় শোবেন।
    ৬। কোনভাবেই বারান্দায় বা বাইরে শোয়া যাবে না।
    সাপ কামড়ালে কি করবেন?
    ১। আতংকিত হবেন না। কারণ, সাধারণত শতকরা ৯৬-৯৭ শতাংশ সর্পদংশন হয় অবিষাক্ত সাপ দ্বারা।
    ২। যে জায়গায় সাপ কামড় দিয়েছে সে জায়গাটা নাড়ানো যাবে না। ক্রেপ ব্যন্ডেজ দেয়া সবচেয়ে ভাল। তবে গ্রামে পাতলা গামছা বা শাড়ির কাটা অংশ দিয়ে লুজ করে বেধে দিতে হবে। বাধার উদ্দেশ্য হল, যেন lymphatic drainage হতে না পারে, আর রোগী ওই অংশটা নাড়াতে না পারে। (সাপের বিষ lymphatic দিয়ে শরীরে ছড়িয়ে যায়)।
    ৩। কোনোভাবেই রোগীকে ঝাড়-ফুঁক, কবিরাজী, সাপ কাটার জায়গা ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলা- এসব করা যাবে না। কারণ, কোনোভাবেই সময় নষ্ট করা যাবে না। বিষাক্ত সাপ কামড়ালে যত তাড়াতাড়ি সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করার ঔষধ দেয়া যাবে রোগী ভালো হবার সম্ভবনা তত বেশি।
    ৪। রোগীকে দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাবেন, যেখানে সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করার ঔষধ এবং কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রস্বাস দেবার ব্যবস্থা আছে।
    ৫। অবশ্যই রোগীকে সাপ কামড়ানোর সময় থেকে ২৪ ঘণ্টা অবজার্‌ভ করে তারপর হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাবেন। কারণ, সাধারণত সাপ কামড়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিষক্রিয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে বিষক্রিয়ার কোনো লক্ষণ না হলে আর ভয়ের কোন কারণ নেই।

    কেন কবিরাজরা ঝারফুক করলে সাপ কামড়ানো রোগী ভালো হয়

    এটি আসলে একটি ভুল তথ্য। আমাদের দেশে মাত্র ৪ প্রজাতির বিষাক্ত সাপ আছে-কালকেউটে, গোখরা, রাসেল ভাইপার আর গ্রিনপিট ভাইপার। আর সমুদ্রে সামুদ্রিক সাপ বিষাক্ত। এদের মধ্যে আমাদের এদিকে শুধুমাত্র কালকেউটে, গোখরা সাপ পাওয়া যায়। ইদানিং রাজশাহীর বরেন্দ্রতে রাসেল ভাইপার পাওয়া গেছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে বিষাক্ত সাপের সংখ্যা খুব কম। তাই ১০০ জন মানুষকে যদি সাপ কামড়ায় তাদের মধ্যে ৯৮ জনকেই অবিষাক্ত সাপ কামড়াবে। মাত্র ২/৩ জনকে বিষাক্ত সাপ কামড়াবে। কবিরাজ যদি এই ১০০ জন রোগীকে ঝারফুক শুরু করে তবে ৯৫ জনেও বেশি ভালো হবে আর যে ২/৩ জনকে যাদের বিষাক্ত সাপ কামড় দিয়েছে তারা ভালো হবেন না। তাদেরকে কবিরাজ বলবে যে আমি পারব না, মেডিকেলে নেন। তাহলে কবিরাজ এর সফলতার হার ৯৫%!

    তাই সবাই বলে, কবিরাজ সাপ কামড়ানো রোগী ভালো করতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিষাক্ত সাপে কামড়ানো রোগীগুলোর ঝাড়-ফুঁকের এই সময়টা অনেক মূল্যবান। এ সব না করে রোগীকে দ্রুত হাস্পাতালে পাঠালে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে রোগী ভালো হবার সম্ভবনা অনেক বেশি। এসব ঝাড়-ফুঁক করে সময় নষ্ট করার কারণে অধিকাংশ বিষাক্ত সাপে কামড়ানো রোগী হাস্পাতালে যাবার রাস্তায় মারা যায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  8. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    মাস্ক পরার আগে ও পরে করণীয় বিষয়গুলো কি কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    মাস্ক পরার আগে ও পরে করণীয় বিষয়গুলো মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিন নতুন করে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এমন দুঃসময়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। তার মধ্যে মাস্ক অন্যতম। এখন বাইরে বের হলে মাস্ক পরা জরুরি। তবে দুঃবিস্তারিত পড়ুন

    মাস্ক পরার আগে ও পরে করণীয় বিষয়গুলো

    মাস্ক পরার আগে ও পরে করণীয় বিষয়গুলো

    মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিন নতুন করে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এমন দুঃসময়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। তার মধ্যে মাস্ক অন্যতম।

    এখন বাইরে বের হলে মাস্ক পরা জরুরি। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, মাস্ক পরলেও এর গুরুত্ব সম্পর্কে অনেকেই উদাসীন। তাই মাস্ক পরার ক্ষেত্রে জেনে নিন কিছু করণীয়-

    মাস্ক পরার আগে করণীয়

    মাস্ক পরার আগে অবশ্যই সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। সাবান ও পানির ব্যবস্থা না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। এরপর দেখে নিন মাস্কটি পরিষ্কার আছে কি না। মাস্কে কোনোরকম ছিদ্র থাকলে সেটি ব্যবহার করবেন না। মাস্ক পরার সময় খেয়াল করুন যেন তাতে নাক, মুখ ও চিবুক ঢেকে যায়। তবে মাস্কের কারণে নিঃশ্বাস নিতে যেন সমস্যা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

    মাস্ক পরার পরে করণীয়

    মাস্ক কোনোভাবে ভিজে গেলে বা ময়লা হলে সেটি বাদ দিন বা বদলে নিন। মাস্ক মুখেই রাখুন, থুতনি বা কপালে রাখবেন না। মাস্ক পরে থাকা অবস্থায় বারবার সেটি স্পর্শ করবেন না। মাস্ক খুলে রাখার পর পরবর্তীতে আবার ব্যবহার করতে চাইলে পরিষ্কার কোনো ব্যাগে সংরক্ষণ করুন। পরিবারের সবার ব্যবহৃত মাস্ক একই জায়গায় রাখবেন না। আলাদা আলাদা রাখুন। মাস্ক পরার সময় এর ইলাস্টিক বন্ধনী ধরে পরুন।

    মাস্ক খোলার সময় করণীয়

    মাস্ক খোলার আগেও দুই হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ইলাস্টিক বন্ধনী ধরে মাস্ক খুলতে হবে। মাস্কের মূল অংশে স্পর্শ করবেন না। এটি খোলার পরে আরেকবার হাত ধুয়ে বা স্যানিটাইজ করে নিন। মাস্ক যদি একবার ব্যবহারের উপযোগী হয় তবে তা ব্যবহারের পর ঢাকনাযুক্ত ময়লা রাখার পাত্রে ফেলুন। যদি একাধিকবার ব্যবহার করা যায় তবে প্রতিবার ব্যবহারের পরে ধুয়ে নিন।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  9. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    বিয়ের আগে সঙ্গীকে কোন প্রশ্নগুলো করা জরুরি ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    জীবনসঙ্গী কেমন হবে, তার মনের কথা বুঝবে কি না বা সারাজীবন এক ছাদের নিচে পার করতে পারবে কি না। বিয়ের আগে এসব প্রশ্নের শেষ নেই। অবিবাহিত নারী ও পুরুষদের বিয়ে নিয়ে কতই না কৌতূহল! তবে একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ সব কিছু আগে থেকে জানা থাকলে কিন্তু বিয়ে-পরবর্তী জটিলতা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকা যায়। বিয়ের প্রস্তুতবিস্তারিত পড়ুন

    ফাইল ফটো

    জীবনসঙ্গী কেমন হবে, তার মনের কথা বুঝবে কি না বা সারাজীবন এক ছাদের নিচে পার করতে পারবে কি না। বিয়ের আগে এসব প্রশ্নের শেষ নেই। অবিবাহিত নারী ও পুরুষদের বিয়ে নিয়ে কতই না কৌতূহল!

    তবে একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ সব কিছু আগে থেকে জানা থাকলে কিন্তু বিয়ে-পরবর্তী জটিলতা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকা যায়।

    বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া মানে শুধু সাজগোজ কেমন হবে, খাবারের মেন্যু কেমন হবে বা কেমন আয়োজন হবে তা নয়। যেহেতু দীর্ঘদিনের একটি বন্ধন, তাই বিয়ের আগেই যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন তার সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।

    বিশেষজ্ঞদের মতে বিয়ের আগে হবু সঙ্গীকে কিছু প্রশ্ন করা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিয়ের আগে কোন প্রশ্নগুলো করা জরুরি-

    তিনি কীভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করেন?

    পৃথিবীতে সবার ভালোবাসা প্রকাশের ধরন বা গ্রহণের ধরন আলাদা। সবাই একইভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পছন্দ করেন না। তাই যদি আপনার হবু সঙ্গীর ভালোবাসা প্রকাশের ধরন জানতে পারেন তাহলে আপনার জন্য তাকে বুঝতে পারা সহজ হবে। ভুল বোঝাবুঝি কম হবে।

    বিয়ের আগে আপনার হবু সঙ্গীর আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জেনে নিন। আপনার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কেও তাকে জানান। কে কতটুকু আর্থিকভাবে অবদান রাখবেন এটিও একে অপরকে জানান। তাহলে পরবর্তীতে এই নিয়ে কোনো ঝামেলা থাকবে না।

    তার পূর্বের কোনো ট্রমা আছে কি না; জেনে নিন

    আপনার হবু সঙ্গীর পূর্বে এমন কোনো অভিজ্ঞতা আছে কি না; তা জেনে নিন। মাঝে মাঝে কেউ কেউ ছোট কোনো বিষয়ে আঘাত পেয়ে যায়। অপরজন কারণ বুঝতেই পারে না। এই ধরনের ঘটনা সাধারণত তাদের পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতার কারণে হয়ে থাকে। তাই সেই সম্পর্কে ধারণা থাকলে এই ব্যাপারগুলো ঘটবে না।

    নিজেদের প্রাইভেসি সম্পর্কে জেনে নিন

    এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিয়ের আগে একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নেওয়া ভালো। সবার জীবনে কিছু প্রাইভেসি থাকে। সেগুলো মেনে চলতে হয়। তাহলে জীবনে বাড়তি কোনো ঝামেলা আসবে না।

    দাম্পত্য জীবনে পরিবারের কতটুকু হস্তক্ষেপ থাকবে জেনে নিন

    দাম্পত্য জীবনে এই নিয়ে বেশ কলহ দেখা যায়। তাই এটি সম্পর্কে একে ওপরের সঙ্গে সবকিছু পরিষ্কার করে নেওয়াই ভালো। নয়তো বিয়ের পরে এই নিয়ে ঝামেলা বাড়তে পারে। তাই আগেভাগে কথা বলে নেওয়াই ভালো।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  10. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ব্যাংক-বীমা

    এটিএম বুথে কি কারণে কার্ড আটকে যায়, আটকালে করণীয় কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    ফাইল ফটো টাকা তুলতে গিয়ে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড আটকে গিয়েছে এটিএম বুথে? এটিএম ব্যবহারের সময় এমন নানা ধরনের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হই আমরা। তখন কী করতে হবে জানা আছে? জানা থাকলে ভালো; আর না জানা থাকলে চলুন জেনে নিই বিস্তারিত- কেন কার্ড আটকে যায় এটিএমে? অনেক সময়ই এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় মেশিনেই আটবিস্তারিত পড়ুন

    ফাইল ফটো

    ফাইল ফটো


    টাকা তুলতে গিয়ে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড আটকে গিয়েছে এটিএম বুথে? এটিএম ব্যবহারের সময় এমন নানা ধরনের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হই আমরা। তখন কী করতে হবে জানা আছে?

    জানা থাকলে ভালো; আর না জানা থাকলে চলুন জেনে নিই বিস্তারিত-

    কেন কার্ড আটকে যায় এটিএমে?

    অনেক সময়ই এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় মেশিনেই আটকে যায় ডেবিট কার্ড। কোনো কারণে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বা বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন হলে মেশিনেই আটকে যায় কার্ড। কারণ এটিএম-এর পুরো কাজটি ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। সেকারণে এটিএমে ইন্টারনেট পরিষেবা সঠিকভাবে কাজ না করলে কার্ড আটকে যেতে পারে।

    অনেক সময় কার্ড রিডারে সমস্যা দেখা দিলে এটিএম কার্ড মেশিনের ভেতর আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কার্ড আটকে যাওয়ার পেছনে অনেক সময় কার্ড রিডার দায়ী বলে মনে করা হয়।

    একাধিক বার ভুল ‘পিন’ দিলে কার্ড আটকে যেতে পারে। যদি পরপর তিনবার ভুল পিন দেওয়া হয়, তাহলেও মেশিনে কার্ড আটকে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কার্ড নিজে থেকেই আটকে দেয় এটিএম মেশিন। সেক্ষেত্রে ‘পিন’ সঠিক ভাবে জেনে তবেই ইনপুট করুন। সেক্ষেত্রেও বিপদ।

    কার্ড আটকে গেলে আপনার কী করা উচিত?

    মেশিনের ভেতরে কার্ড আটকে গেলে তা টানাটানি করবেন না, স্ক্রিনে ‘ক্যানসেল’ বিকল্পটিতে ক্লিক করুন। অনেক ক্ষেত্রেই ‘ক্যানসেল’ বিকল্পটি বেছে নিলে সেই লেনদেন বাতিল হয়ে যায় এবং তাতে কার্ড বেরিয়ে আসতে পারে। তবে যদি এতেও কাজ না করে তাহলে স্থানীয় ব্রাঞ্চ ও ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারের নম্বরে ফোন করুন। বুথেই সেই নম্বর লেখা থাকে। সেখানকার প্রতিনিধিরা এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন।

    যদি কোনো কারণে এটিএম থেকে আপনার কার্ড না বের করতে পারেন এবং যদি সেই মেশিনের ভেতরে রেখেই আপনাকে ফিরতে হয় তাহলে অতি দ্রুত তা ব্লক করার ব্যবস্থা করুন। কারণ কার্ডটি যদি অন্য কেউ পেয়ে যায় তাহলে প্রতারণার শিকার হতে পারেন আপনি। এমন কিছু সঠিক নিয়ম জানা থাকলে জটিল সমস্যার সুরাহা পাবেন।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  11. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    আল্লাহর গজবে ধ্বংস হওয়া ৬ জাতি কিভাবে ধ্বংস হয়েছিলো?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুসারে আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুসরণ না করায় কয়েকটি জাতি রাতারাতি ধুলায় মিশে গেছে। মাদইয়ান সম্প্রদায় হযরত শোয়াইব (আ.) প্রেরিত হয়েছিলেন মাদইয়ান সম্প্রদায়ের কাছে। তিনি ছিলেন হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর তৃতীয় স্ত্রী কাতুরার ঘরের পুত্র মাদইয়ানের বংশধর। ধারণা করা হয়, বর্তমান সিরিয়ার মুয়ানবিস্তারিত পড়ুন

    পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুসারে আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুসরণ না করায় কয়েকটি জাতি রাতারাতি ধুলায় মিশে গেছে।

    মাদইয়ান সম্প্রদায়

    হযরত শোয়াইব (আ.) প্রেরিত হয়েছিলেন মাদইয়ান সম্প্রদায়ের কাছে। তিনি ছিলেন হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর তৃতীয় স্ত্রী কাতুরার ঘরের পুত্র মাদইয়ানের বংশধর। ধারণা করা হয়, বর্তমান সিরিয়ার মুয়ান নামক স্থানে কওমে শোয়াইবের বসবাস ছিল।

    মাদইয়ানবাসী পার্থিব লোভ-লালসায় মত্ত হয়ে পারস্পরিক লেনদেনের সময় ওজনে কম দিয়ে মানুষের হক আত্মসাৎ করত। দুর্নীতি, রাহাজানি, ছিনতাই, ধর্ষণ ও মজুদদারির মতো জঘন্য অন্যায় কাজ তাদের সমাজের মধ্যে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এসব পাপে তারা এমনভাবে লিপ্ত ছিল যে, তারা কখনো মনে করত না যে, এসব কাজ অত্যন্ত জঘন্য বা গর্হিত। বরং তারা এসবের জন্য গর্ববোধ করত। মাদইয়ান সম্প্রদায়কে সুপথে পরিচালিত করার জন্য আল্লাহ তায়ালা শোয়াইব (আ.)-কে তাদের কাছে পাঠান। হযরত শোয়াইব (আ.) সর্বপ্রথম তাদের তাওহিদের দাওয়াত দিলেন। তিনি তাদের বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহতায়ালার ইবাদত কর, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।’ তাওহিদের দাওয়াত দেওয়ার পরপরই হযরত শোয়াইব (আ.) তাদের ওজনে কম দেওয়ার জঘন্য মানসিকতাকে ত্যাগ করার উপদেশ দিলেন।

    তিনি তাদের ওজনে কম না দেওয়ার অনুরোধ জানালেন। তিনি আরও বলেন, আজ আমি তোমাদের সচ্ছল ও ভালো অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আমি তোমাদের ব্যাপারে পরিবেষ্টনকারী দিনের আজাবের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। হে আমার কওম! ওজনে কম দিও না এবং লোকদের সঙ্গে প্রতারণা কোরো না। আর সমাজের বুকে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি কোরো না।

    এ থেকে বোঝা যায়, ওজনে কম দেওয়া যেমন হারাম, তেমনি অপরের অধিকারে হস্তক্ষেপ করাও হারাম। হযরত শোয়াইব (আ.) তাদের আরও উপদেশ দিলেন, মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়ার জন্য রাস্তাঘাটে ওঁৎ পেতে অপেক্ষা কোরো না। কিন্তু উপদেশের বিনিময়ে কেবল উপহাস-পরিহাসই পেয়েছেন শোয়াইব (আ.)। অবশেষে তারা যখন সীমালঙ্ঘন করে ফেলল তখন আল্লাহ তায়ালার গজব এসে গেল। কয়েক দিন তাদের অঞ্চলে প্রচ- গরম পড়ল। গরমে তারা ছটফট করতে লাগল। অতঃপর কাছাকাছি একটা ময়দানের ওপর গাঢ় মেঘমালা দেখা দিল। ময়দানে মেঘের ছায়া পড়ল। শীতল বাতাস বইতে লাগল। এলাকার সবাই ওই ময়দানে উপস্থিত হলো। বলতে লাগল, এই মেঘ থেকে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে। কিন্তু তাদের ওপর অগ্নিবৃষ্টি শুরু করল। আর নিচের দিকে শুরু হলো প্রচ- ভূমিকম্প। ফলে সবাই সেখানে ধ্বংস হয়ে গেল।

    হুদ (আ.)-এর আদ জাতি

    আদ জাতির লোকেরা ছিল উন্নত। নির্মাণশিল্পে তারা ছিল জগৎসেরা। তারা সুরম্য অট্টালিকা ও বাগান তৈরি করত। তাদের তৈরি ইরাম-এর মতো অনিন্দ্য সুন্দর শহর পৃথিবীর আর কোথাও ছিল না। তারা অঙ্কন শিল্পেও ছিল দক্ষ। জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারা যেমন অগ্রসর ছিল, তেমনি সংস্কৃতিতেও অনন্য।

    শুরুর দিকে আদরা হযরত নুহ (আ.)-এর ধর্মমত মেনে চলত। তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করত। কিন্তু কালক্রমে তারা আল্লাহকে ভুলে যেতে শুরু করে। তারা মনে করত, তাদের সব অর্জন স্বীয় যোগ্যতায়।

    আদরা ভুলে গেল যে, আল্লাহ বা স্রষ্টা বলতে কেউ আছেন। তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা যে আল্লাহই তাদের দিয়েছেন, তাও তারা বেমালুম ভুলে গেল। ফলে তারা অহংকারী হয়ে উঠল এবং সত্যিকারের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ল।

    আদ জাতির লোকদের সতর্ক করার জন্য আল্লাহ হযরত হুদ (আ.)-কে দুনিয়ায় পাঠালেন। হযরত হুদ (আ.) আদ জাতির লোকদের গর্ব পরিত্যাগ করার আহ্বান জানালেন এবং আল্লাহর ইবাদত করার উপদেশ দিলেন। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন পরিচালনার কথাও বললেন। হযরত হুদ (আ.) বললেন, ‘তোমরা মজবুত অট্টালিকা বানিয়েছ এ জন্য যে, তোমরা এখানে চিরকাল থাকবে। তোমরা যখন তোমাদের দুর্বলের ওপর জুলুম করো তখন তোমরা স্বৈরশাসকের মতো বর্বর আচরণ করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমাকে মান্য করো।

    কিন্তু লোকেরা হুদ (আ.)-এর কথা শুনল না, বরং তারা তার কথা প্রত্যাখ্যান করল। তাকে বোকা ও মিথ্যাবাদী বলে গালাগাল দিল। নবীর প্রতি এরূপ অন্যায় আচরণে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হলেন। ফলে আদদের এলাকায় দেখা দিল প্রচণ্ড খরা। এতে তিন বছর তারা দুর্ভিক্ষের মধ্যে কাটাল। তারপরও তাদের স্বভাব-চরিত্রে কোনো পরিবর্তন হলো না। এবার সেখানে শুরু হলো ভয়ানক ঝড়। এই ঝড় সাত রাত ও আট দিন ধরে চলল। ফলে গোটা আদ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। আল্লাহ তার রহমতে হযরত হুদ (আ.) ও তার অনুসারীদের রক্ষা করলেন।

    লুত (আ.)-এর জাতি

    বিকৃত পাপাচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল লুত (আ.)-এর জাতি। ইরাক ও ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী স্থানে এই জাতিটির বসবাস ছিল। এই জাতির কেন্দ্রীয় শহর ছিল ‘সাদুম’ নগরী। সাদুম ছিল সবুজ শ্যামল এক নগরী। কারণ এখানে পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল। ফলে ভূমি ছিল অত্যন্ত উর্বর এবং শস্যে ভরপুর। এমন প্রাচুর্যময় জীবনযাত্রা বেপরোয়া করে তোলে তাদের। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে তাদের মধ্যেই সর্বপ্রথম সমকামিতার প্রবণতা দেখা দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এই জঘন্য অপকর্ম তারা প্রকাশ্যে করে আনন্দ লাভ করত।

    অবশেষে একদিন আল্লাহর গজব নাজিল হয় ওই পাপাচারী জাতির বিরুদ্ধে। তাদের ওপর মহাপ্রলয় নেমে আসে। এক শক্তিশালী ভূমিকম্প পুরো নগরটি সম্পূর্ণ উল্টে দেয়। ঘুমন্ত মানুষের ওপর তাদের ঘরবাড়ি আছড়ে পড়ে। পাশাপাশি আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো কঙ্কর নিক্ষিপ্ত হতে থাকে। ওই মহাপ্রলয়ের হাত থেকে কেউ রেহাই পায়নি। ওই জনপদের ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান।

    লুত (আ.)-এর জাতির ধ্বংসস্থলটি বর্তমানে ‘বাহরে মাইয়েত’ বা ‘বাহরে লুত’ নামে খ্যাত। এটি ডেড সি বা মৃত সাগর নামেও পরিচিত। ফিলিস্তিন ও জর্দান নদীর মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল অঞ্চলজুড়ে নদীর রূপ ধারণ করে আছে এটি। জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ নিচু। এর পানিতে তেলজাতীয় পদার্থ বেশি। এতে কোনো মাছ, ব্যাঙ, এমনকি কোনো জলজ প্রাণীও বেঁচে থাকতে পারে না। এ কারণেই একে ‘মৃত সাগর’ বলা হয়।

    সাদুম উপসাগরবেষ্টিত এলাকায় এক ধরনের অপরিচিত উদ্ভিদের বীজ পাওয়া যায়, সেগুলো মাটির স্তরে স্তরে সমাধিস্থ হয়ে আছে। সেখানে শ্যামল উদ্ভিদ পাওয়া যায়, যার ফল কাটলে তার মধ্যে পাওয়া যায় ধুলাবালি ও ছাই।

    এখানকার মাটিতে প্রচুর গন্ধক পাওয়া যায়। এই গন্ধক উল্কাপতনের অকাট্য প্রমাণ। ১৯৬৫ সালে ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানকারী একটি আমেরিকান দল ডেড সির পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক বিরাট কবরস্থান দেখতে পায়, যার মধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি কবর আছে। এটি থেকে অনুমান করা হয়, কাছেই কোনো বড় শহর ছিল। কিন্তু আশপাশে এমন কোনো শহরের ধ্বংসাবশেষ নেই, যার সন্নিকটে এত বড় কবরস্থান হতে পারে। তাই সন্দেহ প্রবল হয়, এটি যে শহরের কবরস্থান ছিল, তা সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে।

    সাগরের দক্ষিণে যে অঞ্চল রয়েছে, তার চারদিকেও ধ্বংসলীলা দেখা যায়। জমিনের মধ্যে গন্ধক, আলকাতরা, প্রাকৃতিক গ্যাস এত বেশি মজুদ দেখা যায় যে এটি দেখলে মনে হয়, কোনো এক সময় বিদ্যুৎ পতনে বা ভূমিকম্পে গলিত পদার্থ বিস্ফোরণে এখানে এক ‘জাহান্নাম’ তৈরি হয়েছিল।

    সালেহ (আ.)-এর সামুদ সম্প্রদায়

    সামুদ জাতি শিল্প ও সংস্কৃতিতে পৃথিবীতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আদ জাতির পর তারাই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধিশালী জাতি। কিন্তু তাদের জীবনযাপনের মান যতটা উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল, মানবতা ও নৈতিকতার মান ততই নি¤œগামী ছিল। একদিকে উন্মুক্ত প্রান্তরে পাথর খোদাই করে করে প্রাসাদের পর প্রাসাদ তৈরি হচ্ছিল, অন্যদিকে সমাজে কুফর, শিরক ও পৌত্তলিকতার প্রসার ঘটছিল। অন্যায় ও অবিচারে সমাজ জর্জরিত হতে থাকে। সমাজে চরিত্রহীন লোকের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। হজরত সালেহ (আ.) যে সত্যের দাওয়াত দিয়েছেন, তাতে নি¤œ শ্রেণির লোকেরাই সাড়া দেয়। হিজর ছিল সামুদ জাতির কেন্দ্রীয় আবাসস্থল। এর ধ্বংসাবশেষ মদিনার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। বর্তমান শহর আল উলা থেকে কয়েক মাইল ব্যবধানে তা দেখা যায়।

    সালেহ (আ.) সারা জীবন তাদের হেদায়েতের পথে আনার চেষ্টা করেছেন। এতে অল্প কিছু সঙ্গী ছাড়া গোটা জাতি তার অবাধ্যই থেকে যায়। একপর্যায়ে তারা দাবি করে, আপনি যদি সত্যি নবী হয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের ‘কাতেবা’ নামের পাথরময় পাহাড়ের ভেতর থেকে একটি ১০ মাসের গর্ভবতী, সবল ও স্বাস্থ্যবতী মাদি উট বের করে দেখান। এটি দেখাতে পারলে আমরা আপনার ওপর ইমান আনব। সালেহ (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আল্লাহর কুদরতে পাহাড় থেকে একটি অদ্ভুত রকমের মাদি উট বের হয়। তা দেখে কিছু লোক ইমান আনে। কিন্তু তাদের সর্দাররা ইমান আনেনি, বরং তারা সে মাদি উটকে হত্যা করে ফেলে। এতে সালেহ (আ.) তার জাতির ওপর আল্লাহর আজাব নেমে আসার ঘোষণা দেন। তিনি তাদের সতর্ক করে দেন যে তিন দিন পরই আল্লাহর আজাব তোমাদের ধ্বংস করে দেবে।

    নির্ধারিত সময়ে আসমানি আজাব এসে অবিশ্বাসীদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারপর সীমা লঙ্ঘনকারীদের মহানাদ আঘাত করে। ফলে তারা নিজ নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে থাকে (ধ্বংস হয়ে যায়)। যেন তারা কখনোই সেখানে বসবাস করেনি। উদ্ধত সামুদ জাতির প্রতি হজরত সালেহ (আ.)-এর হুঁশিয়ারি সত্যি বাস্তবায়িত হয়েছে। হঠাৎ একদিন প্রচণ্ড শব্দে ভূমিকম্প তাদের নাস্তানাবুদ করে ফেলে। বজ্রপাতের ভয়ংকর শব্দে মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত হয়ে যায়। অবশেষে তাদের অপমৃত্যু ঘটে।

    নুহ (আ.)-এর জাতি

    নুহ (আ.)-এর জাতি মূর্তিপূজা করত। আল্লাহ তায়ালা নুহ (আ.)-কে সুদীর্ঘ জীবন দান করেছিলেন। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মূর্তিপূজা ত্যাগ করতে বলেছেন। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী অক্লান্তভাবে দাওয়াত দেওয়ার পরও তারা ইমান আনেনি। তিনি তার জাতিকে সত্যের পথে আনতে দীর্ঘ ৯৫০ বছর নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু তারা নুহ (আ.)-এর দাওয়াত তাচ্ছিল্যভরে প্রত্যাখ্যান করে। তারা তাকে বলেছিল, ‘হে নুহ! যদি তুমি বিরত না হও, তবে পাথর মেরে তোমার মস্তক চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হবে।’

    বহু চেষ্টায় অল্পসংখ্যক মানুষ তার পথে এসেছিল। তার সময়ের সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তার কথায় কর্ণপাত করেনি। নুহ (আ.) তাদের আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তবু তাদের চৈতন্যোদয় হয়নি। অবশেষে আল্লাহর আজাব আসে। এক ভয়ংকর প্লাবন ও জলোচ্ছ্বাস তার জাতির অবাধ্য লোকদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এমন প্লাবন সেই জাতিকে গ্রাস করেছিল, যেই প্লাবন হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে ইতিহাস হয়ে আছে। তখন নুহ (আ.)-এর নৌকায় যারা আশ্রয় নিয়েছিল তারাই রক্ষা পেয়েছিল।

    মুসা (আ.)-এর জাতি

    নিজেকে খোদা দাবি করেছিল ফেরাউন। তার কাছে ইমানের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলেন মুসা ও হারুন (আ.)। বিনিময়ে মুসা (আ.)-কে হত্যা করতে মনস্থির করে ফেরাউন। সদলবলে ফেরাউন একদিন মুসা (আ.)-কে ধাওয়া করে। তিন দিকে ঘেরাও হওয়া মুসার দলের সামনে ছিল উত্তাল সাগর। আল্লাহর হুকুমে সাগরে পথ সৃষ্টি হয়। নিজের দল নিয়ে মুসা (আ.) এই পথ দিয়ে সমুদ্র পার হয়ে যান। কিন্তু সাগরে ডুবে মারা যায় ফেরাউন। আল্লাহ তাকে পৃথিবীবাসীর কাছে দৃষ্টান্ত হিসেবে রেখে দিয়েছেন। তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় সাগরে নিমজ্জিত থাকার পরও তার লাশে কোনো পচন ধরেনি।

    জানা যায়, ১৮৯৮ সালে কিংস ভ্যালির থিবিসে দ্বিতীয় রামাসিসের পুত্র ও মহাযাত্রাকালীন ফেরাউনের মমি করা লাশ আবিষ্কার করা হয়। সেখান থেকে তা কায়রোতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯০৭ সালের ৮ জুলাই মমিটির আবরণ অপসারণ করা হয়। কয়েকটি জায়গায় কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও মমিটি তখনো সন্তোষজনকভাবে সংরক্ষিত ছিল। তার গলা থেকে মাথা পর্যন্ত উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে অবশিষ্ট দেহ কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় দর্শকদের দেখার জন্য কায়রো জাদুঘরে রাখা আছে।

    ঐতিহাসিক চিহ্ন-দ্রব্য সংরক্ষণ করা মানুষের স্বাভাবিক কর্তব্য। কিন্তু এ মমির ক্ষেত্রে সেই কর্তব্য অনেক বেশি বড় ও ব্যাপক হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ এ মমি হচ্ছে এমন একজনের লাশের বাস্তব উপস্থিতি, যে মুসা (আ.)-কে চিনত। তার পরও সে তার হেদায়েত প্রত্যাখ্যান করেছিল। আত্মরক্ষার্থে পলায়নকালে মুসার পশ্চাদ্ধাবন করেছিল এবং সেই প্রক্রিয়ায় প্রাণ হারিয়েছে। আর কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তার লাশ পরবর্তী সময় মানুষের জন্য নিদর্শনস্বরূপ। আল্লাহর হুকুমে তা ধ্বংস থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

    সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিম সাগরতীরে যেখানে ফেরাউনের লাশ সাগরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, আজও জায়গায়টি অপরিবর্তিত আছে। বর্তমানে এ জায়গার নাম জাবালে ফেরাউন বা ফেরাউন পর্বত। এরই কাছাকাছি আছে একটি গরম পানির ঝরনা। স্থানীয় লোকেরা এর নাম দিয়েছে হাম্মামে ফেরাউন। এর অবস্থানস্থল হচ্ছে আবু জানিমের কয়েক মাইল ওপরে উত্তরের দিকে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  12. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    দেশে দেশে ক্রিসমাস পালনের রীতি কি আলাদা আলাদা?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ক্রিসমাস ডে বা শুভ বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর)। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা সভাসহ নানা উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করে এ সম্প্রদায়ের মানুষ। খ্রিষ্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিষ্ট মানবজাতির উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিলেন। হিংসবিস্তারিত পড়ুন

    সংগৃহীত ছবি


    খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ক্রিসমাস ডে বা শুভ বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর)। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা সভাসহ নানা উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করে এ সম্প্রদায়ের মানুষ।

    খ্রিষ্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিষ্ট মানবজাতির উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিলেন। হিংসা বিদ্বেষপূর্ণ মানুষকে সুপথে আনার জন্যই তার আগমন হয়েছিল বলে মনে করেন এ সম্প্রদায়ের মানুষ।

    দিনটি উপলক্ষে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও এদিনে ছুটি থাকে। বন্ধু-বান্ধব, মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন বিনোদন কেন্দ্রসহ একে অপরের বাড়িতে বেড়ান। সবার গায়েই থাকে নতুন পোশাক। শহরজুড়ে করা হয় হরেক রকম রঙ-বেরঙের টুনি বাল্বের আলো। ছোট ছোট কাটা আপেল, কমলা ও পপকর্ন দিয়ে সাজানো হয় ক্রিসমাস। উপহার নেবে নেচে নেচে মজার মজার উপহার বহন করা সান্তা ক্লজের কাছ থেকে।

    বিভিন্ন গির্জা ও উৎসব কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের নানা উপহার দিয়ে বেড়ান সান্তা ক্লজ।

    এবার জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন দেশে বড়দিন কিভাবে পালন হয়-

    বাংলাদেশ

    ১৬ শতকে পর্তুগিজরা বাংলাদেশে খ্রিষ্টধর্ম নিয়ে আসেন। এ দেশে প্রথম গির্জাটি তৈরি হয় ১৫৯৯ সালে পুরাতন যশোরের কালীগঞ্জের কাছে সুন্দরবন এলাকায়। ভারতের কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা জব চার্নকই প্রথম দিবসটি উদযাপন করেন। ১৬৬৮ সালে হিজলির পথে যাওয়ার সময় সুতানুটি গ্রামে বড়দিন উৎসব উদযাপনের জন্য চার্নক যাত্রাবিরতি করেন। এ অঞ্চলে সেটিই ছিল ইংরেজদের প্রথম বড়দিন উদযাপন। দিনটিতে খ্রিষ্টানরা আনন্দ ফুর্তি করে এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা কার্ড ও উপহার দেয়। তৈরি হয় মজার মজার খাবার। গির্জায় গির্জায় আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনা।

    ভারত

    ভারতে খুব ঘটা করে বড়দিন পালন করেন খ্রিষ্টানরা। ক্রিসমাস ট্রি সাজায় আমগাছ ও কলাগাছ দিয়ে। এ দিনে দক্ষিণ ভারতে- তামিলনাড়ু, কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ঘরে ছোট প্রদীপ জ্বালায়। তবে দেশটির শহরের খ্রিষ্টানরা আবার পশ্চিমাদের মতোই বড়দিন উদযাপন করেন।

    আমেরিকা

    ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে আমেরিকানরাও জার্মানদের মতই সরেস। ক্রিসমাসের আগের দিন বাচ্চারা ক্রিসমাস ট্রির নিচে সুন্দর স্টকিংস ঝুলিয়ে রাখে যেখানে সান্তা উপহার রেখে যান। সকালে ওঠে উপহার পাবার লোভে তারা জলদি ঘুমাতে চলে যায়। তারা বিশ্বাস করে, সান্তা ৬টি রেইন ডিয়ারে গাড়িতে চড়ে বিশাল ঝোলাভর্তি চকোলেট, ক্যান্ডি আর উপহার নিয়ে এসে তাদের স্টকিং আর ক্রিসমাস ট্রির নিচে রেখে যাবেন।

    রাশিয়া

    পৃথিবীর সব দেশে ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাস পালন করা হলেও রাশিয়ায় কিন্তু তা পালিত হয় ৭ জানুয়ারি। এর কারণ হলো রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুরনো জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে থাকেন। কেউ চাইলে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালন করতে পারে। তবে সেখানে সবাই ৭ জানুয়ারিই বড়দিন পালন করে থাকে।

    বেলজিয়াম

    বেলজিয়ামে ৬ ডিসেম্বর ‘সিন্টারক্লজ বা সেইন্ট নিকোলাস’ নামে অনুষ্ঠান হয়। এটি ক্রিসমাস থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আয়োজন। সান্তাক্লজকে বেলজিয়ামে বলা হয় ‘কেরস্টম্যান’বা ‘লি পেরে নোয়েল’। এ দিনে সান্তা ছোটদের জন্য উপহার নিয়ে আসেন।

    ব্রাজিল

    ব্রাজিলে সান্তা ক্লজকে পাপাই নোয়েল বলে ডাকা হয়। এদের আচার-অনুষ্ঠান অনেকটাই আমেরিকার সঙ্গে মিলে যায়। ব্রাজিলে যারা একটু বেশি ধনী, তারা ক্রিসমাসে খাবারের তালিকায় মুরগি, টার্কিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু পদ রাখেন। এছাড়া চকোলেট আর কনডেন্সড মিল্কের মিশ্রণে তৈরি মিষ্টিও থাকে। এর নাম ব্রিগেডেইরো। ব্রাজিলের সব বাসিন্দাই বড়দিন উপলক্ষে ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে থাকে।

    জার্মানি

    জার্মানরা বড়দিন উপলক্ষে তাদের ঘর সাজাতেই বেশি ভালোবাসে। জার্মানিতে ঘর সাজানোর জন্য খুবই সুন্দর জিনিস ব্যবহার করা হয়। তারা তাদের জানালায় কাঠের ফ্রেমে ইলেক্ট্রিক মোমবাতি জ্বালিয়ে তার সামনে কাগজ বা প্লাস্টিকের রঙ-বেরঙের ছবি টানিয়ে দেয়, যা রাতের বেলা বাইরে থেকে দেখতে খুবই মনোরম লাগে।

    ফ্রান্স

    ফ্রান্সে ক্রিসমাসকে বলা হয় নোয়েল। আর ক্রিসমাস ফাদার বা সান্তা ক্লজকে বলা হয় পেরি নোয়েল। ফ্রান্সের সবাই ক্রিসমাস ট্রিকে পুরনো ধাঁচের সাজে সাজাতেই বেশি ভালোবাসে। তারা তাদের ট্রির ওপরে লাল রঙের রিবন মুড়িয়ে তার সঙ্গে সাদা মোমবাতি দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজায়।

    নিউজিল্যান্ড

    নিউজিল্যান্ডে বড়দিনটি শুরু হয় ক্রিসমাস ট্রির নিচে রাখা উপহারের প্যাকেট খোলা দিয়ে। এরপর ক্রিসমাসের দুপুরের খাবার পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেয়ে থাকে। টার্কি আর মুরগির মাংস দিয়েই চলে খাবার পর্ব। এরপর শুরু হয় চা পানের আসর। আর রাতে পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে চলে বারবিকিউ পার্টি।

    পর্তুগাল

    পর্তুগালেও বড়দিনের অন্যতম আকর্ষণ ক্রিসমাস ফাদারের উপহার। বড়দিনের আগের দিন সন্ধ্যায় অর্থাৎ ক্রিসমাস ইভ-এ ট্রির নিচে বা চিমনির সামনে ঝোলানো মোজার মধ্যে ফাদার উপহার দিয়ে যান। আর ক্রিসমাস ইভ-এ মাঝরাতে সিদ্ধ আলু আর নোনতা শুকনো কড মাছ দিয়ে তারা ভোজ সেরে থাকে।

    সুইডেন

    সুইডেনে বড়দিন আয়োজনে অন্যতম দিন হলো ক্রিসমাস ইভ। সুইডেনবাসীরা একে অপরকে উপহার দিয়ে আর শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্রিসমাস উদযাপন করে থাকে।

    ইতালি

    ইতালিতে বড়দিন উদযাপন শুরু হয় ৮ ডিসেম্বর থেকে। শেষ হয় ৬ জানুয়ারি। সেদিন ওখানকার সবাই ক্রিসমাস ট্রি তৈরি করে। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের পাশাপাশি সেইন্ট স্টিফেনস ডেও পালন করে তারা। ইতালিতে বড়দিনে ওখানকার বাচ্চারা রাখাল সেজে পাইপ বাজিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বড়দিনের গান গায় আর ছড়া কাটে। বিনিময়ে তাদেরকে টাকা দেয়া হয়। আর সেই টাকা দিয়ে ওরা বড়দিনের উপহার কেনে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  13. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    মধ্যযুগের ইতিহাস কতটা জানি আমরা?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    ফাইল ছবি   মধ্যযুগ সম্পর্কে কতটুকু জানা আছে আমাদের? যুদ্ধ, সাহিত্য, রাজনীতি, ধর্মের বিকাশ, জীবনাচরণের পরিবর্তন ইত্যাদি সব কিছুরই যেন মোড় ঘুরে যায় এ যুগে।  মধ্যযুগে ইতিহাস লেখা শুরু হয় সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে। চলুন মিলিয়ে নেয়া যাক ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের প্রফেসর জন এইচ আরনল্ড কর্তৃক মধ্যযুগ নিয়ে পবিস্তারিত পড়ুন

    ফাইল ছবি

    ফাইল ছবি

     

    মধ্যযুগ সম্পর্কে কতটুকু জানা আছে আমাদের? যুদ্ধ, সাহিত্য, রাজনীতি, ধর্মের বিকাশ, জীবনাচরণের পরিবর্তন ইত্যাদি সব কিছুরই যেন মোড় ঘুরে যায় এ যুগে। 

    মধ্যযুগে ইতিহাস লেখা শুরু হয় সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে।

    চলুন মিলিয়ে নেয়া যাক ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের প্রফেসর জন এইচ আরনল্ড কর্তৃক মধ্যযুগ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন বিষয়গুলোর সঙ্গে।

    ১. মধ্যযুগীয় পেশা ও শ্রেণীবিভাগ: 

    মধ্যযুগীয় প্রেক্ষাপটকে ভিত্তি করে লেখা বিভিন্ন বই কিংবা সিনেমা দেখে মনে হতে পারে সে যুগে বোধহয় কেবল যোদ্ধা, পাদ্রী, কৃষক কিংবা ক্রীতদাসই ছিল। এছাড়া বুঝি আর পেশা ছিল না। এ ধারনা অবশ্য একেবারে ভুলও না। একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানুষের পেশা ও বৃত্তি মূলত ৩টি ভাগে বিভক্ত ছিল। এদের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ শ্রেণীর লোক ছিলেন, যারা ধর্ম বা প্রার্থনার কাজ সারতেন। এর পরের শ্রেণীটি ছিল সৈনিক ও যোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ। সর্বশেষ শ্রেণীতে বাস করতেন শ্রমিকগণ।

    কিন্তু দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে এ অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। এ সময় ইউরোপের শহরগুলোয় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। শহরগুলো আয়তনেও বড় হতে থাকে। প্যারিসের আয়তন সে সময় প্রায় ১০গুণ বৃদ্ধি পায়। লন্ডনের আয়তন দ্বিগুণ হয়ে যায়। মানুষের আনাগোনা বৃদ্ধির পাশাপাশি শহরগুলোতে কাজের পরিধিও বাড়তে থাকে। সে সময় থেকে একজন মানুষ বিভিন্ন দিক সামলানোর চেয়ে বরং একজন মানুষের একটি পেশাতেই দক্ষতার উপর জোর দেয়া হতে থাকে। এতে উৎপত্তি হয় নানা পেশার। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য কিছু পেশা ছিল- ব্যবসায়ী, বিক্রয়কর্মী, ছুতার, কসাই, স্থাপত্যবিদ, চিত্রকর ইত্যাদি। এছাড়া সে সময় থেকেই মানুষ জমিদারদের প্রভাব থেকে বের হয়ে এসে নিজের জমিতে ফসল ফলানোর কাজ করতে শুরু করে।

    ২. ভোট ব্যবস্থা: 

    ভোটাধিকার রাজতন্ত্রের মধ্যযুগের জন্য বড় বেমানান মনে হলেও কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু ভোট দানের মাধ্যমে প্রতিনিধি পছন্দ করার এই প্রথাটি চালু ছিল। অবশ্য দেশের সরকার বা জাতীয় পর্যায়ের কোনো কাজের জন্য এ ভোটের বিষয়টি চালু ছিল না। ভোটের ব্যাপারটি চালু ছিল আঞ্চলিক বিভিন্ন নির্বাচনের ক্ষেত্রে। অবশ্য ভোট তখন বেশিরভাগই উচ্চ শ্রেণীর নাগরিক, ধনী ও পুরুষদের জন্য প্রচলিত একটি প্রথা ছিল। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বাৎসরিক হিসেবে “কাউন্সেলর” নির্বাচন অনুষ্ঠিত হত, আর তাতে বেশিরভাগ পুরুষ নাগরিকদেরই ভোটাধিকার ছিল। উত্তর ইতালির নির্বাচন ও সরকার পদ্ধতি ছিল আরো জটিল। সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কয়েকটি স্তর ছিল। এবং সেসব স্তরের জন্যও ছিল বিভিন্ন ধাপের ভোটদান পদ্ধতি। নারীরা এতে সাধারণত ভোটার বা প্রতিনিধি- কোনোটিতেই অংশ নিতে পারতেন না। অবশ্য উচ্চ বংশীয় নারীদের ক্ষেত্রে এ নিয়মের শিথিলতা ছিল।

    ৩. ডাইনি নিধন: 

    সমগ্র ইউরোপ জুড়ে ব্যাপক হারে ডাইনি নিধনের যে কার্যক্রমটি শুরু হয়, সেটি মধ্যযুগের কোনো ঘটনা নয়। বরং প্রারম্ভিক আধুনিক যুগের ঘটনা। ডাইনি নিধনের এই কার্যক্রমটি চলে পুরো সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দী জুড়ে। মধ্যযুগে ডাইনি নিধনের খুবই সামান্য কিছু প্রমাণ মেলে, জার্মান অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে, সেটিও মধ্যযুগের একেবারে শেষভাগে। মধ্যযুগে বরং গির্জার পাদ্রীরা বলতেন যে, ঈশ্বর মানুষকে নানা অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী করলেও তিনি মানুষকে ভালোবাসেন বলে কোনো রকম খারাপ জাদু তিনি সংগঠিত হতে দেন না। তাই এসব জাদুতে বিশ্বাস স্থাপন করা সম্পূর্ণ বোকামি ও ভাঁড়ামো।

    ৪. মধ্যযুগীয় শিক্ষা: 

    রেনেসাঁ বলতেই মধ্যযুগের শেষভাগে গোড়াপত্তন হওয়া ক্লাসিক্যাল সাহিত্য, চিত্রকর্ম, স্থাপত্যবিদ্যা, চিন্তা ও দর্শনের নতুন ধারা। রেনেসাঁর সময়ের সে সব শিক্ষাই মধ্যযুগ থেকে মানবসভ্যতার আজকের এই আধুনিক যুগের মধ্যে সেতু রচনা করেছে। কিন্তু মধ্যযুগেও মানুষ রেনেসাঁর অভিজ্ঞতা লাভ করে। সে সময় ক্লাসিক্যাল সাহিত্য ও শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে রেনেসাঁর সূচনা ঘটে। ত্রয়োদশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে ঘটে যাওয়া মধ্যযুগের এই রেনেসাঁর মূল উৎস ছিল এরিস্টটলের শিক্ষা এবং তৎকালীন সময়ের আরব দার্শনিক, কবি ও অনুবাদকদের ছড়িয়ে দেয়া জ্ঞান। এছাড়াও সে সময় পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের সূচনা ঘটে। দার্শনিক রজার বেকনের হাত ধরে পৃথিবী দেখা পায় এক নতুন দিগন্তের। যন্ত্রবিদ্যা, জ্যোতিবিজ্ঞান, রসায়ন প্রভৃতি বিষয়ে তার ছিল অসাধারন দক্ষতা। তার লেখা বই এর নাম “ওপাস ম্যাজাস”।

    ৫. ভ্রমনে অনীহা: 

    মধ্যযুগের গ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত নাগরিকদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার ক্ষেত্রে অনীহা কাজ করত। কেননা, সে সময় দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক সময়ের প্রয়োজন হতো এবং প্রায়ই দেখা যেত তাদের ভূমি ও সম্পত্তি হাতছাড়া বা দখল হয়ে যেত। এ ব্যাপারটি অবশ্য মধ্যযুগ ছাড়িয়ে আরো অনেক পরেও চলতে থাকে। মধ্যযুগের মানুষের ক্ষেত্রে আরো যে বিষয়টি লক্ষ্যণীয়, ভ্রমণে মানুষের তেমন আগ্রহ ছিলো না বললেই চলে। অবশ্য অভিযাত্রীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন ছিল। মধ্যযুগের অভিযাত্রীগণ নতুন দেশ ও ভূমি আবিষ্কারের নেশায় সমুদ্রপথে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতেন। বছরের পর বছর তারা নিজেদের ভূমিতে ফিরে আসতেন না। এমনকি অনেকেই ছিলেন, যারা তাদের প্রথম ভ্রমণে বের হয়ে আর কখনো নিজেদের ভূমিতে ফিরে আসেন নি। মধ্যযুগের বণিকগণ অবশ্য দীর্ঘপথ পাড়ি দিতেন। ইউরোপ সিল্কের জন্য চীন, মশলার জন্য এশিয়া- যা মধ্যপ্রাচ্য ঘুরে ইউরোপে আসত এবং পশমী কাপড়ের জন্য বাল্টিক অঞ্চল বিখ্যাত ছিল। আর এসব অঞ্চল থেকে উক্ত পণ্যসমূহ এনে বণিকরা ইউরোপের বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রয় করতেন।

    ৬. গির্জার প্রভাব: 

    মধ্যযুগে ইউরোপ জুড়ে গির্জার প্রভাব বিদ্যমান ছিল। গির্জাই বলতে গেলে তখনকার সংস্কৃতি নির্ধারণ করে দিত এবং পরিবর্তন করত। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি প্রচলিত ছিল যা গির্জা বা খ্রিষ্ট ধর্মের চেয়েও বহু পুরানো। অবশ্য এসব সংস্কৃতি ও রীতিনীতি পালনে গির্জার অনুমতি ছিল বলেই তখন সেগুলো পালন করা সম্ভব হত। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত ২টি প্রথা। একটি ছিল, গ্রীষ্মের শুরুতে ইউরোপবাসীগণ ব্যারেলের মাঝে আগুন জ্বেলে তা পাহাড় থেকে এমনভাবে ফেলে দিত যেন তা গড়িয়ে পাহাড়ের পাদদেশে নেমে আসে। এছাড়া আরো একটি প্রথা ছিল, নব দম্পতির মাথার উপর দিয়ে তারা গম ছুঁড়ে মারত, যা তারা দান বা চ্যারিটি এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করত। এসব সংস্কৃতির মধ্যে অবশ্য অনেক ছিল কুসংস্কার ছিল। যেমন বিভিন্ন রোগ সারানো, দূর্যোগ প্রতিরোধ, ফসল ফলানো ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন দেখা যেত। তবু এই সব কিছু নিয়েই তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির স্বরূপ দেখা যেত।

    ৭. নিজস্ব রীতিতে বিয়ে: 

    মধ্যযুগে উচ্চ বংশীয়দের বিয়ে গির্জায় সম্পন্ন হলেও, অন্যান্যদের জন্য এ নিয়ম খুব একটা প্রযোজ্য ছিল না। যদিও গির্জা থেকে বলা হত এটি পালনের জন্য এবং বিয়েকে একটি “পবিত্র বন্ধন” হিসেবে ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে জোরেশোরে ঘোষণা করা হয়, কিন্তু মধ্যযুগীয় মানুষের মাঝে গির্জায় গিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করার প্রথা পালনে অনীহাই দেখা যেত। সে সময় তারা ঘোষণা করত যে, একে অপরের সঙ্গে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ইচ্ছুক। আর সেক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সম্মতিই ছিল এক মাত্র শর্ত। বিয়ের ক্ষেত্রে তারা নিজস্ব রীতি পালন করত এবং সাক্ষী রাখার প্রচলন ছিল।

    ৮. দার্শনিকরা লিখতেন না: 

    শুধু জ্ঞান থাকলেই হবে না তা লিপিবদ্ধ করতে লিখে রাখা জরুরি। তবে মধ্যযুগে বিষয়টি তেমন ছিল না। তখন দার্শনিক ও চিন্তাবিদগণ লিখতে পারার চাইতে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন ও তার প্রচারকেই শিক্ষিত হওয়ার পূর্বশর্ত বলে গণ্য করতেন। যদিও তাদের বেশির ভাগই লিখতে জানতেন, তবুও তারা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান ‘নিজেরা’ লিপিবদ্ধ করতেন না। লেখার কাজকে শিক্ষানবিসদের একটি শ্রম হিসেবেই গণ্য করা হত। এমনকি অনেকে হাতে লেখাকে অপমানজনক বলে মনে করতেন। সেক্ষেত্রে তারা নিজস্ব চিন্তা-ভাবনাগুলোকে মুখে বলে প্রকাশ করতেন, এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষানবিসগণ লিপিবদ্ধ করতেন।

    ৯. ধর্মীয় বিশ্বাস: 

    মধ্যযুগের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তখনকার মানুষের ধর্ম ও ধর্মীয় রীতি। কেননা ধর্মের প্রভাব তখনকার মানুষের জীবনাচারণকে প্রভাবিত করত। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রও ধর্মের প্রভাবে চালিত হত। মধ্যযুগে আব্রাহামিক ধর্মগুলোর ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটে। ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিরাট অংশজুড়ে খ্রিষ্ট, ইসলাম ও ইহুদি ধর্মের প্রসার ঘটে সে যুগে। এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রগুলোর মাঝে বন্ধুত্ব এবং শত্রুতা গড়ে উঠত। এমনকি এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রে যুদ্ধও লাগত। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর মাঝে বন্ধন এবং অপরদিকে ক্রুসেডের যুদ্ধ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তখনকার সকল মানুষই ধর্মভীরু ছিলেন। তাদের মাঝে চিন্তা ভাবনায় “সন্দেহবাদ” ও দেখা যায়। তখনকার বিভিন্ন দার্শনিক সে সময়ও নাস্তিকতা চর্চা করতেন।

    ১০. পৃথিবী গোলাকার: 

    মধ্যযুগেই মানুষ বুঝতে পারে, পৃথিবী গোলাকার। সে সময় বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিকভাবে এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন মানুষের “প্রতিপাদ স্থান” সম্পর্কে সম্যক ধারণা ছিল। কোনো স্থানের ঠিক বিপরীত স্থানকে ঐ স্থানের প্রতিপাদস্থান বলে। অর্থাৎ, কোন নির্দিষ্ট স্থান হতে পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে যদি কোন সরলরেখা টানা হয় তা পৃথিবীর অপর যে প্রান্তে ভেদ করবে তাকে ১ম স্থানের প্রতিপাদস্থান বলা হবে। এই “প্রতিপাদস্থানের” ধারণার মাধ্যমে পৃথিবী যে গোলাকার- সে ধারণা মানুষের মনে প্রতিষ্ঠা পায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  14. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    ‘রক্ত’ রঙের রহস্য কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    মানুষের রক্তের রং লাল, সব সময়ই কী তাই? শরীরের কোনো স্থান যখন কেটে যায় তখন লাল বর্ণের রক্তই দেখা যায়। ক্ষতস্থানে টিস্যু পেপার রাখলে রক্ত এক সময় বাতাসে শুকিয়ে যায়। তখন তা গাঢ় বাদামি বর্ণ ধারণ করে।  কিন্তু এমনটা কেন হয়? আবার চামড়ার ওপর দিয়ে হাতের যে শিরা-উপশিরা দেখা যায়, তা দেখলে মনে হয় শরীরবিস্তারিত পড়ুন

    ফাইল ছবি

    মানুষের রক্তের রং লাল, সব সময়ই কী তাই? শরীরের কোনো স্থান যখন কেটে যায় তখন লাল বর্ণের রক্তই দেখা যায়। ক্ষতস্থানে টিস্যু পেপার রাখলে রক্ত এক সময় বাতাসে শুকিয়ে যায়। তখন তা গাঢ় বাদামি বর্ণ ধারণ করে। 

    কিন্তু এমনটা কেন হয়? আবার চামড়ার ওপর দিয়ে হাতের যে শিরা-উপশিরা দেখা যায়, তা দেখলে মনে হয় শরীরে যেন নীল রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। রক্তের এমন রঙের পেছনের কারণটা কী? বিষয়টি বুঝতে প্রথমে জানতে হবে কীভাবে আমরা রং দেখি! কোনো বস্তুর ওপর আলো পড়লে বস্তুটির দ্বারা আলোর কিছু অংশ শোষিত হয়। আর কিছু অংশ প্রতিফলিত হয়। এই প্রতিফলিত আলো চোখের রেটিনার ‘কোণ’ কোষে পড়লে সেখানে উপস্থিত রঞ্জক পদার্থ ওই আলো শোষণ করে। এরপর বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংশ্লিষ্ট রঙের দেখার অনুভূতি হয়।

    মানুষসহ প্রায় সব মেরুদন্ডী প্রাণীর রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় আছে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ। এটি উজ্জ্বল লাল বর্ণের আলোকে প্রতিফলিত করে। হিমোগ্লোবিনের মূল কাজ অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস হৃৎপিণ্ড থেকে কোষে এবং কোষ থেকে হৃৎপিন্ডে বহন করা। হিমোগ্লোবিন একটি জটিল যৌগ। হিমোগ্লোবিনে চার অণু প্রস্থেটিক গ্রুপ ‘হিম’, এক অণু গ্লোবিন নামক সরল প্রোটিন এবং লৌহ অণু ফেরাস আয়ন অবস্থায় থাকে। এক একটি হিমে কার্বন পরমাণুগুলো পরিবর্তনশীল একক ও  দ্বিবন্ধনে যুক্ত হয়। এমন পরিবর্তনশীল কার্বন-কার্বন বন্ধনের জন্য হিম দৃশ্যমান আলোর কিছু অংশ শোষণ করে। লৌহ বা আয়রন রক্তে আলোর এই শোষণকে প্রভাবিত করে এবং উজ্জ্বল লাল তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলিত করে। ফলে এই আলো চোখে পৌঁছালে মস্তিষ্কে লাল রং দেখার অনুভূতি হয়। অক্সিজেনসমৃদ্ধ হিমোগ্লোবিনের রং লাল এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ হিমোগ্লোবিনের রং কালচে লাল। এই হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনসমৃদ্ধ হিমোগ্লোবিনের চেয়ে অধিক লাল আলো শোষণ করে। তাই সেখান থেকে প্রতিফলিত হয়ে চোখে আসা আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য লাল আলোর মত থাকে না বরং কিছুটা কালচে হয়।

    শিরার মধ্য দিয়ে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, তার রং বাইরে থেকে নীল দেখায়। একসময় রাজপরিবার বা অভিজাত পরিবারের মানুষদের বলা হতো নীল রক্তের মানুষ। এর পেছনের কারণটি হচ্ছে, এসব অভিজাত পরিবারের সদস্যরা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বা বিলাসবহুল প্রাসাদে বাস করতেন। কেউ কেউ হয়তো সূর্যের মুখও দেখতেন না। তাতে তাদের ত্বক থাকতো অনেক বেশি ফর্সা। অনেকটা ইট বা মাটিচাপা ঘাসের মতো। এর ফলে তাদের শিরার প্রবাহিত রক্ত ত্বকের বাইরে থেকেই বেশ বোঝা যেত। সে যাই হোক, শিরার রক্ত নীল দেখা যাওয়ার কারণটি হচ্ছে দৃশ্যমান আলো শিরা এবং শিরা ঘিরে থাকা ত্বকীয় আবরণ উভয়ের দ্বারাই প্রভাবিত হয়। লাল আলো নীল আলোর তুলনায় ত্বকীয় কলাগুছ বা টিস্যুর বেশি গভীরে প্রবেশ করতে পারে। অপরদিকে শিরায় কার্বন-ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয় যা বেশি লাল আলো শোষণ করে। নীল আলো অধিক গভীরে প্রবেশ না করে অশোষিত অবস্থায় প্রতিফলিত হয় এবং শিরাতে নীল রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে বলে মনে হয়। আবার টিস্যু পেপারে রক্ত যখন শুকিয়ে যায় তখন মূলত রক্তের হিমোগ্লোবিনের আয়রন অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ফেরাস অবস্থা থেকে জারিত হয়ে ফেরিক অবস্থায় চলে যায়। হিমোগ্লোবিনের এই রাসায়নিক গঠনের পরিবর্তনের জন্য তার আলো শোষণ এবং প্রতিফলনের মাত্রাও বদলে যায়। ফলে রক্ত তখন গাঢ় বাদামি দেখায়।

    কিছু অমেরুদন্ডী প্রাণীর রক্তে হিমোগ্লোবিন ছাড়াও থাকে বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থ। সেজন্য তাদের রক্তের রংও ভিন্ন হয়। যেমন মাকড়সা, স্কুইড, কিছু মলাস্কাদের (শামুক,ঝিনুক) রক্তে রঞ্জক হিসেবে থাকে হিমোসায়ানিন। এতে আয়রনের পরিবর্তে তামা থাকে। তাই এদের রক্তের স্বাভাবিক বর্ণ নীল হয়। হিমোসায়ানিনের রাসায়নিক গঠনের ভিন্নতার কারণে এটা নীল আলো প্রতিফলিত করে। কেঁচো, কৃমি প্রভৃতি প্রাণীর রক্তে রয়েছে ক্লোরোকুওরিন নামক রঞ্জক পদার্থ । সেজন্য এদের রক্তের রং সবুজ। কিছু সামুদ্রিক প্রাণীতে হিমোরিথ্রিন নামক রঞ্জকের জন্য তাদের রক্তের রং বেগুনি। অর্থাৎ রক্তের রং শুধু লালই নয়, বিভিন্ন রঞ্জকের উপস্থিতি, তাদের রাসায়নিক গঠন, আলোর শোষণ ও প্রতিফলনের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রক্ত বিভিন্ন রঙের হতে পারে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  15. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    চুম্বন’ আদর ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ কতটা সত্যি ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    ফাইল ছবি চুম্বন মানেই যে শুধু তা কোনো প্রেমিক যুগলের মধ্যে ঘটবে তা নয়। চুমু মানে আদরের স্পর্শ ও ভালোবাসার এক বহিঃপ্রকাশ। মা-বাবা ছেলেমেয়েকে চুমু দেয়, ছেলেমেয়ে বাবা-মাকে। বড়রা ছোটদের চুমু দেয়, ছোটরা বড়দের। ভালবাসার এক নরম উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া থাকে সেই চুমুতে। চুমুর রকমফেরও রয়েছে হাজার গন্ডা। চুমুকে নানবিস্তারিত পড়ুন

    ফাইল ছবি

    ফাইল ছবি

    চুম্বন মানেই যে শুধু তা কোনো প্রেমিক যুগলের মধ্যে ঘটবে তা নয়। চুমু মানে আদরের স্পর্শ ও ভালোবাসার এক বহিঃপ্রকাশ।

    মা-বাবা ছেলেমেয়েকে চুমু দেয়, ছেলেমেয়ে বাবা-মাকে। বড়রা ছোটদের চুমু দেয়, ছোটরা বড়দের। ভালবাসার এক নরম উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া থাকে সেই চুমুতে।

    চুমুর রকমফেরও রয়েছে হাজার গন্ডা। চুমুকে নানা প্রথা ও সম্মান জানানোর জন্যও ব্যবহার করা হয়। খ্রিস্টানরা পোপের হাঁটুতে চুমু খায়, বিশপেরা আংটিতে চুমু খান, ফাদাররা চুমু খান পবিত্র ক্রসে। জোয়ান অফ আর্ক চুমু খেতেন তার তলোয়ারে।

    বিখ্যাত লেখক লানা সিট্রন তার এ কম্পেনডিয়াম অব কিসেস বইতে চুমুর বিশাল ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই কর্মটি শুধু ভালোবাসা পেতে বা দিতে নয়, বরং আজও অবধি বহু কঠিন লক্ষ্য হাসিলেরও এক মোক্ষম অস্ত্র।’ জুডাস তো চুমু খেয়েই ধরিয়ে দিয়েছিলেন যিশুকে। ইহুদিরা তাদের ধর্মগ্রন্থ পাঠের শেষে টোরাকে চুমু খান। নামাজ পড়ার পর মসজিদের মেঝেতে চুমু খাওয়া মুসলমানদের একটি প্রচলিত রেওয়াজ। আর সম্মান জানাতে হাতে চুমু খাওয়া পশ্চিম দুনিয়ার এক সুপ্রাচীন রীতি। বর্তমানে চুমুকে কুশল বিনিময় ও অভিবাদনের একটি অংশ হিসেবেও মনে করা হয়।

    আদি উৎপত্তি:

    সংস্কৃত ‘চুম্বন’ শব্দটি থেকে ‘চুমু’ শব্দের উদ্ভব হয়েছে। আবেগের বশবর্তী হয়ে মানুষ যখন প্রিয়জনকে চুম্বন করে তখন সেই প্রেরণাটি আসে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি থেকে। কিন্তু অধ্যাপক ব্রায়ান্ট এর মতে, এর সঙ্গেৃ প্রবৃত্তির সংযোগ নেই বরং এটি এমন একটি ক্রিয়া যেটি আমরা শিখি আমাদের পরিবেশ থেকে অর্থাৎ এটি একটি ‘লার্নড বিহেভিয়ার’। চুম্বনের উৎপত্তি ও বিস্তার নিয়ে ২০ বছরব্যাপী গবেষণায় তিনি নিশ্চিত হন যে, চুম্বন সার্বজনীন কোনো সংস্কৃতি নয়। তার মতে, ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চুম্বনের চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপে। মার্কিন, অস্ট্রেলিয়ান, এস্কিমো অথবা আফ্রিকানদের মাঝে এর চর্চা ছিল না।

    অধ্যাপক ব্রায়ান্ট দাবি করেন, চুম্বনের উৎপত্তি আসলে ভারতে এবং এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘kiss’ শব্দটিই আসলে আরেকটি প্রমাণ, কারণ তিনি ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণ পেয়েছেন যে এই শব্দটির উৎসও ভারত। খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ সালের দিকে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট পাঞ্জাব জয় করার পর এটি বিস্তার লাভ শুরু করে। আলেকজান্ডারের সেনাপতিরা বাড়ি ফিরে যাবার সময় এই চর্চাটিকেও সঙ্গে করে নিয়ে যায়। শুনতে অবাক লাগলেও তথ্য প্রমাণও সেই কথাই বলে। ব্রায়ান্ট তার গবেষণায় লক্ষ্য করেন, হিন্দু ধর্মের মূল শাস্ত্র, বেদ এর কিছু স্থানে উল্লেখ আছে মুখ দিয়ে ‘স্পর্শ’ করার কথা। কামসুত্রের বেশ কিছু স্থানেও দেখা যায় চুম্বন এবং এর কৌশলের উল্লেখ। এই তথ্যগুলোকে ব্রায়ান্ট বিবেচনা করেন সূত্র হিসেবে যেগুলো প্রমাণ করে যে চুম্বনের উৎপত্তি ভারতেই হয়। ব্রায়ান্ট তার গবেষণায় ধর্মীয় এবং প্রথাগত ক্ষেত্রে চুম্বনের ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করেন। যেমন ইহুদিধর্মে ধর্মগ্রন্থ তাওরাত চুম্বনের প্রথা এবং পাশ্চাত্যে মিসেলটো লতার নিচে চুম্বনের চর্চা ইত্যাদি।

    সুমেরীয় লিপি ও হায়রোগ্লিফের প্রেমের ক‘বিতায়ও উঠে এসেছে চুম্বনের বর্ণনা। চুম্বনের ইতিহাসের সর্বপ্রাচীন আরেকটি মত পাওয়া যায়। আদিম মানুষ ভাষার ব্যবহার জানত না। সভ্য মানুষের মতো তারা জানাতে পারত না নিজস্ব অনুভূতির কথা। তাই বলে তাদের মধ্যে প্রেম ভালোবাসার ঘাটতি ছিল না। বরং নির্বাক সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ছিল অন্যরকম। আদিম যুগে জঙ্গল থেকে শিকার করা বা সংগ্রহ করে আনা খাদ্য সকলে মিলে ভাগ করে খেত গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষ। তখন আগুনের ব্যবহারও জানা ছিল না তাদের। তারা জানত না কিভাবে শক্ত খাবারকে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। ছোট্ট দুধের শিশুকে শক্ত সেই খাবার খাওয়াতে সমস্যায় পড়তেন মা। অপাচ্য খাবার খাইয়ে তো আর সন্তানকে বিপদে ফেলতে পারেন না তিনি। আবার মায়ের স্তন্যপানের বাইরে অন্য খাবার না খেলে অসুস্থ হয়ে পড়বে শিশু। কি উপায়ে কাঁচা ফল, সবজি বা মাংস শিশুকে খাওয়ানো যায় তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যেতেন মায়েরা। একসময় তারা প্রকৃতি থেকে পশু পাখিদের দেখে একটি পন্থা অবলম্বন করা শুরু করলেন। সংগৃহীত খাবার প্রথমে মুখে নিয়ে ভালো করে দাঁত দিয়ে চিবিয়ে নরম করে মায়েরা সেই চিবানো নরম খাবার ঠোঁট দিয়ে শিশুর মুখের মধ্যে প্রবেশ করানো শুরু করে। খাবার বিনিময়ের ছলে এভাবেই মা ও সন্তানের অধরে অধরে স্পর্শের হাত ধরে জন্ম নেয় প্রেমময় চুম্বন।

    খ্রিস্টের জন্মের ২ হাজার বছর পূর্বের ইতিহাস অবশ্য জানাচ্ছে অন্য এক চুম্বন তত্ত্বের কথা। সে সময় পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে প্রচলিত ছিল এক অদ্ভুত ধর্মীয় প্রথা। দু’জন মানুষের ঠোঁটসহ মুখাবয়ব নিবিড়ভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে নাকি মানব শরীরের আত্মার একত্রীকরণের পথ সহজ হয়ে ওঠে। এই বিশ্বাসে আত্মায় আত্মায় সঙ্গম ঘটাতে ২ জন মানুষ একে অপরকে চুম্বন করতেন। সেই রীতিই কালক্রমে ভারত, রোম, রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জনগোষ্ঠীর জীবনে উৎসবে পরিণত হয়। প্রাচীন রোমানরা যেকোনো চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করত চুমুর মাধ্যমে। রোমানরা চুমুকে নানান ভাগে ভাগ করে। তারা চুমুরই তিন রকম নাম দেন- হাতে বা গালে চুমু হলো অসকুলাম, ঠোঁট বন্ধ রেখে ঠোঁটে চুমু হলো বেসিয়াম আর ফরাসী চুম্বনের ধরন হলো সুভিয়াম। বটতলা চুম্বন পদ্ধতি বা দেবতার পদচুম্বন কিন্তু অনেক পরে এসেছে। মেয়েদের চুম্বন তিন প্রকার। ‘নির্মিতক, স্ফুরিতক ও ঘট্টিতক। এই ধরনের চুম্বন মেয়েরাই প্রয়োগ করে থাকে। ১৯২০ সালে জাপানে প্রকাশ্যে চুম্বনের রীতি এতটাই অপরিচিত এবং অস্বাভাবিক মনে করা হত, যে ভাস্কর রডিন এর ভাস্কর্য ‘দ্য কিস’ প্রদর্শনী করার সময় একে বাঁশের চাটাই দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং শুধুমাত্র বিশেষ অনুমোদন পাবার পরই কাউকে এটি দেখতে দেয়া হত।

    বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উপকারিতা:

    ঊনিশ শতকে চুম্বন নিয়ে গবেষণা শুরু হয়, যাকে বলে ‘ফিলেম্যাটোলজি’। এটি চুমুবিদ্যার বৈজ্ঞানিক নাম। এই বিদ্যায় বিজ্ঞানীদের নানা গবেষণায় বেরিয়ে আসে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফিলেম্যাটোলজিস্টরা সায়েন্স ওয়ার্ল্ড পত্রিকায় জানিয়েছেন, মাত্র এক মিনিটের চুম্বনে ২৬ ক্যালরি শক্তি খরচ হয়। চুমুতে যাদের ভীতি বা অনাগ্রহ তারা ফিলেমাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত। ১৯৯৭ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, চুম্বনের সময় মানব মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। ফলে ভালোলাগার অনুভূতিতে ভরে ওঠে শরীর মনে। ডা. আর্থার সাজবো জানিয়েছেন, যারা নিয়মিত চুমু খেয়ে দিন শুরু করেন তারা ড্রাইভিং করেন দারুণ ভালো। অন্যদিকে, চুম্বনের ফলে দু’জন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যায় জীবাণু। এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা আরো কিছু তথ্য জানিয়েছেন, মানুষের মুখের লালায় থাকে দশ মিলিয়ন থেকে এক বিলিয়ন জীবাণুগোষ্ঠী কিন্তু এ কথা শুনে চুমু খাওয়া থেকে বিরত থাকলে বিপদ আরো বাড়বে। কেননা স্বাভাবিক অবস্থায় এসব জীবাণু মুখের লালায় ঘোরাফেরা করে, ওতপেতে থাকে সুযোগের অপেক্ষায়, কি করে হানবে আক্রমণ, সৃষ্টি করবে সংক্রমণ। আর এ থেকে বাঁচতে চুমু খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

    প্রসঙ্গত, এই সিঙ্গল সেল অর্গানিজমরা আসে মূলত খাবার, বাতাস, ময়লা হাতের মাধ্যমে। তবে কোটি কোটি জীবাণুর কথা শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেননা চুমু খাওয়ার আগের মুহূর্তেই স্যালাইভাতে এমন কিছু কেমিক্যালস তৈরি হয় (অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল কেমিক্যালস) যা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে ফেলে শরীরের অনিষ্টকারী এসব ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়াকে। আরো এক ধরণের ভাইরাস রয়েছে সাইটোমেগালোভাইরাস, যা গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু গর্ভধারণের আগেই চুম্বনের মাধ্যমে একটু একটু করে তার শরীর যদি এই ভাইরাসে অভ্যস্ত হয়ে যায় তবে তার শরীরে গড়ে উঠবে এই ভাইরাস ঠেকানোর ব্যবস্থা। ভাইরাসটির প্রতি এই ইমিউনিটি তার সন্তানের মাঝেও সঞ্চারিত হতে পারে। চুম্বনকারীর মস্তিষ্কের চুম্বনের সময় বিশেষ কিছু নিউরো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িকভাবে ডিপ্রেশন, এ্যাংজাইটি, স্ট্রেস কাটাতে সাহায্য করে। চুম্বনের সময় নিঃসৃত এসব হরমোন প্রাকৃতিক এন্টিডিপ্রেসেন্ট এর কাজ করে। বাবা মায়ের ডিপ্রেশন কাটতে পারে সন্তানের চুম্বনে, সন্তানের উৎকণ্ঠা দূর হয় বাবা-মায়ের চুম্বনে। একইভাবে স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধুরা উপকার পেতে পারেন। চুম্বনের সময়ে মুখের ৩০টি পেশি ব্যবহৃত হয়। এতে আপনার এই পেশীগুলো সুস্থ ও সচল থাকে, গাল ও চোয়াল থাকে টানটান।

    অপকারিতা:

    চুম্বনের কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। এ থেকে শুধু যে ভালো জীবাণু ধ্বংসের এ্যান্টিডট তৈরি হয় তা না। আমস্টারডামে বিশ্বের প্রথম জীবাণু সংক্রান্ত গবেষণাগারের গবেষকদের নিয়ে একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন রেমেকো কর্ট। তারা ২১ জন যুগলের উপর সমীক্ষা চালান। চুম্বনের পদ্ধতি, কতক্ষণ গভীর চুম্বন করেন, এসব বিষয়ে তাদের জিজ্ঞেস করা হয়। এরপর ওই যুগলদের বিশেষ জীবাণু মিশ্রিত মিশ্রণ খাইয়ে একে অপরকে চুম্বন করানো হয়। চুম্বনের পর করা হয় পরীক্ষা। দেখা যায় লালায় জীবাণুর খোঁজ। যা পরীক্ষা করে দেখা যায়, ১০ সেকেন্ডের চুম্বনে প্রায় ৮ কোটি জীবাণু আদান-প্রদান হয়েছে। এর থেকেই এই সিদ্ধান্তে আসেন গবেষকরা। তারা আরো জানিয়েছেন, ‘যেসব যুগলরা গড়ে দিনে ৯ বার গভীর চুম্বন করেন, তাদের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ জীবাণু আদান-প্রদান হয়ে থাকে।’

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  16. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    অল্প কথায় পবিত্র কাবা শরীফ সর্ম্পকে কিছু তথ্য দিতে পারবে কেউ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    পবিত্র কাবা শরীফ (ফাইল ছবি) পবিত্র কাবা শরীফ পৃথিবীতে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ পাকের একটি নিদর্শন। এই কাবা শরীফ সম্পর্কে অনেক কিছুই আমরা জানি না।  পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা কাল থেকেই মহান আল্লাহ পাক কাবাকেই তার মনোনীত বান্দাদের মিলন মেলা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কাবা ইসলামের রাজধানী হিসেবে একটি পরিচিত নবিস্তারিত পড়ুন

    পবিত্র কাবা শরীফ (ফাইল ছবি)

    পবিত্র কাবা শরীফ (ফাইল ছবি)

    পবিত্র কাবা শরীফ পৃথিবীতে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ পাকের একটি নিদর্শন। এই কাবা শরীফ সম্পর্কে অনেক কিছুই আমরা জানি না। 

    পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা কাল থেকেই মহান আল্লাহ পাক কাবাকেই তার মনোনীত বান্দাদের মিলন মেলা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কাবা ইসলামের রাজধানী হিসেবে একটি পরিচিত নাম।

    পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এই কাবাকে কেন্দ্র করেই। হাদীসে এমন আছে যে কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকে সৃষ্টি হয় সাত মহাদেশের।

    মক্কা ও কাবার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর পদচিহ্ন স্মৃতি। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ পাক কাবা সম্পর্কে বলেছেন, স্মরণ করুন সেই সময়কে যখন আমি ইব্রাহিমকে বাইতুল্লার স্থান নির্ধারণ করে বলেছিলাম যে আমার সঙ্গে কাউকে শরীক কর না। একনিষ্ষ্ঠতাই অন্যতম উপকরণ ছিল কাবার।

    আল্লাহ বলেন, স্মরণ কর যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। তারা দোয়া করেছিল হে আমাদের রব আপনি আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।

    পাঠকদের জন্য আজকের আলোচনায় থাকছে পবিত্র কাবা সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য। আমরা আজ কাবা শরীফের সূচনা থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত কিছু তথ্য জানবো।

    পবিত্র কাবা শরীফ (ফাইল ছবি)

    কাবা অনেক বার পুনর্গঠন হয়েছে। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবার হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিহাসবিদরা মনে করেন কাবা মোট ১২ বার পুনর্গঠিত হয়েছে। সর্বশেষ কাবায় পুনর্গঠন এর কাজ হয় ১৯৯৬ সালে। কাবা নির্মাণে অংশগ্রহণ করেছেন হজরত আদম (আ.), হজরত ইব্রাহিমম (আ.) এবং সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

    গিলাফের রং পরিবর্তন: 
    কাবার গিলাফ বললেই কালো রংটা আমাদের সবার সামনে ভেসে ওঠে। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, কাবার নির্মাণ হওয়ার পর থেকে কী কাবার গিলাফের রং কালো? কাবাকে গিলাফ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এই প্রচলনই বা আসলো কবে?

    কাবাকে গিলাফ দিয়ে ঢেকে রাখার প্রচলন শুরু হয় মূলত জুরহাম গোত্রের শাসনামলে। পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইসাল্লাম একটি সাদা ইয়েমিনি কাপড় দিয়ে কাবাকে আবৃত করেছিলেন। এরপর বিভিন্ন খলিফারা কাবাকে ঢাকতে বিভিন্ন রং ব্যবহার করেছেন। কেউ ব্যবহার করছে লাল রংয়ের গিলাফ আবার কেউ ব্যবহার করেছেন সাদা রংয়ের গিলাফ। তবে আজকে যে আমরা কালো গিলাফ দেখতে পাই তার প্রচলন শুরু হয়েছে আব্বাসি শাসনামলে।

    কাবা মূলত ডি আকৃতির, আধা গোলাকার ছিল। যা হজরত ইব্রাহিম (আ.) নির্মাণ করছিলেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) -এর পরে ইসলামের আগে কুরাইশরা কাবার পুনঃর্নির্মাণ করেন। তখন তাদের টাকার অভাবের কারণে পুরো কাঠামো পুনর্গঠন করতে পারেনি। কাবা বর্তমানে যেমনটা আছে তাকে হাকিম বলা হয়। একটি ছোট প্রাচীর দ্বারা চিহ্নিত করা আছে। কাবার দরজা কয়টি এটা নিয়েও আমাদের জানা উচিত। মূল কাবার দুইটি দরজা ছিল। যার একটি দিয়ে প্রবেশ করা হতো আর একটি বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো এবং ছোট্ট একটি জানালাও ছিল। তবে বর্তমানে কাবার মূল দরজা একটি। কিন্তু ভেতর দিয়ে কাবার ছাদে ওঠার জন্য একটি দরজা আছে।

    কাবা ঘরের ভেতরে কী আছে এই নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন জাগে। কাবার অন্তরে তিনটি পিলার কাবার ছাদকে ধরে রেখেছে। দুই পিলারের মাঝে একটি টেবিলে সুগন্ধি রাখা আছে। দেওয়ালের উপরাংশে একটি সবুজ কাপড় দিয়ে আবৃত করে রেখেছে। কাপড়টিতে কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে ক্যালিগ্রাফি খচিত।

    হাজরে আল আসওয়াদ পাথরটি এখন একটি ফ্রেমের মাঝে রাখা। এমনকি এখনই পাথরটি বেশ কয়েকটি টুকরো। অবশ্য এক সময় এটি একটি পাথরই ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পাথর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। তবে এই পাথরগুলোকে ফ্রেমের ভেতর রাখার কাজটি করেছেন আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের। আল সিবিবি পরিবার সর্বদা কাবার রক্ষক ছিলেন। ইসলাম আসার পূর্ব থেকেই এই পরিবারটি রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। মূলত তারা পনেরো শতাব্দির রক্ষক এবং এই পরিবারের লোকেরাই উত্তরাধিকারসূত্রে কাবার রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে থাকেন।

    বছরে দুইবার কাবা পরিষ্কার করা হয়। আল সিবিবি পরিবার সাওয়ান ও দুল্কায়দা জুড়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একটি বিশেষ পরিষ্কার মিশ্রণ জমজমের পানি থেকে প্রস্তুত করা হয় এবং ব্যয়বহুল তেল এতে ব্যবহার করা হয়। এই পরিষ্কার করার অনুষ্ঠানে গভর্নর কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানান। কাবার দরজা সকলের জন্য উন্মুক্ত। প্রথম দিকে থেকে কাবার ভেতরে ঢুকতে পারত এবং ভেতরে এবাদত করতে পারত। কেননা তখন কাবার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। দিন দিন যেহেতু কাবার তাওয়াফ কারির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই কাবার ভেতরে এখন আর সবাই প্রবেশ করতে পারে না।

    কাবার দরজা এখন বিশেষ অতিথিদের জন্য মাঝে মাঝে খোলা হয়। কাবার তাওয়াফ কখনো থামে না। কাবার বিষয়ে সব থেকে বেশি আশ্চর্যের বিষয় হলো কাবার তাওয়াফ কখনো বন্ধ হয় না। ইতিহাস ঘাঁটলে এমন ঘটনা পাওয়া যায় যে বন্যার সময় মানুষ সাঁতার কেটে কেটে তোয়াব করেছে তবুও কাবা কখনো বন্ধ হয়নি। আর ভবিষ্যতেও হবে না বলেই আশা করি। কারণ আল্লাহ তায়ালার এক নিদর্শন হলো পবিত্র কাবা শরীফ, যেখানে যাওয়ার জন্য প্রতিটি মুসলিম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  17. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    সামান্য কথায় পৃথিবী সম্পর্কিত কিছু তথ্য ???

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    পৃথিবী এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র মহাজাগতিক স্থান যেখানে প্রাণের অস্তিত্বের কথা বিদিত। আর তাই মানুষসহ কোটি কোটি প্রজাতির আবাসস্থল। পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী তৃতীয়, সর্বাপেক্ষা অধিক ঘনত্বযুক্ত এবং সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ। সূর্য হতে এটির দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কি. মি। এটিবিস্তারিত পড়ুন

    পৃথিবী এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র মহাজাগতিক স্থান যেখানে প্রাণের অস্তিত্বের কথা বিদিত। আর তাই মানুষসহ কোটি কোটি প্রজাতির আবাসস্থল।

    পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী তৃতীয়, সর্বাপেক্ষা অধিক ঘনত্বযুক্ত এবং সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ। সূর্য হতে এটির দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কি. মি। এটি সৌরজগতের চারটি কঠিন গ্রহের অন্যতম।

    প্রিয় পাঠক পৃথিবী সম্পর্কে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে আমাদের আজকের এই আয়োজন। চলুন তাহলে জেনে নিই- পৃথিবী সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।

    > পৃথিবীকে বলা হয় Blue Planet বা Blue Marble। কারণ মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর আবহমণ্ডলের কারণে এই গ্রহকে নীল দেখায়।

    > পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর।

    > সূর্যের আলোকরশ্মি পৃথিবীতে পৌঁছুতে সময় লাগে ৮ মিনিট ৩ সেকেণ্ড।

    > পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট। চীন নেপাল সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বতের উচ্চতা ২৯০৩৫ ফুট।

    > পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্রের গড় দুরুত্ব ৬৩৭৮ কিলোমিটার।

    > মহাশূন্যে পৃথিবীর গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৬,৭০০ মাইল।

    > পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে পানি ভূপৃষ্ঠে তরলাকারে ধারণ করতে পারে।

    > পৃথিবীর মোট পানির শতকরা মাত্র ৩ ভাগ সুপেয় । বাকি ৯৭ ভাগ লবনাক্ত। সুপেয় জলের ৩ ভাগের ২ ভাগ হিমায়িত অবস্থায় আছে বরফাবৃত অঞ্চল গুলোতে। বাকি ১ ভাগ পাওয়া যায় হ্রদ, নদী ও ভূগর্ভে।

    > পৃথিবীর মোট পানির শতকরা ৭০ ভাগ ধারণ করে আছে পৃথিবীর বরফাবৃত অঞ্চলগুলো।

    > পৃথিবীর মোট স্থলভাগের শতকরা ৩০ ভাগ দখল করে আছে এশিয়া মহাদেশ। মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬০ ভাগ বাস করে এশিয়া মহাদেশেই।

    > পৃথিবীর মোট পৃষ্টদেশের শতকরা মাত্র ১১ ভাগ কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়।

    > পৃথিবীর যত গুহা আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় গুহাকক্ষ মালয়েশিয়ার Sarawak Chamber। এর দৈর্ঘ্য ৭০১ মিটার , প্রস্থ ৪০০ মিটার এবং উচ্চতা ৭০ মিটার।

    > ভেনিজুয়েলার Angel Falls পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতার জলপ্রপাত । আইফেল টাওয়ারের ৩ গুণ উচ্চতা সম্পন্ন এই জলপ্রপাতের উচ্চতা ৯৭৯ মিটার।

    > রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ (Baikal Lake) পৃথিবীর সবচেয়ে গভিরতম হ্রদ এর গভীরতা ৫৩১৫ ফুট।

    > পৃথিবীর শুষ্ক অঞ্চলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিম্নভূমি মৃতসাগর (Dead Sea) এটি সমুদ্র সমতল থেকে ৪০০ মিটার নীচে অবস্থিত।

    > প্রশান্ত মহসাগর আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মহাসাগর। পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে থাকা এই মহাসাগরের আয়তন ১৫,৫৫,৫৭,০০০ বর্গকিলোমিটার।

    > পৃথিবীর সবচেয়ে লবনাক্ত সাগর লোহিত সাগর (মৃত সাগর বাদে)।

    > এই যাবতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় লিবিয়ার El Azizia অঞ্চলে। ১৯২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এখানে তাপমাত্রা ছিল ৫৭.৮ °C বা ১৩৬.০ °F

    > পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯৮৩ সালের ২১ জুলাই। সেদিন এন্টার্ক্টিকার Vostok অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল -১২৯ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা -৮৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

    > পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম সাগর লোহিত সাগর। যেখানে তাপমাত্রা ৬৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে ৮৭.৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট। এটা নির্ভর করে কোথায় তা পরিমাপ করা হচ্ছে তার উপর।

    > পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম অঞ্চল ইথোপিয়ার Dallol। এই অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা ৩৪.৪°C বা ৯৩.৯ °F। দিনের বেলায় এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.১ °C বা ১০৬.০ °F।

    > পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং উষ্ণমরুভূমি সাহারা। আয়তনে প্রায় ৯০ লাখ বর্গকিলোমিটার।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  18. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

    রাতের আঁধারে মুখজুড়ে কিলবিল করে এরা। কারা এরা?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    এদের খাবারের সবটা জোগান দেয় মানুষের মুখের মৃত কোষ রাতের আঁধার নেমে আসলেই নিজের গোপন আবাস ছেড়ে বেরিয়ে আসে এরা। ধীর পায়ে কিলবিল করে মুখজুড়ে। খাওয়া-দাওয়া করে, এমনকি সুযোগ বুঝে সেরে নেয় সঙ্গম। ত্বকের মৃত কোষ এদের দারুণ পছন্দ। রাতভর উদরপূর্তি শেষে ভোরের আলো ফুটতেই এরা আবার ফিরে যায় নিজেদের গোপন ঘরে। প্রতবিস্তারিত পড়ুন

    এদের খাবারের সবটা জোগান দেয় মানুষের মুখের মৃত কোষ

    এদের খাবারের সবটা জোগান দেয় মানুষের মুখের মৃত কোষ


    রাতের আঁধার নেমে আসলেই নিজের গোপন আবাস ছেড়ে বেরিয়ে আসে এরা। ধীর পায়ে কিলবিল করে মুখজুড়ে। খাওয়া-দাওয়া করে, এমনকি সুযোগ বুঝে সেরে নেয় সঙ্গম। ত্বকের মৃত কোষ এদের দারুণ পছন্দ। রাতভর উদরপূর্তি শেষে ভোরের আলো ফুটতেই এরা আবার ফিরে যায় নিজেদের গোপন ঘরে।

    প্রতি রাতে মানুষের মুখের ওপর এভাবে রাজত্ব কায়েম করে ডেমোডেক্স ফলিকুলরাম নামের এক ধরনের মাইট। এদের জন্ম মানুষের মুখের লোমকূপে, মুখের মৃত কোষ খেয়েই বাড়বাড়ন্ত; প্রায় দুই সপ্তাহের জীবনকাল কেটে যায় মানুষের মুখমণ্ডলে বিচরণ করেই।

    সুদীর্ঘকাল ধরে মানুষের মুখকে পোষক বানিয়ে টিকে আছে এই প্রজাতির মাইট। তৈরি করেছে মানব মুখমণ্ডলের সঙ্গে এক গভীর আন্তসম্পর্ক। শুনতে ভয়ের মনে হলেও এদের আবাস হওয়ার বিনিময়ে বিশেষ কিছু সুবিধাও কিন্তু আদায় করে নিচ্ছে আমাদের মুখের ত্বক। এসব মাইট মৃত কোষভোজী হওয়ার কারণে পরিষ্কার থাকছে মানুষের মুখের লোমকূপ।

    ডেমোডেক্স ফলিকুলরাম ছাড়াও আরো বেশ কিছু মাইটের অস্তিত্ব দেখা যায় মানুষের শরীরে। তবে এগুলোর কোনোটির পুরো জীবনচক্র মানুষের দেহনির্ভর নয়। কেবল ডেমোডেক্স ফলিকুলরামের একমাত্র আবাসস্থল মানুষ। এরা আমাদের মুখের লোমকূপে জন্মায়, খাওয়া-দাওয়া করে; এমনকি সঙ্গমের জায়গা হিসেবে বেছে নেয় মুখের নরম ত্বক। এদের খাবারের সবটা জোগান দেয় মানুষের মুখের মৃত কোষ।

    মলিকুলার বায়োলজি অ্যান্ড ইভোলিউশনে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ডেমোডেক্স ফলিকুলরাম মানুষনির্ভরতা জোরদার করতে নিজেদের জিনগত বিবর্তনও ঘটিয়েছে। এতে বলা হয়, ‘আণুবীক্ষণিক মাইটগুলো একটি বাহ্যিক পরজীবী থেকে ক্রমশ মানবত্বকের অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্যে বিকশিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি হোস্টের (মানুষ) সঙ্গে পারস্পরিক সুবিধার সম্পর্ক তৈরি করেছে।’

    অন্যকথায় মাইটগুলো ধীরে ধীরে আমাদের দেহের অংশ হয়ে যাচ্ছে। গবেষকেরা বিভিন্ন অণুজীবের জিন বিন্যাস করে দেখেছেন ডেমোডেক্স ফলিকুলরামের মতো মানুষনির্ভরতা অন্য প্রজাতির মাইটের মধ্যে নেই। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বিশেষজ্ঞ আলেজান্দ্রা পেরোত্তি বলেন, ‘এই মাইটে অনুরূপ প্রজাতির চেয়ে জিনগত আলাদা বিন্যাস রয়েছে। এরা লোমকূপের ভেতর আশ্রিত জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  19. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    বাঙালির বংশ পদবীর ইতিহাস কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    অধিকাংশ ব্যক্তি নামের শেষে একটি পদবী যুক্ত হয়ে আছে। যেমন উপাধি, উপনাম কিংবা বংশসূচক নামকে সাধারণ ভাবে পদবী বলা হয়। বাঙালির বংশ পদবীর ইতিহাস খুব বেশি প্রাচীন নয়। মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার ফলে পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমান্তরালে বাঙালির পদবীর বিকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হয়।বিস্তারিত পড়ুন

    অধিকাংশ ব্যক্তি নামের শেষে একটি পদবী যুক্ত হয়ে আছে। যেমন উপাধি, উপনাম কিংবা বংশসূচক নামকে সাধারণ ভাবে পদবী বলা হয়।

    বাঙালির বংশ পদবীর ইতিহাস খুব বেশি প্রাচীন নয়। মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার ফলে পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমান্তরালে বাঙালির পদবীর বিকাশ ঘটেছে বলে মনে করা হয়।

    বাঙালির জমি- জমা বিষয় সংক্রান্ত কিছু পদবী যেমন- হালদার, মজুমদার, তালুকদার, পোদ্দার, সরদার, প্রামাণিক, হাজরা, হাজারী, মন্ডল, মোড়ল, মল্লিক, সরকার, বিশ্বাস ইত্যাদি বংশ পদবীর রয়েছে হিন্দু -মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের একান্ত রূপ।

    বাঙালি মুসলমানের শিক্ষক পেশার পদবী হলো-খন্দকার, আকন্দ, নিয়াজী ইত্যাদি।

    আর বাঙালি হিন্দুর শিক্ষক পদবী হচ্ছে দ্বিবেদী, ত্রিবেদী, চর্তুবেদী ইত্যাদি।

    এবার আপনাদের জানাবো বাঙালির কিছু বিখ্যাত বংশ পদবীর ইতিহাস।  যেমন-শিকদার, সৈয়দ, শেখ, মীর, মিঞা, মোল্লা, দাস, খন্দকার, আকন্দ, চৌধুরী, ভুইয়া, মজুমদার, তরফদার, তালুকদার, সরকার, মল্লিক, মন্ডল, পন্নী, ফকির, আনসারী, দত্ত ইত্যাদি।

    শিকদার: সুলতানি আমলে কয়েকটি মহাল নিয়ে গঠিত ছিল এক একটি শিক। আরবি শিক হলো একটি খন্ড এলাকা বা বিভাগ। এর সঙ্গে ফারসি দার যুক্ত হয়ে শিকদার বা সিকদার শব্দের উদ্ভব হয়েছে। এরা ছিলেন রাজস্ব আদায়কারী রাজকর্মচারী। শব্দকোষে যাকে বলা হয়েছে শান্তিরক্ষক কর্মচারী। এরা শিক বন্দুক বা ছড়ি বন্দুক ব্যবহার করতো বলে শিকদার উপাধী পেয়েছিল; সেই থেকে বংশ পরমপরায় শিকদার পদবীর বিকাশ ঘটে।

    সৈয়দ: সৈয়দ পদবী মূলত এসেছে নবী নন্দিনী হজরত ফাতেমা ও হজরত আলীর বংশ ধর থেকে। প্রায় দেড় হাজার বছর আগের এই বংশের সঙ্গে কোনা যোগসূত্র না থাকলেও বাংলাদেশের অনেক মুসলমান পরিবার সৈয়দ বংশ পদবী ব্যবহার করে নিজেদের সম্ভ্রান্ত ও কুলীন মুসলমান বলে দাবি করে থাকেন। বাঙালি মুসলমান সমাজে সৈয়দ পদবীর অপব্যবহার ও পক্ষেপণ ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। প্রকৃত পক্ষে সৈয়দ নন এবং পারিবারিক কোনো কুলীন পদবীও নেই, অথবা পূর্ব পদবী ঐতিহ্য পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুক এমন অনেক বংশ গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বিশেষে বাংলাদেশে সৈয়দ পদবী আরোপিতভাবে ব্যবহার শুরু করেছিলেন।

    শেখ: শেখ আরবি থেকে আগত পদবী। সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের সম্মানসূচক বংশ পদবী শেখ। যিনি সম্মানিত বৃদ্ধ অথবা যিনি গোত্র প্রধান, তাকেই বলা হতো শেখ। হজরত মোহাম্মাদ (সা.) সরাসরি যাকে বা যাদের ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন, তিনি বা তার বংশ ধরও শেখ নামে অভিষিক্ত হতেন অথবা শেখ পদবী লাভ করতেন। বাঙালি মুসলমান সমাজে যারা শেখ পদবী ধারণ করেন, তারা এ রকম ধারণা পোষণ করেন না যে, তারা বা তাদের পূর্ব পুরুষরা এসেছিলেন সৌদী আরব থেকে। বাঙালি সৈয়দ পদবী ধারীদের থেকে শেখ পদবীধারীদের এখানে একটা মৌলিক তাৎপর্যগত পার্থক্য রয়েছে। শেখ পদবী গ্রহণের নেপথ্যে রয়েছে ওই পূর্বোক্ত চেতনা। নবীর হাতে মুসলমান না হলেও বাংলায় ইসলাম ধর্ম আর্বিভাবের সঙ্গে সঙ্গে যারা নতুন ধর্মকে গ্রহণ করে নেন; নও মুসলমান’ হিসেবে প্রাচীন ও মধ্যযুগে তারাই শেখ পদবী ধারণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাদের বংশের উত্তর সূরীরাই শেখ পদবী ব্যবহার করে এসেছেন। এমনিতে অন্য ধর্মের লোকের কাছে মুসলমান মানেই শেখ বা সেক। কেউ কেই শেখ কেউ সেক কিংবা কেউ বা শেখ এর রূপান্তর শাইখও ব্যবহার করে থাকেন।

    মীর: মির বা মীর শব্দটি এসেছে আরবি থেকে। আরবি শব্দ আমীর’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে মীর। সেই অর্থে মীর অর্থ দলপতি বা নেতা, প্রধান ব্যক্তি, সরদার ইত্যাদি। জিতে নেয়া বা জয়ী হওয়া অর্থে মীর শব্দের ব্যবহার হতো। তবে মীর বংশীয় লোককে সম্ভ্রান্ত এবং সৈয়দ বংশীয় পদবীধারীর একটি শাখা বলে গবেষকরা মনে করেন।

    মিঞা: মিঞা মুসলিম উচ্চ পদস্থ সামাজিক ব্যক্তিকে সম্বোধন করার জন্য ব্যবহৃত সম্ভ্রম সূচক শব্দ। এক অর্থে সকল মুসলমানের পদবীই হচ্ছে মিঞা। বাঙালি হিন্দুর মহাশয়’ এর পরিবর্তে বাঙালি মুসলমান মিয়া শব্দ ব্যবহার করে থাকে। মিঞা’ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। প্রভু বা প্রধান ব্যক্তি বুঝাতেও মিয়া শব্দের প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তবে গ্রামীন প্রধান বা সর্দার অর্থের মিঞা পদবী হিসেবে বাঙালি মুসলমান সমাজে ঠাঁই পেয়েছে।

    মোল্লা: মোল্লা এবং মুন্সী বাঙালির দুটো জনপ্রিয় পদবী। তাদের প্রসার প্রায় দেশব্যাপী। বঙ্গীয় শব্দকোষ এ মোল্লা শব্দের অর্থ করা হয়েছে মুসলমান পুরোহিত। বস্তুত এভাবে মসজিদে নামাজ পরিচালনার কারণেও অনেকে মোল্লা উপাধি পেয়েছিল। প্রকৃত পক্ষে, মোল্লা হচ্ছে তুর্কি ও আরবি ভাষার মোল্লা থেকে আগত একটি শব্দ যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে পরিপূর্ণ জ্ঞান বিশিষ্ট মহাপন্ডিত ব্যক্তি। অন্য অর্থে মুসলিম পন্ডিত বা ব্যবস্থাপক বা অধ্যাপক হলেন মোল্লা। পরবর্তী কালে মসজিদে নামাজ পরিচারলনাকারী মাত্রই মোল্লা নামে অভিহিত হতে থাকে। এখান থেকেই সাধারণত বংশ পদবী হিসেবে তা ব্যবস্থার হওয়া শুরু হয়। তারা সকল জ্ঞানের জ্ঞানী না হওয়া সত্ত্বেও মোল্লা পদবী ধারণ করে। যার ফলে মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত’ প্রবাদের উৎপত্তি হয়েছে।

    দাস: বাঙালি হিন্দু সমাজে দাস বা দাশ বংশ পদবীর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। যে সমস্ত হিন্দু সম্পদায়ের মানুষ পদবীতে দাশ লিখেন তাদের পেশা ধীবর থেকে এসেছে বলে গবেষকরা মনে করেন। আর যারা দাস লেখেন তাদের পদবী স্রষ্টার ভূত্য চেতনা থেকে এসেছেন।

    খন্দকার: মুসলিম সমাজের ফারসি শিক্ষক হিসেবে খোন্দকার বা খন্দকারের পরিচয় পাওয়া যায় । অন্য দিকে খোন্দকারের ‘ পদবী এসেছে সামন্ত সমাজ থেকে পেশাজীবী হিসেবে। সাধারণ ভাবে খোন্দকার বা খন্দকার অর্থ হচ্ছে কৃষক বা চাষাবাদকারী । মনে করা হয় ফারসি কনদহ ‘ এর যার অর্থ কৃষি’সাথেকার যুক্ত হয়ে কনদহকার> খনদহকার>খন্দকার হয়েছে। ভিন্ন মতে, খন্দকারের মূল উৎপত্তি সংস্কৃত কন্দ> খন্দ যার অর্থ ফসল বলা হয়েছে। এই খন্দ এর সঙ্গে কার যুক্ত হয়েও খন্দকার> খোন্দকার হতে পারে। এবং এতেও পূর্বের খন্দকার’ শব্দের উৎসের অর্থের তারতম্য ঘটছে না। আবার ফারসি ভাষায়, খোন্দকার বলে একটি শব্দ আছে যার অর্থ শিক্ষক। সেখান থেকেও খোন্দকার পদবী আসা বিচিত্র কিছু নয়। অথবা খোন্দকার শব্দের যে ভিন্নভিন্ন অর্থ তার সবগুলো মিলিত তাৎপর্য থেকেই বিভিন্নভাবে খন্দকার পদবীর উৎপত্তি হয়েছে।

    আখন্দ: খন্দকার ও আখন্দ বা আকন সমার্থক। আখন্দ ও আকন নামে যে সব পদবী তাও সম্ভবত খন্দকার পদবীরই রূপভেদ। খন্দকার>আখন্দ> আকন হয়ে থাকতে পারে। আবার ফারসি আখুন্দ থেকেও আখন্দ এসে থাকতে পারে। যার অর্থ শিক্ষক। তবে আকন্দ এসেছে আখন্দ থেকেই।

    চৌধুরী: সংস্কৃত চতুধারী শব্দ থেকে এসেছে বাংলা চৌধুরী শব্দ। এর অর্থ চর্তুসীমানার অন্তগর্ত অঞ্চলের শাসক। বাংলাদেশের বেশির ভাগ জমিদারদের পদবী হচ্ছে চৌধুরী। আবার অনেকে মনে করেন চৌথহারী’ যার অর্থ এক চতুথাংশ রাজস্ব আদায়কারী, সেখান থেকে উচ্চারণ পরিবর্তনের মাধ্যমে এসেছে চৌধুরী’। সেদিক থেকে চৌথ আদায়কারী বা রাজস্ব আদায়কারী পদ সৃষ্টি হয়েছিল বাংলার রাষ্ট্র ব্যবস্থার। বঙ্গীয় শব্দকোষ বলছে, চতুর’ যার অর্থ তাকিয়া বা মসনদ, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধর’ (অর্থ ধারক) এবং এই দুয়ে মিলে হয়েছে চৌধরী’ আর তার থেকেই চৌধুরী’। তবে তা মূলত হিন্দী ও মারাঠি শব্দ। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে চৌধুরী বংশ পদবী ব্যবহার করা হয় এদেশে। বৃটিশ-ভারতের প্রায় সর্বত্র এ পদবীর অস্তিত্ব ছিল। কারণ চৌধুরী ছিল সামন্ত রাজার পদবী।

    ভূঁইয়া: এই বংশ পদবীটি এসেছে খোদ ভূমির মালিকানা অর্থ থেকে। বাঙালি হিন্দু-মুসলিম উভয় এর মধ্যে এ পদবীর প্রচলন আছে। বাঙালি হিন্দু সমাজে যারাই ভৌমিক’ বাঙালি মুসলমান সমাজে তারা ভূঁইয়া’ হিসেবে পদবী ধারণ করেছেন। মূল সংস্কৃত শব্দ ভৌমিক > (প্রাকৃত) ভূমিকা > (বাংলা) ভূঁইয়া > থেকে ভূঁইয়া বা ভূঁঞা এসেছে। প্রাচীন বড় জমিদার বা সামন্ত রাজার উপাধিও ছিল ভূঁইয়া। প্রকৃত পক্ষে কুলীন বংশ পদবীই ছিল তা। আবার যে সব মানুষ আগে স্থান বিশেষে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে বসতি ও চাষাবাদের পত্তন করেছে তারা স্থানীয় জমিদার রাজার কাছ থেকে ভূঁইয়া নামে অভিহিত হয়ে ঐসব জমি জমার স্বত্ব লাভ করেছে।

    মজুমদার: মজুমদার’ পদবী মূল আসলে মজুনদার’। এর মূল ফারসি শব্দ হচ্ছে মজমু আনদার’। রাষ্ট্রের ও জমিদারির দলিল পত্রাদির রক্ষক রাজকর্মচারীর জন্যে এই পদবী সংরক্ষিত ছিল। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশে মজুমদার’ পদবীর ব্যবহার লক্ষনীয়।

    তরফদার: আরবি তরফ’ এবং ফারসি দার’ মিলে তরফদার শব্দের সৃষ্টি। রাজ্যের খাজনা আদায়ের মহালে তদারককারী বা খাজনা আদায়কারীর উপাধী ছিল তরফদার। এই পদবী ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর পূর্ব পুরুষরা রাজকার্য পরিচালনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, সেখান থেকেই এই বংশ পদবী উৎপত্তি ও প্রচলন। অন্যমতে তরফদার তরফের রাজস্ব আদায়কারী লোক; তরফের মালিক; পদবী বিশেষ।

    তালুকদার: আমাদের দেশে পরিচিত একটি বংশ পদবী। বাংলাদেশে জমিদারির পরই তালুক ভূ-সম্পত্তির একটি বিভাগ। মোগল ও বৃটিশ আমলে রাজস্ব ও ভুমি সংক্রান্ত বিষয়াদি থেকে যে সমস্ত পদবীর উৎপত্তি ও বিস্তার তার মধ্যে তালুকদার’ হচ্ছে অন্যতম পদবী। তালুক’ শব্দ থেকেও এই পদবীর মর্মাথ উপলব্ধি করা সম্ভব। আরবি শব্দ তা’ আল্লুক’ যার অর্থ ভূ-সম্পত্তি এবং এর সাথে ফারসি দার’ যুক্ত হয়ে (তা’আল্লুক+দার) তালুকদার’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে, যিনি তালুকদার, তিনি জমি ও ক্ষুদ্র ভূ-সম্পত্তি বন্দোবস্ত নিতেন সরকারের কাছ থেকেও যেমন, তেমনি জমিদারের কাছে থেকেও। ফলে তিনি হতেন উপজমিদার সেই অর্থেই এসেছে তালুকদার’।

    সরকার: সরকার’ শব্দটি ফারসি থেকে আগত। এর অর্থ প্রভূ, মালিক, ভূস্বামী, শাসনকর্তা, রাজা। অর্থ আদায় ও ব্যয় সংক্রান্ত কর্মচারি ও সরকার। মোগল আমলে এদেশের স্থানীয় রাজকর্মচারিদের এ পদবী দেয়া হতো। মোট কথা প্রধান কর্মচারি এবং সম্পত্তি দেখা-শুনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিকে সরকার বলা হতো। বাঙালি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই এ পদবীর ব্যবহার আছে।

    মল্লিক: আরবি মালিক’ বা মলিক’ শব্দ থেকে এসেছে মল্লিক’ বংশ পদবী। ফারসি মালিক শব্দজাত মল্লিক ভূম্যাধিকারী বা জোতদারের উপাধি। গ্রাম প্রধান বা সমাজের প্রধান ব্যক্তি মালিক। আবার লিপিকুশল রাজকর্মচারিকে মোগল আমলে মল্লিক বা সুলেখক আখ্যা দেয়া হত বলেও আমরা জানতে পারি। হয়তোবা সেই থেকে মল্লিক বংশ পদবী এসেছে।

    মন্ডল: বাঙালি হিন্দু-মুসলিম সমাজে সমান ভাবে ব্যবহৃত হয় মন্ডল পদবী। বাংলাদেশে অতীত কাল থেকে গ্রামের অনানুষ্ঠানিক এবং সাধারণ ভাবে গ্রাম- প্রধানকে বলা হয় মন্ডল। বাংলা মন্ডলরা আগে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। মন্ডলীয় কাজ করে তারা অনেক অধিকার ভোগ করতেন। খাজনা আদায়কারী ও রায়তদের মধ্যস্থতা করা কিংবা গ্রামীন বিবাদ আপোস মীমাংসা করতে মন্ডলরা কার্যকরী ভূমিকা পালন করতেন। কোনো কোনো সময় তাদের অধীনে পাটোয়ারি, তহসিলদার, চৌকিদার ইত্যাদি কর্মচারী কাজ করতেন। সরকার ও রায়তদের মধ্যবর্তী মানুুষ হিসেবে মন্ডলরা অধিক পরিচিত ছিল।

    ফকির: মুসলমানদের মধ্যে সন্ন্যাসবৃত্তি’ থেকেই এসেছে ফকির’ পদবী। মরমী সাধকরা গ্রহণ করতেন ফকির’ পদবী। এটি আরবি শব্দ, যার মূল অর্থ নি:স্ব। আবার আরবি ফকর শব্দের অর্থ দারিদ্র। এ থেকে ফকির শব্দের উৎপত্তি। ফকির এবং পার্শি দরবেশ ব্যক্তিগণ সাধারণত এদেশে ফকির নামে পরিচিত। বিশেষ কোনো ধর্ম মতের একান্ত অনুসারী না হয়ে যারা সকল ধর্মের মূলনীতি নিয়ে আত্মতত্ত্বের সন্ধান করেন তাদেরকেও ফকির বলা হয়। আবার সুফি বা বাউল তত্বের ধারকরাও ফকির।

    ঠাকুর: বাংলা শব্দের বিশেষজ্ঞ হরিচরণ বন্দ্যোপধ্যায়ের মতে- ঠাকুর শব্দের মূল হচ্ছে (সংস্কৃত) ঠাক্কুর’ তার থেকে > (প্রকৃত) ঠকুর > (বাংলা) ঠাকুর এসেছে। পদবীগত দিক থেকে তা ব্রাক্ষণের পদবী বিশেষ, এমনকি ক্ষত্রিয়েরও উপাধি এটি। মধ্য যুগের কাব্য চৈতন্য ভাগবত’ উদ্ধৃত করে লেখক বলেছেন, তা বৈঞ্চবেরও উপাধি। যেমন, হরিদাস ঠাকুর। পাচক ব্রাক্ষণও এক প্রকার ঠাকুর বলে পরিচিত। তবে আহমদ শরীফ সম্পাদিত সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান’ বলছে, সংস্কৃত ঠক্কুর থেকে ঠাকুর আসলেও এর মূলে ছিল তুর্কী শব্দ। বাঙালি হিন্দু-মুসলমান উভয়েই এই পদবী ব্যবহার করে।

    এরকম শতাধিক বংশ পদবী রয়েছে আমাদের দেশে। বাঙালির পদবীর ইতিহাস বৈচিত্র পথ ও মতের এক অসাধারণ স্মারক হিসেবে চিহিৃত।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  20. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    চুম্বক বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী আবিস্কার।

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 3 বছর আগে

    ছোটবেলায় যে চুম্বক আমাদের কাছে রহস্য হয়ে ধরা দিতো, আজ তার আদ্যোপান্ত জেনে নেয়া যাক- যেকোনো চুম্বক বা চুম্বকীয় বস্তুর দু’টি মেরু থাকে। একটি উত্তর মেরু ও অন্যটি দক্ষিণ মেরু। এই মেরুগুলো চৌম্বক পদার্থসমূহকে আকর্ষণ করে। দু’টি বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে, কিন্তু দু’টি সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। একাবিস্তারিত পড়ুন

    ছোটবেলায় যে চুম্বক আমাদের কাছে রহস্য হয়ে ধরা দিতো, আজ তার আদ্যোপান্ত জেনে নেয়া যাক-

    যেকোনো চুম্বক বা চুম্বকীয় বস্তুর দু’টি মেরু থাকে। একটি উত্তর মেরু ও অন্যটি দক্ষিণ মেরু। এই মেরুগুলো চৌম্বক পদার্থসমূহকে আকর্ষণ করে। দু’টি বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে, কিন্তু দু’টি সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। একারণেই দক্ষিণ মেরুকে সহজেই উত্তর মেরুর সঙ্গে মেলানো যায়, কিন্তু উত্তর মেরুকে অন্য একটি উত্তর মেরুর দিকে কিংবা একটি দক্ষিণ মেরুকে অন্য একটি দক্ষিণ মেরুর দিকে আনতে গেলেই ঘটে বিপত্তি।

    এসবই জানা কথা, তাই না? চুম্বকের রয়েছে বহু প্রকারভেদ। এগুলোর মধ্যে একটি হলো প্রাকৃতিক চুম্বক পদার্থ, যেমন: আলনিকো। আলনিকো হলো লোহার একটি সঙ্কর। আরো রয়েছে তড়িৎ চুম্বক বা ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটস।

    বৈদ্যুতিক তারের কুণ্ডলী পাকিয়ে তার মধ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে এ ধরণের চুম্বক তৈরি করা হয়। প্রাকৃতিক চুম্বকের মতো এ চুম্বকের চুম্বকত্ব স্থায়ী নয়। বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধের সঙ্গে তড়িৎ চুম্বকের চুম্বকত্ব লোপ পায়। আধুনিক বিশ্বে মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে গাড়ি পর্যন্ত সব জায়গাতেই চুম্বকের ব্যবহার দৃশ্যমান।

    চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এমআরআই এর মতো যন্ত্রগুলোতে চুম্বকের যথেষ্ট ব্যবহার রয়েছে। তবে আমাদের চারপাশে থাকা চুম্বকের চৌম্বকত্বের পরিমাণও কিন্তু চিন্তার বিষয়! বিশেষ করে স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যার পেছনে অতিরিক্ত চৌম্বকত্বের প্রভাব থাকতে পারে। যেমন: কারো হৃদযন্ত্রে যদি পেসমেকার বসানো থাকে তবে চারপাশের শক্তিশালী কোনো চুম্বক ক্ষেত্র থেকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে।

    ভুলক্রমে উচ্চ চুম্বকত্বের কোনো পদার্থ সেবন করে ফেললেও তা স্বাস্থ্য ঝুঁকির সৃষ্টি করে। অনুমেয়ভাবেই সবার প্রথমে যে চুম্বক আবিষ্কার হয় তা ছিলো প্রাকৃতিক চুম্বক। ম্যাগনেটাইট বা লোডস্টোন নামক পাথরের ভেতর সর্বপ্রথম চুম্বকের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। কেউ কেউ বলেন, কোনো এক ব্যক্তির জুতার ধাতব অংশে ম্যাগনেটাইট লেগে গেলে এই রহস্যময় পাথরের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মানুষ অবগত হয়। আবার অনেকে এ পাথর আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেন গ্রীক বা মেসিডোনীয়দের। তবে আবিষ্কারক যারাই হোক না কেন সর্বপ্রথম চুম্বক যে প্রাকৃতিক উৎস থেকেই উদ্ধার করা হয় এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।

    চুম্বক নিয়ে মজার সব তথ্য!

    এ পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া সবচেয়ে বড় চুম্বকটি পাওয়া যায় সুইজারল্যান্ডে, নাম ‘লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার’। সাধারণ ফ্রিজ ম্যাগনেটের তুলনায় যেটির চুম্বকত্ব ৪০০ গুণ বেশি। অন্যদিকে, সবচেয়ে শক্তিশালী চুম্বকের আকার কিন্তু হ্যাড্রন কোলাইডারের থেকে অনেক ছোট, সেটি পাওয়া গেছে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সবচেয়ে শক্তিশালী ওই চুম্বকটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ ডলারের বিনময়ে। আড়াই হাজার ফ্রিক ম্যাগনেটের সমান শক্তি ধারণ করে আছে চুম্বকটি! অন্য একটি চমকপ্রদ ব্যাপার হলো পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে প্রাকৃতিক চুম্বক পাওয়া যায় স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলে।

    একটি কাঠের তক্তার সঙ্গে চুম্বক সংযুক্ত করে যদি পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়, তবে তার উত্তর মেরু পৃথিবীর উত্তর মেরুর দিকে মুখ করে থাকবে। চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রতি কিছু কিছু প্রাণী বেশ সংবেদনশীল। মৌমাছির যোগাযোগ প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার কাজে চুম্বক ব্যবহার করা হয়। সমুদ্রের হাঙরের দল চৌম্বক ক্ষেত্র আন্দাজ করতে পারলে দূরে সরে যায়। অন্যদিকে, পাখিসহ আরো বেশ কিছু প্রাণী চুম্বকক্ষেত্র দ্বারা আকর্ষিত হয়। মহাকাশে রয়েছে ম্যাগনেটার নামের একটি তারা যেটি সুপারনোভা বিষ্ফোরণের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। এর চুম্বকত্ব এত বেশি যে, পৃথিবীর মতো দু’তিনটি গ্রহ এর কাছ দিয়ে গেলে তা এদের গ্রাস করতে সক্ষম!

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
1 … 16 17 18 19 20

Sidebar

লগ ইন করুন
  • জনপ্রিয়
  • উত্তর
  • Mithun

    নির্মাণকাজে মরুভূমির বালু কেন ব্যবহার করা হয়না?

    • 12 টি উত্তর
  • Hina Khan

    Is Telegram MOD APK safe to use? What are the ...

    • 9 টি উত্তর
  • shanto

    ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন, লাইসেন্সের অনলাইন কপি ডাউনলোড, লাইসেন্স হয়েছে ...

    • 8 টি উত্তর
  • Admin

    নতুন ক্যাটাগরি "SEO" যুক্ত হলো আড্ডাবাজে!

    • 7 টি উত্তর
  • Mahmudul

    একটি ঘোর লাগানো ছবি দেখাতে পারবেন কি?

    • 6 টি উত্তর
  • Jesmin
    Jesmin একটি উত্তর দিয়েছেন HSC ২০২৬ পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ২… এপ্রিল 27, 2026, সময়ঃ 2:01 অপরাহ্ন
  • Sinclair
    Sinclair একটি উত্তর দিয়েছেন When shopping for best sex dolls, most buyers tend to… এপ্রিল 17, 2026, সময়ঃ 3:10 পূর্বাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন হ্যাঁ, Bestchange.com থেকে নিশ্চিতভাবে আয় করা সম্ভব। এটি মূলত একটি… এপ্রিল 15, 2026, সময়ঃ 2:13 অপরাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন প্রশ্নোত্তর প্রদানের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার বিষয়টি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়… এপ্রিল 14, 2026, সময়ঃ 2:11 পূর্বাহ্ন
  • সুমনা
    সুমনা একটি উত্তর দিয়েছেন এসইও (SEO) এর ক্ষেত্রে ব্যাকলিংক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।… এপ্রিল 14, 2026, সময়ঃ 1:59 পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় গ্রুপ

  • মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    • 4 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 106 বার প্রদর্শিত
  • Earn Money

    • 3 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 155 বার প্রদর্শিত
  • Knowledge World

    Knowledge World

    • 3 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 116 বার প্রদর্শিত
  • CT Game Review

    CT Game Review

    • 3 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 1,049 বার প্রদর্শিত
  • Crazy Time Fun

    Crazy Time Fun

    • 2 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 77 বার প্রদর্শিত

চলতি মাসের সেরা ইউজার

Iyasha

Iyasha

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
SA Samim

SA Samim

  • 13 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
এডিটর
sumi

sumi

  • 20 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
লগ ইন করুন

Explore

  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

Footer

AddaBuzz.net

আড্ডাবাজ একটি সামাজিক প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিন। যেখানে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একে অপরের জ্ঞান আদান-প্রদান হয়। প্রশ্ন করুন, উত্তর দিন, জ্ঞান ভাগাভাগি করুন।

Adv 234x60

aalan

আমাদের সম্পর্কিত

  • আমাদের টিম
  • আমাদের লক্ষ্য

লিগ্যাল স্টাফ

  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions
  • Data Deletion Instructions

সাহায্য

  • Knowledge Base
  • Contact us

আমাদের ফলো করুন

© 2026 AddaBuzz. All Rights Reserved
With Love by AddaBuzz.net

✕
🔔 নোটিফিকেশন চালু করুন নতুন প্রশ্নোত্তর ও ব্লগ আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন