সাইন আপ করুন
লগিন করুন
রিসেট পাসওয়ার্ড
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।
আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?
আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?
কোন রংয়ের টাই কেমন ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে?
একটি গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। কিছুদিন আগে একজন চাকুরিপ্রার্থী বিসিএস ভাইভা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই প্রস্তুতি শুধু পড়ালেখার নয়, পোশাক-পরিচ্ছদেরও। ভাইভার জন্য সহজভাবেই সাদা রংয়ের শার্টের অর্ডার দিলেন। প্যান্টেও সমস্যা হলো না। সাদা শার্টের সঙ্গে কালোকেই বেছে নেয়া হলো। কিন্তু বিপদে পড়তে হলো টবিস্তারিত পড়ুন
একটি গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। কিছুদিন আগে একজন চাকুরিপ্রার্থী বিসিএস ভাইভা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই প্রস্তুতি শুধু পড়ালেখার নয়, পোশাক-পরিচ্ছদেরও। ভাইভার জন্য সহজভাবেই সাদা রংয়ের শার্টের অর্ডার দিলেন। প্যান্টেও সমস্যা হলো না। সাদা শার্টের সঙ্গে কালোকেই বেছে নেয়া হলো। কিন্তু বিপদে পড়তে হলো টাই কিনতে গিয়ে। সেখানে রং শুধু সাদা-কালোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রং যেমন বিভিন্ন, আছে বিভিন্ন ডিজাইনও। আর বিপদটা এখানেই।
অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন, টাই একটা হলেই হয়, রং কোনো বিষয় না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইয়ের রং আপনার ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। একই স্যুটের সাথে বিভিন্ন রংয়ের টাই একজন মানুষ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাঠায় দর্শকদের কাছে। তাই নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য টাইয়ের রং বাছাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা যদি হয় চাকরির সাক্ষাৎকার বা কোনো সন্ধি-আলোচনার ক্ষেত্রে (নেগোসিয়েশন), তাহলে তো কোনো কথাই নেই।
দর্শক যিনিই হোন না কেন, তার সামনে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে সবাই চান। আর এজন্য রংয়ের রসায়নটা ভালোভাবেই জানা উচিত। এ বিষয় ‘Color Your Style’ বইয়ের লেখক ডেভিড জিলা বলেছেন, “রং নির্দিষ্ট সংকেত পাঠায়।” নিউইয়র্কভিত্তিক এই লেখক আরো বলেছেন, “একই স্যুটে ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের টাই, ভিন্ন ভিন্ন বার্তা বয়ে বেড়ায় ও ভিন্ন ফল নিয়ে আসে।”
এবার তাহলে দেখা যাক কোন রংয়ের টাই কোন ধরনের বার্তা নিয়ে আসে আর কেমন ব্যক্তিত্বই বা প্রকাশ করে।
সব ক্ষমতাবানের রং লাল
একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো, বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদই হালকা রংয়ের শার্ট ও গাঢ় স্যুটের সঙ্গে লাল রংয়ের টাই পরেন। আসলে ব্যাপারটা কাকতালীয় নয়। “ক্ষমতার টাইয়ের রং লাল”-কথাটি বলেছেন ফ্যাশন বিশ্লেষক মার্ক উডম্যান।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের লরেলে ‘রং’ নিয়ে গবেষণা করা এই বিশ্লেষক আরো বলেছেন, “লাল এর মধ্যে এমন কিছু আছে, যা সব সময় ক্ষমতা ও অধীর আগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।”
জনসমক্ষে কথা বলার সময় জেপি মর্গানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন লাল রংয়ের টাই পরিধান করেন। ছবি: Getty Images
তবে লালের মাত্রাটা পার্থক্য সৃষ্টি করে। গাঢ় লাল বা টকটকে লাল টাই বিশ্বাস স্থাপন করাতে সাহায্য করে। আর হালকা লাল বা গোলাপি রং নিজের ব্যক্তিগত স্টাইল প্রকাশ করে, যা সৃজনশীলতার দিকে ইঙ্গিত করে। তবে গত দশক থেকে গোলাপি টাই মাঝে মাঝে নারীর প্রতি সংহতি প্রকাশেরও সংকেত বহন করে।
আপনি যখন কোনো প্রকল্পে নেতৃত্ব দিতে চান অথবা কোনো উচ্চাশা প্রকাশ করতে চান, তখন গাঢ় চকচকে লাল রংয়ের টাই বেছে নেয়াটা উত্তম। আর ক্ষমতা প্রকাশের সূক্ষ্ম মাধ্যম হিসেবে অনুজ্জ্বল অথবা ছাপার লাল রংয়ের টাই বেছে নিতে পারেন।
রাজকীয় রং বেগুনি
নিউইয়র্কে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের একজন নির্বাহী হিসেবে চাকরি করেন রস নাভর। যখন তিনি কোনো ব্যবসায়িক মিটিং করেন, তখন লাল টাই না পরে বেগুনি রংয়ের টাই পরেন। কারণ এই রং আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে এবং প্রথম ইমপ্রেশনটা দীর্ঘায়িত করতে সাহায্য করে।
তবে ঐতিহ্যবাহী রংয়ের টাই পরার আগে সচেতন হওয়া উচিত। আপনার ক্লায়েন্টের সামনে কথা বলার সময় অথবা কারো সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে তার সামনে কম ঐতিহ্যবাহী রংয়ের টাই পরিধান করা উচিত। এটা প্রকাশ করে আপনি তার গায়ের বরণ নিয়ে ততটা ভাবেন না।
বেগুনি রংয়ের টাইয়ে আত্মবিশ্বাসী আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার। ছবি: Getty Images
হংকংয়ে ‘ইমেজ কনসাল্টেন্ট’ হিসেবে কাজ করা ইভ রোথ লিন্ডসে বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে রাজকীয়তা ও অর্থ-প্রতিপত্তির পরিচায়ক বেগুনি রং। সাধারণত কর্মক্ষেত্রে এই রংয়ের টাই বেশি গ্রহণযোগ্য।
তার মতে, পুরুষরা সাধারণত হালকা বেগুনি রংয়ের শেডের শার্ট এবং গাঢ় বেগুনি রংয়ের শেডের টাই পরিধান করে। হাজার মানুষের মধ্যে নিজেকে কিছুটা সাহসী হিসেবে প্রকাশ করার জন্য এর যেকোনো একটি বেছে নেয়াটা মন্দ হবে না।
কালো রংয়ের ব্যাপারটাই আলাদা
কোনো এক্সিকিউটিভ মিটিংয়ে আপনি কালো রংয়ের টাই নিয়মিত না পরলেও কোনো পার্টিতে বা বিশেষ কোনো ডিনারে কালো টাই পরতে পারেন। এটি আপনাকে আধুনিকতার অনুভূতি দেবে-কথাগুলো বলেছেন ‘Color Your Style’ বইয়ের লেখক ডেভিড জিলা।
কালো রংয়ের টাই পরা অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও।
তিনি কালো টাই পরার ক্ষেত্রে সতর্কও করেছেন। কারণ ফরমাল কালো টাই অনেক সময় উদ্ধত ভাব প্রকাশ করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতি বেশভূষাও মনে হয়। জিলা বলেছেন, “যদি কর্মক্ষেত্রে এখনও অনেক উপরে উঠার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে কালো রংয়ের টাই এড়িয়ে চলুন।”
এদিকে বিশ্লেষক উডম্যান বলেছেন, ধূসর শেডের টাই তুলনামূলক বেশি মানানসই। এমন টাইয়ে দাম্ভিক ভাব প্রকাশ করা না, তবে ঠিকই আধুনিকতার ছোঁয়ায় পরিপাটি মনে হয়।
সবুজ টাইয়ে কেমন লাগে
সবুজ রং অনেক কিছুই বোঝায়। এটি দ্বারা একদিকে পুনর্জন্ম বোঝায়। আবার অন্য দিকে কোনো কোনো দেশে টাকার রং বোঝায়। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এটা অতি মাত্রায় দৃষ্টি-আকর্ষণকারী হয়ে যায়।
কখনো কখনো পরা যায় সবুজ টাই।
আপনি যদি চান, টাইয়ের রংয়ের কারণে কেউ আপনাকে স্মরণ করুক, তাহলে ঠিক সবুজ রং বেছে নেয়াটা ঠিক হবে না। উডম্যানের মতে, উজ্জ্বল সবুজ যেমন বিরক্তিকর লাগে, তেমনি এর সঙ্গে মিলিয়ে স্যুট বা শার্ট পাওয়াও কঠিন। তবে হালকা সবুজের সঙ্গে সূক্ষ্ম ছাপার টাই অন্য কোনো রংয়ের শার্টের সঙ্গে পরিধান করতে পারেন।
হলুদের কদর কম না
ইংল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশে ঐতিহ্যবাহী টাইয়ের রং হলুদ। এটি দীপ্তি ও জীবনীশক্তির সঙ্গে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে। সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সময় হলুদ রংয়ের টাই পরতে পারেন।
এ বিষয় রোথ লিন্ডসে বলেছেন, জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করে হলুদ রংয়ের টাই।
তবে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে দেশভেদে টাইয়ের রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। কারণ ভারতে হলুদ রংয়ের টাই পরলে তাকে বণিক মনে করা হয়। আর চীনে শোকের সময় সাদা রংয়ের টাই পরা হয়।
নিরাপদ রং নীল
টাইয়ের রংয়ে ভুল বার্তা পাঠানোর ভয়ে পড়ে গেলেন? তাহলে সব চিন্তা বাদ দেন। যে বার্তাই পাঠাতে চান না কেন, নীল রংয়ের টাই বেছে নেন।
“নীল রং মানুষকে আকাশ ও সমুদ্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ফলে মানুষের মনকে শান্ত করে দেয়।” – বলেছেন ‘ইমেজ কনসাল্টেন্ট’ রোথ লিন্ডসে। তার মতে, “নীল রং পরিধান করাই সবচেয়ে নিরাপদ।”
নীল রংয়ে টাই পরিহিত বিশ্ব নেতারা।
ডিজাইন করা নীল টাই আপনার মধ্যে প্রফেশনাল অনুভূতি যোগাবে। বৈশ্বিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের ভুল বার্তা দিবে না। লিন্ডসে বলেছেন, “সূক্ষ্ম নীল টাই বোঝায় আপনি কোমল ও অন্তর্বীক্ষণপ্রবণ (যে নিজের চিন্তা ও অনুভূতি পরীক্ষা করে)। অন্যদিকে গাঢ় নীল বোঝায় আপনি অসাধারণ একজন।”
তার মতে, নেভি ব্লু আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগায় আর গাঢ় নীল স্মরণ করিয়ে দেয় অতি সম্মানের পাইলট-ইউনিফর্মের কথা।
মিশে যান প্রকৃতির সঙ্গে
লিন্ডসের মতে, বিক্রয়কর্মী, শিক্ষক, সেবা প্রতিষ্ঠানের মানুষের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তাম্র, বাদামি, মাটি, গোলাপি-কমলা বা হলুদ রং বেছে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, বাদামি রংয়ের টাই যদি একেবারে মিহি মনে না হয়, তাহলে সেটা নিষ্প্রভ ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে।
বাদামী রংয়ের টাইয়ে অভিনেতা নিকোলাস কোস্টার ওয়ালদাউ’র মতো বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হতে পারে আপনাকেও।
তিনি আরো বলেন, ধূসর রংয়ের টাই অনেক সময় অতি মাত্রায় নিরুদ্বেগ ভাব প্রকাশ করে। আর মাটি রংয়ের শার্টের সঙ্গে মাটি রংয়ের টাই সবসময় এড়িয়ে চলা উচিত। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির আশা থাকলে এটা একেবারেই পরিহার করা উচিত।
সংক্ষেপে দেখুনভয়কে জয় করবেন কিভাবে?
ঝড়কে আমি করব মিতে, ডরব না তার ভ্রুকুটিতে। ঝড়কে মিতে করতে বলছি না, বলছি ভয়কে মিতে করার কথা। আমরা যখন কোনো কারণে বা কোনো কিছুতে ভয় পাই, তখন সেই বিষয়গুলো আমাদের কেন যেন পেছনে আটকে রাখতে চায়। ভয় কখন বা কীভাবে আমাদের পেয়ে বসবে সেটা আমরা জানি না। সেই ভয় অতিক্রম করা কিন্তু সহজসাধ্য নয়। যেমন ধরুন, আপনি পড়াশবিস্তারিত পড়ুন
ঝড়কে মিতে করতে বলছি না, বলছি ভয়কে মিতে করার কথা। আমরা যখন কোনো কারণে বা কোনো কিছুতে ভয় পাই, তখন সেই বিষয়গুলো আমাদের কেন যেন পেছনে আটকে রাখতে চায়। ভয় কখন বা কীভাবে আমাদের পেয়ে বসবে সেটা আমরা জানি না। সেই ভয় অতিক্রম করা কিন্তু সহজসাধ্য নয়।
যেমন ধরুন, আপনি পড়াশোনায় বেশ সফল; বরাবর ভাল ফলাফল করেই আসছেন এযাবত। কিন্তু হঠাৎ করে আপনার মনে একটা আতংক কাজ করছে, যদি এবার আপনি ভাল না করতে পারেন? যদি এতদিনের সফলতা একমুহুর্তে উবে যায়? ভয় বা আতংক সবচেয়ে বড় মূলক, যা আমাদের পেছন থেকে টেনে রাখে, সামনে এগোতে দেয় না।
আমাদের জীবনে অনেক রকম মানসিক বাধাবিপত্তি আছে। ভয় হলো সেসবের মাঝে শীর্ষস্থানীয়, আর এটা আমাদের যেভাবে পেছনে টানে, সেই টান ছিড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আজ আমরা আলাপ করব এই অহেতুক, অযাচিত আতংক কীভাবে আমরা দূর করা যায়, কীভাবে ভয়ের ভ্রুকুটি অগাহ্য করে করে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় সেই ব্যাপারে।

ভয় পেলে আমরা কী করি?
যখন হঠাৎ করে আমরা ভই পাই, আমাদের হাত-পা শির শির করে, মাথা কাজ করে না, মাথা ঘুরে যায়, সব কিছু কেমন যেন অন্ধকার লাগে। জ্বর আসে, অনেকে তো গো গো করে অজ্ঞানও হয়ে যায়! আমরা সেই সময়ে বুঝে উঠতে পারি না কী করা উচিত, কার কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। যে জিনিস ঘটবে না, সেটা ভেবে অজানা আতংকে সারা হয়ে উঠি। আতংকে অনেক সময় এমন কিছু ভুল করে বসি, যা ব্যর্থ হবার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। ভয়ের মুখোমুখি না হয়ে কী হবে, সেই ভেবে কাজ করলে ভয় তো কাটবেই না, বরং আরো বেশি জেঁকে বসবে। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা কী করতে পারি তার কিছু উপায় এখন তুলে ধরছি। হয়তো এটা পড়লেই ভয় পুরোপুরি কেটে যাবে না, তবে ধীরে ধীরে সেই ভয়কে জয় করার রাস্তা আপনি ঠিকই খুঁজে পাবেন।
বিরতি নিন
টানা একই ধরনের কাজ বা একই কাজ বার বার করতে গেলে কিছুটা বিরক্তি এসে ভর করে। যদি কোনো ধরনের ভয় বা উদ্বিগ্নতা আপনার মাঝে ভর করে, তাহলে প্রতিদিনের একঘেয়ে কাজ থেকে বিরতি নিন। চা বা কফি ব্রেক নিতে পারেন। হাতে সময় থাকলে একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসতে পারেন। অফিস বা পড়াশোনা থেকে একটু ছুটি নিন। যা নিয়ে আপনার ভয় বেশি কাজ করে, কিছু সময়ের জন্য সেই ভয়ের আশপাশ দিয়ে চলা বন্ধ করে দিন। দেখবেন- কিছু সময় পর আপনার বেশ ফুরফুরে লাগবে, আপনি নতুন করে সব শুরু করতে পারবেন। এ ধরনের বিরতি মাঝে মাঝেই নিলে আপনার মনের ভয় আস্তে আস্তে কমে আসবে বলে আশা করা যায়।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন
যখন ভয় আপনার সব ইন্দ্রিয়কে ঘিরে ধরছে, তখন নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। আস্তে আস্তে, কিন্তু বেশ বড় করেই শ্বাস নিন। এমন এক জায়গায় বসুন, যেখানে প্রচুর অক্সিজেন আছে। আস্তে আস্তে সময় নিয়ে শ্বাস নিন। কিছু সময় শ্বাস ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। দেখবেন নিজেকে বেশ হালকা লাগবে। শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বেশি হলে নিজের ভেতরের অস্বস্তি অনেকাংশে কমে যায়। শরীর এবং মন- দুটোই ভালো থাকার জন্য নিঃশ্বাসের ব্যায়াম বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে অন্তরের ভীতি দূর করতে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে যোগব্যায়াম বেশ ভালো কাজ করে।

যোগব্যায়াম ভয় দূর করতে বেশ সাহায্য করে
ভয়ের মুখোমুখি হোন
ধরুন, আপনার উচ্চতাভীতি রয়েছে। উঁচু বিল্ডিং কিংবা ফ্লাইওভারে উঠে নিচে তাকালে আপনার পৃথিবী দুলে ওঠে। মনে হয়, এখনই পড়ে যাবেন। এখন যদি আপনি প্রতিদিন একটু একটু করে উপরে ওঠেন, আর নিচের দিকে দেখার চেষ্টা করেন, আপনার ভয় কেটে যাবে আস্তে আস্তে। অনেক ক্ষেত্রে এই ফোবিয়া দূর করতে বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন পড়ে।

উচ্চতাভীতি আমাদের সবার কম-বেশি সবার আছে
সেরা হবার চেষ্টা করবেন না
আমাদের ভয় পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ কি জানেন? আমি যদি না পারি, যদি হেরে যাই- এমনটা আমরা কেন ভাবি জানেন? কারণ, আমরা সেরা হতে চাই। আমরা চাই- আমাদের যেন কেউ হারাতে না পারে। এটা আমাদের জীবনের অন্যতম বড় ভুল। কারণ, আমরা কেউ সেরা না, কেউ অলরাউন্ডার হতেও পারব না। আমরা যা না, সেটা হতে চাওয়ার চেষ্টা করা উচিত না। তাই, আমরা যা, সেটাই আমাদের হওয়া উচিত। যখন আমরা আমাদের আশার অতিরিক্ত কিছু হতে চাইব, পরাজয়ের ভয়, ব্যর্থতার ভয় আমাদের মাঝে জেঁকে বসবে।
নিজের ভালো লাগার কাজগুলো করুন
যে বিষয়গুলো আপনাকে ভালো রাখে, সেসব বিষয়ের কথা ভাবুন, সেই সময়ের কথা ভাবুন। নিজের যেসব কাজ ভালো লাগে, সেই কাজগুলো করুন। বই পড়তে ভালো লাগলে, একঘেয়ে কাজ থেকে নিজেকে একটু দূরে রেখে কিছু সময়ের জন্য বই পড়ুন। বাগান করতে ভালো লাগলে সেটাই করুন। এক কাপ কফির সাথে প্রতিদিন বিকেলে বারান্দায় সময় কাটান। ছাদে একটু হেঁটে আসুন। সকালবেলা ওঠার চেষ্টা করুন। যে সময়ে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন, সেই সময়ের কথা মনে করুন।

বই পড়ুন, কফি পান করুন, নিজেকে সময় দিন
অর্থাৎ, নিজের সাথে সময় কাটান। নিজের প্রিয় জিনিস নিজেকেই উপহার দিন। যেমন- আপনার ঘড়ির শখ থাকলে একটা সুন্দর ঘড়ি কিনুন। স্ব স্ব ধর্মীয় আচার পালন করুন। এই কাজগুলো ভয় কাটাতে বেশ সাহায্য করে।
ভয় নিয়ে কথা বলুন
আমাদের অনেক বড় একটা ভুল হলো- যে বিষয় নিয়ে আমাদের ভয়, সেই বিষয়ই আমরা লুকিয়ে রাখতে চাই। “লোকে কী বলবে” ভেবে আমরা সেই কথাগুলো নিজেদের মধ্যে চেপে রাখি। এই চেপে রাখা ধীরে ধীরে আমাদের ভেতরটা কুড়ে কুড়ে খায়। ভয়ের বেশ বড়সড় এক দেয়াল আমাদের চারপাশে ঘিরে থাকে, যা ভেদ করে আমরা নিজেরাই বের হতে পারি না।
বন্ধু, পরিবার, প্রয়োজনবোধে ডাক্তারের সাথে কথা বলা দরকার হতে পারে এক্ষেত্রে। কথা শেয়ার করলে আমাদের আশেপাশের ভয়ের দেয়াল আস্তে আস্তে সরে যেতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে, ভয়ের মাত্রা একটু বেশি হলেও ওষুধ বা থেরাপির দরকার হতে পারে।

ভয়ের মুখোমুখি হোন
যারা ভয়ের রাজ্যে ঘুরপাক খান, তাদেরকে এই বিষয়গুলো সামনে যেতে দেয় না। বার বার পেছনে টেনে রাখে। আমাদের জীবনে যেমন সবকিছু পারফেক্ট না, তেমনই সবকিছুকে ভয় গ্রাস করবে তা তো হতে পারে না। যে ভয়ই আসুক না কেন, পেছন ফিরে না দেখে তার মুখোমুখি হতে হবে। পরীক্ষায় ফেল করলে কী হবে এটা ভেবে পরীক্ষা না দেয়ার বদলে ভাবতে হবে, আমার সাধ্য অনুযায়ী পরীক্ষায় উত্তর দেব। যা ফলাফল আসবে, তা-ই মেনে নেব। এই মনোভাব প্রতিটি ভয়ের বিষয়ের ক্ষেত্রে ভাবলে দেখা যাবে, আস্তে আস্তে ভয় কেটে যাবে। ভয় খুব বেশি গ্রাস করলে, আর কিছু না পারলে অন্তত কাছের কারো সাথে কথাগুলো শেয়ার করবেন।
আমাদের পরামর্শ হয়তো আপনার ভয় দূর করতে পারবে না, কিন্তু নিজের ভয় নিজে কীভাবে দূর করবেন, সেই বিষয়ে একটা পথ দেখাতে পারে। দেখুন তো চেষ্টা করে, ভয়কে মিতে করতে পারেন কিনা!
সংক্ষেপে দেখুন‘মা দিবস’ ভিন্ন ভিন্ন দেশ কেন ভিন্ন ভিন্ন দিনে পালন করে?
মা দিবস ব্যাপারটি ঠিক আমাদের কাছে মায়েদের জন্য রাখা সময়কে কেবল একটি দিনে আটকে দেয় না। তাই মা দিবস কেন একটি স্থানে একটি নির্দিষ্ট দিনে পালিত হয়, আর কেন অন্য স্থানে অন্য দিনে পালিত হয় সেই প্রশ্ন অবান্তর। তবে কৌতূহল মেটানোর জন্য মা দিবসের ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পালিত হওয়ার ব্যাপারটিবিস্তারিত পড়ুন
মা দিবস ব্যাপারটি ঠিক আমাদের কাছে মায়েদের জন্য রাখা সময়কে কেবল একটি দিনে আটকে দেয় না। তাই মা দিবস কেন একটি স্থানে একটি নির্দিষ্ট দিনে পালিত হয়, আর কেন অন্য স্থানে অন্য দিনে পালিত হয় সেই প্রশ্ন অবান্তর। তবে কৌতূহল মেটানোর জন্য মা দিবসের ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পালিত হওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলাই যায়। তবে মা দিবসের দিনক্ষণ নিয়ে কথা বলার আগে কেন এবং কখন, কে মা দিবস প্রথম পালন করেছিলেন, এই দিবসটির জন্ম দিয়েছিলেন সেটি জানা খুব প্রয়োজন।
মা দিবস আমাদের সবারই খুব ভালোবাসার একটি দিবস
মা দিবসের শুরু যেভাবে
মা দিবসের চিন্তা প্রথম আসে অ্যানা জারভিসের মাথায়। অ্যান রিভস জারভিস ছিলেন অ্যানার মা। তিনি শিক্ষকতা করতেন। মায়েদের জন্য ‘মাদার্স ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ গড়ে তুলেছিলেন অ্যান। উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে মায়েদের আরো বেশি জানানো। ১৮৭৬ সালের কথা সেটা। অ্যানার মনে ছিল, মা একদিন তার প্রার্থনা শেষে বলেছিলেন এমন একটা সময় যদি আসে যেদিন কেউ একজন ‘মা দিবস’ নামে কোনো দিবস তৈরি করবে। ১৪ বছর বয়সী অ্যানা এসব কিছুই ভোলেননি। মা মারা যান ১৯০৫ সালে। তার অনেক পরের কথা। ৪০ বছর বয়সী অ্যানার মাথায় মায়ের ওই ইচ্ছেটুকু নাড়া দিয়ে যায় বারবার। মা চেয়েছিলেন, কেউ একজন মা দিবস নামে মায়েদের জন্য একটি দিবস তৈরি করুক। কাজে নেমে পড়েন অ্যানা। মা পারেননি তো কী হয়েছে, মায়ের জন্য এটুকু তো করতেই পারেন অ্যানা। পরের একটি বছর তিনি শান্তিতে সময় কাটাতে পারেননি। প্রচুর চিঠি পাঠান তিনি প্রশাসনের কাছে। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস হিসেবে পালন করার ব্যাপারে। দিনটি ছিল অ্যানার মায়ের মৃত্যুদিনের সবচাইতে কাছের রবিবার। মার্ক টোয়েন, থিওডর রুজভেল্ট থেকে শুরু করে যত প্রভাবশালী মানুষ ছিলেন সেসময়, তাদের সবাইকে সাধ্যমতো চিঠি পাঠান অ্যানা। ১৯০৮ সালের এক স্নিগ্ধ সকাল। গ্রাফটনে অবস্থিত সেইন্ট এন্ড্রুর মেথোডিকাল চার্চে প্রথমবারের মতো পালিত হয় মা দিবস। পূরণ হয় অ্যানার স্বপ্ন।
অ্যানা জারভিস
বছর দুয়েক পরের কথা। জারভিসের কথানুসারে পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে দিনটিকে মেনে নিয়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জারভিস তাতে থেমে থাকেননি। তিনি সবখানে ভ্রমণ করেন, সবাইকে চিঠি পাঠান। অ্যানা জারভিস চেয়েছিলেন দিনটি, তার মায়ের মৃত্যুর দিনটি যেন জাতীয় ছুটির দিন হয়। ১৯১৪ সালের ৮ই মে। অবশেষে কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস হিসেবে মেনে নিয়ে বিল পাস করে। প্রথম মা দিবসটিকে উৎসর্গ করা হয় সেসব মায়েদের, যারা কিনা যুদ্ধে তাদের সন্তানকে হারিয়েছেন। কিন্তু এসবেও জারভিসের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। অ্যানা জারভিস কেবল চেয়েছিলেন তার মা, পৃথিবীর সমস্ত মা সম্মান পাক। সেই সম্মানটুকু পাক, যেটি তাদের প্রাপ্য। কিন্তু ব্যাপারটা পুরোপুরি তা হয়নি। সবার কাছে দিবসটি হয়ে উঠেছিল ব্যবসা করার এক নতুন মাধ্যম। কার্ড, ফুল, উপহার সামগ্রীর মাধ্যমে ব্যবসা করে নিচ্ছিলো সবাই। আর সেই ব্যাপারটিকে থামানোর জন্য উঠেপড়ে লাগেন জারভিস। তাতে কতটা লাভ হয়েছে সেটা অবশ্য চিন্তার ব্যাপার। কারণ এখনো পর্যন্ত মা দিবসকে ঘিরে এমন অনেক পণ্য কেনাবেচার হিড়িক পড়ে যায় দিনটি এলেই!
মায়ের জন্য একটি আলাদা দিবসের কথা ভাবেন প্রথম অ্যানা
মা দিবস কেন ভিন্ন ভিন্ন তারিখে হয়?
শুরুটা হয়েছিল মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে কেন্দ্র করে। তবে এই বছর যুক্তরাজ্য দিনটি উদযাপন করবে ১১ই মার্চ। অন্যদিকে বেশ কিছু দেশে সেটা পালিত হবে ১৩ই মে। প্রতিটি দেশই চায় মা দিবস পালন করতে, মায়েদের প্রতি সম্মান জানাতে। তবে এই ক্ষেত্রে তাদের সম্মান জানানোর দিনটিতে থাকে ভিন্নতা। কেন? অন্য দেশের যদি মা দিবস মে মাসের রবিবারে পালিত হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যে কেন সেটা মার্চ মাসে? প্রশ্নটি কেবল আপনার নয়। আরো অনেকের মাথাতেই এসেছে এই জিজ্ঞাসা। কারণটা খুব স্বাভাবিক এবং সহজ।
মা দিবস হয়ে গেছে ব্যবসার আরেকটি ভালো মাধ্যম
যুক্তরাজ্যের মা দিবসের আসল নাম ‘মাদারিং সানডে’। আর এই ব্যাপারটির সাথে মা দিবসের কিংবা আমাদের মায়েদের কোনো সংযোগ নেই। ভাবছেন, তাহলে মা দিবস কেন পালিত হয় সেখানে এই দিনে? কারণ আর কিছু না, পৃথিবীর আর অন্যের দেশের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নেওয়া। আপনিই ভাবুন, আপনার পাশের দেশ যখন মা দিবস পালন করছে তখন আপনিই বা সেই স্রোতে গা ভাসাবেন না কেন? মাদারিং সানডে ব্যাপারটি এসেছে ১৬ শতক থেকে। সেই সময় ‘মাদার’ চার্চে যাওয়ার একটি ব্যাপার ছিল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। আর এই দিন পড়তো লেন্টে। লেন্টের চতুর্থ রবিবার পালিত হত দিনটি। লেন্ট অর্থ ইস্টারের সেই সময় যখন মানুষ তাদের কোনো না কোনো খারাপ অভ্যাস ছেড়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে। এছাড়া কোনো খাবার বা পানীয়ে সমস্যা থাকলে সেটাও ছেড়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে। মাদারিং ডে-তে সবাই তার নিজের পরিবার পরিজনের সাথে সময় কাটানো এবং আচার অনুষ্ঠান পালন করবে এমনটাই নিয়ম ছিল প্রাচীনকালে। সেই নিয়ম এখনো মানা হয়। বাড়ির কর্মচারীদের ছুটি দেওয়া হয় এই দিনে নিজের পরিবারের সাথে মিলিত হয়ে প্রার্থনা এবং সমস্ত আচার অনুষ্ঠান পালন করার জন্য। তবে খুব দ্রুত এই মাদারিং সানডেকে আরেকটু পাল্টে নিয়ে মায়েদের শুভেচ্ছা জানানো এবং উপহার দেওয়ার মাধ্যমে মা দিবসও পালন করে ফেলে এখন যুক্তরাজ্য একই দিনে। মা কতটা কাজ করছে, সেটির প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই দিনটি এখন পালিত হয় যুক্তরাজ্যেও। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দেখাদেখি বাকি দেশগুলো মে মাসেই পালন করে মা দিবস।
মেক্সিকোতে মা দিবস পালিত হয় একটু আগেই
এদিক দিয়ে নরওয়ে অবশ্য একটু আলাদা। মার্চ কিংবা মে মাস নয়, সরাসরি ফেব্রুয়ারি মাসেই পালন করে ফেলে দেশটি মা দিবস। এই দিবস পালনের প্রক্রিয়া অবশ্য অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে নরওয়েতে। তাই দিনের হিসেবে একটু ভিন্নতা থাকলেও সেটা নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই। শুধু তা-ই নয়, নরওয়েতে মা দিবস একেকটি বছর একেক দিনে পালিত হয়। যদিও মাস বদল হয় না। মাস থেকে যায় নির্দিষ্ট স্থানেই। মা দিবসের ক্ষেত্রে ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ আর অনেক দেশ আমেরিকাকে অনুসরণ করে। কিন্তু নরওয়ে আর যুক্তরাজ্যের মতো এই দিবস পালনে ভিন্নতা আছে মেক্সিকোর ক্ষেত্রেও। মেক্সিকোকে মে মাসের ১০ তারিখে পালিত হয় মা দিসব। ফলে একটু পাল্টে যায় পুরো ব্যাপারটি। যেমন, এই বছরে, অর্থাৎ ২০১৮ সালে আমেরিকায় যখন মা দিবস পালিত হবে দ্বিতীয় রবিবার, তখন মেক্সিকোতে সেটা পালিত হবে কিছুদিন আগেই। দিন নয়, বরং তারিখ দেখে দেশটি মা দিবস পালন করে। কেন? কারণ জানতে হলে যেতে হবে ১৯২০ সালের দিকে।
সেসময় হুট করে সবার নজরে পড়ে যে, নারীরা মাতৃত্বকে নয়, বরং অন্যদিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মাতৃত্ব যে অসম্ভব সম্মানজনক ব্যাপার, তা নারীদের বোঝাতেই শুরু হয় মেক্সিকোর মা দিবস। তবে কেবল এই দুটো একটি দেশ নয়। এছাড়াও ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ইত্যাদি দেশে মা দিবস পালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের চাইতে ভিন্ন দিনে। এখন প্রশ্ন হল, দিন কি আসলেই এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ? একদম নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল, মাকে আমরা কতটা ভালোবাসি সেটা। তাই কোনো নির্দিষ্ট দিন নয়, বরং মাকে ভালোবাসুন আর ভালোবাসার কথা জানান বছরের প্রতিটি দিন।
সংক্ষেপে দেখুনএকজন মিথ্যাবাদীকে কীভাবে পাকড়াও করবেন?
“সদা সত্য কথা বলিবে।” ছোটবেলা থেকে এটিই শেখানো হয়েছে আমাদেরকে। এমনকি পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে ধর্মগ্রন্থ, সবখানেই বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে সত্যবাদিতার উপর। কিন্তু তারপরও, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই প্রায় প্রতিটি মানুষই কম বেশি মিথ্যার সাথে বসবাস করতে শুরু করে। অনেকে তো আবার সেই শৈশব থেকেই মিথ্যা বলার বদভ্বিস্তারিত পড়ুন
“সদা সত্য কথা বলিবে।” ছোটবেলা থেকে এটিই শেখানো হয়েছে আমাদেরকে। এমনকি পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে ধর্মগ্রন্থ, সবখানেই বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে সত্যবাদিতার উপর। কিন্তু তারপরও, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই প্রায় প্রতিটি মানুষই কম বেশি মিথ্যার সাথে বসবাস করতে শুরু করে।
অনেকে তো আবার সেই শৈশব থেকেই মিথ্যা বলার বদভ্যাস গড়ে তোলে। যেমনটি আমরা দেখেছিলাম শিশুতোষ ছড়ায়- জনিকে তার বাবা জিজ্ঞেস করছে, সে চিনি খেয়েছে কি না। শুরুতে কিন্তু জনি অস্বীকার করে, তবে মুখ খুলতে তার মিথ্যাটা ধরা পড়ে যায়। এভাবেই, অধিকাংশ শিশুরই ছোটখাট বিভিন্ন বিষয়ে সত্য কথা অস্বীকার করার মাধ্যমে মিথ্যার জগতে হাতেখড়ি হয়। এবং যতই দিন যায়, তাদের মিথ্যার প্রবণতা বাড়তেই থাকে।
এবং চমকে যাওয়ার মতো তথ্য হলো, একজন মানুষের প্রায় ৮০ শতাংশ মিথ্যাই অচিহ্নিত থেকে যায়, যদি না মানুষটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিশ্বব্যাপী পরিচিত কেউ হয়। বেচারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাগ্য নিতান্তই খারাপ, তাই তার প্রতিদিন প্রকাশ্যে বলা সকল কথাই বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। এবং তার মাধ্যমে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর ৮২৭ দিনেই তিনি প্রকাশ্যে ১০,০০০ তম মিথ্যা কথাটি বলে ফেলেছেন। অর্থাৎ তিনি প্রতিদিন প্রকাশ্যে গড়ে ১২টি করে মিথ্যা কথা বলেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১০,০০০টির বেশি মিথ্যা বলা ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
কিন্তু যেমনটি বলছিলাম, আপনি যেহেতু ডোনাল্ড ট্রাম্প নন, তাই আপনার মিথ্যা ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এবং আপনি যদি নিতান্তই সাধারণ কোনো ব্যক্তি হন, তাহলে আপনার প্রতি ৫টি মিথ্যার মধ্যে ৪টিই হয়তো কেউ ধরতে পারবে না। এমনকি পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টরের পক্ষেও কোনো মিথ্যা ধরতে পারার সম্ভাবনা মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ। সুতরাং, এই পৃথিবীতে মিথ্যা কথা বলেও পার পেয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব।
কিন্তু এবার মুদ্রার অপর দিকটি চিন্তা করে দেখুন। হয়তো আপনি কখনোই মিথ্যা কথা বলেন না, বরং আপনাকে অন্যের মিথ্যার শিকার হতে হয়। আপনি হয়তো খুবই সহজ-সরল, কিংবা আপনি মানুষের উপর বিশ্বাস রাখতে পছন্দ করেন। আর সেই সুযোগে অনেকেই আপনাকে মিথ্যা বলে ধোঁকা দিতে পারে। এভাবে দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত আপনাকে ঠকতে হয় বা বোকা বনতে হয়।
কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কোনো মিথ্যাবাদীকে কীভাবে পাকড়াও করা সম্ভব? সরাসরি তাকে “তুমি মিথ্যা বলছো না তো?” ধরনের প্রশ্ন করে বিশেষ লাভ হবে না। কারণ, নিজ মুখে মিথ্যা স্বীকার করবে, এমন সৎ সাহস খুব কম মানুষেরই আছে। তার চেয়ে বরং নিজে একটু সচেতন থাকলেই মিথ্যাবাদীদের কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। চলুন, জেনে নিই একজন মিথ্যাবাদীকে শনাক্ত করা কিংবা কেউ সত্য না মিথ্যা বলছে তা বুঝতে পারার কার্যকরী ধাপগুলো সম্পর্কে।

অধিকাংশ মিথ্যাই থেকে যায় অচিহ্নিত
শুরু করুন নিরপেক্ষ বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন দিয়ে
একজন মানুষ সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে, তা ধরতে পারার একদম প্রাথমিক ধাপ হলো তাকে খুবই প্রাথমিক, সাদামাটা কিছু প্রশ্ন করা। হতে পারে সেটি আজকের আবহাওয়া নিয়ে, দুপুরে কী দিয়ে ভাত খেয়েছে সে সম্পর্কে, কিংবা সন্ধ্যায় তার কী করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ তাকে এমন সব প্রশ্ন করতে হবে, যেগুলোর উত্তর দিতে তাকে কোনো মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে না, সাধারণভাবেই উত্তরগুলো সে দিতে পারবে। এবং যখন সে উত্তরগুলো দেবে, তখন কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে- সে কি নড়েচড়ে বসছে? সে কি বারবার এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে? আপনার দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থা থেকে চোখ সরিয়ে বা নামিয়ে ফেলছে? এভাবে আপনি তার সাধারণ আলাপচারিতার ঢং বা প্যাটার্ন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এবার করুন স্পর্শকাতর প্রশ্ন
নিরীহ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ঢং সম্পর্কে জানা হয়ে গেলে, এবার ধীরে ধীরে স্পর্শকাতর প্রশ্নের তালিকায় প্রবেশ করুন। তার সাথে পূর্ব-পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে এমন সব প্রশ্ন করুন, যেগুলোর উত্তর দেয়ার ব্যাপারে তার মধ্যে অনীহা বা অস্বস্তি কাজ করতে পারে। এবং এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে তার অঙ্গভঙ্গি, মৌখিক অভিব্যক্তি, চোখের নড়াচড়া, বাক্যগঠন প্রভৃতি দিকে বিশেষ নজর দিন। কারণ, এসব প্রশ্নের উত্তরে সে সত্যি বা মিথ্যা যা-ই বলুক না কেন, তবু যেহেতু তাকে সচেতনভাবে উত্তরটা নির্ধারণ করতে হচ্ছে বা মনে মনে কথাগুলো গুছিয়ে নিতে হচ্ছে, তাই তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন খুব স্বাভাবিকভাবেই পরিলক্ষিত হবে। এবার যাচাই করে নিন, সাধারণ প্রশ্নের উত্তরের সাথে এসব অস্বস্তিকর প্রশ্নের উত্তরে তার মধ্যে ঠিক কী কী পরিবর্তন এসেছে। বলাই বাহুল্য, এসব পরিবর্তন মিথ্যা বলার ক্ষেত্রেও তার মধ্যে দেখা যাবে। যাচাই সম্পন্ন হলো, এবার তার সাথে শুরু করুন মূল আলাপচারিতাটি।

অঙ্গভঙ্গির পরিবর্তন মিথ্যাবাদিতার লক্ষণ
খেয়াল করুন অঙ্গভঙ্গি
মিথ্যা বলার সময় একজন ব্যক্তি অবচেতন মনেই কিছু অঙ্গভঙ্গির পরিবর্তন করে ফেলে। যেমন তাকে গুটিয়ে যেতে দেখা যায়। এর মাধ্যমে সে চায়, তাকে যেন অপেক্ষাকৃত কম লক্ষ্য করা যায়। অনেকে আবার শরীর মোচড়াতে শুরু করে, অস্বস্তিতে হাতের আঙ্গুল লুকানোর চেষ্টা করতে থাকে। অনেককে কাঁধ ঝাঁকাতেও দেখা যায়। সাধারণ আলাপচারিতার একপর্যায়ে কাউকে যদি হঠাৎ করে এগুলো করতে দেখা যায়, তাহলে ধরে নেয়া যেতে পারে সে কথাগুলো বলতে স্বস্তিবোধ করছে না, কিংবা সরাসরি মিথ্যাই বলছে।
নজর রাখুন সূক্ষ্ম মৌখিক অভিব্যক্তিতে
মিথ্যা কথা বলার সময় অবশ্যই একজন মানুষের মৌখিক অভিব্যক্তিতে কিছু পরিবর্তন আসে। কিন্তু যারা মিথ্যা বলায় পটু, তারা মুখ একদম স্বাভাবিক রেখেও মিথ্যা বলে যেতে পারে। তারপরও, কিছু কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন তার অভিব্যক্তিতে আসতে বাধ্য। যেমন: কিছু মানুষের মুখের রঙ মিথ্যা বলার সময় ঈষৎ গোলাপী বর্ণ ধারণ করে। কারো আবার নাকের পাটা খুব ধীরে ধীরে কাঁপতে থাকে। কেউ আবার তাদের ঠোঁট কামড়ে ধরে, ঘেমে যায়, কিংবা চোখের পাতা দ্রুত হারে খুলতে ও বন্ধ করতে থাকে। একজন মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন তার মস্তিষ্কে কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়, এবং মৌখিক অভিব্যক্তির এসব পরিবর্তন মস্তিষ্কের ওই ব্যস্ততারই লক্ষণ।
তাছাড়া মিথ্যা বলার সময় হাসিরও একটি গভীর যোগসাজশ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি হয়তো সাধারণভাবে খুবই হাসিখুশি। কিন্তু মিথ্যা বলতে গিয়ে সে খানিকক্ষণের জন্য হাসতে ভুলে যেতে পারে। আবার এমনও হতে পারে যে, মিথ্যাকে ঢাকার জন্য সে পূর্বাপেক্ষা হাসির পরিমাণ বাড়িয়েও দিতে পারে। সুতরাং, কম হাসা বা বেশি হাসা থেকেও সত্য-মিথ্যা যাচাই করা যেতে পারে।

মৌখিক অভিব্যক্তি সাহায্য করে মিথ্যা চিহ্নিতকরণে
মনোযোগ দিন বাচনভঙ্গি, গলার স্বর ও বাক্যের গঠনশৈলীতে
যেহেতু প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আসার আগে আপনি সাধারণ আলাপ করে এসেছেন, তাই হঠাৎ করে তার কন্ঠস্বরে কোনো পরিবর্তন এলে সেটিও আপনার ধরতে পারার কথা। একজন মানুষ মিথ্যা বলার সময় প্রায়ই তার গলার স্বর ও বাচনভঙ্গিতে পরিবর্তন চলে আসে। কেউ পূর্বাপেক্ষা দ্রুত কথা বলতে থাকে, আবার কেউ ধীরে ধীরে কথা বলতে থাকে। গলার স্বরও হয় আগের থেকে জোরালো হয়, কিংবা দুর্বল হয়।
তাছাড়া মিথ্যা বলার সময় বাক্যের গঠনশৈলীও আগের থেকে অনেক জটিল হয়ে যায়। আগে হয়তো সে তিন-চারটি শব্দে একেকটা বাক্য শেষ করছিল। কিন্তু এখন সে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাক্যাংশ একসাথে করে বেশ বড় ও জটিল একটি বাক্য তৈরি করছে, এবং সেই বাক্যে ‘যদি’, ‘কিন্তু’, ‘তাছাড়া’ প্রভৃতি যুক্ত করছে। এর কারণ হলো, সত্য কথা বলার সময় মানুষের মস্তিষ্কে খুব বেশি চাপ পড়ে না। সে ইতিমধ্যেই যা জানে, সেগুলোই নিজের মতো করে বলতে শুরু করে। কিন্তু মিথ্যা বলার সময় তাকে পুরো বিষয়টিকে নতুন করে তৈরি করতে হয়। অনেকগুলো ব্যাপার একসাথে তার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে, এবং বলার সময় সে চায় একবাক্যেই সবগুলো ব্যাপারে কথা বলে ফেলতে।
আবার এমনও হতে পারে যে, নিজের মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সে বারবার একই কথার পুনরাবৃত্তিও করতে পারে। এর কারণ হলো, সে নিজেই নিশ্চিত নয় যে মিথ্যা বলে আপনাকে সেটি বিশ্বাস করাতে পারছে কি না। তাই নিজে নিশ্চিত হওয়ার জন্যই সে বারবার একই কথা বলতে থাকে, এবং প্রতিবার তার মধ্যে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে বেশি মরিয়া হতে দেখা যায়।
দেখুন সে নিজের ব্যাপারে কথা বলা থামিয়ে দিল কি না
মানুষ যখন সত্য কথা বলে, তখন তার বিবরণী অনেক সাবলীল থাকে, এবং বর্ণিত ঘটনায় যদি সে নিজে উপস্থিত থাকে, তাহলে মূল প্রসঙ্গের বাইরে গিয়েও সে নিজের কিংবা নিজের অনুভূতির ব্যাপারে বিভিন্ন কথা বলতে থাকে। এর কারণ মানুষের আত্মপ্রেম বা আত্মনিমগ্নতা, যে কারণে সে স্বাভাবিকভাবেই সবকিছুর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চায়। কিন্তু যখন সে মিথ্যা কথা বলে, তখন তাকে অনেক সাবধান হয়ে যেতে হয়। মূল ঘটনাটি হয়তো সে নিজের মতো করে পাল্টে নিতে পারে, কিন্তু নিজের অনুভূতির স্মৃতিকে পরিবর্তন করা মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। সেটি করতে গিয়ে বেফাঁস কিছু একটা বলে ফেলার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই মিথ্যাবাদী ব্যক্তি তার বিবরণ থেকে নিজেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেয়। তখন তার কথায় আর আগের মতো বারবার ‘আমি’, ‘আমাকে’, ‘আমার’ প্রভৃতি উত্তম পুরুষ বা আত্মবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় না।
মনোবিদদের আরো একটি বিশ্বাস হলো, মানুষ যখন কোনো ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে, সেটির থেকে নিজেকে দূরে রাখার এক অদ্ভূত প্রবণতা তার মধ্যে কাজ করে। এ কারণেই মিথ্যা বলার সময় সে আর নিজের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করতে চায় না।

খুঁটিনাটি প্রশ্ন বিপাকে ফেলে দিতে পারে মিথ্যাবাদীকে
খুঁটিনাটি প্রশ্ন করুন
মিথ্যা বলার উপর্যুক্ত লক্ষণগুলো কারো মধ্যে দেখা গেলেই যে সে মিথ্যা বলছে, এমন ধরে নেয়াটা ঠিক হবে না। কারণ অন্য কোনো কারণেও একজন ব্যক্তির মধ্যে ঐসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। প্রথমত, সে হয়তো মিথ্যা বলছে না, শুধুই অস্বস্তিবোধ করছে। দ্বিতীয়ত, অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণেও আকস্মিকভাবে তার মধ্যে এসব পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নিশ্চিত হওয়ার সর্বশেষ ও সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো তাকে খুঁটিনাটি বিভিন্ন প্রশ্ন করা।
একজন ব্যক্তি প্রথমে নিজের মতো করে কোনো একটি মনগড়া মিথ্যা কথা বলে দিতেই পারে। কিন্তু তাকে বিপাকে পড়তে হয় ঐ ব্যাপারে আরো খুঁটিনাটি বর্ণনা দিতে গিয়ে। আপনি তাকে ঘটনা সংশ্লিষ্ট একেবারেই অবান্তর কিংবা খুবই অগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করে বসতে পারেন, যেগুলোর উত্তর হয়তো সে আগে থেকে ঠিক করে রাখেনি। আপনার প্রশ্ন শুনে হঠাৎ করে যদি সে উত্তরটি বানাতে যায়, তাহলে সেই নবনির্মিত উত্তরের সাথে তার আগের উত্তরের কিছু পার্থক্য থাকা খুবই স্বাভাবিক। এভাবে বারবার তাকে বিভিন্ন খুঁটিনাটি প্রশ্ন করতে থাকলে, একবার না একবার সে এমন কোনো একটি উত্তর দিয়ে বসবেই, যার সাথে তার আগের বলা কথার কোনো মিল নেই। এবং এভাবেই হাতেনাতে ধরে ফেলা যাবে তার মিথ্যাটি।
সংক্ষেপে দেখুনকেন খাবার লবণেই আয়োডিন মেশানো হয়?
আয়োডিনের কথা আমরা সকলেই কমবেশি শুনেছি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না এটি আসলে কী, বা আমাদের শরীরের জন্য এটি কেন এত জরুরি। “আয়োডিন ও লবণ রিসার্চ সেন্টার” এর গবেষকদের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষই আয়োডিন স্বল্পতার শিকার। আর ৩ কোটি মানুষ জানে না, তারা আয়োডিন ঘাটতির শিকার হয়ে স্বল্বিস্তারিত পড়ুন
আয়োডিনের কথা আমরা সকলেই কমবেশি শুনেছি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না এটি আসলে কী, বা আমাদের শরীরের জন্য এটি কেন এত জরুরি।
“আয়োডিন ও লবণ রিসার্চ সেন্টার” এর গবেষকদের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষই আয়োডিন স্বল্পতার শিকার। আর ৩ কোটি মানুষ জানে না, তারা আয়োডিন ঘাটতির শিকার হয়ে স্বল্পবুদ্ধি ও শিখন ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছে।
তাই শুরুতেই আমরা জেনে নিতে পারি, আয়োডিন কী। আয়োডিন হলো একটি মৌলিক পদার্থ, যার সংকেত I (আই), পারমাণবিক সংখ্যা ৫৩। পৃথিবীতে আয়োডিনের প্রধান উৎস হলো মহাসাগর এবং সমুদ্রের পানি, যেখানে দ্রবণীয় অবস্থায় আয়োডিন পাওয়া যায় আয়ন I− রূপে। অন্যান্য হ্যালোজেনের ন্যায় মুক্ত আয়োডিন দ্বিপরমাণুক।

আয়োডিন যেমন দেখতে হয়
কিন্তু আয়োডিন কীভাবে স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত হলো? শুধু বাংলাদেশই নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই কেন আয়োডিনের ঘাটতি খুব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো? কেন আয়োডিনের অভাবে দেখা দেয় নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক সমস্যা?
আমাদের থাইরয়েড হরমোন ও হজমের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আয়োডিন। এর অভাবে শারীরিক বৃদ্ধি বা গঠনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। অনেকেই মনে করেন, আয়োডিনের অভাবে বুঝি কেবল ঘ্যাগ বা গলগণ্ড রোগই হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আয়োডিনের অভাবে সৃষ্ট সমস্যার তালিকা অনেক বড়।
গর্ভবতী মায়ের শরীরে আয়োডিনের ঘাটতির ফলে গর্ভপাত কিংবা বিকলাঙ্গ সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও স্নায়বিক দুর্বলতা, বধিরতা, বাকশক্তিহীনতা, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, বামনত্ব, বিভিন্ন শারীরিক ত্রুটি এবং শিশুর স্বাভাবিক মস্তিষ্ক গঠন ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয় আয়োডিন ঘাটতির ফলে।
মাথার চুল কমে যাওয়া, পড়াশোনায় মন না বসা, স্মরণশক্তি হ্রাস পাওয়া, বারবার ধৈর্যচ্যুতি ঘটা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া ইত্যাদির পেছনেও দায় রয়েছে আয়োডিন ঘাটতির।

আয়োডিন ঘাটতি দায়ী শরীরের নানা সমস্যার জন্য
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, এসব শারীরিক ও মানসিক সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে দরকার আমাদের শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি পূরণ। কীভাবে তা সম্ভব? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ১৫০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিন গ্রহণ করা উচিৎ। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সেটি সর্বোচ্চ ৩০০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্তও হতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, কোথা থেকে পাবো আমরা প্রয়োজনীয় আয়োডিন? সামুদ্রিক মাছ (তাজা/শুঁটকি), সামুদ্রিক আগাছা প্রভৃতিতে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন পাওয়া যায়। সমুদ্রের পানির এ আয়োডিন কিন্তু রোদের কারণে বাষ্পীভূত হয়ে আকাশে চলে যায়, এবং তারপর বৃষ্টির পানির মাধ্যমে মাটিতে মিশে মাটিকে আয়োডিন সমৃদ্ধ করে। পানি ও মাটিতে পর্যাপ্ত আয়োডিন থাকলে উদ্ভিদজাত ও প্রাণিজ খাবার থেকেও প্রয়োজনীয় আয়োডিন পাওয়া যায়।

আয়োডিন সমৃদ্ধ উদ্ভিদজাত ও প্রাণিজ খাবার হতে পারে প্রয়োজনীয় আয়োডিনের উৎস
কিন্তু সমস্যার বিষয় হলো, ভূমিবেষ্টিত এলাকায় সব সময় সমুদ্র ছুঁয়ে আসা বৃষ্টি হয় না। আবার যারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল, তারাও সব খাবারে আয়োডিন পায় না। এরকম ঘটনা ঘটে থাকে আল্পস, পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকাগুলো কিংবা ইতালি, রাশিয়া, মধ্য আফ্রিকার পাহাড়ি এলাকাগুলোয়।
কেউ যদি ভেবে থাকেন যে আমাদের বাংলাদেশের পাশেই যেহেতু রয়েছে বঙ্গোপসাগর, তাই আমাদের দেশের মাটিতে আয়োডিনের ঘাটতি নেই, তাহলে খুব বড় ভুল করছেন। আমাদের দেশের মাটিতে আয়োডিন ঘাটতির প্রধান কারণ হলো বন্যা। দেশের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বন্যার পানি মাটির আয়োডিন ধুয়ে নিয়ে যায়, ফলে সেসব অঞ্চলে উদ্ভিদজাত কিংবা প্রাণিজ খাবারে আয়োডিন পাওয়া যায় না। বস্তুত আমাদের দেশের কোনো অঞ্চলকেই পুরোপুরি আয়োডিনের ঘাটতিমুক্ত বলা যাবে না। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল তথা রংপুর, দিনাজপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে আয়োডিনের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়।
কিন্তু দৈনন্দিন আহার্য খাবারে আয়োডিনের ঘাটতি থাকায় কি আমাদের দেহ প্রয়োজনীয় আয়োডিন থেকে বঞ্চিত হবে? তাহলে তো আমাদের বড় ও শিশুদেরও বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। সেজন্য সম্ভব হলে বেশি বেশি সাদা মাছ ও ঠাণ্ডা দুধ খাওয়া যেতে পারে, কারণ সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণ আয়োডিন আছে।

আয়োডিনের অভাবে বড় হয়ে যায় থাইরয়েড গ্রন্থি
তবে এসব খাবার খেয়েও যে আয়োডিনের ঘাটতি দূর করা সম্ভব হবে, সেরকম কোনো নিশ্চয়তা কিন্তু দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া অর্থনৈতিক কারণে সবার পক্ষে নিয়মিত এসব খাবার খাওয়া সম্ভবও নয়। আবার অন্যান্য নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণেও অনেক মানুষের দুধ, মাংস প্রভৃতি খাবার খাওয়া বারণ থাকতে পারে। এবং তারা যদি মাছ বা শাকসবজি থেকেও পর্যাপ্ত আয়োডিন না পায়, সেক্ষেত্রে কী করণীয়?
বাংলাদেশের মতো একটি দেশে যেহেতু এসব সমস্যার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তাই এদেশে মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত আয়োডিনের যোগান নিশ্চিত করার সবচেয়ে সহজ, সুলভ ও কার্যকরী উপায় হলো আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা। যেহেতু প্রতিদিনের খাবার তালিকায় লবণ অবধারিতভাবে থাকে, তাই লবণের সাথে যুক্ত করা আয়োডিন গ্রহণের মাধ্যমেই দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যাগুলো থেকে রক্ষা পেতে পারে।

আয়োডিন ঘাটতি মেটাতে লবণের সাথে মেশানো হয় আয়োডিন
আগেই বলা হয়েছে, আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনেক পিছিয়ে রয়েছে আমাদের দেশ। দেশের অধিকাংশ মানুষই আয়োডিনযুক্ত লবণ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের প্রকৃত উপায় সম্পর্কে অবগত নয়, যার ফলে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করার পরও অনেকের শরীরের প্রয়োজনীয় আয়োডিনের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে।
সকলের জেনে রাখা প্রয়োজন, লবণে মিশ্রিত আয়োডিন হলো একটি উদ্বায়ী পদার্থ। তাই লবণ খোলা বাতাসে রাখলে আয়োডিন উড়ে যায়। ফলে বাজারে যেসব খোলা লবণকে আয়োডিনযুক্ত লবণের নামে চালিয়ে দেওয়া হয়, সেগুলোতে আদতে আয়োডিন থাকে না বললেই চলে। তাই প্রকৃত আয়োডিনযুক্ত লবণ পেতে হলে অবশ্যই প্যাকেটজাত লবণই কিনতে হবে।

প্রকৃত আয়োডিনযুক্ত লবণ পেতে হলে অবশ্যই প্যাকেটজাত লবণই কিনতে হবে
দোকান থেকে প্যাকেটজাত, প্রকৃত আয়োডিনযুক্ত লবণ কিনলেই যে দায়িত্ব শেষ, তেমনটিও কিন্তু নয়। সেই লবণ সঠিকভাবে সংরক্ষণ হলো পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অনেকেরই লবণ খোলা অবস্থায় রেখে দেয়ার অভ্যাস রয়েছে। এমনটি করা হলে লবণের উদ্বায়ী আয়োডিন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাতাসে হারিয়ে যায়। তাই লবণ কিনে আনার পর, প্যাকেট থেকে ঢেলে সেটিকে কোনো ঢাকনাওয়ালা কৌটা বা বয়ামে সংরক্ষণ করতে হবে, এবং প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করে সেটির মুখ পুনরায় ভালো করে আটকেও রাখতে হবে। কৌটা বা বয়ামটিকে চুলার খুব কাছে রাখা ঠিক হবে না। দূরে রাখতে হবে জলীয় বাষ্প, সূর্যের আলো এবং উচ্চ তাপমাত্রা থেকেও।
ঘরেই লবণের আয়োডিন পরীক্ষার জন্য নানারকম পরীক্ষা আছে, শিশুরা বেশ মজা পাবে সেগুলোতে। এই পরীক্ষাগুলো শিখিয়ে দিন শিশুদের, শেখাতে শেখাতে তাদের জানান আয়োডিনের গুরুত্বের কথা, যাতে ভয়ঙ্কর সব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম।
সংক্ষেপে দেখুনঅবসর সময় কিভাবে কাটানো যায়?
প্রায়ই অবসর সময়ে বসে আমরা ভাবি,“কী করা যায়?” করার মতো নির্দিষ্ট কিছু খুঁজে না পেয়ে দেখা যায় যে, শুয়ে-বসেই কেটে যায় অবসরটা। কিন্ত এই অবসর সময়টাকে যদি স্মার্টভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে মন্দ হয় না। চলুন দেখা যাক কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন আপনার অবসরটাকে। ১। নতুন নতুন ভাষা শিখুন পড়াশোনা আর চাকরির সুবাদেবিস্তারিত পড়ুন
প্রায়ই অবসর সময়ে বসে আমরা ভাবি,“কী করা যায়?” করার মতো নির্দিষ্ট কিছু খুঁজে না পেয়ে দেখা যায় যে, শুয়ে-বসেই কেটে যায় অবসরটা। কিন্ত এই অবসর সময়টাকে যদি স্মার্টভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে মন্দ হয় না। চলুন দেখা যাক কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন আপনার অবসরটাকে।
১। নতুন নতুন ভাষা শিখুন
পড়াশোনা আর চাকরির সুবাদে আমাদের প্রায় সবারই কম-বেশি ইংরেজি ভাষা জানা আছে। সেই সাথে আপনার যদি আরও কয়েকটি ভাষা জানা থাকে, তাহলে বিভিন্ন সময়ে আপনার কাজে লাগতে পারে আর সেই সাথে নিজের আত্মবিশ্বাসটাও বাড়বে অনেকখানি।
সেক্ষেত্রে যে ভাষাটি শিখতে চাচ্ছেন, সে ভাষার সাবটাইটেলসহ সিনেমা দেখলে ভাষাটি অনেক সহজেই আয়ত্বে আনতে পারবেন। এছাড়া ভাষা শেখার জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ রয়েছে; যেমন- মেম্রাইজ (memrise.com), ডুওলিঙ্গো (duolingo.com) এবং হ্যালোটক (hellotalk.com)।
নিজের পছন্দের অথবা প্রয়োজন হতে পারে এমন নতুন নতুন ভাষা শিখুন
২। ডকুমেন্টারি দেখুন
নতুন কিছু সম্পর্কে সহজেই এবং কম সময়ে জানার জন্য ডকুমেন্টারি দেখার তুলনা নেই। কারণ কোনো কিছু দেখে শেখার বা জানার অভিজ্ঞতাটাই অন্যরকম! ধরুন, আপনি ইস্তানবুল শহর সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে আপনি ডকুমেন্টারি দেখে খুব সহজেই পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন এবং এই দেখে জানতে পারা ও শেখা থেকেই ইস্তানবুল শহর সম্পর্কে আপনার ধারণাটা একেবারে মনে গেঁথে যাবে। আপনার ল্যাপটপ, ট্যাব অথবা মোবাইলে ডাউনলোড করে রাখলে জ্যামে অযথা বসে না থেকে ডকুমেন্টারিগুলো দেখতে পারবেন এবং সময়টাকে কাজে লাগাতে পারবেন।
পছন্দের কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে দেখে নিতে পারেন ডকুমেন্টারি
৩। লিস্টে রাখতে পারেন অডিও বুক
বইপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি জিনিস হলো এই অডিও বুক। একবার ভেবে দেখুন তো, আপনি যে বইটি পছন্দ করেন, তা যদি চোখ বন্ধ করে ঘুমাতে যাবার সময় শুনে নিতে পারেন, তাহলে কেমন হয়? হ্যাঁ, আপনার এই ইচ্ছাটি বাস্তবে আসলেই সম্ভব! আর আপনার এই ইচ্ছাটি পূরণ করবে অডিও বুক! নিশ্চয় জানতে চাচ্ছেন যে, কোথায় পাবেন এই অডিও বুকগুলো? তাহলে দেখে নিন অডিও বুকের কয়েকটি সাইটের লিংক:
অডিও বুক সাথে থাকলে চলাফেরায়ও উপভোগ করতে পারবেন আপনার প্রিয় বইটি
৪। বিভিন্ন ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো শিখুন
বক্তা হিসেবে টেড টকে গবেষক আনিতা কলিন্স বলেছেন, “গান শোনার সময় আপনার মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সাড়া দেয় ও কাজ করা শুরু করে। কিন্তু আপনি যখন কোনো ইন্সট্রুমেন্ট বাজান, তখন আপনার পুরো শরীর মস্তিষ্কের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করে।”
তাই আপনি আপনার পছন্দের যেকোনো ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো শিখে ফেলতে পারেন অবসরে। এতে করে যে আপনার সময়টাই শুধু ভালো কাটবে তা-ই নয়, বরং মস্তিষ্কও কাজ করবে ভিন্নভাবে! নির্দিষ্ট কোনো ইন্সট্রুমেন্ট নয়, শিখে নিতে পারেন যেকোনো ধরনের ইন্সট্রুমেন্ট। কোথাও কোর্স না করেও বাসায় বসে ইউটিউবে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখেও শিখে নিতে পারেন আপনার প্রিয় ইন্সট্রুমেন্ট বাজানোর পদ্ধতি!
ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে বা কোর্স করে শিখে ফেলুন যেকোনো ইন্সট্রুমেন্ট বাজানো
৫। মেডিটেশন করুন
মেডিটেশন বা ধ্যান করার শুধু একটি, দুটি নয় বরং অনেক সুবিধা রয়েছে। মেডিটেশন আপনার মনোযোগ বাড়াবে, উদ্বেগ কমাবে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করবে। আপনি আরও সচেতন হবেন এবং ভেতর থেকে আপনি একটি অন্যরকম অনুভূতি পাবেন। কাজের চাপে অনেক সময় চিন্তা ভাবনাগুলো এলোমেলো হয়ে যায় যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মেডিটেশন আপনার জন্য ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। আপনার ঘরের খোলা জায়গায় যেখানে আলো বাতাস আছে সেখানে, কোনো একটি রুমের কর্নারে এবং যেখানে লোকের চলাফেরা কম সেই জায়গাটি মেডিটেশনের জন্য বেছে নিন। মেডিটেশনের জন্য মনোযোগ ধরে রাখা খুব জরুরী। তাই আপনার ঘরের শান্ত জায়গাটিই বেছে নিন এর জন্য!
ঘরে বসেই ইউটিউবে অথবা বিভিন্ন সাইট; যেমন- meditationoasis.com, openyourheart.ws, onlinemeditation.org/ থেকে শিখতে পারেন এবং এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন।
মেডিটেশন আপনার ভেতর থেকে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়াবে
৬। পার্সোনাল ডায়েরি লিখুন
স্কুল-কলেজে থাকতে অনেকেরই ডায়েরি লেখার অভ্যাসটা থাকে। কিন্তু আস্তে আস্তে কাজের চাপে আর ব্যস্ততায় হারিয়ে যায় এই শখটি। ডায়েরি লেখার বিষয়টি আপনাকে অনেকভাবে উপকৃত করবে। নিয়মিত ডায়েরি লিখলে আপনি সেখানে ‘টু ডু লিস্ট’ লিখতে পারবেন যা পরবর্তীতে আপনার কাজের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বিশেষ মুহূর্তগুলো সম্পর্কে লিখে তার কিছু ছবিও সাথে রাখতে পারবেন, আপনার সাফল্য ও ব্যর্থতার কথা লিখে রাখবেন যা পরবর্তীতে আপনার সেলফ্ ডেভেলপমেন্ট হিসেবে কাজ করবে। আর লেখালেখির অভ্যাসটা গড়ে উঠলে আপনার লেখার চর্চা ঝালাই হবে, লেখা ও বানানের ভুল সংশোধন করতে পারবেন এবং রাইটিং স্কিলও বাড়বে। এছাড়া পার্সোনাল ডায়েরি লেখার অভ্যাসটি আপনার থেরাপি হিসেবে কাজ করবে এবং আপনার মনও হালকা হবে।
নিয়মিত পার্সোনাল ডায়েরি লেখা আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে
৭। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন
মোটা অংকের টাকা খরচ করে জিমে না যেয়ে হাঁটার অভ্যাস করুন। এতে করে আপনি শুধু ফিটনেসই পাবেন না, বরং এর চেয়েও বেশি কিছু পাবেন। হাঁটলে আপনার মন-মেজাজ ভালো থাকবে, আপনি সৃজনশীল হবেন, ব্ল্যাড সার্কুলেশন বাড়বে, শরীর সুস্থ থাকবে এবং যৌবনটাকেও ধরে রাখতে পারবেন। এছাড়া হাঁটলে আপনার মস্তিষ্ক সচল থাকে এবং ঘুম না হওয়ার সমস্যাটাও আর থাকে না। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন বাসার আশেপাশে কোনো পার্ক থাকলে সেখানে অথবা যেখানে আপনার ভালো লাগে সেখানে হাঁটার চেষ্টা করুন।
প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করলে আপনার শরীর ও মন মানসিকতা ভালো হবে
৮। কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসুন
কম-বেশি আমরা সবাই জানি যে, ঘোরাঘুরি করলে মনটা শুধু ফ্রেশই হয় না, বরং জ্ঞানও বাড়ে। কিন্তু অলসতা আমাদের এই সুন্দর অভ্যাসটি থেকে দূরে রাখে অনেক সময়েই। সম্ভব হলেই বেরিয়ে পড়ুন আর ঘুরে আসুন আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বা ঐতিহাসিক জায়গা থেকে। বাইরে কোথাও ঘুরে আসলে আপনার একঘেয়েমি কাটবে এবং জ্ঞানও বাড়বে
৯। ক্রাফটিং শিখুন এবং করুন
ক্রাফটিং শিখে আপনি নিজেই নিজের পছন্দের ডিজাইন অনুযায়ী পেন্সিল ব্যাগ, পেন স্ট্যান্ড, ফুলদানি সহ আরও অনেক কিছু বানাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ইউটিউবে বিভিন্ন চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে পারেন যেখানে নিয়মিত ক্রাফটিং-এর টিউটোরিয়াল আপলোড করা হয় অথবা যে বিষয়ে শিখতে চাচ্ছেন তা গুগলে সার্চ করলে হাতে-কলমে শেখার মতো অনেক লিংক পাবেন। নিজের পছন্দমতো জিনিস তৈরি করে ব্যবহার করার মজাই আলাদা
প্রিয় কয়েকটি জায়গার লিস্ট তৈরি করে রাখতে পারেন
১০। বাগান করুন
আপনার বাসার ছাদে অথবা ঘরের ভেতর ছোট ছোট টবে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগাতে পারেন। জানালার পাটাতনে, ড্রেসিং টেবিলে অথবা ঘরের বিভিন্ন কর্নারে ছোট ছোট টবে পাতাবাহার, বনসাই, মানিপ্ল্যান্ট ছাড়াও বিভিন্ন রকমের গাছ রাখতে পারেন। চারপাশে গাছপালা থাকলে আপনার মন যে শুধু প্রফুল্ল হবে তা-ই নয়, বরং এতে করে আপনি পরিবেশের অনেকটা কাছাকাছিও চলে যাবেন।
বাসায় বাগান করলে আপনার মনটাও ভালো লাগবে আর পরিবেশটাও সুন্দর থাকবে
এই সবকিছুর বাইরেও আপনার পছন্দসই যেকোনো কাজ আপনি করতে পারেন আপনার অবসরে। তাহলে আজ থেকে অবসর সময়টা আর অযথা নষ্ট না করে স্মার্টভাবে কাজে লাগানো শুরু করে দিন। বেছে নিন এবং চর্চা করুন আপনার পছন্দের বিষয়টি, হয়ে উঠুন আরো স্মার্ট!
সংক্ষেপে দেখুনগতানুগতিক পেশার বাইরে আমরা আর কি কি পেশার নাম জানি?
সময়ের সাথে সাথে বদলে যায় মানুষের আচার-আচরণ, সামাজিক প্রথা, খাদ্যাভাস ইত্যাদি সবই। জীবিকার্জনের পন্থাও এর ব্যতিক্রম নয়। আগেকার দিনে মানুষ যেসব কাজ করে অর্থোপার্জন করে পেট চালাতো, তার অনেকগুলোই আজকের দিনে অদ্ভুত লাগবে যে কারো কাছেই। কোনো কোনোটি পড়ে যেমন বিস্ময়ে মুখ হাঁ হয়ে যেতে পারে, তেমনি কোনোটি সম্পবিস্তারিত পড়ুন
সময়ের সাথে সাথে বদলে যায় মানুষের আচার-আচরণ, সামাজিক প্রথা, খাদ্যাভাস ইত্যাদি সবই। জীবিকার্জনের পন্থাও এর ব্যতিক্রম নয়। আগেকার দিনে মানুষ যেসব কাজ করে অর্থোপার্জন করে পেট চালাতো, তার অনেকগুলোই আজকের দিনে অদ্ভুত লাগবে যে কারো কাছেই। কোনো কোনোটি পড়ে যেমন বিস্ময়ে মুখ হাঁ হয়ে যেতে পারে, তেমনি কোনোটি সম্পর্কে জানার পর হাসিও উঠতে পারে বিস্তর। পুরোনো দিনের পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু পেশা।
নকার-আপ
আজকের দিনে ঘুম থেকে সময়মতো ওঠার জন্য মোবাইলের অ্যালার্মের কোনো বিকল্প নেই। এককালে এ জায়গায় ছিলো এলার্ম ঘড়ি। কিন্তু এ এলার্ম ঘড়ি আসার আগে মানুষ তাহলে সময়মতো ঘুম থেকে ওঠার জন্য কী করতো? তখন আসলে অদ্ভুত এক পেশা ছিলো যার নাম ‘নকার-আপ’ কিংবা ‘নকার-আপার’। নারী-পুরুষ উভয়েই এ পদ্ধতিতে জীবিকা নির্বাহ করতো। যে ব্যক্তির বাড়িতে যেদিন তাদের ডিউটি, সেদিন সেই বাড়িতে গিয়ে তার বেডরুমের জানালায় বড় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকতো একজন নকার-আপার। গ্রাহক ঘুম থেকে উঠেছে নিশ্চিত করেই সে পরের গ্রাহকের দিকে ছুটতো।
লিঙ্ক বয়
রাতের বেলায় ঘর থেকে বেরোলেই রাস্তায় জ্বলা বিদ্যুতবাতি আমাদের পথ আলোকিত করে দেয়। আর কোনো কারণে লোডশেডিং হলে টর্চ কিংবা স্মার্টফোনের টর্চলাইটের অপশন তো আছেই। তবে বিদ্যুতের এমন সহজলভ্যতার আগের জীবন কিন্তু অতটা সহজ ছিলো না। তখন রাতের বেলায় পথ চলতে গেলে অন্ধকার দূরীকরণে কাজ করতো কম বয়সী ছেলেরা যাদের বলা হতো লিঙ্ক বয়। হাতে একটি মশাল ধরে তারা পথচারীদের পথকে আলোকিত করে তুলতো, সাথে জুটতো সামান্য কিছু অর্থ। রাস্তায় বিদ্যুতবাতি আসার আগে ইংল্যান্ডে এ লিঙ্ক বয়দের দেখা মিলতো।
পিম্প মেকার
একসময় লন্ডন ও এর আশেপাশের এলাকায় পিম্প মেকার নামের এ পেশাটির চল ছিলো। পিম্প (Pimp) একটি ইংরেজি শব্দ যার অর্থ বেশ্যালয়ের দালাল। তাই প্রথমে যে কেউ ‘পিম্প মেকার’ দেখে ভাবতে পারে, অতীতে হয়তো ট্রেনিং দিয়ে পিম্পদের প্রস্তুত করা হতো! আসল ঘটনা এর ধারেকাছেও নেই। লন্ডন এবং তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে ব্যবহৃত এক আঞ্চলিক শব্দ ছিলো পিম্প, যার অর্থ তাদের কাছে ছিলো জ্বালানী কাঠের স্তুপ। যে ব্যক্তি বিক্রির জন্য কাঠ সংগ্রহ করতো তাকেই তারা পিম্প মেকার বলতো।
টোশার
টোশারদের তুলনা করা যায় আমাদের দেশের টোকাইদের সাথে। তবে টোকাইদের দেখা মেলে ডাস্টবিনগুলোর আশেপাশে। আর টোশারদের দেখা মিলতো লন্ডনের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কাছাকাছি জায়গায়। সব জায়গা থেকে আসা ময়লায় তারা অক্ষত কিন্তু দরকারী জিনিস খুঁজে বেড়াতো। তারপর কিছু পেলে সেটা পরিষ্কার করে বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করতো তারা।
গং-ফার্মার
আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মানববর্জ্যের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। তাই প্রাকৃতিক কর্মাদি সেরে টয়লেটের ফ্লাশ ব্যবহার করলেই হয়ে যায়। আর সেপটিক ট্যাঙ্কে জমা হওয়া ময়লার জন্যও আছে বিশেষ ট্রাক যা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেই ময়লাগুলো বের করে আনতে পারে মানুষের হাতের স্পর্শ ছাড়া। তবে আগেকার দিনে এ কাজের জন্য যখন যন্ত্র ছিলো না তখন কিন্তু মানুষই ছিলো একমাত্র ভরসা। টয়লেটের যাবতীয় আবর্জনা খালি হাতেই পরিষ্কার করা এ মানুষগুলো গং-ফার্মার বা নাইট সয়েল ম্যান হিসেবেই পরিচিত ছিলো। রাতের বেলায় মূলত তারা কাজ সারতেন বলেই তাদের নাইট সয়েল ম্যান বলা হতো। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতেন বলে তাদের অনেকেই মারা যেতেন শ্বাসরোধ হয়ে।
জিমনারসিয়াখ
জিমনেশিয়াম বলতে আমরা চিনি ব্যায়ামাগারকে। আর এ জিমনেশিয়ামের সাথেই সম্পর্ক রয়েছে জিমনারসিয়াখের। প্রাচীন গ্রীসে প্রচলিত ছিলো এ পেশাটি। রেসলিং, ব্যায়ামাগারে ব্যায়াম সারা কিংবা অন্যান্য খেলাধুলার পর একজন অ্যাথলেটের গায়ে লেগে থাকা ঘাম পরিষ্কার করা, তার শরীর মুছে দেয়া এবং তেল মাখিয়ে দেয়াই ছিলো এ পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তির প্রধান কাজ। শুনতে কিছুটা অদ্ভুত আর গা ঘিনঘিনে হলেও তখনকার গ্রীসে কিন্তু পেশাটিকে বেশ সম্মানের চোখে দেখা হতো। আবেদনকারীর বয়স হওয়া লাগতো ৩০-৬০ এর ভেতর। একইসাথে সম্ভ্রান্ত বংশীয় হওয়াও ছিলো পেশাটিতে ঢুকতে পারার পূর্বশর্ত।
শেষকৃত্যানুষ্ঠানের ভাঁড়
একজন মানুষের শেষকৃত্যানুষ্ঠান শোকের চাদরে মোড়া থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রাচীন রোম যেন এ স্বাভাবিক নিয়মটিও মানতে চায় নি। তাই কারো শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও তারা নিয়োগ দিতো বিভিন্ন ভাঁড়কে। তারা রং-বেরঙয়ের পোষাক পরে এসে করতো নানা মজাদার অঙ্গভঙ্গি, অনুকরণের চেষ্টা করতো মৃতের নানা কথাবার্তা-চালচলন। এসবের উদ্দেশ্য ছিলো মৃতের আত্মাকে শান্তি দেয়া এবং জীবিত শোকার্ত আত্মীয় ও কাছের মানুষদেরকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তোলা। এসব করে তাদের অর্থোপার্জনও বেশ ভালোই হতো।
ফুলার
ফুলিং বলতে বোঝায় কাপড় পরিষ্কার করার প্রক্রিয়াকে। প্রাচীন রোমে এ কাজটি করতো ক্রীতদাসেরা। এজন্য গোড়ালি সমান মূত্রের মাঝে দাঁড়িয়ে কাপড় ধোয়া লাগতো তাদের! কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। তখনকার দিনে তো আর এখনকার মতো কাপড় ধোয়ার জন্য এত সাবান কিংবা গুঁড়া সাবানের প্রচলন ছিলো না। মূত্রে থাকা অ্যামোনিয়াম লবণ পরিষ্কারক ক্ষমতাসম্পন্ন। এজন্যই মূলত মূত্রের দ্বারস্থ হয়েছিলো রোমের মানুষেরা। সেই মূত্রের মাঝে মূলত মানুষের মূত্রই থাকতো।
গ্রুম অব স্টুল
আজ প্রাচীন পৃথিবীর যেসব অদ্ভুত পেশার কথা আলোচনা করলাম, তার মাঝে সবচেয়ে অদ্ভুত সম্ভবত এটিই। একজন ইংরেজ রাজার সভাসদদের মাঝে তার সবচেয়ে কাছের লোক থাকতেন এ গ্রুম অব স্টুল। তার কাজ ছিলো রাজার হাত-পা ধুইয়ে দেয়া এবং সেই সাথে প্রকৃতির বড় ডাকে সাড়া দেয়ার পর তার পশ্চাদ্দেশ পরিষ্কার করে দেয়া! শারীরিকভাবে রাজার এত কাছে আসার কারণেই রাজা তাকে এতটা বিশ্বাস করতেন, রাজ্যের নানা গোপনীয় কথাবার্তাও শেয়ার করতেন তার সাথে। বর্তমান দুনিয়ায় কাজটি যতই অদ্ভুত এবং অপমানজক মনে হোক না কেন, তখনকার দিনে কিন্তু একজন গ্রুম অব স্টুলকে বেশ সম্মানের চোখে দেখা হতো।
পিন সেটার
১৯৩৬ সালে গটফ্রিড স্মিট যান্ত্রিক পিন সেটার উদ্ভাবনের আগপর্যন্ত বোলিং পিনগুলো সাজাতে, পড়ে যাওয়া পিনগুলো সরাতে এবং বলটি খেলোয়াড়ের হাতে দিয়ে আসতে এসব কমবয়সী ছেলেদের কাজে লাগানো হতো।
ফ্রেনোলজিস্ট
বর্ণবাদ এবং অপবিজ্ঞানের দায় মাথায় নিয়ে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে এ পেশাটি। মানুষ এককালে ফ্রেনোলজিস্টের কাছে গেলে তিনি একজনের মাথার আকার দেখে তার বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারতেন!
পাউডারমাঙ্কি
অতীতের নৌপথের যুদ্ধগুলোতে কমবয়সী যে ছেলেগুলো কামানে গানপাউডার ভরে দিতো তাদেরকে বলা হতো পাউডারমাঙ্কি।
লেক্টর
ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে করতে শ্রমিকদের মাঝে যাতে একঘেয়েমি জেঁকে না বসে সেজন্য নিয়োগ দেয়া হতো লেক্টরদের। তাদের কাজ ছিলো উচ্চস্বরে বিভিন্ন খবর এবং সাহিত্যকর্ম পড়ে যাওয়া।
র্যাট ক্যাচার
এখন তো ইঁদুর মারার জন্য কত রকমের ওষুধের কথাই শোনা যায় রাস্তার বের হলে। কিন্তু এককালে যখন এসব ওষুধ ছিলো না, তখন এসব র্যাট ক্যাচাররাই ইঁদুর ধরার দায়িত্বটি নিষ্ঠার সাথে পালন করতেন।
সংক্ষেপে দেখুনশীত কালে কোন কোন ফুল চাষ করবেন ?
শীতকালীন ফুল চাষ – শীত মানেই প্রাণের ছোঁয়া। হিমের কনকনে ঠাণ্ডা আর চারিদিক কুয়াশাচ্ছন্ ঢাকা প্রকৃতি, সঙ্গে পুলিপিঠে। যেন এক অপূর্ব পরিবেশের মেল বন্ধন। তার সঙ্গে বাড়তি পাওনা বাহারি রঙের শীতকালীন ফুল। এমন কোন মানুষ নেই যে ফুল ভালবাসে না। ফুল হল পবিত্রতা ও ভালবাসার প্রতীক। শীতকালীন ফুল লাগানোর উপযুক্বিস্তারিত পড়ুন
শীতকালীন ফুল চাষ – শীত মানেই প্রাণের ছোঁয়া। হিমের কনকনে ঠাণ্ডা আর চারিদিক কুয়াশাচ্ছন্ ঢাকা প্রকৃতি, সঙ্গে পুলিপিঠে। যেন এক অপূর্ব পরিবেশের মেল বন্ধন। তার সঙ্গে বাড়তি পাওনা বাহারি রঙের শীতকালীন ফুল। এমন কোন মানুষ নেই যে ফুল ভালবাসে না।
ফুল হল পবিত্রতা ও ভালবাসার প্রতীক। শীতকালীন ফুল লাগানোর উপযুক্ত সময় হল নভেম্বর মাস। শীতকালে বিভিন্ন ধরণের নাম না জানা, রঙিন ফুল ফোটে। অনেকেই টবে বা বাগানে রঙিন ফুল লাগাতে পছন্দ করেন। ফুল প্রেমিকদের জন্য রইল কিছু রঙিন শীতকালীন ফুল এর বৈশিষ্ট।
কি কি ফুল চাষ করবেন শীত কালে ?
ডালিয়া ফুল (Dahlia flowers)
শীতকালীন ফুল এর মধ্যে ডালিয়া খুব বিখ্যাত। বর্ণ বৈচিত্র, বড় আকারের ও নিবাসের জন্য এটি জনপ্রিয়। ডালিয়া গাছের উচ্চতা ১০০ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। ডালিয়া বিভিন্ন রঙের হতে পারে। সিঙ্গেল, ডবল শো ফ্যান্সি, রেড মনার্ক, ক্যাকটাস, স্টার প্রভৃতি উন্নত মানের ডালিয়া। এই ফুলগুলি সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে।
বাড়ির টবে ডালিয়া ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
এরপর ধীরে ধীরে গাছটি বেড়ে উঠবে, এবং কিছু দিনের মদ্ধেই খুব সুন্দর ফুল ফুটবেসূর্যমুখী (Sunflower)
এটি শীতকালীন ফুল। এটি দেখতে সূর্যের মতো। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকার জন্য এর নাম সূর্যমুখী। এর বীজ হাঁস, মুরগী খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়। পৃথিবী বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক চাষ হয়। এই তেল অন্যান্য রান্নার তেলের তুলনায় ভালো। এই গাছ ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বাড়ির টবে সূর্যমুখী ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
২ মাস পরিচর্যা করলেই গাছ বড় হবে, এবং খুব সুন্দর ফুল ফুটবে কিছু দিনের মধ্যেচন্দ্রমল্লিকা (Chandramallika)
সাধারণত অক্টোবর – নভেম্বর মাসে এই গাছের ফুল ফোটে। এই ফুল প্রায় সাড়ে তিন হাজারেরে ধরনের হয়ে থাকে। এই গাছের ফুল প্রায় ২০-২৫ দিন তাজা থাকে। এই গাছ ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। চন্দ্রমল্লিকার আদি নিবাস চীনে। চীনে এটি ঔষুধিগাছ হিসেবে পরিচিত। ফুলগুলি সাধারণত গোলাকার, পুরু ধরনের হয়ে থাকে। পাঁপড়িগুলি লম্বা, উঁচু ও সরু হয়ে থাকে।
বাড়ির টবে চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
প্রতিদিন প্রয়োজন মতো নিয়ম করে জল ও সার কসমস (Cosmos)
কসমস বাহারি রঙের শীতের ফুল। এগুলি অধিকাংশ বিদেশি ফুল। কসমস গাছের ফুলগুলি বাগানে সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হল ” কসমস বিপিন্নাতুস”। এই ফুলগুলি বৈশিষ্ট হল একই গাছে বিভিন্ন রঙের ফুল ফোটে ( যেমন- সাদা, গোলাপি, বেগুনি, লাল, কমলা, হলুদ ইত্যাদি। ফুলগুলি হালকা সুগন্ধি বিশিষ্ট। ফুলগুলি ৩-৪ সেন্টিমিটার চওড়া হয়ে থাকে। পাতাগুলি খাঁজকাটা হয়।
বাড়ির টবে কসমস ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
বেশি রোদ থাকলে গাছটিতে ফুল ভালো হবজিনিয়া (Zinnia)
ধুসর সবুজ রঙের ক্ষুদ্রাকৃতি এই ফুল বেশ নজরকড়া। এই ফুলের গাছ ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। লাল, গোলাপি, বেগুনি, সাদা রঙের বৈচিত্রময়। এর আদি নিবাস মেক্সিকো।
বাড়ির টবে জিনিয়া ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
গাঁদা (Marigold)
এই ফুলটি খুব জনপ্রিয়। বেশিরভাগ বাড়ির টবে বা বাগানে এই ফুল দেখা যায়। শীত হোক বা গরম সব সময় এই ফুল ফোটে। কিন্তু শীতকালে এর চাষটা বেশি। লাল, হলুদ, কমলা রঙের হয়ে থাকে। গাঁদা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন- চায়না গাঁদা, রক্ত গাঁদা, দেশি গাঁদা, বড় ইনকা গাঁদা প্রভৃতি।
বাড়ির টবে গাঁদা ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
প্রতিদিন সকাল- বিকেল প্রয়োজন মতো জল দিন ধীরে ধীরে গাছ বৃদ্ধি পাবে এবং ফুল ফুটবেগোলাপ (Rose)
গোলাপ সারাবছর এ চাষ হয়ে থাকে। ফুল প্রেমীদের পছন্দের ফুলের তালিকায় গোলাপ শীর্ষ স্থান দখল করে। লাল গোলাপ ভালবাসার প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত। এছাড়াও গোলাপ ফুল ভিন্ন রঙের হয়ে থাকে।
অধিকাংশ ফুল প্রেমীরা বাড়ির টবে, বাগানে এই সুগন্ধি যুক্ত ফুল লাগান। বিদেশি গোলাপের মধ্যে – এলিজাবেথ, ব্ল্যাক প্রিন্স, রানি এলিজাবেথ, ইরান, রোজ গুজার্ড, কুইন এলিজাবেথ, জুলিয়াস রোজ জনপ্রিয়।
বাড়ির টবে গোলাপ ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
দু-তিনদিন অন্তর অন্তর প্রয়োজন মতো জল দিতে হবে। তবে গাছের গোড়ায় যেন জল না জমে সে দিকে নজর রাখতে হবক্যামেলিয়া (Camellia)
এটি একটি বিদেশি ফুল। সাধারণত ফুলটি সাদা ও লাল রঙের হয়ে থাকে। অনেকটা দেখতে গোলাপের মতো। এক স্তর বা বহু স্তর পাপড়ি যুক্ত হয়ে থাকে। চা গাছের মতো এর পরিচর্যা করতে হয়। এই ফুলটি সাধারণত বছরে একবারই ফোটে। একবছর সময় লাগে ফুল ফুটতে।
বাড়ির টবে ক্যামেলিয়া ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
প্রতিদিন সকাল- বিকেল প্রয়োজন মতো জল দিন ধীরে ধীরে গাছ বৃদ্ধি পাবে এবং ফুল ফুটপ্যান্সি (Pansy)
শীতের সব চাইতে সুন্দর ফুল হল প্যান্সি। এটি দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। এর গঠনটা অনেকটা আলাদা ধরনের, ফুলের নিচের দিকে তিনটি পাপড়ি থাকে আর উপরের দিকে দুটি।সাধারণত টবে এটি ভালো ফোটে। বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে এই ফুলটি অসাধারণ।
বাড়ির টবে প্যান্সি ফুলের চাষের পদ্ধতিঃ
- প্রথমে নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে আনতে হবে।
- দো-আঁশ মাটি, গোবর সার বা কম্পোস্ট, পাতা পচা সার, একত্রে মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে।
- মিশ্রিত মাটি প্রায় এক সপ্তাহ রেখে দিন কোন খোলা জায়গায়।
- তারপর টবে মাটি ভরে চারাটি বসিয়ে দিন।।
- দু-তিনদিন অন্তর অন্তর প্রয়োজন মতো জল দিতে হবে। তবে গাছের গোড়ায় যেন জল না জমে সে দিকে নজর রাখতে হবে।
সংক্ষেপে দেখুনকোন মাসে কোন সবজি ও ফল চাষ করবেন ?
বারোমাসি সবজি তালিকা – ছয় ঋতুর দেশ হিসাবে পরিচিত আমাদের এই দেশ। ঋতু বৈচিত্রের কারনে এ দেশের মাটিতে ফলে নানা রকম ফল ও সবজি। আর আমাদের দেশের কৃষির মৌসুম তিনটি- খরিফ-১, খরিফ-২ ও রবি। উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে যদিও কৃষি মৌসুমকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে, কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া, জলবায়ু এবং আমাদেরবিস্তারিত পড়ুন
বারোমাসি সবজি তালিকা – ছয় ঋতুর দেশ হিসাবে পরিচিত আমাদের এই দেশ। ঋতু বৈচিত্রের কারনে এ দেশের মাটিতে ফলে নানা রকম ফল ও সবজি। আর আমাদের দেশের কৃষির মৌসুম তিনটি- খরিফ-১, খরিফ-২ ও রবি। উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে যদিও কৃষি মৌসুমকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে, কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া, জলবায়ু এবং আমাদের প্রয়োজনের তাগিদে প্রতি মাসের প্রতিটি দিনই কিছু না কিছু কৃষি কাজ করতে হয়।
বৈশাখ মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
বৈশাখ (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে):
জ্যৈষ্ঠ মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
জ্যৈষ্ঠ (মধ্য মে-মধ্য জুন):
আষাঢ় মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
আষাঢ় (মধ্য জুন-মধ্য জুলাই):
শ্রাবন মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
শ্রাবণ (মধ্য জুলাই-মধ্য আগস্ট):
ভাদ্র মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
ভাদ্র (মধ্য আগস্ট-মধ্য সেপ্টেম্বর):
আশ্বিন মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
আশ্বিন (মধ্য সেপ্টেম্বর-মধ্য অক্টোবর):
কার্তিক মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
কার্তিক (মধ্য অক্টোবর-মধ্য নভেম্বর):
অগ্রাহায়ণ মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
অগ্রহায়ণ (মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর):
পৌষ মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
পৌষ (মধ্য ডিসেম্বর-মধ্য জানুয়ারি):
মাঘ মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
মাঘ (মধ্য জানুয়ারি-মধ্য ফেব্রম্নয়ারি):
ফাগুন মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
ফাগুন (মধ্য ফেব্রম্নয়ারি-মধ্য মার্চ):
চৈত্র মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায় ?
চৈত্র (মধ্য মাৰ্চ মধ্য-এপ্রিল):
- গ্রীষ্মকালীন বেগুন, টমেটো, মরিচের বীজবপন বা চারা রোপণ করা দরকার।
- নাবী জাতের বীজতলা তৈরি ও বীজবপন করতে হবে।
- যে সব সবজির চারা তৈরি হয়েছে সেগুলো মূল জমিতে রোপণ করতে হবে।
- সবজি ক্ষেতের আগাছা দমন, সেচ ও সার প্রয়োগ, কুমড়া জাতীয় সবজির পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
- নাবী রবি সবজি উঠানো, বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে।
- মাটিতে রসের ঘাটতি হলে ফলের গুটি বা কড়া ঝরে যায়। তাই এ সময় প্রয়োজনীয় সেচ প্রদান, পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন করা জরুরি।
সংক্ষেপে দেখুনসেক্স করার নিয়ম কি
সেক্স করার নিয়ম কি ? এটা অতান্ত্য ব্যাক্তিগত ব্যাপার। প্রশ্নটা করার মধ্যে আপনি কি দেখাতে চাচ্ছেন? ঘরে বসে বসে নিজে চেষ্টা করে দেখুন উত্তর পেয়ে যাবেন।
সেক্স করার নিয়ম কি ? এটা অতান্ত্য ব্যাক্তিগত ব্যাপার। প্রশ্নটা করার মধ্যে আপনি কি দেখাতে চাচ্ছেন? ঘরে বসে বসে নিজে চেষ্টা করে দেখুন উত্তর পেয়ে যাবেন।
সংক্ষেপে দেখুনবিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের নাম কি?
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের নাম সূর্যডিম। টকটকে লাল রঙ ও আকারে বড় হওয়ায় এই আমি এগ অব দ্য সান' বা সূর্যডিম নামে পরিচিত। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে চাষ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম, যার প্রতি কেজি খুচরা বাজারে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই আম ৫০০বিস্তারিত পড়ুন
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের নাম
সূর্যডিম।
টকটকে লাল রঙ ও আকারে বড় হওয়ায় এই আমি এগ অব দ্য সান’ বা সূর্যডিম নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে চাষ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম, যার প্রতি কেজি খুচরা বাজারে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই আম ৫০০০-৬০০০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।
যেখানে বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত আমের দাম প্রতি কেজি জাতভেদে ৪০ থেকে ১০০ টাকাতেই পাওয়া যায়।
দামি এই আমটি বাংলাদেশের কোন জাত নয়। আমটি জাপানি প্রজাতির বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তবে এটি বিভিন্ন দেশে চাষ হচ্ছে।
জাপানি ভাষায় আমটিকে বলা হয় ‘মিয়াজাকি’। বিশ্ববাজারে এটি ‘রেড ম্যাঙ্গো’ বা ‘এগ অব দ্য সান’ নামেও পরিচিত।
তবে বাংলায় এই আমটি পরিচিতি পেয়েছে “সূর্যডিম” নামে।
এই আমের গড়ন সাধারণ আমের চাইতে বড় ও লম্বা, স্বাদে মিষ্টি এবং আমের বাইরের আবরণ দেখতে গাঢ় লাল অথবা লাল-বেগুনির মিশ্রণে একটি রঙের।
একেকটি আমের ওজন ৩৫০ থেকে ৪৫০ গ্রামের মতো বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
সে হিসেবে বাংলাদেশের বাজারে একেকটি আমের দামই পড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
মূলত চাহিদা মোতাবেক যোগান কম থাকা, মিষ্টা স্বাদ, ভিন্ন রঙ এবং চাষপদ্ধতির কারণে আমটির দাম এতো বেশি।
দামি এই আমটি চাষ করে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছেন খাগড়াছড়ির কৃষক হ্ল্যাশিংমং চৌধুরী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে কৃষিকাজকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে মহলছড়ি উপজেলা। ওই উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় ১২শ ফুট উঁচুতে ৩৫ একর জায়গাজুড়ে নিজ উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন হরেক রকম ফলের বাগান। নাম দিয়েছেন ‘ক্রা এএ এগ্রো ফার্ম’।
সেই বাগানের একটি অংশেই চাষ করছেন ‘সূর্যডিম’ আম।
০১৭ সালে তিনি প্রথম ভারত থেকে এই আমের ১০/১৫টি চারা কিনে নিজ বাগানে রোপণ করেন। দুই বছরের গাছ বড় হয়ে ওঠে এবং ২০১৯ সাল থেকে তিনি আম তোলা শুরু করেছেন।
তিনি জানান, মা গাছ থেকে চারা রোপণ করে বাগানের পরিধি বাড়িয়েছেন। এখন তার বাগানে সূর্যডিমের ১২০টির মতো গাছ রয়েছে। যেগুলোর উচ্চতা ৬/৭ ফুটের মতো।
চারাগুলো যত্ন করে পালন করায় এরমধ্যে প্রায় ৫০টি গাছে তিন চার বছর ধরে ফলন হচ্ছে, যা থেকে প্রতি বছর ৩শ থেকে ৪শ কেজি আম হয় বলে জানিয়েছেন মি. হ্ল্যাশিংমং।
যদিও বিরূপ আবহাওয়া এবং পানি স্বল্পতার কারণে এই আম চাষে তাকে বেশ বেগ পেতে হয় বলে তিনি জানান।
সূর্যডিম আম সাধারণত মে মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখে পাকা শুরু হয় এবং জুনের ১৫ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত পাওয়া যায়।
চলতি বছর একটি লম্বা সময় খরা মৌসুম থাকায় এবার আম চলে এসেছে সময়ের আগেই।
তিনি বলেন, এই আম চাষে নিতে হয় বিশেষ যত্ন। পরিমিত আলো, পানি, ছায়া সরবরাহের পাশাপাশি, প্রতিটি আম প্যাকেট দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়।
আম তোলার পর গরমের কারণে সেগুলো বেশিক্ষণ নিজের কাছে রাখতে পারেন না। দ্রুত বিক্রি করে দিতে হয়।
এখনও এই আমের ক্রেতা খুব হাতে গোনা কিছু সৌখিন আমপ্রিয় মানুষ বলে জানা গেছে।
মি. হ্ল্যাশিংমং কিছু আম উপহার হিসেবে দিয়ে দেন এবং কিছু আম অনলাইনের বিভিন্ন পেইজে বিক্রি করেন।
প্রতি কেজি আম ৩০০ থেকে ৫০০টাকায় বিক্রি করলেও এই আম খুচরা বাজারে গিয়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
হ্ল্যাশিংমং তার বাগানে প্রায় ৬০ জাতের আম সেইসঙ্গে ড্রাগনফল, রামবুটান, থাইলংগান, মালটাসহ প্রায় ১৫০ জাতের প্রচলিত-অপ্রচলিত-বিলুপ্ত জাতের ফল চাষ করে আসছেন।
তবে পাহাড়ে ‘সূর্যডিম’ আমের চাষ এবারই প্রথম।
সরকারিভাবেও পুরষ্কৃত কৃষক মি. হ্ল্যাশিংমং-এর পরিকল্পনা- এই আমের ফলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে একে একটি রপ্তানিযোগ্য পণ্যে পরিণত করা।
তিনি বলেন, “আমি চাই এই ফলের আবাদ সারা বাংলাদেশে হোক। আমি কৃষকদের বিনা পয়সায় বা নামমাত্র দামে চারা দিচ্ছি। সবাই যদি চাষ করে এই আমের ফলন বাড়ায়, তাহলেই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব না।”
প্রতিটি আম গাছে থাকা অবস্থাতেই প্যাকেট করে রাখতে হয়।
তবে তার বাগানে যে আমের ফলন হচ্ছে সেটা বিশ্বমানের কিনা, এর স্বাদ জাপানের উৎপাদিত মিয়াজাকি আমের মতো কিনা, সেটা তিনি বিশেষজ্ঞদের কাছে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন।
সেখান থেকে ফলাফল এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা তিনি জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া মিয়াজাকির ফলনের জন্য উপযোগী। এই আম আরও কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফলানো হচ্ছে।
What countries will you never visit again?
I will never visit the Democratic People’s Republic of Korea, also known as North Korea, again.
I will never visit the Democratic People’s Republic of Korea, also known as North Korea, again.
সংক্ষেপে দেখুনরাজধানী ঢাকার বয়স কত?
উত্সব আয়োজনে বর্ণিল হয়ে ওঠা রকমারি উদযাপনে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত একটি প্রপঞ্চ ‘চারশ বছরের ঢাকা’। এ ডামাডোলে হারিয়ে গেছে রাজধানী ঢাকার প্রকৃত বয়স। সাভারে রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি থেকে আরম্ভ করে এ শহর ও আশপাশের অনেক প্রাচীন কীর্তি এবং ইতিহাস যে তথ্য তুলে ধরছে, তাতে ঢাকার হাজার বছরের অতীতের কথা জানা যায়। সবিস্তারিত পড়ুন
উত্সব আয়োজনে বর্ণিল হয়ে ওঠা রকমারি উদযাপনে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত একটি প্রপঞ্চ ‘চারশ বছরের ঢাকা’। এ ডামাডোলে হারিয়ে গেছে রাজধানী ঢাকার প্রকৃত বয়স। সাভারে রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি থেকে আরম্ভ করে এ শহর ও আশপাশের অনেক প্রাচীন কীর্তি এবং ইতিহাস যে তথ্য তুলে ধরছে, তাতে ঢাকার হাজার বছরের অতীতের কথা জানা যায়। সেক্ষেত্রে ‘ঢাকার চারশ বছর’ শিরোনামে রচনাগুলো আমাদের আজকের রাজধানীর অতীতকে সংক্ষিপ্ত করে তার গৌরব অনেক ক্ষেত্রে মলিন করে দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার ইতিহাস নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যপ্রমাণে ভিত্তি করে বাস্তবসম্মত যেসব গবেষণা করা হচ্ছে, তাতে কিন্তু ঢাকার প্রকৃত বয়স যে অন্তত হাজার বছর, তার ঢের প্রমাণ মেলে। কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্র বিশ্লেষণ করলে বোঝা সম্ভব রাজধানী ঢাকার বয়স কত আর এর ঐতিহ্যের শিকড়টা ইতিহাসের কতটা গহিনে প্রোথিত।
ইতিহাস বিচার করতে গেলে আমরা দেখি ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ প্রথমত বাংলায় একজন স্বাধীন সুলতান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আর তার হাত ধরেই সোনারগাঁয়ে শুরু হয় ২০০ বছরব্যাপী বাংলার স্বাধীন সালতানাতের যাত্রা, যা দিল্লির সালতানাত থেকে ছিল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন, এক কথায় বিদ্রোহী। এ সময়কাল থেকেই একটি ছোট্ট শহর হিসেবে ঢাকার অস্তিত্ব ইতিহাসের সূত্রে পাওয়া যায়, যা কালক্রমে বিকশিত হয়ে আমাদের আজকের রাজধানী শহর— যানজট, আবাসন সংকট আর নানা সমস্যায় জর্জরিত হলেও সবার ভালোবাসা ও গর্বের ঢাকা। ইতিহাসের সূত্রের দিকে দৃষ্টি দিতে গেলে ১৭ শতকের শুরুতে অর্থাত্ ঢাকায় মোগল অধিকার প্রতিষ্ঠার আগে বাহারিস্তান-ই-গায়েবিতে মির্জা নাথান ঢাকার যে অবস্থার বর্ণনা করেছেন, তা অনেকটা এমন— বুড়িগঙ্গার পূর্ব তীরে প্রতিষ্ঠিত একটি সুন্দর নগরী ছিল, যা ছিল অনেক জাঁকজমকপূর্ণ। ইতিহাসকে ভিত্তি করে এর অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করা হলে বর্তমান বাবুবাজারের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে কয়েক মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এ সুন্দর নগরটি, যাকে আমরা ঢাকা নামে চিনি।
সেন আমলের কথা ভাবলে দেখি, বর্তমান পুরান ঢাকার অনেক স্থানের নাম হিন্দু নামে দীর্ঘকাল ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে, যা এখানে প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দু বসতি ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে স্থানটির পরিচিতি প্রদান করে। ইতিহাস ও সাহিত্যিক সূত্রেও এমন প্রমাণ পাওয়া যায়। ঢাকাবিষয়ক অন্যতম চিন্তাবিদ ও ঢাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের গুণী ব্যক্তিত্ব হাকিম হাবিবুর রহমান উর্দু ভাষায় লেখা তার ‘ঢাকা পাচাস বরস প্যাহলে’ গ্রন্থে বলেছেন, বিক্রমপুর যখন সেন রাজাদের রাজধানী, তখন থেকেই ঢাকার দক্ষিণাংশে হিন্দু বসতি গড়ে উঠতে শুরু করে, যা প্রচলিত ধারার ইতিহাস চর্চাকারীদের চিন্তাধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তত্কালীন সময়ের স্মৃতি হিসেবে আমরা বর্তমান রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নামকরণ লক্ষ করি। এসব অঞ্চলের নামকরণের কারণ অনুসন্ধানে ইতিহাস বিশ্লেষণ, প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ কিংবা জাতিতাত্ত্বিক অনুসন্ধান প্রভৃতি ঢাকার প্রকৃত প্রাচীনত্বের সূত্রের সন্ধান দেয়।
লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, সূত্রাপুর, জালুনগর, বানিয়ানগর, গোয়ালনগর, তাঁতীবাজার, সুতারনগর, কামারনগর, পাটুয়াটুলি, কুমারটুলি ইত্যাদি এলাকার নামকরণের কথা বলা যায়। এ নামগুলো মোগল-পূর্ব যুগে হিন্দু প্রভাবাধীন নানা পেশাজীবীর ঢাকায় অবস্থান প্রমাণ করছে। রাজধানী সোনারগাঁয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় বাণিজ্য বিস্তার করতে গিয়ে ঢাকার এ অঞ্চলে ক্রমে নাগরিক জীবনের বিস্তার ঘটে। সোনারগাঁ থেকে ঢাকার নগরায়ণের পথ প্রশস্ত হয় নদীপথের যোগাযোগ থাকায়।
প্রাক-মোগল যুগে ঢাকার দক্ষিণ ও পূর্ব সীমা নির্ধারণ করে যথাক্রমে বুড়িগঙ্গা এবং ধোলাইখাল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে প্রাক-মোগল ঢাকার পশ্চিম সীমানা নির্ধারণ করা কঠিন। ১৬১০ সালে সুবাদার ইসলাম খাঁ বার ভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকায় মোগল রাজধানী প্রতিষ্ঠা করার আগেই বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগার অঞ্চলে ‘ঢাকা দুর্গ’ নামে একটি দুর্গ ছিল। দুর্গের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা তীরের ঘাটটির নাম ছিল চণ্ডীঘাট। বাহারিস্তান-ই-গাইবির বক্তব্য অনুযায়ী, এ অংশে তখন দুটি অঞ্চলের বিকাশ ঘটে। এ চণ্ডীঘাটটিই পরে চকবাজার নামে পরিচিত হয়। দুর্গ থেকে চণ্ডীঘাট পর্যন্ত বাজারের বিস্তার ছিল। ঢাকা নগরীর বিস্তারের যুগে ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি.) এখানে রাজধানী স্থাপন করেন এবং সম্রাটের নাম অনুসরণে এর নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এক শতকের চেয়ে সামান্য বেশি সময় ঢাকা প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত ছিল। এ সময় প্রশাসনিক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিকাশ অব্যাহত থাকে।
ঢাকার প্রশাসনিক গুরুত্বের প্রাচীনত্ব অনুসন্ধান করতে হলে সোনারগাঁয়ের দিকেই ফিরে তাকাতে হয়। সেন শাসন যুগে বিক্রমপুর যখন রাজধানী, তখন ঢাকার কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিল সোনারগাঁ। সোনারগাঁ কেন্দ্রের অবস্থান শীতলক্ষ্যা নদীর আনুমানিক আট কিলোমিটার পূর্বে। বখতিয়ার খলজির হাতে নদীয়া পতনের আগে সোনারগাঁ ছিল সেনদের অন্যতম শাসনকেন্দ্র।
নদীয়া থেকে বিতাড়িত লক্ষ্মণ সেন বিক্রমপুরে চলে আসার পরও সোনারগাঁ গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। ফার্সি গ্রন্থ তবকাত-ই-নাসিরির লেখক মিনহাজ-ই-সিরাজের বর্ণনা অনুযায়ী ১২৬০ খ্রিস্টাব্দেও ‘বঙ্গ’ লক্ষ্মণ সেনের উত্তরসূরিদের শাসনাধীনে ছিল। তবকাত-ই-নাসিরিতে সোনারগাঁয়ের নাম উল্লিখিত হয়। মধ্যযুগের শুরু থেকেই সোনারগাঁ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শাসনকেন্দ্র। ঢাকা যে ফখরউদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ শাসনকেন্দ্র হিসেবে নিজ অবস্থান তৈরি করেছিল, ঢাকা নগরীতে প্রাপ্ত দুটি শিলালিপি তার সাক্ষ্য দেয়। শিলালিপিতে উত্কীর্ণ তারিখ ফখরউদ্দিনের সময়কালের শতাধিক বছর পরের। কিন্তু লিপি বক্তব্যের সূত্রে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৪৩৬-১৪৫৯ খ্রি.) সময় উত্কীর্ণ এ শিলালিপি দুটির একটি থেকে স্পষ্টতই ধারণা করা যায়, ঢাকা তখন ‘ইকলিম মুবারকাবাদের’ অন্তর্গত ছিল। ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ স্বাধীনতা ঘোষণার পর সোনারগাঁ রাজ্যের অন্তর্গত ‘ইকলিম মুবারকাবাদ’ নামটি ব্যবহার হতে থাকে। মুবারকাবাদের অবস্থান সম্পর্কে এইচ ই স্টাপলটন যে ধারণা দিয়েছেন, তার উদ্ধৃতি পাওয়া যায় ড. আহমদ হাসান দানীর বক্তব্যে। দানীর বক্তব্যে পূর্ব বাংলার একটি বড় প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল মুবারকাবাদ। সুলতানি বাংলার শিলালিপিতে দুটি ইকলিম অর্থাত্ প্রদেশের নাম পাওয়া যায়। একটি ইকলিম মুয়াজ্জমাবাদ, যা বর্তমান সোনারগাঁয়ের পূর্ব-উত্তরে মহজমপুর থেকে শুরু করে ময়মনসিংহ অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
আর অন্যটি ইকলিম মুবারকাবাদ। ইকলিম মুবারকাবাদ নামাঙ্কিত শিলালিপিটি পাওয়া গেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের কিছুটা পশ্চিমে গিরিদাকিল্লা নামের মহল্লায়— নাসওয়ালা গলি মসজিদের সামনের একটি তোরণের গায়ে। মসজিদ আর তোরণের অস্তিত্ব এখন নেই। শিলালিপি সূত্রে জানা যায়, মসজিদটি ৮৬৩ হিজরি অর্থাত্ ১৪৫৯ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটি সরকারি উদ্যোগে নির্মিত হওয়ায় সমকালীন সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের নাম উত্কীর্ণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে খাজা জাহান নাম লেখা হয়েছে। আর নির্মাণ অঞ্চল হিসেবে লেখা হয়েছে ‘ইকলিম মুবারকাবাদ’। অর্থাত্ পনেরো শতকের মাঝপর্বে পুরান ঢাকা ইকলিম মুবারকাবাদের রাজধানী ছিল এবং গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন খাজা জাহান উপাধিধারী কেউ।
বাংলায় স্বাধীন সালতানাতের অবসান ঘটে ১৫৩৮ সালে। এ সময় শেষ স্বাধীন সুলতান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহ মোগল সম্রাট হুমায়ুনের কাছে পরাজিত হন। কিন্তু বাংলায় মোগল আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। হুমায়ুন গৌড় অধিকার করে মাত্র ছয় মাস টিকে থাকতে পেরেছিলেন। এ পর্যায়ে বিহার অঞ্চলের আফগান শাসক শের খান হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সৈন্য পরিচালনা করেন। ১৫৩৯ সালের জুলাইয়ে হুমায়ুন বিতাড়িত হন। বাংলা আফগান শাসনের অধীনে চলে আসে। দিল্লির মোগল শাসন যুগে বাংলা বিচ্ছিন্ন হয়ে একধরনের স্বাধীন অঞ্চলে পরিণত হয়। এভাবে দীর্ঘকাল বাংলা মোগল অধিকারের বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা করছিল। ভাটি বা নিচু অঞ্চল বলে পূর্ববাংলা বরাবরই বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগ পেয়েছে। স্বাধীন সুলতানি যুগের পরও তাই পূর্ববাংলা তার স্বাধীন সত্তা নিয়ে টিকে ছিল। এ পর্বে পূর্ববাংলায় একক কোনো রাজ্য গড়ে ওঠেনি। অনেক বড় বড় জমিদারের অধীনে বিভক্ত ছিল বাংলার এ অংশটি।
এরা সাধারণভাবে ‘বার ভূঁইয়া’ নামে পরিচিত। এ বার ভূঁইয়ারা একযোগে মোগলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সম্রাট আকবরের আমলে বার ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান মসনদ-ই-আলা। মোগল সুবাদার ইসলাম খানের ঢাকা দখলের সাধারণ কারণ বার ভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা। মোগলরা উত্তরে তাণ্ডা থেকে পূর্ববাংলার দিকে অগ্রসর হয়। পথে অনেক জমিদার মোগল বশ্যতা স্বীকার করে। বার ভূঁইয়াদের শেষ ঘাঁটি শীতলক্ষ্যা নদী। সোনারগাঁয়ের কাছে কাতরাবোতে ছিল মুসা খাঁর শাসনকেন্দ্র। বর্তমান নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থিত মোগল জলদুর্গ হাজিগঞ্জ দুর্গ শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্থিত। হাজিগঞ্জ দুর্গ বরাবর নদীর পূর্বপাড়ে নবীগঞ্জ। এখানেই ছিল মুসা খানের সামরিক ছাউনি। আর শীতলক্ষ্যা নদীতে ছিল বার ভূঁইয়াদের রণতরী। তাই বার ভূঁইয়াদের শেষ শক্তিতে আঘাত করার জন্য এর কাছাকাছি অঞ্চল ঢাকাকে বেছে নিতে হয়েছে মোগল সুবাদারকে।
মোগল আগমনের আগে ঢাকার নাগরিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা যায়। আগেই বলা হয়েছে, বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় একটি দুর্গ ছিল। আফগানদের বা স্থানীয় জমিদারদের গড়া এ দুর্গ। ঢাকা দুর্গ নামে পরিচিত এ দুর্গ সংস্কার করে এখানে সুবাদার ইসলাম খাঁর আবাসস্থল বানানো হয়। এ দুর্গ মোগল অধিকারের আগে ঢাকার নাগরিক জীবনের কথাই মনে করিয়ে দেয়। ঢাকা অধিকারের পর ইতিমাম খাঁ ও মির্জা নাথানকে ডেমরা খালের মোহনার দুই পাশে অবস্থিত বেগ মুরাদ খাঁর দুর্গ দুটির দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। এ বর্ণনায় ঢাকার অভ্যন্তরে ঢাকা দুর্গ এবং উপকণ্ঠ ডেমরায় দুটি দুর্গের অবস্থানও বার ভূঁইয়াদের সময় ঢাকার গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
তিনটি প্রাদেশিক কাঠামো বা ইকলিমের মধ্যে ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলা দিল্লির নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শুরু হয় বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন। দিল্লির শাসন কাঠামো থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকার পরও এই কালপর্বেই বাংলায় শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সার্বিক বিকাশ ঘটে। সুলতানি পর্বে পূর্ব বাংলায় সোনারগাঁ ও উত্তর বাংলার গৌড় বা লক্ষৌতি ছিল স্বাধীন সুলতানি বাংলার রাজধানী। গোটা বাংলায় সুলতানি যুগে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল গড়ে উঠেছিল। ঢাকা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহের বারবাজার, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চলে পাওয়া সুলতানি স্থাপনা ও লিপিসাক্ষ্য এর প্রামাণ্য দলিল হয়ে আছে। দীর্ঘ বিরতির পর ১৬০৮ থেকে ১৬১০-এর মধ্যে মোগল সুবাদার ইসলাম খাঁর হাতে ঢাকার পতন এ স্বাধীনতার চূড়ান্ত অবসান ঘটায়। বাংলা পরিপূর্ণভাবে মোগল সুবার অন্তর্ভুক্ত হয়। সুবাদার ইসলাম খাঁ ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী করেন। সম্রাটের নামে ঢাকার নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এভাবে প্রায় আড়াইশ বছর পর বাংলা আবার দিল্লির প্রদেশে পরিণত হয়। আর দ্বিতীয়বারের মতো প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা পায় ঢাকা।
অনেকে বলেন, ঢাকা নগরীর বর্তমান বয়স রাজধানী হিসেবে ৪০০ বছর। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণনির্ভর সাম্প্রতিক গবেষণার মাধ্যমে আমরা যে তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি, তার আলোকে দেখতে গেলে প্রায় ৮০০ বছর আগেই ঢাকায় নাগরিক জীবনের সূচনা ঘটে এবং লিপিসাক্ষ্যে স্পষ্ট যে, প্রায় ৬০০ বছর আগে সুলতানি যুগে স্বাধীন বাংলার একটি ইকলিম বা প্রদেশের রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায়। নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নস্থান থেকে শুরু করে ঢাকার আশপাশে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, যেগুলো রাজধানী ঢাকার ইতিহাসকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কয়েক হাজার বছর। বিশেষ করে ঢাকার ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে বঙ্গ জনপদের ইতিহাসকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সেসঙ্গে জনপদের যুগে বাংলাদেশের ইতিহাসকেও প্রতিতুলনা করার চেষ্টা করতে হবে। এভাবে হিসাব করলে রাজধানী ঢাকার প্রকৃত বয়স মাত্র ৪০০ বছর নয়, কয়েক হাজার বছরের। সাভারের রাজাসন, হরিশচন্দ্র রাজার ঢিবি থেকে শুরু করে ডগরমুড়া প্রত্নস্থানের ঐতিহাসিকতা যেহেতু বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, সেহেতু রাজধানী ঢাকার ইতিহাস রচনা করলে অবশ্যই কমপক্ষে পাল যুগ থেকে শুরু করতে হবে। আর সেভাবে চিন্তা করলে রাজধানী ঢাকার ইতিহাসকে পিছিয়ে নিতে হবে আট শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এতে স্বাভাবিকভাবেই রাজধানী ঢাকার বয়স গিয়ে দাঁড়াচ্ছে কমপক্ষে হাজার বছরেরও বেশি।
সংক্ষেপে দেখুনবিশ্বসেরা কোন ফুটবলারদের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের সুযোগ হয়নি ?
ক্লাব ফুটবলের সবচাইতে মর্যাদাময় ট্রফি হলো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ।প্রতি বছরই ইউরোপিয়ান লীগগুলোর সেরা দলগুলো নিয়ে হয় এই টুর্নামেন্ট।এই সেরা দলগুলোরই এমন সব সেরা খেলোয়াড় রয়েছে যারা কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের স্বাদ পাননি। ১)রোনালদো লিমা সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন ব্রাজিলের এই রোনালদো, মতান্তরে সরবিস্তারিত পড়ুন
ক্লাব ফুটবলের সবচাইতে মর্যাদাময় ট্রফি হলো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ।প্রতি বছরই ইউরোপিয়ান লীগগুলোর সেরা দলগুলো নিয়ে হয় এই টুর্নামেন্ট।এই সেরা দলগুলোরই এমন সব সেরা খেলোয়াড় রয়েছে যারা কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের স্বাদ পাননি।
১)রোনালদো লিমা
সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন ব্রাজিলের এই রোনালদো, মতান্তরে সর্বকালের সেরা। কিন্তু ইনজুরির কারণে তার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ক্যারিয়ার খুব বেশি আলোকিত নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের মাত্র ৪০ ম্যাচ খেলা এই স্ট্রাইকার পিএসভি,বার্সেলোনা এবং ইন্টার মিলানের হয়ে খেলে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে কিছু করতে পারেননি।
রোনালদো লিমা
২০০৩ সালে মাদ্রিদে যোগ দেয়ার পর মনে হচ্ছিল এবার হয়ত ট্রফি হাতে পেয়েই যাবেন। কিন্তু বিধি বাম! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করার পর সেমিতে জুভেন্টাসের সাথে ৩৮ মিনিট খেলে পড়েন ইনজুরিতে। পরের বছরও চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ফ্লপ যায় মাদ্রিদ।এরপর আর তেমন সুযোগ পাননি তিনি। ২৭ বছর বয়সে খেলেন নিজের শেষ চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ম্যাচ।
২)জিয়ানলুইজি বুফন
২০০৩ ,২০১৫ ,২০১৭ তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে উঠলেও জেতা হয়নি একবারও। বিশ্বকাপ জেতা সর্বকালের সেরা গোলকিপারদের একজন হলেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ট্রফি হাতে তুলার সুযোগ হয়নি এই ইতালিয়ানের। এই ট্রফির আশায় একবছর পিএসজিতেও কাটিয়ে এসেছেন তিনি। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকা ওলে গোনা সুলশায়েরের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হেরে বিদায় নেন সেখানে।
জিয়ানলুইজি বুফন
৩)ইব্রাহিমোভিচ
চ্যাম্পিয়ন্স লীগের পনের মৌসুমে ১২০ ম্যাচে ৪৮ গোল করা এই সুইডিশ স্ট্রাইকার কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের স্বাদ পাননি। আয়াক্সের হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে হেরেছিলেন এসি মিলানের কাছে। ক্যানাভারো এবং নেদভেদ এর সাথে জুভেতে খেলে টানা দুইবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছেন। বার্সার হয়ে সেমিতে উঠে বাদ পড়েছেন ইন্টারের কাছে হেরে,যেই ক্লাব তিনি এর আগের মৌসুমেই ছেড়ে এসেছেন। এসি মিলানের হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়েছেন বার্সার কাছে।এভাবে কখনোই আর ফাইনালে ওঠা হয়নি এই সুইডিশ স্ট্রাইকারের ।
ইব্রাহিমোভিচ
৪)গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা
লিজেন্ডারি একজন খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। আইকনিক একজন স্ট্রাইকার।করেছেন দারুণ সব গোল। কিন্তু কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লীগের নক আউট স্টেজে নিতে পারেননি দলকে। একবার ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ারে হয়েছিলেন তৃতীয়। তার দল ফিওরেন্টিনা সিরি আ তে তৃতীয় হওয়া সত্ত্বেও ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ারে থাকা বাতিগোলের কপালে কখনো জুটেনি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এর মেডেল ।
গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা
৫)ডেনিস বার্গক্যাম্প
ডেনিস বার্গক্যাম্প
আর্সেনালের হয়ে অষ্টমবার চেষ্টার পর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে উঠেন বার্গক্যাম্প।কিন্তু ততদিনে বয়স হয়েছে অনেক তাই ফাইনালে তাকে নামাননি ওয়েংগার।সেই ফাইনাল ২-১ গোলে হারে আর্সেনাল। ক্যারিয়ারে আছে দুটি উয়েফা কাপ ( একটি আয়াক্সের হয়ে,অন্যটি ইন্টার মিলান)। কিন্তু এই অর্জনে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ আর যোগ হয়নি।
৬)ফ্যাবিও ক্যানাভারো
ব্যালন ডিঅর জয়ী সর্বশেষ খেলোয়াড় ফ্যাবিও ক্যানাভারো যিনি চ্যাম্পিয়ন্সলীগ জিতেননি। ফুটবল ইতিহাসের সেরা ডিফেন্ডারদের তালিকা করলে তাতে অনায়াসে থাকবেন এই ইতালিয়ান। ইন্টার মিলানের হয়ে সেমিতে উঠলেও এসি মিলানের কাছে এওয়ে গেলে হেরে বাদ পড়ে তার দল। এরপর জুভেন্টাস-মাদ্রিদের হয়ে খেলেও কখনো সেমিতেও উঠতে পারেননি। নেদভেদের জুভের এই সতীর্থ টানা দুইবার কোয়ার্টার ফাইনাল হারেন ইংলিশ দলের কাছে।
ফ্যাবিও ক্যানাভারো
৭)পাভেল নেদভেদ
পাভেল নেদভেদ
২০০৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম জুভেন্টাসের খেলা চলছে । দারুণ এক গোল করে এই চেক মিডফিল্ডার জুভেন্টাসকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে । কিছুক্ষণ পরই অপ্রয়োজনীয় ট্যাকেল করে বসেন স্টিভ ম্যাকমানামানকে । ফলস্বরূপ হলুদ কার্ড দেখে ফাইনালের জন্য সাস্পেন্ড হন তিনি । সে বছর ব্যালন ডি’অর জিতলেও এই চ্যাম্পিয়ন্স লীগ না জেতার আক্ষেপ তাকে ক্যারিয়ারের বাকি সময়টাতে তাকে কুরে কুরে খেয়েছে । জুভের হয়ে আরও দুইবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলেন নেদভেদ কিন্তু দুবারই লিভারপুল এবং আর্সেনালের কাছে হেরে বাদ যান টুর্নামেন্ট থেকে।
৮)মাইকেল বালাক
লেভারকুজেন এর হয়ে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২০০২ সালে হারার হতাশা থেকে ২৫ বছর বয়সী বালাক যখন বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন,তখন হয়ত ভেবেছিলেন এবার অধরা চ্যাম্পিয়ন্স লীগটা পেয়েই যাবেন। বায়ার্ন এবং চেলসির হয়ে মোট ১৩টি মেজর ট্রফি জিতলেও তার আর কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতা হয়নি। জিদানের সেই ভলি তার জন্য ছিল আজীবনের দুঃস্বপ্ন।আরেকবার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তার চেলসির হয়ে । কিন্তু ২০০৯ এর বার্সার সাথে সেই বিতর্কিত সেমিফাইনালে হেরে সেই সুযোগও হারান এই জার্মান মিডফিল্ডার।
মাইকেল বালাক
৯)প্যাট্রিক ভিয়েরা
ফ্রান্সের দারুণ একজন খেলোয়াড়।আর্সেনালে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার সৌভাগ্য হয়নি। বরং আর্সেনাল ছাড়ার পর জুভেন্টাসের হয়ে খেলেছেন আর্সেনালের বিপক্ষে এবং হেরেছেন ২-০ গোলে। মরার উপর খাঁড়ার ঘা এর এর মত সেই ম্যাচে কার্ড খেয়ে আর্সেনালের সাথে পরের লেগ মিস করেন এই ফ্রেঞ্চম্যান। এরপর ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ইন্টার মিলান ছাড়ার পর সেই বছর মে মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতে ইন্টার মিলান।
প্যাট্রিক ভিয়েরা
১০)রুড ফন নিস্টেলরয়
চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলধারী একজন খেলোয়াড় নিস্টেলরয় (৫৬)। কিন্তু তারপরও এই ডাচম্যান কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতেননি। জেতা দূরে থাক , নিস্টেলরয় কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালেও উঠতে পারেননি।ট্রফির সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ তার হয়েছিল ২০০২ সালে , যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বেয়ার লেভারকুজেন এর কাছে হেরে বসে সেমিফাইনালে। এই ডাচ স্ট্রাইকার কপাল এতটাই পোড়া যে যখন তিনি ম্যানচেস্টারে খেলতেন তখন রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতেছিল , আবার যখন মাদ্রিদে খেলতেন ট্রফি জেতার সৌভাগ্য অর্জন করেছিল ইউনাইটেড।
রুড ফন নিস্টেলরয়
সংক্ষেপে দেখুনপৃথিবীর জটিলতম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের দেশ বসনিয়া এবং হার্জেগোভিনায় রয়েছে জাতিগত বিভক্তি, রাজনৈতিক বিভেদ, জটিল প্রশাসনিক কাঠামো ও ক্ষমতাকে ঘিরে পৃথক সরকারব্যবস্থার লড়াই। এইসব জটিল হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে সে দেশটিতে নেতা নির্বাচনের জন্য ভোটের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ইতিহাসের দেশটি বসনিয়াবিস্তারিত পড়ুন
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের দেশ বসনিয়া এবং হার্জেগোভিনায় রয়েছে জাতিগত বিভক্তি, রাজনৈতিক বিভেদ, জটিল প্রশাসনিক কাঠামো ও ক্ষমতাকে ঘিরে পৃথক সরকারব্যবস্থার লড়াই। এইসব জটিল হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে সে দেশটিতে নেতা নির্বাচনের জন্য ভোটের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ইতিহাসের দেশটি বসনিয়া নামেই বেশি পরিচিত। বলা হয়ে থাকে, বসনিয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জটিল নির্বাচনের দেশ। আজকে আমরা আলোচনা করছি ইউরোপের বিশেষ এই দেশের জটিল নির্বাচন এবং একইসাথে সেদেশের অতীত ইতিহাসের কিছু পর্যায় নিয়ে।
ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এই দেশটিতে কেন্দ্র, দুই স্বতন্ত্র সরকার, ক্যানটন ও ডিস্ট্রিক্ট অব ব্রিচকোতে জাতীয় নির্বাচন হয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট (তিনজন), কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট, দুই অংশের অ্যাসেম্বলি, ব্রিচকো ও সার্ব স্বতন্ত্র অংশ রিপাবলিকা স্রেপ্সকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বলকান উপদ্বীপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ত্রিভুজ আকৃতির। বসনিয়া অঞ্চলটি উত্তরে পাহাড় ও গভীর বনবেষ্টিত। বিশাল এলাকাজুড়ে অমসৃণ ও সমতল কৃষিভূমির হার্জেগোভিনা অঞ্চলটি দক্ষিণে, এর রয়েছে সংকীর্ণ উপকূল। দেশটির আয়তন ৫১ হাজার ১২৯ বর্গকিলোমিটার, লোকসংখ্যা ৩৫ লাখ ২৬৩৬ জন। রাজধানীর সারায়েভো, দেশটির মুদ্রার নাম মার্কা।
অন্য দেশের মতো বসনিয়ায় একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন না। বসনীয়, সার্ব ও ক্রোয়েট এই তিন জাতির সমন্বিত প্রেসিডেন্সি পর্ষদ রয়েছে সেখানে। প্রেসিডেন্সি পর্ষদের নেতৃত্বে বা চেয়ারম্যান পদে আট মাস পরপর পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আসে। দেশটিতে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় ১৯৯৬ সালে। সরকারের মেয়াদ চার বছর।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় দুটি স্বতন্ত্র পক্ষ রয়েছে। একটি দ্য ফেডারেশন অব বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, যেটিতে মুসলিম বসনিয়াক ও ক্রোয়েটদের আধিপত্য বেশি। অপরটি হচ্ছে সার্বদের পরিচালিত রিপাবলিকা স্রেপ্সকা। দেশটির পার্লামেন্ট দুই কক্ষবিশিষ্ট। দ্য হাউস অব পিপলস এবং দ্য হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ। হাউস অব পিপলসে ১৫ জন সদস্য রয়েছেন। এর দুই–তৃতীয়াংশ ফেডারেশন অব বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার এবং এক-তৃতীয়াংশ স্রেপ্সকার। অর্থাৎ বসনিয়াক (বসনিয়ার মুসলিম), ক্রোয়েট ও সার্বদের পাঁচজন করে সদস্য রয়েছেন এতে। হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে রয়েছেন ৪২ জন সদস্য। এর দুই-তৃতীয়াংশ ফেডারেশন থেকে এবং এক-তৃতীয়াংশ স্রেপ্সকা থেকে ভোটারদের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। এর বাইরে দুই অংশের আলাদা প্রেসিডেন্ট, সরকার, সংসদ, পুলিশ ও পৃথক কর্তৃপক্ষ রয়েছে।
সব মিলিয়ে দেশটিতে চারজন প্রেসিডেন্ট, পাঁচটি পার্লামেন্টারি হাউস এবং ১০টি ক্যানটন অ্যাসেম্বলি (শাসনতান্ত্রিক বিভাগ) রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য ভোটাররা তিন সদস্যের প্রেসিডেন্সি পর্ষদ ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত করে। ১৯৯৫ সালের পরবর্তীতে ভয়াবহ যুদ্ধের অবসানের মধ্য দিয়ে কথিত দুই স্বতন্ত্র পক্ষের এই সরকার গঠন হয়।
সার্বদের পরিচালিত রিপাবলিকা স্রেপ্সকার (আরএস) ভোটাররা তাদের একজন প্রেসিডেন্ট ও দুজন ভাইস প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি এমপিদের নির্বাচিত করে। আর মুসলিম-ক্রোয়েট ফেডারেশন তাদের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের জন্য দুজন প্রেসিডেন্ট ও দুজন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে। মুসলিম-ক্রোয়েট ফেডারেশনের ১০টি ক্যানটনের জন্যও ভোটাররা ভোট দিয়ে থাকে।
এত জটিল হিসাব–নিকাশের পর যে–কারও মাথায় একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে তাহলে বসনিয়ার নেতৃত্ব প্রকৃতপক্ষে কে দেয়। এর উত্তর এক কথায় দেওয়া সম্ভব নয়। জাতীয় বা কেন্দ্রীয় সরকার সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, রাজস্ব নীতি প্রণয়ন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও কূটনীতির বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত। এর চেয়ে দুটি স্বতন্ত্র অংশই তুলনামূলক বেশি কেন্দ্রীভূত। তাদের আলাদা পুলিশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে।
দুই স্বতন্ত্র অংশের বিভেদ দেশটির শাসনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় বারবার। বসনিয়াক বা মুসলিমরা চায় কেন্দ্র শক্তিশালী হোক। অন্যদিকে, সার্বরা কোনো অবস্থায় স্বতন্ত্র শাসন সমর্পণ করতে রাজি নয়। আর ক্রোয়েটদের মধ্যে বিভক্তি আরও বেশি। তাঁদের অনেকে আশা করেন, ক্রোয়েটদেরও স্বতন্ত্র শাসন তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বসনিয়ার অতীত ইতিহাস থেকে বোঝা যায়, সেখানে শান্তি বজায় রাখা কঠিন ব্যাপার। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা রক্তাক্ত হয়েছে বারবার। প্রাচীনকালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে বলা হতো ইলিরিকাম। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে এই অঞ্চল রোমানরা জয় করে নিজেদের প্রদেশ ডালমেশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে। চতুর্থ ও পঞ্চম খ্রিষ্টাব্দে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ওই অঞ্চল দাবি করলে জার্মানির গথরা রোমান সাম্রাজ্যকে অস্বীকৃতি জানিয়ে ওই অংশ দখল করে। ষষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত সেটি তাদের দখলে ছিল। পূর্ব ইউরোপের জাতি স্লাবরা সপ্তম শতাব্দীতে ওই অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বসনিয়া হাঙ্গেরির কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় এবং এর পরের ২৬০ বছরের মধ্যে এটি স্বাধীন খ্রিষ্টান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
বলকানে অটোমান সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের ফলে ওই অঞ্চলে ভিন্ন সংস্কৃতি, রাজনীতি ও ধর্মীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠে। ১৩৮৯ সালে কসোভোতে আলোচিত সেই যুদ্ধে তুর্কিরা সার্বদের পরাজিত করে। তারা ১৪৬৩ সালে বসনিয়া জয় করে। আনুমানিক সাড়ে চারশ বছর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় অটোমান সাম্রাজ্যের শাসন ছিল। ওই সময় অনেক খ্রিষ্টান স্লাব মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে। বসনিয়ার মুসলিম সম্প্রদায় ধীরে ধীরে প্রভাবশালী হতে থাকে এবং তুর্কিদের পক্ষে তারা দেশ শাসন করতে থাকে। অটোমান সাম্রাজ্যে সংকুচিত হতে থাকলে উনিশ শতকে বলকানের অন্য মুসলিমরা বসনিয়ায় চলে যেতে থাকে। একই সময়ে বসনিয়ায় ইহুদি জনসংখ্যা বাড়তে থাকে।
১৪৯২ সালে স্পেন থেকে বিতাড়িত হয়ে অনেক ইহুদি সারায়েভোতে আশ্রয় নিয়েছিল। ওই শতকে সব ধর্মবিশ্বাসের মানুষকে বরণ করে নেয় বসনিয়া। ধর্মনিরপেক্ষ সমাজব্যবস্থা, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিয়ে ওই সময় খুব অস্বাভাবিক ছিল না।
১৯৪১ সালে জার্মানি যুগোস্লাভিয়ায় হামলা চালালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা নাৎসি–নিয়ন্ত্রিত ক্রোয়েশিয়ার অংশ হয়ে যায়। জার্মান ও ইতালীয়দের দখলে থাকার সময় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বাসিন্দারা ক্রোয়েশিয়ার ফ্যাসিবাদী বাহিনির বিরুদ্ধে তুমুল গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে, যুগোস্লাভিয়ার কমিউনিস্ট নেতা মার্শাল টিটোর অধীনে একক রাষ্ট্র হিসেবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা আরও ছয়টি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একীভূত হয়। জোড়াতালি দেওয়া জাতির মধ্যে জাতিগত শত্রুতা নিয়ন্ত্রণে রাখে তাঁর কর্তৃপক্ষ। টিটো ১৯৮০ সালে মারা যান।
কঠিন আবরণ খসে যাওয়ায় এবং ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক অসন্তোষের মুখে যুগোস্লাভিয়া ভাঙতে শুরু করে। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বীকৃতি চাওয়া হয়। ১৯৯২ সালের মার্চে এক গণভোটে বসনিয়ার ভোটাররা স্বাধীনতা বেছে নেয়। বসনিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে মুসলিম ৪৪ শতাংশ, সার্ব ৩১ শতাংশ ও ক্রোয়েট ১৭ শতাংশ। এই তিন জাতির প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারব্যবস্থা গড়ে ওঠে সেখানে। তবে স্বাধীন হয়েও সেখানে শান্তি ফিরে আসেনি, শুরু হয় জাতিগত যুদ্ধ। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর দিক থেকে জটিল এই দেশের নির্বাচন যে কোনো পাঠকের কাছে একইসাথে চমকপ্রদ এবং আগ্রহের এক বিষয় হিসেবে পঠিত হবে।
সংক্ষেপে দেখুনবাংলাদেশ নামকরণ কিভাবে হয়েছে ?
“বিশ্বকবির সোনার বাংলা নজরুলের বাংলাদেশ জীবনানন্দের রূপসি বাংলা রূপের যে তার নেইকো শেষ বাংলাদেশ” গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের রচিত এই গীতটির মতো বঙ্কিমচন্দ্রও এই বাংলা অঞ্চলকে ‘বঙ্গদেশ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সত্যজিৎ রায় সবসময় ‘বাংলাদেশ লিখেছেন বলেছেন। সাহিত্য বা কাব্য ভাষায় যে নামেই করা হোক না কেন বিবিস্তারিত পড়ুন
“বিশ্বকবির সোনার বাংলা
নজরুলের বাংলাদেশ
জীবনানন্দের রূপসি বাংলা
রূপের যে তার নেইকো শেষ বাংলাদেশ”
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের রচিত এই গীতটির মতো বঙ্কিমচন্দ্রও এই বাংলা অঞ্চলকে ‘বঙ্গদেশ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সত্যজিৎ রায় সবসময় ‘বাংলাদেশ লিখেছেন বলেছেন। সাহিত্য বা কাব্য ভাষায় যে নামেই করা হোক না কেন বিশ্বে ভাষার নামে দেশের নামে পরিচিতি কেবল আজ বাংলাদেশই।
লাল—৩০ লাখ শহিদের রক্ত ও সবুজ—শ্যামল বাংলার প্রতিনিধি।
ভাষা সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ নিয়ামত। কিন্তু সেই ভাষা অর্জনেই দেশ বিভাগের পরই পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় পশ্চিম-পাকিস্তান। ’৫২ তে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার অধিকার পাওয়ার পর পূর্ব-পাকিস্তান কেন পূর্ব-বাংলা হবে না? সে প্রশ্নটি বাংলার নায়কেরা (বঙ্গবন্ধু, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী প্রমুখ) উত্থাপন করেন। নানান প্রতিঘাতের পর পূর্ণতা পায় ‘বাংলাদেশ। ভাষার নাম ও দেশের নামে পূর্ণতা পায় পুণ্যভূমি।
নামকরণের ইতিহাসের ইতিকথা
১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ নামকরণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় ঘোষিত নাম কিংবা দেশটির ইতিহাস তো অর্ধশত বছরের নয়। সেই ইতিহাস হাজার-হাজার বছর আগের। ড. মোহাম্মদ হান্নান রচিত ‘বাঙালির ইতিহাস বইয়ে গোলাম হোসেন সেলিম জইদ পুরির ‘রিয়াজ-উজ-সালাতিন গ্রন্থ থেকে বঙ্গ নামের বিশ্লেষণে বলেন, মহাপ্লাবনের পর হযরত নূহ (আ), তাঁর স্ত্রী, সন্তানসহ ৮০ জন নর-নারী আল্লাহর হুকুমে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বংশ বৃদ্ধিতে নিয়োজিত থাকেন। নূহ (আ) এর পরবর্তী বংশধরগণই করে পৃথিবী সাজিয়েছেন।
নূহ (আ)-র এক পুত্র হাম এশিয়া অঞ্চলে বংশ বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন। হামের পুত্র হিন্দ-র নামানুসারে হিন্দুস্থান সিন্দ-র নামানুসারে ‘হিন্দুস্থান বা ‘সিন্দু এবং হিন্দের পুত্র ‘বঙ্গ-এর নামানুসারে বঙ্গদেশ। এই সূত্রমতে, নূহ (আ)-এর পৌত্র বা নাতির নামানুসারে বঙ্গ বা বাংলাদেশ।
‘রিয়াজ-উজ-সালাতিন’ মলাট ছবি।
অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, বঙ্গ নামের উৎপত্তি জানতে ‘বংশী ও ‘বাঙালি নদীর ইতিহাস উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। ১৯৪৭ সাল থেকেই আদি বাংলার পশ্চিম অংশ পূর্ব থেকে ছিন্ন হয়ে যায়; যা বর্তমান ভারতের একটি রাজ্য। প্রাচীন যুগেই বাংলা মূলত দুভাগে বিভক্ত হয়ে পরে। গুপ্ত শাসনের পতন হলে ৫৫১ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ববাংলা এলাকা নিয়ে বঙ্গ-সমতট রাজ্য ও বঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে গৌড় নামে আলাদা রাজ্য গড়ে ওঠে। সেই যে ৫৫১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গ রাজ্য দুভাগে বিভক্ত হলো সুদীর্ঘ দেড় হাজার বছরেও বাংলা এক হতে পারেনি।
প্রাচীন বাংলা ভাষাভাষীদের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ১০ হাজার বছরের অতীত বলে ধারণা করেন ইতিহাসবেত্তা ও প্রত্নতাত্ত্বিকবিদের অনেকে। সেই সভ্যতা ‘গঙ্গা-রিদি সভ্যতা নামে পরিচিত ছিল। পদ্মা (বাংলাদেশে) ও গঙ্গা (ভারতে) নদীর তীরে এ সভ্যতার গোড়াপত্তন। গ্রিক ইতিহাসবেত্তারা বাংলাকে উল্লেখ করেছেন ‘গঙ্গারিডাই হিসেবে। গঙ্গারিডাই (গঙ্গারিডাই, গঙ্গারিডেই এবং গঙ্গারিদুম শব্দরূপগুলির উৎপত্তি গঙ্গারিড (Gangarid) থেকে।
ধারণা করা হয় যে, গঙ্গারিড হলো ভারতীয় ‘গঙ্গাহূদ শব্দের গ্রিক রূপ। এর অর্থ ‘যে ভূমির বক্ষে গঙ্গা প্রবাহিত (গঙ্গাহূদ> গঙ্গারিদ> গঙ্গারিডাই, গঙ্গারিড-এর বহুবচনার্থে), যা ‘পেরিপ্লাস গ্রন্থের লেখকের বর্ণিত গাঙ্গে দেশের সাথে বেশ মানিয়ে যায়।) প্রথম খ্রিষ্টপূর্ব থেকে দ্বিতীয় খ্রিষ্টাব্দ মধ্যবর্তী সময়ে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখায় একটি জনগোষ্ঠী ও একটি দেশের নাম হিসেবে উল্লিখিত। ক্লাসিক্যাল লেখকদের বর্ণনায় ‘গঙ্গারিডাই এবং এর রূপভেদে ‘গঙ্গারিডেই (Gangaridae), ‘গঙ্গারিদুম (Gangariridum) ও ‘গঙ্গারাইডেস (Gangarides) শব্দগুলি পাওয়া যায়।
‘গঙ্গারিডাই’ অঞ্চল।
আলেকজান্ডার ৩২৫-৩২৬ খ্রিষ্টপূর্বে (কারও মতে খ্রিষ্টপূর্ব ও খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে) মোট ১৯ মাস ভারত আক্রমণ চালান। গঙ্গারিডি রাজা আলেকজান্ডারকে বাধা দিতে দিতে ৮০,০০০ অশ্বারোহী, ২ লাখ পদাতিক, ৮,০০০ রথ, ৬০০০ যুদ্ধ হস্তি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু মহামতি আলেকজান্ডার বাংলায় না এসে বিপাশা নদী তীর থেকে ব্যবলিনে ফিরে যান। চন্দ্রগুপ্ত নামে এক বাঙালির সাথে পাঞ্জাবে আলেকজান্ডারের সাক্ষাৎ হয়েছিল। দশ হাজার বছর পূর্বের গঙ্গা-রিদি সভ্যতার ‘প্যালিওথিক ও মাইক্রোলিথিক অস্ত্র পশ্চিমবঙ্গে পাওয়া গেছে। তা থেকে আর অপেক্ষা থাকে না প্রাচীন কালে বাংলাদেশ কতটা শক্তিশালী ছিল। এবং এই সম্পর্কে বাংলাপিডিয়া বলছে, আলেকজান্ডার ও তাঁর সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ডিওডোরাস (৬৯ খ্রিষ্টপূর্ব-১৬ খ্রিষ্টাব্দ) সিন্ধু পরবর্তী দেশ সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, গঙ্গা পেরিয়ে যে অঞ্চল সেখানে ‘প্রাসিয়ই (Prasioi) ও গঙ্গারিডাই-দের আধিপত্য।
টলেমি (দ্বিতীয় খ্রিষ্টাব্দ) গঙ্গারিডাই-এর অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, গঙ্গার পাঁচটি মুখ সংলগ্ন প্রায় সমস্ত এলাকা গঙ্গারিডাইগণ দখল করে রেখেছিল, গাঙ্গে (Gange) নগর ছিল এর রাজধানী। যদিও টলেমি গঙ্গার পাঁচটি মুখের অবস্থানের অক্ষ ও দ্রাঘিমা-সহ নাম উল্লেখ করেছেন, তথাপি সেগুলি সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি মাপ নির্ভুল না হওয়ার কারণে। তবুও তার বর্ণনাকৃত চারটি দ্রাঘিমা ডিগ্রি সমুদ্র উপকূলের সর্বপশ্চিম থেকে সর্বপূর্বের নদীমুখ পর্যন্ত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করছে। কার্যত এর অর্থ হলো ‘গঙ্গারিডাই বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী গঙ্গার সর্বপশ্চিম এবং সর্বপূর্বের নদীমুখ পর্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো যে, ভাগীরথীর (তমলুক-এর নিকটে) এবং পদ্মার (চট্টগ্রামের নিকটে) নদীমুখের দ্রাঘিমা রেখার পার্থক্য ৩.৫ ডিগ্রির সামান্য কিছু বেশি। তাই টলেমির তথ্যানুযায়ী গঙ্গারিডাই-কে শনাক্ত করা যায় বর্তমান ভারতের পশ্চিমবাংলা ও বাংলাদেশে গঙ্গার প্রধান দুটি শাখার মধ্যবর্তী অঞ্চলটিতে। তবে তথ্য অপ্রতুলতার কারণে ‘গাঙ্গে (Gange) নগরটির অবস্থান শনাক্ত করা যায় না।
বর্তমান সুন্দরবনের হরিণঘাটাকে ‘গঙ্গে বলে কল্পনা করা হয়। প্রাচীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুরের কালিগঙ্গা নদীর পশ্চিমতীরে এবং পদ্মা বা গঙ্গা নদীর পূর্বতীরে গঙ্গানগর নামে একটি প্রাচীন নগরের অবস্থান বিক্রমপুরের মানচিত্রে সার্ভেয়ার জেনারেল এফআরএস দেখিয়েছেন। পদ্মার দিক পরিবর্তনে নগরটি বিলীন হয়ে গেছে। প্রাচীন বাংলায় স্বর্ণের খনি ছিল বলেও গ্রিক ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন বাংলায় বা বর্তমান বাংলাদেশে কোন সোনার খনি নেই। তবে প্রাচীন বাংলার বিক্রমপুরে সোনারং, স্বর্ণ গ্রাম, সোনারগাঁও, সোনাকান্দ এখনো বিদ্যমান। মহারাজ চৈতন্য গুপ্ত (৫০৭-৫০৮ খ্রিষ্টাব্দ) পূর্ব বাংলা অঞ্চল শাসন করতেন। তিনি বাংলায় স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেন।
এছাড়া সমাচার দেব নামক বাংলার আরও একজন রাজা স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেছিলেন। বাংলাদেশে যদি স্বর্ণের খনি না থাকতো তা হলে এত স্বর্ণমুদ্রা কীভাবে তৈরি হতো। প্রাচীনকালে বাংলার কোথাও হয়তো স্বর্ণের খনি ছিল। আমাদের সভ্যতার ইতিহাস প্রাচীন ও রোমঞ্চকরও বটে। এসময়ের ইতিহাসবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, সংস্কৃত বঙ্গ থেকে বাংলা শব্দটি আসে এবং আর্যরাও বঙ্গ নামেই ডাকতেন এই অঞ্চলকে। বঙ্গে বসবাসকারী মুসলমানরা এই বঙ্গ শব্দটির সাথে ফারসি আল প্রত্যয় যোগ করে বলতেন বাঙালবা বাঙ্গালাহ্। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী ‘আল শব্দের অর্থ জমির সীমা নির্দেশক বাঁধ।
ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের মতে, “মুসলমান শাসনামলে বিশেষ করে ১৩৩৬ থেকে ১৫৭৬ সাল পর্যন্ত সুলতানি আমলে এবং ১৫৭৬ সালে মোঘলরা বাংলা দখল করার পরে এই অঞ্চলটি বাঙাল বা বাঙালাহ্ নামেই পরিচিতি পায়। তবে বাংলা, বাঙাল বা দেশ এই তিনটি শব্দই ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। কোনটিই বাংলা শব্দ নয়।
স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলাও বাংলা, আসাম, বিহার, উড়িষ্যার মতো কয়েকটি প্রেসিডেন্সি নিয়ে ‘বঙ্গ নাম দেন। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসকরা নবাবকে ছলনায় হত্যা তথাপি ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলাকে ‘বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি নাম দেয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গে গোটা বাংলা একটি প্রশাসনিক বিভাজন হয়। বঙ্গের পশ্চিম অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্বাংশ পূর্ব-বাংলা। ব্রিটিশ তাদের শাসন গুটিয়ে নিলে ১৯৪৭-র পর পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সাথে যুক্ত হয় ধর্ম বিবেচনায়।
বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি-র মানচিত্র (রক্তিম অংশ)।
পাকিস্তানের শোষকেরা এই অঞ্চলের নাম পূর্ব-পাকিস্তান দিতে চাইলে ১৯৫৭ সালে করাচিতে পাকিস্তানের গণপরিষদের তরুণ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান বক্তৃতা দেওয়ার সময় “পূর্ব পাকিস্তান নামটির প্রতিবাদ করে বলেন,
“পূর্ব-বাংলা নামের একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্য আছে। আর যদি পূর্ব-পাকিস্তান নাম রাখতেই হয়, তাহলে বাংলার মানুষের জনমত যাচাই করতে হবে। তারা নামের এই পরিবর্তন মেনে নিবে কি-না সেজন্য গণভোট নিতে হবে।”
১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে নিউক্লিয়াস নামে ছাত্রলীগের একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা পায়। যারা স্বাধীনতার পক্ষে চিন্তাভাবনা করতো। তারা এই অঞ্চলকে বলতেন স্বাধীন পূর্ব-বাংলা।
স্বাধীনতা আসার আগেও প্রেরণার জ্বলন্ত নাম ‘বাংলা দেশ’।
১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানেই আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে স্লোগানে ‘বাংলাদেশ ধ্বনি প্রথম প্রস্ফুটিত হয় আন্দোলনকারীদের মুখে বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এরপরই ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন,
“আমাদের স্বাধীন দেশটির নাম হবে বাংলাদেশ।”
ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন। পরে শেখ মুজিবুর রহমান ‘বাংলাদেশ’ নামটি প্রস্তাব করলে তাতে সবাই একবাক্যে সায় দেন। এই নাম দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৫২ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বাংলা ভাষা থেকে বাংলা এরপর স্বাধীন দেশের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দেশ। এই দুটো ইতিহাস ও সংগ্রামকে এক করে ‘বাংলাদেশ নামকরণ করা হয়।
১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর ঘোষণা করেন ‘বাংলাদেশ’। বঙ্গবন্ধুর বাণী সমগ্র
স্বাধীন হওয়ার আগপর্যন্ত মুখে মুখেই জনপ্রিয় হয় ‘বাংলাদেশ। মনের ভেতরে প্রোথিত হয় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ভাষণে।
বাংলা অনুবাদ করলে হয়, “ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।
—শেখ মুজিবুর রহমান
২৬ মার্চ ১৯৭১”
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা দলিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র
সেখানে স্পষ্ট করে পূর্ব-পাকিস্তান বা পূর্ব-বাংলা না বলে ‘বাংলাদেশ বলেছেন। সে সময় স্বাধীন বাংলার বিরোধিতাকারীরা দেশের নামেরও বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তবুও লাভ হয়নি কোনো। বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর সংবিধানেও প্রণীত ও গৃহীত হয় ‘বাংলাদেশ। তবে সীমান্তে একটি দুঃখ থেকে যায় ৪৮ বছর। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘সীমান্ত পিলার থেকে PAKISTAN/PAK লেখা অপসারণ করে BANGLADESH/BD লেখার কার্যক্রম সম্পন্ন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২০১৯ থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কোনো পিলারে PAKISTAN/PAK লেখা নেই; থাকবে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের নাম।
সীমান্ত পিলারে এখন বাংলাদেশ/বিডি লেখা।
আর এভাবেই চূড়ান্ত রূপ পায় আমাদের সোনার বাংলাদেশ।
সংক্ষেপে দেখুনউত্তর কোরিয়ার সবকিছু কি সত্যি সত্যিই রহস্যে ঘেরা ?
বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট আর মোবাইলের ব্যাপক বিস্তারের কারনে সারা বিশ্বের এক দেশের সাথে অন্য দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত থেকে আরও উন্নত হয়েছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি আজকের দিনেও এমন দেশ আছে যা কি-না বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো থেকে একেবারেই আলাদা এবং যাদের অন্য দেশিদের সঙ্গে নেই কোন যোগাযোগও। এই দেশের মবিস্তারিত পড়ুন
বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট আর মোবাইলের ব্যাপক বিস্তারের কারনে সারা বিশ্বের এক দেশের সাথে অন্য দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত থেকে আরও উন্নত হয়েছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি আজকের দিনেও এমন দেশ আছে যা কি-না বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো থেকে একেবারেই আলাদা এবং যাদের অন্য দেশিদের সঙ্গে নেই কোন যোগাযোগও। এই দেশের মানুষ বসবাস করছে স্বৈরতান্ত্রিক সমাজে এবং তাদের স্বৈরশাসক বিশ্বের অন্যতম নামকরা একজন ব্যাক্তি। তিনি তার প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায়শই আক্রমণের হুমকি দেন আর বিশেষ বন্ধুত্ব রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন কোন দেশের কথা বলছি। জ্বি! উত্তর করিয়া এবং এর স্বৈরশাসক কিম জং উন।
উত্তর করিয়ার অনেক কিছু উদ্ভট হলেও এর কিছু কিছু ব্যাপার বিশ্বের অন্য সাধারণ দেশগুলো থেকে একেবারেই আলাদা। চলুন দেখে আসি এমনই কিছু উদ্ভট নিয়ম উত্তর করিয়া সম্পর্কে।
১) আইসোলেশন নেশন
কোরিয়ান উপদ্বীপ দীর্ঘদিন ধরেই নিকটবর্তী বিশ্ব শক্তিদের জন্য একটি যুদ্ধক্ষেত্র ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত জাপান কোরিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ জাপানের আত্মসমর্পণের পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দেশটিকে ৩৮তম অক্ষরেখা বরাবর সমান্তরালভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণাঞ্চলকে পরিচালনা করতো এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন উত্তরটি নিয়ন্ত্রণ করছিল।
১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ পুনর্মিলন সংক্রান্ত আলোচনায় ব্যর্থ হওয়ার পর এই বিভক্তি স্থায়ী হয়ে যায়। উত্তর করিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি কিম ইল সুং ক্ষমতায় আসার পর স্বনির্ভরতার নীতি ঘোষণা করেন। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তর করিয়ার বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো থেকে একেবারে সরে আসা, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে অন্যান্য দেশ থেকে সকল সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়া।
এটি স্বনির্ভরতার একটি নিদর্শন। এর মূল ধারণাটি হল উত্তর কোরিয়ার জনগণকে কেবল নিজেদের উপর নির্ভর করতে হবে। কিম ইল সুং এর এই নিয়ম অনুসারে উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা, এমনকি ১৯৯০-এর দশকের দুর্ভিক্ষের মধ্যেও তারা নিজেদের এই নিয়ম থেকে বের হয়ে আসেননি। উত্তর করিয়ার একটি শক্তিশালী জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করার দরকার ছিল এবং তারা সেটা করেছে।
২) মিথিক্যাল লিডার
উত্তর কোরিয়ার শাসক রাজবংশের সবাই সবসময় নিজেদের কিছুটা অতিপ্রাকৃত বলে দাবি করেন। প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং কোরিয়ার “সূর্য হিসাবে পরিচিত ছিলেন এবং তিনি দাবি করতেন তিনি আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তার পুত্র কিম জং ইলের জন্মদিনের পাশাপাশি, কিম ইল সুং এর জন্মদিনেও জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তার মৃত্যুর পর, সুং এর মরদেহটি যত্নসহকারে রেখে দেওয়া হয় যা এখনও পিয়ংইয়ং-এ রয়েছে।
কিম জং ইলের গল্প এর চেয়ে কম বিস্তৃত নয়। তার জন্মকে প্রচারকরা স্বর্গীয় বলে আখ্যায়িত করেছিল এবং রাষ্ট্রীয় মিডিয়া প্রায়শই কিম জং ইলের অসম্ভব কাজকে সম্ভব করার মত খবরও প্রকাশ করে। খবর অনুসারে প্রথমবার যখন কিম জং ইল বোলিং খেলার চেষ্টা করেন, তিনি একবারেই নিখুঁত ৩০০ রান অর্জন করেছিলেন এবং প্রথমবার গল্ফ খেলে একবারেই তিনি পাঁচটি বল গর্তে ফেলে রেকর্ড করেন। ২০১১ সালে তার মৃত্যুর সময়, উত্তর কোরিয়ার পবিত্র পর্বত পাইকতুয়ের আকাশ লালচে আভায় জ্বলে উঠেছিল এমন খবরও পাওয়া যায়।
কিম জং ইলের পুত্র এবং উত্তসূরি কিম জং উনের এখানো এতটা বিস্তৃত ইতিহাস তৈরী হয়নি তবে সংবাদ মাধ্যমগুলো তাদের নেতাকে স্বর্গীয় বলে দাবি করে। ২০১২ সালে উত্তর করিয়ার রাষ্ট্রিয় গণমাধ্যম একটি ‘বিশেষ ঘোড়া আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে যা দেখতে আক্ষরিকভাবে একটি ইউনিকর্ণের মত এবং এটিতে চড়ে বসে ছিল তাদের প্রাচীন পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতা টোংমুয়োং।
৩) ন্যাশনাল প্রিজন
উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসকদের সম্পর্কে সমস্ত কল্পিত এবং মজার কল্পকাহিনী একটি বিরক্তিকর সত্যকে আবৃত করে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের অনুমান অনুসারে প্রায় ১,৫৪০০০ উত্তর কোরিয়ান জণগণ জেলখানার শিবিরে বাস করে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে এই সংখ্যা ২ লাখের কাছাকাছি।
বিদ্যুতায়িত কাঁটাতারের চারপাশে ছয়টি শিবির রয়েছে। “ইস্কেপ ফ্রম ক্যাম্প-১৪: ওয়ান ম্যানস রিমার্কেবল ওডিসি ফ্রম নর্থ করিয়া টু ফ্রিডম ইন দি ওয়েস্ট (ভাইকিং ১২)” অনুসারে দুটি ক্যাম্পে কিছু ‘পুনর্বাসন’ব্যবস্থা রয়েছে এবং তারা কিছু বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার অনুমতি দেয়। বাকিরা তাদের সারা জীবনের জন্য কারাগারে বন্ধি।
“ইস্কেপ ফ্রম ক্যাম্প-১৪ শিং ডং হুক নামের এক ব্যক্তির গল্প যিনি কি না ইতিহাসের প্রথম এবং শেষ ব্যক্তি যে সেই কারাগার থেকে পালাতে এবং বাইরের দুনিয়ায় বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন৷ শিংয়ের জন্ম হয় সেই শিবিরের ভেতর। তার বাবাকে কয়েক দশক আগে কারাবন্দী করা হয় কারণ তার বড় ভাই দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করার জন্য উত্তর করিয়া ছাড়ে৷
এই চিত্রটি আঁকেন উত্তর করিয়ার কারাগারে বন্ধি থাকা এক ব্যক্তি। ছবিতে তাদের উপর নির্যাতনের একটি ছোট্ট বর্ণনা মিলে।
নির্যাতন, নিপিড়ন, দাসত্ব, জনসম্মুখে ফাঁসি, এই সবই সেই কারাগারের দৈনন্দিন ঘটনা। স্যাটেলাইটের দ্বারা সংগৃহীত ছবির থেকে এইসব ঘটনার সত্যতাও পাওয়া যায়। ২০১১ সালের অ্যামেনেসটি ইন্টারন্যাশনালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী কারাগারে থাকা শতকরা ৪০ শতাংশ ব্যক্তি অপুষ্টিতে ভুগে মারা যায়।
৪) উত্তর করিয়ার প্রতিদিনের জীবন
উত্তর কোরিয়ার গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে, এই দেশের দৈনন্দিন জীবন আসলে কী রকম তা কল্পনা করা কঠিন। “নাথিং টু এ্নভি: অর্ডিনারি লাইভস ইন নর্থ কোরিয়া (স্পিগেল অ্যান্ড গ্রাউ, ২০০৯) বইটিতে সাংবাদিক বারবারা ডেমিক দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে আসা উত্তর কোরিয়ানদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। তারা পরিবারে আবদ্ধ একটি সমাজকে বর্ণনা করে। ১৯৯০-এর দশকের দুর্ভিক্ষের সময়, পরিবারের বাবা-মা এবং দাদা-দাদীরা প্রথমে অনাহারে মারা যায় কারণ তারা তাদের বাচ্চাদের জন্য খাবার বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। বইটি সেই সময় প্রচুর প্রপাগাণ্ডার সৃষ্টি করে। ডেমিক লিখেছিলেন, “১৯৮৪ সালে কল্পনা করা ভবিষ্যত নিয়ে অরওয়েল এমন এক পৃথিবীর কথা লিখেছিলেন যেখানে প্রপাগাণ্ডা ছাড়া অন্য কোন খবরে কেউ বিশ্বাসই করবে না। উত্তর কোরিয়ায় এখন এমনই ঘটনা ঘটছে।”
উত্তর করিয়ার মানুষজনদের কাছে এইসব খবর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে তা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা না থাকলেও চায়নায় বসবাসরত উত্তর করিয়ানদের সাথে নিউইয়র্ক টাইমস এর সাক্ষাৎকারের ভিডিও চোরাচালান করে উত্তর করিয়ার মানুষের হাতে পৌঁছায়, তারা নিজেদের গন্ডির বাইরের পৃথিবী আসলে কেমন তার কিছুটা আভাস পেয়েছে।
সম্প্রতি, পিয়ংইয়ংয়ের তত্ত্বাবধানে ভ্রমণে বিদেশী সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে ৩জি সংযোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে সাংবাদিকরা উত্তর করিয়ার প্রতিদিনের শহরের জীবনের রিয়েল-টাইম ছবি প্রকাশ করতে সক্ষম হয়।
৫) ব্ল্যাক মার্কেট
উত্তর কোরিয়া কমিউনিস্ট নীতি মাথায় রেখে দেশ পরিচালনা শুরু করলেও, দ্য ইকোনমিস্টের মতে সরকারী ক্র্যাকডাউন সত্ত্বেও কিছু পুঁজিবাদী ব্ল্যাক মার্কেট এরই মধ্যে নিজেদের কাজ চালু করেছে। কিছু কালো বাজারের ব্যবসায়ী চীন থেকে সীমান্তের ওপারে পণ্য পরিবহন পরিচালনা করে। তারা খাদ্য ও কাঁচামাল নিয়ে আসে যা উত্তর করিয়ার কাজকর্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাচার হওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার ডিভিডিগুলো কিম সরকারের প্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
ইস্কেপ ফ্রম ক্যাম্প-১৪ অনুসারে উত্তর কোরিয়ায় যানবাহনের মালিকানা কেবলমাত্র সামরিক বাহিনী ও সরকারের পক্ষে অনুমোদিত করা হয় এবং এতে নাগরিকদের ভ্রমণ চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ। তবে ১৯৯০-এর দশকে দুর্নীতিগ্রস্থ সামরিক ও দলীয় উচ্চবিত্ত লোকজন যানবাহন নিবন্ধকরণ এবং তারপরে বেসরকারী ড্রাইভারদের নিয়োগের এই প্রথা গড়ে তোলেন, এবং তারা বেসরকারী ট্যাক্সি সংস্থা তৈরি করেছিলেন যা সারা দেশে পাচারের অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
৬) ইন্টারনেট লকডাউন
উত্তর করিয়ায় কেবলমাত্র অনুমোদিত এবং সরকারি কতৃপক্ষের জন্য ইন্টারনেট অ্যাক্সেসযোগ্য। এর বাইরে এই দেশের সাধারণ জনগণের জন্য ইন্টারনেট সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। প্রধান শহরগুলোতে বসবাসকারী লোকেরা যাদের নিজেদের কম্পিউটার আছে তারা প্রাথমিকভাবে একটি ক্লোজ ডমেস্টিক নেটওয়ার্ক ‘কিয়োংমিয়োং সঞ্চালন করতে পারেন।
২০১২ সাল পর্যন্ত উত্তর করিয়ায় ভ্রমণকারী সাংবাদিকদের তাদের মোবাইল ফোন বর্ডারে জমা দিয়ে দেশে প্রবেশ করার নিয়ম ছিল। তবে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকার শুধু মাত্র বিদেশি পর্যটকদের ৩জি অ্যাক্সেস দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
৭) সমন্বয় না থাকা
বাইরের বিশ্বের সাথে এতটা দূরত্ব থাকায় উত্তর করিয়ার মানুষ অনেক কিছুর সাথে সমন্বয় করতে হিমসিম খেয়ে যান। অনেককেই সবসময় এক ধরনের দুশ্চিন্তায় থাকতে দেখা যায়, এটি তাদের একদম ছোট বয়স থেকে নিজেদের বাড়ি থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয় কেননা যে কেউ, যে কোন সময় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাদের হাজতে পাঠাতে পারে। কিছু মানুষ আছে যারা অপুষ্টির কারনে নিজেদের শারীরিক কর্মক্ষমতা হারিয়েছে। এমন মানুষও আছে যারা উত্তর করিয়ার প্রপাগাণ্ডা ছাড়া অন্য দেশ বা বিশ্ব সম্পর্কে কিছুই জানে না৷
উত্তর করিয়ার এক বোর্ডিং স্কুলের অধ্যক্ষ জুয়াক জং-মুন “ইস্কেপ ফ্রম ক্যাম্প ১৪ এর লেখক ব্লেইন হার্ডেনকে জানিয়েছে, “উত্তর করিয়ার পড়াশোনা, দক্ষিণ কোরিয়ার জীবন যাপনের জন্য অকেজো। একজন মানুষ যখন ক্ষুধার্ত থাকে তখন তার স্কুলে যেয়ে পড়তে বা পড়াতে কোনটাই ভালো লাগে না। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী চায়নাতে পলাতক অবস্থায় আছে যারা শিক্ষার থেকে অনেক দূরে আছে। উত্তর কোরিয়াতে বাচ্চারা গাছের বাকল খেয়ে বড় হয় এবং ভাবে এটিই স্বাভাবিক খাবার। হার্ডেনের মতে উত্তর করিয়ায় আত্মহত্যার হার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় আড়াই শতাংশ বেশি।
সংক্ষেপে দেখুনভূত-প্রেতের জন্য বরাদ্দ একটা রাত হ্যালোইন! এ উৎসবে কুমড়ো কেন লাগে?
প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় হ্যালোইন ডে। ‘অল হ্যালোস’ইভ বা হ্যালোইন উৎসব খ্রিষ্টানদের অন্যতম প্রধান উৎসব। প্রতিবছর এদিন বিশ্বব্যাপী খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা উৎসবটি পালন করলেও বিগত কয়েক বছরে উৎসবটির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। ইউরোপ, আমেরিকাসহ অন্যান্য উন্নত দেবিস্তারিত পড়ুন
প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় হ্যালোইন ডে। ‘অল হ্যালোস’ইভ বা হ্যালোইন উৎসব খ্রিষ্টানদের অন্যতম প্রধান উৎসব। প্রতিবছর এদিন বিশ্বব্যাপী খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা উৎসবটি পালন করলেও বিগত কয়েক বছরে উৎসবটির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।
ইউরোপ, আমেরিকাসহ অন্যান্য উন্নত দেশে অক্টোবর মাস শুরু হলেই বিভিন্ন দোকানে হ্যালোইন উৎসবের জন্য একটা সাজসাজ ভাব শুরু হয়ে যায়। মিষ্টিকুমড়া থেকে শুরু করে কালো রঙের পোশাক, মাকড়সার জাল, ভূত সাজার মুখোশ ইত্যাদি আনুষঙ্গিক আরও হরেক রকমের জিনিসপত্র বিক্রির ধুম পড়ে যায়। মাকড়সার জাল, কালো রঙের কৃত্রিম মাকড়সা, ভুতুড়ে মোমবাতি, মৃত মানুষের কৃত্রিম মাথার খুলি এবং আরও নানান রকমের ভীতিকর জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো হয় বাসাবাড়ি, দোকান কিংবা রেস্তোরাঁ।
বিকেল থেকে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কালো ভূতের পোশাক বা হ্যালোইন ড্রেস পরে, ভুতুড়ে সাজে মুখ রাঙিয়ে বা ভুতুড়ে মুখোশ পরে বন্ধুদের সঙ্গে অথবা একজন অভিভাবকের সঙ্গে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে এসব চকলেট সংগ্রহ করে এবং চমৎকার উৎসবের আমেজ পায় পুরো বিষয়টি। এ ছাড়া এ দিন বয়োজ্যেষ্ঠরাও প্রার্থনা, বিশেষ খাবারের আয়োজনসহ আনুষঙ্গিক আরও কিছু আচার–অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকেন।
হ্যালোইনের ইতিহাস
‘হ্যালোইন’ শব্দটি এসেছে স্কটিশ শব্দ ‘অল হ্যালোজ’ ইভ থেকে। হ্যালোইন শব্দের অর্থ ‘পবিত্র সন্ধ্যা’। কেন দিনটিকে পবিত্র সন্ধ্যা বলা হয়, তার পিছনে রয়েছে বিরাট এক কাহিনি।
প্রায় দু’হাজার বছর আগে বর্তমান আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও উত্তর ফ্রান্সে বাস করতেন সেলটিক জাতির মানুষ। হ্যালোইন উৎসব পালন শুরু করেছিলেন তাঁরাই। সেটাও প্রায় মধ্যযুগে। তাঁদের সামহাইন উৎসব থেকেই মূলত হ্যালোইনের শুরু বলে মনে করা হয়।
নভেম্বরের প্রথম দিনটি তাঁদের নববর্ষ হিসাবে পালিত হত। স্থানীয় ভাষায় এটিকে বলা হত ‘সাহ-উইন’। এই দিনটিকে তাঁরা গ্রীষ্মের শেষ এবং শীতের শুরু বলে মনে করতেন। শুধু শীতের না, একই সঙ্গে অন্ধকারেরও শুরু হত এই দিনে। আর অক্টোবরের শেষ দিনটিকে অশুভ বলে মনে করা হত।
মনে করা হত, এই রাতে প্রেতাত্মা ও অতৃপ্ত আত্মারা আবার তাদের পুরনো জীবনে ফিরে আসতে চায়। তাদের সঙ্গে যদি কারও দেখা হয়, তবে তাঁর ক্ষতি হতে পারে। এই বিশ্বাস থেকে মানুষ এই সন্ধ্যায় একা কাটাতেন না। রাতে আগুন জ্বেলে তার পাশে বৃত্তাকারে একসঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে মন্ত্র বলতেন, নাচতেন এবং সময় কাটাতেন। নিজের বাড়িতে সদস্য সংখ্যা কম হলে অন্যের বাড়িতে একসঙ্গে থাকতেন। কখনও একা থাকতেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেল্টিক জাতির এই ‘সাহ-উইন’ উৎসবই এখনকার দিনের ‘হ্যালোইন’ উৎসব।
কেন লাগে কুমড়ো?
হ্যালোইনের একটি অন্যতম বিশেষ উপাদান হল কুমড়ো। অনেকেই কুমড়ো দিয়ে সাজিয়ে তোলেন নিজেদের বাড়ি। কিন্তু কেন হঠাৎ কুমড়োই হয়ে উঠল উদযাপনের উপকরণ?
শোনা যায়, এক সময়ে উত্তর আমেরিকার পরিযায়ীরা শালগমের বদলে কুমড়োর ব্যবহার শুরু করেন। আমেরিকায় তখন ফসল কাটার সময়। তাই ক্ষেত থেকে অপদেবতাদের দূরে রাখতে কুমড়োর ভিতরে আলো জ্বালিয়ে রাখার প্রথা চালু হয়। কালেদিনে সেই ভাবনাই জায়গা করে নিয়েছে হ্যালোইনে। এখন আসল কুমড়োর বদলে নকল নানা জিনিস দিয়ে এই বাতি তৈরি করা হয়।
‘ট্রিক অর ট্রিট’
হ্যালোইনের মজার একটি খেলা হল ‘ট্রিক আর ট্রিট’। এই খেলা হ্যালোইনের মজাকে অনেকটাই বাড়িয়ে তোলে। ‘ট্রিক অর ট্রিট’ হল শিশুদের একটি খেলা। শিশুরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে আর দরজা নক করে বলে, ‘ট্রিক অর ট্রিট’। তখন বাড়ির মানুষের দায়িত্ব, তাদের ঝুলিতে কিছু ক্যান্ডি বা খাবার দেওয়া।
এখনও অনেকে বিশ্বাস করেন, অক্টোবরের ৩১ তারিখ মৃতের দেবতা সব আত্মাদের পৃথিবীতে আহ্বান জানান। ফলে তারা এসে ভিড় করেন পৃথিবীতে। আর সেই কারণেই এই দিনটি খুব ভয়ের বলে মনে করেন অনেকেই।
যদিও এখন এর সঙ্গে ভয়ের চেয়ে মজাই বেশি জড়িয়ে। এটি এমন একটি দিন, যেদিন মানুষ পরিবার-বন্ধু-আত্মীয়-প্রতিবেশীদের সঙ্গে মজা করে সন্ধ্যাটি কাটান। এবং ছুটি উপভোগ করেন।
সংক্ষেপে দেখুনডেটা সাংবাদিকতা কি? ডেটা সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ কেন?
২০২১ সালের জুলাই মাস। ভেনিজুয়েলার আমাজনাস রাজ্যের সুপেরিয়র প্রসিকিউটিরের অফিসে হাজির হলো আমাজনের গহীনে বাস করা সানেমা এবং ইয়েকোয়ানা আদিবাসী গোত্রের কয়েকজন। তাদের অভিযোগ, ‘গারিমপেইরো’ নামে পরিচিত ব্রাজিল থেকে আসা অবৈধ মাইনাররা সোনা উত্তোলন করায় তাদের আশেপাশের এলাকায় থাকা জলাশয়ে পারদ মিশে যাচ্বিস্তারিত পড়ুন
২০২১ সালের জুলাই মাস। ভেনিজুয়েলার আমাজনাস রাজ্যের সুপেরিয়র প্রসিকিউটিরের অফিসে হাজির হলো আমাজনের গহীনে বাস করা সানেমা এবং ইয়েকোয়ানা আদিবাসী গোত্রের কয়েকজন। তাদের অভিযোগ, ‘গারিমপেইরো’ নামে পরিচিত ব্রাজিল থেকে আসা অবৈধ মাইনাররা সোনা উত্তোলন করায় তাদের আশেপাশের এলাকায় থাকা জলাশয়ে পারদ মিশে যাচ্ছে, যার ফলে ব্যাপক হারে আদিবাসী গোত্রের লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
বরাবরের মতো এবারও তাদের কথাকে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হলো না। গত এক দশক ধরে তারা অভিযোগ জানিয়ে আসলেও স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় সরকার, কেউই তাদের অভিযোগ নিয়ে তেমন মাথা ঘামায়নি।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের আগ্রহ না থাকলেও আগ্রহ দেখালো সাংবাদিকরা। দীর্ঘদিন ধরেই ভেনিজুয়েলার অংশে থাকা আমাজনের ভেতরে অপরাধীদের কার্যক্রম কীভাবে চলে তা নিয়ে অনুসন্ধানের পরিকল্পনা চলছিলো। অবশেষে মাঠে নামলো অনুসন্ধানী সাংবাদিক প্রতিষ্ঠান স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল পাইস এবং আরমান্দো.ইনফো, যারা পানামা পেপার্স এবং প্যারাডাইজ পেপার্সের মতো প্রজেক্টেও জড়িত ছিল। এছাড়াও তাদের সাথে যুক্ত হলো পুলিৎজার সেন্টারের ট্রপিকাল ফরেস্ট রিসার্চ নেটওয়ার্ক।
অনুসন্ধানের প্রথম ধাপে ডেটা সাংবাদিকরা স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে আমাজনের বিভিন্ন অংশে উন্মুক্ত খনি এবং গোপন এয়ারস্ট্রিপ খুঁজে বের করার একটি অ্যালগরিদম তৈরি করেন। এরপর সেখান থেকে পাওয়া ডেটাকে প্লানেটডটকম, গুগল আর্থ এবং ডিজিটাল গ্লোবের স্যাটেলাইট ইমেজের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। এরপর অডিয়েন্সের কাছে উপস্থাপনের জন্য ম্যাপগুলোকে ম্যাপবক্স নামের একটি সফটওয়্যারে বসানো হয়, যার মাধ্যমে অডিয়েন্সরা নিজেরাই খুঁজে বের করতে পারেন ভেনিজুয়েলার কোথায় কোথায় অপরাধ কার্যক্রম চালানো হয়।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, জঙ্গলের ভেতরে থাকা এই গোপন এয়ারস্ট্রিপগুলোতে নিয়মিতভাবে ব্রাজিলসহ অন্যান্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন অবৈধ বিমান আসে, যেগুলো আমাজনের ভেতরে অবৈধভাবে মাইনিং করা সোনা পাচারের কাজে লাগানো হয়। এছাড়াও এই স্ট্রিপগুলো মাদক পাচারের কাজেও ব্যবহার করা হয়।
ভেনিজুয়েলার আমাজন অংশে খনি (লাল) এবং এয়ারস্ট্রিপের (হলুদ ও নীল) অবস্থান; Image Source: Armando.info
এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর পরই ভেনিজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনী ‘বলিভারিয়ান ন্যাশনাল আর্মড ফোর্সেস (এফএএনবি)’ আমাজনের ভেতরের অবৈধ মাইনারদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। তাদের অভিযানে প্রচুর মাইনিং কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যা ভেনিজুয়েলার ইতিহাসে এর আগে হয়নি।
ডেটাজার্নালিজমডটকম তাদের কাছে ২০২২ সালের সেরা ৯ ডেটা সাংবাদিকতা প্রজেক্টের একটি হিসেবে ছয়-পর্বের এই প্রতিবেদনকে জায়গা দিয়েছে। আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষা, অপরাধীদের অপরাধ কার্যক্রম প্রকাশ করাসহ আরও বিভিন্নভাবে এই প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সাংবাদিকতার ফরম্যাট হোক কিংবা কন্টেন্ট, নানাভাবে এতে বিভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে ডেটা সাংবাদিকতা। কী কী কারণে ডেটা সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোই দেখে নেওয়া যাক।
ফরম্যাটভিত্তিক গুরুত্ব
জটিল তথ্যের ভিজ্যুয়ালাইজেশন
ট্রেডিশনাল সাংবাদিকতা থেকে ডেটা সাংবাদিকতার একটি মূল পার্থক্য হলো ডেটা সাংবাদিকতায় জটিল তথ্যের ভিজ্যুয়ালাইজেশন করা সম্ভব, যেটি ট্রেডিশনাল সাংবাদিকতায় করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ডেটা সাংবাদিকরা বিভিন্ন ধরনের ভিজ্যুয়ালাইজেশন সফটওয়্যার এবং পদ্ধতি ব্যবহার করে জটিল ডেটাসেটকে সহজভাবে অডিয়েন্সের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। অ্যাবস্ট্রাক্ট ডেটাকে থেকে নান্দনিক ও পাঠযোগ্য ভিজ্যুয়ালাইজেশনে রূপান্তর করার ফলে অডিয়েন্স নিজেই ভিজ্যুয়ালাইজেশন থেকে মূল বার্তা অনুধাবন করে নিতে পারে এবং নিউজ স্টোরি থেকে উপসংহারে পৌঁছাতে পারে।
যেমন: গ্লোবাল মিডিয়া মনিটরিং প্রোজেক্ট-এর তৈরি একটা ডেটাবেজ থেকে পাওয়া ডেটা থেকে নারীরা কীভাবে সংবাদপত্রের শিরোনামে উপস্থাপিত হয়, তা নিয়ে একটি ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন তৈরি করে ইন্টারঅ্যাক্টিভ ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দ্য পুডিং। ডেটাবেজের বিশাল টেবিল থেকে অডিয়েন্সের পক্ষে কোনো ডেটারই পাঠোদ্ধার করা সম্ভব নয়। তবে ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করে তা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল যদি ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে দেখানো হয়, তবে তা থেকে সহজেই ডেটার প্রকৃত অবস্থা বোঝা সম্ভব। আর সেটিই করেছে দ্য পুডিং। দেখা যায়, নারীকেন্দ্রিক সংবাদ শিরোনামের বেশিরভাগই সহিংসতার সাথে সম্পর্কিত। এছাড়াও এ ধরনের সংবাদগুলো আরও বেশি সেনসেশনাল হয়। কোন সংবাদমাধ্যমে নারীদেরকে বেশি সেনসেশনালাইজ করা হয়েছে, কোন শব্দ কোন সময়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে, তাও নান্দনিক ইন্টারঅ্যাক্টিভ ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নতুন ফর্মের স্টোরিটেলিং
ডেটা সাংবাদিকতায় স্টোরিটেলিংয়ের এক নতুন ফরম্যাট দেখা যায়। ডেটা সাংবাদিকরা তাদের নিউজ স্টোরির ভেতরে চার্ট-গ্রাফ-ম্যাপ-থ্রিডি মডেলসহ নানা ধরনের ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন ব্যবহার করেন। একইসাথে অডিও, ভিডিও বা অ্যানিমেশনও ব্যবহার করেন অনেক সময়। লেখার ফাঁকে ফাঁকে এ ধরনের ফরম্যাটে তথ্য যুক্ত করার ফলে ডেটা সাংবাদিকরা বিভিন্ন সৃজনশীল উপায়ে তাদের প্রতিবেদনের স্টোরিটেলিং-এর ধরন সাজাতে পারেন। এটি একদিকে যেমন তাদেরকে বিভিন্ন উপায়ে প্রতিবেদন সাজাতে সাহায্য করে, তেমনি পাঠকেরাও নানা মাধ্যমে তথ্য পেয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করতে পারেন।
যেমন: ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ তুরস্ক ও উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সেখানের ভূমিকম্পের প্রকৃত অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, ভূমিকম্প কীভাবে হয়, ভূমিকম্পে প্রতিরোধে কী কী করা যেতে পারে, সেগুলো তুলে ধরার জন্য রয়টার্সের একদল সাংবাদিক তাদের প্রতিবেদনে লেখার পাশাপাশি ছবি, ভিডিও, ড্রোন ফুটেজ, ম্যাপ, থ্রিডি মডেল, ইলাস্ট্রেশন, চার্ট ব্যবহার করেন। এর ফলে ভূমিকম্প নিয়ে একটি বিস্তারিত চিত্র পাঠকের সামনে ফুটে ওঠে।
ইন্টারঅ্যাক্টিভিটি
ডেটা সাংবাদিকতার অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর ইন্টারঅ্যাক্টিভ ফিচার, যেখানে অডিয়েন্স নিজেই ডেটার সাথে ইন্টারঅ্যাকশন করতে পারে। ইন্টারঅ্যাক্টিভ ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশনের ক্ষেত্রে অডিয়েন্সের সামনে ভিজ্যুয়ালাইজেশন আকারে ডেটা উন্মুক্ত থাকে, অডিয়েন্স তার ইচ্ছা অনুযায়ী, তার আগ্রহ অনুযায়ী ডেটার ভেতর থেকে তার জন্য আগ্রহোদ্দীপক তথ্য খুঁজে বের করে। এর উদ্দেশ্য অডিয়েন্সকে এক্সপ্লোর করার সুযোগ করে দেওয়া। কেবল গুরুতর সংবাদ ঘটনাই নয়, বিভিন্ন আগ্রহোদ্দীপক বিষয়েও ইন্টারঅ্যাক্টিভ ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন তৈরি করা যেতে পারে।
যেমন: ‘দ্য পুডিং’ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ব্যাংকনোটে কাদের ছবি রয়েছে, তা নিয়ে ‘Who’s in Your Wallet?’ নামের একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রতিবেদন তৈরি করে। ব্যাংকনোটে থাকা ব্যক্তিদের পেশা কী, তাদের লিঙ্গ কী, তারা কোন দিক দিয়ে প্রথম, তাদের জন্মসাল এবং জীবনকাল কোন সময়ে ছিল, তার বেশ কয়েকটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রতিবেদনজুড়ে রয়েছে।
সংক্ষেপে দেখুনসাংবাদিকতা হলুদ হয়, সাদা কাল লাল নীল সবুজ হয় না কেন?
সাংবাদিকরা মাঝে মাঝে হলুদ হয়, সাদা, কাল,লাল,নীল,সবুজ কেন হয়না? হলুদ সাংবাদিকতা আমাদের সমাজে খুব প্রচলিত একটা শব্দ। যেটা বলতে আমরা সাধারণত মিথ্যা,অপপ্রচার, কাপুরুষোচিত সংবাদকেই হলুদ সাংবাদিকতা বুঝি। প্রশ্ন হলো হলুদ সাংবাদিকতা কেন বলা হয়। বিভিন্ন কালার তো আছে, হলুদ রঙের সাথে এর সম্পর্ক কি ? হাজারো পেশবিস্তারিত পড়ুন
সাংবাদিকরা মাঝে মাঝে হলুদ হয়, সাদা, কাল,লাল,নীল,সবুজ কেন হয়না? হলুদ সাংবাদিকতা আমাদের সমাজে খুব প্রচলিত একটা শব্দ। যেটা বলতে আমরা সাধারণত মিথ্যা,অপপ্রচার, কাপুরুষোচিত সংবাদকেই হলুদ সাংবাদিকতা বুঝি। প্রশ্ন হলো হলুদ সাংবাদিকতা কেন বলা হয়। বিভিন্ন কালার তো আছে, হলুদ রঙের সাথে এর সম্পর্ক কি ? হাজারো পেশার মধ্যে সাংবাদিকতা একটি মহৎ ও সম্মানজনক পেশা। তবে এর সঙ্গে আর অন্য দশটি পেশার পার্থক্য অনেক। তাই মহান পেশায় থেকে দেশের জন্য কাজ করা হলো সাংবাদিকের পেশা এবং কাজ।
আজকাল এ পেশায় হলুদ সাংবাদিকতা বেড়ে গেছে আশংখ্যাজনক হারে। তারা প্রশাসনের তদবির ছাড়া কিছুই বুঝেনা। কিছু আছে সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে চলে। ধরে নেয়া যাক তারা হলুদ, দূর্নীতিবাজ লোক তাদের দ্ধারা দেশ-জাতী কিভাবে উপকৃত হবে!
একজন ভালো ও পেশাদার সাংবাদিক হওয়ার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করতে হবে এমনটা জরুরি নয়। তবে পড়ালেখা থাকলে ভালো সাংবাদিক হতে পারে। সাংবাদিকদের সব কাজের কাজী হতে হয়। অনেক বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান থাকা একজন সাংবাদিকের জন্য জরুরি। সেটা খেলা, অর্থনীতি-বাণিজ্য, আইন-আদালত, সংবিধান, জ্বালানির মতো বিষয় হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত থাকা একজন বলেন, নিজে যখন কিছু সাংবাদিকের বিভিন্ন কর্মকান্ড দেখে সমালোচনামূখর হই, তখন আমার সহকর্মীরাই আমার সমালোচনা করেন। যেখানে যাই ঘটুক না কেন, সবগুলোকে নিজেদের দলসূত্রে বেঁধে ফেলি। এর মাঝ দিয়ে হয়তো আক্রান্ত হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়, কিন্তু নিজেদের দায়টুকুর দিকে নজর দেয়া হয়ে ওঠেনা। সব সাংবাদিক নির্যাতনই অপরাধীদের কাজ নয়, কখনও কখনও আমাদের পেশার প্রতি অন্য মানুষের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভও হতাশা থেকেও এটি হতে পারে। আমরা যদি বারবার সাংবাদিক নির্যাতন বলে এড়িয়ে যাই, তাহলে এরকম ঘটনা বন্ধ হবেনা। আমাদেরকে খুঁজে দেখতে হবে সাংবাদিকদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনোভাব কী?
এক শ্রেণির তথাকথিত সাংবাদিকদের কর্মকান্ডে মানুষ ধীরে ধীরে এই পেশার প্রতি শ্রদ্ধা হারাচ্ছে। এই সমস্যার বড় কারণ হরেদরে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ। এই সুযোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং এই নিয়ন্ত্রণ আরোপে প্রকৃত সাংবাদিকদের সাহসী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। মিডিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাংবাদিক। তাদের মধ্যে হকার, গাড়ির লাইনম্যান, ওষুধ কোস্পানির সেলসম্যান, ইন্সুরেন্সকর্মী, গরু চোর, জুয়াড়ি, মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহণ শ্রমিক নেতাও রয়েছে। প্রতিভাবানরা এই সেক্টরে আসছেন না বলে অনেক সময় প্রায় অযোগ্য কিছু মানুষকে দিয়ে কাজ চালানো শুরু হয়েছে। এদের কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেনি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। এসব প্রশিক্ষণবিহীন, সাংবাদিকতা সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞানবিহীন অদক্ষরা শিং-গজানো বাছুরের মতো বুকে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে উন্মত্তের মতো আচরণ করছে। এরা সরকারি বেসরকারি অফিসে গিয়ে ধমক দিয়ে কাজ করাতে চায়। এর বাইরে আছে স্বঘোষিত ধান্দাবাজদের সাংবাদিক হয়ে ওঠা। পাড়া মহল্লার কিছু একটা ছাপিয়েই তারা স্বঘোষিত সাংবাদিক হয়ে উঠেছে। যেনতেন প্রকারের অনলাইন ২৪ পত্রিকা বের করে চলছে ব্ল্যাকমেইলিং আর চাঁদাবাজি। এসব সাংবাদিক’দের দায় নিতে হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদেরকেও।
কথা হচ্ছে এসব ঠেলা সামলাবে কে? সব পেশারই লাইসেন্স প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান থাকে। সব বই পড়ে ঝালাপালা হয়ে গেলেও সনদ নিতে হবে। এসব সনদের কারণে একজন পেশাজীবী তার নিজের পেশার প্রতি সৎ থাকার অঙ্গীকার করেন। সনদ থাকার কারণে আমরা সাধারণ মানুষরা বুঝতে পারি যে, আসলেই আমাকে সেবা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন কি না। সেবা প্রদানে গুরুতর কোনো অনৈতিকতা থাকলে আমরা বিচারপ্রার্থী হতে পারি এবং দায়ী ব্যক্তির সনদ বাতিল করে তাকে পেশা থেকে সরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা আছে। তাই এই ধরনের পেশাদারিত্বের নিবন্ধন ও সনদ একজন মানুষকে নিজ পেশায় দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করে।
সাংবাদিকতা একটি স্পর্শকাতর পেশা। যে কারও হাতে যেভাবে ছুরিকাঁচি তুলে দিয়ে অপারেশনের সার্জন বানিয়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য হয় না। একইভাবে যে কারও হাতে কলম-ক্যামেরা-বুম তুলে দিয়ে তাকে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্ব দেয়াও উচিত নয়।
সংক্ষেপে দেখুন