সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
রক্ত সম্পর্কে ১০ টি চমৎকার তথ্য জানেন কি ?
রক্ত হল মানুষের এবং উচ্চশ্রেণীর মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের এক প্রকার তরল সংবহনতন্ত্র যা কোষে প্রয়োজনীয় পদার্থ যেমন পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকীয় বর্জ্যপদার্থ গুলোকে একই কোষ থেকে দূরীভূত করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আজকের এই আর্টিকেলে থাকছে রক্ত সম্পর্কে ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য; যা হয়বিস্তারিত পড়ুন
রক্ত হল মানুষের এবং উচ্চশ্রেণীর মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের এক প্রকার তরল সংবহনতন্ত্র যা কোষে প্রয়োজনীয় পদার্থ যেমন পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকীয় বর্জ্যপদার্থ গুলোকে একই কোষ থেকে দূরীভূত করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
আজকের এই আর্টিকেলে থাকছে রক্ত সম্পর্কে ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য; যা হয়তো আপনি আগে কখনোই শোনেন নি!
১. মানব দেহে ১ গ্যালন রক্ত থাকে
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে সাধারণত ১.২ থেকে ১.৫ গ্যালন পর্যন্ত রক্ত থাকতে পারে (লিটারে তা ৫ থেকে ৬ লিটার) তবে বেশ কিছু কারণের উপর ভিত্তি করে রক্তের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গর্ভবতী মহিলাদের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বেশি রক্ত থাকতে পারে পারে। আর একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরের ওজনের প্রায় ১০% রক্ত তৈরি করে।
২. গর্ভাবস্থার জন্য শ্বেত রক্তকণিকা অপরিহার্য
আমরা সবাই জানি যে শ্বেত রক্তকণিকা অপরিহার্য। একজন মহিলার গর্ভধারণের জন্য ম্যাক্রোফেজ নামক বিশেষ শ্বেত রক্তকণিকা প্রয়োজন হয়।

ম্যাক্রোফেজগুলি প্রজনন সিস্টেমের টিস্যুতে পাওয়া যায়। তারা ডিম্বাশয়ে রক্তনালী নেটওয়ার্ক গঠনে সাহায্য করে। এই রক্তনালীগুলি প্রোজেস্টেরন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। জরায়ুতে ভ্রূণ রোপনের জন্য প্রজেস্টেরন প্রয়োজন।
৩. আপনার রক্তে সোনা আছে!
ঠিকই শুনছেন। মানব দেহের রক্তে বিভিন্ন ধাতু রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে আয়রন, ক্রোমিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা, তামা এবং সীসা। এর সাথে রয়েছে সামান্য পরিমাণে সোনা। সোনার পরিমান বেশি নয়! একজন ৭০ কিলোগ্রাম ওজনের মানুষের শরীরে ০.২ মিলিগ্রাম সোনা থাকতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানিদের মতে এই অল্প পরিমাণ সোনা আমাদের শরীরের জয়েন্টগুলির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৪. মশাদের পছন্দ O গ্রুপের রক্ত
মশারা আমাদের রক্তের গ্রাণ নিতে পারে। বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে মশারা O গ্রুপের ব্লাড গ্রুপ কে মশারা অন্যান্য গ্রুপের ব্লাড গ্রুপের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি পছন্দ করে।

যাইহোক, এখানে আরও কিছু অতিরিক্ত কারণ জড়িত থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শরীরের গন্ধ মশাকে আকর্ষণ করা ও একটি অপরিহার্য কারণ।
৫. রক্তকণিকা স্টেম সেল থেকে আসে
মানুষের শরীরের সমস্ত রক্তকণিকা হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল থেকে জন্ম নেয়।
আর সমগ্র শরীরের রক্ত কণিকাগুলির প্রায় ৯৫ শতাংশ অস্থি মজ্জাতে তৈরি হয়।
অস্থি মজ্জা সাধারণত স্তনের হাড় এবং মেরুদণ্ড এবং শ্রোণী অঞ্চলের হাড়ের মধ্যে ঘনীভূত হয়। আরও বেশ কিছু অঙ্গ শরীরে রক্ত কণিকা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
৬. রক্ত কণিকার ভিন্ন জীবনকাল
দেহের পরিপক্ক রক্তকণিকার প্রতিটিরই বিভিন্ন জীবন চক্র থাকে। যেমন লোহিত রক্ত কণিকার জীবন শরীরে চার মাস স্থায়ী থাকে। অণুচক্রিকা মাত্র নয় দিন বাঁচতে সক্ষম। আর শ্বেত রক্তকণিকা কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন বেঁচে থাকতে পারে।
৭. রক্তের প্রোটিন কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে
কার্বন মনোক্সাইড বর্ণহীন এবং বিষাক্ত। এটি জ্বালানী-বার্নিং ডিভাইস সহ সেলুলার প্রক্রিয়াগুলির একটি উপ-পণ্য হিসাবে উৎপাদিত হয়।
স্বাভাবিক কোষের কার্যকারিতা দ্বারা উৎপাদিত কার্বন মনোক্সাইড কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার তুলনায় অনেক কম। কার্বন মনোক্সাইডের সাহায্যে অক্সিজেন থেরাপি ব্যবহার করা হয়।
মানুষ যখন কার্বন মনোক্সাইড শ্বাস নেয়, তখন এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের সাথে আবদ্ধ হয়, যা সারা শরীরে অক্সিজেন সঞ্চালনের জন্য দায়ী।
৮. শ্বেত রক্তকণিকা আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষায় সবার প্রথমে থাকে
শ্বেত রক্তকণিকা আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। এই রক্তকণিকা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য সম্ভাব্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
শ্বেত রক্তকণিকা ক্যান্সার কোষ এবং অন্যান্য অবাঞ্ছিত উপাদান যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
৯. রক্তচাপের পিছনে বিজ্ঞান।
রক্তনালীর দেয়ালে রক্তের চাপকে রক্তচাপ বলে। উচ্চ রক্তচাপ একটি স্ট্রোক এবং একটি সম্ভাব্য কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের বর্ধিত ঝুঁকি নির্দেশ করে।
সাধারণ রক্তচাপ ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়। যাইহোক, গড় রক্তচাপ সাধারণত 112/64 mmHg হয়।
১০. সকল প্রাণীর লাল রক্ত নয়!
হিমোগ্লোবিনের আয়রনের কারণে মানুষ এবং অন্যান্য প্রজাতির রক্ত লাল থাকে। যাইহোক, এটি প্রতিটি প্রজাতির জন্য সত্য নয়।
মাকড়সা এবং অন্যান্য আর্থ্রোপডদের নীল রক্ত থাকে। তাদের রক্তে উপস্থিত তামা-ভিত্তিক হেমোসায়ানিনের কারণে নীল রঙ হয়। আর ওসিলেটেড আইসফিশের রক্তের কোনো বর্ণই নেই।

সংক্ষেপে দেখুনকাক, কবুতর, বেড়াল সিআইএ এজেন্ট জানেন কি?
সুউচ্চ বিলাসবহুল ভবনের এক এপার্টমেন্টে কয়েকজন ব্যক্তি বসে আছে। তারা এখানে একটি গোপন মিটিং করছে। মিটিংয়ের বিষয়বস্তু খুবই স্পর্শকাতর। আর তাই গোপনীয়তা রাখতে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মিটিং এর আগে ভালো করে সার্চ করে দেখা হলো কোনো গোপন ডিভাইস বা সন্দেহজন কিছুর উপস্তিতি আছে কিনা! সবদিক নিশ্চিত হবিস্তারিত পড়ুন
সুউচ্চ বিলাসবহুল ভবনের এক এপার্টমেন্টে কয়েকজন ব্যক্তি বসে আছে। তারা এখানে একটি গোপন মিটিং করছে। মিটিংয়ের বিষয়বস্তু খুবই স্পর্শকাতর। আর তাই গোপনীয়তা রাখতে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মিটিং এর আগে ভালো করে সার্চ করে দেখা হলো কোনো গোপন ডিভাইস বা সন্দেহজন কিছুর উপস্তিতি আছে কিনা!
সবদিক নিশ্চিত হয়েই এরপরে বৈঠকে বসেছেন মিটিংয়ের সেই লোকগুলো। মিটিং এর শলাপরামর্শ যখন একেবারে তুঙ্গে তখন সেই বিশাল ভবনে তাদের ডেই কক্ষের জানালায় উপস্থিত হলো একটি কাক। কাককটা কেমন যেনো গম্ভীর হয়ে বসে আসে। মিটিংয়ে বসা কয়েকজন ব্যক্তি নজর করে দেখলেন কাকটা যেনো ঝিমাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই শেষ হয়ে গেলো মিটিং। কাকটাও মিটিং এর একপর্যায়ে উড়ে চলে গেলো। এর কিছুদিন বাদেই সেই মিটিংয়ের খবর গণমাধ্যম ফাঁস হয়ে গেলো। কিন্তু কিভাবে ফাঁস হলো সব তথ্য! মিটিংয়ে তো কেউ কোনো ডিভাইস খুঁজে পায় নি। তথ্য পাচার করার মতো কোনো লোকও রুমে উপস্থিত ছিলো না। বলার মতো কেবল সেসময় রুমের জানালার পাশে একটা কাক এসে বসেছিল। তাহলে কি সেই কাকটাই এই বিশাল কান্ড ঘটিয়েছে!
কাক দিয়ে গোয়েন্দার কাজ করার খবর প্রথম পাওয়া যায় নর্স মিথলজির দেবতা ওডিনের মধ্যে। এই পৌরাণিক কাহিনি থেকেই ১প৬০ এর দশকে আমেরিকার সিআইএ এর মধ্যে এই আইডিয়া এসেছিলো। আমরাও তো কাক কে স্পাই হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। দুই দেশের মধ্যে তখন একজন থেকে আরেকজনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। সেটা রাজনৈতিক, সামরিক, প্রযুক্তিগত থেক খেলাধুলাতেও একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার যুদ্ধ।
আর এর জন্যে যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে, তা যতই উদ্ভট হোক না কেন। ফলে কে কাকে টেক্কা দিবে – এই প্রশ্নে যখন কাকের আবির্ভাব ঘটলো, তখন সেটাকে লুফে নেয়া হলো। সিআইএ এর আগে অবশ্য ‘একোস্টিক বিড়াল’ নিয়েও কাজ চালিয়েছিলো। বিড়ালের শরীরে লিসেনিং ডিভাইস বসিয়ে সেটাকে পর্যাপ্ত ট্রেনিং দিয়ে ছেড়ে দেয়া, যাতে কোনো গোপন মিটিংস্থলে গিয়ে বসে চুপচাপ জিভ দিয়ে নিজের পা চাটতে চাটতে সবার কথা শুনে যেতে পারে।

যাই হোক, সিআইএর পক্ষ থেকে ডাকা হলো হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির দুই অ্যানিমেল সাইকোলজিস্টকে – বি এফ স্কিনার এবং বব বেইলি। দুইজনেই এনিমেল বিহেভিয়ারিস্ট। এর মধ্যে স্কিনারের এই লাইনে ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ‘পিজন মিসাইল’ প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে ছিলেন!
তিনি এমন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছিলেন, যেটায় কবুতরেরা একটা মিসাইলকে উড়িয়ে নিয়ে যায় লক্ষ্যবস্তু বরাবর। সাধারণ মিসাইলে যেকোনো কারণেই সিগন্যাল জ্যামিং ঘটতে পারে। কিন্তু ‘কবুতর ক্ষেপণাস্ত্র’-তে এই সমস্যা নেই। কবুতরেরা মিসাইলের ভিতরে খোপের মধ্যে বসে স্ক্রিনে ঠোঁট ঠুকে ঠুকে একটা পয়েন্টারকে (যেটা মূলত মিসাইলের লক্ষ্যবস্তু) কেন্দ্রে রাখার চেষ্টা করে। বিনিময়ে তাদের শস্যদানা খেতে দেয়া হয়। ঐ ক’টা দানার লোভেই “শান্তির প্রতীক” নামধারী কবুতরেরা এমন ভয়াবহ ক্যারিয়ার বাছাই করেছিলো (বা তাদের বাধ্য করা হয়েছিলো বাছাই করতে)। তবে এই প্রজেক্ট বেশিদূর আগানো যায়নি। কারণ ট্রেনিং প্রাপ্ত কবুতরেরা মারা যেতো। আর প্রতিটা মিসাইলের জন্যে এতো বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কবুতর যোগান দেয়াও সম্ভব ছিলো না।
সে যাই হোক, ২য় বিশ্বযুদ্ধের কবুতরদের ছেড়ে ফিরে আসি স্নায়ু যুদ্ধকালীন কাকদের কথায়। এই দুই বিশেষজ্ঞ মিলে কাকদের ট্রেনিং দিলেন। তাদের শেখালেন – কী করে একটা লিসেনিং ডিভাইস বহন করে সেটা কোনো রুমের জানালার চিপায় রেখে আসতে হয়, কী করে জানালার শার্সিতে একটা বিশেষ ধরণের ক্যামেরা ঠোকর মেরে সেটাতে রুমের ভিতরের পরিষ্কার ফটো খিঁচতে হয় ইত্যাদি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে স্পাই হিসেবে ব্যবহার করা হতো কবুতরকে
এই সব কাককে এছাড়াও শিখানো হয়েছিলো কী করে শত্রুপক্ষ কোথাও ওঁত পেতে বসে থাকলে সেটার তথ্য পৌঁছাতে হয়। ধরা যাক শত্রুপক্ষের কোনো স্নাইপার ঝোপের ভিতরে বসে আছে। স্পাই কাকটা একটা ডিভাইস বহন করে নিয়ে উড়তে থাকলো। উড়তে উড়তে সে দেখলো একটা মানুষ ঝোপের ভিতরে বসে আছে। কাকটা তার প্রশিক্ষণ অনুযায়ী উড়ে গিয়ে বসে পড়লো সেই ঝোপের পাশের কোনো গাছের মগডালে। কাকটা যতক্ষণ উড়ছিলো, ততক্ষণ তার অবস্থান রাডারে সিগন্যাল হিসাবে ভেসে আসছিলো। সে বসে পড়তেই সিগন্যাল বন্ধ হয়ে গেলো, আর শত্রুর অবস্থান মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেলো।
১৯৭০-এর দশকে এই প্রজেক্টটা বন্ধ করে দেয়া হয়। মনে হয় কাক নিয়ে সিআইএর সব ফ্যান্টাসি উড়ে গিয়েছিলো ঐসময়। তবে বব বেইলি দাবী করেন বেশ কয়বার নাকি স্পাই কাক ব্যবহার করা হয়েছিলো বিভিন্ন গোপন মিশনে।
বেইলির মতে, কবুতরেরা আসলে তেমন চালাক নয়। পেঁচারাও তেমন স্মার্ট নয়। বিভিন্ন জনপ্রিয় সাহিত্যে পেঁচাদের জ্ঞানী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তারা জ্ঞানী কিনা জানা নেই, তবে তারা চালাক-চতুর নয়। কিন্তু কাক হচ্ছে পক্ষীকুলের মধ্যে প্রতিভাধর এক প্রজাতি। তারা ভীষণ ধূর্ত।
সংক্ষেপে দেখুনএর সাথে আছে তাদের বেসিক কিছু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দক্ষতা, যেটা ঐ প্রোগ্রামে বেশ প্রয়োজন ছিলো।
ভয়নিচ পান্ডুলিপি কি? কেন এর রহস্য ভেদ করা যায়নি ?
এটি একটি অজানা ভাষায় হাতে লেখা চিত্রিত ভলিয়মের পান্ডুলিপি। ১৫ শতকের শুরুতে এটি লেখা হয়েছিল এবং এটির নামকরণ করা হয় আলফ্রেড ভয়নিচের নামানুসারে। তিনি মূলত ১৯১২ সালে বইটি ক্রয় করেছিলেন। এটি অসংখ্য বার পড়া হয়েছে কিন্তু এর কোড কেউ ভেদ করতে পারেনি। পান্ডুলিপি টি ৬টি বিভাগে বিভক্ত। হারবাল, জ্যোতির্বিদ্যা,বিস্তারিত পড়ুন
এটি একটি অজানা ভাষায় হাতে লেখা চিত্রিত ভলিয়মের পান্ডুলিপি। ১৫ শতকের শুরুতে এটি লেখা হয়েছিল এবং এটির নামকরণ করা হয় আলফ্রেড ভয়নিচের নামানুসারে। তিনি মূলত ১৯১২ সালে বইটি ক্রয় করেছিলেন। এটি অসংখ্য বার পড়া হয়েছে কিন্তু এর কোড কেউ ভেদ করতে পারেনি। পান্ডুলিপি টি ৬টি বিভাগে বিভক্ত। হারবাল, জ্যোতির্বিদ্যা, জৈবিক, মহাজাগতিক, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং রেসিপি।
কিছু পাতা হারানো গেলেও, এর বর্তমান সংস্করণে প্রায় ২৩৪টি পাতা রয়েছে যার অধিকাংশই চিত্রালংকরণের সাথে গঠিত। পান্ডুলিপিটির অনেক বর্ণনাতে সে সময়ের ভেষজ পান্ডুলিপি, গাছপালার চিত্রালংকরণ এবং তাদের সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে – আঁকা উদ্ভিদের অনেকগুলোই কোনো পরিচিত প্রজাতির অনুরূপ না। তারা যৌগিক বলে মনে হয়। কেউ কেউ এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন যে, এটি একটি ফাঁকি কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন এটি খুব জটিল এবং অত্যাধুনিক। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এটি একটি মেডিক্যাল ভলিউম যা এখনো রহস্যের আধার।
বাধ্য হয়ে পকেট থেকে আরো কয়েকটা মুদ্রা বের করে টেবিলের উপর রাখলেন উইলফ্রিড ভয়নিচ। বইটি তিনি হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না। দোকানি মুদ্রাগুলো পরীক্ষা করে বইখানা ভয়নিচের হাতে দিয়ে দিলেন। সেটি নিজের ব্যাগের ভেতর ভরে বাসার দিকে রওয়ানা দিলেন ভয়নিচ।
ব্যবসার জন্য বই কিনতে বের হয়ে প্রথম তার চোখে পড়ে এই অদ্ভুত হাতে লেখা বইটি। হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ পরখ করে দেখার পরেই কৌতূহলী হয়ে ওঠেন তিনি। কারণ তিনি বইয়ের লেখা কিছুই পড়তে পারছেন না। ভয়নিচ নিজে অনেক ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু এরকম বর্ণমালা এর আগে কখনো দেখেননি। তাই দেরি না করে কিনেই ফেললেন বইটি।
বাসায় এসে বইটি নেড়েচেড়ে দেখছিলেন তিনি। হঠাৎ বইয়ের ভেতর থেকে একটি খাম মাটিতে পড়ে গেল। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেন ভয়নিচ। বইয়ের ভেতর এই চিঠিটা আবার কার?
একদিকে অচেনা বর্ণমালার গোলকধাঁধা, অপরদিকে খামে ভরা একটি রহস্যময় চিঠি। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য ভয়নিচ পাণ্ডুলিপির গল্পের শুরুটা ঠিক এখান থেকেই।
১৯২১ সালে বই বিক্রেতা উইলফ্রিড ভয়নিচ কর্তৃক পাণ্ডুলিপিগুলো জনসম্মুখে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এটি গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসে। শুরু হয় এর পাঠোদ্ধারের কাজ। অথচ আবিষ্কারের প্রায় ৮০ বছরের কাছাকাছি এসেও এর পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি কেউ। কেউই পড়তে পারেননি ভয়নিচের বিস্ময়কর বইটি। আমাদের আজকের আলোচনা সেই বিখ্যাত ভয়নিচ পাণ্ডুলিপিকে ঘিরে।
ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি কী?
ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে একটি। এটি মধ্যযুগে লেখা একটি বই। কিন্তু অন্যান্য বই থেকে একে আলাদা করেছে এর লেখার ধরন এবং বর্ণমালার দুর্বোধ্যতা। বইটির অনুসন্ধানদাতা উইলফ্রিড ভয়নিচের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় Voynich Manushcript বা ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি হিসেবে।
উইলফ্রিড ভয়নিচ
চামড়া দ্বারা বাঁধাইকৃত বইটির সর্বমোট পৃষ্ঠার সংখ্যা প্রায় ২৩৪। গবেষকদের মতে কিছু পৃষ্ঠা আবিষ্কৃত হওয়ার পূর্বে হারিয়ে গেছে। বইটি লেখা হয়েছে অদ্ভুত বর্ণমালার সাহায্যে। ইতিহাস ঘেঁটে এরূপ কোনো বর্ণমালার অস্তিত্ব বের করতে ব্যর্থ হন ইতিহাসবিদরা। আধুনিক কম্পিউটারের সাহায্যে পরীক্ষা চালানোর পরেও এর বর্ণমালার রহস্যের সমাধান করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আর সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হচ্ছে, পাণ্ডুলিপির বর্ণমালায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার ধরনের বর্ণের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়াও লিখিত বর্ণনার সাথে বিভিন্ন হাতে আঁকা ছবির সংযোজন বইটিকে আরো রহস্যময় করে তুলেছে।
আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বইটি থেকে আলাদা ৪টি পৃষ্ঠা নিয়ে কার্বন ডেটিং করা হয়। কার্বন ডেটিং এর ফলাফল অনুযায়ী বইটি সম্ভবত ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের সময় লেখা হয়েছিলো। বইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন কালির মধ্যে বড় রকমের কোনো পার্থক্য নেই। অন্যান্য বইয়ের মতো এর শুরুতে লেখকের নাম-স্বাক্ষর নেই। তাই সুনির্দিষ্টভাবে এর লেখকের নাম জানা যায়নি।
ক্রয় করার প্রায় ৯ বছর পর ভয়নিচ বইটি College of Physicians of Philadelphia-এর একটি সভাতে প্রদর্শন করেন। এরপর থেকে একে নিয়ে শুরু হয় গবেষণা। বের হতে থাকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
রহস্যময় চিঠি এবং পাণ্ডুলিপির ইতিহাস
উইলফ্রিড ভয়নিচ বইটি ক্রয় করার পর এর ভেতরে একটি চিঠিসহ একটি খামের সন্ধান পান। খামের উপর প্রেরক প্রাপকের ঘরে নাম ঠিকানা লেখা ছিল। বইসহ চিঠিটি ১৬৬৫ সালে বিজ্ঞানী জোয়ানাস মার্কাস মার্সি সুদূর ইতালিতে তার বন্ধু আথানাসিয়াস কার্চারকে প্রেরণ করেন। চিঠিতে তিনি এই বইয়ের অর্থ বের করে দেওয়ার জন্য আথানাসিয়াসকে অনুরোধ করেন। চিঠি অনুযায়ী বইটি হাবসবার্গের রাজা দ্বিতীয় রুডলফের মালিকানাধীন ছিল। পরবর্তীকালে বইয়ের ভেতর রাজা দ্বিতীয় রুডলফের এক সভাসদের স্বাক্ষর পাওয়া গেলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হয়।
এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, বিজ্ঞানী জোয়ানাস কীভাবে বইটি পেয়েছিলেন? এর প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে থাকা গবেষকরা বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমর্থিত ব্যাখ্যাটি তুলে ধরা হলো।
ছবি এবং বর্ণমালার সংযোজন পাণ্ডুলিপিটিকে রহস্যময় করে তুলেছে
ইতিহাস থেকে জানা যায় রাজা দ্বিতীয় রুডলফের শাসনকাল ছিল ১৫৭৬ সাল থেকে ১৬১১ সাল পর্যন্ত। কিন্তু বইয়ের উৎপত্তি আরো ২০০ বছর আগে। এর মানে রুডলফ ঠিক বইটির প্রথম মালিক নন। জোয়ানাসের চিঠি অনুযায়ী তিনি বইটি ৬০০ ডুকাটের মাধ্যমে ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু উৎপত্তি থেকে রুডলফের সভা পর্যন্ত প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসের কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি গবেষকরা। সম্ভবত জন ডি নামক এক ব্যক্তি বইটি রাজার দরবারে প্রদর্শন করেছিলেন।
তারপর বইটির মালিকানা বদল হয়। কিন্তু পরবর্তী মালিকের কোনো পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। সম্ভবত রুডলফের কোনো সভাসদ তার পতনের পর বইটি নিজের সংগ্রহে রেখেছিলেন। কিন্তু এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
রাজা দ্বিতীয় রুডলফ
এরপর বইটি স্থান পায় জর্জ বারেশের লাইব্রেরিতে। পাগলাটে রসায়নবিদ বারেশ কীভাবে বইটি সংগ্রহ করেন তা কেউ জানে না। বারেশ বইটির রহস্যভেদের জন্য অনেক গবেষণা করেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন।
তিনি তখন আথানাসিয়াস কার্চারের নাম জানতে পারেন। কার্চার হায়ারোগ্লিফিক লিপি নিয়ে কাজ করতেন। কিছু দুর্বোধ্য হায়ারোগ্লিফিক লিপির পাঠোদ্ধার করে তিনি তখন বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। বারেশ বইটির কিছু অংশ কার্চারকে প্রেরণ করেন। কিন্তু কার্চার বারেশকে কোনো সমাধান দিতে পারেননি।
বারেশের মৃত্যুর পর বইটি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোয়ানাস মার্সির মালিকানায় চলে আসে। বারেশের উইল অনুযায়ী তিনি বইটি কার্চারের কাছে প্রেরণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে কার্চারকে তার গবেষণার অগ্রগতির কথা জিজ্ঞাসা করে কোনো আশানুরূপ উত্তর পাননি মার্সি। কার্চারের মৃত্যুর পর তার সংগ্রহে থাকা অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি কলেজিও রোমানোর জাদুঘরে স্থানান্তর করা হয়। এদের মধ্যে ভয়নিচ পাণ্ডুলিপিও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
ভয়নিচের পাণ্ডুলিপির স্থান হয় কলেজিও রোমানোর জাদুঘরে
কিন্তু হঠাৎ করে সমাজব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন চলে আসে। কলেজিও রোমানোসহ বিভিন্ন বড় বড় সংগ্রহশালায় রুল জারি করা হলো ‘যিশু সমাজ’ সঙ্ঘ থেকে। রুল অনুযায়ী হাজার হাজার পাণ্ডুলিপি সরিয়ে ফেলার আদেশ দেওয়া হয়। অনেক পাণ্ডুলিপি ধ্বংস করে ফেলা হলো। তবে গুটিকয়েক পাণ্ডুলিপি ভ্যাটিকানের পোপের গোপন লাইব্রেরিতে স্থানান্তরের জন্য মনোনীত করা হয়। কিন্তু পাণ্ডুলিপিগুলো নথিপত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রায় নয় বছর লেগে গেলো।
ঠিক তখনই ইতিহাসের মঞ্চে ত্রাণকর্তা উইলফ্রিড ভয়নিচের পদার্পণ হয়। তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তি করে কিছু পাণ্ডুলিপি অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে নিজের মালিকানায় নিয়ে আসেন। তবে শর্ত ছিলো, এগুলো তিনি বাইরে প্রকাশ করতে পারবেন না। ভয়নিচও রাজি হয়ে যান। সেই রহস্যময় পাণ্ডুলিপিসহ আরো অনেক নথি ভয়নিচ ক্রয় করে ফ্লোরেন্সে পাঠিয়ে দেন। তিনি সংগৃহীত নথিগুলোর মধ্যে সেই ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু তিনি এর রহস্যের কোনো কূলকিনারাই করতে পারেননি। তবে চুক্তির শর্ত মোতাবেক ইউরোপে থাকা অবস্থায় ভয়নিচ কখনো পাণ্ডুলিপির কথা প্রকাশ করেননি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভয়নিচ সপরিবারে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে যাওয়ার পর তিনি বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে তার পাণ্ডুলিপির কথা জানান। তারা ভীষণ কৌতূহলী হয়ে পড়েন ভয়নিচের কথায়। শেষপর্যন্ত ১৯২১ সালে ফিলাডেলফিয়াতে তিনি তার পাণ্ডুলিপি নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এরপর তার অনুমতি নিয়ে অনেকেই সেটার রহস্য সমাধান করার চেষ্টা করেন। লোকমুখে তখন এই বইয়ের নাম হয়ে যায় ‘ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি’।
কেউ পড়তে পারেনি এই বইটি
ভয়নিচ ১৯৩০ সালে মৃত্যুবরণ করার পরে তার পরিবার বইটি ওয়াশিংটনে অবস্থিত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেনরি হায়ভারনেটের নিকট হস্তান্তর করেন। এরপর আরো কয়েক দফা মালিকানা বদলের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে ভয়নিচের সেই বইয়ের কথা। এদিকে ওদিকে গুঞ্জন উঠে, “সেই অদ্ভুত বইয়ের কথা শুনেছো? সেটা নাকি কেউই পড়তে পারে না!”
রহস্যের গন্ধ পেয়ে উৎসাহীরা এগিয়ে আসেন। শুরু হয় গবেষণা।
পাণ্ডুলিপির ভেতর কী লেখা?
ভয়নিচ পাণ্ডুলিপির মূল রহস্য এর বইয়ের পাতায় লেখা বর্ণগুলো। এক অজানা ভাষায় লেখা হয়েছে পুরো বইটি। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম কোনো বর্ণমালার অস্তিত্ব না পেয়ে বিজ্ঞানীরা ধরে নেন, বর্ণগুলো সাংকেতিক বর্ণ। প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২/৩ টি করে অনুচ্ছেদ রয়েছে।
পাণ্ডুলিপির লেখা
এরপরের রহস্য এর মধ্যে আঁকা বিভিন্ন চিত্রগুলো নিয়ে। হাতে আঁকা এসব ছবি দেখে একবার মনে হয়, এটা কোনো বিজ্ঞানীর নোটখাতা। কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পরেই আপনার ভুল ভাঙবে। তখন মনে হবে এটা হয়তো কোনো জ্যোতিষীর ভাগ্যগণনার সহায়িকা। যতই পাতা উল্টাতে থাকবেন, ততই দ্বিধায় ভুগবেন।
কিছু কিছু পাতায় আবার বৃত্ত, অর্ধবৃত্ত, ত্রিভুজ ইত্যাদি জ্যামিতিক নকশায় গুটি গুটি অক্ষরে বাক্য রচনা করা হয়েছে। শেষের দিকের পৃষ্ঠাগুলোয় লেখা বাক্যগুলো লেখা হয়েছে জাপানীদের মতো লম্বভাবে।
বিভিন্ন জ্যামিতিক আকারে লেখা বাক্য
সম্প্রতি ভাষাবিদরা জানান বইটির বেশকিছু বর্ণে গ্রিক বর্ণমালার ছাপ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ বর্ণমালা দেখতে প্রাচীন রসায়নবিদদের ব্যবহৃত বিভিন্ন চিহ্নের মতো মনে হয়। প্রাচীনকালে প্রাপ্ত অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রায়ই বাক্যে ভুলের কারণে কেটে দিয়ে সংশোধন করার নমুনা রয়েছে। কিন্তু এই রহস্যময় বইটিতে ভুলের সংখ্যা কত জানেন? শূন্য!
একটি বাক্যও সংশোধন করতে হয়নি লেখককে। বিভিন্ন রঙের কালির ব্যবহারে লেখা পুরো বইয়ে বর্ণমালার সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। শুধু এই সংখ্যাটুকুই গবেষকদের ঘুম নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট!
পাণ্ডুলিপির কিছু বর্ণের ছবি
এরপর আসা যাক ছবির কথায়। বইয়ের ভেতর ফুল, ফল, পাতা, মানুষ, চিহ্নসহ আঁকা ছবিগুলোকে গবেষকরা ৭ বিভাগে ভাগ করেছেন। ভেষজ, জ্যোতির্বিদ্যা, মহাজাগতিক বস্তু, রাশিচক্র, জীবজগৎ, সাংকেতিক চিহ্ন এবং চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত ছবি রয়েছে। কিছু কিছু ছবির সাথে জুড়ে দেয়া সংক্ষিপ্ত বাক্য পাওয়া যায়। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, এর মধ্যে চীনা পৌরাণিক প্রাণী ড্রাগনের ছবিও পাওয়া যায়।
পাঠোদ্ধারে কোনো আশানুরূপ অগ্রগতি না পাওয়ায়, অনেকেই হাল ছেড়ে দেন। কয়েকজন বিজ্ঞানী পুরো বইটিকেই বানোয়াট বলে দাবি করেন। তাদের মতে এটি অর্থলাভের আশায় ভয়নিচের বানানো তামাশা ব্যতীত আর কিছু নয়। একটা সময় সবাই প্রায় মেনে নিয়েছিলেন, এর কোনো অর্থ হয়তো নেই। কিন্তু তখন লন্ডনের কিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতবিদ গর্ডন রাগ নতুন এক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি ভয়নিচের আদলে আরেকটি সাংকেতিক ভাষা তৈরি করে সে অনুযায়ী বাক্য রচনা করে দেখান। তিনি গাণিতিক উপায়ে প্রমাণ করেন, ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি অর্থবোধক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদের ছবি দেখা যাচ্ছে
সংখ্যা কখনো মিথ্যা বলে না। তাই বিজ্ঞানীরা আর পূর্বের মতো এক কথায় একে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিতে পারেন না। এ ব্যাপারে রাগ বিবিসির একটি সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন,
“I don’t think there’s much chance that the Voynich manuscript is simply an unidentified language, because there are too many features in its text that are very different from anything found in any real language.”
পান্ডুলিপির লেখক কে?
ভয়নিচ যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন তিনি বিশ্বাস করতেন এই বইয়ের লেখক বিখ্যাত দার্শনিক রজার বেকন। কারণ বইয়ের সাথে পাওয়া খামের ভেতর বিজ্ঞানী জোয়ানাস মার্সি বইটি রজার বেকন কর্তৃক লেখা হতে পারে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এ ব্যাপারে ভয়নিচ একমত ছিলেন। তার মতে, রজার বেকনের ব্যক্তিগত নথিপত্রের দায়িত্বে থাকা জন ডি রাজা দ্বিতীয় রুডলফের দরবারে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। জন ডি সেই পাণ্ডুলিপি রুডলফের নিকট বিক্রয় করেন বলে ধারণা করা হয়। তাই ভয়নিচ বিশ্বাস করতেন জন ডি বইখানা রজার বেকনের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।
দার্শনিক রজার বেকন
ভয়নিচের মৃত্যুর পর কলা বিশেষজ্ঞ এরউইন পেনফস্কি বইয়ের পৃষ্ঠা পরীক্ষা করে এই ধারণা ভুল প্রমাণ করেন। কারণ এ ধরনের পৃষ্ঠা ব্যবহার শুরু হওয়ার অনেক আগেই রজার বেকন মৃতুবরণ করেন।
পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা পরীক্ষা করছেন একজন গবেষক
যদি বেকন বইটির লেখক না হন, তাহলে কে ছিলেন? এক্ষেত্রে রাফায়েল নিশোভস্কিকে এগিয়ে রাখেন গবেষকরা। তিনি ছিলেন জোয়ানাস মার্সির ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার জীবদ্দশায় তিনি একবার দাবি করেছিলেন যে, তিনি এমন সাংকেতিক ভাষা আবিষ্কার করেছেন যা কখনই কেউ বুঝতে পারবে না। কথিত আছে, বইয়ের লেখক হিসেবে রজার বেকনের সম্ভাবনার কথা তিনিই প্রথম তুলে ধরেন মার্সির কাছে। গবেষকরা মনে করেন, রাফায়েল তার সাংকেতিক ভাষার সাহায্যে পাণ্ডুলিপিটি রচনা করেন এবং তার সাংকেতিক ভাষার অভেদ্যতা পরীক্ষার জন্য বিষয়টি গোপন রাখেন।
এছাড়াও অনেকের মতে, এই বইয়ের লেখক কোনো ইহুদি চিকিৎসক। আবার অনেকের মতে, বইটি ভয়নিচেরই লেখা। অর্থলাভের আশায় তিনি বইটি রচনা করে রহস্যের সৃষ্টি করেন। এই তত্ত্বে বিশ্বাসীরা পুরো ব্যাপারটি ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেয়ার দলে।
পাঠোদ্ধারে অগ্রগতি এবং রুশ গণিতবিদদের বাজিমাত
১৯২১ সালে শুরু হওয়া গবেষণায় বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ, ভাষাবিদ যোগ দেন। কিন্তু কেউই এর পাঠোদ্ধারে সফল হতে পারেননি। এমনকি গোয়েন্দা সংস্থা FBI এবং CIA এর কর্মকর্তারাও এর গবেষণায় লিপ্ত আছেন। পাঠোদ্ধার করতে ব্যর্থ হলেও গবেষকরা বিভিন্ন সময় বেশ কিছু তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে।
এক্ষেত্রে সবার প্রথমে চলে আসে উইলিয়াম নিউবোল্ডের নাম। তিনি শেষের দিকে আঁকা একটি বৃত্তাকার নকশার সাথে মহাকাশে অবস্থিত একটি ছায়াপথের মিল খুঁজে পান। তিনি আরো একটি চিত্রের সাথে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখা কোষের সাদৃশ্য প্রমাণ করেন। কিন্তু তার এই তত্ত্ব বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি। তার তত্ত্বের পুরোটাই ভুল প্রমাণ করেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জন ম্যানলি।
বৃত্তাকার নকশার সাথে ছায়াপথের মিল খুঁজে পান নিউবোল্ড
এরপর রবার্ট ব্রাম্বো নামক এক বিজ্ঞানী ল্যাটিন বর্ণমালার সাহায্যে এর পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি বেশিদূর যেতে পারেননি। তার তত্ত্ব গবেষকরা বাতিল করে দেন। এরপর আরো অনেকেই নানা তত্ত্ব প্রদান করলেও কেউই এর পাঠোদ্ধারের কাছাকাছি যেতে পারেননি।
একবিংশ শতাব্দীতে ইন্টারনেটের সাহায্যে এর রহস্য মীমাংসা করার চেষ্টা করেন FBI এর গবেষকরা। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হন।
১৯৭৮ সালে জন স্টকিও নামক এক গবেষক তার বই ‘Letters to God’s Eye’-তে ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি নিয়ে তার গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, বইটিতে কোনো স্বরবর্ণের ব্যবহার করা হয়নি। তার এই তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে রীতিমত বাজিমাত করে ফেলেন রুশ গণিতবিদরা। RAS Institute of Applied Mathematics এর গণিতবিদরা এক অদ্ভুত উপায় অবলম্বন করে। তারা পৃথিবীর বিখ্যাত ভাষাগুলোর বর্ণমালা সংগ্রহ করেন। এরপর সেখান থেকে সব স্বরবর্ণ বাদ দিয়ে গবেষণা শুরু করেন। স্লাভিক, জার্মান, ইংরেজি, রোমান, বাক, গ্রিক, ল্যাটিন প্রভৃতি ভাষার প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরি করা বিশেষ কোডের সাহায্যে তারা একটি বাক্যের বেশ কিছু শব্দের অর্থ বের করতে সক্ষম হন। বাক্যটির প্রায় ৬০ ভাগ লেখায় ইংরেজি, জার্মান এবং রোমান ভাষার সংমিশ্রণ ছিল। কিন্তু তার পরেও যেন কিছুই বের করা হয়নি। কারণ,এখনো অনেক পথ বাকি। কিন্তু তারপরেও আবিষ্কারকরা এই ঘটনাকে বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। গবেষকদের প্রধান ইউরি অরলভ মন্তব্য করেন,
“We now know that this can be done.”
এর মাধ্যমে গবেষকরা আশার আলো দেখতে পান। ঝিমিয়ে পড়া গবেষকরা ফের নতুন উদ্দীপনায় কাজে লেগে যান।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি
বর্তমানে ভয়নিচের পাণ্ডুলিপিটি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।
বিভিন্ন প্রকাশনা এবং গ্রন্থসমূহ
ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি নিয়ে কয়েকশত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন সাহিত্যিক পাণ্ডুলিপির রহস্যে বিমোহিত হয়ে রচনা করেন কল্পকাহিনী। ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রবিন ওয়াসারম্যান এর ‘Book of Blood and Shadow’, জোনাথান মেবেরির ‘Assasin’s Code’ এবং মাইকেল কর্ডির ‘The Source’ পাঠকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়।
পাণ্ডুলিপির চিত্র অনুলিপি
এছাড়া ইয়েল বিশ্ববিদ্যায়ের উদ্যোগে ২০০৪ সালে এই রহস্যময় বইটির সম্পূর্ণ চিত্র অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এর ফলে পৃথিবীর যে কেউ ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই পুরো পাণ্ডুলিপি ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করতে পারবে।
ভয়নিচের পাণ্ডুলিপির দুর্বোধ্যতা যা আধুনিক প্রযুক্তিকেও হার মানাচ্ছে, নিঃসন্দেহে প্রাচীনকালের জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতাকে তুলে ধরেছে। এখনও পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজারো রহস্য অমীমাংসিত অবস্থায় আছে। তবে গবেষকরা মনে করেন, সেদিন আর বেশিদূরে নেই, যেদিন পুরো পাণ্ডুলিপির রহস্য সমাধান করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাহায্যে হয়তো একদিন ঠিকই আমরা এর রহস্যভেদ করতে পারবো। তখন জানা যাবে পাণ্ডুলিপির পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে কোন অজানা তথ্য।
সংক্ষেপে দেখুনজিহ্বার রং বদলে যাওয়া আর জিহ্বায় ফাটল দেখা দেয় কেন? এসব কোন কোন রোগের ইঙ্গিত দেয়? করনীয় কি?
জিহ্বা দেখেই চিকিৎসকরা বলে দিতে পারেন কে কোন সমস্যায় ভুগছেন। এর কারণ হলো শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলে তার প্রভাব জিহ্বাতেও পড়ে। এক্ষেত্রে জিহ্বার রং বদলে যায়। একটি স্বাস্থ্যকর জিহ্বার আদর্শ রং হালকা গোলাপি। তবে এর চেয়ে বেশি হালকা, ধূসর, সাদা, লাল, হলুদ কিংবা বেগুনি দেখলে তা হতে পারে বিভিন্ন রোগবিস্তারিত পড়ুন
জিহ্বা দেখেই চিকিৎসকরা বলে দিতে পারেন কে কোন সমস্যায় ভুগছেন। এর কারণ হলো শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলে তার প্রভাব জিহ্বাতেও পড়ে। এক্ষেত্রে জিহ্বার রং বদলে যায়।
একটি স্বাস্থ্যকর জিহ্বার আদর্শ রং হালকা গোলাপি। তবে এর চেয়ে বেশি হালকা, ধূসর, সাদা, লাল, হলুদ কিংবা বেগুনি দেখলে তা হতে পারে বিভিন্ন রোগের ইঙ্গিত। এই রঙের পরিবর্তনগুলো যদি কয়েক দিনের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে তবে আপনাকে চিন্তা করতে হবে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক, জিহ্বার রং বদলে যাওয়া কীভাবে বিভিন্ন রোগের ইঙ্গিত দেয়-
গোলাপি জিহ্বা
জিহ্বার প্রাকৃতিক রং হলো সামান্য সাদা আবরণসহ গোলাপি। এমন জিহ্বা থাকলে বুঝে নেবেন আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও শরীর স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
একটি সুস্থ জিহ্বায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছোট ছোট মাংসল বাম্প থাকবে, যা জিহ্বাকে একটি মোটা টেক্সচার দেবে।
হলুদ জিহ্বা
একটি হলুদ জিহ্বা প্রায়ই পেটের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। হজম বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে আপনার জিহ্বা হলুদ বর্ণের হবে।
ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায়ও দাবি করা হয়েছে, হলুদ জিহ্বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে।
আবার হলুদ জিহ্বা জন্ডিস এমনকি খারাপ মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির কারণেও হতে পারে। এর অর্থ হলো আপনার জিহ্বায় ব্যাকটেরিয়া জমেছে।
সাদা বা ধূসর
জিহ্বায় সাধারণত একটি সাদা আবরণ থাকে, তবে কিছু ধূসর অংশের সঙ্গে যদি এটি স্বাভাবিকের চেয়ে সাদা মনে হয় তাহলে বুঝবেন এটি শরীরে ইস্ট সংক্রমণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবার ধূমপানের ফলে বা অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য সেবনের কারণেও জিহ্বায় সাদা দাগও লক্ষ্য করা যায়। যাকে বলা হয় লিউকোপ্লাকিয়া।
বেগুনি
শরীরের রক্ত সঞ্চালন খারাপ হলে জিহ্বা বেগুনি হয়ে যায়। ফুসফুস বা হার্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনুপযুক্ত রক্ত সঞ্চালন হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই যদি জিহ্বার রং বেগুনি দেখেন তাহলে বুঝবেন আপনি হৃদরোগে ভুগছেন।
লাল জিহ্বা
একটি উজ্জ্বল লাল জিহ্বা সাধারণত ফোলা ও আঁশযুক্ত হয়। চিকিৎসকরা একে ‘স্ট্রবেরি জিহ্বা’ হিসাবে অভিহিত করেন।
এটি প্রায়ই রক্তের ব্যাধি বা হার্টের সমস্যা নির্দেশ করে। ভিটামিন বি এর ঘাটতি বা স্কারলেট ফিভারের ইঙ্গিতও হতে পারে লাল জিহ্বা।
শরীরের ভেতরের বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ কিন্তু ফুটে ওঠে জিহ্বায়। আর এ কারণেই চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি রোগীর জিহ্বা পরীক্ষা অবশ্যই করেন। জিহ্বায় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলেই বুঝতে হবে শরীরে হয়তো কোনো রোগ বাসা বেঁধেছে।
জিহ্বায় ঘা হওয়া থেকে শুরু করে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর তেমনই একটি সমস্যা হলো জিহ্বায় ফাটল দেখা দেওয়া। অনেকে হয়তো এ সমস্যাকে সাধারণভাবে দেখেন, তবে এটি কিন্তু একটি গুরুতর লক্ষণ। শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি হলে জিহ্বায় ফাটল দেখা দিতে পারে। একে স্ক্রোটাল টাং বলা হয়।
স্ক্রোটাল টাং বা স্ক্রোটাল জিহ্বা কী?
এ ক্ষেত্রে জিহ্বায় ফাটল দাগ দেখা দিতে পারে কিংবা খাঁজকাটা বা কুঁচকে যেতে পারে। ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন বি ৯ (ফোলেট) ও ফেরিটিন (লোহা সঞ্চয় করে এমন একটি প্রোটিন) এর ঘাটতির কারণে এই অবস্থা ঘটতে পারে।
জিহ্বায় এমন ফাটল দেখা দিলে অস্বস্তি হয়, বিশেষ করে মসলাদার খাবার খাওয়ার সময় জ্বালাপোড়া হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে সাইট্রাস ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন।
স্ক্রোটাল জিহ্বা হলে কী করবেন?
এক্ষেত্রে মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। জিহ্বা পরিষ্কার করার রুটিন অনুসরণ করতে হবে। তবে স্ক্রোটাল জিহ্বা দেখা দিলে প্রথমে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে। কী কী খাবেন জেনে নিন-
ভিটামিন বি ১২এর ঘাটতি মেটাতে গরুর মাংস, কলিজা, মুরগির মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, মাখন, পনির ইত্যাদি খেতে হবে। চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করতে পারেন।
ভিটামিন বি ৯ কে ফোলেট বলা হয়। ব্রাসেলস স্প্রাউট, ছোলা, কিডনি বিনস, বাঁধাকপি, কেল ও পালং শাক ইত্যাদি শাক-সবজিতে পাওয়া যায় এই ভিটামিন। ফলিক অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্টও খেতে পারেন এক্ষেত্রে।
কুঁচকানো বা ফাটা জিহ্বা ছাড়াও, ফোলেটের ঘাটতির কারণে ক্লান্তি, শক্তির অভাব, হাত পায়ে ঝি ঝি ধরা, জিহ্বায় ঘা, মুখের আলসার, পেশী দুর্বলতা ও দৃষ্টি বিঘ্নিত হতে পারে।
এছাড়া মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা যেমন- বিভ্রান্তি, বিষণ্নতা, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, বোঝাপড়া ও বিচারের মতো সমস্যা হতে পারে।
ভিটামিন বি ৯ এর ঘাটতির কারণে হার্টেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এমনকি হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা, অস্থায়ী বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভাবস্থার সমস্যা হতে পারে এই ভিটামিনের ঘাটতিতে।
সংক্ষেপে দেখুনদাঁত ফাঁকা আর মুখে দুর্গন্ধ হলে করণীয় কি ?
নিয়মিত পরিষ্কার না করলে, যত্ন না নিলে দাঁত আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়, ক্ষয় হয়ে যায়। - প্রতীকী ছবি দাঁতের ওপরের দিকে ফাঁকা হলে আমরা ডাক্তারের কাছে যাবো। ওনারা এক্ষেত্রে এক্সরে করবেন। যদি ডাক্তারের কাছে মনে হয়, এটা ফিলিং করলে ভালো হবে, তাহলে তাই করবেন। আর যদি ডাক্তাররা দেখেন যে দাঁতের পাশে ফাঁকাবিস্তারিত পড়ুন
নিয়মিত পরিষ্কার না করলে, যত্ন না নিলে দাঁত আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়, ক্ষয় হয়ে যায়। – প্রতীকী ছবি
দাঁতের ওপরের দিকে ফাঁকা হলে আমরা ডাক্তারের কাছে যাবো। ওনারা এক্ষেত্রে এক্সরে করবেন। যদি ডাক্তারের কাছে মনে হয়, এটা ফিলিং করলে ভালো হবে, তাহলে তাই করবেন। আর যদি ডাক্তাররা দেখেন যে দাঁতের পাশে ফাঁকা হয়েছে সে ক্ষেত্রেও একই চিকিৎসা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে এটা ফিলিং করিয়ে রাখতে হবে।
এমন যদি হয় যে, দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা এবং সেখানে খাবার আটকায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে আমরা ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করবো। ডেন্টাল ফ্লস হচ্ছে প্লাস্টিকের মতো এক ধরনের সাদা সুতার মতো। আমরা টুথপিকের জায়গায় এখন ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে বলি। ডেন্টাল ফ্লস আপনারা যে কোনো জায়গায় পাবেন- মার্কেটে বা ফার্মেসিতে।
আপনার যদি দুই দাঁতের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় খাবার আটকে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনি ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করলে, সেখানে আর খাবার আটকে থাকবে না এবং সেখানে আর দুর্গন্ধ হবে না। ফলে খাদ্যকণা জমে সেই জায়গায় আর ক্ষয় হবে না।
আর মুখে দুর্গন্ধ হলে আমি পরামর্শ দেব যে, ছয় মাস পরপর স্কেলিং করাবেন। নিয়ম অনুযায়ী দাঁত ব্রাশ করবেন। যেমন- সকালে নাস্তা করার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করবেন। মাউথওয়াশ ব্যবহার করবেন।
অনেকে বলেন যে, স্কেলিং করালে দাঁতের কোনো ক্ষতি হবে কিনা কিংবা মাড়ির কোনো ক্ষতি হবে কিনা। একদমই না। সেক্ষেত্রে দাঁত বা মাড়ির কোনো ক্ষতি হবে না।
আমাদের কোনো জিনিসপত্রে যদি ময়লা জমে থাকে, ধুলাবালি জমে থাকে, আমরা যদি সেটা পরিষ্কার না করি, যত্ন না করি, তাহলে সেটা অনেকদিন ধরে ময়লা জমতে জমতে নষ্ট হয়ে যায়, সেটা ক্ষয় হয়ে যায়। তো আমাদের দাঁতও ঠিক এরকমই। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে, যত্ন না নিলে দাঁত আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়, ক্ষয় হয়ে যায়।
আমরা প্রতিদিন নিয়মিত দুইবার দাঁত ব্রাশ করবো এবং আমাদের টুথব্রাশ ছয় মাস পরপর বদলাবো। আমরা দাঁত ওপর থেকে নিচে ঘষে ব্রাশ করবো। এতে এক দাঁত থেকে আরেক দাঁতের মাঝে ছোট ফাঁকা জায়গায় যদি ময়লা থাকে, তাহলে সেটা বেরিয়ে যাবে। আমরা দাঁতের ভেতরে আরও ভালো করে ব্রাশ করবো।
কখন দাঁতের রুট ক্যানেল করতে হয়?
দাঁতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এবং সেটি কোন পর্যায়ে গেলে রুট ক্যানেল করা প্রয়োজন তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন। - প্রতীকী ছবি একেক জনের দাঁতে একেক রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর এ সমস্যার বিভিন্ন পর্যায় থাকে। দাঁতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এবং সেটি কোন পর্যায়ে গেলে রুট ক্যানেল করা প্রয়োজন তা চিকিৎসকই ঠিকবিস্তারিত পড়ুন
দাঁতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এবং সেটি কোন পর্যায়ে গেলে রুট ক্যানেল করা প্রয়োজন তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন। – প্রতীকী ছবি
একেক জনের দাঁতে একেক রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর এ সমস্যার বিভিন্ন পর্যায় থাকে। দাঁতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এবং সেটি কোন পর্যায়ে গেলে রুট ক্যানেল করা প্রয়োজন তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন।
অনেক সময় দেখা যায়, দাঁতের উপরের অংশে একটা ছোট দাগ পড়ে সেটা আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। তখনই দন্তক্ষয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তখন দাঁতে ব্যথাও শুরু হয়।
আমাদের দাঁতের ভেতরের একটা লাল ধরনের আবরণ থাকে, যেখানে রক্ত প্রবাহিত হয়। বাইরের দৃশ্যমান অংশকে আমরা বলি এনামেল। ভেতরের অংশটাকে আমরা বলি ডেন্টিন।
ছোট কালো অংশটি যখন হয়ে থাকে, সাধারণত আমরা (চিকিৎসকরা) এটা ফেলে দেই। এটা ফেলে দিয়ে ফিলিং করে দিলেই হয়। কিন্তু এটা যখন চিকিৎসা করাতে দেরি হয়, আস্তে আস্তে ভিতরে চলে যায়, ডেন্টিনে চলে যায়।
যখন ওপরের সাদা অংশতে কালো হয়ে গিয়ে আস্তে আস্তে ডেন্টিনকেও আক্রান্ত করে ফেলে, তখনই ব্যথা শুরু হয়; প্রচুর ব্যাথা হয়। রুট ক্যানেল করতে হয় তখন। ডেন্টিনের লাল অংশটা ফেলে দিয়ে ওখানে কিছু ম্যাটেরিয়ালস বসিয়ে চিকিৎসা করতে হয়। এর পরবর্তীতে আমাদের দাঁতের আবরণটা কেটে ক্যাপ বসাতে হয়।
প্রতিটি দাঁতের নির্দিষ্ট শক্তি থাকে, যা কাটলে ক্ষয় হয়ে যায়। তখন শক্ত খাবার খেলে দাঁত ভেঙে যায়। আর যার জন্যই রুট ক্যানেল করার পর ক্যাপ বসানো হয়।
দাঁত উঁচু-নিচু ও আঁকাবাঁকা হওয়া কিভাবে ঠেকানো যায় ?
যদি দাঁত একটার ওপর আরেকটা ওঠে, তাহলে সেক্ষেত্রে সেখানে খাদ্যকণা জমে থাকে এবং দাঁত আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে যায়। - প্রতীকী ছবি দাঁত উঁচু-নিচু এবং আঁকাবাঁকা যে কারও জন্ম থেকে শুরু হতে পারে। মুখের অনেক রকম অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। সেটা শিশু জন্ম থেকে নিয়ে আসতে পারে অথবা সেটা ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে। তো যেটাবিস্তারিত পড়ুন
যদি দাঁত একটার ওপর আরেকটা ওঠে, তাহলে সেক্ষেত্রে সেখানে খাদ্যকণা জমে থাকে এবং দাঁত আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে যায়। – প্রতীকী ছবি
দাঁত উঁচু-নিচু এবং আঁকাবাঁকা যে কারও জন্ম থেকে শুরু হতে পারে। মুখের অনেক রকম অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। সেটা শিশু জন্ম থেকে নিয়ে আসতে পারে অথবা সেটা ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে। তো যেটা মানুষ জন্ম থেকে নিয়ে আসে, সেটার কারেকশন আস্তে আস্তে হবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে। যখন অভিভাবকের মনে হবে, বাচ্চার মুখে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, তখন অবশ্যই বাচ্চাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন।
কিছু জিনিস তৈরি হয় ছোটবেলায় আমাদের বদ অভ্যাস বা কিছু ভুলের কারণে। ফলে দেখা যায়ে, যে দাঁত ফাঁকা হওয়ার কথা ছিল না, সেটা ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। যে দাঁতগুলো উঁচু-নিচু হওয়ার কথা ছিল না, সেগুলো দেখা যায় ধীরে ধীরে এ রকম হয়ে যাচ্ছে।
তো এটা আমরা কীভাবে প্রতিরোধ করতে পারি? এক্ষেত্রে আমরা মায়েরা অথবা বাচ্চার অভিভাবকেরা বাচ্চাকে অবশ্যই আঙুল চুষতে দেবো না। কারণ, বাচ্চারা ছোটকাল থেকে যদি আঙুল চুষতে থাকে, এর ফলে দেখা যায় যে দাঁতগুলো উঁচু হয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে ফাঁকা হতে থাকে। তো বাচ্চাদের এই অভ্যাসটাকে আমরা বাড়তে দেবো না। আমরা চেষ্টা করবো বাচ্চা যখনই মুখে আঙুল দেবে, সেটাকে সরিয়ে দিতে।
সব বাচ্চাদের মোটামুটি তিন বছর বয়সের মধ্যে দুধ দাঁত উঠে যায়। সেই বেলায় আমরা কী করবো? এই দাঁতগুলোকে আমরা কীভাবে সুন্দর করলে পরবর্তীতে দাঁতগুলো উঁচু-নিচু বা আঁকাবাঁকা হবে না, দাঁত একটার ওপরে আরেকটা উঠবে না?
যদি দাঁত একটার ওপর আরেকটা ওঠে, তাহলে সেক্ষেত্রে সেখানে খাদ্যকণা জমে থাকে এবং দাঁত আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে যায়। হয়তো পরবর্তীতে সেই দাঁত ফেলেও দিতে হতে পারে। বাচ্চাদের দাঁত ওঠার যেমন একটা নির্দিষ্ট সময় আছে, ঠিক তেমনি বাচ্চাদের দাঁত পড়ারও একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। তো আমরা যেটা করবো, সেটা হলো- নির্দিষ্ট সময়ে আমরা দাঁতটা যেন ফেলতে পারি, সেদিকে খেয়াল রাখবো। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে নির্দিষ্ট সময়ের আগে যেন দাঁত না পড়ে। যেমন একটা দাঁতে একটু ক্ষয় হয়েছে, সেটা আমরা সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিলাম ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া। এই কাজটা একদমই করা যাবে না।
অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তাররা অভিভাবকদের বোঝান, এভাবে দাঁত ফেলে দিলে পরবর্তীতে সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অভিভাবকরা নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে দাঁতগুলো ফেলবেন না। প্রত্যেকটা দাঁত পড়ার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। আমরা যদি নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এই দুধ দাঁত ফেলে দেই, তখন দেখা যাবে যে দাঁতটা ফেলে দেওয়া হয়েছে, তার পাশের দাঁত হেলে পড়েছে। পরবর্তীতে যেই দাঁতটা উঠবে, সেটা তখন আর জায়গা পায় না। তখন সেই দাঁতটা হয়তো সামনে দিয়ে উঠবে, নয়তো পেছন দিয়ে উঠবে, অথবা একটু কাত হয়ে উঠবে। তার মানে সেই দাঁত তার জায়গা না পাওয়াতে সে ঠিকমতো উঠতে পারে না। আর উঠলেও দেখা যায় দাঁত আঁকাবাঁকা হয়ে ওঠে, নয়তো দেখা যায় সেই দাঁত আর উঠতেই পারল না।
অনেক সময় দেখা যায়, বাচ্চাদের দুধ দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমরা চিকিৎসা করি না। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই দাঁতটা ফিলিং করিয়ে ফেলতে হবে। আবার কিছু দাঁত আছে সময় মতো পড়ছে না, দাঁতটা অনেকদিন ধরে রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে দুধ দাঁত যদি অনেকদিন ধরে রয়ে যায়, সেক্ষেত্রে স্থায়ী যে দাঁত আছে সেটা আর উঠতে পারে না। তখন সেই দুধদাঁত ডাক্তারের কাছে গিয়ে ফেলে আসতে হয়।
ধরনের সমস্যার কারণে বাচ্চাদের দাঁত উঁচু-নিচু, আঁকাবাঁকা, দাঁত একটার ওপর আরেকটা ওঠা- এরকম হয়ে থাকে। সমস্যা যাই হোক তার একটা স্থায়ী সমাধান আছে। এটা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ ডাক্তারের কাছে আসলে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ডাক্তাররা চিকিৎসা শুরু করেন। শিশুবেলায় চোয়াল যদি একটু উঁচু হয় বা নিচু হয় বা সামনে আগানো থাকে বা পেছানো থাকে, তখন ছোট বাচ্চাদের কমবয়সে চিকিৎসা শুরু করা হয়। আবার দেখা যায়, যখন স্থায়ী দাঁত উঠে যায় ১৩ বছরের দিকে, তখন সে চিকিৎসা করা হয়। আবার সব চিকিৎসা যে ১৩ বছরে করতে হয় তা নয়। এসব ক্ষেত্রে ছয় মাস পর পর ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। ডাক্তারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হয়।
শিশুদের ফাঁকা দাঁত কতটা দুশ্চিন্তার?
বাচ্চাদের দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা দেখা যায়। এটা নিয়ে খুব বেশি টেনশন করবেন না। - প্রতীকী ছবি অনেক সময় আমরা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখি, দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা দেখা যায়। এটা নিয়ে খুব বেশি টেনশন করবেন না। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৩ বছরের মাঝখানে যে সময়টা, এই সময়টাতে বেশি চিন্তা করেন মা-বাবারা। আমাদের ১৩ ববিস্তারিত পড়ুন
বাচ্চাদের দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা দেখা যায়। এটা নিয়ে খুব বেশি টেনশন করবেন না। – প্রতীকী ছবি
অনেক সময় আমরা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখি, দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা দেখা যায়। এটা নিয়ে খুব বেশি টেনশন করবেন না। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৩ বছরের মাঝখানে যে সময়টা, এই সময়টাতে বেশি চিন্তা করেন মা-বাবারা।
আমাদের ১৩ বছরের সময় একটা দাঁত ওঠে, যে দাঁতটা অন্য দাঁতাগুলোর গোড়ায় প্রেসার দিয়ে উঠে। এর কারণে সামনে দাঁতগুলো ফাঁকা দেখা যায়। ১৩ বছরের সময়ে ফাঁকা জায়গাটা আস্তে আস্তে পূরণ হতে শুরু করে।
এছাড়াও ছোট বাচ্চাদের সবগুলো দাঁতের মাঝখানে যদি কিছু ফাঁকা ফাঁকা জায়গা থাকে, এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ স্থায়ী দাঁতগুলো উঠার জন্য এই ফাঁকা স্থানগুলো দরকার রয়েছে।
তবে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে- অনেকদিন ধরে যদি বাচ্চার আঙুল চোষা সমস্যাটা থাকে, সে ক্ষেত্রে ওপরের মাড়িটা উঁচু হয়ে যায়। ওপরের দাঁতগুলো উঁচু হয়ে যায়। দাঁত ফাঁকা হতে থাকে। নিচের চোয়ালটা ভেতরের দিকে চলে যায়। বাচ্চাকে এ অভ্যাস থেকে বিরত রাখতে হবে।
আক্কেল দাঁত কি প্রয়োজনীয়, ফেলে দিলে কোনো সমস্যা হয়?
শুধু আক্কেল দাঁত নয়, আমাদের যেকোন দাঁত সম্পর্কে আমাদের একটা ভুল ধারণা রয়েছে। - প্রতীকী ছবি আক্কেল দাঁতগুলো সাধারণত ১৮ বছরের পরে ওঠে। তখন আমাদের মাড়ির টিস্যু একটু পুরু ও শক্ত হয়ে যায়। দাঁতটিকে মাড়ি একটু চিরে উঠতে হয়। ফলে ওঠার সময় চাপ হয় এবং মাড়িকে একটু কেটে কেটে সে বের হয়। এজন্য দাঁত ওঠার সময় খুব ববিস্তারিত পড়ুন
শুধু আক্কেল দাঁত নয়, আমাদের যেকোন দাঁত সম্পর্কে আমাদের একটা ভুল ধারণা রয়েছে। – প্রতীকী ছবি
আক্কেল দাঁতগুলো সাধারণত ১৮ বছরের পরে ওঠে। তখন আমাদের মাড়ির টিস্যু একটু পুরু ও শক্ত হয়ে যায়। দাঁতটিকে মাড়ি একটু চিরে উঠতে হয়। ফলে ওঠার সময় চাপ হয় এবং মাড়িকে একটু কেটে কেটে সে বের হয়। এজন্য দাঁত ওঠার সময় খুব ব্যথা লাগে।
মেডিকেলের ভাষায় আক্কেল দাঁতকে উইজডম টিথ বা থার্ড মোলার বলা হয়ে থাকে। আক্কেল দাঁতের কোনো প্রয়োজনীয়তা আমাদের মুখে নাই। আপনাকে এ দাঁতগুলো ফেলে দিতে হবে। এ দাঁতগুলো যদি আপনি সার্জারি করে ফেলে দেন, তাহলে আর অস্বস্তি থাকবে না।
শুধু আক্কেল দাঁত নয়, আমাদের যেকোন দাঁত সম্পর্কে আমাদের একটা ভুল ধারণা রয়েছে। দাঁত ফেললে চোখ অন্ধ হবে বা সমস্যা হবে। এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা।
আক্কেল দাঁতের ক্ষেত্রে অনেকেই মায়া দেখায়। যদিও এ দাঁতের কোনো প্রয়োজন নেই আমাদের। যদি আক্কেল দাঁত ঠিকমতো না উঠে, এই দাঁত দিয়ে যদি সমস্যা হয়, এটা ফেলে দেওয়াই হচ্ছে ভালো।
শিশুর দাঁতের যত্ন কীভাবে নেবেন, কখন টুথব্রাশ দেবেন?
অনেকেই মনে করেন, বাচ্চা বড় হলে টুথপেস্ট, টুথব্রাশ ব্যবহার করবে। কিন্তু বিষয়টা একেবারে তেমন নয়। - প্রতীকী ছবি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কত বছর থেকে আমরা দাঁত ব্রাশ করাবো অনেকেই তা জানতে চান। অনেকেই মনে করেন, বাচ্চা বড় হলে টুথপেস্ট, টুথব্রাশ ব্যবহার করবে। কিন্তু বিষয়টা একেবারে তেমন নয়। অনেক বাচ্চার ক্ষেত্বিস্তারিত পড়ুন
অনেকেই মনে করেন, বাচ্চা বড় হলে টুথপেস্ট, টুথব্রাশ ব্যবহার করবে। কিন্তু বিষয়টা একেবারে তেমন নয়। – প্রতীকী ছবি
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কত বছর থেকে আমরা দাঁত ব্রাশ করাবো অনেকেই তা জানতে চান। অনেকেই মনে করেন, বাচ্চা বড় হলে টুথপেস্ট, টুথব্রাশ ব্যবহার করবে। কিন্তু বিষয়টা একেবারে তেমন নয়।
অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা মায়ের পেট থেকে দাঁত নিয়ে আসে। অনেক ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে শুরু করে তিন বছর পর্যন্ত পুরোপুরি দাঁতগুলো উঠে। ছয় বছর পর্যন্ত দুধ দাঁতগুলো পুরোপুরি থাকে।
ছয় বছরের পর থেকে স্থায়ী দাঁত আসা শুরু করে। দুধ দাঁতের সবচেয়ে পেছনের ওপরে এবং নিচে চারটি স্থায়ী দাঁত আসে। এটাকে ফাস্ট মোলার বলে।
অনেক সময় আমাদের ভেতরে ভয় কাজ করে বলে বাচ্চাদের টুথপেস্ট দেওয়া যায় না, ব্রাশ দেওয়া যায় না। কারণ যদি তারা টুথপেস্ট খেয়ে ফেলে। এজন্য আমরা আঙুলের মাথায় একটা গজ কাপড়ের মতো পেঁচিয়ে নেবো। পেঁচিয়ে নিয়ে তাদের দাঁত হালকা করে পরিষ্কার করে দেবো। তারা যেহেতু সব সময় দুধ খায়, এজন্য আঙুল দিয়ে ওটা পরিষ্কার করে দিতে হবে।
বাচ্চার বয়স যখন দেড় থেকে দুই বছরে যাবে, তখন থেকে দাঁত ব্রাশ করা যায়। বাচ্চাদের জন্য ছোট ছোট টুথব্রাশ আছে। ওদের জন্য টুথপেস্টও রয়েছে, যেগুলো খেয়ে ফেললেও অনেক সময় সমস্যা হয় না।
এছাড়াও বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কিছু কিছু অভ্যাস বন্ধ রাখতে হবে। যেমন- চকোলেট খাওয়ানো। কিন্তু যে বাচ্চা সব সময় চকোলেট খায়, তার ক্ষেত্রে চকোলেট খাওয়ার পরে দাঁত ব্রাশটা করিয়ে নেবেন। অন্তত যেন কুলিটা করে।
বাচ্চারা যেহেতু রাতের বেলা দুধ খেয়ে ঘুমায়, দুধের আবরণটা দাঁতের মধ্যে লেগে থাকে। তার প্রভাবে সবগুলো দাঁত ক্ষয় হতে শুরু করে। যেটা অত্যন্ত ক্ষতিকারক তাদের জন্য।
যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা কাদের বেশি?
ফুল এবং শিশু পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি, সবচেয়ে কোমল, সবচেয়ে নিষ্পাপ। সন্তান জন্মলাভ তাই একটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তার মধ্যে যদি আবার হয় যমজ সন্তান তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই, আনন্দের যেন শেষই হয় না।তবে এই ব্যাপারটা যতটা না আনন্দের ততোটা ঝুঁকিরও। যমজ সন্তান গর্ভধারণ তো সবার হবিস্তারিত পড়ুন
ফুল এবং শিশু পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি, সবচেয়ে কোমল, সবচেয়ে নিষ্পাপ। সন্তান জন্মলাভ তাই একটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তার মধ্যে যদি আবার হয় যমজ সন্তান তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই, আনন্দের যেন শেষই হয় না।তবে এই ব্যাপারটা যতটা না আনন্দের ততোটা ঝুঁকিরও।
যমজ সন্তান গর্ভধারণ তো সবার হয় না। তো এরকম কী রয়েছে যে, কোন ফ্যাক্টর এখানে কাজ করে। অর্থাৎ, কাদের যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি?
যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা কাদের সম্ভাবনা বেশি এ বিষয়ে জানার জন্য একটু বিস্তারিত বলতে হবে। যমজ সন্তান দুই ধরনের হয়। একটা হচ্ছে যারা হুবহু একই রকম দেখতে। তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটা অনেকটা একই রকম। ওদেরকে আমরা বলি আইডেন্টিক্যাল টুইন। আরেকটা হচ্ছে হুবহু দেখতে একই রকম না, ভাইবোন যেমন হয় বা বোন-বোন বা ভাই-ভাই যেমন হয় সেইরকম। তো যেটা প্রথমে বললাম সেটা হচ্ছে আইডেন্টিক্যাল টুইন আর যারা দেখতে এক রকম না বা তাদের বৈশিষ্ট্য একরকম নাও হতে পারে সেটা হচ্ছে ফ্যাটার্ন্যাল টুইন।
আইডেন্টিক্যাল টুইনের কারণ খুব বেশি একটা জানা যায় না। যেমন একটা ডিম্বাণু দিয়ে যদি একটি শুক্র কীটের মিলন হয়। একটা ভ্রুণ তৈরি হয় তখন যদি ওইটা হার্ড হয়ে যায় তখন হবে হুবহু এক রকম দেখতে জমজ বাচ্চা। ওদের কারণ বেশি একটা জানা যায় না।
তবে ফ্যাটারম্যান টুইন বা দেখতে ভাই বোনের মত ওদের ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, জাতিগত কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন আফ্রিকানরা। আফ্রিকানদের অনেক বেশি জমজ বাচ্চা হয় এশিয়ানদের চাইতে। এছাড়া মায়ের বয়সটা একটা ব্যাপার যেমন মায়ের বয়স ৩০-৩৫ এর মধ্যে হয় তাহলেও জমজ বাচ্চা হবার সম্ভাবনা থাকে। অথবা আজকাল যেটা বেশি দেখতে পাচ্ছি যে, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার জন্য যে ঔষধগুলো প্রয়োগ করা হয় এটার জন্য অনেক জমজ বাচ্চা আমারা দেখতে পাচ্ছি।
কারণ ওই ওষুধগুলোর কাজ হচ্ছে একটু বেশি বেশি ডিম ফুটানো। আমরা জানি যে, প্রতিটা মেয়েরই মাসিক হওয়ার পর প্রতি মাসে একটা করে ডিম ফুটবে। এই ওষুধগুলোর দ্বারা একটু বেশি বেশি ডিম ফুটে। যার জন্য জমজ বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা ওদের একটু বেশি। সাধারণ মানুষের মাঝে একধরনের মিথ আছে যে, জোড়া কলা বা জয়েন্ট কলা খেলে নাকি যমজ সন্তান হয়। এটা আমরা আগে শুনতাম এটা খাওয়া যাবে না। এরকম কিছু কুসংস্কার আমাদের মাঝে ছিল। হ্যাঁ। তবে আরেকটা সায়েন্টিফিক কারণ হচ্ছে জমজ মায়ের মেয়ের জমজ বাচ্চা হতে পারে। কারণ ওখানে কিন্তু একটা জন্মগত ধারা আসে। মায়ের যদি সেই জিনটা থাকে, সেই জিনটা যদি মেয়ের থাকে,যেটা থেকে ডিম একটু বেশি ফুটবে।তাহলে যে মায়ের যমজ সন্তান থাকে সে মায়ের মেয়েরও যমজ সন্তান হতে পারে। মানে জন্মগত একটা দিকও আছে। আর জোড়া কলা বা জয়েন্ট কলা খেলে নাকি যমজ সন্তান হয়- এমন ধারণা নিতান্তই কুসংস্কার।
দাঁতে পোকা বলতে সত্যিই কি কিছু আছে?
আসলে দাঁতে পোকা বলতে কিছুই নেই - প্রতীকী ছবি আমাদের দেশের জনগণ যে সকল দাঁতের সমস্যা নিয়ে ডেন্টিস্টদের কাছে অথবা ডেন্টাল হাসপাতালে আসেন সেগুলো হচ্ছে প্রথমত দাঁতের ডেন্টাল ক্যারিস – মানে রোগী দাঁতের তীব্র ব্যাথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন। তারা অনুভব করতে পারে দাঁতের মধ্যে গর্ত হয়েছে, তারা বুঝতে পারে দাবিস্তারিত পড়ুন
আসলে দাঁতে পোকা বলতে কিছুই নেই – প্রতীকী ছবি
আমাদের দেশের জনগণ যে সকল দাঁতের সমস্যা নিয়ে ডেন্টিস্টদের কাছে অথবা ডেন্টাল হাসপাতালে আসেন সেগুলো হচ্ছে প্রথমত দাঁতের ডেন্টাল ক্যারিস – মানে রোগী দাঁতের তীব্র ব্যাথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন।
তারা অনুভব করতে পারে দাঁতের মধ্যে গর্ত হয়েছে, তারা বুঝতে পারে দাঁতের মধ্যে খাদ্য জমে যায়, আবার রোগীরা বুঝতে পারে দাঁত শিরশির করে অথবা ঠাণ্ডা বা মিষ্টি খেলে দাঁত শিরশির করে – এসব সমস্যা নিয়ে ডেন্টিস্টের কাছে আসতে পারে।
এছাড়া আরো সমস্যা নিয়ে আসতে পারে যেমন তারা অনুভব করতে পারে মুখে দুর্গন্ধ হয়, মুখে পাথরজনিত সমস্যা নিয়ে আসতে পারে এবং তারা এমন সমস্যা নিয়েও আসে যে দাঁত নড়ছে অথবা পড়ে যাবে অথবা তারা আঁকাবাঁকা দাঁতের সমস্যা নিয়েও আসে। বা মুখে খাদ্য জমে যাচ্ছে – এই সমস্যা নিয়েও আসতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের মুখ ও দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসতে পারে এবং দেখা যায় যে, রোগী ভাঙা দাঁত অথবা ভাঙা চোয়াল বা দুর্ঘটনাজনিত বিষয় নিয়ে চেম্বারে বা ডেন্টিস্টদের কাছে এসে থাকে।
ডেন্টাল ক্যারিস বলতে কী বুঝায় এবং এটা কাদের বেশি হয়ে থাকে ?
ডেন্টাল ক্যারিস বলতে সাধারণ জনগণ বুঝে দাঁতে পোকা; আসলে দাঁতে পোকা বলতে কিছুই নেই। যেটা আছে সেটাকে আমরা (চিকিৎসকরা) ব্যাক্টেরিয়া বলে থাকি। আমাদের মুখে হাজারো ধরনের ব্যাক্টেরিয়া থাকে, তার মধ্যে ডেন্টাল ক্যারিস যেটা হচ্ছে দন্ত ক্ষয় রোগ – এইটার জন্যে যে ব্যাক্টেরিয়া দায়ী সেটা হলো ল্যাক্টোবেসিলাস এবং চেপলোকোকাস মিউটেন্ট। আমরা যে খাবার খাই সেই খাবারগুলোর দাঁতের সাথে লেগে থাকলে এই ব্যাক্টেরিয়াগুলো ফ্লাইবারের উপস্থিতিতে আমাদের দাঁতের ক্ষয় করতে থাকে। এই ক্ষয়টার কারণ হলো সেখানে ল্যাক্টিক এ্যাসিড। ব্যাক্টেরিয়াগুলো ফ্লাইবারের উপস্থিতিতে তৈরি হয় ল্যাক্টিক এ্যাসিড। সেটাই দাঁতের ক্ষয় করে।
এখন এই ডেন্টাল ক্যারিসটা কাদের হয়? ডেন্টাল ক্যারিসটা হওয়ার কোন বয়স নেই, ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত যা কারোই হতে পারে। তবে সাধারণত দেয়া যায় যে যাদের দন্ত ক্ষয় রোগের সম্ভাবনা আছে বা বংশগতভাবেও হতে পারে এবং যাদের এনামেল যাদের দুর্বল এবং এনামেলের গঠনগত দুর্বলতা থাকে তাদের ডেন্টাল ক্যারিসটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
দেখা যায়, অনেকে বিভিন্ন ধরনের প্রসেস ব্যবহার করে এবং সেই প্রসেসে যদি কোন প্রকার ফল্ট থেকে থাকে তবে তখন ক্ষয় হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় যে আঁকাবাঁকা দাঁত থাকে, সেই আঁকাবাঁকা দাঁত মানুষ ঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারে না– সেখানে খাদ্য জমে যায় আর খাদ্য জমে গিয়ে ডেন্টাল ক্যারিস হতে পারে।
এছাড়া দাঁত পরিষ্কার করার নিয়ম আছে তিন বেলা খাবারের পরে, যারা এসব নিয়ম মেনে চলে না তাদের ডেন্টাল ক্যারিস হতে পারে।
শিশুদের কী কী ধরনের ক্যান্সার হতে পারে?
প্রতীকী ছবি শিশুদের ক্যান্সার অনেক ধরনের হতে পারে। যেমন ব্লাড ক্যন্সার, হাড়ে ক্যান্সার ( অষ্ট সারকোমা), ব্রেন ক্যান্সার, মাংস পেশির ক্যান্সার (একুইডাপ্টেমা সারকোমা) বাচ্চার কিডনিতে ক্যান্সার, চোখে ক্যান্সার, জনন কোষের ক্যান্সার। এখানে আবার মেয়ে বাচ্চা ও ছেলে বাচ্চাদের আলাদা আলাদা নাম আছে। তাছাড়াবিস্তারিত পড়ুন
প্রতীকী ছবি
শিশুদের ক্যান্সার অনেক ধরনের হতে পারে। যেমন ব্লাড ক্যন্সার, হাড়ে ক্যান্সার ( অষ্ট সারকোমা), ব্রেন ক্যান্সার, মাংস পেশির ক্যান্সার (একুইডাপ্টেমা সারকোমা) বাচ্চার কিডনিতে ক্যান্সার, চোখে ক্যান্সার, জনন কোষের ক্যান্সার। এখানে আবার মেয়ে বাচ্চা ও ছেলে বাচ্চাদের আলাদা আলাদা নাম আছে। তাছাড়া আরো অনেক ধরনের ক্যান্সার যা অল্প পরিমাণে হয়। যেমন লিম্প নুডের ক্যান্সার বা লিম্পুমা-এটা কমন একটা ক্যান্সার।
কী কারণে শিশুদের ক্যান্সার হয়?
ক্যান্সারের সঠিক কারণ আসলে জানা যায় না। বেশিরভাগ ক্যন্সার অজানা। তবে কিছু কিছু পরিমাণে ডিসঅর্ডারের কারণে ক্যান্সার হতে পারে। তাছাড়া কিছু ডাই আছে, কিছু ড্রাকস আছে, রেডিয়েশন আছে এই ধরনের কারণেও ক্যান্সার হতে পারে।
ক্যান্সারের লক্ষ্মণগুলো কী কী?
একেক ক্যান্সারের একেক ধরনের লক্ষণ হতে পারে।
আমাদের বাচ্চাদের স্বাধারণত ব্লাড ক্যান্সারটা কমন। ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ হলো- এ ধরনের ক্যান্সারে আসলে বাচ্চাদের জ্বর হয়। সাধারণ জ্বরটা অন্যান্য রোগের মত ওষুধ খেলে কমে যায় তবে এই ক্যান্সারটা ওষুধে কমে না। তারপরে বাচ্চাদের খাওয়া কমে যাবে, শরীর সাদা হয়ে যাবে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি ফুলেও যেতে পারে। এসবই আসলে ব্লাড ক্যান্সারের প্রধান কারণ।
এছাড়া অন্যান্য ক্যান্সারের ক্ষেত্রে যে ক্যান্সার হয় সে ধরনের কারণ নিয়ে আসে। আবার চোখের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শিশুর জন্মের পরপরই এই ক্যান্সার দেখা যায় অথবা জন্মের ২ মাস পর দেখা যেতে পারে। এখানে বাচ্চাদের চোখ অন্ধকারে জ্বলতে থাকে। তখন মায়েরা হয়তো চিন্তা পড়ে যায় যে, কেন বাচ্চাদের চোখ জ্বলতে থাকে! আর একেই বলে ক্যাফ সাইড রিপ্লেক্স।
এই ধরনের ক্যাফ সাইড রিপ্লেক্সর কারণে বাচ্চাদের চোখ অন্ধকারে জ্বলতে থাকলে অবশ্যই চোখের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।। তাছাড়া এমনও হয় শরীরের কোন না কোন অংশ ফুলে যায়। সেই ফোলাটা কোনো আঘাতজনিত কারণে বা কোন এক্সিডেন্টের কারণে আবার অথবা কোনো ব্যাথার কারণেও হয়নি। এমন হলে এটা একটা ক্যান্সারের লক্ষ্মণ হিসেবে ধরা হবে। এসবই আসলে ক্যান্সারের লক্ষ্মণ।
তাছাড়া স্বাধারণত ক্যান্সারের লক্ষ্মণ হলো- শরীর সাদা হয়ে যাওয়া। যাকে এনিমিয়া বলা হয়। তাছাড়া শরীর শুকিয়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়াও ক্যান্সারের লক্ষ্মণ এবং এটাকে আমরা এনোরেকশিয়া বলে থাকি। অ্যানোরেক্সিয়া হচ্ছে, একেবারে না খাওয়া বা খাওয়া কমে যাওয়া। এসব যেকোনো কারণে যদি বাচ্চাদের এইরকম সমস্যা হয় সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কী?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম আশীর্বাদ অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার। এর ফলে এমন অনেক রোগের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে, যেগুলোর কারণে একসময় মানুষ মারা পর্যন্ত যেত। কিন্তু এখন অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে মানুষ কয়েকদিনের মধ্যে সহজেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং অ্যান্টিবায়োটিকের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তবে এর অপব্যবহারের কারণেবিস্তারিত পড়ুন
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম আশীর্বাদ অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার। এর ফলে এমন অনেক রোগের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে, যেগুলোর কারণে একসময় মানুষ মারা পর্যন্ত যেত। কিন্তু এখন অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে মানুষ কয়েকদিনের মধ্যে সহজেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং অ্যান্টিবায়োটিকের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তবে এর অপব্যবহারের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যাপকহারে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কী?
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলতে আমরা বুঝি ব্যাকটেরিয়ার এক ধরণের শক্তি অর্জন করা বা এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার পদ্ধতি। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া যখন এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার একটি পথ শিখে ফেলে।
আমরা জানি মানুষ যেমন প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে বা বাঁচার পদ্ধতি শিখে ফেলে ঠিক তেমনি ব্যাকটেরিয়াও এন্টিবায়োটিকের মধ্যে বাঁচার পদ্ধতি এমনিতেই শিখে ফেলে। কিন্তু এ শেখাটা তখন খুব দ্রুত হয়ে যায় যখন এন্টিবায়োটিকের সাথে বারবার দেখা হয়। আর এই এন্টিবায়োটিকের সাথে দেখা হয়ে সে যদি বেঁচে যায় তখন তার একটা স্মৃতি তৈরি হয়। আর ওই স্মৃতিতে সে জানে ব্যাকটেরিয়া কিভাবে ঢুকে, কিভাবে বের হয়, কোন ধরণের বা কোন আকৃতির এবং কিভাবে তাকে মেরে ফেলতে হয়। স্মৃতিতে এই যে বেঁচে থাকার দক্ষতা তৈরি হয় সেটি তার পরবর্তী প্রজন্মকে এবং পাশের প্রজন্মকে জানিয়ে দেয়। এই জানানোর কিছু জেনেটিক পদ্ধতি আছে যেগুলো সে চিঠির মত করে লিখে পরবর্তী প্রজন্ম এবং পাশের প্রজন্মকে শিখিয়ে দেয়। একটি ব্যাকটেরিয়া যখন বেঁচে থাকার পদ্ধতি শিখে যায় তখন এই দক্ষতাটি ছড়িয়ে দেয় লক্ষ-কোটি ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে। যখন লক্ষ-কোটি ব্যাকটেরিয়া একটি নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার সক্ষমতা অর্জন করে তখন সে ওষুধটি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। তখন আমরা বলি এই ব্যাকটেরিয়াটি এই এন্টিবায়োটিকের মধ্যে বেঁচে থাকার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু আমরা তো ব্যাকটেরিয়াটি দেখতে পাই না। এর ফলে আমরা দুইটি ভুল করি। তখন আমরা বলি এক্স ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স।
আসলে এক্স ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স হয়নি। এক্স ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ অফ ব্যাকটেরিয়া বাঁচার পদ্ধতি শিখে রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেছে। অতএব এক্স ড্রাগটি রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেছে এটি বললে এটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আরেকটি হলো, আমি রেজিস্ট্যান্স বা অমুক ব্যক্তি রেজিস্টেন্ট বা অমুকের শরীরে কাজ করে না এই কথাটি ভুল। কারণ ওই মানুষটিকে গতবার যে ব্যাকটেরিয়াটি আক্রমণ করেছিল সেটি ছিল রোগ প্রতিরোধী। মানে ওইটি এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। অতএব এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হচ্ছে এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলা অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়াটি বিশেষ সক্ষমতা অর্জন করে ফেলা। এটি হচ্ছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট।
চোখ বড় বা ট্যারা কি অশুভলক্ষণ ?
চোখ মানব শরীরের মহামূল্যবান অঙ্গ। চোখের নানা রোগের কারণে জীবনে নেমে আসে নানা দুর্ভোগ। বড় চোখ মানেই সুন্দর। অভিভাবকরা শিশুর বড় চোখ দেখে খুশি হন। কিন্তু বড় চোখ কি অশুভ লক্ষণ না রোগ? আমরা শিশুদের বড় চোখ দেখলেই অনেক খুশি হই। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই বড় চোখের পেছনে রোগ থাকতে পারে। চিকিৎসকরা অনবিস্তারিত পড়ুন
চোখ মানব শরীরের মহামূল্যবান অঙ্গ। চোখের নানা রোগের কারণে জীবনে নেমে আসে নানা দুর্ভোগ।
বড় চোখ মানেই সুন্দর। অভিভাবকরা শিশুর বড় চোখ দেখে খুশি হন। কিন্তু বড় চোখ কি অশুভ লক্ষণ না রোগ?
আমরা শিশুদের বড় চোখ দেখলেই অনেক খুশি হই। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই বড় চোখের পেছনে রোগ থাকতে পারে। চিকিৎসকরা অনেক ক্ষেত্রেই চিন্তা করেন শিশুর কোন জন্মগত গ্লুকোমা রোগ আছে কিনা। গ্লুকোমা হচ্ছে চোখের উপর চাপ বেড়ে গিয়ে অপটিক্যাল নার্ভকে নষ্ট করে দেয়। অপটিক্যাল নার্ভ নষ্ট হলে রেটিনা থেকে কোন আলোকরশ্মি আমাদের ব্রেইনে যায় না। এক্ষেত্রে শিশুটি চোখে দেখতে পায় না। এভাবে গ্লুকোমা থেকে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। তাই চোখের কর্নিয়া বড় হলে বুঝে নিতে হবে শিশুটির জন্মগত গ্লুকোমা থাকলেও থাকতে পারে। চোখের কর্নিয়ার আরেকটি রোগ কেরাটোগ্লোবাস। এক্ষেত্রে চোখের কর্নিয়া বড় হয় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে বাচ্চাটি বড় হয়ে চোখে ভালো দেখতে পাবে না। এছাড়া যাদের চোখে মাইয়োপিয়া রয়েছে তাদের চোখগুলো কিছুটা বড় হয়s।
মাথাব্যথার সাথে চোখের সম্পৃক্ততা আছে কি?
চোখের সাথে মাথা ব্যাথার অবশ্যই সম্পর্ক রয়েছে। কারো চোখের পাওয়ার পরিবর্তন হয়ে যায় এবং সে যদি ভুল পাওয়ার দিয়েই পড়ালেখা করে, তখন চোখের উপর চাপ পড়বে। এতে চোখেও ব্যথা করবে এবং মাথাব্যথা হবে। এসব কারণে চোখের জন্য মাথা ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা রোগীর চশমার পাওয়ার চেক করে নতুন পাওয়ারের চশমা দিলে মাথাব্যথা কমে যাবে। কিন্তু চোখ ছাড়াও অন্যান্য কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে নিউরোলজিস্টের কাছে যেতে হবে।
কেউ চোখ কোন অন্ধ মানুষকে দান করতে চায়, এটা কতটুকু যৌক্তিক?
মানুষ মারা গেলে তার চোখের কর্নিয়াটুকু সংগ্রহ করা সম্ভব। মৃত্যুর পরে কর্নিয়া ৬ ঘন্টা পর্যন্ত জীবিত থাকে। তাই কারো মৃত্যুর ৬ ঘণ্টার মধ্যে এ কর্নিয়াটুকু সংগ্রহ করা যেতে পারে। এরপর কর্নিয়াজনিত কারণে যারা অন্ধ তাদের চোখে এই কর্নিয়া সংযোজন করা যেতে পারে। এর ফলে তারা চোখে দেখতে পাবেন। তবে চোখে কর্নিয়া সংযোজন করার সময় এই শর্ত থাকতে হবে যে, তার চোখের রেটিনা, নার্ভ এবং লেন্স ভালো থাকতে হবে।
চোখ যদি একটু ট্যারা হয়, তখন সেটাকে অনেকে লক্ষ্মী ট্যারা বলে। এটাকে অনেকে শুভ লক্ষণ বলেন। কতটুকু সত্য এই ভাবনা?
লক্ষী ট্যারা বা চোখ ট্যারা হওয়া মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। আমরা সবসময় দু’টো চোখ দিয়ে একটি জিনিস দেখি। একটি চোখ ট্যারা হলে দু’টি চোখ দিয়ে দু’রকমের জিনিস দেখা হয়। এক্ষেত্রে ট্যারা চোখের প্রতি চাপ বেশি পড়ে। কিন্তু এই ট্যারা চোখটিকে সোজা করা সম্ভব। এক্ষেত্রে চশমা পরা যায় কিংবা অপারেশন করেও চোখটি সোজা করা সম্ভব। কিন্তু বাচ্চার আট বছর বয়সের মধ্যেই চোখটিকে অপারেশন করে সোজা করতে হবে। এর ফলে বাচ্চার দৃষ্টি ভালো থাকে। কিন্তু ২০ বছরের পরে অপারেশন করা হলে বাচ্চা চোখে ভালো দেখতে পায় না।
আরওপি নবজাতকের চোখের একটি সমস্যা। যাতে অন্ধত্বের ঝুঁকি রয়েছে অনেকখানি। এর চিকিৎসা কি?
আমাদের দেশে প্রচুর অপরিপক্ক বাচ্চার জন্ম হচ্ছে। অপরিপক্ক বাচ্চা বলতে যার জন্ম ৩৫ সপ্তাহের আগেই এবং জন্মের সময় যে বাচ্চাটির ওজন দুই কেজির কম। দেশের নিওনেটাল কেয়ার দিন দিন উন্নত হচ্ছে।
আমাদের দেশে নিউনেটোলজি অনেক উন্নতি হয়েছে। এসব অপরিপক্ক বাচ্চাদের রেটিনার রোগ হতে পারে। এক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ রোগ আল্লাহর রহমতে ভালো হয়। বাকি ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যা হয়ে থাকে। এসব বাচ্চার জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে একজন রেটিনা বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করাতে। বাচ্চাটির রেটিনোপ্যাথি অফ প্রিম্যাচুরিটি আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে।
আর বাচ্চাটি ২৮ সপ্তাহের আগেই জন্মগ্রহণ করলে এবং তার ওজন ১৫শ’ গ্রামের কম হলে, বাচ্চাটিকে ২০ দিন বয়সে চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। তখন এই বাচ্চাগুলোর রেটিনা গুলোকে এক্সামাইন করা হয়। তার ভিতরে নানারকম সমস্যা থাকতে পারে, যেমন রক্তনালীর সমস্যা। তখন চোখে কিছুদিনের জন্য একটি ইনজেকশন দেয়া হয়। এরপর কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রেখে বাচ্চা গুলোকে লেজার করা হয়। ফলে যেখান থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, লেজার করে সে জায়গাগুলোকে বার্ন করা হয় বা পুড়িয়ে ফেলা হয়। এর ফলে যতটুকু স্বাভাবিক থকে চোখ তা দিয়েই বাচ্চাটি সারা জীবন ভালো থাকতে পারে।
কি কারণে বারবার গর্ভাবস্থা নষ্ট হয় ?
বারবার গর্ভাবস্থা নষ্ট হওয়ায় অনেক নারীই হতাশায় ভোগেন। চিকিৎসকরা গর্ভবতী হবার ২০ সপ্তাহের মধ্যে তিন বা ততোধিক বার নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস বলে থাকেন। রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস কী? গর্ভবতী হবার ২০ সপ্তাহের আগে তিন বা ততোধিক বার গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসবিস্তারিত পড়ুন
বারবার গর্ভাবস্থা নষ্ট হওয়ায় অনেক নারীই হতাশায় ভোগেন। চিকিৎসকরা গর্ভবতী হবার ২০ সপ্তাহের মধ্যে তিন বা ততোধিক বার নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস বলে থাকেন।
রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস কী?
গর্ভবতী হবার ২০ সপ্তাহের আগে তিন বা ততোধিক বার গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস বলে। সাধারণত ১২থেকে ১৪ সপ্তাহের আগেই গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসে ব্যক্তি, পরিবার এবং সামাজিক জীবনে অনেক প্রভাব রয়েছে। এর ফলে নারীরা অনেক হতাশায় ভোগেন। সংসার জীবনে মনোমালিন্য হয়। এছাড়া, রিকারেন্ট প্রেগনেন্সির ফলে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়, সেগুলোও ব্যয়বহুল।
রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসের কারণ কী?
ইউটেরাসের বিভিন্ন ত্রুটির কারণে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হয়ে থাকে। এছাড়াও ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হরমোন ডিজঅর্ডার ,পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিনড্রোম এর কারণে রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হয়। ড্রাগ, ধুমপান, সাইকলজিক্যাল ফ্যাক্টরও রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লসের কারণ।
রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হলে কিভাবে শনাক্ত করতে হবে?
সাধারণত তিনটি ক্লিনিক্যাল প্রেগনেন্সি লসের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার কারণগুলো সনাক্ত করতে হয়। যাদের ৩৫ বছর বয়স তাদের দুইটি বাচ্চা হওয়ার পর পরীক্ষা করানো উচিত। গর্ভবতী মায়ের বয়স যদি ৩৫ বছরের বেশি হয় তাহলে তার ওভাম ভাল ছিল না। এছাড়াও অনিয়মিত পিরিয়ডও গর্ভাবস্থা নষ্ট হবার একটি কারণ।
ক্রোমোসোমাল ডিফেক্ট অর্থাৎ ১২ সপ্তাহের আগে যদি গর্ভাবস্থা নষ্ট হয়, তবে সেটা ক্রোমোজোমাল ডিফেক্ট এর কারনে হয়ে থাকে। আর ১২ সপ্তাহের পর গর্ভাবস্থা নষ্ট হবার কারণ হচ্ছে ফসফোলিপিড সিনড্রোম। অতিরিক্ত ওজন থাকলেও রিকারেন্ট প্রেগনেন্সি লস হয়ে থাকে। এছাড়াও ইউটেরাস এনাটোমিকাল ডিফেক্ট, কিডনি এনোমেলি ডিফেক্ট, ওভারিয়ান রিজন, ইমিউনোলজিক্যাল রিজন ইত্যাদি।
শিশুর আচরণগত সমস্যা হয় কি কি কারনে?
প্রতীকী ছবি শিশুর মানসিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো আচরণগত সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পিতা-মাতা, অভিভাবকরা একে মানসিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন না, পারলেও স্বীকার করতে চান না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা হয় না বা বিলম্বিত হয়। সাধারণত এটা ছেলে-মেয়ে উভয়ের হতে পারে। এর ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হয়? শবিস্তারিত পড়ুন
প্রতীকী ছবি
শিশুর মানসিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো আচরণগত সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পিতা-মাতা, অভিভাবকরা একে মানসিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন না, পারলেও স্বীকার করতে চান না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা হয় না বা বিলম্বিত হয়। সাধারণত এটা ছেলে-মেয়ে উভয়ের হতে পারে। এর ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হয়?
শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যার বিষয়টা কি?
আমরা যদি বয়স দিয়ে বিবেচিত করি তাহলে, শিশু কিশোর কিন্তু ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত। আর এই হিসাবে দেশের ৪০ শতাংশই শিশু-কিশোর। আরও একটা কথা আছে, আজকের শিশু আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। সুতারং শিশুকে গঠন করতে হবে সুন্দর করে। এমন করে গঠন করতে হবে, যাতে সে আগামীদিনে দেশের হাল ধরতে পারে। আচরণের সংজ্ঞা যদি বলি তা হলো- আমরা যা কিছু করি, তা যদি দেখা যায়, পরিমাপ করা যায় তাই আচরণ।
এখন আমরা কথা বলবো আচরণের সমস্যা নিয়ে। এটা এমন একটা সমস্যা যে আমার শিশু আমার কথা শোনে না। আমার শিশু পড়তে বসেনা, পড়তে বসলে খেলাধুলা করতে চাই, স্কুলে গেলে পালিয়ে যায়, স্কুলের ক্লাসটা ঠিকমত করে না। এমনকি আমার সেই শিশু কিশোরটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইভটিজিং করে, মারামারি করে। এছাড়াও আজকাল যে শিশু গ্যাং বলে একটা কথা আসছে সেটাও কিন্তু এটারই অংশ। এটিই যদি হয় একটা শিশুর আচরণ তাহলে আমরা তাকে বলি শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যা বা Conduct disorder।
শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যার কারণ :
শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যার কারণকে আমরা দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি। একটা হলো- ব্যক্তিগত কারণ। আর একটা হলো- পারিবারিক কারণ। ব্যক্তিগতটা হল বংশ পরম্পরায়। যেমন: বাবা বা পরিবারের এরকম আচরণগত সমস্যা ছিল সেখান থেকে আসতে পারে। আবার কিছু কিছু সময় শিশুর মস্তিষ্কের বায়ো-কেমিক্যাল পরিবর্তন হয় সেটার জন্যও হতে পারে। অনেক সময় শিশু জন্ম নেয়ার সময় মায়ের অক্সিজেন সমস্যা ছিল, এটাও একটা কারণ হতে পারে।
আর একটা হল বেড়ে ওঠার বিষটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে আমি পারিবারিক সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করছি। কিভাবে সে বেড়ে উঠলো? সে যদি পরিবারে সঠিক ভালোবাসা না পেয়ে বেড়ে উঠে। যেমন: তাকে বুঝানোর থেকে মারা হয় বেশি, তাকে সব সময় অনর্থক গালি দেয়া হয়। এছাড়াও পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর ভেতর ঝগড়া, মারামারি লেগে থাকে। এসব কারণেই শিশু কিশোরদের আচরণগত সমস্যা হয়। বাবা-মায়েরা যখন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে তখন ওই শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়।
শিশু-কিশোররা অনলাইনে ঝুঁকে পড়ার কারন :
প্রতিটি জিনিসের একটা সুফল আর একটা কুফল থাকে। আমরা পিতা-মাতারাও কিন্তু কাজ থেকে ফিরে এসে মোবাইল নিয়ে বসে যাচ্ছি এবং ফেসবুক, ইউটিউব চালাতে শুরু করি। তখন শিশুদের প্রতি তাদের নজর থাকে না। ফলে ওই শিশুর বিকাশ রোধ হয়ে যাচ্ছে। সে আর বাবা-মায়ের সাথে মিশছে না এবং বাবা-মায়ের আদর নিচ্ছে না।
অনেক সময় পিতা-মাতাই শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেন। কিন্তু পিতা-মাতারা ভুলে যান, তাদের শিশুদের মোবাইল চালানোর বিষয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা দিতে হবে। ফলে ওই শিশু মোবাইল দেখতে দেখতে এক সময় আসক্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শিশু আর অন্যের সাথে মিশতে ও সামাজিক হতে পারছে না।
শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যার প্রাথমিক চিকিৎসা কী?
শিক্ষার জন্য পরিবারই কিন্তু প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান। আবার পরিবারই শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যার চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান। এখানে পরিবারকে দুটি জিনিস করতে হবে। প্রথম হলো শিশুদেরকে ভালোবাসাটা দিতে হবে। এখানে আবার ভালোবাসাটা শুধু ভালোবাসা হলে হবে না, এর সাথে নিয়মানুবর্তিতা আনতে হবে। এখানে শিশু যদি কোন ভুল করে তাহলে তাকে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে আমরা শারীরিক শাস্তির কথা বলছি না। তাহলে প্রশ্ন আসে শাস্তিটা আবার কেমন হবে?
শাস্তিটা হবে এমন, ধরুন ওই শিশু হরলিক্স খেতে পছন্দ করে। এখন তাকে বলেন আমি বারবার নিষেধ করার পরেও তুমি এই কাজটা করেছো এজন্য আজ তোমাকে হরলিক্স দিবো না। এই হরলিক্স না দেওয়াটাই তার জন্য শাস্তি। সুতরাং এভাবে নিয়মানুবর্তিতা আনতে হবে। এর সাথে আপনার শিশুর বেড়ে উঠার পদ্ধতিটা যেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হয়। যেমন: আপনি আপনার বাচ্চাকেও পরিবারের বিষয়ে কথা বলতে দেয়া। তার মনের কথা শুনে তার মতকেও প্রাধান্য দেয়া।
আর দ্বিতীয় বিষয় যেটা করা যেতে পারে, সেটা হলো- আপনি আপনার শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দেন। তাকে সাথে নিয়ে যখনই সুযোগ পান তখন খেলাধুলা করেন, কবিতা আবৃত্তি ও গানের আসর করতে পারেন। তাহলে কিন্তু শিশু-কিশোরদের আর আচরণগত সমস্যা হবে না। আর একটা বিষয় হলো আপনার শিশুর মোবাইল, ইন্টানেট ব্যবহারের বিষয়ে আপনাকে নজর রাখতে হবে। কখন কী বিষয়ে কী দেখছে সেটার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। যাতে করে ডিজিটাল মাধ্যমের অপব্যবহার না করে।
ভালো অভিভাবকত্ব সম্পর্কিত কিছু টিপস কি ধরনের হতে পারে ?
অভিভাবকত্ব একটি জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ, কিন্তু সঠিক পদ্ধতির সাথে, আপনি আপনার সন্তানদের জন্য একটি প্রেমময় এবং সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারেন। এখানে ভাল পিতামাতার জন্য কিছু টিপস আছে: নিঃশর্ত ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতাঃ আপনার সন্তানদের তাদের কর্ম বা অর্জন নির্বিশেষে তাদের ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতা দেখাবিস্তারিত পড়ুন
অভিভাবকত্ব একটি জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ, কিন্তু সঠিক পদ্ধতির সাথে, আপনি আপনার সন্তানদের জন্য একটি প্রেমময় এবং সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারেন। এখানে ভাল পিতামাতার জন্য কিছু টিপস আছে:
নিঃশর্ত ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতাঃ
আপনার সন্তানদের তাদের কর্ম বা অর্জন নির্বিশেষে তাদের ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতা দেখান।
কার্যকর যোগাযোগঃ
আপনার বাচ্চাদের সাথে খোলামেলা এবং সৎ যোগাযোগ গড়ে তুলুন।
স্পষ্ট এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ সীমানা সেট করুনঃ
আচরণের জন্য স্পষ্ট নিয়ম এবং প্রত্যাশা স্থাপন করুন। সামঞ্জস্যতা গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিবাচক রোল মডেল হোনঃ
শিশুরা তাদের পিতামাতার আচরণ পর্যবেক্ষণ করে শেখে। আপনার ক্রিয়াকলাপ এবং মনোভাব সম্পর্কে সচেতন থাকুন, কারণ তা আপনার সন্তানের বিকাশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।
স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসনকে উত্সাহিত করুনঃ
আপনার বাচ্চাদের বয়স-উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে এবং তাদের কাজের জন্য দায়িত্ব নিতে দিন।
একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলুনঃ
বাড়িতে একটি পুষ্টিকর এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করুন। উৎসাহ প্রদান করুন, তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করুন
একসাথে মানসম্পন্ন সময় কাটানঃ
প্রতিটি শিশুর সাথে নিয়মিত এক সময় উত্সর্গ করুন। ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত হন যা তারা উপভোগ করে, সক্রিয়ভাবে তাদের কথা শোনেন এবং তাদের আগ্রহগুলিতে অংশ নেন।
সমস্যা-সমাধানের দক্ষতা শেখানঃ
আপনার বাচ্চাদের কীভাবে চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয় তা শিখিয়ে তাদের স্থিতিস্থাপকতা বিকাশে সহায়তা করুন।
স্ব-যত্নকে অগ্রাধিকার দিনঃ
কার্যকর অভিভাবকত্বের জন্য নিজের যত্ন নেওয়া অপরিহার্য। আপনার বিশ্রাম, শিথিলকরণ এবং ব্যক্তিগত আগ্রহের জন্য সময় আছে তা নিশ্চিত করুন।
প্রয়োজনে সমর্থন খোঁজুনঃ
পিতামাতার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সময় বন্ধু, পরিবার বা পেশাদারদের কাছ থেকে সমর্থন চাইতে দ্বিধা করবেন না।
মনে রাখবেন যে, প্রতিটি শিশু অনন্য, এবং তাদের ব্যক্তিগত চাহিদার উপর নির্ভর করে পিতামাতার কৌশলগুলি পরিবর্তিত হতে পারে। আপনার সন্তানের মেজাজ এবং বিকাশের স্তর অনুসারে এই টিপসগুলিকে মানিয়ে নিন। আমরা কেউ অনন্য নই, আমাদের অনেক ভুল হয় এবং ভুলগুলো শুধরানোর চেষ্টা করা উচিত।
পরিশেষে, একজন ভালো বাবা-মা হওয়ার জন্য ভালোবাসা, ধৈর্য এবং আপনার সন্তানের ভালো থাকার প্রতিশ্রুতি জড়িত।
সংক্ষেপে দেখুনচিকিৎসা বিজ্ঞানের একাল ও সেকাল কোথায় পার্থক্য?
বিগত শতকগুলোতে জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় উন্নতির সাথে সাথে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের। চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত এবং যারা এ পেশার বাইরে, তারাও চিকিৎসার বর্তমান এবং অতীত তুলনা করলে বিস্ময়ে হতবাক না হয়ে পারবেন না। বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের অগ্রবিস্তারিত পড়ুন
বিগত শতকগুলোতে জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় উন্নতির সাথে সাথে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের। চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত এবং যারা এ পেশার বাইরে, তারাও চিকিৎসার বর্তমান এবং অতীত তুলনা করলে বিস্ময়ে হতবাক না হয়ে পারবেন না। বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা মানুষকে অবাক অভিভূত করছে না শুধু, আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে, রোগ নির্ণয় ও রোগ সারাতে যেমন অগ্রগতি হয়েছে, তেমনি মানুষের সুস্থ জীবন যাপনের নিশ্চয়তা বাড়াতে নানা ধরনের গবেষণা হয়েছে, এখনও হচ্ছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে পিছনে তাকালে দেখা যায়, কি অসাধ্যই না সাধন করেছে বিজ্ঞানের কল্যাণে। অতীতে যে সকল স্বাস্থ্যগত সমস্যাকে মনে হত প্রকট এবং অনতিক্রম্য, ক্রমে ক্রমে বিজ্ঞানীদের চেষ্টায় তার অনেকগুলোকেই অতিক্রম করতে পেরেছে মানুষ। অতীতে রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, ওষুধপত্র এমনকি পাঠ্য বইও ছিল সীমিত। শুধু তাই নয়, চিকিৎসার ধারণা এবং রোগ নির্ণয় পদ্ধতি ভুলে ভরা ছিল। ভুল হয়তো নয়, অজানা ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই আল্লাহর উপর ভরসা করা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে রোগ, রোগ নির্ণয়, ওষুধ, এক কথায় সর্বক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, জয় করা গেছে বহু দুরারোগ্য ব্যাধিকে, শল্য চিকিৎসায় অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে, জিনতত্ত্ব জানবার সাথে সাথে উন্মোচন হয়েছে অনেক জটিল রোগের কারণ ও ব্যাখ্যা।
পাঠ্যবই:
আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগেও মেডিকেল শিক্ষার পাঠ্য বইয়ের সংখ্যা ছিল নিতান্তই সীমিত, ফলে শিক্ষাদান পদ্ধতিও ছিল সীমিত। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে কোন বিষয়েই পাঠ্য পুস্তকের বিপুল সমাহার হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের চিকিৎসা বিষয়ক জার্নালের ছড়াছড়ি। এ সমস্ত প্রকাশনা গুলো বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত, রং বেরংয়ের ছবি ও পরিসংখ্যান সম্বলিত সহজ সরল ভাষায় উপস্থাপিত হওয়ায় চিকিৎসা বিজ্ঞান হয়েছে আরোও সমৃদ্ধশালী।
তথ্য ও প্রযুক্তি:
চিকিৎসা বিজ্ঞানে সেকালের তুলনায় একালে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির অগ্রগতি দেখা যায় তা হল তথ্য ও জ্ঞানের সমাহার বা প্রাপ্তির সুযোগ। দেহের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সব বিষয়ের খুঁটিনাটি এখন আমাদের জানা, কোষ এবং তারও ভেতর উপাদানগুলো কীভাবে কাজ করে, কীভাবে বংশগতি প্রবাহিত হয় এবং কীভাবেই বা সমন্বিত হয় কোষ ও কলার কাজ সমূহ, কোন সামান্য প্রোটিনের ভুলে বা কোন ছোট্ট ডিএনএ জনিত ত্রুটি বিচ্যুতির দরুন দেখা দেয় জটিল অনেক রোগ।
এসব তথ্য আজ আমাদের হাতের মুঠোয়। আর “ইনফরমেসন টেকনোলজির” এই যুগে বাংলাদেশের গণ্ডগ্রামে বসে একজন জেনারেল ফিজিশিয়ানও চাইলে, যে কোন রোগ সম্পর্কে সার্বিক তথ্য জেনে নিতে পারেন ঘরে বসেই, সর্বশেষ আবিষ্কারের বিষয়ে আপডেট হতে পারেন যে কোন সময়, লাইব্রেরিতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময়। নষ্ট না করেই, শুধু কম্পিউটারের ওয়েব সাইটে বা ইন্টারনেটে চাপ দিলেই হল। আজকাল প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই অনেক রোগী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে সহজেই রোগ ব্যাধি নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন। এই তথ্যের ভাণ্ডার ব্যবহার করেই এগিয়ে গেছে রোগ নির্ণয়ের সকল আধুনিক পদ্ধতি।
প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষা:
আশির দশকের আগেও প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা বলতে মনে হত, একজন ডাক্তার, সামনে একটি টেবিল ও মাইক্রোস্কোপ নিয়ে বসে আছেন। আর পরীক্ষা বলতে প্রস্রাব, পায়খানা, রক্তের কিছু পরীক্ষা এবং সামান্য কয়েকটি এক্সরে করা হতো। অথচ কার না জানা পাতলা পায়খানা, বমি এবং অজ্ঞান হলে সিরাম ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষা করা অতিব জরুরী। ১৯৮০ সালের পূর্বেও রক্তের ইলেক্ট্রোলাইট এর মতো অত্যন্ত জরুরী পরীক্ষা করাও সম্ভব হতো না, বর্তমানে যা অতি সহজেই করা সম্ভব।
রক্তের সুগার টেস্ট ১ মিনিটেই করা সম্ভব। প্রাইভেট ল্যাবরেটরী ছিল না বললেই চলে। কিন্তু বর্তমানে অনেক অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন প্রাইভেট ল্যাবরেটরির ছড়াছড়ি, যা দেখলে অবাক না হয়ে উপায় নেই। অথচ ২০-২৫ বছর পূর্বেও আমরা কোথায় ছিলাম। যে কোন রকম রক্তের বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষা, আন্ট্রাসনোগ্রাফি, এম আর আই, সিটি স্ক্যান ইত্যাদি অনেক সহজেই করা সম্ভব।
এমআরআইয়ের আবিষ্কার অবশ্যই এক যুগান্তকারী সংযোজন, যার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের, বিশেষ করে ব্রেন ও হাড়ের অনেক জটিল রোগ অতি সহজেই নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছে। বিজ্ঞানের কল্যাণে আরো অনেক অজানা জটিল রোগ নির্ণয়ে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ল্যাবরেটরি ও প্যাথলজির পরীক্ষা নিরীক্ষা আজ অনু পরমাণু পর্যায়ে রোগের কারণ ও ধরন নির্ণয় করতে পারছে। জেনেটিক এনালাইসিস, ক্রমোজোমাল এনালাইসিস, ক্যারিওটাইপিং, মলিকুলার বায়োকেমিস্ট্রি ও ইমিউনলজি রোগের ধরণ ধারন কারণ ব্যাখ্যা করতে পারছে একেবারে সঠিক পদ্ধতিতে। রেডিওলজির অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে, ইমাজিংয়ের নিত্যনতুন পদ্ধতি আবিষ্কার দেহের ভেতরকার সমস্ত চিত্রই তুলে আনতে পারছে নির্ভুলভাবে।
চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধ:
৩০-৪০ বছর আগেও অনেক ওষুধ দুষ্প্রাপ্য ছিল এবং আবিষ্কৃত হয় নাই। রোগ আরোগ্যের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর থেকেই এগিয়ে গেছি আমরা, জীবাণু ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হার মেনে বিদায় নিয়েছে অনেক জটিল ব্যাধি। এক সময়কার ভয়াবহ রোগ বলে বিবেচিত কলেরা, প্লেগ, ম্যালেরিয়া, যক্ষা, কুষ্ঠ, গুটিবসন্ত, টিটেনাস ইত্যাদি ভয়াবহ রোগ পরাজিত হয়েছে বিজ্ঞানের কাছে। যদিও জন্ম হচ্ছে এইডস, এইচওয়ান এনওয়ান জাতীয় নতুন নতুন জীবাণুর এবং তৈরি হচ্ছে এন্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স, তবু সংক্রামক ব্যাধি আজ আর বড় কোন সমস্যা নয় পৃথিবীতে।
এক সময় কলেরা, বসন্ত ইত্যাদি রোগ ছিল ভয়াবহ। এগুলো বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ ভাবেই বিলুপ্ত । অথচ এগুলো নিয়ে গ্রামে কত আজে বাজে অবাস্তব ধারণাই না ছিল। কলেরা, বসন্ত রোগ সম্পর্কে এর পিছনে জীন ভূত অথবা কোন অপশক্তি আছে বলে মনে করা হতো। এবং এর জন্য ঝারফুক তাবিজ-কবচ ইত্যাদির রমরমা ব্যবসা ছিল। এই অপশক্তি তাড়ানোর জন্য মৌলভি সাহেবেরা কাগজে দোয়া দরুদ লিখে দিতেন, যা বাড়ির প্রবেশ পথে সুপারি গাছ বা বড় গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হতো, উদ্দেশ্য ছিল ঐ অপশক্তি আর প্রবেশ করবে না। রাত্রি বেলায় উচ্চস্বরে ছুরা পড়ে কলেরা ও বসন্তের জীন-ভূত তাড়ানো হতো। মানুষ মনে করতো, এভাবেই এই অপশক্তিগুলো অন্যত্র চলে যাবে। অথচ হাজার হাজার মানুষ মারা যেত।
কলেরা হলে পানি পান করতে দেওয়া হতো না, অথচ পানিই এই রোগের জন্য অতীব জরুরী। যারা লুকিয়ে পানি পান করতো, তারাই বেঁচে যেতো। কোন গ্রামে কলেরা বা বসন্ত হলে, ঐ এলাকার মানুষ পালিয়ে অন্যত্র চলে যেতেন এবং অন্য গ্রাম থেকে আর কেউ উক্ত গ্রামে প্রবেশ করতেন না। আক্রান্ত রোগীদেরকে একঘরে করে রাখা হতো, ভয়ে কেউ সেবা শুশ্রুষা করতো না।
এভাবে অযত্নে বিনা চিকিৎসায় রোগী মারা যেত। আর এখন শুধুমাত্র খাবার স্যালাইন খেলে ১০০ ভাগ রোগীর বাচা সম্ভব। সামান্য খাবার স্যালাইন কি বিপ্লবই না সাধন করেছে। যক্ষা সম্পর্কে একসময় মানুষের ধারণা ছিল “যার হয় যক্ষা তার নাই রক্ষা।” বিজ্ঞানের কল্যাণে নতুন ওষুধের দ্বারা যক্ষা সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। ফলে এখন বলা যায়, “যার হয় যক্ষা তার হয় রক্ষা।” এভাবে ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড এবং কুষ্ঠ ইত্যাদির ক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কারের ফলে মানুষ এ সকল রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য সহজ লভ্য চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ করতে সক্ষম হচ্ছে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার:
হৃদরোগের চিকিৎসায় যে উন্নতি সাধিত হয়েছে তা রীতিমতো বিস্ময়কর। অতীতে হৃদরোগে কেউ আক্রান্ত হলে মনে করা হতো, “পরপারের যাত্রার টিকেট কাটা হয়ে গেছে”। কারণ ওষুধ-পত্রও তেমন কিছু ছিল না। অথচ একালে নিত্যনতুন ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি ও বাইপাসসহ বিভিন্ন রকমের অত্যাধুনিক কার্ডিয়াক সার্জারি বর্তমানে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশেও মানুষের হাতের মুঠোয়। কিডনী বিকল হবার চিকিৎসায় ডায়ালাইসিস এবং সফল কিডনী প্রতিস্থাপন এখন হরহামেশাই হচ্ছে, এমনকি সম্ভব হয়েছে লিভার, প্যানক্রিয়াস ও অন্যান্য টিস্যু প্রতিস্থাপনও।
ক্লোনিং পদ্ধতিও বিজ্ঞানের আরেক বিস্ময়কর আবিষ্কার, যার সাহায্যে যে কোন প্রাণীর একটি টিস্য নিয়ে তার অনরূপ আর একটি প্রাণী ল্যাবরেটরীতে জন্ম দেওয়া সম্ভব। অদূর ভবিষ্যতে ক্লোনিংকে কাজে লাগিয়ে আরও সব কত্রিম অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তৈরি ও প্রতিস্থাপনও সহজ হতে চলেছে। শল্য চিকিৎসায় অ্যানেসথেশিয়া ও এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার এনেছে সফলতার উচ্চ হার। প্লাস্টিক সার্জারি মানুষকে সুন্দর অবয়ব দিতে সহায়তা করছে। এন্ডোস্কপিক সার্জারি, লেসার সার্জারি, গামা নাইফ সার্জারি ইত্যাদির কারণে বড় ধরনের কাটা ছেড়া ছাড়াই সম্ভব হচ্ছে বড় ধরনের অপারেশন। লেজার সার্জারি, ক্রায়োথেরাপি, ইলেক্ট্রোকটারি ইত্যাদির মাধ্যমে নানা রকমের চর্মরোগের সহজ ও কার্যকর চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে। ধাত্রীবিদ্যায় গর্ভস্থ শিশুর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা সহজে সম্ভব হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া ও সঠিক সমস্যা নিরুপণ করা যাচ্ছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো গেছে অনেকাংশেই। টেস্টটিউব বেবী পদ্ধতিটি আরেক বিস্ময়। অতীতে নিঃসন্তান দম্পতিরা শুধুমাত্র একটি সন্তানের জন্য ঝাড়-ফুক, তাবিজ-কবচ, মাজারে মানত সহ ডাক্তার কবিরাজের স্মরনাপন্ন হতেন এবং ব্যর্থ হয়ে হতাশায় ভুগতেন।
বর্তমানে টেস্ট টিউব পদ্ধতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নিঃসন্তান মায়ের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটানো সম্ভব হয়েছে সারা পৃথিবী জুড়েই। চোখের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অত্যাধুনিক লেন্স লাগানো থেকে শুরু করে অতি জটিল অপারেশনও খুব সহজেই করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যারা বধির বা কম শুনেন, সেই সমস্ত কানের রোগীদেরও অত্যাধুনিক চিকিৎসা, যেমন- ককলিয়া ইমপ্ল্যান্টেশন প্রয়োগের মাধ্যমে যুগান্তকারী চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছে।
আধুনিকায়নের কুফল:
তবে এটাও সত্য যে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও উন্নতির সবটুকুই সুফল বয়ে আনেনি, দুর্গতিও এনেছে প্রচুর। আগের জমানায় রোগী কম ছিল, চিকিৎসার সুযোগও ছিল অপ্রতুল। ডাক্তারদের ভুল ভ্রান্তি কম হতো এবং অজানা ছিল অনক কিছুই। কিন্তু চিকিৎসাবিদ্যা বর্তমানে অনেকাংশেই ল্যাবরেটরী রিপোর্ট ও ইমেজিং নির্ভর হয়ে পড়ার কারণে হয়ে উঠেছে ব্যয়বহুল। বিশ্বের অনেক দেশেই উন্নত চিকিৎসা চলে গেছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিশ্বায়ন ও বাজার সংস্কৃতির প্রভাব থেকে চিকিৎসা বিদ্যাও মুক্ত হতে পারেনি বলে চিকিৎসক-রোগী সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এক সময়ের দেবতুল্য স্থান থেকে চিকিৎসকেরা নেমে এসেছেন কপোরেট ব্যবসায়ীর কাতারে। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের সেকাল ও একাল বিশ্লেষণ করতে গেলে ভালো মন্দ দুই দিকই চলে আসে, আলোর নীচের অন্ধকার টুকুও ফেলে দেয়া যায় না।
ডাক্তারের কাছে রোগের ইতিহাস ও রোগীর শারীরিক পরীক্ষা আজ হয়ে উঠেছে কম গুরুত্বপূর্ণ, ক্লিনিক্যাল জাজমেন্ট কমে যাচ্ছে। যেহেতু এতে অহেতুক সময় নষ্ট করার চাইতে ল্যাবরেটরীতে রোগ নির্ণয় অনেক সহজ ও নিরাপদ, ডাক্তাররা পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এতে চিকিৎসা বিদ্যার মূল আর্টই অনেকাংশে যাচ্ছে হারিয়ে। চিকিৎসকের ক্লিনিকেল স্কিল কাজে না লাগালে এক সময় হয়তো চিকিৎসক নয়, ল্যাবরেটরিতে রোবটই চিকিৎসা করার ভার পুরোপুরি নিয়ে নিতে পারবে।
রোগীর কথা মনোযোগ সহকারে না শুনে, ভালো ভাবে রোগীকে পরীক্ষা না করায় অনেক রোগ সঠিক ভাবে নির্ণয় হচ্ছে না বা ভুল হচ্ছে। তাতে ডাক্তার রোগীর সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। ডাক্তাররা যদি রোগীর রোগের ইতিহাস ভালোভাবে শোনেন, তবে অনেক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। তাতে করে অযথা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সাপেক্ষ পরীক্ষা নিরীক্ষা এড়ানো সম্ভব। আর্থিক অসামর্থের দরুন অনেক ব্যয়বহুল টেস্ট করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। অনেক ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যয়ভার রোগীকে মাথা পেতে নিতে হচ্ছে, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সুচিকিৎসার সুযোগ। পরীক্ষা নিরীক্ষা রোগ নির্ণয়ে অবশ্যই সহায়ক, কিন্ত অপপ্রয়োগে রোগীকে গিনিপিগ বানানো অযৌক্তিক ও অনৈতিক। দেখা যায়, অনেক নামি দামী ক্লিনিকে না বুঝেই চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগী নিঃস্ব হয়ে ফিরে আসেন।
কপোরেট সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে চিকিৎসা সেবার উপরও, বেশির ভাগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের কাছে রোগী এখন রোগী নন, বরং ক্লায়েন্ট এবং সেবাদান কোন পেশা নয়, বরং বাণিজ্য। চিকিৎসা সেবা চিকিৎসকদের কাছ থেকে ক্রমেই চলে যাচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি, কর্পোরেট অফিস, চেইন প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ড ওষুধ কোম্পানিদের হাতে, যারা চিকিৎসা সেবাকে আর সেবা নয়, বরং মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা হিসেবই দেখতে অভ্যস্ত। আর চিকিৎসকরাও এদের হাতের পুতুল হতে বাধ্য হচ্ছেন। চিকিৎসক রোগী সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি হয়েছে। একদিকে যেমন চিকিৎসকদের আত্মবিশ্বাস কমেছে, নৈতিকতা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে তেমনি রোগীও তার আস্থা হারাচ্ছেন, শ্রদ্ধার অভাব দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বেড়েই চলেছে। উন্নতির সাথে সাথে একালে এই অন্ধকারটুকু যোগ হয়েছে চিকিৎসা জগতে এবং বেড়েই চলেছে।
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে যে কাজগুলো এখনই করা দরকার তা হচ্ছে-
প্রথমতঃ চিকিৎসকের ক্লিনিকাল স্কিল ও জাজমেন্টের ওপর পূর্ণ আস্থা সৃষ্টি করা এবং এ বিষয়ে আরও দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করা।
দ্বিতীয়তঃ প্রয়োজনীয় ও সঠিক উপায়ে ল্যাবরেটরি ও প্যাথলজির সাহায্য নেয়া।
তৃতীয়তঃ চিকিৎসকদের নৈতিক শিক্ষাদান ও বাজার ব্যবস্থা থেকে চিকিৎসা সেবাকে রক্ষা করার মাধ্যমে। চিকিৎসক রোগীর সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা যখন পণ্য হয়, তখন তার গুণগত মান নিম্নমুখী হওয়াই স্বাভাবিক। জ্ঞান বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ও অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চিকিৎসা বিদ্যাকে সঠিক ও সুন্দর পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য এগিয়ে আসতে হবে আমাদেরকেই। বিশেষ করে আমরা যারা এই মহান পেশায় জড়িত।
লিপস্টিক এর একটি মজাদার থিউরি আছে ? আমরা কজন জানি সেটা?
জর্জ ওয়াশিংটন ঠোঁটে লিপস্টিক দিতেন আর রানি ভিক্টোরিয়া মনে করতেন ঠোঁটে লিপস্টিক দেওয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজ। বাংলাদেশে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্প্রতি বলেছেন, তার এলাকার নারীরা দিনে তিনবার ঠোঁটে লিপস্টিক লাগান। তিনি সরকারেরও মুখপাত্র। তার এলাকার নারীরা যে সুখে আছেন (অন্যান্য এলাকায় নারীরা দিনে কবার ব্যবহারবিস্তারিত পড়ুন
জর্জ ওয়াশিংটন ঠোঁটে লিপস্টিক দিতেন আর রানি ভিক্টোরিয়া মনে করতেন ঠোঁটে লিপস্টিক দেওয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজ।
বাংলাদেশে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্প্রতি বলেছেন, তার এলাকার নারীরা দিনে তিনবার ঠোঁটে লিপস্টিক লাগান। তিনি সরকারেরও মুখপাত্র। তার এলাকার নারীরা যে সুখে আছেন (অন্যান্য এলাকায় নারীরা দিনে কবার ব্যবহার করে থাকেন এ নিয়ে কোনো সমীক্ষার ফলাফল জানা নেই), এটা তারই সূচক। সুখের প্রতিচ্ছবি!
সুখ নিশ্চয়ই সমৃদ্ধির সাথেও কিছুটা জড়িয়ে আছে। অভুক্ত মানুষের সুখে থাকার প্রশ্নই আসে না—তার বেলায় লিপস্টিক তো অবান্তর প্রসঙ্গ। বরং সুখী মানুষের লিপস্টিক ব্যবহার নিয়েই তাত্ত্বিক আলোচনা চলতে পারে।
সানন্দে এখন তিনবার ব্যবহার করেন মানে আগের চেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, আগে হয়তো দু’বার কিংবা একবার ছিল কিংবা আদৗ ব্যবহার করার সামর্থ ছিল না কিংবা ব্যবহার করার কথা ভাবেনি। যে কথাটি বলা হয়েছে তার অন্তর্গত কথা হচ্ছে সে এলাকার নারীরা আগের চেয়ে বেশি লিপস্টিক কিনছেন।
এই বেশি কেনাকাটাকে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক তত্ত্ব ইত্যাদির সাথে মিলিয়ে দেখতে গেলে একটি কৌতুহলোদ্দীপক অর্থনৈতিক তত্ত্বের উদ্ভব ঘটানো সম্ভব হবে। লিপস্টিক মার্কেটের গতিময়তার একটি তত্ত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
আরোপিত কোনো কারণেও লিপস্টিক বাজারের পতন বা উত্থান ঘটতে পারে। ১৭৭০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানো নিষিদ্ধ করে দেয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্লামেন্টরিয়ান তখন মনে করতেন লিপস্টিক ব্যবহারকারী পার্লামেন্টরিয়ান তখন মনে করতেন লিপস্টিক ব্যবহারকারী নারী ছলনাময়ী পুরুষকে ফাঁদে ফেলার জন্য ঠোঁট রাঙ্গাচ্ছে। এর সাথে প্রেতচর্চার একটা যোগাযোগ থাকতে পারে।
বৈশ্বিক কসমেটিক বাজারের আকার সমরাস্ত্র বাজারের মতো অতিকায় না হলেও উপেক্ষা করার মতো নয়। ২০২২ সালে এ বাজারের আকার ছিল ৩৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। চক্রবৃদ্ধিতে ২০৩২ সালে এর আকার দাঁড়াবে ৬৬১.১২ বিলিয়ন ডলারে প্রবৃদ্ধি বার্ষিক ৫.৮ ভাগ। এরই একটি ছোট অংশ লিপস্টিক। ২০২১ সালে লিপস্টিকের বিশ্ববাজার ছিল ৯.৫৭ বিলিয়ন ডলারের ২০২২ এ তা বেড়ে হয়েছে ১০.০৮ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-এ তা দাঁড়াবে ১৪.৬৮ বিলিয়ন ডলারে। প্রবৃদ্ধি বিউটি ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য আইটেমের চেয়ে একটু কম, ৫.৫ শতাংশ লিপস্টিক মার্কেটের টার্গেট মূলত: ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে বিউটি ইন্ডাস্ট্রির আকার ২০২৩ সালে ৩০.৫৪ বিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে লিপস্টিকের শেয়ার ১.৩৮ বিলিয়ন ডলার।
একটি গাণিতিক হিসেব উপস্থাপন করা যেতে পারে: বিউটি ইন্ডাস্ট্রির কতো ভাগ লিপস্টিক ইন্ডাস্ট্রি? উপরে পরিসংখ্যান থেকে উঠে আসে বিশ্বের মোট বিউটি ইন্ডাস্ট্রির ০.২৬ ভাগ হচ্ছে লিপস্টিকের বাজার আর ভারতে তা .০৪৫ ভাগ। বিশ্বগড়ের দ্বিগুণের চেয়ে কিছু কম। অর্থাৎ ভারতে অর্ধমূল্যে লিপস্টিক বিক্রি অনেক বেশি। ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের একই হিসেব নিয়ে দেখেছি য্ক্তুরাষ্ট্রে লিপস্টিকের শেয়ার ভারতের চেয়ে কম এবং ব্রিটেনে তা প্রায় ভারতের এক তৃতীয়াংশ। এই পরিসংখ্যান প্রচলিত লিপস্টিক ইনডেক্স তত্ত্বের সমর্থন করে। অর্থনীতি অপেক্ষাকৃত খারাপ অবস্থায় থাকলে লিপস্টিক বিক্রি বেড়ে যায়, লিপস্টিকের বাজারের তুলনামূলক আকার বড় হতে থাকে।
অর্থনীতির লিপস্টিক এফেক্ট: যখন অর্থনীতিতে ধস নাম থাকে, ভোক্তার হাতে ব্যয় করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। তখন দামি প্রসাধন সামগ্রী না কিনে কেবল লিপস্টিক কিনে বাড়ি ফেরে। এ ভাবে ভোক্তার লিপস্টিক কেনা বেড়া যায়। লিপস্টিক এফেক্ট বুঝিয়ে দেয় ভোক্তার হাতে তেমন টাকা নেই, আরো বলে দেয় দেশে মুদ্রাস্ফিতি ঘটেছে। লিপস্টিক এফেক্টের কারণে ইংরেজি R অক্ষরের শব্দ ব্যবহার বেড়ে যায়। সেই শব্দটি হচ্ছে Recession.
লিপস্টিক ইনডেস্ক বা লিপস্টিক সূচক কথাটি নতুন সহস্রাব্দের সংযোজন। বিখ্যাত প্রসাধন সামগ্রী কোম্পানি এস্টি লাউডার-এর চেয়ারম্যান লেলার্ড লাউডার ২০০১ সালে শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন এবং অর্থনীতিবিদরা তা লুফে নেন। তিনি লক্ষ করেন ২০০১ সালের শরতে যখন এক ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল সে সময় কমদামি বিউটি প্রোডাক্ট বিশেষ করে লিপস্টিক বিক্রি বেড়ে যায়। ক্রেতার আচরণ বাজারকে তেমন নিয়ন্ত্রণ করে বাজারে বিকল্প পণ্যও ক্রেতার আচরনকে প্রভাবিত করতে পারে।
লিপস্টিক মার্কেটের গতিময়তা আমাদের সঠিকভাবে বুঝতে হবে নতুবা লিপস্টিক বিক্রি বাড়াকে যদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষণ মনে করি, ভুল হবে। তবে সকল ক্ষেত্রেই যে লিপস্টিক অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা জানান দেবে এটাও মনে না করাই।
তবে সাধারণভাবে যখন লিপস্টিক বন্দনা শুরু হবে ধরে নিতে হবে লিপস্টিক সূচক এসে গেছে অথবা এসে গেছে বলে বন্দনাকারীর কাছে অনুভূত হয়েছে।
তাই বলে আমরা লিপস্টিক ডে পালন করব না এমন কথা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ২৯ জুলাই জাতীয় লিপস্টিক দিবস পালন করে যাবে। আমরাও তার সাথে যোগ দিতে পারি অথবা নিজেদের সুবিধে মতো একটা দিন ঠিক করে নিতে পারি। ন্যাশনাল লিপস্টিক ডেতে নিজের জন্য প্রিয়জনের জন্য একটা লিপস্টিক কিনুন। পিঙ্ক পিজিয়ন ব্র্যান্ড যেমন আছে, তেমনি আছে ইউনিকর্ন টিয়ার্স। আরও শত শত দেশি বিদেশি ব্র্যান্ড। বাংলাদেশে এস্টি লাউডারের জেনুইন ব্র্যান্ড তেমন পাওয়া যায় তেমনি মিলে জিঞ্জিরা ব্র্যান্ড, হালাল সাবানের কথা আমরা শুনেছি, কেমন হালাল শব্দ যোগ হওয়াতে মুসলমান ক্রেতার মহানুভূতি ও সমর্থন পেয়ে বাজার মাত করে দিয়েছিল। বাজারে হালাল লিপস্টিকও এসেছে। লাফজ হচ্ছে প্রসাধনীর হালাল ব্র্যান্ড। এতে মূকর তো নয়ই অন্য কোনো প্রাণীর চর্বি ব্যবহার করা হয়না বলে দাবি করা হয়ে থাকে।
কানাডিয়ান একটি সমীক্ষায় (১৯৯৮-সালে) একজন নারী তার জীবদ্দশায় ৪ থেকে ৯ পাউন্ড ওজনের লিপস্টিকের প্রলেপ ঠোঁটের উপর লাগিয়ে থাকেন।
লন্ডন এক্সপ্রেস ২০০১ সালে দাবি করেছে ব্রিটেনে একজন নারী জীবদ্দশায় গড়ে ৫.৬৫ পাউন্ড লিপস্টিক চেটে থাকেন এবং গিলেন। ডেনভারের রকি মাউন্টেন নিউজ মনে করে একজন নারীর জ্ঞাতে অজ্ঞাতে গিলে ফেলা লিপস্টিক প্রায় ৪ পাউন্ড।
লিপস্টিক দেখেই উদ্বেলিত হওয়া সমীচীন হবে না। যারা কেজিবির কর্মকান্ডের সাথে পরিচিত তারা জানেন, কেজিবি ৪.৫ মিলিমিটার সিঙ্গেল শট লিপস্টিক পিস্তল ব্যবহার করত।
উইলিয়াম জর্জ হিরেলস (১৯২৮-২০১২) নামের সিরিয়াল কিলার লিপস্টিক কিলার নামে পরিচিত। তিনি তিনটি খুনের কথা স্বীকার করেছেন। ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৫ ফ্রান্সিস ব্রাউনকে তার অ্যাপার্টমেন্টে খুন করার পর তার লিপস্টিক দিয়ে দেয়ালে লিখে রেখেছে: ঈশ্বরের দোহাই আর একটি খুন করার আগে আমাকে ধরে ফেলুন, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।
পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। তারপর সুজান ভেগনানকে খুন করে। তারপর ধরা পড়েন। তার আমৃত্যু কারাদন্ড হয়। ৬৫ বছর জেলখাটার পর ৬ মার্চ ২০১২ ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে মারা যান। লিপস্টিক কিলারকে নিয়ে চার্লস আইস্টাইনের একটি উপন্যাস রয়েছে, তা চলচ্চিত্রায়িত হয়। লিপস্টিক অনুভব: নোবেল বিজয়ী টনি মরিসন লিখেছেন, স্বপ্ন হচ্ছে লিপস্টিক মাখানো দুঃস্বপ্ন।
জোয়ান কলিন্সের কথা : পৃথিবীতে যতো প্রসাধনী দ্রব্য আছে আমার কাছে লিপস্টিকই সর্বোত্তম।
সংক্ষেপে দেখুন