সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
Health related all questions.
প্রক্রিয়াজাত খাবার আসলেই কি স্থুলতা বাড়ায়?
হ্যা, প্রক্রিয়াজাত খাবার স্থুলতা বাড়ায় স্থূলতা হার্টের অসুখ ও ডায়াবেটিসেরও ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত, এর জন্য দায়ী করা হয় খাবারে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকাকে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, এসবের বাইরেও স্থূলতার জন্য দায়ী অন্য কিছু। উন্নত বিশ্বে মানুষ প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে বেশি বেশি ঝুঁবিস্তারিত পড়ুন
হ্যা, প্রক্রিয়াজাত খাবার স্থুলতা বাড়ায়
স্থূলতা হার্টের অসুখ ও ডায়াবেটিসেরও ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত, এর জন্য দায়ী করা হয় খাবারে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকাকে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, এসবের বাইরেও স্থূলতার জন্য দায়ী অন্য কিছু। উন্নত বিশ্বে মানুষ প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে বেশি বেশি ঝুঁকে পড়ছে। এসব খাবারে চিনি, লবণ, তেল, সুগন্ধি—এসবের ব্যবহার অনেক বেশি। তাই আমাদের অন্ত্র আর মস্তিষ্কের মিতালিটা ঠিক জমছে না। মস্তিষ্ক অন্ত্র থেকে গৃহীত খাদ্যের পরিমাণের হিসাব গুলিয়ে ফেলছে। তাই আমরা খাবার যে যথেষ্ট খাওয়া হয়েছে, সেটা বোঝা আগেই বেমি খেয়ে ফেলেছি।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেসের গবেষক কেভিন হল নতুন এই ধারণা নিয়ে দুটি কাজ করেছেন। তাঁর প্রথম গবেষণায় তিনি দেখান, কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ মেদ কমানোর হার কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ খাবারে শর্করার পরিমাণ কম রেখে শরীরের মেদ ঝরানোর যে প্রচলিত কৌশল, সেটি আসলে খুব একটা কাজের নয়। এ বছর আরেকটি গবেষণায় তিনি দেখান, আমরা অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার যখন খাই, তখন সাধারণ খাবারের তুলনায় কয়েক শ কিলোক্যালরি বেশি গ্রহণ করি।
আপনি যে বয়সেরই হোন না কেন, আপনাকে নিশ্চয়ই প্যাকেটজাত কিংবা ফাস্ট ফুড খুবই টানে। কোথাও যাওয়ার পথে চিপস আর কোমল পানীয়, বন্ধুর সঙ্গে সন্ধ্যায় বের হয়ে একটা পিৎজা—এসব নিশ্চয়ই আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী। যদিও বাংলাদেশে এখনো এসব প্রক্রিয়াজাত খাবার একদম জেঁকে বসেনি, তবে পশ্চিমা বিশ্বে নিত্যদিনের সঙ্গী এসব খাবার। খিদে মেটানোর জন্য তাদের প্রধান নির্ভরতা এসব ‘রেডি টু ইট’ খাবার। অতি প্রক্রিয়াজাত এসব খাবারে তেল, চর্বি, চিনি, রং, ফ্লেভার, ক্যালরিবিহীন মিষ্টিকারক ইত্যাদির বাহার যেন। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ যে রকম খাবার খেয়ে আসছে, তার সঙ্গে এসব খাবারের উপাদানের ও পরিমাণের তফাত অনেক। আমাদের দেহ যেন হুট করে শেষ ১০০ বছরে বদলে দেওয়া খাবারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিমই খাচ্ছে।
গবেষক কেভিন হল একটা পরীক্ষা করেন খাবারে শর্করার পরিমাণ নিয়ে। তিনি ১০ জন পুরুষ ও ৯ জন নারীকে একটি হাসপাতালের ওয়ার্ডে রাখেন কিছুদিনের জন্য। তাঁদের সবাই ছিলেন স্থূল। ১১ দিনের এই পরীক্ষায় প্রথম ৫ দিন সবাইকে বেশি কার্বোহাইড্রেট ও অল্প স্নেহজাতীয় খাবার খেতে দেওয়া হয়। তাঁদের খাবারে ৫০ শতাংশ শর্করা, ৩৫ শতাংশ স্নেহ ও ১৫ শতাংশ প্রোটিন রাখা হয়। বিশেষ একটি চেম্বারে রেখে তাঁদের দৈনিক ক্যালরি খরচ হিসাব করে একদম ঠিক ততটুকুই খাবার দেওয়া হতো। যেন তাঁদের ওজন একটুও না বাড়ে বা কমে। এর পরের ছয় দিন শর্করার পরিমাণ নামিয়ে আনা হতো ২০ শতাংশে।
সংক্ষেপে দেখুনপ্যাকেটজাত খাবার কি অস্বাস্থ্যকর ?
আমি এখানে ৯টি প্যাকেটজাত খাবারের তালিকা দিচ্ছি যা আপনার জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১. পটেটো চিপস চিপসে থাকে প্রচুর পরিমাণ ক্যালোরি কারণ তাদেরকে চর্বিতে ভাজা হয়। চিপসে আছে প্রচুর সোডিয়ামও যা রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায় এবং দেহে পানির চাপ বাড়ায়। ১০০ গ্রামের এক প্যাকেট চিপসে আছে ৫৫০-৬০০ ক্যালোরি। আর তাছাড়া একই তেলেবিস্তারিত পড়ুন
আমি এখানে ৯টি প্যাকেটজাত খাবারের তালিকা দিচ্ছি যা আপনার জন্য অস্বাস্থ্যকর।
১. পটেটো চিপস
চিপসে থাকে প্রচুর পরিমাণ ক্যালোরি কারণ তাদেরকে চর্বিতে ভাজা হয়। চিপসে আছে প্রচুর সোডিয়ামও যা রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায় এবং দেহে পানির চাপ বাড়ায়। ১০০ গ্রামের এক প্যাকেট চিপসে আছে ৫৫০-৬০০ ক্যালোরি। আর তাছাড়া একই তেলে বারবার চিপস ভাজার কারণেও তা অস্বাস্থ্যকর হয়।
২. প্যাকেটজাত জুস
দুঃখজনক সত্যটি হলো প্যাকেটজাত জুসে সত্যিকার কোনো ফলের রস থাকে না, কম্পানিগুলো যাই দাবি করুক না কেন। এসব মূলত ক্ষতিকর সুগারে পূর্ণ এবং এর কোনো পুষ্টিগত উপকারিতা নেই। সুতরাং কমলা জুস না খেয়ে বরং একটি কমলা কিনে খান। এছাড়া প্যাকেট জুসে থাকে প্রিজারভেটিভ যা দেহে পুষ্টি শোষণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
৩. বায়বীয় পানীয়
এগুলো যে ক্ষতিকর তা আমদের সকলেরই জানা। এমনকি ক্যালোরিহীন পানীয়ও ক্ষতিকর। কারণ এদের বেশিরভাগেই থাকে কৃত্রিম মিষ্টি যা দীর্ঘমেয়াদে দেহের ক্ষতি করে।
৪. বিস্কিট
ছোট এক প্যাকেট বিস্কিটও অনেক বড় ক্ষতি করতে পারে। বিস্কিট বানানো হয় মূলত পরিশোধিত ময়দা থেকে। যাতে থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং হাইড্রোজেনেটেড তেল। এগুলো শুধু দেহের ভেতরে শুন্য ক্যালোরি পাম্প করে।
৫. নুডলস
নুডলসও তৈরি হয় পরিশোধিত ময়দা থেকে। যা হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করে। কেননা প্রক্রিয়াজাত নুডলস হজমের জন্য ভাঙ্গতে অনেক বেশি সময় লাগে। এগুলো রক্তে সুগারের মাত্রায় হেরফের ঘটায়। আর দীর্ঘক্ষণ হজমপ্রক্রিয়ায় অবস্থান করে ক্ষতিকর রাসায়নিক এবং প্রিজারভেটিভের নিঃসরণ ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে।
৬. চানাচুর
এতে থাকে প্রচুর মশলা, প্রিজারভেটিভ, হাইড্রোজেনেটেড তেল এবং সোডিয়াম। ফলে নিয়মিতভাবে চানাচুর খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৭. প্যাকেটজাত স্যুপ
এতে হাউড্রোলাইজড ভেজিটেবল প্রোটিন, এসিডিটি নিয়ন্ত্রক, স্বাদ বর্ধক এবং কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করা হয়। কৃত্রিম রঙ শরীরের জন্য বিষাক্ত উপাদান এবং কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। কেননা এর ফলে কিডনি ও লিভার হজম প্রক্রিয়াকে ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে মুক্ত করার জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। আর হাইড্রোলাইজড ভেজিটেবলে ৩০% পর্যন্ত এমএসজি থাকে যা হার্টবিট বাড়ানো এবং বুকের ব্যাথার কারণ হতে পারে।
৮. রেডিমেড খাবার
এতেও থাকে হাইড্রেটেড ভেজিটেবল, যাতে পুষ্টি উপাদান খুবই কম থাকে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষেণের জন্য এতে যে প্রিজারভেটিভ, স্বাদবর্ধক বা নানা রাসায়নিক যুক্ত করা হয় তা কিডনি এবং লিভারের মারাত্মক সব ক্ষতি করতে পারে।
৯. মুয়েসলি
প্যাকেটজাত মুয়েসলির বেশিরভাগ প্যাকেটেই সয় লেসিথিন থাকে। যা সয়াবিন তেলের একটি বাই প্রডাক্ট। গবেষনায় দেখা গেছে, নিয়মিতিভাবে সয় লেসিথিন খেলে ক্ষুধামান্দ্য, মাঝে মাঝে বমিভাব, ঝিমুনি, বমি করা এবং মানসিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া
সংক্ষেপে দেখুনড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া কি? এটি কেমন ক্ষতিকারক?
যদি কারও শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগ হয় এবং সেই রোগ নিরাময়ে কেউ যদি চিকিৎসকের পরামর্শমত সঠিক পরিমাণে এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করেন তাহলে ব্যাকটেরিয়াগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হয়ে উল্টো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তখন এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ওই অ্যান্টিবায়োটিক পরে আর কাজ করেবিস্তারিত পড়ুন
যদি কারও শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগ হয় এবং সেই রোগ নিরাময়ে কেউ যদি চিকিৎসকের পরামর্শমত সঠিক পরিমাণে এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করেন তাহলে ব্যাকটেরিয়াগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হয়ে উল্টো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
তখন এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ওই অ্যান্টিবায়োটিক পরে আর কাজ করে না।
অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পরেও ব্যাকটেরিয়ার এই টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জনকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলা হয়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সাধারণ রোগ নিয়ে চিকিৎসা নেয়া অনেক মানুষের মধ্যে এই অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স দেখা দিয়েছে। এর ফলে রোগীর আগে যে অ্যান্টিবায়োটিকে রোগ সারতো, এখন আর সেটি কাজ করছে না। না হলে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হচ্ছে।
এভাবে মানুষের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে বলে জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তৌফিক আহমেদ। -সূত্রঃ বিবিসি
সংক্ষেপে দেখুনসব ধরনের মিষ্টিই কি আসলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সব ধরণের মিষ্টি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না৷ যেসব মিষ্টিতে চিনির ব্যবহার/পরিমাণ বেশি, সেগুলো ক্ষতি করে৷
সব ধরণের মিষ্টি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না৷ যেসব মিষ্টিতে চিনির ব্যবহার/পরিমাণ বেশি, সেগুলো ক্ষতি করে৷
সংক্ষেপে দেখুনপুষ্টিগুণে ভরপুর পেঁপে, কিন্তু কোনসব ক্ষেত্রে খেলেই বড় বিপদ হতে পারে?
জেনে নিন যেসব ক্ষেত্রে পেঁপে খেলে উপকারের বদলে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে- লেবুর সঙ্গে পেঁপে খেলে শরীরের হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে। দই ও পেঁপে একসঙ্গে খেলে পেটের সমস্যা, বদহজম, বমি কিংবা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। তাই একইসঙ্গে পেঁপে ও দই কখনো খাবেন না। স্মুদি তৈরিতে ভুলেও এই দুই উপাদান একসঙ্গে দেবেন নবিস্তারিত পড়ুন
জেনে নিন যেসব ক্ষেত্রে পেঁপে খেলে উপকারের বদলে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে-
- লেবুর সঙ্গে পেঁপে খেলে শরীরের হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে।
- দই ও পেঁপে একসঙ্গে খেলে পেটের সমস্যা, বদহজম, বমি কিংবা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। তাই একইসঙ্গে পেঁপে ও দই কখনো খাবেন না। স্মুদি তৈরিতে ভুলেও এই দুই উপাদান একসঙ্গে দেবেন না। এর যেকোনো একটি খাওয়ার পর অন্তত চার ঘণ্টা বিরতি দিয়ে অপর খাবারটি খেতে পারেন।
- কমলালেবু আর পাকা পেঁপেও শরীরের জন্য একেবারে ভালো নয়। ফ্রুট সালাদে অনেকেই পেঁপে মিশিয়ে দেন। যা শরীরের জন্যেও খারাপ। তাই এই দুই ফল একসঙ্গে সালাদ হিসেবে খাবেন না।
- টমেটো এবং পেঁপে এই দুটি খাবার আলাদা আলাদাভাবে স্বাস্থ্যকর হলেও একসঙ্গে জোট বাঁধলেই বাঁধতে পারে বিপত্তি। সালাদের থালায় এই দুটি অনেক সময় একসঙ্গে শোভা পায়। তবে শারীরিক কোনো অসুস্থতা এড়াতে এই দুটি জিনিস কখনোই একসঙ্গে খাবেন না।
- কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেঁপে শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এর একটি উপাদান কারও কারও শরীরে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে। তাই যারা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভোগেন, তাদের পেঁপে এড়িয়ে চলা উচিত।
- ডায়াবেটিসের সমস্যায় যারা ভোগেন, তাদের পেঁপে এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে রক্তে শর্করার মাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন হতে পারে।
- পেঁপে অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও পেঁপের বিচি শেকড় গর্ভপাত ঘটাতে পারে। কাঁচা পেঁপে জরায়ু সংকুচিত করে ফেলে। পাকা পেঁপেতে এই ঝুঁকি কিছুটা কম। তবে গর্ভবতী হলে পেঁপে এড়িয়ে চলাই ভালো।
- পেঁপের বিচির নির্যাস পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমাতে সক্ষম। বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমাতে এবং শুক্রাণুর নড়াচড়ার ক্ষমতা কমার পেছনেও দায়ী হতে পারে পেঁপে।
- পেঁপে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায়। তাই যারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান তাদের জন্য পেঁপে বিপজ্জনক হতে পারে।
- পেঁপেতে থাকে ল্যাটেক্স ও কাইটিনেস এনজাইম যা একত্রে বিপরীত প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। ফলে হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখ দিয়ে পানি পড়ার সমস্যায় ভুগতে পারে। অনেকেই পাকা পেঁপের গন্ধও সহ্য করতে পারে না।
- পেঁপেতে ভিটামিন সি আছে। দৈনিক মাত্রার চেয়েও যদি ভিটামিন সি অত্যধিক গ্রহণ করা হয় তাহলে ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে। এমনকি এটি পাথরের আকার বাড়িয়ে তোলে। যা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হতে পারে না।
সংক্ষেপে দেখুনকৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম কি? বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কি নিয়ম?
বাচ্চাদের কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম ১ বছরের আগে বাচ্চাকে কৃমির ঔষধ দেয়া যাবে না। কিন্তু ১ বছর হয়ে গেলে নিয়মিত ৬ মাস অন্তর অন্তর বাচ্চাকে কৃমির ঔষধ অবশ্যই দিবেন। একবার ঔষধ খাওয়ানোর ৭-১০ দিন পর পুনরায় প্রাথমিক ডোজ দিতে হবে। কৃমির ঔষধ কৃমিকে মেরে ফেলে কিন্তু কৃমির ডিম এবং লার্ভা মারতে পারে না।
বাচ্চাদের কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম
১ বছরের আগে বাচ্চাকে কৃমির ঔষধ দেয়া যাবে না। কিন্তু ১ বছর হয়ে গেলে নিয়মিত ৬ মাস অন্তর অন্তর বাচ্চাকে কৃমির ঔষধ অবশ্যই দিবেন। একবার ঔষধ খাওয়ানোর ৭-১০ দিন পর পুনরায় প্রাথমিক ডোজ দিতে হবে। কৃমির ঔষধ কৃমিকে মেরে ফেলে কিন্তু কৃমির ডিম এবং লার্ভা মারতে পারে না।
সংক্ষেপে দেখুনলাল ও সবুজ রঙের আপেলের মধ্যে কোনটির স্বাস্থ্যগুণ বেশি?
লাল ও সবুজ রঙের আপেলের মধ্যে লাল আপেলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বেশি পরিমাণে থাকে। তাই যারা ওজন কমাতে চান বা শরীরকে দূষণমুক্ত করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে লাল আপেল বেশি কাজের হয়ে উঠতে পারে।
লাল ও সবুজ রঙের আপেলের মধ্যে লাল আপেলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বেশি পরিমাণে থাকে। তাই যারা ওজন কমাতে চান বা শরীরকে দূষণমুক্ত করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে লাল আপেল বেশি কাজের হয়ে উঠতে পারে।
সংক্ষেপে দেখুনpain o soma 500 mg relieve joint pain?
The SHOCKING Truth About Pain-O-Soma 500mg Are you suffering from agonizing joint pain but wary of taking prescription pain meds long-term? As it turns out, there may be a safe, natural alternative that provides relief - and it's been hiding in plain sight! Pain-O-Soma 500mg is a little-known muscleবিস্তারিত পড়ুন
The SHOCKING Truth About Pain-O-Soma 500mg
Are you suffering from agonizing joint pain but wary of taking prescription pain meds long-term? As it turns out, there may be a safe, natural alternative that provides relief – and it’s been hiding in plain sight!
Pain-O-Soma 500mg is a little-known muscle relaxant that has helped thousands ease musculoskeletal discomfort for decades. But Big Pharma would rather line their pockets pushing dangerous opioids. Why? Because Pain-O-Soma’s active ingredient carisoprodol is unpatentable, meaning they can’t monopolize it.
What the manufacturers don’t want you to know is how effectively and gently Pain-O-Soma can soothe Away your aches and pains. Here are some shocking facts they don’t publicize:
– Japanese scientists found Pain-O-Soma exhibits antioxidant properties, protecting joints from deterioration that exacerbates discomfort.
– Peer-reviewed studies show it works Better than Celebrex for arthritis pain based on lower dosage requirements and less side effects.
– Pain-O-Soma attacks pain on Multiple levels by both relaxing muscles and blocking pain signaling in the spinal cord and brain.
– Most people experience relief Within 30 minutes to an hour of taking it, without any high or addiction potential.
– It Provides all-day relief from both Occasional flare-ups and long-term chronic joint conditions like fibromyalgia.
Rather than loading up on risky opioids or pricey brand names, isn’t it time you explored this natural muscle relaxant? I’m certain you’ll be shocked by how well it works after just one dose. Order yours from reputable sources while it’s still available! Your body will thank you.
N.B: Consult your doctor before taking any medication.
সংক্ষেপে দেখুনথাইরয়েড এর লক্ষণ, কারণ, নিয়ন্ত্রণের উপায় ও থাইরয়েড রোগীর খাবার তালিকা
আপনার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো থাইরয়েড গ্রন্থি। কিন্তু আপনি জানেন কি, থাইরয়েডের নিয়মিত মাত্রা কত (TSH এর স্বাভাবিক মাত্রা কত)? থাইরয়েডের কাজ কি এবং এটা কেন জরুরী? এই লেখায় আমরা জানাব থাইরয়েডের কাজ, লক্ষণ, কারণ এবং নিয়ন্ত্রণের উপায়। থাইরয়েডের কাজ কি? থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে যা দেহেরবিস্তারিত পড়ুন
আপনার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো থাইরয়েড গ্রন্থি। কিন্তু আপনি জানেন কি, থাইরয়েডের নিয়মিত মাত্রা কত (TSH এর স্বাভাবিক মাত্রা কত)? থাইরয়েডের কাজ কি এবং এটা কেন জরুরী? এই লেখায় আমরা জানাব থাইরয়েডের কাজ, লক্ষণ, কারণ এবং নিয়ন্ত্রণের উপায়।
থাইরয়েডের কাজ কি?
থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে যা দেহের মেটাবলিজম, হৃদস্পন্দন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য জটিল কাজগুলো নিয়ন্ত্রন করে। তাই থাইরয়েডের স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরয়েডের লক্ষণ কী?
-ওজন কমানো বা বেড়ে যাওয়া
-হৃদস্পন্দনের হারের পরিবর্তন
-ক্লান্তি বেড়ে যাওয়া
-ডেপ্রেশন বা উৎসাহহীনতা
-ত্বক সম্বন্ধীয় সমস্যা
থাইরয়েড হলে কি সমস্যা হয়? জেনে নিন!
-হৃদরোগ ঝেড়ে যেতে পারে
-ইনফারটিলিটি হতে পারে
-ডায়াবেটিস ঝেড়ে আসতে পারে
-গর্ভধারণ করাটা কঠিন হতে পারে
থাইরয়েডের কারণ কি?
-পরিবারে থাইরয়েড রোগ থাকা
-অতিরিক্ত ত্বক চিকিৎসা
-অত্যধিক গরম বা ঠন্ডার প্রভাব
-অত্যধিক তামাক সেবন
-অত্যন্ত উচ্চ বা নিম্ন আয়ুর মানুষ
থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি উপায়
1. হরমোন টেস্ট করান
2. স্বাস্থ্যকর খাবার খান
3. বেশি কালো চা বা কফি না খাওয়া
4. তামাক, মাদক থেকে দূরে থাকা
5. নিয়মিত কালরি চেক করা
থাইরয়েড রোগীর জন্য পুষ্টিকর খাবার তালিকা
-ডাল, আলু, শাক-সবজি, ফল
-ডায়েট ও কম তৈলে রান্না করা খাবার
-হালকা মাছ, দুধ ও ডিম
-বাদাম, সয়াবীন ও ব্রাউন রাইস
-জিরা, আম ও শকরকন্দ
-জ্বালানি ছাড়া তৈরি খাবার
থাইরয়েড রোগ নিয়ন্ত্রণের উপায়:
-হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি
-রেডিওআইওডিন চিকিৎসা
-সার্জারি দ্বারা থাইরয়েডের অংশ বা সারা থাইরয়েড বাদ দেওয়া
-অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ঔষধ
-বেশি ক্যালসিয়াম ও আয়োডিনযুক্ত খাদ্য সেবন
TSH এর স্বাভাবিক মাত্রা কত
TSH-এর স্বাভাবিক মাত্রা 0.4 -4.0 mIU/L এর মধ্যে। যদি এর মাত্রা 2.0-এর বেশি হলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয় এবং মাত্রা কম হলে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।
এইভাবে থাইরয়েডকে নিয়ন্ত্রণ, তার সঠিক কাজ নিশ্চিত করুন এবং সুস্থ থাকুন! আমি আপনাকে থাইরয়েড সম্পর্কে আরো জানাতে পারি। স্বাস্থ্যবান থাকুন!
সংক্ষেপে দেখুনভিটামিন ডি আপনার শরীরের জন্য অপরিহার্য কেন?
ভিটামিন ডি: আপনার শরীরের অপরিহার্য অংশ কতজন জানেন যে ভিটামিন ডি আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? এটি কেবল আপনার হাড় এবং দাঁতের স্বাস্থ্য নিরাপদ রাখতে সাহায্য করেনা, বরং এটি আপনার ইমিউন সিস্টেম, মনোবৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য এবং আরও অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ভিটামিন ডি-এর অভবিস্তারিত পড়ুন
ভিটামিন ডি: আপনার শরীরের অপরিহার্য অংশ
কতজন জানেন যে ভিটামিন ডি আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? এটি কেবল আপনার হাড় এবং দাঁতের স্বাস্থ্য নিরাপদ রাখতে সাহায্য করেনা, বরং এটি আপনার ইমিউন সিস্টেম, মনোবৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য এবং আরও অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগেন। আমাদের দেশে সূর্যালোক প্রচুর না থাকা, নিম্নমানের খাবার গ্রহণ করা, দীর্ঘসময় ব্যায়াম না করা – এসব কারণেই অধিকাংশ মানুষ ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগেন।
আজকের লেখায় আমরা জেনে নেবো ভিটামিন ডি এর অভাব কেন ঘটে, তার লক্ষণ কী এবং তা থেকে কিভাবে বাঁচা যায়। এর পাশাপাশি, আমরা জানব ভিটামিন ডি-র উৎস কোথায় এবং তা থেকে আমাদের শরীর কি প্রকার সুফল লাভ করতে পারে। এতে স্বাস্থ্যবিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস পাবেন। আশা করি এটি আপনাকে সাহায্য করবে!
ভিটামিন ডি অভাবের কারণ
সূর্যালোকের অভাব
সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসলে আমাদের ত্বক ভিটামিন ডি তৈরি করে। কিন্তু বাংলাদেশে বছরভর্তি বৃষ্টির কারণে আমরা সূর্যালোকের প্রভাব কম পাই।
নিম্নমাত্রায় খাবার
ভিটামিন ডি পেতে খাদ্যে মাংস, ডেইরি পণ্য ও মাছ খাওয়া দরকার। কিন্তু দরিদ্রতার কারণে অধিকাংশ মানুষ এই খাবার খেতে পারে না।
বেশিরভাগই বাসার ভেতরে অতিবাহিত সময় কাটান
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই দৈনন্দিন কর্মসৃষ্টির জন্য বেশিরভাগ সময় বাসার ভেতরে কাটায়। এতে সূর্যালোকের পর্যাপ্ত প্রভাব পাওয়া যায় না এবং ফলে ত্বক থেকে ভিটামিন ডি তৈরি হয় না।
অলস জীবনধারা
অধিকাংশ বাংলাদেশি মানুষই কম ব্যায়ামের জীবনযাপন করেন। যারা অফিসকর্মী, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে এটি প্রভাবিত করে। ভিটামিন ডি তৈরির জন্য ব্যায়াম ও সূর্যের প্রভাব প্রয়োজনীয়।
কালো চর্মের মানুষদের ক্ষেত্রে
কালো চর্মের ব্যক্তিরা সূর্যের প্রভাব পেতে বেশি সময় লাগে তাদের ত্বক থেকে ভিটামিন ডি তৈরি করার জন্য। তাই তারা অন্য কোনো কারণেই যদি সূর্যালোক না পায় তবে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন ডি-এর অভাবের লক্ষণ
ভিটামিন ডি-এর অভাবের লক্ষণ হলো
– দুর্বল ও ভঙ্গুর হাড়
– পিঠে, শরীরে ব্যাথা
– মাথাব্যথা
– রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কমতি
– অস্থির মনোভাব
এসব লক্ষণ দেখা দিলে তার কারণ হিসেবে ভিটামিন ডি-এর অভাব নির্ণয় করা যায়। তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
ভিটামিন ডি এর অভাবের জন্য চিকিৎসা
ভিটামিন ডি-এর অভাব থেকে বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত:
– ডাক্তারের নির্দেশনায় ভিটামিন ডি গ্রহণ করা
– সূর্যালোকে বেশি সময় অবস্থান
– মাংস, ডেয়ারি, মাছ ও অন্যান্য ভিটামিন ডি যুক্ত খাদ্য গ্রহণ
– নিয়মিত ব্যায়াম
আরো ভিটামিন ডি পাওয়ার উপায়
চিকিৎসকের পরামর্শ মতে নিজেকে সুস্বাস্থ্য রাখার জন্য আরো কিছু উপায় রয়েছে:
– প্রতিদিন 15-30 মিনিট রোদে বের হওয়া
– দীর্ঘসময় কমপোশাকে বের হওয়া
– নিয়মিত ব্যায়াম ও মেডিটেশন
– স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অ্যাপে ট্র্যাক করা
– খাবার তালিকায় ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার রাখা
এসব অনুসরণ করে আপনি নিজেকে ভিটামিন ডি-এর অভাব থেকে রক্ষা করতে পারবেন এবং সুস্থ থাকবেন। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন এবং নিয়মিত পরীক্ষা করান।
ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারের তালিকা
ভিটামিন ডি-র সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা যায় মাংস, ডেয়ারি ও মাছ। তবে এসব সবাই খেতে পারছে না। এছাড়াও ভিটামিন ডি পেতে আরও কিছু স্বাভাবিক খাবার রয়েছে, যেমন-
– ডাল, চাউল – এতে ভিটামিন বি ১২ ও ভিটামিন ডি থাকে।
– শাকসবজি, যেমন পালঙ্গ, ফলি – এতে ভিটামিন ডি থাকে।
– তৈলাক্ত মাছ, যেমন ইলিশ – এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এয়ার্ড ও ভিটামিন ডি থাকে।
এগুলো খেয়েও ভিটামিন ডি-র অভাব পূরণ করা যায়। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ভিটামিন ডি ক্যাপসুল বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন।
ভিটামিন ডি অভাবের লক্ষণ দেখা দিলে তার কারণ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়াই ভালো। তবে খাবার পরিবর্তন করে এবং সূর্যালোকে বেশি সময় কাটানো ভিটামিন ডি-এর অভাব থেকে আপনাকে দূরে রাখতে পারে।
সংক্ষেপে দেখুনকি ধরনের কলকব্জা রয়েছে আমাদের মগজ ঘরে ?
প্রাণীদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কথা বললে নিঃসন্দেহে চলে আসবে মস্তিষ্কের নাম। আর সমস্ত প্রাণিজগতে মানুষ যে একটি আলাদা জায়গা দখল করে আছে তার পেছনেও কারিগর হিসেবে আছে তার উন্নত মস্তিষ্ক। মানবদেহের কোষ, টিস্যু, অঙ্গ, তন্ত্র ইত্যাদির কাজ ঠিকভাবে চলার জন্য তাদের মাঝে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের দরকার আছে।বিস্তারিত পড়ুন
প্রাণীদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কথা বললে নিঃসন্দেহে চলে আসবে মস্তিষ্কের নাম। আর সমস্ত প্রাণিজগতে মানুষ যে একটি আলাদা জায়গা দখল করে আছে তার পেছনেও কারিগর হিসেবে আছে তার উন্নত মস্তিষ্ক। মানবদেহের কোষ, টিস্যু, অঙ্গ, তন্ত্র ইত্যাদির কাজ ঠিকভাবে চলার জন্য তাদের মাঝে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের দরকার আছে।
ব্যাপারটিকে একটি উদাহরণের মাধ্যমে পরিষ্কার করা দরকার। ধরা যাক, আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ একটি সাপ দেখলেন। তারপর লাফ দিয়ে দূরে সরে গিয়ে ঐ জায়গা থেকে দৌড়ে পালিয়ে এলেন। এখানে কয়েকটি অঙ্গ একসাথে কাজ করেছে। প্রথমে চোখ দিয়ে দেখলেন। তারপর আপনার পায়ের পেশি ও অস্থিকে কাজে লাগিয়ে ঐ জায়গা থেকে দৌড়ে এলেন। এতে আপনার হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের পরিমাণ বেড়ে গেল। এই যে এতগুলো অঙ্গ একসাথে কাজ করলো, এর পেছনে কাজ করেছে আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র। মস্তিষ্ক এবং সুষুম্না স্নায়ু দিয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত। এদের নিয়েই কথা হবে আজ।

যুক্তরাষ্ট্রে মস্তিষ্কের ভাস্কর্য। গঠনগত দিক থেকে সঠিকভাবে তৈরি; Source: indiana.edu
অ্যারিস্টটল মনে করতেন, হৃৎপিণ্ড বুদ্ধিমত্তার কাজ করে। আর মস্তিষ্ক রক্ত ঠাণ্ডা রাখে। কিন্তু এখন আমরা সবাই জানি, তিনি ভুল ছিলেন।
মস্তিষ্ক আমাদের করোটির ভেতরে অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় থাকে। ভর প্রায় ১.৩৬ কেজি। দেহের ভরের অনুপাতে মানুষের মস্তিষ্ক অন্য যেকোনো প্রাণীর চেয়ে বড়। মানুষের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তার কার্যকরিতার প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়তই দেখি। এতে প্রায় দশ বিলিয়ন নিউরন আছে। স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একক নিউরন। আমরা যদি নিউরনের গঠনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখব নিউরনের দুটি প্রধান অংশ আছে। একটি কোষ দেহ (Soma), আরেকটি প্রলম্বিত অংশ (Process)। প্রলম্বিত অংশ আবার অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট এই দুই ভাগে বিভক্ত।
একটি নিউরনে সাধারণত একটি অ্যাক্সন থাকে। অ্যাক্সনগুলো মায়োলিন সিথ দিয়ে আবৃত থাকে। কিছু জায়গায় মায়োলিন সিথের আবরণ থাকে না। একে র্যানভিয়ারের পর্ব বলে। অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তে টার্মিনাল নব থাকে। মস্তিষ্কের মধ্যে নিউরনগুলো সিন্যাপ্স তৈরির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে। সিন্যাপ্সের মাধ্যমে ইলেকট্রিক সিগন্যাল এক নিউরন থেকে আরেক নিউরনে চলাচল করে। এই সিগন্যাল সবসময় একমুখী। এটি ডেনড্রাইট দিয়ে প্রবেশ করে আক্সন দিয়ে গিয়ে অবশেষে টার্মিনাল নব দিয়ে আরেকটি ডেনড্রাইটে প্রবেশ করে। এভাবেই এক নিউরন থেকে আরেক নিউরনে ইলেকট্রিক সিগন্যাল চলে যায়।


নিউরনের চিত্র: Source: Wikimedia
সিনাপ্স তৈরির প্রক্রিয়া; Source: Wikimedia
সিন্যাপ্স তৈরির সময় দুটি নিউরন কাছাকাছি আসে, কিন্তু তারা কেউ কাউকে স্পর্শ করে না। মাঝখানে একটি খালি জায়গা থেকে যায়। একে বলা হয় সিন্যাপ্টিক ক্লেফট। এটি দৈর্ঘ্যে ২০ ন্যানোমিটার হয়। তারপর আয়ন বিনিময়ের মাধ্যমে নিউরোট্রান্সমিটার এক নিউরন থেকে আরেক নিউরনে প্রবেশ করে। এভাবেই সিন্যাপ্স সংঘটিত হয়। দশ বিলিয়ন নিউরন সিন্যাপ্সের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে।
গঠন অনুযায়ী নিউরনকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। ইউনিপোলার, বাইপোলার এবং মাল্টিপোলার। ইউনিপোলার নিউরনে একটি অ্যাক্সন থাকে। বাইপোলার নিউরনে একটি অ্যাক্সন এবং একটি ডেন্ড্রাইট থাকে। মাল্টিপোলার নিউরনে একটি অ্যাক্সন এবং অনেকগুলো ডেন্ড্রাইট থাকে। কিছু কিছু ইউনিপোলার নিউরন আছে, যাদের দেখলে মনে হয় দুটি অ্যাক্সন আছে। কিন্তু আসলে তাদের অ্যাক্সন একটিই। এদের সিউডোপোলার নিউরন বলে।




গঠনভেদে নিউরনের প্রকারভেদ; Source: Dreams time
সিউডোপোলার নিউরন; Source: Anatomy zone
নিউরনের কাজের ধরন অনুযায়ী সেনসরি নিউরন বা সংবেদী নিউরন এবং মোটর নিউরন নিউরন এই দু’ভাগে ভাগ করা যায়। ধরা যাক, আপনি হাতের আঙুল জলন্ত মোমবাতির উপর ধরলেন। সাথে সাথে আপনার হাতের ত্বকের কোষের রিসেপ্টর থেকে সেই তথ্য আপনার মস্তিষ্কে চলে যাবে এবং আপনি জ্বালা অনুভব করবেন। এই যে হাত থেকে মস্তিষ্কে তথ্যটি গেল একে বলা হয় সেন্সরি নিউরন। এখন মস্তিষ্ক আপনার হাতকে মোমবাতির উপর থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিল। এই যে মস্তিষ্ক থেকে হাতে নির্দেশটি গেল একে বলা হয় মোটর নিউরন।
জ্বলন্ত মোমবাতিতে হাত দেয়ার ফলে মোটর ও সেনসরি নিউরনের কার্যকলাপ; Source: youtube
মস্তিষ্কের বাইরে একটি আবরণ থাকে যা মস্তিষ্ককে রক্ষা করে। একে মেনিনজেস বলে। মেনিনজেস পর্দার তিনটি স্তর আছে। প্রথম স্তরকে ডুরা ম্যাটার, দ্বিতীয় স্তরকে আরাকনয়েড ম্যাটার এবং তৃতীয় স্তরকে পায়া ম্যাটার বলে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরের মাঝের জায়গাকে সাব আরাকনয়েড স্পেস বলে। সাব আরাকনয়েড স্পেসে একধরনের স্বচ্ছ তরল থাকে। একে সেরেব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড বা সিএসএফ বলে। এই তরল পদার্থ থাকার ফলে একধরনের সুবিধা হয়। আমরা তরলের প্লবতা নীতির কথা জানি। প্লবতায় তরলের উপরিমুখী বলের ফলে বস্তু হালকা অনুভূত হয়। ঠিক এই কারণে আমাদের ঘাড়ে প্রায় দেড় কেজি ভরের মস্তিষ্ক থাকার পরেও আমরা এর ওজন অনুভব করি না। আমাদের শরীরে কোনো সংক্রমণ হলে আমরা রক্ত পরীক্ষা করি। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্কে কোনো সংক্রমণ হলে সিএসএফ পরীক্ষা করতে হয়।
মেনিনজেসের তিনটি স্তর; Source: thoughtco
মস্তিষ্ককে গঠন অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা যায়। অগ্র মস্তিষ্ক বা Procensencephalon, মধ্য মস্তিষ্ক বা Mesencephalon এবং পশ্চাৎ মস্তিষ্ক বা Rhombencephalon। নাম শুনে মনে হতে পারে অগ্র মস্তিষ্ক করোটির সামনের অংশ অগ্র মস্তিষ্ক, মাঝের অংশ মধ্য মস্তিষ্ক এবং পেছনের অংশ পশ্চাৎ মস্তিষ্ক। কিন্তু আদতে ব্যাপারটি এমন নয়। মস্তিষ্কের উপরের অংশকে অগ্র মস্তিষ্ক, মাঝের অংশকে মধ্য মস্তিষ্ক এবং তার নিচের অংশকে পশ্চাৎ মস্তিষ্ক বলে।
অগ্র মস্তিষ্কেও তিন ভাগে ভাগ করা যায়। সেরেব্রাম, থ্যালামাস এবং হাইপোথ্যালামাস। সেরেব্রাম মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ। সমগ্র মস্তিষ্কের প্রায় আশি ভাগ হলো সেরেব্রাম। আমরা সবাই জানি আমাদের মস্তিষ্কের বাম দিককে বাম মস্তিষ্ক এবং ডান দিককে ডান মস্তিষ্ক বলে। তাই সেরেব্রামেও ডান ও বাম দিক আছে। সেরেব্রামের ডান অংশকে ডান সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ার এবং বাম অংশকে বাম সেরেব্রাল হেমেস্ফিয়ার বলে। হেমি কথাটার অর্থ হলো অর্ধেক আর স্ফেয়ার কথাটার অর্থ হলো গোলক। ডান সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ার আমাদের শরীরের বাম দিককে এবং বাম সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ার আমাদের শরীরের ডান দিককে নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের বাম মস্তিষ্কে থাকে যুক্তি, অঙ্ক কষা, জাগতিক চিন্তাভাবনা আর আমাদের ডান মস্তিষ্কে থাকে কল্পনা, সৃজনশীলতা।


বাম এবং ডান মস্তিষ্ক; Source: Creative Jaunt
সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ার অনেক বড় বিধায় একে নিয়ে কাজ করার সুবিধার জন্য পাঁচটি লোবে বিভক্ত করা হয়েছে। এই পাঁচটি লোবের মধ্যে চারটির নাম দেয়া হয়েছে করোটির অস্থির অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। এরা হলো ফ্রন্টাল, প্যারাইটাল, অক্সিপেটাল এবং টেম্পোরাল। আরেকটি লোব হলো লিম্বিক। সেরেব্রামের উপরের অংশ কিন্তু সমতল নয়। এটার কিছু জায়গা উঁচু, আবার কিছু জায়গা নিচু। উঁচু জায়াগাকে বলা হয় জাইরাস আর নিচু জায়গাকে বলা হয় ফিসার। আমাদের মস্তিষ্কে তিনটি প্রধান ফিসার আছে। সেন্ট্রাল ফিসার, প্যারাইটো-অক্সিপেটাল ফিসার এবং ল্যাটারাল ফিসার। বাম ও ডান সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ারকে আলাদা করেছে সেন্ট্রাল ফিসার। তবে বাম ও ডান সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ার সম্পূর্ণরূপে আলাদা নয়। তারা কর্পাস ক্যালোসামের সাহায্যে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত। এর মাধ্যমেই আমাদের বাম ও ডান মস্তিষ্কের কার্যকলাপে সমন্বয় রক্ষিত হয়। সেরেব্রামের বাইরের দিক ধূসর এবং ভেতরের দিক সাদা। সেরেব্রাম আমাদের সৃজনশীল চিন্তা, কথা বলা সহ অনেক কাজে সাহায্য করে।
অগ্র মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ
অগ্র মস্তিষ্কের আরেকটি অংশ হলো থ্যালামাস। সেরেব্রামের ঠিক নিচেই থ্যালামাস অবস্থিত। থ্যালামাসের মাধ্যমে আমরা চাপ, তাপ, অনুভূতি অনুভব করি। রাতে হঠাৎ জেগে ওঠার ক্ষেত্রেও থ্যালামাসের ভূমিকা আছে।
হাইপোথ্যালামাস থ্যালামাসের ঠিক নিচে অবস্থিত। আকারে থ্যালামাসের চেয়ে অনেক ছোট হলেও এটা মস্তিষ্কের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ হাইপোথ্যালামাসের সাথে যুক্ত আছে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড। এখান থেকে ভ্যাসোপ্রেসিন এবং অক্সিটোসিন নামের দুটি হরমোন নিঃসৃত হয়। ভ্যাসোপ্রেসিনকে অ্যান্টি ডাই ইউরিটিক হরমোন বলা হয়। নাম থেকে বোঝা যাচ্ছে এর কাজ পানি স্বল্পতার সময় মূত্র তৈরির প্রক্রিয়াকে কমিয়ে দেয়। আর অক্সিটোসিনের কাজ প্রসবের সময় মহিলাদের জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করা। হাইপোথ্যালামাস আমাদের ভালোবাসা, রাগ, দুঃখ, অভিমান নিয়ন্ত্রণ করে।
মধ্য মস্তিস্কের তিনটি অংশ রয়েছে। কোর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা, সেরেব্রাল পেডাংকল এবং সেরেব্রাল অ্যাকুইডাক্ট। কোর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা হাইপো থ্যালামাসের নিচে অবস্থিত। সেরেব্রাল অ্যাকুইডাক্ট একটি নালী, যা মস্তিষ্কের ৩য় ও ৪র্থ গহ্বরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। এখানে বলে রাখি, মস্তিষ্কে চারটি গহ্বর বা ভেন্ট্রিকল রয়েছে।

সংক্ষেপে দেখুনমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ; Source: kids press magazine
পশ্চাৎ মস্তিষ্কেরও অংশ তিনটি। সেরেবেলাম, পনস এবং মেডুলা অবলংগাটা। সেরেবেলাম মস্তিষ্কের দ্বিতীয় বৃহৎ অংশ। এর ভর ১৫০ গ্রাম। সেরেবেলামেরও বাম ও ডান অংশ রয়েছে। এই দুটি অংশ যুক্ত থাকে ভার্মিস নামক যোজক কলা দিয়ে। এই অংশটি আমাদের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। পনস সেরেবেলাম ও মেডুলা অবংগাটার সাথে সংযোগ রক্ষা করে। পনস বমন, শ্বসন হার, পাকস্থলির প্যারিস্টালসিস নিয়ন্ত্রণ করে। মেডুলা অবলংগাটা সুষুম্না কান্ডের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এভাবেই মস্তিষ্ক আমাদের সারা দেহের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে চলছে। বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের নিত্য নতুন তথ্য আবিষ্কার করে চলেছেন।
স্লিপওয়াকিং কি ধরনের রোগ?
কল্পনা করুন তো, রাতে ঠিকমতোই ঘুমিয়েছিলেন নিজের ঘরে। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। নিজেকে আবিষ্কার করলেন ঘন জঙ্গলে, চারপাশে জমাট বাধা বিদঘুটে অন্ধকার, শিয়াল ডাকছে। আপনি কিভাবে এখানে এলেন সেটা হাজার চেষ্টাতেও মনে করতে পারছেন না। অথবা ঘুম ভাংলে দেখলেন গাড়িতেই বসে আছেন এবং গাড়িটি কোনো এক গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে উবিস্তারিত পড়ুন
কল্পনা করুন তো, রাতে ঠিকমতোই ঘুমিয়েছিলেন নিজের ঘরে। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। নিজেকে আবিষ্কার করলেন ঘন জঙ্গলে, চারপাশে জমাট বাধা বিদঘুটে অন্ধকার, শিয়াল ডাকছে। আপনি কিভাবে এখানে এলেন সেটা হাজার চেষ্টাতেও মনে করতে পারছেন না। অথবা ঘুম ভাংলে দেখলেন গাড়িতেই বসে আছেন এবং গাড়িটি কোনো এক গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে উলটে পড়ে আছে। আপনি মনেই করতে পারলেন না যে, ঘুমিয়েছিলেন নিজের ঘরে অথচ জেগে উঠলেন ঘন জঙ্গলে বা ধাক্কা খাওয়া গাড়ির ভেতর। অনেকটা ভৌতিক কিংবা অনেকটা সিনেমার মতোই মনে হবে বিষয়টি। তবে যা ঘটেছে তা কিন্তু আপনিই ঘটিয়েছেন। কিন্তু কিভাবে সম্ভব?
ব্যোমকেশপ্রিয় মানুষেরা কলকাতা বাংলা আর্টফিল্ম ‘শজারুর কাঁটা’ দেখেননি, এমনটি হওয়ার কথা নয়। এই সিনেমায় প্রায়শ রাতে একের পর এক মানুষ খুন হয়ে যায়। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে প্রতিটি খুনই করা হয় শজারুর কাঁটা দিয়ে এবং পিঠের একটি বিশেষ অংশে এই কাঁটা বসিয়ে। তো ব্যোমকেশ বাবুর উপর এই তদন্তের ভার পড়লে অবশেষে তিনি খুনিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। কিন্তু যেটা রোমাঞ্চকর সেটা এই শজারুর কাঁটা নয়, ওটা ছিলো নিছক হাতিয়ার। রোমাঞ্চকর ব্যাপার হচ্ছে খুনি প্রবাল খুনের সময় টেরই পায় নি যে সে খুন করেছে বা করছে। ব্যোমকেশ বাবুর মতে প্রবাল ঘুমের ভেতরই এই খুন করেছে। এই অবস্থাকেই বলা যায় নিদ্রাভ্রমণ বা স্লিপওয়াকিং (Sleepwalking)। প্রেমিকাকে হারাবার দুশ্চিন্তা, নাটকদলের জন্য দুশ্চিন্তা ইত্যাদিই প্রবালকে এই সমস্যার সম্মুখীন করেছিলো। তাছাড়া শেক্সপীয়র তাঁর ‘ম্যাকবেথ’ নাটকেও স্লিপওয়াকিং সম্বলিত একটি দৃশ্য তৈরী করেছেন।
স্লিপওয়াকিং; Image Source: activemomsnetwork.com
নাটকে বা সিনেমায় দেখে বিষয়টিকে অনেকটা ফিকশন মনে হলেও বাস্তবে স্লিপওয়াকিং-এর অনেক প্রমাণ পাওয়া যায় যার দুই-একটি ক্ষেত্রে ফলাফল সিনেমার মতোই ভায়াবহ পর্যায়ে গিয়েছে। মূলত ৪-৮ বছর বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সচরাচর দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হতে পারে। এই লেখাটিতে থাকছে স্লিপওয়াকিং নিয়ে কিছু অজানা তথ্য।
স্লিপওয়াকিং বা নিদ্রাভ্রমণ কী?
স্লিপওয়াকিং বা নিদ্রাভ্রমণ (বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় Somnambulism অথবা Noctambulism) বলতে বোঝায় ঘুম এবং ভ্রমণের অর্থাৎ চলাফেরার যৌগিক রূপ। সহজে বলতে গেলে ঘুমের ভেতর স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করা, যদিও সেটা স্বাভাবিক না। চিকিৎসকেরা একে প্যারাসোমনিয়া (Parasomnia) গোত্রভূক্ত করে থাকেন। প্যারাসোমনিয়া একটি ঘুম সংক্রান্ত ব্যাধিগোত্র, যেখানে মূলত ঘুমের ভেতর মানুষের বিভিন্ন আচরণগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে; যেমন ঘুমের ভেতর কথা বলা, চলাফেরা করা, কাঁদা, দাঁত কিড়মিড় করা ইত্যাদি। তবে এক্ষেত্রে সব সময় গভীর ঘুমেরও আবশ্যকতা নেই। আধা ঘুম, পূর্ণ ঘুম অথবা ঘুম থেকে জেগে ওঠার পূর্বমুহূর্তেও এসব ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে স্লিপওয়াকিং সাধারণত গভীর ঘুমের সময়েই হয়ে থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Slow Wave Sleep Stage (SWSS)। এই সময়ে ঘুমন্ত ব্যক্তির চেতনা থাকে খুবই ক্ষীণ, অর্থাৎ বাহ্যিক জগৎ থেকে বলা যায় প্রায় সম্পূর্ণ যোগাযোগবিহীন। কিন্তু একই সময়ে স্লিপওয়াকিং-এ আক্রান্ত ব্যক্তি মনের অজান্তেই এমন কাজ করে ফেলেন, যা দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে তিনি জেগে আছেন না ঘুমিয়ে আছেন। যেমন- তিনি বিছানার উপর উঠে বসলেন, তারপর বাথরুমে গেলেন কিংবা রান্নাঘরে গেলেন অথবা গাড়ি ড্রাইভিং এর মতো বিপদজনক কাজও করে ফেলতে পারেন!

Image Source: mediologiest.com
স্লিপওয়াকিং এর ক্ষেত্রে এই রোগে (অবশ্য একে রোগ বলা যাবে কিনা এ নিয়ে মতবিরোধ আছে) আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুমন্ত অবস্থায় করা কাজগুলো পুনরাবৃত্তিক ধরণের হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি ঘুমের ভেতর তার রান্নাঘর পর্যন্ত যদি যান, তবে পরে প্রায় প্রতিবারই তার রান্নাঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। যদিও ঘুমন্ত অবস্থায় সাধারণ কাজ করার কথা থাকলেও, রিপোর্টে দেখা যায় মাঝেমধ্যে কিছু জটিল আচরণও ওই ব্যক্তি করতে পারেন।
সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি জানতেই পারেন না যে তিনি আসলে কি করছেন বা করেছেন। কারণ প্রায় অচেতন অবস্থায় করা কাজ যেমন তিনি অনুভব করতে পারেন না, তেমনি মস্তিষ্ক এই কাজের কোনো স্মৃতি রাখতে পারে না। কারণ এই সময় মস্তিষ্কের চেতনার অংশ বিশ্রাম অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ বিষয়টি তার কাছে অজানাই থেকে যায়। কিন্তু তাদের চোখ খোলা থাকতে পারে। যদিও দেখে মনে হতে পারে মদ্যপান বা ঘুমের কারণে ঢুলছেন।
গবেষণায় দেখা যায় যে, স্লিপওয়াকিং এর সময়কাল সর্বনিম্ন ৩০ সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত রাতের প্রথম তৃতীয়ার্ধে এই সমস্যাটি ঘটতে দেখা যায়। কারণ এই সময়ই ঘুম গভীর হতে থাকে এবং যদি এই ধরণের অবস্থার সৃষ্টি হয়েই থাকে তবে প্রতি রাতে একবারই হয়।
স্লিপওয়াকিং-কে ২টি শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম ক্ষেত্রে আছে ঘুমের ভেতর চলাফেরার করার সাথে সাথে ঘুম সংক্রান্ত খাওয়া-দাওয়া (Sleep-eating)। এই ক্ষেত্রে ঘুমের ভেতরই ব্যক্তি খাওয়া-দাওয়া করতে পারে। ধারণা করা হয় অতিরিক্ত মানসিক চিন্তা করা বা ঘুমের ওষুধ (যেমন Ambien) ব্যবহারের কারণে এ ধরণের সমস্যা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রান্না করে খাওয়ারও প্রবণতা দেখা যায়। দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্ষেত্রে দেখা যায় ঘুমের ভেতর ঘুম সংক্রান্ত যৌন আচরণ (বা sexsomnia)।
পরিসংখ্যান কী বলে?
পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে প্রায় ১৫% শিশুই ঘুমের ভেতর ভ্রমণ করে এবং কারো কারো ক্ষেত্রে এই সমস্যা আস্তে আস্তে প্রকট হতে থাকে। পৃথিবীর মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৮-১৯% মানুষই স্লিপওয়াকার (Sleepwalker), যাদের মধ্যে শিশু-কিশোর এবং পূর্ণবয়স্ক মানুষ আছে- প্রায় ৬.৯% মেয়ে শিশু, ৫.৭% ছেলে শিশু, ৩.১% পূর্ণবয়স্ক মহিলা এবং ৩.৯% পূর্ণবয়স্ক পুরুষ। সবথেকে বেশি স্লিপওয়াকিং এর রেকর্ড আছে ১১ থেকে ১২ বছর বয়সের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, যা প্রায় ১৬.২%।
গবেষণায় দেখা যায় শিশু (যাদের বয়স ২ থেকে ১২ বছর) ও প্রাপ্তবয়স্করা রাতের ৮০%-ই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, যেখানে ২ বছর বা তার কম বয়সের বাচ্চাদের (Infant) ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৫০%। দুশ্চিন্তাজনিত কারণে কোনো মানুষের স্লিপওয়াকিং-এর সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের থেকে ৩.৫ গুণ হয়ে থাকে।
স্লিপওয়াকিং এর কারণ
স্লিপওয়াকিং এর সঠিক কারণ জানা এখনও সম্ভব না হলেও গবেষক ও চিকিৎসকের ধারণমতে বেশ কয়েকটি কারণ পাওয়া যায়। যদিও কারণগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে এখনো প্রমাণিত নয়। অর্থাৎ এই কারণগুলো এখনো প্রকল্পিত (Hypotheses) হিসেবে ধরে নেয়া হয়। ধারণা করা হয় সঠিক সময়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের পূর্ণতার অভাবে এই সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যা প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে শিশুদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যায়।
স্লিপওয়াকিং-কে গবেষকরা তৃতীয় পর্যায়ের (Stage-3) Rapid Eye Movement (REM) Disorder ধরণের ঘুমের কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। REM ঘুমের সময় সাধারণত আমরা স্পষ্টভাবে স্বপ্ন দেখে থাকি। এই সময়ে মস্তিষ্কের মোটর অংশ বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং এর ফলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো হঠাৎ ঝাঁকি খায় যা পরবর্তীতে জটিল গতিবিধির সৃষ্টি করে। এতে করে ব্যক্তি তার স্বপ্ন অনুযায়ী অবচেতনভাবে হাঁটাচলা করে থাকে। আবার শিশুদের ক্ষেত্রে Stage-3 তে বৃদ্ধি হরমোন নিঃসৃত হয়ে থাকে। যতই বয়স বাড়ে, এই হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ তত কমে যেতে থাকে। মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে এই Stage-3 হরমোনের কারণেই স্লিপওয়াকিং এর মাত্রা বেশি দেখা যায়।
আরো জানা যায় যে, এই সমস্যাটি বংশানুক্রমিক ভাবে প্রবাহিত হতে পারে, অর্থাৎ জীনগত হয়ে থাকে। যেমন কোনো ব্যক্তির পিতা-মাতা, ভাই অথবা বোনের যদি এই সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির স্লিপওয়াকিং এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের থেকে ১০ গুণ বেশি হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৪৫% শিশু যারা স্লিপওয়াকিং এ আক্রান্ত, তাদের পিতা-মাতার যেকোনো একজন এই সমস্যায় আক্রান্ত। এই পরিমাণ ৬০% পর্যন্ত হতে পারে যদি পিতা-মাতার দুজনই স্লিপওয়াকিং সমস্যায় ভোগে।
কিন্তু কেবল জীনগত কারণেই যে এই সমস্যা দেখা দেবে এমন না। বাহ্যিক পরিবেশের প্রভাবে বা মানসিক সমস্যার কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আরো কিছু কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- (১) অপর্যাপ্ত ঘুম, (২) বিশৃঙ্খল পরিবেশে ঘুমানো, (৩) অতিরিক্ত অবসাদ, (৪) মদ্যপান, (৫) ঘুমের ওষুধ সেবন ইত্যাদি। কতিপয় ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যাও এই সমস্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকতে পারে। যেমন- (১) হৃদস্পন্দনজনিত সমস্যা, (২) অতিরিক্ত জ্বর, (৩) রাত্রিকালীন অ্যাজমা বা হাঁপানি বা হৃদরোগের সমস্যা, (৪) ঘুমানোর সময় দম আটকে যাওয়ার সমস্যা কিংবা (৫) মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা (যেমন ভয়ভীতি)
উপসর্গ
স্লিপওয়াকিং এর সমস্যা মূলত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন অবস্থায় হয়ে থাকলেও কখনো কখনো হালকা ঘুমের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। অনেকে আবার একে অ্যালকোহল বা মাদক সেবনজনিত সমস্যার সাথে মিলিয়ে ফেলেন। কারণ সেক্ষেত্রেও স্মৃতিবিলোপের (amnesia) সম্ভাবনা থেকে থাকে যা স্লিপওয়াকিং এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে মাদক সেবনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যক্তির চেতনা থাকে অনেকখানি, ফলে সহজেই সে সাড়া দিতে পারে।
যেহেতু স্লিপওয়াকিং এ আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুমন্ত অবস্থায় ভ্রমণকালের কোনো স্মৃতি থাকে না, ফলে সে হয়তো কখনো কখনো জানতেই পারে না তার সমস্যা কি। এক্ষেত্রে রোগ ধরবার উপায় কেবল পাশের মানুষটিরই থাকে, অর্থাৎ পিতা-মাতা বা সাথে থাকা বন্ধুই সমস্যাটি জানতে পারে।
এই ব্যাধির উপসর্গ খুব সহজে চিহ্নিতও করা যায় না। কারণ ঘুমিয়ে থাকলেও তার চলাফেরা স্বাভাবিক মানুষের মতো হয়ে থাকে এবং একই সাথে চোখ খোলা থাকে। তবে ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, চোখজোড়া ঘুমে অনেকটাই আচ্ছন্ন এবং খুব সম্ভবত চোখের পলক পড়ে না। এই অবস্থায় তাকে কোনো প্রশ্ন করা হলে সাড়া পাওয়া যায় না বা সাড়া পাওয়া গেলেও সাড়া দিতে অনেক সময় নিয়ে থাকে।
যাদের এই সমস্যা খুব পুরাতন হয়ে যায়, তারা বেশ তাড়াতাড়িই জেগে ওঠে। কিন্তু যারা এই সমস্যায় নতুন আক্রান্ত হয়, তারা সহজে জেগে উঠতে পারে না। স্লিপওয়াকিং এর সময়ে আরো কিছু লক্ষণ দেখা যায় যার মধ্যে আছে (১) ঘুমের ভেতর কথা বলা, (২) অযাচিত আচরণ যেমন বিছানায় প্রস্রাব করা (যেহেতু সমস্যাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে) কিংবা (৩) ঘুমের ভেতরই চিৎকার করা ইত্যাদি।
চিকিৎসা বা প্রতিকার
সাধারণত স্লিপওয়াকিং এর প্রতিরোধ বা প্রতিকারের জন্য এখনো কোনো সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তবে স্বাস্থ্যকরভাবে ও নিয়ম মেনে সঠিক সময়মতো পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস করলে আস্তে আস্তে এই সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ হতে পারে। যদি কেউ উপলব্ধি করে যে, তার স্লিপওয়াকিং এর সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারে।

সম্মোহন পদ্ধতি; Image Source: lightwarriorslegion.com
আবার মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার প্রতিকারে মনোবিশ্লেষণ পদ্ধতি বা সম্মোহন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। বয়ঃপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই সমস্যার সমাধান হিসেবে সম্মোহন (Hypnosis) পদ্ধতিরই আশ্রয় নেয়া হয়। আবার তারা (মনস্তত্ত্ববিদেরা) নিয়ম করে রাতে ঘুম ভাঙ্গা (Anticipatory waking) যেন স্লিপওয়াকিং এর সুযোগ না থাকে, মনকে কেন্দ্রীভূত করতে যোগব্যায়াম (Meditation) ইত্যাদির পরামর্শও দিয়ে থাকেন।
যেহেতু অতিরিক্ত অবসাদ বা দুশ্চিন্তা থেকে এই সমস্যা হতে পারে, ফলে সেক্ষেত্রে অবসাদ বা চিন্তামুক্ত হলেই এই সমস্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অবশ্য এক্ষেত্রে ফার্মাকোলজিক্যাল থেরাপি হিসেবে Sedative-hypnotics বা Anti-depressants ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয় যেখানে প্রথমটি প্রশান্তিমূলক ঘুমের জন্য এবং দ্বিতীয়টি দুশ্চিন্তা থেকে ব্যক্তিকে মুক্ত রাখার জন্য কার্যকর।
স্লিপওয়াকিং সম্পর্কিত কতিপয় ঘটনা
স্লিপওয়াকিং এর কারণে ব্যক্তির আহত হওয়ার সম্ভাবনা যেমন থাকে, তেমনি অন্য ব্যক্তির জন্যও তা মাঝেমধ্যে বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে। এই সমস্যা কখনো কখনো খুন পর্যন্তও গড়াতে পারে। ফলে সহজেই স্লিপওয়াকিং-কে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অ্যালীবাই হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কারণ সেক্ষেত্রে স্লিপওয়াকিং-এর জন্য যেমন উপসর্গ নিরূপণের কোনো সঠিক উপায় নেই, তেমনি এর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন-কানুনও নেই।
১৯৬৩ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের একজন বিচারক, লর্ড মরিস (John William Morris) স্লিপওয়াকিং এর বিষয়ে একটি আইন প্রণয়ন করেন, যেখানে বলা আছে যে প্রত্যেকটি ঘটনার ক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু যদি এমন প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ব্যক্তি অপরাধমূলক কাজের সময়ে স্লিপওয়াকিং অবস্থায় ছিলো অর্থাৎ অবচেতন ছিলো, তাহলে তাকে সেই অপরাধের দায় থেকে মুক্ত করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে কিছু ঘটনার কথা বলা যায় যেখানে স্লিপওয়াকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে-
১) ১৮৪৬ সালে অ্যালবার্ট টিরেল (Albert Tirrell) নামক ব্যক্তি মারিয়া বিকফোর্ড নামক বোস্টন পতিতালয়ের একজন পতিতার খুনের মামলার ডিফেন্স হিসেবে স্লিপওয়াকিং এর কথা তুলে ধরে এবং অবশেষে মুক্তি পায়। যদিও মারিয়ার সাথে টিরেলের প্রণয়ের সম্পর্ক ছিলো, যার জন্য টিরেল তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়। টিরেলই প্রথম ব্যক্তি যে মামলার ডিফেন্স হিসেবে স্লিপওয়াকিং-এর কথা আনে।
২) ১৯৮১ সালে স্টিভেন স্টেইনবার্গ (Steven Steinber) নামক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত করা হলেও ডিফেন্স হিসেবে স্লিপওয়াকিং-কে দাঁড় করালে শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়।
৩) ১৯৯১ সালে বার্গেস (Burgess) নামক ব্যক্তিকে তার প্রেমিকার মাথায় ওয়াইনের বোতল দ্বারা আঘাত করার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হলেও সিসি ক্যামেরা ফুটেজে তার অবচেতন ব্যবহার বা নিদ্রাভ্রমণ এর প্রমাণ পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
৪) ১৯৯২ সালে কেনেথ পার্কস (Kenneth Parks) নামক ব্যক্তি তার শাশুড়িকে খুন করা ও শ্বশুরকে খুন করতে উদ্যত হওয়ার কারণে এবং আহত করার কারণে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে মুক্ত করা হয়। ২০ বছর বয়সে পার্কস তার চাকরি হারানোর পর ইনসোমনিয়াতে ভুগতে শুরু করে এবং জুয়াতে আসক্ত হয়। যদিও তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে তার সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো ছিলো এবং তার স্ত্রী তার পক্ষেই ছিলো।
৫) মধ্যবয়সী এক অস্ট্রেলীয়ান নারীও (গোপনীয়তার কারণে তার নাম অদ্যাবধি প্রকাশ করা হয় নি) এই সমস্যায় ভুগতো। যদিও তার কোনো খুনের ইতিহাস নেই। তবে তার ঘটনা অন্যরকম। সে প্রতি রাতেই ঘুমের ভেতর ঘর থেকে বের হয়ে যেত এবং একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তির সাথে যৌনতায় লিপ্ত হতো। কিন্তু সে নিজে, তার স্বামী বা সেই আগন্তুক কেউই বিষয়টা আন্দাজ করতে পারে নি। পরবর্তীতে একদিন তার স্বামীর ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর তার স্ত্রীকে খুঁজতে গিয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে।

স্লিপ ইটিং নমুনা চিত্র; Image Source: listverse.com
৬) এছাড়া লেসলি কুস্যাক (Lesley Cusack) নামক এক মহিলার ঘুমের ভেতর রান্না করা এবং খাওয়ার (Sleep eating) ঘটনাও পাওয়া যায়। ভদ্রমহিলা নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে ডায়েট করতেন। কিন্তু রাতে ঘুমের ভেতরই তিনি প্রায় ২,৫০০ ক্যালোরির মতো খাবার খেয়ে ফেলার ইতিহাস তৈরী করেন। তবে যেটা ভয়ের সেটা ছিলো ঘুমের ভেতর তার রান্না করা। কারণ সারা রাত গ্যাসের চুলা জ্বালানো থাকতো।
৭) ১৯৯৪ সালে রিক্সজার (Ricksger) এবং ১৯৯৯ সালে ফালাটার (Falater) নামক ব্যক্তিদের ঘুমের ভেতর তার স্ত্রীকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় এবং যাবজ্জীবন কারাবাস দেয়া হয়। এক্ষেত্রে তাদের কাউকেই মুক্তি দেয়া হয় নি।
৮) ১৯৯৮ সালে জেমস কারেন (James Currens) নামক এক ব্যক্তি ঘুমের ভেতরই হাতে তার লাঠি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু যখন তার ঘুম ভাঙে, তখন সে নিজেকে কোনো এক পুকুরে বুকজলে আবিষ্কার করে, যেখানে সে কাদায় আটকে পড়েছিলো। তবে ভয়ংকর ব্যাপার তখনই হলো যখন সে আবিষ্কার করলো যে, সে কয়েকটি কুমির দ্বারা বেষ্টিত। যদিও পুলিশের আগমনে সেই যাত্রায় বেঁচে যায় কারেন।
৯) ২০০৩ সালে জ্যান লুডেক (Jan Luedecke) নামক এক ব্যক্তিকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। জ্যান কোনো একটি পার্টিতে উপস্থিত ছিলো এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের একপর্যায়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে। কয়েক ঘন্টা পর যখন সে ওঠে তখন পার্টিতে উপস্থিত এক মহিলাকে সে ধর্ষণ করে। যদিও সে বলে যে সে এই ব্যাপারে কিছুই জানে না কারণ সে তখনও ঘুমের ভেতর ছিলো।
১০) ২০০৮ সালে ব্রায়ান থমাস (Brian Thomas)-কে তার স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক করা হয়। তার ভাষ্যমতে সে স্বপ্নে দেখছিলো যে কেউ একজন তার ঘরে অনধিকার প্রবেশ করছে এবং সে তাকে হত্যা করেছে। আদালত তাকে মুক্তি দেয়।

মৃত অবস্থায় পাওয়া টিমোথি; Image Source: buzzfeed.com
১১) সর্বশেষ টিমোথি বার্গম্যান (Timothy Brueggeman) নামক ব্যক্তি ঘুমের ভেতরই তার পিক-আপ ভ্যানটি চালিয়েছিলো এবং অবশেষে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগিয়ে দিয়েছিলো। এই সময় সে Ambien নামক ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলো। যদিও টিমোথি সে যাত্রায় বেঁচে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে ২০০৯ এর জানুয়ারীতে কোনো এক রাতে সে শুধুমাত্র আন্ডারওয়্যার পরেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। পরদিন তাকে বরফের ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্লিপওয়াকিং-এর জন্য অদ্যাবধি কোনো সম্পূর্ণ ফলপ্রসূ চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয় নি। কারণ ব্যক্তি নিজেও কখনো টের পান না যে আসলে তার ঘুমের ভেতর কি হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ছেড়ে বা ঘুমের প্রতি নিয়মানুবর্তী হলেই অনেকাংশে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। নতুবা নিজেই না কবে ঘুমিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে উল্টে যাবেন কিংবা খুনই না করে ফেলবেন কবে কাকে!
সংক্ষেপে দেখুনমানব ইতিহাসে কোন রোগটি সর্বপ্রথম নির্মূল করা সম্ভব হয়েছিলো ?
১৭৯৬ সালের কথা। ইংল্যান্ডের বার্কলিতে অবস্থানরত একজন চিকিৎসক ডঃ এডওয়ার্ড জেনার একদিন লক্ষ্য করেন যে, বাড়ি বাড়ি গরুর দুধ দিয়ে বেড়ানো মেয়েটির দেহে স্মলপক্স অর্থাৎ গুটিবসন্ত রোগের সংক্রমণ হয়নি। আশেপাশের মানুষজন গুটিবসন্তে আক্রান্ত হচ্ছে, কিন্তু প্রচন্ড সংক্রমণশালী এই গুটিবসন্ত মেয়েটিকে কিছুতেই সংক্রমণবিস্তারিত পড়ুন
১৭৯৬ সালের কথা। ইংল্যান্ডের বার্কলিতে অবস্থানরত একজন চিকিৎসক ডঃ এডওয়ার্ড জেনার একদিন লক্ষ্য করেন যে, বাড়ি বাড়ি গরুর দুধ দিয়ে বেড়ানো মেয়েটির দেহে স্মলপক্স অর্থাৎ গুটিবসন্ত রোগের সংক্রমণ হয়নি। আশেপাশের মানুষজন গুটিবসন্তে আক্রান্ত হচ্ছে, কিন্তু প্রচন্ড সংক্রমণশালী এই গুটিবসন্ত মেয়েটিকে কিছুতেই সংক্রমণ করতে পারছে না। তখনকার দিনে শতবছর ধরে টিকে থাকা এ রোগে মানুষের মৃত্যুহার ছিলো অনেক বেশি। গত শতাব্দীতেও প্রতি দশজনে তিনজনের মৃত্যু হতো, এতটাই ভয়ানক এক রোগ এই গুটিবসন্ত।
ডঃ জেনার সাহেব সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি এই মেয়েটিকে পরীক্ষা করে দেখবেন, কোনো একভাবে নিশ্চয়ই মেয়েটির শরীরে গুটিবসন্ত সৃষ্টিকারী ভ্যারিওলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা তৈরি হয়েছে। যদি সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি পুনরায় তৈরি করা যায়, তবে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো যাবে। ডঃ এডওয়ার্ড জেনার এই বিষয়টিকে খতিয়ে দেখতে একদিন মেয়েটির বাড়ি যান। তিনি দেখতে পান যে, মেয়েটির বাড়িতে গরুগুলো সবই গোবসন্তে আক্রান্ত। গুটিবসন্তের মতো গরুতেও একধরনের বসন্তরোগ হয়ে থাকে, এরই নাম ছিলো গোবসন্ত। গরুর শরীরেও তরলপূর্ণ ছোট ছোট গুটি দেখা যেতো।
জেনার সাহেব বুঝতে পারেন যে, হয়তো কোনো একভাবে গরুটির সংস্পর্শে থেকে মেয়েটির শরীরে গোবসন্ত সংক্রমিত হয়েছে, গোবসন্ত মানবদেহে কোনো রোগ তৈরি করতে পারেনি, একইসাথে গুটিবসন্তের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।



শিল্পীর কল্পনায় ডঃ এডওয়ার্ড জেনার, গুটিবসন্তের টিকা প্রদান করছেন, Image Source: The New York Academy of Medicine Library
ডঃ জেনার সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি এই ধারণাটি পরীক্ষা করে দেখবেন। ৮ বছর বয়সী একটি বাচ্চা ছেলের দেহে তিনি একটু ক্ষতসৃষ্টি করে সেখানে গোবসন্তের ক্ষত থেকে সংগৃহীত তরল লাগিয়ে দেন। বাচ্চাটির ক্ষতস্থানটি তাৎক্ষণিক ভাবে ফুলে উঠলেও কিছুদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায় সবকিছু।
গত শতাব্দীতে নির্মিত একটি কাঠের টিউব, এতে সংগ্রহ করা হয় গুটিবসন্তের জীবাণু©JOSE ESPARZA
ডঃ জেনার কিছুদিন পর বাচ্চাটির দেহে আবারো একইভাবে জীবাণু প্রবেশ করান। তবে এবার গোবসন্তের জীবাণু নয়, তরতাজা গুটিবসন্তের জীবাণু প্রবেশ করান তিনি। বাচ্চাটি অল্প অসুস্থ হয়ে কয়দিনের ভেতর সুস্থ হয়ে উঠে, গুটিবসন্ত শিশুটিকে আর আক্রান্ত করতে পারছে না। ডঃ জেনার বুঝতে পারেন যে, এভাবে গুটিবসন্তের কবল হতে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। গুটিবসন্তের বিরুদ্ধে এই টিকা পদ্ধতির খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সব এলাকায় চিকিৎসকরা একইভাবে মানুষকে টিকা প্রদান করতে শুরু করেন।
ধীরে ধীরে গুটিবসন্তের লক্ষণ প্রকাশ©Kathy Mak
দিনে দিনে গুটিবসন্তের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হয়েছে আরো উন্নত ধরনের টিকাপদ্ধতি। শুধু তা-ই নয়, মারণক্ষয়ী ছোঁয়াছে রোগ পোলিও, হাম, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস-বি, হুপিং কাঁশি, ধনুষ্টংকারসহ প্রভৃতির বিরুদ্ধেও টিকা আবিষ্কৃত হয়। মানবজাতি সভ্য হবার সময়কাল থেকেই ক্ষতিকারক সব জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিকার এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে, চিকিৎসাবিজ্ঞান যখন উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে, জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিকার এবং প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে।
সব রোগেরই প্রতিকার অর্থাৎ কোনো রোগ হলে সেটির চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা কেউ যদি আক্রান্ত হয় একসময় তার এইডস দেখা দেয়, তার মৃত্যু নিশ্চিত কিন্তু সেখানেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের চিকিৎসা উপস্থিত। ‘অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ড্রাগ’; এর মাধ্যমে একজন এইডস রোগীর জীবনকে কিছু দীর্ঘায়ু করা সম্ভব, রোগী যতদিন বেঁচে থাকবেন, সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করে যেতে পারবেন। আর যে সমস্ত রোগের সমাধা করা যায়নি, সেসব নিয়েও বিশ্বজুড়ে চলছে বিস্তর গবেষণা।

বিশ্বব্যাপী গুটিবসন্তের টিকা অনুমোদন পেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গুটিবসন্ত নির্মূল কর্মসূচী আরম্ভ করে, Image Source: The Ruin
চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি কথা রয়েছে যে, প্রতিকারের চেয়ে কোনো রোগকে প্রতিরোধ করতে পারাটাই সবচেয়ে ভালো। চিকিৎসাবিজ্ঞান সবার পূর্বে এই ব্যাপারে কাজ করেন যে, রোগটির বিরুদ্ধে পুরোপুরি প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায় কিনা। এসব নিয়েও চলছে গবেষণা। পৃথিবীর প্রতিটি বিন্দুতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অজস্র জীবাণু। খালি চোখে দেখতে পাই না আমরা, কিন্তু এদের অস্তিত্ব অনুভব করি।
প্রাণী কিংবা উদ্ভিদে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয় এসমস্ত অণুজীবেরা। কিছু অণুজীব আমাদের মানবজাতির জন্য নানান বিষয়ে উপকারী, আবার কিছু প্রজাতি অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসমস্ত ক্ষতিকর অণুজীবেরা মানুষের শরীরে কিংবা আমাদের উপকারী প্রাণী কিংবা উদ্ভিদদেহে রোগ সৃষ্টি করে থাকে। সমস্ত অণুজীবের জন্যই তাদের পোষকদেহ নির্দিষ্ট, কেননা নির্দিষ্ট পরিবেশ ছাড়া তারা বাঁচতে সক্ষম নয়। যেমন ম্যালেরিয়া পরজীবী, তার জীবনচক্রের অর্ধেকটা কাটায় মানবদেহে আর বাকি অর্ধেকটা মশকীদেহে। মশকীদেহ বলতে সবধরনের মশার প্রজাতিতে নয়, কেবলমাত্র অ্যানোফিলিস মশকী। কারণ অন্যসব মশকীদেহের লালাগ্রন্থিতে উপস্থিত এক বিষাক্ত এনজাইমের কারণে এরা ধ্বংস হয়ে যায়।
রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাবলীকে নির্ভর করতে হয় মানবদেহে স্রষ্টা প্রদত্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর। মানবদেহের সবচেয়ে বিস্ময়কর একটি ব্যবস্থা হলো এর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। খুবই শক্তিশালী এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট অণুজীব যা দিয়ে প্রতিনিয়ত আমরা রোগে আক্রান্ত হই, কোনোভাবে যদি অণুজীবগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়, তবেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি সেসব অণুজীবের বিরুদ্ধে কাজ করে সক্ষম হবে। মানব ইতিহাসের প্রথম টিকা গুটিবসন্ত টিকা আবিষ্কারের সময়, ঠিক এই ধারণাটিই কাজে লাগিয়েছিলেন ডঃ এডওয়ার্ড জেনার।
ভ্যারিওলা ভাইরাস বসন্ত রোগ সৃষ্টি করে, এর ভিন্ন দুইটি টাইপের (এই ভাইরাসের সর্বমোট ৪টি টাইপ রয়েছে) একটি থেকে গরুদেহে, আরেকটি থেকে মানবদেহে বসন্ত হয়। গরুদেহের ভাইরাস মানবদেহে উপস্থিত থাকার কারণে অন্য টাইপটি বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারে না। আর গোবসন্তের জীবাণুও মানবদেহে রোগ তৈরিতে অক্ষম। কেবলমাত্র এই ধারণাকে ব্যবহার করেই তৈরি করা হয়েছে অন্যান্য রোগের টিকাগুলো। ১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর যখন জলাতংকের প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা করছিলেন, তিনিও ডঃ জেনারের পদ্ধতি অনুসরণ করেন।



লুই পাস্তুর, Image Source: Famous Biography
রোগকে প্রতিরোধ করতে টিকা প্রদান করা হয়। নবজাতককে জন্মের পরপরই ১০টি রোগের বিরুদ্ধে ৬টি টিকা বাংলাদেশ সরকার EPI কর্মসূচীর মাধ্যমে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে। একটি শিশুর জন্মের সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় টিকাদান, ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হতে হতে সবগুলো টিকা দিয়ে শেষ করা হয়। গুটিবসন্ত রোগটির ইতিহাস বহু পুরনো, প্রাচীন মিশরীয় মমিতেও গুটিবসন্তের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছিলো।
৩০০০ বছরের পুরনো মমি ফারাও ৫ম রামসিসের মাথায় গুটিবসন্তের নিদর্শন দেখা যায়; Image Source: WHO
গুটিবসন্তের গ্রাস থেকে বাঁচাতে মানবজাতিকে টিকাদানের ফলে, গুটিবসন্তের ভাইরাসটিই পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়ে গেছে একটাসময়। বিংশ শতাব্দীতেই পুরো বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ মারা যায় এই গুটিবসন্ত রোগে। অবশেষে ১৯৮০ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা দেয় যে, গুটিবসন্ত রোগটি শতভাগ নির্মূল সম্ভব হয়েছে। শেষবার এ রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছিলো ১৯৭৭ সালে।
এই সেই শিশু কন্যা রহিমা বানু, বাংলাদেশে সর্বশেষ মানুষ যে কিনা গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়েছিলো©Stanley O. Foster
গুটিবসন্তের সর্বশেষ রোগীদের মাঝে বাংলাদেশী একটি শিশুও ছিলো। তখনকার সময়ে কেউ গুটিবসন্তের সন্ধান দিতে পারলে পুরষ্কার দেবার ঘোষণা করা হয়েছিলো। ১৯৭৫ সালের দিকে, তিনবছর বয়সী শিশুকন্যা রহিমা বানুর খোঁজ যখন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়, রহিমাকে নিজের বাড়িতে সবার থেকে আলাদা করে রাখার উদ্যোগ নেয়া যাতে আশেপাশের মানুষের মধ্যে এ রোগ ছড়াতে না পারে। ঐ এলাকায় দ্রুত সবাইকে গুটিবসন্তের টিকা দেয়া শুরু করা হয়। এছাড়াও পুরো গ্রামে গুটিবসন্ত নির্মূল কর্মসূচী থেকে নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা পরীক্ষা করে দেখেন কারো মাঝে গুটিবসন্তের লক্ষণ পাওয়া যায় কিনা। রহিমার সুস্থতা নিশ্চিত হবার পরই কেবল তাকে পরিবারের সবার সাথে মিশতে দেয়া হয়।
পরবর্তীতে সোমালিয়ায় একজনকে খুঁজে পাওয়া যায়, যাকে প্রাথমিকভাবে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ভাবা হয়। বেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গুটিবসন্ত নির্মূল কর্মসূচীর একজন কর্মী নিশ্চিত করেন যে, মানুষটি গুটিবসন্তে আক্রান্ত। পর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় চিকিৎসার মাধ্যমে তাকেও সুস্থ করে তোলা হয়।

সংক্ষেপে দেখুনডঃ এডওয়ার্ড জেনার; Image Source: The School Run
ডঃ জেনার সাহেব আবিষ্কৃত প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনুসরণ করে করে গুটিবসন্ত রোগকে পৃথিবী থেকে বিতাড়িত করতে প্রায় ২০০ বছরের মতো সময় লেগে যায়। এই গুটিবসন্তের টিকা ছিলো প্রথম আবিষ্কৃত টিকা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অবদানে টিকাদানের ফলে এই গুটিবসন্তই বর্তমানে প্রথম ও একমাত্র নির্মূলকৃত রোগ।
ভ্যাক্সিনেশনের পদ্ধতি কি সবসময় একি রকম ছিলো?
টিকা বা ভ্যাক্সিনের খোঁজ পেতে ইতিহাসের পাতা উল্টে চলে যেতে হবে শত শত বছর আগে। জনশ্রুতি আছে- বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নাকি সাপের কামড়ে পাত্তাই দিতেন না, কারণ তারা আগেই সাপের বিষ বের করে পান করে নিতেন। এভাবে নাকি তাদের মধ্যে সাপের কামড়ের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হত। এর সত্য-মিথ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আজ থেকবিস্তারিত পড়ুন
টিকা বা ভ্যাক্সিনের খোঁজ পেতে ইতিহাসের পাতা উল্টে চলে যেতে হবে শত শত বছর আগে। জনশ্রুতি আছে- বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নাকি সাপের কামড়ে পাত্তাই দিতেন না, কারণ তারা আগেই সাপের বিষ বের করে পান করে নিতেন। এভাবে নাকি তাদের মধ্যে সাপের কামড়ের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হত।
এর সত্য-মিথ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আজ থেকে প্রায় ছয় সাতশ বছর আগে চীনে ইনঅকুলেশন নামে একটি পদ্ধতি প্রচলিত ছিল, যাকে আধুনিক ভ্যাক্সিনের আদিরূপ বলা যেতে পারে। তখন মিং রাজবংশের সময়, গুটিবসন্ত মোটামুটি নিয়মিত হানা দিচ্ছে। এর থেকে রক্ষা পেতেই এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়। গুটিবসন্তের রোগীর পুঁজ থেকে রোগের উপাদান নিয়ে ঢুকিয়ে দেয়া হতো সুস্থ মানুষের দেহে, দেখা যেত পরবর্তীতে এদের অধিকাংশই গুটিবসন্ত মহামারীর ভেতরেও দিব্যি ভাল থাকেন।

প্রাচীন চীনে ইনঅকুলেশন; Image Source: historyofvaccines.org
রোগসম্বলিত চামড়ার অংশ প্রথমে শুকিয়ে নেয়া হতো, এরপর ভাল করে ছেঁচে বানানো হতো পাউডার। এই পাউডার টেনে নিতে হতো নাক দিয়ে। মেয়েদের জন্য বাম নাক, আর ছেলেদের জন্য ডান নাক দিয়ে পাউডার টেনে নেয়ার বিধান ছিল চীনে।
চীন থেকে এই পদ্ধতি পৌঁছে যায় উসমানি দরবারে। গুটিবসন্তে ইউরোপ তখন কাহিল। উসমানি দরবার থেকে ইংল্যান্ডে খবর চলে যায় ইনুঅকুলেশনের, বিরোধিতা সত্ত্বেও আস্তে আস্তে ইনুঅকুলেশনের জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং রাজপরিবারও তা ব্যবহার করে। কিন্তু সরাসরি রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ, এবং ব্যাপক জনগোষ্ঠীর উপর প্রয়োগও সহজসাধ্য নয়। ফলে চলছিল নতুন পদ্ধতির খোঁজ।

গুটিবসন্তে সাফ হয়ে যাচ্ছিল ইউরোপ; Image Source: vox.com
এগিয়ে এলেন প্রথিতযশা চিকিৎসক এডওয়ার্ড জেনার। ১৭৯৬ সালের ১৪ মে জেমস ফিপ্স নামের আট বছরের এক বালকের শরীরে প্রবেশ করালেন গোবসন্তের জীবাণু, যা ছিল গুটিবসন্তের তুলনায় দুর্বল একটি রোগ। তৎকালীন ইংল্যান্ডে অনেকেই জানত যাদের গোবসন্ত বা কাউপক্স হয় তারা গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয় না।
তবে জেনারই প্রথম পুরো বিষয়ই একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে আসেন। ফিপ্স প্রথম এক সপ্তাহ কিছুটা অসুস্থবোধ করলেও শীঘ্রই সেরে উঠল। পরবর্তীতে গুটিবসন্তের জীবাণু তার উপর প্রয়োগ করে দেখা গেল যে রোগে কাতারে কাতারে মানুষ মরে যাচ্ছে তাতে ফিপ্সের কিছুই হচ্ছে না। জেনার তার গবেষণার ফলাফল নিয়ে প্রকাশ করলেন খটমটে একটি বই, An inquiry into the causes and effects of the variolae vaccinae: a disease discovered in some of the western counties of England, particularly Gloucestershire, and known by the name of the cow pox। গরুর ল্যাটিন নাম ভ্যাক্কা থেকে তিনি তার পদ্ধতির নাম দিলেন ভ্যাক্সিনেশন, যেহেতু গোবসন্তের জীবাণু ব্যবহার করেছেন তিনি। তার এই ওষুধের নাম হলো ভ্যাক্সিন। তখন এটি শুধু গুটিবসন্তের জন্যই পরিচিত ছিল। এর ফলেই জেনার পরে পান ভ্যাক্সিনেশনের জনকের স্বীকৃতি।

এডওয়ার্ড জেনার © DEA Picture Library/Getty Images
তৎকালীন রয়্যাল সোসাইটি জেনারের তথ্য উপাত্তের স্বল্পতার জন্য এই নতুন পদ্ধতিতে আগ্রহ দেখাল না। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেক চিকিৎসক জেনারের ভ্যাক্সিনেশন ব্যবহার করে সুফল পেতে থাকলেন। ১৮০১ সাল নাগাদ প্রায় এক লাখ মানুষ ভ্যাক্সিন পেয়ে যায়। ধীরে ধীরে ইনঅকুলেশনকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিয়ে ভ্যাক্সিনেশন হয়ে উঠল গুটিবসন্তের বিরুদ্ধে মূল প্রতিরোধ।
তবে জেনারের প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাও খুব দ্রুত বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিগোচর হয়। একই পদ্ধতিতে অন্য কোনো রোগের প্রতিরোধক তৈরি করা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখতে পেলেন গুটিবসন্তের মতো যেরকম গরুতে গোবসন্ত, সেরকম তো সব রোগে হয় না। তাছাড়া অনেক পশুবাহিত রোগ তো মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে। কাজেই তারা মনোযোগী হলেন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করার দিকে। তাহলে হয়তো এগুলো মানবদেহে নিরাপদে প্রবেশ করানো সম্ভব হবে। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মরবে, রোগ হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পাবে, একইসাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে।
সুতরাং বিজ্ঞানীরা জোর গবেষণা চালালেন। তারা উপলব্ধি করলেন যে তাদের সামনে দুটি পথ খোলা- ১) জীবাণুকে হত্যা করে সুস্থদেহে প্রবেশ করানো, এবং ২) জীবাণুকে বাঁচিয়ে রাখা, কিন্তু নানা প্রক্রিয়ায় তাকে দুর্বল করে দেয়া যাতে তার মানবদেহে রোগ তৈরির সামর্থ্য কমে যায়। দুই ক্ষেত্রেই তারা একই ফলাফল আশা করছিলেন।
জেনারের আবিষ্কারের প্রায় দেড়শ বছর পর্যন্ত এই নিয়ে বিভিন্ন দেশের নানা বিজ্ঞানি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ফরাসি অনুজীববিজ্ঞানী লুই পাস্তুর এক অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। তিনি অ্যানথ্রাক্স আর জলাতঙ্ক, বা র্যাবিসের জীবাণুকে অক্সিজেন আর তাপে রেখে দেখতে পান তাদের প্রাণঘাতী ক্ষমতা কমে গেছে। এই দুর্বল জীবাণু কাজে লাগিয়ে ১৮৮১ সালে অ্যানথ্রাক্স আর ১৮৮৫ সালে জলাতঙ্কের টিকা বানালেন তিনি। ১৮৮৭ সালে তার প্রতিষ্ঠিত পাস্তুর ইন্সটিটিউট পাস্তুরের মৃত্যুর পরও ভ্যাক্সিন নিয়ে কাজ চালিয়ে যায়। বর্তমান পৃথিবীতে ফ্রান্সের এই ইনস্টিটিউট ভ্যাক্সিন নিয়ে কাজ করা অন্যতম একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।


গবেষণাগারে লুই পাস্তুর © Bettmann Archive / Getty Images
বিংশ শতকের প্রারম্ভে ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে আরেকটি বিপ্লব সাধিত হয়। ফরাসি চিকিৎসক অ্যালবার্ট কাল্মেট (Albert Calmette) আর পশু চিকিৎসক ক্যামিল গুয়েরিন (Camille Guérin) জেনার আর পাস্তুরের দেখানো পথে তৈরি করলেন তৎকালীন অন্যতম ভয়ানক রোগ যক্ষ্মার টিকা। তারা এজন্য গরুতে যক্ষ্মা সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে বারবার বংশবিস্তার করালেন কৃত্রিম পরিবেশে। ২৩০ প্রজন্ম পরে এমন একটি প্রজাতি পাওয়া গেল, যা যক্ষ্মার কারণ ব্যাকটেরিয়ার প্রজাতি হলেও রোগ উৎপাদনের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এটা দিয়েই তারা বানিয়ে ফেলেন তাদের ভ্যাক্সিন, তাদের নামানুসারে যা আজও বিসিজি (ব্যাসিলি ক্যাল্মেট গুয়েরিন) নামে পরিচিত।
বিসিজি আজও যক্ষ্মার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে; Image Source: pharmaceutical-technology.com
পাস্তুরের পদ্ধতি বেশ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠল। হামসহ অন্যান্য বেশ কিছু রোগের জন্য ভ্যাক্সিন প্রস্তুত করা হলো এভাবে। কিন্তু এখানেও সমস্যার শেষ হলো না। বিজ্ঞানীরা জানতে পারলেন দুর্বল ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াও বিভিন্ন কারণে রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আজকের দিনে আমরা জানি মিউটেশনের ফলে এসব জীবাণু অনেক সময় আরো ভয়ানক রোগের জন্ম দেয়। এজন্য মৃত জীবাণু ব্যবহার করা অনেকেই বেশি নিরাপদ মনে করছিলেন।
স্যাল্মন আর স্মিথ নামে দুই গবেষক এবং পাস্তুর ইন্সটিটিউট থেকে প্রায় একই সময় প্রথম মৃত জীবাণু দ্বারা ভ্যাক্সিন তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতি প্রথমে প্রয়োগ করা হয় টাইফয়েড, কলেরা আর প্লেগের জীবাণুর উপরে। ইংল্যান্ডে রাইট আর সেম্পল নামে দুজন বিজ্ঞানী প্রথম টাইফয়েডের ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করেন। প্লেগের টিকা মানুষের উপর সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন হ্যাফকিন। কোল নামে আরেক বিজ্ঞানী তাপে মৃত কলেরা জীবাণু ভ্যাক্সিন হিসেবে বানান। এর আগে ফেরান আর হ্যাফকিন আলাদা আলাদাভাবে জীবিত জীবাণু দিয়ে কলেরার টিকা বানালেও শেষমেশ টিকে যায় কোলের ভ্যাক্সিনই।
উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে মৃত জীবাণু দ্বারাই কলেরা, ধনুষ্টংকার, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি রোগের ভ্যাক্সিনেশন করা হতো। এভাবে উনবিংশ শতকের শেষদিকে প্লেগের জন্য একপ্রকার ভ্যাক্সিন বানানো হয়েছিল। জীবাণু মারার জন্য প্রথমে উচ্চ তাপ ব্যবহার করাই ছিল চল। তবে ১৯২৫ সালে খ্যাতনামা ব্রিটিশ রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্সান্ডার গ্লেনি আর হপকিন্স ফরমাল্ডিহাইড দিয়ে টিটেনাসের টক্সিন নিষ্ক্রিয় করেন। পরবর্তীতে ফরমাল্ডিহাইড অথবা ফরমালিনের মিশ্রণ দিয়ে জীবাণু মারার প্রক্রিয়া জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতিতে ১৯২৬ সালে ডিপথেরিয়ার ভ্যাক্সিন তৈরি হয়। ধনুষ্টংকারের ভ্যাক্সিন বাজারে আসতে লেগে যায় আরো ২২ বছর।
ক্যাল্মেট আর গুয়েরিন কৃত্রিম পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটিয়ে তা দিয়ে ভ্যাক্সিন বানান। ভাইরাসের জন্য সেরকম কৃত্রিম পরিবেশ আবিষ্কার হতে হতে প্রায় ৩৫ বছর লেগে যায় (১৯৫০-৮৫)। এর সূত্র ধরে ১৯৫৫ সালে আমেরিকান ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জোনাস স্যাক প্রস্তুত করেন পোলিওর টিকা, যার মধ্যে ছিল মৃত ভাইরাস। পোলিও ভাইরাস মারতে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ফরমাল্ডিহাইড। ইঞ্জেকশন দিয়ে শরীরে দিতে হতো স্যাকের ভ্যাক্সিন। এর সুবিধা ছিল- মৃত বলে পোলিও হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।
স্যাকের সাত বছরের মাথায় দুর্বল পোলিও ভাইরাস ব্যবহার করে মুখে খাবার পোলিও টিকা নিয়ে এলেন আমেরিকান-পোলিশ গবেষক অ্যালবার্ট স্যাবিন। তার পোলিও ভ্যাক্সিনই ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়, কারণ মুখে দেয়া যেত বলে এর প্রয়োগকারীর জন্য কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণের দরকার হতো না। তবে এখানে পোলিও হবার খুব সামান্য একটি ঝুঁকি ছিল, তবে পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয় এই ঝুঁকি প্রায় শূন্য।

জোনাস স্যাক (বামে) এবং অ্যালবার্ট স্যাবিন (ডানে) © Salon/Getty Images
১৯৪০ সালের পর থেকে বিজ্ঞানীরা জীবাণুর দেহের বিভিন্ন অংশ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতে থাকেন। তাদের মাথায় ছিল কীভাবে সম্পূর্ণ জীবাণু ব্যবহার না করে সামান্য অংশ দিয়েই ভ্যাক্সিন তৈরি করা যায়। এর পথ ধরেই এলো হেপাটাইটিস বি-র ভ্যাক্সিন।
এর সাথে সাথে বিজ্ঞানীরা কাজ করছিলেন কীভাবে ব্যাকটেরিয়ার মতো ভাইরাসকেও নিষ্ক্রিয় করে ভ্যাক্সিন তৈরি করা যায়, কারণ ততদিন পর্যন্ত মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি ভ্যাক্সিন সবই ছিল ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের বিরুদ্ধে। সর্বপ্রথম এভাবে প্রস্তুত ভ্যাক্সিন হলো ইনফ্লুয়েঞ্জার, এরপর এলো হেপাটাইটিস-এ ভ্যাক্সিন। বর্তমানে অণুজীবের ডিএনএ, আরএনএ, ভেক্টর ভাইরাস ইত্যাদি ব্যবহার করে ভ্যাক্সিন তৈরির কাজ চলছে, যা করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি।
ভ্যাক্সিন তৈরি এবং বিপণন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। সরকারিভাবে যতটা প্রণোদনা দেয়া হয়, তার থেকে বেশি অর্থ আসে বহুজাতিক ওষুধ প্রতিষ্ঠান থেকে। তাদের মাধ্যমেই নতুন নতুন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার ও প্রয়োগ হচ্ছে। ২০২০ সালের হিসেবে নিম্নের দশটি বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ভ্যাক্সিন গবেষণা ও প্রস্তুতে শীর্ষে ছিল।
গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন
নামকরা ওষুধ কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের জন্ম ১৮৭৩ সালে জোসেফ এডওয়ার্ড নাথান নামে এক ভদ্রলোকের হাত ধরে, নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে। বর্তমানে লন্ডনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের তালিকায় রয়েছে জলাতঙ্ক আর চিকেনপক্সসহ আরো অনেক ভ্যাক্সিন।
মার্ক
১৮৯১ সালে জর্জ মার্কের প্রতিষ্ঠিত এই মার্কিন কোম্পানি বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। তাদের অন্যতম ভ্যাক্সিনের মধ্যে আছে নারীদের সারভাইকাল ক্যান্সারের ভ্যাক্সিন, হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাক্সিন ইত্যাদি।
সানোফি
১৯৭৩ সালে আলোর মুখে দেখা ফরাসি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সানোফির ঝুলিতে আছে পোলিওর ভ্যাক্সিনের মতো সফল টিকা।
ফাইজার
করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে আসা ফাইজার মার্কিন কোম্পানি। ১৮৪৯ সালে চার্লস ফাইজার আর চার্লস এরহার্ট মিলে এর ভিত্তি বুনে দেন। অন্যান্য অনেক কিছুর সাথে মেনিনজাইটিসের ভ্যাক্সিনে তারা অগ্রগামী।
নোভাভ্যাক্স
এটিও ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি মার্কিন কোম্পানি। এরা ভ্যাক্সিন তৈরিতে জৈবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি নিয়ে কাজ করে। শ্বাসতন্ত্রের কিছু রোগের ভ্যাক্সিন তারা তৈরি করেছে।
এমারজেন্ট বায়োসল্যুশন
বায়োটেকনোলজিভিত্তিক এই মার্কিন কোম্পানির জন্ম ১৯৯৮ সালে। তাদের অ্যানথ্রাক্স ভ্যাক্সিন সুপরিচিত।
সিএসএল
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিএসএল-এর যাত্রা শুরু ১৯১৬ সালে। ফ্লু, নিউমোনিয়া ইত্যাদি রোগের ভ্যাক্সিন আছে তাদের।
ইনভিয়ো
১৯৭৯ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা ইনভিয়োর হেড অফিস যুক্তরাষ্ট্রের প্লাইমাউথে অবস্থিত। এইচআইভি-র ভ্যাক্সিন নিয়ে তারা প্রচুর কাজ করছে।
বাভারিয়ান নর্ডিক
ড্যানিশ এই কোম্পানি ১৯৯৪ সাল থেকে কাজ করছে। তারা সারভাইকাল ক্যান্সারের ভ্যাক্সিনসহ আরো কিছু ভ্যাক্সিনের জন্য নাম করেছে।
মিটসুবিশি টানাবে
১৯৮১ সাল থেকে জাপানী এই প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চিকেনপক্সের ভ্যাক্সিন আছে তাদেরও।
সংক্ষেপে দেখুননারীর নীরব কষ্ট এন্ডোমেট্রিওসিস কি ধরনের অসুখ?
ক্রিস্টি মিলারের বয়স যখন ১১ হলো, তখন থেকে তার মাসিক আরম্ভ হলো। প্রতিমাসেই রক্তক্ষরণের পাশাপাশি বমি হতে শুরু করলো। অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি না পারতেন খেতে, না পারতেন ঘুমাতে। তার কাছে মনে হতে লাগলো তিনি মারা যাচ্ছেন, কিন্তু কেউ তার তোয়াক্কা করছে না। তখন বিষয়টি না বুঝলেও এর ঠিক দশ বছর পরে গিয়ে ধরা পড়বিস্তারিত পড়ুন
ক্রিস্টি মিলারের বয়স যখন ১১ হলো, তখন থেকে তার মাসিক আরম্ভ হলো। প্রতিমাসেই রক্তক্ষরণের পাশাপাশি বমি হতে শুরু করলো। অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি না পারতেন খেতে, না পারতেন ঘুমাতে। তার কাছে মনে হতে লাগলো তিনি মারা যাচ্ছেন, কিন্তু কেউ তার তোয়াক্কা করছে না। তখন বিষয়টি না বুঝলেও এর ঠিক দশ বছর পরে গিয়ে ধরা পড়লো তার এই অসহ্য যন্ত্রণার কারণ। চিকিৎসক জানালেন, তিনি ‘এন্ডোমেট্রিওসিস’ নামক রোগে আক্রান্ত।
এন্ডোমেট্রিওসিস কী?
জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম। এই এন্ডোমেট্রিয়ামে থাকা বিশেষ কোষগুচ্ছ যদি জরায়ুর বাইরে অবস্থান নেয় তাহলে এই অবস্থাকে বলা হয় এন্ডোমেট্রিওসিস।
উপরে বর্ণিত ক্রিস্টির উপসর্গগুলো তুলে ধরা হয়েছে স্যালি রুনির উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত টিভি সিরিজ ’করভারসেশন উইথ ফ্রেন্ডন্স’-এ। এখানে দেখা যায় টিভি সিরিজের একটি চরিত্র ‘ফ্রান্সিস’ এন্ডোমেট্রিওসিসের যন্ত্রণায় কখনো ওয়াশরুমে কাতরান, কখনো বা ভীড়ের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে যান। টিভি সিরিজটি নির্মাণে সহায়তা নেয়া হয়েছে চিকিৎসক ফিওনা রেইডির, যিনি একাধারে একজন নারী রোগবিশেষজ্ঞ এবং এন্ডোমেট্রিওসিস রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ। সিরিজের মাধ্যমে একজন এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত নারীর সংগ্রাম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
যেকোনো বয়সের নারীই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন; এমনকি টিনেজাররাও! প্রতি ১০০ জনে অন্তত ১০ জন নারী রোগটিতে ভুগে থাকেন।
যেসব জায়গায় এন্ডোমেট্রিওসিস হতে পারে
এন্ডোমেট্রিওসিস শরীরের বিভিন্ন স্থানে হতে পারে; image source: wildpixel/Getty Images
লক্ষণসমূহ
এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ব্যথার অনুভূতি হতে পারে; image source: Getty Images photo
এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণ
১. এন্ডোমেট্রিয়াল কোষগুচ্ছ রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পরিচালিত হলে।
২. জিনগত কারণে হতে পারে। পরিবারের অন্য কারো এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলে।
৩. সি সেকশন বা হিস্টেরেক্টমির মতো অপারেশনের কারণে এন্ডোমেট্রিয়াল কোষগুলো অন্ত্র বা অন্য কোনো অঙ্গের প্রাচীরে লেগে যেতে পারে। যার ফলে রোগটি হতে পারে।
৪. শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হলে। এর ফলে জরায়ুর বাইরে তৈরি হওয়া এন্ডোমেট্রিয়াল কোষগুলোকে শরীর ধ্বংস করে দিতে পারে না।
রিস্ক ফ্যাক্টরস
রোগপরবর্তী জটিলতা
এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে গর্ভধারণে জটিলতা বা ওভারিয়ান ক্যান্সার হতে পারে; Image source: Shutterstock
রোগনির্ণয় পদ্ধতি
প্রতিরোধ
এন্ডোমেট্রিওসিস একটি ইডিওপ্যাথিক বা অজানা কারণঘটিত অবস্থা। একে মোকাবেলার নির্দিষ্ট কোনো পন্থা নেই। তবে লক্ষণ দেখা যাবার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে দ্রুত রোগনির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

সংক্ষেপে দেখুনলক্ষণ প্রকাশ পেলে ভয় না পেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন; Image source: drpourzand.com
গর্ভধারণ এবং স্তন্যদান এন্ডোমেট্রিওসিসের হবার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, প্রাত্যহিক জীবনে ফলমূল খাওয়া, বিশেষ করে সাইট্রাস ফলসমূহ, বিশেষ উপকারী ভূমিকা রাখে।
অ্যাপেন্ডিসাইটিস: কী, কেন এবং কীভাবে হয় ?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ‘সার্ফেস মার্কিং’ নামক একটি পরীক্ষা হয়ে থাকে। এই পরীক্ষাতে একজন শিক্ষার্থীকে জীবিত মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গ, ধমনী, শিরা কিংবা স্নায়ু এঁকে দেখাতে বলা হয়। প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো শরীরের যেখানে থাকে প্রায় হুবহু সেভাবে এঁকে দেখাতে পারে।বিস্তারিত পড়ুন
চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ‘সার্ফেস মার্কিং’ নামক একটি পরীক্ষা হয়ে থাকে। এই পরীক্ষাতে একজন শিক্ষার্থীকে জীবিত মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গ, ধমনী, শিরা কিংবা স্নায়ু এঁকে দেখাতে বলা হয়। প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো শরীরের যেখানে থাকে প্রায় হুবহু সেভাবে এঁকে দেখাতে পারে। চলচ্চিত্রে অপারেশন থিয়েটারের কোনো দৃশ্যে দেখে থাকবেন আপনারা, অপারেশনের শুরুতেই মার্কার দিয়ে কিছু জায়গা চিহ্নিত করা হয়, এগুলো হচ্ছে অপারেশনের নিয়ম। কোথায় কীভাবে কাটতে হবে, একজন সার্জন ভালোমতোই জানেন।
জীবিত মানুষের বুকে অঙ্কিত রয়েছে হৃৎপিণ্ড। এমনিভাবে শরীরের সকল অঙ্গ, ধমনী, শিরা, স্নায়ু সবকিছু চিহ্নিত করা যায়; Source: web.duke.edu
ম্যাকবার্নি’স পয়েন্ট (McBurney’s Point) নামক একটি জায়গা রয়েছে মানুষের শরীরে, এই বিন্দুতে কাটা হলেই মাংসপেশী সরানোর পর অ্যাপেন্ডিক্স পাওয়া যাবে। দেখা যাবে, ছোট্ট একটি থলির ন্যায় বাড়তি অংশ সিকামের (বৃহদান্ত্রের একটি অংশ) সাথে জুড়ে আছে।
১ নম্বর পয়েন্টটি হলো ম্যাকবার্নি’স পয়েন্ট; Source: Wikimedia Commons
উপরের ছবিতে ১ নম্বর পয়েন্টটি হলো ম্যাকবার্নি’স পয়েন্ট। আপনি কোমর বরাবর হাত দিয়ে দেখুন, দু’পাশে দুটি জায়গাতে শক্ত হাড়ের উপস্থিতি টের পাবেন। Ilium নামক হাড়ের একটি অংশ এটি, একে বলা হয় Anterior Superior Iliac Spine। ৩ নম্বর পয়েন্টটি হলো এই Anterior Superior Iliac Spine। ২ নম্বর পয়েন্টটি দেয়া হয় একদম নাভীতে। ২ আর ৩ নম্বরকে সংযুক্ত করে একটি লম্বা রেখা আঁকা হয়, এই রেখাকে যদি উপরে দুই ভাগ আর নিচে এক ভাগ রেখে বিভক্ত করা হয়, তবেই আমরা পাবো ১ নম্বর পয়েন্ট তথা ম্যাকবার্নি’স পয়েন্ট।
অ্যাপেন্ডিক্স এর ব্যাসার্ধ ৭-৮ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে সাধারণত, আর দৈর্ঘ্য হয় ২-২০ সেন্টিমিটার। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অ্যাপেন্ডিক্স ৯ সেন্টিমিটার হয়। এছাড়াও অ্যাপেন্ডিক্সের অবস্থান অনুযায়ী এর বিভিন্ন ধরনও রয়েছে। সাধারণত তলপেটের ডান পাশে অবস্থান করে অ্যাপেন্ডিক্স, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Right Iliac Fossa নামে ডাকা হয়।
অবস্থানভেদে অ্যাপেন্ডিক্সের বিভিন্ন ধরন; Source: jcol.elsevier.es
সিকামের সাথে যুক্ত ছোট্ট থলিটিই হলো অ্যাপেন্ডিক্স; Source: news-medical.net
আমাদের দেহে অ্যাপেন্ডিক্স কোন দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে, সেই ব্যাপারে এখনো নিশ্চিতভাবে বের করা যায়নি। একে ধারণা করা হয় ভেস্টিজিয়াল র্যামনেন্ট হিসেবে। র্যামনেন্ট হলো শরীরের এমন একটি অংশ যা গর্ভে থাকা অবস্থায় কোনো এক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলো, কিন্তু জন্মের পর আর কোনো কাজ নেই তার, একটি অবশিষ্টাংশ হিসেবে দেহে রয়ে গেছে। দেহের কিছু লিগামেন্টও র্যামনেন্ট হিসেবে তৈরি হয়েছে। দেহের সবচেয়ে চাক্ষুষ র্যামনেন্ট হলো আমাদের নাভী (আম্বিলিকাস), এই নাভী আম্বিলিক্যাল কর্ডের র্যামনেন্ট। আর ভেস্টিজিয়াল র্যামনেন্ট বলা হয় সেসব অংশকে যা বিবর্তনের মাধ্যমে তার দায়িত্ব হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের পূর্ব পুরুষদের কোনো একসময় হয়তো খাদ্য পরিপাকে এর প্রয়োজনীয়তা ছিলো, দিন দিন বিবর্তনে এই অ্যাপেন্ডিক্স ছোট হয়ে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে এবং র্যামনেন্ট হিসেবে দেহে রয়ে গিয়েছে। মানবদেহে এমন ভেস্টিজিয়াল র্যামনেন্টের নাম প্রায় একশোটি বলা যাবে।
আম্বিলিক্যাল কর্ড, যার সাহায্য গর্ভাবস্থায় সন্তান মায়ের প্লাসেন্টার সাথে যুক্ত থাকে; Source: open.edu
তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, দেহের কিছু লিম্ফয়েড কোষ অ্যাপেন্ডিক্সে রয়েছে, যার দরুন অ্যাপেন্ডিক্স ইনফেকশনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলায় সাহায্য করতে পারে। একটি সময় ছিলো, যখন সার্জনরা কোনো সার্জারির উদ্দেশ্যে কারো পেট কাটলে, এমনি অ্যাপেন্ডিক্স কেটে ফেলে দিতেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা তৈরি না করতে পারে। তবে পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, অ্যাপেন্ডিক্সবিহীন ব্যক্তিদের ক্যান্সার হবার ঝুঁকি খানিকটা বেড়ে যায়। ২০০৬ সালের পর থেকে তাই এমন ফ্রি অপারেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অ্যাপেন্ডিক্স কেটে দেহ থেকে সরিয়ে ফেলা খুবই সাধারণ একটি অপারেশন। এই অপারেশনটির নাম হলো অ্যাপেন্ডেকটোমি, আর সমস্যাটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয়ে থাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস। মানুষ প্রায়ই বলে থাকে, অমুকের অ্যাপেন্ডিক্স হয়েছে, এখানে শব্দের প্রয়োগটি ভুল। শরীরের এই অংশটির নাম অ্যাপেন্ডিক্স, কিন্তু এতে যখন ব্যাকটেরিয়াল আক্রমণ ঘটে, প্রদাহ (জ্বলুনি) শুরু হয়, তখন একে বলা হয় অ্যাপেন্ডিসাইটিস। ঠিক সেই মুহূর্তেই দেহের অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যাথা শুরু হয়, ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে, একসময় অসহ্য হয়ে দেখা দেয়। অ্যাপেন্ডেকটোমি ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না তখন।
ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে প্রদাহ সৃষ্টি হয় অ্যাপেন্ডিক্সে, এতে করে অ্যাপেন্ডিক্স ফুলতে শুরু করে; Source: news-medical.net
এখানে একটি মজার ব্যাপার রয়েছে, অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যাথাটা হয়ে থাকে সাধারণত রেফার্ড পেইন (Referred Pain) হিসেবে। এক স্থানের ব্যথার অনুভূতি তৈরি হয় অন্য স্থানে। কম-বেশি সকলেরই ঠাণ্ডা লেগেছে নিশ্চয়ই, নাক-গলাতে ব্যথার বদলে সামান্য ব্যথা হয় কানে, লক্ষ্য করে দেখবেন। এটাও একধরনের রেফার্ড পেইন। আমাদের স্পাইনাল কর্ডের বিভিন্ন অংশ রয়েছে পুরো মেরুদণ্ড জুড়ে, এই অংশগুলোর নামকরণ করা হয়েছে মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলোর নামে। অ্যাপেন্ডিক্সের স্নায়বিক অনুভূতি মস্তিষ্কে বহন করে থাকে দশম থোরাসিক স্পাইনাল সেগমেন্টটি।
স্পাইনাল কর্ডের সবগুলো সেগমেন্ট, কশেরুকার নামে নামকরণ করা হয় প্রতিটি সেগমেন্টের; Source: humananatomylibrary.com
Regions of Anterior Abdominal Wall; Source: web.duke.edu
দশম থোরাসিক সেগমেন্টটি একইসাথে আবার আম্বিলিক্যাল রিজিওনের অনুভূতি মস্তিষ্কে বহন করে থাকে। পেটকে মানচিত্রের গ্রিডের ন্যায় নয়টি রিজিওনে ভাগ করা হয়ে থাকে অপারেশনের সময় অঙ্গগুলোকে খুঁজে বের করার সুবিধার্থে। নাভী ও নাভীর চার পার্শ্বস্থ বর্গাকার অল্প অংশকে আম্বিলিক্যাল রিজিওন বলা হয়।
অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা তাহলে সবসময় অনুভূত হবে নাভীর চারপাশের দিকে, তবে আবার নাভীর দিকে ব্যথা করলেই ভয় পেয়ে যাবেন না আপনার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে ভেবে। দশম থোরাসিক স্পাইনাল সেগমেন্ট আরো অনেক অঙ্গের অনুভূতি বহন করে থাকে।
খাদ্যের পরিপাক সমস্তই সম্পন্ন হয়ে যায় ক্ষুদ্রান্ত্রে, পরিপাক না হওয়া অংশই ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে বৃহদান্ত্রে প্রবেশ করে। বৃহদান্ত্রের প্রথম অংশই হলো সিকাম। সিকাম একটি থলির মতো, এই সিকাম থেকে অপরিপাককৃত খাদ্যাংশ উপরের দিকে কোলনে প্রবেশ করবে। পেরিস্ট্যালসিসের মাধ্যমে এমনটি হয়ে থাকে, পেরিস্ট্যালসিস ছাড়াও অনেক ধরনের মুভমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে আমাদের দেহের পরিপাকতন্ত্রের। এই মুভমেন্টগুলো খাবারকে পুরো পরিপাকতন্ত্র ঘুরে বেড়াতে সহায়তা করে। অভিকর্ষের টানে সিকামের নিচের দিকে সংযুক্ত অ্যাপেন্ডিক্সে খাদ্যাংশ যখন প্রবেশ করতে যায়, অ্যাপেন্ডিক্সের মাংসপেশি তখন সংকুচিত হয়ে একটি ধাক্কার মতো তৈরি করে দেয়, এর দরুন অ্যাপেন্ডিক্সের দিকে ধাবিত খাদ্যাংশ উপরের দিকে কোলনে প্রবেশ করে।
সিকাম আর অ্যাপেন্ডিক্সের সংযোগস্থলে একটি ছিদ্রসদৃশ অংশ রয়েছে, এতে যদি অল্প পরিমাণে খাদ্যাংশ জমা হয়ে যায়, একসময় জমতে জমতে ছিদ্রটি বন্ধ হয়ে যায়, তখন ভেতরে থাকা কোনোকিছু আর বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে না। এভাবেই শুরু হয় প্রদাহ, প্রদাহ বাড়তে শুরু করে, ব্যাকটেরিয়াও বাড়তে শুরু করে। সরু নালীর মতো অ্যাপেন্ডিক্স তখন ফুলে উঠতে থাকে। যদি অ্যাপেন্ডেকটোমি সময়মতো করা না হয়, একসময় অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে বেরিয়ে আসে ভেতরের সমস্ত কিছু। পেটের ফাঁকা স্থানগুলোর সব জায়গায় তখন সমস্ত ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে।
আপনার শরীরের ছোটখাট একটি অংশ, যা প্রায় কার্যক্ষমতাবিহীন; সেটিও আপনার এত বড় ক্ষতি করতে সক্ষম। তাই সচেতনতা তৈরি করুন, অ্যাপেন্ডিসাইটিসকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করুন।
সংক্ষেপে দেখুনমশাবাহিত কতগুলো রোগ রয়েছে?
মশা! ক্ষুদ্র এই প্রাণীটির অত্যাচারে প্রায়ই অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে আমাদের জীবন। চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপে মশার দিকেই প্রধানত আঙুল তোলা যায়, কারণ রোগের ভাইরাস ছোট্ট এই পতঙ্গের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। তবে কেবল ডেঙ্গু নয়, আরো বেশ কিছু রোগের ভাইরাস বহন করে থাকে মশা, যার মধ্যে আছে চিকুনগুনিয়া (Chikungunবিস্তারিত পড়ুন
মশা! ক্ষুদ্র এই প্রাণীটির অত্যাচারে প্রায়ই অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে আমাদের জীবন। চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপে মশার দিকেই প্রধানত আঙুল তোলা যায়, কারণ রোগের ভাইরাস ছোট্ট এই পতঙ্গের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। তবে কেবল ডেঙ্গু নয়, আরো বেশ কিছু রোগের ভাইরাস বহন করে থাকে মশা, যার মধ্যে আছে চিকুনগুনিয়া (Chikungunya ), ম্যালেরিয়া, এনকেফালাইটিস, ফাইলেরিয়াসিস, জিকা ইত্যাদি।
মশার তিনটি প্রজাতি এসব রোগের ভেক্টর, বা জীবাণুর বাহক হিসেবে কাজ করে। এগুলো হচ্ছে কিউলেক্স, এডিস আর অ্যানোফিলিস। কিউলেক্স তো আমাদের ঘরবাড়ির স্থায়ী বাসিন্দাই হয়ে গেছে বলা যায়, এডিস সেখানে মৌসুমি অতিথি। অ্যানোফিলিস আবার একটু ঘরকুণো, পার্বত্য অঞ্চলেই থাকে বেশি।

তিন প্রজাতির মশা;
চিকুনগুনিয়া
একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে ভারত উপমহাদেশে অন্তত ১১ বার চিকুনগুনিয়ার ব্যাপক প্রকোপ লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০০৮ আর ২০১১ সালে বাংলাদেশে ছোট আকারে দেখা দিয়েছিল এই অসুখ, আর ২০১৭ সালে তো পরিণত হয়েছিলো অনেকটা মহামারীতে। এরপর থেকে প্রতি বছরেই গরমের সময় চিকুনগুনিয়া হয়ে আসছে।
এর কারণ একই নামের ভাইরাস (chikungunya virus /CHIKV)। নারী এডিস মশা এই জীবাণু বহন করে, রক্তপানের সময় মানবশরীরে প্রবেশ করিয়ে দেয় ভাইরাস। সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর, শরীরে ফোস্কা আর অস্থিসন্ধিতে ব্যথা (joint pain) এই রোগের অন্যতম লক্ষণ, যা কিনা ডেঙ্গুর সাথেও অনেকাংশে মিলে যায়। চিকুনগুনিয়ার জন্য অস্থিসন্ধিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এবং রোগ ভালো হয়ে গেলেও সামান্য ব্যথা থেকে যেতে পারে বছরখানেক।

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস
চিকুনগুনিয়া সাধারণত মারাত্মক কিছু নয় এবং এমনিতেই সেরে যায়। তবে স্বল্পসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে স্নায়ু, হৃদযন্ত্র, লিভার, এমনকি শ্বাসতন্ত্রে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই ভাইরাস শরীরে ঢুকলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়া অথবা ভ্রুনের সংক্রমণ ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
ডেঙ্গু
মশাবাহিত আরেক রোগ ডেঙ্গু, যা কিনা ডেঙ্গু ভাইরাস দিয়ে ঘটে থাকে। চিকুনগুনিয়ার মতো এখানেও বাহক সেই নারী এডিস মশা। মূলত ২০০০ সালের পর থেকে ডেঙ্গু আমাদের দেশে বড় একটা স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে, তবে প্রথম রোগী কিন্তু শনাক্ত হয় ষাটের দশকে। তখন একে বলা হতো ঢাকা’র জ্বর (Dacca fever)। বর্তমানে প্রতি বছরই মহামারী আকারে ডেঙ্গু দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, জনসংখ্যার অন্তত ৫২% লোক এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে আছে।’

ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ অনেক সময় একইরকম মনে হতে পারে
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে প্রায় ১০৩-১০৪° ফারেনহাইট জ্বর, শরীর ব্যথা, হাড়গোড়ে আর মাংসপেশীতে ব্যথা, শরীরে ফোস্কা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। সাধারণত ২-৭ দিনের মধ্যে রোগী ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু লক্ষণ থাকলে রোগীকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত, যেমন- প্রচণ্ড পেটব্যথা বা পেট ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়া, অবিরাম বমি হওয়া ইত্যাদি। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে তাই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
ম্যালেরিয়া
ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার আগে মানুষ মশাবাহিত রোগ বলতে বুঝতো ম্যালেরিয়াকেই। পরজীবী বা প্যারাসাইটজনিত এই রোগ ছড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নারী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে। আমাদের দেশে ভারত আর মায়ানমারের সীমান্তবর্তী ১৩টি জেলায় এই রোগ এন্ডেমিক (endemic)। এর মানে সারা বছরই ঐসব এলাকায় ম্যালেরিয়া দেখা যায়। ফলে কেউ সেখানে ঘুরতে যেতে চাইলে ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিয়ে যাবার উপর জোর দেয়া হয়।

বাংলাদেশের ১৩টি জেলায় ম্যালেরিয়ার সারা বছর দেখা যায়;
ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রেও রোগের সূচনা জ্বর দিয়ে, তবে এখানে ভয়াবহ রকম কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। সাথে থাকে মাথাব্যথা, মাংসপেশীতে ব্যথা আর ক্লান্তি। রোগীর রক্তশুন্যতা আর জন্ডিসও দেখা যেতে পারে। তবে ভয় পাবার কারণ নেই, কারণ ম্যালেরিয়ার খুব ভালো কিছু ওষুধ রয়েছে। রোগী কী ওষুধ খাবেন সেটা চিকিৎসক ঠিক করে দেবেন।
এনকেফালাইটিস
মস্তিষ্কের ইনফ্ল্যামেশনকে এনকেফালাইটিস বলা হয়। বেশ কিছু ভাইরাস থেকে এই রোগ হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে জাপানিজ এনকেফালাইটিস ভাইরাস বা জেই (Japanese encephalitis), এবং ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস। দুটোই ছড়ায় কিউলেক্স প্রজাতির মশা দিয়ে, যা কিনা তিন প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
এশিয়াতে জেই ভাইরাস ঘটিত এনকেফালাইটিসই বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে গবেষণা না থাকলেও একেই মূল কালপ্রিট বলে ধরা হয় জীবাণুবাহক মশা কামড়ানোর ৫-১৫ দিনের মধ্যে রোগীর জ্বর, মাথাব্যথা, বমি এসব দেখা যায়। অনেকসময় ঘাড়ব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি ইত্যাদিও হতে পারে। এনকেফালাইটিস মারাত্মক রোগ, সুতরাং রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে।
জিকা
নারী এডিস কর্তৃক বাহিত আরেকটি ভাইরাস জিকা, যা থেকে উৎপত্তি হতে পারে রোগের। লক্ষণ অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতোই, সাথে চোখ লাল হতে পারে। এক সপ্তাহ পর রোগী সাধারণত ভালো হয়ে যান।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য জিকার সংক্রমণ অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে বাচ্চা জন্ম নিতে পারে নানারকম শারীরিক ত্রুটি নিয়ে, যাকে বলা হয় Congenital Zika Syndrome। অনেক সময় বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, অথবা প্রসব হয়ে যেতে পারে সময়ের অনেক আগেই (preterm birth)।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য জিকা সংক্রমণ মারাত্মক বিপদজনক
লিম্ফেটিক ফাইলেরিয়াসিস
একসময় ঢাকা শহরে দেখা মিলত এমন কিছু মানুষের যাদের হাত অথবা পা ছিল ভয়াবহভাবে ফোলা। এর কারণ লিম্ফেটিক ফাইলেরিয়াসিস নামে পরজীবীঘটিত একটি রোগ। কিউলেক্স, এডিস, অ্যানোফিলিস তিন প্রজাতির মশাই এদের বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে। লসিকা গ্রন্থির সংক্রমণ থেকে এই রোগের উৎপত্তি হয়। বাংলাদেশ একসময় লিম্ফেটিক ফাইলেরিয়াসিসের উচ্চ ঝুঁকিতে ছিল, তবে বিভিন্ন প্রতিরোধক ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত চিকিৎসায় এখন এই রোগ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। সঠিক ওষুধ প্রয়োগে ভালো হয়ে উঠেছেন বহু লোক।

সংক্ষেপে দেখুনলিম্ফেটিক ফাইলেরিয়াসিস/এলিফ্যান্টিয়াসিস
মশা থেকে ছড়াতে পারে অনেক রকম অসুখ। সেজন্য বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা দরকার, যাতে মশা বংশবৃদ্ধির সুযোগ না পায়। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই হয়তো আমরা থাকতে পারবো সুস্থভাবে।
নখে সাদা দাগ হয় কেন ?
আমাদের শরীরের তথা হাতের একটি গুরুত্ব পূর্ণ অংশ নখ৷ কিন্তু মাঝে মধ্যেই আমরা দেখতে পাই নখে বেশ কিছু সাদা দাগ রয়েছে৷ অনেকেই বলেন, শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব নখে সাদা দাগ হয়৷ আর তাতেই আমরা ভয় পেয়ে যাই৷ কিন্তু সত্যিই কি ভয়ের কিছু রয়েছে?চিকিৎসা বিজ্ঞানে নখের সাদা দাগের নাম ‘punctate leukonychia। অধিকাংবিস্তারিত পড়ুন
আমাদের শরীরের তথা হাতের একটি গুরুত্ব পূর্ণ অংশ নখ৷ কিন্তু মাঝে মধ্যেই আমরা দেখতে পাই নখে বেশ কিছু সাদা দাগ রয়েছে৷ অনেকেই বলেন, শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব নখে সাদা দাগ হয়৷
আর তাতেই আমরা ভয় পেয়ে যাই৷ কিন্তু সত্যিই কি ভয়ের কিছু রয়েছে?চিকিৎসা বিজ্ঞানে নখের সাদা দাগের নাম ‘punctate leukonychia। অধিকাংশ সময়ে এই দাগের আবির্ভাব হয় নখে ধাক্কা বা চোট লাগলে৷ তবে এই আঘাত যে খুব গুরুতর নাও হতে পারে৷
টেবিলে ক্রমাগত নখ দিয়ে আওয়াজ করা বা দাঁত দিয়ে নখ কাটাও এই সাদা দাগ উদ্ভবের কারণ হতে পারে৷ আসলে এই সাদা দাগগুলো হল নখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ৷
কিন্তু আপনার নখটি যদি পুরো সাদা হয়ে যায় তাহলে তা গুরুতর হতে পারে৷ কারণ পুরোপুরি সাদা নখ শরীরের অন্য কোন বড় সমস্যার জানান দিতে পারে৷ যেমন-লিভার সমস্যা, কিডনী সমস্যা অথবা হার্টের সমস্যা৷
এছাড়া যখন এই সাদা দাগগুলো সারি দিয়ে থাকে তখন তা রক্তে প্রোটিনের স্বল্পতাকেই ইঙ্গিত করে৷ তাই সাদা দাগ যদি পুরো নখ জুড়ে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন৷
সংক্ষেপে দেখুনপ্রাচীন কালেও ছিলো ভূয়া ডাক্তার । স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাচীন কালের কিছু জঘন্য পদ্ধতিও ছিলো। পদ্ধতিগুলো কি?
স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাচীন কালের কিছু জঘন্য পদ্ধতি মানুষ মাথার টাক পড়া আটকাতে মাথায় রাজহাঁসের মল লাগাতো, দাঁত সাদা করার জন্য মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করতো, গর্ভনিরোধক হিসাবে কুমিরের গোবর, এবং আরও অনেক কিছু… আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল কী কাজ করেবিস্তারিত পড়ুন
স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাচীন কালের কিছু জঘন্য পদ্ধতি
মানুষ মাথার টাক পড়া আটকাতে মাথায় রাজহাঁসের মল লাগাতো, দাঁত সাদা করার জন্য মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করতো, গর্ভনিরোধক হিসাবে কুমিরের গোবর, এবং আরও অনেক কিছু…
আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল কী কাজ করে এবং কী করে না সে সম্পর্কে জ্ঞান। দ্বিতীয়টি হল টয়লার পেপার এবং টুথপেস্টের মতো ক্ষুদ্র উদ্ভাবন যা আমাদের জীবনের মান অনেক উন্নত করেছে।
তৃতীয়টি হল যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের গৃহস্থালীর পণ্যগুলির উৎপাদনের খরচের পরিমাণ কমিয়ে এনেছে, যার খরচ প্রায় সকল সাধারণ মানুষের বহনের সক্ষমতা আছে।
বর্তমানে আমরা টুথব্রাশ, টুথপেষ্ট কিংবা টয়লেট পেপার যা-কিছু ব্যবহার করছি তা ব্যবহারের সময় ২০০ বছরের বেশি নয়।
আজ আপনাকে আমাদের আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস সম্পর্কে জানাবো। ব্যাপারগুলো হয়তো ভয়ঙ্কর শোনাতে পারে, কিন্তু সত্যিই সেগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছিল।
১. মুখ ধৌত করতে মানুষের প্রস্রাব
সময়ের সাথে সাথে, প্রস্রাব অ্যামোনিয়াতে পচে যায়, যার মধ্যে ব্লিচিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রাচীন রোমানরা পুরানো হয়ে যাওয়া মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করত এবং এটি দিয়ে তাদের মুখ ধুয়ে ফেলতে।
প্রস্রাবের অ্যামোনিয়া দাগ দূর করে এবং রোমানদের হাসিকে আরও সুন্দর করে তোলে। প্রস্রাবে অনেক দুর্গন্ধ থাকার পরেও রোমানরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে গেছে
পম্পেই নগরীতে পাওয়া প্রস্রাব রাখার পাত্র
ধনী রোমানরা পর্তুগিজদের মূত্র কিনে এনেছিল, সেসময় রোমান সাম্রাজ্যের মানুষজন মনে করতো, পর্তুগিজদের মূত্রের মান ভালো ও আরো ভালো বেশি ভালো কাজ করে।
২. অপরিচিত মানুষদের সাথে বাট ব্রাশ শেয়ার করা
প্রাচীন রোমানরা ছিলো চমৎকার নির্মাতা। সেই হাজার বছর আগেই তারা পাবলিক টয়লেট তৈরি করেছিল, এমনকি সেই পাবলিক টয়লেটে জলের প্রবাহও ছিল। পাবলিক টয়লেটগুলির লক্ষ্য ছিল রোমের মতো বড় রোমান শহরগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি উন্নত করা।
যাইহোক, মলত্যাগের পরে মলদ্বার মুছার জন্য জাইলোস্পনজিয়াম (ল্যাটিন ভাষায় একটি লাঠিতে স্পঞ্জ) ব্যবহার করতো।
ব্যবহারের পরে, জাইলোস্পনজিয়ামকে একটি ভিনেগার বা লবণ জলে ভরা বালতিতে রেখে দিতো যাতে পরবর্তীতে অন্য ব্যক্তি এটি ব্যবহার করতে পারে।
বলা বাহুল্য, আর এজন্যই শীঘ্রই সমস্ত রোমানরা কৃমি এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
৩. গর্ভধারণ আটকাতে কুমিরের মূত্রের ব্যবহার
১৮৮৯ সালে, প্রত্নতাত্ত্বিকরা কাহুন গাইনোকোলজিকাল প্যাপিরাস খুঁজে পান, যা প্রাচীন মিশরীয়দের চিকিৎসা পাঠ্য। আর এটি ছিল ১৮৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (প্রায় ৪ হাজার বছর পূর্বে)।
অন্যান্য জিনিসের মধ্যে, প্যাপিরাসে গর্ভাবস্থা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে তিনটি নির্দেশিকা রয়েছে।
একটি পদ্ধতি প্রাচীন মিশরীয় নারীদের কুমিরের গোবর নিতে এবং যৌন মিলনের আগে যোনিতে মিশ্রণটি ঢোকানোর নির্দেশ দেয়।
যেহেতু গোবরে ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাই এটি শুক্রাণুনাশক হিসাবে কাজ করতে পারে।
যাইহোক, এই গর্ভনিরোধ পদ্ধতির কোন পরীক্ষামূলক প্রমাণ নেই, তাই এটি চেষ্টা করবেন না।
৪. পশুর মল দিয়ে টাক পড়া নিরাময় করা
সৃষ্টির শুরু থেকেই টাক পড়া নিয়ে পুরুষদের উদ্বেগ ছিল। এমনকি ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান পুরুষরাও টাক থেকে রেহাই পাননি।
উদাহরণস্বরূপ, জুলিয়াস সিজার তার চুলের অভাব লুকানোর জন্য তার মাথায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ফ্রান্সের লুই চতুর্দশ পরচুলা তৈরি করার জন্য নিজের একটি ছোট বাহিনী তৈরি করেছিলেন যাতে নিজের টাক লুকিয়ে রাখতে পারেন।
আপনি কি কখনো নিজের টাক সমস্যা দূর করতে মুরগীর মূত্র মাথায় লাগাতে রাজি হবেন?
স্বাভাবিকভাবেই টাক সমস্যা দূর করতে সেসময়েও ডাক্তার ও ঔষধের শরণাপন্ন হতো। বিখ্যাত গ্রীক চিকিত্সক হিপোক্রেটিস (৪৬০-৩৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) কবুতরের বিষ্ঠা, আফিম, হর্সরাডিশ, বিটরুট এবং মশলার মিশ্রণ মাথায় মাখতে পরামর্শ দিতেন।
দশম শতাব্দীতে, শক্তিশালী ভাইকিং যোদ্ধারা, যারা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং চেহারা সম্পর্কে খুব সংবেদনশীল ছিল, তারা তাদের মাথায় রাজ হংসের মূত্র ঘষে টাক পড়া আটকাতে চাইতো।
আর ১৭ শতকে ইংরেজরা তাদের মাথায় মুরগির মূত্র এবং লাই (সাবান তৈরির উপাদান) এর মিশ্রণ প্রয়োগ করেছিল।
৫. নকল দাঁত
মানুষজন যখন নিজেদের দাঁত হারাতে শুরু করেছিলো, তখনই সেটির প্রতিস্থাপনের উপায় খুঁজে বের করতে চেষ্টা করতে শুরু করেছিল। আর তাই দাঁতের ডাক্তাররা নকল দাঁত তৈরির জন্য হাতির দাঁত, কিংবা পশুপাখির দাঁত দিয়ে দাঁতের অভাব পূরণের চেষ্টা করেছিলেন।
শুনতে হয়তো ভয়ংকর লাগতে পারে, তবে ডেন্টিস্টরা জানতেন যে নকল দাঁত তৈরির জন্য মানুষের দাঁতই সেরা দাঁত।
আর এজন্য কখনও কখনও, ধনীরা দরিদ্রদের দাঁত তুলে নেয়ার জন্য অর্থ প্রদান করতো।
এজন্য সবচেয়ে ভালো উদাহরণ আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন (১৭৩২-১৭৯৯)। ওয়াশিংটন এর দাঁত সবগুলোই কম বয়সেই পড়ে গিয়েছিলো, আর তাই তিনি দাঁতের অভাব পূরণ করতে আফ্রিকান আমেরিকান ক্রীতদাসদের কাছ থেকে দাঁত কিনেছিলেন।
জর্জ ওয়াশিংটন এর দাঁত
এই নকল দাঁতের ঘটনা আরও বিভৎস রূপ ধারণ করে যখন মানুষ মৃত মানুষের দেহ থেকে দাঁত তুলে ফেলতো।
১৮১৫ সালে ওয়াটারলুতে যুদ্ধের পরে মৃতদের থেকে দাঁত ব্যবহার করা সবচেয়ে কুখ্যাত ঘটনাগুলির মধ্যে একটি। মেথরকারীরা তাদের দাঁত সহ মৃত সৈন্যদের সবকিছু লুট করে নিয়েছিল।
ওয়াটারলু থেকে মৃত সৈন্যদের দাঁত দিয়ে তৈরি দাঁতগুলি “ওয়াটারলু দাঁত” নামে পরিচিত হয়।
৬. জোঁক দিয়ে চিকিৎসা
প্রাচীন মিশরীয়দের সময় থেকে, ডাক্তাররা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা হিসাবে জোঁক ব্যবহার করতেন। এই জোঁকের ব্যবহার সপ্তদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতেও ব্যবহার হয়েছে সামান্য।
সেসময় চিকিৎসকরা বিশ্বাস করতো মানুষের শরীরে রোগ হয় দেহের চারটি মৌলিক রসবোধের ভারসাম্যহীনতার কারনে। যদি তখন একজন ব্যক্তির গাল লাল থাকতো তাকে প্রদাহ এবং জ্বর সহ, রক্তপাতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
রক্তপাতের একটি সাধারণ পদ্ধতি ছিল ব্যক্তির ত্বকে জোঁক প্রয়োগ করা।
অনাকাঙ্ক্ষিত বা অদ্ভুত আচরণের চিকিৎসার জন্যও জোঁক ব্যবহার করা হতো। যদি একজন ব্যক্তি খুব প্রফুল্ল বা খুব উচ্চস্বরেকথা বলতো তাকেও শান্ত করার জন্য জোঁকের থেরাপি দেয়া হতো।
কিন্তু আজ আমরা জানি যে একজন রোগীকে তার রক্ত দিতে দিলেই তাকে দুর্বল করে দেয়।
জোঁক থেরাপি
৭. প্রচুর পরিমাণে মধু মিশিয়ে মানুষের মাংস খাওয়া
প্রাচীন চীনের নথি ঘাটলে ‘হানি পার্সন’ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। যা ছিলো একটি আশ্চর্য ঔষধ যা ভাঙা অঙ্গ এবং ক্ষত নিরাময় করতে দারুণ কাজ করতো।
এই ঔষধটি তৈরির প্রক্রিয়া একটু অদ্ভুত ধরনের ছিল। সেসময় যারা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন তারা বৃহত্তর ভালো স্বার্থের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করতেন। সেজন্য তারা প্রচুর পরিমাণে মধু খেতেন, এবং একটা সময়ে মধু খাওয়ার ফলেই তাদের মৃত্যু হতো। মৃত্যুর পর তাদের দেহ মধু দিয়ে স্নান করিয়ে মধূতে ভর্তি কোনো কফিনে তাদের দেহ রেখে দেওয়া হতো। আর ১০০ বছর পর সেই মৃতদেহ ও মধুর মিশ্রণে সেই অসাধারণ ঔষধটি প্রস্তুত হতো।
সবশেষে কিছু কথা
এই অদ্ভুত ও অস্বাস্থ্যকর কিছু পদ্ধতির মধ্যে বেশ কিছু আসলেই কাজ করেছিল।
এই ধরুন প্রস্রাবে অ্যামোনিয়া থাকে, তাই আমাদের দাঁত সাদা করে। কুমিরের গোবর আসলে ক্ষারীয়, যা শুক্রাণুকে ধ্বংস করে এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
এছাড়া মানুষের দাঁত দিয়ে নকল দাঁত বানানোও আধুনিক চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন এনেছে।
তবে বাট ব্রাশ শেয়ার করে নেওয়া, মানুষের মৃতদেহকে মধু দিয়ে খাওয়া, জোঁক দেওয়া বা মাথায় পাখির মল ছড়িয়ে টাক নিরাময় করা, এই পদ্ধতি গুলো কেবল ঘৃণ্যই নয়, সম্পূর্ণ অকার্যকরও।
রক্ত সম্পর্কে ১০ টি চমৎকার তথ্য জানেন কি ?
রক্ত হল মানুষের এবং উচ্চশ্রেণীর মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের এক প্রকার তরল সংবহনতন্ত্র যা কোষে প্রয়োজনীয় পদার্থ যেমন পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকীয় বর্জ্যপদার্থ গুলোকে একই কোষ থেকে দূরীভূত করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আজকের এই আর্টিকেলে থাকছে রক্ত সম্পর্কে ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য; যা হয়বিস্তারিত পড়ুন
রক্ত হল মানুষের এবং উচ্চশ্রেণীর মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের এক প্রকার তরল সংবহনতন্ত্র যা কোষে প্রয়োজনীয় পদার্থ যেমন পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকীয় বর্জ্যপদার্থ গুলোকে একই কোষ থেকে দূরীভূত করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
আজকের এই আর্টিকেলে থাকছে রক্ত সম্পর্কে ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য; যা হয়তো আপনি আগে কখনোই শোনেন নি!
১. মানব দেহে ১ গ্যালন রক্ত থাকে
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে সাধারণত ১.২ থেকে ১.৫ গ্যালন পর্যন্ত রক্ত থাকতে পারে (লিটারে তা ৫ থেকে ৬ লিটার) তবে বেশ কিছু কারণের উপর ভিত্তি করে রক্তের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গর্ভবতী মহিলাদের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বেশি রক্ত থাকতে পারে পারে। আর একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরের ওজনের প্রায় ১০% রক্ত তৈরি করে।
২. গর্ভাবস্থার জন্য শ্বেত রক্তকণিকা অপরিহার্য
আমরা সবাই জানি যে শ্বেত রক্তকণিকা অপরিহার্য। একজন মহিলার গর্ভধারণের জন্য ম্যাক্রোফেজ নামক বিশেষ শ্বেত রক্তকণিকা প্রয়োজন হয়।

ম্যাক্রোফেজগুলি প্রজনন সিস্টেমের টিস্যুতে পাওয়া যায়। তারা ডিম্বাশয়ে রক্তনালী নেটওয়ার্ক গঠনে সাহায্য করে। এই রক্তনালীগুলি প্রোজেস্টেরন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। জরায়ুতে ভ্রূণ রোপনের জন্য প্রজেস্টেরন প্রয়োজন।
৩. আপনার রক্তে সোনা আছে!
ঠিকই শুনছেন। মানব দেহের রক্তে বিভিন্ন ধাতু রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে আয়রন, ক্রোমিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা, তামা এবং সীসা। এর সাথে রয়েছে সামান্য পরিমাণে সোনা। সোনার পরিমান বেশি নয়! একজন ৭০ কিলোগ্রাম ওজনের মানুষের শরীরে ০.২ মিলিগ্রাম সোনা থাকতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানিদের মতে এই অল্প পরিমাণ সোনা আমাদের শরীরের জয়েন্টগুলির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৪. মশাদের পছন্দ O গ্রুপের রক্ত
মশারা আমাদের রক্তের গ্রাণ নিতে পারে। বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে মশারা O গ্রুপের ব্লাড গ্রুপ কে মশারা অন্যান্য গ্রুপের ব্লাড গ্রুপের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি পছন্দ করে।

যাইহোক, এখানে আরও কিছু অতিরিক্ত কারণ জড়িত থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শরীরের গন্ধ মশাকে আকর্ষণ করা ও একটি অপরিহার্য কারণ।
৫. রক্তকণিকা স্টেম সেল থেকে আসে
মানুষের শরীরের সমস্ত রক্তকণিকা হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল থেকে জন্ম নেয়।
আর সমগ্র শরীরের রক্ত কণিকাগুলির প্রায় ৯৫ শতাংশ অস্থি মজ্জাতে তৈরি হয়।
অস্থি মজ্জা সাধারণত স্তনের হাড় এবং মেরুদণ্ড এবং শ্রোণী অঞ্চলের হাড়ের মধ্যে ঘনীভূত হয়। আরও বেশ কিছু অঙ্গ শরীরে রক্ত কণিকা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
৬. রক্ত কণিকার ভিন্ন জীবনকাল
দেহের পরিপক্ক রক্তকণিকার প্রতিটিরই বিভিন্ন জীবন চক্র থাকে। যেমন লোহিত রক্ত কণিকার জীবন শরীরে চার মাস স্থায়ী থাকে। অণুচক্রিকা মাত্র নয় দিন বাঁচতে সক্ষম। আর শ্বেত রক্তকণিকা কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন বেঁচে থাকতে পারে।
৭. রক্তের প্রোটিন কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে
কার্বন মনোক্সাইড বর্ণহীন এবং বিষাক্ত। এটি জ্বালানী-বার্নিং ডিভাইস সহ সেলুলার প্রক্রিয়াগুলির একটি উপ-পণ্য হিসাবে উৎপাদিত হয়।
স্বাভাবিক কোষের কার্যকারিতা দ্বারা উৎপাদিত কার্বন মনোক্সাইড কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার তুলনায় অনেক কম। কার্বন মনোক্সাইডের সাহায্যে অক্সিজেন থেরাপি ব্যবহার করা হয়।
মানুষ যখন কার্বন মনোক্সাইড শ্বাস নেয়, তখন এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের সাথে আবদ্ধ হয়, যা সারা শরীরে অক্সিজেন সঞ্চালনের জন্য দায়ী।
৮. শ্বেত রক্তকণিকা আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষায় সবার প্রথমে থাকে
শ্বেত রক্তকণিকা আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। এই রক্তকণিকা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য সম্ভাব্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
শ্বেত রক্তকণিকা ক্যান্সার কোষ এবং অন্যান্য অবাঞ্ছিত উপাদান যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
৯. রক্তচাপের পিছনে বিজ্ঞান।
রক্তনালীর দেয়ালে রক্তের চাপকে রক্তচাপ বলে। উচ্চ রক্তচাপ একটি স্ট্রোক এবং একটি সম্ভাব্য কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের বর্ধিত ঝুঁকি নির্দেশ করে।
সাধারণ রক্তচাপ ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়। যাইহোক, গড় রক্তচাপ সাধারণত 112/64 mmHg হয়।
১০. সকল প্রাণীর লাল রক্ত নয়!
হিমোগ্লোবিনের আয়রনের কারণে মানুষ এবং অন্যান্য প্রজাতির রক্ত লাল থাকে। যাইহোক, এটি প্রতিটি প্রজাতির জন্য সত্য নয়।
মাকড়সা এবং অন্যান্য আর্থ্রোপডদের নীল রক্ত থাকে। তাদের রক্তে উপস্থিত তামা-ভিত্তিক হেমোসায়ানিনের কারণে নীল রঙ হয়। আর ওসিলেটেড আইসফিশের রক্তের কোনো বর্ণই নেই।

সংক্ষেপে দেখুন