সাইন আপ করুন সাইন আপ করুন

সাইন আপ করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে


আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

লগ ইন করুন লগ ইন করুন

লগিন করুন

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

কোন একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন

রিসেট পাসওয়ার্ড

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন? আপনার ইমেইল এড্রেস দিন। ইমেইলের মাধ্যমে আপনি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরির লিংক পেয়ে যাবেন।

আগে থেকেই একাউন্ট আছে? এখনি লগ ইন করুন

দুঃক্ষিত, প্রশ্ন করার অনুমতি আপনার নেই, প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে.

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

প্রশ্ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে লগ ইন করতে হবে।

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

দুঃক্ষিত, ব্লগ লেখার অনুমতি আপনার নেই। লেখক হতে হলে addabuzzauthor@gmail.com ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে অনুমতি নিন। (Sorry, you do not have permission to add post. Please send a request mail to addabuzzauthor@gmail.com for giving permission.)

জিমেইল থেকে লগইন করুন
অথবা আড্ডাবাজ একাউন্ট থেকে

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একাউন্ট নেই? এখানে সাইন আপ করুন

আপনি কেন মনে করছেন এই প্রশ্নটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই উত্তরটি রিপোর্ট করা উচিৎ?

আপনি কেন মনে করছেন এই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করা উচিৎ?

সাইন ইনসাইন আপ

AddaBuzz.net

AddaBuzz.net Logo AddaBuzz.net Logo

AddaBuzz.net Navigation

  • হোমপেজ
  • ব্লগ
  • ইউজার
  • যোগাযোগ
সার্চ করুন
একটি প্রশ্ন করুন

Mobile menu

Close
একটি প্রশ্ন করুন
  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

ashad khandaker

সবজান্তা
প্রশ্ন করুন ashad khandaker
526 বার প্রদর্শিত
2 ফলোয়ার
2,496 প্রশ্ন
হোমপেজ/ ashad khandaker/উত্তর
অ্যাপ ইন্সটল করুন
  • সম্পর্কিত
  • প্রশ্ন
  • উত্তর
  • অনুরোধের প্রশ্ন
  • সেরা উত্তর
  • পছন্দ তালিকা
  • ফলোকৃত প্রশ্ন
  • ফলোয়ার
  • ফলো করছেন
  • জরিপ
  • ব্লগ
  • ব্লগ মন্তব্য
  • ফলোকৃতদের প্রশ্ন
  • ফলোকৃতদের উত্তর
  • ফলোয়ারদের ব্লগ
  • ফলোকৃত/ফলোয়ারদের ব্লগ মন্তব্য
  1. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    কি কারণে মশাকে প্রাণীদেহের রক্ত শুষে নিতে হয় ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    বাংলায় একটি সুন্দর প্রবাদ রয়েছে, ‘মশা মারতে কামান দাগানো’। আপনি মশা মারতে কামানের ব্যবস্থা করুন আর না-ই করুন, মশারা কিন্তু কামড়ানো ছাড়বে না। প্রাণীর ত্বকে কামড়ানোটাই তাদের জৈবিক চাহিদা, বংশবৃদ্ধির মূলমন্ত্র। মানুষসহ কোনো প্রাণীই চায় না তার প্রজাতি সামনের দিকে না এগিয়ে বিলীন হয়ে যাক। এই বিলীন হওয়ার হবিস্তারিত পড়ুন

    বাংলায় একটি সুন্দর প্রবাদ রয়েছে, ‘মশা মারতে কামান দাগানো’। আপনি মশা মারতে কামানের ব্যবস্থা করুন আর না-ই করুন, মশারা কিন্তু কামড়ানো ছাড়বে না। প্রাণীর ত্বকে কামড়ানোটাই তাদের জৈবিক চাহিদা, বংশবৃদ্ধির মূলমন্ত্র। মানুষসহ কোনো প্রাণীই চায় না তার প্রজাতি সামনের দিকে না এগিয়ে বিলীন হয়ে যাক। এই বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেই প্রতিটি প্রাণীর জীবনচক্রে রয়েছে নিজস্ব ধরন কিংবা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে নতুন উত্তরাধিকারের সূচনা করে থাকে প্রাণিরা।

    আমাদের পরিবেশে থাকা ক্ষতিকারক তিনটি প্রধান মশা; Image Source: weatherstem.com
    মশার ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য, তাদের বংশবৃদ্ধির জন্যও রয়েছে ভিন্ন এক ব্যবস্থা। আর সেই ব্যবস্থাকে পূর্ণতা দিতে মশাদের প্রয়োজন হয় প্রাণীদেহের তাজা রক্তের। স্ত্রী মশা কিংবা মশকীর দেহে ডিম তৈরি হয়। এই ডিমের পুষ্টি ও পূর্ণতা প্রাপ্তির জন্যই রক্ত চুষে খেতে হয় মশকীকে।

    এখন কথা হলো, ডিম তো থাকে মশকীর দেহে, তাহলে রক্ত প্রয়োজন হওয়া উচিত মশকীর। কিন্তু কেন আমরা বলি ‘মশার কামড়’! পুরুষ মশারা আসলে কামড়ায় না, রক্তের পরিবর্তে বিভিন্ন ফলের রস খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে, স্ত্রী মশা অর্থাং মশকীরাই কেবল মানুষ ও নির্বাক প্রাণীদের কামড়ে থাকে রক্তের আশায়।

    যদিও আমরা মশার এই রক্ত খাওয়াকে কামড়ানো বলি, কিন্তু রক্ত শুষে নেবার পুরো প্রক্রিয়াকে ইঞ্জেকশন দিয়ে রক্ত সংগ্রহের সাথে তুলনা করা যায়। মশার শোষক ছয়টি সূঁচের তৈরি একটি সিরিঞ্জের মতো অংশ। এর মাধ্যমেই ত্বকের নিচে থাকা রক্তনালী থেকে রক্ত শুষে নেয় মশারা।
    এই হলো মশার সূঁচ; Image Source: gigazine.net
    এই হলো মশার সূঁচ; Image Source: gigazine.net
    ইঞ্জেকশন যদি দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনারা ‘হেক্সিসল’ এর সাথে বেশ পরিচিত। অক্ষত ত্বকে জীবাণু ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে এই হেক্সিসলের। ইঞ্জেকশন দেবার পূর্বে তুলায় করে নীল রঙের একটি তরল পদার্থ দিয়ে ত্বককে মুছে নেয়া হয়। ত্বকে থাকা অসংখ্য জীবাণু ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ত্বকে যে ছিদ্র হয় তা দিয়ে দেহের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। তাই আগেই হেক্সিসল দিয়ে ইঞ্জেকশনের স্থানটি পরিষ্কার করে নেয়া হয়।

    মশারা হেক্সিসল পাবে কোথায়! তারা যে আমাদের দেহের ত্বকে ছিদ্র করে নিজেদের উদরপূর্তি করছে, ক্ষতি তো ষোলো আনা আমাদেরই। আমাদের রক্ত নিচ্ছে, উপহার হিসেবে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু রেখে যাচ্ছে, সেই সাথে আমাদের ত্বকীয় জীবাণুগুলোকে সুযোগ করে দিচ্ছে জনসমুদ্র নিয়ে রক্তে প্রবেশ করবার।

    কিন্তু তৃতীয় ঘটনাটি আসলে ঘটে না। এটি বাঁধা দিতে মশারাই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মশারা অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে হেক্সিসলের মতো জীবাণুনাশক দিয়ে ত্বককে পরিষ্কার করে নেয় কামড়ানোর পূর্বে। ত্বকের যেখানে বসে, সেখানে তাদের একপ্রকার থুতুর মাধ্যমে জীবাণুনাশের কাজটি সম্পন্ন করে। সেই সাথে, আমরা যাতে বুঝতে না পারি যে কামড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি মশা, সে ত্বকের সংবেদী স্নায়ুকে অবশ করে নেয় এই থুতুর মাধ্যমে। লক্ষ্য করে দেখবেন, মশা কামড়ানোর পরই আমরা টের পাই, কেননা ততক্ষণে ধারালো সূঁচ রক্তনালীতে ঢুকে গেছে।

    এই তো গেলো কামড়ানোর পর্যায়, এবার আসা যাক রক্ত শোষণকার্যে। শোষক প্রবেশ করিয়ে মশা রক্তনালী খুঁজতে থাকে। প্রয়োজনবোধে স্থান পরিবর্তন করতে হতে পারে। রক্তনালী খুঁজে পেলেই মশার মস্তিষ্কে তথ্য চলে যায় যে, রক্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। রক্ত খাওয়ার পূর্বে মশাকে আরো একটি প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়।

    আমাদের শরীরের কোথাও কেঁটে গেলে ২-৬ মিনিটের ভেতর কিন্তু সেই অংশের রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। রক্তের মাঝে হেপারিন নামক একটি পদার্থের উপস্থিতির দরুন রক্ত তরল অবস্থায় শরীরে সঞ্চালিত হয়, জমাট বাঁধে না শরীরের ভেতর। যখন কেঁটে যাওয়া ত্বকের নিচে উপস্থিত হেপারিন বাতাসের সংস্পর্শে এসে ভেঙে যায়, অণুচক্রিকা নামক কিছু ক্ষুদ্র রক্তকণিকা এসে সেখানের রক্তকে জমাট বাঁধিয়ে ফেলে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। হেপারিন জাতীয় পদার্থগুলোকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট, যা রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। রক্তনালী খুঁজে পেলে মশারাও এমন অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট প্রয়োগ করে রক্তের মাঝে। ফলে শান্তি মতো মশা তখন রক্ত শোষণ করে নিতে পারে। রক্ত খেতে পেটকে তিনগুণ ফুলিয়ে নিতে পারবে একটি মশা।

    মশার রক্তশোষণের কারণ জানা হলো, এবার জানা যাক মশাদের জীবনে এরপর কী কী ঘটে সেই সম্পর্কে।

    প্রায় সকল পোকামাকড়ের মতো পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠতে একটি মশাকে চারটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

    ডিম ফুঁটে লার্ভা বেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ মশাতে পরিণত হওয়ার চক্র; Image Source: nsmad.com

    ১) নিষিক্ত ডিম

    একটি মশকী তার পুরো জীবদ্দশায় প্রায় ৫০০টির মতো ডিম পাড়তে পারে। প্রতিবারে ৫০-১০০টি করে করে ৫০০টির মতো ডিম পাড়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর। তারপর ধীরে ধীরে স্ত্রী মশারাও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ডিম ফেটে পানির ভেতরেই অবমুক্ত হয় লার্ভাগুলো। ডিম ভেঙে বেরিয়ে আসার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। এটি নির্ভর করে পানির তাপমাত্রা এবং পানিতে উপস্থিত পুষ্টি উপাদানের উপর। এছাড়াও প্রজাতিভেদে এই সময়টুকু বিভিন্ন হয়ে থাকে।

    ২) লার্ভা

    লার্ভা পানিতে ঘুরে বেড়ায় এবং বারবার পানির উপর পৃষ্ঠে আসে শ্বসনের জন্য। একটি লার্ভা এই ধাপে মোট চারবার ত্বক পরিবর্তন করে, প্রতিবারই অল্প অল্প করে বেড়ে ওঠে। ত্বক পরিবর্তনের এই ঘটনাকে বলা হয় মোল্টিং। পানিতে থাকা ক্ষুদ্র অণুজীব ভক্ষণের মাধ্যমে পুষ্টি আহরণ করে থাকে লার্ভা। চতুর্থবার মোল্টিং এর মধ্য দিয়েই একটি লার্ভা হয়ে ওঠে পিউপা।

    মশার ‘লার্ভা’ দশাটি; Image Source: wikimedia.org

    ৩) পিউপা

    এই লার্ভাগুলো উপযুক্ত পুষ্টি পেয়ে একসময় পিউপা ধাপ শুরু করে। অতঃপর পরবর্তী ২-৭ দিনের মাঝে ধীরে ধীরে পরিণত হয়ে উঠে পূর্ণাঙ্গ মশাতে, যার বাঁচার জন্য পানির প্রয়োজন নেই। সে এখন উড়তে সক্ষম।

    ৪) পূর্ণ মশা

    পিউপা ধাপ পেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ মশায় পরিণত হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পানি ছেড়ে উড়াল দেয় না, কিছুটা সময় পানির পৃষ্ঠে অবস্থান করে। এই সময়ের মাঝে নিজের দেহকে বাতাসে শুকিয়ে নেয়, অপেক্ষা করে পাখা আর পা কিছুটা দৃঢ় হয়ে ওঠার জন্য। পাখাগুলো ভালোমতো শুকালে একটি মশা উড়তে শুরু করে। প্রজনন ও রক্ত শোষণের জন্য আরো কয়দিন অপেক্ষা করে।

    একটি পূর্ণাঙ্গ মশাতে দুটি পুঞ্জাক্ষীসমৃদ্ধ একটি মাথা থাকে, বুক, পেট, একজোড়া পাখা আর ছয় জোড়া পা থাকে। মশাদের একটি অ্যান্টেনা ও শুঁড়ও থাকে।

    পূর্ণাঙ্গ মশায় পরিণত হবার পর তাদের মাথায় দুটো নির্দেশই ঘুরতে থাকে- বংশবৃদ্ধি আর পুষ্টি আহরণ।

    মশার জীবনচক্রের প্রথম তিনটি ধাপের জন্য পানির উপস্থিতি প্রয়োজন। অর্থাৎ একদম শুরুতে ডিম ভেঙে লার্ভা বেরিয়ে আসতে হলে মা মশাকে পানিতে ডিম পাড়তে হবে। মশকীরা সাধারণত স্থির জমে থাকা পানি কিংবা পানির নিকটবর্তী কোনো স্থানে ডিম পেড়ে থাকে। শুকনো স্থানে কয়েক মাস পর্যন্ত ডিমগুলো অক্ষত থাকতে পারে। এ কারণেই বলা হয়, বাসস্থানের আশেপাশে যদি কোনো স্থির পানির উৎস থাকে, তবে তা সরিয়ে ফেলতে।

    সাধারণত ডিম পাড়া থেকে শুরু করে দুই সপ্তাহের মাঝেই একটি মশা উড়তে ও বংশবৃদ্ধিতে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। সবকিছুই নির্ভর করে পরিবেশের অনুকূলতা আর পুষ্টির উপস্থিতির উপর।

    পুরুষ মশারা পানি থেকে উঠে এসে একদিনের মতো অপেক্ষা করে। এই সময়েই তাদের জননাঙ্গ কর্মক্ষম হয়ে উঠে। তারপর স্ত্রী মশাদের পাখার শব্দ শুনে খুঁজে বের করে তাদের। মশকীদের সাথে যৌন জননে মিলিত হয়। ডিমকে নিষিক্ত করতে শুক্রাণু স্থানান্তর করে দেয় স্ত্রী দেহে। প্রজননের শেষে পুরুষ মশাগুলো বড়জোড় ৩-৫ দিনের মতো বেঁচে থাকে। কেননা বাকি সব কাজ স্ত্রী মশারাই করে নিতে পারে, স্ত্রী মশারা প্রায় একমাসের মতো বেঁচে থেকে।

    শোষকের আবরণ সরিয়ে কেবলমাত্র শোষকটিকেই ত্বকে প্রবেশ করিয়ে রক্ত শুষে নিচ্ছে; Courtesy: James Gathany
    প্রজনন শেষে, এবার নিষিক্ত ডিমের পূর্ণতা ও পুষ্টির জন্য প্রয়োজন রক্ত, উত্তপ্ত রক্ত। উত্তপ্ত রক্তের সন্ধানে স্ত্রী মশারা সূর্যাস্তের পরপরই ধেয়ে আসতে শুরু করে জীবন্ত প্রাণীদের দিকে। প্রায় ১০০ ফুট দূরত্ব থেকে মশারা টের পায়, ঠিক কোথায় উত্তপ্ত রক্তের সন্ধান পাওয়া যাবে। নিঃশ্বাসের সাথে যে আমরা কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করি, এই কার্বন ডাইঅক্সাইড ও ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত ল্যাকটিক এসিডের কারণেই মশারা বুঝতে পারে প্রাণীদের অবস্থান।

    লেখার দ্বারপ্রান্তে একটি মজার জিনিস সম্পর্কে জানানো যাক আপনাদের। রক্ত শোষণের সাথে সাথে মশারা আপনার গায়ের উপর বর্জ্য নিষ্কাশন অর্থাৎ প্রস্রাব করে দিয়ে যায়। এর কারণ হলো, শরীরে আরো বেশি পরিমাণ রক্ত রাখার জন্য জায়গা খালি করে মশারা। আপনি যতক্ষণ পর্যন্ত না তাড়িয়ে দেবেন, মশা কিন্তু রক্ত খেতেই থাকবে, পেট ভরে রক্ত খেয়ে ঢোল হয়ে পড়ে থাকলেও তাদের সেটি নিয়ে মাথাব্যথা নেই। রক্ত খাওয়া সীমাহীন হারে চলবে, যতক্ষণ না নড়ন চড়নে অক্ষম হয়ে পড়বে। এত রক্ত খেতে গিয়েই প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের অপ্রয়োজনীয় পানি বের করে দেয় মশারা।

    ফোঁটা ফোঁটা করে শরীরের বর্জ্য সমৃদ্ধ পানি বের করে দেবার দৃশ্য; Image Source: stackexchange.com
    কামান দাগান কিংবা না দাগান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মশার কামড় থেকে নিজেকে বাঁচান। রক্ত শোষণ করে নেয়া তেমন কোনো ক্ষতি নয়। তবে সেই সাথে বিভিন্ন জীবাণুকে দেহে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে যাওয়াটা খুব খারাপ। এতে জীবনহানি পর্যন্ত হতে পারে। তাই মশার কামড় থেকে বাঁচুন। আমাদের জন্য সুখবর হলো, মশাগুলো খুব বেশি দিন বাঁচে না, নাহয় আরো অত্যাচার করে যেত মরতে মরতে!

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  2. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ ইতিহাস

    অতিরিক্ত ঘাম থেকে মৃত্যু ঘটানো রহস্যময় মহামারি কি নামে খ্যাত?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ করে মানুষ দুজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। অথচ তারা দুজন কয়েক মুহূর্ত আগেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে খোশগল্পে মত্ত ছিল। আমরা দুজনকে একসাথে মরতে দেখলাম। এরপর শুনলাম পাড়ার দর্জির স্ত্রীও নাকি হুট করে মরে গেছে। রাস্তায় হেঁটে যাওয়া আরেক তরুণের মৃত্যুর খবরও শোনা গেল।” ১৪৮৫ সালের এক বিভীষিকাময় দিনবিস্তারিত পড়ুন

    বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ করে মানুষ দুজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। অথচ তারা দুজন কয়েক মুহূর্ত আগেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে খোশগল্পে মত্ত ছিল। আমরা দুজনকে একসাথে মরতে দেখলাম। এরপর শুনলাম পাড়ার দর্জির স্ত্রীও নাকি হুট করে মরে গেছে। রাস্তায় হেঁটে যাওয়া আরেক তরুণের মৃত্যুর খবরও শোনা গেল।”

    ১৪৮৫ সালের এক বিভীষিকাময় দিনে লন্ডনের বুকে হানা দেয় এক অদ্ভুত এবং রহস্যময় রোগ। এই রোগের নেই কোনো ভয়ঙ্কর লক্ষণ। মধ্যযুগের অন্যান্য ভয়াবহ কলেরা, প্লেগ, ম্যালেরিয়া, পীতজ্বর, কালাজ্বর, স্প্যানিশ ফ্লু মহামারির মতো অসহনীয় ক্ষত বা জখম সৃষ্টি হতো না এই রোগে। দেখতে সুস্থ-সবল হাসিখুশি মানুষ এই রোগের কবলে পড়লে ঘণ্টা খানেকের মাথায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত। আর মৃত্যুর পূর্বে মানুষের দেহ থেকে নির্গত হতে থাকত ঘাম।

    শুধু ঘাম থেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে থাকায় এই রহস্যজনক মহামারির নামকরণ করা হয় ‘ইংরেজ স্বেদন রোগ’ (English Sweating Sickness) হিসেবে। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের বাইরে এই রোগ হানা দিলে এর নাম সর্বসাধারণের নিকট শুধু ‘স্বেদন বালাই’ (Sweating Sickness) হিসেবে পরিচিত হয়। এই রোগের আগমন ঘটত কোনো আগাম অশনি বার্তা ছাড়াই। দ্রুততার সাথে বিশাল জনগোষ্ঠীর একাংশের মৃত্যু ঘটিয়ে ফের হাওয়া হয়ে যেত এই রোগ।

    সোয়েটিং সিকনেস কী?

    “এই রোগ শুরু হতো ঘামের মাধ্যমে। রোগীর দেহ থেকে বিপুল পরিমাণ ঘাম নির্গত হতো এবং দুর্গন্ধ ছড়াত। চেহারার বর্ণ লালচে হতো প্রথমে। সেটা সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ত। রোগের বিষ রোগীর সারাদেহে ব্যথার উদ্রেক ঘটাত।” 


    ড্যান্স অফ ডেথ চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে মহামারির ভয়াবহতা; Image Source: Wikimedia Commons
    মধ্যযুগের পৃথিবীতে কয়েক বছর পর পর একটি মহামারি আঘাত হানত। গ্রামের পর গ্রাম, শহরের পর শহরে মৃত্যুর ঢল বসিয়ে দিত সেসব মহামারি। তখনকার মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং সঠিক ঔষধ না থাকায় মৃত্যুর হার ছিল বেশি। যুগের পর যুগ ধরে ত্রাস সৃষ্টিকারী এসব রোগ জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ধীরে ধীরে মানুষের নিকট তার রহস্য খোলাসা করেছে। রোগের কারণ, প্রতিকার সবকিছু নির্ণয়ের মাধ্যমে মানুষ এসব মহামারিকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এই তালিকা থেকে বাদ যাবে একটি মহামারির নাম, তা হচ্ছে Sweating Sickness বা স্বেদন বালাই। নিতান্ত অদ্ভুত এই মহামারি তার রহস্য নিয়েই পৃথিবীর বুক থেকে বিদায় নিয়েছে।

    ঘর্মাক্ত, তৃষ্ণার্ত রোগী ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে; Image Source: MavCure
    পঞ্চদশ এবং ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপের বুকে আগমন ঘটে এই স্বেদন রোগের। বিভিন্ন ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি ঘেঁটে এই রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। রোগের শুরুতে জ্বর এবং কাঁপুনি হতো রোগীর দেহে। অনেকের দেহে জ্বরের সাথে মাথা, ঘাড়, গলা ও পায়ের পেশিতে ব্যথা এবং দুর্বলতা অনুভূত হতো। জ্বর এবং ব্যথার এই পর্ব ত্রিশ মিনিট থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতো। এই পর্বকে ‘শীতল পর্ব’ বলা হয়। এরপর শুরু হতো ‘উষ্ণ পর্ব’। এই উষ্ণ পর্বের উপসর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঘন ঘন ঘাম নির্গত হওয়া, তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠা ও বুক ধড়ফড় করা।

    এই পর্বের পর আসতো চূড়ান্ত পর্ব। এই পর্বে রোগী ক্লান্ত হয়ে জ্ঞান হারাত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী জ্ঞান হারানো অবস্থায় মৃত্যুবরণ করত। তবে রোগী যদি প্রথম ২৪ ঘণ্টার ধকল সহ্য করে বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়, শুধু সেক্ষেত্রে তার আরোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিত। এই রোগের সবচেয়ে ভীতিকর ব্যাপার ছিল, অত্যন্ত দ্রুততার সাথে রোগটি আক্রান্তদের মৃত্যু ঘটিয়ে দিত এবং আশেপাশের লোকজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ত।

    স্বেদন বালাই এর পাঁচ মহামারি

    পৃথিবীর বুকে স্বেদন রোগ মহামারি হিসেবে আঘাত হেনেছে মোটে ৫ বার। ১৪৮৫ সালে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডের বুকে এই রোগের দেখা মিলে। সর্বশেষ মহামারীর সময়কাল ছিল ১৫৫১ সাল। এর দু’শ বছর পর ‘পিকার্ডি সোয়েট’ নামে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি রোগ ফ্রান্সে মহামারি ঘটিয়েছিল, কিন্তু এই দুই রোগের মধ্যে শক্ত যোগসূত্রতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

    প্রথম মহামারির সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মসনদে ছিলেন সপ্তম হেনরি। সেবার মাত্র এক মাসে প্রায় ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এরপর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মহামারির দেখা মেলে ১৫০৭ সালের শুরু এবং শেষের দিকে। দ্বিতীয় ধাক্কা কিছুটা সামলে উঠতে পারলেও তৃতীয় মহামারির সময় বেশ কিছু অঞ্চলের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল। মানুষ এই রহস্যময় রোগের প্রতি এক চাপা ভয় নিয়ে দিন-রাত গুজরান করত। ভয়ের মাত্রা এতটাই ছিল যে, ১৫২৮ সালের মহামারির সময় স্বয়ং সপ্তম হেনরি লন্ডন থেকে পালিয়ে যান। ঐতিহাসিকদের তথ্যমতে, তিনি প্রতিনিয়ত নিজের বাসস্থান বদলাতে থাকেন, যেন এই বালাই তাকে স্পর্শ করতে না পারে।

    রাজা সপ্তম হেনরি; Image Source: Royal UK
    ইংল্যান্ডের বাইরে প্রথম মহামারির শিকার হয় জার্মানির শহর হামবুর্গ। কয়েক সপ্তাহে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর পর এই রোগ যেন ইউরোপ সফরে বের হয়। একে একে আক্রান্ত হতে থাকে সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, রাশিয়ার জনগণ। প্রায় কয়েক হাজার মানুষের রহস্যজনক মৃত্যুর সাক্ষী এই মহামারি সর্বশেষ ১৫৫১ সালে হানা দেয়।

    ধনাঢ্যদের যম

    “হঠাৎ এক বালাইয়ের উদ্ভব হলো যা ঘামের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটায়। এই অদ্ভুত রোগ রাজকীয় কাজে বাধার প্রতীক হয়ে দাঁড়াল। রোগটা এতই নিষ্ঠুর যে দুই ঘণ্টার মাথায় সুস্থ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। রাজদরবারের বহু সভাসদ মারা পড়ল। লর্ড ক্লিন্টন, লর্ড গ্রে অফ উইলটন, বহু নাইট যোদ্ধা, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ, কর্মকর্তা- কেউ পরিত্রাণ পেল না।”

    ইতিহাসবিদ এডওয়ার্ড হলের ডায়েরি থেকে এই মহামারির সাথে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গের আক্রান্ত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। অবশ্য হল একাই নন, দেখা গেল সমসাময়িক পাণ্ডুলিপিগুলো একই কথা বলছে। রাজা সপ্তম হেনরি স্ত্রী অ্যান বলেইন নিজে এই রোগের খপ্পরে পড়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় হওয়ায় তিনি আরোগ্য লাভ করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি যুবরাজ আর্থার টিউডরের। তার রহস্যজনক মৃত্যুর সাথে অনেকেই স্বেদন বালাইকে দায়ী করে থাকে। যদিও এই দাবির পেছনে শক্ত প্রমাণাদি নেই। ইউরোপের ধনীরা এই রোগের ভয়ে দেশ থেকে পালাতে শুরু করে।

    সম্ভ্রান্ত প্রাসাদে হানা দিয়েছিল মহামারি; Image Source: IMDB
    এই রোগের আরেকটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য ছিল ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতো না। এমনকি সেসব দেশে বসবাস করা ইংরেজরা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মরতে থাকে। যারা এই রোগে মারা পড়েছিল তাদের সবাই মাঝবয়েসী তরুণ বা তরুণী ছিল। দেখা গেল, অশীতিপর (আশিরও অধিক বয়স্ক) বুড়ো-বুড়ি আর কোলের শিশুরা এই রোগ থেকে মুক্ত ছিল।

    এই রোগের কারণ কী?

    প্রতিটি মহামারির পেছনে থাকে কোনো ভয়ঙ্কর জীবাণু বা ক্ষতিকারক পদার্থের হাত। স্বেদন রোগও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই রোগের ময়নাতদন্ত করার জন্য যথেষ্ট সুযোগ এবং সময় পায়নি তৎকালীন বিজ্ঞানীগণ।

    তখনকার সীমিত জ্ঞান এবং প্রযুক্তি এই রোগের কারণ ধরতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে সর্বশেষ মহামারির শত বছর পর এই রোগ নিয়ে গঠনমূলক গবেষণা শুরু হয়, যার পুরোটাই মহামারি চলাকালীন চিকিৎসক এবং ইতিহাসবিদদের পাণ্ডুলিপি নির্ভর ছিল। ১৮৮১ সালে আর্থার বর্ডিয়ার নামক এক চিকিৎসক নৃবিজ্ঞান বিষয়ক এক জার্নালে বেশ চাঞ্চল্যকর এক তথ্য পরিবেশন করেন। সেখানে তিনি বর্ণনা করেন, এই রোগ কেবলমাত্র অ্যাংলো-স্যাক্সন বংশোদ্ভূতদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু পৃথিবীর বহু চাঞ্চল্যকর তথ্যের মতো এই তথ্যও যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত এবং প্রমাণহীনতার কারণে ধোপে টেকেনি।

    হান্টা ভাইরাস এবং এর বাহক ইঁদুর; Image Source: MGN
    এই রোগের কারণ হিসেবে আধুনিক বিজ্ঞানীদের প্রথম সন্দেহ পড়েছে হান্টা ভাইরাসের ওপর। এই ভাইরাসটি ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর দেহে কোনো রোগবালাই না ঘটিয়ে অবস্থান করতে পারে। তখন সেই প্রাণীটি ভাইরাসের সক্রিয় বাহক হিসেবে কাজ করে। হান্টা ভাইরাসের প্রভাবে আক্রান্তের দেহে জ্বর, সর্দি, পেশী ব্যথা, ক্লান্তি ইত্যাদি ফ্লু জাতীয় উপসর্গ দেখা দেয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, হান্টা ভাইরাসের অজানা কোনো প্রকার থেকে হয়তো এই রোগের উৎপত্তি। হান্টা ভাইরাস ছাড়াও মশা মাছি দ্বারা ছড়ানো আরবো ভাইরাস আছে বিজ্ঞানীদের সন্দেহের তালিকায়। এর কারণ, বেশ কিছু অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের পর পর দেখা দিত এই মহামারি। বিশেষ করে ভারি বর্ষণ এবং বন্যা আক্রান্ত অঞ্চলে। এধরনের অঞ্চলে মশা মাছির উপদ্রব বেশি থাকে। হয়তো আরবো ভাইরাস দায়ী বলেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শীতল এবং উঁচু অঞ্চল স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এই মহামারি মুক্ত ছিল।

    ২০০১ এর অ্যানথ্রাক্স আক্রমণের পর প্রেরিত চিঠি; Photograph: FBI
    ভাইরাসের বাইরে অ্যানথ্রাক্স রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া Bacillus anthracis-কেও অনেকে দায়ী করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালে জৈব অস্ত্র হিসেবে অ্যানথ্রাক্স জীবাণুর ব্যবহারের ফলে প্রায় ২২টি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আক্রান্তের দেহে প্রচুর পরিমাণ ঘাম নির্গত হয়েছে এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথার সূত্রপাত ঘটেছে। এডওয়ার্ড ম্যাক সুইগান নামক এক অণুজীববিজ্ঞানীর মতে, ইংরেজ মুলুকে মহামারির পেছনে ওলের মাধ্যমে ছড়ানো অ্যানথ্রাক্স জীবাণুর স্পোর দায়ী থাকতে পারে।

    মহামারি মানেই হাজার মানুষের মৃত্যু আর্তনাদ; Image Source: De Agostini
    Sweating sickness বা স্বেদন বালাইয়ের আসল কারণ বের করতে বিজ্ঞানীদের আরো তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজন। হয়তো ভবিষ্যতে আমরা এর আসল কারণ জানতে পারবো। প্রশ্ন উঠতে পারে, যে রোগ প্রায় ৫০০ বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে, সেই রোগের কারণ জানার যৌক্তিকতা কী? এর উত্তর হচ্ছে, যদি ভবিষ্যতে এই রোগ আমাদের পুনরায় আক্রমণ করে, সেক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তুতি যেন অসম্পূর্ণ না থাকে। মধ্যযুগীয় পাণ্ডুলিপির তথ্যগুলো যদি সত্য হয়, সেক্ষেত্রে বলতে হচ্ছে, এমন ভয়ঙ্কর মহামারি মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই। তাহলে হয়তো আমরা নতুন কোনো মহামারির হাত থেকে পৃথিবীর হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারব।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  3. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    বৃষ্টিতে ভেজা মাটির মনমাতানো গন্ধের উৎস কোথায়?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    “তখনও এই রকম কালবৈশাখী নামবে, এই রকম মেঘান্ধকার আকাশ নিয়ে, ভিজে মাটির গন্ধ নিয়ে, ঝড় নিয়ে, বৃষ্টির শীকরসিক্ত ঠাণ্ডা জোলো হাওয়া নিয়ে, তীক্ষ্ম বিদ্যুৎ চমক নিয়ে-তিন হাজার বছর পরের বৈশাখ-অপরাহ্নের উপর । তখন কি কেউ ভাববে তিন হাজার বৎসর পূর্বের প্রাচীন যুগের এক বিস্মৃতি কালবৈশাখীর সন্ধ্যায় এক বিস্মবিস্তারিত পড়ুন

    “তখনও এই রকম কালবৈশাখী নামবে, এই রকম মেঘান্ধকার আকাশ নিয়ে, ভিজে মাটির গন্ধ নিয়ে, ঝড় নিয়ে, বৃষ্টির শীকরসিক্ত ঠাণ্ডা জোলো হাওয়া নিয়ে, তীক্ষ্ম বিদ্যুৎ চমক নিয়ে-তিন হাজার বছর পরের বৈশাখ-অপরাহ্নের উপর । তখন কি কেউ ভাববে তিন হাজার বৎসর পূর্বের প্রাচীন যুগের এক বিস্মৃতি কালবৈশাখীর সন্ধ্যায় এক বিস্মৃত গ্ৰাম্য বালকের ক্ষুদ্র জগৎটি এই রকম বৃষ্টির গন্ধে, ঝোড়ো হাওয়ায় কি অপূৰ্ব আনন্দে দুলে উঠতো? এই মেঘান্ধকার আকাশের বিদ্যুৎ চমক-সকলের চেয়ে এই বৃষ্টির ভিজে সোঁদা সোঁদা গন্ধটা কি আশা উদ্দাম আকাঙ্ক্ষা দূর দেশের, দূরের উত্তাল মহাসমুদ্রের, ঘটনাবহুল অস্থির জীবনযাত্রার কি মায়া-ছবি তার শৈশব-মনে ফুটিয়ে তুলতো?”

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “অপ্রকাশিত দিনলিপি” থেকে নেওয়া কথাগুলো পড়তে পড়তে গ্রামের সদ্য বৃষ্টিতে ভেজা মাটির অন্যরকম গন্ধটা বুক ভরে নিতে ইচ্ছে করছে না? হ্যাঁ! প্রকৃতপক্ষে আমরা প্রায় সবাই বৃষ্টির এই দারুণ গন্ধকে ভীষণ পছন্দ করি। কিন্তু কখনও ভেবেছেন কি, এই ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধের উৎস কোথায় আর কীভাবেই বা এই গন্ধের সৃষ্টি হয়? চলুন আজ সেই কথাই জেনে নেই।

    বৃষ্টিতে ভেজা মাটির গন্ধের খুব সুন্দর একটি ইংরেজি শব্দ রয়েছে। ইংরেজিতে এই গন্ধটিকে ডাকা হয় পেট্রিকোর (Petrichor) নামে। বৃষ্টির ফোঁটা যখন শুকনো মাটিতে পড়ে, তখন এই পেট্রিকোরের সৃষ্টি হয়। পেট্রিকোর কথাটি এসেছে গ্রিক শব্দ থেকে, যার আভিধানিক অর্থ পাথরের শোণিতধারা (The blood of stones)।

    অস্ট্রেলিয়ান কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (CSIRO) এর দুই বিজ্ঞানী ইসাবেল জয় বিয়ার এবং রিচার্ড থমাস এই শব্দটি প্রথম প্রস্তাব করেন। ১৯৬৪ সালে নেচারে প্রকাশিত তাদের গবেষণা প্রবন্ধে তারা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। সাধারণত বৃষ্টির আগে শুকনো মাটি বিভিন্ন উদ্ভিদ থেকে একধরনের তেল পরিশোষণ করে থাকে। এই দুই গবেষক সেই পরিশোষিত তেলকে আবার সংশ্লেষ করতে সক্ষম হন। তারা দেখান, যখন বৃষ্টি হয়, তখন এই পরিশোষিত তেল জিওস্মিন নামে আরেক ধরনের যৌগের সাথে মিশ্রিত হয়ে বায়ুতে ব্যাপিত হয়। মূলত এই দুই যৌগের বায়ুতে ব্যাপনের ফলেই বৃষ্টিতে ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধের সৃষ্টি হয়।

    বাঁয়ে বিজ্ঞানী রিচার্ড থমাস, ডানে বিজ্ঞানী ইসাবেল জয় বিয়ার; 
    শুকনো মাটি উদ্ভিদ থেকে যে তেল পরিশোষণ করে থাকে, সেই তেলে মূলত মিশে থাকে পামিটিক এসিড, স্টিয়ারিক এসিড এবং আরও নানা প্রকার রাসায়নিক পদার্থ, যার সবগুলোকে বিজ্ঞানীরা এখনো নির্দিষ্ট করতে পারেননি। তবে মাটিতে মিশে থাকা পামিটিক এসিড ও স্টিয়ারিক এসিডের এই বৃহৎ অণু বৃষ্টির সময় বিশ্লিষ্ট হয়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র অণু, যেমন- কিটোন, অ্যালডিহাইড প্রভৃতি উৎপন্ন হয়।

    পামিটিক এসিড ও স্টিয়ারিক এসিডের বৃহৎ অণু;
    অন্যদিকে জিওস্মিন পদার্থটি মাটিতে বাস করতে থাকা এক্টিনোব্যাক্টেরিয়া পর্বভুক্ত অণুজীবদের দ্বারা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ধরনের সায়ানোব্যাক্টেরিয়া এবং স্ট্রেপ্টোমাইসিস গণের ব্যাকটেরিয়ার মৃত কোষ থেকে মূলত জিওস্মিন সৃষ্টি হয়। ২০০৬ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথম স্ট্রেপটোমাইসিস কোয়েলিকালার (Streptomyces coelicolor) ব্যাকটেরিয়ায় থাকা উৎসেচক থেকে জিওস্মিনের জৈব সংশ্লেষের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারেন।

    Actinobacteri
    ফার্নেসাইল ডাইফসফেট থেকে দুই ধাপে সম্পন্ন হওয়া একটি বিক্রিয়ার মাধ্যমে জিওস্মিন সিন্থেজ নামর একটি উৎসেচকের প্রভাবে জিওস্মিন উৎপাদিত হয়।

    জিওস্মিন উৎপাদী বিক্রিয়া
    ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধের পেছনের জীববৈজ্ঞানিক কারণ তো জানা গেল। কিন্তু এরপর বিজ্ঞানীরা চিন্তা করতে লাগলেন, এই গন্ধ আমাদের নাকে এসে পৌঁছায় কী করে। অর্থাৎ এর পেছনে থাকা পদার্থবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা ঠিক কীরূপ?

    তাই এই গন্ধের উৎস এবং প্রক্রিয়া সম্বন্ধে আরও জানতে ২০১৫ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির একদল গবেষক ১৮ ধরনের মাটির সংস্পর্শে বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে দিয়ে প্রায় ৬০০টি পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। এই ভিডিওটিতে পরীক্ষাটির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

    খালি চোখে না দেখা গেলেও আমরা সকলেই জানি, যেকোনো মাটির সমতল থাকে অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত। বৃষ্টির ফোঁটা যখন এই মাটির তলে এসে পড়ে, তখন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছিদ্রে আটকে থাকা বাতাস থেকে বুদবুদের সৃষ্টি হয়। এই বুদবুদ যখন মাটির সমতল থেকে বায়ুর সংস্পর্শে এসে ফেটে যায়, তখন এই বুদবুদে আটকে থাকা বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র রাসায়নিক অণু বাতাসে মিশে এই সোঁদা গন্ধের জন্ম দেয়।

    বিজ্ঞানীদের উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ক্যামেরায় ধরা পড়া ছিদ্রযুক্ত তল থেকে উৎপন্ন হওয়া বুদবুদের বাতাসে মেশার দৃশ্য ( বাতাসের সংস্পর্শে মিশে যেতে থাকা দুটি বুদবুদকে লাল বৃত্ত দ্বারা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে)
    শুধু জিওস্মিন কিংবা উদ্ভিজ তেলকণা নয়, মাটিতে থাকা অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস কিংবা অন্যান্য রাসায়নিক অণুও এই বুদবুদে মিশে থাকতে পারে। যত ধীরে বৃষ্টিকণা মাটিতে পড়ে, তত বেশি বুদবুদ বাতাসে মিশে যাওয়ার সুযোগ পায়। আর তাই খুব হালকা এক পশলা বৃষ্টির পরে ভেজা মাটির গন্ধ অপেক্ষাকৃত তীব্রতর বলে মনে হয়।

    আমাদের নাসারন্ধ্রে থাকা ঘ্রাণ সংবেদকগুলো জিওস্মিনের গন্ধের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। তাই বাতাসে এর পরিমাণ প্রতি ট্রিলিয়নে ৫ ভাগ, অর্থাৎ প্রতি কেজি বাতাসে মাত্র ৫ ন্যানোগ্রাম (৫ × ১০-৯ গ্রাম) থাকলেই মানুষের নাক তা শনাক্ত করতে পারে। এই সোঁদা গন্ধকে কাজে লাগিয়ে নানা সুগন্ধি তৈরি করার সম্ভাবনা নিয়েও তাই মানুষ অনেক সময় চিন্তা করেছে। স্বাধীনতার বেশ কিছু আগে ভারতীয় উপমহাদেশের নানা স্থানে দেশীয় সুগন্ধি দ্রব্য তৈরির শিল্প গড়ে উঠেছিল। শ্রমিকেরা গরমকালে মাটি শুকিয়ে তারপর বর্ষার আগে বাষ্প-পাতন করে সেই বাষ্প চন্দনের তেলে মিশিয়ে নিত। তারপর সেই তেল বিক্রি করতো বাজারে। উত্তর প্রদেশে এর জনপ্রিয় নাম ছিল মিট্টি আতর। এই মিট্টি আতর এখনও বেশ জনপ্রিয় এবং বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত বিক্রি হয়।

    মিট্টি আতর; Source: kazima perfume
    শুধু মাটির সোঁদা গন্ধ নয়, জলের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব কিংবা মাটির নিচে হওয়া সবজিগুলোর মেটে স্বাদও এই জিওস্মিনের জন্যই হয়ে থাকে। জিওস্মিনের এমন নানা ধরনের উপকারী দিকের পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। যেমন- মাটির বিভিন্ন স্তরের ব্যাকটেরিয়ার মৃত কোষ থেকে যেহেতু এই গন্ধের সৃষ্টি হয়, সেহেতু অনেক সময় কোনো স্থানে নলকূপ খননের পর সেই স্থানের পানীয় জলে এই ঘ্রাণ মিশে থাকে। এতে ঐ স্থানের পানি সুপেয় হয় না। অবশ্য বিজ্ঞানীরা এই ঘ্রাণকে কীভাবে দূর করা যায় সেই বিষয়েও বিস্তারিত গবেষণা করছেন।

    সোঁদা মাটির গন্ধের পেছনের বিজ্ঞান সম্বন্ধে জানলেন তো? এরপর থেকে যখন বৃষ্টি দেখে রোমান্টিকতায় আক্রান্ত হবেন আর ভেজা গন্ধে নস্টালজিয়া অনুভব করবেন, অবশ্যই সেই কাব্যময়তার মধ্যেও বিজ্ঞানের সৌন্দর্যের কথা স্মরণে রাখতে একদম ভুলবেন না যেন!

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  4. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    বিস্ময়কর মহাকাশীয় ঘড়ি অরলোজ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ক্লক কোথায় অবস্থিত?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ১৫শ শতকের দিকে বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্রে প্রাগ শহরে এক বিশালাকার অদ্ভুত ঘড়ি নির্মিত হলো। মহাকাশীয় ঘড়ি হিসেবে পরিচিত সেই ঘড়ি দেখতে যত না রহস্যময়, কারুকার্যে তার চেয়েও বেশি মনোমুগ্ধকর। লোকমুখে জানা গেলো এই ঘড়ি তৈরি করেছেন বিখ্যাত নির্মাতা হানোস। প্রাগের নগর কাউন্সিলরদের অনুরোধে তিনি এমন একটি ঘড়ি নির্মাবিস্তারিত পড়ুন

    ১৫শ শতকের দিকে বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্রে প্রাগ শহরে এক বিশালাকার অদ্ভুত ঘড়ি নির্মিত হলো। মহাকাশীয় ঘড়ি হিসেবে পরিচিত সেই ঘড়ি দেখতে যত না রহস্যময়, কারুকার্যে তার চেয়েও বেশি মনোমুগ্ধকর। লোকমুখে জানা গেলো এই ঘড়ি তৈরি করেছেন বিখ্যাত নির্মাতা হানোস। প্রাগের নগর কাউন্সিলরদের অনুরোধে তিনি এমন একটি ঘড়ি নির্মাণ করেছেন যার সাহায্যে সময় নির্ণয় করা ছাড়াও চন্দ্র, সূর্য, গ্রহের অবস্থান জানা যাবে। রাতদিন পরিশ্রম করে হানোস প্রাগের নগরপ্রাঙ্গনে এই অতিকায় ঘড়ি নির্মাণ করেছেন।

    নগর কাউন্সিলরগণ যখন এই ঘড়ির দর্শন পেলেন তখন অভিভূত হয়ে পড়েন। এর আগে এমন সুন্দর ঘড়ি আর দ্বিতীয়টি দেখেননি। এই মুগ্ধতার সাথে মনের মাঝে হালকা ভয়ের উদ্রেক হলো। প্রাগের ঘড়ির দেখাদেখি হয়তো অন্য অঞ্চলেও এই ঘড়ি নির্মাণের প্রচেষ্টা হবে। কিন্তু সেটা হতে দেওয়া যাবে না। এমন ঘড়ি আর দ্বিতীয়টি হোক, কেউই চাইছিল না। আর তা নিশ্চিত করতে বেশ ঘৃণ্য একটি সিদ্ধান্ত নিল তারা। নির্মাতা হানোসকে অন্ধ করে দেওয়া যেন সে আর ঘড়ি নির্মাণ করতে না পারে।

    ঘড়ির নির্মাতাকে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল
    কাউন্সিলের ভাড়া করা গুণ্ডারা রাতের আঁধারে আক্রমণ করলো হানোসকে। লোহার দণ্ড দিয়ে খুঁচিয়ে মহান নির্মাতা হানোসের চোখ উপড়ে ফেলা হলো। প্রাগ শহরকে বাকি শহর থেকে আলাদা করে তোলা এক ঘড়ি নির্মাণের পরিণাম হিসেবে তাকে বরণ করতে হলো অন্ধত্ব। অসহায় অন্ধ হানোস কাউন্সিলের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠলেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে তার এক শিক্ষানবিসকে নিয়ে তিনি সেই ঘড়ির নিকট গেলেন। তারপর ঘড়িটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ একে একে অকেজো করে দিলেন। এভাবে প্রতিশোধ এবং হিংসার নিষ্ঠুর পরিণতিতে ইউরোপের অনন্য মহাকাশীয় ঘড়ির টিকটিক করা কাঁটা থেমে গিয়েছিল সেদিন। হানোসের অভিশাপ কিনা কে জানে, এই ঘড়ি পুনরায় চালু করতে প্রাগের লেগে গিয়েছিল সুদীর্ঘ একশত বছর! এরপর কেটে গেছে বেশ কয়েকটি শতক, তবে প্রাগের মহাকাশীয় ঘড়ি টিকটিক করে চলছে এখনও।

    প্রাগের মহাকাশীয় ঘড়ি

    মহাকাশীয় ঘড়ি (Astronomical Clock) হচ্ছে এমন একটি বিশেষ যন্ত্র, যার সাহায্যে মহাকাশের গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্রের অবস্থান সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য নির্ণয় করা যায়। এর সাহায্যে জ্যোতিষ্কমণ্ডলের তারকারাজির অবস্থানও নির্ণয় করা যায়। এখানে উল্লেখ করা ঘড়িটি চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগের সেই মহাকাশীয় ঘড়ির নাম হচ্ছে অরলোজ। অরলোজের সাহায্য তৎকালীন মানুষ সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র এবং ক্ষেত্রবিশেষে গ্রহের অবস্থান জানতে পারতো। এই তথ্য কাজে লাগিয়ে পঞ্জিকা নির্মাণ, উৎসবের দিনধার্য করাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্য পরিচালনা করা হতো। তবে অরলোজের কার্যক্ষমতা ছিল আরও ব্যাপক। কারণ, এই ঘড়ি মোটে দুটি অংশ ছিল। এক অংশে মহাকাশের যাবতীয় হিসাব-নিকাশ চললেও অপর অংশে সময়, তারিখ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেত। নির্মাণের পর থেকেই নানান গল্পকাহিনী, গুজব, রহস্য, অভিশাপ নিয়ে ঘেরা এই ঘড়ি আজও সারাবিশ্বের নজর কাড়ছে এর অনন্য নির্মাণশৈলী এবং সূক্ষ্মতার কারণে। প্রাগের দর্শণার্থীদের প্রথম পছন্দ থাকে এই অতিকায় ঘড়ির দর্শন লাভ করা।

    একনজরে প্রাগ শহরের অরলোজ

    আসল নির্মাতা কে?

    প্রাথমিকভাবে এর নির্মাতা হিসেবে হানোস নামক এক প্রাচীন ঘড়ি নির্মাতার নাম প্রচলিত ছিল। তবে ১৯৬১ সালে বেরিয়ে আসলো সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। নতুন তথ্য অনুযায়ী ১৪১০ সালে কাদান শহরের ‘মিকুলাস’ নামক এক ঘড়ি নির্মাতার হাতে তৈরি হয়েছে এই বিখ্যাত ঘড়ি। জান সিডেল নামক এক জ্যোতির্বিদের গবেষণা থেকে এই তথ্য বেরিয়ে আসে। বিশেষজ্ঞদের নিরীক্ষার পর হানোস নয়, মিকুলাসকেই এই ঘড়ির আসল নির্মাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। গবেষণায় আরো জানা যায়, হানোস সম্পর্কিত প্রচলিত তথ্যটি নিয়ে যথেষ্ট প্রমাণাদি না থাকায় তাকে আপাতদৃষ্টিতে লোককাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    ১৭৯১ সালে নকশা করা প্রাগের অরলোজ
    নির্মাণের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রাগের অরলোজ ঘড়ি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে অকেজো হয়ে পড়েছিল। তবে এর জটিল কলকব্জা মেরামত করা সহজ ছিল না। বিশেষ করে, ১৮শ শতকের শেষদিকে ঘড়িটি এমনভাবে অকেজো হয়ে পড়ে যে, তৎকালীন মিস্ত্রীরা একে ঠিক করতে ব্যর্থ হয়। তখন স্থানীয় নগর কর্তৃপক্ষ অরলোজকে সরিয়ে নতুন ঘড়ি নির্মাণের কথাও ভেবেছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত সেই ভাবনা বাস্তবে রূপান্তরিত হয়নি। পরে ১৮৬৫ সালে ঘড়িটি মেরামত করা সম্ভব হয়েছিল। নতুন মেরামতের সাথে এর মধ্যে দিন-তারিখ হিসাব করার ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছিল।

    কীভাবে কাজ করে?

    ঘড়ির মূল নির্মাতা এই ঘড়িকে বেশ কয়েকটি অংশে ভাগ করে নির্মাণ করেছেন। প্রতিটি অংশের কাজ ভিন্ন এবং সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ঘড়িটি যখন নির্মিত হয়েছিল, তখন সৌরজগতের কেন্দ্র হিসেবে পৃথিবীকে গণ্য করা হতো। তাই ঘড়ির কেন্দ্রে রয়েছে আমাদের এই গ্রহ। কারুকার্যখচিত কাঁটা এবং ডায়ালের মাধ্যমে তাই ঘড়ির একটি অংশ পৃথিবীর পরিপ্রেক্ষিতে সূর্য এবং চন্দ্রের অবস্থান নির্দেশ করে। প্রাচীন চেক সময় এবং রোমান সময় গণনা- এই দুই পদ্ধতিতেই এই ঘড়ির মান নির্দেশ করা আছে।

    ঘড়িটি যত কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে, তত বেশি তথ্য এর থেকে আহরণ করা সম্ভব হবে। ঘড়ির কেন্দ্রের দিকে রোমান হরফের বেশ কিছু ডায়াল চোখে পড়বে। দৈনিক ২৪ ঘণ্টার সময় নির্দেশ করাই এসব ডায়ালের উদ্দেশ্য। এই অংশের মূলদেহে ব্যবহৃত নীল এবং লাল বর্ণের সমন্বয়ে দিন, রাত, সূর্যাস্ত, সূর্যোদয়, অপরাহ্ন, মধ্যাহ্নসহ একদিনের বিভিন্ন ঘটনার সময়কাল নির্ণয় করা সম্ভব হয়। তাছাড়া বিষুবরেখা এবং ক্রান্তিয় রেখার হিসাব রাখতেও সক্ষম এই ঘড়ি। বিভিন্ন গ্রহণের সময় সূর্যের অবস্থান নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন রাশিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই চিহ্নগুলো ঘড়ির কাঁটার বিপরীত ক্রমে সাজানো হয়েছে।

    ঘড়ির উপরের অংশ;

    ঘড়ির নিচের অংশ;
    এর একটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে ডায়াল আর কাঁটার বাইরেও এর বেশকিছু অংশ রয়েছে যা দেখতে দর্শণার্থীদের ভিড় জমে। এর গায়ে রয়েছে ৮টি কাঠের মূর্তি বা পুতুল। যা ৪ পুণ্য এবং ৪ অশুভ বা অমঙ্গলের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ক্যালেন্ডারের ডায়ালের পাশে এদের দেখতে পাওয়া যাবে। ৪ অমঙ্গলের মধ্যে ‘মৃত্যু’কে চিহ্নিত করা এক কঙ্কাল মূর্তির দেখা মিলবে। এছাড়া খ্রিস্টান ধর্মমতে, যিশুখ্রিস্টের বিখ্যাত ‘দ্য লাস্ট সাপার’ এর সময় ১২ জন অনুসারীকে দূত বা বাণীপ্রচারক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এখানে সেই ১২ জনের কাঠের মূর্তিও সংযুক্ত রয়েছে।

    মূল দেহের ঠিক উপরে দুটি নীল দরজা রয়েছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় একবার করে দরজাগুলো উন্মুক্ত হয়। আর তখন এই মূর্তিগুলো দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে সীমিত আকারে চলাচল করে ফের ভেতরে চলে যায়। যেমন, মৃত্যু মূর্তি যখন বেরিয়ে আসে, তখন সে ধাতুর তৈরি একটি ঘণ্টায় আঘাত করে শব্দ উৎপন্ন করে। আপনারা বুঝতেই পারছেন এর দ্বারা মৃত্যুঘণ্টাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

    ঘড়ির দেহে থাকা মূর্তিগুলোর একাংশ

    গুপ্ত বার্তার সন্ধান

    প্রাগের অরলোজকে নিয়ে বিস্ময়ের অন্ত নেই। নির্মাণের কয়েকশত বছর পরেও সূক্ষ্মভাবে মহাকাশের নক্ষত্র, উপগ্রহের অবস্থান নির্ণয় যাচ্ছে এই ঘড়িটি। এছাড়া এর গায়ে ব্যবহৃত বাহারি রঙের কারুকাজ, কাঠের পুতুলের সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনী এবং জটিল কলকব্জা শিল্প ও বিজ্ঞানের সমঝদারদের জন্য প্রশান্তির নিদর্শন হয়ে আছে। কয়েক বছর পর পর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই ঘড়ির সরেজমিন মেরামত এবং সংস্কার সাধিত হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসেও এরকম একটি সংস্কার প্রকল্প পরিচালিত হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী কর্মীরা ১২ দূতের মূর্তিগুলো পরিষ্কার করছিল। তখন একজন কর্মী দেখলেন একটি মূর্তি অন্যগুলোর চেয়ে কিছুটা ভারী লাগছে। ভারী মূর্তিটি ছিল সেন্ট থমাস নামক একজন দূতের প্রতিকৃতি। কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলে মূর্তিটি এক্স-রে করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এক্স-রে প্রতিবেদনে দেখা গেলো এর অভ্যন্তরে ধাতব একটি বাক্স দেখা যাচ্ছে। তৎক্ষণাৎ মূর্তিটি খুলে পরীক্ষা করা হলো। আর তখনই বের হয়ে আসলো শত বছরের লুকানো চিঠি।

    যিশুখ্রিস্টের ১২ বাণীপ্রচারকের মূর্তি
    এ যেন অতীত থেকে ভবিষ্যতের প্রতি লেখা কোনো বার্তা। কৌতূহলি হয়ে এই চিঠির পাঠোদ্ধার এবং উৎস জানার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হলো। পরীক্ষা করে দেখা গেলো এই বার্তার লেখক ছিলেন ভইতেক সুচার্দা নামক একজন ভাস্কর। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর ঘড়ির মূর্তিগুলো সংস্কার এবং মেরামতের জন্য তাকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি একটি চিঠিতে ঘড়ি মেরামত এবং আরও বর্ধিত আকারে সংস্কার করার পরিকল্পনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এছাড়াও দেশের অবস্থা এবং কমিউনিস্ট রাজনীতি নিয়ে বন্ধুসুলভ কিছু মন্তব্য ছিল সেখানে। সেই চিঠিটি পরবর্তীতে সেন্ট থমাসের মূর্তি থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কীভাবে এবং কেন এই চিরকুট এখানে লুকানো হয়েছিল তা বোঝা মুশকিল। এছাড়া চিঠি থেকে ঘড়ির পূর্ব সংস্করণ সম্পর্কে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি ক্যালেন্ডার ডায়ালের কোনায় লুকানো বেশকিছু পাথরের ভাস্কর্যের সন্ধানও পাওয়া গেছে এই চিঠি থেকে।

    অধীরে আগ্রহে মৃত্যুঘণ্টার অপেক্ষা করছেন দর্শনার্থীরা

    অরলোজকে নিয়ে প্রচলিত রয়েছে শত শত অলৌকিক কাহিনী ও কল্পগাথা। অনেকে ধারণা করেন এই ঘড়ির সাথে নগরীর ভাগ্য নিবিড়ভাবে জড়িত রয়েছে। এজন্য কিছুটা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষরা এই ঘড়িকে ‘দ্য ডেভিলস আই’ বা শয়তানের চোখ বলে অভিহিত করে। অবশ্য তাদের দোষ দেওয়ারও অবকাশ নেই। ইতিহাসে প্রাগ শহর যখনই কোনো দুর্যোগ বা বিপদের মুখে পড়েছে, অরলোজ ঘড়ি তার স্পন্দন থামিয়ে দিয়েছে। এমন অদ্ভুত কাণ্ড খুব বেশি দেখা যায় না। শেষবার এমনটি ঘটেছে ২০০২ সালের বন্যার সময়। বন্যাকবলিত প্রাগের এই ঐতিহাসিক ঘড়ি ‘অরলোজ’ অকেজো হয়ে পড়েছিল। অবশ্য এর পেছনে শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকেই দায়ী করবেন সবাই। তবে অনেকে বিশ্বাস করে এই ঘড়ি থেমে যাওয়া মানেই অশুভ কিছু। এমনকি ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঘড়িটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

    ২০০২ সালের বন্যাকবলিত প্রাগ
    মধ্যযুগে ঘড়িটি ধর্মগুরু, গণিতবিদ, জ্যোতিষীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের নিকট অপরিহার্য যন্ত্র ছিল। বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, এই ঘড়িটি সৃষ্টিকর্তার দৈববাণী প্রকাশের একটি পবিত্র মাধ্যম। তাছাড়া আলকেমির সাধকরাও ঘড়িটির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ঘড়ির মূল নকশাতে ডায়াল আর কাঁটা ব্যতীত অতিরিক্ত কিছু ছিল না। তবে কালের আবর্তে এর সাথে যুক্ত হওয়া মূর্তিগুলোই আজ সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। ঘড়ির সামনে ভিড় জমানো দর্শনার্থীরা প্রতি ঘণ্টায় মৃত্যু মূর্তির ঘণ্টা বাজানো প্রদর্শনী দেহে মুগ্ধ হয়। তাছাড়া ঘড়ির দিকে মনোযোগ দিলে এর জটিল বিন্যাস এবং সূক্ষ্মতা দেখে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  5. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    বিষাক্ত সায়ানাইডের স্বাদ কেমন?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    – নতুন কিছু জানা গিয়েছে, অফিসার? – নাহ, কীভাবে তাকে বিষপ্রয়োগ করা হলো তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। – সায়ানাইডেই মৃত্যু হয়েছে তাহলে? – হ্যাঁ, করোনার তো তা-ই বললো। – শরীরের আর কোথাও সায়ানাইডের চিহ্ন পাওয়া যায়নি? – বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর ডগায় সামান্য পাওয়া গিয়েছে। – আঙুলে? আর কোথাও নয়? – না। করোনারের রিপবিস্তারিত পড়ুন

    – নতুন কিছু জানা গিয়েছে, অফিসার?

    – নাহ, কীভাবে তাকে বিষপ্রয়োগ করা হলো তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    – সায়ানাইডেই মৃত্যু হয়েছে তাহলে?

    – হ্যাঁ, করোনার তো তা-ই বললো।

    – শরীরের আর কোথাও সায়ানাইডের চিহ্ন পাওয়া যায়নি?

    – বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর ডগায় সামান্য পাওয়া গিয়েছে।

    – আঙুলে? আর কোথাও নয়?

    – না। করোনারের রিপোর্টে বলা হয়েছে, খাবার খাওয়ার অনেক পরে মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং, খাবারে সায়ানাইড মেশানোর ফলে মৃত্যু হয়েছে, এটা নাকচ করে দেওয়া যায়। আর ঘরের সব জায়গাতেই দেখা হয়েছে, সায়ানাইডের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি!

    “তাহলে সায়ানাইড মুখে প্রবেশ করলো কীভাবে?” বলতে বলতে টেবিলের উপর থেকে লাল বইটা তুলে নিলো প্রাইভেট ডিটেকটিভ। “বাহ, শার্লক হোমস!” হাতে দস্তানা পরে সাবধানে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টোতে লাগলো সে।

    – টেবিলের উপরেই মৃতদেহটা পড়ে ছিল না?

    – হ্যাঁ, চেয়ারে বসা অবস্থায় ছিল, মাথাটা টেবিলের উপরে পড়ে ছিল।

    – অফিসার! এখনই এই বইটা ল্যাবরেটরিতে পাঠান। পৃষ্ঠাগুলো পরীক্ষা করে দেখুন, সম্ভবত এর পৃষ্ঠাতেই সায়ানাইড লাগানো ছিল।

    – মানে…? জ্বি, হ্যাঁ, অবশ্যই।

    – আর ডেভনশায়ার বুক কর্নারে খোঁজ করুন। এই বইটা কে কিনেছে খুঁজে বের করুন। খুনিকে পেয়ে যাবেন। আমি চললাম।

    – কিন্তু খুন হলো কীভাবে?

    “এখনো বোঝেননি? বইয়ের পাতায় সায়ানাইড মাখানো ছিল। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টানোর সময়েই তার আঙুলে সায়ানাইড লেগে যায়, তারপর জিহ্বায় হাত লাগতেই সব শেষ। বইয়ের পাতায় উল্টানোর সময় হাতে থুথু লাগানো খুবই খারাপ অভ্যাস, এরপর থেকে খেয়াল রাখবেন বিষয়টা,” বলে অফিসারের দিকে চোখ টিপে বের হয়ে গেলো ডিটেকটিভ।

    সায়ানাইড নিয়ে গোয়েন্দা সাহিত্যে উৎসাহের কমতি নেই। আর্থার কোনান ডয়েল কিংবা আগাথা ক্রিস্টি, বিখ্যাত গোয়েন্দা লেখকেরা নিজেদের গল্পে খানিকটা হলেও সায়ানাইড মিশিয়ে দিয়েছেন। এই বিখ্যাত বিষ নিয়ে মানুষের আলোচনাও কম নয়। এমন গুজবও রটেছে যে, মানুষ সায়ানাইড মুখে দেওয়ার সাথে সাথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, এর স্বাদ কেমন তা কেউ বলতে পারেনি। তা বলার আগেই সে মারা গিয়েছে। এরকম একটা খুবই প্রচলিত গুজব হলো কেউ একজন কলম হাতে ধরেই সায়ানাইডের স্বাদ পরীক্ষা করতে যান, কিন্তু ‘S’ শব্দটি লেখার পরপরই তিনি মারা যান। ‘S’ দিয়ে Sour (টক) বা Sweet (মিষ্টি), এমনকি Salty (লবণাক্ত)-ও হতে পারে। এই হচ্ছে সায়ানাইডের স্বাদ সম্পর্কে মানুষের সর্বোচ্চ জ্ঞান। কিন্তু আসলেই কি তা-ই?

    বিষাক্ত সায়ানাইডের বোতল

    সায়ানাইডের স্বাদ

    ২০০৬ সাল, ভারতের কেরালা রাজ্যের পালাক্কাদ জেলার ঘটনা। পুলিশের কাছে খবর আসলো প্রসাদ নামক এক স্বর্ণকার আত্মহত্যা করেছেন। কারণ? নকল সোনার গহনা কিনেছিলেন কয়েকদিন আগে, আর এটি কিনতে গিয়েই ব্যাংকের কাছ থেকে ধার করতে হয়েছিল তাকে। শেষমেশ নকল গহনার মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন এই স্বর্ণকার। তবে প্রসাদ তার মৃত্যুর আগে এক অভাবনীয় কাজ করে গিয়েছেন। ভেঙে দিয়েছেন বিজ্ঞানের এতদিনের কিংবদন্তী, যে কেউ সায়ানাইডের স্বাদ বলতে পারেনি। প্রসাদ যে সায়ানাইডের স্বাদ গ্রহণ করে তা শুধু লিখে গিয়েছেন তা-ই নয়, বরং ডাক্তারদের উদ্দেশ্যেও ছোট একটা নোট লিখে গিয়েছেন, এবং ঠিক তারপরেই মারা গিয়েছেন।

    প্রসাদকে সায়ানাইড পাওয়ার জন্য দূরে কোথাও যেতে হয়নি, সোনা নিষ্কাশনের জন্য সায়ানাইড একটি বহুল ব্যবহৃত পদার্থ। প্রসাদ সায়ানাইড বেশ বড় একটা পাত্রে রেখে তার মধ্যে কিছুটা অ্যালকোহল ঢেলে দেন, এরপর লেখার কলমের পিছন দিকটার সামান্য অংশ তাতে চুবিয়ে নিলেন। তারপর কলমে জিহ্বা লাগিয়েই তার চিঠি লেখা শুরু করলেন।

    “ডাক্তার, এটা হচ্ছে পটাশিয়াম সায়ানাইড। আমি এটার স্বাদ গ্রহণ করেছি। এটা ধীরে ধীরে শুরু হয়, আর তারপরেই জ্বালা শুরু হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো জিহ্বা শক্ত হয়ে যায়। এর স্বাদ হচ্ছে অত্যন্ত কটু … আমি এরকম একটা গোয়েন্দা উপন্যাস পড়েছিলাম, যেখানে একজন লোককে সায়ানাইড প্রয়োগে মেরে ফেলা হয়। খুনী একটা বইয়ের পাতায় সায়ানাইড লাগিয়ে রাখে, আর যখনই সে বইয়ের পাতা উল্টানোর সময় তার হাত জিহ্বায় স্পর্শ করে, তখনই সে মারা যায়, এবং এই ঘটনায় কাউকে সন্দেহও করা যায়নি। আমি এখন বুঝতে পেরেছি যে এর সাহায্যে সহজেই কাউকে খুন করে ফেলা সম্ভব…”

    প্রসাদের ময়না তদন্তকারী ডাক্তার পিবি গুজরাল মন্তব্য করেছেন, “আমরা এখন জানতে পারলাম যে সায়ানাইডের স্বাদ কেমন। তার সুইসাইড নোটটা একটা দলিল। এর আগে কেউ বলে যেতে পারেনি সায়ানাইডের স্বাদ আসলে কেমন।” প্রসাদের এই কাজের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রসাদের পরিবারের জন্য প্রতি মাসে এক লক্ষ রুপি প্রদান করার ঘোষণা দেয়।

    এই ঘটনার কয়েক বছর আগে এক বিজ্ঞানী সায়ানাইডের স্বাদ কেমন তা পরীক্ষা করতে যান, কিন্তু কিছু বলার আগেই তিনি মারা যান। আরেকজন বিজ্ঞানীও একই কাজ করতে কলম ধরার আগেই পরলোকে পাড়ি জমান।

    রাসায়নিক ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত পটাশিয়াম সায়ানাইড

    সায়ানাইড কীভাবে কাজ করে?

    সহজ কথায় বলা যায়, সায়ানাইড দেহকোষগুলোকে অক্সিজেন থেকে শক্তি উৎপাদন করতে বাধা দেয়। সায়ানাইড আয়ন (CN-) মাইটোকন্ড্রিয়ার সাইটোক্রোম সি-তে অবস্থিত লোহার সাথে যুক্ত হয়ে তাকে আটকে রাখে। ফলে সাইটোক্রোম সি অক্সাইডেজ অক্সিজেনে ইলেকট্রন পরিবহণ করতে পারে না। অক্সিজেন ব্যবহার করতে না পারায় মাইটোকন্ড্রিয়াও এটিপি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। শক্তি উৎপাদনে ব্যর্থ হওয়ায় হৃৎপিণ্ডের পেশিকোষ আর স্নায়ুকোষ দ্রুত তাদের শক্তি খরচ করে ফেলে আর মারা যেতে শুরু করে। যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ কোষ মারা গেলেই আপনিও মারা যাবেন।

    সায়ানাইড আসলে কতটা বিষাক্ত?

    এটি নির্ভর করে সায়ানাইড কোন অবস্থায় দেহে প্রবেশ করছে। মুখের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করা কঠিন বা তরল সায়ানাইডের তুলনায় প্রশ্বাসের সাথে টেনে নেওয়া সায়ানাইড গ্যাস আরো বেশি মারাত্মক। প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রামের চেয়ে বেশি সায়ানাইড কয়েক মিলি সেকেন্ডের মধ্যেই একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে মেরে ফেলতে পারে। তবে সায়ানাইডই সবচেয়ে বিষাক্ত পদার্থ নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত সারিন গ্যাস, খাদ্যের মধ্যে বিষক্রিয়ার ফলে উৎপাদিত বটুলিনাম টক্সিন, এমনকি পারদও সায়ানাইডের তুলনায় বিষাক্ত।

    সায়ানাইড ব্যবহারের ইতিহাস

    সোনা নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে একটি বহুল ব্যবহৃত উপাদান এই সায়ানাইড। চিকিৎসাক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে রক্তচাপ কমানোর প্রয়োজন হলে তাদের দেহে স্বল্পমাত্রায় সায়ানাইড প্রয়োগ করা হয়। এছাড়াও প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে জাপানে যক্ষা আর মৃগীরোগের প্রতিকারের জন্য এই রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হতো। কীটনাশক হিসেবেও সায়ানাইড একটি বহুল ব্যবহৃত উপাদান।

    আত্মহত্যার জন্যও সায়ানাইডের কুখ্যাতি কম নয়। নাৎসি বাহিনীর হিমলার, গোয়ারিং কিংবা হিটলারের স্ত্রী ইভা ব্রাউন থেকে শুরু করে শ্রীলংকার LTTE এর সদস্যরাও আত্মহত্যার জন্য সায়ানাইডকেই বেছে নিয়েছেন। ধরা পড়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে বাঁচতে গুপ্তচর কিংবা কমান্ডোরাও সায়ানাইড ব্যবহার করতো।

    সায়ানাইড সেবন করে আত্মহত্যা করার পর হিমলারের মৃতদেহ

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  6. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মনস্তাত্ত্বিক

    মাকড়শাকে আমরা ভয় পাই কেন? স্পাইডার সিল্ক কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    অ্যারাকনোফোবিয়া বা মাকড়শার ভয়। এই ভয়ে ভুগে থাকেন পৃথিবীর প্রতি দশজন মানুষের মধ্যে একজন। কিন্তু কেন? আমাদের চারপাশের পরিচিত মাকড়শাগুলোর কোনোটাই কামড়ে দিচ্ছে না, বিষাক্তও না। তাহলে তাদের দেখলেই কেন শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে যায় আমাদের? মাকড়শা যে ভয়ের, সেটা আপনার মাথায় এমনিতেই গেঁথে রেখবিস্তারিত পড়ুন

    অ্যারাকনোফোবিয়া বা মাকড়শার ভয়। এই ভয়ে ভুগে থাকেন পৃথিবীর প্রতি দশজন মানুষের মধ্যে একজন। কিন্তু কেন? আমাদের চারপাশের পরিচিত মাকড়শাগুলোর কোনোটাই কামড়ে দিচ্ছে না, বিষাক্তও না। তাহলে তাদের দেখলেই কেন শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে যায় আমাদের?

    মাকড়শা যে ভয়ের, সেটা আপনার মাথায় এমনিতেই গেঁথে রেখেছে প্রকৃতি

    এমন ভয়ই বা কেন জন্ম নিচ্ছে আমাদের মধ্যে মাকড়শাকে দেখলেই?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয়টা শুধু মাকড়শা নিয়েই নয়, পোকামাকড় ও এর কাছাকাছি প্রাণী, যেমন– সাপ, বাদুড় ইত্যাদি সবকিছু ঘিরেই এমন ভয় কাজ করে মানুষের মধ্যে। আর আমাদের মধ্যে যারা উপরের তালিকার যেকোনো একটি প্রাণীকে ভয় পান, তারা অন্যান্য পোকা, সরীসৃপ ইত্যাদি দেখেও ভয় পান। চলুন, আজ অ্যারাকনোফোবিয়া নিয়েই বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

    মাকড়শা থেকে শুরু করে মাকড়শাল জাল: ভয়টা কোথায়?

    মাকড়শাকে ভয় পাওয়া আর মাকড়শার জালকে ভয় পাওয়া, দুটোই একই ফোবিয়ার মধ্যে পড়ে। ঠিক ধরেছেন। অ্যারাকনোফোবিয়ার কথাই বলছি। অন্যান্য অনেক ফোবিয়ার চেয়ে অনেক বেশি এককেন্দ্রীক ভীতি এটা, যা তৈরি হতে পারে যে কারো মধ্যেই। এখানে আসল মাকড়শাও যে থাকতে হবে তা না, অ্যারাকনোফোবিয়ার ভুক্তভোগী হিসেবে শুধু জাল দেখেই মাকড়শা আশেপাশে থাকতে পারে সেই ভীতিতে পড়তেই পারেন।

    ‘অ্যারাকনে’ আর ‘ফোবোস’ নামের দুটো গ্রিক শব্দকে জুড়ে এই ভয়ের জন্ম। কালের পরিক্রমায় নানারকম ক্ষতিকর প্রাণীর প্রতি সহজাতভাবেই ভয় তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে। এই যেমন সাপ, যা আগেও বিষাক্ত ছিল, এখনও তা-ই। কিন্তু বিষ নেই এমন একটা সাপকেও আশেপাশে দেখলে আপনার শরীর ভয়ে কেঁপে উঠবে। এমন কেন? কারণ, আপনি জানেন, আপনার শরীরের ডিএনএ জানে যে সাপ বিষাক্ত। অনেকটা সহজাত প্রতিক্রিয়া চলে আসে তাই আপনার মধ্যে।

    মাকড়শাকে ভয় পাওয়ার জন্য আপনাকে মাকড়শার কামড় খেতে হবে এমনটা কিন্তু না; 
    একই ঘটনা ঘটে মাকড়শার বেলায়ও। মাকড়শা থেকে বিষ, বিষ থেকে অসুস্থতা- এই চিন্তা থেকেই শুরু হয় অ্যারাকনোফোবিয়া। অনেকটা প্রাকৃতিকভাবেই। কাজেই, মাকড়শাকে ভয় পাওয়ার জন্য আপনাকে মাকড়শার কামড় খেতে হবে এমনটা কিন্তু না। মাকড়শা যে ভয়ের, সেটা আপনার মাথায় এমনিতেই গেঁথে রেখেছে প্রকৃতি। সেখান থেকেই আপনি হয়ে যাচ্ছে অ্যারাকনোফোবিয়ার ভুক্তভোগী।

    এই থিওরিকে সামনে ধরেই জার্মানিতে একটি গবেষণা চালানো হয়। শিশুদের মাছ, ফুল, সাপ, মাকড়শা ইত্যাদি দেখানো হয়। আর তাতে দেখা যায় যে, মাকড়শা আর সাপের বেলাতেই বাচ্চাদের চোখের মণির আকৃতি বদলাচ্ছে। ভয় পাচ্ছে তারা। এই ভয় কিন্তু মাকড়শাকে আগে থেকে না দেখেই ওদের মধ্যে তৈরি হয়েছে।

    অবশ্য, ভয় ছাড়াও বিরক্তি আর অস্বস্তিও হতে পারে অ্যারাকনোফোবিয়ার কারণ। আপনি শুধু মাকড়শাকে ভয় পেয়ে ওই জায়গা থেকে সরে যান বা মাকড়শাটাকে তাড়িয়ে দেন? এই ভীতির কবলে পড়ে অনেকে নিজের বাসাও ছাড়তে বাধ্য হন কখনো কখনো। মজার ব্যাপার হলো, আজ এই সময়ে এসে ব্যাপারটাকে শুধু একটা ভীতি মনে হলেও এই ভয়ই কিন্তু একটা সময় মানবজাতিকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে অনেক মাকড়শার মধ্যেই মানুষকে আক্রান্ত করার মতো বিষাক্ত তরল থাকলেও সেটা মানুষের শরীরে প্রবেশ করানোর মতো ধারালো আর লম্বা হুল থাকে না। পৃথিবীর ৬৩,০০০ প্রজাতির মাকড়শার মধ্যেও শুধু ২ শতাংশই মানুষের জন্য বিষাক্ত।

    ভয় ছাড়াও বিরক্তি আর অস্বস্তিও হতে পারে অ্যারাকনোফোবিয়ার কারণ
    আর হ্যাঁ, এসব বাদেও আপনার পরিবেশটাও আপনার মধ্যে অ্যারাকনোফোবিয়া তৈরি করতে পারে। বাবা-মা, চারপাশের মানুষ যেটাকে ভয় পাচ্ছে, সেটাকে আপনি কেন ভয় পাবেন না? নিজে নিজেই তাই আগে থেকে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও মানুষ হয়ে পড়তে পারেন এই আদিম ফোবিয়ার ভুক্তভোগী!

    আপনার অ্যারাকনোফোবিয়া আছে কি?

    মাকড়শাকে টুকটাক ভয় পাওয়া কিন্তু যায়ই। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি সেটা। কিন্তু সেই ভয় যে প্রচন্ড ফোবিয়া হয়ে আপনাকে আক্রমণ করেছে, তার লক্ষণ স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব।

    অ্যারাকনোফোবিয়া তৈরি হলে একজন মানুষ এই ভয়কে মোকাবেলা করতে মাকড়শা আছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলেন
    শারীরিকভাবে অ্যারাকনোফোবিয়ার ক্ষেত্রে ভয় বৃদ্ধি পেলে আপনি:

    • মাথা ঘোরা
    • হজমে সমস্যা
    • বমিভাব
    • গা ঘেমে যাওয়া
    • হাত-পা কাঁপুনি
    • শ্বাসকষ্ট
    • হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি
    • কান্না

    ইত্যাদি দেখতে পারেন নিজের মধ্যে। শুধু তা-ই না, অ্যারাকনোফোবিয়া তৈরি হলে একজন মানুষ এই ভয়কে মোকাবেলা করতে মাকড়শা আছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলেন। কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। সামাজিক নানা ব্যাপার থেকে অনেকটা দূরে চলে যেতে একপ্রকার বাধ্য হন।

    ভয় কমাবেন কীভাবে?

    মাকড়শার প্রতি এই প্রচন্ড ভীতি কমাতে কিছু ব্যাপার খুব ইতিবাচকভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। টুকটাক সমস্যার পাশাপাশি আপনি যদি দেখতে পান অ্যারাকনোফোবিয়ার কারণে আপনি বাইরে যেতেই ভয় পাচ্ছেন, কাজ করতে পারছেন না, রাতে জেগে থাকছেন বা কিছুক্ষণ পর পর চিন্তায় ডুবে যাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে আপনার উচিৎ হবে-

    ১) চিকিৎসকের সাথে কথা বলা। চিকিৎসকেরা এই ভীতির কারণে কোনো ওষুধ দিতে চান না। তবে কাউন্সেলিং করে ভয়কে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসেন।

    বারবার মাকড়শাকে সামনে থেকে দেখাটাও অ্যারাকনোফোবিয়া কমিয়ে আনে
    ২) অন্য অনেক ফোবিয়ার মতো থেরাপি নেওয়ার মাধ্যমেও ধীরে ধীরে ভয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন আপনি। ভার্চুয়াল রিয়ালিটি থেরাপি এক্ষেত্রে বেশ ভালো কাজ করে। বার বার মাকড়শাকে সামনে থেকে দেখাও অ্যারাকনোফোবিয়া কমিয়ে আনে।

    মজার ব্যাপার হলো, স্পাইডারম্যান মুভিও অনেক অ্যারাকনোফোবিয়ার ভুক্তভোগীকে মাকড়শার ভয় কাটাতে সাহায্য করেছে। তাই আপনার মধ্যে বাস করা মাকড়শাকে নিয়ে ভীতিটা ঠিক কোন উপায়ে চলে যাবে সেটা বলা কঠিন। তবে পুরো ব্যাপারটাই যেহেতু আপনি মাকড়শাকে কেমন চোখে দেখছেন তার উপরে নির্ভর করছে, কাউন্সেলিং বা থেরাপি বা অন্য যেকোনো উপায়ে, সেটাকেই যে আপনার বদলাতে হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই!

    সিল্কের কথা বললেই একটি উপকথার গল্প চলে আসে মনে। চীনের সম্রাট হুয়াং তাই বা ইয়েলো এমপেরর-এর স্ত্রী সম্রাজ্ঞী লেই জু যখন বাগানে বসে চা পান করছিলেন তখন উপরের তুঁত গাছ থেকে একটি রেশম পোকার কোকুন এসে পড়ে সম্রাজ্ঞীর চায়ের পেয়ালায়। সম্রাজ্ঞী যখন এটি ধরে বের করে আনতে চাইলেন তখনই ঘটলো আসল ঘটনা। যতই টানেন ততই কোকুন থেকে একনাগাড়ে বেরিয়ে আসতে থাকে সুতা।

    ধারণা করা হয়, সম্রাজ্ঞী লেই জু দুর্ঘটনাক্রমে সিল্ক আবিষ্কার করেন

    নব্য প্রস্তর যুগের শেষ দিকের ঘটনা। অন্তত ইতিহাস আর ঐতিহাসিকগণ এমনটাই বলেন। তবে কাহিনীটি সত্য না উপকথা এ নিয়েও মতভেদ আছে। তারপরও চীন সিল্ককে নিজেদের একচেটিয়া অধিকারে রাখে প্রায় তিন হাজার বছর। সেই সিল্ক চীনকে এনে দিয়েছিল অনন্য সম্ভাবনার সুযোগ। যদিও পরে নানাভাবে নানা উপায়ে সিল্ক ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়।

    সিল্কের কথা সকলেই কমবেশ জানে। প্রাকৃতিক এই সুতাই একমাত্র সুতা যা পুরো কোকুন জুড়েই অবিচ্ছিন্ন থাকে। কোকুনের কথায় চলে আসে রেশম পোকা আর তুঁত গাছের কথা। কারণ রেশম পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়েই একসময় কোকুন তৈরী করে এবং এরপর সেখান থেকেই আসে সিল্ক সুতা।

    সিল্ক মূলত প্রোটিন ভিত্তিক প্রাকৃতিক তন্তু যা বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার পর সুতা হিসেবে পাওয়া যায়। তবে শুনে অবাক লাগতে পারে, সিল্কের মতো এমন সুতা মাকড়সা থেকেও পাওয়া যেতে পারে। কিছুটা অবাস্তব আর আষাঢ়ে গল্পের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু এটি সত্য যে, মাকড়সা থেকে প্রাপ্ত সুতা স্টিলের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়। চলুন জানা যাক মাকড়সার সিল্ক সম্পর্কে দারুণ কিছু তথ্য।

    মাকড়সার সুতাও হতে পারে সিল্কের অন্যতম উৎস

    রেশম পোকা ছাড়াও সিল্ক উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সঠিকতা আর পূর্ণাঙ্গতার অভাব রয়ে গেছে এখনও। সব প্রজাতির মাকড়সা থেকে সিল্ক প্রস্তুত করা যাবে এমনটা নয়। বিশেষ প্রজাতির মাকড়সাই এক্ষেত্রে শক্তিশালী সিল্ক তৈরী করতে পারে। মাকড়সার বিশেষত্ব হলো অবিরত সুতা তৈরীর কৌশল ও অসাধারণ জ্যামিতিক জ্ঞান সম্বলিত জাল বোনার ক্ষমতা। এই সূত্রক একইসাথে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত অন্যান্য ফাইবারের থেকে অনেকগুণ বেশি শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক। এমনকি কেভলার নামক কৃত্রিম সুতা, যা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট তৈরীতে কাজে লাগে, তার থেকেও স্পাইডার সিল্ক বেশি দৃঢ়।

    আসুন জানা যাক কীভাবে মাকড়সা জাল বোনার জন্য সুতা তৈরী করে। মাকড়সার সুতা কীভাবে উৎপাদিত হয় সেটি নিয়ে গবেষকগণ অনেক গবেষণা করেছেন এ পর্যন্ত। মূলত মাকড়সার উদরের বিশেষ একপ্রকার গ্রন্থি থেকে এই সুতার জন্ম হয়। মাকড়সা সবসময় কেবল একই ধরনের সুতাই তৈরী করে না। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রকার সুতা তৈরী করে থাকে। উদরে উৎপন্ন এই সুতা মূলত প্রাথমিকভাবে তরল অবস্থায় থাকে এবং স্পিনারেট নামক অঙ্গাণুর সূক্ষ্ম মুখনলের মধ্যে দিয়ে বের হয়ে আসে।

    স্পিনারেট সাধারণত উদরের পেছনের দিকে অবস্থান করে এবং দেখতে কোণাকার অথবা হাতের আঙুলের মতো। অধিকাংশ মাকড়সার পশ্চাৎদেশে প্রায় দুই জোড়া অর্থাৎ ৪টির মতো (প্রজাতিভেদে ২ থেকে ৮টি পর্যন্ত) স্পিনারেট থাকে। প্রতিটি স্পিনারেটে থাকে স্পিগট নামক অংশ যার মধ্যে দিয়ে এই সূত্রক বের হয়। কিন্তু তরল প্রোটিনের সুতা দিয়ে তো আর জাল বোনা সম্ভব নয়। তাই এদের স্পিনারেটে পরবর্তীতে এমন একটি পালিশ করার ব্যবস্থা থাকে, যার ফলে এই তরল প্রোটিনের আণবিক গঠনের পরিবর্তন ঘটে ও নতুন করে বিন্যস্ত হয়। এই পরিবর্তনের ফলেই বেরিয়ে আসে কঠিন সূত্রক।

    এ অংশে যখন তরল প্রোটিন প্রবেশ করে তখন এ অংশের কোষগুলো প্রোটিন থেকে পানি বের করে ফেলে এবং হাইড্রোজেনকে আলাদা করে ফেলে। ফলে সেটি একপ্রকার অম্লীয় মাধ্যমে পরিণত হয়। এর কারণে তরল প্রোটিন পরিণত হয় কঠিন প্রোটিনে। সাধারণত মাকড়সা নিজেদের আবাসস্থল কিংবা আহারাদির ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে জাল বুনে থাকে। কাজেই এই জাল বা জালের সুতা এমন হতে হবে যেন পোকামাকড় যখন এতে আঘাত করবে তখন সেটা সর্বোচ্চ পরিমাণ আঘাত শোষণ করতে পারে। মূলত প্রকৃতিরই এক বিশেষ আশীর্বাদ বলা যায় একে। আর এই বিশেষ গুণই একে অন্যান্য ফাইবার থেকে আলাদা করেছে।

    পাশাপাশি এর আরো একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সূক্ষ্মতা। অর্থাৎ অন্যান্য ফাইবারের তুলনায় এটি খুবই সূক্ষ্ম এবং এর ভরও অনেক হালকা। এতটাই হালকা যে পুরো পৃথিবী একবার বেষ্টন করতে মাকড়সার যে একটানা লম্বা সূত্রকের প্রয়োজন হবে তার ভর হবে খুব বেশি হলে মাঝারি আকৃতির একটি সাবান খণ্ডের ভরের সমান!

    প্রাকৃতিক স্পাইডার সিল্ক দিয়ে তৈরী ফেব্রিক

    মাকড়সার সুতা যে শক্তিশালী এবং স্থিতিস্থাপক সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। মুশকিল হচ্ছে এই সুতা আহরণ ও উৎপাদন করার যায় কীভাবে সেটা নিয়ে। সাধারণ রেশম পোকা যেমন আমরা চাষ করতে পারি মাকড়সার চাষ করা আসলে ততটা সহজ নয়। কারণ একে তো সব প্রজাতির মাকড়সাই এই শক্তিশালী সুতা তৈরী করতে পারে না, অন্যদিকে মাকড়সা সবসময় একই প্রকার সুতা প্রদানও করতে পারে না। সবচেয়ে কঠিন সমস্যা এই যে মাকড়সা কলোনিভুক্ত প্রাণী নয়। কাজেই এদের একত্রে চাষ করা অসম্ভব।

    অন্যদিকে গবেষকগণও কৃত্রিমভাবে মাকড়সার সুতা গবেষণাগারে তৈরী করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তরল প্রোটিনকে কঠিন ও দৃঢ় করাটাই এখন তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এটি মাকড়সার দেহে ঘটে এক বিশেষ প্রক্রিয়ায়। সেটা কৃত্রিমভাবে তৈরী করতে গেলে আমাদের এখনো অনেক গবেষণা করতে হবে এবং অপেক্ষা করতে হবে।

    এখন প্রশ্ন থাকতে পারে যে, আমরা তাহলে স্পাইডার সিল্ক পাবো কীভাবে। কারণ একদিকে মাকড়সা থেকে সবসময় সিল্ক পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, আবার গবেষণাগারে এখনো ঠিক সেভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এটার আসলে এখনই কোনো উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।

    দুর্লভ এই সোনালী ফেব্রিক তৈরী করা হয়েছে এক মিলিয়ন মাকড়সার সুতা দিয়ে

    তবু অনেকেই এই মাকড়সার সুতা আহরণে চেষ্টা করেছেন এবং সেই সিল্ক দিয়ে ফেব্রিকও বোনা হয়েছে। ছবিতে যে সোনালী ফেব্রিক দেখানো হয়েছে সেটি প্রস্তুত করতে প্রায় ৭০ জন মানুষের সময় লেগেছে ৪ বছর। এই ফেব্রিক তৈরী করা হয়েছে প্রায় এক মিলিয়ন Golden orb প্রজাতির স্ত্রী মাকড়সা হতে প্রাপ্ত সিল্ক থেকে। ব্যাপারটা মোটেও সহজ ছিল না।

    এই ৭০ জন মানুষ প্রায় ৪ বছর ধরে মাদাগাস্কারের বিভিন্ন এলাকার টেলিফোন পোল থেকে মাকড়সা সংগ্রহ করেছেন এবং আরো প্রায় ১২ জন মানুষ এসব মাকড়সা থেকে আহরণ করেছে সিল্ক। প্রতিটি মাকড়সা থেকে আহরণ করা হয়েছে প্রায় ৮০ ফুটের মতো সুতা যা ব্যবহার করে তৈরী হয়েছে এই ১১ ফুট দৈর্ঘ্য আর ৪ ফুট প্রস্থের ফেব্রিকখানি। মূলত এটিই প্রথম ফেব্রিক যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক মাকড়সার সুতা দিয়ে তৈরী করা হয়েছে।

    এক্ষেত্রে মাকড়সা থেকে সুতা আহরণের যে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি একসাথে ২৪টি মাকড়সার সুতা আহরণ করতে পারে। মাকড়সার কোনো ক্ষতি না করেই করা হয় এই আহরণ কর্ম। আহরিত সুতা হতে দেখা যায় যে, ১৪ হাজার মাকড়সা থেকে যে পরিমাণ সুতা পাওয়া যায় তার ভর খুব বেশি হলে এক আউন্সের মতোই হবে এবং বয়নকৃত ঐ ফেব্রিকের ভর ছিল প্রায় ২.৬ পাউন্ডের মতো। অর্থাৎ এরা অন্যান্য ফাইবার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হালকা হবে।

    মাকড়সা থেকে যেভাবে সিল্ক আহরণ করা হয়

    কিন্তু এত বিশেষ সব বৈশিষ্ট্য থাকার পরও মাকড়সা চাষ করার কোনো পদ্ধতি আবিষ্কৃত না হওয়ার কারণে কেবল প্রাকৃতিক মাকড়সার উপর নির্ভর করতে হয় আমাদের। আবার প্রাকৃতিক মাকড়সা থেকে একনাগাড়ে সুতা আহরণ করা হলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সুতা আহরণ করার পর থেকে যে সুতা পাওয়া যায় তা আগের সুতার মতো কঠিন ও স্থিতিস্থাপক থাকে না।

    মাকড়সা আহরণের জন্যও উপযুক্ত মানুষের প্রয়োজন। কারণ মাকড়সার দংশনের ভয়ও থাকে যথেষ্ট। আবার বর্ষার মৌসুম ছাড়া এই বিশেষ প্রজাতির মাকড়সা তাদের বিশেষ ধরনের সিল্ক তৈরী করে না। একবার সিল্ক আহরণ করার পর মাকড়সা প্রায় এক সপ্তাহ সময় নেয় নতুন করে একই প্রকার শক্তিশালী সুতা তৈরী করার জন্য।

    গবেষকগণ তাই অবিরত চেষ্টা করে যাচ্ছেন কীভাবে গবেষণাগারে তৈরী করা যায় স্পাইডার সিল্ক। কিন্তু কিছু সমস্যা থেকেই যায়। কারণ এই সিল্কের প্রকৃত জীন অনুক্রম এখনো পুরোপুরি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে সমর্থ্য হননি। যদি সেটা পাওয়া যায় তবে সেটা অন্যান্য অণুজীবের শরীরে স্থাপন করে হয়তো প্রচুর পরিমাণে সিল্ক পাওয়া সম্ভব হবে যা হবে একই সাথে শক্তিশালী ও সহজলভ্য।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  7. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    না খেয়ে কত দিন বেঁচে থাকা সম্ভব?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ৭৪ বছর বয়সে জীর্ণ-শীর্ণ শরীরের মহাত্মা গান্ধী একবার অনশনে ২১ দিন পর্যন্ত না খেয়ে ছিলেন! বিভিন্ন দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকার নজিরও খুব একটা দুর্লভ নয়। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তির বয়স, ওজন, শারীরিক সুস্থতা, জিনগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশের তাপমাত্রা, দেহে পানি ও চর্বির পরিমাণ প্রবিস্তারিত পড়ুন

    ৭৪ বছর বয়সে জীর্ণ-শীর্ণ শরীরের মহাত্মা গান্ধী একবার অনশনে ২১ দিন পর্যন্ত না খেয়ে ছিলেন! বিভিন্ন দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকার নজিরও খুব একটা দুর্লভ নয়। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তির বয়স, ওজন, শারীরিক সুস্থতা, জিনগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশের তাপমাত্রা, দেহে পানি ও চর্বির পরিমাণ প্রভৃতি নিয়ামকের ওপর বেঁচে থাকা নির্ভর করে। তবে না খেয়ে ঠিক কত দিন বেঁচে থাকা যায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা নেই। কেননা দিনের পর দিন কোনো ব্যক্তিকে না খেয়ে রেখে গবেষণা নৈতিকতার দিক থেকে একটি যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। তবে বিভিন্ন দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ, অনশন কিংবা ধর্মঘটের বিভিন্ন ঘটনা থেকে বিজ্ঞানীরা খাবার ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকার একটা ধারণা প্রদান করেন।

    কোনো রকম খাবার ও পানি ছাড়া সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মতো বেঁচে থাকা সম্ভব। তবে শুধু খাবার খাওয়া বাদ রেখে শুধু পানি পান করে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকা সম্ভব হতে পারে। অনশন-ধর্মঘটে ঐচ্ছিকভাবে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে মোটামুটি ৪৫-৬১ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকার নজির পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে একটি গবেষণায় দেখা যায়- ১৮.৫ বিএমআই মানের নিচের কোনো ব্যক্তি স্বাভাবিক বিএমআই-এর মানুষের চেয়ে প্রায় ৪ বছর পর্যন্ত কম বাঁচে। তাই ব্যক্তির ওজন, দৈহিক কাঠামো, বয়সের ন্যায় নিয়ামকগুলোও না খেয়ে বেঁচে থাকার সময়ে ঢের পার্থক্যের সৃষ্টি করে।

    না খেয়েও কীভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়?

    দিনের পর দিন না খেয়ে বেঁচে থাকা অনেকের কাছে এক বিস্ময়ের বিষয়। খাদ্যই আমাদের দৈহিক কার্যকলাপের চালিকাশক্তি। শর্করা জাতীয় খাবার হজমের পর তা গ্লুকোজে পরিণত হয়, যা দেহে শক্তির জোগান দেয়। প্রয়োজনমাফিক শক্তির জোগান দেওয়া শেষে অতিরিক্ত গ্লুকোজ যকৃতে গ্লাইকোজেন রূপে জমা থাকে। মোটামুটি ২৪ ঘণ্টার মতো না খেয়ে থাকার পর দেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপে বিঘ্ন ঘটে। দেহে গ্লুকোজের সরবরাহ না থাকায় এক সময় যকৃতে জমা থাকা গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এই গ্লুকোজই তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দেয়।

    যকৃত গ্লুকোজ জমা রাখতে পারে যা প্রয়োজনের সময় শক্তির জোগান দেয়;
    কিন্তু একসময় যকৃতের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যায়। এরপর দেহ চর্বি ভেঙে শক্তির চাহিদা মেটায়। এজন্য রোগা-পাতলা ব্যক্তির তুলনায় স্থূল ব্যক্তিরা না খেয়ে বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারেন! এভাবে প্রথম পাঁচ দিনে ব্যক্তির ১-২ কেজি ওজন কমে যায়। দেহে পানিশূন্যতা এই ওজন কমে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ।

    এরপর শক্তির শেষ ভরসাস্থল হিসেবে দেহ মাংসপেশীর ক্ষয় করতে শুরু করে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ না খেয়ে থাকার পর প্রত্যেক দিন ব্যক্তির প্রায় ৩০০ গ্রাম করে ওজন কমতে থাকে। এভাবে ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের চরম ঘাটতি একপর্যায়ে ব্যক্তির মৃত্যু ঘনিয়ে আনে।

    দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকলে দেহে কী কী সমস্যা হয়?

    দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকার ফলে ধীরে ধীরে দেহের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। রাজ্যের অবসাদ আর ক্লান্তি ভর করে বসে দেহে। হৃৎপিণ্ড চালু রাখার পর্যাপ্ত শক্তিও থাকে না আর।  রক্তচাপ ও নাড়ির গতিও তাই কমে যায়। পাকস্থলীতে খাদ্যের অভাব বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহসহ নানা জটিলতার সৃষ্টি করে।

    দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকার প্রভাব
    শুষ্ক ত্বক, চুল পড়া, অস্থি ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া কিংবা মেয়েদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব হওয়ার মতো হরমোনঘটিত সমস্যাও দেখা যায়। প্রয়োজনীয় শক্তির অভাবে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মেও যথেষ্ট ব্যাঘাত ঘটে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  8. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    গণিতের সর্বোচ্চ সম্মাননা পুরষ্কারের নাম কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত পুরষ্কারটির নাম, নোবেল পুরষ্কার। যার হাত ধরে এর প্রবর্তন, সেই আলফ্রেড নোবেল মূলত ডিনামাইট উদ্ভাবন করেছিলেন। অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যাবসা করে এক জীবনে অনেক অর্থ-বিত্ত করেছিলেন। কিন্তু ১৮৮৮ সালে এসে তিনি অনুধাবন করলেন, বড় এক ভুল হয়ে গেছে। সে সময় তার ভাই লুডভিগ নোবেলের মৃত্যুর খবরবিস্তারিত পড়ুন

    পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত পুরষ্কারটির নাম, নোবেল পুরষ্কার। যার হাত ধরে এর প্রবর্তন, সেই আলফ্রেড নোবেল মূলত ডিনামাইট উদ্ভাবন করেছিলেন। অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যাবসা করে এক জীবনে অনেক অর্থ-বিত্ত করেছিলেন। কিন্তু ১৮৮৮ সালে এসে তিনি অনুধাবন করলেন, বড় এক ভুল হয়ে গেছে। সে সময় তার ভাই লুডভিগ নোবেলের মৃত্যুর খবর বড় করে ছাপিয়েছে পত্রিকাগুলো। সেই খবরে লুডভিগকে তারা আখ্যায়িত করেছে ‘মৃত্যু ব্যবসায়ী’ নামে। আলফ্রেড নোবেল ভাবলেন, তার নিজের মৃত্যুর পরেও এরকম শিরোনামই প্রকাশ করবে সংবাদপত্রগুলো। তাহলে, এই সমস্যা সমাধান করার উপায় কী?

    নিজের সম্পত্তির ৯৪ শতাংশ তিনি লিখে দিয়ে গেলেন একটি পুরষ্কারের জন্য। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, শান্তি এবং সাহিত্যে অবদানের জন্য এই পুরষ্কার দেয়া হবে। একে কি প্রায়শ্চিত্ত বলা যায়? ভালো-খারাপে কাটাকাটি হয়ে যাওয়ার মতো কিছু?

    নোবেল পুরস্কার
    পরবর্তীতে, ১৯৬৮ সালে সুইডেনের সেন্ট্রাল ব্যাংক ও দ্য রিক্সব্যাংক নিজেদের ৩০০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে নোবেল ফাউন্ডেশনকে বিশাল অংকের টাকা অনুদান দেয় অর্থনীতিতে আরেকটি পুরষ্কার দেয়ার জন্য। এটি মূলত নোবেল পুরষ্কার না, কারণ নোবেল নিজে এটি চালু করে যাননি, তারপরও এই পুরষ্কারটিকেও নোবেল পুরষ্কার বলেই গণ্য করা হয়।

    পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান- সবই নোবেল পুরষ্কারের আওতায় এসেছে, কিন্তু বাদ পড়ে গেছে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র- গণিত। অথচ গণিতকে বলা হয় বিজ্ঞানের ভাষা। পুরষ্কার না পেলেও গণিতবিদরা কিন্তু তাদের কাজ থামিয়ে দেননি। বিজ্ঞানীরা নিজেদের কাজের স্বীকৃতি অবশ্যই চান। কিন্তু তারা সাধারণত স্বীকৃতির জন্যে কোনো কাজ করেন না।

    বিজ্ঞানীদের কাজের মূল্য পরিশোধ করা কিংবা তাদের ঋণ শোধ করা তো আসলে সম্ভব নয়। যেটুকু করা যায়, তাতে  তাদেরকে কিছুটা স্বীকৃতি দেওয়া হয় মাত্র। আর সেই স্বীকৃতি বিজ্ঞানের সব শাখার মানুষ পাবেন, আর গণিতজ্ঞরা পাবেন না, এটা কেমন কথা? এসব ভেবে নরওয়ে সরকার ২০০২ সালে একটি নতুন পুরষ্কারের প্রচলন করে। গণিতজ্ঞ নিলস হেনরিক অ্যাবেলের নামে এর নাম দেওয়া হয় অ্যাবেল পুরষ্কার।

    কেউ কেউ ভাবেন, নোবেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে এই বিজ্ঞানীর নামকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে এ কথার পেছনে কোনো সত্যতা আছে বলে মনে হয় না। এ নিয়ে ঐতিহাসিক কোনো প্রমাণও পাওয়া যায় না। তবে কথা হলো, কে এই নিলস হেনরিক অ্যাবেল? যার নামে তাবৎ গণিতজ্ঞদের সম্মানিত করা হচ্ছে?

    নিলস হেনরিক অ্যাবেল
    নিলস হেনরিক অ্যাবেল একজন নরওয়েজিয়ান গণিতজ্ঞ। তার জন্ম ১৮০২ সালের ৫ই আগস্ট। আধুনিক গণিতের একাধিক শাখায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছেন তিনি।

    বাবা ছিলন দরিদ্র লুথারিয়ান পাদ্রী। দক্ষিণ নরওয়ের এক শহরে থাকতেন তারা। ১৮১৫ সালে অসলোর ক্যাথেড্রাল স্কুলে পড়াশোনা শুরু। ২ বছর পরে নতুন এক গণিত শিক্ষক যোগ দিলেন সেই স্কুলে। বার্ন্ট মিখায়েল হোমবো। তিনিই প্রথম অ্যাবেলের গণিত প্রতিভা চিনতে পেরেছিলেন। গণিতের ক্লাসিক সব বইপত্র, সমস্যা ইত্যাদির সঙ্গে অ্যাবেলকে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। নিউটন, অয়লার থেকে গাউস- সবার কাজ নিয়ে যথেষ্ট পড়াশোনা করেছেন অ্যাবেল। তারপর শুরু করেছেন নিজস্ব গবেষণা।

    একসময় বাবা মারা গেলেন। পরিবার পড়ল অকুল পাথারে। সব মানুষের জীবনেই এমন কিছু মানুষ থাকে, যারা সব ভুলে এগিয়ে আসে বিপদের দিনে। এই মানুষগুলোর কথা কখনো জানা যায়, কখনো তারা হারিয়ে যান ইতিহাসের আড়ালে। অ্যাবেলের জীবনে সেই ভূমিকায় এগিয়ে এলেন শিক্ষক হোমবো। নিজে যেমন সরাসরি আর্থিকভাবে সাহায্য করলেন, তেমনি কিছুটা ফান্ড সংগ্রহ করে দিলেন অ্যাবেলের জন্য। সেই টাকা দিয়ে অ্যাবেল, অসলোর ইউনিভার্সিটি অব ক্রিশ্চিয়ানায় ভর্তি হলেন ১৮২১ সালে। ১৮২২ সালে পেলেন প্রিলিমিনারি ডিগ্রি। তারপর হোমবোর সাহায্যে নিজের মতো করে চালিয়ে গেলেন পড়াশোনা এবং গবেষণার কাজ।

    অ্যাবেলের স্মরণে ডাকটিকেট
    ফাংশনাল ইকুয়েশন এবং ইন্টিগ্রাল নিয়ে অ্যাবেলের প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ১৮২৩ সালে। অর্থাভাবে ভুগছেন তখন তীব্রভাবে। তার বন্ধুবান্ধব নরওয়েজিয়ান সরকারের কাছে আবেদন করল, অ্যাবেলকে যেন জার্মানি বা ফ্রান্সে একটা ফেলোশিপের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। কিন্তু সেই আবেদনের উত্তর আসতে যে দেরী হবে, সেটা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। এদিকে, একটা গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক সমস্যা (দ্য জেনারেল ইকুয়েশন অব ফিফথ ডিগ্রি) যে বীজগাণিতিকভাবে সমাধান করা কখনো সম্ভব হবে না, সেটা প্রমাণ করে ফেলেছেন। নিজের খরচে প্রকাশও করে ফেললেন সেটা। সে সময়ের বিখ্যাত গণিতবিদ কার্ল ফ্রেডরিখ গাউসের কাছে পাঠিয়ে দিলেন এই প্রমাণ। পৃথিবী বিখ্যাত এক অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যার যে সমাধান হয়ে গেছে, সেটা স্বচক্ষে দেখেও বুঝতে পারলেন না গাউস। বাতিল করে দিলেন। কিছুদিন পরে অবশ্য গণিতবিদরা বুঝতে পেরেছিলেন, অ্যাবেল কী করে বসে আছেন!

    অ্যাবেলের হাতে লেখা ম্যানুস্ক্রিপ্ট
    ১৮২৬ সালে অ্যাবেল গেলেন প্যারিসে। উদ্দেশ্য, সেখানে নিজের একটা স্থায়ী গতি করা। সে সময় গণিত চর্চার কেন্দ্র ছিল প্যারিস। সব গণিতজ্ঞের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও পেয়ে গেলেন। থিওরি অফ ইন্টিগ্রালস অফ অ্যালজেবরিক ফাংশনের উপর বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা পেপার লিখে ফেললেন তিনি। ফলশ্রুতিতে তৈরি হলো অ্যাবেলের উপপাদ্য। এর উপরে ভিত্তি করে পরবর্তীতে অ্যাবেলিয়ান ইন্টিগ্রালস এবং অ্যাবেলিয়ান ফাংশনের তত্ত্ব তৈরি হয়। সহজ কথায় বলা যায়, গণিতের আস্ত একটা শাখাই তৈরি হয়েছে এই মানুষটির হাত ধরে। কিন্তু তাতে তার উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি নিজের জন্য।

    এখানে শায়িত আছেন নিলস হেনরিক অ্যাবেল
    কাজেই, ঋণের বিশাল বোঝা কাঁধে নিয়ে অ্যাবেল আবারো নরওয়েতে ফিরে আসলেন। ততদিনে শরীরে বাসা বেঁধেছে টিউবারকোলোসিস। একে সাথে নিয়েই কাজে নামলেন। ১৮২৮ সালে শিক্ষকতা শুরু করলেন ক্রিস্টিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    শরীর খারাপ কিংবা আর্থিক দৈন্যদশা কিছুই দমাতে পারেনি তাকে। ইকুয়েশন থিওরি এবং এলিপটিক ফাংশন নিয়ে প্রচুর কাজ করেছেন এ সময়, লিখেছেন বেশ কিছু পেপার। বিখ্যাত গণিতবিদ গুস্তাব জ্যাকোবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এলিপটিক ফাংশন তত্ত্ব এগিয়ে নিয়ে গেছেন অনেকদূর। এই সময়ে এসে অ্যাবেলের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল। ফ্রেঞ্চ একাডেমির একদল বিজ্ঞানী তার জন্যে স্থায়ী একটা কিছু ব্যবস্থা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলেন। এমনকি নরওয়ে-সুইডেনের তৎকালীন রাজার সঙ্গেও তারা কথা বলেছিলেন এ নিয়ে।

    কিন্তু ততদিনে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন অ্যাবেল। এর কিছুদিনের মধ্যেই, ১৮২৮ সালে ইহকাল ত্যাগ করেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের একজন, নিলস হেনরিক অ্যাবেল।

    অ্যাবেল পুরষ্কার স্মারক;
    তার ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে, ১৯০২ সালে একটি পুরষ্কারের প্রচলন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন নরওয়েজিয়ান গণিতবিদ সোফাস লাই। কিন্তু ১৮৯৯ সালে লাই নিজেই পরলোকগত হন। ১৯০২ সালে রাজা দ্বিতীয় অস্কার আবারো এই পুরষ্কারের কথা বলেন। কিন্তু সুইডেন আর নরওয়ের আলাদা হয়ে যাওয়া, অর্থনীতির উপরে এর প্রভাব ইত্যাদি মিলে সেবারও আর করা হয়ে উঠেনি।

    তবে অ্যাবেলের কথা পুরো সময়টুকুতে বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। তাবৎ গণিতজ্ঞরা তাকে সম্মানের চোখে দেখে এসেছেন সবসময়ই। সেজন্যেই ২০০২ সালে আবার যখন অ্যাবেল পুরষ্কারের কথা উঠল, ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিকাল ইউনিয়ন এবং সে সময়ের সব গণিতবিদই একে শতভাগ সমর্থন দিয়েছিলেন। এর অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হলো ১ মিলিয়ন ডলার। গণিতের সবচেয়ে বড় পুরষ্কার হিসেবেও একে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

    বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হলেও গণিতে যেহেতু দেওয়া হয় না, সেজন্যে মানুষ একে গণিতের নোবেল নামে ডাকা শুরু করে। তবে, দুটো পুরষ্কারের মধ্যে বাস্তবে কোনো সম্পর্ক নেই।

    স্যার মাইকেল আতিয়াহ
    ২০০৩ সালে বীজগাণিতিক টপোলজি নিয়ে কাজের জন্য প্রথম অ্যাবেল পুরষ্কার পান জিন-পিয়েরে সেরে। পরের বছর একুশ শতকের বিখ্যাত গণিতজ্ঞ স্যার মাইকেল আতিয়াহ টপোলজির জন্য এই পুরষ্কার পেয়েছেন। ফি বছর গণিতের শ্রেষ্ঠ কাজের জন্য এই পুরষ্কার দেয়া হয়।

    ক্যারেন উলেনবেক
    ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো একজন নারী এই পুরষ্কার পেয়েছেন। তার নাম, ক্যারেন উলেনবেক। জ্যামিতিক পার্শিয়াল ডিফারেন্সিয়াল ইকুয়েশন, গজ তত্ত্ব এবং ইন্টিগ্রাল সিস্টেমস-এ গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্যই পুরষ্কার পেয়েছেন তিনি।

    নোবেল যেখানে ‘মৃত্যুর বণিক’ কুখ্যাতি এড়ানোর জন্যে নোবেল পুরষ্কারের প্রচলন করছেন, সেখানে অ্যাবেল ছিলেন একজন সত্যিকারের গণিতবিদ। যিনি জীবদ্দশায় খুব বেশি কিছুর আশায় হিসেব কষেননি। কাজ করেছেন গণিতকে ভালোবাসতেন বলে, গণিতকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন বলে। এখনও, গণিতবিদরা নোবেল পুরষ্কারের মতো বিখ্যাত কিছুতে ভূষিত হওয়ার সুযোগ পান না। তাদের নাম ঘুরে ফেরে না মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু তারা নিজেদের কাজ করে যান চুপচাপ।

    আর এই নিঃস্বার্থ মানুষগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাদেরই মতো আরেকজন চমৎকার গণিতজ্ঞের স্মরণে। যথার্থ স্বীকৃতি বোধ হয় একেই বলে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  9. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    এসআই একক কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    পরিমাপ করতে পারার ক্ষমতা এবং সেজন্য একক নির্ধারণ করা মানব জাতির ইতিহাসে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। বিশেষ করে বর্তমান যে বিজ্ঞান, এই বিজ্ঞানের একটি প্রধান ভিত্তি হলো পরিমাপ। এর শুরুটা হয়েছিল মূলত গ্যালিলিওর হাত ধরে। তার আগে বিজ্ঞানী শব্দটা সেভাবে ব্যবহৃত হত না। জ্ঞানীরা নিজেদেরকে বলতেন দার্শনিক (Nবিস্তারিত পড়ুন

    পরিমাপ করতে পারার ক্ষমতা এবং সেজন্য একক নির্ধারণ করা মানব জাতির ইতিহাসে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। বিশেষ করে বর্তমান যে বিজ্ঞান, এই বিজ্ঞানের একটি প্রধান ভিত্তি হলো পরিমাপ। এর শুরুটা হয়েছিল মূলত গ্যালিলিওর হাত ধরে। তার আগে বিজ্ঞানী শব্দটা সেভাবে ব্যবহৃত হত না। জ্ঞানীরা নিজেদেরকে বলতেন দার্শনিক (Natural Philosopher) । গ্যালিলিওই প্রথম নিজেকে বিজ্ঞানী বলে পরিচয় দেন। ‘বিজ্ঞানী’র কাজ কী, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন,

    যা কিছু পরিমাপযোগ্য, তা পরিমাপ করা এবং যা কিছু পরিমাপ করা যায় না- সেসব পরিমাপের উপায় আবিষ্কার করা।

    এ সময় থেকেই বিজ্ঞানে পরিমাপ জিনিসটি আবশ্যক হিসেবে জায়গা করে নেয়। তারই সূত্র ধরে একসময় পরিমাপ করার জন্য কিছু আদর্শ মান নির্ধারণ করা হয়। এই আদর্শ মানগুলোই হচ্ছে একক । পরিমাপের অনেকগুলো পদ্ধতি থাকলেও এসআই (SI) পদ্ধতি জায়গা করে নিয়েছে কেন্দ্রে।

    সাতটি মৌলিক একক আছে এসআই পদ্ধতিতে
    SI কথাটির পূর্ণরূপ হচ্ছে The International System of Units। এ পদ্ধতিতে মৌলিক একক হলো সাতটি।

    • ভরের একক কিলোগ্রাম (kg)
    • দৈর্ঘ্যের একক মিটার (m)
    • সময়ের একক সেকেন্ড (s)
    • বিদ্যুতের একক অ্যাম্পিয়ার (A)
    • তাপমাত্রার একক কেলভিন (K)
    • আলোর তীব্রতা বা উজ্জ্বলতার একক ক্যান্ডেলা (cd)
    • পদার্থের পরিমাণের একক মোল (mol)

    কথা হলো, এককগুলোকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার কারণ কী?

    দেখা গেছে, বর্তমানে এককগুলোকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা আছে, এরা নিজেরাই পরিবর্তনশীল। যারা নিজেরাই সুনির্দিষ্ট নয়, তাদেরকে কোনো কিছুর আদর্শ মান হিসেবে ব্যবহার করাটা অযৌক্তিক না? কাজেই, সাতটি মৌলিক একককেই প্রাকৃতিক কোনো ধ্রুবকের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক ধ্রুবকেরা আমাদের জানা সবচেয়ে স্থির সংখ্যা, এদেরকে কখনো কোনোভাবেই পরিবর্তিত হতে দেখা যায়নি। যেমন, আলোর বেগ (c), আভোগ্যাড্রো সংখ্যা (NA) কিংবা প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক (h)। একবার এভাবে সংজ্ঞায়িত করে ফেলার অর্থ, এখন থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে, আর কখনো এদের মধ্যে বিন্দুমাত্র পরিবর্তনও হবে না।

    দৈনন্দিন জীবনে এর কোনো প্রভাব আসলে সেভাবে টের পাওয়া যাবে না। তবে এই জিনিসগুলোর নিখুঁত মান থাকাটা আমাদের পরিমাপ পদ্ধতির জন্য আবশ্যক। কারণ, এককের সংজ্ঞা দেয়ার জিনিসটিই যদি অস্থিতিশীল হয়, তাহলে পুরো ব্যাপারটিই অযৌক্তিক হয়ে পড়ে।

    কিলোগ্রাম
    উদহারণ হিসেবে কিলোগ্রামের বিষয়টিই দেখা যাক।

    আগে কিলোগ্রামের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছিল একখণ্ড প্লাটিনাম-ইরিডিয়ামের সঙ্কর ধাতুর টুকরো দিয়ে। এই টুকরোটা প্যারিসের কাছাকাছি একটি জায়গায় আলাদা করে ভ্যাকুয়ামের মাঝে সংরক্ষণ করে রাখা আছে। যেহেতু ভ্যাকুয়ামে বায়ু বা আর কিছু থাকে না, তাই এই খন্ডটির ভর এমনিতে পরিবর্তিত হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে, নির্দিষ্ট সময় পর এরও কিছুটা পরিবর্তন হয়। হিসেবানুযায়ী, কিছুদিন পরেই এর ভর প্রতি ১০০ কোটিতে ১০টি পরমাণু করে বেড়ে যাবে।

    সময়ের সাথে বেড়ে বা কমে গেছে অফিসিয়াল কপিগুলোর ভর
    এখনো যদিও সেই খন্ডটির ভরের কোনো পরিবর্তন হয়নি, কিন্তু খন্ডটির বেশ কিছু অফিসিয়াল কপি বানিয়ে কয়েকটি দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। যেহেতু যেকোনো বস্তুই সময়ের সাথে সাথে পরমাণু হারায় কিংবা বাতাসের সংস্পর্ষের কারণে অণু শোষণ করে, তাই অফিসিয়াল কপিগুলোকে বেশ কিছুদিন পরে মূল খন্ডটির সাথে তুলনা করে দেখা গেছে, এদের ভর সামান্য হলেও বেড়ে গেছে, কিংবা কমে গেছে। কিছু কিছু কপির ক্ষেত্রে এক শতকের মাঝে ৫০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত বেড়ে যেতে দেখা গেছে হিসেবে। সেজন্যই, এভাবে সংজ্ঞায়িত করাটা ঠিক মনে হচ্ছে না বিজ্ঞানীদের কাছে। বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, সে উদার এবং উন্মুক্ত। ভুল হলে সেটা মেনে নিয়ে সংশোধন করে, তারপর সামনে এগোয়। সেজন্যেই বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখন থেকে কিলোগ্রামের নতুন সংজ্ঞা দেয়া হবে প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবকের উপর ভিত্তি করে।

    প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবকের মান হলো ৬.৬২৬০৭০ x ১০-৩৪ জুল-সেকেন্ড। জুল-সেকেন্ড এককের সমমানের একক হলো কেজি-মিটার২-সেকেন্ড-১। তাই সংখ্যাটিকে ৬.৬২৬০৭০ x ১০-৩৪ কেজি-মিটার২-সেকেন্ড-১ বলা যেতে পারে।  সেই হিসেবে কিলোগ্রামের নতুন সংজ্ঞা হবে-

    প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবককে ৬.৬২৬০৭০ x ১০-৩৪ মিটার-২-সেকেন্ড দিয়ে ভাগ দেয়ার ফলে যে পরিমাণ পাওয়া যায়, তা।

    ফলে, পঞ্চাশ হাজার বছর পরেও আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারবো, কিলোগ্রাম মানেই এটুকুই।

    বলে রাখা ভালো, সাতটি এককের মানই কিন্তু পরিবর্তন হচ্ছে না। কিলোগ্রামের মতোই অ্যাম্পিয়ার, মোল এবং কেলভিন- এই চারটি এককের সংজ্ঞাই কেবল নতুন করে দেয়া হচ্ছে।

    অ্যাম্পিয়ার
    অ্যাম্পিয়ারের সংজ্ঞা দেয়া হবে বৈদ্যুতিক চার্জের উপরে ভিত্তি করে।

    প্রতি সেকেন্ডে ১/(১.৬০২১৭৬৬৩৪ x ১০-১৯)- এতগুলো চার্জ প্রবাহিত হওয়ার ফলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, সেই পরিমাণটিই হবে অ্যাম্পিয়ার।

    মোলের উদাহরণটি বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে পরিচিত এবং যৌক্তিক মনে হবে। মোল বলতে বোঝানো হয় পদার্থের পরিমাণ। তা অণু, পরমাণু, ইলেকট্রন, আয়ন কিংবা আধান- যেকোনো কিছুই হতে পারে। আগের হিসেবে মোলের সংজ্ঞা ছিল এমন-

    ০.০১২ কিলোগ্রাম কার্বন-১২ তে অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক পদার্থের প্রাথমিক একক, যেমন- পরমাণু, অনু, আয়ন, ইলেকট্রন ইত্যাদি থাকলে তাকে ১ মোল বলা হবে।

    সংজ্ঞা এটা হলেও মোল বলতে আসলে যে কী বোঝায় তা এ সংজ্ঞা থেকে বোঝা যেত না। সেটা বোঝা যেত অ্যাভোগ্যাড্রো সংখ্যা থেকে। বিজ্ঞানী অ্যাভোগ্যাড্রো একটি পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছিলেন, প্রতি মোলে যেকোনো কিছুর ৬.০২২ ১৪০৭৬ x ১০২৩ সংখ্যক কণা থাকে। সংখ্যাটিকে সহজ করে বলা হয় ৬.০২ x ১০২৩।

    মোল
    দুই ধরনের কথাবার্তা শিক্ষার্থীদেরকে বেশ ধাঁধাঁয় ফেলে দিত সবসময়ই। এখন পুরো ব্যাপারটাকে সহজ করে ফেলা হচ্ছে। সরাসরি মোলের সংজ্ঞাতেই বলা হচ্ছে:

    কোনো কিছুর ৬.০২ x ১০২৩ টি কণা থাকলেই তাকে বলা হবে ১ মোল।

    অর্থাৎ, ৪টায় যেমন ১ হালি, ১২ টায় ১ ডজন, তেমনি ৬.০২ x ১০২৩টায় ১ মোল। কী দারুণ না!

    একইরকম সহজ এবং চমৎকার একটি সংজ্ঞা দেয়া হচ্ছে তাপমাত্রার একক কেলভিনকে। আগে কেলভিনের সংজ্ঞা দেয়া হতো পানির ত্রৈধ বিন্দুর উপরে ভিত্তি করে। যে তাপমাত্রায় পানি একইসাথে কঠিন, তরল ও বায়বীয় অবস্থায় থাকে, সেই তাপমাত্রাই হলো ত্রৈধ বিন্দু। এই হিসেবে-

    পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার ১/২৭৩.১৬ অংশ কে বলা হয় এক কেলভিন।

    এই জিনিসটি পরিবর্তন করা হচ্ছে কেন? প্রথমত, দু’শো বছর আগে ঠিক করে রাখা এই তাপমাত্রা থেকে পানির ত্রৈধ বিন্দু অল্প কিছুটা সরে এসেছে (এবং এটাই স্বাভাবিক!)। দ্বিতীয়ত, পানির এই সংজ্ঞাটি দিয়ে অন্য কোনো পদার্থের পরমাণুগুলোর ঐ নির্দিষ্ট অবস্থা বা তাপমাত্রায় শক্তির পরিমাণ বা অবস্থা তো সেভাবে বোঝা যায় না। কাজেই, এমন একটি ধ্রুবককে এক্ষেত্রে ব্যবহার করার কথা চিন্তা করা হয়েছে, যেটি থেকে এই ব্যাপারগুলো সহজে বোঝাও যাবে, এবং সংখ্যাটিও হবে নিখুঁত। শক্তির পরিমাণটা বোঝা যাওয়াটা এত জরুরি কেন? কারণ, তাপমাত্রা শক্তির অনেকগুলো রূপের একটি!

    কেলভিন
    ধ্রুবকটির সাথে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীরাও দারুণভাবে পরিচিত- বোল্টজম্যান ধ্রুবক। এর মান ১.৩৮০৬ x ১০-২৩ জুল/কেলভিন। এই হিসেবে বর্তমান সংজ্ঞাটি হবে-

    তাপীয় শক্তিতে যদি ১.৩৮০৬ x ১০-২৩ জুল পরিবর্তন দেখা যায়, তার মানে তাপমাত্রার পরিবর্তন হয়েছে ১ কেলভিন।

    কথাটি থেকে সরাসরি বোঝাই যাচ্ছে, তাপের পরিবর্তন বা শক্তির পরিবর্তনের ফলেই তাপমাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে। এবং এই পরিবর্তনেরই একটি মানকে ধরে নেয়া হচ্ছে আদর্শ!

    ব্যাপারগুলো একইসাথে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিমাপের কাজকর্ম যেমন দারুণ সহজ করে দেবে, তেমনি হিসেবটাও হবে নিখুঁত।

    সময়ের একক সেকেন্ড, দৈর্ঘ্যের একক মিটার এবং আলোর উজ্জ্বলতার একক ক্যান্ডেলা অবশ্য আগের মতোই আছে। এরা আগে থেকেই যথেষ্ট নিখুঁত এবং সহজে অনুভব করা যায় প্রতিদিনের ব্যবহারে। সেজন্যেই এগুলোকে আর পরিবর্তন করা হয়নি।

    এসআই একক ব্যবস্থা মানব সভ্যতার জন্যেই বিশাল এক অর্জন। নতুন এই পরিবর্তন এদেরকে নিখুঁত যেমন করবে, তেমনি এদের সার্বজনীনতাও বাড়াবে। বিশেষ করে, ব্যাপারগুলো অনুভব করাটা সহজ হয়ে যাবে সবার জন্যই।

    এবং এখন থেকে, শুধু পৃথিবীতেই নয়, মহাবিশ্বের যেকোনো মাথায় বসেই যে কেউ প্রতিটি একককে ব্যবহার করতে পারবে পরম নির্ভরতায়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  10. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

    মশাবাহিত কতগুলো রোগ রয়েছে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    মশা! ক্ষুদ্র এই প্রাণীটির অত্যাচারে প্রায়ই অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে আমাদের জীবন। চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপে মশার দিকেই প্রধানত আঙুল তোলা যায়, কারণ রোগের ভাইরাস ছোট্ট এই পতঙ্গের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। তবে কেবল ডেঙ্গু নয়, আরো বেশ কিছু রোগের ভাইরাস বহন করে থাকে মশা, যার মধ্যে আছে চিকুনগুনিয়া (Chikungunবিস্তারিত পড়ুন

    মশা! ক্ষুদ্র এই প্রাণীটির অত্যাচারে প্রায়ই অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে আমাদের জীবন। চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপে মশার দিকেই প্রধানত আঙুল তোলা যায়, কারণ রোগের ভাইরাস ছোট্ট এই পতঙ্গের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। তবে কেবল ডেঙ্গু নয়, আরো বেশ কিছু রোগের ভাইরাস বহন করে থাকে মশা, যার মধ্যে আছে চিকুনগুনিয়া (Chikungunya ),  ম্যালেরিয়া, এনকেফালাইটিস, ফাইলেরিয়াসিস, জিকা ইত্যাদি।

    মশার তিনটি প্রজাতি এসব রোগের ভেক্টর, বা জীবাণুর বাহক হিসেবে কাজ করে। এগুলো হচ্ছে কিউলেক্স, এডিস আর অ্যানোফিলিস। কিউলেক্স তো আমাদের ঘরবাড়ির স্থায়ী বাসিন্দাই হয়ে গেছে বলা যায়, এডিস সেখানে মৌসুমি অতিথি। অ্যানোফিলিস আবার একটু ঘরকুণো, পার্বত্য অঞ্চলেই থাকে বেশি।

    তিন প্রজাতির মশা;

    চিকুনগুনিয়া

    একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে ভারত উপমহাদেশে অন্তত ১১ বার চিকুনগুনিয়ার ব্যাপক প্রকোপ লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০০৮ আর ২০১১ সালে বাংলাদেশে ছোট আকারে দেখা দিয়েছিল এই অসুখ, আর ২০১৭ সালে তো পরিণত হয়েছিলো অনেকটা মহামারীতে। এরপর থেকে প্রতি বছরেই গরমের সময় চিকুনগুনিয়া হয়ে আসছে।

    এর কারণ একই নামের ভাইরাস (chikungunya virus /CHIKV)। নারী এডিস মশা এই জীবাণু বহন করে, রক্তপানের সময় মানবশরীরে প্রবেশ করিয়ে দেয় ভাইরাস। সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর, শরীরে ফোস্কা আর অস্থিসন্ধিতে ব্যথা (joint pain) এই রোগের অন্যতম লক্ষণ, যা কিনা ডেঙ্গুর সাথেও অনেকাংশে মিলে যায়। চিকুনগুনিয়ার জন্য অস্থিসন্ধিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এবং রোগ ভালো হয়ে গেলেও সামান্য ব্যথা থেকে যেতে পারে বছরখানেক।

    চিকুনগুনিয়া ভাইরাস
    চিকুনগুনিয়া সাধারণত মারাত্মক কিছু নয় এবং এমনিতেই সেরে যায়। তবে স্বল্পসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে স্নায়ু, হৃদযন্ত্র, লিভার, এমনকি শ্বাসতন্ত্রে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই ভাইরাস শরীরে ঢুকলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়া অথবা ভ্রুনের সংক্রমণ ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।

    ডেঙ্গু

    মশাবাহিত আরেক রোগ ডেঙ্গু, যা কিনা ডেঙ্গু ভাইরাস দিয়ে ঘটে থাকে। চিকুনগুনিয়ার মতো এখানেও বাহক সেই নারী এডিস মশা। মূলত ২০০০ সালের পর থেকে ডেঙ্গু আমাদের দেশে বড় একটা স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে, তবে প্রথম রোগী কিন্তু শনাক্ত হয় ষাটের দশকে। তখন একে বলা হতো ঢাকা’র জ্বর (Dacca fever)। বর্তমানে প্রতি বছরই মহামারী আকারে ডেঙ্গু দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশকে ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, জনসংখ্যার অন্তত ৫২% লোক এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে আছে।’

    ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ অনেক সময় একইরকম মনে হতে পারে 
    ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে প্রায় ১০৩-১০৪° ফারেনহাইট জ্বর, শরীর ব্যথা, হাড়গোড়ে আর মাংসপেশীতে ব্যথা, শরীরে ফোস্কা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। সাধারণত ২-৭ দিনের মধ্যে রোগী ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু লক্ষণ থাকলে রোগীকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত, যেমন- প্রচণ্ড পেটব্যথা বা পেট ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়া, অবিরাম বমি হওয়া ইত্যাদি। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে তাই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

    ম্যালেরিয়া

    ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার আগে মানুষ মশাবাহিত রোগ বলতে বুঝতো ম্যালেরিয়াকেই। পরজীবী বা প্যারাসাইটজনিত এই রোগ ছড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নারী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে। আমাদের দেশে ভারত আর মায়ানমারের সীমান্তবর্তী ১৩টি জেলায় এই রোগ এন্ডেমিক (endemic)। এর মানে সারা বছরই ঐসব এলাকায় ম্যালেরিয়া দেখা যায়। ফলে কেউ সেখানে ঘুরতে যেতে চাইলে ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিয়ে যাবার উপর জোর দেয়া হয়।

    বাংলাদেশের ১৩টি জেলায় ম্যালেরিয়ার সারা বছর দেখা যায়;
    ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রেও রোগের সূচনা জ্বর দিয়ে, তবে এখানে ভয়াবহ রকম কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। সাথে থাকে মাথাব্যথা, মাংসপেশীতে ব্যথা আর ক্লান্তি। রোগীর রক্তশুন্যতা আর জন্ডিসও দেখা যেতে পারে। তবে ভয় পাবার কারণ নেই, কারণ ম্যালেরিয়ার খুব ভালো কিছু ওষুধ রয়েছে। রোগী কী ওষুধ খাবেন সেটা চিকিৎসক ঠিক করে দেবেন।

    এনকেফালাইটিস

    মস্তিষ্কের ইনফ্ল্যামেশনকে এনকেফালাইটিস বলা হয়। বেশ কিছু ভাইরাস থেকে এই রোগ হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে জাপানিজ এনকেফালাইটিস ভাইরাস বা জেই (Japanese encephalitis), এবং ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস। দুটোই ছড়ায় কিউলেক্স প্রজাতির মশা দিয়ে, যা কিনা তিন প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

    এশিয়াতে জেই ভাইরাস ঘটিত এনকেফালাইটিসই বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে গবেষণা না থাকলেও একেই মূল কালপ্রিট বলে ধরা হয় জীবাণুবাহক মশা কামড়ানোর ৫-১৫ দিনের মধ্যে রোগীর জ্বর, মাথাব্যথা, বমি এসব দেখা যায়। অনেকসময় ঘাড়ব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি ইত্যাদিও হতে পারে। এনকেফালাইটিস মারাত্মক রোগ, সুতরাং রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে।

    জিকা

    নারী এডিস কর্তৃক বাহিত আরেকটি ভাইরাস জিকা, যা থেকে উৎপত্তি হতে পারে রোগের। লক্ষণ অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতোই, সাথে চোখ লাল হতে পারে। এক সপ্তাহ পর রোগী সাধারণত ভালো হয়ে যান।

    গর্ভবতী মায়েদের জন্য জিকার সংক্রমণ অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে বাচ্চা জন্ম নিতে পারে নানারকম শারীরিক ত্রুটি নিয়ে, যাকে বলা হয় Congenital Zika Syndrome। অনেক সময় বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, অথবা প্রসব হয়ে যেতে পারে সময়ের অনেক আগেই (preterm birth)।

    গর্ভবতী মহিলাদের জন্য জিকা সংক্রমণ মারাত্মক বিপদজনক 

    লিম্ফেটিক ফাইলেরিয়াসিস

    একসময় ঢাকা শহরে দেখা মিলত এমন কিছু মানুষের যাদের হাত অথবা পা ছিল ভয়াবহভাবে ফোলা। এর কারণ লিম্ফেটিক ফাইলেরিয়াসিস নামে পরজীবীঘটিত একটি রোগ। কিউলেক্স, এডিস, অ্যানোফিলিস তিন প্রজাতির মশাই এদের বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে। লসিকা গ্রন্থির সংক্রমণ থেকে এই রোগের উৎপত্তি হয়। বাংলাদেশ একসময় লিম্ফেটিক ফাইলেরিয়াসিসের উচ্চ ঝুঁকিতে ছিল, তবে বিভিন্ন প্রতিরোধক ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত চিকিৎসায় এখন এই রোগ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। সঠিক ওষুধ প্রয়োগে ভালো হয়ে উঠেছেন বহু লোক।

    লিম্ফেটিক ফাইলেরিয়াসিস/এলিফ্যান্টিয়াসিস
    মশা থেকে ছড়াতে পারে অনেক রকম অসুখ। সেজন্য বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা দরকার, যাতে মশা বংশবৃদ্ধির সুযোগ না পায়। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই হয়তো আমরা থাকতে পারবো সুস্থভাবে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  11. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ বিজ্ঞান

    ট্যাক্সিডার্মি কি?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    রুন আপনার আদরের পোষা প্রাণীটি মারা গেল। মৃত্যু প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম হলেও মন মানতে নারাজ। ভাবলেন কোনো উপায় কি নেই যার সাহায্যে প্রাণীটিকে সারাজীবন চোখের সামনে রেখে দেওয়া সম্ভব? আছে, এর নাম ট্যাক্সিডার্মি। মৃত প্রাণীর শরীরকে (প্রধাণত চামড়াকে) কেমিক্যাল ও ট্যানিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া ও তাকবিস্তারিত পড়ুন

    রুন আপনার আদরের পোষা প্রাণীটি মারা গেল। মৃত্যু প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম হলেও মন মানতে নারাজ। ভাবলেন কোনো উপায় কি নেই যার সাহায্যে প্রাণীটিকে সারাজীবন চোখের সামনে রেখে দেওয়া সম্ভব? আছে, এর নাম ট্যাক্সিডার্মি। মৃত প্রাণীর শরীরকে (প্রধাণত চামড়াকে) কেমিক্যাল ও ট্যানিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া ও তাকে জীবন্তের ন্যায় দেখানোর উপায়কেই বলা হয় ট্যাক্সিডার্মি।

    সাধারণত গবেষণা বা পাঠদানের উদ্দেশ্যে এটা করা হয়ে থাকে। ট্যাক্সিডার্মি শব্দের উৎপত্তি গ্রিক শব্দ ‘ট্যাক্সি’ ও ‘ডার্মা’ থেকে। ট্যাক্সি মানে সংরক্ষণ আর ডার্মা মানে চামড়া। তাহলে ট্যাক্সিডার্মির মানে দাঁড়ায় চামড়ার সংরক্ষণ। স্তন্যপয়ী, পাখি, মাছ, সরিসৃপ সহ অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর উপর ট্যাক্সিডার্মি প্রয়োগ করা হয়। এদের পাশাপাশি বড় আকৃ্তির কীট-পতঙ্গের উপরও প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

    জাদুঘরগুলোতে ট্যাক্সিডার্মিকৃত প্রাণীগুলো মূলত বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত। তবে আজকাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোষা প্রাণীর স্মৃতি সংরক্ষণেও ব্যবহৃত হয় এ প্রক্রিয়া।

    উৎপত্তি

    সর্বপ্রথম ১৭৪৮ সালে ফ্রান্সের রিয়াউমুর পাখির দেহ সংরক্ষণের মাধ্যমে ট্যাক্সিডার্মির আবির্ভাব ঘটান। এরপর ১৯৫২ সালে এম. বি. স্টলাস ট্যাক্সিডার্মির আরো কিছু পদ্ধতি আবিস্কার করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক, ইংল্যান্ডসহ আরো কয়েকটি দেশের অগ্রদূতদের আবির্ভাব ঘটে। ঊনিশ শতকের শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রায় সব শহরেই চামড়ার ব্যাবসা শুরু হয়। সে সময় শিকারীরা তাদের শিকার করা পশুপাখি গৃহসজ্জাসামগ্রীর দোকানগুলোতে দিয়ে আসতো। তারা সেগুলো চামড়া ছাড়িয়ে ভিতরে খড় ও তুলা দিয়ে ভরে সেলাই করতো।পরবর্তীতে সময়ের সাথে সাথে এতে বিভিন্ন কেমিক্যালের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।

    ট্যাক্সিডার্মির শুরু মূলত ভিক্টোরিয়ান যুগ থেকেই

    চর্মসংস্কার ও প্রাণীদেহ প্রস্তুতি

    ট্যাক্সিডার্মিস্টরা বর্তমানে গড়ে বছরে ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছেন। ট্যাক্সিডার্মির প্রক্রিয়াগুলো যুগের সাথে সাথে আরো উন্নত ও আধুনিক হচ্ছে। শুরুতে মৃত পশুর চামড়া ছাড়িয়ে নেওয়া হয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। এরপর চামড়ার মানের উপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল প্রয়োগ করা হয়। চামড়া ও লোমকে পোকামাকড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে বোরাক্স পাউডার অথবা সোডিয়াম বোরাট ব্যবহৃত হয়।

    পরবর্তীতে এটিকে কাঠ অথবা তার এর সাহায্য ম্যানিকুইন বানিয়ে রাখা হয়। এই ম্যানিকুইনকে বলা হয় Voodoo doll। চোখের আকৃ্তির জন্য সাধারণত চীনামাটি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ছোট আকৃতির প্রাণীর ট্যাক্সিডার্মি তৈরিতে ৩-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। তুলনামূলক বড় আকৃতির প্রাণীর ক্ষেত্রে ৫-৭ দিন সময় লেগে যায়। ট্যাক্সিডার্মিস্টরা দক্ষতা ও অভিনবত্বের মাধ্যমে তাদের কাজকে আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।

    স্কটল্যান্ডের কেল্ভিনগ্রোভ মিউজিয়ামে শিশুরা অবাক দৃষ্টিতে দেখছে ট্যাক্সিডার্মিকৃত প্রাণী;
    সফল ট্যাক্সিডার্মিস্ট হতে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রয়োজন
     ট্যাক্সিডার্মিস্টদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলেই কাজগুলো নিখুঁত হয়

    ট্যাক্সিডার্মির অতীত ও বর্তমান

    ট্যাক্সিডার্মির স্বর্ণযুগ বলা হয় ভিক্টোরিয়ান যুগকে। তখন এমন জীবন্তের ন্যায় দেখানো প্রাণীগুলোকে অন্দরমহলের শোপিস হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যেত। পরবর্তীতে অবশ্য এসব ট্যাক্সিডার্মিগুলোকে অন্দরমহলে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয় এবং শুধুমাত্র গবেষণার কাজেই ব্যবহার করা হতো। ইংরেজি পক্ষীবিজ্ঞানী জন হ্যানককে আধুনিক ট্যাক্সিডার্মির জনক বলা হয়। তিনি নিজে পাখি শিকার করতেন এবং পরবর্তীতে সেগুলোকে কাদামাটি ও প্লাস্টারের সাহায্য আকৃতি দিতেন। তিনি ১৮৫১ সালে লন্ডনে এক এক্সিবিশনের আয়োজন করেন যেখানে নিজের হাতে তৈরি ট্যাক্সিডার্মি পাখি প্রদর্শিত করেন। স্বয়ং রানি ভিক্টোরিয়া সেগুলো দেখে অভিভূত হয়েছিলেন।

    একুশ শতকের তরুণরা অনেকেই ট্যাক্সিডার্মিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন
    বর্তমানে ট্যাক্সিডার্মির জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন দেশের তরুণেরা ট্যাক্সিডার্মিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে। ট্যাক্সিডার্মিস্ট হতে গেলে আলাদা করে কোনো ডিগ্রী লাগে না তবে কিছু নিদিষ্ট ডিপ্লোমা ও কোর্স করতে হয়। এছাড়া যে স্টেট বা শহরে কাজ করতে আগ্রহী সেখানকার লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। মোটকথা ট্যাক্সিডার্মি হলো আর্ট ও বিজ্ঞানের এক অনন্য সংমিশ্রণ যা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীকুলের পরিচিতি ও তথ্য সম্পর্কে জানতে সাহায্য করছে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  12. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    পাবলিক ওয়াইফাইয়ে সুরক্ষিত থাকবেন কিভাবে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আমরা কিন্তু ইন্টারনেট অনেকদিন আগে থেকে ব্যবহার করে আসছি, তবে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। আমরা এখন ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সুবিধা নিচ্ছি। এর আগে আমাদের ইথারনেট ক্যাবল ব্যবহার করতে হতো, যার কারণে অনেক অসুবিধাও পোহাতে হতো। কিন্তু এখন ওয়াইফাই থাকাবিস্তারিত পড়ুন

    আমরা কিন্তু ইন্টারনেট অনেকদিন আগে থেকে ব্যবহার করে আসছি, তবে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। আমরা এখন ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সুবিধা নিচ্ছি। এর আগে আমাদের ইথারনেট ক্যাবল ব্যবহার করতে হতো, যার কারণে অনেক অসুবিধাও পোহাতে হতো। কিন্তু এখন ওয়াইফাই থাকাতে আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহার অনেক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে, একসঙ্গে এখন অনেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে।

    তবে প্রত্যেকটি প্রযুক্তির কিছু ভালো এবং খারাপ দিক রয়েছে। অর্থাৎ আমরা ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে এখন যেকোনো স্থানে বসে যে কারো ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছি। কিন্তু সেই ওয়াইফাই যদি পাবলিক হয়, তাহলে আমরা পড়তে পারি অনেক বড় সমস্যায়। কী ধরনের সমস্যা? সেই ব্যাপারে বুঝতে আমদের জানতে হবে ওয়াইফাই কীভাবে কাজ করে।

    ১. সংযোগ যাচাই করুন

    কোনো ওয়াইফাই পয়েন্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে সেটাই সঠিক ওয়াইফাই পয়েন্ট কিনা তা যাচাই করতে হবে। কেননা হ্যাকাররা অনেক ক্ষেত্রেই ভুয়া ওয়াইফাই পয়েন্ট বানিয়ে থাকে। আপনি যদি ভুলে সেখানে যুক্ত হয়ে যান, তাহলে আপনার মোবাইল বা ল্যাপটপে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে, এবং আপনার সব তথ্য বেহাত হয়ে যেতে পারে।

    কোনো ওয়াইফাই পয়েন্ট আমরা যাচাই করতে পারি সেটা পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত কিনা তা দেখে। কারণ, সাধারণত হ্যাকারদের তৈরি করা পয়েন্টে পাসওয়ার্ড থাকে না, যেন সবাই সহজেই যুক্ত হতে পারে। কিন্তু কোনো রেস্তোরা বা ক্যাফের ক্ষেত্রে এটা হয় না। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত করে রাখে। তবে কখনো এই বিষয়ে সংশয় দেখায় দেয়। সেক্ষেত্রে ভিপিএন ব্যবহার করে সেখানে প্রবেশ করতে হবে। ঢুকে যদি দেখা যায় যে কিছু একটা ভুল আছে, তাহলে সেখান কানেক্ট না হয়ে আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সঠিক পয়েন্ট যাচাই করে নেয়া যেতে পারে।


    এক নামের দুটি ওয়াই-ফাই পয়েন্ট

    ২. এনক্রিপ্টেড/সিকিউরড সংযোগ ব্যবহার করুন

    এনক্রিপ্টেড বা সিকিউরড সংযোগের অর্থ হলো এমন সংযোগ যেটা ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার সকল তথ্য গোপন কোডে রূপান্তরিত হয়ে আরেক প্রান্তে পৌঁছাবে। মাঝে যদি কেউ সেই তথ্য হাতিয়েও নেয়, তাহলে সে সেটা ডিকোড করতে পারবে না।

    আমরা সাধারণত যেসব ওয়েবসাইট বেশি ব্যবহার করি, সেসবে আগে থেকেই সুরক্ষিত সংযোগ ব্যবহার করা থাকে।  কোনো ওয়েবসাইট সিকিউরড সংযোগ ব্যবহার করছে কিনা সেটা যাচাই করতে আপনার শুধু সেই ওয়েবসাইটের ইউ.আর.এল-এর দিকে নজর দিতে হবে। সেখানে বাম পাশে যদি ‘সিকিউরড’ বা তালা চিহ্ন দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে সেটি সিকিউরড সংযোগ ব্যবহার করছে। সেখানে যদি ‘নট সিকিউরড’ লেখা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে যে সেই ওয়েবসাইট কোনো সিকিউরড সংযোগ ব্যবহার করছে না।


    সুরক্ষিত এবং অসুরক্ষিত ইউ.আর.এল-এর মধ্যকার পার্থক্য

    তবে এরকম যদি কোনো ওয়েবসাইটে আপনার প্রবেশ করতে হয় তাহলে আপনার একটা ‘ব্রাউজার এক্সটেনশন’ ব্যবহার করতে পারেন যেটার নাম ‘HTTPS Everywhere’। এই এক্সটেনশনের কাজ হচ্ছে কোনো ওয়েবসাইটের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগকে এনক্রিপ্টেড সংযোগে পরিণত করে।

    ৩. ভিপিএন বা টর ব্রাউজার ব্যবহার করুন

    ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ককে সংক্ষেপে ভিপিএন বলা হয়। এর কাজ হচ্ছে আপনি যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন তখন আপনার আসল আইপি অ্যাড্রেস অন্যদের থেকে লুকিয়ে একটি প্রাইভেট ইন্টারনেট টানেল হয়ে গন্তব্য স্থলে নিয়ে যাওয়া। আর টর ব্রাউজারও ঠিক এভাবেই কাজ করে। শুধু পার্থক্য হলো যে একটা ভিপিএন আপনার আইপি অ্যাড্রেস একবার বদলাবে, কিন্তু টর ব্রাউজার আপনার আইপি অ্যাড্রেস বেশ কয়েকবার রদবদল করবে। 


    ভিপিন যেভাবে কাজ করে

    তাই কোনো পাবলিক ওয়াইফাইয়ে যুক্ত থাকা অবস্থায় ভিপিএন ব্যবহার করা উচিৎ। কারণ, পাবলিক ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে হ্যাকার শুধু পাসওয়ার্ড এবং ব্যাংকের তথ্য নয়, সে চাইলে ফোনে থাকা তথ্যও চুরি করে নিতে পারে। অথবা ভিক্টিমের ডিভাইসে ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে দিতে পারে। এটা বিশেষ করে মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কেননা পিসিতে অনেক রকম সুবিধা থাকে নিজের সুরক্ষাবর্ম নিজের মতো করে বানিয়ে নেয়ার। কিন্তু মোবাইলের ক্ষেত্রে এটা অনেকটাই সীমাবদ্ধ, যেমন ‘Https Everywhere’ এক্সটেনশন মোবাইলে পাওয়া যায় না। তাই মোবাইলের জন্য এটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ৪. গোপন তথ্য আদান-প্রদান নয়

    কোনো পাবলিক ওয়াইফাইয়ে বসে নিজের কোনো গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান করা জীবনের বড় ভুলের একটি হতে পারে। কেননা সেই তথ্য যেকোনো মানুষের হস্তগত হতে পারে। সেটার জন্য কোনো দক্ষ হ্যাকারের দরকার পড়বে না। যদি কেউ পাবলিক ওয়াইফাইয়ে বসে কোনো কাজ করতে থাকেন, তাহলে এটা আপনার বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে, যেন সংবেদনশীল তথ্য সেই পাবলিক ওয়াইফাইয়ে থাকা অবস্থায় কোথাও ইনডেক্স (কোথাও কোনো তথ্য প্রদান করা) না করা হয়। তাছাড়া, বিশেষ করে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো সাইটের পাসওয়ার্ড সেই পাবলিক ওয়াইফাইয়ের সাথে কানেক্টেড থাকা অবস্থায় ইনডেক্স না করা হয়। যদিও অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট, যেমন- ফেসবুক বা গুগলে সিকিউরড সংযোগ থাকে। কিন্তু তারপরও কোনো সংবেদনশীল তথ্য পাবলিক ওয়াইফাইয়ে আদান-প্রদান না করাই ভাল, সেটা যত সিকিউরড সংযোগই হোক না।

    ৫. ফাইল শেয়ারিং সীমিত রাখুন


    ফাইল শেয়ারিং সীমিত রাখুন

    পাবলিক ওয়াইফাইয়ে  যুক্ত থাকাকালীন কোনো ফাইল শেয়ারিং এপ্লিকেশন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। আমরা আগেই জেনেছি, যেহেতু একটি নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকি আমরা, তাই হ্যাকার আমাদের তথ্য হাতিয়ে নেয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া, ফাইল শেয়ারিং অপশন ব্যবহার করে হ্যাকার আপনার ল্যাপটপে ম্যালিশাস ফাইল প্রবেশ করিয়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে যদি কেউ ল্যাপটপ ব্যবহার করে, তাহলে ‘Network and Sharing Centre’-এ গিয়ে ‘Turn off File and Printer Sharing’ অপশনটি ক্লিক করে ল্যাপটপের ফাইল শেয়ারিং অপশনটি অফ করতে হবে। যদি আপনি ম্যাক ইউজার হয়ে থাকেন, তাহলে ‘Air Drop’-এ গিয়ে ‘Allow Me to be Discovered by: No One’ অপশনটি ক্লিক করে ফাইল শেয়ারিং অপশনটি অফ করুন। তাহলে আর ল্যাপটপে কেউ ফাইল শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে তথ্য চুরি করতে পারবে না।

    ৬. কানেক্ট হওয়ার আগে শর্তাবলী খেয়াল করুন

    আমরা অনেকেই এই বিষয়টি এড়িয়ে যাই, ঠিকভাবে কখনও শর্তাবলী পড়ে দেখি না। তবে পাবলিক ওয়াইফাইয়ে কানেক্ট হওয়ার আগে, বিশেষ করে যখন আমাদের কোনো ক্যাপটিভ পোর্টালে সাইন আপ করতে হচ্ছে। তখন শর্তাবলীর দিকে একটু নজর দেয়ার জন্য অনুরোধ থাকবে। কেননা অনেক ক্ষেত্রেই শর্তাবলীতে অনেক আপত্তিকর বিষয়েও তারা অনুমতি নিয়ে থাকে। তাই সেই শর্তাবলী যদি একটু পড়ে নেয়া যায়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই কোনো আপত্তিকর শর্ত থাকলে সেই ব্যাপারে সর্তক হওয়া সম্ভব।


    কানেক্ট হওয়ার আগে শর্তাবলী খেয়াল করুন

    এখানে যে ক’টি সুরক্ষাপদ্ধতি বলা হয়েছে, সবগুলোই একটি আরেকটির পরিপূরক। কেননা, প্রত্যেকটি পদ্ধতির নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই একটি পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা পূরণ করতে আরেকটি পদ্ধতির সাহায্য নেয়া হয়েছে। যদিও এতগুলো সুরক্ষা ধাপ মেনে চলা কঠিন হতে পারে অনেকের জন্য, তবে কেউ যদি কোনো ক্যাফেতে বসে সেই ক্যাফের ওয়াইফাই-ই ব্যবহার করতে চায়, সাথে সুরক্ষা নিয়েও চিন্তিত থাকে, তাহলে তার এসব ধাপ মেনে চলা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  13. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    হাড় ভাঙার চিকিৎসায় প্লাস্টার অব প্যারিস কেনো ব্যবহৃত হয়?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    হাড় ভাঙার ক্ষেত্রে ভাঙা স্থানকে অনড় রাখা অত্যন্ত দরকারি একটি বিষয়। স্থিতিশীলতা দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে। হাড় ভাঙার চিকিৎসায় এ কৌশলটি হাজার বছরের পুরনো। হিপোক্রেটিস কিংবা আল রাজির ন্যায় চিকিৎসকদের সময়েও এ পদ্ধতির ব্যবহার শোনা যায়। তবে ভাঙা স্থান অনড় রাখার বস্তু-সামগ্রীতে ছিল ভিন্নতা। মোম,বিস্তারিত পড়ুন

    হাড় ভাঙার ক্ষেত্রে ভাঙা স্থানকে অনড় রাখা অত্যন্ত দরকারি একটি বিষয়। স্থিতিশীলতা দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে। হাড় ভাঙার চিকিৎসায় এ কৌশলটি হাজার বছরের পুরনো। হিপোক্রেটিস কিংবা আল রাজির ন্যায় চিকিৎসকদের সময়েও এ পদ্ধতির ব্যবহার শোনা যায়। তবে ভাঙা স্থান অনড় রাখার বস্তু-সামগ্রীতে ছিল ভিন্নতা। মোম, রেজিন, ডিমের সাদা অংশ, স্টার্চ, বাঁশ কিংবা কাঠের টুকরা হয়ে বর্তমানের প্লাস্টার কাস্ট (cast) ও ফাইবারগ্লাস কাস্ট- অস্থি কিংবা অস্থিসন্ধি নিশ্চল করার ক্ষেত্রে ইতিহাসে এমন সব পদার্থের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি শোনা যায়।

    বর্তমানে ভাঙা স্থান অনড় করার কাজে বহুল ব্যবহৃত একটি পদার্থ হলো প্লাস্টার অব প্যারিস। খনিজ জিপসাম (CaSO4.2H2O) থেকে প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরি করা হয়। হাড় ভাঙার চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে বাসা-বাড়ি তৈরির কাজেই এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো।

    প্লাস্টার অব প্যারিসের নামকরণ নিয়ে নানা মত দেখা যায়। ১২৫৪ সালে রাজা তৃতীয় হেনরির প্যারিস ভ্রমণের সময় এখানকার দালান-কোঠার নান্দনিক সাদা দেয়াল মুগ্ধ করে তাকে। তখন থেকে ইংল্যান্ডেও একই রকম প্লাস্টার পদ্ধতি চালু হয়, যা প্লাস্টার অব প্যারিস নামেই পরিচিতি পায়।

    শুরুর গল্প

    উনিশ শতকের শুরুতে ইউরোপে হাড় ভাঙার চিকিৎসায় প্লাস্টার অব প্যারিস ব্যবহারের একটি পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়। এ পদ্ধতিকে বলা হতো ‘plâtre coulé’। ভাঙা স্থানকে ঘিরে একটি কাঠের কাঠামোর মধ্যে ঢেলে দেওয়া হতো প্লাস্টার অব প্যারিস। প্লাস্টারের ভারে রোগী বিছানা ছেড়ে উঠতে পারত না। তবুও পা ভাঙার চিকিৎসায় এটি বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি ছিল। বেলজিয়ান চিকিৎসক লুইস সিউটিন রোগীদের অসুবিধার কথা ভেবে স্টার্চ ব্যান্ডেজের প্রচলন করেন। ১৮৩৯ সালে লাফার্গ স্টার্চ দ্রবণের সাথে প্লাস্টার অব প্যারিস পাউডার মিশিয়ে তা লিনেন ব্যান্ডেজের উপর প্রয়োগ করেন। এ পদ্ধতিতে প্লাস্টার জোড়া লাগার সময় কমে ছয় ঘণ্টায় নেমে আসে।

    ১৮৫২ সালের দিকে ডাচ মিলিটারি সার্জন অ্যান্থোনিয়াস মাথিজসেন দ্রুত কয়েক মিনিটের মধ্যে প্লাস্টার জমাট বাধার একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। পানি ও প্লাস্টার অব প্যারিসে ভেজা ব্যান্ডেজ ভাঙা স্থানকে কয়েক মিনিটেই মোটামুটি অনড় করতে সক্ষম হতো। তার এ পদ্ধতি অনেকটাই পূর্বে ব্যবহৃত সিউটিনের পদ্ধতির ন্যায়। তবে সিউটিনের পদ্ধতির চেয়ে এ প্রক্রিয়ায় কম সময় লাগার পাশাপাশি কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ন্যায় বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। মাথিজসেনের মৃত্যুর পর প্লাস্টার করার এ প্রক্রিয়া বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

    প্লাস্টার অব প্যারিস যেভাবে কাজ করে

    খনিজ জিপসামকে (CaSO4.2H2O) ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত অবস্থায় পানি অপসারণ করে প্লাস্টার অব প্যারিস প্রস্তুত করা হয়। প্লাস্টার অব প্যারিসের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম সালফেট হেমিহাইড্রেট (CaSO4.1/2H2O), যা সাধারণত পাউডার আকারে আর্দ্রতামুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। এ প্লাস্টার অব প্যারিসের সাথে যখন আবার পানি যোগ করা হয়, তখন তা ৫-১৫ মিনিটের মধ্যে জিপসামে পরিণত হয় ও শক্ত আকার ধারণ করে। আর ভাঙা স্থানে ব্যান্ডেজের উপরে শক্ত এ কাঠামো অস্থি ও অস্থিসন্ধিকে অনড় করে রাখে।

    শুধু ভাঙা অস্থিই না, বরং এটি আঘাতপ্রাপ্ত লিগামেন্ট ও মাংসপেশীকেও নিরাময়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্লাস্টার অব প্যারিস জমাট বাধলেও এটি পুরোপুরি শুকাতে ৩৬-৭২ ঘণ্টা অবধি সময় লেগে যেতে পারে। পায়ের প্লাস্টার মোটামুটি ৪৮ ঘণ্টা পর থেকে এর ওজন নিতে পারে। প্লাস্টারের গুণগত মান, পানি ও জিপসামের অনুপাত প্রভৃতি বিষয়ের উপর প্লাস্টারের সফলতা নির্ভর করে। প্লাস্টার করা অবস্থায় এক্সরে করার সুবিধাও পাওয়া যায় । হাড় ভাঙার চিকিৎসায় এ পদ্ধতি বেশ স্বল্পমূল্যের, ও তেমন কোনো অ্যালার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে।

    জটিলতা

    প্লাস্টার কাস্ট ঠিকমতো প্রয়োগ করতে না পারলে নানা জটিলতা দেখা দেয়। এজন্য প্লাস্টার করার ক্ষেত্রে মানবদেহের অ্যানাটমি সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা থাকা দরকার। তবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরও অনেক সময় নানা জটিলতা তৈরি হয়। প্লাস্টারের অভ্যন্তরে চাপ অনেক বেড়ে গেলে সেখানে রক্ত চলাচল কমে যায়। এ অবস্থাকে বলা হয় ‘কম্পার্টমেন্ট সিন্ড্রোম’। ফলে উক্ত অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। এছাড়া শিরায় রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটা এবং ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিসও হতে পারে। আঘাতপ্রাপ্ত স্থান ফুলে ভাঙা স্থানকে পুনরায় স্থানচ্যুত করতে পারে। সেক্ষেত্রে আবার নতুন করে প্লাস্টার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।

    হাড় ভাঙার চিকিৎসায় আক্রান্ত স্থান নিশ্চল করার ক্ষেত্রে বর্তমানে ফাইবারগ্লাস প্লাস্টার কাস্টের মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। তবে এতে প্লাস্টার অব প্যারিসের আবেদন খুব একটা কমেনি। হাড় ভাঙার চিকিৎসা সম্পর্কে ১৮৯৩ সালে এ জে স্টিলের করা নিম্নোক্ত উক্তি এখনও তাই সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  14. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মোবাইল (অ্যান্ড্রয়েড ও IOS)

    স্মার্টফোন হারাবার আগেই কোন কোন প্রস্তুতি থাকতে হয়?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    আপনার ফোন কখনো হারায়নি? কিন্তু তাতে কী! বর্তমানে স্মার্টফোন হারিয়ে ফেলা খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে গিয়েছে। হারিয়ে না গেলেও হুট করে ফোন নষ্টও হয়ে যেতে পারে। সবমিলিয়ে ফোন ছাড়া আমাদের জীবন যখন প্রায় অচলই বলা চলে, তখন হুট করে ফোন হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আগে থেকে সাবধানতা অবম্বন করাই বুদবিস্তারিত পড়ুন

    আপনার ফোন কখনো হারায়নি? কিন্তু তাতে কী! বর্তমানে স্মার্টফোন হারিয়ে ফেলা খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে গিয়েছে। হারিয়ে না গেলেও হুট করে ফোন নষ্টও হয়ে যেতে পারে। সবমিলিয়ে ফোন ছাড়া আমাদের জীবন যখন প্রায় অচলই বলা চলে, তখন হুট করে ফোন হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আগে থেকে সাবধানতা অবম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

    ফোন হারিয়ে যাক, চুরি হোক বা নষ্ট হয়ে যাক- চলুন জেনে নিই এমন কোনো পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই কীভাবে প্রস্তুত থাকবেন।

    সাধারণ সতর্কতার ক্ষেত্রে যা যা করবেন


    আপনার যত্ন করে রাখা ফোনটা কিন্তু হারিয়ে যেতেই পারে

    স্মার্টফোন দুটোভাবে নষ্ট হতে পারে। প্রথমত, বাহ্যিকভাবে। আর দ্বিতীয়ত, সফটওয়্যার সংক্রান্ত কোনো সমস্যায়। প্রথমেই তাই ফোনের হার্ডওয়্যারকে সুরক্ষিত রাখতে ভালো একটি কেইস ব্যবহার করুন, যেটা হাত থেকে পড়ে গেলেও ফোনকে সুরক্ষিত রাখবে। এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক ফোনের সফটওয়্যার, অর্থ্যাৎ তথ্যগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে কী কী ব্যবস্থা নিতে পারেন আপনি।

    স্ক্রিন লক করুন

    হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া ফোন থেকে তথ্য অন্যের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই ফোনে আপনার চেহারা ও আঙুলের মাধ্যমে লক করে রাখুন। ফেসিয়াল বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিকগনিশন চালু থাকলেও অবশ্য পাশাপাশি ভালো মানের পাসওয়ার্ড দিন। এতে আপনার ফোন অন্তত প্রাথমিকভাবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।

    লোকেশন ফিচার ব্যবহার করুন

    অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনে লোকেশন ফিচার চালু রাখুন। অ্যাপের লোকেশন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বন্ধ রাখলেও ফোনের লোকেশন ফিচার অন করুন। কারণ এটি শুধু ম্যাপ দেখতেই নয়, আরো নানারকম কাজে সাহায্য করবে আপনাকে। আপনার ফোন হারিয়ে গেলেও কোথায় হারিয়েছে সেটা খুঁজে বের করা সহজ হবে।


    অ্যাপের লোকেশন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বন্ধ রাখলেও ফোনের লোকেশন ফিচার অন করুন

    ফোন আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের কপি রাখুন

    ফোন হারিয়ে গেলে সেটা খুঁজে বের করার জন্য যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় সেটা হলো ফোন আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, অর্থাৎ- সিরিয়াল নম্বর ও ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি নম্বর। যদি ফোন হারিয়েই যায় সেক্ষেত্রে পুলিশ রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগবে। তাই নম্বরটির কপি নিজের কাছে আলাদাভাবে রাখুন। সেটিংসে গেলে বা *#06# ডায়াল করে খুব সহজেই এই নম্বর বের করতে পারবেন আপনি।

    ওয়ারেন্টি পড়ে দেখুন এবং ইনস্যুরেন্স নিন

    সব ফোন কোম্পানি ইনস্যুরেন্স সেবা না দিলেও কিছুক্ষেত্রে বাড়তি টাকা খরচের মাধ্যমে এটি পেতে পারেন আপনি। এই ইনস্যুরেন্স শুধু আপনাকে ফোন কাজ না করলে সেটা ঠিক করারই সুযোগ করে দেবে না, একইসাথে হারিয়ে যাওয়া ফোনের ব্যাপারেও কিছু সুবিধা দেবে। কী কী সুবিধা পাবেন আপনি ফোন কেনার মাধ্যমে সেটা বোঝার জন্য ওয়ারেন্টি ভালোভাবে পড়ে নেওয়াটাও জরুরি। তাই ফোন কেনার আগে এই ব্যাপারগুলো মাথায় রাখুন।

    টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন

    আপনার ফোন ও ফোনে থাকা অ্যাপগুলোর টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন। এতে করে কেউ যদি ফোন চালানোর চেষ্টা করে তাহলে আপনি আপনার ইমেইল, এসএমএস সবকিছুতেই নোটিফিকেশন পাবেন। এমনকি ফোন নষ্ট হয়ে গেলেও ব্যাক আপ ইমেল বা এসএমএস-এর মাধ্যমে ফোনের তথ্য ফিরে পেতে পারবেন আপনি।

    ব্যাকআপ রাখুন

    ফোনে অনেক অনেক তথ্য থাকে আমাদের, যেটা ফোন হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ফোনের সব তথ্য ক্লাউড স্টোরেজে রেখে দিন। একবার আপনার ফোনের সাথে ক্লাউড স্টোরেজ কানেক্ট হয়ে গেলে এরপর নিজ থেকেই সবগুলো তথ্য ফোনের বাইরেও জমা হয়ে যাবে।


    ফোনের সব তথ্য ক্লাউড স্টোরেজে রেখে দিন

    অ্যাপল, গুগল, স্যামসাং ডিভাইসের মাধ্যমে সাধারণ তথ্য ছাড়াও ফোনের ক্ষুদেবার্তা, ফোন নম্বর, কল হিস্ট্রি ইত্যাদি সবকিছুই আপনি অনুমতি দিলে জমা হয়ে যাবে আপনার কাঙ্ক্ষিত স্থানে। যদি ছবি জমিয়ে রাখার প্রয়োজন হয় আপনার, সেক্ষেত্রে গুগল ফটোজ, আইক্লাউড ফটোজ বা ড্রপবক্সের মতো স্থানগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।

    ফোন খুঁজে নিন

    আপনার ফোন যদি চুরি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে অ্যাপল, গুগল বা স্যামসাং ডিভাইস থেকে ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ পেইজে যান এবং ফোন খুঁজে বের করুন। যদি আপনার ফোন চালু থাকে তাহলে সেটা কোথায় আছে জেনে নিতে পারবেন আপনি। ইচ্ছা হলে ফোনের নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপ নিষ্ক্রিয়ও করে দিতে পারবেন।

    নষ্ট ফোনের জন্য ব্যবস্থা নিন

    নানারকম দুর্ঘটনায় ফোন নষ্ট হয়ে যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে ডিভাইসের নির্দিষ্ট কোম্পানি ফোনে পানি গেলে বা কোনো ক্ষতি হলে কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেছে তা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। সাধারণত এসব ব্যাপার ও নির্দেশনা ডিভাইসের সাথে থাকা কাগজেই লেখা থাকে। সেগুলো দেখে নিয়ে সেই মতো কাজ করুন।


    নষ্ট হওয়া ফোনের ক্ষেত্রে কোম্পানির নির্দেশনা মেনে চলুন

    প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে ফোন ছাড়া আমরা যেন আমাদেরকে কল্পনাই করতে পারি না। প্রতিদিনের পথচলায় অনেক বেশি নির্ভর করি আমরা ফোনের উপরে। তাই দৈনন্দিন জীবনের এই সঙ্গীকে সামলে রাখার, নিজের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করার জন্য উপরের ব্যাপারগুলো তো মেনে চলাই যায়, তাই না?

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  15. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ সাধারণ প্রশ্ন

    পানি জীবন বাঁচায়,আবার পানি জীবন কেড়েও নেয়! কিভাবে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    পানি জীবন বাঁচায়,আবার পানি জীবন কেড়েও নেয়! পর্যাপ্ত পানি পান করার মাধ্যমে আমরা যেমন সুস্থ জীবন যাপন করতে পারি, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পানে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আবার অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণেও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। পানি পান করার ব্যাপারে তাই সতর্ক থাকা জরুরি। পানি কখন কতটুকু খাবেন?বিস্তারিত পড়ুন

    পানি জীবন বাঁচায়,আবার পানি জীবন কেড়েও নেয়! পর্যাপ্ত পানি পান করার মাধ্যমে আমরা যেমন সুস্থ জীবন যাপন করতে পারি, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পানে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আবার অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণেও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। পানি পান করার ব্যাপারে তাই সতর্ক থাকা জরুরি।

    পানি কখন কতটুকু খাবেন?

    প্রাপ্তবয়স্ক ও কর্মক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সাধারণত দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে দিনে কতটুকু পানি পান করতে হবে তা মূলত আবহাওয়া, ব্যক্তির শারীরিক শ্রম, ঘামের পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। শীতকালের চেয়ে গরমকালে শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। যারা কায়িক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের বেশি পানি পান করতে হয়। আবার যারা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘামেন, তাদের জন্য একটু বেশি পানি পান করা দরকার।

    এজন্য বিশ্বব্যাপী দৈনিক পানি পান করার নির্দিষ্ট কোনো মাপকাঠি নেই। একটি গবেষণায় দেখা যায়- যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিরা দৈনিক পানির চাহিদার প্রায় ২০% দৈনন্দিন খাবার থেকেই পেয়ে থাকে। বাকি ৮০% সরাসরি পানি পান কিংবা অন্যান্য পানীয়ের দ্বারা পূরণ করতে হয়।

    ফলমূল ও শাকসবজিতে প্রচুর পানি থাকে। এছাড়া প্রতিদিন চা, দুধ, কফি এগুলো থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির সরবরাহ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড মেডিসিনের নির্দেশনা অনুসারে- খাবার থেকে প্রাপ্ত পানি ও সরাসরি পানকৃত পানি মিলিয়ে দৈনিক পানি গ্রহণের পরিমাণ একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে ৩.৭ লিটার হওয়া উচিত, একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে যার পরিমাণ ২.৭ লিটার।

    মনে রাখা দরকার, এই পরিমাণের বেশ কিছু অংশ আমরা খাবার থেকেই পেয়ে থাকি। তাই খাবারের মাধ্যমে গৃহীত পানির পরিমাণ বাদ দিয়ে বাকি অংশ পানি পান করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলাদের জন্য দৈনিক পানির চাহিদা একটু বেশি। আবার শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সাথে সাথে দৈনিক পানির চাহিদাও বাড়ে।

    পানি কম খেলে যেসব সমস্যা হয়

    আমাদের দেহের প্রায় শতকরা ৬০ ভাগই পানি। তাই পর্যাপ্ত পানি পান না করলে দেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটে। অল্পতেই ক্লান্তিভাব, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেশীতে টান ধরা, খিটখিটে মেজাজের পাশাপাশি ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাগুলো দেখা দেয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে পানির অপর্যাপ্ততা নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, কিডনিতে পাথর, মূত্রনালিতে ইনফেকশন ও উচ্চরক্তচাপ দেখা দেয়। ২০২০ এ একটি গবেষণায় দেখা যায়- পর্যাপ্ত পানি পান না করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    অতিরিক্ত পানি পানের ক্ষতিকর দিক

    পর্যাপ্ত পানি পানের কারণে শরীরের ভেতরের কোষগুলো সবল ও স্বাভাবিক থাকে, শরীরে রক্ত চলাচলও স্বাভাবিক থাকে। আমাদের পানকৃত পানির ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে কিডনি! কিন্তু একটি নির্দিষ্ট মাত্রার উপরে এ ছাঁকনির কার্যক্ষমতা থাকে না। ঘণ্টায় প্রায় ১ লিটারের বেশি পানি পান করলে কিডনি এই অতিরিক্ত পানিকে আর মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করতে পারে না। বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে কিডনির এই কার্যক্ষমতা আরো কম। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাই ৩-৪ লিটারের বেশি পানি পান করলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

    প্রাথমিকভাবে বমি বমি ভাব, ক্লান্তিভাব, মাথাব্যথার মতো সমস্যাগুলোই দেখা দেয়। অতিরিক্ত পানি পানের ফলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অনেক কমে যায়- এই অবস্থাকে বলা হয় ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’। এর ফলস্বরুপ দেহের কোষগুলো স্ফীত হতে শুরু করে। একপর্যায়ে মস্তিষ্ক কোষের স্ফীত হওয়ার কারণে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা কোমায় চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এমনকি একপর্যায়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অতিরিক্ত পানি পানের ফলে মৃত্যুর ঘটনা যদিও খুব বিরল, তবুও এটি অসম্ভব কিছু নয়!

    অতিরিক্ত পানি পানের কারণে মৃত্যুঝুঁকির এমন ঘটনা সাধারণত ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে  কিংবা মিলিটারি প্রশিক্ষণের সময়ই বেশি দেখা যায়। মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অনেক সময় এমন হতে দেখা যায়। এছাড়া জোর করে কাওকে অতিরিক্ত পানি পান করিয়ে মৃত্যুঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়ার নজিরও রয়েছে।

    পর্যাপ্ত পানি পান করার ব্যাপারে এজন্য আমাদের সচেতনতা জরুরি। আবহাওয়া, ব্যক্তির লিঙ্গ, বয়স, শারীরিক শ্রম প্রভৃতি বিষয় মাথায় রেখেই পানি পান করা দরকার। কিডনি, যকৃৎ ও হৃদরোগীদের চিকিৎসকরা পানি মেপে পান করতে বলেন, এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি পান করা বিপজ্জনক হতে পারে। শরীরের পানির প্রয়োজনীয়তা জানান দেওয়ার অন্যতম এক মাধ্যম হলো ‘তৃষ্ণা’। যখনই তৃষ্ণা অনুভব হবে তখনই পানি পান করে পানির এ ঘাটতি মেটানো উচিত।

    পানি কখন কতটুকু পান করবেন- এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  16. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ প্রোগ্রামিং

    ইন্টারনেটে ডিপফেক !! কী এই প্রযুক্তি? বাঁচবেন কীভাবে ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কারণ এটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভুল তথ্য ছড়ানো, জাল খবর তৈরি করা কিংবা অন্যের ভুয়ো পরিচয় তৈরি করা- সবই সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক আশ্চর্য প্রযুক্তির সাহায্যে অন্যের শরীরে এমন নিখুঁতভাবে জুড়ে দেওয়া হয় আরেকজনেরবিস্তারিত পড়ুন

    ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কারণ এটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভুল তথ্য ছড়ানো, জাল খবর তৈরি করা কিংবা অন্যের ভুয়ো পরিচয় তৈরি করা- সবই সম্ভব।
    ইন্টারনেটে ডিপফেকের শিকার রশ্মিকা, কী এই প্রযুক্তি? বাঁচবেন কীভাবে

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক আশ্চর্য প্রযুক্তির সাহায্যে অন্যের শরীরে এমন নিখুঁতভাবে জুড়ে দেওয়া হয় আরেকজনের মুখ, যে তা বোঝার কোনও উপায়ই নেই। বরং  ভিডিওতে এমনভাবেই হাসছেন, কথা বলছেন  যে সন্দেহেরও জায়গা নেই, ভিডিওতে দেখা যাওয়া মানুষটি আদৌ তিনি নন। এই প্রযুক্তির নাম হল ‘ডিপফেক’।

    ডিপফেকের মাধ্যমে রীতিমতো অসাধ্যসাধন করা যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআইকে কাজে লাগিয়ে। নেটিজেনরা ফটোশপ শব্দটির সঙ্গে কমবেশি সকলেই পরিচিত। ফটোশপের সাহায্যে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তিকর ছবিতে অন্যের মুখের ছবি জুড়ে দিয়ে নতুন ছবি তৈরি করে ব্ল্যাকমেল সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ চলে আসছে। তবে ডিপফেক প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে আরও বহুগুণ উন্নত, এবং ঠিক সেই কারণেই তা বেশি আশঙ্কার কারণও বটে।

    কী এই এআই ডিপফেক? এই প্রযুক্তির সাহায্যে ঠিক কতটা বিপদে ফেলতে পারে এইআই? কীভাবেই বা বাঁচবেন এই ফাঁদ থেকে? 

    ডিপফেক হল এমন একটি প্রযুক্তি, যার সাহায্যে মিথ্যে ছবি, ভিডিও, এমনকী অডিও-ও তৈরি করা যায়। সেই ছবি-ভিডিও কিংবা অডিও দেখে আপাতভাবে বোঝার উপায়ই নেই যে সেগুলি আসল নয়। ডিপফেকের মাধ্যমে জাল অডিও তৈরি করে কারও কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করা যায়। যাঁর সঙ্গে এমনটা ঘটছে, তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষরাও অনেক সময় সেই মিথ্যা ধরতে পারেন না।

    কীভাবে তৈরি করা হয় জাল কন্টেন্ট?

    ডিপফেক নির্মাতারা সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ‘টার্গেট’-এর ব্যাপারে যথেষ্ট পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করে শুরু করে। এরপরে সেই সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করতে এবং শিখতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সেই প্রযুক্তির সাহায্যে মুখের বৈশিষ্ট, অভিব্যক্তি, ভয়েস প্যাটার্ন এবং অন্যান্য ‘ইউনিক’ বৈশিষ্ট শনাক্ত করে এবং ম্যাপ করে। তারপরে অন্য ভিডিও বা ছবিতে নতুন পুনর্গঠিত ডেটা ম্যানিপুলেট করে অর্থাৎ জুড়ে দিলেই তৈরি নতুন জাল কন্টেন্ট।

    এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কারণ এটি বিভিন্ন প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভুল তথ্য ছড়ানো, জাল খবর তৈরি করা কিংবা অন্যের ভুয়ো পরিচয় তৈরি করা- সবই সম্ভব। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়াই ডিপফেকের জন্য তথ্য সংগ্রহের মূল জায়গা, তাই  কীভাবে সমাজমাধ্যমে নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব, সেই নিয়েও জানার আগ্রহ বাড়ছে মানুষের।

    কীভাবে বাঁচবেন এআই-এর পাতা ফাঁদ থেকে? 

    সোশ্যাল মিডিয়ায় উপলব্ধ ব্যক্তিগত তথ্য যথাসম্ভব কম করাই ডিপফেকের খপ্পর থেকে বাঁচার সহজতম উপায়। ছবি ভিডিও সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা কন্টেন্ট ‘পাবলিক’ না রাখাই ভাল। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলও ‘প্রাইভেট’ করে রাখা যেতে পারে। ইনস্টাগ্রামে বিজনেস অ্যাকাউন্ট থাকলে ব্যক্তিগত চ্যাট, ভিডিও আর্কাইভে রাখা যেতে পারে। অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলিকে সুরক্ষিত করার জন্য শক্তপোক্ত, কঠিন পাসওয়ার্ড দেওয়া জরুরি।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  17. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ অ্যাপ (অ্যান্ড্রয়েড ও IOS)

    Instagram Followers : ইন্সটা-তে এই টিপস মানলেই 1000 ফলোয়ার্স! সোশ্যাল মিডিয়া স্টার হওয়ার ফর্মুলা.. কিন্তু কিভাবে সম্ভব?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ভুয়ো ফলোয়ার্স কেনাকে প্রমোট করেনা ইন্সটাগ্রাম। সৎ এবং ক্রিয়েটিভ উপায়ে পোস্ট করলে তবেই ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার্স বাড়ানো যায় বলে মনে করে কোম্পানি। এক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যা মেনে চলা দরকার। ইন্সটা অ্যাকাউন্ট/পোস্ট ভাইরাল করার জন্য এই 5 টিপস জেনে রাখুন। Instagram Folবিস্তারিত পড়ুন

    বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ভুয়ো ফলোয়ার্স কেনাকে প্রমোট করেনা ইন্সটাগ্রাম। সৎ এবং ক্রিয়েটিভ উপায়ে পোস্ট করলে তবেই ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার্স বাড়ানো যায় বলে মনে করে কোম্পানি। এক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যা মেনে চলা দরকার। ইন্সটা অ্যাকাউন্ট/পোস্ট ভাইরাল করার জন্য এই 5 টিপস জেনে রাখুন।

    how to increase instagram followers check this 5 easy steps

    Instagram Followers : ইন্সটা-তে এই টিপস মানলেই 1000 ফলোয়ার্স! সোশ্যাল মিডিয়া স্টার হওয়ার ফর্মুলা
    সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার্স বাড়ানোর একাধিক উপায় রয়েছে। তবে অনেকেই ভুল ভাবে তা অনুসরণ করেন। কেউ কেউ বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ভুয়ো ফলোয়ার্স কেনে ইন্সটা প্রোফাইল জনপ্রিয় করার জন্য। কিন্তু, এটা কি সঠিক উপায়? একেবারেই নয়। সম্মতি দেয়না ইন্সটাগ্রামও।

    সঠিক ও ক্রিয়েটিভ উপায়ে মানুষের কাছে পৌঁছলে তবেই পোস্ট কিংবা প্রোফাইল জনপ্রিয়তা পাবে। এর জন্য কী কী টিপস মেনে চলা দরকার? জটিল বা টেকনিক্যাল কোনও বিষয়ে না গিয়েও বাড়াতে পারবেন ফলোয়ার্স। জেনে নিন ধাপে ধাপে।

    ভুয়ো ফলোয়ার্স থেকে সাবধান

    ভুয়ো ফলোয়ার্স থেকে সাবধান

    ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইট বা ট্রিক রয়েছে যেখান থেকে ভুয়ো ফলোয়ার্স কেনা যায়। কিন্তু, এই ভাবে বাড়ার থেকে উল্টে ইন্সটাগ্রামের শ্যাডো ব্যানের কোপে পড়বে অ্যাকাউন্ট। যেহেতু সংস্থা এই ধরনের কার্যকলাপে সম্মতি দেয়না, কেউ যদি ভুয়ো ফলোয়ার্স কেনে তাহলে প্রোফাইলের গ্রোথ কমে যাবে। যে ভুয়ো ফলোয়ার্সগুলি কিনতে পাওয়া যায় সেগুলি আসল ইউজার হয় না। অজস্র বট ব্যবহার করা হয় এর জন্য। তাই এই ভাবে কোনওদিনই ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে ফলোয়ার্স বাড়াতে পারবেন না।

    ইউজার নেম বদলান

    ইউজার নেম বদলান

    প্রোফাইল নেম ও ইউজার নেমে যদি কিওয়ার্ড থাকে তাহলে সেটি অন্যান্য ইউজারদের কাছে পৌঁছনোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই কিওয়ার্ড সহজ এবং নির্দিষ্ট হওয়া উচিত। যা ইউজারের পেজ বা তাঁর কনটেন্টকে প্রতিফলিত করে। পাশাপাশি ইন্সটাগ্রামের সঙ্গে যুক্ত সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একই ইউজার নেম ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

    বায়ো-তে জোর দিন

    বায়ো-তে জোর দিন

    ইনস্টাগ্রাম বায়ো আকর্ষণীয় হলে তবেই প্রোফাইলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় মানুষের। আর সেটা যদি ভালো না হয় তাহলেই মুশকিল। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হলে দক্ষতা প্রতিফলিত হয় সেই ভাবে বায়ো তৈরি করুন। সাধারণ ইউজাররা নিয়মিত যেমন পোস্ট করেন সেই অনুযায়ী ঠিক করুন বায়ো। বায়ো হিট হলে তবেই গ্রোথ হবে ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইল, বাড়বে ফলোয়ার্স।

    অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দিন

    অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দিন

    এখন এক ছাতার তলায় সব প্ল্যাটফর্ম। মেটার নতুন ফিচারে একটা ক্লিকেই ইন্সটা থেকে ফেসবুক আবার ফেসবুক থেকে ইন্সটায় চলে আসা যায়। তাই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, থ্রেডস এবং অন্যান্য চ্যানেলে রেগুলার পোস্ট আপডেট করুন। শেয়ার করুন নিজের অ্যাকাউন্ট। এই ভাবে বাড়াতে পারবেন ফলোয়ার্স সংখ্যা।

    সঠিক সময়ে পোস্ট করুন

    সঠিক সময়ে পোস্ট করুন

    ইনস্টাগ্রাম খুলেই পোস্ট করে দিলেন ছবি বা রিল? না, এই ভাবে হবে না। দিনক্ষণ না বুঝে পোস্ট শেয়ার করলে তা অনেকের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। যদিও এমন কোনও গোল্ডেন হাওয়ার নেই, তবুও সঠিক সময়ে পোস্ট করার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে যখন সবাই মোটামুটি অ্যাক্টিভ থাকে।

    ইন্সটাগ্রামে বিজনেস অ্যাকাউন্ট থাকলে এই বিষয়টি আরও ভালো ভাবে জানতে পারবেন। কারণ Insights সেকশনে সঠিক সময়ে পোস্ট করার একটি অপশন থাকে – ‘Most Active Times’। এখানে ক্লিক করে বিশ্লেষণ করে পোস্ট করার সেরা সময়টি বেছে নিতে পারবেন।
    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  18. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ অ্যাপ (অ্যান্ড্রয়েড ও IOS)

    জ্বালানির দাম বাড়লেও, গাড়ির তেল খরচ বাঁচাবে গুগল ম্যাপ, কী ভাবে ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    গুগল ম্যাপ শুধু রাস্তা চিনিয়ে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যাবে না, এবার থেকে গাড়ির তেল খরচ বাঁচাতেও সাহায্য করবে। এই সুবিধা প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপে চালু হয়েছিল। এবার ভারতেও ফুয়েল-সেভিং ফিচার লঞ্চ করল গুগল ম্যাপ। এই অ্যাপে কী ভাবে তেল খরচ কমাবেন জেনে নিন। গুগল ম্যাপে নতুন সুবিধা পথ চিনিয়বিস্তারিত পড়ুন

    গুগল ম্যাপ শুধু রাস্তা চিনিয়ে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যাবে না, এবার থেকে গাড়ির তেল খরচ বাঁচাতেও সাহায্য করবে। এই সুবিধা প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপে চালু হয়েছিল। এবার ভারতেও ফুয়েল-সেভিং ফিচার লঞ্চ করল গুগল ম্যাপ। এই অ্যাপে কী ভাবে তেল খরচ কমাবেন জেনে নিন।
    Google Maps

    গুগল ম্যাপে নতুন সুবিধা

    পথ চিনিয়ে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে গুগল ম্যাপের। অচেনা এলাকা দিয়ে গাড়ি-বাইক চালানোর সময় অনেকেই এই নেভিগেশন অ্যাপের উপর ভরসা করেন। এবার এক ধাপ এগিয়ে ইউজারদের তেল খরচ বাঁচাতেও সাহায্য করবে গুগল ম্যাপ।

    2022 সালে সেপ্টেম্বরে ফুয়েল-সেভিং ফিচারটি আনে গুগল। প্রাথমিক পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপ চালু করা হয় এই সুবিধা। ক্রমেই ফিচারটি ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। এটি কাজে লাগিয়ে গাড়ির জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হয়। তবে ভারতে গুগল ম্যাপে অন্যান্য সুবিধা পাওয়া গেলেও এটি উপলব্ধ ছিল না।

    এদিন, ভারতে ফিচারটি ইউজারদের গুগল ম্যাপে পাঠাতে শুরু করেছে সংস্থা। কী ভাবে কাজ করে এবং কী ভাবে ব্যবহার করে যানবাহনের তেল খরচ বাঁচাতে পারবেন জেনে নিন।

    গুগল ফুয়েল-সেভিং কী ভাবে কাজ করে?

    গুগল ম্যাপ ইউজারের গাড়ির ইঞ্জিন অনুযায়ী, কোন রাস্তায় কত জ্বালানি দক্ষতার প্রয়োজন তার একটা হিসাব দেখিয়ে দেয়। পাশাপাশি মানচিত্রে লাইভ ট্রাফিক আপডেট এবং রাস্তার পরিস্থিতি কেমন সেই তথ্যও তুলে ধরে। গতি, ট্রাফিক আপডেট, উক্ত রুটে প্রয়োজনীয় জ্বালানি ইত্যাদি বিষয়গুলি বিবেচনা করে কোন রুটে সবথেকে বেশি জ্বালানি বাঁচাতে পারবেন তা দেখিয়ে দেয় অ্যাপে। এমনকী রুট যদি বদলও করেন, তাহলেও বিকল্প রুট যেখানে জ্বালানি কম খরচ তার সন্ধান দেয় গুগল ম্যাপ।

    গাড়ির ইঞ্জিন শনাক্ত করে কোন রুটে ভালো জ্বালানি দক্ষতা বা মাইলেজ পাবেন তা একটি সবুজ পাতার সাহায্যে দেখায় গুগল ম্যাপ। অপশনটি বন্ধ করলেও গাড়ির গতি ট্র্যাক করতে শুরু করে গুগল।

    কী ভাবে ব্যবহার করবেন?

    • স্মার্টফোনে গুগল ম্যাপ ওপেন করুন
    • তারপর প্রোফাইল পিকচার অপশনে ক্লিক করুন
    • এবার সেটিংস অপশনে ট্যাপ করে নেভিগেশন অপশনে ক্লিক করুন
    • নিচে স্ক্রল করে রুট অপশনে ট্যাপ করুন
    • ইকো-ফ্রেন্ডলি রুটিংয়ের সুবিধা পাওয়ার জন্য ‘Prefer fuel efficient routes’ অপশনে ট্যাপ করুন
    • এখানে ইঞ্জিন টাইপ অপশনে ট্যাপ করতে হবে
    • এবার গন্তব্য সার্চ করতে পারেন
    • বটম বার সোয়াইপ করে চেঞ্জ ইঞ্জিন সিলেক্ট করুন
    • এখানে গাড়ির ইঞ্জিন টাইপ দিতে হবে

    উল্লেখ্য, গাড়ির সঠিক ইঞ্জিন টাইপ দিতে হবে এখানে। কী রকম ইঞ্জিন রয়েছে তা ভুল দিলে, জ্বালানি দক্ষ এমন রুটও ভুল দেখাতে পারে গুগল। সাধারণত হাইওয়ে রাস্তায় ডিজেল গাড়ি ভালো মাইলেজ দিতে পারে। শহরের মধ্যে হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিক গাড়ি ভালো মাইলেজ দেয়।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  19. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মোবাইল (অ্যান্ড্রয়েড ও IOS)

    মোবাইল ক্যামেরার কাছে হার মানবে DSLR-ও !! সত্যি ?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ফটোগ্রাফির জন্য হাতের কাছে দামি DSLR কিংবা হাইফাই ক্যামেরা আজ আর না হলেও চলে। কারণ হাতের মুঠোয় রয়েছে দুর্দান্ত সব স্মার্টফোন। যাদের ক্যামেরা মাত দিতে পারে বাঘা বাঘা ডিজিটাল ক্যামেরাকে। মোবাইল ফটোগ্রাফি কিন্তু মোটেই আজ আর হেলাফেলার জিনিস নয়। মানুষের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুর্ধর্ষ সব ক্যামেরা নিয়েবিস্তারিত পড়ুন

    ফটোগ্রাফির জন্য হাতের কাছে দামি DSLR কিংবা হাইফাই ক্যামেরা আজ আর না হলেও চলে। কারণ হাতের মুঠোয় রয়েছে দুর্দান্ত সব স্মার্টফোন। যাদের ক্যামেরা মাত দিতে পারে বাঘা বাঘা ডিজিটাল ক্যামেরাকে। মোবাইল ফটোগ্রাফি কিন্তু মোটেই আজ আর হেলাফেলার জিনিস নয়। মানুষের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুর্ধর্ষ সব ক্যামেরা নিয়ে হাজির হচ্ছে মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। কেউ দিচ্ছে 100 মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা তো কেউ 200। এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায়। আর সেই বাজারে Apple-র নাম উঠলে তো কথাই নয়। সম্প্রতি গোটা একটা সিনেমা শুট হয়ে গিয়েছে লেটেস্ট iPhone মডেল দিয়ে। বিশাল ভরদ্বাজ নির্মীত সেই ‘ফুরসত’ ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেটমাধ্যমে। ফলে বুঝতেই পারছেন, মোবাইল ক্যামেরা বিষয়টি মোটেই হেলাচ্ছেদ্দা করার মতো বিষয় নয়। মোবাইল ফটোগ্রাফি তো নয়ই। তবে মোবাইলে ভাল ক্যামেরা থাকলেই যে আপনি দুর্দান্ত ছবি তুলে ফেলতে পারবেন, তা কিন্তু নয়। তার জন্য চাই ঠিকঠাক প্রশিক্ষণ। তবে খুব কঠিন কিছুও নয় তা। সামান্য কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখলেই আপনিও হয়ে উঠতে পারেন দুর্দান্ত ফটোগ্রাফার। মোবাইলে ভালো ছবি ও সেলফি তোলার সহজ কিছু টিপস রইল আপনারই জন্য। যা জানা থাকলে আপনার হাতের মোবাইলই হয়ে উঠবে DSLR। আসুন জেনে নেওয়া যাক, সেই সব কৌশল, যার অ্যাকসেস আপনি সহজেই পেতে পারেন Settings অপশন থেকেই।

    মোবাইল ক্যামেরায় গ্রিডলাইন জরুরি

    মোবাইল ক্যামেরায় গ্রিডলাইন জরুরি

    মোবাইল ক্যামেরার settings অপশনে গেলে সেখানে গ্রিডলাইন বলে একটি অপশন দেখতে পাবেন। যেটি অন করলে ক্যামেরার স্ক্রিনে বেশ কিছু উলম্ব ও অনুভূমিক রেখা দেখা যায়, যা ন’টি ভাগে ভাগ করা থাকে। যা প্রাথমিক ভাবে অকাজের মনে হলেও, ভালো ছবি তোলার জন্য কিন্তু বেশ জরুরি এই গ্রিডলাইন। এই গ্রিডলাইন আপনার ছবির রেশিওকে সোজা রাখতে সাহায্য করে। ছবি তোলার সময় ওই রেখার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্রেম সেট করতে পারলে, আপনাকে আর ঠেকায় কে!

    সেট করুন ক্যামেরার ফোকাস মোড

    সেট করুন ক্যামেরার ফোকাস মোড

    ক্যামেরা অন করে শাটার বাটন প্রেস করে দিলেই কিন্তু ছবি তোলা হয় না। বরং কোন বস্তুটির ছবি আমরা তুলতে চাইছি, তাকে প্রথমে ফোকাসে আনা চাই। আর তার জন্যই ক্যামেরা সেটিংসে থাকে ফোকাসের একটি বিকল্প। যেখানে গিয়ে ফোকাস মোডটি অন করতে হবে আপনাকে। এর পর যে বস্তুটির ছবি তুলতে চান, সেই উদ্দিষ্ট বস্তুটির উপর ফোকাস সেট করা প্রয়োজন। তার জন্য ক্য়ামেরা স্ক্রিনের উপর উদ্দিষ্ট জায়গায় ট্যাপ করতে হবে। তাহলেই দেখবেন একটি গোলাকার ফোকাস অপশন দেখা যাবে স্ক্রিনের। ভাল ছবি তোলার অনেকটা কৃতিত্বই কিন্তু যায় এই ফোকাস মোডের উপরে।

    HDR মোড ব্যবহার করতে শিখুন

    HDR মোড ব্যবহার করতে শিখুন

    High dynamic range বা HDR, মোবাইল ক্যামেরা অ্যাপের এই ফিচারটি লাইট ও ডার্ক এলিমেন্টে ব্যালান্স আনে এই HDR মোড। ঘরে লো লাইটে ছবি তুললে ব্রাইট ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলার চেষ্টা করবেন। তবে এই যে আলো-আধারির সমস্যা তা কিন্তু HDR মোডের সাহায্যে অনেকটাই মেটানো সম্ভব। iPhone-র ক্ষেত্রে সমস্ত ছবিই HDR মোডে ওঠে। তবে অন্যান্য Androidফোনের ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি ওই মোড অন করতে হয়। তাই ক্যামেরার Settings-এ গিয়ে HDR মোড অন করার কথা ভুলবেন না যেন।

    ন্যাচারাল লাইটই সবচেয়ে ভাল

    ন্যাচারাল লাইটই সবচেয়ে ভাল

    সবসময় মনে রাখবেন, যে কোনও কৃত্রিম আলোর তুলনায় ন্যাচারাল আলোয় ছবি ওঠে সবচেয়ে ভালো। তাই ফ্ল্যাশ ব্যাবহার করে ছবি তোলার চেয়ে প্রাকৃতিক আলোয় ছবি তোলার চেষ্টা করুন। অন্ধকারে তোলা ছবিতে শ্যাডো ব্যবহার করে দেখতে পারেন। পাশাপাশি একসঙ্গে একাধিক জিনিসের ছবিতে ফোকাস করার চেষ্টা করবেন। তাহলে কিন্তু আখেরে গোটা ছবিটাই ঘেঁটে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।

    সোজা রাখুন মোবাইল

    সোজা রাখুন মোবাইল

    মোবাইল হোক বা ক্যামেরা, ডিভাইসধরে হাত বেশ নড়লে সব ছবিই উঠবে ব্যাঁকাট্যারা। তাই ছবি তোলা সময় ফোন সোজা ধরার চেষ্টা করুন। যে হাতে ক্যামেরা ধরেছেন, সেই হাতটাকে অন্য হাত দিয়ে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করুন। আরেকটি ছোট্ট টিপস রয়েছে, ছবির ক্যাপচার বাটনটি প্রেসের সময় এক-দু সেকেন্ড নিঃশ্বাস বন্ধ রাখার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তাও যদি ছবি কাঁপে, তাহলে মোবাইল ট্রাইপড ব্যবহার করতে পারেন। সেলফি তোলার ক্ষেত্রেও বেশ সুবিধা পাবেন এর ফলে।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
  20. সময়ঃ 2 বছর আগেক্যাটাগরিঃ মোবাইল (অ্যান্ড্রয়েড ও IOS)

    ডেটা হারিয়ে গেলেও কিছু ম্যাজিক ট্রিকস জানলে পুরনো ফোনের সব ডেটাই ফিরবে নয়া ফোনে, কিভাবে?

    ashad khandaker
    ashad khandaker সবজান্তা
    উত্তর দিয়েছেন 2 বছর আগে

    ডেটা হারানোর ভয় ভ্যানিশ! এই ম্যাজিক ট্রিকস জানলে পুরনো ফোনের সব ডেটাই ফিরবে নয়া ফোনে! নতুন ফোন তো কিনেছেন! তা নতুন ফোন কেনার আনন্দ কার না হয়। তবে নতুন ফোন কেনার ভাবনা এলেই একটা চিন্তা আমাদের কুড়ে কুড়ে খেতে থাকে। পুরনো ফোন ভর্তি যে এত এত তথ্য, সেসব কি তবে পুরোটাই গঙ্গায়। আর সেই দুশ্চিন্তায় নতুন ফোনবিস্তারিত পড়ুন

    ডেটা হারানোর ভয় ভ্যানিশ! এই ম্যাজিক ট্রিকস জানলে পুরনো ফোনের সব ডেটাই ফিরবে নয়া ফোনে! নতুন ফোন তো কিনেছেন! তা নতুন ফোন কেনার আনন্দ কার না হয়। তবে নতুন ফোন কেনার ভাবনা এলেই একটা চিন্তা আমাদের কুড়ে কুড়ে খেতে থাকে। পুরনো ফোন ভর্তি যে এত এত তথ্য, সেসব কি তবে পুরোটাই গঙ্গায়। আর সেই দুশ্চিন্তায় নতুন ফোন কেনার পুরো আনন্দটাই মাটি। এখন তো আবার পুরনো ফোন এক্সচেঞ্জ করে নতুন ফোন কেনার চল। সেক্ষেত্রে ডেটা উদ্ধার হবে কীভাবে! তবে সেই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায়ও কিন্তু আছে হাতের কাছেই। এমন অনেক টুল এবং পদ্ধতি রয়েছে, যার মাধ্যমে ঝেড়ে ফেলতে পারেন এমন সব দুশ্চিন্তাই। নতুন ফোন কিনে সম্পূর্ণ আলাদা অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিন্তু পুরনো ফোনের সমস্ত তথ্য রিট্রিভ করা সম্ভব। তার জন্য রয়েছে হাজার একটা পদ্ধতি। তবে তার জন্য শিখে রাখতে হবে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি।

    • অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যাকআপ রাখুন

     

    একটি ফোন থেকে অন্য ফোনে ডেটা ট্রান্সফার কিন্তু এমন কিছু হাতিঘোড়া কাজ নয়। তবে তার জন্য আপনার পুরনো ফোনের ব্যাকআপ থাকা কিন্তু খুব জরুরি। প্রযুক্তির জোরে আপনার ছবি, ভিডিও, মিউজিক, কন্টাক্ট থেকে শুরু করে অ্যাপসেরও ব্যকআপ রাখা যায় মোবাইলে। আর সেসব অবিকল ট্রান্সফার হয়ে যেতে পারে নয়া মোবাইলটিতে। তার জন্য ফোনের Settings-এ গিয়ে system-এ ঢুকে Backup অপশনটি অন করতে হবে। মনে করে Google Drive-অপশনটিকেই ব্যাকআপ নেওয়ার জন্য সিলেক্ট করবেন। এর পরে স্ক্রিনে আসা ইনস্ট্রাকশন ফল করে করে ব্যাক আপের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করবেন। তবে মনে রাখবেন গোটা ব্যাপারটা কিন্তু একটু সমসসাপেক্ষ। কতটা ডেটার ব্যাকআপ নিতে চাইছেন, তার উপরে নির্ভর করছে অনেকটাই।

    নতুন ফোন সেটআপ করুন

    পুরনো ফোনের ব্যাকআপ নেওয়ার কাজ শেষ হলে নতুন ফোন সেট আপ করা শুরু করতে পারেন। ফোন এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে আগেই ব্যাক আপ নেওয়ার কাজ সেরে রাখবেন। নতুন ফোনটিঅন করে যেমন যেমন নির্দেশ আসবে তা ফলো করে যান। এরপর আপনাকে Google Account-এ লগইন করতে বলা হবে। যে অ্যাকাউন্টে পুরনো ফোনের ব্যাকআপ নিয়েছেন, মনে করে সেই অ্যাকাউন্টটিতেই সাইন ইন করতে ভুলবেন না। সাইন ইন করা হয়ে গেলে ব্যাকআপ সিলেক্ট করে নির্দেশ ফলো করলেই রিস্টোর প্রসেস সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।

    USB কেবল দিয়েও সম্ভব ডেটা ট্রান্সফার

    মিউজিক বা অ্যাপের মতো বড় কোনও ফাইল ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে USB পদ্ধতিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের দরকার হবে আপনার। প্রথমে USB কেবলের মাধ্যমে পুরনো কম্পিউটার থেকে সমস্ত ডেটা নিয়ে নিন কম্পিউটারে। এর পরে নতুন মোবাইলটি USB কেবল দিয়ে কম্পিউটারে কানেক্ট করে পুরনো মোবাইলের ডেটা নিয়ে নিন নতুন ফোনে। এটিও কিন্তু একটু সময়সাপেক্ষ প্রসেস। তাই একটু ধৈর্য আপনাকে ধরতে হতেই পারে।

    থার্ড পার্টি টুল দিয়ে ডেটা ট্রান্সফার

    ডেটা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে থার্ড পার্টির কোনও অ্যাপও ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে Google Play Store-এ একগুচ্ছ অ্যাপ পেয়ে যাবেন, যার মাধ্যমে একটি Androidথেকে আরেকটি Android-এ ডেটা ট্রান্সফার করা যায় সহজেই। কনট্য়াক্টস থেকে শুরু করে ফটো, ভিডিও, মিউজিক এমনকী অ্যাপও ট্রান্সফার সম্ভব। অ্যাপ খুললেই এ সংক্রান্ত ইনস্ট্রাকশন দেখতে পাবেন স্ক্রিন জুড়ে। তা ফলো করলেই চোখের নিমেষে আপনার ডেটা ট্রান্সফারের কাজ সম্ভব হবে।

    NFC-র মাধ্যমে ডেটা ট্রান্সফারও জলভাত

    নতুন এবং পুরনো, দু’টি ফোনই যদি NFC ( Near field Communication) সাপোর্টেড হয়, সেক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করেও ডেটা ট্রান্সফার করতে পারেন সহজেই। তার জন্য দুটি ফোনকেই একসঙ্গে ধরে রাখতে হবে। এর পরেই আপনি স্ক্রিনে প্রয়োজনীয় ইনস্ট্রাকশন দেখতে পারেন। তা ফলো করলেই ঝড়ের গতিতে ডেটা ট্রান্সফার করা সম্ভব হবে। তবে বড় ফাইলের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি একটু কঠিন। সেক্ষেত্রে আগের পদ্ধতিগুলোই অবলম্বন করা ভালো।

    সংক্ষেপে দেখুন
      • 0
    • শেয়ার করুন
      শেয়ার করুন
      • শেয়ার করুন Facebook
      • শেয়ার করুন Twitter
      • শেয়ার করুন LinkedIn
      • শেয়ার করুন WhatsApp
1 … 5 6 7 8 9 … 20

Sidebar

লগ ইন করুন
  • জনপ্রিয়
  • উত্তর
  • Mithun

    নির্মাণকাজে মরুভূমির বালু কেন ব্যবহার করা হয়না?

    • 12 টি উত্তর
  • Hina Khan

    Is Telegram MOD APK safe to use? What are the ...

    • 9 টি উত্তর
  • shanto

    ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন, লাইসেন্সের অনলাইন কপি ডাউনলোড, লাইসেন্স হয়েছে ...

    • 8 টি উত্তর
  • Admin

    নতুন ক্যাটাগরি "SEO" যুক্ত হলো আড্ডাবাজে!

    • 7 টি উত্তর
  • Mahmudul

    একটি ঘোর লাগানো ছবি দেখাতে পারবেন কি?

    • 6 টি উত্তর
  • Jesmin
    Jesmin একটি উত্তর দিয়েছেন HSC ২০২৬ পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ২… এপ্রিল 27, 2026, সময়ঃ 2:01 অপরাহ্ন
  • Sinclair
    Sinclair একটি উত্তর দিয়েছেন When shopping for best sex dolls, most buyers tend to… এপ্রিল 17, 2026, সময়ঃ 3:10 পূর্বাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন হ্যাঁ, Bestchange.com থেকে নিশ্চিতভাবে আয় করা সম্ভব। এটি মূলত একটি… এপ্রিল 15, 2026, সময়ঃ 2:13 অপরাহ্ন
  • ভবের হাট 🤘
    ভবের হাট 🤘 একটি উত্তর দিয়েছেন প্রশ্নোত্তর প্রদানের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার বিষয়টি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়… এপ্রিল 14, 2026, সময়ঃ 2:11 পূর্বাহ্ন
  • সুমনা
    সুমনা একটি উত্তর দিয়েছেন এসইও (SEO) এর ক্ষেত্রে ব্যাকলিংক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।… এপ্রিল 14, 2026, সময়ঃ 1:59 পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় গ্রুপ

  • মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    মুভি ম্যানিয়া 🤘 Movie Mania

    • 4 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 106 বার প্রদর্শিত
  • CT Game Review

    CT Game Review

    • 3 ইউজার
    • 1 পোস্ট
    • 1,049 বার প্রদর্শিত
  • Earn Money

    • 3 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 155 বার প্রদর্শিত
  • Knowledge World

    Knowledge World

    • 3 ইউজার
    • 2 পোস্ট
    • 116 বার প্রদর্শিত
  • Crazy Time Fun

    Crazy Time Fun

    • 2 ইউজার
    • 0 পোস্ট
    • 77 বার প্রদর্শিত

চলতি মাসের সেরা ইউজার

Iyasha

Iyasha

  • 0 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
SA Samim

SA Samim

  • 13 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
এডিটর
sumi

sumi

  • 20 প্রশ্ন
  • 1 পয়েন্ট
নতুন
লগ ইন করুন

Explore

  • হোমপেজ
  • জরুরী প্রশ্ন
  • প্রশ্ন
    • নতুন প্রশ্ন
    • জনপ্রিয় প্রশ্ন
    • সর্বাধিক উত্তরিত
    • অবশ্যই পড়ুন
  • ব্লগ পড়ুন
  • গ্রুপ
  • কমিউনিটি
  • জরিপ
  • ব্যাজ
  • ইউজার
  • বিভাগ
  • সাহায্য
  • টাকা উত্তোলন করুন
  • আড্ডাবাজ অ্যাপ

Footer

AddaBuzz.net

আড্ডাবাজ একটি সামাজিক প্রশ্নোত্তর ইঞ্জিন। যেখানে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে একে অপরের জ্ঞান আদান-প্রদান হয়। প্রশ্ন করুন, উত্তর দিন, জ্ঞান ভাগাভাগি করুন।

Adv 234x60

aalan

আমাদের সম্পর্কিত

  • আমাদের টিম
  • আমাদের লক্ষ্য

লিগ্যাল স্টাফ

  • Privacy Policy
  • Terms and Conditions
  • Data Deletion Instructions

সাহায্য

  • Knowledge Base
  • Contact us

আমাদের ফলো করুন

© 2026 AddaBuzz. All Rights Reserved
With Love by AddaBuzz.net

✕
🔔 নোটিফিকেশন চালু করুন নতুন প্রশ্নোত্তর ও ব্লগ আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন