সাইন আপ করুন সাইন আপ করুন

সাইন আপ করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে


আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

লগ ইন করুন লগ ইন করুন

লগিন করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

কোন একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন

রিসেট পাসওয়ার্ড

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।

আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

দুঃক্ষিত, প্রশ্ন করার অনুমতি আপনার নেই, প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে.

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে।

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

দুঃক্ষিত, ব্লগ লেখার অনুমতি আপনার নেই। লেখক হতে হলে addabuzzauthor@gmail.com ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে অনুমতি নিন। (Sorry, you do not have permission to add post. Please send a request mail to addabuzzauthor@gmail.com for giving permission.)

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?

সাইন ইনসাইন আপ

AddaBuzz.net

AddaBuzz.net Logo AddaBuzz.net Logo

AddaBuzz.net Navigation

  • হোমপেজ
  • ব্লগ
  • ইউজার
  • যোগাযোগ
সার্চ করুন
একটি প্রশ্ন করুন

Mobile menu

Close
একটি প্রশ্ন করুন
  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

ashad khandaker

সবজান্তা
প্রশ্ন করুন ashad khandaker
526 বার প্রদর্শিত
2 ফলোয়ার
2,496 প্রশ্ন
হোমপেজ/ ashad khandaker/উত্তর
অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • সম্পর্কিত
  • প্রশ্ন
  • উত্তর
  • অনুরোধের প্রশ্ন
  • সেরা উত্তর
  • পছন্দ তালিকা
  • ফলোকৃত প্রশ্ন
  • ফলোয়ার
  • ফলো করছেন
  • জরিপ
  • ব্লগ
  • ব্লগ মন্তব্য
  • ফলোকৃতদের প্রশ্ন
  • ফলোকৃতদের উত্তর
  • ফলোয়ারদের ব্লগ
  • ফলোকৃত/ফলোয়ারদের ব্লগ মন্তব্য
  1. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    বেবি কেইজ কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    বেবি কেইজ: শিশুর খাঁচার মর্মান্তিক ইতিহাস ১৯৩০ এর দশকে ব্রিটেনের উঁচু দালানগুলোর জানালার বাহিরে খাঁচার ভেতরে শিশুদের ঢুকিয়ে রাখা সাধারণ একটি বিষয়। এই পদ্ধতিটি গত শতাব্দীর সবচেয়ে অদ্ভুত আবিষ্কার গুলোর একটি। এটি আবিষ্কার করার মূল কারণ ছিল গত শতাব্দী শুরু থেকে ব্রিটেনে বহুতল ভবনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তেবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing বেবি কেইজ: শিশুর খাঁচার মর্মান্তিক ইতিহাস

    বেবি কেইজ: শিশুর খাঁচার মর্মান্তিক ইতিহাস

    ১৯৩০ এর দশকে ব্রিটেনের উঁচু দালানগুলোর জানালার বাহিরে খাঁচার ভেতরে শিশুদের ঢুকিয়ে রাখা সাধারণ একটি বিষয়। এই পদ্ধতিটি গত শতাব্দীর সবচেয়ে অদ্ভুত আবিষ্কার গুলোর একটি।

    এটি আবিষ্কার করার মূল কারণ ছিল গত শতাব্দী শুরু থেকে ব্রিটেনে বহুতল ভবনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত বহুতল ভবনে থাকা দম্পতিরা তাদের নবজাতক শিশুদের নিয়ে চিন্তিত ছিল। এর কারণ ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতো না, যা নবজাতকের জন্য খুব প্রয়োজনীয়।

    এই খাঁচার মাধ্যমে মায়েরা তাদের নবজাত শিশুদের খাঁচার মধ্যে ঢুকিয়ে বাহিরে ঝুলিয়ে রাখতো। এই ধরনের খাঁচা গুলো ‘The window crib’ নামে বেশি পরিচিত ছিল।

    এই খাঁচা গুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল যা শিশুদের জন্য হামাগুড়ি দেওয়া এবং তাজা বাতাস গ্রহণ করা সহজ করে তোলে। অনেক মা তাদের সন্তানদের বাইরে রাখার সুবিধাজনক উপায় হিসাবে এটির উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল। অনেক মহিলারা তাদের বাচ্চাদের জানালার বাইরে ঝুলিয়ে রাখত যাতে তারা গৃহস্থালির অন্যান্য কাজ করতে পারে।



    খাঁচায় বন্দী শিশু 
    ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে এর অতিরিক্ত জনপ্রিয়তার কারণে সিটি কাউন্সিল এই ধরনের খাঁচা ব্যবহারের স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেসময় ‘দ্য চেলসি বেবি ক্লাব’ নামে একটি চিল্ড্রেন ডে কেয়ার নামক এই সংস্থা এই খাঁচা ব্যবহারের জন্য মানুষদের উৎসাহিত করেছিল। এর ব্যবহার বাড়াতে তারা খাঁচা বিতরণ ও করেছিল।

    কিভাবে প্রচলন শুরু এই খাঁচা গুলোর?

    আগেই বলেছি খাঁচা গুলোর প্রতি মায়েদের আগ্রহ হওয়ার কারণ ছিলো তারা বহুতল ভবনে থাকতো। আর পর্যাত আলো বাতাস পাওয়ার উদ্দেশ্যে এগুলোর ব্যবহার করতেন।

    এছাড়াও, শিশুর যত্ন গ্রহণের জন্য দায়ী আরেকটি প্রধান কারণ হল এটি আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছিল এবং শিশুদেরকে তাদের সম্ভাব্য সর্বোত্তম উপায়ে বাইরের শিথিলকরণের জন্য কিছুটা সময় দিতো। এছাড়া যেহেতু এপার্টমেন্ট গুলো ছোট ছিল, আর বাচ্চার জায়গা তৈরির জন্য ঘরের চলাচলে জায়গাও চোট হয়ে যেতো। অনেক বাবা মা সেই খাচায় পর্দা টেনে দিতেন। ফলে বাচ্চারা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তো।

    শিশুদের খাঁচা ব্যবহারের সাথে আরও বেশ কিছু সুবিধাও যুক্ত ছিল। উদাহরণস্বরূপঃ ১৮৮৪ সালে, লুথার এমমেট হল্ট একটি বইয়ে লিখেছিলেন যা তাদের বাচ্চাদের সাথে নতুন মায়েদের সাহায্য করেছিল।

    একটি চ্যাপ্টারের শিরোনাম ছিল ‘শিশুদের যত্ন এবং খাওয়ানো’। এই বইটি তখন ছোট বাচ্চাদের সাথে পিতামাতার জন্য একটি জনপ্রিয় গাইড হয়ে উঠেছে।

    লুথার এমমেট হল্ট 
    হোল্টের বইয়ের একটি অংশে উল্লেখ করেছেন এই প্রক্রিয়ার ফলে ছোট বাচ্চাদের নিয়মিত তাজা বাতাস পেতে দেওয়ার গুরুত্বের উপর জোর দেয়।

    হল্ট তার বইয়ে আরও উল্লেখ করেছেন যেঃ-

    “রক্ত পুনর্নবীকরণ এবং বিশুদ্ধ করার জন্য তাজা বাতাসের প্রয়োজন, এবং এটি সঠিক খাদ্যের মতোই স্বাস্থ্য এবং বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়।”

    হল্টের এই লেখাগুলো লন্ডনের অনেক মাকে বিশ্বাস করতে পরিচালিত করেছিল যে তাদের বাচ্চাদের বাতাসের মাধ্যমে ঠান্ডা তাপমাত্রায় প্রকাশ করা রক্ত ​​পরিশোধনে সহায়তা করে এবং তাদের অনাক্রম্যতা তৈরি করে।

    এই খাঁচাগুলো আবিষ্কার করেছিলেন ‘এমা রিড’ নামে একজন মহিলা ১৯২২ সালে দেয়া তার এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন,

    “ সময় যতো বাড়ছে উঁচু বিল্ডিং গুলোর সংখ্যা ও বাড়ছে। আর বাসাগুলোর আকার ও ছোট হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু উঁচু বিল্ডিং গুলোতে বসবাস করা শিশুরা কোনো বাগান চোখে দেখতো না আর ঘরগুলেতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতো না। আমার চিন্তা ছিলো কিভাবে তাদের পর্যাপ্ত আলো বাতাস নিশ্চিত করা যায়।”

    এই খাঁচা গুলো কে তখনকার কোনো বাবা মাই খারাপ মনে করতো না। তাদের সকলেরই প্রতিক্রিয়া ছিল বাহিরে ঘুমানোর ফলে বাহিরের আলো বাতাসে তাদের শিশু আরো বেশি সুস্থ ও স্বাস্থবান হয়ে উঠছে।

    কিভাবে খাঁচা ব্যবহার করা হয়?

    শিশুর খাঁচাগুলো পোষা প্রাণীর খাচার মতো ছিল। খাঁচাগুলো তার দিয়ে তৈরি ছিল। আর সেগুলো জানালার ফ্রেমের বাহিরের অংশের সাথে সংযুক্ত ছিল। নরম কাপড় বা ঝুড়ি সাধারণত জানালার ফ্রেমের বাইরে ঝুলিয়ে রাখার আগে শিশুর খাঁচায় রাখা হতো। যেখানে এই খাঁচাগুলি ছিল সেই সামান্য জায়গাটিকে আজ যেখানে জানালা-ভিত্তিক এয়ার কন্ডিশনারগুলি রাখা হয়েছে তার সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

    মহিলা এবং তত্ত্বাবধায়করা তাদের বাচ্চাদেরকে সেই খাঁচায় রাখতো তখন যখন তারা গৃহস্থালি কাজে ব্যাস্ত থাকতো। অনেকে বাচ্চার হাতে খেলনা ও দিতেন।



    এক মা তার খাঁচায় রাখা শিশুকে দেখভাল করছেন
    লন্ডন শহরের অনেক বিল্ডিং এর মালিক তার বিল্ডিং এর এপার্টমেন্ট গুলোতে বাচ্চার খাঁচা রাখার জন্য ব্যবস্থা করেছিলেন। যেনো মানুষরা তার বাসা ভাড়া নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়।

    এই খাঁচার ব্যাপারে কারো অভিযোগ ছিলো না একেবারেই তা নয়। ১৯০৬ সালে, এলেনর রুজভেল্ট একটি খাঁচা কিনে এনে তার নিউইয়র্কের এপার্টমেন্টে তার কন্যা আনাকে রাখার জন্য। আনাকে সেই খাঁচায় রাখার ফলে সে চিৎকার করতো। আনার চিৎকারে প্রতিবেশীরা অভিযোগ করা শুরু করে। আনার মা সহ অনেক প্রতিবেশী তখন এই খাঁচার ব্যাপারে ভাবতে শুরু করেন। শোনা যায় তারা নাকি এই খাঁচার বিষয়ে একটি অভিযোগ ও জমা করেছিলেন Prevention of Cruelty Towards Children এর কাছে।

    খাঁচা ব্যবহারের সমাপ্তি

    যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, তখন শিশুর খাঁচা ব্যবহার ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। যদিও যুদ্ধের পরে এর জনপ্রিয়তা আবার বৃদ্ধি পায়, তবে ১৯৫০ এর দশকে এর ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    আশ্চর্যজনকভাবে, শিশুর খাঁচা ব্যবহার করার ফলে আঘাতের কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। যদিও নিচ থেকে বা উপর থেকে দেখে খাঁচা গুলোকে ঝুকিপূর্ণ মনে হতো।

    যাইহোক, আইনের বিকাশ হওয়ার সাথে সাথে, শিশু যত্ন এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সময়ের সাথে সাথে যা অভিভাবকদের আরও সচেতন করে তোলে এবং তারা এই অভ্যাসটি বন্ধ করে দেয়।

    নিরাপত্তার উদ্বেগের পাশাপাশি, বৈজ্ঞানিক বৈধতার অভাবও শিশুর খাঁচা ব্যবহারে ব্যাপক হ্রাস ঘটায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  2. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা ব্ল্যাক ডেথের ইতিহাস কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ব্ল্যাক ডেথ : মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা ব্ল্যাক ডেথ ছিল ‘বিউবোনিক প্লেগের’ একটি বিধ্বংসী বৈশ্বিক মহামারী, যা ১৩শ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় আঘাত হানে। ১৩৪৭ সালের অক্টোবর মাসে ‘প্লেগ’ প্রথম ইউরোপে এসে পৌঁছায়। যখন সমুদ্রপথ থেকে ১২ টি জাহাজ মেসিনার সিসিলিয়ান বন্দেরে নোঙর ফেলে। জাহাজে অবসবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing ব্ল্যাক ডেথ : মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা

    ব্ল্যাক ডেথ : মধ্যযুগের ইউরোপের ভয়াবহতা

    ব্ল্যাক ডেথ ছিল ‘বিউবোনিক প্লেগের’ একটি বিধ্বংসী বৈশ্বিক মহামারী, যা ১৩শ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় আঘাত হানে। ১৩৪৭ সালের অক্টোবর মাসে ‘প্লেগ’ প্রথম ইউরোপে এসে পৌঁছায়। যখন সমুদ্রপথ থেকে ১২ টি জাহাজ মেসিনার সিসিলিয়ান বন্দেরে নোঙর ফেলে। জাহাজে অবস্থানরত লোকেদের তখন বিস্ময়ের সাথে দেখা হচ্ছিল। জাহাজের বেশিরভাগ নাবিকই মারা গিয়েছিল এবং যারা এখনও জীবিত ছিল তারা গুরুতর অসুস্থ ছিল এবং তাদের পুরো শরীর কালো ফোঁড়ায় আবৃত ছিলো যা দিয়ে ক্রমাগত রক্ত এবং পুঁজ বের হচ্ছিল।
    সিসিলিয়ান কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে বন্দর থেকে এই ‘মৃত্যুবাহী জাহাজ’ এর বহরের আদেশ দিয়েছিল, কিন্তু তা করতে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল। আর যার ফল হিসেবে আগামী ৫ বছরে, ব্ল্যাক ডেথ ইউরোপে ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। যা তখনকার ইউরোপ মহাদেশের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ!


    প্লেগের শুরু কখন হয়েছিল?

    সিসিলিয়ান বন্দরের সেই ‘মৃত্যুবাহী জাহাজ’ এর অনেক আগেই অনেক ইউরোপীয়রা ‘মহা মহামারী’ সম্পর্কে গুজব শুনেছিল। যা নিকটবর্তী এবং দূর প্রাচ্যের বাণিজ্য রুট জুড়ে একটি মারাত্মক ভয় সংকীর্ণতা কাজ করছিল বণিকদের মধ্যে।
    প্রকৃতপক্ষে ১৩৪০ এর দশকের গোড়ার দিকে, এই রোগটি সর্বপ্রথম চীন, ভারত, পারস্য, সিরিয়া এবং মিশরে আঘাত হেনেছিল।

    প্লেগের উৎপত্তি এশিয়ায় আজ থেকে ২০০০ বছর আগে হয়েছিল বলে মনে করা হয় এবং সম্ভবত এটি কোনো ব্যবসায়িক জাহাজের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, যে ব্ল্যাক ডেথের জন্য দায়ী ‘প্যাথোজেনটি’ ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের প্রথম দিকে ইউরোপেই বিদ্যমান থাকতে পারে

    প্লেগের লক্ষ্মণ

    ব্ল্যাক এর ভয়াবহতা মোকাবেলা করতে তখন খুব কম ইউরোপীয়রাই সতর্ক সচেতন ছিলো।

    ইতালিয়ান কবি ‘জিওভান্নি বোকাসিও লিখেছেন

    পুরুষ ও মহিলা উভয়ই সমানভাবে সংক্রমিত হচ্ছে, অসুখের শুরুতে শরীরের কিছু ফুলে যায়, (বিশেষকরে কুঁচকিতে বা বগলের নীচে)
    ফুলা অংশটি কারো কারো আপেল সাইজের, আবার কারো ক্ষেত্রে ডিম আকৃতির, কোনোটা বেশি আবার কোনোটা কম, আর এগুলোর নাম প্লেগ ফোঁড়া।

    এই অদ্ভুত ধরনের ফোলাগুলি থেকে ক্রমাগত রক্ত এবং পুঁজ বের হতো, আর এর সঙ্গে যুক্ত হতো জ্বর, ঠাণ্ডা, বমি, ডায়রিয়া, ভয়ানক মাথা ব্যথা এবং সবশেষে হতো মৃত্যু।

    বিউবোনিক প্লেগ ‘লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে’ আক্রমণ করে, যার ফলে ‘লিম্ফ নোডগুলি’ ফুলে যায়। যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে এর সংক্রমণ খুব দ্রুত রক্ত বা ফুসফুসে ছড়িয়ে পরে

    প্লেগ কিভাবে ছড়িয়ে পড়লো?

    বিউবোনিক প্লেগ ভয়ঙ্কররকম সংক্রমক ছিলো। জিওভান্নি বোকাসিও লিখেছেন,
    মমে হয় এটা কোনো সুস্থ মানুষ কোনো প্লেগ আক্রান্তের জামা কাপড় ছুলে সেও সংক্রমিত হয়ে যায়। এমনও দেখেছি কোনো সংক্রমিত ব্যাক্তি রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে বেশ সুস্থ ছিল কিন্তু ভোর বেলায় জানা গেলো সে আর বেঁচে নেই!

    আজ, বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন যে ‘ব্ল্যাক ডেথ’, যা এখন প্লেগ নামে পরিচিত,তা মূলত ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামক ব্যাসিলাস দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে। (ফরাসি জীববিজ্ঞানী ‘আলেকজান্ডার ইয়ারসিন’ ১৯ শতকের শেষের দিকে এই জীবাণুটি আবিষ্কার করেছিলেন)

    বিউবনিক প্লেগ হল Xenopsylla cheopis নামক সংক্রমিত ফ্লির কামড়ের ফলে সৃষ্ট লসিকাতন্ত্রের একটি সংক্রমণ। খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে যেমন সেপটিসেমিক প্লেগ, সরাসরি সংক্রমিত টিস্যু বা আরেকজন সংক্রমিত ব্যক্তির কফের সংস্পর্শে আসলে রোগটি ছড়াতে পারে। মক্ষিকাটি গৃহ ও ক্ষেতের ইঁদুরের দেহে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং তার পোষকটি মারা গেলে আরেকটি শিকারের সন্ধান করে। ব্যাক্টেরিয়াটি মক্ষিকার কোনো ক্ষতি করে না যা এক পোষক থেকে আরেক পোষকে জীবাণুর বিস্তারে সহায়তা করে।

    ব্যাসিলাস বাতাসের মাধ্যমে এমনকি সংক্রামিত মাছি এবং ইঁদুরের কামড়ের মাধ্যমে একজন থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। এই উভয় ধরনের কীটপতঙ্গ মধ্যযুগীয় ইউরোপের প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যেত। তবে এরা বিশেষত সব ধরণের জাহাজে বাড়িতেই ছিল। ফলে এই প্লেগ গুলো শুরতে বন্দর শহরগুলো থেকেই ছড়াতে আরম্ভ করে।

    মেসিনাতে প্রথম সংক্রমণ শুরু হওয়ার কিছুদিন পরেই ‘ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ’ ফ্রান্সের মার্সেই বন্দর এবং উত্তর আফ্রিকার তিউনিস বন্দরে ও ছড়িয়ে পড়ে। তারপর এটি রোম এবং ফ্লোরেন্সে পৌঁছেছে,যা ছিলো বাণিজ্য রুটের একটি বিস্তৃত ওয়েবের একদম কেন্দ্রে অবস্থিত দুটি শহর। ১৩৪৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে, ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ প্যারিস, বোর্দো, লিয়ন এবং লন্ডনেও সংক্রমণ হয়েছিল।

    আজকের এই সময়ে প্রযুক্তির এতো উন্নয়নের পরও আমরা করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে কতোটা বেগ পেতে হচ্ছে। একবার ভাবুন ৬০০ বছর আগে সেসময়কার অবস্থা কতটা ভয়ঙ্কর ছিল!

    ব্ল্যাক ডেথ কীভাবে একজন রোগী থেকে অন্য রোগীতে সংক্রমিত হযচ্ছিল তা কেউই জানত না এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা যায় তাও কেউ জানত না।

    সেসময়কার একজন ডাক্তারের দেওয়া একটি বক্তব্য শুনুন,

    মাত্রই মৃত্যু হওয়া ব্যাক্তির দিকে তাকালে মনে হতো সেই অসুস্থ ব্যাক্তিরই আত্মা তার পাশে থাকা সুস্থ মানুষটির শরীরের ঢুকে যাচ্ছে আর সুস্থ মানুষটিও প্লেগে সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছে।

    কিভাবে প্লেগের চিকিৎসা করতো?

    তখন চিকিৎসকরা অশোধিত এবং অপ্রত্যাশিত কৌশলগুলির উপর নির্ভর করতেন যেমন রক্তপাত এবং ফোঁড়াগুলো কে সুচ বা কাপড় দিয়ে গেলে ফেলতো (এই অভ্যাসগুলি বিপজ্জনক এবং অস্বাস্থ্যকর ছিল)। এছাড়াও কুসংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড ও প্রচলওত ছিলো, যেমনঃ- সুগন্ধযুক্ত ভেষজ পোড়ানো এবং গোলাপজল বা ভিনেগারে গোসল করা।

    এই পোশাক আর মুখোশ পড়ে ডাক্তাররা চিকিৎসা করতে আসতো

    এদিকে এই আতঙ্কের মধ্যে, সুস্থ লোকেরা অসুস্থদের এড়াতে তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল। ডাক্তাররা রোগী দেখতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল; পুরোহিতরা মৃতের শেষকৃত্য পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি করেছিলেন; এবং দোকানিরা তাদের দোকান বন্ধ করে দিয়েছিল, অনেকে বাঁচতে নিজের রক্তের মানুষদেরও ত্যাগ করেছিল।
    অনেক লোক শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চলে পালিয়েছিল, কিন্তু সেখানেও তারা এই রোগ থেকে বাঁচতে পারেনি। শুধু মানুষ নয়! গরু, ভেড়া, ছাগল, শুকর এবং মুরগিরাও সংক্রমিত হয়েছিল। সেসময় এতো ভেড়া সংক্রমিত হয়েছিলো যে পুরো ইউরোপ জুড়ে উলের সংকট তৈরি হয়েছিল।

    ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ কি স্রষ্টার শাস্তি?

    সেসময়ের মানুষজন বায়োলজি সম্পর্কে জ্ঞান ছিলো না। অনেক লোক বিশ্বাস করেছিল যে ‘ব্ল্যাক ডেথ বা কালো মৃত্যু’ হল এক ধরনের ঐশ্বরিক শাস্তি। লোভ, পরনিন্দা, ধর্মদ্রোহিতা, ব্যভিচার এর মতো পাপ বেড়ে যাওয়ায় স্রষ্টা এই শাস্তি দিয়েছে।

    এই যুক্তি দ্বারা, প্লেগ কাটিয়ে ওঠার একমাত্র উপায় ছিল ঈশ্বরের ক্ষমা লাভ করা। কিছু লোক বিশ্বাস করত যে এটি করার উপায় হল তাদের সম্প্রদায়কে বিধর্মী এবং অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টিকারীদের থেকে মুক্ত করা। ফলে তারা ১৩৪৮-১৩৪৯ সালে হাজার হাজার ইহুদিকে গণহত্যা করা হয়েছিল।

    ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ এর শেষ কিভাবে হয়েছিল?

    প্লেগ সত্যিই শেষ হয় নি এবং এটি কিছু বছর পর পরই ফিরে আসে। তবে বন্দর নগরী কর্মকর্তারা আগত নাবিকদের কিছুদিন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখে এর বিস্তারকে ধীর করতে সক্ষম হয়েছিলেন যতক্ষণ না এটি স্পষ্ট হয় যে তারা রোগটি বহন করছে না।
    নাবিকদের প্রাথমিকভাবে তাদের জাহাজে ৩০ দিন ধরে রাখা হয়েছিল (একটি ট্রেন্টিনো),একসময় সময়কাল ৪০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এই ৪০ কে ইতালিয়ান ভাষায় বলা হয় ‘কোয়ারিন্টিন’ আর কোয়ারেন্টাইন শব্দটি এখান থেকেই এসেছে। যা আজও ব্যবহৃত হয়।

    প্লেগ কি এখনও আছে?

    ব্ল্যাক ডেথ মহামারীটি ১৩৫০ এর দশকের গোড়ার দিকেও তার তান্ডব চালিয়েছিল। ১৩৫০ এর পর এর ভয়াবহতা কমে গেলেও এর পরবর্তী কয়েক শতাব্দী প্লেগ পুনরায় আবির্ভূত হয়েছিল। আধুনিক স্যানিটেশন এবং জনস্বাস্থ্য অনুশীলনগুলি এই রোগের সংক্রমণ কে ব্যাপকভাবে প্রশমিত করেছে কিন্তু এটি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।।

    অবশ্য এখন ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এখনও প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ১০০০ থেকে ৩০০০ টি প্লেগ রোগের ঘটনা পাওয়া যায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  3. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস কোনটি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    দ্য টেল অফ গেঞ্জিঃ পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস গল্প উপন্যাস পড়তে আমরা কমবেশি সবাই ভালোবাসি। আমাদের বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা ‘আলালের ঘরের দুলাল’। সেটি ১৮৫৮ সালে লিখেছিলেন তিনি। আজ থেকে প্রায় ১৬৩ বছর আগে! অথচ বিশ্বের প্রথম উপন্যাস লেখা হয়েছিল আজ থেকে ১০১২ বছর আগে জাপানি ভাষায়। আবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing দ্য টেল অফ গেঞ্জিঃ পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস

    দ্য টেল অফ গেঞ্জিঃ পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস

    গল্প উপন্যাস পড়তে আমরা কমবেশি সবাই ভালোবাসি। আমাদের বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা ‘আলালের ঘরের দুলাল’। সেটি ১৮৫৮ সালে লিখেছিলেন তিনি। আজ থেকে প্রায় ১৬৩ বছর আগে!
    অথচ বিশ্বের প্রথম উপন্যাস লেখা হয়েছিল আজ থেকে ১০১২ বছর আগে জাপানি ভাষায়। আর সেই উপন্যাস লিখেছিলেন একজন নারী, ভাবা যায়?

    আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে ১০০৭ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থটিতে চরিত্র ছিল মোট ৩৫০টি আর ছিল অসংখ্য আবেগময় কবিতা। ‘দ্য টেল অফ গেঞ্জি’ নামে এ উপন্যাসটিতে এক রাজপুত্রের ভালোবাসার কাহিনী বিধৃত হয়েছে; এ রাজপুত্র অসংখ্য নারীর সঙ্গ পছন্দ করতেন। উপন্যাসটি রচনা করেছিলেন জাপানের নারী ঔপন্যাসিক মুরাসাকি শিকিবু। এটিই বিশ্বের প্রথম উপন্যাস।

    মুরাসাকি শিকিবু

    ৯৭৮ (মতান্তরে ৯৭৩) খ্রিষ্টাব্দে জাপানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্বসাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক মুরাসাকি শিকিবু। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১০১৪ খ্রিষ্টাব্দে। এক অভিজাত পরিবারে জন্ম। বাবা ছিলেন হেইয়ান সাম্রাজ্যের প্রাদেশিক গভর্নর। পদটি সম্মানজনক হলেও রাজধানীর রাজ-অমাত্যদের মতো সমান মর্যাদার ছিল না। অথচ নবম শতক থেকে তাদের অভিজাত গোষ্ঠীর ফুজিওয়ারারা সম্রাটদের পারিষদ হিসেবে দরবার আলোকিত করেছেন এবং প্রভাব খাটিয়েছেন। ফুজিওয়ারা ললনারা সম্রাজ্ঞী হয়েছেন। দশম শতকের শেষ এবং একাদশ শতকের শুরুতে শুধু ফুজিওয়ারা নো মিচিনাগা তাঁর চার কন্যাকে সম্রাটদের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। এই ফুজিওয়ারা গোষ্ঠীর প্রভাব-প্রতিপত্তি তখন হেইয়ান সাম্রাজ্যে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল। মুরাসাকির জন্মের আগে জাপান বন্ধুহীন এবং বিচ্ছিন্ন এক সাম্রাজ্য ছিল। চীনের তেঙ সম্রাটদের আমলে (সপ্তম থেকে নবম শতক) জাপান থেকে ২০টি দল চীনে নানা মিশনে যায়। এরা ফিরে এসে জাপানের পুরো সাংস্কৃতিক পরিম-লে পরিবর্তন আনে। এতে চীনা ভাষা এবং সংস্কৃতির সংস্পর্শে গিয়ে জাপানের জাতীয় সংস্কৃতির এক শক্তিশালী উত্থান ঘটে। জাপানিরা ক্রমান্বয়ে কানা ভাষাকে চায়নিজ ভাষার বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ করে তুলতে থাকে। মুরাসাকির সময়ে পুরুষেরা চায়নিজ ভাষায় লিখতেন আর মেয়েরা কানা ভাষায়। দুই ভাষায়ই জাপানি সাহিত্য সমৃদ্ধ হতে থাকে।



    মুরাসাকি শিকিবুর প্রতিকৃতি

    মুরাসাকি সে-সময়কার সৌভাগ্যবতীদের একজন। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে চায়নিজ ক্লাসিক্যাল ভাষা এবং সাহিত্যে শিক্ষা লাভ করেছেন। মুরাসাকি শিকিবুর লেখা ডায়েরি থেকে জানা যায়, তাঁর ছোট ভাইকে এক গৃহশিক্ষক এ-ভাষা শেখাতেন। শুনে-শুনে মুরাসাকি এ-ভাষা শিখে ফেলেন। তাঁর ভাষা শেখার দক্ষতা দেখে তাঁর পিতা বলেছিলেন, তুই যদি আমার ছেলে হতিস, আমার জন্য তা হতো বড় সৌভাগ্যের। মনে করা হয়, তিনি ঐতিহ্যগতভাবে সাহিত্যের পাশাপাশি সংগীত, লিখনশৈলী এবং চিত্রকলায়ও সমান ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। তবে তাঁর শিক্ষাটা সাধারণ্যে গৃহীতব্য ছিল না। কারণ তাতে প্রচলিত গোঁড়ামির প্রশ্রয় ছিল না।

    মুরাসাকির বর ছিল তাঁর পিতার এক বন্ধু। পিতার প্রায় সমবয়সী। নাম ফুজিওয়ারা নো নোবুতাকা (৯৫০-১০০১ খ্রি.)। একই বংশ। সম্রাটের দরবারে চাকুরে, আমলা। অনুষ্ঠান-উৎসববিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন। পোশাক-আশাকে অপচয়কারী। তবে প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী। তাঁর অনেক বাড়িঘর, আর ছিল অজ্ঞাতসংখ্যক স্ত্রী এবং রক্ষিতা। মুরাসাকির সঙ্গে বিয়ের পরও এ-ভদ্রলোক অন্যদের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। প্রথা অনুসারে মুরাসাকি পিত্রালয়ে অবস্থান করতেন। স্বামী মাঝেমধ্যে সেখানে মিলিত হতেন। নোবুতাকা একাধিক প্রদেশের গভর্নর ছিলেন এবং বিপুল সম্পদের অধিকারী হন। তাদের এক কন্যা কেনসি (কাতাইকো) ৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করে। এর দুবছর পর নোবুতাকা কলেরায় মারা যান।

    স্বামীর মৃত্যুতে মুরাসাকি ভেঙে পড়েন। তিনি তাঁর ডায়েরিতে সে-সময়কার অনুভূতির কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে – ‘আমি মানসিক চাপের মধ্যে বিষাদগ্রস্ত হয়ে গেলাম। দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং সিদ্ধান্তহীনতা পেয়ে বসল আমাকে। কয়েক বছর এতটাই উদাসীন হয়ে রইলাম যে, সময় আর পোশাক-পরিচ্ছদের কোনোই ঠিক-ঠিকানা রইল না। আমার অশেষ নিঃসঙ্গতা এক সময় খুবই অসহ্য হয়ে উঠল। মুরাসাকি শিকিবু স্বামীর মৃত্যুর পর ইম্পেরিয়াল লেডি-ইন-ওয়েটিং হিসেবে সম্রাটের অমত্মঃপুরে প্রবেশ করেন। তাঁকে জাপানের রানি ‘লেডি-ইন ওয়েটিং’ করবার জন্য অনুমোদন করেছিলেন। রানি আকিকো তাঁর এই বিদ্যানুরাগের খবর পেয়েছিলেন হয়তো।


    উপন্যাসের প্লট

    তিনি রাজদরবারে গিয়ে ওখানে থাকতে শুরু করেন। তারপর ভালোমতো এই রাজদরবারের ইতিহাস নিয়ে খোঁজখবর করেন। এছাড়া প্রতিদিন সেখানে কী ঘটছে তার একটা ডায়েরিও রাখতেন। যে ডায়েরি আজো আছে। সেই গোপন জগতের সব ঘটনা যা দেখেছেন, যা শুনেছেন সব লিখে রাখেন। ঠিক সেইসময় তিনি একটি উপন্যাস লিখতে শুরু করেন। এইভাবে লিখতে লিখতে চুয়ান্ন পর্ব লেখা হয়ে যায়। আর এটিই পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস।


    উপন্যাসের কাহিনি খুব সংক্ষেপে এরকমঃ-

    সম্রাট কিরিতসুবোর দ্বিতীয় সন্তান গেঞ্জি। তিন বছর বয়সে গেঞ্জির মাতৃবিয়োগ ঘটে। উপপত্নীর সন্তান হলেও সম্রাট তাকে খুব পছন্দ করতেন। সম্রাট তাঁর সন্তানের মায়ের কথা ভুলতে পারেন না। সম্রাট এমন এক রমণীর কথা শুনলেন, যে কিনা দেখতে তাঁর পরলোকগত উপপত্নী, গেঞ্জির মায়ের মতো। এই মহিলার নাম ফুজিতসুবো। তিনি পূর্ববর্তী এক সম্রাটের কন্যা। সম্রাট তাঁকে বিয়ে করলেন। গেঞ্জি এ-মহিলাকে মান্য করে। তাঁর কাছে লালিত-পালিত হয়। যৌবনে উপনীত হয় গেঞ্জি। অত্যন্ত সুদর্শন, ‘হিকারো’ বা সাইনিং গেঞ্জি। তবে রাজনৈতিক কারণে অবনমিত মর্যাদায় নিম্ন পর্যায়ের রাজকর্মচারী হিসেবে তাকে কর্মজীবন শুরু করতে হয়। এ সময় হিকারো গেঞ্জি তাঁর সৎমা ফুজিতসুবোর প্রেমে পড়ে যায়। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তার আগে নো অয়ী নামের এক যুবতীর সঙ্গে বিয়ে হয় গেঞ্জির। সৎমায়ের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে গেলে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গেঞ্জির সঙ্গে ফুজিতসুবোর অবৈধ সম্পর্কের কথা প্রকাশ পেয়ে গেলে গেঞ্জি খুব হতাশ হয়ে পড়ে। স্ত্রীর সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ। তখন সে অনেক নারীর সঙ্গে অতৃপ্ত ও অসম্পূর্ণ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে অবজ্ঞা ও বোকামির শিকার হতে হয়। কেউ-কেউ তাকে হতাশ করে অসময়ে মারাও যায়। একবার সে দেখতে পায় এক সুন্দরী মহিলা তার জানালায় দাঁড়িয়ে আছে। গেঞ্জি অনুমতি ছাড়াই তার কক্ষে প্রবেশ করে। মহিলাকে বিছানায় যেতে বাধ্য করে। ক্ষমতাধর ব্যক্তি বলে মহিলা গেঞ্জিকে বাধা দেয় না।

    আরেকবার গেঞ্জি উত্তর পল্লির কিতাইয়ামা পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে যায়। কিতাইয়ামা কিয়োটোতে অবস্থিত। সেখানে সে দশ বছর বয়সী এক মেয়েকে দেখতে পায়। মেয়েটি দেখতে ঠিক ফুজিতসুবোর মতো। সে এ-বালিকাকে অপহরণ করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে এবং ফুজিতসুবোর মতো তাকে শিক্ষিত ও মার্জিতভাবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। মেয়েটির নাম মুরাসাকি। এ-সময় গেঞ্জি গোপনে সম্রাজ্ঞী ফুজিতসুবোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তাতে সম্রাজ্ঞী সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে এই ছেলের নাম রাখা হয় রেইঝেই। এরা দুজন ছাড়া সবাই জানে এই ছেলের পিতা সম্রাট কিরিতসুবো। পরে এই ছেলে ক্রাউনপ্রিন্স এবং লেডি ফুজিতসুবো সম্রাজ্ঞী হন। গেঞ্জি এবং ফুজিতসুবো প্রতিজ্ঞা করে যে, এরা এ গোপন তথ্য কখনো ফাঁস করবে না। সবকিছু গোপন রাখবে।
    এ গোপনীয়তার মধ্যে গেঞ্জি এবং তার স্ত্রী অয়ীর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। তার স্ত্রী একটি সন্তান জন্ম দেয়। তবে সন্তানটি মারা যায়। গেঞ্জি দুঃখ পেয়ে আবার হতাশ হয়ে পড়ে। দুঃখ ভুলে যাওয়ার জন্য গেঞ্জি এবার মুরাসাকিকে কাছে পায়। তাকে নিয়ে ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে ওঠে এবং এক সময় তাকে বিয়ে করে।

    গেঞ্জির পিতা সম্রাট কিরিতসুবো এ-সময় মারা যান। তার বড় ছেলে সুজেকো সম্রাট হন। সম্রাটের মাতা কোকিডেন কিরিতসুবোর রাজনৈতিক শত্রম্নদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পুত্রের ক্ষমতা সংহত করেন।

    গেঞ্জি রাজদ–র ব্যাপারে মোটেও উৎসাহী নয়। এ-সময় তার আরেকটি গোপন প্রেমের তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ে। সম্রাট সুজেকো গেঞ্জির সঙ্গে তার এক রক্ষিতার মিলনদৃশ্য দেখে ফেলেন। সম্রাটের এই গোপন রক্ষিতার কথা শুধু গেঞ্জি জানত।

    সম্রাট রক্ষিতাকে উপভোগের বিষয়টি শুধু তার ভাই গেঞ্জিকে বলেছিলেন। সম্রাট বিশ্বাসভঙ্গের কারণে গেঞ্জিকে শাস্তিস্বরূপ প্রত্যন্ত হারিমা প্রদেশের সুমা নগরীতে পাঠিয়ে দেন। সুমা নগরীতে আকাশি নভিস নামে পরিচিত এক ভদ্রলোক গেঞ্জিকে আতিথ্য দেন। গেঞ্জি আকাশির এক কন্যার প্রেমে পড়ে যায়। সে-প্রেমের ফসল হিসেবে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।


    এদিকে রাজধানীতে সম্রাট সুজেকো তার বাবাকে স্বপ্নে দেখে মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হন। তার হৃদয় ভেঙে যায়। মা কোকিডেন অসুস্থ। তার সিংহাসন ধরে রাখার ক্ষমতা নেই। এই মানসিক অবস্থায় সম্রাট গেঞ্জিকে ক্ষমা করে দেন। গেঞ্জি রাজধানী কিয়োটোতে প্রত্যাবর্তন করে। এ পর্যায়ে সম্রাটের ভ্রাতা রেইঝেই সম্রাট হন। গেঞ্জি রাজকর্মচারীর কাজে ইস্তফা দেয়। এক সময় নতুন সম্রাট জানতে পারেন যে, গেঞ্জিই তার আসল পিতা। সম্রাট পিতার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে গেঞ্জিকে সর্বোচ্চ রাজপদ প্রদান করেন।

    বয়সের কারণে গেঞ্জির স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করে। দুর্বল স্বাস্থ্যের জন্য রাজকীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হলেও গেঞ্জির প্রেম ও আবেগময় জীবনে ধীরে-ধীরে অধঃপতন নেমে আসে। সে আরেকটি বিয়ে করে। তাকে ‘ওন্যা সান নো মিয়া’ অর্থাৎ থার্ড প্রিন্সেস বা তৃতীয় রাজকুমারী বলা হয় (এ-নামে জাপানের কানসাইতে একটি শহর রয়েছে)। এই রাজকুমারীর সঙ্গে গেঞ্জির ভাইপোর প্রেম এবং দৈহিক সম্পর্ক তৈরি হয়। তাতে জন্ম হয় প্রিন্স কাওরোর। সবাই জানে কাওরো গেঞ্জির সন্তান, আসলে তা নয়।

    বৃদ্ধ বয়সে গেঞ্জির বিয়ে মুরাসাকির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটায়। মুরাসাকি ‘বিকুনি’র (সন্ন্যাসিনী) জীবন বেছে নেন। সন্ন্যাসিনী অবস্থায় মুরাসাকি মারা যান। এ মৃত্যু গেঞ্জিকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। জীবনের কি তা হলে এই পরিণতি? মৃত্যুচিন্তা তাকে পেয়ে বসে। গেঞ্জি এক সময় মারা যায়।

    উপন্যাসটি এখানে শেষ হতে পারত। কিন্তু তা বাড়ানো হয়েছে গেঞ্জির পরবর্তী আরো দুই প্রজন্ম পর্যন্ত। উপন্যাসের ৪৫ থেকে ৫৪ অধ্যায় পর্যন্ত তার ব্যাপ্তি। এ অধ্যায়গুলোকে বলা হয় ‘টেন উজি চ্যাপ্টার’। উজির পটভূমিতে এ অধ্যায়গুলো রচিত বলে এরকম নাম। এ অধ্যায়গুলোও প্রেম আর বিরহের।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  4. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    অ্যালকোহলের সেকাল ও অ্যালকোহলের একালের পানীয় কি একি রকম ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    নেশা মানুষ প্রায় সৃষ্টির শুরু থেকেই করে আসছে। নেশা বলতে বুঝি কোনো একটি নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি আসক্ত বা আকৃষ্ট হয়ে পড়া। আর নেশা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মাধ্যম হচ্ছে পানীয়। বর্তমানে কত রকমের পানীয়ই না প্রচলিত আছে। প্রাচীন যুগেও কিন্তু ব্যাতিক্রম ছিলো না। চলুন আজ কিছু প্রাচীন যুগের পানীয়ের সাথে পরিচিত হই।বিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing অ্যালকোহলীয় পানীয়ের ইতিহাস: প্রাচীন যুগের ৯ টি অদ্ভুত পানীয়

    নেশা মানুষ প্রায় সৃষ্টির শুরু থেকেই করে আসছে। নেশা বলতে বুঝি কোনো একটি নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি আসক্ত বা আকৃষ্ট হয়ে পড়া। আর নেশা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মাধ্যম হচ্ছে পানীয়। বর্তমানে কত রকমের পানীয়ই না প্রচলিত আছে। প্রাচীন যুগেও কিন্তু ব্যাতিক্রম ছিলো না। চলুন আজ কিছু প্রাচীন যুগের পানীয়ের সাথে পরিচিত হই।

    ১. পুলক

    এই পানীয়টি মেক্সিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় এবং এটি টাকিলার একটি প্রাচীন পূর্বপুরুষ হিসেবে কাজ করে। এই পানীয়টি ম্যাগুইয়ের রস পাতানোর পরিবর্তে গাঁজন করে তৈরি করা হয় যা সাধারণত অ্যাগেভ নামেও পরিচিত। এটি একটি টক খামিরের মতো স্বাদ সহ একটি দুধের রঙের পানীয় তৈরি করে এবং এতে প্রচুর স্বাস্থ্যকর প্রোবায়োটিক রয়েছে।


    পৌরাণিক কাহিনীতে, এই পানীয় একটি হারিয়ে যাওয়া ঐশ্বরিক স্বর্গে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হয় এবং পানীয়কে ঘিরে পৌরাণিক কাহিনীগুলি ম্যাগুয়ের দেবী ‘মায়াহুয়েল’ জড়িত। এটি প্রধানত ধারণা করা হয়েছিল যে উদ্ভিদের মাঝখানে অ্যাগুয়ামিল সংগ্রহ করা মূলত তার রক্ত। পুলক পানীয়ের ব্যবহার হচ্ছে ২ হাজারেরো অধিক সময় ধরে, এবং এই পানীয় কে ঘিরে বেশ কিছু পৌরাণিক উৎস রয়েছে।

    ২. সোমা

    সোমা ছিল একটি পানীয় যা সাধারণত প্রাচীন ভারতে বৈদিক সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত হতো। বেশ কিছু পুস্তকে উল্লেখ আছে এই পানীয়টি পান করার ফলে হ্যালুসিনেশন হয়। সোমা ছিলেন একজন দেবতা যাকে চাঁদের সাথে বাঁধা নিরাময়কারী এবং একটি নিষিক্ত শক্তি হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

    Ezoic

    বেশ কিছু লিপি অনুসারে, ঋগ্বেদ সোমা তৈরি করা হয়েছিল গাছের ডাঁটা থেকে তরল নিংড়ে যা দুধ এবং জলের সাথে মিশ্রিত করে তৈরি করা হয়েছিল। এই পানীয়টির নাম এসেছে বৈদিক সংস্কৃত শব্দ থেকে যার অর্থ পাতন, নির্যাস এবং ছিটিয়ে দেওয়া।

    ৩. শেদেহ

    এটি একটি রহস্যময় প্রাচীন মিশরীয় পানীয় যার বিষয়বস্তু এখনও ইতিহাস গবেষকদের মধ্যে অনেক তর্ক বিতর্ক সৃষ্টি করে চলছে। একটা সময় বিশ্বাস করা হতো এই মদ বা পানীয় টি সৃষ্টি করা হয়েছিল এটি ডালিম ফল থেকে সৃষ্ট, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এটি লাল আঙ্গুর থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়।



    এই শেদেহ প্রাচীন মিশরের ফারাওদের অতি পছন্দের পানীয় ছিল। প্রাচীন মিশরের রাজা তুতেনখামেনের সমাধিতে এই তরল প্রচুর পরিমাণে ছিল।

    ৪. কনডিটাম

    এটি একটি প্রাচীন রোমানদের মশলাযুক্ত ওয়াইন ছিল। কনডিটামের অনুবাদ করলে এর অর্থ দাঁড়ায় মসলাযুক্ত এবং মধু দিয়ে সিদ্ধ করে তৈরি করা পানীয়। এই ওয়াইন/ পানীয় রোমান সময় থেকে বাইজেন্টাইন যুগ এবং তার পরেও খুব জনপ্রিয় ছিল বলে মনে করা হয়।



    এই পানীয় তৈরিতে আরো যোগ করা হতো খেজুরের বীজ, জাফরান, লরেল, গোলমরিচ, ভেজানো খেজুর সহ আরো অনেক কিছু। এটি সেসময় ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে বহুল প্রচলিত পানীয় ছিল।

    ৫. ফ্যালারিয়ান ওয়াইন

    রোমানরা এই পানীয় পছন্দ করতো। এই মদের তিনটি ধরন ছিল একটি শুষ্ক, একটি মিষ্টি আরেকটি হালকা। এই ওয়াইনটি একটি শক্তিশালী হোয়াইট ওয়াইন ছিল যা এখন মাউন্ট ম্যাসিকো অঞ্চলে পাওয়া আঙ্গুর থেকে তৈরি হয়েছিল।আঙ্গুরের মৌসুম শেষে তারা সেগুলো সংগ্রহ করে রোদে শুকাতো। তারা মনে করতো আঙ্গুর গুলো শুকালে তার স্বাদ বেড়ে যাবে পানীয় তৈরির সময়।



    প্রাচীন রোমে এই পানীয় এই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, কিছু লোক বাজারে নকল পানীয় ফ্যালারিন ওয়াইনের নাম করে চালিয়ে দিয়েছিল।এমনকি রেমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারকে স্পেনে তার বিজয়ের উদযাপন হিসাবে এই ওয়াইনটির ব্যবহার করেছিলেন।

    ৬. মিশরীয় বিয়ার

    এই পানীয়টি ছিল প্রাচীন মিশরের শ্রমিক শ্রেণির পানীয়। তারা খামির দিয়ে বার্লি গাঁজন করে এবং তা ছেঁকে বিয়ার তৈরি করতো। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে এই বিয়ারের প্রচলিত হয় ৩১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, তার মানে আজ থেকে ৫ হাজার বছর আগে!

    Ezoic

    মুসলমানরা মিশরের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর সেখানে এসব পানীয় পানের ব্যাপারে ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তবে এখনো টিকে আছে, এবং এখনো তা সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমানে মিশরের মিশরে অ্যালকোহল সেবনের ৫৪% ই এই মিশরীয় বিয়ার।

    ৭. কাইকেয়ন

    এই পানীয়টি ছিল একটি সাইকেডেলিক পানীয় যা প্রাচীন গ্রীস থেকে এসেছিল এবং এর বিষয়বস্তু এবং এতে কী ছিল তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। যাইহোক, বলা হয় যে এতে বার্লি, পনির এবং ওয়াইনের এক অদ্ভুত মিশ্রণ ছিল।



    এই ওয়াইনটিকে সেসম একটি যাদুকরী ওষুধ হিসাবে বিবেচনা করা হত এবং এটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল দেবী ডিমিটার এবং এলিউসিসের জন্য। অনুষ্ঠান পালনকারী ও অংশগ্রহণকারীরা এই পানীয় পান করতো দেবীর দর্শন লাভের উদ্দেশ্যে।

    ৮. রেটসিনা

    গ্রীক রেটসিনা হল একটি সাদা বা লাল ওয়াইন যা তার অস্বাভাবিক টারপেনটাইন স্বাদের জন্য পরিচিত যা অ্যালকোহলে উপস্থিত পাইন রজন থেকে আসে। চশমা আবিষ্কারের আগে, ওয়াইনকে পাইন রেজিনে রাখা হয়েছিল যাতে এটি খারাপ হতে না পারে এবং পরে ৩য় শতাব্দীতে, রোমানরা এটিকে ব্যারেলে যুক্ত করে।



    এই ওয়াইনটি ৩-৪ হাজার বছর আগের এবং রোমান যুগে এটি একটি খুব জনপ্রিয় ওয়াইন ছিল এবং তা আজ পর্যন্ত সেবন করা হচ্ছে।

    ৯. পসকা

    পসকা প্রাচীন রোমান পানীয়গুলির মধ্যে সবচেয়ে সহজলভ্য পানীয় ছিল। পানি, ভিনেগার,লবন ও ভেষজ যোগ করে এই পানীয় তৈরি হতো। তৃষ্ণা নিবারনের জন্য এই পানীয়টি সেসময়ের সেরা পানীয় ছিল।



    তবে এই পানীয় সৃষ্টির উৎস আজে অজানা। তবে এটি ল্যাটিন শব্দ পোটর যার অর্থ পান করা বা গ্রীক শব্দ ইপোক্সিস থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয় যার অর্থ খুব তীক্ষ্ণ।

    এই পানীয়টি সেসময় রোমের উচ্চ শ্রেণীর মানুষের দ্বারা তুচ্ছ করা হতো এবং এটি দাস ও শ্রমিক শ্রেণীর জন্য একটি পানীয় ছিল বলে ভাবা হতো।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  5. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    প্রাচীন রোমের নারীরা রূপচর্চায় কি ব্যাবহার করতো?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    সৌন্দর্যের ধারনা মানুষের ভেতরে প্রাচীন কালেই বিকশিত হয়েছিল তা আজ অবধি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের নান্দনিক আবেদনের পছন্দগুলিকে আকার দেয়। প্রাচীন রোমের মানুষদের কাছে সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্য ছিলো ফর্সা বর্ণ, বদামী চোখ। আর মহিলাদের অসাধারণ ফিগারের সাথে স্বর্ণকেশী চুল। সেসময় সৌন্দর্য রক্ষার্থে সাজগোছ করারবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing প্রাচীন রোমের নারীদের রূপচর্চা: রূপচর্চার অদ্ভুত ৮ টি পদ্ধতি

    সৌন্দর্যের ধারনা মানুষের ভেতরে প্রাচীন কালেই বিকশিত হয়েছিল তা আজ অবধি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের নান্দনিক আবেদনের পছন্দগুলিকে আকার দেয়।

    প্রাচীন রোমের মানুষদের কাছে সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্য ছিলো ফর্সা বর্ণ, বদামী চোখ। আর মহিলাদের অসাধারণ ফিগারের সাথে স্বর্ণকেশী চুল।

    সেসময় সৌন্দর্য রক্ষার্থে সাজগোছ করার জন্য বিভিন্ন প্রসাধনী ও পদ্ধতি ব্যবহার করতো। তবে আজকেই দিনে যে কোনো সাধারণ মানুষ তা করতে পারে কিন্তু প্রাচীন রোমে আর আট দশটা সাধারণ মানুষ রূপচর্চা করতে পারতো না। প্রাচীন রেমের মেকআপ কেবলমাত্র ধনী শ্রেণীর মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। যদি কোনো নিম্ন শ্রেণির নারী মেকাপ করতো তাহলে তাকে প্রায়শই তিরস্কার করতো মানুষজন।

    চলুন আজ প্রাচীন রোমের মানুষদের রূপচর্চা বেশ কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে জানি।

    ১. ত্বকের সৌন্দযের জন্য দুধ দিয়ে স্নান করতেন

    প্রাচীন রোমে গায়ের রং ফর্সা হওয়ার গুরুত্ব ছিলো বেশি, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য। আর বেশিরভাগ পুরুষই বিয়ের জন্য ফর্সা ত্বকের নারীর খোঁজ করতো।

    আর তাই সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে নারীরা বিশেষ যত্ন নিতেন। ত্বকে দাগ মুক্ত, বালি মুক্ত ও মসৃণ রাখতে মহিলারা বাড়ির বাহিরে খুব একটা বের হতেন না। সারাদিন তারা বাড়ির অন্দরমহলেই কাটিয়ে দিতেন। আবার বের হলে তারা মুখে বিশেষ মাস্ক পড়ে বের হতেন।

    বেশ কিছু ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে তারা মুখের উপর সালভ, আনগুয়েন্টস এবং তেলের ব্যবহার সাধারণ বিষয় ছিল। এই উপাদানগুলির প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, বেশিরভাগ উপাদানগুলিকে মিক্স করে একটি পেস্ট তৈরি করে তা মুখে লাগিয়ে রাখতো।

    ধনী মহিলারা তাদের ত্বকে যত্নের সাথে দুধ ব্যবহার করতো, অনেক ধনী নারীরা আবার দুধ দিয়ে স্নান ও করতো। দুধে ত্বক সৌন্দর্য করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে কথিত আছে তাই সেসব কথা তারা সহজেই বিশ্বাস করতো।



    প্রাচীন রোম কিংবদন্তি অনুসারে, সম্রাট নিরোর স্ত্রী পপ্পা সাবিনা এত বেশি পরিমাণে দুধ ব্যবহার করতেন যে যখনই তিনি ভ্রমণ করতেন তখন গাধার একটি বাহিনী তার সাথে থাকত। বলা হয় যে তিনি দুধ এবং ময়দাযুক্ত তার নিজস্ব একটি রেসিপি তৈরি করতেন যা তিনি তার ত্বকে উপর প্রচুর পরিমানে প্রয়োগ করতেন।

    ২. চোখের পাপড়ি যত বড় হবে বিয়ের প্রস্তাবের তালিকা তত দীর্ঘ হবে
    প্রাচীন রোমে লম্বা দোররা একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হিসাবে বিবেচিত হত, এবং মহিলারা বড় পাপড়ি নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যকর, এবং কখনও কখনও অস্বাস্থ্যকর মাধ্যম অবলম্বন করত।

    আর সেজন্য তারা চোখে বিভিন্ন প্রকার কালি ব্যবহার করতো তা ছিলো শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।

    ৩. চোখের মেকাপ

    বলা হয় যে উজ্জ্বল ঝকঝকে রঙগুলি মহিলারা তাদের চোখের আকার বাড়ানোর জন্য আইশ্যাডো হিসাবে ব্যবহার করতেন। রঙিন সবুজ, হলুদ এবং নীলগুলি প্রাকৃতিক খনিজ থেকে সূক্ষ্ম পাউডার তৈরি করা হয়েছিল এবং চোখের পাতায় প্রয়োগ করা হয়েছিল।

    একটি কাঠকয়লা ধূসর পাউডার চোখের রূপরেখার জন্য কোহল হিসাবে ব্যবহার করার জন্য দূরবর্তী দেশগুলি থেকে আনা হয়েছিল। এটা বলা হয় যে কোহল চোখের প্রাকৃতিক রঙ বাড়াবে এবং তাদের বড় এবং উজ্জ্বল দেখাবে।

    কোহল জাফরান, ছাই, কাঁচ বা অ্যান্টিমনি থেকেও তৈরি করা হয়েছিল। এই সূক্ষ্ম পাউডারটি প্রয়োগ করার জন্য, হাড়ের কাঠিগুলিকে প্রায়শই তেল বা জলে ডুবিয়ে, তারপর কোহল পাউডারে ডুবিয়ে চোখের উপর ব্যবহার করা হতো।

    একজনের ভ্রুর মাঝখানে কালো কালি ব্যবহার করে প্রায়শই একটি ভ্রু আঁকা হযতো আর এটিকে প্রাচীনকালে সৌন্দর্যের চিহ্ন হিসাবে বিবেচনা করা হত।


    ৪. গোলাপী গাল

    সৌন্দর্য বাড়াতে মহিলারা লাল গোলাপী বিভিন্ন রঙ নিজেদের গালে ব্যবহার করে। এই কাজটি প্রাচীন রোমের নারীরাও করতেন। তবে তারা কিছু অদ্ভুত পদ্ধতি অবলম্বন করতেন।

    রোমান নারীরা তাদের গাল রঙ করতে গোলাপের পাপড়ি ছিড়ে ফেলতেন এবং সেগুলো ঢলে গালে লাগিয়ে গালের রঙ গোলাপি করতেন।
    এছাড়াও তারা আরো বেশ কিছু পদার্থ ও ব্যবহার করতেন গাল লাল করতে যেমন লাল চক, অ্যালকানেট এবং কুমিরের মূত্র।



    ৫. চুল কোঁকড়া ও রঙ করা

    প্রাচীন যুগের একটি প্রবাদ আছে, একজন মহিলার মহিলার সৌন্দর্য্য হচ্ছে তার চুল।
    আর তেমনি প্রাচীন রোমে মহিলাদের জন্য চুলের গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তারা তাদের পছন্দসই চুলের ধরন পেতে অদ্ভুত সব কান্ড করেছেন।

    প্রাচীন রোমের নারীরা চুল কোঁকড়া করতে ব্রোঞ্জের রড ব্যবহার করতেন। এই ব্রোঞ্জের রড কে হালকা গরম করে তা দিয়ে চুল গুলোকে রোলিং করে দীর্ঘক্ষণ রাখা হতো। সাথে অলিভ ওয়েল ও ব্যবহার করতো।

    আর যেহেতু সেসময় স্বর্ণকেশী এবং লাল চুলের উচ্চ চাহিদা ছিল, তাই তারা চলের উপর হালকা আস্তরণের রঙ ব্যবহার করতেন। এই রংগুলির বেশিরভাগই শাকসবজি এবং প্রাণীজ পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়েছিল। আর সেই রংগুলো জল এবং তেল দিয়ে ধুয়ে ফেলা যেতে পারতো।

    ৬. সুন্দর হাসির জন্য চাই সুন্দর দাঁত

    এ যুগের মানুষের কাঙ্ক্ষিত বহু জিনিসগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ফকফকে সাদা দাঁত। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন সাদা দাঁত অর্জনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি বিদ্যমান আছে।

    যাইহোক, প্রাচীন রোমানরা পশুর হাড়ের ছাই বা দাঁতের ছাই দিয়ে তৈরি তাদের নিজস্ব টুথপেস্ট তৈরি করত।
    যদি একজন ব্যক্তি একটি দাঁত হারিয়ে ফেলতেন, তাহলে সবচেয়ে ভালো হাতির দাঁত বা হাড় থেকে তৈরি একটি কৃত্রিম দাঁত একটি সোনার তারের মাধ্যমে তাদের মুখে পূঃণস্থাপন করা হতো।

    ৭. ঘনঘন মেকাপ নেওয়া

    যেহেতু সেসময় ফর্সা ত্বকের চাহিদা ছিল অত্যন্ত প্রচুর তাই সেসময় একধরনের সাদা ক্রিম ব্যবহার করা হতো ত্বকের জন্য। এই ক্রিমটির প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে সীসা।

    হ্যাঁ, সীসা বিষাক্ত। তবুও তারা সেটি ব্যবহার করতেন এই ভেবে যে এটি তাদের ত্বকের রঙের পরিবর্তন করবে। বিশেষ করে ধনী নারীরা এই ক্রিম বেশি ঘনঘন ব্যবহার জরতেন। এ জন্য অবশ্য তাদের ত্বকের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতো। তবুও তারা সেসবের কোনো তোয়াক্কা করতেন না।

    সেসম রোমান নারীরা এখনকার মতো নেইল পালিশ ও ব্যবহার করতেন! সেসময় নেইল পালিশ তৈরি করা হতো পশুর চর্বি ব্যবহার করে।
    পশুর চর্বি একটি হালকা গোলাপী রঙ উৎপন্ন করে যা নখকে সূক্ষ্ম ও উৎকৃষ্ট দেখাতো।

    ৮. সুগন্ধি ব্যবহার

    প্রাচীন রোমানরা শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে বিশেষ যত্ন নিতেন। আর মহিলাদের সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি শরীর থেকে সুগন্ধি প্রস্ফুটিত হওয়া ছিলো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    প্রাচীন রোমেও বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি তৈরি করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে কিছু তরল পদার্থের ছিলো। আর অন্যগুলি আঠালো কঠিন পদার্থের ছিল।

    এই সুগন্ধিগুলি ফুল এবং পাতা থেকে তৈরি করা হয়েছিল। জলপাই এবং আঙ্গুরের রস থেকে তৈরি অনফেসিওর ছিলো পারফিউমের মূল উপাদান। আর সেই পারফিউম কে রঙিন করতে মেশানো হতো বিভিন্ন রঙ।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  6. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    কোথা থেকে এলো টয়লেট পেপার ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    টয়লেট পেপার বা টয়লেট টিস্যু যে নামেই বলেন না কেন, এই পেপারের কাজ কিন্তু সবারই জানা। রেস্টুরেন্ট কিংবা চলতি পথে, নানা কাজে টিস্যু পেপার এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, টিস্যু পেপার ছাড়া এখন কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান চলেই না। খাবারের শেষে, কপালের ঘাম মুছতে, হাতমুখ ধোয়া শেষে টিস্যু পেপার দিবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing টয়লেট পেপারের ইতিহাস: রোমানরা টয়লেট পেপার হিসেবে কাঠি ব্যবহার করতো

    টয়লেট পেপার বা টয়লেট টিস্যু যে নামেই বলেন না কেন, এই পেপারের কাজ কিন্তু সবারই জানা। রেস্টুরেন্ট কিংবা চলতি পথে, নানা কাজে টিস্যু পেপার এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, টিস্যু পেপার ছাড়া এখন কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান চলেই না।

    খাবারের শেষে, কপালের ঘাম মুছতে, হাতমুখ ধোয়া শেষে টিস্যু পেপার দিয়ে মুখ না মুছলে যেন চলেই না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক জায়গা থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান পর্যন্ত টিস্যু পেপার এনেছে বড় পরিবর্তন। পরিচ্ছনতার ধারণা বদলে দিয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এনেছে নতুন মাত্রা।তবে মলমূত্র ত্যাগের পর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য টয়লেট টিস্যুর বিকল্প আর কিছুই নেই।

    আধুনিক টয়লেট পেপার আবিষ্কার হওয়ার পূর্বে মানুষ কি ব্যবহার করতো?

    বর্তমানে যে আধুনিক টয়লেট পেপার পাওয়া যায় তার সৃষ্টির সময়কাল আনুমানিক ২০০ বছর। ঠিক কবে থেকে টয়লেট পেপার ব্যবহার শুরু হয়েছে তার সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না।

    প্রাচীন চীন

    প্রাচীন চীনের মানুষরা টয়লেট এর শেষে কাগজ ব্যবহার করত। এই কাগজ সাধারণ কাগজের চেয়ে তুলনামূলক নরম ছিলো। তবে রাজ আদালতের সদস্যরা যেসব কাগজ ব্যবহার করতেন তা আবার সুগন্ধিযুক্ত ছিল।

    চীনে টয়লেট পেপার ব্যবহারের প্রথম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় ৫৮৯ খ্রিস্টাব্দে। যাইহোক, যেহেতু চীনারা খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দীতে কাগজ আবিষ্কার করেছিল, তাই তারা নিশ্চিতভাবে ৫৮৯ খ্রিস্টাব্দের আগেও টয়লেটের উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করে থাকতে পারেন।

    ইতিহাস বলছে, ষষ্ঠ খ্রিস্টাব্দে চীনে টয়লেট পেপার ব্যবহার করার রীতি চালু ছিল। এরপর চতুর্দশ শতকে মিং বংশের শাসনকালে চীনের রাজ প্রাসাদে এই কাগজের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়। ১৩৯৩ সালে শুধুমাত্র রাজ পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য বছরে ৭,২০,০০০ টুকরো টয়লেট পেপার দরকার হত। প্রতিটি টুকরোর মাপ ছিল ৬০ সেমি X ৯০ সেমি।



    প্রাচীন চীনের কাগজ 
    প্রাচীন রোম

    প্রাচীন রোমানরা একটি লাঠিতে একটি স্পঞ্জ ব্যবহার করত, যাকে বলা হয় জাইলোস্পনজিয়াম। এই নরম ডিভাইসটি ব্যবহার শেষে ভিনেগারে ভরা একটি বালতিতে ফেরত দিতে হতো, যেনো পরবর্তী তে অন্য কোনো ব্যক্তি সেটি ব্যবহার করতে পারে।


    প্রাচীন গ্রীক

    প্রাচীন গ্রীকরা মোছার জন্য সিরামিক টুকরো ব্যবহার করত। (বলাই বাহুল্য, সেই পাথর ও ছিদ্রের কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া এবং অর্শ্বরোগ হয়)। এই সিরামিকে তারা নিজেদের শত্রুর নাম লিখে রাখতো।



    সিরামিকে শত্রুর নাম খোদাই করে গ্রীকরা তা ব্যবহার করতো
    এই সিরামিকের টুকরোকে বলা হত পেসসোই। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা গ্রীক সাম্রাজ্যের পাওয়া বিভিন্ন নথি থেকে এটি আবিষ্কার করেছিলেন। এমনকি একবার একটি গুহায় পাওয়া যায় সেই সময়কার মানুষের মল। যা পরীক্ষার পর পেসোইয়ের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

    সেসময়ে পাবলিক টয়লেটগুলোতে গ্রীকরা পেসসোই রেখে দিত। যেই এই টয়লেট ব্যবহার করবে সেই তার শত্রুর বিরুদ্ধে কিছু করতে পারল বলে ভেবে নিতে পারবে। অর্থাৎ এটিও তাদের এক ধরনের যুদ্ধ বলা যায়। শত্রুর বিরুদ্ধে কিছু করা।



    প্রাচীন গ্রীসের কিছু পেসসোই 
    প্রাচীন জাপান

    অষ্টম শতাব্দীর দিকে জাপানীরা তাদের মলদ্বারের বাইরের এবং অভ্যন্তর পরিষ্কার করার জন্য এক ধরণের কাঠের কাঠি ব্যবহার করত। যেটার নাম ছিল চুগি। এছাড়াও পানি, পাতা, ঘাস, পাথর, পশুর চামড়া এবং ঝিনুক ব্যবহার করত। এটি ছিল প্রাচীনকালের মানুষের কথা। আর মধ্যযুগে মরিসন জাতিরা ব্যবহার করত শ্যাওলা, গাছের ছাল, খড়, এবং কাপড়ের টুকরো।


    লোকেরা এতসব জিনিস ব্যবহার করেছিল যে একজন ফরাসী ঔপন্যাসিক ফ্রান্সোইস রাবেলাইস ষোড়শ শতাব্দীতে এই বিষয়টি নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখেছিলেন। তার কবিতা পশ্চিমা বিশ্বে টয়লেট পেপারের প্রথম উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন এদের শুধু হাঁসের মাথা ব্যবহার করাই বাদ আছে।

    আধুনিক টয়লেট পেপারের ইতিহাস

    ১৮৫৭ সালে, জোসেফ সি. গেয়েটি টয়লেট পেপারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কাগজ বিক্রি শুরু করেন। তার পণ্য একটি বাক্সে কাগজের পৃথক শীট দ্বারা গঠিত। তিনি অ্যালোভেরার নির্যাস দিয়ে এটিকে মিশ্রিত করেন এবং তার উপাধির সাথে একটি জলছাপ যুক্ত করেছিলেন।

    ১৮৭১ সালে, শেঠ হুইলার রোল্ড এবং ছিদ্রযুক্ত টয়লেট পেপার পেটেন্ট করেছিলেন।

    ১৮৯০ সালে, স্কট পেপার কোম্পানি একটি রোলে টয়লেট পেপার বিক্রি শুরু করে।

    ১৯৩০ সালে, নর্দার্ন টিস্যু কোম্পানি স্প্লিন্টার-মুক্ত টয়লেট পেপার বিক্রি শুরু করে। এটি সমস্ত ব্যবহারকারীদের জন্য কি একটি স্বস্তিদায়ক বিষয় ছিল!

    ১৯৪২সালে, আরেকটি বিপ্লব ঘটেছিল। ইংল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুস পেপার মিল অ্যান্ড্রেক্স প্রবর্তন করেছিল, প্রথম টু-প্লাই টয়লেট পেপার।


    ১৯৫৪ সালে, নর্দান টিস্যু কোম্পানি প্রথম রঙিন টয়লেট পেপার বিক্রি শুরু করে।

    ১৯৫৫ সালে, স্কট পেপার কোম্পানি প্রথমবারের মতো টিভিতে টয়লেট পেপারের বিজ্ঞাপন দেয়।

    Ezoicপ্রথম দেশব্যাপী টয়লেট পেপার সংকট

    ২০২০ সালের মার্চ মাসে, COVID-19 মহামারী চলাকালীন, একাধিক দেশ টয়লেট পেপার কেনার আতঙ্কের কথা জানিয়েছে, যা এর ঘাটতির কারণ হয়েছিল।

    যাইহোক, এটি প্রথম টয়লেট পেপার সংকট ছিল না।

    ১৯৭৩ সালে প্রথম টয়লেট পেপার এর সংকট দেখা দিয়েছিল।

    ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে তেলের সংকট দেখা দেয়; যা জাপানে গুজব ছড়িয়ে দেয় যে দেশটি টয়লেট পেপার ফুরিয়ে যাচ্ছে।
    জাপানি গৃহিণীরা টয়লেট পেপার কেনার উন্মাদনায় সাড়া দিয়েছিল। প্রতিদিন শত শত দোকানের সামনে অপেক্ষা করত যতটা সম্ভব রোল হাতে পাওয়ার জন্য।
    ১৯ শে ডিসেম্বর, ১৯৭৩-এ, জনি কারসন, একজন জনপ্রিয় আমেরিকান কৌতুক অভিনেতা, টয়লেট পেপার ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য টুনাইট শো-তে রসিকতা করেছিলেন, যা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল এবং টয়লেট পেপারের প্রকৃত ঘাটতি ছিল।

    কারসন পরে তার রসিকতার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং আশা প্রকাশ করেছিলেন যে লোকেরা তাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসাবে মনে করবে না; যে টয়লেট পেপারের সংকট সৃষ্টি করেছিল।
    টয়লেট পেপার উৎপাদন পরিবেশের উপর একটি বিশাল প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন, টয়লেট পেপার তৈরির জন্য পর্যাপ্ত কাঠ সরবরাহ করতে প্রায় ২৭,০০০ এর ও বেশি গাছ কাটা হয়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  7. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    দাসপ্রথার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কৃষ্ণাঙ্গরা না শ্বেতাঙ্গরাও দাস ছিলো । কি সেই ইতিহাস ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    শ্বেতাঙ্গ দাস: ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা এক অধ্যায় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো প্রথার একটি হচ্ছে দাসপ্রথা। খ্রীস্টপূর্ব অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রাচীন ব্যবিলিয়নে দাস প্রথার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। তারও আগে প্রাচীন মিশরে আজ থেকে (৩.৫ থেকে ৪ হাজার) বছর আগে দাসপ্রথার প্রচলন ছিল বলে গুঞ্জন শুনা যায়, তবে সেই গুঞ্বিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing শ্বেতাঙ্গ দাস: ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা এক অধ্যায়

    শ্বেতাঙ্গ দাস: ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা এক অধ্যায়

    পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো প্রথার একটি হচ্ছে দাসপ্রথা। খ্রীস্টপূর্ব অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রাচীন ব্যবিলিয়নে দাস প্রথার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। তারও আগে প্রাচীন মিশরে আজ থেকে (৩.৫ থেকে ৪ হাজার) বছর আগে দাসপ্রথার প্রচলন ছিল বলে গুঞ্জন শুনা যায়, তবে সেই গুঞ্জন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

    দাসপ্রথার কথা শুনলেই প্রথমেই চোখে ভাসে একদল কৃষ্ণাঙ্গের মুখ, যাদেরকে আটলান্টিক পাড়ি দিতে হয়েছিলো সাদা চামড়ার লোকদের অধীনে গতর খাটাবার জন্য? ইউরোপীয়রা নিজেদের উপনিবেশগুলোকে আরও চাঙ্গা করে তুলতে অন্ধকার মহাদেশ থেকে যাদের ধরে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলেছিল এক নতুন বিশ্বে। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে উনবিংশ শতাব্দীর প্রায় শেষদশক পর্যন্ত চলা এই নির্মম দাস ব্যবসার শিকার হয়েছিলো প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ কৃষ্ণাঙ্গ।

    তবে ইতিহাসের পাতায় যে শুধু কৃষ্ণাঙ্গরাই দাসত্বের শিকার হয়েছিলেন তা কিন্তু নয়। সপ্তদশ (১৬০০-১৬৯৯) শতকে বিশ্বে কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের চেয়ে শেতাঙ্গ দাস বেশি বিক্রি হয়েছে এবং শ্বেতাঙ্গ দাসদের মৃত্যুর হার ছিল শতকরা ৩৭ থেকে ৫০ ভাগ। শেতাঙ্গ দাস ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়, যা ইতিহাসের বইতে লেখা নেই।

    কিন্তু এই শ্বেতাঙ্গ দাস ব্যবস্থার দিকে ইতিহাসবিদেরা তেমন একটা দৃষ্টিপাত করেনি কেন?

    কারণ হিসেবে ইতিহাসবিদ রবার্ট ডেভিস তার বইয়ে ব্যাখ্যা করেছেন,

    “ইতিহাস শ্বেতাঙ্গদেরকে শোষণকারী ঔপনিবেশিক হিসেবেই তুলে ধরতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছে, যতটা না করেছে দাসব্যবস্থার শিকার হিসেবে।”

    আমেরিকায় দাসপ্রথা শুরু হয়েছিল শেতাঙ্গদের দিয়ে। ১৬১৯ সালের ইস্টারে আমেরিকায় কয়েকটি ব্রিটিশ উপনিবেশে সর্বপ্রথম ১০০ শেতাঙ্গ শিশুকে দাস হিসেবে আনা হয়। এর প্রায় চার মাস পর কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের প্রথম জাহাজটি আমেরিকায় পৌঁছায়। অবশ্য মূলধারার ইতিহাসবিদরা এসব শেতাঙ্গ শিশুদেরকে দাস হিসেবে মানতে নারাজ। বরং এদেরকে তারা ‘চুক্তিভিত্তিক কর্মী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অনেক ইতিহাসবিদই মনে করেন, শেতাঙ্গ এসব দাসদের শ্রমের বিনিময়ে ধনসম্পদ ও অধিকার আদায়ের সুযোগ ছিল। যদিও শেতাঙ্গ দাসদের বেশিরভাগই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবর্ণনীয় নির্যাতনের কারণে মারা যেত। এ সময় আমেরিকায় হাজার হাজার শেতাঙ্গ দাস রপ্তানি হয়েছে। যাদের মধ্যে নারী, শিশু এমন-কি অল্প বয়সী বাচ্চারাও ছিল।

    কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের উপর যেসব নির্যাতন চলত, তার সবই চলত শ্বেতাঙ্গদের উপরও। দাস মালিকরা সবচেয়ে জঘন্য উপায়ে তাদির শাস্তি দিত। নিজের হাতে ফাঁসি কার্যকর করত, শাস্তি হিসেবে হাত ও পা পুড়িয়ে ফেলত। কোনো কোনো শেতাঙ্গ দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং বাজারে বিক্রির সময় তাদের মাথার উপর বর্শা ধরে রাখা হতো, উদ্দেশ্য অন্যান্য বন্দিদের সতর্ক করা।

    এসব শেতাঙ্গ দাসদের সবাই ছিল আইরিশ। ব্রিটেনের রাজা ষষ্ঠ জেমস ও রাজা প্রথম চার্লস আইরিশদের দাস হিসেবে বিক্রি করার এ নিয়ম চালু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লর্ড অলিভার ক্রোমওয়েলও এ ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন।

    রাজা ষষ্ঠ জেমস ৩০ হাজার আইরিশ বন্দিকে নিউ ওয়ার্ল্ডের (ব্রিটিশরা যখন পৃথিবীর পশ্চিমাঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তৃত করছিল, তখন তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নিউ ওয়ার্ল্ড’। যেটি এখন ‘আমেরিকা’ নামে পরিচিত) কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করে আইরিশ দাস বাণিজ্য শুরু করেন। পশ্চিম ভারতীয় দীপপুঞ্জে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) বসবারসরত ইংরেজদের কাছে ১৬২৫ জন আইরিশ রাজনৈতিক বন্দিকেও দাস হিসেবে বিক্রির ঘোষণা দেন জেমস।

    সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে অ্যান্টিগা ও মন্টসেরাতের দাসদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল আইরিশরা। এমন-কি এ সময় মন্টসেরাতের মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগই ছিল আইরিশ দাস।



    রাজা ৬ ষ্ঠ জেমস
    অতি দ্রুতই ইংরেজ বণিকদের কাছে দাসদের অন্যতম উৎসে পরিণত হলো আয়ারল্যান্ড। নিউ ওয়ার্ল্ডের প্রথমদিকের দাসদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শেতাঙ্গ আইরিশ।

    ১৬৪১ থেকে ১৬৫২ সালের মধ্যে ইংরেজরা প্রায় পাঁচ লাখ আইরিশদের হত্যা করে এবং ৩০ হাজার বন্দিকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়। মাত্র এক দশকেই আয়ারল্যান্ডের জনস্যংখ্যা ১৫ লাখ থেকে নেমে দাঁড়ায় মাত্র ৬ লাখে।

    আইরিশ নাগরিকদের মধ্যে যখন বাবাদেরকে ব্রিটিশরা আমেরিকায় নিয়ে যেত, তখন তাদের সাথে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিতে দিত না। ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য ছিল, পরে বাড়িহীন অসহায় এসব আইরিশ নারী ও শিশুদেরকেও দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া।

    ১৬৫০ সালের মধ্যে ১ লাখেরও বেশি অাইরিশ শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পশ্চিম ভারতীয় দীপপুঞ্জ, ভার্জিনিয়া ও নিউ ইংল্যান্ডে বসবাসরত ইংরেজদের কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয় ব্রিটিশরা। ১৭ শতকের পঞ্চাশের দশকে অন্তত ৫২ হাজার অাইরিশকে ভার্জিনিয়া ও বার্বাডোসে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল নারী ও শিশু। ১৬৫৬ সালে লর্ড ক্রোমওয়েল দুই হাজার আইরিশ শিশুকে জ্যামাইকায় বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে দাস হিসেবে বিক্রির আদেশ দেয়। অনেকেই এখন এসব আইরিশদের দাস হিসেবে স্বীকার না করলেও ১৭ ও ১৮ শতকে তাদের অবস্থা ছিল ‘মানুষরূপী গৃহপালিত পশু’র মতোই। ১৭ শতকের গোড়ার দিকে শেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ দাস বাণিজ্য প্রায় একইসাথে শুরু হয়েছিল এবং কৃষ্ণাঙ্গ দাসরা ছিল শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল। এমনকি আইরিশ দাসদের তুলনায় আফ্রিকান দাসদের প্রতি ভালো ব্যবহার করা হতো।

    ১৭ শতকের শেষ দিকে আফ্রিকান দাসরা ছিল অনেক ব্যয়বহুল (৫০ স্টার্লিং পাউন্ড), যেখানে আইরিশ দাসদের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৫ স্টার্লিং পাউন্ড। কম দাম হওয়ায় তাদের হত্যায়ও মালিকদের বেশি ক্ষতি হতো না বা তাদের হত্যাকে বড় অপরাধ হিসেবেও বিবেচনা করা হতো না।

    ইংরেজরা এক পর্যায়ে আইরিশ নারী ও শিশুদের ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া দিতে শুরু করল। এতে তাদের দুদিক দিয়ে ‘লাভ’ হলো। এসব নারীদের দিয়ে তারা নিজেদের যৌন ক্ষুধাও মেটাত, আবার তাদের দিয়ে উৎপাদনও বাড়ত। যদি কখনও কোনো নারী দাসত্ব থেকে মুক্তিও পেত, তারপরও দেখা যেত তার সন্তানরা এখনও দাস হিসেবে রয়ে গেছে। অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এসব আইরিশ নারীরা সন্তানের মায়া না ছাড়তে পেরে পুনরায় দাসত্ব গ্রহণ করত।

    পরে ইংরেজরা আইরিশ নারী ও আফ্রিকান পুরুষদের ব্যবহার করে আরও বেশি মুনাফা অর্জন করতে চাইল। তারা আইরিশ নারী ও আফ্রিকান পুরুষদের দিয়ে বেশি বেশি সন্তান উৎপাদন করত, যাতে নতুন করে অর্থ খরচ করে তাদেরকে আর দাস ক্রয় করতে না হয়। আবার আইরিশ-আফ্রিকান সংমিশ্রণে যেসব শিশু জন্মলাভ করত, তাদের দামও ছিল অনেক চড়া। এ ধারা কয়েক দশক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ১৬৮১ সালে বাণিজ্যিক স্বার্থে এভাবে সন্তান উৎপাদনকে নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাশ হয়। কিন্তু এ আইনের পেছনের মূল ঘটনা হচ্ছে, স্থানীয় ইংরেজরা এভাবে সন্তান উৎপাদন করতে থাকায় একটি বৃহৎ দাস পরিবহন কোম্পানির আয় কমে যাচ্ছিল। আইনটি বাস্তবায়নের পেছনে এ কোম্পানিটির হাত ছিল।


    ইংরেজরা এক শতাব্দী ধরে আইরিশদের দাস হিসেবে বিক্রির ধারা চালু রেখেছিল। ইতিহাস বলে ১৭৯৮ সালের আইরিশ বিপ্লবের পরও হাজার হাজার আইরিশকে আমেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়ায় দাস হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছিল ব্রিটিশরা। আফ্রিকান ও আইরিশ দাসদের প্রতি ভয়ানক আচরণ করেছে ইংরেজরা। একবার আটলান্টিক মহাসাগরে ১৩শ’র বেশি দাসকে জাহাজ থেকে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যাতে জাহাজের ক্রুদের খাবারের সঙ্কট না হয়। ১৮৩৯ সালে অবশেষে ব্রিটেন দাস পরিবহনের মতো এ ঘৃণ্য কাজ থেকে সরে আসে। অবশ্য জলদস্যুরা তারপরও এ কাজে লিপ্ত ছিল। পরে নতুন আইনের মাধ্যমে অাইরিশদের এ দুঃখ অাস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে আসে।

    কিন্তু কেউ যদি মনে করে দাসপ্রথা শুধু কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যেই ছিল, তা হবে পুরোপুরি ভুল। আইরিশদের দুর্দশাকে তাহলে খাটো করে দেখা হবে। আইরিশদের এ দুর্দশরা কথা অবশ্যই ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থানের যোগ্য।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  8. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

    প্রাচীন কালেও ছিলো ভূয়া ডাক্তার । স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাচীন কালের কিছু জঘন্য পদ্ধতিও ছিলো। পদ্ধতিগুলো কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাচীন কালের কিছু জঘন্য পদ্ধতি মানুষ মাথার টাক পড়া আটকাতে মাথায় রাজহাঁসের মল লাগাতো, দাঁত সাদা করার জন্য মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করতো, গর্ভনিরোধক হিসাবে কুমিরের গোবর, এবং আরও অনেক কিছু… আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল কী কাজ করেবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাচীন কালের কিছু জঘন্য পদ্ধতি

    স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাচীন কালের কিছু জঘন্য পদ্ধতি

    মানুষ মাথার টাক পড়া আটকাতে মাথায় রাজহাঁসের মল লাগাতো, দাঁত সাদা করার জন্য মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করতো, গর্ভনিরোধক হিসাবে কুমিরের গোবর, এবং আরও অনেক কিছু…

    আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল কী কাজ করে এবং কী করে না সে সম্পর্কে জ্ঞান। দ্বিতীয়টি হল টয়লার পেপার এবং টুথপেস্টের মতো ক্ষুদ্র উদ্ভাবন যা আমাদের জীবনের মান অনেক উন্নত করেছে।

    তৃতীয়টি হল যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের গৃহস্থালীর পণ্যগুলির উৎপাদনের খরচের পরিমাণ কমিয়ে এনেছে, যার খরচ প্রায় সকল সাধারণ মানুষের বহনের সক্ষমতা আছে।

    বর্তমানে আমরা টুথব্রাশ, টুথপেষ্ট কিংবা টয়লেট পেপার যা-কিছু ব্যবহার করছি তা ব্যবহারের সময় ২০০ বছরের বেশি নয়।

    আজ আপনাকে আমাদের আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস সম্পর্কে জানাবো। ব্যাপারগুলো হয়তো ভয়ঙ্কর শোনাতে পারে, কিন্তু সত্যিই সেগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছিল।

    ১. মুখ ধৌত করতে মানুষের প্রস্রাব

    সময়ের সাথে সাথে, প্রস্রাব অ্যামোনিয়াতে পচে যায়, যার মধ্যে ব্লিচিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রাচীন রোমানরা পুরানো হয়ে যাওয়া মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করত এবং এটি দিয়ে তাদের মুখ ধুয়ে ফেলতে।

    প্রস্রাবের অ্যামোনিয়া দাগ দূর করে এবং রোমানদের হাসিকে আরও সুন্দর করে তোলে। প্রস্রাবে অনেক দুর্গন্ধ থাকার পরেও রোমানরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে গেছে



    পম্পেই নগরীতে পাওয়া প্রস্রাব রাখার পাত্র 
    ধনী রোমানরা পর্তুগিজদের মূত্র কিনে এনেছিল, সেসময় রোমান সাম্রাজ্যের মানুষজন মনে করতো, পর্তুগিজদের মূত্রের মান ভালো ও আরো ভালো বেশি ভালো কাজ করে।

    ২. অপরিচিত মানুষদের সাথে বাট ব্রাশ শেয়ার করা

    প্রাচীন রোমানরা ছিলো চমৎকার নির্মাতা। সেই হাজার বছর আগেই তারা পাবলিক টয়লেট তৈরি করেছিল, এমনকি সেই পাবলিক টয়লেটে জলের প্রবাহও ছিল। পাবলিক টয়লেটগুলির লক্ষ্য ছিল রোমের মতো বড় রোমান শহরগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি উন্নত করা।

    যাইহোক, মলত্যাগের পরে মলদ্বার মুছার জন্য জাইলোস্পনজিয়াম (ল্যাটিন ভাষায় একটি লাঠিতে স্পঞ্জ) ব্যবহার করতো।


    ব্যবহারের পরে, জাইলোস্পনজিয়ামকে একটি ভিনেগার বা লবণ জলে ভরা বালতিতে রেখে দিতো যাতে পরবর্তীতে অন্য ব্যক্তি এটি ব্যবহার করতে পারে।

    বলা বাহুল্য, আর এজন্যই শীঘ্রই সমস্ত রোমানরা কৃমি এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।

    ৩. গর্ভধারণ আটকাতে কুমিরের মূত্রের ব্যবহার

    ১৮৮৯ সালে, প্রত্নতাত্ত্বিকরা কাহুন গাইনোকোলজিকাল প্যাপিরাস খুঁজে পান, যা প্রাচীন মিশরীয়দের চিকিৎসা পাঠ্য। আর এটি ছিল ১৮৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (প্রায় ৪ হাজার বছর পূর্বে)।

    অন্যান্য জিনিসের মধ্যে, প্যাপিরাসে গর্ভাবস্থা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে তিনটি নির্দেশিকা রয়েছে।


    একটি পদ্ধতি প্রাচীন মিশরীয় নারীদের কুমিরের গোবর নিতে এবং যৌন মিলনের আগে যোনিতে মিশ্রণটি ঢোকানোর নির্দেশ দেয়।
    যেহেতু গোবরে ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাই এটি শুক্রাণুনাশক হিসাবে কাজ করতে পারে।

    যাইহোক, এই গর্ভনিরোধ পদ্ধতির কোন পরীক্ষামূলক প্রমাণ নেই, তাই এটি চেষ্টা করবেন না।

    ৪. পশুর মল দিয়ে টাক পড়া নিরাময় করা

    সৃষ্টির শুরু থেকেই টাক পড়া নিয়ে পুরুষদের উদ্বেগ ছিল। এমনকি ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান পুরুষরাও টাক থেকে রেহাই পাননি।

    উদাহরণস্বরূপ, জুলিয়াস সিজার তার চুলের অভাব লুকানোর জন্য তার মাথায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
    ফ্রান্সের লুই চতুর্দশ পরচুলা তৈরি করার জন্য নিজের একটি ছোট বাহিনী তৈরি করেছিলেন যাতে নিজের টাক লুকিয়ে রাখতে পারেন।



    আপনি কি কখনো নিজের টাক সমস্যা দূর করতে মুরগীর মূত্র মাথায় লাগাতে রাজি হবেন? 
    স্বাভাবিকভাবেই টাক সমস্যা দূর করতে সেসময়েও ডাক্তার ও ঔষধের শরণাপন্ন হতো। বিখ্যাত গ্রীক চিকিত্সক হিপোক্রেটিস (৪৬০-৩৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) কবুতরের বিষ্ঠা, আফিম, হর্সরাডিশ, বিটরুট এবং মশলার মিশ্রণ মাথায় মাখতে পরামর্শ দিতেন।

    দশম শতাব্দীতে, শক্তিশালী ভাইকিং যোদ্ধারা, যারা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং চেহারা সম্পর্কে খুব সংবেদনশীল ছিল, তারা তাদের মাথায় রাজ হংসের মূত্র ঘষে টাক পড়া আটকাতে চাইতো।

    আর ১৭ শতকে ইংরেজরা তাদের মাথায় মুরগির মূত্র এবং লাই (সাবান তৈরির উপাদান) এর মিশ্রণ প্রয়োগ করেছিল।

    Ezoic

    ৫. নকল দাঁত

    মানুষজন যখন নিজেদের দাঁত হারাতে শুরু করেছিলো, তখনই সেটির প্রতিস্থাপনের উপায় খুঁজে বের করতে চেষ্টা করতে শুরু করেছিল। আর তাই দাঁতের ডাক্তাররা নকল দাঁত তৈরির জন্য হাতির দাঁত, কিংবা পশুপাখির দাঁত দিয়ে দাঁতের অভাব পূরণের চেষ্টা করেছিলেন।

    শুনতে হয়তো ভয়ংকর লাগতে পারে, তবে ডেন্টিস্টরা জানতেন যে নকল দাঁত তৈরির জন্য মানুষের দাঁতই সেরা দাঁত।

    আর এজন্য কখনও কখনও, ধনীরা দরিদ্রদের দাঁত তুলে নেয়ার জন্য অর্থ প্রদান করতো।

    এজন্য সবচেয়ে ভালো উদাহরণ আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন (১৭৩২-১৭৯৯)। ওয়াশিংটন এর দাঁত সবগুলোই কম বয়সেই পড়ে গিয়েছিলো, আর তাই তিনি দাঁতের অভাব পূরণ করতে আফ্রিকান আমেরিকান ক্রীতদাসদের কাছ থেকে দাঁত কিনেছিলেন।



    জর্জ ওয়াশিংটন এর দাঁত 

    এই নকল দাঁতের ঘটনা আরও বিভৎস রূপ ধারণ করে যখন মানুষ মৃত মানুষের দেহ থেকে দাঁত তুলে ফেলতো।

    ১৮১৫ সালে ওয়াটারলুতে যুদ্ধের পরে মৃতদের থেকে দাঁত ব্যবহার করা সবচেয়ে কুখ্যাত ঘটনাগুলির মধ্যে একটি। মেথরকারীরা তাদের দাঁত সহ মৃত সৈন্যদের সবকিছু লুট করে নিয়েছিল।
    ওয়াটারলু থেকে মৃত সৈন্যদের দাঁত দিয়ে তৈরি দাঁতগুলি “ওয়াটারলু দাঁত” নামে পরিচিত হয়।

    ৬. জোঁক দিয়ে চিকিৎসা

    প্রাচীন মিশরীয়দের সময় থেকে, ডাক্তাররা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা হিসাবে জোঁক ব্যবহার করতেন। এই জোঁকের ব্যবহার সপ্তদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতেও ব্যবহার হয়েছে সামান্য।

    সেসময় চিকিৎসকরা বিশ্বাস করতো মানুষের শরীরে রোগ হয় দেহের চারটি মৌলিক রসবোধের ভারসাম্যহীনতার কারনে। যদি তখন একজন ব্যক্তির গাল লাল থাকতো তাকে প্রদাহ এবং জ্বর সহ, রক্তপাতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

    রক্তপাতের একটি সাধারণ পদ্ধতি ছিল ব্যক্তির ত্বকে জোঁক প্রয়োগ করা।

    অনাকাঙ্ক্ষিত বা অদ্ভুত আচরণের চিকিৎসার জন্যও জোঁক ব্যবহার করা হতো। যদি একজন ব্যক্তি খুব প্রফুল্ল বা খুব উচ্চস্বরেকথা বলতো তাকেও শান্ত করার জন্য জোঁকের থেরাপি দেয়া হতো।
    কিন্তু আজ আমরা জানি যে একজন রোগীকে তার রক্ত দিতে দিলেই তাকে দুর্বল করে দেয়।



    জোঁক থেরাপি 

    ৭. প্রচুর পরিমাণে মধু মিশিয়ে মানুষের মাংস খাওয়া

    প্রাচীন চীনের নথি ঘাটলে ‘হানি পার্সন’ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। যা ছিলো একটি আশ্চর্য ঔষধ যা ভাঙা অঙ্গ এবং ক্ষত নিরাময় করতে দারুণ কাজ করতো।

    এই ঔষধটি তৈরির প্রক্রিয়া একটু অদ্ভুত ধরনের ছিল। সেসময় যারা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন তারা বৃহত্তর ভালো স্বার্থের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করতেন। সেজন্য তারা প্রচুর পরিমাণে মধু খেতেন, এবং একটা সময়ে মধু খাওয়ার ফলেই তাদের মৃত্যু হতো। মৃত্যুর পর তাদের দেহ মধু দিয়ে স্নান করিয়ে মধূতে ভর্তি কোনো কফিনে তাদের দেহ রেখে দেওয়া হতো। আর ১০০ বছর পর সেই মৃতদেহ ও মধুর মিশ্রণে সেই অসাধারণ ঔষধটি প্রস্তুত হতো।


    সবশেষে কিছু কথা

    এই অদ্ভুত ও অস্বাস্থ্যকর কিছু পদ্ধতির মধ্যে বেশ কিছু আসলেই কাজ করেছিল।

    এই ধরুন প্রস্রাবে অ্যামোনিয়া থাকে, তাই আমাদের দাঁত সাদা করে। কুমিরের গোবর আসলে ক্ষারীয়, যা শুক্রাণুকে ধ্বংস করে এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

    এছাড়া মানুষের দাঁত দিয়ে নকল দাঁত বানানোও আধুনিক চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন এনেছে।

    তবে বাট ব্রাশ শেয়ার করে নেওয়া, মানুষের মৃতদেহকে মধু দিয়ে খাওয়া, জোঁক দেওয়া বা মাথায় পাখির মল ছড়িয়ে টাক নিরাময় করা, এই পদ্ধতি গুলো কেবল ঘৃণ্যই নয়, সম্পূর্ণ অকার্যকরও।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  9. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    প্রাচীন ও মধ্যযুগের রহস্যময় কোন বইগুলো ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    প্রত্নতাত্ত্বিকরা সর্বদা এমন সকল জিনিসের সন্ধানের সন্ধানে থাকেন, যা বিশ্বের রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করে। কখনো কখনো তারা গুপ্তধন ছাড়াও বই কিংবা ছোটখাটো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে বের করেন, যা তাদেরকেই বিস্মিত করে। আর এই ধরনের আবিষ্কার গুলো ইতিহাসের গতিপথের পরিবর্তন ও পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে। দবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing প্রাচীন ও মধ্যযুগের রহস্যময় ৬ টি বই

    প্রত্নতাত্ত্বিকরা সর্বদা এমন সকল জিনিসের সন্ধানের সন্ধানে থাকেন, যা বিশ্বের রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করে।
    কখনো কখনো তারা গুপ্তধন ছাড়াও বই কিংবা ছোটখাটো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে বের করেন, যা তাদেরকেই বিস্মিত করে। আর এই ধরনের আবিষ্কার গুলো ইতিহাসের গতিপথের পরিবর্তন ও পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে।

    দ্য এন্সিয়েন্ট বুক অব ব্রেথিং

    এই বইটি ১৯ শতকের গোড়ার দিকে আবিষ্কৃত হয়। এই বইটি প্রাচীন মিশরের একটি বই। বইটি মূলত মৃত্যুর পরবর্তী জীবন অর্থাৎ পরকালের রহস্য নিয়ে লেখা। কিভাবে একজন মানুষ মারা যায় আর কিভাবে তার পরবর্তী জীবন অর্থাৎ পরকালের জীবন শুরু হবে তার বিশদ বিবরণ উল্লেখ আছে।

    বইয়ের কথাগুলো প্রাচীন মিশরের মানুষেরা বিশ্বাস করতো, এবং তারা মনে করতো তারা জানে মৃত্যুর পর তাদের আত্মার সাথে কি ঘটবে।

    বইটি মিশরের টলেমাইক রাজবংশের সময়ে লেখা, বইটি লেখা হয়েছিল আনুমানিক ৩৩২ খ্রীস্টপূর্বাব্দে। এবং সেই বইয়ে পরকালের সমস্ত ঘটনাকে ম্যাপ আকারে বর্ণনা ও করা হয়েছে।

    মিশরীয়রা এই বইটির একটি কপি সদ্য মৃত ব্যক্তির মাথার নিচে রাখতো আরেকটি কপি রাখতো পায়ের নিচে। তারা বিশ্বাস করতো এই বইগুলো মৃতদের মৃত্যু পরবর্তী জীবনে পথ খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।

    বইটিতে ব্যবহৃত বানান ও ভাষা প্রাচীন মিশরের বইয়ের মতোই। বইটি বর্তমানে Field Museum of Natural History জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। বইটি একজন ব্যবসায়ী জাদুঘরে দান করেছিলেন। তিনি ভ্রমণ করার সময় এই বইটি খুঁজে পেয়ে কিনেছিলেন।

    বইটি গভীরভাবে অধ্যায়ন করে বিশেষজ্ঞরা মতামত দেয়, বইটি সেসময়ের কোনো মিশরীয় পুরোহিতের দ্বারা লেখা হয়ে থাকতে পারে। এবং তিনি হয়তো এই বিষয়ে পুরো একটি সিরিজ লিখেছিলেন। এছাড়া বইটিতে সেসময়কার মিশরীয় রাজবংশ ও সেইসময়ের সংস্কৃতি নিয়েও লেখা আছে। যা মিশরীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।

    দ্য টেল অব টু লাভার (দুই প্রেমিকের গল্প)

    দ্য টেল অব টু লাভার বইটি ১৫ শতকের এনিয়া সিলভিও বার্তোলোমিও পিকোলোমিনির লেখা একটি প্রেমের উপন্যাস। এনিয়া ১৪০৫ সালের অক্টোবর মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব কাটে তার পিতামাতার সাথে একটি খামারে। যখন তার বয়স ১৮ তে পৌঁছায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন খামার ছেড়ে স্বাধীনভাবে নিজে কিছু করার। আর তাই তিনি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে পারি জমান। ফ্লোরেন্স এসে বিয়ে করেন এবং তার একটি সন্তান ও হয়েছিল।

    ফ্লোরেন্স আসার পর তিনি লেখালেখিতে মনযোগ দেন, এবং খুব দ্রুতই তার লেখা গল্পগ্রন্থ গুলো জনপ্রিয় হতে শুরু করে। তবে একটি গল্প তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেয় যা তাকে তার বাকি জীবনে আর সুখ দেয় নি।

    গল্পটি লুক্রেটিয়া এবং ইউরিয়ালাস নামে দুই ব্যক্তিকে নিয়ে, যারা একে অপরকে দেখে প্রেমে পড়েছিল। তাদের দুজনের দেখা হয়েছিল একটি অন্তেষ্টিক্রিয়ায়। সেই প্রথম দেখায় প্রেম সবশেষে রোমান্সে রূপ নেয়।

    সেই সময়ের মানুষের জন্য কামোত্তেজক উপন্যাস লেখা অস্বাভাবিক ছিল। অতএব, লোকেরা এনিয়ার প্রত্যাশার বাইরে বইটির প্রশংসা করেছে।

    অতিরিক্ত প্রশংসা ও পরিচিতি এনিয়ার জীবনকে নাজুক করে তুলেছিলো তাই নিজের জীবনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন এনিয়া। আর তাই তিনি পোপ হওয়ার পথ বেছে নেমন। ১৪৫৮ সালে তাকে পোপের মুকুট দেয়া হয় এবং তার নাম দেয়া হয় ‘পোপ পিয়াস দ্বিতীয়’

    তার বিপুল জনপ্রিয়তা তাকে প্রথম পোপ বানিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় সময়ের বিপরীতে গিয়ে সাহসী ও বিপরীত ধর্মী লেখা লিখেছেন তিনি। লেখক হিসাবে তিনি তার পরিচয় ঢেকে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু ব্যর্থ হন কারণ লোকেরা তাকে ইতিমধ্যেই ভালভাবে চিনতো।


    দ্য অ্যাসাসেন্স কেভিনেট অব পয়জন্স

    একটি বইয়ের মতো বাক্স, আঠালো-একসাথে কাগজ দিয়ে তৈরি যা খোলা হলে, স্টোরেজের জন্য ছোট ড্রয়ার সহ একটি ছোট ক্যাবিনেট বলে মনে হয়। অদ্ভুত এই বইটি ১৬৮২ সালে তৈরি হয়েছিল।

    বাক্সের ভিতরে একটি লেবেল সহ ছোট ড্রয়ার ছিল। কিছু জিনিসের মধ্যে ছিল ওল্ফসবেন, শয়তানের ফাঁদ, বেলা ডোনা, আফিম পপি ইত্যাদি। বাক্সটির নাম ছিল The Assassin’s Cabinet of Poisons বা “বিষের ঘাতক ক্যাবিনেট।
    এটিতে প্রতিটি বাক্সের বিষয়বস্তু চিহ্নিত করে হাতে লেখা কাগজের লেবেল ছিল।

    প্রায় ৪০০ বছর পুরানো বইটির রহস্য কেউ উদঘাটন করতে পারে নি। এবং কে এটি তৈরি করেছিলো তা কেউই জানে না। ১১ টি ছোট ড্রয়ার এবং ক্যাবিনেটের মতো বইয়ের বাম কোণে থাকা একটি ছোট কাচের বয়াম গুপ্তহত্যার উদ্দেশ্যে বা ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

    উদাহরণস্বরূপ, রোমান সাম্রাজ্যে বেলা ডোনার খুব চাহিদা ছিল কারণ এটি মানুষকে হত্যা করতে ব্যবহৃত হত এবং একই সাথে পেশী ব্যথার জন্য একটি নিরাময় ছিল। একইভাবে, আফিম পোস্ত মাদকদ্রব্যের একটি ভিত্তি এবং হাঁপানি এবং পেটের সমস্যাগুলির জন্য ওষুধ।

    অদ্ভুত বইটি কোথা থেকে এসেছে, কারা এটি তৈরি করেছে বা কী উদ্দেশ্যে এটি পরিবেশন করেছে তা স্পষ্ট নয়, তবে এটি মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল।

    দ্য থিয়েটার অব লেসার লিভিং ক্রিয়েটার্স

    এই চমৎকার বইটি আছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে। এই বইটি একই সাথে অদ্ভুত এবং রহস্যময়। বইটি পোকামাকড় এবং তারা সময়ের সাথে কীভাবে বিকাশ করে তার উপর একটি বই। বইয়ের শিরোনামটি ল্যাটিন ভাষায় লেখা, যার অর্থ “ছোট্ট জীবন্ত প্রাণীর থিয়েটার।”

    বইটি লাইব্রেরিতে দান করেছিলেন লরেন্স স্ট্র্যাংম্যান নামে একজন বই সংগ্রাহক। শিরোনাম পৃষ্ঠায় চারজন লেখকের নাম রয়েছে, এডওয়ার্ড ওয়াটন, লোনভাড গার্স্টনার, থমাস পেনি এবং টমাস মফেট।
    বইটি থমাস পেনির মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পরে ১৬৩৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
    বইয়ের চার লেখকেরই পোকামাকড় সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তাদের কেউ জীবিত অবস্থায় তাদের প্রকাশিত বই দেখে যেতে পারেন নি।

    দ্য বুক অব কেলস (কেলসের বই)

    ৬ষ্ঠ শতাব্দী থেকে ৮ম শতাব্দীতে খ্রিস্টান সন্ন্যাসীদের দ্বারা লেখা একটি মাস্টারপিস বই, যা মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ধন বা আবিষ্কার হিসেবেও পরিচিত। অনেকে এই বইটিকে রঙিন বাইবেল নামে ও ডাকেন।

    যে সন্ন্যাসীরা বইটি তৈরি করেছিলেন তারা সংসার থেকে দূরে, পরিত্যাগে বসবাস করতেন। এই সন্ন্যাসী ও ভিক্ষুরা প্রত্যন্ত স্কটিশ দ্বীপে বসবাস করতো। কারণ তারা সবসময় ভাইকিং আক্রমণের ভয়ে তটস্থ থাকত।

    তাদের জীবনযাত্রার অবস্থা কঠোর ছিল, কিন্তু তারা এখনও একটি সুন্দর শিল্প তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল যা এখনও ট্রিনিটি কলেজের লাইব্রেরিতে (আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরের একটি কলেজ) সংরক্ষিত আছে। বইটির ৬০ টি পৃষ্ঠা কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে হবে বাকি অংশটুকু ঠিকঠাক আছে।



    The Book of Kells 

    এ লিটল বুক ফর লিটল চিল্ড্রেন ( শিশুদের জন্য ছোট্ট বই)

    বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মাত্র ১২ টি! আনুমানিক ৫০০ বছর আগে এই বইটি লেখা হয়েছিল। তবে লেখকের নাম অজানাই রয়ে গেছে।

    বইটি শিশুদের আচার-আচরণ, আদব-কায়দা ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে শেখায়। এই বইয়ে উপদেশ এবং সতর্কবাণী ছিল যেমন বাচ্চাদের হাসতে বা হাসাতে হবে না, খাবার পরিবেশন করার সময় লোভী হওয়া উচিত নয়। হলি ওয়াটার পান করার আগে নাক চেপে ধরতে হবে এবং খুব বেশি পান করতে হবে।

    এই ধরনের বই ইউরোপের মানুষদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত এবং চাহিদা ছিল উচ্চ বলে বলা হয়। বইটির লেখক ধর্মের সাথে ভালোভাবেই সংযুক্ত ছিলেন। আর তাই শিশুদের সাথে শিষ্টাচার ও ধর্মের সংযোজন করে শিষ্টাচারে পূর্ণ জীবন যাপন করা লক্ষে বইটি লিখেছিলেন।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  10. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    মৃত্যুদন্ডের ইতিহাস ও বিবর্তনের ইতিহাস কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    মৃত্যুদন্ডের ইতিহাস ও বিবর্তন মৃত্যুদন্ড হলো গুরুতর অপরাধের জন্য কোনো ব্যাক্তিকে প্রমাণ সাপেক্ষে বিচারের মাধ্যমে আদালত বা রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত একটি অনুমোদিত আইনি দণ্ডের একটি রূপ। এরপর দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিক মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদন্ড পৃথিবীর প্রাচীন প্রথা গুলবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing মৃত্যুদন্ডের ইতিহাস ও বিবর্তন

    মৃত্যুদন্ডের ইতিহাস ও বিবর্তন

    মৃত্যুদন্ড হলো গুরুতর অপরাধের জন্য কোনো ব্যাক্তিকে প্রমাণ সাপেক্ষে বিচারের মাধ্যমে আদালত বা রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত একটি অনুমোদিত আইনি দণ্ডের একটি রূপ। এরপর দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিক মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

    মৃত্যুদন্ড পৃথিবীর প্রাচীন প্রথা গুলোর মধ্যে একটি। বর্তমানে প্রায় ৫৮ টি দেশে গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়ে থাকে। বেশিদিন আগের কথা নয়, কিছুকাল আগে ইউরোপে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড প্রচলিত আইন ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তারা এসব থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে।

    বর্তমানে মৃত্যুদন্ডাদেশ হিসেবে সাধারণত ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। আরব দেশগুলোতে অবশ্য শিরশ্ছেদ প্রথার কথা প্রায়ই শোনা যায়।
    তবে আজ কথা বলবো মৃত্যুদন্ডের ইতিহাস নিয়ে, কিভাবে মৃত্যুদন্ড প্রথা চালু হলো আর সেই মৃত্যুদন্ডের মাধ্যম কিভাবে বিবর্তনের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে এসেছে তা নিয়ে।

    মৃত্যুদণ্ডের উৎপত্তি

    মৃত্যুদন্ডের প্রথম লিপিবদ্ধ প্রমাণ পাওয়া যায় ১৮০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দের প্রথমার্ধে ব্যবিলনের রাজা হাম্বুরাবির কোডে।

    হাম্বুরাবির কোড বা আইনের ভিত্তি ছিল ‘ চোখের বদলে চোখ’। অর্থাৎ কেউ খুন করলে তার শাস্তি হিসেবে সেও খুন হতো। কেউ কারো হাত ভাঙ্গলে তাকেও হাত ভেঙে দেওয়া হতো।

    হাম্বুরাবি কোডে প্রায় ২৮২ টি বিচারের ঘটনা লিপিবদ্ধ ছিল। তার মধ্যে ২০ টি অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল।

    তবে বিচারের ক্ষেত্রে বৈষম্য লক্ষ করা যায়। প্রায়শই সেসময় অভিজাতদের মৃত্যুদন্ড থেকে অব্যাহতি পেতো, কিন্তু যারা দাস ছিলো তাদের কোনো মুক্তি ছিলো না।

    হাম্বুরাবি কোড পাথরে লিপিবদ্ধ, এমন আরো ১১ টি মিলে ১২ টি শিলায় ২৮২ টি বিচার লিপিবদ্ধ আছে। 
    হাম্বুরাবি কোড বা আইনের মতো আরেকটি আইন ছিল যার নাম হিট্টাইট কোড। তবে এই আইনটি হাম্বুরাবি কোডের চেয়ে তুলনামূলক নমনীয় ছিল তবে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত শাস্তি ছিল।
    ইতিহাসের প্রথম ধর্ষণের অপরাধের কারণে মৃত্যুদন্ডও প্রথম দেখা যায় এই কোডে। এই হিট্টোহাইট কোড চালু ছিল ১৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।

    প্রাচীন যুগ

    খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতাব্দীর এথেন্সের ড্রাকোনিয়ান কোড বা আইন সকল কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সাধারণত ছোটখাটো অপরাধের জন্য ও এই আইনে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হতো। ড্রাকোনিয়ান কোডের ‘ড্রাকোনিয়ান’ শব্দটি মূলত শাস্তির তীব্রতা বুঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে।

    এই আইনে আপেল চুরির মতো ছোটখাটো অপরাধের জন্য একজন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। এই আইনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সাধারণ ধরনগুলির মধ্যে রয়েছে অপরাধীকে অনেক উঁচু থেকে ফেলে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা, তৃষ্ণা বা অনাহারে মারা না যাওয়া পর্যন্ত একজন ব্যক্তিকে একটি তক্তায় বেঁধে রাখা এবং হেমলক বিষ পান করানো।

    মৃত্যুদন্ড পাওয়া ব্যক্তির মৃতদেহ তার পরিজনদের কাছে দেওয়া হতো না, তবে দন্ডিত ব্যক্তি কোন অভিজাত বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হলে সেই হিসেব আলাদা।

    মৃত্যুদন্ড দেয়ার আরেকটি বিশেষ উপায় ছিল হেমলকের বিষ পান করিয়ে মৃত্যু কার্যকর করা। হেমলক একটি বিষাক্ত উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদের রস পাত্রে নিয়ে অপরাধীকে দেয়া হতো যাতে তা পান করে আত্মহত্যা করতে পারে।

    এই পদ্ধতিতে ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল। যুবকদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়ানো ও দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সক্রেটিস কে হেমলক দেওয়া হয়েছিল যাতে সে তা পান করে আত্মহত্যা করতে পারে।



    সক্রেটিস হেমলকের বিষাক্ত রস পান করছেন
    প্রাচীন রোমে ও অপরাধের শেষ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড কে বেছে নেয়া হয়েছিল। সাধারণত ঘোরতর অপরাধের জন্য অপরাধীকে অন্ধকার জেলে আটকে রেখে মারা হতো। কাউকে পানিতে ডুবিয়ে, কাউকে শিরশ্ছেদ করে, কাউকে আগুনে পুড়িয়ে এবং ক্রুশবিদ্ধ করেও মৃত্যুদন্ড দেয়ার প্রচলন ছিল।

    খ্রিস্টীয় ১ম শতাব্দীতে যীশু খ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধকরণ সম্ভবত মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য ব্যবহৃত রোমান ক্রস আজ খ্রিস্টধর্মের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    মধ্যযুগ

    ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে মধ্যযুগীয় ইউরোপে অপরাধ ও অপরাধী দুটোই দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। তাই প্রায়শই ছোটখাটো অপরাধের জন্য অপরাধীরা মৃত্যুদন্ডও পেতো।

    ১০ম শতাব্দীতে ল ব্রিটেনে ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড একটি সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি হয়ে উঠে। এছাড়া শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড ও প্রচলিত ছিল এবং অপরাধীর দেহ কয়েক টুকরো করা হতো।

    মধ্যযুগীয় ইউরোপের বেশিরভাগ অপরাধের মৃত্যুদন্ডের কারন ছিল ধর্মীয় বিধিনিষেধ না মানা কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। মধ্যযুগে পুরো ইউরোপে তখন খ্রিস্টধর্মের প্রচার ও প্রসার চলছিল। সে সময় বিচারকার্য পুরোটাই ধর্মীয় গুরুরা দেখতেন। আর সেই ধারায় চার্চের ধর্মীয় গুরুরা একটি নতুন আইন প্রনয়ণ করেন, কোনো খ্রিস্টান যদি কোনো ইহুদি নারী বা পুরুষ কে বিয়ে করে তাকে অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হতো।

    এছাড়াও মধ্যযুগের ইউরোপে জাদুবিদ্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল ১৩ শতক থেকে প্রায় ১৮ শতক পর্যন্ত ইউরোপীয়রা সন্দেহভাজন নারীদের ডাঈনি উপাধি দিয়ে সাধারণ জনগণের সামনে আগুনে জীবন্ত পুড়ে দাহ করা হতো।

    ইসলাম ধর্ম আবির্ভাবের সাথে সাথে যৌনতা ও ব্যভিচারের অপরাধে খলিফারা অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পদ্ধতি চালু করেন।
    ব্যভিচার, ব্যভিচার বা ধর্ষণের জন্য দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার প্রাথমিক উপায় ছিল পাথর মেরে হত্যা।

    আধুনিক যুগ

    ঔপনিবেশিকতা আমেরিকা সহ বিশ্বের বাকি অংশে মৃত্যুদণ্ডের ধারা প্রবর্তন করেছিল। আমেরিকায় পুঁজির অপরাধ উপনিবেশ অনুসারে পরিবর্তিত হয় তবে সাধারণত জাতিগত বা ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একবিবাহ অস্বীকার করা এবং ভারতীয়দের সাথে ব্যবসা করা মতো কারনেও মৃত্যুদন্ড দেওয়ার খবর পাওয়া যায়।


    ১৯৭২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদন্ড স্থগিত করে দিয়েছিল। এর পেছনে তারা যুক্তি দিয়েছিল এটি কিছু ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক ছিল। যাইহোক, ১৯৭৬ সালে এটি শীঘ্রই পরিবর্তিত হয় যখন এটি পুনঃস্থাপিত হয়, তবে অপরাধের তালিকা সংক্ষিপ্ত করা হয় মৃত্যুদন্ডের জন্য।

    বিংশ শতাব্দীতে বিভিন্ন কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য বা ক্ষমতাসীন দলকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য দোষী ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। নাৎসি জার্মানিতে সামরিক অবাধ্যতা বা পরিত্যাগ একটি ঘোরতর অপরাধ হিসাবে স্বীকৃত ছিল।

    আগ্নেয়াস্ত্র ক্রমবর্ধমান সাধারণ হয়ে উঠলে, ফায়ারিং স্কোয়াড দ্বারা মৃত্যু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হয়ে ওঠে।
    হিটলার, স্ট্যালিন এবং মুসোলিনির মতো স্বৈরাচারী নেতারা রাজনৈতিক নিপীড়নের জন্য এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদন্ডদেশ দিতেন।

    জোসেফ স্তালিনের শুদ্ধিকরণের ফলে প্রায় ১ মিলিয়নেরও বেশি সোভিয়েতকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যেখানে মাও সেতুং-এর শাসনে চীনের বিপ্লবের সময় ৮ লক্ষ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল।

    মৃত্যুদণ্ডের এই নির্লজ্জ অপব্যবহার উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে, এবং বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা এই প্রথাটি বাতিল বা কঠোরভাবে সীমিত করার প্রচেষ্টায় তাদের আওয়াজ তুলেছে।

    বর্তমান সময়ে মৃত্যুদন্ড

    বর্তমানে পৃথিবীর ১০৯ টি দেশ সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুদন্ড বিলুপ্ত করেছে। এরমধ্যে অনেকগুলো দেশ মৃত্যুদন্ড বিলুপ্ত করার কার্যক্রম চালাচ্ছে (গত ১০ বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি এবং কাউকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার নীতি রয়েছে)।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ রাজ্য মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে বা এর ব্যবহারকে ব্যাপকভাবে সীমিত করেছে।

    বেলারুশই একমাত্র ইউরোপীয় দেশ যারা এখনও মৃত্যুদণ্ডের অনুশীলন করে, যেখানে রাশিয়া এই পদ্ধতি থেকে সরে দাড়িয়েছে।

    তবে বর্তমানে বাংলা ভারতের মতো অনেক দেশই যুদ্ধাপরাধ ও টেররিজমের মতো ভয়ংকর অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড চালু রেখেছে।

    হিউম্যান রাইটস কোড এবং সংস্থাগুলি প্রতিষ্ঠার ফলে এটির ব্যবহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে এর অনুশীলনের জন্য জনসমর্থন হ্রাস পেয়েছে। তা সত্ত্বেও, অনেক দেশ প্রকাশ্যে বিভিন্ন অপরাধের জন্য এটি ব্যবহার করে।

    মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দিক দিয়ে বর্তমানে শীর্ষে আছে সৌদি আরব, চীন, ইরান, মিশর এবং ইরাক।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  11. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    মানব ইতিহাসের দীর্ঘতম বছর ছিলো কোনটি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আপনার কি মাঝেমধ্যে মনে হয় এইতো সেদিন নিউ ইয়ার পালন করলাম আর এখন ডিসেম্বর মাস চলে এলো! এতো তাড়াতাড়ি সময়গুলো শেষ হয়ে গেলো!! বছরটা আরেকটু দীর্ঘ হলে তো মন্দ হতো না? কিংবা দিনটা যদি ২৪ ঘন্টা থেকে টেনে ৩০ ঘন্টা যেতো কিংবা বছরটাকে ৩৬৫/৬৬ দিন থেকে টেনে ৪০০+ দিন করতে পারলে ব্যাপারটা বেশ দারুণ হতো। কিন্তু এ যবিস্তারিত পড়ুন

    আপনার কি মাঝেমধ্যে মনে হয় এইতো সেদিন নিউ ইয়ার পালন করলাম আর এখন ডিসেম্বর মাস চলে এলো! এতো তাড়াতাড়ি সময়গুলো শেষ হয়ে গেলো!! বছরটা আরেকটু দীর্ঘ হলে তো মন্দ হতো না? কিংবা দিনটা যদি ২৪ ঘন্টা থেকে টেনে ৩০ ঘন্টা যেতো কিংবা বছরটাকে ৩৬৫/৬৬ দিন থেকে টেনে ৪০০+ দিন করতে পারলে ব্যাপারটা বেশ দারুণ হতো।

    কিন্তু এ যুগে এমন ইচ্ছে কেবল আপনার কল্পনাতেই সম্ভব। তবে ইতিহাসের পাতায় কিন্তু এমন একটা বছর রয়ে গেছে!

    সালটি ছিল ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ এবং এই দীর্ঘতম বছরটি বিখ্যাত রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার তৈরি করেছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সাল ছিল ৪৪৫ দিনের!

    রোমান ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণ জগাখিচুড়ি ছিল

    রোমান ক্যালেন্ডার বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত ছিল। তবে এটি এতোটাই বিভ্রান্তিকর ছিল, বেশিরভাগই রোমান এই দিন তারিখের খবর খুব একটা রাখতো না।

    রোমান ক্যালেন্ডারের ১২ মাস এবং ৩৫৫ দিন ছিল। রোমানরা জানত যে সৌর বছর ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা দীর্ঘ, তাই তাদের অধিবর্ষ (২ বছর পর অধিবর্ষ হতো তখন) কে সৌর বছরের সাথে মেলাতে অতিরিক্ত ২২/২৩ দিন যোগ করতো।

    ফলস্বরূপ, রোমান ক্যালেন্ডারো বছরের দিন সংখ্যা হতো ৩৫৫ দিন, ৩৭৭ বা ৩৭৮ দিন।

    রোমান ক্যালেন্ডারের নমুনা 
    এর সঙ্গে নতুন এক বিভ্রান্তির সংযোগ করেন তখনকার রোমান পুরোহিত পন্টিফেক্স ম্যাক্সিমাস। তিনি অধিবর্ষে আরেকটি নতুন সংযোজন করেন। যখন তার মিত্র দল শাসন করবে তখন তিনি অধিবর্ষ কে দীর্ঘ করে দেন, আর বিরোধীদল শাসনে আসলে তা ছোট করে দিতেন।

    বিখ্যাত রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার ক্ষমতায় এসে একটি নতুন ক্যালেন্ডার তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন, যা সকল সাধারণ মানুষের জন্য যুতসই হবে।

    ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, তিনি একটি নতুন ক্যালেন্ডার তৈরি করতে রোমে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদদের ডেকে পাঠান যা রোমান ক্যালেন্ডারকে প্রতিস্থাপন করবে যা ইতিমধ্যে সৌর বছরের চেয়ে ৮০ দিন পিছিয়ে ছিল।

    সম্রাট জুলিয়াস সিজার সৃষ্টি করেন ইতিহাসের দীর্ঘতম বছর

    নতুন এই ক্যালেন্ডারে বছর করা হয় ৩৬৫ দিনে আর যেহেতু সৌরবছর ৩৬৫ দিনের সাথে ৬ ঘন্টা অতিরিক্ত থাকতো তাই ৪ বছর পর পর লীপ ইয়ার যোগ করেন।

    জুলিয়াস সিজার 
    জুলিয়াস সিজার চেয়েছিলেন বছরের শুরু হোক মার্চ মাস দিয়ে, জানুয়ারি মাস নয়। কারণ রোমান ক্যালেন্ডারের প্রথা ছিল মার্চ মাস দিয়ে শুরু হওয়ার।

    আর তাই তিনি সাম্যতা আনতে ৯০ দিন অতিরিক্ত যোগ করেন, সেই বছর হয়ে যায় ৪৪৫ দিনের!

    আর তাই রোমানরা এই বছরের নাম দেন ‘বিভ্রান্তির বছর’!

    গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সংশোধন

    ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি প্রবর্তন করেন নতুন এক বর্ষপঞ্জির। তিনি হিসাব করে বের করে দেখেন, জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রতিবছর ১১ মিনিটের গরমিল থাকায় ইস্টার ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছিল।

    পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরী 
    এই গরমিল সমাধানের জন্য গির্জার পক্ষ থেকে ১১ দিন যোগ করে প্রবর্তন করা হয় গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি, যা এখন আমরা অনুসরণ করি।

    গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির বিষয়ে বেশ কিছু মজাদার তথ্য আছে। ১৭ শতাব্দী পর্যন্ত ফ্রান্স ব্রিটেন কিংবা জার্মানি এরা কেউ এই নতুন ক্যালেন্ডার গ্রহন করেনি। তারা মনে করতো এগুলো সব ক্যাথলিকদের ষড়যন্ত্র।

    আর রাশিয়াতে তো ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের আগ পর্যন্ত জুলিয়ান ক্যালেন্ডার ছিল রাশিয়ার সরকারী ক্যালেন্ডার।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  12. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    কারেকশন ফ্লইড: জানেন কি ভুল থেকেই আবিষ্কার হয়েছিল জিনিসটি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    কারেকশন ফ্লুইড ভুল থেকে আবিষ্কার হয়েছিল পেন্সিলে লেখার সুবিধা হলো ভুল করলেই সেটা ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যায়। কিন্তু কলমে এই সুবিধাটা নেই। সরাসরি ভুল হওয়া অংশটাই কেটে দিতে হয়। সেই ভুলটা যদি অফিসিয়াল কোনো দরকারি কাগজে হয় কিংবা কোনো অ্যাসাইনমেন্টে, তাহলে আবার ঝামেলা। তখন আমরা না কেটে বরং ‘ফ্লুইড’ দিয়ে সবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing কারেকশন ফ্লুইড: ভুল থেকে আবিষ্কার হয়েছিল

    কারেকশন ফ্লুইড ভুল থেকে আবিষ্কার হয়েছিল

    পেন্সিলে লেখার সুবিধা হলো ভুল করলেই সেটা ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যায়। কিন্তু কলমে এই সুবিধাটা নেই। সরাসরি ভুল হওয়া অংশটাই কেটে দিতে হয়। সেই ভুলটা যদি অফিসিয়াল কোনো দরকারি কাগজে হয় কিংবা কোনো অ্যাসাইনমেন্টে, তাহলে আবার ঝামেলা। তখন আমরা না কেটে বরং ‘ফ্লুইড’ দিয়ে সেটাকে ঢেকে দেই। এরপর সাদা রঙের সেই ফ্লুইডটা শুকিয়ে গেলে ওটার উপর কলম চালাই। সিম্পল কাহিনী।

    সাদা রঙের যে লিকুইডটাকে আমরা সিম্পলি ‘ফ্লুইড’ বলে চালিয়ে দিচ্ছি কিংবা দোকানে গিয়ে এই নাম বললেই দোকানদারও আমাদের হাতে কাঙ্ক্ষিত পণ্যই তুলে দিচ্ছে, ওটার আসল নাম কিন্তু ফ্লুইড না। এর প্রকৃত নাম হচ্ছে ‘কারেকশন ফ্লুইড’।এই কারেকশন ফ্লুইডের সাধারণত দুটো রুপের সাথে আমরা পরিচিত। একটি টিউব আকৃতির, যার ভেতর থেকে তুলির মতো একটি অংশের সাহায্যে আমরা অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে দেই। আরেকটি কলমের মতো, তবে সাধারণ কলমের আকৃতির না, একটু মোটা ও লম্বা।

    আচ্ছা আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন এই কারেকশন ফ্লুইড কিভাবে আবিষ্কার হয়ে আমাদের হাতে আসলো?

    না শুনে থাকলে চলেন, আপনাকে সেই গল্পই শোনাই।

    সময়টা ১৯৫১ সাল। বেটি নেস্মিথ গ্রাহাম নাম্নী এক মহিলা চাকরি পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ব্যাংক এন্ড ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডব্লিউ ডব্লিউ ওভারটনের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হিসেবে। সিঙ্গেল মাদার তিনি, ফলে এই চাকরি পেয়ে যেন তিনি সোনার হরিণই পেয়ে গেলেন।

    আজকের দিনের মতো তখন ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারের চল ছিল না অফিসগুলোতে, বরং সেখানে রাজত্ব করতো টাইপ রাইটারের খটাখট শব্দই। তবে কম্পিউটারে টাইপের বেলায় কোনো ভুল হলে যেমন ব্যাকস্পেসে চাপ দিলেই কাজ সেরে যাচ্ছে, টাইপ রাইটারের বেলায় তেমনটা ছিল না। কখনও কখনও মেশিনে জ্যাম লেগে যেত, কখনও আবার হুট করেই লেখাটা ভুল লাইনেও চলে যেত।

    বর্তমান সময়ে লেখালেখিতে আমরা কিন্তু খুব চমৎকার একটা সুবিধা পাই। প্রথমে আমরা পিসিতে সফটকপিতে লিখছি। কোনো ভুল হলে সেখানেই তা সংশোধন করে নিতে পারছি। এরপর সেই সংশোধিত লেখাটাই আমরা প্রিন্ট আউট করে কাগজে পাচ্ছি। ফলে চেকিংয়ে ভুল না হলে প্রিন্ট হওয়া কাগজে ভুল না থাকার নিশ্চয়তা শতভাগ। কিন্তু যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন টাইপ হতো সরাসরি কাগজেই। ফলে কেউ যদি একটা ভুলও করত, কিংবা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি দেখা দিত, তাহলে সেই পেজটি বের করে আবারও শুরু থেকে টাইপ করতে হতো, যা ছিল নিঃসন্দেহে বেশ পরিশ্রমসাধ্য একটি কাজ।

    গ্রাহামের ভুল হতো প্রায়ই, ভুল হতো তার সহকর্মীদেরও। কিন্তু কোনো উপায় তারা খুঁজে পাচ্ছিলেন না যার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ মিলতে পারে। ফলে এভাবেই দিনগুলো কেটে যেতে থাকলো।

    একদিনের কথা। সেদিন অফিসের জানালাগুলোতে রঙ করছিল কয়েকজন রংমিস্ত্রী। গ্রাহামও কাজের ফাঁকে সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ এক মিস্ত্রী এক জায়গায় ভুল রঙ দিয়ে ফেললো। কিন্তু এটা নিয়ে তেমন একটা মাথা না ঘামিয়ে তারা বরং এর উপর আরও কয়েক স্তর রঙ বসিয়ে দিল ব্রাশ দিয়ে। ব্যাস ঝামেলা শেষ। নতুন করে রঙ দেয়ার বদলে তারা বরং ভুলটাকেই পুরোপুরি ঢেকে দিল।



    বেটি নেস্মিথ গ্রাহাম 

    আর এটা দেখেই গ্রাহামের মাথায় আইডিয়া এসে গেল। বাসায় ফিরেই রান্নাঘরে থাকা সাদা টেম্পেরা পেইন্ট নিয়ে পরীক্ষা শুরু করে দিলেন তিনি, কারণ ওগুলো খুব দ্রুত শুকিয়ে যেত, আবার টিকতোও বেশি দিন। সফলও হলেন তিনি তার পরীক্ষায়। এরপর থেকে তিনি অফিসে একটি বোতলে করে সেই রঙ নিয়ে যেতে থাকলেন। এখন আর ভুল হলে তাকে পুরো কাগজ ফেলে দেয়া লাগে না, বরং সেখানে এই নতুন সাদা রঙ মাখিয়ে দিলেই হয়ে যাচ্ছে।

    গ্রাহামের এই অদ্ভুত আইডিয়ার কথা সহকর্মীদের মাধ্যমে আস্তে আস্তে চারদিকে ছড়াতে লাগলো। নতুন এই লিকুইডকে তখন সবাই ‘মিসটেক আউট’ নামে চেনে। ১৯৫৬ সাল নাগাদ তার কাছে এজন্য নিয়মিত বিক্রির অর্ডারও আসা শুরু হলো। এবার তিনি বুঝলেন, তার সামনে আসলে সম্ভাবনার এক নতুন দ্বার উন্মোচন হতে শুরু করেছে, যেটা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে জীবিকা নিয়ে তার হয়তো আর কোনো চিন্তা থাকবে না।

    মিসটেক আউটের উন্নতি ঘটাতে গ্রাহাম তাই শরণাপন্ন হলেন তার ছেলেরই কেমিস্ট্রি টিচারের, যার সাহায্যে টাইটেনিয়াম ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করে লিকুইডটাকে আরও দ্রুত শুকানোর ব্যবস্থা করা গেল। নতুন এই প্রোডাক্টের নাম তিনি দিলেন ‘লিকুইড পেপার’। এরপর এর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও মার্কেটিংয়ের দিকে নজর দিলেন তিনি। পাশাপাশি চলছিল তার সেক্রেটারির চাকরিও।

    কিন্তু খুব বেশি দিন জীবিকার্জনের দুই নৌকায় একসাথে পা রাখতে পারলেন না গ্রাহাম। যে টাইপিং মিস্টেক এড়াতে তিনি লিকুইড পেপার এনেছিলেন, একদিন সেই ভুলের কারণেই চাকরি চলে যায় তার। তিনি নিজের ব্যবসার চিন্তায় এতটাই অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলেন যে টাইপ করতে গিয়ে কাগজের উপরে ব্যাংকের নামের জায়গায় নিজের কোম্পানির নাম লিখে বসেন। ফলে চাকরি চলে যায় তার। অবশ্য ততদিনে লিকুইড পেপারের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এই চাকরিচ্যুতি শাপেবর হয়ে আসে তার জন্য। নিজের ব্যবসায় পূর্ণ মনোযোগ দেয়া শুরু করলেন তিনি।

    লিকুইড পেপারের ফর্মুলা নিজের নামে পেটেন্ট করিয়ে নিলেন গ্রাহাম। এমনকি এর বাজার বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগের আশায় ১৯৫৭ সালে আইবিএম-এ নিজের পণ্যটি উপস্থাপনও করেন তিনি, দুর্ভাগ্যক্রমে তাকে সেখান থেকে খালি হাতেই ফেরত আসতে হয়। তবে তারপরও কাজ থামাননি। যার ফলশ্রুতিতে মাত্র এক বছর পরেই তার ফ্যাক্টরি থেকে দিনে ১০ হাজার বোতল লিকুইড পেপার তৈরি হতো!

    ১৯৮০ সালে মৃত্যু হয় গ্রাহামের। এর এক বছর আগে জিলেটের কাছে এই প্রোডাক্টের স্বত্ব বিক্রি করে দিয়ে যান তিনি। তার মৃত্যুর প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও আজও কদর কমেনি তার উদ্ভাবিত লিকুইড পেপার ওরফে কারেকশন ফ্লুইড ওরফে ফ্লুইড এর। আজও প্রিন্ট বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো লেখালেখিতে ভুল হলেই আমরা হাত বাড়াই সেই ফ্লুইডের দিকেই।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  13. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    ঢাকা শহরের কোন কোন পেশা হারিয়ে গেছে ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে কিছু পেশা। প্রযুক্তির উন্নয়ন কিংবা চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে হারিয়েছে সেসব পেশা। সেসব পেশাজীবীদের ক্ষণিক সময়ের জন্য সমস্যায় নিশ্চয়ই পড়তে হয়েছে, তবে তারা নতুন করে মানিয়ে নিয়েছেন অন্য কোনো পেশায়। আজ আপনাদের জানাবো আমাদরে রাজধানী শহর ঢাকা থেকে হারিয়ে যাওয়াবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing ঢাকা শহরের হারিয়ে যাওয়া পেশা

    সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে কিছু পেশা। প্রযুক্তির উন্নয়ন কিংবা চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে হারিয়েছে সেসব পেশা। সেসব পেশাজীবীদের ক্ষণিক সময়ের জন্য সমস্যায় নিশ্চয়ই পড়তে হয়েছে, তবে তারা নতুন করে মানিয়ে নিয়েছেন অন্য কোনো পেশায়।

    আজ আপনাদের জানাবো আমাদরে রাজধানী শহর ঢাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া এমন কিছু পেশা সম্পর্কে।

    বাইজি

    বাইজিদের সম্পর্কে সাধারণ ঢাকাবাসীদের মধ্যে কৌতুহল ছিল। বাইজিদের বিশেষ ধরনের জীবনযাপন,কঠোর পর্দার মধ্যে বসবাস এবং প্রহরীদের প্রহরায় ঘোড়াগাড়ীতে যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের সম্পর্কে অনেক কৌতুহল ছিল। পাটুয়াটুলীর বাইজিরা সঙ্গীদের নিয়ে হেঁটে খুব সকালে অদূরে বুড়িগঙ্গা নদীতে গোসলে যেত। তখন বুড়ীগঙ্গা নদীর পানি ছিল খুবই স্বচ্ছ ও সুপেয়। গোসল পর্ব শেষে বাইজিরা যখন ফিরতো তখন লোকজন গলির মুখে দাড়িয়ে থেকে সিক্ত বসনা বাইজিদের দেখে পুলকিত হতো। কারণ এছাড়া সাধারন মানুষের পক্ষে বাইজিদের দেখার আর কোন সুযোগ ছিল না।

    ইংরেজ শাসন স্থায়ী হওয়ার পর বাইজি পেশায় ধীরে ধীরে ধস নামে। ঢাকার বাইজি পাড়ায়ও লাগে এর হাওয়া। নবাব,জমিদারদের আয়ের উৎস কমে যেতে থাকে। তাদের পৃষ্টপোষকতা করা আর সম্ভব হয়নি। তখন ঢাকায় নব্য ধনি শ্রেনীর জন্ম হয়,এরা বাইজিদের নাচ-গান উপভোগের চেয়ে শ্বেতাঙ্গ রমনীদের সঙ্গে বলড্যান্স উপভোগ করতে অধিক অর্থ ব্যয় করতে উৎসাহী হয়ে উঠেন। এভাবেই ঢাকা শহর থেকে বাইজিরা হারিয়ে যেতে থাকে।

    ভিস্তিওয়ালা

    ১৮৭৮ সালে ঢাকা শহরে আধুনিক সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়। এর আগে ঢাকায় খাবার পানির উৎস ছিল পুকুর,কুয়া,নদী।সে সময় কিছু লোক টাকার বিনিময়ে মশক (চামড়ার ব্যাগ)-এ করে ঢাকা শহরের বাসায় বাসায় খাবার পানি পৌঁছে দিতো। এ ধরনের পেশাজীবীদের বলা হত ‘ভিস্তিওয়ালা’ বা ‘সুক্কা’। আর ভিস্তিওয়ালা বা সুক্কা-রা পুরান ঢাকার যে এলাকায় বাস করতো সেটা কালক্রমে ‘সিক্কাটুলি’ নামে পরিচিত হয়।

    বাতিওয়ালা

    বর্তমানে বাতিওয়ালা ঢাকার বিলুপ্ত পেশাজীবী। একসময় রাত হলেই ঢাকা তখন ঘুটঘুটে এক অন্ধকার শহরে পরিনত হত। ঢাকার রাস্তার পাশে কেরোসিনের বাতি জ্বালানো শুরু হয় ১৮৭৭ সালে। হঠাৎ করেই ঢাকা শহরে এক নতুন পেশাদার শ্রেণির উদ্ভব হয়। বাতিওয়ালারা প্রতি সন্ধ্যায় মই বেয়ে ল্যাম্প পোস্টে উঠে সঙ্গে আনা কেরোসিন ভরে সেগুলোতে আলো জ্বালিয়ে দিয়ে যেত। ঢাকার শেষ বাতিওয়ালার নাম দক্ষিণারঞ্জন রাউত। ১৯৫২-১৯৫৩ সালের পরে এই ব্যবস্থা উঠে যাওয়ার পর তিনি ওই পেশা থেকে অবসর নেন। ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজলভ্য হয়ে উঠায় এই পেশাও আজ কালের অতীত।

    পাঙ্খাওয়ালা

    হাতপাখা নির্ভর এই পেশাজীবীদের অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। রাজা-জমিদারদের আমলে এই পেশাজীবীদের অনেক কদর ছিল।বড় আকারের তালপাখার নাম ছিল আরানি,ছোটগুলোর নাম আরবাকি। আর তা দিয়ে তারা ক্রমাগত বাতাস করে যেতো। জমিদারি প্রথার পতন সেই সাথে বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পাখার আগমনের ফলে এই পেশাও কালের গর্ভে হারিয়ে যায়।

    ধুনারি

    তুলা ধুনা একটি অতি প্রাচীন পেশা। তুলা ধুনা করা পেশাজীবীরা লেপ,বালিশ ও তোষক প্রস্তুত করত। অতীতে এরা গ্রামে-শহরে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তুলা ধুনা এবং লেপ, বালিশ ইত্যাদি তৈরির কাজ নিত। বর্তমানে ঢাকা শহরে এই পেশা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে, তারা এখন লেপ-তোষক ইত্যাদি তৈরির বড় বড় দোকানে শ্রমিকের কাজ করে থাকে। ঢাকা শহরের ধুনারিরা,যারা মুসলমান ছিল,তারা বিহার থেকে এসেছিল বলে জানা যায়।

    নৈচাবন্দ ও টিকাওয়ালা

    ঢাকা শহরে সবাই ধূমপানের জন্য সিগারেটকেই বেছে নেন।সময়ের সাথে সাথে হুঁকা নামের ধূমপানের বস্তুটি হারিয়ে গেছে।কিন্তু একসময় এই ঢাকা শহরেই ছিল উপমহাদেশের বৃহত্তম হুঁকা বানানোর শিল্প।এই হুঁকার নল যারা বানাতো তাদের বলা হতো নৈচাবন্দ।ঢাকার নৈচাবন্দরা মূলত আসতো সিলেট থেকে।শিশু, জাম,জারুল,শিমুল কাঠ দিয়ে নৈচা বানানো হতো।

    আজকের ঢাকার যে টিকাটুলি এলাকা তা ছিল মূলত হুঁকার টিকাদারদের আবাসস্থল।টিকাটুলির এই টিকাদাররা অতিসাধারণ টিকিয়াকে অসাধারণ শিল্পে পরিণত করেছিলো। তাদের তৈরি টিকিয়ার কোন তুলনা ছিলো না। এগুলো এতো হাল্কা ও দাহ্য ছিলো যে,দিয়াশলাইয়ের একটা শলা দিয়েই অনেকগুলো টিকিয়াতে আগুন ধরানো যেতো।

    ঢাকার নৈচার কারিগররা যেখানে বসবাস করতেন তা নৈচাবন্দটোলা নামে পরিচিত ছিল।এর অবস্থান ছিল বর্তমান সদরঘাটের কাছে।পরে তা বুড়িগঙ্গার বক্ষে বিলীন হয়ে যায়।পরে আস্তে আস্তে হুকোর জায়গা সস্তা ও সহজে বহনযোগ্য বিড়ি দখল করে নেয়।আস্তে আস্তে ঢাকা থেকে নৈচা তৈরির কারিগররা সম্পূর্ন বিলুপ্ত হয়ে যায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  14. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    জিপসি.. পথে পথে ঘুরে বেড়ানো যাদের নেশা তাদের প্রকৃত ইতিহাস কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    জিপসি শব্দের মানে হলো নাম বা ঠিকানাহীন রহস্যময় লোক বা যাযাবর। জিপসিরা মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার এক প্রকার যাযাবর জাতি। রোমানি বা রোমাদেরকে জিপসি বলা হয়। রোমানিরা মূলত ভারতীয়-আর্য বংশোদ্ভূত। জিপসিরা নিজেদেরকে বলে ‘রোম’ যার অর্থ মানুষ। কিংবা ‘রোমানিচল’ যার অর্থ মানুষের সন্তান। মূলত খ্রিস্টাব্দ ৪৩০ এ পাবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing জিপসি: পথে পথে ঘুরে বেড়ানো তাদের নেশা

    জিপসি শব্দের মানে হলো নাম বা ঠিকানাহীন রহস্যময় লোক বা যাযাবর। জিপসিরা মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার এক প্রকার যাযাবর জাতি। রোমানি বা রোমাদেরকে জিপসি বলা হয়। রোমানিরা মূলত ভারতীয়-আর্য বংশোদ্ভূত। জিপসিরা নিজেদেরকে বলে ‘রোম’ যার অর্থ মানুষ। কিংবা ‘রোমানিচল’ যার অর্থ মানুষের সন্তান।

    মূলত খ্রিস্টাব্দ ৪৩০ এ পারস্যের রাজা পঞ্চম বারহামকে “জাট” গোত্র থেকে ১২ হাজার শিল্পীকে উপহার দেওয়া হয় তৎকালীন কোন এক ভারতীয় রাজা থেকে। পরে সিরিয়াতে বাইজেন্টাইন দের হাতে তারা সবাই ধরা পড়েন এবং তাদের সেখানে হত্যা-খুন লুট করা হয়। পরে তারা পালিয়ে যান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। সেখান থেকেই মূলত তাদের ইতিহাস শুরু হয়।

    জিপসিদের মাইগ্রেশন ম্যাপ 
    আনুমানিক ৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ভারতে আরব, ইউরোপীয়, মঙ্গোলীয়, তুর্কীস আক্রমণ শুরু হলে তখন থেকে রোমানিরা ভারত ছাড়তে থাকে। ইউরোপে গিয়ে ছোটখাট কাজ করা শুরু করেন। এবং সেখানে তাদের দাস হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় করা হত। তারা সেখানে অবর্ণনীয় নির্যাতন নিপীড়ন এর শিকার হন। অনেকেই আবার চুরি ডাকাতি রাহাজানির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যান। তাদের গায়ের রং সাদা না হওয়ার কারণে তাদের নিচু শ্রেণীর লোক হিসেবে গণ্য করা হতো। তাদের যেখানে পাওয়া যেত হত্যা করা হতো কিংবা দাস হিসেবে আটক করা হতো। তাই তারা জীবন ও জীবিকার তাগিদে সর্বদায় এখান থেকে ওখানে ছুটে বেড়িয়েছেন।

    জিপসি উপকথা

    জিপসি উপকথায় প্রচলিত আছে রোমান সৈন্যরা যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য এক মিস্ত্রি কে ৪ টি পেরেক তৈরির দায়িত্ব দেন। কিন্তু চতুর্থটি সম্পন্ন হওয়ার আগেই তারা তিনটি পেরেক নিয়ে চলে যায় আর বাকি একটি পেরেক সন্ধ্যায় নিয়ে যাবে এই কথা দেয়।

    মিস্ত্রি পেরেক টি তৈরি শেষে গরম পেরেকে ঠান্ডা পানি ঢেলে দিলো। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার পেরেক ঠান্ডা হলো না বরং আরো টকটকে লাল হয়ে উঠলো। সাথে কি প্রচন্ড তাপ! মিস্ত্রি ভয়ে দৌড়ে পালাতে শুরু করলো, সে দৌড়ে একটি কুয়োর সামনে এসে দাড়ালো। দেখলো তার চারপাশ আলোয় আলোকিত! একি সেই পেরেক যে তার সামনে দাড়িয়ে আছে! আর সেই আলো সেই পেরেক থেকেই বের হচ্ছে।

    মিস্ত্রি পাগলের মতো কুয়ো থেকে জল তুলে পেরেকে ঢালতে লাগলো কিন্তু পেরেক আর ঠান্ডা হচ্ছে না। পানি ঢালতে ঢালতে মিস্ত্রি পুরো কুয়োর পানি খালি করে ফেললো তবুও সেই পেরেক ঠান্ডা হলো না। পরে মিস্ত্রি সেই পেরেক কে মরুভূমিতে বালু চাপা দিয়ে পালালো।

    ক্রুশবিদ্ধ যীশু I
    জিপসিরা বলে তারা সেই পালানো মিস্ত্রির বংশধর। সেই একটি পেরেকের ভয়েই তারা ছুটে চলেছে দেশ থেকে দেশান্তরে।

    যীশুকে ৩ পেরেকে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা প্রথম দেখা যায় বাইজানন্টাইন শিল্পে সেটাি দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতে সেই হিসেবে এই উপকথা কে বানোয়াট ই বলা চলে।

    জিপসিদের আদিনিবাস কোথায় তা নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন থাকলেও তারা যে মূলত ভারতীয় যাযাবর তা অনেকাংশেই প্রমানিত সত্য।

    ইউরোপে জিপসি

    জিপসিরা ইউরোপে আসে চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে। ইউরোপীয়রা তাদের মনে করতো ইজিপশিয়ান অর্থাৎ মিশরীয় যাযাবর। যেহেতু তাদের পোশাকআশাক ও চালচলনে মিশরীয়দের সাথে মিল রয়েছে তাই এমনটা ভেবে নিয়েছে, আর জিপসিরাও তাদের সাথে সম্মতিসূচক মাথা নারিয়েছে।

    ইউরোপে জিপসি নারীরা হাত দেখা, জরিবটি দিয়ে ঔষধ পথ্য বানিয়ে বাজারে বিক্রি করা, গান করা কিংবা সার্কাস দেখিয়ে নিজেদের রোজগার করতো। আর পুরুষরা সাধারণত বিভিন্ন কাজের কারিগর হতেন।

    জিপসি নারী ও পুরুষ 
    তবে কালো চামড়া হবার কারণে ইউরোপে রোমানিদের (জিপসিদের) সবসময় হেয় করা হয়। ধারণা করা হয় তারা খুবই চতুর, চোর এবং রহস্যময় প্রকৃতির। জিপসিরা ভবিষ্যৎ বলতে পারে আর নতুন কোন জায়গায় চলে যাবার আগে তারা অনেক কিছু চুরি করে নিয়ে যায় বলেও মনে করা হয়।

    জিপসিরা সবসময় ভ্রমণের উপরে থাকে। এরা কখনো এক জায়গায় থিতু হয় না। এদের কিছু ক্যারাভ্যান, ওয়াগন এবং আরভি (রিক্রিয়েশনাল ভিহিকল) রয়েছে যেগুলোতে তারা বসবাস করে এবং এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়। এগুলোই জিপসিদের ঘরবাড়ি এবং যানবাহন। এগুলোকেই তারা ভেতরে পরিবর্তন করে বসবাসের উপযোগী করে নিয়েছে। তাদের এরকম স্থানান্তরিত হবার কারণে এরা স্কুলে যেতে পারে না এবং একারণে এদের শিক্ষার হারও কম।

    নৃত্যরত জিপসি নারী ও তার সাথে ২ জিপসি শিশু
    মধ্যযুগের ইউরোপে জিপসিরা ইউরোপীয়দের দ্বারা প্রচুর নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। মধ্যযুগের প্লেগ মহামারীর কারন হিসেবে ইউরোপীয়রা ইহুদি ও জিপসীদের কে দায়ি করতো। এজন্য তারা হাজার হাজার জিপসি নিধন করেছে। এছাড়াও জিপসীদের অদ্ভুত জীবনযাপনের জন্য জিপসি নারীদের ডাঈনী অভিযোগে পুড়িয়ে ও হত্যা করেছে। এছাড়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর চক্ষুশূল ছিল ইহুদিদের পরেই জিপসিরা, আনুমানিক ৪-৫ লক্ষ জিপসি হলোকাস্টের শিকার হয়েছিল।

    জার্মানিদের হলোকাস্টে জিপসি 
    জিপসিদের একেক দেশে এক নাম। বেলুচিস্তান, ইরাকে ওদের নাম ‘লুরি’। পারস্যে ‘কাকরি’ ও ‘জাঙ্গি’, আফগানিস্তানে ‘কাউলি’, তুরস্কে ও সিরিয়ায় ‘চিনঘানিজ’ কিংবা ‘চিনগানেস’ গ্রীসে তার পরিচিত ‘কাটসিভেলই’, সিগানোস কিংবা অ্যাটসিনকানোই।
    ষোড়শ শতকে ফ্রান্সে তাদের নাম ছিল ‘রাবোঁয়া’ যার অর্থ ‘শয়তান স্বয়ং’। ফ্রান্সে জিপসি বলতে আরো অনেক নামে বোঝানো হতো যেমন বিউরদিনদি, কাম্প-ভোলান্ত, বোহেমিয়ান ইত্যাদি।

     

    ইংরেজিতে সাহিত্যে শেক্সপীয়ার ও স্পেনসার দুজনই জিপসীদেরকে নিজেদের রচনায় ব্যবহার করেছেন। ফরাসী লেখক ভিক্তর হুগোর লেখাতেও রোমানিদের কথা আছে। হুগো ওদের বলেছেন ঈজিপ্টাইন বা মিশরী।

    লোক ঠকানোতে জিপসীদের অনেক কুখ্যাতি আছে। একবার একজন লেখক লিখেছেনঃ- কয়েকটি মেয়ে দোকানে গিয়ে মাসে কিনল। বেশ পছন্দসই মাসে। অনেক দাম। দেখে আমি ভাবছি, এত পয়সা আছে ওদের? মাংস একটা পাত্রে রাখা হল। দোকানির বউ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েদের দিকে। বোধহয় সে হাত সাফাইয়ে জিপসীদের দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। পয়সা দিতে গিয়ে একটি মেয়ে বলল — এই যা, টাকার খলিটা তো আনতে ভুলে গেছি। আচ্ছা, এই রইল তোমার মাংস, আমি এক ছুটে পয়সা নিয়ে আসছি। অন্যরাও তার পিছু পিছু ছুটল। কিন্তু তারা আর ফেরে না। দোকানির বউ বিরক্ত হয়ে বলল – নাও, এবার মাংসটা তুলে রাখ। দোকানি পাত্রের ঢাকনা খুলে দেখে তার তলা নেই । সে একদিকে যখন মাংস ওজন করে। দিয়েছে, অন্যদিকে মাংস চালান হয়ে গেছে ঠিক অন্য কোনও গলিতে।

    হাঙ্গেরিতেও জিপসীর বিরুদ্ধে নানা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শোনা গেল। ওরা জবরদস্তি করে ভদ্রমেয়েদের ইজ্জত নাশ করছে , ওরা শিশু চুরি করছে, ওরা— নরখাদক। বোহেমিয়ার চুরি বা প্রতারণার অভিযোগ প্রথমে জিপসীর বাঁ কান কাটা যেত, দ্বিতীয়বার নালিশ উঠলে – ডান কান, তৃতীয় বারে কাটা পড়ত মাথা।

    ১৭৮২ সনে হাঙ্গেরিতে একচল্লিশজন মেয়ে এবং পুরুষকে ফাঁসি দেওয়া হয় নরমাংস খাওয়ার অপরাধে। ওরা নাকি পঁয়তাল্লিশ জন মানুষকে খেয়ে ফেলেছে। বলা নিষ্প্রয়োজন তখন এসব অভিযোগে তখন প্রমাণের প্রশ্ন উঠত না। পরবর্তীতে দেখা গেছে তারা সকলেই ছিল নির্দোষ।

    জিপসিদের সামাজ

    জিপসি সমাজে বয়স্করা সবচেয়ে সম্মানিত। জিপসিদের দলের দলপতি সেখানকার প্রধান তিনিই সকল সমস্যা মোকাবেলা করার মূল সিদ্ধান্ত নেন। জিপসিদের নিজেদের মধ্যে কোনো ঝামেলা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে তার বিচার দলপতিই করেন, বাহিরের পুলিশ আইনসের সাহায্য জিপসি রা নেয় না।

    জিপসিদের মধ্যে বাল্য বিবাহের মাত্রা প্রচুর। সাধারণত ছেলেমেয়েদের ১৩ বছর এর মধ্যেই বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের ক্ষেত্রে জিপসিরা ভারতীয় সমাজের মতোই গোঁড়া। তারা নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যেই ছেলে মেয়েদের বিবাহ দেয়।

    বিবাহের পর কোনো জিপসি মেয়ে মা হতে না পারলে তাকে জিপসি সমাজের মানুষের দ্বারা প্রচুর ভোগান্তির শিকার হতে হয়। মেয়ে অলক্ষুণে তাই সন্তান হচ্ছে না, এমন কুসংস্কার রয়েছে জিপসিদের মধ্যে। আর তাই সন্তান লাভের আশায় জিপসি নারীরা বিভিন্ন ব্রত পালন করে। বিচিত্র সে সব আচার অনুষ্ঠান। আর একবার যদি মাতৃত্বের লক্ষণ প্রকাশ পায়, তখনও আবার হরেক অনুষ্ঠান। স্বামী থেকে শুরু করে দলের সবাই তার জন্য রীতিমতো ব্যস্ত সমস্ত। অনেক সময় তার চোখের সামনে দেখতে সুন্দর এমন কারও ছবি ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওদের ধারণা, এ সময়ে মনের মধ্যে সে যেমন মূর্তি ধ্যান করবে , সেরকম সন্তানই ভূমিষ্ঠ হবে।

    জিপসীরা সুযোগ পেলেই গৃহস্থের ছেলেময়ে চুরি করে, এটা অপবাদ মাত্র। জিপসীর আস্তানায় শিশুর মেলা। সবই নিজেদেরই সন্তান। ঘরে যাদের এত ছেলেপুলে তারা অন্যের ছেলে চুরি করতে যাবে কোন দুঃখে। জিপসীদের এ দায় থেকে মুক্তি দেওয়াই ভালো।

    স্বামী – স্ত্রীর সম্পর্কে জিপসী কোনও ফাঁকি সহ্য করতে রাজি নয়। একে অন্যের প্রতি জীবনভর অনুরক্ত এবং অনুগত থাকবে, এটা ধরে নেওয়াই নিয়ম। যদি তার ব্যতিক্রম ঘটে, জিপসী পুরুষ যদি অন্য কোনও নারীর প্রতি কোনও দুর্বলতা প্রকাশ করে, কিংবা স্ত্রীকে যদৃচ্ছভাবে ব্যবহার করতে চায়, তবে ই অনায়াসে তাকে পরিত্যাগ করতে পারে।

    অন্যদিকে স্ত্রী যদি বিশ্বাসের মর্যাদা না রাখে , যদি সে ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে গোপনে ভালোবাসা লেনদেন করে, তবে তার জন্য প্রাপ্য কঠোর সাজা। তার দাঁত ভেঙে দেওয়া হতে পারে, নাক কিংবা কান কেটে দেওয়া যেতে পারে, অথবা অন্য কোনও শাস্তি ধার্য হতে পারে। এমনকি মাথা মুড়িয়ে দেওয়ার মতো শাস্তি ও রয়েছে। জিপসী মেয়ের কাছে সেটা প্রায় মৃত্যুদণ্ডের শামিল। যে মেয়ের মাথায় চুল নেই, তার জীবনই তো বৃথা।

    ফলে কোনও কোনও মেয়ে ছুটে যায় পুলিশের কাছে। গিয়ে ইনিয়ে – বিনিয়ে বলে আমি চুরি করেছি , অমাকে সাজা দাও। আমাকে জেলে দাও। পরে মেয়েটি আসলে সমাজের ব্যঙ্গ – বিদ্রূপ আর ঘৃণা থেকে পালাতে চেয়েছিল। দেওয়ালের আড়ালে আত্মগোপন করে মাথায় আবার চুল ফিরিয়ে আনাই ছিল জানা যায়, তার বাসনা!

    জিপসিদের ধর্ম

    জিপসিদের নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম নেই, তারা যে অঞ্চলে যায় সেই অঞ্চলের ধর্মই চর্চা করে। ইউরোপে যেসব জিপসি রয়েছে তাদের প্রায় সকলেই খ্রিস্টান কিন্তু সেই সাথে তারা অনেক দেব-দেবীর আরাধনা ও করে, যা খ্রীস্টধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট না। বলা চলে জিপসিদের কোনো ধর্ম নেই, বরং ঘুরেবেড়ানোই তাদের ধর্ম এটা বলাই অধিক শ্রেয়।

    জিপসিদের সংস্কৃতি

    জিপসিদের সংস্কৃতি বা কালচার অনেক বেশি বর্ভাঢ্য। তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান, কবিতা রয়েছে। তারা অত্যন্ত বিনোদন প্রিয় মানুষ। তারা সর্বদায় সঙ্গীতসন্ধ্যা আয়োজন করে সেখানে তাদের ঐতিহ্যবাহী ক্লাসিকাল গান ও অন্যান্য গান পরিবেশন করা হয়। তাদের স্বভাবজাত গুণ ও রয়েছে, তারা কথায় কথায় গানের পদ তৈরি করে তাতে সুর দিয়ে আপনাকে গেয়ে শুনিয়ে ও দিতে পারবে।

    বর্তমানে পুরো পৃথিবীতে প্রায় ১.৫ কোটি জিপসি বিভিন্ন দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তবে জিপসিদের বেশিরভাগই ইউরোপ ও আমেরিকায় বাস। ইউরোপে জিপসি আছে প্রায় ১০ মিলিয়ন, তাদের বেশিরভাগই আছে ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডে। আর ধারনা করা হয় আমেরিকায় জিপসি আছে প্রায় ২ মিলিয়ন।

    জিপসিরা সবসময় ভ্রমণ করায় তাদের সন্তানরা লেখাপড়ার সুযোগ খুব একটা পায় না। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের চেষ্টা করছেন কোনো স্থায়ী করে জায়গায় স্থিতিশীল করার। তবে এখন বহু জিপসী এই ভবঘুরে জীবন থেকে সরে দাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপনের চেষ্টা করছে। যেহেতু ভ্রমণ তাদের মজ্জায় তাই মাঝেমধ্যেই ভদ্রসমাজের জিপসীরা ভ্রমণ করতে বিভিন্ন দেশে চলে যান কিছুদিনের জন্য।

    জিপসিরা এখনো বিভিন্ন রকমের হয়রানির শিকার। তবে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জিপসিরা সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে তাদের অবস্থা সবচেয়ে ভালো।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  15. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    বাজারে আলুর দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। জানেন কি পৃথিবীতে একবার আলুর দূর্ভিক্ষ হয়েছিলো ! কি সেই ইতিহাস?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আয়ারল্যান্ডের (আইরিশ) মানুষদের শর্করার প্রধান উৎস আলু। এটিই তাদের প্রধান খাদ্য। যেমটা আমাদের দেশে ভাত। আইরিশদের ইতিহাসের দূর্ভাগ্যের অনেকটা জুড়ে রয়েছে আলুর দুর্ভিক্ষ, যা পটাটো ফ্যামাইন নামে অধিক প্রসিদ্ধ। আলুর জন্য ঘটে যাওয়া এই দুর্ভিক্ষ পরিচিত বৃহৎ এক ক্ষুধা নামে যা সংঘটিত হয়েছিল ১৮৪৫ সালে। সেসময় Pবিস্তারিত পড়ুন

    আয়ারল্যান্ডের (আইরিশ) মানুষদের শর্করার প্রধান উৎস আলু। এটিই তাদের প্রধান খাদ্য। যেমটা আমাদের দেশে ভাত। আইরিশদের ইতিহাসের দূর্ভাগ্যের অনেকটা জুড়ে রয়েছে আলুর দুর্ভিক্ষ, যা পটাটো ফ্যামাইন নামে অধিক প্রসিদ্ধ।

    আলুর জন্য ঘটে যাওয়া এই দুর্ভিক্ষ পরিচিত বৃহৎ এক ক্ষুধা নামে যা সংঘটিত হয়েছিল ১৮৪৫ সালে। সেসময় Phytophthora Infestense নামের এক ধরনের ফাঙ্গাস দাবানলের চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিলো পুরো আয়ারল্যান্ডের জমি জুড়ে। এই ছত্রাকটির উপদ্রবে ধ্বংস হয়ে যায় আইরিশদের প্রধান খাদ্য আলুর প্রায় ৮০ শতাংশ জমি।

    সে সময় আয়ারল্যান্ডের প্রজা কৃষকেরা গ্রেট ব্রিটেনের উপনিবেশ হিসেবে নিয়ন্ত্রিত হতো এবং তাদের একমাত্র খাদ্যের নির্ভরশীলতা ছিলো আলুর উপর। হঠাৎ এই বিপত্তিতে অসহায় হয়ে পড়ে আইরিশরা। যার প্রভাব পড়ে আয়ারল্যান্ড এবং আইরিশদের উপর। সেসময় আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়। আয়ারল্যান্ডের সেসময় বেশিরভাগ মানুষই ছিলো কৃষক, তারা জমিতে অন্যান্য শাকসবজি চাষের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। একই সাথে ছিলো পশুর প্রাণীর সংকট। আয়ারল্যান্ডে তখন শেয়ালের উৎপাত এতোটাই বেড়ে গিয়েছিল যে শেয়ালগুলোর থেকে হাঁস, মুরগী কিংবা ভেড়া কেউই রক্ষা পেতো না।

    সেসময় আইরিশ মানুষরা যেহেতু পুরোপুরি আলুর উপর নির্ভরশীল ছিলো তাই সব মানুষকে অর্ধাহারে বা অনাহারে দিন কাটাতে হয়েছিল। আয়ারল্যান্ডের জমিতে Phytophthora Infestense দীর্ঘ ৭ বছর স্থায়ী ছিলো, এবং ধীরে ধীরে বিদায় নেয়। ১৮৪৫ সাল থেকে ১৮৫২ সাল পর্যন্ত চলা এই দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারায় ১০ লক্ষ আইরিশ, যা সংখ্যায় সেসময়কার আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। আর ঘরবাড়ি হাটায় আরো ১০ লক্ষ মানুষ, সেসব মানুষ শূণ্য হাতে অভিবাসী হয়ে অন্য দেশে পারি জমায়।

    কেনো আইরিশদের এমন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের শিকার হতে হয়েছিলো তার জন্য আমাদের কে আরেকটু পেছনে যেতে হবে।

    ১৮০১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অনুযায়ী আয়ারল্যান্ড গ্রেট ব্রিটেনের উপনিবেশ হিসেবে ছিলো বিংশ শতাব্দীর স্বাধীনতা যুদ্ধের আগ পর্যন্ত৷ ততদিন একত্রে এই রাষ্ট্রের নাম ছিলো ইউনাইটেড কিংডম অব গ্রেট ব্রিটেন এন্ড আয়ারল্যান্ড। তখনকার আয়ারল্যান্ডের যাবতীয় রাষ্ট্রীয় কার্য পরিচালনায় থাকতো ব্রিটেনের জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট।

    সে সময় হাউজ অব কমন্সের জন্য আয়ারল্যান্ড পাঠিয়েছিলো প্রায় ১০৫ জন প্রতিনিধি এবং হাউজ অব লর্ডসের জন্য পাঠানো হয়েছিলো ২৮ জন সহকর্মী। কিন্ত এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এতো প্রতিনিধি আইরিশ থাকলেও তাদের জমির মালিক থাকতো ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত পুত্ররা। সে সময়ে পেনাল’ল অনুযায়ী যে সমস্ত আইরিশ জনসংখ্যা ক্যাথলিক চর্চা করতো তারা জমির মালিক হওয়া থেকে শুরু করে ভোট দিতে পারতো না।


    ১৮২৯ সালে এই পেনাল’ল আইরিশদের মাধ্যমে তীব্রভাবে অপগত ঘোষিত হলো। যার প্রভাব পড়ে আইরিশ সমাজ ব্যবস্থায়৷ সব জমি দখল করতে থাকলো ব্রিটিশ ও অ্যাংলো আইরিশরা।

    বেশিরভাগ ক্যাথলিক সমর্থকদের জোড় করে জমির কৃষক প্রজারূপে ন্যস্ত করা হলো এবং জমির মালিকদের জবরদস্তি করে কর প্রদানের জন্য বাধ্য করা হলো। আয়ারল্যান্ড দুর্ভিক্ষের প্রায় ১০০ বছর আগে আয়ারল্যান্ড ভদ্র সমাজে পরিচিত ছিলো তাদের আলু চাষের মাধ্যমে।

    অথচ কী নিদারুণ কষ্ট তা সত্ত্বেও এর পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ চাপে শুধুমাত্র এক প্রকারের আলু চাষ করা হতো। ক্রমশ এটি হয়ে উঠলো দরিদ্রের একমাত্র প্রধান খাদ্য, বিশেষত শীতের দিনগুলোতে।

    জীবাণুতে আক্রান্ত আলু
    Phytophthora Infestense জীবাণুর কারণে যখন আয়ারল্যান্ড ভূমির সবধরণের ফসল ধ্বংস হতে শুরু হলো। আয়ারল্যান্ডের ডাব্লিন শহরের নেতারা ব্রিটিশ কুইন ভিক্টোরিয়া ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সাহায্য প্রার্থনা করলে তারা তৎক্ষণাত তা মঞ্জুর করে এবং শস্য আইন নাকচ করে দেয়।

    কিন্তু এই ক্ষতিপূরণ দেয়া সত্ত্বেও আলু ফসলের কোনো ধরণের উন্নতি হয় না। দিনের পর দিন শেষে বাড়তে থাকে প্রত্যেকের খাদ্য চাহিদা আর অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে কমতে থাকে প্রধান খাদ্যের পরিমাণ। কৃষকেরা নিজেদের ফসলের খরচ বহন করার মতো যথেষ্ট পরিমাণ ফসল উৎপাদনে ব্যর্থ হতে থাকে। মাসের শেষে হাজার হাজার মানুষ ক্ষুধার্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করতে থাকে। ক্ষুধার্থের পীড়ায় অসুখে ভুগতে থাকে আরো শ’খানেক।

    ফসলের এই রোগ থাকাকালীন সময়েও আইরিশদের বেশ পরিমাণ ফসল দিয়ে দিতে হতো গ্রেট ব্রিটেন অর্থাৎ ব্রিটিশদের।

    ইতিহাসবিদদরা বলেন, আয়ারল্যান্ড থেকে সেই দুর্ভিক্ষের সময়ই বিদেশ খাদ্য আমদানি হয়েছে সবচেয়ে বেশি৷ অথচ সে দেশে লাখো লাখো মানুষ মারা যাচ্ছিলো খাদ্যাভাবে। ১৮৪৮ সালের রেকর্ড অনুযায়ী সেসময় আয়ারল্যান্ড থেকে আমদানি হতো নানা ধরণের পণ্যদ্রব্য যেমন, পর্যাপ্ত ডাল, মটরশুঁটি, খরগোশ সহ মাছ ও মধু।

    ১৮৫২ সাল পর্যন্ত আলু বীজের জমি জীবাণু থেকে মুক্ত হতে পারছিলো না। পূর্বে বিভিন্ন তথ্যমতে, তখন প্রায় ১ মিলিয়ন নারী পুরুষ সহ শিশু মারা গেছে। আরো ১ মিলিয়ন জনসংখ্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হয়ে দেশ ছেড়েছে।

    ১৮৪৯ সালে অনেক আইরিশ পরিবার সম্ভাব্য যেকোনো উপায়ে বেঁচে থাকার জন্য ইংল্যান্ডে অভিবাসন শুরু করে। কেউ কেউ বেঁচে থাকার জন্য উত্তর আমেরিকায় পর্যন্ত অভিবাসী হয়েছিল। ইংল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকায় অভিবাসী হতে গিয়ে বিভিন্ন কারণে আরো ৫০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  16. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ কে ছিলেন?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ ছিলেন তারারে। তারারের জন্ম ১৭৭২ সালে ফ্রান্সের লিঁওর একটি ছোট মফস্বল শহরে। তারারে যে সময়টায় জন্মেছিলেন তখন ফরাসি বিদ্রোহ চলছিলো পুরোদমে। তারারে কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে যে কোনো প্রাণী জীবন্ত গিলে ফেলতে পারতো। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি কিশোর বয়সেই প্রতিদিন প্রায়বিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing তারারে: পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ; যিনি জীবন্ত কুকুর, বিড়াল এমনকি বাচ্চা শিশু খেয়েছিলেন

    পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ ছিলেন তারারে।

    তারারের জন্ম ১৭৭২ সালে ফ্রান্সের লিঁওর একটি ছোট মফস্বল শহরে। তারারে যে সময়টায় জন্মেছিলেন তখন ফরাসি বিদ্রোহ চলছিলো পুরোদমে।

    তারারে কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে যে কোনো প্রাণী জীবন্ত গিলে ফেলতে পারতো। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি কিশোর বয়সেই প্রতিদিন প্রায় একটি ষাঁড়ের চারভাগের একভাগ খেয়ে ফেলতো তারারে, যা ছিলো প্রায় তার ওজনের সমান। এমন অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত খাবার খেতে পারা মানুষটি বেঁচেছিলেন মাত্র ২৬ বছর।

    সার্কাসের দলে যোগদান

    তারারের পরিবার ছিলো মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। তাদের পক্ষে তার এই বিশাল পরিমান খাদ্যের যোগান দেওয়া ছিলো অসম্ভব। আর তাই পেটের ক্ষুধার দায়ে ঘর ছাড়েন তারারে। পেটের ক্ষুধার জন্য তিনি রাস্তায় খাবার ভিক্ষা করতে শুরু করেন, কখনওবা ক্ষুধার জ্বালায় ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া মানুষের উৎচিষ্ঠ ও পচা খাবারগুলোই খুঁজে খেতে শুরু করেন। বেশ কিছুকাল এভাবে চলার পর তারারে যোগ দেন একটি সার্কাস পার্টিতে। এই সার্কাস দলটি ছিলো পকেট মারদের। তারা সাধারণ মানুষদের সার্কাস দেখানোর ছলনায় তাদের পকেট মারতো।

    বেশ কয়েকদিনের মধ্যেই তারারে সেই সার্কাস দল মানে পকেটমার দলের সকলের চোখের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেন। সে মঞ্চে উঠে যে কোনো কিছু খেয়ে ফেলে সাধারণ দর্শকদের দেখাতো। তারারে পাথর থেকে শুরু করে কর্ক এমনকি সে ১ ডজন আপেলও গিলে ফেলতো নিমিষেই।

    এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনানুযায়ী, তারারে দাঁত দিয়ে জীবিত বিড়াল ছিড়ে তার রক্ত পান করতো। তারপর শুধু কঙ্কাল বাদে পুরো বিড়ালটাই গলধকরণ করে ফেলতো। একইভাবে সে কুকুরও খেয়ে ফেলতো পারতো।

    বেশ কিছুকাল সার্কাসে এই কাজ করার পর তারারের পরিপাকতন্ত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর তাকে ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানে হয়। তার শরীরের অবস্থার কথা ভেবে ডাক্তার তাকে পরামর্শ দেয় সার্কাসে এই কাজ করা ছেড়ে দিতে। শেষমেশ তারারে সার্কাসের কাজটি ছেড়ে দেয়।

    এতো এতো খাবার খাওয়ার পরও তারারের শরীরের ওজন ছিলো খুবই সাধারণ। ১৭ বছরে তার ওজন ছিলো মাত্র ১০০ পাউন্ড (প্রায় ৪৬ কেজি)। তবে তার পুরো শরীরের চামড়া ছিলো ঝুলে পড়া চামড়া। যখন সে খাবার খেতো তখন চামড়াগুলো বেলুনের মতো ফুলে উঠতো। তার মুখখানা ছিলো অস্বাভাবিক রকমের বড়। এক সাথে ১ ডজন ডিম কিংবা আপেল মুখে নিয়ে রাখতে পারতো তারারে।

    তারারের শরীর ছিলো খুবই দূর্গন্ধ। তার আশেপাশে দিয়ে গিয়ে হেঁটেও যেতো না। খাবার খাওয়ার পর সেই দুর্গন্ধ বেড়ে যেতো আরো কয়েকগুণ। খাবার খাওয়ার পর তারারের শরীর প্রচন্ড ঘামতে শুরু করতো, আর চোখগুলো হয়ে যেতো রক্তবর্ণ। অনেকের ভাষ্যমতে খাবার খাওয়ার পর তারারের শরীর থেকে বাষ্প বের হতে শুরু করতো। এতো এতো খাবার খাওয়ার পরেও তারারের ওজন কখনো বাড়েনি। এমনকি তাকে কখনে বমিও করতে দেখা যায় নি। তবে ছোটবেলা থেকেই তার ডায়রিয়ার সমস্যা ছিলো।

    সেনাবাহিনীতে তারারে

    সার্কাসের কাজ ছেড়ে তারারে ফরাসী বিপ্লবী সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তারারের অতিরিক্ত খেতে পারার সুযোগটাই কাজে লাগায় সেনাবাহিনী। তাকে কুরিয়ার হিসে ব্যবহার করা হয়, এজন্য সে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ বা নথিপত্রগুলো গিলে ফেলতো। তবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার পর তারারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠে খাবার। সেনাবাহিনীতে প্রত্যেক সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট পরিমান রেশন বরাদ্দ থাকে। কিন্তু যে পরিমান খাবার তারারে কে দেওয়া হতো তা ছিলো খুবই নগন্য। আর তাই খাবারের জন্য তারারে অন্য সৈনিকদের কাজ করে দিতেন।

    পেটের ক্ষুধার জ্বালা নিবারন করতে তারারে ঘাস, টিকটিকি, সাপ কিংবা পোকামাকড় খাওয়া শুরু করেন। তারারের এই ক্ষুধা সমস্যা দেখে ফরাসী আর্মি তার রেশন ৪ গুন করে দিয়েছিলো। তবুও তার ক্ষুধা মেটেনি। তারারে মাঝে মাঝেই খাওয়ার অভাবে মিলিটারি হসপিটালে ভতি হতেন।

    মিলিটারি হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলেন ব্যারন পার্সি নামের এক মিলিটারি ডাক্তার। তারারের কর্মকান্ড দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। ব্যারন পার্সি ঠিক করেন, তিনি তারারেকে নিয়ে পরীক্ষা করবেন। আর এজন্য হাসপাতালের ১৫ জন মানুষের রান্না করা খাবার তাকে খেতে দেন।

    ডাক্তারের ভাষ্যমতে, প্রায় দুটি ষাঁড়ের মাংস দিয়ে বানানো বড় বড় পাই ও চার গ্যালন দুধ একাই খেয়ে শেষ করেন তিনি। খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়েন তারারে। সেই সময় পার্সি তার বেলুনের মতো ফুলে যাওয়া পাকস্থলির রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেননি।

    ব্যারন পার্সি বলেন,

    কুকুর এবং বিড়ালরাও তার দিকে তাকালে ভয়ে পালিয়ে গেল, যেন তারা তাদের ভাগ্য কি হতে পারে অনুমান করতে পারতো।

    সেনাবাহিনীর কুরিয়ার তারারে

    সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার পরেই তারারের রাইন তীরের ফরাসী আর্মি ক্যাম্পে ডাক পরে তারারের। সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করার জন্য তারা তারারের অতিরিক্ত খেতে পারার ক্ষমতাকে ব্যবহার করার চিন্তা করে। এজন্য সেনাবাহিনীর জেনারেল আলেকজান্দ্রে ডি বিউহার্নাইস একটি নথি কাঠের বাক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে তারারের হাতে দেন এবং তা খেয়ে ফেলতে বলেন। তারা সেই কাঠের বাক্সটি গিলে ফেলেন, এর দুই দিন পর তা তার মূত্রনালী দিয়ে বের হয়ে আসে। বক্সের মধ্যে থাকা নথিটি তখনও পাঠযোগ্য অবস্থায় ছিলো।

    আর এইভাবে একজন সামরিক কুরিয়ার হিসাবে কাজ করতে থাকেন তারারে, যেনো শত্রু অঞ্চলের মাধ্যমে নিরাপদে নথিপত্র বহন করতে পারে যাতে তাকে তল্লাশি করা হলে সেগুলি খুঁজে পাওয়া না যায়।

    তারারের এই অদ্ভুত ও অসামান্য গুণের জন্য ফরাসি সেনাবাহিনী তাকে পুরষ্কার হিসেবে ষাঁড়ের ১৪ কেজি কাঁচা ফুসফুস দেওয়া হয়। আর তা তৎক্ষনাৎ সবার সামনে খেয়ে ফেলেন

    দীর্ঘ ১ বছর তারারে সাফল্যের সাথে কুরিয়ার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছিল। এরপরই একদিন তারারে বর্ডারে প্রুসিয়ান আর্মিদের হাতে ধরা পড়েন। তারারেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন ফরাসি কর্নেলের কাছে একটি বার্তা বহন করার জন্য। তাকে বলা হয়েছিল যে নথিগুলি অত্যন্ত সামরিক তাৎপর্যপূর্ণ, কিন্তু বাস্তবে, ডি বিউহারনাইস শুধুমাত্র একটি নোট লিখেছিলেন কর্নেল নিশ্চিত করুন যে বার্তাটি সফলভাবে গৃহীত হয়েছে, এবং যদি তাই হয়, প্রুশিয়ান সৈন্যদের গতিবিধি সম্পর্কে সম্ভাব্য দরকারী তথ্যের উত্তর দিতে।

    তারারে জার্মান কৃষকের ছদ্মবেশে তারারে অন্ধকারের আড়ালে প্রুশিয়ান বডার অতিক্রম করেছিলেন। যেহেতু তারারে জার্মান বলতে পারতেন না। শীঘ্রই সে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহের শিকার হয়। স্থানীয় মানুষজন প্রুশিয়ান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন এবং প্রুসিয়ান সেনাবাহিনী তাকে বন্দী করেন।

    প্রুসিয়ান সেনাবাহিনী তার শরীরে তল্লাশি চালিয়েও সন্দেহজনক কিছু পায়নি। কথা বের করার জন্য তারা তারারেকে চাবুক দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। প্রচন্ড মার খেয়েও তারারে কোনো কথা বলেন নি। অনেক মারধর করার পর তাকে তারা একটি ল্যাট্রিনে বেঁধে রেখেছিলো। বেশ কিছুদিন প্রহার করার পর তারারেকে প্রুসিয়ানরা বর্ডারের কাছাকাছি ফেলে রেখে দেয়।

    তারারের ক্ষুধা নিরাময়ের চেষ্টা

    এই ঘটনার পর তারারে সেনাবাহিনীতে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এরপর তিনি মিলিলিটারি হাসপাতালে ফেরত আসেন। তারারে ডাক্তার পার্সিকে অনুরোধ করেন, তাকে চিকিৎসা করে সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক করে দেওয়ার জন্য। পার্সি এই কাজে আগ্রহী ছিলেন তাই তারারের প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান।

    ক্ষুধা কমানোর জন্য ডাক্তার পার্সি তারারে কে প্রথমে ক্ষুধা নিবৃত্তিকারক লুডেনাম খাওয়ান। কিন্তু এতে কাজ না হলে তাকে প্রচুর মদ ও ভিনেগার খাওয়ানো হয়। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় তাকে প্রচুর পরিমানে নরম সেদ্ধ ডিম খাওয়ানো হয় ক্ষুধা কমানোর জন্য। এতো কিছু করার পরেও তার ক্ষুধা নিভৃত করতে ব্যর্থ হন ডাক্তার পার্সি।

    তারারে হাসপাতালের বাহিরে লুকিয়ে কসাইদের ফেলে দেওয়া পঁচা মাংস খেতে থাকেন। ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া খাবার খাওয়ার জন্য তিনি কুকুরদের সাথে রিতীমত লড়াই করতেন। এছাড়াও হাসপাতালের বেশ কয়েকজন রুগীর শরীরের রক্ত পান ও করেছিলো তারারে। বেশ কয়েকবার হাসপাতালের মর্গের লাশ খেতে চাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারারে। হাসপাতালের অন্য ডাক্তাররা তাকে মানসিক বিকারগস্ত মনে করছিলো তাই তাকে কোনো পাগলাগারদে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু ডাক্তার পার্সি তারারেকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন, তাই তারারে মিলিটারি হাসপাতালেই ছিলেন।

    এর কিছুকাল পরে হাসপাতাল থেকে ১৪ মাস বয়সী একটি শিশু হারিয়ে যায়। হাসপাতালের সকলেই এর পিছনে ধারণা করছিলো তারারে শিশুটিকে খেয়ে ফেলেছে। এই ঘটনার পর ডাক্তার পার্সির পক্ষে তারারেকে বাঁচানো ছিলো অসম্ভব। হাসপাতালের কর্মীরা তারারেকে ধাওয়া করলে সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়, এরপর সে আর কখনো সেই মিলিটারি হাসপাতালে ফেরত আসেনি।

     

    তারারের মৃত্যু

    এই ঘটনার ৪ বছর পর ১৭৯৮ সালে ভার্সাই হাসপাতাল থেকে একজন ডাক্তার পার্সির সাথে যোগাযোগ করেন, তিনি ডাক্তার পার্সিকে জানান যে তাদের একজন রোগী তার সাথে দেখা করতে চায়। সেই রোগীটি আর কেউ নয়, সে ছিলো তারারে। তারারে ততোদিনে শরীর ভেঙে দূর্বল হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে বিছানায় পরে আছেন।

    ডাক্তার পার্সিকে তারারে বলেন ২ বছর আগে তিনি একটি সোনার কাঁটা চামচ গিলে ফেলে ছিলেন আর তার জন্যই আজকে শরীরের এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারারে আশা করছিলেন পার্সি তাকে এই অবস্থা থেকে নিরাময় করে তুলতে পারে। পার্সি পরীক্ষা করে দেখেন তারারের প্রচন্ড যক্ষ্মা হয়পছে। এর একমাস পর প্রচন্ড যক্ষ্মা আর সেই সাথে ডায়রিয়া হয়ে মৃত্যু হয় তারারের।

    তারারের মৃত্যুর পর তারারের শরীরের অটোসপি করতে কোনো সার্জেন রাজি ছিলেন না। কিন্তু সেই হাসপাতালের একজন ডাক্তার টেসিয়ার কৌতুহলী ছিলেন তারারের শরীরে আদৌও কোনে সোনার কাঁটা চামচ আছে কিনা। তাই তিনি তারারের অটোসপি করতে রাজি হন। তারারের শরীর কেটে দেখা যায় তার পেট সাধারণ মানুষের তুলনায় অধিক প্রশস্ত। তারারের পাকস্থলি, খাদ্যনালী, যকৃত ও পিত্তকোষ অস্বাভাবিক রকমের বড়। আলসারে পরিপূর্ণ পাকস্থলীর সাথে পুরো শরীরের ভেতর পুঁজে ভরা ছিলো। তবে অবাক করা বিষয় হলো, তার পেটের ভেতরে থাকা সেই সোনালী কাঁটা চামচটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় ছিলো, তারারের শরীর অন্য সাধারণ মানুষের তুলনায় খুব দ্রুতই পচতে শুরু করেছিলো।

    মাত্র ২৬ বছর বয়সেই মৃত্যু হয় এই অদ্ভুত মানুষটির। কেনো তার এতো ক্ষুধা ছিলো সেই রহস্য কেউ ভেদ করতে পারে নি।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  17. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    পৃথিবীতে কত ধরনরে ভাষা রয়েছে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আদিম যুগে মানুষ যখন শিকার করতো, গুহায় বসবাস করতো তখনো তারা অনুভব করে ভাষার। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে ভাষার প্রচলন হয়েছি আজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ বছর আগে। সময়ের সাথে সাথে ভাষা হয়ে উঠেছে একটি জাতির সংস্কৃতি। যা সবাইকে বেঁধে রাখে এক সুতোয়। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। চলুন জেনে নেই ভাষা সম্পর্কে ১০ টি চমবিস্তারিত পড়ুন

    আদিম যুগে মানুষ যখন শিকার করতো, গুহায় বসবাস করতো তখনো তারা অনুভব করে ভাষার। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে ভাষার প্রচলন হয়েছি আজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ বছর আগে। সময়ের সাথে সাথে ভাষা হয়ে উঠেছে একটি জাতির সংস্কৃতি। যা সবাইকে বেঁধে রাখে এক সুতোয়।

    আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। চলুন জেনে নেই ভাষা সম্পর্কে ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য।

    চাঁটগাঁইয়া ভাষা (চট্টগ্রাম অঞ্চলের) বাংলাদেশের বৃহত্তম আঞ্চলিক ভাষা। বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ চাঁটগাঁইয়া ভাষায় কথা বলে। ২০২০ সালে কানাডাভিত্তিক ওয়েবসাইট ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টে প্রকাশিত বিশ্বের ১০০টি কথ্য ভাষার তালিকায় স্থান পায় চাঁটগাঁইয়া ভাষা। ১ কোটি ৩০ লাখ কথ্য ভাষাভাষী মানুষ নিয়ে পৃথিবীর ৮৮ তম বৃহত্তম ভাষা ও বাংলাদেশে কথ্য ভাষার দিক দিয়ে ১ম বৃহত্তম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। একই তালিকায় বিশ্বে ৯৭তম স্থানে রয়েছে সিলেটি ভাষা, যেটি বাংলাদেশে আঞ্চলিক ভাষার দিক দিয়ে ২য় বৃহত্তম ভাষা।

    পুরো পৃথিবী জুড়ে মোট ভাষার সংখ্যা ৩.৫ হাজার। আঞ্চলিক/ উপভাষা সহ সেই সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি।

    সবচেয়ে বেশি বর্ণ চীনা (মান্দারিন) ভাষায়। মান্দারিন ভাষার বর্ণ সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। আপনি যদি মান্দারিন ভাষায় কোনো সংবাদপত্র পড়তে চান, তার জন্য কম করে হলেও ২ হাজার বর্ণ জানতে হবে।

    বাইবেল পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনুবাদিত গ্রন্থ। পৃথিবী জুড়ে প্রায় ২,৪৫৪ টি ভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়েছে বাইবেলের।লেখক হিসেবে সবচেয়ে বেশি বই অনুবাদ হয়েছে ইংরেজ গোয়েন্দা লেখিকা আগাথা ক্রিস্টির। আনুমানিক ১০০ এর অধিক ভাষায় আগাথা ক্রিস্টির বই অনুবাদিত হয়েছে।

    প্রতি ২ সপ্তাহে ১ টি ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পৃথিবী থেকে আনুমানিক ২৩১ টি ভাষা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর পুরো পৃথিবী জুড়ে প্রায় ২৪০০ টি ভাষা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে।

    পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভাষার দেশ পাপুয়া নিউ গিনি, সেখানে ৮৫০টিরও বেশি ভাষা রয়েছে। এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সেখানে ৬৭০টি ভাষার চল লোকমুখে রয়েছে।

    বর্তমানে পৃথিবীতে টিকে থাকা সবচেয়ে প্রাচীন ভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে সংস্কৃত, সুমেরীয়, হিব্রু, গ্রীক ও আরবি। এই সবগুলো ভাষাই ৩.৫-৫ হাজার বছর পুরণো।

    একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করলে আপনার স্মার্টনেস বেড়ে যায়। অনেক বিজ্ঞানী একমত যে একাধিক ভাষা শিখলে মস্তিষ্ক বেশি সচল থাকে এবং স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। কিছু কিছু গবেষণার তথ্যমতে কেউ একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করলে তার বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে।

    সারা পৃথিবী জুড়ে কেবলমাত্র ২০০ এর মতো ভাষা বই, টেলিভিশন, সংবাদপত্র,সিনেমা কিংবা রেডিওতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    পৃথিবীর মোট ৭ হাজার ভাষার মধ্যে ৩ ভাগের ২ ভাগ অর্থাৎ ৪৫০০+ এর বেশি ভাষার সৃষ্টি শুধুমাত্র এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশেই হয়েছে।

    কথা বলার জন্য গড়ে সকল দেশের মানুষই আনুমানিক ৫ হাজার শব্দ ব্যবহার করে। কিন্তু গড়ে পৃথিবীর সকল ভাষার শব্দসংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি।

    পৃথিবীতে ৭ হাজারের বেশি অধিক ভাষা রয়েছে। শুধু এবং একমাত্র বাংলা ভাষার জন্যই মানুষের প্রাণ দিতে হয়েছে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  18. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    ইতিহাসের কোন ভুলগুলো পরবর্তীতে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    বিখ্যাত আইরিশ সাহিত্যিক জেমস জয়েস এর একটি উক্তি আছে, “ভুল আবিস্কারের দরজা খুলে দেয়।” কথায় বলে মানুষ ভুল করেই মানুষ শেখে। প্রতি সপ্তাহে আমরা কমবেশি সবাই ডজনখানেক ভুল করি, যদিও সেসব ছোটখাটো তুচ্ছ ভুল। আমাদের বেশিরভাগ ভুলই আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করে না। মাত্র কয়েকটি ভুল কদাচিৎ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে ব্বিস্তারিত পড়ুন

    বিখ্যাত আইরিশ সাহিত্যিক জেমস জয়েস এর একটি উক্তি আছে,
    “ভুল আবিস্কারের দরজা খুলে দেয়।”

    কথায় বলে মানুষ ভুল করেই মানুষ শেখে। প্রতি সপ্তাহে আমরা কমবেশি সবাই ডজনখানেক ভুল করি, যদিও সেসব ছোটখাটো তুচ্ছ ভুল। আমাদের বেশিরভাগ ভুলই আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করে না। মাত্র কয়েকটি ভুল কদাচিৎ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

    ইতিহাসেও তেমনি কিছু ভুল ঘটনা ঘটেছে যা পরবর্তীতে পৃথিবীর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আজ তেমনি ৪ টি ভুল আপনাকে জানাচ্ছি।

    ১. অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেও ডাচরা জানতো না তারা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেছে!

    বইপত্রে আপনি হয়তো পড়েছেন ইংরেজ জাহাজ ক্যাপ্টেন জেমস কুক অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেছেন। তথ্যটি আসলে ভুল! জেমস কুক অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করার আরো প্রায় ২ শতাব্দী বছর আগেই ডাচরা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেছে।

    ১৮০২ সালে ইউরোপীয়দের অস্ট্রেলিয়া ম্যাপ 
    ১৬০৬ সালে ডাল ক্যাপ্টেন উইলেম জ্যান্সজুন তার জাহাজ ডুইফকেনে যাত্রা করেন এবং কেপ ইয়র্ক উপদ্বীপের পশ্চিম দিকে ২০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব অন্বেষণ করেন এবং অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেন। অন্যান্য অনেক ডাচ একই এলাকার পশ্চিম ও দক্ষিণ উপকূল অন্বেষণ করে এবং এই জায়গার নামকরণ করেন নিউ হল্যান্ড। তবে, ডাচরা এই এলাকাটি উপনিবেশ বা সেখানে বসতি স্থাপনের কোন প্রচেষ্টা করেনি। এর ফলে ১৭৭০ সালে ইংরেজ ক্যাপ্টেন কুক তার দাবি দাখিল না করা পর্যন্ত তাদের আবিষ্কার দীর্ঘকাল অজানা ছিল।

    ২. হ্যাবসবার্গের প্রহসন যুদ্ধ

    ১৭৮৮ সালে অস্ট্রো-তুর্কি যুদ্ধ শুরু হলে উসমানীয় এবং হ্যাবসবার্গের মধ্যে একটি ভুল-বোঝাবুঝি ঘটনা ঘটে।

    আর এই ঘটনাটি অটোমানদের ক্ষমতায় একটি অপ্রত্যাশিত ঊর্ধ্বগতি দেয়। সেই বছরের সেপ্টেম্বরে, অস্ট্রিয়ান হুসাররা তুর্কি পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য একটি নদী পার হয়েছিল। তবে, তারা শত্রু পক্ষ থেকে কাউকে খুঁজে পায়নি; এবং পরিবর্তে কয়েকজন স্থানীয়কে দেখা গেল যারা মদ বিক্রি করছিল।

    Image source: Wikimedia Commons
    অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় কিনে মাতাল হয়ে পড়ে। নদীর অপর প্রান্তে, অস্ট্রিয়ান কমান্ডার ধৈর্য ধরে ক্যাম্পে তাদের শত্রু সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন।

    হুসাররা ফিরে না এলে কমান্ডার কয়েকজন অফিসারকে তাদের খোঁজ করতে পাঠান। সেখানে গিয়ে তারা মাতাল সৈন্যদের আবিষ্কার করে। দেখা যাচ্ছে, অস্ট্রিয় সৈন্যদল মাতাল হয়ে দুটি আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং একে অপরকে তুর্কী শত্রু ভাবতে শুরু করেছে।

    একজন আর্টিলারি অফিসার দূর থেকে লড়াইটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন যে তারা তুর্কী সৈন্য; তারা হয়তো অস্ট্রিয়ান ক্যাম্পে আক্রমণের অপেক্ষায় রয়েছে, তাই তিনি তার সৈন্যদের গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে সেই আক্রমণে ১ হাজারেরও বেশি সৈন্যের মৃত্যু হয়।

    অবশেষে, যখন অটোমানরা এই স্থানে পৌঁছায়, তখন তারা অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর বেশ কিছু হতাহত দেখতে পায় এবং কোন যুদ্ধ ছাড়াই কারানসেব দখল করে নেয়।

    ৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়ার আলাস্কা বিক্রি

    যখন ক্রিমিয়ান যুদ্ধ শুরু হয়, তুরস্ক, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স তাদের অভিন্ন শত্রু রাশিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। সেই সময়ের পরিস্থিতি রাশিয়ার জন্য ছিল জটিল। দূরত্বের জন্য তারা আর তাদের আলাস্কান অঞ্চলকে সামরিক সমর্থন করতে পারছিল না। সুতরাং, তাদের একমাত্র শক্তিশালী সমর্থন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তখন রাশিয়ার সাহায্যে এসেছিল।

    ক্রিমিয়ান যুদ্ধ Image Source: Wikimedia Commons
    দুই দেশ তখন সিদ্ধান্ত নেয় যে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলাস্কাকে ‘বেচবে’। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্বজুড়ে সমালোচনা সত্ত্বেও, ১৮৬৭ সালের মার্চ মাসে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, চুক্তি অনুসারে রাশিয়া মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলাস্কা বিক্রি করে।

    সেসময় রাশিয়া হয়তো আন্দাজই করতে পারেনি তারা কি ভুলটিই না করেছে। তবে সেই ভুল বুঝতে বেশিদিন লাগে নি রাশিয়ার,১৮৮০ ও ১৮৯০ এর দশকে এই অঞ্চলে সোনার খনি আবিষ্কার করে মার্কিনরা। যা মার্কিন অর্থনীতিতে লক্ষ লক্ষ ডলার এনেছিল এবং আমেরিকান অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলে।

    ৪. দুর্ঘটনাবশত ল্যাবরেটরিতে আবিষ্কৃত হয়েছিল পৃথিবীর প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন।

    সেন্ট মেরিস হাসপাতালের জীবাণুবিদ আলেকজান্ডার ফ্লেমিং গ্রীষ্মের ছুটি কাটিয়ে যখন স্কটল্যান্ডে নিজের কর্মস্থলে ফেরেন, পুরো ল্যাবরেটরি তখন ধুলোভর্তি অবস্থায়। একটু পরিষ্কার করে কাজ শুরু করতে গিয়ে খেয়াল করলেন, তাঁর পেট্রি ডিশে (ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত একধরনের ছোট গোল স্বচ্ছ পাত্র) রাখা স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়াগুলোতে পেনিসিলিয়াম নোটাটাম নামক একধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ হয়েছে।

    আলেকজান্ডার ফ্লেমিং 
    কৌতূহলী বিজ্ঞানী ফ্লেমিং সংক্রমিত সেই পেট্রি ডিশকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রাখতেই খেয়াল করলেন, পেনিসিলিয়াম নোটাটাম ছত্রাকটি স্ট্যাফাইলোকক্কির স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা তৈরি করছে।

    আলেকজান্ডার ফ্লেমিং আরও কয়েক সপ্তাহ সময় নিয়ে বেশ কিছু পেনিসিলিয়াম ছত্রাক জোগাড় করে পরীক্ষা করে দেখেন, পেনিসিলিয়ামের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যেগুলো শুধু ব্যাকটেরিয়ার স্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই বাধা দেয় না, সংক্রামক অনেক রোগ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে।

    পেনিসিলিয়াম ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন আবিষ্কারের পেছনে অবশ্য বিজ্ঞানী ফ্লেমিংয়ের চেয়ে জার্মান বংশোদ্ভূত ইংরেজ প্রাণরসায়নবিদ আর্নেস্ট চেইনের (১৯০৬-৭৯) কৃতিত্ব বেশি। এই বিজ্ঞানী ১৯৩৮ সাল থেকে চেষ্টা চালাতে থাকেন কীভাবে মানুষের শরীরের উপযোগী একটি অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা যায়। চেষ্টার ফল মেলে ১৯৪২ সালের মার্চ মাসে। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের নিউ হ্যাভেন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে থাকা অ্যান মিলারের ওপর সফলভাবে পেনিসিলিন প্রয়োগ করা হয়। বেঁচে যান অ্যান মিলার। আর্নেস্ট চেইনের মতোই অস্ট্রেলীয় জীববিজ্ঞানী হাওয়ার্ড ফ্লোরিও (১৮৯৮-১৯৬৮) পেনিসিলিনের অগ্রগতিতে বিশাল অবদান রেখেছেন। অবদান রেখেছেন বলেই তো ১৯৫৫ সালে এই তিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  19. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    কোন বিখ্যাত উপন্যাস আমেরিকার ইতিহাস পরিবর্তন করে দিয়েছিলো?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আঙ্কেল টম’স কেবিন   কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার করার পর। দলে দলে ইউরোপের শেতাঙ্গরা সেখানে গিয়ে নিজেদের উপনিবেশ গড়ে তোলে। নতুন নতুন উপনিবেশ তৈরির সময় তারা দেখল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চলের মাটি তুলোর চাষের পক্ষে খুব উৎকৃষ্ট। এই তুলোর চাষের অঞ্চলে প্রয়োজন পড়লো অতি অল্প খরচে অধিক শ্রমবিস্তারিত পড়ুন

    আঙ্কেল টম’স কেবিন

     

    You are currently viewing আঙ্কেল টম’স কেবিন: যে উপন্যাস আমেরিকার ইতিহাস পরিবর্তন করে দিয়েছে

    কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার করার পর। দলে দলে ইউরোপের শেতাঙ্গরা সেখানে গিয়ে নিজেদের উপনিবেশ গড়ে তোলে। নতুন নতুন উপনিবেশ তৈরির সময় তারা দেখল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চলের মাটি তুলোর চাষের পক্ষে খুব উৎকৃষ্ট।

    এই তুলোর চাষের অঞ্চলে প্রয়োজন পড়লো অতি অল্প খরচে অধিক শ্রমদানকারী অসংখ্য মানুষের, যারা চিরদিনের মতো কেনা গোলাম হয়ে দৈহিক নিপীড়নের ভয়ে বিনা পারিশ্রমিকে আমৃত্যু শ্রমদান করবে। আর তাই এই ধরনের শ্রমিক শিকার করা হলো আফ্রিকার দুর্বল অসহায় কালো মানুষদের গ্রামকে গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে, আর ওদের খাঁচায় পুরে শেকলে বেঁধে নিজেদের দেশ ও সমাজ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আসা হলো কামান আর বন্দুকের ভয় দেখিয়ে সমুদ্রের পরপারে আমেরিকায়।

    আর হয়ে গেলো ওরা আজন্ম ক্রীতদাস। ওদের সন্তান-সন্তুতিদের নিয়ে, আর যারা ওদের শিকার করেছিলো সেসব ক্রীতদাস-ব্যবসায়ীরা ওদের বেচতে লাগলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চলের ওই সব শ্বেতাঙ্গ তুলো-চাষীদের কাছে। যে-সব শ্বেতাঙ্গ ওদের কিনতো, তারা ওদের মৃত্যু ঘটালেও আইনের চোখে অপরাধী হোতো না, কেননা ওরা আইনের বলে সর্বপ্রকার মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এক ধরনের পণ্যসামগ্রী।

    লেখিকা হ্যারিয়েট বিচার স্টো ও মার্কিন গৃহযুদ্ধ

    হ্যারিয়েটের লেখা আঙ্কেল টমস কেভিল কে মনে করা হয় আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার ভিত্তি স্তম্ভ। বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হওয়ার প্রথম বছরেই বইটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রি হয় প্রায় ৩ লক্ষেরও অধিক কপি আর গ্রেট ব্রিটেনে তার সংখ্যা ১ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। সে সময়ে কোনো বই এতো বিশাল সংখ্যক পরিমাণে বিক্রি ছিলো কেবলই কল্পনা। শুধুমাত্র বাইবেল বিক্রির সংখ্যাই এই উপন্যাসের কাছাকাছি ছিলো।

    একজন লেখক যে শুধুমাত্র লেখকই নয় তিনি চাইলে তার কলমের জোড়ে পুরো একটা সমাজ বা রাষ্ট্রের পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন হ্যারিয়েট বিচার স্টো তার পারফেক্ট উদাহরণ।

    হ্যারিয়েট বিচার স্টো ১৮৩০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ওয়াইয়োতে থাকতেন। সে সময়ে তার বেশ কিছু মুক্তি পাওয়া কিংবা পালিয়ে আসা ক্রিতদাসদের সাক্ষাৎকার নেন। তার মুখেই জানতে পারেন ক্রীতদাসদের ভয়াবহ জীবনের কথা। হ্যারিয়েট বিচার স্টো সবসময়ই বলেছেন উপন্যাসের আঙ্কেল টমস কোনো নির্দিষ্ট ক্রীতদাসের জীবনের উপর ভিত্তি করে লেখা উপন্যাস নয়।

    তবে এই উপন্যাস লেখার ব্যাপারে হ্যারিয়েট আগ্রহী হয়ে উঠেন যখন তিনি জোসিয়া হ্যানসন নামক এক নিগ্রো ক্রীতদাসের লেখা নিজের আত্মজীবনী ‘দ্য লাইফ অব জোসিয়া হ্যানসন’ পড়েন। এই আত্মজীবনীটি প্রকাশিত হয়েছিলো আঙ্কেল টমস কেবিন প্রকাশ হওয়ার ৩ বছর আগে; ১৮৪৯ সালে।

    জোসিয়া হ্যানসন তার আত্মজীবনীতে লেখেন আইজ্যাক ম্যারিল্যান্ডে তে রিলে নামের এক ব্যবসায়ীর ৩৭০০ একর জমিতে তিনি তামাক চাষ করতেন। অতিরিক্ত পরিশ্রম ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ১৮৩০ সালে তিনি সেখান থেকে তিনি পালিয়ে কানাডায় চলে যান। তবে একা পালান নি সঙ্গে আরো অনেক ক্রীতদাসদের সাথে নিয়ে পালিয়ে ছিলেন। নিজের ক্রীতদাস জীবনের ভয়ংকর রোমাঞ্চকর স্মৃতিচারণ করেই নিজের আত্মজীবনী লিখে ফেলেন। আর এই বইটি হ্যারিয়েট বিচার স্টো কে আঙ্কেল টমস কেভিন উপন্যাস লেখার রসদ জুগিয়ে ছিলো। সঙ্গে ছিলো বহু বছরে পাওয়া অনেক কৃতদাসদের নেওয়া সাক্ষাৎকার।

    ১৮৫২ সালে হ্যারিয়েট বিচার স্টো যখন আঙ্কেল টমস কেবিন প্রকাশ করেন, তখন আমেরিকায় ক্রীতদাস প্রথা বাতিল করার কোনো সম্ভাবনাই ছিলো না। খুব দ্রুত বইটি জনপ্রিয় হতে শুরু করায় সাধারণ মানুষজন নতুন করে কৃতদাসদের ব্যাপারে ভাবতে শুরু করে। ফলে মানুষের মধ্যে দাসপ্রথা বিরোধী মনোভাবের সৃষ্টির শুরু হয়। কিন্তু আমেরিকার দক্ষিণের রাজ্যগুলো ছিলো পুরোপুরি দাস নির্ভর ফলে উত্তর ও দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে শুরু হয়ে যায় দ্বন্দ্ব এবং ১৮৬০ এ শুরু হয় যায় ৪ বছরের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

    গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের সাথে দেখা হয়েছিলো লেখিকা হ্যারিয়েট বিচার স্টো এর। প্রথম সাক্ষাৎতে লিংকন বলেছিলেন:-

    “So this is the little lady who started this great war.” (ইনিই তাহলে সেই অল্পবয়স্ক ভদ্রমহিলা যিনি এই যুদ্ধের সুত্রপাত করেছেন)।

    সংক্ষেপে আঙ্কেল টমস কেবিন উপন্যাসের কাহিনী

    উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আঙ্কেল টমস মালিক আর্থার শেলভি ফার্মের একজন কৃতদাস। আর্থার শেলভি মানুষ হিসেবে ছিলেন খুবই ভালো। তিনি কৃতদাসদের উপর জুলুম নির্যাতন করতেন না। শেলভি ঋনগ্রস্থ ছিলেন। এতোটাই খারাপ অবস্থা যে ফার্ম বন্ধ করে দিতে হবে। শেলভির স্ত্রী এমিলি শেলভি স্বামীকে পরামর্শ দেন যেনো টাকা জোগান দেওয়ার জন্য তাদের ক্রীতদাস টমকে ও আরেক ক্রীতদাসী এলিজার ছেলে সন্তান হ্যারি কে বিক্রি করে দেন। শেলভির ছেলে জর্জ শেলভি আঙ্কেল টমকে বিক্রি করার বিষয়টি কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারেন নি। সে টমের কোলেপিঠে বড় হয়েছে, টমকে সে খুব ভালোবাসতো। অপরদিকে এলিজা যখন বুঝতে পেরেছে তালের মালিক টাকার অভাবে টমের সঙ্গে তার ছোট ছেলে শিশুকেও বিক্রি করে দিবে তাই ঝুঁকি নিয়ে সেই রাতেই ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

    আঙ্কেল টমসকে বিক্রি করে দেওয়া হয় হেলী নামক এক দাস ব্যবসায়ীর কাছে। সেই সাথে হ্যালি গুন্ডাদেরকেও এলিজাকে ও তার ছেলে হ্যারিকে যেনো খুঁজে ধরে নিয়ে আসে। বিক্রির পর শুরু হয় টমের উপর শারিরীক প্রহার। টমকে বিক্রি করার জন্য জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। সেই জাহাজ থেকে ইভা নামের একটি মেয়ে শিশু পানিতে পড়ে প্রায় মরতে বসে। টম নিজের ঝুঁকি নিয়ে লাফ দিয়ে ইভার জীবন বাঁচায়। আর তাই ইভার বাবা ক্লেয়ার টমকে অনেক দাম দিয়ে কিনে নেন। টমের সাথে ইভার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। এতোটাই ভালো বন্ধুত্ব যে ইভা নিজের মা থেকে টমকেই বেশি ভালোবাসতো।

    চিত্রশিল্পীর তুলিতে আঙ্কেল টম
    ২ বছর সুন্দর ও সুখী ভাবেই জীবন কেটে যায় টমের। একসময় অসুস্থ হয়ে ইভা অল্প বয়সেই মারা যায়। মারা যাওয়ার আগে ইভা তার বাবাকে অনুরোধ করে গিয়েছিল যেনো সে আঙ্কেল টমকে কৃতদাস থেকে মুক্তি দিয়ে দেয়। ইভার বাবা টমকে মুক্তি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। এরই মধ্যে ইভার বাবা আততায়ীর হাতে খুন হন।

    ইভার মা টমকে একদম পছন্দ করতেন না কারন তার মেয়ে বেঁচে থাকতে তার থেকে টমকেই বেশি ভালোবাসতেন। আর তাই তিনি টমের উপর ক্রুদ্ধ ছিলেন। টমকে তিনি সিমন লেগ্রি নামক এক পাষণ্ড দাস ব্যাবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। সিমন লেগ্রি তাকে নিয়ে যায় লুসিয়ানায় তার তুলোর বাগানে। সিমনের অত্যাচারে ক্রীতদাসেরা মারাও যেতো সেখানে আইন কানুন বলে কিছু ছিলো না। হতো না কোনো অপরাধের বিচার।

    সিমন আঙ্কেল টমকে দিয়ে অন্য কৃতদাসদের নির্যাতন করতে চাইলে টম তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে সীমন ক্ষেপে যায় টমের উপর সে প্রহার করতে শুরু করে। টম ছিলো ঈশ্বরে বিশ্বাসী সেটা সিমন একদম পছন্দ করতো না। টম বলতো এই শরীর তোমার তুমি যা কিছু করতে পারো কিন্তু আমার আত্মা আমি কেবল যীশু কে উৎসর্গ করেছি। এসব শুনে সিমন লেগ্রি আরো ক্ষেপে টমকে প্রহার করতো।

    এরই মাঝে আঙ্কেল টম ক্যাসি ও ইমেলি নামে দুই ক্রীতদাসও দাসীকে বাগান থেকে পালাতে সাহায্য করেন। আর এটা সীমন কোনোভাবেই সহ্য করতে পারে নি। সে আঙ্কেল টমকে এতোটাই প্রহার শুরু করে যে আঙ্কেল টমস প্রায় মৃত্যু শয্যায় চলে যায়। মৃত্যুর আগে টমের প্রথম মালিকে শেলভির জেলে জর্জের সাথে দেখা হয়। জর্জ টমকে বলে সে তাকে মুক্ত করতে এসেছে। টম জর্জকে বলে যীশু তাকে মুক্তির জন্য ডাকছে। এর কিছুক্ষণ পর টম পরলোকগমন করেন। টমের মৃত্যুতে শোকাহত শেলভি পরিবার তাদের সকল ক্রীতদাসদের মুক্তি ঘোষণা করে। অপর দিকে এলিজা ও তার ছেলে হ্যারিকে নিয়ে নিজের পলাতক কৃতদাস স্বামীর সাথে পালিয়ে কানায় চলে যেতে সক্ষম হন। আর মুক্তি পান ক্রীতদাসের জঘন্যময় জীবন থেকে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  20. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    কোন প্রথা টিকিয়ে রাখতে পবিত্র বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছিল ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

      দ্য স্লেভ বাইবেল, বা ক্রীতদাস বাইবেল হচ্ছে খ্রীস্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের আমেরিকান ক্রীতদাসদের জন্য তৈরিকৃত বাইবেল এর এক নতুন সংস্করণ। মূল বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্ট মিলিয়ে চ্যপ্টার ছিল ১১৮৯ টি, আর স্লেভ বাইবেল এ তার সংখ্যা মাত্র ২৩২ টি। মূল বাইবেল এর একটি বৃহৎ অংশই বাদ দেওবিস্তারিত পড়ুন

    You are currently viewing ক্রীতদাস বাইবেল: দাসপ্রথা টিকিয়ে রাখতে পবিত্র বাইবেল পরিবর্তন করা হয়েছিল

     

    দ্য স্লেভ বাইবেল, বা ক্রীতদাস বাইবেল হচ্ছে খ্রীস্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের আমেরিকান ক্রীতদাসদের জন্য তৈরিকৃত বাইবেল এর এক নতুন সংস্করণ। মূল বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্ট মিলিয়ে চ্যপ্টার ছিল ১১৮৯ টি, আর স্লেভ বাইবেল এ তার সংখ্যা মাত্র ২৩২ টি।

    মূল বাইবেল এর একটি বৃহৎ অংশই বাদ দেওয়া হয়েছিল স্লেভ বাইবেল বা কৃতদাসের বাইবেলে। বিশেষ করে এমন সকল অধ্যায় বা কাহিনী বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা কৃতদাসদের তাদের দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে। আর এই কাটছাঁট করা নতুন সংস্করণের এই বাইবেল দিয়েই দীর্ঘ ২০০ বছরের অধিক সময় ধরে কৃতদাসদের ক্রীস্টধর্মে দীক্ষা দেওয়া হতো।

    ওল্ড টেস্টামেন্টের ৫০ ভাগ, এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের ৯০ ভাগই এই ‘স্লেভ বাইবেল’ থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। বিশেষ করে স্বাধীনতা এবং মুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো। বাদ গিয়েছিল বুক অব এক্সোডাসেরও অনেক অংশ।
    ~ ডেভিড এন্থোনি স্মিথ

    আমেরিকায় কৃষ্ণরা

    কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার করার পর। দলে দলে ইউরোপের শেতাঙ্গরা সেখানে গিয়ে নিজেদের উপনিবেশ গড়ে তোলে। নতুন নতুন উপনিবেশ তৈরির সময় তারা দেখল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চলের মাটি তুলোর চাষের পক্ষে খুব উৎকৃষ্ট।

    এই তুলোর চাষের অঞ্চলে প্রয়োজন পড়লো অতি অল্প খরচে অধিক শ্রমদানকারী অসংখ্য মানুষের, যারা চিরদিনের মতো কেনা গোলাম হয়ে দৈহিক নিপীড়নের ভয়ে বিনা পারিশ্রমিকে আমৃত্যু শ্রমদান করবে। আর তাই এই ধরনের শ্রমিক শিকার করা হলো আফ্রিকার দুর্বল অসহায় কালো মানুষদের গ্রামকে গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে, আর ওদের খাঁচায় পুরে শেকলে বেঁধে নিজেদের দেশ ও সমাজ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আসা হলো কামান আর বন্দুকের ভয় দেখিয়ে সমুদ্রের পরপারে আমেরিকায়।

    আর হয়ে গেলো ওরা আজন্ম ক্রীতদাস। ওদের সন্তান-সন্তুতিদের নিয়ে, আর যারা ওদের শিকার করেছিলো সেসব ক্রীতদাস-ব্যবসায়ীরা ওদের বেচতে লাগলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অঞ্চলের ওই সব শ্বেতাঙ্গ তুলো-চাষীদের কাছে। যে-সব শ্বেতাঙ্গ ওদের কিনতো, তারা ওদের মৃত্যু ঘটালেও আইনের চোখে অপরাধী হোতো না, কেননা ওরা আইনের বলে সর্বপ্রকার মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এক ধরনের পণ্যসামগ্রী।

    সে সময়টায় যেহেতু খ্রীস্ট ধর্মের প্রচার চলছিলো তাই এই শ্বেতাঙ্গ মালিকরা তাদের কৃষ্ণাঙ্গ দাসদেরকেও খ্রীস্ট ধর্মে দীক্ষিত করার সিদ্ধান্ত নিলো। তৎকালীন সময়ের আমেরিকায়  ‘সোসাইটি ফর দি কনভার্সন এন্ড রিলিজিয়াস ইন্সট্রাকশন অব নিগ্রো স্লেভস ইন দ্য ব্রিটিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ নামে একটি ব্রিটিশ মিশনারী সংস্থা ছিল। আর তারাই এই সদ্য খ্রিস্টধর্ম গ্রহন করা কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য এই নতুন ধরনের বাইবেল তৈরি করেছিলেন।

    যেসব অংশ বাদ দেওয়া হয়েছিলো

    ১. ঐশ্বরিক নেতৃত্বে স্বাধীনতা

    “আর প্রভু বললেন, আমি অবশ্যই মিশরে থাকা আমার লোকদের দুর্দশা দেখেছি, এবং তাদের কার্যকর্তাদের কারণে তাদের কান্না শুনেছি;  কারণ আমি তাদের দুঃখ জানি;  এবং আমি তাদের মিশরীয়দের হাত থেকে উদ্ধার করতে নেমে এসেছি, এবং তাদের সেই দেশ থেকে বের করে একটি ভাল দেশে এবং একটি বিশাল দেশে, দুধ ও মধু প্রবাহিত দেশে নিয়ে যেতে…” (এক্সোডাস ৩:৭-৮)

    এক্সোডাসের এই অংশটিতে মূলত মিশরে ইসরায়েলাইটদের অবরুদ্ধ দশা এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুত ভূমিতে তাদের মুক্তির কথা বলা আছে। ক্রীতদাস প্রথার শিকার হওয়া আফ্রিকানরা যে বাইবেলের এই অংশটির প্রতি আকৃষ্ট হতেন, তার ঐতিহাসিক কারণ ছিল। কারণ এই ইজরায়েলাইটদের সঙ্গে তারা নিজেদের অনেক মিল দেখতে পেতেন।

    কারণ তারাও তো অন্য একটি দেশে বন্দী অবস্থায় ছিলেন। তারাও মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। তারা ভাবতেন, আমরা যদি ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রাখি, আমরাও একদিন মুক্তি পাব। ঈশ্বর আমাদের মুক্তি দেবেন। কাজেই এই কাহিনী তাদের নিজেদের কাহিনির সঙ্গে খুবই মিলে যায়। দাস প্রথার শিকার এই আফ্রিকানদের মধ্য থেকে যে আধ্যাত্মিক নেতারা তৈরি হবেন, তাদের অনেকেই কিন্তু এ থেকে অনুপ্রেরণা নেবেন।

    ২. দ্য স্টোরি অব জোসেফ

    এর পরের অনুপ্রেরণা গল্পটি জোসেফ এর (ইসলাম ধর্মে তাকে ডাকা হয় ইউসুফ নবী নামে)। জোসেফ এর এই গল্প জেনেসিস ৩৭ থেকে ৫০ পর্যন্ত। যেখানে রয়েছে পারিবারিক প্রতারণা, বিভিন্ন পরীক্ষা ও সবশেষে চূড়ান্ত বিজয়।

    জোসেফ কে তার ভাইরা হিংসে করে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়। সেই ক্রীতদাস থেকে জোসেফ একসময় হয়ে উঠেন মিশরের ফেরাউন এর পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি।

     

    “এটা সত্যি য়ে তোমরা আমার প্রতি অনিষ্ট করার পরিকল্পনা করেছিলে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরই আমার জন্য ভাল কিছু পরিকল্পনা করছিলেন| ঈশ্বরের আমার মাধ্যমে অনেকের প্রাণ বাঁচানোর পরিকল্পনা ছিল|” (জেনেসিস ৫০:২০)

    এই গল্পটি কৃতদাসদের মধ্যে আশার আলোর সঞ্চালন করতে পারে ভেবে কৃতদাস বাইবেলে এই গল্পের পুরোটাই বাদ দেওয়া হয়।

    ৩. হামুরাবির কোড

    বাইবেল এর ওল্ড টেস্টামেন্টে হামুরাবির কোডেরও উল্লেখ আছে। হামুবারি কোড হচ্ছে প্রাচীন ব্যাবিলনের প্রাচীনতম আইন এর মধ্যে একটি। এই আইনের একটি অংশ বাইবেল এর মধ্যেও ছিল। এই আইন ধারা সেসময় সমাজে ন্যায়বিচার করা হতো ধনী, গরীর কিংবা দাস নির্বিশেষে।

    “কোন ব্যাক্তি যখন অন্য আরেকজনের নামে কোন অভিযোগ করবে তখন অভিযুক্তকে নদীর পানিতে ঝাপিয়ে পরতে হবে, যদি অভিযুক্ত ব্যাক্তি ডুবে যায়, তাহলে প্রমানিত হবে যে সে আসলেই দোষী এবং তখন আভিযোগকারি আভিযুক্তের ঘর বাড়ি সব পেয়ে যাবে। আর যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন ধরনের আঘাত ছাড়াই নদীর পানি থেকে সাতরে তীর চলে আসতে পারে তাহলে প্রমানীত হবে যে সে আসলে নির্দোষ। এক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগ আনার কারণে অভিযোগকারীর মৃত্যুদণ্ড হবে।”  (হাম্মুরাবির কোড, আইন 2)

    আইনের এই অংশটি দাসদের নাগরিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের ধারণা দিতে পারে। এমনকি সম্ভাব্য ভিন্নমত এবং অস্থিরতার বীজ বপন করতে পারে। আর তাই এই অংশটিও ক্রীতদাস বাইবেল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

    ৪. সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য ঈশ্বরের দূত বা নবীদের বিচার

    বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে, আমোস, ইশাইয়া এবং জেরেমিয়ার মতো নবীরা সামাজিক ন্যায়বিচারের অটল ছিলেন। তারা বারবার সামাজিক বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।

    “কিন্তু ন্যায়বিচার জলের মতো গড়িয়ে পড়ুক, এবং ন্যায়পরায়ণতা অবিরাম প্রবাহিত স্রোতের মতো।”  (আমোস 5:24)

    আমোসের এই শক্তিশালী উদ্ধৃতি এবং অন্যান্য নবীদের অনুরূপ শিক্ষাগুলি বিদ্রোহের জন্য অনুঘটক হিসাবে কাজ করতে পারে। আর তাই এই অংশগুলোকে বাদ দিয়ে ক্রীতদাসেরর বাইবেল সংকলকেরা ক্রীতদাসদের সামাজিক নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করার কোনও চিন্তাভাবনাকে প্রশমিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

    ৫. ড্যানিয়েলের গল্প

    ক্রীতদাসের বাইবেল থেকে আরো একটি শক্তিশালী ও অনুপ্রেরণা গল্প বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেটি প্রোফেট ড্যানিয়েল এর গল্প। প্রোফেট ড্যানিয়েল ছিলেন, ব্যাবিলনের রাজার দরবারে সেবারত একজন ইহুদি, ঈশ্বরের প্রতি তার বিশ্বাস বজায় রাখতে রাজার প্রতি প্রার্থনা করার আদেশ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আর সেই অপরাদে রাজা তাকে একটি সিংহের খাঁচায় নিক্ষেপ করেন, আর সেখান থেকে দানিয়েল সুস্থভাবে বেরিয়ে আসেন।

    “আমার ঈশ্বর তাঁর দূতকে পাঠিয়েছেন, এবং তিনি সিংহদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন।  তারা আমাকে আঘাত করেনি, কারণ আমি তার দৃষ্টিতে নির্দোষ পেয়েছি।  আমি আপনার আগে কোন অন্যায় করিনি, মহারাজ।”  (ড্যানিয়েল 6:22)

    এই ঘটনাকে গুলো ক্রীতদাসদের মনে আশার আলো ও বিদ্রোহের স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি করতে পারে তাই এই গল্পগুলোও স্লেভ বাইবেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

    ১৮ শতকের মাঝামাঝিতে ক্রীতদাস প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী খ্রিস্টান মিশনারী ও বুর্জোয়া শ্রেণীর মানুষেরা এই নতুন সংস্করণের বাইবেল কে নিপীড়ন এর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
1 … 10 11 12 13 14 … 20

Sidebar

লগ ইন করুন
  • জনপ্রিয়
  • উত্তর
  • Mithun

    নির্মাণকাজে মরুভূমির বালু কেন ব্যবহার করা হয়না?

    • 12 টি উত্তর
  • Hina Khan

    Is Telegram MOD APK safe to use? What are the ...

    • 9 টি উত্তর
  • shanto

    ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন, লাইসেন্সের অনলাইন কপি ডাউনলোড, লাইসেন্স হয়েছে ...

    • 8 টি উত্তর
  • Admin

    নতুন ক্যাটাগরি "SEO" যুক্ত হলো আড্ডাবাজে!

    • 7 টি উত্তর
  • Mahmudul

    একটি ঘোর লাগানো ছবি দেখাতে পারবেন কি?

    • 6 টি উত্তর
  • rakib
    rakib একটি উত্তর দিয়েছেন ২০২৬ সালে বাংলাদেশে বিয়ের গহনার দাম নির্ভর করে সোনার ক্যারেট,… মে 3, 2026, সময়ঃ 10:32 পূর্বাহ্ন
  • Jesmin
    Jesmin একটি উত্তর দিয়েছেন HSC ২০২৬ পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ২… এপ্রিল 27, 2026, সময়ঃ 2:01 অপরাহ্ন
  • Sinclair
    Sinclair একটি উত্তর দিয়েছেন When shopping for best sex dolls, most buyers tend to… এপ্রিল 17, 2026, সময়ঃ 3:10 পূর্বাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন হ্যাঁ, Bestchange.com থেকে নিশ্চিতভাবে আয় করা সম্ভব। এটি মূলত একটি… এপ্রিল 15, 2026, সময়ঃ 2:13 অপরাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন প্রশ্নোত্তর প্রদানের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার বিষয়টি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়… এপ্রিল 14, 2026, সময়ঃ 2:11 পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় গ্রুপ

  • মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    • 4 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 106 বার প্রদর্শিত
  • Knowledge World

    Knowledge World

    • 3 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 116 বার প্রদর্শিত
  • CT Game Review

    CT Game Review

    • 3 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 1,051 বার প্রদর্শিত
  • Earn Money

    • 3 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 155 বার প্রদর্শিত
  • WordPress Themes & Plugins

    WordPress Themes & Plugins

    • 2 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 206 বার প্রদর্শিত

চলতি মাসের সেরা ইউজার

Iyasha

Iyasha

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
SA Samim

SA Samim

  • 13 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
এডিটর
sumi

sumi

  • 20 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
rakib

rakib

  • 26 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
pharmaqolabusa3

pharmaqolabusa3

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
লগ ইন করুন

Explore

  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

Footer

AddaBuzz.net

আড্ডাবাজ একটি সামাজিক প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিন। যেখানে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একে অপরের জ্ঞান আদান-প্রদান হয়। প্রশ্ন করুন, উত্তর দিন, জ্ঞান ভাগাভাগি করুন।

Adv 234x60

aalan

আমাদের সম্পর্কিত

  • আমাদের টিম
  • আমাদের লক্ষ্য

লিগ্যাল স্টাফ

  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions
  • Data Deletion Instructions

সাহায্য

  • Knowledge Base
  • Contact us

আমাদের ফলো করুন

© 2026 AddaBuzz. All Rights Reserved
With Love by AddaBuzz.net

✕
🔔 নোটিফিকেশন চালু করুন নতুন প্রশ্নোত্তর ও ব্লগ আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন