সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
লোবোটমি কোন ধরনের শৈল্যবিদ্যা? কেন এটা নিষিদ্ধ ?
লোবোটমি নিয়ে হয়েছে অনেক বিতর্ক। আছে বহু আলোচিত লোবোটমির ঘটনা। অনেক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই সার্জারি। ছবি: সংগৃহীত মানসিক রোগ সারানোর জন্য সাইকোসার্জারি বিংশ শতকের তিরিশের দশকে মানুষের জন্যই উদ্ভাবিত। প্রধানত দুইভাবে এই শৈল্যচিকিৎসা করা হতো: প্রি-ফ্রন্টাল লোবোটমি: এতে মাথার খুলির দুই পাশে ড্রিলবিস্তারিত পড়ুন
প্রি-ফ্রন্টাল লোবোটমি: এতে মাথার খুলির দুই পাশে ড্রিল করে ছিদ্র করার মাধ্যমে আইস পিকের মতো দেখতে লিউকোটোম নামের একটি চোখা ও ধারালো হাতিয়ারের সাহায্যে কিছু সুনির্দিষ্ট ব্রেইন টিস্যু কেটে ফেলা। এসব ব্রেইন টিস্যুর কারণে রোগীর মানসিক আচরণ অস্বাভাবিক হচ্ছে বলে মনে করা হতো।
ট্রান্সঅরবিটাল লোবোটমি: সার্জন চক্ষুগোলকের মধ্য দিয়ে লিউকোটোম ঢুকিয়ে হালকা অস্থি ভেদ করে একই কাজ সমাপ্ত করেন। অর্থাৎ অস্বাভাবিক মানসিক আচরণের জন্য দায়ী বলে মনে যওয়া কিছু টিস্যু কেটে বাদ দেন।
এই সার্জারি করাতে সম্মতিপত্রে একজন নারী রোগীর পক্ষে সম্মতিদাতা লিখেছেন, আমি অনুধাবন করতে পারছি যে এই অপারেশন রোগীর মানসিক অবস্থার ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু আমি এই প্রত্যাশায় অপারেশনটি করাতে চাই যে এর পর রোগীর অনেকটাই স্বস্তি ফিরে আসবে এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয়ে যাবে।
খুব কম সময়ের মধ্যে অপারেশনটা শেষ হলো। শুরুতে সন্তুষ্টি। রোগীর সন্তুষ্ট বাবা-মা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সন্তুষ্ট অভিভাবকেরা কয়েক দিনের মধ্যেই দেখলেন, অপারেশনের পর রোগীর সার্বক্ষণিক ঝিমানো, হতভম্ব অবস্থা চলছে এবং প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মতো ব্যাপার ঘটছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর নতুন ধরনের মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, এমনকি কেউ কেউ মারাও যাচ্ছে। তাই লোবেটমির একজন হাই প্রোফাইল রোগীর প্রসঙ্গ এখানে এসেই যায়।
রোজমেরি কেনেডি
রোজমেরির বাবা রাষ্ট্রদূত জোসেফ কেনেডি, মা রোজ কেনেডি, ভাই প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি, অপর ভাইদের মধ্যে একজন সিনেটর রবার্ট কেনেডি ও অন্যজন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি। জন এফ কেনেডি ও রবার্ট কেনেডি আততায়ীর হাতে নিহত।
রোজমেরির জন্ম ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৮, ৯ ভাইবোনের ৩ নম্বর। রোজ কেনেডির প্রথম দুই সন্তান স্বাভাবিকভাবে বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তৃতীয় সন্তান জন্মের সময় জটিলতা দেখা দেয়, শহরে তখন ফ্লু মহামারি চলছিল, হাসপাতালে অভিজ্ঞ ডাক্তার ছিল না। একজন নার্স ভুলভ্রান্তির মধ্য দিয়ে ডেলিভারির কাজটা করে। জন্মলগ্নে শিশুটির অক্সিজেন-সংকট দেখা দেয়। স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে রোজমেরি ভালোভাবে বেড়ে উঠলেও তাকে যখন কিন্ডারগার্টেনে দেওয়া হয়, তার আচরণে কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। স্কুলের বাইরে শিক্ষক রেখে তাকে ফোর্থ গ্রেড গণিত এবং ফিফথ গ্রেড মানের ইংরেজি শেখানো হয়।
১৯৩৮ সালে তার বয়স যখন ১৯ বছর, জোসেফ কেনেডিকে ব্রিটেনে আমেরিকায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হলো। রাষ্ট্রদূত যখন রাজা পঞ্চম জর্জের (রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা) সাথে সাক্ষাৎ করতে এলেন, তখন দুই মেয়ে রোজমেরি ও ক্যাথেরিনকে সাথে এনেছিলেন। লন্ডনে থাকাকালে রোজমেরিকে হার্ডফোর্ডশায়ারে একটি কনভেন্টে রাখা হয়েছিল। ১৯৩৯-এ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৪০-এ জোসেফ কেনেডি যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান, মেয়ের অবস্থার ভীষণ অবনতি ঘটেছে ততদিনে। তিনি সহিংস হয়ে উঠেছেন। তার বৃদ্ধ দাদাকে ভয়ংকরভাবে আক্রমণ করে বসেন। তাকে এরপর কয়েকটি কনভেন্টে রাখা হয়।
মেয়ের কারণে পরিবারের বদনাম হতে পারে, এ জন্য রোজমেরিকে বরাবর আড়ালেই রাখা হয়েছে। ১৯৪১-এর শরতে জোসেফ কেনেডি সে সময়কার সবচেয়ে খ্যাতনামা লোবোটমি বিশেষজ্ঞ ওয়াল্টার ফ্রিম্যানের সাথে যোগাযোগ করেন। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ডাক্তার ফ্রিম্যানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ডাক্তার জেমস ওয়াটস রোজমেরির প্রি-ফ্রন্টাল লোবোটমি করেন। অপারেশনের সময় সামান্য অ্যানেসসেথিয়া দেওয়া হয়, ডাক্তার ফ্রিম্যান রোজমেরির সাথে কথা বলতে থাকেন। তার মাথার খুলি দুদিক থেকে ছিদ্র করে ভেতরে লিউকোটোম ঢুকিয়ে মস্তিষ্কের অংশবিশেষ কেটে দেওয়া হয়।
লোবোটমি অপারেশন রোজমেরির সর্বনাশ ডেকে আনল। তার হাঁটাচলার শক্তি একেবারে রহিত হয় যায়। ধীরে ধীরে বাক্শক্তি লোপ পায় এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক মান স্ট্যান্ডার্ড টু-এর শিশুর পর্যায়ে নেমে আসে। কিছুকালের জন্য তাকে একটি প্রাইভেট সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে রেখে পরে উইসকনসিনের গ্রামাঞ্চলে তার জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করে নার্সের তত্ত্বাবধানে স্থায়ীভাবে সেখানে রাখা হয়। জোসেফ কেনেডিকে নিয়ে লেখা গ্রন্থ ‘দ্য পেট্রিয়ার্ক’-এ উল্লেখ করা হচ্ছে রোজমেরিকে উইসকনসিনের সেই বাড়িতে পাঠাবার পর প্রথম দশ বছর পরিবারের কেউ তাকে দেখতে এসেছেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০১৫ সালে কেইট ক্লিকোর্ড লিখেন ‘রোজমেরি: দ্য হিডেন কেনেডি ডটার’। একটি চিঠি আবিষ্কৃত হয় শিশু রোজমেরি বাবাকে লিখেছেন: বাবা, তোমাকে সুখী করার জন্য আমাকে যা করতে হবে, আমি তার সবই করব।
দুর্ভাগ্য, লোবোটমির পর তার জীবনটা সুখ-দুঃখহীন বেঁচে থাকা একজন মানুষের স্থবির জীবনে পরিণত হয়। ২০০৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
আলোচিত লোবোটমির ঘটনা
বিখ্যাত নাট্যকার টেনেসি উইলিয়ামসের প্রিয় বোন রোজের মানসিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে লোবোটমি করানো হয়। তার জীবনেও নেমে আসে এমনই দুর্ভাগ্য। সিজোফ্রেনিয়া ধরা পড়ে তার বোনের ১৯৩৯ সালে। ১৯৪৩ সালে বাবা-মা তাকে লোবোটমির জন্য ডাক্তারের কাছে পাঠায়।
টেনেসি লিখেছেন: আমার বোন রোজ! তার মাথার খুলি কাটা হলো। তার মগজে ছুরি ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। আমি এখানে সিগারেট ফুঁকছি, আমার বাবা শয়তানের মতো হীন, হাজার মাইল দূরে নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে।
পোল্যান্ডের বেহালাবাদক ও সুরকার জোসেফ হ্যাসিডের সিজোফ্রেনিয়া ধরার পর চিকিৎসার জন্য লন্ডন আনা হলো, তার বয়স তখন ২৬ বছর। লোবোটমি করা হলো এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটল।
১৯৪৮ সালে লোবোটমির পরপরই মারা গেলেন সুইডিশ চিত্রশিল্পী সিগরিড হেরটেন।
কার্ল পানজরাম একজন আমেরিকান সিরিয়াল কিলার। শৈশবেই তার মানসিক বৈকল্য ধরা পড়লে লোবোটমি করানো হয়। তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মিনেসোটার একটি রিফর্মস স্কুলে। কার্ল তার আত্মজীবনীতে লেখেন, সেখানে তিনি বলাৎকারের শিকার হন। এ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তার মনে এত ঘৃণা জন্মে যে তিনি সঙ্গোপনে আগুন দিয়ে স্কুলটিকে ভস্মীভূত করে ফেলেন। ৭ জুলাই ১৯০৫ তিনি এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটান। তবে কাজটি যে তিনি করেছেন তা কখনো ধরা পড়েনি। সিরিয়াল কিলার হিসেবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩০ ফাঁসিতে ঝোলানোর প্রস্তুতি হিসেবে যখন তার মাথা কালো হুডে ঢেকে দেওয়া হয়, তখন তিনি বললেন, আমি যখন একটার পর একটা খুন করে যাচ্ছিলাম, তখন তোরা কোথায় ছিলি?
১৮৪৮ সালে ফিনিয়াস গেইজ নামের একজন রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ফোরম্যান কাজ করার সময় একটা লৌহদণ্ড তার ফ্রন্টাল লোব ভেদ করে চলে যায়। এতে তার মৃত্যু হয়নি। তিনি আরও ১২ বছর জীবিত ছিলেন কিন্তু তার ব্যক্তিত্ব বদলে যায়। তিনি আর আগের মানুষ থাকেননি। এই দুর্ঘটনাকে লোবোটমির একটি আনুষ্ঠানিক যুক্তি হিসেবে দাঁড় করানো হয়। সিজোফ্রেনিয়াগ্রস্ত মানুষের ব্যক্তিত্ব বদলে দিতে পারলে তার সমস্যা অনেকটাই মিটে যায়।
১৯৬০ সালে হাওয়ার্ড ডুলিকে যখন লোবোটমি করানো হয়, তার বয়স ১২ বছর। তার বয়স যখন ৬ বছর, মা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার ৪ বছর বয়স থেকে সিজোফ্রেনিয়া ধরা পড়ে। বাবা আবার বিয়ে করেন। সৎমায়ের সাথে তার ভালো যাচ্ছিল না। বাবা ও সৎমা ২০০ ডলারের বিনিময়ে ডাক্তার ফ্রিম্যানকে দিয়ে তাকে লোবোটমি করাবার সিদ্ধান্ত নেন। তার বেলায় হলো ট্রান্স অরবিটাল লোবোটমি। দুই চক্ষুগোলকের সকেট দিয়ে ৭ সেন্টিমিটার ধারালো একটি হাতিয়ার মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। অপারেশনের পর তার খারাপ সময় কাটলেও তিনি উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন। লোবোটমির কারণে তিনি তার পূর্বস্মৃতির ওপর আস্থা রাখতে পারছিলেন না। এর মধ্যে চার্লস ফ্লেমিংকে সহযোগী করে ‘মাই লোবোটমি’ নামে স্মৃতিকথা লিখলেন, ২০০৭-এ বই প্রকাশিত হলো এবং তা বেস্ট সেলার্স লিস্টে চলে এল। অপারেশন ও পরবর্তী ভয়াবহ জীবনের বর্ণনা রয়েছে এই গ্রন্থে। তবুও ডুলি ভাগ্যবান, এখনো জীবিত আছেন। তিনি লিখেছেন, তার যে সমস্যা তা ওষুধ দিয়েই প্রশমন করা যেত, লোবোটমির মতো নির্মম অপারেশনের প্রয়োজন ছিল না।
লোবোটমির ভয়াবহতা যেসব সাহিত্যকর্মে উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে:
রবার্ট পেন ওয়ারেনের উপন্যাস ‘অল দ্য কিংস ম্যান’, টেনেসি উইলিয়ামসের নাটক ‘সাডেনলি লাস্ট সামার’; কেন কেইসির বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওয়ান ফ্লু ওভার দ্য কুকুস নেস্ট’, সিলডিয়া প্লাথের উপন্যাস ‘বেল জার’, এলিয়ট বেকারের ‘আ ফাইন ম্যাডনেস’।
১৯৮২-এর চলচ্চিত্র ফ্রান্সেস এবং ২০১৮-এর ‘দ্য মাউন্টেইন’-এর বিষয় লোবোটমি। ‘দ্য মাউন্টেইন’-এর ওয়ালেস ফিনেস চরিত্রটি মূলত ডাক্তার ফ্রিম্যানকে নিয়ে নির্মিত। পঞ্চাশের দশকে এন্টোনিও মনিজকে দেওয়া নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি উঠেছিল। মনিজ ১৯৩৫-এর ১২ সেপ্টেম্বর লিসবনের সান্তা মার্টা হাসপাতালে প্রথম লোবোটমি অপারেশনে সহায়তা করেন। তার হাতে বাতের প্রকোপ থাকায় তিনি নিজে কাজটা করেননি।
চল্লিশের দশকেই ইউরোপ ও আমেরিকায় এই শৈল্যচিকিৎসা সাড়া ফেলে দিযেছিল। তখন এর সাফল্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলেও ব্যর্থতাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ঢাকা পড়ে যায়। বিশেষ করে এন্টোনিও মনিজের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি লোবোটমির আবেদন আরও বাড়িয়ে দেয়। নোবেল বিজয়ী এই বিজ্ঞানীর দুর্ভাগ্য সিজোফ্রেনিয়াগ্রস্ত তারই এক রোগী ১৯৩৯ সালে তাকে একাধিকবার গুলি করে। এরপর তিনি হুইলচেয়ারে বন্দী হয়ে পড়েন। তবে ১৯৫৫ পর্যন্ত এ অবস্থাতেই তিনি রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখেন। ১৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫ সালে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
লোবোটমি অপারেশনে সবচেয়ে অপখ্যাত চিকিৎসক ডাক্তার ওয়াল্টার ফ্রিম্যান (১৮৯৫- ১৯৭২), জন্ম সান ফ্রান্সিসকো, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেনসিলভানিয়া মেডিকেল স্কুল থেকে ডিগ্রি নিয়ে রাতারাতি বিখ্যাত হবার স্বপ্ন দেখছিলেন। তার নানা উইলিয়াম কিন আমেরিকার সেরা সার্জনদের অন্যতম। তার বাবাও ডাক্তার ছিলেন। ফ্রিম্যান নোবেল বিজয়ী মনিজের অধীনেই কাজ শুরু করে লোবোটমিকেই কর্মজীবনের ব্রত করে নেন। সহযোগী হিসেবে নেন নিওরোসার্জন জেমস ওয়াটকে। একটার পর একটা অপারেশন ব্যর্থতা এবং ট্রান্স অরবিটাল অপারেশনে জেমস ওয়াটের অনীহার কারণে ১৯৫০ সালে দুজনের জোড় ভেঙে যায়। ডাক্তার ফ্রিম্যান ৫৭ বছর বয়সে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রাইভেট চিকিৎসা শুরু করেন। নিওরোসার্জারিতে লোবোটমির জন্য তিনি বিতর্কিত হলেও মনিজের সাথে ফ্রিম্যানের ব্যবহারিক সার্জারিতে অবদানের জন্যও তাকে স্মরণ করা হয়।
১৯৬৭ সালে একটি লোবোটমি অপারেশনে রোগীর মৃত্যুর পর তার সার্জারি করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। কিন্তু পেছনে পড়ে থাকে হাজার হাজার ভুক্তভোগীর আর্তনাদ। শেষ পর্যন্ত লোবোটমি নামের সর্বনাশা সাইকোসার্জারি নিষিদ্ধ হয়।
What is artvigil? How does it work?
Artvigil (Armodafinil) is a medication that promotes wakefulness and is used to treat excessive sleepiness caused by sleep apnea, narcolepsy, or shift work sleep disorder. Armodafinil may also be used for purposes not listed in this medication guide. You should not use Artvigil if you have ever hadবিস্তারিত পড়ুন
Artvigil (Armodafinil) is a medication that promotes wakefulness and is used to treat excessive sleepiness caused by sleep apnea, narcolepsy, or shift work sleep disorder. Armodafinil may also be used for purposes not listed in this medication guide.
You should not use Artvigil if you have ever had a rash or allergic reaction caused by Armodafinil or Modafinil. Stop taking Artvigil and call your doctor if you have a skin rash, no matter how mild. Other signs of a severe reaction include fever, swelling in your face or tongue, mouth sores, trouble breathing, swelling in your legs, yellowing of your skin or eyes, and skin rash or blistering sores.
To make sure Artvigil is safe for you, tell your doctor if you have ever had: liver or kidney disease; a heart muscle or valve disorder such as mitral valve prolapse; high blood pressure, heart disease, or prior heart attack; mental illness or psychosis; or drug or alcohol addiction.
It is not known whether Artvigil will harm an unborn baby. Tell your doctor if you are pregnant or plan to become pregnant. Use a barrier form of birth control (condom or diaphragm with spermicide). Hormonal contraception (birth control pills, injections, implants, skin patches, and vaginal rings) may not be effective enough to prevent pregnancy during your treatment. It is not known whether Artvigil passes into breast milk or if it could affect the nursing baby. Tell your doctor if you are breast-feeding.
Artvigil is not approved for use by anyone younger than 17 years old.
Follow all directions on your prescription label. Do not take Artvigil in larger or smaller amounts or for longer than recommended. Armodafinil may be habit-forming. Never share Artvigil with another person, especially someone with a history of drug abuse or addiction.
Read all patient information, medication guides, and instruction sheets provided to you. Ask your doctor or pharmacist if you have any questions.
Artvigil is usually taken each morning to prevent daytime sleepiness, or 1 hour before the start of a work shift to treat work-time sleep disorders. Artvigil is usually given for up to 12 weeks. Follow your doctor’s instructions.
If you are taking Artvigil to treat sleepiness caused by obstructive sleep apnea, you may also be treated with a continuous positive airway pressure (CPAP) machine. This machine is an air pump connected to mask that gently blows pressurized air into your nose while you sleep. The pump does not breathe for you, but the gentle force of air helps keep your airway open to prevent obstruction.
Do not stop using your CPAP machine during sleep unless your doctor tells you to. The combination of treatment with CPAP and Artvigil may be necessary to best treat your condition.
Taking Artvigil does not take the place of getting enough sleep. Talk with your doctor if you continue to have excessive sleepiness even while taking Artvigil. Armodafinil will not cure obstructive sleep apnea or treat its underlying causes. Follow your doctor’s instructions about all your other treatments for this disorder.
Take the missed dose as soon as you remember, but avoid taking Artvigil if you do not plan to be awake for several hours. If it is close to your normal bedtime hour, you may need to skip the missed dose and wait until the next day to take the medicine again. Talk with your doctor about what to do if you miss a dose of Armodafinil. Do not take extra medicine to make up the missed dose.
Overdose symptoms may include nausea, diarrhea, confusion, feeling restless or excited, fast or slow heart rate, chest pain, trouble sleeping, or hallucinations (seeing or hearing things that are not real).
Get emergency medical help if you have signs of an allergic reaction (hives, difficult breathing, swelling in your face or throat) or a severe skin reaction (fever, sore throat, burning in your eyes, skin pain, red or purple skin rash that spreads and causes blistering and peeling). Skin rashes serious enough to require hospitalization have occurred in people using a medicine similar to armodafinil. These rashes usually occurred within 1 to 5 weeks after the first dose.
Stop taking Artvigil and call your doctor at the first sign of any skin rash, no matter how minor you think it might be.
Seek medical treatment if you have symptoms of a serious drug reaction that can affect many parts of your body. Symptoms may include: skin rash, fever, swollen glands, flu-like symptoms, unusual bruising, or jaundice (yellowing of your skin or eyes).
Stop using Armodafinil and call your doctor at once if you have: bruising, severe tingling, numbness, pain, muscle weakness; unusual bleeding (nosebleeds, bleeding gums); skin sores or blistering; mouth sores, trouble swallowing; chest pain, uneven heart beats; or depression, anxiety, hallucinations, aggression, unusual thoughts or behavior, suicidal thoughts.
This is not a complete list of side effects and others may occur. Call your doctor for medical advice about side effects.
সংক্ষেপে দেখুন৩ মিনিটে ৩৩ শতাংশ চার্জ হবে স্মার্টফোন কিভাবে?
দ্রুত গতিতে চার্জের জন্য ১২৫ ওয়াট আল্ট্রাডার্ট চার্জিং প্রযুক্তি নিয়ে এলো রিয়েলমি। স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটিই সর্বপ্রথম এ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তিতে ৪ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ফাইভ-জি স্মার্টফোনে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হবে মাত্র ৩ মিনিটে। যা দবিস্তারিত পড়ুন
দ্রুত গতিতে চার্জের জন্য ১২৫ ওয়াট আল্ট্রাডার্ট চার্জিং প্রযুক্তি নিয়ে এলো রিয়েলমি। স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটিই সর্বপ্রথম এ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।
অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তিতে ৪ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ফাইভ-জি স্মার্টফোনে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হবে মাত্র ৩ মিনিটে। যা দিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করা যাবে। ১২৫ ওয়াটের আল্ট্রাডার্ট চার্জিং প্রযুক্তি অধিক কার্যকরী এবং এটি সব ফ্ল্যাশ চার্জিং প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে নেতৃস্থানীয় সমাধান।
ফাস্ট চার্জিং সাধারণত প্রচুর তাপ তৈরি করতে পারে, ফলে ব্যাটারি দ্রুত গতির চার্জিং একটি চ্যালেঞ্জ। ১২৫ ওয়াটের আল্ট্রাডার্ট চার্জিং এর মাধ্যমে মাত্র ১০-১৩ মিনিটের মধ্যে পুরোপুরি চার্জে সক্ষম। পাশাপাশি স্মার্টফোনে মিলবে দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স।
যারা টানা অনেক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাদের জন্য কম শক্তিশালী ব্যাটারি কার্যকরী নয়। যেহেতু স্বল্প মেয়াদে ব্যাটারি শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি সাধন প্রায় অসম্ভব, তাই দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির গ্যারান্টি দেয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডার্ট চার্জিং প্রযুক্তি।
সংক্ষেপে দেখুনওয়াই-ফাই ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে হলে কি করবেন?
ওয়াই-ফাই রাউটারের স্থান নির্ধারণ : বিশেষজ্ঞদের মতে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক তরঙ্গ রাউটারের ইন্টারনেটের গতি অনেকখানি কমিয়ে দেয়। সে ক্ষেত্রে বেশি গতি পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীর উচিত সঠিক ও নিরাপদ স্থানে রাউটারটি রাখা। টিভি, ল্যাপটপ-ডেস্কটপ বা মোবাইলসহ যেসব ডিভাইসে ওয়াই-ফাই সংযোগ থাকবে তার থেকে কিছুটা দূরত্বেবিস্তারিত পড়ুন
ওয়াই-ফাই রাউটারের স্থান নির্ধারণ : বিশেষজ্ঞদের মতে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক তরঙ্গ রাউটারের ইন্টারনেটের গতি অনেকখানি কমিয়ে দেয়। সে ক্ষেত্রে বেশি গতি পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীর উচিত সঠিক ও নিরাপদ স্থানে রাউটারটি রাখা। টিভি, ল্যাপটপ-ডেস্কটপ বা মোবাইলসহ যেসব ডিভাইসে ওয়াই-ফাই সংযোগ থাকবে তার থেকে কিছুটা দূরত্বে রাউটার স্থাপন করতে হবে।
স্বল্প সময়ের জন্য রাউটার বন্ধ রাখা : দীর্ঘ সময় ধরে টানা রাউটার চলার কারণে অনেক সময় ইন্টারনেটের সঠিক গতি পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়। সে ক্ষেত্রে আপনার রাউটারে গতির কোনো সমস্যা রয়েছে কি-না ট্রাবল শুটিং উইজার্ড চালিয়ে তা দেখে নিতে পারেন। সেই সমস্যার সমাধানে নতুন করে রাউটারের সেটিংস আবার চালু করলে, আপনার রাউটারটি আবার পুরনো ছন্দে অনেক ভালো গতিতে কাজ শুরু করবে। এছাড়াও প্রতিদিন নিয়ম করে কাজে বসার আগে বা পরে অন্তত দশ মিনিটের জন্য রাউটারটি বন্ধ রাখলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন : প্রায়ই দেখা যায়, নিজের অজান্তেই অন্য কেউ রাউটার হ্যাক করে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। অথচ ব্যবহারকারী না পাওয়ার কারণ ভেবে পায় না। সে ক্ষেত্রে রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নিরাপদ একটি পাসওয়ার্ড দিতে হবে। এক্ষেত্রে পুরনো কেউ লগইন করে ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকলে সেটিও আর পারবে না। নিরাপদ পাসওয়ার্ড সেদিক থেকে আপনার ইন্টারনেট গতি বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করবে।
ভিপিএন : কিছু সাইটে সরাসরি প্রবেশ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে অনেকেই অনেক কাজের জন্য ভিপিএন ব্যবহার করেন। ভিপিএন ব্যবহারে ইন্টারনেটের গতি অনেকটাই কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে কাজের ক্ষেত্রে যদি ভিপিএন ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হলে ব্যবহার না করাই ভালো।
হার্ডওয়্যার আপগ্রেড : পুরনো হার্ডওয়্যারের কারণেও ইন্টারনেট স্পিড ধীরগতির হতে পারে। তাই অবশ্যই আপগ্রেডেড মডেলের রাউটার ব্যবহার করুন। পুরনো রাউটারে ইন্টারনেটে স্পিডও ধীরগতির হতে পারে। চেষ্টা করুন ৫জি-এর রাউটার ব্যবহার করার।
সংক্ষেপে দেখুনওজন কমলে শরীরের মেদ কোথায় যায়?
ওজন কমাতে আমরা নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি ডায়েট করে থাকি। নিয়মিত এই গতিতে চললে একসময় ওজন কমে ঠিকই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত কিছুর পর ওজন তো ঠিকই কমলো কিন্তু গেল কোথায় চর্বিগুলো? এমন প্রশ্নের উত্তর অনেকেরেই অজানা। আসলে শরীরের ওজন কমলেও সম্পূর্ণরূপে চর্বি ঝরে যায় না। কারণ মেদ হলো শররের খুবই ভালো বন্ধু। মূবিস্তারিত পড়ুন
ওজন কমাতে আমরা নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি ডায়েট করে থাকি। নিয়মিত এই গতিতে চললে একসময় ওজন কমে ঠিকই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত কিছুর পর ওজন তো ঠিকই কমলো কিন্তু গেল কোথায় চর্বিগুলো? এমন প্রশ্নের উত্তর অনেকেরেই অজানা।
আসলে শরীরের ওজন কমলেও সম্পূর্ণরূপে চর্বি ঝরে যায় না। কারণ মেদ হলো শররের খুবই ভালো বন্ধু। মূলত চর্বিই শরীরের শক্তি ও পুষ্টি জোগায়। অতিরিক্ত মেদ বর্জ্যের সঙ্গেও বেরিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর অতিরিক্ত মেদ শরীর যত্ন করে জমিয়ে রাখে কয়েকটা জায়গায়। বাইরে থেকে টের পাওয়া যায় না। কিছুটা জমা থাকে অ্যাডিপোজ কোষে। সেখানে তাদের নতুন রূপ হয় ট্রাইগ্লিসারাইড। এই মেদ ক্ষতিকর নয়, শরীরে এনার্জির জোগান দেয়। বাকিটা ভাগাভাগি করে লিভার ও পেশিতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা থাকে। এই গ্লাইকোজেনও শরীরে শক্তির চাহিদা মেটায়।
চর্বি তো আমাদের শরীরের শক্তি ও পুষ্টি আঁধার। এবার প্রশ্ন আসতে পারে, কোন শক্তির কথা বলা হচ্ছে? প্রথমত, আমরা যখন বিশ্রাম করি তখনো শরীর অনেক কাজ করে থাকে। হৃদপিণ্ডকে চালানো, ফুসফুসকে সচল রাখা, সারা শরীরে রক্ত পৌঁছে দেয়া ইত্যাদি কাজ। সেই সঙ্গে আবার মস্তিষ্ককেও সজাগ রাখাও শরীরের কাজ। ব্রেন ঘুমিয়ে পড়লে গোটা শরীরই অকেজো হয়ে যাবে। তাই স্নায়ুদের চনমনে রাখাও জরুরি। এসব কাজ সামলাতে সাহায্য করে মেদ। বাড়তি ফ্যাট যা শরীর জমিয়ে রাখে তাকেই নাড়াঘাঁটা করে শক্তি তৈরি হয়। এই শক্তিতেই রক্ত সঞ্চালন হয়, ধুকপুক করে হার্ট, চিন্তার হাওয়া খেলে মস্তিষ্কে।
দ্বিতীয়ত, আমরা যখন জেগে থাকি বা কাজকর্ম করি তখন যে বিপুল পরিমাণ শক্তির দরকার হয় সেটা আসে বডি ফ্যাট থেকেই। হাঁটাহাঁটি, দৌড়োদৌড়ির জন্য একটু বেশি চার্জ দিতে হয় শরীরকে। তার জোগান দেয় এই মেদ। তৃতীয়ত, খাবার হজম করাও একটা বড় ব্যাপার। এতবড় খাদ্যনালির দায়িত্ব সামলানো তো কম কথা নয়। খাবার পাকস্থলীতে যাওয়ার পর সেখান থেকে পুষ্টিরস নিংড়ে বের করেই সেই পুষ্টি থেকে শক্তি তৈরি হয়। আর বর্জ্যগুলো শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে। এতবড় কর্মকাণ্ডের জন্য শক্তিও দরকার হয় অনেকটাই। সেটাও আসে ওই মেদ থেকেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুষ্টিকর খাবার খেলে তার থেকে যে ফ্যাট আসে সেটা শরীর হজম করে নেয়। বাকিটা বের করে দেয়। অনেকেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না মেনে খুব কম খেয়ে রোগা হওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে হিতে বিপরীত হয়। কারণ এনার্জির জন্য শরীরের দরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ ফ্যাট, সেটা না পেলে শরীর মেদ জমাতে শুরু করে। তাই দেখা যায়, শরীরের যতটা ক্যালোরি দরকার তার থেকে কম পেলে বেশি মেদ জমতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মতে, একবারে ভারী খাবার না খেয়ে দিনে ছোট ছোট ছয়টি মিল খেতে। তাহলেই ক্যালোরির পরিমাণে ভারসাম্য থাকে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বা খুব কম খাওয়ার কারণে বেশি ফ্যাট জমা হয় শরীরে।
এবার জেনে নিন ডায়েটের মাধ্যমে কীভাবে ওজন কমে-পুষ্টিকর খাবার থেকে ফ্যাট শুষে নিয়ে এনার্জি তৈরি করে শরীর। ভালো চর্বি হজম হয়ে যায়, বাকিটা টেনে নেয় ত্বক ও কিডনি। এই অতিরিক্ত মেদ গলে গিয়ে ঘাম হয়ে বের হয়ে যায় শরীর থেকে। আবার প্রস্রাবের সঙ্গেও এই মেদ বের করে দেয় কিডনি। লিভারেরও ভূমিকা আছে। বাড়তি মেদ পুড়ে কার্বন-ডাই অক্সাইড হয়ে বেরিয়ে যায় শ্বাসের সঙ্গে।
শরীরচর্চার সঙ্গে ওজন কমানোর সম্পর্ক- শরীরকে যত খাটানো যাবে ততই মেদ উবে যাবে। বিশষজ্ঞরা বলছেন, দিনে আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা কার্ডিও এক্সারসাইজ করলে পেট, কোমর, তলপেট, হিপের মেদ পুড়তে শুরু করে। দিনে ২-৩ বার কার্ডিও করলেই মেদের দফারফা শুরু হয়। এক্সারসাইজই খারাপ ফ্যাটকে ভালো ফ্যাটে বদলে দিতে পারে। পেট-কোমরে শক্ত হয়ে জমে বসা মেদকে গলিয়ে পেশিতে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে এই মেদ শক্তি তৈরি করে। শরীরও টানটান হয় আবার হজমশক্তি, রক্ত সঞ্চালনও বাড়ে। অতিরিক্ত কার্বন-ডাই অক্সাইড বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর টক্সিন-মুক্ত হতে থাকে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেদ ঝরানো ভালো তবে ভারসাম্য রেখে। ঠিকমতো ডায়েট ও নিয়ম মেনে শরীরচর্চা দরকার। একবারে অনেকটা ফ্যাট-বার্ন করলে শরীরের ক্ষতি হয় বেশি। ক্যালোরির অভাব হয়, যার থেকে অপুষ্টি ও নানা রোগ বাসা বাঁধে। নারীদের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, স্বাভাবিক ঋতুস্রাবে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই সঙ্গে মাথাব্যথা, ঝিমুনি, রক্তচাপের ওঠানামা, সবদিক দিয়েই নাজেহাল হতে পারে শরীর।
সংক্ষেপে দেখুনআপনার স্মার্টফোন আপনার জন্য কতটা নিরাপদ ?
স্মার্টফোন কেনার আগে ক্যামেরাটা কত মেগাপিক্সেলের, ইন্টারনাল মেমরি কত জিবি বা ব্যাটারি ব্যাকআপ কত ঘণ্টা দিবে এই সব তথ্য নিয়েই সাধারণত আমরা বেশি আগ্রহী থাকি। কিন্তু ফোনের এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার থাকে, যে গুলো নিয়ে আমরা একদমই চিন্তাভাবনা করি না বললেই চলে। তার মধ্যে যেমন স্মার্টফোনের রেডিয়েশন কত? স্বিস্তারিত পড়ুন
স্মার্টফোন কেনার আগে ক্যামেরাটা কত মেগাপিক্সেলের, ইন্টারনাল মেমরি কত জিবি বা ব্যাটারি ব্যাকআপ কত ঘণ্টা দিবে এই সব তথ্য নিয়েই সাধারণত আমরা বেশি আগ্রহী থাকি। কিন্তু ফোনের এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার থাকে, যে গুলো নিয়ে আমরা একদমই চিন্তাভাবনা করি না বললেই চলে। তার মধ্যে যেমন স্মার্টফোনের রেডিয়েশন কত?
স্মার্টফোনের একটা অন্যতম প্যারামিটার হল রেডিয়েশন লেভেল। ফোনের মধ্যে থাকা ট্রান্সমিটিং ডিভাইস থেকে সব সময় নির্গত হয় অদৃশ্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গ। সেই তরঙ্গ নিঃসরণের হার একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অবধি আমাদের শরীরের তেমন কোন ক্ষতি করে না। কিন্তু এই রেডিয়েশন লেভেল অতিরিক্ত হলে, তখন আমাদের শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
জেনে নিন ফোনের রেডিয়েশন লেভেল
স্মার্টফোনের রেডিয়েশনের পরিমাপ করা হয় ‘এসএআর ভ্যালু’ দিয়ে। আপনার ফোন আপনার জন্য কতটা নিরাপদ জেনে নিন আপনার স্মার্টফোনের মাধ্যমে। ফোন থেকে টাইপ করুন *#০৭#,তারপর আপনার ফোনের স্ক্রিনে দেখতে পাবেন SAR ইনফরমেশন। তার নিচে দেখতে পাবেন আপনার ফোনের রেডিয়েশন লেভেল।
সংক্ষেপে দেখুনস্মার্টফোন বিস্ফোরিত হয় কোন কারণে ?
প্রায়ই মোবাইল বিস্ফোরণে হতাহতের খবর শোনা যায়। স্মার্টফোনই বেশি বিস্ফোরিত হচ্ছে। মৃত্যুর ঘটনাও এখন অহরহ। জানেন কি? কেন মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হয়? আর করণীয়ই বা কি? ভাবছেন কমদামী ফোন হয়তো বিস্ফোরিত হয়। কিন্তু না বিশ্বের নামীদামী ফোন নির্মাতা যেমন; অ্যাপল ও স্যামসাং এর তৈরি ফোনও বিস্ফোরিত হওয়ার রেকর্ড আছেবিস্তারিত পড়ুন
প্রায়ই মোবাইল বিস্ফোরণে হতাহতের খবর শোনা যায়। স্মার্টফোনই বেশি বিস্ফোরিত হচ্ছে। মৃত্যুর ঘটনাও এখন অহরহ। জানেন কি? কেন মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হয়? আর করণীয়ই বা কি?
ভাবছেন কমদামী ফোন হয়তো বিস্ফোরিত হয়। কিন্তু না বিশ্বের নামীদামী ফোন নির্মাতা যেমন; অ্যাপল ও স্যামসাং এর তৈরি ফোনও বিস্ফোরিত হওয়ার রেকর্ড আছে। ২০১৬ সালে স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ ফোন গ্যালাক্সি নোট সেভেন বিস্ফোরণের ঘটনায় তারা পুরো মডেলটিই মার্কেট থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিল। তাই এই ব্যাপারে আপনার সচেতন হওয়ার সময় এসেছে।
স্মার্টফোনের সব অংশ বিস্ফোরণের কিন্তু জন্য দায়ী নয়। মূলত এর ব্যাটারিটি বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনা বেশি দেখা যায়। বাকী যন্ত্রাংশ আসলে বিস্ফোরিত হওয়ার মত তেমন কিছু দিয়ে তৈরি নয়। ফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম আয়ন বা লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি যথেষ্ট উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি, এবং এই ব্যাটারিগুলো স্ট্রেস নেয়ার উপযোগী করেই বানানো হয়েছে। তবে তা সত্বেও দুটি কারণে এসব ব্যাটারিও কখনো কখনো বিস্ফোরিত হতে পারে। প্রথমটি হলো পাঙ্কচার বা লিকেজ। হাত থেকে পড়ে, অত্যাধিক চাপে, কিংবা আঘাত লেগে আপনার ব্যাটারির সেলগুলো পাঙ্কচার হয়ে এদের মাঝে শর্ট সার্কিট হয়ে ব্যাটারিতে আগুন ধরতে পারে। আর সস্তা, আজে বাজে ব্র্যান্ডের ব্যটারিগুলোতে মাইক্রস্কোপিক অনেক ভেজাল মিশ্রিত থাকতে পারে। এগুলোও অনেক ক্ষেত্রেই সেলগুলোর সংস্পর্শে এসে শর্ট সার্কিট ঘটাতে পারে।
তবে অল্প কিছু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি খুবই সময়োপযোগী এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাটারি।লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে কেন বিস্ফোরণ ঘটে এটা জানতে হলে আগে জানতে হবে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি গঠন সম্পর্কে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির দুটি ইলেক্ট্রোড থাকে- একটি ধনাত্মক আয়নের ক্যাথোড, অন্যটি ঋণাত্মক আয়নের অ্যানোড। দুটি অংশকে আলাদা করে রাখে খুবই পাতলা একটি প্লাস্টিক পর্দা। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যখন চার্জ দেয়া হয়, তখন ক্যাথোড থেকে ইলেক্ট্রোলাইট বা লিথিয়াম আয়নগুলো বল প্রয়োগের কারণে অ্যানোডের অংশে ধাবিত হয়।
একইভাবে ব্যাটারির চার্জ যখন খরচ হতে থাকে বা কমতে থাকে, তখন একেবারে উল্টা ঘটনা ঘটে। লিথিয়াম আয়ন তখন অ্যানোড থেকে ক্যাথোডের দিকে ছুটতে থাকে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি এতো কাজের, সেই একই কারণেই কিন্তু এ ধরনের ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ ঘটে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বিদ্যুৎশক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অতুলনীয়। সঞ্চিত বিদ্যুৎ যখন ধীরে ধীরে খরচ হয়, তখন ব্যাটারিটি নিরাপদ। কিন্তু লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যদি একবারেই এর সঞ্চিত সমস্ত বিদ্যুৎশক্তি ছেড়ে দিতে চায়, তখনই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
যখন ব্যাটারির ভেতরে অ্যানোড এবং ক্যাথোডকে আলাদা করে রাখা পাতলা পর্দা কাজ না করায় কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অ্যানোড এবং ক্যাথোড পরস্পর যুক্ত হয়ে যায়, তখন ব্যাটারি গরম হতে থাকে। এর ফলে শর্ট সার্কিট হয়ে ব্যাটারিতে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরণ ঘটে।
চলুন জেনে নিন আরো যেসব কারণে বিস্ফোরিত হতে পারে-
ডিজাইন ও উৎপাদনজনিত সমস্যা
প্রথমেই যে কারণটিকে এর জন্য দায়ী করা হয় তা হলো ডিজাইন ও উৎপাদনজনিত সমস্যা। ব্যাটারি ডিজাইনে যদি গণ্ডগোল থাকে, সেক্ষেত্রে ব্যাটারির দুটি ইলেক্ট্রোড এবং পৃথক করে রাখা পর্দার মাঝে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এ সমস্যা হতে পারে। চার্জ দেয়ার পর ব্যাটারির ইলেক্ট্রোড কিছুটা বাঁকানোর ফলে শর্ট সার্কিট হয়েও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে।
বাহ্যিক প্রভাবের ফলে
বাইরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলেও ব্যাটারি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। ব্যাটারি বা ফোন বারবার হাত থেকে ফেললে বা ব্যাটারিতে বাইরের কোনো আঘাতের কারণেও মধ্যবর্তী সেপারেটর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চার্জারের সমস্যা থেকে
সংক্ষেপে দেখুনচার্জারে ত্রুটির কারণেও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে বাড়তি চার্জ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। তবে কোনো কারণে এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে বাড়তি চার্জের কারণে ব্যাটারি গরম হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এজন্য চার্জ দেয়া সম্পন্ন হলে ফোন চার্জার থেকে খুলে ফেলতে হবে। এছাড়া ফোনের অরিজিনাল চার্জার ছাড়া নিম্নমানের চার্জার দিয়ে ফোন চার্জ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
ব্ল্যাকহোল কিভাবে তারা গিলে খায় ?
মহাবিশ্বের এমন কিছু তারকা বা নক্ষত্র আছে, যারা এমন শক্তিশালী মহাকর্ষ বল তৈরি করে যে এটি তার কাছাকাছি চলে আসা যেকোন বস্তুকে একেবারে টেনে নিয়ে যায়, হোক তা কোন গ্রহ, ধুমকেতু বা স্পেসক্রাফট, তাই ব্ল্যাকহোল। ব্ল্যাকহোল গিলে নিচ্ছে একটি তারাকে। তারাটি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসছবিস্তারিত পড়ুন
মহাবিশ্বের এমন কিছু তারকা বা নক্ষত্র আছে, যারা এমন শক্তিশালী মহাকর্ষ বল তৈরি করে যে এটি তার কাছাকাছি চলে আসা যেকোন বস্তুকে একেবারে টেনে নিয়ে যায়, হোক তা কোন গ্রহ, ধুমকেতু বা স্পেসক্রাফট, তাই ব্ল্যাকহোল। ব্ল্যাকহোল গিলে নিচ্ছে একটি তারাকে। তারাটি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে আলো। এই ঘটনাকে বলে ‘টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্ট’।
সম্প্রতি ‘ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি’ (ইএসও) থেকে এই মহাজাগতিক বিস্ময় ধরা পড়েছে। সাড়ে ২১ কোটি আলোকবর্ষ দূরের ঘটনা এটি!
আমাদের হিসাবে দূরে, বহুদূরে। কিন্তু মহাকাশের হিসেবে এ কিছুই নয়। এ নেহাতই কাছে! বলা হচ্ছে, পৃথিবীর এত কাছে এই ধরনের ঘটনা টেলিস্কোপে ধরা পড়ার ঘটনা এই প্রথম।
মহাকাশের খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ব্ল্যাকহোল বা ব্ল্যাকহোলের তারা গিলে খাওয়ার মতো ঘটনাগুলো এমনিতে যথেষ্ট বিস্ময় জাগায়।
বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রয়্যাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটি’র রিসার্চ ফেলো ম্যাট নিকলের গলাতেও শোনা গেল সেই বিস্ময়ের সুর– হাতের কাছের তারাটিকে গিলে খাচ্ছে কোনও এক ব্ল্যাকহোল, এই ব্যাপারটাই যেন কেমন কল্পবিজ্ঞানের মতো শোনায়! অথচ, ‘টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্টে’ ঠিক এটাই ঘটে।
কোনও হতভাগ্য তারা যদি ঘুরতে-ঘুরতে কোনও ভয়ঙ্কর বড় ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি চলে যায় তবে সেটির মহাকর্ষের টানে তারাটি খণ্ডে খণ্ডে ভেঙে গিয়ে ব্ল্যাকহোলের পেটে ঢুকে পড়ে। এটা যখন হয় তখন চারিদিকে একটা তড়িচ্চুম্বকীয় ক্ষেত্রে তৈরি হয়। যা কয়েকমাস ধরে থাকে।
উল্লেখ্য, তারকাদের অস্বাভাবিক আকার, ভর ও ঘনত্ব থাকে, আর এর জন্যে এই সব তারকা থেকে নির্গত আলো বাইরে আসতে পারে না। সহজ ভাষায় বলতে গেলে- যখন একটি তারকার জীবনকাল শেষ হয়ে যায়, সেই মুহূর্তে তার অভিকর্ষ শক্তি এতই প্রবল হয় যে আলো ওখান থেকে বের হতে পারে না। আর এই ঘটনা তখনই ঘটে যখন একটি তারকার জীবনকাল অর্থাৎ তার নির্দিষ্ট জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। তারকাটি পরিণত হয় ব্ল্যাকহোলে। এভাবেই একটি ব্ল্যাকহোলের সৃষ্টি হয়।
পর্যবেক্ষক বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা-এই ধরনের ঘটনা সাধারণত দেখা যায় না। কেননা, পুরো বিষয়টি খুব দ্রুত ঘটে। তারা কোনও কৃষ্ণগহ্বরের কাছে এসে পড়লে সেটি দ্রুত ভেঙে গিয়ে ধুলোকণার মতো অংশে পরিণত হয়ে যায়। এবারে বিজ্ঞানীরা ভাগ্যবান যে, তারা এই বিশেষ মুহূর্তটির সাক্ষী থাকতে পেরেছেন।
কোন ধরনের তারা এ বারের ঘটনাটিতে কৃষ্ণগহ্বরের পেটে ঢুকে গেল। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন তারাটির পদার্থের পরিমাণ প্রায় আমাদের সূর্যের সমান! আর ব্ল্যাকহোলটির পদার্থের পরিমাণ শুনলে আঁতকে উঠবেন। ওটি আমাদের সূর্যের প্রায় দশ লক্ষ গুণ ভারী!
সংক্ষেপে দেখুনমোবাইলের ব্যাটারি ফুলে বিস্ফোরিত হয় কোন কারণে ?
বর্তমান যুগটাই হচ্ছে স্মার্টফোনের। ছাত্র থেকে শিক্ষক, ছোট থেকে বড় সবার হাতেই এখন স্মার্টফোনে। আর স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় লিথিয়াম ব্যাটারি। এটিই ফোন বিস্ফোরণের জন্য দায়ী। স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি ফেটে বিস্ফোরণের ঘটনাও দবিস্তারিত পড়ুন
বর্তমান যুগটাই হচ্ছে স্মার্টফোনের। ছাত্র থেকে শিক্ষক, ছোট থেকে বড় সবার হাতেই এখন স্মার্টফোনে।
আর স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় লিথিয়াম ব্যাটারি। এটিই ফোন বিস্ফোরণের জন্য দায়ী।
স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি ফেটে বিস্ফোরণের ঘটনাও দিনে দিনে বাড়ছে। অনেক সময় ব্যাটারি ফুলে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়।
চলুন তবে জেনে নেয়া যাক স্মার্টফোনের ব্যাটারি ফুলে যাওয়া বা ফেটে যাওয়ার কারণ কি?
> আপনার পুরনো চার্জারটি নষ্ট হয়ে গেছে, আপনি একটা কম দামি চার্জার কিনে নিলেন। বাজার চলতি এইসব সস্তার চার্জার থেকে সাবধান। এটি ফোন ব্লাস্টের অন্যতম কারণ।
> আপনার ব্যবহৃত ফোনটি তৈরির সময় যদি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিকে সঠিকভাবে পরীক্ষা না করা হয় তাহলে ফুলতে পারে ব্যাটারি। এতে করে বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
> সস্তার লোকাল পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করেন? ব্যাটারি ফাটার হাত থেকে ফোনকে রক্ষা করতে হলে আর তা ব্যবহার করবেন না। কারণ পাওয়ার ব্যাংকও মোবাইলের ব্যাটারি নষ্ট করে দিতে পারে। ঘটাতে পারে বিস্ফোরণ।
> আমরা অনেকেই সারা রাত ফোন চার্জে বসিয়ে রাখি। এটির ফলে ফোন ওভার হিটিং করে ও ব্যাটারিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এই কাজ থেকে দূরে থাকুন।
> ফোন গরম হওয়ার জন্য অন্যতম একটি জিনিস হলো প্রসেসর। অতিরিক্ত গেম খেললে প্রসেসরের উপর চাপ পড়ে। এর ফলে ফোন গরম হয়ে ব্যাটারি ফেটে যেতে পারে।
> ফোনকে যদি অনেকক্ষণ রোদে ফেলে রাখেন তাহলে ফোন গরম হয়ে যেতে পারে। ফোনের স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ সূর্যের আলো পড়লে ফোন গরম হয় এটি এক গবেষণায় প্রমাণিত।
এজন্য বাইরে যখন যাবেন তখন ফোনকে ব্যবহার যদি না করেন তাহলে হাতে নিয়ে ঘুরবেন না একটা ব্যাগের মধ্যে রাখুন।
সংক্ষেপে দেখুননারীর চুড়ি পরার পিছনের রহস্য কি?
চুড়ি ছাড়া বাঙালি নারীর হাতের সৌন্দর্য যেন ফুটেই ওঠে না। তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন? নারীরা শুধু সাজসজ্জার জন্যই চুড়ি পড়ে নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনো রহস্য! প্রাচীনকাল থেকে এমন অনেক রীতি চলে আসছে যা নিয়ে সাধারণত কোনো প্রশ্ন তোলা হয় না। ঠিক যেমন, মেয়েরা হাতে চুড়ি পরে। বিশেষত বিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে হাত খাবিস্তারিত পড়ুন
চুড়ি ছাড়া বাঙালি নারীর হাতের সৌন্দর্য যেন ফুটেই ওঠে না। তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন? নারীরা শুধু সাজসজ্জার জন্যই চুড়ি পড়ে নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনো রহস্য!
প্রাচীনকাল থেকে এমন অনেক রীতি চলে আসছে যা নিয়ে সাধারণত কোনো প্রশ্ন তোলা হয় না। ঠিক যেমন, মেয়েরা হাতে চুড়ি পরে। বিশেষত বিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে হাত খালি রাখার নিয়ম নেই। অর্থাৎ দুই হাত ভর্তি করে চুড়ি পরাই নিয়ম।
এই রীতি কবে থেকে চলে আসছে তার কোনো ঠিক নেই। কারও হাতে কাঁচের চুড়ি, কারও আবার স্বর্ণ বা ইমিটেশনের। অর্থাৎ হাতে কিছু পরে থাকাটা জরুরি। কিন্তু কেন এই নিয়ম? কেন চুড়ি পরতে হয় মেয়েদের?
প্রাচীন এই রীতির পিছনেও রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। বলা হয় আগে সাধারণত পুরুষেরা জমি ও জঙ্গলে কাজ করত। যাতে তাদের পেশীর কাজ অনেক বেশি হত।
আর মেয়েরা সাধারণত বাড়ির কাজকর্ম করত। খুব শক্ত কোনো কাজ মেয়েদের করতে হত না। পরিশ্রমও হত অপেক্ষাকৃত কম।
আর এই কম শারীরিক কাজই বাড়ায় রক্তচাপ। যাতে মানুষ অধৈর্য হয়ে পড়ে। আর সেই চাপ কমাতেই নারীদের চুড়ি পরতে বলা হত।
তবে চুড়ির সঙ্গে রক্তচাপের কি সম্পর্ক? আমরা জানি পালস রেট মাপার জন্য কবজিতে চাপ দিয়ে দেখা হয়। সবসময় হাতে চুড়ির চাপ থাকলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আরও বলা হয়, শরীর থেকে আধ্যাত্মিকতা বাইরের দিকে যেতে চাইলে, চুড়ির জন্য সেটা আবার ফিরে আসে।
সংক্ষেপে দেখুনবাংলায় টাকার নোটের সচিত্র ইতিহাস কি?
টাকা হল বাংলাদেশের মুদ্রা। বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালে হলেও এর শুরুটা ছিল ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। তখন দেশে পাকিস্তান রুপির প্রচলন ছিল, যেটিকে কাগজে–কলমে টাকাও বলা হতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা বেসরকারিভাবে পাকিস্তানি টাকার একপাশে ‘বাংলা দেশ’ এবং অপর পাশেবিস্তারিত পড়ুন
টাকা হল বাংলাদেশের মুদ্রা। বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালে হলেও এর শুরুটা ছিল ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। তখন দেশে পাকিস্তান রুপির প্রচলন ছিল, যেটিকে কাগজে–কলমে টাকাও বলা হতো।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা বেসরকারিভাবে পাকিস্তানি টাকার একপাশে ‘বাংলা দেশ’ এবং অপর পাশে ‘Bangla Desh’লেখা রাবার স্ট্যাম্প ব্যবহার করতেন।
১৯৭১ সালের ৮ জুন পাকিস্তান সরকার এই রাবার স্ট্যাম্পযুক্ত টাকাকে অবৈধ এবং মূল্যহীন ঘোষণা করে। এরপর ১৯৭৩ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত অবশ্য এই টাকা সারাদেশে চালুছিল। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভের পর নতুন মুদ্রা প্রচলনের ঘোষণা দেয়া হয়। সে সময় পাকিস্তানি ১, ৫ এবং ১০ রূপি ব্যবহৃত হয় যা পরের দিকে সরকার বাতিল করে দেয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ৪ঠা মার্চ প্রথম নোট চালু হয়। প্রথমে ১, ৫, ১০ এবং ১০০ টাকার নোট ছাপা হয়। তবে চলুন বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যতগুলো নোট এবং কয়েন বাজারে ছাড়া হয়েছে তার সচিত্র ইতিহাস তুলে ধরা হল।
এক টাকা
বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর কিছু দিন পাকিস্তানি ১ রুপি প্রচলিত ছিল।
পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ৪ঠা মার্চ বাংলাদেশী ১ টাকার নোট ইস্যু হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ১ টাকার কাগজের মুদ্রা। এতে দেশের মানচিত্রের মধ্যে বিন্দুর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে রাজধানী ঢাকার অবস্থান।
১৯৭৩ সালের ২রা মার্চ প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক সম্বলিত ১ টাকার নোট ইস্যু হয়। যার সামনে মুঠো ভর্তি ধানের শীষ ও পিছনে শাপলা প্রতীক রয়েছে। এর রং ছিল কমলা ও নীল। এই নোটটি ডিসেম্বর ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত চালু ছিল, বর্তমানে অপ্রচলিত এগুলো।
এরপর ১৯৭৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর পুনরায় আরেকটি ১ টাকার নোট ইস্যু হয়। যার সামনে এক নারীর ধান ভানার চিত্র ও পেছনে মুঠো ভর্তি ধানের শীষ ও জাতীয় ফুল শাপলার ছবি রয়েছে। এর রং ছিল কমলা ও নীল। এই নোটটি ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। তবে বর্তমানে অপ্রচলিত।
পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর “রয়েল বেঙ্গল টাইগার”-এর জলছাপ সম্বলিত ১ টাকার নোট ইস্যু হয়। এরপর আর কোনো ১ টাকার কাগুজে নোট ইস্যু হয়নি।
মাঝে ১৯৭৫ সালে “নিকেল-কপার” দ্বারা তৈরী ১ টাকার কয়েন ইস্যু হয়েছিল। এরপর ১৯৯৩ সালের ৯ই মে পুনরায় ১ টাকার কয়েন ইস্যু হয়। পরবর্তীতে এর আকৃতি এবং রঙ ৩ বার পরিবর্তন করা হয়।
দুই টাকা
১৯৮৮ সালের ২৯ই ডিসেম্বর দ্বিতীয় “সরকারী নোট” ২ টাকা ইস্যু হয়। এরপর আর কোন ২ টাকার কাগুজে নোট ইস্যু হয়নি।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালে “স্টীল”-এর তৈরী ২ টাকার কয়েন ইস্যু হয়
পাঁচ টাকা
১৯৭২ সালের ৪ঠা মার্চ প্রথম ৫ টাকার নোট ইস্যু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর এবং ১৯৭৪ সালে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান”-এর ছবি সম্বলিত আরো দু’টি নোট ইস্যু হয়।
১৯৭৬ সালের ১১ই অক্টোবর “তারা মসজিদ”-এর ছবি সম্বলিত নোট ইস্যু হয়।১৯৭৮ সালের ২রা মে “তারা মসজিদ”-এর পরিবর্তে “কুসুম বাগ মসজিদের মেহরাব”-এর ছবি সম্বলিত নোট ইস্যু হয়।
২০০৬ সালের ৮ই অক্টোবর, ১৯৭৮ সালের নোটটি ইস্যু হয়। পার্থক্য হল নোটটিতে ৩মিমি চওড়া নিরাপত্তা সূতা ব্যবহার করা হয়। মাঝে ১৯৯৩ সালের ১লা অক্টোবর ৫ টাকার কয়েন ইস্যু হয়।
সংক্ষেপে দেখুনবাংলায় প্রথম ‘বৈদ্যুতিক পাখা’ আসার ইতিহাস কি?
শরীরের নাম মহাশয় যাহা সহাবে তাহাই সয়- এই কথাটি কিন্তু বাস্তব। আজ মানুষের জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্য এমন স্তরে পৌঁছেছে। তার জন্য অবশ্যই ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ভূমিকা কম নয়। এজন্য বৈদ্যুতিক পাখা, এয়ার কন্ডিশন, কুলার ইত্যাদি ঘর ঠান্ডা রাখার উপায় বের হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন এসব কিছুই ছিল না। তার মানে এই নয়, যেবিস্তারিত পড়ুন
শরীরের নাম মহাশয় যাহা সহাবে তাহাই সয়- এই কথাটি কিন্তু বাস্তব। আজ মানুষের জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্য এমন স্তরে পৌঁছেছে। তার জন্য অবশ্যই ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ভূমিকা কম নয়।
এজন্য বৈদ্যুতিক পাখা, এয়ার কন্ডিশন, কুলার ইত্যাদি ঘর ঠান্ডা রাখার উপায় বের হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন এসব কিছুই ছিল না। তার মানে এই নয়, যে তখন গরম ছিল না।
তখন সরকারি অফিসে নিয়োগ হতো পাঙ্খা পুলার। আর এই পাঙ্খা পুলার সরকারি অফিসে সাহেবদের মাথার উপর এক বিশাল কাপড়ের পাখা থাকতো। পাখা সঙ্গে দড়ি লাগিয়ে টানতো বাইরে থেকে পাঙ্খা পুলার। তবে তাতে তেমন জোরে বাতাস হত না, তা বৈদ্যুতিক পাখার থেকে খুবই দুর্বল ছিল।
তাই আসে বৈদ্যুতিক পাখা। কাজ হারায় ওই কর্মীর দল। এবার আসি কলকাতার প্রথম দেশীয় বৈদ্যুতিক পাখা কোম্পানির কথায়। যা বিদেশি কোম্পানিগুলোর তৎকালীন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর সেটিও নির্মাণ করেছিলেন এক স্বাধীনতা সংগ্রামী। কে তিনি ? আর কোথায় এই কোম্পানি? আজ জানাবো সে সম্পর্কে-
এককথায় বলা চলে নতুন হাওয়া তৈরির কারিগর। নাম তার ক্ষীরোদ বিহারী চক্রবর্তী। প্রথম এই শহরে হাওয়ার জন্যই পাঙ্খাকুলি নিয়োগ হতো। তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সে অচল হয়ে পড়ে। আর সেই সময় দেশের মানুষকে তাদের আয়ত্ত্বের মধ্যেই ঠান্ডা হওয়ার স্বাদ আস্বাদন করিয়ে দিয়েছিলেন ক্ষীরোদ বিহারী।
হাতে টেনে নয় সুইচ দিলেই বিদ্যুতে সেই হাওয়া চলত শনশোনিয়ে। তাতে জন্ম হয়েছিল ক্লাইড কোম্পানি। বাঙালির তৈরি কলকাতার প্রথম বৈদ্যুতিক পাখার কোম্পানি। জায়গাটি কিন্তু বেশ পরিচিত। কলকাতার এলিট সিনেমা হলের পাশে হিন্দুস্থান ইন্সিওরেন্স কোম্পানির বিশাল অফিস। আর এই সিনেমা হলের এক পাশে ছিল ক্লাইড এঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।
১৯১৯ সালে এই ক্লাইড এঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড তৈরি ফ্যান প্রথম হাওয়া এনেছিল কলকাতায়। ক্ষীরোদবিহারীকে এই কোম্পানি গড়তে সাহায্য করেছিলেন ময়মনসিংহের মহারাজা রাজেন্দ্রকিশোর, পাইকপাড়ার কুমার অরুণ সিংহ প্রমুখ ধনী ব্যক্তিরা। ক্ষীরোদবিহারী ছিলেন ব্রিটিশ-বিরোধী।
তার বাড়ি পূর্ব বাংলার নারায়ণগঞ্জের বন্দর গ্রামে। জলপাইগুড়িতে স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন ক্ষীরোদ বিহারী। কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্সে উচ্চশিক্ষা লাভ করার সময় তার সেই কার্যকলাপ আরো দৃঢ় হয়।
পুলিশ ধাওয়া করা শুরু করে। অগত্যা দেশ ছেড়ে পালান ক্ষীরোদবিহারী। একটি কার্গো জাহাজে পে-মাস্টারের চাকরি নেন তিনি। সেখানে ইলেকট্রিকের কারিগরদের থেকেই ওয়ারিং, ফ্যান মেরামতি ইত্যাদি কাজ শিখে অর্থ সঞ্চয় করেন। এরপর কলকাতায় ফিরে ১৯১৮ সালে ইলেকট্রিক ফ্যানের কারখানা নির্মাণ করেন।
ক্লাইড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি অন্যান্য বিদেশি কোম্পানিকে বেশ বিপাকে ফেলে দেয়। চাহিদা ও উৎপাদনের বৃদ্ধির সঙ্গে বকুল বাগান রোডে তৈরি হয় অ্যাপ্রেনটিস ট্রেনিং স্কুল। ছেলেরা তো ট্রেনিং নিতই পরবর্তীতে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সূক্ষ্মকাজ শিখতো।
বাঙালি যুবকের তৈরি স্বদেশি যুগের হাওয়ায় তখন দেশবাসী মজে। তবে পরপর যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অবক্ষয় ছাপ ফেলে ক্লাইড এঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে। এরপর দেনার দায়ে বিক্রি করে দিতে হয় কোম্পানিটিকে। তবে সংগ্রামী মানসিকতা এতো সহজে ভাঙার নয়।
তাই ১৯৩২ সালে তিনি হিন্দুস্তান পার্কের একটি জমিতে তৈরি করেন নিজস্ব ফ্যান তৈরির কারখানা ক্যালকাটা ফ্যান। অনেক ঝড়ঝাপটার পরেও ক্যালকাটা ফ্যান চলেছিল দেড় বছর। চিরকাল কোনোকিছুই স্থায়ী হয় না। আয়ু ফুরায়। তবে ক্ষীরোদবিহারী নিরলস প্রচেষ্টা সত্যিই আশ্চর্য করে দেয়।
ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় ফ্যান কোম্পানির বিশাল বাজারে যেভাবে সে টিকে ছিল তা শেখার মতোই। বারবার তিনি সব হারিয়েছেন। আর বারবারই উঠে এসেছেন নতুন কিছু করার স্বপ্নে বুঁদ হয়ে। ইংরেজদের দূরে ঠেলে বাংলাকে নতুন আলো দেখিয়েছিলেন তিনি। তা শুধু ব্যক্তিগত তাগিদে নয়। দেশ গড়ার প্রবল প্রেরণায়।
বাঙালি ব্যবসায়ীদের ইতিহাস নিশ্চয়ই লেখা হবে একদিন। সেদিন ক্ষীরোদ বিহারীর অবদান নিশ্চিত অনেক বড় করে লেখা থাকবে।
সংক্ষেপে দেখুনমানুষ কী করে অন্য প্রাণীর দুধ খেতে শিখলো?
বিবর্তনের প্রথম দিকে মানুষের অন্য প্রাণীর দুধ হজম করতে পারতো না। কিন্তু এখন অনেক জনগোষ্ঠীই গরু, উট, বা ছাগলের দুধ খায়। কিভাবে মানুষের শরীরে অন্য প্রাণীর দুধ হজম করার ক্ষমতা তৈরি হলো? ইদানীং বাজারে প্রাণীর দুধের নানা ‘প্রতিযোগী’ এসে গেছে। যেমন সয়া দুধ, আমন্ড বাদামের দুধ – এগুলো বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উবিস্তারিত পড়ুন
বিবর্তনের প্রথম দিকে মানুষের অন্য প্রাণীর দুধ হজম করতে পারতো না। কিন্তু এখন অনেক জনগোষ্ঠীই গরু, উট, বা ছাগলের দুধ খায়। কিভাবে মানুষের শরীরে অন্য প্রাণীর দুধ হজম করার ক্ষমতা তৈরি হলো? ইদানীং বাজারে প্রাণীর দুধের নানা ‘প্রতিযোগী’ এসে গেছে। যেমন সয়া দুধ, আমন্ড বাদামের দুধ – এগুলো বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উঠছে। যারা ‘ভেগান’ – তাদের জন্য, অথবা যাদের দুধে এ্যালার্জি আছে – তাদের জন্য এই বিকল্পগুলো বেশ সুবিধাজনক। কিন্তু এগুলো এখনো জনপ্রিয়তার দিক থেকে প্রাণীজ দুধের কাছাকাছি আসতে পারে নি।
বিবিসির মাইকেল মার্শাল এক রিপোর্টে লিখছেন, প্রাণীজ দুধের সাথে মানুষের সম্পর্ক হাজার হাজার বছরের পুরোনো। এর ইতিহাসও অতি বিচিত্র উত্থান-পতনে ভরা। মানুষ হয়ে অন্য প্রাণীর দুধ খাওয়াটা কি একটা ‘আজব’ ব্যাপার? দুধ খাওয়াটা মানুষের কাছে এতই স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে যে কেউ যদি বলে – এটা একটা আজব কাজ – তাহলে এ কথা যে বলবে তাকেই বরং আপনার একটা উদ্ভট লোক বলে বনে হবে। কারণ আমরা কখনো এভাবে চিন্তা করি না। একটি গরু বা অন্য কোন প্রাণীর দেহে দুধ তৈরি হয় – তার বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য। কিন্তু মানুষ কি করছে? তারা গরুটার বাঁট টিপে টিপে সেই দুধ বের করে নিয়ে নিজেরা খাচ্ছে। এটা কি একটা আজব ব্যাপার নয়?
কিন্তু এমন সংস্কৃতিও আছে, যেখানে প্রাণীর দুধ খাবার কথা অনেকেরই প্রায় অজানা। এই সেদিন, ২০০০ সালে চীনে একটা প্রচারাভিযান শুরু হয়েছিল যাতে লোকে স্বাস্থ্যগত কারণেই আরো বেশি করে দুধ এবং দুধজাত খাবার খায়। এই প্রচারাভিযানটিকে চীনের বয়স্ক লোকদের দিক থেকে গভীর সন্দেহের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। দুধ থেকে যে পনির তৈরি হয় তা এখনও চীনের অনেক মানুষকে অসুস্থ করে ফেলতে পারে। বলা হয়, মানব প্রজাতির ইতিহাস মোটামুটি তিন লক্ষ বছরের। সে তুলনায় দুধ খাবার ইতিহাসকে প্রায় ‘নতুন’ বলা যায়। মোটামুটি ১০ হাজার বছর আগেও মানুষ দুধ প্রায় খেতোই না।
সংক্ষেপে দেখুনডিজিজ এক্স কি? এর ভয়াবহতা কি?
করোনা বিশ্বজুড়ে ২ কোটির ওপর মানুষের প্রাণ কেড়েছে বলা হচ্ছে। কিন্তু সেটা কিছুই নয়। এবার যে অতিমারি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা কেড়ে নিতে পারে ৫ কোটির ওপর মানুষের প্রাণ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এর অর্ধেক সংখ্যক মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। এই অতিমারি যদি আসে তা ১৯১৯-২০ সালের অতিমারি স্প্যানিশ ফ্লুয়ের মতই প্রাণঘাতীবিস্তারিত পড়ুন
করোনা বিশ্বজুড়ে ২ কোটির ওপর মানুষের প্রাণ কেড়েছে বলা হচ্ছে। কিন্তু সেটা কিছুই নয়। এবার যে অতিমারি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা কেড়ে নিতে পারে ৫ কোটির ওপর মানুষের প্রাণ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এর অর্ধেক সংখ্যক মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। এই অতিমারি যদি আসে তা ১৯১৯-২০ সালের অতিমারি স্প্যানিশ ফ্লুয়ের মতই প্রাণঘাতী হতে চলেছে।এই প্রাণঘাতী জীবাণুর নামকরণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। নাম দেওয়া হয়েছে ডিজিজ এক্স। এ এমনই প্রাণঘাতী হবে যে তার কোনও ওষুধ নেই। ব্রিটেনের ভ্যাক্সিন টাস্ক ফোর্সের প্রাক্তন প্রধান কেট ব্রিংহ্যাম পুরো বিষয়টি নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করেছেন। যে কোনও সময় হানা দিতে পারে ডিজিজ এক্স। আর হানা দিলে কিন্তু মৃত্যু মিছিল শুরু হয়ে যাবে। কারণ এতে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর হার ইবোলা-র মতই প্রাণঘাতী হবে। ইবোলায় মৃত্যু সম্ভাবনা ৬৭ শতাংশ। আবার এটি ভয়ংকর ছোঁয়াচেও হবে। ফলে তা ছড়াতে সময় লাগবেনা।
এ থেকে বাঁচার তাহলে উপায় কি? কেট জানাচ্ছেন, একবার এটি হানা দিলে তখন কিন্তু এই অতিমারিকে ঠেকানো মুশকিল। তাই আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাই যত দ্রুত সম্ভব এর টিকাকরণ শুরু করে দিতে হবে। আর তা যত দ্রুত যতজন মানুষকে দেওয়া যায় ততই মঙ্গল। ফলে করোনার হাত থেকে কিছুটা রেহাই মিললেও বিশ্ববাসীর হাঁফ ছাড়ার আর উপায় রইল না। এখন আবার মাথার ওপর ঝুলছে ডিজিজ এক্স। যা কখন কোথায় হানা দেবে তা অজানা। কেট ব্রিংহ্যাম এও জানিয়েছেন যে ডিজিজ এক্স এমন এক অতিমারি হয়ে সামনে আসতে চলেছে যে তা কখন বিশ্বজুড়ে হানা দেবে তা অজানা। কিছুদিনের মধ্যেও হতে পারে, আবার কিছু সময় পর।
সংক্ষেপে দেখুনমহিলাদের জামায় পকেট থাকেনা, এর পিছনে বিশেষ কারণ কি?
পুরুষদের শার্টে সাধারণত বুকপকেট থাকে। কিন্তু মহিলাদের শার্টে পকেট থাকেনা। কেন থাকেনা তার একাধিক কারণ রয়েছে। যা জানা প্রয়োজন। পুরুষরা তো শার্ট পরেই থাকেন। কিন্তু আধুনিক জীবনে মহিলারাও শার্ট পরায় স্বচ্ছন্দ। পুরুষদের শার্টের সঙ্গে মহিলাদের শার্টের ফারাক হল পুরুষদের শার্টে বুকপকেট থাকে। কিন্তু মহিলাদেরবিস্তারিত পড়ুন
পুরুষদের শার্টে সাধারণত বুকপকেট থাকে। কিন্তু মহিলাদের শার্টে পকেট থাকেনা। কেন থাকেনা তার একাধিক কারণ রয়েছে। যা জানা প্রয়োজন।
পুরুষরা তো শার্ট পরেই থাকেন। কিন্তু আধুনিক জীবনে মহিলারাও শার্ট পরায় স্বচ্ছন্দ। পুরুষদের শার্টের সঙ্গে মহিলাদের শার্টের ফারাক হল পুরুষদের শার্টে বুকপকেট থাকে। কিন্তু মহিলাদের শার্টে কোনও পকেট থাকেনা। মহিলাদের শার্টে পকেট রাখার চেষ্টা কিছু ডিজাইনার করলেও তা খুব একটা জনপ্রিয় হয়নি। তাই এখন মহিলারা যে শার্টই পরুন না কেন তাতে পকেট থাকেনা।
তাই মহিলাদের জামায় কখনও পকেট থাকেনা। পকেটের একটি প্রয়োজন থাকে। যাতে কিছু জিনিস রাখা যায়। যা মহিলাদের প্রয়োজন পড়েনা।
তাই এখনও বিশ্বজুড়েই মহিলাদের জামায় পকেট থাকেনা। কর্পোরেট দুনিয়াতেও মহিলারা অনেকেই জামায় অভ্যস্ত। অফিসে জামা পরেন অনেকে। কিন্তু পকেট ছাড়াই হয় সেসব জামা।
পুরুষবিদ্বেষ বা মিস্যান্ড্রি: কী এবং কেন?
কল্পচিত্র- এক বিয়ের ব্যাপারে চরম অনাগ্রহী ফারজানা। অফিসে সহকর্মীদের বিবাহিত জীবনের গল্পে তাকে কালেভদ্রে পাওয়া যায়, আর সবসময়ই বিরক্তিসূচক প্রতিক্রিয়া দেন ফারজানা। তবে লক্ষণীয় দিক হচ্ছে, ফারজানার বিরক্তির সবটা জুড়েই থাকে বর মশাইটি! অর্থাৎ দম্পতির পুরুষ সদস্যের প্রতিই তার যত বিতৃষ্ণা, বিরূপ মনোভাব। সবকবিস্তারিত পড়ুন
কল্পচিত্র- এক
বিয়ের ব্যাপারে চরম অনাগ্রহী ফারজানা। অফিসে সহকর্মীদের বিবাহিত জীবনের গল্পে তাকে কালেভদ্রে পাওয়া যায়, আর সবসময়ই বিরক্তিসূচক প্রতিক্রিয়া দেন ফারজানা। তবে লক্ষণীয় দিক হচ্ছে, ফারজানার বিরক্তির সবটা জুড়েই থাকে বর মশাইটি! অর্থাৎ দম্পতির পুরুষ সদস্যের প্রতিই তার যত বিতৃষ্ণা, বিরূপ মনোভাব। সবকিছুতে পুরুষ জাতটাকে শাপ-শাপান্ত না করলে তার শান্তি হয় না।
কল্পচিত্র- দুই
ওদিকে মায়াকে নিয়ে তার পরিবারের মানুষজন ভীষণ বিপাকে পড়ে আছে। মায়ার কথাবার্তা, আচরণে সর্বদা ছেলেদের প্রতি কটাক্ষ স্পষ্ট থাকে! একই কাজে কোনো মেয়ে ভুল করলে মায়ার কাছ থেকে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো ছেলে যদি ঐ কাজে সামান্য ভুল করে বসে, মায়া তাকে কথা শোনাতে ছাড়বেই না! এই আচরণের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছে না মায়ার ঘরের মানুষেরা। কিন্তু তারা বুঝতে চাচ্ছে, মেয়ের সমস্যাটা ঠিক কোথায়। কেন এমন আচরণ তার ছেলেদের প্রতি?
কল্পচিত্র- তিন
নীরা সদ্য বিবাহিত। পারিবারিকভাবে সম্বন্ধ করেই বিয়ে হয়েছে তার। নীরার বর নীরাকে বুঝে উঠতে পারছে না। কেন কথায় কথায় নীরা তাকে কটাক্ষ করছে, তার কাজকে নিজের কাজের তুলনায় তুচ্ছজ্ঞান করছে, কোনো প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে না! বেচারা বর হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে নতুন বৌয়ের হাবভাব বুঝতে।
পুরুষজাতির প্রতি নারীর এই বিরূপ মনোভাব, ঘৃণা, তীব্র নেতিবাচকতা, এগুলো কি খুব স্বাভাবিক বিষয়?
পুরুষবিদ্বেষ বা মিস্যান্ড্রি
উপরের কল্পচিত্রগুলোর পেছনে কারণটা অহেতুক ভালো না লাগা নয়। আরেকটু বেশি কিছু। আর সেটা হতে পারে পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ , যা চরম অপছন্দ অথবা ঘৃণার সম পর্যায়ের।
পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ, কেন?
পুরুষজাতির উপর বিদ্বেষ, ব্যাপারটা ঠিক কী? সেটা জানার আগে মনে করিয়ে দেয়া যাক, বিপরীতে আরেকটা ব্যাপার রয়েছে ‘নারীবিদ্বেষ’ বলে, আর এটা বেশ জানাশোনা একটা ব্যাপার। নারীবিদ্বেষী বা নারীর প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে আলোচনার খাতা যতটা পরিপূর্ণ, উল্টোটা সেই তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে বলতে হয়।
সাইকোলজি টুডের এক প্রতিবেদনে এই ঘৃণার কিছু কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার মধ্য থেকে কয়েকটি কারণ এখানে তুলে ধরা হলো। ভিনদেশ বা ভিন্ন সময়ের প্রেক্ষিতে হলেও এই কারণগুলো বেশ জোরদার, যা পুরুষবিদ্বেষের বিষয়টাকে বুঝতে সাহায্য করবে।
ক্রিয়ার ফল প্রতিক্রিয়া
বাস্তবিকভাবে এটা বলা হচ্ছে যে নারীবিদ্বেষ তার বিপরীতে পুরুষের প্রতি বিদ্বেষ জন্ম দেয়। বিষয়টা অনেকটা নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মতো। আপনি আপনার কাজের সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া অবশ্যই পাবেন। আর তাই আপনার আচরণে যদি নারীবিদ্বেষ থাকে, তবে সেটা আর কারো মনে আপনার প্রতি বিদ্বেষ জন্মাতে যথেষ্ট। হতে পারে আপনার খুব কাছের একজন নারীও ধীরে ধীরে আপনার প্রতি অতিরিক্ত বিরূপ মনোভাব পুষতে আরম্ভ করেছে এবং সেটা তার মনে অন্যান্য পুরুষের জন্যও ঘৃণার সূত্রপাত ঘটাচ্ছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বড় একটা কারণ, যেকোনো বাজে অনুভূতির পেছনেই এটা বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সবচেয়ে বড় যে ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া এটি হতে পারে, ক্রমশ নারীকে গৃহবাসী করে ফেলা, নারীকে মনোরঞ্জনের বস্তু হিসেবে দেখা ও উপস্থাপন করা, নারীর মানবসত্তাকে দীর্ঘদিন পাথরচাপা করে রাখা ইত্যাদি তার মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে, সেগুলো হয়তো একটা সময় তীব্র পুরুষবিদ্বেষে রূপ নেয়।
নারীবিদ্বেষ ও পুরুষবিদ্বেষ, ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া
ইতিহাসের পাঠগ্রহণ
আমরা ইতিহাস পড়ি, জানি, একই তথ্য গ্রহণ করি কিন্তু সেটার অন্তর্নিহিত পাঠ? মানুষভেদে সে পাঠ পাল্টায় বটে। কারো কাছে ওসামা বিন লাদেন বীর, কারো কাছে সন্ত্রাসী। হিটলারের বেলায়ও একই কথা খাটে, তাকে অপছন্দ করা বহু মানুষের বিপরীতে পছন্দ করা মানুষও আছে পৃথিবীতে। বিশ্বের যুদ্ধবিগ্রহের যত ইতিহাস, তার বেশিরভাগেই খলচরিত্র পুরুষের। আর এটা খুব বড় একটা কারণ হতে পারে অনেক নারীর মনে পুরুষের প্রতি ঘৃণা জন্মানোর। অথচ, খলনায়কদের ভিড়ে বীরদের সংখ্যাও এখানে অনেক! কিন্তু অনেকেই খারাপটাকে যতটা গভীরভাবে অনুভব করে, মনে রাখে বা নিজের ভেতর ধরে রাখে, ভালোটাকে সেভাবে মনে রাখে না। পুরুষদের প্রতি বিরূপ মনোভাব হবার পেছনে এই আচরণকেও কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে এখানে।
সমসাময়িক অরাজকতা
সমসাময়িক দুর্ঘটনা নির্দিষ্ট সময় নির্দেশ করে দেখানো হয়েছে যে ঘটমান সিংহভাগ হত্যাকাণ্ড, অরাজকতা পুরুষদের দ্বারা সংঘটিত হয়। এফবিআই এর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়ও পুরুষজাতির সরব উপস্থিতি। পুরুষবিদ্বেষের সূত্রপাত ঘটাতে এসব বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু, অনেকটা ক্ষার ও ক্ষারকের চিরচেনা সেই বাক্যের মতো এটাও সত্য যে, সব হত্যাকারী পুরুষ হতে পারে কিন্তু তাতে সব পুরুষ হত্যাকারী হয়ে যাচ্ছে না!
অরাজকতায় পুরুষের সম্পৃক্ততা বেশি
ব্যক্তিজীবনের তিক্ততা
যেটা নারীবিদ্বেষী হবার পেছনেও বড় একটা কারণ, ব্যক্তিজীবনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা, সেটাই পুরুষবিদ্বেষী হবার জন্য বড় কারণ বটে। একজন নারী যদি ব্যক্তিজীবনে পুরুষের দ্বারা বাজেভাবে আক্রান্ত হয়ে থাকে, শারীরিক এবং মানসিকভাবেও, সে পরবর্তীতে পুরুষবিদ্বেষী হতেই পারে। ভালোবাসার মানুষটা, নিকটাত্মীয়, সহকর্মী কিংবা যেকোনো অচেনা পুরুষ, একজন নারী যে কারো দ্বারাই তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হতে পারে। এবং তারপর তার কাছে সমগ্র পুরুষ জাতিই মন্দ হয়ে যায়! এখানে বিষয়টা এরকম, দোষ একজনই করছে, কিন্তু তার ফলস্বরূপ ঐ জাতির সবাই নারীর কাছে দোষী হয়ে থাকলো।
ব্যক্তিগত তিক্ততা বাজে অনুভূতির জন্ম দেয়
সাইকোলজি টুডের একটি প্রতিবেদনে একজন নারীবিদ্বেষীর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছিলো, তার আলোকে বিপরীতভাবে পুরুষবিদ্বেষীর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে আরেকটি প্রতিবেদনে।
পুরুষ অপছন্দ করা একজন নারী প্রাথমিকভাবে কোনো পুরুষের প্রতি মোহনীয় আচরণ করতে পারে। সে চাইতে পারে পুরুষটি তার প্রতি আকৃষ্ট হোক এবং তার অধীনস্থ হয়ে পড়ুক। এবং তারপর ধীরে ধীরে ঐ নারী নিজের কর্তৃত্ব ফলাতে থাকবে, সে প্রায় সবকিছুতেই তার সঙ্গীকে শাসন করার মনোভাব দেখাবে। সঙ্গীকে অসম্মান করার মতো ভাষাও ব্যবহার করবে যখন ইচ্ছা।
পুরুষকে দেয়া কথা রাখার ব্যাপারে এমন একজন নারী উদাসীন থাকবে। এবং তাতেও সে পুরুষকেই দায়বদ্ধ রাখার চেষ্টা করবে। বিষয়টা হাস্যকর বটে! এমন নারী নিজের পুরুষ সঙ্গীকে দেখা করার জন্য অযথা অপেক্ষা করাবে এবং আগে থেকে ঠিক করে রাখা পরিকল্পনা বাতিলও করবে, হতে পারে একদম শেষ মুহূর্তে। এইসব আচরণের পেছনে কারণ সেটাই, পুরুষকে অপদস্থ করা। একজন পুরুষবিদ্বেষী নারীর ভেতরে এই জিনিসগুলো থাকা বেশ স্বাভাবিক।
পুরুষকে অপদস্থ করাই যখন উদ্দেশ্য
অপ্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতেও একজন পুরুষবিদ্বেষী নারী নিজেকে কোনো পুরুষের কাছে অরক্ষিত, বিপদগ্রস্ত মনে করবে। এবং সেটা সে প্রকাশ করতেও পারে। কর্মক্ষেত্রে একজন পুরুষকর্মীকে সমতার নজরে দেখাটা তার কাছে স্বাভাবিক হবে না। পুরুষকে মাত্রাতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেয়াটা বরং অতি সাধারণ তার কাছে। প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে এরকম একজন নারী নিজের অধীনস্ত পুরুষকর্মীদের অধিক শাসনে রাখতে পছন্দ করবে, তাদের জরুরি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় রাখতে চাইবে না।
পুরুষসঙ্গী যদি তাকে একভাবে দখে, সে তার বিপরীতটা চাইবে। অধিক মনোযোগ দেখালে সে চাইবে সেটা কম হোক, আর পুরুষ কম মনোযোগী হলে সেটাকেই ঢাল বানাবে পুরুষের বিপক্ষে। অর্থাৎ সবকিছুতে পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ করাই তার উদ্দেশ্য হবে। পুরুষের বিরোধিতা করাটা ধীরে ধীরে এমন নারীর অভ্যাসে পরিণত হবে এবং এই কাজটি সে উপভোগ করবে।
পুরুষকে অকারণে ‘মেয়েলি’ বলে তাচ্ছিল্য করা, পুরুষের আবেগ দেখানোর স্বভাবকে বিচ্ছিরি বলে অভিহিত করা, একজন পুরুষ ঘরোয়া স্বভাবের হলে তাকে হাসিঠাট্টা করা এসবই পুরুষবিদ্বেষের লক্ষণ। নারীবিদ্বেষীর মতোই পুরুষবিদ্বেষীর সংখ্যাও নিতান্তই কম নয়। খুঁজে দেখলে আশেপাশেই দেখা মিলতে পারে এ স্বভাবের কোনো নারীর, পুরুষরা যার লক্ষ্যে থাকে নিগ্রহ করার বিষয় হিসেবে। এবং বলাই বাহুল্য, বিদ্বেষের এই জিনিসখানা সর্বক্ষেত্রেই খারাপ, হোক তা নারীর প্রতি আর হোক, আর তা পুরুষের প্রতি।
সংক্ষেপে দেখুনচ্যাটজিপিটিকে কিভাবে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা যাবে ?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ইন্টারনেট জগতের নতুন বিপ্লব। বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটির মধ্য দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করলো মানবসভ্যতা। আর এখান থেকে এআই প্রতিনিয়ত দ্রুত গতিতে অধিকতর বুদ্ধিমান এবং শক্তিশালী হবিস্তারিত পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ইন্টারনেট জগতের নতুন বিপ্লব। বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটির মধ্য দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন যুগে প্রবেশ করলো মানবসভ্যতা। আর এখান থেকে এআই প্রতিনিয়ত দ্রুত গতিতে অধিকতর বুদ্ধিমান এবং শক্তিশালী হতে থাকবে।
সে যা-ই হোক, চ্যাটজিপিটির আগমনের পর থেকেই একে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। ভারতের এক কোম্পানি তো রীতিমতো চ্যাটজিপিটিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঘোষণা করে সাড়া ফেলেছে। সেটিকে অবশ্য ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ বলেই মনে করছেন অধিকাংশ। তবে আপনি যদি আক্ষরিক অর্থেই আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের কথা ভেবে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য।
বাজার যাচাই
ব্যবসায় সাফল্যের জন্য কেবল নিজের ব্যবসাটা বুঝলেই চলবে না, বুঝতে হবে বাজারের হালহাকিকত, প্রতিযোগীদের অবস্থান এবং কৌশল। চ্যাটজিপিটি এক্ষেত্রে বিনামূল্যে (যদি প্রিমিয়াম ব্যবহার না করা হয়) চমৎকার সেবা প্রদান করতে পারে। চ্যাটজিপিটির শক্তিশালী মেশিন লার্নিং ক্ষমতা এবং ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং ফিচার বাজার সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত তুলনা ও বিশ্লেষণ করে তা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কৌশলগত সিদ্ধান্ত তৈরি করে দিতে পারে।
কন্টেন্ট তৈরি
ওয়েব ৩.০’র যুগে যেকোনো ব্যবসার দ্রুত প্রসারণ এবং সাফল্যের জন্য চাই ভার্চুয়াল জগতে উপস্থিতি। আর সেজন্য প্রয়োজন হয় কন্টেন্টের। চ্যাটজিপিটি আপনার এ কাজ ভীষণ সহজ করে দেবে। কেবল কন্টেন্ট লেখাই নয়, কন্টেন্ট তৈরির উদ্ভাবনী সব বুদ্ধিও দিতে পারবে এই এআই চালিত চ্যাটবট। কোম্পানির প্রচারণা সংক্রান্ত কন্টেন্ট থেকে শুরু করে ব্রশিয়ার লেখা, ওয়েবসাইট উপযোগী কন্টেন্ট কিংবা জনসংযোগের জন্য নিউজলেটার লেখা, সবই করতে পারবে চ্যাটজিপিটি। আপনার দায়িত্ব হবে দুটি- চ্যাটজিপিটিকে পর্যাপ্ত কিওয়ার্ড প্রদান করা এবং তৈরি কন্টেন্ট সম্পাদনা করা।
বিজ্ঞাপনী কৌশল নির্ধারণ
চ্যাটজিপিটিকে সৃজনশীল বিজ্ঞাপনী কৌশল তৈরি করে দিতে বললে চ্যাটজিপিটি এ কাজও করে দেবে, যদিও তা নিখুঁত হবে না। তথাপি, আপনি যে পণ্যটি বিক্রয় করতে চান তার যথাযথ বর্ণনা এবং কীরকম বিজ্ঞাপন চান সেসব তথ্য চ্যাটজিপিটিকে জানালে এই চ্যাটবট দারুণ সব কৌশল এনে হাজির করবে। অবশ্যই সেসব কৌশল অন্ধের মতো অনুকরণ করা চলবে না। কিন্তু সেগুলো থেকে আইডিয়া গ্রহণ করে দারুণ সব বিজ্ঞাপনী কৌশল নিজেই তৈরি করে ফেলতে পারবেন।
প্রাতিষ্ঠানিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল
যেকোনো মাঝারি থেকে বড় আকারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেরই আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থিতি জরুরি। ফেসবুক, লিংকডইন বা টুইটারে কোম্পানিগুলো আজকাল নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান, সাফল্য এবং পণ্য সম্পর্কে প্রচার প্রচারণা করে থাকে। এক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগ কিংবা আউটসোর্সিংয়েই ভরসা করে কোম্পানিগুলো। তবে চ্যাটজিপিটির আগমনে বিষয়টি এখন আপনারই হাতে। যেকোনো পণ্যের যথার্থ বর্ণনা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি সে লিখে দেবে দক্ষতার সাথে। শুধু তা-ই নয়, লেখাটি কোন মাধ্যমের জন্য করছেন সেটি উল্লেখ করে দিলে চ্যাটজিপিটি ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বাচনভঙ্গিতে কন্টেন্ট লিখে দেবে।
কাস্টমার সাপোর্ট
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ইমেজ রক্ষার্থে এবং ক্রেতাবান্ধব সেবাপ্রদানের জন্য কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি হতে পারে গেমচেঞ্জার। আপনার ওয়েবসাইটে কিংবা এপ্লিকেশনে চ্যাটজিপিটি ইন্টিগ্রেট করতে পারলে ক্রেতারা চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেই পেয়ে যাবে তাৎক্ষণিক নির্ভরযোগ্য সমাধান। আপনার প্রাথমিক কাজ হবে পাবলিক ডোমেইনে (ইন্টারনেটে) আপনার কোম্পানি সম্পর্কিত সকল তথ্যাদি এবং ক্রেতাদের সাধারণ প্রশ্নাবলী ও সমস্যা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর মজুদ রাখা।
নীতিনির্ধারণী সহায়তা
নীতিনির্ধারণের মতো ব্যাপারে চ্যাটবটের সহায়তা নেয়ার ব্যাপারটা অমূলক মনে হতে পারে। কিন্তু চ্যাটজিপিটির বিস্ময়করভাবে বৃহৎ তথ্যভাণ্ডারে ব্যবসায়িক নীতিনির্ধারণ, মানবসম্পদ তথা এইচআর কৌশল, কোম্পানির সিএসআর পলিসি, কাজের পরিবেশ সুরক্ষা সম্পর্কিত পরামর্শ, সবই উপস্থিত আছে। সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করলেই চলে আসবে উত্তর।
করণিক কাজকর্ম
ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে সময়ে ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্লানিং) ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। আপনার কোম্পানির ইআরপি সফটওয়্যারে চ্যাটজিপিটি ইন্টিগ্রেট করে নিলে এই ব্যবস্থা কয়েকগুণ শক্তিশালী এবং কার্যকর হয়ে যাবে। মেমো তৈরি করা, পণ্যের অর্ডার সংক্রান্ত কোট তৈরি করা, মাসিক বা বাৎসরিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট তৈরি করায় সহায়ক হতে পারে চ্যাটজিপিটি।
সবমিলিয়ে, ব্যবসা পরিচালনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হবার ক্ষমতা রয়েছে চ্যাটজিপিটির। একে যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং কিওয়ার্ড প্রদান করতে পারলে যেকোনো মানবসম্পদের চেয়ে কোনো অংশে কম দক্ষ হবে না এই সর্বাধুনিক এআই বিস্ময়।
সংক্ষেপে দেখুনআপনার অতি আবেগপ্রবণ সন্তানকে সামলাবেন কিভাবে ?
সায়েম আর সিয়াম দুই ভাই, দুজনেরই বয়স ১০ বছরের কাছাকাছি। সায়েম একদিন দৌড়াতে গিয়ে পড়ে হাঁটুতে ব্যথা পেলো। সে উঠে গিয়ে ব্যথা পাওয়া জায়গাটা পরিষ্কার করে ফেললো, বাসায় এসেও তেমন কিছু জানালো না। যদিও পড়ে যাওয়ার পর তার বন্ধুরা অনেক হাসাহাসি করছিল। আর অন্যদিকে সিয়ামও একদিন খেলতে গিয়ে ব্যথা পেলো, অন্যদের হাসাহবিস্তারিত পড়ুন
সায়েম আর সিয়াম দুই ভাই, দুজনেরই বয়স ১০ বছরের কাছাকাছি। সায়েম একদিন দৌড়াতে গিয়ে পড়ে হাঁটুতে ব্যথা পেলো। সে উঠে গিয়ে ব্যথা পাওয়া জায়গাটা পরিষ্কার করে ফেললো, বাসায় এসেও তেমন কিছু জানালো না। যদিও পড়ে যাওয়ার পর তার বন্ধুরা অনেক হাসাহাসি করছিল। আর অন্যদিকে সিয়ামও একদিন খেলতে গিয়ে ব্যথা পেলো, অন্যদের হাসাহাসি দেখে তার কান্না পেলো ভীষণ। তারপর বাসায় এসে মাকে জানিয়ে আরেক দফা কান্না জুড়ে দিলো।
আমরা সিয়ামের কথাই বলছি, তার সংবেদশীলতা বেশি! অন্যান্য ছেলে-মেয়েরা যখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, সে তখন তার চারপাশের সবকিছু মনোযোগ দিয়ে দেখছে। মানুষের আচরণ, তাদের অভিব্যক্তি, আশপাশের শব্দ, রঙ কিংবা তার সঙ্গে অন্যদের ব্যবহার সে দারুণভাবে বিশ্লেষণ করে। সে সামান্যতেই বিরক্ত হয়, চুপচাপ নিজের মতো থাকতে পছন্দ করে। তার সঙ্গ পেতে হলে তার মন বুঝতে হয়, নইলে বন্ধুত্ব সম্ভব নয় তার সঙ্গে! তার সমবয়সী অনেক বাচ্চা যখন সবকিছু নিয়ে মেতে থাকছে, তখন সে কেবল নিজের পছন্দের ব্যক্তি আর খেলনা নিয়েই খেলছে।
পিতা-মাতা হিসেবে এমন ‘অদ্ভুত‘ আচরণ হয়তো আপনি বরদাশত করবেন না। সবকিছুতে সংবেদনশীল এমন সন্তানকে লালন-পালন একটু কষ্টই বৈকি। কিন্তু এটা তার একার বৈশিষ্ট্য নয়, বাড়ন্ত শিশুদের ভেতর ১৫-২০ শতাংশের ভেতর এমন আচরণ দেখা যায়! এসব শিশুরা যথেষ্ট সামাজিক, সৃজনশীল, সহানুভূতিশীল আর কৌতূহলী স্বভাবের হয়ে থাকে, তবে সেটা তার খোলসের আড়ালেই ঢাকা থাকে। যতক্ষণ না আপনি তাকে খোলসের বাইরে বের করে না আনেন। এরকম সন্তানদের মানুষ করতে হলে একটু ভিন্নভাবেই আচরণ করা উচিত, সেগুলো নিয়েই আজকের লেখাটি।
আবেগপ্রবণতা মেনে নিন
আপনি যদি বুঝতে পারেন যে, আপনার সন্তানটি আসলে একটু বেশিই আবেগপ্রবণ, তাহলে সেটা সমস্যা মনে না করে স্বাভাবিক হিসেবেই নিন। এটাই হবে তার জন্য আপনার নেওয়া সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত। তার উপর যখন-তখন রেগে যাবেন না। তাহলে একসময় আপনার সঙ্গে বিষয়গুলো শেয়ার না করে নিজের ভেতর লুকাতে শুরু করবে। পরিণতিতে একটা সময় সে বিষণ্নতায় ভুগবে।

তাকে তার আবেগগুলো সহজাত ভঙ্গিতে প্রকাশ করতে দিন। আপনি বরং তার অনুভূতি প্রকাশের প্যাটার্ন লক্ষ্য করুন। আবেগ প্রকাশকালে প্রথমে তার কথা শুনুন। তারপর সমাধান দিন, এর সাথে সাথে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে পড়লে আবেগকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটা শিখিয়ে দিন। প্রথমদিকে এটা কাজ না করলেও সে একটা সময় গিয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণে আপনার পরামর্শ মেনে চলতে শুরু করবে। মনে রাখতে হবে, অতি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াটা তার একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য। এটাকে দূর করার চেষ্টা না করে বরং কীভাবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটাই তাকে শেখাতে হবে। তবেই সে স্বনির্ভর হবে আবেগ প্রকাশের দিক দিয়ে, পরিস্থিতি সামাল দিতেও আপনাকে তার সবসময় প্রয়োজন পড়বে না।
সন্তানের বন্ধু হোন
আবেগপ্রবণ সন্তানদের দেখে রাখা আপনার জন্য সহজ হতে পারে যদি আপনি তার বন্ধু হতে পারেন। শুধু মুখের কথায় নয়, আপনি তার বন্ধু হয়েছেন কি না সেটা সে আচরণের মাধ্যমেই প্রকাশ করবে। একবার তার বন্ধু হতে পারলে তার কর্মকাণ্ডগুলো সহজেই দেখে নিতে পারবেন। কারণ এমন সন্তানরা সাধারণত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আপনাকে জানাবে। যেখানে স্বাধীনচেতা আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারা সন্তানরা আপনার অনুমতির তেমন তোয়াক্কা করবে না।

আবেগপ্রবণ সন্তানরা যেহেতু পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়; বিশেষ করে উজ্জ্বল আলো, চিৎকার-চেঁচামেচি কিংবা অগোছালো পরিবেশের প্রতি তারা খুবই সংবেদনশীল। এমন পরিবেশে সে বেশিক্ষণ থাকতে চাইবে না, বরং নীরবতাই তার জন্য উপযুক্ত তখন। আপনার বাচ্চার আশপাশে যদি এমন পরিবেশ তৈরি হয় তবে বেশিক্ষণ সেখানে না রেখে বরং জায়গা বদলে ফেলুন। তাকে বই পড়তে দিন (যদি পড়তে পারে), ব্রিদিং এক্সারসাইজ করান কিংবা শান্ত করার জন্য ঘুম পাড়াতে পারেন। বাচ্চা রেগে গেলে তার জন্য ব্রিদিং এক্সারসাইজ খুবই কার্যকরী, বিশেষ করে সে যখন আপনার কাছাকাছি থাকে না।
নিয়মানুবর্তিতা শেখান
বাচ্চাদের ভেতর নিয়মানুবর্তিতা তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ! আর সন্তান যদি হয় আবেগপ্রবণ, তবে তার ভেতর নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস করানোটা আরও জরুরি। ইমোশনাল সন্তানরা যেহেতু বাবা-মায়ের প্রতি বেশি নির্ভরশীল হয়, তাদের ভেতর নিয়ম তৈরি করে দেওয়াটা আরও সহজ। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, নিয়মগুলো যেন তাকে আবার রাগিয়ে না দেয়, কিংবা নিয়মের ভারে সে যেন সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। বরং এমন কিছু অভ্যাসের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে যেগুলো তার জন্য তার আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। সেইসাথে আপনিও তাকে সময় দিতে পারেন, যখন সে বাইরের পরিবেশের সঙ্গে মিশে। প্রতিনিয়ত একটা ছন্দ পেলে সে নিজের উপর কনফিডেন্স তৈরি করতে পারবে।
সন্তানের চেষ্টাকে সমর্থন জানানো
স্বাভাবিকভাবে আপনার আবেগপ্রবণ সন্তান সহজে কিছু করতে চাইবে না, কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে মিশতে চাইবে না। বিশেষ করে এমন পরিবেশে, যেখানে সে একবার অপদস্থ হয়েছে। তার ছোট ছোট চেষ্টাগুলোকে তাই সমর্থন জানাতে হবে, যত বিচ্ছিন্ন চেষ্টাই হোক না। যেমন, সে যদি ছবি আঁকতে গিয়ে অন্যদের মতো না পারে, অর্থবোধক আঁকিবুকি না করে, তবে তাকে বকা দেবেন না। বরং তাকে জানাতে হবে, সে যেটা চেষ্টা করছে এটা দারুণ! তবে ছবিটা এভাবে আঁকলে আরও সুন্দর হতে পারে। সে তখন আপসেট না হয়ে কিংবা রেগে না গিয়ে নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করবে। এটা মনে রাখতে হবে যে, আবেগপ্রবণ সন্তানরা সাধারণত কষ্টকর কিংবা যেসব কাজে সে ব্যর্থ সেগুলো থেকে তার মনোযোগ সরিয়ে নেয়। এটা করার ব্যাপারে সে হয়তো আপনাকে মিথ্যে বলতে পারে, যদি না তার চেষ্টাগুলোকে আপনি সমর্থন জানান।
সন্তানকে পুরষ্কৃত করুন
যেকোনো বাচ্চাই উপহার হিসেবে কিছু পেলে খুশি হয়। আর সেনসিটিভ বাচ্চা যদি উপহার পায়, তবে তো কথাই নেই! যে ভয়, অপমানবোধ তাকে পিছে ঠেলে দেয়, সেগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখানো যাবে আপনার বাচ্চাকে পুরষ্কৃত করার মাধ্যমে। তাকে যথাসাধ্য কাজের ফলাফল হিসেবে উপহার দিন। তারপর তাকে জানান, সে অমুক কাজটা ঠিকভাবে (অন্তত চেষ্টা) করার জন্য পুরষ্কারটা পেয়েছে। এতে তার কাজের উদ্যম বহুগুণ বেড়ে যাবে। তার কাজের ফলাফল হিসেবে উপহার প্রদানে ভিন্নতা আনুন। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আপনার উপস্থিতিও তার জন্য বড় উপহার হতে পারে। তাই তার পছন্দ-অপছন্দ, শক্তি-দূর্বলতার জায়গাগুলো জেনে নিন আগে থেকে।
অল্প কথায় আবেগ প্রকাশ
আবেগপ্রবণ বাচ্চারা যত সহজে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, তত সহজে সেগুলোকে প্রকাশ করতে পারে না। তাই তার আবেগতাড়িত অনুভূতিগুলোকে সংজ্ঞায়িত করতে সহায়তা করুন। কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে, কতটুকু আবেগ প্রকাশ করতে হবে, সেটা তাকে শেখানো গেলে পরবর্তীতে আর দ্বিধায় ভুগবে না সে। আবার নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে তার পরবর্তী জীবনে।
সন্তানের সমস্যার সমাধান করুন
সবসময় সন্তানের সব আবদার আর অভিযোগ শোনার মানসিকতা আপনার না-ও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রেগে না গিয়ে বরং সন্তানের কাছে সময় চেয়ে নিন, তাকে আশ্বস্ত করুন। রেগে গিয়ে যদি শাস্তি দিতে যান, তবে আপনার সব শিক্ষা বিফলে যেতে পারে! শাস্তির চেয়ে ডিসিপ্লিন শেখালে সে আরও অর্থপূর্ণ আচরণ করবে ভবিষ্যতে। আপনি নিজেকে গুছিয়ে নিতে সময় নিন, অবশ্যই আপনার সন্তান যেনো বুঝতে না পারে তাকে গোছাতে গিয়ে আপনিও অগোছালো হয়ে পড়েছেন!

সংক্ষেপে দেখুনআপনাকে সবসময় একটা সত্য মেনে চলতে হবে, আপনি অতিসংবেদনশীল বাচ্চা বড় করে তুলছেন। সে আপনারই অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাকে বাদ দিয়ে আপনার জীবন অপূর্ণ। তাই তাকে বড় করে তোলাটা সমস্যা হিসেবে না দেখে, স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। হয়তো সবকিছু সময়মতো হবে না, তবে একদিন হবে- এই বিশ্বাস আর ধৈর্য নিয়ে এগোতে পারলেই তবে সন্তানকে আগামীর জন্য উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।
বিশ্বনেতাদের ব্যবহৃত অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত প্লেনগুলো কেমন?
সাধারণ মানুষ প্লেনে ইকোনমিক ক্লাস সিট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। যাদের আরো একটু আরাম আয়েশের দরকার হয়, তারা বিজনেস ক্লাস বা ফার্স্ট ক্লাস সিটের টিকেট কিনতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের কর্ণধাররা? তাদের জন্য থাকে সম্পূর্ণ পৃথক প্লেন এবং তাতে থাকে অত্যাধুনিক সব সুযোগ সুবিধা। এগুলোর মূল্যও হয় সাধারণ যাত্রীবাহী বিমাবিস্তারিত পড়ুন
সাধারণ মানুষ প্লেনে ইকোনমিক ক্লাস সিট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। যাদের আরো একটু আরাম আয়েশের দরকার হয়, তারা বিজনেস ক্লাস বা ফার্স্ট ক্লাস সিটের টিকেট কিনতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের কর্ণধাররা? তাদের জন্য থাকে সম্পূর্ণ পৃথক প্লেন এবং তাতে থাকে অত্যাধুনিক সব সুযোগ সুবিধা। এগুলোর মূল্যও হয় সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের চেয়ে অনেক বেশি।
অবশ্য একে খুব একটা অপচয় হয়তো বলা যাবে না। কেননা, রাষ্ট্রের প্রধানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সেটা অনেক সময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তার উপরও হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই রাষ্ট্রের স্বার্থেই রাষ্ট্রপ্রধানরা অতিরিক্ত নিরাপত্তার খাতিরে বিশেষ কিছু সুযোগ সুবিধা পাওয়ার দাবি রাখেন। চলুন তবে দেখে নিই, বিশ্বের ক্ষমতাবান কয়েকজন রাষ্ট্র প্রধানের ব্যবহৃত প্লেনগুলো, তাদের মূল্য এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
এয়ার ফোর্স ওয়ান
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানের নাম এয়ার ফোর্স ওয়ান। এয়ার ফোর্স ওয়ানের অধীনে হুবহু একই রকম দুটি প্লেন আছে। এগুলো মূলত বোয়িং ৭৪৭- ২০০বি (Boeing 747-200B) প্লেনের পরিবর্তিত সংস্করণ, যদিও সামরিক পরিভাষায় এগুলো ভিসি-২৫এ (VC25A) নামে পরিচিত। এই প্লেনটির দৈর্ঘ্য ৭০ মিটার, অভ্যন্তরীন প্রস্থ বা ফিউজলেজ ৬.৫ মিটার এবং দুই ডানা পর্যন্ত প্রস্থ ৬৫ মিটার। কোনো এয়ারপোর্ট যদি বিশালাকার এই প্লেনকে ল্যান্ড করানোর জন্য উপযোগী না হয়, তখন প্রেসিডেন্ট অপেক্ষাকৃত ছোট একটি প্লেন বোয়িং সি-৩২ ব্যবহার করেন।
ভিসি-২৫এ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত অত্যাধুনিক একটি প্লেন। ডাবল ডেকার এই প্লেনটিতে আছে একটি যোগাযোগ কেন্দ্র, যেখানে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে কয়েকটি জরুরী ফোন লাইন সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকে। এতে অস্ত্রোপচারে সক্ষম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মেডিক্যাল ইউনিট আছে। প্রেসিডেন্টের থাকার জন্য আছে ৩৭০ বর্গ মিটারের একটি ভিআইপি কেবিন, যাতে বেডরুম এবং বাথরুম ছাড়াও একটি জিম এবং একটি অফিসরুম আছে। প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের জন্য এতে পৃথক পৃথক অফিস আছে। এছাড়াও ভ্রমণের সঙ্গী হওয়া সাংবাদিকদের জন্যও আছে পৃথক একটি কেবিন।
এয়ার ফোর্স ওয়ানের ভেতরের গঠন
ভিসি-২৫এ প্লেনগুলো ঘন্টায় ১,০০০ কিলোমিটার বেগে টানা ১৪,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। এগুলো মাঝ আকাশে থাকা অবস্থাতেই জ্বালানি ভরতে সক্ষম। প্রথম ভিসি-২৫এ এর ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছিলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি ন্যান্সি রিগ্যান। ন্যান্সি হোয়াইট হাউজের অনেকগুলো অংশকে নতুন করে সাজানোর জন্য বিখ্যাত ছিলেন। গত কয়েক দশকে প্লেনটিতে অনেক নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হলেও মূল নকশা এখনও অনেকটাই অপরিবর্তিত আছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানের প্রতিটি প্লেনের মূল্য আনুমানিক ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার।
ভ্লাদিমির পুতিন
ভ্লাদিমির পুতিনের আইএল-৯৬-৩০০পিইউ প্লেন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বহনকারী প্লেনটি হচ্ছে রাশিয়ার নির্মিত আইএল-৯৬-৩০০পিইউ (IL-96-300PU) মডেলের একটি বিশালাকৃতির প্লেন, যাকে প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে নেওয়া হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ মিটার এবং এটি ২৭০ টন ভার বহনে সক্ষম। প্লেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৯০০ কিলোমিটার।
বাইরে থেকে দেখতে একই মডেলের যাত্রীবাহী বিমানগুলোর মতো হলেও প্রেসিডেন্টকে বহনকারী প্লেনের ভেতরে অত্যাধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আছে। এর কেবিনগুলো অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ পর্দা এবং স্বর্ণের আচ্ছাদন দ্বারা আবৃত। একটি টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র ছাড়াও এতে আছে প্রশস্ত একটি অফিস, বেডরুম এবং সব ধরনের ব্যবস্থা সহ অত্যাধুনিক একটি জিম।
পুতিনের প্লেনের ইনফোগ্রাফ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বহনকারী প্লেনটিতে রাডার জ্যাম করে দেওয়ার প্রযুক্তি এবং বিমান বিধ্বংসী মিসাইল বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। অধিকতর নিরাপত্তার জন্য হুবহু একই রকমের চারটি প্লেনের ব্যবস্থা আছে। প্রেসিডেন্ট কোথাও যেতে চাইলে সবগুলো প্লেনকে একই সাথে প্রস্তুত করা হয়। শেষ মুহূর্ত ছাড়া কেউ জানতে পারে না, ঠিক কোন প্লেনটি যাত্রা করবে। এবং যাত্রা শুরুর পর প্লেনটির সাথে সাথে অন্তত একটি, এবং কখনো কখনো চারটি প্লেনই যাত্রা করে। প্লেনগুলোর প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।
অ্যাঙ্গেলা মার্কেল
অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের কনরাড অ্যাডেনয়্যার
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের ব্যবহারের জন্য অনেকগুলো প্লেন আছে। কিন্তু তার সবচেয়ে পছন্দের এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্লেনটি হলো একটি এয়ারবাস এ৩৪০-৩১৩এক্স (Airbus A340-313X) ভিআইপি প্লেন, যেটি জার্মানির যুদ্ধ পরবর্তী প্রথম চ্যান্সেলরের নামানুসারে ‘কনরাড অ্যাডেনয়্যার’ নামে পরিচিত। এটির হুবহু আরেকটি সংস্করণ আছে, যা জার্মানির প্রথম প্রেসিডেন্টের নামানুসারে ‘থিওডোর হয়েস’ নামে পরিচিত। ২০১১ সালে প্লেন দুটোকে চ্যান্সেলরের ব্যবহারের জন্য বিমান বাহিনীতে নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এগুলো লুফথানসা এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
কনরাড অ্যাডেনয়্যার প্লেনটিকে চ্যান্সেলের জন্য উপযোগী করে সংস্কার করা হয়েছে। এতে একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট, বেডরুম, অফিস ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সিং এর সুবিধা সম্বলিত একটি কনফারেন্স হল এবং জরুরী আলোচনার জন্য একটি শব্দ নিরোধক কক্ষ আছে। এতে মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। একনাগাড়ে ১৩,৫০০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম প্লেনটিতে চড়ে কোনো বিরতি ছাড়াই বার্লিন থেকে ওয়াশিংটন, বেইজিং বা রিও ডি জেনিরোতে পৌঁছানো যায়। প্লেনটির আনুমানিক মূল্য ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ঝি জিনপিং
ঝি জিনপিংয়ের ব্যবহৃত প্লেন
অন্যান্য বিশ্বনেতাদের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের নেতা, কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব ঝি জিনপিংয়ের নিজস্ব কোনো বিশেষ প্লেন নেই। ভ্রমণের জন্য তিনি দুটি বোয়িং ৭৪৭-৪০০ (Boeing 747-400) প্লেন ব্যবহার করেন, যেগুলো মূলত এয়ার চীন এয়ারলাইন্সের সম্পত্তি। সাধারণ অবস্থায় প্লেনগুলো যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু জিনপিং যখন কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তখন রাষ্ট্রীয় বিশেষ নিরাপত্তাবাহিনী প্লেনগুলোকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করে এবং এর আসনগুলো সরিয়ে সেসব স্থানে অস্থায়ী বেডরুম, অফিস এবং অন্যান্য কেবিন স্থাপন করে। ভ্রমণ শেষে প্লেন দুটোকে পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং এয়ারলাইন্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চীনের নেতার ব্যবহৃত প্লেনগুলোর প্রতিটির মূল্য ২৫০ মিলিয়ন ডলার। তবে প্লেনগুলোর ভেতরে কী ধরনের আসবাবপত্র বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকে, সে ব্যাপারে চীনের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয় না। রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাথে মিল রেখে চীনও তাদের নেতার জন্য একাধিক পৃথক প্লেন ক্রয় করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্যান অ্যান্টনিও এয়ারপোর্টের কাছে হস্তান্তর করেছিল সেগুলোকে মেরামত করার জন্য। কিন্তু বাস্তবে চীনের নেতারা কখনোই সেগুলো ব্যবহার করেননি। ধারণা করা হয়, নিরাপত্তাই এর প্রধান কারণ।
ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো
ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর ব্যবহৃত প্লেন
ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি ব্যবহার করতেন একটি এয়ারবাস এ৩১৯। কিন্তু একবার উড্ডয়নের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে প্লেনটির একটি ইঞ্জিন অকেজো হয়ে যাওয়ায় তার পরিবর্তে একটি এয়ারবাস এ৩৩০-২০০ (Airbus A330-200) কেনা হয়। সারকোজির পর এই প্লেনটি প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ ব্যবহার করেছিলেন, এবং বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোও একই প্লেন ব্যবহার করছেন।
বিশাল আকারের বেডরুম, বাথরুম, ড্রেসিংরুম, কিচেন, একটি অফিস কক্ষ, শব্দনিরোধক আলোচনা কক্ষ ছাড়াও এতে আছে সেনাবাহিনী সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের উপযোগী একটি যোগাযোগ কক্ষ। এতে এমন সব অত্যাধুনিক যোগাযোগ যন্ত্রপাতি আছে, যা সাংকেতিক ভাষায় রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য প্রেরণ, গ্রহণ এবং সেগুলোর মর্ম উদ্ধার করতে পারে। প্লেনটির আনুমানিক মূল্য ২৭০ মিলিয়ন ডলার।
তামিম বিন হামাদ আল-থানি
কাতার আমিরি ফ্লাইটের বিমানবহর
ক্ষুদ্র উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্রগুলোর একটি। এর আমির তামিম বিন হামাদ আল-থানি বিশ্বের সেরা ধনীদের মধ্যে অন্যতম। স্বভাবতই তাকে এবং তার রাজপরিবারের সদস্যদেরকে বহনকারী প্লেনও হবে পুরো দুনিয়াকে তাক লাগানো। কাতারের আমির যখন বিদেশে যান, তখন প্রায় সময়ই তার সফরসঙ্গীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। এবং তাদের সাথে থাকা ব্যক্তিগত গাড়ি সহ অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর মোট ওজন কয়েক টন ছাড়িয়ে যায়। ফলে মাত্র একটি প্লেনের পক্ষে তাদেরকে বহন করা সম্ভব হয় না। তিনি যখন জাপান সফরে গিয়েছিলেন, তখন তার সাথে গিয়েছিল ১০টি প্লেনের বিশাল বহর।
কাতারের রাজপরিবারের সদস্যদেরকে বহন করার জন্য “কাতার আমিরী ফ্লাইট” নামে পৃথক একটি ভিআইপি এয়ারলাইন আছে। ২০১৬ সালের আগস্টের এক হিসেব অনুযায়ী এতে মোট ১৪টি প্লেন আছে। পৃথক পৃথকভাবে এগুলোর প্রতিটির মূল্য গড়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার হলেও একত্রে এগুলোর সর্বমোট মূল্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
সংক্ষেপে দেখুন২১ শতকে টিকে থাকলত হলে আপনার কেমন দক্ষতা থাকা প্রয়োজন ?
“ভবিষ্যতে রোবটরা আপনার চাকরিকে নিয়ে নেবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার মস্তিষ্ককে হ্যাক করে ফেলবে- এবং এই ভবিষ্যতটাও খুব দূরে নয়”, বিখ্যাত ঐতিহাসিক এবং লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারি এমনটাই বলছেন তার নতুন বই ‘টুয়েন্টি ওয়ান লেসন্স ফর দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’-তে। কিন্তু আপনি কেন তাকে বিশ্বাস করবেন? কারবিস্তারিত পড়ুন
“ভবিষ্যতে রোবটরা আপনার চাকরিকে নিয়ে নেবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার মস্তিষ্ককে হ্যাক করে ফেলবে- এবং এই ভবিষ্যতটাও খুব দূরে নয়”, বিখ্যাত ঐতিহাসিক এবং লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারি এমনটাই বলছেন তার নতুন বই ‘টুয়েন্টি ওয়ান লেসন্স ফর দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’-তে।
কিন্তু আপনি কেন তাকে বিশ্বাস করবেন? কারণ তিনি তার পুরো ক্যারিয়ারই গড়ে তুলেছেন ইতিহাসকে পড়ে, মানুষ নিয়ে গবেষণা করে। হিব্রু ইউনিভার্সিটি অফ জেরুজালেমের এই ইতিহাসের প্রফেসর ইতোমধ্যে তিন-তিনটি আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার বই লিখে ফেলেছেন শুধু মানুষকে নিয়েই। তিনি তার প্রথম বই ‘সেপিয়েন্স’-এ দুনিয়া কাঁপিয়েছেন মানবজাতির ইতিহাসকে সহজ ভাষায় লিপিবদ্ধ করে, তার পরের বই ‘হোমো ডিউস’-এ তিনি লিখেছেন আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে, এবং তার এই বইটি কথা বলছে বর্তমান নিয়ে, কী হচ্ছে এই বর্তমানে এবং তা আমাদের জন্য কী অর্থ বহন করে।
তার মতে, প্রযুক্তির নতুনত্ত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এতটাই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে যে, এর দূরপাল্লার ফলাফল কেমন হতে পারে সেই সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই নেই। (১৫ বছর আগে ফেসবুক বলে কিছু ছিলই না, সেই ফেসবুকই এখন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে, ঘটিয়ে ফেলছে আরব বসন্তের মতো ঐতিহাসিক বিপ্লব। ভেবে দেখুন, আরও ১৫ বছর পরে এই ফেসবুকের প্রভাব কোথায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে।) তিনি বলছেন, অটোমেশনের মুখে আমরা আমাদের বর্তমান চাকরিকে একসময় হারিয়ে ফেলবো। তারপর যে চাকরিই নেই না কেন, অটোমেশন সেই চাকরি একসময় কেড়ে নিবেই। একসময় আমাদের জীবনের সম্পূর্ণটাই নিয়ন্ত্রণ করবে অ্যালগরিদম, আমাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব বা সত্ত্বাই হারিয়ে যাবে।
আর এসব হুমকির মুখে আমাদের কী কী দক্ষতা প্রয়োজন? দরকার এমন মানসিক নমনীয়তা এবং সংস্কারহীনতা, যাতে প্রতি দশকে আমরা নতুন করে আবিষ্কার করতে পারি নিজেদেরকে। আরও দরকার নিজেকে এমনভাবে জানা যে, প্রযুক্তি আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে।

লেখক ও ঐতিহাসিক ইউভাল নোয়াহ হারারি
এসব নিয়েই ইউভাল নোয়াহ হারারি কথা বলেছিলেন ‘জিকিউ’ ম্যাগাজিনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে।
আপনার লেখায় আপনি বলছেন, বর্তমান পৃথিবীর ভবিষ্যত সম্পর্কে একমাত্র নিশ্চিত ব্যাপার হচ্ছে এটি অনিশ্চিত। এই অনিশ্চয়তার প্রভাব আমাদের উপর কেমন হতে পারে?
আপনি যদি খুব বেশি বৃদ্ধ না হয়ে থাকেন, এটা খুবই সম্ভাব্য যে আপনার পরবর্তী দশকগুলোতে নিজেকে বারবার নতুন করে আবিষ্কার করতে হবে, পেশা পরিবর্তন করতে হবে বেশ কয়েকবার।
অনেকে ভাবেন, দুনিয়া হয়তো একবারই পরিবর্তন হবে, বড়সড় বিপ্লব হয়ে যাবে কোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে। ধরুন, সেটা ২০২৫, যেখানে আমরা দেখবো রোবটরা আমাদের ৬০% চাকরি নিয়ে নিয়েছে। তারপর কয়েকবছর আমাদের একটু কষ্ট করতে হবে, তারপর দেখবো আবার নতুন নতুন চাকরি তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে, একসময় অর্থনীতি একটি নতুন ধরনের সাম্যাবস্থায় চলে আসবে।
কিন্তু এই চিন্তার সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে, এখানে ধরে নেয়া হচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার সর্বোচ্চ ক্ষমতায় পৌঁছে যাবে ২০২৫ এই। তারপরও যে পরিবর্তন হতে পারে, সেটা ভাবা হচ্ছে না। হ্যাঁ, ২০২৫ সালে গিয়ে আমরা দেখবো অনেক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ২০৩৫ সালের পরিবর্তন হবে তার থেকেও বড়, ২০৪৫ সালেরটা তার থেকেও, আর মানুষকে এই প্রত্যেকটি পরিবর্তনের সাথে নিজেকে সমন্বিত করে নিতে হবে।

রোবটদের হাতে চলে যেতে পারে আমাদের চাকরিগুলো
একে মোকাবেলা করা জন্য আপনি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে আসলে এ ধরনের সমস্যার সামনে আমাদের ক্ষমতা খুবই সীমিত। আপনি যদি অনেক বিত্তবান হন, তখন হয়তো আপনার এসব সমস্যার প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে অনেক পুঁজি আছে, সম্পদ আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আসলে এক্ষেত্রে অনেক সাহায্যের দরকার। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে হচ্ছে পর্যাপ্ত ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এবং মানসিক ভারসাম্য, কারণ সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো এক্ষেত্রে হবে মনস্তাত্ত্বিক।
রোবটদের কাছে চাকরি হারিয়ে আপনি যদি নতুন চাকরিও পান, কিংবা সরকারই আপনাকে ভরণপোষণ করে, তখনও এ ধরনের পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে আপনার প্রচুর মানসিক শক্তি থাকতে হবে। কৈশোরে বা তারুণ্যে পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা ভালো থাকে। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর, অর্থাৎ যখন আপনার বয়স ৪০ বা ৫০, তখন কিন্তু পরিবর্তন আপনার জন্য বেশ পীড়াদায়ক হবে। এ সময় আপনার মানসিক শক্তি যদি সাথে থাকে, তবেই আপনি পারবেন ৩০, ৪০ বা ৫০ বছর বয়স পেরোবার সময় প্রতিবারই নতুন একটি পৃথিবীর মুখোমুখি হতে। এখন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ আসলে কোনো নির্দিষ্ট দক্ষতা নয়, কম্পিউটার কোডিং পারা বা ম্যান্দারিন ভাষায় দক্ষ হওয়ার চেয়ে মানসিকভাবে নমনীয় হওয়া এবং নিজের ব্যক্তিত্বকে পরিবর্তনের প্রতি স্বচ্ছন্দ করে তোলা অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখন।
কিন্তু এরকম মনস্তত্ত্ব একজন মানুষ কীভাবে তৈরি করতে পারেন?
আমি ধ্যান করি, বিপাস্যনা (একধরনের বৌদ্ধিক ধ্যান) করি। আমি প্রতিদিন দু’ঘণ্টা করে ধ্যান করে থাকি। আমি প্রায়ই প্রশান্তির জন্য নিভৃতে চলে যাই, প্রতি বছরে ৬০ দিন আমার ধরা থাকে এর জন্য। আমার জন্য এ ব্যাপারটি কাজ করে। তবে আমার জন্য কাজ করে বলেই সবার জন্য কাজ করবে ব্যাপারটি সেরকম নয়। একেকজনের জন্য কার্যকরী হবে একেকটি প্রক্রিয়া। কেউ কেউ থেরাপি নেন, কেউ শিল্পে মনোনিবেশ করেন, কেউ খেলাধুলায়। এমনও হতে পারে আপনি এক সপ্তাহ পাহাড়ে হাইকিং করলেন এবং এতেই মনে হলো আপনার মন অনেক নমনীয় হয়েছে আগের থেকে। সুতরাং এই ব্যাপারটি পুরোই ব্যক্তিসাপেক্ষ, আমার মনে হয় না সার্বজনীন কোনো উত্তর আছে এখানে।

মেডিটেশন আপনার মনস্তত্ত্বকে নমনীয় করে তুলতে পারে
তবে আমাদের সবসময়ই এগুলোর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিজেদের কাছে পরিষ্কার থাকতে হবে- আমরা আমাদেরকে নিজেদেরকে আরো ভালো করে জানার চেষ্টা করছি এবং মানসিক নমনীয়তা অর্জনের চেষ্টা করছি। এটা আমাদের কোনো শখ হিসেবে না, জীবনের অন্যতম একটি মূল কাজ হিসেবেই করা উচিত। আগামী দশকগুলোতে এই দক্ষতাই আপনার জন্য হবে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
এখানে একটি বাস্তবিক উদাহরণ আমি যদি না দেই তবে এই কথাগুলো শুনতে খুব বেশি তাত্ত্বিক শোনাতে পারে। ধরুন, আপনি একটি ব্যাংকে কাজ করেন এবং বেশ সফল ক্যারিয়ারও গড়ে ফেলেছেন আপনি ইতোমধ্যে। কিন্তু আজ থেকে ১০ বছর পর আপনি দেখলেন আপনার কাজগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার থেকে বেশি পাকা হয়ে গিয়েছে। আপনি স্টক এক্সচেঞ্জের হিসাব নিকাশ করতেন, কিন্তু অ্যালগরিদম সেই হিসাব এখনো আরো নিখুঁতভাবে কম সময়ে করতে পারে এবং তাকে কোনো বেতনও দেয়া লাগে না। সুতরাং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাার কাছে আপনি আপনার চাকরি হারিয়ে ফেললেন। তখন আপনার অন্য কোনো চাকরিতে যেতে গেলে গত ১০ বছরে যা কিছু অর্জন করেছেন সব ভুলে গিয়ে নতুন করে অনেক কিছু শিখতে হবে। শুধু দক্ষতার দিক দিয়েই না, আপনাকে পিছনে ফিরে যেতে হবে আরো অনেক অনেক দিক থেকে। এমন অবস্থাও দাঁড়াতে পারে যে আপনি যা শিখেছেন এবং অর্জন করেছেন তা ত্যাগ করলেও হচ্ছে না, আপনার নিজের প্রতি নিজের যে ধারণা ছিল, তাও বদলাতে হচ্ছে। আপনি তখন আর জানেন না আপনি আসলে কী করেন, সমাজে আপনার পরিচয় কী। তাই এসব পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য আপনার প্রচুর মানসিক নমনীয়তা এবং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স দরকার।

আপনার ব্যাংকের হিসাবনিকাশের কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরো নিখুঁতভাবে করতে পারবে
আপনার কাজ প্রযুক্তির সাথে আপনার সম্পর্ককে কীভাবে পরিবর্তিত করেছে?
আমি কোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করি না। আমার মনোযোগ আমার কাছে আমার অন্যতম বড় একটি সম্পদ এবং সেই মনোযোগকে আমার নিজের নিয়ন্ত্রণ থেকে কেড়ে নেবার জন্য এই স্মার্টফোনটি সবসময় মুখিয়ে থাকে। সবসময়ই সেখানে নতুন কিছু না কিছু আসছে।
আমি প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ব্যবহারের উদ্দেশ্য কি আমি নিজে ঠিক করছি নাকি প্রযুক্তিই ঠিক করে দিচ্ছে সে ব্যাপারটি সবসময় খেয়াল করি। প্রযুক্তি কিন্তু প্রায়ই ঠিক করে দেয় আমরা কী উদ্দেশ্যে তাকে ব্যবহার করছি। ধরুন, আপনার একটু অবসর আছে, ইউটিউব খুললেন, দু’ঘন্টা পর দেখা যাবে আপনি এখনো ইউটিউবেই পড়ে আছেন, দেখছেন ফানি ভিডিও বা গাড়ির এক্সিডেন্ট বা এ ধরনের কিছু। আপনি কিন্তু কখনোই সিদ্ধান্ত নেননি যে পরবর্তী দু’ঘন্টা আপনি এসব ভিডিও দেখে কাটাবেন, প্রযুক্তিই আপনার হয়ে সে সিদ্ধান্ত নিয়ে দিয়েছে। আপনার মনোযোগকে তারা এত নিপুণভাবে কেড়ে নিয়েছে যে আপনি টেরই পাননি।
এই মনোযোগ কেড়ে নেয়া প্রযুক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখাটা আপনার জীবনমানকে কীভাবে বদলে দিয়েছে?
আমার জীবনে এখন অনেক সময়। এবং সেই সময়টা শান্তিপূর্ণও বটে। আসলে এটা তো গোপন কোনো ব্যাপার নয়। প্রযুক্তি তো কোনো শান্তিপূর্ণ আবেগ দিয়ে আপনার মনোযোগ কাড়তে পারবে না, তারা এটা করবে আপনাকে উত্তেজিত করে, আপনার মনে ভয়, ঘৃণা বা ক্রোধের উদ্রেক করার মাধ্যমে, কিংবা আপনার লোভকে ইন্ধন দেবার মাধ্যমে। ধরুন, কেউ যদি ইমিগ্র্যান্টদের মনে মনে ভয় পায় বা ঘৃণা করে, প্রযুক্তির অ্যালগরিদম ইমিগ্র্যান্টদের নেতিবাচক দিক নিয়ে একের পর এক ভিডিও দেখাতে থাকবে। আবার, কেউ ধরুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একদমই পছন্দ করে না, তারা প্রযুক্তির বশবর্তী হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রাম্পের খারাপ কাজের ভিডিও দেখবে এবং তার ক্রোধ বাড়তেই থাকবে, বাড়তেই থাকবে। এবং এই খবরগুলো যে সত্য হওয়া লাগবে এমনও না- একজন যদি হেডলাইন দেখে যে “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন পৃথিবী সমতল”, তারা সেই নিউজে বা ভিডিওতে ক্লিক করবেই।
এসব আপনার মনোযোগ কেড়ে নিতে বাধ্য, কারণ মানুষ হিসেবে এখানেই আপনার দুর্বলতা। কিন্তু আপনি যদি আপনার দুর্বলতার কাছে হেরে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা এগুলোই পড়ে বা দেখে কাটিয়ে দেন তবে প্রকৃতপক্ষে আপনি নিজেই নিজেকে রাগান্বিত এবং ঘৃণাপূর্ণ করে তুলছেন। আর এই ব্যাপারটা আরো ভয়ংকর হয় তখনই যখন আপনি যেসব ভিডিও দেখছেন বা খবর পড়ছেন এগুলো যদি বেশিরভাগই সত্য না হয়। কিন্তু এটাই বাস্তবতা, সামাজিক মাধ্যমে যেসব খবর আপনি পাচ্ছেন তার অনেকটুকুই সত্য নয়, বানোয়াট। অথচ আপনি শুধু শুধুই কয়েক ঘন্টা ধরে নিজের মাঝে ঘৃণা এবং রাগের উদ্রেক করেছেন।
লোভের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একইরকম। আপনি যদি খুব করে একটা কিছু চান, একটি আলিশান বাড়ি বা সুন্দর গাড়ি, তখন আপনি এগুলো নিয়ে বানানো ভিডিও দেখবেন এবং সেগুলোকে আরো বেশি করে চাবেন। কিন্তু আপনার যেহেতু সেসব থাকবে না, আপনার নিজেকে নিয়ে হীনম্মন্যতা আরো বাড়তে থাকে যে আপনার এরকম বাড়ি নেই, এরকম গাড়ি নেই। সুতরাং দেখা যাবে আপনি আপনার লোভকে এক ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে আরো বাড়ালেন, যে ব্যাপারটি আপনার জন্য মোটেও ভালো হলো না।

আপনার জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে স্মার্টফোন
আপনি নিজেকে যতটা ভালো করে জানবেন, প্রযুক্তির এই ভয়াল থাবা থেকে নিজেকে ততটা নিরাপদ রাখতে পারবেন আপনি। আপনি যদি জানেন যে আপনার কী কী দুর্বলতা আছে, কী কী লোভ আছে, এই রাগ ঘৃণা লোভের বশবর্তী অবশ্যই তুলনামূলকভাবে কম হবেন আপনি। অ্যালকোহলিক বা ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে যেমন নেশামুক্ত হবার প্রথম ধাপ হচ্ছে নিজের কাছে স্বীকার করা যে, “আমি ধূমপায়ী বা অ্যালকোহলিক এবং এটা আমার জন্য খারাপ”, এ ব্যাপারটিও অনেক তেমনই।
তাহলে আপনি খবর পান কোথা থেকে?
প্রতিদিনের নিউজ আমি খুব কমই অনুসরণ করি। আমি বরং নিজেদের পছন্দের জায়গাগুলো নিয়ে বড় বড় বই পড়ে থাকি। চীনা অর্থনীতি সম্পর্কে ১০০টা ছোট ছোট খবর পড়ার থেকে আমার কাছে চীনা অর্থনীতি সম্পর্কে লেখা একটি বড় বই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলাকে বেশি ভালো মনে হয়। সেক্ষেত্রে আমি হয়তো প্রতিদিনের খবরে থাকা অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিটেইল মিস করবো, কিন্তু আমি তো কোনো রাজনীতিবিদ নই, সাংবাদিকও নই, তাই অতটুকু মিস করাটা আমার কাছে তেমন বড় সমস্যা বলে মনে হয় না।
কিন্তু আমরা কেন আমাদের নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে এতটা অপারগ বলে আপনি মনে করেন? প্রশ্নটা করতে গিয়ে সম্প্রতি গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে প্রকাশিত হওয়া নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের একটি ইস্যুর কথা মনে পড়লো আমার। ১৯৮০ সালেই আমরা জানতাম আজকে পৃথিবী এই অবস্থায় আসবে, কিন্তু আমরা কোনো পদক্ষেপ নেইনি, আজ আমরাই ভুক্তভোগী হচ্ছি। আমার কাছে বর্তমান সময়টাও অনেকটা একই বলে মনে হচ্ছে, আমরা জানি প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জন্য অনেক সমস্যা নিয়ে আসবে, তারপরও আমরা এর থেকে নিজেদের নিরস্ত করতে পারছি না।
একটা কারণ হচ্ছে আর্টিফিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাঝে লুকিয়ে থাকা অনেক অনেক ইতিবাচক সম্ভাবনা। যদি পুরো ব্যাপারটাই খারাপ হতো, তবে তো আর এর উপর গবেষণার পেছনে এত এত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হতো না। সত্য ঘটনা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন আমাদের মানবজাতিকে বেকার করে দিতে পারে, উদ্দেশ্যহীন করে দিতে পারে, তেমনি অনেক সুবিধাজনক ব্যাপারও নিয়ে আসতে পারে।
যেমন ধরুন, সেলফ ড্রাইভিং গাড়ির কথা। এ ব্যাপারটি কিন্তু প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। বর্তমানে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং এগুলোর প্রায় পুরোটাই মানবিক ভুলের কারণে, যেসব ভুল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করবে না। তাই এই যে লক্ষ প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ, এ ব্যাপারটা সুন্দর। কিন্তু এটা করতে গেলে আপনার মানুষের আচার-আচরণ এবং আবেগকে হ্যাক করতে হবে। রাস্তার মাথায় নব্বই ডিগ্রি বাঁক নিতে অ্যালগরিদম সহজেই পারবে, সেটা তেমন কঠিন কিছু নয়। কিন্তু একটা বাচ্চা যদি কোনো বল ধরার জন্য হঠাৎ গাড়ির সামনে লাফ দেয়, সেক্ষেত্রে বাচ্চাটাকে বাঁচাবে কোন অ্যালগরিদম?
সুতরাং সেলফ ড্রাইভিং গাড়ির আইডিয়াকে সম্পূর্ণ বাস্তব করতে হলে আমাদের এমন গাড়ি তৈরি করতে হবে যা একটা বাচ্চার অনুভূতি, চিন্তা-ভাবনাকে বুঝতে পারে। অর্থাৎ মানুষের আচরণকে, তার কাজকর্মের প্যাটার্নকে হ্যাক করতে হবে, তাই না? সোশ্যাল মিডিয়াই বর্তমানে এই প্রযুক্তির উদাহরণ, যেখানে তারা আমাদের আবেগকে হ্যাক করে ঘন্টার পর ঘন্টা আমাদের বসিয়ে রাখতে পারে তাদের সামনে। সুতরাং যেই প্রযুক্তি আমাদের মনোযোগকে কেড়ে নিয়ে আমাদের জীবনকে অসুখী করে তুলছে, যে প্রযুক্তিই আবার বছরে লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচাতে পারে। তাই “শুধু সমস্যাই আসবে” এরকমটা এত সহজে বলা যায় না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আশীর্বাদ হতে পারে সেলফ ড্রাইভিং গাড়ি
হ্যাঁ, মুদ্রার তো দুটি পিঠ থাকবেই। আচ্ছা ভবিষ্যত প্রযুক্তির শুধু ভালোগুলোকে গ্রহণ করে খারাপগুলোকে প্রতিহত করে রাখার কি কোনো উপায় আছে?
আশা করি কার্যকর সরকারী আইন, মানুষের নিজেকে জানা, যারা অ্যালগরিদম তৈরি করছে তাদের অভিপ্রায়গুলো ঠিক থাকা, এগুলো সব মিলিয়েই ভবিষ্যত হয়তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যারা প্রযুক্তিতে কাজ করছে- প্রকৌশলীরা, বিজ্ঞানীরা- তাদের কারোরই আসলে অভিপ্রায় খারাপ নয়। হয়তো কারো কারো খারাপ থাকতে পারে, কিন্তু কেউই তো আর মানবজাতির ধ্বংস ডেকে আনতে চাচ্ছে না। কিন্তু সত্য ঘটনা হচ্ছে, বিজ্ঞানী বা প্রকৌশলীরা প্রযুক্তি তৈরি করতে পটু হলেও সম্পূর্ণ মানবজাতির জন্য তাদের কাজের ফলাফল কী হতে পারে, তা বুঝতে খুবই অপটু। সুতরাং আমরা যদি প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য কেমন ভবিষ্যত আনতে পারে, তা নিয়ে আরো কথা বলি, সচেতনতা তৈরি করি, এই প্রযুক্তিগত উন্নতিকে আমরা ঠিকঠাক দিকে হয়তো রাখতে পারবো।
আমার কাছে আমার বইটি কিন্তু কোনো ভবিষ্যদ্বাণীর বই নয় যে, হ্যাঁ, আমাদের ধ্বংস আসছেই এবং এখানে আমাদের কিছুই করার থাকবে না। যদি কিছুই করার না থাকে, তবে এই বই লেখারই তো কোনো সার্থকতা নেই। আমার আইডিয়াটা হচ্ছে মানুষকে জানানো, এসব নিয়ে কথা বলতে শেখানো। প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চাকরির বাজারকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, আমাদের মনস্তত্ত্বের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, আমাদের সম্পর্কগুলোকে কীভাবে বদলে দিতে পারে- এসব নিয়ে অবশ্যই আমাদেরকে কথা বলতে হবে। যেমন আমেরিকায় মিডটার্ম ইলেকশন হবে কিছুদিনের মধ্যেই, আপনি যদি এমন কাউকে দেখেন যে কংগ্রেসের জন্য নির্বাচিত হতে চাচ্ছে, অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জব মার্কেটের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন? প্রযুক্তির তৈরি জগত শিশুদের মনস্তত্ত্বকে কীভাবে বদলে দিচ্ছে বলে আপনি মনে করেন? আপনাকে যদি আমরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি, এগুলোর জন্য আপনি কী কী পদক্ষেপ নিবেন?”
আপনার “সেপিয়েন্স” বইটাতে আপনি একটি আইডিয়া দিয়েছিলেন যে আমরা মানুষেরা আমাদের প্রয়োজনে সংঘবদ্ধভাবে অনেক কল্পনাপ্রসূত গল্পে বিশ্বাস করে আসছি, এই বইটিতেও সে কথা এসেছে। বর্তমান সময়ে আমাদের বিশ্বাস করা সবচেয়ে বিপদজনক কল্পনাপ্রসূত গল্প বলে আপনার কোনগুলোকে মনে হয়?
এরকম বিপদজনক গল্প এখন আছে দুটো, একটি আরেকটির বিপরীত। একটি হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। সব দেশেই আমরা দেখছি, অতীতকে উপজীব্য করে অনেক অনেক নেতা উঠে আসছেন। তারা ভবিষ্যত নিয়ে কথা না বলে বলছেন অতীত নিয়ে, “আমাকে যদি তোমরা ভোট দাও, আমি তোমাদের দেশে সোনালী যুগ ফিরিয়ে আনবো।” যা অসম্ভব, সব সোনালী যুগই আসলে আমাদের তৈরি ফ্যান্টাসি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলোর অবস্থান একটি নির্দিষ্ট ঘরানার ইতিহাসবিদের বইতে, অথচ আসল চিত্রটা যেখানে পুরোই আলাদা। যেখানে তাদের কথা বলার কথা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে, প্রযুক্তির সামনে আমাদের পদক্ষেপ নিয়ে, সেখানে অতীত নিয়ে কথা বলে তারা ভোট বাগিয়ে নিচ্ছে, আর আমরাও আমাদের নস্টালজিয়ার বশবর্তী হয়ে তাদের বিশ্বাস করছি।
এটা খুবই বিপদজনক, কারণ নতুন সমস্যাগুলোর সমাধান না ভেবে অতীতকে টেনে আনতে গেলে এই নেতারা সবাই ব্যর্থ হবে। এই নেতারা সেসব ব্যর্থতার ভার কখনোই নিজেরা নিবেন না, অন্যদের উপর দোষ চাপাবেন। কিন্তু প্রযুক্তি এগোতে এগোতে আমরা হঠাৎ ভয়ংকর অর্থনৈতিক ধ্বসের সামনে পড়ব বা সম্পূর্ণ মানবজাতি উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলবে, কিন্তু তখন দেখা যাবে আমরা সেসব সমস্যা নিয়ে ভাবিইনি। ইতিহাসে এরকম হতে আমরা আগেও দেখেছি।
আরেকটি, এর বিপরীত গল্পটি হচ্ছে, “ভবিষ্যত নিজের থেকেই ভারসাম্যে চলে আসবে। আমাদের শুধু একের পর এক নতুন প্রযুক্তি বানাতে হবে তাতেই আমরা পৃথিবীতে স্বর্গ তৈরি করতে পারবো।” এই গল্পে প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের অসুখী করে তুলতে পারে বা চাকরিহারা করতে পারে তা ভাবা হচ্ছে না। আমাদের এসব গল্পের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সংক্ষেপে দেখুন