সাইন আপ করুন সাইন আপ করুন

সাইন আপ করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে


আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

লগ ইন করুন লগ ইন করুন

লগিন করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

কোন একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন

রিসেট পাসওয়ার্ড

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।

আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

দুঃক্ষিত, প্রশ্ন করার অনুমতি আপনার নেই, প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে.

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে।

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

দুঃক্ষিত, ব্লগ লেখার অনুমতি আপনার নেই। লেখক হতে হলে addabuzzauthor@gmail.com ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে অনুমতি নিন। (Sorry, you do not have permission to add post. Please send a request mail to addabuzzauthor@gmail.com for giving permission.)

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?

সাইন ইনসাইন আপ

AddaBuzz.net

AddaBuzz.net Logo AddaBuzz.net Logo

AddaBuzz.net Navigation

  • হোমপেজ
  • ব্লগ
  • ইউজার
  • যোগাযোগ
সার্চ করুন
একটি প্রশ্ন করুন

Mobile menu

Close
একটি প্রশ্ন করুন
  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

ashad khandaker

সবজান্তা
প্রশ্ন করুন ashad khandaker
526 বার প্রদর্শিত
2 ফলোয়ার
2,496 প্রশ্ন
হোমপেজ/ ashad khandaker/উত্তর
অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • সম্পর্কিত
  • প্রশ্ন
  • উত্তর
  • অনুরোধের প্রশ্ন
  • সেরা উত্তর
  • পছন্দ তালিকা
  • ফলোকৃত প্রশ্ন
  • ফলোয়ার
  • ফলো করছেন
  • জরিপ
  • ব্লগ
  • ব্লগ মন্তব্য
  • ফলোকৃতদের প্রশ্ন
  • ফলোকৃতদের উত্তর
  • ফলোয়ারদের ব্লগ
  • ফলোকৃত/ফলোয়ারদের ব্লগ মন্তব্য
  1. সময়ঃ 5 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসলে কিভাবে তার পরিচয় বের করতে পারি? আর অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসা বন্ধ করার কোন উপায় আছে কি?

    ashad khandaker
    সেরা উত্তর
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ধান ৩টি উপায়ের মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে, বিভিন্ন এপস বা ওয়েবসাইট থেকে অচেনা মোবাইল নাম্বারের পরিচয় বের করার মাধ্যম। এপস বা ওয়েবসাইট দিয়ে পরিচয় বের করতে চাইলে, সেক্ষেত্রে True Caller খুবই জনপ্রিয় একটি এপস। আপনারা হয়তো অনেকে এটার নাম জানেন। তবুও যারা জানেন না, তাদের জন্য আবার বলব আজ। True Caller ছাড়াও আরওবিস্তারিত পড়ুন

    ধান ৩টি উপায়ের মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে, বিভিন্ন এপস বা ওয়েবসাইট থেকে অচেনা মোবাইল নাম্বারের পরিচয় বের করার মাধ্যম। এপস বা ওয়েবসাইট দিয়ে পরিচয় বের করতে চাইলে, সেক্ষেত্রে True Caller খুবই জনপ্রিয় একটি এপস। আপনারা হয়তো অনেকে এটার নাম জানেন। তবুও যারা জানেন না, তাদের জন্য আবার বলব আজ।

    True Caller ছাড়াও আরও ৫টি এপস বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করতে পারবেন। ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে একদম ফ্রিতেই পরিচয় বের করা সম্ভব। আসুন এপস/ওয়েবসাইটগুলোর নাম ও কাজ সম্পর্কে জানা যাক।

    ট্রু কলার এপ (True Caller)

    True Caller হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল নাম্বার ট্রাকিং এপসগুলোর মধ্যে একটি। এই এপসটি কেনো এত জনপ্রিয়? আসুন সংক্ষেপে জানা যাক।

    ধরুন, আপনি কারো মোবাইল নাম্বার জানার জন্য এপসটি ডাউনলোড করলেন। তারা আপনাকে ফ্রি সার্ভিসের মাধ্যমে মোবাইল নাম্বার থেকে অচেনা লোকটির নাম জানিয়ে দিল। কিন্তু দুনিয়ায় কি কেউ ফ্রি ফ্রি কাজ করে দেয়? নিশ্চয়ই না। তাহলে ট্রু-কলার কেনো দিল? কারণ, তারা আপনাকে মোবাইল নাম্বার থেকে পরিচয় জানানোর বিনিময়ে, আপনার ফোনের সব মোবাইল নাম্বার তাদের সার্ভারে সেইভ করে নিয়েছে।

    আসল রহস্য আসা করি বুঝেছেন। বর্তমানে তাদের ৮৮+ মিলিয়ন ব্যবহারকারী আছে। তাহলে তাদের কাছে কতগুলো মোবাইল নাম্বার সেইভ করা আছে, একটু ভাবুন।

    যাই হোক, আপনি True Caller দিয়ে অচেনা নাম্বার সহজে বের করতে পারবেন। এটা ছাড়াও আরও কিছু এপসের কথা নিচে বলছি, তবে একটা কথা। ট্রু-কলার নামানোর আগে, বন্ধু-বান্ধবির নাম্বারগুলো সুন্দরভাবে সেভ করে নিন। নইলে সবার নাম্বার কুত্তা-বিলাই নামে অটোমেটিক সেইভ হয়ে যাবে তাদের সার্ভারে। গুগল প্লে স্টোরে এপসটি সহজেই পেয়ে যাবেন।

    মোবাইল নাম্বার লোকেটর (Mobile Number Locator)

    Mobile Number Locator হচ্ছে মোবাইল নাম্বার জানার ও তার অবস্থান জানার একটি এপস। বিশেষ করে ট্রাকিং এর জন্য এটির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। এই এপসটি Incoming & Outgoing Call এর সময়, মোবাইল নাম্বারের পরিচয় জানিয়ে দিতে পারে অনেকসময়। অর্থাৎ, অচেনা কেউ কল দিলেই তারনাম স্ক্রিনে ভেসে উঠতে পারে।

    আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এটি চালাতে প্রায়ই সময় ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হয়না। তবে Google MAP এর মাধ্যমে এই এপস থেকে মোবাইল নাম্বারের লোকেশন জানতে অবশ্যই ডাটা কানেকশন লাগবে

    হুসকল (Whoscall)

    Whoscall হচ্ছে True Caller এর মত ২য় এপস। ২০১৯ সালে মার্কেটে এসেও, এদের বর্তমান ব্যবহারকারী প্রায় ৭০+ মিলিয়ন। অর্থাৎ খুবই জনপ্রিয় একটি এপস। এটি আপনারা গুগল প্লে-স্টোরে পেয়ে যাবেন।এই Whoscall এপসটি Spam Call কে সহজেই Block করে দিতে পারে। এছাড়াও এর আলাদা কিছু ফিচার আছে। এপস নামালেই বুঝতে পারবেন।

    ফাইন্ড এড ট্রেস (Find And Trace)

    Find and Trace একটি ওয়েবসাইট, এটি কোন App নয়। এই ওয়েবসাইটটি শুধু মোবাইল নাম্বারই নয়; পাশাপাশি গাড়ি, ল্যান্ডলাইন, STD, ISD Code সহ ইত্যাদি খুব সহজেই খুঁজে দিতে পারে।

    এই ওয়েবসাইটে ঢুকে আপনাকে বিরক্ত করা অচেনা মোবাইল নাম্বারটি লিখে সার্চ করলেই কাংখিত তথ্য পেয়ে যেতে পারেন। তবে এটি আগের দুটি এপস এর মত জনপ্রিয় না। তাই অনেকসময় অচেনা নাম্বারের তথ্য নাও পেতে পারেন।

    এই এপস বা ওয়েবসাইটগুলো ছাড়াও আরো কিছু এপস এর মধ্যে রয়েছে Call App, Eyecon, Sync ইত্যাদি। তবে বাংলাদেশি অনেকে Eyecon ব্যবহার করে থাকেন।

    সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচয় বের করু

    অনেকসময় সামাজিক যোগাযোগ এর মাধ্যমেও খুব সহজেই পরিচয় বের করা যায়। কারণ, এসবে একাউন্ত খুলতে মোবাইল নাম্বারের প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য এপসগুলো হচ্ছে – Facebook, IMO, Vibre, Telegram, Whatsapp ইত্যাদি।

    Facebook এর মাধ্যমে পরিচয় তেমন জানা যায়না, তবুও সার্চ করে দেখতে পারেন। অনেকসময় অনেকে নাম্বার হাইড করে রাখেনা। সেক্ষেত্রে আপনি সহজেই তাকে প্রোফাইলসহ গ্রেফতার করতে পারবেন, মানে পরিচয় জানতে পারবেন।
    IMO তে পরিচয় জানা খুবই সহজ।

    কারণ, বিশ্বের প্রায় ৪ (চার) কোটি মানুষ ইমো ব্যবহার করেন। তার মানে পৃথিবীর ৪ কোটি মানুষের নাম্বার ইমোতে সেভ করা আছে। তাও আবার ছবিসহ। আপনি যে নাম্বারটির পরিচয় জানতে চান, সেটিকে ইমোতে সার্চ করুন এবং পরিচয় ছবিসহ জেনে নিন।

    Vibre, Telegram, Whatsapp এ মোবাইল নাম্বার জানতে হলে, অচেনা মোবাইল নাম্বারটি যেকোনো নামে মোবাইলে সেইভ করুন। সেই অচেনা নাম্বারে যদি সেসব একাউন্ট থাকে, তাহলে আপনি তার পরিচয় জেনে নিতে পারবেন।

    ডিবি পুলিশ এর সরনাপন্ন হোন অথবা থানায় যান

    যদি আপনাকে কেউ অতিরিক্ত বিরক্ত করে, তাহলে সোজা পুলিশের কাছে চলে যান। দেশের মধ্যে একমাত্র পুলিশই মোবাইল নাম্বারের পরিচয়সহ লোকেশন বের করতে ১০০% সক্ষম। তাই থানায় গিয়ে তাদেরকে আপনার সমস্যার কথা বলুন। তারা সর্বোচ্চ ৩ দিনের মধ্যেই অপরিচিত ব্যাক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

    আর আপনাকে যদি ফোনে কেউ হুমকি দেয়, তাহলেও আপনি থানায় গিয়ে জিডি করতে পারেন। জিডি খরচ একদম ‘ফ্রি’।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  2. সময়ঃ 4 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    daraz customer care number for online shopping Bangladesh

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    Contact Daraz customer care staff/ Daraz hotline number by calling at 16492

    Contact Daraz customer care staff/ Daraz hotline number by calling at 16492

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 1
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  3. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    আমাদের সৌরজগৎ কিভাবে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি পরিভ্রমণ করে?

    ashad khandaker
    সেরা উত্তর
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আমাদের গ্যালাকটিক হোম হল মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা, যার মধ্যে অবস্থান করছে সূর্য এবং পুরো সৌরজগৎ পরিবার। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বয়স প্রায় ১৩.৬ বিলিয়ন বছর। আর মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। তাই মহাবিশ্বের বয়স যখন খুব অল্প ছিল, তখনই মিল্কিওয়ের উদ্ভব হয়। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির আচরণ অনেকটা ‘বিস্তারিত পড়ুন

    আমাদের গ্যালাকটিক হোম হল মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা, যার মধ্যে অবস্থান করছে সূর্য এবং পুরো সৌরজগৎ পরিবার। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বয়স প্রায় ১৩.৬ বিলিয়ন বছর। আর মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। তাই মহাবিশ্বের বয়স যখন খুব অল্প ছিল, তখনই মিল্কিওয়ের উদ্ভব হয়। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির আচরণ অনেকটা ‘রাক্ষসের’ মত বলে মনে করেন অনেক বিজ্ঞানী। কেননা মিল্কিওয়ে গঠনের সময় এটি অনেক ছোট ছোট গ্যালাক্সি গ্রাস করে ফেলেছিল। এভাবে মিল্কিওয়ে বিস্তৃত হয়ে আজকের আকারে এসেছে। ১০০-৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের মিল্কিওয়ে সৃষ্টির ইতিহাস কেমন? কী কী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই গ্যালাক্সির? চলুন জেনে নেই আমাদের সৌরজগতের আশ্রয়স্থল এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি সম্পর্কে।

    শিল্পীর তুলিতে চিত্রিত মিল্কিওয়ে।

    লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসের মতে, অ্যারিস্টটলের সময়ে ধারণা করা হত “Milkyway is such a spot where the celestial spheres came into contact with the terrestrial spheres.” অর্থাৎ ‘মিল্কিওয়ে এমন একটি জায়গা যেখানে মহাজাগতিক বস্তুরা পার্থিব বস্তুর সংস্পর্শে এসে মিলিত হয়।’ কিন্তু মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার আসল পরিচয় উদঘাটন করতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ২০ শতক পর্যন্ত সময় লেগে যায় এবং তারা খুঁজে পান আকাশের অসংখ্য গ্যালাক্সির মধ্যে আকাশগঙ্গাও একটি! মহাবিশ্বের একদম শুরুর দিকে কোনো গ্যালাক্সি বা নক্ষত্র ছিল না। বিগ ব্যাঙের পর মহাবিশ্ব ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত – তখন ছিল না কোনো পদার্থের অস্তিত্ব। ধীরে ধীরে মহাবিশ্ব শীতল হতে থাকে ও চারদিকে গ্যাস বিস্তৃত হতে থাকে। এর মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় গ্যাস বেশি পরিমাণে সমবেত হতে থাকে এবং গ্যাসের গোলা তৈরি করতে থাকে। এক পর্যায়ে নক্ষত্রের উদ্ভব হয় ও নক্ষত্রগুলো একে অপরকে মহাকর্ষীয় বলে আকর্ষণ করে প্রকাণ্ড গুচ্ছের মত গঠন করে। এভাবে সৃষ্টি হয় একেকটি গ্যালাক্সি। শুরুর দিকের এমন নক্ষত্রের গুচ্ছকে বলা হয় Globular cluster (বর্তুলাকার স্তবক বা গ্লোবুলার স্তবক)। ধারণা করা হয়, মিল্কিওয়ের কিছু কিছু ক্লাস্টার একদম প্রাথমিক মহাবিশ্বে গঠিত হয়েছিল। অনেকগুলো ক্লাস্টার গ্যালাক্সির কোর গঠন করার পরেই মিল্কিওয়ে গঠিত হয়েছিল। এগুলোর দ্রুত ঘূর্ণনগতির ফলে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি একটি চ্যাপ্টা ডিস্কের মত আকৃতি ধারণ করে। অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে দুটি কাঠামোর উদ্ভব হয় – প্রথমত গোলাকার ‘হ্যালো’ ও পরবর্তীতে ঘন, উজ্জ্বল ডিস্ক। আমাদের সৌরজগতের অবস্থান এই ডিস্কের ভেতর। রাতের আকাশে মিল্কিওয়ের প্রান্তে যে দুধের মত সাদা ব্যান্ডটি দেখা যায় তা আসলে অসংখ্য অগণিত তারার সমষ্টি। আমাদের এই গ্যালাক্সিকে রোমানরা ‘Via Lactea’ বলতো যার অর্থ ‘The road of milk’। এমনকি দুধের গ্রীক পারিভাষিক শব্দ থেকে গ্যালাক্সি শব্দের উদ্ভব। যদিও এর পেছনে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই যে ঠিক এই কারণেই মিল্কিওয়ের এমন নামকরণ করা হয়েছিল।

    মিল্কিওয়ের সবচেয়ে পুরোনো নক্ষত্রগুলির অবস্থান হল গ্যালাকটিক হ্যালোর ভেতরে এবং তুলনামূলক নতুন নক্ষত্রগুলোর অবস্থান ডিস্কের মধ্যে। এটি প্রমাণ করে যে মিল্কিওয়ে যখন ভর অর্জন করতে থাকে তখন নক্ষত্রগুলোর এই দুই ধরণের অবস্থানের কারণে পারস্পারিক কক্ষপথের সৃষ্টি হয় এবং গ্যালাক্সির ঘূর্ণনের ওপর তা প্রভাব ফেলে। ফলে মিল্কিওয়ে একটি সর্পিল আকৃতি লাভ করে। এজন্য মিল্কিওয়েকে ‘Barred Spiral Galaxy’ বলা হয়। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ৪টি মুখ্য স্পাইরাল বাহু রয়েছে – নরমা এবং সিগন্যাস, সাজিটারিয়াস, স্কিউটাম-ক্রাক্স, পারসিয়াস। স্পাইরাল বাহু এটি গ্যালাক্সির নতুন নক্ষত্র উৎপাদনের প্রধান জায়গা। স্পাইরাল বাহু নতুন, নীলাভ, উজ্জ্বল নক্ষত্র ও নেবুলা দ্বারা সজ্জিত থাকায় স্পষ্টত দৃশ্যমান। এই গ্যালাক্সিতে বছরে ৭টার বেশি নক্ষত্রের জন্ম হয়। এর কেন্দ্রে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল Sagittarius A* বিদ্যমান।

    মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ব্যাস প্রায় ১০০০০০ আলোকবর্ষ এবং সূর্য এর কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৬০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। সূর্য তার পরিবারসহ গ্যালাক্সির দুটো মুখ্য স্পাইরাল বাহু পারসিয়াস ও সাজিটারিয়াস বাহুর মধ্যবর্তী গৌণ অরিয়ন-সিগন্যাস বাহুর ভেতরের প্রান্তে অবস্থিত। সূর্যের প্রায় ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর লাগে গ্যালাক্সির চারদিকে একবার ঘুরে আসতে। ধারণা করা হয়, প্রোটোস্টার (খুব অল্প বয়সী তারকা) অবস্থা থেকে অর্থাৎ সূর্যের জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ বার এই গ্যালাক্সি ভ্রমণ করেছে। তাই কসমিক ইয়ার অনুযায়ী সূর্যের বয়স মাত্র ২০ বছর!

     

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বহু বছর পূর্বে একটি বড়সড় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল, যার ফলে এতে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়। এটি ‘Gaia Sausage’ নামে পরিচিত। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮-১০ বিলিয়ন বছর আগে মিল্কিওয়ের সাথে একটি বামন গ্যালাক্সির সংঘর্ষ হয় এবং বামন গ্যালাক্সিটি এই সংঘর্ষে টিকে থাকতে পারে নি। ফলে এর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো মিল্কিওয়ের মধ্যে। সসেজ আকৃতির হওয়ায় এটিকে বলা হয় ‘Sausage’ গ্যালাক্সি যার সর্বমোট ভর ছিল সূর্যের ভরের ১০ বিলিয়ন গুণেরও বেশি। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় অন্তত ৮টি বৃহদাকার ক্লাস্টার মিল্কিওয়েতে এসেছে Sausage গ্যালাক্সি থেকে। মনে করা হয়, Sausage গ্যালাক্সি থেকে যেসব অবজেক্ট মিল্কিওয়েতে এসেছে সেগুলো মিল্কিওয়ের ভর ১০% বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংঘর্ষের ফলে মিল্কিওয়ের ডিস্কের ব্যাপক পরিবর্তন হয়। এর ফলে গ্যালাকটিক ডিস্কটির দুটি অংশ সৃষ্টি হয়। একটি পাতলা ডিস্ক ও আরেকটি পুরু ডিস্ক। পুরু ডিস্কের নক্ষত্রগুলো গ্যালাকটিক সমতলের সাপেক্ষে পাতলা ডিস্কের নক্ষত্রগুলোর চেয়ে  গড়ে ২০ কিলোমিটার/সেকেন্ড বেশি গতিসম্পন্ন। প্রায় ১০ বিলিয়ন বছরের পুরনো নক্ষত্রগুলোর অবস্থান পুরু ডিস্কে, অন্যদিকে তুলনামূলক কম বয়সী নক্ষত্রগুলোর অবস্থান পাতলা ডিস্কে।

    European Space Agency-র একটি স্পেস অবজারভেটরি হল ‘Gaia satellite’ যা মিল্কিওয়ের নক্ষত্রগুলোর ম্যাপিং ও খুঁটিনাটি বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

    মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও এর আদি অবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা অনেক তথ্যই দিয়েছেন। তবে মিল্কিওয়ের অনেক অজানা ঘটনা ও ১৩.৬ বিলিয়ন বছর আগে ঠিক কীভাবে শুরু হয়েছিল মিল্কিওয়ের যাত্রা সেসব রহস্য উদ্ধার করা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। এখন পর্যন্ত সেই ‘কসমিক ডার্ক এইজ’- যখন মহাবিশ্বে কোনো স্টার বা গ্যালাক্সি ছিল না, তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে ও বিজ্ঞানের আরও অগ্রযাত্রার সাথে সাথে আমরা হয়ত ভবিষ্যতে মিল্কিওয়ের একদম শুরুর দিকের অবস্থা জানতে পারব!

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  4. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মোবাইল (অ্যান্ড্রয়েড ও IOS)

    বাংলাদেশে অচিরেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনিবন্ধিত সব মোবাইল হ্যান্ডসেট । কিভাবে নিবন্ধন করবেন আপনার মোবাইল?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে
    উত্তরটি এডিট করা হয়েছে।

    নিবন্ধনহীন মোবাইল খুব তাড়াতাড়ি দেশের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল হ্যান্ডসেট অনিবন্ধিত থাকলে খুব সহজেই তা নিবন্ধন করে নেয়া যায়। মোবাইল ফোন মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন পৃথিবীকে একেবারে মানুষের হাতেরবিস্তারিত পড়ুন

    নিবন্ধনহীন মোবাইল খুব তাড়াতাড়ি দেশের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল হ্যান্ডসেট অনিবন্ধিত থাকলে খুব সহজেই তা নিবন্ধন করে নেয়া যায়।

    মোবাইল ফোন মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন পৃথিবীকে একেবারে মানুষের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। বিশ্বে বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাতশো কোটিরও বেশি। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় একানব্বই শতাংশ মানুষের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। বাংলাদেশে মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি ছাড়িয়েছে। প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি এবং প্রায় দুই কোটি মোবাইল ফোন দেশেই সংযোজিত হচ্ছে।

    দেশে গ্রাহকদের হাতে থাকা সচল কিন্তু অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের আওতায় আনতে চায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন(বিটিআরসি)। অবৈধ/নকল মোবাইল আমদানি, চুরি/প্রতারণা বন্ধে, অপরাধীদের সহজে চিহ্নিত করতে, গ্রাহকদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    নিবন্ধনবিহীন সকল মোবাইল ফোন বন্ধে পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নির্দেশনা দেন।

    বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটকালে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানান।

    আপনার মোবাইল ফোন কেনার আগে সেটার বৈধতা যাচাই করে নিতে হবে। যদি সেটটি অবৈধ হয় তাহলে সেটা না কেনার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি। আবার হ্যান্ডসেটটি কিনে আনার পর যদি দেখেন এটি অবৈধ তাহলে তিনি ক্রয় রশিদ দেখিয়ে হ্যান্ডসেটটি পূর্ণ দামে ফেরত দিতে পারবেন। যদি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ফেরত নিতে না চায় তাহলে বিষয়টি বিটিআরসিকে অবহিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

    বর্তমানে বিটিআরসির ডাটাবেজে সবগুলো মোবাইল অপারেটর থেকে পাওয়া আইএমইআই নম্বর এর মাইগ্রেশন কার্যক্রম চলছে। সেজন্য গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিদেশ থেকে কেনা বা উপহার পাওয়া মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন প্রক্রিয়া জানিয়েছে বিটিআরসি। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেটগুলো নিবন্ধনের আওতায় আনা যাবে। জেনে নিন যেভাবে বিদেশ থেকে কেনা বা উপহার পাওয়া হ্যান্ডসেট নিবন্ধন করবেন।

    যে কোন মাধ্যমে (বিক্রয় কেন্দ্র, অনলাইন বিক্রয় কেন্দ্র, ই-কমার্স) মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে নিম্ন বর্ণিত উপায়ে বৈধতা যাচাই করার পাশাপাশি ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।

    ধাপ-১: মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD১৫ ডিজিটের IMEI নম্বরটি লিখুন। উদাহরণ স্বরূপ: KYD 123456789012345

    ধাপ-২: IMEI নম্বরটি লিখার পর ১৬০০২ নম্বরে প্রেরণ করুন।

    ধাপ-৩: ফিরতি ম্যাসেজ এর মাধ্যমে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বৈধতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

    ওয়েবসাইটে মোবাইল ফোন যেভাবে যাচাই করবেন

    প্রথমে neir.btrc.gov.bd লিংকে ভিজিট করে আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করুন। এরপর পোর্টালের Special Registration সেকশনে গিয়ে মোবাইল হ্যান্ডসেট এর IMEI নম্বরটি দিন।

    প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ছবি/স্ক্যান কপি(যেমনঃ পাসপোর্টের ভিসা/ইমিগ্রেশন তথ্যাদি, ক্রয় রশিদ ইত্যাদি) আপলোড করুন এবং Submit বাটনটি প্রেস করুন।

    হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। হ্যান্ডসেটটি বৈধ না হলে এসএমএস এর মাধ্যমে গ্রাহককে জানিয়ে পরীক্ষাকালীন সময়ের জন্য নেটওয়ার্কে সংযুক্ত রাখা হবে।

    সেই সময় পার হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের সাহায্যেও এই সেবা নেয়া যাবে।

    বর্তমানের ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী একজন ব্যক্তি বিদেশ থেকে শুল্কবিহীন সর্বোচ্চ দুইটি এবং শুল্কপ্রদান করে আরও ছয়টি হ্যান্ডসেট সাথে আনতে পারেন।

    যেভাবে ব্যবহৃত মোবাইল হ্যান্ডসেটের বর্তমান অবস্থা যাচাই করবেন

    আপনার ব্যবহৃত মোবাইল হ্যান্ডসেটের বর্তমান অবস্থাও আপনি যাচাই করে নিতে পারেন কয়েকটি ধাপ মেনে।

    প্রথমে মোবাইল হ্যান্ডসেট থেকে *১৬১৬১# নম্বরে ডায়াল করুন। স্ক্রিনে দেখানো অপশন থেকে Status Check অপশন সিলেক্ট করুন।

    এরপর অটোমেটিক বক্স আসলে সেখানে হ্যান্ডসেটের ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বরটি লিখে সেন্ড করুন। হ্যাঁ/না অপশন সম্বলিত একটি অটোমেটিক বক্স আসলে হ্যাঁ Select করে নিশ্চিত করুন।

    ফিরতি মেসেজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের হালনাগাদ অবস্থা জানানো হবে।

    মোবাইল ফোন সেটের আইএমইআই নম্বর জানা না থাকলে ডায়াল অপশনে গিয়ে *#০৬# চাপলে আইএমইআই নম্বর পাওয়া যাবে। এছাড়া মোবাইলের বক্সে কিংবা মোবাইলের পেছনে একটি স্টিকারেও এটি লেখা থাকে।

    neir.btrc.gov.bd ওয়েব লিংকে গিয়ে বিদ্যমান সিটিজেন পোর্টাল এবং মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারেও এই সেবা পাবেন গ্রাহকরা। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সম্পর্কে আরও জানতে ডায়াল করুন বিটিআরসি’র হেল্পডেস্ক নম্বর ১০০ অথবা মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার নম্বর ১২১।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  5. সময়ঃ 5 বছর আগেক্যাটাগরিঃ পড়াশোনা

    কিছু বাংলা শব্দের অর্থ বলতে পারবেন যা আমরা নিজেদের অজান্তেই ভুল ভাবে বলে থাকি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

     তাপানুকূল, বাতানুকূল: ইংরেজি ‘Air-Conditioned’-এর বাংলা ‘বাতানকূল’ বা ‘শীতাতপনিয়ন্ত্রিত’ কিন্তু লেখা হচ্ছে ‘তাপানুকূল’। ‘তাপানুকূল’ শব্দের ইংরেজি হচ্ছে ‘Thermo-Conditioned’।  দেই, দিই: ক্রিয়াপদ হিসেবে ‘দেই’ শব্দটি আঞ্চলিক বা কথ্যরীতির। এর পরিবর্তে লেখ্যরীতিতে ‘দিই’ , ক্রিয়াপদ হিসেবে এ রকম অশুদ্ধ শববিস্তারিত পড়ুন

     তাপানুকূল, বাতানুকূল: ইংরেজি ‘Air-Conditioned’-এর বাংলা ‘বাতানকূল’ বা ‘শীতাতপনিয়ন্ত্রিত’ কিন্তু লেখা হচ্ছে ‘তাপানুকূল’। ‘তাপানুকূল’ শব্দের ইংরেজি হচ্ছে ‘Thermo-Conditioned’।

     দেই, দিই: ক্রিয়াপদ হিসেবে ‘দেই’ শব্দটি আঞ্চলিক বা কথ্যরীতির। এর পরিবর্তে লেখ্যরীতিতে ‘দিই’ , ক্রিয়াপদ হিসেবে এ রকম অশুদ্ধ শব্দ ‘নেই’; শুদ্ধ ‘নিই’। যেমন: আমরা পাঁচ বছর পর ভোট ‘দিই’।

    দেয়া, দেওয়া: ‘দেওয়া’ শব্দের স্থানে ‘দেয়া’ লেখা হচ্ছে। ‘দেওয়া’ শব্দের অর্থ প্রদান করা। অপরদিকে ‘দেয়া’ শব্দের অর্থ মেঘ বা বৃষ্টি। কাজেই আমরা আদেশ ‘দেওয়া’ হলো লিখব। ‘দেয়া’ কথ্যরীতির শব্দ। লেখ্য ভাষায় বেমানান। সুতরাং সাধু ও চলিতে ‘দেওয়া’ লিখব। এ রকম একটি শব্দ ‘নেয়া’ নয়; ‘নেওয়া’ হবে।

    ধরন, ধারণ: ‘ধরন’ শব্দটি তদ্ভব বা খাঁটি বাংলা শব্দ। কাজেই এখানে ‘ণ’ হবে না। যেমন: তোমার ব্যবসায়ের ‘ধরন’ কী? কিন্তু ‘ধারণ’ শব্দে ‘ণ’ হবে। কারণ এটি তৎসম শব্দ। ণত্ব বিধানে বলা হয়েছে, সাধারণত তৎসম শব্দে র, ঋ, ষ এর পরে ‘ণ’ ব্যবহার হয়। যেমন: ধারণক্ষমতা, কারণ কী, করুণ দৃশ্য প্রভৃতি। কিন্তু ক্রিয়াপদে ‘র’ থাকলেও ‘ন’ হবে। যেমন: এখন কাজটি করুন।

    পদক্ষেপ: ‘পদক্ষেপ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘পা ফেলা’ বা ‘পদার্পণ’/ ‘পদচারণা’/ ‘হাঁটা’। ‘ব্যবস্থা গ্রহণ’ অর্থে ‘পদক্ষেপ’ শব্দটির প্রয়োগ প্রচলিত হলেও সংগত নয়। এ ক্ষেত্রে ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ না-বলে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ বলা যেতে পারে।

    ফলশ্রুতি, ফলশ্রুতিতে: ‘ফলশ্রুতি’ শব্দের একটি অর্থ হলো কর্মের ফল, শ্রবণ, অর্থাৎ কোনো পুণ্যকর্ম করলে যে ফল হয় তা শোনা এবং তার বিবরণ। অন্যদিকে, পুণ্যকাহিনি শ্রবণে যে ফল পাওয়া যায় তা-ও ফলশ্রুতি। ফলশ্রুতি শ্রবণে মানুষের মনে ধর্মভাবের উন্মেষ ঘটে। এ উন্মেষ ঘটাও ফলশ্রুতি। তাই ‘ফলে’ কথাটির পরিবর্তে ফলশ্রুতিতে
    লেখা ঠিক না।

     ইদানীংকাল: ‘ইদানীং’ শব্দের অর্থ বর্তমান সময়। তাই ইদানীংয়ের সঙ্গে ‘কাল’ শব্দটির প্রয়োগ ভুল।

     

    ইতিপূর্বে, ইতিমধ্যে: সংস্কৃতে ‘ইত’ একটি অব্যয়, যার অর্থ এই, এই স্থানে। ইতঃ-এর সঙ্গে পূর্বে ও মধ্যে শব্দের সন্ধি করলে সন্ধির নিয়মে ইতঃপূর্বে ও ইতোমধ্যে হয়। এই কারণে শব্দদ্বয় অশুদ্ধ।

     

    উপরোক্ত: উপরে লেখা হয়েছে এমন বোঝাতে প্রায়ই উপরোক্ত শব্দটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সংস্কৃত ব্যাকরণের সন্ধির নিয়মে ‘উপর্যুক্ত’ বা ‘উপরিউক্ত’ শব্দটি শুদ্ধ। উপরোক্ত শব্দটি প্রচলিত হলেও ভুল।

     গণপ্রজাতন্ত্রী: শব্দটি ভুল। বিশেষণের শুদ্ধ প্রয়োগ‑ ‘গণতান্ত্রিক’ বা ‘গণপ্রজাতান্ত্রিক’ দেশ।

     ছাত্র–ছাত্রীরা: ‘ছাত্র-ছাত্রী’ শব্দটিই বহুবচনজ্ঞাপক। সুতরাং এরপর ‘রা’ যুক্ত করার আবশ্যকতা নেই।

     তবুও: তবুও শব্দটির ‘ও’ প্রত্যয় আধিক্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। শব্দটি প্রচলিত হলেও ভুল। শুদ্ধ শব্দটি ‘তবু’।

     ভাষাভাষী: ভাষা ব্যবহারকারী অর্থে ভাষীই যথার্থ। তাই ভাষাভাষী প্রয়োগ অশুদ্ধ।

     শুধুমাত্র: ‘শুধু’ শব্দের সঙ্গে ‘মাত্র’ যোগ করলে একই অর্থে বাহুল্য দোষে অশুদ্ধ হবে। শুদ্ধরূপ ‘শুধু’ অথবা ‘মাত্র’। যেমন: রাজু শুধু কোরআন পড়তে পারে, কিন্তু আরবি লিখতে পারে না। কিন্তু টাকার চেকে লিখতে হবে‑ এক লক্ষ টাকা মাত্র। এখানে শুধু শব্দ লেখা যাবে না।

     সৌজন্যতা: ‘সৌজন্য’ শব্দটিই বিশেষ্য। অতিরিক্ত ‘তা’ প্রত্যয় যোগে বিশেষ্য করা বাহুল্য।

     সৌন্দর্যতা: ‘সৌন্দর্য’ শব্দটিই বিশেষ্য। অতিরিক্ত ‘তা’ প্রত্যয় যোগে বিশেষ্য করা অশুদ্ধ।

     হার/শতাংশ: ‘আমদানি শুল্কের হার ৩০ শতাংশ’ এই বাক্যটি ভুল। কারণ হার এবং শতাংশ একই অর্থবোধক শব্দ। তাই শুদ্ধ বাক্য হবে ‘আমদানি শুল্কের পরিমাণ ৩০ শতাংশ’।

     থাকাকালীন সময়: থাকাকালীন শব্দের অর্থই থাকার সময়ে। অতিরিক্ত ‘সময়’ এখানে বাহুল্য দোষ।

     অন্যতম: ‘অন্যতম’ শব্দটির অর্থ অনেকের মধ্যে একজন। ব্যক্তি বা মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার ঠিক। কিন্তু বস্তুর ক্ষেত্রে যেমন‑ অন্যতম খাদ্য, অন্যতম কাপড় ইত্যাদি ব্যবহার করা ভুল।

     আলস্যতা, অলসতা‑ আলস্য শব্দের পর অতিরিক্ত ‘তা’ প্রত্যয় যোগে বিশেষ্য শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া এ ক্ষেত্রে অনাবশ্যক। ‘আলস্য’ নিজেই একটি বিশেষ্য পদ ও শুদ্ধ শব্দ। তবে ‘অলস’ শব্দটি বিশেষণ হওয়ায় ‘তা’ প্রত্যয় যোগ করে বিশেষ্য ‘অলসতা’ শব্দটি শুদ্ধ হবে।
    হত / হতো: নিহত অর্থে ‘হত’ আর ক্রিয়াবাচক শব্দ হিসেবে ‘হতো’ ব্যবহৃত হয়।

     বুঝা / বোঝা: ক্রিয়া অর্থে ‘বুঝা’ আর বিশেষ্য অর্থে ‘বোঝা’ হবে। কিছু উদাহরণ দেখে নেওয়া যেতে পারে: ১. এটি তোমার বুঝার ভুল। ২. ভাষা বলতে কী বুঝায়? ৩. বুঝতে পারছি না, শেষ পর্যন্ত আমি তোমার বোঝা হয়ে দাঁড়াই কি না।

     ওঠে / উঠে : বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়ার বর্তমান কাল বুঝাতে ‘ওঠে’ আর অসমাপিকা ক্রিয়া বুঝাতে কিংবা সমাপিকা ক্রিয়ার পূর্ববর্তী অসমাপিকা ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ‘উঠে’ ব্যবহৃত হবে।
    যেমন: ১. সে ভোরে ঘুম থেকে ওঠে। ২. সূর্য পূর্ব দিকে
    উঠে পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। তবে অতীত এবং ভবিষ্যৎকাল বুঝাতে সমাপিকা ক্রিয়ায় ‘উ’ থাকবে। যেমন: ১. তপু উঠত সবার আগে। ২. আমি এবার একাদশ শ্রেণিতে উঠব।

     অনেকগুলো: অনেক বহুবচন শব্দ। তাই আবার ‘গুলো’ বহুবচন শব্দ লিখে বাহুল্য দোষ করা ঠিক হবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, গাছে অনেকগুলো আম আছে। শুদ্ধ হবে—গাছে অনেক আম আছে।

     

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  6. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    কোন বই পড়ার পর আপনার অনেক আফসোস হয়েছিল যে, কেন এই বইটি আরও আগে পড়েন নি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    পূর্ব-পশ্চিম    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    পূর্ব-পশ্চিম   

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 1
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  7. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    বিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপগুলোর নাম কি এবং সেগুলো কোথায় কোথায় স্থাপন করা হয়েছে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    রিপ্লাই করেছেন 2 বছর আগে

    সেগুলো কোথায় কোথায় স্থাপন করা হয়েছে?

    সেগুলো কোথায় কোথায় স্থাপন করা হয়েছে?

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  8. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    হযরত আদম (আঃ) থেকে হযরত মোহাম্মদ (সা%) এর বংশ তালিকা কেউ জানেন কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    পৃথিবীর প্রথম মানব ও মানবী হযরত আদম (আ) ও মা হাওয়া (আ)। এই দুজনের মাধ্যমে পৃথিবীতে শুরু হয় মানুষের বংশবিস্তার। সীরাত রচয়িতা ও বংশধারা বিশেষজ্ঞগন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পুরো বংশধারা বের করার চেষ্টা করেছেন। যা অনেকদূর পর্যন্ত অনেকটাই নির্ভূল বলে সবাই একমত। চলুন তাহলে আজ দেখে নেই হযরবিস্তারিত পড়ুন

    পৃথিবীর প্রথম মানব ও মানবী হযরত আদম (আ) ও মা হাওয়া (আ)। এই দুজনের মাধ্যমে পৃথিবীতে শুরু হয় মানুষের বংশবিস্তার।

    সীরাত রচয়িতা ও বংশধারা বিশেষজ্ঞগন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পুরো বংশধারা বের করার চেষ্টা করেছেন। যা অনেকদূর পর্যন্ত অনেকটাই নির্ভূল বলে সবাই একমত। চলুন তাহলে আজ দেখে নেই হযরত আদম (আ) থেকে মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত পুরো বংশ পরম্পরাটি কিভাবে এসেছে।

    হযরত আদম (আ)-

    তাঁর পুত্র শীশ (আ)

    তার পুত্র আনুশা-

    তার পুত্র কায়নান-

    তার পুত্র মাহলায়েল-

    তার পুত্র ইয়াদ-

    তার পুত্র আখনুখ/ইদরিস (আঃ)-

    তাঁর পুত্র মাতুশালাখ-

    তার পুত্র লামেক-

    তার পুত্র নূহ (আঃ)-

    তাঁর পুত্র সাম-

    তার পুত্র আরফাখশাদ-

    তার পুত্র শালেখ-

    তার পুত্র আবের-

    তার পুত্র ফালেজ-

    তার পুত্র রাউ-

    তার পুত্র ছারুদা (সারুগ)-

    তার পুত্র নাহুব-

    তার পুত্র তারাহ (আযর)-

    তার পুত্র ইবরাহীম (আ)

    হযরত ইবরাহিম (আঃ)-

    তাঁর পুত্র ইসমাঈল-

    তাঁর পুত্র কায়দার-

    তার পুত্র আরাম-

    তার পুত্র আওযা-

    তার পুত্র মাযি-

    তার পুত্র সুমাই-

    তার পুত্র জারাহ-

    তার পুত্র নাহেছ-

    তার পুত্র মাকছার-

    তার পুত্র আইহাম-

    তার পুত্র আফনাদ-

    তার পুত্র আইশার-

    তার পুত্র যায়শান-

    তার পুত্র আই-

    তার পুত্র আরউই-

    তার পুত্র ইয়ালহান-

    তার পুত্র ইয়াহাজান-

    তার পুত্র ইয়াসরেবী-

    তার পুত্র সুনবর-

    তার পুত্র হামদান-

    তার পুত্র আদদায়া-

    তার পুত্র ওবায়েদ-

    তার পুত্র আবকার-

    তার পুত্র আয়েয-

    তার পুত্র মাখি-

    তার পুত্র নাহেশ-

    তার পুত্র জাহেম-

    তার পুত্র তারেখ-

    তার পুত্র ইয়াদলাফ-

    তার পুত্র বালদাস-

    তার পুত্র হাজা-

    তার পুত্র নাশেদ-

    তার পুত্র আওয়াম-

    তার পুত্র উবাই-

    তার পুত্র কামোয়াল-

    তার পুত্র পোজ-

    তার পুত্র আওছ-

    তার পুত্র ছালামান-

    তার পুত্র হামিছা-

    তার পুত্র আওফ-

    তার পুত্র আদনান

    আদনান-

    তার পুত্র মায়া’দ-

    তার পুত্র নাযার-

    তার পুত্র মোদার-

    তার পুত্র ইলিয়াস-

    তার পুত্র মাদরেকা (আমের)-

    তার পুত্র খোযায়মা-

    তার পুত্র কেনানা-

    তার পুত্র নযর কায়েস-

    তার পুত্র মালেক-

    তার পুত্র ফাহার (কোরায়েশ উপাধি এবং তাঁর নামে কোরায়েশ গোত্র) –

    তার পুত্র গালেব-

    তার পুত্র লোয়াই-

    তার পুত্র কা’ব-

    তার পুত্র মাররা-

    তার পুত্র কেলাব-

    তার পুত্র কুসাই (যায়েদ)-

    তার পুত্র আবদ মাননাফ (মুগীরা)-

    তার পুত্র হাশেম (আমর)-

    তার পুত্র আবদুল মোত্তালেব (শায়বা)-

    তার পুত্র আবদুল্লাহ-

    তার পুত্র মোহাম্মদ (সাঃ)

     

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  9. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    জোনাকির মিটমিট আলোর রহস্য কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    রাতের আঁধারে জোনাকি পোকার মিট মিট আলো আমাদের অনেকের শৈশবেরই এক বিস্ময়কর স্মৃতি। বিশেষ করে যাদের শৈশব কেটেছে গ্রামে, তাদের কাছে জোনাকি পোকা ছিল একটি আবেগের বিষয়। তবে জোনাকির এমন আলো জ্বালানো দেখে আমাদের কৌতূহলও কিন্তু কম হত না। বিস্ময় ভরা চোখে অনেকেই ভাবতাম কিভাবে জোনাকি এই আলো জ্বালিয়ে থাকে। পোকার সবিস্তারিত পড়ুন

    রাতের আঁধারে জোনাকি পোকার মিট মিট আলো আমাদের অনেকের শৈশবেরই এক বিস্ময়কর স্মৃতি। বিশেষ করে যাদের শৈশব কেটেছে গ্রামে, তাদের কাছে জোনাকি পোকা ছিল একটি আবেগের বিষয়। তবে জোনাকির এমন আলো জ্বালানো দেখে আমাদের কৌতূহলও কিন্তু কম হত না। বিস্ময় ভরা চোখে অনেকেই ভাবতাম কিভাবে জোনাকি এই আলো জ্বালিয়ে থাকে।

    পোকার সংক্ষিপ্ত পরিচয় 

    প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীর থেকে জোনাকি পোকা এই দিক দিয়ে একদমই অনন্য। জলচর অনেক প্রাণীর এমন আলো জ্বালানোর ক্ষমতা থাকলেও, স্থলচর প্রাণীর মধ্যে জোনাকিই একমাত্র। বৈজ্ঞানিকভাবে জোনাকি পোকা  Lampyridae নামে পরিচিত।  আর ইংরেজিতে এই পোকাটির নাম আরও সুন্দর- Firefly। এদের প্রায় ২০০০ এর মত প্রজাতি আছে যাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক জোনাকি আলো জ্বালতে পারে। এরা মূলত নিশাচর প্রাণী এবং নেকটার বা পোলেন খেয়ে বেঁচে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে এরা ক্ষুদ্র লার্ভা এবং পতঙ্গও খেয়ে থাকে। 

    জোনাকি পোকা কিভাবে আলো জ্বালে?

    জোনাকি পোকার আলোর রহস্য হল একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। মূলত এদের দেহের পেছনের অংশে একটি বাক্সের মত অংশে এই বিক্রিয়াটি ঘটে থাকে। এখানে লুসিফেরিন নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ লুসিফেরাস নামক এনজাইমের উপস্থিতিতে অক্সিজেন ও শক্তি ব্যাবহার করে আলো উৎপন্ন করে থাকে। আর বিশেষ প্রক্রিয়ায় জোনাকি পোকা অক্সিজেনের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে যা মূলত মিট মিট করে আলো জ্বালার পেছনে ভূমিকা রাখে। অক্সিজেন সরবরাহের উপর নির্ভর করে থাকে কখন আলো জ্বলবে এবং নিভবে। যখন এরা অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তখন আলো নিভে যায় এবং অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হলে বিক্রিয়া শুরু হয়ে আলো জ্বলে উঠে। 

    বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Bioluminescence. তবে অন্যান্য আলোক উৎসের মত এ প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় না। এই বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত শক্তি তাপশক্তি উৎপন্নে ব্যয় না হয়ে শুধু আলো উৎপন্ন করে থাকে যাকে “Cold light” বলা হয়ে থাকে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেননা তাপ উৎপন্ন হলে তা জোনাকির শরিল পুড়িয়ে দিতে পারে। 

    জোনাকি পোকা কেন আলো জ্বেলে থাকে?

    জোনাকি পোকা সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে দেখা যায়। অন্ধকারে এরা মিটমিট করে আলো জ্বালতে থাকে। তাদের এই আলো জ্বালানোর পেছনে মূল কারণ হল বিপরীত লিঙ্গের জোনাকি কে আকর্ষণ করা। সাধারণত পুরুষ জোনাকি পোকা স্ত্রী জোনাকি পোকাকে আকর্ষণ করার জন্য এভাবে আলো জ্বেলে থাকে। আর স্ত্রী জোনাকিরা পুরুষ জোনাকির এরূপ আলো জ্বালানোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সঙ্গী নির্বাচন করে। এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে আলোর তীব্রতা, প্যাটার্ন এবং আলো জ্বালানোর হার। যে পুরুষ জোনাকি দ্রুত এবং উজ্জ্বল আলো জ্বালতে পারে স্ত্রী জোনাকিরা তাদের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়। 

    তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে যে স্ত্রী জোনাকিরা কি আলো জ্বালে? হ্যাঁ, স্ত্রী জোনাকিরাও আলো জ্বালে। আর তাদের আলো জ্বালানোর উদ্দেশ্য হল পুরুষ জোনাকির সংকেতে সম্মতি প্রদান করা। যে পুরুষ জোনাকিকে কোন স্ত্রী জোনাকির পছন্দ হয়, তাকে আলো জ্বালিয়ে নিজের সম্মতি প্রকাশ করে। 

    আবার জোনাকির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এই আলোক সংকেত চিনতে পারা। কাজেই কোন পুরুষ সঙ্গীকে কোন স্ত্রী সঙ্গীর পছন্দ হয়েছে বা কোন পুরুষ সঙ্গীর উদ্দেশ্যে স্ত্রী সঙ্গী সংকেত পাঠিয়েছে তা চিনতে এদের ভুল হয় না। 

    তবে কিছু গবেষণা মতে জোনাকি তাদের এই বৈশিষ্ট্য টি পেয়েছে মূলত শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পেতে। বিবর্তনের ধারায় অন্যান্য শিকারি প্রাণীদের তাড়াতে তারা এই আলো জ্বালানোর ক্ষমতা অর্জন করে।  

    জোনাকি পোকা কি বিষাক্ত? 

    কিছু কিছু জোনাকি পোকার প্রজাতি বেশ বিষাক্ত। জোনাকি পোকার প্রায় ২০০০ প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে কিছু প্রজাতি রয়েছে যারা লুসিবুফেগিন্স নামক এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন করে থাকে। এই রাসায়নিক পদার্থটি পাখি বা অন্যান্য শিকারি দের হাত থেকে জোনাকিদের রক্ষা করতে সহায়তা করে। 

    নগরায়নের পাল্লায় পড়ে বর্তমান সময়ে জোনাকির দেখা মেলা ভার। শহরাঞ্চলে এর দেখা পাওয়া যায় না বললেই চলে। তবে গ্রামের আঁধারে এখনো দেখা মেলে অদ্ভুত এই পোকাটির।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  10. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    কোন ৮টি আবিষ্কার বদলে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    শুরুর দিকে মানুষ ছিলো অনেক অসহায়। তারা বাস করতো বনে জঙ্গলে। বিভিন্ন পশুপাখি শিকার করে খাদ্য সংগ্রহ করতো। আস্তে আস্তে মানুষ বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার করলো। তৈরি করলো নানা জিনিস। ফলে মানুষের জীবন হলো আরো সহজ, আরো নিরাপদ। আদিম যুগের সেইসব আবিষ্কার থেকে আধুনিক যুগের নিত্যনতুন প্রযুক্তি, সবই মানব সভ্যতাবিস্তারিত পড়ুন

    শুরুর দিকে মানুষ ছিলো অনেক অসহায়। তারা বাস করতো বনে জঙ্গলে। বিভিন্ন পশুপাখি শিকার করে খাদ্য সংগ্রহ করতো। আস্তে আস্তে মানুষ বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার করলো। তৈরি করলো নানা জিনিস। ফলে মানুষের জীবন হলো আরো সহজ, আরো নিরাপদ। আদিম যুগের সেইসব আবিষ্কার থেকে আধুনিক যুগের নিত্যনতুন প্রযুক্তি, সবই মানব সভ্যতাকে দিয়েছে অন্য এক রূপ। মানুষ এমন কিছু জিনিস আবিষ্কার করেছে যেগুলো না থাকলে আজকের পৃথিবী আমরা যেমনটা দেখছি তেমনটা হয়তো হতো না। চলুন জেনে নেই ঠিক এমনই ৮টি আবিষ্কার সম্পর্কে যেগুলো বদলে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে।

    ১) লাঙল

    আধুনিক যুগের নিত্য নতুন নানা আবিষ্কারের কাছে লাঙল বা হাল আবিষ্কার অনেকের কাছেই কিছুটা তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু এই লাঙলের আবিষ্কার না হলে বর্তমান পৃথিবীর অনেক কিছুই হয়তো আমরা আজকে দেখতাম না। লাঙল হলো জমি চাষের অন্যতম প্রাচীন একটি যন্ত্র। জমিতে বীজ বপন কিংবা চারা লাগানোর জন্য মাটিকে প্রস্তুত করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

    প্রাচীন মিশরীয় চিত্রকর্মে লাঙলের মাধ্যমে চাষ; Source: wikimedia.org

    ঠিক কবে কিংবা কোথায় এই লাঙল আবিষ্কার হয়েছিলো তা সঠিক জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয় এটি এককভাবে কেউ আবিষ্কার করেনি, বরং অনেকের ক্রমাগত উন্নয়ন সাধনের ফলে তা বর্তমানের রূপ পেয়েছে।  প্রাগৈতিহাসিক যুগেও লাঙল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। লাঙল বা হাল আবিষ্কারের আগে মানুষ সাধারণত পশুপাখি শিকার করতো কিংবা বিভিন্ন গাছপালা থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে খেতো। মানুষ যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতো খাদ্যের সন্ধানে। কিন্তু জমি চাষ করতে শেখার পর মানুষের জীবনে স্থায়িত্ব এলো। তারা নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে জমি চাষের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন করতে লাগলো। তবে শুধু খালি হাতে জমি চাষ করা ছিলো অনেক কষ্টসাধ্য ও সময়ের ব্যাপার। লাঙল আবিষ্কারের ফলে মানুষের এই কষ্ট দূর হলো।

    লাঙল আবিষ্কারের ফলে খুব সহজে জমি চাষ করা সম্ভব হলো; Source: wikimedia.org

    লাঙল আবিষ্কারের ফলে মানুষ দ্রুত ও ব্যাপক পরিমাণে ফসল ফলাতে লাগলো। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফসল বিক্রির প্রচলন শুরু হলো। আর এর থেকেই মানুষ সংখ্যা, হিসাব ইত্যাদি শিখলো। শুরু করলো ব্যবসা। আর বিপুল পরিমাণ মানুষ যখন এসবে লিপ্ত হলো তখন গড়ে উঠলো বিভিন্ন শহর। এক লাঙল আবিষ্কারের মাধ্যমেই গড়ে উঠলো মানব সভ্যতা।

    ২) চাকা

    লাঙলের পর যে আবিষ্কারটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো চাকার আবিষ্কার। এটিও এতটাই পুরানো এক আবিষ্কার যে ঠিক কবে এই চাকার আবিষ্কার হয়েছিলো তা কেউ জানে না। তবে সবচেয়ে পুরানো চাকাটি পাওয়া গিয়েছিলো স্লোভেনিয়াতে খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ অব্দে।

    চাকার বিবর্তনের চিত্র; Source: mentalfloss.com

    চাকা এমনই এক জিনিস যা আবিষ্কার না হলে মানব সভ্যতা হয়তো থেমে থাকতো। পেত না কোনো গতি। চাকা আবিষ্কারের ফলে যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা হলো আরো সুবিধাজনক ও দ্রুত। ঘোড়ায় টানা গাড়ির সাথে চাকা যুক্ত করার ফলে মানুষ পেলো অন্যতম দ্রুত এক পরিবহন ব্যবস্থা।

    শুধু পরিবহন ক্ষেত্রে নয়, চাকা আবিষ্কারের মাধ্যমে আরো দশ হাজারের বেশি প্রযুক্তির সূচনা হলো। বিভিন্ন পাওয়ার মিল, ফ্যাক্টরি, বিভিন্ন গিয়ার ও যন্ত্রাংশ ইত্যাদি সবই চাকার আকারে তৈরি করা হয়। বহু আধুনিক প্রযুক্তি আজ চাকার উপর নির্ভরশীল। বাস, ট্রেন, উড়োজাহাজ, পাওয়ার প্লাট, ইলেকট্রিক মোটর, জেট ইঞ্জিন ইত্যাদি চাকা ছাড়া কল্পনা করা অসম্ভব।

    ৩) ছাপাখানা

    জোহান গুটেনবার্গ ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম ছাপাখানা আবিষ্কার করেন। এর আগেও মানুষ কাগজ ও ব্লক প্রিন্টিং পদ্ধতি জানতো। তবে ছাপাখানার মাধ্যমে বইয়ের মুদ্রণ প্রথম চালু করেন গুটেনবার্গ।

    ছাপাখানার জনক জোহান গুটেনবার্গ; Source: thefamouspeople.com

    গুটেনবার্গ ব্লক প্রিন্টিং ও স্প্রিং প্রেসের সমন্বয় ঘটান। এছাড়াও তিনি ধাতব প্রিন্টিং ব্লক চালু করেন যা আগের কাঠের তৈরি অক্ষরের ব্লকগুলোর থেকে ছিলো অনেক বেশি নিখুঁত ও টেকসই। তিনি মুদ্রণের কালি ও কাগজ তৈরিতেও আনেন অনন্য পরিবর্তন যা পরবর্তীতে মুদ্রণ ব্যবস্থায় আনে বিপ্লব।

    একটি ছাপাখানার চিত্র; thinglink.com

    ছাপাখানা আবিষ্কারের ফলে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও তা মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলো। ছাপাখানা আবিষ্কারের আগে যেসব বই মুদ্রিত হতো তা ছিলো অনেক দামী। শুধুমাত্র ধনীরাই এ ধরণের বই কিনে পড়তে পারতো। কিন্তু ছাপাখানা আবিষ্কারের মাধ্যমে মুদ্রিত বইয়ের দাম কমে গেলো। বই মানুষের কাছে হলো সহজলভ্য। ফলে জ্ঞান-বিজ্ঞানে মানুষ অগ্রগতি লাভ করলো। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের পর্যাপ্ত শিক্ষা লাভ করতে পারলো এই ছাপাখানার মাধ্যমে। তাই ছাপাখানা আবিষ্কার না হলে হয়তো পৃথিবীর অনেক অংশেই পৌঁছাত না শিক্ষার আলো।

    ৪) যোগাযোগ মাধ্যম

    যোগাযোগ মাধ্যমের মূল আবিষ্কারগুলো হলো টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, রেডিও ও টেলিভিশন। ১৮৩৬ সালে স্যামুয়েল মোর্সের টেলিগ্রাফ আবিষ্কারের পর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসে অনন্য পরিবর্তন। এরপর টেলিফোন আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ অন্য একজন মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর বহুদূরে বসেও শুনতে সক্ষম হয়। ফলে কমে যায় মানুষের মধ্যবর্তী দূরত্ব।

    আলেক্সজান্ডার গ্রাহামবেলের আবিষ্কৃত প্রথম টেলিফোন; Source: sutterstock.com

    বিশ শতকের শুরুতে গুগলিয়েলমো মার্কোনি ও নিকোলা টেসলা বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে তারবিহীন সংকেত প্রেরণের প্রচলন করেন। আবিষ্কার হয় রেডিও। এরপর শব্দের সাথে সাথে ছবিও তরঙ্গের আকারে প্রেরণ করতে সক্ষম হয় মানুষ। এর মাধ্যমে আবিষ্কার হয় টেলিভিশন। আর এ আবিষ্কারের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বার্তা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে একযোগে সম্প্রচার করা সম্ভব হয়ে উঠে।

    সপরিবারে টেলিভিশন দেখছে বিমান বাহিনীর একজন সদস্য; Source: mashable.com

    যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন উন্নয়নের ফলে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের মানুষের কাছাকাছি আসতে সক্ষম হয়। যেখানে আগে এক দেশ হতে অন্যদেশে খবর পাঠাতে লাগতো কয়েক সপ্তাহ সেখানে এসব প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে এখন পৃথিবী অন্য প্রান্তে কী ঘটছে তা আমরা এখন সরাসরি নিজ বাসায় বসে দেখতে পাই।

    ৫) স্টিম ইঞ্জিন

    স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কারের আগে কলকারখানার বেশিরভাগ পণ্যই হাতে তৈরি হতো। এছাড়া পানি চালিত কিংবা পশু টানা যন্ত্রগুলোই ছিলো শক্তির প্রধান উৎস। ১৭১২ সালে থমাস নিউকোমেন সর্বপ্রথম বাষ্পকে কাজে লাগিয়ে পানির পাম্পের ইঞ্জিন তৈরি করেন। এরপর ১৭৬৯ সালে জেমস ওয়াট নিউকোমেনের এই ইঞ্জিনের কিছু পরিবর্তন আনেন। তিনি ইঞ্জিনে পানি থেকে বাষ্প প্রস্তুতকারী যন্ত্র সংযুক্ত করেন। ফলে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা আরো বেড়ে যায় আর ইঞ্জিনটি হয় আরো ব্যবহারযোগ্য। তার তৈরি এই ইঞ্জিন ঘূর্ণন শক্তি উৎপন্ন করতে পারতো।

    স্টিম ইঞ্জিন চালিত একটি ট্রেন; Source: limelightmagazine.com.au

    জেমস ওয়াটের এই ইঞ্জিন আবিষ্কারের ফলে মানুষ ইঞ্জিন চালিত গাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হলো। সেই সাথে তৈরি হলো ইঞ্জিন চালিত রেলগাড়ি। ফলে দ্রুতগতিতে এক স্থান হতে অন্য স্থানে যেতে সক্ষম হলো মানুষ। রেলগাড়ি কিংবা মোটরগাড়িতে ব্যবহার ছাড়াও স্টিম ইঞ্জিন ব্যবহৃত হতে লাগলো বিভিন্ন কলকারখানায়। কলকারখানা উৎপাদনের পরিমাণ গেলো বেড়ে। মানব সভ্যতা পেলো অনন্য এক গতি। এই স্টিম ইঞ্জিনের ব্যবহার বর্তমান এই আধুনিক যুগেও বিদ্যমান রয়েছে। এখনো বহু পাওয়ার প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য স্টিম চালিত টার্বাইন ব্যবহার করা হয়।

    ৬) বৈদ্যুতিক বাতি

    টমাস আলভা এডিসনকে আমরা বৈদ্যুতিক বাতির জনক হিসেবে জানলেও ১৮৭০ সালের দিকে প্রায় এক ডজন লোক এটির আবিষ্কার নিয়ে কাজ করছিলেন। এডিসন এই বিদ্যুতিক বাতির অনেক উন্নয়ন সাধন করেন। ঠিক এই সময়ই ব্রিটেনে জোসেফ সোয়ান নামের একজন এই একই জিনিস নিয়ে কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে এডিসন ও সোয়ান দুজনে মিলে ‘এডিসোয়ান’ নামে বৈদ্যুতিক বাতি তৈরির একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

    বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারের ফলে সহজে দূর হয় আধার; Source: businessinsider.com

    বৈদ্যুতিক বাতিতে একটি ফিলামেন্ট বা সরু তারের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ চালনা করা হয়। ফলে ফিলামেন্টটি থেকে আলো ও তাপ নির্গত হয়। ফিলামেন্টটি যাতে দ্রুত জ্বলে না যায় তাই এটিকে উচ্চ রোধ বিশিষ্ট পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয় এবং একটি বায়ুহীন বাল্বের মধ্যে রাখা হয়।

    বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের ফলে ঘরে বাইরে, অফিসে সব খানে সহজে আলোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। এর আগে গ্যাস ল্যাম্পের মতো অন্যান্য আলোর উৎস থাকলেও বিদ্যুৎ বাতির মতো সহজে তা সবখানে ব্যবহার করা যেত না। বৈদ্যুতিক বাতিই পৃথিবীর বহু অংশে পৌছে দিয়েছে আলো।

    ৭) কম্পিউটার

    কম্পিউটার বলতে আমরা আজকাল ডেক্সটপ কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ বুঝি। কিন্তু কম্পিউটার হচ্ছে এমন এক যন্ত্র যাতে কোনো তথ্য বা উপাত্ত প্রবেশ করালে সেই তথ্যকে নিপুণভাবে ব্যবহার নতুন তথ্য বা ফলাফল পাওয়া যায়। কম্পিউটার মানে গণনাযন্ত্র। চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হলেও বহু মানুষের হাত ধরে কম্পিউটার আজকের অবস্থায় এসেছে। আঠার শতকের দিকে বহু মেকানিকাল কম্পিউটার থাকলেও ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার এসেছে বিশ শতকের দিকে।

    প্রায় সবধরনের কাজই করা যায় আজকের দিনের কম্পিউটার গুলো দিয়ে; Source: phonearena.com

    কী করা যায় না এই কম্পিউটার দিয়ে! কঠিন কঠিন গাণিতিক সমস্যা মুহূর্তের মধ্যেই সমাধান করে দিতে পারে কম্পিউটার। গান শোনা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা প্রভৃতি আমাদের প্রতিদিনের সাধারণ কাজের পাশাপাশি আরো বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয় এই কম্পিউটার। মহাকাশ গবেষণা, সামরিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় কম্পিউটারই একমাত্র ভরসা। কম্পিউটার আবিষ্কার না হলে মানব সভ্যতা অনেক বেশি পিছিয়ে থাকতো। মানব সভ্যতার বিশাল একটি অংশ এখন কম্পিউটারের উপর নির্ভরশীল।

    ৮) ইন্টারনেট

    যে আবিষ্কারটি গোটা বিশ্বকে সবচেয়ে বেশি বদলে দিয়েছে সেটি হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেট হলো গোটা পৃথিবী জুড়ে এমন এক নেটওয়ার্ক যা যুক্ত করেছে প্রতিটি মানুষকে। যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো তথ্য যে কেউ যখন খুশি তখন পেতে পারে। কোথায় নেই ইন্টারনেটের ছোঁয়া! ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিনোদন সব ক্ষেত্রেই ভূমিকা রেখেছে ইন্টারনেট।

    পুরো পৃথিবীকে যুক্ত করছে ইন্টারনেট; Source: capoliticalreview.com

    ১৯৬০ সালে DARPA (Defense Advanced Research Projects Agency) নামের আমেরিকান সামরিক বাহিনীর একটি অংশ ARPANET নামের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যাতে সামরিক কাজের জন্য ব্যবহৃত সকল কম্পিউটার যুক্ত ছিলো। এরপর ১৯৭০ সালের দিকে চালু হলো বিভিন্ন নেটওয়ার্ক। কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা তৈরি করলেন এমন এক নেটওয়ার্ক যাতে এক নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা এক কম্পিউটারকে অন্য নেটওয়ার্কে যুক্ত কম্পিটারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। এটাই ছিলো ইন্টারনেটের প্রাথমিক অবস্থা। এর পরবর্তী দশ বছরে ইন্টারনেটের বহু উন্নতি সাধিত হয়। ফলে ইন্টারনেট ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে।

    ইন্টারনেট এমনই শক্তিশালী একটি আবিষ্কার যার ফল আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে শুরু করেছি। মানব সভ্যতা বর্তমানে পুরোপুরি ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ডিজিটাল পৃথিবী সৃষ্টির পেছেনে মূল ভূমিকা ইন্টারনেটের। ইন্টারনেট গোটা পৃথিবীকে পরিণত করেছে ছোট্ট একটি গ্রামে, যেখানে মুহূর্তের মধ্যেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের সকল খবরাখবর নেওয়া যায়। বিভিন্ন তথ্য অনেক সহজলভ্য হয়েছে এই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই। এখন আমাদের একদিনও চলে না এই ইন্টারনেট ছাড়া। আমাদের জীবনধারাকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে এটি। সামনের দিনগুলোতেও ইন্টারনেট আমাদের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে এমনটাই আশা করেন ভবিষ্যতবিদরা।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  11. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    কেউ কেউ ডানহাতি আবার কেউ কেউ বামহাতি কেন হয়?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    সারা পৃথিবীতেই মানুষের মধ্যে জাতিগত, বর্ণগত কিংবা অভ্যাসগত পার্থক্য আছে। এসব মুখ্য পার্থক্যের পাশাপাশি কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্যও আছে। মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পার্থক্যও এরকমই একটি। পরিসংখ্যান বলছে মানুষের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশই ডানহাতি। তাহলে সাধারণ গণিতের হিসেবে বাকি ১০-১৫ শতাংশ বামহাতি হওয়ার কবিস্তারিত পড়ুন

    সারা পৃথিবীতেই মানুষের মধ্যে জাতিগত, বর্ণগত কিংবা অভ্যাসগত পার্থক্য আছে। এসব মুখ্য পার্থক্যের পাশাপাশি কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্যও আছে। মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পার্থক্যও এরকমই একটি। পরিসংখ্যান বলছে মানুষের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশই ডানহাতি। তাহলে সাধারণ গণিতের হিসেবে বাকি ১০-১৫ শতাংশ বামহাতি হওয়ার কথা।

    প্রাচীন যুগ থেকেই মানব সমাজে ডানহাতি মানুষ যেমন ছিল, কিছু সংখ্যক বামহাতি মানুষও ছিল। যদিও বামহাতি হওয়ার কারণে তাদের অনেককেই পোহাতে হয়েছে নানা ধরনের অত্যাচার। কারণ কোনো ব্যক্তি বামহাতি হলে ধারণা করা হত যে, ওই ব্যক্তি শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত। কারণ বিভিন্ন সময়ে শয়তানকে বামহাতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ‘Sinister’ বা ‘অশুভ’ শব্দটি এসেছে ‘Left’ শব্দটি থেকে।

    ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষ ডানহাতি, বাকিরা বামহাতি হয়; Source: catholiccharities-sbc.org
    মধ্যযুগে বামহাত দিয়ে কোনো ব্যক্তিকে লিখতে বা খাবার খেতে দেখলে তাকেও শয়তানের দ্বারা আক্রান্ত, কিংবা শয়তানের বন্দনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। আধুনিক যুগ যদিও শিক্ষা-সংস্কৃতিতে অনেকদূর এগিয়ে গেছে এবং কুপ্রথা ও কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসেছে, তথাপি বামহাতি ব্যক্তিদের প্রতি সবারই আলাদা একপ্রকার মনোভাব আছে।

    তো এই যে, মানুষের মাঝে ডানহাতি কিংবা বামহাতি বৈশিষ্ট্যের দেখা মেলে, এই বৈশিষ্ট্যের মূল রহস্য কী? কেন মানুষ হয় ডানহাতি অথবা বামহাতি হয়?

    মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার পেছনে বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ প্রধানত দুইটি তত্ত্বের কথা বলেন। প্রথমটি প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব এবং অপরটি জিন-তত্ত্ব। যদিও দুইটি তত্ত্ব কিছুটা ভিন্নরকম মতামত দেয়, কিন্তু দুইটি তত্ত্বের কোনো একটিকে ভুল প্রমাণ করার মতো তথ্য-উপাত্ত এই মুহূর্তে নেই। অর্থাৎ দুইটি তত্ত্বই তাদের ‘পয়েন্ট অফ ভিউ’ থেকে সঠিক। এদেরকে একে অপরের পরিপূরকও বলা চলে।

    প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব অনুসারে, মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হয়েছে মূলত মানুষের ভাষা ও কথা বলার ক্ষমতার কারণে। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আসতে পারে যে ভাষা কিংবা সেই ভাষায় কথা বলার কারণে মানুষের ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার কী সম্পর্ক! সম্পর্ক আছে, বরং আরো বলা চলে ভাষা এবং সেই ভাষায় কথা বলা ছাড়াও লেখার ক্ষমতার কারণে এই ডানহাতি-বামহাতি স্বভাব সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু কীভাবে?

    একজন ডানহাতি মানুষের মস্তিষ্কের গঠন; Source: guernseydonkey.com
    মানুষ তার আদি থেকে যোগাযোগের জন্য সংকেত ব্যবহার করতো। সেই সংকেত কালক্রমে ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে। আধুনিক মানুষের ভাষা বাস্তবে কিছু ধ্বনি বা সংকেত ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে বেশিরভাগ মানুষের মস্তিষ্কের বাম অংশ ভাষা বা সংকেত প্রক্রিয়াকরণ করে। বাম মস্তিষ্ক আবার একই সাথে ডান হাতের পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। কেবল ডান হাতের পেশীই নয়, ডান চোখ, ডান কান, ডান পা-ও নিয়ন্ত্রণ করে বাম মস্তিষ্ক।

    ফলাফল দাঁড়াচ্ছে এই যে, ভাষা যেমন বলার সময় প্রথমে মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াকরণ হয়, তারপর মুখে আসে, তেমনি লেখার সময় ভাষা প্রথমে মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াকরণ হয় তারপর হাতে আসে। তাহলে, যাদের ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয় বাম মস্তিষ্কে, তাদের ডানহাত হবে কার্যকরী হাত। কারণ লেখার সময় ডান হাতের উপরই থাকবে লেখার ভার।

    আগেই হিসেব দেওয়া হয়েছে যে, প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষ ডানহাতি। অর্থাৎ, এই ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষের বাম মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়। বাকি ১০-১৫ শতাংশের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ডান অংশে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়। এবং ডান মস্তিষ্ক বাম হাতের পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ, তাদের ক্ষেত্রে বামহাতই হয় মুখ্য হাত। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণের উপরই নির্ভর করে ব্যক্তি ডানহাতি হবে নাকি বামহাতি হবে।

    বামহাতি মানুষের ডান মস্তিষ্কে ভাষার প্রক্রিয়াকরণ হয়; Source: webmd.com
    জিন তত্ত্ব, মানুষের শারীরিক কিংবা মানসিক সকল প্রকার বৈশিষ্ট্যের ধারক এবং বাহক হচ্ছে জিন। কারো চোখ কালো, কারো আবার বাদামী, কারো সাদা অথবা কারো চুলের রঙ কালো, কারো লাল, কারো আবার সোনালী কিংবা কেউ নীল রঙ পছন্দ করে, কেউ সবুজ ইত্যাদি- এইসব শারীরিক বা মানসিক বৈশিষ্ট্যের মূল কারণ আলাদা আলাদা জিন।

    মানুষের ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের কোনো জিনের অবদান আছে বলে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা মনে করেন। এক্ষেত্রে জেনেটিক মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন অন্যতম ভূমিকা পালন করে।

    সাধারণত একটি লোকেশনে একটি জিনের দুইটি অনুলিপি থাকে। এই অনুলিপিদ্বয়ের একটিকে অপরটির ‘অ্যালীল’ (allele) বলা হয়। ডান-বাম অসমতার ক্ষেত্রে একটি অ্যালীলকে বলা হয় D জিন। এই D এসেছে ‘Dextral’ শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘Right’। অপর অ্যালীলটিকে বলা হয় C জিন। C এসেছে ‘Chance’ শব্দ থেকে। অ্যালীল জিন কীভাবে কাজ করে সেটি আগে জানা প্রয়োজন। একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বোঝা যাক।

    ধরা যাক, কোনো মানুষের চোখের মনি বাদামী হওয়ার পেছনে একটি জিন কাজ করে। এর জিনোটাইপ ধরা যাক (Bb)। এখানে বাদামী বর্ণের জন্য দায়ী B জিনটি, কালো বর্ণের জন্য দায়ী b জিনের উপর প্রকট। বাদামী বর্ণের জন্য দায়ী জিন এসেছে পিতার জনন কোষ থেকে এবং কালো বর্ণের জন্য দায়ী জিন এসেছে মাতার জনন কোষ থেকে। তাহলে এই দুইটি জিন হচ্ছে একে অপরের অ্যালীল। এখানে যেহেতু B জিনটি প্রকট এবং b জিনটি প্রচ্ছন্ন, তাই সন্তানের চোখের মণির বর্ণ হয়েছে বাদামী।

    ঠিক একইভাবে ডানহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রকট জিন হচ্ছে D জিন। বেশিরভাগ ডানহাতি মানুষের ক্ষেত্রে ডানহাতি হওয়ার জন্য মূলত এই D জিনের ভূমিকা থাকে। বামহাতিদের ক্ষেত্রে থাকে C জিনের ভূমিকা। তবে মানুষের মধ্যে D জিনের প্রকটতা বেশি থাকায় অধিক সংখ্যক মানুষ ডানহাতি হয়ে থাকে। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে যে, কেবল C জিন প্রকট থাকলেও সেখানে বামহাতি হওয়ার সম্ভাবনা ৫০-৫০।

    ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার জিনগত তত্ত্ব; Source: Edited
    এখানে আরো একটি হাইপোথিসিস আছে। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে আমরা জানি যে, মানুষের মস্তিষ্কের যে অংশ ভাষা প্রক্রিয়াকরণ করে, তার বিপরীত হাত হয় মানুষের কর্তৃত্বপূর্ণ হাত। অর্থাৎ, বাম মস্তিষ্ক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ করলে মানুষ হয় ডানহাতি। এখানে জেনেটিক মিউটেশনের কিছু ব্যাপার আছে।

    ডিসলেক্সিয়া নামক একপ্রকার রোগ আছে। সহজ কথায় এই রোগের উপসর্গ হচ্ছে কোনো কিছু পড়ার অক্ষমতা। কথা বলার ভাষার সাথে বর্ণ এবং অক্ষরের সামঞ্জস্য বুঝতে না পারাটাই হচ্ছে ডিসলেক্সিয়া রোগীর বৈশিষ্ট্য। কারণ ডিসলেক্সিয়া রোগটি মস্তিষ্কের সেই অংশকে আক্রান্ত করে যে অংশ ভাষার প্রক্রিয়াকরণ করে।

    সাধারণ মস্তিষ্ক বনাম ডিসলেক্সিয়াগ্রস্ত মস্তিষ্ক; Source: brainconnection.brainhq.com
    এই রোগের কারণ মূলত জেনেটিক মিউটেশন। অ্যালীল সম্বন্ধে জিন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি অ্যালীল জিনের ক্ষেত্রে দুইবার মিউটেশনের সুযোগ থাকে। জিনের এই মিউটেশনের পর অনেক ক্ষেত্রেই আসল বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

    যেহেতু ডিসলেক্সিয়া মস্তিষ্কের ভাষা প্রক্রিয়াকরণ অংশে আক্রমণ করে, ফলে ব্যক্তির ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রেও এর কোনো ভূমিকা থাকতে পারে। ডিসলেক্সিয়া রোগের জন্য পিসিএসকে-৬ (PCSK-6) নামক একটি জিনকে দায়ী করা হয়। মানুষের ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে এই বিশেষ জিনের কোনো ভূমিকা আছে কিনা তা নিয়ে গবেষকরা অনেক গবেষণা করেছে।

    গবেষকরা বলছে যে, ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার জন্য পিসিএসকে-৬ জিনকে এককভাবে দায়ী করা যায় না, বরং এর সাথে সহযোগী হিসেবে আরো কতিপয় জিনের অবদান আছে। একত্রে এসব জিন মানুষের ডান-বাম অসমতার জন্য দায়ী। যেহেতু এখানে মিউটেশনের ব্যাপার আছে। কাজেই সর্বশেষ মিউটেশনের পরেই জানা যায় যে, আসলে ডান অংশ প্রধান, নাকি বাম অংশ।

    এখানে আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যাপার আছে। ডান-বাম অসমতার জন্য দায়ী জেনেটিক প্রক্রিয়া যখন কোনো কারণে বিঘ্নিত হয়, তখন গুরুতর কিছু শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে। যেমন, মানব শরীরের ডান অংশের অঙ্গ বা অঙ্গাণুগুলো বাম অংশে অবস্থান নিতে পারে এবং এর বিপরীত ঘটনাও ঘটতে পারে।

    এই ঘটনাকে বলা হয় সাইটাস ইনভার্সাস (Situs Inversus)। এই জিনগত পরিবর্তনের ফলেই অনেকের হৃৎপিণ্ড শরীরের বামপাশের পরিবর্তে ডানপাশে অবস্থান করে। এখন যদি ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ঘটনা শারীরিক অসমতার ফলাফল হয়, সেক্ষেত্রে সাইটাস ইনভার্সাসকে দায়ী করা যেতে পারে। কিন্তু এটি এখনো একটি হাইপোথিসিস এবং এটি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

    সাইটাস ইনভার্সাস; Source: healthjade.net
    আধুনিক গবেষণা আরো তথ্য দিচ্ছে আমাদের। যেমন আধুনিক গবেষকরা বলছে যে, ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মস্তিষ্ক নয় বরং স্পাইনাল কর্ডই দায়ী। মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স অঞ্চলে হাত ও পায়ের সঞ্চালন প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোটর কর্টেক্স এই সিগন্যাল স্পাইনাল কর্ডে প্রেরণ করে। স্পাইনাল কর্ড তখন এই সিগন্যালকে পেশী সঞ্চালন রূপান্তরিত করে।

    মানুষ যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন থেকেই কিন্তু এই ডান-বাম অসমতা লক্ষ্য করা যায়। গর্ভবতী মায়েদের উপর আল্ট্রাসনোগ্রাফির দ্বারা পরীক্ষা করে জানা যায় যে, গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রায় ১৩ সপ্তাহ পর থেকেই বাচ্চার মধ্যে হাত চোষার প্রবণতা দেখা যায়। অর্থাৎ, কোনো বাচ্চা ডান হাত চোষে, কোনো বাচ্চা চোষে বাম হাত।

    কিন্তু ১৫ সপ্তাহের আগে মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স এবং স্পাইনাল কর্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র তৈরি হয় না। তাহলে কীভাবে ১৩ সপ্তাহের বাচ্চার মধ্যে ডান-বাম অসমতা লক্ষ্য করা যায়?

    গবেষকদের গবেষণায় উঠে আসে সেই তথ্য। স্পাইনাল কর্ডের জিনগত বৈশিষ্ট্যই মূলত এখানে দায়ী। স্পাইনাল কর্ডের জিনের কার্যক্রমের কারণেই ডান-বাম অসমতার সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, তাদের গবেষণা মতে মস্তিষ্ক নয় বরং স্পাইনাল কর্ডের জিনগত বৈশিষ্ট্যই ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।

    ডান-বাম অসমতা অর্থাৎ, ডানহাতি কিংবা বামহাতি হওয়া ছাড়াও ‘Ambidextrous’ বা সব্যসাচী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষের সন্ধানও পাওয়া যায়। যদিও এই সংখ্যা খুবই নগণ্য। ১ শতাংশেরও কম মানুষের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। যেটি আসলে একপ্রকার ব্যতিক্রম ঘটনা এবং খুবই দুর্লভ।

    ‘Ambidextrous’ মানুষের দুই হাতই সমান কর্তৃত্বপূর্ণ; Source: britannica.com
    Ambidextrous বা সব্যসাচী বলতে বোঝায়, যেসব মানুষের ডান-বাম অসমতা নেই। অর্থাৎ যারা তাদের দুইটি হাতই সমানভাবে এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম, তারাই সব্যসাচী। যদি প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের নিউরোলজিক্যাল ব্যাখ্যা দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে সব্যসাচী মানুষের ক্ষেত্রে তাদের মস্তিষ্কের ডান এবং বাম অংশ উভয়ই সমানভাবে কার্যকর।

    যদিও ডানহাতি বা বামহাতি কিংবা উভয়হাতি অর্থাৎ সব্যসাচী হওয়ার ক্ষেত্রে তত্ত্ব ও হাইপোথিসিস দেয়া হয়েছে বেশ, তথাপি এক্ষেত্রে কোন তত্ত্বটি সঠিক বা কোনটি নয় সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। কখনো কখনো গবেষকরা বলছেন যে, উভয় তত্ত্বই সঠিক। তত্ত্বগুলো একে অপরের পরিপূরক। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে বিস্তারিত জানা যাবে এদের সম্পর্ক।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  12. সময়ঃ 3 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    আইকিউ কি সত্যিই মানুষের বুদ্ধিমত্তা নির্দেশ করে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    বুদ্ধি অভিনয়ের একটি উপায়। আপনি যদি বুদ্ধিমানের মতো অভিনয় করেন, তবে আপনি আপনার আইকিউ নির্বিশেষে একজন চৌকস ব্যক্তি। – আমেরিকান লেখক ব্রায়ান ট্রেসি। আইকিউ আসলে কী? আইকিউ টেস্টের বাংলা মানে করলে দাঁড়ায় বুদ্ধিমত্তা বা বুদ্ধাঙ্ক নির্ণয়। এই বুদ্ধাঙ্ক হলো মানসিক বয়স ও প্রকৃত বয়সের অনুপাত। মানসিক বয়সকে পবিস্তারিত পড়ুন

    বুদ্ধি অভিনয়ের একটি উপায়। আপনি যদি বুদ্ধিমানের মতো অভিনয় করেন, তবে আপনি আপনার আইকিউ নির্বিশেষে একজন চৌকস ব্যক্তি।

    – আমেরিকান লেখক ব্রায়ান ট্রেসি।

    আইকিউ আসলে কী?

    আইকিউ টেস্টের বাংলা মানে করলে দাঁড়ায় বুদ্ধিমত্তা বা বুদ্ধাঙ্ক নির্ণয়। এই বুদ্ধাঙ্ক হলো মানসিক বয়স ও প্রকৃত বয়সের অনুপাত। মানসিক বয়সকে প্রকৃত বয়স দিয়ে ভাগ করে ১০০ দ্বারা গুণ করলে বুদ্ধাংক পাওয়া যায়।

    আইকিউ নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:

    বুদ্ধাংক (I.Q) = (মানসিক বয়স /প্রকৃত বয়স) * ১০০

    এখানে ১০০ দ্বারা গুণ করা হয় ভগ্নাংশ এড়ানোর জন্য এবং ১০০ কে ধ্রুবক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু মানসিক বয়স বের করার জন্য নির্দিষ্ট বয়সের জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন নিয়ে প্রশ্নমালা তৈরি করা হয়। কোনো ব্যক্তি যদি সবগুলো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে, তবে তার মানসিক বয়স সেই নির্দিষ্ট বয়সের সমান হবে। যেমন ১০ বছরের শিশু যদি ১০ বছরের জন্য নির্দিষ্ট করে সাজানো প্রশ্নমালার উত্তর সঠিকভাবে দিতে পারে, তার মানসিক বয়স হবে ১০, যা তার প্রকৃত বয়সের সমান। আবার যদি সে ১৩ বছর বয়সের জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্নমালার সঠিক উত্তর দিতে পারে, তবে তার মানসিক বয়স হবে ১৩।
    ফিচার ইমেজ
    Caption
    এই সূত্র থেকে প্রাপ্ত মান অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীকে অনেকভাবে শ্রেণিভুক্ত করা যায়। সাধারণত মান ৭০ এর নিচে হলে জড়বুদ্ধিসম্পন্ন, ৭০-৯০ এর মধ্যে হলে স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন, ৯০ থেকে ১২০ এর মধ্যে হলে স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন, ১২১ থেকে ১৪০ এর মধ্যে হলে অত্যন্ত বুদ্ধি সম্পন্ন এবং ১৪০ এর উপরে হলে তাকে একজন জিনিয়াস বলেই ধরা নেওয়া যাবে।

    আইকিউ এর ইতিবৃত্ত

    ১৮৮২ সালে ব্রিটিশ পরিসংখ্যানবিদ ফ্রান্সিস গাল্টন প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা নির্ণয়ের জন্য কিছু সাধারণ পরীক্ষা তৈরি করেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফ্রান্সের একটি স্কুলে কোন কোন শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্ন দরকার, এটি ঠিক করার জন্য কর্তৃপক্ষ মনোবিদ আলফ্রেড বিনে এবং থিওডর সাইমনের শরণাপন্ন হয়। ১৯০৫ সালে আলফ্রেড বিনে এবং থিওডর সাইমন মস্তিষ্কের বিকাশের কিছু প্রকাশমাধ্যম যেমন মৌখিক যুক্তি, কাজের স্মৃতিশক্তি এবং চাক্ষুষ-স্থানিক দক্ষতা ইত্যাদি যাচাই করার জন্য বেশ কিছু পরীক্ষামালা উদ্ভাবন করেন এবং প্রাপ্ত ফলাফলকে স্কোরিং করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

    আইকিউ টেস্টের পথিকৃৎ আলফ্রেড বিনে; Image Source: researchgate.net
    প্রতিটি বয়সের শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্নমালা তৈরি করে দেখা হয় যে, শিশুটি তার বয়সের বাকি শিশুদের থেকে বেশি, সমান না কম বুদ্ধিমান। তাদের উদ্ধাবিত পদ্ধতিটি বিনে-সিমন টেস্ট নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। এরপর স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল. এম. টারম্যান ১৯১৬ সালে বিনে-সিমন টেস্টকে কিছুটা পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করেন, যা স্ট্যানফোর্ড-বিনে ইন্টেলিজেন্স স্কেল নামে পরিচিতি পায়। এই টেস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বুদ্ধিমত্তা পরিমাপক পদ্ধতি হিসেবে অদ্বিতীয় মর্যাদা পায়। এর আগে ১৯১২ সালে জার্মান মনোবিদ উইলিয়াম স্টার্ন Intelligence এবং Quotient শব্দজোড়া থেকে IQ শব্দটি তৈরি করেন, যা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় শব্দ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

    আইকিউ পরীক্ষার অন্ধকার অধ্যায়

    যদিও আইকিউ টেস্ট ফ্রান্সের একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রথম তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি জনপ্রিয় হতে হতে অনেকটাই মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিচারের একমাত্র মাধ্যমে পরিণত হয়। আইকিউ ধীরে ধীরে মানুষকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করার মাধ্যমেও পরিণত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনাবাহিনীর নিয়োগের সময় বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা হিসেবে এ পরীক্ষার ব্যবহার করে। সেই সময় অনেক বিজ্ঞানী এবং রাজনীতিবিদরা ইউজেনিকস মতবাদে বিশ্বাস করতেন। ইউজেনিকস অনুযায়ী, যেসব মানুষ পশ্চিমাদের চোখে অধিকতর সুন্দর, বুদ্ধিমান (অর্থাৎ তারা নিজেরা)- তাদের মধ্যেই প্রজনন প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ রেখে মানবজাতির মধ্যে একটি বিশুদ্ধ জাতি তৈরি করা।

    এ মতবাদ পুরো পৃথিবীতেই গণহত্যা এবং জাতিগত বিশুদ্ধিকরণকে উৎসাহিত করে। ইউজেনিকসের সমর্থকরা আইকিউ টেস্টকে বুদ্ধিমত্তার পরিমাপক হিসেবে ধরত। স্বভাবতই তারা সেসময় প্রথাগত পড়াশোনায় এগিয়ে থাকার কারণে আইকিউ টেস্টে ভালো করত এবং একসময় তারা সেটিকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা শুরু করল। এমনকি ১৯২৪ সালে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে কম আইকিউধারী মানুষদের সন্তান গ্রহণে অক্ষম করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল, যা পরে আদালত পর্যন্ত গড়ালে আদালতও সে সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে ঘোষণা করে।

    ভার্জিনিয়ায় ১৯২৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত নিম্ন আইকিউ’র অজুহাতে প্রায় ৭,০০০ লোককে বিভিন্নভাবে প্রজননে অক্ষম করা হয়। ধীরে ধীরে এর হার কমে আসে এবং ২০০১ সালে এটিকে বর্ণবাদী আখ্যায়িত করে ভার্জিনিয়া। নাৎসি শাসিত জার্মানিতে কম আইকিউ সম্পন্ন শিশুদের হত্যার অনুমতি পর্যন্ত দেয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মানবাধিকার আন্দোলনের প্রভাবে আইকিউ বিচার করে মানুষকে শ্রেণিভুক্ত করা কমে আসে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবেই মানুষের গড় আইকিউ বেড়েছে। কিন্তু এর কারণ হিসেবে বুদ্ধিমত্তার বিকাশ নয়, বরং জীবনযাত্রার মানবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক পরিবেশের উন্নয়ন দায়ী বলে গবেষকরা মত দিয়েছেন। এই ঘটনাটিকে ফ্লিন ইফেক্ট বলা হয়।

    আইকিউ কি সত্যিই মানুষের বুদ্ধিমত্তা নির্দেশ করে?


    আইকিউ টেস্ট বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের একমাত্র পদ্ধতি নয়; Image Source: mountbanyanglobalschool.com
    আইকিউ টেস্ট এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যা মানুষের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান, গাণিতিক যুক্তি, স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিগত বিশ্লেষণ ক্ষমতা ইত্যাদি বিচার করে ফলাফল নির্ধারণ করে। কিন্তু বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র এ ক’টি বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়। যেমন, আবেগ কিংবা সামাজিক বুদ্ধিমত্তা আইকিউ দিয়ে বিচার করা যায় না। আবার উদ্ভাবনী ক্ষমতা, সচেতনতা, স্বকীয়তা, আধ্যাত্মিক বোধ ইত্যাদি আইকিউ দিয়ে বিচার করা হয় না। কানাডার টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব বিকাশ এবং প্রায়োগিক মনোবিদ্যার অধ্যাপক স্ট্যানোভিচের মতে, আইকিউ পরীক্ষাকে এককভাবে গুরুত্ব দেবার কিছু নেই। তার মতে, আইকিউ পরীক্ষাগুলো কিছু মানসিক অনুষঙ্গকে পরিমাপ করার ক্ষেত্রে খুব ভালো; যেমন- যুক্তি, বিমূর্ত যুক্তি, শেখার ক্ষমতা এবং কর্ম-স্মৃতি ক্ষমতা সহ মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা ইত্যাদি।

    কিন্তু, বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এটি কতটুকু কার্যকর, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন, আইকিউ পরীক্ষাগুলো মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিমাপ করে এবং সেটি মোটামুটিভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে এবং কর্মজীবনে সাফল্যের পূর্বাভাস দিতে পারে। তবে সে পূর্বাভাস অসম্পূর্ণ এবং ততটা ভরসার যোগ্য না-ও হতে পারে। স্বাস্থ্যকর মানবিক চিন্তাশৈলী এবং মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ দক্ষতা আইকিউ দ্বারা বিচার করাই যথেষ্ট নয়। তাই বুদ্ধিমত্তা নির্ণয়ে আইকিউ টেস্টই সবকিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আইকিউ এর বিকল্প কী?

    ১৯৯০ সালে পিটার সালোভে এবং জন ডি মায়ার সাধারণ বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা ধারণার প্রবর্তন করেন। এ ধারণা থেকে পরবর্তী সময়ে সাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক বৈশিষ্ট্যের সাথে মস্তিষ্কের আবেগ এর কার্যক্ষমতাকে পরীক্ষা করার পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়। এর নাম দেয়া হয় Emotional Quotient. এ পদ্ধতিটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া Cultural Quotient নামে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমাপক বেশ সমাদৃত। ২০০২ সালে ক্রিস্টোফার আর্লি এবং অ্যাং সুন সাধারণ বুদ্ধিমত্তা এবং আবেগীয় গুণাবলীর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অভিযোজন এবং সাংস্কৃতিক আচরণ যোগ করে একটি সামগ্রিক পরীক্ষামাধ্যম হিসেবে এ পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। বলা হয়ে থাকে, এখন পর্যন্ত এটিই বুদ্ধিবৃত্তির জগতে সবচেয়ে সম্পূর্ণ নির্ণায়ক পরীক্ষা।

    মানবমস্তিষ্কের রহস্য ভেদ করা কোনো একক পরীক্ষার কাজ নয়; Image Source: Article1000 
    মানুষ কোনো যন্ত্র নয়। তাই শুধু সংখ্যা দিয়ে একটা মানুষকে বিচার করার অবকাশ নেই। যদিও এসব পরীক্ষা মানুষের বুদ্ধিমত্তার কিছুটা পূর্বাভাস দিতে পারে, কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে, এসব পরীক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই মিতব্যয়ী এবং সতর্ক হতে হবে।

    নিজেদের আইকিউ যাচাই করতে চাইলে ইন্টারনেটে অনেক বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন, তবে মনে রাখবে, এ পরীক্ষার ফলাফলই শেষ কথা নয়!

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  13. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

    কি ধরনের কলকব্জা রয়েছে আমাদের মগজ ঘরে ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    প্রাণীদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কথা বললে নিঃসন্দেহে চলে আসবে মস্তিষ্কের নাম। আর সমস্ত প্রাণিজগতে মানুষ যে একটি আলাদা জায়গা দখল করে আছে তার পেছনেও কারিগর হিসেবে আছে তার উন্নত মস্তিষ্ক। মানবদেহের কোষ, টিস্যু, অঙ্গ, তন্ত্র ইত্যাদির কাজ ঠিকভাবে চলার জন্য তাদের মাঝে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের দরকার আছে।বিস্তারিত পড়ুন

    প্রাণীদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কথা বললে নিঃসন্দেহে চলে আসবে মস্তিষ্কের নাম। আর সমস্ত প্রাণিজগতে মানুষ যে একটি আলাদা জায়গা দখল করে আছে তার পেছনেও কারিগর হিসেবে আছে তার উন্নত মস্তিষ্ক। মানবদেহের কোষ, টিস্যু, অঙ্গ, তন্ত্র ইত্যাদির কাজ ঠিকভাবে চলার জন্য তাদের মাঝে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের দরকার আছে।

    ব্যাপারটিকে একটি উদাহরণের মাধ্যমে পরিষ্কার করা দরকার। ধরা যাক, আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ একটি সাপ দেখলেন। তারপর লাফ দিয়ে দূরে সরে গিয়ে ঐ জায়গা থেকে দৌড়ে পালিয়ে এলেন। এখানে কয়েকটি অঙ্গ একসাথে কাজ করেছে। প্রথমে চোখ দিয়ে দেখলেন। তারপর আপনার পায়ের পেশি ও অস্থিকে কাজে লাগিয়ে ঐ জায়গা থেকে দৌড়ে এলেন। এতে আপনার হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের পরিমাণ বেড়ে গেল। এই যে এতগুলো অঙ্গ একসাথে কাজ করলো, এর পেছনে কাজ করেছে আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র। মস্তিষ্ক এবং সুষুম্না স্নায়ু দিয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত। এদের নিয়েই কথা হবে আজ।

    যুক্তরাষ্ট্রে মস্তিষ্কের ভাস্কর্য। গঠনগত দিক থেকে সঠিকভাবে তৈরি; Source: indiana.edu
    অ্যারিস্টটল মনে করতেন, হৃৎপিণ্ড বুদ্ধিমত্তার কাজ করে। আর মস্তিষ্ক রক্ত ঠাণ্ডা রাখে। কিন্তু এখন আমরা সবাই জানি, তিনি ভুল ছিলেন।

    মস্তিষ্ক আমাদের করোটির ভেতরে অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় থাকে। ভর প্রায় ১.৩৬ কেজি। দেহের ভরের অনুপাতে মানুষের মস্তিষ্ক অন্য যেকোনো প্রাণীর চেয়ে বড়। মানুষের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তার কার্যকরিতার প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়তই দেখি। এতে প্রায় দশ বিলিয়ন নিউরন আছে। স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একক নিউরন। আমরা যদি নিউরনের গঠনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখব নিউরনের দুটি প্রধান অংশ আছে। একটি কোষ দেহ (Soma), আরেকটি প্রলম্বিত অংশ (Process)। প্রলম্বিত অংশ আবার অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট এই দুই ভাগে বিভক্ত।

    একটি নিউরনে সাধারণত একটি অ্যাক্সন থাকে। অ্যাক্সনগুলো মায়োলিন সিথ দিয়ে আবৃত থাকে। কিছু জায়গায় মায়োলিন সিথের আবরণ থাকে না। একে র‍্যানভিয়ারের পর্ব বলে। অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তে টার্মিনাল নব থাকে। মস্তিষ্কের মধ্যে নিউরনগুলো সিন্যাপ্স তৈরির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে। সিন্যাপ্সের মাধ্যমে ইলেকট্রিক সিগন্যাল এক নিউরন থেকে আরেক নিউরনে চলাচল করে। এই সিগন্যাল সবসময় একমুখী। এটি ডেনড্রাইট দিয়ে প্রবেশ করে আক্সন দিয়ে গিয়ে অবশেষে টার্মিনাল নব দিয়ে আরেকটি ডেনড্রাইটে প্রবেশ করে। এভাবেই এক নিউরন থেকে আরেক নিউরনে ইলেকট্রিক সিগন্যাল চলে যায়।

    নিউরনের চিত্র: Source: Wikimedia

    সিনাপ্স তৈরির প্রক্রিয়া; Source: Wikimedia
    সিন্যাপ্স তৈরির সময় দুটি নিউরন কাছাকাছি আসে, কিন্তু তারা কেউ কাউকে স্পর্শ করে না। মাঝখানে একটি খালি জায়গা থেকে যায়। একে বলা হয় সিন্যাপ্টিক ক্লেফট। এটি দৈর্ঘ্যে ২০ ন্যানোমিটার হয়। তারপর আয়ন বিনিময়ের মাধ্যমে নিউরোট্রান্সমিটার এক নিউরন থেকে আরেক নিউরনে প্রবেশ করে। এভাবেই সিন্যাপ্স সংঘটিত হয়। দশ বিলিয়ন নিউরন সিন্যাপ্সের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে।

    গঠন অনুযায়ী নিউরনকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। ইউনিপোলার, বাইপোলার এবং মাল্টিপোলার। ইউনিপোলার নিউরনে একটি অ্যাক্সন থাকে। বাইপোলার নিউরনে একটি অ্যাক্সন এবং একটি ডেন্ড্রাইট থাকে। মাল্টিপোলার নিউরনে একটি অ্যাক্সন এবং অনেকগুলো ডেন্ড্রাইট থাকে। কিছু কিছু ইউনিপোলার নিউরন আছে, যাদের দেখলে মনে হয় দুটি অ্যাক্সন আছে। কিন্তু আসলে তাদের অ্যাক্সন একটিই। এদের সিউডোপোলার নিউরন বলে।

    গঠনভেদে নিউরনের প্রকারভেদ; Source: Dreams time

    সিউডোপোলার নিউরন; Source: Anatomy zone
    নিউরনের কাজের ধরন অনুযায়ী সেনসরি নিউরন বা সংবেদী নিউরন এবং মোটর নিউরন নিউরন এই দু’ভাগে ভাগ করা যায়। ধরা যাক, আপনি হাতের আঙুল জলন্ত মোমবাতির উপর ধরলেন। সাথে সাথে আপনার হাতের ত্বকের কোষের রিসেপ্টর থেকে সেই তথ্য আপনার মস্তিষ্কে চলে যাবে এবং আপনি জ্বালা অনুভব করবেন। এই যে হাত থেকে মস্তিষ্কে তথ্যটি গেল একে বলা হয় সেন্সরি নিউরন। এখন মস্তিষ্ক আপনার হাতকে মোমবাতির উপর থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিল। এই যে মস্তিষ্ক থেকে হাতে নির্দেশটি গেল একে বলা হয় মোটর নিউরন।

    জ্বলন্ত মোমবাতিতে হাত দেয়ার ফলে মোটর ও সেনসরি নিউরনের কার্যকলাপ;  Source: youtube
    মস্তিষ্কের বাইরে একটি আবরণ থাকে যা মস্তিষ্ককে রক্ষা করে। একে মেনিনজেস বলে। মেনিনজেস পর্দার তিনটি স্তর আছে। প্রথম স্তরকে ডুরা ম্যাটার, দ্বিতীয় স্তরকে আরাকনয়েড ম্যাটার এবং তৃতীয় স্তরকে পায়া ম্যাটার বলে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরের মাঝের জায়গাকে সাব আরাকনয়েড স্পেস বলে। সাব আরাকনয়েড স্পেসে একধরনের স্বচ্ছ তরল থাকে। একে সেরেব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড বা সিএসএফ বলে। এই তরল পদার্থ থাকার ফলে একধরনের সুবিধা হয়। আমরা তরলের প্লবতা নীতির কথা জানি। প্লবতায় তরলের উপরিমুখী বলের ফলে বস্তু হালকা অনুভূত হয়। ঠিক এই কারণে আমাদের ঘাড়ে প্রায় দেড় কেজি ভরের মস্তিষ্ক থাকার পরেও আমরা এর ওজন অনুভব করি না। আমাদের শরীরে কোনো সংক্রমণ হলে আমরা রক্ত পরীক্ষা করি। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্কে কোনো সংক্রমণ হলে সিএসএফ পরীক্ষা করতে হয়।

    মেনিনজেসের তিনটি স্তর;  Source: thoughtco
    মস্তিষ্ককে গঠন অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা যায়। অগ্র মস্তিষ্ক বা Procensencephalon, মধ্য মস্তিষ্ক বা Mesencephalon এবং পশ্চাৎ মস্তিষ্ক বা Rhombencephalon। নাম শুনে মনে হতে পারে অগ্র মস্তিষ্ক করোটির সামনের অংশ অগ্র মস্তিষ্ক, মাঝের অংশ মধ্য মস্তিষ্ক এবং পেছনের অংশ পশ্চাৎ মস্তিষ্ক। কিন্তু আদতে ব্যাপারটি এমন নয়। মস্তিষ্কের উপরের অংশকে অগ্র মস্তিষ্ক, মাঝের অংশকে মধ্য মস্তিষ্ক এবং তার নিচের অংশকে পশ্চাৎ মস্তিষ্ক বলে।

    অগ্র মস্তিষ্কেও তিন ভাগে ভাগ করা যায়। সেরেব্রাম, থ্যালামাস এবং হাইপোথ্যালামাস। সেরেব্রাম মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ। সমগ্র মস্তিষ্কের প্রায় আশি ভাগ হলো সেরেব্রাম। আমরা সবাই জানি আমাদের মস্তিষ্কের বাম দিককে বাম মস্তিষ্ক এবং ডান দিককে ডান মস্তিষ্ক বলে। তাই সেরেব্রামেও ডান ও বাম দিক আছে। সেরেব্রামের ডান অংশকে ডান সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ার এবং বাম অংশকে বাম সেরেব্রাল হেমেস্ফিয়ার বলে। হেমি কথাটার অর্থ হলো অর্ধেক আর স্ফেয়ার কথাটার অর্থ হলো গোলক। ডান সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ার আমাদের শরীরের বাম দিককে এবং বাম সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ার আমাদের শরীরের ডান দিককে নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের বাম মস্তিষ্কে থাকে যুক্তি, অঙ্ক কষা, জাগতিক চিন্তাভাবনা আর আমাদের ডান মস্তিষ্কে থাকে কল্পনা, সৃজনশীলতা।

    বাম এবং ডান মস্তিষ্ক; Source: Creative Jaunt
    সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ার অনেক বড় বিধায় একে নিয়ে কাজ করার সুবিধার জন্য পাঁচটি লোবে বিভক্ত করা হয়েছে।  এই পাঁচটি লোবের মধ্যে চারটির নাম দেয়া হয়েছে করোটির অস্থির অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। এরা হলো ফ্রন্টাল, প্যারাইটাল, অক্সিপেটাল এবং টেম্পোরাল। আরেকটি লোব হলো লিম্বিক। সেরেব্রামের উপরের অংশ কিন্তু সমতল নয়। এটার কিছু জায়গা উঁচু, আবার কিছু জায়গা নিচু। উঁচু জায়াগাকে বলা হয় জাইরাস আর নিচু জায়গাকে বলা হয় ফিসার। আমাদের মস্তিষ্কে তিনটি প্রধান ফিসার আছে। সেন্ট্রাল ফিসার, প্যারাইটো-অক্সিপেটাল ফিসার এবং ল্যাটারাল ফিসার। বাম ও ডান সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ারকে আলাদা করেছে সেন্ট্রাল ফিসার। তবে বাম ও ডান সেরেব্রাল হেমিস্ফেয়ার সম্পূর্ণরূপে  আলাদা নয়। তারা কর্পাস ক্যালোসামের সাহায্যে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত। এর মাধ্যমেই আমাদের বাম ও ডান মস্তিষ্কের কার্যকলাপে সমন্বয় রক্ষিত হয়। সেরেব্রামের বাইরের দিক ধূসর এবং ভেতরের দিক সাদা। সেরেব্রাম আমাদের সৃজনশীল চিন্তা, কথা বলা সহ অনেক কাজে সাহায্য করে।

    অগ্র মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ
    অগ্র মস্তিষ্কের আরেকটি অংশ হলো থ্যালামাস। সেরেব্রামের ঠিক নিচেই থ্যালামাস অবস্থিত। থ্যালামাসের মাধ্যমে আমরা চাপ, তাপ, অনুভূতি অনুভব করি। রাতে হঠাৎ জেগে ওঠার ক্ষেত্রেও থ্যালামাসের ভূমিকা আছে।

    হাইপোথ্যালামাস থ্যালামাসের ঠিক নিচে অবস্থিত। আকারে থ্যালামাসের চেয়ে অনেক ছোট হলেও এটা মস্তিষ্কের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ হাইপোথ্যালামাসের সাথে যুক্ত আছে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড। এখান থেকে ভ্যাসোপ্রেসিন এবং অক্সিটোসিন নামের দুটি হরমোন নিঃসৃত হয়। ভ্যাসোপ্রেসিনকে অ্যান্টি ডাই ইউরিটিক হরমোন বলা হয়। নাম থেকে বোঝা যাচ্ছে এর কাজ পানি স্বল্পতার সময় মূত্র তৈরির প্রক্রিয়াকে কমিয়ে দেয়। আর অক্সিটোসিনের কাজ প্রসবের সময় মহিলাদের জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করা। হাইপোথ্যালামাস আমাদের ভালোবাসা, রাগ, দুঃখ,  অভিমান নিয়ন্ত্রণ করে।

    মধ্য মস্তিস্কের তিনটি অংশ রয়েছে। কোর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা, সেরেব্রাল পেডাংকল এবং সেরেব্রাল অ্যাকুইডাক্ট। কোর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা হাইপো থ্যালামাসের নিচে অবস্থিত। সেরেব্রাল অ্যাকুইডাক্ট একটি নালী, যা মস্তিষ্কের ৩য় ও ৪র্থ গহ্বরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। এখানে বলে রাখি, মস্তিষ্কে চারটি গহ্বর বা ভেন্ট্রিকল রয়েছে।

    মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ; Source: kids press magazine
    পশ্চাৎ মস্তিষ্কেরও অংশ তিনটি। সেরেবেলাম, পনস এবং মেডুলা অবলংগাটা। সেরেবেলাম মস্তিষ্কের দ্বিতীয় বৃহৎ অংশ। এর ভর ১৫০ গ্রাম। সেরেবেলামেরও বাম ও ডান অংশ রয়েছে। এই দুটি অংশ যুক্ত থাকে ভার্মিস নামক যোজক কলা দিয়ে। এই অংশটি আমাদের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। পনস সেরেবেলাম ও মেডুলা অবংগাটার সাথে সংযোগ রক্ষা করে। পনস বমন, শ্বসন হার, পাকস্থলির প্যারিস্টালসিস নিয়ন্ত্রণ করে। মেডুলা অবলংগাটা সুষুম্না কান্ডের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এভাবেই মস্তিষ্ক আমাদের সারা দেহের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে চলছে। বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের নিত্য নতুন তথ্য আবিষ্কার করে চলেছেন।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  14. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    মশার অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন করে দেওয়া কি আদৌ সম্ভব?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    বাংলায় একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, “মশা মারতে কামান দাগা”। যার আভিধানিক অর্থ সামান্য কাজের জন্য অত্যধিক পরিশ্রম করা। আসলে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে মশা মারার জন্য সত্যি সত্যিই কামান দাগতে হবে। বিগত কয়েক মাস যাবত আমাদের দেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছিল। হাসপাতালে প্রতিদিন রোগীদের ভীড় যেন কোনোভাবেবিস্তারিত পড়ুন

    বাংলায় একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, “মশা মারতে কামান দাগা”। যার আভিধানিক অর্থ সামান্য কাজের জন্য অত্যধিক পরিশ্রম করা।

    আসলে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে মশা মারার জন্য সত্যি সত্যিই কামান দাগতে হবে। বিগত কয়েক মাস যাবত আমাদের দেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছিল। হাসপাতালে প্রতিদিন রোগীদের ভীড় যেন কোনোভাবেই কমছিল না। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল মশা নিধনের জন্য। কিন্তু কোনো পদক্ষেপই যেন কাজে আসছিল না। এখন পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হলেও পুনরায় এই রোগ ফিরে আসবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

    সম্প্রতি ডেঙ্গুজ্বর মহামারী আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশে; Image Source: thedailystar.net
    মশা নামক এই পতঙ্গটি আক্ষরিক অর্থেই আমাদের কোনো উপকারে আসে না। উল্টো প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে নানা মশাবাহিত রোগের কারণে। মশার কারণে সৃষ্ট রোগ ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া তো আছেই। এর সাথে চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাসের মতো নতুন নতুন মহামারী রোগ যুক্ত হচ্ছে। একটি সামান্য মশার কামড়ের কারণে প্রতি বছর অসংখ্য সুস্থ মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। অবস্থা এতটাই আশংকাজনক যে, মশার কারণে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা মানুষের কারণে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যার চেয়েও বেশি।

    একটি মশার কামড় থেকেই অনেক বড় রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; Image Source: adventuremumma.com
    গেটস ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর মশাবাহিত রোগের কারণে মারা যায় প্রায় ৭,২৫,০০০ জন। যেখানে কেবল ম্যালেরিয়ার কারণেই মৃত্যুবরণ করে প্রায় ৬,০০,০০০ জন। আর জিকা ভাইরাসের আগমন এই বড় সংখ্যার সাথে আরো ভয়াবহতা যোগ করেছে। এই ভাইরাসের কারণে গর্ভবতী মায়ের নবজাতক বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেয়। আর এই বিরাট সংখ্যক মৃত্যুর জন্য দায়ী কেবল মশার কামড়।

    চলুন, আগে জেনে নেওয়া যাক মশার কামড়ের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী। রক্ত মশার খাদ্যের চাহিদা মেটায় না। অন্য প্রাণীর রক্ত শুষে নেওয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো বংশবিস্তার। একটি মশাকে ডিম উৎপন্ন করার জন্য পুষ্টির প্রয়োজন হয়। রক্ত থেকে তারা সেই পুষ্টি সংগ্রহ করে। আর ঠিক এ কারণেই কেবল স্ত্রী মশাগুলো কামড় দিয়ে থাকে, পুরুষ মশা নয়। তবে সকল প্রজাতির মশাই মানুষের রক্ত শোষণ করে না। পৃথিবীতে মোট ৩,৫০০ প্রজাতির মশা রয়েছে। আর এদের মধ্যে কেবল ২০০ প্রজাতির মশাই মানুষকে কামড় দিয়ে বিরক্ত করে থাকে। এদের মধ্যে ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে অ্যানোফেলিস গণের মশা, ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাসের জন্য দায়ী এডিস এজেপ্টাই এবং চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী এডিস অ্যালবোপিক্টাস ও এডিস এজেপ্টাই দুটোই।

    জিকা ভাইরাসের কারণে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নিচ্ছে; Image Source: businessinsider.com
    এখন প্রশ্ন হলো, যে প্রাণী মানুষের কোনো উপকারেই আসে না, বরং অকাল মৃত্যু বয়ে আনতে মানুষকেও হারিয়ে দিয়েছে, আমাদের নিজেদের বেঁচে থাকার স্বার্থে এদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা ঠিক কতটা যুক্তিযুক্ত? লিভারপুল স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জীববিজ্ঞানী প্রফেসর হিলারি র‍্যানসন বলেন,

    আমার মনে হয় না আমজনতার মশাকে পুরোপুরি বিলীন করে দেওয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ রয়েছে। আমি বেশিরভাগ সময় এদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করি কেবল গবেষণা করার জন্য। কিন্তু তা কেবলই এদের মেরে ফেলার উপায় বের করার জন্য।

    পৃথিবী থেকে মশার অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার ব্যাপারটা অতটা সহজ নয়। ৩,৫০০ প্রজাতির মধ্যে কেবল ২০০ প্রজাতিই মানুষকে বিরক্ত করে। আর এর পেছনের মানবিক ব্যাখার সাথে সাথে দার্শনিক ব্যাখাও মাথায় রাখতে হবে। মানুষের কি সত্যিই উচিত নিজের সুবিধার জন্য প্রকৃতি থেকে ১০০ মিলিয়ন বছরেরও পুরনো এক প্রাণীকে একেবারে বিলীন করে দেওয়া? প্রকৃতির উপর এমন সেচ্ছাচারী মনোভাব প্রদর্শন আপাতদৃষ্টিতে আমাদেরকে প্রকৃতির শত্রু বানিয়ে দেয়। তাছাড়া এজন্য প্রকৃতিকেও অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে।

    মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য চলছে বিস্তর গবেষণা; Image Source: time.com
    আমাদের কাছে মশা নানা বিরক্তির কারণ হলেও, অন্যান্য নানা প্রাণীর নিকট এটি খাদ্যের উৎস। বিভিন্ন মাছ মশার লার্ভা খেয়ে বেঁচে থাকে। ছোট ছোট পাখি, ব্যাং ও কিছু বড় বড় পতঙ্গের খাবার মশা। এরা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেলে তা প্রাকৃতিক খাদ্য শৃঙ্খলের উপর প্রভাব ফেলবে। আরেকটি বড় কথা হলো, ফুলের পরাগায়ণেও মশা অংশগ্রহণ করে। কিছু কিছু মশা ফুলের নেকটার খেয়ে জীবনধারণ করে। এছাড়া গাছের জন্য কিছু ক্ষতিকর প্রোটোজোয়া মশার খাদ্য। মশা না থাকলে যেমন উদ্ভিদের পরাগায়ণ ব্যাহত হবে, তেমনি কিছু গাছের যথাযথ বৃদ্ধি হবে না। কাজেই আমাদের প্রয়োজন না হলেও প্রকৃতির মশার প্রয়োজন রয়েছে।

    মশার লার্ভা নানা প্রাণীর প্রাথমিক খাদ্য; Image Source: thoughtco.com
    প্রকৃতির উপর আমরা যে সবসময় সদয় থাকি তা কিন্তু নয়। বৈশ্বিক উষ্ণতা, বন ধ্বংস, নগরায়ন ইত্যাদির জন্য অনেক প্রাণীই বিলুপ্ত হয়েছে কিংবা বিলুপ্তির পথে। আমাজনে আগুন লাগার পেছনে মূল কারণ সবাই জানে। নিজেদের সুবিধার জন্য আমরা প্রকিতির উপর অনেক আগে থেকেই স্বেচ্ছাচার করে আসছি। তাই অনেকের মনে হতে পারে মশাই তো, এদের সরিয়ে ফেললে কী এমন ক্ষতিই বা হবে। তবে কিছু প্রকৃতিবিজ্ঞানী এই বিষয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোকপাত করেছেন। মানুষের বন-জঙ্গলে রাত না কাটানোর পেছনে এক গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো রোগ বহনকারী মশা। মশা না থাকলে মানুষের এই ভয়ও থাকবে না। আর বন-জঙ্গলে মানুষের অবাধ চলাফেরার একটা সহজ রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে। এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল বনগুলোর জন্য ভালো না-ও হতে পারে।

    প্রকৃতির সাথে বিরুদ্ধাচরণ ও মানবিক আবেগ- এই দুটি জিনিসের মাঝে মানুষ পড়তে চায় না। আবেগের মূল্যই আমাদের কাছে বেশি। ডেঙ্গু কিংবা ম্যালেরিয়ার কারণে মারা যাওয়া সন্তানের বাবা-মায়ের কথা চিন্তা করুন। কিংবা জিকা ভাইরাসের কারণে মানসিক বা শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে যাওয়া বাচ্চাটার কথাই চিন্তা করুন। এসব রোগের সাথে লড়াই করা মানুষদের সাথে এ বিষয়ে তর্কে যাওয়াটা বোকামি। তাছাড়া গবেষকরাও মশার বিলুপ্তিকরণের পক্ষে রয়েছেন। আর এ বিষয়ে তারা যথাযথ পদক্ষেপও নিচ্ছেন।

    গবেষণাগারে তৈরি রূপান্তরিত পুরুষ মশা ; Image Source: sciencemag.org
    মশা মারার জন্য আমরা সাধারণ জনগণ কয়েল, অ্যারোসল, ধোঁয়া, তেল ইত্যাদি ব্যবহার করি। কিন্তু এদের পুরোপুরি উচ্ছেদ করে দেওয়ার জন্য আরো বড় অস্ত্রের প্রয়োজন। আমাদের মূল শত্রু হলো এডিস মশা। এই মশাগুলো মানুষের বসবাসের জায়গার সাথে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে। আমাদের নিজেদের উদাসীনতার কারণে এদের খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা আমরাই করে দিয়েছি। তাই এদের বিনাশ করতে কোনো ছোটখাট পদক্ষেপে কাজ হবে না। পুরোপুরি সকল প্রজাতির মশা বিলুপ্ত না হলেও অন্তত এডিস, অ্যানোফেলিস ও কিউলক্স জাতের মশাগুলো বিলুপ্তিকরণের জন্য কাজ করা হচ্ছে। আর এদের উচ্ছেদ করার মূল অস্ত্র হলো প্রযুক্তি।

    বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব কমানোর জন্য ফগার মেশিন ব্যবহার করা হয়; Image Source: maagicpest.com
    একটি এলাকায় মশার উপদ্রব চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার এক উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো জেনেটিক মোডিফিকেশন। এর মাধ্যমে পুরুষ মশাগুলোর জিনে বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়। যার কারণে স্ত্রী মশার সাথে মিলনের পর এরা যে মশাগুলোর জন্ম দেয় তারা বংশবিস্তারে অক্ষম বা স্টেরাইল হিসেবে জন্ম নেয়। এতে করে নতুন মশা আর বংশবিস্তার করতে পারে না। মশা না মেরে মশার বংশবিস্তার আটকে দেওয়ার এ পদ্ধতি অনেক চমৎকার একটা উপায়। তবে বৃহৎ পরিসরে এই কাজটা করা অনেক চ্যালেঞ্জিং। কারণ তা বাস্তবায়নের জন্য মিলিয়ন সংখ্যক পুরুষ মশার প্রয়োজন।

    ২০০৯-২০১০ সময়কালে ইংল্যান্ডের কেম্যান আইল্যান্ডস নামক দ্বীপ শহরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০ লক্ষ পুরুষ মশা ছাড়া হয়। এতে পার্শ্ববর্তী এলাকার তুলনায় ঐ শহরে মশার সংখ্যা ৯৬ শতাংশ হ্রাস পায়। ২০১৬ সালের দিকে ব্রাজিলের এক শহরে একই পরীক্ষা চালিয়ে মশার উপদ্রব ৯২ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। তবে ঐ শরগুলোতে মশার উপর জীবন ধারণ করা প্রাণীগুলোও এর ভুক্তভোগী গয়েছিল। গবেষকরা দাবী করেছেন, এই পরীক্ষা চালানোর পর কিছু পাখির বাচ্চা জন্মদানের সংখ্যা তিন থেকে দুইয়ে নেমে আসে।

    মশার অস্তিত্ব পুরোপুরি বিনষ্ট করা সম্ভব নয়। কিন্তু ক্ষতিকর মশাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে করে প্রকৃতি সাময়িক সময়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এমনটিই দাবী করেছেন গবেষকরা। যেসব প্রাণী খাদ্যের জন্য মশার উপর নির্ভরশীল তারা প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী ঠিকই বিকল্প খুঁজে নিবে। অনেকগুলো জীবন রক্ষার জন্য প্রকৃতিকে সামান্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাছাড়া সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে। প্রযুক্তিবিদরা এমন যন্ত্র তৈরি করছেন, যা দিয়ে মশার পাখার কম্পাঙ্ক হিসাব করে ক্ষতিকর মশা শনাক্ত করা সম্ভব।

    একেবারে মশাহীন পৃথিবী কল্পনা করা যায় না। তবে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে না আনলে নানা নতুন রোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা থেকে যায়। মশা থেকে পুরোপুরি নিস্তার পেলে হয়ত মশার কয়েল, অ্যারোসল ও রিপেলেন্ট ক্রিম বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখ দেখবে। তবে প্রতি বছর এক বিরাট সংখ্যক নিরীহ প্রাণকে অকালমৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

     

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  15. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    ছারপোকা: এক দুঃসহ যন্ত্রণার নাম। প্রতিকার কি আছে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ছারপোকার নাম শোনেনি, এমন মানুষ খুব কমই আছে। তবে অনেকেই হয়তো শুধু নামই শুনেছেন ছারপোকার, কিন্তু রক্তচোষা এই পোকাটিকে চোখে দেখার সৌভাগ্য (কিংবা দুর্ভাগ্য) এখনো হয়নি। আর যারা ছারপোকাকে ইতোমধ্যে চেনেন, নিশ্চিতভাবেই বলা যায়,  তাদের সাথে ছারপোকার পরিচয় পর্বটা মোটেই সুখকর কিছু ছিলো না। যারা নিজস্ব অভিজ্ঞতাবিস্তারিত পড়ুন

    ছারপোকার নাম শোনেনি, এমন মানুষ খুব কমই আছে। তবে অনেকেই হয়তো শুধু নামই শুনেছেন ছারপোকার, কিন্তু রক্তচোষা এই পোকাটিকে চোখে দেখার সৌভাগ্য (কিংবা দুর্ভাগ্য) এখনো হয়নি। আর যারা ছারপোকাকে ইতোমধ্যে চেনেন, নিশ্চিতভাবেই বলা যায়,  তাদের সাথে ছারপোকার পরিচয় পর্বটা মোটেই সুখকর কিছু ছিলো না। যারা নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে ছারপোকা চেনেন কিংবা ছারপোকার বিষয়ে লোকমুখে কিছু কথা অন্তত শুনেছেন, তাদের অবশ্যই জানার কথা, এ পোকাটি দৈনন্দিন জীবনে, বিশেষ করে ব্যাচেলরদের জীবনে এক সাক্ষাৎ আতঙ্কের নাম!

    চলুন, রক্তপিপাসু এ প্রাণীটি সম্পর্কে জানা-অজানা অনেক তথ্য আবার নতুন করে জেনে নেওয়া যাক।

    পরিচয়

    ছারপোকার বেশ কয়েকটি প্রজাতির মধ্যে আমাদের ঘরবাড়িতে যে দুটি প্রজাতিকে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তারা হলো Cimex lectularius ও Cimex hemipterus।

    দুটি ভিন্ন প্রজাতির প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ছারপোকা। বাঁ-পাশেরটি Cimex lectularius এবং ডান পাশেরটি Cimex hemipterus প্রজাতি; Image Courtesy: Brittany Campbell/ResearchGate
    ছারপোকার একমাত্র খাদ্য রক্ত। তবে এটি শুধু স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখি সদৃশ প্রাণীদের রক্তই পান করে থাকে। এরা উড়তে অক্ষম। কখনো কখনো ছারপোকাকে তেলাপোকার বাচ্চা বা উঁইপোকা মনে করে ভুল হতে পারে। তবে ছারপোকাকে আঘাত করে মেরে ফেললে কিংবা পিষে ফেলা হলে তীব্র ও কটু গন্ধ পাওয়া যায়, যা তেলাপোকার বাচ্চা বা উঁইপোকার সাথে এদের স্পষ্ট পার্থক্য নির্দেশ করে।

    আবাস, জীবনচক্র ও বংশবিস্তার

    ছারপোকারা নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশে বাস করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। এরা অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে পারে না; তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে এদের জন্য টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে ওঠে। ২১-২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছারপোকাদের বসবাসের জন্য সবচেয়ে অনুকূল। ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় কিছুক্ষণের মধ্যেই এরা মারা যায়।

    ছারপোকার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়; Image Courtesy: bedbugfoundation.org
    ছারপোকার প্রজনন ক্ষমতা মধ্যম প্রকারের। অর্থাৎ, অন্যান্য পোকামাকড়ের মতো খুব বেশি না, আবার তাচ্ছিল্য করার মতো নিতান্ত কমও নয়। অনুকূল পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাদ্য পেলে একটি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী ছারপোকা যৌনমিলনের পর প্রতিদিন ২-৮টি করে ডিম দিতে পারে এবং তার গোটা জীবদ্দশায় মোট ২০০-৫০০টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ৬-১৫ দিন সময় লাগে, এবং সে বাচ্চাটি প্রায় ৫-৭ সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক ছারপোকায় পরিণত হয়। একটি ছারপোকা মোটামুটি ৬-১২ মাস কিংবা অনুকূল পরিবেশ পেলে তারচেয়েও বেশি সময় বাঁচতে পারে।

    একটি প্রাপ্তবয়স্ক ছারপোকার সাধারণত ৬-১০ দিন পর পর রক্ত খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, একদমই রক্ত পান না করেও একটি ছারপোকা প্রায় ২-৩ মাস পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। আবার, পরিবেশ খানিকটা ঠান্ডা হলে এরা না খেয়ে ১০-১২ মাসও বেঁচে থাকে!

    শিশু অবস্থায় একটি ছারপোকার রঙ থাকে ঈষদচ্ছ ও কিছুটা হলদেটে-সাদা। ডিম থেকে বের হওয়ার পর একটি ছারপোকা তার জীবনের পাঁচটি পর্যায় অতিক্রম করে পূর্ণবয়স্ক ছারপোকায় রূপান্তরিত হয়। প্রতিটি পর্যায়ে এটি তার পুরনো খোলস ত্যাগ করে। ছারপোকার বয়স যতই বাড়তে থাকে, তার গায়ের রঙ ততই লালচে-খয়েরী বর্ণের হতে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক ছারপোকার গায়ের বর্ণ সাধারণত কালচে-খয়েরী হয়।

    এরা একটি ঘরের প্রায় সকল স্থানেই বসবাস করতে পারে। দেয়ালের ফাটল বা ছিদ্র, কাঠের ফার্নিচারের ফাঁক-ফোকরে বা চিপায়, কাপড়-চোপড়, ব্যাগ, লাগেজ, স্যুটকেস, বালিশ, কুশনের কভারের ভেতর, লেপ, কম্বল, কাঁথার ভাজে এদেরকে বসবাস করতে দেখা যায়। তবে এদের সবচেয়ে প্রিয় আবাসস্থল হচ্ছে তোশকের নিচে ও মশারির কিনারায়।

    একই ফ্রেমে বিভিন্ন বয়সী ছারপোকা ও ছারপোকার ডিম; Image Courtesy: M.F. Potter/USA Today
    আবার গণপরিবহন, যেমন- বাস-ট্রেন বা প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, লঞ্চ, জাহাজ, এমনকি বিমানের সিটেও ছারপোকা বসবাস করতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন আবাসিক হোটেলেগুলোর আসবাবপত্র বা সিনেমা হলের বসার আসনও ছারপোকার আবাসস্থল।

    উপদ্রব

    ছারপোকার কাছে দেশ বা মহাদেশ, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সীমারেখা বলে কিছু নেই; বিশ্বের প্রায় সকল প্রান্তে, সকল পরিবেশে ছারপোকার দেখা মিলবে। এমনকি উন্নত দেশগুলোর কিছু শহরেও ছারপোকার উপদ্রব অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।

    সাধারণত কোনো ঘরবাড়িতে ছারপোকার উপদ্রব শুরু হওয়ার পর সাথে সাথেই সে ঘরের বাসিন্দারা তা টের পায় না। এটা যে ছারপোকারই উপদ্রব, তা বুঝে উঠতে তাদের কিছুটা সময় লাগে। তবে এই সময়টুকুর মধ্যেই সাধারণত ছারপোকারা সে ঘরটিতে তাদের আবাস অনেকটাই পাকাপোক্ত করে নেয়।

    ছারপোকার কামড়ের একটি ভিন্নধর্মী প্যাটার্ন রয়েছে, এরা সাধারণত পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে কামড় বসায়; Image Courtesy: nozzlenolen.com
    কয়েকটি প্রাথমিক লক্ষণ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ঘরে ছারপোকা আছে:

    • যেহেতু তারা রক্ত পান করে, তারা মশার মতোই কামড়াবে। তবে দিন দিন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কামড়ানোর হারও বাড়তে থাকবে।
    • মশারি টানালে মশারা একদমই কামড়াতে পারে না। কিন্তু মশারি টানানোর পর ছারপোকাদের কামড়ানো আরও বেড়ে যায়। কেননা, তারা মশারির ভেতরেই থাকে। মশারির উপরের চারদিকের চারটি কোণা ছারপোকাদের অন্যতম প্রিয় বাসস্থান।
    • মশার কামড়ের সাথে ছারপোকার কামড়ের অন্যতম পার্থক্য হলো, মশার তুলনায় ছারপোকার কামড়ের পর বেশি চুলকানি অনুভূত হয়। এরা সাধারণত ত্বকের একই স্থানে পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় কামড়ায়। নিয়মিত ছারপোকার কামড় খেতে থাকলে কারও কারও বিশেষ মানসিক উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
    • ছারপোকারা আলো খুব একটা সহ্য করতে পারে না বলে রাতেই এদেরকে বেশি দেখা যায়। তবে রক্ত পান করার প্রয়োজন হলে দিনেও বের হতে দ্বিধা করে না এরা।
    • কামড়ানোর ঠিক পর পরই বালিশ বা বিছানার তোশক উপরে তুললে এদেরকে পালাতে দেখা যায়।
    • যেখানে ছারপোকারা বসবাস করে, সেখানে কালচে রঙের ছোপ দেখা যায়। এগুলো দেখে ঘরে ছারপোকার উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
    • সোফায় বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই উরু অঞ্চলের আশেপাশে ও পায়ে কামড়ানো শুরু হয়।
    • বিছানার চাদর বা বালিশের কভারে রক্তের ছোপ দেখা যায়।

    এসব লক্ষণ দেখা দিলে সামনের বেশ কয়েক সপ্তাহ, এমনকি বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত প্রচন্ড রকমের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক দুর্ভোগ পোহানোর মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। কারণ, ছারপোকা একবার আবাস গেড়ে বসলে, তাদেরকে চিরতরে নির্মূল করাটা খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার! তবে অসম্ভব নয়।

    ছারপোকা যে স্থানে কামড়ায়, সেই স্থানটি সাধারণত লাল হয়ে যায় (সবার ক্ষেত্রে না)। কারও কারও ত্বক ফুলেও যায়। ছারপোকার কামড়ের একটি বিশেষত্ব হলো, এরা ত্বকের একই স্থানে পাশাপাশি কয়েকটি কামড় বসিয়ে রক্ত পান করে। ফলে যে অঞ্চলে কামড়ায়, সেখানে কয়েকটি দাগ দেখা যায়। আবার, ছারপোকারা প্রতি রাতেই কামড়াবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। তাই একই জায়গায় কয়েকটি ছারপোকার কামড় পড়তে পারে। ছারপোকারা সাধারণত কনুই ও কাঁধের আশেপাশে, পিঠে এবং পায়ে বেশি কামড়ায়। এছাড়াও ঘুমন্ত মানুষের শরীরের খোলা ত্বকের যেকোনো জায়গায় এরা সহজেই কামড় বসাতে পারে।

    রোগ ও ক্ষতিকর প্রভাব


    একবার পেটপুরে রক্ত খেতে ছারপোকাদের গড়পড়তা ১০ মিনিটের কিছু কম-বেশি সময় লাগতে পারে; Image Courtesy: imaginecare.co.ke
    দিনের পর দিন ছারপোকার কামড় খাওয়াটা খুব যন্ত্রণাদায়ক। তবে গবেষকরা এমন কোনো প্রমাণ পাননি যে, ছারপোকা বড় ধরনের কোনো মহামারী বা সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটায়।

    তবে এর কামড়ের ছোট ছোট কিছু ক্ষতিকর প্রভাব বিদ্যমান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

    1. ছারপোকা ত্বকের একই জায়গার পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে কামড়ায় বলে সেখানে বেশ চুলকানি হয়। আবার কয়েকটি ছারপোকা বিভিন্ন সময়ে একই স্থান থেকে কামড়ে রক্ত পান করতে পারে। ফলে সে স্থানে সামান্য ক্ষত সৃষ্টি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। সে স্থানটিতে নখ দিয়ে অতিরিক্ত চুলকানো হলে ত্বক ছিলে গিয়ে ক্ষত আরও বড় হতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সংক্রমণ ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে।
    2. এককভাবে একটি ছারপোকার লালাতে যেসব রাসায়নিক উপাদান থাকে, তা মানুষের শরীরের জন্য তেমন একটা ক্ষতিকর বা বিষাক্ত নয়। কিন্তু ত্বকের একই অঞ্চলে যখন বহুসংখ্যক ছারপোকা কামড়ায়, তখন সে সামান্য বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থগুলোর তীব্রতা বেড়ে গিয়ে কিছু অসুখ-বিসুখ ঘটাতে পারে। যেমন, আক্রান্ত ব্যক্তি জ্বরে ভুগতে পারেন। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে চর্মরোগের সামান্য কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
    3. ছারপোকার কামড়ের তীব্রতা বেশি হওয়ায় কোনো ব্যক্তির বাসায় এর প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেলে তিনি ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেন না; বারবার ঘুম থেকে জেগে উঠতে বাধ্য হন। এর প্রভাব তার দৈনন্দিন জীবনে পড়ে। ঘুমের ঘাটতি হওয়ায় কর্মস্থলে সেই ব্যক্তিটি পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন না। কোনো একটি অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছারপোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে নিশ্চিতভাবেই সে অঞ্চলের পেশাজীবী মানুষজনদের মাঝে কর্মোদ্দীপনা ও উৎপাদনশীলতা কমে যায়। তাই উন্নত দেশগুলোর নগর কর্তৃপক্ষ ছারপোকার বিস্তার ঠেকাতে বেশ তৎপর। এমনকি কিছু দেশে আইনও আছে যে, কোনো আবাসিক হোটেলে ছারপোকা পাওয়া গেলে এর মালিককে জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।
    4. ছারপোকার উপদ্রব চরম পর্যায়ে গেলে এদের যন্ত্রণায় কিছু কিছু মানুষের মৃদু মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা দেখা দেয়। দিনের পর দিন কামড় খেতে খেতে তারা ছারপোকার জ্বালাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং ছারপোকার কামড় খাওয়ার আতংকে থাকে সবসময়। এই ভয়টা তাদের মনে পাকাপাকিভাবে ঢুকে যায় এবং সেটা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় রূপ নেয় একসময়। এরকম উপসর্গকে ডাক্তারি ভাষায় ডিলিউশনাল প্যারাসাইটোসিস বলা হয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তির এই উপসর্গ দেখা দিলে তিনি সবসময় মনে করতে থাকেন, তার দেহের কোনো অংশে বা ত্বকে কোনো পরজীবী (যেমন: মশা, ছারপোকা, উঁকুন ইত্যাদি) হেঁটে বেড়াচ্ছে বা কামড় বসাচ্ছে, যদিও প্রকৃতপক্ষে তার ত্বকে তখন কোনোকিছুই হেঁটে বেড়ায় না। এরকম পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যেতে কিংবা কোনো কাজে গভীর মনোযোগ দিতে পারেন না।

    বিস্তার

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মানবসভ্যতার ইতিহাসে অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারের ঘটনা ঘটেছিলো। অনেকগুলো কার্যকরী কীটনাশক আবিষ্কৃত হয়েছিলো তখন। বিভিন্ন দেশের সেনারা প্রতিকূল পরিবেশে, বনে-জঙ্গলে বা দুর্গম অঞ্চলে অবস্থান করার সময় ক্ষতিকর পতঙ্গের হাত থেকে বাঁচতে নানা ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করতো। এ সময় থেকে বিভিন্ন ধরনের কীট-পতঙ্গের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে বা কমে যায়। ছারপোকার উপদ্রবও তখন থেকে কমে এসেছিলো।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত শক্তিশালী কীটনাশক DDT (ডাইক্লোরো ডাইফিনাইল ট্রাইক্লোরো ইথেন) একসময় ছারপোকা দমনে কার্যকর ছিলো। কিন্তু বর্তমানে এর চেয়ে শক্তিশালী কীটনাশকের বিরুদ্ধেও ছারপোকা জেনেটিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে; Image Credit: © Zerbor/Fotolia via ScienceDaily
    সাম্প্রতিককালে, একদম নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে মোটামুটি ১৯৯৫ সালের পর থেকে ছারপোকারা পুনরায় শক্তভাবেই তাদের অস্তিত্বের কথা জানান দিয়ে আসছে এবং তাদের বিস্তার আশংকাজনকভাবে বেড়ে চলেছে।

    এর পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে বলে গবেষকগণ মনে করেন।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে, বর্তমান যুগে যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসার ও সহজতর যাতায়াতব্যবস্থা। এই দ্রুততর যোগাযোগ ব্যবস্থার কল্যাণে মানুষের যাতায়াতের সাথে ছারপোকারাও অঞ্চল থেকে অঞ্চলে, দেশ থেকে দেশে, এমনকি মহাদেশ থেকে মহাদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে।

    আরেকটি কারণ হলো, বর্তমানকালে মানুষের মধ্যে পুরনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্য, বিশেষ করে ব্যবহৃত ফার্নিচার ও অন্যান্য ঘরোয়া ব্যবহার্য জিনিসপত্র ক্রয় করার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেশি। এসবের মাধ্যমে এক বাসা থেকে আরেক বাসায়, এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে ছারপোকারা ছড়িয়ে পড়ছে।

    পর্যটক বা অতিথিরাও ভ্রমণের সময় একস্থান থেকে আরেক স্থানে নিজের অজান্তেই ছারপোকা বহন থাকেন।

    আবার ছারপোকা দমন করার জন্য কার্যকর কীটনাশকেরও অভাব রয়েছে। বিদ্যমান কীটনাশকগুলো ছারপোকা দমনে খুব একটা কার্যকর নয়। আবার কিছু কিছু কীটনাশক পরিবেশ ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার সেগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এটাও একটা সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, যার জন্য ছারপোকার বিস্তার রোধ করাটা দিন দিন কষ্টকর হয়ে উঠছে।

    সতর্কতা

    এতদিন আপনার ঘরে ছারপোকা ছিলো না, কিন্তু হঠাৎ একদিন ছারপোকার উপস্থিতি টের পেলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে এলো ছারপোকা? কোত্থেকেই বা এলো?

    খোঁজ নিয়ে দেখুন, আপনার প্রতিবেশীদের কারও ঘরে ছারপোকা নেই তো?

    কিংবা এমনও তো হতে পারে, কিছুদিন আগে আপনার বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন আপনারই কোনো আত্মীয় বা বন্ধু। তিনি ট্রেনে বা বাসে চড়ে আসার সময় ছারপোকা বহন করে নিয়ে আসেননি তো?

    কিংবা আপনিই কি সম্প্রতি কারও বাসায় বেড়াতে গিয়ে ছারপোকা সাথে করে নিয়ে এসেছেন?

    এক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে ছারপোকার আক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।

    গণপরিবহনে চড়ে দূরপাল্লার ভ্রমণ থেকে কিংবা সিনেমা হল থেকে, অথবা আত্মীয়স্বজনদের বাসা, যেখানে ছারপোকা থাকার সম্ভাবনা আছে, সেখান থেকে ফিরে এসে সরাসরি শোবার-রুমে না ঢুকে গোসলখানা বা বাইরের কোনো রুম যেমন গ্যারেজ বা স্টোররুমে পোশাক ত্যাগ করতে হবে এবং সে পোশাকগুলো দ্রুতই গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে ঘরবাড়িতে ছারপোকার আগমন ঠেকানো যাবে।

    ছারপোকা গরম সহ্য করতে পারে না বলে আমাদের গায়ের সাথে সেঁটে থাকে না সারাক্ষণ। তবে আমাদের পরনের কাপড়-চোপড় কিংবা ব্যাগ-লাগেজে লুকিয়ে থাকতে পারে ছারপোকা। এবং এভাবে আমাদের সাথেই ফ্রিতে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ভ্রমণ করতে পারে তারা।

    আবার কোনো ফার্নিচার, বিশেষ করে  কাঠের ও পুরনো বা ব্যবহৃত ফার্নিচার ক্রয় করার সময় নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে যে, তাতে ছারপোকা নেই। যদি থাকে, তাহলে তা ঘরে নিয়ে আসার পূর্বে অতি অবশ্যই পুরোপুরি ছারপোকামুক্ত করে নিতে হবে।

    প্রতিকার


    ম্যাট্রেসের কিনারা ছারপোকাদের অন্যতম পছন্দের বাসস্থান; Image Courtesy: Pest Control Toronto
    ছারপোকার উপদ্রব চরম পর্যায়ে পৌঁছালে এর কামড় থেকে মুক্তি পাবার সহজ কোনো উপায় নেই। একমাত্র রাস্তা হচ্ছে ছারপোকা দমন করা। তবে ছারপোকা দমন সময়সাধ্য এবং অত্যন্ত জটিল ও কঠিন একটি ব্যাপার।

    বিশ্বব্যাপী ছারপোকার হাত থেকে মুক্তি পেতে অনেকগুলো পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়। সবগুলো পদ্ধতিই যে সমানভাবে কার্যকর, তা কিন্তু নয়। একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করে ছারপোকা দমন করা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করে আবহাওয়া, তাপমাত্রা, ঘরের পরিবেশ ইত্যাদিসহ আরও অনেকগুলো বিষয়ের উপর।

    আসুন, জেনে নেওয়া যাক বিশ্বব্যাপী ছারপোকা দমন করার জন্য ব্যবহৃত সাধারণ ও সহজ কিছু পদ্ধতি (জটিল, স্বাস্থ্যের জন্য অতিমাত্রায় ক্ষতিকর ও যথেষ্ট ব্যয়বহুল পদ্ধতিগুলো পরিহার করা হলো এবং লেখকের নিজস্ব কিছু অভিজ্ঞতাও শেয়ার করা হলো):

    • কোনো ছারপোকা দেখতে পেলেই সেটিকে মেরে ফেলতে হবে। তবে এটি করতে গেলে বিশ্রী ও উৎকট ঘ্রাণ সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হবে। ছারপোকা দমন করাকে একটি যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করলে, আপনি প্রতিপক্ষের, অর্থাৎ ছারপোকাদের দলের যত সংখ্যক সদস্যকে মারতে পারবেন, আপনার যুদ্ধে জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়তে থাকবে। ছারপোকা মারার পাশাপাশি তাদের আবাসস্থল খুঁজে বের করে সেখানে থাকা ডিমগুলোও নষ্ট করে দিতে হবে। এখানে উল্লেখ করার মতো একটি তথ্য হলো, পিঁপড়া ও তেলাপোকা, ছারপোকার প্রাকৃতিক শত্রু; এরা ছারপোকার ডিম খেয়ে ফেলে। তাই ঘরে ছারপোকা থাকলে পিঁপড়ার ওষুধ প্রয়োগ করে পিঁপড়া তাড়ানো উচিত হবে না।
    • ন্যাফথালিন বিভিন্ন পোকা-মাকড় দমনে ব্যবহৃত হয়। ছারপোকা দমনেও ন্যাফথালিন ব্যবহারের কথা শোনা যায়। ন্যাফথালিন গুঁড়া করে বিভিন্ন ফার্নিচারের ফাঁক-ফোকর, ফাটল, তোশকের নিচে বা ছারপোকা আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা হয়। এই ন্যাফথালিন ছারপোকা সহ্য করতে পারে না। তবে এ পদ্ধতিটি স্থায়ী নয়। এটি প্রয়োগ করলে ছারপোকা মারা যায় না, বরং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ন্যাফথালিন উদ্বায়ী বলে এটি বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার পর ছারপোকা আবারও ফিরে আসতে পারে। তাই এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করার পাশাপাশি অন্যান্য উপায়সমূহেরও আশ্রয় নিতে হবে, যেন ছারপোকারা চিরতরে নির্মূল হয়ে যায়।
    • কাঠের ফার্নিচার বা আসবাবসমূহ ছারপোকার বসবাসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থান। এগুলো কয়েকদিনের জন্য ঘরের বাইরে কোথাও রেখে নিয়মিত রোদে দিলে ছারপোকার উপদ্রব কমে আসতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন, রোদে দেওয়ার সময় ফার্নিচারগুলোর সকল অংশ ঠিকভাবে রোদের উত্তাপ পায়। ছারপোকা তাপ সহ্য করতে পারে না; ফার্নিচারের সকল অংশে ঠিকভাবে তাপ লাগলে মাত্র কয়েক ঘন্টার মাঝে ডিমসহ সকল ছারপোকা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আবার, ফার্নিচারের কিনারা, ফাঁক-ফোকর, ফাটল, ছিদ্রের মাঝে ছারপোকা বা এর ডিম থেকে যেতে পারে। তাই এগুলো ন্যাফথালিনের গুঁড়া বা মোম দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে। সেই সাথে ঘরের লাগেজ-স্যুটকেসগুলো খালি করে এবং পরিষ্কার করে সেগুলোও রোদে দিতে হবে।
    • ঘরের বিভিন্ন স্থানে ও আসবাবপত্রের উপরে কেরোসিনের প্রলেপ দেওয়া বা স্প্রে করা যেতে লারে। ঠিকমতো কেরোসিন প্রয়োগ করা গেলে ছারপোকার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে কেরোসিন দাহ্য হওয়ায় এ উপায়টি অবলম্বন না করাই শ্রেয়। তাছাড়া এটি তোশকসহ অন্যান্য কাপড়-চোপড়ে প্রয়োগ করা যায় না।
    • কোনো এক ছুটির দিনে একসাথে ঘরের সব কাপড়-চোপড় গরম পানিতে ধুয়ে দিতে হবে। ধুয়ে নেওয়ার বেলায় বেশ খানিকটা সময় গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর সম্ভব হলে সেগুলোকে ‘ড্রায়ার’ দিয়ে বা ঠিকমতো রোদে শুকিয়ে এমন এক স্থানে রাখতে হবে, যেখানে ছারপোকার এখনো পৌঁছাতে পারেনি। এরপর সেখান থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কাপড় ব্যবহারের পর সেটি একই পদ্ধতিতে সতর্কতার সাথে পরিষ্কার করে একইস্থানে রাখতে হবে। মনে রাখা দরকার, যে কক্ষটি ছারপোকার দ্বারা আক্রান্ত, সে কক্ষটিতে যথাসম্ভব কম কাপড়-চোপড় রাখলে ভালো। সেখান থেকে অন্যান্য কাপড়, চাদর, বালিশের কভার, ব্যাগ ইত্যাদি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার ও ছারপোকামুক্ত করে করে অন্যত্র স্থানান্তরিত করতে হবে, যেখানে ছারপোকার উপদ্রব নেই। ফলে আক্রান্ত কক্ষটিতে ছারপোকার বসবাসের জায়গা কমে আসবে এবং তাদের বসবাস ও বংশবিস্তার করা কঠিন হয়ে পড়বে। কেননা, ছারপোকা কাপড়ের তৈরি জিনিসপত্রে বাস করতে বেশি পছন্দ করে।
    • কাপড়-চোপড়ের পাশাপাশি ধীরে ধীরে তোশক-কুশন-বালিশ-ম্যাট্রেস ইত্যাদিকে ভালো করে রোদে দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। কারণ এগুলোও ছারপোকার অন্যতম প্রিয় আবাসস্থল। রোদে শোকানোর আগে এগুলোর কভার খুলে নিয়ে গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
    • কাঠের ফার্নিচার বাদে অন্যান্য আসবাব, যেমন- ধাতব বা প্লাস্টিকের তৈরি আসবাবে ছারপোকার উপদ্রব তুলনামূলক কম হয়। তবুও সেগুলোকে আলাদা করে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিয়ে কিছুদিন কক্ষের বাইরে রাখতে হবে। প্রয়োজনের সেগুলোতে কেরোসিনের প্রলেপ দেওয়া যায়।
    • বলকান অঞ্চলে বহু যুগ ধরেই ছারপোকা ধরার কৌশল হিসেবে শিম বা শিমজাতীয় কিছু গাছের পাতাকে (বরবটি, মটরশুঁটি) ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এসব পাতায় আংটা জাতীয় একধরনের অতি সূক্ষ্ম রোমশ অংশ দেখা যায়, যা পুরো পাতার পৃষ্ঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকে। একে ‘ট্রাইকোম’ বলা হয়। এর উপর দিয়ে হাঁটতে গেলে ছারপোকার পা আটকে যায় এবং এরা নড়াচড়া করতে পারে না। আক্রান্ত কক্ষের মেঝেতে এবং যে স্থানে ছারপোকাদের চলাচল বেশি, সেখানে শিম বা এ জাতীয় গাছের অনেকগুলো পাতা ফেলে রাখলে সেগুলোতে ছারপোকা আটকা পড়ে যায়। এরপর সেগুলোকে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এভাবে ছারপোকার সংখ্য দিন দিন কমিয়ে আনা যায়।
    • ঘরের যেসব উন্মুক্ত অঞ্চলে ছারপোকার আনাগোনা বেশি, সেখান থেকে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ছারপোকাগুলোকে তুলে নেওয়া যায়। তবে এর দ্বারা খুব কম সংখ্যক ছারপোকাই তাড়ানো যায়।
    • ছারপোকা পিচ্ছিল পৃষ্ঠের উপর দিয়ে চলতে পারে না। তাই অনেকেই বিছানার উপর কিংবা তোশকের উপর প্লাস্টিক, রেক্সিন বা পলিথিনের পিচ্ছিল শীট ব্যবহার করে থাকেন, যেন এগুলোর উপর দিয়ে চলাচল করতে ছারপোকার অসুবিধা হয়।
    • ছারপোকা দমনের আরেকটি পরিচিত পদ্ধতি হলো অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড প্রয়োগ। আমাদের দেশে এটি বিভিন্ন দোকানে বা হকারদের কাছে ট্যাবলেট হিসেবে কিনতে পাওয়া যায়। ছারপোকা আক্রান্ত কক্ষের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি ট্যাবলেট রেখে দরজা-জানালা বন্ধ করে দুদিন সে কক্ষটাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখতে হয়। ট্যাবলেটগুলো বাতাসে মিশে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি করে এবং ছারপোকাকে মেরে ফেলে। তবে দুদিন পর কক্ষে ফিরে সবকিছু ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং জামা-কাপড় সব ধুয়ে দিতে হবে। অনেকের মতে, এ পদ্ধতিটি বেশ কার্যকর হলেও এতে সাফল্যের হার কিন্তু শতভাগ নয়। আবার, বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হয় বলে এটি মানুষের জন্যও ক্ষতিকর।
    • বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের শহরাঞ্চলেও কিছু ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান অর্থের বিনিময়ে ঘরবাড়ি থেকে কীটপতঙ্গ দমন সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকে। তারা ঘরের বিভিন্ন আসবাব ও ছোটখাট জিনিসপত্রকে একে একে ছারপোকামুক্ত করে সেগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে রেখে, তারপর গোটা একটা কক্ষে জলীয়বাষ্প বা উচ্চতাপ প্রয়োগ করে সে কক্ষকে ছারপোকামুক্ত করে ফেলেন। কিংবা আরও কয়েকটি পদ্ধতি তারা ব্যবহার করে থাকেন। প্রয়োজনে তাদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।


    গঠনগত কারণে ছারপোকার পা শিমপাতার সূক্ষ্ম ট্রাইকোমে আটকে যায়। ফলে ছারপোকা চলাচল করতে পারে না; Image Courtesy: University of California, Irvine via ScienceDaily
    উপরোক্ত উপায়গুলোর কোনোটিই পুরোপুরি ছারপোকা দমন করার নিশ্চয়তা প্রদান করে না। তবে এগুলোর মধ্যে কয়েকটি একসাথে প্রয়োগ করা গেলে এবং ধৈর্য্য ও অধ্যবসায়ের সাথে অনেকদিন যাবত ছারপোকার সাথে লড়াই করে গেলে একসময় মুক্তি মিলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যখন ফার্নিচারগুলোকে ছারপোকামুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন একইসাথে কাপড়গুলো সব গরম পানিতে ধুয়ে নিলে এবং গোটা কক্ষকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরিষ্কার করা হলে প্রথম প্রচেষ্টাতেই হয়তো সব ছারপোকা চলে যাবে না, তবে নিশ্চিতভাবেই তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। অর্থাৎ প্রথম প্রচেষ্টাতেই ছারপোকাদের সাথে যুদ্ধে অনেকটা এগিয়ে গেলেন আপনি। এটা এমন এক যুদ্ধ, যেখানে হয় আপনি হাল ছেড়ে দেবেন, কিংবা হাল ছাড়বে ছারপোকারা। এবার বাকিটা আপনার হাতে; হার মেনে নেবেন, নাকি চূড়ান্ত জয় ছিনিয়ে আনবেন। পর পর বেশ কয়েক সপ্তাহ (কিংবা মাস) চেষ্টা করতে থাকলে অনেকটা নিশ্চিতভাবেই একসময় মুক্তি মিলবে ছারপোকার হাত থেকে।

    ছারপোকা দমনের ক্ষেত্রে রাসায়নিক ব্যবহার করার বদলে অন্যান্য উপায়গুলো অবলম্বন করাই শ্রেয়। অনেক গবেষক দেখেছেন, কীটনাশক আবিষ্কৃত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কীটনাশকের বিরুদ্ধে ছারপোকাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েক হাজার গুণ বেড়ে গেছে! এছাড়া কীটনাশকগুলো শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য ভয়ানক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা ভ্যানগাড়িতে চড়ে রীতিমতো মাইকিং করে তেলাপোকা, উঁইপোকা, ইঁদুর, ছারপোকা ইত্যাদির বিষ বিক্রি করে থাকেন। তাদের কাছেই মিলবে এই অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড বা তাদের ভাষায় ‘ছারপোকার যম’; Image Credit: lokaantar.com
    আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, এমন কৌশল অবলম্বন করা উচিত, যেন ছারপোকারা পালাতে না পারে; এদেরকে মেরে ফেলা উচিত। কেননা, যদি এরা পালিয়ে পাশের কোনো বাসায় গিয়ে বসবাস করা শুরু করে, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। অর্থাৎ, তাদের উপদ্রব আরো বেড়ে যাবে এতে। পরবর্তীতে সুযোগ পেলেই আবারও আপনার বাসায় হানা দেবে এবং আশেপাশের অন্যান্য বাসা-বাড়িতেও ছড়িয়ে পড়বে।

    শেষকথা

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছারপোকাদের বিস্তার সাম্প্রতিককালে অনেক বেড়ে গেলেও সামনে আরও ভয়ানক সময় অপেক্ষা করছে; ছারপোকারা হয়তো সামনে বিপ্লবই ঘটাতে যাচ্ছে।

    দীর্ঘসময় যাবত এই রক্তখেকো পতঙ্গটি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও ইদানীং এটি আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যান্য অনেক কারণের পাশাপাশি এই যন্ত্রণাদায়ক প্রাণীটির বিষয়ে মানুষের সচেতনতার অভাব একে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করছে।

    যদিও এটি মানুষের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করে না, তবুও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সকাল আটটায় উঠে অফিস বা ক্লাসে যেতে হবে, অথচ রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে আসার পরও আপনি সামান্য ঘুমের জন্য ছারপোকার সাথে যুদ্ধ করেই যাচ্ছেন- ভাবতে পারেন!

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  16. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    প্লাস্টিকখেকো ছত্রাক সত্যি সত্যি কি আছে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    পরিবেশ দূষণের অন্যতম একটি কারণের নাম বলতে বললে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরেই পলিথিনের নাম আসবে। মাটিতে না মেশা, মাটির উর্বরতা নষ্ট করা, আবার পুড়িয়ে ধ্বংসের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস উৎপাদন যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ; শুধু পলিথিন নয়, প্লাস্টিকজাতীয় সব বস্তুর ক্ষেত্রেই এসব তথ্য সত্য। প্রতি বছরবিস্তারিত পড়ুন

    পরিবেশ দূষণের অন্যতম একটি কারণের নাম বলতে বললে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরেই পলিথিনের নাম আসবে। মাটিতে না মেশা, মাটির উর্বরতা নষ্ট করা, আবার পুড়িয়ে ধ্বংসের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস উৎপাদন যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ; শুধু পলিথিন নয়, প্লাস্টিকজাতীয় সব বস্তুর ক্ষেত্রেই এসব তথ্য সত্য। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক তৈরি হচ্ছে এবং কাজের শেষে তাদের গন্তব্য হয় সাগর, নদী-নালা, নর্দমা বা মাটি। প্লাস্টিক যে ধ্বংস হয় না তা নয়, তবে সময় লাগবে বহু বছর। বহু বছর পর রায়ায়নিক বন্ধন শিথিল হয়ে টুকরো টুকরো হয়। এ সময় এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরিত হয় যেগুলো মাছ এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণীরা খাবার ভেবে বিভ্রান্ত হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিক নিয়ে মানুষের যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন সামান্য একটি ছত্রাক দেখাচ্ছে মুক্তির সম্ভাবনা।

    ইসলামাবাদের এমনই একটি ময়লার ভাগাড় থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষায় দেখা মেলে এই ছত্রাকের; source: glorilist.com

    হ্যাঁ, এমনই এক ছত্রাকের দেখা মিলেছে যেগুলো খুব সহজেই প্লাস্টিকের দৃঢ় বন্ধনগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারে কয়েক সপ্তাহেই! চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সের গবেষকগণ পাকিস্তানের বিজ্ঞানীদের সাথে একজোট হয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে আবিষ্কার করেছেন এই ছত্রাক। এর বৈজ্ঞানিক নাম Aspergillus tubingenesis (অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিস)। অনেকটা শকুনি দৃষ্টি দিয়ে গবেষকগণ নমুনা জোগাড় করেন ময়লার ভিতর থেকে। নানা প্রকারের ময়লা তারা সংগ্রহ করেন। বিশ্বাস একটিই, নিশ্চয়ই এমন কোনো অণুজীবের দেখা মিলবে যেটি প্লাস্টিককে মিশিয়ে দিতে।

    অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিস; source: zee news

    সংগৃহীত নমুনাগুলোকে অত্যাধুনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র এবং বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করে তারা একধরনের ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের দেখা পান, যেগুলো এদের দেহের মাইসেলিয়ার (অণুজীবের দেহ থেকে বের হওয়া শিকড়ের ন্যায় সূত্রবিশেষ) শক্তি ব্যবহার করে পলিমারকে ভেঙে দিতে পারে। গবেষকদল বলেন, প্রাকৃতিকভাবে পলিমার বন্ধন ভাঙতে যেখানে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে, সেখানে এই ছত্রাকগুলো কয়েক সপ্তাহেই ভেঙে দিতে পারে।

    অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিস

    অ্যাসপারগিলাস টুবেনজেনেসিস এমন একধরনের ছত্রাক যা সাধারণত মাটিতে থাকে। তবে গবেষণাগারে এগুলোকে প্লাস্টিকের উপর বেড়ে উঠতে দেখা গিয়েছে। ২০১৭ সালের এই গবেষণাটিতেই প্রথম জানা গেল এর সম্পর্কে তা কিন্তু নয়। ১৯৩০ সালে রাউওল মোজেরে নামক একজন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম এই ছত্রাকটির বর্ণনা দিয়েছিলেন। বৈজ্ঞানিক নামটিও মোজেরেরই দেওয়া। তার মতে, এই ছত্রাকটি ‘বর্ডারলাইন এক্সট্রেমোফাইল’ অর্থাৎ এটি অতি প্রতিকূলতায়ও বেঁচে থাকতে পারে। এটি অতিবেগুনী রশ্মি সহনশীল এবং অত্যাধিক তাপমাত্রা (৩০-৩৭ ডিগ্রি সে.) এর বৃদ্ধি ঘটে, যেখানে অন্যান্য প্রজাতিগুলো ২১-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছাড়া পারে না। তবে এর লৈঙ্গিক ধরণ সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কিছু জানা যায় নি। ধারণা করা হচ্ছে, অযৌন জনন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবৃদ্ধি ঘটে। তবে কালো অ্যাস্‌পারগিলাসদের সাথেও এটি সম্পর্কযুক্ত। শুধু তা-ই নয়, এর যৌন বৈশিষ্ট্যের সাথে পেক্টোমাইসিস গোত্রের যৌন বৈশিষ্ট্যেরও মিল পাওয়া গিয়েছে।

    a) জাপেক মিডিয়ামে ৭ দিন রাখার পর সৃষ্টি কলোনি, b) অ্যাগার মিডিয়ামের বিপরীত পাশে হলদে কলোনি, c) স্পোরোফোর, d) কনিডা এবং স্পোরাঞ্জিয়াম; source: foto-bass.com

    অ্যাস্‌পারগিলাস টুবিনজেনেসিস নামক ছত্রাকটির কনিডিয়াগুলোর ব্যাস মোটামুটি ৩-৫ মাইক্রোমিটার এবং সেগুলো খুব বেশি অমসৃণ। কখনো কখনো সাদাটে বা গোলাপী বর্ণের ০.৫-০.৮ মি.মি. ব্যাসবিশিষ্ট স্ক্লেরোশিয়ার সৃষ্টি হয়। এটি অক্রাটক্সিন, অ্যাসপারাজিন, পাইরানোগ্রিন এ, পারোফেন, ফিউনালেনান এবং কোটানিনের মতো এক্সটোলাইট তৈরি করতে পারে। এছাড়াও এই ছত্রাকগুলোকে ক্রিয়েটিন সুক্রোজ আগার (CREA) মাধ্যমে কালচার করলে খুব ভালভাবে এসিড সৃষ্টি করে এবং বৃদ্ধির গতিও মোটামুটি ভালোই থাকে। ১৫-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এরা মাইকোটক্সিন এবং অক্রাটক্সিন উৎপাদন করতে পারে।
    অ্যাসপারগিলাস গোত্রের আরেকটি সদস্য Aspergillus niger এর সাথে এর যথেষ্ঠ মিল থাকায় অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার না করে এদেরকে আলাদা করা কঠিন। এমনই একটি পদ্ধতি হলো এরলিক বিক্রিয়া (Ehrlich reacton)। এছাড়া অ্যাসপারজিন উৎপাদন দেখেও অ্যাসপারগিলাস গোত্রের অন্যান্য প্রজাতি থেকে টুবিনজেনেসিসকে আলাদা করা যায়।

    Aspergillus niger; source: inspq.qc.ca

    অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিস এর pH এর মান অনেক কম, অর্থাৎ এটি এসিডীয় এবং কম পানিযুক্ত স্থানকে বসবাসের জন্য উপযুক্ত মনে করে। থাইল্যান্ড এবং চীনে এর প্রাদুর্ভাব বেশি হলেও পৃথিবীর উষ্ণতম দেশগুলোতে দেখা মিলবে এই ছত্রাকের। কখনো কখনো ঘরের মধ্যেও দেখা দিতে পারে এই ছত্রাক, বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়া এবং তুরস্কে। এছাড়াও নেদারল্যান্ড, হাঙ্গেরি এবং আলজেরিয়াতেও এর উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।

    অর্থনৈতিক গুরুত্ব

    উপকারিতা

    – এই ছত্রাকটি যেহেতু মাইকোটক্সিন উৎপাদন করতে পারে তাই জৈবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এবং শৈল্পিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    – এছাড়াও এটি অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, গ্লুকোজ, গ্লুকোজ অক্সাইড, ফাইটেজ, জিলানেজ, এবং এসিড ফসফেটের মতো প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদানগুলো তৈরি করতে পারে। অবিশুদ্ধ পানি এবং চিটাগুড়ের অবশিষ্টাংশ থেকে বায়ো-ইথানল প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এই টুবেনজেনেসিসের উৎপাদিত অ্যামাইলেজ।

    – এ টুবেনজেনেসিস ছত্রাকটি কিছু জৈবিক এসিডও উৎপাদন করতে পারে, যেমন- সাইট্রিক এসিড, অ্যাসকরবিক এসিড ইত্যাদি, যেগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

    – শস্য উৎপাদনে, বিশেষ করে ভুট্টা উৎপাদনের জন্য মাটি প্রস্তুতিতে এটি খুবই কার্যকরী একটি ছত্রাক হিসেবে পরীক্ষিত। এটি মাটির ফসফেট মুক্ত করে এবং মাটির ক্ষারত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

    – টমেটো গাছকে প্যাথোজেনিক রোগসৃষ্টিকারী ছত্রাক থেকে মুক্ত রাখে এই টুবেনজেনেসিস। এছাড়াও আঙুর উৎপাদনেও রয়েছে এর উল্লেখযোগ্য উপকারী ভূমিকা।

    – বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ভূমিকা এই ছত্রাকটি পালন করছে তা হলো প্লাস্টিক ধ্বংস করা। প্লাস্টিকের মধ্যে যে অসংখ্য পলিমার বন্ধন আছে তা খুব সহজেই ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে পারে।

    প্লাস্টিকের উপর ছত্রাকগুলো রাখার পর সেগুলো এনজাইম ক্ষরণ করে পলিমার বন্ধন ভাঙা শুরু করে; source: forestfloornarrative.com

    অপকারিতা

    আশার পরেও রয়ে যায় হতাশা। খুব বেশি নয়, ভাবুন তো গত ৭০ বছরে ঠিক কত প্লাস্টিক, কত পলিমার বন্ধন পৃথিবীতে কৃত্রিম উপায়ে বানানো হয়েছে শুধুমাত্র মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাবার জন্য? প্লাস্টিকের বালতি, জগ, গামলা, মগ, চকলেটের কৌটা, ফোম, সিনথেটিক লেদার, রঙ, রেফ্রিজারেটরের ইনসুলেশন, পলিথিন ব্যাগ ইত্যাদি অসংখ্য প্লাস্টিক পণ্যে পলিমার বন্ধনের সংখ্যাও কম নয়। অথচ এই ক্ষুদ্র ছত্রাকগুলো সংখ্যা সর্বোচ্চ পাঁচ মিলিয়ন হবে। এছাড়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, সব ধরনের প্লাস্টিককে ভেঙে দেবার ক্ষমতাও এদের নেই।

    মানুষের উপর একেবারেই খারাপ প্রভাব নেই তা-ও নয়। যদিও আমেরিকার খাদ্য এবং ঔষধ প্রশাসন (FDA) এর তথ্যানুযায়ী এই ছত্রাকটি নিরাপদ। অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিসের দ্বারা ‘কেরাটাইটিস’ নামক কর্নিয়াল ইনফেকশন হবার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া এরা ম্যাক্সিলারি হাড়ে ইনফেকশনও সৃষ্টি করতে পারে যার প্রভাবে দাঁত পড়ে যেতে পারে বা তুলে ফেলতে হতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় ফুসফুসীয় রোগে আক্রান্ত রোগীদের শ্বাসনালীতে ধরা পড়েছে এই অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিস।

    source: forestfloornarrative.com

    শেষ কথা

    বিজ্ঞানীরা এখনো জোর গবেষণা চালাচ্ছেন। অ্যাসপারগিলাস টুবিনজেনেসিসের মতো আরও প্রাকৃতিক অণুজীবের দেখা নিশ্চয়ই মিলবে, যেগুলোকে সম্মিলিতভাবে ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যার সমাধান করে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা যাবে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  17. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    নোবেল পুরষ্কার পাওয়া অপটিক্যাল টুইজার মূলত কী?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় নমুনা বা স্যাম্পল খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো কোনো নমুনা আছে অহরহ পাওয়া যায় সবখানে। কোনো নমুনা আছে খুব দুর্লভ আবার কোনো কোনো নমুনা আছে খুব ভঙ্গুর। নয় থেকে ছয় হয়ে গেলেই সে নমুনা নষ্ট হয়ে যায় কিংবা তার স্বাভাবিকতা হারায়। যেমন ডিএনএ কিংবা ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস। এগুলো জগতেবিস্তারিত পড়ুন

    বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় নমুনা বা স্যাম্পল খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো কোনো নমুনা আছে অহরহ পাওয়া যায় সবখানে। কোনো নমুনা আছে খুব দুর্লভ আবার কোনো কোনো নমুনা আছে খুব ভঙ্গুর। নয় থেকে ছয় হয়ে গেলেই সে নমুনা নষ্ট হয়ে যায় কিংবা তার স্বাভাবিকতা হারায়। যেমন ডিএনএ কিংবা ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস। এগুলো জগতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া গেলেও গবেষণার সময় পান থেকে চুন খসলেই এদের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হয়ে যাওয়া কোনো নমুনা থেকে যে ফলাফল আসবে তা তো আর সঠিক হবে না।

    ডিএনএ কিংবা ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসকে যদি কেউ পর্যবেক্ষণ করতে চায় তাহলে সেটিকে কোনো স্লাইড জাতীয় জিনিসের উপর রেখে করতে হবে। এরকম পর্যবেক্ষণে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কোনো নমুনাকে যদি এপিঠ-ওপিঠ, উপর-নিচ সবদিক থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হয় তাহলে ঝামেলা বেধে যায়। নমুনাকে অক্ষত রেখে উল্টে পাল্টে দেখা সম্ভব হয় না। দেখতে গেলে নমুনা নষ্ট হয়ে যায় কিংবা পূর্বের অবস্থা থেকে বিচ্যুত (manipulated) হয়ে যায়।

    স্লাইডে রেখে নমুনা পর্যবেক্ষণ করায় আছে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা; Source: 123RF
    এ পরিস্থিতিতে এমন কোনো উপায় কি বের করা সম্ভব যার মাধ্যমে নমুনাকে অক্ষত রেখেই উল্টে পাল্টে দেখা যাবে? এ বেলায় যেতে হবে পদার্থবিজ্ঞানের কাছে। হেন কোনো বিষয় নেই যা নিয়ে পদার্থবিজ্ঞান মাথা ঘামায় না। এর সমাধানও হয়তো মিলতে পারে পদার্থবিজ্ঞানের কাছে। পদার্থবিজ্ঞান হয়তো এমন কোনো চিমটা তৈরি করে দেবে না যেটা নমুনাকে ধরে রাখবে, তবে এমন কোনো পদ্ধতি তৈরি করে দেবে যা দিয়ে নমুনাকে ভাসিয়ে রেখে উল্টে পাল্টে দেখা যাবে।

    পদার্থবিজ্ঞান কীভাবে এ ক্ষেত্রে কাজে লাগলো সেটা জানতে হলে একদম মূল থেকে শুরু করতে হবে। প্রথমে বস্তুকে ধরে রাখার কথা চিন্তা করি। ক্যামেরা ধরে রাখার ট্রাইপড নিশ্চয় দেখেছেন। তিন দিকে তিনটা খুঁটি মিলে একটা জায়গায় স্থায়ী করে রাখে ক্যামেরাকে। এখন ট্রাইপডের খুঁটিগুলোকে সরু পাইপ বলে বিবেচনা করুন, যেগুলোর মধ্য দিয়ে একই বেগে বাতাস বের হয়ে আসছে। তিন দিকের বাতাস একটি বিন্দুতে মিলিত হচ্ছে। ঐ মিলন বিন্দুতে যদি একটি পাতলা বল রেখে দেওয়া হয় তাহলে তিন দিকের চাপে বলটি সেখানে ভাসতে থাকবে। ব্যাপারটি পরিষ্কার হবার জন্য নিচের ছবিটি দেখুন।

    Source: giphy
    একটা সময় জানা যায় ফোটন কোনো বস্তুকে ধাক্কা দিতে পারে। আমরা প্রতিনিয়তই ফোটনের মুখোমুখি হচ্ছি কিন্তু ধাক্কা অনুভব করছি না কেন? আসলে ধাক্কা আমরা ঠিকই পাই কিন্তু তার পরিমাণ এতই নগণ্য যে সেটা দৃশ্যমান কোনো ফলাফল দেয় না। তাছাড়া আমরা পৃথিবীর শক্তিশালী মহাকর্ষে বাধা। যেখানে এমন একটি বল টেনে রাখছে আমাদের সেখানে ফোটনের ধাক্কার কোনো ফল পাওয়া যাবে না এটাই স্বাভাবিক।

    যেখানে মহাকর্ষের শক্তিশালী প্রভাব নেই সেখানে ফোটনের ধাক্কার বিষয়টি ঠিকই পর্যবেক্ষণ করা যায়। ধূমকেতুর কথা হয়তো শুনে থাকবেন। এর ভারী অংশটাকে বলে নিউক্লিয়াস আর হালকা অংশটাকে বলে পুচ্ছ। ধূমকেতু যখন সূর্যের দিকে আসে কখনোই পুচ্ছের অংশটা সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে না। সবসময়ই সূর্যের বিপরীত দিকে অবস্থান কর। কারণ সূর্যের আলোকের ফোটনের ধাক্কায় হালকা পুচ্ছটি পেছনের দিকে সরে গিয়েছে।

    ধূমকেতুর পুচ্ছ সবসময় সূর্যের বিপরীত দিকে থাকে; Pinterest
    ফোটনের ধাক্কার বিষয়টিকে বিজ্ঞানীরা খুব গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। এমনকি একে ব্যবহার করে মহাকাশযানের ডিজাইনও করেন, যে যান ফোটনের ধাক্কায় এগিয়ে যাবে অল্প অল্প করে। ১৯৭৫ সালে যখন ভাইকিং মহাকাশযান পাঠানো হয় তখন ফোটনের ধাক্কার বিষয়টি হিসেবের মধ্যে আনা হয়। ফোটন কর্তৃক প্রদত্ত চাপ হিসেব করে ভাইকিংকে মঙ্গলের দিকে প্রেরণ করা হয়েছিল। যদি এই হিসাবটি করা না হতো তাহলে ভাইকিং যান গণনাকৃত দূরত্বের ১৫ হাজার কিলোমিটার বাইরে দিয়ে চলে যেতো।

    বিজ্ঞানীরা নৌকার পালের মতো করে এমন একটি মহাকাশযান ডিজাইন করেছেন যেটি আলোর (ফোটনের) ধাক্কায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। বিজ্ঞানীরা এই যানের নাম দিয়েছে LightSail বা আলোকপাল; Image: The Planetary Society
    তো এই ব্যাপারটাকে পৃথিবীতেও কাজে লাগানো যায় কিনা? পৃথিবীর কোনো ভারী বস্তুকে ফোটনের ধাক্কায় ভাসানো যাবে না, তা ঠিক আছে। কিন্তু খুবই ক্ষুদ্র কোনোকিছু যেমন কোনো অণু কিংবা কোনো অঙ্গাণু কিংবা কোনো এককোষী প্রাণী?

    এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে থাকেন আর্থার অ্যাশকিন নামের একজন মার্কিন গবেষক। তার সময়কালে স্টার ট্রেক সিরিজ কিংবা স্টার ওয়ার্স চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, না ছুঁয়ে না ধরে কীভাবে লেজার বিম ব্যবহার করে কীভাবে অনেক দূর থেকে শত্রুর যান উড়িয়ে ফেলা যায় যায়, মুহূর্তের মাঝে কোনো গ্রহাণু কিংবা এমনকি আস্ত গ্রহই ধ্বংস করে ফেলা যায়।

    সে সময়টায় লেজার উদ্ভাবিত হয়েছে। উদ্ভাবনের পরপরই তিনি লেজার নিয়ে গবেষণায় নেমে যান। শীঘ্রই তিনি অনুধাবন করতে পারেন ক্ষুদ্র বস্তুকে না ধরে না ছুঁয়ে ভাসিয়ে রাখার ক্ষেত্রে লেজার কাজে আসতে পারে। তিনি নেমে পড়লেন এই কাজে। কয়েক মাইক্রোমিটারের অতি ক্ষুদ্র স্বচ্ছ বল তৈরি করেন এবং দেখেন সেটিকে লেজারের রশ্মি ভাসিয়ে রাখছে। সে সময় তিনি লক্ষ করেন স্বচ্ছ বলগুলো লেজার বিমের একদম মাঝে এসে স্থায়ী হচ্ছে। মাঝে বলতে লেজারকে যদি প্রস্থচ্ছেদ করা হয় সেই প্রস্থচ্ছেদের মাঝে।

    এমনটা কেন হয় তার পেছনে পদার্থবিজ্ঞানের কিছু নিয়ম কাজ করে। জটিলতা পরিহার করে বললে পলা যায়, এই অংশটাতে লেজারের তীব্রতা বেশি থাকে। পাশের এলাকাগুলোতে তীব্রতার হেরফের হয়, যার কারণে স্বচ্ছ বলের অবস্থান নড়েবড়ে হয়ে যায়। তাই যে অংশে হেরফের হয় না সেখানেই এসে স্থায়ী হয়।

    এখানে আরেকটু সমস্যা আছে। লেজারের বিম যত দূর পর্যন্ত লম্বা, ততদূর পর্যন্ত বলটি চলাচল করতে পারে। হয়তো বিমের মাঝখানেই থাকে কিন্তু তারপরেও এক স্থানে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় আর্থার অ্যাশকিন বিমের মাঝে একটি লেন্স বসিয়ে দিলেন। লেন্সের কারণে আলো বেকে গিয়ে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়। যে অংশে সবগুলো আলোক রশ্মি মিলিত হয় সে অংশের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। আর ঐ অংশটি মাত্র একটি বিন্দু। তার মানে দাঁড়াচ্ছে ঐ বিন্দুতেই স্থির হয়ে আটকে থাকবে স্বচ্ছ বলটি। আর এর মাধ্যমেই তৈরি হয়ে গেল আলোকের ফাঁদ। ধরা লাগলো না, ছোঁয়া লাগলো না, বস্তুকে ভাসিয়ে রাখা গেল ঠিকই। একেই বলা হয় অপটিক্যাল টুইজার।

    বিশেষ প্রক্রিয়ায় এক জায়গায় ভাসিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে একটি বস্তুকে; Credit: Nobel Media
    এরপর এটি নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গেল। নানা বিজ্ঞানী নানাভাবে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর অণু পরমাণু নিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলেন। কিন্তু আর্থার অ্যাশকিন এই ব্যাপারটিকে দেখলেন অন্য দিক থেকে। তিনি জীববিজ্ঞানে এর প্রয়োগ নিয়ে মাথা ঘামালেন। অণু-পরমাণুর বদলে তিনি এই পরীক্ষায় ব্যবহার করলেন ক্ষুদ্র ভাইরাস। এক পর্যায়ে ভাইরাস থেকে যান ব্যাকটেরিয়ায়। ব্যাকটেরিয়ারা ভাইরাসের চেয়ে বড় ও ভারী। তার মানে এটিকে ফোটনের শক্তিতে ভাসিয়ে রাখা চ্যালেঞ্জিং। তিনি লক্ষ করেন ব্যাকটেরিয়াগুলো ভেসে থাকছে ঠিকই কিন্তু সেগুলো মারা যাচ্ছে।

    মারা গেলে তো আর পরীক্ষা সম্পন্ন করা যাবে না। মারা যাচ্ছে লেজারের তীব্রতার কারণে। এমতাবস্থায় তিনি ইনফ্রারেড আলোর হালকা লেজার ব্যবহার করলেন। এতে ব্যাকটেরিয়াগুলো ভেসেও থাকলো এবং টিকেও থাকলো। এভাবে পরীক্ষা করতে করতে তিনি এমন একটি উপায় বের করেন যেখানে ব্যাকটেরিয়ার গায়ের কোনো ক্ষতি না করে এমনকি কোষ ত্বক (প্লাজমা মেমব্রেনেরও) কোনো ক্ষতি না করে ভাসিয়ে রাখা যায়। এর মাধ্যমে নতুন একটি জগতে প্রবেশ করে জীববিজ্ঞান। পরীক্ষণের জন্য রাখা খুব স্পর্শকাতর নমুনাকে কোনো স্পর্শ ছাড়াই উপর-নিচ, নাড়াচাড়া, এদিক-সেদিক করা যায়।

    জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা, রসায়নের বিভিন্ন শাখা ও পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এই পদ্ধতি ব্যবহার হতে থাকে।

    নোবেল জয়ী অর্থার অ্যাশকিন; © Niklas Elmehed/Nobel Media
    ২০১৮ সালে আর্থার অ্যাশকিনের অবদানের জন্য তাকে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। পুরষ্কারের অর্ধেক পাবেন তিনি আর বাকি অর্ধেক পাবেন কানাডার ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড এবং ফ্রান্সের জেরার্ড মরো। লেজারের প্রয়োগ নিয়ে একটি জটিলতায় ভুগছিলেন বিজ্ঞানীরা। লেজার দিয়ে অনেক কিছু করা গেলেও একটা জায়গায় এসে আর কিছু করা যাচ্ছিল না, কোনোভাবেই সেই সীমাবদ্ধতা থেকে বের হওয়া যাচ্ছিল না। এই অংশটিকে কাজ করেন স্ট্রিকল্যান্ড ও মরো। তাদের কাজের ব্যাখ্যা করতে গেলে স্বতন্ত্র একটি লেখা লিখতে হবে। পরবর্তী কোনো লেখায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। নোবেল পুরষ্কার অর্জনের জন্য তাদেরকে অভিনন্দন। আর তাদের কাজের মাধ্যমে আমাদের জীবন যাপনকে উন্নত করার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  18. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

    স্লিপওয়াকিং কি ধরনের রোগ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    কল্পনা করুন তো, রাতে ঠিকমতোই ঘুমিয়েছিলেন নিজের ঘরে। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। নিজেকে আবিষ্কার করলেন ঘন জঙ্গলে, চারপাশে জমাট বাধা বিদঘুটে অন্ধকার, শিয়াল ডাকছে। আপনি কিভাবে এখানে এলেন সেটা হাজার চেষ্টাতেও মনে করতে পারছেন না। অথবা ঘুম ভাংলে দেখলেন গাড়িতেই বসে আছেন এবং গাড়িটি কোনো এক গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে উবিস্তারিত পড়ুন

    কল্পনা করুন তো, রাতে ঠিকমতোই ঘুমিয়েছিলেন নিজের ঘরে। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। নিজেকে আবিষ্কার করলেন ঘন জঙ্গলে, চারপাশে জমাট বাধা বিদঘুটে অন্ধকার, শিয়াল ডাকছে। আপনি কিভাবে এখানে এলেন সেটা হাজার চেষ্টাতেও মনে করতে পারছেন না। অথবা ঘুম ভাংলে দেখলেন গাড়িতেই বসে আছেন এবং গাড়িটি কোনো এক গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে উলটে পড়ে আছে। আপনি মনেই করতে পারলেন না যে, ঘুমিয়েছিলেন নিজের ঘরে অথচ জেগে উঠলেন ঘন জঙ্গলে বা ধাক্কা খাওয়া গাড়ির ভেতর। অনেকটা ভৌতিক কিংবা অনেকটা সিনেমার মতোই মনে হবে বিষয়টি। তবে যা ঘটেছে তা কিন্তু আপনিই ঘটিয়েছেন। কিন্তু কিভাবে সম্ভব?

    ব্যোমকেশপ্রিয় মানুষেরা কলকাতা বাংলা আর্টফিল্ম ‘শজারুর কাঁটা’ দেখেননি, এমনটি হওয়ার কথা নয়। এই সিনেমায় প্রায়শ রাতে একের পর এক মানুষ খুন হয়ে যায়। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে প্রতিটি খুনই করা হয় শজারুর কাঁটা দিয়ে এবং পিঠের একটি বিশেষ অংশে এই কাঁটা বসিয়ে। তো ব্যোমকেশ বাবুর উপর এই তদন্তের ভার পড়লে অবশেষে তিনি খুনিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। কিন্তু যেটা রোমাঞ্চকর সেটা এই শজারুর কাঁটা নয়, ওটা ছিলো নিছক হাতিয়ার। রোমাঞ্চকর ব্যাপার হচ্ছে খুনি প্রবাল খুনের সময় টেরই পায় নি যে সে খুন করেছে বা করছে। ব্যোমকেশ বাবুর মতে প্রবাল ঘুমের ভেতরই এই খুন করেছে। এই অবস্থাকেই বলা যায় নিদ্রাভ্রমণ বা স্লিপওয়াকিং (Sleepwalking)। প্রেমিকাকে হারাবার দুশ্চিন্তা, নাটকদলের জন্য দুশ্চিন্তা ইত্যাদিই প্রবালকে এই সমস্যার সম্মুখীন করেছিলো। তাছাড়া শেক্সপীয়র তাঁর ‘ম্যাকবেথ’ নাটকেও স্লিপওয়াকিং সম্বলিত একটি দৃশ্য তৈরী করেছেন।

    স্লিপওয়াকিং; Image Source: activemomsnetwork.com

    নাটকে বা সিনেমায় দেখে বিষয়টিকে অনেকটা ফিকশন মনে হলেও বাস্তবে স্লিপওয়াকিং-এর অনেক প্রমাণ পাওয়া যায় যার দুই-একটি ক্ষেত্রে ফলাফল সিনেমার মতোই ভায়াবহ পর্যায়ে গিয়েছে। মূলত ৪-৮ বছর বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সচরাচর দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হতে পারে। এই লেখাটিতে থাকছে স্লিপওয়াকিং নিয়ে কিছু অজানা তথ্য।

    স্লিপওয়াকিং বা নিদ্রাভ্রমণ কী?

    স্লিপওয়াকিং বা নিদ্রাভ্রমণ (বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় Somnambulism অথবা Noctambulism) বলতে বোঝায় ঘুম এবং ভ্রমণের অর্থাৎ চলাফেরার যৌগিক রূপ। সহজে বলতে গেলে ঘুমের ভেতর স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করা, যদিও সেটা স্বাভাবিক না। চিকিৎসকেরা একে প্যারাসোমনিয়া (Parasomnia) গোত্রভূক্ত করে থাকেন। প্যারাসোমনিয়া একটি ঘুম সংক্রান্ত ব্যাধিগোত্র, যেখানে মূলত ঘুমের ভেতর মানুষের বিভিন্ন আচরণগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে; যেমন ঘুমের ভেতর কথা বলা, চলাফেরা করা, কাঁদা, দাঁত কিড়মিড় করা ইত্যাদি। তবে এক্ষেত্রে সব সময় গভীর ঘুমেরও আবশ্যকতা নেই। আধা ঘুম, পূর্ণ ঘুম অথবা ঘুম থেকে জেগে ওঠার পূর্বমুহূর্তেও এসব ঘটনা ঘটতে পারে।

    তবে স্লিপওয়াকিং সাধারণত গভীর ঘুমের সময়েই হয়ে থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Slow Wave Sleep Stage (SWSS)। এই সময়ে ঘুমন্ত ব্যক্তির চেতনা থাকে খুবই ক্ষীণ, অর্থাৎ বাহ্যিক জগৎ থেকে বলা যায় প্রায় সম্পূর্ণ যোগাযোগবিহীন। কিন্তু একই সময়ে স্লিপওয়াকিং-এ আক্রান্ত ব্যক্তি মনের অজান্তেই এমন কাজ করে ফেলেন, যা দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে তিনি জেগে আছেন না ঘুমিয়ে আছেন। যেমন- তিনি বিছানার উপর উঠে বসলেন, তারপর বাথরুমে গেলেন কিংবা রান্নাঘরে গেলেন অথবা গাড়ি ড্রাইভিং এর মতো বিপদজনক কাজও করে ফেলতে পারেন!

    Image Source: mediologiest.com
    স্লিপওয়াকিং এর ক্ষেত্রে এই রোগে (অবশ্য একে রোগ বলা যাবে কিনা এ নিয়ে মতবিরোধ আছে) আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুমন্ত অবস্থায় করা কাজগুলো পুনরাবৃত্তিক ধরণের হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি ঘুমের ভেতর তার রান্নাঘর পর্যন্ত যদি যান, তবে পরে প্রায় প্রতিবারই তার রান্নাঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। যদিও ঘুমন্ত অবস্থায় সাধারণ কাজ করার কথা থাকলেও, রিপোর্টে দেখা যায় মাঝেমধ্যে কিছু জটিল আচরণও ওই ব্যক্তি করতে পারেন।

    সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি জানতেই পারেন না যে তিনি আসলে কি করছেন বা করেছেন। কারণ প্রায় অচেতন অবস্থায় করা কাজ যেমন তিনি অনুভব করতে পারেন না, তেমনি মস্তিষ্ক এই কাজের কোনো স্মৃতি রাখতে পারে না। কারণ এই সময় মস্তিষ্কের চেতনার অংশ বিশ্রাম অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ বিষয়টি তার কাছে অজানাই থেকে যায়। কিন্তু তাদের চোখ খোলা থাকতে পারে। যদিও দেখে মনে হতে পারে মদ্যপান বা ঘুমের কারণে ঢুলছেন।

    গবেষণায় দেখা যায় যে, স্লিপওয়াকিং এর সময়কাল সর্বনিম্ন ৩০ সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত রাতের প্রথম তৃতীয়ার্ধে এই সমস্যাটি ঘটতে দেখা যায়। কারণ এই সময়ই ঘুম গভীর হতে থাকে এবং যদি এই ধরণের অবস্থার সৃষ্টি হয়েই থাকে তবে প্রতি রাতে একবারই হয়।

    স্লিপওয়াকিং-কে ২টি শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম ক্ষেত্রে আছে ঘুমের ভেতর চলাফেরার করার সাথে সাথে ঘুম সংক্রান্ত খাওয়া-দাওয়া (Sleep-eating)। এই ক্ষেত্রে ঘুমের ভেতরই ব্যক্তি খাওয়া-দাওয়া করতে পারে। ধারণা করা হয় অতিরিক্ত মানসিক চিন্তা করা বা ঘুমের ওষুধ (যেমন Ambien) ব্যবহারের কারণে এ ধরণের সমস্যা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রান্না করে খাওয়ারও প্রবণতা দেখা যায়। দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্ষেত্রে দেখা যায় ঘুমের ভেতর ঘুম সংক্রান্ত যৌন আচরণ (বা sexsomnia)।

    পরিসংখ্যান কী বলে?

    পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে প্রায় ১৫% শিশুই ঘুমের ভেতর ভ্রমণ করে এবং কারো কারো ক্ষেত্রে এই সমস্যা আস্তে আস্তে প্রকট হতে থাকে। পৃথিবীর মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৮-১৯% মানুষই স্লিপওয়াকার (Sleepwalker), যাদের মধ্যে শিশু-কিশোর এবং পূর্ণবয়স্ক মানুষ আছে- প্রায় ৬.৯% মেয়ে শিশু, ৫.৭% ছেলে শিশু, ৩.১% পূর্ণবয়স্ক মহিলা এবং ৩.৯% পূর্ণবয়স্ক পুরুষ। সবথেকে বেশি স্লিপওয়াকিং এর রেকর্ড আছে ১১ থেকে ১২ বছর বয়সের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, যা প্রায় ১৬.২%।

    গবেষণায় দেখা যায় শিশু (যাদের বয়স ২ থেকে ১২ বছর) ও প্রাপ্তবয়স্করা রাতের ৮০%-ই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, যেখানে ২ বছর বা তার কম বয়সের বাচ্চাদের (Infant) ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৫০%। দুশ্চিন্তাজনিত কারণে কোনো মানুষের স্লিপওয়াকিং-এর সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের থেকে ৩.৫ গুণ হয়ে থাকে।

    স্লিপওয়াকিং এর কারণ

    স্লিপওয়াকিং এর সঠিক কারণ জানা এখনও সম্ভব না হলেও গবেষক ও চিকিৎসকের ধারণমতে বেশ কয়েকটি কারণ পাওয়া যায়। যদিও কারণগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে এখনো প্রমাণিত নয়। অর্থাৎ এই কারণগুলো এখনো প্রকল্পিত (Hypotheses) হিসেবে ধরে নেয়া হয়। ধারণা করা হয় সঠিক সময়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের পূর্ণতার অভাবে এই সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যা প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে শিশুদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যায়।

    স্লিপওয়াকিং-কে গবেষকরা তৃতীয় পর্যায়ের (Stage-3) Rapid Eye Movement (REM) Disorder ধরণের ঘুমের কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। REM ঘুমের সময় সাধারণত আমরা স্পষ্টভাবে স্বপ্ন দেখে থাকি। এই সময়ে মস্তিষ্কের মোটর অংশ বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং এর ফলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো হঠাৎ ঝাঁকি খায় যা পরবর্তীতে জটিল গতিবিধির সৃষ্টি করে। এতে করে ব্যক্তি তার স্বপ্ন অনুযায়ী অবচেতনভাবে হাঁটাচলা করে থাকে। আবার শিশুদের ক্ষেত্রে Stage-3 তে বৃদ্ধি হরমোন নিঃসৃত হয়ে থাকে। যতই বয়স বাড়ে, এই হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ তত কমে যেতে থাকে। মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে এই Stage-3 হরমোনের কারণেই স্লিপওয়াকিং এর মাত্রা বেশি দেখা যায়।

    আরো জানা যায় যে, এই সমস্যাটি বংশানুক্রমিক ভাবে প্রবাহিত হতে পারে, অর্থাৎ জীনগত হয়ে থাকে। যেমন কোনো ব্যক্তির পিতা-মাতা, ভাই অথবা বোনের যদি এই সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির স্লিপওয়াকিং এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের থেকে ১০ গুণ বেশি হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৪৫% শিশু যারা স্লিপওয়াকিং এ আক্রান্ত, তাদের পিতা-মাতার যেকোনো একজন এই সমস্যায় আক্রান্ত। এই পরিমাণ ৬০% পর্যন্ত হতে পারে যদি পিতা-মাতার দুজনই স্লিপওয়াকিং সমস্যায় ভোগে।

    কিন্তু কেবল জীনগত কারণেই যে এই সমস্যা দেখা দেবে এমন না। বাহ্যিক পরিবেশের প্রভাবে বা মানসিক সমস্যার কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আরো কিছু কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- (১) অপর্যাপ্ত ঘুম, (২) বিশৃঙ্খল পরিবেশে ঘুমানো, (৩) অতিরিক্ত অবসাদ, (৪) মদ্যপান, (৫) ঘুমের ওষুধ সেবন ইত্যাদি। কতিপয় ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যাও এই সমস্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকতে পারে। যেমন- (১) হৃদস্পন্দনজনিত সমস্যা, (২) অতিরিক্ত জ্বর, (৩) রাত্রিকালীন অ্যাজমা বা হাঁপানি বা হৃদরোগের সমস্যা, (৪) ঘুমানোর সময় দম আটকে যাওয়ার সমস্যা কিংবা (৫) মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা (যেমন ভয়ভীতি)

    উপসর্গ

    স্লিপওয়াকিং এর সমস্যা মূলত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন অবস্থায় হয়ে থাকলেও কখনো কখনো হালকা ঘুমের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। অনেকে আবার একে অ্যালকোহল বা মাদক সেবনজনিত সমস্যার সাথে মিলিয়ে ফেলেন। কারণ সেক্ষেত্রেও স্মৃতিবিলোপের (amnesia) সম্ভাবনা থেকে থাকে যা স্লিপওয়াকিং এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে মাদক সেবনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যক্তির চেতনা থাকে অনেকখানি, ফলে সহজেই সে সাড়া দিতে পারে।

    যেহেতু স্লিপওয়াকিং এ আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুমন্ত অবস্থায় ভ্রমণকালের কোনো স্মৃতি থাকে না, ফলে সে হয়তো কখনো কখনো জানতেই পারে না তার সমস্যা কি। এক্ষেত্রে রোগ ধরবার উপায় কেবল পাশের মানুষটিরই থাকে, অর্থাৎ পিতা-মাতা বা সাথে থাকা বন্ধুই সমস্যাটি জানতে পারে।

    এই ব্যাধির উপসর্গ খুব সহজে চিহ্নিতও করা যায় না। কারণ ঘুমিয়ে থাকলেও তার চলাফেরা স্বাভাবিক মানুষের মতো হয়ে থাকে এবং একই সাথে চোখ খোলা থাকে। তবে ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, চোখজোড়া ঘুমে অনেকটাই আচ্ছন্ন এবং খুব সম্ভবত চোখের পলক পড়ে না। এই অবস্থায় তাকে কোনো প্রশ্ন করা হলে সাড়া পাওয়া যায় না বা সাড়া পাওয়া গেলেও সাড়া দিতে অনেক সময় নিয়ে থাকে।

    যাদের এই সমস্যা খুব পুরাতন হয়ে যায়, তারা বেশ তাড়াতাড়িই জেগে ওঠে। কিন্তু যারা এই সমস্যায় নতুন আক্রান্ত হয়, তারা সহজে জেগে উঠতে পারে না। স্লিপওয়াকিং এর সময়ে আরো কিছু লক্ষণ দেখা যায় যার মধ্যে আছে (১) ঘুমের ভেতর কথা বলা, (২) অযাচিত আচরণ যেমন বিছানায় প্রস্রাব করা (যেহেতু সমস্যাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে) কিংবা (৩) ঘুমের ভেতরই চিৎকার করা ইত্যাদি।

    চিকিৎসা বা প্রতিকার

    সাধারণত স্লিপওয়াকিং এর প্রতিরোধ বা প্রতিকারের জন্য এখনো কোনো সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তবে স্বাস্থ্যকরভাবে ও নিয়ম মেনে সঠিক সময়মতো পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস করলে আস্তে আস্তে এই সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ হতে পারে। যদি কেউ উপলব্ধি করে যে, তার স্লিপওয়াকিং এর সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারে।

    সম্মোহন পদ্ধতি; Image Source: lightwarriorslegion.com
    আবার মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার প্রতিকারে মনোবিশ্লেষণ পদ্ধতি বা সম্মোহন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। বয়ঃপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই সমস্যার সমাধান হিসেবে সম্মোহন (Hypnosis) পদ্ধতিরই আশ্রয় নেয়া হয়। আবার তারা (মনস্তত্ত্ববিদেরা) নিয়ম করে রাতে ঘুম ভাঙ্গা (Anticipatory waking) যেন স্লিপওয়াকিং এর সুযোগ না থাকে, মনকে কেন্দ্রীভূত করতে যোগব্যায়াম (Meditation) ইত্যাদির পরামর্শও দিয়ে থাকেন।

    যেহেতু অতিরিক্ত অবসাদ বা দুশ্চিন্তা থেকে এই সমস্যা হতে পারে, ফলে সেক্ষেত্রে অবসাদ বা চিন্তামুক্ত হলেই এই সমস্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অবশ্য এক্ষেত্রে ফার্মাকোলজিক্যাল থেরাপি হিসেবে Sedative-hypnotics বা Anti-depressants ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয় যেখানে প্রথমটি প্রশান্তিমূলক ঘুমের জন্য এবং দ্বিতীয়টি দুশ্চিন্তা থেকে ব্যক্তিকে মুক্ত রাখার জন্য কার্যকর।

    স্লিপওয়াকিং সম্পর্কিত কতিপয় ঘটনা

    স্লিপওয়াকিং এর কারণে ব্যক্তির আহত হওয়ার সম্ভাবনা যেমন থাকে, তেমনি অন্য ব্যক্তির জন্যও তা মাঝেমধ্যে বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে। এই সমস্যা কখনো কখনো খুন পর্যন্তও গড়াতে পারে। ফলে সহজেই স্লিপওয়াকিং-কে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অ্যালীবাই হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কারণ সেক্ষেত্রে স্লিপওয়াকিং-এর জন্য যেমন  উপসর্গ নিরূপণের কোনো সঠিক উপায় নেই, তেমনি এর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন-কানুনও নেই।

    ১৯৬৩ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের একজন বিচারক, লর্ড মরিস (John William Morris) স্লিপওয়াকিং এর বিষয়ে একটি আইন প্রণয়ন করেন, যেখানে বলা আছে যে প্রত্যেকটি ঘটনার ক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু যদি এমন প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ব্যক্তি অপরাধমূলক কাজের সময়ে স্লিপওয়াকিং অবস্থায় ছিলো অর্থাৎ অবচেতন ছিলো, তাহলে তাকে সেই অপরাধের দায় থেকে মুক্ত করা হবে।

    উদাহরণ হিসেবে কিছু ঘটনার কথা বলা যায় যেখানে স্লিপওয়াকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে-

    ১) ১৮৪৬ সালে অ্যালবার্ট টিরেল (Albert Tirrell) নামক ব্যক্তি মারিয়া বিকফোর্ড নামক বোস্টন পতিতালয়ের একজন পতিতার খুনের মামলার ডিফেন্স হিসেবে স্লিপওয়াকিং এর কথা তুলে ধরে এবং অবশেষে মুক্তি পায়। যদিও মারিয়ার সাথে টিরেলের প্রণয়ের সম্পর্ক ছিলো, যার জন্য টিরেল তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়। টিরেলই প্রথম ব্যক্তি যে মামলার ডিফেন্স হিসেবে স্লিপওয়াকিং-এর কথা আনে।

    ২) ১৯৮১ সালে স্টিভেন স্টেইনবার্গ (Steven Steinber) নামক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত করা হলেও ডিফেন্স হিসেবে স্লিপওয়াকিং-কে দাঁড় করালে শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়।

    ৩) ১৯৯১ সালে বার্গেস (Burgess) নামক ব্যক্তিকে তার প্রেমিকার মাথায় ওয়াইনের বোতল দ্বারা আঘাত করার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হলেও সিসি ক্যামেরা ফুটেজে তার অবচেতন ব্যবহার বা নিদ্রাভ্রমণ এর প্রমাণ পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

    ৪) ১৯৯২ সালে কেনেথ পার্কস (Kenneth Parks) নামক ব্যক্তি তার শাশুড়িকে খুন করা ও শ্বশুরকে খুন করতে উদ্যত হওয়ার কারণে এবং আহত করার কারণে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে মুক্ত করা হয়। ২০ বছর বয়সে পার্কস তার চাকরি হারানোর পর ইনসোমনিয়াতে ভুগতে শুরু করে এবং জুয়াতে আসক্ত হয়। যদিও তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে তার সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো ছিলো এবং তার স্ত্রী তার পক্ষেই ছিলো।

    ৫) মধ্যবয়সী এক অস্ট্রেলীয়ান নারীও (গোপনীয়তার কারণে তার নাম অদ্যাবধি প্রকাশ করা হয় নি) এই সমস্যায় ভুগতো। যদিও তার কোনো খুনের ইতিহাস নেই। তবে তার ঘটনা অন্যরকম। সে প্রতি রাতেই ঘুমের ভেতর ঘর থেকে বের হয়ে যেত এবং একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তির সাথে যৌনতায় লিপ্ত হতো। কিন্তু সে নিজে, তার স্বামী বা সেই আগন্তুক কেউই বিষয়টা আন্দাজ করতে পারে নি। পরবর্তীতে একদিন তার স্বামীর ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর তার স্ত্রীকে খুঁজতে গিয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে।

    স্লিপ ইটিং নমুনা চিত্র; Image Source: listverse.com
    ৬) এছাড়া লেসলি কুস্যাক (Lesley Cusack) নামক এক মহিলার ঘুমের ভেতর রান্না করা এবং খাওয়ার (Sleep eating) ঘটনাও পাওয়া যায়। ভদ্রমহিলা নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে ডায়েট করতেন। কিন্তু রাতে ঘুমের ভেতরই তিনি প্রায় ২,৫০০ ক্যালোরির মতো খাবার খেয়ে ফেলার ইতিহাস তৈরী করেন। তবে যেটা ভয়ের সেটা ছিলো ঘুমের ভেতর তার রান্না করা। কারণ সারা রাত গ্যাসের চুলা জ্বালানো থাকতো।

    ৭) ১৯৯৪ সালে রিক্সজার (Ricksger) এবং ১৯৯৯ সালে ফালাটার (Falater) নামক ব্যক্তিদের ঘুমের ভেতর তার স্ত্রীকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় এবং যাবজ্জীবন কারাবাস দেয়া হয়। এক্ষেত্রে তাদের কাউকেই মুক্তি দেয়া হয় নি।

    ৮) ১৯৯৮ সালে জেমস কারেন (James Currens) নামক এক ব্যক্তি ঘুমের ভেতরই হাতে তার লাঠি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু যখন তার ঘুম ভাঙে, তখন সে নিজেকে কোনো এক পুকুরে বুকজলে আবিষ্কার করে, যেখানে সে কাদায় আটকে পড়েছিলো। তবে ভয়ংকর ব্যাপার তখনই হলো যখন সে আবিষ্কার করলো যে, সে কয়েকটি কুমির দ্বারা বেষ্টিত। যদিও পুলিশের আগমনে সেই যাত্রায় বেঁচে যায় কারেন।

    ৯) ২০০৩ সালে জ্যান লুডেক (Jan Luedecke) নামক এক ব্যক্তিকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। জ্যান কোনো একটি পার্টিতে উপস্থিত ছিলো এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের একপর্যায়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে। কয়েক ঘন্টা পর যখন সে ওঠে তখন পার্টিতে উপস্থিত এক মহিলাকে সে ধর্ষণ করে। যদিও সে বলে যে সে এই ব্যাপারে কিছুই জানে না কারণ সে তখনও ঘুমের ভেতর ছিলো।

    ১০) ২০০৮ সালে ব্রায়ান থমাস (Brian Thomas)-কে তার স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক করা হয়। তার ভাষ্যমতে সে স্বপ্নে দেখছিলো যে কেউ একজন তার ঘরে অনধিকার প্রবেশ করছে এবং সে তাকে হত্যা করেছে। আদালত তাকে মুক্তি দেয়।

    মৃত অবস্থায় পাওয়া টিমোথি; Image Source: buzzfeed.com
    ১১) সর্বশেষ টিমোথি বার্গম্যান (Timothy Brueggeman) নামক ব্যক্তি ঘুমের ভেতরই তার পিক-আপ ভ্যানটি চালিয়েছিলো এবং অবশেষে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগিয়ে দিয়েছিলো। এই সময় সে Ambien নামক ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলো। যদিও টিমোথি সে যাত্রায় বেঁচে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে ২০০৯ এর জানুয়ারীতে কোনো এক রাতে সে শুধুমাত্র আন্ডারওয়্যার পরেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। পরদিন তাকে বরফের ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

    স্লিপওয়াকিং-এর জন্য অদ্যাবধি কোনো সম্পূর্ণ ফলপ্রসূ চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয় নি। কারণ ব্যক্তি নিজেও কখনো টের পান না যে আসলে তার ঘুমের ভেতর কি হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ছেড়ে বা ঘুমের প্রতি নিয়মানুবর্তী হলেই অনেকাংশে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। নতুবা নিজেই না কবে ঘুমিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে উল্টে যাবেন কিংবা খুনই না করে ফেলবেন কবে কাকে!

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  19. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    অতি সংক্ষেপে মহাবিশ্বের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত কিছু ইতিহাস কে জানে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে
    উত্তরটি এডিট করা হয়েছে।

    আমাদের এই মহাবিশ্ব বড়ই অদ্ভুত। এর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে বিস্ময়। বিশাল এই মহাবিশ্বের খুব অল্পই আমরা জানতে পেরেছি। অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে এখন মানুষের গন্তব্য হয়ে উঠেছে বিভিন্ন নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ। নানা যান পাঠানো হচ্ছে সেসব ঠিকানায়। নতুন নতুন তথ্য আসছে সেসব অভিযানের কল্যাণে। কিন্তু এই মহাবিশ্ব এতটাইবিস্তারিত পড়ুন

    আমাদের এই মহাবিশ্ব বড়ই অদ্ভুত। এর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে বিস্ময়। বিশাল এই মহাবিশ্বের খুব অল্পই আমরা জানতে পেরেছি। অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে এখন মানুষের গন্তব্য হয়ে উঠেছে বিভিন্ন নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ। নানা যান পাঠানো হচ্ছে সেসব ঠিকানায়। নতুন নতুন তথ্য আসছে সেসব অভিযানের কল্যাণে। কিন্তু এই মহাবিশ্ব এতটাই বিশাল যে এর কোনো কূলকিনারা নেই, জানারও শেষ নেই। আমাদের মাথার উপর যে আকাশ আছে তাতেই রয়েছে বিস্ময়ে ভরা কোটি কোটি উপাদান। এসব একেকটি উপাদান যেমন বিস্ময়ে ভরা, তেমনি অদ্ভুত তার গঠন, ক্রিয়া এবং প্রভাব। মহাকাশের এমন বিস্ময়কর উপাদানের কয়েকটি সম্পর্কে জানানো হবে এ লেখায়।

    রহস্যময় রেডিও সিগন্যাল


    হাবল স্পেস টেলিস্কোপে তোলা প্রক্সিমা সেন্টেরাইয়ের ছবি; Image credit:  ESA/Hubble & NASA
    ২০০৭ সালে মহাকাশ গবেষকরা রহস্যময় কিছু রেডিও সিগন্যালের সন্ধান পান। রহস্যময়তার কারণ হলো সেই সিগন্যালগুলো পৃথিবীর কোনো রেডিও সিগন্যাল ছিল না। বহির্জাগতিক কোনো তারকা থেকে আসছিল। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়েই গবেষকরা রহস্যময় রেডিও সিগন্যালের সন্ধান পেয়ে আসছেন। এখন পর্যন্ত ৬০টির মতো রেডিও সিগন্যাল জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে। আল্ট্রাস্ট্রং, আল্ট্রাব্রাইট এই সিগন্যালগুলো মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ড স্থায়ী হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছে ফাস্ট রেডিও বার্স্টস (এফআরবি)।

    প্রথম যখন পৃথিবীর মানুষ এই সিগন্যাল সম্পর্কে জানতে পারে তখন ধারণা করেছিলে এগুলো হয়তো এলিয়েনদের পাঠানো সংকেত। যদিও সেই রহস্যের এখনও সমাধান হয়নি। তবে বিজ্ঞানীরা এখন জানতে পেরেছেন, সংকেতগুলো আসছে ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত প্রক্সিমা সেন্টেরাই থেকে। সায়েন্টিফিক আমেরিকানের তথ্যমতে, বিজ্ঞানীরা উপগ্রহ এবং মহাকাশযানের মতো মানবসৃষ্ট ডিভাইস থেকে যেসব সংকেত পর্যবেক্ষণ করতে পারেন তার চেয়ে এই সংকেতটি খুবই সংকীর্ণ ফ্রিকোয়েন্সির। তবে রহস্যময় এ সিগন্যালের উৎস নিয়ে বেশ মতপার্থক্য আছে।

    কোনো কোনো বিজ্ঞানী বলছেন, শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র নিয়ে কোনো নিউট্রন তারকার খুব দ্রুত ঘূর্ণনের ফলে এই সিগন্যাল তৈরি হচ্ছে। কারো মতে, দুটি নিউট্রন তারকার একত্রে মিশে যাওয়ার ফলেই এমন সিগন্যাল পৃথিবীতে আসছে। তবে অনেকেই আবার এসব সিগন্যালকে ভিনগ্রহের প্রাণীর মহাকাশযান থেকে আসা তরঙ্গ বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৯ সাল থেকে বহির্জাগতিক সিগন্যালের রহস্য সমাধান করতে আমেরিকাসহ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমন রেডিও সিগন্যাল ধারণ করতে পেরেছেন যেটি অল্প সময়ে পর পর ছ’বার সংকেত পাঠিয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে শীঘ্রই এ রহস্যের সমাধান করা সম্ভব হতে পারে।

    মহাকাশের বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল


    সাউথ আটলান্টিক অ্যানোমালি; Image credit: Division of Geomagnetism, DTU Space
    ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের নভোচারীরা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এসেই হঠাৎ আলোর তীব্র ঝলক দেখতে পান। বেশ কয়েকজন নভোচারী এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এই ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ আটলান্টিক অ্যানোমালি (এসএএ) দিয়ে যাওয়ার সময়। এটি পৃথিবীর বিশেষ একটি ম্যাগনেটিক ফিল্ড। চিলি থেকে জিম্বাবুয়ের আকাশের ১,০০০-৬০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। আমাদের পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষের সাথে সব জায়গায় সমানভাবে অবস্থান করছে না। ফলে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনটি যখন পৃথিবীর বিশেষ এই জায়গার উপর দিয়ে যায় তখন স্টেশনের ইলেক্ট্রনিক সিস্টেমে প্রভাব পড়ে এবং কম্পিউটারও কাজ করা বন্ধ করে দেয়। সেই সাথে নভোচারীরা বিশেষ আলোর ঝলক দেখতে পান। এজন্য এই জায়গাকে বলা হয় ‘মহাকাশের বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল’।

    নিউক্লিয়ার পাস্তা


    নিউক্লিয়ার পাস্তা; Image credit: NASA/JPL-Caltech
    আমরা জানি, পৃথিবীতে পাওয়া সবচেয়ে শক্ত পদার্থ হচ্ছে হীরা। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্ত পদার্থ কোনটি? সেটি হচ্ছে নিউক্লিয়ার পাস্তা। মহাকাশের কোনো মৃতপ্রায়/নিউট্রন তারকার অবশেষ থেকে নিউক্লিয়ার পাস্তা গঠিত হয়। নিউট্রন তারকা হচ্ছে সূর্যের চেয়েও ভারী কিন্তু ব্ল্যাকহোলের মতো বড় নয় এমন বৃহৎ তারার ধ্বংসের মাধ্যমে সৃষ্ট অবশিষ্টাংশ। ধ্বংসের আগে নিউট্রন তারকার ভর হয়ে থাকে ১০ থেকে ২৯ সৌর ভরের সমান। আর এমন বৃহৎ নিউট্রন তারকার অবশিষ্টাংশই হচ্ছে নিউক্লিয়ার পাস্তা। উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন, নিউট্রন তারকা থেকে সৃষ্ট নিউক্লিয়ার পাস্তা ঠিক কতটা শক্তিশালী। নির্দিষ্ট পরিমাণ স্টিলকে চুর্ণবিচূর্ণ করতে আপনাকে যতটুকু শক্তি প্রয়োগ করতে হয় সমপরিমাণ নিউক্লিয়ার পাস্তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করতে তার চেয়ে ১০ বিলিয়ন গুণ বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হবে! নিউক্লিয়ার পাস্তা এতটা শক্তিশালী হওয়ার কারণ এর ভেতরে অবস্থিত পদার্থের ঘনত্ব। এখন পর্যন্ত  মানুষের জানা সবচেয়ে শক্ত পদার্থ এটিই।

    আয়তাকার লাল নীহারিকা


    আয়তাকার লাল নীহারিকা; Image Credit: NASA
    ছায়াপথের মধ্যে বিভিন্ন গ্যাস এমনভাবে অবস্থান করে যেন সেগুলো কোনো বিশেষ আকার ধারণ করে আছে। তবে এসব নীহারিকার মধ্যে অদ্ভুত আকার ধারণা করে আছে একটি নীহারিকা যা দেখতে আয়তাকার। এরকম জ্যামিতাকৃতির নীহারিকা খুব কমই দেখা যায়। এই আয়তাকার লাল নীহারিকাটি পৃথিবী থেকে ২,৩০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এ ধরনের আকার তৈরি হওয়ার পেছনে বিজ্ঞানীরা যে কারণ দাঁড় করিয়েছেন সেটি হচ্ছে এই নীহারিকার ঠিক মাঝখানে দুটি তারকা রয়েছে। এই দুই তারকা থেকে উজ্জ্বল আলো নির্গত হওয়ার কারণে এই নীহারিকার রঙ লাল দেখায় এবং আকৃতি দেখায় আয়তাকার। তবে কিছু গবেষক মনে করেন তারকা দুটি থেকে অতিবেগুনি রশ্মি নির্গত হয় যেগুলো নীহারিকার কার্বনসমৃদ্ধ ধূলিকণার সাথে মিশে লাল রঙের সৃষ্টি করে।

    রহস্যময় নিউট্রিনো


    নিউট্রিনোর কল্পিত রুপ; Image Credit: DESY, Science Communication Lab
    নিউট্রিনো হচ্ছে বৈদ্যুতিক চার্জবিহীন, কম সক্রিয় পারমাণবিক কণা। এসব কণা ইলেক্ট্রন এবং প্রোটনের সাথে দুর্বলভাবে যোগাযোগ করে। এই কণার বিশেষত্ব হচ্ছে এগুলো যেকোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে অবিকৃতভাবে চলাচল করতে পারে। যে বস্তুর ভেতর দিয়ে এগুলো চলাচল করে সেই বস্তু টেরও পায় না। এই যেমন- মানুষের শরীর দিয়ে লাখ লাখ নিউট্রিনো চলে যাচ্ছে, কিন্তু মানুষ টের পাচ্ছে না। তবে কোথা থেকে আসে এই কণাগুলো সেই রহস্য এখনও সমাধান করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে এসব কণা যে মহাজাগতিক কণা সে বিষয়ে সকল বিজ্ঞানীই একমত। তাদের ধারণা, মহাজাগতিক ঘটনা, যেমন- ছায়াপথের সংঘর্ষ কিংবা ব্ল্যাক হোলের মধ্যে নক্ষত্রের পতনের ফলে এসব নিউট্রিনো জন্ম নিতে পারে।

    ২০১০ সাল থেকে নিউট্রিনো শনাক্তে কাজ করা আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি প্রায়শই এ ধরনের কণার সন্ধান পাচ্ছেন। কিন্তু ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তারা এমন এক নিউট্রিনোর সন্ধান পান যেটি নিউট্রিনোর উৎস সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। এ কণার ব্যাপারে গবেষণা করে তারা জানান, এটি ৪ বিলিয়ন বছর আগে ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল থেকে পৃথিবীর দিকে প্রবাহিত হয়েছিল। ২০১৫ সালে নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণা করে পদার্থে নোবেল পুরস্কার পান জাপানের তাকাআকি কাজিতা এবং কানাডার আর্থার বি. ম্যাকডোনাল্ড।

    অদ্ভুত নক্ষত্র


    উজ্জ্বলতা কমে আসা নক্ষত্র; Image credit: NASA/JPL-Caltech
    এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত নক্ষত্রটির নাম KIC 846285। লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী তাবেথা বয়াজিন এবং তার দল যখন প্রথম এই নক্ষত্রের সন্ধান পান তখন সবাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। কারণ এটি এমন একটি নক্ষত্র যার উজ্জ্বলতা ক্ষণে ক্ষণেই কমে যায় যা একে অন্যান্য নক্ষত্র থেকে আলাদা করেছে। সূর্যের চেয়ে অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল এবং ১,৪০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্রকে ট্যাবিস স্টার নামেও ডাকা হয়। এর উজ্জ্বলতা মাঝে মাঝেই ২০ শতাংশের মতো কমে যায়। এ থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এর চারপাশে কিছু উপাদান রয়েছে যা এর আলোকে বাইরে আসতে বাঁধা দেয়। এই নক্ষত্রকে নিয়ে নানা মতবাদ প্রচলিত আছে। কোনো কোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানী একে বলছেন এলিয়েনদের তৈরি মেগাস্ট্রাকচার। তাদের মতে এর বাইরের দিকে সোলার প্যানেলের কক্ষপথ তৈরি করা আছে যার কারণে এর উজ্জ্বলতা মাঝে মাঝে কমে যায়। তবে আধুনিক গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাইরের দিকে ধূলি-বলয় থাকার ফলেই এটি অন্যান্য নক্ষত্র থেকে আলাদা।

    মহাকাশ থেকে আসা ইনফ্রারেড প্রবাহ


    ইনফ্রারেড প্রবাহের কল্পিত চিত্র; Image Credit: NASA, ESA, and N. Tr’Ehnl (Pennsylvania State University)
    কোনো তারকা যখন মরে যায় তখন তাকে বলা হয় নিউট্রন তারকা। এ ধরনের নিউট্রন তারকা এক্স-রে’র মতো উচ্চশক্তির রেডিয়েশন বা রেডিও তরঙ্গ নির্গত করে। কিন্তু ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ৮০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত একটি নিউট্রন তারকা থেকে ইনফ্রারেড লাইটের লম্বা প্রবাহ লক্ষ্য করেন। এ ধরনের ঘটনা জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর আগে কখনোই দেখেননি। তাদের মতে, তারকাটি ঘিরে থাকা ধুলির ডিস্ক এ ধরনের ইনফ্রারেড সিগন্যাল তৈরি করছে। তবে এর সঠিক ব্যাখ্যা এখনও অজানা।

    গ্রহ সাদৃশ বস্তুতে অরোরা


    গ্রহসদৃশ বস্তুতে অরোরা; Image credit: Chuck Carter; NRAO/AUI/NSF/Caltech
    আমাদের এই মহাবিশ্বে এমন কিছু গ্রহসদৃশ বস্তু রয়েছে যেগুলো মহাকর্ষীয় শক্তির দ্বারা তাদের মাতৃ-নক্ষত্র থেকে দূরে সরে গেছে। এগুলো অন্যান্য তারকার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি এ ধরনের বেশ কিছু বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ২০১৬ সন্ধান পাওয়া এ ধরনের একটি হচ্ছে SIMP J01365663+0933473। এটি আমাদের জানা গ্রহগুলোর আকারের মতোই। আমাদের পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ২০০ আলোকবর্ষ। তবে এর চৌম্বকক্ষেত্র বৃহস্পতি গ্রহের চৌম্বকক্ষেত্র থেকে ২০০ গুণ বেশি। এটি এতটাই শক্তিশালী যে এটি অরোরা সৃষ্টি করতে পারে। পৃথিবী থেকে এর অরোরা দেখা যায় রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমে।

    হাউমিয়ার বলয়


    বামন গ্রহ হাউমিয়াকে ঘিরে থাকা বলয়; Image credit: IAA-CSIC/UHU
    যেসব গ্রহের ভর সাধারণ গ্রহের সমান কিন্তু গ্রহও নয়, উপগ্রহও নয়, সূর্যকে সরাসরি প্রদক্ষিণ করে কিন্তু কক্ষপথকে অন্যান্য বস্তু থেকে আলাদা করতে পারেনি, তাদেরকে বামন গ্রহ বলা হয়। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল ইউনিয়ন প্লুটোকে বামন গ্রহের তালিকাভুক্ত করার পর থেকে বর্তমানে মোট বামন গ্রহের সংখ্যা পাঁচ। তেমনই একটি বামন গ্রহ হচ্ছে হাউমিয়া যেটি কুইপার বেল্টে নেপচুনের বাইরে ঘুরে বেড়ায়। এটি দেখতে ডিমের মতো। এর দুটি চাঁদ রয়েছে এবং দিনের দৈর্ঘ্য মাত্র ৪ ঘন্টা। ফলে সোলার সিস্টেমের সবচেয়ে দ্রতগতির বস্তু এটি। তবে এর চেয়ে বিস্ময়কর তথ্য সামনে আসে যখন বিজ্ঞানীরা এটিকে একটি নক্ষত্রের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করতে দেখেন। সেসময় তারা দেখতে পান ডিম্বাকৃতির এই বামন গ্রহটিকে কেন্দ্র করে একটি বৃত্তাকার বলয় রয়েছে।

    ডার্ক-ম্যাটারবিহীন ছায়াপথ


    Image credit: NASA, ESA, and P. van Dokkum (Yale University
    আমাদের এই মহাবিশ্বের খুব অল্প কিছুই আমরা দেখতে পারি। বাকি সব পদার্থই অদৃশ্য। কিন্তু এই অদৃশ্য পদার্থগুলো কেবল মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে অন্যসব পদার্থের সাথে ক্রিয়া করে। ফলে মহাকর্ষ বল ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে তাদের শনাক্ত করা যায় না। ধারণা করা হয়, মহাবিশ্বের মোট যে ভর তার পাঁচ ভাগের চার ভাগই হচ্ছে এই ডার্ক-ম্যাটার। অর্থাৎ মহাবিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ পদার্থই ডার্ক ম্যাটার। এসব পদার্থ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নিঃসরণ বা শোষণ কোনাটাই করে না। ফলে দূরবীক্ষণ দিয়ে এদের সরাসরি দেখা যায় না। কিন্তু এমন কোনো ছায়াপথ কি আছে যেখানে ডার্ক ম্যাটার নেই? এমন ছায়াপথের সন্ধান করতে করতে ২০১৮ সালে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি দল এমন একটি অদ্ভুত ছায়াপথের সন্ধান পান যেখানে ডার্ক ম্যাটার নেই বললেই চলে। যদিও তাদের সে আবিষ্কার নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে।

    বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত হাইপেরিয়ন


    শনি গ্রহ; Image credit: NASA/JPL-Caltech/Space Science Institute
    মহাকাশের অদ্ভুত উপগ্রহ হয়তো অনেকগুলোই আছে। কিন্ত এসবের মধ্যে অদ্ভুতুড়ে উপগ্রহটি হলো শনি গ্রহের হাইপেরিয়ন। এটি দেখতে অনেকটা আলুর মতো। এর অদ্ভুত আকৃতির জন্য একে সহজেই চিহ্নিত করা যায়। এই উপগ্রহে পাথরের তুলনায় কঠিন বরফের পরিমাণ বেশি বলে ধারণা করা হয়। এটি শনি গ্রহকে কেন্দ্র করে টাইটান উপগ্রহেরও বেশি ব্যাসার্ধ নিয়ে প্রদক্ষিণ করছে। এর অরবিটাল বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত। তবে অবাক করা বিষয় হলো- এই উপগ্রহটি নিজেই বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত। ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালে নাসার নভোযান ক্যাসিনি যখন শনি গ্রহে অনুসন্ধান চালাচ্ছিল, তখন এতে ধরা পড়ে যে শনির উপগ্রহ হাইপেরিয়ন বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত ।

    আমেরিকান জ্যোতির্বিদ এম. এল. হিউমাসন লাল সরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেকগুলো নাক্ষত্রিক বস্তু পর্যবেক্ষণ করেন। এই পর্যবেক্ষণের সাহায্যে বিজ্ঞানী এডউইন হাবল দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেন যে, আকাশপটে দৃশ্যমান অধিকাংশ ক্ষীণ বস্তুই আসলে আলাদা আলাদা গ্যালাক্সি। দেখতে স্বল্প উজ্জ্বলতার হলেও বিলিয়ন বিলিয়ন নক্ষত্রের সমন্বয়ে একেকটি গ্যালাক্সি গঠিত। খুব বেশি দূরে অবস্থান করছে বলে তাদেরকে ক্ষীণ বলে প্রতিভাত হয়।

    তখন পর্যন্ত এটি পরিষ্কার যে, সমস্ত মহাবিশ্বই গ্যালাক্সি দিয়ে পরিপূর্ণ। সবচেয়ে শক্তিশালী অপটিক্যাল টেলিস্কোপ বা সবচেয়ে শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে সবচেয়ে দূরে পর্যবেক্ষণ করলেও দেখা যাবে সে অংশটি গ্যালাক্সি দিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। বিস্তৃত শূন্যস্থানের মাধ্যমে এসব গ্যালাক্সি পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। মহাবিশ্ব নিয়ে আলোচনার গভীরে যাবার আগে পরিষ্কার হওয়া উচিত ‘মহাবিশ্ব’ বলতে কী বোঝায়।

    শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানেও আমরা গ্যালাক্সির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি। এমনটা মনে করা অযৌক্তিক হবে না যে পর্যবেক্ষণকৃত সবচেয়ে দূরের গ্যালাক্সির বাইরেও আরো অনেক গ্যালাক্সি বিদ্যমান আছে। ধারণা করা হয়, আমাদের চোখে দৃশ্যমান সবচেয়ে দূরের গ্যালাক্সিতে যদি বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্ব থাকে এবং তারাও যদি টেলিস্কোপ দিয়ে মহাবিশ্বকে পর্যবেক্ষণ করে তাহলে আমাদের মতোই অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। যেদিকেই তাকাক না কেন, যত দূরেই তাকাক না কেন, সবদিকে সবখানেই গ্যালাক্সির অস্তিত্ব খুঁজে পাবে। এভাবে হিসাবকৃত সকল গ্যালাক্সির সমষ্টিকে বলা যেতে পারে ‘মহাবিশ্ব’।

    চিত্র: প্রত্যেকটি বিন্দুই এক একটি স্বতন্ত্র গ্যালাক্সি; Source: NASA

    উপরের বক্তব্যকে মহাবিশ্বের সংজ্ঞা বলে ধরে নিলে এখান থেকে একটি প্রশ্নের জন্ম হয়। এমন কোনো গ্যালাক্সির অস্তিত্ব থাকতে পারে কি যারা এই সমষ্টির বাইরে অবস্থিত? এই প্রশ্ন আবার মহাবিশ্বের আরেকটি বিকল্প সংজ্ঞার সাথে সাথে সম্পর্কিত- জগতে অস্তিত্বমান সকল বস্তুকে একত্রে মহাবিশ্ব বলে। সংজ্ঞা দুটির মাঝে মিল থাকলেও তারা উভয়ে এক নয়। আমরা এখানে প্রথম সংজ্ঞাটিকেই ব্যবহার করবো, কারণ দ্বিতীয় সংজ্ঞাটি কিছুটা জটিলতার জন্ম দেয়।

    কিছু কিছু গ্যালাক্সি একত্রে একটি গ্রুপ তৈরি করে। এধরনের গ্রুপকে বলে ক্লাস্টার। একেকটি ক্লাস্টারে কয়েকটি থেকে কয়েক হাজার পর্যন্ত গ্যালাক্সি থাকতে পারে। কিছু তথ্য-উপাত্ত বলছে ক্লাস্টারগুলোও একটি আরেকটির সাথে মিলে গ্রুপ তৈরি করে। এধরনের গ্রুপকে বলা হয় সুপারক্লাস্টার। কয়েকটি সুপার ক্লাস্টার মিলে আবার আরো বড় গ্রুপ তৈরি করে কিনা? সুপার ক্লাস্টারের গ্রুপ কিংবা তার চেয়েও বড় কোনো গ্রুপের সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

    গ্যালাক্সির অনেকগুলো ক্লাস্টার মিলে তৈরি করে সুপারক্লাস্টার, ছবিতে লানিয়াকিয়া সুপারক্লাস্টারে লাল চিহ্নিত অংশে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অবস্থান; Image: Nature

    পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গড়পড়তাভাবে মহাবিশ্বের সকল স্থানে গ্যালাক্সিগুলো সমানভাবে বণ্টিত। আমরা যদি মহাবিশ্বের দুটি অংশকে বিবেচনা করি এবং গড়পড়তাভাবে তুলনা করি তাহলে তাদেরকে একইরকম বলে মনে হবে। দুই ভিন্ন অংশে গ্যালাক্সির পরিমাণ এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে গড় দূরত্ব প্রায় একই থাকবে।

    হিসাব অনুসারে এক গ্যালাক্সি থেকে আরেক গ্যালাক্সির গড় দূরত্ব প্রায় এক মিলিয়ন আলোক বর্ষ। এখন আমরা যদি এই মহাবিশ্বের মাঝে একশো মিলিয়ন আলোক বর্ষ দৈর্ঘ্য, একশো মিলিয়ন আলোক বর্ষ প্রস্থ এবং একশো মিলিয়ন আলোক বর্ষ উচ্চতার দুটি ঘনক কল্পনা করি এবং তাদেরকে তুলনা করি তাহলে দেখা যাবে তারা প্রায় একইরকম। দেখা যাবে উভয়ের মাঝে মোট গ্যালাক্সির পরিমাণ প্রায় একই এবং গ্যালাক্সিগুলোর মাঝে গড় দূরত্বও প্রায় একই।

    Source: Paolo Bottarelli

    ঘনক দুটি মহাবিশ্বের যে স্থানেই অবস্থান করুক না কেন তাদের মাঝে গ্যালাক্সির বণ্টন গড়পড়তা একই হবে। এটি শুধু বর্তমান কালের জন্যই নয়, অতীত বা ভবিষ্যতের যেকোনো সময়ের বেলাতেও তারা এরকম সদৃশ হবে। এখানে ‘যেকোনো সময়’-এর নামে মহাবিশ্বের গঠনবিন্যাস সম্পর্কে যে শর্তটি উল্লেখ করা হয়েছে সেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মহাবিশ্ব পরিবর্তনশীল এবং মহাবিশ্বের যেকোনো স্থানে গ্যালাক্সির সংখ্যাও সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।

    পাশাপাশি দূরের গ্যালাক্সির বর্তমান অবস্থা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। দূরের গ্যালাক্সি থেকে অবমুক্ত হওয়া আলো অনেক অনেক পথ অতিক্রম করে আমাদের চোখে এসে ধরা দেয়। এই দূরত্ব অতিক্রম করতে আলোর মিলিয়ন মিলিয়ন বছর লেগে যায়। বর্তমানে গ্যালাক্সিকে যেরকম দেখছি তা আসলে গ্যালাক্সির মিলিয়ন মিলিয়ন বছর আগের রূপ। সেসব গ্যালাক্সির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্যই নেই আমাদের কাছে।

    আমাদের সাপেক্ষে গ্যালাক্সির বিন্যাস আইসোট্রপিক। এর মানে যেভাবেই পর্যবেক্ষণ করি না কেন, সবদিক থেকে গ্যালাক্সির বিন্যাস একইরকম বলে মনে হবে। আর যদি মেনে নেই মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান বিশেষ কোনো স্থানে নয়, ‘শ্রেষ্ঠ’ তকমার কোনোকিছু দখলও করে রাখছি না, আমাদের গ্যালাক্সিও অন্যান্য সকল গ্যালাক্সির মতোই সাধারণ, তাহলে আরো চমকপ্রদ কিছুর প্রত্যক্ষ করবো। তাহলে দেখতে পাবো গ্যালাক্সিসমূহের বিন্যাস মহাবিশ্বের যেকোনো স্থানের সাপেক্ষেই আইসোট্রপিক। শুধু আমাদের সাপেক্ষেই নয়, মহাবিশ্বের যেকোনো কিছুর সাপেক্ষেই গ্যালাক্সিগুলো সমরূপে বিন্যস্ত। শুধু বর্তমানের কালের জন্যই নয়, অতীত ও ভবিষ্যতের যেকোনো সময়ের জন্যই এটি প্রযোজ্য।

    তার উপর গ্যালাক্সির বিন্যাস ও বিস্তৃতি যদি মহাবিশ্বের যেকোনো স্থান থেকেই আইসোট্রপিক হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবে দেখানো যায় যে, গ্যালাক্সিগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

    গ্যালাক্সিগুলো আইসোট্রপিক; Source: phy.olemiss.edu

    ১৯৩০ সালের দিকে হাবল আবিষ্কার করেন দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শুধু এতটুকুই নয়, তিনি তাদের মধ্যে সুস্থিত কিছু নিয়মবদ্ধতাও খুঁজে পান। তিনি দেখতে পান, কোনো গ্যালাক্সি আমাদের কাছ থেকে যত দূরে অবস্থিত তার অপসরণের বেগ তত বেশি। দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলোর অপসরণের এই বেগ একটি নিয়ম মেনে চলে। একে বলা হয় হাবলের নীতি বা Hubbles’ Law।

    এই নীতি বলছে যে, গ্যালাক্সির দূরত্ব কত সেটি জানলেই তার অপসরণ বেগ বের করা যাবে। দূরত্বকে বিশেষ একটি ধ্রুবক দিয়ে গুণ করলেই তার বেগ পাওয়া যাবে। বিশেষ এই ধ্রুবককে বলা হয় হাবল ধ্রুবক। এই ধ্রুবক সকল গ্যালাক্সির জন্য এবং সকল সময়ের জন্য একই থাকে।

    গ্যালাক্সির অপসরণের এই ব্যাপারটিকে অন্যাভাবেও বলা যায়। গ্যালাক্সির অপসরণ বেগ তার দূরত্বের সমানুপাতিক। উদাহরণ হিসেবে দুটি গ্যালাক্সির কথা বিবেচনা করতে পারি। একটি গ্যালাক্সি আমাদের কাছ থেকে কোনো এক বেগে দূরে সরে যাচ্ছে। অপর গ্যালাক্সির অবস্থান প্রথম গ্যালাক্সির দ্বিগুণ দূরে। দ্বিগুণ দূরত্বে অবস্থানের কারণে তার অপসরণ বেগও হবে প্রথম গ্যালাক্সির দ্বিগুণ।

    হাবলের এই নীতিটি সকল প্রেক্ষাপটে সঠিক নয়, এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যেসকল গ্যালাক্সি আমাদের নিকটে অবস্থান করছে তাদের বেলায় এই নীতি কাজ করে না। সকল গ্যালাক্সিতেই অপসরণ বেগের পাশাপাশি আরো কিছু বেগ কাজ করে। যেমন এক গ্যালাক্সির প্রতি আরেক গ্যালাক্সির আকর্ষণ বেগ। আমাদের নিকটবর্তী গ্যালাক্সিগুলোতেও এরকম কিছু বেগ ক্রিয়াশীল আছে। হয়তো এই ক্রিয়াশীল বেগ এবং অপসরণ বেগ পরস্পর কাটাকাটি হয়ে যায়, যার কারণে তারা আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যায় না। এর অন্যতম একটি উদাহরণ হলো এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি। এটি দূরে সরে তো যায়ই না উপরন্তু আরো কাছে ধেয়ে আসছে ধীরে ধীরে।

    আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কি ওয়ের কাছে চলে আসছে প্রতিবেশী এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি; Source: Pop Science

    অন্যদিকে খুব নিকটের গ্যালাক্সির পাশাপাশি খুব বেশি দূরের গ্যালাক্সির বেলাতেও হাবলের নীতি কাজ করে না। কারণ, অতি-দূরের গ্যালাক্সিগুলোর বেলায় যদি হাবলের সূত্র প্রয়োগ করা হয় তাহলে দেখা যাবে এদের অপসারণ বেগও হয়ে গেছে অকল্পনীয় পরিমাণ বেশি। এতই বেশি যে এর পরিমাণ হবে আলোর বেগের চেয়েও অধিক। কিন্তু আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব বলছে কোনোকিছুই আলোর চেয়ে বেশি বেগে চলতে পারে না। বেগের এই সমস্যার অবশ্য সুরাহা আছে, তবে এই সুরাহা অনেক সূক্ষ্ম ও জটিলতাপূর্ণ।

     

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  20. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    হেডফোনের তারে কেন প্যাঁচ লাগে? জুতোর ফিতে কেন খুলে যায়? কারন কি এক ই?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    যদি জিজ্ঞেস করা হয় “বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী গিঁট কীভাবে লাগাবেন?” তাহলে অনেকেই হয়তো অনেক পদ্ধতির কথা বলবেন। তবে এই প্রশ্নের উত্তরে বিখ্যাত কৌতুকাভিনেতা বিল মারে বলেছিলেন, “প্রথমে একটি হেডফোন পকেটে রেখে দিন, তারপর এক মিনিট অপেক্ষা করুন”। অর্থাৎ হেডফোনে লাগা প্যাঁচটাই হবে বিশ্বের সবচাইতে শক্ত গিঁট।বিস্তারিত পড়ুন

    যদি জিজ্ঞেস করা হয় “বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী গিঁট কীভাবে লাগাবেন?” তাহলে অনেকেই হয়তো অনেক পদ্ধতির কথা বলবেন। তবে এই প্রশ্নের উত্তরে বিখ্যাত কৌতুকাভিনেতা বিল মারে বলেছিলেন, “প্রথমে একটি হেডফোন পকেটে রেখে দিন, তারপর এক মিনিট অপেক্ষা করুন”। অর্থাৎ হেডফোনে লাগা প্যাঁচটাই হবে বিশ্বের সবচাইতে শক্ত গিঁট।

    অপরদিকে অনেকেই জুতো ব্যবহার করেন বা এই শীতে অনেকেই জুতো পরবেন। হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, আপনি যত শক্ত করেই জুতোর ফিতে বাঁধেন না কেন, কিছুদূর হাঁটাহাঁটি করলে বা দৌড়াদৌড়ি করলে হঠাৎ করেই ফিতে খুলে যায়। এর পেছনের রহস্যটা কী?

    চলুন আজ তাহলে দেখা যাক, কেন পকেটে থাকা হেডফোনের তারে আপনা আপনি প্যাঁচ লেগে যায়, অথচ শক্ত করে বাঁধলেও জুতোর ফিতে খুলে যায়?

    হেডফোনের তারে প্যাঁচ লাগার কারণ

    আমরা যারা গান শুনতে ভালোবাসি, তাদের জন্য হেডফোন একটি অবিচ্ছেদ্য সাথী। আর হেডফোন থাকলে হেডফোনের তারে প্যাঁচ লাগা দেখাটাও আমাদের জন্য একটা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। হেডফোন আছে অথচ হেডফোনের তারের প্যাঁচ খুলতে হয়নি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না কোথাও। আমরা কি কখনো এ সম্পর্কে ভেবে দেখেছি কেনই বা এমনটি হয়?

    ব্যাগের ভেতর নিজে নিজেই প্যাঁচ লেগে যায়; Source: s3.amazonaws.com

    আমরা অনেকেই হয়তো দোষটা আমাদের উপরেই দিয়ে থাকি এটা ভেবে যে, হয়তো এলোমেলোভাবে পকেটে ঢুকিয়ে রাখার কারণে হেডফোনের তারে প্যাঁচটা লেগেছে। কিন্তু দেখবেন আপনি সুন্দরভাবে গোল করে পেঁচিয়ে পকেটে ঢুকালেও কিন্তু তারে প্যাঁচ লাগে। তো এমন হবার কারণ বের করতে বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণাও কিন্তু করেছেন। প্রথমত তারা যে পরীক্ষা চালিয়েছেন তা হলো, তারা বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের কিছু তার একটি বাক্সে রেখে ভালভাবে ঝাঁকিয়েছেন এটা দেখতে যে তাদের মধ্যে প্যাঁচ লাগে কিনা! তারা এই পরীক্ষা একবার দু’বার করেননি, করেছেন মোট ৩,৪১৫ বার!

    বিভিন্ন রকমের প্যাঁচ; Source: indiegogo.com

    ডোরিয়ান এম. রেমার এবং ডগলাস ই. স্মিথ; দুজন গবেষক তাদের ‘Spontaneous knotting of an agitated string’ নামক গবেষণা পত্রে, খুব কম সময়ের মধ্যে যেকোন জটিল গিঁট লাগার দুটি মূল বিষয়ের উপরে আলোকপাত করেছেন। প্রথমটি হলো, ‘তারের তুলনামূলক দৈর্ঘ্য’ এবং দ্বিতীয়টি, ‘আলোড়ন সময়’। আলোড়ন বলতে এখানে ঝাঁকুনির ফলে তারগুলোর মধ্যে যে নড়াচড়ার সৃষ্টি হয় তা বুঝিয়েছেন।

    তাদের মতে, তার যত বড় হবে এবং সেখানে আলোড়ন যত বেশি হবে, তত তারের নিজেদের ভেতর আপনা-আপনি গিঁট লাগার সম্ভাবনাও বাড়বে। প্যাঁচ লাগার ক্ষেত্রে মাঝেমাঝে তারের গুণগত মান; যেমন তারের দৃঢ়তা এবং ব্যাসও দায়ী থাকে তবে তারের দৈর্ঘ্য এবং ঝাঁকির ফলে তাদের মাঝে সৃষ্ট আলোড়নই মূলত গিঁট লাগার পেছনে বেশি দায়ী। দুর্ভাগ্যবশত, এগুলোর খুব একটা সমাধানও নেই।

    তারের দৈর্ঘ্যের সাথে গিঁট লাগার সম্ভাব্যতা; Source: img.technews.tw

    রেমার এবং স্মিথ তাদের পরীক্ষায় বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের তার এবং তাদের মাঝে বিভিন্ন সময়ব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে দেখেছেন। দেখা গেছে, ৪৬ সেন্টিমিটার এবং এর থেকে ছোট তারে আপনা আপনি গিঁট লাগেনি এবং লাগার সম্ভাবনাও একদম নেই। কিন্তু ৪৬ সেন্টিমিটার থেকে যত বেশি দৈর্ঘ্যের তার নেয়া হয়েছে তত তাদের মধ্যে গিঁট লাগার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। সর্বোচ্চ ২ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত তারগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে গিঁট লাগিয়েছে। ২ মিটারের বড় তারগুলো সাধারণত বেশি দৈর্ঘ্যের কারণে পকেট জুড়ে থাকে। এজন্য ঝাঁকি পেলেও নিজেদের ভেতর আলোড়িত হবার মত জায়গা পায় না, তাই এদের মধ্যে আপনাআপনি গিঁট লাগে না।

    বর্তমানে প্রচলিত হেডফোনগুলো যেগুলোর গড়ে দৈর্ঘ্য ১৩৯ সেন্টিমিটার তাদের নিজেদের ভেতরে প্যাঁচ লাগার সম্ভাবনা ৫০%। অর্থাৎ আপনার পকেটসমান জায়গা আছে এমন আবদ্ধ স্থানে এরকম দৈর্ঘ্যের হেডফোন রাখলে প্রতি দুইবারে অন্তত একবার সেই হেডফোনের তারে প্যাঁচ লাগার সম্ভাবনা থেকে যায়।

    মুক্ত প্রান্ত শুধু একবার নিজের ভেতর ঢুকতে পারলেই তৈরি হয়ে যাবে শক্ত গিঁট; Source: news.in.gr

    রেমার এবং স্মিথ আরো দেখেছেন, Y আকারের হেডফোনগুলোয় প্যাঁচ লাগার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ এ ধরনের হেডফোনের শুধু একটি তারের মাথা নিজের ভেতর একবার ‘ডিগবাজি’ দেয়ার মতো করে ঢুকতে পারলেই জটিল প্যাঁচের সৃষ্টি করে ফেলে। দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমানে প্রচলিত সব তারের হেডফোনই দেখতে Y আকারের।

    তারা তাদের পরীক্ষায় তারগুলোর মধ্যে প্রায় ১২০ রকমের গিঁটের দেখা পেয়েছেন, যেখানে অধিকাংশ গিঁটে তারগুলো নিজেদের মধ্যেই প্রায় ৭ বার করে প্যাঁচ লাগিয়েছে।

    তাই এরপর থেকে কখনো পকেট থেকে হেডফোন বের করে যদি দেখেন সেটার তারগুলোয় প্যাঁচ লেগেছে, তাহলে অবশ্যই নিজেকে আর দোষ দেবেন না!

    জুতোর ফিতে কেন খুলে যায়?

    ফুটবল খেলায় দেখবেন মাঝে মাঝেই খেলোয়াড়রা তাদের জুতোর ফিতে ঠিক করছে। কারণ তাদের সব সময়ে দৌড়ের উপর থাকতে হয় এবং যার জন্য জুতোর ফিতের গিঁট একসময় আলগা হয়ে গিয়ে তা খুলে যায়। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়?

    ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের জুতোর ফিতে খুলে যায় প্রায়ই; Source: ©gettyimages

    বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর বের করতে পেরেছেন। গিঁট আলগা হয়ে হঠাৎ করে জুতোর ফিতে খুলে যাবার কারণ অনুসন্ধান করতে বিজ্ঞানীরা এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে একটি প্রামাণ্যচিত্রে রূপ দিয়েছিলেন, যা সম্ভব হয়েছিলো একটি ক্যামেরাতে স্লো-মোশন ভিডিও রেকর্ডের মাধ্যমে। তাদের মতে, জুতোর ফিতে খুলে যাওয়ার পেছনে একধরনের শক্তিশালী বল দায়ী।

    বাম পাশের মতো করে গিঁট দিলে ফিতে সহজে খুলবে না; Source: scontent.cdninstagram.com

    পরীক্ষাটি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রফেসর অলিভার ও’রেইলি। তিনি একটি উচ্চগতি সম্পন্ন ক্যামেরা ধার করেছিলেন। তারপর একজন দৌড়বিদকে জুতো পায়ে একটি ট্রেডমিলে দৌড়াতে বলেছিলেন। তিনি সেই দৌড়টা ভিডিও করেছেন। এ সম্পর্কে ও’রেইলি বলেন, “বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করার পরও কিছু ঘটলো না, তারপর হঠাৎ করেই একসময় ঘটে গেলো ব্যাপারটা! জুতোর ফিতে দুটো খুলে গেলো আপনা-আপনি। এতো দ্রুত ঘটে গেলো পুরো ব্যাপারটা যে আমরা এতে খুব অবাকই হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা আরও উৎসাহিত হলাম এর পেছনের কারণটা বের করার জন্য।”

    ফিতে বাঁধার প্রচলিত গিঁট; Source: dbstatic.no

    দৌড়ের ফলে কীভাবে জুতোর ফিতে খুলে গেলো সেটা বের করার জন্য তিনি একটি এক্সেলেরোমিটার ব্যবহার করলেন। সেটার সাহায্যে জুতোর উপর জি-ফোর্স বা মহাকর্ষীয় বল পরিমাপ করে দেখলেন। তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, জুতোর ফিতের সেই গিঁটের উপর যে মহাকর্ষীয় বল কাজ করছিলো, তা ৭ জি-এরও বেশি। ৭ জি কেমন শক্তিশালী বল সেটা বুঝাতে হলে পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিশালী রোলার-কোস্টার, জোহানসবার্গের ‘দ্য টাওয়ার অব টেরর’ এর কথা বলা যেতে পারে। যেটি সর্বোচ্চ ৬.৩ জি মহাকর্ষীয় বল সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ এর থেকে জুতোর ফিতের উপরে কাজ করা বলের পরিমাণই ছিল বেশি!

    এ থেকে বোঝা যায়, যত দৌড়ানো হয়, মহাকর্ষীয় বলের প্রভাব তত জুতোর ফিতে ও তার গিঁটের উপর গিয়ে পড়ে। এই প্রবল বলের প্রভাবে একসময় ফিতের গিঁট আলগা হয়ে যায়। পাশাপাশি, দৌড়াতে থাকলে ফিতে দু’টির মুক্ত প্রান্ত বার বার উপরে-নিচে এবং সামনে-পেছনে ঝাঁকি খেতে থাকে। মহাকর্ষীয় বল এবং এই ঝাঁকির ফলে ফিতে দুটির মুক্ত প্রান্তে একধরনের গতির সৃষ্টি হয়। এই গতিই ফিতে দুটির মাথায় এক অদৃশ্য হাতের কাজ করে, যা ফিতে দুটির মুক্ত প্রান্ত টেনে ধরে; ফলাফলস্বরূপ ফিতে দুটি পুরোপুরিভাবে খুলে যায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
1 2 3 4 5 … 20

Sidebar

লগ ইন করুন
  • জনপ্রিয়
  • উত্তর
  • Mithun

    নির্মাণকাজে মরুভূমির বালু কেন ব্যবহার করা হয়না?

    • 12 টি উত্তর
  • Hina Khan

    Is Telegram MOD APK safe to use? What are the ...

    • 9 টি উত্তর
  • shanto

    ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন, লাইসেন্সের অনলাইন কপি ডাউনলোড, লাইসেন্স হয়েছে ...

    • 8 টি উত্তর
  • Admin

    নতুন ক্যাটাগরি "SEO" যুক্ত হলো আড্ডাবাজে!

    • 7 টি উত্তর
  • Mahmudul

    একটি ঘোর লাগানো ছবি দেখাতে পারবেন কি?

    • 6 টি উত্তর
  • Jesmin
    Jesmin একটি উত্তর দিয়েছেন HSC ২০২৬ পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ২… এপ্রিল 27, 2026, সময়ঃ 2:01 অপরাহ্ন
  • Sinclair
    Sinclair একটি উত্তর দিয়েছেন When shopping for best sex dolls, most buyers tend to… এপ্রিল 17, 2026, সময়ঃ 3:10 পূর্বাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন হ্যাঁ, Bestchange.com থেকে নিশ্চিতভাবে আয় করা সম্ভব। এটি মূলত একটি… এপ্রিল 15, 2026, সময়ঃ 2:13 অপরাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন প্রশ্নোত্তর প্রদানের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার বিষয়টি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়… এপ্রিল 14, 2026, সময়ঃ 2:11 পূর্বাহ্ন
  • সুমনা
    সুমনা একটি উত্তর দিয়েছেন এসইও (SEO) এর ক্ষেত্রে ব্যাকলিংক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।… এপ্রিল 14, 2026, সময়ঃ 1:59 পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় গ্রুপ

  • মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    • 4 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 106 বার প্রদর্শিত
  • Knowledge World

    Knowledge World

    • 3 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 116 বার প্রদর্শিত
  • CT Game Review

    CT Game Review

    • 3 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 1,049 বার প্রদর্শিত
  • Earn Money

    • 3 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 155 বার প্রদর্শিত
  • Crazy Time Fun

    Crazy Time Fun

    • 2 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 77 বার প্রদর্শিত

চলতি মাসের সেরা ইউজার

Iyasha

Iyasha

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
SA Samim

SA Samim

  • 13 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
এডিটর
sumi

sumi

  • 20 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
লগ ইন করুন

Explore

  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

Footer

AddaBuzz.net

আড্ডাবাজ একটি সামাজিক প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিন। যেখানে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একে অপরের জ্ঞান আদান-প্রদান হয়। প্রশ্ন করুন, উত্তর দিন, জ্ঞান ভাগাভাগি করুন।

Adv 234x60

aalan

আমাদের সম্পর্কিত

  • আমাদের টিম
  • আমাদের লক্ষ্য

লিগ্যাল স্টাফ

  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions
  • Data Deletion Instructions

সাহায্য

  • Knowledge Base
  • Contact us

আমাদের ফলো করুন

© 2026 AddaBuzz. All Rights Reserved
With Love by AddaBuzz.net

✕
🔔 নোটিফিকেশন চালু করুন নতুন প্রশ্নোত্তর ও ব্লগ আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন