বারবার গর্ভাবস্থা নষ্ট হওয়ায় অনেক নারীই হতাশায় ভোগেন। চিকিৎসকরা গর্ভবতী হবার ২০ সপ্তাহের মধ্যে তিন বা ততোধিক বার নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস বলে থাকেন।
রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস কী?
গর্ভবতী হবার ২০ সপ্তাহের আগে তিন বা ততোধিক বার গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস বলে। সাধারণত ১২থেকে ১৪ সপ্তাহের আগেই গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসে ব্যক্তি, পরিবার এবং সামাজিক জীবনে অনেক প্রভাব রয়েছে। এর ফলে নারীরা অনেক হতাশায় ভোগেন। সংসার জীবনে মনোমালিন্য হয়। এছাড়া, রিকারেন্ট প্রেগনেন্সির ফলে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়, সেগুলোও ব্যয়বহুল।
রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসের কারণ কী?
ইউটেরাসের বিভিন্ন ত্রুটির কারণে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হয়ে থাকে। এছাড়াও ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হরমোন ডিজঅর্ডার ,পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিনড্রোম এর কারণে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হয়। ড্রাগ, ধুমপান, সাইকলজিক্যাল ফ্যাক্টরও রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসের কারণ।
রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হলে কিভাবে শনাক্ত করতে হবে?
সাধারণত তিনটি ক্লিনিক্যাল প্রেগনেন্সি লসের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার কারণগুলো সনাক্ত করতে হয়। যাদের ৩৫ বছর বয়স তাদের দুইটি বাচ্চা হওয়ার পর পরীক্ষা করানো উচিত। গর্ভবতী মায়ের বয়স যদি ৩৫ বছরের বেশি হয় তাহলে তার ওভাম ভাল ছিল না। এছাড়াও অনিয়মিত পিরিয়ডও গর্ভাবস্থা নষ্ট হবার একটি কারণ।
ক্রোমোসোমাল ডিফেক্ট অর্থাৎ ১২ সপ্তাহের আগে যদি গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়, তবে সেটা ক্রোমোজোমাল ডিফেক্ট এর কারনে হয়ে থাকে। আর ১২ সপ্তাহের পর গর্ভাবস্থা নষ্ট হবার কারণ হচ্ছে ফসফোলিপিড সিনড্রোম। অতিরিক্ত ওজন থাকলেও রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হয়ে থাকে। এছাড়াও ইউটেরাস এনাটোমিকাল ডিফেক্ট, কিডনি এনোমেলি ডিফেক্ট, ওভারিয়ান রিজন, ইমিউনোলজিক্যাল রিজন ইত্যাদি।








ক্রিস্টি মিলারের বয়স যখন ১১ হলো, তখন থেকে তার মাসিক আরম্ভ হলো। প্রতিমাসেই রক্তক্ষরণের পাশাপাশি বমি হতে শুরু করলো। অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি না পারতেন খেতে, না পারতেন ঘুমাতে। তার কাছে মনে হতে লাগলো তিনি মারা যাচ্ছেন, কিন্তু কেউ তার তোয়াক্কা করছে না। তখন বিষয়টি না বুঝলেও এর ঠিক দশ বছর পরে গিয়ে ধরা পড়বিস্তারিত পড়ুন
ক্রিস্টি মিলারের বয়স যখন ১১ হলো, তখন থেকে তার মাসিক আরম্ভ হলো। প্রতিমাসেই রক্তক্ষরণের পাশাপাশি বমি হতে শুরু করলো। অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি না পারতেন খেতে, না পারতেন ঘুমাতে। তার কাছে মনে হতে লাগলো তিনি মারা যাচ্ছেন, কিন্তু কেউ তার তোয়াক্কা করছে না। তখন বিষয়টি না বুঝলেও এর ঠিক দশ বছর পরে গিয়ে ধরা পড়লো তার এই অসহ্য যন্ত্রণার কারণ। চিকিৎসক জানালেন, তিনি ‘এন্ডোমেট্রিওসিস’ নামক রোগে আক্রান্ত।
এন্ডোমেট্রিওসিস কী?
জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম। এই এন্ডোমেট্রিয়ামে থাকা বিশেষ কোষগুচ্ছ যদি জরায়ুর বাইরে অবস্থান নেয় তাহলে এই অবস্থাকে বলা হয় এন্ডোমেট্রিওসিস।
উপরে বর্ণিত ক্রিস্টির উপসর্গগুলো তুলে ধরা হয়েছে স্যালি রুনির উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত টিভি সিরিজ ’করভারসেশন উইথ ফ্রেন্ডন্স’-এ। এখানে দেখা যায় টিভি সিরিজের একটি চরিত্র ‘ফ্রান্সিস’ এন্ডোমেট্রিওসিসের যন্ত্রণায় কখনো ওয়াশরুমে কাতরান, কখনো বা ভীড়ের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে যান। টিভি সিরিজটি নির্মাণে সহায়তা নেয়া হয়েছে চিকিৎসক ফিওনা রেইডির, যিনি একাধারে একজন নারী রোগবিশেষজ্ঞ এবং এন্ডোমেট্রিওসিস রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ। সিরিজের মাধ্যমে একজন এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত নারীর সংগ্রাম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
যেকোনো বয়সের নারীই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন; এমনকি টিনেজাররাও! প্রতি ১০০ জনে অন্তত ১০ জন নারী রোগটিতে ভুগে থাকেন।
যেসব জায়গায় এন্ডোমেট্রিওসিস হতে পারে
এন্ডোমেট্রিওসিস শরীরের বিভিন্ন স্থানে হতে পারে; image source: wildpixel/Getty Images
লক্ষণসমূহ
এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ব্যথার অনুভূতি হতে পারে; image source: Getty Images photo
এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণ
১. এন্ডোমেট্রিয়াল কোষগুচ্ছ রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পরিচালিত হলে।
২. জিনগত কারণে হতে পারে। পরিবারের অন্য কারো এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলে।
৩. সি সেকশন বা হিস্টেরেক্টমির মতো অপারেশনের কারণে এন্ডোমেট্রিয়াল কোষগুলো অন্ত্র বা অন্য কোনো অঙ্গের প্রাচীরে লেগে যেতে পারে। যার ফলে রোগটি হতে পারে।
৪. শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হলে। এর ফলে জরায়ুর বাইরে তৈরি হওয়া এন্ডোমেট্রিয়াল কোষগুলোকে শরীর ধ্বংস করে দিতে পারে না।
রিস্ক ফ্যাক্টরস
রোগপরবর্তী জটিলতা
এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে গর্ভধারণে জটিলতা বা ওভারিয়ান ক্যান্সার হতে পারে; Image source: Shutterstock
রোগনির্ণয় পদ্ধতি
প্রতিরোধ
এন্ডোমেট্রিওসিস একটি ইডিওপ্যাথিক বা অজানা কারণঘটিত অবস্থা। একে মোকাবেলার নির্দিষ্ট কোনো পন্থা নেই। তবে লক্ষণ দেখা যাবার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে দ্রুত রোগনির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

সংক্ষেপে দেখুনলক্ষণ প্রকাশ পেলে ভয় না পেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন; Image source: drpourzand.com
গর্ভধারণ এবং স্তন্যদান এন্ডোমেট্রিওসিসের হবার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, প্রাত্যহিক জীবনে ফলমূল খাওয়া, বিশেষ করে সাইট্রাস ফলসমূহ, বিশেষ উপকারী ভূমিকা রাখে।