সাইন আপ করুন সাইন আপ করুন

সাইন আপ করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে


আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

লগ ইন করুন লগ ইন করুন

লগিন করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

কোন একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন

রিসেট পাসওয়ার্ড

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।

আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

দুঃক্ষিত, প্রশ্ন করার অনুমতি আপনার নেই, প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে.

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে।

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

দুঃক্ষিত, ব্লগ লেখার অনুমতি আপনার নেই। লেখক হতে হলে addabuzzauthor@gmail.com ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে অনুমতি নিন। (Sorry, you do not have permission to add post. Please send a request mail to addabuzzauthor@gmail.com for giving permission.)

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?

সাইন ইনসাইন আপ

AddaBuzz.net

AddaBuzz.net Logo AddaBuzz.net Logo

AddaBuzz.net Navigation

  • হোমপেজ
  • ব্লগ
  • ইউজার
  • যোগাযোগ
সার্চ করুন
একটি প্রশ্ন করুন

Mobile menu

Close
একটি প্রশ্ন করুন
  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

ashad khandaker

সবজান্তা
প্রশ্ন করুন ashad khandaker
526 বার প্রদর্শিত
2 ফলোয়ার
2,496 প্রশ্ন
হোমপেজ/ ashad khandaker/উত্তর
অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • সম্পর্কিত
  • প্রশ্ন
  • উত্তর
  • অনুরোধের প্রশ্ন
  • সেরা উত্তর
  • পছন্দ তালিকা
  • ফলোকৃত প্রশ্ন
  • ফলোয়ার
  • ফলো করছেন
  • জরিপ
  • ব্লগ
  • ব্লগ মন্তব্য
  • ফলোকৃতদের প্রশ্ন
  • ফলোকৃতদের উত্তর
  • ফলোয়ারদের ব্লগ
  • ফলোকৃত/ফলোয়ারদের ব্লগ মন্তব্য
  1. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    মানুষ খর্বাকৃতি বা বামন হয় কেন?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ‘হ্যারি পটার’ এর বামনদের কথা মনে আছে? কিংবা ‘তিন গোয়েন্দা’র রত্মদানোর কথা? শুধু গল্পে বা রূপকথাতেই নয়, বাস্তবেও হরহামেশাই দেখা মেলে খর্বাকৃতির কিছু লোকজনের। হয়তো আপনার পাশের বাসার বন্ধুটি আপনার সমবয়সী হওয়ার পরও আপনার তুলনায় যথেষ্ট খাটো। অথবা আপনার থেকে বয়সে বড় আপনার কাছের কোনো আত্মীয় এই অবস্থার শিকাবিস্তারিত পড়ুন

    ‘হ্যারি পটার’ এর বামনদের কথা মনে আছে? কিংবা ‘তিন গোয়েন্দা’র রত্মদানোর কথা? শুধু গল্পে বা রূপকথাতেই নয়, বাস্তবেও হরহামেশাই দেখা মেলে খর্বাকৃতির কিছু লোকজনের। হয়তো আপনার পাশের বাসার বন্ধুটি আপনার সমবয়সী হওয়ার পরও আপনার তুলনায় যথেষ্ট খাটো। অথবা আপনার থেকে বয়সে বড় আপনার কাছের কোনো আত্মীয় এই অবস্থার শিকার। রাস্তায় বেরোলে এরকম মাথা বড়, অস্বাভাবিক খাটো লোকজনদের দেখে আমরা কখনো হাসি, কখনো ব্যঙ্গ করি, কটুক্তি ছুড়ে দিই, কখনোবা অবাক চোখে তাকাই। মানুষ হিসেবে মানবিক আচরণ করতে হয়তো ভুলে যাই ক্ষণিকের জন্য।

    এরকম কোনো মানুষকে চোখে পড়লে তাদের প্রতি কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার ফাঁকে কখনো কি আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, আপনার তুলনায় লক্ষ্যণীয় কম উচ্চতার এসব মানুষজনের খর্বাকৃতির হওয়ার কারণ কি? এই লেখাটিতে জানার চেষ্টা করব এই বিষয়েই।

    বামনত্ব (Dwarfism) হলো একটি হরমোনঘটিত রোগ, যা মূলত দেহে বৃদ্ধি হরমোনের অভাবে হয়ে থাকে। বৃদ্ধি হরমোন হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের হরমোন, যা শরীরের সব ধরনের কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোষ বিভাজনের মাত্রা বাড়িয়ে কোষকে সংখ্যায় এবং আকারে বৃদ্ধি করে। এই হরমোনের কারণেই মানুষ ছোট থেকে বড় হয়, মানুষের শরীর আকার-আয়তনে বৃদ্ধি পায়। কোনো কারণে যদি শরীরে পর্যাপ্ত বৃদ্ধি হরমোন উৎপন্ন হতে না পারে, তাহলে শরীরের বৃদ্ধি শ্লথ হয়ে আসে। এই সমস্যাটি সাধারণত শৈশবে শুরু হয় আর স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় বয়ঃসন্ধিকালে। তবে যেকোনো বয়সেই নানা কারণে বৃদ্ধি হরমোন কমে যেতে পারে এবং একজন ব্যক্তি বৃদ্ধি হরমোনঘটিত কোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

    শৈশবেই বামনত্ব বোঝা যায়; Source: Gazette Live

    বৃদ্ধি হরমোন আপনার মাথার পেছনে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই পিটুইটারি গ্রন্থির আছে দুটো ভাগ- অগ্র পিটুইটারি এবং পশ্চাৎ পিটুইটারি। আমাদের আলোচ্য বৃদ্ধি হরমোন অগ্র পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত হয়। অগ্র পিটুইটারি থেকে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের ক্ষরণ ঘটে থাকে। যেমন- এড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH), থাইরয়েড স্টিম্যুলেটিং হরমোন (TSH), ফলিকল স্টিম্যুলেটিং হরমোন (FSH) প্রভৃতি।

    শরীরের বৃদ্ধি প্রক্রিয়া শুরু হয় মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে। অন্যভাবে বললে, বৃদ্ধি হরমোন নিঃসরণের ক্ষেত্রে হাইপোথ্যালামাসের বিশেষ ভূমিকা আছে। হাইপোথ্যালামাস থেকে Growth Hormone Stimulating Hormone ক্ষরিত হয়, যা অগ্র পিটুইটারিকে বৃদ্ধি হরমোন (Growth Hormone) নিঃসরণের জন্য উদ্দীপ্ত করে। ফলে বৃদ্ধি হরমোন নিঃসৃত হয়ে রক্তপ্রবাহে চলে আসে এবং যকৃতে পৌঁছে আরেকটি হরমোন Insulin like growth factor-1 ক্ষরণে উদ্দীপনা যোগায়। এই IGF-1 হরমোনটি প্রত্যক্ষভাবে হাড় এবং মাংসপেশীর বৃদ্ধি ঘটায়। বৃদ্ধির পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল বলে এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধাপে যেকোনো সমস্যা যথাযথ বৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে পারে।

    পিটুইটারি গ্রন্থি; Source: slideshare

    বামনত্বের কারণ

    বামনত্বের কারণ বড়ই বিচিত্র। বিভিন্ন কারণেই এটি হতে পারে। যেমন-

    ১. বাবা-মা বা পরিবারের কারো বামনত্ব থাকলে। কোনো কারণে জিনে মিউটেশন ঘটলেও বামনত্ব হতে পারে।
    ২. হরমোনজনিত কোনো সমস্যা থাকলে। যেমন- হাইপোথাইরয়েডিজম এবং অবশ্যই বৃদ্ধি হরমোনের অপর্যাপ্ততা।
    ৩. ব্যক্তি যদি কোনো ক্রোমোসোমাল ডিসঅর্ডারে (যেমন- টারনার সিনড্রোম) আক্রান্ত হয়।
    ৪. অপুষ্টির শিকার হলে।
    ৫. পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার হলে বা আঘাত লাগলে।
    ৬. লিউকেমিয়া বা শরীরে অপরিপক্ব শ্বেতকণিকার সংখ্যা বেড়ে গেলে।

    আরো অজানা (Idiopathic) নানা কারণে বামনত্ব হতে পারে।

    বামনত্বের কারণ বিভিন্ন হতে পারে; Source: Starcasm

    বামনত্বের প্রকারভেদ

    উপসর্গ, বৃদ্ধির ধরন, শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা, রোগের কারণ প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করে বামনত্বকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-

    প্যানহাইড্রোপিটুইটারিজ

    পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত বেশিরভাগ হরমোনই অগ্র পিটুইটারি থেকে আসে। কয়েকটির নামও উল্লেখ করা হয়েছে উপরে। কোনো কারণে যদি পিটুইটারি গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তাহলে শুধু বৃদ্ধি হরমোনই নয়,অগ্র পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত সব হরমোনেরই অভাব দেখা যায়। ফলে শরীরের বৃদ্ধি হ্রাস পায়। উচ্চতা কম হয়, হাত-পা, বাহু শরীরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ছোট হয়। কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আশানুরুপ বাড়তে পারে না, নির্দিষ্ট কাজের উপযোগী হতে পারে না। এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের বয়ঃসন্ধি দেরিতে হয়। প্রজনন অঙ্গগুলো পরিণত না হওয়ার কারণে ব্যক্তি বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। মাথায় বড় ধরনের কোনো আঘাত লাগলে কিংবা পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার হলে এই রোগ হতে পারে।

    বৃদ্ধি হরমোনের অভাবজনিত বামনত্ব

    এই রোগ হয় শরীরে শুধুমাত্র বৃদ্ধি হরমোনের অভাব থাকলে। বৃদ্ধি হরমোন যথেষ্ট পরিমাণে থাকে না বলে আক্রান্ত ব্যক্তি উচ্চতায় বাড়ে না। অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকারও ছোট হয়। তবে এরা প্রজননে সক্ষম হয়ে থাকে।

    লেভিলরেন বামনত্ব

    শরীরে যদি বৃদ্ধি হরমোনের জোয়ারও বয়ে যায়, তবু এটি কাজ করতে পারবে না যদি সোমাটোমেডিন সি (IGF-1) এর অভাব থাকে। লেভিলরেন বামনদের শরীরে যথেষ্ট গ্রোথ হরমোন থাকে, তবে থাকে না IGF-1। ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়, গ্রোথ হরমোন শরীরের সব জায়গায় পৌঁছে যায় ঠিকই, তবে শরীর তা কাজে লাগাতে পারে না। ফলে বৃদ্ধি হ্রাস পায়। পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বাকার আফ্রিকার পিগমি আদিবাসীরা এই শ্রেণীর বামন।

    কোনো কোনো বামনত্বের ক্ষেত্রে শরীরের সব অঙ্গ একই অনুপাতে বাড়ে। মাথা, হাত-পা সবকিছুরই বৃদ্ধি রহিত হয়। সবগুলো অঙ্গই ছোট হয়। আবার কখনো দেখা যায়, শরীর ঠিকঠাক বাড়ছে কিন্তু হাত-পা ছোট, মাথা বড়।

    কীভাবে বুঝবেন আপনার শিশু বামনত্ব রোগে ভুগছে কিনা?

    স্বাভাবিক বাচ্চাদের থেকে বৃদ্ধি হরমোনের ঘাটতি থাকা বাচ্চারা সাধারণত ২০-২৫ শতাংশ কম বাড়ে। ২-৪ বছর বয়সেই ব্যাপারটি বোঝা যায়। হাত-পা অতিরিক্ত খাটো হয়। মুখমণ্ডল ছোট হয়, কারণ মুখমণ্ডলের হাড় ম্যাক্সিলা ও ম্যান্ডিবল তেমন একটা বাড়ে না। দাঁতগুলোও পরিপক্ক হয় না। নাক ছোট হয়, চোখ দুটো কাছাকাছি মনে হয়। শরীরে প্রোটিন উৎপাদন কম হওয়ায় মাংসপেশী কম তৈরি হয়। শরীরে অস্বাভাবিক চর্বি জমতে দেখা যায়। প্রজনন অঙ্গ সুগঠিত হয় না। চামড়া কুঁচকানো হতে পারে। বুদ্ধিমত্তা সাধারণত স্বাভাবিকই থাকে। তবে বিষন্নতা, হীনমন্যতার মতো মানসিক জটিলতা কাজ করতে পারে।

    বামনত্বে আক্রান্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ; Source: thinglink

    আপনার বাচ্চার মধ্যে উপরের লক্ষণগুলো যদি দেখা যায়, তাহলে কি সে আসলেই বামনত্বে ভুগছে? ভাবছেন, এটি নিশ্চত হবেন কীভাবে? কিছু কিছু পরীক্ষা আছে, যেগুলো করলে বোঝা সম্ভব আপনার বাচ্চা সত্যিই বামনত্বে ভুগছে কিনা। হাতের মুষ্টির এক্স-রে তার মধ্যে একটি। এই এক্স-রে করলে হাতের হাড়ের বয়স (Bone Age) নির্ণয় করা যায়। হাড়ের বয়স এবং বাচ্চার বয়সের তুলনা করে বোঝা যায় শিশুর বামনত্ব আছে কিনা। সাধারণত বামনত্বে আক্রান্ত বাচ্চাদের হাড়ের বয়স মূল বয়সের চেয়ে দু’বছর কম হয়। যেমন- বাচ্চার বয়স ১০ বছর হলে হাড়ের বয়স হবে ৮ বছর।

    বামনত্বের প্রতিকার

    বৃদ্ধি হরমোন ইনজেকশন; Source: perimeter institute

    বয়সের তুলনায় অল্প বাড়া শিশুদের যদি অল্প বয়সে ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রোথ হরমোনের ডোজ দেওয়া হয়, তাহলে বামনত্ব সেরে যায়। শিশুটি স্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। অনেকেই জানেন নিশ্চয়ই, জনপ্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকেও বৃদ্ধি হরমোনের অভাব সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগতে হয়েছিল। ছোটবেলায় যখন তার রোগটি ধরা পড়ে, তখন তার উচ্চতা ছিল ৪ ফুট ২ ইঞ্চি। তারপর বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাবের আলোচিত চিকিৎসার পর তার বর্তমান উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, যা গড়পড়তা আর্জেন্টাইনদের চেয়েও বেশি!

    আগে মৃতদেহ থেকে বৃদ্ধি হরমোন সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু এতে ভয়ানক একটি রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকায় আর এভাবে বৃদ্ধি হরমোন সংগ্রহ করা হয় না। এখন রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া কোষ থেকে বৃদ্ধি হরমোন উৎপাদন করা হয়। এছাড়া কিছু কিছু ওষুধ আছে, যেগুলো গ্রহণ করলে শরীরের অভ্যন্তরেই বৃদ্ধি হরমোন উৎপাদন বাড়ে।

    লিওনেল মেসি; Source: ESPN

    আপনার শিশু যদি বামনত্বে আক্রান্ত হয়েই থাকে, তাহলে ভয় পাবেন না। যথাযথ চিকিৎসায় বামনত্ব ভাল হতেও পারে। আর আপনার চারপাশের খর্বাকার লোকদের প্রতি খারাপ আচরণ করবেন না। তাদের এই অবস্থার পেছনে তারা কোনভাবেই দায়ী নন, তারা একটি রোগের শিকার মাত্র।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  2. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    পৃথিবীতে স্বর্ণ এলো কোথা থেকে ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    পৃথিবীতে অন্যান্য মৌলের তুলনায় স্বর্ণের পরিমাণ খুবই কম। স্বর্ণ যে শুধু পৃথিবীতেই কম তা নয়, সমগ্র মহাবিশ্বেই কম। সমগ্র মহাবিশ্বে কেন কম হবে তার পেছনেও কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। সে কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে দেখা যাবে পৃথিবীতে যত পরিমাণ স্বর্ণ আছে তার সামান্যতম অংশও পৃথিবীতে তৈরি হয়নি। অল্প-স্বল্প স্বর্ণবিস্তারিত পড়ুন

    পৃথিবীতে অন্যান্য মৌলের তুলনায় স্বর্ণের পরিমাণ খুবই কম। স্বর্ণ যে শুধু পৃথিবীতেই কম তা নয়, সমগ্র মহাবিশ্বেই কম। সমগ্র মহাবিশ্বে কেন কম হবে তার পেছনেও কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। সে কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে দেখা যাবে পৃথিবীতে যত পরিমাণ স্বর্ণ আছে তার সামান্যতম অংশও পৃথিবীতে তৈরি হয়নি। অল্প-স্বল্প স্বর্ণ যা-ই আছে তার সবই এসেছে সৌরজগৎ তথা পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্ব থেকে। এটা কীভাবে হয়? এর উত্তর পেতে হলে জানতে হবে গ্রহ-নক্ষত্র কীভাবে গঠিত হয় সে সম্পর্কে।

    নক্ষত্র গঠনের মূল উপাদান হলো মহাজাগতিক ধূলি। এই ধূলির মাঝে থাকে হাইড্রোজেন গ্যাস, হিলিয়াম গ্যাস, লিথিয়াম গ্যাস সহ আরো অনেক উপাদান। তবে সেসবের মাঝে সবচেয়ে বেশি থাকে হাইড্রোজেন। এই হাইড্রোজেনই নক্ষত্রের ভেতরে প্রক্রিয়াজাত হয়ে ভারী মৌল গঠন করে। বিগ ব্যাং এর পর পদার্থবিজ্ঞানের কিছু নিয়ম অনুসরণ করে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও লিথিয়াম মৌলগুলো তৈরি হয়েছে। এরপর মহাবিশ্বও প্রসারিত হয়েছে এবং তারাও ছড়িয়ে পড়েছে মহাবিশ্বের সর্বত্র।

    কয়েক আলোক বর্ষ ব্যাপী বিস্তৃত এরকম ধূলিমেঘ থেকে নক্ষত্রের জন্ম হয়। প্রক্রিয়াটি বেশ চমকপ্রদ। কোনো একটি এলাকায় কিছু গ্যাস মহাকর্ষ বলের প্রভাবে একত্র হয়। একত্র হলে ঐ অংশের ভর বেড়ে যায়। মহাকর্ষ বলের নিয়ম অনুসারে কোনো বস্তুর ভর বেশি হলে তার আকর্ষণও বেশি হবে। সে হিসেবে ঐ একত্র হওয়া ধূলির মেঘ আরো বেশি বলে আকর্ষণ করবে পাশের মেঘকে। এভাবে আরো ভর বাড়বে এবং আরো বেশি আকর্ষণ ক্ষমতা অর্জন করবে এবং এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে। একপর্যায়ে দেখা যাবে ঐ বস্তুটি এত বড় হয়ে গেছে যে সেখানে প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় চাপ তৈরি হচ্ছে। নিজের মহাকর্ষের শক্তিতেই নিজের পরমাণু লেপ্টে যাচ্ছে। এমন শক্তিশালী আভ্যন্তরীণ চাপে হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো একত্র হয়ে যায়। দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু একত্র হয়ে একটি হিলিয়াম পরমাণু তৈরি করে। একাধিক ছোট পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে একটি বড় পরমাণু তৈরি করার এই প্রক্রিয়াকে বলে নিউক্লিয়ার ফিউশন। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়। আমরা যে সূর্যের তাপ শক্তি ও আলোক শক্তি পাচ্ছি তার সবই আসছে এই ফিউশন প্রক্রিয়ায়।

    সূর্যের সকল শক্তি আসছে নিউক্লিয়ার ফিউশন থেকে; ছবি: Imgur

    ফিউশন প্রক্রিয়ায় একত্র হতে হতে সকল হাইড্রোজেনই একসময় হিলিয়ামে পরিণত হয়ে যায়। তখন হিলিয়াম আবার একত্র হওয়া শুরু হয়। এ পর্যায়ে দুটি হিলিয়াম পরমাণু একত্র হয়ে একটি কার্বন পরমাণু তৈরি করে। হিলিয়াম পরমাণু শেষ হয়ে গেলে কার্বনও আরো ভারী মৌল তৈরি করে। এ প্রক্রিয়ায় পর্যায় সারণীর শুরুর দিকের হালকা মৌলগুলো তৈরি হয়। লোহা বা তার চেয়েও বেশি ভারী মৌলগুলো এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় না। কারণ লোহা তৈরি করতে যে পরিমাণ আভ্যন্তরীণ চাপীয় শক্তি প্রদান করতে হবে সাধারণ নক্ষত্রগুলোর সে শক্তি নেই। যেমন আমাদের সূর্যের কথাই বিবেচনা করা যাক। এর এত তেজ ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য নক্ষত্ররে তুলনায় এটি একদমই মামুলী একটি নক্ষত্র। সূর্যের আভ্যন্তরীণ চাপে শুধুমাত্র হিলিয়াম থেকে কার্বন পর্যন্ত চক্র চলবে। এরপর আরো ভারী মৌল তৈরি করতে যে পরিমাণ চাপ থাকা দরকার সূর্যের তা নেই।

    তাহলে লোহা এলো কোথা থেকে? বিজ্ঞানীরা হিসাব-নিকাশ ও পর্যবেক্ষণ করে দেখলেন সুপারনোভা বিস্ফোরণের ফলে লোহা তৈরি হতে পারে। কোনো সুপারনোভা যদি বিস্ফোরিত হয় তাহলে বিস্ফোরণকালের প্রবল প্রবল চাপে সেখানে লোহা তৈরি হওয়া সম্ভব।

    সুপারনোভা কেন বিস্ফোরিত হবে সেটাও একটা প্রশ্ন। সাধারণ নক্ষত্রে আভ্যন্তরীণ চাপ ও বহির্মুখী চাপ একটি সাম্যাবস্থায় থাকে। আভ্যন্তরীণ চাপ তৈরি হয় মহাকর্ষের ফলে। আর একাধিক পরমাণু একত্র হয়ে যে প্রবল শক্তি তৈরি করছে তা বাইরের দিকে চাপ দেয়। এই দুই বিপরীতধর্মী চাপের ফলে নক্ষত্র একটি সাম্যাবস্থায় থাকে।

    কিছু ক্ষেত্রে নক্ষত্র পুড়তে পুড়তে প্রবল আভ্যন্তরীণ চাপে সংকুচিত হয়ে যায়। সংকুচিত হয়ে সে অবস্থায় আর থাকতে পারে না, প্রবল বিস্ফোরণে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে সুপারনোভা বলে। সংকুচিত হবার সময় কল্পনাতীত যে চাপ দেয় তাতেই লোহের মতো মৌলগুলো তৈরি হয়। একটু বেশি ভারী মৌলগুলো তৈরি হবার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ চাপ পায় তখন।

    সুপারনোভা বিস্ফোরণের প্রচণ্ড চাপে তৈরি হয় লোহা; ছবি: Gemini Observatory/Lynette Cook

    কিন্তু স্বর্ণ? লোহার পারমাণবিক ভর ৫৬ আর স্বর্ণের পারমাণবিক ভর ১৯৬। স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে লোহার চেয়ে স্বর্ণের ভর অনেক বেশি। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন এরকম কোনো বিস্ফোরণই স্বর্ণ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়। সাধারণ একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণে যে পরিমাণ চাপ তৈরি হয় তার চেয়েও ১০০ গুণ বেশি চাপ প্রয়োজন হবে স্বর্ণের পরমাণু তৈরিতে। এরকম চাপ তৈরি হতে পারে খুব ভারী কোনো নক্ষত্রের সাথে আরেকটি ভারী নক্ষত্রের সংঘর্ষের ফলে। সাধারণ নক্ষত্রের সংঘর্ষে এত চাপ তৈরি হবে না। এটি সম্ভব খুব ভারী দুটি নিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষে কিংবা একটি নিউট্রন নক্ষত্র ও একটি ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষে। উল্লেখ্য ব্ল্যাকহোলও একপ্রকার নক্ষত্র।

    তত্ত্ব অনুসারে এভাবে স্বর্ণ তৈরি হবে। কিন্তু নিশ্চিত না হয়ে তো মেনে নেয়া যায় না। কে জানে এই মহাজগতে এমন কোনো প্রপঞ্চ হয়তো লুকিয়ে আছে যার মাধ্যমে ভিন্ন উপায়ে স্বর্ণ তৈরি হচ্ছে, আর সেই প্রপঞ্চ আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। তবে এ অনিশ্চয়তা নিয়ে আর মন খারাপ করতে হবে না। সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০১৭) বিজ্ঞানীরা এর একটি সমাধান পেয়েছেন। এই সমাধান সম্প্রতি পেলেও এর জন্ম হয়েছিল অনেক আগেই।

    আজ থেকে ১৩০ মিলিয়ন বছর আগে, আমাদের থেকে অনেক অনেক দূরের এক গ্যালাক্সিতে দুটি নিউট্রন নক্ষত্র পরস্পরের কাছাকাছি চলে এসেছিল। বেশ কিছুটা সময় তারা একে অপরকে সর্পিলাকারে আবর্তন করে, সজোরে আছড়ে পড়ে একটি আরেকটির উপর। অত্যন্ত শক্তিশালী এই সংঘর্ষে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে নক্ষত্রের ভগ্ন অংশ। পাশাপাশি আরো ছড়ায় মহাকর্ষীয় তরঙ্গ এবং অতীব তীব্র আলোক রশ্মি। সূর্যের সাথে তুলনা করলে সে তীব্রতা হবে সূর্যের চেয়ে মিলিয়ন ট্রিলিয়ন গুণ বেশি। এতই তীব্র যে সেগুলো মিলিয়ন মিলিয়ন আলোক বর্ষ দূরত্ব থেকেও দেখা যায়।

    দুই নিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষের ফলে জন্ম নেয়া এসব তরঙ্গ যাত্রা শুরু করে পৃথিবীর দিকে। লক্ষ লক্ষ বছর ব্যাপী ভ্রমণ করতে থাকে পথ। করতে করতে ১৩০ মিলিয়ন বছর পার করে এসে পৌঁছায় পৃথিবীর বুকে। আর ঘটনাক্রমে এই সময়টাতেই বিজ্ঞানীরা তাক করে রেখেছিল টেলিস্কোপ সহ অন্যান্য শনাক্তকরণ যন্ত্র। আর তাক করার দিক ছিল ঠিক ঐ নক্ষত্রের দিকেই। বিজ্ঞানের কল্যাণে তাই আমরা এখানে  বসে আজ থেকে দূরের ১৩০ মিলিয়ন বছর আগের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে পারছি।

    এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে এখানে স্বর্ণ জন্ম নিয়েছে। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন এরকম সংঘর্ষের মাধ্যমে যে পরিস্থিতি তৈরি হয় তা স্বর্ণ ও প্লাটিনামের মতো মৌল তৈরির জন্য সকল শর্ত পূরণ করে।

    স্বর্ণ তৈরি হয়েছে সুপারনোভা বিস্ফোরণ কিংবা ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষের ফলে; ছবি: Agora Economics

    এ তো গেলো এক রহস্যের সমাধান। দূর নক্ষত্রের মিলনে স্বর্ণের জন্ম হয় ঠিক আছে, কিন্তু এভাবে জন্ম নেয়া স্বর্ণ পৃথিবী কিংবা অন্যান্য গ্রহে কীভাবে যায়? দুই মহাজাগতিক দানবের যখন সংঘর্ষ ঘটে তখন সেখান থেকে প্রচুর নাক্ষত্রিক উপাদান বাইরের দিকে ছিটকে পড়ে। সেসব ছিটকে যাওয়া পদার্থের সাথে স্বর্ণও থাকে। আবার এই সংঘর্ষের পর সুপারনোভার বিস্ফোরণ হলে তার উপাদান চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। সেসবের মাঝে স্বর্ণও আছে। এভাবে বিস্ফোরণের টুকরো টুকরো হয়ে গেলেই তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে না। মূলত এর মাধ্যমে আরেকটি নতুন জীবনের সূচনা হয়।

    এই ছিটকে যাওয়া অংশগুলো আবার মহাজাগতিক ধূলিমেঘের সাথে মিলে আরেকটি নতুন নক্ষত্র গঠনে কাজে লেগে যায়। নক্ষত্রের গঠন প্রক্রিয়ায় নক্ষত্রের সাথে গ্রহও তৈরি হয়, যেমন হয়েছিল সূর্যের পাশাপাশি সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহগুলো। ঐ যে সুপারনোভা বিস্ফোরণ থেকে ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছিল স্বর্ণগুলো সেগুলো তখন গ্রহ গঠনের সময় গ্রহের ভেতরে ঢুকে যায়। পৃথিবীতে আমরা যত স্বর্ণ দেখি তার সবই আসলে এসেছে এই দীর্ঘ আন্তঃনাক্ষত্রিক ধাপ পার হয়ে। তাই আমরা যখন নিজেদের হাতে কোনো স্বর্ণ দেখে তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবো তখন ভাবতে হবে, এই স্বর্ণ নিছকই কোনো ধাতু নয়। পৃথিবীর কোনো তাপ-চাপই এর কাছে কিছু নয়। কোটি কোটি বছর ধরে নক্ষত্রের চাপ এবং সংঘর্ষের অকল্পনীয় ধাক্কা পার হয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছে এই স্বর্ণ।

    স্বর্ণ শুধু মামুলী অলংকার জাতীয় পদার্থ নয়, এর মাঝে লুকিয়ে আছে নক্ষত্রের গান। ছবি: thewallpaper.co

    স্বর্ণকে অনেকেই মূল্যবান পদার্থ হিসেবে দেখে, কারণ এটি খুব দুর্লভ। কোনো বস্তু দুর্লভ হলে তার মূল্য বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে স্বর্ণকে সম্পদ হিসেবে তো দেখতে পারে সকলেই, তারাই তো অনন্য যারা স্বর্ণের ভেতরে নাক্ষত্রিক ও মহাজাগতিক কাব্যিকতা খুঁজে পায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  3. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    রংধনু কত রকমের হয়?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ঝলমলে আলো সমৃদ্ধ কোনো দিনে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টির পর আমরা আকাশে বর্ণালীর যে পট্টি বা ব্যান্ড দেখে থাকি এটাই আসলে রংধনু বা রামধনু। অনেকটা ধনুকের মতো বাঁকা (বাস্তবে বৃত্তচাপের ন্যায়) হওয়ায় এবং বর্ণালীর আলোর পট্টি থাকায় রংধনু নামকরণের সার্থকতা নিহিত। রংধনু গঠনের পেছনে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা এখন বিস্তৃতবিস্তারিত পড়ুন

    ঝলমলে আলো সমৃদ্ধ কোনো দিনে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টির পর আমরা আকাশে বর্ণালীর যে পট্টি বা ব্যান্ড দেখে থাকি এটাই আসলে রংধনু বা রামধনু। অনেকটা ধনুকের মতো বাঁকা (বাস্তবে বৃত্তচাপের ন্যায়) হওয়ায় এবং বর্ণালীর আলোর পট্টি থাকায় রংধনু নামকরণের সার্থকতা নিহিত।

    রংধনু গঠনের পেছনে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা এখন বিস্তৃত হয়েছে। কারণ বিজ্ঞানী নিউটন প্রমাণ করে দিয়েছেন যে সূর্যের আলো মূলত বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর যৌগিক রূপ। তিনি অন্ধকার ঘরে প্রিজমের মধ্যে দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করিয়ে দেখতে পান যে সূর্যের আলো প্রতিসরিত হয়ে পর্দার উপর বর্ণালীর ব্যান্ড তৈরী করে।

    রংধনুও মূলত এই নীতির উপরেই গঠিত হয়। সাধারণত এক পশলা বৃষ্টির পরে পানির কণা বায়ুমণ্ডলে ভেসে বেড়াতে থাকে। যখন সূর্যের আলো এসব পানি কণার মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করে তখন প্রতিটি পানি কণা একেকটি প্রিজমের মতো আচরণ করে। যদিও এক্ষেত্রে পানির কণার মধ্যে দিয়ে আলোর প্রতিসরণই রংধনু গঠন করে না। পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলনের ফলেই সেটা দুবার প্রতিসরণের মাঝে একবার প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে রংধনু হিসেবে ধরা দেয়।

    রংধনু গঠনের কৌশল; সূত্র: rebeccapaton.net

    যেহেতু বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর প্রতিসরণ ক্ষমতা বা পথ একই নয়, সেহেতু যৌগিক সূর্যালোক বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বিভক্ত হয় এবং আলোর পট্টি তৈরী করে।

    দশকের পর দশক ধরে বিজ্ঞানীরা পানিকণার উপর ভিত্তি করে রংধনুকে শ্রেণীবিভাগ করে আসছেন। কিন্তু আসলে কেবল এই একটি বিষয়ে শ্রেণীবিভাগ করাটা ঠিক পোষায় না। পরবর্তীতে গবেষকরা বিভিন্ন রংধনুর ছবি সংগ্রহ করে এদের প্রায় বারোটি প্রজাতিতে ভাগ করেছেন। অর্থাৎ আমাদের দেখা সাধারণ একপ্রকার রংধনুর বাইরেও আরো প্রায় এগারো প্রজাতির রংধনুর দেখা মেলে। আমরা কি সেসব সম্পর্কে আদৌ জানি? চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব রংধনু সম্পর্কে।

    মুখ্য বা প্রাথমিক রংধনু

    প্রাথমিক রংধনু; সূত্র: freedawn.co.uk

    মূলত এই ধরনের রংধনুই সচরাচর আমরা দেখে অভ্যস্ত। প্রাথমিক রংধনু হচ্ছে অর্ধবৃত্তাকার এবং এতে বেগুনী থেকে লাল পর্যন্ত (অর্থাৎ বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল) একক বর্ণালী বা পট্টি দেখা যায়। এক পশলা বৃষ্টির পরেই সাধারণত প্রাথমিক ধরনের রংধনু গঠিত হয়ে থাকে। এ ধরনের রংধনুর উজ্জ্বলতা নির্ভর করে পানিকণার কত বড় বা ছোট তার উপর।

    গৌণ রংধনু

    গৌণ রংধনু; সূত্র: fullhdwall.com

    যদি আপনি প্রাথমিক রংধনু দেখে থাকেন তাহলে আপনার গৌণ রংধনু দেখার সম্ভাবনা অনেক। অর্থাৎ আপনি মুখ্য বা প্রাথমিক রংধনুর সাথে সাথে গৌণটিও দেখে থাকতে পারেন। এদেরকে কখনো কখনো আবার ‘ডাবল রেইনবো’ বা দ্বৈত রংধনুও বলা হয়ে থাকে। মূলত মুখ্য রংধনুর সাথেই এটি গঠিত হয় যখন সূর্যের আলোক রশ্মি ভাসমান পানি কণার মধ্যে দিয়ে একবারের পরিবর্তে দুবার প্রতিফলিত হয়। মুখ্য রংধনুর উপরে বা বাইরের দিকে এই রংধনু গঠিত হয় এবং এদের বর্ণক্রম সাধারণত মুখ্য রংধনুর ঠিক উল্টো। মুখ্য রংধনুর থেকে আকারের দিক থেকে দ্বিগুণ হলেও এদের উজ্জ্বলতা প্রায় এক-দশমাংশ।

    আলেক্সান্ডার’স ডার্ক ব্যান্ড

    মাঝের কালো ব্যান্ড-ই আলেক্সান্ডার’স ডার্ক ব্যান্ড; সূত্র: flickr.com

    যদিও আলেক্সান্ডার’স ডার্ক ব্যান্ডকে বাস্তবিক অর্থে ঠিক রংধনু হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। কিন্তু এই ব্যান্ডে মুখ্য ও গৌণ রংধনুর মতো ব্যান্ড দেখা যায়। মূলত মুখ্য ও গৌণ রংধনুর মধ্যবর্তী এলাকাতেই এই ডার্ক ব্যান্ড গঠিত হয় এবং আকাশের বাকি অংশ থেকে এই অংশ একটু বেশি অন্ধকার দেখা যায়। মুখ্য রংধনু এর ভেতরের অংশ এবং গৌণ রংধনু এর বাইর দিকের অংশ আলোকিত করে রাখে। ফলে আমাদের কাছে আলেক্সান্ডার’স ডার্ক ব্যান্ডকে কালো মনে হয়।

    সুপারনিউমেরারি রেইনবো

    সুপারনিউমেরারি রংধনু- মুখ্য রংধনুর ভেতরে একাধিক দুর্বল রংধনু; সূত্র: justfunfacts.com

    সুপারনিউমেরারি শব্দের অর্থ সংখ্যায় স্বাভাবিকের থেকে অতিরিক্ত। এ ধরনের রংধনুকে স্ট্যাকার রংধনুও বলা হয়ে থাকে যাদের খুব কমই দেখা যায়। স্ট্যাকার রংধনু মূলত গঠিত হয় একাধিক দুর্বল প্রজাতির রংধনুর সমষ্টি নিয়ে যারা প্রাথমিক রংধনুর অভ্যন্তরীণ অংশে অবস্থান করে। এই অংশে পানির কণাগুলোর আকার অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র হলেও আকৃতি একই রকম। সূর্যের আলো যখন একবার প্রতিফলিত হয় তখন সাধারণ পথে না গিয়ে এরা একটু অন্যপথে গমন করে, ফলে দুর্বল প্রকৃতির একাধিক রংধনু গঠন করে।

    মনোক্রোমাটিক রংধনু

    মনোক্রোমাটিক রেইনবো; সূত্র: digitaljournal.com

    মনোক্রোমাটিক রেইনবো অনেক সময় রেড রেইনবো নামেও পরিচিত। মূলত সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময়টিতে এক পশলা বৃষ্টির পর এই ধরনের রংধনু গঠিত হয়ে থাকে। সাধারণত এই সময়ে বর্ণালীর ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো, যেমন নীল বা সবুজ বায়ু ও ধূলিকণা দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। এর ফলে তুলনামূলক বৃহৎ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো অর্থাৎ লাল ও হলুদ বর্ণী আলোই এই ধরনের রংধনু গঠন করে। সূর্য যখন অস্তগামী হয় তখন এই রংধনু গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

    ক্লাউড রেইনবো

    ক্লাউড রেইনবো; সূত্র: listverse.com

    নামের দ্বারাই বোঝা যায় যে এই ধরনের রংধনুর সাথে মেঘ জড়িত। এই ধরনের রংধনু গঠিত হয় যখন আর্দ্র পরিবেশ বিরাজ করে এবং একইসাথে মেঘের ভেতর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণা অবস্থান করে। এই পানির কণাগুলো বৃষ্টির পানির কণা থেকেও ক্ষুদ্র হয়ে থাকে সাধারণত। ফলে ক্লাউড রেনবো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাদা বর্ণের মতো হয়ে থাকে। কারণ আমরা জানি পানি কণার আকৃতি যত বড় হবে, বর্ণালীর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলন ক্ষমতাও তত বাড়বে। এরা সাধারণ রংধনু থেকে আকৃতিতে বড় হয়ে থাকে। সচরাচর এরা কোনো বড় জলাশয়ের উপরই গঠিত হয়।

    ফগ রেইনবো; সূত্র: kathyandmikeadventure2012.wordpress.com

    তবে পাতলা কুয়াশার কারণে এদের স্থলভাগেও দেখা যেতে পারে। এদের ফগ বো বা গোস্ট রেইনবোও বলা হয়ে থাকে।

    যমজ রংধনু

    যমজ রংধনু; সূত্র: listverse.com

    যমজ রংধনু বা টুইনড রেইনবো কে ঠিক দ্বৈত রংধনু বলা চলে না। এ ধরনের রংধনু বেশ বিরল হয়ে থাকে। যমজ রংধনু বলতে বোঝায় যখন দুটি রংধনু একই পাদবিন্দু থেকে গঠিত হয়, কিন্তু আলাদা দুটি বৃত্ত তৈরী করে। যমজ রংধনু গঠিত হওয়ার পেছনে পানি কণার আকৃতি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ, ক্ষুদ্র ও অপেক্ষাকৃত বড় পানি কণা যখন একইসাথে অবস্থান করে এবং যেহেতু এদের প্রতিফলন ক্ষমতা একই রকম নয়। আবার বড় পানিকণাগুলো বাতাসের চাপে সমতলীয় হতে শুরু করে আর অন্যদিকে ক্ষুদ্র কণাগুলো এদের পৃষ্ঠটানের জন্য একসাথে থাকে। ফলে এরা দুটি রংধনু গঠন করে, কিন্তু এদের পাদবিন্দু থাকে একই।

    প্রতিফলিত রংধনু এবং প্রতিফলন রংধনু

    প্রতিফলিত ও প্রতিফলন রংধনু; সূত্র: listverse.com

    যদিও এদের নাম প্রায় একই রকম হলেও এরা আসলে এক প্রজাতি নয়। সাধারণত কোনো বড় জলাশয়ের উপরই এদের দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিফলিত রংধনু আসলে প্রাথমিক রংধনুর মতোই, কিন্তু এরা প্রথমে পানির কণার মধ্যে দিয়ে বিচ্ছুরিত হয়ে আমাদের চোখের পৌঁছানোর আগেই পানিতে প্রতিফলিত হয়।

    অন্যদিকে প্রতিফলন রংধনুর ক্ষেত্রে বিষয়টা উল্টো হয়ে যায়। অর্থাৎ আগে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে তারপর সেটা পানির কণার মধ্যে দিয়ে বিচ্ছুরিত হয় এবং তারপর আমাদের চোখে এসে পৌঁছায়। তবে এদের উজ্জ্বলতা প্রতিফলিত রংধনুর মত নয়।

    রেইনবো হুইল

    রেইনবো হুইলের একাংশ; সূত্র: listverse.com

    রেইনবো হুইল গঠিত হয় যখন ঘন কালো মেঘ বা ঘন বৃষ্টিপাতের কারণে সূর্যের আলো আমাদের চোখে পৌছাতে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। এই বৃষ্টির ফোটাগুলোর কারণেই রংধনুর বর্ণসমূহ আমরা দেখতে পারি না। ফলে এই ধরণের রংধনু অনেকটা বড় স্পোকওয়ালা ওয়াগন হুইলের মত দেখা যায় যারা একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দু থেকে আসছে বলে মনে হয়। মজার ব্যাপার হলো যখন ঘন মেঘ সরে যেতে থাকে তখন মনে হয় রংধনুর এই হুইলটি যেন ঘুরছে।

    লুনার রেইনবো

    লুনার রেইনবো; সূত্র: victoriafalls-guide.net

    আমরা সচরাচর দিনের বেলাতেই রংধনু দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু কেমন হয় যদি রাতের বেলায় রংধনু দেখা যায়। লুনার রেইনবো সেরকমই এক বিরল প্রজাতির রংধনু। মূলত জ্যোৎস্নালোকিত রাতে এই ধরনের রংধনুর দেখা পাওয়া যায়। যেহেতু জ্যোৎস্নার আলো ঠিক ততটা শক্তিশালী নয় কাজেই লুনার রেইনবো খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। এ ধরনের রংধনু দেখার উপযুক্ত সময় হলো যখন উজ্জ্বল পূর্ণিমা রাতে বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সময়ে আকাশ অবশ্যই কালো হতে হয়। ফলে লুনার রেইনবো কিছুটা বিবর্ণ দেখায়, কারণ এ সময়ে রাত আমাদের রেটিনার কোন কোষগুলোকে উদ্দীপিত করতে সক্ষম হয় না।

    পূর্ণ বৃত্তীয় রংধনু

    পূর্ণ বৃত্তীয় রংধনু; সূত্র: sciencenews.org

    যখন সূর্যের আলো আর পানির কণা মিলে রংধনু গঠন করে তখন এরা পুরোপুরি একটি বৃত্তের আকারেও রংধনু তৈরী করতে পারে। তবে এ ধরনের রংধনু বেশ বিরলতর। কারণ এজন্য প্রয়োজন হয় আকাশের উপযুক্ত পরিবেশ। তবে এ ধরনের রংধনু দেখার জন্য সমতল থেকে কিছুটা উপরে ওঠার প্রয়োজন হয়। কারণ সমতলে থাকাকালীন অবস্থায় দিগন্তরেখা কারণে পুরো বৃত্ত দেখা যায় না।

    তো আমরা সচরাচর যে রংধনু দেখে থাকি সেটি মুখ্য বা প্রাইমারি রংধনু। কিন্তু এর বাইরেও আছে আরো অনেক প্রজাতির রংধনু। সব পরিবেশে বা সবসময়ে এদের দেখা মেলা খুবই কঠিন। তবে বায়ুতে যদি কোনো প্রকারে ভাসমান পানি কণার উপস্থিতি থাকে সেখানেই রংধনু দেখার সম্ভাবনা সর্বাধিক।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  4. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    অসীম কত বড়?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    অসীম কত বড়? অসীমের বিশালত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা অসহায় হয়ে দেখবো আমাদের চিন্তার পরিধি কত ছোট! আমাদের তুচ্ছতা আর বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিশালত্ব নিয়ে চিন্তা করলে নিজেদের যে কতটা অসহায় মনে হয়, তার একটা ছোট্ট উদাহরণ এটি। অসীমের বিশালত্ব উপলব্ধি করার জন্য পাঠকের গভীর গাণিতিক জ্ঞান দরকার নেই, তবে নিঃসন্বিস্তারিত পড়ুন

    অসীম কত বড়?

    অসীমের বিশালত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা অসহায় হয়ে দেখবো আমাদের চিন্তার পরিধি কত ছোট! আমাদের তুচ্ছতা আর বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিশালত্ব নিয়ে চিন্তা করলে নিজেদের যে কতটা অসহায় মনে হয়, তার একটা ছোট্ট উদাহরণ এটি। অসীমের বিশালত্ব উপলব্ধি করার জন্য পাঠকের গভীর গাণিতিক জ্ঞান দরকার নেই, তবে নিঃসন্দেহে গভীরতম চিন্তাশক্তির প্রয়োজন!

    লেখকের ছোটবেলার একটা অভিজ্ঞতা দিয়েই শুরু করা যাক। খুব ছোটবেলায় আমার এক বন্ধুর সাথে একবার তর্ক লেগে গেল, কার কয়টা খেলনা আছে। আমি অনেক কষ্টে গুনে বললাম, আমার সব মিলিয়ে আটটি খেলনা আছে। বন্ধু বলল তার দশটি। এবার তো পড়ে গেলাম বিপাকে! বন্ধুর কাছে হেরে যাওয়া যায় না, আমি বললাম আমার পনেরটা! এবার বন্ধুও চিন্তায় পড়ে গেল! অনেক ভেবে বলল, আমার গুনতে একটু ভুল হয়ে গেছে, আমার আসলে বিশটা! এবার অনেক ভেবে বললাম, আমার একশটা!

    আমি তখন মোটে গুনতে পারি বিশ পর্যন্ত! একশো বলে খুব খুশি হয়ে গেলাম। এবার বন্ধু খুব চিন্তায় পড়ে গেল। ঐ বয়সে একশ অনেক বড় সংখ্যা, এর থেকে বড় কোনো সংখ্যা আছে কি না আমাদের কারোরই জানা নেই। এবার বন্ধু একটু চালাকি করে ফেলল! বলল, আমার যতগুলো খেলনা আছে, বন্ধুর নাকি তার চেয়ে এক বেশি! এর পরে আর কোনো কথা থাকে না। মন খারাপ করে বাড়ি ফিরলাম। মাকে জিজ্ঞেস করলাম, একশোর চেয়ে বড় আর কী আছে?

    অর্থাৎ একটা শিশু খুব চিন্তা করেও তার পরিধি একশো থেকে বড় করতে পারেনি! আমাদের পূর্বপুরুষদের সংখ্যার ধারণা ছিল এক আর অনেক! গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, অনেক প্রাণী তিন পর্যন্ত গুনতে পারে! আসুন দেখি, আমরা কত পর্যন্ত গুনতে পারি!

    খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শিম্পাঞ্জীরা সংখ্যার ধারণা কাজে লাগায়; Image source: bbc.com
    আমাদের পৃথিবী কিন্তু অনেক বড়, প্রায় ৫১০ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার। এবার সূর্যের দিকে তাকান। সূর্যের মধ্যে আপনি এক মিলিয়ন পৃথিবী রাখতে পারবেন। আরেকটু বড় পরিসরে ভাবুন, আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে সূর্যের মতো প্রায় ৪০০ বিলিয়ন তারা আছে। আর আমাদের জানা মতে, মহাবিশ্বে ১০০ বিলিয়ন শনাক্ত করা যায় এমন গ্যালাক্সি আছে, শনাক্ত করা যায়নি, এমন গ্যালাক্সির সংখ্যা নিশ্চয়ই আরও বেশি। আর আপনি জানেন কি, ইদানীং কিছু গবেষণামতে, মহাবিশ্বও কিন্তু একটি নয়। স্ট্রিং থিওরি মতে, মোটামুটি 10^500 টি (১ এর পর ৫০০টি শূন্য)! তবে এই সংখ্যাটি নিশ্চিত নয়। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন,

    মহাবিশ্বের সংখ্যা শূন্য ও অসীমের মাঝামাঝি কিছু একটা!

    আপনি কি ভাবতে পারেন, এই সংখ্যাগুলো কত বড়? এদের কাছে আমরা কতটা তুচ্ছ? আসুন, এবার আমাদের প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। অসীম এই সংখ্যাগুলোর চেয়েও বড়!

    মহাবিশ্বে গ্যালাক্সির সঠিক সংখ্যা আমরা আজও জানি না; Iamge source: earthsky.org
    আপনাকে যদি বলা হয়, পৃথিবীতে যতগুলো জোড় সংখ্যা আছে, ততগুলোই স্বাভাবিক সংখ্যা আছে, আপনি কি মানবেন? নিশ্চয়ই না (১-১০ এর মধ্যে জোড সংখ্যা ৫টি, স্বাভাবিক সংখ্যা ১০টি)! কিন্তু আমাদের ভাবনার জগত কেবল গণনাযোগ্য সংখ্যা নিয়ে কাজ করে বলেই এটা মানতে আপনার কষ্ট হচ্ছে। আপনি না গুনে কীভাবে বুঝবেন আপনার দু’হাতে সমান সংখ্যক আঙুল আছে? আপনি প্রতিটি আঙুলের বিপরীতে আরেকটি আঙুল রাখতে পারবেন, তাই এরা সমান। একে গণিতে বলে One-one correspondence। এই পদ্ধতিতেই আমরা প্রমাণ করতে পারি, জোড় সংখ্যার সংখ্যা আর মোট সংখ্যার সংখ্যা সমান। (২-১, ৪-২, ৬-৩, ৮-৪….. এরকম জোড়া কিন্তু চলতেই থাকবে)

    2          4          6          8          10        12        ……….

     1           2          3          4           5          6       ………..

    এভাবে প্রতিটি সংখ্যার বিপরীতে আরেকটি জোড় সংখ্যা পাওয়া যাবে, মানে আমাদের বিষয়টি প্রমাণ হয়ে গেল। কিন্তু এখানে একটা ‘কিন্তু’ থেকেই গেল! মোট জোড় সংখ্যা আছে অসীম সংখ্যক। আবার মোট স্বাভাবিক সংখ্যাও আছে অসীম সংখ্যক। আপনার যদি ওপরের প্রমাণে ‘কিন্তু’টাই পছন্দ হয়ে থাকে, তাহলে এই দুই অসীম সমান না! অর্থাৎ অসীমেরও ছোট-বড় আছে, সব অসীম অন্য অসীমের সমান নয়!

    অসীমগুলো যে অন্য অসীম থেকে আলাদা এরকম প্রস্তাবনা প্রথম দেন জর্জ ক্যান্টর (তিনি সেট তত্ত্বের জনক)। এর নাম The Continuum Hypothesis।

    “Continuum Hypothesis” এর প্রস্তাবনাকারী জর্জ ক্যান্টর; Image source: wikipedia.org
    এই তত্ত্বে বলা হয়, প্রত্যেক অসীম অন্য অসীম থেকে আলাদা। এক অসীম অন্য অসীম থেকে ছোট-বড় হতে পারে। ডেভিড হিলবার্টের মতে, গণিতে এই তত্ত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপ্রমাণিত সমস্যা। কেন? কারণ কার্ল গোডেল প্রমাণ করেছেন, এই তত্ত্ব কখনও মিথ্যা প্রমাণ করা যাবে না। অন্যদিকে পল কোহেন প্রমাণ করেছেন, একে সত্য প্রমাণ করাও সম্ভব নয়! এটা প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞানে বা গণিতে এখনও অনেক উত্তর দেয়া সম্ভব হয়নি এমন প্রশ্নের অস্তিত্ব রয়েছে!

    এবার আমাদের চিন্তাশক্তির আরেকটু উচ্চস্তরে যাওয়া যাক। এর নাম The infinity Paradox, এর প্রস্তাবনাকারী ডেভিড হিলবার্ট।

    চিন্তা করুন একটি হোটেলের কথা যেখানে রুমের সংখ্যা অসীম। কোনো এক রাতে প্রত্যেকটি রুম ভর্তি, কোনো রুম ফাঁকা নেই। হোটেলের নাম আমরা ধরে নিই ইনফিনিটি হোটেল, আর হোটেলের ম্যানেজার গণিতবিদ জেফ্রি। হোটেল ভর্তি করে জেফ্রি রাতে ঘুমিয়েছেন। হঠাৎ একজন নতুন অতিথি আসলো, যে আরেকটা রুম চায়। গণিতবিদ জেফ্রি কিন্তু তাকে ফিরে যেতে দেননি, তার জন্যও ইনফিনিটি হোটেলে আরেকটি রুমের বরাদ্দ করা হলো। কীভাবে? জেফ্রি এক নম্বর রুমের লোককে বলল দুই নম্বরে যেতে, দুই নম্বর রুমের লোককে বলা হলো তিন নম্বর রুমে যেতে। মানে সব রুমের লোককে তার ঠিক পাশের রুমে যেতে বলা হল। এখন আপনি ভাবতে পারেন, শেষ রুমের লোকটি কোথায় যাবে? কিন্তু এটা তো কোনো চল্লিশ রুমের হোটেল না, এটি ইনফিনিটি হোটেল। এখানে শেষ রুম বলে কোনো কথা নেই। n তম রুমের লোকটি n+1 তম রুমে চলে গেল, এক নম্বর রুম খালি করে নতুন লোকটিকে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হলো।

    হিলবার্টের ইনফিনিটি প্যারাডক্স; Image source: ed.ted.com
    এবার জেফ্রির জন্য আরেকটু কঠিন সমস্যা, এবার একটা বাস এলো চল্লিশজন মানুষ নিয়ে, এরা আরও চল্লিশটা রুম চায়। চট করে জেফ্রি সমাধান করে ফেলল, এক নম্বর রুমের লোককে বলা হলো একচল্লিশ নম্বর রুমে, দুই থেকে বিয়াল্লিশ নম্বর রুমে, n রুমের লোক চলে গেল (n+40) নম্বর রুমে, চল্লিশটি রুম ফাঁকা হয়ে গেল, চল্লিশজনের জায়গা হয়ে গেল!

    আসুন, জেফ্রিকে আরেকটু কঠিন সমস্যা দেয়া যাক। দেখি এবার জেফ্রি কী করে! এবার তার হোটেলে একটা বাস পাঠানো হলো, যেখানে লোকের সংখ্যা অসীম। এবার কী করে তাদের জায়গা দেওয়া হবে? এবার কিন্তু আর জেফ্রি যোগের ধারণা দিয়ে এত লোকের জন্য রুম খালি করতে পারবে না, কারণ n+∞ কোনো নির্দিষ্ট রুমের নম্বর না, জেফ্রি কাউকে গিয়ে হুট করে সেই রুমে যেতে বলতে পারে না। এবার কিছুক্ষণ ভেবে এক অভিনব বুদ্ধি বের করল। এক নম্বর রুমের লোককে বলা হল দুই নম্বরে যেতে, দুই নম্বরের লোক গেল চারে, তিন নম্বর রুম থেকে পাঠানো হল ছয় নম্বর রুমে। n নম্বর রুম থেকে 2n নম্বর রুমে পাঠিয়ে দিলে সব জোড় সংখ্যার রুম ভরে গেল, আর বিজোড় সংখ্যার রুম ফাঁকা হয়ে গেল। এখন নিশ্চয়ই জানেন বিজোড় সংখ্যা আছে মোট অসীম সংখ্যক, তাই অসীম সংখ্যক লোকের জায়গা হয়ে গেল।

    পাঠক, এবার সময় এসেছে আপনার সিট বেল্ট টাইট করে নেয়ার। কারণ এবার আঘাত আসবে স্বাভাবিক মানুষের চিন্তার প্রায় সর্বোচ্চ স্তরে! জেফ্রি এবার তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে! এবার অসীম সংখ্যক লোক নিয়ে একটি-দুটি নয়, পুরো অসীম সংখ্যক বাস চলে এসেছে, সবাই গণিতবিদ জেফ্রির কাছে ইনফিনিটি হোটেলে জায়গা চায়!

    এবার জেফ্রি পড়ে গেল মহাবিপদে। অনেক চিন্তা করে তার মনে পড়লো গুরু ইউক্লিডের কথা। তিনি বলেছেন, মৌলিক সংখ্যা আছে অসীম সংখ্যক। জেফ্রি আইডিয়া পেয়ে গেল! এক নম্বর রুমের লোককে পাঠানো হলো দুই নম্বর রুমে, দুই নম্বর রুম থেকে চার নম্বর রুমে, তিন থেকে আটে, চার থেকে ষোলতে… বুঝতে পারছেন? এখানে n নম্বর রুমের লোককে 2^n নম্বর রুমে পাঠানো হলো। দুইয়ের ঘাত বাদে সব রুম কিন্তু ফাঁকা হয়ে গেল।

    প্রথম বাসের সব লোককে এবার বলা হলো ১ নম্বর ঘরে যেতে। পরের বাসের লোককে পাঠানো হলো ৩, ৯, ২৭, ৮১, …3^n… নাম্বার রুমে। পরের মৌলিক সংখ্যা পাঁচের ঘাতে, পরের বাসে সাতের ঘাতে। এভাবে প্রতিটি বাসের জন্য একটি করে মৌলিক সংখ্যার ঘাতে তাদের জায়গা হলো। অসীম সংখ্যক মৌলিক সংখ্যা থাকায় অসীম সংখ্যক বাসের লোকদের জায়গা হলো। এভাবে জেফ্রি তার অসীমের মধ্যে অসীম সংখ্যক অসীমের জায়গা করে দিল!

    কী! প্যাঁচ লেগে গেল? আরেকবার পড়ুন। তা-ও না বুঝলে চিন্তার কারণ নেই, কারণ You are not alone!

    ইউক্লিড প্রমাণ করেছিলেন, মৌলিক সংখ্যার সংখ্যা অসীম। তাঁর বই “Elements” এর একটি খণ্ডিত অংশ; Image source: wikipedia.org
    এবার আমরা জেফ্রির আয়ের কথা ভাবি, তার তো অনেক বড়লোক হয়ে যাবার কথা। যদি প্রতি রুমের জন্য জেফ্রি এক টাকা করে পায়, তাহলে রাতের শুরুতে জেফ্রির ছিল অসীম টাকা, কিন্তু রাতের শেষেও তার আয় অসীম টাকাই!

    আপনি কি আন্দাজ করতে পারছেন, অসীম কত বড়? এতক্ষণ আমরা যে অসীম নিয়ে আলোচনা করলাম, তা হলো অসীমের সর্বনিম্ন স্তর, কারণ আমরা কেবল স্বাভাবিক সংখ্যার ভেতরেই অসীম নিয়ে আলোচনা করেছি! আপনারা যদি অসীম সম্পর্কে সামান্য ধারণাও পেয়ে থাকেন, অসীমের বিশালত্ব আপনাকে নাড়া দেয়, তাহলেই লেখার স্বার্থকতা!

    এখন আসুন, আমরা আমাদের প্রশ্ন নিয়ে শেষবারের মতো ভাবি। অসীম তাহলে কত বড়? এর উত্তর আসলে খুবই সহজ। কারণ এর উত্তর হলো,

    আমরা জানি না!

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  5. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    অ্যাপল সিলিকন কী?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ২0২0 সালের ২২ জুন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় অ্যাপলের বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ডেভেলপার কনফারেন্স (WWDC)। মহামারীর কারণে এই প্রথম অ্যাপল কনফারেন্সটি অনলাইনে নেয়। ২২-২৬ জুন পর্যন্ত চলে কনফারেন্সটি। মূলত এই কনফারেন্সে অ্যাপল তাদের প্রোডাক্ট লাইন-আপের বিভিন্ন ফিচার প্রকাশ করে। এবারের WWDC-তে অ্যাপলের সবচেয়ে আলোবিস্তারিত পড়ুন

    ২0২0 সালের ২২ জুন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় অ্যাপলের বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ডেভেলপার কনফারেন্স (WWDC)। মহামারীর কারণে এই প্রথম অ্যাপল কনফারেন্সটি অনলাইনে নেয়। ২২-২৬ জুন পর্যন্ত চলে কনফারেন্সটি। মূলত এই কনফারেন্সে অ্যাপল তাদের প্রোডাক্ট লাইন-আপের বিভিন্ন ফিচার প্রকাশ করে। এবারের WWDC-তে অ্যাপলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল তাদের ইন্টেল থেকে নিজস্ব প্রসেসরে শিফট হওয়া। অর্থাৎ অ্যাপল তাদের নতুন ডিভাইসগুলোতে আর ইন্টেলের প্রসেসর ব্যবহার করবে না।

    অ্যাপল শুধু প্রসেসরই পরিবর্তন করেনি, করেছে পুরো আর্কিটেকচারের পরিবর্তন। তারা ঘোষণা দিয়েছে ২০২২ সালের মাঝে সকল প্রকার ডিভাইস, অ্যাপস তাদের বর্তমান থেকে নতুন আর্কিটেকচারে শিফট করবে। এখন প্রশ্ন হলো- এর অর্থ ভোক্তাদের জন্য কী দাঁড়াবে? এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে এর প্রভাব কতটুকু? আর কেনই বা ইন্টেলের জন্য এটা দুঃসংবাদ?

    প্রসেসর আর্কিটেকচার

    মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে মৌলিক ধারণাগুলো পরিষ্কার করে নেয়া যাক। একটি প্রসেসর কীভাবে কাজ করবে, কতটা দ্রুতগতির হবে এসব নির্ভর করে প্রসেসর ডিজাইন বা আর্কিটেকচারের উপর। প্রতিটি প্রসেসর কিছু ইন্সট্রাকশন সেট নিয়ে কাজ করে। ইন্সট্রাকশন সেট প্রসেসরকে বলে দেয় তাকে কী নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা যখন কোনো সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম চালু করি তখন তা মেশিনের ভাষায় (০ এবং ১) রুপান্তরিত হয় এবং ইন্সট্রাকশন সেট তাদের পথ দেখিয়ে দেয় যে কী করলে, কোন ঠিকানায় গেলে প্রোগ্রামটি তার কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত দুটি প্রসেসর আর্কিটেকচার, যার দ্বারা পৃথিবীর প্রায় সকল কম্পিউটার পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো হলো x86 এবং -x86-64। x86 কে ৩২ বিট এবং x64 কে ৬৪ বিট বলে ধরে নেয়া হলেও এর মাঝে আরও কিছু টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে যা বৃহৎ এবং এখানে অপ্রয়োজনীয় হওয়ায় আলোচনা করা হলো না।

    ARM এর ব্যবহার; Image Source: Toptal.com
    এর বাইরে আমাদের মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে সকল ছোটখাট ডিভাইস চলছে ভিন্ন এক আর্কিটেকচারে। সেটির নাম ARM। ARM প্রসেসরগুলো ভিন্ন আর্কিটেকচারে চলে কারণ ইন্টেলের তৈরি করা X86 আর্কিটেকচার শুধু ইন্টেলের বাইরে এএমডিসহ হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানির ব্যবহারের বৈধতা রয়েছে। X86 একটি অসাধারণ আর্কিটেকচার, যার ফলে আমরা এত দ্রুতগতির কম্পিউটার প্রসেসর পাচ্ছি এবং বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান সহজেই করা যাচ্ছে। ARM ব্যবহার করা হয় সোজাসাপ্টা সমস্যা সমাধানের জন্য, যার ফলে এটি অনেক কম এনার্জি খরচ করেই কাজ সমাধা করতে পারে। এজন্য সকল প্রকার ডিভাইস, যেগুলো বিশেষ করে ব্যাটারির উপর নির্ভরশীল, সেগুলোতে ARM ব্যবহার করা হয়। এবং যত কম এনার্জি তত কম হিট উৎপন্ন হবে, এটিও ARM প্রসেসরের একটি সুবিধা। সহজ কথায় X86 আর্কিটেকচার ভারী কাজের জন্য এবং ARM আর্কিটেকচার হালকা কাজের জন্য।

    ইন্টেলের সাথে Arm এর তুলনা; Image source: Arm.com
    তো আর্কিটেকচার নিয়ে এত বক বক করার কারণ হচ্ছে কোনো প্রোগ্রাম তৈরির আগে সেটি কোন আর্কিটেকচারে চলবে তা নির্ধারণ করে তৈরি করতে হয়। অর্থাৎ X86 আর্কিটেকচারকে লক্ষ্য করে তৈরি কোনো প্রোগ্রাম ARM-এ চলবে না। একই কথা X86 এর ক্ষেত্রেও। এখন আরেকটি বিষয় মাথায় আসতে পারে যে, স্মার্টফোনগুলোতে তো স্নাপড্রাগন, মিডিয়াটেক, বায়োনিক এসব ব্যবহারের কথা শুনেছিলাম, তাহলে ARM আসলো কোথা থেকে! আসলে ARM Holdings (ARM আর্কিটেকচার নির্মাতা) শুধু প্রসেসর ডিজাইন তৈরি করে, তারা কোনো প্রসেসর তৈরি করে না। এই ডিজাইনগুলো স্যামসাং, অ্যাপল, কোয়ালকম কিনে মডিফাই করে তাদের নিজস্ব চিপ তৈরি করে।

    অ্যাপল সিলিকন কী?


    System On a Chip বা SOC; Image Sourc: MacRumours
    মূলত অ্যাপল সিলিকন হচ্ছে একটি SoC (System on a Chip)। এখন SoC আবার কী জিনিস? সাধারণত একটি প্রসেসরে শুধু প্রসেসর কম্পোনেন্টই থেকে থাকে, কিন্তু একটি SoC-তে একটি ডিভাইস পরিচালনার জন্য প্রধান জিনিসসমূহ, যেমন- প্রসেসর, গ্রাফিক্স, মেমোরি, সিকিউরিটি ফিচার সব একসাথে থাকে।

    অ্যাপল সিলিকন যে নতুন তা কিন্তু নয়! তারা তাদের আইফোন, আইপ্যাডে এর ব্যবহার করে আসছে অনেকদিন হলো। বর্তমান অ্যাপলের এ১৩ বায়োনিক বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির স্মার্টফোন প্রসেসর। অ্যাপল তাদের Arm প্রসেসর ডিজাইনে এত এগিয়ে গিয়েছে যে কম্পিউটার জগতে তারা অ্যাপল সিলিকন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

    অ্যাপল এমন পরিবর্তন আগেও করেছিল। ১৯৯৪ সালে তারা 68K থেকে PowerPC পিসি প্রসেসরে শিফট করে এবং ২০০১ সালে ম্যাক ওএস নতুন করে তৈরি করে প্রকাশ করে তারা। এরপর ২০০৬ সালে PowerPC থেকে ইন্টেলে শিফট করে এবং ইন্টেলভিত্তিক ম্যাকবুক প্রো ও আই ম্যাক রিলিজ করে। PowerPC থেকে ইন্টেলে শিফট হওয়ার কারণ ছিল ইন্টেল প্রসেসরগুলোর সক্ষমতা। এখন পুনরায় এই পরিবর্তনের কারণ শুধু Arm প্রসেসরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিই নয়, আনুষাঙ্গিক আরও দিক রয়েছে। এখন আলোচনা করা যাক সেসব নিয়ে।

    এই পরিবর্তনের সুবিধা-অসুবিধা

    অ্যাপল তাদের ইকোসিস্টেমের জন্য বিখ্যাত। অ্যাপলের প্রতিটি ডিভাইসের অন্তর্বর্তী কার্যক্রম অত্যন্ত সুগঠিত এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় হওয়ার কারণেই তাদের একটি নির্দিষ্ট ফ্যানবেজ তৈরি হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত মানুষ অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে শিফট হচ্ছে। তবে স্মার্টফোনের তুলনায় ম্যাকবুক কিংবা আইম্যাকে এই রূপান্তরের হার অনেক কম। ম্যাকবুক-আইম্যাক ছাড়া অ্যাপল তাদের প্রতিটি ডিভাইসে অ্যাপল সিলিকন ব্যবহার করেছে। ফলে অ্যাপল পেয়েছে তাদের প্রোডাক্টের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

    কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি ও শক্তি সাশ্রয়

    Arm-ভিত্তিক প্রসেসরের অগ্রগতি সত্যিই প্রশংসনীয়। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রতগতির সুপার কম্পিউটার Arm-ভিত্তিক প্রযুক্তিতে চালিত হচ্ছে। এছাড়া অ্যাপলের বর্তমান A13 Bionic তাদের প্রথম Arm-ভিত্তিক প্রসেসর A4 এর থেকে প্রায় শতগুণ শক্তিশালী। এ থেকে বোঝা যায় যে অ্যাপল তাদের প্রযুক্তিতে কতটা এগিয়েছে এবং উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছে।

    প্রসেসর জগতে একটি টার্ম রয়েছে যাকে বলে Performance per watt, অর্থাৎ প্রতি ওয়াট ক্ষমতায় একটি প্রসেসর কতটুকু পারফরমেন্স দিতে পারে। এই পারফরমান্স পার ওয়াটের কারণেই অ্যাপল PowerPC থেকে ইন্টেলে শিফট করে। যেহেতু Arm প্রসেসর অনেক কম শক্তি খরচ করে অর্থাৎ একটি ৫ ওয়াটের Arm প্রসেসর যদি ১৫ ওয়াটের ইন্টেল প্রসেসরের সমান পারফরমান্স দিতে পারে তাহলে আরও একটি ১৫ ওয়াটের Arm প্রসেসর আরও বেশি পারফরমান্স দিতে সক্ষম হবে।

    আর যেহেতু অ্যাপল নিজেই তাদের প্রসেসর তৈরি করবে সেজন্য তারা তাদের অপারেটিং সিস্টেমও সুন্দরভাবে অপ্টিমাইজ করার সুযোগ পাবে। যার ফলে ব্যবহার অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে উঠবে, যেমনটি হয়েছে তাদের আইফোন, আইপ্যাডগুলোতে।

    নতুন ফিচার ও নিউরাল ইঞ্জিন

    অ্যাপলের নিউরাল ইঞ্জিনের সুনাম কম নেই। মূলত এটি SOC-এ আলাদাভাবে বসানো থাকে। এটি সিপিউ বা জিপিউ-এর মতোই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার ক্ষমতা রাখে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিংয়ের সহায়তায় এটি ভারি কাজসমূহ আরও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে পারে। ম্যাকবুকে এর সংযোজন হলে ভিডিও রেন্ডারিংয়ের মতো কাজগুলো আরও দ্রুতগতিতে করা যাবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তিবিদরা। আর নিজস্ব চিপের বদৌলতে অ্যাপল যে নতুন এবং আকর্ষণীয় ফিচার আনবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

    অধিক নিরাপত্তা

    ইন্টেলের প্রসেসরের নিরাপত্তা ত্রুটির কথা নতুন নয়। এখনও কিছু ত্রুটি রয়েছে যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি। আর অ্যাপল তাদের পণ্যের নিরাপত্তায় কোনো অংশেই ছাড় দেয় না। আইফোনের সিকিউরিটি সম্পর্কে  আমরা কম-বেশি সবাই জানি। অ্যাপল সিলিকনের মাধ্যমে এমন উচ্চতর নিরাপত্তা এখন ম্যাকবুকেও পাওয়া যাবে যা নিঃসন্দেহে ভোক্তাদের জন্য সুখবর। এবং নতুন ত্রুটির সৃষ্টি হলেও তার সমাধান করার জন্য ইন্টেলের অপেক্ষা করতে হবে না আর তাদের।

    অ্যাপলের বর্তমান Arm-ভিত্তিক সিকিউরিটি ও কন্ট্রোলার চিপ; Image Source: MacRumours

    পণ্যের দাম কমার সম্ভবনা

    প্রসেসর জগতে ইন্টেলের প্রসেসরগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি। এজন্য কোম্পানিগুলোকে বিশাল পরিমাণ অর্থ ইন্টেলকে প্রদান করতে হয়, যার ফলে পণ্যের দাম বাড়ে এবং প্রভাব পড়ে ভোক্তাদের উপর। অ্যাপল যেহেতু এখন তাদের নিজেদের প্রসেসর তৈরি করবে এবং Arm প্রসেসরের উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় পণ্যের দাম কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইন্টেলের প্রসেসর বাজারে ছাড়ার জন্য অ্যাপলকে আর অপেক্ষাও করতে হবে না। তাদের সময় অনুযায়ী তারা প্রোডাক্ট বাজারে ছাড়তে পারবে।

    ম্যাকে চলবে আইফোন-আইপ্যাডের অ্যাপ

    Arm-ভিত্তিক হওয়ায় ঝামেলা ছাড়াই ম্যাকে চলবে আইফোন এবং আইপ্যাডের অ্যাপসমূহ। ফলে বিশাল আইওএস এর বিশাল অ্যাপ ডেটাবেজ ব্যবহারের সুযোগ পাবে ম্যাক ব্যবহারকারীরা। তবে এর সাথে আরও একটি প্রশ্ন তৈরি হয়। Arm প্রসেসরে তো x86-based অ্যাপ্লিকেশনগুলো চলবে না, কিন্তু বর্তমান সব ম্যাক আপ্লিকেশন তো x86 আর্কিটেকচারের জন্য তৈরি, সেগুলোর কী হবে?

    এই সমস্যা সমাধানের জন্য অ্যাপল নিয়ে এসেছে Rosseta 2 এবং Universal 2। বর্তমান x86-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন চালাবে Rosseta 2। Rosseta 2 একটি ইমুলেটর, অর্থাৎ যখন কোনো এপ্লিকেশন চালু করা হবে এটি x86 ইন্সট্রাকশন সেটকে Arm এর ইন্সট্রাকশন সেটে রূপান্তর করবে এবং এরপর প্রসেসরে সেটি চালাবে। তারা দেখিয়েছে এর মাধ্যমে গেমও চালানো সম্ভব। Universal 2 দিয়ে তৈরি করা অ্যাপ্লিকেশন ইন্টেল এবং অ্যাপল সিলিকন দুটোতেই চলবে। এজন্যই ২ বছরের সময় বলে দিয়েছে অ্যাপল। এই সময়ে ডেভেলপাররা তাদের সকল আপ্লিকেশন অ্যাপল সিলিকনের জন্য তৈরি করার সুযোগ পাবে। এরই সুবাদে অ্যাপল ডেভেলপারদের ভাড়া দিচ্ছে ডেভেলপার কিট। মাত্র ৫০০ ডলারের এই কীটে থাকছে Apple A12Z প্রসেসর, ১৬ জিবি র‍্যাম ও ৫১২ জিবি এস এসডি। ডেভেলপারদের জন্য এটি আদর্শ বলছেন প্রযুক্তিবিদরা।

    ডেভেলপার কিট; Image Source: Apple Insider
    এত সুবিধার মাঝে একটি প্রশ্ন উঠে আসে যে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব কি পড়বে?

    আসলে না। বরং ভোক্তাদের জন্যও এটি বেশ ইতিবাচক একটি পরিকল্পনা। তবে যারা বুটক্যাম্প (ম্যাক-এ উইন্ডোজ চালানো) ব্যবহার করেন তাদের জন্য আপাতত অ্যাপল কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তবে আশা করা যায় তারা কোনো পদ্ধতি ভবিষ্যতে উন্মুক্ত করবে।

    তবে ইন্টেলের জন্য এটি একটি দুঃসংবাদই বটে, এএমডির কারণে তাদের মার্কেট শেয়ার অনেক কমে গিয়েছে এবং অ্যাপলের সাথে তাদের এত বছরের সম্পর্কের ইতি নিশ্চয়ই তাদের জন্য কোনো ভালো সংবাদ হতে পারে না। অ্যাপলের এই পরিবর্তনকে সাধুবাদ দিচ্ছেন অনেকেই। গত কয়েকবছর ধরে ইন্টেলের প্রসেসরের কার্যক্ষমতার  ধীরগতির উন্নয়নকে একটু হলেও নাড়া দেবে এটি। অন্যদিকে এএমডিও মোবাইল প্রসেসর আনার আভাস দিয়েছে। অ্যাপল সিলিকনের ঘোষণার মাধ্যমে Arm-ভিত্তিক প্রসেসরের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ভোক্তাদের জন্য খুশির সংবাদ।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  6. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    জৈব জ্বালানী কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ১৯৯৬ সাল। আজ থেকে ২২ বছর আগে সুইজারল্যান্ডের অণুজীববিজ্ঞানীরা বিস্ময়ের সাথে দেখতে পেলেন, জুরিখ লেকে ব্যাকটেরিয়ার একটি প্রজাতি প্রাকৃতিকভাবে গ্যাসোলিনের অন্যতম উপাদান টলুইন উৎপাদন করে চলেছে। সম্প্রতি গবেষকরা এই প্রক্রিয়ার অন্তর্নিহিত কলাকৌশল ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যাকটেরিয়া কেন টবিস্তারিত পড়ুন

    ১৯৯৬ সাল। আজ থেকে ২২ বছর আগে সুইজারল্যান্ডের অণুজীববিজ্ঞানীরা বিস্ময়ের সাথে দেখতে পেলেন, জুরিখ লেকে ব্যাকটেরিয়ার একটি প্রজাতি প্রাকৃতিকভাবে গ্যাসোলিনের অন্যতম উপাদান টলুইন উৎপাদন করে চলেছে। সম্প্রতি গবেষকরা এই প্রক্রিয়ার অন্তর্নিহিত কলাকৌশল ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যাকটেরিয়া কেন টলুইন উৎপাদনের প্রতি ধাবিত হয়?

    জয়েন্ট বায়ো-এনার্জি ইন্সটিটিউট (Joint BioEnergy Institute) এর এনভায়রনমেন্টাল মাইক্রোবায়োলোজিস্ট হ্যারি বেলারের মতে, বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য Tolumonas auensis টলুইন তৈরির পদ্ধতি বেছে নেয়। আম্লিক পরিবেশে টলুইন তৈরির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া তার নিজের pH নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। টলুইন তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে প্রোটন শোষিত হয়। প্রোটনের আধিক্যের ফলে ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব pH বেড়ে যায়। এভাবে পয়ঃবর্জ্য অথবা জলাশয়ের গভীরে অক্সিজেনশূন্য পরিবেশে জমে থাকা পললের মতো আম্লিক পরিবেশে টিকে থাকা ব্যাকটেরিয়ার জন্য সহজতর হয়।

    বার্কলের একটি লেকে গ্যাসোলিনের উপাদান তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান মেলে; © YIMING CHEN; Image Source: sciencemag.org
    টলুইন মূলত অকটেনের বুস্টার হিসেবে কাজ করে থাকে। জ্বালানীর মূল উৎস ভূগর্ভস্থ পেট্রোলিয়ামের লাগামহীন ব্যবহারের ফলে বিশ্ব এখন জ্বালানী সংকটে। জ্বালানীর উৎস হিসেবে ব্যাকটেরিয়া কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম, তা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

    ব্যাকটেরিয়ার স্ট্রেইন যখন জ্বালানীর উৎস

    গবেষকরা E. coli  ব্যাকটেরিয়ার একটি নতুন স্ট্রেইন তৈরি করেছেন যেটি শর্করাকে তেলে রূপান্তরিত করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তেলের গুণগত মান, প্রচলিত ডিজেলের কাছাকাছি। ইউনিভার্সিটি অভ এক্সটারের অধ্যাপক জন লাভ এই বিষয়ে বলেন,

    বাজারে প্রচলিত ধারণার মতো সাময়িক বিকল্প না খুঁজে আমরা বরং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথে এগোচ্ছি, যার ফলে গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং ভোক্তাগণ বাহ্যত কোনো পার্থ্যক্য খুঁজে পাবেন না।

    গুণগত মানের বিষয়ে অধ্যাপক লাভ বলেন,

    গাড়ির ইঞ্জিনের জন্য যে হাইড্রোকার্বনটি জ্বালানী হিসেবে সচরাচর ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার সাথে প্রাপ্ত নতুন জ্বালানীর মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। দু’টিই সমভাবে ইঞ্জিনের জন্য উপযুক্ত এবং আণবিক গঠনেও তারা একই চেইন লেন্থের। মজা করে আমরা একে বলে থাকি বায়ো-ফসিল-ফুয়েল।


    E. coli মাধ্যমে জৈব জ্বালানী উৎপাদন; Image Source: cell.com
    বিশেষায়িত ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেইনটি সাধারণত শর্করা বা চিনি জাতীয় বস্তুকে বিক্রিয়ক হিসেবে নিয়ে চর্বিতে পরিণত করে। গবেষকরা ব্যাকটেরিয়া কোষের অভ্যন্তরীণ কলাকৌশল পরিবর্তন করে দেওয়ার ফলে চিনির বদলে এখন সুনির্দিষ্টভাবে জ্বালানী তেলই পাওয়া যাবে। জিনগত পরিবর্তন সাধন করার মাধ্যমে অণুজীব এখন জ্বালানী তেলের কোষাগারে পরিণত হয়েছে। তবে জ্বালানী তেলের চাহিদা যতটা উত্তরোত্তর হারে বেড়েই চলেছে সেই তুলনায় ব্যাকটেরিয়া কর্তৃক উৎপাদিত জ্বালানীর পরিমাণ সন্তোষজনক নয়। অধ্যাপক লাভ ও তার দল ১০০ লিটার ব্যাকটেরিয়া থেকে মাত্র ১ চা চামচ জ্বালানী তেল উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন!

    আগামী দিনগুলোতে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদনমুখিতা বৃদ্ধি করা। জৈব জ্বালানীর সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হিসেবে ভাবা হচ্ছে, এর কার্বন নিরপেক্ষতাকে। পরিবেশ দূষণে পেট্রোল বা ডিজেলের মতো বহুল ব্যবহৃত জ্বালানীর দহনে প্রচুর পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসৃত হচ্ছে। এতে অত্যধিক পরিমাণ গ্যাস শোষণ করার জন্য পর্যাপ্ত বনভূমি বর্তমানে পৃথিবীতে নেই। অন্যদিকে অণুজীব থেকে প্রাপ্ত জ্বালানী কার্বন নিরপেক্ষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কারণ এদের দহনের ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ গাছপালা কর্তৃক শোষিত হওয়ার মতো সীমায় থাকবে।

    জৈব জ্বালানী হিসেবে বিভিন্ন পদার্থের ব্যবহার

    বায়োডিজেল

    বায়োডিজেল উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। যেমন মাইক্রোপ্রসেসিং, ব্যাচ প্রোসেসিং, সুপার ক্রিটিকাল প্রসেসিং ইত্যাদি। কর্মপদ্ধতি ভিন্ন হলেও প্রতিটির ক্ষেত্রেই মূলত ট্রাইগ্লিসারাইডসের ট্রান্সএস্টারিফিকেশন করা হয়ে থাকে।

    ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সংযোগে গঠিত ট্রাইগ্লিসারাইড; Image Source: biofuel.org.uk
    উদ্ভিদ এবং প্রাণীতে খুব সহজলভ্য একটি জৈব অণু হলো ট্রাইগ্লিসারাইড যেটি কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন সহযোগে গঠিত হয়। ট্রাইগ্লিসারাইড অণুর দুইটি অংশ। একটি ট্রাইগ্লিসারাইড অণুতে তিনটি ফ্যাটি অ্যাসিড চেইন থাকে এবং অন্য অংশটিকে বলা হয় গ্লিসারল। ফ্যাটি অ্যাসিড চেইনগুলো সাধারণ হাইড্রোকার্বনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় বিজ্ঞানীরা জৈব জ্বালানী উৎপাদনের ক্ষেত্রে একেই কাজে লাগিয়ে থাকেন।

    ট্রান্সএস্টারিফিকেশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অ্যালকোহল; Image Source: biofuel.org.uk
    ট্রান্সএস্টারিফিকেশন পদ্ধতির মাধ্যমে গ্লিসারল ও ফ্যাটি অ্যাসিড চেইন পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পাওয়া যায় তিনটি এস্টার (প্রতি চেইন ফ্যাটি অ্যাসিডের জন্য একটি করে) ও গ্লিসারল। প্রতি ১০ মেট্রিক টন বায়োডিজেলের উৎপাদনে উপজাত হিসেবে ১০০ কেজি গ্লিসারল পাওয়া যায়।

    ইনডিরেক্ট ফার্মেন্টেশন

    জৈব জ্বালানী হিসেবে ইথানলের রয়েছে প্রসিদ্ধ ব্যবহার। ইনডিরেক্ট ফার্মেন্টেশন পদ্ধতিতে উদ্ভিজ্জ পদার্থকে পাইরোলাইসিসের মাধ্যমে সিনগ্যাস (Syngas) তৈরি করা হয়। প্রাথমিকভাবে সিনগ্যাসে উপস্থিত পদার্থসমূহ হলো কার্বন মনো অক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড ও হাইড্রোজেন।

    সিনগ্যাস থেকে পাওয়া যায় জৈব জ্বালানী; Image Source: syngaschem.com
     

    অ্যাসিটোজেনিক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সিনগ্যাস রূপান্তরিত হয় ইথানলে। অ্যাসিটোজেন হলো সম্পূর্ণভাবে অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া যার মাধ্যমে এই রূপান্তর ঘটে থাকে। Wood–Ljungdahl pathway’র মাধ্যমে অ্যাসিটোজেনিক ব্যাকটেরিয়ারা সাধারণত অ্যাসিটেট তৈরি করে থাকে। তবে মিডিয়ায় pH বৃদ্ধির ফলাফল হিসেবে অ্যাসিটেটের বদলে কাঙ্ক্ষিত বস্তু ইথানল পাওয়া যায়।

    কনসলিডেটেড বায়োপ্রসেসিং

    জৈব জ্বালানী শিল্পে ব্যয় সাশ্রয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিমিত ব্যয়ের মাঝে জৈব জ্বালানী উৎপাদনের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হলো কনসলিডেটেড বা সংকুচিত পদ্ধতি। অন্যান্য পদ্ধতি থেকে এর পার্থক্য হচ্ছে, এটি এক ধাপেই সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ উদিজ্জ পদার্থ থেকে সরাসরি জ্বালানী। এই পদ্ধতিতে কোনো স্যাকারোলাইটিক এনজাইমের প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে ব্যবহৃত সকল জৈব জ্বালানীর তুলনায় এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে কম খরচে উৎপাদন সম্ভব। এই পদ্ধতির উপর সর্বাধিক সংখ্যক গবেষণায় পাথেয় হিসেবে কাজ করছেন ডার্টমাউথ কলেজের অধ্যাপক লি লিন্ড ও তার দল। তারা এই পদ্ধতির জন্য ব্যবহার করে থাকেন থার্মোফিলিক থার্মোকিউটিস ব্যাকটেরিয়া। এই পদ্ধতিতে জ্বালানী হিসেবে পাওয়া যায় ইথানল।

    জৈব জ্বালানীর সুবিধাসমূহ

    জৈব জ্বালানীর সুবিধাসমূহ হলো-

    ·         তুলনামূলক স্বল্প খরচে জ্বালানীর উৎপাদন সম্ভব।

    ·         জীবাশ্ম জ্বালানীর উৎস পেট্রোলিয়ামের তুলনায় জৈব জ্বালানীর উৎস অনেক বেশি। বিভিন্ন রকমের শস্য, গাছ কিংবা উদ্ভিদের উচ্ছিষ্ট অংশও হতে পারে জৈব জ্বালানীর কাঁচামাল।

    ·         নবায়নযোগ্যতা জৈব জ্বালানীর সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।

    ·         জীবাশ্ম জ্বালানীর তুলনায় জৈব জ্বালানী দহনে যথেষ্ট কম পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ ঘটে।

    জৈব জ্বালানীর অসুবিধাগুলো

    পরিবেশের সুরক্ষার কথা চিন্তা করলে এক কথায় জৈব জ্বালানীর বিকল্প নেই। তবে একথাও সত্য যে, শক্তির সরবরাহের ক্ষেত্রে জৈব জ্বালানী কখনোই সর্বোত্তম নয়। এর অসুবিধাগুলো হলো।

    ·         জ্বালানীর উৎপাদন খরচ কম হলেও বিভিন্ন পদ্ধতিতে দরকার হয় পরিশোধনের যা একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।

    ·         জ্বালানী উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল চাষাবাদের জন্য দরকার হয় প্রচুর পরিমাণ পানির। যার ফলে আশঙ্কা থেকেই যায় আঞ্চলিক জলাশয়গুলো শূন্য হয়ে যাবে কিনা।

    ·         যেহেতু উদ্ভিজ্জ পদার্থসমূহকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যায় তাই বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিশেষায়িত করা হয় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। বৃহৎ পরিসরের জমি যখন শুধু জ্বালানীর কাঁচামাল চাষে ব্যবহৃত হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য ঘাটতি দেখা যায় এবং ফলশ্রুতিতে দামের ঊর্ধ্বমুখিতা লক্ষ্য করা যায়।

    জৈব জ্বালানী এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ সাফল্য এনে দিতে পারেনি। যদিও জীবাশ্ম জ্বালানীর এক চমৎকার বিকল্প হিসেবে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য এ কথা ভুলে যাওয়া যাবে না যে, জৈব জ্বালানীর উপর পূর্ণ মাত্রায় নির্ভর করা যাবে না। শক্তি উৎপাদনের সম্ভাব্য সকল পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার এবং জৈব জ্বালানীকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপকারী করতে সবার আগে দরকার কাঁচামাল হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত উদ্ভিজ্জ পদার্থকে খুঁজে বের করা।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  7. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    কালের বিবর্তনে বইয়ের পৃষ্ঠার রং কেন হলুদ হয়ে যায়?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    বাড়িতে বইয়ের তাকে পড়ে থাকা পুরনো বই, স্টোররুমে সংগ্রহে থাকা পুরনো পত্রিকা কিংবা পুরনো বইয়ের দোকান থেকে কিনে আনা বইগুলোর পৃষ্ঠাগুলো কেমন যেন হলুদাভ রং ধারণ করে, কখনো লক্ষ্য করেছেন? উজ্জ্বল সাদা বইয়ের পাতা সময়ের আবর্তে হলুদ হয়ে যায়, কিংবা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে, এ ঘটনার সাথে মোটামুটি সকলেই পরিচিতবিস্তারিত পড়ুন

    বাড়িতে বইয়ের তাকে পড়ে থাকা পুরনো বই, স্টোররুমে সংগ্রহে থাকা পুরনো পত্রিকা কিংবা পুরনো বইয়ের দোকান থেকে কিনে আনা বইগুলোর পৃষ্ঠাগুলো কেমন যেন হলুদাভ রং ধারণ করে, কখনো লক্ষ্য করেছেন? উজ্জ্বল সাদা বইয়ের পাতা সময়ের আবর্তে হলুদ হয়ে যায়, কিংবা কিছুটা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে, এ ঘটনার সাথে মোটামুটি সকলেই পরিচিত। কিন্তু এরকমটি কেন ঘটে তা ভেবে দেখেন খুব কম সংখ্যক মানুষই। কিংবা বইয়ের পাতার হলুদ হয়ে যাওয়া যে ঠেকানো সম্ভব তাও জানেন না অনেকেই। আর এসব বিষয় জানতে হলে আপনাকে জানতে হবে বইয়ে ব্যবহৃত কাগজের বিকাশ সম্বন্ধে। কারণ বর্তমানে কাগজ যে প্রক্রিয়ায় উৎপাদন করা হয়, একসময় তা এমন ছিল না। আর কাগজ উৎপাদের প্রক্রিয়ার সাথে কাগজের হলুদ হবার আছে সরাসরি সম্পর্ক।

    হলুদাভ বর্ণ ধারণ করেছে পুরনো পত্রিকা; Image Source: scoopwhoop.com
    অধিকাংশ ইতিহাসবিদই কাগজের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চীনের কথাই বলে থাকেন। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ১০০ অব্দের দিকে চীনে কাগজ তৈরি শুরু হয়। প্রথমদিকে কাগজ তৈরির মূল উপকরণ ছিল ভেজা শণ। শণের সাথে গাছের গুঁড়ির বাকল (শল্ক), বাঁশ আর কয়েক প্রজাতির উদ্ভিদের আঁশ দিয়ে একপ্রকার মণ্ড তৈরি করা হতো। এই মণ্ড যত মিহি হতো, কাগজের মান হতো তত উন্নত।

    চীনাদের এই উদ্ভাবন এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় নেয়নি। তবে ইউরোপে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল অনেক। একাদশ শতকে প্রথম ইউরোপে কাগজ উৎপাদন শুরু হয়। ইতিহাসবিদগণের বিশ্বাস, ‘মিসাল অব সাইলস’ নামক স্প্যানিশ বইটি ইউরোপের প্রাচীনতম কাগুজে দলিল। আর এই বইটিও একাদশ শতকের। তবে এই বইয়ের কাগজ মোটেও চীনাদের প্রথম দিকের কাগজের মতো ছিল না। সাইলসের কাগজগুলো তৈরি করা হয় পাটের আঁশ থেকে। গুটেনবার্গের ছাপাখানা আবিষ্কারের পর কাগজ উৎপাদনের ধরনে আবারো কিছু পরিবর্তন আসে। তখনকার কাগজগুলো তৈরি হতো পাটের আঁশের সাথে তুলা, ছেঁড়া বস্ত্রাদি আর অন্যান্য আঁশের মিশ্রণে।

    সবচেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে ১৯ শতকে। কানাডার নোভা স্কটিয়ায় বসবাসকারী উদ্ভাবক চার্লস ফেনার্টি কাগজের ব্যবসা করতেন তখন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ কমদামে দীর্ঘমেয়াদি কাগজ তৈরির চেষ্টা করে আসছিলেন। কাগজের ব্যবসার পাশাপাশি তার ছিল কাঠ চেরাইয়ের ব্যবসা। কাঠের ব্যবসা থেকেই তার মাথায় এলো কাগজ উৎপাদনে কাঠ ব্যবহারের কথা। কাঠের সহজলভ্যতা এবং কম দামের কথা মাথায় রেখে তিনি কাঠ থেকে কাগজ উৎপাদনের একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন।

    ১৮৪৪ সালের অক্টোবরে ফেনার্টি প্রথম কাঠ দিয়ে কাগজ তৈরি করলেন। সেই কাগজের কিছু নমুনা তিনি পাঠিয়ে দিলেন শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত পত্রিকা ‘দ্য আকাডিয়ান রেকর্ডার’ এ। সাথে চিঠিতে লিখে দিলেন তার নতুন উৎপাদিত কাগজের দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই এবং স্বল্প খরুচে গুণের কথা। পত্রিকাটি আগ্রহভরেই ফেনার্টির নতুন কাগজ গ্রহণ করলো। সেই থেকে কাঠ দিয়ে কাগজ উৎপাদনের শুরু।

    এ পর্যায়ে এসে একটি বিশেষ তথ্য উল্লেখ না করলেই নয়। অধিকাংশ ইতিহাসবিদই বর্তমানে কাঠ দিয়ে কাগজ উৎপাদনের জন্য জার্মান উদ্ভাবক ফ্রেডরিখ কেলারকে স্মরণ করে থাকেন। কিন্তু কাঠ দিয়ে কাগজ উৎপাদনের প্রক্রিয়া মূলত ফেনার্টিই প্রথমে আবিষ্কার করেছিলেন। সমসাময়িক সময়েই কেলার স্বতন্ত্রভাবে গবেষণা করে কাঠ দিয়ে কাগজ উৎপাদনের একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন। কিন্তু পার্থক্য গড়ে দেয় পেটেন্ট। ১৮৪৫ সালে কেলার তার তৈরি কাগজের জন্য একটি জার্মান পেটেন্ট লাভ করেন। আর তাতেই কপাল পোড়ে বেচারা ফেনার্টির!

    কাগজ প্রস্তুতের জন্য ফেনার্টির কাঠ পেষণ যন্ত্র; Image Source: wikipedia.org
    কাগজের রঙ হলুদ হবার পেছনে যে কারণ রয়েছে তার ঐতিহাসিক পটভূমি আমরা জানলাম। এবার রাসায়নিক আলোচনা শুরু করা যাক। তুলা বা পাট, উভয় উপাদানের চেয়েই কাঠ সস্তা এবং সহজলভ্য। আবার কাঠ দিয়ে তৈরি কাগজ অপরাপর কাগজের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদিও ছিল।

    কিন্তু সমস্যা ছিল সূর্যালোক আর অক্সিজেনে। কাঠের তৈরি কাগজ বাতাসে আর সূর্যালোকে বেশ ভালোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এর কারণ লুকিয়ে আছে কাঠের মধ্যে। কাঠ মূলত দুইটি উপাদান থেকে তৈরি। একটি হচ্ছে সেলুলোজ, অপরটি লিগনিন। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে সহজলভ্য জৈব পদার্থটি হচ্ছে সেলুলোজ। বর্ণহীন এবং অস্বচ্ছ এ বস্তুটি এর উপর পতিত আলোর প্রায় পুরোটাই শুষে নেয় এবং সামান্য অংশ প্রতিফলিত করে। ফলে সেলুলোজকে দেখতে সাদা দেখায়।

    সেলুলোজের একটি রাসায়নিক গুণ হচ্ছে এটি জারণধর্মী। ফলে সূর্যালোকে থাকে সূর্যরশ্মি শোষণের ফলে সেলুলোজে জারণ ঘটে। আর জারণ ঘটা মানে কিছু ইলেকট্রনের নিঃসরণ। ইলেকট্রন নিঃসরিত হবার এই প্রক্রিয়া দ্রুতই কাগজকে দুর্বল করে দেয়। একসময় এর ঔজ্জ্বল্যও কমে আসে। ঔজ্জ্বল্য কমে যাবার সাথে হলুদাভ হয়ে ওঠার সামান্য থাকলেও প্রকৃত হোতা হলো লিগনিন।

    লিগনিন হচ্ছে একপ্রকার জটিল জৈব পলিমার যা সাধারণ বিভিন্ন উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরে থাকে। লিগনিনের জন্যই কোষ প্রাচীর কঠিন ও দৃঢ় হয়। কাগজেও লিগনিন একই দায়িত্ব পালন করে। দালান নির্মাণে ইট, বালু আর সুরকির সাথে সিমেন্ট না দিলে যেমন তা কখনোই শক্ত হয়ে জমাট বাঁধবে না, ঠিক তেমনি কাগজে সেলুলোজের সাথে লিগনিন না থাকলে সেলুলোজের আঁশগুলো একত্রে থাকবে না।

    সেলুলোজ; Image Source: amateurfooddetective.blogspot.com
    তবে লিগনিন সেলুলোজের মতো উজ্জ্বল বর্ণ ধারণ করতে পারে না। লিগনিনের রঙ কালো। এ কারণেই হার্ড বোর্ড কিংবা কার্ডবোর্ডের রঙ কালো হয়। কারণ অধিক শক্ত করার জন্য সেগুলোতে অধিক লিগনিন ব্যবহার করা হয় যা রঙ পরিবর্তন করে। তবে মূল সমস্যা হলো, লিগনিনও সক্রিয় জারণক্ষম রাসায়নিক। সূর্যালোকের সংস্পর্শেই এর জারণ ঘটে এবং আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয়। ফলে লিগনিন দ্বারা প্রতিফলিত আলোর বর্ণালীতে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তিত তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবুজ ও হলুদ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মাঝামাঝি অবস্থান করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হলুদ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাথে মিলে যায় এবং বইয়ের পাতা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে।

    লিগনিনের রাসায়নিক গঠনের একটি ডায়াগ্রাম; Image Source: researchgate.net
    আরেকটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা যাক। লিগনিন হচ্ছে একটি পলিমার। পলিমার সাধারণ একই অণুর পৌনঃপুনিক জটিল বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। উপরে লিগনিনের রাসায়নিক গঠনের একটি ডায়াগ্রাম দেয়া হলো। এতে দেখা যাচ্ছে যে, লিগনিনের পৌনঃপুনিক অণুটি হচ্ছে অ্যালকোহল। এখন অ্যালকোহলে একাধিক অক্সিজেন অণু রয়েছে। আবার, জারণ বিক্রিয়ার সময় লিগনিনও একাধিক অক্সিজেন অণু গ্রহণ করে।

    অতিরিক্ত অক্সিজেন অণুগুলো লিগনিনের পলিমার গঠনে বিকৃতি ঘটায়, অ্যালকোহল সাবইউনিটগুলোর বন্ধন ভেঙে সে স্থলে ‘ক্রোমোফোরেস’ সৃষ্টি করে। গ্রিক শব্দ ক্রোমোফোরেস অর্থ ‘রঙবাহী’। এই ক্রোমোফোরেসই সূর্যরশ্মির প্রতিফলনের সময় বর্ণালীর দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের যেকোনো একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলিত করে। লিগনিনের ক্ষেত্রে সে তরঙ্গদৈর্ঘ্যটি হলুদ রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য। তবে কখনো কখনো একটু কমে সবুজের কাছাকাছি চলে এলে বাদামী রঙেরও হয়। ঠিক যেমনটি হয় এক টুকরো কাটা আপেল খোলা অবস্থায় রেখে দিলে। আপেলে বিদ্যমান পলিফেনল অক্সিডেজ নামক এনজাইমের জারণের ফলে এতে ক্রোমোফোরেস সৃষ্টি হয় এবং বাদামী বর্ণ ধারণ করে।

    লিগনিনের জারণ প্রক্রিয়া; Image Source: pubs.rsc.org
    সময়ের আবর্তে কাগজ হলুদ বর্ণ ধারণ করার এ প্রক্রিয়া বইয়ের চেয়ে বেশি পত্রিকার ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। কারণ স্বল্প খরচে কাগজ উৎপাদনে তুলা বা পাটের বদলে কাঠই বেশি ব্যবহৃত হয়। ফলে তাতে লিগনিন থাকে বেশি। তাই পত্রিকার পাতার হলুদাভ হবার প্রবণতা বেশি। তাই জরুরী কাগজপত্র, বই কিংবা পত্রিকার হলুদ বর্ণ ধারণ করা ঠেকাতে একে সূর্যালোক এবং অক্সিজেন থেকে দূরে রাখা যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে।

    জাদুঘরে পুরনো দলিল দস্তাবেজ ও প্রাচীন সাহিত্যের কাগজগুলো অল্প আলোয়, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার মধ্যে বায়ুরোধী কাঁচের বাক্সে সংরক্ষণ করা হয়। বাসায় এতকিছু সম্ভব না হলে বইটি পলিথিনে ভরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে না এমন ঠাণ্ডা স্থানে রেখে দিলেও চলে। তাছাড়া, কাগজ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোও আজকাল চেষ্টা করেন সর্বনিম্ন পরিমাণ লিগনিন ব্যবহার করে কাগজ তৈরি। সবকিছু দিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়ে গেলে সেটাকে কাগজে রূপান্তরিত করার আগে যথেষ্ট পরিমাণ ব্লিচ করে নিলেই লিগনিনের পরিমাণ কমে যায়। তবে লিগনিনের পরিমাণ বেশি কমে গেলে কাগজের মানও কমে যায়। তাই প্রস্তুতকারকদের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হওয়া জরুরী।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  8. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    প্রত্যেকের আঙ্গুলের ছাপ কি আসলেই আলাদা ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আপনার হাতের আঙুলের দিকে একবার খেয়াল করে দেখুন। প্রতি আঙুলেই যেন অসংখ্য দাগ বা খাঁজ রয়েছে। যারা টিভি শো দেখেন তারা কোনো না কোনো সময় CID বা CSI জাতীয় ক্রাইম শো দেখেছেন। তারা নিশ্চয় জানেন এই খাঁজ দিয়ে আসামী সনাক্ত করা হয়। এই আঙুলের ছাপকে প্রমাণ হিসেবে সাধারণত অকাট্য বলে বিবেচনাও করা হয়। কিন্তু এ প্রক্রবিস্তারিত পড়ুন

    আপনার হাতের আঙুলের দিকে একবার খেয়াল করে দেখুন। প্রতি আঙুলেই যেন অসংখ্য দাগ বা খাঁজ রয়েছে। যারা টিভি শো দেখেন তারা কোনো না কোনো সময় CID বা CSI জাতীয় ক্রাইম শো দেখেছেন। তারা নিশ্চয় জানেন এই খাঁজ দিয়ে আসামী সনাক্ত করা হয়। এই আঙুলের ছাপকে প্রমাণ হিসেবে সাধারণত অকাট্য বলে বিবেচনাও করা হয়। কিন্তু এ প্রক্রিয়া কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে অনেকেরই ধারণা নেই।  আগে দেখা যাক আঙুলের ছাপ আসলে কী। আমাদের প্রতিটি আঙুলে, হাত বা পায়ের তালুতে বিভিন্ন রকমের ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়েই আমাদের জীবনের সূচনালগ্ন যেমন ছিল তার উপর ভিত্তি করে ছাপ তৈরি হয়। বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে একমত যে গর্ভ ধারণের ১০ সপ্তাহে এই আঙুলের ছাপ তৈরি হওয়া শুরু করে। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে ছাপ আঙুলে তার অবস্থান করে নেয়, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত কোনো ধারণা দিতে পারেননি।

    সবচেয়ে প্রচলিত যে ধারণা রয়েছে তা হলো আমাদের ত্বকের মধ্যস্তর (Basal layer) অপর দুইটি স্তর অপেক্ষা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যার কারণে বাইরের এপিডার্মিস এবং ভেতরের দিকের ডার্মিস স্তরে চাপের সৃষ্টি হয়। এই চাপের কারণে এপিডার্মিসের কিছু অংশ ডার্মিসে পিষ্ট হয়ে খাঁজের তৈরি করে, যা পরিশেষে আঙুলের ছাপ হিসেবে সাথী হয়ে থাকে। তবে ত্বকের স্তরের চাপের পাশাপাশি আরো কিছু পারিপার্শ্বিক প্রভাব এক্ষেত্রে কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হল রক্তচাপ, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ, মায়ের শরীরে পুষ্টির পরিমাণ এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভ্রূণের অবস্থান।

    ত্বকের বিভিন্ন স্তর এবং আঙুলের ছাপের গঠন; source: slideshare.net

    উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে (১৮৯৬ সালের দিকে) আঙুলের ছাপ সর্বপ্রথম অপরাধী সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। স্যার এডওয়ার্ড হেনরি ১৯০১ সালে আঙুলের ছাপকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করেন। যা ধীরে ধীরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১১ সালে আমেরিকাতে থমাস জেনিংস নামে এক ব্যক্তিকে আঙুলের ছাপের ভিত্তিতে হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে এ সময়ে মূলত আঙুলের ছাপ মানুষের চোখের আন্দাজের উপরে ভিত্তি করে একই কিনা তা নির্ণয় করতো। এ কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হয় ১৯৯০ এর দশকে।

    প্রথম আঙুলের ছাপে শনাক্তকৃত আসামী থমাস জেনিংস; source: gettyimages.com

    তবে ব্যাপারটা এমন নয় যে আপনি একটি ডাটাবেজে একটি আঙুলের ছাপ নিয়ে রাখবেন আর তা আপনাকে নিমেষের মধ্যে সে আসামীর সন্ধান করে দেবে। এফবিআই এর ডাটাবেজে প্রায় ৫৩ মিলিয়নের অধিক ফাইল রয়েছে। এফবিআই ল্যাবোরেটরির ল্যাটেন্ট প্রিন্ট সাপোর্ট ইউনিটের প্রধান মাইকেল উইনার্সের মতে, একটি ছাপ ডাটাবেজে মিলিয়ে দেখতে কমপক্ষে ২ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

    আঙুলের ছাপের অনন্যতা কি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত?

    ধারণা করা হয়, পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষের আঙুলের ছাপ অনন্য। এই কথাটি শুরু হয় স্যার ফ্রান্সিস গাল্টনের এক দাবি থেকে। তবে তিনি এই তথ্য সমর্থন করার জন্য এখনও বৈজ্ঞানিক কোন দলিল দেখাতে পারেন নি। আর বর্তমানে সেটাই সত্য বলে বিবেচনা করা হয়। যে সকল পরীক্ষণ করা হয়েছে তার সবই একটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার জন্য। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আপনি এই ফলাফল দেখে হয়ত বলতে পারবেন সেই নির্দিষ্ট জনসংখ্যার মধ্যে কারও আঙুলের ছাপ মিলে না। ধরে নিলাম আপনি একই পরীক্ষাটি পুরা বিশ্বের ৭.৬ বিলিয়ন মানুষের আঙুলের ছাপ নিয়ে পরীক্ষাটি করলেন, তা-ও আপনার দলিল স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে না। এর কারণ আপনি জীবিত মানুষদের ছাপ পরীক্ষা করলেও পৃথিবীতে এতদিনে মৃত্যু হওয়া প্রায় ১০০ বিলিয়ন মানুষের হিসেব আপনি করতে পারছেন না। যার ফলে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক দলিল করাটা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

    কিন্তু বিজ্ঞানীরা এটুকু সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয়েছেন যে, এই ছাপ প্রতি মানুষের বেলায় ভিন্ন হবে। এমনকি বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ছাপ পরিবর্তন হতে পারে। গবেষণায় এটিও নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে যে এই ছাপ অভিন্ন যুগল বা আইডেন্টিকাল টুইনের ক্ষেত্রেও কিছু অংশে ভিন্নতা থাকে।

    তাহলে আসামী ধরার ক্ষেত্রে এই ছাপ কি আসলে কাজ করে

    আপনারা টিভি শোতে যেমন দেখেন আঙুলের ছাপ এবং অন্যান্য নজির ফরেনসিক ল্যাবের মানুষজন সংগ্রহ করে নেন। কিন্তু ব্যাপারটা এতটা সোজা নয় যতটা আপনি চিন্তা করছেন। একটি অপরাধপটের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা প্রতিটি চিহ্ন সংগ্রহ করে তার মধ্যে কোনগুলি ব্যবহারযোগ্য তা নির্ণয় করতে হয়। আমাদের আলোচনা আপাতত আঙুলের ছাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। আঙুলের ছাপ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ একটি দল মত প্রকাশ করেছেন, তাদের যে সকল ছাপ নিয়ে কাজ করতে হয় তা তাদের কাছে ডাটাবেজে সুন্দরভাবে থাকে না, অধিকাংশই থাকে একটি ছাপের কিছু অংশ বা ঘষে মুছে যাওয়া ছাপ, যার ফলে আসলে ডাটাবেজে কারও আঙুলের ছাপ থাকলেও তা মেলানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এফবিআই এর মাইকেল উইনার্সের মতে, ল্যাবে যে সকল প্রিন্ট আসে তার শুধুমাত্র ২৬ শতাংশ ব্যবহার উপযোগী থাকে।

    আঙুলের ছাপের নমুনা; source-fineartamerica.com

    তাছাড়া আংশিক ছাপের ক্ষেত্রে কোনরকম বাঁধাধরা নিয়ম নেই বললেই চলে। এরকম ছাপের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে ছাপ মিলে কিনা তা মিলিয়ে দেখা হয়। একেক দেশ এই ব্যাপারটি একেকভাবে দেখে। যেমন ফ্রান্সে এরকম মিলার জন্য ১৬টি অবস্থানে দুটি ছাপের মিল থাকতে হয়, সেখানে সুইডেনের ক্ষেত্রে এই বিন্দুর সংখ্যা খালি ৭ এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে ১২।

    আংশিক ছাপের মিল; source- gautierandcharles.biz

    আংশিক ছাপের ক্ষেত্রে যে চিহ্ন লক্ষ্য করা হয়; source- toledotechnology.org

    ডিজিটাল ফটোগ্রাফির সহায়তায় এরকম প্রিন্ট মিলানো আগে থেকে তুলনামূলক সোজা হয়ে গেলেও এখনও এই কাজের শেষে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির চোখে এই চিহ্নগুলি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে আদৌ দুটি ছাপ একই কিনা। এরকম বিবেচনা করতে দিলে দেখা দেয় ত্রুটি যার নামকরণ করা হয়েছে Cognitive bias।

    এক গবেষণায় পাঁচজন আঙুলের ছাপ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের একটি আঙুলের ছাপ অন্য একটি ছাপের সাথে মিলে কিনা পরীক্ষা করতে দেন। তাদেরকে যে ছাপগুলি দেয়া সবগুলিই তারা তাদের জীবনের কোনো একসময়ে মিলে গিয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন। গবেষকেরা এসময় যে বিষয়টি পাল্টান তা হল তারা একজন অপরাধীর ব্যাপারে তাদের অবহিত করেন। অবাক করা বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যখন পাঁচজনের মধ্যে চারজন তাদের মত পরিবর্তন করেন তাদের বিশ্লেষণ নিয়ে।

    আরেকটি গবেষণায় একদল অভিজ্ঞদের কিছু আঙুলের ছাপ দিয়ে বলা হয় যে ডিজিটাল ডাটাবেজ থেকে মিলিয়ে তাদের কিছু আঙুলের ছাপ সাজিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের সে ফলের সত্যতা বিবেচনা করতে হবে। এ গবেষণায় দেখা যায়, তালিকার প্রথম দিকে থাকলে তাদের ছাপ মিলানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, একইভাবে তালিকার নিচের দিকে আসল ছাপ থাকলে সেটি মিলানোর সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে।

    কিন্তু এর মানে এই নয় যে আইন প্রয়োগকারী সংগঠনের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়া উচিত। তারা অবশ্যই ব্যবহার করবেন, কিন্তু তা অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে সতর্কতা অবলম্বন করে। সেক্ষেত্রে দায়িত্বটা খালি আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠনের থাকেবনা। গবেষকদের কাছে দায়িত্ব থাকে আরও গবেষণা করে আঙুলের ছাপ উত্তোলন থেকে শুরু করে বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াকে আরও পরিমার্জিত করা। তাছাড়া অভিজ্ঞদের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে Cognitive bias পরিত্রাণের বিষয়টিও একটু মাথায় রাখা প্রয়োজন। পরিশেষে বলা যায়, আঙুলের ছাপ বিষয়ে অভিজ্ঞগণ তাদের মতামত উপস্থাপন করেন, কোনো সত্য নয়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  9. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    ই সিম কী?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    যুগ যুগ ধরে আমরা মোবাইল ফোনে সিম কার্ড ব্যবহার করে আসছি। আমাদের জীবনে সিম কার্ড একটি অপরিহার্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এটি ছাড়া হয়তো মোবাইল অচল হয়ে পড়ে না, কিন্তু মোবাইল ফোন ব্যবহারের অর্থ হারিয়ে ফেলে। ১৯৯১ সালে সিম কার্ড তৈরি হওয়ার পর থেকে একে খুব একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। নতুন সিম প্রযুক্তবিস্তারিত পড়ুন

    যুগ যুগ ধরে আমরা মোবাইল ফোনে সিম কার্ড ব্যবহার করে আসছি। আমাদের জীবনে সিম কার্ড একটি অপরিহার্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এটি ছাড়া হয়তো মোবাইল অচল হয়ে পড়ে না, কিন্তু মোবাইল ফোন ব্যবহারের অর্থ হারিয়ে ফেলে।

    ১৯৯১ সালে সিম কার্ড তৈরি হওয়ার পর থেকে একে খুব একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। নতুন সিম প্রযুক্তির সাথে আকারে ছোট হয়ে ন্যানো, মাইক্রোতে পরিণত হলেও এর মূল ধারণার তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রযুক্তির যুদ্ধে কার্ডটি এতটা সময় টিকে থাকলেও এবার তার অবসরের সময় হয়েছে। বর্তমান সিম কার্ডকে প্রতিস্থাপিত করতে যাচ্ছে ই-সিম বা এম্বেডেড (Embedded) সিম। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি ডিভাইসে এটি যুক্ত থাকলেও ভবিষ্যতে এটিই হবে নতুন স্ট্যান্ডার্ড।

    ই সিম কী?

    ই-সিম নিয়ে বলার আগে সিম কীভাবে কাজ করে এটি নিয়ে কিছু বলা যাক। সিম শব্দটির পূর্ণরুপ সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল (Subscriber Identity Module), অর্থাৎ এটি ব্যবহারকারীর পরিচয় বহন করে। সিম ক্যারিয়ার বা সিম কোম্পানির কাছে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করে একটি সিম কার্ড। ফলে আপনি সেই ক্যারিয়ারের নেটওয়ার্ক ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন। যখন এটি করা সম্ভব হয় না বা কোনো ত্রুটির সৃষ্টি হয় তখনই আপনার ফোনটি নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    একটি সিমের মাঝে থাকে International Mobile Subscriber Identity (IMSI) Number যেটি সম্পূর্ণ ইউনিক বা অনন্য একটি নাম্বার। এই নাম্বারটি মোবাইল ফোন দ্বারা আপনার পছন্দের সিম নেটওয়ার্কের কাছে পাঠানো হয়, যার ফলে তারা আপনাকে চিনতে পারে। এর সাথে একটি অথেন্টিকেশন কি থাকে, যার ফলে ভুল তথ্য পাঠানো সম্ভব হয় না।

    ই-সিমের সাথে সাধারণ সিমের পার্থক্য; Source: Thales Group
    ই-সিম একইভাবে কাজ করে, কিন্তু এক্ষেত্রে সিমকার্ডের এই প্রযুক্তিগুলো বিল্ট ইনভাবেই ফোনের মধ্যে দেয়া হয়। সহজ কথায়, প্রসেসর যেমন ফোনের চিপসেট-এ বসানো থাকে, তেমনই সিমটিও থাকবে। এজন্যই একে বলা হয় EMBEDDED SIM। সাধাণরত এটি আমরা দেখতে পারবো না কিংবা বেরও করতে পারবো না। একটি সাধারণ সিমে এসব তথ্য একেবারেই লিখে দেয়া থাকে, কিন্তু ই-সিমে এসব তথ্য সিম ক্যারিয়ারভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ আপনি আপনার নেটওয়ার্কের তথ্য পরিবর্তন করে সহজেই এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবেন।

    আজকাল কিছু ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে সাইন ইন করে ব্যবহার করতে হয়, সেভাবে সিমের নেটওয়ার্কে তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সিমের চেয়ে আকারেও এটি ক্ষুদ্রাকার। যেখানে একটি রেগুলার সিম ১৫×২৫ মিলিমিটার এবং বর্তমান সবচেয়ে ক্ষুদ্র ন্যানো সিম ৮.৮×১২.৩ মিলিমিটার আকারের, সেখানে একটি ই-সিমের প্রস্থ শুধুমাত্র ৬.০ মিলিমিটার। এই ক্ষুদ্র আকারের জন্য যেমন কোনো ডিভাইসে অন্যান্য কম্পোনেন্টের জন্য জায়গা পাওয়া যাচ্ছে, তেমনই ক্ষুদ্র বা আইওটি ডিভাইসে সিমের ব্যবহারও বাড়ছে।

    সিমের প্রকারভেদ; Source: Hologram
     

    ই-সিমের সুবিধা

    বর্তমান সিম কার্ডের তুলনায় ই-সিমের সুবিধার পরিধি অনেক বড়। প্রথমত, এর ব্যবহার অনেক ক্ষুদ্র ডিভাইসে করা যাবে। ফোনের ইন্টারনাল ডিজাইন পরিবর্তন করে আরও নতুন ফিচার যোগ করা যাবে কিংবা আরও স্লিম ডিভাইস আমরা পাবো। কোনো ফোন ওয়াটারপ্রুফ না হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হচ্ছে সিমকার্ড ট্রে। এটি না থাকলে ওয়াটারপ্রুফ ফোন পাওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠবে।

    ই-সিম দিয়ে সবচেয়ে বেশি সুবিধা লাভ করবে যারা ভ্রমণ করে বেশি। এক দেশ থেকে অন্য দেশ কিংবা দেশের অভ্যন্তরেই হোক না কেন, সিম পরিবর্তন করা একটি ঝামেলা। একাধিক সিম ব্যবহারে হারিয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া সিমকার্ড কেনার ব্যাপার তো আছেই। আজকাল সিম হারিয়ে গেলে আবার রিপ্লেস করতে হয়, সিমের নাম্বারগুলো আর পাওয়া যায় না। ই-সিম ব্যবহারে এসব কোনো ঝামেলা নেই। এটি পরিবর্তন করতে হয়তো সাইন আপ বা সিম অপারেটরে একটি কলই যথেষ্ট।

    ই-সিমের সুবিধাসমূহের ধারণা; Source: Thales Group
    সিম বা নাম্বার হারিয়ে যাওয়ার নেই কোনো সম্ভবনা। আমদের থ্রি-জি থেকে ফোর-জি-তে যাওয়ার জন্য সিম পরিবর্তন করতে হয়েছে, কিন্তু একটি ফাইভজি সমর্থিত ই-সিম সম্বলিত ফোনে এই ঝামেলা নেই। অর্থাৎ ফাইভজি আসলে তারা সবার আগে যুক্ত হতে পারবে কোনোপ্রকার ঝামেলা ছাড়াই।

    ফোন চুরির ঘটনা অহরহ শোনা যায় এবং প্রতিনিয়ত হচ্ছে। ই-সিমে সংযুক্ত থাকলে ফোন চুরিও কমে যাবে বা চুরি হলেও সহজেই পাওয়া যাবে। ফোন চুরি করেই সিম ফেলে দেয়ার সুযোগ ই-সিমে থাকবে না। প্রতিটি ফোন সিমের সাহায্যে সহজেই ট্র্যাক করা যাবে। শুধু ব্যবহারকারীদের জন্য নয়, সিম কোম্পানিগুলোর জন্যও এটি একটি শ্রমসাশ্রয়ী সংযোজন। সিম উৎপাদন এবং ডিস্ট্রিবিউশনে সময় ও সম্পদ দুটোই বাঁচবে। সিম কেনার জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। অপ্রতুল এলাকাগুলোতে সব সিম পাওয়া যায় না। এ সমস্যার সমাধান হবে।

    কোনো অসুবিধা রয়েছে কি?

    একটি ই-সিমের কার্যকারিতা নির্ভর করে সিম কোম্পানি সেটি সমর্থন করবে কি না তার ওপর। সারাবিশ্বে এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারোপযোগী করে গড়ে তুলতে সিম কোম্পানিগুলোর সমর্থন অপরিহার্য। এজন্য বর্তমান ফোনগুলোতে এখনও স্ট্যান্ডার্ড সিম ব্যবহার চালু রয়েছে। তবে বিশ্বের সেরা সিম কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই তাদের সার্ভিসে ই-সিম যোগ করেছে। এসবের মাঝে এটিএন্ডটি, টি-মোবাইল, ভেরাইজন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এ বছর ৯০টি দেশের প্রায় ২০০ মোবাইল সিম অপারেটরদের তাদের সেবা ই-সিমে হালনাগাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করা যায় সমর্থিত ফোন বৃদ্ধির সাথে সাথে সমর্থিত সিম নেটওয়ার্কও বৃদ্ধি পাবে।

    ই-সিম সমর্থিত ডিভাইস; Source: Thales Group
     

    ই-সিম সমর্থিত ডিভাইসগুলো

    সময়ের সাথে সাথে ই-সিম সমর্থিত ডিভাইসের সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানেও কিছু ফোন এবং পরিধানযোগ্য ডিভাইস ই-সিম সমর্থন করে। এর মাঝে রয়েছে অ্যাপলের আইফোনগুলো। সর্বশেষ আইফোন ১১, ১১ প্রো ও ১১ প্রো ম্যাক্স ই-সিম সমর্থিত। এছাড়া আইফোন এক্সএস, এক্সআর-ও ই সিম সমর্থন করে। শুধু আইফোন নয়, অ্যাপল ওয়াচ ৩, ৪ ও ৫ এবং কিছু আইপ্যাড মডেলও ই-সিম ব্যবহারযোগ্য।

    অ্যাপল ছাড়াও গুগলের সর্বশেষ পিক্সেল ফোনগুলো ই-সিম সমর্থিত। এর মধ্যে রয়েছে পিক্সেল ৪, পিক্সেল ৩ ও পিক্সেল ৩এ। এছাড়া স্যামসাং এর গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ, গ্যালাক্সি ওয়াচ, ওয়াচ একটিভ ২ ও গিয়ার এস২-তে ই-সিম সমর্থন রয়েছে। মাইক্রোসফট, লেনোভো ও হুয়াওয়ের কিছু ডিভাইসেও ই-সিমের সমর্থন রয়েছে।

    নেটওয়ার্কের সাথে অপারেটিং সিস্টেমেরও এই প্রযুক্তি সমর্থন করতে হয়। ভালো সংবাদ হলো গুগলের অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, ওয়্যার ওএস এবং উইন্ডোজ ১০ ই-সিম সমর্থন করে। আশা করা যায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারাবিশ্বে ই-সিম বহুলভাবে ব্যবহার করা শুরু হবে। আধুনিকতার ছোঁয়া কোনো ক্ষেত্রেই বাদ পড়ে না!

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  10. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

    ভ্যাক্সিনেশনের পদ্ধতি কি সবসময় একি রকম ছিলো?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    টিকা বা ভ্যাক্সিনের খোঁজ পেতে ইতিহাসের পাতা উল্টে চলে যেতে হবে শত শত বছর আগে। জনশ্রুতি আছে- বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নাকি সাপের কামড়ে পাত্তাই দিতেন না, কারণ তারা আগেই সাপের বিষ বের করে পান করে নিতেন। এভাবে নাকি তাদের মধ্যে সাপের কামড়ের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হত। এর সত্য-মিথ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আজ থেকবিস্তারিত পড়ুন

    টিকা বা ভ্যাক্সিনের খোঁজ পেতে ইতিহাসের পাতা উল্টে চলে যেতে হবে শত শত বছর আগে। জনশ্রুতি আছে- বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নাকি সাপের কামড়ে পাত্তাই দিতেন না, কারণ তারা আগেই সাপের বিষ বের করে পান করে নিতেন। এভাবে নাকি তাদের মধ্যে সাপের কামড়ের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হত।

    এর সত্য-মিথ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আজ থেকে প্রায় ছয় সাতশ বছর আগে চীনে ইনঅকুলেশন নামে একটি পদ্ধতি প্রচলিত ছিল, যাকে আধুনিক ভ্যাক্সিনের আদিরূপ বলা যেতে পারে। তখন মিং রাজবংশের সময়, গুটিবসন্ত মোটামুটি নিয়মিত হানা দিচ্ছে। এর থেকে রক্ষা পেতেই এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়। গুটিবসন্তের রোগীর পুঁজ থেকে রোগের উপাদান নিয়ে ঢুকিয়ে দেয়া হতো সুস্থ মানুষের দেহে, দেখা যেত পরবর্তীতে এদের অধিকাংশই গুটিবসন্ত মহামারীর ভেতরেও দিব্যি ভাল থাকেন।

    প্রাচীন চীনে ইনঅকুলেশন; Image Source: historyofvaccines.org
    রোগসম্বলিত চামড়ার অংশ প্রথমে শুকিয়ে নেয়া হতো, এরপর ভাল করে ছেঁচে বানানো হতো পাউডার। এই পাউডার টেনে নিতে হতো নাক দিয়ে। মেয়েদের জন্য বাম নাক, আর ছেলেদের জন্য ডান নাক দিয়ে পাউডার টেনে নেয়ার বিধান ছিল চীনে।

    চীন থেকে এই পদ্ধতি পৌঁছে যায় উসমানি দরবারে। গুটিবসন্তে ইউরোপ তখন কাহিল। উসমানি দরবার থেকে ইংল্যান্ডে খবর চলে যায় ইনুঅকুলেশনের, বিরোধিতা সত্ত্বেও আস্তে আস্তে ইনুঅকুলেশনের জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং রাজপরিবারও তা ব্যবহার করে। কিন্তু সরাসরি রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ, এবং ব্যাপক জনগোষ্ঠীর উপর প্রয়োগও সহজসাধ্য নয়। ফলে চলছিল নতুন পদ্ধতির খোঁজ।

    গুটিবসন্তে সাফ হয়ে যাচ্ছিল ইউরোপ; Image Source: vox.com
    এগিয়ে এলেন প্রথিতযশা চিকিৎসক এডওয়ার্ড জেনার। ১৭৯৬ সালের ১৪ মে জেমস ফিপ্স নামের আট বছরের এক বালকের শরীরে প্রবেশ করালেন গোবসন্তের জীবাণু, যা ছিল গুটিবসন্তের তুলনায় দুর্বল একটি রোগ। তৎকালীন ইংল্যান্ডে অনেকেই জানত যাদের গোবসন্ত বা কাউপক্স হয় তারা গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয় না।

    তবে জেনারই প্রথম পুরো বিষয়ই একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে আসেন। ফিপ্স প্রথম এক সপ্তাহ কিছুটা অসুস্থবোধ করলেও শীঘ্রই সেরে উঠল। পরবর্তীতে গুটিবসন্তের জীবাণু তার উপর প্রয়োগ করে দেখা গেল যে রোগে কাতারে কাতারে মানুষ মরে যাচ্ছে তাতে ফিপ্সের কিছুই হচ্ছে না। জেনার তার গবেষণার ফলাফল নিয়ে প্রকাশ করলেন খটমটে একটি বই, An inquiry into the causes and effects of the variolae vaccinae: a disease discovered in some of the western counties of England, particularly Gloucestershire, and known by the name of the cow pox। গরুর ল্যাটিন নাম ভ্যাক্কা থেকে তিনি তার পদ্ধতির নাম দিলেন ভ্যাক্সিনেশন, যেহেতু গোবসন্তের জীবাণু ব্যবহার করেছেন তিনি। তার এই ওষুধের নাম হলো ভ্যাক্সিন। তখন এটি শুধু গুটিবসন্তের জন্যই পরিচিত ছিল। এর ফলেই জেনার পরে পান ভ্যাক্সিনেশনের জনকের স্বীকৃতি।

    এডওয়ার্ড জেনার © DEA Picture Library/Getty Images
    তৎকালীন রয়্যাল সোসাইটি জেনারের তথ্য উপাত্তের স্বল্পতার জন্য এই নতুন পদ্ধতিতে আগ্রহ দেখাল না। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেক চিকিৎসক জেনারের ভ্যাক্সিনেশন ব্যবহার করে সুফল পেতে থাকলেন। ১৮০১ সাল নাগাদ প্রায় এক লাখ মানুষ ভ্যাক্সিন পেয়ে যায়।  ধীরে ধীরে ইনঅকুলেশনকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিয়ে ভ্যাক্সিনেশন হয়ে উঠল গুটিবসন্তের বিরুদ্ধে মূল প্রতিরোধ।

    তবে জেনারের প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাও খুব দ্রুত বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিগোচর হয়। একই পদ্ধতিতে অন্য কোনো রোগের প্রতিরোধক তৈরি করা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখতে পেলেন গুটিবসন্তের মতো যেরকম গরুতে গোবসন্ত, সেরকম তো সব রোগে হয় না। তাছাড়া অনেক পশুবাহিত রোগ তো মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে। কাজেই তারা মনোযোগী হলেন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করার দিকে। তাহলে হয়তো এগুলো মানবদেহে নিরাপদে প্রবেশ করানো সম্ভব হবে। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মরবে, রোগ হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পাবে, একইসাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে।

    সুতরাং বিজ্ঞানীরা জোর গবেষণা চালালেন। তারা উপলব্ধি করলেন যে তাদের সামনে দুটি পথ খোলা- ১) জীবাণুকে হত্যা করে সুস্থদেহে প্রবেশ করানো, এবং ২) জীবাণুকে বাঁচিয়ে রাখা, কিন্তু নানা প্রক্রিয়ায় তাকে দুর্বল করে দেয়া যাতে তার মানবদেহে রোগ তৈরির সামর্থ্য কমে যায়। দুই ক্ষেত্রেই তারা একই ফলাফল আশা করছিলেন।

    জেনারের আবিষ্কারের প্রায় দেড়শ বছর পর্যন্ত এই নিয়ে বিভিন্ন দেশের নানা বিজ্ঞানি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ফরাসি অনুজীববিজ্ঞানী লুই পাস্তুর এক অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। তিনি অ্যানথ্রাক্স আর জলাতঙ্ক, বা র‍্যাবিসের জীবাণুকে অক্সিজেন আর তাপে রেখে দেখতে পান তাদের প্রাণঘাতী ক্ষমতা কমে গেছে। এই দুর্বল জীবাণু কাজে লাগিয়ে ১৮৮১ সালে অ্যানথ্রাক্স আর ১৮৮৫ সালে জলাতঙ্কের টিকা বানালেন তিনি। ১৮৮৭ সালে তার প্রতিষ্ঠিত পাস্তুর ইন্সটিটিউট পাস্তুরের মৃত্যুর পরও ভ্যাক্সিন নিয়ে কাজ চালিয়ে যায়। বর্তমান পৃথিবীতে ফ্রান্সের এই ইনস্টিটিউট ভ্যাক্সিন নিয়ে কাজ করা অন্যতম একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।

    গবেষণাগারে লুই পাস্তুর © Bettmann Archive / Getty Images
    বিংশ শতকের প্রারম্ভে ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে আরেকটি বিপ্লব সাধিত হয়। ফরাসি চিকিৎসক অ্যালবার্ট কাল্মেট (Albert Calmette) আর পশু চিকিৎসক ক্যামিল গুয়েরিন (Camille Guérin) জেনার আর পাস্তুরের দেখানো পথে তৈরি করলেন তৎকালীন অন্যতম ভয়ানক রোগ যক্ষ্মার টিকা। তারা এজন্য গরুতে যক্ষ্মা সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে বারবার বংশবিস্তার করালেন কৃত্রিম পরিবেশে। ২৩০ প্রজন্ম পরে এমন একটি প্রজাতি পাওয়া গেল, যা যক্ষ্মার কারণ ব্যাকটেরিয়ার প্রজাতি হলেও রোগ উৎপাদনের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এটা দিয়েই তারা বানিয়ে ফেলেন তাদের ভ্যাক্সিন, তাদের নামানুসারে যা আজও বিসিজি (ব্যাসিলি ক্যাল্মেট গুয়েরিন) নামে পরিচিত।

    বিসিজি আজও যক্ষ্মার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে; Image Source: pharmaceutical-technology.com
    পাস্তুরের পদ্ধতি বেশ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠল। হামসহ অন্যান্য বেশ কিছু রোগের জন্য ভ্যাক্সিন প্রস্তুত করা হলো এভাবে। কিন্তু এখানেও সমস্যার শেষ হলো না। বিজ্ঞানীরা জানতে পারলেন দুর্বল ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াও বিভিন্ন কারণে রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আজকের দিনে আমরা জানি মিউটেশনের ফলে এসব জীবাণু অনেক সময় আরো ভয়ানক রোগের জন্ম দেয়। এজন্য মৃত জীবাণু ব্যবহার করা অনেকেই বেশি নিরাপদ মনে করছিলেন।

    স্যাল্মন আর স্মিথ নামে দুই গবেষক এবং পাস্তুর ইন্সটিটিউট থেকে প্রায় একই সময় প্রথম মৃত জীবাণু দ্বারা ভ্যাক্সিন তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতি প্রথমে প্রয়োগ করা হয় টাইফয়েড, কলেরা আর প্লেগের জীবাণুর উপরে। ইংল্যান্ডে রাইট আর সেম্পল নামে দুজন বিজ্ঞানী প্রথম টাইফয়েডের ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করেন। প্লেগের টিকা মানুষের উপর সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন হ্যাফকিন। কোল নামে আরেক বিজ্ঞানী তাপে মৃত কলেরা জীবাণু ভ্যাক্সিন হিসেবে বানান। এর আগে ফেরান আর হ্যাফকিন আলাদা আলাদাভাবে জীবিত জীবাণু দিয়ে কলেরার টিকা বানালেও শেষমেশ টিকে যায় কোলের ভ্যাক্সিনই।

    উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে মৃত জীবাণু দ্বারাই কলেরা, ধনুষ্টংকার, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি রোগের ভ্যাক্সিনেশন করা হতো। এভাবে উনবিংশ শতকের শেষদিকে প্লেগের জন্য একপ্রকার ভ্যাক্সিন বানানো হয়েছিল। জীবাণু মারার জন্য প্রথমে উচ্চ তাপ ব্যবহার করাই ছিল চল। তবে ১৯২৫ সালে খ্যাতনামা ব্রিটিশ রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্সান্ডার গ্লেনি আর হপকিন্স ফরমাল্ডিহাইড দিয়ে টিটেনাসের টক্সিন নিষ্ক্রিয় করেন। পরবর্তীতে ফরমাল্ডিহাইড অথবা ফরমালিনের মিশ্রণ দিয়ে জীবাণু মারার প্রক্রিয়া জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতিতে ১৯২৬ সালে ডিপথেরিয়ার ভ্যাক্সিন তৈরি হয়। ধনুষ্টংকারের ভ্যাক্সিন বাজারে আসতে লেগে যায় আরো ২২ বছর।

    ক্যাল্মেট আর গুয়েরিন কৃত্রিম পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটিয়ে তা দিয়ে ভ্যাক্সিন বানান। ভাইরাসের জন্য সেরকম কৃত্রিম পরিবেশ আবিষ্কার হতে হতে প্রায় ৩৫ বছর লেগে যায় (১৯৫০-৮৫)। এর সূত্র ধরে ১৯৫৫ সালে আমেরিকান ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জোনাস স্যাক প্রস্তুত করেন পোলিওর টিকা, যার মধ্যে ছিল মৃত ভাইরাস। পোলিও ভাইরাস মারতে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ফরমাল্ডিহাইড। ইঞ্জেকশন দিয়ে শরীরে দিতে হতো স্যাকের ভ্যাক্সিন। এর সুবিধা ছিল- মৃত বলে পোলিও হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

    স্যাকের সাত বছরের মাথায় দুর্বল পোলিও ভাইরাস ব্যবহার করে মুখে খাবার পোলিও টিকা নিয়ে এলেন আমেরিকান-পোলিশ গবেষক অ্যালবার্ট স্যাবিন। তার পোলিও ভ্যাক্সিনই ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়, কারণ মুখে দেয়া যেত বলে এর প্রয়োগকারীর জন্য কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণের দরকার হতো না। তবে এখানে পোলিও হবার খুব সামান্য একটি ঝুঁকি ছিল, তবে পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয় এই ঝুঁকি প্রায় শূন্য।

     জোনাস স্যাক (বামে) এবং অ্যালবার্ট স্যাবিন (ডানে) © Salon/Getty Images
    ১৯৪০ সালের পর থেকে বিজ্ঞানীরা জীবাণুর দেহের বিভিন্ন অংশ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতে থাকেন। তাদের মাথায় ছিল কীভাবে সম্পূর্ণ জীবাণু ব্যবহার না করে সামান্য অংশ দিয়েই ভ্যাক্সিন তৈরি করা যায়। এর পথ ধরেই এলো হেপাটাইটিস বি-র ভ্যাক্সিন।

    এর সাথে সাথে বিজ্ঞানীরা কাজ করছিলেন কীভাবে ব্যাকটেরিয়ার মতো ভাইরাসকেও নিষ্ক্রিয় করে ভ্যাক্সিন তৈরি করা যায়, কারণ ততদিন পর্যন্ত মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি ভ্যাক্সিন সবই ছিল ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের বিরুদ্ধে। সর্বপ্রথম এভাবে প্রস্তুত ভ্যাক্সিন হলো ইনফ্লুয়েঞ্জার, এরপর এলো হেপাটাইটিস-এ ভ্যাক্সিন। বর্তমানে অণুজীবের ডিএনএ, আরএনএ, ভেক্টর ভাইরাস ইত্যাদি ব্যবহার করে ভ্যাক্সিন তৈরির কাজ চলছে, যা করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি।

    ভ্যাক্সিন তৈরি এবং বিপণন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। সরকারিভাবে যতটা প্রণোদনা দেয়া হয়, তার থেকে বেশি অর্থ আসে বহুজাতিক ওষুধ প্রতিষ্ঠান থেকে। তাদের মাধ্যমেই নতুন নতুন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার ও প্রয়োগ হচ্ছে। ২০২০ সালের হিসেবে নিম্নের দশটি বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ভ্যাক্সিন গবেষণা ও প্রস্তুতে শীর্ষে ছিল।

    গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন

    নামকরা ওষুধ কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের জন্ম ১৮৭৩ সালে জোসেফ এডওয়ার্ড নাথান নামে এক ভদ্রলোকের হাত ধরে, নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে। বর্তমানে লন্ডনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের তালিকায় রয়েছে জলাতঙ্ক আর চিকেনপক্সসহ আরো অনেক ভ্যাক্সিন।

    মার্ক

    ১৮৯১ সালে জর্জ মার্কের প্রতিষ্ঠিত এই মার্কিন কোম্পানি বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। তাদের অন্যতম ভ্যাক্সিনের মধ্যে আছে নারীদের সারভাইকাল ক্যান্সারের ভ্যাক্সিন, হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাক্সিন ইত্যাদি।

    সানোফি

    ১৯৭৩ সালে আলোর মুখে দেখা ফরাসি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সানোফির ঝুলিতে আছে পোলিওর ভ্যাক্সিনের মতো সফল টিকা।

    ফাইজার

    করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে আসা ফাইজার মার্কিন কোম্পানি। ১৮৪৯ সালে চার্লস ফাইজার আর চার্লস এরহার্ট মিলে এর ভিত্তি বুনে দেন। অন্যান্য অনেক কিছুর সাথে মেনিনজাইটিসের ভ্যাক্সিনে তারা অগ্রগামী।

    নোভাভ্যাক্স

    এটিও ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি মার্কিন কোম্পানি। এরা ভ্যাক্সিন তৈরিতে জৈবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি নিয়ে কাজ করে। শ্বাসতন্ত্রের কিছু রোগের ভ্যাক্সিন তারা তৈরি করেছে।

    এমারজেন্ট বায়োসল্যুশন

    বায়োটেকনোলজিভিত্তিক এই মার্কিন কোম্পানির জন্ম ১৯৯৮ সালে। তাদের অ্যানথ্রাক্স ভ্যাক্সিন সুপরিচিত।

    সিএসএল

    অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিএসএল-এর যাত্রা শুরু ১৯১৬ সালে। ফ্লু, নিউমোনিয়া ইত্যাদি রোগের ভ্যাক্সিন আছে তাদের।

    ইনভিয়ো

    ১৯৭৯ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা ইনভিয়োর হেড অফিস যুক্তরাষ্ট্রের প্লাইমাউথে অবস্থিত। এইচআইভি-র ভ্যাক্সিন নিয়ে তারা প্রচুর কাজ করছে।

    বাভারিয়ান নর্ডিক

    ড্যানিশ এই কোম্পানি ১৯৯৪ সাল থেকে কাজ করছে। তারা সারভাইকাল ক্যান্সারের ভ্যাক্সিনসহ আরো কিছু ভ্যাক্সিনের জন্য নাম করেছে।

    মিটসুবিশি টানাবে

    ১৯৮১ সাল থেকে জাপানী এই প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চিকেনপক্সের ভ্যাক্সিন আছে তাদেরও।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  11. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    রূপকথার আশ্চর্য সেই ফুটন্ত পানির নদী কি সত্যিই আছে বাস্তবে ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ছোটবেলায় দাদা-দাদীর মুখে রূপকথার গল্প শোনেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। রূপকথার গল্প আমাদের ছোটবেলার চিন্তা-ভাবনার অনেকাংশ জুড়ে থাকে। অনেকে তো আবার স্বপ্নের রাজ্যের রাক্ষসের হাত থেকে জিয়নকাঠি দিয়ে রূপবতী ঘুমন্ত রাজকন্যাকে জাগিয়ে নিজের করে নিতে চায়। কিন্ত কখনও কি বড় হয়ে পরিণত বয়সে গিয়ে রূপকথার সবিস্তারিত পড়ুন

    ছোটবেলায় দাদা-দাদীর মুখে রূপকথার গল্প শোনেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। রূপকথার গল্প আমাদের ছোটবেলার চিন্তা-ভাবনার অনেকাংশ জুড়ে থাকে। অনেকে তো আবার স্বপ্নের রাজ্যের রাক্ষসের হাত থেকে জিয়নকাঠি দিয়ে রূপবতী ঘুমন্ত রাজকন্যাকে জাগিয়ে নিজের করে নিতে চায়। কিন্ত কখনও কি বড় হয়ে পরিণত বয়সে গিয়ে রূপকথার স্বপ্নের মতো শোনা গল্পের ঘটনাকে বাস্তবে রূপান্তরের চেষ্টা করেছেন? বড় হয়েও কি জানতে ইচ্ছা করেছিল, মেঘমল্লার গল্পের পাইন গাছগুলো এত তাড়াতাড়ি এত লম্বা কীভাবে হয়? বা রিপভ্যান উইংক্যাল এক ঘুমে কীভাবে এত লম্বা ২০টি বছর সময় কাটিয়েছিল? বড় হয়ে এই ছোটবেলায় শোনা আজব গল্পগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছেন কি? বলবেন হয়তো, “আরে এসব রূপকথার গল্পের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজতে যাওয়া পাগলামি ছাড়া কিছু?”

    স্বপ্নবাজ তরুণ আন্দ্রেজ রুজো; Image Source: Explorer Classroom
    আপনি-আমি সেই চেষ্টাকে পাগলামো বলে উড়িয়ে দিলেও উড়িয়ে দিতে পারেননি লিমায় বেড়ে ওঠা আন্দ্রেজ রুজো নামের এক স্বপ্নবাজ তরুণ, যিনি ছোটবেলায় দাদার মুখে শোনা রূপকথার ফুটন্ত পানির নদীর খোঁজ করাকে রীতিমতো নিজের জীবনের লক্ষ্যে পরিণত করেন। পৃথিবীর সামনে নিয়ে আসেন এমন এক আশ্চর্য নদী, যার পানির তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাঝে কোনো প্রাণীকে জীবন্ত সেদ্ধ করে ফেলতে সক্ষম, যেখানে একটু পা ফসকে পড়ে যাওয়ার ভুল হতে পারে ভয়ানক কষ্টদায়ক মৃত্যুর কারণ।

    রূপকথা, রূপকথার মতো এক আবিষ্কারের জননী

    আমাজন নানা আশ্চর্য রহস্যে ঘেরা এক জঙ্গল। এর অনেক অংশই এখনও পর্যন্ত মানুষের অজানা রয়ে গেছে। আমাজনের পেরু অংশের একদম মধ্যভাগে সবচাইতে ঘন জঙ্গলে আশ্চর্য এই ফুটন্ত পানির নদীটির অবস্থান। আমাজনের মোট আয়তনের শতকরা ১৩ ভাগ পেরুতে অবস্থিত, যেটি আমাজনের সবচেয়ে ঘন, রহস্যময় এবং ভয়ংকর অংশ। আমাজন জঙ্গল এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ভেদ্য জায়গা। আর স্বভাবতই এ জায়গা নিয়ে অনেক রূপকথা বা এমন অনেক অবিশ্বাস্য গল্প মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। আর এ জঙ্গলের এমন দুর্ভেদ্যতার কারণে সেই মুখরোচক গল্পগুলো কি শুধুই গল্প, নাকি বাস্তব- তা বের করা প্রায় অসম্ভবই বলা চলে। মানুষের এই জানার স্বল্পতার কারণে, এ জঙ্গল নিয়ে প্রচলিত অনেক গল্প অনেক সময় বাস্তবে ধরা দেয়।

    এমনটাই ঘটেছিল আন্দ্রেজ রুজোর আবিষ্কার করা ফুটন্ত পানির নদীর বেলায়। আন্দ্রেস রুজোর শোনা রূপকথার গল্পটি ছিল এক হারিয়ে যাওয়া শহরের। মেক্সিকো এবং পেরুতে তৎকালীন স্প্যানিশ শাসকের সৈন্যরা শেষ ইনকা শাসককে হত্যা করে আমাজন জঙ্গলে সোনা খুঁজতে বের হয়। কিন্তু আমাজনের অপরিচিত পরিবেশে টিকে থাকা এতটাও সোজা না। কোনোক্রমে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসার পর তারা জঙ্গলের মানুষখেকো সাপ, বিষাক্ত ও ফুটন্ত পানির নদীর কথা মানুষদের জানায়। এই আশ্চর্য গল্প পেরুতে খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু গল্পের আশ্চর্য নদী বাস্তবে থাকতে পারে, তা কেউ কল্পনা করতে পারেনি। তা মূলত আমাজনকে নানা কল্পকাহিনী এবং এর দুর্গম পরিবেশের কারণেই। আর এমনই অনেক প্রচলিত রূপকথার গল্পের মতো এক গল্প বাস্তবে রূপ নেবে, কে ভেবেছিল?

    রূপকথার বাস্তবে রূপায়ণ

    ছোটবেলায় শোনা এ গল্প আন্দ্রেস রুজোর চিন্তাধারায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে, যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়েও এ নদীর কথা তার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। ভূপদার্থ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সাউদার্ন মেথডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা আন্দ্রেস রুজো তার পড়াশোনা চলাকালেই এ নদীর অস্তিত্বের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করেন। প্রায় দু’বছর তিনি এ বিষয়ে অভিজ্ঞ অনেকের মতামত জানার চেষ্টা করেন।

    কিন্তু সবাই তাকে হতাশ করেন, কারণ কোনো নদীর পানি এমন মাত্রায় গরম হতে হলে আশেপাশে আগ্নেয়গিরির উপস্থিতি জরুরি, কিন্তু পেরুর যে অংশে রুজো এমন নদীর উপস্থিতি দাবি করছিলেন, তার আশেপাশে প্রায় ৪০০-৪৫০ মাইল পর্যন্ত কোনো আগ্নেয়গিরি ছিল না। তাই স্বাভাবিকভাবে সবাই এই রূপকথার নদীকে শুধু মাত্র একটি কল্পকাহিনী বলেই উড়িয়ে দেন। এবং ঐ সময় এই রুপকথার নদী খোঁজার ব্যাপারটা অনেকটাই হাস্যকর হয় দাঁড়ায় সবার সামনে। তিনিও এ বিষয়ে আশা ছেড়ে দেন।

    কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বদ্ধপরিকর; Image Source: Explorer Classroom
    তিনি চূড়ান্তভাবে এ নদী নিয়ে গবেষণার সিদ্ধান্ত নেন পিএইচডি করার সময়। তার গবেষণা দলের কাজের অংশ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি জিওথার্মাল ম্যাপ তৈরি করেন গুগলের সাহায্যে, যেখানে আগের চেয়ে আরো ভালোভাবে ভূ-অভ্যন্তরস্থ তেল, গ্যাস, পানির প্রবাহ সম্পর্কে জানা যায়। যেহেতু পেরুতে খনিজ সম্পদ খোঁজা তার অন্যতম একটি লক্ষ্য ছিল, তাই গল্পের সেই নদীর কথা মাথায় রেখেই তিনি পেরুর জন্য এমন একটি জিওথার্মাল ম্যাপ তৈরি করেন। যেখানে দেখা যায়, আশেপাশে কোনো আগ্নেয়গিরি না থাকলেও আমাজনের কোনো কোনো ভূমির তাপমাত্রা রহস্যজনকভাবে অস্বাভাবিক হারে বেশি, যা রুজোর মনে অনেক আগ্রহের জন্ম দেয়। কারণ হঠাৎ করে এমন অস্বাভাবিক হারের তাপমাত্রার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তার কাছে ছিল না।

    চরম আগ্রহের কারণেই তিনি কোনো এক ছুটিতে বাড়িতে এসে তার পরিবারকে এমন নদীর থাকার সম্ভাবনার কথা জিজ্ঞেস করেন। তার মা এবং ফুফু তাকে অবাক করে দিয়ে জানান, এমন নদীর অস্তিত্ব আসলেই আছে। শুধু তা-ই নয়, তারা ঐ নদী নিজ চোখে দেখেছেন বলে দাবি করেন, যা রুজোর অন্বেষণের জন্য অনেক বড় একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০১১ সালে তার ফুফুকে নিয়ে আজব নদী খোঁজার কাজে বেড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অনেক প্রত্যাশিত সেই নদীর তিনি খোঁজও পেয়ে যান। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি ছিল এক অভূতপূর্ব ঘটনা।
    নদীর পানির তাপমাত্রা পরিক্ষা করছেন আন্দ্রস রুজো
    নদীর পানির তাপমাত্রা পরিমাপরত আন্দ্রেস রুজো; Image Source: Explorer Classroom

    সানাই-টিমপিসকা ও প্রচলিত লোক-কাহিনী

    আন্দ্রেস রুজো ছিলেন প্রথম ভূবিজ্ঞানী, যিনি এই আজব নদী খুঁজে পান। কিন্তু ঐ নদী তিনিই সবার আগে খুঁজে পান- সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করবে এ নদীর প্রাচীন নাম। অবাক করা এই নদীটির প্রাচীন নাম ‘সানাই-টিমপিসকা’, যার অর্থ ‘সূর্যের তাপে ফুটন্ত’। স্থানীয়রা সূর্যের তাপকে এই নদীর এমন উষ্ণতার জন্য দায়ী করতেন। তার মানে, উত্তপ্ত নদীটি সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দারা অনেক আগে থেকে জানলেও তা পৃথিবীর সামনে কোনোভাবে আসেনি। নদীটিকে স্থানীয় বাসিন্দারা পবিত্রভূমি ভেবে পূজা করত। নদীর খোঁজ পেলেও সেখানে তার গবেষণা চালানো সহজ ছিল না। স্থানীয় লোককাহিনী এবং পুরোহিতদের কারণে নদীর সম্পর্কে বাইরে প্রচার করা নিষিদ্ধ ছিল। নদীর পাড়ে বসবাস করে মায়ানতুয়াকু ও সাঞ্চুয়ারিও হুইসটিন নামের দুই সম্প্রদায়।

    এই দুই সম্প্রদায়কে ঘিরে অনেক লোককাহিনী প্রচলিত রয়েছে, যা স্থানীয়রা যুগ যুগ ধরে বিশ্বাস করে আসছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মায়ানতু হলো আমাজন জঙ্গলের সেই আত্মা, যার মাথা ব্যাঙের মতো, কিন্তু শরীর টিকটিকির মতো। তার হাত-পা আবার কচ্ছপের মতো। তাদের বিশ্বাস, এই মায়ানতু নামক আত্মা তাদের জন্য উপকারী। আবার ‘ইয়াকু’ অর্থ পানি। এই নদীর পানিতেই মায়ানতুর মতো অনেক শক্তিশালী আত্মার বসবাস। আর শক্তিশালী ধর্মযাজক বাদে অন্য মানুষ তাই ঐ নদীতে যেতে ভয় পায়। এই ধর্মীয় আবেগ আর লোককাহিনীর প্রতি স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাসের কারণেই বাইরের পৃথিবী কোনোভাবেই এই নদীর ব্যাপারে জানতে পারেনি। যার কারণে আন্দ্রেস রুজো, ‘মায়েস্ট্রো জোয়ান’ নামের এক ধর্মযাজকের সাহায্য নিয়ে নদীতে পৌঁছান।
    সেই ধর্ম জাযক যিনি আন্দ্রেজ রুজোকে নদীটির উপর গবেষণার অনুমতি দিয়েছিলেন
    ধর্মযাজক মায়েস্ট্রো জোয়ান; Image Source: The Telegraph

    ভৌগোলিক অবস্থান এবং অজানা কিছু তথ্য

    ফুটন্ত পানির এই আশ্চর্য নদী মূলত আমাজনের পেরু অংশের একদম কেন্দ্রে অবস্থিত। লিমা থেকে ‘পুকালপা’ নগরী আকাশপথে এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। এটি পেরুর অন্যতম বৃহত্তম নগরী। এ নগরী থেকে ‘পাচিটা’ নদীতে যেতে সময় লাগে প্রায় দু’ঘণ্টা, এবং এ নদী দিয়েই সেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত বয়েলিং ওয়াটার রিভার বা ফুটন্ত পানির নদীতে পৌঁছাতে হয়। নদীতে গিয়ে আন্দ্রেস রুজোর প্রথম ধাক্কা ছিল নদীর পানির তাপমাত্রা। তিনি উত্তপ্ত পানি ভেবেছিলেন, কিন্তু নদীর পানি আসলেই যে এতটা উত্তপ্ত হবে, তা তার ধারণার বাইরে ছিল। প্রথমেই তিনি থার্মোমিটারে পানির তাপমাত্রা পরীক্ষা করেন, যা ছিল প্রায় ২০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মতো; যা একেবারে সেদ্ধ করার মতো গরম না, কিন্ত কোনো প্রাণীকে মারার জন্য যথেষ্ট।

    নদীর পানিতে বিভিন্ন ছোট ছোট প্রাণী, যেমন- ব্যাঙ, সাপ মরে ভেসে যেতে দেখেন আন্দ্রেস রুজো। তার মতে, কোনো প্রাণী নদীর পানিতে পড়ার পরেও সাঁতরে পার হতে চেষ্টা করে। কিন্তু প্রথমেই প্রচণ্ড উত্তপ্ত পানিতে তার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে সে কিছু দেখতে পারে না। আস্তে আস্তে বাইরের চামড়া সেদ্ধ হতে শুরু করে, তারপর মুখের মাধ্যমে শরীরে ভেতরের অঙ্গে গরম পানি প্রবেশ করে। ঐ প্রাণীর লিভার, কিডনিসহ অভ্যন্তরীণ প্রায় সব অঙ্গ অকেজো হয়ে পড়ে আস্তে আস্তে; যার কারণে সে আর সাঁতরাতে পারে না। শক্তিহীন হয়ে একসময় প্রাণীটি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।

    এই উত্তপ্ত নদীটি আমাজন জঙ্গলের মাঝে বয়ে যাওয়া নদীর একটা অংশ মাত্র। পুরো নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ কিলোমিটার, কিন্তু এর মাঝে প্রায় ৬.২৪ কিলোমিটার অংশ উত্তপ্ত। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে এটা এতটাই গরম হয়, যা যেকোনো প্রাণীকে মেরে ফেলতে সক্ষম। এর তাপমাত্রা ২৭ থেকে ৯৪ ডিগ্রির মাঝে ওঠানামা করে। নদীর পানির তাপমাত্রা বছরের সেই সময়টাতেই একটু সহনীয় পর্যায়ে যায়, যখন প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। স্থানীয় মানুষ এ নদীর পানি চা তৈরি বা অন্যান্য রান্নার কাজে ব্যবহার করে।
    গরম পানির কারণে মৃত্যুবরণ করা একটি প্রানী
    গরম পানির কারণে মৃত দুর্ভাগা এক ব্যাঙ; Image Source: The Business Insider

    উত্তপ্ততার কারণ কী?

    এ নদীর পানি উত্তপ্ত হও্রয়ার পেছনে আন্দ্রেস রুজো তিনটি সম্ভাব্য কারণ দাঁড় করান।

    ১. তার প্রথম চিন্তা ছিল, এই নদীর পানি প্রাকৃতিক নাকি কৃত্রিম, তা নিয়ে। প্রাকৃতিকভাবে এমন এক নদীর প্রবাহিত হওয়ার জন্য দরকার অনেক পরিমাণ তাপের যোগান, অনেক বড় আকারের পানির প্রবাহ আর এমন কোনো ব্যবস্থা, যা পানিকে একদম উপর থেকে গভীর পর্যন্ত উত্তপ্ত রাখবে। এর কোনোটাই সেখানে ছিল না। তাই এ চিন্তা বাদ দিতে হয়।

    ২. পৃথিবীতে এ নদীর পানিই শুধু মাত্র উত্তপ্ত নয়। আরো অনেক নদী-হ্রদ আছে, যেখানে পানি উত্তপ্ত; কিন্তু এগুলোর সবগুলোই কোনো না কোনো আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি অবস্থিত। এ কারণে উত্তপ্ত লাভার সাথে উত্তপ্ত ভূ-গর্ভস্থ পানি বেরিয়ে আসতে পারে। কিন্তু ঐ নদীর আশেপাশে, প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের মাঝে কোনো আগ্নেয়গিরি ছিল না। তাই এ সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিতে হয়।

    ৩. তৃতীয় যে কারণটি হতে পারে, তা হলো কাছাকাছি কোনো তেল উত্তোলন কেন্দ্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে। এটি ভয়ানক দুর্ঘটনার পূর্বাভাস হতে পারে। আর কাছাকাছি একটি পুরাতন তেল উত্তোলন কেন্দ্রের অবস্থান রুজোর ভয় বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অনেক গবেষণার পরে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছান, নদীর পানি ওরকম কোনো তেল উত্তোলন কেন্দ্রের দুর্ঘটনার কারণে নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক একটি আশ্চর্য ঘটনা।

    একজন ভূবিজ্ঞানীর অনুমান ও বিজ্ঞান

    গবেষণা চলাকালে তিনি ঐ নদী সম্পর্কে কিছু অবাক করার মতো তথ্য পান। তার গবেষণা দলের মতে, পৃথিবীটাকে একটা মানবদেহের সাথে তুলনা করলে মানবদেহের রক্ত নালী, শিরা উপশিরার মতো ভূ-অভ্যন্তরেও অনেক উত্তপ্ত পাথর ও উত্তপ্ত পানির প্রবাহ বিদ্যমান। যেগুলোকে পৃথিবীর শিরা-উপশিরা বলে ধরা যায়। মানব শরীরের শিরা, উপশিরায় কোনো ছিদ্র হলে যেমন রক্ত বের হয়, ঠিক তেমনি ভূ-অভ্যন্তরেও এসব শিরা-উপশিরায় মাঝে মাঝে এমন ছিদ্র দেখা গেলে, এ উত্তপ্ত পাথর ও পানি ভূ-পৃষ্ঠে উঠে আসে, আর তখনই উত্তপ্ত পানির নদীর মতো বিভিন্ন ভূ-তাপমাত্রার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। উক্ত নদীর পানির রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নদীর পানি মূলত বৃষ্টির পানি। কিন্তু রুজোর অনুমান মতে, বৃষ্টির পানি অনেক দূরের আন্দিজ পর্বতের কাছাকাছি নদীর সৃষ্টির সময়ের, যেখানে নদীটি উৎপত্তি লাভ করেছে, সেখানকার।

    আর এ লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার মাঝে নদীর কিছু পানি ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভূ-তাপীয় শক্তির দ্বারা উত্তপ্ত হয়ে আস্তে আস্তে আবার নদীর মূলধারায় ফিরে আসে উত্তপ্ত পানি রূপে। আর এ থেকেই সৃষ্টি উত্তপ্ত নদীর। তার মানে এই নদীর উত্তপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এক বৃহৎ হাইড্রোথার্মাল সিস্টেম জড়িত আছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। রুজো স্পেনসার ওয়েলস এবং জনাথন এইসেন নামের আরো দুজন জীববিজ্ঞানীর সাথে কাজ করেন, যারা ঐ নদীতে বা নদীর আশেপাশে বসবাস করা সমস্ত প্রাণীর জিনোম নিয়ে গবেষণা করেন এবং দেখতে পান, তাদের মাঝে উচ্চ তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার একধরনের প্রতিরোধ ব্যাবস্থা গড়ে উঠেছে।

    পৃথিবীর সামনে আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ

    রুজো তার অনেকদিন এর পরিশ্রমের ফসল এ নদীর ব্যাপারে পুরো দুনিয়াকে জানানোর জন্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে একটি আর্টিকেল লেখেন। এর মাধ্যমে বাইরের পৃথিবীর মানুষ নদীটি সম্পর্কে জানতে পারে। এরপর তিনি ২০১৪ সালে টেড টকে তার গবেষণার প্রায় সমস্ত তথ্য-উপাত্ত মানুষের সামনে তুলে ধরেন। এই নদীর অনেক রহস্যই এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের অজানা রয়ে গেছে।

    আন্দ্রেস রুজো এখন পর্যন্ত নদীটিকে ঘিরে তার গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু এখন তিনি নদী সম্পর্কে জানার চেয়ে নদী রক্ষার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি এই নদী নিয়ে তার গবেষণাপত্র ততদিন বাইরে প্রকাশ করেননি, যতদিন পর্যন্ত পেরু সরকার নদীটি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিয়েছে। তাছাড়াও রুজো এ নদীর উপর ‘দ্য বয়েলিং রিভার’ নামে একটি বই লিখেন। বইটিতে তিনি এ নদী নিয়ে তার সমস্ত গবেষণা এবং ধারণা তুলে ধরেছেন।
    টেড টকএ ফুটন্ত পানির নদী নিয়ে কথা বলছেন আন্দ্রস রুজো
    পৃথিবীর সামনে আত্মপ্রকাশ ঘটছে আশ্চর্য এক নদীর; Image Source; Ted Talk

    বর্তমান অবস্থা

    বর্তমানে এই জায়গাটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হলেও এর দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে এটি এখনও সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে খুব একটা পরিচিত নয়। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, নদীটিকে তার নিজ বৈশিষ্ট্যে টিকিয়ে রাখা। আমাজন জঙ্গলের অবাধ বন-নিধনের ফলে নদীটির অস্তিত্ব অনেকটাই হুমকির মুখে। এ নদীর রহস্য সম্পর্কে এখনও অনেক কিছুই জানা বাকি আমাদের। এর মাঝে যদি মানুষের কারণে রূপকথার মতো আশ্চর্য এ নদী হারিয়ে যায়, তাহলে হয়তো হেরে যাবে রূপকথার গল্পেরই মতো অদম্য এক বিজ্ঞানী। প্রকৃতির দান প্রকৃতির কোলেই নিশ্চিন্ত মনে বয়ে যাবে হাজার বছর ধরে, এটাই চাওয়া লাখো-কোটি পরিবেশপ্রেমীর, রূপকথার এক অদম্য রাজপুত্রের। তা কি হতে দেয়া যায় না?

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  12. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    আমরা মস্তিষ্কের কত শতাংশ ব্যবহার করি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    সুবিশাল এই জীবজগতে অন্যান্য প্রাণিদের সাথে মানুষের সবথেকে বড় পার্থক্য হলো মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের গঠন, কার্যপদ্ধতি, নিউরন ঘনত্বের আধিক্য আর দেহের অন্যান্য অঙ্গের সাথে এর প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষকে অনন্যতা দান করেছে। অস্তিত্বের সূচনালগ্ন থেকে মানুষ এই মস্তিষ্ক ব্যবহার করে বুদ্ধবিস্তারিত পড়ুন

    সুবিশাল এই জীবজগতে অন্যান্য প্রাণিদের সাথে মানুষের সবথেকে বড় পার্থক্য হলো মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের গঠন, কার্যপদ্ধতি, নিউরন ঘনত্বের আধিক্য আর দেহের অন্যান্য অঙ্গের সাথে এর প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষকে অনন্যতা দান করেছে। অস্তিত্বের সূচনালগ্ন থেকে মানুষ এই মস্তিষ্ক ব্যবহার করে বুদ্ধিকৌশল প্রয়োগে করেছে কালজয়ী সব আবিষ্কার, রচনা করেছে ইতিহাস আর পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়েছে আরো উন্নত জীবন। চিন্তার খোরাক থেকে নতুন কিছু সৃষ্টি করে জন্ম হয়েছে কত কিংবদন্তির।

    কিন্তু যে মস্তিষ্ককে ব্যবহার করে করা হয়েছে এত কিছু, সেই মস্তিষ্কের অনেক রহস্য এখনও অধরাই থেকে গেছে বিজ্ঞানীদের কাছে। যুগে যুগে আমরা পেয়েছি মস্তিষ্কের অনেক নতুন নতুন তথ্য, যার কোনোটি আবার পুরানোকে সরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে অন্যগুলো প্রমাণের ভিত্তিতে এখনও টিকে আছে। আর তাই এত সংশয়ের জন্যই জন্ম হয়েছে অনেকে গুজব আর আজব সব মিথের। আবার সেসব মিথের অনেকগুলোই অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে ভুল প্রমাণিত হয়েছে, আবার কোনোটির এখনও প্রমাণ মিলেনি।

    Source: Visually

    পূর্ণবয়স্ক একজন স্বাভাবিক মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা কত বলতে পারবেন? উত্তরটা হলো প্রায় ৮৬ বিলিয়ন। আর এতগুলো নিউরনের প্রতিটিতে আছে প্রায় ১০ হাজার সিন্যাপটিক যোগাযোগ। আর সব মিলিয়ে মোট সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১০০ ট্রিলিয়নে, যার সর্বোচ্চ হিসেবটা গিয়ে ঠেকতে পারে ১,০০০ ট্রিলিয়নে। এত এত নিউরন আর সিন্যাপসগুলো বৈদ্যুতিক আর রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে মস্তিষ্কের সাথে সারা দেহের যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে প্রতি মুহূর্তে।

    Source: Slide Player

    আচ্ছা, কোনো গাণিতিক সমস্যা সমাধান কিংবা কঠিন কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সময় ভেবেছেন কি আপনি নিজের মস্তিষ্কের কতটুকু অংশ ব্যবহার করছেন? হয়তো কোনো মোটিভেশনাল স্পিচে, জনপ্রিয় কোনো মুভি, বই কিংবা কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি দেখে থাকতে পারেন ‘মানুষ কেবল নিজের মস্তিষ্কের দশ শতাংশ ব্যবহার করে!’

    আচ্ছা তাহলে তাহলে বাকি নব্বই শতাংশ কি অলস হয়ে বসে থাকে? নাকি কোনো অদৃশ্য দেয়াল তাদের আলাদা করে রেখেছে আপনার মস্তিষ্কের কার্যকর অংশ থেকে? যদি একশো শতাংশই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকত তবে কি আপনি আপনার পছন্দের সুপারহিরো হয়ে যেতে পারতেন! নাকি টেলিকাইনেটিক শক্তির মতো অতিপ্রাকৃতিক কোনো ক্ষমতার জন্ম হতো আপনার মধ্যে! নাকি আইনস্টাইন আর নিউটনের মতো সেরা বিজ্ঞানীগণ একশো ভাগই ব্যবহার করতে তাদের মস্তিষ্কের!

    Source: Ted Ed

    মস্তিষ্কের আরো কিছু প্রচলিত মিথের মধ্যে মানব মস্তিষ্কের এই দশ শতাংশের মিথটিও বেশ প্রচলিত। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো এই মিথ কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আর প্রায় অর্ধেক সংখ্যক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বিশ্বাস করেন।

    এই মিথের জন্মদাতা কে তা স্পষ্টভাবে কারোরই জানা নেই। তবে ঊনবিংশ শতাব্দীর আশির দশকে আমেরিকার বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমস একটি ছেলের আইকিউ পরীক্ষার পর বলেন মানুষ তার মস্তিষ্কের সবটুকুই সঠিকভাবে ব্যবহার করে না। আর এই বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যায় মানুষের মনে মস্তিষ্কের সেই দশ শতাংশের ব্যবহার আরো দৃঢ়তা পায়। বিভিন্ন প্রচারণা মাধ্যম, ম্যাগাজিন আর লোকমুখে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই অপরীক্ষিত অদ্ভুত তত্ত্ব। শুধু তা-ই নয় লুসি, লিমিটলেস, ফ্লাইট অব দ্য নেভিগেটর এর মতো বিখ্যাত কিছু হলিউড মুভিতেও এই তত্ত্বের দেখা মেলে।

    Source: Ted Ed

    আদতে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন আমরা অনেকেই আমাদের চিন্তা-ভাবনার কাজে মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে উদ্দীপ্ত করতে পারি না বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। আবার শোনা যায় কালজয়ী বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের নামও জড়িয়ে আছে এই ঘটনা অনেকটা এই ধরনের বক্তব্যের জন্য।

    কিন্তু আমরা সকলেই আসলে দিনশেষে মস্তিষ্কের একশ শতাংশই ব্যবহার করি। কীভাবে? তার আগে দেখা যাক প্রচলিত এই মিথটি কেন ভুল?

    Source: Slide Share

    আচ্ছা মস্তিষ্কের নব্বই ভাগই যদি কোনো কাজে না আসে তবে সেগুলোতে আঘাত লাগলে বা ক্ষতি হলেও তো আমাদের শারীরিক বা মানসিকভাবে কোনো সমস্যা হবার কথা না। কিন্তু সত্যিই কি তাই?

    ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি এখনকার মতো অত্যাধুনিক ছিল না। তাই বেশ দীর্ঘ একটা সময় পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা জানতেন না আমাদের মস্তিষ্কের বিশাল একটি জায়গা ফ্রন্টাল লোব এবং প্যারাইটাল লোবের ভূমিকা কি ছিল! কোনো ধরনের আঘাতে মস্তিষ্কের স্নায়বিক উদ্দীপনায় কোনো প্রকার প্রভাব না ফেলায় তারা ধরেই নিয়েছিলেন এগুলোর কোনো কাজ নেই। আর তাই কয়েক দশক ধরেই এগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে ‘নীরব অঞ্চল’ বা সাইলেন্ট এরিয়া নামেই পরিচিত ছিল, যাতে অনেকে ভেবেছিলেন দশ শতাংশ ব্যবহারের ধারণা বুঝি তাই সত্যি।

    কিন্তু এখন আমরা জানি যে এই অঞ্চলগুলো আমাদের যুক্তিবিচারে, পরিকল্পনায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে আর পরিস্থিতিনির্ভর অভিযোজনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। আর আমাদের পরিপূর্ণভাবে মানুষ হিসেবে প্রকাশ করে। আবার কোনো মস্তিষ্কের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্বাভাবিক জীবনে এর প্রভাব আমরা না দেখলেও আদতে তা কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা তৈরি করে।

    Source: Dreamstime;

    সাধারণত মানব মস্তিষ্ক ওজনের দিক থেকে পুরো শরীরের তুলনায় মাত্র দুই শতাংশ। কিন্তু এই মস্তিষ্ক সারা শরীরের মোট গ্লুকোজের প্রায় বিশ শতাংশই ব্যবহার করে নিজের জ্বালানি হিসেবে। আর একটি শিশুর ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ ৫০ শতাংশ এবং একটি নবজাতকের জন্য ৬০ শতাংশ, যেখানে রোডেন্ট এবং কুকুরের প্রজাতিরা পুরো শরীরের মোট গ্লুকোজের প্রায় পাঁচ শতাংশ আর বানর দশ শতাংশ শক্তি ব্যবহার করে। তাহলে যদি নব্বই ভাগই অযথা অব্যবহৃত থাকে তবে এই বিশ শতাংশ শক্তি মস্তিষ্ক কী করে? এত পরিমাণ শক্তি মস্তিষ্কের মাত্র দশ শতাংশের কাজের তুলনায় ঢের বেশি।

    Source: Karen Carr Studios;

    মানুষের মস্তিষ্কের ওজন আনুমানিক ১.৫ কিলোগ্রাম, যেখানে একটা হাতির মস্তিষ্ক ৫ কিলোগ্রাম আর তিমির ৯ কিলোগ্রাম। কিন্তু এই ১.৫ কিলোগ্রাম মস্তিষ্কে ৮৬ বিলিয়ন নিউরনের উপস্থিতি মস্তিষ্কের ঘনত্ব অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আর সেটাই আমাদের করেছে আরো বেশি চৌকশ।

    Source: Ted Ed

    কিন্তু চৌকশ এই মস্তিষ্কের জন্য অনেক বেশি পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন তা আগেই বলেছি। প্রতি মিনিটে ৩.৪×১০২১ মলিকিউল এটিপি। এটিপি (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট) হলো দেহের জ্বালানি।

    Source: Wikimedia Commons;

    আর স্পার্স কোডিং পদ্ধতির মাধ্যমে কম শক্তি খরচ করে বেশি তথ্য আদানপ্রদান করে মস্তিষ্ক। আর নব্বই ভাগকে অকার্যকর রেখে কখনোই এত পরিমাণ শক্তির দরকার হবে না। এছাড়া মস্তিষ্কের কোনো অংশ অপ্রয়োজনীয় হলে জিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সেই অংশটুকু অনেক আগেই বাদ পড়ে যেত।

    কিন্তু মস্তিষ্ক কখনোই একইসাথে একশ ভাগ ব্যবহার করে না। নির্দিষ্ট কাজের জন্য মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ উদ্দীপ্ত হয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে মস্তিষ্কের এক থেকে ষোল শতাংশ কার্যকর পাওয়া যাব। এমনকি ঘুমানোর সময়ও যে মস্তিষ্ক সচল থাকে তা-ও পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আপনি যখন যে কাজটি করবেন আপনার মস্তিষ্কের সেই অংশটির সাথে যোগাযোগ ঐ মুহূর্তে বেশি হবে। আর তাই একইসাথে আপনি দুইয়ের অধিক কাজ করতে গেলে কোনোটিই ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন না, কারণ আপনার মস্তিষ্ক একসাথে দুটি কাজের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ মনোযোগের যোগান দিতে পারে না।

    একবিংশ শতাব্দীর তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে জীবন্ত মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণার সু্যোগ আমাদের এই এত এত ভুল ভাঙ্গাতে সক্ষম হয়েছে। ইইজি, পিইটি, এফএমআরআই এর মাধ্যমে আমরা মস্তিষ্কের কোন অঞ্চল কী কাজে সাড়া দেয় তা আমরা জানি এখন। কীভাবে সেই ব্রেইন স্ক্যানিং করা হয় তা না হয় অন্য আরেকদিনের জন্য তোলা থাকুক। মস্তিষ্কের আরো অনেক প্রচলিত মিথ নিয়ে জানতে পড়ে আসতে পারেন রোর বাংলার এই লেখাটি।

    তাই নিজের মস্তিষ্ককে অলস বা অকার্যকর ভেবে সময় নষ্ট বন্ধ করুন। ৮৬ বিলিয়নের এই দল আপনাকে কোনো অতিপ্রাকৃতিক শক্তি না দিলেও এরা যথেষ্ট চৌকশ যেকোনো অসাধ্যসাধনে। তাই আর দেরি কেন? ক্ষুধার্ত এই নিউরনগুলোর শক্তির ব্যবস্থা করুন আর কাজে নেমে পড়ুন নতুন উদ্যমে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  13. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    অশুভ ঘটনাগুলো কি আসলেই আপনার কপালে লেগে থাকে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    কখনো কি এরকম মনে হয়, দুনিয়ায় যত অলক্ষুণে আর অশুভ জিনিস আছে তার সব ঘটে আপনার সাথেই? এমন প্রশ্ন কখনো কি করেন, “দুর্ভাগ্যগুলো এই মরার কপাল ছাড়া অন্যদেরকে কি দেখে না? আমার কপালেই কেন একের পর এক ‘মরা’ লেগে থাকবে?” আসলে আপনি একা নন, সবার সাথেই এমন ঘটে এবং সবাই-ই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেকে দুনিয়ার সবিস্তারিত পড়ুন

    কখনো কি এরকম মনে হয়, দুনিয়ায় যত অলক্ষুণে আর অশুভ জিনিস আছে তার সব ঘটে আপনার সাথেই? এমন প্রশ্ন কখনো কি করেন, “দুর্ভাগ্যগুলো এই মরার কপাল ছাড়া অন্যদেরকে কি দেখে না? আমার কপালেই কেন একের পর এক ‘মরা’ লেগে থাকবে?” আসলে আপনি একা নন, সবার সাথেই এমন ঘটে এবং সবাই-ই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে অভাগা আর পোড়া কপালের অধিকারী বলে মনে করে। কিন্তু আসলেই কি সবাই অভাগা?

    অশুভ ঘটনা তো পরের কথা, যদি বলি কোনো ঘটনা কেন ঘটে তার উত্তর কী হবে? শুনতে মামুলী মনে হলেও প্রশ্নটা একেবারেই বেয়াড়া। এর উত্তর কী হবে? ভালোই জটিল বলে মনে হচ্ছে। এর উত্তর জটিল হলেও শিরোনামের প্রশ্নের চেয়ে কিছুটা বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন বলে মনে হবে। কেন এমন কথা বললাম? অশুভ ঘটনা কেন ঘটে, এমন প্রশ্ন করা কি বিচার বুদ্ধিহীন? এখানে এর উত্তর খুঁজে দেখবো।

    সত্যি কথা বলতে, সাধারণ ঘটনা ও অশুভ ঘটনা ঘটার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। অশুভ ঘটনাও এক প্রকার ঘটনা। একে আলাদা করে হিসেব করার কোনো কারণ নেই। যদি মনে হয়ে থাকে খারাপ জিনিসগুলো শুধু আপনার বেলাতেই হয়, তাহলে এখানে ব্যাপারটিকে ব্যাখ্যা করতে হবে। ‘মার্ফির সূত্র’ নামে একটি নিয়ম আছে। অনেকে একে ‘সডের সূত্র’ও বলে থাকে। অশুভ ঘটনার ক্ষেত্রে তামাশার ছলে মানুষ এই সূত্রটি ব্যবহার করে।

    এই সূত্র অনুসারে, মাখন মাখানো কোনো পাউরুটি যদি নিচে পড়ে যায়, তাহলে সবসময় মাখনের পাশটিই নিচের দিকে পড়বে। মেঝেতে যদি রুটিটি পড়ে আর মাখন যদি উপরের দিকে থাকে তাহলে ক্ষেত্রবিশেষে এটি তুলে নিয়ে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু মাখন নিচের দিকে পড়ে মেঝেতে লেপ্টে গেলে তা আর ব্যবহার করার উপায় থাকে না। খেয়াল করলে দেখা যাবে, মানুষের বেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন ঘটে। এজন্য তারা মনে মনে বলে, “আমার কপালেই যত নেতিবাচক ঘটনা ঘটে।”

    অনেকেই ভাবেন, ‘কপাল পোড়া’ হলে হাত থেকে খসে রুটি পড়ে গেলে মাখনের দিকটাই সবসময় লেপ্টে যায়। ছবি: দ্য মিরর/গেটি

    যারা মাঝে মাঝে টেলিভিশনের জন্য প্রামাণ্যচিত্র বা নাটক-সিনেমা নির্মাণ করেন, তাদের কাজে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে শুটিং চলাকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ। অনেক দূর দিয়ে যদি কোনো উড়োজাহাজ উড়ে যায় তাহলেও তাদেরকে কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। এটি চলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারপর কাজ শুরু করতে হয়। চলমান কোনো কাজে যদি এরকম বাধা কয়েকবার দেখা দেয়, তাহলে তা হয় চরম বিরক্তিকর। অনেকটা বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে দেবার মতোই।

    এখন উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনাকাঙ্ক্ষিত শন্দ অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। কিন্তু আগের দিনে সিনেমা নির্মাণে এই সুযোগ ছিল না। এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দের কারণে মাঝে মাঝে পুরো সিনেমাই নষ্ট হয়ে যেত। চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের মাঝে একটি কুসংস্কার প্রচলিত আছে- যখন সিনেমার কোনো মুহূর্তে নীরবতা খুবই প্রয়োজন ,তখন উড়োজাহাজ উড়ে গিয়ে শব্দের জ্বালাতন করবেই করবে। এরকম কিছু ঘটে গেলে তারা বলে সডের সূত্র অনুসারে এই ঘটনা ঘটেছে।

    আগে অপ্রত্যাশিত ‘নয়েজ’-এর কারণে পুরো সিনেমাই বরবাদ হয়ে যেতো। ছবি: দ্য ফিল্ম বুক/সিনেফিলিয়া/সিনিসাইন

    একজন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতার কথা বলি। তিনি মাঝে মাঝে গবেষণামূলক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। একটি প্রামাণ্যচিত্রের শুটিংয়ের জন্য তারা একটি স্থান নির্ধারণ করেছেন। স্থানটি হলো ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড অঞ্চলের বিস্তৃত এক তৃণভূমি। তাদের ধারণা ছিল, দিনের বেলায় গেলে সেখানে অবশ্যই কোনো না কোনো শব্দ থাকবে। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, সকলে মিলে খুব ভোরে চলে যাবেন। ভোরে শব্দ থাকার কথা নয়। যখন তারা সেখানে পৌঁছালেন, তখন আবিষ্কার করলেন, একজন লোক সেখানে একাকী বসে বসে বেলুনের বাঁশি বাজাচ্ছে! সম্ভবত তার স্ত্রীর সাথে রাতের বেলা ঝগড়া হয়েছে এবং স্ত্রী তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তাই উপায় না দেখে সে উদাস হয়ে ফুঁ দিয়ে বেলুনে বাতাস ভরছে এবং সেই বাতাসে বাঁশি বাজাচ্ছে। আর এই ঘটনাটা ঘটতে হলো তাদের একান্ত প্রয়োজনের সময়টিতেই। তাদের যখন একান্ত নীরবতা প্রয়োজন তখনই এই ‘কুফা’ এসে লাগলো। সডের সূত্র দেখা যায় আসলেই সত্য!

    আসলে এখানে অশুভ বা অলক্ষুণে বা কুফা বলতে কিছু নেই। সত্যিকার বাস্তবতা হচ্ছে, এখানে বেশিরভাগ সময়ই শব্দের উৎপাত থাকে। এই শব্দগুলো আমরা খেয়াল করি না বা খেয়াল করার প্রয়োজন হয় না। খেয়াল তখনই করি, যখন এটি আমাদের নিজেদের কোনো কিছুতে ব্যাঘাত ঘটায়। যেমন- সিনেমার জন্য ভিডিও করার সময় অপ্রয়োজনীয় ছায়া ভেসে উঠতে পারে পর্দায়। এর আগে এটির অস্তিত্ব থাকলেও আমাদের নজরে আসে না তেমন। মানুষের একটি জন্মগত স্বভাব হচ্ছে বিরক্তিকর জিনিসকে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলা। এরকম কোনোকিছু কয়েক বার ঘটলেই আমরা ধরে নেই, সমস্ত পৃথিবীর সবকিছুই বুঝি আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে। কোনোকিছু করতে গেলে তারা কোনো না কোনো দিক থেকে ঝামেলা পাকাবেই।

    পৃথিবীর সবকিছুই বুঝি আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে! ছবি: 123RF

    আসলে সত্যিকার অবস্থা এমন না। অসামঞ্জস্যতা সবখানেই থাকে। সবসময়ই থাকে। প্রয়োজন না পড়লে আমরা তা দেখতে পাই না। প্রয়োজন পড়লে অর্থাৎ কাজের সময় আমরা তা দেখতে পাই। মাখন মাখানো রুটির কথাই বিবেচনা করি। মাখন লাগানো অংশটা কেন বেশিরভাগ সময় নিচের দিকে পড়ে, তা উদ্ধার করা খুব কঠিন কিছু নয়। হাতে বা টেবিলে মাখন লাগানো অংশটি উপরের দিকে থাকে। হাত বা টেবিল থেকে পড়ে গেলে এটি অর্ধেক বার ঘোরার সময় পায়। সম্পূর্ণ একবার ঘোরার সময় খুব কম ক্ষেত্রেই পায়। মেঝে বা ভূমি থেকে হাত কিংবা টেবিলের উচ্চতাও সবসময় প্রায় একই থাকে। তাই যখনই রুটি হাত ফসকে নিচে পড়ে যায়, তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাখন লাগানো অংশটি নিচের দিকে থাকে। একাধিকবার এরকম হলে আমরা একে রংচঙ দিয়ে বলি, যত কুফা আর অশুভ জিনিস আছে আমার কপালে!

    টেবিল সমান উচ্চতা থেকে পড়লে মাত্র অর্ধেক বার ঘোরার সময় পায় রুটি। তাই মাখনের অংশটিই নিচে পড়ে যায়। ছবি: ডেভ ম্যাককেইন

    সডের সূত্রের জন্য শুটিং কিংবা পাউরুটির উদাহরণ বাদ দিয়ে সরল একটি উদাহরণ বিবেচনা করতে পারি। কয়েন দিয়ে। যখন কোনোকিছু টস করি, তখন হেড চাইলে ওঠে টেল আর টেল চাইলে ওঠে হেড- নির্মম ভাগ্য। আবার কেউ কেউ আছে আশাবাদী বা ইতিবাচক। তাদের অনুভূতি অনেকটা এরকম, আমি খেলায় যে দলকে মনে মনে সাপোর্ট করি সেই দলই টসে জিতে। আমি ‘সুফা’, আমি অমুক কালারের টি-শার্ট পরলে পক্ষের দল ছক্কা মারে আর বিপক্ষ দলের উইকেট পড়ে। চাহিদামতো ইতিবাচক ঘটার ব্যাপারটিকে বলা হয় ‘পলিয়ানার সূত্র’। কিন্তু সত্যিকার বাস্তবতার কথা বিবেচনা করলে দেখা যাবে, সডের সূত্র আর পলিয়ানার সূত্রের উভয়েই আসলে অযৌক্তিক ব্যাপার।

    কুফা সুফা বলতে কিছু নেই। ছবি: ‘নতুন শব্দ‘ নামক ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

    কার মন কী চাইছে, তা টসের কয়েন কিংবা পাউরুটির পৃষ্ঠের কারোরই বোঝার ক্ষমতা নেই। তাছাড়া টসের মতো ব্যাপারগুলোতে ভালো-খারাপ উভয়ই হয়। দুই দলকে নিয়ে টস হয়, কোনো এক দল হেরে গেলে অন্য দল জিতে যায়। একজনের জন্য এটা অশুভ হলে, তার পাশেরই আরেকজনের জন্য এটি আনন্দের ও সফলতার। টেনিস খেলার দুই দলই মনে প্রাণে দোয়া করে জিতে যাবার জন্য। কিন্তু খেলায় জেতা সম্ভব একজন। কাউকে না কাউকে হারতে হবেই। দুজন জিততে চেয়ে কিন্তু একজন জিতেছে। এক্ষেত্রে যে জিতেছে সে মনে মনে বলবে, দোয়ায় যেমন চেয়েছি তেমনই পেয়েছি। আমার রাশি ভালো। যে হেরে গেছে সে বলবে, চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। যত অশুভ জিনিস আছে আমার কপালে জোটে!

    এখানে খেলায় ভালো কিংবা মন্দ ভাগ্যের কোনো ভূমিকা নেই। প্রত্যেক খেলাতেই এমন হয়। জিত হয়, হার হয়। কিন্তু মানুষ মনে রাখে শুধু অমুক দিন ভাগ্যের দোষে হেরে গিয়েছিলাম। সেজন্য ‘অশুভ ঘটনা কেন ঘটে?’ কিংবা ‘শুভ ঘটনা কেন ঘটে?’ এগুলো আসলে সত্যিকার অর্থে কোনো প্রশ্নই না। তাই এগুলো নিয়ে হতাশ হয়ে বা দুঃখ করে কোনো লাভ নেই। এর চেয়ে বরং কোনো কিছু ঘটলে তাকে স্বাভাবিকতা দিয়ে ব্যাখ্যা করে, মন খারাপ না করে খুশি থাকাই উত্তম।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  14. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

    নারীর নীরব কষ্ট এন্ডোমেট্রিওসিস কি ধরনের অসুখ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ক্রিস্টি মিলারের বয়স যখন ১১ হলো, তখন থেকে তার মাসিক আরম্ভ হলো। প্রতিমাসেই রক্তক্ষরণের পাশাপাশি বমি হতে শুরু করলো। অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি না পারতেন খেতে, না পারতেন ঘুমাতে। তার কাছে মনে হতে লাগলো তিনি মারা যাচ্ছেন, কিন্তু কেউ তার তোয়াক্কা করছে না। তখন বিষয়টি না বুঝলেও এর ঠিক দশ বছর পরে গিয়ে ধরা পড়বিস্তারিত পড়ুন

    ক্রিস্টি মিলারের বয়স যখন ১১ হলো, তখন থেকে তার মাসিক আরম্ভ হলো। প্রতিমাসেই রক্তক্ষরণের পাশাপাশি বমি হতে শুরু করলো। অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি না পারতেন খেতে, না পারতেন ঘুমাতে। তার কাছে মনে হতে লাগলো তিনি মারা যাচ্ছেন, কিন্তু কেউ তার তোয়াক্কা করছে না। তখন বিষয়টি না বুঝলেও এর ঠিক দশ বছর পরে গিয়ে ধরা পড়লো তার এই অসহ্য যন্ত্রণার কারণ। চিকিৎসক জানালেন, তিনি ‘এন্ডোমেট্রিওসিস’ নামক রোগে আক্রান্ত।

    এন্ডোমেট্রিওসিস কী? 

    জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম। এই এন্ডোমেট্রিয়ামে থাকা বিশেষ কোষগুচ্ছ যদি জরায়ুর বাইরে অবস্থান নেয় তাহলে এই অবস্থাকে বলা হয় এন্ডোমেট্রিওসিস।

    উপরে বর্ণিত ক্রিস্টির উপসর্গগুলো তুলে ধরা হয়েছে  স্যালি রুনির উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত টিভি সিরিজ ’করভারসেশন উইথ ফ্রেন্ডন্স’-এ। এখানে দেখা যায় টিভি সিরিজের একটি চরিত্র ‘ফ্রান্সিস’ এন্ডোমেট্রিওসিসের যন্ত্রণায় কখনো ওয়াশরুমে কাতরান, কখনো বা ভীড়ের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে যান। টিভি সিরিজটি নির্মাণে সহায়তা নেয়া হয়েছে চিকিৎসক ফিওনা রেইডির, যিনি একাধারে একজন নারী রোগবিশেষজ্ঞ এবং এন্ডোমেট্রিওসিস রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ। সিরিজের মাধ্যমে একজন এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত নারীর সংগ্রাম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

    যেকোনো বয়সের নারীই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন; এমনকি টিনেজাররাও! প্রতি ১০০ জনে অন্তত ১০ জন নারী রোগটিতে ভুগে থাকেন।

    যেসব জায়গায় এন্ডোমেট্রিওসিস হতে পারে

    • ডিম্বনালী,
    • ইউটেরাস বা জরায়ুর আশেপাশের লিগামেন্টগুলোতে,
    • শ্রোণী গহ্বরের লাইনিংয়ে,
    • ডিম্বাশয়ে,
    • জরায়ুর বহিঃপৃষ্ঠে, এবং
    • জরায়ু এবং মলাশয় বা মূত্রথলির মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে।


    এন্ডোমেট্রিওসিস শরীরের বিভিন্ন স্থানে হতে পারে; image source: wildpixel/Getty Images

    লক্ষণসমূহ 

    •  শ্রোণীদেশে ব্যথা হওয়া। একে ‘পেলভিক পেইন’ বলে। মাসিক চলাকালে এই ব্যথা আরো তীব্র আকার ধারণ করে৷
    • তীব্র ব্যথাযুক্ত পিরিয়ড হওয়া, যা রোগীর দৈনন্দিন কাজকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডিসম্যেনুরিয়া বলা হয়।
    • মাসিক চলাকালে প্রস্রাব বা পায়খানা করার সময় ব্যথা অনুভব করা।
    • মাসিকের সময় তীব্র রক্তপাত হওয়া।
    •  যৌন সহবাসের সময় বা পরে ব্যথা হওয়া।
    •  অসুস্থ অনুভব করা, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা, ডায়রিয়া কিংবা প্রস্রাব-পায়খানা করার সময় রক্তপাত হওয়া।
    •  গর্ভধারণে সমস্যা হওয়া।
    • বিষন্নতা।


    এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ব্যথার অনুভূতি হতে পারে; image source: Getty Images photo

    এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণ 

    ১. এন্ডোমেট্রিয়াল কোষগুচ্ছ রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পরিচালিত হলে।

    ২. জিনগত কারণে হতে পারে। পরিবারের অন্য কারো এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলে।

    ৩. সি সেকশন বা হিস্টেরেক্টমির মতো অপারেশনের কারণে এন্ডোমেট্রিয়াল কোষগুলো অন্ত্র বা অন্য কোনো অঙ্গের প্রাচীরে লেগে যেতে পারে। যার ফলে রোগটি হতে পারে।

    ৪. শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হলে। এর ফলে জরায়ুর বাইরে তৈরি হওয়া এন্ডোমেট্রিয়াল কোষগুলোকে শরীর ধ্বংস করে দিতে পারে না।

    রিস্ক ফ্যাক্টরস 

    • নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মাসিক শুরু হওয়া (১১ বছর বয়সের পূর্বে)।
    • দেরিতে মেনোপজ বা রজঃনিবৃতি ঘটা।
    • সংক্ষিপ্ত রজঃচক্র হওয়া ( ২৭ দিনের কম)।
    • রজঃস্রাবকাল ৭ বা তার অধিক দিন হওয়া।
    • BMI বা শরীরের ওজনের সাথে উচ্চতার অনুপাত  কম হওয়া।
    • পারিবারিক ইতিহাসে আগে কারো এন্ডোমেট্রিওসিস হয়ে থাকলে। যেমন- মা/ বোন/ খালার এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলে।
    • জরায়ুর অস্বাভাবিক আকার।
    • গর্ভাশয়ের কোনো রোগ থাকলে।
    • এস্ট্রোজেন নামক হরমোন দেহে বেশি পরিমাণে উৎপন্ন হতে থাকলে।

    রোগপরবর্তী জটিলতা

    • গর্ভধারণে অক্ষমতা বা জটিলতা; প্রায় ৩৩%-৫০% এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত নারী এই জটিলতায় ভুগে থাকেন।
    • ওভারিয়ান ক্যান্সার হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আরেক ধরনের ক্যান্সার হতে পারে যাদের একসময় এন্ডোমেট্রিওসিস ছিলো। এর নাম এন্ডোমেট্রিওসিস অ্যাসোসিয়েটেড এডেনোকারসিনোমা।


    এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে গর্ভধারণে জটিলতা বা ওভারিয়ান ক্যান্সার হতে পারে; Image source: Shutterstock

    রোগনির্ণয় পদ্ধতি

    • ল্যাপরোস্কপি,
    • বায়োপসি,
    • আল্ট্রাসাউন্ড, এবং
    • এমআরআই (MRI)।

    প্রতিরোধ 

    এন্ডোমেট্রিওসিস একটি ইডিওপ্যাথিক বা অজানা কারণঘটিত অবস্থা। একে মোকাবেলার নির্দিষ্ট কোনো পন্থা নেই। তবে লক্ষণ দেখা যাবার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে দ্রুত রোগনির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

    লক্ষণ প্রকাশ পেলে ভয় না পেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন; Image source: drpourzand.com
    গর্ভধারণ এবং স্তন্যদান এন্ডোমেট্রিওসিসের হবার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, প্রাত্যহিক জীবনে ফলমূল খাওয়া, বিশেষ করে সাইট্রাস ফলসমূহ, বিশেষ উপকারী ভূমিকা রাখে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  15. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    কেন আমাদের শৈশবের কথা মনে থাকে না?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    মাঝে মাঝে কি এমনটা ভেবে আফসোস হয় না যে, “ইশ, যদি আমার খুব ছোটবেলার দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতিগুলো মনে করতে পারতাম!” প্রথম হাঁটা, প্রথম বলা শব্দ কিছুই আমরা মনে করতে পারি না। অনেক সময় আশেপাশের মানুষের মুখে নিজের ছোটবেলার কথা শুনে ভুল করে সেগুলোকে আমাদের স্মৃতি ভেবে বসি। শিশু-বয়সের খুব গুরুত্বপূর্ণ বা আনন্দেবিস্তারিত পড়ুন

    মাঝে মাঝে কি এমনটা ভেবে আফসোস হয় না যে, “ইশ, যদি আমার খুব ছোটবেলার দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতিগুলো মনে করতে পারতাম!” প্রথম হাঁটা, প্রথম বলা শব্দ কিছুই আমরা মনে করতে পারি না। অনেক সময় আশেপাশের মানুষের মুখে নিজের ছোটবেলার কথা শুনে ভুল করে সেগুলোকে আমাদের স্মৃতি ভেবে বসি।

    শিশু-বয়সের খুব গুরুত্বপূর্ণ বা আনন্দের স্মৃতি মনে না থাকলেও কৈশোরে শোনা বা পড়া কোনো গল্পের লাইন ঠিকই মনে পড়ে। কেন এমন হয়?

    শৈশবের এই স্মৃতিলোপ পাওয়ার কারণ নিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা এক শতকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা করে আসছেন। প্রায় ১০০ বছর আগে, সাইকোঅ্যানালাইসিসের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েড এই টার্মটির নাম দেন ‘Infantile amnesia’, বাংলায় যাকে বলা যায় ‘শিশুসুলভ স্মৃতিভ্রংশ’, যা ২-৪ বছর বয়সের অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়ার ও ৭ বছর বয়সের পূর্বের স্মৃতি পূর্ণরূপে মনে না থাকার একটি সহজাত প্রক্রিয়া।
    বয়সের সাথে স্মৃতি মনে রাখার হার
    বয়সের সাথে স্মৃতি মনে রাখার হার; Source: This graph is taken from a research article titled “Infantile amnesia: A neurogenic hypothesis”

    শৈশবে স্মৃতিশক্তি যেমন থাকে

    শিশুরা স্থায়ী স্মৃতি তৈরি করতে পারে না, কিন্তু তাদের অন্তর্নিহিত ও সুব্যক্ত মেমোরি গঠন হয়।

    • অন্তর্নিহিত বা Implicit Memory: চিন্তা না করেই কোন কাজ স্মরণে থাকে এবং করতে পারে, পদ্ধতিগত স্মরণশক্তি।
    • সুব্যক্ত বা Explicit Memory: নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো যখন সজ্ঞানে মনে রাখতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি ধারণে সুব্যক্ত ও অন্তর্নিহিত মেমোরির কার্যাবলী
    দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি ধারণে সুব্যক্ত ও অন্তর্নিহিত মেমোরির কার্যাবলী; Source: Medium

    শিশুরা ঐ অবস্থায় তথ্য মনে রাখতে পারে, যেমন- ৬ মাস বয়সী শিশুরা মনে রাখতে পারে ২৪ ঘন্টায় তাদের করণীয় কী, ৯ মাস বয়সীরা মনে রাখতে পারে এক মাসের কার্যাবলী আর ২০ মাস বয়সীরা পুরো এক বছর পর্যন্ত মনে রাখতে পারে যা তাদেরকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। আরো দেখা যায়, শিশুদের কাছে যে ঘটনাগুলো বেশি আবেগপূর্ণ, ঐ স্মৃতিগুলো তারা তিনগুণ বেশি মনে রাখতে পারে।

    অনেক সময় স্মৃতি ধরে রাখার ব্যাপারটি আমাদের সংস্কৃতির উপরও নির্ভর করে। অনেকের ছোটবেলার অনেক অভিজ্ঞতাই মনে থাকে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ৭-৮ বছরের আগের কোনো ঘটনাই মনে থাকে না। আবার আমাদের সংস্কৃতি, পারিপার্শ্বিক এবং সামাজিক অবস্থান এই স্মৃতি গঠন ও ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে।
    সংস্কৃতির উপর শিশুদের স্মৃতি  গঠন ও ধারণ ক্ষমতা অনেকাংশেই নির্ভরশীল
    সংস্কৃতির উপরও শিশুদের স্মৃতি গঠন ও ধারণ ক্ষমতা নির্ভরশীল; Source: Diario de Huelva

    কিন্তু কেউ প্রথম ২ বছরের আগের কোনো ঘটনাই মনে রাখতে পারে না। এর পেছনে ২টি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে:

    ১) মস্তিষ্কের গঠন ও পরিবর্তন: ছোট বয়সে আমাদের মস্তিষ্ক পূর্ণ বিকশিত না থাকায় অনেক তথ্যই জটিল নিউরাল প্যাটার্নে জমা করে রাখতে পারে না, যাকে আমরা মেমোরি বা স্মৃতি বলি। জন্মের সময় মানবশিশুর মস্তিষ্ক থাকে পরিণত বয়সের মস্তিষ্কের এক-চতুর্থাংশ, দুই বছর বয়সে সেটা হয় পূর্ণ মস্তিষ্কের চার ভাগের তিনভাগ। মস্তিষ্কের এই আকার ও গঠনের উপরেই নির্ভর করে নিউরনের বৃদ্ধি ও সংযোগপ্রাপ্তি।
    বয়সের সাথে মস্তিষ্কের  বৃদ্ধি  ঘটে  ও স্মৃতি  ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়;
    বয়সের সাথে মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ঘটে ও স্মৃতি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; Source: celinealvarez.org

    আমাদের মস্তিষ্কে হিপোক্যাম্পাস নামে একটা অংশ আছে, যেটা মূলত এপিসোডিক মেমোরি (নির্দিষ্ট ঘটনা ধারণকারী মেমোরি) গঠনে জরুরি। এপিসোডিক মেমোরিগুলো (দৃষ্টলব্ধ, স্বাদ এবং শব্দজাত মেমোরি) মস্তিষ্কের বহিরাবণের (Cortex) বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকে। হিপোক্যাম্পাস এই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অংশগুলোকে একত্রিত করে।
    হিপোক্যাম্পাসের  3D  চিত্র
    হিপোক্যাম্পাসের থ্রিডি চিত্র; Source: Deutsches Ärzteblatt

    ইমোরি ইউনিভার্সিটি ইন আটলান্টার গবেষক প্যাট্রিসিয়া বাওয়ার বলেন,

    আপনি যদি আপনার কর্টেক্সকে ফুলের বিছানা মনে করেন, সেখানে মাথার উপরিভাগ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুল আপনার এপিসোডিক মেমোরি, আর ব্রেনের ঠিক মাঝখানে সুন্দরভাবে গোটানো হিপোক্যাম্পাস ঐ ফুলগুলোকে টেনে এনে একটা ফুলের তোড়া বেঁধে দেয়।

    মস্তিষ্কের  উপরিভাগে এপিসোডিক মেমোরির অবস্থান এবং হিপোক্যাম্পাসের দ্বারা একত্রীকরণ
    মস্তিষ্কের  উপরিভাগে এপিসোডিক মেমোরির অবস্থান এবং হিপোক্যাম্পাসের দ্বারা একত্রীকরণ; Source: semanticscholar.org

    ২-৪ বছরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এপিসোডিক মেমোরি গঠন হয় কম, কারণ ঐ সময়ে হিপোক্যাম্পাস পরিপূর্ণভাবে গঠিত হয় না, আর কোনোকিছু মেমোরিতে  জমা হতে হলে তাকে অবশ্যই হিপোক্যাম্পাসের মধ্যে গঠিত হতে হয়। এ বয়সে হিপোক্যাম্পাস খন্ডগুলোকে জমা করার কাজ শুরু করে।

    হিপোক্যাম্পাস ব্রেনের একমাত্র অংশ যেটা মানুষের জন্মের পর থেকে নতুন নিউরন উৎপাদন চালিয়ে যেতে থাকে পূর্ণবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত, যেখানে ব্রেনের অন্যান্য অংশগুলোর শুধু পরিবর্তন আর বিকাশ ঘটতে থাকে।

    বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শৈশবে দ্রুত নিউরন উৎপাদনের হার আমাদের বয়স বাড়ার সাথে আগের কথা ভুলিয়ে দিতে পারে। কারন যত নিউরন উৎপাদন ঘটে তত নতুন কানেকশন বাড়তে থাকে মেমোরি সার্কিটের সাথে এবং নতুন নিউরনগুলোর অধিক নেটওয়ার্কিং আগের গঠিত মেমোরি প্রকাশে বাঁধা দেয়।

    বিভিন্ন গবেষণা বলে। এই নিউরন উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি চালিত হয় পূর্বের মেমোরি, যেগুলো এই উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যহত করতে পারে, তা ভুলে যাওয়ার মাধ্যমে। তাই কৈশোরে পৌঁছার আগপর্যন্ত শিশু অবস্থায় আমাদের ব্রেন পূর্বের স্মৃতি পুরোপুরি ধরে রাখতে পারে না এবং খুব ছোটবেলার ঘটনা ধারণে একেবারেই অক্ষম হয়।

    ২) ভাব প্রকাশের অক্ষমতা: আপনি এমন কোনো বিষয়ের স্মৃতিচারণ করতে পারবেন না যদি সেটা আপনার স্মৃতি বা মেমোরিতেই না থাকে। আর বাক্যে প্রকাশ ছাড়া আমরা কি কোনো ঘটনা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারি?

    অনেক সাইকোলোজিস্ট মনে করেন, আত্মজীবনীমূলক স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষমতা আসে ভাব প্রকাশের মাধ্যমেই।

    শিশুদের কোনো ঘটনা বর্ণনা করার মতো শব্দভান্ডার থাকে না, তাই তারা কার্যকরণসম্বন্ধীয় কোনো ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারে না। এবং শিশুদের নিজেদের সম্বন্ধে সেরকম ধারণা থাকে না যা তাদেরকে ভাবতে অনুপ্রাণিত করতে পারত যে অভিজ্ঞতাগুলোও তাদের জীবনের গল্পের অংশ।

    মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ডের সাইকোলজিস্ট ক্যারল পিটারসন এটাকেই সামাজিক স্মৃতি ধরে রাখতে না পারার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    নোরা নিউকম্ব, ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটির সাইকোলোজির প্রফেসর, এর ভাষ্যমতে, “এপিসোডিক মেমোরি হয়তো একটি শিশুর জন্য অপ্রয়োজনীয় এবং জটিল, যখন সে মাত্রই শিখতে শুরু করছে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্বন্ধে।” তিনি আরও বলেন,

    আমি মনে করি, প্রথম দুই বছরের প্রাথমিক লক্ষ্যই হলো ভাষার অর্থসংক্রান্ত জ্ঞান (Semantic memory) আহরণ করা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, এপিসোডিক মেমরি আসলে হয়তো একটি চিত্তবিক্ষেপ (Distraction)।

    শৈশবের স্মৃতি উদ্ধার সম্ভব কি না

    আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা সেরকম মনে না থাকলেও, ছোটবেলার অনেক ঘটনা আমাদের আচরণে প্রভাব ফেলে। তাহলে সেই অভিজ্ঞতা কিংবা স্মৃতি কি পুনরুদ্ধার সম্ভব? 

    সেইন্ট জন’স ইউনিভার্সিটিতে মেমরি এন্ড লার্নিং নিয়ে গবেষণারত জেফরি ফেগেন বলেন, “আর্লি চাইল্ডহুডের মেমরিগুলো হয়তো কোথাও সংরক্ষিত আছে যা এখন অপ্রাপ্য, কিন্তু এর প্রায়োগিক ব্যাখ্যা করাটাও কঠিন।”    এটাই হয়তো ব্যাখ্যা করতে পারে কেন আগের কোনো মানসিক আঘাত প্রভাব ফেলতে পারে প্রাপ্তবস্কদের আচরণে এবং ভবিষ্যতে মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
    শৈশবের বৈরী অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে
    শৈশবের বৈরী অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে; Source: thriveglobal.com

    কোন ঘটনার যত বেশি স্মৃতিচারণ হয় তত বেশি তা মনে থাকে। বড়দেরই সময়ের সাথে অনেক তথ্য, ঘটনা বা স্মৃতি হারিয়ে যায় যদি তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো না হয়। তাই ছোটবেলার এই স্মৃতিবিলোপকে আমাদের জীবনের এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই বলা চলে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  16. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    সর্বগ্রাসী দাবানল কেন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আগুনের আবিষ্কার ও ব্যবহার গোটা মানবসভ্যতার ইতিহাসকেই প্রভাবিত করেছে। আগুনকে প্রাচীনকাল থেকেই ক্ষমতা ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। আর এটি কোনো ভুল নয়। আগুনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক কিছু করা যায়। কিন্তু এই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তার ক্ষমতার আসল রূপটি দেখা যায়। সেটি পরিণত হয়বিস্তারিত পড়ুন

    আগুনের আবিষ্কার ও ব্যবহার গোটা মানবসভ্যতার ইতিহাসকেই প্রভাবিত করেছে। আগুনকে প্রাচীনকাল থেকেই ক্ষমতা ও পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। আর এটি কোনো ভুল নয়। আগুনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক কিছু করা যায়। কিন্তু এই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তার ক্ষমতার আসল রূপটি দেখা যায়। সেটি পরিণত হয় এক ভয়াবহ দানবে।

    সম্প্রতি আমাদের দেশে কিছু ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গেছে। যেকোনো অগ্নিকাণ্ডেই কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও যথোপযুক্ত প্রস্তুতি ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে একে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। কিন্তু দাবানল এমন এক ঘটনা, যেটি একবার ছড়িয়ে পড়লে একে নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার, এবং এর ব্যপ্তি ও স্থায়িত্বকাল অনেক বেশি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও হয় অনেক বেশি।

    দাবানলের আগুন শতশত মাইল জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে; Image courtesy: Wildfire Service Photo

    উৎপত্তি

    দাবানলের শুরুটা সাধারণত শুষ্ক বনভূমি বা ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ এলাকা থেকেই হয়। কোনোভাবে এরকম একটি জায়গায় আগুন লাগলে আর কিছু বিষয় মিলে গেলে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়া শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।

    প্রাকৃতিকভাবে সাধারণত দুটি উপায়ে দাবানল শুরু হতে পারে; (১) যদি কোনো শুষ্ক বনভূমির উপর বজ্রপাত হয়, (২) কোনো আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভা অথবা বিভিন্ন পদার্থের জ্বলন্ত টুকরা থেকে। এরপর সেটি পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুসারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    তবে সাম্প্রতিককালে মানবসৃষ্ট কারণেই দাবানল বেশি ঘটে থাকে। ধারণা করা হয়, বর্তমানে ৮৪% ক্ষেত্রেই বিভিন্ন মানবসৃষ্ট কারণে দাবানল সংঘটিত হয়ে থাকে। মানবসৃষ্ট কতশত কারণ যে আছে, তার ইয়ত্তা নেই। তবে কিছু কিছু কারণ চিহ্নিত করা যায়। যেমন:

    (১) আতশ-বাজি ফাটানোর সময় যদি এর জ্বলন্ত অংশ কোনো শুকনো ঘাস-পাতা কিংবা গাছের উপর পড়ে, সেটি থেকে শুরু হতে পারে দাবানল।

    (২) লাইটার বা দিয়াশলাই এর অসতর্ক ব্যবহার। অনেকসময় বাচ্চারা হাতে লাইটার বা দিয়াশলাই পেলে সেটি নিয়ে খেলা করতে গিয়ে দাবানলের সূচনা করতে পারে। আবার বড়দের দ্বারাও অসতর্কতার কারণে ঘটতে পারে এমন দুর্ঘটনা।

    জলন্ত সিগারেট  বহু দুর্ঘটনার কারণ © Myriam Zilles / Pixabay 
    (৩) সিগারেটের জ্বলন্ত বাট। ধূমপান করে সিগারেটের অবশিষ্ট অংশটুকু ভালো করে না নিভিয়েই অনেকে সেটি ছুঁড়ে ফেলে দেন। এর কারণে ইতিহাসে অনেক বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এটি দাবানলেরও কারণ হতে পারে।

    (৪) ক্যাম্পফায়ার। অনেকেই বনে-বাঁদাড়ে অ্যাডভেঞ্চার করতে গিয়ে তাবুতে থাকেন এবং তাবুর সামনে শুকনো কাঠ বা লাকড়ি ব্যবহার করে আগুন জ্বালান (ক্যাম্পফায়ার)। এসব আগুন ঠিকমতো নেভানো না হলে তা থেকেই দাবানল শুরু হতে পারে।

    (৫) রেললাইন এর আশেপাশে বা লাইন ঘেঁষেই থাকতে পারে ঘাসজাতীয় কিছু উদ্ভিদ। প্রচণ্ড গরমে সেগুলো শুকিয়ে গেলে সহজেই সেগুলোতে আগুন লেগে যেতে পারে। এক্ষেত্রে আগুনের সূচনা হতে পারে ট্রেন চলার সময় চাকার সাথে লাইনের ঘর্ষণের ফলে সৃষ্ট স্ফূলিঙ্গ থেকে।

    (৬) কেউ যদি রাস্তার পাশে শুষ্ক ঘাসে পরিপূর্ণ এলাকায় একটি কাঁচের গ্লাস, বোতল বা এধরনের কোনোকিছু ছুঁড়ে ফেলে, তাহলে সেটিও হতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ। কাঁচের মধ্য দিয়ে সূর্যালোক বিশেষভাবে প্রতিসরিত হয়ে আগুন লেগে যেতে পারে এবং আপাতদৃষ্টিতে অতি ক্ষুদ্র এ ঘটনা ডেকে আনতে পারে মহাবিপদ।

    শৈশবে অনেকেই ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে সূর্যালোককে অভিসারী বা একত্রিত করে শুকনো, ঘাস, কাগজ বা দিয়াশলাইয়ের বারুদে আগুন লাগানোর খেলাটি খেলতেন। ফেলে রাখা কাঁচের মধ্য দিয়েও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই ঘটে যেতে পারে এ ধরনের ঘটনা; Image source: storiesofourboys.com
    (৭) জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে কৃষিজমির পরিমাণ বাড়ছে না। তাই কৃষিজমি বাড়ানোর উপায় হলো বন-ভূমি নিধন করা। পৃথিবীর বহু অঞ্চলেই এ কাজটি সহজে করার জন্য একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বনভূমিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। সে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে দাবানল শুরু হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

    (৮) ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগ। শুনতে অস্বাভাবিক লাগলেও এটিকে দাবানলের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাঝেমধ্যে কিছু মানুষ উদ্দেশ্যমূলকভাবেই দাবানলের সূচনা করেন বলে ধারণা করা হয়। এর অনেকগুলো কারণের মাঝে একটি হতে পারে, ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের সম্পদ নষ্ট করে বীমা কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ আদায় করা।

    এগুলো ছাড়াও আরো অসংখ্য মানবসৃষ্ট কারণ থাকতে পারে, যেগুলোর কথা হয়তো আমরা স্বাভাবিকভাবে ভাবতেও পারি না।

    অপ্রতিরোধ্য দুর্যোগ

    দাবানলকে বন্যা বা ঘুরনিঝড়ের চেয়েও ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কেননা এগুলোর পূর্বাভাস দেওয়া যায়, এবং সচেতন থাকলে এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়। কিন্তু এগুলো দাবানলের ক্ষেত্রে খাটে না। দাবানলকে অল্পকথায় ‘অপ্রতিরোধ্য’ ও ‘সর্বগ্রাসী’ শব্দ দিয়ে বর্ণনা করার চেষ্টা করা যেতে পারে। একে থামানোর কোনো উপায় নেই এবং এটি যে অঞ্চলকে অতিক্রম করে যায়, আক্ষরিক অর্থেই সেখানে কোনোকিছু অবশিষ্ট থাকে না।

    দাবানল যে অঞ্চল দিয়ে যায়, সেখানে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট থাকে না © Jeff Chiu/AP via Yahoo!News
    দাবানলের প্রভাব কমানোর জন্য কিছু প্রচেষ্টা চালানো হয়। যেমন- আগুন যেদিকে অগ্রসর হচ্ছে, সে অঞ্চলের কিছু গাছপালা ও ঝোপঝাড় ইচ্ছাকৃত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে পুড়িয়ে ফেলা হয় যেন দাবানল ততটুকু পর্যন্ত গিয়ে আর এগোতে না পারে। আবার, দাবানল শহরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকলে তার গতিপথে অগ্নিনির্বাপক বা অগ্নিপ্রতিরোধক রাসায়নিক পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুনের তীব্রতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। এ রাসায়নিক পদার্থগুলো গাছপালা বা অন্যান্য জ্বালানীর সাথে মিশে বিক্রিয়া করে সেগুলোর দাহ্যতা কমিয়ে দেয়।

    বিমান থেকে অগ্নিপ্রতিরোধক রাসায়নিক ফেলা হচ্ছে © Associated Press via HuffPost
    তবে দাবানলের বিশাল আকৃতি ও শক্তির কাছে এ প্রচেষ্টাগুলো বড়ই ক্ষীণ ও অক্ষম। এ প্রচেষ্টা বড়োজোর দাবানল ছড়িয়ে পড়ার গতিকে কমিয়ে দিতে পারে, থামাতে পারে না। মানুষকে অসহায়ের মতো অপেক্ষা করতে হয় কখন প্রাকৃতিকভাবেই এ দুর্যোগটি থেমে যাবে। অনেকেই ভাবতে পারেন, দাবানল হয়তোবা কোনো নদী বা জলাশয়ের পাড়ে এসে থেমে যেতে পারে। এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়, আগুনের এক অদ্ভূত ক্ষমতা আছে নদীর মতো বিশাল বাধা পাড়ি দেওয়ার!

    যখন নদীর একপাশে তীব্রভাবে আগুন জ্বলতে থাকে, তখন সেখানকার বাতাস হালকা হয়ে তীব্রবেগে উপরের দিকে উঠে যায়। উঠে যাওয়ার সময় ছাইসহ সেখানকার বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ, যেমন- পাতা, ডালের টুকরা, কাগজ বা অন্য কোনোকিছুর অসংখ্য জ্বলন্ত টুকরা সাথে নিয়ে যায়। সেগুলো যখন নদীর অপর পাড়ে গিয়ে পড়ে, তখন সেখানে শুরু হতে পারে নতুন দাবানল।

    আগুনের লেলিহান শিখা অনেক জ্বলন্ত টুকরাকে আকাশে ছুঁড়ে দেয়, সেগুলো কোথাও পতিত হয়ে অগ্নিকান্ড বা দাবানলের সূচনা করতে পারে; © Ionas Nicolae / Pixabay

    দাবানলকে আমরা কতটা বুঝি

    যেকোনো দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর জন্য সেটির প্রকৃতি ভালোমতো বোঝা প্রয়োজন। বিগত এক দশকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বড় পরিসরে অনেকগুলো দাবানলের ঘটনা ঘটে গেছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের মধ্যভাগ থেকে শুরু হয়ে শেষভাগ পর্যন্ত চলা ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলের ঘটনাটি স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দাবানল। সে বছর ক্যালিফোর্নিয়ায় বিছিন্নভাবে প্রায় সাড়ে আট হাজারটিরও বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে এবং শেষপর্যন্ত সেগুলো বিভিন্ন স্থানে মিলিত হয়ে বড় আকার ধারণ করেছ। ফলে প্রায় পুরো বছরই মার্কিন সরকারকে এই দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে।

    এ দাবানলগুলো প্রায় ৮০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রায় ৮৫ জন মানুষ নিহত হয়েছিলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাবটা প্রাথমিকভাবেই ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগেও মানুষ দুর্যোগের কাছে কতটা অসহায়; বিশেষ করে দুর্যোগটা যখন দাবানল।

    স্যাটেলাইট থেকে দেখা ক্যালিফোর্নিয়ার সেই ভয়াবহ দাবানল © Joshua Stevens/NASA Earth Observatory
    এ ধরনের ঘটনাগুলোর কারণে বিভিন্ন দেশের সরকার ও গবেষণা সংস্থার টনক নড়েছে। বিগত এক দশকে দাবানল নিয়ে গবেষণার পরিমাণ ও বিনিয়োগ বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দাবানলের বৈজ্ঞানিক মডেল বা সফটওয়্যার তৈরি করার চেষ্টা করছে। সেইসাথে প্রচেষ্টা চলছে এসব মডেলের সাথে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ঘটানোর। এই মডেলগুলোর উল্লেখযোগ্য দিক হলো এগুলোর সাহায্যে দাবানল সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে, দাবানল শুরু হলে সেটির ছড়িয়ে পড়ার হার ও দিক অনুমান করা যাবে এবং এর স্থায়িত্ব ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে পূর্বেই আভাস পাওয়া যাবে। তবে এ রকম একটি মডেল পুরোপুরি কার্যকর হবে না। কেননা, এই মডেলটিতে ইনপুট হিসেবে যেসব তথ্য জোগান দিতে হবে, সেগুলো খুবই পরিবর্তনশীল এবং যেকোনো একটি ছোটখাট ব্যাপারের পরিবর্তন পুরো ঘটনাকেই ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে।

    গবেষকরা দাবানল সৃষ্টি হওয়ার পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে কয়েকটি প্রভাবকের কথা জানতে পেরেছেন। যেমন, দীর্ঘদিন যাবত অধিক তাপমাত্রা, তুলনামূলক কম আর্দ্রতা, বজ্রপাতের আধিক্য, খরা এবং অধিক পরিমাণ পুরোনো ও শুষ্ক বনভূমির উপস্থিতি একটি অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তোলে।

    খরার সময়ে শুষ্ক বনাঞ্চল দাবানলের ঝুঁকিতে থাকে; Image source: yapdryforests.weebly.com
    আবার, দাবানল একবার তৈরি হয়ে গেলে সেটি কোনদিকে বিস্তৃত হবে, তা অনুমান করা খুবই কঠিন। সবসময় বাতাসের দিকেই যে তার বিস্তার ঘটবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, বিপরীতটাও ঘটতে দেখা যায়। আবার একদমই ঝড়ো বাতাসের উপস্থিতি ছাড়াই দ্রুত দাবানল ছড়িয়ে পড়ার মতো নজিরও আছে।

    আগুনের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি যখন বৃহৎ আকার ধারণ করে, তখন সে তার আশেপাশে এমন পরিবেশ তৈরি করে নেয়, যেন আগুন সহজেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন- দাবানলের ফলে যে তাপের সৃষ্টি হয়, তা আশেপাশের পরিবেশে থাকা পদার্থসমূহের দাহ্যতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, ফলে সহজেই সেগুলোতে আগুন ধরে যায়।

    আবার, আগুন যেখানে জ্বলছে, সেখানকার বাতাসকে হালকা করে তুলছে, অর্থাৎ ঘনত্ব কমিয়ে দিয়ে উপরের দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তাই আশেপাশের অঞ্চল থেকে সেদিকে বাতাস ছুটে গিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করছে এবং একইসাথে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে অক্সিজেন, যা আগুনকে আরো জ্বলতে সাহায্য করছে।। আবার এই বাতাসের প্রবাহ আগুনকে ছড়িয়ে পড়তেও সহায়তা করছে। এভাবে প্রক্রিয়াটি চক্রাকারে চলতেই থাকে আর আগুন বাড়তে থাকে।

    বৃহৎ পরিসরে দাবানল কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে, সেটা নিয়ে যেমন গবেষণা হচ্ছে, তেমনি ক্ষুদ্র পরিসরে দাবানলের আগুন কীভাবে একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটি কীভাবে রোধ করা যায়, তা নিয়েও করা হচ্ছে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। স্বাভাবিকভাবে মনে হতে পারে, বয়স্ক ও শুষ্ক উদ্ভিদের তুলনায় সবুজ ও কঁচি ডালপালাযুক্ত উদ্ভিদ কম দাহ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, পাইন জাতীয় ও চিরহরিৎ জাতের কিছু উদ্ভিদ শুষ্ক না হলেও ভালো জ্বালানী হিসেবে কাজ করে। কেননা, এদের কাণ্ডে বিশেষ প্রকার তেল সঞ্চিত থাকে, যা প্রকারান্তে এদেরকে আরো দাহ্য করে তোলে। তবে সবুজ উদ্ভিদগুলো শুধুমাত্র দাবানল ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখতে পারে, দাবানল শুরুর ক্ষেত্রে নয়।

    পাইন জাতীয় উদ্ভিদের বনে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে আগুন; Image source: wallpaperplay.com
    বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনও ঘন ঘন দাবানল সংঘটনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। তাপমাত্রার সামান্যতম বৃদ্ধিও বিভিন্ন অঞ্চলের আর্দ্রতা ও বনভূমির শুষ্কতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। সেইসাথে তাপমাত্রা নিজেই একটা প্রভাবক। এছাড়া, সমতলের তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন আরো অসংখ্য প্রভাবক নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

    দাবানল ও বাস্তুসংস্থান

    স্বাভাবিকভাবে দাবানল প্রাকৃতিক ভারসাম্যেরই একটা অংশ। কিন্তু কীভাবে? অনেকভাবেই তা হতে পারে। ধরুন, একটা অঞ্চলের পুরোটা বনভূমি জুড়ে বেশিরভাগই পুরোনো গাছপালা। আমরা জানি, বৃহৎ আকারের উদ্ভিদের আয়ু মোটামুটি অনেক বেশি হয়। অর্থাৎ এমন একটা বনভূমিতে বেশিরভাগ গাছপালাই হয়তো কয়েকশো বছরের পুরোনো। দাবানলের ফলে যখন সেসব গাছপালা পুড়ে যায়, তখন সেখানে নতুন গাছ গজানোর সুযোগ পায়।

    সে নতুন গাছগুলো শত বছরের পুরোনো উদ্ভিদগুলোর তুলনায় পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে অধিক পরিমাণ অভিযোজিত হয়। তারা এই কয়েকশো বছরে বদলে যাওয়া পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হয় অনেক বেশি, তারা তুলনামূলক প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থেকে ফুল-ফল উৎপাদন ও বংশবিস্তার করতে পারে। অর্থাৎ বদলে যাওয়া ও দূষিত হয়ে উঠা পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য এরা অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন হয়।

    এছাড়া বহু বছর ধরে যখন একটি ভূমিতে বনাঞ্চল গড়ে উঠে, তখন সে ভূমির উপরিতল বড় উদ্ভিদের ডালপালা ও পাতায় ছেয়ে যায়। ফলে সেখানকার মাটি ও মাটিতে থাকা ছোট উদ্ভিদগুলো পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না বড় হবার জন্য। তার উপর দীর্ঘদিন এই প্রক্রিয়া চলার ফলে বিনষ্ট হতে পারে মাটির গুণাগুণ। তাই দাবানলের পর সেখানকার মাটি পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এবং সেখানে নতুন করে ছোটবড় বিচিত্র প্রজাতির উদ্ভিদ জন্মে। ফলে মাটির উর্বরতা ফিরে আসে। এছাড়াও দাবানলে একটি বনভূমির জন্য ক্ষতিকর অথবা সংখ্যায় মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যাওয়া কীট-পতঙ্গের মৃত্যু ঘটে। ফলে বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা হয় এবং নতুন করে আরো শক্তিশালী বাস্তুসংস্থান গড়ে উঠে। এর ফলে যে নতুন বনাঞ্চল তৈরি হয়, তাতে দাবানল সংঘটিত হওয়ার আশংকা অনেক কম থাকে।

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে দাবানলের পর নতুন করে গড়ে উঠা বনভূমি; Image source: swfireconsortium.org
    প্রকৃতপক্ষে দাবানল ঠেকানোর কোনো উপায় নেই; এর হাত থেকে বাঁচতে হলে উপদ্রুত এলাকার মানুষ ও মূল্যবান সামগ্রীগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তবে যেহেতু দাবানলের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষই দায়ী, তাই সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি রোধ করাই সবচেয়ে শ্রেয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

    ভবিষ্যতে দাবানলকে নিয়ন্ত্রণ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। তবে সামনের দিনগুলোতে যদি দাবানল সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা এবং এর গতি-প্রকৃতি পূর্বানুমান করার জন্য উপযুক্ত কোনো মডেল তৈরি করা যায়, তাহলে হয়তো যথাসময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে কমিয়ে আনা যাবে। এ কাজটি আপাতদৃষ্টিতে দুঃসাধ্য মনে হলেও মানুষের প্রচেষ্টা থেমে নেই।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  17. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

    অ্যাপেন্ডিসাইটিস: কী, কেন এবং কীভাবে হয় ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ‘সার্ফেস মার্কিং’ নামক একটি পরীক্ষা হয়ে থাকে। এই পরীক্ষাতে একজন শিক্ষার্থীকে জীবিত মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গ, ধমনী, শিরা কিংবা স্নায়ু এঁকে দেখাতে বলা হয়। প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো শরীরের যেখানে থাকে প্রায় হুবহু সেভাবে এঁকে দেখাতে পারে।বিস্তারিত পড়ুন

    চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ‘সার্ফেস মার্কিং’ নামক একটি পরীক্ষা হয়ে থাকে। এই পরীক্ষাতে একজন শিক্ষার্থীকে জীবিত মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গ, ধমনী, শিরা কিংবা স্নায়ু এঁকে দেখাতে বলা হয়। প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো শরীরের যেখানে থাকে প্রায় হুবহু সেভাবে এঁকে দেখাতে পারে। চলচ্চিত্রে অপারেশন থিয়েটারের কোনো দৃশ্যে দেখে থাকবেন আপনারা, অপারেশনের শুরুতেই মার্কার দিয়ে কিছু জায়গা চিহ্নিত করা হয়, এগুলো হচ্ছে অপারেশনের নিয়ম। কোথায় কীভাবে কাটতে হবে, একজন সার্জন ভালোমতোই জানেন।

    জীবিত মানুষের বুকে অঙ্কিত রয়েছে হৃৎপিণ্ড। এমনিভাবে শরীরের সকল অঙ্গ, ধমনী, শিরা, স্নায়ু সবকিছু চিহ্নিত করা যায়; Source: web.duke.edu

    ম্যাকবার্নি’স পয়েন্ট (McBurney’s Point) নামক একটি জায়গা রয়েছে মানুষের শরীরে, এই বিন্দুতে কাটা হলেই মাংসপেশী সরানোর পর অ্যাপেন্ডিক্স পাওয়া যাবে। দেখা যাবে, ছোট্ট একটি থলির ন্যায় বাড়তি অংশ সিকামের (বৃহদান্ত্রের একটি অংশ) সাথে জুড়ে আছে।

    ১ নম্বর পয়েন্টটি হলো ম্যাকবার্নি’স পয়েন্ট; Source: Wikimedia Commons

    উপরের ছবিতে ১ নম্বর পয়েন্টটি হলো ম্যাকবার্নি’স পয়েন্ট। আপনি কোমর বরাবর হাত দিয়ে দেখুন, দু’পাশে দুটি জায়গাতে শক্ত হাড়ের উপস্থিতি টের পাবেন। Ilium নামক হাড়ের একটি অংশ এটি, একে বলা হয় Anterior Superior Iliac Spine। ৩ নম্বর পয়েন্টটি হলো এই Anterior Superior Iliac Spine। ২ নম্বর পয়েন্টটি দেয়া হয় একদম নাভীতে। ২ আর ৩ নম্বরকে সংযুক্ত করে একটি লম্বা রেখা আঁকা হয়, এই রেখাকে যদি উপরে দুই ভাগ আর নিচে এক ভাগ রেখে বিভক্ত করা হয়, তবেই আমরা পাবো ১ নম্বর পয়েন্ট তথা ম্যাকবার্নি’স পয়েন্ট।

    অ্যাপেন্ডিক্স এর ব্যাসার্ধ ৭-৮ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে সাধারণত, আর দৈর্ঘ্য হয় ২-২০ সেন্টিমিটার। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অ্যাপেন্ডিক্স ৯ সেন্টিমিটার হয়। এছাড়াও অ্যাপেন্ডিক্সের অবস্থান অনুযায়ী এর বিভিন্ন ধরনও রয়েছে। সাধারণত তলপেটের ডান পাশে অবস্থান করে অ্যাপেন্ডিক্স, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Right Iliac Fossa নামে ডাকা হয়।

    অবস্থানভেদে অ্যাপেন্ডিক্সের বিভিন্ন ধরন; Source: jcol.elsevier.es

    সিকামের সাথে যুক্ত ছোট্ট থলিটিই হলো অ্যাপেন্ডিক্স; Source: news-medical.net

    আমাদের দেহে অ্যাপেন্ডিক্স কোন দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে, সেই ব্যাপারে এখনো নিশ্চিতভাবে বের করা যায়নি। একে ধারণা করা হয় ভেস্টিজিয়াল র‍্যামনেন্ট হিসেবে। র‍্যামনেন্ট হলো শরীরের এমন একটি অংশ যা গর্ভে থাকা অবস্থায় কোনো এক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলো, কিন্তু জন্মের পর আর কোনো কাজ নেই তার, একটি অবশিষ্টাংশ হিসেবে দেহে রয়ে গেছে। দেহের কিছু লিগামেন্টও র‍্যামনেন্ট হিসেবে তৈরি হয়েছে। দেহের সবচেয়ে চাক্ষুষ র‍্যামনেন্ট হলো আমাদের নাভী (আম্বিলিকাস), এই নাভী আম্বিলিক্যাল কর্ডের র‍্যামনেন্ট। আর ভেস্টিজিয়াল র‍্যামনেন্ট বলা হয় সেসব অংশকে যা বিবর্তনের মাধ্যমে তার দায়িত্ব হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের পূর্ব পুরুষদের কোনো একসময় হয়তো খাদ্য পরিপাকে এর প্রয়োজনীয়তা ছিলো, দিন দিন বিবর্তনে এই অ্যাপেন্ডিক্স ছোট হয়ে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে এবং র‍্যামনেন্ট হিসেবে দেহে রয়ে গিয়েছে। মানবদেহে এমন ভেস্টিজিয়াল র‍্যামনেন্টের নাম প্রায় একশোটি বলা যাবে।

    আম্বিলিক্যাল কর্ড, যার সাহায্য গর্ভাবস্থায় সন্তান মায়ের প্লাসেন্টার সাথে যুক্ত থাকে; Source: open.edu

    তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, দেহের কিছু লিম্ফয়েড কোষ অ্যাপেন্ডিক্সে রয়েছে, যার দরুন অ্যাপেন্ডিক্স ইনফেকশনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলায় সাহায্য করতে পারে। একটি সময় ছিলো, যখন সার্জনরা কোনো সার্জারির উদ্দেশ্যে কারো পেট কাটলে, এমনি অ্যাপেন্ডিক্স কেটে ফেলে দিতেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা তৈরি না করতে পারে। তবে পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, অ্যাপেন্ডিক্সবিহীন ব্যক্তিদের ক্যান্সার হবার ঝুঁকি খানিকটা বেড়ে যায়। ২০০৬ সালের পর থেকে তাই এমন ফ্রি অপারেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    অ্যাপেন্ডিক্স কেটে দেহ থেকে সরিয়ে ফেলা খুবই সাধারণ একটি অপারেশন। এই অপারেশনটির নাম হলো অ্যাপেন্ডেকটোমি, আর সমস্যাটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয়ে থাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস। মানুষ প্রায়ই বলে থাকে, অমুকের অ্যাপেন্ডিক্স হয়েছে, এখানে শব্দের প্রয়োগটি ভুল। শরীরের এই অংশটির নাম অ্যাপেন্ডিক্স, কিন্তু এতে যখন ব্যাকটেরিয়াল আক্রমণ ঘটে, প্রদাহ (জ্বলুনি) শুরু হয়, তখন একে বলা হয় অ্যাপেন্ডিসাইটিস। ঠিক সেই মুহূর্তেই দেহের অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যাথা শুরু হয়, ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে, একসময় অসহ্য হয়ে দেখা দেয়। অ্যাপেন্ডেকটোমি ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না তখন।

    ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে প্রদাহ সৃষ্টি হয় অ্যাপেন্ডিক্সে, এতে করে অ্যাপেন্ডিক্স ফুলতে শুরু করে; Source: news-medical.net

    এখানে একটি মজার ব্যাপার রয়েছে, অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যাথাটা হয়ে থাকে সাধারণত রেফার্ড পেইন (Referred Pain) হিসেবে। এক স্থানের ব্যথার অনুভূতি তৈরি হয় অন্য স্থানে। কম-বেশি সকলেরই ঠাণ্ডা লেগেছে নিশ্চয়ই, নাক-গলাতে ব্যথার বদলে সামান্য ব্যথা হয় কানে, লক্ষ্য করে দেখবেন। এটাও একধরনের রেফার্ড পেইন। আমাদের স্পাইনাল কর্ডের বিভিন্ন অংশ রয়েছে পুরো মেরুদণ্ড জুড়ে, এই অংশগুলোর নামকরণ করা হয়েছে মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলোর নামে। অ্যাপেন্ডিক্সের স্নায়বিক অনুভূতি মস্তিষ্কে বহন করে থাকে দশম থোরাসিক স্পাইনাল সেগমেন্টটি।

    স্পাইনাল কর্ডের সবগুলো সেগমেন্ট, কশেরুকার নামে নামকরণ করা হয় প্রতিটি সেগমেন্টের; Source: humananatomylibrary.com

    Regions of Anterior Abdominal Wall; Source: web.duke.edu

    দশম থোরাসিক সেগমেন্টটি একইসাথে আবার আম্বিলিক্যাল রিজিওনের অনুভূতি মস্তিষ্কে বহন করে থাকে। পেটকে মানচিত্রের গ্রিডের ন্যায় নয়টি রিজিওনে ভাগ করা হয়ে থাকে অপারেশনের সময় অঙ্গগুলোকে খুঁজে বের করার সুবিধার্থে। নাভী ও নাভীর চার পার্শ্বস্থ বর্গাকার অল্প অংশকে আম্বিলিক্যাল রিজিওন বলা হয়।

    অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা তাহলে সবসময় অনুভূত হবে নাভীর চারপাশের দিকে, তবে আবার নাভীর দিকে ব্যথা করলেই ভয় পেয়ে যাবেন না আপনার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে ভেবে। দশম থোরাসিক স্পাইনাল সেগমেন্ট আরো অনেক অঙ্গের অনুভূতি বহন করে থাকে।

    খাদ্যের পরিপাক সমস্তই সম্পন্ন হয়ে যায় ক্ষুদ্রান্ত্রে, পরিপাক না হওয়া অংশই ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে বৃহদান্ত্রে প্রবেশ করে। বৃহদান্ত্রের প্রথম অংশই হলো সিকাম। সিকাম একটি থলির মতো, এই সিকাম থেকে অপরিপাককৃত খাদ্যাংশ উপরের দিকে কোলনে প্রবেশ করবে। পেরিস্ট্যালসিসের মাধ্যমে এমনটি হয়ে থাকে, পেরিস্ট্যালসিস ছাড়াও অনেক ধরনের মুভমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে আমাদের দেহের পরিপাকতন্ত্রের। এই মুভমেন্টগুলো খাবারকে পুরো পরিপাকতন্ত্র ঘুরে বেড়াতে সহায়তা করে। অভিকর্ষের টানে সিকামের নিচের দিকে সংযুক্ত অ্যাপেন্ডিক্সে খাদ্যাংশ যখন প্রবেশ করতে যায়, অ্যাপেন্ডিক্সের মাংসপেশি তখন সংকুচিত হয়ে একটি ধাক্কার মতো তৈরি করে দেয়, এর দরুন অ্যাপেন্ডিক্সের দিকে ধাবিত খাদ্যাংশ উপরের দিকে কোলনে প্রবেশ করে।

    সিকাম আর অ্যাপেন্ডিক্সের সংযোগস্থলে একটি ছিদ্রসদৃশ অংশ রয়েছে, এতে যদি অল্প পরিমাণে খাদ্যাংশ জমা হয়ে যায়, একসময় জমতে জমতে ছিদ্রটি বন্ধ হয়ে যায়, তখন ভেতরে থাকা কোনোকিছু আর বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে না। এভাবেই শুরু হয় প্রদাহ, প্রদাহ বাড়তে শুরু করে, ব্যাকটেরিয়াও বাড়তে শুরু করে। সরু নালীর মতো অ্যাপেন্ডিক্স তখন ফুলে উঠতে থাকে। যদি অ্যাপেন্ডেকটোমি সময়মতো করা না হয়, একসময় অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে বেরিয়ে আসে ভেতরের সমস্ত কিছু। পেটের ফাঁকা স্থানগুলোর সব জায়গায় তখন সমস্ত ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে।

    আপনার শরীরের ছোটখাট একটি অংশ, যা প্রায় কার্যক্ষমতাবিহীন; সেটিও আপনার এত বড় ক্ষতি করতে সক্ষম। তাই সচেতনতা তৈরি করুন, অ্যাপেন্ডিসাইটিসকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করুন।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  18. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    ঘূর্ণিঝড়ের হরেক নামকরণ করা হয় কেনো?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    মনে আছে ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এর তাণ্ডবের কথা? ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ আঘাত হানে। সরকারি হিসেবে প্রায় ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায় খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় আঘাত হানা প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়। এরপর গত ১৩ বছরে প্রায় ৬২টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরবিস্তারিত পড়ুন

    মনে আছে ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এর তাণ্ডবের কথা? ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ আঘাত হানে। সরকারি হিসেবে প্রায় ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায় খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় আঘাত হানা প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়। এরপর গত ১৩ বছরে প্রায় ৬২টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। এদের প্রত্যেকের একেকটি নির্দিষ্ট নাম ছিল।

    নামকরণের ভাবনা কেন?

    ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের চর্চা কয়েকশো বছর আগেই শুরু হয়। নামকরণের কারণ হিসেবে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ওয়েবসাইট বলছে, নামকরণের ফলে ঝড়গুলো দ্রুত শনাক্ত করে সে অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়। তাছাড়া, সবরকম ব্যবস্থাতেই সংখ্যা অথবা প্রযুক্তিগত শর্তের চেয়ে নাম মনে রাখাটাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অনেকেই সম্মত হন যে, ঝড়ের সাথে নাম যুক্ত করায় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষে প্রতিবেদন করা আরও সহজ করে দেয়, সতর্কতার প্রতি আগ্রহ বাড়ায় এবং সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এটা বেশ সহায়ক।


    সাইক্লোন সিডর; Image Courtesy: Wikimedia Commons
     

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম সময়ে দ্রুত যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রদত্ত নামগুলোর ব্যবহার পুরোনো জটিল অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ শনাক্তকরণ পদ্ধতির তুলনায় অনেকাংশেই সুবিধা দেয়। এই সুবিধাগুলো বিশেষত কয়েক শতাধিক বিস্তৃত স্টেশন, উপকূলীয় ঘাঁটি এবং সমুদ্রের জাহাজগুলোর মধ্যে বিশদ ঝড়ের তথ্য বিনিময় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ঝড়ের নাম দেওয়া থাকলে কাছাকাছি সময়ে সৃষ্টি হওয়া একের অধিক ঝড়ের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঝামেলা পোহাতে হয় না।

    নামকরণের ইতিহাস

    শুরুতে ঝড়ের নাম রাখায় কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হতো না। তারপরে গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ঝড়ের জন্য নারীসূচক নাম ব্যবহারের অনুশীলন শুরু হয়েছিল। ইভান রে টানেহিল তার লেখা বই দ্য হারিকেনে অস্ট্রেলিয়ান আবহাওয়াবিদ ক্লিমেন্ট রেগের নাম উল্লেখ করেন, যিনি ঊনিশ শতকের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য ব্যক্তিবিশেষের নাম দেয়া শুরু করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের জন্য তিনি গ্রিক বর্ণমালা, গ্রিক এবং রোমান পৌরাণিক তত্ত্ব ও নারীসূচক নাম ব্যবহার করতেন।

    ১৯৭৭ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা হারিকেন (আটলান্টিক মহাসাগর এলাকা তথা আমেরিকার আশেপাশে ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটারের বেশি হয়, তখন জনগণকে এর ভয়াবহতা বোঝাতে ‘হারিকেন’ নামে অভিহিত করা হয়) কমিটি গঠন করে। এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয় ১৯৭৮ সালের মে মাসে। বৈঠকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব পায় এই কমিটি।

    ১৯৭৮ সাল থেকে এই কমিটির সিদ্ধান্তে পূর্ব-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঝড়ের তালিকায় মতো নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের নাম ব্যবহার শুরু হয়। পরের বছর মেক্সিকো এবং আটলান্টিক উপসাগরীয় অঞ্চলেও পুরুষদের নাম ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে বার্ষিক ও দ্বিবার্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিশ্বব্যাপী পাঁচটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় আঞ্চলিক সংস্থা বা প্যানেল কর্তৃক ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ব জুড়ে ঘূর্ণিঝড় নামকরণে দশটি আলাদা অঞ্চলে বিভক্ত রয়েছে:

    ১. ক্যারিবিয়ান সাগর, মেক্সিকো উপসাগর এবং উত্তর আটলান্টিক
    ২. পূর্ব-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর
    ৩. মধ্য-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর
    ৪. পশ্চিম-উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন
    ৫. অস্ট্রেলিয়ান ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত
    ৬. আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র নাদি’র আওতাভুক্ত, ওয়েলিংটন
    ৭. মরেসবি বন্দর ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত, পাপুয়া নিউগিনি
    ৮. জাকার্তার ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত
    ৯. উত্তর ভারত মহাসাগরের আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর
    ১০. দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগর

    উপমহাদেশে নামকরণ

    ভারতীয় উপমহাদেশ ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোয় সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় বঙ্গোপসাগর থেকে। এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রচলন শুরু হয় ২০০৪ সালে।

    ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি আঞ্চলিক সংস্থা বা প্যানেলের একটি হচ্ছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা- জাতিসংঘ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন। ২০০০ সালে ওমানে এই প্যানেলের ২৭তম বৈঠকে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৪ সালে আটটি সদস্য দেশের (বাংলাদেশ,  ভারত, মালদ্বীপ,  মায়ানমার,  ওমান, পাকিস্তান,  শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড) প্যানেলের মাধ্যমে নামকরণ শুরু হয়।


    ২০০৪ সালের নামের তালিকা; Courtesy : WMO 

    সে সময় আটটি দেশ থেকে আটটি করে মোট ৬৪টি নামের তালিকা করা হয়। বাংলাদেশ যে আটটি নাম দিয়েছিল, সেগুলো হচ্ছে অনিল, অগ্নি,  নিশা, গিরি, হেলেন, চপলা, অক্ষি ও ফণী। পরবর্তী সময়ে আরও পাঁচটি দেশ এই প্যানেলের সদস্য হয়। এগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান ও ইয়েমেন। বাংলাদেশে ২০০৭ সালে প্রথম নামকরণকৃত ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। সিডর নামে আঘাত হানা প্রলয়কারী সেই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

    নামকরণের বিষয়টি সমন্বয় করে ভারতের দিল্লির ‘রিজিওনাল স্পেশালাইজড মেটেরিওলজিক্যাল সেন্টার’ (আরএসএমসি)। আরএসএমসি তার সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে নামের তালিকা চেয়ে থাকে। তালিকা পেলে দীর্ঘ সময় যাচাই-বাছাই করে সংক্ষিপ্ত তালিকা করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার কাছে পাঠানো হয় অনুমোদনের জন্য। এই প্যানেলের নামকরণে বেশ কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়। প্যানেল সদস্যদের তালিকা হয় ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে।

    এজন্য বাংলাদেশ এই তালিকায় প্রথমে আছে। প্রত্যেক দেশ থেকে নামের তালিকা থেকে একটি করে নাম নিয়ে কলাম তৈরি করা হয়। নামকরণ করা শুরু হয় এই কলামে থাকা ওপরের নামটি দিয়ে। এভাবে একটি কলাম শেষ হলে পরের কলাম থেকে নামকরণ করা হয়। একটি নাম শুধুমাত্র একবারই ব্যবহার করা যায়। দক্ষিণ চীন সমুদ্র থেকে যদি কোনো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় হিসাবে বঙ্গোপসাগরে আসে, তবে আগে থেকে নাম দেয়া থাকলে নতুন করে আর নামকরণ করা হয় না।

    নতুন ১৬৯ নাম

    ২০০৪ সালে ৬৪টি ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা করার পর এখন পর্যন্ত আর তালিকা করার প্রয়োজন পড়েনি। তালিকার সর্বশেষে থাকা থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম ‘আম্ফান’ ২০২০ সালের মে মাসের শুরুতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে মায়ানমার ও বাংলাদেশের কক্সবাজার–চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে আঘাত হানতে পারে। তালিকায় নাম শেষ হয়ে যাওয়ায় গত এপ্রিলে সদস্য ১৩টি দেশ থেকে ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নতুন নামের তালিকা করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।


    নতুন নামের তালিকা; Courtesy: WMO 

    বাংলাদেশ যে ১৩ টি নাম দিয়েছে, সেগুলো হলো নিসর্গ, বিপর্যয়, অর্ণব, উপকূল, বর্ষণ, রজনী, নিশীথ, ঊর্মি, মেঘলা, সমীরণ, প্রতিকূল, সরোবর ও মহানিশা। আম্ফানের পর বাংলাদেশের দেওয়া নাম ‘নিসর্গ’ই হবে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  19. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    গণিতের যোগ, বিয়োগ, গুন ও ভাগ চিহ্ন এলো কীভাবে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    গণিত হচ্ছে বিশ্বের ভাষা। তাই আপনি যত বেশি সমীকরণ জানবেন, তত বেশি মহাজগতের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।- নিল ডিগ্রেস টাইসন শুধু মার্কিন এই জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী নন, পৃথিবীর অনেক বিজ্ঞানীই গণিত নিয়ে করে গেছেন এমন অনেক উক্তি। না করেই বা উপায় কী? আসলেই তো আমরা সবাই প্রাত্যহিক জীবনে গণিত ছাড়া অচল। এই যেমন,বিস্তারিত পড়ুন

    গণিত হচ্ছে বিশ্বের ভাষা। তাই আপনি যত বেশি সমীকরণ জানবেন, তত বেশি মহাজগতের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।- নিল ডিগ্রেস টাইসন

    শুধু মার্কিন এই জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী নন, পৃথিবীর অনেক বিজ্ঞানীই গণিত নিয়ে করে গেছেন এমন অনেক উক্তি। না করেই বা উপায় কী? আসলেই তো আমরা সবাই প্রাত্যহিক জীবনে গণিত ছাড়া অচল। এই যেমন, সকালে কখন ঘুম থেকে উঠবেন, সেটাও ঠিক করেন সংখ্যা দিয়ে। ঘুম থেকে উঠে প্রথমে কী কাজ করবেন, দ্বিতীয় কাজ কী হবে; এই ‘প্রথম’, ‘দ্বিতীয়’ও গণিতের অংশ। এই গণিতের ইতিহাস সুবিশাল। তবে আজকের গল্পটা গণিতকে নিয়ে না, গণিতের একটি অংশ নিয়ে; ‘গাণিতিক চিহ্ন’ নামেই তার পরিচয়।
    What to look for in the new MYP mathematics course | IB Community Blog
    গণিতের চিহ্ন অগণিত; Image Source: IB Community Blog
    গণিতের এ অংশের সদস্য সংখ্যা মোটেও কম না। যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ, সমান, বর্গমূল, পাই, বন্ধনী, সমানুপাতিক, ব্যস্তানুপাতিক আরও কত কী! চিহ্নের প্রচলনের অনেক আগেও সে চিহ্নের যে কাজ, তার প্রচলন ছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়াটি কথায় লিখে প্রকাশ করতে সময় ও শ্রম দুটিই বেশি প্রয়োজন হতো। তাই সময় অপচয় রোধের উদ্দেশ্যেই চিহ্নের ব্যবহার শুরু। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, ২ ও ৩ এর যোগ করতে আমরা কত সহজেই লিখে ফেলি ‘২ + ৩’। কিন্তু যখন এই যোগ চিহ্নের উৎপত্তি হয়নি, তখন লিখতে হতো, ‘২ এর সাথে ৩ যোগ করো’।

    আবার ‘২ + ৩’ এর ফলাফল ৫, যা আমরা সহজেই প্রকাশ করতে পারি ২ + ৩ = ৫ লিখে। কিন্তু যখন পর্যন্ত ‘সমান’ চিহ্নের উৎপত্তি হয়নি, তখন এর পরিবর্তে লিখতে হতো ‘ইজ ইকুয়ালস টু’, যা অপেক্ষাকৃত সময়সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল। তাই ওয়েলসের গণিতজ্ঞ রবার্ট রেকর্ড তার বই ‘দ্য ওয়েটস্টোন অব উইট’ লিখতে গিয়ে প্রচলন ঘটালের সমান (=) চিহ্নের। এবার তবে আলাদা আলাদা করে চিহ্নদের গল্প করা যাক।

    যোগ

    দুই বা ততোধিক সংখ্যাকে একসাথে গণনা করতে যে চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তা-ই যোগ চিহ্ন। আরও বাড়ানোর নিমিত্তেই যোগ করার প্রক্রিয়া। যোগ শব্দের আগমন ল্যাটিন শব্দ Plus থেকে, যার অর্থ ‘আরও’। ল্যাটিন ‘Et’ থেকে & (And)-এর আগমন। এই ‘and’ এর পরিবর্তেই ‘+’ চিহ্ন ব্যবহার করা শুরু হয়। যতদূর জানা যায়, যোগ চিহ্ন হিসেবে ‘+’ এর ব্যবহার শুরু হয় চতুর্দশ শতাব্দীতে। নিকোলাস ওরেসমে তার ‘অ্যালগোরিসমাস প্রোপোর্শনাম’-এ প্রথমবার ‘+’ চিহ্ন ব্যবহার করেন বলে জানা যায়। তবে সে সময়েই এটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে, এমনটা নয়। অনেকেই আরও অন্য অনেক ধরনের প্রতীক ব্যবহার করতেন। যেমন, ইতালিয় গণিতবিদ ‘লুকা প্যাসিওলি’ যোগ বোঝাতে ব্যবহার করতেন ইংরেজি ‘p’ এর উপর একটি ছোট দাগ দিয়ে। ‘+’ চিহ্নের প্রচলন ব্যপকভাবে ঘটে জোহানেস উইডম্যান নামক জার্মান গণিতবিদ তার ‘মার্সেন্টাইল অ্যারিথমেটিক’ বইয়ে এ চিহ্ন ব্যবহার করলে।

    লুকা প্যাসিওলির ব্যবহৃত চিহ্ন; Image Credit: Author
     

    বিয়োগ

    বাদ দেওয়াকেই বিয়োগ বোঝায়। ‘বিয়োগ’ শব্দের উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ ‘minus’ থেকে, যার অর্থ ‘less’ বা কম। লুকাস প্যাসিওলি যোগের মতো বিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু ‘p’-এর স্থলে ‘m’ ব্যবহার করতেন। তবে বিয়োগ চিহ্ন হিসেবে ‘–‘ এর ব্যবহার ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট জানা যায় না। খুব সম্ভবত চতুর্দশ শতাব্দীতেই যোগের সাথে বিয়োগেরও উৎপত্তি। বিয়োগ ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে ‘মার্সেন্টাইল অ্যারিথমেটিক’ বইয়ে এর ব্যবহারের পরেই। উল্লেখ্য, ইংরেজদের কাছে যোগ এবং বিয়োগ চিহ্ন প্রথম তুলে ধরেন রবার্ট রেকর্ড’ তার বই ‘দ্য ওয়েটস্টোন অব উইট’-এ ব্যবহারের মাধ্যমে।

    এখন শুধু +, – চিহ্ন ব্যবহৃত হয়; Source: Walls Haven
     

    গুন

    (×) কিংবা (.); বর্তমান সময়ে গুন বোঝাতে এই দুটি চিহ্নই বহুল ব্যবহৃত। যদিও দ্বিতীয়টির ডট প্রোডাক্ট হিসেবে আলাদা ব্যবহার আছে, তবে প্রথমটিই অধিক ব্যবহৃত হয় সাধারণ গুন বুঝাতে। এ চিহ্নের ব্যবহার শুরু হয় ষোড়শ শতাব্দীতে। বলা হয়ে থাকে, ইংরেজ গণিতবিদ উইলিয়াম অটরেড সর্বপ্রথম এ চিহ্নের ব্যবহার করেন। তবে ঠিক কী কারণে এটির মাধ্যমেই গুন প্রক্রিয়াকে চিহ্নায়িত করা হয়, তা নিশ্চিত নয়। বলা হয়ে থাকে, তিনি সেন্ট এন্ড্রু ক্রস থেকে এর ব্যবহার করেন।

    আবার অনেকেরই ধারণা, যেহেতু গুন মূলত অনেক বড় যোগ প্রক্রিয়াকেই সহজতর করেছে, তাই যোগ চিহ্নকেই আড়াআড়িভাবে ব্যবহার করে গুন চিহ্নের ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। তবে এটি ইংরেজি ‘x’-এর সাথে মিলে যাওয়ায় জার্মান দার্শনিক ও গণিতবিদ গটফ্রিড এ চিহ্নকে প্রত্যাখ্যান করে শুধু একটি ডট ব্যবহার করেন, যা এখনো অনেকটাই প্রচলিত।

    ভাগ

    ভাগ চিহ্ন হিসেবে আমরা অনেক চিহ্নের ব্যবহারই দেখে থাকি এই একবিংশ শতাব্দীতেও। এদের মধ্যে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে ‘÷’, ‘/’, ‘x) y (z’ এবং ‘।’; সবশেষে উল্লেখ করা ধরনটির ব্যবহারই হয়তো সবার আগে শুরু হয়েছে, আনুমানিক ত্রয়োদশ শতাব্দীরও আগে। তবে ব্যবহারে ব্যাপকতা লাভ করে ষোড়শ শতাব্দীতে এসে। এটি সামনে আনে আরবীয়রা, এবং পরবর্তী সময়ে ইয়োরোপীয় গণিতবিদ ফিবোনাচ্চি এটি ব্যবহার করেন ষোড়শ শতাব্দী। ‘/’ চিহ্ন দিয়ে ভাগ বোঝানো শুরু হয় ১৮৪৫ সালে ডি মরগানের হাত ধরে।

    তবে বহুল প্রচলিত ভাগ চিহ্ন (÷)-এর ব্যবহার প্রথমবার করেন সুইস গণিতবিদ জোহান রাহন, ১৬৫৯ সালে তার Teutsche Algebra নামক বইতে। যদিও এই চিহ্নটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই বর্তমানে। ভাগ চিহ্ন হিসেবে ‘/’-এর ব্যবহারই বর্তমান সময়ে আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত।

    ভাগ চিহ্নের ব্যবহার; Image Source: Teutsche Algebra

    সমান

    ১৫৫৭ সালে ওয়েলসের গণিতবিদ রবার্ট রেকর্ড তার বই ‘দ্য ওয়েটস্টোন অব উইট’ লিখেছিলেন তার ইংরেজ ছাত্রদের জন্য। সে বইয়ে উনি বারবার ‘is equals to’ লিখতে লিখতে বিরক্ত বোধ করার ফলে দু’টি সমান, আনুভূমিক এবং সমান্তরাল দাগ (=) ব্যবহার করেন, যা পরবর্তী সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় এবং এখনো ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কেউ কেউ তখন দু’টি উল্লম্ব সমান ও সমান্তরাল দাগকেও সমান চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তবে ‘=’ চিহ্নটিই অধিক গ্রহণযোগ্যতা পায়।

    রবার্ট রেকর্ডের বই থেকে; Image Source: The Whetstone of Witte
    যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ এবং সমান চিহ্নের উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করা আপাতত শেষ, তবে গণিতের চিহ্ন আছে আরও অগণিত। সেসবের কয়েকটি নিয়ে খানিক কথা বলে শেষ করা যাক।

    ব্রিটিশ জন ওয়ালিস ১৬৫৫ সালে অসীম বা ইনফিনিটি চিহ্ন প্রথম ব্যবহার করেন। ১৭০৬ সালে পাই চিহ্নের (π) চিহ্নের প্রচলন ঘটান উইলিয়াম জোনস। ১৫২৫ সালে রুডলফ সামনে আনেন স্কোয়ার রুট বা বর্গমূল চিহ্নকে। বীজগণিতের প্রথম জার্মান পাঠ্যবই তারই লেখা। sin, cos, tan এর ব্যবহার শুরু করেন ইউলার, সময়কাল ১৭৪৮ থেকে ১৭৫৩। ১৮০৮ সালে ক্র্যাম্প ফ্যাক্টোরিয়াল চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন ‘!’-কে।
    √ | square root | Times New Roman, Regular @ Graphemica
    স্কোয়ার রুট বা বর্গমূল চিহ্ন; Image Source: Graphemica
    এভাবেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অগণিত মানুষের হাত ধরে বিবর্তিত হয়ে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে এসকল গাণিতিক চিহ্ন। এসব চিহ্ন আমাদের জীবনযাত্রাকে করেছে সহজতর। আর বিশ্বব্যাপী এখনো একই চিহ্নকে আদর্শ হিসেবে ব্যবহার করতে কাজ করে যাচ্ছে আইএসও বা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অভ স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  20. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    হাবল টেলিস্কোপ কি কাজে ব্যবহৃত হয়?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    মহাকাশের বিচিত্র অনবদ্য ছবি দেখে মুগ্ধ হয় না, এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহ থাকুক বা না থাকুক, মহাকাশের এসব চিত্তাকর্ষক দৃশ্য দেখে মুগ্ধ না হয়ে সত্যিই পারা যায় না। আজ কথা হবে মহাকাশের এসব হৃদয়গ্রাহী দৃশ্য ধারণের পেছনের যন্ত্রটি নিয়ে। জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য নামটি নিঃসন্দেহে অতবিস্তারিত পড়ুন

    মহাকাশের বিচিত্র অনবদ্য ছবি দেখে মুগ্ধ হয় না, এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহ থাকুক বা না থাকুক, মহাকাশের এসব চিত্তাকর্ষক দৃশ্য দেখে মুগ্ধ না হয়ে সত্যিই পারা যায় না। আজ কথা হবে মহাকাশের এসব হৃদয়গ্রাহী দৃশ্য ধারণের পেছনের যন্ত্রটি নিয়ে। জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য নামটি নিঃসন্দেহে অতি পরিচিত। চমকপ্রদ এই যন্ত্রের নাম ‘হাবল টেলিস্কোপ’। এই টেলিস্কোপ গ্রহ-উপগ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথের দৃশ্য ধারণ করে থাকে। হাবল টেলিস্কোপ নক্ষত্রের জন্ম হতে দেখেছে, নক্ষত্রকে মৃত্যুবরণ করতে দেখেছে, বহু দূরবর্তী ছায়াপথের দৃশ্য মুঠোয় এনে দিয়েছে, ধূমকেতুকে খণ্ড খণ্ড হয়ে যেতে দেখেছে, এবং সেই সাথে আরও অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে।

    তবে এর নিজের ইতিহাসটা কী? কীভাবে উদ্ভাবিত হয়েছিল এই টেলিস্কোপ? কীভাবেই বা এটি ধারণ করে থাকে সুদূর মহাকাশের বিচিত্র চিত্র? আজকে সেই গল্পটাও আপনাদের জানানো হবে।

    এর ভিত্তি মূলত গড়ে তুলেছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিও। অনেকেই নিশ্চয়ই গ্যালিলিওর স্পাইগ্লাসের কথা শুনে থাকবেন। স্পাইগ্লাসের উদ্ভাবক গ্যালিলিও না হলেও এর কার্যক্রমের উন্নতিসাধন ও ব্যবহারে তার অবদান কম নয়। সহজ ভাষায়, স্পাইগ্লাস এমন একটি যন্ত্র, যা দূরবর্তী বস্তুকে কাছে থেকে দেখতে সহায়তা করে। ১৬১০ সালের দিকে গ্যালিলিও যখন স্পাইগ্লাস নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন তিনি শনির বলয়ের চিত্র টেলিস্কোপে ধরতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন।
    Galelio
    আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে গ্যালিলিওর অবদান স্মরণীয়; Image Source: Biography.com  
    অপটিকসের উন্নতির সাথে সাথে ধীরে ধীরে গ্রহ-নক্ষত্রের চিত্রধারণেরও উন্নতি ঘটে। কিন্তু বহুদিন ধরে একটি সমস্যা থেকে যায়। আমাদের পৃথিবীকে ঘিরে যে বায়ুমণ্ডল রয়েছে, তা মহাকাশ থেকে আগত আলোকে বাধা দেয়ার কারণে সুনিপুণভাবে চিত্রধারণ সম্ভব হচ্ছিল না। এ সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজন ছিল এমন একটি টেলিস্কোপ, যা ভূমিতে অবস্থিত টেলিস্কোপগুলোর সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে সক্ষম। ১৯৬৪ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পর, জ্যোতির্বিদ লাইম্যান স্পিটজার এমন একটি টেলিস্কোপ উদ্ভাবনের প্রস্তাবনা দেন। তবে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অভ সায়েন্স থেকে সমর্থন পেতে এ প্রস্তাবনার কয়েক দশকের মতো সময় লেগে যায়। ১৯৬৯ সালে সংস্থাটি স্পেস টেলিস্কোপের রূপরেখা প্রদান করে এবং এর নির্মাণের নির্দেশনা দেয়।

    এদিকে আমাদের অতি সুপরিচিত সংস্থা নাসা থেকেও এর জন্য পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। অবশেষে ১৯৭১ সালে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অভ সায়েন্সের প্রশাসক জর্জ ল স্পেস টেলিস্কোপ টিমকে প্রস্তাবনার বাস্তবায়নের জন্য অনুমতি দেন এবং নাসা শীঘ্রই এ প্রচেষ্টার জন্য অর্থ তহবিলের তদবির করে। এ ব্যয়বহুল প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রথমদিকে অনেক বাধার সম্মুখীন হয়। পরবর্তীকালে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ও কংগ্রেসের প্রচেষ্টায় আর্থিক সংকটের সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়। কিন্তু সমস্যা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছিল না। ১৯৮৬ সালে স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জারের ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাতজন নভোচারীর মৃত্যু হয়।

    Image source: AP
    এ ঘটনার কারণে টেলিস্কোপের প্রকল্প আরও পিছিয়ে পড়ে। কেননা, শাটল ফ্লাইট আবার শুরু না করা পর্যন্ত টেলিস্কোপের প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে স্পেস শাটলের উদ্ভাবনের মাধ্যমে ১৯৯০ সালের ২৪ এপ্রিল, পৃথিবীর সর্বপ্রথম স্পেস টেলিস্কোপের অবতারণা হয়।
    space shuttle
    Image Source: space.com 
    যা-ই হোক, প্রথম প্রচেষ্টাতেই কিন্তু মহাকাশের নিখুঁত চিত্রধারণ করা যায়নি। যন্ত্রপাতির বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ধারণকৃত ছবিগুলো ছিল ঝাপসা। এর পেছনে মূল কারণ ছিল লেন্সের ত্রুটি। ১৯৯৩ সালে স্পেস শাটল সাতজনের একটি দলকে এ সমস্যা দূর করার জন্য পাঁচদিনের একটি মহাকাশযাত্রায় পাঠায়। এ সময় ওয়াইল্ড ফিল্ড প্ল্যানেটরি-২ সহ আরও দুটি নতুন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে হাবল টেলিস্কোপ থেকে নতুন ছবি তোলা হয়, যেগুলো ছিল অত্যন্ত নিখুঁত ও চমকপ্রদ। এরপর থেকে সৌরজগতের বিভিন্ন চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করেছে হাবল টেলিস্কোপ।
    Milky way
    হাবল টেলিস্কোপের তোলা মিল্কিওয়ের ছবি; Image Source: scitechdaily.com 
    হাবল টেলিস্কোপ ভূমিতে অবস্থিত অন্যান্য টেলিস্কোপের থেকে আলাদা নানা কারণেই। টেলিস্কোপটি দৈর্ঘ্যে প্রায় একটি স্কুল বাসের মতো, এবং ওজনে প্রায় দুটি হাতির সমতুল্য! বায়ুমণ্ডলের বাধাকে অতিক্রম করে এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বে আবর্তন করতে সক্ষম। একটি ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে এই টেলিস্কোপ চিত্র ধারণ করে। পরে রেডিও কম্পাঙ্কের মাধ্যমে এসব চিত্র পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়।
    Snow angel
    হাবল টেলিস্কোপের চোখে ‘স্নো এঞ্জেল’; Image Source: space.com 

    এডউইন হাবল

    প্রকৃতপক্ষে হাবল টেলিস্কোপের নামকরণ করা হয়েছে একজন ব্যক্তির নামে। তাহলে নিশ্চয়ই এমন কারও নামে করা হয়েছে, যিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানে কোনো বিশাল অবদান রেখে গিয়েছিলেন? ঠিক তা-ই। এর নামকরণ করা হয়েছে আমেরিকান জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবলের নামানুসারে। হাবলকে আধুনিক কসমোলজির জনক বলা হয়। একসময় এমন ধারণা প্রচলিত ছিল যে, আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ ‘মিল্কিওয়ে’ ব্যতীত অন্য কোনো ছায়াপথের অস্তিত্ব নেই। মহাকাশের নেবুলাকে সুনিপুণভাবে পর্যবেক্ষণ করে হাবল এ ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেন। তিনি দেখিয়েছেন, মহাকাশ আমাদের কল্পনার চেয়েও বহু দূর বিস্তৃত।
    Hyperaxion.com
    হাবল টেলিস্কোপের তোলা নেবুলার ছবি; Image Source: hyperaxion.com   
    আফসোসের ব্যাপার এ-ই যে, জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশাল অবদান রাখার পরও তিনি নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হতে পারেননি। তবে মহাকাশের বিচিত্র চিত্র ধারণকারী যন্ত্রটি আজ এডউইন হাবলের নামানুসারে উচ্চারিত হচ্ছে, এখানেই তার বিরাট সার্থকতা।
    Edwin Hubble
    এডউইন হাবল; Image Source: Britannica

    যেভাবে কাজ করে হাবল

    হাবল টেলিস্কোপের নির্মাণের ইতিহাস তো জানা হলো। এখন পাঠকের নিশ্চয়ই জানার কৌতূহল হচ্ছে, কীভাবে এই টেলিস্কোপ কাজ করে? যারা জটিল বৈজ্ঞানিক জিনিসপত্র দেখলে ঘাবড়ে যান, তাদের ভয় পাবার কিছু নেই। এখানে মূলত টেলিস্কোপের প্রাথমিক কার্যকলাপ নিয়েই আলোচনা করা হবে।

    প্রতি ৯৭ মিনিটে হাবল টেলিস্কোপ চার কিলোমিটার/সেকেন্ড বেগে পৃথিবীকে একবার আবর্তন সম্পন্ন করে, যা ১০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রকে একবার প্রদক্ষিণ করার সমতুল্য। এই টেলিস্কোপ মূলত সৌরশক্তি দ্বারা পরিচালিত। ঘূর্ণনের সময় টেলিস্কোপটির দর্পণ আলো ধারণ করে এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে তড়িৎরূপে এই আলো প্রেরণ করে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক দর্পণে আলো আঘাত করে, যা পরবর্তী দর্পণে বাধা পেয়ে একটি ছিদ্রের মধ্য দিয়ে অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে এ আলোকে প্রেরণ করে। প্রতিটি যন্ত্রই ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য নিযুক্ত।

    যন্ত্রপাতি

    ১) ওয়াইল্ড ফিল্ড ক্যামেরা: অতিবেগুনী, দৃশ্যমান এবং অবলোহিত রশ্মির অঞ্চলের আলো দেখতে পায়। ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার, নক্ষত্রের জন্ম, ছায়াপথ গবেষণায় সহায়তা করে।

    ২) কসমিক অরিজিন্স স্পেকটোগ্রাফস: অতিবেগুনী রশ্মি শনাক্ত করতে পারে; প্রিজমের ন্যায় আচরণ করে ভিন্ন ভিন্ন আলো শনাক্ত করতে পারে।

    ৩) অ্যাডভান্সড ক্যামেরা ফর সার্ভে: দৃশ্যমান আলো দেখতে পারে, সৌরজগতের অপেক্ষাকৃত পূর্ববর্তী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে সহায়তা করে।

    ৪) স্পেস টেলিস্কোপ ইমেজিং স্পেকটোগ্রাফ: তিন ধরনের আলোই দেখতে পারে এবং ব্ল্যাকহোল গবেষণায় সহায়ক।

    ৫) নিয়ার ইনফ্রারেড ক্যামেরা অ্যান্ড মাল্টি অবজেক্ট স্পেকট্রোমিটার: হিট সেন্সর হিসেবে কাজ করে। ইন্টারস্টেলার ডাস্ট দিয়ে ঘেরা বস্তু দেখতে সহায়তা করে।

    ৬) ফাইন গাইডেন্স সেন্টার: মূলত নক্ষত্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং নক্ষত্রের গতি মাপতে সহায়ক।
     hubble telescope instruments
    হাবল  টেলিস্কোপের যন্ত্রপাতি; Image Source: spacetelescope.org   

    পৃথিবীতে যেভাবে পৌঁছায় ছবি

    একটি অ্যান্টেনার মাধ্যমে এসব তথ্য রেডিও কম্পাঙ্ক আকারে সংগৃহীত হয়। এ কাজে নিযুক্ত প্রকৌশলীরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিস্কোপের সাথে যোগাযোগ সম্পন্ন করেন এবং বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এর জন্য মূলত দুটি প্রধান কম্পিউটার নিযুক্ত থাকে। এর মধ্যে একটি নির্দেশনা পরিচালনা করে এবং আরেকটি তথ্য সংগ্রহ ও প্রেরণের কাজ করে থাকে। অর্থাৎ, বিশাল যান্ত্রিক সমন্বয় ও কর্মীদের বাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয় এ টেলিস্কোপের কার্যক্রম।

    ২০০৯ সালে জ্যোতির্বিদরা পঞ্চমবারের মতো হাবল টেলিস্কোপ পরিদর্শনে যাত্রা করেন এবং এতে নতুন যন্ত্রপাতি ও ক্যামেরা স্থাপন করেন। ২০২০ সালে টেলিস্কোপটির বয়স হলো ৩০ বছর, এবং এটি এখনও মহাকাশের চিত্তাকর্ষক চিত্র ধারণ করতে সক্ষম। তবে নাসা ‘জেমস ওয়েব’ নামের আরও অধিক উন্নতমানের একটি স্পেস টেলিস্কোপ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। সেটি হাবল টেলিস্কোপের স্থান দখল করবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে হাবল টেলিস্কোপ যে বিশাল অবদান রেখেছে এবং এটি যে মহাকাশ গবেষণায় একটি মাইলফলকের নাম, তা নিঃসন্দেহে স্বীকার করতেই হবে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
1 … 3 4 5 6 7 … 20

Sidebar

লগ ইন করুন
  • জনপ্রিয়
  • উত্তর
  • Mithun

    নির্মাণকাজে মরুভূমির বালু কেন ব্যবহার করা হয়না?

    • 12 টি উত্তর
  • Hina Khan

    Is Telegram MOD APK safe to use? What are the ...

    • 9 টি উত্তর
  • shanto

    ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন, লাইসেন্সের অনলাইন কপি ডাউনলোড, লাইসেন্স হয়েছে ...

    • 8 টি উত্তর
  • Admin

    নতুন ক্যাটাগরি "SEO" যুক্ত হলো আড্ডাবাজে!

    • 7 টি উত্তর
  • Mahmudul

    একটি ঘোর লাগানো ছবি দেখাতে পারবেন কি?

    • 6 টি উত্তর
  • Jesmin
    Jesmin একটি উত্তর দিয়েছেন HSC ২০২৬ পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ২… এপ্রিল 27, 2026, সময়ঃ 2:01 অপরাহ্ন
  • Sinclair
    Sinclair একটি উত্তর দিয়েছেন When shopping for best sex dolls, most buyers tend to… এপ্রিল 17, 2026, সময়ঃ 3:10 পূর্বাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন হ্যাঁ, Bestchange.com থেকে নিশ্চিতভাবে আয় করা সম্ভব। এটি মূলত একটি… এপ্রিল 15, 2026, সময়ঃ 2:13 অপরাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন প্রশ্নোত্তর প্রদানের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার বিষয়টি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়… এপ্রিল 14, 2026, সময়ঃ 2:11 পূর্বাহ্ন
  • সুমনা
    সুমনা একটি উত্তর দিয়েছেন এসইও (SEO) এর ক্ষেত্রে ব্যাকলিংক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।… এপ্রিল 14, 2026, সময়ঃ 1:59 পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় গ্রুপ

  • মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    • 4 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 106 বার প্রদর্শিত
  • CT Game Review

    CT Game Review

    • 3 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 1,049 বার প্রদর্শিত
  • Earn Money

    • 3 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 155 বার প্রদর্শিত
  • Knowledge World

    Knowledge World

    • 3 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 116 বার প্রদর্শিত
  • Crazy Time Fun

    Crazy Time Fun

    • 2 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 77 বার প্রদর্শিত

চলতি মাসের সেরা ইউজার

Iyasha

Iyasha

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
SA Samim

SA Samim

  • 13 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
এডিটর
sumi

sumi

  • 20 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
লগ ইন করুন

Explore

  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

Footer

AddaBuzz.net

আড্ডাবাজ একটি সামাজিক প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিন। যেখানে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একে অপরের জ্ঞান আদান-প্রদান হয়। প্রশ্ন করুন, উত্তর দিন, জ্ঞান ভাগাভাগি করুন।

Adv 234x60

aalan

আমাদের সম্পর্কিত

  • আমাদের টিম
  • আমাদের লক্ষ্য

লিগ্যাল স্টাফ

  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions
  • Data Deletion Instructions

সাহায্য

  • Knowledge Base
  • Contact us

আমাদের ফলো করুন

© 2026 AddaBuzz. All Rights Reserved
With Love by AddaBuzz.net

✕
🔔 নোটিফিকেশন চালু করুন নতুন প্রশ্নোত্তর ও ব্লগ আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন